Sunday, July 27, 2025
গাজার শিশুদের মধ্যে মারাত্মক অপুষ্টি তিনগুণ বেড়েছে
গাজার স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কমপক্ষে ১২২ জন ক্ষুধায় মারা গেছে। ২৪ ঘণ্টায় আরও ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি বলেছে, গাজার প্রায় এক-তৃতীয়াংশ মানুষ দিনের পর দিন কিছু খেতে পারছে না। আর ৯০,০০০ নারী ও শিশুর জরুরি চিকিৎসা প্রয়োজন। গাজার স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ নাজি আল-কুরাশালি বলেন, প্রকৃত পরিস্থিতি সরকারি পরিসংখ্যানের চেয়ে অনেক ভয়াবহ। তিনি অনুমান করেন, প্রতিদিন তিনি যে শত শত গর্ভবতী নারীকে দেখেন, তাদের অর্ধেক অপুষ্টিতে ভুগছেন।
তিনি বলেন, এত ভয়াবহ অবস্থা আমি আমার চিকিৎসা জীবনে কল্পনাও করিনি। গর্ভপাতের ঘটনা বেড়ে গেছে, আর জন্ম নেওয়া শিশুরা অধিকাংশই ওজন কম, অকালে জন্ম নিচ্ছে বা জন্মগত বিকৃতিতে আক্রান্ত হচ্ছে। তিনি আরও জানান, পর্যাপ্ত চিকিৎসা সরঞ্জাম নেই, মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ ব্যবহার করতে হচ্ছে, এমনকি নোংরা গ্লাভস দিয়ে কাজ করতে হচ্ছে। একজন অসহায় চিকিৎসক হিসেবে এটা সহ্য করা যায় না। অনেক সময় হাসপাতালে দৌড়ে বের হয়ে যাই কারণ রোগীদের ন্যূনতম চাহিদাও পূরণ করতে পারি না।
বিশেষজ্ঞরা বলেন, গণক্ষুধার ঘটনায় সবচেয়ে আগে মারা যায় শিশুরা ও গর্ভবতী নারীরা। তবে ইসরাইল ক্ষুধা সংকটের দায় অস্বীকার করেছে। তাদের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় একে ‘ইসরাইলের বিরুদ্ধে বিদেশি ষড়যন্ত্র’ বলে উল্লেখ করেছে এবং দায় দিয়েছে জাতিসংঘকে, যারা ইসরাইলি বিধিনিষেধের কারণে গাজায় ৪০০টি বিতরণকেন্দ্র ব্যবহার করতে পারছে না।
জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নীরবতা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এটা শুধু মানবিক সংকট নয়, নৈতিক সংকটও, যা বিশ্বের বিবেককে চ্যালেঞ্জ করছে। শুক্রবার বৃটেন, ফ্রান্স ও জার্মানির নেতারা এক বিবৃতিতে বলেন, গাজার মানবিক বিপর্যয় এখনই শেষ হওয়া উচিত এবং ইসরাইলকে ত্রাণে বিধিনিষেধ শিথিল করার আহ্বান জানান।
ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রন বৃহস্পতিবার ঘোষণা করেন, সেপ্টেম্বরের জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ফ্রান্স ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেবে। বৃটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ের স্টারমারের ওপরও একই চাপ বাড়ছে।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প ম্যাক্রনের ঘোষণাকে গুরুত্বহীন বলে উড়িয়ে দেন। ইসরাইলি সেনাবাহিনী ঘোষণা করেছে, তারা জর্ডান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতকে গাজায় বিমান থেকে ত্রাণ ফেলতে দেবে, যদিও এটি ব্যয়বহুল এবং লরি দিয়ে আনা ত্রাণের তুলনায় কম সরবরাহ বহন করতে পারে। হামাস একে ‘রাজনৈতিক নাটক’ হিসেবে অভিহিত করেছে। গাজায় গর্ভবতী ৩১ বছর বয়সী আমাল মাসরি বলেন, খাবার পাওয়া প্রায় অসম্ভব। অধিকাংশ সময় আমি ভীষণ দুর্বল বোধ করি, রক্তচাপ খুব কম থাকে, মনে হয় দম বন্ধ হয়ে আসছে, যেন মৃত্যু আসন্ন। তার স্বামী মার্কিন-সমর্থিত গাজা হিউম্যানিটারিয়ান ফাউন্ডেশনের (জিএইচএফ) বিতরণ কেন্দ্র থেকে খাবার পেতে ব্যর্থ হচ্ছেন এবং অনেক সময় আহত হয়ে ফিরছেন। ১,০০০-রও বেশি মানুষ এসব বিতরণকেন্দ্রের কাছে খাবার সংগ্রহের চেষ্টায় গুলি খেয়ে মারা গেছে, যদিও জিএইচএফ এ দায় অস্বীকার করেছে।
