Friday, November 6, 2009

যুক্তরাষ্ট্রে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়নি শ্রীলঙ্কার সেনাপ্রধানকে

শ্রীলঙ্কার সেনাপ্রধান জেনারেল সারাথ ফনসেকা যুক্তরাষ্ট্র সফর শেষে আজ বৃহস্পতিবার কলম্বো ফিরেছেন। তবে কথিত যুদ্ধাপরাধ সম্পর্কে তাঁকে কোনো ধরনের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়নি। এর আগে যুক্তরাষ্ট্র গত মে মাসে তামিল বেসামরিক লোকদের নির্বিচারে হত্যার অভিযোগে জেনারেল ফনসেকাকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে চেয়েছিল।
বার্তা সংস্থা এএফপির খবরে বলা হয়, জেনারেল ফনসেকা একটি বাণিজ্যিক ফ্লাইটে আজ সকালে কলম্বোর বন্দরনায়েকে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেন। পরে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থায় তাঁকে সেখান থেকে নিয়ে যাওয়া হয়।
শ্রীলঙ্কার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, জেনারেল ফনসেকাকে যুক্তরাষ্ট্র সফরকালে কোন রকম জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়নি। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের একজন স্থায়ী অভিবাসী। তিনি ওকলোহামায় তাঁর মেয়েদের কাছে বেড়াতে গিয়েছিলেন।
শ্রীলঙ্কা সরকার আশঙ্কা করছিল, জেনারেল ফনসেকাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে প্রতিরক্ষা সচিব গোতাভায়া রাজাপাক্ষের বিপক্ষে জোর করে মানবাধিকার লঙ্ঘনের জবানবন্দী আদায় করবে মার্কিন গোয়েন্দারা। গোতাভায়াও যুক্তরাষ্ট্রের একজন স্থায়ী অভিবাসী। তিনি প্রেসিডেন্ট রাজাপক্ষের ছোট ভাই।
সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর কংগ্রেসে উত্থাপিত এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করে, শ্রীলঙ্কা সরকার ও তামিল বিদ্রোহীরা উভয়েই গত মে মাসে শ্রীলঙ্কায় তামিলবিরোধী অভিযানের শেষ পর্যায়ে ব্যাপকভাবে মানবাধিকার লঙ্ঘন ও যুদ্ধাপরাধের ঘটনা ঘটায়। জেনারেল ফনসেকার নাম শ্রীলঙ্কার সেনাপ্রধান হিসেবে সেই প্রতিবেদনে উল্লেখ করে বলা হয়, তিনি শ্রীলঙ্কার সেনাবাহিনীকে তামিলদের বিরুদ্ধে এই যুদ্ধাপরাধ ও মানবাধিকার লঙ্ঘনে নেতৃত্ব দিয়েছেন। তবে শ্রীলঙ্কা সরকার মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের এই অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলে সরাসরি নাকচ করে দেয়। একই সঙ্গে সরকার এ ধরনের অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্তের আশ্বাসও দেয়।

আফ্রিদিময় ম্যাচে বড় জয় পাকিস্তানের

এমন ফর্মে থাকলে অধিনায়কত্ব নিয়ে কে মাথা ঘামায়? অধিনায়কত্বের আশৈশব আকাঙ্ক্ষা আর ইউনুস খানের সঙ্গে বিবাদের গুজব—সব মিলিয়ে পাকিস্তানের সাম্প্রতিক অধিনায়কত্ব বিতর্কে শহীদ আফ্রিদির হাত দেখছিলেন অনেকেই। আবুধাবিতে তিন ম্যাচ সিরিজের প্রথমটিতে আফ্রিদির অলরাউন্ড পারফরম্যান্স আর ইউনুসের ‘শূন্য’ প্রায় স্তিমিত বিতর্কটিকে আরও এক দফা উসকে দিতে পারে। কিন্তু যেভাবে খেলছেন, তাতে অযথা অধিনায়কত্বের বোঝা এই অলরাউন্ডার হয়তো নিজেও আর নিতে চাইবেন না!
নিউজিল্যান্ডকে ১৩৮ রানে হারিয়ে সিরিজে এগিয়ে গেছে পাকিস্তান। পাকিস্তান ইনিংসের মাঝামাঝি থেকে দিনটি ছিল শুধুই আফ্রিদির। টস জিতে ইউনুস বলেছিলেন, এই উইকেটে জিততে ২৭০-২৮০ রান প্রয়োজন। ইনিংসের প্রথম ৯ বল শেষে পাকিস্তানের রান ২ উইকেটে ০! ২৩.২ ওভারে যখন ৭৫ রানে নেই ৪ উইকেট, দুই শকেও মনে হচ্ছিল অসম্ভব। আফ্রিদি-বীরত্বের শুরু এর পরই। ওয়ানডে অভিষেকের প্রায় দুই বছর পর দ্বিতীয় ম্যাচ খেলতে নামা খালিদ লতিফের (৬৪) সঙ্গে পঞ্চম উইকেটে গড়েছেন ১০১ রানের জুটি, যাতে আফ্রিদিরই ৭০! ৫০ বলের ইনিংসে ছিল ৪টি চার ও ৩টি ছক্কা। সবচেয়ে ইতিবাচক দিক, এদিন তাঁর ইনিংসটি ছিল নিয়ন্ত্রিত আগ্রাসনের অপূর্ব প্রদর্শনী, ছিল না সব বলে তেড়েফুঁড়ে আক্রমণ করার প্রবণতা। টি-টোয়েন্টিতে সর্বশেষ তিন ম্যাচেই ফিফটি করেছেন, কিন্তু ওয়ানডে ফিফটি পেলেন প্রায় ২২ মাস পর!
আফ্রিদির কাছ থেকে পাওয়া আত্মবিশ্বাস কাজে লাগিয়ে কামরান আকমল ও আব্দুর রাজ্জাক অধিনায়ককে এনে দেন কাঙ্ক্ষিত স্কোর। সপ্তম উইকেটে মাত্র ৪৩ বলে দুজন গড়েন ৮৬ রানের জুটি, স্ট্রাইক রেট ২০০! বেশি আগ্রাসী ছিলেন আকমল, উইকেটের চারদিকে শট খেলে কিউই বোলারদের নাজেহাল করে ছেড়েছেন এই উইকেটকিপার। ৪৩ বলে ৬৭ রান করেছেন আকমল, রাজ্জাক ২০ বলে ২৬।
কিউই ইনিংসে দুই অঙ্কের দেখা পেয়েছেন মাত্র তিন ব্যাটসম্যান। প্রায় ১১ ওভার বাকি থাকতেই নিউজিল্যান্ড শেষ ১৪৯ রানে। ইনিংসের শুরুতে উমর গুলের জোড়া আঘাতের ধাক্কা আর সামলাতে পারেনি ভেট্টোরির দল। দুই ওপেনার অ্যারন রেডমন্ড (৫১) ও ব্রেন্ডন ম্যাককালামের (২১) পর কিছুটা প্রতিরোধ গড়তে পেরেছেন কেবল ভেট্টোরি (৩৮)। কিউই অধিনায়কেরটিসহ এক ওভারেই ২ উইকেট নিয়েছেন ম্যাচসেরা আফ্রিদি। দুটি করে উইকেট নিয়েছেন সাঈদ আজমল ও রাজ্জাকও। তবে সেরা বোলার ছিলেন নিঃসন্দেহে মোহাম্মদ আমির। ৭ ওভারে ১৫ রান দিয়ে ১ উইকেট পেয়েছেন, কিন্তু এই ১৭ বছর বয়সীর পেস ও বাউন্সে হাঁসফাস করতে হয়েছে কিউই ব্যাটসম্যানদের।
তারপরও ম্যাচটি ছিল শুধুই আফ্রিদির। ম্যাচ শেষে দুই অধিনায়কও বলেছেন, ‘পার্থক্য গড়ে দিয়েছেন আফ্রিদিই।

