Showing posts with label নেদারল্যান্ডস. Show all posts
Showing posts with label নেদারল্যান্ডস. Show all posts

Tuesday, October 7, 2025

ট্রাম্পের প্রস্তাবে হামাসের সম্মতির পরও ১০০ ফিলিস্তিনিকে হত্যা করলো ইসরাইল

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের শান্তি প্রস্তাবে হামাস সম্মতি দিলেও ইসরাইলি বাহিনীর আগ্রাসন বন্ধ হয়নি। শুক্রবার পর থেকে এ পর্যন্ত ১০০ ফিলিস্তিনিকে হত্যা করেছে দখলদাররা। এ খবর দিয়েছে মিডল ইস্ট আই। এতে বলা হয়েছে, সপ্তাহান্তে গাজায় ভয়াবহ বোমা হামলা চালানো হয়েছে। এর মধ্যে আবাসিক এলাকা, শরণার্থী শিবির ও ত্রাণ বিতরণ কেন্দ্রও রয়েছে।  গাজা সিটির বাসিন্দারা আল জালা ও অন্য এলাকার বাড়িগুলোকে লক্ষ্য করে হামলা চালানোর কথাও জানিয়েছেন। গাজা ভিত্তিক সরকারি মিডিয়া অফিস জানিয়েছে, শনি ও রোববারে কমপক্ষে ৯৪ জনকে হত্যা করা হয়েছে। সোমবার আরও সাতজনকে হত্যা করেছে দখলদাররা। ইসরাইলি বাহিনী সপ্তাহান্তে ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় ভয়াবহ হামলা চালিয়েছে। সোমবার গ্রিক অর্থোডক্স স্কুলে হামলা চালানো হয়েছে। এতে বেশ কয়েকজন হতাহত হয়েছে। এছাড়া খান ইউনিসে একটি ত্রাণ বিতরণ কেন্দ্রেও হামলা চালানো হয়েছে। একই দিনে অপুষ্টিতে প্রাণ হারিয়েছেন আরও এক ফিলিস্তিনি। এ নিয়ে উপত্যকাটিতে অপুষ্টিতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪৬০ জনে।
গাজার সমর্থনে নেদারল্যান্ডে আড়াই লাখ মানুষের বিক্ষোভ
ইসরাইল ইস্যুতে কঠোর হওয়ার জন্য ডাচ সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে জনতা। এ জন্য রোববার আমস্টারডামে কমপক্ষে আড়াই লাখ মানুষ প্রতিবাদ বিক্ষোভ করে। তারা গাজায় গণহত্যার সঙ্গে সহিংসতা বন্ধের আহ্বান জানায়। একই সঙ্গে ইসরাইলের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানায়। এ খবর দিয়েছে অনলাইন ডাচ নিউজ। তারা বলেন, ডাচ সরকার পদক্ষেপ না নেয়ার মধ্য দিয়ে ‘রেড লাইন’ বা চূড়ান্ত সীমা অতিক্রম করেছে। এ জন্য বিক্ষোভকারীরা এদিন লাল পোশাক পরে অংশ নেন। মিউজিয়ামপ্লেইন এবং এর আশপাশের এলাকা বিক্ষোভকারীতে কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায়।
