Tuesday, January 23, 2018

ছবি শুধু ছবি নয় by ইকতেদার আহমেদ

বাংলাদেশের জনগণ জাতি হিসেবে ‘বাঙালি’ এবং নাগরিকেরা বাংলাদেশী হিসেবে পরিচিত। পৃথিবীর প্রতিটি দেশেই নাগরিকদের পরিচয় ভূখণ্ডভিত্তিক। ভারতে বাঙালি, পাঞ্জাবি, বিহারি, তামিলসহ আরো অনেক জাতি বাস করলেও তথাকার জনগণ সামগ্রিকভাবে ভারতীয় নামে পরিচিত। অনুরূপ, যুক্তরাষ্ট্রে পৃথিবীর প্রায় সব জাতির লোক বাস করলেও দেশটির স্থায়ী বাসিন্দা হিসেবে যারা নাগরিকত্ব লাভ করেছেন তারা সবাই আমেরিকান হিসেবে পরিচিত।  আমাদের রাষ্ট্রীয় পদমর্যাদা ক্রমে রাষ্ট্রপতির স্থান শীর্ষে। প্রধানমন্ত্রীর স্থান হলো দুই নম্বর ক্রমিকে।
জাতীয় সংসদের স্পিকার, প্রধান বিচারপতি এবং সাবেক রাষ্ট্রপতি ও মন্ত্রীবর্গের স্থান হলো- যথাক্রমে ৩, ৪ ও ৫ নম্বর ক্রমিকে। পাশের রাষ্ট্র ভারতের রাষ্ট্রীয় পদমর্যাদাক্রমে আমাদের মতো রাষ্ট্রপতির স্থান শীর্ষে। এরপর ক্রমিক নম্বর ২, ৩, ৪, ৫, ৬ ও ৭ এ অবস্থান হলো যথাক্রমে- উপরাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, রাজ্যপাল নিজ নিজ রাজ্যের মধ্যে, সাবেক রাষ্ট্রপতি, প্রধান বিচারপতি ও লোকসভার অধ্যক্ষ এবং কেন্দ্রীয় মন্ত্রী, রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী। আমাদের দেশে বিদেশের কোনো রাষ্ট্রপতি বা প্রধানমন্ত্রী অথবা সাবেক রাষ্ট্রপতি বা প্রধানমন্ত্রীর আগমন ঘটলে তাদের আমাদের দেশের রাষ্ট্রীয় পদমর্যাদাক্রম অনুযায়ী সম্মান দেয়া হয়। অনুরূপ আমাদের রাষ্ট্রপতি বা প্রধানমন্ত্রী অথবা সাবেক রাষ্ট্রপতি বা প্রধানমন্ত্রী বিদেশে সরকারিভাবে সফরে গেলে তারাও সে সব দেশের রাষ্ট্রীয় মানক্রম অনুযায়ী সম্মান পেয়ে থাকেন। আমাদের দেশ বা অন্য কোনো দেশে রাষ্ট্রীয় পদমর্যাদাক্রমে অবস্থানকারী শীর্ষস্থানীয়রা প্রাপ্য সম্মান না পেলে তাকে দেশ ও জাতির জন্য অপমান হিসেবে দেখা হয়। একটি দেশের দূতাবাস অপর দেশে সে দেশের ভূখণ্ড হিসেবেই বিবেচিত। আর তাই দূতাবাসের অভ্যন্তরের যাবতীয় কর্মকাণ্ড দেশটির আইন ও বিধিবিধান অনুযায়ী প্রতিপালিত হয়। সম্প্রতি ভারতের সাবেক রাষ্ট্রপতি, বাঙালি বংশোদ্ভূত প্রণব মুখার্জি সরকারিভাবে বাংলাদেশ সফরে এলে ঢাকার ভারতীয় হাই কমিশন তার সম্মানে সংবর্ধনা ও নৈশভোজের আয়োজন করে। ওই সংবর্ধনা ও নৈশভোজে ভারতীয় রাষ্ট্রদূত কর্তৃক আমন্ত্রিত হয়ে আমাদের জাতীয় সংসদের স্পিকার, সাবেক রাষ্ট্রপতি, মন্ত্রিসভার সদস্য, ‘মহাজোট’ভুক্ত দলগুলোর শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন। সংবর্ধনা অনুষ্ঠান শেষ হওয়ার পর বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত একটি ছবিতে দেখা যায়- ভারতের সাবেক রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জি চেয়ারে উপবিষ্ট এবং তার পেছনে বাম থেকে ডান দিকে দাঁড়ানো রয়েছেন যথাক্রমে- বাংলাদেশে ভারতের হাই কমিশনার হর্ষবর্ধন শ্রিংলা, বাংলাদেশের অর্থমন্ত্রী এ এম এ মুহিত, সাবেক রাষ্ট্রপতি এইচ এম এরশাদ, জাতীয় সংসদের স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী, জনৈক মহিলা, বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ এস মাহমুদ আলী। ছবিটি গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ার পর দেশের সচেতন জনমানুষের পক্ষ হতে তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দা ব্যক্ত করা হয় এবং এটাকে দেশ ও জাতির আত্মসম্মানের জন্য হানিকর বলে উল্লেখ করা হয়। ভারতের সাবেক রাষ্ট্রপতি বাংলাদেশ সফরকালে বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকালে তাকে কোনো ধরনের সহকারীর সাহায্য ব্যতীত সুস্থ ও সবলভাবে চলাফেরা করতে দেখা গেছে।
এমনকি বক্তৃতা দেয়ার সময়েও দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে থাকতে তার কোনো ধরনের অসুবিধা হয়েছে- এমনটি প্রত্যক্ষ করা যায়নি। ভারতের সাবেক রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জির বর্তমান বয়স ৮২ বছর। আমাদের সাবেক রাষ্ট্রপতি এরশাদের বয়স ৮৭ বছর এবং অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিতের বয়স ৮৩ বছর। আমাদের সাবেক রাষ্ট্রপতির রাষ্ট্রীয় মানক্রম অনুযায়ী পদমর্যাদা এবং তার বয়স বিবেচনায় নেয়া হলে ভারতের সাবেক রাষ্ট্রপতির সাথে প্রথমোক্তজন দাঁড়ানো এবং শেষোক্তজন চেয়ারে বসা অবস্থায় ছবি আমাদের জন্য অবমাননাকর ও লাঞ্ছনাকর। এ ছবিটি ভারতীয় রাষ্ট্রদূত ও দূতাবাসের নির্দেশনায় তোলা হয় এবং ছবিটির পেছনে ‘হাই কমিশন অব ইন্ডিয়া’ কথাটি ভারতের সাবেক রাষ্ট্রপতির ছবিসম্বলিত ব্যানারে উল্লেখ করা হয়েছে। এরশাদ আজ থেকে ৩৪ বছর আগে যখন বাংলাদেশের রাষ্ট্রপ্রতি পদে আসীন ছিলেন তখন প্রণব মুখার্জি ভারতের অর্থমন্ত্রী ছিলেন। এরশাদ রাষ্ট্রপতি পদে বহাল থাকাকালে বেশ কয়েকবার রাষ্ট্রীয় সফরে ভারত গিয়েছিলেন। প্রতিটি সফরে দেখা গেছে, তাকে তথাকার রাষ্ট্রীয় প্রোটোকল অনুযায়ী মর্যাদা দেয়া হয়েছে। রাষ্ট্রপতি পদ হতে বিদায়ের পরবর্তী সময়ে এরশাদের সরকারি ও বেসরকারিভাবে একাধিকবার ভারত সফরের সুযোগ ঘটেছে। এ সব সফরকালে তাকে রাষ্ট্রীয় প্রোটোকল অনুযায়ী যে মর্যাদা দেয়া হয়, তা সচরাচর সে দেশে কোনো বিদেশী রাষ্ট্রের মন্ত্রীর আগমন ঘটলে যেরূপ মর্যাদা দেয়া হয় এর অনুরূপ। ইতঃপূর্বে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক রাষ্ট্রপতি জিমি কার্টার,, কানাডার সাবেক প্রধানমন্ত্রী পিয়েরে ট্রুডো, মালয়েশিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী মাহাথির মোহাম্মদ, ভারতের সাবেক রাষ্ট্রপতি এ পি জে আবদুল কালামসহ অনেক দেশের সাবেক রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী সরকারি ও বেসরকারিভাবে বাংলাদেশ সফর করেছেন। এ ধরনের কিছু কিছু সফরের সময় সংশ্লিষ্ট দেশের দূতাবাস নিজ নিজ দেশের সাবেক রাষ্ট্রপতি বা প্রধানমন্ত্রীর জন্য সংবর্ধনার আয়োজন করেছিল। এ সব সংবর্ধনায় আমন্ত্রিত হয়ে আমাদের দেশের সমমর্যাদার ব্যক্তিসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিদের উপস্থিত থাকতে দেখা গেছে। তা ছাড়া এসব বিদেশী অতিথিকে এ দেশে বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি অনুষ্ঠানেও উপস্থিত থাকতে দেখা গেছে। এ ধরনের কোনো অনুষ্ঠানে এমন কোনো ফটোসেশন হয়নি যাতে বিদেশী অতিথিকে বসে থাকতে দেখা গেছে এবং আমাদের সমমর্যাদা বা উচ্চমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের তার পেছনে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়েছে। ভারতের সাবেক রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জির স্ত্রী শুভ্রা মুখার্জির পৈতৃক নিবাস নড়াইলে। তিনি তথায় জন্মগ্রহণ এবং শৈশবকালের কিছু সময় অতিবাহিত করেন।
তার আপন ভাইসহ নিকটাত্মীয় অনেকে এখনো নড়াইলে বাস করেন। সে হিসেবে প্রণব মুখার্জি বাংলাদেশের ‘জামাইবাবু’ এবং বাংলাদেশ হলো তার শ্বশুরালয়। যেকোনো জামাতার শ্বশুরালয়ে আগমন ঘটলে তিনি তার স্ত্রীর চেয়ে বয়ো জ্যেষ্ঠদের পা ছুঁয়ে প্রণাম করেন এবং কনিষ্ঠদের সাথে হাসিঠাট্টায় লিপ্ত হন। প্রণব মুখার্জির স্ত্রী ২০১৫ সালে ৭৫ বছর বয়সে পরলোক গমন করেছেন। তিনি বেঁচে থাকলে বর্তমানে তার বয়স হতো ৭৭ বছর। প্রণব মুখার্জির স্ত্রীর বয়স বিবেচনায় নেয়া হলে এরশাদ ও মুহিত উভয়ে তার সম্বন্ধির পর্যায়ভুক্ত। অপর দিকে বয়সে কনিষ্ঠ হওয়ার কারণে তোফায়েল ও মাহমুদ আলী শ্যালকের পর্যায়ে পড়েন। স্পিকার শিরীন শারমিন আমাদের রাষ্ট্রীয় পদমর্যাদাক্রম অনুযায়ী প্রণবের ঊর্ধ্বে অবস্থান করলেও ভারতের রাষ্ট্রীয় পদমর্যাদাক্রম অনুযায়ী তার অবস্থান নিম্নে। বয়সের বিষয়টি বিবেচনায় নেয়া হলে স্পিকার শিরীন শারমিন প্রণবের ‘শ্যালিকা’ হিসেবে গণ্য। বিষয়টিকে শ্বশুরালয়ে জামাইবাবুর আগমনের দৃষ্টিকোণ থেকে দেখলে শিরীন শারমিন, তোফায়েল আহমেদ ও মাহমুদ আলীর দাঁড়িয়ে থাকার বিষয়ে আপত্তি করা যৌক্তিক নাও হতে পারে কিন্তু সম্বন্ধিদের দাঁড় করিয়ে রাখা যে শোভন নয়; সেটি শুভ্রা মুখার্জি বেঁচে থাকলে হয়তো এ নিয়ে একহাত নিয়ে ছাড়তেন। গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত সংশ্লিষ্ট ছবিটি পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, চেয়ারে বসা প্রণব বাবুর মুখে মলিনতার ছাপ। অপর দিকে শ্যালকদ্বয় ও শ্যালিকার মুখে হাসির কিঞ্চিৎ রেশ থাকলেও সম্বন্ধিদ্বয়ের মুখাবয়ব হাসিতে সমুজ্জ্বল। প্রণব বাবু ভারতের রাষ্ট্রপতিসহ দীর্ঘ দিন মন্ত্রীর মর্যাদায় আসীন ছিলেন। রাষ্ট্রীয় আচার বিষয়ে তার জ্ঞানের কোনো ধরনের ঘাটতি রয়েছে, এমনটি ভাবার অবকাশ নেই। আর তাই হাইকমিশন কর্তৃক আয়োজিত ফটোসেশনে ঔপনিবেশিক ভাবধারার বহিপ্রকাশ ঘটায় সেটি উপলব্ধি করতে পেরেই হয়তো তার মুখের মলিনতা। পৃথিবীর যেকোনো দেশে কোনো ব্যক্তি রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, স্পিকার, মন্ত্রী প্রভৃতি পদে আসীন হলে তারা দেশ ও দেশের জনগণের প্রতিনিধিত্ব করেন। তাদের এ সব পদে নিয়োগ- পরবর্তী শপথ গ্রহণ করতে হয় এবং পদে বহাল থাকাকালে তারা শপথের অধীন থাকেন। শপথগ্রহণ করাকালে এ ধরনের ব্যক্তিদের অপরাপর বিষয়ের পাশাপাশি দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে বলতে হয়- তারা নিজ দেশের প্রতি অকৃত্রিম বিশ্বাস ও আনুগত্য পোষণ করবেন এবং ভীতি বা আনুগত্য, অনুরাগ বা বিরাগের বশবর্তী না হয়ে সবার প্রতি আইনানুযায়ী যথাবিহিত আচরণ করবেন।’ এ ধরনের পদে আসীন কোনো ব্যক্তির এমন কোনো আচরণ করা উচিত নয় যা, দেশ ও জাতিকে লজ্জায় ফেলে দিয়ে অপমানজনক ও বিব্রতকর পরিস্থিতির উদ্ভব ঘটাতে পারে। গণমাধ্যমে ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছবিটি দেখে বাংলাদেশের সচেতন জনমানুষ তীব্র অসন্তোষ ও ক্ষোভ ব্যক্ত করেছে। এ কারণে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যে ভাষা ব্যক্ত হয়েছে, তা অনুধাবন করার বোধশক্তি ছবিটিতে উপস্থিত ব্যক্তিদের থাকলে তারা কখনো এভাবে ফটোসেশনে অংশগ্রহণে সম্মত হতেন না। যেকোনো দেশের রাষ্ট্রদূত নিজ দেশ এবং তিনি যে দেশে কর্মরত সে দেশের রাষ্ট্রীয় আচার বিষয়ে ওয়াকিবহাল। একজন রাষ্ট্রদূতকে সবসময় কৌশলী হতে হয়।
তার পক্ষে এমন কোনো কাজ করা উচিত নয় যেটি তার নিজ দেশ এবং তিনি যে দেশে কর্মরত সে দেশের জন্য মর্যাদাহানিকর হয়। ভারতীয় হাই কমিশনে প্রণব মুখার্জির সফরকালীন যে ফটোসেশনের আয়োজন হয়েছে তা রাষ্ট্রদূত বা হাই কমিশনারের নির্দেশনা মতে হয়েছে। তাই বিষয়টি তার পক্ষে এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। ঔপনিবেশিক ব্রিটিশ শাসনামলে আমাদের এ দেশের প্রায় প্রতিটি জেলাতেই হিন্দু জমিদারের উত্থান ঘটেছিল। এ সব জমিদার নিজেদের ‘রাজা’ ভেবে এ দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলমান জনগোষ্ঠীকে প্রজাজ্ঞানে এক ধরনের ভৃত্য সমতুল্য মনে করতেন। এসব প্রজা জমিদারের সামনে কখনো চেয়ারে বসা দূরের কথা, পায়ে জুতা বা সেন্ডেল পরে হাঁটতে দেয়া হতো না। এ অবস্থা হতে উত্তরণ ঘটাতে আমাদের পূর্বপুরুষদের অনেক আত্মদান, ত্যাগ ও সংগ্রাম করতে হয়েছে। এমনকি, আমাদের স্বাধীনতার পর বঙ্গবন্ধু ১৯৭৩ সালে তার একক সিদ্ধান্তে পাকিস্তানের ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত ইসলামি শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দেয়ায় পরবর্তী সময়ে দিল্লিতে অপর একটি সফরে গেলে তৎকালীন ভারতীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী শরণ সিং প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর উপস্থিতিতে সম্মেলনে যোগদান করা নিয়ে তাকে বিব্রতকর প্রশ্ন করলে তিনি সমুচিত জবাব দিয়ে সাথে সাথে সে দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে প্রধানমন্ত্রীর সামনে স্তব্ধ করে দিয়েছেলন। এ ধরনের আচরণ একটি দেশ ও জাতির আত্মসম্মান শতগুণ বাড়িয়ে দেয়। বঙ্গবন্ধুর এ কথাটি স্মরণে রেখে এমন কোনো আচরণ করা উচিত নয়, যা দেশ ও জাতির জন্য অপমান ও মর্যাদা বয়ে আনে।
লেখক : সাবেক জজ, সংবিধান,  রাজনীতি ও অর্থনীতি বিশ্লেষকE-mail: iktederahmed@yahoo.com

ফুটবলার যখন দেশের প্রেসিডেন্ট

আফ্রিকার দেশ লাইবেরিয়ায় নতুন এক প্রেসিডেন্ট আজ থেকে দায়িত্বভার গ্রহণ করছেন। কিন্তু তিনি কোনো পেশাদার রাজনীতিক নন। তিনি আন্তর্জাতিক ফুটবল লেজেন্ড জর্জ উইয়া। চেলসি এবং ম্যানচেষ্টার সিটি ফুটবল ক্লাবের পক্ষে তিনি দীর্ঘদিন খেলেছেন। তিনিই একমাত্র আফ্রিকান ফুটবলার ব্যালঁ ড'অর পুরস্কার জিতেছেন। বিবিসির সংবাদদাতা খবর দিচ্ছেন, মনরোভিয়ার যে স্টেডিয়ামে উইয়ার শপথ গ্রহণ করবেন, সেখানে রাত থেকেই মানুষ জড়ো হতে শুরু করেছেন। সেলেব্রিটি ফুটবলাররা এসে যোগ দিয়েছেন এই অনুষ্ঠানে।
চেলসির দিদিয়ে ড্রগবা, ক্যামেরুনের স্যামুয়েল এটো এবং নাইজেরিয়া থেকে সানডে ওলিসে ও টারিবো ওয়েস্ট - সবাই এসেছেন। লিওনেল মেসিও এখন মনরোভিয়ায় আছেন, এরকম একটা গুজবও শোনা গিয়েছিল। কিন্তু যতই জনপ্রিয় হোন না কেন জর্জ উইয়ার সামনে রয়েছে বিরাট চ্যালেঞ্জ। লাইবেরিয়ায় ১৯৯০-এর দশকে গৃহযুদ্ধের জের এখনো কাটেনি। অর্থনীতি পর্যুদস্ত। বেকারত্বের হার অনেক উঁচু। ইবোলা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের ফলে বিদেশি পর্যটকরা কিংবা ব্যবসায়ীরা লাইবেরিয়ায় যেতে নারাজ। কিন্তু তার পরও জর্জ উইয়ার প্রতি আস্থা রেখে লাইবেরিয়ানরা তাকিয়ে আছেন এক নতুন ভবিষ্যতের দিকে।

স্ত্রীর লোপ পাওয়া স্মৃতি ফেরাতে ৮৩ বছরের স্বামীর অভিনব ‘বিয়ে’

