Tuesday, June 15, 2010

দর্শনা হয়ে ঢাকা-কলকাতার মধ্যে কনটেইনারবাহী ট্রেন চালু হচ্ছে

ঢাকা-কলকাতায় যাত্রীবাহী ট্রেনের পরে এবার চুয়াডাঙ্গার দর্শনা স্থলবন্দর হয়ে এই দুটি শহরের মধ্যে কনটেইনার বহনকারী ট্রেন চলাচল করতে যাচ্ছে।
২০০৯-১০ অর্থবছরের মধ্যেই ঢাকা-কলকাতা পথে কনটেইনার বহনকারী ট্রেন চলাচলের জন্য সরকারি আনুষ্ঠানিকতাও প্রায় শেষের দিকে। এখন শুধু উভয় দেশের সরকারি পর্যায় থেকে দিনক্ষণ ঠিক করে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়ার অপেক্ষা।
দর্শনার স্টেশনমাস্টার গোলাম মোস্তফা কনটেইনার বহনকারী ট্রেন চলাচলের ব্যাপারে নেওয়া উদ্যোগের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
বাংলাদেশ রেলওয়ে পশ্চিমাঞ্চলের বিভাগীয় (রাজশাহী) চিফ অপারেটিং সুপারিনটেনডেন্ট আবদুল ওহাব প্রথম আলোকে বলেন, ‘উভয় দেশের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কনটেইনার ট্রেন চলাচলের ব্যাপারে একমত পোষণ করেছেন। এখন উচ্চপর্যায়ের সিদ্ধান্তের ওপরই নির্ভর করছে, কবে নাগাদ তা শুরু হবে।’
ব্যবসায়ীরা মনে করেন, রেলপথে কনটেইনার চালুর ফলে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় ব্যবসা-বাণিজ্যে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
প্রসঙ্গত, এত দিন সড়কপথে ট্রাকে এবং দর্শনা স্থলবন্দর পর্যন্ত রেলের ওয়াগনে করে এ দেশে ভারত থেকে বাণিজ্যিক পণ্য আনা হতো। আর কনটেইনার ভরে মালামাল আনা হতো শুধু সমুদ্রপথে। কিন্তু সমুদ্রপথে কনটেইনারযোগে পণ্য আনতে গিয়ে ক্ষুদ্র ও মাঝারি আমদানিকারকেরা পদ্ধতিগত জটিলতায় পড়তেন। সে জন্যই উভয় দেশের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সম্ভাব্যতা যাচাই শেষে কনটেইনার বহনকারী ট্রেন চলাচলের বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছেছেন বলে জানা গেছে।
২০০৮ সালের ১৪ এপ্রিল অর্থাৎ পয়লা বৈশাখ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে ঢাকা ও কলকাতার মধ্যে যাত্রীবাহী ট্রেন চলাচল শুরু করে। ইতিমধ্যে আন্তদেশীয় এই ট্রেন চলাচলের দুই বছর পূর্তি হয়েছে।
বাংলাদেশ রেলওয়ের পশ্চিমাঞ্চল বিভাগের চিফ অপারেটিং সুপারিনটেনডেন্টের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ইতিমধ্যে কনটেইনার বহনকারী ভারতীয় রেলওয়ের বিজি বিএলসিএ এবং বিএলসিবি টাইপ ওয়াগন শর্ত সাপেক্ষে বঙ্গবন্ধু সেতুর ওপর দিয়ে চলাচলের অনুমোদন পেয়েছে।
চুয়াডাঙ্গা জেলা শিল্প ও বণিক সমিতির সভাপতি হাবিবুর রহমান ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে কনটেইনার বহনকারী ট্রেন চলাচলকে ইতিবাচক বলে মন্তব্য করেন। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে ব্যবসা বাড়বে।
চুয়াডাঙ্গার দর্শনা স্থলবন্দর ক্লিয়ারিং অ্যান্ড ফরোয়ার্ডিং (সিঅ্যান্ডএফ) এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক আতিয়ার রহমান বলেন, এতে দর্শনা বন্দরের প্রকৃত রূপ ও কর্মচাঞ্চল্য ফিরে আসবে। অনেক মানুষের কর্মসংস্থান হবে। ফলে এই বন্দরের গুরুত্ব ও রাজস্ব দুটোই বাড়বে।

বাজেটের পর প্রথম লেনদেন দিবস চাঙা

২০১০-১১ অর্থবছরের বাজেট ঘোষণার পর প্রথম লেনদেনের দিবসে গতকাল রোববার দেশের শেয়ারবাজার ছিল বেশ চাঙা। এদিন ঢাকা ও চট্টগ্রাম উভয় স্টক এক্সচেঞ্জের তালিকাভুক্ত বেশির ভাগ কোম্পানির শেয়ারের দাম বেড়েছে। আর এর প্রভাবে বেড়েছে মূল্যসূচক ও লেনদেন।
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) গতকাল সাধারণ মূল্যসূচক প্রায় ৭৩ পয়েন্ট বেড়ে ছয় হাজার ৩৩৩ পয়েন্ট ছাড়িয়ে গেছে। স্টক এক্সচেঞ্জটির ইতিহাসে এটি এখন সূচকের সর্বোচ্চ পর্যায়। এর আগে এ পর্যায়ে সূচক কখনো ওঠেনি। এদিন স্টক এক্সচেঞ্জটিতে লেনদেন হয়েছে দুই হাজার ২০৫ কোটি টাকার।
চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সার্বিক মূল্যসূচক ১৯৩ পয়েন্ট বেড়ে ১৮ হাজার ৩৯৪ পয়েন্ট ছাড়িয়েছে। লেনদেন হয়েছে ১৬১ কোটি টাকার।
বাজার বিশ্লেষকেরা বলছেন, প্রস্তাবিত বাজেট সাধারণ বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়িয়ে দিয়েছে। কারণ, বাজেট ঘোষণার আগে বেনিফিশিয়ারি ওনার্স (বিও) হিসাব খোলার জন্য করদাতা শনাক্তকরণ নম্বর বাধ্যতামূলক এবং ব্যক্তি শ্রেণীর বিনিয়োগকারীদের শেয়ার লেনদেন থেকে অর্জিত মুনাফার ওপর করারোপের গুঞ্জন ছিল।
কিন্তু শেষ পর্যন্ত তা না হওয়ায় সাধারণ বিনিয়োগকারীরা বিষয়টিকে ইতিবাচকভাবে নিয়েছেন। মূলত এরই প্রভাব পড়েছে বাজারে।
যোগাযোগ করা হলে মার্চেন্ট ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ও আইডিএলসি ফাইন্যান্সের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক আরিফ খান বলেন, বাজার পর্যবেক্ষণে ব্যাংক ও অব্যাংকিং আর্থিক প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের প্রতি বিনিয়োগকারীদের বেশি ঝোঁক লক্ষ করা গেছে। তাঁরা হয়তো মনে করছেন, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের মূলধনী মুনাফার ওপর করারোপ করায় প্রতিষ্ঠানগুলো করের বোঝা এড়াতে এ বছরের মধ্যে লাভ তুলে নিতে চাইবে। আর এতে প্রতিষ্ঠানগুলোর অর্ধবার্ষিক ফলাফল খুব ভালো হবে। হতে পারে এ ভাবনা থেকেই বিনিয়োগকারীরা এ খাতের শেয়ারের দিকে ঝুঁকেছেন।
বিশ্লেষকদের অনেকে আবার মনে করছেন, পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের শর্তে কালো টাকা সাদার করার সুযোগ ৩০ জুনেই শেষ হয়ে যাচ্ছে। তাই যাঁরা কালো টাকা সাদা করার সুযোগ নিতে চান তাঁদের এ সময়ের মধ্যে বিনিয়োগ করতে হবে। এটিও বাজার বাড়ার একটি বড় কারণ।
তবে আরিফ খান বলেন, পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে কালো টাকা সাদা করার সুযোগ এখন পর্যন্ত খুব কম মানুষই নিয়েছে। তাই এ খাতে খুব বেশি টাকা ঢুকছে বলে মনে হয় না।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী গত ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করে অপ্রদর্শিত অর্থ বৈধ করেছেন মাত্র ১৭ জন। তাঁদের মোট বিনিয়োগের পরিমাণ মাত্র ২০ কোটি ৮৪ লাখ টাকা।
তবে শনিবার এক সংবাদ সম্মেলনে ডিএসই আশঙ্কা প্রকাশ করেছে যে, ব্রোকারেজ হাউসের লেনদেনের ওপর উৎসে আয়করের প্রস্তাবিত হার না কমালে ভবিষ্যতে বাজারের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। কারণ, ব্রোকারেজ হাউসগুলো বাড়তি খরচ মেটানোর জন্য গ্রাহকদের কাছ থেকে বেশি হারে লেনদেন মাশুল নেবে। ফলে ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের লেনদেন-খরচ বাড়বে।
উল্লেখ্য, প্রস্তাবিত বাজেটে লেনদেনের ওপর উৎসে কর ০.০২৫ থেকে চারগুণ বাড়িয়ে ০.১০ শতাংশ প্রস্তাব করা হয়েছে।
ইউসিবিএল: অবশেষে মূল বাজারে লেনদেন শুরু হয়েছে বেসরকারি ব্যাংক ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক লিমিটেডের (ইউসিবি) শেয়ার। মামলার কারণে নিয়মিত বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) অনুষ্ঠিত করতে না পারায় গত বছরের সেপ্টেম্বরে কোম্পানিটিকে ওভার দ্য কাউন্টার মার্কেটে (ওটিসি) পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছিল।
তবে সম্প্রতি বকেয়া এজিএম সম্পন্ন করায় পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা এসইসি কোম্পানিটিকে মূল বাজারে লেনদেনের অনুমতি দিয়েছে।
আর এ কে সিরামিকস: গতকাল দেশের দুই স্টক এক্সচেঞ্জে আর এ কে সিরামিকসের শেয়ার একযোগে লেনদেন শুরু হয়েছে।
সিএসইর প্রতিক্রিয়া: এদিকে সিএসইর সভাপতি ফখর উদ্দিন আলী আহমেদ এক বিবৃতিতে প্রস্তাবিত বাজেটে ব্যক্তিপর্যায়ে বিনিয়োগকারীদের ওপর করারোপ না করার সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে। তিনি বাজেটের সাফল্য অর্জনে বার্ষিক উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেন।

