Monday, September 5, 2016

পশু মোটাতাজাকরণে স্টেরয়েডের বিপজ্জনক ব্যবহার

ঈদ এলেই কোরবানির জন্য মোটাতাজা, নাদুস-নুদুস গবাদি পশুর চাহিদা বাড়ে। অনেক দেশের মতো বাংলাদেশেও গবাদি পশু এবং পোলট্রি উৎপাদনে নানা ধরনের স্টেরয়েড ব্যবহৃত হয়। এসব স্টেরয়েডের মধ্যে রয়েছে ডেক্সামেথাসন, বিটা মেথাসন, প্রেডনিসোলন, কর্টিসন, ইস্ট্রাডায়ল, টেস্টোস্টেরন, প্রোজেস্টরন, ইস্ট্রোজেন ইত্যাদি। মাংস উৎপাদনে এসব স্টেরয়েডের ব্যবহার স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রতিনিয়তই কৃত্রিম উপায়ে উৎপাদিত এসব মাংস আমরা খাচ্ছি এবং পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ও বিষক্রিয়ার শিকার হচ্ছি। স্টেরয়েডের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে হৃদস্পন্দন বৃদ্ধি, উচ্চরক্তচাপ, এলডিএল কোলেস্টেরলের মাত্রা বৃদ্ধি ও এইচডিএল কোলেস্টেরলের মাত্রা হ্রাস, ইশকিমিয়া, মাইয়োকার্ডিয়াল ইনফার্কশন, হার্ট ফেলিয়ার, স্ট্রোক, অস্টিওপোরোসিস, প্রোস্টেট গ্ল্যান্ড ও স্তনের আকার বৃদ্ধি এবং প্রজনন ক্ষমতা হ্রাস। বিভিন্ন ধরনের স্টেরয়েড হরমোন শরীরের প্রাকৃতিক হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট করে, শরীরের প্রতিরোধ ক্ষমতায় অস্থিতিশীলতা ডেকে আনে; ক্যান্সার সৃষ্টি ছাড়াও লিভার এবং কিডনি ধ্বংস করে। এ কারণে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন ও বিশ্বের ভোক্তা সংগঠনগুলো গত ত্রিশ বছর ধরে মাংস উৎপাদনে স্টেরয়েড ব্যবহার না করার জন্য জোর প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশে ব্যাপক হারে স্টেরয়েড হরমোন ব্যবহৃত হয়ে আসছে গবাদি পশু মোটাতাজাকরণে। যথাযথ কর্তৃপক্ষ ও সরকার ব্যাপারটি গুরুত্বসহ বিবেচনায় নিয়ে জরুরি ভিত্তিতে এর বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে- দেশবাসী এটাই আশা করে। কোরবানির জন্য কী ধরনের পশু কিনলে স্বাস্থ্যঝুঁকি থেকে রক্ষা পাওয়া যাবে, তা নিয়ে ভাবার জন্যও জনসাধারণকে অনুরোধ করছি। মনে রাখতে হবে,
মোটাতাজা, ভারি, স্থবির ও চর্বিযুক্ত গরু ভালো গরু নয়, হালকা-পাতলা, চিকন ও চটপটে গরুই আসলে ভালো গরু। মাঝে মধ্যে মনে হয়, জ্ঞান-বিজ্ঞান ও প্রষুক্তিগত উন্নয়ন আমাদের অনেক সমস্যায় ফেলে দিয়েছে। জ্ঞান-বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিগত উন্নয়নের অপব্যবহারের কারণে মানুষ বিভিন্নভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। উন্নতি, অগ্রগতি এবং বিশ্বায়ন প্রক্রিয়ার কারণে আমরা স্বাভাবিক প্রাকৃতিক জীবন থেকে বহুদূরে ছিটকে পড়েছি এবং অতিমাত্রায় কৃত্রিম জীবনযাপনে অভ্যস্ত হয়ে পড়ছি। যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডায় ছয় রকম অ্যানাবলিক স্টেরয়েড গবাদি পশু ও পোলট্রির ওপর প্রয়োগ করা হয়। এগুলো হল ইস্ট্রাডায়ল, টেস্টোস্টেরন, প্রোজেস্টেরন, ইসট্রোজেন, অ্যানড্রোজেন ট্রেনবোলন অ্যাসিটেড ও প্রোজেস্টিন মেলেঙ্গেস্টেরল অ্যাসিটেড। কেউ যদি হরমোনসমৃদ্ধ গরু, শূকর ও মুরগির মাংস খায় এবং দুধ পান করে, তবে এসব ক্ষতিকর হরমোন পরোক্ষভাবে শরীরে ঢুকে মারাত্মক বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করতে পারে। হরমোনসমৃদ্ধ মাংস এবং দুধ খেলে মানুষের শরীরে বাড়তি হরমোন প্রবেশের কারণে প্রাকৃতিকভাবে উৎপাদিত হরমোনমাত্রায় ভীষণ তারতম্যের সৃষ্টি হয়। কারণ শরীর এমনিতেই এসব হরমোন পর্যাপ্ত মাত্রায় প্রস্তুত করে থাকে। এসব বাড়তি হরমোন গ্রহণের কারণে শিশু ও প্রাপ্তবয়স্করা মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকির মধ্যে পড়ে যায়। বাড়ন্ত শরীরে খাদ্য থেকে প্রাপ্ত সামান্য পরিমাণ হরমোনও শরীরে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। লস এঞ্জেলেস টাইমস পত্রিকার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, একজন আট বছর বয়স্ক শিশু যদি একদিনে স্টেরয়েডসমৃদ্ধ মাংস দ্বারা প্রস্তুত দুটি হ্যামবার্গার খায়, তবে তার শরীরে হরমোনের মাত্রা ১০ শতাংশ বেড়ে যায়। এটাকে অত্যন্ত রক্ষণশীল হিসাব বলে পত্রিকাটি উল্লেখ করেছে।
মনে রাখা দরকার, ছোট শিশুদের শরীরে অত্যন্ত অল্প পরিমাণে প্রাকৃতিক হরমোন থাকে। ক্যান্সার প্রিভেনশন কোয়ালিশন বাবা-মা’দের সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, মাংসে সামান্য পরিমাণ হরমোনের উপস্থিতি শিশুদের বড় ধরনের ক্ষতি করতে পারে। যে কোনো পরিমাণের হরমোনই শিশুদের জন্য অনিরাপদ। কারণ একটি ধাতব মুদ্রার সমান মাংসে কোটি কোটি হরমোন অণু থাকে। স্টেরয়েড হরমোন দ্বারা প্রতিপালিত গরুর মাংস খেলে শিশুদের মস্তিষ্কসহ বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ গঠনে বিপত্তির সৃষ্টি হতে পারে। হরমোনসমৃদ্ধ মাংসের প্রভাবের ওপর ইউরোপীয় ইউনিয়নের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গরুর বয়োবৃদ্ধি ও পেশি গঠনের জন্য ব্যবহৃত ইসট্রোজেন, অ্যানড্রোজেন ও অ্যান্টিঅ্যানড্রোজেনের প্রভাবে শিশুর বাড়ন্ত শরীরের কোনো কোনো অঙ্গ অন্যান্য অঙ্গের চেয়ে বেশি সংবেদনশীল হয়ে পড়ে। শিশুদের মতো বয়স্কদের ক্ষেত্রে মাংসের মাধ্যমে স্টেরয়েড গ্রহণ বিপজ্জনক পরিস্থিতির সৃষ্টি করতে পারে। বিপদ আরও আছে। গবাদি পশুর মল-মূত্রের মাধ্যমে এসব হরমোন আবার পরিবেশে ফিরে আসে। যা আবার অন্যান্য খাদ্যদ্রব্য উৎপাদনে ব্যবহৃত হচ্ছে এবং মানবদেহে ঢুকে আবারও সমস্যা সৃষ্টি করছে। এত সমস্যার পরও যুক্তরাষ্ট্র সরকার ও এফডিএ (ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন) এসব ক্ষতিকর হরমোন ও অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার করে গবাদি পশুর প্রতিপালন এবং বয়োবৃদ্ধি রোধে কোনো কার্যকর আইনগত ব্যবস্থা নিতে অপারগতা প্রকাশ করেছে। যুক্তরাষ্ট্রে বিক্রিত ৮০ শতাংশ অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহৃত হয় গবাদি পশুর মাংস ও পোলট্রি উৎপাদনে। অধিকাংশ অ্যান্টিবায়োটিক স্বাস্থ্যবান গবাদি পশুর ওপর প্রয়োগ করা হয় বয়োবৃদ্ধি ঘটানোর জন্য। কিছু অ্যান্টিবায়োটিক অবশ্য ব্যবহৃত হয় অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে গাদাগাদি করে থাকা গবাদি পশু ও পোলট্রির সংক্রামক রোগ নিরাময়ের জন্য। কিন্তু প্রশ্ন দেখা দিয়েছে,
