Saturday, March 12, 2011

সুদানে সেনাবাহিনীর সঙ্গে বিদ্রোহীদের সংঘর্ষ, নিহত ১৭

সুদানের সেনাবাহিনীর সঙ্গে বিদ্রোহীদের সংঘর্ষে দুই সেনাসদস্যসহ ১৭ জন নিহত হয়েছে। দারফুরের মধ্যাঞ্চলের জেবেল মারা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। গত বুধবার সেনাবাহিনী এ তথ্য জানায়।
এক বিবৃতিতে সেনাবাহিনীর মুখপাত্র সরমি খালেদ জানান, ওই এলাকায় অভিযান চালানোর সময় সেনাবাহিনীর সঙ্গে আবদুল ওয়াহিদের বিদ্রোহীগোষ্ঠীর সংঘর্ষ বাধে। এতে ১৫ জন বিদ্রোহী নিহত হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও বিস্ফোরক উদ্ধার করা হয়েছে। ওই ঘটনায় সেনাবাহিনীর দুই সদস্য নিহত এবং ১০ জন আহত হয়েছেন।

প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে দাঁড়াবেন এল বারাদি

জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থার (আইএইএ) সাবেক প্রধান মোহাম্মদ এল বারাদি মিসরের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন বলে ঘোষণা দিয়েছেন। গত বুধবার একটি বেসরকারি টেলিভিশনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি এ ইচ্ছা প্রকাশ করেন। রাজধানী কায়রোর তাহরির স্কয়ারে গণতন্ত্রপন্থী বিক্ষোভকারীদের ওপর গতকাল লাঠি ও ছুরি নিয়ে একদল লোক হামলা চালিয়েছে।
অনটিভি নামের টেলিভিশনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এল বারাদি বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের দুয়ার যখন খোলা, তখন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার ইচ্ছা আমার আছে।’ তবে সেনাবাহিনীর নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার মিসরকে গণতন্ত্রের পথে নিতে যে সাংবিধানিক সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছে, তার সঙ্গে তিনি দ্বিমত পোষণ করেন বলে জানান। প্রস্তাবিত সাংবিধানিক সংস্কারকে ‘অসম্পূর্ণ’ ও ‘ভাসা ভাসা’ আখ্যায়িত করে তিনি বলেন, এ ধরনের সংস্কারের মাধ্যমে মিসরকে গণতন্ত্রের মূল ধারায় নেওয়া কঠিন হবে। তিনি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে ওই সংস্কার প্রস্তাব বাতিল করতে অথবা সংস্কার প্রস্তাব অনুমোদন-সংক্রান্ত গণভোটের নির্ধারিত তারিখ আরও পেছাতে অনুরোধ জানান। ওই গণভোট ১৯ মার্চ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা।
প্রস্তাবিত ওই সাংবিধানিক সংস্কারে প্রেসিডেন্টের মেয়াদকাল ধরা হয়েছে চার বছর। একজন ব্যক্তি দুবারের বেশি প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে পারবেন না। সাবেক প্রেসিডেন্ট হোসনি মোবারকের আমলে স্বতন্ত্র ও সরকারবিরোধী নেতাদের প্রেসিডেন্ট পদে দাঁড়ানোর বিধান ছিল না। সংস্কার প্রস্তাবে তাঁদের নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। তবে রাজনৈতিক দল গঠনে নিয়ন্ত্রণ আরোপ করার বিষয়ে ওই খসড়ায় কোনো প্রস্তাব নেই।
এল বারাদি বলেন, তবে ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট হোসনি মোবারকের অনুসারীরা নতুন নামে আবার দল গঠন করার এবং মুসলিম ব্রাদারহুড পার্টি নিজেকে আরও সংগঠিত করার সুযোগ পাবে।