কান্দাহার অভিযানে স্থানীয়দের সমর্থন চাইলেন কারজাই

আফগানিস্তানের দক্ষিণাঞ্চলীয় প্রদেশ কান্দাহারে তালেবানবিরোধী সর্বাত্মক অভিযান পরিচালনার জন্য স্থানীয় উপজাতীয় ও ধর্মীয় নেতাদের সমর্থন চেয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট হামিদ কারজাই। কান্দাহারের উপজাতীয় ও ধর্মীয় নেতাদের সঙ্গে গতকাল রোববার এক বৈঠকে তিনি এ আহ্বান জানান। এ সময় ন্যাটো জোটের কমান্ডার মার্কিন জেনারেল স্টানলি ম্যাকক্রিস্টালও উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকে কারজাই বলেন, ‘এই মুহূর্তে কান্দাহারের অবস্থা খুবই শোচনীয়। শত্রুদের দমনে সামরিক অভিযান চালাতে হবে। এ জন্য আপনাদের সাহায্য ও সমর্থন আমাদের দরকার।’ কারজাইয়ের এ আহ্বানে বৈঠকে উপস্থিত অধিকাংশ নেতা হাত তুলে সমর্থন জানান।

শ্রীলঙ্কায় সাবেক তামিল বিদ্রোহীদের গণবিয়ে

শ্রীলঙ্কার উত্তরাঞ্চলীয় জেলা ভাভুনিয়ায় গতকাল রোববার শতাধিক সাবেক তামিল বিদ্রোহীর গণবিয়ের আয়োজন করা হয়। এতে উপস্থিত ছিলেন বলিউডের অভিনেতা বিবেক ওবেরয়। এই অনুষ্ঠানে ৫৩টি জুটি বিয়ের বন্ধনে আবদ্ধ হন।
গত বছরের মে মাসে তামিল বিদ্রোহী গোষ্ঠী শ্রীলঙ্কার সেনাবাহিনীর কাছে পরাজিত হওয়ার পর থেকে ভাভুনিয়াতে তাঁরা সেনা হেফাজতে রয়েছেন। সেখানকার পুনর্বাসনবিষয়ক কমিশনার জেনারেল ব্রিগেডিয়ার সুদান্থা রানাসিংহে বলেন, ‘এই সাবেক বিদ্রোহীদের বেশির ভাগই অনানুষ্ঠানিকভাবে দাম্পত্য জীবন কাটাচ্ছিলেন। অনেকের সন্তানও রয়েছে। তাই পুনর্বাসন কর্মসূচির অংশ হিসেবে তাঁদের সম্পর্কের বৈধতা দেওয়ার জন্য এই উদ্যোগ নেওয়া হয়।’
অনুষ্ঠানে ৫৩ দম্পতির হাতে বিয়ের সনদ তুলে দেওয়া হয়। এই আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি নাগরিক অধিকার হিসেবে রাষ্ট্রের কাছে তাঁদের সমাজকল্যাণমূলক সহায়তা চাওয়ার পথকে সহজ করবে। ভাভুনিয়ায় সেনাবাহিনী পরিচালিত একটি শিবিরে এই সাবেক বিদ্রোহীদের পুনর্বাসন করা হয়েছে।

সন্ত্রাসীদের সঙ্গে কোনো সমঝোতা নয়: থাই প্রধানমন্ত্রী

থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী আপিসিত ভেজ্জাজিওয়া বলেছেন, সন্ত্রাসীদের সঙ্গে তাঁরা কোনো সমঝোতায় যাবেন না। সন্ত্রাসী তৎপরতার মাধ্যমে যারা দেশকে অচল করতে চেয়েছিল, তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। গতকাল রোববার জাতির উদ্দেশে দেওয়া এক বেতার ভাষণে তিনি এ কথা বলেন। একই সঙ্গে সদ্যসমাপ্ত রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনা তদন্তে গঠিত কমিশনকে তিনি পূর্ণ স্বাধীনতা দেওয়ারও প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
রাজধানী ব্যাংককে গত এপ্রিল ও মে মাসে লাল শার্ট পরা বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সংঘর্ষে কমপক্ষে ৮৯ জন নিহত ও এক হাজার ৮৮৫ জন আহত হয়। ঘটনার তদন্তে প্রধানমন্ত্রী ভেজ্জাজিওয়া সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল খানিত না নাখোনকে প্রধান করে একটি কমিশন গঠন করেন। আজ সোমবার সীমান্ত টহল পুলিশ ক্যাম্পে আটক সাত বিক্ষোভকারী নেতার সঙ্গে খানিত না নাখোনের দেখা করার কথা।
গতকালের ভাষণে প্রধানমন্ত্রী ভেজ্জাজিওয়া বলেছেন, যারা শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ করেছে, তাদের বিরুদ্ধে সরকারের কোনো অভিযোগ নেই। কিন্তু যারা রাজধানী ব্যাংকক এবং উত্তর ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় এলাকার বেশ কিছু ভবনে অগ্নিসংযোগসহ নানা ধরনের নাশকতামূলক তৎপরতা চালিয়েছে, তাদের আইনের কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হবে। তিনি তদন্ত কমিশনকে প্রকৃত দোষী ব্যক্তিদের শনাক্ত করার নির্দেশ দিয়ে বলেছেন, কমিশনকে কাজ করার পূর্ণ স্বাধীনতা দেওয়া হবে। তাদের কাজে হস্তক্ষেপ করা হবে না।
পুলিশের কর্মকর্তারা বলেছেন, এ পর্যন্ত নৈরাজ্য সৃষ্টির অভিযোগে তিন শতাধিক বিক্ষোভকারীকে আটক করা হয়েছে। গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়েছে ৮১৯ জনের বিরুদ্ধে।

গাজায় ইসরায়েলি অবরোধ ‘অবশ্যই ভঙ্গ করা উচিত’

গাজায় ইসরায়েলি অবরোধ ‘অবশ্যই ভেঙে ফেলা উচিত’ বলে মন্তব্য করেছেন আরব লিগের প্রধান আমর মুসা। গতকাল রোববার গাজা সফরের সময় তিনি এ মন্তব্য করেন।
১০ ঘণ্টার সফরে গতকাল মিসরের সঙ্গে গাজার রাফাহ সীমান্ত দিয়ে গাজায় প্রবেশ করেন আমর মুসা। সেখানে ফিলিস্তিনি কর্মকর্তারা তাঁকে স্বাগত জানান। আমর মুসা বলেন, ‘গাজায় ইসরায়েলি অবরোধের ব্যাপারে আরব লিগের অবস্থান স্পষ্ট। এই অবরোধ অবশ্যই ভঙ্গ করা উচিত।’ তিনি আরও বলেন, শুধু আরব বিশ্বই নয়, সারা বিশ্বের উচিত, ফিলিস্তিনি জনগণের পাশে দাঁড়ানো এবং গাজায় ইসরায়েলি অবরোধ ও পূর্ব জেরুজালেমে তাদের কর্মকাণ্ডের বিরোধিতা করা।
ফিলিস্তিনের দুই প্রধান দল হামাস ও ফাত্তাহর মধ্যে মতপার্থক্য কমিয়ে আনতে দল দুটির নেতাদের প্রতি আহ্বান জানান আমর মুসা।
গাজা অভিমুখী ত্রাণবাহী নৌবহর ‘ফ্রিডম ফ্লোটিলা’য় ইসরায়েলি বাহিনীর হামলার প্রায় দুই সপ্তাহ পর গাজা সফরে গেলেন আরব লিগের প্রধান। তাঁর সহকারী হিশাম ইউসেফ গত সপ্তাহে বলেন, ফিলিস্তিনি জনগণের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশের জন্য গাজা সফর করবেন আমর মুসা।

