Sunday, March 23, 2014

মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার-প্রক্রিয়া গতিহীন কেন? by শেখ হাফিজুর রহমান

দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন সরকার যে সংকটের মধ্যে পড়েছিল, সেখান থেকে উত্তরণের পর অনেকেই প্রত্যাশা করেছিলেন যে চলমান মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার আরও গতি পাবে। কিন্তু গতি পাওয়া দূরের কথা, বরং বিচার-প্রক্রিয়াটি আরও শ্লথ হয়ে গেল। আরও দুর্ভাগ্যের বিষয় হচ্ছে, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ ৫৪ দিন ধরে চেয়ারম্যানের পদটি খালি পড়ে ছিল। এত এত নেতিবাচক খবরের সঙ্গে কিছুদিন আগে আবার যুক্ত হলো রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীদের বিরোধ!

মিয়ানমারের দৃষ্টিভঙ্গি বদলাবে কি? by সোহরাব হাসান

গত কিস্তিতে রোহিঙ্গাদের নিয়ে মিয়ানমারের ভেতরে ও বাইরে বিভিন্ন জঙ্গিগোষ্ঠীর তৎপরতা সম্পর্কে লিখেছি। অনেকে এ নিয়ে প্রশ্ন করেছেন। তাঁদের মতে, মূল সমস্যা পাশ কাটিয়ে আমি জঙ্গিদের নিয়ে কানুর গীত গাইছি। আসলে প্রতিটি সমস্যারই বহুমাত্রিক রূপ আছে। কোনোটি বাদ দিয়ে বা এড়িয়ে সমস্যা সমাধানের সুযোগ নেই।

লেমশীখালী, তেলিরকাটা, বাঁকখালী ও দক্ষিণ ধুরুং কেন্দ্রে ভোট গ্রহণ বন্ধ

সাগরদ্বীপ কুতুবদিয়া উপজেলায় চারটি কেন্দ্রে ভোট গ্রহণ স্থগিত করেছে প্রশাসন। নাগরিক কমিটির পক্ষ থেকে চেয়ারম্যান প্রার্থী মনজুর আলম সিকদার ও ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী রমিজ আহমদের সমর্থকদের ভোটকেন্দ্র দখল, ব্যালট ছিনতাই ও ব্যালটে সিল মেরে বাক্সে ঢুকিয়ে দেওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে গোলযোগ দেখা দিলে প্রশাসন এ সিদ্ধান্ত নেয়।

>>তেলিরকাটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে হামলার সময় আতঙ্কে কাঁদছেন ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী হাসিনা আক্তার বিউটি। ছবি: আব্দুল কুদ্দুস।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, সকাল সাড়ে নয়টার দিকে মনজুর আলম সিকদারের একদল সমর্থক উপজেলা সদরের বাঁকখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ঢুকে কয়েক শ ব্যালট পেপার ছিনতাই করে সিল মেরে বাক্সে ঢুকিয়ে দেয়। এ সময় অন্যান্য প্রার্থীর এজেন্ট ও সমর্থকেরা হইচই শুরু করলে কেন্দ্রের প্রিসাইডিং কর্মকর্তা ভোট গ্রহণ বন্ধ ঘোষণা করেন।
একই সময়ে একই প্রার্থীর সমর্থকেরা উত্তর লেমশীখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র দখল করেন এবং বিপুলসংখ্যক ব্যালট পেপার ছিনতাই করেন।
কেন্দ্রের প্রিসাইডিং কর্মকর্তা নুরুল আলম মিয়াজী বলেন, ব্যালট পেপার ও সিল ছিনতাই করার কারণে ভোট গ্রহণ সম্ভব হচ্ছে না।
পরে ঘটনাস্থল থেকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের ম্যাজিস্ট্রেট মো. শাহাবুদ্দিন তিন ব্যক্তিকে আটক করেন। এরা হলেন মনজুর আলম সিকদারের পোলিং এজেন্ট মো. ইসহাক, ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী হাসিনা বেগমের এজেন্ট নুরুল হোসেন ও নুরুল ইসলাম।

সকাল সাড়ে ১০টায় ভোট গ্রহণ বন্ধ করা হয় তেলিরকাটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে।

ভোটাররা বলেন, সকাল ১০টায় ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী ও একাধিক মামলার আসামি রমিজ আহমদের নেতৃত্বে একদল লোক তেলিরকাটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র দখল করে এবং ব্যালট পেপার ছিনতাই করে। কিছু ব্যালটে সিল মেরে বাক্সে ঢোকানো হয়। এ সময় রমিজের হাতে অবৈধ অস্ত্রও ছিল। রমিজ আহমদ ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী। এরপর ভ্রাম্যমাণ আদালতের ম্যাজিস্ট্রেট গোলযোগ নিয়ন্ত্রণ করে কেন্দ্রের ভোট গ্রহণ স্থগিত রাখেন।

বেলা ১১টায় ভোট গ্রহণ স্থগিত করা হয় দক্ষিণ ধুরুং হাবিবিয়া রেজিস্টার্ড বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে। মনজুর আলম সিকদারের ভাতিজা কামরুলের নেতৃত্বে একদল লোক কেন্দ্রে ঢুকে ব্যালট পেপার ছিনতাই করে। এ সময় অন্যান্য প্রার্থীর সমর্থকেরা হইচই শুরু করলে প্রিসাইডিং কর্মকর্তা কেন্দ্রের ভোট গ্রহণ স্থগিত করেন।

ওই কেন্দ্রে উপস্থিত সহকারী পুলিশ সুপার মো. খালেকুজ্জামান সাংবাদিকদের বলেন, গোলযোগ সৃষ্টি করে ব্যালট পেপার ছিনতাইয়ের কারণে ভোট গ্রহণ বন্ধ রাখা হয়েছে। যারা গোলযোগ সৃষ্টি করেছে তাদের ধরার চেষ্টা চলছে।

সরেজমিন দেখা গেছে, বৈরী পরিবেশে ঝড়বৃষ্টি উপেক্ষা করে সাধারণ ভোটাররা উত্সবমুখর পরিবেশে কেন্দ্রে এসে লাইনে দাঁড়ালেও কেন্দ্র দখল, ব্যালট পেপার ছিনতাই ও ব্যালটে সিল মেরে বাক্সে ঢোকানোর ঘটনায় ভোটাররা হতাশ হয়ে ঘরে ফিরে যাচ্ছেন। অনেক ভোটার নিরাপত্তার আশঙ্কায় কেন্দ্রে যেতে অনীহা প্রকাশ করছেন।

বিএনপির চেয়ারম্যান প্রার্থী এটিএম নুরুল বশর চৌধুরী অভিযোগ করেন, উপজেলা নির্বাচনে আওয়ামী লীগের দুই চেয়ারম্যান প্রার্থী নাগরিক কমিটির প্রার্থী মনজুর আলম সিকদারের পক্ষে সমর্থন দিয়ে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ান। এখন মনজুর আলমের পক্ষের লোকজন ভোটকেন্দ্র দখল ও ব্যালট ছিনতাই করলেও প্রশাসন নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করছে। একই অভিযোগ করেন, জামায়াতের চেয়ারম্যান প্রার্থী আ স ম শাহরিয়ার চৌধুরী।

