Saturday, February 4, 2017

ট্রাম্পের নিষেধাজ্ঞা রদ করলেন সিয়াটলের আদালত

মুসলিমপ্রধান সাত দেশের নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নিষেধাজ্ঞা সারা দেশে সাময়িকভাবে রদ করেছেন সিয়াটলের মার্কিন আদালত। বিবিসি অনলাইনের খবরে জানানো হয়, ট্রাম্পের নিষেধাজ্ঞা–বিষয়ক নির্বাহী আদেশকে যুক্তরাষ্ট্রের অঙ্গরাজ্যগুলো চ্যালেঞ্জ করছে না বলে অভিযোগ করেন সরকারি আইনজীবীরা। এর পরিপ্রেক্ষিতে গতকাল শুক্রবার বিচারক জেমস রবার্ট এই আদেশ দেন। মুসলিমপ্রধান সাত দেশের নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে ট্রাম্পের নিষেধাজ্ঞার প্রতিবাদে গত সপ্তাহে ব্যাপক বিক্ষোভ চলে। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলছে, এসব দেশের নাগরিকদের ৬০ হাজার ভিসা বাতিল করা হয়েছে।
ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশে যুক্তরাষ্ট্রের শরণার্থী গ্রহণ কর্মসূচি ১২০ দিনের জন্য রদ করা হয়। সিরীয় শরণার্থী প্রবেশে অনির্দিষ্টকালের নিষেধাজ্ঞা জারি হয়েছে। এ ছাড়া ইরাক, ইরান, লিবিয়া, সোমালিয়া, সুদান ও ইয়েমেনের নাগরিকদের ভিসা ৯০ দিন পর্যন্ত রদ করা হয়। এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের বেশ কয়েকটি ফেডারেল আদালত ভিসাধারীদের বিতাড়নের ওপর সাময়িক স্থগিতাদেশ জারি করেন। তবে সিয়াটল আদালত প্রথমবারের মতো সারা দেশে ট্রাম্পের নিষেধাজ্ঞা স্থগিত করলেন। ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশকে চ্যালেঞ্জ করে ভার্জিনিয়া, নিউইয়র্ক, ম্যাসাচুসেটস ও মিশিগানে মামলা চলছে।

ট্রাম্পের মানসিক সুস্থতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে

মার্কিন কংগ্রেসের সদস্যদের মধ্যে একটি নতুন খসড়া আইন নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এই আইনের বিষয়বস্তু, প্রেসিডেন্ট হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার পূর্ব যোগ্যতা হিসেবে প্রত্যেক প্রার্থীর মানসিক, শারীরিক ও আর্থিক অবস্থাবিষয়ক সব তথ্য আগাম প্রকাশ করতে হবে। আইনটি এখনো লেখা হয়নি, তবে এমন একটি আইন করার যৌক্তিকতা তুলে ধরেছেন কংগ্রেসের নজরদারি কমিটির রিপাবলিকান চেয়ারম্যান জ্যাসন শাফেৎজ। গত বৃহস্পতিবার এই আইনের পক্ষে সহপ্রস্তাবক হিসেবে নিজের নামটি যুক্ত করার আগ্রহ প্রকাশ করেন কংগ্রেসে বিরোধী ডেমোক্র্যাটদের নেতা ন্যান্সি পেলোসি। জ্যাসন শাফেৎজ এ রকম একটি আইনের কথা দিন কয়েক আগে ওয়াশিংটন পোস্ট-এর সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন। প্রত্যেক প্রার্থীর মানসিক, শারীরিক ও আর্থিক অবস্থার নিরপেক্ষ নিরীক্ষার পর তা জনসমক্ষে প্রকাশিত হলে ভোটারদের পক্ষে সুবিধা হবে সঠিক প্রার্থী বেছে নিতে—এই ছিল তাঁর যুক্তি। কংগ্রেসম্যান শাফেৎজ ওয়াশিংটন পোস্টকে বলেন, দেশের প্রেসিডেন্টের হাতে থাকে ‘পারমাণবিক কোড’, পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহৃত হবে কি হবে না, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণের দায়িত্ব তাঁর।
সে কারণে প্রেসিডেন্টের স্বাস্থ্য বিষয়ে সব তথ্য অবগত হওয়া জরুরি। শাফেৎজ অবশ্য বলেছেন, ডোনাল্ড ট্রাম্পের কথা মাথায় রেখে তিনি এ কথা বলেননি; বরং নির্বাচনী প্রচারের সময় হিলারি ক্লিনটনের স্বাস্থ্য নিয়ে নানা কথা ওঠায় তাঁর মনে হয়েছে, বিষয়টা নিয়ে সন্দেহ দূর করতে এ রকম একটি আইনি বিধান থাকা ভালো। ন্যান্সি পেলোসিও এই আইনের পক্ষে নিজের সমর্থন জানানোর সময় ট্রাম্পের নাম তোলেননি। তবে ট্রাম্পের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নিয়ে তিনি কঠিন সমালোচনা করেন। গত বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটনে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ট্রাম্পের বিভিন্ন সিদ্ধান্তের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, হোয়াইট হাউসে এ মুহূর্তে সব সিদ্ধান্তের পেছনে রয়েছে শ্বেত আধিপত্যবাদী হিসেবে পরিচিত ট্রাম্পের বিশেষ উপদেষ্টা স্টিভ ব্যানন। তাঁকে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী প্রতিনিধি করায় পেলোসি বিস্ময় প্রকাশ করেন। কিছুটা রহস্যময় হাসি দিয়ে পেলোসি বলেন, প্রেসিডেন্টের মানসিক সুস্থতা এই পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতার পূর্বশর্ত করার প্রস্তাবটিকে তিনি স্বাগত জানান। তিনি বলেন, যাঁর হাতে ‘পারমাণবিক কোড’ থাকবে, আমাদের অবশ্যই জানা দরকার তাঁর মানসিক অবস্থা কেমন। পেলোসির এ মন্তব্য এমন সময় এল, যখন ট্রাম্পের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত ও বক্তব্য থেকে তাঁর মানসিক সুস্থতা নিয়ে নানা মহলে প্রশ্ন উঠেছে। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সলাপরামর্শ ছাড়াই তথাকথিত ‘মুসলিম নিষিদ্ধকরণ’ ঘোষণা করে তিনি এক আন্তর্জাতিক সংকটের মুখে ঠেলে দিয়েছেন দেশকে। মেক্সিকোর প্রেসিডেন্টের সঙ্গে এক টেলিফোন আলাপচারিতার সময় তিনি ‘মন্দ লোকদের’ নিকেশ করতে যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো সীমান্তে সেনা পাঠানোর প্রস্তাব করেছেন। অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আরেক টেলিফোন আলাপচারিতার সময় তিনি এত তপ্ত হয়ে ওঠেন যে এক ঘণ্টার নির্ধারিত কথাবার্তা ২৫ মিনিটে থামিয়ে দেন। পরে ট্রাম্প নিজেই টুইটারে জানান, সেটি ছিল তাঁর জীবনের সবচেয়ে বাজে টেলিফোন আলাপ। গত বৃহস্পতিবার ন্যাশনাল প্রেয়ার ব্রেকফাস্ট অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে ট্রাম্প তাঁর পুরোনো টিভি অনুষ্ঠান অ্যাপ্রেন্টিসের জনপ্রিয়তা নিয়ে নিজেকে নিজে বাহবা দেন এবং তাঁর বর্তমান হোস্ট ক্যালিফোর্নিয়ার সাবেক গভর্নর আর্নল্ড শোয়ার্জেনেগারের জন্য প্রার্থনার অনুরোধ জানান।
একই দিন ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার জবাবে ‘সামরিক পদক্ষেপ’ বিবেচনায় আছে বলে জানান ট্রাম্প। বার্কলে বিশ্ববিদ্যালয়ে একজন উগ্র দক্ষিণপন্থী বক্তার উপস্থিতির প্রতিবাদে ছাত্ররা সহিংস বিক্ষোভ করায় ট্রাম্প এক টুইটার বার্তায় হুমকি দেন, এই বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য কেন্দ্রীয় তহবিল থেকে অর্থায়ন বন্ধ করে দেবেন। অর্থাৎ ক্ষমতায় বসার মাত্র দুই সপ্তাহের মধ্যে ডোনাল্ড ট্রাম্প হুলুস্থুল বাধিয়ে দিয়েছেন। অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী ম্যালকম টার্নবুলের সঙ্গে ট্রাম্পের টেলিফোন আলাপ এতটা উদ্ভট ও অকূটনৈতিকসুলভ ছিল যে বর্ষীয়ান রিপাবলিকান সিনেটর জন ম্যাককেইন স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে এ জন্য কার্যত ক্ষমা চেয়েছেন। অস্ট্রেলিয়া যুক্তরাষ্ট্রের একটি প্রধান বাণিজ্যিক ও সামরিক মিত্র। সে দেশের রাষ্ট্রদূতকে ম্যাককেইন এই বলে আশ্বস্ত করার চেষ্টা করেন যে এই দুই দেশ দীর্ঘদিনের ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে আবদ্ধ। অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে সৌভ্রাতৃত্ব বজায় রাখতে যুক্তরাষ্ট্র বদ্ধপরিকর। এদিকে রিপাবলিকান সমর্থকদের মধ্যেও ট্রাম্প নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। তাঁদের একজন হলেন রক্ষণশীল রেডিও হোস্ট এরিক এরিকসন। ম্যাককেইনের মতো কূটনৈতিক ভাষা ব্যবহারের বদলে এক টুইটার বার্তায় তিনি বলেন, ‘এ রকম দিনে আমি নিজেই মনে মনে বলি, প্রেসিডেন্ট পেন্স, প্রেসিডেন্ট পেন্স।’ উল্লেখ্য, শারীরিক অথবা মানসিক কোনো কারণে ট্রাম্প দায়িত্ব পালন করতে অক্ষম হলে শাসনতান্ত্রিকভাবে সেই দায়িত্ব বর্তাবে ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্সের ওপর।

ইরানের ওপর অবরোধ আরোপ করলেন ট্রাম্প

হোয়াইট হাউসে বসার দুই সপ্তাহের মধ্যে ইরানের ওপর অবরোধ আরোপ করলেন যুক্তরাষ্ট্রের নতুন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সম্প্রতি তেহরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালানো ও ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের সমর্থনের ‘সাজা’ হিসেবেই গতকাল শুক্রবার ট্রাম্প প্রশাসন দেশটির বিরুদ্ধে এ পদক্ষেপ নিল। ট্রাম্প নির্বাচনী প্রচারণার সময়ই ঘোষণা দিয়েছিলেন, জয়ী হলে তিনি ইরানের ব্যাপারে কঠোর হবেন। এ ছাড়া পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে ইরানের সঙ্গে সই করা বিশ্বশক্তিগুলোর ঐতিহাসিক চুক্তিও বাতিল করবেন। তেহরানের বিরুদ্ধে ট্রাম্প প্রশাসনের প্রথমবারের মতো এ অবরোধের লক্ষ্যবস্তু বানানো হয়েছে ইরান এবং বেইজিংয়ের কিছু ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে। এরা হলো ওই সব ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান, যাদের তেহরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচিতে সহায়তাদানকারী হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র চিহ্নিত করেছে। এ ছাড়া লক্ষ্যবস্তু বানানো হয়েছে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীকেও। ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচিতে উপকরণ সরবরাহ করেছে এমন তিন বাণিজ্যিক নেটওয়ার্ক ও ব্যক্তির নাম প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এঁদের একজন ইরানি ব্যবসায়ী আবদুল্লাহ আসগরজাদেহ। তিনি চীনের বেশ কিছু প্রতিষ্ঠান ও সরবরাহকারীর সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন। তাঁর বিরুদ্ধে আগেই অবরোধ আরোপ করে রেখেছে যুক্তরাষ্ট্র।
আর নেটওয়ার্ক হলো উপসাগরীয় অঞ্চলভিত্তিক ‘রোস্টানিয়ান নেটওয়ার্ক’। অপরজন হলেন লেবাননভিত্তিক ব্যবসায়ী হাসান দেঘান এবরাহিমি। যুক্তরাষ্ট্রের হিসাবমতে, ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর কর্মকর্তা হাসান মুদ্রা পাচার ও লেবাননের হিজবুল্লাহ গোষ্ঠীকে রসদ সরবরাহে জড়িত। এ অবরোধ আরোপের পক্ষে যুক্তি দিয়ে মার্কিন ট্রেজারি অফিস অব ফরেন অ্যাসেটস কন্ট্রোলের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক জন স্মিথ বলেন, ‘সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে ইরানের অব্যাহত সমর্থন ও তার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচির উন্নয়ন এ অঞ্চল ও বিশ্বব্যাপী আমাদের অংশীদার এবং যুক্তরাষ্ট্রের জন্য হুমকি।’ গত রোববার ইরান মধ্যম পাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালায়। এ ঘটনাকে পরমাণু যুদ্ধাস্ত্র বহনের উপযোগী ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা-সংক্রান্ত জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাবের লঙ্ঘন বলে আখ্যায়িত করেছে যুক্তরাষ্ট্র। ইরান ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালানোর পর গত মঙ্গলবার প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা মাইকেল ফ্লিন ঘোষণা দেন, তিনি ইরানকে আনুষ্ঠানিকভাবে সতর্ক করবেন। ইরানের ওপর নতুন করে এ অবরোধ আরোপের ফলে এখন যুক্তরাষ্ট্র বা যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক কোনো প্রতিষ্ঠান ইরানের সঙ্গে বাণিজ্য সম্পর্ক রয়েছে এমন মার্কিন কালোতালিকাভুক্ত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ব্যবসা করতে পারবে না। ইতিমধ্যে তেহরান ঘোষণা দিয়েছে, সাত মুসলিম দেশের নাগরিক ও শরণার্থীদের জন্য সাময়িকভাবে যুক্তরাষ্ট্র তার দরজা বন্ধ করে দেওয়ার প্রতিবাদে ইরানও তার দেশে মার্কিন নাগরিকদের প্রবেশ ঠেকাবে।