তামিল গেরিলারা ভারতে সামরিক প্রশিক্ষণ নিচ্ছে

শ্রীলঙ্কার প্রধানমন্ত্রী ডি এম জয়ারত্নে বলেছেন, তামিল গেরিলারা ভারতে সামরিক প্রশিক্ষণ নিচ্ছে। দেশে ফিরে নতুন করে বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলন শুরু করতে তারা এই প্রশিক্ষণ নিচ্ছে। গতকাল বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে তিনি এ কথা বলেন।
জয়ারত্নে বলেন, লিবারেশন টাইগার্স অব তামিল ইলমের (এলটিটিই) অজ্ঞাত সংখ্যক গেরিলা ভারতের দক্ষিণাঞ্চলীয় তামিলনাড়ু রাজ্যের গোপন শিবিরে প্রশিক্ষণ নিচ্ছে। তিনি বলেন, ‘আমাদের কাছে এ ব্যাপারে গোয়েন্দা তথ্য আছে। তামিলনাড়ুতে এলটিটিই তিনটি গোপন প্রশিক্ষণ শিবির পরিচালনা করছে।’
জয়ারত্নে বলেন, তামিল গেরিলাদের পরবর্তী লক্ষ্য হচ্ছে ছোট ছোট হামলা চালানো।
২০০৯ সালের মে মাসে তামিল গেরিলারা শ্রীলঙ্কার সেনাদের কাছে পরাজিত হওয়ার পর তারা আর কোনো হামলা চালায়নি। প্রধানমন্ত্রী গত বুধবার পার্লামেন্টে বলেন, তাদের সম্ভাব্য হামলা মোকাবিলায় দেশে কঠোর জরুরি আইন বহাল রাখা উচিত।
জাতিসংঘের তথ্যমতে, শ্রীলঙ্কায় জাতিগত সংঘর্ষে ১৯৭২ থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত প্রায় এক লাখ লোক নিহত হয়।

মরক্কোর বাদশাহর সমন্বিত সাংবিধানিক সংস্কারের অঙ্গীকার

মরক্কোর বাদশাহ ষষ্ঠ মোহাম্মদ সমন্বিত সাংবিধানিক সংস্কারের অঙ্গীকার করেছেন। গত বুধবার জাতির উদ্দেশে দেওয়া এক ভাষণে তিনি এই অঙ্গীকার করেন। গত মাসে দেশব্যাপী বিক্ষোভের পর এই প্রথমবারের মতো তিনি জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেন।
টেলিভিশনে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ওই ভাষণে বাদশাহ ষষ্ঠ মোহাম্মদ বলেন, তাঁরা সমন্বিত সাংবিধানিক সংস্কারের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তিনি সাতটি বড় ধরনের সংস্কারের কথা উল্লেখ করেন। এর মধ্যে একটি হলো, কীভাবে প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ করা হবে। এ ক্ষেত্রে বাদশাহ নিজের পছন্দমতো কোনো ব্যক্তিকে প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ করবেন না। নির্বাচনে বিজয়ী দল থেকে প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ করা হবে।
বাদশাহ বলেন, প্রধানমন্ত্রীর কাছে নির্বাহী ক্ষমতা থাকবে। প্রধানমন্ত্রী সরকার, প্রশাসন ও সরকারি কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য সম্পূর্ণভাবে দায়বদ্ধ থাকবে।
বাদশাহ ষষ্ঠ মোহাম্মদ জানান, সংবিধান সংস্কারের ব্যাপারে ইতিমধ্যে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। আগামী জুন মাসে কমিটি তাদের প্রস্তাব পেশ করবে।

অন্তঃসত্ত্বা মা পুষ্টিকর খাবার না খেলে...

