Friday, October 16, 2009

স্কয়ার হাসপাতালের বিল পরিশোধ করা যাবে অনলাইনেই

স্কয়ার হাসপাতালে অনলাইনে অর্থ পরিশোধ
সেবা সুবিধা দিতে এসএসএলের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষর
ঢাকা স্কয়ার হাসপাতালে চালু হয়েছে অনলাইন পেমেন্ট বা অনলাইনে অর্থ পরিশোধের সুবিধা। ভিসা কার্ড, মাস্টার কার্ড ও ডিবিবিএল নেক্সাস কার্ড ব্যবহার করে অনলাইনে হাসপাতালের বিল পরিশোধ করা যাবে।
সফটওয়্যার শপ লিমিটেড বা এসএসএল ওয়্যারলেস প্রতিষ্ঠানটির সহযোগিতায় স্কয়ার হাসপাতালে অনলাইনে অর্থ পরিশোধের এ সেবাটি চালু হয়েছে ১৩ মে। এ সেবা চালু উপলক্ষে স্কয়ার হাসপাতালের পরিচালক কে এম সাইফুল ইসলাম ও এসএসএলের প্রধান নির্বাহী আনিসুল ইসলাম নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে একটি চুক্তি স্বাক্ষর করেছেন। ঢাকার স্কয়ার হাসপাতাল অডিটোরিয়ামে এ চুক্তি হয়।
স্কয়ার হাসপাতালের পরিচালক কে এম সাইফুল ইসলাম বলেন, অনলাইনে অর্থ পরিশোধের সুবিধা যুক্ত হওয়ায় স্কয়ার হাসপাতালের বিল পরিশোধের জন্য নগদ অর্থ বহনের ঝামেলা থেকে মুক্তি পাওয়া যাবে।
এসএসএলের প্রধান নির্বাহী আনিসুল ইসলাম জানিয়েছেন, এসএসএল ও স্কয়ার হাসপাতালের যৌথ উদ্যোগে আমাদের দেশের চিকিত্সাক্ষেত্রে অনলাইন পেমেন্ট সেবা প্রথমবারের মতো চালু হল।

কারখানার নিরাপত্তায় সমর্থন দিতে সম্মত বড় ক্রেতারা

বাংলাদেশের তৈরি পোশাক কারখানাগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কাজ করার বিষয়ে সম্মত হয়েছে ইউরোপীয় অঞ্চলের বিশ্বখ্যাত চার খুচরা বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান। পোশাক কারখানাকে অগ্নিকাণ্ড থেকে নিরাপদ রাখার জন্য এবং ভবন উন্নয়নে অর্থসহায়তা দেবে এসব প্রতিষ্ঠান।
এই চার প্রতিষ্ঠান গত সোমবার এ জন্য এ সংক্রান্ত একটি চুক্তি সইয়ের বিষয়ে সম্মত হয়েছে। প্রতিষ্ঠানগুলো হলো সুইডেনের হেনস অ্যান্ড মরিটজ (এইচ অ্যান্ড এম), আয়ারল্যান্ডের প্রাইমার্ক, নেদারল্যান্ডসের সি অ্যান্ড এ এবং স্পেনের ইন্ডিটেক্স।
বাংলাদেশের যেসব কারখানা থেকে এই প্রতিষ্ঠানগুলো পোশাক কেনে, শুধু সেই কারখানাগুলোকেই এই সহায়তা দেওয়া হবে। বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানির ৬০ শতাংশের বেশি হয় ইউরোপের দেশগুলোতে।
এর আগে গত মাসে জার্মানিতে খুচরা বিক্রেতা প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে আলোচনায় বসে বৈশ্বিক শ্রমিক সংগঠন ইন্ডাস্ট্রি অল গ্লোবাল ইউনিয়ন। ওই বৈঠকে ১৫ মের মধ্যে বাংলাদেশের পোশাক কারখানায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চুক্তি সইয়ের জন্য সময় বেঁধে দেওয়া হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতেই ইউরোপের এই চার প্রতিষ্ঠান চুক্তির বিষয়ে সম্মত হয়। আজ বুধবার এ সময় শেষ হচ্ছে।
তবে এ রকম কোনো চুক্তিতে যাবে না বলে জানিয়ে দিয়েছে ওয়ালমার্ট, গ্যাপ ও সিয়ার্সের মতো বিশ্বখ্যাত মার্কিন খুচরা পোশাক বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান।
ইউরোপীয় ক্রেতাপ্রতিষ্ঠানগুলো এমন সময়ে পোশাক কারখানা নিরাপত্তার বিষয়ে সহায়তা দিতে সম্মত হলো যার ২০ দিন আগে (২৪ এপ্রিল) সাভারে রানা প্লাজা ধসে এক হাজার ১২৭ জন পোশাকশ্রমিক নিহত হয়েছেন।
রানা প্লাজা ধসের পর থেকেই ক্রেতাপ্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর বাংলাদেশের তৈরি পোশাক কারখানাগুলোতে নিরাপত্তার জন্য চুক্তি করার ব্যাপারে আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও), বিভিন্ন দেশের শ্রমিক সংঘ ও সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন গোষ্ঠী প্রচণ্ড চাপ তৈরি করে। তখন থেকেই এমন চুক্তির ব্যাপারে আলোচনা চলছিল।
এর আগে গত বছর নভেম্বরে আশুলিয়ার তাজরীন ফ্যাশনসে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ১১২ জন শ্রমিকের মৃত্যু হয়। এর পর থেকেই বাংলাদেশে তৈরি পোশাক কারখানাগুলোর নিরাপত্তার বিষয়টি বিশ্বের মনোযোগে আসে। গত সপ্তাহেও একটি কারখানায় আগুন লেগে কারখানার মালিকসহ অন্তত আটজনের মৃত্যু হয়। চীনের পর বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে বেশি পোশাক রপ্তানি করে বাংলাদেশ।
অবশ্য গত বছরই ‘বাংলাদেশ নিরাপত্তা কর্মসূচি’ নামে দুই বছর মেয়াদি একটি চুক্তিতে সই করেছিল যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক পিভিএইচ করপোরেশন এবং জার্মান খুচরা বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান টিচিবো। নতুন চুক্তিটি এ চুক্তিরই সম্প্রসারিত রূপ বলে মনে করা হচ্ছে। প্রতিষ্ঠান দুটি নতুন এ চুক্তির সঙ্গে একমত পোষণ করেছে।
কারখানার নিরাপত্তাবিষয়ক এ চুক্তির মেয়াদ হবে পাঁচ বছর। এতে পোশাক সরবরাহকারীদের জন্য কঠোর বাধ্যবাধকতা আরোপ করা হবে। চুক্তির জন্য একটি কর্মপরিকল্পনা ঠিক করা হবে এবং তা বাংলাদেশ সরকার, দেশটির তৈরি পোশাক কারখানা মালিকদের সংগঠন এবং শ্রমিক সংগঠনের নেতাদের সম্মতিতেই করা হবে।
ইন্ডাস্ট্রি অল গ্লোবাল ইউনিয়নের একজন মুখপাত্র বলেন, চুক্তির চূড়ান্ত খসড়া আজ প্রকাশ করা হবে। খসড়ায় শ্রমিক অধিকার ও প্রশিক্ষণ জোরদার করা এবং বাংলাদেশে ব্যবসার আকার অনুপাতে ব্র্যান্ড প্রতিষ্ঠানগুলোকে আর্থিক সহায়তার প্রতিশ্রুতি দেওয়ার বিষয় উল্লেখ থাকবে।
এইচ অ্যান্ড এমের সাসটেইনিবিলিটি বিভাগের প্রধান হেলেনা হেলমারসন এক বিবৃতিতে বলেন, ‘আশা করি, এ ব্যাপারে কার্যকরভাবে কাজ করতে অনেক প্রতিষ্ঠানই এই চুক্তি করতে এগিয়ে আসবে।’
ইন্ডিটেক্সের একজন মুখপাত্র বলেন, ‘বিষয়টি এখনো কার্যকর হয়নি। তবে সবাই জানে এমন একটি চুক্তি করতে আমরা কার্যকর ভূমিকা পালন করেছি।’
চুক্তির আওতায় ঠিক কত টাকা খরচ করা হবে সে বিষয়ে চার প্রতিষ্ঠান স্পষ্ট কিছু বলেনি। তবে কেলভিন ক্লেইন ও টমি হিলফিজারের মতো ব্র্যান্ডের স্বত্বাধিকারী পিভিএইচ করপোরেশন সোমবারই এ উদ্যোগের সঙ্গে থাকার কথা জানিয়েছে। শুধু তা-ই নয়, বাংলাদেশের পোশাক কারখানার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আড়াই লাখ ডলারের সহায়তা দেওয়ারও প্রতিশ্রুতি দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
যুক্তরাজ্যের বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান টেসকো গ্রুপ বলেছে, বাংলাদেশের পোশাক শিল্পের উন্নয়নে প্রতিষ্ঠানটি ১৫ লাখ ডলারের তহবিল গঠন করবে। গ্রুপের বাণিজ্যিক পরিচালক কেভিন গ্রেস এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘রানা প্লাজায় অবস্থিত কোনো কারখানাতেই টেসকোর জন্য পোশাক তৈরি হতো না। কিন্তু এমন আরেকটি ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে আমাদের সবাইকেই কাজ করতে হবে।’
এদিকে গ্যাপের মানবসম্পদ বিভাগের কর্মকর্তা ইভা সেগি গেভিন বলেন, বিরোধ নিষ্পত্তি কীভাবে হবে সে বিষয়ে পরিবর্তন আনলেই কেবল গ্যাপ এ চুক্তিতে সই করবে। এই একটি পরিবর্তন এ চুক্তিকে বিশ্বের সব খুচরা বিক্রেতা প্রতিষ্ঠানের চুক্তিতে পরিণত করতে পারে, শুধু ইউরোপের প্রতিষ্ঠানগুলোর নয়। সূত্র: বিবিসি, রয়টার্স, আল-জাজিরা, নিউইয়র্ক টাইমস ও ব্লুমবার্গ।

জেলা ফুটবল লিগ

কিশোরগঞ্জে প্রাইম ব্যাংক জেলা ফুটবল লিগে কাল প্রভাতি সংসদ ৪-০ গোলে হারিয়েছে বত্রিশ ক্রীড়া চক্রকে। পারভেজ ২টি, ননী ও আবুল ১টি করে গোল করেন। গাইবান্ধায় অনির্বাণ স্পোর্টিং ক্লাব ও নবারুণ ক্রীড়া চক্রের ম্যাচটি গোলশূন্য হয়েছে।

সিয়ামের মায়ের এমন মৃত্যু!

জাতীয় দাবার সাব-জুনিয়র ও জুনিয়র চ্যাম্পিয়ন ইকরামুল হকের (সিয়াম) মা নাসিমা আক্তার আর নেই (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে হঠাৎই মৃত্যু হলো ৪২ বছর বয়সী ভদ্রমহিলার। যাত্রাবাড়ীর ভাড়া বাসার ছাদের গাছে কাল দুপুরে আম পাড়তে গেলে এমন মর্মান্তিক দুর্ঘটনার শিকার হন তিনি। তখন তাঁর হাতে ছিল স্টিলের লাঠি। বাড়ির পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া ৩২ হাজার ভোল্টেজের বিদ্যুৎ-সংযোগের তারে আচমকা লাঠির আঘাত লাগলে ছাদে থাকা পানিতে পড়ে যান তিনি। এরপর দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকেরা মৃত ঘোষণা করেন তাঁকে। স্থানীয় স্কুলমাঠে জানাজার পর বারডেম হিমঘরে রাখা হয়েছে মরদেহ। সিয়ামের দুবাইপ্রবাসী বাবা মোহাম্মদ সেলিম ঢাকায় এলে আজ নারায়ণগঞ্জে দাফন করা হতে পারে মরহুমাকে। এই ঘটনায় গভীর শোক জানিয়েছে দাবা ফেডারেশন।

নেইমার যেখানে সেরা

লিওনেল মেসি নন, ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো নন, উসাইন বোল্ট বা নোভাক জোকোভিচদের কেউ নন, ব্রিটিশ ম্যাগাজিন স্পোর্টসপ্রোর জরিপে বাজারমূল্যের ভিত্তিতে শীর্ষ ক্রীড়াবিদ কে হয়েছেন, বলুন তো? নামটা শুনলে একটু চমকে যেতে পারেন। অনেক রথী-মহারথীকে পেছনে ফেলে সবার ওপরে আছেন নেইমার। কিন্তু যে ফুটবলার এখনো কিনা ব্রাজিলের বাইরেই খেলেননি, তাঁর বাজারমূল্য কীভাবে সবাইকে ছাড়িয়ে যায়? উত্তরটা দিয়েছেন ম্যাগাজিনটির প্রধান সম্পাদক ডেভিড কাশনান। ওয়েবসাইট।
‘আমরা আসলে সামনের তিন বছরের ভিত্তিতে এটা অনুমান করার চেষ্টা করছি। আমরা শুধু পৃষ্ঠপোষকদের দৃষ্টিকোণ থেকেই নয়, আসলেই কার আর্থিক মূল্য বেশি, সেটার একটা পূর্বাভাস দেওয়ার চেষ্টা করছি। সামনের বছর বিশ্বকাপ হবে ব্রাজিলে। সেখানে নেইমার একজন বড় তারকা। ব্রাজিলে তো তিনি মেগাস্টারই’—কাশনানের ব্যাখ্যা। বলছেন নেইমারের মাঠের বাইরের ভাবমূর্তিটাই তাঁকে এগিয়ে রেখেছে, ‘আপনি তর্ক করতেই পারেন মেসি মাঠের বাইরে খুব “ক্যারিশমাটিক” নন। ক্যামেরার সামনে ততটা আত্মবিশ্বাসীও নন। আপনি তাকে উপেক্ষা করতে পারবেন না, কিন্তু যখন বাজারমূল্যের কথা বিবেচনা করবেন, আমরা নেইমারকেই দেখি। তিন বছরের জন্য বাজারদর ও ব্র্যান্ডিং হিসাব করলে আমাদের লোক সে-ই।’ শীর্ষ দশে একমাত্র নারী যুক্তরাষ্ট্রের উঠতি টেনিস খেলোয়াড় স্লোয়ান স্টিফেনস, তিনি আছেন নয়ে।

হেরে গেলেন ভেনাস

বড় তারকাদের হারিয়ে মাঝেমধ্যেই হইচই ফেলে দেন লরা রবসন। ১৯ বছর বয়সী ব্রিটিশ তরুণী আলোচনায় এলেন আবারও। গত পরশু রোম মাস্টার্সে হারিয়ে দিয়েছেন সাতবারের গ্র্যান্ড স্লামের মালিক ভেনাস উইলিয়ামসকে। জিতেছেন ৬-৩, ৬-২ গেমে। মাত্র ৯০ মিনিটে ভেনাসকে উড়িয়ে দেওয়ার স্বস্তি কতক্ষণ রবসন ধরে রাখতে পারেন, সেটাই দেখার। কারণ, পরের রাউন্ডেই যে ভেনাসের ছোট বোন সেরেনার মুখোমুখি হতে হচ্ছে তাঁকে। বোনের হারের ‘বদলা’ নিশ্চয়ই নিতে চাইবেন সেরেনা!

উদ্যাপনে পরাজিত ’৯৯

মায়ের কোলে ছিল ছেলে, বাবার কাঁধে চড়ে এসেছিল মেয়ে। নাতনি এসেছিল দাদুর হাত ধরে। পুরো ম্যানচেস্টারই যেন হুমড়ি খেয়ে পড়েছিল শিরোপাজয়ী দলকে একনজর দেখতে। একটু ভুল হলো, আসলে এসেছিল অ্যালেক্স ফার্গুসনকে বিদায় জানাতে। ফার্গির শেষ শিরোপা উৎসবের উদ্যাপনের সাক্ষী হওয়ার গল্পটা পরে একসময় নাতিপুতিদের রসিয়ে রসিয়েই বলা যাবে!
ছাদখোলা দোতলা বাসে বড় হরফে লেখা, ‘থ্যাঙ্ক ইউ, স্যার অ্যালেক্স।’ আসলেই ২৭ বছর ধরে যা করেছেন, তাতে ফার্গির এই অভিবাদন প্রাপ্যই। ইউনাইটেডকে তিনি নিয়ে গিয়েছেন অন্য উচ্চতায়। শেষবেলায় অবশ্য এসব আবেগ-টাবেগ একদিকে সরিয়ে রেখে মেতে ওঠে উৎসবের আনন্দে। দুই পাশে সারিবদ্ধ সমর্থকের সঙ্গে গলা মেলালেন, ‘গ্লোরি, গ্লোরি! ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড।’ সমর্থকেরাও এই কিংবদন্তিকে শ্রদ্ধা জানাতে কোমর বেঁধেই এসেছিল। ফার্গির মুখোশ পরে, তাঁর নামে হর্ষধ্বনি দিয়ে, ভেঁপু বাজিয়ে তারা উৎসবকে করেছে বর্ণিল। এএফপি।
সেই ১৯৯৯ সালে ট্রেবল জেতার পর ম্যানচেস্টারে মনে রাখার মতো একটা উৎসব হয়েছিল। কিন্তু গত পরশুর উদ্যাপন সেটাকেও ছাড়িয়ে গেছে। এই স্বীকৃতি দিয়েছেন খোদ ফার্গিই, ‘আমি মনে করেছিলাম ১৯৯৯-কে হারানো যাবে না। কিন্তু তোমরা সেটাকে হারিয়ে দিয়েছ।’

