Tuesday, March 18, 2025
ফুটবলের নতুন ইতিহাস রচনায় ইপিএল তারকা হামজা চৌধুরী সিলেটে by ওয়েছ খছরু
সিলেটে হামজাকে রিসিভ করতে আসা বাফুফের এক কর্মকর্তা জানালেন, এতোটা আশাবাদী ছিলাম না। হামজা আসবে। দেশের কথা শুনলেই অনেকেই চোখ ফিরিয়ে নেন। কিন্তু হামজা ব্যতিক্রম। বাংলাদেশের হয়ে খেলার প্রস্তাবে সাড়া দিলেন একটু ভেবে চিন্তে। সেখানে দেশকেই দিলেন প্রাধান্য। নাগরিকত্ব জটিলতা কাটিয়ে হামজা হয়ে উঠেন বাংলাদেশের একজন। এখন তিনি বাংলাদেশ ফুটবলের মহাতারকা। ছোটবেলায় পিতা মোর্শেদ দেওয়ান চৌধুরীর সঙ্গে দেশে এসেছিলেন। এবার এলেন বহুদিন পর। তারকা হয়ে। বাংলাদেশের মুখ উজ্জল করতে তার এই আসা। তার উদ্দেশ্য আগামী ২৫ শে মার্চ ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে লাল সবুজের জার্সি গায়ে জড়ানো।
দিন-ক্ষণ ঠিক হওয়ার পর হামজা চৌধুরীর জন্য সিলেটে কেবল অপেক্ষা। দেখতে দেখতে এলো সেই মাহেন্দ্রক্ষণ। ১৭ই মার্চ ২০২৫। দিনটি স্মরণীয় হয়ে থাকতে পারে বাংলাদেশের ফুটবলে। ইংলিশ প্রিমিয়ার লীগে খেলা কোনো বাংলাদেশি বিশেষ করে সিলেটি নিজের দেশের হয়ে খেলতে প্রথম পা রাখেন দেশের মাটিতে। বেলা তখন ১১টা। সিলেট ওসমানী আর্ন্তজাতিক বিমানবন্দর। ওসমানী এয়ারপোর্টের আকাশ তখন রৌদ্রজ্জল। এয়ারপোর্টে সামনে উৎসবের আমেজ। লাল-সবুজের জার্সি গায়ে অনেকেই উপস্থিত। জার্সি গায়ে ব্যান্ড পার্টির তালে তালে নাচছেন তরুণরা। দিনটি তাদের কাছে স্বপ্নের মতো। রং ছিটানোর দিন। কেউ কেউ রং হাতে নিয়ে উপস্থিত। ছিটাচ্ছেন তরুণদের মধ্যে। অন্য এক আবেগ। সবার চোখ আকাশের দিকে। কিছু একটা খুঁজছেন সবাই। এমন সময় আকাশের গায়ে ভেসে উঠলো ছোট্ট একটি বিমান। কাগুজের তৈরি বিমানের ফ্লাইট যেনো আকাশে উড়ছে। দেখতে দেখতে সেটি কাছে আসছে। বড় হচ্ছে। বাংলাদেশ বিমানের লেটেস্টে ভার্সন ৭৮৭ এর একটি বিমান। লন্ডন থেকে সোজা উড়ে আসছে সিলেটে। ১১ ঘণ্টার জার্নিতে ‘ক্লান্ত’ বিমান যখন ছুলো ওসমানীর মাটি তখন অন্য ধরনের এক অনুভুতি ছুঁয়ে যায় এয়ারপোর্টে।
বাদ্যযন্ত্রের তালে তালে ‘হামজা হামজা’ বলে চিৎকার শুরু করেন তরুণরা। সাংবাদিকরা প্রস্তুত হচ্ছেন। এয়ারপোর্টে ভিড় বেশি। অনেকেই এসেছে একনজর হামজাকে দেখতে। বাফুফে কর্মকর্তা গেলেন ভেতরে। খবর এলো হামজাই এসেছেন। সঙ্গে পরিবারের সদস্যরা। কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে হামজাকে নিয়ে আসা হলো ভিআইপি লাউঞ্জে।
খানিক সময় নিয়ে বাফুফে কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিয়ে ভিআইপি’র ফটক দিয়ে বাইরে বের হলেন হামজা। হাসিমাখা মুখ। সহজ-সরল ভঙ্গি। হাত তুলে অভিবাদন জানালেন। একটু লাজুকতা দেখালেন। তাকে দেখে উপস্থিত থাকা ভক্তরা ‘হামজা’ ‘হামজা’ বলে স্লোগান ধরলেন। ভিড়, ঠেলাঠেলি সবই হচ্ছে। হামজা এসে দাঁড়ালেন মিডিয়ার সামনে। ক্রাউড বেশি থাকায় কথা শুনছিলেন না। সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে বারবারই বলছিলেন- কিছু বুঝছি না। প্রশ্ন শোনার জন্য মাথা এগিয়ে আনেন। প্রশ্ন শুনে বলে উঠেন- ‘ইনশাল্লাহ আমরা উইন খরমু। কোচের সঙ্গে কথা হয়েছে। তার সঙ্গে কাজ করে এগিয়ে যেতে পারবো।’
এর আগে যখন তিনি এয়ারপোর্টের বাইরের দৃশ্য দেখেন তখন বলে উঠেন- আ্যামাজিং, আ্যামাজিং। মাত্র কয়েকটি শব্দে বুঝা গেলো হামজা খুশী। এখন কাজ। কথা শেষ করে ফের ভিআইপিতে ঢুকে গেলেন। ততোক্ষণে বাইরে স্লোগানে আরো ভারী হচ্ছিলো। হামজা, হামজা বলে চিকৎকার করা হচ্ছিলো।
এক ফাঁকে বেরিয়ে আসেন হামজার পিতা হবিগঞ্জের বাহুবলের শ্মসানঘাটের সন্তান মোর্শেদ আহমদ চৌধুরী। সাংবাদিকের কাছে অনুভুতি জানাতে গিয়ে বলেন; হামজা দেশকে ভালোবাসে। সে ফুটবলের উন্নতি চায়। এর এই ভালোবাসা থেকে তার দেশে আসা। এজন্য তিনি দেশবাসীর কাছে দোয়াও চান। হামজার সঙ্গে এবার দেশে এসেছেন তার পরিবারের প্রায় সবাই। স্ত্রী ও সন্তানও। লাল-সবুজের জার্সি গায়ে অভিষিক্ত হচ্ছেন হামজা চৌধুরী। এটি দেখতেই লন্ডন থেকে একসঙ্গে পরিবারের সবার দেশে আসা। ছাদখোলা জিপে করে এয়ারপোর্টের ভিআইপি’র সামন থেকে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেন হামজা চৌধুরী। তখনও উৎসব চলছিলো বাইরে। হামজা সবার উদ্দেশ্যে হাত নেড়ে হাসি দিয়ে রওয়ানা দিলেন হবিগঞ্জের পথে।

Tuesday, March 11, 2025
বানিয়াচংয়ে ৬ বছরের শিশু ধর্ষণ: সন্তানের বিবস্ত্রতা দেখে মারা গেলেন বাবা
এ ঘটনায় পুলিশ অভিযান চালিয়ে ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার দায়ে দক্ষিণ যাত্রাপাশা এলাকার বনমুথুরা গ্রামের সাজমান মিয়ার ছেলে নোফায়েল মিয়া এবং একই এলাকার ফরিদ মিয়ার ছেলে শামীম মিয়া নামে ২জনকে আটক করেছে। জানা যায়, গত রোববার বিকালে শিশুটিকে ১০টাকার একটি নোট হাতে দিয়ে তাকে টানা-হেঁচড়া করে পার্শ্ববর্তী বার্নিতলা ডালীগাছ নামক জঙ্গলে নিয়ে ধর্ষণ করে দুই কিশোর। এ সময় শিশুটি জোরে চিৎকার করতে লাগলে আশপাশের লোকজন এসে শিশুটিকে জঙ্গল থেকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে বানিয়াচং উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। শিশুটির অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে হবিগঞ্জ সদর হাসপাতালে রেফার্ড করেন। বর্তমানে শিশুটি হবিগঞ্জ সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছে। এ বিষয়ে বানিয়াচং থানায় যোগাযোগ করা হলে বানিয়াচং থানার অফিসার ইনচার্জ গোলাম মোস্তফা ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন। বানিয়াচং থানায় একটি নিয়মিত ধর্ষনের মামলা দায়ের করা হয়েছে বলেও তিনি জানান। মামলাটির তদন্তের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে ইন্সপেক্টর (তদন্ত) মোঃ আব্দুর রহিমকে। ধর্ষনের একদিন অতিবাহিত হতে না হতেই ধর্ষনের শিকার শিশুটির অসুস্থ পিতা দুলাল মিয়া নিজ বাড়িতে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। এ সংবাদে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। অনেকের ধারণা মেয়ের এ অবস্থা দেখে অসুস্থ পিতা দুলাল মিয়া মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন। যার দরুন হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। এদিকে দুলাল মিয়ার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন বিএনপির চেয়ারপারসন এর উপদেষ্টা ডা. সাখাওয়াত হাসান জীবন। পাশাপাশি ধর্ষণের শিকার শিশুটির যাবতীয় চিকিৎসা ব্যয় এবং মামলা সংক্রান্ত সকল বিষয়ে সহযোগিতার আশ্বাসও দিয়েছেন তিনি।

