Saturday, October 5, 2024

সাংবিধানিক সংস্কার ও দ্বিকক্ষবিশিষ্ট আইনসভা by ড. মো. সফিকুল ইসলাম

বর্তমানে দ্বিকক্ষ আইনসভা প্রতিষ্ঠার দাবি জাতীয় দাবিতে পরিণত হয়েছে। রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ও শিক্ষাবিদগণ সাংবিধানিক সংস্কারের অন্যতম একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে দ্বিকক্ষবিশিষ্ট আইনসভা প্রবর্তনের বিষয়টি তুলে ধরছেন। এখন জনগণের মনে প্রশ্ন উঠতে পারে এককেন্দ্রিক সরকার ব্যবস্থায় দ্বিকক্ষবিশিষ্ট আইনসভা প্রযোজ্য কিনা এবং আমাদের দেশে এটি কেন দরকার? সংসদ ও নির্বাহী বিভাগের মধ্যে ক্ষমতার ভারসাম্য তৈরির জন্য বাংলাদেশের মতো এককেন্দ্রিক সরকার ব্যবস্থায় দ্বিকক্ষবিশিষ্ট আইনসভা প্রতিষেধক হতে পারে।

বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার সমপ্রতি রাষ্ট্র কাঠামো সংস্কারের জন্য ছয়টি কমিশন গঠন করেছে। আমার মতে, এ কমিশনগুলোর মধ্যে সাংবিধানিক সংস্কার কমিশন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। কেননা, এটি অন্যান্য সংস্কার কমিশনের কার্যক্রমের সঙ্গেও যুক্ত। বিশেষ করে, শাসন বিভাগ ও আইন বিভাগের মধ্যে ক্ষমতার ভারসাম্য প্রতিষ্ঠা, নির্বাচনকালীন সরকার এবং বিচার বিভাগের স্বাধীনতা সাংবিধানিক সংস্কারের প্রধান বিষয় বলা যেতে পারে। এদের মধ্যে শাসন ও আইন বিভাগের মধ্যে ক্ষমতার ভারসাম্য প্রতিষ্ঠার জন্য দ্বিকক্ষবিশিষ্ট আইনসভার দাবিটি অনেক আগে থেকেই আলোচিত হচ্ছে। বিদ্যমান সংসদীয় শাসন ব্যবস্থায় প্রধানমন্ত্রীর একক কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। আইনসভার ক্ষমতা দিন দিন হ্রাস পাচ্ছে। কেননা, প্রধানমন্ত্রী একাধারে শাসন বিভাগের প্রধান ও জাতীয় সংসদের নেতা। দলীয় শৃঙ্খলা ও আনুগত্যের নীতি, বিশেষ করে, সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদের কারণে প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদনকৃত সকল নীতিই আইনসভায় অনুমোদিত হয়। জাতীয় সংসদ একটি রাবার স্ট্যাম্পে পরিণত হয়েছে। এক কক্ষবিশিষ্ট আইনসভা দ্বারা বাংলাদেশের যাত্রা শুরু হলেও এদেশে রাজনৈতিক এলিটদের মধ্যে দ্বিকক্ষবিশিষ্ট আইন সভার ধারণা নতুন নয়। বৃটিশ ঔপনিবেশিক শাসনামলে অখণ্ড ভারতে দ্বিকক্ষবিশিষ্ট আইনসভার অস্তিত্ব ছিল। স্বাধীনতার শুরুতে বাংলাদেশের রাজনৈতিক অস্থিরতা, অরাজকতা ও অনৈক্য দূর করতে এবং পেশাজীবীদের স্বার্থ সংরক্ষণে বামধারার বিশিষ্ট তাত্ত্বিক সিরাজুল আলম খান এবং বিশিষ্ট রাষ্ট্রবিজ্ঞানী জিল্লুর রহমান খান একটি নতুন ধারার একক আইনসভা গঠনের প্রস্তাব করেন। সে সময় তারা দ্বিকক্ষবিশিষ্ট  আইনসভার কথা না বললেও পরবর্তীকালে তারা সরাসরি দ্বিকক্ষবিশিষ্ট আইনসভার কথা বলেন। একইভাবে, ২০১৬ সালের ১৯শে মার্চ দলের জাতীয় কাউন্সিলে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া স্পষ্টভাবে দ্বিকক্ষবিশিষ্ট আইনসভা গঠনের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন। সে অনুযায়ী তিনি বিএনপি ঘোষিত ভিশন-২০৩০-এ দ্বিকক্ষবিশিষ্ট আইনসভা ধারণা অন্তর্ভুক্ত করেন। ভিশন-২০৩০ এ বলা হয় “সংবিধানের এককেন্দ্রিক চরিত্র অক্ষুণ্ন রেখে বিদ্যমান সংসদীয় ব্যবস্থা সংস্কারের অংশ হিসেবে জাতীয় সংসদের উচ্চ কক্ষবিশিষ্ট আইনসভা প্রতিষ্ঠা করার বিষয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখা হবে।” বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও দ্বিকক্ষবিশিষ্ট আইনসভার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করে এর প্রতি সমর্থন জ্ঞাপন করেছেন। ২০২২ সালের ১৯শে জানুয়ারি শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৮৫তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে এক ভার্চ্যুয়াল আলোচনা সভায় তিনি প্রতিশ্রুতি দেন যে, বিএনপি সরকার গঠন করলে দ্বিকক্ষবিশিষ্ট আইনসভা প্রবর্তন করবেন। যুক্তরাজ্যের হাউজ অব লর্ডসের আদলে দেশের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশা ও বুদ্ধিজীবীদের প্রতিনিধিত্বশীল উচ্চকক্ষ গঠন করা হবে। বিশিষ্ট ব্যক্তিদের প্রতি ইঙ্গিত করে তারেক রহমান বলেন, অনেকে সরকারে যোগ দেবেন না কিন্তু তাদের পরামর্শ আমাদের দরকার। এ জন্য সংসদের উচ্চকক্ষ সৃষ্টি করা হবে। উচ্চকক্ষে এসে তারা তাদের মতামত দিবেন। পরবর্তীতে ২০২২ সালে ১৯শে ডিসেম্বর বিএনপি ঘোষিত ‘রাষ্ট্রকাঠামো মেরামতের রূপরেখা’ এর ৬ নং দফায় দ্বিকক্ষবিশিষ্ট আইনসভা তথা জাতীয় সংসদের উচ্চকক্ষ প্রতিষ্ঠার কথা বলা হয়। এখানে বলা হয়, “দেশের প্রথিতযশা শিক্ষাবিদ, পেশাজীবী, রাষ্ট্রবিজ্ঞানী, সমাজবিজ্ঞানী ও প্রশাসনিক অভিজ্ঞতাসম্পন্ন ব্যক্তিদের সমন্বয়ে জাতীয় সংসদের উচ্চ কক্ষবিশিষ্ট আইনসভা প্রবর্তন করা হবে।” এ ছাড়া বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান নির্বাচন পরবর্তী জাতীয় সরকার গঠনের কথাও বলেছেন। এর মাধ্যমে তিনি রাজনৈতিক দূরদৃষ্টির পরিচয় দিয়েছেন। বিশেষ করে জাতীয় ঐক্যের পথ সুগম করেছেন।

বর্তমানে দ্বিকক্ষ আইনসভা প্রতিষ্ঠার দাবি জাতীয় দাবিতে পরিণত হয়েছে। রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ও শিক্ষাবিদগণ সাংবিধানিক সংস্কারের অন্যতম একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে দ্বিকক্ষবিশিষ্ট আইনসভা প্রবর্তনের বিষয়টি তুলে ধরছেন। এখন জনগণের মনে প্রশ্ন উঠতে পারে এককেন্দ্রিক সরকার ব্যবস্থায় দ্বিকক্ষবিশিষ্ট আইনসভা প্রযোজ্য কিনা এবং আমাদের দেশে এটি কেন দরকার? সংসদ ও নির্বাহী বিভাগের মধ্যে ক্ষমতার ভারসাম্য তৈরির জন্য বাংলাদেশের মতো এককেন্দ্রিক সরকার ব্যবস্থায় দ্বিকক্ষবিশিষ্ট আইনসভা প্রতিষেধক হতে পারে। পৃথিবীর অনেক এককেন্দ্রিক সরকার ব্যবস্থায় এ ধরনের আইনসভা রয়েছে। গ্রেট বৃটেন, থাইল্যান্ড, আলজেরিয়া, ফিলিপাইন ও ইন্দোনেশিয়ায় আইনসভা এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য। বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক ব্যবস্থায় যে দল ক্ষমতায় থাকে আইন ও শাসন বিভাগে সে দলের একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ থাকে। বিশেষ করে, দলীয় সিদ্ধান্ত কেবিনেটের সিদ্ধান্তে পরিণত হয়। আইনসভা নামমাত্র অনুমোদন করে। দ্বিকক্ষবিশিষ্ট আইনসভায় উভয় কক্ষে একদলের নিয়ন্ত্রণের সম্ভাবনা কম থাকবে। বিশেষ করে, নিম্নকক্ষে ক্ষমতাসীন দলের সংখ্যাগরিষ্ঠতা এবং একচ্ছত্র প্রাধান্য থাকলেও উচ্চ কক্ষে তাদের একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণে থাকার সম্ভাবনা কমে যাবে। উচ্চকক্ষ নিম্নকক্ষের ঈযবপশং ধহফ ইধষধহপব হিসেবে কাজ করবে। ক্ষমতাসীন দলের যা খুশি তা করার প্রবণতা কমে যাবে। কেননা, নিম্নকক্ষে দলীয় দৃষ্টিভঙ্গির প্রাধান্য পেলে উচ্চ কক্ষ তা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখতে পারবে। ফলে আইন বিভাগ ও শাসন বিভাগের মধ্যে ক্ষমতার ভারসাম্য তৈরি হবে।