তবে ভোটকেন্দ্র দখল ও ব্যালট ছিনতাইয়ের অভিযোগ ভিত্তিহীন দাবি করে মনজুর আলম সিকদার বলেন, অন্য প্রার্থীরা পরিকল্পিতভাবে ভোটকেন্দ্র দখল ও ব্যালট ছিনতাই করে তাঁর বিরুদ্ধে অপপ্রচার রটাচ্ছেন।

সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও ইউএনও মো. মমিনুর রশিদ বলেন, গোলযোগের কারণে চারটি কেন্দ্রের ভোট গ্রহণ স্থগিত রাখা হয়েছে। অন্যান্য কেন্দ্রের নিরাপত্তাও জোরদার করা হয়েছে।

রাজনীতি সংসদের বাইরে চলে গেছে

আল মাসুদ হাসানউজ্জামান
ড. আল মাসুদ হাসানউজ্জামান জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকার ও রাজনীতি বিভাগের অধ্যাপক ও সাবেক চেয়ারম্যান। ১৯৮১ সাল থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকতায় নিয়োজিত। উচ্চশিক্ষা লাভ করেন ঢাকা ও ব্রিটেনের বাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে সিনিয়র ফুলব্রাইট স্কলার এবং জাপানের কানাজাওয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে জাপান ফাউন্ডেশন ফেলো ছিলেন। তাঁর গবেষণার ক্ষেত্র হচ্ছে সংসদীয় প্রক্রিয়া, দলীয় রাজনীতি এবং গভর্ন্যান্স-সম্পর্কিত বিষয়।
 সাক্ষাৎকার নিয়েছেন ফারুক ওয়াসিফ
প্রথম আলো  ৫ জানুয়ারির নির্বাচনকেন্দ্রিক জটিলতা গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতায় কী ধরনের প্রভাব ফেলছে?
আল মাসুদ হাসানউজ্জামান  ৫ জানুয়ারি নির্বাচনকে সার্বিকভাবে এ দেশে ইলেক্টোরাল ডেমোক্রেসি তথা নির্বাচনী গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো অর্থাৎ তৎকালীন সরকারপক্ষ, প্রধান বিরোধী দল ও জোট, নির্বাচন কমিশন ও নাগরিক সমাজের সম্মিলিত ব্যর্থতার ফল হিসেবে দেখতে চাই। বস্তুত, এখানে গণতন্ত্রচর্চার বেলায় নির্বাচনী গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠাই মুখ্য ব্যাপার। কিন্তু এ ব্যাপারেও আজ পর্যন্ত রাজনৈতিক ঐকমত্য গড়ে ওঠেনি। অতীতে নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের যে কাঠামো গড়ে তোলা হয়েছিল, তা পূর্ণাঙ্গ নয়। আমি মনে করি, সেটা ছিল খণ্ডকালীন সমঝোতা। এটা এখন কাজ তো করছেই না, বরং তা সংকটকে আরও ঘনীভূত করেছে। সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর পর দীর্ঘ এক বছরের বেশি সময়ে পক্ষগুলোর গঠনমূলক ভূমিকা দেখা যায়নি। নির্বাচন কমিশনসহ যাদের গণতন্ত্রের সহায়ক শক্তি বলা হয়, তারা যথাযথ ভূমিকা পালন করতে পারেনি। সাংবিধানিক ধারাবাহিকতার কথা বলে এই নির্বাচন করা হয়েছে। কাজেই যতক্ষণ পর্যন্ত না নির্বাচনী গণতন্ত্রকে সুসংগঠিত ও সংহত করা না যাচ্ছে, তত দিন গণতন্ত্র নির্মাণ বাধাগ্রস্ত হতে বাধ্য।
প্রথম আলো  যখন সংসদে প্রধান বিরোধী দল নেই, তখন সমঝোতার কোনো প্রাতিষ্ঠানিক পথ খোলা থাকল কি না।
হাসানউজ্জামান  যেকোনো কিছু করতে গেলে একটা সমঝোতা তো লাগবেই। পঞ্চদশ সংশোধনী পাসের মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিলের পর কিন্তু যথেষ্ট সময় ছিল। সেই সময়ে দুটি পক্ষ সেভাবে আলোচনার উদ্যোগ নিল না। শেষ সময়ে একটা ডামাডোল দেখতে পেলাম। তারা নিজ নিজ অবস্থান থেকে অনড় শর্ত দিয়ে গেছে। এই শর্তগুলো কোনো ঐকমত্য তৈরিতে কাজে লাগেনি। একপর্যায়ে প্রধানমন্ত্রী যে আলোচনার প্রস্তাব দিলেন, সেটাকে তাৎক্ষণিকভাবে প্রত্যাখ্যান করায় বিরোধী দল যে সমস্যায় পড়েছে, তা আর তারা কাটিয়ে উঠতে পারেনি। পরে জাতিসংঘের মধ্যস্থতাও ব্যর্থ হলে পরে রাজনৈতিক সরকারের অধীনেই সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে নতুন সরকার গঠনের পরে কিন্তু সহিংসতা বন্ধ হয়ে গেছে। এটা ক্ষমতাসীনেরা রাজনৈতিক বিজয় বলে দেখছে। ফলে প্রতিপক্ষের সঙ্গে সংলাপের বিষয়টা গৌণ বিষয়ে পরিণত হয়েছে। এখন মধ্যবর্তী নির্বাচনের কথাও সরকার আর বলছে না।
প্রথম আলো  বল প্রয়োগের মাধ্যমেই নির্বাচন ঠেকানোর চেষ্টা করেছিল বিরোধী দল। আবার সরকার বল প্রয়োগের মাধ্যমেই অবস্থান ধরে রেখেছে। তাহলে আমরা কী অর্জন করলাম?
