Sunday, September 27, 2026
ট্রাম্পের ক্ষমতার সীমাবদ্ধতা দেখল বিশ্ব
কিন্তু অনেক বিশ্লেষক মনে করছেন, এক সপ্তাহে ট্রাম্পের একের পর এক কূটনৈতিক তৎপরতা দেশ–বিদেশে তাঁর সামনে থাকা সমস্যাগুলো কাটিয়ে উঠতে খুব একটা কাজে আসেনি।
ট্রাম্প যেসব সমস্যার মধ্যে আছেন, তার মধ্যে বিস্তৃত হতে থাকা ইরান যুদ্ধ অন্যতম। এর প্রভাবে প্রায় সারা বিশ্বের মতো যুক্তরাষ্ট্রেও জ্বালানির দাম বেড়েছে। কমেছে ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা। কোনো কোনো মিত্রের সঙ্গে তাঁর সম্পর্কের অবনতি হচ্ছে। একই সময়ে চীনের সঙ্গে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) নিয়ে প্রতিযোগিতাও আরও তীব্র হচ্ছে।
নিজের ক্ষমতার সীমাবদ্ধতা প্রকাশ পেয়ে যাওয়ার পর, মধ্যপ্রাচ্য সংকট থেকে শুরু করে ইউক্রেনে রাশিয়ার যুদ্ধ পর্যন্ত নানা বিষয়ে ট্রাম্প বিশ্বনেতাদের বাধার মুখে পড়েছেন। ফলে তাঁর পররাষ্ট্রনীতি থমকে গেছে বলে ধারণা তৈরি হয়েছে।
এর মধ্যে আগামী নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচন। ট্রাম্পের নীতির কারণে তাঁর দল রিপাবলিকান পার্টির এই নির্বাচনে হেরে প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটের নিয়ন্ত্রণ হারাতে পারে। ফলে তাঁর রাজনৈতিক পরিসর আরও সংকুচিত করতে পারে।
গত মঙ্গলবার জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ট্রাম্পের ভাষণ ছিল বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। দ্বিতীয় মেয়াদে হোয়াইট হাউসে ফেরার পর কীভাবে তিনি খোদ যুক্তরাষ্ট্রের গড়ে তোলা নিয়মভিত্তিক বৈশ্বিক ব্যবস্থাকে নাড়িয়ে দিয়েছেন, তাঁর ভাষণে সেই চিত্র স্পষ্ট হয়েছে।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ধ্বংসযজ্ঞের পর শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য গড়ে ওঠা আন্তর্জাতিক সংস্থাটির মঞ্চে দাঁড়িয়ে ট্রাম্প ইরানকে নতুন করে হুমকি দেন। তিনি বলেন, ইরান হয় চুক্তিতে রাজি হবে, না হয় দেশটিকে নিশ্চিহ্ন করে দেওয়া হবে।
তেল রপ্তানিকারক দেশগুলোর জোট ওপেকের সদস্য ভেনেজুয়েলার বিরুদ্ধে নিজের কঠোর অবস্থানও তুলে ধরেন ট্রাম্প। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘বিজয়ীরাই লুটের মালের অধিকার পায়।’
আন্তর্জাতিক লক্ষ্য অর্জনে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক শক্তি ব্যবহারের পথ থেকেও ট্রাম্প সরে আসেননি। বরং ইঙ্গিত দিয়েছেন, এ পথে তাঁর আরও পদক্ষেপ থাকতে পারে।
এরপর গত বৃহস্পতিবার ট্রাম্প চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের মুখোমুখি হন। চীনের নেতাকে যেখানে তুলনামূলকভাবে শক্ত অবস্থানে দেখা গেছে।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে চীনের বাণিজ্য দ্রুত বাড়ছে। অন্যদিকে ইরান সংঘাতের অর্থনৈতিক প্রভাব সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র।
সি–ট্রাম্প বৈঠকে সীমিত ফলাফল
চীনের প্রেসিডেন্টের যুক্তরাষ্ট্র সফরে জাঁকজমক ও আনুষ্ঠানিকতার কমতি ছিল না হোয়াইট হাউসের। কিন্তু এত আয়োজনের বাস্তব ফলাফল ছিল সীমিত। দুই নেতার বৈঠকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), বাণিজ্য, তাইওয়ান ও ইরানের মতো গুরুত্বপূর্ণ ও জটিল বিষয় নিয়ে আলোচনা হলেও তেমন অগ্রগতি হয়নি।
তবে সবচেয়ে স্পষ্ট ফলাফল ছিল বাণিজ্য সমঝোতার মেয়াদ আরও দুই মাস বাড়ানো। বিশ্বের দুই বৃহত্তম অর্থনীতির মধ্যে এই বাণিজ্য সমঝোতার মেয়াদ নভেম্বরে শেষ হওয়ার কথা ছিল।
ট্রাম্প প্রকাশ্যে দুই দেশের মতপার্থক্য নিয়ে কথা বলতে খুব একটা আগ্রহ দেখাননি। তবে চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, রুদ্ধদ্বার বৈঠকে সি তাঁকে তাইওয়ানের স্বাধীনতার বিরোধিতা করার আহ্বান জানিয়েছেন। গণতান্ত্রিকভাবে পরিচালিত এ দ্বীপটিকে চীন নিজেদের ভূখণ্ড বলে দাবি করে। ওয়াশিংটন ও বেইজিংয়ের সম্পর্কে তাইওয়ান সবচেয়ে বিরোধপূর্ণ বিষয়।
তাইওয়ান ইস্যুতে ট্রাম্পের এই আপাত সংঘাত এড়িয়ে চলার অবস্থান তাঁর আগের কড়া অবস্থান থেকে সম্পূর্ণ আলাদা। আগে তিনি শুল্ককে হাতিয়ার করে চীনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছিলেন। তবে বিরল খনিজের ওপর বেইজিংয়ের নিয়ন্ত্রণ থাকায় ট্রাম্পের সেই হাতিয়ার বুমেরাং হয়েছে। প্রযুক্তি ও গাড়ি উৎপাদনে এসব খনিজ গুরুত্বপূর্ণ কাঁচামাল। প্রতিশোধ হিসেবে এগুলোর সরবরাহ বন্ধ রাখার সক্ষমতা দেখিয়েছে চীন।
সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা প্রশাসনের পররাষ্ট্রনীতিবিষয়ক উপদেষ্টা এবং বর্তমানে কৌশলগত পরামর্শক প্রতিষ্ঠান গ্লোবাল সিচুয়েশন রুমের প্রধান ব্রেট ব্রুয়েন বলেন, ‘ট্রাম্প এমন এক বিশ্বে আমাদের ফিরিয়ে নেওয়ার কথা ভাবছেন, যেখানে “জোর যার অধিকার তার” মূলনীতি। কিন্তু সি চিন পিং ও ক্রমবর্ধমান চীনা শক্তির প্রসঙ্গ এলেই তিনি কতটা নরম হয়ে যান, সেটি লক্ষ করার মতো।’
