Saturday, January 23, 2010

মেসের নামে অস্ত্রের ঘাঁটি

রোববার চট্টগ্রামে শিবিরের মেস থেকে আগ্নেয়াস্ত্র, বিস্ফোরক দ্রব্য ও জিহাদি বই উদ্ধারের পর যেসব তথ্য বেরিয়ে এসেছে, তা শিক্ষাঙ্গন তো বটেই, জননিরাপত্তার জন্যও অত্যন্ত বিপজ্জনক। নগরের ডবলমুরিং থানার মিস্ত্রিপাড়ার হক ভিলায় পুলিশ অভিযান চালালে শিবিরের সব জারিজুরি ফাঁস হয়ে যায়। পুলিশ বমাল শিবিরকর্মীদের আটক করলেও শিবির নেতারা অপরাধ স্বীকার করতে চাইছেন না। তাঁরা উল্টো পুলিশের ওপর দায় চাপাতে চাইছেন। যদিও আটক কর্মীরা বলেছেন, বড় ভাইয়েরা মেসে অস্ত্র রাখতেন। এই বড় ভাই আর কেউ নন, তাঁরা শিবিরের স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় নেতা। এখন পুলিশেরই দায়িত্ব বড় ভাইদের খুঁজে বের করা। সে সঙ্গে অন্যান্য স্থানে লুকিয়ে রাখা অস্ত্রও উদ্ধার করতে হবে। বছরের শুরুতে শিক্ষাঙ্গন যে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে, তার পেছনে শিবিরের হাত থাকাও অস্বাভাবিক নয়।
আসলে পড়াশোনার নাম করে শিবির বিভিন্ন স্থানে মেস ভাড়া করলেও সেখানে বিদ্যাবহির্ভূত কাজই বেশি হয়ে থাকে। এসব মেসে শিবিরকর্মী ছাড়াও জামায়াতের নেতা-কর্মীরা আস্তানা গেড়ে বসেছেন। রোববার মেস থেকে যাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে, তাঁদের মধ্যে একজন জামায়াতের কর্মীও আছেন, যিনি চিকিত্সা পেশায় নিযুক্ত। এ থেকেই প্রমাণিত হয়, তাঁদের যোগাযোগ বহুদূর বিস্তৃত। শুধু ডবলমুরিং থানা নয়, চট্টগ্রামজুড়েই শিবির মেস-ব্যবসার আড়ালে ছোট ছোট অস্ত্রের ঘাঁটি গড়ে তুলেছে। মহানগরে শিবির-পরিচালিত ১৩৫টি মেস রয়েছে। কয়েক মাস আগে চট্টগ্রাম পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে প্রায়ই সংঘাত-সংঘর্ষের পেছনেও শিবিরের হাত ছিল। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কোনোভাবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পারছিল না। পরে তারা আশপাশে শিবির-পরিচলিত পাঁচটি মেস বন্ধ করে দিলে ইনস্টিটিউটে স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরে আসে। হক ভিলা থেকে অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় সাধারণ মানুষ যেমন উদ্বিগ্ন, তেমনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকেও ভাবিয়ে তুলেছে।
মহানগরের কেন্দ্রস্থলেই যদি শিবির অস্ত্রের ঘাঁটি গড়ে তুলতে পারে, তাহলে দুর্গম বা প্রত্যন্ত এলাকায় কী হতে পারে, তা সহজেই অনুমেয়। চট্টগ্রাম নগরের বাইরে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, রংপুর কারমাইকেল কলেজ, খুলনার বিএল কলেজ এলাকায়ও শিবিরের শক্ত ঘাঁটি রয়েছে। প্রতিটি এলাকায় শিবির-পরিচালিত মেস আছে। এসব মেস ভাড়ার উদ্দেশ্য যদি পড়াশোনা করার জন্য হতো, তা হলে কারও কিছু বলার থাকত না। কিন্তু শিবির মেস করে রাজনৈতিক প্রশিক্ষণ দেওয়ার উদ্দেশ্যে। মেসের পাশাপাশি তাঁরা এলাকার বাসিন্দাদের নানা কৌশলে পক্ষে টানতে চেষ্টা করেন। এমনকি এলাকায় বিয়েশাদি করে স্থায়ী বাসিন্দা হয়ে যাওয়ার ঘটনাও কম নয়। পুলিশ যখন চট্টগ্রামে শিবিরের মেস থেকে অস্ত্র উদ্ধার করছে, তখন শিবিরের নেতারা জামায়াতের আমিরের উপস্থিতিতে দেশ অচল করার হুমকি দেন। এ সাহস তাঁরা কোত্থেকে পান?
আমরা অতীতে দেখেছি, এসব অস্ত্র উদ্ধারের কিছুদিন পর পুলিশের তত্পরতা থেমে যায় এবং মামলার তদন্তও ঠিকমতো হয় না। ফলে অপরাধীরা আইনের ফাঁকফোকর দিয়ে বেরিয়ে আসেন। চট্টগ্রামের ঘটনায় তা হবে না বলেই আমাদের বিশ্বাস। মনে রাখা প্রয়োজন, এটি সাধারণ অপরাধ নয়। এর সঙ্গে সেই রাজনৈতিক অপশক্তি রয়েছে, যারা গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থায় বিশ্বাস করে না। সারা দেশে শিবিরসহ যেসব ছাত্র নামধারী ব্যক্তি সন্ত্রাস চালাচ্ছেন এবং অবৈধ অস্ত্রের ঘাঁটি গড়ে তুলেছেন, তাঁদের মূলোত্পাটন করতে হবে।

বনেধর দ্বিতীয় দিনেও অচল তেলেঙ্গানার জনজীবন

পৃথক তেলেঙ্গানা রাজ্য গঠনে বিলম্ব হওয়ার প্রতিবাদে ডাকা বনেধর দ্বিতীয় দিন গতকাল বৃহস্পতিবারও অচল ছিল ভারতের অন্ধ্র প্রদেশ রাজ্যের জনজীবন। জয়েন্ট অ্যাকশন কমিটি (জেএসি) নামে ছাত্রদের একটি সংগঠন গত বুধবার থেকে ৪৮ ঘণ্টার এই বন্ধ্ ডাকে।
রাজধানীর হায়দরাবাদে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন রোড ট্রান্সপোর্ট করপোরেশন বিক্ষোভকারীদের হামলার ভয়ে আগের দিন বাস চলাচল বন্ধ রাখলেও গতকাল তাদের কিছু বাস চলে। তবে মেদাক, নিজামাবাদ, নালগোন্ডা ও করিমনগরসহ তেলেঙ্গানা অঞ্চলের অনেক জেলায় স্কুল-কলেজ, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও দোকানপাট বন্ধ ছিল।
পৃথক তেলেঙ্গানা রাজ্য গঠনে কেন্দ্রীয় সরকার দেরি করায় এর প্রতিবাদ জানিয়ে হায়দরাবাদের ওসমানিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে গত সোমবার গায়ে আগুন ধরিয়ে আত্মহত্যা করেন ভেনুগোপাল রেড্ডি নামের এক ছাত্র। পরদিন মঙ্গলবার মাহবুবনগরে একইভাবে আত্মহত্যা করেন সুবর্ণামা নামে এক ছাত্রী।
দুই শিক্ষার্থীর আত্মহত্যার পর বুধবার থেকে দুই দিনের বন্ধ্ ডাকে জেএসি।

যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণে দুই মুসলিম অধ্যাপকের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার

দুজন প্রখ্যাত মুসলিম পণ্ডিতের যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে নিয়েছে মার্কিন কর্তৃপক্ষ। প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশের আমলে এই নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছিল। এ দুই পণ্ডিত হলেন ইংল্যান্ডের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক তারিক রামাদান ও দক্ষিণ আফ্রিকার জোহানেসবার্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আদম হাবিব।
মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ডারবি হোলাডে বুধবার জানান, পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন ওই দুই অধ্যাপকের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের নির্দেশে সই করেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতির কট্টর সমালোচক এই দুই অধ্যাপক এখন আবারও দেশটিতে ভ্রমণের অনুমতি পাবেন। ইরাক যুদ্ধের সমালোচনা করায় বুশ প্রশাসন তাঁদের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে।
ডারবি বলেন, প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন মুসলিম বিশ্বের সঙ্গে পারস্পরিক স্বার্থে সম্পর্কোন্নয়নে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। দুই অধ্যাপকের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া তাঁরই নজির।

সন্ত্রাসী হামলা রোধে ব্রিটেনের নতুন নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ

সন্ত্রাসী হামলা রোধে ব্রিটিশ সরকার নতুন করে নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। ব্রিটেনে প্রবেশকারী যাত্রীদের বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে ভাগ করে বাড়তি তল্লাশির ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। সেই সঙ্গে সে দেশের বিমানবন্দরগুলোতে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদারের সিদ্ধান্ত হয়েছে। এ ছাড়া ইয়েমেন ও ব্রিটেনের মধ্যে সরাসরি বিমান যোগাযোগ স্থগিত করা হয়েছে।
ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী গর্ডন ব্রাউন গত বুধবার হাউস অব কমন্সে এসব নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, ব্রিটেন সন্ত্রাসী হামলার ঝুঁকিতে রয়েছে। সন্ত্রাসীদের হাত থেকে ব্রিটেনের নাগরিকদের রক্ষায় এসব পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। খবর বিবিসি ও এএফপির।
ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বলেন, সন্দেহভাজন সন্ত্রাসীদের তালিকা করা হবে। ওই তালিকার কাউকে ব্রিটেনে ঢুকতে দেওয়া হবে না। এ ছাড়া তুলনামূলক কম সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের আরেকটি তালিকা করা হবে। এ তালিকার ব্যক্তিদের বাড়তি তল্লাশির মাধ্যমে ব্রিটেনে ঢুকতে দেওয়া হবে।
বড়দিনে যুক্তরাষ্ট্রগামী বিমানে সন্ত্রাসী হামলার ব্যর্থ চেষ্টার পর বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বিমানবন্দরে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ব্রিটেন ইতিমধ্যে বেশ কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে।
বড়দিনে সন্ত্রাসী হামলার ব্যর্থ চেষ্টার পর ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী সে দেশের বিমানবন্দরের নিরাপত্তাব্যবস্থা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখার নির্দেশ দিয়েছিলেন। সেসব পরীক্ষা-নিরীক্ষার ফলাফল এবং গোয়েন্দাদের তথ্যের ভিত্তিতে গর্ডন ব্রাউন বলেছেন, সে দেশের সীমান্ত নিরাপত্তার স্বার্থে আরও কিছু পদক্ষেপ নেওয়া হবে। সেই সঙ্গে বিমানবন্দরের নিরাপত্তাব্যবস্থাও জোরদার করা হবে।
ব্রাউন বলেন, সন্দেহভাজন সন্ত্রাসীদের বর্তমানে যে তালিকা রয়েছে, সেটি আরও বাড়ানো হবে। ব্রিটেনের জন্য হুমকি, এমন সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের এ তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে। তিনি বলেন, ‘ব্রিটেনে নিষিদ্ধ’ এমন ব্যক্তিদের শনাক্ত করা হবে এবং সন্দেহভাজন সন্ত্রাসী হিসেবে তাদের ব্রিটেনে ঢুকতে দেওয়া হবে না। আর যেসব ব্যক্তি গোয়েন্দাদের নজরে রয়েছে, কিন্তু ব্রিটেনের জন্য তেমন হুমকি নয়, তাদের দ্বিতীয় ক্যাটাগরিতে অন্তর্ভুক্ত করা হবে; তাদের ক্ষেত্রে ‘বিশেষ নিরাপত্তাব্যবস্থা’ নেওয়া হবে। এসব ব্যক্তির ব্রিটেনের উদ্দেশে যাত্রা শুরুর আগে অতিরিক্ত নিরাপত্তা তল্লাশি করা হবে।
ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বলেন, ইয়েমেনের বিমান কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। তারা ব্রিটেনে সরাসরি বিমান যোগাযোগ স্থগিত করতে রাজি হয়েছে। নিরাপত্তাব্যবস্থার উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত দুই দেশের মধ্যে সরাসরি বিমান যোগাযোগ বন্ধ থাকবে। তিনি বলেন, ‘আমি আশা করি, শিগগিরই আবার দুই দেশের মধ্যে বিমান যোগাযোগ চালু হবে। তবে আমাকে সবার আগে ব্রিটেনের নাগরিকদের নিরাপত্তার বিষয়টি দেখতে হবে।’
ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ বছরের শেষ নাগাদ ব্রিটেনের সব বিমানবন্দর ও নৌবন্দরে ইলেকট্রনিক পদ্ধতির নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ পদ্ধতির মাধ্যমে বিদেশি যাত্রীদের টিকিট কেনার সময় তাদের দেওয়া সব তথ্য যাচাই-বাছাই করা হবে।
সন্ত্রাসী হামলার হুমকি মোকাবিলায় বিশ্বের সব দেশের সহযোগিতা চেয়েছেন গর্ডন ব্রাউন। সন্দেহভাজন ব্যক্তিরা সরাসরি অথবা ভায়া হয়ে ব্রিটেনের উদ্দেশে যাত্রাকালে সংশ্লিষ্ট দেশের বিমানবন্দরে তাদের তল্লাশির আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী নতুন একটি গোয়েন্দা দল গঠনের ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি বলেন, এ গোয়েন্দা দলের সদস্যদের কাজ হবে নিরাপত্তার জন্য হুমকি এমন ব্যক্তিদের আগেভাগে চিহ্নিত করা এবং ব্রিটেনে আসার আগেই তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া।

হন্ডুরাস ছেড়ে যেতে পারেন জেলায়া

হন্ডুরাসের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নিতে যাওয়া পোরফিরিও লোবো বলেছেন, ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট ম্যানুয়েল জেলায়া হন্ডুরাস ছেড়ে যেতে পারেন। তাঁকে গ্রেপ্তার করা হবে না। বুধবার এক বিবৃতিতে এ কথা বলেন তিনি। গত নভেম্বরের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জয়লাভ করেন লোবো। ২৭ জানুয়ারি তাঁর প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার কথা।
বিবৃতিতে লোবো বলেন, ‘জেলায়া, তাঁর স্বজন ও উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যরা ২৭ জানুয়ারি ডোমিনিকান রিপাবলিকের উদ্দেশে হন্ডুরাস ছাড়তে পারেন। দেশটির অতিথি হিসেবে তাঁরা সেখানে যেতে পারেন।’
হন্ডুরাসের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, জেলায়ার দেশ ছাড়ার ব্যাপারে লোবো ও ডোমিনিকান রিপাবলিকের প্রেসিডেন্ট লিওনেল ফার্নান্দেজের মধ্যে একটি চুক্তি হয়েছে। ম্যানুয়েল জেলায়াও এই চুক্তির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
গত ২৮ জুন এক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে জেলায়াকে ক্ষমতাচ্যুত করে নির্বাসনে পাঠায় হন্ডুরাসের সামরিক বাহিনী। ওই দিনই প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেন দেশটির আইনসভার স্পিকার রবার্তো মিশেলেত্তি। গত সেপ্টেম্বরে গোপনে দেশে ফিরে ব্রাজিল দূতাবাসে আশ্রয় নেন জেলায়া। তিনি এখনো সেখানেই অবস্থান করছেন। মিশেলেত্তির সরকার জেলায়ার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে।
এদিকে হন্ডুরাসের চলমান রাজনৈতিক সংকট সমাধানে দেশটির ক্ষমতাসীন সরকারের ওপর চাপ বাড়িয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন কর্মকর্তারা মিশেলেত্তি সরকারের আরও কয়েকজন সদস্যের যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণের ভিসা বাতিল করেছে। এর আগে মিশেলেত্তি ও তাঁর সরকারের কয়েকজন শীর্ষ রাজনীতিকের ভিসা বাতিল করা হয়।