তেতে আছে কিউইরা- আগামীকাল শুরু ইংল্যান্ড-নিউজিল্যান্ড লর্ডস টেস্ট

নিউজিল্যান্ডের অনুশীলনে বোলিং কোচ শেন বন্ডকে
(বাঁয়ে) নিয়ে প্রধান কোচ মাইক হেসন। কাল লর্ডসে
হুংকার ছুড়ছেন রস টেলর। ফিট হয়ে উঠেছেন টিম সাউদি। ব্রেন্ডন ম্যাককালাম ডাক দিয়েছেন ঐক্যের। আর মাইক হেসনের কণ্ঠে আত্মবিশ্বাস। গায়ে ‘আন্ডারডগ’ তকমা থাকতে পারে, তবে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজে মাঠে নামার আগে তেতে আছে নিউজিল্যান্ড। চোটের কারণে কেভিন পিটারসেনকে হারালেও ইংল্যান্ড ফিরে পেয়েছে টিম ব্রেসনান ও গ্রায়েম সোয়ানকে। নির্বাচক জিওফ মিলারের সতর্কবাণী, ইংলিশরা যেন আত্মতুষ্টিতে না ভোগে। র্যাঙ্কিংয়ের দুই আর আট নম্বর দলের লড়াই শুরু হচ্ছে কাল লর্ডস টেস্ট দিয়ে।
ফেবারিট হিসেবে নিউজিল্যান্ডে গিয়েও গত মার্চে জিততে পারেনি ইংল্যান্ড। তিন টেস্টের সিরিজ ছিল ফলশূন্য ড্র। শেষ টেস্টে ম্যাট প্রায়র অসাধারণ এক ইনিংস না খেললে সিরিজ জিতত নিউজিল্যান্ডই। র্যাঙ্কিংয়ের তলানিতে থাকলেও তাই কিউইদের হেলায় না নিতে পরামর্শ দিয়েছেন মিলার, ‘নিউজিল্যান্ড বেশ ভালো দল, গত সিরিজেও দেখিয়েছে ওরা কী করতে পারে। তবে ওরা ভালো খেলেছিল ঠিকই, কিন্তু আমরাও আমাদের সামর্থ্য অনুযায়ী খেলতে পারিনি। ওই সিরিজের ভুলগুলো এবার শোধরাতে হবে।’
ইংলিশদের পরিকল্পনা ভন্ডুল করে দেওয়ার সামর্থ্য কিউই শিবিরে সবচেয়ে বেশি আছে সম্ভবত রস টেলরের। টেলর নিজেও সিরিজটাকে নিয়েছেন চ্যালেঞ্জ হিসেবে। অধিনায়কত্ব হারানোর পর স্বেচ্ছানির্বাসন থেকে ফিরে খেলেছেন ইংল্যান্ডের বিপক্ষে গত সিরিজটায়। কিন্তু ছিলেন নিজের ছায়া হয়ে, পাঁচ ইনিংসে করেছিলেন মাত্র ৯৪ রান। ওই সিরিজের পর বলেছিলেন, দলে ফিরে ঠিকমতো মানিয়ে নিতে পারেননি। তবে হতাশার সময়টাকে পেছনে ফেলে এবার ক্যারিয়ার সাজাতে চান নতুন করে, ‘আমি প্রচণ্ড ক্ষুধার্ত। দলের হয়ে কিছু অর্জনের লক্ষ্য আছে আমার, আছে কিছু ব্যক্তিগত লক্ষ্য। নিজের ভেতরে তাগিদ অনুভব করছি। আশা করি, সামনে এই লক্ষ্যগুলো অর্জন করতে পারব।’
গত ইংল্যান্ড সফরে (২০০৮) ওল্ড ট্রাফোর্ডে ১৭৬ বলে ১৫৪ রানের অসাধারণ একটা ইনিংস খেলেছিলেন টেলর। তারুণ্যনির্ভর দলটার সবচেয়ে বড় ব্যাটিং ভরসা তিনি। ইংল্যান্ডে কীভাবে খেলতে হয়, সেটাও বেশ ভালো করেই জানেন, ‘এখানে একটু সতর্ক থাকতে হয়, অন্য সব জায়গায় যে লেংথের বল ড্রাইভ করা যায়, এখানে সেসব ছাড়তে হয়। অন্য সব জায়গার মতো এখানে বল তাড়া করলে পার পাওয়ার জো নেই। বল মুভ করে বলে ইংল্যান্ডে এসে সব সময়ই ডিফেন্স নিয়ে বাড়তি কাজ করতে হয়।’ ওয়েবসাইট।
কিউইরা শঙ্কায় ছিল দলের সেরা পেসার টিম সাউদিকে নিয়ে। ইংল্যান্ড লায়নসের বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচে পায়ে চোট পেয়েছিলেন সাউদি। তবে কোচ হেসন জানিয়েছেন, সাউদি এখন শঙ্কামুক্ত।

ইংল্যান্ড-সেরা প্রায়র

ম্যাট প্রায়র
তাঁকে মনে করা হয় আপাদমস্তক ‘টিম ম্যান’। ‘আমি’ ব্যাপারটায় খুব একটা বিশ্বাস নেই তাঁর, ভাবনাজুড়ে শুধু ‘আমরা’। তাঁর ক্রিকেটদর্শনে সবকিছুর আগে দলের জয়। এই পথচলাতেই নিজেকে এমন এক জায়গায় নিয়ে গেলেন, যেখানে তিনি একা। সবার আগে। প্রথম উইকেটকিপার হিসেবে ইংল্যান্ডের বর্ষসেরা ক্রিকেটার হলেন ম্যাট প্রায়র। ক্রিকেট লিখিয়েদের ভোটে নির্বাচিত হন ইংল্যান্ডের বর্ষসেরা। পরশু রাতে লর্ডসের লং রুমে প্রায়রের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে পুরস্কার।
গত মৌসুমে ১৩ টেস্টে ৫৪.৯৩ গড়ে ৮৭৯ রান করেছেন প্রায়র, ডিসমিসাল ৩৩টি। অ্যালিস্টার কুক ছাড়া গত দুই বছরে ইংল্যান্ডের হয়ে টেস্টে ৫০ গড় আছে শুধু প্রায়রেরই। গত কয়েক বছরে দলের সাফল্যে বড় অবদান এই উইকেটকিপার ব্যাটসম্যানের। শুধু মাঠের পারফরম্যান্সই নয়, ড্রেসিংরুম চাঙা রাখা থেকে দলকে এককাট্টা করায় প্রায়রের ভূমিকাও গুরুত্ব পেয়েছে সেরা নির্বাচনে। কেভিন পিটারসেন-বিতর্কে ইতি টানায় সবচেয়ে উদ্যোগী ছিলেন তিনি। অলআউট ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে তাঁকে বলা হয়েছে ইংল্যান্ড দলের হূৎস্পন্দন।
দল অন্তঃপ্রাণ বলেই সেরার স্বীকৃতি অস্বস্তিতে ফেলছে প্রায়রকে, ‘বর্ষসেরা হওয়া অবশ্যই বড় একটা সম্মান। তবে আমার খানিকটা অস্বস্তিও লাগছে, কারণ ব্যক্তিগত খেতাবের জন্য আমি খেলি না। আমি খেলি দলের জন্য। প্রতিবার ব্যাট হাতে মাঠে নামার সময় ভাবি দলকে জেতার জায়গায় নিতে আমাকে কী করতে হবে। ব্যাটিং গড় ৫০ করতে হলে কী করতে হবে, এসব আমাকে ভাবায় না। অতীতে অনেকেই আমাকে বলেছে, নিজের দিকে একটু নজর দিতে, ব্যাটিং গড় বাড়াতে, বেশি করে অপরাজিত থাকতে। কিন্তু আমি তা পারি না। দলের জয়েই আমার সবচেয়ে বেশি তৃপ্তি।’
সেরার সম্মান খানিকটা চমকেও দিয়েছে ৩১ বছর বয়সী উইকেটকিপারকে, ‘খবরটা জানার পর অবাক হয়েছিলাম, ভালো লাগছিল। পেসার হয়েও জিমি (অ্যান্ডারসন) ভারতে যেভাবে পারফর্ম করেছে, কুকি (অ্যালিস্টার কুক) যেভাবে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছে, আরও অনেকেই দারুণ করেছে, সবাইকে ছাড়িয়ে এমন একটা স্বীকৃতি অবশ্যই সম্মানের।’

পুঁজিবাজারে বিদেশি বিনিয়োগ বাড়াতে চাই প্রাতিষ্ঠানিক সুশাসন

শেয়ারবাজারে বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধিতে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর প্রাতিষ্ঠানিক সুশাসন বা করপোরেট গভর্ন্যান্স বাড়ানোর তাগিদ দিয়েছেন বাজারসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। একই সঙ্গে কোম্পানিগুলোর আর্থিক প্রতিবেদনসহ হালনাগাদ তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে সমৃদ্ধ তথ্যভান্ডার তৈরির সুপারিশ করেছেন তাঁরা। গতকাল সোমবার পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) সঙ্গে এক বৈঠকে এসব সুপারিশ তুলে ধরা হয়।
পুঁজিবাজারে বিদেশি বিনিয়োগ বাড়াতে কাজ শুরু করেছে বিএসইসি। তারই অংশ হিসেবে করণীয় নির্ধারণে কমিশনের কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে একটি কমিটি করা হয়। কমিটি সম্প্রতি তাদের সুপারিশ কমিশনের কাছে পেশ করেছে। কমিটির সেসব সুপারিশের পাশাপাশি আরও কী কী ব্যবস্থা গ্রহণ করা যায়, তা জানতে গতকাল বাজারসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে বৈঠকে বসে নিয়ন্ত্রক সংস্থা।
কমিশনের চেয়ারম্যান এম খায়রুল হোসেনের সভাপতিত্বে সংস্থাটির সভাকক্ষে গতকাল সকালে অনুষ্ঠিত বৈঠকে বাংলাদেশ ব্যাংক, বিনিয়োগ বোর্ড, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের প্রতিনিধিরা এবং ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই), চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই), বাংলাদেশ মার্চেন্ট ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিএমবিএ), অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ পাবলিকলি লিস্টেড কোম্পানিজের (বিএপিএলসি) নেতারাসহ বিদেশি বিনিয়োগ নিয়ে কাজ করেন এমন কয়েকটি মার্চেন্ট ব্যাংক ও ব্রোকারেজ হাউসের শীর্ষস্থানীয় নির্বাহীরা উপস্থিত ছিলেন। এ সময় বিএসইসির অন্য কমিশনাররা উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকে বাজারসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলেন, শেয়ারবাজারে দুই শতাধিক কোম্পানি তালিকাভুক্ত হলেও বিদেশিরা বিনিয়োগ করেন এমন কোম্পানির সংখ্যা ২০-২৫টি। কারণ, বেশির ভাগ কোম্পানির প্রাতিষ্ঠানিক সুশাসন বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের জন্য যথেষ্ট নয়। বিদেশিরা বিনিয়োগের আগে কোম্পানির বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত নিয়ে গবেষণা করে থাকেন। কিন্তু দেশের বাজারের তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর বেশির ভাগেরই হালনাগাদ তথ্য-উপাত্ত পাওয়া দুরুহ ব্যাপার। এসব কারণে আগ্রহ থাকা সত্ত্বেও পুঁজিবাজারে কাঙ্ক্ষিত বিদেশি বিনিয়োগ আসছে না।
বক্তারা বলেন, বাংলাদেশে অনেকগুলো বহুজাতিক কোম্পানি ব্যবসা করলেও বেশির ভাগই এখনো তালিকাভুক্ত নয়। সেগুলোকে যদি বাজারে নিয়ে আসা যায়, তাহলে বিদেশি বিনিয়োগের পরিমাণও বাড়বে।
বিদেশি বিনিয়োগ বাড়াতে সরকারের পক্ষ থেকে কর প্রণোদনার সুবিধা দেওয়ারও সুপারিশ করেন অনেকে।
জানতে চাইলে সিএসই প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) সৈয়দ সাজিদ হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, ‘বিদেশি বিনিয়োগ বাড়াতে বিএসইসি আমাদের কাছ থেকে সুপারিশ চেয়েছিল। আমরা আমাদের দিক থেকে বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করেছি। পরবর্তীতে আমাদের সুপারিশগুলো লিখিতভাবে কমিশনে জমা দিতে বলা হয়েছে।’

খেলাপি ঋণ অর্ধ লক্ষ কোটি টাকা by মনজুর আহমেদ

ব্যাংক খাতে গত তিন মাসে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ও হার বেশ খানিকটা বেড়েছে। এ সময়ে খেলাপি ঋণ বাড়ে আট হাজার ২৯৪ কোটি ৪০ লাখ টাকা বা ১ দশমিক ৮৭ শতাংশ।
এর ফলে চলতি বছরের মার্চ শেষে ব্যাংক খাতে মোট খেলাপি ঋণ দাঁড়িয়েছে ৫১ হাজার ১৯ কোটি ৯১ লাখ টাকায়। এটি এ সময় পর্যন্ত মোট বিতরণ করা চার লাখ ২৮ হাজার ৬৯৩ কোটি ২৮ লাখ টাকা ঋণের ১১ দশমিক ৯০ শতাংশ।
এর আগে ২০১২ সালের গত ডিসেম্বর শেষে খেলাপি ঋণ হয়েছিল ৪২ হাজার ৭২৫ কোটি ৫১ লাখ টাকা। এটি সেই সময় পর্যন্ত বিতরণ করা মোট ঋণের স্থিতি চার লাখ ২৬ হাজার ১৫২ কোটি ৭৯ লাখ টাকার ১০ দশমিক ০৩ শতাংশ ছিল।
রাষ্ট্রমালিকানাধীন রূপালী ব্যাংকের খেলাপি ঋণ পরিস্থিতিতে বড় ধরনের অবনতি হয়েছে। তিন মাসে খেলাপি ঋণ বেড়েছে প্রায় ১৬ শতাংশ। এ সময় অগ্রণী ও জনতা ব্যাংকেও খেলাপি ঋণ বেশ বেড়েছে। তবে হল-মার্ক কেলেঙ্কারির ঝড় শেষে সোনালী ব্যাংকের পরিস্থিতির অবনতি ঠেকানো গেছে।
খেলাপি ঋণ ও নিরাপত্তা সঞ্চিতি-সম্পর্কিত বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ প্রতিবেদনের সঙ্গে আগের প্রতিবেদনের তুলনায় এসব তথ্য-উপাত্ত মিলেছে।
প্রসঙ্গত, বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন বিধান অনুসারে নিম্নমান পর্যায়ে শ্রেণীকৃত ঋণকে এখন খেলাপি বলা হচ্ছে না এই অর্থে যে, এতে গ্রাহকের নতুন ঋণ পাওয়ার ক্ষেত্রে কোনো অন্তরায় নেই। তবে এ পর্যায়ে ব্যাংককে ঠিকই প্রভিশন সংরক্ষণ করতে হচ্ছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকও আগের মতো এই পর্যায়ের ঋণকে বিরূপভাবে শ্রেণীকৃত ঋণের মধ্যেই রাখছে, অশ্রেণীকৃত হিসাবে দেখাচ্ছে না। এই প্রতিবেদনে খেলাপি বলতে পুরো অশ্রেণীকৃত ঋণকেই বোঝানো হয়েছে। এ ক্ষেত্রে ৫১ হাজার ১৯ কোটি ৯১ লাখ টাকার বিরূপ শ্রেণীকৃত ঋণের মধ্যে নিম্নমানের ঋণ হচ্ছে নয় হাজার ৮২৯ কোটি এক লাখ টাকা।
রাষ্ট্র খাতের বাংকগুলোতে বড় বড় জালিয়াতি ও আর্থিক কেলেঙ্কারির খবর বেশ কিছুদিন ধরে সংবাদমাধ্যমের প্রধান শিরোনাম হয়েছে। এর একটা অংশ গত তিন মাসে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুসারে খেলাপি করতে হয়েছে। আবার নতুনভাবেও কিছু ঋণ খেলাপি হয়েছে।
এর বাইরে বলা হচ্ছে, দেশে শিল্প-বাণিজ্যের কিছু ক্ষেত্রে সমস্যা তৈরি হয়েছে। যেমন রিয়েল এস্টেট খাত, জাহাজভাঙা শিল্প, আমদানি অর্থায়ন ইত্যাদি ক্ষেত্রে ঋণ আদায় হচ্ছে না। এসব খাতে বড় অঙ্কের ঋণ খেলাপি হয়ে পড়ছে। আমদানি অর্থায়নের মধ্যে বিশেষত এলটিআরের সুবিধার বড় অংশও খেলাপি হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংক ঋণ শ্রেণীকরণ ও প্রভিশনিংয়ের নতুন বিধান করেছে। এই বিধান গত ডিসেম্বরের হিসাব থেকে বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে। এতে করেও কিছু ঋণ খেলাপিতে পরিণত হয়েছে। তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বিধান বাস্তবায়ন হওয়ায় দেশের ব্যাংক খাতের আরও একটি মানদণ্ড আন্তর্জাতিক পর্যায়ে উন্নীত হয়েছে। ফলে ব্যাংকগুলোর শক্তি বৃদ্ধি পায়। কেননা নতুন নিয়মে ব্যাংকগুলোতে মুনাফা জমা রেখে অতিরিক্ত প্রভিশন সংরক্ষণ করতে হচ্ছে।
আর এই অতিরিক্ত প্রভিশনের ফলে বিপুল খেলাপি ঋণের পরও প্রভিশন ও স্থগিত সুদ আয়কে (খেলাপি চিহ্নিত করা ঋণের সুদ) সমন্বয় করা হলে ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণ বর্তমানের চেয়ে অর্ধেকের নিচে নেমে আসে। এই হিসাবে খেলাপি ঋণ দাঁড়াবে ২৩ হাজার ৪৩১ কোটি ৩৭ লাখ টাকা বা বিতরণ করা ঋণের ৫ দশমিক ৮৪ শতাংশ।
কিন্তু, নতুনভাবে যেসব ঋণ খেলাপিতে পরিণত হলো, সে বিষয়ে উদ্বেগের কারণ রয়েছে বলে মত প্রকাশ করছেন ব্যাংক খাতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
তুলনা: ২০১১ সালের মার্চ শেষে ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণ ছিল ২৫ হাজার ২৮৯ কোটি ৪৪ লাখ টাকা বা মোট বিতরণ করা ঋণের ৬ দশমিক ৫৭ শতাংশ। এ সময় পর্যন্ত মোট বিতরণ করা ঋণের স্থিতি ছিল তিন লাখ ৮৫ হাজার ১২৬ কোটি ৩৮ লাখ টাকা। যদিও এ পরিস্থিতির সঙ্গে বর্তমান বছরের তুলনা করা সঠিক হবে না। কেননা গত ডিসেম্বর মাস থেকে ঋণ শ্রেণীকরণ ও প্রভিশনিংয়ের ক্ষেত্রে নতুন ও আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের বিধান আরোপ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
তবে সাধারণভাবে দেখা গেছে, প্রতিবছরই প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় প্রান্তিকে ব্যাংকগুলোতে খেলাপি ঋণ বাড়ে। বছর শেষে ব্যাংকগুলোর দিক থেকে ঋণ আদায়ে যেমন তৎপরতা করা হয়, তেমনি গ্রাহকও তা পরিশোধে আগ্রহ দেখায়। যে কারণে মার্চ প্রান্তিকে খেলাপি ঋণের বৃদ্ধির প্রবণতা বরাবরের মতো।
তুলনায় দেখা যায়, ডিসেম্বরের তুলনায় মার্চে রাষ্ট্র খাতের বাণিজ্যিক ব্যাংক, বেসরকারি, বিদেশি ব্যাংক ও বিশেষায়িত ব্যাংক—সব ক্ষেত্রেই খেলাপি ঋণের হার ও পরিমাণ দুটিই বেড়েছে।
রাষ্ট্রমালিকানার বাণিজ্যিক ব্যাংক: বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদন অনুসারে, ডিসেম্বরের তুলনায় মার্চে এসে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন চার বাণিজ্যিক ব্যাংকে খেলাপি ঋণের পরিমাণ বেড়েছে দুই হাজার ৮৮৮ কোটি ২২ লাখ টাকা বা ৩ দশমিক ১৮ শতাংশ।
গত তিন মাসে রূপালী ব্যাংকের খেলাপি ঋণ বেড়েছে এক হাজার ৪৬৭ কোটি ৬৯ লাখ টাকা বা মোট বিতরণ করা ঋণের ১৫ দশমিক ৭৭ শতাংশ। ব্যাংকটিতে মার্চ শেষে খেলাপি ঋণ হয়েছে দুই হাজার ৪৬৭ কোটি ৩৮ লাখ টাকা বা বিতরণ করা ঋণের ২৬ দশমিক ৯৪ শতাংশ। একই সময়ে অগ্রণী ব্যাংকের খেলাপি ঋণ বেড়েছে ৯২৮ কোটি ৫৫ লাখ টাকা বা বিতরণ করা ঋণের ৪ দশমিক ৫০ শতাংশ। ব্যাংকটিতে খেলাপি ঋণ হয়েছে পাঁচ হাজার ৫৯১ কোটি ৮২ লাখ টাকা বা ২৮ দশমিক ১৭ শতাংশ। জনতা ব্যাংকের খেলাপি ঋণ বেড়েছে ৭৬০ কোটি ৬০ লাখ টাকা বা ৩ দশমিক ১৪ শতাংশ। ব্যাংকটিতে খেলাপি ঋণ হয়েছে চার হাজার ৫৯৬ কোটি ৯৪ লাখ টাকা, যা বিতরণ করা ঋণের ১৬ দশমিক ৯৪ শতাংশ।
তবে তিন মাসে সোনালী ব্যাংকে খেলাপি ঋণ কমেছে ২৯৮ কোটি ৬২ লাখ টাকা বা প্রায় ১ শতাংশ। সোনালী ব্যাংকের খেলাপি ঋণ হয়েছে ১১ হাজার ৭৪৬ কোটি ৯৮ লাখ টাকা বা বিতরণ করা ঋণের ৩৪ দশমিক ৪৯ শতাংশ।
অন্যান্য ব্যাংক: তিন মাসে দেশীয় বেসরকারি ৩০ ব্যাংকে খেলাপি ঋণের পরিমাণ বেড়েছে চার হাজার ৮৪৪ কোটি ৭৭ লাখ টাকা বা ব্যাংকগুলোর মোট বিতরণ করা ঋণের ১ দশমিক ৬৫ শতাংশ।
তিন মাসের ব্যবধানে বিদেশি নয় ব্যাংকের খেলাপি ঋণ বেড়েছে ২১৩ কোটি তিন লাখ টাকা বা তাদের মোট বিতরণ করা ঋণের ১ দশমিক ০৭ শতাংশ।
রাষ্ট্র খাতের চার বিশেষায়িত ব্যাংকে তিন মাসে খেলাপি ঋণ বেড়েছে ৩৪৮ কোটি ৩৬ লাখ টাকা বা ব্যাংকগুলোর বিতরণ করা ঋণের দশমিক ৪০ শতাংশ।