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রশ্নের জবাবে হোয়াইট হাউসের একজন কর্মকর্তা ট্রাম্পের পররাষ্ট্রনীতি কোনো বাধার মুখে পড়েছে, এমন ধারণা নাকচ করে দিয়েছেন। তিনি বলেন, জাতিসংঘে ট্রাম্পের বক্তব্যে ‘বিশ্বজুড়ে মার্কিন স্বার্থ এগিয়ে নিতে তাঁর বিভিন্ন সাফল্য’ তুলে ধরা হয়েছে। এর মধ্যে ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি থেকে বিরত রাখার বিষয়টিও রয়েছে।
যদিও ইরান সব সময়ই বলে আসছে, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ কাজের জন্য। তারা পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে চায় না।
ইরান যুদ্ধ নিয়ে অচলাবস্থা
ট্রাম্পের ব্যস্ত কূটনৈতিক সপ্তাহজুড়ে ছায়ার মতো ছিল ইরান যুদ্ধ। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরায়েলের সঙ্গে মিলে ট্রাম্প এই যুদ্ধ শুরু করেছিলেন।
প্রায় সাত মাস ধরে চলমান এ যুদ্ধ বন্ধের সুস্পষ্ট কোনো লক্ষণ নেই। এতে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হয়েছে। সংঘাত ছড়িয়ে পড়েছে মধ্যপ্রাচ্যের দেশে দেশে।
ইরান অর্থনৈতিক ও সামরিকভাবে বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়লেও পিছু হটেনি। ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের পররাষ্ট্রনীতিতে ইরানের এই অনড় অবস্থানই সবচেয়ে কঠিন চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে।
জাতিসংঘে দেওয়া ভাষণে ট্রাম্প ইরানে হামলার পক্ষে সাফাই গেয়েছেন। তিনি ঘোষণা করেন, ‘আমেরিকা ইজ ব্যাক’ (আমেরিকা ফিরে এসেছে)। যুক্তরাষ্ট্র এখন যেকোনো সময়ের চেয়ে শক্তিশালী।
ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের শুরুতে গাজায় যুদ্ধবিরতি হয়। কিন্তু কার্যত সেখানে ফিলিস্তিনি হত্যা বন্ধ হয়নি। মূলত ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের রেকর্ড ক্রমেই নানা অচলাবস্থায় ভরে যাচ্ছে।
বিশ্বের নেতারা এমন একটি সময়ের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে মনে হচ্ছে, যখন মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর মার্কিন প্রেসিডেন্টের প্রভাব কমতে শুরু করতে পারে। তবে তখনো ট্রাম্পের মেয়াদ শেষ হতে আড়াই বছরের কম সময় বাকি থাকবে।
ইউরোপ ও এশিয়ার অনেক মিত্রই এরই মধ্যে ইরান সংঘাতে সহায়তা দেওয়ার জন্য ট্রাম্পের আহ্বান প্রত্যাখ্যান করেছে। এই যুদ্ধ শুরু করার আগে ট্রাম্প তাদের সঙ্গে পরামর্শ করেননি।
জাতিসংঘের চলতি অধিবেশনে যুক্তরাষ্ট্রের কিছু মিত্র ট্রাম্পের সমালোচনাও করেছেন। তবে বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই তাঁরা ট্রাম্পের নাম সরাসরি উল্লেখ করেননি। তাঁদের একজন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁ। তিনি বিশ্বে ‘জঙ্গলের আইন’ ফিরে আসার বিষয়ে সতর্ক করেন। মাখোঁ বলেন, দেশগুলো এখন এমন এক বিশ্বের সামনে দাঁড়িয়ে আছে, যেখানে হয়তো শক্তি ও জবরদস্তিই নিয়ন্ত্রণের ভিত্তি হবে। অথবা একটি ‘সভ্য আন্তর্জাতিক সমাজ’ গড়ে উঠবে।
ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা পরোক্ষভাবে ট্রাম্পের সমালোচনা করেন। তিনি তাঁর দেশের অক্টোবরে অনুষ্ঠেয় নির্বাচনে বিদেশি হস্তক্ষেপের নিন্দা জানান। তিনি বলেন, ‘আমাদের জলসীমায় টহল দেওয়ার জন্য বিমানবাহী রণতরি প্রয়োজন নেই। অপরাধে অর্থ ও অস্ত্রের প্রবাহ বন্ধ করতে আমাদের সহযোগিতা প্রয়োজন।’
নাম প্রকাশ না করার শর্তে হোয়াইট হাউসের একজন কর্মকর্তা রয়টার্সকে বলেন, ট্রাম্প ‘দেখানোর জন্য কিছু করার বিষয়ে চিন্তিত নন, তিনি ফলাফল নিয়ে চিন্তিত’। তিনি আরও বলেন, কিছু নেতা প্রকাশ্যে যা বলেছেন, তাঁরাই আবার ব্যক্তিগতভাবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে যা বলেছেন, তা মেলে না।
ট্রাম্পের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ
ট্রাম্পের প্রভাব কমে যাওয়ার আরেকটি লক্ষণ দেখা গেছে ইউক্রেন যুদ্ধ ঘিরে। তিনি ইউক্রেন ও রাশিয়াকে অন্তত সীমিত পরিসরে জ্বালানি অবকাঠামোয় যুদ্ধবিরতিতে রাজি করানোর প্রচেষ্টা চালিয়েছেন। এ প্রচেষ্টা খুব একটা এগোয়নি।
ট্রাম্প ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের সঙ্গে একটি চুক্তির কথা তুলে ধরেছেন। এর আওতায় বিশাল এই আর্কটিক দ্বীপে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে। তবে এটি তাঁর প্রথম দিকের চাওয়ার তুলনায় অনেক কম। শুরুতে তিনি গ্রিনল্যান্ডের ‘মালিক’ হতে চেয়েছিলেন। প্রয়োজনে ন্যাটোরই আরেক সদস্যের কাছ থেকে শক্তি প্রয়োগ করে ভূখণ্ডটি দখলের হুমকিও দিয়েছিলেন।
ইউরেশিয়া গ্রুপের প্রেসিডেন্ট ইয়ান ব্রেমার এক্সে লিখেছেন, ‘এক বছর আগে খুব কম দেশই ট্রাম্পের বিরোধিতা করার সাহস পেত। এখন কানাডা, ইউরোপ, চীন, ইরান, রাশিয়াসহ অন্যরা আরও বেশি করে “না” বলতে প্রস্তুত।’
একপর্যায়ে ট্রাম্প নিজেও হয়তো ভাবতে শুরু করেছিলেন, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আসলে তাঁর প্রভাব কতটা। জাতিসংঘে বিশ্বনেতাদের উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে তিনি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে (এআই) ‘সুপার ইন্টেলিজেন্স’ হিসেবে নতুন করে সংজ্ঞায়িত করার ইচ্ছা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ‘দেখা যাক আমার আদৌ কোনো ক্ষমতা আছে কি না। হয়তো আছে, আবার হয়তো নেই। খুব জলদিই আমরা তা জানতে পারব।’