দুরারোগ্য ব্যাধিতে লোপ পেয়েছে প্রিয়তমা স্ত্রীর স্মৃতি। মনে নেই কিছুই। আছে শুধু অতীত-ভোলা অস্তিত্ব। তাই স্ত্রী-র স্মৃতি ফেরাতে, ৫৫ বছরের বিবাহবার্ষির্কীতে বিয়ের আসর বসালেন ৮৩ বছরের স্বামী! পবিত্র নন্দী নামে ওই স্বামী একজন অধ্যাপক। স্ত্রী গীতা নন্দী ছিলেন চিকিৎসক। তারা নিঃসন্তান। দশ বছর আগে পর্যন্ত সব ঠিকঠাকই ছিল। কিন্তু সুখের সংসারে হঠাৎ ছন্দপতন।
ক্রমশ ফিকে হতে শুরু করে অশীতিপর গীতা নন্দীর স্মৃতি। ধীরে ধীরে গ্রাস করে ডিমেন্সিয়ার (ভুলে যাওয়া রোগ) অন্ধকার। চিকিৎসকের পরামর্শে, ৮১ বছর বয়সী স্ত্রীকে বিভিন্ন জায়গায় ঘুরতে নিয়ে যান পবিত্র নন্দী। কিন্তু বিশেষ কিছু লাভ হয়নি। এরই মধ্যে বাংলাদেশের জন্মভিটে থেকে স্ত্রীকে ঘুরিয়ে আনেন বৃদ্ধ। অনেক কিছু চিনতে পারেন বৃদ্ধা। এরপরই স্ত্রীর স্মৃতি ফেরাতে অভিনব উদ্যোগ স্বামীর। ভারতের পশ্চিমবঙ্গের দমদমের রবীন্দ্রনগরের বাড়িতে রোববার সকাল থেকেই অতিথিদের আনাগোনা। মেনু কার্ড ছাপিয়ে এলাহী খাওয়া-দাওয়া, মালাবদল, বিবাহবার্ষিকীতেই আবার বিয়ে। হাতের ওপর হাত রাখা সহজ নয়। বাড়ানো হাত ধরতে চাওয়াও সহজ নয়। কিন্তু এই কঠিন কাজটাই করে চলেছেন আশি পেরোনো পবিত্র নন্দী। এদিনও সর্বক্ষণ স্ত্রী-র কাঁধে হাত স্বামীর। প্রতিদিনের মতো নিজ হাতেই খাইয়ে দিলেন স্ত্রীকে। সালটা ১৯৬১৷ সদ্য কলেজে পড়ানো শুরু করেছেন পবিত্রচিত্র নন্দী৷ ক্লাসে পড়তে এসেছিলেন সদ্য স্কুলের গণ্ডি পেরোনো গীতা৷ শিক্ষক-ছাত্রীর সম্পর্কের মধ্যেই জন্ম নিয়েছিল ভালোবাসার চারাগাছ৷ সম্পর্কের বছর দু’য়েকের মাথায় বিয়ে করতে চাইলে বেঁকে বসে গীতার পরিবার৷ কিন্ত্ত , নাছোড় যুগল৷ শেষমেশ ক্যান্টনমেন্টে নন্দী বাড়িতেই বসে বিয়ের আসর৷ ‘ওদের বাড়ি থেকে কেউ আসেনি বিয়েতে৷
তবুও আমরা খুশি ছিলাম৷ একে অন্যকে পাওয়ার আনন্দ বলতে পারো ,’ তিরাশির পবিত্রচিত্রর চোখে মুহূর্তে যেন ভেসে ওঠে সেদিনে ছবি৷ তারপর গঙ্গা দিয়ে পানি গড়িয়েছে অনেক৷ বটানির ছাত্রী গীতা স্বামীর উত্সাহে এনআরএস মেডিক্যাল কলেজে ডাক্তারি পড়তে ঢোকেন৷ পাশ করে বিআরসিং হাসপাতালে কেন্দ্রীয় সরকারি চাকরি শুরু করেন তিনি৷ কেমন ছিল দিনগুলো? এই পরিবারের ৪৪ বছরের পুরোনো পরিচারিকা পদ্ম বলেন, ‘বৌদির রাগটা একটু বেশি ছিল বটে৷ কিন্ত্ত , দাদা বৌদির ভালোবাসায় কোনো খাদ ছিল না কখনো৷ একে অন্যকে সোনা আর মনা বলে ডাকত৷ এখনও দাদা বৌদিকে মনা বলেই ডাকে বটে৷ কিন্ত্ত বৌদি ডাকতে পারে না৷’ ‘আমাকে না দেখলে এখনও ও অস্থির হয়ে ওঠে৷ সবাইকে ভুলে গিয়েছে শুধু আমি ছাড়া৷ তাই ভাবলাম, যদি বিয়েটা করলে ফের কিছু মনে পড়ে ওর৷ ডাক্তাররাও আশ্বাস দিলেন৷ তাই সবার উত্সাহে বিবাহবাসর আয়োজন করেই ফেললাম,’ হাসিমুখে অতিথি আপ্যায়ন করতে করতে বলেন পবিত্র৷ তবে স্ত্রীকে পুরনো দিনের কথা মনে করানোই নয়৷ নিজেদের স্বপ্নের একটা প্রকল্পকেও গতি দিলেন নন্দী দম্পতি৷ দুঃস্থ মেধাবী ছাত্রছাত্রীদের পড়াশোনা শেখানোর জন্য নিজেদের সর্বস্ব দমদম নন্দিশ্রী আনন্দম চ্যারিটেবল ট্রাস্ট বানিয়ে দান করলেন তারা৷ ট্রাস্টের সম্পাদক উদয়ন সেনগুন্ত বলেন, ‘আপাতত নবম-দশমের দুঃস্থ মেধাবী ছাত্রছাত্রীদের পড়াশোনা শেখানো হবে স্যারের বাড়ির একতলায়৷ সঙ্গে দুঃস্থদের বিনামূল্যে চিকিত্সকের পরামর্শের বন্দোবস্তও করবে ট্রাস্ট৷’

ক্যান্সার প্রতিরোধে শীতের এ সবজিটি খান

শীতের দিনে তাজা সবজি খেতে সবাই পছন্দ করেন। এই সবুজ সবজিগুলোর মাঝে নজর কাড়ে লাল-রঙা একটি সবজি। হ্যাঁ, মিষ্টি আলুর কথাই বলা হচ্ছে। এ সবজটির পুষ্টিগুণ অনেক। এখন থেকে খাবার তালিকায় লাল-আলু রাখুন। কারণ হার্ট থেকে কিডনি প্রায় সবগুলো অর্গানের খেয়াল রাখে এটি। গবেষণা বলছে, সপ্তাহে যদি একদিন মিষ্টি আলু খাওয়া যায়, তাহলে শরীর নিয়ে আর চিন্তায় থাকতে হয় না। কী এমন উপকার করে সবজিটি? একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে, মিষ্টি আলুতে এমন কিছু পুষ্টিকর উাপাদান আছে, যা হার্ট থেকে কিডনি, শরীরের প্রতিটি ভাইটাল অর্গ্যানের খেয়াল রাখে। শরীরকে তরতাজা রাখে। চলুন জেনে নেয়া যাক, কীভাবে মিষ্টি আলু আমাদের শরীরের খেয়াল রাখে।
অ্যানিমিয়ার প্রকোপ কমায় : মিষ্টি আলুতে রয়েচে প্রচুর পরিমাণে আয়রন, যা শরীরে প্রবেশ করার পর এতো মাত্রায় শ্বেত এবং লোহিত রক্ত কণিকার উৎপাদন বাড়িয়ে দেয় যে রক্ত স্বল্পতার মতো সমস্যা কমতে সময়ই লাগে না।
হজম ক্ষমতার উন্নতি ঘটায় : প্রচুর মাত্রায় ফাইবার থাকার কারণে নিয়মিত এ সবজিটি খেলে পাচক রসের ক্ষরণ বেড়ে যায়। ফলে হজম ক্ষমতার উন্নতি ঘটে। সেই সাথে কনস্টিপেশনের মতো সমস্যাও কমতে শুরু করে।
ক্যান্সার প্রতিরোধ করে : মিষ্টি আলুতে রয়েছে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, ক্যারোটিনয়েড এবং ভিটামিন এ, যা ক্যান্সার প্রতেরোধে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। শুধু তাই নয়, এই উপাদানগুলো দৃষ্টিশক্তির উন্নতিতে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতেও সাহায্য করে।
ভিটামিন সি-এর ঘাটতি দূর করে : দাঁত এবং হাড়কে শক্ত করার পাশাপাশি হজম ক্ষমতার উন্নতিতে এবং একাধিক সংক্রমণের হাত থেকে বাঁচাতে ভিটামিনটির কোনো বিকল্প নেই। এখানেই শেষ নয়, একাধিক কেস স্টাডি করে দেখা গেছে ব্লাড সেলের ফর্মেশনেও ভিটামিন সি বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে।
ভিটামিন বি৬-এ পরিপূর্ণ : এই ভিটামিন শরীরে থাকা একাধিক ক্ষতিকর কেমিকেলের প্রভাবকে কমিয়ে দেয়। ফলে একাধিক ডিজেনারেটিভ ডিজিজ ধারে কাছেও ঘেঁষতে পারে না। সেই সাথে হার্টেরও উন্নতি ঘটায়। এমনটা হওয়ার কারণে হঠাৎ করে হার্ট অ্যাটাক এবং একাধিক হার্টের রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা কমে।
ভিটামিন ডি-এর চাহিদা পূরণ করে : শরীরকে সচল রাখতে যে যে ভিটামিন গুরুত্বপূর্ণই ভূমিকা পালন করে থাকে, তার মধ্যে অন্যতম হলো ভিটামিন ডি। এ ভিটামিনটি হাড়কে শক্ত করার পাশাপাশি শরীরকে রোগমুক্ত রাখতে এবং মানসিক অবসাদের মতো সমস্যা দূরে রাখতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে। তাই ভিটামিন ডি-এর ঘাটতি যাতে কোনো সময় না হয় তার জন্য নিয়মিত মিষ্টি আলু খাওয়া উচিত। কারণ সবজিটিতে যে পরিমাণ ভিটামিন ডি থাকে, তা দেহের চাহিদা মেটানোর জন্য যথেষ্ট।
রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার উন্নতি ঘটায় : আয়রন হলো এমন একটি খনিজ যা শ্বেত এবং লোহিত রক্ত কণিকার সংখ্যা বাড়ানোর মধ্যে দিয়ে ইমিউন সিস্টেমের ক্ষমতা বাড়াতে দারুণ কাজে আসে। আর এ খনিজটি প্রচুর পরিমাণে আছে মিষ্টি আলুতে। ফলে সপ্তাহে ১-২ বার সবজিটি খাওয়ার অভ্যাস করলে ছোট-বড় কোনো রোগই ধারে কাছে ঘেঁষতে পারে না। সেই সাথে সংক্রমণের আশঙ্কাও হ্রাস পায়।
ডায়াবেটিস দূরে রাখে : স্বাদে মিষ্টি হলেও রক্তে শর্করার মাত্রা কমাতে সবজিটির কোনো বিকল্প হয় না বললেই চলে। আসলে গ্লাইসেমিক ইনডেক্সে একেবারে নিচের দিকে রয়েছে মিষ্টি আলু। তাই সবজিটি খাওয়া মাত্র শরীরে সুগারের মাত্রা তো বাড়েই না, উল্টে ইনসুলিনের কর্মক্ষমতা বেড়ে যাওয়ায় ব্লাড সুগার নিয়ন্ত্রণে চলে আসে।
স্ট্রেস কমায় : মিষ্টি আলুতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ম্যাগনেসিয়াম। এ খনিজটি আর্টারি এবং হার্টের পেশির কর্মক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি স্ট্রেস কমাতেও বিশেষ ভূমিকা পালন করে।
ব্রেন পাওয়ার বাড়ায় : মস্তিস্কে থাকা নার্ভ সেলগুলো নিজেদের মধ্যে যত সুন্দরভাবে সিগনাল আদান প্রদান করবে, তত ব্রেন পাওয়ার বৃদ্ধি পেতে শুরু করবে। সেই সাথে বাড়বে বুদ্ধি, মনোযোগ এবং মনে রাখার ক্ষমতাও। আর কীভাবে এমনটা সম্ভব হবে? এক্ষেত্রে পটাশিয়াম দারুণভাবে কাজে আসতে পারে। আর এ খনিজটি প্রচুর মাত্রায় রয়েছে মিষ্টি আলুতে।
হাড়ের রোগকে দূরে রাখে : মিষ্টি আলুতে উপস্থিত নানাবিধ উপকারি উপাদান, হাড় এবং জয়েন্টকে মজবুত করে। ফলে অধিক বয়সে নানাবিধ হাড়ের রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা হ্রাস পায়। প্রসঙ্গত, এনার্জি লেভেল বাড়ানোর পাশাপাশি হার্টের উন্নতিতে, নার্ভের কর্মক্ষমতা বাড়াতে এবং ত্বকের সৌন্দর্য বাড়াতে সবজিটি বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে।
সূত্র : ইন্টারনেট

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসির কার্যালয় ঘেরাও



কয়েক দফা দাবিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) উপাচার্যের (ভিসি) কার্যালয় ঘেরাও করেছেন ‘নিপীড়নবিরোধী শিক্ষার্থীবৃন্দের’ ব্যানারে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে জড়ো হয়ে মিছিল শুরু করেন শিক্ষার্থীরা।
পরে মিছিলটি টিএসসি, কলাভবন, বিজনেস ফ্যাকাল্টি, বিজনেস স্টাডিজ অনুষদ ঘুরে উপাচার্য কার্যালয়ের সামনে আসে। শিক্ষার্থীদের দাবির মধ্যে রয়েছে- অধিভুক্ত সাত কলেজ বাতিলের দাবিতে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা ও যৌন নিপীড়নকারী ছাত্রলীগ নেতাদের বহিষ্কার, প্রশাসনের করা নিপীড়নবিরোধী শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে অজ্ঞাতনামা মামলা প্রত্যাহার, দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ প্রক্টরের পদত্যাগ। এর আগে গত রোববার তিন দফা দাবি আদায়ে মঙ্গলবার পর্যন্ত সময় বেঁধে দেন শিক্ষার্থীরা। দাবি আদায় না হওয়ায় আজ আবারও আন্দোলনে নেমেছেন তারা।

এলডিসি থেকে উত্তরণ

চলতি বছরের মার্চে স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উন্নয়নশীল দেশের তালিকায় বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্ত হওয়ার বিষয়টি চূড়ান্ত করবে জাতিসংঘের ইকোনমিক ও সোশ্যাল কাউন্সিল। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সম্ভাবনা উজ্জ্বল। উন্নয়নশীল দেশে পরিণত হতে ২০২১ সালের মধ্যে যে তিনটি শর্ত পূরণ করতে হবে তা বাংলাদেশ ইতিমধ্যেই অর্জন করেছে। শর্তগুলো হল- ১. মাথাপিছু আয় ১২৪২ মার্কিন ডলার; বর্তমানে আমাদের মাথাপিছু আয় ১৬১০ মার্কিন ডলার। ২. দেশের ৬৬ শতাংশ মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নত হওয়া; বাংলাদেশ এটি ৭০ শতাংশে উন্নীত করেছে। ৩. অর্থনৈতিকভাবে ভঙ্গুর না হওয়ার মাত্রা ৩০ শতাংশের নিচে থাকা; বাংলাদেশে তা ২৬ শতাংশ। কাজেই বলা যায়, ১৯৭৫ সাল থেকে এলডিসির তালিকায় থাকা বাংলাদেশ এখন উন্নয়নশীল দেশের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হওয়ার দ্বারপ্রান্তে পৌঁছেছে। শর্তগুলো নির্ধারিত সময়ের আগেই পূরণ করায় বাংলাদেশের ক্ষেত্রে এ ঘোষণা তিন বছর আগেই আসছে। এটি বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নতির সাক্ষ্য দেয়, সন্দেহ নেই। তবে উন্নয়নশীল দেশের তালিকায় উন্নীত হওয়ার পর বাংলাদেশকে কিছু কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি হতে হবে। এর বহুমাত্রিক প্রভাব মোকাবেলা করতে হবে আমাদের। যেমন- বাংলাদেশকে বিশ্ববাণিজ্যে বড় ধরনের প্রতিযোগিতার মুখে পড়তে হবে। প্রশ্ন হল, এজন্য আমরা কতটা প্রস্তুত? বিশ্ববাণিজ্য সংস্থার নিয়ম অনুযায়ী, স্বল্পোন্নত দেশগুলো বাণিজ্যক্ষেত্রে উন্নত দেশগুলোর কাছ থেকে কিছু সুযোগ-সুবিধা পেয়ে থাকে- যেমন, শুল্ক ও কোটামুক্ত বাজার সুবিধা, জিএসপি সুবিধা ইত্যাদি।
বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হওয়ার পর এসব সুবিধা আর পাবে না। তখন এলডিসির দেশগুলোর তুলনায় বাংলাদেশকে রফতানির ক্ষেত্রে ৬.৭ শতাংশ বেশি শুল্ক পরিশোধ করতে হবে। ২০১৬-১৭ অর্থবছরকে ভিত্তি ধরে জাতিসংঘের বাণিজ্য ও উন্নয়নবিষয়ক সংস্থা আঙ্কটাডের সাম্প্রতিক এক জরিপে বলা হয়েছে, রফতানি আয় ৫.৫ শতাংশ থেকে ৭.৫ শতাংশ পর্যন্ত কমে যেতে পারে। ফলে মোট রফতানি আয় হতে ১.৫ বিলিয়ন থেকে ২.২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার (প্রায় ১৮ হাজার ৪০ কোটি টাকা) হারাতে হবে বাংলাদেশকে। এছাড়া বেসরকারি সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) এক গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উন্নয়নশীল দেশের তালিকায় প্রবেশের পর অতিরিক্ত হারে শুল্ক দেয়ার কারণে বাংলাদেশ রফতানি হারাতে পারে ২.৭ বিলিয়ন ডলার। স্বভাবতই এটি দেশের অর্থনীতির জন্য একটি সতর্কবার্তা। এ আশঙ্কার কথা মাথায় রেখে উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবেলায় বাংলাদেশকে এখন থেকেই প্রস্তুতি নিতে হবে। এ লক্ষ্যে সক্ষমতা অর্জনের জন্য যা যা করা দরকার, তা করতে হবে। বাণিজ্যমন্ত্রী বলেছেন, রফতানি বাণিজ্যের ওপর একটা চাপ তৈরি হবে এটা সত্য, কিন্তু সেটা মোকাবেলার সক্ষমতা উদ্যোক্তাদের হয়েছে। বাস্তবতা হল, দেশে বাণিজ্য ও বিনিয়োগের পরিবেশ এখনও ব্যবসাবান্ধব নয়। উদ্যোক্তাদের পদে পদে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ও হয়রানি মোকাবেলা করতে হয়। গ্যাস-বিদ্যুৎ-অবকাঠামোগত সমস্যা এখনও প্রকট। কাজেই ব্যবসায়ীরা চাইলেই রাতারাতি সক্ষমতা বাড়াতে পারবেন না। সেক্ষেত্রে সরকারের পক্ষ থেকে সবধরনের সমর্থন দিতে হবে। বিষয়টিতে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেয়া প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে কোনো গাফিলতি যেন না হয়। মনে রাখা দরকার, বিশ্ব বাণিজ্য প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে না পারলে উন্নয়নশীল দেশের তালিকায় উন্নীত হওয়ার বিষয়টি আমাদের জন্য গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়াতে পারে।

