Saturday, December 5, 2015
স্বৈরাচার ও সন্ত্রাসীরা এক হয়ে গণতন্ত্র ধ্বংসের খেলায় মেতেছে : খালেদা জিয়া
স্বৈরাচার পতন দিবস উপলক্ষে আজ শনিবার দেয়া এক বাণীতে তিনি একথা বলেন।
বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, সব দলের মিলিত ইচ্ছায় যে নিরপেক্ষ, নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল তা বর্তমান সংবিধান থেকে মুছে দিয়েছে। বিনা ভোটের এ সরকার সংবিধানে বর্ণিত জনগণের মৌলিক অধিকার সম্পূর্ণভাবে হরণ করেছে। দেশে আজ গণতন্ত্রের বিন্দুমাত্র চিহ্ন নেই, মানুষের জান-মালের নিরাপত্তা নেই। যে স্বপ্ন নিয়ে এদেশের মানুষ ’৯০ সালে স্বৈরশাসনের অবসান ঘটিয়েছিল, সেই স্বপ্ন আজ কর্তৃত্ববাদী সরকার তছনছ করে দিয়ে মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের চেতনার সাথে বেঈমানী করছে।
’৯০-এর চেতনায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে গণতন্ত্র পূণ:প্রতিষ্ঠার নতুন সংগ্রামে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহবান জানান বেগম জিয়া।
তিনি বলেন, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে ৬ ডিসেম্বর জাতীয় ইতিহাসে এক অবিস্মরণীয় দিন। ১৯৯০ সালের এ দিনে দীর্ঘ নয় বছরের সামরিক ও অগণতান্ত্রিক শাসনের বিরুদ্ধে এক সফল আন্দোলনের পর পতন ঘটেছিলো তৎকালীন সামরিক স্বৈরশাসক এরশাদের। যে বহুদলীয় রাজনীতির পূণঃপ্রবর্তন করেছিলেন স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, তার ধারাবাহিকতা ক্ষুণ্ণ করে ক্ষমতালিপ্সু স্বৈরাচারী এরশাদ গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান সমূহকে ধ্বংস করে রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক বিকাশকে রুদ্ধ করেছিল। কিন্তু ছাত্র-শ্রমিক-জনতার ঐক্যবদ্ধ সংগ্রামে স্বৈরাচারকে পরাজিত করার এ দিনে শৃঙ্খলিত গণতন্ত্র মুক্ত হয়েছিলো আমাদের দেশে।
’৮২ থেকে ’৯০ পর্যন্ত রক্তস্নাত স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে আত্মদানকারী বীর শহীদদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা এবং তাদের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন বেগম খালেদা জিয়া ।
তিনি বলেন, অসংখ্য শহীদের রক্তস্নাত অর্জিত গণতন্ত্র এখন আবারো সঙ্কটের মুখে। বিনা ভোটের কর্তৃত্ববাদী সরকারের একদলীয় শাসনের চরিত্রগুলো ক্রমেই প্রকাশ্যেই স্পষ্ট হয়ে উঠছে বর্তমান শাসক গোষ্ঠির ফ্যাসিবাদী আচরণে। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারিতে একতরফা নির্বাচন করে আবারও সারা জাতিকে একদলীয় নিষ্ঠুর শাসনের শৃঙ্খলে বন্দী করে মানুষের সব মৌলিক –মানবাধিকার কেড়ে নিয়েছে।
অপর এক বানীতে দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, দেশের গণতন্ত্র এখন নামে বেনামে একদলীয় ফ্যাসিবাদের থাবায় বিপর্যস্ত। ক্ষমতাকে চিরস্থায়ী ও নিরংকুশ করার জন্য আজ ক্ষমতাসীনেরা গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলো ভেঙে ফেলার খেলায় মত্ত। অতীত থেকে শিক্ষা নিয়ে সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে আবার বন্দী গণতন্ত্রকে পূণ:রুদ্ধার করার সংগ্রামে দল-মত নির্বিশেষে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহবান জানান তিনি।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
যুক্তরাষ্ট্রে হামলার কৃতিত্ব দাবি আইএস’র
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
যৌননিগ্রহের কথা প্রকাশ করায় বারখা ডাটের প্রশংসা
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
‘কোপ মাটিতে পরবে না’, মুজাহিদুল ইসলাম সেলিমকে হুমকি
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
‘ফিলিস্তিনি ভূখন্ড দখল করা থেকেই সংঘাতের সূত্রপাত’ -মাহাথির বিন মোহাম্মদ
প্রশ্ন: গত মাসের প্যারিস নৃশংসতার পর পশ্চিমা দেশগুলো আইসিলের বিরুদ্ধে বিমান হামলা জোরদার করছে। এ সিদ্ধান্ত নিয়ে আপনি কি মনে করেন?
মাহাথির: এটা পরিস্থিতিকে আরও খারাপ করবে। কেননা নিরপরাধ আরবরা মারা যাবে। তাদের যেহেতু কোন কিছু করার ক্ষমতা নেই, তাই তারা আইসিলের প্রতি সহানুভূতিশীল। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আইসিল ভয়াবহ আরও কিছু নিয়ে হাজির হবে। অথবা অন্যান্য নানা গ্রুপ হয়তো তৈরি হবে। নিজেদের শত্রুদের হারাতে ব্যর্থ হওয়ার কারণে মরিয়া হয়ে তারা যা পারে তাই করবে। আর তারা যেটা করতে পারে সেগুলো আমরা সন্ত্রাসবাদ বলে ব্যাখ্যা করি। কিন্তু আমার কাছে আকাশ থেকে বোমা ফেলাও সন্ত্রাসবাদ। যারা বোমা পড়ার জন্য নিচে অপেক্ষা করছে, তারাও সন্ত্রস্ত।
প্রশ্ন: আপনি কি আরও ব্যপক আকারের একটি যুদ্ধ নিয়ে উদ্বেগ পোষণ করেন?
মাহাথির: এটা ইতিমধ্যে ছড়িয়ে পড়ছে। আমি সবসময় বলি, ইসরাইলের জন্য যখন ফিলিস্তিনের ভূখন্ড দখল করে ইহুদিদের দেয়া হয়েছিল, তখন থেকেই এসব কিছুর সূত্রপাত। এরপর ইহুদিরা বলতে গেলে পুরো ফিলিস্তিন দখল করে নিয়েছে। বসতি নির্মান করেছেন। রাস্তাঘাট বানিয়েছে। মানুষের চলাফেরা নিয়ন্ত্রন করছে। আরও অনেক কিছু। আরব দেশগুলো ওই ভূখন্ড পুনুরুদ্ধারের চেষ্টা করেছিল। কিন্ত তারা ব্যর্থ হয় কেননা ইউরোপ ও আমেরিকা ইসরাইলকে সমর্থন করেছে। আর এরপর থেকে ইসরাইল সব ধরণের আন্তর্জাতিক অপরাধ করে যাচ্ছে। এটা অত্যন্ত অন্যায়।
ইউরোপীয় ও আমেরিকানদের যেটা করা উচিত তা হলো, নিরপেক্ষ হওয়া আর উভয় পক্ষের কথা শোনা। আমরা এটা বলতে পারি না যে একপক্ষ সবসময় ভুল। ইসরাইলিরা অবৈধভাবে অবরোধ আরোপ করেছে। সমুদ্রে জাহাজগুলো আটকে দিয়েছে। এসবকিছুর দিকে ভ্রুক্ষেপ করে না পশ্চিমা বিশ্ব। তারা শুধু সন্ত্রাসবাদ নিয়ে কথা বলে।
ইসরাইলের জবাব হলো, সন্ত্রাসীদের আরও ত্রাস সৃষ্টি করা। এটা তাদের পরিস্থিতি মোকাবেলা করার পদ্ধতি। আপনি একজন ইসরাইলি হত্যা করলে, আমরা আপনাদের ১০ জনকে হত্যা করবো। আপনি আমাদের ১০ জনকে হত্যা করলে আমরা আপনার ১০০ জনকে হত্যা করবো। আমরা আপনাদের শাস্তি দেবো। এটাই ইসরাইল করছে। পুরো বিশ্ব এটা জানে। আর বিশ্ব এটা সহ্য করে।
প্রশ্ন: কিন্তু নিশ্চিতভাবে আইসিলের উত্থাণ ইসরাইলের সৃষ্টির থেকেও আরও বেশি কিছু?
মাহাথির: হ্যা বেশি কিছু। তবে এটা আরও খারাপ হতে যাচ্ছে। আমি মনে করি, প্রথাগত যুদ্ধ দিয়ে গেরিলা যুদ্ধ লড়াই করা যায় না। আকাশ থেকে লড়াই করা যায় না। মালয়েশিয়াতে আমাদের অভিজ্ঞতা আছে। আমাদের যখন গেরিলা ছিল, আমরা মানুষের হৃদয়, মন জয়ের চেষ্টা করেছিলাম তারা যেন গেরিলাদের সমর্থন না দেয়। এভাবে আমরা সফল হয়েছিলাম। আমরা আরবদের সমস্যা সমাধান করছি না। এটা হলো, কোন কিছু না করতে পারার ক্রোধ আর হতাশা।
প্রশ্ন: পশ্চিমা রাজনীতিবিদরা কি অতীতের ভূলের পুনরাবৃত্তি করছে?
মাহাথির: হ্যা। আপনি এখানে আইসিলকে হত্যা করলে, অন্য কোথাও আইসিলের উত্থাণ হবে। আপনি যুদ্ধের বিস্তার করবেন। এমনকি মালয়েশিয়াতেও আইসিলের প্রতি সহানুভূতিশীল মানুষ আছে। এমন কট্টরপন্থীরা থাকবে যারা এতোটা ক্রদ্ধ যে তারা এসব কিছু করবে। এটা আমাদের সংস্কৃতিতে নেই। আর মালয়েশিয়ানদের সপরিবারে অনৈসলামিক এমন কিছুতে যোগ দিতে যেতে দেখে আমরা স্তম্ভিত। এটা ইসলামের শিক্ষা বিরোধী।
প্রশ্ন: অপেক্ষাকৃত ভালো নীতি কোনটা হবে?
মাহাথির: আপনি আমার মানুষকে হত্যা করলে আমি আপনার মানুষকে হত্যা করবো- প্রতিহিংসার এ নীতি কাজে আসবে না। খুঁজে বের করুন কোন এসব মানুষ এ ধরণের ভয়ঙ্কর কর্মকান্ড চালাচ্ছে। ত্রাস সৃষ্টির নতুন নতুন উপায় আবিস্কার করা হচ্ছে, শেখা হচ্ছে। এখন তারা টেলিভিশন ক্যামেরার সামনে সন্ত্রাসী কর্মকান্ড চালানোর পদ্ধতি খুঁজে বের করেছে। এটা তাদের নতুন অস্ত্র। এখন পুরো বিশ্ব আতঙ্কিত। মুসলিম দেশগুলো আতঙ্কগ্রস্থ। তারা শুধু সেনাদের খুন করেনা, তারা যে কাউকে খুন করে; পুরো বিশ্বের সামনে নিরপরাধ মানুষ হত্যা করে।
প্রশ্ন: আর, ঘনীভূত হওয়া এ দ্বন্দ্বের মানবিক পরিণতি কি?
