Tuesday, February 22, 2011

একটি জাতীয় ভাষা পরিকল্পনা প্রয়োজন একুশে ফেব্রুয়ারি

আবার এসেছে একুশে ফেব্রুয়ারি, আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো দিন। জাতীয় শোক ও শহীদ দিবস। আজ আমরা গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি ভাষা আন্দোলনের শহীদদের। গভীর কৃতজ্ঞতায় স্মরণ করছি ভাষাসৈনিকদের।
১৯৫২ সালের এই দিনে বাঙালি তরুণেরা ঢাকার রাজপথে বুকের রক্ত ঢেলে দিয়ে রচনা করেছিলেন মাতৃভাষার অধিকারকে সর্বজনীন মৌলিক অধিকার হিসেবে প্রতিষ্ঠার পথ। কিন্তু ওই আত্মবলিদান শুধু ভাষার অধিকার প্রতিষ্ঠার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেনি; ক্রমশ তা গণতান্ত্রিক ও ন্যায়ভিত্তিক আধুনিক রাষ্ট্রব্যবস্থার স্বপ্ন ও অঙ্গীকার হিসেবে দানা বেঁধেছিল। বাঙালির ইতিহাসের প্রতিটি ধাপে আমাদের পথ দেখিয়েছে সেই স্বপ্ন। ফেব্রুয়ারি তাই স্বাধীনতা, মুক্তি, সাম্য, গণতন্ত্র—আধুনিক বাঙালির সব শুভ চেতনার মাস।
শুধু তা-ই নয়, জাতীয় গণ্ডি পেরিয়ে একুশে ফেব্রুয়ারি এখন আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। মাতৃভাষা বাংলার জন্য বাঙালি ভাষাশহীদদের আত্মত্যাগের মহিমা ছড়িয়ে পড়েছে ভৌগোলিক সীমারেখা অতিক্রম করে পৃথিবীর সব জাতি-গোষ্ঠীর মাতৃভাষার স্বীকৃতির মধ্য দিয়ে। মাতৃভাষার অধিকার যে মানুষের অন্যতম মৌলিক অধিকার, এ সত্যটি বিশ্ববাসী উপলব্ধি করেছে। জীববৈচিত্র্যের মতোই ভাষা ও সংস্কৃতির বৈচিত্র্যও যে মানবসভ্যতার জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ, তা বিশ্বজুড়েই স্বীকৃত হচ্ছে। বিশ্বের প্রতিটি জনগোষ্ঠীর নিজ নিজ মাতৃভাষা সংরক্ষণ ও বিকাশের অধিকার তাদের রাজনৈতিক অধিকারের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বাংলাদেশেও বাংলা ছাড়া ছোট অনেক জনগোষ্ঠীর মাতৃভাষা রয়েছে। সংখ্যাগরিষ্ঠ বাঙালির ভাষা ও সংস্কৃতির পাশাপাশি সেসব সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর মাতৃভাষা ও সংস্কৃতির স্বকীয় পরিপুষ্টির সুযোগ অবারিত রাখা প্রয়োজন।
যে বাংলা ভাষার জন্য শহীদেরা প্রাণ দিয়েছেন, আমাদের সেই প্রাণপ্রিয় মাতৃভাষার আজ কী অবস্থা? কাগজ-কলমে বাংলা বাংলাদেশের রাষ্ট্রভাষা। কিন্তু সরকারি দাপ্তরিক কাজে বাংলা ভাষার ব্যবহার আংশিক। এ দেশে এখনো ইংরেজির প্রাধান্য বেশি। উচ্চ আদালতে এখনো বাংলা চালু হয়নি। ব্যবসা-বাণিজ্যে বাংলা ভাষার জায়গা খুব সীমিত। আধুনিক যোগাযোগ মাধ্যমে বাংলার ব্যবহার প্রত্যাশিত মাত্রায় বাড়ছে না। উন্নয়ন খাতও চলছে মূলত ইংরেজি ভাষায়। এনজিওদের সেমিনার, সিম্পোজিয়ামগুলোর ভাষা প্রধানত ইংরেজি, তাদের প্রতিবেদন ও অন্যান্য লেখালেখির ভাষাও তা-ই। শিক্ষিত তরুণ-তরুণীরা মাতৃভাষা বাংলার পরিবর্তে ইংরেজি রপ্ত করতে বেশি আগ্রহী। উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে বাংলা ভাষার ব্যবহার সীমিত। বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের পাঠ্যবই অধিকাংশই ইংরেজিতে রচিত। শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের কাছে ইংরেজি বেশি প্রাধান্য পেয়ে থাকে। মাতৃভাষা বাংলায় শুদ্ধ করে, সুন্দরভাবে লিখতে না পারা অগৌরব বলে বিবেচিত নয়। শিশুদের শিক্ষাক্ষেত্রে ইংরেজি মাধ্যমের বিদ্যালয়ের প্রসার ঘটে চলেছে। সাধারণ বিদ্যালয়েও বাংলার প্রতি অবহেলার প্রবণতা লক্ষ করা যায়।
ফেব্রুয়ারি মাস এলে মাতৃভাষা বাংলা নিয়ে নানা কথা বলা হয়, অনেক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। কিন্তু এসব কথায় ও আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে বাংলা ভাষার মর্যাদা বৃদ্ধি পায় না। বাংলার মর্যাদা বৃদ্ধি করতে হলে শিক্ষাসহ জীবনের সর্বস্তরে বাংলা চালু করার ব্যাপক উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। তাই প্রথমে প্রয়োজন একটি জাতীয় ভাষা পরিকল্পনা। পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজন কিছু স্থায়ী প্রতিষ্ঠান ও মানুষ, যাঁরা বাংলা ভাষার বিকাশের লক্ষ্যে নিরন্তর কাজ করে যাবেন।