আবেগের ম্যাচে রিয়াল-মিলানে সমতা

সানসিরোতে ফুটবল তার সৌন্দর্যের পসরা মেলে ধরতে পারেনি। রিয়াল মাদ্রিদ আর এসি মিলান লড়াইয়ে ধ্রুপদী যে ছন্দের প্রত্যাশা থাকে, ১-১ গোলে ড্র ম্যাচে সেটাও পূরণ হয়নি। তবে সানসিরোতে পরশু ঠিকই বয়ে গেছে আবেগ। একদিন যিনি মিলানের নায়ক ছিলেন, কিন্তু আজ বর্ণে-ছন্দে রঙিন করছেন বার্নাব্যুকে; এসি মিলানের দর্শকদের সব ভালোবাসার প্রকাশ ছিল সেই কাকাকে ঘিরেই।
মিলানে তাঁর বর্ণাঢ্য ৬টি বছরকে ভোলেনি সমর্থকেরা। মিলানকে অর্থনৈতিক মুক্তি দিতে এ মৌসুমেই রিয়ালে নাম লেখানো পুরোনো নায়ক এ ম্যাচ দিয়েই আবারও ফিরেছিলেন মিলানে। এতেই মিলান-সমর্থকদের যত্নে সাজিয়ে রাখা ভালোবাসার অর্গল গেল খুলে। প্রকাশ পেল গ্যালারিতে পতপত করে ওড়া ব্যানার আর ফেস্টুনে—‘আমরা তোমাকে ভুলিনি’ অথবা ‘আবেগের সেই ৬ বছর’।
কিন্তু ফুটবল তো ফুটবলই। এখানে ব্যক্তির ওপরে দল। আবেগ বেশিক্ষণ পাত্তা পায় না। তাই রেফারির প্রথম বাঁশি বাজতেই ব্যানার-ফেস্টুন সব উধাও। গ্যালারিতে তখন শুধুই ফুটবলের উত্তেজনা আর রোমাঞ্চ। সানসিরোর বড় অংশটাকে চুপ করিয়ে দিয়ে উত্তেজনার রেণু প্রথমার্ধের বেশির ভাগ সময়েই উড়ল বার্নাব্যু থেকে যাওয়া অল্প সংখ্যক সমর্থকের মাঝে। সব মিলে রিয়াল ২৩টি শট নিয়েছে মিলানের গোলে। ১০টিই ছিল গোলমুখে। উল্টোদিকে মিলান রিয়ালের গোলে হাতেগোনা কয়েকটি শটই নিতে পেরেছে। কিন্তু গোলের দিক দিয়ে দুই দলই সমান। দুটি গোলই হয়েছে প্রথমার্ধে।
২৯ মিনিটে এগিয়ে গিয়েছিল রিয়াল। মিলান শিবিরকে স্তব্ধ করে দেওয়া গোলটির উত্স ছিলেন কাকাই। সিডর্ফকে বোকা বানিয়ে পেনাল্টি বক্সের বাইরে থেকে নেওয়া তাঁর নিচু শটটি মিলানের ব্রাজিলিয়ান গোলরক্ষক দিদার হাত ফসকে বেরিয়ে আসে। ডান দিক থেকে সেই বল কঠিন এক কোণ থেকে জালে জড়িয়ে দেন করিম বেনজেমা।
এর ৬ মিনিট পরই মিলান সমতায় ফেরে। মিলানের ম্যাচে ফেরাও এক ব্রাজিলিয়ানের কল্যাণে। পেনাল্টি থেকে গোলটি করেন রোনালদিনহো। জামব্রোত্তার ক্রস পেপের হাতে লাগায় পেনাল্টি দিয়েছেন রেফারি। রেফারির এই সিদ্ধান্তটিকে একটু কঠিনই মনে হয়েছে কারও কারও কাছে। সমালোচনা হচ্ছে রেফারির আরেকটি সিদ্ধান্ত নিয়েও। মিলানের সমতাসূচক গোলের পরপরই মিলান সমর্থকদের উন্মাতাল করে দেন ব্রাজিলের ভবিষ্যত্ তারকা আলেক্সান্ডার পাতো। আন্দ্রে পিরলোর লম্বা এক পাস দারুণ দক্ষতায় বুকে নামিয়ে ছিটকে ফেলেন মার্কার রাউল আলবিওলকে, এরপর পরাস্ত করেন গোলরক্ষক ইকার ক্যাসিয়াসকে। কিন্তু রেফারি উল্টো দেন ফাউলের নির্দেশ। যদিও টিভি রিপ্লে দেখিয়েছে, পাতোর শরীর কোনোভাবেই আলবিওলকে স্পর্শ করেনি।
রিয়াল কোচ ম্যানুয়েল পেলেগ্রিনি ফল নিয়ে সন্তুষ্ট নন, আবার রেফারিং নিয়ে কোনো কথাও বলেননি। তাঁর মুখে ভালো খেলে হেরে যাওয়ার আক্ষেপ আর পাতো-প্রশংসা, ‘রেফারির সিদ্ধান্ত নিয়ে আমি কিছু বলব না। আমরা ভালো খেলেছি এবং পুরো তিন পয়েন্টই পেতে পারতাম। তবে মিলানের একা পাতোই আমাদের জীবনটা কঠিন করে তুলেছিল।’ পুরো ৩ পয়েন্ট পেতে মরিয়া পেলেগ্রিনি রাউল আর নিস্টলরয়কে নামিয়েও চেষ্টা করেছেন। কিন্তু ফল হয়নি। মিলানেও বদলি হিসেবে নেমেছিলেন ইনজাগি।
তবে প্রথমার্ধের শেষের দিক থেকে রিয়াল-মিলান লড়াইটা হয়ে পড়ল ব্রাজিলের অতীত-বর্তমান-ভবিষ্যত্ তিন তারকার ফুটবল প্রদর্শনী। রোনালদিনহো যেখানে অতীত, কাকা বর্তমান, আর পাতো ভবিষ্যতের প্রতীক।
এই প্রদর্শনীতে ব্রাজিলের বর্তমান আর ভবিষ্যতের কাছে বড্ড ম্লানই ছিলেন রোনালদিনহো। তবে নৈপুণ্যের ঝলকে কাকা-রোনালদিনহো এগিয়ে-পিছিয়ে থাকলেও পয়েন্ট তালিকায় কিন্তু রিয়াল-মিলান সাম্য। ৪ ম্যাচ থেকে দুই দলেরই ৭ পয়েন্ট। আর মার্শেইয়ের পয়েন্ট ৬।

ভারতের সামনে ভঙ্গুর অস্ট্রেলিয়া

সাত ম্যাচের সিরিজ এখন তিন ম্যাচের। সিরিজ জিততে হলে জিততে হবে বাকি তিন ম্যাচের দুটিতেই। কিন্তু ক্রিকেটে মনোযোগ দেবেন কি, বাকি ভারত সফরটা এখন দ্রুত শেষ হলেই বুঝি বাঁচেন রিকি পন্টিং। পরিস্থিতি যেমন এগোচ্ছে, তাতে সফর শেষ হতে হতে পুরোপুরি সুস্থ কোনো খেলোয়াড়ই তো পাবে না অস্ট্রেলিয়া! সর্বশেষ হ্যামস্ট্রিং ইনজুরির শিকার হয়ে দেশে ফিরে যাচ্ছেন মইজেস হেনরিকস। আজ হায়দরাবাদে পঞ্চম ওয়ানডের জন্য ১১ জন খুঁজে পেতেই হিমশিম খেতে হচ্ছে পন্টিংদের।
অলরাউন্ডার হেনরিকস নিজেও এসেছিলেন ইনজুরি আক্রান্ত আরেক অলরাউন্ডার জেমস হোপসের বদলি হিসেবে। তাঁকে নিয়ে অস্ট্রেলিয়ার ইনজুরি আক্রান্ত মোট ক্রিকেটারের সংখ্যা দাঁড়াল ৯, ভারতে এসে দেশে ফিরে গেছেন পাঁচজন। আগের দিন দেশে ফিরে যাওয়া পিটার সিডল ও হেনরিকসের বদলে ভারতে আসছেন অলরাউন্ডার অ্যান্ড্রু ম্যাকডোনাল্ড ও পেসার বার্ট ককেল। ২৩ বছর বয়সী ককেল এই প্রথম ডাক পেলেন দলে। দুজনের কেউই আজ খেলতে পারবেন না। একাদশে ফিরতে পারেন বেন হিলফেনহস। অভিষেক হয়ে যেতে পারে ক্লিন্ট ম্যাকে অথবা প্রতিশ্রুতিশীল বাঁহাতি স্পিনার জো হল্যান্ডের।
অস্ট্রেলিয়ার উল্টো অবস্থা ভারতের। পরের তিনটি ম্যাচের জন্য আগের স্কোয়াডটিই রেখে দিয়েছেন নির্বাচকেরা। তার মানে গৌতম গম্ভীর, বীরেন্দর শেবাগদের ইনজুরি ততটা গুরুতর নয়। আজ গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে তাই বাড়তি আত্মবিশ্বাস নিয়েই নামছে ধোনিবাহিনী।

৩৫১ রানের টার্গেটে ব্যাট করছে ভারত

৫ম ওয়ানডেতে অস্ট্রেলিয়ার ছুড়ে দেওয়া ৩৫১ রানের টার্গেটে এখন ব্যাট করছে ভারত। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত স্বাগতিকদের সংগ্রহ ৪০ ওভারে চার উইকেটে ২৭৬। ১২৫ বলে ১৫৮ রানে টেন্ডুলকার ও ৫০ বলে ৪৭ রানে ব্যাট করছেন রায়না। আউট হওয়া ব্যাটসম্যানদের মধ্যে শেবাগ ৩০ বলে করেন ৩৮।
এটি টেন্ডুলকারের ৪৫তম সেঞ্চুরি। এর আগে সাত রান করে বিশ্বের একমাত্র খেলোয়াড় হিসেবে ওয়ানডেতে ১৭ হাজার রান করেন টেন্ডুলকার।
হায়দরাবাদের রাজীব গান্ধি আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে ৭ ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজের আজ পঞ্চম ম্যাচে টসে জিতে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেন অধিনায়ক রিকি পন্টিং। শন মার্শের ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরি এবং ওয়াটসনের ৮৯ বলে ৯৩ রানের বিধ্বংসী ইনিংসে অস্ট্রেলিয়া ৫০ ওভারে ৪ উইকেটে করে ৩৫০। পন্টিং ৪৫ বলে ৪৫, হোয়াইট ৩২ বলে ৫৭, মাইক হাসি করেন ২২ বলে ৩১ রান।
ভারতের পক্ষে প্রাভিন কুমার ৬৮ রান দিয়ে ২টি এবং নেহরা ও হরভজন একটি করে উইকেট নেন।

বাংলাদেশের সামনে ২২২ রানের টার্গেট দিল জিম্বাবুয়ে

ব্র্যান্ডন টেইলরের সেঞ্চুরির সুবাদে জিম্বাবুয়ে আজ বৃহস্পতিবার ওয়ানডে সিরিজের শেষ ম্যাচে বাংলাদেশের বিপক্ষে ঘুরে দাঁড়িয়েছে। গত ম্যাচে ৪৪ রানে অলআউট হওয়ার পারফরম্যান্স ধরলে আজকের ম্যাচে জিম্বাবুয়ের খেলা আশাজাগানিয়াই। নিজেদের ইনিংস শেষে ৫০ ওভারে ৯ উইকেটে ২২১ রান তুলে বাংলাদেশকে রীতিমতো চ্যালেঞ্জই ছুড়ে দিয়েছে তারা।
জিম্বাবুয়ের স্কোরকার্ডে ব্র্যান্ডন টেইলরের ১১৮ রান ছাড়া দ্বিতীয় সর্বোচ্চ এল্টন চিগুম্বুরার ৩৮। মাসাকাদজা, প্রাইস ও ক্রেমার বড় কিছু করতে না পারলেও প্রাথমিক বিপর্যয় ঠেকিয়ে জিম্বাবুয়ের চ্যালেঞ্জিং স্কোরে তাঁদেরও ভূমিকা আছে। এই রান টপকাতে হলে বাংলাদেশের ব্যাটিংটা হতে হবে তাই অন্তত সেরা মানের কাছাকাছি। শেষ ম্যাচে মাত্র ৪৪ রান তাড়া করতে নেমে বাংলাদেশের টপ অর্ডার যেভাবে তাসের ঘরের মতো টপাটপ ধসে পড়েছে, তাতে আজকের ম্যাচটা নিয়ে একটু শঙ্কাই থেকে যাচ্ছে। খেলার এখন বিরতি। কিছুক্ষণ পরে বাংলাদেশ ব্যাট করতে নামলেই বোঝা যাবে আজকের খেলার গতি-প্রকৃতি। আজ শেষ ম্যাচে জয় দিয়েই হোক শেষ। কারণ শেষটাই সবাই মনে রাখে।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
জিম্বাবুয়ে ২২১/৯ (৫০ ওভার)
টেইলর ১১৮*, চিগুম্বুরা ৩৮
রাজ্জাক ৩/৪৩, সাকিব ৩/২৯, মাহমুদউল্লাহ ৩/৪৭

