Monday, October 5, 2015

রাজনৈতিক অচলাবস্থার সমাধান না হলে পরিস্থিতির আরও অবনতি হবে

বিদেশী হত্যা বাংলাদেশে সঙ্কট ঘনীভূত হওয়ার সাক্ষ্য বহন করে। আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মধ্যে সমঝোতা হলেই কেবল এ রকম অবনতিশীল প্রবণতা বন্ধ হবে। এ কথা বলেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য, সাবেক মন্ত্রী আবদুল মঈন খান। বার্তা সংস্থা রয়টার্স তার সাক্ষাতকারমুলক একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। প্রতিবেদনটি লিখেছেন সিরাজুল ইসলাম কাদির। এতে বলা হয়েছে, বিদেশী দুই নাগরিক হত্যা নিয়ে সোমবার বিএনপির সিনিয়র এই নেতা বলেছেন যে, দেশে আইন শৃংখলা ভেঙে পড়েছেÑ এটা তাই প্রমাণ করে। যদি প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে বিদ্যমান অচলাবস্থার সমাধান না হয় তাহলে এ অবস্থার আরও অবনতি হতে পারে। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১৪ সালের জানুয়ারিতে টানা দ্বিতীয়বার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দল আওয়ামী লীগ বিজয় অর্জন করার পর থেকেই বিরোধী দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) সহিংস প্রতিবাদ জানিয়ে আসছে। তখন জাতীয় নির্বাচন বর্জন করে বিএনপি। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের দৃষ্টিতে ওই নির্বাচন ছিল ত্রুটিপূর্ণ। একই সঙ্গে ইসলামপন্থি গ্রুপগুলো উচ্চ মাত্রায় আক্রমণ শুরু করে দক্ষিণ এশিয়ার এ দেশটিতে। এ বছরের শুরুতে চার ব্লগারকে হত্যা করেছে ধর্মীয় উগ্রবাদীরা। গত এক সপ্তাহে এক ইতালিয়ান ও এক জাপানিকে হত্যার দায় স্বীকার করেছে ইসলামিক স্টেট বা আইএস। তারা এখানেই থেমে থাকে নি। আরও হামলার হুমকি দিয়েছে। এক সাক্ষাতকারে বিএনপির সিনিয়র নেতা ও সাবেক মন্ত্রী আবদুল মঈন খান বলেছেন, বাংলাদেশে প্রধান দুটি বড় রাজনৈতিক দলের মধ্যে যতক্ষণ রাজনৈতিক কোন সমঝোতা না হবে ততদিন এমন অবনতিশীল প্রবণতা চলতে থাকবে। তিনি আরও বলেছেন, দু’দলের মধ্যে শান্তি স্থাপনের জন্য যুক্তরাষ্ট্র সহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় উদ্যোগ নিয়েছিল। কিন্তু কয়েক মাস সেই চেষ্টা চালানোর পর তারা ব্যর্থ হয়েছে। কারণ, কোন সমঝোতায় যেতে অস্বীকৃতি জানায় আওয়ামী লীগ। ওদিকে রাজনৈতিক সহিংসতার জন্য বিরোধীদের দায়ী করেন আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুল আলম হানিফ। তিনি সমঝোতার প্রসঙ্গ প্রত্যাখ্যান করেন। হানিফ বলেছেন, সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন হয়েছে। কিন্তু তাতে অংশগ্রহণ করে নি বিএনপি। এটা তাদের ভুল সিদ্ধান্ত। এ নিয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে জাতিসংঘ। রাজনৈতিক অচলাবস্থার শেষ দিকে দু’পক্ষকে নিয়ে আলোচনার উদ্যোগ নিয়েছিলেন অস্ট্রেলিয়ার হাই কমিশনারের সমন্বয়ে ১৮ জন কূটনীতিকের একটি আলাদা গ্রুপ।  অস্ট্রেলিয়ার হাই কমিশনার গ্রেগ উইলকক বলেছেন, বাংলাদেশে রাজনৈতিক যে মতপার্থক্য আছে তার সমাধান হতে হবে স্থানীয়ভাবে। তিনি বলেন, আমরা এ নিয়ে আলোচনার চেষ্টা করছি। সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে গঠনমুলকভাবে সেই চেষ্টা করছি।

হার্ট অ্যাটাক, আইন, বিচার এবং অস্ট্রেলিয়া by শাহদীন মালিক

বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের কর্মকর্তা ওমর সিরাজ হার্ট অ্যাটাকে মারা গেছেন। অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেট দল আসছে না। এক ইতালীয় নাগরিক গুলিবিদ্ধ হয়ে খুন হওয়ার চার দিনের মাথায় একই কায়দায় খুন হয়েছেন এক জাপানি নাগরিক। সারা দেশে তোলপাড়, বিদেশি গণমাধ্যমও উচ্চকিত। অভিযোগ উঠেছে, গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে এক সাংসদ কাকডাকা সকালে এক কিশোরকে গুলি করেছেন। পিস্তলের নিশ্চয়ই লাইসেন্স আছে তাঁর।
হার্ট অ্যাটাক হতেই পারে। ক্রিকেট দলের সফরও বাতিল হতে পারে। বিচ্ছিন্ন দুএকটি খুন–খারাবিও হতে পারে। পরিস্থিতি হয়তো এখনো এমন হয়ে যায়নি যে ‘গেল গেল’ করতে হবে। কিন্তু সব মিলিয়ে ভালো ঠেকছে না।
এক.
গত শতাব্দীর সত্তরের দশক কাটিয়েছি ব্রেজনেভ-কসিগিনের সোভিয়েত ইউনিয়নে। আশির দশক রোনাল্ড রিগ্যানের যুক্তরাষ্ট্রে। তারপর ম্যাগি (মার্গারেট) থ্যাচারের আর জন মেজরের যুক্তরাজ্যে। বারাক ভাইয়ের যুক্তরাষ্ট্রে থাকা হয়নি। এখন আর বিদেশ যাই না। যথেষ্ট হয়েছে।
রানি যখন ঢাকায় আসেন, তখন ছোটই ছিলাম। বেইলি রোডে থাকতাম। বেইলি রোডেই রানির জন্য তড়িঘড়ি করে প্রাসাদ করা হয়। সেই রানি এখনো আছেন। সপ্তাহ দুয়েক আগে ব্রিটেনের ইতিহাসের সবার থেকে বেশি সময় সিংহাসনে থাকার রেকর্ড হয়েছে—এখন প্রায় ৬৪ বছর ধরে রানি। রাষ্ট্রপ্রধান। তিনি অস্ট্রেলিয়ারও রাষ্ট্রপ্রধান। কানাডা ও আরও কিছু দেশেরও।
বিলেতে থাকাকালে ম্যাগি থ্যাচারের বা জন মেজরের জন্মদিনের খবর দেখিনি বা শুনিনি। অথবা ব্রেজনেভ-কসিগিন বা রোনাল্ড রিগ্যানের। আমেরিকায় বয়োজ্যেষ্ঠ হিসেবে বেঁচে আছেন জিমি কার্টার আর বড় বা বাবা বুশ। তাঁদেরও জন্মদিনের মিটিং-মিছিলের খবর দেখিনি বা পড়িনি। নেতাদের জন্মদিন দলীয়ভাবে বা ঘটা করে উদ্যাপন কোনো কোনো দেশের সংস্কৃতি। স্পষ্টত পশ্চিমা দেশে এসব গত ৪০ বছরে হয়েছে বলে মনে হয় না। অবশ্য যুক্তরাষ্ট্রে এক ব্যক্তির জন্মদিন এখন সরকারি ছুটির দিন। বছর বিশেক যাবৎ এটা চালু হয়েছে। মহাত্মা গান্ধীকে অনুসরণ করে ভদ্দরলোক বছর পঞ্চাশেক আগে বলেছিলেন, অন্যায় আইনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করাটাই সবচেয়ে বড় ধর্ম। তিনি আমেরিকার রাজা-উজির কিছুই হননি। মারা যাওয়ার কয়েক দশক পর তাঁর জন্মদিনে সরকারি ছুটি। ভদ্দরলোকের নাম মার্টিন লুথার কিং।
দুই.
২০০২ সালের ১৬ অক্টোবর থেকে ২০০৩ সালের ৯ জানুয়ারি পর্যন্ত যৌথ বাহিনীর অভিযানে অন্তত ৫৭ জন ব্যক্তি হার্ট অ্যাটাকে মারা গিয়েছিলেন। তঁাদের প্রায় সবার হৃদ্রোগে আক্রান্তের ঘটনা ঘটে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ‘হেফাজতে’ থাকার সময়।
যেমন ঘটল আবার ১ অক্টোবর। ২০০২-০৩ সালের হার্ট অ্যাটাকে যেসব মৃত্যু, হেফাজতে জখম, অঙ্গহানি, সম্পত্তি বিনষ্ট হয়েছিল, তার জন্য কোনো আইনি প্রতিকার, আদালতের শরণাপন্ন হওয়া যাবে না এবং অন্য সব ধরনের আইনি প্রক্রিয়া নিষিদ্ধ করে দায়মুক্তি আইন পাস করেছিল আমাদের মহান সংসদ, ২০০৩ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে।
ওই আইনটা বাতিল চেয়ে মামলায় মহামান্য আদালতকে অন্যান্য দেশে কী কী হয়েছে, তা দেখাতে গিয়ে তুলে ধরেছিলাম বিভিন্ন দেশের আইন, যেখানে হেফাজতে মৃত্যুর জন্য রাষ্ট্র দায়িত্ব স্বীকার করে ভুক্তভোগীদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার জন্য আইন পাস করেছে। শ্রীলঙ্কায় গৃহযুদ্ধে যারা মারা গেছে, সে রকম হাজার হাজার পরিবারকে সরকার ক্ষতিপূরণ দিয়েছে। আমাদের বাংলাদেশের
মেয়ে হানুফা পশ্চিমবঙ্গের রেল কর্মচারী দ্বারা ধর্ষিত হওয়ার জন্য কলকাতার হাইকোর্ট রেল কর্তৃপক্ষকে আদেশ দিয়েছেন ১০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে।
এমনকি ইরাক-আফগানিস্তানে মার্কিন সেনাদের গুলিতে নিরপরাধ নাগরিক নিহত হলে মার্কিন সরকার ক্ষতিপূরণ দিচ্ছে। কে ক্ষতিপূরণ পাবে, কীভাবে চাইতে হবে, কে দেবে ইত্যাদি ব্যাপারে বিস্তারিত আইন আছে। হেফাজতে মৃত্যুর ব্যাপারে আইন আছে আর্জেন্টিনা থেকে ফিলিপাইন পর্যন্ত। আর আমাদের সংসদ আইন পাস করে দায়মুক্তি দিয়েছিল। পরবর্তী কোনো সংসদ সে আইন বাতিল করেনি। মহামান্য আদালত গত ১৩ সেপ্টেম্বর রায়ের মাধ্যমে যৌথ অভিযান দায়মুক্তি আইন, ২০০৩-কে অসাংবিধানিক ঘোষণা করেছেন। আদালত এটাও বলেছেন যে রাষ্ট্রের কারণে কোনো নাগরিকের যদি প্রাণনাশ হয়, অঙ্গহানি বা অন্যান্য ক্ষতি হয়, তাহলে মহামান্য হাইকোর্ট ক্ষতিপূরণের জন্য আদেশ দিতে পারবেন।
তিন.
১৯৮৪ সালে জাতিসংঘ নির্যাতন ও অন্যান্য নিষ্ঠুর, অমানবিক লাঞ্ছনাকর ব্যবহার এবং দণ্ডবিরোধী সনদ গ্রহণ করে। ১৯৯৮ সালে বাংলাদেশ সনদটিতে অনুস্বাক্ষর করে। ২০১৩ সালে এরই ধারাবাহিকতায় নির্যাতন ও হেফাজতে মৃত্যু (নিবারণ) আইন সংসদ পাস করে। আইনের মোদ্দা কথা হলো, আদালতে গিয়ে যেকোনো ব্যক্তি যদি অভিযোগ করে যে তাকে হেফাজতে নির্যাতন করেছে অথবা কারও মৃত্যু হয়েছে, তাহলে আদালত সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসককে নির্যাতনের ধরন (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন) পরীক্ষা করে আদালতে প্রতিবেদন দিতে আদেশ দেবেন এবং পুলিশ সুপারকে অভিযোগ তদন্ত করতে বলবেন। এই আইনটি অন্য সব আইনের ওপরে প্রাধান্য পাবে। তবে আদালতে গিয়ে মামলা করতে হবে। ওমর সিরাজের ঘটনার প্রতিকার পেতে হলে তাঁর আত্মীয়স্বজনকে আদালতে গিয়ে এই নির্যাতন ও হেফাজতে মৃত্যু (নিবারণ) আইনেই মামলা করতে হবে।
ইদানীং বহুল প্রচলিত ‘হুকুমের আসামি’ এই আইনে স্পষ্ট ও নির্দিষ্ট করে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অনেক বক্তব্যই আজকাল লোকজন বিশ্বাস করে বলে মনে হয় না। বেআইনি ও অন্যায় কাজ করে যদি জনগণের আস্থাভাজন হওয়া যেত, তাহলে সারা দুনিয়ায় স্বৈরাচারেরাই থাকত; গণতন্ত্র, নির্বাচন, নৈতিকতা বা নৈতিক ভিত্তি ইত্যাদি কোনো শাসকের দরকার হতো না।
১৯৮৪ সালে জাতিসংঘ নির্যাতন ও অন্যান্য নিষ্ঠুর, অমানবিক লাঞ্ছনাকর ব্যবহার এবং দণ্ডবিরোধী সনদ গ্রহণ করে। ১৯৯৮ সালে বাংলাদেশ সনদটিতে অনুস্বাক্ষর করে। ২০১৩ সালে এরই ধারাবাহিকতায় নির্যাতন ও হেফাজতে মৃত্যু (নিবারণ) আইন সংসদ পাস করে
এক দশক ধরে এ দেশে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড চলছে। ঘুষ-দুর্নীতিও চলছে। মেডিকেল কলেজ ৩০টা না ৩০০টা, তাতে নেতাদের কিছু আসে যায় না। প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ উঠছে হরদম। ফলে মেধা না প্রশ্নপত্র ফাঁসের ভিত্তিতে ভর্তি হচ্ছেন, পাস করছেন, চিকিৎসক হচ্ছেন; সেটা ঊর্ধ্বতনদের মাথাব্যথার কারণ হতে পারে না। নেতারা, বড়রা চিকিৎসা নিতে বহুদিন ধরেই বিদেশ যান। দেশে কে চিকিৎসক হলেন, কে রোগী হলো, তাতে কার কী আসে যায়। অধমও পয়সা জমাচ্ছি, চিকিৎসার জন্য বিদেশ যাব।
চার
দেশে বোমা ফোটেনি। তাও অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেট দল আপাতত আসছে না।
তারা দেখতে পায়। সারা বিশ্ব দেখছে। তারা দেখে ঘটা করে জন্মদিন উদ্যাপিত হয়। সৌদি রাজার জন্মদিন উদ্যাপিত হয় না। কারণ, সৌদিরা জন্মদিনে বিশ্বাস করে না। কিন্তু লিবিয়ায় গাদ্দাফির ও ইরাকে সাদ্দাম হোসেনের জন্মদিন উদ্যাপিত হতো ঘটা করে। সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আসাদের জন্ম ১১ সেপ্টেম্বর অর্থাৎ নিউইয়র্কের টুইন টাওয়ারে হামলার দিন। বিএনপির জন্য খালেদা জিয়ার জন্মদিন ১৫ আগস্ট। সারবত্তা—গণতান্ত্রিক দেশে সরকারপ্রধান বা বিশিষ্ট রাজনৈতিক নেতাদের ঘটা করে জন্মদিন করা সম্পূর্ণ বেমানান, অনাকাঙ্ক্ষিত। বিশেষ উপলক্ষে বা নানা উপলক্ষ তৈরি করে এ ধরনের অনুষ্ঠান করার মধ্যে সম্পূর্ণ সামন্তবাদী–জমিদারি মানসিকতার পরিচয় মেলে।
গণতান্ত্রিক বিশ্ব এসব দেখে। দেখে আইনের শাসন নেই। লোকে আজকাল আর বিচার চায় না, ফাঁসি চায়। বিচারকেরা—সবাই সব ক্ষেত্রে নন—গুরুত্বপূর্ণ মামলায় পুলিশকে সাহায্য করার জন্য ‘রিমান্ড’ দেন। রিমান্ডই এ দেশে এখন তদন্ত, বিশেষ করে চাঞ্চল্যকর মামলায়। যে পুলিশ বা র্যা ব রিমান্ড আর বন্দুকযুদ্ধ করে, তাদের তদন্তের ক্ষমতা-দক্ষতা থাকে না। চাইলেও তারা পারবে না। যা শুরু হয়েছে, যেভাবে চলছে—তাতে বিপদের আশঙ্কা বাড়ছে।
ড. শাহদীন মালিক: অ্যাডভোকেট, সুপ্রিম কোর্ট।

‘বিদেশীদের ওপর আক্রমণের তথ্য সরকারকে জানানো হয়েছিল’