এদিকে, যুদ্ধবিরতি আলোচনাও ভেস্তে গেছে। ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্র কাতার থেকে নিজেদের আলোচক ফিরিয়ে নিয়েছে। ট্রাম্প হামাসকে দোষারোপ করে বলেছেন, ওরা সমঝোতা চায় না, আর ওদের নেতাদের শিকার করা হবে। হামাস অভিযোগ করেছে, সমঝোতা ভেস্তে যাওয়ার জন্য ইসরাইল দায়ী। হামাস কর্মকর্তা বাসেম নাঈম বলেন, আমরা যে প্রস্তাব দিয়েছি তা পরিস্থিতির জটিলতা বিবেচনায় যথেষ্ট কার্যকর, যদি শত্রুপক্ষ সমঝোতায় ইচ্ছুক হতো।

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দিতে বৃটিশ প্রধানমন্ত্রীকে ক্যাবিনেট মন্ত্রী ও এক-তৃতীয়াংশ এমপির চাপ
আন্তর্জাতিক মহলে ইসরাইলের কর্মকাণ্ড নিয়ে ক্ষোভ বেড়েই চলেছে। বিশেষ করে গাজা সিটিতে ৫ বছরের নিচের শিশুদের মারাত্মক অপুষ্টির ঘটনা গত দুই সপ্তাহে তিনগুণ বেড়ে যাওয়ার পর উদ্বেগ, ক্ষোভ আরও বেড়েছে। বৃটেন, ফ্রান্স ও জার্মানি শুক্রবার এক যৌথ বিবৃতিতে বলেছে, গাজার মানবিক বিপর্যয় এখনই শেষ হওয়া উচিত এবং ইসরাইলকে ত্রাণ প্রবাহে সব ধরনের বাধা সরিয়ে দিতে হবে। তারা আরও যোগ করেছে, বেসামরিক জনগণকে জরুরি মানবিক সাহায্য থেকে বঞ্চিত করা সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য।
ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রন ও জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মেৎসের সঙ্গে বৈঠকের পর স্টারমার বলেন, জিম্মিদের বন্দি অব্যাহত থাকা, ফিলিস্তিনি জনগণকে অনাহারে রাখা, ত্রাণ অস্বীকার, চরমপন্থী বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা বৃদ্ধি এবং গাজায় ইসরাইলের অসামঞ্জস্যপূর্ণ সামরিক তৎপরতা- এসব কিছুই অগ্রহণযোগ্য। স্টারমার বলেন, তিনি ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেয়ার পক্ষে স্পষ্ট সমর্থন দেন, তবে এটি একটি বৃহত্তর পরিকল্পনার অংশ হতে হবে যা দ্বিরাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের পথে নিয়ে যাবে এবং ফিলিস্তিনি ও ইসরাইলি উভয়ের জন্য স্থায়ী নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে। এর ফলে যারা ভোগান্তিতে আছে তাদের জীবনের উন্নতি ঘটাতে স্বীকৃতিটি সর্বাধিক কার্যকর হাতিয়ার হয়ে উঠবে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প শুক্রবার স্কটল্যান্ডে চার দিনের সফরে পৌঁছান, সেখানে সোমবার তার স্টারমারের সঙ্গে বৈঠক হওয়ার কথা। এর আগে ম্যাক্রন ঘোষণা করেন, ফ্রান্স সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেবে। ম্যাক্রনের পদক্ষেপকে গুরুত্বহীন বলে উড়িয়ে দেন ট্রাম্প এবং বলেন, এটা কিছুই পরিবর্তন করবে না। বৃটেনের নীতি অনুযায়ী, তারা ফিলিস্তিনকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেবে কেবল শান্তি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে এবং অন্যান্য পশ্চিমা দেশের সঙ্গে সমন্বয়ে, সর্বোচ্চ প্রভাব সৃষ্টির উপযুক্ত সময়ে।
রেইনার ও কুপারসহ অন্তত সাতজন ক্যাবিনেট মন্ত্রী জরুরি পদক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছেন। দ্য গার্ডিয়ান জানিয়েছে, স্বাস্থ্যমন্ত্রী ওয়েস স্ট্রিটিং, আইনমন্ত্রী শাবানা মাহমুদ এবং নর্দার্ন আয়ারল্যান্ড বিষয়ক মন্ত্রী হিলারি বেন সাম্প্রতিক বৈঠকে ফিলিস্তিন রাষ্ট্র স্বীকৃতির পক্ষে কথা বলেছেন। স্কটল্যান্ড মন্ত্রী ইয়ান মারে ও ওয়েলস মন্ত্রী জো স্টিভেন্সও বিষয়টি তুলেছেন। সংস্কৃতি মন্ত্রী লিসা ন্যান্ডি ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডেভিড ল্যামিও ডাউনিং স্ট্রিটকে আরও দৃঢ় অবস্থান নিতে চাপ দিচ্ছেন বলে জানা গেছে।