নতুন বসতি শান্তি উদ্যোগ ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে

অধিকৃত এলাকায় নতুন ইসরায়েলি বসতি নির্মাণের বিষয়টি ফিলিস্তিনিদের সঙ্গে শান্তি প্রতিষ্ঠার উদ্যোগকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। হোয়াইট হাউস এ কথা বলেছে। বসতি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের এই বিবৃতি এ বিষয়ে ট্রাম্পের আগের অবস্থানের সঙ্গে মিলছে না। তিনি বলেছিলেন, ইসরায়েলি বসতি স্থাপনে কোনো আপত্তি করবেন না। হোয়াইট হাউসের বিবৃতি অবশ্য একই সঙ্গে বলছে, ট্রাম্প প্রশাসন ওই বসতি স্থাপনকে ‘শান্তি প্রতিষ্ঠার পথে বাধা’ মনে করে না।
এ বক্তব্য যুক্তরাষ্ট্রের আগের অবস্থানের চেয়ে ভিন্ন। ইসরায়েলের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা হোয়াইট হাউসের বক্তব্যের গুরুত্বকে হালকা করে দেখানোর চেষ্টা করেন। জাতিসংঘে নিযুক্ত ইসরায়েলি রাষ্ট্রদূত ড্যানি ড্যানন বলেন, হোয়াইট হাউসের বিবৃতি ইসরায়েলি বসতি বিষয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের এত দিনের অবস্থান থেকে পুরো উল্টোদিকে ঘোরা নয়। ইসরায়েলের দখল করা পশ্চিম তীরে ইহুদি বসতি স্থাপনের বিষয়টি ফিলিস্তিনিদের সঙ্গে বিরোধের সবচেয়ে বড় কারণ।

পিয়ংইয়ংকে ‘নাস্তানাবুদ’ করার হুমকি ম্যাটিসের

উত্তর কোরিয়া পরমাণু অস্ত্র ব্যবহার করলে তাদের ‘নাস্তানাবুদ’ করে ফেলা হবে বলে হুঁশিয়ার করে দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। একই সঙ্গে উত্তর কোরিয়ার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রতিবেশী দক্ষিণ কোরিয়াকে সহায়তা দেওয়া অব্যাহত রাখা হবে বলে ঘোষণা করেছে দেশটি।
এ ছাড়া, আরেক আঞ্চলিক মিত্র জাপানের পাশে থাকার ‘শতভাগ’ নিশ্চয়তা দিয়েছে ওয়াশিংটন। মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী জেমস ম্যাটিস গতকাল শুক্রবার দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপান সফরের সময় এসব কথা বলেন। দক্ষিণ কোরিয়ায় দুই দিনের সফর শেষ করে গতকাল সিউল থেকে টোকিও যান ম্যাটিস। সিউল ছাড়ার আগে দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ে তিনি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র অথবা তার মিত্রদের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের হামলা চালালে উত্তর কোরিয়াকে ধরাশায়ী করা হবে এবং পিয়ংইয়ং কোনো ধরনের পরমাণু অস্ত্র ব্যবহার করলে কার্যকর পাল্টা জবাবের মাধ্যমে তাকে নাস্তানাবুদ করে ফেলা হবে।’ উত্তর কোরিয়ার নতুন একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা করার গুঞ্জনের মধ্যে ম্যাটিস এমন হুঁশিয়ারি দিলেন। উত্তর কোরিয়া প্রায়শই যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশ দক্ষিণ কোরিয়াকে নিশ্চিহ্ন করে ফেলা হবে বলে হুমকি দিয়ে থাকে। পূর্ব এশিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলোতে সাবেক জেনারেল ম্যাটিসের এ সফর প্রতিরক্ষামন্ত্রীর দায়িত্ব নেওয়ার পর তাঁর প্রথম বিদেশ সফর। এদিকে, সিউল থেকে গতকালই জাপানের রাজধানী টোকিওতে যান ম্যাটিস। সেখানে তিনি জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবেকে আশ্বস্ত করে বলেন, ‘আমরা কাঁধে কাঁধ রেখে শতভাগ নিষ্ঠার সঙ্গে আপনার ও জাপানের জনগণের পাশে আছি।’ সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা দেন, জাপানকে সে দেশের নিরাপত্তায় মোতায়েন মার্কিন বাহিনীর জন্য আর্থিক বরাদ্দ আরও বাড়াতে হবে। এতে জাপানের নেতাদের মধ্যে একধরনের অস্বস্তি তৈরি হয়। ম্যাটিসের ঘোষণা তা দূর করতে ভূমিকা রাখবে বলে মনে করা হচ্ছে।

দিল্লির বাইরে যেতে পারবে এএপি?

ভারতের পাঞ্জাব ও গোয়া বিধানসভার ভোটের প্রাকমুহূর্তে প্রশ্ন একটাই, দিল্লির বাইরে শাখা বিস্তার করে আম আদমি পার্টি (এএপি) সরকার গড়তে পারবে কি না। এ দুই রাজ্যে আজ শনিবার এক দফার ভোট। পাঞ্জাবে অকালি দল ও বিজেপির টানা ১০ বছরের শাসনের অবসান এবং গোয়ায় বিজেপি ও কংগ্রেসের বাইরে তৃতীয় শক্তি হিসেবে এএপির উত্থান কতটা প্রবল হবে, আগ্রহ তা নিয়েই। টানা ১০ বছর ক্ষমতায় থাকায় অকালি-বিজেপি জোটের জনপ্রিয়তা পাঞ্জাবে প্রায় তলানিতে। রাজ্যের অর্থনীতির হাল যত খারাপ হয়েছে, কর্মসংস্থান যত সংকুচিত হয়েছে, ততই বেড়ে গেছে হতাশা।
সেই সুযোগে জাঁকিয়ে বসেছে মাদকের কারবার। এবারের ভোটে সব দলই মাদকের সমস্যা দূর করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। গোয়ার নির্বাচনে বিরোধী কংগ্রেস ও এএপির প্রধান প্রতিশ্রুতি, দুর্নীতি দূর করে রাজ্যের সুনাম ফিরিয়ে দেওয়া। গোয়ায় বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর মুখ্যমন্ত্রী মনোহর পারিকরকে কেন্দ্রে প্রতিরক্ষামন্ত্রী করে দিল্লিতে টেনে আনেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তাঁর জায়গায় মুখ্যমন্ত্রী হওয়া লক্ষ্মীকান্ত পারসেকর দুর্নীতি বন্ধ করতে পুরোপুরি ব্যর্থ। ছোট্ট এই রাজ্যের অর্থনীতি প্রধানত পর্যটন ও খনিজ সম্পদের ওপর নির্ভরশীল। অতি পর্যটনের কারণে নানান সামাজিক ব্যাধি যেমন গোটা রাজ্যে ছেয়ে গেছে, তেমনি সৃষ্টি হয়েছে পরিবেশগত সংকট। আর এখান থেকেই শাসকদলকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছে প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেস। পাশাপাশি নতুন আশা জাগিয়েছে অরবিন্দ কেজরিওয়ালের আম আদমি পার্টি। ফলে ১১৭ আসনের পাঞ্জাব ও ৪০ আসনের গোয়ায় এবারের ভোট হয়ে দাঁড়িয়েছে আক্ষরিক অর্থেই ত্রিমুখী। যেহেতু দুই রাজ্যেই ক্ষমতায় রয়েছে বিজেপি ও তার জোট সঙ্গী অকালি দল এবং আলোচিত বিতর্কিত নোট বাতিলের সিদ্ধান্তের পর এ দুই রাজ্যে প্রথম ভোট, সেহেতু বিজেপির কাছে এই ভোট খুবই গুরুত্বপূর্ণ। পাঞ্জাবে শাসনের জোট সঙ্গী অকালি দল এতটাই কোণঠাসা, জয়ের মাধ্যমে সম্মান ধরে রাখার আশা বিজেপি প্রায় ছেড়েই দিয়েছে। অকালি দলের যে প্রভাব ছিল রাজ্যের গ্রামাঞ্চলে, সেখানে বড় থাবা বসিয়েছে এএপি। অন্যদিকে রাজ্যের শহরাঞ্চল ও গ্রামীণ কোনো কোনো ক্ষেত্রে কংগ্রেসের ঐতিহ্যগত সমর্থনে বাড়তি আশা জেগেছে। কংগ্রেসের চিন্তা মূলত আম আদমি পার্টির হঠাৎ উত্থান নিয়ে।
পাঞ্জাবি সমাজে সেই অর্থে ধর্মীয় মেরুকরণ না থাকলেও ঐতিহ্যগতভাবে শিখ সম্প্রদায় সমর্থন করে এসেছে অকালি দলকে, হিন্দুরা কংগ্রেসকে। আবার দলিত শিখদের মধ্যে কংগ্রেসকে সমর্থনের প্রবণতা সেখানে আছে। এই সমর্থনের ওপর ভর দিয়েই কংগ্রেস এবার পাঞ্জাব দখলে মরিয়া। কিন্তু এএপির উপস্থিতি লড়াইকেই ত্রিমুখী করে দিয়েছে। এতটাই যে রাজ্যে ‘ত্রিশঙ্কু’, অর্থাৎ কিনা ঝুলন্ত বিধানসভার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। ত্রিশঙ্কু বিধানসভার প্রবল আশঙ্কা গোয়ায়ও। সেখানে এএপির ভরসা সরকারি চাকরি ছেড়ে দিয়ে নির্বাচনে নামা এলভিস গোমস। দলটি ক্ষমতায় এলে গোমসই হবেন মুখ্যমন্ত্রী। রাজ্যবাসীকে তিনি তিনটি জনপ্রিয় প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন। চুরি ও চোরাচালান বন্ধ, সবার জন্য কর্মসংস্থান এবং মাদকের অভিশাপ দূর করা। রাজ্যের সব দলের নেতারাই কবুল করছেন, এমন ক্ষুরধার লড়াই গোয়ার ইতিহাসে আগে কখনো হয়নি।

ল্যুভ জাদুঘরে ছুরি নিয়ে সেনার ওপর হামলা

ফ্রান্সের প্যারিসের ল্যুভ জাদুঘরে গতকাল শুক্রবার এক ব্যক্তি ছুরি নিয়ে টহল সেনাদলের ওপর হামলার চেষ্টা করলে তাঁকে গুলি করে আহত করা হয়। হামলাকারীর পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। পুলিশ জানিয়েছে, হামলাকারী ব্যাগ হাতে ল্যুভ মিউজিয়ামের বিপণিকেন্দ্রে প্রবেশের চেষ্টা করছিলেন। একপর্যায়ে তিনি ‘আল্লাহু আকবর’ বলে চিৎকার করে বড় একটি ছুরি দিয়ে সেনাদের ওপর হামলার চেষ্টা করেন। তখন সেনারা তাঁকে লক্ষ্য করে প্রায় পাঁচটি গুলি চালান।
এতে হামলাকারীর তলপেটে গুলি লাগে। তাঁর ছুরির আঘাতে এক সেনাও আহত হয়েছেন। ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ ঘটনাকে ‘গুরুতর’ বলে বর্ণনা করেছে। ফরাসি প্রধানমন্ত্রী এর ধরন ‘সন্ত্রাসবাদী’ বলে অভিহিত করেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্যারিসের ঘটনাকে ‘জঙ্গি হামলা’ আখ্যা দিয়ে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রকে এর আলোকে বুদ্ধিমানের মতো আচরণ করতে হবে। ২০১৫ সালের প্যারিস হামলার পর থেকে ফ্রান্সে উঁচু মাত্রার সতর্কতা বজায় রয়েছে। সে বছরের নভেম্বরে প্যারিসে ইসলামিক স্টেটের দায় স্বীকার করা উপর্যুপরি বন্দুক ও বোমা হামলায় ১৩০ জন নিহত হয়।