মার্কিন রাষ্ট্রদূত মার্শা ব্লুম বার্নিকাট বলেছেন, বাংলাদেশে বিদেশীদের ওপর আক্রমনের বিশ্বাসযোগ্য তথ্য তাদের কাছে ছিল। বিষয়টি সরকারকেও অবহিত করা হয়েছিল। এখন সরকার নিরাপত্তামূলক যে ব্যবস্থা নিয়েছে তাতে তারা সন্তুষ্ট। তিনি আজ জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত ডিক্যাব টকে এসব কথা বলেন। দুই বিদেশী নাগরিক হত্যাকা-সহ সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোর প্রেক্ষিতে তিনি বলেন, এসব ঘটনা আমাদের যৌথ উদ্যোগের গুরুত্বের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। এখন খুব জরুরি হয়ে পড়েছে বাংলাদেশে আইএস’র সম্ভাব্য উত্থান ঠেকানোর উদ্যোগ। এই ধরণের হুমকি অবহেলা করা উচিত না।
যুক্তরাষ্ট্রের রেড এলার্ট জারির পর এক ধরণের ভীতি তৈরি হয়েছে, কেন এ ধরণের রেড এলার্ট দেয়া হয়েছিল এ প্রশ্নে বার্নিকাট বলেন, রেড এলার্ট মানে আমরা কাউকে দেশ ছেড়ে যেতে বা না আসতে বলিনি। বলেছি ব্যক্তিগত নিরাপত্তার বিষয়ে সতর্ক থাকতে। নিজ দেশের নাগরিকদের জন্য এটিই আমাদের দায়িত্ব।
জিএসপি’র বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিরা ঘুরে গেছেন। তারা আশাবাদী বাংলাদেশ যে কর্মকা- চালাচ্ছে তাতে জিএসপি সুবিধা অচিরেই পূর্ণবহাল হবে। বিভিন্ন কারণে অনেকে যুক্তরাষ্ট্রের সমালোচনা করে থাকেন এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে রাষ্ট্রদূত বলেন, আমরা সব সমালোচনাই ইতিবাচক হিসেবে গ্রহণ করি। এ থেকে অনেক কিছু শিখি। সমালোচনা থেকে আমরা সংশোধনমূলক ব্যবস্থা নিয়ে থাকি।
অনুষ্ঠানে ডিক্যাব সভাপতি মাসুদ করিম সভাপতিত্ব করেন, স্বাগত বক্তব্য রাখেন সাধারণ সম্পাদক বশির আহমেদ।

জেরুজালেমে ফিলিস্তিনি নিষিদ্ধ

মাত্র ১২ ঘণ্টার মধ্যেই দুই ফিলিস্তিনি ও দুই ইসরাইলি নিহতের ঘটনাকে কেন্দ্র করে জেরুজালেমের ওল্ড সিটিতে ফিলিস্তিনি প্রবেশ নিষিদ্ধ করেছে ইসরাইল। রোববার সকালেই এক ইসরাইলি কিশোরকে ছুরিকাঘাত করার পর পুলিশের গুলিতে নিহত হয় এক ফিলিস্তিনি। এর আগে শনিবার রাতেও চারজন ইসরাইলিকে ছুরিকাঘাত করে আরেক ফিলিস্তিনি পুলিশের গুলিতে নিহত হয়েছিল। হামলাকারী মুহাম্মাদ হালাবি (১৯) একজন ফিলিস্তিনি। তিনি পশ্চিম তীরের নিকটবর্তী বিরেহ শহরে বসবাস করতেন বলে জানিয়েছে ইসরাইলি পুলিশ। তারা জানায়, জেরুজালেমের ওল্ড সিটিতে ফিলিস্তিনিদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। এখন শুধু এলাকার বাসিন্দা, স্থানীয় ব্যবসায়ী, স্কুল-শিক্ষার্থী ও ইসরাইলি নাগরিকদের প্রবেশের অনুমতি থাকছে। আগামী দু’দিন এ বিধি-নিষেধ চলবে বলে জানা যায়।
আল-আকসা মসজিদ থেকে অন্তত ৪০ জনকে গ্রেফতার করে মসজিদ প্রাঙ্গণ খালি করে ফেলে ইসরাইলি সেনারা। দেশটির নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে কথা বলতে প্রধানমন্ত্রী রোববার মন্ত্রিসভার জরুরি বৈঠক ডাকলেও সেটি এখন সোমবার অনুষ্ঠিত হবে বলে তার অফিস থেকে জানানো হয়। গেল কয়েক সপ্তাহ ধরেই পূর্ব জেরুজালেম এবং পশ্চীম তীরে সহিংসতার ঘটনা ঘটছে। বৃহস্পতিবার এক ইসরাইলি দম্পতিকে তাদের গাড়িতেই গুলি করে হত্যা করা হয়। এছাড়া আল-আকসা মসজিদ প্রাঙ্গণে ইসরাইলি পুলিশ ও সাধারণ ফিলিস্তিনিদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ফিলিস্তিনিদের পক্ষ থেকে জানানো হয় যে, আল-আকসায় ইহুদিদের মন্দিরে বেশিসংখ্যক ইহুদি প্রবেশে সেখানে মুসলমানদের নিয়ন্ত্রণ খর্ব হতে পারে। অন্যদিকে ইসরাইল আল-আকসায় মুসলিমদের নামাজের সুযোগ দেয়ার প্রতিশ্র“তি দিলেও এখন নিরাপত্তার অজুহাতে সেখানে মুসলিমদের প্রবেশ করতে দেয়া হচ্ছে না। ১৯৬৭ সালে ইসরাইলের দখলকৃত পূর্ব জেরুজালেম, পশ্চীম তীর ও গাজা পুনরায় ফেরত চায় ফিলিস্তিনিরা। কিন্তু জাতিসংঘের নিয়ম না মেনেই তাদের ইহুদি বসতি সম্প্রসারণ করে যাচ্ছে ইসরাইল। সবশেষ ২০১৪ সালে ফিলিস্তিন ও ইসরাইলের মাঝে শান্তি আলোচনা হওয়ার কথা থাকলেও সেটা হয়নি। আল-জাজিরা।

প্রধানমন্ত্রী হতে চান মালালা

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন শান্তিতে নোবেল পুরস্কার বিজয়ী মামলা ইউসুফজাই। শনিবার ভারতের বার্তা সংস্থা পিটিআই এ খবর দিয়েছে। এতে বলা হয়েছে, ইন্ডিয়া টুডে টিভিতে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে এমন আশার কথা জানিয়েছেন মালালা। ওই টেলিভিশন তার একটি সাক্ষাৎকার নিয়েছে। এ সময় পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেনজির ভুট্টোকে বিরাট একটি অনুপ্রেরণা হিসেবে দেখেন বলে জানান মালালা।
তিনি বলেন, অনেক মানুষই মনে করেন একজন নারী কেন নেত্রী হবেন। বেনজির ভুট্টো আমাদের দেখিয়েছেন যে, একজন নারীও দেশের নেতা হতে পারেন। তাকে এ সময় জিজ্ঞেস করা হয়, তিনি কি বেনজিরের মতো পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হতে চান। জবাবে মালালা বলেন, আশা রাখি। যদি মানুষ আমাকে ভোট দেয় তাহলে প্রধানমন্ত্রী হতে চাই। তবে আমার স্বপ্ন শিশুদের শিক্ষা অর্জনে সহায়তা করা। সমাজে পরিবর্তন আনতে অনেক পথ আছে। মালালা বলেন, ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সন্ত্রাসবিরোধী হিসেবে গড়ে তুলতে হলে শিক্ষায় বিনিয়োগ করতে হবে। আমাদের এক্ষেত্রে অস্ত্র হিসেবে যা প্রয়োজন হবে তা হল বই, কলম।

রাশিয়া ব্যর্থ হলে মধ্যপ্রাচ্য ধ্বংস হয়ে যাবে : আসাদ

সিরিয়ার চার বছরের গৃহযুদ্ধ বন্ধে ও জঙ্গিগোষ্ঠী ইসলামিক স্টেট দমনে রাশিয়ার সামরিক পদক্ষেপ ব্যর্থ হলে পুরো মধ্যপ্রাচ্য ধ্বংস হয়ে যাবে বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদ। দেশটিতে আসাদবিরোধী ও আইএস লক্ষ্যবস্তুতে অব্যাহতভাবে বিমান হামলা চালিয়ে যাচ্ছে মস্কো। রোববার ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত এক সাক্ষাৎকারে আসাদ বলেন, ‘রাশিয়া-সিরিয়া-ইরাক-ইরান জোটকে অবশ্যই সফল হতে হবে। এই জোট ব্যর্থ হলে পুরো মধ্যপ্রাচ্য ধ্বংস হয়ে যাবে।’ গত বুধবার থেকে সিরিয়ায় বিমান হামলা শুরু করে রাশিয়া। রুশ প্রেসিডেন্ট ভ­াদিমির পুতিন এ হামলাকে আইএসবিরোধী যুদ্ধ বলে অভিহিত করেছেন। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমাদের অভিযোগ, পুতিন আসাদ সরকারের বিরোধী বিদ্রোহী গ্রুপের ওপর হামলা করছে। অন্যদিকে,
আইএসের বিরুদ্ধে গত বছরের সেপ্টেম্বর থেকে বিমান হামলা চালিয়ে আসছে মার্কিন নেতৃত্বাধীন ইউরোপীয় ও উপসাগরীয় জোট। পশ্চিমা জোটকে উদ্দেশ করে আসাদ বলেন, এরা যদি সত্যিই সন্ত্রাসীদের বিনাশ চাইতো, কিংবা কমপক্ষে তাদের সমর্থন না করতো, তবে আমরা তাড়াতাড়িই সফল হতাম। তিনি বলেন, ‘সিরীয় জোট ব্যর্থ হলে তার চরম মূল্য দিতে হবে।’ তবে যুক্তরাষ্ট্রসহ উপসাগরীয় রাষ্ট্রগুলোর দাবি, সংকট নিরসনে আসাদকে অবশ্যই ক্ষমতা থেকে সরে দাঁড়াতে হবে। সিরিয়ায় সামরিক পদক্ষেপ প্রয়োজন : মার্কেল : সিরীয় সংকট নিরসনে সামরিক পদক্ষেপের প্রয়োজন রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন জার্মান চ্যান্সেলর অ্যাঞ্জেলা মার্কেল। তবে সব পক্ষের মধ্যে আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার পক্ষেও মত দেন তিনি। মার্কেল বলেন, সিরিয়ায় সামরিক পদক্ষেপ দরকার। তবে সামরিক প্রচেষ্টাই শুধু সমাধান আনবে না। রাজনৈতিক সমাধানের জন্য চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে। তবে তা কঠিন হয়ে উঠেছে বলেও হতাশা প্রকাশ করেন তিনি।
চরম ভুল করছে রাশিয়া : এরদোগান
সিরিয়ায় রাশিয়া চরম ভুল করছে বলে সতর্ক করেছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোগান। রোববার তিনি বলেন, সিরিয়া সরকারকে ভ্লাদিমির পুতিনের সমর্থন ইতিহাস বিচার করবে। রাশিয়ার বিমান হামলা তুরস্কের কাছে একেবারেই অগ্রহণযোগ্য। দুর্ভাগ্যজনকভাবে রাশিয়া চরম ভুল করছে। আরও ১০ আইএস টার্গেটে রুশ বিমান হামলা : রাশিয়ার সামরিক বাহিনী রোববার বলেছে, তারা গত ২৪ ঘণ্টায় সিরিয়ায় ইসলামিক স্টেট গ্রুপের ১০টি টার্গেটে হামলা চালিয়েছে। রুশ সামরিক বাহিনী সিরিয়ায় বোমা হামলা বাড়াচ্ছে উল্লেখ করে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় আইএসকে দস্যু গ্রুপ অভিহিত করে বলেছে, ‘গত ২৪ ঘণ্টায় এসইউ ৩৪, এসইউ ২৪ এম ও এসইউ ২৫ যুদ্ধবিমান ২০টি ঝটিকা হামলা চালিয়েছে। দস্যু গ্র“প আইএসআইএলের ১০টি অবকাঠামোয় আঘাত হানা হয়েছে। এএফপি।

হাওরে অবাধে শামুক নিধন by উজ্জ্বল মেহেদী

শামুক ধরে বস্তায় ভরে সড়কের পাশে রাখা হয়েছে।
এখান থেকে নিয়ে যাবেন কারবারিরা। হবিগঞ্জের
নবীগঞ্জ সড়কের পাশের হাওর এলাকার ছবি -প্রথম আলো
সিলেট অঞ্চলের হাওরগুলোতে অবাধে শামুক ধরা হচ্ছে। এতে হুমকির মুখে পড়ছে জীববৈচিত্র্য। এদিকে মৎস্য সংরক্ষণ আইনে শামুক নিধন সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট কোনো কিছু উল্লেখ না থাকায় মৎস্য অধিদপ্তরও এ ব্যাপারে কোনো ব্যবস্থা নিতে পারছে না।
সিলেটের গোলাপগঞ্জ ও ফেঞ্চুগঞ্জ, হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ এবং সুনামগঞ্জের ছাতক, দোয়ারাবাজার, দক্ষিণ সুনামগঞ্জ ও দিরাই উপজেলায় বিভিন্ন হাওরে শামুক নিধন ও বিক্রি চলছে। চিংড়িঘের ও মৎস্য খামারের জন্য হাওরের শামুকের কদর থাকায় সেভাবে বিক্রিও হচ্ছে।
গত প্রায় তিন সপ্তাহের বিভিন্ন সময়ে হাকালুকিসহ সিলেট, হবিগঞ্জ ও সুনামগঞ্জের কয়েকটি হাওর ঘুরে দেখা গেছে, ‘ভাসান পানির’ মৌসুম থাকায় হাওর এলাকা অনেকটা সুনসান। মাছ ধরার জন্য নির্ধারিত জলমহালগুলোতে মৎস্যজীবীদের একটি অংশ শামুক ধরছে।
নবীগঞ্জ উপজেলার হাওরগুলো থেকে শামুক ধরে সেগুলো বস্তাবন্দী করে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে রাখা হচ্ছে। সেখান থেকে নিজস্ব যানবাহন দিয়ে শামুক গন্তব্যে নেওয়া হয়। এ সময় ওই মহাসড়কে ১০-১২টি বস্তা দেখা যায়। প্রতিটি বস্তায় ২৫০ কেজির মতো শামুক রয়েছে বলে জানা যায়। যেসব হাওর এলাকার সঙ্গে সিলেট ও সুনামগঞ্জের সরাসরি সড়ক যোগাযোগ রয়েছে, সেখান থেকে এভাবে শামুক নেওয়া হচ্ছে।
দোয়ারাবাজারের দেখার হাওর এলাকার পান্ডারখাল এলাকা থেকে শামুক সংগ্রহ করা হয়েছে। সেগুলো সিলেট-সুনামগঞ্জ সড়কের মনবেগ এলাকা থেকে গন্তব্যে পাঠানোর সময় শামুকের কয়েকজন কারবারির সঙ্গে দেখা হয়। নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন কারবারি বলেন, চিংড়িঘেরের মালিকদের কাছে তাঁরা বস্তা দরে হাওরের শামুক বিক্রি করেন।
আবদুল হাকিম নামের একজন কারবারি বলেন, স্থানীয় মৎস্যজীবীদের সঙ্গে আগেই যোগাযোগ করে শামুক কেনার বিষয়টি নিশ্চিত করা থাকে। এরপর নৌকা বোঝাই করে শামুক এনে সেগুলো বস্তায় ভরা হয়। প্রতি বস্তা শামুক ১৫০ থেকে ২৫০ টাকায় বিক্রি হয়। শামুক ধরায় নিয়োজিত ব্যক্তিদের মজুরিও দেওয়া হয়।
ফেঞ্চুগঞ্জ ও গোলাপগঞ্জ উপজেলার একাংশজুড়ে বিস্তৃত হাকালুকি হাওর। সেখান থেকে রাতে ও ভোরে শামুক ধরা হচ্ছে। সিলেটের দক্ষিণ সুরমার পারাইরচক এলাকায় রাস্তার মুখে প্রায় তিন সপ্তাহ ধরেনৌকা দিয়ে শামুক আহরণ করে স্তূপাকারে রাখা হয়। সম্প্রতি পারাইরচকে গিয়ে শামুক বস্তাবন্দী করার কাজে নিয়োজিত কয়েকজনের কাছে এ ব্যাপারে জানতে চাওয়া হয়। তাঁরা নিজেদের শ্রমিক পরিচয় দিয়ে বিষয়টি এড়িয়ে যান।
নির্বিচারে শামুক ধরার বিষয়ে সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাগ্রোনমি অ্যান্ড হাওর এগ্রিকালচার বিভাগের প্রধান মোহাম্মদ নূর হোসেন মিঞা বলেন, শামুক হাওরাঞ্চলের জলজ প্রাণীর জীবনচক্রের সঙ্গে সম্পর্কিত। শামুক এভাবে আহরণ করা হলে হাওরের জীববৈচিত্র্য পুরোপুরি নষ্ট হবে। শামুকের প্রজননক্ষমতাও নষ্ট হবে। অনেক শামুক আছে, যেগুলো মাছের জন্য ক্ষতিকর কীটপতঙ্গ খায়। আবার মাছও শামুক খায়। শামুকের সংকট দেখা দিলে মাছেরও আকাল তীব্র হবে।
মৎস্য অধিদপ্তরের সিলেট বিভাগের উপপরিচালক এ এস এম রাশেদুল হক বলেন, ‘শামুক নিধন হলে সরাসরি মাছের ক্ষতি হয়—এ বিষয়টি মৎস্য সংরক্ষণ আইনে স্পষ্ট নয়। এ ব্যাপারে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।’