গর্ভাবস্থায় পুষ্টিকর খাবার খেতে হয় মাকে। এটি জানা কথা। মা যদি পুষ্টিকর খাবার না খান তবে অপুষ্ট শিশু জন্ম নেবে। তাও পুরোনো কথা। কিন্তু গর্ভাবস্থায় মা পুষ্টিকর খাবার না খেলে যে পরবর্তীকালে সন্তানদের মধ্যে ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বেড়ে যায়—এটি এত দিন জানা ছিল না। ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল বিজ্ঞানী সাম্প্রতিক গবেষণায় এ রকম তথ্যই পেয়েছেন বলে দাবি করেছেন। তবে মানুষ নয়, ইঁদুরের ওপর এ গবেষণা চালানো হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়টির ন্যাশনাল একাডেমি অব সায়েন্সের ওই বিজ্ঞানীরা জানান, অন্তঃসত্ত্বা মায়েদের ওপর এ ধরনের পরীক্ষা চালানো ঝুঁকিপূর্ণ। তাই ইঁদুরের ওপর পরীক্ষাটি চালানো হয়। তাদের ধারণার সঙ্গে গবেষণার ফলাফলও মিলে গেছে।
গবেষণায় দেখা গেছে, অন্তঃসত্ত্বা নারীরা সুষম খাবার না খেলে তা ভ্রূণের একটি বিশেষ জিনের ওপর দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ফেলে। জিনটির নাম এইচএনএফ৪এ। ধারণা করা হয়, এটি অগ্ন্যাশয়ে ও শরীরে ইনসুলিনের মাত্রা বাড়িয়ে দিতে ভূমিকা রাখে।
গবেষক দলটির প্রধান সুসান ওজান জানান, পরবর্তী গবেষণায় অতিরিক্ত চর্বিযুক্ত খাবারও ইঁদুরের ওপর একই রকম ক্রিয়া করে কি না, তা পরীক্ষা করে দেখা হবে। ইঁদুরের ক্ষেত্রে পাওয়া এই ফলাফল মানুষের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হতে পারে।
ব্রিটিশ হার্ট ফাউন্ডেশনের অধ্যাপক জেরিমি পিয়ারসন বলেন, গবেষণার ফলাফল থেকে অন্তঃসত্ত্বা মায়েদের পুষ্টিকর খাবার গ্রহণের ওপর আবারও জোর দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি অনাগত সন্তানের নির্দিষ্ট কিছু জিনের নিয়ন্ত্রণও যে মায়ের সুষম খাবার গ্রহণের সঙ্গে জড়িত, সে দিকটির প্রতিও দৃষ্টি আকর্ষণ করা হচ্ছে। ভ্রূণের জিনের ওপর অপুষ্ট খাবারের এ প্রভাব প্রকাশ্য বা অপ্রকাশ্যও হতে পারে। এমনকি ডিএনএর বড় ধরনের কোনো পরিবর্তন না করে কয়েক প্রজন্ম পরেও তা প্রভাব ফেলতে পারে।

ঢাকা পর্যটন মেলার শিরোনাম পৃষ্ঠপোষক হলো বেস্ট এয়ার

আগামী ৩১ মার্চ থেকে ঢাকার সোনারগাঁও হোটেলে অনুষ্ঠিত হবে অষ্টম আন্তর্জাতিক পর্যটন মেলা-ঢাকা ট্রাভেল মার্ট ২০১১। এই মেলার টাইটেল স্পন্সরের (শিরোনাম স্পন্সর) ভূমিকা পালন করবে বেসরকারি বিমান পরিবহন সংস্থা বেস্ট এয়ার।
তাই এবারের এই আন্তর্জাতিক পর্যটন মেলার নামকরণ হয়েছে ‘বেস্ট এয়ার-মনিটর ঢাকা ট্রাভেল মার্ট-২০১১’।
মেলার আয়োজনকারী প্রতিষ্ঠান পর্যটনবিষয়ক পাক্ষিক দি বাংলাদেশ মনিটর এবং বেস্ট এয়ারের মধ্যে গতকাল বৃহস্পতিবার এ-সংক্রান্ত একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে।
বাংলাদেশ মনিটর পত্রিকার সম্পাদক ও মেলা আয়োজক কমিটির চেয়ারম্যান কাজী ওয়াহিদুল আলম এবং বেস্ট এয়ারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম হায়দার উজ্জামান নিজ নিজ পক্ষে চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। এ সময় বাংলাদেশ মনিটরের প্রধান সম্পাদক রকিব সিদ্দিকী ও বেস্ট এয়ারের প্রধান নির্বাহী রিকি ডি ফ্রিক উপস্থিত ছিলেন।
ইস্টার্ন ব্যাংক লিমিটেড মেলার ব্যাংকিং পার্টনার।