হাসানউজ্জামান  দ্বাদশ সংশোধনীর মাধ্যমে সংসদীয় কাঠামো গ্রহণ বিষয়ে যে সমঝোতা হয়েছিল, তা আমরা নীতিগতভাবে মেনেছি। কিন্তু এটি কীভাবে কাজ করবে, তা নিয়ে কোনো সমঝোতা প্রতিষ্ঠিত হয়নি। অর্থাৎ আগের সমঝোতা থেকে পরের সমঝোতায় আর পৌঁছানো গেল না। গণতন্ত্রের কাঠামোগুলোকে যৌথভাবে লালন করে বিকশিত করায় কারও মনোযোগ নেই। বিরোধী দলে যে-ই থাকুক, সে-ই সংসদ বর্জন করে চলেছে। সংসদ কার্যত একদলীয় নিয়ন্ত্রণে চলেছে। শাসনপদ্ধতিতে থাকে বলে রুল অব দ্য গেম অব পলিটিকস, সে ব্যাপারে সর্বসম্মত অলিখিত রীতিনীতি বিধি অনুসরণের ক্ষেত্র এখনো রচনা করা হয়নি। এর সঙ্গে রয়েছে ক্ষমতার শান্তিপূর্ণ হস্তান্তর, পক্ষপাতহীনভাবে আইনের প্রয়োগ এবং পারস্পরিক আস্থা নির্মাণের বিষয়ে ঐকমত্যের অভাব। এসব উপাদানের অনুপস্থিত অসহনশীল রাজনীতিচর্চার ক্ষেত্র তৈরি করে এবং দ্বন্দ্বমূলক সংস্কৃতিকে অব্যাহত রাখে। রাজনীতি সংসদের বাইরে চলে গেছে। বিরোধী দলের আন্দোলন দমনে সরকারের হাতে বল প্রয়োগের ক্ষমতা রয়েছে। সেটা ব্যবহার করে তারা ‘স্বাভাবিক পরিস্থিতি বজায় আছে’ বলে দেখাতে চাইছে। নব্বই-পরবর্তী জাতীয় সংসদগুলোতে শক্তিশালী বিরোধী দলের অবস্থান থাকলেও সংসদীয় কর্মকাণ্ডে তাদের অনুপস্থিতি এসব সংসদকে একদলীয় সংসদে পরিণত করে। সংসদীয় কাঠামোতে বিভিন্ন সংস্কার, যেমন- বিল উত্থাপনের পরই আবশ্যিকভাবে সংশ্লিষ্ট কমিটিতে তা প্রেরণ, সংসদীয় কমিটিতে নন-মিনিস্টার সাংসদকে প্রধান করার বিধান, প্রধানমন্ত্রীর প্রশ্নোত্তর চালু ইত্যাদি প্রবর্তন করা হলেও প্রধান বিরোধী দলের অনুপস্থিতিতে এসব সংস্কারের গুরুত্ব ম্লান হয়ে পড়ে। দশম সংসদ নির্বাচনের পর ঐকমত্যের সরকার গঠনের কথা বলা হয়েছে। এবং সংসদে জাতীয় পার্টি সরকারে থেকেও বিরোধী দলের আসনে অধিষ্ঠিত। এ ব্যবস্থায় সরকারের গঠনমূলক সমালোচনা সম্ভব কি না, তা আগামী অধিবেশনগুলোতে জাতীয় পার্টির ভূমিকাই বলে দেবে। তবে আজ পর্যন্ত তা লক্ষণীয় হয়নি।
প্রথম আলো  সহিংসতার পথে গিয়েই কি বিরোধী দল সরকারকে বল প্রয়োগের সুযোগ করে দিয়েছে?
হাসানউজ্জামান  বিরোধী দল যেভাবে সহিংসতার পথে গিয়েছিল, তার মাধ্যমে তারা কতটুকু জনসম্পৃক্ততা সৃষ্টি করতে পেরেছিল? আমি বলব, পারেনি। এই জনসম্পৃক্ততার অভাবই সরকারের বল প্রয়োগের চর্চাকে বৈধতা দিয়েছে। জনগণ স্বাভাবিক অবস্থা ফিরে পেতে চেয়েছিল, যেটা নির্বাচনের পর একভাবে অর্জিত হয়েছে।
প্রথম আলো  ৫ জানুয়ারির একতরফা নির্বাচন অনুষ্ঠানের পক্ষে সরকারের দিক থেকে বলা হয়েছিল, দশম সংসদের নির্বাচনের পর একাদশ সংসদ গঠনের নির্বাচন নিয়ে কথা হবে। কিন্তু এখন দেখা যাচ্ছে, তারা সেই প্রতিশ্রুতি রাখছে না।
হাসানউজ্জামান  সরকার গঠিত হওয়ার পর একধরনের বৈধতা তারা নিয়ে নিয়েছে। বিভিন্ন দেশ সরকারের সঙ্গে কাজ করছে। বিরোধী দলও সরকারকে বাধ্য করতে পারছে না নতুন নির্বাচনের ব্যাপারে। এই পরিস্থিতিতে সরকার অবস্থান সংহত করে নিতে পারছে। সরকার মনে করছে, আমরা তো টিকে গেছি। এটা তত দিন চলবে, যত দিন জনগণের ব্যাপক প্রতিক্রিয়া না দেখা যায়।
প্রথম আলো  উপজেলা নির্বাচনে সরকারপন্থীদের সংখ্যাগত পরাজয়কে তো সরকারের প্রতি জনগণের নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া বলে দেখার সুযোগ থাকে।
হাসানউজ্জামান  পঞ্চদশ সংশোধনীর পর থেকেই বিএনপি ও ১৮ দল নির্বাচনে না আসার ঘোষণা দিলেও দলীয় সরকারের অধীনেই স্থানীয় পর্যায়ের, বিশেষত সিটি করপোরেশন নির্বাচনে অংশ নিয়ে খুব ভালো ফল করে। তবে স্থানীয় নির্বাচন আর জাতীয় নির্বাচন এক নয়। তারা ভেবেছিল, সরকারকে চাপ দিয়ে পরিস্থিতিকে পক্ষে আনতে পারবে। কিন্তু সেই কৌশল আপাতত ব্যর্থ হয়েছে। এখন বিরোধী দল যে উপজেলা নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে, এটাকে আমি স্ববিরোধিতা মনে করি না। এটা করছে দলের সঙ্গে জনগণের সম্পৃক্ততা সৃষ্টি করার জন্য। এটা রাজনৈতিক খেলার অংশ এবং এতে কাজও হচ্ছে। ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে প্রচুর ভোটার ভোট দিতে পারেননি। তাঁদের অতৃপ্তি থেকে গেছে। সেই অসন্তুষ্টি থেকে তাঁরা উপজেলা নির্বাচনে ভোট দিয়েছেন।