মাহাথির: আমি মনে করি সাহায্য করাটা প্রত্যেকের দায়িত্ব। আমরা যদি অনেক দেশের মধ্যে এসব শরণার্থীদের ভাগ করে দেই তাহলে তা কোন এক দেশের জন্য অনেক বড় একটি বোঝা হয়ে দাড়াবে না। ৪০ লক্ষাধিক মানুষ পালিয়ে গেছে যা কিনা সিরিয়ার জনসংখ্যার প্রায় অর্ধেক। প্রতিটি দেশকে সাহায্যের হাত বাড়ানো প্রয়োজন। এসব মানুষ এ দেশগুলোতে সারাজীবন থাকবে না। তারা নিজেদের দেশে ফিরতে চায়।
সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো সিরিয়ার গৃহযুদ্ধের সমাধান করা। শুধু আকাশ থেকে বোমা ফেললে কিছু হবে না। সমস্যা ভুখন্ডে, আকাশে নয়। এ প্রক্রিয়ায় আপনি শুধু আইসিলকে নয়, নিরপরাধ মানুষকে আঘাত করবেন। ধ্বংস করবেন পুরো দেশকে।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
গায়েবি ভোট, না ভোটের উৎসব? by সাজেদুল হক
বাংলাদেশ রাষ্ট্রের জন্ম ইতিহাসের সঙ্গে ব্যালটের ঐতিহাসিক সম্পর্ক রয়েছে। সত্তরের নির্বাচনেই আসলে এ জনপদের মানুষ নিজেদের স্বাধীনতা ঘোষণা করেছিল। পরের পথ অবশ্য অনেক কঠিন ছিল। বহু মানুষের ত্যাগ-তিতিক্ষার বিনিময়ে আমরা পেয়েছি রাষ্ট্র। বাংলাদেশ রাষ্ট্রে ব্যালটের ইতিহাস সবসময় একরকম ছিল না। কখনও কখনও মানুষ ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পেয়েছে। কখনও হয়েছে গায়েবি ভোট। কলঙ্কিত নির্বাচন এ দেশের মানুষ কম দেখেনি। এ নিয়ে অবশ্য যত কম কথা বলা যায় ততই মঙ্গল।
ফের দরজায় কড়া নাড়ছে ভোট। সাত বছর পর দেখা যেতে পারে নৌকা-ধানের শীষের লড়াই। এর আগে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ দুই প্রবল প্রতিদ্বন্দ্বীর লড়াই দেখেছে বাংলাদেশের জনগণ। তবে এবারই প্রথম স্থানীয় সরকার নির্বাচন দলীয় প্রতীকে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এখন পর্যন্ত মাঠে আওয়ামী লীগের প্রবল প্রতাপ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বিরোধীরা দৃশ্যত কোণঠাসা। খুব কম বিরোধী প্রার্থীই আছেন মামলার বাইরে। একটি বড় অংশ রয়েছেন কারাগারে। বিএনপির সমর্থিত বেশ কয়েকজন বর্তমান মেয়র এ নির্বাচনে প্রার্থী হননি।
এ অবস্থাতেও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেছেন, জনগণ ভোট কেন্দ্রে যেতে পারলে বিএনপি ৮০ ভাগ পৌরসভায় জয়লাভ করবে। অন্যদিকে, আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুল আলম হানিফ বলেছেন, বিএনপির জয়ের সুযোগ নেই। তাই অপপ্রচার চালাচ্ছে। কারা জয়ী হবে তা ৩০শে ডিসেম্বর ভোটের পরেই বুঝা যাবে। কিন্তু এখন রাজনীতির ময়দানে সবচেয়ে বেশি উচ্চারিত প্রশ্ন হচ্ছে নির্বাচনটি কেমন হবে? কোন মডেলের হবে নির্বাচন। কিছু নমুনা অবশ্য এরই মধ্যে পাওয়া যাচ্ছে। প্রাপ্ত খবর অনুযায়ী, ৫০ জন কাউন্সিলর প্রার্থী এরই মধ্যে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী হওয়ার পথে রয়েছেন।
পৌর নির্বাচন বাংলাদেশের রাজনীতিকে আরও অগ্নিপরীক্ষায় ফেলবে। আওয়ামী লীগের জন্য এ নির্বাচন চ্যালেঞ্জের। যদিও অনেক পর্যবেক্ষক তা মানতে রাজি নন। তারা মনে করেন, আওয়ামী লীগ গত সাত বছরে সব চ্যালেঞ্জ এত নিরঙ্কুশভাবে উতরে গেছে, পৌর নির্বাচন তাদের জন্য কোন চ্যালেঞ্জই হবে না। নিশ্চিতভাবেই এ নির্বাচনের মাধ্যমে বিএনপি ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করবে। তবে দলটি শেষ পর্যন্ত ভোটের মাঠে টিকে থাকতে পারে কিনা তা নিয়ে অনেকের মনেই সংশয় রয়েছে। ক্রমশ জাতীয় পার্টির শক্তি হারিয়ে ফেলার উপলক্ষ হিসেবে দাঁড়িয়েছে এ নির্বাচন। একসময় তৃণমূলে দলটির জনপ্রিয়তা থাকলেও এখন তা শূন্যের কোটায় এসে পৌঁছেছে। নিবন্ধন না থাকায় দলীয় প্রতীকে জামায়াতের এ নির্বাচনে অংশ নেয়ার কোন সুযোগ নেই। তবে স্বতন্ত্র হিসেবে দলটির নেতাকর্মীরা দেশের বিভিন্নস্থানে প্রার্থী হয়েছেন। জামায়াতের অনেকে এ নির্বাচনকে নিজেদের নতুন শুরু হিসেবে নিয়েছেন।
স্থানীয় সরকার নির্বাচনে যারাই জয়ী হোক না কেন তা বাংলাদেশের ক্ষমতার রাজনীতিতে কোন পরিবর্তন আনবে না। তবে একদিনের বাদশারা তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ করার সুযোগ পান কিনা তাই এখন দেখার বিষয়।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
রোনাল্ডো সমকামী? নতুন জল্পনায় ফুটছে ফুটবল বিশ্ব
স্প্যানিশ মিডিয়ার আরও দাবি, এই কিক বক্সারের সঙ্গে দেখা করতে প্রায়ই মরক্কো যান সিআর সেভেন। সুপারমডেল মহিলা বান্ধবীদের সঙ্গে ‘ডেটিং’ করতে পর্তুগিজ মহাতারকার ‘প্রতিভা’ নিয়ে জল্পনা কম নেই। তার মধ্যে হঠাৎ এই দাবি ওঠায় তোলপাড় পড়ে গিয়েছে।
ফরাসি টিভিতে একটি অনুষ্ঠানে এই নিয়ে আলোচনার পর থেকেই জল্পনাটি আগুনের মতো ছড়িয়ে পড়ে ফুটবলমহলে। সেই অনুষ্ঠানে নাকি এক ফুটবল বিশেষজ্ঞ হঠাৎ বলেন, ‘‘মাঠের বাইরে ফুটবলাররা যা করেন তার একটা প্রভাব মাঠে পড়ে বলেই মনে হয়। ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোকেই ধরা যাক। এক বন্ধুর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সময় কাটাতে সপ্তাহে তিন-চার বার মরক্কো উড়ে যাওয়ার প্রভাব হয়তো ওঁর পারফরম্যান্সে রয়েছে।’’
শোনা যাচ্ছে রিয়াল মাদ্রিদও নাকি রোনাল্ডোর ব্যক্তিগত জেটে ‘ঘন ঘন’ মরক্কো যাওয়া নিয়ে উদ্বিগ্ন। মাস দেড়েক আগে রোনাল্ডোর সঙ্গে হরি দুটি ছবি পোস্ট করেছিলেন। তার প্রথমটায় দু’জন পুল সেশনে। যা পোস্ট করে হরি লেখেন, ‘‘পুল সাইডে ঠান্ডা হচ্ছি রোনাল্ডো ভাইয়ের সঙ্গে। আমার সুন্দর দেশটায় তোমাকে স্বাগত জানানোটা সব সময়ই দারুণ ব্যাপার।’’ তবে বেশি হইচই হচ্ছে দ্বিতীয় ছবিটা নিয়ে। যে ছবিতে রোনাল্ডোকে কোলে তুলে নিয়েছেন হরি। আর লিখেছেন, ‘‘জাস্ট ম্যারেড। হাহাহাহাহা। দুঃসময়ে তোমার পাশে থাকতে সব সময় আছি ভাই।’’
কিক বক্সার হরির জীবনের কাহিনি আবার রূপকথার মতো। সব ছেড়ে উদ্বাস্তু হিসেবে অন্য দেশে আসার পর কিক বক্সিংয়ের সর্বোচ্চ পর্যায়ে উঠে আসার জীবন সফর। তাঁর এক কন্যাও আছে। মরক্কোতেই থাকেন। আর সে দেশে তাঁর জনপ্রিয়তা আকাশছোঁয়া। তাঁর ওয়েবসাইট অনুযায়ী হরির অন্যতম ‘ফেভারিট’ ঘড়ি, গাড়ি আর পুরুষদের ফ্যাশন।
হরিকে নিয়ে বিতর্কও নতুন নয়। মারপিট করার অভিযোগে একাধিক বার গ্রেফতার হয়েছেন। তিন বছর আগে হরিকে নিয়ে হইচই পড়ে গিয়েছিল কিংবদন্তি রুদ খুলিটের সঙ্গে তাঁর নাম জড়ানোয়। বলা হচ্ছিল, হরির জন্যই নাকি খুলিটকে ছেড়ে চলে যান তাঁর স্ত্রী। দাবি উঠেছিল খুলিটের ছত্রিশ বছরের স্ত্রী এস্টেলি নাকি হরির প্রেমে পড়েছেন। এস্টেলি আবার খুলিটের থেকে বয়সে একুশ বছরের ছোট। পরে একটি ডাচ সংবাদপত্রকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এস্টেলি বলেছিলেন, ‘‘রুদের একটা কথা জানা উচিত। বদর আমাকে রুদের থেকে চুরি করেনি। রুদ নিজেই আমাকে সরিয়ে দিয়েছে।’’
পর্তুগিজ মহাতারকা বা বদর অবশ্য তাঁদের নিয়ে ছড়ানো জল্পনার প্রসঙ্গে কোনও প্রতিক্রিয়া জানাননি এখনও। তবে আগে রোনাল্ডো দাবি করেছিলেন তিনি সমকামী নন। বছর পাঁচেক আগে পর্তুগালে সমকামীদের বিয়েকে সমর্থন করা প্রসঙ্গে সিআর সেভেন বলেছিলেন, ‘‘এক জন পর্তুগিজ হিসেবে দেশে কী হচ্ছে সে ব্যাপারে ওয়াকিবহাল থাকার চেষ্টা করি। পরস্পরের ব্যক্তিগত ইচ্ছেকে সম্মান করা উচিত আমাদের। কারণ যাই হোক না কেন, সব নাগরিকের সমান অধিকার আর দায়িত্ব থাকা উচিত।’’
সুত্রঃ আনন্দবাজার পত্রিকা
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
‘আইএসের সঙ্গে তুরস্কের তেল বাণিজ্যের প্রমাণ আছে ইরানের কাছে’
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
দুর্ভিক্ষের দ্বারপ্রান্তে অর্ধেক ইয়েমেন: জাতিসংঘ
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
স্ত্রীকে ধর্ষণ করা শাস্তিযোগ্য-মানতে রাজি মোদী সরকার
ভারতের সংসদে শুক্রবার এ নিয়ে বিতর্কের জবাবে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী কিরণ রিজিজু বলেন, বিষয়টি জটিল। দাম্পত্যের ব্যক্তিগত পরিসরে সম্মতি-অসম্মতির প্রমাণ পাওয়া যায় না। বিষয়টি সংসদীয় কমিটি এবং আইন কমিশন পর্যালোচনা করেছে। কমিশনের রিপোর্ট পেলেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
রাজ্যসভার ডেপুটি চেয়ারম্যান পি জে কুরিয়েন তখন বলেন, যদি কেন্দ্র মনেই করে স্বামী ধর্ষণ করলে তা ফৌজদারি অপরাধ, তাহলে কমিশনের রিপোর্টের জন্য অপেক্ষা কীসের? কিরণ জানান, ২০১০ সালে তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আইন কমিশনকে বিষয়টি পর্যালোচনা করতে বলেছিলেন। বর্তমান সরকারও এ বিষয়ে কমিশনের মত চেয়েছে।
ভারতীয় দণ্ডবিধি সংশোধন করে বৈবাহিক ধর্ষণকে শাস্তিযোগ্য অপরাধের আওতায় আনতে গতবছর সংসদে ‘প্রাইভেট মেম্বার বিল’ এনেছিলেন কংগ্রেস সাংসদ অবিনাশ পাণ্ডে। ওই সাংসদকে বিলটি প্রত্যাহার করতে অনুরোধ করেন কিরণ। বলেন, এই বিলে আমরা সহমত। তবে খাপছাড়াভাবে উদ্যোগী হয়ে লাভ নেই। আমার বিশ্বাস, কমিশনও সংসদের মনোভাবের সঙ্গে সহমত।
প্রসঙ্গত, মোদী সরকারেরই প্রতিমন্ত্রী হরিভাই পারথিভাই চৌধুরী গত এপ্রিলে সংসদে দাবি করেছিলেন, ভারতীয় সংস্কৃতিতে স্ত্রীকে ধর্ষণ বলে কিছু হয় না। যার ফলে, আজ কিরণের মন্তব্যের পরেও মহিলা অধিকারকর্মীদের একাংশ প্রশ্ন তুলেছেন, সরকার ‘চাইলে’ও কি শেষ পর্যন্ত দাম্পত্যে ধর্ষণকে আইনত অপরাধ বলে স্বীকৃতি দিতে পারবে!
সূত্র: এবেলা
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
নিজেদের ‘সেক্স লাইফ’ নিয়ে চিন্তায় মগ্ন থাকেন সিক্রেট সার্ভিস এজেন্টরা
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
স্বাধীন গণমাধ্যম ছাড়া গণতন্ত্র চলতে পারে না: গওহর রিজভী
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
‘নিজের বোনকে কি কেউ কখনও ধর্ষণ করতে পারে’?