Thursday, October 24, 2024
একমাত্র ভাই ‘নয়নকে’ হারিয়ে শোকে কাতর পরিবার
তিনি বলেন, সেই যে আমার ছেলে ঘর থেকে বের হয়ে গেল, তারপর রাতে বাড়ি ফিরে এলো লাশ হয়ে। গত ৫ই আগস্ট বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় বানিয়াচংয়ে নিহত হন অটোরিকশাচালক শেখ নয়ন। বানিয়াচং উপজেলার কামালখানি গ্রামের মৃত আলী হোসেনের ছেলে নয়ন। ছয় বোন এক ভাইয়ের মধ্যে নয়ন চতুর্থ। দুই বোনের বিয়ে হয়ে গেছে। ছোট দুই বোন তোহা আক্তার ও সুমনী আক্তার স্কুলে লেখাপড়া করে। তাদের লেখাপড়ার খরচ জোগাতে পরিবারকে হিমশিম খেতে হচ্ছে এখন।
অপরদিকে আইরিন ও রুহিন দুই বোন বিয়ের উপযুক্ত। নয়নের বাবা মারা যান প্রায় ৪ বছর আগে। সংসারের একমাত্র উপার্জনক্ষম সদস্য ছিলেন নয়ন। ব্র্যাক এনজিও থেকে কিস্তিতে টাকা তুলে একটি টমটম অটোরিকশা কিনেছিলেন। সেই টমটমের রোজগার দিয়েই চলতো সংসার। এক শতক জায়গার ওপর আধাপাকা একটি বসতঘর তাদের। সেই ঘরের অর্ধেক মালিক চাচা আর অর্ধেক নয়নরা। নয়নকে হারিয়ে শোকে কাতর তার ছয় বোন। এখনও ভাই হারানোর শোক কাটিয়ে উঠতে পারছেন না তারা। সরজমিন দেখা যায়, নয়নকে হারিয়ে মা ঝরনা বেগম এখন পাগলপ্রায়। বারবার ছেলের কথা বলে হাউমাউ করে কেঁদে উঠছেন। স্থানীয়রা জানান, নয়ন ছোটবেলা থেকেই পরিবারের হাল ধরেছে। এক শতক জায়গার ওপর ভাগাভাগি করা টিনশেডের একটি ঘর ছাড়া আর কিছুই নেই তাদের। অভাব-অনটনের কারণে লেখাপড়া করতে পারেনি। সরকারের কাছে দাবি- এই অসহায় পরিবারটিকে যেন একটি কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে দেয়া হয়। নয়নের ছোট বোন চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রী সুমনী আক্তার বলে, আমার ভাই প্রতিদিন রাতে বাড়িতে আসার সময় আমার জন্য আলাদা করে চানাচুর ও চকোলেট নিয়ে আসত। ভাই মারা যাওয়ার পর এখন আর কেউ এনে দেয় না। নয়নের মা ঝরনা বেগম বলেন, ৫ই আগস্ট সোমবার দুপুর পর্যন্ত নয়ন বাড়িতে না আসায় আমি ফোন দেই। তখন অন্য একজন ফোন ধরে বলেন, নয়ন পুলিশের গুলিতে আহত হয়ে হাসপাতালে আছে। পরে হাসপাতালে গিয়ে দেখি আমার ছেলে মারা গেছে। অভাব-অনটনের কারণে আমার ছেলে লেখাপড়া করতে পারেনি। মাত্র দ্বিতীয় শ্রেণি পর্যন্ত লেখাপড়া করেছে। নয়নের বাবা মারা যাওয়ার পর থেকে সংসারের হাল ধরে আমার ছেলে। একমাত্র ছেলেকে হারিয়ে আমি এখন নিঃস্ব। তিনি আরও বলেন, বিএনপি’র পক্ষ থেকে আমাদের কিছু আর্থিক সহায়তা দেয়া হয়েছে। রাষ্ট্র যদি আমার মেয়েদের দায়িত্ব নেয় তা হলে আমি মরেও শান্তি পাবো।

Wednesday, September 25, 2024
বিজিবি’র অভিযানে সাংবাদিক হত্যার আসামি ওসি গ্রেপ্তার, ছেড়ে দিলো পুলিশ by রাশেদ আহমদ খান
অনুসন্ধানে জানা যায়, গত সোমবার ভোররাতে হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নেতৃত্বে মাধবপুরের মনতলা গ্রামে অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার অভিযান চালায় বিজিবি টাস্কফোর্স। এ সময় মাধবপুরে নিজ বাড়ি থেকে কোতোয়ালি মডেল থানার সাবেক ওসি মঈন উদ্দিন শিপনকে গ্রেপ্তার করে বিজিবি। রাতেই তাকে নিয়ে যাওয়া হয় মাধবপুর থানায়। পরে সিলেটে ছাত্র-জনতার আন্দোলনে পুলিশের গুলিতে নিহত সাংবাদিক তুরাব হত্যা মামলায় ওসি শিপনকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে সোমবার দুপুরে পুলিশ সুপার স্বাক্ষরিত একটি বার্তা পাঠায় হবিগঞ্জ পুলিশের বিশেষ শাখা। এ বার্তা প্রকাশিত হলে ফেসবুকসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে গ্রেপ্তারের বিষয়টি ফলাও করে প্রচার হয়। কিন্তু এরপর ওই পুলিশ কর্মকর্তাকে ছেড়ে দেয়ার খবর চাউর হলে দেখা দেয় নানা আলোচনা। পরে তার কাছে কোনো অস্ত্র না পাওয়ায় এবং বিজিবি’র সহকারী পরিচালক এয়ার হোসেনের লিখিত আবেদনের প্রেক্ষিতে তাকে ছেড়ে দেয়া হয়েছে বলে আরেকটি বার্তা পাঠায় হবিগঞ্জ বিশেষ পুলিশ শাখা। আলোচিত এ পুলিশ কর্মকর্তাকে নিয়ে পুলিশ সুপারের একই রকম স্বাক্ষরে পাল্টাপাল্টি বার্তায় ধূম্রজাল ও নানা বিতর্ক সৃষ্টি হয় বিভিন্ন মহলে। অনেকে অভিযোগ করেন, মোটা অঙ্কের টাকা গ্রহণ বা পুলিশ বিশেষ কারণে হত্যা মামলার আসামি ওই কর্মকর্তাকে ছেড়ে দিয়েছে পুলিশ।
স্বৈরাচারী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পতনের দাবিতে ছাত্র-জনতার আন্দোলনে ১৯শে জুলাই সিলেটের বন্দরবাজারে পুলিশের গুলিতে নিহত হন সাংবাদিক এটিএম তুরাব। ঘটনার এক মাস পর ১৯শে আগস্ট সিলেট অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ১৮ জনের নাম উল্লেখ করে আদালতে মামলা দায়ের করেন নিহতের ভাই আবুল আহসান। এ মামলায় প্রধান আসামি করা হয় সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান কামালকে। মামলার ২ নম্বর আসামি হলো- অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (ক্রাইম উত্তর) মো. সাদেক দস্তগীর কাউসার, ৩ নম্বর আসামি সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-কমিশনার আজবাহার আলী শেখ, ৪ নম্বর আসামি সহকারী কমিশনার (কোতোয়ালি) মিজানুর রহমান ও ৬ নম্বর আসামি করা হয় সে সময়ের কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মঈন উদ্দিন। অজ্ঞাত আসামি করা হয় ২০০ থেকে ২৫০ জনকে।
এ ব্যাপারে হবিগঞ্জের পুলিশ সুপার রেজাউল হক খান জানান, ভুলে প্রাথমিকভাবে ড্রাফট করা চিঠিটি প্রকাশিত হয়ে যায়। পরে আমরা আসল চিঠিটি প্রকাশ করি। তিনি জানান, ওসি মঈন উদ্দিন সুনামগঞ্জ জেলা হতে ১টি আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স (নং-০৫/২০২২- জগন্নাথপুর) গ্রহণ করলেও এ লাইসেন্সের বিপরীতে কোনো আগ্নেয়াস্ত্র ক্রয় করেননি। তার নামে ইস্যুকৃত আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্সটি বৈধ কিনা এবং উক্ত লাইসেন্সের বিপরীতে আগ্নেয়াস্ত্র ক্রয় করা হয়েছে কিনা তা যাচাই করতে তাকে নিয়ে বিজিবি দল মাধবপুর থানায় যান। পরবর্তীতে মাধবপুর থানায় রক্ষিত বেসরকারি আগ্নেয়াস্ত্র রেজিস্টার যাচাই করে মঈন উদ্দিনের নামে কোনো আগ্নেয়াস্ত্রের তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে তার হেফাজতে থাকা আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্সটি সঠিক বলে প্রমাণিত হয়। অভিযোগ না থাকায় সোমবার সকাল ১১টার দিকে তাকে বাড়ি চলে যেতে দেয়া হয়। পুলিশ সুপার বলেন, আমাদের প্রথম যে বার্তাটি প্রকাশ হয়েছে তা ছিল প্রাথমিক ড্রাফট। এটি কীভাবে প্রচার হলো আমি নিজেও জানি না। তবে পরে আমরা মূল বার্তাটি প্রদান করি। প্রকৃতপক্ষে ওসি মঈন উদ্দিন এখনো রাজশাহী রেঞ্জে চাকরিতে সংযুক্ত রয়েছেন। তিনি পলাতক না। তাই হত্যা মামলা বা যেকোনো মামলায় তাকে গ্রেপ্তারের প্রয়োজন হলে তাকে পাওয়া যাবে। তাই এ ব্যাপারে আমাদের কোনো মাথাব্যথা নেই। অন্যদিকে কোনো সরকারি কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তার করতে হলে ঊর্ধ্বতন মহলের অনুমতি লাগে। তাকে গ্রেপ্তারে এ ধরনের কোনো অনুমতিও ছিল না। মূল কথা বিজিবি তাকে ধরেছে, তারাই আবার লিখিতভাবে জানিয়েছে তার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। তাকে ছেড়ে দিনে তাদের কোনো আপত্তি নাই। তাই তাকে আমরা ছেড়ে দিয়েছি। তবে এ ব্যাপারে গণমাধ্যমের সঙ্গে মুখ খুলতে রাজি হয়নি বিজিবি ও উপজেলা প্রশাসন।