যৌন নিপীড়নের দায়ে সৌদি কূটনীতিককে বেত্রদণ্ড

হোটেলের এক কর্মীকে যৌন নিপীড়নের দায়ে সৌদি আরবের কূটনীতিককে চারবার বেত্রাঘাত করার আদেশ দিয়েছেন সিঙ্গাপুরের আদালত। একই সঙ্গে ওই কূটনীতিককে ২৬ মাসের বেশি মেয়াদে কারাদণ্ডাদেশ দেওয়া হয়েছে। সিঙ্গাপুরের স্ট্রেইটস ট্রাইমস পত্রিকার বরাত দিয়ে রয়টার্সের খবরে জানানো হয়, গতকাল শুক্রবার এ নির্দেশ দেওয়া হয়।
কূটনীতিক বানদার ইয়াহিয়া এ আলজাহারনি (৩৯) চীনের বেইজিংয়ে সৌদি দূতাবাসের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। গত বছর সিঙ্গাপুরে তিনি ছুটি কাটাতে এসে এ ঘটনা ঘটান। দণ্ডাদেশের বিরুদ্ধে তিনি আপিল করবেন। সিঙ্গাপুরে পুরুষ অপরাধীদের বেত্রাঘাত করা আইনসম্মত। যৌন নিপীড়ন, ধ্বংসযজ্ঞ, দাঙ্গা বা ভিসা ছাড়াই ৯০ দিনের বেশি বিদেশিদের অবস্থানের মতো অপরাধের ক্ষেত্রে এ ধরনের সাজা দেওয়া হয়। সৌদি আরবেও সাজা হিসেবে বেত্রাঘাত আইনসম্মত।

ট্রাম্পের জন্য ৭ পরামর্শ

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে সাতটি বিষয়ে মনোযোগ দেওয়ার সুপারিশ করেছে দেশটির পরামর্শ ও পরিকল্পনাকারী সরকারি প্রতিষ্ঠান ন্যাশনাল ইন্টেলিজেন্স কাউন্সিল। নতুন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ক্ষমতা গ্রহণের পরের চার বছরে তাঁকে কী ধরনের পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে হতে পারে, সে সম্পর্কে ধারণা দিতেই প্রতিবেদন তৈরি করে থাকে ন্যাশনাল ইন্টেলিজেন্স কাউন্সিল। ডোনাল্ড ট্রাম্পের জন্যও করণীয় বিষয়ক প্রতিবেদন তৈরি করেছে সংস্থাটি। তাতে যেসব বিষয়ে সুপারিশ করা হয়েছে তা হলো:
গরিব দেশের সুবিধা, ধনীর অসুবিধা
চীন ও রাশিয়ার মতো সম্পদশালী দেশে কর্মক্ষম জনগোষ্ঠী কমে আসছে। কিন্তু দক্ষিণ এশিয়া ও আফ্রিকার উন্নয়নশীল দেশগুলোতে কর্মক্ষম জনগোষ্ঠী বাড়ছে। এর কারণ অর্থনৈতিক উন্নয়ন, কর্মসংস্থান, নগরায়ণ ও অভিবাসন।
বদলে যাচ্ছে বিশ্ব অর্থনীতি
ভবিষ্যতেও বিশ্বজুড়ে দুর্বল অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অব্যাহত থাকবে। দারিদ্র্য বিমোচনের উদ্যোগকে হুমকির মুখে ফেলবে এই নিম্ন প্রবৃদ্ধি। ২০০৮-০৯ সালের অর্থনৈতিক মন্দার প্রভাবে বড় বড় অর্থনীতির দেশে কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর পরিমাণ বাড়বে; উৎপাদনব্যবস্থাও বিঘ্নিত হতে পারে। এদিকে চীন তার অর্থনীতির কাঠামো বদলে ফেলবে। রপ্তানি ও বিনিয়োগনির্ভর অর্থনীতি থেকে বেরিয়ে এসে চীন ভোক্তানির্ভর অর্থনীতির দিকে ঝুঁকে পড়বে।
প্রযুক্তির বিপত্তি
তথ্যপ্রযুক্তি খাতের ব্যাপক অগ্রসরতা পরিবর্তনকে ত্বরান্বিত করবে। আবার নতুন নতুন সুযোগ তৈরি করবে। এর ফলে বিজয়ী ও বিজেতার মধ্যে নির্মম পার্থক্য তৈরি করবে। কেননা, স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স) শিল্প খাতের পরিবর্তনকে এত দ্রুততর করবে; অর্থনীতির গতিও এর সঙ্গে তাল মেলাতে পারবে না। এর ফলে শ্রমিকদের সুযোগগুলো নষ্ট হবে।
জাতীয়তাবাদী চেতনা
বিশ্বব্যাপী বাম ও ডানপন্থীদের মধ্যে রাজনৈতিক ব্যবধান বাড়বে, যা উদারীকরণকে ব্যাহত করবে। কিছু রাজনীতিবিদ জাতীয়তাবাদকে উসকে দিয়ে রাজনীতিকে নিয়ন্ত্রণ করবেন। ধর্মীয় প্রভাব ধারাবাহিকভাবে বাড়বে; এমনকি এই শক্তি অনেক দেশের সরকারের চেয়েও বেশি ক্ষমতাশালী হয়ে উঠবে।
সুশাসন কঠিনতর হবে
জনগণ সরকারের কাছে নিরাপত্তা ও সুশাসন চাইবে। কিন্তু দুর্বল রাজস্ব আদায়, পারস্পরিক অবিশ্বাস ও মেরুকরণের পাশাপাশি এত বেশি সমসাময়িক ইস্যু সামনে এসে যাবে; যা সরকারের পারদর্শিতাকে ব্যাহত করবে। তথ্যপ্রযুক্তি জনগণের কাছে আরও বেশি সহজলভ্য হবে; যা রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অনুঘটক হয়ে কাজ করবে। এতে বেসরকারি সংস্থা (এনজিও), করপোরেট প্রতিষ্ঠান ও ক্ষমতাশালী ব্যক্তিদের জন্য বৈশ্বিক ইস্যুগুলো মোকাবিলা করা কঠিন হবে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় সাময়িক ব্যবস্থা নেওয়ার সংখ্যা বাড়বে।
সংঘাতের ধরন
ক্ষমতাশালী দেশগুলোর স্বার্থের জন্য সংঘাতের ঝুঁকি বাড়বে। সন্ত্রাসবাদের হুমকি বাড়বে; দুর্বল দেশগুলোতে অস্থিতিশীলতা অব্যাহত থাকবে; তথ্যপ্রযুক্তির বিপত্তি বাড়বে। তথ্যপ্রযুক্তিকেন্দ্রিক সন্ত্রাসবাদ বাড়বে।
পরিবেশ, জলবায়ু ও স্বাস্থ্য
বিশ্বজুড়ে এ ধরনের সমস্যা আরও বাড়বে, যা মোকাবিলায় সামগ্রিক ব্যবস্থা নেওয়ার তাগিদ বাড়াবে। আবার পারস্পরিক সহযোগিতার ক্ষেত্র তৈরি করাও তুলনামূলক কঠিন হবে। চরম আবহাওয়া, পানি, ভূমি ও খাদ্যনিরাপত্তার বিষয়গুলো বিভিন্ন দেশকে আরও ধ্বংসের মুখে ঠেলে দেবে। জলবায়ু নিয়ে মানুষের দুশ্চিন্তা বাড়বে।