প্রথম আলো  এখন সংকট উত্তরণের উপায় কী? অনেকে মনে করেন, ক্ষমতাচক্রের মধ্যে সমঝোতা যাকে বলে ‘এলিট সেটলেমন্ট’, সব পক্ষের মধ্যে সে রকম একটা সমঝোতাই বেশি কাঙ্ক্ষিত?
হাসানউজ্জামান  আমি অবশ্যই সমঝোতার পথকে শ্রেয় মনে করব। গণতন্ত্রে ভিন্নমতের সুযোগ থাকা উচিত। সহিংসতা কখন হয়? যখন আর বিকল্প থাকে না। আমরা আশা করব, একধরনের সমঝোতা হোক। এর প্রথম ধাপ গেল, কিছু অলিখিত বিধিবিধান নির্মাণ করে সেটা মান্য করে অগ্রসর হওয়া। রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে যথাযথভাবে কর্মক্ষম করতে হবে, যাতে একধরনের স্থিতি আসে। এর মধ্যে পরস্পরের প্রতি আস্থা ফিরিয়ে আনতে হবে। স্থিতির মধ্যেই সমঝোতার প্রক্রিয়া চলতে পারে। এভাবে ধাপে ধাপে নির্বাচনী গণতন্ত্র এবং রাষ্ট্রের মৌলিক বিষয়ে চূড়ান্ত সমঝোতা সৃষ্টি হতে পারে।
প্রথম আলো  গণতান্ত্রিক সমাজ নির্মাণে নাগরিক সমাজের বিভিন্ন অংশ, যেমন—পেশাজীবী, বিদ্বৎসমাজের ভূমিকা থাকে। কিন্তু আমাদের দেশে রাজনৈতিক সমাজ আর নাগরিক সমাজের মধ্যে অবিশ্বাসের কারণ কী?
হাসানউজ্জামান  ঐতিহাসিকভাবে এ দেশের নাগরিক সমাজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিকরা গণতান্ত্রিক সংগ্রামে গৌরবময় ভূমিকা রেখেছেন। কিন্তু নব্বই-পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশের রাজনীতিতে একধরনের দ্বিদলীয় ব্যবস্থা গড়ে ওঠে এবং রাজনৈতিকভাবে দেশটাই দলীয়ভাবে বিভক্ত হয়ে গেছে। সুশীল সমাজ বলেন, নাগরিক সমাজ বলেন, বিদ্বৎসমাজ বলেন, তারাও এর অংশ হয়ে গেছে। দীর্ঘ দুই দশক থেকে দলীয়করণের মাত্রা ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পাওয়ায় তা সর্বগ্রাসী রয়েছে। তারা তাদের স্বকীয়তা হারিয়েছে। সম্প্রতি তরুণসমাজ যে স্বকীয় জাগরণ দেখিয়েছে, তা থেকে আমরা শিক্ষা নিতে পারি এবং আবারও স্বকীয়তা তৈরি করতে পারি।
উন্নত গণতান্ত্রিক দেশগুলোতেও বুদ্ধিজীবীরা রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাট বা লেবার ও কনজারভেটিভ ভাগে বিভক্ত। তাঁরাও নিজ নিজ দলের পক্ষে কথা বলেন এবং দল ক্ষমতায় গেলে সুবিধাও লাভ করেন। কিন্তু নগ্ন দলীয়করণ বা সুবিধাবাদিতা সেখানে তত দৃশ্যমান নয়। আমাদের মতো দেশে গণতন্ত্র বিনির্মাণে সংশ্লিষ্ট নাগরিক সমাজ, সিভিল সোসাইটি এবং পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিকদের দলীয় লেজুড়বৃত্তি কাম্য নয়, বরং নিজস্ব বলয় তৈরি করে গণতন্ত্রের সহায়ক শক্তি হিসেবে অতীতের মতো জাগ্রত ভূমিকা পালন করা দরকার।
প্রথম আলো  সংসদ পরিচালনা, দলের অভ্যন্তরে গণতন্ত্র ও দুর্নীতি সম্পর্কে রাজনীতির বাইরে থেকে কোনো প্রতিষ্ঠানের সমালোচনা সরকার সহ্য করে না। এই অসহিষ্ণুতার মধ্যে নজরদারি প্রতিষ্ঠানগুলো কীভাবে কাজ করবে?
হাসানউজ্জামান  দেখুন, গণতন্ত্রে তদারকি সংস্থাগুলোর উপস্থিতি জরুরি। সরকারের স্বচ্ছতা ও দায়িত্বশীলতা প্রতিষ্ঠায় তাদের কাজ বিশেষভাবে সহায়ক। বস্তুনিষ্ঠ সমালোচনা করা এবং তা প্রকাশ করার মানসিকতাও ইতিবাচক। টিআইবির প্রতিবেদন নতুন সরকারকে কিছুটা অস্বস্তিতে ফেলে দিয়েছে। এ জন্যই এর তীব্র বিরোধিতা লক্ষণীয়। বিভিন্ন গণতান্ত্রিক দেশে পার্লামেন্টারি মনিটরিং অর্গানাইজেশন তথা পিএমও রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের এনডিআইয়ের গবেষণা থেকে জেনেছি বিশ্বের ৮০টির বেশি দেশে ১৯১টি পিএমওর উপস্থিতি আছে। এদের শতকরা ৯৪ ভাগ সংসদীয় কর্মকাণ্ড এবং ২৪ ভাগ সাংসদদের তৎপরতা মনিটর করে থাকে। ইতিমধ্যে বিভিন্ন দেশে পার্লামেন্টারি ইনফরমেটিকস, ট্রান্সপারেন্সি অব পার্লামেন্টারি ইনফরমেশনে সুশীল সমাজ ও নাগরিক গোষ্ঠীকে সম্পৃক্ত করা হচ্ছে। এবং এই চর্চা সংসদীয় প্রতিষ্ঠানকে দায়িত্বশীল করতে অবদান রাখছে। বাংলাদেশেও সংসদসহ রাষ্ট্রীয় ও প্রতিনিধিত্বশীল সংগঠনের নিত্য তদারকি গণতন্ত্রের স্বার্থেই জরুরি।
প্রথম আলো  আপনাকে ধন্যবাদ।
হাসানউজ্জামান  ধন্যবাদ।

