Saturday, September 4, 2010

ডিজিটাল বাংলাদেশ করার নানা উদ্যোগ by এ এম এম শওকত আলী

ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার নানা কর্মসূচি ২০০৯ সালের আগে থেকেই সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে গ্রহণ করা হয়েছিল। ২০০৯-এর পরবর্তী পর্যায়ে প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণার ফলে এ-সংক্রান্ত বিষয়ে সরকারি উদ্যোগ অধিকতর জোরদার হয়েছে বলে অনেকে দাবি করেন। জোরদারকরণের একটি উদ্যোগ হলো প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় কর্তৃক ইউএনডিপির সহায়তায় গৃহীত একটি প্রকল্প, যার শিরোনাম হলো তথ্য প্রাপ্তির সুযোগ বা ‘অ্যাকসেস টু ইনফরমেশন’ কর্মসূচি। সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা করে বেশ কিছু লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগের মধ্যে রয়েছে গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর প্রয়োজনীয় তথ্য পাওয়ার সুযোগ সৃষ্টি। সব কটি মন্ত্রণালয় বা বিভাগ বর্তমানে মাঠপর্যায়ে এ-সংক্রান্ত কর্মকাণ্ড চালু করেনি। যে কটি মন্ত্রণালয় মাঠপর্যায়ের দপ্তরের মাধ্যমে এ সেবার সুযোগ সৃষ্টি করেছে, তার মধ্যে অন্যতম হলো কৃষি, স্থানীয় সরকার, স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও প্রাথমিক গণশিক্ষা।
কৃষি মন্ত্রণালয়ের সার্বিক তত্ত্বাবধানে কৃষিতথ্যসেবা দপ্তর রয়েছে। এ দপ্তরটি প্রাথমিকভাবে ইউনিয়ন পর্যায়ে ১০টি ডিজিটালভিত্তিক কৃষিসংক্রান্ত তথ্য পাওয়ার সুযোগ সৃষ্টি করেছে। ভবিষ্যতে এ কেন্দ্রের সংখ্যা এক হাজারে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে। বর্তমানে চালু ১০টি কেন্দ্র থেকে কৃষিসংক্রান্ত কী কী তথ্য কৃষক পর্যায়ে দেওয়া হয়, সে বিষয়গুলো জানতে হলে মাঠপর্যায়ে থেকেই প্রয়োজনীয় তথ্য জানা সম্ভব। এর সঙ্গে যোগ করা যায় মোট কতজন কৃষক প্রতি মাসে কী কী বিষয়ে সর্বাধিক তথ্য গ্রহণে আগ্রহী।
স্থানীয় সরকার বিভাগের এলজিইডিও তথ্য আদান-প্রদানসংক্রান্ত মোট ৩০টি কেন্দ্র চালু করেছে। এর মধ্যে ২৯টি সক্রিয়, একটি সক্রিয় নয়। ভবিষ্যতে আরও অধিকসংখ্যক কেন্দ্র চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে। তথ্যসংক্রান্ত যেসব সেবা এরা দিয়ে থাকে, তার মধ্যে কৃষিও রয়েছে। এ কথা সত্যি হলে বলতে হবে যে যদি কোনো দ্বৈততা থাকে, তবে তার সমন্বয় করা প্রয়োজন। ২০০০ সালে জনপ্রশাসন কমিশন অন্তত শহরাঞ্চলের নাগরিক সেবা দেওয়ার যে সুপারিশ করেছিল, তার উদ্দেশ্য ছিল একই কেন্দ্র থেকে বহুবিধ বিষয়ে সেবা দিলে সুবিধাভোগী নাগরিকেরা স্বস্তি বোধ করবে। বর্তমানে চালু কৃষিতথ্য অধিদপ্তরের ১০টি কেন্দ্র থেকে কৃষি খাত ছাড়াও অন্যান্য বিষয়ে তথ্য দেওয়া হয়। একই কাজ এলজিইডির ইউনিয়নভিত্তিক কেন্দ্রও করে কি না, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্যও মূল্যায়ন প্রয়োজন। তবে এসব কেন্দ্র থেকে কম্পিউটার প্রশিক্ষণ, ই-মেইল পাঠানোর ব্যবস্থাও রয়েছে। এমনকি ছবিও তোলা হয়। এসব সেবার মাধ্যমে এসব কেন্দ্রের কিছু আয়ও হয়। প্রাপ্ত আয়ের অর্থ কীভাবে সংরক্ষণ ও ব্যবহার করা হয়, সেসব বিষয়েও তথ্য প্রয়োজন। মাঠপর্যায়ে মূল্যায়নের ভিত্তিতেই এটা করা সম্ভব।
এসব কেন্দ্রের সময়সূচি কী এবং তা সুবিধাভোগীবান্ধব কি না, সে বিষয়টিও জানা অত্যন্ত জরুরি। নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ বর্তমানে নেই। বিশেষ করে, গ্রামাঞ্চলে বিদ্যুত্হীন অবস্থায় এ কেন্দ্রগুলো কীভাবে চালু থাকে, সে বিষয়টিও জানা প্রয়োজন। এর জন্য বিকল্প কোনো প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে কি না, হলে তা কতটা ব্যয়বহুল, তাও জানা প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে একটি প্রাসঙ্গিক বিষয় হলো, প্রকল্পের মেয়াদান্তে সেবাকেন্দ্রগুলো অব্যাহতভাবে চালু রাখা সম্ভব হবে কি না। এখানেই চলে আসে ব্যয়ের বিষয়টি। যদি দেখা যায় যে সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রের লব্ধ আয় থেকে কেন্দ্রগুলো চালু রাখা সম্ভব, তাহলে সমস্যা নেই। কিন্তু এটা যদি সম্ভব না হয়, তাহলে বাড়তি খরচ সরকারকেই অনুদান হিসেবে জোগান দিতে হবে। অন্যথায় কেন্দ্রগুলোর কাজ স্তব্ধ হয়ে যাবে। এটাই একটি বড় ঝুঁকি, যে বিষয়ে এখন থেকেই পরিকল্পনা প্রয়োজন।
ইউনিয়নভিত্তিক কেন্দ্রগুলো থেকে কর্মসংস্থানসহ জীবিকাসংক্রান্ত বিষয়েও তথ্য প্রদান করা হয়ে থাকে। গ্রামীণ বেকারদের জন্য এটা তাদের কী কাজে আসে, সে বিষয়েও প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করা একান্তই প্রয়োজন। একই সঙ্গে অন্য একটি প্রাসঙ্গিক তথ্যও জানা প্রয়োজন; তা হলো, যেসব ব্যক্তি কম্পিউটার প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত হয়, তাদের ব্যবহারিক জীবনে অথবা জীবিকায়নের জন্য এ প্রশিক্ষণ কোনো কাজে আসে কি না। প্রশিক্ষণ-পরবর্তী পর্যায়ে এ-সংক্রান্ত বিষয়ে যদি সে কোনো কাজ না পায়, তাহলে অবশ্যম্ভাবী পরিণতি হবে যে প্রশিক্ষণলব্ধ জ্ঞান ও দক্ষতা সে ভুলে যাবে। কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে হলে এ বিষয়গুলো চিহ্নিত করার প্রয়োজন রয়েছে।
সরকারঘোষিত গ্রামীণ বেকার যুবক কর্মসংস্থান কর্মসূচির সঙ্গে এসব কেন্দ্রের কোনো যোগসূত্র আদৌ রয়েছে কি না, সে বিষয়টিও জানা প্রয়োজন; কারণ ঘোষিত কর্মসূচির আওতায় প্রশিক্ষণের বিষয়টিও উল্লেখ করা হয়েছিল। যদি কোনো যোগসূত্র না থাকে, তাহলে এটা করা প্রয়োজন। অবশ্য গ্রামীণ শিক্ষিত বেকার যুবক-যুবতীদের সবাই যে কম্পিউটার প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে, সে বিষয়টিও নিশ্চিত নয়। শিক্ষাগত যোগ্যতার মাপকাঠি অনুযায়ী বিভিন্ন ধরনের প্রশিক্ষণ দেওয়া সম্ভব। এর মধ্যে সাধারণ কারিগরিবিষয়ক প্রশিক্ষণও হতে পারে। যেমন, স্বল্প পরিসরের বৈদ্যুতিক যন্ত্র মেরামত, সেচযন্ত্রের মেরামত এবং গ্রামীণ জনজীবন-সহায়ক অন্যান্য ক্ষেত্র। কৃষি অর্থনীতিবিদেরা একটি বিষয় প্রায়ই উল্লেখ করেন, তা হলো, কৃষি খাত ও অকৃষি খাতের মধ্যে নিবিড় সংযোগ স্থাপনের (Farm and Non-farm Linkage) মাধ্যমে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি। এ বিষয়ে কিছু গবেষণামূলক কাজও করা হয়েছে। গবেষণালব্ধ সুপারিশের ভিত্তিতে কোনো নির্দিষ্ট কর্মকৌশল বাস্তবায়ন করলে গ্রামীণ কর্মসংস্থান অধিকতর মাত্রায় নিশ্চিত করা সম্ভব হতে পারে।
সার্বিক অবস্থাদৃষ্টে মনে হয়, কিছুটা বিক্ষিপ্তভাবে ডিজিটাল পদ্ধতির মাধ্যমে তথ্যসেবা প্রদানের কর্মকাণ্ড চলছে। প্রাথমিক উদ্যোগ হিসেবে এ বিষয়টি নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয় হলেও এখন আরও গভীরভাবে সার্বিক কর্মকাণ্ড মূল্যায়নের সময় এসেছে। অত্যন্ত আশার কথা যে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়সহ ইউএনডিপি অচিরেই সামগ্রিকভাবে মূল্যায়নের পরই প্রকল্পের দ্বিতীয় পর্যায়ের কাজ শুরু করবে।
স্বাস্থ্য খাতের গৃহীত কমসূচির মধ্যে রয়েছে উপজেলা স্বাস্থ্য দপ্তর থেকে টেলিফোনের মাধ্যমে রোগসংক্রান্ত পরামর্শ দেওয়ার ব্যবস্থা। গ্রামের প্রত্যন্ত অঞ্চলের জনগোষ্ঠীর জন্য এটা করা হয়েছে। এ কর্মসূচির আওতায় উপজেলা স্বাস্থ্য দপ্তরে একটি করে মোবাইল ফোনের জন্য এ প্রকল্প অর্থ জোগান দিয়েছে। এর আওতায় কিছু জেলা সদরের হাসপাতালও অন্তর্ভুক্ত। সরকারের ঘোষিত নীতি অনুযায়ী আগে অবহেলিত গ্রাম পর্যায়ের কমিউনিটি ক্লিনিকের মাধ্যমে এ সেবা দেওয়া অধিকতর যুক্তিসংগত ছিল। হয়তো বা অবকাঠামোগত ও প্রশিক্ষিত চিকিত্সকের স্বল্পতার জন্য এটা করা সম্ভব হয়নি। অন্তত পরীক্ষামূলকভাবে ইতিমধ্যে স্থাপিত ক্লিনিকের মাধ্যমে এ সেবা দেওয়া সম্ভব ছিল। আশঙ্কার বিষয়টি হলো, ডিগ্রিধারী সরকারি চিকিত্সকেরা কমিউনিটি ক্লিনিক তো দূরের কথা, উপজেলা পর্যায়েও কাজে অনীহা প্রকাশ করেছেন।
এত দিন শোনা গিয়েছিল, হাজার হাজার সরকারি চিকিত্সকের পদ শূন্য। এ শূন্যতা দূর করার জন্য সরকার পদক্ষেপ নিয়েছে; অস্থায়ীভাবে বা অ্যাডহক ভিত্তিতে বেশ কিছুসংখ্যক চিকিত্সক নিয়োগ করা হয়েছে। পত্রিকান্তরে জানা যায়, তাঁদের অনেকেই কাজে যোগ দেননি। খোদ সরকারপ্রধান এ বিষয়ে কঠোর হুঁশিয়ারি দিলেও কোনো সুফল হয়েছে কি না জানা নেই। এ জন্যই একসঙ্গে চার শতাধিক উপজেলা স্বাস্থ্য দপ্তরে এ ধরনের কর্মসূচি চালু করা কতটুকু বাস্তবসম্মত হয়েছে, সে বিষয়টি বিবেচনার দাবি রাখে। আশা করা যায়, যে মূল্যায়নের কাজ করা হবে, তার মাধ্যমে এ বিষয়ে নিরপেক্ষ তথ্য সংগ্রহ করা সম্ভব হবে।
কৃষি খাতে সরকারি ও বেসরকারি যৌথ উদ্যোগে কৃষকদের প্রয়োজনীয় তথ্য সরবরাহের জন্যও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পত্রিকায় এর নাম দেখা গেল ই-কৃষক। একটি বেসরকারি সংস্থা গ্রামীণফোনের সহায়তায় গ্রামীণ তথ্যকেন্দ্র সারা দেশে চালু করবে। ইতিমধ্যে শতাধিক কেন্দ্র চালু করা হয়েছে। এসব কেন্দ্রে সর্বমোট এক হাজার ২০০ নিবন্ধনকৃত সদস্য বা সুবিধাভোগী রয়েছেন। প্রায় এক হাজার ৪০০ কৃষককে বর্তমানে সেবা দেওয়া সম্ভব। এখন পর্যন্ত কৃষকদের থেকে পাওয়া প্রায় ছয় হাজার প্রশ্নের জবাব দেওয়া সম্ভব হয়েছে। এ কর্মসূচি চালু করার জন্য কম্পিউটার প্রশিক্ষণের কাজ জেলা প্রশাসকের সার্বিক তত্ত্বাবধানে করা হয়। এর অন্য নাম কমিউনিটি তথ্যকেন্দ্র। মূল প্রশ্নটি হলো, সরকারি কৃষি তথ্য অধিদপ্তরের কার্যক্রমের সঙ্গে এ কর্মসূচি দ্বৈততার সৃষ্টি করছে কি না?
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের গৃহীত অন্য একটি কৃষকবান্ধব কর্মসূচির নাম ই-পুরজি। বিষয়টি আখচাষিদের জন্য। পুরজি শব্দটির অর্থ হলো আখ ক্রয়ের আদেশ বা পারচেস অর্ডার। এ কর্মসূচিকে ডিজিটাল পুরজি তথ্যসেবা বলা হয়ে থাকে। পুরজি মোতাবেক তিন দিনের মধ্যে আখ সরবরাহ না করতে পারলে পুরজির মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়ে যায়। ফলে কৃষকের ক্ষতি হয়। এ কর্মসূচি বর্তমানে দুটি সরকারি চিনিকলে চালু আছে। উত্সাহব্যঞ্জক সাড়া পাওয়ায় সর্বমোট ১৫টি কলে এ সেবা সম্প্রসারিত করার পরিকল্পনা রয়েছে। যদি তা-ই হয়, তাহলে এ কর্মসূচি সম্প্রসারণের বিষয়টি অযৌক্তিক হবে না। তবে নিরপেক্ষ মূল্যায়ন প্রয়োজন। অন্য প্রাসঙ্গিক বিষয়টি হলো, তাড়াহুড়ো করে সম্প্রসারণ করলে ঝুঁকির প্রশ্ন অবশ্যই রয়েছে।
ডিজিটাল পদ্ধতির মাধ্যমে সারা দেশে প্রয়োজনীয় সেবা প্রদান অবশ্যই কাম্য। তবে যে বিষয়টি মুখ্য এবং মনে রাখতে হবে তা হলো, প্রচারের আধিক্যের ফলে সাফল্যের স্বল্পতা যেন চাপা না পড়ে।
এ এম এম শওকত আলী: সচিব। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা।

