Wednesday, August 13, 2014

গাজার বাড়ি বাড়ি, স্কুলে ইসরাইলি সেনাদের মলমূত্র ত্যাগ

ফিলিস্তিনের গাজায় নৃশংসতার স্বাক্ষর রেখে গেছে ইসরাইলি সেনারা। তারা ধ্বংস হয়ে যাওয়া বাড়িঘরসহ বেশির ভাগ স্থানে মলমূত্র ত্যাগ করেছে। দেয়ালে দেয়ালে লিখে গেছে জাতিগত বিদ্বেষমুলক লেখা। তারা ভাঙচুর করেছে আসবাবপত্র। এসব তথ্য উঠে এসেছে বৃটেনের দ্য গার্ডিয়ান পত্রিকায় প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে। এর লেখক হ্যারিয়েট শেরউড। এতে বলা হয়, গাজার এক বাসিন্দা আহমেদ ওয়েদাত। তার সঙ্গে সাক্ষাত হয় শেরউডের। এ সময় তিনি জানান, ইসরাইলি সেনারা গাজায় স্থল অভিযান শুরু করে। এর দু’দিন পরেই তিনি বাড়ি ছাড়েন ১৩ সদস্যকে নিয়ে। কিন্তু বাড়ি ফিরে তিনি কি দেখতে পাচ্ছেন! তাদের বাড়িতে ইসরাইলি সেনাদের মলমূত্র। মেঝেতে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে ইসরাইলি সেনাদের মল। প্লাস্টিকের বোতলে ভরে রেখেছ মূত্র। ওই প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, স্থল অভিযানের সময় ওই বাড়িটি দখলে রেখেছিল ইসরাইলি সেনারা। গাজায় ইসরাইলি অভিযানে সেনাদের কামান গোলা ও বিমান থেকে ছোড়া বোমার আঘাতে প্রায় দু’ হাজার ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে। এর বেশির ভাগই বেসামরিক নাগরিক। এক মাসের অভিযানে বেশ কয়েকবার অস্ত্রবিরতির ঘোষণা শুনে বাড়িতে ফেরার চেষ্টা করেছিলেন ওয়েদাতরা। প্রতিবারই তাদেরকে ফিরিয়ে দেয় দখলদার ইসরাইলি সেনাবাহিনী। স্থল অভিযানের সময় বাসায় অবস্থানকালে এর সিঁড়িতে, খাবার টেবিলে এমন কি শোবার ঘরে জাতিগত বিদ্বেষমূলক বিভিন্ন বক্তব্য লিখে যায় ইসরাইলি সেনারা। চার তলা ভবনের সিঁড়িগুলোতে ‘ফাক হামাস’ (হামাস গোল্লায় যাক) এমন লেখা দেখতে পেয়েছেন বাসিন্দারা। এছাড়া, ‘বার্ন গাজা’ (গাজাকে পুড়িয়ে দাও), ‘গুড আরব ইজ ডেড আরব’ (আরবরা মৃতই ভাল) এ ধরনের কটূক্তি লেখা ছিল খাবারের টেবিলে। শোবার ঘরে ইসরাইলি জাতীয় পতাকার মধ্যে থাকা ‘দ্য স্টার অব ডেভিড’ ( ছয় কোণের নীল রঙয়ের তারকা) এঁকে যায় সেনাবাহিনী। ৫২ বছর বয়সী ওয়েদাত বলেন, ৫ বার ঘরের মেঝে পরিষ্কার করলাম। তার পরেও দুর্গন্ধ যাচ্ছে না। ওই বাসার চারটি টিভি, একটি ঘড়ি, কম্পিউটার ও ঘরের অন্য আসবাবপত্র নষ্ট করে গেছে সেনারা। এছাড়া, বাড়িতে বিপদকালের জন্য সঞ্চিত ১০ হাজার ডলারও সেন্যরা চলে যাওয়ার পর থেকে পাওয়া যাচ্ছে না বলে অভিযোগ করেন এই ফিলিস্তিনি। স্থল অভিযানের আগে বিমান থেকে ছোড়া গোলায় বিধ্বস্ত হয়েছিল বাড়িটির ছাদ। বাড়ির সীমান দেয়ালেও গোলার আঘাতে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। শোবার কক্ষে আরও ছবি এঁকে রেখেছিল সেনারা। এতে দেখানো হয়েছে বাড়ির দেয়াল ও তার কিছু দূরেই ইসরাইলি সীমান্ত। বাড়ির জানালার ভাঙ্গা কাঁচের ফাঁক দিয়ে তিন কিলোমিটার দূরের ইসরাইলি সীমান্তের দিকে আঙ্গুল তুলে ওয়েদাত বলেন, সেনারা বুঝাতে চেয়েছে, সীমান্ত থেকে তোমরা বেশি দূরে নও। ঘটনাটি সম্পর্কে ইসরাইলি সেনা বাহিনীর বক্তব্য জানার চেষ্টা করেছেন গার্ডিয়ান প্রতিবেদক। তবে এ নিয়ে কোন মন্তব্য করেনি ইসরাইলি প্রতিরক্ষা বাহিনী আইডিএফ। ওই বাড়ি থেকে গাড়িপথে আধাঘণ্টার দূরত্বেই রয়েছে বেইত হানুন গার্লস স্কুল। স্থল অভিযানের সময় সেখানেও অবস্থান নিয়েছিল ইসরাইলি সেনারা। স্কুলের তত্ত্বাবধায়ক ফায়েজ জানান, ইসরাইলি সেনারা স্থানে স্থানে মলত্যাগ করে গেছে। বোতল ভর্তি করে রেখে গেছে মূত্র। বালিকা বিদ্যালয়ের ব্লাকবোডে লিখেছে- এখানে তোমাদেরকে ধর্ষণ করা হবে। ভুলে যেও না, এখনই তোমাদের মরার সময়। অবশ্য ইসরাইলি সেনাদের এ ধরনের লেখালেখির পাল্টা জবাব এসেছে হামাসের দিক থেকে। সেনারা চলে যাওয়ার পর সেখানে ফিরে আসে হামাসের সশস্ত্র দল কাসেম ব্রিগেডের অস্ত্রধারীরা।

পূর্ণিমার জোয়ারের ফুঁসে ওঠা পানিতে কুতুবদিয়া সয়লাব: বসতঘর ও ফসল বিনষ্ট by আহমদ কবির বাবুল

উপজেলার প্রত্যন্ত এলাকায় রবিবার সাগরের পানি ঢুকে কয়েকশ’ একর আউশ ফসলসহ কয়েক হাজার বসতঘর পানির নীচে তলিয়ে গেছে। পূর্ণিমার চোরা জোয়ারে বঙ্গোপসাগরে অস্বাভাবিক পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় দ্বীপ-রক্ষাবাঁধের একাধিক ভাঙ্গা অংশসহ বেশ কয়েকটি পয়েন্টে সমুদ্রের লবনাক্ত পানি ঢুকে পড়েছে। পবিত্র রমজান মাসে বহু  মানুষ গৃহহারা হয়ে কষ্টের কোন সিমা নেই। ঝুঁকিপূর্ন এলাকায় জরুরী বাঁধ সংস্কারের টেন্ডার হলেও পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্তা ব্যক্তি ও সংশ্লিষ্ট টিকাদারের অবহেলায় এই দূর্যোগের সৃষ্টি হয়েছে বলে এলাকাবাসীসহ কুতুবদিয়া বাঁচাও আন্দোলনের সভাপতি সাবেক চেয়ারম্যান আ.স.ম.শাহরিয়ার চৌধূরী অভিযোগ করেন।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে উত্তর ধূরুংয়ের চরধূরুং, আকবরবলী পাড়া, নজুমিয়া বাপের পাড়া, ফয়জানি বাপের পাড়া, দক্ষিণ ধূরুংয়ের মদন্যা পাড়া, অলি পাড়া, বাতিঘর পাড়া, লেমশীখালীর পেয়ারাকাটা, কৈয়ারবিলের মলমচর, বিন্দাপাড়া, বড়ঘোপের দক্ষিণ মুরালিয়া, আলী আকবর ডেইলের তাবালেরচর এলাকায় শনি ও রবিবার ভাঙ্গা বেড়িবাঁধ দিয়ে অনবরত সমুদ্রের পানি ঢুকে পড়ছে। লবণাক্ত পানির কারণে কয়েকশ’ একর আউশ ফসল বিনষ্ট হয়েছে। গেল জোর পানি নেমে গেলে সংশ্লিষ্ট কাজের টিকাদারের নিয়োগকৃত সাব টিকাদার নামমাত্র মাটির কাজ করে বরাদ্ধের সমুদয় টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ করেন এলাকার ক্ষতিগ্রস্থ লোকজন। বেড়িবাধের বাইরে থাকা প্রায় ৯শ’পরিবারের পুনর্বাসন দাবী করেন কৈয়ারবিলর ইউপি চেয়ারম্যান আজমগীর মাতবর। দ্বীপটির ৪০কি.মি. বেড়িবাঁধের মধ্যে প্রায়  ১৫ কি.মি. অধিক ঝুঁকিপূর্ণ বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। দূর্গত মানুষের প্রায়োজনীয় সহায়তা জরুরী বলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুমিনুর রশিদ জানিয়েছেন। এদিকে বারবার যোগাযোগ করেও পানি উন্নয়ন বোর্ডের কাউকে পাওয়া যায়নি।