ইরানে যুক্তরাষ্ট্রবিরোধী বিক্ষোভে পুলিশের লাঠিপেটা

ইরানে গতকাল বুধবার যুক্তরাষ্ট্রবিরোধী বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়েছে। তেহরানে যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসে হামলার ৩০তম বার্ষিকীতে এ ঘটনা ঘটল।
১৯৭৯ সালের ৪ নভেম্বর ইরানের ছাত্ররা যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসে হামলা চালিয়ে ৫২ জন মার্কিন নাগরিককে জিম্মি করেছিল। ৪৪৪ দিন তাদের জিম্মি করে রেখেছিল ছাত্ররা। এ ঘটনার পরই দুই দেশের মধ্যে কূটনীতিক সম্পর্ক ছিন্ন হয়ে যায়।
প্রত্যক্ষদর্শী লোকজন জানিয়েছে, দিবসটি উপলক্ষে গতকাল সকাল থেকেই হাজার হাজার মানুষ তেহরানের কেন্দ্রস্থলে সাবেক মার্কিন দূতাবাসের সামনে জড়ো হয়। এ সময় তারা ‘আমেরিকা ধ্বংস হোক’, ‘ইসরায়েল ধ্বংস হোক’ ও ‘স্বৈরশাসনের নিপাত যাক’ স্লোগান দিচ্ছিল।
একজন প্রত্যক্ষদর্শী জানায়, একপর্যায়ে বিক্ষোভকারীরা সরকারবিরোধী বিক্ষোভ শুরু করে। এ সময় পুলিশ লাঠিপেটা ও কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করে তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। পাঁচজন বিক্ষোভকারীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

মার্কিন জেনারেল অস্ট্রেলিয়ার সর্বোচ্চ সম্মান পেলেন

যুক্তরাষ্ট্রের জেনারেল ডেভিড পেট্রাউসকে অস্ট্রেলিয়ার সর্বোচ্চ সম্মানে ভূষিত করা হয়েছে। তাঁকে দেওয়া হয়েছে ‘অনারারি অফিসার অব দ্য অস্ট্রেলিয়া’ খেতাব। ইরাকে জোট বাহিনীকে যোগ্য নেতৃত্ব দেওয়ার কৃতিত্বস্বরূপ তাঁকে এই পুরস্কার দেওয়া হয়। গতকাল বুধবার অস্ট্রেলিয়ার প্রতিরক্ষা বাহিনীর এক বিবৃতিতে এ কথা জানানো হয়। এতে বলা হয়, “জেনারেল পেট্রাউস ২০০৭ সালের ২৬ জানুয়ারি থেকে ২০০৮ সালের ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত ইরাকে বহুজাতিক জোট বাহিনীর নেতৃত্বে অসাধারণ দক্ষতার পরিচয় দেন। এই কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ আমরা তাঁকে ‘অনারারি অফিসার অব দ্য অস্ট্রেলিয়া’ খেতাবে ভূষিত করছি।”
প্রতিরক্ষা বাহিনীর প্রধান অ্যানগুস হাউস্টন বলেছেন, অস্ট্রেলিয়ার সেনাসহ জোট বাহিনীকে তিনি চূড়ান্ত সাফল্য এনে দেন। তিনি বলেন, পেট্রাউসের গাইডলাইন অনুসরণ করেই ইরাকে জোট বাহিনী সন্ত্রাসবাদবিরোধী লড়াইয়ে সাফল্য লাভ করে।
অ্যানগুস হাউস্টন আরও বলেন, ‘আমাদের দেশের এটাই সবচেয়ে সম্মানজনক পুরস্কার। আমি মনে করি, এত বড় সম্মান জেনারেল পেট্রাউসেরই প্রাপ্য ছিল। আর কারোর নয়। এটা তিনি অর্জন করেছেন।’
পেট্রাউস যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় কমান্ডের কমান্ডার। এই কমান্ড ইরাক ও আফগানিস্তানে মার্কিন সেনাদের নিয়ন্ত্রণ করে থাকে।

আরও প্লুটোনিয়াম উত্পাদন করেছে উত্তর কোরিয়া

উত্তর কোরিয়া ঘোষণা করেছে, পরমাণু অস্ত্র কর্মসূচির জন্য তারা আরও প্লুটোনিয়াম উত্পাদন করেছে। পিয়ংইয়ংয়ের ঘোষণার ফলে উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে সরাসরি আলোচনা শুরুর জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ওপর চাপ আরও বাড়ল।
গত মঙ্গলবার উত্তর কোরিয়ার সরকারি বার্তা সংস্থা কোরিয়ান সেন্ট্রাল নিউজ এজেন্সি (কেসিএনএ) জানায়, আগস্ট মাসের শেষ নাগাদ ইয়ংবিয়ন পরমাণু কেন্দ্রে আট হাজার জ্বালানি রড সফলভাবে পুনঃ প্রক্রিয়াজাত করেছে কমিউনিস্ট দেশটি।
পিয়ংইয়ংয়ের এই ঘোষণায় কড়া প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছে যুক্তরাষ্ট্র। ওয়াশিংটন বলেছে, পরমাণু অস্ত্র তৈরির জন্য উত্তর কোরিয়ার প্লুটোনিয়াম উত্পাদন জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাবের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র ইয়ান কেলি সাংবাদিকদের বলেন, ২০০৫ সালে উত্তর কোরিয়া যে অঙ্গীকার করেছিল, এই পদক্ষেপ সেই অঙ্গীকারের বিরুদ্ধাচরণ। দেশটি জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাবও লঙ্ঘন করেছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আট হাজার জ্বালানি রড থেকে একটি থেকে দুটি পরমাণু বোমা তৈরি করার মতো যথেষ্ট প্লুটোনিয়াম উত্পাদন করা সম্ভব। এ ছাড়া উত্তর কোরিয়ার কাছে বর্তমানে যে পরিমাণ প্লুটোনিয়াম মজুদ রয়েছে, সেগুলো সম্ভবত ছয় থেকে আটটি পরমাণু বোমা তৈরির কাজে ব্যবহার করা হবে।

বাবা সম্পর্কে মুখ খুললেন ওবামার সত্ভাই মার্ক

বাবা সম্পর্কে অবশেষে মুখ খুললেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার সত্ভাই মার্ক এনদেসানজো। বাবার নির্যাতনের ব্যাপারে গণমাধ্যমের অনেক চাপাচাপির পরও দীর্ঘদিন মুখ খোলেননি তিনি। নিজের লেখা একটি উপন্যাসে অবশেষে তিনি এসব কথা তুলে ধরলেন।
গতকাল বুধবার চীনের গুয়ানঝুতে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বাবার নির্যাতনের নানা অজানা তথ্য তুলে ধরতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন।
মার্ক প্রায় সাত বছর ধরে চীনের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর শেনঝেনে বসবাস করছেন। সেখানেই তাঁর নানা ব্যবসা-বাণিজ্য। এরই মধ্যে ভাই বারাক হোসেন ওবামা যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। তবে অনেকে তথ্যটি জানতেন না যে তিনি ওবামার ভাই। তিনি তাঁর নামের সঙ্গে ওবামা শব্দটি ব্যবহার করা ছেড়ে দিয়েছিলেন। কিন্তু নিজের লেখা প্রথম উপন্যাসে তিনি পুরো নাম ‘মার্ক ওকোথ ওবামা এনদেসানজো’ ব্যবহার করায় অনেকে বিষয়টি জানতে পারেন।
আমেরিকান চেম্বার অব কমার্স ইন সাউথ চায়না ওই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে। বইটির প্রকাশকও তারা। সংবাদ সম্মেলনে মার্কিন কনসাল জেনারেলের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে মার্ক শৈশবের স্মৃতিচারণা করে বলেন, ‘বাবা আমাকে প্রচণ্ড মারধর করতেন। শুধু তাই নয়, তিনি মাকেও বেদম প্রহার করতেন। আমাদের ঘরে মায়ের সেই আর্তনাদের কথা এখনো আমার মনে আছে। ওই সময় আমি ছোট ছিলাম বলে মাকে তখন বাবার নির্যাতন থেকে রক্ষা করতে পারিনি। বাবার মধ্যে ভালো কিছু ছিল এমনটা আমার মনে পড়ে না।’ মার্ক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার জন্য গর্ব বোধ করেন বলে জানান।
বারাক ওবামার বয়স যখন মাত্র দুই বছর, তখন তাঁর কেনীয় বাবা এবং মার্কিন মায়ের মধ্যে ছাড়াছাড়ি হয়ে যায়। মার্ক তাঁর বাবার তৃতীয় স্ত্রীর সন্তান।