হাইতির পুনর্গঠনে ব্যাপক পরিকল্পনা গ্রহণের আহ্বান আইএমএফের

ভূমিকম্পে বিধ্বস্ত হাইতির পুনর্গঠনে ব্যাপক পরিকল্পনা গ্রহণ করার আহ্বান জানিয়েছে আন্তর্জাতিক অর্থ তহবিল (আইএমএফ)। জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচিও (ইউএনডিপি) ক্ষতিগ্রস্ত লোকজনকে কাজ দিতে ব্যাপক কর্মসূচি নিয়েছে। রাজধানী পোর্ট অ প্রিন্সের প্রধান সমুদ্রবন্দর আজ শুক্রবার থেকে সচল হচ্ছে। তার পরও খাবার ও কাজের আশায় মানুষ রাজধানী ছেড়ে অন্যান্য শহরে চলে যাচ্ছে।
হাইতিতে এখনো উদ্ধারকাজ চালিয়ে যাচ্ছেন বিভিন্ন দেশের উদ্ধারকর্মীরা। গত বুধবার তাঁরা রাজধানীর একটি ভেঙে পড়া ভবনের নিচ থেকে দুই শিশুকে জীবিত উদ্ধার করেছেন।
তবে এই উদ্ধার তত্পরতার মধ্যে বুধবার সেখানে আবার ৬ দশমিক ১ মাত্রার ভূমিকম্প হয়। এতে নতুন করে কিছু ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে। যদিও উদ্ধারকর্মীরা জানিয়েছেন, নতুন ভূমিকম্পের পর অনেকে হয়তো ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে বেরিয়ে আসতে পারবে।
হাইতি পুনর্বাসনে বহুজাতিক পরিকল্পনা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন আইএমএফের প্রধান ডোমেনিক স্ত্রাউস-কান। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ইউরোপ পুনর্গঠনে যুক্তরাষ্ট্রের গৃহীত ‘মার্শাল পরিকল্পনা’র মতো বিশাল কোনো পরিকল্পনা হাইতির জন্যও গ্রহণ করা যেতে পারে বলে তিনি জানিয়েছেন।
আইএমএফের প্রধান বলেন, ‘খাদ্য ও জ্বালানির সংকট, হারিকেনের আঘাত এবং সর্বশেষ ভূমিকম্পে হাইতি চরম ক্ষতিগ্রস্ত। আমি মনে করি, তাদের জন্য বড় আকারে কিছু করা প্রয়োজন।’
স্ত্রাউস-কান আরও বলেন, ‘শুধু প্রতিদিনের খাবারের ব্যবস্থা করাই যথেষ্ট নয়। হাইতি পুনর্গঠনে মার্শাল পরিকল্পনার মতো কিছু আমরা নিতে পারি।’
হাইতির কর্মকর্তারা মঙ্গলবার জানিয়েছেন, ১২ জানুয়ারির ভূমিকম্পে দুই লাখ মানুষ মারা গেছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এ ছাড়া প্রায় আড়াই লাখ মানুষ আহত এবং ১০ লাখের বেশি গৃহহারা হয়েছে।
ভূমিকম্পের পরপরই আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ব্যাপক ত্রাণ ও অন্যান্য সাহায্য-সহায়তা দিয়েছে বা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। যদিও এর বেশির ভাগ ছিল তাত্ক্ষণিক ত্রাণ ও উদ্ধার তত্পরতার লক্ষ্যে। তবে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এখন দেশটির দীর্ঘমেয়াদি পুনর্গঠনের দিকে নজর দিচ্ছে।
স্ত্রাউস-কান বলেন, ‘এই মুহূর্তে প্রয়োজন মানুষের জীবন রক্ষা করা। কিন্তু কিছুদিনের মধ্যেই মূল বিষয় হয়ে উঠবে পুনর্গঠনের কাজ।’
আইএমএফ ইতিমধ্যে হাইতি সরকারকে জরুরি ভিত্তিতে ১০ কোটি মার্কিন ডলার সুদমুক্ত ঋণ দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। তবে অনেকেই বলছে, এতে করে দরিদ্র দেশটির ঋণের বোঝা আরও বাড়বে।
ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনে সাহায্য করতে ব্যাপক কর্মসূচি নিয়েছে জাতিসংঘ। ধ্বংসস্তূপ সরাতে এবং পুনর্নির্মাণের কাজে নিয়োগ করা হবে হাজার হাজার মানুষকে।
জাতিসংঘের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, রাজধানী পোর্ট অ প্রিন্সসহ ভূমিকম্পে ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত লিওগেনি, জ্যাকমেলসহ অন্যান্য শহরে ইতিমধ্যে প্রায় ৪০০ মানুষকে কাজে নিয়োগ করা হয়েছে। জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির (ইউএনডিপি) এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, সব মিলিয়ে দুই লাখ ২০ হাজার মানুষকে কাজে নিয়োগ দেওয়া হবে। হাইতিতে ইউএনডিপির কান্ট্রি ডিরেক্টর এরিক ওভারভেস্ট বলেন, পুনর্বাসনের প্রক্রিয়ায় মূলত হাইতির নাগরিকদেরই নিয়োগ করা হবে।
ঘরবাড়ি এবং পরিবারের সদস্য হারানো লোকজন মনে করছে, ত্রাণের চেয়ে তাদের এখন কাজই বেশি প্রয়োজন। কাজের খোঁজে কয়েক শ মানুষ গতকাল জড়ো হয়েছিল পোর্ট অ প্রিন্সের বিমানবন্দরের বাইরে। ৩১ বছর বয়সী জোসেফ নেসলে এসেছিলেন গাড়িচালক অথবা অনুবাদক হিসেবে কাজ পাওয়া যায় কিনা দেখতে। তিনি বলেন, ‘ত্রাণ পেলে আমরা হয়তো তা দিয়ে দু-এক দিন চালাতে পারব। কিন্তু কাজ পেলে তার মাধ্যমে আমরা নিজেদের চালিয়ে নিতে পারব।’
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর বুধবার জানিয়েছে, হাইতিতে ভূমিকম্পে ৩৩ জন মার্কিন নাগরিক মারা গেছে।
পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র ফিলিপ ক্রাউলি সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা এখন পর্যন্ত ৩৩ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হয়েছি। এদের একজন সরকারি কর্মকর্তা।’ এ ছাড়া আরও তিন কর্মকর্তা এখনো নিখোঁজ আছেন বলে তিনি জানান।
ব্রাজিলের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, হাইতিতে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে তাদের সেনাসংখ্যা প্রায় দ্বিগুণ করার কথা ভাবা হচ্ছে। জাতিসংঘের অনুরোধের ভিত্তিতে হাইতিতে জরুরি ভিত্তিতে ৭৫০ জন সেনাসদস্য, পুলিশের ১৫০ জন সদস্য পাঠানোর একটি প্রস্তাব কংগ্রেসে উত্থাপন করেছে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। এ ছাড়া প্রয়োজন হলে আরও ৪০০ সেনা প্রস্তুত রাখা হবে। ভূমিকম্পের আগে থেকেই হাইতিতে কাজ করছেন ব্রাজিলের এক হাজার ২৬০ জন শান্তিরক্ষী। তাঁদের মধ্যে আটজন ভূমিকম্পে মারা গেছেন।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও ত্রাণবাহী গাড়িগুলোকে নিরাপত্তা দিতে হাইতিতে সাড়ে তিন হাজার নিরাপত্তাকর্মী পাঠানোর একটি প্রস্তাবে গত মঙ্গলবার সায় দিয়েছে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ। হাইতিতে এই মুহূর্তে কাজ করছেন নয় হাজার জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী। তাঁদের নেতৃত্বে আছে ব্রাজিল।
ভূমিকম্পে ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হাইতির প্রধান সমুদ্রবন্দর আজ শুক্রবার থেকে আবার সচল হচ্ছে বলে জানিয়েছে মার্কিন বাহিনী। তবে এর আগে গত বুধবার থেকে সেখানে ত্রাণসামগ্রী নামাতে শুরু করেছে একটি ফরাসি জাহাজ।
হাইতিতে ত্রাণ ও উদ্ধারকাজে নিয়োজিত মার্কিন বাহিনীর প্রধান লে. জেনারেল কিন কিন বলেন, ‘শুক্রবার থেকে বন্দরে বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ড শুরু হচ্ছে। সেখানে কার্গো ভেড়ানো নিরাপদ হবে কি না, আমরা তা যাচাই করে দেখছি।’ তিনি আশা করেন, তিন সপ্তাহের মধ্যে বন্দরের কর্মকাণ্ড পুরোমাত্রায় শুরু হবে।

বুলগেরিয়ায় চীনা বিনিয়োগের প্রস্তাব

চীনা কোম্পানি পোলার ফটোভোল্টাইকস ও উইসকম বুলগেরিয়ায় একটি দুই মেগাওয়াট উত্পাদন ক্ষমতাসম্পন্ন সৌরবিদ্যুত্ কেন্দ্র নির্মাণে ৭০ লাখ মার্কিন ডলার বিনিয়োগের প্রস্তাব দিয়েছে।
পোলারের প্রধান বিপণন কর্মকর্তা জিম সু বলেন, ‘ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত কোনো দেশে এটা আমাদের প্রথম বিনিয়োগ। তাই আমরা সতর্কতার সঙ্গে সর্বোত্তম স্থান নির্বাচন করেছি।’ আগামী কয়েক দিনের মধ্যে চীনা কোম্পানি ও তাদের বুলগেরীয় অংশীদার এবং স্থানীয় কর্তৃপক্ষের মধ্যে এ ব্যাপারে চুক্তি স্বাক্ষরিত হতে পারে।

কংগ্রেস কমিটির শুনানিতে নীরব সালাহি দম্পতি

ভারতের প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের সম্মানে আয়োজিত হোয়াইট হাউসের নৈশভোজের অনুষ্ঠানে অনাহূত অতিথি সালাহি দম্পতি গত বুধবার ওই ঘটনা সম্পর্কে কংগ্রেস কমিটির প্রশ্নের উত্তর দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। তারেক সালাহি বলেন, তাঁর নীরব থাকার সাংবিধানিক অধিকার রয়েছে।
তারেক সালাহি কংগ্রেস কমিটিকে বলেন, ‘আইনজীবীদের পরামর্শে আমি নীরব থাকার অধিকার দাবি করছি এবং আপনাদের প্রশ্নের জবাব দিতে অস্বীকৃতি জানাচ্ছি।’
মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি কমিটির শুনানিতে তারেক সালাহির স্ত্রী মিশেল সালাহিও প্রশ্নের জবাব দিতে অস্বীকৃতি জানান। ওই দম্পতি সাংবাদিকদের প্রশ্নেরও কোনো জবাব দেননি।
কোনো আমন্ত্রণপত্র কিংবা যথাযথ গোয়েন্দা ছাড়পত্র ছাড়াই গত ২৪ নভেম্বর ভারতের প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের সম্মানে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার আয়োজিত নৈশভোজে যোগ দিয়ে সংবাদ শিরোনামে উঠে আসেন সালাহি দম্পতি।