ক্ষমতাসীন দল একদলীয় শাসনের দিকে ধাবিত হচ্ছে by উইলিয়াম বি মাইলাম

রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক মুক্তির জন্য প্রচুর রক্তপাত ও সহায় সম্পদ ব্যয় হয়েছে। কিন্তু সফলতার সঙ্গে মুক্তি সংগ্রামের মাধ্যমে বাংলাদেশ আত্মপ্রকাশ করলেও সেই সফলতা এমন নিশ্চয়তা দিতে পারে না যে, পরে তারা পুরনো কর্তৃত্বপরায়ণতায় ফিরে যাবে না। সম্ভবত বাংলাদেশ একটি উদাহরণ, একটি শিক্ষা। রক্তপাতের মাধ্যমে স্বাধীনতার ৪৩ বছরেরও বেশি পরে বাংলাদেশের ক্ষমতাসীন দল দৃশ্যত একদলীয় কর্তৃত্বপরায়ণ শাসন ব্যবস্থার দিকে ধাবিত হচ্ছে। মিডিয়ার ওপর কড়াকড়ি বিষয়ক আইন প্রণয়ন হলো সে লক্ষ্যে সর্বশেষ পদক্ষেপ। এনজিওগুলোকে চাপে রাখার আইন করা হয়েছে। বিরোধী কণ্ঠ নীরব করে দেয়া হয়েছে। যদি সব বিরোধী ঐক্যবদ্ধ না হয় তাহলে এক সময় তাদের সিদ্ধান্ত নেয়ার আর সুযোগই থাকবে না। আমি কিছু একটা ইঙ্গিতের অপেক্ষায় আছি এখন। লন্ডনের ফিন্যান্সিয়াল টাইমস গত সপ্তাহে চমৎকার একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। সম্প্রতি আমি যে বিষয় নিয়ে লিখেছি তার সঙ্গে এটি যথার্থই মিলে যায়। হাঙ্গেরির প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক এক বক্তব্য নিয়ে প্রকাশ করা হয়েছে ওই প্রতিবেদন। ওই বক্তব্যে তিনি হাঙ্গেরিতে ‘উদার’ গণতন্ত্র বাদ দেয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। বলেছেন, দেশকে ‘অনুদার একটি রাষ্ট্র’ হিসেবে গড়ে তুলতে। রাশিয়া, তুরস্ক ও চীনা সরকারের মডেলের প্রশংসা করেন তিনি। ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত একটি সদস্য রাষ্ট্রের একজন নেতার কাছ থেকে এমন বক্তব্য নিঃসন্দেহে বিস্ময়কর। বিশেষ করে এমন একটি দেশের পক্ষ থেকে যারা  ৬০ বছর আগে সোভিয়েত ইউনিয়নের কর্র্তৃত্ববাদী শাসন থেকে বেরিয়ে আসতে জোর লড়াই করেছে, অনেক মূল্য দিয়েছে। দ্রুততার সঙ্গে তারা নিজেকে গণতন্ত্র, পার্লামেন্টারি প্রজাতন্ত্রের লেবাসে নতুন করে তুলে ধরে উদযাপন করেছে সোভিয়েত ইউনিয়নের পতন। তারা যোগ দিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়নে। অবশ্যই আমাদেরকে হাঙ্গেরির জনগণের কথা শুনতে হবে। যা হোক, অনেক দেশে প্রচণ্ড চাপে থাকা নেতারা ১৯৮০’র দশক ও ১৯৯০-এর দশকে গণতন্ত্রের তথাকথিত ‘তৃতীয় প্রবাহে’র সময় তাদের দেশে গণতন্ত্র ঘোষণা করেন। কিন্তু তারাই এখন ফিরে যাচ্ছেন কর্তৃত্বপরায়ণতার দিকে। প্রকৃত গণতন্ত্র অনেক কঠিন বিষয়। বৃটিশ সাবেক প্রধানমন্ত্রী উইনস্টন চার্চিল সতর্ক বার্তায় বলেছিলেন যে, অন্যান্য সরকার ব্যবস্থার কথা বাদ দিলে গণতান্ত্রিক সরকার ব্যবস্থা হলো সবচেয়ে খারাপ, যা এখন বৈশ্বিক নানা সমস্যার চাপে তার আকর্ষণ হারাচ্ছে।
এই প্রবণতার একটি নেতিবাচক প্রভাবের প্রতিফলন ঘটেছে বর্তমানে পূর্ব ইউরোপ সঙ্কটে। আমাকে বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, ১৯৯০-এর দশকে রাশিয়া উন্মুক্ত হচ্ছিল, আধুনিক হচ্ছিল। কিন্তু প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও সাবেক গোয়েন্দা সংস্থা কেজিবিতে থাকা তার ঘনিষ্ঠজনদের অধীনে এ দেশটি আবার একটি কর্তৃত্বপরায়ণ সমাজে পরিণত হয়েছে। মাত্র ২৩ বছর আগে কর্তৃত্বপরায়ণ রাষ্ট্রের জন্মদাত্রী সোভিয়েত ইউনিয়নকে এখন তারা ছাড়িয়ে গেছে। বর্তমানে অতিমাত্রায় জাতীয়তাবাদী নীতি দিয়ে তারা পূর্ব ইউরোপে নতুন করে প্রভাব সৃষ্টির চেষ্টা করছে। এ চেষ্টার মূলেই রয়েছে কর্তৃত্বপরায়ণতা।
রাশিয়ার পশ্চিম সীমান্তে যে জায়মান গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র রয়েছে তা তার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের হুমকিতে পড়তে পারে- এমন ধারণা রয়েছে ভ্লাদিমির পুতিনের। অতীতের কল্পিত যশ নিয়ে পুতিন যে নস্টালজিয়ায় রয়েছেন তা পূর্ব ইউরোপে রাজনৈতিক সঙ্কট সৃষ্টি করেছে। এমনটা ১৯৩৯ সালের পর আর দেখা যায় নি। রাশিয়ার বর্তমান নীতি এবং নগ্ন আগ্রাসী মনোভাব, প্রতিশোধপরায়ণতা, ৭৫ থেকে ৮০ বছর আগের দিনগুলোর অবস্থায় দেশকে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়াকে একই সমান্তরালে দেখছেন পশ্চিমা অনেক কূটনীতিক। ৭৫ থেকে ৮০ বছর আগের ওই ঘটনাগুলো দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরুতে নিয়ামক ভূমিকা রেখেছিল। এ যুদ্ধে কমপক্ষে ৩ কোটি বেসামরিক মানুষ নিহত হন।
১৯১৪ সালের গ্রীষ্মে শুরু হয় প্রথম বিশ্বযুদ্ধ। শতাব্দী প্রাচীন ওই ঘটনার সঙ্গে যুগপৎ মিলে যাচ্ছে ইউক্রেন সঙ্কট। এ ঘটনা বিতর্কিত ও সৃষ্টিশীল অর্থনৈতিক ইতিহাসবিদ নাইঅল ফারগুসনকে প্ররোচিত করেছে বর্তমানের এই সঙ্কটের সঙ্গে ওই সময়কার ঘটনার মধ্যে সাদৃশ্য খুঁজতে, এটা ইকোনমিক টাইমসেও প্রকাশিত হয়েছে। তিনি দেখিয়েছেন বর্তমান সঙ্কটে যখন জ্বলছে সব তখন ইউরোপীয় নেতারা পরিণতি জেনেও ঘুমিয়ে আছেন। প্রথম বিশ্বযুদ্ধে নিহত হন কমপক্ষে ১ কোটি ৭০ লাখ মানুষ। মাঝে মাঝে ধরা হয় প্রথম বিশ্বযুদ্ধ ইঙ্গিত দিয়ে গিয়েছিল যে, ১৯৩০-এর পরে আগ্রাসী মনোভাব, প্রতিশোধপরায়ণতা, অতিমাত্রায় জাতীয়তাবাদী রাষ্ট্রের উত্থান এবং ১৯৩৯-৪৫ সময়কালের রক্তপাত অপরিহার্য হয়ে উঠবে।
গণতন্ত্রায়নের পশ্চাৎযাত্রা দেখা গিয়েছিল বিংশ শতাব্দীর শেষের দিকে ও একবিংশ শতাব্দীর প্রথম দিকে। আমাদের প্রশ্ন করা উচিত- কেন গণতন্ত্রায়ন এ সময়টাতে পশ্চাৎমুখী হয়েছে? কেউ কেউ যুক্তি দেখাতে পারেন যে, এতে অর্থনৈতিক যে প্রতিবন্ধকতা ছিল তারই প্রতিফলন ঘটেছে। বর্তমানে প্রতিষ্ঠিত বেশির ভাগ গণতন্ত্রে রয়েছে দৃশ্যত রুগ্‌ণ অবস্থা। এর কারণ, রাজনৈতিক অপরিপক্বতা। এ জন্য তারা তাদের নাগরিকদের কাঙ্ক্ষিত অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারে না। কিন্তু আমার জানা মতে, রাশিয়া, চীন বা তুরস্কে উচ্চাকাঙ্ক্ষী অভিবাসীর বিশাল প্রবাহ নেই। সেখানে অভিবাসীর যে স্রোত দেখা যায় তা হলো গণতন্ত্র। লাখ লাখ মানুষ স্বাধীনতা ও আইনের শাসন খোঁজেন।
উইলিয়াম বি মাইলাম, ওয়াশিংটনে উড্র উইলসনের সিনিয়র স্কলার। বাংলাদেশ ও পাকিস্তানে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ছিলেন।
গতকাল প্রকাশিত দ্য এক্সপ্রেস ট্রিবিউনে প্রকাশিত ‘বাংলাদেশ- মেটাফোর অর অ্যালিগোরি?’ শীর্ষক লেখার অনুবাদ। 