বাংলাদেশে দুই কক্ষবিশিষ্ট আইনসভা প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে আইনসভার উচ্চকক্ষে দুই-তৃতীয়াংশ সদস্য নির্বাচিত ও এক তৃতীয়াংশ সদস্য মনোনীত হতে পারে। সমাজসেবা, সাহিত্য, শিক্ষা-গবেষণা, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে যাদের বিশেষ অবদান রয়েছে তাদের মধ্যে থেকে উচ্চকক্ষে এক তৃতীয়াংশ সদস্য মনোনীত হতে পারেন। ভারতের উচ্চকক্ষ রাজ্যসভায় ১২ জন সদস্য সমাজসেবা, সাহিত্য, শিক্ষা-গবেষণা, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে যাদের বিশেষ অবদান রয়েছে তাদের মধ্যে থেকে রাষ্ট্রপতি মনোনয়ন দিয়ে থাকেন। সুতরাং উচ্চকক্ষের  কিছু সদস্য অরাজনৈতিক হয়। অর্থ বিল ব্যতীত সকল বিল আইন সভার উচ্চকক্ষে উত্থাপন করার ক্ষমতা দেয়া যেতে পারে। উচ্চকক্ষের অর্থ বিলসহ  যেকোনো বিল নিয়ে বিতর্ক, সংশোধন বা প্রত্যাখ্যান করার ক্ষমতা থাকবে। শাসন বিভাগের যেকোনো কার্যক্রমের উপর প্রশ্ন উত্থাপন, সমালোচনা এবং তদন্ত করার ক্ষমতা দেয়া যেতে পারে। এতে সরকারের জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণে উচ্চকক্ষে ভূমিকা রাখতে পারবে। তাছাড়া উচ্চকক্ষে নির্বাচিত সদস্যগণ যাতে তুলনামূলকভাবে বয়োজ্যেষ্ঠ ও অভিজ্ঞ হন সেজন্য বিশেষ শর্ত আরোপ করে বিধান করা যেতে পারে। আর মনোনীত সদস্যগণ বিশেষজ্ঞ জ্ঞান সম্পন্ন হবেন। ফলে জনকল্যাণমূলক ও মান সম্পন্ন  আইন বা নীতি প্রণীত হতে পারে। এ ছাড়া, সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানসমূহ, বিশেষ করে, নির্বাচন কমিশন ও পাবলিক সার্ভিস কমিশন সদস্যদের এবং মহা হিসাবরক্ষক ও নিরীক্ষক নিয়োগে উচ্চ কক্ষের অনুমোদনের ক্ষমতা দেয়া যেতে পারে। ফলে এসব সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানে দলনিরপেক্ষ, দক্ষ ও যোগ্য ব্যক্তিগণ নিয়োগ পাবেন। ফলে এসব প্রতিষ্ঠান দলীয় প্রতিষ্ঠানে পরিণত হওয়ার সম্ভাবনা কমে যাবে এবং প্রাতিষ্ঠানিক স্বাতন্ত্র্য বজায় থাকবে। প্রতিষ্ঠানগুলো আইন ও নীতি অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করবে।
আইনসভার উচ্চকক্ষ হতে পারে মার্কিন সিনেটের মতো একটি স্থায়ী কক্ষ। এর সদস্যদের মেয়াদকাল ছয় বছর হতে পারে। দুই বছর পর পর এ কক্ষের এক-তৃতীয়াংশ সদস্যের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে পারে। সংবিধানে রাষ্ট্রপতির এটি ভেঙে দেয়ার ক্ষমতা রহিত করার বিধান যুক্ত করা যেতে পারে। এটি একটি স্থায়ী কক্ষ হিসেবে বাংলাদেশের যে কোনো রাজনৈতিক সংকটে দলনিরপেক্ষ ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে। বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশগুলোতে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন রাজনৈতিক সংকটের উদ্ভব হয়। এসব সংকট সমাধানে আইনসভার উচ্চ কক্ষের মতো একটি স্থায়ী প্রতিষ্ঠান থাকা দরকার। যাহোক, সংবিধান সংশোধন করে দ্বিকক্ষবিশিষ্ট আইনসভা গঠনের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে রাজনৈতিক সমঝোতা দরকার। কেননা, এ সরকার অধ্যাদেশের মাধ্যমে সংবিধান সংশোধন করলে ও পরবর্তীতে নির্বাচিত জাতীয় সংসদের অনুমোদনের প্রয়োজন হবে। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ইতিমধ্যে রাষ্ট্রকাঠামো মেরামতের রূপরেখা ঘোষণা করে এ বিষয়ে তাদের প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেছে। তারপরও আমি মনে করি এ সরকার বিএনপিসহ অন্যান্য সক্রিয় রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনায় বসা উচিত। দ্বিকক্ষবিশিষ্ট আইনসভার কাঠামো কেমন হবে এবং কখন থেকে শুরু করা যায় এ বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা হতে পারে। তবে সাংবিধানিক সংস্কারসহ অন্যান্য সংস্কারসমূহ দ্রুততম সময়ের মধ্যে শেষ করে জাতীয় নির্বাচন আয়োজন করা উচিত। জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠান বিলম্ব হলে রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে। নতুন রাজনৈতিক সংকট সৃষ্টি হতে পারে।

লেখক: অধ্যাপক, রাজনীতি বিজ্ঞান বিভাগ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়।

mzamin

গণঅভ্যুত্থানের পর আমরা কতোটা দায়িত্বশীল আচরণ করছি by জি এম রাজিব হোসেন

দিনবদলের অঙ্গীকার করে নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে আওয়ামী লীগ ২০০৯ সালে সরকার গঠন করে। কিন্তু তারা কথা রাখেনি। তারা সেই পুরনো রাজনৈতিক ধারায় ফিরে যায়। ক্ষমতা পাকাপোক্ত করতে আইন বিভাগ, শাসন বিভাগ ও বিচার বিভাগের ওপর কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করে। তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল, বিরোধী দল ও মতকে কঠোরভাবে দমনে হামলা-মামলার আশ্রয়, গুম-খুন, লুটপাট চালিয়ে দেশে ফ্যাসিজম কায়েম করে। এভাবে কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠিত করতে গিয়ে আওয়ামী লীগ কখন যে দেশের বিরাট একটি অংশকে নিজেদের প্রতিপক্ষ বানিয়ে ফেলে তা হয়তো শেখ হাসিনা বুঝতে পারেননি। তাইতো গত জুলাই-আগস্ট মাসে গণঅভ্যুত্থানের মধ্যদিয়ে তার পতন ঘটে। আন্দোলনের মুখে তাকে দেশ থেকে পালাতে হয়। কিন্তু পালানোর আগে অন্তিম সময়েও তিনি নিরাপত্তা বাহিনী দিয়ে খুন করে সহস্রাধিক মানুষকে। আহত হয় কমপক্ষে ১৮ হাজার মানুষ।

আমার প্রশ্ন এই যে, এত মানুষ আত্মত্যাগ করলো, প্রাণ বিসর্জন দিলো তার কারণ কি? তারা কি নিছকই প্রাণ দিলো নাকি তাদের কোনো স্বপ্ন ছিল? প্রত্যেকটা বিপ্লবের পিছনে একটি স্বপ্ন থাকে। এবারো বিপ্লবীদের একটা স্বপ্ন ছিল। তা হলো একটি গণতান্ত্রিক মানবিক বাংলাদেশ গড়া। যেখানে কেউ বৈষম্যের শিকার হবে না।  সবার জন্য ন্যায়বিচার থাকবে। ভোটাধিকার থাকবে। বাক স্বাধীনতা ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতা থাকবে।