প্রোটিয়াদের আরেক অসুখ

দলের নাম যখন দক্ষিণ আফ্রিকা, তখন নানা ধরনের শব্দ তো তাদের আগে-পরে যোগ হবেই। এত দিন আসল সময়ে ‘চোক’ করে যাওয়ার একটা রোগ তাদের ঘিরে থাকত। সেই রোগ যে সেরে গেছে তা নয়। তবে এই বিশ্বকাপে মাঠে নামার আগে আরেকটি উপসর্গ যোগ হয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা শিবিরে। প্রস্তুতির জন্য হোটেলের চার দেয়ালে বন্দী থেকে একধরনের আতঙ্কে ভুগছে তারা, যাকে বলা হয় ‘কেবিন ফিভার’—গৃহবন্দী-জ্বর!
দক্ষিণ আফ্রিকা ভারতে পা রেখেছে সপ্তাহ দেড়েক আগে। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে বৃহস্পতিবারের ম্যাচ দিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকার ২০১১ বিশ্বকাপ অভিযান যখন শুরু হবে, ভারতে প্রায় দুই সপ্তাহ থাকা হয়ে যাবে তাদের। অনুশীলন, হোটেল, আবার অনুশীলন—দুই সপ্তাহ ধরে এই একই রুটিন না আবার খেলোয়াড়দের হাঁপিয়ে তোলে, এই ভয় পেয়ে বসেছে প্রোটিয়াদের।
মরনে মরকেল অবশ্য একটি উপায় খুঁজে পেয়েছেন, ‘নিজেদের হোটেলে আবদ্ধ না করে রাখা এবং চার দেয়ালে বন্দী থেকে হাঁপিয়ে না পড়াটা জরুরি। এটা কাটাতে আমরা দেশটি ঘুরে দেখতে পারি।’ তবে ভারতে দক্ষিণ আফ্রিকা দলের ঘুরে বেড়ানোটাও এক সমস্যা, মরকেল সেটাও জানেন, ‘বাইরে গেলে আবার নানা গুজব উঠবে। দক্ষিণ আফ্রিকার মতো এখানে ব্যাপারটা সহজ নয় যে বাইরে গেলাম আর একটা গাড়িতে চেপে বসলাম এবং যেখানে খুশি চলে গেলাম।’
মরকেল যে শুধু চার দেয়ালের বন্দিত্ব কাটানোর পরিকল্পনাই করছেন, তা নয়। ডেল স্টেইনের বোলিং সঙ্গী ভাবছেন মাঠের লড়াই নিয়েও। সবাই স্পিনারদের বিশ্বকাপ হবে ভাবলেও এবারের বিশ্বকাপে পেসাররাও কিছু করবে বলে বিশ্বাস মরকেলের, ‘আমাদের কাজটা খুবই কঠিন। কারণ, সব দলই প্রথম ১৫ ওভারকে টার্গেট করবে। এটা অবশ্য দুই রকমভাবেই কাজ করতে পারে। সবাই যদিও এটাকে স্পিনারদের বিশ্বকাপ হবে বলছে, তবু আমরাও কিছু উইকেট তুলে নিতে পারি। মানুষদের ভুল প্রমাণ করাটা হবে দারুণ ব্যাপার!’

সোয়ানকে নিয়েই ইংল্যান্ডের চিন্তা

ছেলের বাবা হয়েছেন। গ্রায়েম সোয়ান খুব খুশি। কিন্তু নিজের আনন্দটা দলের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে পারছেন না ইংল্যান্ড স্পিনার। আগামীকাল নাগপুরে হল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে ইংল্যান্ডের বিশ্বকাপ অভিযান শুরু। এই ম্যাচের আগে সোয়ানই বরং ইংল্যান্ডের সবচেয়ে বড় দুশ্চিন্তার নাম!
তিন-তিনবার ফাইনাল খেললেও ইংল্যান্ড কখনোই বিশ্বকাপ ট্রফিটা উঁচিয়ে ধরতে পারেনি। অ্যান্ড্রু স্ট্রাউসের দলকে ঘিরে এবার আজন্ম এই আক্ষেপ মুছে ফেলার স্বপ্ন ইংলিশদের। কিন্তু ইংল্যান্ডকে দুশ্চিন্তায় ফেলে দিয়েছে চোট। এই চোট বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে দিয়েছে এউইন মরগানকে। দলের সঙ্গে থাকলেও জোনাথন ট্রট, কেভিন পিটারসেনদের চোট নিয়েও একটু সংশয়ের সৃষ্টি হয়েছিল। তবে চোটের বড় ছোবলটা ছিল বোলিং আক্রমণে। স্টুয়ার্ট ব্রড, টিম ব্রেসনান, আজমল শেহজাদ, জেমস অ্যান্ডারসন—এই চার পেস বোলারের সঙ্গে চোটে ভুগছেন দলের প্রধান স্পিন-ভরসা গ্রায়েম সোয়ানও।
কানাডা ও পাকিস্তানের বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচ খেলে ব্রড, ব্রেসনান, শেহজাদ, অ্যান্ডারসনরা অবশ্য নিজেদের ফিটনেসের প্রমাণ দিয়েছেন। কিন্তু সদ্যোজাত সন্তানের কারণে ইংল্যান্ডে থাকায় সোয়ান খেলতে পারেননি একটি প্রস্তুতি ম্যাচেও। হল্যান্ডের বিপক্ষে মঙ্গলবারের প্রথম ম্যাচেও খেলবেন কি না, ঠিক নেই। কারণ দলের সঙ্গে তিনি যোগ দিয়েছেন গতকাল। চোটের সঙ্গে দীর্ঘ বিমান-ভ্রমণের ক্লান্তির একটা ব্যাপারও আছে। ইংল্যান্ডের কোচ অ্যান্ডি ফ্লাওয়ার বলেছেন, ‘হল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচের আগে দুটি দিন পাচ্ছে সে। এখন আমাদের দেখতে হবে, জেট ল্যাগটা সে কতটা কাটিয়ে উঠতে পারে।’
আঙুলের ব্যথা সত্ত্বেও ট্রট অবশ্য ইংল্যান্ডের পরিকল্পনায় ভালোই আছেন। বিবেচনায় পিটারসেনও। ইংল্যান্ডের দুশ্চিন্তা তাই সোয়ানকে নিয়েই বেশি। দলের সেরা স্পিনার তিনি। ইংলিশদের বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্নে বড় ভরসা সোয়ান।