জেনারেল মোটরস ছাঁটাই করবে ১০ হাজার কর্মী

বিশ্বখ্যাত গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান জেনারেল মোটরস (জিএম) তাদের সহযোগী ইউরোপীয় ইউনিট ওপেলের প্রায় ১০ হাজার কর্মীকে ছাঁটাই করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। গতকাল বুধবার জেনারেল মোটরস ওপেল ব্র্যান্ডের গাড়ি কানাডার ম্যাগনা কোম্পানির কাছে আর বিক্রি না করার সিদ্ধান্ত নেয়। তবে জার্মানির গাড়ি শ্রমিক ইউনিয়ন ঘোষণা করেছে, তারা আজ বৃহস্পতিবার জিএমের এই কর্মী ছাঁটাইয়ের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে ধর্মঘট পালন করবে।
এদিকে ওপেলের প্রধান পৃষ্ঠপোষক জার্মান সরকার জিএমের কাছ থেকে তাদের প্রাপ্য ১৫০ কোটি ইউরো ঋণ পরিশোধের দাবি জানিয়েছে। ওপেল ব্র্যান্ডের গাড়ি বিক্রির চুক্তির আওতায় জিএম এ অর্থ জার্মান সরকারের কাছ থেকে ঋণ হিসেবে পেয়েছিল। এই কর্মী ছাঁটাইয়ের ফলে ওপেলের চারটি কারখানার মধ্যে দুটি বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছে জার্মানির গাড়ি শ্রমিক ইউনিয়ন।
পুরো ইউরোপে ওপেলের মোট কর্মী প্রায় ৫৪ হাজার। এর মধ্যে কেবল জার্মানিতেই তাদের কর্মী ২৫ হাজার।

অস্ট্রেলিয়ায় গেইলদের উইন্ডিজ

অবশেষে পরিচিত চেহারায় ফিরেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ দল। শেষ হয়েছে ফ্লয়েড রেইফারদের ‘হানিমুন’। ক্যারিবিয়ান পত্রপত্রিকার খবরকে সত্যি প্রমাণিত করে অধিনায়ক হিসেবেই অস্ট্রেলিয়া সফরের ওয়েস্ট ইন্ডিজ টেস্ট দলে ফিরেছেন ক্রিস গেইল। অধিনায়ক একাই নন, ফিরেছেন ক্যারিবিয়ান ক্রিকেটের বিদ্রোহে তাঁর সঙ্গী সতীর্থরাও।
বোর্ডের সঙ্গে চুক্তিসংক্রান্ত ঝামেলায় গত জুলাই থেকেই মাঠের বাইরে আছেন গেইলসহ ওয়েস্ট ইন্ডিজের শীর্ষ ক্রিকেটাররা। ফ্লয়েড রেইফারের নেতৃত্বে জোড়াতালি দেওয়া একটি দল নিয়ে বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজ হারার পর চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতেও নাকাল হয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। কয়েক দিন ধরেই অবশ্য শোনা যাচ্ছিল গেইলরা ফিরছেন। পছন্দমতো দল বাছাই করতে পেরে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের নির্বাচক কমিটির প্রধান ক্লাইড বাটস, ‘আমরা একটি ভারসাম্যপূর্ণ দল নির্বাচন করেছি। আমাদের বোলিং আক্রমণ দারুণ, ব্যাটিং লাইনআপটাও খুব ভালো, যারা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ভালো খেলেছে। আমরা বিশ্বাস করি সর্বোচ্চ পর্যায়ে পারফর্ম করার সামর্থ্য আছে অভিজ্ঞ এই দলটির।’
রেইফারের দলে টেস্ট অভিষিক্ত ক্রিকেটারদের মধ্যে ১৫ সদস্যের দলে টিকে গেছেন ব্যাটসম্যান ট্রাভিস ডাওলিন ও পেসার কেমার রোচ। আছেন বাংলাদেশের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজের জন্য প্রথমে ঘোষিত দলে থাকা আদ্রিয়ান বারাথও। গেইল ছাড়া দলে স্পেশালিস্ট ওপেনার একমাত্র তিনিই, ব্রিসবেনে তাই টেস্ট অভিষেক হয়ে যাওয়ার যথেষ্টই সম্ভাবনা ১৯ বছর বয়সী এই ট্রিনির। টেস্ট খেলেননি, দলে এমন খেলোয়াড় আর দুজন—পেসার রবি রামপল ও গ্যাভিন টং। বাংলাদেশের বিপক্ষে ওয়ানডে অভিষেক হয়েছে টংয়ের। ২০০৩ সালে অভিষেকের পর ৩৬টি ওয়ানডে খেলা রামপলের বাংলাদেশের বিপক্ষে গত সিরিজেই টেস্ট অভিষেক হওয়ার কথা ছিল। গেইলদের সঙ্গে ধর্মঘটে যোগ দেওয়ায় পিছিয়ে যায় তাঁর স্বপ্নপূরণ।
ওয়েস্ট ইন্ডিজের জন্য তো বটেই, গেইল-চন্দরপলরা ফিরে আসায় ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়াও মহা আনন্দিত। সিরিজটা এখন জমজমাট হবে বলে আশা সিএর প্রধান নির্বাহী জেমস সাদারল্যান্ডের, ‘আমি নিশ্চিত এই গ্রীষ্মে ওরা দারুণ লড়াই করবে। বেশ কিছু সময় মাঠের বাইরে থাকার পর ওরা নতুন উদ্যমে ফিরে আসবে। আমরা সবাই এই গ্রীষ্মের দিকে তাকিয়ে আছি।’
২৬ নভেম্বর ব্রিসবেনে শুরু হবে তিন টেস্ট সিরিজের প্রথমটি।

পাকিস্তানকে অপেক্ষায় রাখল ভারত

পাকিস্তানের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় আলোচনা করেছে ভারত। কিন্তু দ্বিপক্ষীয় ক্রিকেট সিরিজ সহসাই শুরু হওয়ার সম্ভাবনা নেই। পরশু মোহালিতে চতুর্থ ওয়ানডে চলার সময় ভারত সফররত পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) সভাপতি ইজাজ বাটের সঙ্গে বৈঠক করেছেন ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিসিআই) শীর্ষ কর্মকর্তারা। বিসিসিআই সভাপতি শশাঙ্ক মনোহর বাটকে আশ্বস্ত করেছেন, দু দলের সিরিজ শুরু করার জন্য শিগগিরই সরকারের অনুমতি চাওয়া হবে। কিন্তু আগামী এক বছর ভারতের সূচি এতটাই ঠাসা, পাকিস্তানের জন্য আলাদা করে সময় বের করাই মুশকিল।
কবে সিরিজ হতে পারে সেটি নিয়ে ভারত পাকিস্তানের সঙ্গে ছয়-সাত মাস পর আলোচনায় বসবে বলে জানিয়েছেন বিসিসিআইয়ের সহসভাপতি রাজীব শুক্লা, ‘এই মুহূর্তে ভারতের সূচি খুবই ঠাসা। তবে আমরা ছয়-সাত মাস পর এ ব্যাপারে আলোচনা শুরু করব। বিসিসিআই সভাপতি বাটকে জানিয়েছেন, ভারতের খেলোয়াড়েরা পরের কয়েক মাস আগে থেকে নির্ধারিত আন্তর্জাতিক ম্যাচগুলো খেলা নিয়েই ব্যস্ত থাকবে। এর মধ্যে অবশ্য ভারত সরকারের ইতিবাচক মনোভাবও আমাদের নিশ্চিত করতে হবে। আলোচনা শুরুর জন্য দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কও জোরদার করা জরুরি।

সব দোষ উইকেটের

বাংলাদেশের ক্রিকেটে এই ঘটনা বিরল। বাংলাদেশ দল ম্যাচ জিতেছে এবং সেই ম্যাচের পর হন্যে হয়ে সবাই কিউরেটরকে খুঁজছে! জিতেও অতৃপ্ত সবাই, উইকেটটাকে কেন ঠিক ওয়ানডের উইকেট মনে হলো না? জবাবদিহি চাই কিউরেটর শফিউল আলমের। শোনা গেল, ম্যাচ রেফারি রঞ্জন মাদুগালেও নাকি কিউরেটরের কাছে জানতে চেয়েছেন উইকেটের ‘বিচিত্র’ আচরণ সম্পর্কে।
দুই দলের দুই অধিনায়ক খেলা শেষে লো স্কোরিং ম্যাচের জন্য দায়ী করলেন উইকেটকে। মাত্র ৪৪ রানে অলআউট হওয়ার দায় হ্যামিল্টন মাসাকাদজা চাপিয়ে দিলেন উইকেটের ওপর, ‘খুবই বাজে উইকেট...।’ সাকিব আল হাসান জিতেও একটা ‘কিন্তু’ রেখে দিচ্ছেন উইকেটে, ‘ওয়ানডের জন্য উইকেটটা উপযুক্ত ছিল না।’ জাতীয় দলের সাবেক এক বাঁহাতি স্পিনার তো উদাহরণ দিয়েই বুঝিয়ে দিতে চাইলেন উইকেটের অবস্থা, ‘ওয়ানডেতে এই প্রথম দুইটা স্লিপ আর দুইটা সিলি নিয়ে কোনো দলকে খেলতে দেখলাম। ওয়ানডের জন্য একটু বেশি টার্নিং হয়ে গেছে উইকেটটা।’
কিন্তু বাংলাদেশ কোচ জেমি সিডন্স বলছেন পুরো অন্য কথা। চট্টগ্রাম বিভাগীয় স্টেডিয়ামের উইকেট দেখে আগের দিন ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন, ‘বিগ স্কোরিং ম্যাচ হবে।’ কাল সেটা নিয়ে রসিকতা করতেই সিডন্স বললেন, ‘আমি অত বোকা নই। বিগ স্কোরিং ম্যাচই হওয়া উচিত ছিল।’ তাহলে হলো না কেন? সিডন্সের জবাবটা ফেলে দিতে পারবেন না কেউই, ‘কিউরেটরকে দোষ দিয়ে লাভ নেই। এটা ফ্ল্যাট উইকেট। ও ঠিক কাজই করেছে। জিম্বাবুয়ের ব্যাটিং ব্যর্থতার কারণ সকালের ময়েশ্চার। আর আমরা চার উইকেট হারিয়েছি বাজে শট খেলে।’ সিডন্স মনে করেন, জিম্বাবুয়ের কম রানে অলআউট হয়ে যাওয়ার আরেকটা কারণ বাংলাদেশি স্পিনারদের ভালো বোলিং। ‘ঢাকায় তো সবাই স্পিন উইকেট বানাতে বলে। তাহলে এখানে স্পিনাররা সফল হলে এত কথা কেন?’—স্বগতোক্তির মতো প্রশ্ন বাংলাদেশ কোচের।
উইকেট নিয়ে জাতীয় দলের সাবেক ক্রিকেটার ও বর্তমানে টেলিভিশন ধারাভাষ্যকার আতহার আলী খানের মতটাও সিডন্সের মতোই, ‘উইকেট ওয়ানডে উপযোগী কি না, সেটা বোঝার সময় পেলাম কই? তবে আমার কাছে মনে হয়েছে উইকেট ঠিকই আছে। শট খেলার মতো বাউন্স ছিল। ব্যাটসম্যানরা রান করতে পারেনি বাজে শট খেলে আউট হয়ে যাওয়ায়। তা ছাড়া সকালের দিকে উইকেটের ময়েশ্চারটাই ঝামেলায় ফেলেছে জিম্বাবুয়ে ব্যাটসম্যানদের।’
সিরিজের আগের তিনটা ম্যাচই হয়েছে দিবারাত্রির। দিনের ম্যাচ হলো কালই প্রথম। ঘড়ির কাঁটার বর্তমান সময় সকাল সাড়ে ৯টায় শুরু হয়েছে খেলা। তার মানে আগের সময় অনুযায়ী সকাল সাড়ে আটটায়। শীতের শুরুতে সকাল সাড়ে আটটায় উইকেটের যে রূপ থাকে, সেটা বদলানোর ক্ষমতা কি আর কোনো কিউরেটরেরই আছে?