আগস্টের পটপরিবর্তনের পর আমরা সড়কে বিভিন্ন গ্রুপের সরব উপস্থিতি লক্ষ্য করলাম। যাদেরকে আগে দেখা যায়নি। প্রতিদিন তারা বিভিন্ন দাবি নিয়ে রাস্তায় বিক্ষোভ দেখাতে থাকে। প্রেস ক্লাবের সামনের সড়ক ও শাহবাগ অবরোধ করতে থাকে। পাশাপাশি দাঁড়িয়ে অনেকগুলো সংগঠন একসঙ্গে যখন স্লোগান ও বক্তৃতা দিতে থাকে তখন কী ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় তা সহজে অনুমেয়। কারও বক্তব্যই ঠিকমতো কেউ বুঝতে পারে না। অথচ স্লোগান চলছে। তাদের অনেক দাবিই যোক্তিক। কিন্তু বিষয়টি এমন দাঁড়ায় যেন মুহূর্তেই তাদের সব দাবি-দাওয়া পুরণ হওয়া চায়। বৈষম্য নিরসনে তাদের দাবি দাওয়ার ন্যায্যতা অবশ্যই রয়েছে। কিন্তু তাদের মনে রাখতে হবে বর্তমানে যে সরকার রয়েছে তারা এ বৈষম্যের জন্য দায়ী নয়। একটা ভিন্ন প্রেক্ষাপটে তারা দায়িত্ব নিয়েছে মাত্র। তাই অন্তর্বর্তীকালীন এ সরকারকে তিনদিন-সাতদিনের আল্টিমেটাম না দিয়ে সময় দেয়াটা শ্রেয়। তাতে সরকারও স্থিতিশীল হবে এবং বৈষম্য নিরসনের উদ্যোগও নিতে পারবে। একইসঙ্গে বিপ্লবের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসা এ সরকার দেশি-বিদেশি চক্রান্তও মোকাবিলা করতে পারবে।

বিভিন্ন সংগঠনের বৈষম্য নিরসনের দাবির সুযোগে দেশকে অস্থিতিশীল করার চক্রান্ত যে একেবারে হয়নি তা কিন্তু উড়িয়ে দেয়া যায় না। চাকরি জাতীয়করণের দাবিতে অঙ্গীভূত আনসারদের আন্দোলনের সময় এ ধরনের একটি চক্রান্ত হয়েছিল। আনসারদের আন্দোলন শেষ পর্যন্ত ছাত্র-জনতার সঙ্গে সংঘর্ষে রূপ নেয়। এতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক হাসনাত আবদুল্লাহসহ ৪০ জন ছাত্র আহত হয়। সরকারি অনেক নীতি নির্ধারক মনে করেন, তাৎক্ষণিক বৈঠকে আনসারদের রেস্ট প্রথা বাতিল এবং চাকরি জাতীয়করণের বিষয়টি বিবেচনায় নিতে একটি কমিটি গঠনের পরও তাদের আন্দোলন চালিয়ে যাওয়া এবং সচিবালয়ের চারপাশে প্রায় ১০ হাজার আনসার সদস্যের জমায়েত গভীর ষড়যন্ত্রের অংশ। তাদের সন্দেহ কিন্তু অমূলক নয়। একদিনের মধ্যে ৫৫ হাজার অঙ্গীভূত আনসার সদস্যের চাকরি স্থায়ী করে গেজেট প্রকাশের দাবি এ সন্দেহকে আরও ঘনিভূত করে।

সমসাময়িককালে সংখ্যালঘুদের বাড়িঘর ও স্থাপনায় হামলার মতো কিছু দুঃখজনক ঘটনা ঘটে। তবে সংখ্যালঘু হওয়ার কারণেই যে হামলা হয়েছে তা কিন্তু নয়। হামলা হয়েছে রাজনৈতিক কারণে। যেমন ধর্মীয় কারণে সংখ্যালঘু কিন্তু হয়তো তিনি আওয়ামী লীগের নেতা বা সক্রিয় কর্মী থেকে ছাত্র-জনতার আন্দোলনেরর বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছিলেন কিংবা গত ১৭ বছর ধরে বিরোধী রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের ওপর অত্যাচার নির্যাতন চালিয়েছেন এমন ব্যক্তিবর্গের বাড়িঘর কিংবা স্থাপনা হামলার শিকার হয়েছে।

প্রথম আলোর এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয় গত ৫ থেকে ২০শে আগস্ট সারা দেশে সংখ্যালঘুদের এক হাজার ৬৮টি স্থাপনায় হামলা হয়েছে। এর মধ্যে অন্তত ৫০৬টির মালিক আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। অর্থাৎ প্রায় অর্ধেক ঘটনা ঘটেছে তাদের আওয়ামী লীগ সংশ্লিষ্টতার কারণে। হতে পারে তারা বিভিন্ন সময় আওয়ামী লীগের হয়ে নেতিবাচক ভূমিকা রেখেছিলেন।

কিন্তু আমরা দেখেছি ৫ই আগস্টের পর সংখ্যালঘুদের ওপর হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন সংগঠন রাজনৈতিক ফায়দা লোটার চেষ্টা করেছে। রাজপথে বড় আন্দোলন গড়ে তোলার চেষ্টা হয়েছে এবং এসব আন্দোলনে এমন অনেককে দেখা গেছে যারা ধর্মীয় কারণে সংখ্যালঘু হলেও আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এমন কয়েক জনের পরিচয়ও প্রকাশিত হয়েছে। অর্থাৎ তারা এসেছে কিন্তু হামলার সহমর্মী হিসেবে নয় বরং ছাত্র-জনতার রক্তের বিনিময়ে পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের জন্য একটি স্পেস তৈরির সুযোগ সৃষ্টির জন্য। বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু মহাজোটের একটি বক্তব্য এ ধারণাকে আরও সত্য প্রমাণ করেছে। গত ২৩শে আগস্ট ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটি জানায়, ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর দেশে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর হামলা “সাম্প্রদায়িক হামলা” হিসেবে বিবেচনা করার সুযোগ নেই। তারা আরও বলেন, সরকার পতনের পর সংখ্যালঘুদের ওপর রাজনৈতিক স্বার্থে হামলা হয়েছিল। কিছু সুযোগসন্ধানীও এই হামলায় যোগ দিয়েছিল। তাই যদি হয়, তাহলে একটি নবীন সরকার যখন দেশ সংস্কারের দায়িত্ব নিয়েছে ঠিক তখনই সংখ্যালঘু বিষয়টিকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার কেন? এটা কোন ধরনের রাজনীতি।       

একই সময়ে আমরা বেতন বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন দাবিতে শ্রমিক অসন্তোষের ঘটনা দেখতে পাই। এবার পোশাক শ্রমিকদের পাশাপাশি ওষুধ শিল্প শ্রমিক ও জুতার কারখানার শ্রমিকরাও আন্দোলনে নামে। তবে অন্যান্য সময়ে মূলত বেতন বৃদ্ধির দাবিতে শ্রমিক আন্দোলন হলেও এবার এমন কিছু দাবি তুলে শ্রমিক অসেন্তাষ দেখা দেয় যেটা অযোক্তিক। যেমন- কারখানায় নারী-পুরুষ সমানুপাতিক হারে নিয়োগ, টিফিন, নাইট ও ওভারটাইম বিল বৃদ্ধি, মৃত শ্রমিকের মরদেহ কোম্পানির খরচে গ্রামের বাড়িতে প্রেরণ, অসুস্থ শ্রমিকের চিকিৎসা ব্যয় নির্বাহ, খাবারে সপ্তাহে দুইদিন গরুর মাংস, দুইদিন মুরগির মাংস ও দুইদিন সবজির সঙ্গে ডিম প্রদান, ঈদে ১২ দিন ছুটি, বছরে একবার পিকনিকে নিয়ে যাওয়া। দেখা গেছে একেক জায়গায় একেক দাবিতে শ্রমিকরা কাজ বন্ধ রেখেছেন। তাদের দাবিগুলোর মধ্যে কোনো সমন্বয় ছিল না। এমনকি কারা এসব দাবি দিচ্ছে সে ব্যাপারেও শ্রমিক সংগঠনের নেতাদের সুনির্দিষ্ট কোনো ধারণা নেই বলে বিভিন্ন গণমাধ্যমে খবর বেরিয়েছে। অনেক জায়গায় কারখানায় হামলা হয়েছে। বহিরাগতরা এসব হামলায় জড়িত বলে অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। এই বহিরাগত কারা? শ্রমিকরা ন্যায্য দাবিতে আন্দোলন করবে এটা স্বাভাবিক। তবে মাত্র ১০ মাসের মাথায় নতুন করে বেতন বৃদ্ধির দাবিতে আন্দোলন অন্য বার্তা দেয়।