ভরসা যখন রিভার্স সুইং

উপমহাদেশের উইকেটে পেস বোলারদের জন্য থাকে যৎসামান্যই। এটা প্রমাণিত সত্য। তা হলে এবারের বিশ্বকাপে কি পেসারদের কোনো ভূমিকা থাকবে না ব্যাটিং-সর্বস্ব উপমহাদেশের পিচগুলোতে? নিশ্চয়ই থাকবে। কিন্তু তা পিচের উপহার নয়, বরং পেসারদের আদায় করে নেওয়া। পুরোনো বলে কিছু পেসারের থাকবে রিভার্স সুইং নামের ব্যাটসম্যান ঘাতক মারণাস্ত্র। বিশ্বকাপ শুরু হতে না হতেই তাই শুরু হয়ে গেছে আলোচনা ‘ব্যাটসম্যানকে বিভ্রান্ত করতে পেসাররা তৈরি।’
ভারত অধিনায়ক মহেন্দ্র সিং ধোনিও বসে রয়েছেন রিভার্স সুইং দেখার প্রস্তুতি নিয়ে, ‘এই টুর্নামেন্টে রিভার্স সুইং দেখা যাবে। পাওয়ার প্লে এবং স্লগ ওভারে ফাস্ট বোলাররা এটি কাজে লাগাবে।’
ভারতের জহির খান, পাকিস্তানের উমর গুল, শ্রীলঙ্কার লাসিথ মালিঙ্গা পুরোনো বলের সবচেয়ে ভালো ব্যবহার করতে পারেন বলে ধরা হয়। এই কাজে পাকিস্তানিদের দক্ষতা এখনো বিস্ময়কর। পাকিস্তানের বাঁ-হাতি পেসার ওয়াহাব রিয়াজ মোটামুটি ধরেই নিয়েছেন, ফাস্ট বোলাররাই তাঁদের বিশ্বকাপ অভিযাত্রায় গড়ে দেবেন বড় ব্যবধান।
বিশ্বকাপে পাকিস্তানের সব গ্রুপ ম্যাচই শ্রীলঙ্কায়। শ্রীলঙ্কার স্লো উইকেটে প্রতিপক্ষ বধে পাকিস্তানিদের বড় অস্ত্র যে রিভার্স সুইং হবে, তা না বললেও চলছে। রিয়াজ তাই বেশ আত্মবিশ্বাসের সঙ্গেই বলেছেন, ‘গরম এবং আর্দ্র পরিবেশে এবং শ্রীলঙ্কার স্লো পিচে অবশ্যই আমরা রিভার্স সুইং কৌশলের ফায়দা পুরোপুরি ঘরে তুলতে চাইব। মোহাম্মদ আমির ও মোহাম্মদ আসিফকে ছাড়াও দুই বিভাগেই আমাদের রয়েছে সর্বোচ্চ মানের বোলিং আক্রমণ। আমাদের ব্যাপারে অন্য দলগুলোকে সতর্ক থাকতেই হবে।’
এটা এক অর্থে পাকিস্তানের হুঁশিয়ারি। কিন্তু নিউজিল্যান্ড এই হুঁশিয়ারি দিতে পারে না। তাদের বরং জানতে হবে উপমহাদেশের উইকেটে কীভাবে এই সুবিধাটা কাজে লাগানো যায়। রিভার্স সুইংয়ের গুরুত্বটা তারা বোঝে। নিউজিল্যান্ড অধিনায়ক ড্যানিয়েল ভেট্টোরির আশা, নতুন বোলিং কোচ অ্যালান ডোনাল্ড রিভার্স সুইংয়ের কৌশল শেখাতে তাদের সাহায্য করবেন। ‘সম্ভবত টিম সাউদি ও জ্যাকব ওরাম আমাদের সেরা দুই বোলার, যাদের দুভাবেই বলকে কাজে লাগানোর সামর্থ্য আছে। আশা করি, অ্যালানের অভিজ্ঞতা যুক্ত হলে সামর্থ্য আরও বাড়বে এবং এর কিছু ফল আমরা পাব’—গত শনিবার চেন্নাইয়ে সাংবাদিকদের বলেছেন ভেট্টোরি।
একটা পাদটীকাও যোগ করেছেন নিউজিল্যান্ড অধিনায়ক, ‘...অন্যথায় এ ধরনের উইকেটে পেস বোলারদের পক্ষে কিছু করা দুরূহ হয়ে উঠবে। এই বিশ্বকাপে রিভার্স সুইং আমার কাছে বিশাল গুরুত্ব পাচ্ছে, ডেথ ওভারে রিভার্স সুইংই জয়-পরাজয় গড়ে দিতে পারে।

হাডিনের কাছে পন্টিংয়ের প্রত্যাশা

জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে আজ আহমেদাবাদে শুরু হতে যাচ্ছে অস্ট্রেলিয়ার টানা চতুর্থ বিশ্বকাপ জয়ের মিশন। অন্যবারের মতো এবারের আসরে অসিদের সেই একচ্ছত্র আধিপত্য আর নেই। আগের বারের মতো এককভাবে ফেবারিটও গণ্য করা হচ্ছে না তাদের। তবে বিশ্বকাপটা যে তারা বড় জয় দিয়েই শুরু করতে চাইবে, এতে কোনো সন্দেহ নেই। আর এই বড় জয় পেতে হলে শুরুর দিকের ব্যাটসম্যানদের বড় ইনিংস খেলার কোনো বিকল্প নেই বলে মনে করেন অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক রিকি পন্টিং।
অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে অনেক দিন ধরেই ইনিংসের গোড়াপত্তন করে এলেও খুব আশা জাগানিয়া কিছু করতে পারছেন না ব্র্যাড হাডিন। গত এক বছরে কোনো শতকের দেখা পাননি তিনি। আর সাম্প্রতিক সময়ে যেন অনেকটাই ঢাকা পড়েছেন শেন ওয়াটসনের দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের আড়ালে। বিশ্বকাপের একটি প্রস্তুতি ম্যাচেও রান আউট হয়েছেন রানের হিসাবটা না খুলেই।
রিকি পন্টিং নিজেও স্বীকার করেছেন হাডিনের এই রানখরার কথা। বলেছেন, ‘আমরা এটা নিয়ে অনেক কথাবার্তা বলেছি। আমরা সবাই বুঝি যে শুরুর দিকের ব্যাটসম্যান হিসেবে তাকে বড় ইনিংস খেলতে হবে। যেকোনো ফরম্যাটের ক্রিকেটেই শুধু ৩০ বা ৪০ রানের ইনিংস যথেষ্ট না। শুরুর দিকে নেমে অনেক বড় ইনিংস খেলার চেষ্টা করতে হবে।’
তবে এ মুহূর্তে কিছুটা সমস্যায় ভুগলেও বিশ্বকাপে হাডিন বড় ইনিংস খেলতে পারবেন বলে আশাবাদী পন্টিং, ‘হাডিন মাঝেমধ্যে খুব অনায়াসে বড় ইনিংস খেলে ফেলে। সে খুব দ্রুত রানও করতে পারে। বড় বড় বাউন্ডারি মারার সামর্থ্যও তার আছে। হাডিন আর ওয়াটসন সত্যিই আমাদের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ দুই খেলোয়াড়। তারাও এটা জানে। আমি নিশ্চিত তারা ভালো খেলবে।’