Thursday, September 19, 2024
হবিগঞ্জ শেখ হাসিনা মেডিকেল কলেজ: যন্ত্রপাতি ক্রয়েই গায়েব ৯ কোটি টাকা
শুরুতেই শেখ হাসিনা মেডিকেল কলেজের যন্ত্রপাতি ক্রয়ের নামে লুটপাট করা হয়েছে অন্তত ৯ কোটি টাকা। অভিযোগ রয়েছে, কলেজের অধ্যক্ষ, শিক্ষক ও স্থানীয় প্রভাবশালী আওয়ামী লীগ নেতারা ভাগবাটোয়ারা করে খেয়েছেন লুটপাটের সকল অর্থ। যদিও সে সময় এসব লুটপাটের বিরুদ্ধে দুদক তদন্ত করে সত্যতা পেয়ে মামলাও করেছিল। কিন্তু স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও সরকারদলীয় দোর্দণ্ড প্রতাপশালী নেতার হস্তক্ষেপে আলোর মুখ দেখেনি দুদকের মামলা। রাজনৈতিক জোরালো তদবীর ও মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে পার পেয়ে যান তৎকালীন অধ্যক্ষ ডা. আবু সুফিয়ান। প্রাথমিকভাবে তিনি সাময়িক বরখাস্ত হলেও পরে তদবীরের জোরে অবসর নেয়ার আগ পর্যন্ত বহাল তবিয়তে থাকেন স্বপদে। তবে বর্তমান বৈষম্যহীন অন্তবর্তীকালীন সরকারের আমলে পূর্বের এসব পুকুর চুরির পুনঃতদন্তপূর্বক রাঘববোয়ালদের আইনের আওতায় এনে কঠিন শাস্তির দাবি শিক্ষার্থী ও স্থানীয়দের। এ ছাড়া ছাত্রদের আন্দোলনের তোপের মুখে পদত্যাগকারী কলেজের বর্তমান অধ্যক্ষ ডা. সুনির্মল রায় ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধেও রয়েছে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ। তাদের দুর্নীতির বিচারও চান শিক্ষার্থীরা।
সূত্র জানায়, হবিগঞ্জে শেখ হাসিনা মেডিকেল কলেজটি ২০১৫ সালের ১লা জানুয়ারি অনুমোদন লাভ করে। ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষে ৫১ জন শিক্ষার্থী ভর্তির মাধ্যমে ২০১৮ সালের ১০ই জানুয়ারি কলেজটির আনুষ্ঠানিক শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হয়। নিজস্ব জায়গা ও ভবন না থাকায় হবিগঞ্জ সদর হাসপাতালের একটি ভবনে কার্যক্রম শুরু হয়। কলেজ প্রতিষ্ঠার পরই জোর তদবীর ও অর্থের বিনিময়ে কলেজের প্রতিষ্ঠাকালীন অধ্যক্ষ নিয়োগপ্রাপ্ত হন ডা. আবু সুফিয়ান। অভিযোগ রয়েছে, যোগদানের পর থেকেই স্থানীয় সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক আবু জাহিরের শক্তির বলে কলেজে রাম রাজত্ব কায়েম করেন অধ্যক্ষ। এরপর শুরু হয় নানা অনিয়ম ও দুর্নীতি। এ সময় কলেজের যন্ত্রপাতি ক্রয়ে পুকুর চুরির ঘটনা ঘটে। অভিযোগ রয়েছে কর্তৃপক্ষের যোগসাজশে প্রায় ১৪ কোটি টাকার টেন্ডারের অর্ধেক টাকাই লুটপাট করেন অধ্যক্ষ ও তার সহযোগীরা। যেসব জিনিস কেনা হয়েছে তার মূল্য ধরা হয় বাস্তব মূল্যের চেয়ে কয়েকগুণ বেশি। দেশের সে সময়ের সরকার প্রধানের নামে মেডিকেল কলেজটি প্রতিষ্ঠা হওয়ায় ধরাকে সরা করে চলতে থাকেন অধ্যক্ষ। কিন্তু একপর্যায়ে ব্যাপক দুর্নীতির খবর প্রকাশিত হলে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন এলাকাবাসী। গণমাধ্যমে এসব দুর্নীতির খবর প্রকাশিত হলে তদন্তে নামে দুদকও। অনুসন্ধানে জানা যায়, মালামাল ক্রয় বাবদ ব্যয় দেখানো হয় ১৩ কোটি ৮৭ লাখ ৮১ হাজার টাকা। কিন্তু বাস্তবে ওই মালামালের মূল্য ৫ কোটি টাকার বেশি ছিল না। সরবরাহকৃত মালামালের মধ্যে ৬৭টি লেনেভো ১১০ মডেলের ল্যাপটপের মূল্য দেখানো হয় ৯৯ লাখ ৪৯ হাজার টাকা। প্রতিটির মূল্য পড়েছে ১ লাখ ৪৮ হাজার ৫শ’ টাকা। অথচ বাজারে একই মডেলের ল্যাপটপ বিক্রি মূল্য ছিল মাত্র ৪২ হাজার টাকায়। ৬০ হাজার টাকা মূল্যের এইচপি কালার প্রিন্টার এর দাম নেয়া হয়েছে ২ লাখ ৪৮ হাজার ৯শ’ টাকা। ১ লাখ ৩৮ হাজার টাকার ইন্টারেক্টিভ বোর্ড কেনা হয়েছে ১৫ লাখ ৩৫ হাজার টাকায়। ৬ হাজার ৪শ’ ৭৫টি বইয়ের জন্য বিলে দেখানো হয়েছিল ৪ কোটি ৪৯ লাখ ৮ হাজার ৬৬৪ টাকা। এ ছাড়াও মানবদেহের বিভিন্ন অঙ্গ-প্রতঙ্গের ১০৪টি প্লাস্টিক মডেলের মূল্য ধরা হয় ১ কোটি ১৪ লাখ ৮৬ হাজার ৩১৩ টাকা। যেগুলোর বাজার মূল্য ছিল অর্ধেকের চেয়েও কম। ৩ লাখ ২৫ হাজার টাকা দরে ৮১টি কার্লজিস প্রিমো স্টার বাইনোকুলার মাইক্রোস্কোপ সরবরাহ করা হয়। যার মূল্য ধরা হয় ২ কোটি ৬৩ লাখ টাকা। অথচ এর বাজার মূল্য ছিল ১ লাখ ৩৯ হাজার টাকা। ৫০ জন বসার জন্য কনফারেন্স টেবিল, এক্সিকিউটিভ চেয়ার ও সাউন্ড সিস্টেমে ব্যয় দেখানো হয় ৬১ লাখ ২৯ হাজার টাকা। দেশের নামিদামি ফার্নিচার প্রতিষ্ঠান হাতিল ও রিগ্যালে এসব চেয়ারের মূল্য ছিল দামের অর্ধেকের চেয়েও কম। ওয়ালটনের যে মডেলের ফ্রিজ ৩৯ হাজার ৩৯০ টাকা, একই মডেলের ফ্রিজের মূল্য গুনতে হয়েছে ৮৫ হাজার টাকা। এরকম ৬টি ফ্রিজ কেনা হয়। বাজারমূল্য থেকে কয়েকগুণ বেশি দরে এসব যন্ত্রপাতি ও সামগ্রী সরবরাহ করে ঢাকার নির্ঝরা এন্টারপ্রাইজ ও পুনম ট্রেড ইন্টার ন্যাশনাল নামে দুটি প্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠানকে কার্যাদেশ প্রদান করেন। পরে দুর্নীতির সংবাদ বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশের পর কর্মস্থল থেকে আত্মগোপনে চলে যান অধ্যক্ষ সুফিয়ান। একপর্যায়ে তৎকালীন স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিমের একান্ত সহকারীর সঙ্গে দহরম মহরম সম্পর্কের কারণে তাকে দিয়ে তদবীর করিয়ে দুদকের মুখ বন্ধ করাতে সক্ষম হন অভিযুক্ত অধ্যক্ষ। একই ক্ষমতার বলে নিজের অধ্যক্ষ পদও টিকিয়ে রাখেন ডা. সুফিয়ান।
ডা. আবু সুফিয়ান অবসরে যাওয়ার পর কলেজের নতুন অধ্যক্ষ হিসেবে যোগদান করেন ডা. সুনির্মল রায়। এরপর থেকে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলতে থাকে মেডিকেল কলেজের কার্যক্রম। অনেকটা নামসর্বস্ব মেডিকেল কলেজ হিসেবে সীমিত আকারে ক্লাস চলে এ কলেজে। বর্তমানে ওই প্রতিষ্ঠানে ৩ শতাধিক শিক্ষার্থী অধ্যয়নরত। কিন্তু প্রতিষ্ঠার ১০ বছর পূর্ণ হতে চললেও এখনো প্রতিষ্ঠা হয়নি স্থায়ী ক্যাম্পাস। ৭৬টি শিক্ষকের পদের অনুমোদন থাকলেও কর্মরত আছেন ৪২ জন। শিক্ষকের ৩৪টি পদই রয়েছে শূন্য। কলেজে স্থায়ী কোনো ক্যাম্পাস না থাকায় নানা সমস্যায় পাঠ কার্যক্রম ব্যাঘাত ঘটছে বলে অভিযোগ শিক্ষক ও ছাত্র-ছাত্রীদের। যদিও কলেজ প্রতিষ্ঠার দাবিদার সংসদ সদস্য আবু জাহিরের ক্ষমতার বলে হবিগঞ্জ আধুনিক সদর হাসপাতালের ২য় ও ৩য় তলায় সীমিত আকারে চলেছে শিক্ষা কার্যক্রম। অন্যদিকে সদর হাসপাতালে কলেজের কার্যক্রম চলায় রোগীদের জায়গা দেয়া যাচ্ছে না। সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক মোহাম্মদ আমিনুল হক সরকার জানান, হাসপাতালটি ২৫০ শয্যার হলেও জেলা সদরের একমাত্র এ হাসপাতালটিতে প্রতিদিন রোগী ভর্তি থাকে ৪শ’ থেকে ৫শ’ জন। হাসপাতালের দুটি তলায় মেডিকেল কলেজের কার্যক্রম পরিচালনা করায় রোগীদের স্থান সংকুলানে মারাত্মক ব্যাঘাত সৃষ্টি হচ্ছে।
এদিকে স্থান সংকুলানের অভাবে কলেজের অনেক বিভাগের কার্যক্রমই রয়েছে বন্ধ। নেই শিক্ষার্থীদের ক্রীড়া ও সংস্কৃতি চর্চার কোনো স্থান। এ নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে হতাশা ও ক্ষোভ কাজ করছে। শিক্ষার্থীরা জানান, ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষে প্রথম পাঠদান শুরু হয়। ইতিমধ্যে কলেজটির প্রথম ব্যাচ বের হয়েছে। অথচ স্থায়ী ক্যাম্পাস না থাকায় পর্যাপ্ত পরিমাণে ক্লাসরুম নেই, হল নেই, ক্যান্টিন নেই, নেই সংস্কৃতি ও ক্রীড়াচর্চার কোনো ব্যবস্থাও। সীমিত আকারে চলে পাঠদান। ছোট ছোট কয়েকটি কক্ষে চলে প্রশাসনিক কার্যক্রম। ক্লাসরুমের সংকটে শিক্ষার্র্থীদের অপেক্ষায় থাকতে হয়। ছোট ছোট কক্ষে চলে ল্যাবরেটরি ও লাইব্রেরির কার্যক্রম। ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা জানান, সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো এ কলেজে ক্লিনিক্যাল শিক্ষকের সংখ্যা খুবই নগণ্য। ফলে শিক্ষকদের চেষ্টার পরও সমস্যা থেকেই যাচ্ছে। কিছু ডিপার্টমেন্ট রয়েছে, যেগুলোতে কোনো শিক্ষকই নেই। অন্যদিকে স্থায়ী ক্যাম্পাস না থাকায় মেয়েদের নিরাপদ আবাসনের ব্যবস্থা হচ্ছে না। বর্তমানে শহর থেকে অনেকটা দূরে ছাত্রীদের আবাসনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। সেখানে যাতায়াতে প্রচুর সমস্যা হয়। বিশেষ করে সন্ধ্যার পর অনেকটা ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করতে হয় তাদের।
অভিযোগ রয়েছে, যোগদানের পর থেকেই পূর্বসূরির পথ ধরে নানা অনিয়মে জড়িয়ে পড়েন অধ্যক্ষ ডা. সুনির্মল রায়। ২০২৩-২০২৪ এর অর্থবছরের বাজেটে বিভিন্ন বরাদ্দ দেখিয়ে কয়েক কোটি টাকা আত্মসাৎ করেন অধ্যক্ষ। বিভিন্ন সময়ে এর প্রতিবাদ করলেও কলেজের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি সংসদ সদস্য আবু জাহিরের খুঁটির জোর ও মন্ত্রণালয়ে তদবীরের মাধ্যমে স্বপদে বহাল থাকেন অধ্যক্ষ নির্মল। সর্বশেষ বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে সরকার পরিবর্তনের পর অধ্যক্ষের দুর্নীতি ও নানা অনিয়ম নিয়ে জোরালো আন্দোলনে নামেন শিক্ষার্থীরা। তারা প্রথমে অধ্যক্ষ ডা. সুনির্মল রায় ও একাডেমিক কো-অর্ডিনেটর ডা. কান্তি প্রিয় দাশের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের জন্য আবাসন ব্যবস্থা, নিরাপত্তা সেবা, বিদ্যুৎ বিল, বইপত্র, জ্বালানি, ক্রীড়াসামগ্রী, রাসায়নিক সামগ্রী ক্রয়সহ বিভিন্ন খাত থেকে বছরে অন্তত ২ কোটি ৫০ লাখ টাকা আত্মসাৎ অভিযোগ করেন। তারা জানান, ছাত্র আন্দোলন চলাকালে ওই দুই শিক্ষক শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে প্রকাশ্য বিরোধিতা করেন। তাদের হল ত্যাগে বাধ্য করেন। অন্যথায় পুলিশ পাঠিয়ে হল থেকে বের করে দেয়ার হুমকি দেন। তাদের পলাতক স্বৈরশাসক শেখ হাসিনার দোসর দাবি করেন শিক্ষার্থীরা। বিদ্যুৎ, পানি বন্ধ করে দেয়ার হুমকি দেন। এসব অভিযোগের ভিত্তিতে প্রথমে বিভিন্ন আর্থিক অনিয়মের হিসাব দিতে আল্টিমেটাম দেন তারা। কিন্তু এ সময়ের মধ্যে অভিযুক্ত অধ্যক্ষ কোনো সাড়া না দেয়ায় তাদের পদত্যাগের একদফা আন্দোলনে নামেন তারা। পরে শিক্ষার্থীরা কলেজের সকল কার্যক্রম বন্ধ করে মঙ্গলবার (৩রা সেপ্টেম্বর) বিকাল ৫টার মধ্যে পদত্যাগ করতে আল্টিমেটাম দেয়। এরপরও পদত্যাগ না করায় ক্যাম্পাসের সামনে বিক্ষোভ, অবস্থান ধর্মঘট ও অধ্যক্ষের কার্যালয়ে তালা ঝুলিয়ে দেয় শিক্ষার্থীরা। একপর্যায়ে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে রোববার (৮ই সেপ্টেম্বর) স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব বরাবর এ পদত্যাগপত্র জমা দেন হবিগঞ্জ শেখ হাসিনা মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. সুনির্মল রায়। এর পর থেকে অধ্যক্ষবিহীন খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছে এ কলেজের কার্যক্রম। দ্রুত অধ্যক্ষ নিয়োগ ও স্থায়ী ক্যাম্পাসসহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা করে জেলাবাসীর স্বাস্থ্যসেবা উন্নয়নের ব্যবস্থা করার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