এনজিওগুলোর কর্মকাণ্ড এবং সরকারের গোস্সা

কয়েক দিন হলো, ‘ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ’ (টিআইবি) জাতীয় সংসদ সম্পর্কে একটা গবেষণাপত্র প্রকাশ করেছে। ‘সুজন’ নামে আরেকটি সংগঠন সদ্য ‘মনোনীত’ নারী সাংসদদের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক অবস্থা নিয়ে আরেকটি পর্যালোচনা প্রকাশ করেছে। মৌচাকে ঢিল পড়লে যে অবস্থা হয়, সরকারি দলের কর্তাব্যক্তিদের কারও কারও উষ্মা প্রকাশ দেখে সে রকমটাই মনে হচ্ছে। বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া মনে হয় টিআইবির প্রতিবেদনটি লুফে নিয়েছেন। বলেছেন, ‘এটা ঠিক।’ টিআই যখন তাঁর সরকারের আমলে বাংলাদেশকে চারবার দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন ঘোষণা করে, তখন অবশ্য এই সংগঠনটির ওপর তিনি খুবই নাখোশ ছিলেন। আর আওয়ামী লীগের নেতাদের কাছে টিআই ও টিআইবি তখন খুবই আদৃত ছিল। এখন প্রেক্ষিত বদলে গেছে। জনৈক মন্ত্রী প্রশ্ন তুলেছেন, এসব এনজিও বিদেশ থেকে টাকা নিয়ে দেশের ভাবমূর্তি নষ্ট করছে, তাদের টাকার উৎস খুঁজে বের করতে হবে, দেখতে হবে, বিদেশ থেকে টাকা এনে তারা জঙ্গিদের মদদ দিচ্ছে কি না, ইত্যাদি। এই প্রসঙ্গে কয়েকটি কথা বলা প্রয়োজন। টিআইবি কিংবা সুজন যদি সমালোচিত হয়, জবাব কিংবা কৈফিয়ত দেওয়ার দায়িত্ব তাদের। আমরা শুধু কয়েকটা কথা আমজনতার জ্ঞাতার্থে জানাতে চাই। কেননা, তারা এ ধরনের কথা-চালাচালিতে বিভ্রান্ত হতে পারে। যতদূর জানি, বাংলাদেশে এনজিওগুলো কারও কাছ থেকে টাকাপয়সা নিয়ে কাজ করলে তার জন্য নিবন্ধনের দরকার হয়। একাধিক সরকারি দপ্তর এই নিবন্ধন দিয়ে থাকে।
আর বিদেশ থেকে কোনো অনুদান নিতে হলে তার জন্য ‘এনজিওবিষয়ক ব্যুরো’র নিবন্ধন দরকার হয় এবং প্রতিটি ‘প্রকল্পের’ জন্য আলাদা আলাদা ছাড়পত্র নিতে হয়। এই ছাড়পত্র ছাড়া ব্যাংক কোনো এনজিওকে তহবিল সরবরাহ করবে না। এনজিও ব্যুরো একটি সরকারি দপ্তর এবং এটা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অধীনে। সুতরাং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অনুমোদন ছাড়া এ দেশে কোনো এনজিও বিদেশ থেকে কিংবা এ দেশে কর্মরত কোনো বিদেশি সংস্থা থেকে অনুদান, এমনকি একটি ফটোকপি মেশিন কিংবা বাইসাইকেলও নিতে পারবে না। দ্বিতীয়ত, বিদেশি অনুদানসংক্রান্ত তথ্য কোনো গোপনীয় বিষয় নয়। সরকারি দপ্তরগুলোয় ‘একান্ত গোপনীয়’ ছাপ মারা অনেক ফাইল কিংবা চিঠিপত্র চালাচালি হয়। মন্ত্রী সাহেবরাও এগুলো করে থাকেন এবং তা জনগণের কাছে অজানাই থেকে যায়। কিন্তু এনজিও ব্যুরোর তথ্য কোনো গোপনীয় বিষয় নয়। এই সংস্থার ওয়েবসাইটে গেলেই বিদেশি অনুদানের পরিমাণ সম্পর্কে প্রতিটি এনজিওর বছরওয়ারি হিসাব পাওয়া যায়, এবং যে কেউ এই ওয়েবসাইটে লগ-ইন করে তথ্য সংগ্রহ করতে পারেন। এ ছাড়া এনজিওগুলোকে প্রতিবছর তাদের প্রাপ্তি ও খরচের অডিট করতে হয় এবং এই অডিট প্রতিবেদন এনজিও ব্যুরোতে জমা দিতে হয়। যে কেউ চাইলেই তা সংগ্রহ করতে পারেন। বিদেশ থেকে কোন এনজিও কত টাকা পেয়েছে এবং তা কী কী খাতে খরচ হয়েছে, তা গোপন করার সুযোগ নেই। সুতরাং, যারা এসব বিষয় নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন, তাঁরা একটু হোমওয়ার্ক করে নিলেই এসব আবোলতাবোল বলতেন না। বিদেশের কোনো অখ্যাত এনজিও কিংবা দেয়াল পত্রিকায় সরকারের কোনো কাজের প্রশংসা থাকলে তারা তা ঢাকঢোল বাজিয়ে প্রচার করে।
অথচ তথ্যনির্ভর কোনো পর্যালোচনায় তাদের ঘোর আপত্তি। এ দেশে একটা ধারণা প্রচলিত আছে যে বিদেশি টাকায় সাম্রাজ্যবাদী গন্ধ প্রবল এবং বিদেশি অনুদানপুষ্ট এনজিওগুলোর মাধ্যমে সাম্রাজ্যবাদীরা বানের জলের মতো দেশে ঢুকে পড়ছে। এটা সবার জানা থাকা দরকার, বিদেশিরা আমাদের যত টাকা দেয়, তার বেশির ভাগই আসে সরকারের বিভিন্ন প্রকল্পের জন্য। তাহলে বিষয়টা কোথায় গিয়ে দাঁড়াল। সরকার বিদেশ থেকে টাকা নিলে তা পূতপবিত্র আর এনজিওগুলো নিলে তারা হয়ে যায় ষড়যন্ত্রকারী! সরকার তো আইন করেই এনজিওগুলোকে বিদেশ থেকে টাকা নেওয়া বন্ধ করে দিতে পারে। করছে না কেন? আমাদের জানামতে, এ দেশে কিছু কিছু নাগরিক সংগঠন আছে, যারা বিদেশ থেকে কোনো অনুদান নেয় না। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো ‘তেল-গ্যাস ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটি’। অথচ তাদের বিরুদ্ধে সরকারের অনেক হোমরাচোমরা ব্যক্তি ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তোলেন, তাদের দেশপ্রেম নিয়ে কটাক্ষ করেন। একবার তো পুলিশ দিয়ে তাদের সদস্য ও সমর্থকদের নির্মমভাবে পেটানো হয়েছিল। কয়েকজনকে হাসপাতালে থাকতে হয়েছিল। আসলে বিষয়টা বিদেশ থেকে টাকাপয়সা আনা-সংক্রান্ত নয়, ক্ষমতাসীনেরা সমালোচনা সহ্য করতে পারেন না। তাঁদের ভয়ানক গোস্সা হয়। বিদেশি টাকার দিকে তাঁদের অনেকেরই লোলুপ দৃষ্টি। কয়েক বছর আগে সরকার দাতা দেশ ও সংস্থাগুলোর আর্থিক অনুদানে একটা তহবিল পরিবেশ ঝুঁকির মধ্যে সক্ষমতা তৈরির কাজে লাগানোর পরিকল্পনা নিলে মন্ত্রী-সাংসদ ও সরকারি দলের অনেকেই ওই তহবিলে ভাগ বসানোর জন্য দৌড়ঝাঁপ দিয়েছিলেন। ফলে রাতারাতি ব্যাঙের ছাতার মতো অনেক এনজিও গজিয়ে উঠেছিল। টিআইবি কিংবা সুজন ভালো কাজ করছে না মন্দ কাজ করছে, সেটা ভিন্ন আলোচনার বিষয়। তবে তাদেরও জবাবদিহির আওতায় থাকা দরকার। তারা সংসদে কোটিপতি খুঁজে বেড়ায়। কিন্তু তাদের পরিচালনা পর্ষদগুলোয় যাঁরা আছেন, তাঁরা কি সবাই বিত্তহীন? আর কোটিপতি হওয়া কি দোষের? ‘হে দারিদ্র্য তুমি মোরে করেছ মহান’ এই স্লোগান নিয়ে তো এখন সমাজ চলবে না। যাঁর ঢাকায় এক কাঠা জমি আছে, কিংবা একটি অ্যাপার্টমেন্ট, সে-ই তো কোটিপতি। তাঁরা সবাই কি মন্দ লোক? সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনে ‘নির্বাচিত’দের মধ্যে ২৪ শতাংশ ‘কোটিপতি’, এটা কোনো তথ্য নয়। তথ্য হতে পারে, তাঁরা কীভাবে কোটিপতি হলেন। নির্বাচন কমিশনে দেওয়া প্রার্থীদের তথ্য নাড়াচাড়া করে এ ধরনের পর্যালোচনা বিভ্রান্তি তৈরি করতে পারে। উচিত হবে, আরও গভীরে যাওয়া। তবে নিজের ঘর থেকেই সেটা শুরু করা যায় না?
মহিউদ্দিন আহমদ: লেখক ও গবেষক।
mohi2005@gmail.com