![]() |
| সামরিক মহড়া দেখছেন (বাঁ থেকে) চীনের ফার্স্ট লেডি পেং লিইউয়ান, দেশটির প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও মার্কিন ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্প। হোয়াইট হাউসের বারান্দায়, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ছবি: রয়টার্স |
About: Kutubi Cox
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
যেভাবে ট্রাম্পের অনুষ্ঠানে ড্রোন হামলার পরিকল্পনা নস্যাৎ করে এফবিআই
গত ১৪ জুন হোয়াইট হাউসের সাউথ লনে অনুষ্ঠিত হয় ‘ইউএফসি ফ্রিডম ২৫০’। যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানটি ছিল হোয়াইট হাউসে অনুষ্ঠিত প্রথম পেশাদার ক্রীড়া আয়োজন। একই দিন ছিল ট্রাম্পের ৮০তম জন্মদিন। ফলে অনুষ্ঠানটিকে ঘিরে ব্যাপক নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল।
দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট ও এবিসি নিউজের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, হামলার পরিকল্পনাকারীরা অনলাইন যোগাযোগমাধ্যমে নিজেদের মধ্যে আলোচনা করছিলেন। পরে এফবিআই ১৯ বছর বয়সী ওহাইওর বাসিন্দা টাইজেন প্রপারের মোবাইল ফোনে একটি সিগন্যাল গ্রুপ চ্যাটের সন্ধান পায়। সেখানে প্রায় ১৯ জন সদস্য ছিল। পাশাপাশি নির্দিষ্ট এলাকা ও দায়িত্ব অনুযায়ী আরও কয়েকটি ছোট গ্রুপে আলোচনা চলছিল।
তদন্তকারীরা জানতে পারেন, গ্রুপের সদস্যরা হোয়াইট হাউসের আশপাশের এলাকা নিয়ে তথ্য সংগ্রহ করছিলেন এবং হামলার পর পালানোর পরিকল্পনাও করছিলেন। তারা বিস্ফোরক বহনে সক্ষম ড্রোন তৈরির পাশাপাশি হামলার জন্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম সংগ্রহের বিষয়েও আলোচনা করেন।
পুলিশ হামলার পরিকল্পনার কথা প্রথম জানতে পারে একটি পরিবারের উদ্বেগের সূত্র ধরে। প্রপারের মা তার ছেলের আচরণ নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেন। তিনি লক্ষ্য করেন, ছেলে অনলাইনে কিছু ব্যক্তির সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ করছেন, অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম কিনছেন এবং কথোপকথনে ‘রিকন’ ও ‘মিশন’-এর মতো শব্দ ব্যবহার করছেন।
পুলিশের কাছে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রপার তার মাকে জানিয়েছিলেন, তিনি অনলাইনে পরিচিত কয়েকজনের সঙ্গে দেখা করতে যাচ্ছেন। তবে পরিকল্পনার বিস্তারিত জানাতে অস্বীকৃতি জানান। তার কথাবার্তা ও আচরণে উদ্বিগ্ন হয়ে পরিবার বিষয়টি পুলিশকে জানায়।
এরপর ১০ জুন প্রপারের বাড়িতে যায় পুলিশ। তদন্তকারীরা দেখতে পান, তার কাছে অস্ত্র, গুলি, বডি আর্মারসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম রয়েছে। পরে তার মোবাইল ফোন পরীক্ষা করে হামলার পরিকল্পনা নিয়ে চলা গ্রুপ চ্যাটের সন্ধান মেলে।
তদন্তে আরও উঠে আসে, গ্রুপটির সদস্যরা টিকটক, সিম্পলএক্স, টেলিগ্রাম ও অন্যান্য অনলাইন প্ল্যাটফর্মে ভুয়া নামে যোগাযোগ করতেন। তারা যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করতেন এবং সরকারকে উৎখাত করে নতুন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার মতো ধারণা নিয়ে আলোচনা করতেন।
গ্রুপটির সদস্যরা নিজেদের মধ্যে লক্ষ্যবস্তু নিয়েও আলোচনা করেন। তদন্তে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প, ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স, ইলন মাস্ক এবং ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নাম উঠে আসে, যাদেরকে হত্যার লক্ষবস্তু করা হয়েছিল। কয়েকজন রাজনীতিকের ছবিও চ্যাটে শেয়ার করা হয়েছিল বলে তদন্তকারীদের নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
গ্রুপটির ‘হান্টার্স’ নামের একটি চ্যাটে হোয়াইট হাউসের আশপাশের এলাকার আকাশচিত্র এবং পালানোর পথ নিয়ে আলোচনা হয়েছিল। হামলার পর কোথায় আশ্রয় নেওয়া হবে, সে বিষয়েও পরিকল্পনা করা হয়। নেব্রাস্কার একটি পুরোনো গির্জাকে সম্ভাব্য নিরাপদ স্থান হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল বলে তদন্তে উঠে এসেছে।
এফবিআইয়ের তদন্তে আরও জানা যায়, হামলার জন্য শুধু ড্রোন নয়, গুলি চালানোর একটি দলও প্রস্তুত করা হচ্ছিল। তদন্তকারীদের তথ্য অনুযায়ী, চ্যান্ডলার স্ক্যাগস নামে ২১ বছর বয়সী এক তরুণকে সম্ভাব্য স্নাইপার হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছিল। প্রপার তাকে ওয়াশিংটনে নিয়ে যাওয়ার কথা ছিল।
প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, হামলার কয়েক দিন আগে গ্রুপের এক সদস্য মাইকেল থমাস চ্যাটে লেখেন, ‘এটা রক্তক্ষয়ী ঘটনা হতে যাচ্ছে।’ অন্য সদস্যরাও হামলা সফল করার বিষয়ে নিজেদের মধ্যে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছিলেন।