শিল্পপার্ক নিয়ে চুক্তিতে পৌঁছাতে পারেনি দুই কোরিয়া

উত্তর ও দক্ষিণ কোরিয়ার যৌথ কায়েসং শিল্পপার্ক নিয়ে দুই দেশের মধ্যে অনুষ্ঠিত আলোচনা কোনো চুক্তি ছাড়াই শেষ হয়েছে। গত বুধবার এ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।
উত্তরের সীমান্তে কায়েসং শিল্পপার্কে ১১০টিরও বেশি দক্ষিণ কোরীয় ক্ষুদ্র ও মাঝারি প্রতিষ্ঠান রয়েছে। উত্তর কোরীয় শ্রমিকেরা এসব প্রতিষ্ঠানে রান্নার হাঁড়ি, কাপড়, জুতা ও ঘড়ি তৈরি করেন।
সম্প্রতি কারখানায় কর্মরত ৪০ হাজার শ্রমিকের বেতন এবং দক্ষিণ কোরীয় কারখানাগুলোর ভাড়া বাড়ানোর দাবি করেছে উত্তর কোরিয়া। এ দাবি নিয়েই দুই পক্ষে নতুন করে সমস্যা দেখা দেয়।
এক কর্মকর্তা জানান, দুই পক্ষ ১ ফেব্রুয়ারি এ বিষয়ে আরেক দফা আলোচনায় বসবে। সিউলে দক্ষিণ কোরীয় প্রতিনিধি দলের প্রধান কিম ইউয়ং-টাক বলেন, আলোচনার এ দফায় উত্তর কোরিয়ার কাছ থেকে বাধা এসেছে।

ক্ষমতায় টিকে থাকতে তত্পর হয়েছেন জারদারি

প্রেসিডেন্ট হিসেবে নিজের অবস্থান টিকিয়ে রাখতে নতুন করে উদ্যোগী হয়েছেন আসিফ আলী জারদারি। দেশের বিভিন্ন অঞ্চল চষে বেড়াচ্ছেন, জ্বালাময়ী বক্তব্য দিচ্ছেন এবং দেশের প্রধান কর্মকর্তা হিসেবে নিজের কর্তৃত্ব প্রদর্শন করছেন।
প্রেসিডেন্ট জারদারির ক্ষেত্রে বিষয়টা ঠিক মানানসই হচ্ছে না। কেন না মাঝে মধ্যে বিদেশ সফরে যাওয়া ছাড়া তিনি সচরাচর প্রেসিডেন্ট প্রাসাদ ছেড়ে বের হন না। আর গণমাধ্যমে তাঁকে নিয়ে ঝড় বয়ে গেলেও তিনি চুপচাপ থাকেন। এ জন্যই গত বছরের শেষ দিক থেকে অনেকেই ভাবতে শুরু করেছিলেন যে ক্ষমতার ওপর নিয়ন্ত্রণ হারাচ্ছেন জারদারি। তবে এখন মনে হচ্ছে, জারদারি সম্ভত ক্ষমতায় টিকে যাচ্ছেন।
আফগানিস্তানে নতুন যুদ্ধ-কৌশলকে সফল করতে পাকিস্তানের ওপর অনেকটা নির্ভর করছে মার্কিন প্রশাসন। পাকিস্তানের পশ্চিমাঞ্চলীয় পাহাড়ি অঞ্চল জঙ্গিদের নিরাপদ আস্তানা। জঙ্গিদের ওই এলাকা থেকে নির্মূল করতে পাকিস্তানকে চাপ দিয়ে আসছে ওবামা প্রশাসন।
যুক্তরাষ্ট্রের অনেক নীতিকেই হয়তো সমর্থন করেন জারদারি। কিন্তু রাজনৈতিক বিরোধী পক্ষের কারণে সেগুলোর পক্ষেও অবস্থান নেওয়ার ক্ষমতা তাঁর খুবই সীমিত। এ জন্য তাঁর কাছ থেকে বেশি কিছু আশা করে না মার্কিন প্রশাসন। আর তাই পাকিস্তানের ক্ষমতাধর সেনাবাহিনীর সঙ্গে সম্পর্কের ওপর অনেকটা নির্ভর করছে ওয়াশিংটন, যা তারা কয়েক দশক ধরেই করছে।
গত ২৭ ডিসেম্বর সিন্ধু প্রদেশ দিয়ে দেশজুড়ে সফর শুরু করেন জারদারি। এরপর তিনি যান পশ্চিমাঞ্চলীয় বেলুচিস্তান প্রদেশে। আর এ সপ্তাহে যাবেন পাঞ্জাবে। সেখানে থেকে উত্তর-পশ্চিম সীমান্ত প্রদেশের রাজধানী পেশোওয়ার যাবেন বলে জানিয়েছেন জারদারির মুখপাত্র।
তৃণমূল পর্যায়ে দলকে সংগঠিত করে এবং বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে গণমাধ্যমে সরব উপস্থিতি দিয়ে জারদারি হয়তো রাজনৈতিকভাবে কিছুটা লাভবান হতে পারেন। বিশ্লেষকদের অনেকে বলছেন, বিরোধীদের দমাতে এবং ক্ষমতা বাঁচিয়ে রাখতে তিনি শেষ চেষ্টা হিসেবেই এ কাজ শুরু করেছেন।
বিশ্লেষক হাসান আসকারি বলেন, জারদারি বুঝতে পেরেছেন, বিচার বিভাগ বা সেনাবাহিনী যদি তাঁকে ক্ষমতা থেকে সরাতে চায় তাহলে তারা সেটা পারে। কাজেই টিকে থাকতে হলে লড়াই করতে হবে। তিনি সেটাই করতে চাইছেন।

নাইজেরিয়ায় পরিস্থিতি শান্ত

নাইজেরিয়ায় খ্রিষ্টান ও মুসলমানদের মধ্যে সাম্প্রদায়িক সহিংসতা অনেকটা স্তিমিত হয়ে এসেছে। গত দুই দিনে নতুন করে কোনো সহিংসতার খবর পাওয়া যায়নি। সহিংসতাপূর্ণ এলাকায় হাজার হাজার সেনাসদস্য টহল দিচ্ছেন। পরিস্থিতি স্বাভাবিক বলে স্থানীয় বাসিন্দারা দাবি করেছে। নগরবাসীর সুবিধার্থে কারফিউ শিথিল করা হয়েছে। খাবার ও পানি সংগ্রহের সুবিধার্থে দিনে সাত ঘণ্টার জন্য কারফিউ তুলে নেওয়া হয়েছে। জাতিসংঘের মহাসচিব বান কি মুন সাম্প্রদায়িক সহিংসতায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি সহিংসতার পথ ছেড়ে উভয় পক্ষকে শান্তিপূর্ণ সমাধানে আসার আহ্বান জানিয়েছেন। খবর এএফপির।
প্লেটিয়্যু প্রদেশের প্রধান শহর যশে গত রোববার খ্রিষ্টান ও মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে সহিংসতা শুরু হয়। পরে প্লেটিয়্যু প্রদেশের আশপাশেও তা ছড়িয়ে পড়ে। এতে প্রায় ৩০০ লোক নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে সহস্রাধিক। সহিংসতাপূর্ণ এলাকার হাজার হাজার মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে সেনাঘাঁটি, গির্জা ও মসজিদে আশ্রয় নিয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কারফিউ জারি করে কেন্দ্রীয় সরকার।
খ্রিষ্টান-অধ্যুষিত এলাকা নাসারাওয়া গোয়ামের বাসিন্দা ডেভিড মাইয়াকি গতকাল বৃহস্পতিবার বলেছেন, পরিস্থিতি এখন শান্ত। সংঘর্ষ কমেছে। যশ শহরের উত্তরাঞ্চলীয় এলাকার বাসিন্দা মোহাম্মদ আনগুয়ারোগো বলেন, ‘অবস্থা দেখে মনে হচ্ছে সংঘর্ষ শেষ। সব জায়গাতেই শান্ত পরিস্থিতি বিরাজ করছে।’
প্লেটিয়্যুর প্রাদেশিক তথ্য মন্ত্রণালয়ের পরিচালক ইজকিল দালিওপ বলেন, যশে পরিস্থিতি শান্ত হয়ে আসায় কারফিউ শিথিল করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বাসিন্দাদের খাবার সংগ্রহের সুবিধার্থে এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
১৫ কোটি জন-অধ্যুষিত নাইজেরিয়ায় বেশির ভাগ লোকই খ্রিষ্টান ও মুসলিম সম্প্রদায়ের। সংখ্যায় প্রায় সমান সমান। প্লেটিয়্যু প্রদেশের রাজধানী যশেও দুই সম্প্রদায়েরই লোকের সংখ্যা প্রায় সমান। শহরের দক্ষিণাঞ্চল মুসলমান-অধ্যুষিত এবং উত্তরাঞ্চল খ্রিষ্টান-অধ্যুষিত।