সব ছাপিয়ে বর্ণবাদ

বর্ণবাদের বিরুদ্ধে ইতালিয়ানরাই বেশি সোচ্চার। বিশেষ করে এসি মিলান। অথচ সেই মিলানের খেলোয়াড়েরাই বর্ণবাদের শিকার হচ্ছেন বেশি। মিলানের মারিও বালোতেল্লি, সুলে মুন্তারি, কেভিন প্রিন্স বোয়াটেংরা বর্ণবাদের লক্ষ্যবস্তু হচ্ছেন প্রায়ই। গত পরশুও বর্ণবাদী নিগ্রহের শিকার হলো মিলান।
সান সিরোতে মুখোমুখি হয়েছিল মিলান ও রোমা। কিন্তু মাঠের লড়াই ছাপিয়ে বড় হয়ে ওঠে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা। বর্ণবাদ, খেলা বন্ধ থাকা, রেফারির সঙ্গে ধাক্কাধাক্কি, লাল কার্ড—কী ঘটেনি সান সিরোতে? দুই দলই শেষ পর্যন্ত ১০ জনের দল হয়ে পড়ে, আর ম্যাচটি ড্র হয় গোলশূন্য। তাতে রোমার ভাগ্যের হেরফের না হলেও মিলানের চ্যাম্পিয়নস লিগ খেলাটা এখনো অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে রয়েছে।
সফরকারী রোমার সমর্থকদের বর্ণবাদী চিৎকার থামাতে খেলা বন্ধ থাকে মিনিট তিনেক। তাদের লক্ষ্যবস্তু ছিলেন বালোতেল্লি। এই বালোতেল্লির হলুদ কার্ডের প্রতিবাদ করতে গিয়েই ৪১ মিনিটে লাল কার্ড পেয়ে মাঠ ছাড়েন সুলে মুন্তারি। মিলানের ঘানাইয়ান ফুটবলারের প্রতিবাদের ভাষাটা একটু বেশিই কড়া ছিল! ধাক্কা মারেন রেফারিকে। শেষ বাঁশির ঠিক আগে মিলানের ফরাসি ডিফেন্ডার ফিলিপ মেক্সেসকে কনুই মেরে লাল কার্ড দেখেন রোমার অধিনায়ক ফ্রান্সেসকা টট্টিও।
ড্রয়ের পরও তৃতীয় স্থানেই আছে মিলান। তবে তাদের ঘাড়ে তপ্ত নিঃশ্বাস ফেলছে ফিওরেন্টিনা। ৩৭ ম্যাচে মিলানের পয়েন্ট ৬৯, ফিওরেন্টিনার ৬৭। আগামী মৌসুমে চ্যাম্পিয়নস লিগে খেলার স্বপ্ন পূরণ করতে হলে শেষ ম্যাচে সিয়েনার বিপক্ষে মিলানকে জিততেই হবে।
চ্যাম্পিয়নস লিগে জায়গা করে না নিতে পারলে মাসিমিলিয়ানো অ্যালেগ্রির বিদায়ঘণ্টা বেজে যাবে বলেই গুঞ্জন। তবে মিলানের কোচ দৃষ্টি রাখছেন সামনেই, ‘আমি কখনোই মনে করি না, ওই ম্যাচই হবে মিলানের বেঞ্চে আমার শেষ ম্যাচ। কারণ, আমি এই দলের কোচ এবং চ্যাম্পিয়নস লিগে যাওয়াই আমাদের লক্ষ্য।’ মিলান কোচের কথা, বর্ণবাদই ইতালিয়ান ফুটবলকে পিছিয়ে দিচ্ছে।
পেসকারার অবনমন নিশ্চিত হয়েছিল আগেই। পরশু দ্বিতীয় বিভাগে নেমে যাওয়া নিশ্চিত হয়েছে পালের্মো ও সিয়েনারও। পালের্মো ফিওরেন্টিনার কাছে হেরেছে ১-০ গোলে। সিয়েনাকে ২-১ গোলে হারিয়ে দ্বিতীয় স্থান আরও পাকা করেছে নাপোলি। ঘরের মাঠে নাপোলির সমর্থকদের সামনে হয়তো নিজের শেষ গোলটা করে ফেললেন এডিনসন কাভানি! সামনের মৌসুমেই যে উরুগুইয়ান স্ট্রাইকার নাপোলি ছাড়ছেন বলে গুঞ্জন।

জেলা ফুটবল লিগ

প্রাইম ব্যাংক জেলা ফুটবল লিগে কাল গাইবান্ধায় প্রবাহ ক্লাব ৬-০ গোলে হারিয়েছে ঘাঘট ক্রীড়া চক্রকে। গোল করেছেন রশিদ, লিমন, রফিক, মাহমুদ ও মামুন।

উৎসবেও অস্বস্তি পিএসজির

১৯ বছর পর শিরোপা জয়। পিএসজি
মাতল তাই পাওয়ার আনন্দে
টাকায় কিনা হয়! প্যারিস সেন্ট-জার্মেইয়ের (পিএসজি) কাতারি মালিক টাকা দিয়েই সাফল্য কিনতে চেয়েছিলেন। এন্তার টাকা ঢেলে দারুণ সব খেলোয়াড়কে ভিড়িয়েছিলেন দলে। নিয়ে এসেছিলেন কার্লো আনচেলত্তির মতো পোড়-খাওয়া কোচকে। বিনিয়োগটা বৃথা যায়নি, দীর্ঘ ১৯ বছর পর আবার ফ্রেঞ্চ লিগ জিতেছে প্যারিসের এই ক্লাব।
লিওঁকে ১-০ গোলে হারিয়ে দুই ম্যাচ বাকি থাকতেই শিরোপা জিতেছে বটে পিএসজি, কিন্তু ক্লাবের বাতাসে কেমন যেন একটা অস্বস্তির বাতাবরণ। সাফল্যের নেপথ্য রূপকার আনচেলত্তিই অস্বস্তির মূলে। গুঞ্জন, এই মৌসুমেই ছেড়ে ক্লাব ছেড়ে যেতে পারেন রিয়াল মাদ্রিদে হোসে মরিনহোর সম্ভাব্য শূন্যস্থানে। সে ক্ষেত্রে জ্লাতান ইব্রাহিমোভিচ, থিয়াগো সিলভাদের মতো বড় তারকাদের ধরে রাখা যাবে কি না, তা নিয়েও সংশয়ে আছে। ইব্রাহিমোভিচ জুভেন্টাস অথবা ম্যানচেস্টার সিটিতে যেতে পারেন বলে শোনা যাচ্ছে। তবে ইব্রা এখনো বলছেন, তিনি পিএসজি ছাড়বেন না।
ইউরোপের অন্য বড় লিগগুলোর মতো জৌলুশ নেই ফ্রেঞ্চ লিগে। পিএসজির কল্যাণে এই আক্ষেপ একটু হলেও ঘুচেছে। কিন্তু কয়েকটা ব্যাপারে আনচেলত্তির মন খচখচ করতেই পারে। এত সব তারকা খেলোয়াড় নিয়ে মাঠে সেভাবে আলো ছড়ানো গেল কই? ফ্রেঞ্চ কাপে শেষ আটের বেশি যাওয়া যায়নি। চ্যাম্পিয়নস লিগেও একই পরিণতি। তাঁর পাল্টা-আক্রমণভিত্তিক ফুটবল পড়েছে সমালোচনার মুখে। ছোট দলগুলোর বিপক্ষে বেশ কিছু পয়েন্ট হারিয়েছে বলেও অতৃপ্তি আছে। অনেকেই বলছে, চ্যাম্পিয়নস লিগে ভালো করতেই পিএসজির মনোযোগ ছিল বেশি। কিন্তু সেই উচ্চাকাঙ্ক্ষা অবশ্য থেমেছে বার্সার কাছে ‘অ্যাওয়ে গোলে’ হেরে। কিন্তু তাতে কি আর সমালোচকদের মুখ বন্ধ রাখা যায়? শৃঙ্খলাগত রেকর্ডটিও ভালো ছিল না। মৌসুমে লাল কার্ড দেখেছে নয়টি। ফ্রেঞ্চ লিগের তো বটেই, ইউরোপের কোনো শীর্ষ দলের এটাই সবচেয়ে বাজে শৃঙ্খলার রেকর্ড।
পিএসজির বাতাসে অবশ্য এখন একটাই প্রশ্ন, আনচেলত্তি থাকছেন তো? এই ইতালিয়ান কোচ অবশ্য ম্যাচ শেষে স্পষ্ট করে কিছুই বলেননি, ‘আমাদের এসব নিয়ে বসার সময় হয়নি।’

জয়েই শিরোপা উদ্যাপন বার্সার

এ ম্যাচের আগেই নিশ্চিত হয়ে গিয়েছিল লা লিগা জয়।
মাঠে নামার সময় রীতি অনুযায়ী অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদের
Èগার্ড অব অনার' পেল চ্যাম্পিয়ন বার্সেলোনা
চ্যাম্পিয়ন হয়েই মাঠে নেমেছিল বার্সেলোনা। চ্যাম্পিয়নদের ‘গার্ড অব অনার’ দেওয়া হলো ভিসেন্তে ক্যালদেরনে। তবে মাঠের লড়াইয়ে অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ যথেষ্ট ভুগিয়ে ছাড়ল চ্যাম্পিয়নদের। চ্যাম্পিয়নদের শিরোপা উৎসবটা মলিন করতে পারল না তারা একটা আত্মঘাতী গোলের জন্য। জয় দিয়েই শিরোপা উদ্যাপন করেছে বার্সা।
চার ম্যাচ বাকি থাকতেই নিশ্চিত শিরোপা। তবে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী রিয়াল মাদ্রিদের কাছ থেকে শিরোপা কেড়ে নেওয়াতেই মিশন শেষ বলে মনে করছেন না টিটো ভিলানোভা। বার্সেলোনা কোচ শিষ্যদের সামনে ছুড়ে দিয়েছেন গত মৌসুমেই করা রিয়ালের দুটি রেকর্ড ছোঁয়ার লক্ষ্য। পয়েন্টের সেঞ্চুরি আর লিগে গোলের রেকর্ড। প্রথমটি খুবই সম্ভব, শেষ তিন ম্যাচ জিতলেই রিয়ালের ১০০ পয়েন্টের রেকর্ড ছুঁয়ে ফেলবে বার্সা। পরের লক্ষ্যটি সহজ নয়, এক মৌসুমে রিয়ালের ১২১ গোলের রেকর্ড ছুঁতে তিন ম্যাচে বার্সাকে করতে হবে ১৪ গোল। লিওনেল মেসিকে না পাওয়া গেলে তো লক্ষ্য ছোঁয়া প্রায় অসম্ভবের কাছাকাছিই হবে। শঙ্কাটা থাকছে, কারণ হ্যামস্ট্রিংয়ের পুরোনো চোট নিয়ে পরশু ২০ মিনিট আগেই মাঠ ছেড়েছেন মেসি।
অবশ্য পরশুর ম্যাচটাই আবার কাতালানদের প্রেরণা হতে পারে। তিনটি পরিবর্তন আগেই হয়ে যাওয়ায় মেসি মাঠ ছাড়ার পর থেকে ১০ জন নিয়ে খেলতে হয়েছে ২২ মিনিট। অথচ দুটি গোলই তারা পেয়েছে এই সময়েই! ৫১ মিনিটে এবারের লিগে রাদামেল ফ্যালকাওয়ের ২৮তম গোল এগিয়ে দিয়েছিল অ্যাটলেটিকোকে। ৭২ মিনিটে অ্যালেক্সিস সানচেজের গোলে সমতা। ৮ মিনিট পর ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করে দেওয়া গোলটি আসে অদ্ভুতভাবে। বক্সের ভেতর থেকে নেওয়া ডেভিড ভিয়ার শট অ্যাটলেটিকো ডিফেন্ডার ডিয়েগো গোডিনের পা ছুঁয়ে যেতে থাকে গোলমুখে, বলটি নিয়ন্ত্রণে নিতে যান মিডফিল্ডার গ্যাবি, কিন্তু তাঁর পায়ে লেগে ঢুকে যায় পোস্টে! বাকি ১০ মিনিট গোল করতে পারেনি অ্যাটলেটিকো। জয়েই পূর্ণতা পায় বার্সার শিরোপা উৎসব!
চ্যাম্পিয়নস লিগে বায়ার্ন মিউনিখের বিপক্ষে বিব্রতকর পরাজয়ের রেশটা এখনো আছে। তবে সেই হতাশায় লিগ শিরোপার আনন্দকে ম্লান হতে দিতে চান না ভিলানোভা, ‘চ্যাম্পিয়নস লিগে আরও বেশি লড়াই করতে না-পারাটা অবশ্যই হতাশার। তবে পুরো মৌসুমের মূল্যায়ন করতে গেলে বলতেই হবে মৌসুমটা ভালো কেটেছে, কারণ লিগে আমরা ছিলাম দুর্দান্ত। চ্যাম্পিয়নস লিগে ভাগ্যকে পাশে পাইনি, রেফারিং বিপক্ষে গেছে। কিন্তু লিগে অনেকটা এগিয়ে থেকে আমরাই সেরা, এ নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই।’
মূল কোচের দায়িত্বে প্রথম মৌসুমেই শিরোপা। ক্যানসারের সঙ্গে লড়াই আর স্পেন-যুক্তরাষ্ট্রে ছুটোছুটিতে এই কৃতিত্বের মহিমা বরং বেড়েছেই। তবে ভিলানোভা সব কৃতিত্বই দিচ্ছেন খেলোয়াড়দের, ‘আমার স্বাস্থ্যগত সমস্যার কারণে নয়, আমি চাই লোকে এই শিরোপাকে মূল্যায়ন করুক ছেলেদের পরিশ্রমের কারণে। এটা মোটেও টিটোর শিরোপা নয়, সব ফুটবলারের। অনেক কৃতিত্ব ওদের প্রাপ্য, কারণ কোচকে দুই মাস কাছে না পাওয়ার পরও জেতা কঠিন। তবে এটা এমন একটা দল, যারা অনুপ্রেরণা খুঁজে নেয় নিজেদের থেকেই।’
জাভি হার্নান্দেজ আর সেস ফ্যাব্রিগাসের অনুভূতি আবার অন্য রকম। বার্সার হয়ে সবচেয়ে বেশিবার লা লিগা শিরোপা জয়ের রেকর্ড গড়লেন জাভি। দলের ‘ইঞ্জিনরুম’ সপ্তম শিরোপা জিতে ছাড়িয়ে গেলেন সাবেক গুরু পেপ গার্দিওলাকে। আর ১০ বছরের সিনিয়র ক্যারিয়ারে ফ্যাব্রিগাস পেলেন প্রথম শিরোপার স্বাদ। তাঁর উচ্ছ্বাসটাই বেশি, ‘স্বপ্ন সত্যি হলো। ঘরে ফেরা, এরপর এই শিরোপা জয়...অবিশ্বাস্য।’
ক্লাব প্রেসিডেন্ট স্যান্দ্রো রসেল নিজেদের শ্রেষ্ঠ দাবি করেছেন, ‘আমার বিশ্বাস আমরা সব সময়ই বিশ্বের সেরা দল। এখনো আমরা এই গ্রহের সেরা দল। বায়ার্ন ম্যাচের পর অনেকেই স্টেডিয়াম পোড়াতে চেয়েছিল, দল ও বোর্ডের ওপর ক্ষুব্ধ হয়েছিল, আশা করি, তাদের অনুভূতি এখন অন্য রকম।’
পাঁচ বছরে চার শিরোপাই প্রমাণ করছে শ্রেষ্ঠত্ব, মনে করিয়ে দিয়েছেন দানি আলভেজ। তবে হোসে মরিনহোর সম্ভাব্য রিয়াল ত্যাগেও যেন খানিকটা উৎসাহ হারিয়ে ফেলছেন এই রাইটব্যাক, ‘আমরা তাঁকে মিস করব। এই লিগ তাঁকে মিস করবে কারণ সে দারুণ এক প্রতিদ্বন্দ্বী। আমি তাঁর সঙ্গে লড়াই করিনি, আমরা দুজনই বিজয়ী! তিনি ফুটবলের সবচেয়ে উচ্চাকাঙ্ক্ষী কোচদের একজন, লড়াইয়ে ভিন্ন একটা স্বাদ যোগ করেন। আপনারা (সংবাদমাধ্যম) তো আমাদের চেয়েও বেশি মিস করবেন তাঁকে!’