সরকার থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতেই হবে : এরশাদ

জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ বলেছেন, ‘নির্বাচন করতে হলে আমাদের বেরিয়ে আসতেই হবে।’ আজ দুপুরে বনানীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। তিনি বলেন, সরকার জানমালের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হয়েছে।
ব্যর্থতার দায়ভার নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূতের পদ থেকে পদত্যাগ করবেন কি না- জানতে চাইলে প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘এটি আমার জন্য বিব্রতকর। আমরা বিরোধী দলের ভূমিকা পালন করছি। ভবিষ্যতেও বিরোধী দল হিসেবে থাকতে চাই।’
জাপা মন্ত্রীদের পদত্যাগ প্রসঙ্গে এরশাদ বলেন, ‘এখনো সময় হয়নি। সময় হলেই আমরা বেরিয়ে আসব। নির্বাচনের এখনো তিন বছর বাকি। আমরা নির্বাচন করব। আর এ অবস্থায় নির্বাচন করা যাবে না। নির্বাচন করতে হলে আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে।’
এরশাদ বলেন, ‘এখন আমরা দলীয় কাউন্সিলের প্রস্তুতি নিচ্ছি। জেলা কমিটি করা হচ্ছে। এরপর নির্বাচনের জন্য সারা দেশে প্রার্থী ঠিক করা হবে। তারপর আমরা সরকার থেকে বেরিয়ে আসার সিদ্ধান্ত নেব।’
সংবাদ সম্মেলনে দলের মহাসচিব জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলু বলেন, ‘পার্টির চেয়ারম্যানের বিশেষ দূত অর্নামেন্টাল পোস্ট। এর সঙ্গে সরকারের কোনো সম্পর্ক নেই। সরকারের ব্যর্থতার দায়ভার পার্টির চেয়ারম্যান নেবেন না।’
তিনি আরো বলেন, ‘সরকার সম্মান করে দলের চেয়ারম্যান এরশাদকে বিশেষ দূতের পদে নিয়োগ দিয়েছে। কারণ তার সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যের বিশেষ সম্পর্ক রয়েছে।’
বর্তমান পরিস্থিতির দায় জাতীয় পার্টি নেবে না - জিয়া উদ্দিন আহমেদ বাবলু
জাতীয় পার্টির মহাসচিব জিয়া উদ্দিন আহমেদ বাবলু বলেছেন, বর্তমান পরিস্থিতির দায় জাতীয় পার্টি নেবে না। সোমবার বনানী’র দলীয় চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন তিনি। ওই সংবাদ সম্মলনে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ বর্তমান আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সরকারের কঠোর সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, সরকার সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়েছে। এসময় একজন সাংবাদিক প্রশ্ন করেন প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূত হিসাবে সরকারের এসব ব্যর্থতার দায়ভার আপনি নিবেন কিনা? এ প্রশ্নের জবাবে এরশাদ বলেন, এটা আমার জন্য খুব স্পর্শকাতর বিষয়। আমি এটা নিয়ে কথা বলতে চাই না। তখন পাশে থাকা জাপা মহাসচিব বলেন, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূত একটি আলঙ্কারিক পদ। এটি বিশ্বের বিভিন্ন দেশেই আছে। তার মূল পদ জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান। বর্তমান পরিস্থিতির দায় জাতীয় পার্টি  নেবে না।

আইএস না থাকলেও জঙ্গি আছে by আলী রীয়াজ

ইতালির এক নাগরিককে হত্যার এক সপ্তাহের মধ্যে এক জাপানিকে হত্যার ঘটনা এবং এসবের দায় স্বীকার করে ইসলামিক স্টেটের (আইএস) দেওয়া কথিত বিবৃতির প্রেক্ষাপটে কয়েক দিন ধরে বাংলাদেশে জঙ্গিবাদ বিষয়ে বিভিন্ন ধরনের আলোচনা হচ্ছে। এক বিরল ঐকমত্যের ঘটনা ঘটিয়ে বিএনপি এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী থেকে শুরু করে সরকার-সমর্থকেরা বলছেন যে দেশে জঙ্গি নেই, দেশ জঙ্গিবাদের কবলে পড়েনি। কেউ কেউ আরও এক ধাপ এগিয়ে বলেন যে দেশে কখনোই জঙ্গিবাদ ছিল না। কেননা, বাংলাদেশের মানুষ জঙ্গিবাদের সমর্থক নয়। বাংলাদেশের মানুষ যে চরমপন্থী মতামতকে গ্রহণযোগ্য বলে বিবেচনা করে না, সেটা নিঃসন্দেহে সত্য। কিন্তু এই কিছুদিন আগ পর্যন্ত আমরা সরকারিভাবেই দেশে আইএস এবং ভারতীয় উপমহাদেশে আল-কায়েদার শাখার লোকজন রয়েছে বলে বলতে শুনেছি।
২০১৪ সালের জুলাই থেকে ২০১৫ সালের জুন পর্যন্ত এক বছরের সংবাদপত্রে প্রকাশিত খবরগুলো আমাদের এ বিষয়ে পরিস্থিতি বুঝতে সাহায্য করতে পারে। দৈনিক প্রথম আলো, জনকণ্ঠ ও নিউ এজ-এ এই সময়ে জঙ্গি আটক বিষয়ে যেসব খবর ছাপা হয়েছে, আমরা তার দিকে নজর দিলে দেখতে পাই যে এ বিষয়ে ৬৭টি প্রতিবেদন ছাপা হয়েছে। তার মধ্যে প্রথম আলোয় ২৯টি, জনকণ্ঠ পত্রিকায় ২০টি ও নিউ এজ-এ ১৮টি। এসব খবর অনুযায়ী জঙ্গি সন্দেহে আটকের সংখ্যা ১০০ জন এবং সন্দেহভাজন ১২ জন, যাদের আটক করা যায়নি। এই আটক জঙ্গিদের সম্পর্কে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, বিশেষ করে র‌্যাবের পক্ষে থেকে যেসব তথ্য দেওয়া হয়েছে, তার মধ্যে রয়েছে যে এরা কোন সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত বা যুক্ত হতে আগ্রহী। সাংগঠনিক সংশ্লিষ্টতার হিসাব পাওয়া গেছে ১০৪ জনের (এর মধ্যে ১২ জন আটক হয়নি, তবে তাদের সংশ্লিষ্টতার কথা বলা হয়েছে)। এই হিসাব অনুযায়ী জেএমবির সঙ্গে যুক্ত ২৫ জন, আইএসের সঙ্গে যুক্ত বা যুক্ত হতে আগ্রহী ২২, শহীদ হামজা ব্রিগেডের সঙ্গে যুক্ত ১৯ জন, আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের সঙ্গে জড়িত ১৪ জন, হরকাতুল জিহাদ বা হুজির সঙ্গে জড়িত ১৩ জন এবং বাংলাদেশ জিহাদ গ্রুপের সঙ্গে জড়িত ১১ জন।
এই হিসাবের দিকে তাকালে দেখা যায় যে আটক জঙ্গিদের মধ্যে আইএসের সঙ্গে যুক্ত বা যুক্ত হতে আগ্রহীরা রয়েছে। শুধু তা-ই নয়, আটক জঙ্গিদের মধ্যে একাধিক সদস্যকে বাংলাদেশে আইএসের সমন্বয়ক বলে বর্ণনা করা হয়েছে। ২০১৫ সালের জানুয়ারিতে আটক শাখাওয়াতুল কবিরকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সেভাবেই পরিচয় করিয়ে দেয়। আবার মে মাসে যখন আবদুল্লাহ আল গালিব বলে এক সদস্যকে আটক করা হয়, তাঁকেও একইভাবে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়েছিল। ২৬ মে কোমল পানীয় উৎপাদনকারী একটি বহুজাতিক কোম্পানিতে কর্মরত আমিনুল ইসলাম বেগকে আটক করার পর গণমাধ্যমে তাঁকে আইএসের ‘রিক্রুটার’ চিহ্নিত করা হয়।
এসব তথ্য এ ধারণাই তৈরি করে যে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সরকার আইএস ও আল-কায়েদার উপস্থিতি বিষয়ে যথেষ্ট পরিমাণে ওয়াকিবহাল আছে। শুধু তা-ই নয়, সরকারের পক্ষ থেকে বিরোধী দলের নেতাদের এই বলে সমালোচনা করা হয়েছে যে তাঁরা তালেবান এবং আইএসের ‘পুতুল’ মাত্র।
আমরা জানি যে যেকোনো দেশে এসব আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসী সংগঠনের উপস্থিতির পরিণতি ভয়াবহ অবস্থার তৈরি করে। এটাও আমরা জানি যে আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসী সংগঠনগুলো সেখানেই উপস্থিত হয়, যেখানে তাদের জন্য অভ্যন্তরীণভাবে অনুকূল পরিবেশ রয়েছে। অন্যপক্ষে আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসীদের উপস্থিতি বিদেশি শক্তিগুলোকে সংঘাতে টেনে আনে। আইএসের উত্থান ঘটেছে ইরাকে, যখন দেশটির অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক কাঠামো বিরাজমান সংকটের মোকাবিলা করতে ব্যর্থ হয়েছে। এর প্রেক্ষাপট অবশ্যই ২০০৩ সালে ইরাকে মার্কিন আগ্রাসনের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত। পশ্চিমা দেশগুলোর স্বার্থসিদ্ধির জন্য আইএসের উত্থান বলে যাঁরা বিশ্বাস করেন এবং যাঁরা করেন না, তাঁরা এ বিষয়ে একমত হবেন যে এ ধরনের পরিস্থিতি বিশ্বশক্তিকে এমনভাবে যুক্ত করে যে তা থেকে সহজে বেরিয়ে আসা যায় না। সিরিয়ায় পশ্চিমা দেশগুলোর পাশাপাশি রাশিয়ার অংশগ্রহণ তার বড় প্রমাণ।
এক-দেড় বছর ধরে আইএসের উপস্থিতি বা সম্ভাব্য উপস্থিতির কথা বলার পাশাপাশি ক্ষমতাসীন দল ও সরকার এর কারণ অনুসন্ধান, কারা এ ধরনের সংগঠনে যুক্ত হতে পারে, তা চিহ্নিত করা এবং তা মোকাবিলায় কী ব্যবস্থা বিবেচনা করেছে তা সাধারণের কাছে স্পষ্ট নয়। কিন্তু আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসীদের উপস্থিতি বিষয়ে বক্তব্য পশ্চিমা দেশগুলো, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও ব্রিটেনের কাছে গ্রহণযোগ্যতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে করা হয়েছে বলে যে অভিযোগ আছে, তার সদুত্তর পাওয়া যায় না। ২০১৪ সালের একপক্ষীয় নির্বাচনের কারণে পশ্চিমা দেশগুলো বর্তমান সরকারের বিষয়ে যেসব প্রশ্ন উত্থাপন করত, সেগুলো নিষ্পত্তিতে সরকার উৎসাহ দেখায়নি। অন্যদিকে, বাংলাদেশের সরকার আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে তাদের অবস্থান যে জোরদার, সেটা বারবার বলার চেষ্টা করেছে। এতে পশ্চিমাদের পাশাপাশি সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর মনোযোগও আকর্ষিত হয়েছে কি না, সেটাও ভাবা দরকার।
এ প্রসঙ্গে উল্লেখ করা দরকার যে কেবল সন্দেহভাজনদের আটক, তাদের বিচার কিংবা সাধারণের মনে ভীতি তৈরি করে জঙ্গিবাদ—তা দেশীয় সংগঠনের বা আন্তর্জাতিক সংগঠনের—মোকাবিলা করা যায় না। এ বিষয়ে বাংলাদেশে যতটা আলোচনা হয়, ততটা সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব থাকে না। দলীয় রাজনৈতিক বিবেচনা অনেক সময়ই এই দুর্বলতার কারণ। এই পটভূমিতেই আমরা প্রথমে ইতালির এক নাগরিক হত্যা এবং পরে এক জাপানিকে হত্যার ঘটনা প্রত্যক্ষ করলাম। ইতালির নাগরিকের হত্যার পরই যুক্তরাষ্ট্রে বাণিজ্যিকভাবে পরিচালিত একটি বেসরকারি সংগঠন—যার বিষয়ে অনেক নিরাপত্তা বিশ্লেষকের মনে প্রশ্ন রয়েছে—এই মর্মে জানায় যে এ হত্যার দায় আইএস স্বীকার করেছে। আর জাপানের নাগরিক হত্যার পর বার্ত সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে যে আইএস নিজেদের টুইট একাউন্ট থেকে এ হত্যার দায় স্বীকার করেছে। বাংলাদেশে সাম্প্রতিক ব্লগার হত্যার ঘটনা এবং সেসব হত্যার দায়িত্ব স্বীকারসূচক বিবৃতির প্রেক্ষাপটে এই বিবৃতিকেও কেউ কেউ গ্রহণযোগ্য মনে করেছেন, কারও কারও মনে সংশয় তৈরি হয়েছে। তারপর সরকারের পক্ষ থেকে সুস্পষ্টভাবেই বলা হলো যে দেশে আইএসের অস্তিত্ব নেই।
এখন প্রশ্ন হতে পারে যে সরকার কি ‘অস্বীকারের’ সংস্কৃতির বশবর্তী হয়ে এ বক্তব্য দিচ্ছে? এ ধরনের অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের জন্য নতুন নয়, ২০০৫ সালে ক্ষমতাসীনেরা অভ্যন্তরীণ জঙ্গিদের উপস্থিতি বিষয়ে এ কৌশল নিয়েছিল। সরকারের মনে কি এ ধারণা তৈরি হয়েছে যে আইএসের উপস্থিতির স্বীকৃতি ২০০৯ সাল থেকে জঙ্গিবাদ মোকাবিলায় তারা যে সাফল্য দাবি করে এসেছে, তাকে ম্লান করে দেয়? নাকি তারা অনুধাবন করছে যে এ ধরনের সংগঠনের উপস্থিতি প্রমাণিত হলে এযাবৎকালে আমরা অন্যত্র যে ধরনের পরিণতি দেখেছি, সে দিকেই দেশ এগোতে শুরু করবে? তাহলে জঙ্গিবাদের প্রশ্নকে প্রাধান্য দিয়ে, বিশেষ করে আন্তর্জাতিক জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সক্রিয় অংশগ্রহণকারী হিসেবে নিজেদের উপস্থাপন করার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ সম্পর্কে যে ধারণা তৈরি করা হয়েছে, তা বাস্তব নয়?
বাংলাদেশে আইএসের উপস্থিতি এবং এই হত্যাকাণ্ড বিষয়ে দেওয়া কথিত বিবৃতি বিষয়ে যাঁরা সংশয়ী, আমি তাঁদের সঙ্গে একমত। কিন্তু বাংলাদেশে বিদেশি জঙ্গিদের উপস্থিতি বা তার আশঙ্কাকে যাঁরা এক কথায় নাকচ করে দেওয়ার চেষ্টা করছেন, আমি তাঁদের সঙ্গে একমত হতে অপারগ। কেননা, গত দুই দশকে বাংলাদেশে জঙ্গি কার্যক্রমের একটা ইতিহাস আছে এবং সেখানে বিভিন্নভাবেই বিদেশি যোগাযোগের প্রমাণ উপস্থিত।
আলী রীয়াজ: যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয় স্টেট ইউনিভার্সিটির রাজনীতি ও সরকার বিভাগের অধ্যাপক।