এসব গবাদি পশু ও পোলট্রির ক্ষেত্রে প্রয়োগকৃত অ্যান্টিবায়োটিক কী এমন সুপারবাগ (জীবাণূ যার বিরুদ্ধে কোনো অ্যান্টিবায়োটিক কার্যকর নয়) নামের দানব সৃষ্টি করছে যা মানব সভ্যতার জন্য মারাত্মক হুমকির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ভোক্তা সংগঠনগুলোর অভিমত হল- গবাদি পশু ও পোলট্রিতে ব্যাপকমাত্রায় অ্যান্টিবায়োটিকের ব্যবহার জনস্বাস্থ্যের জন্য এক মহাবিপর্যয়ের কারণ হয়ে পড়েছে। পশু-পাখির ওপর প্রয়োগকৃত অ্যান্টিবায়োটিকের কারণে এমন সব সুপারবাগের উৎপত্তি হচ্ছে যা প্রথমত মাংসের মাধ্যমে মানবদেহে প্রবেশ করছে এবং দ্বিতীয়ত পরিবেশে ছড়িয়ে পড়ে অনিয়ন্ত্রিত বিস্তার ঘটাচ্ছে। এসব সুপারবাগ জিন ট্রান্সফার বা মিউটেশনের মাধ্যমে অন্যান্য জীবাণুকে অ্যান্টিবায়োটিকের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ ক্ষমতা অর্জনে সাহায্য করছে। এ ধরনের মারাত্মক হুমকি ও বিপদের কথা চিন্তা করে আমেরিকান মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন, আমেরিকান হেলথ অ্যাসোসিয়েশন, ইনফেকশাস ডিজিজ সোসাইটি অব আমেরিকা এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা একমত পোষণ করে ঘোষণা দিয়েছে- পশু খাদ্য উৎপাদনে অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার সর্বনিম্ন পর্যায়ে নামিয়ে আনতে হবে।২০০৩ সালে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, ফুড অ্যান্ড অ্যাগ্রিকালচারাল অর্গানাইজেশন ও ওয়ার্ল্ড অ্যানিম্যাল হেলথ অর্গানাইজেশন কর্তৃক আয়োজিত এক কর্মশালায় বিশেষজ্ঞরা অভিমত প্রকাশ করেন, গবেষকদের হাতে স্পষ্ট তথ্য-প্রমাণ রয়েছে, গবাদি পশু ও পোলট্রিতে ব্যবহৃত অ্যান্টিবায়োটিকের অপব্যবহারের কারণে সৃষ্ট রেজিস্ট্যান্ট জীবাণু জনস্বাস্থ্যের ওপর অপূরণীয় ক্ষতি সৃষ্টি করে।
এসব ক্ষতির মধ্যে রয়েছে- মৃত্যুসহ সংক্রামক রোগের চিকিৎসা ব্যর্থ হয়ে যাওয়া এবং সংক্রামক রোগের ভয়াবহতা বৃদ্ধি পাওয়া। ২০১০ সালে ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন, ইউএস ডিপার্টমেন্ট অব অ্যাগ্রিকালচার ও সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন কংগ্রেসের সামনে সাক্ষ্যদানকালে বলেছে, মাংস উৎপাদনে অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার এবং মানুষের সংক্রামক রোগ চিকিৎসায় অ্যান্টিবায়োটিকের কার্যকারিতা হ্রাস বা লুপ্ত হওয়ার মধ্যে গভীর সম্পর্ক রয়েছে। সিডিসির পরিচালক ড. থোমাস ফ্রিডেন দৃঢ়ভাবে বলেন, মাংস উৎপাদনের উদ্দেশ্যে পশুর ওপর অ্যান্টিবায়োটিক প্রয়োগ এবং মানুষের ক্ষেত্রে অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্সের মধ্য গভীর সম্পর্কের অকাট্য তথ্য প্রমাণ রয়েছে। ২০১২ সালে এফডিএ প্রকাশ করে, অ্যান্টিবায়োটিকের অপব্যবহার ও মাত্রাতিরিক্ত ব্যবহারের কারণে জীবাণুর বিবর্তন প্রক্রিয়ার সহায়ক ভূমিকা পালন করে যার ফলে রেজিস্ট্যান্ট জীবাণুর বংশবৃদ্ধি এবং বিস্তার অ্যান্টিবায়োটিকের প্রতি সংবেদনশীল জীবাণুর চেয়ে অনেক দ্রুত ঘটে থাকে। ফলে এসব রেজিস্ট্যান্ট জীবাণুর কারণে মানুষের সংক্রামিত হওয়ার আশঙ্কা ও ঝুঁকি সংবেদনশীল জীবাণুর চেয়ে অনেকগুণ বেড়ে যায়। ১৯৯৫ সাল থেকে পোলট্রি উৎপাদনে সিপ্রোফ্লক্সাসিন ব্যবহৃত হয়ে আসছে। ১৯৯৯ সালে পরিচালিত এক গবেষণায় দেখা গেল,
পরীক্ষিত ২০ শতাংশ মুরগির বুকের মাংসে সিপ্রোফ্লক্সাসিন রেজিস্ট্যান্ট সংক্রামক রোগ সৃষ্টিকারী ক্যামপাইলোব্যাকটার জীবাণুর উপস্থিতি রয়েছে। দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর ২০০৫ সালে এফডিএ মুরগি উৎপাদনে সিপ্রোফ্লক্সাসিন ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা আরোপে সক্ষম হয়। ২০০৫ সালে মুরগির মাংসে প্রায় ৩০ শতাংশ রেজিস্ট্যান্ট জীবাণুর উপস্থিতি প্রমাণিত হয়। ওষুধটি বন্ধ হওয়ার পর ২০১০ সাল নাগাদ সিপ্রোফ্লক্সাসিন রেজিস্ট্যান্ট জীবাণুর উপস্থিতি ১৩ শতাংশে নেমে আসে। এর সুস্পষ্ট কারণ রয়েছে। যখন কোনো পশুর ওপর অ্যান্টিবায়োটিক প্রয়োগ করা হয়, তখন পশুর মধ্যে জীবাণুর একাংশ অ্যান্টিবায়োটিক ধ্বংস করে; কিন্তু বাকি অংশ অ্যান্টিবায়োটিকের প্রতি সংবেদনশীল না হওয়ার কারণে বহাল তবিয়তে বেঁচে থাকে এবং বংশবৃদ্ধি করতে থাকে। এসব জীবাণুকে আমরা বলে থাকি সুপারবাগ। এ মরণঘাতী সুপারবাগের বিস্তার ঘটলে ব্যাপকহারে মানুষ অসুস্থ হওয়া ছাড়াও মৃত্যুবরণ করতে পারে। ২০১১ সালে ঠিক এ ধরনের একটি ঘটনা ঘটেছিল। যুক্তরাষ্ট্রে সালমোনেলা জীবাণু দ্বারা সংক্রামিত টার্কি মোরগের মাংস খেয়ে হঠাৎ করে ১৩৬ জন মানুষ সংক্রামক রোগে আক্রান্ত হয়ে পড়ে এবং একজনের মৃত্যু হয়। অ্যাম্পিসিলিন, স্ট্রেপ্টোমাইসিন, টেট্রাসাইক্লিন, জেন্টামাইসিনসহ আরও কয়েকটি অ্যান্টিবায়োটিক এ সালমোনেলা জীবাণুর বিরুদ্ধে অকার্যকর হয়ে পড়ে। পরে ৩ কোটি ৬০ লাখ পাউন্ড টার্কি মোরগ বাজার থেকে তুলে নেয়া হয়। অন্য এক ঘটনায় সালমোনেলা জীবাণু দ্বারা সংক্রামিত গরুর মাংস খেয়ে ১৯ জন মানুষ আক্রান্ত হয়ে পড়ে। এ সালমোনেলার বিরুদ্ধে অ্যামোক্সিসিলিন,
ক্ল্যাভুলেনিক অ্যাসিড, অ্যাম্পিসিলিন, সেপ্ট্রিয়াক্সন, সেফোক্সিটিন, কেনামাইসিন, স্ট্রেপ্টোমাইসিন ও সালফিসোক্সাজল অ্যান্টিবায়োটিক কোনো কাজ করেনি। গবাদি পশু ও পোলট্রি উৎপাদনে স্টেরয়েড এবং অ্যান্টিবায়োটিকের ব্যবহার নিঃসন্দেহে জনস্বাস্থ্যের জন্য প্রচণ্ড ঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ ঝুঁকি বিশেষ কোনো অঞ্চল বা দেশের জন্য নয়, এ ঝুঁকি সারা বিশ্বের জন্য। বিশ্বায়নের এ যুগে জ্ঞান-বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির উন্নয়ন এবং বিস্তার কোনো সীমানা মানছে না। যুক্তরাষ্ট্রের মতো পশ্চিমা দেশগুলো যেমন গবাদি পশু ও পোলট্রি উৎপাদনে স্টেরয়েড এবং অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার করছে, তেমনি বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশগুলোও এই একই ক্ষতিকর ওষুধের মাধ্যমে মাংস উৎপাদন করছে। আমরা সেই মাংস প্রতিনিয়ত খাচ্ছি এবং পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ও বিষক্রিয়ার শিকার হচ্ছি। মাংস উৎপাদনে অ্যান্টিবায়োটিকের অপব্যবহারের কারণে যে সুপারবাগের সৃষ্টি হচ্ছে তা এক সময় মহামারি আকারে সারাবিশ্বে ছড়িয়ে পড়তে পারে এবং মানবসভ্যতার জন্য কাল হয়ে দাঁড়াতে পারে। জনগণ ও চাষীদের মধ্যে ইতিমধ্যে কিছুটা সচেতনতা সৃষ্টি হয়েছে বলে প্রচার মাধ্যমগুলোয় প্রচার করা হলেও আমার জানা মতে, বাংলাদেশে এখনও গবাদি পশু ও পোলট্রি উৎপাদনে ব্যাপকহারে নানা ধরনের স্টেরয়েড ব্যবহৃত হয়ে আসছে। আমাদের দাবি, গবাদি পশু ও পোলট্রি উৎপাদনে এসব ক্ষতিকর রাসায়নিক উপাদানের ব্যবহার সম্পূর্ণ বন্ধ করতে হবে।
মুনীরউদ্দিন আহমদ : অধ্যাপক, ফার্মেসি অনুষদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
drmuniruddin@gmail.com