সরকারের বোঝার ওপর ছাত্রলীগের ‘শাকের আঁটি’ by শরিফুজ্জামান শরিফ, এ এস এম আতীকুর রহমান সরদার আমিন ও রোবায়েত ফেরদৌস

লেখার শুরুতে পাঠককে সম্প্রতি প্রকাশিত/প্রচারিত কয়েকটি খবর মনে করিয়ে দিচ্ছি: ‘রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের কর্মীকে দোতলা থেকে নিক্ষেপ’, ‘পটুয়াখালীর একটি কলেজের মাঠে বালির ব্যবসা করতে না দেওয়ায় ছাত্রলীগের হামলায় অধ্যক্ষ আহত’, ‘রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের বন্দুকযুদ্ধ, নেপথ্যে টাকার ভাগাভাগি’, ‘ফেনীতে পছন্দের লোক চাকরি না পাওয়ায় জেলা সিভিল সার্জনকে পিটিয়ে হাড্ডি ভেঙে দিয়েছে ছাত্রলীগ’, ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চার শিক্ষককে পিটিয়েছে ছাত্রলীগ’ প্রভৃতি। বর্তমান সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকে দেশের প্রায় সব দৈনিক পত্রিকায় এ ধরনের সংবাদ প্রায় প্রতিদিন প্রকাশিত হচ্ছে, টিভি চ্যানেলগুলো এ নিয়ে ফুটেজসহ খবর প্রকাশ করছে। বিএনপি-জামায়াতের শাসনামলে ছাত্রদল আর শিবিরকে নিয়ে এ ধরনের খবর প্রকাশিত হতো। আমাদের দেশে ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের নাম ও পরিচয়ে এ ধরনের অপকর্মের সঙ্গে জড়িত হওয়ার ঘটনা নতুন নয়। আর এ ধরনের দুঃখজনক ঘটনার কোনো বিচার বা এদের আইনের আওতায় না এনে তাদের অপরাধ করার ‘ওয়াকওভার’ দেওয়ার ঘটনা সব সময় আমরা লক্ষ করছি। ক্ষমতাসীন দলের ছাত্রসংগঠনগুলোর এ অনাচার ১৯৯০ সালের পর থেকে পৌনঃপুনিকভাবে বাড়ছে।
বর্তমান মহাজোট সরকার দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা, দিনবদল ইত্যাদি স্লোগান তুলে মানুষের মনে আশা জাগিয়ে তাদের সমর্থন আদায় করেছিল। পূর্ববর্তী বিএনপির কুশাসন থেকে মুক্ত হতে ‘ভোট বিপ্লব’ ঘটিয়ে নতুন দিনে পা রাখার আকাঙ্ক্ষা ব্যক্ত করেছিল দেশের মানুষ। প্রতীতি ছিল সার্বিকভাবে একটি সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎ গড়তে সরকার ইতিবাচক পদক্ষেপ নেবে। অতীতের ভুল থেকে তারা শিক্ষা নেবে, দুর্বলতা কাটিয়ে নতুন উদ্যমে পথ চলবে। কিন্তু ওপরের খবরগুলো প্রমাণ করে পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে আমরা পিছিয়ে পড়ছি। ছাত্রলীগের এ আচরণগুলোই প্রমাণ করে, আমাদের দেশে ইতিহাস থেকে কেউ শিক্ষা নেয় না এবং এ জন্য বারবার জাতিকে স্বপ্নভঙ্গের যন্ত্রণা বয়ে বেড়াতে হয়। বারবার পত্রিকার সম্পাদক, কলাম লেখক আর সাধারণ মানুষ তাদের আশাহত না করতে এবং ছাত্র নামধারী এই দুর্বৃত্তদের নিয়ন্ত্রণে সরকারকে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছেন, কিন্তু অবস্থার কোনো পরিবর্তন হয়নি।
আমরা জানি, বর্তমান সরকারের প্রধান শরিক আওয়ামী লীগের ছাত্রসংগঠন ছাত্রলীগ। যদিও সরকারের পক্ষ থেকে মাঝেমধ্যে বলা হয়, ‘ছাত্রলীগ আমাদের কেউ নয়।’ সরকারের এক বছর পূর্তিতে গত ৯ জানুয়ারি আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এক সাক্ষাত্কারে বলেছিলেন, ‘ছাত্র নামধারীদের গুন্ডামি সহ্য করা হবে না।’ কিন্তু তাঁর এই সতর্কতার সাত মাস পর এ কথা কেউ কি বলতে পারবে, ছাত্রলীগ তাদের নেতার সতর্কতা মনে রেখে চলছে, অথবা ছাত্র নামধারীদের গুন্ডামি বন্ধে সরকার সত্যি কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে? ছাত্রলীগের এ ধরনের কর্মকাণ্ডের কারণে বিরক্ত হয়ে প্রধানমন্ত্রী সংগঠনটির সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক ছিন্ন করেছেন, কৃষিমন্ত্রী ছাত্রলীগের অনুষ্ঠানে যেতে অনাগ্রহ দেখিয়েছেন বলে মাঝেমধ্যে পত্রিকায় ছাপা হয়েছে। কিন্তু আজ ছাত্রলীগের ‘ক্রম বিকাশমান’ সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড আর তার পরও তাদের আইনের আওতায় না এনে ‘ওরা আমাদের কেউ নয়’ অথবা ‘বিরোধী দলের আন্দোলন দমাতে তাদের ওপর চড়াও হও’—এ ধরনের মন্তব্য, কুপরামর্শ দেখে আমরা কি আজ বলতে পারি না, প্রধানমন্ত্রী বা কৃষিমন্ত্রী আবেগতাড়িত হয়েছেন, কিন্তু কঠোর হতে পারেননি।
তাই আজ পত্রিকায় শিরোনাম হয় ‘দুর্বিনীত’ ছাত্রলীগ। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা আজ পত্রিকায় চিঠি লিখে আর্তনাদ জানায়, ‘ছাত্রলীগের হাত থেকে আমাদের বাঁচান।’ কারা এই চিঠি লিখছে? যারা পরিবর্তনের প্রতিশ্রুতির ওপর আস্থা রেখেছিল, যারা ছাত্রদল আর ছাত্রশিবিরের দখলদারি দেখেছে, নেতার কান কেটে নেওয়ার দৃশ্য দেখেছে, হাতের কবজি কেটে ক্যাম্পাসে মিছিল করার বীভত্সতা দেখেছে; তারা এ ‘সংস্কৃতি’ থেকে মুক্তি চেয়েছিল। কিন্তু সেই মুক্তি মেলেনি, বিএনপি-জামায়াতের শাসনামলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে তাদের দলীয় লাঠিয়ালদের রাজত্ব ছিল, আজও তা-ই চলছে। শুধু ব্যানার বদল হয়েছে। কিন্তু এই দুর্বৃত্তরা কি আওয়ামী লীগের বা সরকারের কোনো উপকার করবে? আমরা অতীতে দেখেছি, প্রতিটি সরকারের মেয়াদের শেষ দিকে প্রায় প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে একটি ‘নীরব বিপ্লব’ ঘটে। ক্ষমতাসীন দলের ছত্রচ্ছায়ায় থেকে যারা তিন, চার বা পাঁচ বছর এ ধরনের অপকর্ম করে দলের ইমেজ ধ্বংস করে, সরকারের রাজনৈতিক ভরাডুবির ব্যবস্থা করে নিজেরা লাভবান হয়, তারা ক্ষমতার শেষ দিকে এসে দল বদল করে। শিক্ষাঙ্গনে ছাত্রলীগের ব্যানারে আজ যারা নানা অনাচার করছে, তাদের কাজ দেখে এ কথা নির্দ্বিধায় বলতে পারি, সরকারের মেয়াদ শেষের আগে এরা দল ত্যাগ করবে, আর দলের কাঁধে রেখে যাবে অপরাধের দায়ভার। এ কথা হয়তো শাসকেরা বুঝতে পারছেন না। ‘দুর্বিনীত’ ছাত্রলীগের কর্মকাণ্ড, জনপ্রতিক্রিয়া আর মন্ত্রীদের কথা শুনলে মনে পড়ে, রোম যখন পুড়ছিল, নিরো তখনো বাঁশি বাজাচ্ছিল। কিংবা বিএনপির শাসনামলের শেষ দিকে মানুষ যেদিন হাওয়া ভবন ঘেরাও করতে যাচ্ছিল, তখন তারেক-কোকো হাওয়া ভবনের লনে ক্রিকেট খেলছিলেন।
আমরা মনে করিয়ে দিচ্ছি, মানুষের উদ্বেগ, আকাঙ্ক্ষা আর প্রত্যাশা নিয়ে তামাশার ফলাফল মানুষ ভালোভাবে নেয় না; সুযোগ পেলে তার জবাব দেয়। আমাদের চেয়ে সরকার আরও ভালো করে জানে, পরিবর্তনের স্বপ্ন দেখিয়ে মানুষের ব্যাপক সমর্থন নেওয়া সরকারের সামনে আজ অনেক চ্যালেঞ্জ। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা, নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি, অর্থনীতিতে গতিপ্রবাহ সৃষ্টি, বিনিয়োগ বাড়ানো, বিদ্যুত্সংকট মোকাবিলা, বিরোধী দলের আন্দোলন, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার ইত্যাদি সরকারের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ। কিন্তু সেই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জ্ঞানচর্চার পরিবেশ নিশ্চিত করার মাধ্যমে জ্ঞান ও প্রযুক্তিভিত্তিক সমাজ গড়ার কাজে যে সহযোগিতার প্রয়োজন ছিল, ‘ভোট বিপ্লব’-এর প্রধান নিয়ামক দেশের স্বপ্নবান তরুণ সমাজের আকাঙ্ক্ষা পূরণে যে ভূমিকা রাখার কথা ছিল, ছাত্রলীগ তা করেনি। আজ সামগ্রিক অবস্থা দেখে মনে হচ্ছে, ছাত্রলীগ সরকারের জন্য বোঝার ওপর শাকের আঁটির ভূমিকা পালন করছে।
লেখকেরা মানবাধিকার কর্মী, প্রকৌশলী ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক।