এরই মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে গণপিটুনি দিয়ে ৩টি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটলো। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে মোবাইল চোর সন্দেহে একজনকে পিটিয়ে মারা হলো। যাকে মারা হলো তিনি এক সময় ছাত্রলীগের নেতা ছিলেন। কিন্তু পরবর্তীতে তিনি প্রেম সংক্রান্ত ও পারিবারিক কারণে মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেন। অবশ্য গণপিটুনিতে যিনি নেতৃত্ব দিলেন তিনি ছাত্রলীগের সাবেক এক নেতা। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের সাবেক দুইজন নেতাকে পিটিয়ে মারা হলো। তাদের মধ্যে একজনের বিরুদ্ধে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময় সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার অভিযোগ ছিল। এখন প্রশ্ন হলো কয়েকদিন আগে যেখানে বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদ ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার দাবিতে এতবড় আন্দোলন হলো সেখানে আবারো বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ড কেন? ইতিপূর্বে তারা সাধারণ ছাত্র-ছাত্রীদের ওপর হামলা করেছিল এ যুক্তি কখনোই এখানে বৈধতা পেতে পারে না। তাহলে কেন আইন নিজের হাতে তুলে নেয়া হলো এবং তা এমন একটা সময় করা হলো যখন চারিদিক থেকে নতুন করে বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করার অপচেষ্টা হচ্ছে।

ইদানিং আরেকটি বিষয় নিয়ে সমাজে বিভেদ তৈরির পাঁয়তারা হচ্ছে। “গণঅভ্যুত্থানের মালিকানা” নিয়ে রীতিমত বাকযুদ্ধ চলছে। কে সমন্বয়ক, কে মাস্টারমাইন্ড, কে নয় দফার প্রবর্তক, কে এক দফার প্রবর্তক এসব নিয়ে তর্কাতর্কি থামছেই না। যেন “আমিই” সব করেছি। কিন্তু আসলে বিষয়টা “আমি” না “আমরা করেছি”। দেশের মানুষ সম্মিলিতভাবেই করেছে। একাই যদি সব করা যেতো তাহলে ১৫ বছর ফ্যাসিজমের রাজত্ব চলতো না। তাই গণতন্ত্রকামী সব মানুষ এই গণঅভ্যুত্থানের দাবিদার। যারা জুলাই-আগস্ট মাসে আন্দোলনে শরিক হয়েছে এবং যারা ১৫ বছর ধরে আন্দোলন সংগ্রাম করে গণঅভ্যুত্থানের পথ প্রশস্ত করেছে তারা সবাই এর দাবিদার। সবার ত্যাগের বিনিময়ে “দ্বিতীয় এ স্বাধীনতা” এসেছে।

এখনো বিভিন্ন দাবি-দাওয়া নিয়ে মানুষ রাস্তায় নামছেন। কমবেশি শ্রমিক অসন্তোষ চলছে। রাষ্ট্রীয় আইন না মানার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। সবকিছুতেই যেন একটা হামবড়া ভাব পরিলক্ষিত হচ্ছে। যেন যা কিছু করছি সব ঠিক আছে। এটা করা অধিকার। সরকারকে আজই সবকিছু মেনে নিতে হবে। কেন তারা মানবে না। তাদেরকে মানতেই হবে এবং সেটা আজই। এভাবে একদিকে কিছু মানুষ গায়ের জোরে হয়তো তাদের “ন্যায্য অধিকার” আদায়ের চেষ্টা করছেন। অন্যদিকে পতিত স্বৈরাচার ও স্বার্থান্বেষী মহল এটাকে পুঁজি করে ষড়যন্ত্র করছে এবং পুরোনো ফ্যাসিবাদ পুনঃপ্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা করছে। এক্ষেত্রে আমার প্রশ্ন হচ্ছে “উগ্র আচরণের” মাধ্যমে দাবি-দাওয়া পূরণের চেষ্টা করে আমরা কী সত্যিকার অর্থে দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিচ্ছি? আর এভাবে আমরা কী কারও রাজনৈতিক এজেন্ডা বাস্তবায়নের হাতিয়ার হচ্ছি?

লেখক: সিনিয়র সাংবাদিক

mzamin

কেউ তদবির করলে প্রথমে তাকে বাদ দেয়া উচিত -ড. এসএমএ ফায়েজ by পিয়াস সরকার

পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি’র ক্ষেত্রে সচেতন থাকতে হবে সরকারকে। যোগ্য ব্যক্তিতে যোগ্য জায়গায় নিয়ে আসার চেষ্টা করতে হবে। কেউ তদবির করলে প্রথমেই বাতিল করা উচিত। যারা তদবির করবেন তাদের পদের প্রতি মোহ আছে, সম্মান না। যদি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি দুর্নীতি করেন, তবে তার জীবনের কোনো মূল্যই থাকে না বলে মন্তব্য করেছেন বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এসএমএ ফায়েজ

মানবজমিনকে দেয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে উচ্চ শিক্ষার নানা বিষয়ে কথা বলেন তিনি। সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) সাবেক এই চেয়ারম্যান বলেন, নতুন একটা বাংলাদেশ এসেছে ছাত্র-জনতার মাধ্যমে। জীবন দিয়েছে, আহত হয়েছে, চোখ হারিয়েছে। তারা নতুন একটা বাংলাদেশ বির্নিমাণ করতে চায়। এই অনুভূতির প্রতি সম্মান রেখেই আমার এই স্থানে আসা। আমার লক্ষ্য হলো পুরনো জঞ্জাল মুছে ফেলা। আমরা পুরোপুরি জবাবদিহিতামূলক, স্বচ্ছ প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে চাই। গত রোববার আমরা কমনওয়েলথের একটা ফেলোশিপ করেছি। যেটা শুধুমাত্র মেধার ভিত্তিতে হয়েছে। এটা নিয়ে কোনো প্রশ্ন আসবে না। এভাবেই সামনে আমরা কাজ করে যেতে চাই।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক এই ভিসি বলেন, ইউজিসি খবরদারি বাদ দিয়ে টিমওয়ার্কের পথে হাঁটবে। আমাদের লক্ষ্য কোয়ালিটি রক্ষা করা। প্রচেষ্টা থাকবে প্রত্যাশা পূরণের। এটাই আমাদের লক্ষ্য। মেধার জন্য এত সেক্রিফাইজ, এর প্রতি আমরা সম্মান দেখাবো। ছাত্র-জনতা গোটা বিশ্বে একটা উদাহরণ সৃষ্টি করেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-ছাত্ররা উভয়েই কিন্তু মেধাবী। তাদের সঙ্গে কথা বলে আমরা কাজ করতে চাই।

উচ্চ শিক্ষায় সংস্কারের বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরের ট্রাস্টি বোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যান বলেন, সঠিক পথে এগিয়ে যাওয়াটাই সংস্কার। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের উপর অতিরিক্ত ফি আদায় করা হচ্ছে। আমরা যদি নিজস্ব জমিতে যাওয়ার কথা বলি সেটা আমরা দেখবো যাতে ছাত্রদের কাছ থেকে আদায় করা না হয়। তারা যেন সোশ্যাল রেসপনসিবিলিটি মেনে বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনা করে। সমাজ তাদের অনেক কিছু দিয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয় যেন ব্যবসায় পরিণত না হয়। ফি নির্ধারণের বিষয়ে আমরা চিন্তা করছি। ভবিষ্যতে এটা নিয়ে কাজ করবো। আমরা ঢাকা সিটির ভিতরে এক রকম বাইরে আরেক রকম, জেলা শহরে এক রকম করে দেয়া যায় কিনা সেটা ভেবে দেখা হবে।

অধিক পরিমাণ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিষয়ে ড. এসএমএ ফায়েজ বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়গুলো যদি মান নিয়ে চলে তাহলে অধিক বিশ্ববিদ্যালয় থাকা অন্যায় নয়। পড়াশুনার সুযোগের জন্য যদি অধিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা হয় এতে খারাপভাবে দেখার কিছু নেই। তবে মানের সঙ্গে কে নো আপোষ করা যাবে না। ইউজিসি’র ক্ষমতায়ন যতটুকু আছে এটাই যদি পুরোদমে কাটাতে পারি, এটাই বড়। আমরা ক্ষমতায় বিশ্বাস করি না। আমরা সঠিক কথা সঠিকভাবেই বলতে চাই।