মহিউদ্দিন শীরুর সঙ্গে দেখা by শামীম আজাদ

একেকটি মৃত্যু আসে আর আমি আরও ছোট হয়ে যাই। প্রতিটি মৃত্যু আমার অসহায়ত্বকে বড় করে তোলে। আমার অসহায়ত্ব দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হয়। আমার বড় একা একা লাগে। আমার যাওয়ার দিনের কথা মনে হয়। আমরা যে এসেছিলাম সেটাই বিস্ময়ের মতো লাগে। আমরা যে পৃথিবীর পথে পথে ধৈর্য ও প্রত্যাশা নিয়ে সেই দিনকে এই দিনের কাছে নিয়ে এসেছি কখন, জানতেও পারিনি।
কেবল প্রিয়জন চলে গেলে সে ঘোর কেটে যায়। ফালা ফালা হয়ে যায় প্রাত্যহিকীর বেড়াজাল। ধাই ধাই করে ছুটতে থাকে স্মৃতির ঘোড়া। ছুটতে থাকে পাগলের মতো। পথে পথে টান মেরে উপড়ে ফেলে একেকটি ক্যালেন্ডারের গাছ। প্রতিটিরই ফল ছিল, রূপ-রস-ঘ্রাণ ছিল। প্রতিটি সম্পর্কের শিকড় ছিল আর ছিল বীজ বপনের কাল। হঠাত্ করে প্রথিতযশা সাংবাদিক মহিউদ্দিন শীরুর প্রয়াণে মনে পড়ে যায় তাঁর কথা। আহা প্রথম দেখার কাল!
সম্ভবত ১৯৯৪ সাল। আমি বিলেত থেকে নাটক লেখার ওপর প্রশিক্ষণ পরিচালনা করতে দেশে গেছি। হাফমুন থিয়েটারের জন্য মাত্র একটি মঞ্চনাটক লিখেছি। তাও আবার মেরি কুপারের সঙ্গে গাটছড়া বেঁধে। তখন কী-ই বা জানি নাটক লেখা নিয়ে। মেরি তখন স্বনামধন্য। আমারই মাথায় চাপল, যে মজা আমি পেয়েছি তার ভাগীদার করব আমাদের নাটকের তরুণদের। তাকে দেশে নিয়ে গেলাম আর আমি হলাম বাংলাদেশে লেগে থাকা তার নাভি কিংবা নোঙর। ঢাকায় ঢাকা থিয়েটার (হিমু) সমন্বয়ের কাজ করল আর সিলেটে সন্ধানী (আরজু)।
কিন্তু দেশে যাওয়ার আগেই এখান থেকে যার নাম, পরিচিতি ও অবস্থান সম্পর্কে সবচেয়ে বেশি জ্ঞাত হলাম, তিনি মহিউদ্দিন শীরু। গীতিকার, কবি ও সাংবাদিক। সবচেয়ে বড় কথা, মুক্তিযুদ্ধের চেতনার রসে সিক্ত তাঁর হূদয় কমল। বিলেতের জনপ্রিয় সাপ্তাহিক সুরমার সূচনালগ্নে তিনিই তার ভিত গেড়ে দেন শক্ত হাতে। আর এখানেরই সাপ্তাহিক পত্রিকার শ্রী ও ছাঁদের যাচাই-বাছাইও তাঁর হাতে। বিলেতের তরুণ বাঙালি সাংবাদিকদের তিনি ছিলেন এক কঠিন কম্পাস। তাঁর স্বপ্ন কাগজ সুদিন, গ্রাম সুরমা যেন ম্লান মলাটে ঢেকে ফেলেছে পুরো ব্রিকলেন। তাঁর এ অকস্মাত্ প্রয়াণে পুরো বাঙালিপাড়া ঝুলে পড়েছে।
তখন সিলেটের বালাগঞ্জ কলেজের অধ্যক্ষ হয়েছেন বলে জানি না। শীরু ভাই, এত নিরুচ্চারী তিনি যে তাঁকে কেন্দ্র করেই একটি কলেজের সব কোলাহল, অগ্রযাত্রা ও স্থিতি কখনো বলেননি। কিন্তু তখন তাঁর অভিনিবেশ পূর্ণ সাংবাদিকতার কথা ও তাঁর হাতে তরুণদের হাতেখড়ি হয় পরম মমতায় তা জানি। জানি, সিলেটের প্রাগ্রসর মানুষদের তিনি অন্যতম। দেখা হলো আমাদের কেন্দ্র করে আয়োজিত সুধীজন সমাবেশে। হাতে একখানা বই বা ডায়েরি ছিল। এখন মনে হচ্ছে তাঁকে আমি বই ছাড়া কখনো দেখিনি। সুপক্ব গমের বর্ণ। দীপ্ত দুই চোখ। আর দৃঢ় কিন্তু মায়াধারী কণ্ঠস্বর। সেদিন কী বই ছিল তাঁর হাতে? তাঁর কবিতার, না গানের বই? নাকি হলে আসার আগে ‘বইপত্র’ থেকে নিয়ে এসেছেন সদ্য প্রকাশিত কোনো বই—নোম চমস্কি! আমি কখনো জানিনি। আজ মনে হচ্ছে, এত কাছাকাছি পেয়ে আমি একজন মহিউদ্দিন শীরুকেই পাঠ করতে পারিনি অথচ আমার অর্ধশতাব্দী কাল চলে গেছে।
শীরু ভাইয়ের প্রয়াণে আজ এসব ভাবনা এসে ভিড় করে মাথায়। আরও ভাবি কত ফল ধরলে তবে বৃক্ষ এত অবনত হয়। কত ধন ধারণ করলে আর কৃপণতা থাকে না। কতটা পথ হাঁটলে পরে মাথার ওপর পাখিদের ছায়া দেখা যায়। হায়রে শীরু ভাই, প্রথম দেখাতেও তা বুঝতে পারিনি। আপনি কেবল আপনার পুরোটা নাম বলেছিলেন। এদিকে তার আগে প্রেসক্লাবে (হয়তো, স্থানটি আজ আর মনে পড়ে না) সেই বিদেশিনী নাট্যকার সহকর্মীর সামনে ততক্ষণে স্থানীয় বুদ্ধিজীবী ও সুধীজনের বাচনে, বক্তব্যে ও বাগ্মিতায় আমরা বিমূঢ় হয়ে পড়েছি। খাবার খেতে ওঠার কালে পাশে এসে আপনি দাঁড়ালেন। চুলগুলো পেছনে ঠেলে দিতেই আপনার কপালটুকু পরিষ্কার হয়ে ফুটল। সাদার মধ্যে একটি হালকা স্ট্রাইপ ফুলহাতা শার্ট ছিল গায়ে। আপনার পুরো নাম বলেই বিলেতের বন্ধুদের কুশল জিজ্ঞেস করেছিলেন। আর আমি হলের সমস্ত কথাবার্তা ছাপিয়ে উচ্চ স্বরে বলেছিলাম, আপনি সেই বিখ্যাত শীরু ভাই! আপনি আপনার শ্যামল গালে হাসির প্রভায় কৌতুকের তারা ঝরিয়ে বলেছিলেন, ওরা তাই বলেছে বুঝি!
এত দিন পর আজ আর মনে নেই হুবহু কী কী কথা হয়েছিল। কিন্তু আপনি যে ঋদ্ধ ও নিরুচ্চারী জন সে আমি তখনই বুঝেছিলাম। তারপর সেবারই নাটক নিয়ে ভালো কথাবার্তা হলো, গান ও কবিতা নিয়েও। আপনার কাছ থেকেই শুনি বিদ্যুত দা (বিদ্যুত কর) আর হ্যারল্ডের (রশিদ) কথা।
সেবার শীরু ভাইয়ের বিদুষী ও বুদ্ধিমতী স্ত্রীর সঙ্গে আলাপ হয়নি। দেখিনি তাঁর চমত্কার সুসন্তানদের। তাঁর বাড়িতেও যাওয়া হয়নি। গেছি আরও পরে। কয়েকবার। আত্মীয় হয়ে গেঁথে গেছি। কিন্তু কিছু কিছু মানুষের সঙ্গে প্রথম দেখার ক্ষণ ভোলা যায় না। আর সে মানুষের সমিল চেহারা দেখলে তাঁর কথা মনে পড়ে। কিন্তু আমি শীরু ভাইয়ের মতো কাউকে দেখিনি। পাইনি হাসিনা ভাবির মতো অত মায়াবতী নারী। তাঁরা ছিলেন দুজনে দুজনার।
আমাদের ট্রেন ঢাকা ছাড়ার ঠিক আগের মুহূর্তে শীরু ভাই এলেন। আমি আর মেরি তখন ‘পারাবার’র জানালা দিয়ে উবু হয়ে আছি। এখনই ছাড়বে গাড়ি। আর আমরা ক্রমেই দূর থেকে আরও দূরে চলে যাব। তিনি ট্রেনে উঠে এলেন। বসলেন। গাড়ি ছেড়ে দেবে জেনেও কী অচঞ্চল! তারপর তাঁর বিলেতের বন্ধুদের সবার নাম করে শুভেচ্ছা জানাতে বলে হাতের বইটি দিলেন। সিলেটের একটি ডায়েরি, যা কি না সত্যিকার অর্থে সিলেটের গেজেট।
ট্রেন ছেড়ে দিলেও তিনি দাঁড়িয়েছিলেন। সব তরুণ-তরুণী হাত নাড়ছে। শীরু ভাই হাত নাড়ছেন। একসময় সিলেট ও মানুষ দুই-ই মিলিয়ে গেল। আমি সিটে বসে পাতা উল্টাতে থাকলাম সিলেটের ইতিবৃত্তে আর ইতিহাসে। আর বুঝলাম, মেঘ দেখে যারা জলের খবর বলতে পারে, তিনি তার একজন। কী করে বুঝেছিলেন অনাবাসী আমির জন্য এর বড্ড প্রয়োজন!
‘যে পাখি অমনি এসেছিলো তারে অমনি যেতে দিতে হয়।’ কারণ সে চলে যাবেই। যেন যাবার জন্যই এসেছিল, তবু যে সে পাখি আমাদের ডালে এসে কিছু কাল বসেছিল। গান গেয়ে আমাদের সাদামাটা ঘর-গৃহস্থালি আলোকিত করেছিল সেও তো আমাদের ভাগ্য।
বইটি আছে। মানুষ নেই। পাখিরা উড়ে গেলে তার পালক ফেলে যায়।

