Sunday, December 9, 2018

স্টার শিক্ষার্থীর যৌনতার নেশা


প্রচন্ড মেধাবী ছাত্রী পুরবী গিরি (১৭)। জিসিএসই পরীক্ষায় ১০টি বিষয়ে পেয়েছে এ-স্টার। এ জন্য তাকে বলা হয় স্টার শিক্ষার্থী। পড়াশোনায় এত ভাল ছাত্রীটির ঝোঁক ছিল যৌনতায়। তাই একদিন ১৯ বছর বয়সী এক বয়ফ্রেন্ডকে বাসায় নিয়ে যায় সে। তারপর নেশাদ্রব্য কোকেন পার্টি করে দু’জনে। এতে তার যৌন আসক্তি আরো বেড়ে যাবে বলে ভেবেছিল পুরবী। কিন্তু হলো তার উল্টো।
কোকেন সেবন করায় তার রক্তের চাপ বৃদ্ধি পেয়ে হার্ট এটাক হলো। ব্যস জীবনের ইতি ঘটলো পুরবীর। 
পিতামাতার ১০ লাখ পাউন্ডের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটায় সে। বার্মিংহামে কিং ষষ্ঠ এডওয়ার্ড স্কুলের ছাত্রী সে। পরিকল্পনা করছিল পদার্থবিজ্ঞান নিয়ে পড়াশোনা করবে বিশ্ববিদ্যালয়ে। কিন্তু গ্রীষ্মের ছুটিতে সে মেতে ওঠে ১৯ বছর বয়সী এক বয়ফ্রেন্ডকে নিয়ে। এতে তার হার্ট এটাক হয়। প্যারামেডিকদের ডেকে নেয়া হয় বাড়িতে।
তখন তার হার্ট থেকে রক্তক্ষরণ হচ্ছিল। এ অবস্থায় তাকে নিয়ে যাওয়া হয় গুড হোপ হাসপাতালে। এখানেই তার পিতা হাঁটু বিষয়ক সার্জন। পরীক্ষা করা হয় তার। দেখা যায় কোকেন সেবনের কারণে তার হার্ট এটাক হয়েছে। পুরবীর হার্ট থেকে তখনও রক্ত বেরিয়ে আসছিল। এ ঘটনা ঘটে ১লা আগস্ট। তারপর থেকে আরো কিছু দিন বেঁচে ছিল পুরবী। ২২ শে আগস্ট মারা যায় সে। এ ঘটনায় প্রথমদিকে ১৯ বছর বয়সী ওই কিশোরকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে কোনো অভিযোগ ছাড়া তাকে ছেড়ে দেয়া হয়। এ ঘটনায় পুরবীর পিতা ও মা ডা. বিভা গিরি ভেঙে পড়েন। বিভাগিরি বলেন, আমাদের প্রচন্ড মেধাবী ও উজ্বল মেয়ে পুরবীর মৃত্যুতে পুরো পরিবারের হৃদয় ভেঙ্গে গেছে। ওদিকে পুরবীর স্কুলের সহপাঠীরা বলছে, পুরবীকে মাঝে মাঝে মদ্যপ থাকতে দেখেছে তারা। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ইন্সটাগ্রামে তার নাম ‘পোকেইন’। কোকেইনের সঙ্গে মিলিয়ে এই নাম রাখা হয়েছে বলে অভিযোগ। তার এক বান্ধবী বলেছে, পুরবী সব সময়ই একটু এলামেলো ছিল। কিন্তু পড়াশোনায় সব সময়ই ভাল ছিল। স্কুলে আসতো মদ্যপ অবস্থায়। তাকে এভাবে স্কুল অনুমতি দিয়েছে কারণ সে ভাল ফল করেছে। তবে পুরবী যে কিশোরের সঙ্গে ওই যৌনতায় মেতেছিল তার নাম কেউ বলতে পারে নি।