স্লোভাকিয়ার পার্লামেন্ট নির্বাচনে ক্ষমতাসীন দলের পরাজয়

স্লোভাকিয়ার পার্লামেন্ট নির্বাচনে মধ্য ডানপন্থী বিরোধী জোট বিজয়ী হয়েছে। ১৫০টি আসনের মধ্যে বিরোধী জোট পেয়েছে ৭৯টি আসন। ক্ষমতাসীন বামপন্থী দল পেয়েছে ৬২টি আসন। প্রধানমন্ত্রী রবার্ট ফিকো নির্বাচনের ফলাফলকে ‘চরম সফলতা’ বলে অভিহিত করেছেন।
নির্বাচনী কর্মকর্তারা জানান, প্রধানমন্ত্রী ফিকোর দল মোট ৩৫ শতাংশ ভোট পেয়েছে। কিন্তু চার দলীয় বিরোধী জোট সরকার গঠনের জন্য পর্যাপ্তসংখ্যক আসনে জয়ী হয়েছে। নির্বাচনে মোট ৫৮ দশমিক ৭ শতাংশ ভোট পড়েছে।
প্রধানমন্ত্রী ফিকোর জন্য এ পরাজয় বিশাল ধাক্কা। নির্বাচনী প্রচারণার সময় তিনি স্লোভাকিয়াকে একটি জনকল্যাণমূলক রাষ্ট্র হিসেবে গঠনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। তিনি বলেছেন, সবচেয়ে বড় দল হিসেবে এককভাবে সরকার গঠনের জন্য তিনি এখনো চেষ্টা করবেন। সরকার গঠনের জন্য প্রেসিডেন্টের অনুমতি পাওয়ার ক্ষেত্রে তাঁর দল প্রয়োজনীয়সংখ্যক আসন পেয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। এ জন্য তাঁর দল প্রস্তুতও বলে তিনি জানান।
বিরোধী দলের নেতা ইভেতা র‌্যাদিকোভা বলেছেন, সরকার গঠনের জন্য তিনি জোটের অন্য তিন দলের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন। এ আলোচনা সফল হলে তিনিই হবেন স্লোভাকিয়ার প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী।
বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, অর্থনৈতিক মন্দার কারণে জনগণ ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়ায় এবং রাজনৈতিক তহবিল নিয়ে কেলেঙ্কারির ঘটনায় ফিকোর নেতৃত্বাধীন ক্ষমতাসীন দলের পরাজয় হয়েছে।

কেঁপে উঠল আন্দামান-নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ

ভারত মহাসাগরের তলদেশে গত শনিবার গভীর রাতে শক্তিশালী ভূমিকম্প হয়েছে। রিখটার স্কেলে এর মাত্রা ছিল ৭ দশমিক ৫। এ ভূমিকম্পের ফলে ভারত মহাসাগরের নিকটবর্তী আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ কেঁপে ওঠে। সেখানকার বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। কর্তৃপক্ষ বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ করে দিলে গোটা দ্বীপপুঞ্জ ভুতুড়ে এলাকায় পরিণত হয়। সুনামি সতর্কতা জারি করা হলেও পরে তা প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়। ভূমিকম্পে হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির কোনো খবর পাওয়া যায়নি।
মার্কিন ভূতত্ত্ব জরিপ সংস্থা সূত্রে বলা হয়েছে, স্থানীয় সময় শনিবার রাত একটা ২৬ মিনিটে ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। এর উৎপত্তিস্থল ছিল নিকোবর দ্বীপপুঞ্জের ১৬০ কিলোমিটার পশ্চিমে। ভূমিকম্পের পরপরই যুক্তরাষ্ট্রের হাওয়াইয়ে অবস্থিত প্যাসিফিক সুনামি ওয়ার্নিং সেন্টার ও ভারতের ন্যাশনাল সেন্টার ফর ওশান ইনফরমেশন সার্ভিস থেকে ভারত, ইন্দোনেশিয়াসহ গোটা ভারত মহাসাগরীয় এলাকার জন্য সুনামি সতর্কতা জারি করা হয়। পরে অবশ্য ভারত ছাড়া অন্যান্য এলাকার জন্য তা প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়। ভূমিকম্পের তীব্রতা এত বেশি ছিল যে উৎপত্তিস্থল থেকে ভারতের মূল ভূখণ্ডের এক হাজার কিলোমিটার ভেতর পর্যন্ত তা অনুভূত হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রাতে হঠাৎ ভূমিকম্প শুরু হলে তাঁরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। সুনামি সতর্কতা শুনে ঘর থেকে বেরিয়ে আসেন। আন্দামানের রাজধানী পোর্ট ব্লেয়ার থেকে একজন পর্যটক জানান, বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় তাঁদের ঘর থেকে বের হয়ে নিরাপদ জায়গায় যেতে অনেক বেগ পেতে হয়েছে।
ভারত মহাসাগরের ৫৭২টি দ্বীপে প্রায় সাড়ে তিন লাখ লোক বাস করে। ২০০৪ সালে ৭ দশমিক ৯ মাত্রার ভূমিকম্পের ফলে সৃষ্ট সুনামিতে ইন্দোনেশিয়ার সুমাত্রাসহ এ অঞ্চলের দুই লাখ ২০ হাজার লোক মারা যায়। তখন থেকে এখানকার বাসিন্দারা রীতিমতো সুনামি-আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে।

লন্ডনে প্রতিবাদের মুখে উগ্রপন্থী দলের কর্মসূচি স্থগিত

লন্ডনে স্থানীয় জনগণের প্রতিবাদের মুখে ইংলিশ ডিফেন্স লিগ (ইডিএল) নামের একটি উগ্রপন্থী দলের বিক্ষোভ সমাবেশ স্থগিত করা হয়েছে। ২০ জুন অনুষ্ঠেয় ‘ইসলামিক স্টুডেন্ট কনফারেন্স’ নামের একটি কর্মসূচির বিরুদ্ধে বিক্ষোভ জানাতে মুসলমান অধ্যুষিত পূর্ব লন্ডনের ট্রক্সি হলে এই বিক্ষোভ সমাবেশের আহ্বান করেছিল ইডিএল।
ইডিএলের তৎপরতা ঠেকাতে স্থানীয় বর্ণবাদবিরোধী সংগঠনগুলো একত্রিত হয়ে একই দিনে পাল্টা কর্মসূচি ঘোষণা করে। এই পরিস্থিতিতে সংঘর্ষ এড়াতে ট্রক্সি হল কর্তৃপক্ষ শুক্রবার উভয় কর্মসূচি বাতিলের ঘোষণা করে।
হাজারখানেক সমর্থক নিয়ে গত বছর ব্রিটেনে আত্মপ্রকাশ করে ইডিএল। দলটি নিজেদের পরিচয় সম্পর্কে দলীয় ওয়েবসাইটে লিখেছে, মুসলিম চরমপন্থীদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলাই তাদের মূল লক্ষ্য। প্রতিষ্ঠার পর গত এক বছরে তারা ব্রিটেনের বিভিন্ন স্থানে ইসলামবিরোধী বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করে আসছে। ব্রিটেনের প্রভাবশালী পত্রিকা গার্ডিয়ান-এর অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে এরই মধ্যে দলটির বিভিন্ন বর্ণবাদী কর্মকাণ্ডের প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে।
ইডিএল দলীয় সূত্রে জানা গেছে, অনুমতি বাতিল করে দেওয়ায় ইডিএল ২০ জুনের বিক্ষোভ কর্মসূচি স্থগিত করেছে। তবে বর্ণবাদবিরোধীরা তাদের কর্মসূচি অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছে। ওই দিন পূর্ব লন্ডনের আলতাব আলী পার্কে সমাবেশ করবে তারা। ইডিএলের সমর্থকদের আকস্মিক হামলা এড়াতে লন্ডন পুলিশ নিরাপত্তা জোরদার করেছে।
পূর্ব লন্ডনে বর্ণবাদ রুখে দিতে বেথনালগ্রিন ও বো নির্বাচনী এলাকার এমপি রুশনারা আলী, টাওয়ার হ্যামলেটস এলাকার মেয়র হেলাল আব্বাসসহ পূর্ব লন্ডনের প্রায় ৭০টি সংগঠনের ৭০০ নেতা-কর্মী একত্রিত হয়ে ইডিএলের কর্মসূচির প্রতিবাদ জানান। তাঁরা ‘ঘৃণার কোনো স্থান নেই’ নামের যুক্ত বিবৃতিতে সই করেন। বিবৃতিতে বলা হয়, ইডিএলের কর্মসূচি নাৎসি বাহিনীর কর্মসূচির সমতুল্য। সভ্য সমাজে এ ধরনের তৎপরতা রুখতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তাঁরা।
ইডিএল ইতিমধ্যে ব্রিটেনের মুসলমান অধ্যুষিত লিডস, নিউক্যাসেলসহ ১০টি অঞ্চলে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছে। এরই ধারাবাহিকতায় আগামী ২০ জুন ‘ইসলামিক স্টুডেন্ট কনফারেন্স’ ঠেকাতে ওই বিক্ষোভ সমাবেশের ডাক দিয়েছিল ইডিএল।