গরুর মাংস খাওয়ার গুজবে ভারতে আরও এক খুন, তোলপাড়

গরু জবাই করে তার মাংস খাওয়াকে কেন্দ্র করে ভারতের উত্তর প্রদেশে দাদ্রিতে চলছে তুলকালাম কা-। সোমবার এ নিয়ে গুজব ছড়িয়ে পড়ার পর উত্তেজিত জনতা দিল্লির কাছের এ গ্রামে হত্যা করে মোহাম্মাদ আখলাককে। তার নামে কোন অপরাধমুলক কর্মকা- করা বা অপরাধে জড়িত থাকার কোন রেকর্ড নেই। আখলাক একজন ল্যাব টেকনিশিয়ান। তারপরও তিনি নতুন চাকরি খুঁজছিলেন। কিন্তু ওই গুজবের কারণে তাকে হত্যা করা হয়েছে। যারা তাকে হত্যা করেছে তার মধ্যে সাত অভিযুক্তই স্থানীয় বিজেপি নেতা সঞ্জয় রানার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। প্রধান অভিযুক্ত বিশাল রানা (২০) এই সঞ্জয়েরই ছেলে। বিবেক (২২) ও শচীন (২০) দুই ভাই। তারাও সঞ্জয় রানার সঙ্গে সম্পৃক্ত। এ ছাড়া অভিযুক্ত আরও চার জন হলো সৌরভ, গৌরব, শিবাম ও সন্দ্বীপ। তারা সবাই বিজেপির সঙ্গে জড়িত। এর মধ্যে সৌরভ (২১) ও গৌরব (২২) দু’ভাই। তাদের পিতা ধীরাজ সিং একজন কন্ট্রাক্টর।  অভিযোগ আছে, বিশাল রানাই লোকজনকে জড়ো করেছে। তারপর রোববার তারা আখলাকের পরিবারের ওপর হামলা করেছে। এর আগে স্থানীয় একটি মন্দির থেকে ঘোষণা দেয়া হয় যে আলখাক গরুর একটি বাছুর হত্যা করেছে। এ ঘোষণা দেয়ার সঙ্গে সঙ্গে জড়ো হওয়া লোকজন আখলাকের ওপর হামলা করে। এতে ঘটনাস্থলেই নিহত হন আখলাক। তার ছেলে মারাত্মক জখম হন। এ খবর দিয়েছে অনলাইন এনডিটিভি। এতে বলা হয়েছে, বিশাল দ্বাদশ শ্রেণীতে পড়া অবস্থায় লেখাপড়া বাদ দেন। এর কারণ তিনি যথেষ্ট সুস্থ ছিলেন না। এরপর থেকে তিনি তার এক নিকট আত্মীয়ের দক্ষিণ দিল্লিতে অবস্থিত একটি বিজ্ঞাপনী সংস্থায় কাজ করছিলেন। ওদিকে এ নিয়ে যখন চারদিক শোরগোল চলছে, টেলিভিশন চ্যানেলগুলো গুরুত্ব দিয়ে রিপোর্ট প্রকাশ করছে তখন বিজেপির বিতর্কিত এমপি সঙ্গীত সোম অভিযুক্ত ব্যক্তিদের পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাত করেছেন এবং তাদেরকে আশ্বস্ত করেছেন আটক ব্যক্তিদের জামিন দেয়া হবে। এখানে উল্লেখ্য, সঙ্গীত সোম ২০১৩ সালে মুজাফ্ফরনগরে দাঙ্গা সৃষ্টির অভিযোগ থেকে জামিনে রয়েছেন।

জাপানি নাগরিক হত্যা অশনিসংকেত by মনজুরুল হক

বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলীয় জেলা রংপুরের শহরতলির এক প্রত্যন্ত অঞ্চলে আততায়ীর গুলিতে জাপানি নাগরিক হত্যার ঘটনাটি এখন বিশ্বের সংবাদমাধ্যমে আলোচিত হচ্ছে। যে কারণে খবরটির দিকে অনেকের নজর আরও বেশি করে আকৃষ্ট হচ্ছে তা হলো, এটা হচ্ছে মাত্র পাঁচ দিনের ব্যবধানে একই স্টাইলে বাংলাদেশে দ্বিতীয় বিদেশি নাগরিক হত্যার ঘটনা। দুই হত্যাকাণ্ডের মধ্যে আরও যেসব মিল লক্ষ করা যায় তা হলো, ঘটনার ঠিক পরপরই আন্তর্জাতিক পর্যায়ের সক্রিয় জঙ্গিগোষ্ঠীর হত্যার দায়িত্ব গ্রহণ করে বিবৃতি প্রচার করা এবং ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখার হুমকি দেওয়া।
ফলে আমাদের সরকার বা আমরা বাংলাদেশিরা যত জোরের সঙ্গেই বাংলাদেশের ইসলামি চরম পন্থার প্রভাব–বলয় থেকে বের হয়ে উদার গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের পথে এগিয়ে যাওয়ার দাবি করি না কেন, এক সপ্তাহের মধ্যে দুজন বিদেশি নাগরিকের হত্যাকাণ্ড কিন্তু বিশ্ববাসীর দুয়ারে ভিন্ন বার্তা পৌঁছে দিচ্ছে। বার্তাটি হচ্ছে, উগ্র মৌলবাদের থাবা থেকে আমরা মুক্ত হতে পারিনি, সেই কালো হাত আমাদের পেছনে বেশ জোরালোভাবেই ধাবমান। এ কারণেই আমাদের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর এখন উচিত হবে হত্যার পেছনে যারা জড়িত, তাদের খুঁজে বের করা। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসী তৎপরতার সঙ্গে আসলেই এদের কোনো যোগসাজশ রয়েছে কি না, সে ব্যাপারে নিশ্চিত হতে আরও অনেক বেশি তৎপর হওয়া। তা তারা করতে না পারলে একটি বিপজ্জনক রাষ্ট্রের যে তকমা আমাদের পরিচয়ের সঙ্গে যুক্ত হয়ে যাচ্ছে, বাংলাদেশকে তা অন্ধকারের দিকে নিয়ে যাবে।
জাপানি নাগরিক হত্যার ঘটনাটিকে আমাদের সরকারি মহল ও সংবাদমাধ্যম নানা দিক থেকে তুলে ধরে এর বিভিন্ন ব্যাখ্যা দেওয়ার চেষ্টা করে যাচ্ছে। কোনো কোনো সংবাদমাধ্যম নিহত জাপানিকে বাংলাদেশে জন্মগ্রহণকারী হিসেবে উল্লেখ করায় সরকারি ও বেসরকারি মহলের কেউ কেউ বলছেন, সঠিক অর্থে জাপানি হত্যার ঘটনা হিসেবে সেটাকে দেখা যায় না। তবে হত্যার পেছনে যারা জড়িত তারা মনে হয় না সে রকম কোনো হিসাব থেকে ঘটনাটি ঘটিয়েছে।
এটা এখনই বলা কঠিন যে আন্তর্জাতিক কোনো জঙ্গিগোষ্ঠী নিশ্চিতভাবেই এসব হত্যার পেছনে জড়িত। তবে এ রকম হত্যাকাণ্ড চালিয়ে দেশের অগ্রযাত্রা ব্যাহত করা বা পরিস্থিতি ঘোলাটে করে কোনো ধরনের ফায়দা লুটে নেওয়ার চেষ্টায় যে হত্যাকাণ্ড চালানো হতে পারে, সে রকম ধারণা নাকচ করে দেওয়া কঠিন। দুই হত্যার ধরন এবং এর থেকে লাভবান হওয়ার হিসাবনিকাশের দিকে আলোকপাত, মনে হয় সেই যুক্তিকেই আরও বেশি গ্রহণযোগ্য করে তুলতে পারে।
দুটি হত্যার বেলায়ই হত্যাকারীদের আর্থিক দিক থেকে লাভবান হতে পারার কোনো রকম প্রমাণ মেলে না। নিহত দুই বিদেশিও বিত্তবান ব্যবসায়ী গোষ্ঠীর কেউ নন, যাঁদের খুন করার মধ্য দিয়ে বিশাল কোনো সম্পদ হাতিয়ে নেওয়া সম্ভব। হত্যাকারীরা সম্ভবত যে বিষয়টিকে প্রাধান্য দিয়ে থাকবে তা হলো প্রচার। বিশেষ করে এ ধরনের ঘটনার মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশকে বিপজ্জনক এক রাষ্ট্র হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করা। বলার অপেক্ষা রাখে না, ঘটনা দুটি আংশিকভাবে হলেও সেই সাফল্য এনে দিয়েছে। সেদিক থেকে জাপানি নাগরিক হত্যার ঘটনার প্রভাব মনে হয় অনেক বেশি সুদূরপ্রসারী হয়ে উঠবে, যদি না প্রমাণ করা যায় যে সেটা ছিল সত্যিকার অর্থেই বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা। নিহত ব্যক্তি আসল জাপানি, নাকি বাংলাদেশে জন্মগ্রহণকারী জাপানি, সেই বিতর্ক এখানে অপ্রাসঙ্গিক। কেননা আমরা জানি, তিনি ছিলেন জাপানি পাসপোর্টধারী এবং অন্য যেকোনো জাপানি পাসপোর্টধারীর মতোই জাপান সরকার তাঁকে দেশের নাগরিক হিসেবেই দেখছে, বিদেশি হিসেবে নয়।
এখন দেখা যাক ঘটনার কী প্রতিক্রিয়া জাপানের দিক থেকে দেখা দিতে পারে। মার্কিন সরকার জাপানি নাগরিক হত্যার তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া দেখালেও জাপান কিন্তু বিষয়টি নিয়ে ঝটপট কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছায়নি। তবে এর অর্থ এ রকম নয় যে বিষয়টি নিয়ে কোনো রকম উচ্চবাচ্য জাপান করছে না এবং আগামী দিনগুলোতেও করবে না। জাপান অবশ্যই চাইবে বাংলাদেশ সরকার যেন হত্যাকারীদের শনাক্ত করে বিচারের কাঠগড়ায় তাদের উপস্থিত করে। তবে তারও আগে জাপানি নাগরিকদের সামনে দেখা দেওয়া সম্ভাব্য হুমকি সামাল দিতে হলে কী করা দরকার তা নিয়ে জাপান ভাবছে এবং সে ক্ষেত্রে কিছু পদক্ষেপ তারা ইতিমধ্যে নিয়েছে। যেমন জাপানি নাগরিক নিহত হওয়ার কয়েক ঘণ্টা পর জাপান সরকার বাংলাদেশ ভ্রমণের পরিকল্পনা করা জাপানি নাগরিক ও সেই সঙ্গে বাংলাদেশে অবস্থানরত জাপানিদের জন্য সতর্কতার মাত্রা আরও কিছুটা কঠোর করে নেয়। কী রকম সতর্কতা তাদের বজায় রাখতে হবে, সেই পরামর্শও জাপানি নাগরিকদের দেওয়া হচ্ছে।
তবে জাপান সরকার বিদেশভ্রমণের বেলায় চার মাত্রার যে সতর্কতামূলক সুপারিশ নাগরিকদের জন্য করে থাকে, সেই তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থানের কোনো রকম হেরফের এখনো পর্যন্ত হয়নি। সতর্কতা বজায় রাখা দরকার, সে রকম রাষ্ট্রের তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান এখনো হচ্ছে এক নম্বরে, হলুদ রং দিয়ে মানচিত্রে যেটাকে চিহ্নিত করা হয়। অর্থাৎ, ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা দেশটির বেলায় নেই, তবে সেখানে অবস্থানকালে সতর্কভাবে চলাফেরা করার পরামর্শ নাগরিকদের দেওয়া হচ্ছে। গতকাল রোববার প্রচারিত পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নতুন নির্দেশিকায় সেই সতর্কতার মাত্রাকেই আরও কিছুটা উন্নত করে নিয়ে কী করা দরকার এবং কোন বিষয়গুলোর দিকে তাদের আরও বেশি মনোযোগী হতে হবে, সেসব পরামর্শ নতুন করে নাগরিকদের দেওয়া হয়েছে। তবে এর অর্থ নিশ্চয় এ রকম নয় যে বাংলাদেশের বেলায় সতর্কতার হলুদ রং আরও একটু গাঢ় হয়ে উঠবে না। এর অনেকটাই নির্ভর করবে ঘটনার পেছনে থেকে যাওয়া সব রকম রহস্য উন্মোচনে কতটা সফল আমরা হই তার ওপর।
সতর্কতার উচ্চ মাত্রা অবশ্য ব্যবসায়িক দিক থেকে নেতিবাচক কিছু প্রভাব তাৎক্ষণিকভাবে বাংলাদেশের ওপর ফেলবে। জাপানের যেসব ব্যবসায়ী ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশে বিনিয়োগের সম্ভাবনা যাচাই করে দেখার প্রক্রিয়া শুরু করেছিল, তারা হয়তো এখন নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কার বিষয়টি নিয়ে আরও গভীরভাবে চিন্তাভাবনা করবে। ফলে জাপানিদের বাংলাদেশে ভ্রমণের ওপর এর নেতিবাচক প্রভাব হয়তো এখন লক্ষ করা যাবে। জাপানের সেইশিন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এবং আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহায়তা গবেষক অধ্যাপক মাসাহাকি ওহাশি মনে করেন যে জাপানি নাগরিক হত্যার ঘটনা বাংলাদেশ সম্পর্কে কতটা নেতিবাচক প্রভাব জাপানিদের ওপর ফেলবে, তার অনেকটাই নির্ভর করবে আগামী দিনগুলোতে কোন বার্তা বাংলাদেশের কাছ থেকে পাওয়া যাবে তার ওপর। ‘আমি মনে করি না জাপানের ব্যবসায়ী, গবেষক ও বাংলাদেশ নিয়ে উৎসাহী অন্য জাপানিরা এখনই দেশটিকে খুবই বিপজ্জনক বলে ধরে নেবেন। যদি এমন প্রমাণিত হয় যে সেটা ছিল বিচ্ছিন্ন একটি হত্যার ঘটনা, সেই ক্ষেত্রে নেতিবাচক প্রভাব দীর্ঘায়িত হবে না। তবে যদি এমন দেখা যায় যে ঘটনাটি হচ্ছে আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদী তৎপরতার ধারাবাহিকতা, তাহলে কিন্তু জাপান সরকার সতর্কতার মাত্রা বাড়িয়ে দেবে এবং জাপানিরাও বাংলাদেশ ভ্রমণ এড়িয়ে যেতে চাইবেন’ বলেছেন অধ্যাপক ওহাশি।
ফলে সন্দেহ নেই যে জাপানি হত্যার ঘটনা অশনিসংকেত হিসেবে আমাদের সামনে এখন ঝুলে আছে। ভবিষ্যতে কোন পদক্ষেপ আমাদের সরকার গ্রহণ করে এবং বিদেশিদের আশ্বস্ত করার বস্তুনিষ্ঠ কোন উদ্যোগ সরকার ও নিরাপত্তা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে নেওয়া হয়, সেসব কিছুর ওপর অনেকটা নির্ভর করবে অশনি সেই সংকেত কাটিয়ে ওঠা আমাদের পক্ষে সম্ভব হবে কি না।
টোকিও, অক্টোবর ৪, ২০১৫
মনজুরুল হক: শিক্ষক ও সাংবাদিক।

উদ্বেগ নিরসনে অবস্থান ব্যাখ্যা করবে সরকার, পরিস্থিতি দেখতে জাপানি প্রতিনিধিদল আসছে আজ