এক সরকারি সূত্র বলছে, এখন অবস্থা দাঁড়িয়েছে প্রায় সবাই বনাম ১০ নম্বর (ডাউনিং স্ট্রিট) অবস্থান করছে। গত মাসে রেইনার বলেন, গাজার ক্ষেত্রে পশ্চিমা বিশ্বকে অতীতের ভুল এড়াতে হবে। সেন্ট পলস ক্যাথেড্রালে স্রেব্রেনিৎসা গণহত্যার ৩০তম বার্ষিকীতে তিনি বলেন, ১৯৯০-এর দশকে পশ্চিমা বিশ্ব দেরিতে পদক্ষেপ নিয়েছিল। ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিতে হবে এবং নিষ্ক্রিয়তার পরিণতি এড়াতে হবে। শুক্রবার নয়টি দলের ২২১ জন এমপি জাতিসংঘের নিউ ইয়র্ক সম্মেলনের আগে বৃটিশ স্বীকৃতির আহ্বান জানিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ল্যামিকে চিঠি দিয়েছেন। চিঠিতে বলা হয়েছে, বৃৃটেনের এককভাবে ফিলিস্তিনের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার ক্ষমতা নেই। কিন্তু ঐতিহাসিক দায়বদ্ধতা ও জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের সদস্য হওয়ায় বৃটিশ স্বীকৃতি বিশেষ প্রভাব ফেলবে। ১৯৮০ সাল থেকে আমরা দ্বিরাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানকে সমর্থন করেছি। স্বীকৃতি সেই অবস্থানকে বাস্তব রূপ দেবে।
চিঠির স্বাক্ষরকারীদের মধ্যে রয়েছেন লেবার পার্টির একাধিক কমিটির চেয়ারম্যান এমিলি থর্নবেরি (বিদেশ বিষয়ক), সারা চ্যাম্পিয়ন (আন্তর্জাতিক উন্নয়ন) এবং তানমানজিত সিং ধেসি (প্রতিরক্ষা)।
এছাড়া সই করেছেন লিবারেল ডেমোক্র্যাট নেতা এড ডেভি, গ্রিন পার্টির যৌথ নেতা কার্লা ডেনিয়ার ও অ্যাড্রিয়ান র্যামসি, স্কটিশ ন্যাশনাল পার্টির ওয়েস্টমিনস্টার নেতা স্টিফেন ফ্লিন, এবং কনজারভেটিভ এমপি কিট মালথাউস ও এডওয়ার্ড লি। মোট সমর্থনকারী লেবার এমপিদের সংখ্যা আরও বেশি। এক লেবার এমপি বলেন, আমাদের আরও কিছু করতে হবে। ইসরাইল ভয়াবহ যুদ্ধাপরাধ করছে। প্রায় ৬০ জন লেবার এমপি এর আগে ল্যামিকে দেওয়া এক চিঠিতে একই আহ্বান জানান।

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
গাজায় প্রতি তিনজনে একজন না খেয়ে দিন পার করছেন: জাতিসংঘ
বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি) এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘(গাজায়) পুষ্টিহীনতা বাড়ছে। ৯০ হাজার নারী ও শিশুর জরুরি চিকিৎসা প্রয়োজন।’
গাজায় অনাহার নিয়ে সতর্কতা এ সপ্তাহে আরও তীব্র হয়েছে। সেখানকার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গতকাল শুক্রবার অপুষ্টিতে গাজায় আরও নয়জন মারা গেছেন। এর মধ্য দিয়ে ইসরায়েলের গাজা যুদ্ধ শুরুর পর ক্ষুধা ও অপুষ্টিতে উপত্যকাটিতে মৃত মানুষের সংখ্যা দাঁড়াল ১২২।
অবরুদ্ধ গাজায় সব রকম পণ্য সরবরাহের প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ করে ইসরায়েল। দেশটি দাবি করছে, গাজায় ত্রাণসহায়তা প্রবেশে এখন কোনো বাধা নেই। সেখানে সব অপুষ্টিজনিত সমস্যার জন্য হামাসকে দায়ী করছে তারা।
একজন ইসরায়েলি নিরাপত্তা কর্মকর্তা গতকাল বলেন, আগামী কয়েক দিনের মধ্যে গাজায় উড়োজাহাজ থেকে ত্রাণসামগ্রী ফেলার অনুমোদন দেওয়া হতে পারে। যদিও বিভিন্ন সাহায্য সংস্থা এটিকে গাজায় ত্রাণ পৌঁছানোর জন্য অকার্যকর উপায় বলে সতর্ক করেছে।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও জর্ডান নতুন করে বিমান থেকে ত্রাণ ফেলার উদ্যোগ নিয়েছে। তবে জর্ডানের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বিবিসিকে জানিয়েছেন, ইসরায়েলের কাছ থেকে এখনো তাঁদের সেনাবাহিনী এ–সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় অনুমতি পায়নি।