বিপির সমালোচনার সঙ্গে জাতীয়তাবোধ জড়িত নয়

হুজাতিক কোম্পানি ব্রিটিশ পেট্রোলিয়ামের (বিপি) সমালোচনার সঙ্গে জাতীয়তাবোধের কোনো প্রসঙ্গ জড়িত নয় বলে ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরনকে আশ্বস্ত করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। গত শনিবার দুই সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ক্যামেরনকে টেলিফোন করে এ ব্যাপারে আশ্বস্ত করেন ওবামা।
যুক্তরাষ্ট্রের লুইজিয়ানা অঙ্গরাজ্যের কাছে মেক্সিকো উপসাগরে দুর্ঘটনাকবলিত তেলক্ষেত্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত কোম্পানি বিপি। গত এপ্রিল মাসে ওই তেলক্ষেত্রে বিস্ফোরণের পর থেকে অনবরত তেল বেরিয়ে এসে সাগরে মিশছে। এতে সাগর ও উপকূলীয় এলাকায় পরিবেশ বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় তেল ছড়িয়ে পড়ার এই ঘটনায় ওবামা যুক্তরাজ্যভিত্তিক তেল কোম্পানিটির কড়া সমালোচনা করেন। এর পরই যুক্তরাজ্যের ব্যবসায়ীদের একটি অংশ অভিযোগ তোলে, ব্রিটিশবিরোধী ভাষা ব্যবহার করেছে যুক্তরাষ্ট্র।
এই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে সম্ভাব্য ভুল বোঝাবুঝি এড়াতে ক্যামেরনকে টেলিফোন করেন ওবামা। এই ফোনালাপের ব্যাপারে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন ডাউনিং স্ট্রিটের কার্যালয় থেকে এক বিবৃতি দেওয়া হয়। এতে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র-যুক্তরাজ্য দৃঢ় সম্পর্কের ব্যাপারে নিজেদের আস্থা পুনর্ব্যক্ত করেছেন প্রেসিডেন্ট ওবামা ও প্রধানমন্ত্রী ক্যামেরন। দুই নেতাই মত প্রকাশ করেছেন—তেলক্ষেত্রে দুর্ঘটনায় সৃষ্ট বিপর্যয় মোকাবিলায় বিপির কাজ করে যাওয়া উচিত।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ক্যামেরন যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র ও অন্যান্য দেশে বিপির অর্থনৈতিক গুরুত্বের বিষয়ে জোর দেন। এই বিপর্যয়ের কারণে পরিবেশের ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে দুুঃখ প্রকাশ করেন তিনি। জবাবে ওবামা বলেন, বিপির সুনাম ক্ষুণ্ন করার কোনো ইচ্ছে তাঁর নেই। তেল ছড়িয়ে পড়া নিয়ে তাঁর হতাশা প্রকাশের সঙ্গে ব্রিটেনের জাতীয় পরিচয়ের কোনো সম্পর্ক নেই।
হোয়াইট হাউসের কর্মকর্তা জানিয়েছেন, দুই নেতা বিশ্বকাপে শনিবারের যুক্তরাষ্ট্র-যুক্তরাজ্য খেলা নিয়ে কথা বলেছেন। তবে ওবামা ক্যামেরনকে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের হতাশা প্রকাশের সঙ্গে ব্রিটেনের জাতীয়তাবোধকে যুক্ত করা ঠিক হবে না।
এই বিতর্ক প্রসঙ্গে ব্রিটেনের উপপ্রধানমন্ত্রী নিক ক্লেগ বলেছেন, তাঁরা চান না বিষয়টি নিয়ে কোনো ধরনের কূটনৈতিক কাদা ছোড়াছুড়ি শুরু হোক। এক ঘোষণায় জানানো হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আগামী ২০ জুলাই যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার কথা ডেভিড ক্যামেরনের।
এদিকে তেলক্ষেত্র থেকে তেল বেরিয়ে আসা ঠেকাতে বিপির পরিকল্পনা পর্যাপ্ত নয় বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের কোস্টগার্ড কর্তৃপক্ষ। আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তেল ছড়িয়ে পড়া নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পদক্ষেপ ঘোষণা করতে তারা বিপির প্রতি আহ্বান জানিয়েছে। গত ৩ জুন তেলক্ষেত্রের ছিদ্রযুক্ত পাইপের একটি ছিদ্র থেকে তেল বেরিয়ে আসা কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আনার দাবি করেছে বিপি। এর আগ পর্যন্ত দিনে সর্বোচ্চ প্রায় ৪০ হাজার ব্যারেল তেল সাগরে মিশেছে।
এই দুর্ঘটনার পর আন্তর্জাতিক পুঁজিবাজারে বিপির শেয়ারের দামও কমে প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে। ক্যামেরন ও ব্রিটেনের অর্থমন্ত্রী জর্জ অসবর্ন কেল কোম্পানিটির চেয়ারম্যান কার্ল-হেনরিক এসভানবার্গের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। তবে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছে, এ ব্যাপারে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকটি হবে আগামী বুধবার হোয়াইট হাউসে ওবামার সঙ্গে এসভানবার্গের।

মেয়াদ শেষের আগেই পদত্যাগ করছেন ব্রিটিশ সামরিক বাহিনীর প্রধান

মেয়াদ শেষ হওয়ার কমপক্ষে ছয় মাস আগেই পদ থেকে সরে দাঁড়াবেন ব্রিটেনের সামরিক বাহিনীর প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল স্যার জক স্টিরাপ। গতকাল রোববার ব্রিটেনের প্রতিরক্ষামন্ত্রী লিয়াম ফক্স এ কথা জানান। সে দেশের সংবাদমাধ্যমগুলোতে দাবি করা হয়েছে, আফগানিস্তানের রণাঙ্গনে ব্যর্থতার জেরে তাঁকে সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে।
২০০৬ সাল থেকে সামরিক বাহিনীর প্রধানের পদে রয়েছেন স্টিরাপ। ব্রিটেনের বিদায়ী লেবার পার্টির নেতৃত্বাধীন সরকার তাঁর মেয়াদ বাড়ানোর পক্ষে সুপারিশ করেছিল। স্টিরাপের সঙ্গে ব্রিটেনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ বেসামরিক কর্মকর্তা স্যার বিলি জেফরিকেও বিদায় নিতে হবে। তাঁরা দুজনই সাবেক লেবার পার্টির সরকারের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত।
প্রতিরক্ষামন্ত্রী লিয়াম ফক্স বলেন, মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার আগেই আগামী শরতে পদত্যাগ করতে পারেন স্টিরাপ। লিয়াম জানান, পর্যালোচনা শেষ হওয়ার পর তিনি সবচেয়ে ভালো কর্মীকে যোগ্য পদে দেখতে চান। তিনি ইঙ্গিত দেন, স্টিরাপ ও জেফরিকে দ্রুত বিদায় নিতে হবে। আফগানিস্তানে সেনাদের যথাযথ সহায়তা না দেওয়ার ব্যাপারে স্টিরাপকে কড়া সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছে।