বরখাস্ত হলেন মানচিনি

আজ থেকে ঠিক এক বছর আগে ম্যানচেস্টার সিটিকে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের শিরোপা জিতিয়েছিলেন রাবার্তো মানচিনি। এক বছর পর ব্যর্থতার দায়ভার মাথায় নিয়ে ‘ইতিহাদ চত্বর’ ত্যাগ করতে হচ্ছে তাঁকে। ম্যানচেস্টার সিটির কোচের পদ থেকে বরখাস্ত হয়েছেন এই ইতালীয়।
এফএ কাপের ফাইনালে উইগান সিটির বিপক্ষে পরাজয়টাই তাঁর বিদায়ঘণ্টা বাজিয়ে দিয়েছিল। তাঁকে বরখাস্ত করা হতে পারে—এমন একটি খবর চাউর হয়েছিল আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে। দুই দিন যেতে না-যেতেই শঙ্কার ব্যাপারটি সত্যি হলো। ম্যানচেস্টার সিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই মৌসুমে ক্লাবের কোনো লক্ষ্য পূরণ না হওয়ার দায়ভার নিতে হচ্ছে তাঁকে।
গত মৌসুমে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডকে পেছনে ফেলে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের শিরোপা জেতে সিটি। এটি ছিল ৪৪ বছর পর সিটির প্রথম শিরোপা। কিন্তু এক মৌসুমের মাথায়ই বদলে গেছে সবকিছু। উইগান সিটির বিপক্ষে হারের পর নিজেই বরখাস্ত হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন কোচ মানচিনি। একই সঙ্গে পুরো ব্যাপারটিকে ‘ফুটবলীয়’ আখ্যা দিয়ে জানিয়েছিলেন, এসবে তিনি অভ্যস্ত। খুব সম্ভবত মালাগার কোচ ম্যানুয়েল পেলেগ্রিনিই হতে যাচ্ছেন রবার্তো মানচিনির উত্তরসূরি।
এদিকে ফুটবল ওয়েবসাইট গোল ডটকমের এক খবরে জানা গেছে, রবার্তো মানচিনির পরবর্তী গন্তব্য ফ্রান্স। ফরাসি লিগে তিনি দায়িত্ব নেবেন মোনাকোর। মোনাকোর দায়িত্ব নেওয়ার ব্যাপারে প্রাথমিক আনুষ্ঠানিকতা ইতিমধ্যেই সম্পন্ন করেছেন মানচিনি।

একটি প্রশ্নবিদ্ধ নিরাপত্তা বিল

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দুই জীবিত কন্যা এবং তাঁদের পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা বিধানে ‘জাতির পিতার পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা বিল-২০০৯’ সংসদে উত্থাপিত হয়েছে। বিলটিতে জাতির পিতার পরিবারের সদস্য বলতে তাঁর দুই কন্যা শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা এবং তাঁদের সন্তানদের বোঝানো হয়েছে। প্রস্তাবিত বিলের বিধান অনুযায়ী, সরকার নির্ধারিত শর্তে বঙ্গবন্ধুর পরিবারের প্রত্যেক সদস্যের নিরাপত্তা ও সুরক্ষিত আবাসনের ব্যবস্থা গ্রহণে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে। প্রস্তাবিত বিলে আরও বলা হয়েছে, বিশেষ নিরাপত্তা বাহিনী (এসএসএফ) অধ্যাদেশ-১৯৮৬-এর অধীনে ভিআইপির জন্য যে নিরাপত্তাব্যবস্থার কথা বলা হয়েছে, বঙ্গবন্ধুর পরিবারের সদস্যদের আজীবন সে রকম নিরাপত্তা দেওয়া হবে।
অনেকটা একই ধরনের একটা আইন, যদিও কিছুটা সীমিত পরিধিতে, বিগত আওয়ামী লীগের শাসনের শেষ সময়ে সংসদে পাস হয়েছিল, যেটা বিগত জোট সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর সংসদের প্রথম অধিবেশনেই বাতিল করে দিয়েছিল। সে কারণে স্বাভাবিকভাবেই ধারণা করা হয়েছিল, ওই ধরনের আইন পুনঃপ্রবর্তনের আগে লাভ-ক্ষতির দিকটা পুঙ্খানুপুঙ্খ ভেবে দেখা হবে, বিশেষ করে আওয়ামী লীগ যখন ক্ষমতায় থাকবে না তখন এই আইনের ভাগ্যে কী ঘটবে সেটা ভেবে।
এটা সুবিদিত সত্য যে প্রতিটি সমাজে যাঁরা ইতিহাস সৃষ্টি করেন বা তার গতিধারা নিয়ন্ত্রণ করেন, তাঁরা অনেক ক্ষেত্রেই হিংসার শিকার হন। ইতিহাসের গতিধারায় বাধা সৃষ্টির প্রয়াসে যেকোনো হিংসাত্মক কাজ করার জন্য একজন ব্যক্তিই যথেষ্ট। আততায়ীর বুলেটে মহাত্মা গান্ধী ও মারটিন লুথার কিংয়ের নৃশংস আত্মদান প্রমাণ করে, যাঁরা সারা জীবন অহিংস নীতির প্রচারক, তাঁরা নিজেরাই কীভাবে হিংসার শিকার হন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা প্রতিদিন গড়ে ৩০টি হত্যার হুমকি পাচ্ছেন বলে নিজেই প্রকাশ করেছেন। বাংলাদেশে বঙ্গবন্ধু কোনো দিন চিন্তাও করেননি যে তিনি তাঁর নিজস্ব লোকদের হাতে জীবন দিতে পারেন। তাঁর মনে যদি তাঁর নিজস্ব জনগণ সম্পর্কে বিন্দুমাত্র সন্দেহ থাকত, তাহলে তিনি তাঁর সাধারণ বাসভবন ছেড়ে বঙ্গভবনের নিরাপত্তা বেষ্টনীতে বসবাস করতেন। বঙ্গবন্ধু এবং তাঁর পরিবারবর্গের ভাগ্যে যা ঘটেছে, সেটা বিবেচনায় নিলে তাঁর দুই কন্যার জীবনের ওপর হুমকি ও ঝুঁকিকে কোনোভাবেই হালকা করে দেখার অবকাশ নেই।
আগের বারের আওয়ামী লীগ সরকারের নিরাপত্তা আইনের তুলনায় বর্তমান প্রস্তাবিত বিলের পরিধি অনেক বিস্তৃত। বর্তমান বিলে শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানার সন্তানদেরও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এই বিলে দুই ধরনের ব্যবস্থার কথা বলা হয়েছে: নিরাপত্তা ও সুবিধাদি। নিরাপত্তায় এসএসএফ নিরাপত্তা দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। বঙ্গবন্ধুর বৃহত্তর পরিবারের সদস্যদের মধ্যে একমাত্র শেখ হাসিনাই বাংলাদেশে বাস করেন এবং প্রত্যক্ষ রাজনীতিতে সক্রিয় আছেন। বর্তমানে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তিনি রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ভোগ করেছেন। তিনি যখন প্রধানমন্ত্রী থাকবেন না এবং তখনো তিনি যদি রাজনীতিতে থাকেন, তাহলে তখন তিনি কতটা নিরাপত্তা ভোগ করবেন, সেটা নির্ধারণ করবে তখনকার সরকার, বর্তমানে সংসদে উত্থাপিত বিলে যা-ই বলা হোক না কেন। প্রকৃতপক্ষে অতীত ইতিহাসই বলছে ওই আইন কী ভাগ্য বরণ করবে। বঙ্গবন্ধু পরিবারের অন্য সদস্যরা সবাই দেশের বাইরে বসবাস করছেন এবং সে কারণে তাঁদের বিদেশে এসএসএফ নিরাপত্তা দেওয়ার কোনো প্রশ্নই ওঠে না। তাঁরা যখন বাংলাদেশে বেড়াতে যাচ্ছেন তখন প্রধানমন্ত্রীর সুরক্ষিত বাসভবনে অবস্থান করছেন। কিন্তু তাঁরা যখন বাসভবনের বাইরে বের হবেন তখন কীভাবে এসএসএফ নিরাপত্তা তাঁদের জন্য প্রযোজ্য হবে, সেটা সাধারণের কাছে বোধগম্য নয়। পৃথিবীর কোনো দেশে বেসরকারি নাগরিকদের কাউকে এ ধরনের নিরাপত্তা, যেটা প্রেসিডেন্ট বা প্রধানমন্ত্রীর জন্য নির্দিষ্ট, দেওয়া হয়েছে বলে আমার জানা নেই। আর আওয়ামী লীগ যখন সরকারের থাকবে না তখন এ ধরনের নিরাপত্তাব্যবস্থার পরিণতি, বিশেষ করে আমাদের রাজনৈতিক দ্বিধাবিভক্ত সমাজে কী দাঁড়াবে, সেটা জানার জন্য কোনো রাজনৈতিক বিশ্লেষক হওয়ার প্রয়োজন নেই।
বিলের দ্বিতীয় ভাগে বঙ্গবন্ধুর পরিবারের সবার জন্য রাষ্ট্র কর্তৃক সুরক্ষিত আবাসনের ব্যবস্থা করার কথা বলা হয়েছে। এ ব্যবস্থা এক দিকে যেমন নিষ্প্রয়োজনীয়, অন্যদিকে তেমনই রাষ্ট্র কর্তৃক সব নাগরিকের সমান সুযোগ প্রদানের নীতির বিপরীত। শেখ হাসিনা ছাড়া বঙ্গবন্ধু পরিবারের সবাই হয় অন্য দেশের নাগরিক বা অধিবাসী। শেখ রেহানা তাঁর সন্তানদের নিয়ে বহু বছর ধরে যুক্তরাজ্যে বসবাস করছেন এবং তাঁর সন্তানেরা হয় সুপ্রতিষ্ঠিত বা সুপ্রতিষ্ঠিত হওয়ার পথে। বঙ্গবন্ধুর তিনজন বিবাহিত দৌহিত্রের দুজনই বিদেশি নাগরিককে বিয়ে করেছেন এবং তাঁরা দুজনই অর্থনৈতিকভাবে কোনো খারাপ অবস্থায় আছেন সেটা বিশ্বাস করার কোনো কারণ নেই। শেখ হাসিনার একমাত্র কন্যা স্বামী ও সন্তানদের নিয়ে টরন্টোর উপশহরে এক অভিজাত এলাকায় নিজ বাড়িতে বসবাস করছেন। ইদানীং প্রায়ই তাঁদের বাংলাদেশ সফর যদি তাঁদের অর্থনৈতিক অবস্থার মাপকাঠি হিসেবে ধরে নেওয়া যায়, তাহলে বাংলাদেশে তাঁদের কোনো বাড়ির মালিক হওয়ার জন্য রাষ্ট্রীয় বদান্যতার প্রয়োজন নেই। স্বামীর মৃত্যুর পর শেখ হাসিনা নিজেও ‘সুধাসদনের’ মালিক হয়েছেন। উপরিউক্ত সত্যের পরিপ্রেক্ষিতে কী করে একটা গরিব দেশের মানুষকে বোঝানো যাবে বঙ্গবন্ধু পরিবারের অর্থনৈতিকভাবে প্রতিষ্ঠিত সদস্যদের রাষ্ট্রীয় বদান্যতায় ‘সুরক্ষিত আবাসন’ প্রদানের যুক্তি? বঙ্গবন্ধু বেঁচে থাকলে কি চাইতেন যে তাঁর পরিবারের সদস্যরা রাষ্ট্রীয় বদান্যতায় ‘সুরক্ষিত আবাসনের’ মালিক হোন?
কয়েক মাস আগে সরকার বর্তমান বিরোধী দলীয় নেত্রীকে তাঁর সেনানিবাসের বাড়ি ছেড়ে দেওয়ার জন্য আইনি নোটিশ দিয়েছেন, যদিও দুটো নয়, তখনকার পরিস্থিতিতে মানবিক কারণ রাষ্ট্র কর্তৃক তাঁকে একটি বাড়ি দেওয়ার পক্ষে সিদ্ধান্ত অবশ্যই গ্রহণযোগ্য ছিল। কিন্তু বর্তমান সরকারের প্রস্তাবিত নিরাপত্তা বিল আইনে পরিণত হলে এবং সরকার যদি এটাকে আক্ষরিকভাবে কার্যকর করে, তাহলে জনগণ এবং আদালতের দরবারে বর্তমান বিরোধীদলীয় নেত্রীকে তাঁর বাড়ি থেকে উঠিয়ে দেওয়ার সরকারি প্রচেষ্টার নৈতিক যৌক্তিকতা খুবই দুর্বল হয়ে পড়বে। বৃহত্তর পরিসরে রাষ্ট্র কর্তৃক ‘সুরক্ষিত আবাসনের’ ব্যবস্থাকে জনগণ ক্ষমতার এক চরম অপব্যবহার হিসেবেই গণ্য করবে।
পরিশেষে এটা নিশ্চিত করা বলা যায় যে এ নিরাপত্তা আইন শুধু স্বল্প স্থায়ীই হবে না, বঙ্গবন্ধু পরিবারের সদস্যদের প্রতি লাখো-কোটি মানুষের বিদ্যমান ভালোবাসা ও শ্রদ্ধার এক অপূরণীয় ক্ষতি সাধিত হবে। বর্তমান ক্ষমতার মসনদের কাছে কি এমন কেউ আছেন, যিনি এ সরল কথা ও যুক্তিগুলো অকপটে প্রধানমন্ত্রীকে বলার সত্সাহস রাখেন?
ড. মোজাম্মেল খান
কানাডা প্রবাসী অধ্যাপক।

কলকাতার পারফরম্যান্সে অবাক আকরাম

তাঁকে বলা হয় সর্বকালের সেরা বাঁহাতি ফাস্ট বোলার। ফাস্ট বোলিংকে শিল্পের পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া বোলারদের তালিকায় তিনি থাকবেন সবার শীর্ষে। আশির দশকের মাঝামাঝি সময় থেকে গোটা নব্বইয়ের দশকে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ব্যাটসম্যানদের বুকে কাঁপন ধরিয়েছেন হর-হামেশাই। ইয়র্কার ডেলিভারির ভয়ংকর রূপ ক্রিকেট বিশ্ব দেখেছে তাঁরই হাত ধরে। ওপরের কথাগুলো যে ওয়াসিম আকরামকে নিয়ে, তা বোধ করি পাঠকদের বলে দিতে হবে না। পাকিস্তানের হয়ে বিশ্বকাপ জেতা এই ফাস্ট বোলার দেশটির সাবেক অধিনায়কও বটে। ক্রিকেট ছেড়ে দিয়ে ধারাভাষ্যই এখন মূল পেশা এই সুদর্শন তারকার। তবে ধারাভাষ্যের পাশাপাশি ফাস্ট বোলিংয়ের এই শিল্পী ব্যস্ত উঠতিদের নিয়ে। কয়েক মৌসুম ছিলেন ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ (আইপিএল) ফ্র্যাঞ্চাইজি কলকাতা নাইট রাইডার্সের বোলিং উপদেষ্টা। পারিবারিক ব্যস্ততার কারণে এবার সেই দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি নিলেও তাঁর মন যে নাইটদের সঙ্গেই পড়ে রয়েছে, সে ব্যাপারটি বেরিয়ে এসেছে কলকাতার একটি পত্রিকায় দেওয়া তাঁর এক সাক্ষাত্কারে। কলকাতার ট্যাবলয়েড ‘এবেলা’র ক্রীড়া সাংবাদিক সুমিত ঘোষ নিয়েছেন এই ক্রিকেট গ্রেটের সাক্ষাত্কার। প্রথম আলো ডটকমের পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো সেই সাক্ষাত্কারেরই সংক্ষেপিত রূপ।
এই মুহূর্তে ব্যস্ত যা নিয়ে...
লাহোরে নতুন বাড়ি বানাচ্ছি। এ মুহূর্তে ব্যস্ত বাড়ির বিভিন্ন কাজ নিয়ে। দুই ছেলের দেখভালও করতে হচ্ছে। এ কারণেই তো এবার আইপিএলে কলকাতা নাইট রাইডার্সের (কেকেআর) সঙ্গে থাকতে পারলাম না।
এবারের আইপিএলে কেকেআরের পারফরম্যান্স নিয়ে ভাবনা...
আমি খুব অবাক এবারের আইপিএলে কেকেআরের পারফরম্যান্সে। ওরা কেন এবার এত বাজে খেলছে, সেটা নিয়ে আমার কোনো স্বচ্ছ ধারণা নেই। আমি দল থেকে অনেক দূরে। তবে দূর থেকে আমার যতটুকু মনে হয়েছে তা হলো, গুরুত্বপূর্ণ সময়ে ব্যাটিংটা ঠিকমতো কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারছে না। ব্যাপারটি দুই-একটি ম্যাচে হলে আমার কিছু বলার থাকত না, ক্রিকেটে ওরকম হতেই পারে। কিন্তু ধারাবাহিকভাবে একই জিনিস ঘটে চলা তো কোনো কাজের কথা নয়।
ব্যাটিংটাই মূলত এবারের আইপিএলে দলের এই অবস্থার জন্য দায়ী। ব্যাটিং ব্যর্থতার একটা বড় কারণ, ভারতীয় ক্রিকেটারদের পারফরম করতে না পারা। অথচ অন্য সফল ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোতে কিন্তু ভারতীয় ক্রিকেটাররাই পারফরম করছে।
কঠিন সমীকরণ ঠেলে কেকেআরের সম্ভাবনা...
প্লে-অফে যাওয়াটা কঠিন। আমি কেবল একটাই কথা বলতে পারি, এই মুহূর্তে অঙ্ক-টঙ্ক ভুলে যেতে হবে। নিজেদের সর্বস্ব দিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়তে হবে। মোট কথা, লড়াই করে যেতে হবে, হারের আগেই হেরে যাওয়া যাবে না।
গৌতম গম্ভীর সম্পর্কে মূল্যায়ন...
কেকেআরের এখন খারাপ সময়। এ সময় অধিনায়ককে মাথা নিচু করে রান করে যেতে হবে। টিম যখন বাজে পারফরম করতে থাকে, তখন সবকিছুই চোখে পড়ে। ভালো করতে থাকলে অনেকেই অনেক কিছু এড়িয়ে যায়। এটাই ক্রিকেটের রীতি। এই রীতি ছোট-বড়-তারকা-অখ্যাত সবাইকে মেনে চলতে হয়।
পাকিস্তানের তরুণ ফাস্ট বোলারদের নিয়ে ক্যাম্প প্রসঙ্গে...
ক্যাম্পটা আমি খুব উপভোগ করেছি। কয়েকজন ভালো ছেলেও উঠে এসেছে। আহমেদ জামাল নামের একজনকে দেখলাম, খুব সম্ভাবনাময় বোলার। ক্যাম্পটা আয়োজনের কয়েকদিন আগে কে কত জোরে বল করতে পারে—এমন একটি প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছিল। জামাল ওই প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল। আহমেদ জামালকে দেখেই আমার পছন্দ হয়েছে। ৬ ফুট ৪ ইঞ্চি লম্বা। নিয়মিতভাবেই ১৪৫ কিলোমিটার গতিতে বল করতে পারে। অধ্যবসায়ী হলে আহমেদ জামাল হয়ে উঠতে পারে পাকিস্তানের ফাস্ট বোলিংয়ের গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ।
উঠতি ফাস্ট বোলারদের ভবিষ্যত্ নিয়ে...
আসলে ওদের কেবলই ‘স্পট’ করে এসেছি আমি। বাকিটা ওদের নিজেদের ব্যাপার। বোর্ডেরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা আছে। বোর্ডকে বলেছি, আহমেদ জামালের মতো পেসারদের দিকে বাড়তি নজর দিতে। এদের পেছনে বিনিয়োগ করতে হবে। এদের পরিচর্যা করতে হবে। ওরা সম্ভাবনাময়। সম্ভাবনার বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে ক্রিকেট বোর্ডের।
কেকেআরে আবার ফেরা...
এ বছর কলকাতাটা খুব মিস করছি। পরের বার অবশ্যই আইপিএলে ফিরে আসতে চাই।

কী হচ্ছে টিপাইমুখে -নদীকথা by শাহেদ কায়েস

নদীমাতৃক দেশ বাংলাদেশ। নদী ও জলের সঙ্গে একাকার এ দেশের জনজীবন। নদীবিধৌত অববহিকায় বেড়ে ওঠা আমাদের জীবন, শিল্প-সাহিত্য-সংস্কৃতি। ‘খেয়াপারের তরুণী’ কবিতায় কাজী নজরুল ইসলাম সেমেটিক বিশ্বাস আর ভারতীয় বিশ্বাসের সমন্বয়ে উপহার দেন এক অভিনব নদী। বাংলাদেশের নদীকেন্দ্রিক নিসর্গে আবেগপ্লাবিত অন্তরঙ্গ পত্রকাব্য রবীন্দ্রনাথের ছিন্নপত্র, পদ্মা নদী যেখানে নায়িকা।
আমাদের সংগীতে বারবার নদী এসেছে ঘুরেফিরে—পদ্মার ঢেউ রে..., ও নদী রে একটি কথা শুধাই শুধু তোমারে...। চলচ্চিত্রে নদী এসেছে বিভিন্নভাবে—নদী ও নারী, তিতাস একটি নদীর নাম ; ধীরে বহে মেঘনা। ভারতীয় এবং বাংলাদেশের শত শত নদী নিয়ে রয়েছে অসংখ্য লোকপুরাণ ও ধ্রুপদী পুরাণ। মহাভারতে করতোয়া নদীর উল্লেখ রয়েছে। পার্বতীর সঙ্গে শিবের বিয়ের সময়ে হাত (কর) ধোয়ার সময়ে যে জলের (তোয়া) ধারা প্রবাহিত হয়, সেটাই হলো করতোয়া। বৌদ্ধসাহিত্যে নদীর ওপর বাঁধ দেওয়া নিয়ে উজান ও ভাটি অঞ্চলের দুই জনগোষ্ঠীর মধ্যে সংঘাতের সৃষ্টি হয়েছিল, বোধিস্বত্ব যার মীমাংসা করেছিলেন। রবীন্দ্রনাথের মুক্তধারা নাটকে এর প্রভাবে রয়েছে। গঙ্গার অপর নাম মুক্তধারা। ওই পৌরাণিক কাহিনী আমাদের সাম্প্রতিক সময়ের টিপাইমুখ বাঁধের কথা মনে করিয়ে দেয়।