তাদের হাতে ছিল ফিলিস্তিনি পতাকা ও প্লাকার্ড। বিক্ষোভ শুরুর কমপক্ষে আড়াই ঘন্টা পরে তারা মিউজিয়ামপ্লেইন ত্যাগ করেন। সেখান থেকে ভন্ডেলপার্কগামী সড়ক ধরে বিক্ষোভ অগ্রসর হতে থাকে। বিক্ষোভকারী ডেবোরা ডাচ নিউজকে বলেন, মনে করি না যে এককভাবে আমি কোনো কিছু করতে পারবো। কিন্তু যখন সবাই একত্রিত হন, বিশাল একটি গ্রুপে পরিণত হয়। তখন বিশ্ব দেখতে পায় বহু মানুষ আসলেই বিষয়টি নিয়ে ভাবছে। অনেক পরিবারের সদস্যরা তাদের ছোট ছোট বাচ্চাদের সঙ্গে নিয়ে যোগ দেন বিক্ষোভে। তাদের হাতে ছিল ফিলিস্তিনের ছোট ছোট পতাকা। তারা লাল স্কার্ফ ও রেইনকোট পরিহিত প্রবীণ দম্পতিদের পাশাপাশি হেঁটে যেতে থাকে। তরুণ বিক্ষোভকারীদের হাতে ছিল বাসায় তৈরি প্লাকার্ড। তাতে লেখা- ‘নো পিস উইদাউট জাস্টিস’। অর্থাৎ ন্যায়বিচার ছাড়া কোনোদিন শান্তি আসে না।
বিক্ষোভের সময় ভবনগুলোর মধ্যে ‘ফ্রি প্যালেস্টাইন’ ধ্বনি প্রতিধ্বনি তোলে। ব্যস্ত মার্কেটগুলো থেকে জনতা জানালায় দাঁড়িয়ে বিক্ষোভ দর্শন করে। একজন তরুণের টি-শার্টে লেখা ছিল- ‘১৬,৩৮২ জন শিক্ষার্থীকে হত্যা করা হয়েছে’। একজন বালিকা একটি কালো প্লাকার্ড বহন করছিল। তাতে লেখা- আপনার নীরবতাই হলো সহিংসতা, নিজেকে শিক্ষিত করে তুলুন। অন্য এক বিক্ষোভকারী বলেন, ইসরাইলে বড় মাত্রায় বিনিয়োগকারী নেদারল্যান্ডস। তাদের কাছে আমরা একটি বার্তা পাঠাতে পারি যে, আসলেই এ বিষয়টি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সরকারকে অবশ্যই ব্যবস্থা নিতে হবে। সম্প্রচার মাধ্যম এনওএসের মতে, এই বিক্ষোভে যোগ দিয়েছেন ইহুদি সম্প্রদায়ের বেশ কয়েকটি গ্রুপ।
তারা এর মধ্য দিয়ে এটাই বুঝাতে চান যে, ইসরাইলি নীতি পুরো ইহুদি সম্প্রদায়ের দৃষ্টিভঙ্গি নয়। ডাচ রেল অপারেটর এনএস বলেছে, আমস্টারডামে আগত মানুষের চলাচল ঠিক করতে তাদেরকে ট্রেনে বগি বাড়াতে হয়েছে। সেখানে মেট্রো সার্ভিসও বাড়ানো হয়। তবে ট্রাম সার্ভিস ব্যাপকভাবে বিঘ্নিত হয়েছে। উল্লেখ্য, এই প্রতিবাদ বিক্ষোভ আয়োজন করে কমপক্ষে ১৩০টি গ্রুপ। এর মধ্যে আছে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল, অক্সফাম নোভিব, প্যাক্ট এবং দ্য রাইটস ফোরাম।
https://mzamin.com/uploads/news/main/183422_Lima-5.webp