কুয়েতে বাংলাদেশি পরিচ্ছন্নতাকর্মী আমিনদের জীবনধারা


বাংলাদেশ এবং এশিয়ার অন্য দেশ থেকে যাওয়া পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের ওপর কুয়েতের পরিচ্ছন্নতা কাজ অনেকাংশেই নির্ভরশীল। এশিয়ার হাজার হাজার মানুষ দেশটির সড়কে পরিচ্ছন্নতাকর্মী এবং ব্যক্তিগত ভৃত্য হিসেবে কাজ করেন। তাদের বেশির ভাগই খুব অল্প বেতন পান। ফলে নিজেদের রোজগার বাড়ানোর জন্য তারা এসব কাজের পাশাপাশি অতিরিক্ত কাজ করেন। এমনটাই জানিয়েছে অনলাইন কুয়েত টাইমস। 
বাংলাদেশি এক শ্রমিকের সঙ্গে তার কাজের বিষয়ে কথা বলে কুয়েত টাইমস। তিনি হলেন ফরিদপুরের আমিন মতলিব। তিনি কুয়েতে সড়ক পরিচ্চন্নতাকর্মী।
গাছ ও ঝোপঝাড় কাটার কাজও করেন। সেখানকার পার্ক এবং বাগানগুলোতে প্রতিদিন গাছ ছাঁটাইয়ের কাজ করতে হয় তাকে। তিনি বলেন, আমি সুয়াইখ শহরের রাস্তা এবং বাগানের গাছ কাটা ও ঝোপঝাড় ছাঁটার দায়িত্বে রয়েছি। আমরা শুধু এই কাজই করি না, পানি সাপ্লাই প্ল্যান্টের সুইচ বন্ধ ও চালানোর কাজও করি। 
গ্রীষ্মকালে আমিন ভোর তিনটায় ঘুম থেকে ওঠেন। ৩টা ৪৫ মিনিটে তাদেরকে বাসে করে নির্ধারিত জায়গায় নিয়ে যাওয়া হয়। ৪টা থেকে কাজ শুরু করে বিকালে ঘরে ফিরে আসেন। আমিন জানান, আমার চাচা ও আরো পাঁচ বাংলাদেশি আমার সঙ্গে কাজ করেন। সুয়াইখে আমরা তিনটি দীর্ঘ রাস্তা পরিষ্কার করি। আমাদেরকে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব কাজ সেরে ফেলার নির্দেশনা দেয়া থাকে। যাতে রোদ উঠে গেলে বিশ্রাম নিতে পারি। প্রয়োজন হলে আমরা গাছ ছাঁটাইয়ের কাজও করি। 
কুয়েতে ১লা জুন থেকে ৩১শে আগস্ট পর্যন্ত সকাল ১১টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত বাইরে কাজ করা নিষিদ্ধ। সুতরাং ১০টা থেকে আমরা গাছের ছায়ায় জমায়েত হতে শুরু করি। একে অন্যের সঙ্গে অভিজ্ঞতা নিয়ে কথা বলি, দেশে কল করে পরিবারের সঙ্গে কথা বলি, খাওয়া-দাওয়া করি। ততক্ষণে ট্রাকে ময়লার ব্যাগ ওঠানো হয়। বিকালের দিকে আমিনের কাজ শেষ হয় এবং বাসে করে ঘরে ফিরে যান।     
আমিনের বয়স ৩০ বছর। তার ১৪ বছরের একটি ছেলে এবং তিন বছরের একটি মেয়ে রয়েছে। পরিবার প্রসঙ্গে আমিন জানান, ১৫ বছর বয়সে আমি বিয়ে করি। বাংলাদেশে জীবনধারা খুব কঠিন। ১৫ বছর বয়সে আমি আমার ছোটবেলার প্রেমিকাকে বিয়ে করার সিদ্ধান্ত নিই। বাবা-মাকে এ বিষয়ে জানালে তারা সম্মতি দেন। বিয়ের পরে ফরিদপুরে সংসার শুরু করি। আমার মনে আছে, প্রথম সন্তান জন্মের সময় পর্যন্তও আমাদের জীবন কষ্টকর ছিল। তখন আমার বয়স ১৬। আমি তখন কাঠমিস্ত্রি হিসেবে কাজ করতাম। কিন্তু চেয়ার, টেবিল বানিয়ে যে টাকা রোজগার করতাম তা আমার পরিবারের জন্য যথেষ্ট ছিল না। একদিন আমার স্ত্রীকে বললাম যে, আমার বিদেশে চলে যাওয়া উচিত। এটা তার জন্য কষ্টকর হলেও, ধীরে ধীরে সে মেনে নেয়। পরে এজেন্টের মাধ্যমে টাকা দিয়ে পরের মাসে কুয়েত চলে আসি। আমি আমার চাচা আবুল খায়ের একসাথে ২০০৫ সালে কুয়েত আসি। আমার চাচার বয়স তখন ৪০, আর আমি মাত্র ১৮। পরে মাসিক ৪০ কুয়েতি দিনার চুক্তিতে আমাদেরকে পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে নিয়োগ করা হয়। পরে অর্থের পরিমাণ বাড়িয়ে ৬০ কুয়েতি দিনার করা হয়। অবসর সময়ে আমি গাড়ি পরিষ্কারের কাজ করি যাতে আমি কিছু বাড়তি রোজগার করতে পারি। এই হলো আমার জীবন। 
সড়ক পরিচ্চন্নতাকর্মীদের খারাপ আবহাওয়ার উপেক্ষা করে, ভালো-খারাপ মানুষের সঙ্গে চুক্তি করা ছাড়া বিকল্প নেই। এ বিষয়ে আমিন বলেন, আমরা এমন নির্মম আবহাওয়ায় অভ্যস্ত নই। কিন্তু আমাদেরকে খাপ খাইয়ে নিতে হয়। যখন প্রখর রোদ থাকে, তখন আমরা অবশ্যই গাছের ছায়ায় বসে বিশ্রাম করি। কিন্তু কিছু মানুষ আছে যারা আমাদের সঙ্গে চিৎকার করে। প্রখর রোদে কাজ করতে বলে। তবে একইভাবে ভালো মানুষও রয়েছেন। আমাদের ভাগ্য ভালো থাকলে কেউ কেউ ৫ কিংবা ১০ দিনার দেন। আমিন আরো বলেন, আমাদেরকে গ্রীষ্মের প্রখর রোদে এবং শীতকালে তীব্র শীতের মধ্যে কাজ করতে হয়। এখানে আমরা যে প্রতিকূলতার সম্মুখীন হই, তাতে এখানকার মানুষরা অভ্যস্ত। 
আমিনরা যে গাছ ছাঁটাই করেন, সেগুলো ট্রাকে করে ফার্মে নেয়া হয়। আর কাগজ ও প্লাস্টিকগুলো রিসাইকেল করার উদ্দেশ্যে নেয়া হয়। বর্জ্য সরাসরি মাটিতে পুঁতে ফেলা হয়।