Monday, October 28, 2019
পর্যটনের অপার সম্ভাবনাময় ‘বানিয়াচং’ by মখলিছ মিয়া

প্রাকৃতিক শোভায় সুশোভিত ছয়টি দীঘি মুগ্ধ করে দেশী বিদেশী পর্যটকদের। বিশেষ করে বাংলাদেশের ২য় বৃহত্তম সাগর দীঘিকে ঘিরে রয়েছে পর্যটনের হাতছানি। ঘন বন-বনানী ও ঢাকা নগরীর আদলে আঁকাবাঁকা ও অসংখ্য সরু রাস্তা ধরে (দালান-অট্টালিকার স্থলে ) সারি সারি বৃক্ষরাজির সুশীতল ছায়া । দীঘি এবং পাঁচ শতাধিক পুকুর ও বিল-ঝিলের পাড়ে নান্দনিক ও শৈল্পিকভাবে গড়ে ওঠা সবুজে ঘেরা জন বসতির পাড়া ও মহল্লার অবস্থান বিমোহিত করে। পল্লী কবি জসিম উদ্দিন ঐতিহাসিক বানিয়াচংয়ে পরিদর্শনে এলে নয়নাভিরাম সাগর দীঘির প্রাকৃতিক পরিবেশ ও সৌন্দর্য্যে মুগ্ধ হয়ে এর পাড়ে বসেই ‘রাণী কমলাবতীর দীঘি’ নামে একটি কবিতা লিখেছিলেন। এ কবিতাটি, তার সূচয়ণী কাব্যগ্রন্থে অন্তর্ভূক্ত রয়েছে। ১৯৯৭ সনের ১৯ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বানিয়াচং সফরকালে সাগরদীঘির বৈচিত্রময় রূপে মুগ্ধ হয়ে (দীঘির পাড়েই এল,আর,সরকারী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত জনসভায় ) এ দীঘিকে ঘিরে একটি পর্যটন কেন্দ্র গড়ে তোলার ঘোষণা দিয়েছিলেন। বানিয়াচংয়ের মানুষ আশায় বুক বেঁধেছিলেন ওয়াচটাওয়ার স্থাপনসহ দিনাজপুরের রাম সাগরের আদলে সাগরদীঘির পাড়েও পর্যটন পার্ক গড়ে তোলা হবে। দীর্ঘদিন অতিবাহিত হলেও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও অন্যান্য বিভাগগুলো স্থানীয় প্রশাসন থেকে পুরাকীর্তি ও প্রাচীন স্থাপনার তালিকা নেয়া ছাড়া কার্যকরি কোনো পদক্ষেপ নেয় নি। ঐতিহাসিকদের মতে, পঞ্চাশ খ্রীষ্টাব্দে হাওর দ্বীপে বানিয়াচং গ্রামের গোড়া পত্তন হয়। ধারনা করা হয়। গ্রামের অভ্যন্তরে ও ও পাশ দিয়ে পুরাতন কুশিয়ারা ও এর শাখা সুটকী ও কেছুরিয়া নদী প্রবাহিত ছিল। ভূমিকম্পে নদীগুলোর গতিপথ পরিবর্তন ও মরা অংশ পলল ভূমিতে ভরাট হয়ে রাজধানীতে প্রজাদের মধ্যে পানীয় জলের সংকট দেখা দেয়। রাজন্যবর্গ ও পরবর্তীতে জমিদারগণ অসংখ্য পুকুর খনন সহ সাগরদীঘি, দেওয়ানদীঘি, ঠাকুরাণীর দীঘি, মজলিশ খাঁর দীঘি, জামাল খাঁর দীঘি ও দেবাল দীঘি খনন করেন। এসব দীঘির অধিকাংশ দখল হয়ে ১৯৫৬ সালে এসএ রেকর্ডে চারপাড় বাসীর অনেকের মালিকানায় চলে যাওয়ায় আয়তনে ছোট হয়ে দীঘিগুলো রূপ বৈচিত্র হারিয়েছে এবং হারাচ্ছে। বিশেষ করে সাগরদীঘি ১২০ একরের মধ্যে ৬৬ একর সরকারের খাস খতিয়ানে রেকর্ড ভূক্ত হয়েছে। বিভিন্ন গ্রন্থে জানা যায়, দ্বাদশ শতাব্দীর কোন এক সময়ে রাজা পদ্মনাভ ( মনাই রাজা) গ্রামের মধ্যভাগে ১২০ একর জায়গা জুড়ে এক বিশাল দীঘি খনন করেন। দীঘিতে পানি না ওঠায় স্বপ্নে আদিষ্ট হয়ে রাজা পদ্মনাভের স্ত্রী রাণী কমলাবতী আত্ম বিসর্জন দিলে দীঘিতে পানি ভরে ওঠে। এ নিয়ে একটি রূপ কথার মতোই কাহিনী এলাকায় প্রচলিত আছে। তাই এ দীঘিকে ‘রাণী কমলাবতীর দীঘি’ বলা হয়ে থাকে। দীর্ঘদিনে দীঘিটি ভরাট হয়ে গিয়েছিল। ১৯৮৭ সনে (দীঘির পশ্চিমপাড়ের অধিবাসী) এরশাদ সরকারের মন্ত্রী মরহুম সিরাজুল হোসেন খান দীঘিটি সংস্কার করান। বর্তমান জরিপেও রেকর্ডভূক্ত মালিকানা বলে এর পাড়ে এখন চলছে পাঁকা দালান বাড়ী নির্মাণের প্রতিযোগিতা। ফলে প্রাকৃতিক রূপ বৈচিত্রে ভরপুর দীঘির শ্রী হারিয়ে দর্শণার্থীদের মর্মপীড়ার কারন হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনেকের প্রশ্ন দীঘিটি কেন ন্যাশনাল হ্যারিটেজর হিসেবে তালিকাভূক্ত করা হলো না। এ ঐতিহাসিক দীঘি খননের প্রেক্ষাপট ও রূপ কাহিনী নিয়ে বেতারে নাটক প্রচার, কবি শাহজাহান বিশ্বাস জারিগান ও গীতিকাব্য রচনা গ্রন্থ প্রকাশ করেন। এবং লেখক আবু সালেহ আহমদ দীঘির রূপ কাহিনী নিয়ে একটি গবেষণা পত্র বাংলা একাডেমিতে জমা দিয়েছেন। এছাড়া লেখক ও নাট্যকার রোমা মোদক ‘রাণী কমলাবতীর দীঘি’ নামে রচিত নাটক হবিগঞ্জ জীবন সংকেত নাট্যগোষ্ঠী জেলাসহ বিভিন্ন জেলায় এ নাটক মঞ্চস্থ করা সহ বাংলাদেশ টেলিভিশনে নাটকটি মঞ্চায়ন করে সরাসরি সম্প্রচার করেছে। এতে বানিয়াচং ও সাগরদীঘি নতুন প্রজন্মের কাছেও ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেছে। প্রায় সারা বছরই দীঘি ও ঐতিহাসিক গ্রাম পরিদর্শনে দেশী-বিদেশী পর্যটকরা এসে থাকেন। এ বিষয়ে বানিয়াচং উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ মামুন খন্দকার এর দৃষ্টি আকর্ষন করা হলে তিনি জানান, হাওর অঞ্চল বেষ্টিত বানিয়াচং উপজেলা পর্যটনের সুবর্নভূমি। ঐতিহাসিক সাগরদিঘিসহ পর্যটনের সকল স্পটগুলো পর্য্যায়ক্রমে পর্যটকদের জন্য উপযোগি করে তুলতে সব ধরনের ব্যবস্থা করা হবে। জনপ্রতিনিধিসহ সকল মহলের সহযোগিতা থাকলে ঐতিহাসিক সাগরদিঘিতে অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ করে দিঘির সৌর্ন্দয্য বৃদ্ধি করা হবে। তিনি আরো জানান, বর্তমান পর্যটন মন্ত্রী হবিগঞ্জের কৃতি সন্তান। আশা রাখি বানিয়াচং উপজেলাকে পর্যটনের উপযোগি করে গড়ে তুলতে সর্বাত্মক সহযোগিতা পাব। এ বিষয়ে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কার্যকরী পদক্ষে নেয়া হবে বলেও তিনি জানান। বানিয়াচংবাসীর দাবি পর্যটনের সুবর্ণ ভূমি বানিয়াচঙ্গে পর্যটন কেন্দ্র গড়ে তোলাসহ বিনোদন কেন্দ্র গড়ে তোলা হলে বানিয়াচং হতে পারে পর্যটকদের জন্য এক আকর্ষনীয় স্থান।
Sunday, December 16, 2018
বাবা জীবিত থাকলে আওয়ামী লীগ করতেন না : রেজা কিবরিয়া