মুদ্রানীতির লক্ষ্য পূরণ হবে বলে মনে হয় না

সম্প্রতি ঘোষণা করা হয়েছে নতুন মুদ্রানীতি। তাতে বেসরকারি খাতে ঋণ সরবরাহ, মুদ্রার বিনিময় হারসহ বেশ কিছু বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কিছু লক্ষ্যের কথা বলা হয়েছে। প্রসঙ্গ হিসেবে এসেছে শেয়ারবাজারও। মুদ্রানীতি ও শেয়ারবাজারের বিভিন্ন দিক নিয়ে প্রথম আলোর সঙ্গে কথা বলেছেন সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অর্থ উপদেষ্টা এ বি মির্জ্জা মো. আজিজুল ইসলাম। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন সুজয় মহাজন
প্রথম আলো: নতুন যে মুদ্রানীতি ঘোষণা করা হয়েছে, অর্থনীতির বর্তমান পরিস্থিতিতে সেটিকে কীভাবে মূল্যায়ন করবেন?
মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম: মুদ্রানীতি মূল্যায়ন করতে গেলে সবার আগে দেখতে হবে এ নীতি কোন সূচকগুলোকে প্রভাবিত করতে পারে এবং সেই সম্পর্কে ওই নীতিতে কী বলা হয়েছে। সাধারণত মুদ্রানীতি দিয়ে তিনটি সূচককে প্রভাবিত করার চেষ্টা করা হয়। প্রথমটি হলো সার্বিক মুদ্রা সরবরাহ (বিশেষ করে বেসরকারি খাতে ঋণের প্রবাহ), দ্বিতীয়টি সুদের হার এবং শেষটি হলো মুদ্রার বিনিময় হার। ঘোষিত মুদ্রানীতিতে সার্বিক মুদ্রা সরবরাহের যে লক্ষ্য বা টার্গেট ধরা হয়েছে (সাড়ে ১৫ শতাংশ) তা গ্রহণযোগ্য। কারণ এ লক্ষ্য অর্জিত হলে চলতি ২০১৬-১৭ অর্থবছরের বাজেটে ঘোষিত মোট দেশজ উৎপাদন বা জিডিপি প্রবৃদ্ধি (৭ দশমিক ২ শতাংশ) ও মূল্যস্ফীতির (৫ দশমিক ৮) লক্ষ্যপূরণের পরও উদ্বৃত্ত থাকবে।
প্রথম আলো: আপনি কি মনে করেন মুদ্রা সরবরাহসহ মুদ্রানীতিতে ঘোষিত অন্যান্য লক্ষ্য পূরণ হবে?
মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম: গত বছরের জুন থেকে নভেম্বর পর্যন্ত বাংলাদেশ ব্যাংকের যে তথ্য তাতে দেখা যাচ্ছে মুদ্রা সরবরাহ পরিস্থিতি নির্ধারিত লক্ষ্যের নিচে রয়েছে। সার্বিক মুদ্রা সরবরাহ ও বেসরকারি ঋণপ্রবাহের ক্ষেত্রেও একই চিত্র। সাম্প্রতিক বাস্তবতায় আমার মনে হয় না মুদ্রানীতিতে যে লক্ষ্য ধরা হয়েছে তা পূরণ হবে। অন্যদিকে দেখা যাচ্ছে, বাংলাদেশ ব্যাংকের নীতিনির্ধারণী সুদের হার (রেপো ও রিভার্স রেপো) অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। বর্তমানে ব্যাংকগুলোতে অতি তারল্য রয়েছে। বেসরকারি খাতে ঋণের চাহিদা কমে যাওয়ায় এ অবস্থা তৈরি হয়েছে। ঋণের চাহিদা বাড়াতে হলে সুদের হার কমাতে হবে। যদিও সম্প্রতি ঋণের সুদ হার কিছুটা কমেছে, তবে তার পাশাপাশি আমানতের সুদও কমেছে। কিন্তু ঋণ-আমানতের সুদ হারের ব্যবধান কমেনি। আমানতকারীদের সুদের হার বজায় রেখে ঋণের সুদ কমাতে হবে। এ ব্যাপারে মুদ্রানীতিতে কোনো ঘোষণা ও উদ্যোগ দেখা যায়নি। ব্যাংকের সংখ্যা বেশি হওয়াও ঋণের সুদ হার না কমার একটি বড় কারণ। ব্যাংকের সংখ্যা কমানোর বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক কিছু বলছে না। তবে অর্থমন্ত্রী কিছুদিন আগে একীভূতকরণ বা মার্জার আইনের কথা বলেছেন। কিন্তু এ বিষয়ে তিনি কতটা সফল হবেন, তা নিয়ে আমার যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে। কারণ নতুন ব্যাংক দেওয়ার বিষয়টি রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত। তাই রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত ছাড়া মার্জার আইন পাস করাও সম্ভব হবে বলে আমার মনে হয় না। আর এ রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের বিষয়ে আমি আশাবাদী নই।
প্রথম আলো: আমরা তো জানি, মন্দ ঋণ বা খেলাপি ঋণের পরিমাণ বাড়ছে। তা কি সুদের হারে প্রভাব ফেলছে না?
মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম: আমাদের শ্রেণিকৃত ঋণ বা খেলাপি ঋণের হার অনেক বেশি। ক্রমশ এটা বেড়ে চলেছে। ২০১৫ সালের ডিসেম্বরে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল মোট বিতরণ করা ঋণের ৮.৮ শতাংশ। ২০১৬ সালের সেপ্টেম্বর শেষে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১০.৩৪ শতাংশ। খেলাপি ঋণের হার কমাতে হলে ব্যাংকগুলোর নিজেদের ব্যবস্থাপনা জোরদার করতে হবে। বিশেষ করে ঋণ প্রস্তাব ঠিকমতো মূল্যায়ন করা, জামানতের মূল্যায়ন ঠিক আছে কি না, ঋণ বিতরণের পর ঋণের সঠিক ব্যবহার যাচাইয়ে নিয়মিত তদারকি এবং খেলাপি হয়ে গেলে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া ও তার দ্রুত নিষ্পত্তির দিকে বিশেষ নজর দিতে হবে। এসব বিষয়ে মুদ্রানীতিতে কোনো দিকনির্দেশনা নেই। তাই আমার মনে হয়, মুদ্রানীতিতে বেসরকারি খাতের ঋণপ্রবাহের যে লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে সেটি অর্জিত হওয়ার সম্ভাবনা কম। একই কারণে সুদের হারও খুবই কমবে বলে মনে হয় না।
প্রথম আলো: মুদ্রানীতিতে মুদ্রার বিনিময় হারের বিষয়ে যা বলা হয়েছে সেটিকে যথাযথ মনে করেন কি?
মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম: বেশ কিছুদিন ধরে আমরা দেখছি মার্কিন ডলারের সঙ্গে টাকার বিনিময় হার মোটামুটি স্থিতিশীল রয়েছে। তবে ডলারের বৈশ্বিক ঝুঁকি রয়েছে। সেই বিষয়ে মুদ্রানীতিতে খুব বেশি আলোচনা নেই। আমার মতে, ব্রেক্সিট এবং ট্রাম্পের দায়িত্ব গ্রহণের পর যেসব সংকেত পাওয়া যাচ্ছে তার ফলে ডলারের বিপরীতে পাউন্ড ও ইউরোর মানের অবমূল্যায়ন হবে। কাজেই ডলারের বিপরীতে টাকার মান যদি একই রকম থাকে তারপরও পাউন্ড ও ইউরোর বিপরীতে টাকার মান বাড়বে। সেটা রপ্তানি খাতকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে। গত ছয় মাসে রপ্তানি খাতে আমেরিকার বাজারে ১১ শতাংশের মতো ঋণাত্মক প্রবৃদ্ধি হয়েছে। সার্বিকভাবে গত জুলাই থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত মোট রপ্তানি আয়ে প্রবৃদ্ধি ৪.৪৪ শতাংশ। আগের বছর এই সময়ে রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি ছিল ৭.৮৪ শতাংশ। এ অবস্থায় মুদ্রানীতিতে মুদ্রার বিনিময় হার প্রসঙ্গে বলা হয়েছে ‘ফ্লেক্সিবল’ নীতি অনুসরণ করা হবে। কিন্তু ফ্লেক্সিবলের বিষয়ে পরিষ্কার করে কিছু বলা হয়নি। আমি মনে করি এই মুহূর্তে ডলারের বিপরীতে আমাদের মুদ্রা বিনিময় হারের অবমূল্যায়ন করা উচিত। অনেক অর্থনীতিবিদ বলে থাকেন আমাদের দেশে শুধু ডলারের ভিত্তিতে হিসাব না করে ‘প্রকৃত কার্যকর মুদ্রা বিনিময়’ ব্যবস্থায় যাওয়া উচিত। আমিও তার সঙ্গে একমত।
প্রথম আলো: দীর্ঘদিন ধরে আমরা দেখছি বিনিয়োগে একধরনের স্থবিরতা বিরাজ করছে। যার কারণে ব্যাংক খাতে ঋণের চাহিদাও কমে গেছে। বিনিয়োগে কেন এ স্থবিরতা?
মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম: সুদের হার কমলেই যে বিনিয়োগ বাড়বে তার কোনো নিশ্চয়তা নেই। তবে একটা সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে। বিনিয়োগের সঙ্গে আরও কিছু সমস্যা জড়িত। প্রথমত অবকাঠামোর দুর্বলতা, বিশেষ করে যোগাযোগ খাতে। বন্দরের সুযোগ-সুবিধার ক্ষেত্রেও দুর্বলতা আছে। তারপর বিনিয়োগের ক্ষেত্রে জ্বালানি বড় প্রতিবন্ধকতা। জমির প্রাপ্যতা নিয়েও সমস্যা আছে। বিদ্যুৎ পরিস্থিতির উন্নতি হলেও শিল্পাঞ্চলে লোডশেডিংয়ের সমস্যা রয়ে গেছে। সার্বিকভাবে দেশে সুশাসন ও দুর্নীতির সমস্যা রয়েছে। বিশ্বব্যাংকের সুশাসন সূচক, সহজে ব্যবসা করার সুযোগসংক্রান্ত সূচকে এখনো আমরা অনেক পিছিয়ে। এসব সমস্যা দূর করা না হলে বিনিয়োগে গতি আসবে বলে মনে হয় না।
প্রথম আলো: ব্যাংক খাতে অতিরিক্ত তারল্যের কথা বলছিলেন। সাম্প্রতিক শেয়ারবাজারের উত্থান কি সে কারণেই?
মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম: অতিরিক্ত তারল্য শেয়ারবাজারমুখী হচ্ছে বলে আমার মনে হয় না। ব্যাংকে আমানতের যে সরবরাহ সেটা বেশ কমে গেছে। ডিমান্ড ডিপোজিট বা চলতি হিসাবের ক্ষেত্রেও ঋণাত্মক প্রবৃদ্ধি। তার মানে সাধারণ মানুষ এখন ব্যাংকে টাকা না রেখে শেয়ারবাজারের দিকে যাচ্ছে। তারই প্রতিফলন ঘটছে।
প্রথম আলো: শেয়ারবাজারের এ উত্থান কে তাহলে আপনি কি স্বাভাবিকই বলছেন?
মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম: একদিক থেকে বিবেচনায় শেয়ারবাজারের সাম্প্রতিক উত্থানে মোটেই উদ্বেগের কোনো কারণ না। তবে দুই-একটি উদ্বেগের বিষয় আছে। তার মধ্যে একটা হচ্ছে বাজার যখন স্বাভাবিকভাবে পরিচালিত হয় তখন দেখা যায়, একদিন-দুদিন বাড়ে আবার কমে। মোটামুটি স্থিতিশীলভাবে ঊর্ধ্বমুখী হয়। আমাদের এখানে এ পরিস্থিতিটাই বিদ্যমান ছিল, কিন্তু বেশ কয়েক দিন আগে বেশ বড় ধরনের উত্থান হয়েছে। সেটা একটা উদ্বেগের কারণ ছিল। যা-ই হোক, এখন কিছুটা কারেকশন হয়েছে। দুর্বল কিছু কোম্পানির শেয়ারের অস্বাভাবিকভাবে দাম বেড়েছে, সেটা কাঙ্ক্ষিত না। তবে সার্বিকভাবে আমি মনে করি, বর্তমানে শেয়ারবাজারের যে সূচক তা এখনো অবমূল্যায়িত পর্যায়ে। এটা আরও বাড়ার সুযোগ আছে, তবে সেই বৃদ্ধিটা যেন স্থিতিশীলতার মধ্য দিয়ে আসে। খারাপ শেয়ারের দাম যেন অস্বাভাবিকভাবে না বাড়ে, সেদিকে সতর্ক দৃষ্টি রাখতে হবে।

স্কয়ার ফুড অ্যান্ড বেভারেজের বার্ষিক বিক্রয় সম্মেলন

কক্সবাজারের হোটেল সি প্যালেসের বলরুমে গত বুধবার স্কয়ার ফুড অ্যান্ড বেভারেজ লিমিটেডের ‘বার্ষিক বিক্রয় সম্মেলন-২০১৭’ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এর উদ্বোধন করেন কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক অঞ্জন চৌধুরী।
সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন কোম্পানির পরিচালক (অর্থ ও হিসাব) মো. গোলাম কিবরিয়া, বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগের প্রধান আবু তৈয়ব সিদ্দিকী, ব্যবস্থাপক এস এম এম ইব্রাহিম মাহমুদ ও বিপণন বিভাগের ঊর্ধ্বতন ব্যবস্থাপক মো. ইমতিয়াজ ফিরোজ। বিজ্ঞপ্তি

নাভানা সিএনজি লিমিটেড ও এক্সপ্রেশানসের চুক্তি

নাভানা গ্রুপের প্রধান কার্যালয়ে নাভানা সিএনজি লিমিটেড (এলপিজি ইউনিট) ও এক্সপ্রেশানস লিমিটেডের মধ্যে গত বুধবার একটি চুক্তি হয়েছে। নাভানা সিএনজির চেয়ারম্যান শফিউল ইসলাম ও এক্সপ্রেশানসের পরিচালক ও ক্রিয়েটিভ হেড ত্রপা মজুমদার এ চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। চুক্তি অনুযায়ী এখন থেকে নাভানা সিএনজির এলপিজি পণ্যের ব্র্যান্ডিং ও বিজ্ঞাপনের সব দায়িত্ব পালন করবে এক্সপ্রেশানস লি.। বিজ্ঞপ্তি

প্যাসন জিনসকে ব্যাংকিং-সেবা দেবে ব্র্যাক ব্যাংক

ব্র্যাক ব্যাংক লিমিটেড ও প্যাসন জিনস লিমিটেডের মধ্যে সম্প্রতি একটি এমপ্লয়ি ব্যাংকিং-সেবাবিষয়ক চুক্তি হয়েছে। ব্র্যাক ব্যাংকের রিটেইল সেলসের প্রধান কায়সার হামিদ ও প্যাসন জিনসের চিফ ফাইন্যান্সিয়াল অফিসার আবুল হাসনাত মোহাম্মদ কামরুজ্জামান এ চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। চুক্তি অনুসারে ব্র্যাক ব্যাংক প্যাসন জিনস লিমিটেডের কর্মকর্তাদের রিটেইল লোন, ক্রেডিট কার্ড, ডিপোজিট প্রোডাক্টস, স্যালারি ডিসবার্সমেন্ট সুবিধাসহ সব ধরনের ব্যাংকিং-সেবা দেবে। বিজ্ঞপ্তি

প্রিমিয়ার ব্যাংক ও লংকাবাংলা ফাইন্যান্সের চুক্তি

প্রিমিয়ার ব্যাংক লিমিটেড ও লংকাবাংলা ফাইন্যান্স লিমিটেডের মধ্যে একটি চুক্তি হয়েছে। প্রিমিয়ার ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও খন্দকার ফজলে রশিদ ও লংকাবাংলা ফাইন্যান্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন চুক্তিপত্রে স্বাক্ষর করেন। এ চুক্তির আওতায় লংকাবাংলা ফাইন্যান্সের ক্রেডিট কার্ডের গ্রাহকেরা প্রিমিয়ার ব্যাংকের যেকোনো শাখায় ভিসা ও মাস্টারকার্ডের বিল জমা দিতে পারবেন। বিজ্ঞপ্তি