জুমাতুল বিদা ও আল-কুদ্স দিবস by মুহাম্মদ আবদুল মুনিম খান

মাহে রমজানের বিদায়কালীন শুক্রবার তথা শেষ জুমার দিন জুমাতুল বিদা নামে পরিচিত। এ দিনটি রমজান মাসের শেষ জুমা হিসেবে ‘আল-কুদ্স দিবস’ পালিত হওয়ায় এর গুরুত্ব, তাত্পর্য ও মাহাত্ম্য অপরিসীম। সাপ্তাহিক জুমার নামাজ মুসলমানদের বৃহত্তর জামাতে অনুষ্ঠিত হয়। এ জুমাবার রমজান মাসে হওয়ায় তা আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ ও ফজিলতময়। রমজান মাসের শেষ শুক্রবার হিসেবে সারা বিশ্বের ধর্মপ্রাণ মুসলমানেরা একটি মাস ত্যাগ-তিতিক্ষার সঙ্গে সিয়াম সাধনা বা রোজা রাখার পর এ দিনটিতে জুমার নামাজ আদায় করে মাহে রমজানকে বিদায় সম্ভাষণ জানান।
জুমার দিন প্রত্যেক বালেগ মুসলমান বান্দার ওপর জুমার নামাজে শরিক হওয়া ওয়াজিব—যদি সে এমন শহর বা জনপদে বসবাস করে, যেখানে মসজিদে জুমার নামাজ আদায় করা হয়। যদিও সব ফরজ নামাজ জামাতের সঙ্গে সমানভাবে আদায় করা অত্যাবশ্যক, তথাপি পবিত্র কোরআনে শুক্রবারের নামাজের গুরুত্ব সম্পর্কে বিশেষভাবে নির্দেশ দিয়ে সব মুসলমানকে এ দিন একত্র হয়ে জুমার নামাজ আদায়ের তাগিদ প্রদান করে আল্লাহ তাআলা ঘোষণা করেছেন, ‘হে মুমিনগণ! জুমার দিনে যখন নামাজের জন্য আহ্বান করা হয়, তখন তোমরা আল্লাহর স্মরণে ধাবিত হও এবং ক্রয়-বিক্রয় ত্যাগ কর। এটাই তোমাদের জন্য শ্রেয়, যদি তোমরা উপলব্ধি কর।’ (সূরা আল-জুমুআ, আয়াত-৯)
রমজান মাসের সর্বোত্তম রজনী হলো লাইলাতুল কদর, আর সর্বোত্তম দিবস হলো জুমাতুল বিদা। এ দিন মুমিন মুসলমানদের ঈমানি সম্মিলন হয়। এ দিনে এমন একটি সময় আছে, যে সময় মুমিন বান্দার মোনাজাত ও ইবাদত আল্লাহ পাক বিশেষভাবে কবুল করেন। এ সময়টি হলো দ্বিতীয় খুতবার আজানের সময় থেকে সূর্যাস্তের পূর্ব পর্যন্ত। জুমার দিনের শ্রেষ্ঠত্ব ও ফজিলত সম্পর্কে রাসুলুল্লাহ (সা.) বাণী প্রদান করেছেন, ‘সপ্তাহের সাত দিনের মধ্যে জুমাবার সর্বাধিক মর্যাদাবান ও নেতৃস্থানীয় দিন। এ পুণ্য দিনে আদি পিতা হজরত আদম (আ.)-কে সৃষ্টি করা হয়। এ দিনে তিনি জান্নাতে প্রবেশ করেন। এ দিনে তিনি পুনরায় পৃথিবীতে আগমন করেন। এ দিনে তাঁর ইন্তেকাল হয়। এ শুক্রবারেই কিয়ামত সংঘটিত হবে। এ পুণ্য দিনে এমন একটি সময় রয়েছে, যে সময় আল্লাহর দরবারে দোয়া কবুল হয়।’ (মিশকাত)
জুমাতুল বিদা রোজাদারদের স্মরণ করিয়ে দেয় যে মাহে রমজানের সমাপনান্তে এ বছর এর চেয়ে ভালো দিবস আর পাওয়া যাবে না। সুতরাং এ পুণ্যময় দিনটির যথাযথ সদ্ব্যবহার করা অপরিহার্য কর্তব্য। এ দিনটির প্রতি অমনোযোগী বা গাফেল না হয়ে এর বরকত হাসিল করা বাঞ্ছনীয়। রাসুলে করিম (সা.) বলেছেন, ‘যে মুসলমান রমজান মাস পেল, কিন্তু সারা বছরের গুনাহখাতা মাফ করিয়ে নিতে পারল না, তার মতো হতভাগা আর নেই।’
যে তিনটি বিষয় জুমাতুল বিদাকে আল্লাহর করুণা, দয়া, ক্ষমা তথা মাগফিরাত ও নাজাত লাভের দিবস হিসেবে চিহ্নিত করেছে, তা হচ্ছে—মাহে রমজান, জুমাতুল বিদা এবং রমজান মাসের শেষ শুক্রবার ‘আল-কুদ্স দিবস’। রাসুলুল্লাহ (সা.) যে তিনটি মসজিদের উদ্দেশ্যে সফরকে বিশেষভাবে সওয়াবের কাজ হিসেবে উল্লেখ করেছেন তার অন্যতম হচ্ছে বায়তুল মোকাদ্দাস বা মসজিদ আল-আকসা। মক্কা মুকাররামা ও মদিনা মুনাওয়ারাহর পরে ফিলিস্তিনের জেরুজালেম নগরে অবস্থিত বায়তুল মোকাদ্দাস হচ্ছে ইসলামের তৃতীয় পবিত্রতম স্থান ও মুসলমানদের প্রথম কিবলা। ইসলামের ইতিহাসের অনেক গুরুত্বপূর্ণ ঘটনার সঙ্গে এর সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। অসংখ্য নবী-রাসুলের পদধূলিতে ধন্য এ নগর। এ মসজিদকে কেন্দ্র করে অসংখ্য নবী-রাসুলের দাওয়াতি মিশন পরিচালিত হয়েছে।
আল্লাহ রাব্বুল আলামিন তাঁর কুদরতি নিদর্শনাবলির ব্যাপকতর প্রদর্শনীর লক্ষ্যে নবী করিম (সা.)-কে মিরাজ তথা ঊর্ধ্বলোকে পরিভ্রমণ করিয়েছিলেন। এ নৈশভ্রমণের প্রথম পর্ব সংঘটিত হয়েছিল মসজিদুল হারাম থেকে মসজিদুল আকসা পর্যন্ত এবং দ্বিতীয় পর্ব ছিল মসজিদুল আকসা থেকে ঊর্ধ্বলোক। লাইলাতুল মিরাজে এ মসজিদেই রাসুলুল্লাহ (সা.) সমস্ত নবীগণের ইমামতি করেছিলেন। নিঃসন্দেহে মানব জাতির পূর্ণতা ও মর্যাদার চরমতম নিদর্শন এ পরিভ্রমণে বায়তুল মোকাদ্দাসকে মাধ্যমরূপে মর্যাদা প্রদানের পেছনে এর পবিত্রতার মর্যাদাই বহন করে। এ সম্পর্কে পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন, ‘পবিত্র ও মহিমান্বিত তিনি, যিনি তাঁর বান্দাকে এক রজনীতে মসজিদুল হারাম থেকে মসজিদুল আকসায় পরিভ্রমণ করিয়েছিলেন, যার চতুষ্পার্শ্ব আমি বরকতময় করেছিলাম তাঁকে আমার নিদর্শন পরিদর্শন করার জন্য, নিশ্চয়ই তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বদ্রষ্টা।’ (সুরা বনী ইসরাঈল, আয়াত-১)
জুমাতুল বিদার বিশেষ তাত্পর্য এই যে রমজান মাসের শেষ শুক্রবার আল্লাহর নবী হজরত দাউদ (আ.)-এর পুত্র মহামতি হজরত সুলায়মান (আ.) জেরুজালেম নগর প্রতিষ্ঠা করেন এবং আল্লাহ তাআলার মহিমা তুলে ধরতে সেখানে পুনর্নির্মাণ করে গড়ে তোলেন মুসলমানদের প্রথম কিবলা ‘মসজিদ আল-আক্সা’। প্রতিবছর রমজান মাসের শেষ শুক্রবার সারা বিশ্বের ধর্মপ্রাণ মুসলমানগণ বায়তুল মোকাদ্দাসে ইহুদিদের অবৈধ দখলের বিরুদ্ধে ঘৃণা প্রকাশ করেন এবং ইহুদি রাষ্ট্র ইসরায়েলের কবল থেকে পবিত্র ভূমি ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে মুক্ত করার জন্য নতুন শপথ গ্রহণ করেন।
মাহে রমজানের সমাপনীসূচক জুমাতুল বিদার নামাজে মসজিদে বিশেষ মোনাজাতে রোজাদার মুসল্লিরা দেশ-জাতির উন্নয়ন, আল-কুদেসর মুক্তি এবং মুসলিম উম্মাহর ঐক্য, সংহতি, শান্তি ও কল্যাণের জন্য আল্লাহর দরবারে পরম ভক্তি ও আন্তরিকতা সহকারে ক্ষমা প্রার্থনা করেন। মসজিদে ইতিকাফ ছাড়াও এ দিনটি পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত, নামাজ, দোয়া-ইস্তেগফার, তাসবিহ-তাহলিল, জিকির-আজকার ও দরুদ শরিফ পাঠ করার মধ্যে অতিবাহিত করা উচিত। মাহে রমজানের রোজা কতটুকু সফল হলো, রোজার মাসে আমরা কতটুকু উন্নত হলাম তা মূল্যায়নের দিবস হলো জুমাতুল বিদা। আল্লাহ পাক যেন আমাদের সবাইকে জায়েজ কাজগুলো যথাযথ পালন করে নাজায়েজ কাজ থেকে নিজেদের হেফাজত করে মাহে রমজানের পরিপূর্ণ মূল্যায়ন করার তাওফিক দান করেন এবং রমজান মাসের সমাপ্তিকালীন জুমাতুল বিদায় ইবাদত-বন্দেগির মাধ্যমে তাঁর সন্তুষ্টি ও অশেষ পুণ্যলাভের সৌভাগ্য প্রদান করেন।
ড. মুহাম্মদ আবদুল মুনিম খান: সহকারী অধ্যাপক, ইসলামিক একাডেমি, দারুল ইহসান বিশ্ববিদ্যালয়। সাংগঠনিক সম্পাদক, আল-কুদ্স কমিটি বাংলাদেশ।

মানুষ ডুবছে বন্যায় আর নেতারা ভাসছেন টাকায় by তারিক আলী

বাইবেলে বর্ণিত নুহের প্লাবন যেন। মাসখানেক আগের ভারী বৃষ্টিপাত থেকে সৃষ্ট বন্যায় আক্রান্ত প্রায় দুই কোটি মানুষ, মৃত দেড় হাজারেরও বেশি। হিসাবটা দিয়েছে পাকিস্তানের দুর্যোগ মোকাবিলা সংস্থা। পাকিস্তানে আগস্ট হলো মৌসুমি ঋতুর মাস। এ বছর ব্যাপক বৃষ্টি হচ্ছে তো হচ্ছেই, তাই বন্যার পানি আর সরছে না। পাকিস্তানের একদিকে মানুষের তৈরি আফগান যুদ্ধের বিপর্যয়, অন্যদিকে প্রাকৃতিক বিপর্যয়। প্রথমটিতেই কাহিল পাকিস্তান, বন্যা মোকাবিলায় পর্যুদস্ত। যেকোনো সরকারের জন্যই এমন পরিস্থিতি সামাল দেওয়া কষ্টকর, কিন্তু বর্তমান সরকার যেন অবশ হয়ে পড়েছে।
গত ৬০ বছরে পাকিস্তানের শাসকেরা কোনো সামাজিক অবকাঠামো তৈরি করতে পারেননি। ব্যবস্থার এই গভীর ঘাটতির শিকার হচ্ছে জনগণ। আর এখন পাকিস্তান আইএমএফের নয়া উদারতাবাদী হুকুম তামিল করে যাচ্ছে, যাতে ঋণের জোগান চালু থাকে। ভালো সময়েও এই ঋণ তেমন উপকার করেনি, আর গত কয়েক দশকের মানবিক বিপর্যয়ের মুখে তা অকার্যকর ভূমিকা রেখেছে।
বন্যা মোকাবিলায় পশ্চিমাদের দিলখোলা সাহায্য না পেয়ে ইসলামাবাদে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে। সেখানকার মার্কিনপন্থী সাংবাদিকেরা দিনরাত আরজি জানিয়ে যাচ্ছেন, সাহায্য না এলে নাকি সন্ত্রাসীরা সব দখল করে ফেলবে। ডাহা আহাম্মকি। ত্রাণ কার্যক্রমের ওপর সেনাবাহিনীর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ রয়েছে। অন্যদিকে বরাবরের মতোই ধর্মীয় গোষ্ঠীগুলোসহ বিভিন্ন মহল থেকে ত্রাণের জন্য টাকা তোলা হচ্ছে। এটা তো অস্বাভাবিক কিছু নয়।
নয়/এগারোর পর থেকে ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকার কিছু অংশে ইসলামভীতি ছড়িয়ে পড়েছে। ‘বহু সংস্কৃতির ব্রিটেনে’ সাম্প্রতিক এক জরিপে ‘ইসলাম’ শব্দটি শুনলেই কিসের কথা আগে মনে আসে—এমন প্রশ্নের জবাবে দেখা গেছে, ৫০ শতাংশই বলেছে, ‘সন্ত্রাস’। ফ্রান্স কিংবা জার্মানি, হল্যান্ড কিংবা ডেনমার্ক—সবখানে একই অবস্থা।
ইসলামকে ইউরোপ তার স্থায়ী ‘প্রতিপক্ষ’ মনে করে। ইরাক ও আফগানিস্তান যুদ্ধের সঙ্গেও এর সম্পর্ক রয়েছে। কিন্তু এই মনোভাব অ্যান্টি-সেমিটিজমের (ইহুদিবিদ্বেষ) মতোই ভুল। এ রকম মনোভাবই দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ পর্যন্ত ইউরোপীয় জাতিবিদ্বেষ ও গণহত্যাকে উসকে দিয়েছিল। একইভাবে ইরাকেও ১০ লাখ মানুষ মারা গেছে: তাতে কার কী যায়-আসে? প্রতিদিনই নিরীহ আফগানরা নিহত হচ্ছে: তাদের দোষেই তারা মরছে—এই হচ্ছে মনোভাব। তাই পাকিস্তান যখন বন্যার পানিতে ডুবছে, তখন পশ্চিমা বিশ্বে দেখা যাচ্ছে উদাসীনতা। যথেষ্টভাবে এগিয়ে না আসার কারণ নিঃসন্দেহে ওই মনোভাব।
অন্য কারণটির জন্ম পাকিস্তানেই। গত কয়েক সপ্তাহে যে কয়েকজন পাকিস্তানির সঙ্গে আমি কথা বলেছি, তাঁদের অনেকেই ত্রাণের জন্য টাকা দিতে উত্সাহী নন। তাঁদের ধারণা, এই টাকা শেষ পর্যন্ত দেশটির দুর্নীতিগ্রস্ত নেতাদের বিরাট পকেটে গিয়ে জমা পড়বে। বন্যার পানি যখন পাকিস্তানকে ঢেকে ফেলছে, সেই মুহূর্তে প্রেসিডেন্ট জারদারি ইউরোপে রওনা হলেন। সেখানকার সহায়-সম্পত্তি দেখা; ইংল্যান্ডের বার্মিংহামে শোভাযাত্রা করে ছেলেকে পাকিস্তানের ভবিষ্যৎ নেতা হিসেবে অভিষিক্ত করাই ছিল উদ্দেশ্য।
ওদিকে পাকিস্তানে স্লোগান ওঠে: ‘হাজার মানুষ মরছে, প্রেসিডেন্ট ফুর্তি করছে’। ইউরোপীয় টিভি চ্যানেলগুলোয় যখন ডুবন্ত পাকিস্তানের দৃশ্য দেখা হচ্ছে, তখন এর প্রেসিডেন্ট ফ্রান্সে ষোলো শতকের একটি দুর্গের পথে রওনা হয়েছেন। বার্মিংহামের অভিষেক অনুষ্ঠান স্থগিত করা হয়। এত কিছুর পরও জারদারির নির্লজ্জ বক্তৃতার সময় এক বর্ষীয়ান কাশ্মীরি রাগে ‘দুর্নীতিবাজ, চোর’ বলে চিত্কার করতে করতে তাঁর দিকে জুতা ছুড়ে মারেন। অপমানিত জারদারি খেপে সভা ছেড়ে চলে যান। পরদিন পাকিস্তানের সবচেয়ে বড় সংবাদপত্রে শিরোনাম হয়, ‘জারদারিও বুশের সঙ্গে জুতা ক্লাবে যোগ দিলেন’।
বিক্ষোভকারীদের অনেকেই জারদারির ছবিতে জুতা দিয়ে আঘাত করে। অনেকের হাতের প্লাকার্ডে লেখা ছিল, ‘জারদারি পরিবার ইংল্যান্ডে আনন্দ করছে আর লক্ষ লক্ষ লোক ঘরছাড়া’। এসব দেখে মানুষ ত্রাণকাজে আরও হতাশ হয়ে পড়ে।
সংকটাপন্ন পাকিস্তান আর এই উদ্বাস্তু জনগণের ছবি ইউরোপীয় টেলিভিশনে যখন দেখানো হচ্ছে, তখন ফরাসি বিমানবাহিনীর একটি হেলিকপ্টারে করে জারদারি তাঁর সেই ষোলো শতকের বিলাসবহুল প্রাসাদের দিকে যাচ্ছেন। বিরাট এ প্রাসাদে রয়েছে পার্ক, লেক ও বন। আসলে এটা তৈরি করা হয়েছিল রাজা ষষ্ঠ ফিলিপের বিধবা স্ত্রীর জন্য। আর এখন এটা হয়েছে এক পাকিস্তানি বিপত্নীকের সম্পত্তি। এত বিলাসের টাকা কোত্থেকে আসে? সবাই জানে, পাকিস্তানে বিনিয়োগকারীদের দেওয়া ঘুষ থেকে।
এদিকে পাকিস্তানের বৃহত্তম মিডিয়া সাম্রাজ্য জং গ্রুপকে বলা হয়, তারা যেন প্রেসিডেন্টকে জুতা মারার দৃশ্যটি তাদের জিয়ো টিভিতে প্রচার না করে। তারা উপদেশ অমান্য তো করেই, উল্টো জুতা নিক্ষেপকারীর সাক্ষাত্কার প্রচার করে।
ইউটিউব বন্ধ করতে না পেরে জারদারির লোকজন করাচি ও সিন্ধুর কিছু এলাকায় জিয়ো টিভিসহ আরও কয়েকটি টিভি চ্যানেলের প্রচার বন্ধ করে দেয়। শত শত জারদারিভক্ত করাচিতে জিয়ো টিভির দপ্তরের সামনে জড়ো হয়ে জুতা ও ঢিল ছুড়তে থাকে। গোটা করাচি খুঁজেও পুলিশের সাহায্য তারা পায়নি। গোটা করাচিতে জং গ্রুপের সংবাদপত্রগুলো পোড়ানো হয়। জবাবে জিয়ো টিভি গণমাধ্যমের স্বাধীনতার পক্ষে বেনজির ভুট্টোর বক্তৃতা প্রচার করে। ওদিকে বন্যা চলতেই থাকে...
কাউন্টারপাঞ্চ থেকে নেওয়া, ইংরেজি থেকে অনুবাদ ফারুক ওয়াসিফ।
তারিক আলী: পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ লেখক।