বিশ্বের সবচেয়ে বড় রেডিওটেলিস্কোপ চালু করল নেদারল্যান্ড

নেদারল্যান্ডের বিজ্ঞানীরা গতকাল রোববার বিশ্বের সবচেয়ে বড় রেডিওটেলিস্কোপ চালু করেছেন। মহাশূন্য থেকে আসা রেডিও তরঙ্গ গ্রহণ ও বিশ্লেষণ করে নক্ষত্রের অবস্থান নির্ণয়ের জন্য এই যন্ত্রটি তৈরি করা হয়েছে। অত্যন্ত নিখুঁতভাবে তৈরি করা এই রেডিওটেলিস্কোপের সাহায্যে মহাশূন্য থেকে আসা খুব দুর্বল ও ক্ষীণ সংকেতও শনাক্ত করা যাবে। এমনকি বিগব্যাংয়ের কাছাকাছি সময়ের অস্পষ্ট সংকেতগুলোও বিজ্ঞানীরা এর সাহায্যে ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ করতে পারবেন।
লোফার (লো ফ্রিকোয়েন্সি অ্যারে) নামের রেডিওটেলিস্কোপটি তৈরি করেছেন নেদারল্যান্ডস রেডিও অ্যাস্ট্রোনমি ইনস্টিটিউটের বিজ্ঞানীরা। বড় ডিশের পরিবর্তে এটি তৈরি করা হয়েছে ৫০ সেন্টিমিটার থেকে দুই মিটারের ২৫ হাজার এন্টেনা দিয়ে। এটির মূল ভিক্তি বসানো হয়েছে নেদারল্যান্ডের অ্যাসেন শহরে। তবে রেডিওটেলিস্কোপটির এন্টেনাগুলোর পরিধি নেদারল্যান্ডের সীমা ছাড়িয়ে বিস্তৃত হয়েছে জার্মানি, সুইডেন, ফ্রান্স ও ব্রিটেন পর্যন্ত।
ওই সংস্থার বিজ্ঞানী ফেমিক বুখারেস্ট জানান, তাঁরা গতকাল বিশ্বের সবচেয়ে বড় টেলিস্কোপটির যাত্রা শুরু করেছেন। এর সব এন্টেনার ব্যাস একসঙ্গে জড়ো করলে তার দৈর্ঘ্য হবে এক হাজার কিলোমিটার। এটি বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের উৎপত্তি সম্পর্কে জানতে ব্যাপকভাবে সহযোগিতা করবে।
ফেমিক বুখারেস্ট আরও জানান, টেলিস্কোপটি থেকে প্রাপ্ত তথ্য গর্নিনজেন বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ একটি সুপার কম্পিউটারের সাহায্যে ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ করবে। এরপর প্রাপ্ত ফলাফল পাঠিয়ে দেওয়া হবে রেডিওঅ্যাস্ট্রোনমি ইনস্টিটিউটে।

কিরগিজস্তানে দেখামাত্র গুলির নির্দেশ

কিরগিজস্তানে অব্যাহত জাতিগত সংঘাতের প্রেক্ষাপটে সরকার সহিংসতার সঙ্গে জড়িতদের দেখামাত্র গুলির নির্দেশ দিয়েছে। সংঘর্ষেগতকাল রোববার পর্যন্ত নিহতের সংখ্যা ৮২ জনে দাঁড়িয়েছে। আহতের সংখ্যা এক হাজার ছাড়িয়ে গেছে। দক্ষিণাঞ্চলের ওশ শহরসহ পাশের দুটি জেলায় দিনরাত কারফিউ জারি করা হয়েছে। এদিকে রাশিয়া জানিয়েছে, কিরগিজস্তানের অনুরোধ সত্ত্বেও সেখানে সেনা পাঠানোর কোনো পরিকল্পনা ক্রেমলিনের নেই।
মুসলিম দেশগুলোর সংগঠন অর্গানাইজেশন অব দ্য ইসলামিক কনফারেন্স (ওআইসি) সংশ্লিষ্ট সবাইকে শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছে। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল কিরগিজস্তানের সংখ্যালঘু উজবেকদের রক্ষার জন্য দেশটির সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে।
কিরগিজস্তানের ওশ, জালালাবাদ শহরসহ আশপাশের কয়েকটি এলাকায় গত বৃহস্পতিবার কিরগিজ ও উজবেকদের মধ্যে জাতিগত সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে। গত এপ্রিলে রোজা ওতুনবায়েভার নেতৃত্বে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দেশটির দায়িত্ব নেওয়ার পর এটাই সবচেয়ে ভয়াবহ সহিংসতার ঘটনা।
কিরগিজস্তানের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর ওশে সহিংসতায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এখানে ব্যাপক লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। শহরটিতে খাবারের মজুদও শেষ হয়ে গেছে। এই শহরেই মার্কিন ও রাশিয়ার বিমানঘাঁটি রয়েছে।
দেশটির আরেকটি শহর জালালাবাদে গতকাল ব্যাপক গোলাগুলির শব্দ শোনা গেছে। গত শনিবার সেখানে সহিংসতার সময় একটি বিশ্ববিদ্যালয় পুড়িয়ে দেওয়া হয়। দখল করে নেওয়া হয় একটি পুলিশ স্টেশন ও অস্ত্রশস্ত্রসহ একটি সামরিক ইউনিট। এর পাশের বাজার-কুরগান শহরে ৪০০ উজবেকের একটি দল পুলিশের একজন ক্যাপ্টেনকে হত্যা করে। স্থানীয় লোকজন জানায়, দলটি আশপাশের কোনো এলাকা থেকে লাঠি, লোহার রডসহ বিভিন্ন অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে গ্রামে ঢুকে হামলা চালায়।
দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, গতকাল রোববার থেকে ওশ শহর ও এর পাশের কারা-সু এবং অ্যারাভান জেলায় ২৪ ঘণ্টা কারফিউ জারি করা হয়েছে। এ ছাড়া গত শনিবার গভীর রাতে সহিংসতায় জড়িত কাউকে দেখামাত্র গুলি করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে নিরাপত্তাবাহিনীকে । দেশজুড়ে জরুরি অবস্থা চলছে।
জালালাবাদ ও ওশ শহরের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সেনাবাহিনী ও হেলিকপ্টার পাঠানো হয়েছে। তবে তাদের পক্ষে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হচ্ছে না। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারপ্রধান ওতুনবায়েভা গত শনিবার স্বীকার করেন, আড়াই লাখ বাসিন্দার শহর ওশের নিয়ন্ত্রণ তাঁরা হারিয়ে ফেলেছেন। বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক সহায়তা ছাড়া কিরগিজস্তানের সরকার এই সহিংসতা নিয়ন্ত্রণে আনতে পারবে কি না, তা নিয়ে সংশয় থেকেই যাচ্ছে।
কিরগিজস্তানে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, সহিংসতায় এ পর্যন্ত ৮২ জন নিহত ও এক হাজার ৬৬ জন আহত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ছয় শ জনের বেশি ব্যক্তিকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তবে বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠনের কর্মী ও হাসপাতালের চিকিৎসকেরা বলছেন, হতাহতের প্রকৃত সংখ্যা অনেক বেশি। সহিংসতায় ভীত উজবেকরা হাসপাতালে আসতেই ভয় পাচ্ছে।
এ দিকে ওতুনবায়েভা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাশিয়ার কাছে সেনা সহায়তা চাইলেও দেশটি ইতিবাচক সাড়া দেয়নি। রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট দিমিত্রি মেদভেদেভের মুখপাত্র নাতালিয়া তিমাকোভা বলেন, ‘এই সহিংসতা কিরগিজস্তানের অভ্যন্তরীণ বিষয়। রাশিয়া এতে হস্তক্ষেপ করবে না। তবে মানবিক সহায়তা দেওয়া হবে।’ তিনি জানান, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট বিষয়টি নিয়ে আঞ্চলিক নিরাপত্তা ফোরাম সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশনে আলোচনা করবেন। তবে এরই মধ্যে সহিংসতার শিকার লোকজনকে ওই এলাকা থেকে সরিয়ে নিতে একটি উড়োজাহাজ পাঠিয়েছে রাশিয়া।
সহিংসতার জন্য ওতুনবায়েভা কিরগিজস্তানের ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট কুরমানবেক বাকিয়েভের পরিবারকে দায়ী করেছেন। গত শনিবার তিনি বলেন, ২৭ জুন অনুষ্ঠেয় সাংবিধানিক গণভোট নস্যাৎ করতেই সহিংসতা উসকে দেওয়া হয়েছে। জালালাবাদ শহরের মেয়র মাকসাট জেইনবেকভ অভিযোগ করেন, বাকিয়েভের সমর্থকেরাই কিরগিজ ও উজবেক সম্প্রদায়ের ওপর হামলা চালিয়ে সহিংসতা সৃষ্টি করেছে।
আন্তর্জাতিক সাহায্য সংস্থা রেডক্রস জানায়, সহিংসতার কারণে ওশ শহর থেকে হাজার হাজার লোক পালিয়ে যাচ্ছে এবং ব্যাপক লুটপাট চলছে। কিরগিজস্তানের রেডক্রসের উপপ্রধান সেভেরাইন চাপপাজ এক বিবৃতিতে বলেন, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হচ্ছে। বিদ্যুৎ ও পানির সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়েছে। দোকানপাটও বন্ধ রয়েছে। শহরটিতে বিশেষ করে হাসপাতাল ও কারাগারগুলোতে খাদ্যসংকট দেখা দিয়েছে।
ওআইসির মহাসচিব একমেলেদ্দিন ইহসানেগলু এক বিবৃতিতে সবাইকে শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, শান্তি ও আইনের শাসন ফিরিয়ে আনতে এই মুহূর্তে এটাই সবচেয়ে জরুরি।
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল এক বিজ্ঞপ্তিতে সংখ্যালঘু উজবেকদের রক্ষায় পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নিতে কিরগিজস্তানের সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে। পাশাপাশি সংস্থাটি কিরগিজস্তানসংলগ্ন দেশগুলোকে শরণার্থীদের জন্য সীমান্ত খুলে রাখারও আহ্বান জানায়। সংস্থাটির বিশেষজ্ঞ মেইসি ওয়েইচারডিং বলেন, দেশটির আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, বিশেষ করে, উজবেকদের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হয়েছে।
মধ্য এশিয়ার দেশ কিরগিজস্তানে মোট জনসংখ্যার প্রায় ৭০ শতাংশ কিরগিজ ও প্রায় ১৫ শতাংশ উজবেক। এর আগে ১৯৯০ সালে কিরগিজ ও উজবেকদের মধ্যে ভয়াবহ সহিংসতায় শত শত মানুষ নিহত হয়।