Wednesday, July 9, 2025

১ লাখ ২৫ হাজার বছর আগে মানুষের তৈরি ‘চর্বির কারখানার’ সন্ধান

এক-দুই হাজার নয়, ১ লাখ ২৫ হাজার বছর আগের কথা। তখন পৃথিবীতে বাস করত আমাদেরই পূর্বপুরুষ—প্রস্তর যুগের মানুষেরা। সেই সময় জার্মানিতে একটি লেকের ধারে তাদের বসবাসের চিহ্ন পাওয়া গেছে। সেখানে পশুর হাড় থেকে চর্বি সংগ্রহ করত তারা। এ জন্য ছিল বিশাল প্রক্রিয়াকরণব্যবস্থা। বিজ্ঞানীরা এর নাম দিয়েছেন ‘ফ্যাট ফ্যাক্টরি’ বা ‘চর্বির কারখানা’।

এ নিয়ে বিজ্ঞানবিষয়ক সাময়িকী ‘সায়েন্স অ্যাডভান্স’-এ গত বুধবার এক গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। তাতে বলা হয়েছে, জার্মানির হ্যালে শহরের দক্ষিণে নিউমার্ক-নর্ড এলাকায় কয়েক বছর ধরে খোঁড়াখুঁড়ি করে এই ‘কারখানার’ সন্ধান পাওয়া গেছে। সেখানে মিলেছে প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার হাড়ের টুকরা এবং ১৬ হাজার পাথরের সরঞ্জাম। চর্বি সংগ্রহের কাজে আগুন ব্যবহারের প্রমাণও মিলেছে।

গবেষকদের বিশ্বাস, সোয়া লাখ বছর আগের ওই মানুষেরা ছিল বিলুপ্ত নিয়ান্ডারথাল প্রজাতির। জার্মানির ওই লেকের ধারে তারা পাথরের হাতুড়ি দিয়ে পশুর বড় হাড় চূর্ণ করত। তারপর সেগুলো ফোটানো হতো পানিতে। একপর্যায়ে হাড় থেকে আলাদা হয়ে চর্বি পানির ওপর ভেসে উঠলে, তা সংগ্রহ করে সংরক্ষণ করত তারা। এ থেকে বোঝা যায়, পুষ্টির বিষয়ে বেশ সচেতন ছিল নিয়ান্ডারথালরা।

বিজ্ঞানীরা বলছেন, মানুষের সুষম খাবারে সামান্য পরিমাণ চর্বির আবশ্যকতা রয়েছে। এই চর্বি নিয়ান্ডারথালদের জন্য আরও বেশি জরুরি ছিল। কারণ, পশুপাখি শিকার করতে তাদের অনেক শক্তি খরচ করতে হতো। তারা মূলত পশুপাখি থেকে পাওয়া খাবার খেয়েই বেঁচে থাকত। ফলে মাংস ও ফ্যাটি অ্যাসিডের ঘাটতি হলে নিয়ান্ডারথালদের অপুষ্টিতে ভোগার বড় ঝুঁকি ছিল।

ইউরোশিয়া অঞ্চলে বসবাসকারী নিয়ান্ডারথালরা ৪০ হাজার বছর আগে বিলুপ্ত হয়ে যায়। জার্মানির নিউমার্ক-নর্ড এলাকায় ৩০০ বছরের বেশি সময় তাদের বসবাস ছিল। নেদারল্যান্ডসের লেইডেন ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক উইল রোয়েব্রোকস বলেন, নিয়ান্ডারথালরা বোকা ছিল বলে একটি ধারণা রয়েছে। তবে তাদের বিষয়ে নতুন যে তথ্য পাওয়া গেছে, তা অন্য কিছু প্রমাণ করছে।

ক্রোয়েশিয়ার একটি মিউজিয়ামে নিয়ান্ডারথাল পরিবারের প্রতিকৃতি
ক্রোয়েশিয়ার একটি মিউজিয়ামে নিয়ান্ডারথাল পরিবারের প্রতিকৃতি। ফাইল ছবি: রয়টার্স

Saturday, November 9, 2024

আমস্টারডামে ইসরায়েলিদের ওপর হামলা: হামলাকারীরা ‘ইহুদি, আইডিএফ’ বলে চিৎকার করছিল

নেদারল্যান্ডসের রাজধানী আমস্টারডামে স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার রাতে ইসরায়েলি ফুটবল সমর্থকদের ওপর হামলার ধরনকে আঘাত করে পালিয়ে যাওয়া (হিট-অ্যান্ড-রান) ধরনের হামলা বলে বর্ণনা করেছে পুলিশ। হামলাকারীরা স্কুটারে করে এসে আঘাত করে দ্রুত চলে যাওয়ায় হামলা রোধ করা যায়নি বলে জানিয়েছেন তাঁরা।