আফগানিস্তান -স্বৈরাচারকে বৈধতা দেওয়ার নির্বাচন by রবার্ট ফিস্ক

জালিয়াতির মাধ্যমে নির্বাচিত আফগানিস্তানের প্রেসিডেন্ট হামিদ কারজাইকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ও ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী গর্ডন ব্রাউন অভিনন্দন বার্তা পাঠিয়েছেন। অথচ ফিলিস্তিনিরা ২০০৬ সালের একটি সুষ্ঠু নির্বাচনে হামাসের পক্ষে রায় দেয়; এর জন্য তাদের ভয়াবহ শাস্তি পেতে হয়েছে, এখনো হচ্ছে। চলতি বছরের জুন মাসে ইরানে জালিয়াতির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এর মাধ্যমে আরেক মেয়াদের জন্য ক্ষমতাসীন হন মাহমুদ আহমাদিনেজাদ। ইরানের বাইরে সবাই (ইরানের ভেতরও অনেকে) তাঁকে স্বৈরাচারী শাসক গণ্য করে। এবার দেখা গেল, ইরানের চেয়ে ব্যাপক মাত্রার কারচুপির নির্বাচনের মধ্য দিয়ে অর্থলোলুপ, দুর্নীতিবাজ ও উপদলীয় স্বার্থের প্রতিনিধিত্বকারী কারজাই ক্ষমতায় ফিরলেন। আর পশ্চিমারা তাঁকে অভিনন্দিত করল। এতে স্পষ্ট যে পশ্চিমারা তাঁকে ভীষণ ভালোবাসে এবং এই আগাগোড়া জালিয়াতির নির্বাচন মেনে নিচ্ছে।
নির্বাচনে তাঁর প্রতিপক্ষ ছদ্ম-পশতুন নেতা আবদুল্লাহ আবদুল্লাহকে জাতীয় মতৈক্যের সরকারে যোগ দেওয়ানোর চেষ্টা পশ্চিমারা এখনো চালিয়ে যাচ্ছে। অথচ কারজাইয়ের ভোট-কারচুপির কারণেই আবদুল্লাহ আবদুল্লাহ দ্বিতীয় দফা নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ান আর কারজাই পান ওবামা-ব্রাউন যুগলের বন্ধুত্বসুলভ অভিনন্দন। ঠিক আছে, এখন আরও ৪০ হাজার মার্কিন সেনা পাঠানো হোক। যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধের অষ্টম বছরে আফগানিস্তানের দক্ষিণ-পশ্চিমে অগ্রসর হওয়ার জন্য এ সেনা দরকার। মার্কিন সেনাপতির এ কথা তোলার এই তো মোক্ষম সময়।
বারবারা টাচম্যান দ্য মার্চ অব ফলি বইতে ট্রয় থেকে শুরু করে ভিয়েতনাম যুদ্ধকালীন আমেরিকা পর্যন্ত বিভিন্ন দেশের যেসব সরকার নিজস্ব স্বার্থবিরোধী নীতিমালা অনুসরণ করেছিল, তাদের ওপর আলোকপাত করেছেন। ভিয়েতনামের স্মৃতিও আমরা একটু হাতড়ে দেখতে পারি। কারণ আফতান যুদ্ধে ভিয়েতনাম খুবই প্রাসঙ্গিক।
১৯৬৭ সালে ভিয়েতনামে মার্কিনরা ‘গণতান্ত্রিক’ এক নির্বাচন তত্ত্বাবধান করে, যার মাধ্যমে প্রেসিডেন্ট পদে আসীন হন দুর্নীতিবাজ সাবেক জেনারেল নগুয়েন ভান থিওমান। জালিয়াতির নির্বাচনকেও আমেরিকা ‘সাধারণভাবে স্বচ্ছ’ হিসেবে ঘোষণা করে। প্রাথমিক নির্বাচনে নগুয়েন পান ৩৮ শতাংশ ভোট। তাঁর প্রতিপক্ষ তখন প্রহসনের নির্বাচনে অংশ নিতে অস্বীকৃতি জানায়। ১৯৬৭ সালে কমিউনিজমের বিরুদ্ধে যুদ্ধে ভিয়েতনামে মার্কিন সামরিক দখলদারিকে ন্যায্যতা দিতে এই স্বৈরাচারকে বৈধতা দেওয়া ওয়াশিংটনের জন্য জরুরি ছিল। সায়গন যেমন সারা দুনিয়া থেকে পুরোপুরি বিযুক্ত নিষ্ঠুর শাসনের এক রাজ্য ছিল, তেমনি কারজাইও দুর্নীতিতে নিমজ্জিত একই ধরনের এক বিচ্ছিন্ন দ্বীপের শাসক। তাঁর সরকারকে রক্ষা করছেন যুক্তরাষ্ট্র থেকে আগত ভাড়াটে সেনারা। মার্কিনরা আবারও স্বৈরাচারকে পৃষ্ঠপোষকতার সুপরিচিত ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছে।
আফগান যুদ্ধে অংশ নেওয়া সাবেক ব্রিটিশ সেনাসদস্য প্যাট্রিক বেরি সম্প্রতি মন্তব্য করেছেন, ‘আফগান যুদ্ধ ১৯ শতকের ঔপনিবেশিক সেনাদল নিয়ে অজেয়কে জয়ের চেষ্টার মতো। এ দীর্ঘ, রক্তক্ষয়ী সংঘাতের পেছনে কী কৌশল ছিল, এখনই বা কী আছে?’ ষাটের দশকে লাওস, কম্বোডিয়া ও থাইল্যান্ড কমিউনিস্টদের আওতায় চলে যেতে পারত। আর এখন পশতুনিস্তান, বেলুচিস্তান, ওয়াজিরিস্তানে যুদ্ধের কারণ পশ্চিমাদের সুউচ্চ দালানগুলো আর যেন তালেবান বা আল-কায়েদার আক্রমণের শিকার না হয়। যদিও ২০০১ সালের হামলাকারী খুনিদের অনেকে বেড়ে উঠেছে সৌদি আরবে। কিন্তু সৌদি আরব তো বন্ধুপ্রতিম, মধ্যপন্থী, অভিজাত রাজতান্ত্রিক স্বৈরতন্ত্র চালায়, নির্বাচনের বালাই নেই সেখানে।
জালিয়াতির মাধ্যমে নির্বাচিত প্রেসিডেন্টকে বৈধতার ধরনটি উদ্বেগজনক। ভিয়েতনামের গৃহযুদ্ধে মার্কিন সেনাসদস্যরা অংশ নেওয়ার সময় দাবি করেছিলেন, ভিয়েতনামের গণতন্ত্র ও সার্বভৌমত্বকে তাঁরা সহায়তা করছেন। ১৯৮২ সালে লেবাননে ‘গণতান্ত্রিকভাবে’ নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট আমিন গেমায়েলকে সহায়তার দাবি করে তাঁরা ক্রিস্টিয়ান মেরোনাইটের পক্ষে গৃহযুদ্ধে অংশ নেন। আর এখন আফগানিস্তানের নির্বাচনের পর, এখন কারজাই সরকারের পক্ষ নিয়ে মার্কিন সেনারা দক্ষিণ আফগানিস্তানের পশতুন গ্রামবাসীদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন। এসব গ্রামবাসীর মধ্যে তালেবানের বসতি। কোন গ্রাম হবে পরের মাই লাই? সাংবাদিকদের উচিত ভবিষ্যদ্বাণী করা থেকে বিরত থাকা। এ ক্ষেত্রে আমিও ভাবষ্যদ্বাণী করব না। তবে বর্তমান বাস্তবতা হলো আফগানিস্তানে পশ্চিমাদের মিশন ব্যর্থ হতে চলেছে।
ব্রিটেনের দি ইনডিপেন্ডেন্ট পত্রিকা থেকে নেওয়া। ইংরেজি থেকে অনুবাদ: আহসান হাবীব
রবার্ট ফিস্ক: ব্রিটিশ সাংবাদিক।