কয়লা নিয়ে জেদাজেদির রাজনীতি

বাগেরহাট জেলার রামপালে বাংলাদেশ সরকার একটা কয়লাভিত্তিক তাপবিদ্যুৎকেন্দ্র বানানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। প্রস্তুতিমূলক কাজও এগিয়ে গেছে অনেক দূর। শুরু থেকেই এই প্রকল্পের সমালোচনা হচ্ছে। সমালোচকদের মধ্যে আছে পরিবেশবাদী কয়েকটি এনজিও, বেশ কয়েকটি নাগরিক সংগঠন এবং কয়েকটি রাজনৈতিক দল। সমালোচনা শুধু টক শো আর বিবৃতির মধ্যে থেমে নেই।
তাঁরা রাস্তায় নেমে আন্দোলনও করছেন। এ বিষয়ে যাঁরা বিশেষজ্ঞ হিসেবে পরিচিত কিংবা দাবি করেন, তাঁদের অনেকেই এই প্রকল্পের বিরুদ্ধে সরব, কেউ কেউ এর সমর্থক এবং চেনাজানা অনেকেই মুখে কুলুপ এঁটে বসে আছেন। বিষয়টা যেন জেদাজেদির পর্যায়ে চলে গেছে। আর পরস্পরবিরোধী তত্ত্ব ও দাবির মাঝখানে পড়ে আমজনতা খাবি খাচ্ছে। সমালোচনা এবং বিরোধিতা যদি নাগরিক সমাজের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকত, তাহলে হয়তোবা সমাধানে পৌঁছানোর একটা সম্ভাবনা ছিল। অতীতেও এমনটি হয়েছে। নাগরিকদের কণ্ঠে প্রতিবাদ উচ্চারিত হওয়ায় সিদ্ধান্তে পরিবর্তন এসেছে। উদাহরণ হিসেবে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রের প্রস্তাবিত স্থান পরিবর্তনের কথা বলা যেতে পারে। কিন্তু রামপালে হঠাৎ করেই বিএনপি ঢুকে পড়েছে। ফলে সমীকরণটা একটু পাল্টে গেছে। বিএনপি যে পরিবেশ নিয়ে খুব একটা মাথা ঘামায়, তা বলা যাবে না। বুঝতে হবে, পরিবেশবাদীদের এবং সংশ্লিষ্ট নাগরিক সমাজের এ নিয়ে মাথাব্যথা এবং শঙ্কা থাকলেও বিএনপির কারণে বিষয়টিতে রাজনীতি ঢুকে পড়েছে। যদি তর্কের খাতিরে ধরে নিই, সরকার পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝতে পেরে প্রকল্প বাস্তবায়ন থেকে যদি সরে আসার সিদ্ধান্ত নেয়, তাহলে তারা নিঃসন্দেহে নাগরিকদের সাধুবাদ পাবে। কিন্তু বিএনপি তখনই মহাসমারোহে ‘সুন্দরবন বিজয়’ উৎসব পালন করে বলবে, ‘আমাদের ন্যায্য দাবির কাছে এই অনির্বাচিত সরকার মাথা হেঁট করেছে। এদের আর ক্ষমতায় থাকার কোনো অধিকার নেই।’ আওয়ামী লীগ সরকারের পক্ষে এটা হজম করা প্রায় অসম্ভব। পরিবেশবাদীদের দাবি যতই ন্যায্য এবং যৌক্তিক হোক না কেন, বিএনপির ‘সমর্থন’ তাদের বিপদে ফেলে দিয়েছে। আমার জানামতে, রামপাল প্রকল্পের বিরোধিতাকারীদের বেশির ভাগই বিএনপির রাজনীতির বিপরীত মেরুর বাসিন্দা। তারপরও তাঁদের শুনতে হচ্ছে যে তাঁরা ‘বিএনপি-জামায়াতের তল্পিবাহক এবং দেশের উন্নয়ন চান না।’ প্রচার-প্রচারণায় আন্দোলনকারীরাও কম যান না। সরকার দেশ বেচে দিচ্ছে, ভারত এই প্রকল্প চাপিয়ে দিয়েছে এবং শেখ হাসিনা স্বয়ং সুন্দরবন ধ্বংস করার পাঁয়তারা করছেন—এ ধরনের কথাবার্তা এখন প্রায়ই শোনা যাচ্ছে।
স্কুলে আমাদের একজন শিক্ষক দিনিয়াত পড়াতেন। ক্লাসে দুষ্টুমি করলে শুধু কানমলা দিতেন না, সুর করে বলতেন—কয়লার ময়লা যায় না ধুলে, স্বভাব যায় না মরলে। তখন এতটা বুঝতাম না। কয়লার আবার ময়লা কী? এখন কিছুটা হলেও বুঝি যে কয়লা যতই ধোয়া যায়, তা থেকে কালো রং বের হবে, অর্থাৎ কয়লার গুঁড়া মেশানো পানি দেখা যাবে। কয়লার দূষণ নিয়েই এই কথা। কয়লাকে বলা হয় ‘ভার্টি ফুয়েল’, জলবিদ্যুৎ ছাড়া আর অন্য যেকোনো ধরনের বিদ্যুৎ প্রকল্পে দূষণের আশঙ্কা থাকে। কয়লাভিত্তিক প্রকল্পে থাকে সবচেয়ে বেশি। প্রকল্পের স্থান সুন্দরবনের খুব কাছে। আমরা যুক্তি শুনছি, প্রকল্প এক জায়গায় না হলে আরেক জায়গায় করা যেতে পারে। কিন্তু সুন্দরবন তো একটাই। ওটা খোয়া গেলে তো আরেকটা পাওয়া যাবে না। সুন্দরবন নিয়ে এ দেশের মানুষের আবেগ অপরিসীম। সুন্দরবন ধ্বংস করে একটা ১৩২০ মেগাওয়াটের প্ল্যান্ট হোক, এটা কিছুতেই কাম্য হতে পারে না। আন্দোলনকারীরা সবাই নির্বোধ, এটাও ভাবা যায় না। সরকার ইচ্ছে করে সুন্দরবন ধ্বংস করে দেবে, এটাও তো বিশ্বাস হয় না। তাহলে গোল বাধল কোথায়? রামপালে বিদ্যুৎ প্ল্যান্ট হলে তার প্রভাবে সুন্দরবনের ক্ষতি হবে কি না, এ নিয়েই মতভেদ। ক্ষতি হবে—এটা কি ভয় না বাস্তবতা? এই আশঙ্কা কি হাইপোথেটিক্যাল না প্রমাণিত? সরকারের কর্তারা বলছেন, সুন্দরবনের কোনো ক্ষতি হবে না। প্রধানমন্ত্রীও একই কথা বলছেন। আবার অর্থমন্ত্রী বলেছেন, ‘ক্ষতি হবে, তবে আমরা এটা করব।’ বোঝা যাচ্ছে, সরকারের মধ্যেও ভিন্ন মত আছে। এটা ঠিক যে রামপালের কয়লায় সুন্দরবনে যে আঘাত আসবে, তা ভবিষ্যতের জন্য একটা অনুমান। এই অনুমানের পেছনে যথেষ্ট বৈজ্ঞানিক তথ্য-উপাত্ত আছে বলে আন্দোলনকারীরা দাবি করছেন। কিন্তু অতীত ও বর্তমানের প্রেক্ষাপটে বলা যায়, রামপালে তাপবিদ্যুৎকেন্দ্র না হলে কি সুন্দরবন চিরকাল টিকে থাকবে? এই গ্যারান্টি কে দিল?
গত কয়েক দশকে সুন্দরবন আক্রান্ত হয়েছে নানাভাবে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে উজান থেকে পানির প্রবাহ কমে যাওয়ার ফলে। এখানে প্রধান খলনায়ক হলো ফারাক্কা বাঁধ। এ নিয়ে অতীতে অনেক আলোচনা ও লেখাজোকা হয়েছে। এখন বিষয়টা নিয়ে কেউ আর তেমন মাথা ঘামান না। শুকনো মৌসুমে উজানের পানি ভারত আটকে দেওয়ায় পদ্মার পানি দক্ষিণাঞ্চলে ঢুকছে না। ঢোকার প্রধান পথ গড়াই নদের মুখ শুকিয়ে গেছে। ফলে সুন্দরবন এলাকায় লবণাক্ততা বেড়ে গেছে। এতে চিংড়িচাষিদের পোয়াবারো হলেও সুন্দরবনের প্রাকৃতিক ভারসাম্য নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। অবস্থা এমন চলতে থাকলে সুন্দরবন হয়তো বড়জোর আর ৫০ বছর টিকে থাকবে, এমনটা বলে থাকেন কেউ কেউ। এর সঙ্গে যদি রামপাল যোগ হয়, তাহলে সুন্দরবনের আয়ু হয়তো কমে ৪০ বছরে দাঁড়াবে। অর্থাৎ, সুন্দরবন আর বাঁচানো যাবে না, ১০ বছর আগে হোক কিংবা পরে। এই সময়ে আমরা না হয় কিছু বিদ্যুৎ পেলাম, এই যা লাভ। আমি বিশেষজ্ঞ নই। তবে এ নিয়ে বিশেষজ্ঞরা কথা বলবেন বলে আশা রাখি। আন্দোলনকারীদের সম্পর্কে আমার ধারণা বেশ ইতিবাচক। তাঁদের মধ্যে দু-একজন সম্পর্কে খোঁজ নিয়ে দেখেছি, তাঁরা নিঃস্বার্থভাবেই এই দাবি জানিয়ে আসছেন। তবে তাঁদের সঙ্গে বসন্তের কোকিলও আছেন কেউ কেউ। সুযোগ পেলেই বিবৃতিতে সই দিয়ে তাঁরা সংবাদ শিরোনাম হতে চান। এই আন্দোলনে আমি দুটো কৌশলগত ত্রুটি লক্ষ করেছি। তাঁরা বলছেন, প্রকল্পটি রামপাল থেকে সরিয়ে অন্য কোথাও নিয়ে যাওয়া হোক।
আমার প্রশ্ন হলো, বাংলাদেশে তো কোনো তেপান্তরের মাঠ নেই। সরিয়ে কোথায় নেওয়া হবে? সব জায়গায় তো মানবশিশু আছে, গাছ আছে, মাছ আছে। কয়লা তো আর দূষণমুক্ত হবে না? ধরা যাক, বিদ্যুৎ প্ল্যান্ট রামপাল থেকে সরিয়ে নেত্রকোনায় নিয়ে যাওয়া হলো। তখন কি নেত্রকোনায় এর দূষণ হবে না? সেখানকার মানুষ কি ক্ষতির মুখে পড়বেন না? সমস্যা কি রামপাল, না কয়লা? বলা হয়, সুন্দরবন তো একটাই, ওটা ধ্বংস হয়ে গেলে আরেকটা সুন্দরবন তৈরি হবে না। যুক্তি অকাট্য, সন্দেহ নেই। কিন্তু নেত্রকোনায় আমার সন্তান যদি কয়লার দূষণে হাঁপানি বা ক্যানসারে আক্রান্ত হয়, তার দায়িত্ব কে নেবে? আমার একটা সন্তান গেলে আরেকটা আমি কোথায় পাব? আমি মনে করি, কয়লার ব্যবহার নিয়ে আমাদের একটা রাষ্ট্রীয় নীতি থাকা খুবই জরুরি। আমি আরেকটা বিষয় লক্ষ করেছি। সুন্দরবনের প্রত্যক্ষ সুবিধাভোগী হলেন বৃহত্তর খুলনা জেলার মানুষেরা। সুন্দরবন একটা প্রাকৃতিক প্রতিবন্ধক। এটা না থাকলে ঘূর্ণিঝড়ে ওই এলাকা অনেক আগেই বিরান হয়ে যেত। কিন্তু বিস্ময়ের সঙ্গে দেখছি, আন্দোলন হচ্ছে ঢাকার শাহবাগে। রামপালের নাকের ডগায় বাগেরহাট, খুলনা, সাতক্ষীরায় কোনো আন্দোলন নেই। সম্প্রতি স্কুলের বন্ধুদের এক আড্ডায় অধ্যাপক বদরুল ইমামের সঙ্গে দেখা। তিনি এই আন্দোলনের একজন গোঁড়া সমর্থক। আমি এ বিষয়টা তাঁর কাছে তুললাম।
বললাম, স্থানীয় মানুষেরা নেতৃত্ব দিলে বা অংশগ্রহণ করলে আন্দোলন সফল হয়। কানসাট ও ফুলবাড়ী তার বড় প্রমাণ। বেঁচে থাকার তাগিদে এবং রুটি-রুজির নিরাপত্তার জন্য ওই সব এলাকায় স্থানীয় কৃষকেরা আন্দোলন গড়ে তুলেছিলেন। ঢাকা থেকে সুশীলরা পরে তাতে যোগ দিয়েছেন, সমর্থন করেছেন। রামপাল নিয়ে স্থানীয় মানুষেরা এত নিস্পৃহ কেন? বদরুল বললেন, ‘আমরা ইচ্ছে করলেই ওখানে লাখো মানুষের সমাবেশ ঘটাতে পারি।’ আমি বললাম, তাহলে তা করছেন না কেন? আমার ব্যক্তিগত অভিমত হচ্ছে, শুধু অ্যাকটিভিস্ট দিয়ে আন্দোলন সফল করা যায় না। এ জন্য দরকার জনসমর্থন এবং তাদের সচেতন অংশগ্রহণ। সাধারণ মানুষ সুপার ক্রিটিক্যাল আর আলট্রা-সুপার ক্রিটিক্যাল প্রযুক্তি বোঝে না। মানুষকে বোঝাতে হবে, ক্ষতিটা কোথায় এবং কী প্রক্রিয়ায় হচ্ছে। এ প্রসঙ্গে একটা উদাহরণ দিতে চাই।
এ দেশে স্বায়ত্তশাসনের আন্দোলন হয়েছে ১৯৪৮ সাল থেকেই। কিন্তু আওয়ামী লীগ যখন ১৯৭০ সালের নির্বাচনের আগে ‘সোনার বাংলা শ্মশান কেন?’ শিরোনামে একটা পোস্টার বের করল, নিমেষেই যেন দৃশ্যপট পাল্টে গেল পুরোপুরি। সাধারণ মানুষের ভাষায় তাদের মনের কথাটি বলতে পারার মধ্যেই সাফল্য আসে। ১৯৭০ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ যে ভূমিধস বিজয় পেয়েছিল, এই পোস্টার ছিল তার একটা বড় অস্ত্র। সাধারণ মানুষ অত তত্ত্বকথা বোঝে না, এটাও আমাদের বুঝতে হবে। শেখ হাসিনার সরকার সুন্দরবন ধ্বংস করে ফেলবে, এ কথা আমি বিশ্বাস করি না। কারণ, এতে শেখ হাসিনার কী লাভ? একই সঙ্গে আমি মনে করি, যাঁরা সুন্দরবন নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করছেন, তাঁরাও দেশপ্রেমিক। তাঁদের ঢালাওভাবে বিদেশি কোনো শক্তির দালাল বলার মতো রুচিহীনতা কেন দেখাব? যুক্তির ঝুলি শূন্য হয়ে গেলে প্রতিপক্ষকে গালাগাল দেওয়া যেন আমাদের খাসলত। তারপরও কথা থাকে। বিদ্যুৎ প্রকল্পটি রামপালেই কেন করতে হবে? আমরা যদি ৩০-৪০ হাজার মেগাওয়াটের উৎপাদন ক্ষমতায় পৌঁছানোর চিন্তা করি, তাহলে সামান্য ১৩২০ মেগাওয়াট নিয়ে কেন এই জেদাজেদি?
মহিউদ্দিন আহমদ: লেখক ও গবেষক।
mohi2005@gmail.com