‘ফাঁকা বুলি’ এড়ানোর আহ্বান

চীনের হাং চৌ শহরে গতকাল শুরু হওয়া দুদিনের
জি-২০ সম্মেলনে সমবেত বিশ্বনেতারা। রয়টার্স
নাজুক বিশ্ব অর্থনীতি চাঙা করার প্রত্যয় নিয়ে চীনের হাংচৌ শহরে গতকাল রোববার শুরু হয়েছে জি-২০ সম্মেলন। স্বাগতিক দেশ চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং তাঁর ভাষণে বিশ্ব নেতাদের ‘ফাকা বুলি’ না আওড়ে অর্থবহ আলোচনার আহ্বান জানিয়েছেন। দুই দিনের এই সম্মেলন আজ সোমবার শেষ হওয়ার কথা। সম্মেলনের জন্য ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে চীন। দূষণ কমিয়ে আকাশ পরিষ্কার রাখার জন্য কর্তৃপক্ষ হাংচৌ এবং তার আশপাশের এলাকার হাজার হাজার কলকারখানা কয়েক দিন আগে থেকেই বন্ধ করে দিয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের শহর ছেড়ে বেড়াতে যাওয়ায় আগ্রহী করার জন্য অফিস-আদালতে ছুটি পর্যন্ত ঘোষণা করা হয়। কোনো ধরনের আন্দোলন কিংবা উত্তেজনা এড়াতে বেশ কয়েকজন ভিন্ন মতাবলম্বী নেতাকে আটক করা হয়েছে। নৈসর্গিক শোভামণ্ডিত পূর্বাঞ্চলীয় হাংচৌ শহরের বিশাল গোলাকৃতির সম্মেলনকক্ষে প্রেসিডেন্ট জিনপিং প্রথমে অংশ নেওয়া প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রীদের স্বাগত জানান। এক এক করে তিনি প্রত্যেকের সঙ্গে করমর্দন করেন। তবে রাষ্ট্রাচারের সামান্য ব্যত্যয় ঘটিয়ে তিনি অন্য নেতাদের চেয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার সঙ্গে একটু বেশি সময় ধরে করমর্দন করেন। ভাষণে জিনপিং বলেন, জি-২০ নেতাদের ‘ফাঁকা বুলি না আউড়ে সত্যিকারের কাজের কাজ করা উচিত।’ তিনি বলেন, বৈশ্বিক অর্থনীতি আবার ঘুরে দাঁড়াচ্ছে। তবে এখনো অর্থনীতি ও বাণিজ্য নানা ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ছে। চীন আশা করছে, এই সম্মেলনের সফলতা বিশ্বে তাদের শক্তিশালী ভাবমূর্তি তুলে ধরবে এবং বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ হিসেবে তার গ্রহণযোগ্যতা বাড়বে।
এবারের সম্মেলনের আলোচ্যসূচির মধ্যে বৈশ্বিক ইস্পাত সংকট, ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে যুক্তরাজ্যের বেরিয়ে যাওয়া বা ব্রেক্সিট এবং অ্যাপলের মতো বহুজাতিক কোম্পানির কর নীতি রয়েছে। ভাষণে জিনপিং বলেন, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় আশা করছে এই সম্মেলনের মধ্য দিয়ে অনেক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা সম্ভব হবে। যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে প্রথমবারের মতো কোনো আন্তর্জাতিক সম্মেলনে অংশ নিয়েছেন থেরেসা মে। এ ছাড়া বিদায়ী প্রেসিডেন্ট হিসেবে এই সম্মেলনে যোগ দিয়ে চীনে শেষ রাষ্ট্রীয় সফর করছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। দুই দিনের এই সম্মেলনের প্রথম দিন বিশ্ব অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ছাড়াও বৈশ্বিক ইস্পাত উৎপাদনে চীনের ভূমিকার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করে ইউরোপীয় ইউনিয়ন। চীন অধিক হারে সস্তা ইস্পাত উৎপাদন করায় ইউরোপের ইস্পাতশিল্প ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে জানান ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট জ্যঁ-ক্লদ ইয়ুংকার। তিনি বলেন, ‘চীনকে অবশ্যই তাদের অধিক উৎপাদনে যাওয়ার কারণ বলতে হবে। এটা একেবারেই গ্রহণযোগ্য নয়। তাদের অধিক উৎপাদনের কারণে কয়েক বছর ধরে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে ইউরোপের ইস্পাতশিল্প। চাকরিচ্যুত করা হচ্ছে বহু শ্রমিককে।’ জি-২০ সম্মেলন শুরু হওয়ার এক দিন আগে বিশ্ব প্রবৃদ্ধি পূর্বাভাস আবারও কমানোর ইঙ্গিত দিয়েছেন আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) প্রধান ক্রিস্টিন লাগার্দে। এর আগে জুলাইতে বিশ্ব প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস কমায় সংস্থাটি। আইএমএফ জানায়, চলতি বছর বিশ্বের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) গড় প্রবৃদ্ধি কমে ৩ দশমিক ১ শতাংশ হতে পারে।