বারিধারা ডিপ্লোম্যাটিক জোনে বাড়ানো হয়েছে নিরাপত্তা
নিজ দেশের নাগরিক হত্যায় উদ্বিগ্ন জাপান। দেশটির তরফে গতকাল দ্বিতীয় দফায় তার নাগরিকদের বাংলাদেশ ভ্রমণ ও অবস্থানে সতর্কতার নোটিশ জারি করা হয়েছে। ঘটনার বিষয়ে খোঁজ নেয়াসহ সার্বিক অবস্থা খতিয়ে দেখতে টোকিওর একটি প্রতিনিধিদল ঢাকা আসছে। প্রাথমিকভাবে পাওয়া তথ্য মতে, ৩ সদস্যের প্রতিনিধিদলটি আজই ঢাকায় পৌঁছাবে। ওই প্রতিনিধিদলে কোন লেভেলের কর্মকর্তারা আসছেন, কূটনৈতিক না আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা দলটিতে রয়েছেন সে সম্পর্কে জানতে পররাষ্ট্র দপ্তরের দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তার সঙ্গে গত রাতে যোগাযোগ করা হলে তিনি ‘বিস্তারিত’ এখনও জানা যায়নি বলে দাবি করেন। এদিকে জাপানসহ উদ্বিগ্ন বিদেশী নাগরিকদের আশ্বস্থ করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের তরফে বারবার আশ্বস্থ করার পর উদ্বেগ নিরসনে আগামীকাল কূটনৈতিক ব্রিফিং আয়োজন করছে সরকার। প্রাথমিকভাবে ব্রিফিংটি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আয়োজনে এটি করার চিন্তা-ভাবনা থাকলেও শেষ পর্যন্ত স্বরাষ্ট্র ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের যৌথ উদ্যোগেই ব্রিফিংটি হচ্ছে। সেখানে ঘটনা পরবর্তী সরকারি অ্যাকশনগুলো তুলে ধরার পাশাপশি সরকারের অবস্থানও ব্যাখ্যা করা হবে। প্রধানমন্ত্রীর এক বা একাধিক উপদেষ্টা সেই আয়োজনে থাকতে পারেন বলে জানা গেছে। ব্রিফিংয়ে ঢাকাস্থ বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত, হাইকমিশনার ছাড়াও জাতিসংঘের প্রতিনিধিকে আমন্ত্রণ জানানো হতে পারে। উল্লেখ্য, গত ২৮শে সেপ্টেম্বর কূটনৈতিক জোন গুলশানে ইতালির নাগরিক তাভেলা সিজারকে গুলি করে হত্যার পর বাংলাদেশে কূটনৈতিক কোরের ডিন বৃটিশ হাইকমিশনার রবার্ট গিবসন সরকারের অবস্থান জানাতে কূটনৈতিক ব্রিফিং চেয়েছিলেন। সে সময় ভারপ্রাপ্ত পররাষ্ট্র সচিবের সঙ্গে এ নিয়ে কয়েক দফা তার আলোচনা হয়েছে জানিয়ে মন্ত্রণালয়ের এক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা মানবজমিনকে বলেন, সেই সময়ে মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী সচিব প্রধানমন্ত্রীর সফর সঙ্গী হিসেবে নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘ অধিবেশনে ব্যস্ত ছিলেন। তারা দেশে ফেরার পর দ্রুততম সময়ের মধ্যে ব্রিফিংটি আয়োজন করা হচ্ছে বলে জানান ওই কর্মকর্তা।
জাপানের বাড়তি সতর্কতা: ইতালির নাগরিক খুনের ৫ দিনের মাথায় জাপানি নাগরিক কুনিও হোশিকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় আতঙ্কিত জাপান তার নাগরিকদের বাংলাদেশ ভ্রমণে বাড়ি সতর্র্কতা অবলম্বনের পরমর্শ দিয়ে নতুন করে নিরাপত্তা বার্তা দিয়েছে। হত্যার পরপর এক বার্তায় বাংলাদেশে চলাফেরার ক্ষেত্রে জাপানি নাগরিকদের সতর্ক করেছিল ঢাকাস্থ দেশটির দূতাবাস। অপ্রয়োজনীয় কাজে বাইরে না যাওয়ার পরামর্শ দেয়ার পাশাপাশি হোটেল, সম্মেলনকেন্দ্রসহ বিদেশীরা জড়ো হওয়ার স্থান ও অনুষ্ঠান এড়িয়ে চলতে বলা হয়েছিল। জাপান দূতাবাসের ফেসবুক পেজে সতর্কবার্তাটি প্রচার করা হয়েছিল। বার্তায় কোথাও সন্দেহজনক কিছু চোখে পড়লে দ্রুত স্থান ত্যাগ করা এবং অস্বাভাবিক পরিস্থিতিতে দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করতে নাগরিকদের বিশেষ নির্দেশনা দেয়া হয়েছিল। গতকাল সেই বার্তার সঙ্গে আরও কিছু ‘বাড়তি নির্দেশনা’ জাপানি ভাষায় প্রচার করা হয়েছে বলে দূতাবাসের কর্মকর্তার বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা ইউএনবি জানিয়েছে।
‘নৃশংস হত্যা’ বলে নিন্দা করেছে ইইউ: এদিকে পরপর দুই বিদেশী নাগরিককে গুলি করে হত্যার ঘটনাকে ‘নৃশংস হত্যা’ বলে নিন্দা করেছেন ঢাকাস্থ ইউরোপীয় ইউনিয়ন। ইউরোপের ২৮ রাষ্ট্রের জোট (ইইউ)’র ঢাকায় নিযুক্ত ডেলিগেশন প্রধান পিয়েরে মায়েদুনের দপ্তর থেকে পাঠানো এক খুদেবার্তায় এ তথ্য জানানো হয়। ‘সমপ্রতিক কিলিংয়ে ইইউ প্রতিক্রিয়া’ শিরোনামে পাঠানো ওই বার্তায় বলা হয়, এমন ‘নৃশংস হত্যা’দ্বয়ের নিন্দা জানায় ইইউ। ওই ঘটনা দুটির পেছনে থাকা দুর্বৃত্তদের বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পাকড়াও করতে পারবে এবং বিচারের আওতায় নিয়ে আসতে পারবে এমন ‘আস্থা’ প্রকাশ করে ইইউ তরফে ভিকটিমদের পরিবারের প্রতি গভীর শোক ও সমবেদনা জানানো হয়।

চারদিকে উদ্বেগ-অস্থিরতা

দুর্বৃত্তদের গুলিতে নিহত জাপানি হোশি কুনিওর
ময়নাতদন্ত শেষে হাসপাতাল থেকে পুলিশ পাহারায়
বেরিয়ে আসছেন দুই জাপানি অপরাধ বিশেষজ্ঞ
সবকিছু ঠিকঠাকই চলছিল। ভ্রমণ যন্ত্রণা সত্ত্বেও ঈদের আনন্দে শামিল হয়েছিল কোটি কোটি মানুষ। তবে আনন্দের রেশ কাটার আগেই দুঃসংবাদ পাওয়া শুরু করে বাংলাদেশ। হঠাৎ করেই খবর এলো অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেট দলের বাংলাদেশ সফর নিয়ে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা। বলা হলো, জঙ্গি হামলার আশঙ্কার কথা। পরিস্থিতি দেখতে অস্ট্রেলিয়ান নিরাপত্তা প্রতিনিধিদল এলো ঢাকায়। এরই মধ্যে ঘটলো আরও খারাপ ঘটনা। খোদ রাজধানীর কূটনৈতিক এলাকায় খুন হলেন ইতালীয় নাগরিক সিজার তাভেলা। এ ঘটনায় তোলপাড় তৈরি হয় সারা দুনিয়ায়। পশ্চিমা বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ভ্রমণ সতর্কতা জারি করে বাংলাদেশে। নিরাপত্তা শঙ্কার কারণ দেখিয়ে বাংলাদেশ সফর স্থগিত করে অস্ট্রেলিয়া। সর্বশেষ শনিবার রংপুরে গুলি করে হত্যা করা হলো জাপানি নাগরিক হোশি কুনিওকে। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, দুটি হত্যায় যোগসূত্র রয়েছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানাচ্ছে, আইএস  তাদের টুইটার অ্যাকাউন্টে বাংলাদেশে জাপানি নাগরিক হত্যার দায় স্বীকার করেছে। এ ধরনের আরও হামলার হুমকি দিয়েছে আইএস। এর আগে ইতালির নাগরিক সিজার তাভেলা হত্যার দায়ও স্বীকার করেছিল আইএস। যদিও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল দাবি করেছেন, বাংলাদেশে আইএসের তৎপরতা নেই। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও গতকাল একই কথা বলেছেন।
তবে ঘটনা হলো, দুই বিদেশী খুন, আইএসের দায় স্বীকার এবং আরও হামলার হুমকি চারদিকে তৈরি করেছে অস্থিরতা, অস্বস্তি। বাংলাদেশের ভাবমূর্তি আর নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে নতুন করে চ্যালেঞ্জ করেছে এইসব ঘটনা। এ প্রতিবেদন লেখার সময় পর্যন্ত অবশ্য দুটি ঘটনারই মোটিভের ব্যাপারে খোলাসা করে কিছু বলতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, জড়িত কাউকে গ্রেপ্তারও করতে পারেনি। হত্যাকাণ্ডের পরপরই অপরাধীদের ধরতে না পারাটা খুব উদ্বেগের বলে মনে করেন নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা। হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের ধরা এখন বাংলাদেশের জন্য খুব দরকারি বলে মনে করছেন, নিরাপত্তা বিশ্লেষক ড. আবদুর রব খান। বিবিসি বাংলাকে তিনি বলেন, এতে করে বিদেশী নাগরিকদের আশ্বস্ত করা যেতো। তিনি বলেন, এই হত্যাকাণ্ড বাংলাদেশের নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত উদ্বেগজনক। বাংলাদেশকে এখন খুব সাবধানে এগুতে হবে। যাতে করে কোন ভীতি ছড়িয়ে না পড়ে সেদিকে নজর রাখতে হবে। তার মতে পর পর দুটি হত্যার ধরন ও ইসলামিক স্টেটের মতো সংগঠনের এ হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করাটা বিশেষ করে আরও বেশি উদ্বেগের। এটি বাংলাদেশের নিরাপত্তার ক্ষেত্রে একটি নতুন মাত্রা যোগ করেছে বলে তিনি মনে করেন। বাংলাদেশ ধীরে ধীরে আইএসের জালে জড়িয়ে পড়ছে কি-না সে নিয়েও একটি আশংকা তৈরি হচ্ছে।
সন্ত্রাসী হামলায় নিহত ইতালিয়ান নাগরিক ছিলেন একটি আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থার কর্মী। জাপানি নাগরিক ছিলেন কৃষি উন্নয়ন কাজের সঙ্গে যুক্ত। এ দুই হত্যাকাণ্ডে বাংলাদেশে কাজ করা অন্যান্য এনজিও কর্মীদের মনেও ভীতি তৈরি হয়েছে। আন্তর্জাতিক সংস্থা অ্যাকশন এইডের কান্ট্রি ডিরেক্টর ফারাহ কবির বলেছেন, এ দুটি হত্যাকাণ্ডের পর বাংলাদেশে যেসব উন্নয়ন সংস্থা রয়েছে তারা তাদের কর্মীদের নিরাপত্তার বিষয়টি ভাবছেন। কর্মীরা নিজেরাও সাবধান হয়ে চলাফেরা করছেন।
বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব পিস অ্যান্ড সিকিউরিটি স্টাডিজের নিরাপত্তা বিশ্লেষক শাফকাত মুনির বৃটেনের দ্যা গার্ডিয়ানকে বলেছেন, এক দশকেরও বেশি সময় ধরে বাংলাদেশে কোন পশ্চিমা নাগরিককে হত্যা বা টার্গেট করা হয়নি। সর্বশেষ এমন ঘটনা ঘটেছিল ২০০৪ সালে। তখন বাংলাদেশে বৃটিশ হাইকমিশনার ছিলেন আনোয়ার চৌধুরী। তার ওপর সিলেটে হামলা চালিয়েছিল হরকাতুল জিহাদ আল ইসলামী। তারপর থেকেই জঙ্গি কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ। এরই মধ্যে আইএস ও আল কায়েদাসহ আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সন্ত্রাসী গ্রুপের সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগে বেশকিছু ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শাফকাত মুনির বলেন, বাংলাদেশে যেসব গ্রুপ দীর্ঘদিন ধরে অভিযান চালাচ্ছে তারা সব সময়ই সক্রিয় ছিল এবং এখনও আছে। এর কারণ, বিশ্বজুড়ে জঙ্গি সহিংসতার উত্থান। তারাও এর সঙ্গে তাল মিলিয়ে তাদের কর্মকাণ্ড বৃদ্ধি করেছে। আগস্টে দেশের আধা-সামরিক বাহিনী আইএসের সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগে এক বৃটিশসহ মোট চারজনকে গ্রেপ্তার করে। শাফকাত মুনির বলেন, উচ্চ নিরাপত্তামূলক সতর্কতা থাকা সত্ত্বেও এসব গ্রুপ হামলা চালাতে সক্ষম। এটা চরম উদ্বেগের বিষয়। সিজার তাভেলাকে হত্যা একটি সতর্ক বার্তা। তিনি বলেন, আমার মনে হয় সতর্কতা উচ্চপর্যায়ে রয়েছে। আমার ভয় হলো- এই ধারা থামবে না। এটা চলতেই থাকবে এবং তা বৃদ্ধিও পেতে পারে।
দুই হত্যার পর আতঙ্কের কারণে অনেক বিদেশী বাংলাদেশ সফর বাতিল করেছেন। বিশেষ করে অনেক পোশাক ক্রেতা তাদের নির্ধারিত সফরে আসেননি। বেশির ভাগ বিদেশী বাংলাদেশে তাদের চলাফেরা সীমিত করেছেন। সাবধানে চলাচল করছেন তারা। সাধারণ মানুষের মধ্যেও বিরাজ করছে আতঙ্ক। দেশের ভবিষ্যৎ পরিস্থিতি কেমন হবে এ নিয়ে উৎকণ্ঠিত হয়ে পড়েছেন তারা। বাংলাদেশ আসলেই জঙ্গিবাদের হুমকির মধ্যে পড়েছে কি-না এ প্রশ্ন এখন আলোচিত হচ্ছে সর্বত্র। দেশে আইএসের অস্তিত্ব নিয়েও বিতর্ক চলছে। পর্যবেক্ষকরা বলছেন, এখনও পৃথিবীর সবচেয়ে কম জঙ্গি তৎপরতার দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ অন্তর্ভুক্ত। অথচ গত কয়েক বছর ধরে প্রশাসনিকভাবেই জঙ্গিবাদের জিকির তোলা হয়েছে। কয়েকদিন পরপরই কাউকে কাউকে ধরে এনে মিডিয়ার সামনে হাজির করা হয়েছে। বলা হয়েছে, অমুক, অমুক জঙ্গি সংগঠনের সমন্বয়ক, আহ্বায়ক ইত্যাদি। এতে শেষ পর্যন্ত দেশের ইমেজেরই ক্ষতি হয়েছে।

জমিতে যেতে পারছে না বাংলাদেশীরা, মুহুরীরচরে আবার জরিপ চায় ত্রিপুরা by মুহাম্মদ আবুল হাসান

ফেনীর মুহুরীরচরে বাংলাদেশ ও ভারতের যৌথ জরিপদল কয়েক দফায় জরিপ পরিচালনা করে সীমানা নির্ধারণের পরও নিজেদের জমিতে যেতে পারছেন না বাংলাদেশীরা। ভারতের পক্ষ থেকে চূড়ান্তভাবে জরিপ মেনে না নেয়ায় দীর্ঘ ৬৮ বছরেও বিতর্কিত মুহুরীরচর সমস্যার পুর্ণাঙ্গ সমাধান না হওয়ায় ৭০ একর জমির মালিকানা নিয়ে অনিশ্চিয়তা থেকেই গেল। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে স্থায়ী পিলার স্থাপনের প্রস্তাব দেয়া হলেও ভারতীয় পক্ষ বারবার সময় চাওয়ায় স্থায়ী পিলার বসানো হচ্ছে না। অপর দিকে দুই দেশের বিরোধপূর্ণ সীমান্ত সমস্যাকে ছিটমহল আখ্যা দিয়ে মুহুরীরচর ছিটমহল বিনিময়ের আগে আরেক দফা জরিপ চালানোর আহ্বান জানিয়েছে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজের কাছে চিঠি লিখেছেন রাজ্যের রাজস্ববিষয়ক মন্ত্রী বাদল চৌধুরী।
জানা গেছে, মুহুরীরচর দখলে রাখতে ১৯৭৯ সাল থেকে ১৯৯৯ সালের ২২ আগস্ট পর্যন্ত ৫৮ দিন ভারতীয় বিএসএফ ও তৎকালীন বিডিআর গুলি বিনিময় হয়। ১৯৯৪ সালের ১৫ জানুয়ারি বিএসএফের গুলিতে প্রাণ হারান বাংলাদেশর বাউর পাথর গ্রামের বেয়াধন বিবি (৪০)। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, চরের নিজেদের জমির অধিকার ফিরে পেতে এ পর্যন্ত শতাধিক বাংলাদেশী আহত হয়েছেন বিএসএফ ও ভারতীয় নাগরিকদের হাতে। আর শুধু কয়েক মাসে বিলোনীয়া সীমান্ত দিয়ে ১০ বাংলাদেশীকে ধরে নিয়ে গেছে ভারতীয় বিএসএফ। ভারত মুহুরীরচরের জমির বড় অংশের মালিক বাংলাদেশের নাগরিকেরা। কিন্তু বিএসএফ তাদের জমি চাষ করতে দিচ্ছে না।
দীর্ঘ দিনেও বিরোধপূর্ণ মুহুরীরচরের ২.৫ কিলোমিটার সীমান্ত এলাকা চিহ্নিত করা যায়নি। ২০১১ সালে বাংলাদেশ জরিপ অধিদফতর এ সীমানা চিহ্নিত করতে জরিপ পরিচালনা করলেও তা ফলপ্রসূ হয়নি বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। ২০১৪ সালের জানুয়ারি মাসে দুই দেশের জরিপদল সীমানা নির্ধারণ করলেও ত্রিপুরা সরকার আবারো জরিপের দাবি তুলে কেন্দ্রে চিঠি দেয়ায় মুহুরীরচর বিরোধ মীমাংসা ঝুলে যায় বলে বাংলাদেশীরা জানান।
এ চরের মূল আয়তন ৯২.৩৩ একরের মধ্যে ৬৬ ভাগ ভারতের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। বাকি ২৪ ভাগ চর এলাকার মালিকানা অমীমাংসিত অবস্থায় রয়েছে। বিজিবির দাবি, এ চরের আয়তন ৭৯ একর। এর মধ্যে ৫০ একর চর বিরোধপূর্ণ।
অনুসন্ধানে জানা যায়, ভূরাজনৈতিক ও কৌশলগত দিক দিয়ে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বাংলাদেশের সার্বভৌম অঞ্চল মুহুরীরচরের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ এলাকা ভারত দখলে নিয়েছে।
জানা যায়, মুহুরী নদীর পাশে ভারত সীমান্তের ওপারে বিলোনিয়া (ত্রিপুরা রাজ্যের মহকুমা) শহর থেকে ৪০ ফুট প্রশস্থ নতুন সড়ক তৈরির কাজ সম্পন্ন করেছে।
সর্বশেষ ২০১৪ সালের জানুয়ারি মাসে উভয় দেশ মুহুরীরচরে জরিপ পরিচালনা করে। সে সময় প্রধানমন্ত্রীর আন্তর্জাতিকবিষয়ক উপদেষ্টা গওহর রিজভী মুহুরীরচর সফরে এসে বলেন, ভারতের পার্লামেন্টে অনুমোদনের পর পাকা সীমানা পিলার নির্মাণ করা হলে মুহুরীরচরের দীর্ঘ দিনের বিরোধ নিষ্পত্তি হবে। দুই দেশের জরিপদল অস্থায়ী পিলার স্থাপনের পর বাংলাদেশ কমপক্ষে ৬০ থেকে ৭০ একর জমি ফেরত পেয়েছে বলে গণমাধ্যমে প্রকাশ হয়। কয়েক দশকের বিরোধ মীমাংসা ও দুই দেশের মালিকানা নির্ণয় করতে যৌথ জরিপ করে অস্থায়ী পিলার স্থাপন করা হলেও স্থায়ী পিলার না হওয়ায় মুহুরীরচরে চাষাবাদ করতে পারছেন না বাংলাদেশীরা। বারবার বাংলাদেশ যৌথ জরিপদলের স্থাপন করা অস্থায়ী পিলারের স্থলে স্থায়ী পিলার স্থাপনের প্রস্তাব দেয়া হলেও ভারতের সাড়ার পরিবর্তে তারা বারবার সময় চেয়ে সময় পার করছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
এ ব্যাপারে গতকাল বিজিবির ফেনীর জয়লস্কর সদর দফতরের কমান্ডিং অফিসার লে. কর্নেল আহম্মেদ জোনায়েদ খান জানান, দুই দেশের জরিপ সম্পন্ন হওয়ায় মুহুরীরচর নিয়ে দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘ দিনের সমস্যা সমাধানে অগ্রগতি হয়েছে। তবে ভারতকে স্থায়ী পিলার স্থাপনের প্রস্তাব দেয়া হলেও তারা সময় চাওয়ায় স্থায়ী পিলার এখনো স্থাপন করা হয়নি।