গাজায় ত্রাণসহায়তা প্রবেশের ওপর থেকে অবিলম্বে বিধিনিষেধ তুলে নিতে গতকাল ইসরায়েলের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে জার্মানি, ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্য। এ তিন দেশ এক যৌথ বিবৃতিতে অবিলম্বে গাজায় চলমান ‘মানবিক বিপর্যয় ও যুদ্ধ’ বন্ধের আহ্বানও জানায়। দেশগুলো বলেছে, ইসরায়েলের আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন মেনে চলা উচিত।
জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বলেছেন, ‘আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উদাসীনতা ও নিষ্ক্রিয়তা ব্যাখ্যা করার মতো না। কোনো করুণা নেই, সত্য নেই, নেই কোনো মানবতা।’
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের বৈশ্বিক সম্মেলনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে গুতেরেস বলেন, ২৭ মে থেকে এ পর্যন্ত খাদ্য সংগ্রহের চেষ্টা করতে গিয়ে ইসরায়েলি সেনাদের গুলিতে এক হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। ওই সময় থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল-সমর্থিত গাজা হিউম্যানিটারিয়ান ফাউন্ডেশন জাতিসংঘের বিকল্প হিসেবে গাজায় ত্রাণ বিতরণ শুরু করে।
এদিকে যুদ্ধবিরতি ও জিম্মি মুক্তি নিয়ে ইসরায়েল–হামাস নতুন চুক্তির সম্ভাবনা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। কারণ, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল কাতার থেকে তাদের আলোচনার জন্য পাঠানো দল প্রত্যাহার করে নিয়েছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, হামাস ‘আসলে কোনো চুক্তি করতে চায় না।’ তিনি বলেন, ‘আমার মনে হয়, তারা মরতে চায়।’
তবে হামাস যুক্তরাষ্ট্রের এমন মন্তব্যে বিস্ময় প্রকাশ করেছে। হামাসের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বিবিসির গাজা প্রতিনিধিকে বলেন, মধ্যস্থতাকারীরা তাঁদের জানিয়েছেন, আলোচনা এখনো ভেস্তে যায়নি। আগামী সপ্তাহে ইসরায়েলি প্রতিনিধিদলের দোহায় ফেরার কথা রয়েছে।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলায় দক্ষিণ ইসরায়েলে প্রায় ১ হাজার ২০০ মানুষ নিহত ও ২৫১ জন জিম্মি হওয়ার পর ইসরায়েল গাজায় তাণ্ডব শুরু করেছে। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ইসরায়েলি বাহিনীর হামলায় ওই সময় থেকে এ পর্যন্ত গাজায় ৫৯ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন।
![]() |
| গাজার একটি ত্রাণকেন্দ্রে খাবারের জন্য ফিলিস্তিনিদের ভিড়। ছবি: রয়টার্স |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
গাজা নিয়ে ‘গণহত্যামূলক সাংবাদিকতা’ করছে নিউইয়র্ক টাইমস
এটা কঠোর শোনাতে পারে, কিন্তু গাজায় ইসরায়েলের বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগে একটা বড় রকমের অসামঞ্জস্য আছে। ধরুন, যদি ইসরায়েলের উদ্দেশ্য ও কাজ সত্যিই গণহত্যামূলক হয়; অর্থাৎ তারা যদি গাজাবাসীকে নিশ্চিহ্ন করে দেওয়ার জন্য এতটাই নিষ্ঠুর হয়ে থাকে, তাহলে তারা আরও বেশি পরিকল্পিত এবং অনেক বেশি প্রাণঘাতী কেন হয়নি?