তদন্তে প্রপারের কর্মকাণ্ডেরও নানা তথ্য উঠে আসে। তিনি ওহাইওর একটি ল্যান্ডস্কেপিং প্রতিষ্ঠানের চাকরি ছেড়ে দেন এবং অস্ত্র ও অন্যান্য সরঞ্জাম কেনেন। তার পরিবার পরে জানতে পারে, উচ্চবিদ্যালয়ের সমাপনী উপলক্ষে পাওয়া প্রায় ৩ হাজার ডলার তিনি এসব সরঞ্জাম কিনতে ব্যয় করেছেন।
তার ঘর তল্লাশি করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী একটি নোটবুকও পায়। এতে বিভিন্ন রাজনীতিক ও তারকার নামের পাশাপাশি সরকার সম্পর্কে তার নানা বিশ্বাস ও অভিযোগের কথা লেখা ছিল বলে তদন্তকারীরা জানান।
১১ জুন জিজ্ঞাসাবাদের সময় প্রপার হোয়াইট হাউসে অনুষ্ঠিত ইউএফসি আয়োজনকে ঘিরে সমন্বিত হামলার পরিকল্পনার কথা স্বীকার করেন বলে প্রসিকিউটররা দাবি করেছেন। তিনি জানান, গ্রুপের সদস্যরা মনে করতেন যুক্তরাষ্ট্রকে ‘ভেঙে ফেলে’ নতুন করে গড়ে তুলতে হবে এবং হামলাটি তাদের কথিত বিপ্লবের সূচনা করতে পারে।
এরপর প্রপারকে আটক করে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং আদালতের নথিতে তার বিরুদ্ধে সহিংসতার চিন্তাভাবনার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়।
তবে প্রপার গ্রেপ্তার হওয়ার পরও গ্রুপটির অন্য সদস্যরা পরিকল্পনা চালিয়ে যাচ্ছিলেন বলে তদন্তে উঠে এসেছে। তাদের কথোপকথনে হামলা থেকে সরে আসার সুযোগ শেষ হয়ে গেছে; এমন মনোভাবও প্রকাশ পায়।
এ ঘটনায় প্রপারের পাশাপাশি ক্যালিফোর্নিয়ার ব্রায়ান ওমর রোয়া, মাইকেল অ্যালান থমাস, মিসৌরির ড্যানিয়েল এসক্রিজ এবং নেব্রাস্কার আব্রাহাম হারমোসিলো আলভারেজসহ আরও কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
তদন্তকারীদের দাবি, আলভারেজ ‘শেফার্ড’ নামে গ্রুপটিতে পরিচিত ছিলেন এবং হামলার পরিকল্পনা ও সমন্বয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছিলেন। অন্যদিকে থমাসের বাড়ি থেকে রাইফেল, গুলি ও একটি পিস্তল জব্দের কথাও জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
ফেডারেল প্রসিকিউটররা পরে কয়েকজনের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবাদে বস্তুগত সহায়তা দেওয়ার ষড়যন্ত্র ও হত্যার ষড়যন্ত্রসহ বিভিন্ন অভিযোগ আনেন। সংশ্লিষ্ট সবাই অভিযোগ অস্বীকার করে নিজেদের নির্দোষ দাবি করেছেন।
এফবিআই পরিচালক কাশ প্যাটেল বলেন, পুরো অভিযানটি ছিল একাধিক অঙ্গরাজ্যজুড়ে পরিচালিত একটি সমন্বিত আইনশৃঙ্খলা অভিযান। তার মতে, বড় ধরনের জনসমাগমের অনুষ্ঠানকে ঘিরে মানুষের নিরাপত্তার জন্য হুমকি শনাক্ত ও তা মোকাবিলায় এফবিআই ও তাদের সহযোগী সংস্থাগুলো কাজ করেছে।
সূত্র : দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট
![]() |
| হোয়াইট হাউসের সাউথ লনে অনুষ্ঠিত ‘ইউএফসি ফ্রিডম ২৫০’-এ অংশগ্রহণের সময় ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি : রয়টার্স |
About: Kutubi Cox
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
আল আকসা মসজিদ পুরোপুরি দখলের পথে ইসরায়েল: হামাস
রোববার আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এক বিবৃতিতে মেশাল সেসব কথা বলেন। তিনি বলেন, আল আকসা মসজিদকে ৪০ দিনের জন্য বন্ধ রাখা, সময়ের ভিত্তিতে বিভাজন আরোপ এবং ইহুদি উগ্রপন্থি গোষ্ঠীগুলোর প্রবেশের সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। এসব পদক্ষেপের মাধ্যমে মসজিদ প্রাঙ্গণে ফিলিস্তিনিদের উপস্থিতি সীমিত করার চেষ্টা চলছে বলেও দাবি করেন তিনি।
মেশালের অভিযোগ, আল আকসা প্রাঙ্গণের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলো খালি করে দিয়ে সেখানে ‘স্থানিক বিভাজন’ প্রতিষ্ঠারও চেষ্টা করা হচ্ছে। তার ভাষায়, এসব পদক্ষেপের ফলে মসজিদটি এখন ‘গুরুত্বপূর্ণ এক সন্ধিক্ষণে’ দাঁড়িয়ে আছে।
আল-আকসা রক্ষায় বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন মেশাল। তিনি জেরুজালেম ও আল-আকসা রক্ষায় ‘প্রতিরোধ ও জিহাদের কৌশল’ গ্রহণের কথা বলেন।
ফিলিস্তিনিদের আল আকসা মসজিদে যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি সেখানে দৃঢ় উপস্থিতি বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দেন। একই সঙ্গে আরব ও মুসলিম বিশ্বের জনগণকে ফিলিস্তিনের সমর্থনে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
সূত্র: আল জাজিরা
![]() |
| আল আকসা। ছবি: সংগৃহীত |
About: Kutubi Cox
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
পশ্চিম তীরে যুদ্ধ শুরু করার আহ্বান ইসরায়েলি মন্ত্রীর
ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম ওয়াইনেটের একটি পডকাস্টে দেওয়া বক্তব্যে স্মোটরিচ এ আহ্বান জানান। তিনি দেশটির কট্টর ডানপন্থি দল রিলিজিয়াস জিওনিজম পার্টির প্রধান।
স্মোটরিচ বলেন, পশ্চিম তীরে ইসরায়েলের ‘যুদ্ধে যাওয়া’ উচিত এবং সেখানে গাজায় যা করা হয়েছে, একই ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া দরকার।
পশ্চিম তীরে যুদ্ধ শুরু করার আহ্বান ইসরায়েলি মন্ত্রীর
যেকোনো হামলার জবাবে ‘নতুন সামরিক প্রযুক্তি’ ব্যবহারের হুঁশিয়ারি ইরানের