পৃথিবী সফরে এসেছিল এলিয়েন!

এলিয়েন বা ভিন্ন গ্রহের আগন্তকদের নিয়ে রহস্যের শেষ নেই। এই রহস্যকে কেন্দ্র করে নির্মিত হচ্ছে একের পর এক সায়েন্স ফিকশন ছবি। রচিত হচ্ছে অনেক কল্পকাহিনী। তবু একটি প্রশ্ন থেকেই যায়- আসলেই কি এলিয়েন আছে? তাদের সঙ্গে পৃথিবীর মানুষ যোগাযোগ স্থাপনের জন্য বহু দিন আগে থেকে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু এখনও এলিয়েনের সাক্ষাত মেলে নি। তবে যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার বিশেষজ্ঞরা দাবি করছেন, এরই মধ্যে এলিয়েনরা পৃথিবী সফরে এসে থাকতে পারে। তারা মানুষের চেয়ে বেশি বুদ্ধিমান। এমনটা বলেছেন নাসার ইন্টেলিজেন্ট সিস্টেমস ডিভিশনে কাজ করা সিলভানো পি. কলম্বানো।
তিনি বলেছেন, হয়তো এরই মধ্যে এলিয়েনরা পৃথিবীতে এসেছে। কিন্তু আমরা তাদেরকে মিস করেছি। এর কারণ হতে পারে বর্তমানে কার্বনভিত্তিক যে মানবজীবন তার থেকে তাদের জীবনধারা আলাদা। কলম্বানোর বিশ্বাস বহির্জাগতিক প্রাণের বিষয়ে বর্তমানে যেসব চিন্তাভাবনা, গবেষণা আছে তাতে সংশয়ের জায়গাটা সংকীর্ণ হয়ে এসেছে অনেকটা। কলম্বাাে তার এ গবেষণার কথা লিখেছেন এক নিবন্ধে। তা মার্চে উপস্থাপন করা হয় ‘ডিকোডিং এলিয়েন ইন্টেলিজেন্স ওয়ার্কশপ’-এ। তার বিশ্বাস এলিয়েনরা এমন প্রযুুক্তি ব্যবহার করে যা, মানবীয় প্রযুক্তির চেয়ে উন্নত। মহাজাগতিক সফরে তারা রয়েছে ধরাছোঁয়ার বাইরে।