ডিম কেন খাবেন by ডা. আলমগীর মতি

ডিম খেতে পছন্দ করেন না এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া দায়।শিশু থেকে শুরু করে বয়োজ্যেষ্ঠ পর্যন্ত সবাই ডিম খেতে খুব পছন্দ করেন। আবার অনেকে রান্নার ঝামেলা এড়াতে রুটির সঙ্গে ডিম পোছ করে খেয়ে থাকেন।শরীর দুর্বল হলে ডাক্তার সকালবেলার নাশতায় ডিম খাওয়ার পরামর্শ দিয়ে থাকেন। ডিমের মধ্যে প্রোটিন রয়েছে। অন্যান্য প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবারের তুলনায় এর দামও কম। কিন্তু আমাদের মনে কখনো কি প্রশ্ন এসেছে ডিম কেন খাবে? ডিমের মধ্যে কি কি উপকারিতা রয়েছে। যুগান্তর পাঠকদের জন্য থাকছে ডিমের বিষয়ে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ তথ্য।
আসুন জেনে নেই ডিম কেন খাবেন।
অ্যামাইনো অ্যাসিড
ডিম পুষ্টিগুণসমৃদ্ধ একটি খাবার। ডিমের মধ্যে রয়েছে প্রয়োজনীয় অ্যামাইনো অ্যাসিড। এছাড়া এতে রয়েছে ভিটামিন এ, বি৫, বি১২, বি৬, ডি, ই, কে, ফোলেট, ফসফরাস, সেলিনিয়াম, ক্যালিয়াম ও জিংক। প্রতিটি ডিমের মধ্যে রয়েছে পাঁচ গ্রাম প্রোটিন। তাই বডিবিল্ডার্সরা প্রতিদিন ডিম খান।
কোলিন
বেশির ভাগ খাদ্য তালিকায় পর্যাপ্ত পরিমাণ কোলিন থাকে না। ডিম হচ্ছে এমন একটি খাবার যাতে কোলিন কোষের মেমব্রেন তৈরিতে সাহায্য করে। তাই নিয়মিত খাওয়া ভালো।
অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট
ডিমের মধ্যে রয়েছে জিক্সাথিন ও লুটেইন নামক অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। ডিম খাওয়া চোখের জন্য ভালো। ডিম চোখের ছানি প্রতিরোধে করে।
ভালো চর্বি
ডিমের মধ্যে রয়েছে ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড ও ভালো চর্বি। অনেকে ভাবেন, সব চর্বিই খারাপ। কথাটি সঠিক নয়। স্বাস্থ্যকর চর্বিও রয়েছে। এটি শরীরের জন্য ভালো। অনেক রোগীর ক্ষেত্রে প্রতিদিন ডিম খেতে মানা করা হয় বা ডিমের কুসুম খেতে নিষেধ করা হয়। ডিম তো খাবেনই, তবে প্রতিদিন ডিম খাবেন কি না বা কতটুকু পরিমাণ খাবেন, এ বিষয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
লেখক : হারবাল গবেষক ও চিকিৎসক, মডার্ন হারবাল গ্রুপ

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন

বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে চুক্তি অনুযায়ী গতকাল থেকে রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর কাজ শুরু হওয়ার কথা থাকলেও তা শুরু করা যায়নি। আশঙ্কার বিষয় হল- কবে নাগাদ প্রত্যাবাসন শুরু হবে এ সম্পর্কেও অস্পষ্টতা বিরাজ করছে। উল্লেখ্য, আন্তর্জাতিক চাপের মুখে গত বছরের ২৩ নভেম্বর মিয়ানমারের রাজধানী নেপিদোয় রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে বাংলাদেশের সঙ্গে একটি চুক্তি সই করে মিয়ানমার। ‘অ্যারেঞ্জমেন্ট অন রিটার্ন অব ডিসপ্লেসড পার্সন্স ফ্রম রাখাইন স্টেট’ শীর্ষক চুক্তি অনুযায়ী ২৩ জানুয়ারির মধ্যে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন শুরু হওয়ার কথা। সে সময় আমাদের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকেও মিয়ানমার প্রতিদিন তিনশ’ করে রোহিঙ্গা ফিরিয়ে নিতে রাজি হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছিল। অথচ এখন দেখা যাচ্ছে উল্টো চিত্র। এ প্রেক্ষাপটে প্রশ্নের উদ্রেক হওয়া স্বাভাবিক- রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নিয়ে মিয়ানমার টালবাহানা শুরু করেছে কিনা?
ভুলে গেলে চলবে না, চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয়েছে মিয়ানমারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে। রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী সম্পর্কে মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর দৃষ্টিভঙ্গি কারও অজানা নয়। চুক্তি বাস্তবায়নে সেনাবাহিনীর ভূমিকা যাতে বাধা হয়ে না দাঁড়ায়, সেদিকে নজর দেয়া জরুরি। বলার অপেক্ষা রাখে না, রোহিঙ্গাদের যে কোনো প্রত্যাবাসন হতে হবে স্বেচ্ছামূলক। জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক সংস্থাসহ অপরাপর দেশের কূটনীতিক, সর্বোপরি বাংলাদেশও এ বিষয়ে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। বস্তুত মিয়ানমারে ফিরে যাওয়ার পর সেখানে রোহিঙ্গাদের নিরাপত্তার বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে। এটি সহজেই বোধগম্য যে, নিরাপত্তার নিশ্চয়তা না পেলে বিপদ মাথায় নিয়ে রোহিঙ্গারা সেখানে ফিরে যেতে চাইবে না। ফিরে গেলেও পুনরায় তারা নিগৃহীত হলে, তাদের ওপর হামলা হলে তারা আবারও এ দেশে পালিয়ে আসবে। কাজেই মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের ফেরত যাওয়ার পাশাপাশি সে দেশে তাদের নিরাপদ বসবাসের পরিবেশ তৈরি করা গুরুত্বপূর্ণ। এ জন্য রোহিঙ্গাদের নাগরিকতা প্রদানের বিষয়টিও সমান গুরুত্বপূর্ণ। এ ব্যাপারে মিয়ানমারের ওপর জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের চাপ অব্যাহত রাখতে হবে। মিয়ানমার সরকার যাচাই-বাছাইসহ অন্যান্য অজুহাতে বাংলাদেশে অবস্থানকারী রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে যাতে গড়িমসি না করতে পারে, এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট সবার সজাগ থাকা দরকার। রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের ক্ষেত্রে আমাদের অভিজ্ঞতা সুখকর নয়; অতীতে আসা রোহিঙ্গাদের বড় অংশ এখনও মিয়ানমারে ফিরে যেতে পারেনি। কাজেই চুক্তি অনুযায়ী রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের উদ্যোগ সুসম্পন্ন করার লক্ষ্যে আমাদের পক্ষ থেকে দ্বিপাক্ষিক কূটনীতির পাশাপাশি আন্তর্জাতিক চাপ অব্যাহত রাখা হবে, এটাই কাম্য।

জ্ঞানের আলো ছড়িয়ে চলেছে by অজয় দাশগুপ্ত

আজ থেকে ১২৫ বছর আগে ১৮৯৩ সালের ২৩ জানুয়ারি বরিশালের গৈলা গ্রামে যাত্রা শুরু করে গৈলা হাই ইংলিশ স্কুল- এখন যা মডেল স্কুলে উন্নীত এবং অচিরেই সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে পরিণত হবে। সেই সময়ে বর্তমান আগৈলঝাড়া উপজেলাধীন এ সম্ভ্রান্ত জনপদে একটি উচ্চবিদ্যালয় কতটা কাক্সিক্ষত ছিল তা বোঝার জন্য কয়েকটি তথ্য উপস্থাপন করছি। এ গ্রামেরই বাসিন্দা ছিলেন মঙ্গলকবি বিজয় গুপ্ত। অন্নত ৫শ’ বছর আগে বাংলা ভাষায় তিনি রচনা করেন ‘মনসামঙ্গল কাব্য’। সে সময়ে এ ভূখণ্ডে সমধিক চালু ছিল সংস্কৃত ভাষা। কিন্তু বিজয় গুপ্ত সাহিত্য রচনার জন্য বেছে নেন বাংলা ভাষা। রূপসী বাংলার কবি জীবনানন্দ দাশের মা কুসুম কুমারী দেবীও গৈলার বাসিন্দা। ‘আমাদের দেশে হবে সেই ছেলে কবে, কথায় না বড় হয়ে কাজে বড় হবে’ কবিতার রচয়িতা তিনি। এ গ্রামের রবীন্দ্র বাড়িতে (লেখক মৈত্রেয়ী দেবীর বাড়ি) গৈলা স্কুল স্থাপনের আগেই গড়ে উঠেছিল সংস্কৃত শিক্ষার কলেজ, যেখানে পূর্ববঙ্গের বিভিন্ন জেলা থেকে ছাত্রছাত্রীরা আসত।
গৈলা স্কুলের প্রথম প্রধান শিক্ষক হয়ে আসেন সে সময়ে সরকারি উচ্চপদে কর্মরত কৈলাসচন্দ্র সেন। তিন দশকেরও বেশি সময় এ দায়িত্বে ছিলেন তিনি। ১৯৩১ সালে এ গ্রামের তারকেশ্বর সেন নামের এক তরুণ বিপ্লবীকে ব্রিটিশ পুলিশ হিজলী বন্দিশিবিরে গুলি করে হত্যা করেছিল। এ হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে কলকাতায় যে সমাবেশ হয় তাতে সভাপতিত্ব করেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। তিনি সেই সভায় বিখ্যাত ‘প্রশ্ন’ কবিতা পাঠ করেন, যার একটি লাইন ‘প্রতিকারহীন শক্তের অপরাধে/ বিচারের বাণী নীরবে নিভৃতে কাঁদে।’ এ গ্রামের ছেলেমেয়েরা শিক্ষার আলোয় আলোকিত হতে আগ্রহী ছিল। কিন্তু নিজেদের এলাকায় স্কুল নেই। নিকটতম শহর ৪০ কিলোমিটার দূরে বরিশালে। সেখানে জিলা স্কুল বা বিএম স্কুলে পড়ত অনেকে। উচ্চশিক্ষা গ্রহণের জন্য যেতে হতো ঢাকা বা কলকাতায়। ঢাকায় যেতে ৭-৮ দিনে প্রমত্ত পদ্মা-মেঘনা নদী নৌকায় পাড়ি দিতে হতো। কলকাতায় যেতেও তিন-চার দিন। বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠার কয়েক বছরের মধ্যেই ছাত্রছাত্রীর সংখ্যা এক হাজার ছাড়িয়ে যায়। ১৮৯৩ থেকে ১৯৪২ সাল পর্যন্ত এ বিদ্যালয় থেকে ১ হাজার ৮ জন শিক্ষার্থী এনট্রান্স বা মেট্রিকুলেশন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। ‘গৈলার কথা’ গ্রন্থ থেকে জানতে পারি, ১৯৪০-এর দশক পর্যন্ত এ গ্রাম থেকে অন্তত ৪০ জন ডক্টরেট ডিগ্রি লাভ করেছিলেন। এদের মধ্যে সাতজন নারী। এমএ-এমএসসি ও সমপর্যায়ের পরীক্ষায় প্রথম শ্রেণী পেয়েছেন অন্তত ২২ জন। এমবিবিএস ডাক্তার ছিলেন ৩৩ জন এবং গ্র্যাজুয়েট ইঞ্জিনিয়ার ৪৩ জন। ব্রিটিশ আমলেই গ্রামে মাস্টার্স ডিগ্রিধারী নারী ছিলেন অর্ধশতাধিক। এ ছাড়া বিএ-বিএসসি পাস করেন আরও ২৪ জন নারী। এ বিদ্যালয়টি বহু কৃতী শিক্ষার্থী তৈরি করেছে। রাজনৈতিক ও সমাজের অন্যান্য অঙ্গনে তারা সাফল্যের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছেন। জনপ্রিয় কৃষক নেতা ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মন্ত্রিসভার সদস্য আবদুর রব সেরনিয়াবাত দীর্ঘ সময় এ বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটির প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
সাবেক মন্ত্রী সুনীল কুমার গুপ্ত ও সৈয়দ আবুল হোসেন এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ব্রিগেডিয়ার আবদুল মালেক এ বিদ্যালয়ের ছাত্র ছিলেন। এ বিদ্যালয়ের ছাত্র মজিবর রহমান চান মিঞা ১৯৫২ সালে ভাষা আন্দোলনে সক্রিয় অংশগ্রহণ করার কারণে জেল খেটেছেন। এ বিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্র মিহির দাশগুপ্ত ও মতিয়ার রহমান তালুকদার ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে অনন্য অবদান রাখেন। সাবেক ও তৎকালীন ছাত্ররা দলে দলে যোগ দেন স্বাধীনতা সংগ্রামে। ১৯৯৩ সালে বিদ্যালয়ের শতবর্ষ উপলক্ষে বিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্রছাত্রীরা নিজেদের মধ্য থেকে অর্থ সংগ্রহ করে নির্মাণ করেন ‘শতবর্ষ ভবন’। ২০০০ সালে সৈয়দ আবুল হোসেন বিদ্যালয়ের কৃতী ছাত্রছাত্রীদের জন্য গঠন করেন পাঁচ লাখ টাকার বৃত্তি তহবিল। গৌরব ও ঐতিহ্যের পথ ধরে এগিয়ে চলা বিদ্যালয়ের স্মরণীয় এ বার্ষিকী উপলক্ষে বিদ্যালয়ে সমাবেশ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। ঢাকাস্থ সাবেক শিক্ষার্থীরা ২৬ জানুয়ারি মিলিত হবেন পারিবারিক পুনর্মিলনীতে, যেখানে অর্ধশত বছর আগে মাধ্যমিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের বিশেষভাবে সম্মানিত করা হবে। জ্ঞানের আলো ছড়াতে ছড়াতে এগিয়ে চলা আমাদের প্রিয় প্রতিষ্ঠানটির জন্য শুভকামনা।
অজয় দাশগুপ্ত : সভাপতি, গৈলা পরিষদ

সবজির স্বাদে

মটরশুঁটির ডোনাট
যা লাগবে : সিদ্ধ ম্যাশড মটরশুঁটি ১ কাপ, সিদ্ধ ম্যাশড আলু ১/২ কাপ, হলুদ গুঁড়া ১/২ চা চামচ, মরিচ গুঁড়া ১/২ চা চামচ, জিরা গুঁড়া ১/২ চা চামচ, পেঁয়াজ বেরেস্তা গুঁড়া ১ টে চামচ, ধনে পাতা বাটা ১ চা চামচ, ফেটানো ডিম ১টি, লবণ আন্দাজ মতো, পুদিনা পাতা বাটা ১ চা চামচ, তেল ভাজার জন্য।
যেভাবে করবেন : সব উপকরণ একসঙ্গে মেখে নিতে হবে। একটু ভারি করে চপের শেপ করে তার মাঝে একটা ছোট কাটার দিয়ে কেটে দিতে হবে যেন ডোনাটের শেপ হয়। এখন এই ডোনাট গুলা ডুবো তেলে ভেজে পরিবেশন করতে হবে
ক্যাপসিকাম চিকেন চিজ্জা
যা লাগবে : চিকেন ব্রেস্ট ৩টি, বাটার মিল্ক ১/২ কাপ, ময়দা ১ কাপ, অরিগানো ১/২ চা চামচ, লবণ আন্দাজ মতো, অনিয়ন পাউডার ১ চা চামচ, গারলিক পাউডার ১ চা চামচ, রেড চিলি পাউডার ১ চা চামচ, ফেটানো ডিম ২টি, তেল প্রয়োজন মতো, পিজ্জা সস ৩ টেবিল চামচ, গ্রেটেড জারেল্লা চিজ ১ কাপ।
যেভাবে করবেন : বাটার মিল্কে অর্ধেক পরিমাণে গারলিক, অনিয়ন ও রেড চিলি পাউডার এবং আরিগানো দিয়ে মিশাতে হবে। এই, মিশ্রণে চিকেন ব্রেস্ট দিয়ে ২/৩ ঘণ্টা, মেরিনেট করতে হবে। এরপর ময়দার, সঙ্গে বাকি থেকে যাওয়া অনিয়ন, গারলিক ও রেড চিলি পাউডার, লবণ এবং আরিগানো মিশাতে হবে। এরপর ব্রেস্ট পিসগুলোকে প্রথমে ময়দায় পরে ফেটানো ডিমে এবং আবারও ময়দায়, গড়িয়ে ডুবু তেলে ভেজে নিতে হবে। ভাজা শেষে একটু ঠাণ্ডা হলে এর ওপর, পিজ্জা সস মাখাতে হবে। সসের ওপর মজারেল্লা চিজ কাপসিকাম কুচি দিয়ে অভেনে দিয়ে ৩/৪ মিনিট বেক করতে হবে।
রেসিপি : মনিরা মোস্তফা মিতা।