ভোগ্যপণ্যের যুক্তিহীন উচ্চমূল্য

পবিত্র রমজান মাসের জন্য সরকার-নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে চিনি ও ভোজ্যতেল। সরকার চিনির খুচরা মূল্য নির্ধারণ করেছে কেজিপ্রতি মিল গেটে ৪৩ ও খুচরা বাজারে ৪৭ টাকা। কিন্তু ভোক্তাদের গুনতে হচ্ছে কেজিপ্রতি ৫০ থেকে ৫২ টাকা পর্যন্ত। খোলা সয়াবিন তেলের দাম সরকার নির্ধারণ করেছে লিটারপ্রতি ৮০ টাকা, কিন্তু খুচরা বাজারে তা বিক্রি হচ্ছে ৮৩-৮৪ টাকায়। পাম তেলও বিক্রি হচ্ছে সরকার-নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দরে। এসব ভোগ্যপণ্যের দাম বাড়ার কারণগুলো খুঁজতে গেলে বাজারে একটা গোলমেলে পরিস্থিতি প্রতীয়মান হয়: স্তরে স্তরে অসংগতি ও অসাধুতার ইঙ্গিত মেলে।
ব্যবসায়ীদের সংগঠন এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি এ কে আজাদ চট্টগ্রামে এক মতবিনিময় সভায় প্রশ্ন তুলেছেন: সরকার নির্ধারণ করে দেওয়ার পরও চিনি ও ভোজ্যতেলের দাম বাড়ছে কেন? উত্তর মেলেনি। আমদানিকারক, মিল-মালিক, পাইকারি ও ডিও ব্যবসায়ীদের মধ্যে বিতর্ক হয়েছে, তাঁরা পরস্পরের ওপর দায় চাপাতে চেয়েছেন। একজন মিল-মালিক বলেছেন, খুচরা বাজারে এখন যে চিনি বিক্রি হচ্ছে, তাঁর কারখানায় সে চিনির উৎপাদন খরচ পড়েছে কেজিপ্রতি ৩৪ টাকা। সেই চিনি বাজারে কেজিপ্রতি ৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে কেন? একজন ডিও ব্যবসায়ী এ রকম ব্যাখ্যা দিয়েছেন: সব কারখানা থেকে সরকার-নির্ধারিত দামে চিনি পাওয়া যাচ্ছে না, কেজিপ্রতি চার টাকা বেশি দরে তিনি মিল গেটে চিনি কিনেছেন, এমন দৃষ্টান্তও তিনি দিয়েছেন। মিল-মালিকেরা বলছেন, তাঁরা মিল গেটে সরকার-নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি নিচ্ছেন না। তাহলে ব্যাপারটা কী দাঁড়াচ্ছে? সরকারের আদেশ লঙ্ঘন করছে কোন পক্ষ? মিথ্যাচার করছে কারা?
পাইকারি ও খুচরা বাজারে ভোগ্যপণ্যের দামের যুক্তিহীন তারতম্যও বেশ গোলমেলে বিষয়। এখানেও এক পক্ষ অন্য পক্ষের ওপর দোষ চাপাতে চায়। যেমন, খুচরা বিক্রেতারা এ মুহূর্তে বলছেন, তাঁরা সরকার-নির্ধারিত দামে চিনি ও ভোজ্যতেল বিক্রি করতে পারছেন না; কারণ, পাইকারি বাজারে দাম হঠাৎ বেড়ে গেছে। পাইকারি ব্যবসায়ীরা তখন বলছেন, মিলগুলো সরবরাহ কমিয়ে দাম বাড়িয়ে দিয়েছে।
এভাবে উৎপাদক ও ব্যবসায়ী পক্ষগুলোর মধ্যে উদোর পিণ্ডি বুধোর ঘাড়ে চাপানোর প্রবণতাকে প্রশ্রয় দেওয়া চলবে না। কারা অসাধুতার আশ্রয় নিচ্ছে, তা ধরা যাবে না, এমন তো হতে পারে না। যখন প্রত্যেকে প্রত্যেককে দোষারোপ করেন, তখন সব পক্ষের দায় খতিয়ে দেখতে হয়।
মিল গেট থেকে শুরু করে খুচরা বাজার পর্যন্ত সর্বস্তরে কেনাবেচায় রসিদ দেওয়া বাধ্যতামূলক করা হলে কিছু সুফল ফলতে পারে। পণ্যের মজুদ পর্যাপ্ত থাকতে সরবরাহ কমিয়ে দাম বাড়ানোর অভিযোগ প্রমাণিত হলে কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও ভোক্তা অধিদপ্তরের তরফ থেকে অভিযান চালানো হচ্ছে শুধু খুচরা বাজারে। এটা যথেষ্ট নয়, পাইকারি বাজার এবং মিল গেটেও কড়া নজরদারি ও ঝটিকা অভিযান চালাতে হবে। কোনো রকমের অসাধুতা ধরা পড়লে কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। সরকারের তরফে যাঁরা এসব দায়িত্ব পালন করবেন, তাঁদেরও সততা-আন্তরিকতা থাকা প্রয়োজন।

সাংসদদের গাড়িবিলাস

সাংসদদের আজকাল চলতি মডেলের দামি বিদেশি গাড়ি সম্পর্কেও ওয়াকিবহাল থাকতে হয়। সম্প্রতি সাংসদদের জন্য শুল্কমুক্ত সুবিধায় গাড়ি আমদানির সুযোগ আবার অবারিত করা হয়েছে। তিন কোটি টাকা দামের গাড়ি এখন তাঁরা ৫০ লাখ টাকায়ই কিনতে পারবেন। তাঁদের জন্য ব্যাংকগুলো ঋণ দিচ্ছে, গাড়ি ব্যবসায়ীরা পত্রিকায় গাড়ির বিজ্ঞাপন ছাপছেন আর বিদেশি গাড়ির সচিত্র বিবরণ তাঁদের বাড়িতেও পৌঁছে দিচ্ছেন। নবীন-প্রবীণ নির্বিশেষে সরকারি ও বিরোধী দলের সাংসদেরা একযোগে শুল্কমুক্ত গাড়ি পেতে উদ্গ্রীব হয়ে উঠেছেন। জনগণের করের টাকার প্রতিদানে সরকারি সেবা নিশ্চিত করা এবং জনগণের পক্ষে আইন তৈরি করাই যাঁদের দায়িত্ব, তাঁরা যখন আপন স্বার্থে বিধি প্রণয়নে দ্বিধা করেন না, তখন সাধারণ মানুষের হতাশ হওয়া ছাড়া উপায় কী?
সাংসদদের জন্য শুল্কমুক্ত গাড়ির সুবিধা চালু হয় জেনারেল এরশাদের সামরিক শাসনের সময়। বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় তা রদ করা হলেও বর্তমানে আবার শুল্কমুক্ত গাড়ি আনার আইনি বাধা অপসারণ করা হয়।
বিশ্বের কোনো গণতান্ত্রিক দেশে এমন চক্ষুলজ্জাহীন সুবিধা গ্রহণের নজির নেই। ব্রিটেনে এমপিরা সরকারি গাড়ির পুল থেকে প্রয়োজনমাফিক গাড়ি ব্যবহারের সুযোগ পান। ব্রিটেনের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন মন্ত্রী থাকা অবস্থায় সরকারি ট্রেনে যাতায়াত করতেন। প্রধানমন্ত্রী হয়ে তিনি মন্ত্রীদের শোফার (চালক) রাখার নিয়মও বাতিল করে দিয়েছেন। ব্রিটেনের আদালত, এমনকি কয়েকজন সাংসদের বিধিবহির্ভূত ব্যয় সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়ার নির্দেশও দিয়েছেন। ভারতেও একইভাবে সাংসদদের জন্য সরকারি পুল থেকে গাড়ি ব্যবহারের সুযোগ দেওয়া হয়। বিপরীত দৃষ্টান্তেরও অভাব নেই। বিশ্বের দুর্নীতিগ্রস্ত দেশগুলোর অন্যতম জিম্বাবুয়ের সরকার এমপিদের জন্য বিলাসবহুল দামি গাড়ি সরবরাহ করেছে। যদিও দেশটি চরম আর্থিক সংকটে নিমজ্জিত। সেখানকার গোত্রপ্রধানেরাও একই রকম গাড়ি দাবি করেছেন এ যুক্তিতে যে নইলে জনগণের সামনে তাঁদের সম্মান থাকে না। আমাদের সাংসদেরাও বলতে পারেন, ব্যবসায়ীদের অনেকেই যেখানে বিলাসবহুল দামি গাড়ি ব্যবহার করছেন, সেখানে তাঁদের সম্মান থাকে কী করে?
মনে রাখা দরকার, বাংলাদেশ একটি গরিব দেশ। এখনো এ দেশের বেশির ভাগ মানুষের জন্য চলনসই পরিবহনব্যবস্থা সরকার গড়ে তুলতে পারেনি। এখনো রাজধানীর কোটি মানুষ বাদুড়ঝোলা অবস্থায় বাসে চলাচল করে, আর যানজটে আটকে থেকে গরমে সেদ্ধ হয়। এ রকম একটি দেশের জনপ্রতিনিধিদের দু-তিন কোটি টাকা দামের গাড়ি শুল্কমুক্ত সুবিধায় ৪০-৫০ লাখ টাকায় কিনতে চাওয়া অনৈতিক। দ্বিতীয়ত যাঁরা এসব গাড়ি কেনার অভিলাষ করেছেন, এরই মধ্যে তাঁদের ৯০ শতাংশেরই একাধিক দামি গাড়ি রয়েছে। তাঁরা যে ১৬৫০ থেকে ৪৫০০ সিসির ভারী গাড়ি চাইছেন, তা কি একজন জনপ্রতিনিধির খুবই প্রয়োজন? এসব গাড়ি দুর্গম এলাকায় জনসংযোগের জন্য, এমন দাবিও হাস্যকর।
সাংসদদের এমন অভিলাষ সাধারণ মানুষের মধ্যে তাঁদের মর্যাদা ও নৈতিক অবস্থানকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। এতে অন্যরাও স্বার্থপর ভোগ ও দুর্নীতিতে উত্সাহিত হয়। তাঁদের মনে রাখতে হবে, জনগণ তাঁদের সংসদে পাঠিয়েছে জনস্বার্থ দেখার জন্য, আপন স্বার্থে সুবিধাবাদী আইন প্রণয়নের জন্য নয়।

আফগানিস্তান সফরে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী

মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী রবার্ট গেটস গতকাল বৃহস্পতিবার আকস্মিক সফরে আফগানিস্তানের কাবুলে পৌঁছেছেন। ইরাকে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘোষণার অনুষ্ঠান শেষে বাগদাদ থেকে কাবুল যান তিনি।
কর্মকর্তারা জানান, এই সফরের সময় আফগানিস্তানের প্রেসিডেন্ট হামিদ কারজাই, সেখানে আন্তর্জাতিক বাহিনীর কমান্ডার মার্কিন জেনারেল ডেভিড পেট্রাউস ও অন্য কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন গেটস।

মোজাম্বিকে পুলিশ ও বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষে নিহত ৭

মোজাম্বিকে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়ার প্রতিবাদে বিক্ষোভরত জনতার সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষে অন্তত সাতজন নিহত হয়েছে বলে দেশের সরকারি টেলিভিশন জানিয়েছে।
পুলিশ বলেছে, ওই সংঘর্ষে চারজন নিহত ও ২৬ জন আহত হয়েছে। সংবাদ মাধ্যম ও পুলিশ উভয়ের বক্তব্য অনুযায়ী আহত ব্যক্তিদের মধ্যে কয়েকজন পুলিশ সদস্যও রয়েছেন।
সরকারি টেলিভিশন স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে বলেছে, গত বুধবার রাজধানী মাপুতোয় বিক্ষোভকারীরা দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদে রাস্তায় নামে। তারা দোকানপাটে ভাঙচুর শুরু করলে পুলিশ তাদের ছত্রভঙ্গ করতে আসে। এ সময় তাদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়।
গতকালও বিক্ষোভকারীরা রাস্তায় নামে। এ সময় রাজধানীতে সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ ছিল। টেলিভিশনের খবরে বলা হয়, সংঘর্ষে সাতজন নিহত হয়েছে। তবে পুলিশ মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র পেড্রো কোসা গতকাল বৃহস্পতিবার বলেন, তাঁরা মোট চারজনের মৃত্যুর খবর পেয়েছেন। এদের মধ্যে দুজন বিক্ষোভকারী পুলিশের গুলিতে মারা গেছে।
বুধবার মোজাম্বিকের প্রেসিডেন্ট আরমান্দো গুয়েবুজা এক ভাষণে দেশবাসীকে শান্ত থাকার আহ্বান জানান। কর্মকর্তারা বলেছেন, গতকালও রাজধানীতে বেশ কয়েক দফা গুলির শব্দ শোনা গেছে।
মোজাম্বিক তার মোট চাহিদার মাত্র এক-চতুর্থাংশ গম উত্পন্ন করতে সক্ষম। বাকি গম বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়। আন্তর্জাতিক বাজারে খাদ্যশস্যের দর বেড়ে যাওয়ার কারণে সেখানে খাদ্যসহ নিত্যপণ্যের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেছে।

পাকিস্তানে বোমা হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৩৫

পাকিস্তানের লাহোরে গত বুধবার শিয়া সম্প্রদায়ের এক শোক শোভাযাত্রায় তিন দফা বোমা বিস্ফোরণে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৩৫-এ পৌঁছেছে। আহত হয়েছেন কমপক্ষে ২৫০ জন। এ ঘটনায় গতকাল বৃহস্পতিবার থেকে তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক পালন করা হচ্ছে। ভয়াবহ বন্যাকবলিত পাকিস্তানে এই ঘটনা সরকারকে আরও বেকায়দায় ফেলেছে। বন্যা শুরু হওয়ার পর এটাই পাকিস্তানে সবচেয়ে বড় ধরনের বোমা হামলা।
স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা সাজ্জাদ ভুট্টা বলেন, বোমা হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৫। আহত হয়েছেন কমপক্ষে ২৫০ জন। গতকাল কড়া নিরাপত্তার মধ্যে নিহত ব্যক্তিদের জানাজার আয়োজন করা হয়। স্থানীয় সাংবাদিকেরা জানান, গতকাল লাহোরের দোকানপাট বন্ধ ছিল। বেশির ভাগ সড়ক ছিল ফাঁকা। সরকারিভাবে শোক ঘোষণার কারণে সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ ছিল।
এক বিজ্ঞপ্তিতে বোমা হামলার দায়িত্ব স্বীকার করেছে তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি)। এতে বলা হয়, শিয়া চরমপন্থীরা ২০০৯ সালে সিন্ধু প্রদেশে মাওলানা আলি শাইর হায়দরিকে হত্যা করে। এই হামলা তারই প্রতিশোধ। মাওলানা আলি শাইর হায়দরি একজন শিয়াবিরোধী নেতা ছিলেন।
হজরত আলী (রা.)-এর মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে শিয়া সম্প্রদায়ের ৩৫ হাজার সদস্য বুধবার লাহোরের রাজপথে বার্ষিক শোক শোভাযাত্রা বের করে। শোভাযাত্রার তিনটি স্থানে বোমা বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। প্রথম বোমাটি ছিল একটি সময়নিয়ন্ত্রিত বোমা। লাহোরের সুপরিচিত একটি ভবনের কাছে বোমাটি বিস্ফোরিত হয়। এর কয়েক মিনিট পর এক কিশোর আত্মঘাতী হামলাকারী শোভাযাত্রায় আরেকটি বোমার বিস্ফোরণ ঘটিয়ে নিজেকে উড়িয়ে দেয়। খানিক পর শোভাযাত্রার শেষপ্রান্তে অপর আত্মঘাতী হামলাকারী তৃতীয় বিস্ফোরণ ঘটায়।
বিস্ফোরণের পর শোভাযাত্রায় অংশ নেওয়া শিয়াদের একটি অংশ স্থানীয় একটি থানায় আগুন লাগায়। পুলিশ তাদের বাধা দেয়। শোভাযাত্রার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হওয়ায় শোকার্ত লোকজন পুলিশ ও প্রাদেশিক সরকারের বিরুদ্ধে স্লোগান দেয়।
শীর্ষস্থানীয় শিয়া নেতা আগা সৈয়দ হামিদ আলি শাহ মুসাভি কর্তৃপক্ষের কাছে নিরাপত্তা আরও জোরদার করার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, তাঁরা বার্ষিক এই শোভাযাত্রার আয়োজন কখনো বন্ধ করবেন না।
পাকিস্তানে শিয়া ও সুন্নি সম্প্রদায়ের মধ্যে সহিংসতা অনেক দিন ধরে চলে আসছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সুন্নি চরমপন্থীরা শিয়া ও অন্যান্য মুসলিম সম্প্রদায়ের ওপর কয়েক ডজন হামলা চালিয়েছে। আল-কায়েদা ও তালেবানের সঙ্গে সহযোগিতার মাধ্যমে এ ধরনের হামলা চালিয়ে পাকিস্তানের যুক্তরাষ্ট্র-সমর্থিত সরকারকে অস্থিতিশীল করে তোলার চেষ্টা করছে তারা।