এর পাশাপাশি ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষকে বিলুপ্ত করার দাবিও পুনর্ব্যক্ত করেছেন স্মোটরিচ। পশ্চিম তীরের কিছু এলাকায় সীমিত প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ রয়েছে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের।
শুধু পশ্চিম তীর নয়, দক্ষিণ লেবানন এবং গাজায় ইসরায়েলি সেনাবাহিনী বর্তমানে যে ভূখণ্ড নিয়ন্ত্রণ করছে, সেগুলোও ইসরায়েলের সঙ্গে সংযুক্ত করার আহ্বান জানিয়েছেন স্মোটরিচ।
ইসরায়েলে আগামী ২৭ অক্টোবর সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এরই মধ্যে ফিলিস্তিনি নতুন যুদ্ধের আহ্বান মধ্যপ্রাচ্যে আশঙ্কা বাড়াচ্ছে।
সূত্র: আল জাজিরা
![]() |
| বেজালেল স্মোটরিচ। ছবি: সিএনএন |
About: Kutubi Cox
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ইরান ইস্যুতে জাতিসংঘের ভাষণে যুক্তরাষ্ট্রকে এক হাত নিল রাশিয়া
রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে উদ্ধৃত করে লাভরভ বলেন, ‘একক আধিপত্যের স্বৈরতন্ত্র নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে এবং এর চারপাশের সবার জন্যই এটি বিপজ্জনক।’
চলতি বছরের শুরুতে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রীকে যুক্তরাষ্ট্র আটক করার ঘটনায় নিন্দা জানান লাভরভ। তাদের যুক্তরাষ্ট্রে ‘বিচারবহির্ভূত আটক’ রাখা হয়েছে দাবি করে তিনি অবিলম্বে তাদের মুক্তির আহ্বান জানান।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি, তার পরিবারের সদস্য এবং দেশটির সামরিক ও রাজনৈতিক নেতৃত্বের সদস্যদের হত্যার ঘটনাকেও ‘জবরদস্তিমূলক একনায়কত্বের আরেকটি অগ্রহণযোগ্য প্রকাশ’ বলে মন্তব্য করেন তিনি।
লাভরভ আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিস্তৃত সামরিক অভিযানে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) নিরাপত্তা ব্যবস্থার আওতাধীন ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতেও হামলা হয়েছে। এতে জাতিসংঘ-সমর্থিত পরমাণু পর্যবেক্ষণ সংস্থাটির তত্ত্বাবধানে থাকা পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধব্যবস্থার ‘অপূরণীয় ক্ষতি’ হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
গাজা প্রসঙ্গে লাভরভ বলেন, জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে অনুমোদিত যুক্তরাষ্ট্রের ২০ দফা শান্তি পরিকল্পনা এখনো শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে পারেনি। বয়স্ক মানুষ, নারী ও শিশুরা এখনও নিহত হচ্ছেন এবং সেখানে মানবিক পরিস্থিতি সংকটজনক অবস্থায় রয়েছে।
অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলের বসতি সম্প্রসারণের বিষয়েও সতর্ক করেন তিনি। লাভরভ বলেন, ‘এভাবে চলতে থাকলে ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা অসম্ভব হয়ে পড়বে। এর জন্য কোনো জমিই অবশিষ্ট থাকবে না।’
ফিলিস্তিনের পাশাপাশি লেবানন, সিরিয়া, ইয়েমেন, ইরাক, সুদান, সোমালিয়া ও দক্ষিণ সুদানের পরিস্থিতি মোকাবিলায় জরুরি ও প্রচলিত পদ্ধতির বাইরে আন্তর্জাতিক পদক্ষেপের আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে কিউবার ওপর যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর অবরোধ তুলে নেওয়ার বিষয়ে রাশিয়ার আহ্বানও পুনর্ব্যক্ত করেন।
লাভরভ ইউরোপীয় সরকারগুলোর বিরুদ্ধে ইউক্রেনকে অস্ত্র সরবরাহ এবং বেসামরিক মানুষের ওপর হামলায় সহায়তার অভিযোগ তোলেন। তার দাবি, এসব দেশ শান্তি আলোচনা বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা করছে। তবে ওয়াশিংটনের ট্রাম্প প্রশাসনসহ অনেকেই শান্তি আলোচনায় আগ্রহী বলে মন্তব্য করেন তিনি।
নাৎসি জার্মানির পরাজয়ের পর নুরেমবার্গ বিচার শেষ হওয়ার ৮০ বছর পূর্তির প্রসঙ্গ তুলে লাভরভ বলেন, সেই বিচারের শিক্ষা সবাই গ্রহণ করেনি। ইউরোপীয় ইউনিয়নের সরকারগুলো ‘ইউক্রেনীয় নাৎসিবাদ’ সহ্য করছে এবং রুশ ভাষা ব্যবহারে বিধিনিষেধ আরোপ করছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
লাভরভ বলেন, ‘সত্য ও ন্যায়ের জন্য আমাদের সংগ্রাম শেষ পর্যন্ত চালিয়ে যাওয়া হবে। বিশেষ সামরিক অভিযানের লক্ষ্য অর্জিত হবে, রাশিয়ার নিরাপত্তার জন্য হুমকি দূর করা হবে এবং শান্তিপূর্ণ জীবন পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হবে।’
জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ সংস্কারের প্রসঙ্গে লাভরভ বলেন, জার্মানি বা জাপানকে নতুন সদস্য করা উচিত নয়। তার দাবি, দেশ দুটি ‘সামরিকীকরণ ও প্রতিশোধপরায়ণতার পথে’ এগিয়েছে। এর পরিবর্তে ব্রাজিল ও ভারতকে স্থায়ী সদস্য করার পাশাপাশি আফ্রিকার প্রতিনিধিত্ব বাড়ানোর পক্ষে মত দেন তিনি।
রাশিয়ার উদ্যোগে তৈরি জাতিসংঘের সাইবার অপরাধবিষয়ক কনভেনশনকে স্বাগত জানান লাভরভ। গত বছরের অক্টোবরে হ্যানয়ে স্বাক্ষরের জন্য এটি উন্মুক্ত করা হয়। কনভেনশন বাস্তবায়নে নতুন বৈশ্বিক ব্যবস্থার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রসঙ্গে তিনি বৈশ্বিক এআই শাসনব্যবস্থা নিয়ে সংলাপ এবং চীনের নেতৃত্বে রাশিয়ার সমর্থিত একটি বৈশ্বিক এআই সহযোগিতা সংস্থা গঠনের প্রস্তাবের কথা তুলে ধরেন।