বড়িটা ক্ষুদ্র হলেও যুদ্ধটা হতে হবে সর্বাত্মক

দেশের বিভিন্ন বয়সী মানুষ, বিশেষ করে যুবক ও তরুণদের মধ্যে মাদকাসক্তি যেভাবে ছড়িয়ে পড়েছে, তা খুবই উদ্বেগের বিষয়। বিষয়টিকে নিছক উদ্বেগজনক বলাটাই যথেষ্ট নয়। সমাজ ও জাতীয় জীবনে মাদকের বিরূপ প্রতিক্রিয়া এতই ভয়াবহ যে, শুধু ‘উদ্বেগ’ শব্দটি দিয়ে এর ভয়াবহতা পরিমাপ করা যায় না। অভিধানে উদ্বেগের কাছাকাছি যত শব্দ আছে, যেমন- উৎকণ্ঠা, দুশ্চিন্তা, আশঙ্কা, হতাশা, প্রমাদগোনা- এসব শব্দগুচ্ছ দিয়ে মাদকের ভয়াবহ পরিণতি প্রকাশ করা দুষ্কর। মাদকের বিরুদ্ধে সরকার ‘জিরো টলারেন্স নীতি’ ঘোষণা করেছে। এ সত্ত্বেও মাদকের ব্যবহার আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। গত ১৯ জানুয়ারির একটি পত্রিকার প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, গত ৭ বছরে (২০১১-২০১৭) ইয়াবা ব্যবহার বেড়েছে ৮০ শতাংশ। বাংলাদেশ সরকারের মাদকবিষয়ক বার্ষিক প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, ২০১৪ সালে উদ্ধারকৃত ইয়াবার সংখ্যা ছিল ৬৫ লাখ ১২ হাজার ৮৬৯। পরের বছর অর্থাৎ ২০১৫ সালে উদ্ধারকৃত ইয়াবার সংখ্যা ২ কোটি ১ লাখ ৭৭ হাজার ৫৮১। ২০১৬ ও ২০১৭ সালে এ সংখ্যা ছিল যথাক্রমে ২ কোটি ৯৪ লাখ ৫০ হাজার ১৮৭ এবং ৩ কোটি ৮০ লাখ ৯১ হাজার ৮৬৫। এ থেকেই অনুমান করা যায়, ইয়াবার মাদকাসক্তির করাল গ্রাস কত দ্রুত বিস্তৃত হচ্ছে।
ইয়াবার উৎসভূমি মিয়ানমার। বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তের ১৫টি স্থান দিয়ে ইয়াবা পাচার হয়। উদ্ধারকৃত ইয়াবা অনেকটা হিমশৈলের দৃশ্যমান অংশের মতো। হিমশৈলের বেশিরভাগ অংশ যেভাবে পানির নিচে লুকিয়ে থাকে, ঠিক সেভাবে অনুদ্ধার ইয়াবাও সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে লুকিয়ে আছে। জাতিসংঘের মাদক নিয়ন্ত্রণ সংস্থার (UNODC) মতে, উদ্ধার হওয়া ইয়াবার এ সংখ্যা বিক্রি হওয়া বড়ির মাত্র ১০ শতাংশ। সেই হিসাবে বছরে শুধু ইয়াবা বড়িই বিক্রি হচ্ছে ৪০ কোটির মতো, যার বাজারমূল্য প্রায় ৬ হাজার কোটি টাকা (প্রতিটি দেড়শ’ টাকা দাম হিসাবে)। এই টাকার অর্ধেকই চলে যাচ্ছে ইয়াবার উৎসভূমি মিয়ানমারে। হিসাব করে দেখা গেছে, ইয়াবা বড়ির পেছনে মাদকসেবীদের বছরে যে খরচ, তা বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিজিবি) বার্ষিক বাজেটের প্রায় দ্বিগুণ। ২০১৭-১৮ অর্থবছরের বিজিবির বাজেট ৩ হাজার ৩০০ কোটি টাকা। আর তা পুলিশের বাজেটের প্রায় অর্ধেক। সরকারের দাবি, বাংলাদেশ নিম্নমধ্য আয়ের দেশে পরিণত হয়েছে। এই দেশ ২০৪১ সালের মধ্যে উচ্চ মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করা হচ্ছে। একটি দেশ যদি জাতীয় আয় নিরন্তর ৮ শতাংশ হারে বাড়াতে পারে, তাহলে সেই দেশের পক্ষে উচ্চ মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হওয়া সম্ভব। এভাবেই একটি দেশ টেকসই উন্নয়নের পথে এগিয়ে যেতে পারে। এই এগিয়ে যাওয়াটা একদিকে যেমন শিক্ষা ও স্বাস্থ্যের ক্ষেত্রে উচ্চমান সূচক অর্জনের ওপর নির্ভরশীল, অন্যদিকে তেমনি উন্নয়নের এই গতি বাধাপ্রাপ্ত হয় Vulnerability Index দ্বারা। অর্থাৎ যেসব কারণে উন্নয়নের ধারাবাহিক গতি বাধাপ্রাপ্ত হয়, সেগুলোই এই সূচককে বিপজ্জনক অবস্থার দিকে চালিত করে। রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা, প্রাকৃতিক দুর্যোগ এবং সামাজিক সমস্যা এই ভঙ্গুর অবস্থাকে নিশ্চিত করে তোলে। এ ধরনের ভঙ্গুর অবস্থার মধ্য দিয়ে উন্নত ও সমৃদ্ধ দেশ গঠনের স্বপ্ন বুদ্বুদে পরিণত হতে পারে। প্রাকৃতিক সম্পদের দিক থেকে বাংলাদেশ সমৃদ্ধ নয়।
এ দেশে যতটুকু উন্নয়ন হয়েছে, তার ভিত্তি মূলত এ দেশের জনসম্পদ। অর্থনীতিবিদরা মনে করেন, এ দেশের মানুষের মধ্যে ভাগ্য পরিবর্তনের অদম্য স্পৃহাই দেশটিকে বর্তমান অবস্থায় তুলে এনেছে। বাংলাদেশের মানুষের সৃজনশীলতা এবং দুর্যোগ পাড়ি দিয়ে টিকে থাকার ক্ষমতা ঈর্ষণীয়। দেশ এখন আর তলাবিহীন ঝুড়ি নয়, এ কথা ভেবে আমরা প্রীতবোধ করি। অর্থনীতিবিদরা আরও যে আশার বাণী শোনান, তার মধ্যে জনমিতিক লভ্যাংশ অর্জনের সুযোগটি অন্যতম। বাংলাদেশের জনগোষ্ঠীর একটি বিপুল অংশ তরুণ ও কর্মক্ষম বয়সের মধ্যে রয়েছে। অর্থাৎ কর্মক্ষম লোকের সংখ্যা শিশু ও বয়স্ক নির্ভরশীল লোকের তুলনায় অনেক বেশি। তরুণ ও কর্মক্ষম মানুষের কর্মক্ষমতা ও কর্মদক্ষতা বৃদ্ধি করে উন্নয়ন ও প্রবৃদ্ধির চাকাকে অনেক বেশি গতিশীল করা সম্ভব। কিন্তু কর্মক্ষমতা ও কর্মদক্ষতায় সম্ভাবনাময় জনগোষ্ঠী যদি মাদকাসক্তির ফলে হীনবল হয়ে পড়ে, কর্মদক্ষতা অর্জনে ব্যর্থ হয় এবং বেঁচে থাকার জন্য অন্যের ওপর নির্ভরশীর হয়ে পড়ে, তাহলে জনমিতিক লভ্যাংশ অর্জনের আশা দূরাশায় পরিণত হতে বাধ্য। উন্নয়নের মহাসড়কটি হয়ে উঠবে তখন বিপদসংকুল ও দুর্ঘটনাপ্রবণ। প্রথমদিকে মাদকের মধ্যে ফেনসিডিলই বড় উদ্বেগের বিষয় ছিল। জনশ্রুতি রয়েছে, বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে শত শত ফেনসিডিলের কারখানা গড়ে উঠেছে। ভারতে অবস্থিত সেসব কারখানা থেকেই ফেনসিডিল চোরাচালান হয়ে বাংলাদেশে আসতে শুরু করে। বাংলাদেশ রাষ্ট্র সৃষ্টি হওয়ার পর চিকিৎসকরা সর্দি-কাশি নিবারণের জন্য কফ সিরাপ হিসেবে ফেনসিডিল গ্রহণের পরামর্শ দিতেন। এই কফ সিরাপে ঘুম ঘুম ভাব সৃষ্টি করার মতো সামান্য উপাদান ছিল। কিন্তু ভারত থেকে যে ফেনসিডিল আসতে শুরু করে, তাতে মাদকের উপাদান অনেক বেশি। তাই এতে আসক্তি সৃষ্টি হয়। আসক্ত ব্যক্তিরা যকৃতের রোগসহ নানারকম রোগে আক্রান্ত হয়ে আপনজনদের ওপর বোঝা হয়ে দাঁড়ায়। ফেনসিডিল মাদকের বিরুদ্ধে সমাজ সোচ্চার হয়ে উঠেছে।
গত ১০-১২ বছর ধরে ফেনসিডিলের স্থান দখল করেছে আরও ভয়াবহ আসক্তি সৃষ্টিকারী ইয়াবা বড়ি। এখন ইয়াবা নিয়ে যত আলোচনা হয়, ফেনসিডিল নিয়ে সে রকম আলোচনা হয় না। তাই বলে ফেনসিডিলের দৌরাত্ম্য হ্রাস পেয়েছে এমনটি বলা যাবে না। মাদকদ্রব্যের ব্যবহার দমনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পেছনে অনেক অর্থ ব্যয় করতে হয়। সেই তুলনায় সাফল্যের পরিমাণ খুবই সামান্য। আগেই বলা হয়েছে, জিরো টলারেন্স নীতি সত্ত্বেও মাত্র ১০ শতাংশ ইয়াবা বড়ি উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। যারা ইয়াবায় আসক্ত হয়ে নানারকম রোগব্যাধিতে আক্রান্ত হচ্ছে, তাদের চিকিৎসার জন্য বিরাট অঙ্কের অর্থ ব্যয় হচ্ছে। দেশ থেকে চলে যাচ্ছে মূল্যবান বৈদেশিক মুদ্রা। ইয়াবা বাণিজ্য থেকে অর্জিত অর্থও জাতীয় আয় নিরূপণে সৃষ্টি করছে বিভ্রান্তি। কী করে এত অল্প সময়ের মধ্যে ইয়াবা বাণিজ্য এতটা স্ফীত হল তাও একটি বড় প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। ক্ষমতাধর ব্যক্তিবর্গ, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একটি অংশ এবং ইয়াবা বাণিজ্যের সঙ্গে জড়িত অসৎ ব্যক্তিদের নিয়ে একটি অক্ষশক্তি তৈরি না হলে এই ক্ষতিকর বাণিজ্য এতটা স্ফীতি লাভ করতে পারত না। অন্তত গণমাধ্যমের বিভিন্ন প্রতিবেদন থেকে সেরকমটি অনুমান করা যায়। ল্যাটিন আমেরিকার কোনো কোনো দেশে মাদকের এই বাণিজ্যকে বলা হয় ড্রাগ কার্টেল। মেক্সিকো ও কলম্বিয়ার মতো দেশে ড্রাগ কার্টেল দমনে সেনাবাহিনীকে ভারি অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে যুদ্ধে নামতে হচ্ছে। অস্ত্রের শক্তির দিক দিয়ে ড্রাগ-ব্যারনরাও কম যায় না। দু-পক্ষের সশস্ত্র সংঘর্ষে নিহত-আহতের সংখ্যাও কম নয়। ড্রাগ-ব্যারনরা এতই শক্তিশালী হয়ে উঠেছে যে, সেনাবাহিনীকে রীতিমতো যুদ্ধে নামতে হয়েছে। বাংলাদেশেও মাদক সাম্রাজ্যের অধিপতিরা দিনে দিনে অর্থবিত্তের শক্তিতে বলীয়ান হয়ে উঠছে। শেষ পর্যন্ত এরা যদি কলম্বিয়া ও মেক্সিকোর ড্রাগ-ব্যারনদের মতো শক্তিমত্তা অর্জন করতে সক্ষম হয়, সেটাও হিসাবের বাইরে থাকা উচিত নয়। জাতীয় নিরাপত্তার জন্য মাদক বাণিজ্য একটি ভয়াবহ হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে এমনটি বিবেচনায় রাখতে হবে। অন্যথায় বাংলাদেশের উত্তরোত্তর উন্নয়নের সম্ভাবনা কর্পূরের মতো উবে যেতে পারে। অর্থনীতি শাস্ত্রে মানুষ আসক্ত হয়ে পড়ে এমন দ্রব্য সম্পর্কে বিপরীতমুখী আলোচনা রয়েছে। মুক্তবাজার অর্থনীতিতে সরকার জনগণকে কী কিনতে হবে এবং কী বিক্রি করতে হবে সে ব্যাপারে স্বাধীনতা দেয়। যদি কিছু ব্যক্তি পিৎজার পরিবর্তে আইসক্রিম খেতে চায় তাহলে অর্থনীতিবিদরা বলেন, জনগণই জানেন তাদের জন্য কোনটি ভালো।
এ ক্ষেত্রে সরকার তাদের ব্যক্তিগত স্বাধীনতা এবং পছন্দের প্রতি শ্রদ্ধা জানায়। কিছু কিছু ক্ষেত্র আছে, যেখানে সরকার কিছুটা ইতস্ততার সঙ্গে বয়োপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের সিদ্ধান্ত নাকচ করে দেয়। অর্থনীতিবিদরা দ্রব্যসমূহকে দু’ভাগে ভাগ করে। এর একটি হল মেরিট গুডস এবং অন্যটি ডিমেরিট গুডস। ডিমেরিট গুডসের ভোগকে ক্ষতিকর মনে করা হয়। যেসব ক্ষেত্রে ভোগকর্ম ক্ষতিকর প্রভাব বিস্তার করে, সেগুলোর ব্যবহারে সরকারের নাকচ করে দেয়া বা এর রাশ টেনে ধরা কাম্য। যেমন সিগারেট, মদ এবং হেরোইন। ডিমেরিট গুডসের ক্ষেত্রে দুশ্চিন্তার বিষয়টি হল আসক্তি। যেসব পণ্যে মানুষ আসক্ত হয়ে ওঠে, সেসব পণ্যের ভোগ অনেকাংশেই অতীতের ভোগের সঙ্গে সম্পর্কিত। একবার আসক্ত হয়ে পড়লে এটি ত্যাগ করা দুরূহ। অতি আসক্তি সৃষ্টিকারী পণ্যের চাহিদা দাম-অস্থিতিস্থাপক। অর্থাৎ দাম বাড়া-কমার ওপর এগুলোর চাহিদা কমে কিংবা বাড়ে না। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে আসক্তি সৃষ্টিকারী দ্রব্যের বাজারটি বেশ বিশাল। সেখানে প্রতিবছর সিগারেটের জন্য ব্যয় হয় ৫০ বিলিয়ন ডলার, মদের জন্য ব্যয় হয় ৩০ বিলিয়ন। বেআইনি মাদকদ্রব্যের পেছনে কত খরচ হয় তা অনুমানসাপেক্ষ। এই খরচের পরিমাণ বার্ষিক ২০-৫০ বিলিয়ন ডলার। জননীতি নির্ধারণে এসব নেশাজাতীয় দ্রব্য ব্যবহার বড় ইস্যু হয়ে দাঁড়ায়। কারণ এতে বিপুল অর্থ ব্যয় হয় এবং আসক্ত ব্যক্তিরা মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকির মধ্যে পড়ে। আসক্ত ব্যক্তিরা স্কুলের পরীক্ষায় ফেল করে, কর্মক্ষেত্রে চাকরি হারায় এবং পরিবারের মধ্যে অশান্তি সৃষ্টি করে। এইডসের মতো রোগ ছড়িয়ে পড়ার জন্য দায়ী হচ্ছে শিরার মাধ্যমে হেরোইন গ্রহণ। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে আসক্তি সৃষ্টিকারী দ্রব্যের ব্যাপারে অনুসৃত নীতি হল এর বিপণন ও ব্যবহার নিষিদ্ধ করা এবং ফোজদারি আইনে শাস্তিযোগ্য বলে ঘোষণা করা। কিন্তু এতসব করার পরেও এগুলোর চাহিদা কি কমেছে? ব্যক্তি ও সমাজের জন্য এগুলোর ক্ষতিকর প্রভাব কি কমেছে? এর জবাব জানার জন্য জানতে হবে মাদকদ্রব্যের চাহিদার প্রকৃতি কী। তথ্য সংগ্রহ করে জানা গেছে, যারা কদাচিৎ বেআইনি মাদক গ্রহণ করে, তারা সরকারি নিষেধাজ্ঞার চাপে পড়ে তুলনামূলকভাবে সস্তা বিকল্প মদ এবং তামাকের আশ্রয় নেয়। অর্থাৎ খুবই ক্ষতিকর মাদকের চাহিদা এদের ক্ষেত্রে দাম স্থিতিস্থাপক। অন্যদিকে ভয়ানক মাদকাসক্তরা মাদকের দাম বাড়ল কী কমল সে ব্যাপারে পরোয়া করে না।
বেশি দামে হলেও তারা মাদক সংগ্রহ করবেই। সরকার যদি শক্ত কড়াকড়ি আরোপ করে, তাহলে সরবরাহ রেখা ঊর্ধ্বমুখীভাবে স্থানান্তরিত হয় এবং নিষিদ্ধ মাদকটির দাম বেড়ে যায়। তখন আসক্তরা বেশি দামে মাদক সংগ্রহ করে। মাদকের এই চড়া দাম জোগান দেয়ার জন্য এরা নানারকম সামাজিক অপরাধ, যেমন পতিতাবৃত্তি এবং ছিনতাই রাহাজানিতে জড়িয়ে পড়ে। এই বিশ্লেষণ পাওয়া গেছে নোবেল বিজয়ী অর্থনীতিবিদ স্যামুয়েলসন এবং তার সহযোগী প্রফেসর উইলিয়াম নর্টাসের লেখা গ্রন্থ Economics-এর ষোড়শ সংস্করণে। সরকারের কড়ানীতি সফল হতে পারে কেবল মৃদু আসক্ত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে। যা হোক, পুরো মাদকাসক্তির ব্যাপারটি অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে উন্নয়নপ্রত্যাশী একটি জাতির জন্য বিশাল চ্যালেঞ্জ। ফিলিপাইনের ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্ট দুয়ার্তে মাদক ব্যবসা ও মাদকাসক্তদের দমনের জন্য পুলিশ বাহিনীকে বিচারবহির্ভূত হত্যার লাইসেন্স দিয়েছে। পুলিশের অভিযানে বহু লোক নিহত হয়েছে। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো প্রেসিডেন্ট দুয়ার্তের নির্দেশে বিচারবহির্ভূত হত্যার নিন্দায় মুখর হয়েছে। দেখা যাচ্ছে, মাদকাসক্তি ও মাদক বাণিজ্য দমন খুবই জটিল একটি কাজ। এর জটিলতাগুলো চুলচেরা বিশ্লেষণ করেই নীতি-নির্ধারণ করতে হবে। মাদকের বিষাক্ত ছোবল থেকে জাতিকে রক্ষার জন্য প্রয়োজন জাতীয় রাজনৈতিক ঐক্য, বিশাল সামাজিক আন্দোলন এবং চিরায়ত সামাজিক মূল্যবোধগুলোর পুনর্জাগরণ। এটি একটি সর্বাত্মক প্রয়াস। নিছক জিরো টলারেন্সের আপ্তবাক্যে এই অভিশাপ থেকে মুক্তি লাভ দুরূহ। তবে যত দুরূহই হোক, প্রজ্ঞা, মেধা ও রাজনৈতিক অঙ্গীকার দিয়েই এই অভিশাপের মোকাবেলা করতে হবে।
ড. মাহবুব উল্লাহ : অধ্যাপক ও অর্থনীতিবিদ

১০ হাজার দারুল আরকাম মাদ্রাসা চালু করবে সরকার

সারা দেশে ১০ হাজার ১০টি ‘দারুল আরকাম ইবদেতায়ি মাদ্রাসা’ চালু করতে যাচ্ছে ইসলামিক ফাউন্ডেশন (ইফা)। প্রতি উপজেলায় দুটি করে ব্যতিক্রমধর্মী এ মাদ্রাসা শিক্ষা ব্যবস্থায় নিজস্ব সিলেবাসে পাঠদান করবে ইসলামিক ফাউন্ডেশন। আগামী ফেব্রুয়ারি থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে ক্লাস শুরু হবে। এ জন্য ইতিমধ্যে ৩ হাজার ৩০ জন শিক্ষকও নিয়োগ দেয়ার প্রক্রিয়া চলছে। সোমবার দুপুরে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে ধর্মবিষয়ক রিপোর্টারদের সংগঠন ‘রিলিজিয়াস রিপোর্টার্স ফোরামের (আরআরএফ)’ নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে এসব কথা বলেন ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক সামীম মোহাম্মদ আফজাল। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ইসলামিক ফাউন্ডেশনের বোর্ড অব গভর্নরস এর সদস্য মিছবাহুর রহমান চৌধুরী, আরআরএফ সভাপতি ফয়েজ উল্লাহ ভূঁইয়া,
সহসভাপতি মিয়া হোসেন, সাধারণ সম্পাদক উবায়দুল্লাহ বাদল, যুগ্ম সম্পাদক মোস্তাক আহমেদ, অর্থ সম্পাদক রকীবুল হক, দফতর সম্পাদক কাওসার আজম, প্রচার সম্পাদক কামরুজ্জামান বাবলু, নির্বাহী সদস্য এইচএম জামাল উদ্দিন, মোহসিনুল করিম লেবুসহ ফোরামের সদস্যরা। সামীম আফজাল জানান, ‘দারুল আরকাম ইবদেতায়ি মাদরাসা’য় বাংলা, ইংরেজি অঙ্কসহ পাঠ্যসূচিতে কোরআন, হাদিসে গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। কোরআন ও হাদিস শিক্ষার মাধ্যম হবে আরবি। প্রথমদিকে এটি ইবতেদায়ি (পঞ্চম শ্রেণী) পর্যন্ত চালু হলেও একপর্যায়ে ইন্টারমিডিয়েট (এইচএসসি) পর্যন্ত পাঠদান করা হবে। এরপর হয়তো সেখান থেকে এসব শিক্ষার্থীর জন্য জেলা বা বিভাগীয় পর্যায়ে অনার্স-মাস্টার্স কোর্স চালু করা যাবে।

শীতে পায়ের যত্ন

শীতকালে যে কোনো মানুষেরই পায়ের পাতার চামড়া রুক্ষ হয়ে পড়ে এবং সেই সঙ্গে পায়ের গোড়ালি দুটি ফাটতে শুরু করে। অধিকাংশ মানুষের এ সমস্যা শীতকালেই বেশি হয়, অনেকের সারা বছরই হয়। সাধারণত অযত্ন, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার অভাবে পা ফাটে। কখনও ত্বকের জমতে থাকা আর্দ্রতার কারণে হতে পারে। পুরো শরীরের মধ্যে পা ও এর তলাটাই সবচেয়ে শুষ্ক। কেননা দেহের অন্যত্র ত্বকের মাঝে তৈল গ্রন্থি থাকলেও পায়ের তালুতে তা নেই। কেবল আছে ঘর্মগ্রন্থী। যার ফলে পা শুষ্ক হয়ে পড়ে ও ত্বক ফেটে যায়। যখন অল্প বয়স থাকে, তখন এসব সমস্যা দেখা দেয় না। যত বয়স বাড়ে সমস্যা শুরু হয়। ত্রিশ বছর বয়স হলে আরও বেশি করে যতœ করতে হয়- না হলে সমস্যা বাড়ে। গোড়ালি ফাটার সমস্যায় আক্রান্ত হলে রেহাই পাওয়া বেশ কষ্টকর, তাই ভালো হয় সমস্যা দেখা দেয়ার আগেই পায়ের নিয়মিত  যত্ন নেয়া।
স্ক্রাবিং : মিনিট দশেক খুব হালকা গরম পানিতে লেবুর রস মিশিয়ে পা ডুবিয়ে রাখুন। এরপর খুব ভালোভাবে পা মুছে নিয়ে এই স্ক্রাব ব্যবহার করুন। মোটা দানার চিনি, লেবুর রস, খাঁটি নারিকেল তেল পরিমাণ মতো মিশিয়ে দুই পায়ে লাগিয়ে নিন। চিনি যতক্ষণ না গলে যাচ্ছে ততক্ষণ হালকা হাতে ঘষতে থাকুন। এরপর ধুয়ে ফেলুন।
প্যাক : বেসনের সঙ্গে মধু, হলুদ বাটা, অ্যালোভেরা জেল মিশিয়ে ঘন পেস্ট তৈরি করে পায়ে ও গোড়ালিতে লাগাবেন। ২০ মিনিট পর হালকা হাতে ঘষে তুলে ফেলুন।
ফাটা গোড়ালি নিরাময়ে প্যাক : নারিকেল তেল ও পেঁপের মিশ্রণ ফাটা গোড়ালিতে লাগিয়ে রাখুন ১৫ মিনিট। এরপর ধুয়ে ফেলুন। সপ্তাহে ২ বার খুব হালকা কুসুম গরম পানিতে চার টেবিল চামচ পুদিনার রস মিশিয়ে পা ডুবিয়ে রাখুন। এতে রক্ত সঞ্চালন ভালো হবে তার সঙ্গে ফাটা গোড়ালির সমস্যাও দূর হবে।
টিপস
১. পায়ের চামড়া টেনে তুলবেন না।
২. পায়ের পাতার ত্বক যাতে শুষ্ক না থাকে, সেদিকে খেয়াল রাখুন ।
৩. ময়েশ্চারাইজার লাগানোর আগে ত্বকের মরা কোষ পরিষ্কার করে নিন।
৪. খুব ঠাণ্ডা আবহাওয়ায় পা সুতির পরিষ্কার মোজা দিয়ে ঢেকে রাখুন।
৫. নিয়মিত অলিভঅয়েল ম্যাসাজ ত্বক ও নখ দুই-ই ভালো রাখে।
৬. পা সুন্দর ও গোড়ালির সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে এই সময়ে সপ্তাহে একদিন পেডিকিউর করতে হবে।
৭. শোয়ার সময় গোড়ালিতে ক্যাস্টরঅয়েল লাগিয়ে ম্যাসাজ করুন।
শাহিনা আফরিন মৌসুমি, কর্ণধার হার্বস আয়ুর্বেদিক স্কিন কেয়ার ক্লিনিক