গাছ বন্ধু ওয়াহিদ সরদার

যশোর ঝিনাইদহ মহাসড়কের পাশে গাছ থেকে একে একে সাইনবোর্ড পেরেক সরাচ্ছেন এক লোক।
মাথায় কৃষকদের যে মাথাল তাতে বাংলাদেশের পতকার আদলে লাল-সবুজ রঙে রাঙানো। পায়ে পুরোনো এক জোড়া কেডস। নাম ওয়াহিদ সরদার।
২০১৮ সালের জুলাই মাস থেকে গাছের পেরেক অপসারণ শুরু করেন যশোরের ওয়াহিদ সরদার। যশোর, ঝিনাইদহ, খুলনা তিনটি জেলার বিভিন্ন রাস্তার ধারে থাকা গাছ থেকে ব্যানার, পেরেক অপসারণ করে যাচ্ছেন তিনি।
এখন পর্যন্ত প্রায় ৫০০ কিলোমিটার এলাকার বিভিন্ন রাস্তার গাছ থেকে ১২৭ কেজি পেরেক তুলেছেন ওয়াহিদ সরদার।
কেন তিনি এই কাজ করছেন? বিবিসিকে তিনি বলেন- "গাছকে আমি অনেক ভালোবাসি, গাছ নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে, গাছ মারা যাচ্ছে তার কাঁটার আঘাতে। বিজ্ঞান বলছে গাছের জীবন আছে, যেহেতু জীবন আছে তার মানে তার যন্ত্রণা, ব্যাথা আছে। এ কারণে আমি এ কাজটি করছি।"
২০০৬ সাল থেকে এখন পর্যন্ত নিজ খরচে এবং বিভিন্ন সংস্থার সহায়তায় প্রায় ৩০ হাজার গাছ লাগিয়েছেন তিনি।
পেশায় রাজমিস্ত্রি, আর্থিক অনটনের কারণে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের গন্ডি পেরোতে পারেননি ওয়াহিদ সরদার।
অথচ গাছের জীবন, তাদের বেড়ে ওঠা ও জীবন বৈচিত্র্য নিয়ে তার রয়েছে স্পষ্ট ধারণা।
গাছের গায়ে পেরেক মারা এবং পোষ্টার বিলবোর্ড লাগানোর কারণে তার ক্ষুব্ধ সমাজের শিক্ষিত এবং উচ্চ শ্রেনীর উপর।
ওয়াহিদ সরদারের মতে; "যারা এসব করছে তারা সব শিক্ষিত, পয়সাওয়ালা, যার জন্য পেরেক তুলতে গিয়ে নিরাপত্তার একটা হুমকি ছিলো কারণ তাদের বিভিন্ন প্রচার প্রচারণা আমি সরিয়ে ফেলছি । ভেতরে ভয় কিন্তু মুখে সাহস ছিলো, এটা নিয়ে ওদেরকে বুঝাতে বুঝাতে আমি পেরক তুলে যাচ্ছি। পেরেক তুলতে গিয়ে মানুষের তিরস্কার আর কটু কথার মুখোমুখি হতে হয় ওয়াহিদ সরকারকে।
অনেকে জিজ্ঞেস করে কে অর্ডার করেছে পেরেক তুলতে, বেতন কতো পায়।
যখন শুনে তিনি স্বেচ্ছাসেবক তখন কেউ বিশ্বাস করে না।
বলে এটা অসম্ভব নিজের খেয়ে বনের মোষ তাড়ানো।
ওয়াহিদ সরদার জানান;" অনেকে প্রশ্ন করে পেরেকগুলো কি করি? যদি বলি সংরক্ষণ করি, বলে না বিক্রি করেন এখানে তো অনেক পয়সা আছে। অর্থাৎ তারা আমাকে বিশ্বাস করে না। একটা মানুষ এমন কাজ করতে পারে তা বিশ্বাস করে না। এটা হচ্ছে আপনি ভালো কাজ করলে এমন সমালোচনার ভেতর দিয়ে যেতে হবে। তাই এটার দিকে আমি দৃষ্টি দিই না।"আর্থিক অনটনের কারণে তার এই স্বেচ্ছাসেবী কাজে সম্মতি ছিলো পরিবারের। ওয়াহিদ সরদারের প্রতি পরিবারের সদস্যদের একটা ক্ষোভ ছিলো যে আমাদের ভবিষ্যতটা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।
যখন দেখলো যে এটা তার নেশা, তখন তারা এ সংকটের ভেতর দিয়ে স্বসম্মানে গড়ে উঠেছে।
বর্তমানে ওয়াহিদের মালয়েশিয়া প্রবাসী ছেলে সংসারের হাল ধরেছে আর তিনি গাছ বাঁচানোর লড়াই করে যাচ্ছেন।
তিনি বলেন; এটা আমি যুদ্ধ ঘোষণা করেছি। যতক্ষণ পর্যন্ত সরকার একটি সু-পরিকল্পনার মাধ্যমে ব্যানারকে জাদুঘরে না নিবে ততক্ষণ আমি এটা চালু রাখবো ততদিন আমি এটা চালিয়ে যাবো।
সূত্রঃ বিবিসি