কেন মৃতের সংখ্যা লক্ষাধিক নয়। কেন মৃতের সংখ্যা ৬০ হাজারে সীমাবদ্ধ? আর এই সংখ্যা এসেছে হামাস-নিয়ন্ত্রিত গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে। আর এই সংখ্যাটি এসেছে হামাস-নিয়ন্ত্রিত গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে, যারা যোদ্ধা আর সাধারণ মানুষের মধ্যে পার্থক্য করে না।
ইসরায়েলের পক্ষে আরও বেশি ধ্বংস চালানো সম্ভব ছিল না, এমন নয়। তারা অঞ্চলের সবচেয়ে শক্তিশালী সামরিক শক্তি। হিজবুল্লাহকে ধ্বংস করার পর এবং ইরানকে দুর্বল করে আরও শক্তিশালী হয়েছে। তারা চাইলে কোনো পূর্বসতর্কতা ছাড়াই বোমা ফেলতে পারত, কিন্তু সাধারণত গাজাবাসীকে আগেই জানানো হয় কোন এলাকায় হামলা হবে। তারা এমনও করতে পারত যে নিজেদের সেনাদের, যাঁদের অনেকেই যুদ্ধে নিহত হয়েছেন, ঝুঁকিতে না ফেলে কেবল আকাশপথে আক্রমণ চালাত।
এমনও নয় যে গাজায় ইসরায়েলের জিম্মিরা থাকায় তারা হামলা থেকে বিরত থেকেছে। ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থা বেশ ভালোভাবেই জানে, কোথায় এসব জিম্মিকে রাখা হয়েছে, আর এটাই একটি কারণ যে কিছু ব্যতিক্রম ছাড়া জিম্মিদের খুব বেশি মারা যায়নি। এবং এটা তারা জানে যে হামাস জিম্মিদের জীবিত রাখার পক্ষেই আগ্রহী।
কূটনৈতিক সমর্থনের দিক থেকেও ইসরায়েলের ঘাটতি নেই। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রকাশ্যে বলেছেন, গাজার সবাইকে এলাকা ছাড়তে হবে এবং বারবার হুঁশিয়ার করেছেন যে হামাস জিম্মিদের ছেড়ে না দিলে গাজায় ‘নরক নেমে আসবে’।
তাই প্রশ্ন আসে, যাঁরা ইসরায়েলের বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগ তুলছেন, তাঁদের আগে বলা উচিত—মৃত্যুর সংখ্যা আরও বেশি কেন নয়? উত্তর খুব সহজ: কারণ, ইসরায়েল গণহত্যা চালাচ্ছে না।
‘গণহত্যা’ শব্দটির একটি নির্দিষ্ট আইনগত এবং নৈতিক ব্যাখ্যা আছে, যা জাতিসংঘের সংজ্ঞা অনুযায়ী হলো কোনো জাতীয়, জাতিগত, বর্ণগত বা ধর্মীয় গোষ্ঠীকে সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে ধ্বংস করার ইচ্ছা।
এখানে ‘ইচ্ছা’ এবং ‘গোষ্ঠী হিসেবে’—এই শব্দ দুটি গুরুত্বপূর্ণ। গণহত্যা মানে কেবল অনেক বেসামরিক মানুষ মারা যাওয়া নয়। বরং এটি মানে কেবল কোনো গোষ্ঠীর সদস্য হওয়ার কারণে তাদের নিশ্চিহ্ন করে দেওয়ার চেষ্টা—যেমন হিটলার ও নাৎসিরা কেবল ইহুদি হওয়ার কারণে ইহুদিদের হত্যা করেছে, কিংবা রুয়ান্ডার গণহত্যায় হুতুরা তুতসিদের মেরেছে।
অন্যদিকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জার্মানির হামবুর্গ ও ড্রেসডেন শহরে বোমা হামলায় লাখ লাখ বেসামরিক মানুষ মারা গেলেও তাঁরা যুদ্ধের শিকার হয়েছেন। তাঁরা গণহত্যার শিকার নন। কারণ, মিত্রশক্তির লক্ষ্য ছিল জার্মান জাতিকে ধ্বংস করা নয়, বরং নাৎসিদের পরাজিত করা।
ইসরায়েলের সমালোচকেরা গাজায় যে ব্যাপক ধ্বংস হয়েছে, তা তুলে ধরেন। তাঁরা কিছু ইসরায়েলি রাজনীতিকের উসকানিমূলক বক্তব্যও তুলে ধরেন, যেগুলোয় গাজাবাসীকে অমানবিকভাবে চিত্রিত করা হয়।
কিন্তু ৭ অক্টোবরের হামাসের ভয়ংকর হামলার পর এসব ক্ষুব্ধ মন্তব্যকে নাৎসি গণহত্যার পরিকল্পনার (যেমন ওয়ানসি সম্মেলন) সঙ্গে তুলনা করা যায় না। এবং আমি এমন কোনো প্রমাণ জানি না, যাতে বলা যায় যে ইসরায়েল পরিকল্পিতভাবে গাজাবাসীকে হত্যা করছে।