টিপাইমুখ কী
টিপাই ভারতের একটি নদীর নাম। টিপাইয়ের আরেক নাম টুইভাই। এই টুইভাই নদীর মুখ হলো টিপাইমুখ। ভারতবর্ষের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে পাশাপাশি তিনটি পাহাড়ি রাজ্য—নাগাল্যান্ড, মণিপুর ও মিজোরাম সীমান্তের কাছে মণিপুর রাজ্যের অত্যন্ত দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলের একটি অখ্যাত জনপদ হচ্ছে টিপাইমুখ। অপর একটি নদী হচ্ছে বরাক, যার উত্পত্তি মণিপুর রাজ্যের জাপভো পর্বতশৃঙ্গে অসংখ্য পাহাড়ি ছড়া বা ঝিরি থেকে। টিপাইমুখে টিপাই নদীর সঙ্গে মিলিত হয় বরাক নদী, যার ডান তীরে মণিপুর রাজ্য, বাঁ তীরে মিজোরাম রাজ্য। এখান থেকে নদীটি আসামের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে সিলেট হয়ে প্রবেশ করে সুরমা ও কুশিয়ারা নামে।

কী হচ্ছে টিপাইমুখে
টিপাইমুখে ভারত সরকার নির্মাণ করছে একটি বৃহত্ বহুমুখী প্রকল্প। এই প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে ‘ড্যাম’ ও ‘ব্যারেজ’ নির্মাণ। এখন প্রশ্ন হচ্ছে, ড্যাম কী এবং ব্যারেজ কী? বাংলায় ড্যাম ও ব্যারেজ উভয়কেই বাঁধ বলা হয়। কিন্তু দুইয়ের মধ্যে রয়েছে আলাদা উদ্দেশ্য। ড্যামের উদ্দেশ হচ্ছে জলবিদ্যুত্ উত্পাদন, যেমন—বাংলাদেশের কাপ্তাই ড্যাম।
আর ব্যারাজের উদ্দেশ্য হলো পানি ধারণ করে সুবিধামতো প্রত্যাহার করে অন্যত্র বয়ে নিয়ে যাওয়া, যেমন—ভারতের ফারাক্কা ব্যারেজ।
টিপাইমুখ প্রকল্পে প্রথমে নদীতে বাঁধ দিয়ে ভাটির দিকে (বাংলাদেশ) নেমে আসা পানির প্রবাহ রুদ্ধ করা হবে, এরপর এই পানি যাতে উজানে (ভারতে) থেকে যায় সে ব্যবস্থা করা হবে। ভারত এই রুদ্ধ পানির প্রবাহকে বিদ্যুতে পরিণত করবে এবং ভারতের আসাম রাজ্যের কাছাড় অঞ্চলে এই পানি বন্যানিয়ন্ত্রণের উপায় হিসেবে ব্যবহার করা হবে। এ ছাড়া ধরে রাখা এই পানি কৃষিতে ব্যবহার করবে ভারত।

টিপাইমুখ প্রকল্পে বাংলাদেশের কী কী ক্ষতি হতে পারে
১০ থেকে ২০ হাজার বছর আগে বাংলাদেশে বিরাট সাগর ছিল। হিমালয় থেকে নেমে আসা নদীর পলি বহন করে এই বদ্বীপটি তৈরি। এ জন্যই বলা হয় বাংলাদেশ নদীমাতৃক দেশ। অর্থাত্ নদী এ দেশের মা। টিপাইমুখ প্রকল্প নির্মিত হলে নিম্নোক্ত ক্ষতিগুলো হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা:
এক. পর্যাপ্ত পলির অভাবে সিলেট ও হাওর অঞ্চলে ভূমির অধোগমন (নিচের দিকে দেবে যাওয়া) ঘটবে, যা মারাত্মক পরিবেশ বিপর্যয় সৃষ্টি করবে।
দুই. কোনো কোনো অঞ্চল হবে মরুভূমিসদৃশ এবং কখনো কখনো দেখা দিতে পারে (বন্যার কারণে টিপাইমুখের পানি ছেড়ে দিলে) ব্যাপক প্লাবন।
তিন. টিপাইমুখ প্রকল্প যেখানে হচ্ছে ওই অঞ্চল ভূমিকম্পপ্রবণ এলাকা। ভূমিকম্পে যদি কখনো এই বিপুল জলাধার ফেটে যায়, তাহলে বাংলাদেশের সিলেট অঞ্চল ৯ থেকে ৩২ ফুট পানির নিচে তলিয়ে যেতে পারে, যা হবে লাখ লাখ মানুষের মৃত্যুর কারণ; ধ্বংস হবে জীববৈচিত্র্য, হাজার বছর ধরে লালিত মানুষের ইতিহাস-ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি।
বর্তমান পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের করণীয় 
টিপাইমুখ প্রকল্প সম্পর্কে বাংলাদেশ ও ভারতের পরিবেশ ও প্রাণবৈচিত্র্য রক্ষার আন্দোলনে যাঁরা জড়িত তাঁদের বিভিন্ন এনজিও, মানবাধিকার সংস্থাকে সম্পৃক্ত করে একটা আন্তর্জাতিক জনমত গড়ে তুলতে হবে। জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক পানি আইনে বিষয়টি নিয়ে এগোতে হবে। ‘নো হার্ম রুল’: ইউএন কনভেনশনের অনুচ্ছেদ ৭ অনুসারে ভিন্ন দেশের ওপর দিয়ে প্রবাহিত অভিন্ন নদীর বেলায় উজানের দেশ ভাটির দেশের ক্ষতি করতে পারবে না। এ ছাড়া ‘নন-ন্যাভিগ্যাবল ইউসেজ অব ইন্টারন্যাশনাল ওয়াটার কোর্সেস’-এর অনুচ্ছেদ ৫ এবং বার্লিন রুল অব ইন্টারন্যাশনাল ওয়াটার রিসোর্সেস (২০০৪)-এর প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশকে ভারতের সঙ্গে তার পানির ন্যায্য হিস্যা নিয়ে আন্তর্জাতিকভাবে তত্পর হতে হবে।
সর্বোপরি দেশের এই দুঃসময়ে দলমতনির্বিশেষে— সরকার, বিরোধী দল, জনগণ, গণমাধ্যম সবাইকে এই বিষয়ে নিজেদের অস্তিত্বের স্বার্থে বাংলাদেশের জন্য মরণফাঁদ টিপাইমুখসহ বাংলাদেশ-ভারতের অন্যান্য যৌথ নদীর ওপর পরিকল্পনাধীন ড্যাম, ব্যারেজ কিংবা বৃহত্ প্রকল্প নির্মাণের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে হবে।
শাহেদ কায়েস: কবি। প্রতিষ্ঠাতা—সুবর্ণগ্রাম। প্রিন্সিপাল—সুবর্ণগ্রাম ইন্টারন্যাশনাল স্কুল।

শিবার পাশে শ্রীলঙ্কা-পাকিস্তান

আইসিসির ক্রিকেট কমিটিতে ভারতের লক্ষণ শিবরামকৃষ্ণানের নির্বাচন নিয়ে কম ঘোলা হয়নি জল। নির্বাচন স্বচ্ছ হয়নি, ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিসিআই) দাপটে বেশির ভাগের দেশের অধিনায়ককেই ভোট দিতে হয়েছে নিজ নিজ বোর্ডের চাপে, এমন সব অভিযোগ উঠেছে। এই বিতর্কের ডামাডোলে চাপের মুখে থাকা বিসিসিআই এবার পাশে পেয়েছে দুই প্রতিবেশী পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কার ক্রিকেট বোর্ডকে। নতুন বিতর্ককে এশীয় দেশগুলোর বিপক্ষে ষড়যন্ত্র হিসেবেই দেখেছে এই দুই দেশের বোর্ড।
শ্রীলঙ্কা ক্রিকেটের (এসএলসি) সেক্রেটারি নিশান্থা রানাতুঙ্গার কাছে পুরো ব্যাপারটাই দুর্ভাগ্য ছাড়া কিছুই মনে হচ্ছে না, ‘এটা খুবই দুর্ভাগ্যের ব্যাপার, যখনই কোনো এশীয় বা ভারতীয় খেলোয়াড় সামনে আসে তখনই অভিযোগ ওঠে। ক্রিকেট কমিটিতে লক্ষণ শিবরামকৃষ্ণানকে নেওয়ার ক্ষেত্রে আমরা তাঁর ক্রিকেটীয় সক্ষমতাটা বিবেচনা করেছি।’ পিসিবি প্রধান জাকা আশরাফ জানতে চেয়েছেন, সব সময় কেন উপমহাদেশের দলগুলোর ঐক্য নিয়েই প্রশ্ন তোলা হয়? ওয়েবসাইট।

প্রেসিডেন্ট কাপ গলফের পুরস্কার বিতরণী ২৫ মে

সেভেন রিংস সিমেন্ট প্রেসিডেন্ট কাপ গলফ টুর্নামেন্ট ২০১৩-এর পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠিত হবে ২৫ মে শনিবার। ওই দিন রাত আটটায় আর্মি গলফ ক্লাবের গলফ গার্ডেনে বসবে এই পুরস্কার বিতরণীর আসর।
সেনাবাহিনী-প্রধান ও আর্মি গলফ ক্লাবের প্রেসিডেন্ট জেনারেল ইকবাল করিম ভূঁইয়া ওই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন। এ ছাড়া মাস্টার জেনারেল অব দি অর্ডন্যান্স ও আর্মি গলফ ক্লাবের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট মেজর জেনারেল আবদুল মতিন, সেভেন সার্কেল (বাংলাদেশ) লিমিটেডের হেড অব মার্কেটিং অ্যান্ড সেলস আসাদুল হক সুফিয়ানী, ব্যবস্থাপক (ব্র্যান্ড ও যোগাযোগ) মো. আহসানুল্লাহ তুষার, এজিএম মো. মনিরুজ্জামান, টুর্নামেন্ট কমিটির চেয়ারম্যান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মির্জা মো. মনজুর কাদির, ঢাকা স্টেশন কামান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. সাঈদ আনোয়ারুল ইসলাম, আর্মি গলফ ক্লাবের সদস্যসচিব লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ শওকত ওসমান অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন।
সেভেন সার্কেল (বাংলাদেশ) লিমিটেড আয়োজিত প্রেসিডেন্ট কাপ গলফ টুর্নামেন্টটি চলে ৯ থেকে ১১ মে পর্যন্ত।

টি-টোয়েন্টি লিগে ফিকশ্চার-রঙ্গ

প্রিমিয়ার টি-টোয়েন্টি লিগের ফিকশ্চার নিয়ে কথা তুললেই সিসিডিএম চেয়ারম্যান জি এস তামিম বলছেন, ফিকশ্চার হয়েছে ফরম্যাট মেনে। সেটা শুনে এক ক্লাব কর্মকর্তার রসিকতা মেশানো প্রশ্ন, ‘ফরম্যাট তাহলে কয়টা?’ ফিকশ্চারের ফরম্যাট বলে যদি কিছু থাকেই, তাহলে তো একটাই ফিকশ্চার হওয়ার কথা! কিন্তু এই প্রতিবেদকের হাতেই যে আজ থেকে শুরু টি-টোয়েন্টি লিগের তিন রকম ফিকশ্চার!
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড থেকে গত রোববার সন্ধ্যায় প্রথম যে ফিকশ্চারটি সরবরাহ করা হয়, সেটিতে আবাহনীর দিবারাত্রির ম্যাচ চারটি। এ নিয়ে অন্য বড় ক্লাবগুলোর মধ্যে অসন্তুষ্টি ছড়িয়ে পড়লে ঘণ্টা দুয়েকের মধ্যেই আসে নতুন ফিকশ্চার, যাতে আবাহনীর দিবারাত্রির ম্যাচ কমে হয় তিনটি। বিস্ময়কর হলো, পরদিন টি-টোয়েন্টি লিগের সংবাদ সম্মেলনের আগে বদলে গেছে সেই ফিকশ্চারও। সংবাদ সম্মেলনে সরবরাহ করা সর্বশেষ ফিকশ্চারে দেখা যাচ্ছে, আবাহনীর দিবারাত্রির ম্যাচ দুটি। আশা করা যাচ্ছে, আজ থেকে চারটি ভেন্যুতে এই ফিকশ্চার মেনেই শুরু হবে বিগবস প্রিমিয়ার ডিভিশন টি-টোয়েন্টি লিগ।
টি-টোয়েন্টি লিগে এবার বড় আকর্ষণ ফ্লাডলাইট আর বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল দেশ টিভিতে সাতটি ম্যাচ সরাসরি সম্প্রচারের উদ্যোগ। কিন্তু বাইরের মোড়কের চাকচিক্যকে ছাপিয়ে বড় হয়ে উঠেছে ভেতরের সমন্বয়হীনতা।
মোহামেডান ক্রিকেট কমিটির প্রধান লুত্ফর রহমানের দাবিটা যৌক্তিক, ‘ফিকশ্চারে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন-রানার্সআপরা সুবিধা পাবে, এটাই স্বাভাবিক। সেসবের তোয়াক্কা না করে আবাহনী সর্বোচ্চ দুটি ম্যাচ খেলছে দিবারাত্রির, গতবারের চ্যাম্পিয়ন হয়েও আমরা খেলব মাত্র একটা ম্যাচ। ফিকশ্চার করতে গিয়ে বিসিবি ও সিসিডিএম তাদের নিরপেক্ষতা হারিয়েছে।’ বারবার ফিকশ্চার পরিবর্তন নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি, ‘প্রথম ফিকশ্চারে মোহামেডানের একটাও দিবারাত্রির ম্যাচ ছিল না, অথচ আবাহনীর ছিল চারটা। এমনকি গতবার প্রিমিয়ারে না খেলা কলাবাগানেরও ছিল একটা। পরে টেলিফোনে আমরা এ নিয়ে অসন্তুষ্টি জানানোর পর আমাদের মাত্র একটা দিবারাত্রির ম্যাচ দেওয়া হয়। কিন্তু কলাবাগানের ম্যাচ বেড়ে হয় দুইটা! একটা ফিকশ্চার এক দিনের মধ্যে এতবার বদলায় কীভাবে?’
দিবারাত্রির ম্যাচ বরাদ্দ নিয়ে সিসিডিএম চেয়ারম্যানের বক্তব্য, “সকালে ‘এ’ গ্রুপের ম্যাচ আর বিকেলে ‘বি’ গ্রুপের ম্যাচ রাখা হয়েছে। গতবারের চ্যাম্পিয়ন হিসেবে মোহামেডান ‘এ’ গ্রুপে থাকায় তাদের ম্যাচগুলো সকালে বেশি পড়েছে। তার পরও আমরা তাদের একটা দিবারাত্রির ম্যাচ দিয়েছি।’ সিসিডিএমের নিরপেক্ষতা নিয়ে ওঠা অভিযোগের জবাবে তাঁর বক্তব্য, ‘আমরা এক শ ভাগ নিরপেক্ষ থেকেই কাজ করার চেষ্টা করছি। তার পরও যদি কারও ওরকম অভিযোগ থাকে, তাহলে তারা এসেই ফিকশ্চার করে দিয়ে যাক।’
লিগের ফিকশ্চার তৈরির জন্য সিসিডিএমের পাঁচ সদস্যের কমিটির সদস্য মোহামেডানের ক্রিকেট সম্পাদক হানিফ ভুঁইয়া। অথচ ফিকশ্চার যে এক দিনের মধ্যেই এতবার রূপ বদলাল, সেটা নাকি তিনি জানেনই না!
ফিকশ্চার নিয়ে ধূম্রজাল ছাড়াও টি-টোয়েন্টি লিগের রং কিছুটা কেড়ে নিতে পারে প্রথম দিনেই তিন বিশ লাখি ক্রিকেটারের অনুপস্থিতি। ইনজুরির কারণে মাশরাফি টি-টোয়েন্টিতে খেলবেন না, কুঁচকির ইনজুরি থেকে মাত্রই সেরে ওঠা সাকিবকেও আবাহনী খেলাবে না প্রথম দুই ম্যাচে। আর মোহামেডানও সম্ভবত প্রথম দিনে পাচ্ছে না ফ্লুতে আক্রান্ত ওপেনার তামিম ইকবালকে।

মুসোলিনি ব্রিটিশ গোয়েন্দা ছিলেন

অল্প সময়ের জন্য হলেও ব্রিটিশ গোয়েন্দা সংস্থার হয়ে কাজ করেছেন ইতালির সাবেক একনায়ক বেনিতো মুসোলিনি। ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন গবেষককে উদ্ধৃত করে গতকাল বুধবার দ্য গার্ডিয়ান পত্রিকা এ খবর জানায়।
প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় মিত্র দেশের পাশাপাশি ইতালি যেন তার লড়াই চালিয়ে যেতে পারে, সেই লক্ষ্যে প্রচারণা চালানোর জন্যই মুসোলিনিকে সপ্তাহে ১০০ পাউন্ড করে দিত ব্রিটিশ গোয়েন্দা সংস্থা এমআই ফাইভ। মুসোলিনি ওই সময় সাংবাদিকতা করতেন।
ক্যামব্রিজের ইতিহাসবিদ পিটার মার্টল্যান্ড গার্ডিয়ান পত্রিকাকে বলেন, চলমান সংঘাত থেকে রাশিয়া নিজেকে সরিয়ে নেওয়ার পর ওই সময় ব্রিটেনের সর্বশেষ নির্ভরযোগ্য মিত্র দেশ ছিল ইতালি।
বলেন, যুদ্ধের পক্ষে প্রচারণা চালিয়ে যাওয়ার জন্য ১৯১৭ সালের হেমন্তকাল থেকে এক বছর ধরে সপ্তাহে কমপক্ষে ১০০ পাউন্ড করে দেওয়া হতো মুসোলিনিকে। বর্তমানে ওই অর্থের মূল্যমান প্রায় ছয় হাজার পাউন্ড।
ওই সময় রোমে এইআই ফাইভের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা স্যার স্যামুয়েল হোয়ারের দলিলদস্তাবেজ নিয়ে গবেষণার সময় চমকপ্রদ এই তথ্য আবিষ্কার করেন মার্টল্যান্ড। ইতালিতে নিয়োজিত প্রায় ১০০ জন ব্রিটিশ গোয়েন্দা কর্মকর্তার দায়িত্বে ছিলেন স্যামুয়েল হোয়ার।
নিজের পত্রিকায় যুদ্ধের পক্ষে নানা প্রচার-প্রচারণা চালান মুসোলিনি। যুদ্ধবিরোধী বিক্ষোভকারীদের পেটানোর জন্য সেনাবাহিনীর সাবেক সদস্যদের পাঠানোর পক্ষেও মতামত ব্যক্ত করেন তিনি।
মার্টল্যান্ড বলেন, ব্রিটেন ওই সময় যুদ্ধে প্রতিদিন ৪০ লাখ পাউন্ড খরচ করেছিল।