লারার সঙ্গে তুলনায় বিরক্ত ব্রাভো

ব্রায়ান লারার মতোই ড্যারেন ব্রাভোর জন্ম ত্রিনিদাদে। খেলার ধরনেও রয়েছে দুজনের আশ্চর্য মিল। দুজনেই বাঁহাতি ব্যাটসম্যান। ব্রায়ান লারার বিদায়ের পর ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেটে যে শূন্যতা সৃষ্টি হয়েছে, তা থেকে পরিত্রাণের উপায় অনেকেই খুঁজছেন এই ব্রাভোর মধ্যে।
তবে, নিরন্তর লারার সঙ্গে নিজের তুলনাটা একদমই ভালো লাগছে না ব্রাভোর। নিজের আলাদা একটা পরিচিতি নির্মাণ করতে যখন তিনি মরিয়া, তখন ক্রমাগত তাঁর সঙ্গে লারার তুলনায় একটু যেন বিরক্তই ব্রাভো। ২২ বছর বয়সী এ তরুণ ব্যাটসম্যান খোলাখুলিই জানিয়ে দিয়েছেন, লারার সঙ্গে তুলনা নয়, ভালো ক্রিকেট খেলেই নিজের একক পরিচিতি তৈরি করতে চান তিনি।
সদ্যই ক্যারিয়ারটা শুরু করেছেন তিনি। টেস্ট খেলেছেন মাত্র তিনটি। ঝুলিতে রয়েছে কেবল ১৩টি ওয়ানডে ম্যাচের অভিজ্ঞতা। ক্যারিয়ারের সূচনালগ্নে, ব্রায়ান লারার মতো কিংবদন্তি ব্যাটসম্যানের সঙ্গে তাঁর তুলনা চাপ হয়েই দেখা দিয়েছে ব্রাভোর জন্য। তিনি বলেছেন, ‘ব্রায়ান সব সময়ই আমার আদর্শ ক্রিকেটার। আর আশা করছি আমি তাঁর কাছ থেকে অনেক অনুপ্রেরণা পাব। তবে এবারের বিশ্বকাপে আমি নিজের পরিচয়েই পরিচিত হতে চাই।’
লারার সঙ্গে তুলনা করা হলেও বর্তমানে ব্রাভোর প্রিয় ব্যাটসম্যান নাকি শচীন টেন্ডুলকার। সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ব্রাভো বলেছেন, ‘বর্তমানে আমার খুব পছন্দের একজন ক্রিকেটার হলেন টেন্ডুলকার। সে যেভাবে ব্যাট করে, লম্বা লম্বা ইনিংস খেলে, সেগুলো সত্যিই দেখার মতো ব্যাপার।’

অস্ট্রেলিয়া-জিম্বাবুয়ে দু’দলের মাথাতেই ‘শিশির’

কিছুক্ষণের মধ্যেই টানা চতুর্থবারের মতো বিশ্বকাপ জয়ের মিশন নিয়ে নিজেদের প্রথম ম্যাচে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে মাঠে নামতে যাচ্ছে অস্ট্রেলিয়া। বড় জয় দিয়ে নিজেদের গায়ে ফেবারিট তকমাটা ভালোভাবে জড়িয়ে নেওয়ার চেষ্টাই করবে পন্টিং বাহিনী। অন্যদিকে জিততে না পারলেও একটা সম্মানজনক অবস্থা তৈরি করেই মাঠ ছাড়তে চাইবে জিম্বাবুয়ে। আর আহমেদাবাদের সরদার পাটেল স্টেডিয়ামে আজকের এই দিবারাত্রির ম্যাচের ফল নির্ধারণে শিশির একটা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে মনে করছেন স্টেডিয়ামের কিউরেটর ধীরাজ প্রসানা।
এর আগে আহমেদাবাদের এই স্টেডিয়ামে আটটি দিবারাত্রির ম্যাচে পাঁচটিতেই জয় পেয়েছে পরে ব্যাট করা দল। এবারও শিশিরের কারণে দ্বিতীয় ইনিংসের বোলাররা যথেষ্ট চাপে থাকতে পারে বলে মনে করছেন প্রসানা। কারণ পরে বল ঠিকমতো ধরতেই অনেক ঝক্কি পোহাতে হয় বোলারদের। তিনি বলেছেন, ‘দ্বিতীয়ার্ধে মাঠে অবশ্যই শিশির থাকবে। এর আগে অনুষ্ঠিত অন্যান্য ম্যাচগুলোর মতো অত বেশি না থাকলেও কিছুটা যে থাকবেই, সেটা অনেকখানিই নিশ্চিত। কাজেই অস্ট্রেলিয়া, জিম্বাবুয়ে দুই দলেরই ব্যাপারটা মাথায় রাখা উচিত্।’ অবশ্য কিউরেটর হিসেবে এই ব্যাপারটা এড়ানোর সর্বোচ্চ চেষ্টা তিনি করছেন বলে জানিয়েছেন প্রসানা। বলেছেন, ‘আমরা গত কয়েক দিনে মাঠে কোন পানি দেই নি। ঘাসগুলোও এত ছোট ছোট করে কেটেছি যেন সেখানে শিশির জমতে না পারে।’
আহমেদাবাদ স্টেডিয়ামের পিচটা ব্যাটিং সহায়ক হবে বলেই ইঙ্গিত দিয়েছেন কিউরেটর। ব্যাটসম্যানরা এই উইকেটে ব্যাট করে অনেক মজা পাবেন বলে মন্তব্য করেছেন তিনি। গত বছর এই উইকেটে ভারতের বিপক্ষে সর্বোচ্চ রান করেছিল দক্ষিণ আফ্রিকা। মাত্র দুই উইকেটের বিনিময়ে তারা সংগ্রহ করেছিল ৩৬৫ রান। আর প্রথম ইনিংসের গত স্কোর ২৫৭। সব মিলিয়ে মারকুটে আক্রমণাত্মক একটা ম্যাচ আজ আশা করতে পারেন দর্শকরা।