যীশুখ্রিস্টকে বিয়ে করে আজীবন কুমারী থাকেন যে নারীরা

কনের সাজে জেসিকা হেস বেদিতে এসে দাঁড়ালেন। তার পরনে বিয়ের সাদা গাউন, মাথায় অবগুণ্ঠন এবং হাতের আঙ্গুলে বিয়ের আংটি। বিয়ের মন্ত্র পড়তে তিনি এখন বিশপের মুখোমুখি। কিন্তু তার পাশে বরের সাজে কেউ নেই। থাকার কথাও নয়। কারণ জেসিকা বিয়ে করছেন যীশুখ্রিস্টকে।
জেসিকা হেসের বয়স এখন ৪১। এখনো তিনি কুমারী। ক্যাথলিক চার্চের নিয়ম অনুযায়ী ঘোষণা করেছিলেন, একমাত্র ঈশ্বরের কাছেই নিজেকে বধূ হিসেবে সমর্পণ করবেন।
ক্যাথলিক চার্চে যারা এরকম শপথ নেন, তাদের শপথ অনুষ্ঠানে বিয়ের অনুষ্ঠানের মতো করেই কনের পোশাক পরতে হয়।

এরপর প্রতিজ্ঞা করতে হয়, আজীবন কৌমার্য রক্ষা করবেন। কারও সঙ্গে কোন ধরণের প্রেমের বা যৌন সম্পর্কে জড়াবেন না। তারা হাতের আঙ্গুলে একটি বিয়ের আংটিও পরেন।

জেসিকা হেস বলেন, তাকে অনেকেই জিজ্ঞেস করেন, আপনি কি বিবাহিত? ‘আমি সাধারণ উত্তর দেই যে, আমার অবস্থা চার্চের সিস্টারদের মতো, একমাত্র পার্থক্য হচ্ছে আমি বাইরে থাকি।’
যারা এরকম কুমারী থাকার শপথ নেন, তাদের চার্চের গন্ডিতে আবদ্ধ থাকতে হয় না বা সিস্টারদের মতো পোশাকও পরতে হয় না। তারা সমাজের আর দশজনের মতই জীবন যাপন করতে পারেন। চাকরি করতে পারেন।
যেমন, জেসিকা একটি স্কুলে চাকরি করছেন ১৮ বছর ধরে। তিনি থাকেন যুক্তরাষ্ট্রের ইন্ডিয়ানা রাজ্যের ফোর্ট ওবিয়েইন শহরে।
তবে কাজ শেষে বাকী সময়ের বেশির ভাগটাই তার কাটে প্রার্থনায় আর ঈশ্বরের সেবায়। নিয়মিত যোগাযোগ রাখতে হয় একজন বিশপের সঙ্গে। 