সাংবাদিকতায় শব্দচয়ন -এবিএম মূসা

সারা বিশ্বে সাংবাদিকতার ব্যাপক প্রসার ও বিস্তারলাভ ঘটে এবং নতুন শব্দসম্ভার গড়ে ওঠে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়ে। যুদ্ধ সমাপ্তির পরও সাংবাদিকতায় ভাষার বিস্তৃতি ও শব্দচয়ন অব্যাহত থাকে। সেই পরিবর্তনের ক্রমবিকাশে সংবাদপত্র নয়া প্রযুক্তির যুগে প্রবেশ করেছে। আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার, মুদ্রণকৌশল ও সংবাদ-মতামত প্রকাশে অনেক পরিবর্তন এসেছে। উল্লেখযোগ্য ব্যতিক্রম পরিলক্ষিত হয়েছে ভাষা ও শব্দের ব্যবহারেও। ব্যাকরণিক আগলমুক্ত হয়ে সংবাদপত্র নিজস্ব ভাষা ও ভাব প্রকাশের রীতি আবিষ্কার করেছে। ইংরেজি ও বাংলা সাংবাদিকতা, উভয় ক্ষেত্রেই এ পরিবর্তন ঘটেছে। সর্বাধিক পরিবর্তন হয়েছে রাজনৈতিক সংস্কৃতি বা অপসংস্কৃতির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে।
সংবাদপত্র ও সাংবাদিকতা নিজস্ব প্রয়োজনে এবং চাহিদার তাগিদে যেসব নতুন শব্দ আবিষ্কার করেছে, তার অনেকগুলো বহুদিন ইংরেজি অক্সফোর্ড বা ক্যামব্রিজ ডিকশনারিতে স্থান পায়নি। আবার অনুবাদকৃত শব্দাবলি সংসদ এবং সেকালের বহুল প্রচলিত এ টি দেবের অভিধানেও ঠাঁই পায়নি। তাই সাংবাদিকদের নিজেদেরই সংবাদ পরিবেশনের তাগিদে ভাষাবিদের ভূমিকা নিয়ে কতিপয় সংজ্ঞা ও শব্দ তৈরি করতে হয়েছে। আমি যখন বিগত শতাব্দীর পঞ্চাশের দশকে দ্বিতীয় মহাযুদ্ধ সমাপ্তির কয়েক বছর পর সাংবাদিকতা শুরু করি, তখনো চল্লিশের দশকের শব্দ আবিষ্কারপ্রক্রিয়া বহমান ছিল। প্রথম দিকে শব্দ ও প্রতিশব্দ ব্যবহারে এবং লিখিত অভিব্যক্তি প্রকাশে বিভিন্ন পত্রিকার মধ্যে সমন্বয় ছিল না। একসময়ে অবশ্য সব নতুন চয়ন সর্বজন গৃহীত হয়ে যায়।
আগেই বলেছি, শব্দচয়নপ্রক্রিয়া শুরু হয় দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের সময়ে। বিভিন্ন ধরনের অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জামের নাম ও ব্যবহার পাঠকদের অপ্রচলিত শব্দ প্রয়োগে বোঝাতে হয়েছে। এই কাজটি ইংরেজি সাংবাদিকতার ক্ষেত্রে সহজ হলেও বাংলায় প্রকাশে ভাষার জটিলতা দেখা দেয়। ট্যাংকের বাংলা প্রতিশব্দ না থাকলেও জঙ্গি বিমান আর সাঁজোয়া গাড়ি পত্রিকার রিপোর্টে স্থান পায়। বোমা থেকে বোমারু, বিশেষ ধরনের বিমানের ক্ষেত্রে বিশেষ্য থেকে বিশেষণে রূপান্তরে মেধার পরিচয় দিয়েছেন সাংবাদিকেরা। যুদ্ধের পর ইংরেজিতে ডিমিলিটারাইজেশন ও কোল্ড ওয়ার অভিধানে ছিল না, সংবাদপত্রের পাতায় ছিল। বাংলা প্রতিশব্দ ‘নিরস্ত্রীকরণ’, ঠান্ডা লড়াই তথা স্নায়ুযুদ্ধ শব্দগুলো ডিকশনারি আর অভিধানে পাওয়া যেত না।
দ্বিতীয় মহাযুদ্ধ সারা বিশ্বে সাংবাদিকতার ভাষায় নতুন শব্দের অনুপ্রবেশ ঘটিয়েছে। তেমনি এই উপমহাদেশে, আরও সীমাবদ্ধ এলাকায় পূর্ব পাকিস্তান, পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশে কতিপয় শব্দ আহরণে সাংবাদিকদের সহায়তা করেছেন রাজনীতিবিদেরা। রসদ জুগিয়েছে রাজনীতির ধারা পরিবর্তন। ধর্মঘট শব্দটি অভিধানে ছিল। হরতাল ছিল না। পরে ইংরেজি-বাংলা উভয়ে সাংবাদিকতায় ব্যবহূত হয়ে বনেদি অক্সফোর্ড কলিন্স ডিকশনারিতে জায়গা করে নিয়েছে। স্বাধীনতাযুদ্ধে আমরা পেলাম ‘রাজাকার’ শব্দটি। হায়দরাবাদ রাজ্যটির ভারত-অন্তর্ভুক্তি ঠেকানোর নিষ্ফল প্রচেষ্টায় নবাব তথা নিজাম এই বাহিনী গঠন করেছিলেন। এর আগে বাংলায় ‘মীরজাফর’ ইংরেজিতে লিখতাম ‘ক্যুইসলিং’। দুটি নামই ঐতিহাসিক, একটি বাংলার কুখ্যাত বিশ্বাসঘাতক, অন্যজন দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের সময়ে নাজি জার্মানিকে সাহায্যকারী নরওয়ের দেশদ্রোহী। সবই সংবাদপত্রে শব্দ সংযোজনের উদাহরণ।
এবার সংবাদপত্রের শব্দচয়ন নিয়ে আলোচনার উদ্দেশ্যটি ব্যাখ্যা করছি। আমার সাংবাদিকতার আদিপর্বে কতগুলো শব্দ পাকিস্তান আমলে পত্রিকার পাতায় ছিল না। স্বাধীন দেশে রাজনীতিকদের কর্মকাণ্ডের বা অপকর্মের বিবরণ এবং রাজনৈতিক চরিত্রের অবক্ষয় প্রকাশে এসব শব্দ ব্যবহূত হচ্ছে। এসবের অন্যতম হচ্ছে ‘বাজ তথা বাজি।’ পূর্ণাঙ্গ শব্দ নয়, অন্য শব্দের সঙ্গে যুক্ত হয়ে বিশেষ অর্থ বোঝায়। মজার ব্যাপার হচ্ছে, বাংলা একাডেমী সংবিধানে একটি মাত্র উদাহরণ খুঁজে পেয়েছি। তা হলো অতীত ও বর্তমান কালের ‘মামলাবাজ।’ বর্তমান সময়ের বহুল আলোচিত ‘রাজনৈতিক অপসংস্কৃতির’ উদাহরণ প্রদানে দখলবাজি, চাঁদাবাজি ও টেন্ডারবাজি হচ্ছে নতুন শব্দচয়ন। বাংলা একাডেমীর অভিধানে ‘বাজ’ শব্দটিকে ‘দক্ষ, অভ্যস্ত ইত্যাদি অর্থবাচক অব্যয়’ শব্দের সঙ্গে যুক্ত হয়ে স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়েছে। দুটি শব্দই স্বাধীনতা-উত্তরকালে কতিপয় রাজনীতিবিদ ও তাঁদের দলীয় মদদপ্রাপ্ত পাতিনেতা-কর্মীদের অপকর্মের সংবাদ বিবরণীতে ব্যবহূত হচ্ছে।
তিন দিন আগে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম ঘোষণা দিয়েছেন, অপসংস্কৃতি বিলুপ্ত করবেন। ‘বাজ’দের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ জন্য তাদের তালিকা তৈরি হচ্ছে। চাঁদাবাজ ও টেন্ডারবাজ যে দলেরই হোক, কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সৈয়দ আশরাফের হুঁশিয়ারিতে দলবাজদের দৌরাত্ম্যের কতখানি অবসান ঘটবে, তা আমি নিশ্চিতভাবে বলতে পারছি না। কারণ, পত্রিকার পাতায় ‘যেকোনো দলের’ নয়, একটি দলীয় পরিচয়ধারীদের টেন্ডারবাজি, চাঁদাবাজি ও দখলবাজির খবর ছাপা হচ্ছে। উল্লেখ্য, এই বাজিকরেরা ‘তত্ত্বাবধায়ক’ আমলে আবিষ্কৃত ভূমিদস্যু আর বনখেকোদের কাতারভুক্ত। শেষোক্ত দুই গোষ্ঠীর নামকরণের কৃতিত্বও সাংবাদিকদের। ইতিমধ্যে যোগ হয়েছে ‘নদী দস্যু’ ও ‘বনায়ন খেকো’ শব্দ দুটি।
প্রাথমিক আলোচনার সূত্র ধরে বলছি, আমাদের বর্তমান রাজনৈতিক সংস্কৃতি বা অপসংস্কৃতিতে দলবাজি, চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি ও দখলবাজি বর্তমান সরকারের আমলে সদ্য আহরিত শব্দ নয়। অতীতের সরকারের অপরাজনীতির ধারাবাহিকতা মাত্র। কিন্তু দিন বদলের কালে বাজি ও বাজিকরির মাত্রা বৃদ্ধি পেয়েছে। বৃদ্ধির পরিমাণ এত ব্যাপক যে শেষ পর্যন্ত দলীয় সরকারের মন্ত্রী ও দলের মহাসচিবের টনক নড়েছে। তবে তিনি ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকিতে ‘যে দলেরই হোক না কেন’, না বলে সরাসরি ‘আমার দলের’ কথাটি বললেই অধিকতর আশ্বস্ত হতাম।
বাজ আর বাজি নিয়ে ‘গবেষণাভিত্তিক’ আলোচনার ইতি টানার আগে শাহদীন মালিককে ধন্যবাদ জানাই। তিনি বাজ ও বাজি অব্যয়ের সংযোজন করে মিডিয়াকে আরও একটি নতুন শব্দ ‘চ্যানেলবাজ’ উপহার দিয়েছেন (প্রথম আলো, ৩১ অক্টোবর) অতি সম্প্রতি সরকারের তথ্য মন্ত্রণালয় ১০টি নতুন বেসরকারি চ্যানেলের অনুমোদন প্রদানে যে পদ্ধতি অনুসরণ করেছে, তাকে তিনি ‘চ্যানেলবাজি’ বলেছেন।
কী অদ্ভুত ব্যাপার, ‘যেকোনো দলেরই হোক’ টেন্ডারবাজ, চাঁদাবাজ ও দখলবাজদের অনেক খবরের পাশে স্বয়ং সরকারের ‘চ্যানেলবাজি’ সংবাদপত্রে ও বেসরকারি টেলিভিশনের টক-শোতে ব্যাপক আলোচিত হচ্ছে। আশা করছি, সংসদ ও বাংলা একাডেমী অভিধানদ্বয়ের পরবর্তী সংস্করণে ‘বাজ’ শব্দের ব্যাখ্যায় ও উদাহরণ প্রদানে বর্তমান সরকারের অবদান ও শাহদীন মালিকের ‘চ্যানেলবাজ’ শব্দটি সংযুক্ত হবে।
এবিএম মূসা: সাংবাদিক ও কলাম লেখক।