পশ্চিম লেমশীখালী কেন্দ্রে যালেট বাক্স ছিনতাইয়ের চেষ্টা

কুতুবদিয়া উপজেলায় একটি ভোট কেন্দ্র থেকে ব্যালেট বাক্স ছিনতাইয়ের চেষ্টার সময় দুই যুবক গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। রোববার বেলা ১২টার দিকে কুতুবদিয়া পশ্চিম লেমশীখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে।
 
লেমশীখালী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আকতার হোসেন বলেন, বিএনপি-জামায়াত সমর্থিত প্রার্থীর সমর্থকরা কেন্দ্র দখল এবং ব্যালট বাক্স ছিনতাইয়ের চেষ্টা চালায়। এ সময় পুলিশ গুলি ছুঁড়লে দুইজন আহত হন। কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তোফায়েল আহমদ বলেন, ওই কেন্দ্রে গোলযোগের খবর পেয়ে বাড়তি পুলিশ পাঠানো হয়েছে।

এর আগে লেমশীখালী উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে জাল ভোট দেয়ার অভিযোগে তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ। কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) জাফর আলম বলেন, “বিভিন্ন কেন্দ্রে বিচ্ছিন্ন ঘটনার খবর পাওয়া যাচ্ছে। ঘটনাস্থলে দ্রুত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অতিরিক্ত সদস্য পাঠানো হচ্ছে।”

রাজনীতি সংসদের বাইরে চলে গেছে- সাক্ষাৎকারে ড. আল মাসুদ হাসানউজ্জামান by ফারুক ওয়াসিফ

ড. আল মাসুদ হাসানউজ্জামান জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকার ও রাজনীতি বিভাগের অধ্যাপক ও সাবেক চেয়ারম্যান। ১৯৮১ সাল থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকতায় নিয়োজিত। উচ্চশিক্ষা লাভ করেন ঢাকা ও ব্রিটেনের বাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে সিনিয়র ফুলব্রাইট স্কলার এবং জাপানের কানাজাওয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে জাপান ফাউন্ডেশন ফেলো ছিলেন। তাঁর গবেষণার ক্ষেত্র হচ্ছে সংসদীয় প্রক্রিয়া, দলীয় রাজনীতি এবং গভর্ন্যান্স-সম্পর্কিত বিষয়।  সাক্ষাৎকার নিয়েছেন ফারুক ওয়াসিফ

লেমশীখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের ভোট গ্রহণ স্থগিত

কুতুবদিয়া উপজেলার পশ্চিম লেমশীখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের ভোট গ্রহণ স্থগিত করেছে প্রশাসন। সেখানে দায়িত্বরত কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) জাফর আলম দুপুর ২টার দিকে এর সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, বেলা ১২টার দিকে কুতুবদিয়া পশ্চিম লেমশীখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ব্যালেট বাক্স ছিনতাইয়ের চেষ্টাকালে গুলিবিদ্ধ হয়েছে দুই যুবক। এ ঘটনার পর সেখানে ভোট গ্রহণ স্থগিত করা হয়।

এর আগে লেমশীখালী  উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে জাল ভোটের দেওযার ঘটনাকে ৩ জনকে আটক করে পুলিশ। এদিকে রামুর সার্বিক পরিস্থিতি শান্ত থাকলেও কুতুবদিয়ায় নানা অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া গেছে। কুতুবদিয়া উপজেলার এক প্রার্থী অপর প্রার্থীর বিরুদ্ধে কেন্দ্র দখল করে জাল ভোট দেওয়া, ভোট ছিনতাইয়ের অভিযোগ করেছে।

বিচ্ছিন্ন ঘটনার মধ্য দিয়ে কুতুবদিয়ায় ভোট গ্রহণ চলছে: জাল ভোটের অভিযোগে আটক ২, এক কেন্দ্র স্থগিত by ইমাম খাইর

বিচ্ছিন্ন ঘটনার মধ্য দিয়ে কুতুবদিয়া উপজেলা পরিষদ নির্বচনে ভোট গ্রহণ চলছে। সকাল আটটায় প্রত্যেক ভোটকেন্দ্রে ভোট গ্রহণ শুরু হয়ে নয়টা পর্যন্ত সুষ্ঠু ভোট গ্রহণ হয়। নয়টার পর থেকে বেশ কয়েকটি ভোট কেন্দ্রে জাল ভোটের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ সময় জোরপূর্বক ব্যালট ছিনিয়ে নিয়ে জাল ভোট প্রদানের অভিযোগে ধুরুং প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র থেকে দুই জনকে আটক করা হয়েছে। আটক কৃতরা হলেন ফরিদা ইয়াসমিন ও সায়েম। তাছাড়া জাল ভোটের অভিযোগে লেমশিখালী উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট গ্রহণ সাময়িক স্থগিত করা হয়।

ধুরুং সরকারী প্রাথকিম বিদ্যালয় কেন্দ্রের ৭ নং ওয়ার্ডের ১ নং বোথে নিয়োজিত সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার আব্দুল মালেক জানান, ২০/৩০ জনের একদল লোক এসে জোরপূর্বক ৬৬ টি ব্যালট পেপার ছিনিয়ে নিয়ে সেখানে সিল মারে। পরে দায়িত্বরত ম্যাজিষ্টেড ঘটনাস্থল থেকে দুইজনকে আটক করে।

একইভাবে বেশ কয়েক কেন্দ্রে আনারস ও ঘোড়া প্রতীকের এজেন্টদের কেন্দ্র থেকে বের করে দেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

নির্বাচন অফিসের তথ্য মতে, উপজেলায় মোট ভোটার ৭৪ হাজার ৬০৭ জন। সেখানে পুরুষ ভোটার ৩৮ হাজার ৫৩৮ ও মহিলা ৩৬ হাজার ০৬৯ জন। মোট ভোট কেন্দ্র সংখ্যা ৩৬ টি। এতে অতিঝুঁকিপূর্ণ চিহ্নিত করা হয়েছে ১৬ ভোট কেন্দ্র। ভোট কক্ষ (বুথ) সংখ্যা ১৭৬।

চতুর্থ দফার এ নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন জেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি বিএনপির একক প্রার্থী এটিএম নুরুল বশর চৌধুরী (ঘোড়া), মজলুম জনতার মনোনীত প্রার্থী সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারী আ স ম শাহরিয়ার চৌধুরী (আনারস), বড়ঘোপ ইউপি চেয়ারম্যান শাকের উল্লাহ (মোটর সাইকেল) ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আওয়ামীলীগ সমর্থিত প্রার্থী মন্জুর আলম সিকদার (দোয়াত-কলম)।

ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থীর মধ্যে রয়েছে সাংবাদিক আকবর খাঁন (উড়োজাহাজ), হুমায়ন কবির হায়দার (তালা), জিয়াউল করিম চৌধূরী ঝন্টু (চশমা), কপিল উদ্দিন (টিয়া পাখি) রমিজ আহমদ (টিউবওয়েল), মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী বর্তমান ভাইস চেয়ারম্যান হাছিনা আখতার বিউটি (পদ্মফুল), ছৈয়দা মেহেরুন্ নেছা (ফুটবল), রোকসানা আরা বেগম (প্রজাপতি), নাছিমা আক্তার (হাঁস) ও আজিমুন্ নাহার (কলসী)।

এ দিকে আজকের নির্বাচনকে সুষ্ঠু করার স্বার্থে প্রশাসনের পক্ষ থেকে পর্যাপ্ত নৌ-বাহিনী, কোস্টগার্ড, বিজিবি, পুলিশ, আনসার ব্যাটালিয়ান ও আনসার সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। ভোট গ্রহণ চলবে বিকাল ৪ টা পর্যন্ত।

বাপ্পী লাহিড়ী শ্রীরামপুরে প্রার্থী

বাপ্পী লাহিড়ী
বলিউডের প্রখ্যাত সংগীত পরিচালক ও শিল্পী বাপ্পী লাহিড়ীকে আসন্ন লোকসভা নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গের একটি আসনে প্রার্থী করেছে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। গত বৃহস্পতিবার দিল্লিতে এ কথা জানিয়েছে বিজেপি। বাপ্পী লাহিড়ী লড়বেন পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার শ্রীরামপুর আসনে। শ্রীরামপুর আসনে তৃণমূলের প্রার্থী হয়েছেন বর্তমান সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। আর বামফ্রন্টের প্রার্থী তীর্থঙ্কর রায়।
বাপ্পী লাহিড়ীকে এর আগে দার্জিলিং আসনে বিজেপির টিকিটে প্রার্থী করার কথা উঠলেও বিশেষ কারণে তা করা হয়নি। বৃহস্পতিবার উত্তর কলকাতায় বিজেপির রাজ্য সভাপতি রাহুল সিনহার নির্বাচনী অফিস উদ্বোধনের জন্য কলকাতায় আসেন বাপ্পী লাহিড়ী। এদিনই তিনি জানিয়ে দেন, তিনি এবার নির্বাচনে লড়ছেন। বাঙালি সংগীতশিল্পী বাপ্পী লাহিড়ীর জন্ম ১৯৫২ সালে কলকাতায়। বাবা অপরেশ লাহিড়ীও ছিলেন প্রখ্যাত সংগীতশিল্পী।

আইনে পুতিনের সই

ভ্লাদিমির পুতিন
রাশিয়ার সঙ্গে ক্রিমিয়াকে যুক্ত করা সংক্রান্ত আইনে গতকাল শুক্রবার স্বাক্ষর করেছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। ফলে ক্রিমিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে রাশিয়া ফেডারেশনের অংশে পরিণত হলো। এর আগে গতকালই রুশ পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষ ওই আইন অনুমোদন করে। একই দিনে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সঙ্গে মিত্রতা জোরদার করতে একটি যুগান্তকারী চুক্তি স্বাক্ষর করেছে ইউক্রেন। ক্রিমিয়াকে রাশিয়ার সঙ্গে যুক্ত করা সংক্রান্ত আইন পাস করার সময় গতকাল পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষ ফেডারেশন কাউন্সিলের ১৬৬ জন সদস্যের মধ্যে ১৫৫ জন সিনেটর উপস্থিত ছিলেন। আইনটি পাস হওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই তাতে স্বাক্ষর করেন পুতিন। এর আগে গত বৃহস্পতিবার পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ ডুমায় আইনটি পাস হয়। নতুন আইন অনুযায়ী ক্রিমিয়ায় এখন রুশশাসিত দুটি অঞ্চল গঠিত হলো।
এর একটি ক্রিমিয়া, অন্যটি বন্দরনগর সেভাস্তোপোল নামে পরিচিত হবে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইইউর হুমকিকে অগ্রাহ্য করেই গতকাল নতুন আইনে স্বাক্ষর করেন পুতিন। এদিকে রাশিয়াকে উপেক্ষা করে ইউক্রেনের অন্তর্বর্তী প্রধানমন্ত্রী আর্সেনি ইয়াৎসেনুক গতকাল ইইউর সঙ্গে চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। চুক্তির পর সামাজিক যোগাযোগের ওয়েবসাইট টুইটারে দেওয়া এক বার্তায় ইইউ প্রেসিডেন্ট হারম্যান ভ্যান রোমপাই বলেন, ‘ইইউ-ইউক্রেন সহযোগিতার রাজনৈতিক অংশের চুক্তি হয়েছে। এটা দুই পক্ষের সম্পর্কের প্রতীকী গুরুত্ব তুলে ধরে।’ ক্রিমিয়াকে কেন্দ্র করে রাশিয়ার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরও কঠোর করেছে ইইউ। ইইউ নতুন করে রাশিয়া ও ইউক্রেনের রুশপন্থী আরও ১২ নেতার বিরুদ্ধে ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা এবং সম্পদ জব্দের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এএফপি ও রয়টার্স।