ট্রাম্প, বর্ণবিদ্বেষের প্রসার এবং বিশ্ববিদ্যালয়

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প খুব খেপেছেন। খেপেছেন মুক্তচিন্তার জন্য সারা দুনিয়ায় নামডাকওয়ালা বিশ্ববিদ্যালয় বার্কলির ওপর। গত বৃহস্পিতবার নিজের সরকারি টুইটে তিনি বলেছেন, বার্কলি বিশ্ববিদ্যালয় যদি মুক্তচিন্তা সহ্য করতে না পারে, অন্য মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি শুনতে না চায়, তবে তিনি এই বিশ্ববিদ্যালয়ে ফেডারেল ফান্ড বন্ধ করে দেবেন।
কী এমন ঘটল যে ট্রাম্প রাগ ঝাড়ছেন একটা বিশ্ববিদ্যালয়ের ওপর?
ট্রাম্পের এই গোস্বার কারণ, আগের রাতে (বুধবার) বার্কলি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ঘটে যাওয়া এক অভূতপূর্ব বিক্ষোভের ঘটনা। শিক্ষার্থীরা ট্রাম্পের সমর্থক এক বিখ্যাত সাংবাদিক মাইলো ইয়ানোপুলোসকে ক্যাম্পাসে ঢুকতে দেননি। ওই বিশ্ববিদ্যালয়ে মাইলোর বক্তৃতা দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু শিক্ষার্থীদের প্রতিরোধ-বিক্ষোভ এমন সহিংস হয়ে ওঠে যে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বাধ্য হয়ে মাইলোর কর্মসূচি বাতিল করে। পুরো বিক্ষোভের সময়টা আমি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ছিলাম। এমন সহিংস ঘটনা বার্কলির ক্যাম্পাসে ঘটবে, কেউ কল্পনাও করতে পারেনি। মাইলো ইয়ানোপুলোস বিখ্যাত মোটিভেশনাল স্পিকার। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি অভিবাসননীতি থেকে শুরু করে ট্রাম্পের সব নীতির কট্টর সমর্থক। ঘৃণার বিষবাষ্প ছড়িয়ে দেওয়ার ব্যাপারেও তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ আছে। বার্কলি রিপাবলিকান ক্লাবের আমন্ত্রণে মাইলোর ক্যাম্পাসে বক্তৃতা দেওয়ার কথা ছিল রাত আটটায়। প্রগতিশীল ছাত্রছাত্রীদের আখড়া হিসেবে পরিচিত বার্কলির সাধারণ শিক্ষার্থীরা বেঁকে বসেছেন—মাইলোর মতো এমন ঘৃণা ছড়ানো লোককে তাঁরা ক্যাম্পাসে দেখতে চান না। তাঁকে যেভাবেই হোক প্রতিহত করা হবে। শিক্ষার্থীরা ফেসবুকে একটা ইভেন্ট খোলেন, চারদিকে প্রচার-প্রচারণা চালান। এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলর দুই দিন আগে থেকেই মেইলের পর মেইলে জানিয়ে দিচ্ছিলেন যে বার্কলি ফ্রি স্পিচ মুভমেন্টের জন্মস্থান। এখানে যে কারও কথা বলার অধিকার আছে। বুধবার বিকেল পাঁচটা থেকেই ছাত্রছাত্রীরা ক্যাম্পাসের স্টুডেন্ট ইউনিয়ন বিল্ডিংয়ের সামনে জড়ো হতে থাকেন। কৌতূহল মেটাতে আমিও যাই সেখানে।
এরপর সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত যা দেখেছি, তা দেখার জন্য প্রস্তুত ছিলাম না। বিকেল থেকেই ক্যাম্পাসের আকাশে একটানা চক্কর দিচ্ছিল চারটা হেলিকপ্টার। ক্যাম্পাস–ভর্তি কালো উর্দি পরা পুলিশ। প্রায় তিন হাজার শিক্ষার্থী ব্যানার-প্ল্যাকার্ড নিয়ে শান্তিপূর্ণভাবেই বিক্ষোভ করছিলেন। এর মধ্যে মাইলোও এসে পড়েন। সেই খবর পেয়েই কিনা ছাত্রছাত্রীদের মাথায় আগুন ধরে যায়। কোথা থেকে ভোজবাজির মতো একদল কালো পোশাকধারী ছাত্রছাত্রী পুলিশের দিকে আগুনের গোলা ছুড়ে মারেন। অ্যালুমিনিয়ামের বেড়া ভেঙে সামনে এগিয়ে যেতে থাকেন তাঁরা। বড় বড় পাথর দিয়ে বিভিন্ন ভবনের কাচ গুঁড়া করতে থাকেন। একপর্যায়ে সামনে থাকা জেনারেটরচালিত একটা ফ্লাডলাইটে তাঁরা আগুন ধরিয়ে দেন। বাংলাদেশে এ রকম পরিস্থিতি হলে আমরা ‘রণক্ষেত্র’ শব্দটা ব্যবহার করি। এখানেও সেটা অনায়াসে ব্যবহার করা যায়। শিক্ষার্থীদের মারমুখী ভাব দেখে হতবুদ্ধি পুলিশ কাঁদানে গ্যাস, ফাঁকা গুলি ছুড়তে থাকে। কিন্তু ছাত্রদের মধ্যে কোনো বিকার নেই। কাঁদানে গ্যাসের বিরুদ্ধে তাঁরা মাস্ক নিয়েই এসেছেন। ক্যাম্পাসের এক পাশে এসব চলছে, আরেক পাশে তখন উচ্চনিনাদী মিউজিকের তালে ‘ফা* ইউ ট্রাম্প’ গান, আর সেই সঙ্গে উদ্দাম নৃত্য। আরেক পাশে গলা কাঁপিয়ে ভাষণ দিচ্ছেন কয়েকজন ‘ছাত্রনেতা’। এসব দেখে সোয়া ছয়টার মধ্যেই বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের ঘোষণা: মাইলোর অনুষ্ঠান বাতিল করা হয়েছে। ছাত্রছাত্রীরা যেন ঘরে ফিরে যান। এই খবরে ক্যাম্পাসে উল্লাস, আকাশে ওড়ে অজস্র হাউই বাতি। পুলিশ হ্যান্ডমাইকে বারবার ঘোষণা দিতে থাকে, আগামী ১০ মিনিটের মাঝে ক্যাম্পাস ত্যাগ না করলে পুলিশ তাঁদের গ্রেপ্তার করতে বাধ্য হবে। কিন্তু কে আর ভয় পায় সেটা! চলতেই থাকে প্রতিবাদ। আকাশে বাড়তে থাকে হেলিকপ্টার, কোথা থেকে জানি চলে আসে একটা সেসনা ধরনের হালকা বিমান। সেটা ক্যাম্পাসের আকাশে ঘুরতে ঘুরতে সেখান থেকেই লাউড স্পিকারে ক্যাম্পাস ত্যাগের নির্দেশ দিতে থাকে। কিন্তু তারুণ্যের এই প্রতিবাদ কি সহজে থামে!
থামতে থামতে সেই রাত ১০টা। ক্যাম্পাস তখন গিজগিজ করছে পুলিশে। এই শহরের পুলিশের সঙ্গে এসে যোগ দিয়েছে পাশের শহরের কয়েক শ পুলিশ। আমি কখনো নিরাপদ কখনো অনিরাপদ দূরত্বে দাঁড়িয়ে পুরো ঘটনা দেখলাম, ছবি তুললাম, ভিডিও করলাম, মানুষের ইন্টারভিউ নিলাম। এমন ঘটনা বার্কলির ক্যাম্পাসে দেখব, সেটা আমি কেন, ক্যাম্পাসের কেউই ভাবেনি। মনে মনে একটু মজাও পেলাম। বিদেশে বসে একদম দেশের আবহ। বার্কলির ইতিহাসে এই প্রথম জ্বালাও-পোড়াও আর ভাঙচুরের ঘটনা ঘটল। মজার ব্যাপার হলো, এই ক্যাম্পাসে বিখ্যাত ফ্রি স্পিচ মুভমেন্টের স্মরণে ‘ফ্রি স্পিচ ক্যাফে’ নামে একটা ক্যাফে আছে, যেখানে দাঁড়িয়ে যে কেউ যে কারও বিরুদ্ধে কথা বলতে পারেন। ট্রাম্প এমনই প্রতিবাদের আগুন ধরিয়ে দিয়েছেন যে বার্কলির ক্যাম্পাসে এখন ভিন্নমতাবলম্বী ট্রাম্পের সমর্থকদের স্থান নেই। ছাত্রদের বক্তব্য, জাতিগত বিভেদ ও বিদ্বেষ ছড়ানো হেট স্পিচ কখনো ভিন্নমত হতে পারে না। আর ক্যাম্পাসে এসে মাইলো ইমিগ্র্যান্ট ছাত্রছাত্রীদের এই দেশ থেকে বের করে দেওয়ার ব্যাপারে উসকানিমূলক বক্তব্য দেবেন, সেটা ফ্রি স্পিচ হতে পারে না।
সিমু নাসের: সাংবাদিক।