ছাত্র রাজনীতির বিষয়ে ফাউন্ডেশন ফর রিসার্চ অন এডুকেশনাল প্ল্যানিং অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের (এফইপিডি) ট্রাস্টি বোর্ডের সাবেক এই চেয়ারম্যান  বলেন, যে রাজনীতির জন্য ছাত্ররা গণরুমে থাকতো এটা রাজনীতি না। যে রাজনীতি করতে চায় সে করবে। যে চায় না সে করবে না। কিন্তু বিগত সময়গুলোতে শিক্ষার্থীদের কৃতদাসের মতো ব্যবহার করা হয়েছে। কাল পরীক্ষা কিন্তু আজ তাকে যেতে হচ্ছে কোনো প্রোগ্রামে অনিচ্ছায়। এধরনের রাজনীতি ভালো না। এই কারণেই শিক্ষার্থীরা ভাবছে এটাই রাজনীতি। এই কারণেই তাদের এত অনীহা। সুষ্ঠু রাজনীতির ভালো দিক আছে। এজন্য শিক্ষক-শিক্ষার্থী-অভিভাবক, কর্মকর্তা সকলের সঙ্গে আলোচনা করে সঠিক জায়গায় যাবে বলে আমি মনে করি। সুষ্ঠু রাজনীতিতে নিজেকে গড়ে তোলার ক্ষেত্রেও ভালো। যে রাজনীতি দেখে এসেছে ছাত্ররা এটা কেউ চায় না, আমিও চাই না।

উচ্চ শিক্ষায় ঘাটতির বিষয়ে তিনি বলেন, এখন প্রধান ঘাটতি হচ্ছে সিলেবাস। আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী এই সিলেবাস আপ টু ডেট করতে হবে। গ্লোবাল মার্কেটের জন্য প্রস্তুত করার একটা সিলেবাস প্রস্তুত করা হবে। আরেকটা সমস্যা হচ্ছে বেতন কাঠামো। এখন মেধাবীরা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকতায় আগ্রহ দেখাচ্ছে এটা ভালো। কিন্তু রুট লেবেলে যে শিক্ষক পাঠদান করাচ্ছেন তার বেতন মোটেও পর্যাপ্ত না। একারণে মেধাবী লোককে নিয়োগ দেয়া যাচ্ছে না। চাহিদা মাফিক বেতন নিশ্চিত করতে হবে রুট লেবেলের শিক্ষকদেরও। প্রাইমারিতে উপযুক্ত বেতন দিয়ে মেধাবী শিক্ষক আনতে পারলেই উচ্চ শিক্ষায় আরও মেধাবী শিক্ষক পাওয়া যাবে।

পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয়বার ভর্তি পরীক্ষার সুযোগের বিষয়ে ইউজিসি চেয়ারম্যান বলেন, এখানে সবাই প্রতিযোগিতা করছে। দ্বিতীয়বার যারা পরীক্ষা দিচ্ছে তারা বেশি সময় পাচ্ছে। এখানে যে তারতম্য হচ্ছে এটা সত্য। কিন্তু এটা ফান্ডামেন্টাল অধিকারের পরিপন্থি। সে পরীক্ষা দিয়ে ভর্তি হতে চাইলে পাবে না কেন। সেটার জন্য যদি মানসম্মত অনেক বিশ্ববিদ্যালয় থাকে তাহলে বিষয়টা এত সিরিয়াস হবে না। কারণ সে পড়াশুনা করতে চাইছে। আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি ফান্ডামেন্টাল রাইটের জায়গায় সে দুইবার কেন আরও বেশিবারও দিতে পারে। তবে এটা নিয়ে চিন্তা-ভাবনা হচ্ছে। একইভাবে গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষার উপকারিতা-অপকারিতা দুটোই আছে। শিক্ষার্থীকে বিভিন্ন জায়গায় দৌড়াদেীড়ি করতে হয় না। আবার এটাকে নিখুঁত হতে হবে। এটাকে প্রশ্নের ঊর্ধ্বে রাখতে হবে। এটা করতে যদি সমস্যা হয় তাহলে ভালোর থেকে খারাপ হবে।

তিনি বলেন, চ্যালেঞ্জ কিন্তু একটা সুযোগও সৃষ্টি করে দেয়। চ্যালেঞ্জটাকে মোকাবিলা করে উত্তরণ করতে হবে। ইউজিসিতে দায়িত্ব নেয়ার পর থেকে কাউকে দুর্নীতি করতে দেখিনি। তবে বোঝা যায় এখানে দুর্নীতি আছে। বোঝা যায় এখানে দুর্নীতি আশ্রয় করেছে। এটা এতদিন সমাজের অংশ ছিল। তারা প্রশ্নের ঊর্ধ্বে উঠতে পারেনি। যাতে প্রশ্নের ঊর্ধ্বে উঠতে পারি সেলক্ষে আমাদের কাজ করে যেতে হবে। আমরা যদি দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করতে পারি তবে এটার কলেবর বাড়ানোর চেষ্টা করবো। আমাদের সন্তানরা বুক চিতিয়ে লড়াই করছে। পিছনে জঞ্জাল সামনে স্বাধীনতা এটাই আমাদের মূল মন্ত্র। শিক্ষার্থীরা যে সচেতনতার মাধ্যমে আমাদের দেশের স্বাধীনতা এনে দিয়েছে। তারা যে কতো মেধাবী তারা দেখিয়ে দিয়েছে। লাইব্রেরি সুবিধা, ডাইনিংয়ে ভালো খাবার, সুন্দর থাকার পরিবেশ এসব যদি আমরা দিতে পারি তাহলে তাদের হাত ধরে দেশ অনেক এগিয়ে যাবে। তারা তাদের কাজ করছে, করেছে। আমরা কতোটুকু আমাদের কাজ করতে পারছি এটাই প্রশ্ন। আমি স্বপ্ন দেখি তাদের নিয়ে। পুরো পৃথিবী তাদের নিয়ে স্বপ্ন দেখছে।
উল্লেখ্য,  অধ্যাপক ড. এসএমএ ফায়েজ গত ৫ই সেপ্টেম্বর ইউজিসি চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ পান। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মৃত্তিকা, পানি ও পরিবেশ বিভাগের সাবেক অধ্যাপক। ফায়েজ ২০০২ সাল থেকে ছয় বছর ভিসির দায়িত্ব পালন করেন। সরকারের পট পরিবর্তনের পর গত ১১ই আগস্ট ইউজিসি চেয়ারম্যানের পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন প্রফেসর কাজী শহীদুল্লাহ। ২০১৯ সালের মে থেকে তিনি ইউজিসি চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন।
mzamin

ইসরায়েলে হামলা চালিয়ে নেতানিয়াহুর ফাঁদে পা দিল ইরান!

শেষ পর্যন্ত ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ফাঁদেই পা দিল ইরান। দুই মাস আগে থেকেই ইসরায়েলে হামলার হুমকি দিয়ে আসছিল তেহরান। কিন্তু ইসরায়েলকে কিছুই করেনি দেশটি। উল্টো ইরানের নীরবতার সুযোগে লেবাননে প্রতিরোধ যোদ্ধাদের প্রধান হাসান নাসরুল্লাহকে হত্যা করে ইসরায়েল। এবার আর চুপ বসে থাকতে পারেননি ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি।

গেল এপ্রিলের পর পহেলা অক্টোবর। কয়েক মাসের ব্যবধানে দ্বিতীয়বারের মতো ইরানের মাটি থেকে ইসরায়েলে হামলা চালানো হয়। মঙ্গলবারের ওই হামলায় প্রায় ২০০টি ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে ইরান। বলা হচ্ছে, বেশ ভালোই সাফল্য পেয়েছে দেশটি। কিন্তু ইসরায়েল আগে থেকেই এমন হামলার জন্য প্রস্তুত ছিল। বলা হয়, এই হামলা ইসরায়েলের জন্য পোয়াবারো হয়েছে।

প্রথমে যোগাযোগে ডিভাইস বিস্ফোরণ ঘটিয়ে লেবাননকে অস্থির করে তোলে ইসরায়েল। তারপর লেবাননের প্রতিরোধ যোদ্ধাদের সদরদপ্তর লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়। বৈরুতের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহরতলী এলাকায় একটি আবাসিক ভবনের নিচে আন্ডারগ্রাউন্ডে ছিল ওই সদরদপ্তর। সেখানে বাংকার বাস্টার বোমা ফেলে গুড়িয়ে দেওয়া হয়। নিহত হন লেবাননের প্রতিরোধ যোদ্ধাদের প্রধান হাসান নাসরুল্লাহ। অল্পের জন্য বেঁচে যান গ্রুপটির শীর্ষ কয়েকজন নেতা।

এরপর পাল্টা জবাবে ইসরায়েলে হামলা করে বসে ইরান। হামলা করা হয় লেবানন, ইরাক ও ইয়েমেন থেকেও। চতুর্দিক থেকে চালানো হামলা বেশ ভালোভাবেই সামাল দিয়েছে ইসরায়েল। কিন্তু এই অঞ্চলে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। ইসরায়েলও কড়া জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, বল এখন ইসরায়েলের কোর্টে।