আইএসআই তালেবানকে ‘সহায়তা’ করছে: এলএসইর প্রতিবেদন

পাকিস্তানের সামরিক গোয়েন্দা সংস্থা ইন্টার সার্ভিসেস ইনটেলিজেন্স (আইএসআই) আফগানিস্তানের তালেবান জঙ্গিদের শুধু অর্থ, প্রশিক্ষণ ও নিরাপদ আশ্রয়ই জোগায় না, তালেবানের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী পর্ষদে সংস্থাটির প্রাতিষ্ঠানিক প্রতিনিধিত্বও রয়েছে। এভাবে আইএসআই তালেবানের কর্মকাণ্ডকে গভীরভাবে প্রভাবিত করে। তালেবান ও আইএসআইয়ের মধ্যে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগের শক্ত প্রমাণও রয়েছে। ব্রিটেনের শীর্ষস্থানীয় শিক্ষা ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান লন্ডন স্কুল অব ইকোনমিকস (এলএসই) এক প্রতিবেদনে এই দাবি করেছে। গতকাল রোববার প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আইএসআই তালেবান ও হাক্কানি গ্রুপ উভয়কেই নিরাপদ আশ্রয় দিয়ে আসছে। গবেষণায় এটা দৃঢ়ভাবে প্রতীয়মান হয় যে, তালেবানকে সহায়তা করা আইএসআইয়ের একটি ‘প্রাতিষ্ঠানিক নীতি’। অনেক দিন ধরেই এটা ব্যাপকভাবে সন্দেহ করা হচ্ছিল, আইএসআই ও ইসলামপন্থী জঙ্গিদের মধ্যে যোগাযোগ রয়েছে। কিন্তু এ প্রতিবেদনে প্রাপ্ত তথ্যাবলি আফগানিস্তানে যুদ্ধের ইতি টানতে সাহায্য করার ব্যাপারে পাকিস্তানের সদিচ্ছা সম্পর্কে পাশ্চাত্যে ব্যাপকতর সংশয় সৃষ্টি করতে পারে।
প্রতিবেদনের লেখক হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটির একজন গবেষক ম্যাট ওয়াডম্যান বলেছেন, আইএসআই আগের ধারণার চেয়ে অনেক বড় মাপে তালেবানকে অর্থ সরবরাহ, প্রশিক্ষণ ও আশ্রয়ের ব্যবস্থা করছে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, চলতি বছরের প্রথম দিকে প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারি পাকিস্তানে বন্দী জ্যেষ্ঠ তালেবান নেতাদের সঙ্গে দেখা করেন বলে খবর পাওয়া যায়। ধারণা করা হয়, সে সময় তিনি ওই তালেবান নেতাদের মুক্তি দেওয়া ও জঙ্গি কর্মকাণ্ডে তাঁদের সাহায্য করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, এই যুক্তিতে যে তালেবানকে সহায়তা করা ‘পাকিস্তানের বেসামরিক সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ে অনুমোদনপ্রাপ্ত’।
তবে আইএসআই এলএসইর এই প্রতিবেদনকে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন আখ্যা দিয়ে তা প্রত্যাখ্যান করেছে। পাকিস্তান সেনাবাহিনীর মুখপাত্র মেজর জেনারেল আতাহার আব্বাস বলেছেন, এলএসইর এই প্রতিবেদন পাকিস্তান সেনাবাহিনী ও আইএসআইয়ের বিরুদ্ধে একটি নিকৃষ্ট প্রচারণা। এই প্রতিবেদনের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে আমাদের প্রশ্ন রয়েছে। এটা সম্পূর্ণ মিথ্যা একটি প্রতিবেদন।
পাকিস্তানের একটি কূটনৈতিক সূত্র প্রতিবেদনটিকে ‘কাঁচা’ আখ্যা দেয় এবং এও বলে যে, তালেবানের সঙ্গে যেকোনো আলোচনা আফগান সরকারের নিজস্ব ব্যাপার।
মাঠ পর্যায়ের ৯ জন তালেবান কমান্ডার, সাবেক জ্যেষ্ঠ তালেবান মন্ত্রী ও সেই সঙ্গে পশ্চিমা ও আফগান নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের সঙ্গে সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে এ প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে মে মাসের মধ্যে তাদের সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়।

বিশ্বকাপের ট্রফিতে কত সোনা

ইংল্যান্ডের নটিংহাম বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক মার্টিন পলিয়াকফ। ঝাঁকড়া চুলের ভদ্রলোকের এমনিতে ফুটবলের প্রতি কোনো আগ্রহ নেই। ১৯৬৬ সালে ইংল্যান্ড দেশের মাটিতে বিশ্বকাপ জিতেছিল, সেটা মনে থাকলেও এরপর বিশ্বকাপের আর কোনো ম্যাচই দেখা হয়নি তাঁর। তবে পলিয়াকফ ঠিক করেছেন এবার কিছু ম্যাচ দেখবেন। তাও বিশ্বকাপ বলে নয়, এই রসায়নবিদের যত আগ্রহ বিশ্বকাপের ট্রফিটা ঘিরে।
বিশ্বকাপ জেতার পর চ্যাম্পিয়ন দলের অধিনায়ক আর খেলোয়াড়েরা মিলে যেভাবে মাথার ওপর তুলে ট্রফি ঝাঁকান, সেটা দেখে রীতিমতো বিস্মিত পলিয়াকফ। ৭০ কেজি ওজনের একটা স্বর্ণখণ্ড তাঁদের হাতে এতটা হালকা হয়ে ধরা দেয় কীভাবে, সেটাই তাঁর বোধগম্য নয়। হ্যাঁ, পলিয়াকফ গবেষণা করে বের করেছেন, বিশ্বকাপের ১৪ ইঞ্চি (৩৬ সেমি) উঁচু ট্রফিটা যদি সত্যি সত্যি নিরেট সোনা দিয়ে বানানো হয়ে থাকে, তাহলে সেটার ওজন হবে কমপক্ষে ৭০ কেজি (১৫৪ পাউন্ড)। আর ৭০ কেজি ওজনের স্বর্ণখণ্ড নিয়ে যেহেতু ও রকম লাফালাফি করা সম্ভব নয়, অধ্যাপক সাহেব নিশ্চিত, ওটা মোটেও নিরেট সোনার তৈরি নয়। এর ভেতরটা অবশ্যই ফাঁপা।
ফিফার দাবি, ১৯৭৪ সাল থেকে চলে আসা বিশ্বকাপের বর্তমান ট্রফির ধাতব অংশটা ‘নিরেট সোনার’ তৈরি। বিবিসি নিউজ ওয়েবসাইটে তারা ট্রফির বর্ণনা দিয়ে বলেছে, ট্রফির ওজন ৬.১৭৫ কেজি এবং এর মধ্যে ‘১৮ ক্যারেট নিরেট সোনা’ আছে ৪.৯ কেজি। আর ট্রফির দ্বিস্তরবিশিষ্ট বেদিটি বানানো বিশেষ পাথর দিয়ে।
ফিফার ওই ‘নিরেট সোনা’র দাবি নিয়েই প্রশ্ন পলিয়াকফের। তাঁর মতে, ‘নিরেট’ বললে বোঝাবে, ট্রফির ধাতব অংশের পুরোটাই সোনা। ওপরে পাতলা সোনার আবরণ আর ভেতরে স্টিল—সে রকম হলে ট্রফিটা আর ‘নিরেট সোনা’র থাকে না। ফিফার দাবি অনুযায়ী যদি বিশ্বকাপের ট্রফি সত্যি সত্যি নিরেট সোনার হয়, সেটা অনেক ভারী হওয়া উচিত বলে মনে করেন ব্রিটিশ রসায়নবিদ, ‘সোনা অনেক ভারী। ঘনত্ব বেশি এমন ধাতুগুলোর মধ্যে এটা একটা। আমার হিসাব মতে, ট্রফিটা যদি সত্যি সত্যি নিরেট সোনায় বানানো হয়, ৭০ থেকে ৮০ কেজি সোনা তাতে লাগবেই।’ আর সেটা হলে যেহেতু বিশ্বকাপের ট্রফি কারও একার পক্ষে মাথার ওপর তুলে ঝাঁকানো সম্ভব নয়, পলিয়াকফের ধারণা এর কোনো না কোনো অংশের ভেতরটা অবশ্যই ফাঁপা, ‘আমার ধারণা, ট্রফির ওপরের গ্লোবসদৃশ বলের ভেতরটা সম্ভবত ফাঁপা। সেটা না হলে ওটা অত হালকা হওয়ার কথা নয় যে কেউ মাথার ওপর তুলে নাচাবে।