দর-কষাকষির ক্ষমতা বেড়েছে বাংলাদেশের

২০১৪ সালে লোকসভা নির্বাচনের আগে ‘সেন্টার ফর দ্য স্টাডিজ অব ডেভেলপিং সোসাইটিজ—সিএনএন, আইবিএন এবং দ্য হিন্দু’ যৌথভাবে একটি জরিপ পরিচালনা করে, যার প্রতিপাদ্য ছিল অন্যান্য দেশ সম্পর্কে ভারতের নাগরিকদের মনোভাব। এই জরিপের একটি প্রশ্ন ছিল ভারত কোন কোন দেশকে বিশ্বস্ত বন্ধু ভাবতে পারে? এর উত্তরে সর্বাধিক ৪৮ শতাংশ জানান, বাংলাদেশ। এর পরে ৪৬ শতাংশ পেয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে রাশিয়া।
জরিপটি হয়েছে সারা ভারতের বিভিন্ন ভাষী মানুষের মধ্যে; তাই বাংলাদেশের প্রতি ভারতের বাংলা ভাষাভাষীরা পক্ষপাত করেছেন, এই ওজর তোলার সুযোগ নেই। এর বিপরীতে বাংলাদেশের নাগরিকদের কাছে ঠিক একই প্রশ্ন করলে কি সমসংখ্যক মানুষ ভারত সম্পর্কে অভিন্ন উত্তর দেবে? যদি না দেয়, তার কারণ খুঁজে বের করার দায়িত্ব ভারতের নীতিনির্ধারকদেরই। একটি দেশের মানুষ কখন অপর একটি দেশকে বিশ্বস্ত বন্ধু ভাবে? যখন মনে করে ওই দেশটি দ্বারা ক্ষতি হওয়ার কোনো আশঙ্কা নেই বরং দেশটির নীতিনির্ধারকেরা তাদেরও ভালো চান। ওই জরিপে ৫৪ শতাংশ উত্তরদাতা বলেছেন, ‘পাকিস্তানকে বিশ্বাস করা ঠিক হবে না।’ এই জরিপ আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয় যে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কোন্নয়নে জনগণের সঙ্গে জনগণের যোগাযোগটা খুব জরুরি। কূটনীতির ভাষায় বলে, ‘ট্রাক টু রিলেশন’। চীনের প্রেসিডেন্টের সফরের পর গত বছর ৩০ নভেম্বর ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী মনোহর পারিকর ঢাকায় এসেছিলেন এবং সেটি ছিল ভারতের কোনো প্রতিরক্ষামন্ত্রীর প্রথম বাংলাদেশ সফর। সেই সফর নিয়ে কূটনৈতিক মহলে অনেক জল্পনাও আছে। তিনি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে বৈঠক করেন, যিনি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়েরও মন্ত্রী।
তখন ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী দুই দেশের মধ্যে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছিলেন। যদিও সেই প্রস্তাবের বিস্তারিত কিছু জানা যায়নি। সে সময়ে ভারতীয় হাইকমিশনের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছিল, ‘প্রতিরক্ষামন্ত্রী বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর দক্ষতা ও যোগ্যতা বাড়াতে বেশ কিছু নতুন উদ্যোগের প্রস্তাব দিয়েছেন। মন্ত্রী বাংলাদেশের সমুদ্ররক্ষীদের প্রশিক্ষণেরও প্রস্তাব দেন। তিনি সব ক্ষেত্রে যৌথ উদ্যোগের মাধ্যমে বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনীকে অব্যাহত সহযোগিতারও আশ্বাস দেন।’ কোনো কোনো নিরাপত্তা বিশ্লেষক মনে করেন, ভারত এমন কিছু প্রস্তাব দিয়েছে, যা গ্রহণ করলে এত দিন বাংলাদেশের যে সামরিক কৌশল ছিল বা আছে, তা বদলাতে হবে। সেটি করতে বাংলাদেশ প্রস্তুত আছে কি না, সেটাও বড় প্রশ্ন। বর্তমানে বাংলাদেশ যে সামরিক সরঞ্জাম ও অস্ত্রশস্ত্র আমদানি করে তার ৭৮ শতাংশ জোগান দেয় চীন (সূত্র: ডিপ্লোম্যাট ২১ ডিসেম্বর ২০১৬)। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাংলাদেশের অবকাঠামো উন্নয়নেও দেশটির সহায়তা উত্তরোত্তর বেড়ে চলেছে। অন্যদিকে ভারত থেকে যে ৩০০ কোটি ডলার ঋণ বাংলাদেশ পেয়েছে তার বেশির ভাগই অবকাঠামো উন্নয়ন ও যোগাযোগ খাতে ব্যয় হয়েছে বা হবে, যা বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের রেল, সড়ক ও নৌ সংযুক্তিকে সহজতর করবে। দীর্ঘ মেয়াদে এর থেকে বাংলাদেশ সুফল পেলেও বকেয়া সমস্যাগুলো উপেক্ষা করা যায় না। সরকারের নীতিনির্ধারকেরা মনে করেন, বাংলাদেশ–ভারত সম্পর্ক নিয়ে যেসব সমালোচনা আছে, তিস্তার পানিবণ্টন চুক্তি হলে তা অনেকটাই বন্ধ হতো। ১৯৯৬ সালে শেখ হাসিনা প্রথম ক্ষমতায় এসে গঙ্গার পানিবণ্টনে ৩০ বছর মেয়াদি চুক্তি করেন।
এ ছাড়া পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি করে ভারতে আশ্রয়প্রার্থী মানুষগুলোকেও ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়েছিল। পশ্চিমবঙ্গের তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী জ্যোতি বসুর কারণেই গঙ্গার পানিবণ্টন চুক্তি সম্ভব হয়েছিল। আর ২০১১ সালে ভারতের সাবেক প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংহের ঢাকা সফরের সময় তিস্তা নিয়ে দুই পক্ষ সমঝোতায় পৌঁছালেও সেটি চূড়ান্ত করা যায়নি পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির বিরোধিতার কারণে। তবে ২০১৫ সালে নরেন্দ্র মোদির ঢাকা সফরের পর স্থলসীমান্ত চুক্তি বাস্তবায়ন ছিল দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি মাইলফলক ঘটনা। এর মাধ্যমে ছিটমহলের বাসিন্দাদের দুর্দশার অবসান হয়েছে, ‘দেশহীন’ মানুষগুলো তাদের দেশ ফিরে পেয়েছে। বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্ক এখন অনেক ভালো। কিন্তু আরও ভালো হতে পারত। গত রোববার ভারতের হাইকমিশনার হর্ষবর্ধন শ্রিংলা রাজশাহীতে এক অনুষ্ঠানে বলেছেন, ‘বন্ধুত্ব একটি ইস্যুকে কেন্দ্র করে হয় না। আমরা স্থল ও সমুদ্রসীমান্ত, ভারতীয় বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের কোটামুক্ত প্রবেশাধিকারসহ নানা বিষয়ে কাজ করছি। এগুলোর মধ্যে তিস্তাও আছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এরই মধ্যে যত দ্রুত সম্ভব ইতি টানতে বলেছেন।’ কিন্তু মমতা সেটি করতে দেবেন কি? তিনি তো কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে যুদ্ধ ঘোষণা করেছেন। আগে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি ঢাকা-দিল্লি সম্পর্ককে প্রভাবিত করত, এখন ভারতের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি করছে। কোনোটিই সুস্থতার লক্ষণ নয়। দিল্লিতে হাইকমিশনার সৈয়দ মোয়াজ্জেম আলীর কাছে জানতে চেয়েছিলাম, ‘তিস্তা কতটা এগোল?’ তিনি বললেন, ‘এ ব্যাপারে আমাদের দিক থেকে তো কিছু করণীয় নেই। বল এখন ভারতের কোর্টে।’ আলোচনায় আসে বাংলাদেশ-ভারত সামরিক কৌশলগত সম্পর্কের বিষয়টিও। সৈয়দ মোয়াজ্জেম আলী বললেন, ‘কৌশলগত সম্পর্ক তো আছেই, আমাদের লোকজন এখানে প্রশিক্ষণ নেয়, যৌথ মহড়া হচ্ছে।
সফর বিনিময় করছেন কর্মকর্তারা।’ এ পর্যন্ত ঠিকই আছে। কিন্তু ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রীর প্রস্তাব অনুযায়ী সব ক্ষেত্রে যৌথ উদ্যোগ থাকবে কি না, সেটি মিলিয়ন ডলার প্রশ্ন। একাধিক সামরিক বিশ্লেষক জানিয়েছেন, যেকোনো দেশের সশস্ত্র বাহিনীর একটি কৌশলগত পরিকল্পনা থাকে। তাতে সাধারণত প্রতিবেশী দেশকে যুক্ত করা হয় না। সবকিছুর পর আমাদের চিন্তাভাবনা করতে হবে যেভাবে আছে, সেভাবে চলবে, না নতুনভাবে শুরু করব? তাঁদের মতে, চীন থেকে সাবমেরিন কেনার বিষয়টি ভারতকে কিছুটা ভাবনায় ফেললেও বাংলাদেশের দর-কষাকষির ক্ষমতা বাড়িয়ে দিয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন সেনা-কূটনীতিক বলেছেন, ‘আমরা সাবমেরিন কিনেছি, এটি বড় ঘটনা। এখন যেকোনো দেশ আমাদের হিসাব করে চলবে।’ অভ্যন্তরীণ রাজনীতি নিয়ে যত বিতর্ক থাকুক না কেন, পররাষ্ট্রনীতির ক্ষেত্রে শেখ হাসিনার সরকার মোটামুটি ভারসাম্য রক্ষা করে চলেছে বলেই কূটনীতিকেরা মনে করেন। এ কারণেই এশিয়ার বৃহৎ শক্তি তথা চীন, ভারত ও জাপানের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে ভালো। রাশিয়ার সঙ্গেও সহযোগিতা বেড়েছে। যুক্তরাষ্ট্র, ইইউ কিংবা মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক খারাপ, তাও বলা যাবে না। ভবিষ্যতে পররাষ্ট্রনীতিতে এই ভারসাম্য বজায় রাখা গেলে আমাদের দর-কষাকষির ক্ষমতা আরও বাড়বে। সে ক্ষেত্রে অর্থনৈতিক উন্নয়নের পাশাপাশি যেটি বেশি প্রয়োজন তা হলো গণতান্ত্রিক কাঠামো সুদৃঢ় করা। সম্প্রতি বাংলাদেশ-ভারত বাণিজ্যে নতুন সমস্যা দেখা দিয়েছে পাটজাত পণ্যে অ্যান্টি–ডাম্পিং নিয়ে। আমরা যখন দিল্লি থেকে ফিরছিলাম, তখনই জানতে পারলাম বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ কলকাতা হয়ে ভুবনেশ্বর গিয়েছেন মন্ত্রী পর্যায়ের একটি বৈঠকে যোগ দিতে।
তিনি তাঁর ভারতীয় প্রতিপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে জানিয়েছেন, অচিরেই অ্যান্টি–ডাম্পিং সমস্যার সমাধান হবে। এ ক্ষেত্রে আমাদের রপ্তানিকারকদেরও গাফিলতি ছিল। উৎপাদন খরচের চেয়ে কম দামে পণ্য রপ্তানির অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ভারতের আমদানিকারকেরা যেসব বিষয়ে জানতে চেয়েছিলেন, তার জবাব দেননি অনেকেই। ফলে বাণিজ্যমন্ত্রীকে দৌড়ঝাঁপ করতে হচ্ছে। বাংলাদেশ-ভারত সহযোগিতা সম্মেলনে স্মৃতি ইরানিও অ্যান্টি–ডাম্পিং সম্পর্কে বললেন, ‘একসময় ব্যাটারি নিয়ে এই সমস্যা ছিল, সেটি মিটেছে, পাটের সমস্যাও মিটমাট হয়ে যাবে।’ তবে বস্ত্র দপ্তরের প্রতিমন্ত্রী বস্ত্র-বাণিজ্য নিয়েই বেশি কথা বললেন। তাঁর মতে, ‘আমরা তো জামদানি পর্যটন শুরু করতে পারি। বাংলাদেশের জামদানির উৎস যেখানে, সেখানে যেতে পারেন আমাদের দেশের ক্রেতা, বিক্রেতা ও সংশ্লিষ্ট কর্তারা। আবার ওখানকার ব্যবসায়ীরাও এখানে এসে জামদানির বাজারকে সমৃদ্ধ করতে পারেন। ঢাকাই জামদানির জন্মস্থান। বস্ত্রশিল্পের ক্ষেত্রে আমরা হাত ধরতে পারলে গোটা বিশ্বের শাড়ির বাজারে আধিপত্য করতে পারব।’ দুই দেশে জামদানি বাণিজ্যের প্রসার ঘটুক, পদ্মার ইলিশ ভারতে যাক, এটা আমরাও চাই। কিন্তু তিস্তাসহ অভিন্ন নদীগুলোর পানিবণ্টন সমস্যার সমাধানও করতে হবে। ভারত যুক্তি দেখাচ্ছে, ‘উজানেই নদীতে পানি নেই। আমরা বাংলাদেশকে পানি দেব কোথা থেকে?’ এর সমাধান হলো যৌথ নদী ব্যবস্থাপনার (বাংলাদেশ, ভারত, নেপাল ও ভুটান) মাধ্যমে বর্ষা মৌসুমে পানি আটকে রেখে শুকনো মৌসুমে ভাটির দেশের চাহিদা মেটানো। এ ব্যাপারে বহু বছর ধরেই কথাবার্তা হলেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। সম্মেলনে আনুষ্ঠানিক ও অনানুষ্ঠানিক আলোচনায় ঘুরেফিরে এসেছে মৌলবাদের উত্থান ও জঙ্গি তৎপরতা, বাংলাদেশে সংখ্যালঘু নির্যাতন, ভারতের সংখ্যালঘুদের প্রতি দেশটির কেন্দ্রীয় সরকারের নীতির কথা। দুই দেশের প্রতিনিধিরা অনেক বিষয়ে দ্বিমত প্রকাশ করলেও একটি বিষয়ে একমত হন যে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক মজবুত ও টেকসই করতে হবে। জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধেও একসঙ্গে আমাদের লড়তে হবে। কিন্তু সমস্যাগুলো বকেয়া রেখে তা কতটা সম্ভব হবে, সেই প্রশ্ন থেকেই যায়। (শেষ)
সোহরাব হাসান: কবি, সাংবাদিক।
sohrabhassan55@gmail.com