জেরুজালেমকে ফিলিস্তিনের রাজধানী হিসেবে সমর্থন দিল ইইউ

পূর্ব জেরুজালেমকে ভবিষ্যৎ স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের রাজধানী হিসেবে সমর্থন দেয়া হবে বলে জানিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন-ইইউ। ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসকে এ ব্যাপারে আশ্বস্ত করেছেন ২৮ জাতির ইইউ জোটের পররাষ্ট্রনীতিবিষয়ক প্রধান ফেডেরিকা মোগেরিনি। বেলজিয়ামের রাজধানী ব্রাসেলসে স্থানীয় সময় সোমবার মাহমুদ আব্বাসের সঙ্গে এক বৈঠকে তিনি এ সমর্থন ব্যক্ত করেন।
এ সময় জেরুজালেমকে ইসরাইলের রাজধানী স্বীকৃতি দিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যে ঘোষণা দিয়েছেন তা নাকচ করেন মোগেরিনি। গত ৬ ডিসেম্বর দেয়া ট্রাম্পের এ ঘোষণার বিষয়ে মোগেরিনি বলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়নের পক্ষ থেকে প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসকে এ নিশ্চিত প্রতিশ্রুতির বিষয়ে আবারও আশ্বস্ত করতে চাই যে, দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের প্রতি ইইউর সমর্থন রয়েছে এবং জেরুজালেম হবে দুই রাষ্ট্রের রাজধানী। ট্রাম্পের স্বীকৃতি প্রসঙ্গে মোগেরিনি বলেন, এ প্রক্রিয়ার সঙ্গে জড়িতদের কাণ্ডজ্ঞানের পরিচয় দেয়া উচিত এবং সেভাবে কাজ করা দরকার।

২১ হাজার কোটি টাকা আদায় অনিশ্চিত

খেলাপিদের কাছে জিম্মি দেশের ব্যাংকিং খাত। শীর্ষ একশ’ ঋণখেলাপির কাছে বিভিন্ন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের পাওনা ২০ হাজার ৭০০ কোটি টাকা। যা ব্যাংকিং খাতের মোট খেলাপি ঋণের ২৭ শতাংশ। এরা বিভিন্ন ব্যাংক থেকে নগদ টাকা ঋণ নিয়ে খেলাপি হয়েছেন। এই পরিমাণ টাকা পদ্মা সেতুর নির্মাণ ব্যয়ের প্রায় সমান। এর মধ্যে আবার সাড়ে ১০ হাজার কোটি টাকাই সরকারি ৬ ব্যাংকের। এ ঋণের পুরোটাই আদায় অযোগ্য (কুঋণ)। তবে এ তালিকা শুধু একক প্রতিষ্ঠানের ফান্ডেড (নগদ টাকা) খেলাপি ঋণ। এর বাইরে একই গ্রুপের বিভিন্ন কোম্পানিতে আরও খেলাপি ঋণ রয়েছে। এ ছাড়া নন-ফান্ডেড (এলসি খোলা ও ব্যাংক গ্যারান্টি) মিলিয়ে সামগ্রিকভাবে এসব গ্রুপের খেলাপি ঋণ অনেক বেশি। কিন্তু একক প্রতিষ্ঠানে ঋণ কম হওয়ায়, ওইসব ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের নাম শীর্ষ একশ’ ঋণখেলাপির তালিকায় আসেনি। এই একশ’ শীর্ষ খেলাপির মধ্যে ১০টি প্রতিষ্ঠানের কাছে ঋণের পরিমাণ ৫ হাজার ২৪২ কোটি ৯৪ লাখ টাকা। অন্যদিকে ব্যাংক ও শেয়ারবাজারে রাঘববোয়াল হিসেবে পরিচিত বড় কয়েকটি গ্রুপের কাছে বিশাল অঙ্কের খেলাপি ঋণ রয়েছে। কিন্তু তাদের কেউ কেউ উচ্চ আদালত থেকে স্থগিতাদেশ নিয়েছেন। ফলে তাদের নাম এ তালিকায় নেই। অর্থনীতিবিদরা বলছেন, কোনো নিয়ম-কানুনের তোয়াক্কা না করে রাজনৈতিক দলের নেতা এবং অর্থ মন্ত্রণালয়ের সরাসরি হস্তক্ষেপে এ ঋণ দেয়া হয়েছে। বিশেষ ট্রাইব্যুনাল করে এ ঋণ আদায়ের পরামর্শ তাদের। ব্যাংকাররা বলছেন, শক্তিশালী মহলের কাছে তারা অসহায়। ফলে বাধ্য হয়ে ঋণ দিতে হচ্ছে। একক প্রতিষ্ঠান হিসেবে সবচেয়ে বেশি খেলাপি ঋণ রয়েছে চট্টগ্রামভিত্তিক কোম্পানি ইলিয়াস ব্রাদার্সের। ১৩টি ব্যাংকে প্রায় ৮৯০ কোটি টাকা খেলাপি ঋণ এ প্রতিষ্ঠানের। যা অন্তত দুটি বেসরকারি ব্যাংকের পরিশোধিত মূলধনের সমান। ৫৫৮ কোটি টাকা খেলাপি ঋণ নিয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে কোয়ান্টাম পাওয়ার। এসব ঋণের বিপরীতে কোনো ধরনের জামানতও রাখা হয়নি। আর জামানত না থাকায় খেলাপিদের কাছ থেকে অর্থ আদায় সম্ভব নয়। অর্থাৎ সম্পূর্ণ জালিয়াতির মাধ্যমেই এ ধরনের ঋণ নেয়া হয়েছে।
গত বছরের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বাংলাদেশ ব্যাংকের সিআইবির (ক্রেডিট ইনফর্মেশন ব্যুরো) সর্বশেষ প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. মইনুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, এদের বেশিরভাগই ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপি। এরা অত্যন্ত শক্তিশালী। তারা জানে ঋণ নিলে ফেরত দিতে হবে না। তারা কালো টাকা এবং শক্তি দিয়ে বছরের পর বছর আইনি প্রক্রিয়া এড়াতে সক্ষম। তিনি বলেন, অর্থঋণ আদালতের মাধ্যমে খেলাপিদের ধরা সম্ভব নয়, এটা এক ধরনের প্রতারণা। তার মতে, সরকার যদি সত্যি সত্যি এদের শাস্তি দিতে চায়, তবে শীর্ষ খেলাপিদের বিচারের জন্য আলাদা ট্রাইব্যুনাল গঠন করতে পারে। না হলে খেলাপিদের ধরা সম্ভব নয়। জানা গেছে, ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশের ব্যাংকিং খাতে মোট খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৮০ হাজার ৩০৭ কোটি টাকা। এর মধ্যে শীর্ষ ১০০ খেলাপির কাছে ঋণের পরিমাণ ২০ হাজার ৭০০ কোটি টাকা। যা মোট ঋণের প্রায় ২৭ শতাংশ। এর পুরোটাই কুঋণ। অর্থাৎ এ ঋণের বিপরীতে ব্যাংকগুলোকে শতভাগ প্রভিশন (নিরাপত্তা সঞ্চিতি) রাখতে হয়। যেমন একটি ব্যাংক ১০০ কোটি টাকা পরিচালন মুনাফা করল। ওই ব্যাংকের ৭৫ কোটি টাকা কুঋণ আছে। এ অবস্থায় মুনাফা থেকে ৭৫ কোটি টাকা প্রভিশন রাখতে হবে। এরপর বাকি ২৫ কোটি টাকা থেকে কর পরিশোধের পর যে টাকা থাকবে, তা হবে ওই ব্যাংকের নিট মুনাফা। প্রভিশনের বাধ্যবাধকতা থাকায় ব্যাংকগুলোকে নিয়মিত গ্রাহকের কাছ থেকে বেশি সুদ নিতে হয়। অন্যদিকে ব্যাংকের নিট মুনাফা কমলে শেয়ারবাজারে বিনিয়োগকারীদের লভ্যাংশ কমে যায়। অর্থাৎ খেলাপি ঋণের কারণে মুদ্রা এবং পুঁজি উভয় বাজার ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সামগ্রিকভাবে দেশের পুরো অর্থনীতিতে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ যুগান্তরকে বলেন, ঋণদাতা ও গ্রহীতার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া উচিত। অবসরে যাওয়া এমডিদের কার আমলে কত ঋণ, কীভাবে গেছে, কার কাছে গেছে- তা বের করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। কারণ ওইসব এমডিও ঋণের নামে অর্থ লুণ্ঠন করেছেন। তার মতে, এ জন্য বর্তমান এমডিরা দায়ী নন। তবে এ ব্যাপারে পদক্ষেপ জানতে বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর এস কে সুর চৌধুরীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। সূত্র জানায়, চট্টগ্রামের পতেঙ্গা সৈকত ঘেঁষে ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান মেসার্স ইলিয়াস ব্রাদার্স প্রাইভেট লিমিটেড। ২০০৯ সালে রাষ্ট্রায়ত্ত একটি ব্যাংক কোনো ধরনের জামানত ছাড়াই প্রতিষ্ঠানটিকে ২৩৮ কোটি ৬৮ লাখ টাকা ঋণ দেয়। এ ক্ষেত্রে ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ নীতিমালা এবং শর্তও মানা হয়নি। পরবর্তী ২ বছরে মাত্র ৩৩ কোটি টাকা পরিশোধ করে ইলিয়াস ব্রাদার্স। বাকি ২০৫ কোটি টাকা পরিশোধ না করে লোকসানি দেখানো হয় প্রতিষ্ঠানকে।
বর্তমানে সুদ-আসল মিলিয়ে এ প্রতিষ্ঠানের কাছে ওই ব্যাংকের পাওনা প্রায় ২৯০ কোটি টাকা। একই প্রতিষ্ঠান আরও ১২টি ব্যাংকে ঋণখেলাপি। এর মধ্যে এবি ব্যাংকে ৬১ কোটি ৯৯ লাখ টাকা, ন্যাশনাল ব্যাংকে ১৪১ কোটি ১৪ লাখ টাকা খেলাপি। সিটি ব্যাংকে ৫৬ কোটি ১৪ লাখ, পূবালী ব্যাংকে ৬ কোটি ১৯ লাখ, উত্তরা ব্যাংকে ৪১ কোটি ৮ লাখ, ইস্টার্ন ব্যাংকে ৭১ কোটি ৭৯ লাখ, এনসিসি ব্যাংকে ৫৪ কোটি ৬ লাখ টাকা খেলাপি। মার্কেন্টাইল ব্যাংকে ৫৫ কোটি ৩৯ লাখ, ওয়ান ব্যাংকে ২৮ কোটি ৫৪ লাখ, ব্যাংক এশিয়ায় ৩৬ কোটি ৮৩ লাখ এবং শাহ জালাল ইসলামী ব্যাংকে ইলিয়াস ব্রাদার্সের ১৬ কোটি ৯৫ লাখ টাকা খেলাপি ঋণ রয়েছে। নিয়ম অনুসারে এক ব্যাংকে খেলাপি ঋণ থাকলে অন্য ব্যাংক থেকে ঋণ পাওয়ার কথা নয়। কিন্তু এসব নিয়ম-কানুনের কোনো তোয়াক্কা করেনি ব্যাংকগুলো। সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অর্থ উপদেষ্টা ড. এবি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, দেশের ব্যাংকিং খাতের সবচেয়ে বড় সমস্যা খেলাপি ঋণ। আর খেলাপি ঋণের জন্যই শিল্পঋণের সুদের হার কমানো যাচ্ছে না। কারণ এ ঋণের বিপরীতে ব্যাংকগুলোকে মুনাফা থেকে প্রভিশন (নিরাপত্তা সঞ্চিতি) করতে হয়। তিনি বলেন, খেলাপি ঋণ কমাতে না পারলে এ খাতের উন্নয়ন সম্ভব নয়। মির্জ্জা আজিজ বলেন, জামানত ছাড়া যে ব্যাংক ঋণ দিয়েছে, ওই ব্যাংকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া উচিত। তার মতে, কোন বিবেচনায় এত বড় ঋণ দেয়া হল, তা জবাবদিহিতার আওতায় আনতে না পারলে আর্থিক খাতে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব নয়। একক প্রতিষ্ঠান হিসেবে খেলাপি ঋণে তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে জেসমির ভেজিটেবল অয়েল। প্রতিষ্ঠানটির খেলাপির পরিমাণ ৫৪৭ কোটি ৯৫ লাখ টাকা। এ ছাড়া ম্যাক্স স্পিনিং মিলের ৫২৫ কোটি ৬০ লাখ, বেনেটেক্সের ৫১৬ কোটি ৯৪ লাখ টাকা। ঢাকা ট্রেডিং হাউসের খেলাপির পরিমাণ ৪৮৫ কোটি ২৯ লাখ, আনোয়ার স্পিনিং মিলসের ৪৭৪ কোটি ৩৭ লাখ, সিদ্দিক ট্রেডার্সের ৪২৮ কোটি ৫৭ লাখ টাকা। এ ছাড়া ইয়াসির এন্টারপ্রাইজের ৪১৪ কোটি ৮০ লাখ এবং আলফা কম্পোজিট টাওয়েলের ৪০১ কোটি ৭৩ লাখ টাকা খেলাপি ঋণ রয়েছে। ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স, বাংলাদেশের (এবিবি) ভাইস চেয়ারম্যান এবং সোনালী ব্যাংকের এমডি ওবায়েদ উল্লাহ আল মাসুদ যুগান্তরকে বলেন, প্রায় সব শীর্ষ খেলাপির বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। তারা বারবার রিট করে অর্থ আদায় প্রক্রিয়া থামিয়ে দিচ্ছেন। তার মতে, গরিব কখনও রিট করে না। যত রিট সব ধনীদের। তিনি বলেন, প্রতি জেলায় একটা করে অর্থঋণ আদালত আছে। আদালতের সংখ্যা আরও বাড়াতে হবে। তিনি আরও বলেন, নির্বাচনী বছরের কারণে শীর্ষ ঋণখেলাপিরা কিছুটা দুর্বল থাকবে। এদের অনেকেই কোথাও না কোথাও নির্বাচন করবে। এখনই তাদের ধরার সময়। সব খেলাপি ঋণ আদায় করতে হবে। এককভাবে এটি করা সম্ভব নয়। সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। প্রয়োজনে খেলাপিদের বিরুদ্ধে গণপ্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। সামাজিকভাবে বর্জন করতে হবে। খেলাপি ঋণে ১১তম অবস্থানে লিজেন্ট হোলিংস। ৬ ব্যাংকে এ প্রতিষ্ঠানের খেলাপি ঋণ ৩৪৮ কোটি টাকা। এরপর হলমার্ক ফ্যাশন ৩৪০ কোটি, ম্যাক ইন্টারন্যাশনাল ৩৩৯ কোটি টাকা। মন্নো ফেব্রিক্সের খেলাপি ঋণ ৩৩৮ কোটি ৩৭ লাখ, ফেয়ার ট্রেডার্স ৩২২ কোটি, সাহারিশ কম্পোজিট ৩১৩ কোটি, নুরজাহান সুপার অয়েল ৩০৫ কোটি টাকা। কেয়া ইয়ার্ন মিলস ২৯৩ কোটি, সালেহ কার্পেট ২৮৭ কোটি এবং ফায়ার ইয়ার্ন প্রসেসিংয়ের ২৭৩ কোটি টাকা খেলাপি ঋণ রয়েছে। বিশ্বব্যাংকের ঢাকা অফিসের মুখ্য অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন যুগান্তরকে বলেন, শীর্ষ খেলাপিদের নতুন ঋণ দেয়া বন্ধ করতে হবে। তারা যেন এক টাকাও ঋণ না পায় সেটা নিশ্চিত করতে হবে। তার আগে তাদের তালিকা তৈরি করে ব্যাংকগুলোকে চিঠি দিয়ে জানাতে হবে। যদিও ব্যাংকগুলো ঋণখেলাপিদের চেনে ও জানে। তবুও তাদের নাম-ঠিকানা দিয়ে আর কোনো নতুন ঋণ না দেয়ার নির্দেশ দেয়া যেতে পারে। এরপরও কোনো ব্যাংক ঋণ দিলে ব্যাখ্যা তলব করতে পারে বাংলাদেশ ব্যাংক।
প্রতিষ্ঠানভিত্তিক খেলাপি ঋণ: খেলাপি ঋণের বিবেচনায় ২১ নম্বর অবস্থানে রয়েছে এস কে স্টিল। চার ইসলামী ব্যাংকে এ প্রতিষ্ঠানের খেলাপি ঋণ ২৭২ কোটি টাকা। এ ছাড়া চৌধুরী নিটওয়্যারের খেলাপি ঋণ ২৭০ কোটি টাকা। হেল্পলাইন রিসোর্স ২৫৮ কোটি টাকার খেলাপি ঋণ। সিক্সসিজন অ্যাপারেলস ২৫৫ কোটি, বিসমিল্লাহ টাওয়েল ২৪৪ কোটি, টি অ্যান্ড ব্রাদার্স নিট কম্পোজিট ২২৬ কোটি টাকা খেলাপি। তানিয়া এন্টারপ্রাইজ ইউনিট (২)-এর খেলাপি ঋণ ২১২ কোটি, আশিক কম্পোজিট টেক্সটাইল ২০৪ কোটি, অটোবি ১৯৩ কোটি, ইসলাম ট্রেডিং কনসোর্টিয়াম ১৯১ কোটি টাকা। মিজান ট্রেডার্স ১৮৮ কোটি, কম্পিউটার সোর্স লিমিটেড ১৮৭ কোটি, টেলিবার্তা ১৮৬ কোটি ৮৫ লাখ টাকা খেলাপি। সেমাত সিটি জেনারেল ট্রেডিং ১৮৫ কোটি, এমকে শিপ বিল্ডার্স ১৮৪ কোটি ৬৫ লাখ, কটন কর্পোরেশন ১৮৪ কোটি ১৬ লাখ, এমবিএ গার্মেন্টস অ্যান্ড টেক্সটাইল ১৮২ কোটি ৩৮ লাখ টাকা খেলাপি। সোনালী জুট মিলস ১৮১ কোটি, এক্সপার টেক ১৭৭ কোটি ৬৬ লাখ, কেয়া নিট কম্পোজিট ১৭৪ কোটি ৩৫ লাখ, ওয়ালমার্ট ফ্যাশন ১৭০ কোটি, হিমালয় পেপার্স অ্যান্ড বোর্ড মিলস ১৬৬ কোটি টাকা খেলাপি। ওয়ান ডেনিম মিলসের খেলাপি ঋণের পরিমাণ ১৬৪ কোটি ৩০ লাখ, এমদাদুল হক ভুঁইয়া ১৬৩ কোটি ৪০ লাখ, চৌধুরী লেদার ১৬২ কোটি, ম্যাক শিপ বিল্ডার্স ১৬০ কোটি, সাফারি ট্রেডার্স ১৫৭ কোটি টাকা। লিবার্টি ফ্যাশন ওয়্যার ১৫৫ কোটি, অ্যাডভান্স কম্পোজিট ১৫৩ কোটি, বিশ্বাস গার্মেন্টস ১৪১ কোটি, মাস্টার্ড ট্রেডিং ১৫২ কোটি ৩০ লাখ, হিন্দু ওয়ালি ট্রেডিং ১৫২ কোটি, পদ্মা বেলিং অ্যান্ড ডাইং ১৪৮ কোটি ৫১ লাখ টাকা খেলাপি। সগির অ্যান্ড ব্রাদার্স ১৪৮ কোটি ১০ লাখ, ইপশু ট্রেডিং ১৪৬ কোটি, মেরিন ভেজিটেবল ১৪৪ কোটি, আরজান কার্টেপ অ্যান্ড জুট ওয়েভিং মিলস ১৪৩ কোটি, ড্রেজ বাংলা প্রা. লিমিটেড ১৪২ কোটি, এ জামান ব্রাদার্স ১৪১ কোটি টাকা খেলাপি। অরনেট সার্ভিসের খেলাপি ঋণ ১৪১ কোটি,
জমজম শিপিং মিল ১৪০ কোটি, দোয়েল অ্যাপারেলস ১৩৯ কোটি, ড্রিম ওয়ার্ল্ড পার্ক ১৩৮ কোটি, ক্যামব্রিজ ইন্টারন্যাশনাল ১৩৬ কোটি, কেয়া স্পিনিং মিলস ১৩৬ কোটি, জাহিদ এন্টারপ্রাইজ ১৩৫ কোটি টাকা। তাবাসসুম এন্টারপ্রাইজ ১৩২ কোটি, মজিবর রহমান খান ১৩২ কোটি, অ্যাপেক্স ওয়েভিং ১৩০ কোটি, অ্যাগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজ ১৩০ কোটি, ঢাকা ডাইং অ্যান্ড ম্যানুফেকচারিং ১২৯ কোটি, ওয়েল টেক্স লিমিটেড ১২৯ কোটি টাকা খেলাপি। ডেল্টা সিস্টেম ১২৮ কোটি, কেয়ার স্পেশালাইজড হাসপাতাল ১২৭ কোটি, নদার্ন ডিস্টিলারিজ ১২৩ কোটি, নিউ রাখি টেক্সটাইল ১২৩ কোটি, আলী পেপার মিলস ১২২ কোটি ৬৫ লাখ, হিলফুল ফুজুল সমাজকল্যাণ সংস্থা ১২২ কোটি টাকা খেলাপি। লাকী শিপ বিল্ডার্স ১২০ কোটি, শাপলা ফ্লাওয়ার মিলস ১২০ কোটি, আনন টেক্স নিটিং টেক্স ১১৯ কোটি, সিদ্দিক অ্যান্ড কোম্পানি ১১৮ কোটি, মনোয়ার ট্রেডিং ১১৭ কোটি, ডেল্টা জুট মিলস ১১৭ কোটি টাকা খেলাপি। এ কে জুট ট্রেডিংয়ের খেলাপি ঋণ ১১৬ কোটি ৬২ লাখ, আর্থ এগ্রো ফার্মস ১১৬ কোটি, মাহবুব স্পিনিং ১১৫ কোটি, ডি আফরোজ সোয়েটার্স ইন্ডাস্ট্রিজ ১১৫ কোটি, জারজিস কম্পোজিট নিট ইন্ডাস্ট্রিজ ১১৪ কোটি টাকা। ম্যাপ পেপার বোর্ড মিলস ১১৪ কোটি, স্টাইল ফ্যাশন গার্মেন্টস ১১৪ কোটি, আলামিন ব্রেড অ্যান্ড বিস্কুট ১১২ কোটি, প্রফিউশন টেক্সটাইল লিমিটেড ১১২ কোটি, মা টেক্সটাইল ১১১ কোটি ২২ লাখ টাকা খেলাপি। সুপার সিক্স স্টার শিপ ব্রেকিং ইয়ার্ড ১১১ কোটি, টেকনো ডিজাইন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট ১১০ কোটি ৬৩ লাখ এবং কেয়াকটন মিলসের ১১০ কোটি ১০ লাখ টাকা খেলাপি ঋণ রয়েছে।