ঘানা উৎসবের উপলক্ষ এনে দিল আফ্রিকাকে

আফ্রিকার প্রথম বিশ্বকাপ। আর তাতে আফ্রিকান দেশগুলোর মধ্যে প্রথম জয় পেল ঘানা। আসামোয়া গায়ানের পেনাল্টি গোলে সার্বিয়াকে ১-০ গোলে হারিয়েছে তারা।
নিজেদের মহাদেশে প্রথম বিশ্বকাপ ঘিরে আফ্রিকানদের চোখে স্বপ্নের মায়াঞ্জন। স্বপ্ন বেশি আবর্তিত আইভরিকোস্টকে ঘিরে। সঙ্গে আছে ঘানা। আইভরিকোস্ট এখনো মাঠে নামেনি, কাল মাঠে নেমে স্বপ্নের দৌড়ের শুরুটা ভালোই করেছে ঘানা।
আফ্রিকায় উৎসবও শুরু হয়ে গেছে ঘানার জয়ে। তবে এ জয়টা ঘানার কোচের জন্য কি একটু অন্য রকম অনুভূতি নিয়েই ধরা দিয়েছে? তিনি যে একজন সার্বিয়ান। সত্যি, ঘানার কোচ মিলোভান রাজেভাচের মনে আনন্দ-বেদনার যুগল অনুভূতি, ‘অবশ্যই আমার জন্য দারুণ এক জয় এটি। তবে সার্বিয়া দলের জন্য খারাপ লাগছে। আমি ওদের অনেক খেলোয়াড়কেই চিনি। আসলে ওরা ভালো দল এবং ওদের বিপক্ষে খেলা কঠিনই ছিল।’
দুঃখ প্রকাশ করার পর সার্বিয়ার জন্য একটা শুভকামনাও করে রেখেছেন ঘানার কোচ। আপাতদৃষ্টিতে যে শুভকামনা পূরণ হওয়া অসম্ভবই মনে হয়, ‘আশা করি পরের দুই ম্যাচ থেকে ওরা ৬ পয়েন্ট পাবে।’ সার্বিয়ার পরের দুটি ম্যাচ জার্মানি ও অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে। অস্ট্রেলিয়ার ম্যাচ নিয়ে কিছু বলা না গেলেও এটা বোঝাই যায়, জার্মানির বিপক্ষে জিততে ভাগ্যের মহা স্পর্শই লাগবে সার্বিয়ার।
কাল অবশ্য ঘানার জয়ে খানিক ভাগ্যের ছোঁয়াই ছিল। ৮৩ মিনিট পর্যন্ত ঘানার সঙ্গে প্রায় সমানে সমান লড়েছে সার্বিয়া। স্কোরলাইনেও রেখেছিল সমতা। কিন্তু ঘানার একটি ক্রস থামাতে গিয়ে বক্সের মধ্যে হ্যান্ডবল করেন সার্বিয়ার বদলি খেলোয়াড় দ্রাভকো কুজমানোভিচ। সেই পেনাল্টি থেকেই গোল করেন আসামোয়া গায়ান। এর আগেই অবশ্য ১০ জনের দল হয়ে গিয়েছিল সার্বিয়া। দুই হলুদ কার্ডের খাঁড়ায় কাটা পড়ে ৭৪ মিনিটে মাঠ ছাড়তে হয় আলেক্সান্ডার লুকোভিচকে। ১০ জন নিয়েও কিন্তু ভালোই খেলছিল সার্বিয়া। সব মিলিয়ে ঘানা কোচকে বলতেই হয়েছে, ‘আমরা সম্ভবত ভাগ্যের সাহায্যই পেয়েছি।’
জার্মানিতে ২০০৬-এ ঘানা তাদের প্রথম বিশ্বকাপ খেলতে গিয়েই দ্বিতীয় রাউন্ডে উঠেছিল। এবার লক্ষ্য শেষ চার। আপাতত দ্বিতীয় রাউন্ডে ওঠার পথে একধাপ এগিয়ে যাওয়ায় ঘানায় উৎসব শুরু হয়ে গেছে। সার্বিয়ারও প্রথম বিশ্বকাপ জার্মানি ২০০৬। তিনটি ম্যাচেই হেরেছিল তারা। এবার পরাজয়-ভাগ্যটা বদলাতে এসে প্রথম ম্যাচেই হেরে গেল। তবে এখনো ভালো কিছুর দিকে তাকিয়ে আছে সার্বিয়ার সমর্থকেরা। ইয়াঙ্কোভিচ নামের একজন যেমন বলেছেন, ‘এখনো সব শেষ হয়ে যায়নি।’

ব্রাজিলকে হারানোর ঘোষণা সিমাওয়ের

স্পেনকে নিয়ে ভয় আছে, কিন্তু ব্রাজিলকে নিয়ে নয়! পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলকে হারানো কোনো ব্যাপারই মনে হচ্ছে না পর্তুগিজ উইঙ্গার সিমাও সাব্রোসার কাছে।
২০০৬ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালিস্ট পর্তুগাল। দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বকাপে তারা আছে ‘জি’ গ্রুপে, যেটাকে কিনা এবারের বিশ্বকাপের ‘গ্রুপ অব ডেথ’ই বলা হচ্ছে। এই গ্রুপের অন্য দুই প্রতিপক্ষ উত্তর কোরিয়া বা আইভরিকোস্ট তো অবশ্যই, ব্রাজিলকেও হারানো সম্ভব বলে মনে করেন সিমাও, ‘বিশ্বকাপটা জয় দিয়ে শুরু করা গুরুত্বপূর্ণ। আমরা কখনোই চাইব না যে দ্বিতীয় পর্বে যেতে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচ ব্রাজিলের বিপক্ষে অস্তিত্বের লড়াই লড়তে। তবে হ্যাঁ, ও রকম ম্যাচে যদি জেতারই প্রয়োজন হয়, তাহলে কেন জিতব না? আর ব্রাজিলকে আমরা আগেও অনেকবার হারিয়েছি।’ তবে সিমাও মনে-প্রাণে চাইছেন শেষ ১৬-তে গিয়ে যেন স্পেনের মুখোমুখি হতে না হয়, ‘শেষ ১৬তে স্পেনের মুখোমুখি হতে হলে সেটা পর্তুগালের জন্য কঠিনই হবে, কারণ তারা ইউরোপীয় চ্যাম্পিয়ন।’
বিশ্বকাপে পর্তুগাল দল নিয়ে দারুণ আশাবাদী সিমাও। জোহানেসবার্গের বাইরের অনুশীলন ক্যাম্পে সংবাদমাধ্যমের কাছে সে আশার কথাই জানিয়েছেন অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদের এই খেলোয়াড়, ‘ইউরোপের সেরা সেরা কিছু খেলোয়াড় আছে আমাদের দলে। দলটা খুবই একতাবদ্ধ এবং শক্তিশালীও।’ কিন্তু বাইরে যে গুঞ্জন আছে, পর্তুগালের আরেক তারকা ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর সঙ্গে বোঝাপড়াটা খুব ভালো নয় সিমাওয়ের! পর্তুগিজ উইঙ্গার উড়িয়েই দিলেন এমন গুজব, ‘এটা একদমই বানোয়াট, বিষয়টা আমার মাথায়ই ঢোকে না। আপনারা চাইলে রোনালাদোকেও এটা জিজ্ঞেস করে দেখতে পারেন। ওই জানাক আসল ব্যাপারটা কী...।’
আগামীকাল পোর্ট এলিজাবেথে আইভরিকোস্টের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে শুরু হচ্ছে পর্তুগালের বিশ্বকাপ। অনুশীলনে নানির ইনজুরিতে পড়াটাকে এ ম্যাচের আগে পর্তুগিজদের জন্য বড় দুশ্চিন্তা মনে করছেন সিমাও, ‘সে অবশ্যই ভালো একজন খেলোয়াড়, কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে ও এখন ইনজুরিতে। এটা আমাদের জন্য দুঃখজনক, তবে দলে অনেক ভালো ভালো খেলোয়াড় আছে, তারা এমনকি আমাদের জায়গায়ও খেলতে পারে।’ আর সে কারণেই দলে নিজের জায়গাটাও পাকা মনে করেন না সিমাও। ২৩ জনের দলে থাকতে পেরেই নাকি সন্তুষ্ট তিনি!