অস্ট্রেলিয়ায় সরকার গঠনের কাছাকাছি গিলার্ডের দল

অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী জুলিয়া গিলার্ডের দল লেবার পার্টিকে সমর্থন দিয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচিত একজন এমপি। ইরাক যুদ্ধের সমর্থক অ্যান্ড্রু উইলকি নামের ওই এমপির সমর্থন লাভের পর তাদের মোট আসন সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭৪-এ। সরকার গঠনের জন্য তাদের কমপক্ষে আরও দুজন স্বতন্ত্র এমপির সমর্থন দরকার। তবে নির্বাচিত বাকি তিন এমপি শেষ পর্যন্ত ক্ষমতাসীন লেবার পার্টি না লিবারেল পার্টির নেতৃত্বাধীন জোটকে সমর্থন দেবেন তা এখনো ঠিক হয়নি।
গতকাল বৃহস্পতিবার তাসমানিয়ার ডেনিসন থেকে নির্বাচিত স্বতন্ত্র এমপি অ্যান্ড্রু উইলকি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রধানমন্ত্রী গিলার্ডের দলকে সমর্থন দেওয়ার কথা ঘোষণা করেন। এর মাধ্যমে গিলার্ড তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী টনি অ্যাবোটের চেয়ে এক আসন বেশি এগিয়ে গেলেন।
মোট ১৫০ আসনের পার্লামেন্ট নির্বাচনে গিলার্ড এবং অ্যাবোট নেতৃত্বাধীন জোট ৭৩টি করে আসনে জিতেছেন। বাকি চারটি আসনে জিতেছেন চার স্বতন্ত্র প্রার্থী। সরকার গঠনে দরকার ৭৬টি আসন। উইলকির সমর্থন পাওয়ার পর সরকার গঠনের জন্য এখন গিলার্ডের বাকি তিন স্বতন্ত্র এমপির মধ্য থেকে অন্তত দুজনের সমর্থন দরকার। অন্যদিকে বাকি তিন স্বতন্ত্র এমপির সবাই যদি অ্যাবোটকে সমর্থন দেন তাহলে গিলার্ডকে পাশ কাটিয়ে অ্যাবোটই সরকার গঠন করতে পারবেন। এ অবস্থায় ক্ষমতাসীন ও বিরোধী দল উভয় পক্ষই ওই তিন এমপিকে নিজেদের দলে ভেড়ানোর জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে রব ওয়াকেশট, টনি উইন্ডসোর এবং বব কাটার নামের ওই তিন এমপি কোন পক্ষকে সমর্থন করবেন তা এখনো ঠিক করে উঠতে পারেননি। এ বিষয়ে সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে তাঁরা আজ শুক্রবার আনুষ্ঠানিকভাবে বৈঠকে বসবেন।

অবৈধ অভিবাসী কমছে যুক্তরাষ্ট্রে

মন্দা অর্থনীতির পাশাপাশি সীমান্তে কড়াকড়ির কারণে যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধ অভিবাসীর সংখ্যা কমেছে। ২০০৫ সালের আগে বছরে গড়ে সাড়ে আট লাখ অভিবাসী অনুপ্রবেশ করত যুক্তরাষ্ট্রে। গত পাঁচ বছরে এ সংখ্যা বছরে তিন লাখে নেমে এসেছে।
তিন বছর আগেও যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধ অভিবাসীর সংখ্যা এক কোটি ২০ লাখের বেশি মনে করা হতো। ২০০৯ সালের পরিসংখ্যান মতে, এখন অবৈধ অভিবাসীর সংখ্যা এক কোটি ১০ লাখের মতো হবে। এসব অবৈধ অভিবাসীর ৬০ শতাংশই আবার পার্শ্ববর্তী দেশ মেক্সিকো থেকে আসা। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী লাতিন আমেরিকার বিভিন্ন দেশ থেকে ২০ শতাংশ, এশিয়া থেকে ১১ শতাংশ এবং আফ্রিকা, ইউরোপ ও কানাডা থেকে আট শতাংশ অবৈধ অভিবাসী যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছে। গবেষণা প্রতিষ্ঠান পিউ হিসপালিক সেন্টারের জরিপ থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।
গত বুধবার প্রকাশিত এ জরিপে বলা হয়েছে, ২০০৭ সাল থেকে মার্কিন অর্থনীতিতে মন্দা শুরু হওয়ার পর অবৈধ অভিবাসনের প্রবাহ হ্রাস পেয়েছে লক্ষণীয়ভাবে। তথ্য মতে, ভার্জিনিয়া, ফ্লোরিডা ও নেভাদা অঙ্গরাজ্যে অবৈধ অভিবাসীর সংখ্যা কমেছে সবচেয়ে বেশি। আবাসন শিল্পে ধস নামার কারণে ফ্লোরিডা ও নেভাদায় এ সংখ্যা কমেছে বলে মনে করা হচ্ছে। অবৈধ অভিবাসীদের উল্লেখযোগ্য অংশ নির্মাণকাজে জড়িত। নতুন বাড়ি নির্মাণ, বাড়ি ক্রয়-বিক্রয় কার্যত বন্ধ থাকায় বিপুলসংখ্যক অবৈধ অভিবাসী বেকার হয়ে পড়েছে। গত দুই বছরে ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে অবৈধ অভিবাসীর সংখ্যা অর্ধেকে নেমে এসেছে। একইভাবে নেভাদা অঙ্গরাজ্যে হ্রাস পেয়েছে এক-তৃতীয়াংশ। এর মধ্যে ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে অবৈধ অভিবাসীদের ওপর কড়াকড়ি আরোপের প্রভাব লক্ষণীয় হয়ে উঠেছে। এ অঙ্গরাজ্যে ২০০৭ সালে দুই লাখ ৪০ হাজার অবৈধ অভিবাসী ছিল বলে মনে করা হতো। এখন এ সংখ্যা ৬৫ হাজারে নেমে এসেছে।
পিউ রিসার্চ সেন্টারের প্রতিবেদক ফেজরি পাসেলের মতে, অর্থনৈতিক মন্দার সঙ্গে আইনি কড়াকড়ির কারণেও অবৈধ অভিবাসীর সংখ্যা কমছে।
প্রিন্সটন ইউনিভার্সিটির সমাজবিজ্ঞানের অধ্যাপক ডগলাস মেসি বলেছেন, মন্দা অর্থনীতি এবং কাজের সুযোগ কমে যাওয়ায় অবৈধ অভিবাসীদের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে অনীহা দেখা দিয়েছে। পিউ রিসার্চ সেন্টারের জরিপ অনুযায়ী, অবৈধ অভিবাসীদের মধ্যে বেকারত্বের হার বেশি। যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় সাড়ে ১০ শতাংশ অবৈধ অভিবাসী এখন কর্মহীন। গবেষণা প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, শুধু অবৈধ নয়, বৈধ অভিবাসীদের জন্যও যুক্তরাষ্ট্রে জীবনযাপন করা কঠিন হয়ে উঠেছে। সাম্প্রতিক সময়ে অ্যারিজোনা অঙ্গরাজ্যে অবৈধ অভিবাসী নিয়ন্ত্রণে নতুন আইন প্রণয়ন করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সদাসতর্ক সীমান্তপথে এখন নিরাপত্তা তল্লাশি বেড়েছে। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি হ্রাস এবং স্বচ্ছন্দ জীবনযাত্রার পথ সংকুচিত হওয়ায় মার্কিন অভিবাসনপ্রবাহে ভাটা পড়াটা সাময়িক বলে মনে করা হচ্ছে। অর্থনৈতিক মন্দা কেটে গেলে অভিবাসন প্রক্রিয়ায় ভিন্ন প্রবাহ দেখা যাবে—এমন মন্তব্য করা হয়েছে মার্কিন সংবাদ মাধ্যমগুলোতে।

পাকিস্তানিদের দুঃখ-ব্যথা রাষ্ট্রনায়কদের পোড়ায় না

জঙ্গি তাণ্ডবে প্রতিদিনই পাকিস্তানে রক্তের বন্যা বইছে। এর সঙ্গে এখন যুক্ত হয়েছে বন্যা। ৮০ বছরের মধ্যে এমন বন্যা কখনো দেখেনি পাকিস্তানের মানুষ। গতকাল বৃহস্পতিবার থেকে তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক দিবস পালন করা হচ্ছে। বন্যা মোকাবিলা কিংবা জঙ্গি দমন সর্বক্ষেত্রেই সরকার ব্যর্থ। তারা বোঝে কেবল তাদের রাজনৈতিক স্বার্থ। সাধারণ পাকিস্তানিদের দুঃখ-ব্যথা রাষ্ট্রনায়কদের পোড়ায় না।
পাকিস্তানের সিন্ধু, পাঞ্জাব, বেলুচিস্তান, খাইবারসহ বন্যাদুর্গত প্রতিটি অঞ্চলের পিচ ঢালা যে রাজপথে কয়েক দিন আগেই দাপিয়ে চলেছে যন্ত্রচালিত যান; এখন সেখানে ঘোলা জলের বান। রাজপথেরই যদি হয় এই দশা; তবে বোঝাই যায় লোকালয়ের কী অবস্থা!
বন্যার স্রোতে পাকিস্তানের হাজার হাজার মানুষের ঘরবাড়ি বিলীন হয়েছে, গবাদিপশু ভেসে গেছে, রাস্তাঘাট ভেঙে গেছে, সোনার ফসল গেছে ডুবে। জাতিসংঘের তথ্যমতে, এ বন্যায় এখন পর্যন্ত এক কোটি ৭০ লাখেরও বেশি লোক সরাসরি আক্রান্ত হয়েছে। ১২ লাখ লোক তাদের বাড়ি হারিয়েছে, ৩২ লাখ হেক্টর ফসলি জমির ফসল নষ্ট হয়েছে। আর প্রায় এক হাজার ৫৩৯ জন মানুষের জীবন অকালেই ঝরে গেছে।
বন্যাদুর্গত মানুষের জীবনে এখন নেমে এসেছে অমানিশার অন্ধকার। টিকে থাকার তাগিদে তাদের প্রতিনিয়তই লড়তে হচ্ছে। দিনের পর দিন খোলা আকাশের নিচে তারা বাস করছে। কবে ঘরে ফিরবে তার কোনো নিশ্চয়তা নেই। পেটে নেই খাবার। আর খাবার যা আসে, তা নিয়ে চলে নিজেদের মধ্যে টানাটানি।
চারদিকে থইথই পানি। কিন্তু খাওয়ার মতো পানি নেই মোটেও। দূষিত পানি খেয়ে তেষ্টা মিটছে ঠিকই। কিন্তু এর জন্য মাশুল দিতে হচ্ছে বড় বেশি। ডায়রিয়া, পেটের পীড়া কিংবা কলেরা ছড়িয়ে পড়ছে মহামারির আকারে। এর সঙ্গে পানিবাহিত চর্ম রোগের প্রাদুর্ভাব তো আছেই।
ত্রাণ আসছে ঠিকই। কিন্তু প্রয়োজনের তুলনায় তা নিতান্তই অপ্রতুল। তার ওপর ত্রাণ নিয়ে আবার চলছে দুর্নীতি। অনেক দুর্গত লোক অভিযোগ করে বলেছে, স্থানীয় রাজনীতিবিদেরা তাঁদের পরিচিতদের মধ্যেই শুধু ত্রাণ বিতরণ করছেন। বাকিরা অনাহারে দিন কাটাচ্ছে।
স্বাস্থ্যকর্মীরা বলছেন, রোগের ভয়াবহ বিস্তার বন্যাদুর্গত লোকগুলোর জীবনকে বিপর্যস্ত করে তুলতে পারে। বিশুদ্ধ পানির অভাব, স্যানিটেশন ব্যবস্থার অপর্যাপ্ততা নানা ধরনের ব্যাধি ছড়িয়ে পড়ার সবচেয়ে বড় নিয়ামক হিসেবে কাজ করছে। আসিক হোসেন মালিক নামের পাকিস্তানের একজন স্বাস্থ্য কর্মকর্তা বলেছেন, তাঁদের কাছে আসা রোগীদের মধ্যে ৬০ শতাংশই পেটের পীড়া, ডায়রিয়া, চর্ম রোগ, চোখের সংক্রমণ ইত্যাদি রোগে ভুগছে এবং এদের অনেকের অবস্থাই বেশ গুরুতর। জাতিসংঘও টাইফয়েড, হেপাটাইটিস এ ও বি, ম্যালেরিয়া, ডেঙ্গু প্রভৃতি পানিবাহিত রোগের আশঙ্কাজনক বিস্তারের ব্যাপারে সতর্কতা উচ্চরণ করেছে।
বন্যাদুর্গত পাকিস্তানিদের খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি ও আশ্রয় নিশ্চিত করার জন্য জাতিসংঘ ৪৬০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের সাহায্যের আবেদন জানিয়েছে। জাতিসংঘের মহাসচিব বান কি মুন ইতিমধ্যে পাকিস্তান ভ্রমণ করে পরিস্থিতিকে ‘মানবিক বিপর্যয়’ বলে অভিহিত করেছেন। পাকিস্তানে অবস্থানরত অনেক সাহায্য সংস্থা বলেছে, সামনের দিনগুলোতে পাকিস্তান দীর্ঘমেয়াদি বিপর্যয়ের মুখোমুখি হবে। কারণ, ডুবে থাকা অঞ্চলের সব ফসল নষ্ট হয়েছে। তাই তাদের দুর্ভোগ আরও বাড়বে। ভবিষ্যতে দেখা দেবে চরম খাদ্যসংকট।
পাকিস্তান যখন ডুবছে তখনো দেশটিতে থেমে নেই জঙ্গি তত্পরতা। গত বুধবার পাকিস্তানের লাহোরে শিয়া মুসলমানদের এক শোভাযাত্রায় পৃথক তিনটি আত্মঘাতী বোমা হামলায় কমপক্ষে ৩৫ জন নিহত এবং ২৫০ জন আহত হয়েছে।