ইরানে হামলা চালানোর এমনই একটি উপলক্ষ্য খুঁজছিল ইসরায়েল। তেল আবিবকে সেই সুযোগ করে দিয়েছে তেহরান। শোনা যাচ্ছে, ইরানের পরমাণু স্থাপনার হামলা করতে চাইছে ইসরায়েল। তবে তাতে সম্মতি নেই যুক্তরাষ্ট্রের। বরং যুক্তরাষ্ট্র চায়, ইরানের অর্থনীতির কোমর ভেঙে দিতে। সেক্ষেত্রে ইরানের গুরুত্বপূর্ণ তেল রপ্তানি টার্মিনাল লক্ষ্য করে হামলা চালাতে পারে ইসরায়েল।

তবে যুক্তরাষ্ট্রের কথা না-ও শুনতে পারেন নেতানিয়াহু। ইরান গোপনে যেসব অঞ্চলে পরমাণু কর্মসূচি চালাচ্ছে সেগুলোকে টার্গেট করতে পারে ইসরায়েল। এতে এক ঢিলে দুই পাখি মারা হবে। সামরিক শক্তিতে ইরান যেমন পিছিয়ে যাবে, তেমনটি অর্থনৈতিকভাবেও বড় ধাক্কা খাবে দেশটি। তাছাড়া পরমাণু কর্মসূচি ব্যর্থ হলে ইরান মধ্যপ্রাচ্যে ইসরায়েলের জন্য মোটেও হুমকির কারণ হবে না।

ছবি : সংগৃহীত

চট্টগ্রামে ফের তেলের ট্যাংকারে ভয়াবহ আগুন

চট্টগ্রামে এবার বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের (বিএসসি) আরেকটি তেলের ট্যাংকারে ভয়াবহ আগুনের ঘটনা ঘটেছে। ট্যাংকারটির নাম এমটি বাংলার সৌরভ।

শুক্রবার (৪ অক্টোবর) রাত ১২টা ৫০ মিনিটে চট্টগ্রামের পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকত এলাকায় মধ্যসাগরে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স চট্টগ্রাম কার্যালয়ের মোবিলাইজিং অফিসার কফিল উদ্দিন কালবেলাকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, জরুরি সেবা ৯৯৯ এর কল পেয়ে আমরা তেলের ট্যাংকারে আগুনের বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছি। রাত ১২টা ৫০ মিনিটে এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। আগুন নেভাতে কর্ণফুলী ফায়ার সার্ভিস থেকে একটি গাড়ি পাঠানো হয়েছে। এ ছাড়া কোস্টগার্ড ও নৌবাহিনী আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে।

চট্টগ্রাম বন্দরের রেডিও কনট্রোল রুম সূত্রে জানা যায়, ট্যাংকারটিতে ক্রুসহ মোট ৫০ জন কর্মরত ছিলেন। রাত ২টা পর্যন্ত ৪৩ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। বাকি ৭ জন এখনও নিখোঁজ রয়েছেন। উদ্ধার অভিযান চলছে।

এর আগে সোমবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টায় কর্ণফুলী নদীর ডলফিন জেটিতে ‘বাংলার জ্যোতি’ নামে একটি তেলবাহী জাহাজে আগুনের ঘটনা ঘটে। এই ঘটনায় তিনজনের মৃত্যু হয়। তারা ব্যক্তিরা হলেন ডেক ক্যাডেট সৌরভ কুমার সাহা, বিএসসির ফোরম্যান নুরুল ইসলাম ও শ্রমিক মো. হারুন। তিনজনই অগ্নিদগ্ধ হয়ে মারা গেছেন।

ওই ঘটনায় দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, ১৯৮৬ সালে নির্মাণ করা বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশনের (বিএসসি) জাহাজ ‘এমটি বাংলার জ্যোতি’। নৌ-বাণিজ্য অধিদপ্তর থেকে জাহাজটিকে নিবন্ধন দেওয়া হয় ১৯৮৮ সালে। ৩৮ বছরের পুরোনো জাহাজটি অনেক আগেই স্ক্র্যাপিং করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল বিএসসির। কিন্তু স্ক্র্যাপিং না করেই ব্যবহার করা হচ্ছিল জাহাজটি। অনেকটা ত্রুটিপূর্ণ থাকার পরেও জাহাজটি ক্রুড লাইটারিংয়ে ব্যবহার করা প্রতিষ্ঠানটিকে। যেই কারণে গেল সোমবার চট্টগ্রামের পতেঙ্গায় তেলবাহী জাহাজেটিতে ঘটে বিস্ফোণ।

বিএসসি সূত্রে জানা যায়, বিএসসির বহরে রয়েছে দুইটি অয়েল ট্যাংকার। ‘এমটি বাংলার জ্যোতি’ ও ‘এমটি বাংলার সৌরভ’ নামের ট্যাংকার দুইটি ১৯৮৭ সালে নির্মিত হয়েছিল ডেনমার্কে। ট্যাংকার দুইটি চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে অপেক্ষমাণ বড় ট্যাংকার থেকে অপরিশোধিত জ্বালানি তেল সংগ্রহ করে পতেঙ্গার বিভিন্ন ডিপোতে নিয়ে আসে। 

চট্টগ্রামে এমটি বাংলার সৌরভ নামে একটি তেলের ট্যাংকারে ভয়াবহ আগুন। ছবি : কালবেলা
চট্টগ্রামে এমটি বাংলার সৌরভ নামে একটি তেলের ট্যাংকারে ভয়াবহ আগুন। ছবি : কালবেলা

রোহিঙ্গা সংকট একটি তাজা টাইম বোমা: ড. ইউনূস

প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত রোহিঙ্গা সংকটকে একটি তাজা টাইম বোমা আখ্যায়িত করে এটি যেকোনো সময় বিস্ফোরিত হতে পারে বলে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে সতর্ক করে দিয়েছেন।

শুক্রবার রাজধানীর একটি হোটেলে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, পুরো বিশ্বের জন্য উদ্বেগের বিষয় হলো, এটি একটি তাজা টাইম বোমা, যা যেকোনো সময় বিস্ফোরিত হতে পারে।

যৌথ প্রচেষ্টার মাধ্যমে রোহিঙ্গা সংকটের দ্রুত ও আন্তর্জাতিক সমাধানের ওপর গুরুত্বারোপ করে ড. ইউনূস বলেন, এ সমস্যার সমাধান বাংলাদেশের হাতে নয়, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের হাতে।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘আমরা বিষয়টি উত্থাপন করতে থাকব। মালয়েশিয়া আমাদের সহযোগিতা করবে। আমরা অনির্দিষ্টকালের জন্য অপেক্ষা করতে পারি না। এটি এমন এক বিষয় যা আমাদের যত দ্রুত সম্ভব সমাধান করতে হবে।’

ড. ইউনূস বলেন, তিনি মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে আলোচনা করেছেন। এটি মালয়েশিয়ার জন্যও একটি সমস্যা। সেখানে অল্পসংখ্যক রোহিঙ্গা রয়েছে। তিনি আরও বলেন, ‘এটি বাংলাদেশের একার সমস্যা নয়, মালয়েশিয়ারও সমস্যা। আমাদের এই সমস্যার সমাধান খুঁজে বের করতে হবে এবং আমরা আসিয়ান, মালয়েশিয়ার সরকার ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মাধ্যমে একসঙ্গে কাজ করব।’

মালয়েশিয়া ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে আসিয়ানের পরবর্তী চেয়ার হতে যাচ্ছে।

রোহিঙ্গা সংকটের দুটি দিক তুলে ধরে ড. ইউনূস বলেন, গত ৭ বছরে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে বছরে গড়ে ৩২ হাজার শিশু জন্মগ্রহণ করেছে। প্রতিদিন ৪০০ থেকে ৫০০ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে প্রবেশ করছে। তিনি বলেন, কক্সবাজারে অবস্থিত আশ্রয়শিবিরগুলোতে রোহিঙ্গা তরুণদের একটি পুরো নতুন প্রজন্ম বেড়ে উঠছে। এটি ক্ষুব্ধ তরুণদের একটি প্রজন্ম। তাদের কোনো ভবিষ্যৎ নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমি এই উদ্বেগের কথা মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করেছি।’

ড. ইউনূস বলেন, মালয়েশিয়া সরকার বাংলাদেশকে পূর্ণ সহযোগিতা করছে। তিনি বলেন, এই সমস্যার একটি আন্তর্জাতিক সমাধান খুঁজতে মালয়েশিয়া আসিয়ান ও আন্তর্জাতিক ফোরামের মাধ্যমে বাংলাদেশকে সহায়তা করবে।

বাংলাদেশ এখন কক্সবাজার ও ভাসানচরে ১২ লাখের বেশি রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিচ্ছে।

মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। শুক্রবার ঢাকার একটি হোটেলে
মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। শুক্রবার ঢাকার একটি হোটেলে। ছবি: বাসস