জেরুজালেমের পুরাতন শহরে ফিলিস্তিনিদের প্রবেশ নিষিদ্ধ

ইসরায়েল গতকাল রোববার জেরুজালেমের পুরাতন শহরে ফিলিস্তিনিদের প্রবেশ নিষিদ্ধ করেছে। গত শনিবার দুজন ইসরায়েলি নিহত এবং এক নারী ও শিশু আহত হওয়ার ঘটনায় উত্তেজনার পরিপ্রেক্ষিতে ইসরায়েল এই ‘কঠোর ও বিরল’ পদক্ষেপ নিল। খবর রয়টার্সের।
ইসরায়েলের ওই নিষেধাজ্ঞা দুই দিন বলবৎ থাকবে। ওই সময় কেবল ইসরায়েলি, পর্যটক, স্থানীয় বাসিন্দা, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের মালিক ও ছাত্ররা শহরে ঢুকতে পারবে। এ ছাড়া স্পর্শকাতর আল-আকসা মসজিদ চত্বরে নামাজ আদায়ের ক্ষেত্রে পুরাতন শহরের বাসিন্দা ও আরব ইসরায়েলিদের ওপরও সীমাবদ্ধতা আরোপ করা হয়েছে। পুরুষদের ক্ষেত্রে ৫০ বছর ও তার বেশি বয়সীরা মসজিদ চত্বরে প্রবেশ করতে পারবেন। তবে নারীদের ক্ষেত্রে কোনো সীমাবদ্ধতা আরোপ করা হয়নি। নির্দিষ্ট ফটক দিয়ে নারীরা ঢুকতে পারবেন।
তবে এ ব্যাপারে তাৎক্ষণিকভাবে ফিলিস্তিন কর্মকর্তাদের কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
ইসরায়েল অধিকৃত পশ্চিম তীরে গত বৃহস্পতিবার বন্দুকধারীদের গুলিতে ইসরায়েলি এক দম্পতি খুন হন। ওই ঘটনা এবং আল-আকসা মসজিদ ও পুরাতন শহরের আশপাশে সাম্প্রতিক সময়ে সংঘর্ষের ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ইসরায়েলি বাহিনী সতর্ক অবস্থায় ছিল। এর মধ্যেই গত শনিবার রাতে হামলার ঘটনা ঘটল।
সেখানকার বিক্ষিপ্ত সহিংসতা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। কেউ কেউ তৃতীয় ফিলিস্তিনি ইন্তিফাদা বা অভ্যুত্থান ঘটার ঝুঁকির কথাও বলছেন।
শনিবার রাতে পুরাতন শহরে এক ব্যক্তি ছুরি ও আগ্নেয়াস্ত্র দিয়ে পৃথক হামলা চালান। তাঁর হামলায় দুজন ইসরায়েলি পুরুষ নিহত এবং এক শিশু ও এক নারী আহত হন। ইসরায়েলের গণমাধ্যমগুলো হামলাকারী ফিলিস্তিনিকে ইসলামি জঙ্গি বলে বর্ণনা করেছে। পুলিশ হামলাকারীকে গুলি করে হত্যা করে। পুলিশের ভাষ্য, পশ্চিম জেরুজালেমে শনিবার এক ফিলিস্তিনি এক পথচারীকে কুপিয়ে পালানোর চেষ্টা করছিলেন। এ সময় পুলিশ তাঁকে গুলি করে হত্যা করে।
খুন হওয়া ব্যক্তিদের একজন হলেন পুরাতন শহরের বাসিন্দা রাব্বি (৪১)। অপরজনের বয়স ২১ বছর। তিনি পশ্চিম তীরের বসতিতে বাস করতেন। তাঁর নাম প্রকাশ করা হয়নি। হামলাকারী প্রথমে ছুরি ব্যবহার করেন। পরে নিহত একজনের কাছ থেকে অস্ত্র কেড়ে নিয়ে শিশুটির পায়ে গুলি করেন।
ইসরায়েলের পুলিশ জানিয়েছে, হামলাকারীর নাম মোহাম্মাদ শফিক হালানি (১৯)। তিনি পশ্চিম তীরের রামাল্লার কাছের একটি গ্রামে বাস করতেন। ইসলামিক জিহাদ জানিয়েছে, শফিক হালানি তাদের একজন সদস্য। আর গাজায় ক্ষমতাসীন হামাস ওই হামলার প্রশংসা করেছে। তারা এটিকে ‘প্রতিরোধের জন্য বীরোচিত কর্মকাণ্ড’ বলে উল্লেখ করেছে।

দিল্লির ‘অনানুষ্ঠানিক অবরোধ’ জাতিসংঘে নেপালের নালিশ

ভারতের সঙ্গে সীমান্তের গুরুত্বপূর্ণ একটি বাণিজ্য পয়েন্টে দেশটির ‘অনানুষ্ঠানিক অবরোধ’ আরোপ করা নিয়ে জাতিসংঘে নালিশ জানিয়েছে প্রতিবেশী নেপাল। ইতিমধ্যে নিজেদের মতপার্থক্য এড়িয়ে ভারতবিরোধিতায় ঐক্যবদ্ধ হয়েছে নেপালের বৃহৎ তিন রাজনৈতিক দল। খবর টাইমস অব ইন্ডিয়ার। জাতিসংঘের সদ্যসমাপ্ত সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের বাইরে জাতিসংঘের মহাসচিব বান কি মুনের সঙ্গে এক বৈঠক করেছেন অধিবেশনে নেপালের প্রতিনিধিত্বকারী উপপ্রধানমন্ত্রী প্রকাশ মান সিং। ওই বৈঠকে নেপালের বিরুদ্ধে ভারতের অনানুষ্ঠানিক বাণিজ্য অবরোধের প্রসঙ্গ তোলেন তিনি। বৈঠকে নেপালের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়, অবরোধ আরোপের ফলে চারদিকে স্থল পরিবেষ্টিত দেশটিতে অপরিহার্য পণ্যের তীব্র সংকট শুরু হয়েছে। বৈঠকে বান কি মুন অপরিহার্য পণ্য প্রবেশে নেপালে বাধা ও এতে সৃষ্ট জটিলতায় উদ্বেগ প্রকাশ করেন। এ ছাড়া সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের শেষ দিন গত শুক্রবার ভাষণ দানকালে প্রকাশ সিং নেপালের পণ্য পরিবহন বা ট্রানজিট স্বাধীনতা যাতে ক্ষুণ্ন না হয় তা নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানান। সিং বলেন, স্থল পরিবেষ্টিত উন্নয়নশীল দেশগুলোর (এলএলডিসি) ট্রানজিট স্বাধীনতাকে অবশ্যই ও শর্তহীনভাবে সব দেশকেই মানতে হবে। এদিকে নেপালের সংবিধান প্রণয়ন প্রক্রিয়ায় নয়াদিল্লির একপেশে ভূমিকা ও ‘অনানুষ্ঠানিক বাণিজ্য অবরোধ’ আরোপে অসন্তোষ প্রকাশ করেছে নেপালি কংগ্রেস (এনসি), কমিউনিস্ট পার্টি অব নেপাল-ইউনাইটেড মার্ক্সিস্ট লেনিনিস্ট (সিপিএন-ইউএমএল) ও ইউনিফাইড কমিউনিস্ট পার্টি অব নেপাল-মাওইস্ট (ইউসিপিএন-এম)। তা ছাড়া ভারতবিরোধিতায় নজিরবিহীনভাবে অভিন্ন অবস্থানও গ্রহণ করেছে নেপালি পার্লামেন্টের বৃহৎ এ তিনটি দল। নেপালের পার্লামেন্টে সম্প্রতি আনুষ্ঠানিকভাবে গৃহীত হয় নতুন সংবিধান। দেশে ব্যাপক মতবিরোধের সৃষ্টি করে এ সংবিধান প্রণয়ন-প্রক্রিয়া। সংবিধান নিয়ে প্রভাবশালী প্রতিবেশী ভারতের সঙ্গেও নেপালের খানিকটা তিক্ততা সৃষ্টি হয়। নেপালের নতুন সংবিধানের বিষয়ে ভারতের মত, এটা যথেষ্ট ব্যাপকতার ভিত্তিতে হয়নি। সংবিধানকে কেন্দ্র করে দেশটিতে বিশেষত সীমান্তের তরাই অঞ্চলে যে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ছে, সেটার আঁচ লাগবে ভারতেও। তরাইয়ের বাসিন্দা জাতিগত মদেশি ও থারু সংখ্যালঘুদের আশঙ্কা, নতুন সংবিধানের অধীন নেপাল বিভিন্ন প্রদেশে ভাগ হয়ে গেলে তারা রাজনৈতিকভাবে প্রান্তিক হয়ে পড়বে, যদিও তারা নেপালের মোট জনসংখ্যার প্রায় ৪০ শতাংশ। মদেশিদের সঙ্গে ভারতের কিছু জায়গার জাতিগত ঘনিষ্ঠতা রয়েছে।

জাপানি নাগরিক কুনিওকে আপন করে নিয়েছিল মুন্সিপাড়া by গোলাম মর্তুজা

কুনিও হোশির লাশের ময়নাতদন্তের সময়
উপস্থিত ছিলেন জাপানি প্রতিনিধিদলের
সদস্যরা। গতকাল দুপুরে রংপুর মেডিকেল
কলেজের মর্গ থেকে তোলা ছবি -হাসান রাজা
রংপুর শহরের উপকণ্ঠে নিভৃত গ্রাম কাচু আলুটারি। রাস্তার দুপাশে দীর্ঘ পথজুড়ে শুধু ধানখেত আর পুকুর। এই গ্রামের বেশির ভাগ মানুষই কখনো গুলির শব্দ শোনেনি। শনিবার সকালে পরপর তিনটি গুলির শব্দে তারা হকচকিত। যে গুলিতে নিহত হয়েছেন জাপানের নাগরিক ৬৬ বছরের কুনিও হোশি।
গ্রামবাসী বলছেন, তাঁরা মোটরসাইকেল আরোহী খুনিদের দেখে সঙ্গে সঙ্গেই পুলিশকে জানিয়েছিলেন। পুলিশ বলছে, তারা খবর পেয়ে খুনিদের ধরার চেষ্টা করেও পারেনি।
গতকাল রোববার কাচারিবাজার এলাকায় মুন্সিপাড়ার কয়েকজন তরুণের সঙ্গে কথা হয়। তাঁরা বলেন, পাড়ার লোকদের কাছে বেশ জনপ্রিয় ছিলেন কুনিও হোশি। প্রতি সন্ধ্যায় পাড়ায় হাঁটাহাঁটি করতেন। প্রতিদিনই পাড়ার দোকান থেকে অন্তত দুই হালি কলা কিনতেন। পাড়ার শিশুদের সঙ্গে আড্ডা দিতেন, চকলেট কিনে দিতেন। ভাঙা ভাঙা বাংলায় শিশুদের নানা প্রশ্ন জিজ্ঞেস করতেন। শুনে মজা পেত শিশুরা। তাদেরও দু-একটি জাপানি শব্দ শেখানোর চেষ্টা করতেন কুনিও।
স্থানীয় কয়েকজন তরুণ বলেন, কুনিওকে তাঁরা পাড়ার লোকই মনে করতেন। তিন-চার বছর ধরে তিনি বাংলাদেশে যাতায়াত করতেন। দুই থেকে চার মাস থেকে চলে যেতেন। আবার কয়েক মাস পরে ফিরে আসতেন। সাদামাটা জামা-কাপড় পরে চলাফেরা করতেন। পাড়ার তরুণদের সঙ্গে কুনিও নামাজ পড়তে যেতেন। গত কোরবানি ঈদে সবার সঙ্গে মুন্সিপাড়া কবরস্থান ঈদগা মাঠে ঈদের নামাজে অংশ নিয়েছেন। স্থানীয় কেরামতিয়া মসজিদে শুক্রবার জুমার নামাজও পড়তে যেতেন।
স্থানীয় এক ব্যবসায়ী জানান, কুনিও যে বাড়িতে থাকতেন, তার মালিক এ কে এম জাকারিয়া দীর্ঘদিন জাপানে ছিলেন। তাঁর ভাই এখনো জাপানপ্রবাসী। তিন বছর আগে জাকারিয়া তাঁর সঙ্গে কুনিওর পরিচয় করিয়ে দেন। বলেন, কুনিও পোলট্রি খাবার নিয়ে গবেষণা করছেন। ওই ব্যবসায়ী বলেন, কুনিওর সঙ্গে তাঁর ভালো সম্পর্ক ছিল। পরে তিনি কুনিও ও জাকারিয়ার কাছ থেকে জেনেছেন, কুনিও এমন ধরনের পশুখাদ্য নিয়ে গবেষণা করছেন, যেগুলো দুই থেকে আড়াই মাসের মধ্যেই অনেক বেড়ে উঠবে। এসব ঘাসের বীজ নিয়ে গবেষণা জাপানে অনেক ব্যয়সাধ্য। তাই তিনি বাংলাদেশে এই গবেষণা করতে এসেছেন বলেই সবাই জানে। তাঁরা বেশ কিছুদিন ধরে খামার করার উপযোগী জমি খুঁজছিলেন। পরে জাকারিয়া তাঁর আত্মীয় হুলমায়ূন কবির ওরফে হীরার নামে আলুটারি গ্রামের তিন ভাইয়ের কাছ থেকে বছরে ৮২ হাজার টাকায় দুই একর আট শতক জমি বর্গা নিয়ে দেন। সেই জমিতেই কয়েক মাস আগে ঘাসের চাষ করেন কুনিও।
কুনিওর ঘাসের খামার: রংপুর শহর থেকে একটু বাইরে রংপুর-হারাগাছ স্থানীয় সড়ক ধরে প্রায় দুই কিলোমিটার গেলে কাচু আলুটারি গ্রাম। পাকা সড়ক থেকে মেঠো পথ ধরে এক কিলোমিটারের মতো গেলেই কুনিও হোশির ঘাসের খেত। খেতের ঘাস তিন-চার ফুট লম্বা।
রংপুরের আলুটারি গ্রামের এখানকার
রাস্তাতেই খুন হন জাপানি নাগরিক
কুনিও হোশি। তদন্তের জন্য পুলিশ হলুদ
ফিতা দিয়ে ঘিরে রেখেছে জায়গাটি।
রাস্তা বন্ধ থাকায় পথচলতি এক গ্রামবাসী
সাইকেল নিয়ে ধানখেতের মধ্য
দিয়ে যাচ্ছেন l ছবি: প্রথম আলো
প্রায় প্রতিদিনই খামারে আসতেন কুনিও। আলুটারি গ্রামের আবদুল জব্বার বলেন, খামারে এসে ঘাস কত লম্ব হয়েছে তা মাপতেন, কখনো নিজেই নিড়ানি দিতেন। তাঁর দাবি, কুনিও তাঁকে বলেছেন, রংপুরের মাটিতে তাঁর প্রত্যাশামতো খুব দ্রুত বাড়ছে ঘাস। জাপানে এত দিনে এই ঘাস দেড় থেকে দুই ফুট লম্বা হতো। এখানে তা তিন ফুট ছাড়িয়ে গেছে।
হত্যাকাল: রংপুর শহরের মুন্সিপাড়া থেকে খামারে যেতেন মুন্নাফ আলীর রিকশায়। অন্যদিনের মতোই শনিবার সকালে মুন্নাফের রিকশায় তিনি খামারের দিকে রওনা দেন। রিকশাটি পাকা সড়ক ফেলে মাটির রাস্তায় ঢুকে ১০০ গজ এগোতেই সামনের দিক থেকে দুই ব্যক্তি এসে কুনিওকে ধাক্কা মেরে রিকশা থেকে ফেলে দিয়ে গুলি করে। স্থানীয় গ্রাম পুলিশ আনোয়ার হোসেন বলেন, তিনি স্থানীয় লোকদের কাছ থেকে শুনেছেন, কুনিওর রিকশাটি ওই এলাকায় আসার আগে লাল রঙের একটি ডিসকভার মোটরসাইকেলে তিনজন এসে কাঁচা রাস্তার মাথায় পাকা সড়কে থামে। এর নম্বরপ্লেটে শুধু ‘প্রেস’ লেখা ছিল। দুজন সেই মোটরসাইকেল থেকে নেমে হেঁটে মেঠোপথ ধরে কিছুটা এগিয়ে যায়। তারা রাস্তার ধারে দাঁড়িয়ে ছিল। কুনিওর রিকশাটি ওপাশ থেকে খোকা মিয়ার বাড়ির সামনে আসার পর ওই দুজন অস্ত্র বের করে এগিয়ে যায়। একজন কুনিওকে ধাক্কা মেরে ফেলে দেয়, আরেকজন তাঁকে গুলি করে।
আলুটারি মোড়ের দোকানদার মো. মোস্তফা বলেন, তিনিসহ বাজারের ব্যবসায়ীরা গুলির শব্দ শুনেছেন। যেহেতু তাঁদের বেশির ভাগই এর আগে কখনো গুলির শব্দই শোনেননি, তাই তাঁরা বিষয়টি বুঝতেই পারেননি। সে সময় সেখান দিয়ে ঢাকা থেকে হারাগাছগামী একটি বাস যাচ্ছিল। অনেকেই ভেবেছিলেন, বাসের চাকা ফেটে গেছে।
সারাই ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আশরাফুল ইসলাম বলেন, বাসটি যাওয়ার কারণে গুলির শব্দে অনেকে বিভ্রান্ত হয়েছে। পরে চিৎকার শুনে আলুটারি মোড়ের দোকানগুলোতে থাকা লোকজন ভেবেছিলেন, হয়তো খোকার বাড়িতে ডাকাত পড়েছে। স্থানীয় তিন যুবক আমিনুর, মোস্তফা ও শহীদার দৌড়ে এসে দেখেন কুনিও পড়ে রয়েছেন। তাঁরা কুনিওকে ধরে পাকা রাস্তায় নিয়ে যান। সেদিক দিয়ে যাওয়ার সময় স্বাধীন নামে এক অটোচালকের গাড়িতে কুনিওকে নিয়ে উঠে বসেন তিনজন। রংপুর শহরের সাতমাথায় গিয়ে কুনিওকে নিয়ে একটি পিকআপ ভ্যানে ওঠেন।
চেয়ারম্যান বলেন, প্রত্যক্ষদর্শী তিনজন তাঁকে বলেছেন যে গুলিবিদ্ধ হওয়ার পরে কিছুক্ষণ কথা বলতে পেরেছিলেন কুনিও। তবে তাঁর কথা তাঁরা বুঝতে পারেননি। শুধু এটুকু বোঝা গেছে, তিনি সাতমাথায় যেতে বলছেন। সাতমাথায় যাওয়ার আগেই কুনিও নিস্তেজ হয়ে পড়েন।
আশরাফুল বলেন, সকাল সোয়া ১০টার দিকে তিনি প্রথমে কাউনিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে ফোনে বিষয়টি জানান। এরপর তিনি জেলা প্রশাসকসহ অন্য কর্মকর্তাদের ফোন করেন।
কাউনিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রেজাউল করিম প্রথম আলোকে বলেন, চেয়ারম্যানের কাছ থেকে তথ্য পেয়ে সঙ্গে সঙ্গেই পুলিশ নিয়ন্ত্রণকক্ষে বিষয়টি জানানো হয়। দ্রুতগতিতে চারদিকে ছড়িয়ে থাকা পুলিশকে সতর্ক করা হয়। কিন্তু দুর্বৃত্তদের ধরা যায়নি। ওসি বলেন, রংপুর থেকে হারাগাছগামী ওই রাস্তাটিতে অনেকগুলো শাখা রাস্তা এসে সংযুক্ত হয়েছে। এ কারণে অনেকগুলো পথে পুলিশ অবস্থান নিয়েও তাদের ধরতে পারেনি।