বাবার জীবদ্দশায় তা সম্ভব হয়নি।
বাবার স্বপ্ন পূরণে আমি এমপি প্রার্থী হয়েছি। বাবার স্বপ্ন পূরণ করতে, আমি বিদেশে অনেক টাকা বেতনের চাকরি ছেড়ে জনসেবায় আত্মনিয়োগ করেছি। আমি পাবলিক সার্ভেন্ট হিসেবে জনগণের মাঝে বেঁচে থাকতে চাই। রেজা কিবরিয়া বলেন, দেশ-বিদেশ ঘুরে যে অভিজ্ঞতা অর্জন করেছি নবীগঞ্জ-বাহুবলের জনগণের ভাগ্য উন্নয়নে তা কাজে লাগাতে চাই। আমরা ক্ষমতায় গেলে রাজা-প্রজার স্টাইল বদলে দেব। দেশের উন্নয়নে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করব সবাই। নিজের মনোনয়ন বাতিলের বিষয়ে দুঃখ প্রকাশ করে রেজা কিবরিয়া বলেন, অযথা সাড়ে ৫ হাজার টাকা ঋণখেলাপি দেখিয়ে আমার মনোনয়নপত্র বাতিল করা হলো।
অপরদিকে ৫ হাজার কোটি টাকার ঋণখেলাপি ব্যক্তির মনোনয়নপত্র বৈধ বলে ঘোষণা করা হলো। রেজা কিবরিয়া বলেন, ওরা আমাদের ভয় পায়। তাই ড. কামাল হোসেন, আসম রব ও আমার ওপর হামলা চালিয়েছে ওরা। আমরা ভীরু নই, হামলা-মামলা আমরা ভয় পাই না। দেশ এখন অন্ধকারে। ৩০শে ডিসেম্বরের পর আলোতে আসবে প্রিয়দেশ। আমাদের ওপর হামলার ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাই। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে রেজা কিবরিয়া বলেন, আমার বাবা জীবিত থাকলে এখন আওয়ামী লীগ করতেন না। কারণ আওয়ামী লীগ এখন আগের দল নেই।
এ সময় দলের নেতাকর্মীদের ৩০ তারিখ পর্যন্ত সব কিছু মেনে নিয়ে ধৈর্য ধরে পরিস্থিতি মোকাবেলার আহ্বান জানান কিবরিয়াপুত্র। এর আগে বিকেল ৩টায় রেজা কিবরিয়া নেতাকর্মীদের নিয়ে পুরো বাহুবল বাজার ঘুরে ঘুরে নির্বাচনী প্রচারণা করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন- জেলা জাসাসের সভাপতি মিজানুর রহমান চৌধুরী, উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি আব্দুল কাইয়ুম ও সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ রাজুসহ অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা।
Sunday, November 18, 2018
রেজা কিবরিয়া ঐক্যফ্রন্টে: নির্বাচন করবেন হবিগঞ্জ-১ আসনে

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমার বাবার হত্যাকাণ্ডের পর বিএনপি ২ বছর ক্ষমতায় ছিল। এসময় তারা ঠিকমতো তদন্ত করেনি।
কিন্তু আওয়ামী লীগ পরবর্তী ১০ বছর ক্ষমতায় থেকেও আমার বাবার হত্যাকাণ্ডের ব্যাপারে কিছুই করেনি। এলাকার বিরোধী দলের কিছু নেতাকর্মীকে তারা অভিযুক্ত করেছে। কিন্তু মূল মদতদাতা যারা গ্রেনেড সরবরাহ করেছে তাদেরকে চিহ্নিত করতে পারেনি। টাকার বিনিময়ে মূল মদতদাতারা তদন্তের বাইরে রয়ে গেছে। যারা প্রত্যক্ষদর্শী ছিল তাদেরকেও জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়নি। এখন জনগণই বিচার করবে কার উপর বেশি দায় পড়ে। আর বিএনপি এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে প্রমাণ ছাড়া আমি অবশ্যই তা বলতে পারি না। বাবার হত্যাকাণ্ডের পরও আমি বা আমার পরিবার কোনো দলকে দায়ী করে কোনো বক্তব্য দেইনি। আর আমার বাবা যে আওয়ামী লীগ করতেন বিগত ১০ বছর সরকার পরিচালনার ক্ষেত্রে এ দলে তেমন আদর্শ আমি খুঁজে পাইনি। বিএনপির সঙ্গে আদর্শিক কোনো মতবিরোধ হবে কিনা- এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমি ড. কামাল হোসেনের পরামর্শ ও আদর্শ অনুসরণ করে চলবো।
জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও কিবরিয়া হত্যার দায়ে কারাবরণকারী হবিগঞ্জ পৌর মেয়র জিকে গউছ মানবজমিনকে বলেন, আমরা একাদশ জাতীয় নির্বাচনকে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির আন্দোলনের অংশ হিসেবে বিবেচনা করছি। এ আন্দোলনে যারাই আমাদের সঙ্গে শরিক হবে তাদেরকে আমরা স্বাগত জানাই। আর এজন্য আমরা যেকোনো ত্যাগ স্বীকার করতে প্রস্তুত। তিনি বলেন, রেজা কিবরিয়া ঐক্যফ্রন্ট থেকে নির্বাচন করলে বিএনপি স্বাগত জানাবে। আর আমার বিশ্বাস তার মতো গুণী লোক নির্বাচন করলে এলাকার মানুষ অবশ্যই সঠিক মূল্যায়ন করবে। এক্ষেত্রে তার বিজয়ের ব্যাপারে আমি শতভাগ আশাবাদী। এ ছাড়া কিবরিয়া হত্যা মামলায় আমাদেরকে রেজা কিবরিয়া বা তার পরিবার আসামি করেনি। তাদের প্রতি আমরা কৃতজ্ঞ, তারা চার্জশিট গ্রহণ করেনি। তাদেরকে চার্জশিট মানতে চাপ সৃষ্টি করা হয়েছে। তাদের সরাসরি অভিযোগ থাকলে আমরা আরো ভয়ানক নির্যাতনের শিকার হতাম। আমাদেরকে পরিকল্পিতভাবে হয়রানি করতে মামলায় আসামি করে নির্যাতন করেছে জেলা আওয়ামী লীগের সেই বিতর্কিত নেতা। আগামীতে বিএনপি সরকার গঠন করলে কিবরিয়া হত্যায় জড়িত নেপথ্য নায়কদের বের করে সঠিকভাবে বিচার করবে।
ড. রেজা কিবরিয়ার ব্যাপারে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও গ্রেনেড হামলায় আহত অ্যাডভোকেট আবু জাহির বলেন, বিষয়টির ব্যাপারে আসলে আমি ভালো করে জানি না। আর আমি মনে করি এ ব্যাপারে এখনই কোনো মন্তব্য করা ঠিক হবে না। দেখা যাক শেষ পর্যন্ত কি ঘটে। এদিকে ড. রেজা কিবরিয়ার প্রার্থিতা ঘোষণায় হবিগঞ্জ-১ আসনে জটিল সমীকরণ দেখা দিয়েছে। এ আসনে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র নিয়েছেন ৭ জন। মহাজোট প্রার্থী নিয়ে টেনশন থাকলেও ব্যতিক্রম ছিল বিএনপি। দলের একক প্রার্থী হিসেবে প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন কেন্দ্রীয় বিএনপির নির্বাহী সদস্য ও সাবেক এমপি আলহাজ শেখ সুজাত মিয়া। হঠাৎ রেজা কিবরিয়াকে ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী ঘোষণায় সুজাত শিবিরে কিছুই হতাশা দেখা দিলেও বিএনপির নেতাকর্মীরা বলছেন, কেন্দ্র থেকে দল এবং জোটের পক্ষে যে সিদ্ধান্ত আসবে তারা তা মেনে নেবেন। এদিকে এ আসনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র নিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্র শিকাগো রাজ্যের বিএনপি সভাপতি শাহ মোজাম্মেল নান্টু। এ ছাড়াও আরেক প্রবাসী (যুক্তরাজ্য) শেখ মহিউদ্দিন বিএনপির মনোনয়নপত্র নিয়েছেন।
আওয়ামী লীগের ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত হবিগঞ্জ-১ (নবীগঞ্জ-বাহুবল) আসনে একাধিকবার বিজয়ী হন তৃণমূল আওয়ামী লীগের জনপ্রিয় নেতা বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ দেওয়ান ফরিদ গাজী। নবম জাতীয় নির্বাচনে বিজয়ী ফরিদ গাজী ২০১১ সালে মারা যান। ওই বছরই অনুষ্ঠিতব্য উপ-নির্বাচনে চমক দেখিয়ে বিজয়ী হন হবিগঞ্জ জেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি আলহাজ শেখ সুজাত মিয়া। সামান্য ভোটে পরাজিত হন আওয়ামী লীগ মনোনীত হেভিওয়েট প্রার্থী ডা. মুশফিক হোসেন চৌধুরী। দেশব্যাপী আলোচিত ওই উপনির্বাচনে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির কয়েক ডজন জাতীয় নেতা প্রচারণায় অংশ নেন। জাপা চেয়ারম্যান এইচ এম এরশাদ দলের মহাসচিব রুহুল আমিন হাওলাদারকে সঙ্গে নিয়ে একাধিকবার লাঙ্গল প্রতীকে ভোট প্রার্থনা করেন। এত কিছুর পরও জাপা মনোনীত প্রার্থী আবদুল মুনিম চৌধুরী বাবু নির্বাচনে হেরে যান।
আসন্ন নির্বাচনে মহাজোট প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন, দেওয়ান ফরিদ গাজী তনয় শাহ নেওয়াজ মিলাদ গাজী, সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আমাতুল কিবরিয়া কেয়া চৌধুরী, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট আলমগীর চৌধুরী, কেন্দ্রীয় যুবলীগের নির্বাহী সদস্য আবদুুল মুকিত চৌধুরী, মহাজোটের শরিক দল জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য ও হবিগঞ্জ জেলা জাপার সভাপতি শিল্পপতি আতিকুর রহমান আতিক, কেন্দ্রীয় জাপার সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুল মুনিম চৌধুরী বাবু।
Wednesday, July 18, 2018
বানিয়াচংয়ের জলাবদ্ধতা দেখার কেউ নেই by মখলিছ মিয়া

Wednesday, May 30, 2018
সাতছড়িতে পর্যটক টানতে ট্রি এডভেন্সার by রাজীব দেব রায় রাজু