জানা গেছে, রাংগুনিয়া উপজেলার মিনাগাজীর টিলা এলাকার শাহ আলম তার প্রতিবেশি এক কিশোরীকে (১৩) ফুসলিয়ে একাধীকবার শারিরিক সর্ম্পক স্থাপন করেন। এতে ওই কিশোরী অন্ত:স্বত্তা হয়ে পড়লে শাহআলম তার মায়ের উপর চাপ তৈরি করে গর্ভপাত ঘটান। পরে ওই কিশোরীর মা গত ৭ই মে থানায় শাহআলমকে অভিযুক্ত করে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। এ ঘটনায় পরের দিন রাতে শাহআলমকে পুলিশ আটক করলেও স্থানীয় এক নেতার সহযোগিতায় মোটা অংকের ঘুষের বিনিময়ে পুলিশ তাকে ছেড়ে দেয় বলে অভিযোগ ধর্ষিতার পরিবারের। পরে ৯ই মে ভিকটিম কিশোরীর বড় ভাই তাসফিক (১৪) তাকে দেখতে থানায় গেলে পুলিশ তাকে আটক করে। পরে নিজের বোনকে ধর্ষণের মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে পুলিশ তাকে আদালতে প্রেরণ করে। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তাসফিক তাকে ফাসানোর ষড়যন্ত্রের সঙ্গে রাংগুনিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলী শাহ, ওসি হুমায়ন কবির, এস আই মুজিব এবং শাহআলমের ভাগিনা সালাহউদ্দিন জড়িত বলে অভিযোগ করেন। গত ২৭শে মে এ ঘটনায় ধর্ষিতার মা নূরনাহার বেগম বাদি হয়ে চট্টগ্রামের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-২ এ রাংগুনিয়ার ওসি এবং এস আই’র বিরুদ্ধে মামলা করেন। অবশ্য পরদিন আদালত মামলাটি খারিজ করে দেন। এদিকে তাসফিককে ফাসানোর ষড়যন্ত্রের খবর সংবাদ মাধ্যমে প্রচার হলে একটি রিট আবেদন করা হয়। রিটের প্রেক্ষিতে গত ২৫শে মে হাইকোর্ট শাহ আলমকে গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেয়। একই সঙ্গে ওই কিশোরীর মায়ের মামলা নিতে পুলিশের অস্বীকার করা কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না এবং শাহ আলমসহ আসামিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে কেন নির্দেশ দেয়া হবে না, তা জানতে রুলও দেয়া হয়।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
সিরিয়ায় এবার ‘মাংস-খেকো জীবাণু’ ছড়াচ্ছে আইএস!
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুসারে, আইএস কর্তৃক ‘মাংস-খেকো জীবাণু’ ছড়ানোর ফলে সৃষ্ট ‘লেইসম্যানিয়াসিস’ রোগ প্রায় ২০টির অধিক পরজীবীর মাধ্যমে ছড়ায়। এটি অনিরাময়যোগ্য একটি রোগ। কুটানিয়াস, ভিসেরাল ও মুকোকাটানাস লেইসম্যানিয়াসিস- এই তিন প্রকারে বিভক্ত রোগটি। কুটানিয়াসের ফলে শরীরে ক্ষতচিহ্ন তৈরি হয়। ভিসেরালে আক্রান্ত ব্যক্তির হঠাৎ হঠাৎ জ্বর, লিভার ও প্লীহা বড় হয়ে যায়। মুকোকাটানাসে আক্রান্ত হলে নাক, মুখ ও গালের মাংস ক্ষয়ে ক্ষয়ে পড়ে যায়। মানবাধিকার কর্মীদের তথ্যমতে, বিগত এক বছরের মধ্যে ‘লেইসম্যানিয়াসিস’ রোগে আক্রান্ত পাঁচ শতাধিক রোগীর সন্ধান পাওয়া গেছে সিরিয়ায়। আইএস উত্থানের পর থেকে দেশটিতে স্বাস্থ্যহানিকর বিভিন্ন রোগের আবির্ভাব হচ্ছে বলে জানান রেড ক্রিসেন্টের কর্মকর্তা দিলকাশ ইসা।
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
মধ্যপ্রাচ্যের আগুন ছড়িয়ে পড়ছে বিশ্বে by আশরাফ হায়দার চৌধুরী
রাশিয়ার এতটা ‘অগ্নিশর্মা’ হওয়ার কারণ, এর আগে তাদের জঙ্গি বিমানগুলো বহুবার ন্যাটো দেশগুলোর আকাশসীমা লঙ্ঘন করলেও কেউ সেগুলো ভূপাতিত করার সাহস দেখায়নি। তুরস্কই প্রথম এমনটা করল। এখন রাশিয়ার ‘রক্তচক্ষু’ দেখে ন্যাটোকে জরুরি বৈঠক ডাকতে বলেছে তুরস্ক। ন্যাটো সেক্রেটারি জেনারেল স্টোলেনবার্গ তুরস্ককে আশ্বস্ত করে বলেছেন, জোটের সব ক’টি দেশই তাদের পাশে আছে।
বিশ্লেষকেরা বলছেন, সিরিয়াকে কেন্দ্র করে বেশ কিছু দিন ধরেই দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েছে বিশ্ব। এতে মধ্যপ্রাচ্যের আগুন ছড়িয়ে পড়ছে সারা পৃথিবীতে। আর এই অবস্থা খুব শিগগিরই স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে না; বরং আগামী দিনগুলোতে পরিস্থিতি আরো খারাপ হতে পারে বলেই মনে হচ্ছে।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরই মূলত পৃথিবী দুই ভাগে ভাগ হয়ে যায়। এর এক পক্ষের নেতৃত্বে ছিল যুক্তরাষ্ট্র, অন্য পক্ষে রাশিয়া। ৯০ দশকের শুরুতে সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেঙে যাওয়ার পর বিশ্বের একমাত্র ‘মোড়ল’ বনে যায় যুক্তরাষ্ট্র। কিন্তু সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের মোড়লিপনায় আবার বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে রাশিয়া। মূলত মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা এই অবস্থার সৃষ্টি করেছে। বিশেষ করে সিরিয়াকে ঘিরে এখন বিশ্ব দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েছে। এক ভাগের নেতৃত্ব দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। যাদের সাথে আছে ফ্রান্স, জার্মানি, যুক্তরাজ্যসহ ন্যাটো জোট। অন্য দিকে রাশিয়া, ইরান। আরেক পরাশক্তি চীন এখন পর্যন্ত মধ্যপন্থায় আছে। তবে দক্ষিণ চীন সাগর নিয়ে যেভাবে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে তাদের সম্পর্কের অবনতি ঘটছে, তাতে চীনের পক্ষে বেশি দিন মধ্যপন্থায় অবস্থান করা সম্ভব হবে না।
এমন পরিস্থিতিতে তুরস্কের আকাশে রুশ যুদ্ধবিমান ধ্বংস করার ঘটনা বিশ্বকে ‘তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের’ দিকে ঠেলে দিচ্ছে বলে অনেকে মন্তব্য করা শুরু করেছেন। মূলত সিরিয়ায় আইএস দমনের নামে সেখানে একযোগে হামলা চালাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও রাশিয়া। এই হামলায় কোনো সমন্বয় নেই। ন্যাটো জোটভুক্তরা চাইছে সিরিয়ায় আসাদ সরকারের পতন। অন্য দিকে রাশিয়া ও ইরান কাজ করছে আসাদ সরকারের পক্ষে। রাশিয়ার বিরুদ্ধে অভিযোগ, তারা আইএস দমনের নামে আসাদ সরকারের বিরোধীদের ওপর বোমা ফেলছে। তবে যে পক্ষ যেখানেই বোমা ফেলুক হামলার সময় কিন্তু উভয় পক্ষের যুদ্ধ বিমানগুলোই কাছাকাছি এসে যাচ্ছে। এতে যেকোনো সময় ঘটতে পারে দুর্ঘটনা আর মধ্যপ্রাচ্যের আকাশে ওই ধরনের কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে এর রেশ কিন্তু ছড়িয়ে পড়বে সারা বিশ্বে।
তুরস্কে রুশ যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হওয়ার চার দিনের মাথায় গত শনিবার (২৮ নভেম্বর) তুরস্কের ওপর অর্থনৈতিক অবরোধ আরোপের ঘোষণা দিয়েছে রাশিয়া। প্রেসিডেন্ট পুতিন ইতোমধ্যে এসংক্রান্ত একটি সিদ্ধান্তে স্বাক্ষর করেছেন। রাশিয়ার এই সিদ্ধান্ত তুরস্কের জন্য বড় ক্ষতির কারণ হতে পারে। বিশেষ করে তুরস্কের পর্যটন খাত মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে, এতে কোনো সন্দেহ নেই। উল্লেখ্য, ২০১৪ সালে তুরস্কে আসা পর্যটকদের মধ্যে ৩০ লাখের বেশি ছিল রুশ পর্যটক।
দুই দেশের মধ্যে বর্তমানে চলতে থাকা তীব্র টানাপড়েনের মধ্যে প্যারিসে শুরু হয়েছে বিশ্ব জলবায়ু সম্মেলন। সেখানে দুই নেতার মুখোমুখি হওয়ার কথা। তবে রুশ প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিন বলেছেন, বিমান ভূপাতিত করার ঘটনায় তুরস্ক ক্ষমা না চাওয়া পর্যন্ত তিনি এরদোগানের সাথে কোনো ধরনের কথা বলবেন না। অন্য দিকে রাশিয়ার ক্ষমা চাওয়ার দাবি প্রত্যাখ্যান করে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেব এরদোগান বলেছেন, ‘ওই ঘটনায় তিনি ব্যথিত। এমনটা না ঘটলেই ভালো হতো।’
সন্ত্রাসবাদের বিস্তারে, অর্থনৈতিক মন্দা আর শরণার্থীর স্রোতে ইউরোপের বিভিন্ন দেশের অবস্থা এখন এমনিতেই নাজুক। তার ওপর যদি নতুন করে যুদ্ধে জড়াতে হয় তাহলে অবস্থা কী দাঁড়াবে তা সহজেই অনুমেয়।
তবে রুশ বিমান ধ্বংস করা এবং প্যারিসে ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলার পরিণাম যে বহুমুখী ও দীর্ঘমেয়াদি হবে তাতে কোনো সন্দেহ নেই। মধ্যপ্রাচ্য শান্তি আলোচনা, শরণার্থী সঙ্কট, সীমানাবিহীন ইউরোপ প্রতিষ্ঠার স্বপ্নÑ এসব প্রতিটি ক্ষেত্রেই ওই ঘটনাগুলোর প্রভাব পড়বে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী সবচেয়ে বড় শরণার্থী সঙ্কট মোকাবেলায় হিমসিম খাচ্ছে ইউরোপ। এই অবস্থায় প্যারিসে হামলার ঘটনা পরিস্থিতিকে আরো জটিল করে তুলবে। শরণার্থীদের সাথে ‘আইএস জঙ্গীরা’ ইউরোপে প্রবেশ করতে পারে বলে অনেকে আশঙ্কা প্রকাশ করা শুরু করেছেন। প্যারিস হামলার পর ফ্রান্সসহ গোটা ইউরোপের অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলেও আশঙ্কা ব্যক্ত করেছেন বিশ্লেষকেরা। তাদের মতে, সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হবে পর্যটন খাত। এ ছাড়া বড়দিনকে সামনে রেখে বিভিন্ন পণ্যের বাজারে মন্দাভাব দেখা দিতে পারে। আর সন্ত্রাসী হামলা মোকাবেলার জন্য সরকারি ব্যয় বৃদ্ধির প্রভাব তো অর্থনীতিতে অবশ্যই পড়বে।