মৌলবাদের আর্থিক ভিত্তি

স্বাধীনতা-উত্তর বাংলাদেশে একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের চেতনার জনকল্যাণকামী রাজনৈতিক শক্তির কাক্সিক্ষত বিকাশ ত্বরান্বিত হয়নি। রাষ্ট্রক্ষমতায় ঘুরেফিরে এসেছে স্বৈরতন্ত্র অথবা কালো টাকার স্বার্থবাহী সংসদ। দুর্বৃত্তায়িত হয়েছে অর্থনীতি, আর তা রাজনীতির দুর্বৃত্তায়নের কার্যকর চাহিদা বৃদ্ধি করেছে। অর্থনীতি ও রাজনীতির এ দুর্বৃত্তায়নের হোতা হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে পরসম্পদ লুণ্ঠনকারী-পরজীবীদের দলূ Rent Seekers, যারা আবার সরকার ও রাজনীতিকে তাদের অধীন দাস-সত্তায় পরিণত করেছে। এসবই বঙ্গবন্ধু হত্যা-পরবর্তী বাংলাদেশের রাজনৈতিক অর্থনীতির মর্মবস্তু। আমাদের দেশে রেন্ট-সিকার নিয়ন্ত্রিত অর্থনৈতিক দুর্বৃত্তায়নের নির্দেশকসমূহ হল : গত চার দশকে (১৯৭৫ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত) বাংলাদেশে সরকারিভাবে যে প্রায় ২ লাখ ৫০ হাজার কোটি টাকার সমপরিমাণ বৈদেশিক ঋণ-অনুদান এসেছে তার ৭৫ শতাংশ লুট করেছে দুর্বৃত্তরা (যাদের সংখ্যা আসলে ২ লাখ আর পরিবার-পরিজনসহ ১০ লাখ মানুষ); এরা এখন বছরে প্রায় ৭০ হাজার কোটি টাকার সমপরিমাণ কালো টাকা সৃষ্টি করে (যার ক্রমপুঞ্জীভূত পরিমাণ হবে ৬-৭ লাখ কোটি টাকা), এরাই বছরে ৩০-৪০ হাজার কোটি টাকার সমপরিমাণ অবৈধ অর্থ স্থানান্তর/পাচারের (money laundering) সঙ্গে সম্পৃক্ত; এরাই বছরে ১৫-২০ হাজার কোটি টাকার ঘুষ-দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত; এরাই কমপক্ষে ১ লাখ কোটি টাকার ঋণখেলাপি; এরাই সব ধরনের বড় মাপের অবৈধ অস্ত্র ও ড্রাগ ব্যবসার সঙ্গে সম্পৃক্ত; এরা দেশের কমপক্ষে দেড় কোটি বিঘা খাস জমি ও জলাভূমি অবৈধভাবে দখল করে আছে; এরাই উপকূলীয় অঞ্চলে বৃহৎ চিংড়িঘের ও ব্যাক্তিগত সশস্ত্র বাহিনী গড়ে তুলেছে; যে কোনো সরকারি কেনাকাটায় (মূলত বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির আওতায়) অথবা বড় ধরনের বিনিয়োগে এদেরকে কমপক্ষে ২০ শতাংশ কমিশন দিতে হয় ইত্যাদি।
আর রেন্ট-সিকার নিয়ন্ত্রিত রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়নের বহিঃপ্রকাশ বহুমুখী- অর্থনীতির দুর্বৃত্তরা তাদের অর্থনৈতিক স্বার্থসিদ্ধির জন্য রাজনৈতিক প্রক্রিয়া ও নীতিনির্ধারণী প্রতিষ্ঠান এমনভাবে দখল করেন যেখানে সংবিধানের বিধি মোতাবেক রাষ্ট্র পরিচালন অসম্ভব। তারা মূল ধারার ক্ষমতার রাজনীতি ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান-ব্যাক্তিকে ফান্ড করেন; তারা ঘুষ-দুর্নীতিতে পৃষ্ঠপোষকতা করেন; তারা রাষ্ট্রীয় বাজেট বরাদ্দ নির্ধারণ ও তা ভোগ করার বন্দোবস্ত করেন; তারা লুট করেন সবকিছুূ জমি, পানি, বাতাস এমনকি বিচারের রায়; এবং তারাই বিচারহীনতার সংস্কৃতির ধারক-বাহক-প্রভাবক-ত্বরান্বয়ক-উজ্জীবক। তারা ধর্মের লেবাস যত্রতত্র ব্যবহার করেনূ স্ব-ধার্মিকতা প্রদর্শনে হেন কাজ নেই যা তারা করেন না; এরা অর্থ-প্রতিপত্তি দিয়ে জাতীয় সংসদের আসন কিনে ফেলেনূ তারা জানেন স্থানভেদে ৫ কোটি টাকা থেকে ৫০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করে জাতীয় সংসদের একটি আসন ক্রয়-বিক্রয় সম্ভব এবং সেটা রীতিমতো চর্চা করেন। অর্থনীতি ও রাজনীতির এসব দুর্বৃত্তদের প্রতি মানুষের আত্মার গভীরে অনাস্থা আছে; মানুষের সামনে এখন আর রাজনৈতিক 'role model' বলে কিছু নেইূ এসব প্রবণতা যে হতাশা-নিরাশা সৃষ্টি করেছে, সেগুলোই হয়ে দাঁড়িয়েছে উগ্র সাম্প্রদায়িক মৌলবাদীদের সংগঠন বিস্তৃতির সহায়ক উপাদান। প্রধানত অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়নের কারণে মানুষ তথাকথিত গণতন্ত্রী রাজনীতিবিদদের প্রতি আস্থা হারাচ্ছেন-হারিয়েছেন, আর প্রগতির ধারাও, সেই সঙ্গে তাল মিলিয়ে বিকশিত হয়নি-হচ্ছে না। মানুষ যখন ক্রমাগত বিপন্ন হতে থাকেন, হতে থাকেন হতাশ ও নিরাশ, মানুষ যখন রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের উপর আস্থা হারান এবং আস্থাহীনতা যখন নিয়মে পরিণত হয় তখন ব্যাপক সাধারণ মানুষ উত্তরোত্তর অধিক হারে নিয়তিনির্ভর-ভাগ্যনির্ভর হতে বাধ্য হন। আর এ নিয়তিনির্ভরতা বাড়ছে কৃষিপ্রধান অর্থনীতিতে, যেখানে ৬০ ভাগ কৃষকই এখন ভূমিহীন, যে কৃষি ভিত্তির ওপরই এদেশে বিকশিত হয়েছে ধর্ম।
এ ভ্যাকুয়াম-টাই ব্যবহার করছে মৌলবাদী রাজনীতি। তারা অতীতে চোখের সামনে দেখেছেন কেমন করে সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠী এমনকি অপেক্ষাকৃত দীর্ঘকাল গণতন্ত্র চর্চার স্থান ভারতেও দু’চারটে সংসদ আসন দখল করে ১০/১৫ বছর পরে রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করেছিল এবং মানুষ এই এখনও অনুরূপ দৃশ্য লক্ষ করছেন। অন্যান্য অনেক উদাহরণসহ এটাও বাংলাদেশে রাষ্ট্রক্ষমতার শীর্ষে আরোহনে তাদের স্বপ্নকে বাস্তব করবে বলে তারা মনে করে। আর তারা স্পষ্ট জানে, দলীয় রাজনীতিকে স্বয়ম্ভর করতে তাদের নিজস্ব অর্থনৈতিক শক্ত ভিত প্রয়োজন। অন্যথায় ক্যাডারভিত্তিক দল গঠন ও পরিচালন এবং রাষ্ট্রক্ষমতা দখলের লক্ষ্যে দেশের বিভিন্ন স্থানে ভিন্ন ভিন্ন ধরণের মডেল চর্চা সম্ভব নয়। বাংলাদেশে এখন ক্যাডারভিত্তিক রাজনীতির সহায়তায় মৌলবাদ যেসব আর্থ-রাজনৈতিক মডেলের তুলনামূলক কার্যকারিতা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করছে, তার মধ্যে ১২-টি বৃহৎ বর্গ হল নিম্নরূপ : ১. আর্থিক প্রতিষ্ঠান, ২. শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ৩. ওষুধ শিল্প ও স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠান, ৪. ধর্ম প্রতিষ্ঠান, ৫. ব্যবসায়িক-বাণিজ্য প্রতিষ্ঠান, ৬. যোগাযোগ-পরিবহন ব্যবস্থা সম্পৃক্ত প্রতিষ্ঠান, ৭. জমি ও রিয়েল এস্টেট, ৮. সংবাদ মাধ্যম ও তথ্য প্রযুুক্তি, ৯. স্থানীয় সরকার, ১০. বেসরকারি সংস্থা, ট্রাস্ট ও ফাউন্ডেশন, ১১. ইসলামি জঙ্গি সংগঠন (যেমন বাংলাভাই, জেএমবি, হুজি-বি এবং অনুরূপ কর্মসূচিভিত্তিক সংগঠন/সংস্থা/গ্রপ); এবং ১২. কৃষক-শ্রমিকসহ বিভিন্ন পেশাজীবী সমিতির কর্মকাণ্ড কেন্দি ক প্রতিষ্ঠান। এসব প্রতিষ্ঠানের অনেকগুলোই আনুষ্ঠানিক অর্থে মুনাফা অর্জনযোগ্য নয় (যেমন স্থানীয় সরকার ও পেশাজীবী সমিতি)। এক্ষেত্রে ক্রস-ভর্তুকি দেয়া হয় এবং সেই সঙ্গে মুনাফা-অযোগ্য প্রতিষ্ঠানেও তারা উচ্চ মুনাফা করেন (যেমন বাংলাভাই জাতীয় প্রকল্প যেখানে ভূমি খাজনা, চাঁদাবাজি প্রতিষ্ঠা করা হয়; এমনকি কোনো কোনো অঞ্চলে মাদ্রাসাতেও অত্যুচ্চ মুনাফা অর্থাৎ বছর শেষে ব্যয়ের চেয়ে আয় বেশি হয়)। মানুষের ধর্মীয় আবেগ-অনুভূতি ব্যবহার করে আপাতদৃষ্টিতে মুনাফাঅযোগ্য প্রতিষ্ঠানে মুনাফা সৃষ্টির নিরঙ্কুশ তুলনামূলক সুবিধা (absolute comparative advantage) তাদের আছে।
মৌলবাদের অর্থনীতির উল্লিখিত মডেলগুলোর ব্যবস্থাপনা-পরিচালন কৌশল সাধারণ ব্যবসা-বাণিজ্যের নীতি-কৌশল থেকে অনেক দিক থেকে ভিন্ন। তাদের অর্থনৈতিক মডেল পরিচালন কৌশলের অন্যতম কয়েকটি বৈশিষ্ট্য নিম্নরূপ:
১. প্রতিটি মডেলই রাজনৈতিকভাবে উদ্বুদ্ধ উচ্চমানসম্পন্ন বিশেষজ্ঞ কর্তৃক রাজনৈতিক লক্ষ্যার্জনে নিয়োজিত।
২. প্রতিটি মডেলে বহুস্তরবিশিষ্ট ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি প্রয়োগ করা হয়, যেখানে নির্দিষ্ট স্তরের মূল নীতি-নির্ধারণী কর্মকাণ্ড রাজনৈতিক নেতৃত্বের অধীনস্থ।
৩. বিভিন্ন মডেলের মধ্যে কো-অর্ডিনেশন থাকলেও উচ্চস্তরের কো-অর্ডিনেটরদের পরস্পর পরিচিতি যথেষ্ট গোপন রাখা হয় (এক ধরনের গেরিলা যুদ্ধের রণনীতি বলা চলে)।
৪. প্রতিটি মডেলই সামরিক শৃংখলার আদলে পরিচালিত সুসংবদ্ধ-সুশৃংখল ব্যক্তিখাতের প্রতিষ্ঠান।
৫. কোনো মডেল যখনই আর্থ-রাজনৈতিক উদ্দেশ্য সাধনে অন্য মডেলের তুলনায় অধিক ফলপ্রদ মনে করা হয়, তখনই তা যথাসাধ্য দ্রুত অন্যস্থানে বাস্তবায়িত (replicate) করা হয়। সুতরাং একথা নির্দ্বিধায় বলা চলে, মৌলবাদীরা তাদের অর্থনৈতিক মডেল বাস্তবায়নে ‘রাষ্ট্রক্ষমতা দখলের লক্ষ্যে’ রাজনৈতিকভাবে সম্পূর্ণ সচেতন এবং তা বাস্তবায়নে বিজ্ঞান-প্রযুক্তিকে তারা তাদের মতো করে ঢেলে সাজাতে সচেষ্ট। এ থেকে এও প্রতীয়মান হয় যে, মৌলবাদীর মূলে আছে ভীতি ও আবেগ। আর এ আবেগ আসে ক্রমবর্ধমান অসমতা থেকে, তথাপি এসব আবেগানুভূতি কেবল সেকেলে এবং পিছুটান নয় বরং তারা সৃজনশীল ও ‘আধুনিকতা’র ধারক বাহকও। অনেকেই মনে করেন এ দেশে সশস্ত্র জঙ্গি ধর্মীয় সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠী তাদের কর্মকাণ্ড পরিচালনে সব অর্থ বিদেশ থেকেই পেয়ে থাকে। এ ধারণা বহুলাংশে মিথ্যা হতে পারে, যদিও সম-মতাদর্শী বিদেশী বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে তাদের যৌথ উদ্যোগের ব্যবসা-বাণিজ্য আছে। আর সেই সঙ্গে তাদের নিয়ন্ত্রিত বেসরকারি সংস্থাসমূহের অনুদানের বড় অংশ বিদেশ থেকেই আসে। উল্লিখিত ধারণা বহুলাংশে সত্য নয় এজন্য যে, মৌলবাদ ইতিমধ্যে তার নিজস্ব অর্থনৈতিক শক্ত ভিত তৈরি করতে সক্ষম হয়েছে। আর এসব ঘটনা যে প্রক্রিয়ায় যেভাবে ঘটেছে এবং ঘটছে তা হল এরকম- উগ্র সাম্প্রদায়িকতার বাহক শক্তিটি ১৯৭১-এর মু্িক্তযুদ্ধে জনগণের সম্পদ হরিলুট করেছে এবং পরবর্তীকালে বিভিন্ন দল-উপদলে বিভক্ত হয়ে বিভিন্ন কর্মকাণ্ড পরিচালনে ১৯৭০-৮০-র দশকে প্রচুর পরিমাণে বৈদেশিক অর্থ সরবরাহ পেয়েছে; এসব অর্থসম্পদ তারা সংশ্লিষ্ট আর্থ-রাজনৈতিক মডেল গঠনে বিনিয়োগ করেছে; অধিকাংশ ক্ষেত্রেই তাদের বিনিয়োজিত প্রতিষ্ঠান উচ্চ মুনাফা করছে;
আর এ মুনাফার একাংশ তারা ব্যয় করছে সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে, একাংশ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান প্রসারে, আর (কখনও কখনও) একাংশ নতুন খাত-প্রতিষ্ঠান সৃষ্টিতে। আমার ২০১৫ সালের হিসাবে বাংলাদেশে মৌলবাদের অর্থনীতির বার্ষিক নিট মুনাফা আনুমানিক ২,৮৭৪ কোটি টাকা (প্রায় ৩৭ কোটি মার্কিন ডলার; যেখানে বিনিময় হার ১ ডলার = ৭৮.৪০ টাকা)। এ মুনাফার সর্বোচ্চ ২৭.৮ শতাংশ আসে বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে (ব্যাংক, বীমা, লিজিং কোম্পানি ইত্যাদি); দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ১৯.৪ শতাংশ আসে বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থাসহ ট্রাস্ট ও ফাউন্ডেশন থেকে; বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান থেকে আসে ১০.৬ শতাংশ; ওষুধ শিল্প ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারসহ স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠান থেকে আসে ১০.০ শতাংশ; শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে আসে ৯.৪ শতাংশ; জমিসহ রিয়েল এস্টেট ব্যবসা থেকে আসে ৮.০ শতাংশ, সংবাদ মাধ্যম ও তথ্যপ্রযু্িক্ত থেকে আসে ৭.৪ শতাংশ, আর পরিবহন-যোগাযোগ ব্যবসা থেকে আসে ৭.৪ শতাংশ। নিট মুনাফার এ প্যাটার্ন কিছুটা অনুমাননির্ভর হলেও যথেষ্ট দিক নির্দেশনামূলকূ অর্থাৎ খাত-প্রতিষ্ঠানওয়ারি মৌলবাদের অর্থনীতির বিকাশধারা নির্দেশে যথেষ্ট সহায়ক। সেই সঙ্গে মৌলবাদের অর্থনীতির খাত-প্রতিষ্ঠানওয়ারি নিট মুনাফার যে ধারা দেখা যায়, তা মূল স্রোতের অর্থনীতির সঙ্গেও যথেষ্ট সাযুজ্যপূণর্, যেখানে ইতিমধ্যেই রেন্ট সিকিং উদ্ভূত অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন নিয়ামক ভূমিকায় অবতীর্ণ। বাংলাদেশে মৌলবাদের অর্থনীতি যদি বছরে ২,৮৭৪ কোটি টাকা নিট মুনাফা সৃষ্টি করে থাকে সেক্ষেত্রে আমাদের দেশে অর্থনীতির সাম্প্রদায়িকীকরণ মাত্রা (degree of communalization of economy)- যা মৌলবাদের অর্থনীতির শক্তি-মাত্রা নির্দেশ করেূ হবে নিম্নরূপ:
১. দেশের মোট বার্ষিক জাতীয় বিনিয়োগের (চলতি মূল্যে) ১.০২ শতাংশের সমপরিমাণ, অথবা
২. দেশের মোট বার্ষিক বেসরকারি বিনিয়োগের ১.৩১ শতাংশের এর সমপরিমাণ, অথবা
৩. সরকারের মোট বার্ষিক রাজস্ব আয়ের ২.১ শতাংশের সমপরিমাণ, অথবা
৪. দেশের বার্ষিক রপ্তানি আয়ের ১.৫৪ শতাংশের সমপরিমাণ, অথবা
৫. সরকারের মোট বার্ষিক উন্নয়ন বাজেটের ৫.৫৮ শতাংশের সমপরিমাণ, অথবা
৬. সরকারের বার্ষিক উন্নয়ন বাজেটের অভ্যন্তরীণ সম্পদের ৮.৬২ শতাংশের সমপরিমাণ, অথবা বিগত চল্লিশ বছরে (১৯৭৫-২০১৫) মৌলবাদের অর্থনীতি সৃষ্ট ক্রমপুঞ্জীভূত নিট মুনাফার মোট পরিমাণ হবে বর্তমান বাজারমূল্যে কমপক্ষে ২ লাখ কোটি টাকা। সেই সঙ্গে বিকাশ-বিস্তৃতির সম্ভাবনা নির্দেশে আরও গুরুত্বপূর্ণ হল, যেহেতু মৌলবাদের অর্থনীতির প্রবৃদ্ধির হার (গত ২০ বছরের হিসাবে বার্ষিক গড়ে ১০ শতাংশ) মূল স্রোতের অর্থনীতির প্রবৃদ্ধির হারের (গত ২০ বছরের হিসাবে বার্ষিক গড়ে ৫ শতাংশ) তুলনায় অধিক (শুধু অধিক নয়, দ্বিগুণ বেশি), সেহেতু অর্থনীতির সাম্প্রদায়িকীকরণূ অন্যান্য অবস্থা অপরিবর্তিত থাকলেূ যে উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাবে এ বিষয়ে দ্বিমত পোষণের যুক্তিসংগত কোনো কারণ নেই। মৌলবাদের অর্থনীতির গঠন প্রক্রিয়া, বিস্তৃতি ও সম্ভাবনা-প্রবণতা বিশ্লেষণে কয়েকটি গুরুত্ববহ বিষয় নির্দ্বিধায় বলা সম্ভব,
যা মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বাংলাদেশ বিনির্মাণে এবং মৌলবাদী জঙ্গিত্ব দমনের উপাদান হিসেবে দেখা উচিত। এতক্ষণ যা কিছু বিচার-বিশ্লেষণ করা হল তা থেকে সহজেই অনুমান করা সম্ভব যে, এ প্রক্রিয়ায় আমাদের দেশে ইসলাম ধর্মভিত্তিক মৌলবাদ শুধু মূলধারার অর্থনীতির মধ্যে মৌলবাদের অর্থনীতিই সৃষ্টি ও বিকশিত করেনি, তারা সৃষ্টি করেছে ‘সরকারের মধ্যে সরকার’ এবং ‘রাষ্ট্রের মধ্যে রাষ্ট্র’ (রাষ্ট্রের হেন যন্ত্রাংশ নেই যেখানে তাদের উপস্থিতি সরব-সবল নয়)। এবং তাদের সৃষ্ট মিনি-অর্থনীতি, মিনি-সরকার ও মিনি-রাষ্ট্রের সম্মিলনে এবং বহিঃস্থ শক্তির সহায়তায় তারা ‘অর্থনৈতিক শক্তিভিত্তিক রাজনৈতিক প্রক্রিয়া’র মাধ্যমে রাষ্ট্রক্ষমতাকেই দখল করে নিতে চায়। আর এক্ষেত্রে মৌলবাদী জঙ্গিত্ব ওই উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের কার্যকর রণনীতি মাত্র।
ড. আবুল বারকাত : অর্থনীতিবিদ, অধ্যাপক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