দুই জার্মান সাংবাদিককে মুক্তি দিয়েছে ইরান

ইরানে আটক দুই জার্মান সাংবাদিককে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। মার্কোজ হেলউইগ ও জেনস কোচ নামের জার্মানির বিল্ড পত্রিকার এ দুই সাংবাদিককে গত বছর আটক করা হয়েছিল।
জার্মান পররাষ্ট্রমন্ত্রী গুইদো ডেস্টারভেন দুই সাংবাদিককে দেশে ফিরিয়ে আনতে তেহরান গেছেন। ব্যভিচারের দায়ে পাথর মেরে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ইরানি নারী সাকিনেহ আশতিয়ানির ছেলের সাক্ষাৎকার নেওয়ার সময় তাঁদের আটক করা হয়।
ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা বিঘ্নিত করার দায়ে দুই সাংবাদিককে ২০ মাস করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। পরে অপর একটি আদালত কারাদণ্ডের পরিবর্তে তাঁদের অর্থদণ্ড করেন। এই জরিমানা পরিশোধ করে তাঁরা মুক্তি পেয়েছেন।
আদালতের রায়ের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা ইসনা জানায়, জাতীয় নিরাপত্তা হুমকিগ্রস্ত করায় দুই সাংবাদিককে ২০ মাসের সাজা দেওয়া হয়েছে। কিন্তু তাঁরা বিশেষ পরিস্থিতির শিকার। এ মামলায় অভিযুক্ত অন্যরা তাঁদের এ কাজে ব্যবহার করেছেন। ফলে তাঁরা ইসলামের দৃষ্টিতে ক্ষমা পাওয়ার যোগ্য। তাই কারাদণ্ডের পরিবর্তে তাঁদের ৫০ কোটি রিয়াল করে জরিমানা করা হলো।
দুই সাংবাদিককে দেশে ফেরত পাঠাতে শনিবার তাঁদের ইরানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর তাবরিজ থেকে রাজধানী তেহরানে নেওয়া হয়েছে।

চার দিনে ৬৪ জনকে হত্যা

আফগানিস্তানের পূর্বাঞ্চলীয় কুনার প্রদেশে গত চার দিনে আফগান এবং ন্যাটো নেতৃত্বাধীন বাহিনী অভিযান চালিয়ে অন্তত ৬৪ জন বেসামরিক নাগরিককে হত্যা করেছে। নিহত লোকজনের অধিকাংশই শিশু ও নারী। কুনার প্রদেশের গভর্নর ফজলুল্লা ওয়াহিদি গতকাল রোববার এ তথ্য জানান।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ওয়াহিদি বলেন, প্রদেশের গাজী আবাদ এলাকায় আকাশ ও ভূমি থেকে পৃথকভাবে হামলা চালিয়ে ওই বেসামরিক নাগরিকদের হত্যা করা হয়। নিহতদের মধ্যে ২০ জন নারী, ২৯টি শিশু ও ১৫ জন পুরুষ রয়েছেন।
আফগানিস্তানে ন্যাটো নেতৃত্বাধীন সেনা অভিযানের সময় বিমান হামলায় প্রায়ই বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়। সেনাদের নৈশকালীন অভিযানের সময়ও বেসামরিক নাগরিকদের হতাহতের ঘটনা ঘটছে। এ ধরনের হত্যাকাণ্ড নিয়ে আফগান সরকার ও পশ্চিমা মিত্রদের মধ্যে মতবিরোধ রয়েছে।
ন্যাটো নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা সহায়তা বাহিনীর (আইএসএএফ) এক মুখপাত্র জানান, কুনার প্রদেশে হামলায় সাত বেসামরিক নাগরিক আহত হওয়ার ব্যাপারে গণমাধ্যমের খবরের সত্যতা তাঁরা খতিয়ে দেখছেন। তবে বেসামরিক নাগরিক নিহত হওয়ার কোনো তথ্য তাঁদের কাছে নেই।

যৌথ সংসদীয় কমিটি গঠনে রাজি সরকার

ভারতের টেলিযোগাযোগ খাতের দুর্নীতির অভিযোগের ব্যাপারে সংসদীয় তদন্তের জন্য যৌথ সংসদীয় কমিটি গঠনে বিরোধীদের দাবি মেনে নিয়েছে সরকার। গতকাল রোববার বিরোধী দলগুলোর সঙ্গে এক বৈঠকে সরকার এ দাবি মেনে নেয়।
দ্বিতীয় প্রজন্মের মুঠোফোনের লাইসেন্স প্রদানে দুর্নীতির অভিযোগকে ঘিরে পার্লামেন্টে গত কয়েক মাসের অচলাবস্থা নিরসন এবং আসন্ন বাজেট অধিবেশন নির্বিঘ্ন করার লক্ষ্যে এ পদক্ষেপ নেওয়া হলো।
বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং বলেন, ‘সরকার সব ইস্যু নিয়ে আলোচনা করতে প্রস্তুত। আসন্ন পার্লামেন্ট অধিবেশন ফলপ্রসূ ও কার্যকর হবে বলে আমি আশা করছি।’ আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি পার্লামেন্টে বাজেট উপস্থাপন করা হবে।
২০০৮ সালে ২-জি মোবাইল ফোনের লাইসেন্স দেওয়ার ক্ষেত্রে দুর্নীতির আশ্রয় নেওয়া হয় বলে অভিযোগ ওঠে। এই দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে টেলিযোগাযোগমন্ত্রী এ. রাজাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