জিয়ার চোখে তখন অশ্রুবিন্দু

বাহার, বাচ্চু, মাসুদ ও হারুনের মৃতদেহ পুলিশের জিম্মায় দেয়া হয়। ভারতীয় দূতাবাসের পেছনে ৩ নম্বর সড়কে ধানমন্ডি থানার পোর্টিকোর নিচে একটি ভ্যানে  মৃতদেহগুলো রাখা ছিল। বেলা ১১টার একটু পরে সেনাপ্রধান জিয়াউর রহমান সেখানে আসেন। মৃতদেহগুলোর পাশে তিনি বেশ কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে ছিলেন। তার চোখে অশ্রুবিন্দু। বাহারের সঙ্গে তার সখ্য ছিল। প্রকৃতপক্ষে তাহেরের সঙ্গে তার দীর্ঘদিনের ব্যক্তিগত সম্পর্ক। ছুটির দিনে তিনি প্রায়ই নারায়ণগঞ্জে তাহেরের বাসায় চলে যেতেন। বাহার ছিলেন জিয়ার খুবই প্রিয় এবং ভাইদের মধ্যে সবচেয়ে সৎ ও সাহসী। জিয়া ও বাহার পরস্পরকে ‘দোস্ত’ বলে সম্বোধন করতেন। অসম বয়সী এই বন্ধুর মৃত্যুতে জিয়া খুবই ব্যথিত হয়েছিলেন।
১৯৭৫ সালের ৭ই নভেম্বরের ঘটনাপ্রবাহ নিয়ে লেখক ও গবেষক মহিউদ্দিন আহমদের প্রকাশিতব্য গ্রন্থে এসব কথা বলা হয়েছে। দৈনিক প্রথম আলোর ঈদ সংখ্যায় ‘৭ই নভেম্বরের সাত-সতেরো’ শিরোনামে বইটির নির্বাচিত অংশ প্রকাশিত হয়েছে। এতে কর্নেল তাহেরকে মুক্ত করতে ভারতীয় কমিশনারকে জিম্মি করার অভিযানের বর্ণনা দেয়া হয়েছে। বলা হয়েছে, ঢাকা নগর গণবাহিনীর কমান্ডার আনোয়ার হোসেন একটি পরিকল্পনা আঁটেন যা এ দেশে আগে কখনও ঘটেনি। ছয় জনের একটি সুইসাইড স্কোয়াড তৈরি হয়। এর সদস্যরা হলেন- সাখাওয়াত হোসেন বাহার, ওয়ারেসাত হোসেন বেলাল, মীর নজরুল ইসলাম বাচ্চু, মাসুদুর রহমান, হারুনুর রশীদ ও সৈয়দ বাহালুল হাসান সবুজ। প্রথমে মতিঝিলে আদমজী কোর্টে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস রেকি করা হয়। পরে সিদ্ধান্ত বদল করে ধানমন্ডির ২ নম্বর সড়কে ভারতীয় হাইকমিশন রেকি করা হয়। ঠিক হয়, গণবাহিনীর একটি দল হাইকমিশনারকে জিম্মি করে তাহেরের মুক্তি এবং আরও কিছু দাবিদাওয়া উপস্থাপন করবে। তারা খোঁজ নিয়ে জেনেছে হাইকমিশনার সমর সেন সকাল সাড়ে নয়টায় অফিসে আসেন। ২৬শে নভেম্বর সময়মতো ছয়জন অকুস্থলে হাজির। দলের নেতা বাহার। তিন জন অবস্থান নিলেন রাস্তার দক্ষিণ পাশে জার্মান সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের চত্বরে। তিনজন অপেক্ষা করতে থাকলেন ভারতীয় ভিসা অফিসের সামনে। সবাই সশস্ত্র। এমন সময় হাইকমিশনার এসে গাড়ি থেকে নামলেন। সঙ্গে সঙ্গে বাহারদের দলের দুই জন তার দুই হাত ধরে বললেন, আপনি এখন আমাদের হাতে জিম্মি। আপনার ঘরে চলুন। আপনার সঙ্গে আমাদের কিছু কথা আছে। সিঁড়ি দিয়ে একতলা থেকে দোতলায় যাওয়ার পথে উপরে অপেক্ষমান নিরাপত্তারক্ষীরা ব্রাশফায়ার করলে ঘটনাস্থলেই বাহার, বাচ্চু, মাসুদ ও হারুন নিহত হন। হাইকমিশনারের কাঁধে গুলি লেগেছিল। চোখের পলকে ঘটনা ঘটে গেল। রেকি করার সময় ক’জন নিরাপত্তারক্ষী ঠিক কোন কোন জায়গায় ডিউটি করেন, তা তারা জেনে গিয়েছিলেন। কিন্তু তারা জানতেন না, একদল ভারতীয় নিরাপত্তারক্ষী দোতলায় পাহারায় থাকেন। তিতুমীর কলেজ ছাত্রসংসদের সহ-সভাপতি কামালউদ্দিন আহমেদ এই অভিযানে অংশগ্রহণকারী ছয়জনের জন্য মগবাজারের নয়াটোলায় একটা শেল্টারের ব্যবস্থা করেছিলেন। ছাত্রসংসদের সহ-সম্পাদক ফোরকান শাহর বাড়িটি শেল্টার হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছিল। সেখান থেকেই এই স্কোয়াডের ছয় জন ২৬শে নভেম্বর সকালে রওনা হয়েছিলেন। ঘটনার পর ফোরকানের পিতা ইসরাফিল সাহেবকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে। সংবাদ পেয়ে সেনাবাহিনীর নবনিযুক্ত চিফ অব জেনারেল স্টাফ ব্রিগেডিয়ার আবুল মঞ্জুর এলেন। তিনি আহত বেলাল ও সবুজকে গাড়িতে উঠিয়ে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে নিয়ে গেলেন। ভারতীয় হাইকমিশনে এই অভিযানের নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া হয়েছিল। প্রায় সব রাজনৈতিক দলের নেতারা এক সুরে এর সমালোচনা করতে শুরু করলেন। ডান-বাম কোন ভেদাভেদ থাকলো না। ঢাকার পূর্বপাশে বেরাইদ গ্রামে ঢাকা নগর গণবাহিনীর একটা জরুরি সভায় আনোয়ার হোসেন এ ঘটনার সব দায় স্বীকার করেন। সভায় শরীফ নুরুল আম্বিয়া এবং ঢাকা নগর গণবাহিনীর অন্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন। বেশির ভাগ সদস্য আনোয়ারের ওপর ক্ষোভ প্রকাশ করে তাঁকে ফায়ারিং স্কোয়াডে পাঠানোর দাবি জানান। শেষমেষ তাকে লঘু শাস্তি দেয়া হয়। তাকে নগর গণবাহিনীর কমান্ডারের পদ থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়। আনোয়ারের ওপর নিয়ন্ত্রণ না থাকার ‘অপরাধে’ রাজনৈতিক কমিশার রফিকুল ইসলামকে ভৎর্সনা করা হয়।
৭ই নভেম্বরের অভ্যুত্থানের পরের ঘটনা প্রবাহ নিয়ে মহিউদ্দিন আহমদ আরও লিখেছেন, ঢাকা নগর গণবাহিনীর উদ্যোগে সকাল ১০টায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সমাবেশের ঘোষণা দেয়া হয়েছিল এবং জিয়া ও তাহেরের সেখানে উপস্থিত হওয়ার কথা ছিল। জিয়া সেনানিবাসের বাইরে আসতে অস্বীকার করেন। তিনি জানান, একজন সৈনিক হিসেবে তিনি কোন জনসমাবেশে গিয়ে বক্তৃতা দেয়ার পক্ষপাতি নন। ততক্ষণে জিয়ার আশপাশে অনেক সেনাকর্মকর্তা উপস্থিত হয়েছেন। জিয়া তখন অনেকটা স্বচ্ছন্দ এবং ভারমুক্ত। ৭ই নভেম্বর রাষ্ট্রপতি সায়েম বেতার ও টেলিভিশনে একটা ভাষণ দেন। ভাষণে তিনি বলেন, রাষ্ট্রপতির পদে জনাব খোন্দকার মোশ্‌তাক আহ্‌মাদের পুনর্বহালের পক্ষে স্বতঃস্ফূর্ত দাবি সত্ত্বেও তারই অনুরোধক্রমে আমি রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব চালিয়ে যেতে সম্মত হয়েছি। বিচারপতি সায়েমের ভাষণের পরপর খোন্দকার মোশ্‌তাক আহ্‌মাদের একটি ভাষণ প্রচার করা হয়। ভাষণে তিনি দেশের সেনাবাহিনী, বিমানবাহিনী, সকল নিরাপত্তা বাহিনী ও সর্বস্তরের জনগণকে ‘স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব অক্ষুন্ন রাখার জন্য যে অভূতপূর্ব বিপ্লব সংগঠিত হয়েছে, তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। তাহের জিয়াকে বেতারকেন্দ্রে নিয়ে আসতে এবং তাকে দিয়ে একটি ভাষণ দেওয়াতে চেয়েছিলেন। জিয়া তাহেরের সঙ্গে কোথাও যেতে চাননি। কয়েকজন সেনাকর্মকর্তা পরামর্শ দেন, সেনাপ্রধানের বেতার কেন্দ্রে যাওয়ার কি দরকার? ভাষণ তো এখানেই রেকর্ড করা যায়। শেষ পর্যন্ত জিয়ার ভাষণ সেনানিবাসেই রেকর্ড করা হয়। ৭ই নভেম্বর সন্ধ্যায় এই ভাষণ প্রচার করা হয়। জিয়ার এই ভাষণে কোথাও জাসদ, গণবাহিনী বা তাহেরের উল্লেখ নেই। সকালেই ‘সিপাহী বিপ্লবের’ ঘণ্টা বেজে গিয়েছিল। এই ভাষণ ‘বিপ্লবের’ কফিনে শেষ পেরেকটি ঠুকে দিলো। উল্লেখ্য, ৩রা নভেম্বরের অভ্যুত্থানের কুশীলবদের অনেকেই যে যেখানে পারেন, গা ঢাকা দেয়ার চেষ্টা করেন। অনেকেই গ্রেপ্তার হন। শাফায়াত জামিল পালিয়ে যাওয়ার সময় আহত হন এবং পরে নারায়ণগঞ্জ থানায় আত্মসমর্পণ করেন। তাকে ঢাকায় এনে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়। ৭ই নভেম্বর ভোরে খালেদ মোশাররফ তার দুই সহযোগী কর্নেল হায়দার ও কর্নেল হুদাকে নিয়ে শেরেবাংলানগরে সেনাবাহিনীর একটি ইউনিটে যান। সেখানেই তাদের হত্যা করা হয়। কার নির্দেশে তাদের হত্যা করা হয়েছিল, তা আজও অজানা। কেউ বলেন তাহের, কেউ বলেন জিয়া। কয়েক মাস পরে ঢাকার মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবে মেজর হাফিজের সঙ্গে আ কা ফজলুল হকের দেখা হয়। হাফিজ তখন সেনাবাহিনী থেকে চাকরিচ্যুত। মোহামেডান ক্লাবের ফুটবল টিমের তিনি অধিনায়ক ছিলেন। তিনি জিয়ার ওপর ক্ষুদ্ধ ছিলেন। তার সঙ্গে আলাপ করে জানা গেল, ‘জিয়াকে গৃহবন্দি করে রাখার পরিকল্পনাটি ছিল হাফিজের। আবার হাফিজের কারণেই জিয়া কিলড হননি। এতে মনে হতে পারে জিয়াকে আটক রাখার ব্যাপারটা ছিল সাজানো।’ অভ্যুত্থানকারীরা জিয়াকে তার বাসভবনে অন্তরীণ করার সময় ড্রইং রুমের টেলিফোন লাইন কেটে দিয়েছিলেন। কিন্তু তার শয়নকক্ষের টেলিফোন লাইনটি সচল ছিল। এই টেলিফোনের মাধ্যমেই জিয়া তাহেরের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে চলেছিলেন। ৮ই নভেম্বর রাতে রাজশাহী কারাগার থেকে জাসদের সভাপতি মেজর জলিল ও সাধারণ সম্পাদক আসম আবদুর রব ছাড়া পান। পরদিন তারা ঢাকায় আসেন। এর আগে ৭ই নভেম্বর বিপ্লবী সৈনিক সংস্থার একটি দল ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের ফটক খুলে দিলে জাসদের নেতা এম এ আউয়াল, মোহাম্মদ শাজাহান ও মির্জা সুলতান রাজা বেরিয়ে আসেন। তারা সবাই তখন হতবিহবল। ৮ই নভেম্বর চিত্রপট একটু বদলে যায়। রাষ্ট্রপতি সায়েম নিজেকে প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক এবং তিন বাহিনীর প্রধানদের উপপ্রধান সামরিক আইন প্রশাসক হিসেবে ঘোষণা দেন। তাহেরের সঙ্গে জিয়ার যোগাযোগ ক্ষীণ হয়ে আসে এবং ১২ই নভেম্বর থেকে পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। জাসদের নেতাদের একটা গোপন সভা ১৭ই নভেম্বর রায়েরবাজারে একটা কাঠের আড়তে অনুষ্ঠিত হয়। সভায় তারা বলেন, জিয়া বিট্রে করেছে। জলিল বলেন, ভয়ের কোন কারণ নাই। বঙ্গভবনের সামনে যে সব ট্যাংক আছে, ওরা আমাদের সঙ্গে কথা বলে গেছে। নভেম্বরের তৃতীয় সপ্তাহে ঢাকার এলিফ্যান্ট রোডে শাজাহান সিরাজের শ্বশুরবাড়িতে জলিলের সঙ্গে সাংবাদিক আমানউল্লাহ দেখা করতে যান। আমানউল্লাহর বর্ণনামতে: ‘জলিলকে খুব অস্থির মনে হচ্ছিল। জিয়া সম্পর্কে বলল, বেজন্মাটা বেঈমানি করেছে।’ ইতিমধ্যে সৈনিকেরা বেশির ভাগই সেনানিবাসে ফিরে গেছেন। তাহের বিভিন্ন সেনানিবাসে তার অনুগত লোকদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করছেন। ২৩শে নভেম্বর এলিফ্যান্ট রোডে শাজাহান সিরাজের শ্বশুরবাড়ি থেকে জলিল ও রবকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে। একই দিনে আবু ইউসুফ খান ও ইনু গ্রেপ্তার হন। ২৪শে নভেম্বর বিপ্লবী সৈনিক সংস্থার কয়েকজনকে নিয়ে তাহের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সলিমুল্লাহ হলের আবাসিক শিক্ষক ও পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের লেকচারার মোস্তফা সরোয়ার বাদলের বাসায় সভা করার সময় নিরাপত্তা বাহিনী তাদের ঘিরে ফেলে। তাহের কয়েকজন সহযোগীসহ গ্রেপ্তার হন।