বৃহস্পতিবার রাতে ইসরায়েলের ফুটবল ক্লাব ম্যাকাবি তেল আবিবের যেসব সমর্থক হামলার শিকার হয়েছেন, তাঁদের একজন আদি রুবেন (২৪)। ইউরোপা লিগে ম্যাকাবি তেল আবিব বনাম অ্যাজাক্স আমস্টারডামের খেলা দেখার জন্য রুবেন আমস্টারডামে গিয়েছিলেন। তিনি বিবিসিকে জানান, (ম্যাচ শেষে) তিনি হোটেলের দিকে যাচ্ছিলেন। এ সময় একদল যুবক এসে তাঁর গতিরোধ করে তাঁকে মেঝেতে ফেলে লাথি মারতে থাকেন। রুবেন ও তাঁর বন্ধুদের যাঁরা গতিরোধ করেছিলেন তাঁদের সংখ্যা ১০ জনের বেশি। হামলাকারীরা তাঁদের কাছে জানতে চান, তাঁরা কোথা থেকে এসেছেন?
ইসরায়েলি সেনাবাহিনীকে বুঝিয়ে ‘তাঁরা ইহুদি, ইহুদি, আইডিএফ, আইডিএফ’ বলে চিৎকার করেন বলেও জানান রুবেন। ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনী সংক্ষেপে আইডিএফ নামে পরিচিত।

রুবেন বলেন, ‘তাঁরা আমার সঙ্গে হাঙ্গামা শুরু করেন। তখন আমি বুঝতে পারলাম, আমাকে পালাতে হবে। কিন্তু চারদিকে অন্ধকার ছিল এবং আমি বুঝতে পারছিলাম না কোন দিকে যাব। একপর্যায়ে আমি মেঝেতে পড়ে যাই। ১০ জন মিলে আমাকে লাথি মারতে থাকেন। তাঁরা জোরে জোরে ফিলিস্তিন শব্দটি উচ্চারণ করছিলেন।’

হামলাকারীরা এক মিনিটের মতো সময় ধরে তাঁকে লাথি মারতে থাকেন বলে জানান রুবেন। তিনি জানান, লাথি মারার পর তাঁরা হেঁটে চলে যান। তাঁরা কোনো কিছুর ভয় পাচ্ছিলেন না।

রুবেন বলেন, ‘আমি বুঝতে পারছিলাম, আমার নাক রক্তে ভরে গেছে। আমার নাক ভেঙে গিয়েছিল। আমার খুব কষ্ট হচ্ছিল।’

আঘাতের পর প্রায় ৩০ মিনিট কোনো কিছু স্পষ্ট করে দেখতে পাচ্ছিলেন না রুবেন; কিন্তু তিনি আমস্টারডামের কোনো হাসপাতালে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। কারণ তিনি শুনেছিলেন, ওই সহিংসতার সঙ্গে ট্যাক্সিচালকেরা জড়িত ছিলেন।
তাই আমস্টারডামের হাসপাতালে না গিয়ে স্থানীয় সময় শুক্রবার বিকেলে একটি ফ্লাইটে করে ইসরায়েলে এসে চিকিৎসা নিয়েছেন বলে জানান রুবেন। তিনি মনে করেন, আগে থেকে পরিকল্পনা করে সংগঠিতভাবেই এই হামলা চালানো হয়েছে।

ম্যাকাবি তেল আবিবের আরেক সমর্থক পিনাও বৃহস্পতিবার রাতের হামলাকে পূর্বপরিকল্পিত বলে বর্ণনা করেছেন। নেদারল্যান্ডসের সংবাদমাধ্যম এনওএসকে তিনি বলেন, ‘মনে হয়েছে, সংঘবদ্ধভাবে এই হামলা চালানো হয়েছে। অনেক মানুষ এসেছিল। তারা আমাদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েছিল। বাইরে যেতে নিরাপদ বোধ না করা পর্যন্ত আমরা হোটেলে লুকিয়ে ছিলাম।’