স্পেনে বিচ্ছিন্নতাবাদী দলের বৈধতার দাবিতে বিক্ষোভ

নতুন একটি বিচ্ছিন্নতাবাদী দলের বৈধতার দাবিতে স্পেনের উত্তরাঞ্চলীয় বাস্ক সিটিতে কয়েক হাজার মানুষ বিক্ষোভ করেছে।
নতুন এই বিচ্ছিন্নতাবাদী দলের নাম সর্তু। বাস্ক বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠী ইটিএর রাজনৈতিক শাখার সদস্যরা ওই বিক্ষোভের সমর্থনদাতা। স্বাধীন বাস্ক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার দাবিতে গত চার দশকে ইটিএ আট শতাধিক লোককে হত্যা করেছে। নিহত ব্যক্তিদের অধিকাংশই স্প্যানিশ পুলিশ কর্মকর্তা।
সর্তুর সমর্থকেরা জানান, তাঁরা সহিংসতার পথ পরিহার করেছেন। তবে স্বাধীনতার জন্য শুধু রাজনৈতিক পন্থায় লড়াই চালিয়ে যাবেন।
এর আগে ২০০৩ সালে স্পেনের একটি আদালত সর্তুর পূর্বসুরি বতাসুনাকে নিষিদ্ধ করেন।

পরমাণু পরীক্ষা চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে উ. কোরিয়া

উত্তর কোরিয়া তার পারমাণবিক পরীক্ষাকেন্দ্রে নতুন করে সুড়ঙ্গ খননের কাজ শুরু করেছে। এতে ধারণা করা হচ্ছে, দেশটি আবারও পরমাণু পরীক্ষা চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। দক্ষিণ কোরীয় বার্তা সংস্থা ইয়োনহাপ গতকাল রোববার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।
সিউলের একজন শীর্ষ কর্মকর্তার বরাত দিয়ে সংস্থাটি জানায়, উত্তর কোরিয়ার উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশ উত্তর হ্যামগিয়ংয়ের পুনগাই-রি ঘাঁটিতে অন্তত দুটি সুড়ঙ্গ খননের কাজ চলছে। একই ঘাঁটিতে উত্তর কোরিয়া ২০০৬ সালের অক্টোবরে প্রথম পরমাণু পরীক্ষা চালায়। ২০০৯ সালের মে মাসে চালায় দ্বিতীয় পরীক্ষা। পরমাণু নিরস্ত্রীকরণ নিয়ে ছয় জাতির আলোচনা থেকে পিয়ংইয়ং বেরিয়ে যাওয়ার কয়েক মাস পরই এ পরীক্ষা চালানো হয়।
দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি মিয়ুং-বাক গতকাল রোববার পিয়ংইয়ংকে তাদের মনোভাব পরিবর্তনের আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, উত্তর কোরিয়া তার অবস্থান পাল্টালে দিনশেষে তাদেরই মঙ্গল হবে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে দক্ষিণ কোরীয় ওই কর্মকর্তা ইয়োনহাপকে জানান, পিয়ংইয়ংয়ের একাধিক সুড়ঙ্গ খননের কারণ হচ্ছে, পরীক্ষা চালানোর সময় যাতে সেরাটি বেছে নেওয়া যায়। তা ছাড়া পরীক্ষা চালানোর পর ব্যবহূত সুড়ঙ্গটি দ্বিতীয়বার ব্যবহার করা যায় না। তিনি বলেন, উত্তর কোরিয়ার প্লুটোনিয়াম মজুদ থেকে সংগ্রহ করা উপকরণ ব্যবহার করে এ পরীক্ষা চালানো হতে পারে।
ওয়াশিংটন ও সিউল বলছে, ওই প্লুটোনিয়াম মজুদে যে পরিমাণ উপকরণ আছে, তা দিয়ে ছয় থেকে আটটি বোমা বানানো সম্ভব। তবে উত্তর কোরিয়ার দাবি, শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে তারা পরমাণু কর্মসূচি চালাচ্ছে। কিন্তু পশ্চিমারা বলছে, এসব উপকরণ দিয়ে সহজেই পরমাণবিক বোমা বানানোর মতো ইউরেনিয়াম উৎপাদন করা সম্ভব।
সম্প্রতি এক স্যাটেলাইট চিত্রে দেখা গেছে, উত্তর কোরিয়া এমন এক ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে, যা যুক্তরাষ্ট্রে আঘাত হানতে সক্ষম। মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য বিভাগের সংগ্রহ করা ওই চিত্রে দেখা যায়, উত্তর কোরিয়ার পশ্চিম উপকূলের টংচাং-রি ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণের একটি টাওয়ার নির্মাণের কাজ শেষ হয়েছে।
মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী রবার্ট গেটস সতর্ক করে বলেছেন, পাঁচ বছরের মধ্যে উত্তর কোরিয়া এমন ক্ষেপণাস্ত্রের মালিক হবে, যা সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে আঘাত হানতে পারবে।
দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি মিয়ুং-বাক আরও বলেছেন, কমিউনিস্ট রাষ্ট্রটির (উত্তর কোরিয়া) মনোভাব বদলাতে চাপ প্রয়োগে এ বছরই হলো আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জন্য উপযুক্ত সময়। তিনি বলেন, ‘আমি এই বার্তা ছড়িয়ে দিতে চাই যে পিয়ংইয়ংকে চাপে ফেলতে এ বছরই হলো ভালো সুযোগ। আমি মনে করি, পিয়ংইয়ং নিজেও বিষয়টি নিয়ে জোরালোভাবে চিন্তাভাবনা করছে।’
চলতি মাসের শুরুতে উত্তর কোরীয় নেতা কিম জং-ইলের সঙ্গে সংলাপে বসার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন লি। কিন্তু গত ৯ ফেব্রুয়ারি দুই দেশের মধ্যকার আন্তসীমান্ত বৈঠক ভেস্তে যাওয়ার পর এ সম্ভাবনা অনেকটা শেষ হয়ে গেছে। প্রথম দফার বৈঠক ভেস্তে যাওয়ার জন্য দক্ষিণ কোরিয়াকে দায়ী করে পিয়ংইয়ং বলেছে, আর আন্তসীমান্ত বৈঠক নয়।