পুরুষ উদ্যোক্তাদেরও জামানতবিহীন এসএমই ঋণ দেওয়া হবে

দেশব্যাপী ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পায়ন জোরদার করার জন্য সরকার এসএমই খাতের নারী উদ্যোক্তাদের মতো পুরুষ উদ্যোক্তাদের জন্যও জামানতবিহীন ঋণ প্রদানের বিষয়টি সক্রিয়ভাবে বিবেচনা করছে।
এটি চূড়ান্ত হলে নারী উদ্যোক্তাদের মতো পুরুষ উদ্যোক্তারাও কোনো ধরনের জামানত ছাড়াই পর্যায়ক্রমে সাত লাখ থেকে ২৫ লাখ টাকা পর্যন্ত শিল্পঋণ পাবেন।
্রশিল্পমন্ত্রী দিলীপ বড়ুয়া সম্প্রতি রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে অবস্থিত বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল মিলনায়তনে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পোদ্যোক্তাদের জন্য তথ্যপ্রযুক্তিবিষয়ক প্রশিক্ষণ কোর্সের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন। বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিলের সহায়তায় এসএমই ফাউন্ডেশন এ প্রশিক্ষণের আয়োজন করে।
এসএমই ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান আফতাব-উল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন এসএমই ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ রেজওয়ানুল কবির। এতে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন প্রকৌশলী মুজিবুর রহমান। অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিলের পরিচালক জাবেদ আলী সরকার, রাঙামাটি সদর উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান ও এসএমই নারী উদ্যোক্তা মিনতি চাকমা।

লিবিয়াফেরত কর্মজীবীদের জন্য কাজের বিকল্প ব্যবস্থা করা হবে

লিবিয়া থেকে প্রত্যাগত কর্মজীবী মানুষের সাহায্যার্থে একটি তহবিল গঠনের উদ্যোগ নিয়েছেন দেশের ব্যবসায়ী সম্প্রদায়। পাশাপাশি লিবিয়া থেকে দেশে আসার পর তাঁদের জন্য সাময়িকভাবে বিকল্প কর্মসংস্থানের ব্যবস্থাও করবেন ব্যবসায়ীরা।
গতকাল বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ শিল্প ও বণিক সমিতি ফেডারেশনের (এফবিসিসিআই) উদ্যোগে ‘উত্তর আফ্রিকা এবং মধ্যপ্রাচ্যের বিরাজমান পরিস্থিতি’ নিয়ে এক আলোচনা সভায় ব্যবসায়ী নেতারা এসব কথা বলেন। এ সময় নেতারা বলেন, প্রবাসীদের পাঠানো অর্থ দেশের অর্থনীতি ও ব্যবসা-বাণিজ্যের উন্নয়নে সহায়তা করেছে। তাই সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকেই লিবিয়া থেকে ফিরে আসা মানুয়ের পাশে তাঁরা দাঁড়াতে চান।
রাজধানীর স্থানীয় একটি হোটেলে এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি এ কে আজাদের সভাপতিত্বে আয়োজিত এ সভায় প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়-বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান আনিসুল ইসলাম মাহমুদ প্রধান অতিথি ছিলেন।