যুক্তরাজ্যে পিবিএল এক্সচেঞ্জের দ্বিতীয় শাখা উদ্বোধন

যুক্তরাজ্যের বার্মিংহামে সম্প্রতি পিবিএল এক্সচেঞ্জ ইউকের দ্বিতীয় শাখা উদ্বোধন করা হয়েছে।
প্রাইম ব্যাংক লিমিটেড ও পিবিএল এক্সচেঞ্জ ইউকের চেয়ারম্যান আজম জে চৌধুরী প্রধান অতিথি হিসেবে শাখাটির উদ্বোধন করেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশ দূতাবাসের সহকারী হাইকমিশনার ফয়সাল আহমেদ। এ সময় ব্যাংকের পরিচালকেরাসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স ৪৫ শতাংশ বোনাস শেয়ার দেবে

ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড ২০০৯ সালের শেয়ারহোল্ডারদের জন্য ৪৫ শতাংশ বোনাস শেয়ার অনুমোদন করেছে।
ঢাকার একটি হোটেলে সম্প্রতি অনুষ্ঠিত কোম্পানির দশম বার্ষিক সাধারণ সভায় এই লভ্যাংশ ঘোষণা করা হয়। সভায় কোম্পানির চেয়ারম্যান মো. নজরুল ইসলাম সভাপতিত্ব করেন।
এতে কোম্পানির ভাইস চেয়ারম্যান এম তাজুল ইসলাম, নিরীক্ষা কমিটির চেয়ারম্যান এম এ খালেক, নির্বাহী কমিটির চেয়ারপারসন প্রফেসর ইফফাৎ জাহান, পলিসি অ্যান্ড ক্লেইমস সাব-কমিটির চেয়ারম্যান মো. হেলাল মিয়া, পরিচালক আয়েশা হুসনে জাহান, মো. মোশাররফ হোসেন, মো. মিজানুর রহমান, মো. মোজাম্মেল হোসেন, রাবেয়া বেগম, স্বতন্ত্র পরিচালক সৈয়দ হোসেইন জামাল, শরিয়াহ এক্সিকিউটিভ কমিটির চেয়ারম্যান মুফতি সাঈদ আহমাদ মোজাদ্দেদী এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালক (সিসি) মো. হেমায়েত উল্লাহ উপস্থিত ছিলেন।

ছুটিতে শুল্ক স্টেশন ও ব্যাংক খোলা রাখার ব্যবস্থা গৃহীত

দেশের আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম সম্পর্কিত লেনদেনের সুবিধার্থে আজ শুক্রবার (৩ সেপ্টেম্বর) ও কাল শনিবার (৪ সেপ্টেম্বর) সাপ্তাহিক ছুটির দিনে সংশ্লিষ্ট বিমান, সমুদ্র, নৌ ও স্থলবন্দরগুলোয় অবস্থিত ব্যাংকের এডি (বৈদেশিক মুদ্রা বিনিময়) শাখা খোলা রাখা যাবে।
এসব শাখাসহ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য শাখাও ব্যাংক কর্তৃপক্ষ নিজস্ব বিবেচনায় খোলা রাখতে পারবে।
গতকাল বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ ব্যাংক এক সার্কুলার জারি করে এই নির্দেশনা দেয়।
অন্যদিকে পোশাকশিল্পের আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম সচল রাখার স্বার্থে ঈদের আগে তিনটি ছুটির দিনে—আজ শুক্রবার, কাল শনিবার ও আগামী মঙ্গলবার (৭ সেপ্টেম্বর) চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসসহ দেশের অন্যান্য কাস্টমস স্টেশন খোলা রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
বাংলাদেশ তৈরি পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড গতকাল এই নির্দেশনা জারি করেছে।
এই সুবিধার পরিপ্রেক্ষিতে বিজিএমইএ তার সদস্যদের উল্লিখিত দিনে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম অব্যাহত রাখার জন্য কাস্টমস স্টেশন এবং ব্যাংকগুলোর এডি শাখা থেকে সেবা গ্রহণের অনুরোধ জানিয়েছে।

নরসিংদীতে এনসিসি ব্যাংকের ৭০তম শাখা উদ্বোধন

প্রথম দিন থেকেই অনলাইন-সুবিধা নিয়ে নরসিংদীতে এনসিসি ব্যাংক লিমিটেডের ৭০তম শাখার কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
ব্যাংকের ভাইস চেয়ারম্যান সাংসদ এম হারুনুর রশীদ প্রধান অতিথি হিসেবে গতকাল বৃহস্পতিবার শাখাটির উদ্বোধন করেন।
ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী মোহাম্মদ নূরুল আমিন উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন। এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ব্যাংকের পরিচালক খায়রুল আলম চাকলাদার।
শাখাটির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে ব্যাংকের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক গোলাম হাফিজ আহমেদ, সিনিয়র এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট টি এম ফারুক চৌধুরী ও মো. তারিকুল আলম, সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট ফখরুল ইসলাম চৌধুরী ও জগদীশ চন্দ্র দেবনাথ এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও বিশিষ্ট ব্যবসায়ীরা উপস্থিত ছিলেন।

রমজানের বাজারদর সহনীয় মনে করছে এফবিসিসিআই

দেশের ব্যবসায়ী ও শিল্পপতিদের শীর্ষসংগঠন বাংলাদেশ শিল্প ও বণিক সমিতি ফেডারেশনের (এফবিসিসিআই) সভাপতি এ কে আজাদ বলেছেন, চলতি রমজান মাসে বেশির ভাগ নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্য স্থিতিশীল ও ভোক্তাদের কাছে সহনীয় পর্যায়ে ছিল।
তবে এফবিসিসিআই ও সরকারের প্রত্যাশার জায়গায় দু-একটি ব্যত্যয় ঘটেছে উল্লেখ করে এ কে আজাদ আরও বলেন, যারা অসৎ উদ্দেশ্য নিয়ে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির চেষ্টা করেছে, তাদের খুঁজে বের করা হচ্ছে।
গতকাল বৃহস্পতিবার এফবিসিসিআই আয়োজিত ‘রমজান মাসে দ্রব্যমূল্য পরিস্থিতি’ নিয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এফবিসিসিআই সভাপতি এসব কথা বলেন।
এ সময় তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠককালে রমজানে দ্রব্যমূল্য বাড়ানো হবে না বলে প্রতিশ্রুতি দিয়ে কয়েকজন ব্যবসায়ী কথার বরখেলাপ করেছে। এফবিসিসিআই এসব ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কাছে সুপারিশ করবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
এ পরিপ্রেক্ষিতে সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত বাণিজ্যসচিব মো. গোলাম হোসেন বলেন, বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদনে কয়েকটি ক্ষেত্রে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির জন্য কয়েকজন ব্যবসায়ী দায়ী বলে জানানো হয়েছে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের প্রাথমিক তদন্তেও এর সততা পাওয়া গেছে।
বাণিজ্যসচিব আরও বলেন, চূড়ান্ত তদন্তে ওই ব্যবসায়ীরা দোষী প্রমাণিত হলে দেশের প্রচলিত আইন অনুসারে তাদের শাস্তি দেওয়া হবে।
সংবাদ সম্মেলনে আরও বক্তব্য দেন এফবিসিসিআইয়ের প্রথম সহসভাপতি মো. জসিমউদ্দিন, পরিচালক মো. হেলালউদ্দিন ও বাংলাদেশ চিনি ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মো. আনোয়ার হাবিব। এ সময় এফবিসিসিআইয়ের গোলাম মোস্তফা তালুকদার, মো. জালালউদ্দিন আহমেদ ইয়ামীন, খন্দকার রুহুল আমীন, শামসুল হক, নাগিবুল ইসলাম, মো. আখতারুজ্জামানসহ অন্যান্য ব্যবসায়ী নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি বলেন, রমজানের আগেই সরকার থেকে চিনি ও ভোজ্যতেলের মিলগেট, পাইকারি ও খুচরা পর্যায়ের দাম নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু কিছু কিছু ক্ষেত্রে ব্যত্যয় ঘটেছে। কী কারণে এটা হয়েছে তা খতিয়ে দেখতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের একজন উপসচিব ও এফবিসিসিআইয়ের একজন পরিচালকসহ মোট তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই কমিটি মিল মালিক, পাইকারি ও খুচরা বাজারে খোঁজ নিয়ে যাদের দায়ী বলে শনাক্ত করবে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ কে আজাদ আরও বলেন, ঢাকার মৌলভীবাজার ও চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জের ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বাণিজ্যসচিবকে সঙ্গে নিয়ে বৈঠক করা হয়েছে। বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয় যে বাজার স্থিতিশীল রাখতে হলে ‘ডিও মেয়াদ সর্বোচ্চ ১৫ দিন ও তা হস্তান্তরযোগ্য নয়’ করতে হবে। তাহলে কোন পক্ষের কারণে দাম বাড়ছে তা জানা যাবে।
এফবিসিসিআই সভাপতি পণ্যসামগ্রীর হালনাগাদ চাহিদা ও সরবরাহের চিত্র জানার জন্য বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে একটি তথ্যভাণ্ডার স্থাপনের প্রস্তাব করেন।
বাণিজ্যসচিব বলেন, দেশে পর্যাপ্ত পরিমাণে ভোজ্যতেল ও চিনির মজুদ রয়েছে। তাই এসবের সরবরাহ সংকট হওয়ার কোনো কারণ নেই। দেশে পরিশোধিত ও অপরিশোধ মিলিয়ে প্রায় তিন লাখ টন সয়াবিন ও পাম তেল রয়েছে। এ ছাড়া প্রায় দেড় লাখ টন চিনির মজুদ রয়েছে।
পুনর্গঠন না করলে টিসিবিকে দিয়ে রাতারাতি দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ করা যাবে না, উল্লেখ করে বাণিজ্যসচিব টিসিবিকে পুনর্গঠন করতে কমপক্ষে ছয় মাস সময় লাগবে বলে জানান।
সচিব আরও বলেন, কয়েকটি পণ্যের অস্বাভাবিক দাম বাড়ার সংবাদে সারা দেশে ভ্রাম্যমাণ তদারকি দল পাঠানো হয়েছে। তবে গতকাল বৃহস্পতিবার পর্যন্ত কোথাও অস্বাভাবিক দাম বাড়ার বিষয়টি লক্ষ করা যায়নি।
বাংলাদেশ চিনি ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মো. আনোয়ার হাবিব বলেন, দেশের পাঁচটি চিনিকলের স্বার্থরক্ষায় পরিশোধিত চিনি আমদানির ওপর প্রতিটনে দুই হাজার টাকা শুল্ক বসানো হয়েছে। এ শুল্ক তুলে নিলে অনেকেই চিনি আমদানি করত। এতে দেশে চিনির দাম নিয়ন্ত্রণে থাকত। তিনি বলেন, গতকাল বৃহস্পতিবার পাইকারি বাজারে চিনির দাম কমে গেছে। দুয়েক দিনের মধ্যে খুচরা বাজারে চিনির দর আবার কমে যাবে।