ইনজুরি না ডোপ টেস্টে বিদায় নানির

পর্তুগিজ উইঙ্গার নানি ইনজুরির কারণে দল থেকে বাদ পড়েছেন বলে বড়ই আফসোস পর্তুগালের সমর্থকদের। কিন্তু এখন গুজব রটেছে ডোপ টেস্টে উতরাতে ব্যর্থ হয়েই দলের বাইরে গেছেন তিনি। গুজবটি এতই ডালপালা গজিয়েছে যে শেষে পর্তুগিজ ফুটবল ফেডারেশন আর সে দেশের মাদকবিরোধী সংস্থাকে এ ব্যাপারে বিবৃতি দিতে হয়েছে।
পর্তুগিজ ফুটবল ফেডারেশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট আমানদিও ডি কারভালহো নানির ইনজুরিতে পড়ার বিস্তারিত জানিয়েছেন, ‘নানি ইনজুরিতেই পড়েছে। তিনি ট্রেনিংয়ের সময় পড়ে গিয়ে ব্যথা পেয়েছে। তাঁকে শল্যবিদের ছুরির নিচে যেতে হবে না তবে সেরে উঠতে সময় লাগবে। এ নিয়ে লুকোছাপার কিছু নেই।’
পর্তুগালের মাদকবিরোধী সংস্থার প্রধান লুইস হোর্তার দাবি, কোনো ভিত্তি ছাড়াই এ গুজব ছড়িয়েছে, ‘মূত্র ও রক্তের নমুনা দৈবচয়নের ভিত্তিতে নেওয়া হয়েছিল। আমরা যতটুকু জানি, এতে কারও মাদক নেওয়ার ঘটনা ধরা পড়েনি।’
গত ৪ জুন লিসবনে অনুশীলনের সময় ইনজুরিতে পড়েন নানি। পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তাঁকে বিশ্বকাপের জন্য আনফিট ঘোষণা করেন দলের চিকিৎসকেরা।

নতুন ‘দুঙ্গা’

আর্জেন্টিনার এই দলটিতে ‘ম্যারাডোনা’র অভাব নেই। কোচের ভূমিকায় আসল ম্যারাডোনা তো আছেনই। মেসি, তেভেজ, হিগুয়েইন, আগুয়েরো—কোনো না কোনো সময় এঁরা প্রত্যেকেই পেয়েছেন ‘আর্জেন্টিনার নতুন ম্যারাডোনা’ উপাধি। ‘ও ঠিক আমার মতো’ মন্তব্য করে স্বয়ং ম্যারাডোনাই এসব নতুন ম্যারাডোনার আবিষ্কারক। কিংবদন্তি পেলে ব্রাজিলের এই দলের কিছু না। তার পরও স্বয়ং পেলের বানানো একজন ‘পেলে’ আছেন ব্রাজিলের এই দলে, রবিনহো। কিন্তু দুঙ্গা?
কোচ কার্লোস দুঙ্গা আছেন। আরও একজন ‘দুঙ্গা’ আছেন দুঙ্গার দলে! না, দুঙ্গার বানানো নয়, এই ফুটবলার নিজেই নিজের মধ্যে খুঁজে ফিরছেন দুঙ্গার ছায়া! খেলোয়াড় এবং কোচ—দুই ভূমিকাতেই দুঙ্গাকে ভীষণ পছন্দ করা এই খেলোয়াড়ের নাম ফেলিপ মেলো। মেলোর নিজের মধ্যে দুঙ্গার ছায়া খুঁজে বেড়ানোর যথেষ্ট কারণও আছে। ফুটবলার দুঙ্গার মতো ফেলিপ মেলোও ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার। মাঠের বাইরের বিষয়েও দুঙ্গার সঙ্গে তাঁর বড় মিল। মেলো তাই বলেছেন, ‘আমাদের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য একই রকম। এবং এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সতীর্থদের প্রয়োজনে সাহায্য করতে প্রত্যেক দলেই শক্ত মানসিকতার একজন খেলোয়াড়ের প্রয়োজন।’ ওয়েবসাইট।
উগ্র মানসিকতার বদনামটা মেলোর নামের সঙ্গে মিশে গেছে। গত দুই মৌসুমে ৫টি লাল কার্ড (ব্রাজিলের হয়ে একটি, জুভেন্টাস ও ফিওরেন্তিনার হয়ে দুটি করে) পাওয়ার ঘটনাও সেটাই প্রমাণ করে। দলের প্রয়োজনেই তিনি ফাউল করেন বলে দাবি মেলোর, ‘যদি প্রয়োজন হয়, আমি ফাউল করব। এর জন্য যদি কার্ডও পাই, তবুও। গোল খাওয়ার চেয়ে কার্ড পাওয়া ভালো।’
তবে সংবাদ সম্মেলনে ব্রাজিলিয়ান সাংবাদিকদের হতভম্ব করে মেলো দাবি করেছেন, তিনি খুবই রোমান্টিক, ‘লোকে মনে করে আমি জঘন্য প্রকৃতির মানুষ। কিন্তু আমি আমার স্ত্রীর কাছে ফুল ও কার্ড পাঠাই। আমিও ফুল ও কার্ড পেতে চাই। সত্যি বলতে কি, ফুল বা কার্ড না পেলে আমার মনটাই খারাপ হয়ে যায়।’

গোল্ডেন বুট চান রবিনহো

আলোটা তাঁর ওপর খুব একটা নেই। তবে বিশ্বকাপের গোল্ডেন বুট জিতে সেই আলো কাড়তে চান রবিনহো। নিজের এই সুপ্ত বাসনা জানিয়েও দিয়েছেন ব্রাজিল স্ট্রাইকার।
‘আমার স্বপ্ন, ব্রাজিল বিশ্বকাপ জিতবে আর আমি জিতব গোল্ডেন বুট। আমরা সবাই জানি, বিশ্বকাপ জেতার সামর্থ্য আমাদের আছে। বিশ্বকাপ জিতলে ব্যক্তিগতভাবে তা হবে আমার কাছে অসাধারণ এক মুহূর্ত’—বলেছেন রবিনহো।
নিউজ অব দ্য ওয়ার্ল্ডকে রবিনহো আরও বলেছেন, ‘বাছাইপর্বে আমি প্রচুর ম্যাচ খেলেছি। আমি মনে করি, কোচ দুঙ্গার আস্থা আছে আমার ওপর। এটা আমার জন্য আদর্শ জায়গা, যেখানে আমি নিজেকে বিশ্বসেরা হিসেবে তুলে ধরতে পারি।’
গত বছর ব্রাজিলের কনফেডারেশন কাপ জয়ী দলের সদস্য ছিলেন। টুর্নামেন্টের সব ম্যাচেই তিনি খেলেছেন। ২০০৮ সালটা ভালো কেটেছিল তাঁর। ম্যানচেস্টার সিটির হয়ে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে সাড়া ফেলেছিলেন। পরের বছরটা তেমন ভালো যায়নি। পেলের ক্লাব সান্তোসে ধারে খেলতে গেছেন এরপর। কিছুটা আড়ালে চলে গেলেও বিশ্বকাপকে তিনি বেছে নিচ্ছেন পাদপ্রদীপের আলোয় ফেরার মঞ্চ হিসেবে