লেবাননে হামলা জোরদার করেছে ইসরায়েল, দুর্দশায় সাধারণ মানুষ

লেবাননে আকাশ ও স্থলপথে হামলা অব্যাহত রেখেছে ইসরায়েল। রাজধানী বৈরুতের পাশাপাশি দেশটির সীমান্ত এলাকায়ও বোমাবর্ষণ করছে তারা। আজ শুক্রবার লেবানন ও সিরিয়ার মধ্যে একটি সীমান্ত ক্রসিংয়ে ব্যাপক হামলা হয়েছে। ইসরায়েলের হামলা থেকে প্রাণ বাঁচাতে এই পথে সিরিয়া পাড়ি দিচ্ছেন লেবাননের অনেক বেসামরিক নাগরিক।

লেবানন-সিরিয়া সীমান্তে মাসনা নামের ওই ক্রসিংয়ে ইসরায়েলের হামলার ফলে সড়কপথের বড় একটি অংশ ধ্বংস হয়ে গেছে। চলাচল করতে পারছে না যানবাহন। ইসরায়েলের সামরিক বাহিনীর দাবি—ওই ক্রসিংয়ে লেবাননের সশস্ত্র সংগঠন হিজবুল্লাহর স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। সীমান্তটি দিয়ে লেবাননে অস্ত্র চোরাচালান করা হতো।

মাসনা ক্রসিংয়ে সড়ক যোগাযোগব্যবস্থা ভেঙে পড়লেও এখনো অনেকে হেঁটে সিরিয়ায় পৌঁছানোর চেষ্টা করছেন। আজ তোলা ছবিতে দেখা গেছে, লেবানন থেকে পালাতে সড়কের বড় বড় গর্ত পার হচ্ছেন লোকজন। বোমার আঘাতে ওই গর্তগুলো সৃষ্টি হয়েছে। লেবানন সরকারের হিসাবে, গত ১০ দিনে ইসরায়েলের হামলার মুখে দেশটি থেকে ৩ লাখের বেশি মানুষ সিরিয়ায় পালিয়ে গেছেন।

মাসনা ক্রসিংয়ে সড়কে হামলার ফলে শুধু মানুষের চলাচলই বিঘ্ন হচ্ছে না, সেখান দিয়ে খাদ্যসামগ্রী ও মানবিক সহায়তা আনা-নেওয়ায়ও সমস্যা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ত্রাণসংক্রান্ত কর্মকর্তারা। জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির (ডব্লিউএফপি) পরিচালক ম্যাথিউ হোলিংওর্থ বলেন, মাসনা সীমান্ত ক্রসিং দিয়ে লেবাননে সবচেয়ে কম খরচে ও সহজে বিভিন্ন পণ্য আনা যেত। হামলার ফলে তা আর সম্ভব হবে না। এখন ইসরায়েলের অন্য সীমান্তপথগুলোতে হামলা চালানো উচিত হবে না। কারণ, বর্তমানে সেগুলো মানুষের দেশত্যাগ ও ত্রাণসহায়তা আনার জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

আজ বৈরুতেও ব্যাপক হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী। হামলা হয়েছে রাজধানীর দক্ষিণ উপকণ্ঠের কাছে লেবাননের একমাত্র বাণিজ্যিক বিমানবন্দর বৈরুত-রাফিক হারিরি ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্টে। এ ছাড়া আজ ইসরায়েলের হামলায় হিজবুল্লাহর সম্ভাব্য প্রধান হাশেম সাফিয়েদ্দিনকে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

এদিকে লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে আরও দুই ডজন শহর ও গ্রামের বাসিন্দাদের নিজেদের নিরাপত্তার জন্য দ্রুত সরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী। এই শহরগুলো ইসরায়েল সীমান্ত থেকে লেবাননের প্রায় ৩০ কিলোমিটার ভেতরে—লিতানি নদীর উত্তরে। এর মধ্য দিয়ে লেবাননের দক্ষিণ অঞ্চল ইসরায়েলের দখলে যাওয়ার পুরোনো শঙ্কা আবার দেখা দিয়েছে।

ইসরায়েল-হিজবুল্লাহ দ্বন্দ্ব বহু পুরোনো। ২০০৬ সালে দুই পক্ষের মধ্যে যুদ্ধও হয়েছিল। এরপর গত বছর গাজা যুদ্ধ শুরুর পর থেকে হামাসের সমর্থনে ইসায়েলে আবার হামলা শুরু করে হিজবুল্লাহ। জবাবে পাল্টা হামলা চালাচ্ছিল ইসরায়েলও। তবে গত মাসের মাঝামাঝি সময় থেকে হামলা জোরদার করে তারা। এতে হিজবুল্লাহপ্রধান হাসান নাসরুল্লাহসহ সংগঠনটির শীর্ষ পর্যায়ের বেশ কয়েকজন নেতা নিহত হন। সাম্প্রতিক হামলায় লেবাননে নিহত মানুষের মোট সংখ্যা দুই হাজারের বেশি। এর মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় অন্তত ৩৭ জন মারা গেছেন। নতুন করে আহত ১৫১ জন।

চরম ‘বিপর্যয়ে’ বেসামরিক মানুষ

লেবাননে ইসরায়েলের অব্যাহত হামলার ফলে বেসামরিক মানুষ ‘সত্যিকার অর্থে বিপর্যয়ের’ মুখে পড়েছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতিসংঘের আবাসিক ও মানবিক সহায়তাবিষয়ক সমন্বয়ক ইমরান রিজা। তিনি বলেছেন, ইসরায়েলের হামলায় লেবাননের কমবেশি ১০ লাখ মানুষের ওপর প্রভাব পড়েছে। ২৩ সেপ্টেম্বর থেকে দেশটিতে উদ্বাস্তু হওয়ার সংখ্যা সর্বোচ্চ খারাপ পর্যায়ে পৌঁছেছে। বেসামরিক স্থাপনাগুলোয় খুব বেশি পরিমাণে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ফলে মানুষের আতঙ্ক চরমে পৌঁছেছে।

আজ জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক সংস্থার কর্মকর্তা রুহা আমিন সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় এক সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, ইসরায়েলের হামলা শুরুর পর লেবাননের প্রায় ৯০০টি সরকারি আশ্রয়কেন্দ্র গড়ে তোলা হয়েছিল। তবে হামলার কারণে উদ্বাস্তু হওয়া মানুষের ভিড়ে সেগুলোয় আর জায়গা নেই। ফলে অনেককে এখন উন্মুক্ত স্থান, রাস্তা ও পার্কগুলোতে রাত কাটাতে হচ্ছে।

এদিকে লেবাননের প্রবাসী নারী গৃহকর্মীদের নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন দেশটিতে আন্তর্জাতিক শরণার্থী সংস্থার প্রধান ম্যাথিউ লুসিয়ানো। তিনি বলেছেন, চলমান সংঘাতের মধ্যে অনেক গৃহকর্মীর নিয়োগদাতারা তাঁদের চাকরিচ্যুত করেছেন। এই গৃহকর্মীদের অনেকের কাছে বৈধ কাগজপত্র নেই। ফলে গ্রেপ্তার হওয়া এবং লেবানন থেকে তাড়িয়ে দেওয়ার শঙ্কায় তাঁরা মানবিক সহায়তার খোঁজ করতে ভয় পাচ্ছেন।

ইসরায়েলের বোমা হামলার মুখে জীবন বাঁচাতে পালাচ্ছেন লেবাননের বাসিন্দারা। সিরিয়া সীমান্তবর্তী মাসনা এলাকায়, ৪ অক্টোবর, ২০২৪
ইসরায়েলের বোমা হামলার মুখে জীবন বাঁচাতে পালাচ্ছেন লেবাননের বাসিন্দারা। সিরিয়া সীমান্তবর্তী মাসনা এলাকায়, ৪ অক্টোবর, ২০২৪। ছবি: এএফপি

ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধে কতটা প্রভাব ফেলবে ইরানের আঞ্চলিক মিত্ররা -আল জাজিরা

ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে একটি সর্বাত্মক যুদ্ধের ঝুঁকি যতই বাড়ছে, ততই স্পষ্ট হচ্ছে যে এই যুদ্ধে দীর্ঘদিনের মিত্র ইসরায়েলকে সমর্থন দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। কিন্তু মধ্যপ্রাচ্যের এ দুই চির বৈরী প্রতিবেশী দেশ যুদ্ধে জড়ালে ইরানের আঞ্চলিক মিত্ররা তাতে কতটা প্রভাব ফেলতে পারবে, সেই প্রশ্ন উঠেছে।

গত বছরের ৭ অক্টোবর ফিলিস্তিনের গাজায় নির্বিচার হামলা শুরু করে ইসরায়েল। গাজায় হত্যাযজ্ঞের প্রতিবাদ ও ফিলিস্তিনিদের সঙ্গে সংহতি জানিয়ে এর পর থেকে প্রায় এক বছর ধরে লোহিত সাগর, এডেন উপসাগর ও বাব এল–মান্দেব প্রণালিতে ইসরায়েলের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা রয়েছে, এমন জাহাজে নিয়মিত হামলা চালাচ্ছেন ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা।