সারাজীবনের অঙ্গীকার
জেসিকে হেসের মতো যারা সারাজীবন কুমারী থাকার অঙ্গীকার করেছেন, তাদের ব্যাপারে ক্যাথলিক চার্চের মানুষেরাও খুব কমই জানেন। কারণ মাত্র ৫০ বছরের কিছু সময় আগে ক্যাথলিক চার্চ এরকম একটি প্রথা প্রকাশ্যে অনুমোদন করে।
অথচ ক্যাথলিক চার্চে সেই বহু শত বছর আগে কুমারী থাকার চর্চা ছিল। মধ্যযুগে এই প্রথা কমে গিয়েছিল।
১৯৭১ সালে ভ্যাটিকান এরকম কুমারী থাকার প্রথাকে ধর্মীয় অনুমোদন দেয়।
২০১৩ সালে জেসিকা কুমারী থাকার শপথ নেয়ার সিদ্ধান্ত নেন। এর দু’বছর পর আনুষ্ঠানিকভাবে ‘তিনি পবিত্র কুমারী’ বলে ঘোষিত হন।
ওই অনুষ্ঠানের শেষ ধাপে তাকে গির্জার বেদির সামনে বিয়ে করতে হয়।
‘এর মানে হচ্ছে আমি নিজেকে উপহার হিসেবে ঈশ্বরের কাছে সমর্পণ করছি, আজীবনের জন্য তাকে গ্রহণ করছি।’
যুক্তরাষ্ট্রে জেসিকার মতো ‘পবিত্র কুমারী’ বা ‘যীশুখ্রীস্ট্রের বধূ’ আছে ২৫৪ জন। এদের কেউ হয়তো পেশায় নার্স, কেউ একাউন্ট্যান্ট, কেউ ব্যবসা করেন, কেউ কাজ করেন দমকল কর্মী হিসেবে।
বিশ্বজুড়ে এরকম ‘পবিত্র কুমারী’ আছেন চার হাজারের মতো। ভ্যাটিকান বলছে, অনেক জায়গাতেই এরকম শপথ নেয়া নারীর সংখ্যা বাড়ছে।

জেসিকা হেস একটা বয়সে কয়েকটি রোমান্টিক সম্পর্কে জড়িয়েছিলেন। কিন্তু ওই পর্যন্তই। এদের সঙ্গে তার সম্পর্ক যে কোন পরিণতিতে যেতে পারে সেটা তার মনে হয়নি। যে সমাজে যৌনতা নিয়ে অতটা সংস্কার নেই, সেখানে আজীবন কুমারী থাকার শপথ বেশ কঠিনই বটে। ‘আমার মনে হয় সবচেয়ে কঠিন হচ্ছে আপনাকে মানুষ ভুল বুঝতে পারে। কারণ আমরা যে জীবন বেছে নিয়েছি, সেটাকে প্রচলিত সংস্কৃতির বিরোধী বলে গণ্য করা হয়। আমাকে প্রায়ই শুনতে হয়: ও, তুমি এখনো একা? তখন আমাকে ব্যাখ্যা করতে হয়, আমার সম্পর্ক ঈশ্বরের সঙ্গে, আমি আমার শরীরও ঈশ্বরকেই দিয়েছি।’
শারীরিকভাবেও কুমারী?
গত জুলাই মাসে ভ্যাটিকান একগুচ্ছ নতুন নিয়ম-কানুন প্রকাশ করে যা ‘পবিত্র কুমারী’দের মধ্যে বিতর্ক তৈরি করেছিল। প্রশ্নটা ছিল, যারা ‘পবিত্র কুমারী’ হয়েছেন, তাদের কি সারাজীবন শারীরিকভাবেও কুমারী থাকতে হবে?