ভূমিকম্পের নির্ভুল পূর্বাভাস দেবে টুইনস্যাট প্রকল্প

সম্প্রতি বিজ্ঞানীরা টুইনস্যাট নামের নতুন একটি প্রকল্প চালু করেছেন। বিজ্ঞানীদের দাবি, এ প্রকল্পের মাধ্যমে ভূমিকম্পের নির্ভুল পূর্বাভাস দেওয়া সম্ভব হবে।
গতকাল রোববার দ্য ইনডেপেন্ডেন্ট-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সম্প্রতি মস্কোতে ওই প্রকল্পে যৌথভাবে কাজ করার জন্য রাশিয়া ও যুক্তরাজ্যের বিজ্ঞানীদের মধ্যে একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।
বিজ্ঞানীরা জানান, প্রকল্পটিতে দুটি কৃত্রিম উপগ্রহ থাকবে। এর মধ্যে একটির আকার পুরোনো মডেলের একটি টেলিভিশন সেটের সমান। অন্যটি জুতার বাক্স থেকেও ছোট। উপগ্রহ দুটি ভূপৃষ্ঠ থেকে মাত্র কয়েক মাইল ওপরে পৃথিবীর চারপাশে পরিভ্রমণ করবে।
পরস্পর সংযুক্ত উপগ্রহ দুটি পৃথিবীর ভূমিকম্প ও অগ্ন্যুৎপাতপ্রবণ এলাকা পর্যবেক্ষণ করবে। এরপর উপগ্রহ থেকে পাঠানো তথ্যের সঙ্গে ভূপৃষ্ঠ থেকে পাওয়া তথ্যের তুলনামূলক বিশ্লেষণের মাধ্যমে বিজ্ঞানীরা ভূমিকম্পের পূর্বাভাস দেবেন।
প্রকল্পের নেতৃত্বদানকারী ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডনের অধ্যাপক অ্যালান স্মিথ জানান, ভূমিকম্পের আগে পৃথিবীর নিচ থেকে একটি চাপ তৈরি হয়। এ সময় পৃথিবীর উপরিভাগে সূক্ষ্ম তড়িৎ চুম্বকীয় সংকেত তৈরি হয়। আমাদের মূল কাজ হবে অন্য সংকেত থেকে ওই সংকেতটি আলাদা করে ফেলা। আর তা করতে পারলে ভূমিকম্পের নির্ভুল পূর্বাভাস দেওয়া সম্ভব হবে।
মস্কোর ইনস্টিটিউট অব ফিজিকস অব দ্য আর্থের অধ্যাপক ভিটালি চিমিরেভ জানান, ভূমিকম্পের গবেষণায় প্রকল্পটির ব্যাপক অগ্রগতির সম্ভাবনা রয়েছে। প্রকল্পটির মাধ্যমে যুক্তরাজ্য ও রাশিয়া দুই দেশই উপকৃত হবে। এ ছাড়া পৃথিবীকে একটি নিরাপদ জায়গা হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব হবে।

‘ক্যানসারের ঝুঁকি কমাতে লাল মাংস কম খেতে হবে’

যুক্তরাজ্যের বিজ্ঞানীরা বলেছেন, ক্যানসারের ঝুঁকি হ্রাসে সে দেশের নাগরিকদের লাল মাংস খাওয়ার ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে। প্রতি সপ্তাহে প্রাপ্তবয়স্ক প্রত্যেক নাগরিকের প্রতিদিন ৭০ গ্রাম এবং সপ্তাহে ৫০০ গ্রামের বেশি লাল কিংবা প্রক্রিয়াজাত মাংস খাওয়া ঠিক হবে না। অতিরিক্ত লাল মাংস খাওয়া কমাতে হবে। নতুন এক গবেষণা প্রতিবেদনে তাঁরা এ কথা বলেন। গবেষণার ফল এ সপ্তাহেই আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করার কথা।
প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি কী পরিমাণ লাল মাংস (শুকর, গরু, ভেড়া ও ছাগলের মাংস) খেলে ক্যানসারসহ অন্যান্য রোগের ঝুঁকি থেকে মুক্ত থাকবেন, এ নিয়ে বিশেষজ্ঞদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে মতবিরোধ চলে আসছে। এর আগে এক দল বিশেষজ্ঞ পরামর্শ দেন, প্রাপ্তবয়স্ক কোনো ব্যক্তির সপ্তাহে ৭০ গ্রামের বেশি লাল মাংস খাওয়া উচিত হবে না। আর শিশুদের কোনোভাবেই লবণ মাখিয়ে পোড়ানো শূকরের মাংস, পাতলা চামড়ার ভেতর মসলাযুক্ত মাংসের কিমা ভরে প্রস্তুত করা খাদ্যসামগ্রী খাওয়ানো উচিত হবে না। গত বছর ইংল্যান্ডের তৎকালীন প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা স্যার লিয়াম ডোনাল্ডসন বলেন, সব ধরনের মাংস খাওয়া মাত্র ৩০ শতাংশ কমিয়ে দিলে প্রতিবছর যুক্তরাজ্যের অন্তত ১৮ হাজার নাগরিক অকালমৃত্যুর হাত থেকে বেঁচে যাবে।
লাল মাংস কীভাবে ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ায়, এ নিয়েও তর্কের শেষ নেই। বেশ কয়েকটি মতবাদ চালু আছে। একটি মতবাদ অনুযায়ী, লাল মাংসে এক ধরনের রঞ্জক পদার্থ থাকে, যা পরিপাক প্রক্রিয়া-সংশ্লিষ্ট কোষের ডিএনএর ক্ষতি সাধন করে। ডিএনএর ক্ষতি সাধন ক্যানসারের প্রাথমিক লক্ষণ। আরেক দল বিশেষজ্ঞের দাবি, মাংস প্রক্রিয়াজাতকরণে এমন সব পদার্থ ব্যবহার করা হয়, যা মানুষের শরীরে ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ায়।
বিজ্ঞানীদের দাবি, লাল মাংস হূদরোগ ও ডায়াবেটিসের ঝুঁকিও বাড়ায়। স্থূলতা অনেক রোগের ঝুঁকি বাড়ায়।