তবে এটা সত্য যে গাজায় ধ্বংসযজ্ঞ অনেক বেশি। ইসরায়েল যেসব কৌশল অবলম্বন করছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলা যেতেই পারে—বিশেষত খাবার সরবরাহব্যবস্থা নিয়ে, যেখানে তারা চেয়েছে হামাসের হাত থেকে খাবারের নিয়ন্ত্রণ কেড়ে নিতে। ইতিহাসে খুব কম সামরিক বাহিনীই এমন আছে, যাদের কোনো না কোনো যুদ্ধে কেউ না কেউ যুদ্ধাপরাধ করেনি। এই তালিকায় ইসরায়েলও পড়ে।
কিন্তু ত্রাণ বিতরণে ভুল, অতি সংবেদনশীল সেনা, ভুল টার্গেট কিংবা প্রতিহিংসাপরায়ণ রাজনীতিকদের বক্তব্য—এসব দিয়ে ‘গণহত্যা’ প্রমাণ করা যায় না। এগুলো যুদ্ধের স্বাভাবিক ট্র্যাজেডির অংশ।
গাজাকে ঘিরে যে বিষয়টি বিশেষ, তা হলো হামাস যেভাবে যুদ্ধ করছে, তা একেবারেই অপরাধমূলক এবং ঠান্ডা মাথার হিসাব-কিতাব। যেমন ইউক্রেনে রাশিয়ার হামলার সময় সাধারণ মানুষ বাংকারে আশ্রয় নেন, আর সেনারা ওপরে থেকে লড়াই করেন। কিন্তু গাজায় এর উল্টোটা। সেখানে হামাস নিজেদের সুরক্ষিত রাখে টানেলের ভেতর আর সাধারণ মানুষ ওপরে থাকেন।
এখানে একটা বিষয় ভেবে দেখা দরকার: একই পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র কী করত? ২০১৬-১৭ সালে ওবামা ও ট্রাম্পের অধীন যুক্তরাষ্ট্র ইরাক সরকারকে সাহায্য করেছিল মসুল শহর দখলমুক্ত করতে। শহরটি তিন বছর ধরে আইএসের নিয়ন্ত্রণে ছিল এবং টানেলে ভরা এক দুর্গে পরিণত হয়েছিল।
নিউইয়র্ক টাইমস–এই প্রকাশিত এক বর্ণনায় বলা হয়েছিল, মার্কিন বিমান হামলায় কখনো কখনো পুরো ব্লক ধ্বংস হয়ে যেত। মসুলের জিদিদেহ এলাকায় এমন এক হামলায় ২০০ জন বেসামরিক মানুষের মৃত্যু হয়েছিল। আইএস তখন বেসামরিক মানুষদের ঢাল হিসেবে ব্যবহার করত এবং বেপরোয়া স্নাইপার ও মর্টার হামলা চালাত। ৯ মাস ধরে চলা এই যুদ্ধ ছিল দুই দলেরই সমর্থনপুষ্ট—রিপাবলিকান ও ডেমোক্রেটিক পার্টি উভয়ের। অনেকে বলেন, এতে প্রায় ১১ হাজার বেসামরিক মানুষ মারা গিয়েছিলেন। কিন্তু কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে বড় বিক্ষোভ হয়েছিল বলে মনে পড়ে না।
কিছু পাঠক বলতে পারেন—যদিও এই যুদ্ধ গণহত্যা না হয়, তা–ও এটা অনেক দীর্ঘ হয়ে গেছে এবং এর এখনই শেষ হওয়া দরকার। এটা যৌক্তিক দাবি এবং বেশির ভাগ ইসরায়েলিও তা বিশ্বাস করেন। কিন্তু তাহলে ‘গণহত্যা’ শব্দটি নিয়ে এত বিতর্ক কেন? বিতর্ক দুটি কারণে।
প্রথমত, অনেক চিন্তাবিদ হয়তো আন্তরিকভাবে ‘গণহত্যা’ শব্দটি ব্যবহার করেন। কিন্তু কিছু লোক এই শব্দ ব্যবহার করেন ইচ্ছাকৃতভাবে ইসরায়েলকে নাৎসি জার্মানির সঙ্গে তুলনা করার জন্য। এতে শুধু ইসরায়েল সরকার নয়, বরং যেকোনো ইহুদি (যিনি ইসরায়েলকে সমর্থন করেন), তাঁকেও গণহত্যার পক্ষে দাঁড়ানো ব্যক্তি হিসেবে উপস্থাপন করা হয়। বহু বছর ধরেই ইসরায়েলবিরোধীরা বিভিন্ন মিথ্যা বা অতিরঞ্জিত অভিযোগ তোলে। ‘গণহত্যা’ শব্দটি এখন সেই একই কৌশলের আরও ভয়ংকর রূপ।
দ্বিতীয়ত, ‘গণহত্যা’ শব্দটি ১৯৪০-এর দশকে তৈরি হয়েছিল এবং এটি এককভাবে ভয়াবহ অপরাধ বোঝাতে ব্যবহৃত হয়। এই শব্দকে যদি আমরা প্রতিটি অপছন্দের সামরিক সংঘাতে ব্যবহার করি, তাহলে ভবিষ্যতের আসল গণহত্যার গুরুত্ব হারিয়ে ফেলব।