ত্বকীর ২০ বছর! by রওনক রেহানা

তানভীর মুহাম্মদ ত্বকী
আজ ত্বকীর ২০ বছর পূর্ণ হলো। কিন্তু না, কালের চক্রপ্রবাহে বয়স বেড়ে চললেও ত্বকীর বয়স বাড়েনি। ১৭ বছর ৫ মাসে আটকে আছে তার বয়স। পিটার প্যানের মতো ত্বকীর বয়স আর বাড়বে না কোনো দিন। তবে পিটার প্যান চিরদিন কিশোর হয়ে থাকবে বলে পণ করেছিল; কিন্তু ত্বকী তা করেনি, আর তা চায়ওনি। বরং ত্বকী সবকিছু ছাড়িয়ে যেতে চেয়েছিল। বড় হতে চেয়েছিল। মহাবিশ্বকে অতিক্রম করে মহাকাশকে লক্ষ্য করেছিল।
৫ অক্টোবর ১৯৯৫ একরাশ স্বপ্ন আর ভালোবাসা জাগিয়ে তানভীর মুহাম্মদ ত্বকীর জন্ম হয়েছিল। আমার দেহ আমার আত্মার সুর থেকে বেরিয়ে আসা আরেকটি জীবন্ত দেহ। অনাগত ভবিষ্যতে তাবৎ বিষয়ে সব সময়ে কল্যাণে ব্রতী হয়ে উঠতে পারবে আমার স্বপ্নের এমন এক কাঙ্ক্ষিত নতুন শিশু, যে আমাকে প্রথম মা হওয়ার সৌভাগ্য এনে দিয়েছিল। ‘কোন রূপলোকে ছিলি রূপকথা তুই,/ রূপ ধরে এলি এই মমতার ভুঁই/ ...কত যে তিমির নদী পারায়ে এলি/ দিঘল নভে তুই চাঁদ পহেলি।’ আমার প্রথম মা হওয়ার অনুভূতি ছিল এ রকমই। ‘ধন্য আজি সেই সে মেয়ে মা হলো যে তোমায় কোলে করে...।’ ত্বকীকে পেয়ে সারাক্ষণ কবিতায় হারিয়ে থাকতাম। একটু একটু করে বড় হতে থাকলে একসঙ্গে ছড়া কাটতাম, আবৃত্তি করতাম, কবিতা নিয়ে খেলা করতাম। হাঁটি হাঁটি পা পা করে হাঁটতে হাঁটতে ঘর ছেড়ে বাইরে পা রেখেছিল ত্বকী। কিন্তু ঘাতক আর শ্বাপদের কিলবিল পথে দাঁড়াতে পারল না। শৈশবে শিশুরা সবকিছুই হওয়ার স্বপ্ন দেখে। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এই স্বপ্নেও পরিবর্তন ঘটে যায়। ডাকঘর-এর কিশোর অমল একবার দইওয়ালা হতে চেয়েছিল; হতে পারেনি। ত্বকীর শৈশব স্বপ্নেও ভিড় করেছিল এমনই বিচিত্র সব চরিত্র। একবার আর্মি হতে চেয়েছিল। ওর বাবা জলপাই ছাপের জ্যাকেট ও ট্রাউজার এনে দিয়েছিল। পেয়ে আনন্দ আর ধরে না। সে আর্মির পোশাক এখনো যত্নে রেখেছি আমি, নেই আর্মি হতে চাওয়া ছেলেটি আমার।
ত্বকীকে আমি বস বলতাম। কী করলে ভালো হবে, কী করলে ভালো না-ও হতে পারে, ত্বকী সব সময় তা আমাকে বোঝাত। সারা দিন জমিয়ে রাখা সব কথা আমি আর সাকী-ত্বকীর সঙ্গে আলাপ করতাম। ত্বকী ছিল স্বল্পভাষী। হ্যাঁ, না বা দু-চারটে কথার মাধ্যমে সে তার মতামত জানাত। ছোট গণ্ডিতে ত্বকীর সঙ্গে মিশে থাকা এই আমার জীবনের ভিজে যাওয়া টুকরো চিত্র।
বই পড়ার একটা নেশা ছিল ত্বকীর। সাহিত্যের চেয়েও বিজ্ঞানের প্রতি ঝোঁকটা ছিল বেশি। খেরো খাতায় বাংলা ও ইংরেজিতে গল্প, কবিতা, বিজ্ঞান ও বিচিত্র সব বিষয় নিয়ে লিখে রেখেছে। ভালো আবৃত্তি করত, গান গাইত, বাবার সঙ্গে দাবা খেলত, ছোট ভাই সাকীর সঙ্গে ক্রিকেট খেলত। এখন বিভিন্ন অনুষ্ঠানে-আয়োজনে আমি ত্বকীর মুখ খুঁজে ফিরি। যেদিকে তাকাই ত্বকীকে খুঁজে পেতে ইচ্ছা হয়। কেউ গান গাইলে ভেসে ওঠে ত্বকীর মুখ, যেন ত্বকী গাইছে। কেউ আবৃত্তি করলে শুনতে পাই ত্বকীর কণ্ঠ। ‘মহাভারত’ দেখতে দেখতে যুধিষ্ঠিরের চরিত্রটি যেন ত্বকী হয়ে সামনে দাঁড়ায়।
ত্বকী প্রকৌশলী হতে চেয়েছিল। স্বপ্ন ছিল বড় কিছু করার। এমন কিছু আবিষ্কার করা, যাতে মানবজাতির উপকারে আসে। ত্বকীর সেই স্বপ্নের সঙ্গে সঙ্গে আমাদের স্বপ্নকেও জড়িয়ে ফেলেছিলাম। স্বপ্ন যে এত ঠুনকো হবে, তাসের ঘরের মতো এমনি ভেঙে যাবে, তা কখনো ভাবিনি।
এ-লেভেল প্রথম পর্বের পরীক্ষায় পদার্থবিজ্ঞানে বিশ্বের সর্বোচ্চ নম্বর পেয়েছিল (২৯৭/৩০০), রসায়নে পেয়েছিল দেশের সর্বোচ্চ নম্বর (২৯৪/৩০০)। ফল প্রকাশের আগের দিন বিকেলে ৬ মার্চ ২০১৩ নিখোঁজ হলো ত্বকী। সুধীজন পাঠাগারে গিয়েছিল। পথ থেকে ওকে ধরে নিয়ে গেল দুর্বৃত্তরা। ওই রাতেই শহরের পরিচিত টর্চার সেলে হত্যা করে ত্বকীর লাশ ফেলে দিল ওরা শীতলক্ষ্যা নদীর পাড়ে।
ত্বকীর ঘাতকেরা অজ্ঞাত নয়, চিহ্নিত। হত্যার কারণও অনুদ্ঘাটিত নয়। তারপরেও রাষ্ট্র ত্বকীর ঘাতকদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। আর রাষ্ট্র যখন ঘাতকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হয়, সমাজের মানুষগুলো তখন অসহায় হয়ে পড়ে। তখন মানবতা, মূল্যবোধ, মুক্তিযুদ্ধ—এসবই মূল্যহীন হয়ে পড়ে, কথার কথা হয়ে ফুৎকারে উবে যায়, অসার হয়ে যায়।
ত্বকীকে ওরা বাঁচতে দিল না। অথচ স্বাধীন দেশে আজ চারদিকে ত্বকীর ঘাতকদের অশুভ আস্ফালন দেখি। শিশু হত্যা ও নির্যাতনের আজ যেন মহোৎসব শুরু হয়েছে। রাজন, রাকিব, রবিউলকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। ভূমিষ্ঠ হওয়ার আগেই গুলিবিদ্ধ হওয়া সুরাইয়া জানান দিচ্ছে এই ভূখণ্ড ভবিষ্যৎ শিশুদের জন্য কতটা ঝুঁকিপূর্ণ। কিন্তু রক্তস্নাত স্বাধীন বাংলাদেশে এমনটা তো হওয়ার কথা ছিল না।
ত্বকী অর্থ আলো। কিন্তু এ যেন এক অন্ধকার সময়ে আজ ত্বকীর জন্মদিন। আমরা সব সেই আঁধার পথের যাত্রী। ‘আলো হাতে চলিয়াছে আঁধারের যাত্রী’, কিন্তু আমাদের সবার হাতে তো আর আলো নেই। কিন্তু ত্বকীর ছিল, ত্বকীর হাতে আলো ছিল। ইতিহাস তো আলো ধরেই এগিয়ে চলে, আর ঘাতকেরা ইতিহাসের সেই আলোকে সব সময়ই ভয় পেয়েছে। বারবার নিভিয়ে দিতে চেয়েছে সেই আলো। তবে তারা তা কখনোই নেভাতে পারেনি, পারবেও না কখনো। ইতিহাসের সেই আলোতেই যে একসময় স্পষ্ট হয়ে ওঠে ঘাতকের কুৎসিত মুখ।
রওনক রেহানা: তানভীর মুহাম্মদ ত্বকীর মা।

নোবেল গবেষণার অন্ধকার দিক

কেউ নোবেল পুরস্কার পেলেই লোকজন ধরে নেয়, মানবজাতির কল্যাণের জন্য তিনি নিশ্চয়ই কোনো যুগান্তকারী গবেষণা করেছেন। কিন্তু ব্যাপারটা সব সময় যে সত্যি, তা নয়। রাসায়নিক অস্ত্র বা ডিডিটির মতো ক্ষতিকর উপাদান তৈরির জন্যও বিজ্ঞানীদের নোবেল দেওয়া হয়েছে। নোবেলজয়ীদের নিয়ে বিতর্ক বেশ পুরোনো। এমন অনেক লেখক এই পুরস্কারটি পেয়েছেন, জনসাধারণ যাঁদের খুব একটা চেনে না। আবার কখনো কোনো আবিষ্কারের কৃতিত্ব প্রথম যে বিজ্ঞানী দাবি করেছেন, তাঁকেই নোবেল দেওয়া হয়েছে। শান্তিতে নোবেলজয়ী কয়েকজন ব্যক্তির প্রকৃত ভূমিকা নিয়েও জনমনে বিভক্তি রয়েছে। আর কয়েকটি পুরস্কার দেওয়ার পর নোবেল কমিটির ভেতরেও বিব্রতকর অবস্থা তৈরি হয়েছে।
২০১৩ সালে নোবেল শান্তি পুরস্কারটি পারমাণবিক অস্ত্র নিবারণ সংস্থাকে (ওপিসিডব্লিউ) দেওয়ার পর অনেকেই বলছেন, ‘রাসায়নিক যুদ্ধবিগ্রহের জনক’ হিসেবে পরিচিত জার্মান বিজ্ঞানী ফ্রিৎজ হ্যাবার ১৯১৮ সালে রসায়নে নোবেল পাওয়ায় কমিটির ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছিল। সেটা পুষিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যেই এত বছর পর ওপিসিডব্লিউকে বেছে নেওয়া হয়েছে।
অ্যামোনিয়া সংশ্লেষণ নিয়ে গবেষণাকাজের জন্য নোবেল পেয়েছিলেন হ্যাবার। খাদ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় সার তৈরিতে ওই গবেষণা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। কিন্তু বিষাক্ত কয়েকটি গ্যাসও আবিষ্কার করেছেন হ্যাবার, যেগুলো প্রথম বিশ্বযুদ্ধে ব্যবহার করা হয়েছিল। বেলজিয়ামের ইপ্রার যুদ্ধে এসব গ্যাস প্রয়োগের তত্ত্বাবধানও করেন হ্যাবার। সুইডেনের রসায়নবিদ ইনগার ইংমানসন এএফপিকে বলেন, যুদ্ধে জার্মানির পরাজয়ের পর হ্যাবার ভাবেননি, নোবেল পাবেন। তিনি বরং সামরিক আদালতে বিচারের (কোর্ট মার্শাল) মুখোমুখি হওয়ার আশঙ্কা করেছিলেন।
ফরাসি রসায়নবিদ ভিক্তর গ্রিনিয়ারও বিষাক্ত গ্যাস তৈরি করেন এবং সেগুলো যুদ্ধে ব্যবহারের আগেই ১৯১২ সালে নোবেল পান। ১৯১৮ সালের ওই মনোনয়ন নিয়ে বিতর্কের পর নোবেল কমিটি বেশ সতর্ক হয়েছিল। তবু ১৯৪৫ সালে হিরোশিমা ও নাগাসাকিতে পারমাণবিক বোমা নিক্ষেপের মাত্র তিন মাস পর নিউক্লিয়ার ফিশন আবিষ্কারের জন্য রসায়নে নোবেল দেওয়া হয় আরেক জার্মান বিজ্ঞানী অটো হানকে। ১৯৩৩ সালে তাঁর একটি আবিষ্কার পারমাণবিক অস্ত্র তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। অবশ্য হান কোনো দিনই তাঁর আবিষ্কারটি সামরিক উদ্দেশ্যে প্রয়োগের জন্য কাজ করেননি। এএফপি।