এশিয়ার উন্নয়নযাত্রা ও বাংলাদেশের মধ্যবিত্ত

মধ্যবিত্ত শ্রেণী কীভাবে বৈশ্বিক মন্দার মধ্যেও এশিয়ার প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে এবং এগিয়ে নিতে সহায়তা করছে, তা নিয়ে সম্প্রতি একটি গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)। এই গবেষণায় বেশ কিছু চিত্তাকর্ষক উপাদান রয়েছে উন্নয়ন তাত্ত্বিক এবং নীতিনির্ধারকদের জন্য।
সংস্থার গবেষকদের মতে, আগামী ২০ বছরে বৈশ্বিক অর্থব্যবস্থার মধ্যে একটি বড় পরিবর্তন আসতে যাচ্ছে। এই সময়কালে পশ্চিমা বিশ্বের অর্থনৈতিক দাপট কমবে। এশিয়ার অর্থনৈতিক শক্তি বাড়বে। এভাবে বিশ্ব অর্থনীতিতে নতুন একটি ভারসাম্য আসতে যাচ্ছে আগামী দুই দশকে। আর এই ভারসাম্য পরিবর্তনে অন্যতম ভূমিকা রাখছে এশিয়ার মধ্যবিত্ত শ্রেণী।
মধ্যবিত্তের সংজ্ঞা যাই ধরা হোক না কেন, এডিবির গবেষকদের হিসাবে এশিয়ায় ৫০ থেকে ১০০ কোটি মধ্যবিত্তের বসবাস। প্রতিবছর তারা তিন লাখ কোটি ডলারের ওপরে খরচ করছে। আর যেভাবে ইউরোপ ও আমেরিকার অর্থনৈতিক বিকাশ পর্বে সে অঞ্চলের মধ্যবিত্তরা জোরালো ভূমিকা রেখেছে, এশিয়াতেও তেমনটাই ঘটতে চলেছে।
মধ্যবিত্তের সংজ্ঞা: সাধারণত মধ্যবিত্ত হিসেবে একটি দেশের জনগোষ্ঠীর সেই অংশকে বিবেচনা করা হয়, যারা সীমিত আয়ের জীবনযাপন করেন। বাংলাদেশে পেশা বিচার করলে এদের মধ্যে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারী, স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, সাংবাদিক, এনজিও কর্মী, গবেষক, আইনজীবী, চিকিত্সক, ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ী, ঠিকাদার, গ্রামীণ উদ্যোক্তা এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি কৃষকেরা পড়েন।
তবে অর্থনৈতিকভাবে মধ্যবিত্তকে চিহ্নিত করতে গেলে একটি আয়ের সীমা নির্ধারণ করতে হয়। এডিবি ২০০৫ সালের ক্রয়ক্ষমতার সমতার (পিপিপি) নিরিখে দৈনিক দুই থেকে ২০ ডলার পর্যন্ত যারা খরচ করতে পারে, তাদেরই মধ্যবিত্তের কাতারে ফেলেছে। (বর্তমানে এক পিপিপি ডলার = ১৭ টাকা)
বাংলাদেশে মধ্যবিত্ত: এই মানদণ্ডে ২০০৫ সালের খানা আয়-ব্যয় জরিপের তথ্য-পর্যালোচনায় এডিবি দেখেছে, বাংলাদেশে প্রায় তিন কোটির ওপরে মধ্যবিত্ত মানুষ রয়েছে, যাদের দৈনিক ব্যয় দুই থেকে ২০ ডলারের ভেতরে আছে।
এডিবির এই হিসাবটি কিছুটা পুুরোনো। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) ২০০৯ সালে ‘মৌলিক সুযোগ-সুবিধা পরিবীক্ষণ জরিপ: ২০০৯’ নামে খানা আয়-ব্যয় জরিপের চেয়ে বড় আকারের একটি জরিপ পরিচালনা করে। এ বছর তারা প্রতিবেদনটি প্রকাশ করেছে। বিবিএসের নতুন জরিপ অনুসারে, বাংলাদেশের মোট পরিবারের মধ্যে ৫৪ শতাংশ মধ্যবিত্ত পরিবার। এর মধ্যে উচ্চ-মধ্যবিত্ত পরিবার ২০ দশমিক ৫০ শতাংশ। চলনসই মধ্যবিত্ত পরিবারের হার ৩৪ দশমিক ১ শতাংশ। এই হারকে বিবেচনায় নিলে বর্তমানে দেশের মোট জনগোষ্ঠীর অর্ধেক বা প্রায় আট কোটি মানুষ মধ্যবিত্তের কাতারে আছে।
অর্থনৈতিক ভূমিকা: বাংলাদেশের মধ্যবিত্ত অর্থনীতিতে কী ভূমিকা রাখতে যাচ্ছে, সে বিষয়ে অনুসন্ধান করতে গিয়ে দেখা গেছে, ক্রয়ক্ষমতার সমতার (পিপিপি) বিচার তারা প্রতিবছর তিন হাজার ৭০০ কোটি ডলার বা দুই লাখ ৫৯ হাজার কোটি টাকা খরচ করে থাকে। অর্থনীতিকে অব্যাহতভাবে পাঁচ শতাংশের ওপরে ধরে রাখা এবং ভবিষ্যৎ উন্নয়নের অন্যতম প্রধান নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে এই বাংলাদেশের উদীয়মান মধ্যবিত্ত শ্রেণী। এই মধ্যবিত্ত তৈরির ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখছে রেমিট্যান্স। প্রবাসী বাংলাদেশিরা এখন বছরে দেশে পাঠাচ্ছে এক হাজার কোটি ডলার বা প্রায় ৭০ হাজার কোটি টাকা। গ্রাম থেকে শহর, সর্বত্রই পড়ছে এর প্রভাব। ব্যবসা-বাণিজ্য, নতুন শিল্পকারখানা ও বেসরকারি খাতের বিকাশও মধ্যবিত্ত তৈরিতে বড় ভূমিকা রাখছে।
এদের ব্যয়ের সক্ষমতা বাড়ার কারণে বাড়ছে জমির দাম। রাজধানী থেকে জেলা পর্যায়ে সর্বত্রই গড়ে উঠছে বহুতল শপিং মল। রাজধানী থেকে বিভাগীয় শহরে প্রতিদিনই নামছে প্রাইভেট কার। বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) এক হিসাবে দেখা গেছে, ঢাকায় দৈনিক গড়ে ২২৭টি যানবাহন নিবন্ধন নিচ্ছে। এর মধ্যে প্রাইভেট গাড়ির নিবন্ধন হচ্ছে গড়ে ১০০টি। মটরসাইকেলের নিবন্ধন দৈনিক ৮৮টি। আবার দেখা যাচ্ছে, বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোয় ক্রেডিট কার্ডের গ্রাহকের সংখ্যা বাড়ছে। শেয়ারবাজারে অনেকটা হঠাৎ করেই বিনিয়োগকারীর সংখ্যা বেড়ে গেছে। সেন্ট্রাল ডিপোজিটরি বাংলাদেশ লিমিটেডে (সিডিবিএল) তথ্য অনুসারে, বাংলাদেশে বর্তমানে প্রায় ২৮ লাখ বিও অ্যাকাউন্টরি ব্যক্তি রয়েছে। সব মিলিয়ে দেশের বাজার-অর্থনীতির অন্যতম নিয়ামক শক্তিতে পরিণত হয়েছে, দেশের এই উদীয়মান মধ্যবিত্ত শ্রেণী।
উন্নয়ন বিতর্ক: এডিবির হিসাব বা বিবিএসের মৌলিক সুযোগ-সুবিধার জরিপ দুটোরই সামষ্টিক তথ্য নিলে দেখা যাবে, বাংলাদেশে মধ্যবিত্তের আকার যথেষ্ট প্রসার লাভ করেছে। তবে বাংলাদেশে মধ্যবিত্তের ব্যপ্তির মধ্যে যথেষ্ট দুর্বলতা রয়েছে যা এডিবিও স্বীকার করছে। এডিবির হিসাবে বাংলাদেশের তিন কোটি ১০ লাখ মধ্যবিত্তের মধ্যে আড়াই কোটি মানুষই নিম্ন-মধ্যবিত্ত, যারা গড়ে দৈনিক দুই থেকে চার ডলার (পিপিপি) খরচ করে থাকে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই মধ্যবিত্তরা সামাজিক স্তর বিন্যাসে এখনো স্থিতিশীল হয়নি, তাদের অর্থনৈতিক অবস্থাও তেমন দৃঢ় নয়। যেকোনো সময়ই তারা আবার দারিদ্র্যসীমার নিচে পড়ে যেতে পারে। ২০০৫ সালের হিসাবে তিন কোটি মধ্যবিত্তের মধ্যে মাত্র ৫০ লাখ আছে, যারা দৈনিক চার থেকে ১০ ডলার ব্যয় করার ক্ষমতা রাখে। আর ১০ থেকে ২০ ডলার খরচ করার ক্ষমতা রাখে মাত্র আট লাখ মধ্যবিত্ত মানুষ।
ফলে যে মধ্যবিত্ত এশিয়ার দিন বদলের বড় শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে, বাংলাদেশে তাদের অবস্থানটা তেমন জোরালো নয়। এডিবি বলছে. দক্ষিণ কোরিয়া, থাইল্যান্ড, তাইওয়ান, চীন—এসব অঞ্চলের মধ্যবিত্তের বিকাশ অনেকটা সুষম আকারে ও বিস্তৃত পরিসরে রয়েছে। কিন্তু ভারত, পাকিস্তান, বাংলাদেশ—এই দেশগুলোয় মধ্যবিত্তের আকার বড় হলেও তার মধ্যে সুষম কোনো চরিত্র নেই।
বাংলাদেশের এই বিষয়টি আরও গভীরভাবে পাওয়া যায়, মৌলিক সুযোগ-সুবিধা পরিবীক্ষণ জরিপ থেকে। দেশের ৫০ শতাংশের বেশি পরিবার মধ্যবিত্তের কাতারভুক্ত হলেও শিক্ষার স্তর বিশ্লেষণে দেখা যায়, যারা প্রাথমিক স্তরে ভর্তি হয়, তাদের মধ্যে মাত্র ৩৬ দশমিক ৪ শতাংশ প্রাথমিক শিক্ষা শেষ করতে পারে। এসএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয় ২২ দশমিক ৭ শতাংশ। আর উচ্চ মাধ্যমিক ও ডিগ্রি পাসের সংখ্যা মাত্র ৫ শতাংশ।
বিবিএসের তথ্য অনসুারে, দেশের ৭২ শতাংশ পরিবার থাকে মাটি ও টিনের ঘরে। আর মাত্র ৮ দশমিক ৩ শতাংশ পরিবার পাকা বাড়ি ও ফ্ল্যাটে বসবাস করে। দেশের মাত্র ২ দশমিক ২ শতাংশ মানুষের স্থায়ী ল্যান্ড ফোনের সংযোগ আছে। তবে মুঠোফোনের সংযোগ আছে ৪৮ দশমিক ৩ শতাংশের। আধুনিক জীবনে কম্পিউটার অপরিহার্য হলেও বাংলাদেশ মাত্র ৬ দশমিক ৯ শতাংশ মানুষের ব্যক্তিগত কম্পিউটার আছে।
ফলে বাংলাদেশের মধ্যবিত্তের একটা বড় অংশের এখনো ভালো আবাসন, স্বাস্থ্য পরিষেবা, কর্মসংস্থান ও শিক্ষা নেই।
বাংলাদেশে মধ্যবিত্তের বিকাশ ও বিবর্তন নিয়ে কাজ করেছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ। তাঁর পর্যবেক্ষণ হলো: বাংলাদেশের বিত্ত গঠনের প্রক্রিয়ায় সফল মধ্যবিত্তের সংখ্যা আসলে খুবই কম। এই কম অংশের বিত্ত অর্জনের প্রক্রিয়ায় অর্থনীতির বিকাশের সম্ভাবনা, উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির সম্ভাবনা এবং অর্থনীতির নিজস্ব শক্তি যেভাবে বিপর্যস্ত হয়, তাতে মধ্যবিত্তের অবশিষ্ট বিরাট অংশের ওপরই বিপর্যয় নেমে আসে।
ফলে, শুধু আকারগত দিক দিয়ে মধ্যবিত্তের প্রসার বড় অর্থনৈতিক শক্তি হিসেবে কাজ করে না। মধ্যবিত্তের মধ্যে একটি সুষম স্বত্বাধিকার ও ক্রয়ক্ষমতা বাড়লে তা বিকাশের বড় চালক হিসেবে আবির্ভূত হয়। বাংলাদেশে সেই পর্যায়ে যাওয়ার এখনো অনেক পথ বাকি রয়েছে।

টেলরকে পাশে পাচ্ছেন পন্টিং

রিকি পন্টিংয়ের খারাপ সময় যাচ্ছে? তাতে কি, দুঃসময়ে তিনি পাশে পাচ্ছেন দুই অগ্রজ মার্ক টেলর আর স্টিভ ওয়াহকে।
পন্টিং সাবেক অধিনায়ক স্টিভ ওয়াহকে পাশে পাচ্ছেন পরিসংখ্যানের খাতায়। আর আরেক সাবেক অধিনায়ক টেলরকে পাচ্ছেন পরিসংখ্যান এবং বাস্তবেও। নিজের অতীতের সঙ্গে তুলনা করে টেলর ভরসা জোগাচ্ছেন পন্টিংকে, ‘রিকির (পন্টিং) তথাকথিত খারাপ সময়টা আমার খারাপ সময়ের ধারেকাছেও নেই। তাঁর জন্য সামনের পথটা বরং অনেক সহজ। পাঁচ বছর আগের রিকি পন্টিং হয়তো এখন আর নেই, কিন্তু এখনো ও দারুণ ব্যাটসম্যান।’
কিন্তু কী এমন খারাপ সময়ের মধ্য দিয়ে গেছেন টেলর যেটার সঙ্গে তিনি তুলনায় আনছেন পন্টিংয়ের বর্তমান সময়টাকে?
১৯৯৭ সালে টানা ২১ ইনিংসে হাফ সেঞ্চুরিহীন টেলর অ্যাশেজের অস্ট্রেলিয়া দল থেকে প্রায় ছিটকেই পড়ছিলেন। মিডিয়াও দল থেকে তাঁকে টেনেহিঁচড়ে নামানোর কম চেষ্টা করল না। তার পরও দলে টিকে গেলেন টেলর এবং শুধু টিকেই গেলেন না, প্রথম টেস্টের দ্বিতীয় ইনিংসেই খেললেন ১২৯ রানের ইনিংস। ইংল্যান্ডে সিরিজটা সেবার ৩-২-এ জিতেছিল অস্ট্রেলিয়া। বিরুদ্ধস্রোতে মাথা তুলে দাঁড়ানোর উদাহরণ স্টিভ ওয়াহও। নির্বাচকেরা একরকম যাওয়ার প্রস্তুতি নিতেই বলে দিয়েছিলেন। কিন্তু ২০০২-০৩ অ্যাশেজের পঞ্চম টেস্টে অনবদ্য এক সেঞ্চুরি করে ক্যারিয়ারটাকে আরও দীর্ঘায়িত করেছিলেন ওয়াহ।
টেলর আর স্টিভের এই অতীত খারাপ সময়ে প্রেরণা হতে পারে পন্টিংয়ের জন্য। যদিও টেলর মনে করছেন, যেমন বলা হচ্ছে পন্টিংয়ের ফর্ম ততটা খারাপ নয়, ‘এই অবস্থায়ও আমি রিকি পন্টিংকে বাদ দিয়ে দেব না। পাঁচ-ছয় বছর আগে স্টিভ ওয়াহ যে রকম দেখিয়েছে, পন্টিংও প্রয়োজনের সময় সেঞ্চুরির করার মতোই খেলোয়াড়।’ হোবার্টে গত জানুয়ারিতে পাকিস্তানের বিপক্ষে দুই ইনিংসে ২০৯ ও ৮৯ রান করার পর গত চার টেস্টের সাত ইনিংস পন্টিংয়ের মোট রান মাত্র ১৬৭!
তবে হ্যাঁ, আসন্ন ভারত সফরেও যদি ব্যাটটা জ্বলে না ওঠে, পন্টিংয়ের জন্য সেটা সত্যি সত্যি চাপ হয়ে যাবে বলে মনে করছেন টেলর, ‘সন্দেহ নেই, পরিস্থিতিটা কঠিন হয়ে দাঁড়াবে তখন। মিডিয়ার সামনে এসে প্রতিদিন একই রকম প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে। অধিনায়ক না হলেও তাও নিজেকে আড়াল করে রাখা যায়। কিন্তু অধিনায়ককে সারাক্ষণই মিডিয়া সামলাতে হয়, তাদের প্রশ্নের উত্তর দিতে হয়। রিকির জন্য কঠিন হয়ে দাঁড়াবে সেটাই।’

আইসিসিকে বীণার ‘প্রমাণ’

পেসার মোহাম্মদ আসিফের সঙ্গে বাজিকরদের যোগাযোগ আছে, এমন অভিযোগ কদিন আগেই করেছিলেন সাবেক বান্ধবী বীণা মালিক। এবার সেই অভিযোগের প্রমাণ তুলে দিলেন আইসিসির দুর্নীতি দমন বিভাগের হাতে। পরশু সন্ধ্যায় লাহোরের বাড়িতে আইসিসির দুর্নীতি দমন বিভাগের দক্ষিণ এশীয় শাখার শীর্ষ কর্মকর্তা হাসান রাজার হাতে এসব প্রমাণ তুলে দেন বীণা।
পরে একটি টেলিভিশন চ্যানেলে বলেন, ‘বাজিকরের সঙ্গে আসিফের কথোপকথনের রেকর্ডিং আমি তাদের হাতে তুলে দিয়েছি। এগুলো ছাড়াও এই সংশ্লিষ্ট আরও কিছু তথ্যও আইসিসি কর্মকর্তাকে জানিয়েছি।’ পাকিস্তানের এই অভিনেত্রী জানান, আসিফকে বাজে পারফরম্যান্স করতে ঘুষ সেধেছিল এক ভারতীয় বাজিকর। সেই স্মৃতি টেনে এনে বলেন, ‘পাকিস্তানের খেলোয়াড় থেকে কর্মকর্তা—সবাই দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত। পাকিস্তানের অস্ট্রেলিয়া সফরের আগে আমি আসিফের সঙ্গে ব্যাংকক গিয়েছিলাম। আসিফ আমাকে বলেছিল একজন ভারতীয় বাজিকর তাকে ৪০ হাজার মার্কিন ডলার প্রস্তাব দিয়েছিল বাজে খেলতে। কিন্তু আসিফ চেয়েছিল ২ লাখ ডলার।’

এশিয়ান গেমসে যাবেন না রিফাত

এবারের অলিম্পিয়াডের জন্য গ্র্যান্ডমাস্টার ছাড়াই দল গড়েছে দাবা ফেডারেশন। এশিয়ান গেমসেও বলতে গেলে একই অবস্থা। পুরুষ দলে দুজন গ্র্যান্ডমাস্টার সুযোগ পেলেও সংশয় আছে একজনের যাওয়া নিয়ে। গ্র্যান্ডমাস্টার নিয়াজ মোরশেদ আছেন, তবে আগামী নভেম্বরে রিফাত বিন সাত্তারের চীনে যাওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম।
অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশন থেকে চূড়ান্ত দলের নাম পাওয়ার পরই রিফাত বিন সাত্তারকে ই-মেইলে চীনে যাওয়ার আমন্ত্রণপত্র পাঠানো হয়েছিল। এখন পর্যন্ত তার কোনো উত্তর পায়নি ফেডারেশন। ফেডারেশন সাধারণ সম্পাদক মোকাদ্দেস হোসাইন দাবি করছেন, মৌখিকভাবে চীনে যাওয়ার ব্যাপারে অনাগ্রহের কথা জানিয়েছেন রিফাত। খবরটা নিশ্চিত করতে টেলিফোনে রিফাতের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাঁকে পাওয়া যায়নি। শেষ পর্যন্ত যদি রিফাতকে ছাড়াই এশিয়ান গেমসে যেতে হয় তাহলে কে হবেন বিকল্প খেলোয়াড়? মোকাদ্দেস হোসাইন জানালেন, ‘জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপে র্যাঙ্কিং অনুসারে পরবর্তী খেলোয়াড়কেই সুযোগ দেওয়া হবে।’ সেই অনুযায়ী দেবরাজ চ্যাটার্জির যাওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। আগামী ১২ নভেম্বর চীনের গুয়াংজুতে শুরু হচ্ছে এশিয়ান গেমস