বেয়াদব.., তুই বেয়াদব.. -শামীম ও আইভী

টকশোতে অংশ নিয়ে উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় করেছেন নারায়ণগঞ্জের আলোচিত দুই নেতা একেএম শামীম ওসমান ও সেলিনা হায়াৎ আইভী। অনুষ্ঠান শেষে আইভীকে মারতে উদ্যত হয়েছিলেন শামীম। উপস্থিত লোকজন তাকে আগলে রাখায় কোন অঘটন ঘটেনি। মঙ্গলবার রাতে একাত্তর টেলিভিশনের টক শোতে সাত খুনের ঘটনায় পাল্টাপাল্টি বক্তব্য রাখেন দু’জনই। আগের দিন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় গঠিত তদন্ত কমিটিতে বক্তব্য দেয়ার পর আইভী বলেছিলেন সাত খুনের পেছনে নারায়ণগঞ্জের গডফাদাররা জড়িত। টকশোতেও আইভী একই কথা বলে শামীম ওসমানের প্রতি স্পষ্ট ইঙ্গিত করেন। কথা বলার এক পর্যায়ে শামীম ওসমান আইভীকে বেয়াদব-চুপ কর বেয়াদব বলে শাসাতে থাকেন। এসময় আইভীও শামীমকে উদ্দেশ্য করে বলেন, তুই বেয়াদব। শামীম ওসমান বলেন, যাকে আমি দেখি করাপশনের একজন নায়িকা হিসেবে তাকে অ্যাটাক করে বক্তব্য দিতে চাই না। এটা আমার রুচিতে বাধে। অনুষ্ঠানের বিরতিতে দুই নেতা ফের বাদানুবাদে জড়ান। শামীম ওসমান আইভীকে বলেন, ‘তুই নারায়ণগঞ্জে চল, তোরে দেখাইতেছি ...।’ আইভীও বলেন, ‘চল নারায়ণগঞ্জে ...কী করবি?’ অনুষ্ঠানের আরেক অতিথি সাপ্তাহিক সম্পাদক গোলাম মোর্তুজা তার ফেইসবুক স্ট্যাটাসে ঘটনার বর্ণনা দিয়ে লিখেছেন, অনুষ্ঠান শেষে কিছু একটা বলে আইভী যখন বের হয়ে যাচ্ছিলেন তখন তিনি (শামীম) মারতে ছুটে যাচ্ছিলেন। তাকে ধরে ঠেকানো হয়। শামীম ওসমান ওই সাংবাদিককে ব্যক্তিগত আক্রমন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

সালমা হায়েকের অদ্ভুত ঘোষণা

অভিনয় ছেড়ে দিলেও বিতর্ক যেন পিছু ছাড়ছে না সালমা হায়েকের। অথবা বলা চলে বিতর্কিত কাজ করতেই যেন বেশি পছন্দ করেন এ অভিনেত্রী। আর তাইতো সমপ্রতি এক অদ্ভুত ঘোষণা দিয়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে অবস্থান করছেন তিনি। এর মাধ্যমে দীর্ঘদিন পর বৃটিশ ও নিউ ইয়র্কসহ বিশ্ব মিডিয়ার সংবাদেও পরিণত হয়েছেন সালমা। বিষয়টি এবার খোলাসা করে বলা যাক। সালমা বিভিন্ন সময়ে একাধিক খোলামেলা ও নগ্ন ফটোশুটে অংশ নিয়েছেন। এ ফটোশুটগুলোর বেশিরভাগই ক্ল্যাসিক ঘরানার। বিষয়টি নিজেই সবসময় দাবি করেন সালমা। অতীতের এ ফটোশুটের ছবিগুলোকে নিজের ক্যারিয়ারের অন্যতম সম্পদ ও অর্জন মনে করেন তিনি। আর তাইতো নিজের সেই ছবিগুলো নিয়ে ‘সুপারহট সালমা হায়েক’ নামের একটি প্রদর্শনীর আয়োজন করতে যাচ্ছেন। টিনএজ থেকে শুরু করে তার এ সময়ের ছবিও স্থান পাবে এই প্রদর্শনীতে। বিশেষ কিছু ছবি নিলামেও উঠছে। সব মিলিয়ে নিজের নগ্ন ছবি নিয়ে একটি বর্ণিল প্রদর্শনীর ঘোষণা সমপ্রতি দিয়েছেন সালমা। এ বিষয়ে তিনি বলেন, অনেক দিন ধরেই এরকম প্রদর্শনীর কথা চলছিল। বিশেষ করে আমার বন্ধু পামেলা এন্ডারসনই আমাকে প্রথমবারের মতো এ প্রদর্শনীর জন্য উদ্বুদ্ধ করেন। এবার বিষয়টিকে বাস্তবে রূপ দেয়ার পালা। এরই মধ্যে ছবির কালেকশন সম্পন্ন করেছি। খুব শিগগিরই বড় আয়োজনের মধ্যে দিয়ে ‘সুপারহট সালমা হায়েক’ প্রদর্শনীটি করতে যাচ্ছি। দেখা যাক কি হয়।