লাভরভ বলেন, দীর্ঘস্থায়ী শান্তির জন্য সমান ও অবিভাজ্য নিরাপত্তার নীতি কঠোরভাবে মেনে চলা প্রয়োজন। একই সঙ্গে দক্ষিণ-পূর্ব ও উত্তর-পূর্ব এশিয়ায় ন্যাটোর প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ তোলেন তিনি।
তিনি জানান, রাশিয়া, বেলারুশ ও তাদের সমমনা অংশীদাররা নিউইয়র্কে এক বিবৃতি গ্রহণ করেছে। এর মাধ্যমে একবিংশ শতাব্দীতে বৈচিত্র্য ও বহুমেরুকেন্দ্রিকতার বিষয়ে একটি ইউরেশীয় সনদ প্রণয়নের কাজ শুরু হয়েছে।
অন্য দেশগুলোকে এই উদ্যোগে যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানিয়ে লাভরভ বলেন, এর লক্ষ্য হবে শান্তি ও উন্নয়নের জন্য একটি নতুন মহাদেশব্যাপী কাঠামো গড়ে তোলা।
সূত্র : ইউনাইটেড নেশন
![]() |
| রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ। ছবি :এএফপি |
About: Kutubi Cox
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ইরানের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করলেও বিকল্প পরিকল্পনা নেই ট্রাম্পের
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনকে ঘিরে নিউইয়র্কে মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা চলছিল। একপর্যায়ে ট্রাম্প বলেছিলেন, আলোচনা ভালোভাবেই এগোচ্ছে। কিন্তু এখন তিনি বলছেন, ইরানের দেওয়া প্রস্তাবে তার আগ্রহ নেই।
ট্রাম্পের দাবি, হরমুজ প্রণালির অবরোধের কারণে ইরান বড় ধরনের অর্থনৈতিক চাপে পড়েছে। সে কারণেই তেহরান এখন সমঝোতায় যেতে চাইছে।
তিনি আরো দাবি করেন, গত ২৪ ঘণ্টায় প্রায় ২০টি জাহাজ হরমুজ প্রণালি দিয়ে গেছে।
তার ভাষ্য, এতে বোঝা যায়, ওই পথে এখনো তেল পরিবহন চলছে। তবে বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য এর বিপরীত।
এদিকে কয়েকটি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরানে আবারও বোমা হামলা শুরুর বিষয়টি ট্রাম্পের সহযোগীরা বিবেচনা করছেন। তবে এটি চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত কি না, তা স্পষ্ট নয়।
এর আগে ইরানের পক্ষ থেকে সাত দিনের একটি পরিকল্পনা দেওয়া হয়েছিল। ওই পরিকল্পনায় হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া এবং আঞ্চলিক সংঘাত কমানোর পথ তৈরির প্রস্তাব ছিল।
![]() |
| যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ফাইল ছবি |
About: Kutubi Cox
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
এবার প্রভাসের বিপরীতে কাজল
সিনেমায় প্রভাস একজন পুলিশ অফিসারের চরিত্রে অভিনয় করছেন—যেখানে থাকবে অ্যাকশন ও আবেগঘন গল্প। বর্তমানে এই সিনেমায় নারী প্রধান চরিত্রে অভিনয় করছেন তৃপ্তি দিমরি। শোনা যাচ্ছে, কাজলকে একটি গুরুত্বপূর্ণ ও আবেগপূর্ণ চরিত্রের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে—যা ছোটখাটো বা ক্যামিও নয়, বরং গল্পে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখবে।
যদি কাজল সিনেমাটিতে যোগ দেন, এটি হবে তার প্রথম পূর্ণমাত্রার তেলুগু চলচ্চিত্র অভিজ্ঞতা। তিনি আগে কয়েকটি তামিল ছবিতে কাজ করলেও, এটি হবে টলিউডে তার বড় আত্মপ্রকাশ। দক্ষিণ ভারতীয় ছবিগুলোর মধ্যে বড় বলিউড তারকাদের অন্তর্ভুক্ত করে সিনেমার পরিসর ও দর্শকসংখ্যা বাড়ানোর যে প্রবণতা চলছে, এই সিদ্ধান্ত সেটিরই প্রতিফলন।
তবে নির্মাতার পক্ষ থেকে এখনও এ বিষয়ে বিস্তারিত ঘোষণা আসেনি। তাই কাজলের চূড়ান্ত অংশগ্রহণ নিশ্চিতকরণের জন্য অপেক্ষা করতে হবে নির্মাতার ঘোষণার।
![]() |
| কাজল ও প্রভাস। ছবি: সংগৃহীত |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ভাইয়ের কবর দেখতে গিয়ে হত্যার শিকার হলেন হামাস যোদ্ধা
শুক্রবার গাজা উপত্যকার আল-সাওয়ারহা কবরস্থানে এ হামলা হয়।
তুরস্কের সংবাদ সংস্থা আনাদোলু স্থানীয় সূত্রের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে।
মোহাম্মদ কামেল তার ভাই খলিলের কবর দেখতে সেখানে গিয়েছিলেন। খলিল ২০২৪ সালের ১১ মে দেইর আল-বালাহ এলাকায় নিহত হন।
এদিকে গাজা উপত্যকায় পৃথক দুটি হামলায় দুই হামাস যোদ্ধাকে হত্যার দাবি করেছে ইসরাইলি সামরিক বাহিনী।
নিহত অন্য ব্যক্তি হলেন ইব্রাহিম ফাওজি ইসমাইল মোহসেন।
শুক্রবার তাদের হত্যা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ইসরাইলি বাহিনী।
এরআগে, গতকাল শনিবার গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ হিসাবের বরাত দিয়ে আল–জাজিরা জানিয়েছে, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে গাজায় ইসরাইলের সামরিক অভিযানে অন্তত ৭৩ হাজার ৯২৮ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। এ সময়ে আহত হয়েছেন ১ লাখ ৭৫ হাজার ৩০ জন।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, নিহত ও আহতদের মধ্যে অনেকেই এখনো ধ্বংসস্তূপের নিচে রয়েছেন। ফলে হতাহতের প্রকৃত সংখ্যা আরো বেশি হতে পারে।