আনিসুল ইসলাম মাহমুদ বলেন, লিবিয়া থেকে যাঁরা দেশে ফিরে আসছেন, তাঁদের পুনর্বাসনে সরকার ও ব্যবসায়ীদের সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। তিনি বলেন, সরকার গত দুই বছরে মাত্র দুই লাখ লোকের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেছে। অথচ বায়রার সদস্যরা প্রতিবছর পাঁচ-ছয় লাখ লোকের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করছেন যাঁদের ৯০ শতাংশই স্বল্পশিক্ষিত।
জনশক্তি রপ্তানিকে শিল্প হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার প্রস্তাবে তিনি সাধারণ শিক্ষার মতো কারিগরি শিক্ষার প্রতি গুরুত্ব বাড়ানোর প্রস্তাব করেন।
স্বাগত বক্তব্যে এ কে আজাদ বলেন, ‘ব্যবসায়ী সম্প্রদায় লিবিয়াফেরত কর্মজীবী মানুষের জন্য একটি তহবিল গঠন করতে চায়। একই সঙ্গে জানিয়ে দিতে চাই, দেশে ফিরে তারা না খেয়ে মারা যাবে না। ব্যবসায়ী ভাইয়েরা তাদের পাশে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেবে।’
তপন চৌধুরী বলেন, বিদেশে কর্মজীবীদের পাঠানো হাজার কোটি ডলারেরর কারণে আজ অনেকেই ব্যবসা-বাণিজ্য সফলভাবে করতে পেরেছেন। তাই লিবিয়া থেকে যাঁরা ফিরে আসছেন, তাঁদের জন্য অনুকম্পা নয়, বরং তাঁদের অবদানের স্বীকৃতি দিতেই তাঁদের পাশে দাঁড়ানো প্রয়োজন।
সিপিডির সম্মানীয় ফেলো দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, প্রবাসীআয় বাড়াতে নতুন বাজার খুঁজে বের করা দরকার। কারণ, চলতি অর্থবছরের প্রথম আট মাসে প্রবাসীআয় বেড়েছে মাত্র আড়াই শতাংশ। প্রবাসী আয় না বাড়লে বৈদেশিক লেনদেনের ভারসাম্যে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।
দেবপ্রিয় আরও বলেন, রপ্তানি আয়ের প্রবৃদ্ধি ৪০ শতাংশের বেশি হলেও খাদ্যপণ্য ও তেলের দাম বাড়ায় আমদানিব্যয় অনেক বাড়ছে। তাই বিদেশি ঋণ না পেলে টাকার অবমূল্যায়ন করতে হবে। এতে রপ্তানির পরিমাণ বাড়লেও মূল্যস্ফীতিতে চাপ পড়বে ও পণ্যমূল্য বেড়ে যাবে।
সিপিডির নির্বাহী পরিচালক মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, সমীক্ষায় দেখা গেছে, যেসব এলাকার লোক বেশি বিদেশে থাকেন সেই এলাকার অর্থনৈতিক অবস্থা তুলনামূলকভাবে ভালো।
বিজিএমইএর সভাপতি আবদুস সালাম মুর্শেদী বলেন, বর্তমানে তৈরি পোশাকশিল্পের ২৫ শতাংশ যন্ত্রপাতি অব্যবহূত পড়ে রয়েছে। দক্ষ লোক পেলে এ খাতে আরও ৫০ হাজার লোকের কর্মসংস্থান করা সম্ভব।
অনুষ্ঠানে এফবিসিসিআইয়ের পরিচালক মনোয়ারা হাকিম আলী তাঁর প্রতিষ্ঠানে লিবিয়াফেরত ১০০ জনের এবং আরেক পরিচালক হারুন-অর-রশীদ ৫০০ জনের কর্মসংস্থান করার ঘোষণা দেন।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ও স্কয়ার গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তপন চৌধুরী, গণস্বাস্থ্যকেন্দ্রের চেয়ারম্যান জাফরুল্লাহ চৌধুরী, এফবিসিসিআইয়ের প্রথম সহসভাপতি মো. জসিমউদ্দিন, সহসভাপতি মোস্তফা আজাদ চৌধুরী, বায়রার সভাপতি মোহাম্মদ আবুল বাসার, বায়রার ঊর্ধ্বতন সহসভাপতি রিয়াজুল ইসলাম, মহাসচিব আলী হায়দার চৌধুরী প্রমুখ।