পদ্মা সেতু প্রকল্প- আসুন, দুর্নীতির কাছে জিম্মি হই by এ কে এম জাকারিয়া

পদ্মা সেতু প্রকল্পের নদীশাসনের কাজ চীনা প্রতিষ্ঠান সিনোহাইড্রো পাবে কি না, তা নিয়ে মন্ত্রিসভার বৈঠকে প্রশ্ন তুলেছিলেন অর্থমন্ত্রী (সূত্র, দ্য ডেইলি স্টার, ৫ আগস্ট)। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক চার লেন প্রকল্প নিয়ে এই প্রতিষ্ঠানটি যে কীর্তিকলাপ করেছে এবং এ নিয়ে পত্রপত্রিকায় যে খবর বের হয়েছে, তা বিবেচনায় নিয়ে চিন্তাভাবনা হোক, সেটাই চেয়েছিলেন তিনি। বৈঠকে এর যা জবাব মিলেছে তা অনেকটা এ রকম: নদীশাসনের কাজে প্রতিষ্ঠানটি অভিজ্ঞ, কোম্পানিটি বিশ্বব্যাংকের তালিকাভুক্ত এবং কাজের মান নিয়ে কোনো প্রশ্ন নেই (বিশ্বব্যাংকের দুর্নীতির ষড়যন্ত্রের অভিযোগ না মানলেও এই প্রতিষ্ঠানটির সার্টিফিকেট খুবই গুরুত্বপূর্ণ)। চার লেন প্রকল্পে সিনোহাইড্রো তাদের কাজ যথাসময়ে শেষ করতে পারেনি। কারণ, কিছু মসজিদ, মাদ্রাসা ও স্কুল সরানোর জন্য অনেক দেন-দরবার করতে হয়েছে এবং তা করতে গিয়ে দেরি হয়েছে।
মন্ত্রিসভার বৈঠকে আত্মপক্ষ সমর্থনের জন্য সিনোহাইড্রোর কোনো মুখপাত্র বা স্থানীয় প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন না, থাকারও কথা নয়। আমাদের যোগাযোগমন্ত্রীকে সম্ভবত সে কারণেই এই দায়িত্ব নিতে হলো! অর্থমন্ত্রীর প্রস্তাব অসার প্রমাণ করতে মন্ত্রিসভার বৈঠকে এভাবেই যুক্তি দিয়েছেন যোগাযোগমন্ত্রী। চীনের যে প্রতিষ্ঠানটির প্রায় মুখপাত্রের ভূমিকা পালন করলেন আমাদের যোগাযোগমন্ত্রী, তাদের কিছু কীর্তি-কলাপ পাঠকদের আবার নতুন করে মনে করিয়ে দিতে চাই।
১০ ভাগে বিভক্ত ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক চার লেন কাজের সাত ভাগ পেয়েছিল এই চীনা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সিনোহাইড্রো করপোরেশন। কাজ শেষ করার কথা ছিল ২০১৩ সালের জানুয়ারিতে। এখন ২০১৪ সালের আগস্ট মাস, সে হিসাবে নির্ধারিত সময়ের পর পার হয়ে গেছে দেড় বছর। এ সময়ে কাজের অগ্রগতি কী? অর্ধেকও শেষ হয়নি, এ বছরের মে মাস পর্যন্ত মাত্র শতকরা ৩৫ ভাগের কাছাকাছি। প্রকল্প বাস্তবায়নের এই যোগ্যতা ও দক্ষতা নিয়ে গত বছরের অক্টোবর মাসে কাজ শেষ করার জন্য সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের (সওজ) কাছে বাড়তি ৫১১ কোটি টাকা দাবি করে বসে সিনোহাইড্রো। শুধু দাবি নয়, দাবি আদায়ে চার মাস কাজও বন্ধ রাখে তারা। এর সঙ্গে ছিল এক অনানুষ্ঠানিক শর্ত; পদ্মা সেতুর নদীশাসনের কাজ পেলে চার লেনের কাজ দ্রুত শেষ করে দেবে তারা। ‘জিম্মি’ করা বলতে আমরা যা বুঝি, এটা কি তার চেয়ে আলাদা কিছু?
এক হাজার ১৫১ কোটি টাকার প্রকল্পে বাড়তি ৫১১ কোটি টাকা দাবি! সমালোচকেরা বলেন, চীনা কোম্পানিগুলোর এটাই নাকি কৌশল! যেকোনোভাবে কাজ নাও, পরে নানা কৌশলে টাকাপয়সা বাড়িয়ে নাও! যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র জানিয়েছে, অস্বাভাবিক কম দর দেখিয়ে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক চার লেন করার কাজটি নিয়েছিল তারা। এখন দেখা যাচ্ছে, পদ্মা সেতুর নদীশাসনের কাজেও তাদের দরপত্র সবচেয়ে কম। শুরুতে যে দাম দিয়েছিল, শেষ সময়ে দরপত্র খোলার আগে চিঠি দিয়ে আরও ৫ দশমিক ৬ শতাংশ কমিয়েছে। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক প্রকল্পের কাজ পেতে যে কৌশল নিয়েছিল সিনোহাইড্রো, পদ্মা সেতুর ক্ষেত্রেও সম্ভবত একই পথ ধরেছে তারা।
পদ্মা সেতু প্রকল্পের নদীশাসনের কাজ পেতে দরপত্র জমা দিয়েছিল তিনটি প্রতিষ্ঠান। সিনোহাইড্রো দর দিয়েছে আট হাজার ৭০০ কোটি টাকা। বাকি দুটির মধ্যে কোরীয় কোম্পানি হুন্দাই ১২ হাজার ১২১ কোটি টাকা ও বেলজিয়ামের জান ডে নাল ১৬ হাজার ৪৩৮ কোটি টাকার দর প্রস্তাব দিয়েছে। সিনোহাইড্রো নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী হুন্দাইয়ের চেয়ে চার হাজার কোটি টাকা কম দর দিয়েছে। এক হাজার ১৫১ কোটি টাকায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কাজ নিয়ে যদি কোম্পানিটি ৫১১ কোটি টাকা বাড়তি দাবি করতে পারে, তবে আট হাজার ৭০০ কোটি টাকার প্রকল্পে কাজ শুরু করে পরে বাড়তি হাজার চারেক টাকা দাবি ও আদায় করে নেওয়া খুব কঠিন হবে বলে মনে হয় না।
আগে একটি লেখায় উল্লেখ করেছিলাম এমন কিছু তথ্য, আবারও তুলে ধরছি। প্রাসঙ্গিক কি না তা বিবেচনার ভার পাঠকদের। আন্তর্জাতিক প্রকল্প বাস্তবায়ন করে এমন প্রতিষ্ঠানগুলোর দুর্নীতির হালহকিকত নিয়ে মাঝেমধ্যে জরিপ করে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল (টিআই)। প্রতিষ্ঠানটির ২০১১ সালের সর্বশেষ ‘ব্রাইব পেয়ার্স ইনডেক্স’-এ বিশ্বের ২৮টি দেশের কোম্পানিগুলোকে বিবেচনায় নেওয়া হয়েছিল। বিদেশে কাজ পাওয়া নিয়ে ঘুষের লেনদেনে যে দেশের কোম্পানিগুলো সবচেয়ে এগিয়ে, এমন দুটি দেশের একটি হচ্ছে চীন। ২৮টি দেশের মধ্যে চীনা প্রতিষ্ঠানগুলোর অবস্থান ২৭ নম্বরে।
যোগাযোগমন্ত্রীরা কেন জানি সরকারপ্রধানের বাড়তি সমর্থন ও আনুকূল্য পান। আবুল হোসেন যত দিন ছিলেন পেয়েছেন, এখন ওবায়দুল কাদের পাবেন, এটাই যেন স্বাভাবিক। মন্ত্রিসভার বৈঠকে মুহিত-কাদের বিতর্কে প্রধানমন্ত্রীর সমর্থন গেছে ওবায়দুল কাদেরের দিকেই। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, তাঁর সরকার জনগণের জন্য কাজ করে যাবে (সূত্র, দ্য ডেইলি স্টার, ৫ আগস্ট)। সবচেয়ে কম দরদাতা হিসেবে পদ্মা সেতু প্রকল্পের নদীশাসনের কাজ চীনা প্রতিষ্ঠান সিনোহাইড্রোর পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিতই বলতে হচ্ছে।
অস্বাভাবিক কম খরচ দেখিয়ে কাজ নেওয়ার পর বাড়তি অর্থ দাবি, সময়মতো কাজ শেষ করতে না পারা ও এক কাজ আটকে (ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক) রেখে অন্য কাজ (পদ্মা সেতুর নদীশাসন) পাওয়ার শর্ত জুড়ে দেওয়া—এমন প্রতিষ্ঠানই সম্ভবত বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত! টিআইয়ের দুর্নীতির ধারণা সূচকে দেশ হিসেবে একেবারে শেষের দিকে থাকা বাংলাদেশ ব্রাইব পেয়ার্স ইনডেক্সের সবচেয়ে নিচের দিকে থাকা চীনা প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য উপযুক্ত হবে, সেটাই তো স্বাভাবিক! আসুন, আমরা চীনা প্রতিষ্ঠানের কাছে আবার জিম্মি হই। এখন যে দরে তারা কাজ নিয়েছে, সামনে তা বাড়িয়ে দেওয়ার জন্য তৈরি থাকি। সেতু যেহেতু ‘নিজস্ব অর্থায়নে’ হবে, তাই ‘দাতা’ বা ‘উন্নয়ন–সহযোগীদের’ খবরদারি করারও কিছু থাকবে না। আর উন্নয়নের যে ‘জোয়ার’ বাংলাদেশে শুরু হয়েছে, তা আপাতত থামার যেহেতু কোনো আশঙ্কা নেই, তাই সামনে পদ্মা সেতুর কাজ আটকে এর চেয়ে বড় কোনো প্রকল্পের কাজ পেতেও সিনোহাইড্রোর কোনো সমস্যা হবে বলে মনে হয় না! আসুন, দুর্নীতির কাছে আমরা জিম্মি হই।
এ কে এম জাকারিয়া: সাংবাদিক।
akmzakaria@gmail.com

পাকিস্তান ছায়াযুদ্ধ চালিয়ে গেলেও সফল হবে না

নরেন্দ্র মোদি
কাশ্মীরে গিয়ে পাকিস্তানকে হুঁশিয়ার করে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বললেন, সম্মুখসমরে জিততে পারবে না বলেই দেশটি ক্রমাগত ‘ছায়াযুদ্ধ’ চালিয়ে যাচ্ছে।কিন্তু তারা কোনো দিনই সফল হবে না। গতকাল মঙ্গলবার দুই দিনের সফরে মোদি জম্মু-কাশ্মীর যান। প্রথমে লে, তারপর আলোচিত কারগিল। জনসভা ছাড়াও সামরিক বাহিনীর জওয়ানদের সমাবেশেও বক্তব্য দেন মোদি। মোদির শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফ এসেছিলেন। দুই দেশের বন্ধ থাকা দ্বিপক্ষীয় আলোচনা শুরু হওয়ার সিদ্ধান্তও হয়েছে। চলতি মাসেই ভারতের পররাষ্ট্রসচিব সুজাতা সিংয়ের পাকিস্তান যাওয়ার কথা।
তবে ভারতীয় পক্ষের অভিযোগ, পাকিস্তান প্রায় নিয়মিতই কাশ্মীরে অস্ত্রবিরতি লঙ্ঘন করে চলেছে। মোদির সফরের এক দিন আগেই জম্মু সেক্টরে পাকিস্তানের গুলি চালনায় সীমান্ত নিরাপত্তা বাহিনীর দুই জওয়ান আহত হন। মোদি গতকাল তারই জবাব দেন নিজস্ব ভঙ্গিতে। এই সফরে মোদি ভারতীয় বাহিনীর মনোবল ধরে রাখার বিষয়েও সচেষ্ট ছিলেন। জওয়ানদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘দেশের অন্য প্রধানমন্ত্রীরা এই রাজ্যকে এড়িয়ে যেতেন। অথচ আপনাদের ভালোবাসা আমাকে দুবার এখানে নিয়ে এল।’ তবে প্রধানমন্ত্রী মোদির কাশ্মীর সফরের অন্য একটি উদ্দেশ্যও রয়েছে। এই বছরের শেষে ভারতের যে রাজ্যগুলোর বিধানসভা নির্বাচন হবে, জম্মু-কাশ্মীর সেগুলোর অন্যতম। বিজেপির নজরে এবার এই রাজ্যটি গুরুত্বের সঙ্গেই চলে এসেছে। মাত্র দুই দিন আগে বিজেপির কর্মসমিতির সম্মেলনে দলীয় সভাপতি অমিত শাহ স্পষ্ট করেই বলেছেন, মহারাষ্ট্র, হরিয়ানা ও ঝাড়খন্ডের মতো জম্মু-কাশ্মীরও তাঁদের দখল করতে হবে। লোকসভার গত নির্বাচনে জম্মু ও কাশ্মীর রাজ্যের ছয়টি আসনের মধ্যে তিনটি পায় বিজেপি, বাকি তিনটি মুফতি মহম্মদ সঈদের দল পিডিপি। কংগ্রেস-জাতীয় কনফারেন্স জোট একটি আসনও পায়নি। যে লাদাখ অঞ্চলে মোদি গতকাল গেলেন, সেখানকার লোকসভা আসন এই প্রথম বিজেপি পেল। ১৯৬৫ সাল থেকে একবারও এই রাজ্যে জাতীয় কনফারেন্স,
কংগ্রেস ও পিডিপি ছাড়া আর কোনো দল ক্ষমতায় আসেনি। অটল বিহারি বাজপেয়ির আমলে এই রাজ্যের বিধানসভার মোট ৮৭ আসনের মধ্যে বিজেপি সবচেয়ে বেশি আসন পেয়েছিল। ১১টি। সেই তুলনায় বিজেপির এবারের ডাক ৪৪-এর ওপরে। অর্থাৎ জাতীয় জোয়ারের ধারাবাহিকতায় ভারতের একমাত্র মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ রাজ্যেও ক্ষমতায় আসতে চাইছে আদর্শিকভাবে হিন্দু জাতীয়তাবাদী বিজেপি। মোদির এই সফরের অন্যতম উদ্দেশ্যও সেটাই। সেই কারণে পাকিস্তানকে যেমন মোদি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, তেমনই রাজ্যের অসমাপ্ত প্রকল্পগুলোর রূপায়ণে আট হাজার কোটি রুপির বাড়তি সাহায্যের কথাও ঘোষণা করেছেন। মোদি বলেছেন, এ রাজ্যের উন্নতিতে তিনটি বিষয়ে নজর দেওয়া দরকার। বিদ্যুৎ, পরিবেশ ও পর্যটন। এই তিন ক্ষেত্রে বিশেষ নজর দেওয়ার পাশাপাশি তিনি ঘরছাড়াদের ফিরিয়ে আনার ওপরেও জোর দিয়েছেন। ১৯৯০ সাল থেকে এই রাজ্যে সন্ত্রাসী কাজকর্ম শুরু হওয়ার পর ২০ শতাংশ মানুষ ঘরছাড়া হয়েছেন, যাঁদের অধিকাংশই কাশ্মীরি হিন্দু। এঁদের কাশ্মীর উপত্যকায় ফেরত নিয়ে যাওয়ার জন্য বিজেপি একটা বিশেষ পরিকল্পনা নিয়েছে। কিন্তু কাশ্মীরি হিন্দুদের (পণ্ডিত) নিরাপত্তা, তাঁদের রোজগারের বন্দোবস্ত কী হবে, সে বিষয়ে বিজেপিকে নানা প্রশ্নের জবাব দিতে হচ্ছে। ইতিমধ্যে এই উদ্যোগকে ঘিরে রাজ্যে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে।