কী আশায় এসেছিলেন মাহমুদ আব্বাস

ঢাকার রাস্তায় ফিলিস্তিন আর বাংলাদেশের পতাকা পাশাপাশি উড়ছে। দৃশ্যটা মনে করাচ্ছে মুক্তিকামী দুই জাতির সংগ্রামী সংহতির ইতিহাসের কথা। এই সংহতির কথা বাংলাদেশের সংবিধানেও আছে, ‘সাম্রাজ্যবাদ, উপনিবেশবাদ, বা বর্ণবাদের বিরুদ্ধে ন্যায্য সংগ্রামে বিশ্বজুড়ে নিপীড়িত মানুষকে সহায়তা’র প্রতিশ্রুতির মাধ্যমে। মার্কিন লাইব্রেরি অব কংগ্রেসের ১৯৮৮ সালের এক প্রতিবেদন জানাচ্ছে, ‘৮ হাজার বাংলাদেশি যুবক ফিলিস্তিনি মুক্তি সংস্থার (পিএলও) হয়ে যুদ্ধ করার জন্য স্বেচ্ছাসেবক হয়েছিল’। ১৯৮১ ও ১৯৮৭ সালে ইয়াসির আরাফাত ঢাকায় এসে বাংলাদেশিদের ফিলিস্তিনের সংগ্রামে শামিল হওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন। বাংলাদেশ ডাক বিভাগ ১৯৮০ সালে ফিলিস্তিনি মুক্তিযোদ্ধার ছবি দিয়ে একটি ডাকটিকিট প্রকাশ করে। মার্কিন ওই প্রতিবেদনে ফিলিস্তিনি যোদ্ধাদের বাংলাদেশে সামরিক প্রশিক্ষণ পাওয়ার কথাও বলা আছে।
১৯৮২ সালে ইসরায়েলের বৈরুত দখলের প্রাক্কালে ব্রিটিশ যুদ্ধ-সাংবাদিক ক্রিস স্টিল-পার্কিন্স ভূমধ্যসাগর তীরে একদল বাংলাদেশি মুক্তিযোদ্ধার ছবি তুলেছিলেন। ওই যুদ্ধে নিহত বাংলাদেশি যোদ্ধাদের একজন কামাল মোস্তফা আলী। লেবাননের শাতিলা শরণার্থীশিবিরের ফিলিস্তিনি শহীদদের পাশে তাঁর কবর। কবরের সমাধিফলকে আরবিতে লেখা ‘বীরোচিত শহীদ’। ফিলিস্তিনের পক্ষে বীরত্ব দেখিয়েছিলেন আরেক বাংলাদেশি গ্রুপ ক্যাপ্টেন সাইফুল আজম। ১৯৬৭ সালের আরব-ইসরায়েল যুদ্ধে তিনি জর্ডানি ও ইরাকি বিমানবাহিনীর হয়ে যুদ্ধ করেন। তখন তিনি পাকিস্তান বিমানবাহিনীর ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট। আরবে তখন সেক্যুলার জাতীয়তাবাদের স্বর্ণযুগ। কয়েকটি আরব দেশের অনুরোধে পাকিস্তান জর্ডান, সিরিয়া, ইরাক ও মিসরে তাদের বিমানবাহিনীর কিছু সদস্যকে মোতায়েন করে। সাইফুল আজম মাত্র দুটি আকাশযুদ্ধে তিনটি ইসরায়েলি জঙ্গিবিমান ধ্বংস করেন। আজ পর্যন্ত এককভাবে সর্বাধিক ইসরায়েলি বিমান ধ্বংসের রেকর্ড তাঁরই। জর্ডান, ইরাক তাঁকে সম্মাননা দিলেও সর্বোচ্চ উপাধি দিয়েছে মার্কিন বিমানবাহিনী। তিনি বিশ্বের ২২ জন ‘লিভিং ইগলস’ খেতাবধারী বিমানসেনার একজন। সাইফুল আজম ১৯৭৯ সালে গ্রুপ ক্যাপ্টেন হিসেবে বাংলাদেশ বিমানবাহিনী থেকে অবসর নেন। দুঃখের কথা, এই বাংলাদেশি তরুণেরা আগে যেতেন ফিলিস্তিনের পক্ষে লড়াই করতে। এখন সেসব তরুণের অনেকেই বিভ্রান্তির শিকার। কেউ কেউ যান আইএসে যোগ দিতে, যার কার্যকলাপ শেষ পর্যন্ত ইসরায়েলকেই সাহায্য করছে। দুই জাতির এই সংহতি কোনো কাকতালীয় ব্যাপারও নয়, নিছক ধর্মীয় কারণেও নয়।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভাষায়, ‘দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রাম ও ১৯৭১ সালের বীরত্বপূর্ণ মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে আমাদের স্বাধীনতা অর্জনে যেসব মূল্যবোধ, মূলনীতি ও আদর্শ আমাদের অনুপ্রাণিত করেছে, ফিলিস্তিনের জনগণের ন্যায়সংগত সংগ্রামে দৃঢ় সংহতি জানাতে সেগুলোই আমাদের পথ দেখায়।’ (বিডিনিউজ২৪.কম, ২৮ নভেম্বর, ২০১৫) যে ৩৬টি দেশ আজ অবধি ইসরায়েলকে স্বীকৃতি দেয়নি তার মধ্যে মুসলিমপ্রধান বাংলাদেশও যেমন আছে, তেমনি আছে অমুসলিম ভুটান, ভেনেজুয়েলা, বলিভিয়া, নিকারাগুয়ার মতো দেশও। ১৯৬৭ সালের আগের সীমান্তের ভিত্তিতে পূর্ব জেরুজালেমকে রাজধানী করে স্বাধীন ফিলিস্তিনের দাবি বাংলাদেশ অবিচলভাবে সমর্থন করে। এদিকে পৃথিবীতে এখন ট্রাম্প-যুগ চলছে। তিনি যেখানে হাত দেবেন সেটা ভন্ডুল হবে না, তা কি হয়? ট্রাম্প ঘোষণা করেছেন তিনি ইসরায়েলে মার্কিন দূতাবাস তেল আবিব থেকে সরিয়ে জেরুজালেমে নিয়ে যাবেন। এটা করা মানে ইসরায়েলের জেরুজালেমের অবৈধ দখল সম্পূর্ণ হওয়া। ইসরায়েল ও ফিলিস্তিন উভয়েরই স্বপ্ন পবিত্র জেরুজালেম নগরীকে নিজ নিজ রাজধানী করা। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বক্তব্য অনুযায়ী বাংলাদেশের অবস্থান হলো, ‘পূর্ব জেরুজালেমকে কেন্দ্র করে সম্ভাব্য স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা...’।
জেরুজালেমের আল-আকসা মসজিদ মুসলমানদের প্রথম কেবলা ছিল। এখন এটি মক্কা ও মদিনার পর তৃতীয় পবিত্র পুণ্যভূমি। মার্কিন দূতাবাস জেরুজালেমে সরানোর অর্থ আন্তর্জাতিকভাবে জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী হিসেবে স্বীকার করা। তাই ট্রাম্প যদি সত্যিই এটা করেন তাহলে এমনিতেই নারকীয় অবস্থার শিকার মধ্যপ্রাচ্য নতুন করে জ্বলে উঠবে। ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু দাবি করেছেন, জেরুজালেম চিরকালই ইসরায়েলের রাজধানী ছিল এবং থাকবে। দখলদার ও যুদ্ধবাজরা ইতিহাসের মুখোমুখি হতে ভয় পায়। তেল আবিব বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক স্লোমো স্যান্ড দ্য ইনভেনশন অব জুয়িশ পিপল নামক গবেষণাগ্রন্থে দাবি করেছেন, ৭০ খ্রিষ্টাব্দে ইহুদিদের জেরুজালেম থেকে বিতাড়নের ঘটনা অসত্য। তিনি ঐতিহাসিক, প্রত্নতাত্ত্বিক, নৃতাত্ত্বিক ও ডিএনএ বিশ্লেষণের মাধ্যমে প্রমাণ করতে চেয়েছেন আদি ইসরায়েলি হিব্রু জাতির বর্তমান বংশধর ইসরায়েলি ইহুদিরা নয়। বরং খোদ ফিলিস্তিনি মুসলিম ও খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ই বাইবেলে বর্ণিত হিব্রু জাতির উত্তরাধিকারী। ডিএনএ বিশ্লেষণ করে তিনি দেখিয়েছেন ইসরায়েলের ইহুদিরা আদতে এক জাতিও নয়, একই উৎস থেকে তারা আসেওনি। বাইবেলের যুগে ফিলিস্তিন থেকে ইহুদিদের নির্বাসিত হওয়ার মিথটিরও কোনো ঐতিহাসিক ভিত্তি নেই। আজকের ইহুদিদের বেশির ভাগই পূর্ব ইউরোপের খাজারীয় জাতি থেকে আসা আশকেনাজি জনগোষ্ঠীর লোক। তারা ইতিহাসের কোনো একপর্যায়ে ইহুদি ধর্ম গ্রহণ করেছিল।ম মানে দাঁড়াল,
ইউরোপীয় ইহুদিদের দিয়ে আরব ভূমিতে ইসরায়েল প্রতিষ্ঠার কোনো ঐতিহাসিক ও যৌক্তিক ভিত্তি নেই। এই মিথের আড়ালে সত্য নেই, রয়েছে আগ্রাসী ভূরাজনৈতিক প্রকল্প। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় কখনোই জেরুজালেমে ইসরায়েলের দখলদারি মেনে নেয়নি। সম্প্রতি প্যারিসের শান্তি সম্মেলনেও সেই অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে। ফরাসি পররাষ্ট্রমন্ত্রীও হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, জেরুজালেমে মার্কিন দূতাবাস স্থানান্তর করা হলে তা ‘খুবই গুরুতর পরিণতি’ ডেকে নিয়ে আসবে। এর অর্থ হলো, শান্তিপ্রক্রিয়া এবং সেই প্রক্রিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্ব দুইয়েরই অবসান। ইতিমধ্যে চীন-রাশিয়াও ফিলিস্তিনের পক্ষে মতামত জানিয়েছে।কার্যত আরব শান্তি আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের মাতব্বরি খর্ব করেছে রাশিয়া, চীন ও ইইউ। ওদিকে আরব গণমাধ্যম তৃতীয় ইন্তিফাদার (অভ্যুত্থান) আলামত দেখতে শুরু করেছে। ইসরায়েলের ২১ শতাংশ আরব (বেশির ভাগ মুসলিম এবং কিছু অংশ খ্রিষ্টান) এবং ফিলিস্তিনি খ্রিষ্টানরাও জেরুজালেমের ইহুদীকরণ ও ইসরায়েলীকরণ মেনে নেবে না। যে আরব রাষ্ট্রগুলো এখন ইসরায়েল তোষণ করে চলছে, তাদের শাসকেরাও নিজ জনগণের ক্ষোভের মুখে পড়বে। ট্রাম্প প্রশাসনের কয়েকটি মুসলিম দেশের নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্রে ‘নিষিদ্ধ’ ঘোষণার পর জেরুজালেম নিয়ে নয়ছয় করা মানে সরাসরি মুসলমানদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা। এ রকম এক জ্বলন্ত সময়ে মাহমুদ আব্বাস ঢাকা সফর করেছেন। বাংলাদেশে ফিলিস্তিনের শীর্ষ কূটনীতিক বলেছেন, এই সফর ‘অতীব গুরুত্বপূর্ণ’।
এই সফরে দ্বিপক্ষীয়, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক ইস্যুতে দুই দেশের মধ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর হয়েছে। বাংলাদেশ ইতিমধ্যে সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন সামরিক জোটের অংশ। এই জোটের লক্ষ্য মূলত ইরানকে মোকাবিলা করা। কিন্তু জেরুজালেম প্রশ্নে বাংলাদেশের কী নীতি ও পদক্ষেপ নেওয়া উচিত? এর উত্তরের জন্য আমাদের হয়তো আরও অপেক্ষা করতে হবে। কিন্তু ফিলিস্তিনে আবু মাজেন নামে পরিচিত মাহমুদ আব্বাস যে কিছু একটা আশা করে এসেছিলেন, তা পরিষ্কার। বাংলাদেশ তার মিত্রদের নিয়ে ফিলিস্তিনের পক্ষে জাতিসংঘে জোরালো অবস্থান নিতে পারে। শেষ সোভিয়েত নেতা মিখাইল গর্বাচভ সম্প্রতি বলেছেন, পৃথিবী আবার এক মহাযুদ্ধের দিকে এগোচ্ছে। অবশ্যম্ভাবীভাবে সেই যুদ্ধের বড় এক মঞ্চ মধ্যপ্রাচ্য। এ অবস্থায় শতাব্দীর দীর্ঘতম স্বাধীনতা আন্দোলনের নেতা মাহমুদ আব্বাস দেশ থেকে দেশে ছুটে বেড়াচ্ছেন। ফিলিস্তিনিরা আরাফাতকে বলত আবু আমর। আর আব্বাসের অন্য নাম আবু মাজেন। আমরা তাঁর সাফল্য কামনা করি।
ফারুক ওয়াসিফ: সাংবাদিক ও লেখক।
faruk.wasif@prothom-alo.info