ধানমন্ডি মাঠ সবার জন্য, ক্লাবের জন্য নয় -সাধারণ সম্পত্তি সাধারণের জন্যই উন্মুক্ত থাকুক

জমি মাত্রই সম্পদ, কিন্তু তা জনগণের ব্যবহারের হলেই কি তা দখলের সহজ লক্ষ্য হবে? ভূমি-ঘাটতির বাংলাদেশে সবার ভূমির দাম আকাশচুম্বী, কেবল খেলার মাঠই কি ফেলনা! সম্প্রতি ক্লাবের নামে ধানমন্ডি মাঠ দখল করার পাঁয়তারা লক্ষ করা গেছে। দখলের সুবিধার জন্য বাহারি নামও দেওয়া হয়েছে, ‘লে. শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাব লিমিটেড’। অবৈধভাবে জমি দখল যদি অপরাধ হয়, তবে যেসব ব্যক্তির স্মৃতির সঙ্গে জাতীয় আবেগ জড়িত, অনৈতিক উদ্দেশ্যে সে রকম একজনের নাম ব্যবহার করা রীতিমতো অন্যায়।
একাধিক সামাজিক ও নাগরিক সংগঠন ধানমন্ডি মাঠটিকে সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত রাখার দাবি তুলেছে। একটি গোষ্ঠী এই মাঠকে একটি ভুঁইফোড় ক্লাবের নামে দখল করে বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে ব্যবহারের জন্য উঠেপড়ে লেগেছে বলে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। যে উদ্দেশ্যই তাদের থাকুক, এটি ধানমন্ডি এলাকার একমাত্র উন্মুক্ত মাঠ এবং এলাকার শিশু-কিশোর-তরুণদের খেলার একমাত্র জায়গা। এটি এলাকার একমাত্র উন্মুক্ত স্থান, যেখান থেকে খোলা আকাশ আর খোলা হাওয়া উপভোগ করা যায়। সব ধরনের মানুষ এখানে শরীরচর্চা করেন।
কথায় বলে, বৃক্ষ দেখে বণিক দেখে কাঠ আর কবি দেখে প্রাণ। ক্লাবের পেছনে থাকা অসাধু গোষ্ঠী খোলা মাঠটিতে মানুষ ও প্রকৃতির স্ফূর্তি দেখেনি, দেখেছে ব্যবসার মওকা। এতই বেপরোয়া তাদের অভিলাষ যে দখল ঢাকতে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট নিহত বঙ্গবন্ধু-তনয়, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভাই শেখ জামালের নাম ব্যবহার করতেও তারা দ্বিধা করেনি। আমরা দেখেছি, বিভিন্ন সময় বিভিন্ন স্থানে জাতীয় ব্যক্তিত্বদের স্মৃতি কিংবা ক্ষমতাসীন দলের নাম ব্যবহার করে সারা দেশে বিপুল জমি দখল করা হয়েছে। এবং তা করা হয়েছে ব্যক্তি বা গোষ্ঠীবিশেষের ভোগের উদ্দেশ্যে। এ ক্ষেত্রেও তেমনটিই ঘটছে বলে আশঙ্কা।
এখানে বলা দরকার যে আওয়ামী লীগ সরকারের আগের আমলে ঢাকার ওসমানী উদ্যানের জায়গায় ন্যাম সম্মেলন কেন্দ্র নির্মাণের চেষ্টা হয়। ঢাকার নাগরিক সমাজ উদ্যানটিকে ঢাকার ফুসফুস আখ্যায়িত করে এর বিরোধিতা করে। একপর্যায়ে সরকারের শুভবোধের কারণে উদ্যানটি রক্ষা পায়। ধানমন্ডি মাঠটি জনসাধারণের হাত থেকে ক্লাবের হাতে নেওয়ায় সরকারের কোনো স্বার্থ জড়িত নেই। সুতরাং সিটি করপোরেশন এবং সরকার এ বিষয়ে আবারও শুভবুদ্ধির পরিচয় দেবে, এমন আশা তাই করাই যায়।

ব্যাংকে ডিজিটাল লেনদেন-ব্যবসা-বাণিজ্যে নতুন দিগন্তের সূচনা

উন্নত ও দ্রুত বিকাশমান অর্থনীতির দেশগুলোতে ইলেকট্রনিক বাণিজ্য বা ই-কমার্স অনেক আগে থেকেই চালু রয়েছে। বাংলাদেশে এর সূচনা ঘটল সোমবার বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমতি প্রদানের মাধ্যমে। তফসিলি ব্যাংকগুলোকে অনলাইনে অর্থ লেনদেনের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। এখন থেকে কম্পিউটার বা মুঠোফোন থেকে ইন্টারনেট ব্যবহার করে ক্রেডিট কার্ড দিয়ে কেনাকাটা এবং বিভিন্ন ধরনের বিল পরিশোধ করা যাবে। এক ব্যাংকের গ্রাহকের হিসাব থেকে একই ব্যাংকের অন্য গ্রাহকের হিসাবে অনলাইনে অর্থ স্থানান্তর ও ক্রেতার ব্যাংক হিসাব থেকে বিক্রেতার ব্যাংকে মূল্য পরিশোধ করা যাবে। এতে লেনদেন দ্রুততর হবে। এটা অর্থনীতিতে গতি সঞ্চারের অন্যতম একটি উপাদান।
এর আগেও সীমিত পর্যায়ে এক ধরনের ইলেকট্রনিক লেনদেনের ব্যবস্থা চালু ছিল। যেমন, গ্যাস-বিদ্যুত্ ও অন্যান্য সেবা খাতের বিল অনলাইনে পরিশোধের একটি ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। কিন্তু সেটি একটি নির্দিষ্ট হিসাবে যায়, যা ওই সব সেবা খাতের সঙ্গে সম্মতির ভিত্তিতে পৃথক বিশেষ ব্যবস্থায় কাজ করে। কিন্তু বর্তমান ব্যবস্থায় যেকোনো গ্রাহক তাঁর ব্যাংক হিসাব থেকে বিল পরিশোধ করতে পারবেন। অনুরূপভাবে কয়েকটি ব্যাংক নিজেদের মধ্যে সম্মতির ভিত্তিতে কিউ-ক্যাশ, ই-ক্যাশ প্রভৃতি চালু করেছে, যা কেবল ওই ব্যাংকগুলোর মধ্যে অভিন্ন এটিএম লেনদেন অনুমোদন করে। কিন্তু বাংলাদেশ ব্যাংকের সাম্প্রতিক অনুমতির ফলে ব্যাপক ক্ষেত্রে ই-কমার্স চালু করা সম্ভব হবে।
বর্তমানে এই লেনদেন হয় লিখিত চেকের মাধ্যমে। এক ব্যাংকের চেক অন্য ব্যাংকের অ্যাকাউন্টে জমা দিলে সেটি প্রথমে যায় বাংলাদেশ ব্যাংকের কেন্দ্রীয় ক্লিয়ারিং হাউসে। সেখানে দিন শেষে বিভিন্ন ব্যাংকের মধ্যে লেনদেনের হিসাব নিষ্পত্তি করে আবার যার যার হিসাবে পাঠানো হয়। এতে প্রায় তিন দিন সময় লাগে। এই কাজটিই এখন ডিজিটাল পদ্ধতিতে তাত্ক্ষণিকভাবে সম্পন্ন হবে। এটাই ই-কমার্সের মূল তাত্পর্য। কিন্তু এ জন্য দুটি কাজ করা দরকার। প্রথমত, ব্যাংকগুলোর নিজেদের এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মধ্যে ইলেকট্রনিক যোগাযোগ স্থাপন; দ্বিতীয়ত, বাংলাদেশ ব্যাংকে কেন্দ্রীয় ই-পেমেন্ট গেটওয়ে স্থাপন। এটা কেন্দ্রীয় ক্লিয়ারিং হাউসের মতো কাজ করবে। তাই বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমতি শুধু সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছে। এর সবটুকু সুফল পেতে হলে বাংলাদেশ ব্যাংককে কেন্দ্রীয় ডিজিটাল ক্লিয়ারিং হাউস প্রতিষ্ঠার কাজ ত্বরান্বিত করতে হবে।
অনলাইনে কেনাকাটা বা অর্থ স্থানান্তরের সুবিধা যেমন আছে, তেমনি আছে সমস্যাও। ইলেকট্রনিক লেনদেনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কর্তব্যটি এখানে খুব জরুরি। ব্যাংক হিসাবের টাকা নিয়ে প্রতারণা বা একজনের ব্যাংক হিসাবের টাকা জালিয়াতির মাধ্যমে বেহাত হয়ে যাওয়ার দুঃসংবাদ মাঝেমধ্যে শোনা যায়। ই-কমার্সেও এ ধরনের বিপদের আশঙ্কা থাকতে পারে। তবে ‘সাইবার অপরাধ’ তথা অনলাইন প্রতারণা রোধের ব্যবস্থাও আছে। গ্রাহককে সব সময় সচেতন থাকতে হবে। তাঁর লেনদেনের পাসওয়ার্ড যেন কেউ চুরি করতে না পারে, সে জন্য প্রয়োজনীয় নীতিমালা অনুসরণ করতে হবে। এ জন্য সম্প্রতি প্রণীত ‘সাইবার আইন’, আইসিটি আইন ২০০৯-এর কঠোর প্রয়োগ নিশ্চিত করা দরকার।
বাংলাদেশ ব্যাংকের উদ্যোগ দেশের ব্যবসা-বাণিজ্যে সুফল দেবে।