পর্যটকদের জন্য গ্রহণ করা হয়েছে নানা উদ্যোগ। এর মধ্যে রয়েছে দর্শনার্থী তথ্য কেন্দ্র, পর্যবেক্ষণ টাওয়ার, উদ্ভিদ গবেষণা কেন্দ্র, ছাত্র-শিক্ষকদের ডরমেটরি, ট্রি এডভেন্সার সেন্টার। সাতছড়ি রেঞ্জ কর্মকর্তা মাহমুদ হোসেন বলেন, এ বনে অবাধে সর্ব সাধারণের প্রবেশ সংরক্ষিত হওয়ায় এবং বনের ভিতরে বসবাসকারী পশু-পাখি নিরাপত্তা ও খাদ্যের সংস্থান থাকায় এখন সাতছড়ি বনে বিভিন্ন বণ্যপ্রাণীর প্রজনন বৃদ্ধি পেয়েছে। স্তন্যপ্রাণী প্রাণীদের মধ্যে রয়েছে বন্য শূকর, উল্লুক, মুখপোড়া হনুমান, চশমাপড়া হনুমান, কুলু বানর, লজ্জাবতি বানর, কাঠ বিড়ালি, খরগোশ, ডাইনি বাদর, বন বিড়াল, মেচু বিড়াল, গন্ধগোকুল, হলদে গলা মারটিন, মায়া হরিণ। উভয়চর প্রাণীদের মধ্যে রয়েছে সোনা ব্যাঙ্গ, কোনা ব্যাঙ্গ, বেনপু ব্যাঙ্গ, লালপিঠ লাউবিচি ব্যাঙ্গ, মুরগি ডাকা ব্যাঙ্গ। সরীসৃপ প্রাণীর মধ্যে রয়েছে উড়ন্ত টিকটিকি, নীলগলা গিরগিটি, তক্ষক, কিং কোবরা, গোখরা সাপ, সবুজ বোরা সাপ, দোড়া সাপ, লাউডগা সাপ, পাহাড়ি সাপ। পাখির মধ্যে রয়েছে কাউ ধনেশ, পাতি ময়না, লালমাথা কুচকুচি, উদয়ী বামনরাঙ্গা, মেটে হাঁড়িচাচা, খয়রামাথা শুমচা, তুর্কীবাজ, সবুজ ঘুঘু, সবুজ ধুমকল, চিত্রা হুতোম প্যাঁচা, তামাটে বেনেবউ, পাতি সবুজ তাউরা, নীলচুটকি, কালাগলা টুনটুনি, কালাঝুটি বুলবুল, জলপাই বুলবুল, এশিয় শ্যামাপাপিয়া ।
সাতছড়ি টিপড়া বস্তির হেডম্যান চিত্তরঞ্জন বর্মন জানান, এক সময় মনুষ্যসৃষ্ট তাণ্ডবে বনভূমি ক্ষতবিক্ষত ছিল। এ কারণে জীববৈচিত্র্য ও দুর্লভ অনেক বণ্যপ্রাণী বিলুপ্ত হতে যাচ্ছিল। এখন সাতছড়ি বনকে অভয়াশ্রম ও জাতীয় উদ্যান ঘোষণা করায় পাহাড়ে বৃক্ষরাজি বৃদ্ধির পাশাপাশি অনেক বণ্যপ্রাণী ও পাখি, সরীসৃপ প্রাণী বৃদ্ধি পেয়েছে।
মাঝে মাঝে বনের পশু, পাখিগুলোকে রাস্তায় চলে আসতে দেখা যায়। অনেক দর্শনার্থী এগুলো দেখে আনন্দ পেয়ে থাকেন।
প্রায় প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে লোকজন গাড়ি নিয়ে সাতছড়ি জাতীয় উদ্যোনে ছুটে আসেন। বিশেষ করে জাতীয় দিবসগুলোতে সাতছড়ি জাতীয় উদ্যোনে দর্শনার্থীদের উপচেপড়া ভিড় লক্ষ্য করা যায়। গত বছর সাতছড়ি জাতীয় উদ্যোনে প্রবেশের টিকিট বিক্রি করে ১২ লাখ টাকা আয় করা হয়। এ বছর প্রায় ১৫ লাখ টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে।
রেঞ্জ কর্মকর্তা মাহমুদ হোসেন জানান, বণ্যপ্রাণীর খাবারের সংস্থানের জন্য ৪টি ফল বাগান করা হয়েছে। এ সব বাগান থেকে এখন পশু পাখি খাবার সংগ্রহ করে। এ বছরও ২৩০ হেক্টর জায়গায় ফল বাগান করা হবে। এছাড়া খরা মৌসুমে পশু পাখির পানি সংকট দেখা দেয়। এ সংকট মোকাবেলায় বনের ভিতরে জলাধার সৃষ্টি করা হয়েছে।
বণ্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞ তানিয়া খান জানান, দীর্ঘ ১৩ বছর ধরে সাতছড়ি বনে গাছকাটা বন্ধ এবং বণ্যপ্রাণী সংরক্ষণের কারণে এখন সাতছড়ি জাতীয় উদ্যোনে অনেক বণ্যপ্রাণী বৃদ্ধি পেয়েছে।
Sunday, May 20, 2018
খোয়াই নদীর পানি বিপদসীমার উপরে: চুনারুঘাটে ধসে গেছে সড়ক

চুনারুঘাটে ধসে গেছে তিন সেতু
এদিকে অবিরাম বর্ষণ, পাহাড়ি ঢল ও উজান থেকে ধেয়ে আসা পানিতে চুনারুঘাটে দেখা দিয়েছে বন্যা। পাহাড়ি ঢলে ভেঙে গেছে ঢাকা-সিলেট প্রাক্তন মহাসড়কের রামগঙ্গা ব্রিজের এপ্রোচ। নালুয়া চা বাগানে ও উসমানপুর গ্রামে ভেসে ৩টি সেতু। পানির তোড়ে ভেসে আসা বিষধর সাপের কামড়ে জারুলিয়া গ্রামে মারা গেছে মুক্তার নামের এক যুবক। খোয়াই নদীর দুকূল উপচে বন্যার পানি প্রবেশ করেছে অন্তত ত্রিশটি গ্রামে। গাজীপুর ইউনিয়নের জারুলিয়া, ক্বারিশাহ বস্তি, চেকানগর, উসমানপুর, আহম্মদাবাদ ইউনিয়নের বনগাঁও, কোর্টবাড়ি গঙ্গানগর, আলীরাজাপুর, রাজারবাজার, রাণীরকোট সহ দেওরগাছ, মিরাশী ও সাটিয়াজুড়ি ইউনিয়নের ৩০টি গ্রাম তলিয়ে গেছে। বানের পানিতে পাকা বোরো ধান, সবজিক্ষেত তলিয়ে গেছে বানের পানিতে।
মাধবপুরে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত
কয়েকদিনের বর্ষণে ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার নিম্নাঞ্চলগুলো প্লাবিত হয়েছে। অনেক রাস্তাঘাট ও ফসলি জমি তলিয়ে গেছে। মাধবপুর- ধর্মঘর রাস্তায় মনতলা বিজিবির ক্যাম্পের নিকট জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়ে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। ওই এলাকার লোকজন উপজেলা সদরে আসতে নানা দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। বৃহস্পতিবার রাতে ভারি বর্ষণে সবজি ও উঠতি ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ভারত থেকে নেমে আসা পানিতে উপজেলার ধর্মঘর, চৌমহনী, বহরা, আদাঐর, শাহজাহানপুর, জগদীশপুর, আন্দিউড়া ইউনিয়নের অনেক ফসলি জমিতে পানি জমে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। উপজেলার চৌমুহনী ইউনিয়নের কৃষক বদু মিয়া জানান, কয়েকদিন যাবত বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে তরমুজ, বেগুন, কড়লা, বরবটি জমি নষ্ট হয়েছে। অপরদিকে উজান থেকে নেমে আসা পানিতে ব্যাপক এলাকা প্লাবিত হয়েছে। এতে অনেকে পুকুরের মাছ ভেসে গেছে। মাধবপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আতিকুল হক জানান, মাধবপুরে ৫ হেক্টর আউশের বিজতলা ও ৩০ হেক্টর সবজি করা হয়েছে। উজান থেকে নেমে আসা পানি দীর্ঘস্থায়ী না হলে এবং আর বৃষ্টিপাত না হলে তেমন কোন ক্ষতি হবে না।
Friday, May 18, 2018
ঘাতকদের জবানিতে নবীগঞ্জে শাশুড়ি-বধূ হত্যার বর্ণনা

এ ব্যাপারে বৃহস্পতিবার বিকাল সাড়ে ৫টায় হবিগঞ্জের পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফিং করেন পুলিশ সুপার বিধান ত্রিপুরা। তিনি জানান, রুমী বেগমের স্বামী লন্ডনে থাকেন। আড়াই বছর পূর্বে আখলাক চৌধুরীর সঙ্গে তার বিয়ে হয়েছিল। বাড়িতে রুমী বেগম এবং তার শাশুড়ি মালা বেগম গেইট তালাবদ্ধ রেখে বাসায় বসবাস করে আসছিলেন। সেখানে কোনো সীমানা প্রাচীর ছিল না এবং পাশে কোনো প্রতিবেশীরাও বসবাস করতেন না। কয়েকদিন পূর্বে লন্ডন প্রবাসী স্বামী আখলাক চৌধুরী তার এক বন্ধু রিপনকে তার স্ত্রী রুমী বেগমকে একটি মোবাইলের কাভার কিনে দিতে বলেন। রিপন ব্যস্ত থাকায় গত ১১ই মে তার ভাই জয়কে দিয়ে এই কাভার রুমী বেগমের বাড়িতে পাঠান রিপন। জয় মোবাইল কাভার নিয়ে যাওয়ার সময় ওই এলাকার জাকারিয়া শুভ নামে এক বখাটের সঙ্গে পরিচয় হয়। তখন জয়ের সঙ্গে বখাটে শুভও রুমীদের বাড়িতে যায়। জয় মোবাইল কাভারটি রুমী বেগমকে দিলে সেটি তার পছন্দ না হওয়ায় ফেরত দেন। এ সময় রুমীকে দেখে তার ওপর কু-নজর পড়ে শুভ’র। তাকে ধর্ষণের পরিকল্পনা করে। শুভ জানতে পারে রুমী বেগমদের বাড়িতে অপরিচিত কেউ গেলে গেট খুলে দেয়া হয় না। পাশের বাড়ির ফুরুক চৌধুরীর কর্মরত শ্রমিক তালেব মিয়া মাঝে মাঝে ওই বাড়িতে গিয়ে কাজ করেন। শনিবার শুভ তালেব মিয়ার সঙ্গে দেখা করে তাকে একটি দোকান থেকে আপ্যায়ন করে এবং মোবাইলে থাকা পর্নোগ্রাফি দেখায়। সঙ্গে রুমী বেগমের ছবি দেখায়। এরপর তারা পরিকল্পনা করে রোববার (১৩ই মে) রাতে গিয়ে লন্ডন প্রবাসীর স্ত্রী রুমী বেগমকে ধর্ষণ করবে। রোববার রাত সাড়ে ১০টায় ওই বাড়িতে গিয়ে প্রথমে তালেব মিয়া প্রবাসীর মা মালা বেগমকে দাদী বলে ডাক দেয় এবং গেইট খুলতে বলে। গেইট খোলার পর তালেব মিয়ার সঙ্গে শুভও ঘরের ভেতরে প্রবেশ করে। তখন মালা বেগম ওই ছেলের পরিচয় জানতে চাইলে শুভ মালাকে হাতে থাকা ছোরা দিয়ে আঘাত করে। মালা বেগম দৌড়ে ঘরে গেলে পেছনে গিয়ে তারা দুইজন তাকে ওড়না দিয়ে বেঁধে ফেলে এবং ছোরা দিয়ে আঘাত করতে থাকে। তার চিৎকার শুনে পাশে থাকা গৃহবধূ রুমী বেগমও চিৎকার শুরু করেন। এ সময় শুভ রুমী বেগমকেও ছোরা দিয়ে আঘাত করে। রুমী বেগম দৌড়ে ঘর থেকে বের হয়ে আসলে তালেব মিয়াও তাকে আঘাত করে। ঘটনার সময় ওই বাড়ির পাশে ইউনিয়ন পরিষদ সদস্যের বাড়িতে মিটিং ছিল। সেখান থেকে লোকজন চিৎকার শুনে এসে মৃতদেহ দুটি দেখতে পান।
এত বড় ঘটনার পর তালেব মিয়া এবং শুভ তাদের ব্যবহৃত ছোরা এবং রক্তমাখা কাপড় ধুয়ে স্বাভাবিকভাবে এলাকায় চলাফেরা করে। পুলিশ তাদেরকে গ্রেপ্তারের পর বৃহস্পতিবার সকালে রক্তমাখা কাপড় এবং হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ছোরা উদ্ধার করে। এই ঘটনায় শুভ’র আরেক বন্ধু ধর্ষণে অংশ নেয়ার কথা ছিল। তাকেও খুঁজছে পুলিশ। তারপর দ্রুত মামলাটির অভিযোগপত্র দাখিলের মাধ্যমে এই মামলার বিচারকাজ শুরু হবে।
Wednesday, May 16, 2018
নবীগঞ্জে লন্ডন প্রবাসীর স্ত্রী ও মা খুন, আটক ৪ by এম এ বাছিত