শিক্ষা জাতীয়করণের দাবিতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ক্লাস বর্জন চলছে

শিক্ষা জাতীয়করণের দাবিতে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারী সংগ্রাম কমিটি ক্লাস বর্জন কর্মসূচি পালন করছে। মঙ্গলবার থেকে আগামী ২৭ জানুয়ারি পর্যন্ত তিন দিনের ক্লাস বর্জন করছেন তারা। পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী, দেশের সব বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের (মাধ্যমিক বিদ্যালয়, কলেজ,
মাদ্রাসা ও কারিগরি) শিক্ষকরা পূর্ণ দিবস ক্লাস বর্জন করছেন। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও আদর্শে বিশ্বাসী নয়টি শিক্ষক-কর্মচারী সংগঠনের সমন্বয়ে গড়ে ওঠা মোর্চার সমন্বয়কারী অধ্যক্ষ আসাদুল হক জানান, জাতীয়করণসহ ১১ দফা দাবিতে মঙ্গলবার থেকে শিক্ষকরা তিনদিন ক্লাস বর্জন কর্মসূচি পালন করা হবে। এর পর ২৮ জানুয়ারি রোববার জাতীয় প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। এদিকে জাতীয়করণের একদফা দাবিতে বেসরকারি শিক্ষা জাতীয়করণ লিয়াঁজো ফোরামের ব্যানারে গত ১০ জানুয়ারি থেকে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে খোলা আকাশের নিচে অবস্থান করছেন শিক্ষকরা। ১৫ জানুয়ারি থেকে তারা অনশন করছেন।

পাঁচ বছরের মধ্যে এক তৃতীয়াংশ ঢাকাবাসী কানে কম শুনবে

রাজধানী ঢাকায় নির্ধারিত মানদণ্ডের চেয়ে গড়ে প্রায় দেড় গুণ বেশি শব্দদূষণ হচ্ছে। এক গবেষণায় দেখা গেছে, শব্দদূষণের কারণে আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে ঢাকার মোট জনসংখ্যার তিন ভাগের এক ভাগ কানে কম শুনবে। ঢাকায় শব্দদূষণের মূলে রয়েছে যানবাহন ও হর্নের শব্দ। তবে উচ্চ শব্দে মাইক বা সাউন্ড সিস্টেমে গান বাজানো, টাইলস লাগানো ও ড্রিল মেশিনের কারণেও তীব্র শব্দদূষণ হচ্ছে। চিকিৎসকরা বলছেন, শব্দদূষণের কারণে শ্রবণশক্তি হ্রাস, বধিরতা, হৃদরোগ, মেজাজ খিটখিটে হওয়া, আলসার ও বিরক্তির মতো রোগের শিকার হচ্ছেন নগরবাসী। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন শিশু ও বয়স্করা। এমনকি গর্ভে থাকা সন্তানও শব্দদূষণে ক্ষতির শিকার হয়। ফলে শিশুদের শ্রবণশক্তি খুব দ্রুত নষ্ট হয়ে যায়। বেসরকারি সংস্থা ‘ওয়ার্ক ফর এ বেটার বাংলাদেশ’-ডব্লিউবিবি ট্রাস্ট ঢাকা শহরের ১০টি স্থানের শব্দ পরিমাপ করে দেখেছে। ঢাকায় নির্ধারিত মানদণ্ডের চেয়ে গড়ে প্রায় দেড় গুণ বেশি শব্দ সৃষ্টি হয়। সংস্থাটির জরিপে দেখা গেছে, উত্তরার শাহজালাল অ্যাভিনিউয়ে শব্দমাত্রা সর্বোচ্চ ৯৩ দশমিক ৫ ডেসিবেল, মিরপুর-১ এ সর্বোচ্চ ৯৬ ডেসিবেল, পল্লবীতে ৯১ দশমিক ৫ ডেসিবেল, ধানমণ্ডি বালক বিদ্যালয়ের সামনে ১০৭ দশমিক ১, ধানমণ্ডি ৫ নম্বর সড়কে ৯৫ দশমিক ৫, নিউমার্কেটের সামনে ১০৪ দশমিক ১, শাহবাগে ৯৭ দশমিক ৩ এবং সচিবালয়ের সামনে সর্বোচ্চ ৮৮ ডেসিবেল। ডব্লিউবিবি ট্রাস্টের প্রোগ্রাম ম্যানেজার মারুফ হাসান জানান, বাংলাদেশে গ্রহণযোগ্য শব্দের মাত্রার পাঁচটি ভাগ আছে, এলাকা ভিত্তিতে৷
আর সেই হিসাবে শব্দের গ্রহণযোগ্য মাত্রা হল ৪০ থেকে ৭০ ডেসিবেল৷ আমরা পরীক্ষায় দেখেছি- কোথাও কোথাও শব্দের মাত্রা গ্রহণযোগ্য মাত্রার তিন গুণেরও বেশি। তিনি বলেন, ঢাকায় সাধারণভাবে যানবাহন ও হর্নের শব্দই শব্দদূষণের মূল কারণ। তবে এর বাইরে রাজনৈতিক, সামাজিক এবং ধর্মীয় অনুষ্ঠানে উচ্চ শব্দে মাইক বা সাউন্ড সিস্টেম ব্যবহার আরেকটি বড় কারণ। তিনি আরও বলেন, যদি আমরা ইনডোর শব্দদূষণের দিকটি বিবেচনায় নিই, তা হলে টাইলস লাগানো, মিউজিক সিস্টেমে জোরে গান বাজানো, ড্রিলিং এগুলোর শব্দ রয়েছে। শব্দদূষণের স্বাস্থ্যঝুঁকি সম্পর্কে স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের নাক, কান ও গলা বিভাগের প্রধান ডা. মনি লাল আইচ লিটু বলেন, এক গবেষণায় দেখা গেছে- এভাবে শব্দদূষণ অব্যাহত থাকলে আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে ঢাকা শহরের মোট জনসংখ্যার তিন ভাগের এক ভাগ কানে কম শুনবে। তিনি বলেন, বয়স্ক ও অসুস্থরা এ শব্দ দূষণের বড় শিকার৷ এ ছাড়া শব্দদূষণের ফলে সড়কে দুর্ঘটনাও ঘটতে পারে৷ কারণ শব্দদূষণে মেজাজ খিটখিটে হয়, মনোযোগ নষ্ট হয়৷ শব্দের সর্বোচ্চ গ্রহণযোগ্য মাত্রা ৬০ ডেসিবেল, সেখানে ঢাকা শহরের বেশিরভাগ এলাকায় এখন শব্দের সার্বক্ষণিক গড় মাত্রা ১০০ ডেসিবেল। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, আবাসিক এলাকায় শব্দের মাত্রা দিনের বেলা ৫৫ ডেসিবেল, রাতে ৪৫ ডেসিবেল হওয়া উচিত; বাণিজ্যিক এলাকায় দিনে ৬৫ ডেসিবেল, রাতে ৫৫ ডেসিবেল; শিল্পাঞ্চলে দিনে ৭৫ ডেসিবেল, রাতে ৬৫ ডেসিবেলের মধ্যে শব্দমাত্রা থাকা উচিত৷ আর হাসপাতাল, সাইলেন্স জোন বা নীরব এলাকায় দিনে ৫০, রাতে ৪০ ডেসিবেল শব্দমাত্রা থাকা উচিত। সূত্র: ডয়েচে ভেলে।

বিশ্বে এক ভাগ মানুষের হাতে ৮২ ভাগ সম্পদ

বিশ্বজুড়ে ধনীরা আরো ধনী হচ্ছে। সম্পদ দিন দিন পুঞ্জিভূত হচ্ছে গুটি কয়েক ধনীর হাতে। বর্তমানে মাত্র এক ভাগ মানুষের হাতে বিশ্বের ৮২ ভাগ সম্পদ রয়েছে। এভাবে সম্পদের অসমতা বেড়েই চলেছে। বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা অক্সফাম এক গবেষণা প্রতিবেদনে সম্পদের এ বৈষম্যের বিষয় প্রকাশ করেছে। এ বৈষম্যের হার অতীতে এত বেশি ছিল না।
অন্য একটি প্রতিবেদনে দেখা যায়, ২০০০ সালেও শীর্ষ এক শতাংশ ধনীর হাতে ছিল প্রায় ৪৫ ভাগ সম্পদ। ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের বার্ষিক সম্মেলন উপলক্ষে অক্সফাম এ রিপোর্টটি প্রকাশ করেছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বর্তমানে বিশ্বে বিলিওনিয়ারের সংখ্যা বেড়েই চলেছে। প্রতি দুই দিনে একজন করে মানুষ বিলিওনিয়ার হচ্ছেন। অক্সফাম জানিয়েছে, বর্তমানে বিশ্বে ২ হাজার ৪৩ জন বিলিওনিয়ার রয়েছেন। এ বিলিওনিয়ারদের সম্পদ গত ১২ মাসে ৭৬২ বিলিয়ন ডলার বৃদ্ধি পেয়েছে। ওই প্রতিবেদনে নারী বিলিওনিয়ারদের সম্পর্কেও তথ্য তুলে ধরা হয়। যেখানে বলা হয়, পুরুষের চেয়ে নারীরা কম অর্থ উপার্জন করেন। তাদের মজুরিও কম দেয়া হয়। অক্সফামের প্রধান নির্বাহী মার্ক গোল্ডরিং বলেন, এ পরিসংখ্যানে প্রকাশ পেয়েছে বর্তমানে বিশ্বের অর্থনীতিতে যা চলছে, তা মোটেও সুষম নয়।

ভূখণ্ড দখল নয়, মানুষের হৃদয় জয় করতে চাই: এরদোগান

সিরিয়ার আফরিনে সামরিক অভিযান চালালেও সেখানে কোনো ভূখণ্ড দখল করা হবে না বলে ঘোষণা দিয়েছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোগান। তিনি বলেন, আমাদের কোনো ভূখণ্ড দখলের পরিকল্পনা নেই। আমরা মানুষের হৃদয় জয় করতে চাই। এদিকে আফরিন এলাকায় মার্কিন সমর্থিত কুর্দি গেরিলাদের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান চালানোর জন্য রাশিয়ার সঙ্গে তুরস্কের একটি চুক্তি হয়েছে বলে জানিয়েছেন এরদোগন। রাজধানী আংকারা থেকে টেলিভিশনে দেয়া এক ভাষণে প্রেসিডেন্ট এরদোগান প্রত্যয় ব্যক্ত করে বলেন, আফরিন অভিযান সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত তুর্কি সেনারা পিছু হটবে না। তিনি জানান, তুর্কি সেনারা আফরিন শহরের নিয়ন্ত্রণ নেবে, যাতে অন্য শহরের মতো সেখানেও সাধারণ মানুষ ফিরে যেতে পারেন। এরদোগান বলেন, আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আফরিন সমস্যার সমাধান করা হবে এবং আমরা সেখান থেকে পিছিয়ে আসব না। আমরা বিষয়টি নিয়ে রুশ বন্ধুদের সঙ্গে কথা বলেছি। আমাদের মধ্যে একটি চুক্তি হয়েছে। তুর্কি প্রেসিডেন্ট জানান, আফরিন অভিযানের বিষয়ে আংকারা আমেরিকাসহ আরবও কয়েকটি শক্তির সঙ্গে কথা বলেছে। তবে আমেরিকাকে কিছু বিষয়ে একমত করানো যায়নি।

মিয়ানমারকে যুদ্ধবিমান দিচ্ছে রাশিয়া

রোহিঙ্গা নির্যাতনের কারণে মিয়ানমার বিশ্বব্যাপী ব্যাপক সমালোচিত হলেও দেশটির প্রতি রাশিয়ার সমর্থন অব্যাহত রয়েছে। এবার মিয়ানমারের কাছে ছয়টি এসইউ-৩০ যুদ্ধবিমান বিক্রি করছে রাশিয়া। রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে এমন তথ্য প্রকাশ করেছে বার্তা সংস্থা আরআইএ।
আরআইএর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মিয়ানমার নিজেদের স্থল ও নৌবাহিনীর জন্য রাশিয়ার কাছ থেকে অন্যান্য সামরিক রসদ কেনার আগ্রহও প্রকাশ করেছে। ২০১৭ সালের আগস্ট থেকে রাখাইনে সংখ্যালঘু রোহিঙ্গাদের ওপর মিয়ানমার সেনাবাহিনীর বর্বর নির্যাতন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সমালোচনার জন্ম দেয়। নির্যাতনের মুখে দেশটি থেকে প্রায় সাড়ে ৬ লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে আসে। জাতিসংঘ এই নির্যাতনকে জাতিগত নির্মূল অভিযান হিসেবে বর্ণনা করে। এদিকে মিয়ানমার সেনাবাহিনী শুরু থেকেই এ অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘন ও দুর্নীতির দায়ে যুক্তরাষ্ট্র মিয়ানমারের ১৩ ব্যক্তির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। যাদের মধ্যে রাখাইনে বর্বর নির্যাতন চালানোর সময় সেনাবাহিনীর দায়িত্বপ্রাপ্ত জেনারেল মং মং সোয়ে-ও আছেন।

ফিলিপাইনে অগ্নুৎপাতের শঙ্কায় সরানো হল ৪০ হাজার মানুষ

ফিলিপাইনে মাউন্ট মেয়ন আগ্নেয়গিরি থেকে অগ্ন্যুৎপাতের আশঙ্কায় কর্তৃপক্ষ সতর্কতার মাত্রা বাড়িয়ে দিয়েছে। গত ১৩ জানুয়ারি থেকে মধ্যাঞ্চলীয় প্রদেশ আলবেতে এই আগ্নেয়গিরি থেকে লাভা ও ছাইসহ ধোঁয়া বের হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে সেখানকার ৪০ হাজার বাসিন্দাকে তাদের ঘরবাড়ি থেকে অন্যত্র সরিয়ে নেয়া হয়েছে।
আগ্নেয়গিরির চারপাশে আট কিলোমিটার এলাকায় জনসাধারণের যাতায়াত নিষিদ্ধ করা হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন জানাচ্ছে, ঘন ধোঁয়ার কুণ্ডলী আকাশে সোজা ১০ কিলোমিটার ওপরে উঠে গেছে। আলবেপ্রদেশের গভর্নর আল ফ্রান্সিস বিছারা বলেন, ‘ধোঁয়ার ফলে কোনো কোনো এলাকায় খালি চোখে কিছুই দেখা যাচ্ছে না।’ পাশাপাশি ওই এলাকায় ঝড়ো বাতাস বইছে এবং আগ্নেয়গিরির ছাই দূরের শহরগুলোতে ছড়িয়ে পড়তে পারে বলেও তিনি জানান। বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, সম্প্রতি ওই আগ্নেয়গিরিতে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে এবং ওই অঞ্চলের একটি শহর লেগাস্পি মিহি ছাই এবং বালির আস্তরণে ঢাকা পড়েছে। দিনের আলোর জায়গায় নেমে এসেছে অন্ধকার। ফিলিপাইনে ২২টি জীবন্ত আগ্নেয়গিরি রয়েছে। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ২৪৬০ মিটার উঁচু মাউন্ট মেয়নে শেষবারের মতো অগ্নুৎপাত ঘটেছিল ২০১৪ সালে। তারও আগে ১৮১৪ সালে কাগসাওয়া শহরটি এই আগ্নেয়গিরির লাভার চিচে চাপা পড়ে যায়। ওই সময় এক হাজারেরও বেশি মানুষ প্রাণ হারান।