পরস্পরের আকাঙ্ক্ষা বিবেচনায় নিতে হবে

জি–২০ সম্মেলনে নরেন্দ্র মোদি ও শি জিনপিং। এএফপি
ভারত ও চীনকে অবশ্যই একে অন্যের আকাঙ্ক্ষা ও উদ্বেগ বিবেচনায় নিতে হবে বলে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংকে বলেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। গতকাল রোববার চীনের হাংচৌতে জি-২০ সম্মেলনের আগে দ্বিপক্ষীয় এক বৈঠকে মোদি এ মন্তব্য করেন। সন্ত্রাসবাদ ও চীন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডর ইস্যুতে সম্প্রতি চীনের সঙ্গে ভারতের সম্পর্কে টানাপোড়েনের সৃষ্টি হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ জি-২০ সম্মেলনে যোগ দিতে গত শনিবার চীনের হাংচৌ যান ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ওই সম্মেলনের আগে স্বাগতিক চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে তিনি দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে বসেন। এতে মোদি জিনপিংকে বলেন, ‘ভারত ও চীনকে অবশ্যই পরস্পরের আকাঙ্ক্ষা, উদ্বেগ ও কৌশলগত স্বার্থ বিবেচনায় নিতে হবে।’ জবাবে শি জিনপিং বলেন, দুই দেশেরই উচিত তাদের বিভেদ গঠনমূলকভাবে সামাল দেওয়া। আধা ঘণ্টার ওই বৈঠকে চীনা প্রেসিডেন্ট আরও বলেন,
কষ্টার্জিত সুসম্পর্ক বজায় রাখতে ও সহযোগিতা বাড়াতে ভারতের সঙ্গে কাজ করতে চীন রাজি। এ সময় মোদি আরও বলেন, জঙ্গিবাদ মোকাবিলার ক্ষেত্রে কোনো রাজনৈতিক বিবেচনা থাকা উচিত নয়। মনে করা হচ্ছে জাতিসংঘে জইশ-ই-মুহম্মদ প্রধান মাসুদ আজহারকে সন্ত্রাসী ঘোষণার বিষয়ে চীনের বিরোধিতার প্রতি ইঙ্গিত করেই মোদি ওই কথা বলেন। উল্লেখ্য, ভারতের অরুণাচল প্রদেশের সীমানা নিয়ে দেশটির সঙ্গে প্রতিবেশী চীনের পুরোনো বিরোধ রয়েছে। এই অরুণাচলেই সম্প্রতি অত্যাধুনিক ব্রহ্মস ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েন নিয়ে ভারতকে সতর্ক করে চীন। এর কয়েক দিন পরই আবার অরুণাচল সীমান্তের অদূরে চীন স্টিলথ যুদ্ধবিমান মোতায়েন করেছে বলে খবর আসে। এ প্রেক্ষাপটেই গতকাল দ্বিপক্ষীয় শীর্ষ পর্যায়ের এ বৈঠক হয়। এটি তিন মাসের কম সময়ের মধ্যে এশিয়ার শক্তিধর এই দুই নেতার দ্বিতীয় দ্বিপক্ষীয় বৈঠক। আগামী মাসে ভারতের গোয়ায় ব্রিকস সম্মেলনের এক ফাঁকে তাঁদের আবারও বৈঠকে বসার কথা রয়েছে।

মৌয়ের স্বপ্নের মতো দিন

স্বপ্নের মতো দিন কাটছে সাদিয়া ইসলাম মৌয়ের। বাস্তবে স্বপ্নের মতোই দিন কাটে তার। তবে এবারের ঘটনা কিন্তু ভিন্ন। পেশাগত জীবনে নাচ নিয়েই ব্যস্ত থাকতে হয় বেশি। তবে উৎসবকেন্দ্রিক নাটকেও দেখা যায় তাকে। এবারের ঈদে বেশ কয়েকটি নাটকের অনুষ্ঠানে পারফর্ম করবেন তিনি। পাশাপাশি ঈদের জন্য নির্মিত কয়েকটি নাটকে অভিনয় করছেন মৌ। গেল সপ্তাহে নোবেলের বিপরীতে ‘সবুজের আলতো পথে’ নাটকে অভিনয় করেছেন।
এবার অভিনয় করলেন ‘স্বপ্নের মতো দিন’ শিরোনামের একটি নাটকে। নাটকটি রচনা ও পরিচালনা করেছেন আলভী আহমেদ। এতে মৌ’র বিপরীতে অভিনয় করেছেন কল্যাণ কোরাইয়া। নাটকটিতে অভিনয় প্রসঙ্গে মৌ বলেন, ‘নাটকটির গল্প গতানুগতিক ধারার বাইরে। কাজ করে তৃপ্ত আমি। আশা করি দর্শকরাও তৃপ্ত হবেন।’ এ নাটক ছাড়াও সাদিয়া ইসলাম মৌ স্বামী জাহিদ হাসানের নির্দেশনাতেই এবারের ঈদের আরও একটি নাটকে অভিনয় করবেন বলে জানিয়েছেন।