Monday, May 14, 2018
জলাবদ্ধতার শহর হবিগঞ্জ by রাশেদ আহমদ খান

স্থানীয়রা জানান, একসময় পাজামা শহর হিসেবে পরিচিত ছিল হবিগঞ্জ। লোক বসতি ছিল অনেক কম। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে দ্রুত গতিতে পরিবর্তন হয়েছে এ শহরের। এর সঙ্গে তাল মিলিয়ে বেড়েছে লোকজনের বসতি। বর্তমানে সিলেট বিভাগের অন্যান্য জেলা শহরের তুলনায় নাগরিক বসতি হবিগঞ্জে অনেক বেশি। আর এ কারণে প্রসার ঘটেছে ব্যবসা বাণিজ্যেও। ছেলেমেয়েদের লেখাপড়ার সুবিধা ও গ্রাম্য অপরাজনীতি থেকে দূরে থাকতে বিভিন্ন উপজেলার মধ্যবিত্ত-নিম্নমধ্যবিত্তরাও বাসা নিয়ে বসবাস করছেন জেলা শহরে। এছাড়া শহরের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিও অনুকূলে থাকায় ক্রমশই বাড়ছে শহরে বাসাবাড়ি নির্মাণ। কিন্তু এ তুলনায় বাড়ছে না রাস্তাঘাটসহ পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা। উপরন্তু শহরের পার্শ্ববর্তী রেলের জায়গা অবৈধ দখল করে বাসাবাড়ি নির্মাণের ফলে একেবারেই সীমিত হয়ে পড়েছে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা। অন্যদিকে শহরের বুক চিরে এক সময়ের বয়ের যাওয়া খোয়াই নদীতে এখন চলছে দখল ও দূষণ প্রতিযোগিতা। পূরাতন খোয়াই নদী দখল ও ভরাটের কারণে শহরের পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা অনেকটাই ভেঙে পড়েছে। ফলে দিন দিন ভয়াবহ আকার ধারণ করছে শহরের জলাবদ্ধতা।
সরজমিন হবিগঞ্জ শহরের পিটিআই ভবন এলাকা পরিদর্শনে দেখা যায়, সামান্য বৃষ্টি হলেই পিটিআই সড়কে সৃষ্টি হয় জলাবদ্ধতা। এতে এ প্রতিষ্ঠানের প্রশিক্ষনার্থী নারী-পুরুষদের চলাচলে মারাত্মক ব্যাঘাত সৃষ্টি হচ্ছে। অনেকে জামা কাপড় ভিজিয়ে অংশগ্রহণ করছেন প্রশিক্ষণের ক্লাসে। অথচ দীর্ঘদিন থেকে এ সমস্যা চলতে থাকলেও তা নিরসনে নেয়া হচ্ছে না কার্যকর কোনো পদক্ষেপ। এতে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন শিক্ষক ও প্রশিক্ষণার্থীরা। বৃষ্টির পর শহরের প্রধান সড়ক ঘুরে দেখা যায় পনি উন্নয়ন বোর্ড ডুবে আছে পানির নিচে। এছাড়া পুলিশ সুপার ও জেলা প্রশাসকের বাসভবনের সামনে হাঁটুপানি। সার্কিট হাউজের সামনের হাঁটু পানিতে গাড়ি ধোয়ার কাজ করছেন কয়েকজন ড্রাইভার। হবিগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী তৌহিদুর রহমান মানবজমিনকে জানান, শহরের ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় এ জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে। আমরা হবিগঞ্জ পৌরসভার মেয়রের সঙ্গে যোগাযোগ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের চেষ্টা করছি।
এ ব্যাপারে বৃন্দাবন কলেজের সহকারী অধ্যাপক তানসেন আমীন জনান, শহরের জলাবদ্ধতা এখন একটি বড় সমস্যা। বৃষ্টির দিনে জলাবদ্ধতার কারণে কলেজের ছাত্র-ছাত্রীদের পরীক্ষায় আসতে মারাত্মক ভোগান্তির শিকার হতে হয়। এ থেকে হবিগঞ্জবাসী মুক্তি চায়। শহরের বসবাসরত নাগরিক, রাজনীতিক ও সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীলদের সম্মিলিত প্রচেষ্ঠার মাধ্যমে এ সমস্যার সমাধান করতে হবে। বাপা হবিগঞ্জ জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক তোফাজ্জল সোহেল জানান, শহরের পুরাতন খোয়াই নদী দখল ও ভরাটের কারণেই এ জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে। এটি ধীরে ধীরে আরো ভয়াবহ আকার ধারণ করবে। আমরা খোয়াই নদী দখল ও দূষণ রোধে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করেছি। তারা কোনো কার্যক্রম গ্রহণ না করলে প্রয়োজনে শহরবাসীকে নিয়ে আন্দোলনে নামতে হবে। হবিগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী তৌহিদুর রহমান মানবজমিনকে জানান, শহরের ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় এ জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে। আমরা হবিগঞ্জ পৌরসভার মেয়রের সঙ্গে যোগাযোগ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের চেষ্টা করছি। হবিগঞ্জের পৌর মেয়র জিকে গউছ জানান, হবিগঞ্জের জলাবদ্ধতা সাময়িক সময়ের। টানা বৃষ্টির পর কয়েক ঘণ্টা জলাবদ্ধতা থাকে। এরপর পানি ধীরে ধীরে রাস্তা থেকে সরে যায়। তিনি জানান, শহরের ড্রেনগুলোতে ময়লা আবর্জনা ফেলে নাগরিকরা পানি চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেন। এছাড়া শহরের পাশ্ববর্তী রেলের জায়গা দখল করে নিয়েছে প্রভাবশালীরা। এর ফলে শহর থেকে পানি বের হতে পারছে না। এ সমস্যা দূর করতে হলে নাগরিকদের সচেতন হতে হবে। পাশাপাশি সরকারি জায়গা দখলমুক্ত করে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করতে সম্মিলিত উদ্যোগ নিতে হবে। হবিগঞ্জের জেলা প্রশাসক মাহমুদুল কবীর মুরাদ মানবজমিনকে জানান, হবিগঞ্জের পুরাতন খোয়াই নদীসহ শহরের পার্শ্ববর্তী খালগুলো দীর্ঘদিন থেকে অবৈধ দখল হয়ে আসছে। এ কারণে অতিবৃষ্টির সময় পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা না থাকায় এ জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে। যা শহরের একটি অন্যতম সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। আমরা নদী ও খালগুলো অবৈধ দখলমুক্ত করে খনন ও সংস্কারের জন্য উদ্যোগ গ্রহণ করেছি। ইতোমধ্যে দখলদারদের চিহ্নিত করার কাজ শুরু হয়েছে। শিগগিরই এসব অবৈধ দখল উচ্ছেদের প্রদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
Thursday, May 3, 2018
‘ফসল কাটার লোক নাই’ by রাশেদ আহমদ খান

শ্রমিক সমস্যা রয়েছে জেলার অন্য উপজেলায়ও। আজমিরীগঞ্জ উপজেলার শিবপাশা, পশ্চিমবাক, বিরাট, জলসুখা, বদলপুরসহ বিভিন্ন গ্রাম ঘুরে দেখা গেছে একই চিত্র। প্রতিটি এলাকায় রয়েছে তীব্র শ্রমিক সংকট। শ্রমিকের অভাবে বিলম্বিত হচ্ছে ধান সংগ্রহের কাজ। জলসুখা গ্রামের কৃষক নুরুল আমীন জানান, “এ বছর জমি করেছিলাম ২০ কেদার। মাশাআল্লাহ ফলনও হইছে খুব ভালো। কিন্তু কাটবার লোকের বড় অভাব। যেভাবে ঝড় বৃষ্টি অইতাছে, বুক ধরফর করে কোনো সময় জানি বিপদ আয়। ইবার ধান না ফাইলে আর বাচবার উফায় নাই”। এলাকা ঘুরে চোখে পড়ে কৃষকদের মুখে হতাশার ছাপ। পাকা ধান না কাটতে পেরে অনেকের মনেই রয়েছে অজানা শঙ্কা। সকলের মনেই একই চিন্তা কিভাবে জমির পাকা ধান সংগ্রহ করা যায়।
হবিগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, জেলায় এবার বোরো ধান আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ছিল এক লাখ ১৫ হাজার ৭৪ হেক্টর জমি। কিন্তু এ লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে এক লাখ ২১ হাজার ৪৩০ হেক্টর জমিতে চাষ করা হয়েছে। জেলায় মোট উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৬ লাখ ৬০ হাজার টন ধান। বোরো চাষে এবার বাম্পার ফলনের ফলে লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাওয়ার আশা করছে কৃষি বিভাগ। তাদের মতে এ লক্ষ্যমাত্রা অর্জন অনেকটা সাফল্যের।
জেলা উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. জিয়াউর রহমান মানব জমিনকে জানান, শুধু চুনারুঘাট উপজেলা ছাড়া বাকী ৮ উপজেলায়ই পুরোদমে চলছে ধান কাটার কাজ। তবে এ বছর হবিগঞ্জে ধান কাটার শ্রমিক সংকট রয়েছে। সেজন্য সরকারের পক্ষ থেকে ৭৫% ভর্তুকি দিয়ে ধান কাটার রিপার বিতরণ করা হচ্ছে পুরো জেলায়। স্থানীয় শ্রমিকরা ীন্য এলাকায় চলে যাওয়ায় এ সংকট দেখা দিয়েছে। স্থানীয়রা সবাই নিজ এলাকায় ফিরে আসলে সেই অভাব থাকবে না বলেও আশাবাদী তিনি। হবিগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোহাম্মদ আলী মানবজমিনকে জানান, শ্রমিক সংকটের কারণে ধান কাটার কাজ কিছুটা বিলম্বিত হলেও আমরা আশা করছি এ সংকট কেটে যাবে। দ্রুত গতিতে ধান কাটার জন্য আমরা জেলায় ৪৫ টি কম্বাইন্ড হারভেষ্টার মেশিন দিয়েছি। যা দিয়ে দ্রুত গতিতে ধান কেটে একবারে বস্তাবন্দি করা সম্ভব। এছাড়া জেলায় ১৫০টি ধান কাটার রিপার প্রদান করেছি। এতে শ্রমিক সংকট মোকাবেলা করে ধান কাটা এগিয়ে চলছে। বড় ধরণের কোন প্রাকৃতিক দুর্যোগ দেখা না দিলে এ বছর হবিগঞ্জ জেলায় লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি ধান উ’পাদন হবে।
Sunday, April 22, 2018
বানিয়াচংয়ে ধান ক্ষেতে মাছ চাষ by মখলিছ মিয়া

Sunday, April 8, 2018
পিতার পরিকল্পনায় বিউটি খুন: ধর্ষণে জড়িত থাকলেও হত্যায় যোগ নেই বাবুলের