মুম্বাইয়ের ব্যবসায়ীদের ঝোঁক মোদির দিকে

নরেন্দ্র মোদি
গত বছরের শেষের দিকের কথা। ভারতের আসন্ন লোকসভা নির্বাচন তখনো অনেক দূরে। গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী ও ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী নরেন্দ্র মোদি সিদ্ধান্ত নিলেন যেকোনো মূল্যে মুম্বাইকে নিজের দিকে টানবেন। তখন দুই মাসের ব্যবধানে দুবার মুম্বাই সফর করেন তিনি। প্রথম সফরে মোদি ভাষণ দেন ডায়মন্ড ব্যবসায়ীদের সংগঠন ভারত ডায়মন্ড বার্সের সদস্যদের একটি অনুষ্ঠানে। পরের সফরের জন্য বেছে নেন মুম্বাইয়ের বান্দ্রা-কুরলা কমপ্লেক্সের বিশাল চত্বর। স্থানটার গুরুত্ব অপরিসীম, সেটা বিভিন্ন করপোরেট প্রতিষ্ঠান ও ব্যাংকগুলোর সদর দপ্তর হিসেবে পরিচিত। লোকসভা নির্বাচনের তখনো অনেক দেরি থাকলেও সেখানে উপস্থিত লোকজনের মধ্যে আগ্রহের কমতি ছিল না। মোদির ভাষণের পুরো সময়জুড়ে তাঁরা প্রশংসাসূচক করতালি ও অঙ্গভঙ্গি করে গেলেন।
ভারতের অর্থনীতির দৈন্য অবস্থা, নীতিগত দুর্বলতা, দুর্নীতিসহ নানা সমস্যার মধ্যে মোদিই যেন তাঁদের ত্রাতা; তাঁদের কাছে মোদি মানেই ব্যবসা। ভারত ডায়মন্ড বার্সের সভাপতি নরেশ মেহতার ভাষ্য, ‘অর্থনীতি যদি গতি পায়, তবেই ব্যবসা-বাণিজ্যের স্বাস্থ্য ভালো থাকে। আমাদের দরকর কঠিন পদক্ষেপ, যেটা করার সদিচ্ছা দেখিয়েছেন মোদি। ডায়মন্ড ব্যবসায়ীরা তাই মোদি ও তাঁর নীতির একনিষ্ঠ ভক্ত।’ মুম্বাইয়ে মোদির ব্যবসায়িক সমর্থনের ভিত্তিগুলোর মধ্যে পাইকারি কাপড়ের জন্য বিখ্যাত মুলজি জেহতা ও মঙ্গলদাস মার্কেট, শেয়ারবাজারের ব্রোকার হাউসগুলোর কেন্দ্রবিন্দু দালাল স্ট্রিট, রত্ন ও স্বর্ণ ব্যবসায়ীদের সর্বভারতীয় সংগঠন অল ইন্ডিয়া জেমস অ্যান্ড জুয়েলারি ট্রেড ফেডারেশন, ডায়মন্ড ব্যবসায়ীদের সংগঠন মুম্বাইয় ডায়মন্ড মার্চেন্টস অ্যাসোসিয়েশন এবং রুপার অলংকার সামগ্রী ব্যবসায়ীদের সংগঠন দ্য বোম্বে বুলিঅন অ্যাসোসিয়েশন। এসব সংগঠন মোদিকেই আগামী নির্বাচনের পর ভারতের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেখতে চাইছে। তারা এ জন্য অর্থকিড় ঢালাসহ যেকোনো ধরনের উদ্যোগ নিতে পিছপা হবে না। হিন্দুস্তান টাইমস।

থাইল্যান্ডের নির্বাচন বাতিল

থাইল্যান্ডে গত ২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত বিতর্কিত নির্বাচন বাতিল করেছেন দেশটির সাংবিধানিক আদালত। এতে করে প্রধানমন্ত্রী ইংলাক সিনাওয়াত্রার অপসারণের দাবিতে বিরোধীদের বিক্ষোভে কয়েক মাস ধরে উত্তাল থাকা দেশটিতে নতুন সরকার গঠন আরও পিছিয়ে গেল। গতকাল শুক্রবার আদালতের রুলিংয়ে বলা হয়, ২ ফেব্রুয়ারির ওই নির্বাচনে দেশের সংবিধান লঙ্ঘিত হয়েছে। কারণ, দক্ষিণ থাইল্যান্ডের ২৮ জেলায় ভোট অনুষ্ঠিত হয়নি। সরকারবিরোধী বিক্ষোভকারীদের অবরোধের কারণে ওই এলাকাগুলোর প্রার্থীরা তাঁদের মনোনয়নপত্র দাখিল করতে পারেননি। নতুন নির্বাচন কবে অনুষ্ঠিত হবে, তা এখনো পরিষ্কার নয়। তবে থাইল্যান্ডের নির্বাচন কমিশনের সদস্য সোমচাই শ্রিসুত্থিয়াকর্ন জানিয়েছেন, নতুন নির্বাচন অনুষ্ঠান প্রশ্নে দেশের সামনে এখন দুটি পথ খোলা রয়েছে। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘নতুন তারিখ নির্ধারণে নতুন একটি রাজকীয় ফরমান জারির জন্য সরকারের সঙ্গে আলোচনা করতে পারে নির্বাচন কমিশন। তা না হলে, আমরা কখন নতুন নির্বাচন করলে সবচেয়ে ভালো হয়, সে বিষয়ে মতৈক্যের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নিতে সব রাজনৈতিক দলের প্রধানকে বলতে পারি।’ অবশ্য নতুন নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করা হলে, তা আবার প্রতিরোধ করার ঘোষণা দিয়েছে বিক্ষোভকারীরা। তাদের নেতা সুথেপ থাকসুবান গত বৃহস্পতিবার রাতে সমর্থকদের উদ্দেশে বলেন, ‘আদালত যদি ওই নির্বাচন বাতিল ঘোষণা করেন, কেউ এমনকি স্বপ্নও দেখবেন না যে আবার নির্বাচন হবে। যদি নতুন নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করা হয়, তবে আমরা প্রতিটি প্রদেশে তৎপরতা চালাব।
নির্বাচন আবারও সফল হবে না।’ থাইল্যান্ডে যে সংকট চলছে, তা রাজধানী ব্যাংককের মধ্যবিত্ত শ্রেণী ও রাজতন্ত্রের সমর্থকদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী ইংলাক ও তাঁর ভাই সাবেক প্রধানমন্ত্রী থাকসিন সিনাওয়াত্রার সমর্থকদের মধ্যে গত আট বছর ধরে চলে আসা সংঘাতের সর্বশেষ অধ্যায়। থাকসিনকে ২০০৬ সালে উৎখাত করে দেশটির সেনাবাহিনী। দুর্নীতির একটি মামলায় গ্রেপ্তার এড়াতে বর্তমানে তিনি স্বেচ্ছায় নির্বাসনে রয়েছেন। বর্তমানে পঞ্চম মাসে গড়ানো এই বিক্ষোভকালে সরকারবিরোধীরা বেশ সুবিধা করতে পেরেছে। তারা বেশির ভাগ সরকারি কার্যালয়ই বন্ধ করে দিতে সক্ষম হয়েছে। ইংলাককে পদত্যাগে বাধ্য করতে বিক্ষোভকারীরা কয়েকবার রাজধানী ব্যাংককের অনেক এলাকা বড় ধরনের লোক সমাবেশ ঘটিয়ে অচলও করে দিয়েছিল। বিক্ষোভ থামাতে গত ডিসেম্বর মাসে ওই নির্বাচনের আহ্বান জানিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী ইংলাক। নির্বাচনের স্বার্থে তিনি পার্লামেন্ট বিলুপ্ত ঘোষণা করেন। ওই সময় থেকে তিনি দেশের অন্তর্বর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ইংলাকের পুয়ে থাই পার্টি ২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে জয়ী হবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছিল। তবে প্রধান বিরোধী দল ডেমোক্রেট পার্টি বিক্ষোভকারীদের পক্ষে অবস্থান নেয়। তারা নির্বাচনের আগে দেশে রাজনৈতিক সংস্কার বাস্তবায়নের দাবি জানিয়ে আসছে। সেই সংস্কারের লক্ষ্য হবে থাকসিনের প্রভাব হ্রাস করা। ২০০১ সাল থেকে এ পর্যন্ত থাইল্যান্ডে যেসব নির্বাচন হয়েছে, তার সব কটিতেই থাকসিনের দল বা তাঁর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ দলগুলো জিতেছে। রয়টার্স।