প্যারিসে হামলায় দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ‘নির্দয় যুদ্ধ’ শুরুর ঘোষণা দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ফ্রাঁসোয়া ওলাদ। টুইন টাওয়ারে হামলার পরও একই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। তারপরে ‘সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে’ যুদ্ধের নামে ইরাক ও আফগানিস্তানে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার ব্যয় করেছে তারা। কিন্তু এর বিনিময়ে কী পেয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। সে সময়ের মিত্ররাই আজ বলছেÑ ইরাকে অভিযান চালানো ভুল ছিল, সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধই সন্ত্রাসকে উসকে দিয়েছে, আইএসের উত্থানের জন্য দায়ী ইরাক অভিযানÑ ইত্যাদি ইত্যাদি। যুক্তরাষ্ট্রে আগামী প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডেমোক্র্যাট একজন প্রার্থী বার্নি সেন্ডার্স বলেছেন, আইএসের উত্থানের পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের হাত আছে। ইরাকে আগ্রাসী হামলার ফলেই আলকায়েদা ও আইএসের সৃষ্টি হয়েছে।
এখন প্যারিসে হামলার বদলা নিতে ফ্রান্স যদি যুক্তরাষ্ট্রের মতো মাথা গরম করে আইএস নির্মূল অভিযানে নামে, তাহলে এর পরিণতি কী হবে তা ভেবে দেখতে হবে। ফ্রান্স ইতোমধ্যে আইএসকে বিনাশ করতে ‘বৈশ্বিক মহাজোট’ গঠনের আহ্বান জানিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দফতর পেন্টাগনও একই কথা বলেছে। এ ক্ষেত্রে ফ্রান্সকে সব ধরনের সহায়তা দিতে নিজেদের নৌবাহিনীকে নির্দেশ দিয়েছে রাশিয়া। আর এ লড়াইয়ে সর্বাত্মক সামরিক সহযোগিতার বিষয়ে একমত প্রকাশ করেছে ইইউ। অর্থাৎ আইএস ও আলকায়েদার বিরুদ্ধে এবার আটঘাট বেঁধেই নামবে ইউরোপ। কিন্তু এতে কি বন্ধ হবে সন্ত্রাস? বিশ্বে কি শান্তি আসবে? পরাশক্তিগুলোকে বুঝতে হবে, আত্মঘাতী হামলা চালিয়ে নিরস্ত্র মানুষকে হত্যা যেমন অপরাধ, তেমনি ড্রোন হামলা চালিয়ে বাছবিচারহীন হত্যাও নিকৃষ্ট অপরাধ। প্রতিশোধ আর জিঘাংসা নতুন জিঘাংসা আর নৃশংসতার জন্ম দেয়। যুদ্ধের মাধ্যমে যুদ্ধ থামানো যায় না।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
বাংলাদেশে বৈপরীত্য
বাংলাদেশিরা দশকের পর দশক ধরে দেশে স্থিতিশীলতা আনার চেষ্টা করে গেছেন বিস্ময়করভাবে। তারা অপুষ্টির বিরুদ্ধে বিস্ময়কর অগ্রগতি অর্জন করেছে। স্বাস্থ্য ও নারীর অধিকারের ক্ষেত্রে তারা ভারতের চেয়ে অনেক ভাল করেছে। একই সঙ্গে সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক ধারায় এসেছে নতুনত্ব। প্রাকৃতিক দুর্যোগের মতো বিষয়গুলোর মধ্যেও বাংলাদেশ অর্থনৈতিক ও সামাজিক ক্ষেত্রে যে অগ্রগতি করেছে তা লক্ষণীয়। তবে ঘাটতি রয়েছে রাজনৈতিক ক্ষেত্রে। তখনকার পূর্ব পাকিস্তানে বড় রাজনৈতিক দল হিসেবে আওয়ামী লীগকে পশ্চিম পাকিস্তান যথেষ্ট সুবিধা দেয় নি। শুধু এ জন্যই সৃষ্টি হয়েছে বাংলাদেশ। বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাস সব সময়ই প্রস্তরাকীর্ণ। পশ্চিম পাকিস্তানের বিরুদ্ধে আন্দোলনে আওয়ামী লীগের বলিষ্ঠ নেতা শেখ মুজিবুর রহমান নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। ১৯৭১ থেকে তিনি নব সৃষ্ট জাতির নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। কিন্তু ১৯৭৫ সালের শুরুর দিকে তিনি দেশকে একদলীয় রাষ্ট্রে পরিণত করার জন্য বড় ধরনের একটি উদ্যোগ নিলেন। তখন বিরোধী অনেক নেতাকে গ্রেপ্তার করা হয়। জন অসন্তোষ বাড়তে থাকে। এর ফলে সেনাবাহিনী এগিয়ে আসে। জুনিয়র সেনা কর্মকর্তারা মুজিবকে হত্যা করে। জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বাধীন সিনিয়র সেনা কর্মকর্তারা সরকারের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয়। জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বাধীন শাসন যন্ত্র টিকে ছিল ১৯৮১ সাল পর্যন্ত। ওই সময় তাকেও হত্যা করা হয়। ইসলামপন্থি জেনারেল এইচ এম এরশাদ ক্ষমতা নিয়ে নেন। প্রায় এক দশক ক্ষমতা নিয়ন্ত্রণ করেন এরশাদ। দীর্ঘ দিনের অসন্তোষ ও প্রতিবাদের মুখে ১৯৯১ সালে নির্বাচন হয়। সেই নির্বাচনে বিজয়ী হন জিয়াউর রহমানের স্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বিএনপি। ৫ বছর পরে ব্যালট বাক্সে ভোটের মাধ্যমে তিনি ক্ষমতা হারান শেখ মুজিবুর রহমানের কন্যা শেখ হাসিনার কাছে। বিএনপি ২০০১ সালে ক্ষমতায় ফেরে। তারা ক্ষমতায় থাকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত। এরপর তত্ত্বাবধায়ক সরকার আসে। ২০০৮ সালের ডিসেম্বরে নির্বাচন হয়। ওই নির্বাচনে শেখ হাসিনা ও তার দল আওয়ামী লীগ বিজয়ী হয়ে ক্ষমতায় আসে। রমাচন্দ্র গুহ লিখেছেন, ২০১৩ সালে যখন পরবর্তী সাধারণ নির্বাচন হওয়ার কথা ছিল তখন বিএনপি দাবি তোলে একটি নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের। আওয়ামী লীগ তা প্রত্যাখ্যান করে। ফলে বিএনপি ও অন্য বিরোধী দলগুলো নির্বাচন বর্জন করে। নির্বাচন হয় বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায়। এভাবে নির্বাচিত হয়ে শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসে সরকার, পার্লামেন্ট ও প্রশাসনের ওপর নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখেছেন। সর্বশেষ ক্ষমতার এই মেয়াদে শেখ হাসিনা ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় যারা পাকিস্তানকে সমর্থন করে যুদ্ধাপরাধ করেছিল তাদের বিচারের জোর পদক্ষেপ নেন। রমাচন্দ্র গুহ লিখেছেন, নভেম্বরে আমি যখন ঢাকায় ছিলাম তখন দুজন সিনিয়র নেতার ফাঁসি কার্যকর করা হয়। এর একজন জামায়াতে ইসলামীর। এ দলটি বাংলাদেশ সৃষ্টির বিরোধিতা করেছিল। অন্যজন হলেন ১৯৫০ ও ১৯৬০-এর দশকে পাকিস্তানপন্থি প্রখ্যাত একজন রাজনীতিকের ছেলে, বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়ার একজন উপদেষ্টা। তাদেরকে যখন ফাঁসি দেয়া হলো তখন আমি ঢাকায় ছিলাম। এর আগে দীর্ঘ বিদেশ সফর শেষে বেগম জিয়া দেশে ফেরেন। ফাঁসি কার্যকরের পরে দেশজুড়ে হরতাল আহ্বান করে জামায়াত। এর আগে যখন জামায়াত হরতাল আহ্বান করতো তখন বিএনপির বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মীকে প্রকাশ্যে সংহতি প্রকাশ করতে দেখা যেত। তাতে রাজপথ থাকতো ফাঁকা। দোকানপাট থাকতো বন্ধ। কিন্তু ফাঁসির পর ঢাকার নিত্য জীবনচিত্রের ওপর যেন বড় কোন প্রভাব পড়ে নি। আমি ঢাকা শহরে বন্ধুদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছি। ছাত্রদের সঙ্গে কথা বলেছি। রেস্তরাঁয় খাবার খেয়েছি। পুলিশ, আধা-সামরিক বাহিনী ও সামরিক বাহিনীর সহযোগিতায় দৃশ্যত সরকারে পুরো নিয়ন্ত্রণ রয়েছে আওয়ামী লীগের। ভিন্ন মতাবলম্বীদের অনুমোদন দেয়া হয় নি। ১৯৭১ সালে ভয়াবহ অপরাধ সংঘটিত হয়েছিল এতে কোন সন্দেহ নেই। এতে সহযোগিতা করেছিল স্থানীয় দোসররা। তা সত্ত্বেও কিভাবে বিচার হয়েছে তা নিয়ে গুরুতর সংশয় রয়েছে, বিশেষ করে মৃত্যুদণ্ডের বিষয়ে। শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগ যুদ্ধাপরাধ আদালতকে রাষ্ট্র ও সমাজের ওপর রাজনৈতিক ও আদর্শগত নিয়ন্ত্রণ সুদৃঢ় করার ক্ষেত্রে যেভাবে ব্যবহার করেছেন তা নিয়ে অনেক বড় উদ্বেগ আছে। পার্লামেন্টে কোন বিরোধী দল নেই। এটা তাদেরকে সহায়তা করেছে। এমনকি যেসব সাংবাদিক যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করার কথা বলে বৈধতা নিয়ে সমালোচনা করেছেন তাদেরকে হয়রান করা হয়েছে। যেসব শিক্ষাবিদ বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তাদেরকে নির্যাতিত হতে হয়েছে।
এতে রমাচন্দ্র গুহ আরও লিখেছেন, বাংলাদেশে সম্মান করার মতো অনেক কিছুই আছে এখন। এর মধ্যে রয়েছে নারীদের উন্নয়ন, উদ্যোক্তা পর্যায়ে সৃষ্টিশীলতা, চমৎকার সুশীল সমাজ, আর্টিস্ট ও লেখক। কিন্তু সরকারের খেয়ালখুশি ও কিছু প্রতিশোধপরায়ণতার জন্য অর্থনীতি, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রের মতো খাতে অগ্রগতি বিনষ্ট হচ্ছে।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
আবদুল হকের প্রযুক্তি জ্ঞান নিয়ে গোয়েন্দারাও বিস্মিত by রুদ্র মিজান