বিসিএল বাদ দিয়ে এনসিএল

বাংলাদেশ ক্রিকেট লীগের (বিসিএল) লংগার ভার্সন শুরু হওয়ার কথা ছিল ২০ সেপ্টেম্বর। কিন্তু হঠাৎ করে আফগানিস্তান সিরিজ চূড়ান্ত হওয়ায় এবং একটি দল তাদের ফ্র্যাঞ্চাইজি তুলে নেয়ার ঘোষণা দেয়ায় এখনই বিসিএল আয়োজন না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিসিবির টুর্নামেন্ট কমিটি। বিসিএলের পরিবর্তে ২৫ সেপ্টেম্বর শুরু হবে জাতীয় ক্রিকেট লীগ (এনসিএল)। এবার ছয়টি ভেন্যুতে অনুষ্ঠিত হবে খেলা। আফগানিস্তান ও ইংল্যান্ডের বিপক্ষে আন্তর্জাতিক সিরিজ আসন্ন। তাই ঢাকা ও চট্টগ্রামের বাইরে রাজশাহী, বগুড়া, খুলনা, ফতুল্লা ও বিকেএসপির দুটি মাঠে বিসিএলের ম্যাচগুলো অনুষ্ঠিত হবে। গত বছর প্রথমবারের মতো জাতীয় লীগ দুই স্তরে অনুষ্ঠিত হয়েছে। দ্বৈত লীগ পদ্ধতির এই প্রতিযোগিতার প্রথম স্তরের শেষ দল রংপুর দ্বিতীয় স্তরে নেমে গেছে। আর দ্বিতীয় স্তরের প্রথম দল বরিশাল প্রথম টায়ারে উঠে এসেছে। চলতি মৌসুমের প্রথম স্তরের দলগুলো হল- বরিশাল, ঢাকা মেট্রো, খুলনা ও ঢাকা
বিভাগ। দ্বিতীয় স্তরের দলগুলো হচ্ছে- রাজশাহী, রংপুর, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগ। রোববার টুর্নামেন্ট কমিটির সভা শেষে চেয়ারম্যান সাইফুল আলম স্বপন বলেন, ‘আগামী ২৫ সেপ্টেম্বর জাতীয় লীগ শুরু হবে। আজকের (কাল) সভায় জেলা ও বিভাগীয় সংস্থার সাধারণ সম্পাদকরা সবাই ম্যাচ ফি বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছেন। আগামী বোর্ড মিটিংয়ে এটা নিয়ে আলোচনা করে ইতিবাচক সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।’ বিসিএল বাদ দিয়ে এনসিএল কেন? জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘জাতীয় দলের অনুশীলনের লক্ষ্যেই আমরা বিসিএল করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু পরবর্তী সময়ে আফগানিস্তানের সঙ্গে সিরিজ চূড়ান্ত হওয়ায় বিসিএল না খেলার সিদ্ধান্ত হয়েছে।’ সাইফুল আলম বলেন, ‘বিসিএলের ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলো জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের ছাড়া খেলতে চায় না। তারা অনেক অর্থ বিনিয়োগ করে। ওই সময় বেশিরভাগ জাতীয় দলের খেলোয়াড় ব্যস্ত থাকবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে।’

আসুন, বরিশাল নগরবাসীকে অনুসরণ করি

এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন বরিশাল নগরের বাসিন্দারা। গত শনিবার তাঁরা উদ্যোগ নিয়ে বরিশাল নগরের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত জেল খাল পরিষ্কার করে ফেলেছেন। নানা নেতিবাচক খবরের ভিড়ে এ রকম একটি খবর আমাদের মনে আশা জাগায়। গতকালের প্রথম আলোয় প্রকাশিত খবর অনুযায়ী, গত মে মাসে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে চালু করা ফেসবুক পেজ ‘বরিশাল: সমস্যা ও সম্ভাবনা’–এর মাধ্যমে নগরের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত সাড়ে তিন কিলোমিটার জেল খাল দখলমুক্ত করার আহ্বান জানান জেলা প্রশাসক গাজী মো. সাইফুজ্জামান। এর সঙ্গে যুক্ত হয় বরিশাল সিটি করপোরেশন। চার মাস ধরে খালের দুই পারে থাকা অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়। এরপর নগরবাসীকে আহ্বান জানানো হয় জেল খাল পরিচ্ছন্নতার কাজে অংশ নেওয়ার জন্য। শনিবার ছিল সেই দিন।
ওই দিন সকালে নগরবাসী সময়ের আগেই জড়ো হতে থাকেন জেল খালের দুই পারে। ছাত্র-শিক্ষক, চিকিৎসক, আইনজীবী, উন্নয়ন সংগঠক, সাংস্কৃতিক সংগঠক, ব্যবসায়ী, রাজনীতিক, পেশাজীবীসহ নগরের কয়েক শ বাসিন্দা একযোগে ঝাঁপিয়ে পড়েন পরিচ্ছন্নতা অভিযানে। বরিশালের নাগরিকেরা স্বেচ্ছায় যে কাজ করে দেখালেন, তা উদাহরণ হয়ে থাকবে। এ ধরনের উদ্যোগ দেশের বিভিন্ন স্থানে নেওয়া হলে দখল ও দূষণের শিকার খালগুলোকে উদ্ধার করা সম্ভব হবে। এ ধরনের স্বতঃস্ফূর্ত নাগরিক উদ্যোগ আরও নানা ক্ষেত্রেই নেওয়া যায়। ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনসহ দেশের অন্যান্য সিটি করপোরেশনও বরিশাল জেলা প্রশাসন ও সিটি করপোরেশনের এ দৃষ্টান্তকে অনুসরণ করতে পারে। এ ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হলে নিজ নিজ শহরকে বাসযোগ্য রাখতে নগরবাসীর সমর্থন ও অংশগ্রহণ পাওয়া যাবে। আসুন, আমরা বরিশাল নগরবাসীকে অনুসরণ করি।

এপিজি সম্মেলন ও বাংলাদেশ

এশিয়া প্যাসিফিক গ্রুপ অব মানি লন্ডারিংয়ের (এপিজি) বার্ষিক সম্মেলনটি হওয়ার কথা ছিল গত ২৩ থেকে ২৮ জুলাই, ঢাকায়। কিন্তু ঠুনকো অজুহাত দেখিয়ে সম্মেলনটি সরিয়ে নেওয়া হলো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে, যা ৫ থেকে ৮ সেপ্টেম্বর হতে যাচ্ছে। এপিজি বার্ষিক সম্মেলনে মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ এবং সন্ত্রাসে অর্থায়নে বাংলাদেশের অগ্রগতি কতটুকু তা অগ্রাধিকার পাবে বলে মনে হচ্ছে, বার্ষিক প্রতিবেদনের ওপর নির্ভর করছে বাংলাদেশের রেটিং (অবস্থান)। ২০১৫ সালের অক্টোবরে এপিজির একটি প্রতিনিধিদল বাংলাদেশের মানি লন্ডারিং এবং সন্ত্রাসে অর্থায়ন প্রতিরোধের কার্যক্রম দেখার জন্য ঢাকা সফর করে। তারা বাংলাদেশের বিভিন্ন সংস্থার সঙ্গে বৈঠকও করে। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সঙ্গে দুটি বৈঠকেই আইনজীবী হিসেবে আমি উপস্থিত ছিলাম। তাদের প্রশ্নের ধরন এবং জিজ্ঞাসার বিভিন্ন বিবরণ শোনার এবং তাদের সঙ্গে সরাসরি আমার আলোচনার সুযোগ হয়েছে। মানি লন্ডারিংয়ের ধারণা নিয়ে এখনো ধোঁয়াশা কাটেনি। পৃথিবীব্যাপী মানি লন্ডারিং এখন একটি গুরুতর সমস্যা। দিনকে দিন এ সমস্যার ব্যাপ্তি ঘটছে। ঘন ঘন আইনের পরিবর্তন-সংশোধন এ ধারণাকে আরও তীব্র থেকে তীব্রতর করছে। এপিজির সেই প্রতিনিধিদলের সঙ্গে আলোচনায় আমার মনে হয় তারাও মানি লন্ডারিংয়ের বিষয়ে অতটা পরিপক্ব নয়, যতটা তারা আমাদের বিভিন্ন প্রশ্নের সম্মুখীন করেছে রেটিং নির্ধারণের ব্যাপারে। এটা অবশ্য আমার ব্যক্তিগত মূল্যায়ন। যদিও এপিজি তাদের সর্বশেষ খসড়া প্রতিবেদনে বাংলাদেশের বিদ্যমান আইন এবং প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো পর্যালোচনা করে, একই সঙ্গে তারা রেটিং প্রদান করে। এপিজি রেটিং বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি ও বিকাশের ক্ষেত্রে একটি মাত্রা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
বাংলাদেশে ২০০২ সালের ৭ এপ্রিল থেকে মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন প্রণয়ন ও কার্যকর হওয়ার পর বাংলাদেশ ব্যাংকে মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ বিভাগ এবং বিভিন্ন বাণিজ্যিক ব্যাংকে মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ ইউনিট চালু করা হয়েছে। সর্বশেষ আইন সংশোধনের মাধ্যমে বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটকে আইনি ক্ষমতা দিয়ে আলাদা প্রতিষ্ঠান হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে, যা বিএফআইইউ নামে সমধিক পরিচিত। দুদক ছাড়াও বিএফআইইউ ও সিআইডিকে মানি লন্ডারিং-সংক্রান্ত অপরাধের তদন্তের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে আইন সংশোধনের মাধ্যমে। দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে প্রথমে বাংলাদেশ মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০০২ প্রণয়ন করে। সন্ত্রাস ও সন্ত্রাসী কার্যক্রমকে প্রতিহত করার উদ্দেশ্যে ২০০৯ সালে সন্ত্রাসবিরোধী আইন প্রণীত হয়। পরে ওই আইনসমূহকে আরও কার্যকর এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে উন্নীত করার লক্ষ্যে মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২; মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন (সংশোধন), ২০১৫ এবং সন্ত্রাসবিরোধী (সংশোধন) আইন ২০১২ ও ২০১৩ প্রণীত হয়। দেশের মানি লন্ডারিং ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে অর্থায়ন প্রতিরোধ কাঠামোকে আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে উন্নীত করার লক্ষ্যে সময় নির্ধারক কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নের মাধ্যমে মানি লন্ডারিং ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে অর্থায়ন প্রতিরোধে বিভিন্ন কার্য সম্পাদন করা হয়। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের বিস্তৃতি ঘটায় যে শঙ্কা ও অনিশ্চয়তার মেঘ জমেছে, তা দূর করতে মানি লন্ডারিং ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন প্রতিরোধে এককভাবে কোনো দেশের পক্ষে সফল হওয়া সম্ভব নয়। এ জন্য সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টাই সুফল বয়ে আনতে পারে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠেয় এপিজির বৈঠকে মানি লন্ডারিং ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন প্রতিরোধে এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলো নতুন দিকনির্দেশনা লাভ করবে আশা করছি। এ ক্ষেত্রে সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশ মারাত্মক চ্যালেঞ্জের মোকাবিলা করছে।
গত কয়েক বছরে সংঘটিত বিভিন্ন সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ছাড়াও দুর্নীতি, অর্থ আত্মসাৎ ও আর্থিক কেলেঙ্কারির ঘটনা জাতীয় অর্থনীতিতে মারাত্মক প্রভাব ফেলেছে। বৈশ্বিক অর্থনীতির অগ্রগামিতার সঙ্গে সঙ্গে সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্রের আর্থিক অপরাধ এবং অন্যান্য অবৈধ কার্যক্রমের মাধ্যমে অর্থ উপার্জনের মাত্রা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। সেই সঙ্গে বাড়ছে বিভিন্ন ধরনের অপরাধপ্রবণতাও। আর এ অপরাধগুলোর মধ্যে মানি লন্ডারিং ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে অর্থায়ন যেকোনো দেশের আর্থিক স্থিতাবস্থাকে বিপন্ন করতে পারে। নিত্য পরিবর্তনশীল কলাকৌশলের মাধ্যমে অপরাধীদের দ্বারা সংঘটিত এ–জাতীয় অপরাধ প্রতিহত করা কখনো কখনো বেশ কঠিন। তবে মানি লন্ডারিং ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন প্রতিরোধে ফিন্যান্সিয়াল অ্যাকশন টাস্কফোর্স (এফএটিএফ) বিশ্বের সব রাষ্ট্রের জন্য আন্তর্জাতিক মানদণ্ড নির্ধারণ করেছে। পাশাপাশি সময়ে সময়ে তা পর্যালোচনা করছে। বাংলাদেশকেও একটি স্বতন্ত্র রাষ্ট্র হিসেবে ওই সংস্থার সুপারিশসমূহ পরিপালন করতে হয়। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী দেশের মানি লন্ডারিং ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন প্রতিরোধ পরিপালন ব্যবস্থা সমুন্নত রাখা এবং দেশে একটি সুসংহত মানি লন্ডারিং ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন প্রতিরোধব্যবস্থা গড়ে তোলার জন্য বাংলাদেশ সরকার দৃঢ় অঙ্গীকারবদ্ধ। উদীয়মান অর্থনীতির দেশ হিসেবে বাংলাদেশের অবস্থান যেভাবে উজ্জ্বল হচ্ছে দিনে দিনে, তা অব্যাহত রাখতে হলে মানি লন্ডারিং ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে অর্থায়ন প্রতিরোধে পরিপূর্ণ সাফল্য অর্জনের পথ ধরে এগোতে হবে। বাংলাদেশের অবস্থা সমুন্নত রাখার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করতে হবে আমাদের সবার। শুধু আইন প্রণয়ন কিংবা আইনের প্রয়োগই মানি লন্ডারিং ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে অর্থায়ন প্রতিরোধে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবে না। আমাদের এই বিশাল দেশপ্রেমিক জনগোষ্ঠীকে এ বিষয়টি সঠিকভাবে অবহিত করতে হবে। তাদের ভেতর সচেতনতা তৈরি করতে হবে। অন্যথায় এ ক্ষেত্রে গৃহীত উদ্যোগের সুফল পাওয়া যাবে না।
মো. খুরশীদ আলম খান: সম্পাদক, ডিএলআর এবং প্যানেল আইনজীবী, দুদকের সুপ্রিম কোর্ট সেল।