আমস্টারডামেই বসবাস করেন সাপ্তাহিক সংবাদপত্র ডাচ জিউশ–এর সম্পাদক এস্থার ভোয়েট। তিনি জানান, সহিংসতার ভিডিও দেখে তিনি তাঁর বাসার দরজা ইসরায়েলি ফুটবল সমর্থকদের জন্য খুলে দেন। ইসরায়েলের সম্প্রচারমাধ্যম কানকে তিনি বলেন, ‘আমি তাঁদের বলেছিলাম, এটা একজন ইহুদির বাসা। আপনারা এখানে নিরাপদ। মানুষগুলো সত্যিই খুব ভয় পেয়ে গিয়েছিল। আমি কখনো ভাবিনি, আমস্টারডামে এমন কিছুর ভেতর দিয়ে যেতে হবে।’

ডাচ পুলিশ জানায়, ইসরায়েলি ফুটবল সমর্থকেরা গুরুতর নিপীড়নের শিকার হয়েছেন। হামলাকারীদের মধ্যে অনেকে ছিলেন তরুণ। তাঁরা স্কুটারে এসে হামলা চালিয়েছিলেন।

আমস্টারডামের পুলিশপ্রধান পিটার হোল্লা বলেন, শহরের কেন্দ্রস্থলেই অনেক পুলিশ থাকলেও এ ধরনের হামলা ঠেকানো কঠিন হয়ে পড়েছিল। পুলিশ শেষ পর্যন্ত ম্যাকাবি ক্লাবের সমর্থকদের এক জায়গায় করার ও সুরক্ষা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। পরবর্তী সময়ে গাড়িতে করে তাঁদের ওই এলাকা থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়।

পিটার হোল্লা জানান, পাঁচজন আহত হয়েছিলেন। তবে চিকিৎসা নিয়ে তাঁরা হাসপাতাল ত্যাগ করেছেন। এ ছাড়া আরও ২০ থেকে ৩০ জন সামান্য আঘাত পেয়েছেন।

আমস্টারডামের জোহান ক্রুইফ এলাকায় বৃহস্পতিবার ইসরায়েলের ফুটবল ক্লাব ম্যাকাবি তেল আবিব ও অ্যাজাক্স আমস্টারডামের মধ্যে ইউরোপা লিগের খেলা ছিল। এ ম্যাচে অ্যাজাক্স আমস্টারডাম ৫-০ গোলে জয়ী হয়। খেলা শেষে বৃহস্পতিবার রাতে ওই এলাকায় সংঘাত শুরু হয়।

এই হামলাকে নেদারল্যান্ডস ও ইসরায়েলের শীর্ষ নেতারা ইহুদিবিদ্বেষী বলে তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। ইসরায়েলি সমর্থকদের দেশে ফিরিয়ে আনতে শুক্রবার সকালে নেদারল্যান্ডসে দুটি উড়োজাহাজ পাঠান নেতানিয়াহু। ম্যাকাবির খেলোয়াড় ও অনেক সমর্থক এরই মধ্যে ইসরায়েলে ফিরে এসেছেন।  
হামলার পটভূমি

নেদারল্যান্ডসের সরকারি কর্মকর্তারা জানান, ম্যাকাবি তেল আবিব ক্লাবের সমর্থক ও আমস্টারডামের বাসিন্দাদের মধ্যে কয়েক দিন ধরে উত্তেজনা চলছিল। তারপর এই হামলা হয়েছে।