সম্ভাব্য যুদ্ধাপরাধ তদন্তে জাতিসংঘ প্যানেল চূড়ান্ত

সম্ভাব্য যুদ্ধাপরাধ তদন্তে জাতিসংঘ প্যানেল চূড়ান্ত
ফিলিস্তিনের গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের সময় উভয় পক্ষের সম্ভাব্য মানবাধিকার লঙ্ঘন ও যুদ্ধাপরাধের ঘটনা তদন্তে আন্তর্জাতিক কমিশন চূড়ান্ত করেছে জাতিসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিল। হামাস এ পদক্ষেপকে স্বাগত জানালেও ইসরায়েল নিন্দা জানিয়েছে। এদিকে দ্বিতীয় দফা ৭২ ঘণ্টার যুদ্ধবিরতি টিকে থাকার সুবাদে কায়রোতে আবার শুরু হয়েছে পরোক্ষ আলোচনা। খবর এএফপি ও রয়টার্সের। কানাডার আন্তর্জাতিক আইনের অধ্যাপক উইলিয়াম শাবাসকে জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক প্যানেলের প্রধান করা হয়েছে। জাতিসংঘের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, নিরপেক্ষ তদন্ত দলটি ১৩ জুন থেকে এ পর্যন্ত গাজায় সামরিক অভিযানের প্রেক্ষাপটে ‘সংঘটিত আন্তর্জাতিক মানবিক আইন ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনের সব ধরনের লঙ্ঘনের ঘটনা’ তদন্ত করবে। তদন্ত প্যানেলকে ২০১৫ সালের মার্চ মাসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে হবে।
গাজা শাসনকারী হামাসের মুখপাত্র সামি আবু জুহরি বলেন, তাঁরা এ সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানাচ্ছেন। অন্যদিকে ইসরায়েলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইগাল পালমোর বলেন, ‘ক্যাঙারু আদালত’-এ তদন্ত কী হবে তা আগেই নির্ধারণ করা আছে। কায়রো আলোচনা: প্রতিবেশী দেশ মিসরের কায়রোতে শুরু হয়েছে পরোক্ষ আলোচনা। মিসরের মধ্যস্থতায় চলা এ আলোচনার লক্ষ্য হচ্ছে গাজায় একটি টেকসই যুদ্ধবিরতি। তবে কায়রোতে ইসরায়েলি একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেছেন, এখন পর্যন্ত আলোচনায় কোনো অগ্রগতি হয়নি। সংঘাতের ইতি ঘটাতে এখনো অনেক পথ হাঁটতে হবে। ফিলিস্তিনি এক কর্মকর্তা বলেন, সোমবার প্রথম দিনের আলোচনা প্রায় ১০ ঘণ্টা স্থায়ী হয়। এ আলোচনাকে তিনি বর্ণনা করেন ‘আন্তরিক’ হিসেবে। তবে মঙ্গলবারের (গতকাল) আলোচনা বেশি গুরুত্বপূর্ণ হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

পূর্ব ইউক্রেনে রাশিয়ার ‘মানবিক সহায়তা’

পশ্চিমা বিশ্বের হুঁশিয়ারির মধ্যে ইউক্রেনের সংঘাতপূর্ণ পূর্বাঞ্চলে ‘মানবিক সহায়তা’ পাঠিয়েছে রাশিয়া। ২৮০টি ট্রাকের একটি বহর গতকাল মঙ্গলবারই ইউক্রেনের উদ্দেশে রওনা হয়েছে। খবর এএফপি, রয়টার্স ও বিবিসির। প্রেসিডেন্ট পুতিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ দাবি করেছেন, ‘ইউক্রেনের সঙ্গে সমঝোতা করেই স​বকিছু করা হচ্ছে।’ তবে গতকাল রাতে জানা যায়, ইউক্রেন ত্রাণের বহর যেতে দেওয়ার জন্য শেষ মুহূর্তে তিন দফা শর্ত আরোপ করেছে। এর আগে রুশ গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়, ট্রাকগুলোতে প্রায় দুই হাজার টন খাদ্য, শিশুখাদ্য, বিদ্যুতের জেনারেটর, ওষুধসহ বিভিন্ন মাল রয়েছে। বিদ্রোহীদের নিয়ন্ত্রণে থাকা এলাকায় আটকে পড়া হাজার হাজার বেসামরিক মানুষের জন্য এসব সহায়তা পাঠানো হয়েছে। রুশ বার্তা সংস্থা ইতার তাস জানায়, স্থানীয় সময় গতকাল সকালে মস্কো​র কাছ থেকে খাদ্যবাহী গাড়িবহর রওনা হয়। এক হাজার কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে পূর্ব ইউক্রেনে পৌঁছাতে গাড়িবহরের অন্তত দুই দিন লাগবে। পশ্চিমা বিশ্বের আশঙ্কা, রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ‘মানবিক সহায়তাকে’ ছুতা হিসেবে ব্যবহার করে পূর্ব ইউক্রেনে সেনাবাহিনী পাঠাতে পারেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা বলেন, ইউক্রেনের অনুমতি ছাড়া কোনো রুশ তৎ​পরতা হবে অগ্রহণযোগ্য এবং আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন।
ইউরোপীয় কমিশনের (ইসি) প্রেসিডেন্ট হুয়ান ম্যানুয়েল বারাসো গত সোমবার বলেন, ইউক্রেনে ‘যেকোনো ধরনের সামরিক কর্মসূচি—মানবিক মিশনসহ যে অজুহাতেই হোক না কেন—তা হবে অগ্রহণযোগ্য’। ন্যাটো বলেছে, মানবিক সহায়তার আড়ালে রাশিয়া পূর্ব ইউক্রেনে সামরিক অভিযান চালাতে পারে। তবে এসব অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়ে প্রেসিডেন্ট পুতিনের মুখপাত্র পেসকভ বলেন, ত্রাণের বহরকে সামরিক কার্যক্রমের অজুহাত হিসেবে ব্যবহারের এমন ধারণা একেবারে ‘উদ্ভট’। রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন চ্যানেল রোসিয়া ২৪-এ দেখানো হয়, মস্কোর কাছের আলবিয়ানো শহর থেকে সাদা রঙের বেশ কিছু ভারী ট্রাক ছেড়ে যাচ্ছে। টেলিভিশনটির একজন প্রতিনিধি বলেন, গাড়িবহরটি দু-তিন দিনের মধ্যেই ইউক্রেন সীমান্তে পৌঁছাবে। সেখানে তারা রেডক্রসের প্রতিনিধিদের সঙ্গে মিলিত হবে। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দাবি: পূর্ব ইউক্রেনে মালয়েশিয়া এয়ারলাইনসের উড়োজাহাজ বিধ্বস্ত হয়ে ২৯৮ আরোহী নিহত হওয়ার ঘটনার বিচার দাবি করেছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি। গতকাল অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে তিনি বলেন, ‘আমরা অস্ট্রেলিয়া ও বিশ্বকে জানিয়ে দিচ্ছি, আমরা এই বিবেকবর্জিত অপরাধের ন্যায়বিচার চাই।’ রুশপন্থী বিচ্ছিন্নতাবাদীদের নিয়ন্ত্রণে থাকা পূর্ব ইউক্রেনের দোনেৎ​স্ক শহরের কাছে গত ১৭ জুলাই নেদারল্যান্ডস থেকে মালয়েশিয়াগামী ওই উড়োজাহাজটি বিধ্বস্ত হয়। ধারণা করা হচ্ছে, রুশপন্থী বিদ্রোহীরা ইউক্রেনের যুদ্ধবিমান মনে করে ভুলক্রমে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা করে ​এটিকে ধ্বংস করেছে।