তিন লাখ সেনা কমাবে চীন

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জয়ের ৭০তম বার্ষিকী উপলক্ষে এক বিশাল সামরিক কুচকাওয়াজের আয়োজন করেছে চীন। বৃহস্পতিবার সকালে ঐতিহাসিক তিয়েনআনমেন স্কয়ারে এ কুচকাওয়াজ শুরু হয়। উল্লেখ্য, ১৯৪৫ সালের ২ সেপ্টেম্বর দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ আনুষ্ঠানিকভাবে সমাপ্ত হয়। দেশটির সামরিক কুচকাওয়াজের ইতিহাসে এবারই প্রথমবারের মতো সেনাবাহিনীর ১২ হাজার সৈন্য এবং ১ হাজার বিদেশী সেনা অংশ নিয়েছে। এছাড়া এ কুচকাওয়াজের অংশ হিসেবে পাঁচ শতাধিক সমরাস্ত্রের প্রদর্শনী হবে। সবমিলিয়ে দেশটির ইতিহাসে এমন আয়োজন অভূতপূর্ব বলে মনে করা হচ্ছে। বিবিসি অনলাইনের এক খবরে এ তথ্য জানানো হয়েছে। দক্ষিণ চীন সাগর নিয়ে মালয়েশিয়া, ফিলিপিন্স, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া এবং পূর্ব চীন সাগরের বিতর্কিত এলাকা নিয়ে জাপানের সঙ্গে চীনের সম্পর্কের টানাপোড়েন চলছে। এছাড়া এ দুই সাগরের বিতর্কিত এলাকায় চীনের সামরিক উপস্থিতি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গেও দেশটির কূটনৈতিক সম্পর্ক ভালো যাচ্ছে না। ঠিক এ সময় বিশালাকারের এ সামরিক কুচকাওয়াজ অন্যদের কাছে চীনের সামরিক শক্তি প্রদর্শনেরই ইঙ্গিত দিচ্ছে। বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় সকাল ১০টায় তিয়েনআনমেন স্কয়ারে কুচকাওয়াজ শুরু হয়।
অনুষ্ঠানের শুরুতেই চীনা প্রেসিডেন্ট তার বক্তব্যে ‘যেসব চীনা নাগরিক জাপানের আগ্রাসনের বিরুদ্ধে অটলভাবে লড়াই করেছে’ তাদের প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন। একই সঙ্গে তিনি সেনাবাহিনী থেকে ৩ লাখ সেনা কাটছাঁটের ঘোষণা দেন। তবে কবে থেকে এটি শুরু হবে তা তিনি জানাননি। কুচকাওয়াজে ফ্লাই পাস্ট করেছে ২০০ যুদ্ধবিমান। এছাড়া দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র, ট্যাংকসহ পাঁচ শতাধিক সমরাস্ত্রের প্রদর্শনী হবে। রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা সিনহুয়া জানিয়েছে, এ কুচকাওয়াজের মাধ্যমে অস্ত্রভাণ্ডারের ৮০ ভাগই এ প্রথম জনসম্মুখে তুলে ধরছে চীন। অনুষ্ঠানে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ­াদিমির পুতিন, সুদানের ওমর আল বশির, দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট জ্যাকব জুমা, দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট পার্ক গিউন হাই এবং জাতিসংঘের মহাসচিব বান কি মুনসহ ৩০টি দেশের সরকার প্রধান ও প্রতিনিধি যোগ দিয়েছেন। এর আগে বারাক ওবামাসহ পশ্চিমা নেতাদের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে আমন্ত্রণ জানিয়েছিল চীন। তবে দ. চীন সাগর ও পূর্ব চীন সাগর নিয়ে অব্যাহত সামরিক উত্তেজনার পরিপ্রেক্ষিতে পশ্চিমা নেতারা আমন্ত্রণ প্রত্যাখ্যান করেছেন। চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক শক্তির তুলনা চীন বাজেট যুক্তরাষ্ট্র
১২৯ বিলিয়ন ডলার ৫৮১ বিলিয়ন ডলার
২.১% জিডিপি থেকে ব্যয়ের হার ৩.৫%
২,৩৩৩,০০০ সেনাসংখ্যা ১,৪৩৩,১৫০
৬,৫৪০ ট্যাংক ২,৭৮৫
১,৬৬৭ যুদ্ধবিমান ২,৩৯৭
৬টি প্রোটোটাইপ স্টিলথ যুদ্ধবিমান ২৪৬
৬৯ সামরিক ড্রোন ৫১৭
১ যুদ্ধবিমানবাহী জাহাজ ১০
১৭ ডেস্ট্রয়ার ৬২
৬৬ আন্তঃমহাদেশীয় ক্ষেপণাস্ত্র ৪৫০