পারভেজ মোশাররফের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা

পাকিস্তানের সাবেক প্রেসিডেন্ট পারভেজ মোশাররফের বিরুদ্ধে গত মঙ্গলবার বেলুচিস্তানের ডেরা বুগতিতে একটি হত্যা মামলা হয়েছে। বেলুচিস্তানের জাতীয়তাবাদী নেতা নওয়াব আকবর বুগতির হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে হাইকোর্টের নির্দেশে পুলিশ ওই মামলা করে। তত্কালীন মোশাররফ প্রশাসনের প্রধানমন্ত্রীসহ শীর্ষ পর্যায়ের আরও কয়েকজন মন্ত্রীকে ওই মামলায় আসামি করা হয়েছে।
২০০৬ সালে মোশাররফের নির্দেশে চালানো এক সেনা অভিযানে বেলুচিস্তানের জনপ্রিয় নেতা নওয়াব আকবর বুগতি নিহত হন। ক্ষমতাসীন দলের বিরুদ্ধে ওই ঘটনায় এত দিন মামলা করা যায়নি। নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর প্রাদেশিক হাইকোর্টের নির্দেশে মঙ্গলবার ওই মামলাটি করা হলো।
মামলায় আরও যাঁদের আসামি করা হয়েছে, তাঁরা হলেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শওকত আজিজ, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আফতাব আহমেদ খান শেরপাও, সাবেক মুখ্যমন্ত্রী জাম ইউসুফ ও সাবেক প্রাদেশিক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শোয়েব নওশেরওয়ানি।
বেলুচিস্তানের সাবেক গভর্নর ওয়াইস আহমেদ গনির নামও আসামিদের নামের প্রাথমিক তালিকায় রয়েছে। গনি এখন উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় সীমান্ত প্রদেশের (নর্থ ওয়েস্ট ফ্রনটিয়ার প্রভিন্স) গভর্নর হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। গনির ক্ষমতার মেয়াদ শেষ হলে পুলিশ তাঁর ব্যাপারে তদন্ত শুরু করবে।

জার্মানিতে আসছে নতুন ধরনের সংবাদপত্র

একটি সংবাদপত্রে অনেক ধরনের বিষয়ের ওপর সংবাদ ও নিবন্ধ প্রকাশিত হয়ে থাকে। কিন্তু খুব কম পাঠকই আছেন, যাঁরা প্রকাশিত সংবাদ ও নিবন্ধের সব কটিই পাঠ করে থাকেন। একজন পাঠক একটি বিশেষ সংবাদপত্রের গ্রাহক হতে পারেন, কিন্তু সেই বিশেষ সংবাদপত্রে সব সংবাদ প্রকাশিত না-ও হতে পারে। সে ক্ষেত্রে সেই পাঠক অন্য সংবাদ পড়ার জন্য আরেকটি পত্রিকার ওপর নির্ভরশীল হন। কিন্তু সংবাদপত্র যদি এমন হয়, যেখানে পাঠক কেবল তাঁর পছন্দের সংবাদ ও নিবন্ধ পড়তে পারছেন! কিংবা সংবাদপত্রটি যদি দিনে প্রকাশিত সব সংবাদপত্রের সংকলন হয়, তাহলে কেমন হয়। সংবাদপত্রের এমনই একটি নতুন ধারণা উদ্ভাবন করেছেন দুই জার্মান তরুণ। তাঁরা জার্মানিতে একটি সংবাদপত্র প্রকাশ করতে যাচ্ছেন, যেখানে একজন নির্দিষ্ট পাঠকের ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দের ওপর ভিত্তি করে সংবাদ প্রকাশিত হবে এবং সেখানে থাকবে জার্মানি থেকে প্রকাশিত সব শীর্ষস্থানীয় সংবাদপত্রের গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ ও নিবন্ধের সংকলন। সংবাদপত্রটি গ্রাহকের পছন্দ অনুযায়ী কেবল খেলাধুলা, রাজনীতি, ফ্যাশনজগত্ বা অন্য যেকোনো বিষয় নিয়ে বিভিন্ন সংস্করণ প্রকাশ করবে। এই সংবাদগুলো জার্মানির বিভিন্ন শীর্ষস্থানীয় সংবাদপত্র থেকে নেওয়া হবে। শুধু তা-ই নয়, এই পত্রিকাটি জার্মান ও ইংরেজি উভয় ভাষাতেই প্রকাশিত হবে। সবচেয়ে বড় ব্যাপার হলো, গ্রাহকের দোরগোড়ায় প্রতিদিন সকাল আটটার আগে পত্রিকাটি পৌঁছে দিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ পত্রিকাটির প্রকাশক ওই দুই জার্মান তরুণ।
হেন্ডরিক টিডেম্যান ও ওয়ানজা সোয়রেন ওবেরহফ নামের এই দুই জার্মান তরুণ মনে করেন, ইন্টারনেটে বিভিন্ন সাইটে গিয়ে মানুষ বিভিন্ন সংবাদপত্রের খবর পড়েন। এই বিভিন্ন সংবাদপত্রের বিভিন্ন সংবাদ যদি শ্রেণীবদ্ধভাবে এক পত্রিকার মলাটে পাঠকের হাতে তুলে দেওয়া যায়, তাহলে তা ভালোই বাজার পেতে পারে। সংবাদগুলো শ্রেণীবদ্ধকরণের কারণে বিভিন্ন শ্রেণীবদ্ধ বিজ্ঞাপনও এতে আরও ভালোভাবে প্রকাশ করা যাবে। তাঁরা আশা প্রকাশ করেন, অচিরেই এই বিশেষ পত্রিকাটি পাঠকপ্রিয়তা অর্জন করবে এবং বিজ্ঞাপনদাতাদের মনোযোগ আকর্ষণ করবে।
পত্রিকাটির আরও একটি বিশেষত্ব হলো, গ্রাহকেরা একটি নির্দিষ্ট দিনের ব্যস্ততা অনুযায়ী এর কলেবরও নির্ধারণ করে দিতে পারবেন। যেমন, সপ্তাহের একটি ব্যস্ত দিনে পত্রিকাটির কলেবর হবে আট পাতা। কারণ এই দিনটিতে ব্যস্ততার কারণে গ্রাহক বেশি সময় নিয়ে পত্রিকাটি পড়তে পারবেন না। অন্যদিকে ছুটির দিনে এই পত্রিকাটির কলেবর হবে ৬০ পাতা পর্যন্ত। কারণ পাঠকের হাতে অনেক আয়োজন করে তারিয়ে তারিয়ে সংবাদগুলো পড়ার অনেক সময় থাকে ছুটির দিনে।

সিনেট কমিটির অনুমোদন পেল ওবামার স্বাস্থ্য বিল

যুক্তরাষ্ট্রের সিনেট কমিটি ‘স্বাস্থ্য খাত সংস্কার’-এর ঐতিহাসিক বিলে অনুমোদন দিয়েছে। এই অনুমোদনের মধ্য দিয়ে প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার স্বাস্থ্য খাতের সার্বিক সংস্কারের রাজনৈতিক অঙ্গীকার বাস্তবায়নের পথে আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল। গত মঙ্গলবার সিনেটে এই বিলটি ১৪-৯ ভোটে অনুমোদন লাভ করে। এত দিন ধরে স্বাস্থ্য খাত সংস্কার নিয়ে রাজনৈতিক মঞ্চে ঝড় তোলা রিপাবলিকান দলের একজন সদস্য সিনেটে বিলটি অনুমোদনের সময় এর পক্ষে ভোট দেন। অলিম্পিয়া স্নো নামের এই রিপাবলিকান দলীয় সিনেটর এই প্রথমবারের মতো স্বাস্থ্যনীতির প্রশ্নে তাঁর দলের পক্ষ ত্যাগ করলেন।
যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্য খাত সংস্কার প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার অন্যতম নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি। স্বাস্থ্য খাত সংস্কার হলে যুক্তরাষ্ট্রে চিকিত্সাব্যয় অনেক কমে যাবে। বিভিন্ন শ্রেণী ও পেশার মানুষের সুবিধার্থে এই নতুন সংস্কারনীতিতে সরকারি ভর্তুকির প্রস্তাব রাখা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্বাস্থ্যবীমা বর্তমানে সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে থাকায় সবার জন্য এই সুবিধা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে স্বাস্থ্যবীমাকে আরও সহজলভ্য করার কথা এই সংস্কার প্রস্তাবে বলা হয়েছে। তবে ওবামার এই প্রস্তাবিত স্বাস্থ্যনীতি সংস্কারকে প্রথম থেকেই বিরোধিতা করে আসছে বিরোধী রিপাবলিকান পার্টি। রিপাবলিকান পার্টি বারাক ওবামার এই স্বাস্থ্যনীতি যুক্তরাষ্ট্রকে ‘সমাজতান্ত্রিক’ করে ফেলার ষড়যন্ত্র হিসেবে অভিহিত করেছে।
সিনেট কমিটিতে এই বিলটি অনুমোদিত হওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। তিনি এই অগ্রগতিকে ‘জরুরি মাইলফলক’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। ওবামা বলেন, ‘আমরা স্বাস্থ্য খাত সংস্কারের পথে অনেক দূর এগিয়ে গিয়েছি, কিন্তু আমরা এখনো আমাদের গন্তব্যে পৌঁছাতে পারিনি। আমরা এমন একটা জায়গায় এখন দাঁড়িয়ে আছি, যেখান থেকে পিছু হটার কোনো রাস্তা নেই। আমাদের এখন দ্রুতই লক্ষ্য অর্জন করতে হবে।’
এদিকে বারাক ওবামা প্রস্তাবিত স্বাস্থ্য খাত সংস্কারের প্রস্তাবের পক্ষে রিপাবলিকান দলীয় সিনেট সদস্য অলিম্পিয়া স্নো ভোট দেওয়ায় আলোচনা-সমালোচনার ঝড় উঠেছে। তবে তিনি তাঁর এই সিদ্ধান্তের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরে বলেন, ‘ইতিহাসই বলে দেবে, কেন আমি এই প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দিলাম।’ তবে এই উদারপন্থী রিপাবলিকান সিনেটর বলেছেন, ‘ভোট দেওয়ার অর্থ এই নয় যে এই সংস্কার প্রস্তাবের সব অংশই আমি সমর্থন করব।’

এনসিসি ব্যাংকের ষষ্ঠ ইজিএম অনুষ্ঠিত- ২: ১ রাইট শেয়ার দেওয়া হবে

ন্যাশনাল ক্রেডিট অ্যান্ড কমার্স (এনসিসি) ব্যাংক লিমিটেডের ষষ্ঠ বিশেষ সাধারণ সভা গতকাল বুধবার ঢাকার বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হয়।
ব্যাংকের চেয়ারম্যান ইয়াকুব আলীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় ভাইস চেয়ারম্যান ও সাংসদ মো. হারুনুর রশিদ, পরিচালকেরা, ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ নূরুল আমিন ও ব্যাংকের উদ্যোক্তা শেয়ারহোল্ডারসহ বিপুলসংখ্যক শেয়ারহোল্ডার উপস্থিত ছিলেন।
সভায় সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের অনুমোদন সাপেক্ষে অভিহিত মূল্যে প্রতি দুটি শেয়ারের বিপরীতে একটি অর্থাত্ ২: ১ অনুপাতে রাইট শেয়ার দেওয়ার প্রস্তাব সর্বসম্মতক্রমে গ্রহণ করা হয়।

ঢাকায় শেলেটকের পাঁচ দিনের আবাসন মেলা আজ শুরু

দেশের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় রিয়েল এস্টেট কোম্পানি শেলেটক্ আজ বৃহস্পতিবার থেকে শুরু করছে ‘শেলেটক্ আবাসন মেলা ২০০৯’ শীর্ষক একটি ফ্ল্যাট ও জমির মেলা।
রাজধানীর ৫৫ পশ্চিম পান্থপথে শেলেটকের নিজস্ব কার্যালয়ে আয়োজিত এ মেলায় প্রতিষ্ঠানের নির্মিত ফ্ল্যাট ও রাজধানীর অদূরে আশুলিয়ায় জমির প্রকল্প প্রদর্শন ও বিক্রি করা হবে।
মেলা উপলক্ষে গতকাল বুধবার শেলেটকের নিজস্ব কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তৌফিক এম সেরাজ। এ সময় প্রতিষ্ঠানের পরিচালন বিভাগের প্রধান মো. শরীফ হোসেন ভূঁইয়া ও বিপণন বিভাগের প্রধান মো. মুশফিকুর রহমান খান উপস্থিত ছিলেন।
এক প্রশ্নের জবাবে তৌফিক সেরাজ বলেন, রিয়েল এস্টেট খাতে অপ্রদর্শিত আয় আসায় বেচাবিক্রি কিছু বাড়ছে। আগামী দিনে আরও বাড়বে।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, মেলায় শেলেটকের ১৫টি প্রকল্পের ৬০০টি অ্যাপার্টমেন্ট এবং আশুলিয়ার জমির প্রকল্পের তিন ও পাঁচ কাঠার শতাধিক প্লট প্রদর্শন করা হবে। মেলা উপলক্ষে প্রকল্পভেদে প্রতিটি ফ্ল্যাটে সর্বোচ্চ পাঁচ লাখ টাকা পর্যন্ত এবং জমিতে ১০ থেকে ১৫ শতাংশ পর্যন্ত ছাড় দেওয়া হবে।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, বসতি মেলাটি আগামী ১৯ অক্টোবর পর্যন্ত প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা সাতটা পর্যন্ত চলবে।

সোনালী ব্যাংকের সঙ্গে চুক্তি করেছে ওয়েস্টার্ন ইউনিয়ন

বিশ্বের নেতৃস্থানীয় মানি ট্রান্সফারকারী প্রতিষ্ঠান দি ওয়েস্টার্ন ইউনিয়ন কোম্পানি বাংলাদেশে তাদের কার্যক্রম বাড়াতে সম্প্রতি সোনালী ব্যাংক লিমিটেডকে প্রিন্সিপাল এজেন্ট হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে।
সোনালী ব্যাংকের এক হাজার ১৮২টি শাখার মধ্যে প্রথম ধাপে ২০০ শাখার মাধ্যমে ওয়েস্টার্ন ইউনিয়ন বিদেশ থেকে অর্থ স্থানান্তরের সেবা দেবে। এর মাধ্যমে দেশের সরকারি মালিকানাধীন সর্ববৃহত্ ব্যাংক সোনালী ব্যাংক ওয়েস্টার্ন ইউনিয়নের নেটওয়ার্কে যুক্ত হলো।
সোনালী ব্যাংকের উপমহাব্যবস্থাপক কাজী তাসলিমা বানু ব্যাংকের পক্ষে চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। এ সময় সোনালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এস এ চৌধুরীসহ অন্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
ওয়েস্টার্ন ইউনিয়নের দক্ষিণ এশিয়া এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার আঞ্চলিক ভাইস প্রেসিডেন্ট রাতিশ কুমার এ চুক্তিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ বলে অভিহিত করেন।
এই চুক্তির ফলে প্রবাসী বাংলাদেশিরা ওয়েস্টার্ন ইউনিয়নের মাধ্যমে বিশ্বের বিভিন্ন স্থান থেকে অর্থ পাঠালে তা প্রাপকেরা দেশে সোনালী ব্যাংকের ২০০ শাখা থেকে সংগ্রহ করতে পারবেন।

বাংলাদেশের অভিজ্ঞতা থেকে শিখতে চায় আফগানিস্তান- ব্যবসা ও বিনিয়োগের উন্নয়নে সংস্কার

দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে বাংলাদেশ সবচেয়ে দ্রুতগতিতে বিভিন্ন সংস্কারকাজ এগিয়ে নিচ্ছে, যা বেসরকারি খাতের বিনিয়োগের জন্য সহায়ক হয়ে উঠছে।
আর এই বিষয়ে জানতে ও বুঝতে আফগানিস্তান থেকে ছয় সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল এখন বাংলাদেশ সফর করছে। প্রতিনিধিদলের সদস্যরা বাংলাদেশের অভিজ্ঞতা থেকে দেখে ও শিখে তা আফগানিস্তানে ব্যবসার উন্নয়নে কাজে লাগানোর চেষ্টা করবেন।
গতকাল বুধবার ঢাকায় ইন্টারন্যাশনাল ফাইনান্স করপোরেশনের (আইএফসি) কার্যালয়ে বাংলাদেশের গণমাধ্যম প্রতিনিধিদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় আফগান প্রতিনিধিরা এসব কথা বলেন। তাঁরা সবাই আইএফসির সহযোগিতায় গঠিত আফগানিস্তানের বিনিয়োগ পরিবেশবিষয়ক সংস্থা হরকতের পরিচালনা পর্ষদের সদস্য। এ সময় আইএফসির কর্মসূচি ব্যবস্থাপক রলা ওয়াটসন উপস্থিত ছিলেন।
হরকতের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সুলেমান ফাতিমি বলেন, আফগানিস্তানের ব্যবসা ও বিনিয়োগ পরিবেশ তৈরির জন্য সংস্থাটি কাজ করে যাচ্ছে। এই সংস্থা থেকে সরকারি ও বেসরকারি খাতকে তহবিল ও পরামর্শ দেওয়া হয়।
সুলেমান ফাতিমি জানান, আফগানিস্তানে ব্যবসা ও বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরির জন্য ভূমি সংস্কার, সরকারি বিধিবিধানের সংস্কার, দুর্নীতি রোধ ইত্যাদি কাজ খুব গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এসব ক্ষেত্রে তাঁরা বাংলাদেশের অভিজ্ঞতা জানতে ও বুঝতে চাইছেন।
এক প্রশ্নের জবাবে সুলেমান জানান, বাংলাদেশের রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকাগুলোর ব্যবস্থাপনা তাঁদের চমকৃত করেছে। আফগানিস্তানে যে শিল্পনীতি তৈরি হতে যাচ্ছে, তাতে বাংলাদেশের এই অভিজ্ঞতার আলোকে কাজ করা হবে।
হরকতের পর্ষদ সদস্য হাসান জাদে বলেন, ‘আফগানিস্তানে তিন দশকের যুদ্ধে সবকিছু কার্যত ধ্বংস হয়ে গেছে। তাই আমাদের শূন্য থেকে শুরু করতে হচ্ছে। এ জন্য বাংলাদেশের অভিজ্ঞতা সহায়ক হচ্ছে।’
হাসান জাদে আরও বলেন, ‘বাংলাদেশের মানুষ আমাদের থেকে অনেক এগিয়ে রয়েছে। আর এর মূল কারণ হলো তারা অনেক পরিশ্রমী। তারা জানে কীভাবে দক্ষতা অর্জন করতে হয়। আফগানিস্তানের মানুষেরও এগুলো শেখা প্রয়োজন।’
হাসান জাদে বাংলাদেশের তুলনামূলক সস্তা শ্রমিক অথচ শ্রম দক্ষতার প্রশংসা করেন।
আরেক সদস্য তামিম সামি বলেন, আফগানিস্তানের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্যিক যোগসূত্র আছে। ব্র্যাক সেখানে ক্ষুদ্রঋণ ও ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