আবাদিকে ঠেকাতে তৎপর মালিকি

ইরাকের প্রধানমন্ত্রী পদে হায়দার আল-আবাদির মনোনয়নকে ‘প্রতিশ্রুতিশীল পদক্ষেপ’ বলে অভিহিত করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। আল-আবাদির সঙ্গে টেলিফোনে কথাও বলেছেন প্রেসিডেন্ট ওবামা ও ভাইস প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। সৌদি আরব, প্রতিবেশী ইরান ও তুরস্ক এবং ইসলামি দেশগুলোর জোট ইসলামি সম্মেলন সংস্থা (ওআইসি) আল-আবাদিকে অভিনন্দন জানিয়েছে। এ ছাড়া ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) ও ফ্রান্স তাঁর মনোনয়নকে স্বাগত জানিয়েছে। তবে সদ্য মনোনীত প্রধানমন্ত্রী পদে আবাদিকে ঠেকাতে জোর তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছেন অন্তর্বর্তী প্রধানমন্ত্রী নুরি আল-মালিকি। প্রয়োজনে তিনি আদালতেও যেতে পারেন। তিনি বলছেন, আল-আবাদিকে প্রধানমন্ত্রী পদে মনোনয়ন দেওয়াটা ‘অর্থহীন’। খবর এএফপি, বিবিসি, রয়টার্স ও আল-জাজিরার। ইরাকে গত ৩০ এপ্রিল পার্লামেন্ট নির্বাচন হলেও এখনো সরকার গঠন করা সম্ভব হয়নি। এর মধ্যেই দেশটির উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে সুন্নিপন্থী সংগঠন ইসলামিক স্টেটের (আইএস) উত্থান ঘটে। তাদের দমনে কয়েক দিন আগে যুক্তরাষ্ট্র বিমান হামলা শুরু করে। বিশ্লেষকদের মতে, সব মিলিয়ে ইরাক যে সংকটে পড়েছে, তা থেকে সম্ভবত শিগগিরই মুক্তি মিলছে না। 
ম্যাসাচুসেটস অঙ্গরাজ্যের মার্থাস ভিনইয়ার্ড দ্বীপে ছুটিতে থাকা ওবামা সাংবাদিকদের বলেন, ইরাকের বর্তমান সংকটের দীর্ঘমেয়াদি সমাধানে সবাইকে নিয়ে একটি ঐক্যবদ্ধ সরকার গঠন করতে হবে। মালিকির সমালোচনা করে তিনি বলেন, মালিকি ক্ষমতায় থেকে শিয়া সম্প্রদায়ের সঙ্গে অন্য সবার বিভেদ সৃষ্টি করেছেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, নতুন নেতৃত্বের কাজ হবে সরকারের প্রতি জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনা ও বর্তমান সংকট থেকে উত্তরণে সচেষ্ট হওয়া। প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী আল-আবাদির সঙ্গে তিনি ও জো বাইডেন টেলিফোনে কথা বলেছেন। তাঁকে সব ধরনের সহায়তা দেওয়ারও আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। ইরাকে আইএসের অবস্থানে মার্কিন বিমান হামলা প্রসঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, বিমান হামলা চালিয়ে আইএসকে প্রতিহত করার উদ্যোগ সফল হয়েছে। তবে ইরাকে জঙ্গি রুখতে মার্কিন হামলা কোনো সমাধান নয়। সব পক্ষকে নিয়ে গঠিত একটি ঐক্যবদ্ধ সরকার কেবল পারে এই জঙ্গিদের প্রতিহত করতে। ইরাকের সব পক্ষকে নিয়ে দ্রুত একটি সরকার গঠনের জন্য আল-আবাদির প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি। গতকাল মঙ্গলবার তিনি বলেন, আইএসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে নতুন সরকারকে সহায়তা দিতে প্রস্তুত ওয়াশিংটন। তবে ইরাকে সেনা পাঠানোর সম্ভাবনা নাকচ করে দেন কেরি। শিয়া জোট নিজেদের মধ্যে ভোটাভুটির মাধ্যমে মালিকিকে বাদ দিয়ে পার্লামেন্টের ডেপুটি স্পিকার আল-আবাদিকে প্রধানমন্ত্রী পদে মনোনয়ন দেন।
এর পরই প্রেসিডেন্ট ফুয়াদ মাসুম সরকার গঠনের জন্য আল-আবাদির প্রতি আহ্বান জানান। সংবিধান অনুযায়ী সরকার গঠনের জন্য তিনি ৩০ দিন সময় পাবেন। হাল ছাড়ছেন না মালিকিও। তৃতীয় মেয়াদে প্রধানমন্ত্রী থাকতে সব চেষ্টাই করে যাচ্ছেন তিনি। গত সোমবার মালিকি অভিযোগ করেন, আল-আবাদিকে সরকার গঠনের আহ্বান জানিয়ে প্রেসিডেন্ট সংবিধান লঙ্ঘন করেছেন। তিনি বলেন, ‘আমি সবাইকে আশ্বস্ত করতে চাই, উদ্বিগ্ন হওয়ার কোনো কারণ নেই। আজ যা হয়েছে, সবই অর্থহীন। আমরাই ক্ষমতায় থাকব।’ তবে পাশাপাশি রাজনৈতিক সংকটে হস্তক্ষেপ না করার জন্য সেনাবাহিনীকে নির্দেশ দিয়েছেন মালিকি। মার্কিন হামলার পরিসর বৃদ্ধির পরিকল্পনা নেই: মার্কিন প্রতিরক্ষা সদর দপ্তর পেন্টাগন গত সোমবার বলেছে, ইরাকের ইরবিল শহরে মার্কিন ও অবরুদ্ধ ইয়াজিদিদের সুরক্ষা দেওয়া ছাড়া দেশটিতে বিমান হামলার পরিসর বৃদ্ধির কোনো পরিকল্পনা ওয়াশিংটনের নেই। কুর্দিদের অস্ত্র দেওয়ার আহ্বান: ইরাকি কুর্দিদের অস্ত্র দেওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে ইইউ নেতাদের দ্রুত বৈঠকে বসার আহ্বান জানিয়েছেন ফরাসি পররাষ্ট্রমন্ত্রী লঁরা ফ্যাবিয়াস। ফরাসি বেতারকে তিনি বলেন, আইএসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের জন্য কুর্দিদের অস্ত্র সহায়তার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে জরুরি বৈঠকে বসতে হবে।

দেশের মানুষ দমবন্ধ অবস্থার অবসান চায় -বিশেষ সাক্ষাৎকারে মির্জা আব্বাস by মিজানুর রহমান খান