২৪শে নভেম্বর আবদুল হককে গ্রেপ্তারের পর দু’দফা রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। মোট পাঁচদিনের জিজ্ঞাসাবাদে চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছেন তিনি। প্রাতিষ্ঠানিকভাবে তেমন শিক্ষিত না হলেও তথ্যপ্রযুক্তি সম্পর্কে তার অনেক জ্ঞান। সিলেটের জকিগঞ্জের একটি মাদরাসায় কম্পিউটার প্রশিক্ষক হিসেবে চাকরিও করেছেন। যে কারণে তাকে আইনের আওতায় নিতে বেশ বেগ পোহাতে হয়েছে। আদালতে জবানবন্দিতে আবদুল হক জানিয়েছেন, প্রযুক্তির প্রতি প্রবল কৌতূহল তার। বিভিন্ন সফওয়্যার ও অ্যাপস নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতেন। এর মধ্যে একটি অ্যাপস পেয়ে যান। যা দিয়ে তার শত্রুদের শায়েস্তা করা সহজ হবে বলে ধারণা করেন। তার সঙ্গে বিরোধ ছিল এ রকম তিন ব্যক্তির মোবাইল ফোন নম্বর ব্যবহার করে হুমকির বার্তা প্রেরণ করেছেন জানিয়ে আবদুল হক। বলেন, প্রতিবেশী ফায়জুর রহমানের ও নোমান বিন আরমান যৌথভাবে মুক্তস্বর নামে একটি সাংস্কৃতিক ফোরাম গঠন করেন। এ ছাড়া আবদুল হক নিজে একজন ব্লগার। চন্দ্রবিন্দু, সামহোয়্যার, বিসর্গসহ বিভিন্ন ব্লগে লেখালেখি করতেন। সংগঠন নিয়ে ২০১০ সালে ফায়জুরের সঙ্গে দ্বন্দ্ব সৃষ্টি হয় তার। একপর্যায়ে ফায়জুরকে শায়েস্তা করার জন্য তার মোবাইলফোন নম্বর দিয়ে একটি অ্যাপসে অ্যাকাউন্ট খুলেন। ওই অ্যাপস থেকে কোড প্রেরণ করা হয় ফায়জুরের মোবাইল ফোনে। কোডটি সংগ্রহ করে দেন আবদুল হকের বন্ধু আমিনুর। জিজ্ঞাসাবাদে আমিনুর জানিয়েছেন, চুক্তিনামা সংক্রান্ত বিষয়ে কথা বলার অজুহাতে পূর্বপরিচিত ফায়জুরের কাছে গিয়েছিলেন। ওই সময়ে আবদুল হকের পরামর্শ অনুসারে কৌশলে ফায়জুরের ফোনে আসা কোডটি তার ফোনে ফরওয়ার্ড করে দিয়েছিলেন আমিনুর। এভাবেই শুরু হয় হুমকি বার্তার প্রাথমিক মিশন। একইভাবে স্থানীয় শাহবাগ মাদরাসার সহকর্মী শিক্ষক সাদ ও ফায়জুরের ঘনিষ্ঠ বন্ধু সালেহ আহমদ ফোয়াদের নামে আইডি করেন। সম্পর্কের সুবাধে তাদের ফোন থেকে নিজেই কোড সংগ্রহ করেছিলেন আবদুল হক। পরবর্তীকালে এই তিন ব্যক্তির ফোন নম্বর থেকেই অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত, শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ, কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী, আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, শিক্ষাবিদ প্রফেসর আনিসুজ্জামান, বিশিষ্ট সাহিত্যিক হাসান আজিজুল হক, ড. মুহম্মদ জাফর ইকবাল, মুনতাসির মামুন ও বিশিষ্ট সাংবাদিক মিজানুর রহমান খানকে হুমকি দেয়া হয়। এর মধ্যে সিলেটের একজন সাহিত্যকর্মী সৈয়দ মবনুর নামে আইনমন্ত্রীকে ক্ষুদেবার্তা প্রেরণ করা হয়। প্রায় প্রতিটি বার্তাতেই প্রাণনাশের হুমকিসহ প্রতিক্রিয়াশীল বক্তব্য ছিল। মিজানুর রহমান খানকে হত্যার হুমকি দিয়ে লিখেছে, ‘উই উইল স্টপ ইউর হার্টবিট ফরএভার।’
আদালতে সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দিতে সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার গাংপাড় গ্রামের ফায়জুর রহমান জানান, অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতকে হুমকি দেয়ার অপরাধে ২০১৩ সালের জুন মাসে ফায়জুরকে গ্রেপ্তার করা হয়। একইভাবে ২০১৪ সালের ৩০ই জুন আইনমন্ত্রীকে হুমকি দেয়ার অপরাধে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারের পর মোবাইলফোনটি পুলিশের কাছে জব্দ থাকলেও ফায়জুরের ওই ফোন থেকে বিশিষ্ট ব্যক্তিদের হুমকি দেয়া অব্যাহত ছিল। এতেই টনক নড়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর। একইভাবে সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দিতে কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সালেহ আহমদ ফুয়াদ আদালতকে জানিয়েছেন, ২০১৪ সালের পূর্বে তিনি ও আবদুল হক সিলেটের জকিগঞ্জের শাহবাগ জামিয়া মাদানিয়া মাদরাসায় শিক্ষকতা করতেন। একই বডিংয়ে থাকার কারণে তার মোবাইলফোনটি আবদুল হক প্রায়ই ব্যবহার করতেন। গত ১১ই নভেম্বর সংবাদ মাধ্যমে তিনি জানতে পারেন তার ফোন থেকে প্রফেসর আনিসুজ্জামানকে হত্যার হুমকি দেয়া হয়েছে। সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী শিক্ষক সাদ সংসদ সদস্য শেখ সেলিমকে হুমকির অভিযোগে গ্রেপ্তার হন। তিনি এখনও কারাগারে রয়েছেন।
দেশের দেড় শতাধিক বিশিষ্ট ব্যক্তির হুমকিদাতাকে খুঁজে বের করতে গোয়েন্দারা দীর্ঘদিন থেকেই তৎপরতা চালাচ্ছিলেন। সূত্রমতে, পুলিশের মহাপরিদর্শক এবং হাসান আজিজুল হককে হুমকি দেয়ার পরপর ডিবির সিনিয়র সহকারী কমিশনার মো. যায়েদ শাহরিয়ার একটি টিম নিয়ে সিলেট-সুনামগঞ্জে যান। ভুক্তভোগী ও আশপাশের লোকজনের সঙ্গে কথা বলেন। দীর্ঘ তদন্ত শেষে বেরিয়ে আসে আবদুল হকের নাম। পরবর্তীকালে গত ২৪শে নভেম্বর এআইজি মনিরুজ্জামান ও ডিবির ডিসি সাজ্জাদুর রহমানের নির্দেশনায় গ্রেপ্তার করা হয় আবদুল হককে। গ্রেপ্তারের আগে ছাতকে তার বোনের বাড়িতে অবস্থান করছিলেন আবদুল হক। ২রা ডিসেম্বর ১৫৪ ধারায় স্বীকারোক্তি দেয়ার পর আবদুল হক ও আমিনুরকে কারাগারে প্রেরণ করেছেন আদালত। ডিবির সিনিয়র সহকারী কমিশনার মো. যায়েদ শাহরিয়ার জানান, হুমকির শিকার দেশের প্রায় সকল বিশিষ্ট ব্যক্তিকে হুমকি দিয়েছে আবদুল হক। অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করার কারণে তাকে গ্রেপ্তার করতে বেগ পোহাতে হয়েছে। কোন জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে আবদুল হকের সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়নি। তবে বিষয়টি আরও তদন্ত করা হচ্ছে বলে জানান যায়েদ শাহরিয়ার। আবদুল হকের বাড়ি সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার গাংপাড় গ্রামে। তার পিতার নাম খলিলুর রহমান। একই এলাকার নিজগাঁওয়ের তোফাজ্জল আলীর পুত্র তার সহযোগী আমিনুর রহমান।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ঝুঁকিতে ২১,০০০ কোটি টাকার বিনিয়োগ by এম এম মাসুদ
জানা গেছে, দেশের আবাসন খাতে গত ৩০ বছরে ব্যাপক উন্নয়ন ঘটেছে। বিশেষ করে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেটে এ পরিবর্তন ছিল উল্লেখযোগ্য।
কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) তথ্য অনুযায়ী, ঢাকা নগরীর ৭০ শতাংশ মানুষ তাদের আয়ের ৬৫ শতাংশ বাড়িভাড়ায় ব্যয় করেন। বছর দশেক আগে বাড়িভাড়া বৃদ্ধির হার ছিল ১৫ থেকে ২০ ভাগের মধ্যে। বর্তমানে তা দাঁড়িয়েছে ৪০-৪৫ ভাগে। জমির স্বল্পতা, আইনি জটিলতা, দুর্বল পরিকল্পনা, প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা গ্রহণ এবং সর্বোপরি নীতিগত সমর্থনের অভাবে এখানে অপরিকল্পিত নগরায়ণও বাড়ছে। সংকুচিত হচ্ছে নগরবাসীর সুবিধা। অর্থনীতিবিদ ড. কাজী খলীকুজ্জমান আহমদ বলেন, আবাসন খাত নিয়ে একটা সমন্বিত প্রক্রিয়া দরকার। ব্যাংকঋণের সুদ কমাতে সমন্বিত প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে সংশ্লিষ্ট সবার ভূমিকা নিয়ে একটি কাঠামো তৈরি করতে হবে। কেননা এভাবে আবাসন খাত চলতে পারে না। এ খাতের বিকাশ হলে অর্থনীতি বাড়বে।
রিহ্যাবের তথ্য মতে, বর্তমানে আবাসন প্রতিষ্ঠানগুলোর ১২ হাজার ১৮৫টি ফ্ল্যাট অবিক্রীত রয়েছে। এসব ফ্ল্যাটের আনুমানিক বাজারমূল্য ৮ হাজার ৮১১ কোটি টাকা। এসব প্রকল্পে বিনিয়োগের পরিমাণ ২১ হাজার ৫০০ কোটি টাকার বেশি।
সংশ্লিষ্টরা জানান, আবাসনশিল্পের এ বিশাল বিনিয়োগ ফলপ্রসূ করতে হলে সরকারকে নীতিগত ও আর্থিক সহায়তা দিতে হবে। এর মধ্যে ঋণের সুদের হার সিঙ্গেল ডিজিটে নামিয়ে আনতে হবে, অতিরিক্ত চার্জ দূর করতে হবে, বাংলাদেশ ব্যাংকের পুনঃঅর্থায়ন তহবিলটি আবার চালু করা ও সরকারের কাছে রিহ্যাবের ২০ হাজার কোটি টাকার তহবিল গঠনের যে দাবি, তা ক্রেতাদের এক অঙ্কের সুদে দীর্ঘ মেয়াদে দিতে হবে। পাশাপাশি আবাসন প্রকল্পে গ্যাস, বিদ্যুৎ ও পানি সংযোগের প্রক্রিয়া সহজ ও দ্রুততর করতে হবে। তাহলে আবাসন খাত ঘুরে দাঁড়াতে পারে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।
যত সমস্যা: নকশা অনুমোদনে বিড়ম্বনা, অতিরিক্ত নিবন্ধন ফি, ক্রেতাপর্যায়ে ঋণসুবিধার অভাবসহ বিভিন্ন কারণে এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এ ছাড়া বিভিন্ন সংকট লেগেই আছে এ খাতে। রিহ্যাব জানিয়েছে, স্বাভাবিক অবস্থায় আবাসন কোম্পানিগুলো প্রতি বছর যেখানে প্রায় ১০ হাজার ফ্ল্যাট ও ৫ হাজার প্লট হস্তান্তর করেছে, সেখানে ২০১২ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত ৩ বছরে হস্তান্তর করেছে মাত্র ৫ হাজার ৬৩৩টি। এর কারণ হিসেবে জানা যায়, ফ্ল্যাট নিবন্ধন ফি ৮ গুণ করা হয়েছে। প্রতি বর্গফুট ফ্ল্যাটের নিবন্ধন ফি আগে ছিল ২৫০ টাকা, বর্তমানে তা ২ হাজার টাকায় দাঁড়িয়েছে। ফলে একটি ফ্ল্যাট নিবন্ধন করতেই এলাকাভেদে ৩-২০ লাখ টাকা পর্যন্ত ব্যয় করতে হচ্ছে। এতে সাধারণ মানুষের ফ্ল্যাট কেনার স্বপ্ন আরও ফিকে হয়ে গেছে। সেই সঙ্গে উৎসে আয়কর বৃদ্ধি করায় বর্তমানে নিবন্ধন ব্যয় দাঁড়িয়েছে ১৩ শতাংশ। অথচ ভারতে ফ্ল্যাটের নিবন্ধন ফি মাত্র ৬ শতাংশ। থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর ও শ্রীলঙ্কায় এই ফি ১ থেকে সর্বোচ্চ ৪ শতাংশ।