পাকিস্তানে জঙ্গি আস্তানার বিপদ সম্পর্কে গেটসের হুঁশিয়ারি

মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী রবার্ট গেটস সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, পাকিস্তান-আফগানিস্তান সীমান্তে তালেবান জঙ্গিদের নিরাপদ আস্তানা অবশ্যই ভেঙে দিতে হবে। তা না হলে ওই দুই দেশ আরও ভয়াবহ হামলার শিকার হতে পারে।
ইসলামাবাদ সফরের শুরুতে গতকাল বৃহস্পতিবার পাকিস্তানের দ্য নিউজ পত্রিকায় লেখা এক নিবন্ধে রবার্ট গেটস এসব কথা বলেন। নিবন্ধে পাকিস্তানের প্রতি ওয়াশিংটনের অঙ্গীকারের কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে পাকিস্তানি তালেবানের বিরুদ্ধে পাকিস্তানি নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানের প্রশংসা করেন রবার্ট গেটস।
তবে মার্কিন কর্মকর্তারা এ বিষয়টি পরিষ্কার করেছেন, ওয়াশিংটন এটা দেখতে অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে যে পাকিস্তান সীমান্তের ভেতরে আফগান তালেবান ও আল-কায়েদার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট জঙ্গিগোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধেও অভিযান চালাচ্ছে পাকিস্তান। গোষ্ঠীগুলো পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের আদিবাসী-অধ্যুষিত এলাকার মাটি ব্যবহার করে আফগানিস্তানে হামলা চালাচ্ছে ও ষড়যন্ত্র পাকাচ্ছে।
নিবন্ধে রবার্ট গেটস লিখেছেন, এটা স্মরণে রাখা গুরুত্বপূর্ণ যে পাকিস্তানি তালেবান গোষ্ঠী আফগান তালেবান ও আল-কায়েদার সহযোগিতায় পরিচালিত হয়। সুতরাং এসব গোষ্ঠীকে পৃথক করা অসম্ভব। নিবন্ধে তিনি আরও বলেন, বিভিন্ন জঙ্গিগোষ্ঠীর মধ্যে পার্থক্য সৃষ্টি করা হিতে বিপরীত হতে পারে।
পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে জঙ্গিদের লক্ষ্য করে মার্কিন পাইলটবিহীন বিমানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার কারণে কূটনৈতিক উত্তেজনার মধ্যেই পাকিস্তান সফরে গেলেন পেন্টাগন প্রধান। এ ধরনের মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র হামলা পাকিস্তানে মার্কিনবিরোধী মনোভাব প্রবল করে তুলছে।
মার্কিন প্রতিনিধিদলের সদস্যরা বলছেন, গেটস আশাবাদী পাকিস্তানি জনগণ ও নেতৃত্বকে তিনি এ বিষয়ে পুনরায় আশ্বস্ত করতে পারবেন যে অতীতের মতো পাকিস্তানকে ছেড়ে যাবে না যুক্তরাষ্ট্র।
আফগানিস্তান থেকে সোভিয়েত বাহিনী প্রত্যাহারের পর ওয়াশিংটন এ অঞ্চলের প্রতি আগ্রহ হারিয়েছিল। এ ছাড়া নব্বইয়ের দশকে ইসলামাবাদের পরমাণু কর্মসূচির কারণে সামরিক সহায়তার ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞার পর পাকিস্তানের সশস্ত্র বাহিনীরও আস্থা হারিয়েছিল ওয়াশিংটন।
এর আগে রবার্ট গেটসের প্রেস সেক্রেটারি জিওফ মোরেল সাংবাদিকদের বলেন, গেটস এই বার্তাটি পৌঁছে দেবেন যে পাকিস্তানিদের আবারও ছেড়ে যাচ্ছে না যুক্তরাষ্ট্র। যুক্তরাষ্ট্র ও পাকিস্তানের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্কের প্রতি যুক্তরাষ্ট্র প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
পাকিস্তানে যুক্তরাষ্ট্রের ভাবমূর্তি বাড়ানোর চেষ্টায় আজ শুক্রবার একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে যুক্তরাষ্ট্র। ওই অনুষ্ঠানে সামরিক বাহিনীর শ্রোতামণ্ডলীর সামনে ভাষণ দেবেন মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী রবার্ট গেটস। শ্রোতাদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবও দেবেন তিনি।
মোরেল বলেন, ‘আমার ধারণা, আপনারা দেখবেন যে তিনি অকপটে ভুলগুলো স্বীকার করছেন এবং তিনি ব্যক্তিগতভাবে প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন যে আমরা আবারও ওই ভুলগুলো করতে যাচ্ছি না।

রাজীব গান্ধীর হত্যাকারী নলিনী মুক্তি পেতে পারেন

ভারতের সাবেক প্রধানমন্ত্রী রাজীব গান্ধী হত্যা মামলায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত নলিনী শ্রীহরণ সম্ভবত মুক্তি পেতে যাচ্ছেন। তাঁকে মুক্তি দেওয়ার জন্যএকটি আবেদন করা হয়েছিল।সে আবেদনে সাড়া দিতে পারে তামিলনাড়ু রাজ্য সরকার। ১৯ বছর ধরে নলিনী কারাভোগ করছেন।
মুক্তি চেয়ে নলিনীর আবেদন নিয়ে চলতি সপ্তাহের শুরুর দিকে বৈঠকে বসেছিল রাজ্য সরকারের গঠন করা একটি বোর্ড। নলিনীর আবেদন বিবেচনা করার জন্য ২০০৮ সালে মাদ্রাজ হাইকোর্টের দেওয়া একটি নির্দেশের ভিত্তিতে ওই বোর্ড গঠন করা হয়েছিল। ভেলোর জেলার কালেক্টর সি রাজেন্দ্রের নেতৃত্বে বোর্ডে আছেন জেলা বিচারক কালাইয়ারাজন, আঞ্চলিক কারা কর্মকর্তা কৃষ্ণমা নামাগিরি এবং একাডেমি অব প্রিজনস অ্যান্ড কারেকশনাল অ্যাকটিভিটিজের প্রভাষক জুলি।
বোর্ডের সদস্যদের সঙ্গে তিন ঘণ্টা স্থায়ী ওই বৈঠকে নলিনী প্রায় ১০ মিনিট ধরে তাঁর বিষয়টি তুলে ধরেন। গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে কালেক্টর সি রাজেন্দ্র সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, বোর্ডের সদস্যরা আবার বৈঠকে বসে প্রতিবেদন তৈরি করবেন। যদিও এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে রাজ্য সরকার। তিনি বলেন, কয়েক দিনের মধ্যেই রাজ্যসরকারের কাছে প্রতিবেদন পেশ করা হবে।
রাজেন্দ্র বলেন, ‘কারা নীতিমালা অনুযায়ী সাজার মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই কোনো বন্দীকে মুক্তি দেওয়ার জন্য কিছু শর্ত আছে। সেসব বিষয় নিয়েও আমরা আলোচনা করেছি।’
নলিনীর মুক্তি পাওয়ার সম্ভাবনার বিষয়ে জানতে চাইলে তাঁর আইনজীবী এস দোরাইস্বামী বলেন, ‘প্রতিবেদন তৈরি এবং তা সরকারের কাছে পাঠাতে কয়েক দিন সময় লেগে যাবে। এর পর সরকারই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে। বিষয়টি খুব সহজ নয়, অনেক সময় লেগে যাবে।’
তবে নলিনীর মুক্তির বিরোধিতা করে জনতা পার্টির প্রেসিডেন্ট সুব্রামনিয়াম স্বামী জানিয়েছেন, শুধু একটি উপদেষ্টা বোর্ডই এ বিষয়টি ফয়সালা করতে পারে না। তিনি বলেন, ‘অনেক ধাপ পেরিয়ে তাঁকে মুক্তি পেতে হবে। আর রাজীব গান্ধীর স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে প্রতি ধাপেই আমি বিরোধিতা করব।’
১৯৯১ সালের ২১ মে চেন্নাইয়ের কাছে শ্রীপেরুমবুদুর শহরে এক জনসভায় বোমা বিস্ফোরণে নিহত হন রাজীব গান্ধী। ওই বছরের ১৪ জুন নলিনীকে গ্রেপ্তার করা হয়। ১৯৯৮ সালে একটি বিশেষ আদালত নলিনীসহ ২৫ জনকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেয়। পরে নলিনী ক্ষমা প্রার্থনা করলে ২০০০ সালের এপ্রিলে তাঁকে মৃত্যুদণ্ডের পরিবর্তে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