সংবাদ সম্মেলন পুলিশ সুপার জানান, ১৬ই মার্চ রাত সাড়ে ১০টায় লাখাই উপজেলার গনীপুরে নানার বাড়িতে থাকা বিউটিকে নিয়ে আসে বিগত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে পরাজিত মহিলা মেম্বার প্রার্থী আছমা আক্তারের স্বামী ময়না, বিউটির পিতা ছায়েদ আলী এবং অপর এক ভাড়াটিয়া খুনি। পরে রাত ১২টায় বটতলা নামক স্থানে বিউটিকে ধরে রাখে ভাড়াটিয়া খুনি আর ছোরা দিয়ে ৫টি আঘাত করে ময়না মিয়া। এ সময় প্রায় ২০ ফুট দূরে দাঁড়িয়ে ছিলেন বিউটির পিতা ছায়েদ আলী।
গত দুই দিনে ময়না মিয়া আর বিউটির বাবা ছায়েদ আলী ১৬৪ ধারায় আদালতে জবানবন্দি দিয়ে এই হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করেছে বলে জানান এসপি বিধান ত্রিপুরা। অপর হত্যাকারী ভাড়াটিয়া খুনিকে এখনও গ্রেপ্তার করা যায়নি। এছাড়া তদন্তের স্বার্থে পুলিশ তার নাম প্রকাশ করতে অপারগতা প্রকাশ করেছে।
এদিকে মামলার প্রধান আসামি বাবুল মিয়া এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত নয় বলেও জানিয়েছেন এসপি। তিনি বলেন, বাবুল ১৭ দিন বিউটিকে একটি ভাড়া বাড়িতে রেখে ধর্ষণ করে। তবে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে তার কোনো সম্পৃক্ততা নেই।
১৪৪ ধারার জবানবন্দিতে বিউটির বাবা ছায়েদ আর ময়না আরো স্বীকার করেন, মামলার প্রধান আসামি বাবুলের মা কলমচান এবং ময়নার স্ত্রী আছমা আক্তার বিগত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে মহিলা মেম্বার পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। নির্বাচনে ময়নার স্ত্রী পরাজিত হন। সেই প্রতিশোধ হিসেবে বাবুল ও তার মাকে ফাঁসানোর উদ্দেশ্যে নৃশংস এই হত্যাকাণ্ড ঘটায় বিউটির পাষণ্ড পিতা ছায়েদ আলী, আর পরাজিত মহিলা মেম্বার প্রার্থীর স্বামী ময়না মিয়া।
১৭ই মার্চ সকাল সাড়ে ১১টায় হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জের পুরাইকলা বাজার সংলগ্ন হাওর থেকে স্কুলছাত্রী বিউটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে এ ঘটনায় ওইদিনই বিউটিকে হত্যা ও ধর্ষণের অভিযোগে তার বাবা সায়েদ আলী বাদী হয়ে বাবুল মিয়াসহ দুজনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাত পরিচয় কয়েকজনকে আসামি করে শায়েস্তাগঞ্জ থানায় একটি মামলা করেন।
Sunday, April 1, 2018
নবীগঞ্জে অপ-চিকিৎসায় প্রসূতি ও নবজাতকের মৃত্যুর অভিযোগ

দ্বারে দ্বারে ঘুরেও বিচার পাননি বিউটির পিতা by রাশেদ আহমদ খান

সরজমিন এলাকা পরিদর্শনে গেলে গ্রামবাসী জানান, তাদের ক্ষোভ ও হতাশার কথা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন গ্রামবাসী জানান, লম্পট বাবুল মদ জুয়া, নারী নির্যাতনসহ এলাকার সকল অপরাধ কর্মকাণ্ডের মূল হোতা। এলাকার বিভিন্ন শিল্প প্রতিষ্ঠানের একাধিক নারী শ্রমিকের শ্লীলতাহানি করেছে বাবুল ও তার সঙ্গীরা। প্রাণনাশের হুমকি ও ইজ্জতের ভয়ে অনেকেই তার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করার সাহস পাননি। এছাড়া স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনের সাথে তার রয়েছে দহরম-মহরম সম্পর্ক। তাই শত অপরাধের পরেও দোর্দণ্ড প্রতাপে ঘুরে বেড়াতো বাবুল। বিউটি ধর্ষণের মামলার পরও সে এলাকায় প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়িয়েছে। কিন্তু পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করেনি। এজন্য সে সাহস পেয়ে আবারো বিউটিকে অপহরণ ও হত্যা করেছে। তারা লম্পট বাবুলের ফাঁসি চান। গ্রামের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী হারুন মিয়া জানান, সমাজের এমন কোন অপরাধ নেই যার সাথে বাবুল জড়িত ছিল না। কেউ প্রতিবাদ করলে তাকে মিথ্যে মামলায় ফাঁসিয়ে দেয়ার ভয় দেখাতো। হুমকি দিতো মেয়েদের তুলে নেয়ায়। তিনি জানান, বাবুল কোম্পানির বিভিন্ন শ্রমিকদের মাদক ও নারী সরবরাহের কাজেও জড়িত ছিল। তার অপরাধের কথা গ্রামবাসী সবাই জানতো কিন্তু কেউ কথা বলতো না। গ্রামের ষাটোর্ধ্ব বয়সী বৃদ্ধা নুরুন্নেছা বেগম জানান, অতবড় ঘটনা ঘটাইয়াও যদি বাবুল বাইচ্চা যায়, তাইলে গেরামে মাইয়া ছেলে নিয়া থাকন যাইত না। আমরা তার ফাঁসি চাই। এ ব্যাপারে সাংস্কৃতিক সংগঠক পিযুষ চক্রবর্তী মানবজমিনকে জানান, প্রথম মামলার পরই যদি পুলিশ বাবুলকে গ্রেপ্তার করতো তবে বিউটিকে মরতে হতো না। এজন্য পুলিশের শৈথিল্যতাই দায়ী। এসব হত্যাকাণ্ডের বিরুদ্ধে সম্মিলিত নাগরিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। বিউটি হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে সোমবার থেকে আন্দোলনে নামছেন তারা। পরিবেশ ও মানবাধিকারকর্মী তোফাজ্জল সোহেল জানান, মামলা করেও যদি অসহায় মানুষকে মরতে হয় তাহলে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা কে দেবে? গ্রামের অসহায় নারী-পুরুষ বাবুলের মত লম্পটদের কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছে। এ ঘটনায় দায়ী পুলিশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা নিতে হবে। বিউটির মা হোছনা বেগম মানবজমিনকে বলেন, চরিত্রহীন বাবুলের অত্যাচারে আমার মেয়ে বিউটির লেখাপড়া করাইতে পারছি না। পয়লা আমার মেয়েরে অপহরণ কইর্যা নিয়া নির্যাতন করছে। আমরা মামলা করলেও পুলিশ তারে ধরেনি। এরপর আবার আমার মেয়েরে অপহরণ কইর্যা নিয়া শেষ পর্যন্ত মাইর্যাই ফালাইছে। আমরার অখন গ্রামে তাহাই দায় হইয়া পড়ছে। আমরা খুনি বাবুলের ফাঁসি চাই।
Tuesday, March 20, 2018
শায়েস্তাগঞ্জে স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের পর হত্যা

শায়েস্তাগঞ্জ থানার ওসি আনিছুর রহমান জানান, স্থানীয় লোকজন মারফত খবর পেয়ে লাশটি উদ্ধার করা হয়। অসংখ্য ধারালো অস্ত্রের আঘাতে তার ভুঁড়িও বের হয়ে গেছে। নিহত কিশোরীর চাচা সফিক মিয়া জানান, বিউটি ব্রাহ্মণডুরা মোজাহের উচ্চ বিদ্যালয়ের ৯ম শ্রেণির ছাত্রী। স্কুলে আসা যাওয়ার পথে একই গ্রামের মৃত মলাই মিয়ার পুত্র বাবুল মিয়া (৩০) প্রায়ই বিউটিকে উত্ত্যক্ত করতো। এই বিষয়টি বিউটি তার পিতাকে জানালে এ নিয়ে সালিশ হয়। কিন্তু এরপরও বাবুল তাকে উত্ত্যক্ত করা অব্যাহত রাখে। এক পর্যায়ে বাবুল বিউটিকে বিয়ের প্রস্তাব দেয়। বাবুল বিবাহিত ও তার সন্তান থাকায় বিউটির পরিবার বিয়ের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে। এতে বাবুল আরো ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে এবং স্কুলে আসা যাওয়ার পথে তাকে উত্ত্যক্ত করতেই থাকে। এক পর্যায়ে বিউটি স্কুলে যাওয়া বন্ধ করে দেয়। এক বছর আগে বিউটি প্রাণ আরএফএল কোম্পানিতে কাজ নেয়। গত ১০ই মার্চ রাত ৮টার দিকে প্রাণ কোম্পানিতে কাজ শেষে বাসায় ফেরার পথে অলিপুর ও বিশাউড়া এলাকার মধ্যবর্তী স্থান থেকে বাবুলসহ একদল লম্পট তাকে তুলে নিয়ে ধর্ষণ করে ফেলে যায়। এ ঘটনায় মেয়েটির পিতা বাদী হয়ে হবিগঞ্জের নারী শিশু ও নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল আদালতে বাবুলকে প্রধান আসামি করে মামলা করেন। বিচারক মামলাটি আমলে নিয়ে শায়েস্তাগঞ্জ থানার ওসিকে মামলা রুজুসহ ভিকটিমকে ডাক্তারি পরীক্ষার নির্দেশ দেন। আদালতের নির্দেশে পুলিশের পক্ষ থেকে ব্যবস্থা নেয়ার পর বাবুল আরো ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে এবং মামলা তুলে নিতে বিভিন্নভাবে বিউটির পরিবারকে হুমকি দিতে থাকে। নিরুপায় হয়ে সাঈদ মিয়া বিউটিকে লাখাই উপজেলার গুণীপুর গ্রামে নানা ফয়জুর রহমানের বাড়িতে পাঠিয়ে দেন। বিষয়টি জানতে পারে বাবুল সেখানে গিয়েও বিউটিকে উত্ত্যক্ত করে। এক পর্যায়ে গত শুক্রবার গভীর রাতে বিউটি প্রকৃতির ডাকে ঘর থেকে বের হওয়ার পর তাকে আর খুঁজে পাওয়া যায়নি বলে জানান বিউটির চাচা। এক পর্যায়ে খবর পান পুরাইকলা বাজার সংলগ্ন চাপরী হাওরে জমিতে লাশ পড়ে আছে। তিনি আরো জানান, তাদের ধারণা বাবুলই তার ভাতিজিকে ধর্ষণের পর হত্যা করে লাশ ফেলে রেখে গেছে। এদিকে বিউটির মা বাবা কন্যার মৃত্যুতে বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন। গতকাল বিকেলে ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের জিম্মায় লাশ হস্তান্তর করা হয়। শায়েস্তাগঞ্জ থানার ওসি আনিছুর রহমান জানান, ধারণা করা হচ্ছে এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। অভিযোগের প্রেক্ষিতে লম্পট বাবুল মিয়াকে (৩০) আটক করতে অভিযান চলছে।
BNM Special
BNM Archive
BNM Archive
- ▼ 2026 (1801)
- ► 2025 (3281)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (129)
- ► 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
- ► 2015 (11541)
- ► 2014 (9799)
- ► 2013 (14877)
- ► 2012 (33842)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...