পুলিশপ্রধান হোল্লা জানান, বুধবার ম্যাকাবির সমর্থকেরা একটি ট্যাক্সিতে হামলা চালায় এবং ফিলিস্তিনের একটি পতাকা পুড়িয়ে দেয়। এ ঘটনার পর ট্যাক্সি চালকেরা ম্যাকাবি সমর্থকেরা অবস্থান নিয়েছে এমন একটি স্থানের দিকে যাওয়ার চেষ্টা করেন। সেখানে ক্লাবটির প্রায় ৪০০ সমর্থক ছিলেন; কিন্তু পুলিশ তাঁদের ওই স্থান থেকে নিরাপদে সরিয়ে নিতে পেরেছিল। এরপর বুধবার দিবাগত রাতে শহরের ড্যাম স্কয়ারেও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। কিন্তু তখন পুলিশ মোটাদাগে দুই পক্ষকে দূরে সরিয়ে রাখতে পেরেছিল।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় খেলা শুরু হওয়ার আগে পুলিশ পাহারায় ফিলিস্তিনপন্থী বিক্ষোভকারীরা মিছিল করেন। অদূরে ইসরায়েলি সমর্থকেরা থাকলেও পুলিশের উপস্থিতির কারণে তখন কোনো সংঘাত হয়নি; কিন্তু খেলা পরবর্তী হামলা ঠেকাতে পারেনি পুলিশ।

আমস্টারডামের মেয়র ফেমকে হালসেমা বলেন, ‘মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ আমাদের শহরের শান্তিকে হুমকির মুখে ফেলেছে। এটা ইহুদিবিদ্বেষের এক ভয়ানক বিস্ফোরণ।’
মেয়র বলেন, ম্যাকাবি তেল আবিবের সমর্থকেরা সহিংসতা করতে পারে, এমন ধারণা ছিল না। ম্যাকাবি তেল আবিব ও অ্যাজাক্স আমস্টারডামের সমর্থকদের মধ্যে কোনো শত্রুতাও ছিল না।  

ম্যাকাবির কিছু সমর্থক ইসরায়েলে বিভিন্ন বর্ণবিদ্বেষী ঘটনার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তাঁদের ক্লাবটির ফিলিস্তিনি ও আরব খেলোয়াড়দের কটূক্তি করতে দেখা গেছে। ওই সব খেলোয়াড়কে ক্লাব থেকে বাদ দিতে তারা চাপ তৈরি করেছিলেন, এমন কথাও শোনা গেছে।

ম্যাকাবির সমর্থকেরা প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে বিক্ষোভকারীদের ওপরও ইতিপূর্বে হামলা চালিয়েছিলেন।

একটি ভিডিওতে আমস্টারডামে ম্যাকাবি তেল আবিবের সমর্থকদের আক্রমণাত্মক স্লোগান দিতে দেখা গেছে। এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে মেয়র হালসেমা বলেন, গত (বৃহস্পতিবার) রাতে যা ঘটেছে, সেটার সঙ্গে বিক্ষোভের কোনো সম্পর্ক নেই। যা ঘটছে সেটার জন্য কোনো অজুহাত দেওয়া যায় না।

 ইসরায়েলের ম্যাকাবি তেল আবিব ক্লাবের সদস্য ও আমস্টারডামের কিছু বাসিন্দার মধ্যে বুধবার থেকে উত্তেজনা বিরাজ করছিল
ইসরায়েলের ম্যাকাবি তেল আবিব ক্লাবের সদস্য ও আমস্টারডামের কিছু বাসিন্দার মধ্যে বুধবার থেকে উত্তেজনা বিরাজ করছিল। ছবি : রয়টার্স

হামলার পর একটি বিশেষ ফ্লাইটে নেদারল্যান্ডস থেকে ইসরায়েলের ম্যাকাবি তেল আবিব ক্লাবের সদস্যদের নিয়ে আসা হয়। ইসরায়েলের বেন গুরিওন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ম্যাকাবি তেল আবিব খেলোয়াড় ইসুফ সিসোখো
হামলার পর একটি বিশেষ ফ্লাইটে নেদারল্যান্ডস থেকে ইসরায়েলের ম্যাকাবি তেল আবিব ক্লাবের সদস্যদের নিয়ে আসা হয়। ইসরায়েলের বেন গুরিওন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ম্যাকাবি তেল আবিব খেলোয়াড় ইসুফ সিসোখো ছবি : রয়টার্স