বাজার এখন ঊর্ধ্বমুখী

কিছুদিন আগেও দেশের শেয়ারবাজার প্রায় ক্রেতাশূন্য ছিল। অব্যাহত দরপতনে আতঙ্কিত বিনিয়োগকারীদের বিক্রির চাপে ভালো-মন্দনির্বিশেষে অনেক কোম্পানির শেয়ার ক্রেতাহীন হয়ে পড়ে। কিন্তু টানা ছয় দিনের দর বৃদ্ধিতে এখন অনেক শেয়ারেরই বিক্রেতা পাওয়া যাচ্ছে না।
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) গতকাল বৃহস্পতিবার সপ্তাহের শেষ কর্মদিবসে এসে ৮০টির মতো কোম্পানি বিক্রেতাশূন্য হয়ে পড়ে। এই তালিকায় তুলনামূলক ভালো মৌলভিত্তির কোম্পানি যেমন ছিল, তেমনি ছিল দুর্বল মৌলভিত্তির কোম্পানিও।
বাজার বিশ্লেষকেরা বলছেন, বাজারের স্থিতিশীলতা ফেরাতে বিশেষ তহবিল গঠনসহ নানা ইতিবাচক পদক্ষেপের পর বাজার বাড়তে থাকায় লোকসান দিয়ে এখন আর কেউ শেয়ার হাতছাড়া করতে চাইছেন না। অন্যদিকে যাঁরা আগে শেয়ার বিক্রি করে দিয়ে বাজারের বাইরে চলে গিয়েছিলেন, তাঁরা আবার নতুন করে বিনিয়োগ করতে শুরু করেছেন। তাই শেয়ারের জোগানের চেয়ে চাহিদা বেড়ে গেছে। ফলে শেয়ারের দাম দ্রুতগতিতে বাড়ছে, যার প্রভাব পড়েছে মূল্যসূচকে।
বিশ্লেষকেরা আরও বলছেন, একটি বড় ধরনের ধসের পর সরকারের পক্ষে নেওয়া নানা প্রণোদনামূলক কর্মসূচির প্রভাবে অনেক দেশের শেয়ারবাজার দ্রুতগতিতে বাড়তে দেখা গেছে। এটা বাজারের জন্য স্বাভাবিক ঘটনা। কিন্তু ভালো-মন্দনির্বিশেষে সব ধরনের শেয়ারের দাম বেড়ে যাওয়াটা কাঙ্ক্ষিত নয়।
বিশ্লেষকেরা বলেন, বাজারে অনেক কোম্পানির শেয়ার রয়েছে, যেগুলো এখনো অতিমূল্যায়িত। অথচ গত কয়েক দিনে এসব শেয়ারের দামও সমান হারে বেড়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এ অবস্থায় বিনিয়োগকারীদের উচিত হবে দরপতন থেকে শিক্ষা নিয়ে এ ধরনের শেয়ারে বিনিয়োগ না করা। কারণ, ভালো মৌলভিত্তির শেয়ারের দাম কমে গেলেও লভ্যাংশ দিয়ে একসময় ঠিকই ক্ষতি পুষিয়ে যাবে। কিন্তু অতিমূল্যায়িত দুর্বল কোম্পানির শেয়ার কিনলে সেই সম্ভাবনা খুবই ক্ষীণ।
আর তাই বাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থারও দুর্বল কোম্পানির শেয়ারের দাম বাড়ার বিষয়টি এখন থেকেই নজরদারি করা উচিত বলে মনে করেন বিশ্লেষকেরা।
বাজার পরিস্থিতি: ডিএসইতে গতকাল সাধারণ মূল্যসূচক আগের দিনের চেয়ে প্রায় ৩২৩ পয়েন্ট বা ৫ দশমিক ১০ শতাংশ বেড়ে ছয় হাজার ৬৩৯ পয়েন্টে উন্নীত হয়েছে। অন্যদিকে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সাধারণ মূল্যসূচক ৮৭৯ পয়েন্ট বেড়ে ১৮ হাজার ৬৯৭ পয়েন্ট ছাড়িয়েছে।
সিএসইতে এদিন মোট ২০১ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে ১৯৭টির দাম বেড়েছে, কমেছে চারটির এবং অপরিবর্তিত থাকে একটি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম। সিএসইতে গতকাল লেনদেন হয়েছে ১৭৭ কোটি টাকার। আর ডিএসইতে লেনদেন হয়েছে এক হাজার ৪৯২ কোটি টাকার। এই স্টক এক্সচেঞ্জে মোট ২৫৬টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে দাম বাড়ার তালিকায় ছিল ২৪৪টি কোম্পানির নাম। আর কমেছে ১০টি এবং অপরিবর্তিত ছিল দুটি কোম্পানির শেয়ারের দাম।

স্পারদের হাতে মিলানের বিদায়

টটেনহাম হটস্পার আর্সেনালের ছায়ায় ঢাকা পড়ে আছে অনেক কাল। এবার মনে হয় সেই ছায়া থেকে বেরিয়ে আসতে পারবে উত্তর লন্ডনের ক্লাবটি। পারবে কী, এর মধ্যেই তো স্পাররা ‘গানার’দের অতিক্রম করে এসেছে। কেড়ে নিয়েছে পাদপ্রদীপের আলো। কাতালান ‘কাঁটা’ সরিয়ে গানাররা চ্যাম্পিয়নস লিগের শেষ আটে যেতে পারেনি, অথচ সাতবারের চ্যাম্পিয়ন এসি মিলানকে বিদায় করে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠে গেছে স্পাররা।
পরশু নিজেদের মাঠে দ্বিতীয় লেগে মিলানকে গোলশূন্য ড্রতে আটকে দিয়েছে টটেনহাম। সান সিরোতে পিটার ক্রাউচের ৮০ মিনিটে করা গোলে জিতেছিল তারা প্রথম লেগ। ইউরোপের সবচেয়ে বড় ক্লাব প্রতিযোগিতায় প্রথমবারের মতো শেষ আটে উঠেছে রাউল গঞ্জালেসের শালকে। নিজেদের মাঠে দ্বিতীয় লেগ জিতেছে তারা ৩-১ গোলে। প্রথম লেগে ভ্যালেন্সিয়ার মাঠ থেকে ফিরেছিল তারা ১-১ গোলের ড্র নিয়ে।