মোদি ‘সমাজবিজ্ঞানী’, দাবি ভারতের রাষ্ট্রপতির

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে প্রয়াত রাষ্ট্রপতি এপিজে আবদুল কালামের সঙ্গে তুলনা করেছেন দেশটির বর্তমান রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দ। আর এমনটি করতে গিয়ে আবদুল কালামকে ‘মহাকাশ বিজ্ঞানী’ আখ্যা দিয়ে মোদিকে ‘সমাজবিজ্ঞানী’ বলে উল্লেখ করেছেন তিনি। গুজরাট বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন অনুষ্ঠানে ভাষণ দেয়ার সময় ভারতের রাষ্ট্রপতি এমন কথা বললেন। রামনাথ বলেন, কালাম স্যার সৌভাগ্যক্রমে আমার পূর্বসূরি ছিলেন। দেশের রাষ্ট্রপতি হলেও আদতে ছিলেন বিজ্ঞানী।
তাই সাধারণত তাকে আমি মহাকাশ বিজ্ঞানী বলি, আর মোদিকে বলি সমাজবিজ্ঞানী। রামনাথ আরও বলেন, মোদি গুজরাট বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যালামনাই আর কালাম স্যারও কিছু দিন এখানে ছিলেন। রসিকতা করে তিনি বলেন, সমাবর্তন অনুষ্ঠানে উপস্থিত কোনো পড়ুয়াই অল্প বয়সে মোদির মতো চা বেচতেন না। এই এক লোক যিনি এখানে জন্মেছেন, বড় হয়েছেন, পড়াশোনাও করেছেন এবং দেশের প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন। এটি সত্যিই অনুপ্রেরণা দেয়। মোদি ডিজিটাল ইন্ডিয়া, স্টার্টআপ ইন্ডিয়ার মতো নানা উদ্যোগের মাধ্যমে বর্তমান প্রজন্মের সামনে ২১ শতকের দরজা খুলে দিয়েছেন বলেও মন্তব্য করেন ভারতের রাষ্ট্রপতি। উন্নয়ন মাথায় রেখে পড়ুয়াদের সহযোগিতা, ভ্রাতৃত্বের মূল্যবোধে আস্থা রাখতেও পড়ুয়াদের আবেদন জানান তিনি।

পাকিস্তান সীমান্তে ৪ দিনে ৯ হাজার মর্টার শেল ছুড়েছে ভারত

গত ৪ দিনে জম্মুর আন্তর্জাতিক সীমান্তে ৯ হাজার রাউন্ড মর্টার শেল ছুড়েছে ভারতের সীমান্ত রক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। সীমান্তের ওপারের যে পাকিস্তানি চৌকিগুলো থেকে গোলাগুলি আসছিল, প্রত্যাঘাতে সেগুলি গুঁড়িয়ে দেয়া হয়েছে বলে দাবি। সীমান্ত বরাবর বেশ কিছু জায়গায় জ্বালানি তেল মজুদ করেছিল পাকিস্তানি রেঞ্জার্স। সেই জ্বালানি ভাণ্ডারও জ্বালিয়ে দেয়া হয়েছে।
সোমবার বিএসএফ সূত্রে এমনটাই জানানো হয়েছে। ভারতীয় সীমান্ত রক্ষী বাহিনীর সিনিয়র অফিসারদের পাশাপাশি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের একটি সূত্র জানিয়েছে, জম্মুর ১৯০ কিলোমিটার আন্তর্জাতিক সীমানা বরাবর অত্যন্ত উত্তেজনা রয়েছে। রোববার সন্ধ্যা থেকে ভারি গোলাবর্ষণ করছে পাকিস্তান। ঝাঁকে ঝাঁকে গুলি আসছে। পাকিস্তানের এ হামলার জবাব দিতে এ পর্যন্ত ৯ হাজার রাউন্ড মর্টার শেল ছুড়েছে বিএসএফ। নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে গিয়ে সেগুলো আঘাত করেছে। বিএসএফ সূত্রে খবর, সীমান্তের ওধারে পাকিস্তানি রেঞ্জার্স ও সেনার সিনিয়র কমান্ডারদের আনাগোনা বেড়েছে। ভারতের সঙ্গে ফ্ল্যাগ মিটিংয়ের প্রস্তাবও ফিরিয়েছে পাকিস্তান। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের পর জম্মু এলাকার সব বিএসএফ পোস্টে হাই অ্যালার্ট জারি করা হয়েছে।

মার্কিন যুদ্ধজাহাজকে হুশিয়ার করল ইরানি বিমান

ইরানের সামরিক বাহিনী যৌথ মহড়ার প্রথম দিনে মার্কিন নেতৃত্বাধীন জোটের দুটি যুদ্ধজাহাজকে সতর্ক করেছে। মহড়ার মুখপাত্র রিয়ার অ্যাডমিরাল সাইয়্যেদ মাহমুদ মুসাভি জানান, প্রথম দিনে মার্কিন নেতৃত্বাধীন জোটের দুটি যুদ্ধজাহাজ মহড়াস্থলের দিকে আসার চেষ্টা করে। কিন্তু ইরানের নৌবাহিনীর গোয়েন্দা ড্রোন তা শণাক্ত করে এবং কমান্ড সেন্টারে তথ্য পাঠায়।
এরপর ইরানের টহল ও গোয়েন্দাবিমান মার্কিন জাহাজের ওপর দিয়ে উড়ে যায় এবং জাহাজ দুটিকে ওই এলাকা ছেড়ে চলে যাওয়ার জন্য সতর্ক করে। ইরানি বিমানের বার্তা পেয়ে মার্কিন নেতৃত্বাধীন জাহাজগুলো সেখান থেকে চলে যায়। এর আগে, সামরিক বাহিনীর সমন্বয় বিষয়ক কমান্ডার হাবিবুল্লাহ সাইয়্যারির নির্দেশে ‘মুহাম্মাদ রাসূলুল্লাহ (স.) নামের যৌথ মহড়া সোমবার সকালে শুরু হয়। ইরানের দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় উপকূলীয় বিশাল এলাকাজুড়ে যৌথ সামরিক মহড়া চলছে। ইরানের প্রেস টিভি জানিয়েছে, দেশের দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় মাকরান উপকূল এবং ওমান সাগর উপকূলের ৩০ লাখ বর্গকিলোমিটার এলাকায় মহড়া চলবে।

জর্ডান ইরাক দিয়ে সৌদির ট্রেন যাবে ইসরাইলে

যাত্রী ও পণ্য বহনে সৌদি আরবের সঙ্গে রেল যোগাযোগের পরিকল্পনা করছে ইসরাইল। এ বিষয়ে একটি পরিকল্পনা চূড়ান্ত করেছে ইসরাইল। দেশটির ২০১৯ সালের বার্ষিক বাজেটে এ জন্য অর্থ বরাদ্দ করা হবে। এ কাজে সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে ৪ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলার।
ইসরাইলের সীমান্তে গাজা সংলগ্ন পর্যটন গ্রাম বাইসান গ্রামে প্রথম রেলস্টেশন স্থাপন করে এ রেল যোগাযোগের পরিকল্পনা নিয়েছে ইসরাইল। বাইসান গ্রামে বিশাল চিড়িয়াখানা, অলিম্পিক মানের সুইমিংপুল, বাগান, খেলার মাঠসহ আধুনিক রেস্তোরাঁয় সজ্জিত করে গ্রামটি পর্যটনের জন্য আকর্ষণীয় করা হয়েছে। তবে সম্প্রতি সৌদি-ইসরাইল রেললাইন নির্মাণের পরিকল্পনার কথা প্রকাশ হলেও প্রায় তিন বছর আগে এটি চূড়ান্ত করে ইসরাইল। ইসরাইল পরিকল্পনায় এ রেললাইন দেশটির বিশান শহর থেকে জর্ডান ও ইরাকের মধ্য দিয়ে সৌদি আরবে পৌঁছবে। পরিকল্পনা অনুযায়ী এ রেললাইন নির্মাণ করা হলে আপাতত যাত্রী ও পণ্য বহন করা হবে। খবর বলা হয়েছে, ইসরাইলের যোগাযোগমন্ত্রী এ রেল সংযোগকে ‘পিস লাইন’ বা শান্তির সংযোগ বলে উল্লেখ করেছেন। এ সময় তিনি নতুন রেললাইনের মাধ্যমে উপসাগরীয় দেশের সঙ্গে বাণিজ্য সংযোগ স্থাপন হবে বলে মন্তব্য করেন। রেললাইন স্থাপনের জন্য ইসরাইল রেল বিভাগ একটি বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন করেছে বলেও তিনি জানান।

হাঙরের মৃত্যু চান ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হাঙর দেখলে ভয় পান! এজন্য পৃথিবীর সব হাঙরের মৃত্যু কামনা করেন তিনি। সম্প্রতি এমন তথ্যই দিয়েছেন ট্রাম্পের কথিত প্রেমিকা পর্নো তারকা স্টর্মি ডেনিয়েলস (৩৩)। তার আসল নাম স্টেফানি ক্লিফোর্ড। ২০১১ সালে এই পর্নো তারকা ‘ইন টাচ’ সাময়িকীকে সাক্ষাৎকার দিয়েছিলেন। তবে এটি বুধবারের আগে প্রকাশিত হয়নি। এতে তাদের কথিত প্রেমের কথা স্পষ্টভাবে বর্ণনা করেন, যা ২০০৬ সালেরও আগে শুরু হয়েছিল। খবর দ্য গার্ডিয়ানের। সাক্ষাৎকারের একপর্যায়ে স্টর্মি এক রাতের স্মৃতিচারণা করেন। সেই রাতে তারা ট্রাম্পের ঘরে রাতের খাবার খাচ্ছিলেন আর হাঙরের ওপর একটি প্রামাণ্যচিত্র দেখছিলেন। স্টর্মি বলেন, ‘সেটা অদ্ভুত এক রাত ছিল। এমনটা এর আগে কখনো হয়নি।
আপনি হয়তো ছোট খাবারের ঘর থেকে টেলিভিশন দেখতে পারেন। আর ট্রাম্প হাঙরের একটি বিশেষ অনুষ্ঠান দেখছিল। হাঙরটি ডুবে গেল, এরপর এটা যেভাবে আক্রমণ করল, এটা সবচেয়ে ভয়ানক। তিনি হাঙর নিয়ে আতঙ্কগ্রস্ত, ভীত হয়ে পড়লেন। ট্রাম্প বলেন, ‘আমি সবাইকে দান করি, কিন্তু আমি এমন কাউকে দান করিনি, যিনি হাঙরদের সহায়তা করে। আমি চাই সব হাঙর মরে যাক। হাঙরের বিলুপ্তি হোক। তার অবস্থা এমন ছিল যেন তিনি ভয়ে কুঁকড়ে যাচ্ছিলেন। আমি জানি এটা খুবই অদ্ভুত।’ ট্রাম্পের কিছু টুইট ঘাঁটলেই এটা স্পষ্ট হয়ে যায়। এক টুইটে ট্রাম্প বলেছেন, ‘দুঃখিত, আমি একেবারেই হাঙরদের ভক্ত নই। আর চিন্তা করবেন না, আমরা চলে যাওয়ার পরও বহুদিন এগুলো পৃথিবীতে থাকবে।’

বছরে এক লাখ নারীকে আলো দেখাবেন মালালা

বিশ্বসেরা প্রযুক্তিপণ্য নির্মাতা অ্যাপলের সঙ্গে নারীদের শিক্ষার প্রসারে এক যুগান্তকারী প্রকল্প হাতে নিয়েছেন নোবেল বিজয়ী অধিকারকর্মী মালালা ইউসুফজাই। প্রাথমিকভাবে এ প্রকল্পে বছরে এক লাখ সুবিধাবঞ্চিত নারীকে শিক্ষার আলোয় আনতে সহায়তা করা হবে।
অ্যাপলের প্রধান নির্বাহী (সিইও) টিম কুক প্রায় চার মাস আগে ইংল্যান্ডের অক্সফোর্ডে শিক্ষারত মালালার সঙ্গে দেখা করতে যান। সেখানেই তারা একত্রে নারী শিক্ষার এ উদ্যোগের চিন্তা করেন। খবর দ্য ইন্ডিপেনডেন্টের। গত শনিবার বিশ্বের সবচেয়ে বিখ্যাত সিইও টিম কুক লেবাননের রাজধানী বৈরুতে একত্রে নারী শিক্ষার বিষয়ে তাদের এ দাতব্য সংস্থা গঠনের বিষয়টি গণমাধ্যমকে জানান। মালালা ও টিম কুক জানান, নতুন এ উদ্যোগের আওতায় আফগানিস্তান, পাকিস্তান, লেবানন, তুরস্ক ও নাইজেরিয়ার নারীদের জন্য প্রাথমিকভাবে শিক্ষার ব্যবস্থা করা হবে। এতে প্রয়োজনীয় অর্থেরও সংস্থান করবে তাদের দাতব্য সংস্থা। সম্প্রতি যুক্তরাজ্যের সংবাদমাধ্যম ইনডিপেনডেন্টকে এ ফাউন্ডেশন গঠনের তথ্য জানান টিম কুক। তিনি বলেন, আমি গত বছরের অক্টোবরে অক্সফোর্ডে গিয়ে মালালার সঙ্গে দেখা করি।
টিম বলেন, মালালা প্রাথমিক আলোচনাতেই নারী শিক্ষার জন্য এ সংস্থা গঠন করতে রাজি হন। ‘মালালা ফান্ড’ নামে এ সংস্থায় অ্যাপলের পক্ষ থেকে নারী শিক্ষার বিস্তারে যথাসম্ভব সহযোগিতা করা হবে। সারা বিশ্বে অ্যাপলের বহু ব্যবসা রয়েছে। রয়েছে বহু বিশেষজ্ঞও। আর তাদের ব্যবহার করে এ ফাউন্ডেশনকে নারী শিক্ষায় এগিয়ে নেয়া সম্ভব বলে মনে করেন টিম কুক। এ বিষয়ে তিনি বলেন, আমরা শিক্ষার বাজারে ৪০ বছর ধরে কাজ করছি। প্রতিষ্ঠানের শুরু থেকেই এ কাজ চলছে। আর অ্যাপলের প্রতিষ্ঠাতা স্টিভ জবসেরও এতে খুব প্রাধান্য ছিল। এ কারণে আমরা এক্ষেত্রে দক্ষ জনবল গড়ে তুলেছি যেন আমাদের পণ্য শিক্ষাক্ষেত্রে পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে এগিয়ে নিয়ে যায়।

ভারতে শীর্ষ সন্ত্রাসী ‘বিন লাদেন’ গ্রেফতার

ভারতের শীর্ষ ফেরারি সন্ত্রাসী ২০০৮ সালে গুজরাটে চালানো ধারাবাহিক বোমা হামলার আসামি আবদুল সুবাহান কুরেশিকে গ্রেফতার করার কথা জানিয়েছে দিল্লি পুলিশ। সোমবার দিল্লির গাজিপুরে সংক্ষিপ্ত গোলাগুলির পর কুরেশিকে গ্রেফতার করা হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ। গুজরাটের ওই বোমা হামলায় ৫৬ জন নিহত হয়েছিল। একজন সফটওয়্যার প্রকৌশলী থেকে বোমা প্রস্তুতকারী কুরেশিকে কখনও কখনও ‘ভারতের বিন লাদেন’ বলা হয়। খবর এনডিটিভির। আগামী শুক্রবার ভারতের প্রজাতন্ত্র দিবস। এর আগে কুরেশিকে গ্রেফতার করতে পারা একটি বড় ধরনের সাফল্য বলে দাবি করেছে দিল্লি পুলিশ। পুলিশের স্পেশাল সেলের ডেপুটি কমিশনার প্রমোদ কুশওয়াহা বলেন, ‘কুরেশির কাছ থেকে পিস্তল ও নথি উদ্ধার করেছি আমরা। সে এসআইএমআই ও ভারতীয় মুজাহিদীনকে ফের চাঙ্গা করার চেষ্টা করছিল।’
পুলিশ জানায়, কুরেশি জাল পাসপোর্ট তৈরি করে নেপাল পালিয়ে গিয়ে সেখানে কয়েক বছর বসবাস করেছে, পরে ২০১৩ সালে সে সৌদি আরবে চলে যায় ও ২০১৫ সাল পর্যন্ত সেখানেই থাকে। সন্ত্রাসী নেটওয়ার্কগুলো পুনরুজ্জীবিত করতে ওই বছর সে দেশে ফিরে আসে। গত কয়েক বছর ধরে ভারতজুড়ে কুরেশির খোঁজে তল্লাশি চালিয়ে আসছিল ভারতীয় পুলিশ। কুরেশি ‘তৌকির’ নামেও পরিচিত। তদন্তকারীরা তাকে ‘কম্পিউটার দক্ষ বোমারু’ বলে বর্ণনা করেছেন। সে নিষিদ্ধ ঘোষিত স্টুডেন্টস ইসলামিক মুভমেন্ট অব ইন্ডিয়ার (এসআইএমআই) সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত ছিল। ২০০৮ সালের ২৬ জুলাই আহমেদাবাদ ও সুরাটে বোমা হামলার পরিকল্পনার জন্য কুরেশিকে অভিযুক্ত করা হয়।

রাজপুত্রদের কাছ থেকে হাজার কোটি ডলার নেবেন যুবরাজ

দুর্নীতি দমনবিরোধী অভিযানে সম্প্রতি সৌদি আরবে আটক রাজপুত্র ও তাদের শুভাকাক্সক্ষী ধনকুবেরদের থেকে অন্তত ১ হাজার কোটি ডলার আদায় করবেন যুবরাজ মোহাম্মাদ বিন সালমান। নাম প্রকাশ না করার শর্তে সৌদি আরবের এক সিনিয়র কর্মকর্তার বরাত দিয়ে মার্কিন গণমাধ্যম ব্ল–মবার্গের সোমবারের সংস্করণে এ খবর প্রকাশ করা হয়েছে। দেশটির অ্যাটর্নি জেনারেল শেখ সৌদ আল মোজেবের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দুর্নীতিবাজ সন্দেহে যাদের আটক করা হয়েছে তার মধ্যে প্রায় ৯০ জন সরকারের সঙ্গে মীমাংসায় রাজি হয়েছেন এবং তাদের ছেড়েও দেয়া হয়েছে। আর এখনও অন্তত ৯৫ জন রাজধানী রিয়াদের রিটজ কার্লটন হোটেলে বন্দি আছেন। খবরে বলা হয়েছে, যারা সরকারের সঙ্গে চুক্তিতে রাজি হবে না তাদের বিচারের আওতায় আনা হবে।
তবে আটক ৯৫ জনের মধ্যে পাঁচজনের সঙ্গে আলোচনা চলছে বলে জানানো হয়েছে। আর বাকিরা তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ খতিয়ে দেখছে। এর মধ্যে একটি বড় অংশ সরকারের সঙ্গে মীমাংসায় রাজি হবে বলে জানিয়েছেন ওই কর্মকর্তা। প্রসঙ্গত, গত ৪ নভেম্বর সৌদি যুবরাজ দেশটিতে দুর্নীতিবিরোধী অভিযান শুরু করেন। এরপর প্রায় সাড়ে তিনশ’ লোককে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডাকা হয়েছে। এর অংশ হিসেবে ১১ জন সৌদি রাজপুত্র, বেশকিছু সিনিয়র কর্মকর্তা এবং বেশ কিছু ধনী ব্যক্তিকে আটক ও পদ থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে। তবে সমালোচকরা বলছেন, সৌদি যুবরাজ নিজের ক্ষমতা পাকাপোক্ত করতেই এমন অভিযান শুরু করেছেন। কারণ আটকের তালিকায় রয়েছেন রাজ পরিবারেরই অনেক সদস্য, যারা অনেক সম্পদশালী। তাছাড়া রাজ পরিবারের বেশ কিছু সদস্যকে তাদের পদ থেকে সরিয়ে দেয়া হয়েছে।