২০২৫ সালের ১১ অক্টোবর কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতির পরও গাজায় হতাহতের ঘটনা অব্যাহত রয়েছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাবে, যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে ১ হাজার ৪০৮ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন ৪ হাজার ৯১৬ জন। এ সময়ে ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে ৮৩৪ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।
২৪ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত হিসাবে, এর আগের ২৪ ঘণ্টায় গাজার হাসপাতালগুলোতে পাঁচজন নিহত ও ৩৫ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়। নিহতদের মধ্যে একজন আগে আহত হয়ে চিকিৎসাধীন ছিলেন।
আল–জাজিরার প্রকাশিত তথ্যচিত্রে ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে ২০২৬ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত গাজার হতাহতের চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, নিহতের সংখ্যা গাজার প্রতি ৩১ জন বাসিন্দার মধ্যে অন্তত একজনের সমান। আহতের সংখ্যা প্রতি ১৩ জনে অন্তত একজন।
গাজার বিভিন্ন এলাকার ধ্বংসযজ্ঞও ওই তথ্যচিত্রে তুলে ধরা হয়েছে। মানচিত্রে উত্তর গাজা, গাজা সিটি, দেইর আল-বালাহ, খান ইউনিস ও রাফাহ এলাকার ক্ষয়ক্ষতির চিত্র দেখানো হয়েছে।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দেওয়া সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে ২০২৬ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মোট নিহত ৭৩ হাজার ৯২৮ জন এবং আহত ১ লাখ ৭৫ হাজার ৩০ জন।
উল্লেখ্য, এখানে হতাহতের সংখ্যা গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দেওয়া হিসাবের ভিত্তিতে প্রকাশ করা হয়েছে। যুদ্ধের পরিস্থিতি ও ধ্বংসস্তূপের নিচে থাকা মানুষের কারণে চূড়ান্ত সংখ্যা নির্ধারণে অনিশ্চয়তা রয়েছে।
![]() |
| ছবি: আনাদোলু |
About: Kutubi Cox
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
‘ইসরাইলি নির্বাচনের চালিকাশক্তি হলো ফিলিস্তিনিদের রক্ত’
শনিবার ‘আল-আরাবি টিভি’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে হামাসের এই নেতা বলেন, “ইসরাইলি অপপ্রচার ও নির্বাচনী প্রচারণার মূল চালিকাশক্তি হলো ফিলিস্তিনিদের রক্ত ও তাদের অধিকার।”
তিনি বলেন, তারা একে অপরের সাথে প্রতিযোগিতায় লিপ্ত—কে ফিলিস্তিনিদের অধিকার হরণ করতে পারে—তা নিয়ে; অথচ তাদের উচিত ছিল শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান এবং বিশ্বের সামনে নিজেদের মানবিক হিসেবে তুলে ধরার বিষয়টি নিয়ে ভাবা।
আগামী ২৭ অক্টোবর ইসরাইলে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
আল-হাইয়া উল্লেখ করেন যে, ফিলিস্তিনি জনগণ ইতিহাসজুড়ে এবং কয়েক দশক ধরে সব ইসরাইলি দলের হাতেই নিদারুণ ভোগান্তির শিকার হয়েছে।
তিনি আরো বলেন, আমাদের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ফিলিস্তিনি জনগণের লক্ষ্য, আকাঙ্ক্ষা ও ন্যায্য অধিকার অর্জন।
![]() |
| ছবি: সংগৃহীত। |
About: Kutubi Cox
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
‘যুদ্ধ শেষ হলেও ট্রাম্প-নেতানিয়াহুকে শাস্তি দেবে ইরান’
টেলিভিশনে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে শেকারচি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের উসকানি সত্ত্বেও হরমুজ প্রণালি ইরানের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তেহরানের অনুমোদন ছাড়া কোনো জাহাজই নিরাপদে ওই জলপথ অতিক্রম করতে পারবে না বলেও সতর্ক করেন তিনি।
সাক্ষাৎকারে ১৯৮০-এর দশকের ইরান-ইরাক যুদ্ধের ইতিহাস তুলে ধরে শেকারচি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে ওই যুদ্ধ ইরানের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হয়েছিল। ব্যাপক প্রাণহানির মধ্য দিয়ে সংঘটিত ওই যুদ্ধ ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর সক্ষমতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে বলে দাবি করেন তিনি। এ ক্ষেত্রে বাসিজ বাহিনীর মাধ্যমে ব্যাপক জনসম্পৃক্ততাকে তিনি অন্যতম অর্জন হিসেবে উল্লেখ করেন।
শেকারচির ভাষ্য অনুযায়ী, বিপ্লব-পরবর্তী সময়ে ইরানের সামরিক কৌশলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসে। প্রচলিত যুদ্ধকৌশলের পরিবর্তে দেশটি অসম যুদ্ধকৌশল গ্রহণ করে, যেখানে তুলনামূলক কম ব্যয়বহুল ও সহজ সরঞ্জাম ব্যবহার করে প্রতিপক্ষের ব্যয়বহুল ভারী অস্ত্র মোকাবিলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
তিনি বলেন, ইরান-ইরাক যুদ্ধের সময় আহত সেনাদের জন্য প্রয়োজনীয় মৌলিক চিকিৎসাসামগ্রী কেনার সক্ষমতাও ইরানের ছিল না। তবে বর্তমানে দেশটি আধুনিক প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম উৎপাদনে অনেকাংশে স্বনির্ভর হয়েছে।
ইরানের সশস্ত্র বাহিনী অতীতের যুদ্ধগুলো শুরুর সময়ের তুলনায় এখন অনেক বেশি শক্তিশালী বলেও দাবি করেন শেকারচি। তিনি বলেন, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রযুক্তি আরো উন্নত হয়েছে এবং ভবিষ্যতে কোনো ধরনের আগ্রাসন হলে তা মোকাবিলায় নতুন সামরিক প্রযুক্তির মাধ্যমে ইরানের হাতে ‘চমক’ রয়েছে।