ব্রিস্টল হোক প্রেরণা

গত ১০ জুলাই বিশ্বকাপ ফুটবলের তৃতীয় হওয়ার লড়াইয়ে মুখোমুখি হয়েছিল জার্মানি ও উরুগুয়ে। জার্মানি ম্যাচটা জিতে নেয় ৩-২ গোলে।
সেই একই দিন দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে অনেক দূরে, ইংল্যান্ডের ব্রিস্টলে, ক্রিকেটে মুখোমুখি হয়েছিল বাংলাদেশ ও ইংল্যান্ড। রুদ্ধশ্বাস উত্তেজনার ম্যাচটি মাত্র ৫ রানে জিতেছিল বাংলাদেশ। পূর্ণ করেছিল একটা বৃত্ত।
বৃত্তটা অপূর্ণ ছিল ইংল্যান্ডের কারণে। টেস্টের সব কুলীন সদস্যকে একবার না একবার ওয়ানডেতে হারিয়েও বাংলাদেশ পারছিল না কেবল ইংল্যান্ডের সঙ্গে। অনেকবার ঠেসে ধরেও পারা যায়নি। পিছলে বেরিয়ে গেছে ইংলিশরা। সেদিনও বেরিয়ে যাচ্ছিল প্রায়। নাছোড় জোনাথন ট্রট উইকেট আগলে রেখেছিলেন একটা প্রান্ত। শেষ পর্যন্ত শফিউল তাঁকে ক্যাচ বানান উইকেটের পেছনে। টেস্ট-ওয়ানডে-টি-টোয়েন্টি মিলে ইংলিশদের কাছে টানা ২০ ম্যাচ হারার পর জয়ের মুখ দেখে বাংলাদেশ।
গত বছর মে-জুলাইয়ের ওই সফরেও টেস্টে হোয়াইটওয়াশ হয়েছিল বাংলাদেশ। তবে তামিম ইকবালের ব্যাট ছিল উদ্ধত। দুই টেস্টেই সেঞ্চুরি করেছিলেন তামিম। প্রথম ওয়ানডেতেও ব্যাট হাতে ভালো করেছিল বাংলাদেশ। যদিও ২৫০ রান করেও জিততে পারেনি। কিন্তু সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচেই চমক।
টসে হেরে ব্যাট করতে নামা বাংলাদেশ সেদিন ৭ উইকেটে তুলেছিল ২৩৬ রান। ইমরুল কায়েস করেছিলেন ৭৬, জহুরুল ইসলাম ৪০। আটে নেমে অধিনায়ক মাশরাফি খেলেছিলেন ২২ রানের একটা ক্যামিও ইনিংস, গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল মাহমুদউল্লাহ ২৪ রানের ইনিংসটিও।
৪৯ রানের উদ্বোধনী জুটির পর থেকে নিয়মিত বিরতিকে উইকেট হারাতে থাকে ইংল্যান্ড। ১৬৬ রানে ৭ উইকেট ফেলে দেওয়ার পরই জয়ের সুবাস পেতে থাকে বাংলাদেশ। কিন্তু ওয়ান ডাউনে নামা ট্রট অষ্টম উইকেটে স্টুয়ার্ট ব্রডের সঙ্গে ৪৩ আর নবম উইকেটে জেমস অ্যান্ডারসনের সঙ্গে ১৮ রানের জুটি গড়েন। ব্রড-অ্যান্ডারসন দুজনকেই ফেরান মাশরাফি।
অ্যান্ডারসন বিদায় নেন ৪৯ ওভারে শেষ বলে। ফলে শেষ ওভারে ইংল্যান্ডের প্রয়োজন হয় ১০ রান, হাতে ১ উইকেট। স্ট্রাইকে ৯০ রানে অপরাজিত ট্রট! প্রথম দুটি বলে দুই-দুই চার রান। তৃতীয় বলে? ট্রটের ব্যাট ছুঁয়ে জহুরুলের গ্লাভসবন্দী হয় বল। জয়োৎসবে মাতে বাংলাদেশ। ম্যাচসেরা হন মাশরাফি।