দুই পক্ষের সংঘর্ষ, সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ বন্ধ ঘোষণা

আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দেশব্যাপী আওয়ামী ছাত্রলীগের
গ্রুপে গ্রুপে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া সংঘর্ষের  ঘটনা ঘটে নিয়মিত
বাংলাদেশ ছাত্রলীগ-সমর্থিত দুটি সংগঠনের মধ্যে সংঘর্ষের পর রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। গতকাল রোববার দুপুরে একাডেমিক কাউন্সিলের সভায় কলেজ বন্ধ ঘোষণা এবং শিক্ষার্থীদের বেলা তিনটার মধ্যে ছাত্রাবাস ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। কলেজ ক্যাম্পাসে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ এ বি এম মাকসুদুল আলম প্রথম আলোকে বলেন, কলেজে ভর্তি কার্যক্রম চলার সময় ‘স্ফুরণ’ ও ‘ডিবিটস’ নামের দুটি সাংস্কৃতিক সংগঠনের কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এটি যাতে আরও বিস্তৃত না হয় এবং সামনে দুর্গাপূজার ছুটি আছে—এই সবকিছু বিবেচনায় নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করে একাডেমিক কাউন্সিলের সিদ্ধান্তে কলেজ বন্ধ করা হয়েছে। ছাত্রলীগের দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে কি না, তা তাঁর জানা নেই। ঘটনা তদন্তে দু-এক দিনের মধ্যে তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা বলেন, ‘স্ফুরণ’ ও ‘ডিবিটস’ নামের সংগঠন দুটি পরিচালনা করে ছাত্রলীগের দুটি পক্ষ। ঈদের ছুটি শেষে গত শনিবার কলেজে ক্লাস শুরু হয়। প্রথম বর্ষে ভর্তির কার্যক্রম শুরু হয়েছে এর আগেই। নতুন শিক্ষার্থীদের নিজেদের পক্ষে নেওয়াকে কেন্দ্র করে এ দুই সংগঠনের মধ্যে উত্তেজনা চলছিল। শনিবার এ নিয়ে দুই পক্ষের নেতা-কর্মীদের মধ্যে কয়েক দফায় বিক্ষিপ্তভাবে হাতাহাতি হয়। কলেজ শাখা ছাত্রলীগের নেতারা ও কলেজ কর্তৃপক্ষের মধ্যস্থতায় বিষয়টি শনিবারই মিটমাট হয়। কিন্তু গতকাল সকালে আবারও এ নিয়ে কলেজের ছাত্রাবাসের দোতলায় দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি হয়। পরে তা পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও সংঘর্ষে রূপ নেয় এবং কলেজ ক্যাম্পাস ও হাসপাতালের সামনে ছড়িয়ে পড়ে। ঘণ্টা খানেক ধরে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও সংঘর্ষে কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হন। খবর পেয়ে পুলিশ ক্যাম্পাসে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
এ সংঘর্ষের পর দুপুরে কলেজের একাডেমিক কাউন্সিলের বৈঠকে কলেজ অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণার সিদ্ধান্ত হয়। বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, শিক্ষার্থীদের বেলা তিনটার মধ্যে ছাত্রাবাস ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। এ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী শিক্ষার্থীরা ছাত্রাবাস ত্যাগ করেছেন বলে কলেজ সূত্র জানিয়েছে।
বক্তব্য জানতে চেষ্টা করেও ‘স্ফুরণ’ ও ‘ডিবিটস’ নামের সংগঠন দুটির কাউকে পাওয়া যায়নি।
পুলিশের তেজগাঁও বিভাগের উপকমিশনার বিপ্লব কুমার সরকার প্রথম আলোকে বলেন, ছাত্রলীগের দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। তবে কী কারণে এ সংঘর্ষ, তা তাঁরা জানেন না। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের জন্য সেখানে পুলিশ মোতায়েন করা হয়। কলেজ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে যা যা করার দরকার, সেই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

বিদেশি হত্যায় বিএনপি ও জামায়াতের মদদ আছে -সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী

গণভবনে সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা
*দেশে রাজনৈতিক সংকট নেই। বিদেশি রাষ্ট্রনায়কেরাও সরকারের বৈধতা কিংবা নির্বাচনের বিষয়ে প্রশ্ন করেননি
*এতই যদি রাজনৈতিক সংকট থাকত, তাহলে বাংলাদেশ এলডিসির নেতৃত্ব কীভাবে পেল?
ইতালি ও জাপানের নাগরিক হত্যাকাণ্ডে বিএনপি-জামায়াতের হাত থাকতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি মনে করেন, এ ঘটনায় সরকারের সব অর্জন ম্লান হয়ে যায়নি। বিদেশি নাগরিকদের হত্যায় জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার ও বিচার নিশ্চিত করা হবে বলে আশ্বস্ত করেন তিনি।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিয়ে দেশে ফেরার পর গতকাল রোববার গণভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।
বিএনপি-জামায়াতের যোগসূত্র বলতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘এ ঘটনার পেছনে নিশ্চয়ই তাদের মদদ আছে। আমাদের অর্জনগুলো ম্লান করার জন্য এ ঘটনাগুলো ঘটানো হয়। এটার পেছনে নিশ্চয়ই একটা উদ্দেশ্য আছে। তাদের হাত আছে।’
শেখ হাসিনা আরও বলেন, ‘দুজন বিদেশি নাগরিককে হত্যা করা হয়েছে। তাঁদের হত্যার স্টাইলটা একই রকম। ইতালির নাগরিককে চারটি গুলি মারা হয়েছে। একটা গুলিও মিসফায়ার হয়নি। চারটা গুলিই লাগল। এটা সুপরিকল্পিত। আমি স্মরণ করাতে চাই এর আগে বিএনপির এক নেতার বক্তব্য। এরপর তাঁর রি-অ্যাকশন। সেগুলো যদি মিলিয়ে দেখেন, তাহলে জিনিসটা খুব স্পষ্ট হয়ে যায়।’ তিনি বলেন, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার হচ্ছে। তারাই পঁচাত্তরের পর ২১ বছর ক্ষমতায় ছিল। আজকে তাদের যখন বিচার হচ্ছে, কিছু রি-অ্যাকশন তো হবেই। এখানে কিছু গণসচেতনতা দরকার।’
প্রধানমন্ত্রী সংবাদ সম্মেলন শুরু করেন বেলা সাড়ে ১১টায়। প্রথমে তিনি লিখিত বক্তব্যে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭০তম অধিবেশনে যোগদান, বিভিন্ন বৈঠকে অংশ নেওয়া এবং সরকারের নানা অর্জন তুলে ধরেন। এরপর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাব দেন।
প্রধানমন্ত্রী দৃঢ়তার সঙ্গেই বলেন, দেশে কোনো রাজনৈতিক সংকট নেই। বিদেশি রাষ্ট্রনায়কেরাও সংকটের কথা বলেননি। সরকারের বৈধতা কিংবা নির্বাচনের বিষয়েও কেউ তাঁকে প্রশ্ন করেননি। প্রধানমন্ত্রী বেতন ও মর্যাদার বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের আন্দোলনের ব্যাপারে বিরক্তি প্রকাশ করেন এবং শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ নষ্ট না করার আহ্বান জানান।
বড় অর্জন বাদ দিয়ে ছোট দুর্ঘটনা নিয়ে বেশি সংবেদনশীল না হওয়ার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যেখানেই থাকি, এখন তথ্যপ্রযুক্তির যুগ। যখন যে ঘটনা ঘটছে খবর পাচ্ছি। ইনস্ট্রাকশন দিচ্ছি। আমরা ব্যবস্থা নিচ্ছি। কাজেই আমি আপনাদের বলব, সব অর্জন একেবারে ধ্বংস হয়ে গেল এ ঘটনায়; এই যদি আপনাদের চিন্তাভাবনা হয়, তাহলে আমার মনে হয়, ওই বিএনপি-জামায়াত রাজাকারদের যে উদ্দেশ্য, সেটাই সফল।’
প্রধানমন্ত্রী অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেট দল না আসার প্রসঙ্গে বলেন, ‘অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেট দল যে এল না, অস্ট্রেলিয়ায় কী ঘটল? সেখানেও সঙ্গে সঙ্গে দুজনকে গুলি করে মারল। আমি জানি না, আমাদের মিডিয়াগুলো হাইলাইট করেছে কি না। অস্ট্রেলিয়া কী জবাব দেবে? যেসব দেশ বাংলাদেশে একজন হত্যার পর রি-অ্যাকশন দেখাল, তারা অস্ট্রেলিয়ার এই হত্যাকাণ্ড এবং আমেরিকার স্কুলে গুলি করে হত্যার পর কী করল? তারা কি সেখানে ঘোষণা দিয়ে দিয়েছে, এখানে রেড অ্যালার্ট হয়ে গেছে? আমরা একটা ঘটনা ঘটলে বেশি সেনসেটিভ হয়ে যাই। অর্জনগুলো যেন শ্যাডো হয়ে গেল। অর্জনগুলো হারিয়ে গেল। আমরা এত মানসিক দৈন্যে কেন ভুগি?’
গবেষণায় এসেছে, সরকার ও দলের চেয়ে প্রধানমন্ত্রী বেশি জনপ্রিয়। দল, সরকার ও ব্যক্তি শেখ হাসিনার মধ্যে এই পার্থক্য কেন—এ প্রশ্ন করা হলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘একটা গাছ যখন বেড়ে ওঠে, সেই গাছের শিকড় থাকে। আপনি গাছটা দেখেন, ফুলটা দেখেন, ফলটা দেখেন। কিন্তু শিকড়টা দেখেন না। আমার রেটিং যাই হোক না কেন, আমার শিকড় হচ্ছে আমার দল। দলের সহযোগিতা আছে, সমর্থন আছে বলেই আমি এত দূর উঠতে পেরেছি।’
বাংলা নববর্ষে উৎসব ভাতা চালু করা নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, ধর্ম-বর্ণনির্বিশেষে এই উৎসবে সবাই যোগ দেয়। সর্বজনীনভাবে এই উৎসব পালিত হয়। সেটা বিবেচনায় নিয়ে পয়লা বৈশাখে উৎসব বোনাস দেওয়া হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে জাতীয় সংসদের উপনেতা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী, তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ইকবাল সোবহান চৌধুরী, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলমসহ মন্ত্রিপরিষদের বেশ কয়েকজন সদস্য, আওয়ামী লীগ এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের জ্যেষ্ঠ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
দেশে সংকট নেই, বিদেশিদের আগ্রহ উন্নয়ন: বাংলাদেশের রাজনৈতিক অবস্থা, মধ্যবর্তী নির্বাচন নিয়ে বিদেশি সরকারপ্রধানদের মনোভাবের বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা, নেদারল্যান্ডসের রানি, সুইডেন ও বেনিনের প্রধানমন্ত্রী—কেউ এসব বিষয়ে কোনো প্রশ্ন তোলেননি। তিনি বলেন, রাষ্ট্রপ্রধান, সরকারপ্রধান, মন্ত্রী যাঁদের সঙ্গে দেখা হয়েছে, কেউ বাংলাদেশে সংকট বা নির্বাচন বিষয়ে আলোচনাই করেননি। বরং বাংলাদেশের উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রাকেই তাঁরা সাধুবাদ জানিয়েছেন।
জাতিসংঘে বাংলাদেশ বলিষ্ঠ ভূমিকা রেখে যাচ্ছে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘এখন এলডিসির নেতৃত্বে বাংলাদেশ। এতই যদি রাজনৈতিক সংকট থাকত, তাহলে বাংলাদেশ এলডিসির নেতৃত্ব কীভাবে পেল? সংকট দেশের বাইরে না, দেশের ভেতরের কিছু মানুষের মনের সংকট চলছে। বনের বাঘে খায় না, মনের বাঘে খায়। বাইরে কোনো সংকটের কথা কেউ বলেননি, দেখিওনি।’
বিএনপি-জামায়াতের আন্দোলনের সময় মানুষ পুড়িয়ে মারার ঘটনাকে বিদেশিরা ভালোভাবে নেয়নি উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘এটা-ওটা ঘটনা তো ঘটতেই থাকবে এবং তারা চুপ করে তো বসে থাকবে না। আমরা যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করব আর তারা চুপ করে বসে থাকবে, এটা আপনারা আশা করেন কী করে? তারা তো প্রতিশোধ নেওয়ার চেষ্টা করতেই থাকবে।’
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘সবচেয়ে বেশি দরকার জনসচেতনতা। আমাদের সচেতন হতে হবে। হ্যাঁ, তাদের লবিস্ট আছে, টাকাপয়সা আছে। হয়তো লবিস্ট নিয়োগ করে কিছু কথা বলাতে পারে, লেখাতে পারে, এটা ঠিক। কিন্তু বাংলাদেশের উন্নয়নের ধারাটা আমরা রাখতে পেরেছি।’
আইএস নেই: দুজন বিদেশি নাগরিক হত্যায় আইএসের মতো জঙ্গি সংগঠনের সংশ্লিষ্টতার খবর সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ইতালির নাগরিককে হত্যার পর শিকাগো থেকে সোশ্যাল স্ট্যাটাস আসে—আইএস এর সঙ্গে জড়িত। তার সম্পৃক্ততা এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। ঘটনা তো তদন্ত করতে হবে। এখানকার গোয়েন্দারা কোনো সূত্র এখনো পায়নি। তখন কে একটা স্ট্যাটাস দিয়ে দিল, তা আমাদের গ্রহণ করতে হবে? কেন করতে হবে?’
জঙ্গি মোকাবিলায় বর্তমান সরকার নতুন কোনো কৌশল নিয়েছে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, জঙ্গি ও সন্ত্রাসীদের কোনো ধর্ম ও সীমানা নেই। কেউ জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসবাদকে প্রশ্রয় দেবে না। দেশে কেউ কোথাও এ ধরনের কোনো খবর পেলে সঙ্গে সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানান। তারা যথাযথ ব্যবস্থা নেবে।
সাংসদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে: গাইবান্ধার আওয়ামী লীগের সাংসদ মন্জুরুল ইসলামের গুলিতে শিশু রক্তাক্ত হওয়ার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আওয়ামী লীগ একটা বিশাল সংগঠন, সেই সংগঠনে অনেক কিছুই ঘটতে পারে। কিন্তু আমরা ব্যবস্থা নিচ্ছি কি না, সেটাই বড় কথা। আমরা কিন্তু ঘটনা ধামাচাপা দিই না, প্রশ্রয়ও দিই না। কাল আসার পর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এটা নিয়ে আলাপ করেন। সঙ্গে সঙ্গে আমি বললাম, এখনই ব্যবস্থা নিতে হবে। ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।’
গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জের রাজনৈতিক অবস্থা বলতে গিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, সুন্দরগঞ্জে জামায়াতের উৎপাত আছে। ওখানে সংগঠন টিকিয়ে রাখাই কঠিন। কারণ, ওখানে জামায়াতে ইসলামী খুন-খারাবি করছে। সেখানে আওয়ামী লীগের নেতাদের হত্যা করা হয়েছে। ঘটনার তদন্ত করতে হবে। তবে সরকার সাংসদের অস্ত্রের লাইসেন্স বাতিল করেছে, মামলা দেওয়া হয়েছে।
দেশের সমস্যা দেশেরই সম্পদ দিয়ে মোকাবিলা করছেন উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমরা করছি, শুরু করেছি। বাংলাদেশ এ ক্ষেত্রে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। হাত পেতে চলা আর দাও দাও করা, এটা চাই না। আমরা মুক্তিযুদ্ধ করেছি। বিজয়ী জাতি। মাথা উঁচু করে চলতে চাই। যদি আমাদের নুন-ভাতও খেতে হয়, নিজের উপার্জনে খাব। ধার করা টাকা দিয়ে বিরিয়ানি খেতে রাজি না।’
আওয়ামী লীগেও দেশপ্রেমিক ব্যক্তি আছেন, ভবিষ্যতে সরকার গঠন করলে তাঁদের নিয়েই দেশ পরিচালনা করা হবে। বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া লন্ডনে এমন বক্তৃতা করেছেন বলে একজন সাংবাদিক প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আপনি কী বললেন? উনি আওয়ামী লীগে প্রেমিক খুঁজে পেয়েছেন? উনি আওয়ামী লীগে প্রেমিক কীভাবে খুঁজে পেলেন, আমি জানি না। উনি যদি আওয়ামী লীগে দেশপ্রেমিক খুঁজে পান, খুব ভালো কথা।’
নিউইয়র্কে প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে বিএনপি-জামায়াতের বিক্ষোভে নোবেল বিজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসের উপস্থিতির বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, ‘তাঁর ব্যাপারে আমার কমেন্ট করার কিছু নাই। যার যে আপন জায়গা খুঁজে পেয়েছে। দেশবাসী বিচার করুক।’