রিহ্যাবের সহসভাপতি ওয়াহিদুজ্জামান বলেন, কেউ কিনতে এলেই বুঝতে পারবে, আগের চেয়ে এখন কত কম দামে অ্যাপার্টমেন্ট পাওয়া যাচ্ছে। তবুও ক্রেতাদের সাড়া মিলছে না।
অর্থায়ন সমস্যা: মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্তদের আবাসন চাহিদা পূরণের জন্য ঋণের জোগান দিতে ২০০৭ সালের ১৮ জুলাই পুনঃঅর্থায়ন তহবিল চালু করেছিল বাংলাদেশ ব্যাংক। এ তহবিলে ৮০০ কোটি টাকা দেয় সরকার। সুদের হার ছিল ৯%। আবাসন খাতকে ‘অনুৎপাদনশীল’ হিসেবে চিহ্নিত করে ২০১০ সালে এ তহবিলটি বন্ধ করে দেয়া হয়। এদিকে সরকারি প্রতিষ্ঠান হাউস বিল্ডিং ফাইন্যান্স করপোরেশন গ্রাহকদের বাড়ি নির্মাণের জন্য ঢাকা ও চট্টগ্রামে ১২% এবং এর বাইরের এলাকায় ১০% হার সুদে ঋণ দেয়। কিন্তু আর্থিক সংকটের কারণে সংস্থাটি বর্তমানে খুব বেশি ঋণ দিতে পারছে না।
ব্যাংকঋণের সুদ চড়া: বর্তমানে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর ঋণই আবাসন খাতের মূল ভরসা। কিন্তু আবাসন ঋণে ব্যাংকগুলোর ঘোষিত সুদের হার ১২ থেকে সাড়ে ১৯%। কিন্তু বিভিন্ন চার্জ ও ফি মিলিয়ে এ হার বাস্তবে ১৬ থেকে ২২% পর্যন্ত হয়ে যায়।
রিহ্যাবের সভাপতি আলমগীর শামসুল আলামিন জানান, সমস্যা সমাধানে ক্রেতাদের জন্য একটি ‘ফান্ড’ গঠন করা অতি জরুরি হয়ে পড়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের ঋণ তহবিল চালুর দাবি জানান সংগঠনের সভাপতি।
রিহ্যাবে দাখিলী অভিযোগ নিষ্পত্তি: গ্রাহক ও আবাসন মালিকদের মধ্যে সমন্বয় সাধনের জন্য সংগঠনটির মেডিয়েশন অ্যান্ড কাস্টমার সার্ভিস স্ট্যান্ডিং কমিটি নামে একটি সেল রয়েছে। যার চেয়ারম্যানের দায়িত্বে রয়েছেন মো. আনোয়ারুজ্জামান। যেখানে গ্রাহক ও মালিকদের বিভিন্ন অভিযোগ নিষ্পত্তি করা হয়। এক তথ্যে দেখা গেছে, ২০০৪ সাল থেকে গত ১৮ই আগস্ট পর্যন্ত সংগঠনটিতে অভিযোগ পড়ে ১৫৮৮টি। এর মধ্যে নিষ্পত্তি হয় ৮১৭টি। সমাধানের অপেক্ষায় ৩১১টি। এর মধ্যে অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে জবাব আসার অপেক্ষায় ৯১টি। আপস সমঝোতার প্রক্রিয়াধীন ১৫০টি। প্রতিক্রিয়া না পাওয়ায় তাগাদার পর্যায়ে ৭০টি। এ ছাড়া অভিযোগ বাদ হয়েছে ৪৬০টি। এর মধ্যে ৮ সদস্য ডেভেলপার প্রতিষ্ঠান রিহ্যাব হতে বহিষ্কৃত হওয়ায় অভিযোগ বাদ হয়েছে ২৭৬টি। ২০১৩ ও ২০১৪ সালের বার্ষিক চাঁদা খেলাপির কারণে কয়েকটি ডেভেলপার কোম্পানির ১৫১টি অভিযোগ বাদ পড়েছে। এ ছাড়া আদালতে বিচারাধীন থাকার কারণে অভিযোগ বাদ পড়েছে ৩৩টি।
বিভিন্ন দেশে সুদ হার: দেখা গেছে, মালয়েশিয়ায় গৃহঋণের সুদের হার গড়পড়তা ৬%। দেশটির ব্যাংকগুলো ৪.৩৯-৪.৬৫% হার সুদে গ্রাহকদের গৃহঋণের অফার দিচ্ছে। জাপানে ২-৩% সুদে আবাসনঋণ পাওয়া যায়। প্রতিবেশী দেশ ভারতে ঋণের সুদ হার ১০%-এর নিচে। এ ছাড়া দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে দেশজ উৎপাদনে অবদানের দিক থেকে বাংলাদেশের আবাসন খাত ভালো অবস্থানে রয়েছে। এ ক্ষেত্রে ভারতের জিডিপিতে আবাসন খাত ৬.৩ শতাংশ, শ্রীলঙ্কায় ৮.৭ শতাংশ এবং পাকিস্তানে ৩ শতাংশ অবদান রাখছে।
আবাসনে কর্মসংস্থান: কর্মসংস্থানের দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে দেশের আবাসন খাত। প্রায় ৩৫ লাখ মানুষ আবাসন খাতে নিয়োজিত আছেন। শুধু নির্মাণ শ্রমিক নন, দক্ষ জনশক্তির কর্মসংস্থানের দিক থেকেও এ খাতের গুরুত্ব অপরিসীম।
রিহ্যাবের হিসাব অনুযায়ী, আবাসন কোম্পানিগুলোতে ২০ হাজার নির্মাণকাজ ব্যবস্থাপক, ১০ হাজার ডিপ্লোমা প্রকৌশলী, ৩ হাজার স্নাতক প্রকৌশলী এবং প্রায় ৫০০ স্থপতি নিয়োজিত আছেন। এ ছাড়া এতে নির্ভর করছে ছোট-বড় ২৬৯টি শিল্প খাত। এসব খাতে ২ হাজারেরও বেশি শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে।
রাজস্ব: এ খাত থেকে সরকার প্রতি বছর সরাসরি প্রায় ১৫০০ কোটি টাকা রাজস্ব পাচ্ছে। সিমেন্ট ও রডশিল্প থেকে সরকারের রাজস্ব আয় ১ হাজার কোটি টাকার বেশি।
১৯৯১ সালে প্রতিষ্ঠিত আবাসন-ব্যবসায়ীদের সংগঠন রিহ্যাবের সদস্যসংখ্যা ১,২২৮। আবাসন ও এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন শিল্প খাতে ব্যবসায়ীদের বিনিয়োগের পরিমাণ ১ লাখ ৭৫ হাজার কোটি টাকা। এ খাতে প্রবাসী বাংলাদেশিদের বিনিয়োগের পরিমাণ ২১ হাজার কোটি টাকা। আবাসন প্রতিষ্ঠানগুলো গত ২০ বছরে ১ লাখ ৬৪ হাজার ফ্ল্যাট হস্তান্তর করেছে বলে জানিয়েছে রিহ্যাব।
মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) নির্ধারণের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) ‘নির্মাণ’ এবং ‘রিয়েল এস্টেট, ভাড়া ও অন্য ব্যবসা’ শিরোনামের দুটি পৃথক খাতকে হিসাবে নেয়। এ দুটি খাতেই সিংহভাগ কৃতিত্ব বেসরকারি খাতের। দুই খাত মিলিয়ে ২০১৩-১৪ অর্থবছরে জিডিপিতে অংশীদারি ছিল ১৪ শতাংশের বেশি। আগের ৪ বছরেও জিডিপিতে আবাসন খাত একই হারে অবদান রেখেছে।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ভিন্ন আমেরিকা! by হাসান ফেরদৌস
![]() |
| বেন কারসন, ডোনাল্ড ট্রাম্প |
আজকের আমেরিকাকে দেখে আমার এই হেওয়ার্থের কথা মনে পড়ছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট থেকে পাড়ার পাদরি—সবাই দেশটাকে স্বর্গ হিসেবে বর্ণনা করতে মুখে ফেনা তুলে ফেলে। আমেরিকার সবকিছু ভালো, এত ভালো যে সে যখন খারাপ কিছু করে, সেটাও নাকি আসলে অন্যের ভালোর জন্যই করে। যেমন ভিনদেশ আক্রমণ। যারা আক্রান্ত, তারা ঠিক বোঝে না, এটা তাদের ভালোর জন্যই করা হয়েছে।
তো, এই আমেরিকার একদল মানুষের খুব কদর্য একটা রূপ বেরিয়ে এসেছে। যাঁদের কথা বলছি, তাঁরা সবাই নামজাদা রাজনীতিবিদ, তাঁদের কেউ কেউ আবার দেশের পরবর্তী প্রেসিডেন্ট হতে চান। প্যারিসে ইসলামিক স্টেট (আইএস) নামের সন্ত্রাসী সংগঠনের নারকীয় হত্যাযজ্ঞের পর এঁরা চেঁচানো শুরু করেছেন, এ দেশে মুসলমানদের নজরদারি বাড়াতে হবে। সিরিয়া থেকে যেসব উদ্বাস্তু ঘরবাড়ি ছেড়ে পালাচ্ছে, তাদের মধ্যে বেছে বেছে শুধু খ্রিষ্টানদের ঢুকতে দেওয়া হবে, মুসলমান হলে তার জন্য দরজা বন্ধ। ৩০টির মতো অঙ্গরাজ্যের গভর্নররা বলেছেন, তাঁরা কেউ কোনো সিরীয় উদ্বাস্তুদের আশ্রয় দেবেন না। এঁদের মধ্যে নিউ জার্সির গভর্নর ক্রিস ক্রিস্টি বলেছেন, এমনকি তিন বছরের বাচ্চাও যদি এসে বলে, প্লিজ, ঢুকতে দাও, তিনি তাকে ঢুকতে দেবেন না।
সিরীয় মুসলমানদের কেন ঢুকতে দেওয়া হবে না, তার যুক্তি হিসেবে রিপাবলিকান দলের প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী বেন কারসন বলেছেন, আপনার ঘরের আশপাশে যদি কোনো পাগলা কুকুর থাকে, তো আপনি কী করবেন, তাকে আদর করে ঘরে ডেকে নেবেন? তিনি যে সব সিরীয়কে কুকুরের সঙ্গে তুলনা করছেন না, তা বোঝানোর জন্য ব্যাখ্যা করে বলেছেন, না, সব কুকুরের কথা বলছি না, শুধু যেগুলো রোগগ্রস্ত ও পাগল, সেগুলোর কথা বলছি।
সবাইকে টেক্কা দিয়েছেন রিপাবলিকান দলের প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থীদের মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয় ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি প্রস্তাব করেছেন, এ দেশে যারা মুসলমান, তাদের ওপর নজরদারির জন্য একটি তালিকা বানাতে হবে, মসজিদে মসজিদে পাহারা বসাতে হবে, দরকার পড়লে মসজিদ বন্ধ করে দিতে হবে। তাদের জন্য আলাদা পরিচয়পত্র দিতে হবে, এমন এক প্রস্তাবও তঁার কাছ থেকে এসেছে। ব্যাপারটা অনেকটা তিরিশ দশকে হিটলারের জার্মানিতে ইহুদিদের সঙ্গে যেমন করা হতো। তিনি সত্যি এমন প্রস্তাব করছেন কি না, এক সাংবাদিক
তা নিশ্চিত হওয়ার জন্য জিজ্ঞেস করলে ট্রাম্প পাল্টা প্রশ্ন করেন, তোমার কী মনে হয়? (পরে, সমালোচনার মুখে, ট্রাম্প অবশ্য দাবি করেছেন, মুসলমানদের পরিচয়পত্র দেওয়ার কথা তিনি বলেননি, এক সাংবাদিক তাঁর কথার অপব্যাখ্যা করেছেন।)
মার্কো রুবিও নামের আরেক রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী ট্রাম্পকেও এক মাত্রা ছাড়িয়ে গেছেন। তিনি দাবি করেছেন, না, শুধু মসজিদের ওপর নজরদারি করলে চলবে না, মুসলমানরা একসঙ্গে জড়ো হয়, এমন যেকোনো স্থানের ওপর নজরদারি করতে হবে। ক্যাফে, রেস্তোরাঁ বা ইন্টারনেট ক্যাফে, যেখানেই মুসলমানরা মিলিত হয় ও ঘোঁট পাকায়—এমন সব জায়গা বন্ধ করে দিতে হবে।
এঁদের কথা শুনে আমার সকালে ঘুম থেকে উঠে বসা লোলচর্মবিশিষ্ট এই হেওয়ার্থের কথা মনে হয়েছে। এই আমেরিকার বাইরের চেহারাটা যত আলো-ঝলমলে, তার ভেতরে ঠিক ততটা অন্ধকার।
আমাদের সৌভাগ্য, আমেরিকার সেটাই একমাত্র রূপ নয়। যেমন প্রেসিডেন্ট ওবামা সক্রোধে বলেছেন, সিরীয় উদ্বাস্তুদের যাঁরা ধর্মীয় পরীক্ষা দিয়ে পাস করার পর এ দেশে প্রবেশের প্রস্তাব রেখেছেন, তাঁরা আমেরিকান মূল্যবোধের কথা ভুলে গেছেন। আমেরিকা বরাবর সব ধরনের মানুষের জন্য দরজা খোলা রেখেছে, জাত-পাত-ধর্ম-বর্ণকে অগ্রাধিকার দেয়নি। ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী হিলারি ক্লিনটনও যেকোনো ‘ধর্ম পরীক্ষা’র বিরোধিতা করেছেন। আমাদের যুদ্ধ ইসলামের সঙ্গে নয়, একদল সন্ত্রাসীর সঙ্গে, যারা ইসলাম ধর্মকে ব্যবহার করছে মাত্র, তিনি বলেছেন।