বাহরাইনে পার্ল স্কয়ার আবার বিক্ষোভকারীদের দখলে

বাহরাইন ও ইয়েমেনে সরকারবিরোধী আন্দোলন আরও জোরদার হয়েছে। বাহরাইনে আন্দোলনের মুখে সেনাবাহিনী গত শনিবার রাজধানী মানামায় অবস্থিত পার্ল স্কয়ারের নিয়ন্ত্রণ ছেড়ে সরে গেছে। গতকাল রোববার সেখানে হাজার হাজার বিক্ষোভকারী জড়ো হয়েছে। অন্যদিকে ইয়েমেনের রাজধানী সানায় একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্দোলনরত শিক্ষার্থী ও সরকার-সমর্থকদের পাল্টাপাল্টি গুলিতে কমপক্ষে এক ছাত্র নিহত ও বেশ কয়েকজন গুলিবিদ্ধ হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে।
সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে বাহরাইনকে বিক্ষোভকারীদের প্রতি নমনীয় আচরণ করার আহ্বান জানানোর পর গত শনিবার পার্ল স্কয়ার থেকে সেনাবাহিনী সরিয়ে আনা হয়। এর পরপরই হাজার হাজার বিক্ষোভকারী সেখানে জড়ো হতে থাকে। গতকাল রোববার সেখানে তারা বিক্ষোভ করলেও কোনো সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেনি। মূলত শিয়া গোষ্ঠীর লোকজন এ আন্দোলনে নেমেছে। তারা সব রাজবন্দীর মুক্তি, প্রধানমন্ত্রী শেখ খলিফা বিন সালমানের পদত্যাগ এবং সংবিধান সংশোধন করার দাবি জানাচ্ছে। গতকাল আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের দাবিগুলো সরকারের কাছে পেশ করার কথা।
পার্ল স্কয়ারে বিক্ষোভরত ছাত্র তাহার গতকাল এএফপিকে বলেন, কোনো রকম ঝামেলা ছাড়াই তাঁরা শনিবার রাত থেকে সেখানে অবস্থান করছেন। তাঁরা আশঙ্কা করছিলেন, রাতে তাঁদের ওপর পুলিশ গত বৃহস্পতিবারের মতো গুলি চালাতে পারে।
পার্ল স্কয়ারে সোমবার থেকে অবস্থান নেওয়া বিক্ষোভকারীদের ওপর গত বৃহস্পতিবার ভোররাত তিনটার দিকে হামলা চালায় দাঙ্গা পুলিশ। ওই হামলায় চারজন নিহত ও ২৩১ জন আহত হয়। তখন থেকে সেখানে বিক্ষোভকারীদের সমাবেশ ঠেকাতে সেনা মোতায়েন করা হয়।
শুক্রবার বিক্ষোভকারীরা পার্ল স্কয়ারে যাওয়ার চেষ্টা চালালে তাদের ওপর গুলি ছোড়ে সেনাবাহিনী। এতে ৬০ জনের বেশি আহত হয়।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা শুক্রবার বাদশা হামাদকে টেলিফোন করে এর নিন্দা জানান। তিনি জনগণের অধিকারের প্রতি সম্মান দেখাতে বাহরাইন সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের বৈদেশিক নীতিবিষয়ক প্রধান ক্যাথেরিন অ্যাস্টোনও নিরাপত্তা বাহিনীর এ হামলার ব্যাপারে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
বাহরাইনে সংসদীয় রাজতন্ত্র রয়েছে। মূলত অভিজাত সুন্নিদের হাতে শাসন ক্ষমতা রয়েছে। শিয়াদের অভিযোগ, তারা সুন্নিদের নিপীড়নের শিকার হচ্ছে।
এদিকে, ইয়েমেনে প্রেসিডেন্ট আলী আবদুল্লাহ সালেহর পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভের নবম দিনে গত শনিবার বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে নিরাপত্তা বাহিনী ও সরকার-সমর্থকদের সংঘর্ষে ১২ জন আহত হয়েছে। এর আগের দিন গত শুক্রবার বিক্ষোভে সহিংসতায় পাঁচজন নিহত হয়।
শনিবার সানা বিশ্ববিদ্যালয়সংলগ্ন এলাকায় সরকার-সমর্থক ও বিক্ষোভকারী শিক্ষার্থীদের মধ্যে গুলি ছোড়াছুড়িতে পাঁচ বিক্ষোভকারী গুলিবিদ্ধ হয়। এদের একজন মারা গেছে বলে জানা গেছে।

গল্প- কবি কুদ্দুস ও কালনাগিনীর প্রেম by সজল শর্মা

কদিন রাতে কবি কুদ্দুস মোহনীয় বীণের বাজনা শুনল। পাড়ার ছেলেরা বসে বসে সিনেমা দেখছে। কবি কুদ্দুসের আর তর সইল না। সেও দেখতে গেল। ছায়াছবির নাম কাল নাগিনীর প্রেম। কাল নাগিনী মৌসুমীরে দেখে কবি কুদ্দুস কবিতার খাতা বগলে পুরে নর্তন-কুর্দন দেখতে লাগল। আর নাগরাজ ওমর সানি, আহা! কবি কুদ্দুস নিজেকে নাগরাজ ভেবে বসল। সেই ভাবনার চুলায় কয়লা ঢেলে দিল

গল্পসল্প- আমার বইমেলা by ওয়াসি আহমেদ

চুয়াত্তর সালই হবে। পঁচাত্তর না নিশ্চিত, তিয়াত্তর হওয়ার সম্ভাবনাও কম। সে বছর একুশে ফেব্রুয়ারি সকালবেলা বাংলা একাডেমী চত্বর বেশ সরগরম। তবে তা বইমেলার কারণে নয়—বইমেলা জাতীয় কিছু তখনো পোক্ত হয়ে দাঁড়ায়নি। জনসমাগমের মূল আকর্ষণ দেশের নবীন-প্রবীণ কবিদের স্বকণ্ঠে কবিতাপাঠ ও সংগীতানুষ্ঠান। এসবের পাশাপাশি একাডেমীর মূল গেট পেরিয়ে কয়েক পা ভেতরে উত্তরদিকে মাঝারি উঁচু দেয়াল ঘেঁষে অনুজ্জ্বল দু-তিনটি বইয়ের স্টল।