যারা নান বা সন্ন্যাসিনী, তাদের বেলায় নিয়ম হচ্ছে, যেদিন থেকে তারা চার্চে যোগ দিচ্ছেন, সেদিন থেকে তারা কৌমার্য রক্ষা করবেন। কিন্তু ‘পবিত্র কুমারী’দের বেলায় নিয়ম ছিল, তাদের জন্ম থেকেই কুমারী থাকতে হবে। কিন্তু ভ্যাটিকানের নতুন নিয়মে বলা হয়েছিল, এরকম থাকতে পারলে ভালো, কিন্তু পবিত্র কুমারীদের দলে যোগ দিতে গেলে এটা একেবারে অপরিহার্য তা নয়।
কিন্তু জেসিকা হেস যুক্তরাষ্ট্রের যে ক্যাথলিক সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত, তারা এই নতুন নিয়মকে খুবই আপত্তিকর বলে মনে করে। তারা চিঠি লিখে এর প্রতিবাদ জানায়। জেসিকা হেস চান, ভ্যাটিকানের দলিলে যেন বিষয়টা আরেকটি পরিষ্কার করে বলা হয়। এরকম নিয়ম কেন করা হয়েছে, সেটা তিনি কিছুটা বুঝতে পারেন। ‘অতীতে কেউ হয়তো ভুলে কিছু একটা করেছিল, বা কেউ হয়তো ধর্ষণের শিকার হয়েছিল। কিন্তু নিজের ইচ্ছায় তো তারা তাদের কৌমার্য হারায় নি।’   

ইসি সরকারের কথায় চলছে -ড. দিলারা চৌধুরী

অবাধ এবং সুষ্ঠু করার ব্যাপারে ইসির ভূমিকা খুব বিতর্কিত বলে মন্তব্য করেছেন রাষ্ট্রবিজ্ঞানী অধ্যাপক ড. দিলারা চৌধুরী। মানবজমিনের সঙ্গে আলাপচারিতায় তিনি বলেন, আসন্ন নির্বাচনে আশা-নিরাশা দু’টি দিকই আছে। আশার কথা, সব দল নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে, আর নিরাশার কথা- নির্বাচনকে অবাধ এবং সুষ্ঠু করার ব্যপারে ইসির ভূমিকা খুব বিতর্কিত। ইসি সমতল ক্ষেত্র বা লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি করতে পারছে না। সুতরাং এই পরিস্থিতিতে মনে হয়, ইসি সরকারের কথায় চলছে। 
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকার ও রাজনীতি বিভাগের সাবেক এই অধ্যপক মনে করেন, সরকার যদি দেশ চালায় এবং সেখানে যদি নির্বাচন হয়, সেই নির্বাচন কখনো সুষ্ঠু হতে পারে না। তিনি বলেন, যদি একটি হ্যানত্যান নির্বাচন হয় এবং সেই নির্বাচনে সরকারি দল জিতেও তারপরও তারা দেশ চালাতে পারবে না। 
প্রখ্যাত এই রাষ্ট্রবিজ্ঞানী বলেন পুলিশ যে সকল কা- কারখানা করছে, মামলা-গায়েবি মামলা, বাড়ি বাড়ি গিয়ে হুমকি, যাদেরকে পোলিং এজেন্ট করা হবে তাদের খবরাখবর নিচ্ছে, এসব বিষয়ে নির্বাচন কমিশন কিছইু করতে পারছে না।
বিরোধীদলগুলোকে হামলা-মামলা ও জেল-জুলুমের মধ্যে রেখেছে। সেখানে কি রকম নির্বাচন হবে? নির্বাচনটা অবাধ এবং সুষ্ঠু হওয়ার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি। 
এতকিছুর পরও আগামী নির্বাচনটা কেমন হবে বলে মনে করছেন এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ঐক্যফ্রন্টতো বলেছে আমরা মাঠ ছাড়বো না। অন্যদিকে ক্ষমতাসীনদের কার্যকলাপ দেখে মনে হচ্ছে তারা বিরোধীদলকে কোনোরকম সুযোগ দিতে প্রস্তুত নয়। যতো রকমভাবে আটকানো যায় সেই চেষ্টা করছে তারা। এজন্য আগামী নির্বাচনটা ইসির জন্য ভীষন একটি চ্যালেঞ্জিং হবে। এখন বিরোধীরা মাঠে গেলে সহিংসতা হবে এবং নির্বাচন বিতর্কিত হবে। বাংলাদেশ একটি সংকটের মুখে পরবে।
জোট-মহাজোটে নির্বাচন বাংলাদেশের রাজনীতিতে স্থিতি আনবে কি না এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জোটের নির্বাচনতো অনেক যায়গায় হয়। কিন্তু কথা হলো, দেশে যদি কোনো জনগণের নির্বাচিত সরকার না আসে তাহলে সেই সরকার চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে। সেই সরকার রাজনীতিতে কোনো স্থিতিশীলতা আনতে পারবে না।