প্যারিস হামলার চার দিনের মাথায় ওলাঁদ ঘোষণা করেছেন, তার দেশ ৩০ হাজার সিরীয় উদ্বাস্তু গ্রহণের যে অঙ্গীকার করেছে, তা রক্ষা করবে। ওলাঁদ বলেছেন, আমরা যেসব সন্ত্রাসীর বিরুদ্ধে লড়ছি, তারা একে দুই সভ্যতার লড়াই হিসেবে দাঁড় করাতে চায়। ‘কিন্তু আমাদের লড়াই কোনো এক সভ্যতার বিরুদ্ধে নয়। আমাদের লড়াই সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে, যারা সব সভ্যতার বিরুদ্ধে’।
এই মুহূর্তে অবশ্য ওবামা বা হিলারি আমেরিকায় সংখ্যালঘুদের দলে। গত সপ্তাহে মার্কিন কংগ্রেসের প্রতিনিধি পরিষদ বিপুল ভোটাধিক্যে এক প্রস্তাব পাস করেছে, যা গৃহীত হলে এ দেশে সিরীয় উদ্বাস্তুদের আশ্রয় পাওয়া অসম্ভব হয়ে পড়বে। বস্তুত, সিরীয় উদ্বাস্তুদের আশ্রয়দানের বিরোধিতা করে—এমন মার্কিনির সংখ্যা ৫৪ শতাংশ। এই ভোটে সে কথারই প্রতিফলন মিলেছে।
প্যারিস হামলা আমেরিকান ও ইউরোপিয়ানদের মনে ভয়ের সঞ্চার করেছে, এ কথায় কোনো ভুল নেই। পরিকল্পিত ও সমন্বিত আক্রমণে যেভাবে নিরীহ বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছে, তাতে সবার মনেই অনিশ্চয়তা জন্মেছে। আক্রমণকারীদের মধ্যে অন্ততপক্ষে একজন সিরীয় উদ্বাস্তু ছিল, সে কথা জানার পর সেখান থেকে আগত উদ্বাস্তুদের ব্যাপারে সংশয় জাগবে, সেটাও অস্বীকার করা যায় না।
প্যারিস হামলার পর সাধারণ মার্কিন নাগরিকদের মনে মুসলমানদের ব্যাপারে যে সন্দেহ জেগেছে, রাজনীতিবিদেরা তাকে নিজেদের রাজনৈতিক প্রয়োজনে ব্যবহার করতে চান। তাঁরা হিসাব কষে দেখেছেন, যে যত বেশি নিজেদের আক্রমণাত্মক প্রমাণ করবেন, যত বেশি সামরিক শক্তির পক্ষে ঢাক বাজাবেন, জনপ্রিয়তার নিক্তিতে তত ওপরে উঠবেন তিনি। এই রাজনৈতিক অঙ্ক মাথায় রেখে প্রত্যেক রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী নির্বাচিত হলে কীভাবে এক চাপড়ে আইএস বা আল-কায়েদা উপড়ে ফেলবেন, সে কথা প্রমাণে ব্যস্ত। সিনেটর লিন্ডসি গ্রাহাম, যিনি মোটের ওপর বাস্তববাদী বলে পরিচিত, তিনি পর্যন্ত হুমকি দিয়েছেন, শুধু সিরিয়া বা ইরাকে নয়, পৃথিবীর যেখানে ইসলামি সন্ত্রাসীর খোঁজ মিলবে, সেখানেই বোমা ফেলে তাদের নিশ্চিহ্ন করতে হবে। ‘কোনো সীমানাগত নিয়ন্ত্রণ থাকবে না, কত দিন এই অভিযান চলবে, তারও কোনো সময়সীমা থাকবে না।’ গ্রাহামের মতো আরও অনেকেই আইএস দমনে মার্কিন স্থলবাহিনী প্রেরণের পক্ষে।
সম্ভবত, ঠিক এই ধরনের একটি প্রতিক্রিয়াই আইএস প্রত্যাশা করেছিল। আমেরিকা, তথা পশ্চিমা সভ্যতা ইসলামিক স্টেটের জঙ্গিদের সঙ্গে সব মুসলমানের পরিচয় গুলিয়ে ফেললে তাদের পক্ষে বলা সহজ হবে, আমেরিকা ও ইউরোপে সব মানুষ মুসলমানদের বিপক্ষে। অর্থাৎ, এই যুদ্ধটা দুই সভ্যতার বিরুদ্ধে, যার একদিকে জিহাদি, অন্যদিকে ক্রুসেডার। এসব সন্ত্রাসী সবচেয়ে বেশি খুশি হবে, যদি আমেরিকা ও তার পশ্চিমা মিত্ররা ইরাক অভিযানের মতো আরেক যুদ্ধ বাধিয়ে বসে। অধিকাংশ সুস্থির মস্তিষ্কের সব মানুষ বলেছেন, আইএসের জন্মের প্রধান কারণ ইরাকে আমেরিকার হামলা। প্রেসিডেন্ট ওবামা সেসব মানুষের একজন। এখন সেই ইরাকে—ও প্রতিবেশী সিরিয়াতে—যদি পুরোদস্তুর আরেক যুদ্ধ শুরু হয়, তাতে আইএসের পক্ষে নতুন জিহাদি সেনা সংগ্রহে মস্ত সুবিধা হবে। মার্কিন সাপ্তাহিক নেশন এক বিশেষ সম্পাদকীয়তে তাই মন্তব্য করেছে, আইএস চায় আমরা—অর্থাৎ আমেরিকানরা—মুসলমানদের ঘৃণা করি। আমাদের ঘৃণার মাত্রা যত বাড়বে, তাদের তত পোয়াবারো।
এসব মার্কিন রাজনীতিকের পাশে যদি ফরাসি প্রেসিডেন্ট ফ্রাঁসোয়া ওলাঁদের সিদ্ধান্ত তুলনা করি, তাহলে শুধু তাদের স্বার্থপরতাই নয়, ভীরুতাও স্পষ্ট হয়। প্যারিস হামলার চার দিনের মাথায় ওলাঁদ ঘোষণা করেছেন, তঁার দেশ ৩০ হাজার সিরীয় উদ্বাস্তু গ্রহণের যে অঙ্গীকার করেছে, তা রক্ষা করবে। ওলাঁদ বলেছেন, ‘আমরা যেসব সন্ত্রাসীর বিরুদ্ধে লড়ছি, তারা একে দুই সভ্যতার লড়াই হিসেবে দাঁড় করাতে চায়। কিন্তু আমাদের লড়াই কোনো এক সভ্যতার বিরুদ্ধে নয়। আমাদের লড়াই সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে, যারা সব সভ্যতার বিরুদ্ধে।’
সাংবাদিক ও লেখক টিমথি ইগান ঠিকই মন্তব্য করেছেন, একমাত্র সংকটের সময়েই প্রমাণিত হয় প্রকৃত রাষ্ট্রনায়ক কে, আর কে ভীরু-কাপুরুষ। তিন বছরের শিশুকে শুধু মুসলমান এই কারণে যে তার মুখের ওপর ঘরের দরজা বন্ধ করে দেয়, সে কেবল কাপুরুষই নয়, সভ্য মানুষ—এই দাবিরও অযোগ্য। মানব ইতিহাসে এমন কাপুরুষের অভাব কোনোকালেই ছিল না। ১৯৩৯ সালে, ইহুদি এই কারণে জার্মানি থেকে আশ্রয়ের সন্ধানে আসা মানুষবোঝাই একটি জাহাজ ফ্লোরিডার উপকূল থেকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছিল।
আমাদের আশা, সেই একই ভুলের পুনরাবৃত্তি আর হবে না।
নিউইয়র্ক
হাসান ফেরদৌস: যুক্তরাষ্ট্রে প্রথম আলোর বিশেষ প্রতিনিধি।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
কাঁদলেন গুম হওয়া ১৯ জনের স্বজনেরা- আমাদের মেরে যান, আর কাঁদতে চাই না
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উদ্দেশে কথাগুলো বলছিলেন ২০১৩ সালের ১১ ডিসেম্বর রাতে পল্লবীর বি ব্লকের ৯ নম্বর রোডের ৫ নম্বর বাড়ি থেকে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয় দিয়ে ধরে নিয়ে যাওয়া সূত্রাপুর থানা ছাত্রদল সভাপতি সেলিম রেজা পিন্টুর বোন রেহেনা বানু মুন্নি।
২০১৩ সালের ২৮ নভেম্বর থেকে ১১ ডিসেম্বরের মধ্যে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয়ে গুম হওয়া ১৯ জনের পরিবার শুক্রবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে এভাবে অভিব্যক্তি প্রকাশ করেন।
গুম হওয়া ১৯ জনই বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মী। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন গুম হওয়া ২৫ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাজেদুল ইসলাম সুমনের বোন সানজিদা ইসলাম তুলি।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন আইন ও শালিস কেন্দ্রে পরিচালক নূর খান।
সংবাদ সম্মেলনে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র আসাদুজ্জামান রানার বোন মিনারা বেগম বলেন, তাদের বাড়ি রংপুরে। পাঁচ ভাই-বোনের মধ্যে রানা ঢাকার উত্তর মুগদায় তার বাড়িতে থেকে পড়াশুনা করতো। আজ দুই বছর হলো তিনি তার ভাইকে খুঁজছেন। কি ছিলো তাই ভাইয়ের অপরাধ? সে ছাত্রদল করতো এটাই অপরাধ? প্রধানমন্ত্রী চাইলে তার ভাই ফিরে আসতে পারে। আমাদের বিশ্বাস সে ফিরে আসবে।
ছাত্রদল নেতা পারভেজ হোসেনের ছয় বছরের মেয়ে হৃদি হোসেনের কান্না সংবাদ সম্মেলনের স্থানে নিরবতা নেমে আসে। ‘বাবার সাথে স্কুলে যাব। বাবা আইসক্রীম কিনে দিবে। মামনি কিনে দেয় না। মামনির টাকা নেই। বাবার সাথে শিশু পার্কে যাব। প্লিজ, আমার বাবাকে এনে দাও।’ এমন সব কথা বলতে বলতে হৃদি হাউমাউ করে কেঁদে ওঠে। তার সে কান্না মায়ের কোলে ফিরে গিয়ে থেমে যায়।
বংশাল এলাকার বিএনপি নেতা সোহেলের ছেলে জেএসসি পরীক্ষার্থী রাজু বলে, ২ ডিসেম্বর তার জন্মদিন। ২০১৩ সালের ২ ডিসেম্বর তার জন্মদিনে বাবা বাসা থেকে বের হয়েছিল ফুল আনার জন্য। জন্মদিনের কেকও আনা হয়েছিল। কিন্তু ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করলেও বাবা আর ফিরে আসেননি। এরপর থেকে তার আর জন্মদিন পালন করা হয় না। নিজের জন্মদিনে যেনো বাবার মৃত্যু দিন না হয়, সেজন্য সে প্রধানমন্ত্রীর কাছে আকুতি জানিয়ে বলে, ‘একবারের জন্য হলেও আপনি আমার বাবাকে ফিরিয়ে দিন।’
বিমানবন্দর থানা ছাত্রদল শাখার যুগ্ন সম্পাদক নিজাম উদ্দিন মুন্নার বাবা শামসুদ্দিন বলেন, ২০১৩ সালের ৬ ডিসেম্বর রাতে দক্ষিণখানের ১২৫, মোল্লারটেকের বাড়ির সামনে থেকে ডিবি পুলিশ মাইক্রোবাসে করে তার ছেলে ও বন্ধু তরিকুল ইসলাম ঝন্টুকে উঠিয়ে নিয়ে যায়। চোখের সামনে ছেলেকে যখন জোর করে ডিবি পুলিশ গাড়িতে ওঠাচ্ছিল, তখন তিনি চিৎকার করে বলেছিল, ছেলের লাশ হলেও তোমরা ফেরত দিয়ে যেয়ো। র্যাব, পুলিশ, ডিবি-সবার কাছে গিয়েছি। কেউ জানাতে পারেনি। এখন প্রধানমন্ত্রীর কাছে অনুরোধ- আমার ছেলেকে যে মাটিতে পুঁতে রাখা হয়েছে সেটি বলে দিক। আমি ছেলের মাটি নিয়ে শেষ জীবন পর্যন্ত বেঁচে থাকতে চাই।
তেজগাঁও কলেজ ছাত্রদল শাখার যুগ্ন সম্পাদক তরিকুল ইসলাম ঝন্টুর ছোট ভাই সাইফুল ইসলাম মিঠুন বলেন, আমার ভাইয়ের অপরাধ কী ছাত্রদল করা? যদি সে কোন অপরাধ করে থাকে, তাহলে আইনে তার বিচার হোক। তার বিরুদ্ধে কোন জিডি বা মামলা নেই। তাহলে কেন তাকে গুম করা হলো?