লন্ডন সম্মেলনে তালেবান পুনর্বাসনের পরিকল্পনা পেশ করবেন কারজাই

আফগানিস্তানের প্রেসিডেন্ট হামিদ কারজাই ২৮ জানুয়ারির লন্ডন সম্মেলনে দাতাদের কাছে তালেবান যোদ্ধাদের পুনর্বাসনের একটি পরিকল্পনা পেশ করবেন। তালেবান যোদ্ধাদের সমাজের মূল ধারায় ফিরিয়ে আনতেই তাঁর এ পরিকল্পনা। তবে এ পরিকল্পনা কতটুকু সফল হবে, তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে।
লন্ডনে আফগানিস্তানবিষয়ক আন্তর্জাতিক সম্মেলনে এই ভিন্ন আঙ্গিকের পরিকল্পনা প্রকাশ ‘খারাপ হবে না’ বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন বিশেষ প্রতিনিধি রিচার্ড হলব্রুক। তবে বিশেষজ্ঞরা হাজার হাজার আফগান যোদ্ধাকে বৃত্তি, চাকরি, প্রশিক্ষণ, শিক্ষার প্রলোভন দেখিয়ে পাহাড়ি এলাকা থেকে সমাজে ফিরিয়ে আনার ক্ষমতা আফগানিস্তান সরকারের আছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। ওয়াশিংটনের গবেষণা ও পরামর্শদাতা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর আমেরিকান প্রোগ্রেসের আফগানিস্তান বিশেষজ্ঞ ব্রায়ান কাটুলিস বলেছেন, কারজাই এর আগেও এ ধরনের উদ্যোগ নিয়েছিলেন। কিন্তু অনিশ্চিত নিরাপত্তার কারণে সে উদ্যোগ ভেস্তে যায়। তাঁরা আরও বলেছেন, এ পরিকল্পনা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে জাতীয় পর্যায়ের পাশাপাশি প্রাদেশিক পর্যায়েও কাজ করতে হবে। সে সক্ষমতা সরকারের আছে কি না, সেটিও বিবেচনা করতে হবে।
কর্মসূচির দায়িত্বপ্রাপ্ত আফগান কর্মকর্তা মোহাম্মদ মাসুম স্তানেকজাই জানান, লন্ডন সম্মেলনের পর প্রাদেশিক ও জেলা পর্যায়ের প্রবীণ এবং প্রভাবশালী নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করে বিস্তারিত ঠিক করা হবে। তিনি জানান, এ পরিকল্পনার আওতায় জঙ্গিদের নিরাপত্তা ও চাকরির নিশ্চয়তা দেওয়া হবে, যাতে তারা আর বোমা পুঁততে ফিরে না যায়। তিনি বলেন, এটি ব্যাপক ও বিস্তারিত একটি কর্মসূচি। এটা সর্বস্তরে বাস্তবায়িত হবে। যোদ্ধাদের মর্যাদার সঙ্গে শান্তি প্রক্রিয়ায় অংশ নেওয়া প্রয়োজন।
অর্থনৈতিক এবং নিরাপত্তার নিশ্চয়তা না থাকায় কারজাইয়ের আগের এ ধরনের চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। নতুন এ পরিকল্পনায় ১০০ কোটি ডলার খরচ হবে। লন্ডন সম্মেলনে দাতাদের কাছ থেকে এ ব্যাপারে কিছু প্রতিশ্রুতি পাওয়ার আশা করছেন কারজাই। যুক্তরাজ্য, জাপান ও যুক্তরাষ্ট্র এ পরিকল্পনা বাস্তবায়নে অর্থ দেবে বলে মনে করা হচ্ছে।

ম্যারিকোর ২৫% নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা

বহুজাতিক কোম্পানি ম্যারিকো বাংলাদেশ লিমিটেডের দশম বার্ষিক সাধারণ সভা সম্প্রতি গাজীপুরে অবস্থিত কোম্পানির ফ্যাক্টরিতে অনুষ্ঠিত হয়। সভায় ২৫ শতাংশ বা প্রতি শেয়ারে ২ দশমিক ৫ টাকা লভ্যাংশ ঘোষণা করা হয়।
সভায় ম্যারিকো বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনা পরিচালক দেবাশীষ নিয়োগী সভাপতিত্ব করেন। এতে কোম্পানির পরিচালকদের মধ্যে কুনাল গুপ্ত, গোলাম মোস্তফা ও রূপালী চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।
দেবাশীষ নিয়োগী সভায় জানান, এ কোম্পানি ২০০৮-০৯ সালে প্রায় ৪০৬ কোটি টাকা আয় করেছে। এতে আগের বছরের তুলনায় ৫৩ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে। তিনি আরও জানান, এ বছর ম্যারিকো ৪৭ কোটি টাকা মুনাফা করেছে, যা আগের বছরের তুলনায় ৭৬ শতাংশ বেশি।
এ সভায় হারস মারিওয়ালা, মিলিন্দ সারওয়াতে, গোলাম মোস্তফা ও রূপালী চৌধুরী পরিচালক পদ থেকে অবসর নেন এবং পুনর্নির্বাচিত হন।
পাবলিক কোম্পানি হিসেবে এটাই হচ্ছে ম্যারিকোর প্রথম বার্ষিক সাধারণ সভা।
ম্যারিকো বাংলাদেশ লিমিটেড ম্যারিকো গ্রুপের একটি অংশ। ম্যারিকোর অন্যতম ব্র্যান্ড প্যারাসুট নারকেল তেল, অ্যারোমেটিক ও ক্যামেলিয়া।

সাফার সভায় যোগ দিতে আইসিএবি প্রতিনিধিদল এখন নেপালে

দি ইনস্টিটিউট অব চার্টার্ড অ্যাকা-উন্ট্যান্টস অব বাংলাদেশের (আইসিএবি) সভাপতি জামালউদ্দীন আহমেদ এফসিএর নেতৃত্বে আইসিএবির আট সদস্যবিশিষ্ট একটি প্রতিনিধিদল গতকাল বৃহস্পতিবার নেপালের উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করে। প্রতিনিধিদলটি আজ শুক্রবার ও আগামীকাল শনিবার নেপালে অনুষ্ঠেয় সাফার ১২তম বোর্ড মিটিং এবং ৭০তম অ্যাসেমব্লি মিটিংয়ে যোগ দেবে।
সাফার ২০০৯ সালের সভাপতি শেখ এ হাফিজ এফসিএ অ্যাসেমব্লি অনুষ্ঠানে আনুষ্ঠানিকভাবে ২০১০ সালের সাফা সভাপতি কমল বাহাদুর চিত্রকরের হাতে সভাপতির দায়িত্বভার তুলে দেবেন।
আইসিএবির প্রতিনিধিদলটি সাফার বিভিন্ন কমিটি যেমন—শিক্ষা, হিসাব ও নিরীক্ষাসংক্রান্ত সভায়ও যোগ দেবে।
প্রতিনিধিদলের অন্যান্য সদস্য হলেন: আইসিএবির সহসভাপতি মো. আবদুস সালাম, কাউন্সিল সদস্য: মো. হুমায়ুন কবির, নাসির উদ্দীন আহমেদ ও মো. সাইফুল ইসলাম। সাফার নির্বাহী সচিব সি আর মজুমদার এবং সাফার নোডাল অফিসার নাসরাত হাসান।

কৃষকদের জন্য ১০ টাকায় ব্যাংক হিসাব খোলা -সরকারের এ সিদ্ধান্ত গণমুখী ও যুগোপযোগী: এমসিসিআই

রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোতে কৃষকদের জন্য মাত্র ১০ টাকায় ব্যাংক হিসাব খোলার সুবিধা দেওয়ার সরকারি সিদ্ধান্ত দেশের অর্থনীতিতে বিশেষ করে কৃষিক্ষেত্রে অপরিমেয় কল্যাণ বয়ে আনবে।
মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এমসিসিআই) এ কথা জানায়। সংগঠনটি কৃষকদের জন্য রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকে হিসাব খোলার এই সুবিধাকে অত্যন্ত যুগোপযোগী, বাস্তবমুখী, সাহসী, গণমুখী ও প্রশংসনীয় পদক্ষেপ বলে আখ্যায়িত করেছে।
এমসিসিআই সিদ্ধান্তটির জন্য সরকার ও বাংলাদেশ ব্যাংককে অভিনন্দন জানিয়ে বলেছে, এ বিষয়ে কোনো দ্বিমত নেই যে দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে কৃষকদের গুরুত্বপূর্ণ অবদান বিবেচনায় রেখে তাঁদের জন্য ব্যাংকিং সেবা বাড়ানো ও সহজীকরণ করা প্রয়োজন।
এমসিসিআইয়ের সভাপতি এম আনিস উদ দৌলা স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে গতকাল বৃহস্পতিবার এ প্রসঙ্গে বলা হয়, বর্তমানে সরকার সার, বিদ্যুত্ ও ডিজেলের ওপর কৃষকদের ভর্তুকি দিচ্ছে। কিন্তু সেই ভর্তুকির সুবিধাদি পেতে কৃষকদের নানাবিধ সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়। মধ্যস্বত্বভোগী ও সংশ্লিষ্ট অন্যদের আর্থিক সুবিধা দিতে হয় বলে কৃষকেরা সরকারের দেওয়া এই সুবিধা সম্পূর্ণভাবে ভোগ করতে পারেন না। এই বাস্তবতার আলোকে সরকারের বিভিন্ন ভর্তুকি ব্যাংকের মাধ্যমে সহজে পাওয়ার সুযোগ নিশ্চিত করতেই ১০ টাকায় ব্যাংক হিসাব খোলার সুযোগ সৃষ্টি করা হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংক ইতিমধ্যে এ ব্যাপারে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে তা সব রাষ্ট্রায়ত্ত বাণিজ্যিক ব্যাংক ও বিশেষায়িত ব্যাংকে পাঠিয়েছে।
জাতীয় পরিচয়পত্র বা জন্মনিবন্ধন কার্ড ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের ইস্যুকৃত কৃষি উপকরণ সহায়তা কার্ডের বিপরীতে যেকোনো কৃষক সরকারি ব্যাংকে আমানত হিসাব খুলতে পারবেন। এ ধরনের হিসাবে ন্যূনতম আমানত রাখার কোনো বাধ্যবাধকতা থাকবে না এবং ব্যাংকও এই হিসাবের বিপরীতে কোনো চার্জ (মাশুল) বা ফি আদায় করতে পারবে না।
এমসিসিআই আরও বলেছে, এই যুগান্তকারী পদক্ষেপ দেশে কৃষি উত্পাদনের ক্ষেত্রে বিপুল উত্সাহ ও উদ্যমের সৃষ্টি করবে। সংগঠনটির সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সরকার এই পদক্ষেপ নিরবচ্ছিন্নভাবে বজায় রাখবে এবং এর সম্পূর্ণ বাস্তবায়ন নিশ্চিত করবে বলে এমসিসিআই দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে

২০২০ সালে দেশে ইন্টারনেট গ্রাহক হবে প্রায় দুই কোটি

যথাযথ উদ্যোগ ও নীতিগত অবকাঠামো থাকলে ২০২০ সাল নাগাদ বাংলাদেশে ইন্টারনেটের গ্রাহকসংখ্যা প্রায় দুই কোটি হবে। আর তখন মোট দেশজ উত্পাদনে (জিডিপি) ইন্টারনেটের অবদান হবে ২ দশমিক ৬ শতাংশ।
জিডিপিতে অবদানের বিরাট অংশ আসবে ইন্টারনেট ব্যবহারের কারণে সেবা খাত, শিল্প ও কৃষিতে উত্পাদনশীলতা বৃদ্ধি ও আয়ের উেসর বহুমুখিতার ফলে।
গ্রামীণফোনের প্রধান শেয়ারহোল্ডার টেলিনরের পক্ষে বোস্টন কনসাল্টিং গ্রুপের (বিসিজি) এক গবেষণা প্রতিবেদনে এ কথা বলা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার স্থানীয় একটি হোটেলে জিএসএমএ সম্মেলনে গ্রামীণফোন আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়।
টেলিনর এশিয়ার কর্মকর্তা ওলা জো টেনড্রে সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পেশ করেন। তিনি বলেন, ইন্টারনেট ব্যবহারের সুযোগ ও এ সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টিতে সরকার এবং নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা আছে।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, ইন্টারনেটের বিস্তার ১০ শতাংশ বাড়লে নতুন ব্যবসা গঠনের হারও ১ শতাংশ বাড়বে। ২০২০ সালে ইন্টারনেটের বহুমুখী ব্যবহারের কারণে নতুন এক লাখ ২৯ হাজার চাকরির সুযোগ তৈরি হবে। তখন ৩২ শতাংশ বাড়ি ও ৬৬ শতাংশ ব্যবসা-প্রতিষ্ঠানে ইন্টারনেট সংযোগ থাকবে। তবে এ জন্য সরকারের ব্যবসা সহযোগী নীতি করতে হবে।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, ইন্টারনেট ব্যবহারের হার এখন সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের একটি প্রধান সূচকে পরিণত হয়েছে। বাংলাদেশে বর্তমানে প্রায় ৫০ লাখ মানুষ মোবাইল ও ফিক্সড ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডারদের ইন্টারনেট সেবা ব্যবহার করছে। মোট জনসংখ্যার মাত্র চার শতাংশ মানুষ ইন্টারনেট ব্যবহারের সুযোগ পাচ্ছে। প্রতিবেশী দেশগুলোর তুলনায় এটা অনেক কম।
বাংলাদেশে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা কম হওয়ার পেছনে কয়েকটি কারণ চিহ্নিত করা হয়েছে গবেষণায়। এর মধ্যে আছে, গ্রাম ও মফস্বল এলাকায় পর্যাপ্ত ব্রডব্যান্ড লাইন না থাকা, সংযোগ মূল্য বেশি, ইন্টারনেট সম্পর্কে সচেতনতার অভাব, নিরক্ষরতা এবং ইংরেজি ভাষায় দক্ষতার অভাব প্রভৃতি।
তবে সরকারের নীতিমালা ইতিবাচক হলে এবং যথাযথ বিনিয়োগ হলে ২০২০ সাল নাগাদ দেশে ইন্টারনেটের ৯০ শতাংশ সংযোগই হবে তারহীন।
এক প্রশ্নের জবাবে গ্রামীণফোনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ওডভার হেশজেদাল বলেন, তাঁরা ইন্টারনেট ব্যবহারের খরচ কমানোর চেষ্টা করছেন। সংবাদ সম্মেলনে জিএসএম অ্যাসোসিয়েশনের কর্মকর্তা টম ফিলিপসও উপস্থিত ছিলেন।