জাতীয় মহিলা কাবাডি

ধানমন্ডি মহিলা ক্রীড়া কমপ্লেক্সে ১৭ সেপ্টেম্বর শুরু হচ্ছে মিজান এডিবল অয়েল জাতীয় মহিলা কাবাডি। তিন দিনব্যাপী টুর্নামেন্টে প্রথমবারের মতো অংশ নিচ্ছে বিজেএমসি। তাদের সঙ্গে টুর্নামেন্টে খেলবে আরও ১১টি দল।

মিলান ভাবাচ্ছে মরিনহোকে

‘চাপ কাহাকে বলে’ টের পেতে শুরু করেছেন হোসে মরিনহো। স্প্যানিশ লিগে প্রথম ম্যাচে গোলশূন্য ড্রয়ের পর ‘স্পেশাল ওয়ান’ থেকে তিনি হয়ে গেছেন ‘রক্তমাংসের মানুষ, জাদুকর হ্যারি পটার নন’। শুরুর ধাক্কা ভুলে নতুন করে সব গোছগাছ শুরু করেছেন। কিন্তু সেখানেও হিসাব মিলছে না। রিয়াল মাদ্রিদের নতুন কোচ নিজেই স্বীকার নিয়ে নিয়েছেন, এবারের দলবদলের বাজারে সদাইপাতির হিসাবে গরমিল করে ফেলেছেন। স্ট্রাইকার আরও বেশি দরকার ছিল তাঁর।
‘মাদ্রিদে আমি আরও বেশি স্ট্রাইকার চাইছিলাম। হিগুয়েইন আর বেনজেমা যথেষ্ট নয়’—বলেছেন মরিনহো। দলবদলের বাজারে রিয়ালের একটা সমস্যার কথাও বললেন তিনি। রিয়াল কোনো খেলোয়াড়কে কেনার সামান্য ইচ্ছা প্রকাশ করলেই তাঁর দাম আকাশছোঁয়া হয়ে যায়, ‘কেবল আঙুল তুলতেই শুরু হয়ে যায় ঝড়।’
রিয়াল যেখানে স্ট্রাইকার-সংকটে, সেখানেই দলবদলের শেষ সপ্তাহে দু-দুজন তারকা স্ট্রাইকারকে দলে নিয়েছে এসি মিলান। জ্লাতান ইব্রাহিমোভিচের পর কিনেছে রবিনহোকেও। চ্যাম্পিয়নস লিগের গ্রুপ পর্বে রিয়াল মুখোমুখি হবে মিলানের। মরিনহো তাই একটু চিন্তিতই, ‘ইব্রা আর রবিনহো যোগ দেওয়ায় মিলানের চেহারাই পাল্টে গেল। এই দুজন বিশ্বসেরাদের কাতারে থাকে। নিশ্চিতভাবেই মিলান এখন আগের বছরের চেয়ে শক্তিশালী হয়ে গেল। চ্যাম্পিয়নস লিগ শিরোপার অন্যতম দাবিদার এখন তারা।’
উয়েফার এলিট কোচেস ফোরামের একটা অনুষ্ঠানে যোগ দিতে মরিনহো গিয়েছেন সুইজারল্যান্ডে। সেখানে এ-কথা সে-কথার ফাঁকে রেফারিদেরও সমালোচনা করেছেন। বলেছেন, ভান করে এমন খেলোয়াড়েরাই বেশি আনুকূল্য পায় রেফারির।
প্রসঙ্গক্রমে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর কথাও উঠল। ফাউল আদায় করতে রোনালদো ইচ্ছে করে ‘ডাইভ’ দেন বলে একটা সমালোচনা আছে। কিন্তু মরিনহোর দাবি, ইচ্ছে করে ঝাঁপ দেওয়ার সংস্কৃতি রোনালদোর নেই। কারণ পর্তুগিজ এই খেলোয়াড়কে গড়ে তুলেছেন স্যার অ্যালেক্স ফার্গুসনের মতো প্রবল নৈতিকতাবোধ সম্পন্ন কোচ।

মালয়েশিয়া ওপেন দাবা

আইজিবি দাতো আর্থার তান মালয়েশিয়া ওপেন দাবার দ্বিতীয় রাউন্ড শেষে ২০ জনের সঙ্গে শীর্ষে আছেন গ্র্যান্ডমাস্টার নিয়াজ মোরশেদ। কুয়ালালামপুরের সিটিটেল মিডভ্যালিতে দ্বিতীয় রাউন্ডে নিয়াজ হারিয়েছেন আরেক বাংলাদেশি গ্র্যান্ডমাস্টার জিয়াউর রহমানকে।

ঝরে পড়লেন রডিক

এর আগে লেটন হিউইট বিদায় নিয়েছেন, এবার ইউএস ওপেন থেকে ঝরে পড়লেন যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় আশা অ্যান্ডি রডিক। পুরুষ এককে সর্বশেষ ইউএস ওপেনজয়ী মার্কিন রডিক হেরেছেন সার্বিয়ান জাঙ্কো টিপসারেভিচের কাছে। ২০০৩ সালে রডিকের সেই জয়ের পরই ইউএস ওপেনে শুরু হয় ফেদেরার-রাজ। টানা পাঁচ বছর শিরোপা জেতেন সুইস রজার ফেদেরার।
প্রথম সেটটা জিতেছিলেন রডিক, কিন্তু এরপর হেরে যান পরের তিন সেটে। শেষ পর্যন্ত ৩-৬, ৭-৫, ৬-৩, ৭-৬ (৭/৪) গেমে হেরে দ্বিতীয় রাউন্ড থেকে বিদায়। ম্যাচের তৃতীয় সেটে ‘ফুট ফল্ট’ নিয়ে লাইন জাজের সঙ্গে তুমুল তর্কাতর্কি করেছেন। টেলিভিশন রিপ্লেতে দেখা গেছে, ‘ফুট ফল্ট’ ডাকাটা ঠিকই ছিল। তবে রডিক লাইন জাজকে কোন পায়ে ‘ফুট ফল্ট’ জিজ্ঞেস করলে ভুলক্রমে তিনি ‘ডান পা’ বলে ফেলেন। পরের সেটে এ নিয়ে রডিক বেশ কয়েকবার চেঁচামেচি করেন।
ম্যাচ শেষে অবশ্য টিপসারেভিচকে কৃতিত্ব দিতে ভুললেন না। ‘দুর্দান্ত খেলেছে সে। আমি ওকে বলেছি, দারুণ’—বলেছেন রডিক। তবে রডিকের বিপক্ষে পাওয়া জয়টাকে এক প্রকার ‘মেঘ না চাইতেই জল’ ভাবছেন টিপসারেভিচ, ‘নাদালের পর ও-ই সম্ভবত কোর্টে সবচেয়ে ভালো নড়াচড়া করে, ও খেলছিলও ভালো।’
রডিক ঝরে পড়লেও যুক্তরাষ্ট্রের আশার দেউটি এখনো নিভে যায়নি। পুরুষ এককের দ্বিতীয় রাউন্ডে উঠেছেন যুক্তরাষ্ট্রের অবাছাই রায়ান হ্যারিসন ও ২০তম বাছাই স্যাম কোয়েরি। আর মেয়েদের এককে তো যুক্তরাষ্ট্রের ‘আসল’ আশা ভেনাস উইলিয়ামস আছেনই। কানাডার রেবেকা মারিনোকে সরাসরি সেটে হারিয়ে তৃতীয় রাউন্ডে উঠেছেন তিনি।
তবে এবার তাঁকে ভালোই লড়তে হবে। কারণ কয়েক বছর পর আবার দুর্দান্ত ফর্মে আছেন সাবেক এক নম্বর মারিয়া শারাপোভা। আর সময়মতো ফর্মে ফিরেছেন আনা ইভানোভিচও। চীনের জাই ঝেংকে ৬-৩, ৬-০ গেমে হারিয়ে তৃতীয় রাউন্ডে উঠেছেন সার্বিয়ান তারকা। তবে নিউইয়র্কের গরমের কাছে হার মেনে দুলকোকে জয় উপহার দিয়ে মাঠ ছেড়েছেন বেলারুশের ভিক্টোরিয়া আজারেঙ্কা। খেলতে খেলতে কোর্টেই জ্ঞান হারিয়ে ফেলার পর এমন কি হাসপাতালেও যেতে হয়েছে তাঁকে।

পাকিস্তানে ফিরছেন অভিযুক্ত ত্রয়ী

চার ব্যাটসম্যান আউট হয়েছেন শূন্য রানে। দুজন ২ রান করে। একজন করেছেন ৪...কাল ‘ক্রিকেটে ফেরা’ পাকিস্তান কি তবে সমারসেটের বিপক্ষে হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ল ক্রিকেট-বহির্ভূত ঘটনার চাপে? শুরুতে যা পড়লেন, সেটি অবশ্য খণ্ডচিত্র। সাত ব্যাটসম্যান মিলে মাত্র ৮ রান করলেও ২৬৪ রান তুলেছে পাকিস্তান। শাহজাইব হাসানের ১০৫ আর ফাওয়াদ আলমের ৯৭ রানের সৌজন্যে। মন্দ নয়!
টন্টনের কাউন্টি মাঠে শহীদ আফ্রিদির দল যখন ক্রিকেটে ব্যস্ত, তাদেরই তিন সতীর্থ তখন ভিন্ন কারণে খবরের শিরোনামে। টি-টোয়েন্টি আর ওয়ানডে সিরিজ থেকে প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে তিন অভিযুক্ত ক্রিকেটারকে। সালমান বাট, মোহাম্মদ আসিফ আর মোহাম্মদ আমিরের আর খেলা হচ্ছে না ইংল্যান্ড সফরে।
আইসিসির চাপেই নাকি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)। তবে পাকিস্তানের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, মানসিকভাবে তাঁরা বিধ্বস্ত বলেই ক্রিকেটে মনোনিবেশ করার অবস্থায় নেই। এ কারণেই খেলানো হচ্ছে না তাঁদের। সেই সঙ্গে আরও একবার জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, অপরাধ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত ক্রিকেটারদের পাশেই থাকবে বোর্ড। শুধু তা-ই নয়, ব্রিটেনে নিযুক্ত পাকিস্তানের হাইকমিশনার ওয়াজিদ শামসুল হাসান এই দাবিও করেছেন, এমনও হতে পারে পুরো ঘটনা নিউজ অব দ্য ওয়ার্ল্ড-এর সাজানো। স্পট ফিক্সিং কেলেঙ্কারি ফাঁস করা পত্রিকাটি অবশ্য হাসানের এমন মন্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় বলেছে, ‘এমন হাস্যকর অভিযোগের জবাব দেওয়ার সময় তাদের নেই।’
আইসিসির নির্দেশে এই তিনজনকে দল থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে—এই খবর বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দিয়েছে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সূত্র। কিন্তু পাকিস্তানের হাইকমিশনার শামসুল হাসান বলেছেন, এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে খেলোয়াড়দের অনুরোধেই, ‘গত এক সপ্তাহে যেসব ঘটনা ঘটেছে, তাতে এই তিন খেলোয়াড় ভীষণভাবে বিপর্যস্ত। ওরা আমাদের বলেছে, তারা পুরোপুরি সৎ এবং নিজেদের সততা প্রমাণের জন্য লড়তে প্রস্তুত। এও বলেছে, মানসিক নিপীড়নের কারণে তারা এখন ঠিক ক্রিকেট খেলার অবস্থায় নেই। তাই তারা পিসিবির কাছে অনুরোধ জানিয়েছে, অভিযোগ থেকে মুক্ত না হওয়া পর্যন্ত যেন তাদের দলে না রাখা হয়।’
গতকালই লন্ডনের হাইকমিশনে তিন ক্রিকেটার পিসিবি কর্মকর্তাদের মুখোমুখি হন। কালো কাচের একটি গাড়িতে করে নিয়ে আসা হয়েছিল তাঁদের। কিন্তু আসিফদের পৌঁছানোর খবর গোপন করা যায়নি। গাড়ি থেকে বের হওয়া মাত্রই সাংবাদিক আর আলোকচিত্রীরা ঘিরে ধরেন তাঁদের। জনা দশেক পুলিশ এই ভিড় বাঁচিয়ে হইহট্টগোলের মধ্যেই আসিফদের কমিশনারের কার্যালয়ে পৌঁছে দেন। ওই বৈঠক শেষেই হাইকমিশনার শামসুল হাসান সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন। সেখানে তিনি খেলোয়াড়দের পাশে দাঁড়ানোর ঘোষণাও দেন, ‘অপরাধ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত তারা নির্দোষ। এরা তিন তরুণের সামনেই উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ। একজন তো মাত্রই বিশ্ব রেকর্ড ভেঙেছে। আইনের আশ্রয় নিতে এরা শিগগিরই আদালতের দ্বারস্থ হবে।’
ক্রিকইনফো জানিয়েছে, বুধবার মধ্যরাত পেরিয়ে যাওয়া লম্বা বৈঠকে মিলিত হয়েছিল আইসিসি আর পিসিবি। সেখানেই আইসিসির প্রধান নির্বাহী হারুন লরগাত এই তিন খেলোয়াড়কে আপাতত সরিয়ে নেওয়ার জন্য চাপ দেন। ইংল্যান্ডও এটাই চাইছিল। কিন্তু বাট এর আগে বলেছিলেন, দোষ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত কাউকেই দল থেকে সরিয়ে নেওয়া হবে না। যদিও পরশুর ওই বৈঠকের পর পিসিবি আগের অবস্থান থেকে সরে আসে।
এই তিন ক্রিকেটারের বদলি হিসেবে কারা ইংল্যান্ডে যাচ্ছে সেটি এখনো নিশ্চিত নয়। তবে শোনা যাচ্ছে, ইউনুস খানকে দলে ডেকে পাঠানো হতে পারে।
এদিকে তিন ক্রিকেটারকে ‘বিশ্রাম’ দেওয়ার সিদ্ধান্তের মিশ্র প্রতিক্রিয়া পাওয়া গেছে। সাবেক অধিনায়ক আমির সোহেল স্বাগত জানিয়েছেন, ‘এটা খুবই ইতিবাচক উদ্যোগ। কারণ এরা থাকলে ওয়ানডে সিরিজের ফলাফল নিয়ে হয়তো অনেকেই সন্দেহ করত।’ সিদ্ধান্তটিকে স্বাগত জানিয়েছেন জহির আব্বাসও। আবার সাবেক অফ স্পিনার তৌসিফ আহমেদ বলেছেন, তদন্ত শেষ হওয়ার আগে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত হয়নি।
এতসব ঘটনার পরও কাল টন্টনের ম্যাচে হাজির পাকিস্তান সমর্থকেরা দিয়ে গেল জোরাল সমর্থন। সংখ্যায় স্বল্প, তার পরও এটাই সম্ভবত পাকিস্তানের ক্রিকেটের গত কয়েক দিনের মধ্যে সবচেয়ে ইতিবাচক ছবি!