সবুজবাগ থানা ছাত্রদল শাখার সভাপতি মাহবুব হাসান সুজনের ছোট ভাই শাকিল বলেন, সুজনের দুই সন্তান রয়েছে। তারা এখন বাবার অপেক্ষা করছে। বাবা কোথায় আছে-এ প্রশ্ন করলে আমরা কোন উত্তর দিতে পারি না। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরাই বলে দেন, সুজন এখন কোথায় আছে।
২০১৩ সালের ২৮ নভেম্বর ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের সামনে জেল গেট থেকে জামিন মুক্তি পাওয়া বাংলাবাজার এলাকার ছাত্রদল নেতা খালিদ হাসান সোহেল ও সম্রাট মোল্লাকে গোয়েন্দা সংস্থার সদস্য পরিচয় দিয়ে ধরে নিয়ে যায়।
খালিদের স্ত্রী সৈয়দা শাম্মী সুলতানা সংবাদ সম্মেলনে বলেন, খালিদের একটি ছেলে রয়েছে। প্রতিদিন বাবার কথা জিজ্ঞাসা করে। কিন্তু কিছুই বলতে পারি না। আমরা আর কতদিন এভাবে থাকব। প্রধানমন্ত্রী একজন মমতাময়ী মা। তিনি যদি একটু দৃষ্টি দেন তাহলে খালিদের ছেলে তার বাবাকে ফিরে পাবে।
পল্লবী এলাকা থেকে গুম হওয়া ছাত্রদল নেতা সেলিম রেজা পিন্টুর বোন রেহেনা বানু মুন্নী বলেন, তার ভাইকে উদ্ধারের দাবি জানিয়ে চলতি বছরের ২৬ জুলাই সিএমএম কোর্টে একটি মামলা করেন। আদালত পল্লবী থানাকে মামলাটি তদন্তের নির্দেশ দেন। ওই মামলার তদন্তের কোনো কুল কিনারা করতে পারেনি পুলিশ।
সংবাদ সম্মেলনে সাজেদুল ইসলাম সুমনের মা হাজেরা খাতুন প্রধানমন্ত্রীর কাছে এই ১৯ জনকে ফিরিয়ে দেয়ার আকুতি জানান।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী যেন এই ১৯ জনকে নিজের সন্তান মনে করে উদ্ধারের ব্যবস্থা নেন। তিনি নির্দেশ দিলেই এই ১৯ জন ফিরে আসা সম্ভব।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
‘ভিক্ষা করে যৌতুকের টাকা সংগ্রহ’ by তুহিন ওয়াদুদ
বিশ্ববিদ্যালয় পড়াকালীন আমাদের শিক্ষাবর্ষেরই এক মেয়ে প্রেম করে বিয়ে করেন তাঁর এক বন্ধুকে। কিছুদিন পরই খবরে দেখলাম যৌতুক দিতে সম্মত হয়নি বলে স্বামীর অবর্ণনীয় অত্যাচারে খুন হয়েছেন তিনি। যৌতুক দিতে পারেনি, কিংবা দেয়নি এই কারণে কত মেয়ের সংসার ভেঙেছে তার ইয়ত্তা নেই। কত নারী যে মুখ বুজে অত্যাচার সহ্য করেন, শরীরে ক্ষতচিহ্ন নিয়ে জীবন যাপন করেন, তারও সংখ্যা অগণিত।
অনেক সময় মেয়ের স্বামীকে সন্তুষ্ট করার জন্য মেয়ের বাবার জীবন বিপন্ন হয়ে ওঠে। তবু দাঁতে দাঁত চেপে বাবা-মা মেয়ের মুখে হাসিই দেখতে চান। যেমনটি দেখতে চান রিকশাওয়ালা হাশেম আলী। হেমন্তের হালকা কুয়াশায় ঢাকা রংপুর। রাত তখন সাড়ে দশটা। রাস্তায় মানুষের সংখ্যাও অনেক কম। এত রাতে কেন পঞ্চাশোর্ধ্ব হাশেম আলী রিকশা চালান, আলাপচারিতায় বের হলো তার কারণ। কয়েক দিন আগে মেয়ের বিয়েতে যৌতুক দিতে হয়েছে ৭০ হাজার টাকা। এই ৭০ হাজার টাকার সিংহভাগই তিনি ঋণ নিয়েছেন বেসরকারি সংস্থা থেকে। মেয়ের বিয়ের পর থেকে দিনে এবং রাতে রিকশা চালাতে হয়। আগে শুধু দিনে রিকশা চালাতেন। যত রাতই হোক, কিস্তির টাকা না হওয়া পর্যন্ত রিকশা তাঁকে চালাতে হবে। এখন আর তিন বেলা ঠিকমতো খাওয়ারও উপায় নেই। হাশেম আলীর এসব কথায় যখন আমি রাষ্ট্রের ব্যর্থতার কথা ভাবছিলাম, তখন তিনি বাবার সুরে বললেন, ‘তাও যদি বেটিটা সুখোত থাকে।’
আইনের প্রয়োগ হতে থাকলে যৌতুক দেওয়া-নেওয়া হবে গোপনে। অনেক সময় কনেপক্ষ, বরপক্ষ উভয়ই যৌতুকের কথা স্বীকারই করেন না। আইনের প্রয়োগ শুরু হলে, হয়তো আরও স্বীকার করতে চাইবেন না। কনেপক্ষ যৌতুকের বিষয়ে অভিযোগ না করলেও এলাকাবাসী কিংবা সরকারের লোকও যদি খুঁজে পায় তাহলে সেটাকে আইনের আওতায় আনতে হবে সম্প্রতি নীলফামারী জেলার ডিমলা উপজেলায় গিয়েছিলাম আরডিআরএসের একটি অনুষ্ঠানে। সেখানকার অফিসে রান্নার কাজে নিয়োজিত রাশেদা খাতুনের সঙ্গে কথা হলো। তাঁর স্বামী বেঁচে নেই। দুই মেয়ে। এক মেয়ের বিয়ে দিয়েছেন। যৌতুক দিতে হয়েছে ৬০ হাজার টাকা। তাঁকে বললাম, যৌতুক ছাড়াই বিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন। এ কথায় আমাকে অজ্ঞ ধরে নিয়ে বললেন, ‘কী যে কন, ডিমেন্ড (যৌতুক) ছাড়া বেটিক কাঁইয়ো নেবে?’ রংপুরের সাতমাথা এলাকার নজরুল ইসলাম বলেন, ‘টাকা ছাড়া গরিবের বেটিক কেউ বিয়া কইরবার চায় না।’
সরকার চাইলেই যৌতুক বন্ধ করা সম্ভব। ১৯৮০ সালে যৌতুক নিরোধ আইন হয়েছে। শিশু ও নারী নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ (সংশোধিত ২০০৩) হয়েছে, এ আইনেও যৌতুকের বিরুদ্ধে শাস্তির কথা বলা হয়েছে। যৌতুক নিরোধ আইন অনুযায়ী, যৌতুক গ্রহণ করা এবং যৌতুক প্রদান করা উভয় অপরাধের জন্য সর্বোচ্চ এক বছরের জেল এবং পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা, ক্ষেত্রবিশেষে উভয়টিও কার্যকর হতে পারে। কিন্তু আইনের প্রয়োগ না থাকার কারণে, অনেকেই জানেন না যে যৌতুকবিরোধী কোনো আইন আছে। কয়েক দিন আগে লালমনিরহাটে ধরলা নদীর পারে একটি চায়ের দোকানে যৌতুক নিয়ে এক বৃদ্ধের সঙ্গে কথা বলছিলাম। যৌতুক যে একটি অপরাধ, সেটাই তিনি জানেন না। আমি যখন আইনের কথা বললাম, তখন তিনি বিশ্বাসই করতে চাইলেন না। বরং তিনি খানিকটা চ্যালেঞ্জের সুরেই বললেন, ‘আইন থাকলে বিচার হইল হয়। আর আইন থাকলে হামরা জাননোং (জানতাম) হয়।’
আইনের প্রয়োগ হতে থাকলে যৌতুক দেওয়া-নেওয়া হবে গোপনে। অনেক সময় কনেপক্ষ, বরপক্ষ উভয়ই যৌতুকের কথা স্বীকারই করেন না। আইনের প্রয়োগ শুরু হলে, হয়তো আরও স্বীকার করতে চাইবেন না। কনেপক্ষ যৌতুকের বিষয়ে অভিযোগ না করলেও এলাকাবাসী কিংবা সরকারের লোকও যদি খুঁজে পায় তাহলে সেটাকে আইনের আওতায় আনতে হবে।
কয়েক বছর আগে একটি বেসরকারি সংস্থা ‘জীবিকা’র উদ্যোগে কুড়িগ্রামের চর শিতাই ঝাড়ে যৌতুক না দেওয়ার পক্ষে সামাজিক আন্দোলন গড়ে উঠেছিল। কুড়িগ্রামের জেলা প্রশাসকসহ অনেক গণ্যমান্য ব্যক্তির অংশগ্রহণ ছিল এ উদ্যোগে। ওয়ার্ল্ড ভিউ ইন্টারন্যাশনাল ফাউন্ডেশন এ উদ্যোগ নিয়ে একটি ডকুমেন্টারি তৈরি করেছিল। সেটি বিবিসিতে প্রচারও হয়েছিল। প্রায় তিন বছর সেখানে যৌতুক দেওয়া-নেওয়া বন্ধ ছিল। সংস্থাটির কার্যক্রম শেষ হওয়ার পর আবার যৌতুক চালু হয়। উদ্যোক্তাদের একজন মানিক চৌধুরী যৌতুক বন্ধের প্রসঙ্গে বলেন, ‘মানুষের সংঘবদ্ধ উদ্যোগ কার্যকর ভূমিকা পালন করতে পারে।’ বর্তমানে নিম্নবিত্ত পরিবারে, বিশেষত রংপুর অঞ্চলে প্রায় শতভাগ বিয়েতে যৌতুক দেওয়া-নেওয়ার প্রচলন আছে।
একটি সময় ছিল যখন ছেলেরা নয়, মেয়ের বাবা পণ গ্রহণ করতেন। সে সময়ে সমাজে যোগ্য বর পাওয়া যেত না। নরেন্দ্রনাথ মিত্রের বিখ্যাত ‘রস’ গল্পের নায়ক মোতালেফ অনেক কষ্টে পণের টাকা সংগ্রহ করে পণ দিয়ে মাজু খাতুনকে বিয়ে করেন। এরূপ অসংখ্য দৃষ্টান্ত রয়েছে।
সনাতন ধর্মানুসারীরা সতীদাহ প্রথাকে ধর্মের অংশ মনে করত। ১৮২৯ সালে আইন করে সেই সতীদাহ প্রথা বন্ধ করা সম্ভব হয়েছে। আইনের যথাযথ প্রয়োগ থাকলে যৌতুকও বন্ধ করা সম্ভব। সেই সঙ্গে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে, মেয়েদের শিক্ষিত ও স্বাবলম্বী হতে হবে।
তুহিন ওয়াদুদ: শিক্ষক, বাংলা বিভাগ, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, রংপুর।
wadudutuhin@gmail.com
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
eCoxs Special
BNM Archive
- ► 2026 (1398)
- ► 2025 (3281)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (128)
- ► 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
-
▼
2015
(11541)
-
▼
December
(688)
-
▼
Dec 05
(36)
- স্বৈরাচার ও সন্ত্রাসীরা এক হয়ে গণতন্ত্র ধ্বংসের খে...
- যুক্তরাষ্ট্রে হামলার কৃতিত্ব দাবি আইএস’র
- যৌননিগ্রহের কথা প্রকাশ করায় বারখা ডাটের প্রশংসা
- ‘কোপ মাটিতে পরবে না’, মুজাহিদুল ইসলাম সেলিমকে হুমকি
- ‘ফিলিস্তিনি ভূখন্ড দখল করা থেকেই সংঘাতের সূত্রপাত’...
- গায়েবি ভোট, না ভোটের উৎসব? by সাজেদুল হক
- রোনাল্ডো সমকামী? নতুন জল্পনায় ফুটছে ফুটবল বিশ্ব
- ‘আইএসের সঙ্গে তুরস্কের তেল বাণিজ্যের প্রমাণ আছে ইর...
- দুর্ভিক্ষের দ্বারপ্রান্তে অর্ধেক ইয়েমেন: জাতিসংঘ
- স্ত্রীকে ধর্ষণ করা শাস্তিযোগ্য-মানতে রাজি মোদী সরকার
- নিজেদের ‘সেক্স লাইফ’ নিয়ে চিন্তায় মগ্ন থাকেন সিক্র...
- স্বাধীন গণমাধ্যম ছাড়া গণতন্ত্র চলতে পারে না: গওহর ...
- ‘নিজের বোনকে কি কেউ কখনও ধর্ষণ করতে পারে’?
- সিরিয়ায় এবার ‘মাংস-খেকো জীবাণু’ ছড়াচ্ছে আইএস!
- মধ্যপ্রাচ্যের আগুন ছড়িয়ে পড়ছে বিশ্বে by আশরাফ হায়দ...
- বাংলাদেশে বৈপরীত্য
- আবদুল হকের প্রযুক্তি জ্ঞান নিয়ে গোয়েন্দারাও বিস্মি...
- ঝুঁকিতে ২১,০০০ কোটি টাকার বিনিয়োগ by এম এম মাসুদ
- ভিন্ন আমেরিকা! by হাসান ফেরদৌস
- কাঁদলেন গুম হওয়া ১৯ জনের স্বজনেরা- আমাদের মেরে যান...
- ‘ভিক্ষা করে যৌতুকের টাকা সংগ্রহ’ by তুহিন ওয়াদুদ
- সন্ত্রাসবাদের পাল্টা আঘাত বন্ধ করতে হবে by জেফরি ড...
- দায়সারা ইসি by বেলায়েত হোসাইন
- ‘আড়ালে ছিলেন রাঘব বোয়ালরা’ by ওয়েছ খছরু
- প্রস্তাবিত বিল সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক by ডেনিস ...
- এক সাংবাদিকের মায়ের কান্না by কাজী সুমন
- ভেসে আসল গোঙানির শব্দ, অতঃপর...
- ‘মৃত্যু নিশ্চিত করতে গলার ভেতর রড ঢুকিয়ে দেই’ by ম...
- আমেরিকায় বন্দুকের যথেচ্ছ ব্যবহার বন্ধ হচ্ছে না কেন
- গুম হওয়া ১৯ পরিবারের কান্না- ‘মা আইসক্রিম কিনে দেয়...
- প্লে-বয়ের শেষ সংস্করণে মডেল হওয়ার নেপথ্যে
- উদ্বেগে যৌনকর্মীরা
- মঙ্গলে চিঠি পাঠাতে খরচ কত পড়বে?
- ঢাকা আসছেন শ্যানন-দেশাই
- মোদির ‘সম্পাদিত’ ছবি নিয়ে
- বাংলাদেশি জাহাজে নজরদারি করতে চায় ভারত!
-
▼
Dec 05
(36)
-
▼
December
(688)
- ► 2014 (9799)
- ► 2013 (14877)
- ► 2012 (33842)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...


