দক্ষিণ আফ্রিকা নিয়ে শ্বেতাঙ্গ রাষ্ট্রের স্বপ্ন ছিল থ্যাচারের

যুক্তরাজ্যের সাবেক প্রধানমন্ত্রী মার্গারেট থ্যাচার দক্ষিণ আফ্রিকা নিয়ে শ্বেতাঙ্গ রাষ্ট্রের স্বপ্ন দেখতেন। তিনি বিশ্বাস করতেন দক্ষিণ আফ্রিকার স্রেফ শ্বেতাঙ্গ রাষ্ট্র হওয়া উচিত। মেইল অন সানডেতে প্রকাশিত দিনলিপিতে ব্রিটিশ ডিপ্লোম্যাটিক সার্ভিসের সাবেক প্রধান স্যার প্যাট্রিক রাইট চাঞ্চল্যকর এ তথ্য জানিয়েছেন।
প্যাট্রিক লিখেছেন, মার্গারেট থ্যাচার জার্মানদের ঘৃণা করতেন এবং তাদের পুনঃএকত্রীকরণে বিরোধী ছিলেন। এমনকি ভিয়েতনাম থেকে নৌকায় করে আসা লোকদের সাগরে ঠেলে দিতে চেয়েছিলেন তিনি। খবর দ্য ইন্ডিপেনডেন্টের। প্যাট্রিক দাবি করেছেন, ১৯১০ সালের প্রাক্কালে দক্ষিণ আফ্রিকার যে অবস্থা ছিল সেই পরিস্থিতি প্রত্যাশা করতেন থ্যাচার। দিনলিপিতে স্যার প্যাট্রিক লিখেছেন, আমন্ত্রণ পেয়ে তিনি থ্যাচারের সঙ্গে মধ্যাহ্নভোজে যোগ দিয়েছিলেন। আমাদের সামনে আফ্রিকান ন্যাশনাল কংগ্রেসের সভাপতি অলিভান টাম্বোকে নিয়ে লেখা একটি সংবাদের সমালোচনা দিয়ে তিনি আলোচনা শুরু করেছিলেন। তিনি বলেন, এটাই প্রমাণ করছে তার সঙ্গে আমাদের আলোচনা করা উচিত নয়।’ প্যাট্রিক আরও দাবি করেন, গোঁফওয়ালা পুরুষদের প্রতি এলার্জি ছিল থ্যাচারের, কারণ তারা দেখতে নাপিতের মতো। প্যাট্রিক জানান, ১৯১০ সালে প্রাক্কালে প্রতিবেশী কৃষ্ণাঙ্গ দেশগুলো থেকে বিচ্ছিন্ন অবস্থায় ছোট শ্বেতাঙ্গ রাষ্ট্র হিসেবে থাকা দক্ষিণ আফ্রিকার পরিস্থিতি ফিরে যাওয়ার ব্যাপারে তার দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেন থ্যাচার। মার্গারেট থ্যাচারের এ আকাক্সক্ষার ব্যাপারে স্যার প্যাট্রিক প্রশ্ন তুলে বলেছিলেন,
এর মাধ্যমে জাতিবিদ্বেষ ছড়াতে পারে। এসময় থ্যাচার ধমক দিয়ে উঠে তাকে বলেন, ‘আমাদের কৌশলগত স্বার্থের ব্যাপারে কি আপনার কোনো চিন্তা নেই?’ স্যার প্যাট্রিক আরও দাবি করেন, ১৯৮৯ সালে ভিয়েতনাম যুদ্ধের পর ৭০ হাজার ভিয়েতনামি তাদের দেশ থেকে পালিয়ে হংকং ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার পাঁচটি দেশে চলে আসে। ওই সময় সবচেয়ে বাজে পরিস্থিতিতে ছিলেন থ্যাচার। তিনি ওই ভিয়েতানামিদের ফেরত পাঠানোর এবং তাদেরকে সাগরের দিকে ঠেলে দেয়ার পক্ষে ছিলেন। প্যাট্রিকের ডায়েরিতে থ্যাচারের জার্মানিফোবিয়ার বিষয়েও উল্লেখ রয়েছে। তিনি লিখেছেন, থ্যাচার মনে করতেন জার্মান ভাষাভাষীরা সম্প্রদায়ের নিয়ন্ত্রণ নিতে যাচ্ছে। জার্মানির পুনঃএকত্রীকরণ বিষয়ে কোনো আলোচনাকে অশালীন বাচালতা মনে করতেন তিনি। প্যাট্রিক লিখেছেন, থ্যাচারের পররাষ্ট্রনীতির বিষয় তিনটি বিভাগের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল, সংসদীয় বিভাগ, স্বরাষ্ট্র বিভাগ ও বিদেশাতঙ্ক।

সংসদীয় আসনের সীমানা পুনর্নির্ধারণ

চলতি বছরের শেষের দিকে অনুষ্ঠেয় ১১তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সংসদীয় আসনের সীমানা পুনর্নির্ধারণের উদ্যোগ নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে ভোটারের সংখ্যা, প্রশাসনিক কাঠামো বিন্যাস ও বিভিন্ন বিষয় বিবেচনায় নিয়ে নির্বাচনী আসনের সীমানা পরিবর্তন ও পরিবর্ধন একটি রুটিন কাজ। তবে এটি যেন কম ঝামেলা ও বিতর্কযুক্ত হয়, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। অন্যথায় সংক্ষুব্ধ প্রার্থী, এলাকাবাসী বা যে কোনো স্টেকহোল্ডার আইনের আশ্রয় নিলে পুরো প্রক্রিয়া, এমনকি নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার মতো জরুরি বিষয় বিলম্বিত হয়ে পড়তে পারে। ফলে সীমান নির্ধারণের দায়িত্বে থাকা ইসির কমিশনার-কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট সবার সতর্ক থাকার বিকল্প নেই। জানা যায়, সংসদীয় আসনের সীমানা পুনর্নির্ধারণ সংশ্লিষ্ট কমিটির এক বৈঠকে শনিবার এ সংক্রান্ত প্রাথমিক তালিকা করা হয় এবং এ কাজে নিয়োজিত একটি প্রতিষ্ঠান ও এক ব্যক্তিকে খসড়া তালিকা তৈরির দায়িত্বও দেয়া হয়েছে। নির্বাচন কমিশন বলছে, সীমানা পুনর্নির্ধারণের ক্ষেত্রে উপজেলা ও সিটি কর্পোরেশনের ওয়ার্ডকে অখণ্ড রাখার ওপর জোর দেয়া হবে এবং জেলার বিদ্যমান আসন সংখ্যাতেও কোনো হেরফের হবে না। যদিও উপজেলা অখণ্ড রাখা হলে অন্তত ৬৩টি আসনের সীমানায় পরিবর্তন আসবে। অন্যদিকে সংসদীয় আসনের অবিভাজ্যতা ও জনসংখ্যার ভারসাম্য রক্ষা করতে হলে অন্তত ১০টি উপজেলার অখণ্ডতা রক্ষা সম্ভব হবে না। এছাড়া কিছু কিছু আসনের অনেক ইউনিয়ন অন্য আসনের আওতায় চলে যাবে।
কিছু আসনে যুক্ত হবে ভারতের সঙ্গে বিনিময় হয়ে পাওয়া ছিটমহল। যেহেতু বিষয়টি সম্ভাব্য এমপি প্রার্থীদের প্রচার-প্রচারণা, উন্নয়ন কর্মকাণ্ড এবং ভোটারদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দেয়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের সঙ্গে সম্পর্কিত, তাই এটিকে যতটা সম্ভব নির্ঝঞ্ঝাট রাখাসহ সংশ্লিষ্টদের দাবি-দাওয়াকে প্রাধান্য দেয়া যায়, তা নিশ্চিত করতে হবে। নির্বাচনী আসনের সীমানা পরিবর্তনে সর্বশেষ বড় ধরনের পরিবর্তন হয়েছিল ২০০৮ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়। তখন ১৩৩টি আসনের সীমানায় পরিবর্তন আনার পর ২০১৩ সালে জেলার আসন সংখ্যা ঠিক রেখে সামান্য পরিবর্তন আনা হয়। তারপর এবার বড় ধরনের পরিবর্তন হতে যাচ্ছে। বড় পরিবর্তনে বেশি সমস্যা তৈরি হওয়া অস্বাভাবিক নয়। তার ওপর কমিশন তার রোডম্যাপ অনুযায়ী এবার সীমানা নির্ধারণ করতে পারছে না বিধায় ১৯৭৬ সালের ‘ডিলিমিটেশন অর্ডিন্যান্স’ অনুযায়ী সেটি করতে যাচ্ছে। নির্বাচনের বছর হওয়ায় সীমানা নিয়ে তর্ক-বিতর্ক যেন সীমা ছাড়িয়ে না যায়, তা নিশ্চিত করতে রাজনৈতিক দলগুলোকেও বড় ভূমিকা রাখতে হবে। নির্বাচনকে সামনে রেখে গত বছর ইসির রোডম্যাপে বড় দুই দল- আওয়ামী লীগ ও বিএনপি যথাক্রমে বিদ্যমান সীমানা বহাল রাখা ও ২০০৮ সালের আগের সীমানায় ফিরে যাওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে। কিন্তু বাস্তবতার নিরিখে কারও প্রস্তাব মানাই ইসির পক্ষে যে সম্ভব হবে না, এটি তাদেরও জানা। ফলে ইসির পুনর্নির্ধারিত সীমানার তালিকা প্রকাশের পর আপিলে যে রায় আসবে তা মেনে নেয়ার মানসিকতা সম্ভাব্য প্রার্থী ও দলগুলোর থাকতে হবে। বর্তমানে রাজনৈতিক পরিস্থিতি সৌহার্দ্যপূর্ণ আছে। এটি বজায় রাখার জন্য ইসি, রাজনৈতিক দল ও প্রার্থী- সব পক্ষ ভারসাম্যমূলক পরিস্থিতি বজায় রাখলে নির্ধারিত সময় মার্চ-এপ্রিলের মধ্যে সীমানা পুনর্নির্ধারণ কাজ শেষ করা যাবে বলে আশা করা যায়।

‘শোন যুক্তিই আমার সৌন্দর্য’ by মিল্কি রেজা

শিল্প, শিক্ষা ও ক্যারিয়ার- যখন একই সরলরেখায় টানা যায়, তখন তা হয় অনবদ্য। বিতর্ক এমনই একটি শিল্প, যা আমাদের ব্যক্তিগত ও কর্মজীবনে বহু যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা এবং পারদর্শিতা তৈরিতে ভীষণভাবে সাহায্য করে। বিতর্ক শিল্পচর্চা শেখায়- কীভাবে নিজেকে, নিজের অঙ্গভঙ্গিকে সাবলীল ও সুন্দরভাবে উপস্থাপন করা যায়। শেখায় জড়তা দূর করতে। উচ্চারণ, শব্দশৈলী, বাক্যশৈলী ও আচরণের পরিচ্ছন্নতা চর্চা হয় বিতর্কের মাধ্যমে। সর্বোপরি শেখায় যুক্তি, ভিত্তি ও তথ্যনির্ভর আলোচনা বা চিন্তা করতে। আর যুক্তি মানেই সৌন্দর্য। যুক্তি মানেই সঠিক বিচার। পাশাপাশি অন্যের মতামতকে প্রাধান্য দেওয়া, অন্যকে সম্মান প্রদান, বিনয় এবং অন্যের কথা শুনতে পারার সৌন্দর্য অর্জিত হয় বিতর্কচর্চার মাধ্যমে। আর এ কারণেই শিক্ষা ও ক্যারিয়ারের সঙ্গে বিতর্ক শিল্পকে আলাদা করা সম্ভব নয় বর্তমান যুগসাপেক্ষে। যুগের চাহিদানুযায়ী, তৈরি হওয়ার ক্ষেত্রে বিতর্কচর্চার বিকল্প নেই। ব্যক্তিজীবনে যেমন প্রয়োজন আকর্ষণীয় ব্যক্তিত্ব, তেমনি চাকরির প্রতিটি ক্ষেত্রেই এখন সর্বগুণসম্পন্ন ব্যক্তিত্বের চাহিদা সর্বোচ্চ। তাই শিক্ষার এ মাধ্যমকে এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ এখন আর নেই। সব সুন্দরই শিল্প।
এভাবেই বিতর্ক- একই সঙ্গে শিল্প ও শিক্ষাকে একটি সরলরেখায় টেনেছে। বাংলাদেশের সর্বোপরি উন্নতির লক্ষ্যে যোগ্য মানবসম্পদ তৈরির হাতিয়ার হিসেবে বিতর্ক শিল্পকেই বেছে নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে- ন্যাশনাল ডিবেট ফেডারেশন বাংলাদেশ (এনডিএফ-বিডি)। এই বিতর্ক শিল্পকে তারা ছড়িয়ে দিয়েছে দেশের বিভিন্ন কোনে- এমনকি প্রান্তিক এলাকায় পর্যন্ত। হাজার হাজার উজ্জ্বল বিতর্ক শিল্পী একত্রিত হয়ে কাজ করছেন এ ছায়াতলে। নিজেদের তৈরি করার পাশাপাশি দেশের স্বার্থে কাজ করে যাচ্ছেন এ শিল্পীরা। এ যেন এক মেধাবীদের মেলা। প্রতিটি মুখই দেশের সম্পদ। ‘শোন যুক্তিই আমার সৌন্দর্য’- এ স্লোগান নিয়ে এগিয়ে চলেছে এই সংগঠন। দেশের প্রতিটি বিভাগে বিভাগীয় বিতর্ক উৎসব, মেডিকেল ডিবেট ফেস্টিভ্যাল, জেলাসমূহে কর্মশালা, স্কুলিং ও জাতীয় বিতর্ক উৎসবের মাধ্যমে বিতর্ক শিক্ষা প্রসার করে যাচ্ছে এনডিএফ-বিডি। সরকারি প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসন সবসময় আগ্রহ এবং ভালোবাসায় পাশে থেকেছে এসব উদ্যোগে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ডিবেটিং সোসাইটির একসময়ের সভাপতি একেএম শোয়েবের একান্ত প্রচেষ্টা ও পৃষ্ঠপোষকতায়ই গড়ে উঠে এ সংগঠন। চর্চার ধারাবাহিকতায় একে একে ১০টি জাতীয় বিতর্ক উৎসব সফলতার সঙ্গে সম্পন্ন করার পর আগামী ৯-১০ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ১১তম জাতীয় বিতর্ক উৎসব-২০১৮। আবারও দেশের হাজার হাজার শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণে এ বিতর্ক উৎসব অনুষ্ঠিত হবে বাংলাদেশ শিশু একাডেমিতে। বিতর্কের বিভিন্ন মাধ্যমের ওপর বিশেষ কর্মশালা, বিতর্ক প্রতিযোগিতা, কুইজ প্রতিযোগিতা, প্রয়োগ এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে সম্পন্ন হবে দুদিনের এ উৎসব।

কোষ্ঠকাঠিন্য মুক্তি দেবে ৫ খাবার

কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যায় কমবেশি অনেকেই ভুগে থাকেন।শিশু থেকে শুরু করে বয়োজ্যেষ্ঠদের কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা হয়ে থাকে। কোষ্ঠকাঠিন্য খুব বেশি মারাত্মক কিছু নয় যদি এর চিকিৎসা খুব দ্রুত করে ফেলা সম্ভব হয়। তা না হলে পাইলস হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়। তাই সাবধান থাকুন। অনেকে মনে করেন শুধু ওষুধ খেয়ে কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করা যায়।কিন্তু এটি সম্পূর্ণ ভুল ধারণা।যার ফলে আপনি পড়তে পারেন বিপাকে। আর ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া মোটেই ওষুধ খাওয়া ঠিক নয়। এমন কিছু খাবার আছে যা খেলে কোষ্ঠকাঠিন্য দূর হবে। প্রয়োজন পড়বে না ওষুধ খাওয়ার। আসুন জেনে নেই কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করার ৫ খাবার সম্পর্কে।এই ৫ খাবার খেলে কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা থেকে আপনাকে মুক্তি দেবে। প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় রাখুন এই খাবারগুলো এবং সুস্থ থাকুন।
১. কলমিশাক: কলমিশাক কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে সাহায্য করে।কলমিশাকের পাতা ও কাণ্ডে পর্যাপ্ত পরিমাণে আঁশ থাকে। আঁশ খাদ্য হজম, পরিপাক ও বিপাক ক্রিয়ায় সহায়তা করে। কলমিশাক খেলে কোষ্ঠকাঠিন্য দূর হয় এবং শরীর সুস্থ থাকে।
২. কলা: কেলা কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে। কলাতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার, যা এর পটাশিয়াম বৃহদান্ত্র ও ক্ষুদ্রান্ত্রের কর্মক্ষমতা বাড়ায়।
৩. গাজর: গাজর একটি পরিচিত সবজি যা হাতের কাছেই পাওয়া যায়। অনেকের প্রিয় এই সবজিটি প্রাকৃতিক ডায়াটেরি ফাইবারের বেশ ভালো উৎস। মাত্র আধা ইঞ্চির ৭ খণ্ড গাজরে রয়েছে প্রায় ১.২ গ্রাম ফাইবার। প্রতিদিন গাজর খাওয়ার অভ্যাস কোষ্ঠকাঠিন্য থেকে মুক্তি মিলবে।
৫. শসা: শসার ডায়াটেরি ফাইবার শসাকে করে তোলে কোষ্ঠকাঠিন্য সমস্যার মহা ঔষধ। কারণ শসার বেশির ভাগ অংশই পানি দিয়ে তৈরি। তাই নিয়মিত শসা খেলে দূর হবে কোষ্ঠকাঠিন্য।
৫. পেয়ারা: কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে, ওজন কমাতে পেয়ারার জুরি নেই। তাই যারা পেটের সমস্যায় ভুগছেন তারা পেয়েরা খেতে পারেন।
ঢামেক টেলিমেডিসিন বিভাগের কো-অর্ডিনেটর সহযোগী অধ্যাপক।

রক্তদান আরও সহজ করেছে ফেসবুক

নিরাপদ রক্ত পেতে জনগণের জন্য রক্তদান প্রক্রিয়া আরও সহজ করেছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক। এজন্য সোমবার একটি রক্তদান কর্মসূচি উদ্বোধন করেছে ফেসবুক। ফেসবুক হেল্থের প্রডাক্ট লিডার হেমা বুদারাজু বলেন, বিশ্বের অনেক দেশের মতো বাংলাদেশেও নিরাপদ রক্তের ঘাটতি রয়েছে। রোগী এবং তার পরিবারের সদস্যদের নিরাপদ রক্ত সংগ্রহ করতে অনেক ঝক্কি-ঝামেলা পোহাতে হয়। তারা যাতে চাহিদামতো প্রয়োজনীয় নিরাপদ রক্ত পেতে পারে এ জন্য ফেসবুক আরও সহজ ও কার্যকরভাবে রক্তদাতা এবং গ্রহীতাকে খুঁজে পেতে একটি ফিচার চালু করেছে। তিনি বলেন, আমরা অলাভজনক প্রতিষ্ঠান, স্বাস্থ্য খাত বিশেষজ্ঞ, গুরুত্বপূর্ণ দাতারা এবং জনগণের সঙ্গে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করছি। রক্তদাতাদের খুঁজে বের করতে যারা ফেসবুক ব্যবহার করে,
তাদের সুবিধার্থে এই ফিচারটি ডিজাইন করা হয়েছে। হেমা বলেন, রক্তদাতাদের উৎসাহিত করার জন্য ফেসবুক নিউজ ফিডে একটি বার্তা থাকবে। ব্যবহারকারী সাইনআপ করার জন্য প্রোফাইল এডিট করতে পারবে। ব্যবহারকারীদের সব তথ্য গোপনীয় থাকবে এবং বাই ডিফল্ট শুধু অনলি মি সেট করা থাকবে। কিন্তু জনগণ তার রক্তের অবস্থা বা ব্ল্যাড ডোনার স্ট্যাটাস শেয়ার করতে পারবে। ফিচারটি সম্পর্কে এনড্রয়েট, আইওএস এবং বাংলাদেশিরা ফেসবুক.কম/ডোনেট ব্ল্যাড এ গিয়ে বিস্তারিত জানতে পারবে এবং একজন ব্ল্যাড ডোনার হিসেবে সাইনআপ করতে পারবে। ফেসবুকের সাউথ এশিয়া প্রোগ্রাম হেড রিতেশ মেহেতা বলেন, আমরা আশা করছি, জনগণের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং বাংলাদেশে রক্তদাতার সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় ব্যক্তিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক রক্তদান ও গ্রহণ কার্যক্রম আরও সহজ হবে, যা আগে সম্ভব ছিল না।