শেয়ারবাজারে লেনদেন এবার ১৩০০ কোটি টাকা ছাড়াল

দেশের শেয়ারবাজারে লেনদেনের পরিমাণ অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে নতুন মাইলফলক স্পর্শ করেছে। সূচক ও বাজার মূলধনের পরিমাণও এযাবত্কালের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে রয়েছে।
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) গতকাল বুধবার মোট লেনদেন হয়েছে এক হাজার ২০১ কোটি টাকার শেয়ার, যা স্টক এক্সচেঞ্জটির ইতিহাসে এযাবত্কালের সর্বোচ্চ। এর আগে গত ২ জুলাই এক হাজার ১৪৯ কোটি টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছিল।
চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) গতকাল লেনদেন হয়েছে ১১৬ কোটি টাকার শেয়ার। সে হিসাবে দুই স্টক এক্সচেঞ্জে সম্মিলিত লেনদেনের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে এক হাজার ৩১৭ কোটি টাকার। এটি দেশের শেয়ারবাজারে এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ।
বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, বাজারে নতুন নতুন বিনিয়োগকারীর আগমনের পাশাপাশি অতিরিক্ত তারল্যপ্রবাহের কারণেই এমনটি ঘটছে। কিন্তু ভালো মৌলভিত্তির কোম্পানির দাম না বেড়ে কিছু কিছু নামসর্বস্ব কোম্পানির শেয়ারের দাম এমনভাবে বাড়ছে, এতে বাজার ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
যোগাযোগ করা হলে আইডিএলসি ফাইন্যান্সের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক আরিফ খান প্রথম আলোকে বলেন, ‘সাম্প্রতিক সময়ে বাজারে এমন অনেক কোম্পানির দাম বেড়েছে, যেগুলোর ব্যবস্থাপনা কিংবা নগদ অর্থের প্রবাহ কোনোটিই সন্তোষজনক নয়। কিন্তু কেবল মূলধনের আকার কম হওয়ায় শেয়ারের মূল্য নিয়ন্ত্রণ করা সহজ বলে বিনিয়োগকারীদের একটা বড় অংশ সেই দিকেই বেশি ঝুঁকছে। আর নতুন নতুন বিনিয়োগকারীও এতে প্রলুব্ধ হচ্ছে।’
আরিফ খান বলেন, ব্যাংকের সুদের হার কম থাকার বিষয়টি লেনদেনের পরিমাণকে কিছুটা প্রভাবিত করছে ঠিকই; তবে এর বাইরে কিছু বড় বিনিয়োগকারী শেয়ারের দর ধরে রাখতে লেনদেনের পরিমাণ বাড়িয়ে দিয়েছে। তাই লেনদেনের এ পরিমাণকে খুব স্বাভাবিক বলে মনে হয় না।
আরিফ খান আরও বলেন, তবে বাজারে এখনো ব্যাংক, বিদ্যুত্সহ ভালো মৌলভিত্তির প্রচুর কোম্পানি রয়েছে, যেগুলোতে বিনিয়োগ করার যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে।

মার্চেন্ট ব্যাংকগুলোকে সহযোগী প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর করতে হবে

পৃথক সাবসিডিয়ারি বা সহযোগী কোম্পানি গঠন ছাড়া ব্যাংকগুলো মার্চেন্ট ব্যাংকিং কার্যক্রম চালাতে পারবে না। আর মার্চেন্ট ব্যাংক হিসেবে সহযোগী প্রতিষ্ঠান গঠনের আগেই বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন নিতে হবে।
অন্যদিকে ইতিমধ্যে যেসব ব্যাংক মার্চেন্ট ব্যাংকিং কার্যক্রম চালাচ্ছে, তাদের ২০১০ সালের জানুয়ারির মধ্যেই নিয়ম মেনে এই বিভাগকে পৃথক সহযোগী প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর করতে হবে।
বাংলাদেশ ব্যাংক গতকাল বুধবার সার্কুলার দিয়ে দেশে কার্যরত সব ব্যাংক কোম্পানির মার্চেন্ট ব্যাংকিংবিষয়ক নতুন নীতিমালার এ নির্দেশ জারি করেছে। তবে এই নির্দেশ কেবল দেশে কার্যরত সব ব্যাংক কোম্পানির জন্য প্রযোজ্য। ব্যাংকের মালিকানার বাইরে যেসব মার্চেন্ট ব্যাংক রয়েছে, তাদের জন্য এ নির্দেশ কার্যকর হবে না।
সাম্প্রতিককালে বেশ কয়েকটি ব্যাংক কোম্পানি আইন-১৯৯১-এর বিধান লঙ্ঘন করে তাদের মার্চেন্ট ব্যাংক বিভাগের মাধ্যমে পুঁজিবাজারে বিপুল পরিমাণ অর্থ বিনিয়োগ করে। এতে ব্যাংকের আমানতকারীদের স্বার্থ বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দেয়। কেন্দ্রীয় ব্যাংক এ পরিস্থিতিতে ব্যাংকগুলোকে আইনি বিধান স্মরণ করিয়ে সতর্ক করে দেয়।
কিন্তু ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) কর্তৃপক্ষের প্রভাবে বাংলাদেশ ব্যাংক কিছুটা দ্বিধায় পড়ে। এ নিয়ে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনকে (এসইসি) সঙ্গে নিয়ে ডিএসইর নেতারা এক দফা কেন্দ্রীয় ব্যাংকে গিয়ে শেয়ারবাজারে মূল্যপতনের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের পদক্ষেপকে দায়ী করেন।
বাংলাদেশ ব্যাংকও ডিএসইর নেতাদের প্রভাব ও শেয়ারবাজার পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে আইনি বাধ্যবাধকতার বিষয়ে নমনীয় থাকে। ফলে এখনো অনেক ব্যাংক তাদের মার্চেন্ট ব্যাংকের মাধ্যমে সীমাতিরিক্ত শেয়ারে বিনিয়োগ রেখেছে বলে বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছে।
উল্লেখ্য, ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১-এর ২৬(২) ধারা অনুসারে কোনো বাণিজ্যিক ব্যাংক তার পরিশোধিত মূলধন ও সংরক্ষিত তহবিল মিলে ৩০ শতাংশ বা কেবল পরিশোধিত মূলধনের ৩০ শতাংশ—এই দুইয়ের মধ্যে যেটি কম, তার চেয়ে বেশি পরিমাণ অর্থ শেয়ারে বিনিয়োগ করতে পারে না।
আবার আইনের একই ধারায় আরও বলা আছে, কোনো ব্যাংকের ধারণকৃত শেয়ারের পরিমাণ তার মোট দায়ের (আমানত হলো ব্যাংকের দায়) ১০ শতাংশের বেশি হতে পারবে না।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নতুন নীতিমালা অনুযায়ী, শেয়ারের স্বয়ংক্রিয় সংরক্ষণ ব্যবস্থার (সিডিবিএল) অমনিবাস (একটি হিসাবে অনেক ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের সংশ্লিষ্টতা) হিসাবে ব্যাংকগুলোর মার্চেন্ট ব্যাংক তাদের নিজস্ব পোর্টফোলিওতে কিংবা গ্রাহকের বিনিয়োগ বা মার্জিন হিসাবে কোনো একক তালিকাভুক্ত কোম্পানির সর্বমোট ১৫ শতাংশের বেশি শেয়ার ধারণ করলে ওই কোম্পানিকে ঋণ বা অগ্রিম দেওয়ার আগে ব্যাংকটিকে বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন নিতে হবে।
কোনো সহযোগী কোম্পানি (মার্চেন্ট ব্যাংক) তার নিজস্ব পোর্টফোলিওতে অথবা গ্রাহকের মার্জিন হিসাবে ব্যাংক বা তার পরিচালক অথবা পরিচালকদের পরিবারের সদস্যরা কোনো তালিকাভুক্ত কোম্পানির পরিচালক থাকলে সেই কোম্পানির শেয়ার কিনতে পারবেন না। পরিবারের সদস্য বলতে পরিচালকের স্বামী/স্ত্রী, ছেলে-মেয়ে ও তাঁর ওপর নির্ভরশীল সব ব্যক্তিকে বোঝানো হয়েছে।
বাংলাদেশ হিসাব মান-২৭ অনুসারে ব্যাংককে তাদের বার্ষিক ও ষাণ্মাষিক আর্থিক প্রতিবেদনে ব্যাংক ও সহযোগী মার্চেন্ট ব্যাংকের পৃথক এবং একীভূত আর্থিক বিবরণী অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।
ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১-এর ২৬(১)(চ) ও ৪৫(১) ধারার ক্ষমতাবলে বাংলাদেশ ব্যাংক এই নির্দেশ জারি করেছে।

বিসিবি সভাপতির আইসিসি-অভিজ্ঞতা

‘হোম অ্যান্ড অ্যাওয়ে’ ব্যাপারটাকে একটু বদলে দিয়েছে আইসিসি। সেটা এখন ‘হোম অর অ্যাওয়ে’। অর্থাত্ বিশেষ পরিস্থিতিতে দ্বিপক্ষীয় কোনো সিরিজ হতে পারবে তৃতীয় কোনো নিরপেক্ষ ভেন্যুতেও। আইসিসির বোর্ড সভা থেকে ফিরে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) সভাপতি আ হ ম মোস্তফা কামাল জানিয়েছেন, দেশের বাইরে আরও বেশি ম্যাচ খেলার জন্য এখন থেকে ‘হোম অর অ্যাওয়ে’র সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করবে বাংলাদেশ। বিসিবির নতুন সভাপতি মোস্তফা কামাল গত সপ্তাহে জোহানেসবার্গে অনুষ্ঠিত সভাতেই যোগ দেন প্রথম।
গত মার্চে লাহোরে শ্রীলঙ্কা দলের ওপর সশস্ত্র হামলার পর থেকে পাকিস্তান আন্তর্জাতিক দলগুলোর কাছে পরিত্যাজ্য। এমন পরিস্থিতিতেই ‘হোম অর অ্যাওয়ে’ এলেও মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে টি-টোয়েন্টি লিগের উদ্বোধন করতে এসে বোর্ড সভাপতি জানিয়েছেন, ইংল্যান্ড-অস্ট্রেলিয়ার মতো যেসব দেশ আর্থিক লাভের কথা চিন্তা করে বাংলাদেশকে আতিথেয়তা দিতে আপত্তি জানায় সেসব দেশের ক্ষেত্রেও নতুন এই ব্যবস্থার সুবিধা নিতে চেষ্টা করবে তারা। পাকিস্তান, অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে দুবাই বা মালয়েশিয়ায় অতিরিক্ত সিরিজ খেলার পরিকল্পনা আছে। আর ভারতে বাংলাদেশের পূর্ণাঙ্গ সিরিজের ব্যাপারে মোস্তফা কামাল জানিয়েছেন, আগামী ৯ নভেম্বর মুম্বাইয়ে অনুষ্ঠেয় বিশ্বকাপ সভার এক ফাঁকে শারদ পাওয়ারের সঙ্গে এসব দ্বিপক্ষীয় বিষয় নিয়ে কথা বলবেন। বাংলাদেশে ক্রিকেটের জনপ্রিয়তা বাড়ানো নতুন বোর্ড সভাপতির স্লোগানগুলোর একটা। দক্ষিণ আফ্রিকার সাবেক ক্রিকেটার জন্টি রোডসকে পাশে পাচ্ছেন তিনি এই কাজে, ‘কোচিং প্যানেলের বর্তমান ফরম্যাটটা ঠিক রেখেই নতুন একটা চিন্তা করছি আমরা। বিভিন্ন দেশের বড় বড় ক্রিকেটারকে এনে আমরা বাংলাদেশের বিভিন্ন জায়গায় তাঁদের নিয়ে যাব। তাঁরা জাতীয় দলের ক্রিকেটারদের পাশাপাশি স্থানীয় ক্রিকেটারদের কাউন্সেলিং করবেন। জন্টি রোডসের সঙ্গে এ ব্যাপারে কথা হয়েছে। তিনি আসতে রাজিও হয়েছেন।’
দক্ষিণ আফ্রিকায় আরও একটা কাজ করে এসেছেন বোর্ড সভাপতি। একাডেমি পর্যায়ে বাংলাদেশ এবং দক্ষিণ আফ্রিকার মধ্যে সফর বিনিময় বাড়ানোর কথা হয়েছে। দুই দেশের ক্রিকেটাররা যাতে দুই দেশের লিগে খেলতে পারেন, আলোচনা হয়েছে সে ব্যাপারেও।

সিদ্ধান্ত পিসিবির হাতে ছেড়ে দিলেন ইউনুস

পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) কোর্টে বল ঠেলে দিয়েছেন ইউনুস খান। তবে তিনি অধিনায়ক থাকবেন কি না, সেটা নির্ভর করছে পিসিবির উদ্যোগের ওপর। ‘আমি আমার পদত্যাগপত্র জমা দিয়ে দিয়েছি। এখন এটা তাদের দায়িত্ব পরবর্তী দায়িত্ব পালন করা’—বিবিসি উর্দুকে দেওয়া সাক্ষাত্কারে বলেছেন ইউনুস।
এদিকে নতুন গুজব, চ্যাম্পিয়নস ট্রফি শেষে দেশে ফেরার পর পিসিবি সভাপতি ইজাজ বাটের সঙ্গে অধিনায়কত্ব নিয়ে বৈঠক হয়েছিল শহীদ আফ্রিদির। ইউনুস এ কারণেই সরে দাঁড়াতে চান। তবে কাল তিনি পরিষ্কার জানালেন, তাঁর সিদ্ধান্তের সঙ্গে আফ্রিদি-বাটের কথিত বৈঠকের কোনো সম্পর্ক নেই। তাঁকে আহত করেছে চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে তাদের বিরুদ্ধে তোলা ম্যাচ পাতানোর অভিযোগ।
পাকিস্তানের মতো একটা অস্থিতিশীল দেশের ক্রিকেটে নেতৃত্ব নেওয়া মানে বিশাল এক চাপ নেওয়া। সঙ্গে কিছু কর্মকর্তার সঙ্গে নীতিনির্ধারকদের অসহযোগিতা, অন্তর্দ্বন্দ্ব মিলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়। অতীত অভিজ্ঞতার কারণে বরাবরই এই দায়িত্ব নিতে নিমরাজি ছিলেন ইউনুস। একবার সহ-অধিনায়কের পদ থেকে সরেও দাঁড়িয়েছেন। ২০০৭ বিশ্বকাপের পর নেতৃত্ব গ্রহণে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। কিন্তু বোর্ডে নতুন পরিচালনা পর্ষদ আসায় মত পাল্টে অধিনায়কের দায়িত্ব নেন। দলকে ভালোভাবে নেতৃত্বও দিচ্ছিলেন। তাঁর নেতৃত্বেই ১৯৯২ বিশ্বকাপের পর বড় কোনো শিরোপা জেতে পাকিস্তান (গত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ)।
এভাবে ম্যাচ পাতানোর অভিযোগ তোলা মানে সব পরিশ্রম, আত্মত্যাগকে কলুষিত করা। আর সে কারণেই তাঁর সরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত, ‘গত ছয়-আট মাসে কী কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে যেতে হয়েছে, সেটা শুধু আমি জানি। প্রতিদিন দলকে সামলানো, টিম ম্যানেজমেন্টের সঙ্গে আলোচনা, এর পর পুরো দেশ তো আছেই। এই সময়টায় আমাকে কত ত্যাগই না স্বীকার করতে হয়েছে। অথচ এত কিছুর পরও ম্যাচ পাতানোর অভিযোগ এল আমাদের বিরুদ্ধে! পাঠান হিসেবে এটা মেনে নেওয়া কষ্টকর। লোকজন, আমার বন্ধুবান্ধব, পরিবারের কাছ থেকে আমি লুকিয়ে ছিলাম, যেন আমি মহাপাপ করে ফেলেছি।’
ইউনুস জানালেন, দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে ফেরার পরের ঘটনাপ্রবাহ তাঁর হূদয়কে ক্ষতবিক্ষত করেছে, ‘এটা খুবই বেদনাদায়ক ছিল। কারণ আমি দেশের হয়ে খেলি গৌরবের জন্য, টাকার জন্য নয়।’ আগের দিনই জানিয়েছিলেন, কথায় কথায় দেশের সংসদীয় কমিটির সামনে হাজির হওয়ার রেওয়াজটাও ভালো লাগছে না তাঁর।
সংসদীয় কমিটির সামনে পদত্যাগপত্র নিয়েই উপস্থিত হয়েছিলেন ইউনুস। যদিও তাঁর পদত্যাগপত্র এখনো গৃহীত হয়নি। ইজাজ বাট জানিয়েছেন, তাঁদের ধারণা, এ সিদ্ধান্ত আবেগ থেকে নেওয়া। ইউনুসকে তাঁরা বুঝিয়ে-সুজিয়ে আবার রাজি করাবেন।
ম্যাচ পাতানোর অভিযোগ তুলে সংসদীয় কমিটির প্রধান জামশেদ খান দাস্তি কোণঠাসা অবস্থায়। আগে জানিয়েছিলেন, সরাসরি ম্যাচ পাতানোর অভিযোগ তিনি তোলেননি। তাঁর বক্তব্য ভুলভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। এখন দাস্তির দাবি, ভারতের মিডিয়াই পাকিস্তানের ক্রিকেটকে ধ্বংস করতে উদ্দেশ্যমূলকভাবে উদ্ভূত পরিস্থিতির সদ্ব্যবহার করছে!
এদিকে ইউনুস পদত্যাগপত্র জমা দেওয়ায় পাকিস্তানজুড়ে শুরু হয়েছে বিক্ষোভ। দেশটির প্রভাবশালী রাজনৈতিক দল মুত্তাহিদা কায়েমি আন্দোলন কাল হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছে, ইউনুসকে তাঁর দায়িত্বে বহাল করা না হলে দেশজুড়ে প্রতিবাদ সমাবেশের ডাক দেওয়া হবে।