ডিএসই সাধারণ সূচক পাঁচ হাজার পয়েন্টের মাইলফলক ছাড়াল

দেশের প্রধান স্টক এক্সচেঞ্জ হিসেবে পরিচিত ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সাধারণ মূল্যসূচক পাঁচ হাজার পয়েন্টের মাইলফলক ছাড়িয়ে গেছে।
গতকাল বৃহস্পতিবার সপ্তাহের শেষ লেনদেন দিবসে ডিএসই সাধারণ সূচক প্রায় ৯৭ পয়েন্ট বেড়ে পাঁচ হাজার ৯৫ পয়েন্ট ছাড়িয়ে গেছে।
বাজার সূত্র বলছে, টেলিযোগাযোগ খাতের শীর্ষস্থানীয় কোম্পানি গ্রামীণফোন লিমিটেডের শেয়ারের মূল্যবৃদ্ধিই সূচক বাড়ার অন্যতম প্রধান কারণ। আর কোম্পানিটির একটি প্রাতিষ্ঠানিক ঘোষণা এ ক্ষেত্রে বড় অবদান রেখেছে।
আগের দিন গ্রামীণফোনের শেয়ারের সমাপনী মূল্য ছিল ২২৬ টাকা ৯০ পয়সা। কিন্তু গতকাল তা ১৭ টাকা ৫০ পয়সা বা প্রায় আট শতাংশ বেড়ে ২৪৪ টাকা ৪০ পয়সায় লেনদেন সমাপ্ত হয়েছে। এতেই সূচক বেড়েছে প্রায় ৬৫ পয়েন্ট। দর বৃদ্ধির তালিকায় থাকা বাকি কোম্পানিগুলো মিলে সূচক বাড়িয়েছে মাত্র ২৯ পয়েন্ট।
ডিএসই কর্তৃপক্ষ মিষ্টি বিতরণের মাধ্যমে সূচক বৃদ্ধির এ ঘটনাটি উদ্যাপন করেছে। তারা বলছে, সূচক বাড়ার এ ঘটনা বাজারের প্রতি বিনিয়োগকারীদের আস্থার বহিঃপ্রকাশ। একই সঙ্গে প্রমাণিত হলো বাজারে প্রচুর নগদ টাকার প্রবাহ রয়েছে। এ ব্যাপারে ডিএসইর সভাপতি রকিবুর রহমান এক প্রেস ব্রিফিংয়ে বলেন, সূচক বাড়লেও নীতিনির্ধারকদের উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নেই। কারণ বাজার এখনো স্থিতিশীল রয়েছে। তবে বাজারের অতিরিক্ত চাহিদার কথা মাথায় রেখে সরকারের উচিত, এ মুহূর্তে রাষ্ট্রায়ত্ত কোম্পানিগুলোর শেয়ার সরবরাহ বাড়ানো।
যোগাযোগ করা হলে মার্চেন্ট ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ও এবি ব্যাংকের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফজলুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, ডিএসইর সূচক নতুন মাইলফলক অতিক্রম করেছে, সাধারণভাবে এটি একটি ভালো খবর। এতে অতি উত্সাহী বা অতি উদগ্রীব হলে চলবে না। কারণ সূচক বাড়ার পরও যদি ভালো ভালো শেয়ার বাজারে না আসে, তাহলে খুব একটা লাভ নেই। অর্থনৈতিক অগ্রগতি ও শিল্পায়নে পুঁজিবাজারকে ঠিকভাবে কাজে লাগানো গেলেই সূচক বৃদ্ধি সার্থক হবে।
বাজার পরিস্থিতি: ডিএসইতে গতকাল মোট ২৪১টি কোম্পানির শেয়ার লেনদেন হয়েছে, যার মোট মূল্য এক হাজার ২৪১ কোটি টাকা। এর মধ্যে গ্রামীণফোনের একাই লেনদেন হয়েছে ১২০ কোটি টাকার শেয়ার, যা মোট লেনদেনের প্রায় ১০ শতাংশ। লেনদেন হওয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে দাম বেড়েছে ১৫৩টির, কমেছে ৮৩টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে পাঁচটি কোম্পানির শেয়ারের দাম।
চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) মোট ১৭৪টি কোম্পানির শেয়ার লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে দাম বেড়েছে ১০০টির, কমেছে ৬৬টির ও অপরিবর্তিত ছিল আটটি কোম্পানির দাম।
গতকাল সিএসইর সার্বিক মূল্যসূচক আগের দিনের চেয়ে ২৭২ পয়েন্ট বেড়ে ১৪ হাজার ৭৯৩ পয়েন্ট অতিক্রম করেছে। আর লেনদেন হয়েছে প্রায় ৯৭ কোটি টাকার শেয়ার।
গ্রামীণফোনের ঘোষণা: গ্রামীণফোনের পরিচালনা পর্ষদ গতকাল মূল্যসংবেদনশীল তথ্য হিসেবে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে স্বতন্ত্র একটি কোম্পানি গঠনের ঘোষণা দিয়েছে। গ্রামীণফোন আইটি লিমিটেড নামের প্রস্তাবিত এ কোম্পানিটি হবে গ্রামীণফোনের শতভাগ সাবসিডিয়ারি। ভবিষ্যতে এ কোম্পানিটি তথ্যপ্রযুক্তি খাতে গ্রামীণফোনের যাবতীয় প্রয়োজন পূরণ করবে। একই সঙ্গে অন্যান্য প্রতিষ্ঠানকেও বাণিজ্যিক ভিত্তিতে তথ্যপ্রযুক্তি সেবা দেবে।
বাজার সূত্র বলছে, গতকাল সকালে ডিএসইর ওয়েবসাইটে এ তথ্য প্রকাশিত হওয়ার পর গ্রামীণফোনের শেয়ারের দাম ও লেনদেন বাড়তে শুরু করে।

দেশে ফিরে যাচ্ছেন লক্ষ্মণ

ফিল্ডিং করতে গিয়ে পরশু হাত ফেটে যাওয়ায় কাল চট্টগ্রাম টেস্টের শেষ দিনে ফিল্ডিং করতে নামেননি ভিভিএস লক্ষ্মণ। ম্যাচ শেষে দলের ম্যানেজার আরশাদ আইয়ুব জানিয়েছেন, দ্বিতীয় টেস্টেও পাওয়া যাচ্ছে না তাঁকে।
হাতে পাঁচটা সেলাই পড়েছে। বিশ্রামে থাকতে হবে পাঁচ দিন। লক্ষ্মণ তাই আজই ফিরে যাবেন দেশে। তবে দ্বিতীয় টেস্টের জন্য তাঁর কোনো বিকল্প আনা হবে না। আরশাদ আইয়ুব জানিয়েছেন, মহেন্দ্র সিং ধোনি ও হরভজন সিং দুজনই ফিট ২৪ জানুয়ারি থেকে মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে শুরু পরের টেস্ট খেলার জন্য। চট্টগ্রাম টেস্টের আগের দিন পিঠে ব্যথা এবং টেস্ট শুরুর দিন সকালে ঘাড়ে ব্যথা পাওয়ায় প্রথম টেস্টে খেলেননি ধোনি ও হরভজন।

ক্রিকেটের চোখ ফাইনালে

দক্ষিণ এশীয় গেমসে এই প্রথম ক্রিকেট হচ্ছে। ‘গেমসে ক্রিকেট থাকলে পৃষ্ঠপোষক আসবে’—গেমসে ক্রিকেট ঢোকানোর এই হলো আয়োজকদের যুক্তি।
ক্রিকেট মানে টি-টোয়েন্টি। খেলবে অনূর্ধ্ব-২১ দল। স্বাগতিক বাংলাদেশসহ অংশ নিচ্ছে মোট ৫টি দল। আসছে পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, নেপাল ও মালদ্বীপ। নিজেদের দেশে ঘরোয়া লিগ চলছে কারণ দেখিয়ে (অনেকের কাছে এটি খোঁড়া যুক্তি) ভারত আসছে না। একটা সময় পর্যন্ত পাকিস্তানও আসতে চাইছিল না। ভারত-পাকিস্তান দুই দেশই না এলে গেমসে ক্রিকেটই হয় না, এমন পরিস্থিতির মুখে দাঁড়িয়ে বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশন পাকিস্তানকে অনুরোধ করে শেষ পর্যন্ত রাজি করিয়েছে।
যা-ই হোক, ৫টি দেশ একে অন্যের সঙ্গে একবার করে খেলার পর সর্বোচ্চ পয়েন্ট পাওয়া দুই দল খেলবে ফাইনালে। খেলা হচ্ছে ঢাকার মিরপুর ও রাজশাহী বিভাগীয় স্টেডিয়ামে। খসড়া ফিকশ্চার অনুযায়ী বাংলাদেশের প্রথম ম্যাচ নেপালের সঙ্গে ৩১ জানুয়ারি। ২ ফেব্রুয়ারি শ্রীলঙ্কা, ৪ ফেব্রুয়ারি মালদ্বীপ ও ৫ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তানের বিপক্ষে খেলবে স্বাগতিক দল। প্রথম দুটি ম্যাচ রাজশাহীতে, পরের দুটি ঢাকায়। মোট ম্যাচ ১২, ফাইনাল ৭ ফেব্রুয়ারি।
যেহেতু খেলাটা ক্রিকেট তাই কোন দল সোনা-রুপা জিতবে বলা কঠিন। তবে ঐতিহ্য অনুযায়ী সোনার লড়াইয়ে পাকিস্তান-শ্রীলঙ্কাই এগিয়ে। এই দুই দলের এক দলকে হারাতে পারলে বাংলাদেশ ফাইনালে খেলতে পারবে। বাংলাদেশের লক্ষ্যও আপাতত ফাইনালে খেলা।
এসএ গেমসের দল ঘোষণা ও লক্ষ্য নিয়ে কথা বলার কালকের পর্বে এসেছিল ক্রিকেট। বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২১ দলের কোচ সারোয়ার ইমরান ঢাকার বাইরে জাতীয় লিগ নিয়ে ব্যস্ত থাকায় আসতে পারেননি সংবাদ সম্মেলনে। অন্য কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিয়ে দলটির প্রধান সমন্বয়কারী নাজমুল আবেদীন ফাহিম বললেন, ‘আমাদের লক্ষ্য ফাইনাল খেলা। পাকিস্তান-শ্রীলঙ্কার সঙ্গে খুব একটা পার্থক্য নেই আমাদের। কাজেই ফাইনালে খেলা সম্ভব।’
মূলত একাডেমির খেলোয়াড়দের নিয়ে গড়া হয়েছে বাংলাদেশ দল। নিউজিল্যান্ডে অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ খেলতে যাওয়া দলের দুজনকে (আনামুল হক, সাব্বির রহমান) রাখা হয়েছে এই দলে। আছেন জাতীয় লিগে সেঞ্চুরিসহ ধারাবাহিকভাবে রান পাওয়া তরুণ ব্যাটসম্যান আসিফ আহমেদ। নাজমুল জানালেন, দলটির মূল শক্তি ব্যাটিং। ফিল্ডিংও ভালো। তবে পেস বোলিংটা একটা দুর্বল।
আগামী পরশু শুরু হচ্ছে দলটির অনুশীলন।