সাবেক পূর্তমন্ত্রী ও ঢাকা সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র মির্জা আব্বাস বর্তমানে ঢাকা মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি বিএনপির স্থায়ী কমিটিরও সদস্য, সাক্ষাৎকার নিয়েছেন মিজানুর রহমান খান
প্রথম আলো :ঢাকা মহানগর বিএনপির নতুন কমিটি কবে দিচ্ছেন?
মির্জা আব্বাস :১৮ বছর এ কমিটি নিষ্ক্রিয় ছিল। দু-তিনবারই আহ্বায়ক কমিটি করা হয়েছে এবং একই ব্যক্তিরা এতে ছিলেন।
প্রথম আলো :কিন্তু এই কমিটি রেখেই তো আন্দোলন করেছেন, সরকারে এসেছেন।
মির্জা আব্বাস : বিএনপির সরকার গড়তে এই কমিটির ভূমিকা ছিল না।
প্রথম আলো :অতীতে আন্দোলনে বিএনপির অন্যান্য অঙ্গসংগঠনের তুলনায় এই কমিটির ভূমিকা কেমন ছিল?
মির্জা আব্বাস :আমি মনে করি না তেমন ভূমিকা ছিল। দল সরকারে গেলে সাধারণত যত্নের অভাবে সংগঠন নষ্ট হয়। সেই দলের প্রধান যদি মন্ত্রী হন, তাহলে স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী গড়ে ওঠে।
প্রথম আলো :জিয়াউর রহমান সম্পর্কে আপনার মূল্যায়ন?
মির্জা আব্বাস :তিনি ক্যারিশম্যাটিক ব্যক্তিত্ব ছিলেন। তাঁর আমলে সংসদে বিএনপিবিরোধী বহু লোক নির্বাচিত হন এবং তাঁরা যথেষ্ট কথা বলার সুযোগ পান।
প্রথম আলো :১৫ আগস্টে জন্মদিন পালন, জিয়াকে প্রথম রাষ্ট্রপতি ও স্বাধীনতার ঘোষক ইত্যাদি বলা অনেক পরের ঘটনা। তিনি এসব বিতর্কমুক্ত ছিলেন, কিন্তু আপনারা তা আমদানি করলেন কেন?
মির্জা আব্বাস :সেই সময়ের পরিপ্রেক্ষিত ছিল একরকম। তখন যে প্রশ্ন ছিল না, সেই প্রশ্নগুলো পরে এসেছে। আমি তখন স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি বিবেচনায় বিশেষ কতিপয় ব্যক্তির তীব্র বিরোধিতা করেছিলাম। সাহস করে বলেছিলাম, আমি তাদের সঙ্গে রাজনীতি করতে পারব না। জিয়ার অনন্য গুণ ছিল যে আমার সঙ্গে বিরোধিতা না করে বরং আশ্বস্ত করেছিলেন।
প্রথম আলো :ভিন্নমত প্রকাশে জিয়ার সঙ্গে যে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেছিলেন, সেটা খালেদা জিয়ার সঙ্গে কতটুকু করছেন?
মির্জা আব্বাস :আপনি অন্য প্রশ্নে যাচ্ছেন। জিয়া বোঝালেন, তুমি নিশ্চয় আমার চেয়ে বড় মুক্তিযোদ্ধা নও। এটা দেশ বিভক্তির সময় নয়। দেশকে বিভক্ত করে জাতিকে এগিয়ে নেওয়া যাবে না। তাঁর এই কথা একটি সর্বকালীন সত্য। জিয়ার এই পরামর্শ চাইলে আজকের প্রধানমন্ত্রী গ্রহণ করতে পারেন।
প্রথম আলো :আপনি কি এর মাধ্যমে চলমান যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বন্ধের দিকে ইঙ্গিত করছেন?
মির্জা আব্বাস :যুদ্ধাপরাধীদের বিচার নিয়ে আমি সাক্ষাৎকার দিচ্ছি না। আমি আমার নেতার কথা বলছি। অনেকে সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়ার দৃষ্টান্ত দেন, বর্তমান সরকারও দেয়। দুই দেশেই ভালো-মন্দ আছে। তবে জাতি গঠনের দৃষ্টান্তের জন্য জিয়াউর রহমানের চেয়ে দ্বিতীয় উৎকৃষ্ট উদাহরণ আছে বলে মনে করি না।
প্রথম আলো :আপনাকে সরকারবিরোধী আন্দোলনের একটি বিশেষ সন্ধিক্ষণে চালকের আসনে বসানো হয়েছে। কী কৌশলে, কত তাড়াতাড়ি মিত্রদের সংগঠিত করে এই সরকারকে মধ্যবর্তী নির্বাচন দিতে বাধ্য করবেন, তেমন একটা চ্যালেঞ্জ আপনার সামনে?
মির্জা আব্বাস :আপনার প্রশ্নটা ব্যাখ্যামূলক। আপনিই তো সব বলে দিলেন।
প্রথম আলো :আপনি দলের একটি ব্যর্থতা ও হতাশার প্রেক্ষাপটে রাজধানীর হাল ধরেছেন?
মির্জা আব্বাস :নিজেকে সংগঠক মনে করি। ১৮ বছর যুবদলে থেকে অন্তত সাতবার কাউন্সিল করেছি। ১৯৭৮ সালে প্রথম গোপন ব্যালটে যুবদলের প্রেসিডেন্ট হলাম।
প্রথম আলো :ইতিহাসের ভালো পুনরাবৃত্তি কি দেখব? আপনি আহ্বায়ক থেকে গোপন ব্যালটে নির্বাচিত হবেন?
মির্জা আব্বাস :না, আমি প্রতিদ্বন্দ্বিতায় যাব না।
প্রথম আলো :কর্মীরা চাইলে সর্বস্তরে গোপন ব্যালটে হতে দেবেন, নাকি পকেট কমিটি চাপাবেন?
মির্জা আব্বাস :পকেট কমিটির প্রশ্নই আসে না। এর কোনো পথ খোলা নেই।
প্রথম আলো :কত দিনের মধ্যে কমিটি করবেন?
মির্জা আব্বাস :বলতে পারব না। তবে খুব সময় লাগবে না। আমি ২৪ ঘণ্টায় নয় ঘণ্টার বেশি কাজ করছি। ইতিমধ্যে বহু পদক্ষেপ নিয়েছি, যা এখন প্রকাশ করব না। ৫৩ সদস্যের কমিটির মধ্যে চারজনের সঙ্গে কথা বলে আমি সাধারণত সিদ্ধান্ত নিই।
প্রথম আলো :খালেদা জিয়ার করা কমিটি নিয়ে আপনার অভিযোগ কী? অভিমান করেছিলেন কি?
মির্জা আব্বাস :ঠিক অভিমান নয়। আমার মনে হয়েছিল যে বিষয়টি যেভাবে এসেছে, তা আমার জন্য সুবিধাজনক নয়। আমি ফেয়ার পলিটিকস করি। পেছনের দরজা দিয়ে রাজনীতি করার চেষ্টা কখনো করিনি।
প্রথম আলো :কিন্তু আপনার সমালোচকেরা বলে থাকেন যে সন্ত্রাসী ও মাস্তানেরা আপনার পৃষ্ঠপোষকতা পেয়ে থাকে।
মির্জা আব্বাস :আমি নিশ্চিত করে বলতে পারি, আমার হাত দিয়ে ঢাকায় বা বাংলাদেশে কোনো মাস্তান তৈরি হয়নি। ঢাকায় আমি যত দিন মিছিল করেছি, তাতে কোনো দিন বোমাবাজি হয়নি। একজন সন্ত্রাসীও সৃষ্টি করিনি।
প্রথম আলো :কথিতমতে আওয়ামী লীগের সাবেক সাংসদ ডা. ইকবালের মিছিল থেকে করা গুলিতে কতজন নিহত হয়েছিল এবং তাদের পরিবারের প্রতি কী কর্তব্য পালন করেছেন?
মির্জা আব্বাস :একজন মহিলা পথচারীসহ ছয়জন নিহত হন। এর মধ্যে চারজন বিএনপির কর্মী। তাদের পরিবারের পাশে সব সময় ছিলাম ও আছি।
প্রথম আলো :ক্ষমতায় গিয়ে তাঁদের জন্য কী করেছিলেন? প্রশ্নটি আপনার জন্য বেশি প্রাসঙ্গিক, কারণ আপনি হাইকোর্টের আদেশে রাষ্ট্রের কাছ থেকে এক লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ পেয়েছিলেন?
মির্জা আব্বাস :বাস্তবে নিইনি। সরকারকে জরিমানা করা হয়েছে জেনেই সন্তুষ্ট ছিলাম। না, নিহতদের পরিবারের জন্য সরকারিভাবে কিছু করা হয়নি।
প্রথম আলো :সাধারণ নির্বাচন কখন চান?
মির্জা আব্বাস :যত তাড়াতাড়ি সম্ভব হওয়া উচিত। দেশের মানুষ দমবন্ধ অবস্থার অবসান চায়। আপনার পত্রিকা যদিও ভিন্নমতের, তবু বলব, আপনি রাস্তায় বেরিয়ে যাকে জিজ্ঞেস করবেন, তিনিই সরকারের সম্পর্কে বিরূপ মন্তব্য করবেন।
প্রথম আলো :নির্বাচন ইস্যুতে প্রথম আলো কিন্তু সরকারের বিরাগভাজন হয়েছে।
মির্জা আব্বাস :সেটা হয়েছেন। আবার অনেকের বিরুদ্ধে অযথা লিখেছেন।
প্রথম আলো :নির্দিষ্ট করে বলুন।
মির্জা আব্বাস :সত্য প্রকাশে প্রথম আলো হিম্মত রাখে। যখন করে না, তখন দুঃখ লাগে। আমি মন্ত্রী থাকতে রমনা পার্কে কিছু ইউক্যালিপটাস কাটা হলো। স্বাস্থ্যের জন্য এই গাছ মারাত্মক ক্ষতিকর। দিনে একটি গাছ সাড়ে সাত লিটার পানি শোষণ করে। অথচ এসব কারণ আপনার পত্রিকা লিখল না; বরং একটি বাজে কথাও ছাপা হলো। লিখে দিল, আমি নাকি বোমা মারার কথা বলেছি। এটা ছিল ডাহা মিথ্যা।
প্রথম আলো :আপনি প্রতিবাদ করে সঠিক বক্তব্য দিতে পারতেন।
মির্জা আব্বাস :দিয়েছিলাম। কিন্তু তা ছাপা হলো অনুল্লেখযোগ্যভাবে। আমি সব সময় বৃক্ষপ্রেমী ছিলাম। রমনা পার্কে আগে হাঁটতে যেতাম, গুপ্তহত্যা শুরুর পরে আর যাই না।
প্রথম আলো :এক-এগারোর দুর্নীতিবিরোধী কর্মসূচি সমর্থন করে প্রথম আলো আপনাদের বিরাগভাজন হয়েছিল। ১৮ বাড়ি মামলায় রাষ্ট্রের ২০০ কোটির বেশি টাকা ক্ষতি করায় আপনার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ কিন্তু বিশ্বাসযোগ্য। সেই বিষয়ে নির্দিষ্ট বক্তব্য আমরা পেলে এখনো ছাপতে পারি।
মির্জা আব্বাস :এর ব্যাখ্যা দিয়েছি। জেলে যাওয়ার আগে কোন কোন পত্রিকা কখন কী কারণে আমার বিরুদ্ধে লিখেছে, সব বলেছি। কিন্তু আপনারা ছাপেননি।
প্রথম আলো :আপনি পূর্তমন্ত্রী হিসেবে কেন আগের সরকারের সিদ্ধান্ত রদ করেননি? ১৫টি বাড়ি বেচে দেওয়া কি অপরিহার্য ছিল?
মির্জা আব্বাস :এটা যদি আজকের মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে জিজ্ঞেস করেন ভালো হবে। কারণ, এই বিক্রির প্রক্রিয়া তিনিই শুরু করে যান। তাঁর আমলেও সাবেক পাসপোর্ট অফিসসহ ১০টি বাড়ি বিক্রি হয়। মাত্র ১০ লাখ টাকায় কাঠা বিক্রি করেন। সেখানে আমি ২৭ লাখ টাকায় বিক্রি করেছি। ওই সময়ে গুলশানে ২০ লাখ টাকায় কাঠা বিক্রি হতো। ১৫টি বাড়ির ব্যাপারে যেভাবে তদবির আসতে শুরু করে, সেটা রাখা সম্ভব ছিল না। এগুলো কাজেও লাগছিল না। জাল দলিল করেও নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। আমি বাড়ি বেচে সরকারি স্টাফ কোয়ার্টার করেছি।
প্রথম আলো :২০০৮ সালে কেন নির্বাচন করেননি? কর ফাঁকির মামলায় দণ্ডজনিত অযোগ্যতার কারণেই?
মির্জা আব্বাস :না। অন্য কারণ ছিল। সেটা আমি বলব না। তবে দণ্ড থাকার কারণে নির্বাচন করিনি, সেটা ঠিক নয়।
প্রথম আলো :এখন বলুন, মামলার কী অবস্থা?
মির্জা আব্বাস :৪১টির বেশি মামলা বর্তমান সরকারই দিয়েছে। এর প্রায় ১২টিতে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়েছে। সপ্তাহের প্রায় সাত দিনই আদালতে হাজিরা দিই।
প্রথম আলো :মামলা সামলাবেন না আন্দোলন করবেন?
মির্জা আব্বাস :মামলা ছাড়া বিএনপির কোনো নেতা-কর্মী নেই। নিচ থেকে মাথা পর্যন্ত প্রত্যেকের নামে কমপক্ষে ১০টি মামলা আছে। এত লোকের জায়গা জেলেও হবে না। তবে আমার কাছে একটি সূত্র আছে। আর সেটি হলো মানুষের মুখে ৩০-৩২টি দাঁত থাকে। এর মধ্যে সবচেয়ে নরম অংশ জিহ্বা কিন্তু অবাধে বিচরণ করে। দাঁতের ভয়ে জিব তার কাজ বন্ধ রাখে না।
প্রথম আলো :৫ জানুয়ারির আগেও এই জিবতত্ত্ব ছিল। আপনারা নির্বাচন ঠেকানো বা আন্দোলন—কোনোটিই পারেননি।
মির্জা আব্বাস :এ কথা সত্য নয়। আমাদের আহ্বানে সাড়া দিয়ে মানুষ ভোট বয়কট করেছে। শতভাগ প্রতিহত হয়েছে বলেই অবৈধ সরকার ১৫৩ আসনে ভোট করতে পারেনি।
প্রথম আলো :সাদেক হোসেন খোকার সঙ্গে আপনার বিরোধের বিষয়ে বলুন?
মির্জা আব্বাস :বিরোধ নেই। কিছু সাংবাদিক এটি তৈরি করেছেন। গত ১৭-১৮ বছরে আমরা কেউ কারও সম্পর্কে মন্তব্য করিনি। তবে এক-এগারোর ঘটনায় কিছু ভূমিকা নিয়ে আমি তাঁর বিরুদ্ধাচরণ করেছি। সেটা কাজকর্মের বিরোধিতা।
প্রথম আলো :কমিটি গঠনে তারেক রহমান কি ভূমিকা রাখবেন? তাঁর দেশে ফেরা?
মির্জা আব্বাস :তিনি তো কমিটি গঠনে খুব একটা হস্তক্ষেপ করেন না। আর স্বাস্থ্যগতভাবে তিনি এখনো ফিট নন। যখন ঠিক হবে, তখনই আসবেন। কেউ যদি মনে করেন, তিনি ফাঁকি দেওয়ার জন্য বসে আছেন, সেটা ঠিক নয়। আমার নেত্রী এখনো সম্পূর্ণ সামর্থ্য রাখেন। কোনো ঘাটতি নেই।
প্রথম আলো :তারেকের সঙ্গে আপনার সাম্প্রতিক কথোপকথন?
মির্জা আব্বাস :কীভাবে হবে? কোন ফোন দিয়ে হবে? সব ফোনেই তো সরকার আড়ি পেতে রাখে।
প্রথম আলো :সরকারের আশু করণীয় কী?
মির্জা আব্বাস :ঢাকাকে বাঁচাতে প্রশাসনিক দপ্তরগুলো সরিয়ে নিেত হবে। জনসভার জন্য স্থান নির্ধারণ ও মিছিলে বাধা বন্ধ করতে হবে। আওয়ামী লীগ যেভাবে সভা–সমাবেশ করেছে, সেটা বিএনপিরও প্রাপ্য।
প্রথম আলো :আপনাকে ধন্যবাদ
মির্জা আব্বাস :ধন্যবাদ।