আবাহনীরও টাইব্রেকার-ভাগ্য

জয়ের পর আবাহনীর ঘানাইয়ান স্ট্রাইকার শেরিফ
ইনজুরি সময় ছিল তিন মিনিট। ঠিক তৃতীয় মিনিটের খেলা চলছিল। তখন পর্যন্ত ম্যাচে আবাহনীর অগ্রগামিতা ১-০ গোলে। শেষ বাঁশির আগ মুহূর্তে গোল করে ফেলল শেখ রাসেল। ১-১!
তিন দিন আগে একই পরিস্থিতির শিকার হয়েছিল আরেক পরাশক্তি মোহামেডান। টাইব্রেকার-ভাগ্যে উতরে গেছে সাদা-কালোরা। পরদিন রহমতগঞ্জকে ট্রাইব্রেকারে হারিয়ে নবাগত ফেনী সকার জায়গা পেয়েছে শেষ চারে। এক দিন বাদেই আবার সেই টাইব্রেকার। এবার ৩-১ ব্যবধানে জিতে সেমিফাইনালে উঠল আবাহনী।
জয়টা রুদ্ধশ্বাস, আর তাতে ৮ বছর পর ফেডারেশন কাপের শিরোপা ঘরে তোলার আশাটা বাঁচিয়ে রাখতে পারল আবাহনী। গ্রুপিং দেখেই পরিষ্কার ছিল, দেশের জনপ্রিয়তম দুই দল আবাহনী-মোহামেডানকে ফাইনালের মঞ্চেই চায় আয়োজকেরা। কাল আবাহনী হেরে গেলে সেই আশায় পড়ত হতাশার আস্তরণ। তবে টাইব্রেকার-ভাগ্যে জিতে সেটি হতে দেয়নি আবাহনী।
গোল খাওয়ার পর টাইব্রেকারে জয়—গোটা ব্যাপারটা মাত্র ১৫ মিনিটেই শেষ। এই পর্বে আবাহনীর যাবতীয় চিন্তা দূর করে দেন শেখ রাসেলের খেলোয়াড়েরাই। যার শুরুটা করেছেন ঘানাইয়ান ডিফেন্ডার আব্বাস। টাইব্রেকারের তাঁর নেওয়া প্রথম শটটিই সাইড পোস্টের অনেক বাইরে। দ্বিতীয় শটে আবদুল্লাহ পারভেজ গোল করলেও মারুফের নেওয়া তৃতীয় শট আটকে দিয়েছেন আবাহনী গোলরক্ষক বিপ্লব। জহিরুল চতুর্থ শট তুলে দিয়েছেন আকাশে। চারটি শটের মাত্র একটি গোল—স্নায়ুর পরীক্ষায় রাসেলের খেলোয়াড়েরা পাস নম্বরও পেলেন না।
ম্যাচে যা-ই ঘটুক, টাইব্রেকারে আবাহনীর খেলোয়াড়েরা ছিলেন ধীরস্থির। সামাদ, শেরিফ তার পর এমানুল। তিনজনই গোল করায় ম্যাচের দাবি অনুযায়ী চতুর্থ শটটি আর নেওয়াই দরকার হয়নি।
৩৩ মিনিটে এগিয়ে যায় আবাহনী। গোলটা ছিল দেখার মতো। তবে গোলদাতা নিয়ে একটু বিভ্রান্তি রয়ে গেছে। বাঁ দিক দিয়ে রাসেল বক্সে ঢুকে মাইনাস করেন মিডফিল্ডার উজ্জ্বল। প্রেসবক্স থেকে মনে হয়েছে সেই বল ফ্লিক করে জালে ঠেলেছেন শেরিফ দীন মোহাম্মদ। গোল উদ্যাপনও করেছেন নবাগত ঘানাইয়ান স্ট্রাইকার। তবে রেফারি গোল দিয়েছেন উজ্জ্বলের নামে। রেফারির দাবি, শেরিফের পায়ে বল লাগেনি, বল ক্লিয়ার করতে গিয়ে রাসেল ডিফেন্ডার কামালই নিজেদের জালে পাঠিয়েছেন। শেষ পাসটা যেহেতু উজ্জ্বলের, তাই তাঁকেই দেওয়া হয়েছে গোল!
দ্বিতীয়ার্ধে আবাহনীর চেয়ে ভালো খেলেছে রাসেল। গোল শোধ করার জন্য আবাহনীর ওপর চাপ তৈরি করেছে তারা ক্রমাগত। স্ট্রাইকার রনি-ইউসুফরা চেষ্টা করলেও আবাহনীর রক্ষণ-দেয়ালেই তারা আটকে গেছে। গ্রুপ পর্বের চেয়ে রাসেলের খেলার ধার যথেষ্টই বেশি ছিল এদিন। সিলেট বিয়ানীবাজারের কাছে গ্রুপ পর্বে তিন গোল খাওয়ার ক্ষত শুকানোর পণ করেই হয়তো মাঠে নেমেছিল শেখ রাসেল।
মাঠটা ভালো ছিল। এই মাঠে আবাহনীর কাছে গোছানো ও আক্রমণাত্মক ফুটবল দেখার আশায় বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামের গ্যালারিতে ছিল ৬-৭ হাজার দর্শক। কিন্তু সমর্থকেরা হতাশ আবাহনীর খেলায়। তাদের মাঝমাঠ ছিল অগোছাল। একজন নেতা নেই, যিনি খেলাটা তৈরি করবেন। স্ট্রাইকিংয়ে ইব্রাহিমের সঙ্গে তাঁরই স্বদেশি শেরিফ দীন মোহাম্মদ মাত্র দ্বিতীয় ম্যাচ খেললেন। পায়ের কাজ ভালো, তবে দলের সঙ্গে মানিয়ে নিতে সময় লাগছে তাঁর। আবাহনীর রক্ষণটা ভালোই খেলছিল। তবে ওই রক্ষণের ভুলেই গোল খেতে হয়েছে অন্তিম সময়ে। সামাদ-রজনীর মাঝখান দিয়ে রনিকে বল বের করে দেন মোবারক, সেই বল প্লেসিং করেন রনি। সামাদ বল ক্লিয়ার করতে পারেননি, যার খেসারত ওই গোল।
আবাহনী কোচ অমলেশ সেন ম্যাচের পর মনঃসংযোগের অভাব আর মাঝমাঠের সমন্বয়হীনতাকেই দায়ী করলেন। হারলেও রাসেল কোচ কামাল বাবু খুশিই ছিলেন তাঁর দলের খেলায়।

তামিম-বিনোদনে শুরু টি-টোয়েন্টি লিগ

টি-টোয়েন্টি বিনো-দনের ক্রিকেট হলেও শুধু ক্রিকেটীয় বিনোদনে মন ভরতে চাইল না অনেকের। আইসিএল-আইপিএল তাই ক্রিকেটকে দেখাল চিয়ারলিডার নৃত্য। চট্টগ্রামের পিসিএলের পর কাল থেকে শুরু বিগ বস প্রিমিয়ার ডিভিশন টি-টোয়েন্টি লিগে ভর করে লোলিত মোদির মন্ত্র বাংলাদেশে ঢুকে পড়ল সহজেই। কিন্তু সেটার রূপ যে অনেকটা বলিউডি নৃত্যের ঢালিউডি সংস্করণের মতোই! ভাগ্য ভালো, মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে কাল লিগের উদ্বোধনী দিনে কিছু ক্রিকেটীয় বিনোদনও উপহার দিলেন মোহামেডানের বাঁহাতি ওপেনার তামিম ইকবাল। মোদির চিয়ারলিডার ভাবনার অহেতুক বঙ্গীয় অনুবাদ বিনোদন প্রতিযোগিতা তার ত্রিসীমানায় ঢুকতে পারেনি।
তামিমের মারকাটারি ব্যাটিংয়ে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন মোহামেডান ভিক্টোরিয়াকে হারিয়েছে ৫৩ রানে। মিরপুরের দিবারাত্রি ম্যাচে আবাহনী ৩ উইকেটে জিতেছে কলাবাগানের বিপক্ষে। দিনের অন্য ম্যাচগুলোয় বিমান ৮ উইকেটে বিকেএসপিকে, খেলাঘর ২৩ রানে পারটেক্সকে, সূর্যতরুণ ৭ উইকেটে ওল্ড ডিওএইচএসকে ও গাজী ট্যাংক ৮৩ রানে সিসিএসকে হারিয়েছে।
অসুস্থ শরীর নিয়েও তামিম তামিমই। টসে হেরে আগে ব্যাট করতে নেমে মোহামেডানের দলীয় স্কোর যখন বিনা উইকেটে ৬০ রান, তামিমের নিজের রানও ঠিক ৬০-ই! অবিশ্বাস্য হলেও সত্যি—ইনিংসের ষষ্ঠ ওভারের শেষ বলে তামিম আউট হওয়া পর্যন্ত সঙ্গী ওপেনার শামসুর রহমানের ব্যাট বা অতিরিক্ত থেকে আসেনি ১ রানও। মাত্র ২৩ বলে ফিফটি আর ২৬ বলে ৬০ রানের তামিমীয় ইনিংসে বাউন্ডারি ১৩টি। ম্যান অব দ্য ম্যাচের পুরস্কার এনে দেওয়া ইনিংসটা খেলার একপর্যায়ে হ্যামস্ট্রিংয়ের ব্যথায় রানার নিতে বাধ্য হয়েছেন। তার পরও গ্যালারির দেড়-দুই হাজার দর্শকের সামনে তামিম-প্রদর্শনী শেষ হলো রান আউটে। তামিমের পর শামসুর (৪৮ বলে ৪২), আফতাব আহমেদ (১৭ বলে ৩০) ও মোহাম্মদ আশরাফুলের (২৪ বলে ২৩) সৌজন্যে ৪ উইকেটে ১৭৪ রান করেছিল মোহামেডান। জবাবে ৭ উইকেটে ১২১ রান করেছে ভিক্টোরিয়া। মোহামেডানের নাবিল সামাদ ১৬ রানে নিয়েছেন ২ উইকেট।
দুপুরের দেড়-দুই হাজার দর্শক ফ্লাডলাইটের আলোয় ৫ হাজার ছাড়িয়েছিল। কিন্তু আবাহনী এ ম্যাচে জয় উপহার দিল সমর্থকদের স্নায়ুচাপে রেখে। কলাবাগানের ৯ উইকেটে করা মামুলি ১০৭ রানের জবাবে ৮২ রানেই তারা হারায় ৬ উইকেট। শেষ রক্ষা হয় নাসির হোসেনের ২৩ বলে অপরাজিত ২২ রানে। শেষ পর্যন্ত ৯ বল বাকি থাকতেই জয় পেয়েছে আবাহনী। কলাবাগানের এনামুল হক জুনিয়র ও ফরিদ উদ্দিন ২টি করে উইকেট নিয়েছেন। এর আগে অধিনায়ক জাভেদ ওমর সর্বোচ্চ ২৬ রান করেছেন ৩৮ বল খেলে।
ধানমন্ডি ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত সকালের ম্যাচে ১৮.৫ ওভারে বিকেএসপির করা ১০৭ রান মাত্র ২ উইকেট হারিয়ে এক ওভার আগেই টপকে গেছে বিমান। বিকেএসপির সৌম্য সরকার ৪৫ বলে করেছেন ৬১ রান। তবে ম্যান অব দ্য ম্যাচ ৪৯ বলে ৬২ রান করা বিমানের মেহরাব হোসেন জুনিয়র। বিমানের ইলিয়াস সানি ৩ ও তালহা জুবায়ের ২টি উইকেট নিয়েছেন। এ মাঠে দিনের অন্য ম্যাচে সূর্যতরুণ ১২.৪ ওভারে জয় পেয়ে গেছে ওল্ড ডিওএইচেসের (৮৯/৭) বিপক্ষে। ১৮ রানে ২ উইকেট নিয়ে ম্যান অব দ্য ম্যাচ সূর্যতরুণের ইমতিয়াজ।
ফতুল্লায় দুপুরের ম্যাচে আইসিএল-ফেরত নাজিমউদ্দিন (২৮ বলে ৬০) ও অলক কাপালি (২০ বলে ৪৮) এবং মোহাম্মদ মিঠুনের (২৭ বলে ৫৫) ব্যাটিংয়ে ৫ উইকেটে ২১৫ রান করেছিল গতবারের রানার্সআপ গাজী ট্যাংক। জবাবে উত্তম সরকারের ৪৩ বলে ৫৩ রানের পরও সিসিএস ৮ উইকেটে করেছে ১৩২ রান। গাজীর অলক ব্যাটিংয়ের পর বল হাতে ৩ উইকেট নিয়ে ম্যান অব দ্য ম্যাচ। ফরহাদের উইকেট ২টি।
এ মাঠে সকালের ম্যাচে খেলাঘরের ৫ উইকেটে করা ১২৮ রানের জবাবে ১৮.৪ ওভারে ১০৫ রানে অলআউট হয়েছে পারটেক্স। ১১ রানে ৩ উইকেট নিয়ে ম্যান অব দ্য ম্যাচ খেলাঘরের মনিরুল ইসলাম।

উরুগুয়েকে ১-০ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপে চলে গেল আর্জেন্টিনা

প্লে-অফের ঝক্কি আর পোহাতে হলো না আর্জেন্টিনাকে। কোচ হিসেবেও নিজের খেলোয়াড়ি সুনাম অক্ষুণ্ন রাখলেন আর্জেন্টিনাকে অধিনায়ক হিসেবে ’৮৬-এর বিশ্বকাপ জেতানো ডিয়েগো ম্যারাডোনা। আগামী বছর দক্ষিণ আফ্রিকায় অনুষ্ঠিতব্য বিশ্বকাপ ফুটবলের চূড়ান্ত পর্বে নিজেদের জায়গা নিয়ে আর্জেন্টিনার যে অনিশ্চয়তা ছিল তা একেবারেই কেটে গেল আজ উরুগুয়েকে ১-০ গোলে হারিয়ে। এ জয়ের অর্থ আর্জেন্টিনা বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে দক্ষিণ আমেরিকা অঞ্চলের চতুর্থ দল হিসেবে সরাসরি দক্ষিণ আফ্রিকার টিকেট হাতে নিল।
উরুগুয়ের বিপক্ষে ম্যাচটি নিয়ে সংশয়ে ছিল আর্জেন্টাইন সমর্থকেরা। গোল করতে না পারার ব্যর্থতা, আর কয়েকজন তারকাকে মাঠের পারফরম্যান্সে চিনতে না পারায় উরুগুয়ের বিপক্ষে জিতবই—এমন কথা জোর দিয়ে বলতে পারছিলেন না অনেক কট্টর আর্জেন্টাইন সমর্থকেরাও। কিন্তু সব সংশয় আর অনিশ্চয়তাকে পেছনে ফেলে ফুটবলের মুকুটহীন রাজপুত্র ম্যারাডোনা কোচ হিসেবে খাদের কিনারা থেকে আর্জেন্টিনাকে নিয়ে গেলেন বিশ্বকাপের চূড়ান্ত পর্বে।
আজ বৃহস্পতিবার উরুগুয়ের বিপক্ষে ম্যাচে আর্জেন্টিনার পক্ষে জয়সূচক গোলটি করেন ম্যারাডোনার আরেক ‘সুপারসাব’ মারিও বোলাত্তি। আর্জেন্টিনার পক্ষে মাত্র তৃতীয় ম্যাচ খেলতে নেমে বোলাত্তি গোল করে আর্জেন্টিনাকে নিয়ে গেলেন বিশ্বকাপে। আজ ম্যারাডোনা নিশ্চয়ই বোলাত্তিকে আবেগময় অভিনন্দনে ভাসাচ্ছেন। খেলা শেষ হওয়ার মাত্র ছয় মিনিট বাকি থাকতে হুয়ান সেবাস্টিয়ান ভেরনের ফ্রি-কিক উরুগুয়ের রক্ষণভাগ ঠিকমতো ফেরাতে ব্যর্থ হলে সুযোগ পেয়ে উরুগুয়ের জালে বল জড়িয়ে দেন বোলাত্তি।
কোচ হওয়ার পর থেকে দল পরিচালনা ও খেলোয়াড় বাছাই নিয়ে যে রকম সমালোচনার শিকার হয়েছিলেন ’৭০ সালের পর এই প্রথম বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের বাধা ডিঙাতে ব্যর্থ হলে আর্জেন্টিনা ফুটবলের দৃশ্যপট থেকেই হয়তো বিদায় নিতে হতো ডিয়েগো ম্যারাডোনার। কিন্তু পেরুকে মার্টিন পালের্মোর গোলে যখন শেষ মুহূর্তে আর্জেন্টিনা হারালো, তখনই মানসিকভাবে বিশ্বকাপের পথে অনেকদূর এগিয়ে গিয়েছিল আর্জেন্টিনা। আজ কেবল উরুগুয়ের সঙ্গে না-হারার লড়াইয়ে জয় নিয়েই উতরে গেল তারা। সেই সঙ্গে রক্ষা হলো ডিয়েগো ম্যারাডোনার সম্মান আর নিশ্চিত হলো আর্জেন্টিনার দক্ষিণ আফ্রিকার টিকেট।
আজ রাতে হয়তো অনেক দিন পর ডিয়েগো ম্যারাডোনা নিশ্চিন্তে ঘুমোবেন।

জিম্বাবুয়ে দু-তিন বছরের মধ্যেই টেস্ট ক্রিকেটে ফিরবে: ক্যাম্পবেল

জিম্বাবুয়ের সাবেক ক্রিকেট তারকা ও বর্তমানে দেশটির জাতীয় নির্বাচক অ্যালিস্টার ক্যাম্পবেল মনে করেন, আগামী দুই থেকে তিন বছরের মধ্যে জিম্বাবুয়ে টেস্ট ক্রিকেটে ফিরে আসবে। ২০০৪ সাল থেকে নানাবিধ সংকটে বিপর্যস্ত জিম্বাবুয়ের ক্রিকেট এখন সঠিক পথে চলছে বলে মনে করেন ক্যাম্পবেল। ২০০৪ সালে হিথ স্ট্রিককে অধিনায়কত্ব থেকে বাদ দেওয়ার মধ্য দিয়ে জিম্বাবুয়ের ক্রিকেট-সংকট দেখা দেয়। এর পরপরই শীর্ষস্থানীয় ১৫ জন খেলোয়াড় জিম্বাবুয়ে ক্রিকেটের চুক্তি বাতিল করেন। ২০০৬ সালে দলটি নবীন খেলোয়াড়দের নিয়ে এতটাই দুর্বল হয়ে পড়ে যে জিম্বাবুয়ে ক্রিকেটই নিজেদের টেস্ট ক্রিকেট থেকে প্রত্যাহার করে নেয়। অ্যালিস্টার ক্যাম্পবেল মনে করেন, কেবল ক্রিকেটজ্ঞানহীন কিছু মানুষই সে সময়ের বিপর্যয়ের জন্য দায়ী। পুরো ব্যাপারটি আরও পেশাদারি মনোভাব নিয়ে মোকাবিলা করা গেলে জিম্বাবুয়ের ক্রিকেট এমন বিপর্যয়ের মুখে পড়ত না। তবে ক্যাম্পবেল বলেন, ‘দেরিতে হলেও জিম্বাবুয়ের ক্রিকেটে সে সময়ের চেয়ে অনেক পরিবর্তন এসেছে। এ দেশের ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রণ ফিরে এসেছে সঠিক লোকজনের হাতে।’
জিম্বাবুয়ে ক্রিকেট দলে খেলোয়াড় নির্বাচন করতে গিয়ে এখন প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে প্রতিভাকে, অন্য কোনো বিষয় নয়। ২০০৪ সালের দিকে জিম্বাবুয়ে সরকার জনসংখ্যা অনুপাতে কৃষ্ণাঙ্গ খেলোয়াড়দের জন্য জাতীয় ক্রিকেট দলে নির্দিষ্ট কোটা চালু করে। সে সময় অনেক শ্বেতাঙ্গ খেলোয়াড়ের প্রতিভা থাকা সত্ত্বেও তাঁদের দল থেকে বাদ দেওয়া হয়। অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, ইংল্যান্ডের মতো আইসিসির প্রভাবশালী সদস্যদেশগুলো জিম্বাবুয়ের বিরুদ্ধে সরাসরি বর্ণবাদের অভিযোগ আনে।
অ্যালিস্টার ক্যাম্পবেল মনে করেন, সামগ্রিকভাবেই জিম্বাবুয়ের ক্রিকেটে অনেক পরিবর্তন ঘটেছে। তিনি এ ক্ষেত্রে উন্নতিই বেশি দেখছেন। তিনি মনে করেন, ‘একসময় মাত্র ২০০-৩০০ রেজিস্টার্ড ক্রিকেটারদের মধ্য থেকে জিম্বাবুয়ের ক্রিকেটে দল নির্বাচন করা হতো। এখন আমরা সেই অবস্থা থেকে অনেকটাই বেরিয়ে এসেছি।’ ইতিমধ্যেই জিম্বাবুয়ের ঘরোয়া ক্রিকেটের ছয়টি দলকে ফ্র্যাঞ্চাইজে পরিবর্তন করা হয়েছে। ঘরোয়া ক্রিকেটকে ঢেলে সাজানোর এবং আকর্ষণীয় করার অনেক প্রয়াসই নেওয়া হয়েছে। অ্যালিস্টার ক্যাম্পবেল মনে করেন, জিম্বাবুয়ে পুরোপুরি তৈরি হয়েই টেস্ট ক্রিকেটে প্রত্যাবর্তন করবে। এবং তা আগামী দু-তিন বছরের মধ্যেই।