● ব্রেট স্টিফেন্স, নিউইয়র্ক টাইমস–এর কলাম লেখক
‘গণহত্যামূলক সাংবাদিকতা’ করছে নিউইয়র্ক টাইমস by বেলেন ফার্নান্দেজ
ইসরায়েলিরা নিশ্চয়ই ব্রেট স্টিফেন্সকে একটা বড় ধন্যবাদ দিতে পারেন। নিউইয়র্ক টাইমস-এর এই মতামত লেখক পত্রিকাটির পাতায় একটি লেখায় ভয়ংকর একটি যুক্তি তুলে ধরেছেন। লেখাটির শিরোনাম, ‘না, গাজায় ইসরায়েল গণহত্যা চালাচ্ছে না’।
এই লেখায় স্টিফেন্স একপ্রকার জোর করেই বোঝাতে চেষ্টা করেছেন, ইসরায়েল গাজায় যা করছে, তা গণহত্যা নয়।
অথচ জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থা থেকে শুরু করে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল পর্যন্ত অনেক আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান বলেছে, ইসরায়েল আসলেই গাজায় গণহত্যা চালাচ্ছে। এসব সংস্থা হালকা চালে ‘গণহত্যা’ শব্দটি ব্যবহার করে না। কিন্তু স্টিফেন্স নিজেকে তাদের চেয়ে বেশি জ্ঞানী মনে করেন আর তাই তিনি ব্যাখ্যা দিতে এগিয়ে এসেছেন।
স্টিফেন্স লেখার শুরুতেই প্রশ্ন করেন, ‘যদি ইসরায়েলি সরকারের কাজকর্ম সত্যিই গণহত্যামূলক হয়, যদি তারা গাজাবাসীকে নিশ্চিহ্ন করে দিতে চায়, তাহলে তারা সংগঠিত ও ব্যাপকভাবে কেন আক্রমণ করছে না?’
কিন্তু বাস্তবতা হলো গাজা উপত্যকার প্রায় পুরো অংশই যেভাবে ধ্বংসস্তূপে পরিণত করা হয়েছে, বাড়িঘর, হাসপাতাল, স্কুল—সবই বোমায় উড়িয়ে দেওয়া হয়েছে, তা তো যথেষ্ট ‘পদ্ধতিগত’ মনে হয়। আর যাঁরা বলছেন, এই আক্রমণে ‘প্রচুর’ মানুষ মারা যায়নি, তাঁদের উদ্দেশে স্টিফেন্স বলেন, প্রায় ৬০ হাজার ফিলিস্তিনির মৃত্যুই যদি ঘটে থাকে, তাহলে ‘লাখ লাখ মানুষ কেন মারা যায়নি?’ স্টিফেন্স মনে করছেন, ‘যারা ইসরায়েলকে গণহত্যাকারী বলছে, তাদের আগে বলা উচিত মৃত্যুর সংখ্যা এত কম কেন?’
কিন্তু এখানে প্রশ্ন আসে, ৬০ হাজার মানুষের মৃত্যুকে তিনি কীভাবে ছোট ব্যাপার হিসেবে দেখছেন? ২০২৪ সালের নভেম্বর পর্যন্ত গাজায় অন্তত ১৭ হাজার ৪০০ শিশু মারা গেছে—তবু এটা তার কাছে ‘পর্যাপ্ত নিষ্ঠুরতা’ নয়। মেডিকেল জার্নাল দ্য ল্যানচেট-এ প্রকাশিত এক গবেষণায় বলা হয়, আসলে মৃত মানুষের সংখ্যা হয়তো ১ লাখ ৮৬ হাজার ছাড়িয়ে গেছে।
যাঁরা বলছেন ইসরায়েল গণহত্যা করছে, তাঁদের কথা না শুনেই স্টিফেন্স নিজেই বলেন, ‘ইসরায়েল স্পষ্টতই গণহত্যা চালাচ্ছে না।’
জাতিসংঘের গণহত্যাসংক্রান্ত সংজ্ঞা দিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি এমন কোনো প্রমাণ জানি না, যাতে বলা যায় ইসরায়েল পরিকল্পনা করে গাজাবাসীকে হত্যা করছে।’
কিন্তু বাস্তবতা হলো, আপনি ১৩ মাসে ১৭ হাজার ৪০০ শিশু ‘ভুল করে’ হত্যা করেননি। আর আপনি যদি বারবার হাসপাতাল ও অ্যাম্বুলেন্সে বোমা ফেলেন, তাহলে সেটা স্পষ্টতই বেসামরিক মানুষকে টার্গেট করেই করা।
বিষয়টা শুধু বোমার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। ‘বাধ্যতামূলক ক্ষুধার্ত করে রাখা’—এটাও গণহত্যার মধ্যে পড়ে। এখন প্রশ্ন আসে, দুই মিলিয়ন মানুষের খাবার ও পানি বন্ধ করে দেওয়া কি কোনো জাতিকে নিশ্চিহ্ন করার চেষ্টা নয়? শুধু গতকালই (২২ জুলাই ২০২৫) গাজার স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ জানায়, সেখানে অন্তত ১৫ জন মারা গেছেন না খেয়ে। এর মধ্যে চারটি শিশু।