শেকারচি আরো দাবি করেন, ইরান প্রতিবেশী কোনো মুসলিম দেশের সার্বভৌমত্বে হামলা করেনি, বরং দেশটির পাল্টা হামলাগুলো ওই সব দেশের ভেতরে থাকা মার্কিন স্বার্থ ও স্থাপনা লক্ষ্য করে পরিচালিত হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
প্রতিবেশী মুসলিম দেশগুলোকে নিজেদের অবস্থান পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরতা তাদের স্বার্থ রক্ষা করবে না। শত্রুর মুখে ইরান ‘সামান্যতমও পিছু হটবে না’ বলেও সতর্ক করেন তিনি।
হরমুজ প্রণালি প্রসঙ্গে শেকারচি বলেন, ইরানের নির্ধারিত রুটের বাইরে দিয়ে কোনো জাহাজ চলাচলের চেষ্টা করলে সেটি নিরাপদ থাকবে না। প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্র কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ করলে তার জবাব শক্ত হাতে দেওয়া হবে বলেও ওয়াশিংটনকে সতর্ক করেন তিনি।
ইরানকে একটি বৈশ্বিক শক্তি হিসেবে উল্লেখ করে শেকারচি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রকে আন্তর্জাতিক ব্যবস্থায় তার আগের অবস্থান পুনঃপ্রতিষ্ঠার সুযোগ দেবে না তেহরান। পশ্চিম এশিয়া থেকে মার্কিন বাহিনীর প্রত্যাহারকেই তাদের জন্য নিরাপদ পথ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, তারা যত দ্রুত অঞ্চলটি ছাড়বে, তাদের ক্ষয়ক্ষতিও তত কম হবে।
সূত্র: মেহের

About: Kutubi Cox
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
বলিউড তারকাদের পোস্টে নারীদের গল্প গাঁথা
শিল্পা শেঠি কুন্দ্রা
বলিউড অভিনেত্রী শিল্পা শেঠি কুন্দ্রা। আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে তিনি নিজের ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে একটি ভিডিও শেয়ার করেন। এরপর শেয়ার করা ভিডিওর ক্যাপশনে লেখেন, ‘প্রতিটি নারী এক একটি গল্প। তাদের প্রতিটি কণ্ঠ সমাজের জন্য গ্রুরুত্বপূর্ণ। বর্তমান নারীরা পরিবর্তনের জন্ম দিচ্ছে। নারীদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করছি।’
আলিয়া ভাট
ইনস্টাগ্রামে নিজেকে গর্বিত মা দাবি করে এই অভিনেত্রী লেখেন, ‘দিনটি উদযাপনে আমাকে গর্বিত করেছে আমার মেয়ে। সকল নারীদের সঙ্গে মা হওয়ার মুহূর্তটি আমি আজ আনন্দের সঙ্গে ভাগ করে নিচ্ছি। সবাইকে আন্তর্জাতিক নারী দিবসের শুভেচ্ছা।’
রাকুল প্রীত সিং
অভিনেত্রী রাকুল প্রীত সিং ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে তার পরিবারের ছবি শেয়ার করেন। এরপর পরিবারে তার মায়ের অবদান উল্লেখ করে তিনি লেখেন, ‘প্রতিটি সফল পুরুষের জীবনেই ছায়া হয়ে থাকে একজন নারীর ভূমিকা। আমি আজ সেই নারীদের সম্মান জানাতে চাই। যারা পুরুষদের সফল একটি জীবন উপহার দিতে ভূমিকা রেখেছেন। এমন নারীর তালিকায় আমার মাও রয়েছেন। যে আমার বাবার সফলতার জন্য প্রতিনিয়ত নিজেকে নিয়োজিত রেখেছেন। সবাইকে আন্তর্জাতিক নারী দিবসের শুভেচ্ছা।’
বিপাশা বসু
অভিনেত্রী বিপাশা বসু। তিনি তার ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে মেয়ে দেবীর জন্য সুন্দর একটি পেইন্ট করা ছবি শেয়ার করেন। এরপর ক্যাপশনে লেখেন, ‘আমার ছোট পাখি। এই ছবিটি তোমার মা আজকের দিনে তোমার জন্য এঁকেছে। তোমার বাবাও কিছু সাহায্য করেছে। তোমাকে নারী দিবসের শুভেচ্ছা।’
এ ছাড়া অভিনেত্রী কাজল তার ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে শিব মূর্তির একটি ছবি শেয়ার করে লেখেন, ‘প্রতিটি নারীই শক্তি।’ এ ছাড়া অভিনেতা ববি দেওয়াল তার ইনস্টাগ্রামে মা প্রকাশ কৌরের নিজের একটি ছবি শেয়ার করে লেখেন, ‘মা’।
![]() |
| বলিউড অভিনেত্রী আলিয়া ভাট, শিল্পা শেঠি ও রাকুল প্রীত সিং। ছবি : সংগৃহীত |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
BNM Special
BNM Archive
BNM Archive
-
▼
2026
(2249)
-
▼
September
(279)
-
▼
Sep 27
(11)
- ট্রাম্পের ক্ষমতার সীমাবদ্ধতা দেখল বিশ্ব
- যেভাবে ট্রাম্পের অনুষ্ঠানে ড্রোন হামলার পরিকল্পনা ...
- আল আকসা মসজিদ পুরোপুরি দখলের পথে ইসরায়েল: হামাস
- পশ্চিম তীরে যুদ্ধ শুরু করার আহ্বান ইসরায়েলি মন্ত্রীর
- ইরান ইস্যুতে জাতিসংঘের ভাষণে যুক্তরাষ্ট্রকে এক হাত...
- ইরানের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করলেও বিকল্প পরিকল্পন...
- এবার প্রভাসের বিপরীতে কাজল
- ভাইয়ের কবর দেখতে গিয়ে হত্যার শিকার হলেন হামাস যোদ্ধা
- ‘ইসরাইলি নির্বাচনের চালিকাশক্তি হলো ফিলিস্তিনিদের ...
- ‘যুদ্ধ শেষ হলেও ট্রাম্প-নেতানিয়াহুকে শাস্তি দেবে ই...
- বলিউড তারকাদের পোস্টে নারীদের গল্প গাঁথা
-
▼
Sep 27
(11)
-
▼
September
(279)
- ► 2025 (3281)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (129)
- ► 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
- ► 2015 (11541)
- ► 2014 (9799)
- ► 2013 (14877)
- ► 2012 (33842)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...