২০২৫ সালের মে মাসের শেষ দিক থেকে এখন পর্যন্ত আরও এক হাজার ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন খাবারের জন্য গাজার তথাকথিত হিউম্যানিটারিয়ান ফাউন্ডেশনে (জিএইচএফ) যাওয়ার সময়। সংস্থাটি ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তায় পরিচালিত। এখানে ইচ্ছাকৃতভাবে বহু মানুষকে এক জায়গায় জড়ো করে সহজেই ইসরায়েলি সেনাদের গুলিতে হত্যা করা হয়। এভাবে তারা বেঁচে যাওয়া ফিলিস্তিনিদের জোর করে স্থানচ্যুত করার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে।
স্টিফেন্স যদিও ‘গাজায় বিশৃঙ্খল ত্রাণ বিতরণব্যবস্থা’র কথা স্বীকার করেন, তবে তিনি মনে করেন, ‘ত্রাণব্যবস্থার ব্যর্থতা, অতিরিক্ত প্রতিক্রিয়াশীল সেনা, ভুল টার্গেটের ওপর হামলা কিংবা প্রতিহিংসাপরায়ণ রাজনীতিকদের বক্তব্য—এসব দিয়েও গণহত্যা প্রমাণিত হয় না।’
তবে গাজায় ইসরায়েলি হামলায় ‘গণহত্যা’ শব্দটি ব্যবহারের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে স্টিফেন্স এ সত্যও অস্বীকার করেন যে ইসরায়েল রাষ্ট্রটি শুরু থেকেই ছিল একধরনের গণহত্যার প্রকল্প।
ইহুদি জায়নবাদীরা ১৯৪৮ সালে ইসরায়েল রাষ্ট্র তৈরির আগে থেকেই জানতেন, ফিলিস্তিনের স্থানীয় জনগণকে সরিয়ে ফেলতেই হবে। সেই প্রক্রিয়ায় বহু গ্রাম ধ্বংস করা হয় এবং প্রায় সাড়ে সাত লাখ মানুষকে শরণার্থী বানানো হয়।
এর পর থেকে ইসরায়েল বরাবরই সেই গণহত্যামূলক পদক্ষেপেই এগিয়ে গেছে। ফিলিস্তিনিদের শুধু শারীরিকভাবে নয়, তাদের অস্তিত্বকেও মুছে দেওয়ার চেষ্টা করেছে। যেমন ইসরায়েলের সাবেক প্রধানমন্ত্রী গোলদা মেইয়র একসময় বলেছিলেন, ফিলিস্তিনিদের আসলে অস্তিত্বই থাকতে পারে না।
অর্থাৎ ইসরায়েল নামক রাষ্ট্রটি নিজেই গড়ে উঠেছে সেই ধরনের ‘ইচ্ছাকৃতভাবে জাতিগত নিধন’ নীতির ওপর ভিত্তি করে।
বহুদিন ধরেই ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী ও নিউইয়র্ক টাইমসসহ অন্যান্য মার্কিন করপোরেট মিডিয়ার মধ্যে একধরনের গোপন আঁতাত আছে। তারা ইসরায়েলের বর্বরতাকে ‘আত্মরক্ষা’ বলে চালিয়ে দেয়।
কিন্তু আজ যখন ইসরায়েল গাজায় সত্যিকার অর্থে এক ভয়াবহ অপরাধ চালিয়ে যাচ্ছে এবং তার পাশে বিশ্বশক্তি যুক্তরাষ্ট্র রয়েছে, তখন ব্রেট স্টিফেন্সের এই ‘গণহত্যামূলক সাংবাদিকতা’ও একধরনের ভয়ংকর অপরাধে পরিণত হয়েছে।
● বেলেন ফার্নান্দেজ, আল–জাজিরার কলাম লেখক
![]() |
| নিউইয়র্ক টাইমসের নিবন্ধের বিপরীতে একটি সমালোচনামূলক নিবন্ধ প্রকাশ করে কাতারভিত্তিক আল–জাজিরা। ২৩ জুলাই, ২০২৫ |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
eCoxs Special
BNM Archive
- ► 2026 (1426)
- ▼ 2025 (3281)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (128)
- ► 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
- ► 2015 (11541)
- ► 2014 (9799)
- ► 2013 (14877)
- ► 2012 (33842)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...