গত সপ্তাহে লেবাননের রাজধানী বৈরুতের একটি আবাসিক এলাকায় ইসরায়েলের বিমান হামলায় নিহত হয়েছেন হিজবুল্লাহর প্রধান হাসান নাসরুল্লাহ। এর পর থেকে মধ্যপ্রাচ্যের নানা প্রান্ত থেকে ইসরায়েলকে হুমকি দেওয়া হচ্ছে।

হাসান নাসরুল্লাহ নিহত হওয়ার পর হুতিদের মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি এক টেলিভিশন ভাষণে ইসরায়েলকে হুমকি দেন। তিনি বলেন, অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকা ও লেবাননে ইসরায়েল যত দিন হামলা বন্ধ না করবে, তত দিন তাদের হামলা অব্যাহত থাকবে। হুতিরা তেল আবিবে ইসরায়েলের বিভিন্ন সামরিক স্থাপনা ও লোহিত সাগরতীরে ইসরায়েলের বন্দরনগরী এলিয়াতে ড্রোন হামলা চালিয়েছে বলেও জানান তিনি।

হিজবুল্লাহর দীর্ঘদিনের প্রধান হাসান নাসরুল্লাহকে ইসরায়েল হত্যা করার পর থেকে ইসরায়েলে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে আসছে ইরাকের বিভিন্ন শিয়া সশস্ত্র গোষ্ঠী ও ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা। যদিও ইসরায়েলি বাহিনীর দাবি, ইরান ও তাদের মিত্ররা যেসব হামলা করেছে, সেসব হামলার বেশির ভাগই নিজেদের প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ছাড়াও যুক্তরাষ্ট্র, জর্ডান ও অন্যান্য দেশের সহায়তায় প্রতিহত করেছে তারা। এসব হামলার পাশাপাশি গত মঙ্গলবার ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নামমাত্র ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি ইসরায়েলের।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর ইন্টারন্যাশনাল পলিসির জ্যেষ্ঠ ফেলো সিনা তুসি আল–জাজিরাকে বলেন, ইরানের হামলায় ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টি ছোট করে দেখার চেষ্টা করছে ইসরায়েল। কিন্তু এর একটা ইতিবাচক দিকও রয়েছে। এতে করে যেটা হয়েছে ক্ষয়ক্ষতি কম হয়েছে বলার কারণে ইরানে পাল্টা হামলা চালাতে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের ওপর যতটা রাজনৈতিক চাপ আসার কথা, সেটা আসবে না। পাশাপাশি এমন একটা পরিস্থিতি তৈরি হবে যে অত বড় পরিসরে পাল্টা হামলা চালানোর কোনো প্রয়োজন নেই।

সিনা তুসি বলেন, ‘এতে করে যুদ্ধবিরতির বিষয়টি আবারও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। যদি বাইডেন প্রশাসন কয়েক মাস আগেই এটা থামতে পারত তাহলে আমাদের এই পরিস্থিতি দেখতে হতো না। কিন্তু আমরা সেই দিকেই যাচ্ছি, যার পরিণতি হবে খুবই ভয়ংকর। আমি মনে করি, কোনো পক্ষই এই যুদ্ধ চায় না। সে রকম কিছু যেন না ঘটে, সে জন্য ইরান ও তার মিত্ররা হুমকি দিচ্ছে।’

বড় বিষয় হবে জ্বালানি তেল

এমন পরিস্থিতিতে ইরান ও তাদের মিত্রদের জন্য পুরো অঞ্চলে থাকা জ্বালানি তেল স্থাপনাগুলো মূল বিষয় হয়ে উঠবে বলে মনে করেন মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক বিশেষজ্ঞ সিনা তুসি। তিনি আল–জাজিরাকে বলেন, ‘ইসরায়েল যদি এখন একটি বড় হামলা করে, তাহলে পাল্টা হামলা চালানোর হুমকি দিয়েছে ইরাকের সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো। বলেছে, মধ্যপ্রাচ্যে জ্বালানি তেল স্থাপনাগুলোতেও হামলা চালাবে তারা। আর এতে করে যদি পারস্য উপসাগর হয়ে জ্বালানি রপ্তানি বিঘ্নিত হয়, তাহলে বৈশ্বিক জ্বালানি তেলের বাজার, বৈশ্বিক অর্থনীতি ও ইউরোপে এর প্রভাব পড়বে।’

মধ্যপ্রাচ্যে এর আগেও জ্বালানি তেলের স্থাপনা হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছে। এসব হামলা যে জ্বালানি তেলের বৈশ্বিক বাজারে ব্যাপক ব্যাঘাত ঘটায়, সেটাও দেখা গেছে। ২০১৯ সালে সেপ্টেম্বরে সৌদি আরবের দুটি বড় জ্বালানি তেলের স্থাপনায় ড্রোন হামলা চালানোর দাবি করে হুতি বিদ্রোহীরা। এসব স্থাপনা ছিল সৌদি আরবের রাষ্ট্রমালিকানাধীন জ্বালানি তেল কোম্পানি সৌদি অ্যারামকোর। সেবারের এ হামলার জন্য ইরানকে দায়ী করেছিল যুক্তরাষ্ট্র।

হুতিদের ওই হামলায় দিনে ৫ কোটি ব্যারেল তেল উৎপাদন কমে যায়, যা সৌদি অ্যারামকোর দৈনিক তেল উৎপাদনের অর্ধেক অথবা বৈশ্বিক তেল সরবরাহের ৫ শতাংশ। সিনা তুসি বলেন, ‘হুতিরা কী করতে পারে, সৌদি আরবের সঙ্গে তাদের যুদ্ধবিরতির সমঝোতা হওয়ার আগে আমরা সেটা দেখেছি। এর আগে সৌদি আরবের অভ্যন্তরে অনেক দূরে পর্যন্ত হুতিদের আমরা হামলা চালাতে দেখেছি।’

ইরাকের সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোও ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রকে হুমকি দিয়েছে। গত মঙ্গলবার এসব গোষ্ঠী হুমকি দিয়ে বলেছে, ইরানের বিরুদ্ধে পাল্টা হামলায় যুক্তরাষ্ট্রও যদি অংশ নেয় অথবা ইরানে হামলায় ইসরায়েল যদি ইরাকের আকাশসীমা ব্যবহার করে, তাহলে মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে হামলা চালাবে তারা।

সিনা তুসির মতে, ইরাক ছাড়াও সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার ও বাহরাইনে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটি আছে। এসব ঘাঁটি ও ইরাকের আকাশসীমা ব্যবহারের ক্ষেত্রে হুমকি দিয়েছে ইরান। তেহরান বলেছে, ইরানের বিরুদ্ধে হামলায় এসব দেশও দায়ী বলে বিবেচনা করা হবে এবং দেশগুলোর গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোগুলোও ইরানের হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়ে উঠবে।

গোষ্ঠীগুলো ইসরায়েলে হামলায় কতটা সক্ষম

কিংস কলেজ লন্ডনের স্কুল অব সিকিউরিটি স্টাডিজের সহযোগী অধ্যাপক ও ভূরাজনৈতিক ঝুঁকিবিষয়ক বিশ্লেষক আন্দ্রেয়াস ক্রেইগ বলেন, দূর থেকে সরাসরি ইসরায়েলে হামলা করার মতো সক্ষমতা ইরাকের সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর নেই। এ ছাড়া তাদের অস্ত্রভান্ডারও হিজবুল্লাহ ও হুতিদের মতো অতটা সমৃদ্ধ নয়। ইরাক যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র নেতৃত্বাধীন ন্যাটো বাহিনীকে মোকাবিলায় তাদের এসব অস্ত্র তৈরি করা হয়েছিল। তাঁর মতে, মূলত গেরিলারা এসব ব্যবহার করত এবং অপ্রচলিত যুদ্ধে এসবের ব্যবহার হয়েছে। এসব অস্ত্র ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধে তেমন কোনো প্রভাব ফেলতে পারবে না।

ভূরাজনৈতিক এই বিশ্লেষক বলছেন, অন্যদিকে হিজবুল্লাহর রয়েছে বৈশ্বিক নেটওয়ার্ক। তারা সৌদি আরব থেকে শুরু করে পশ্চিম আফ্রিকা পর্যন্ত বিভিন্ন অঞ্চলে তৎপর। এটা তাদের ইসরায়েলের জন্য অনেক বেশি ভয়ানক করে তুলেছে। কারণ, বিভিন্ন দেশ থেকে তারা ইসরায়েলে হামলা চালানোর সক্ষমতা রাখে। এ ছাড়া ইরাক থেকে যেসব ক্ষেপণাস্ত্র বা ড্রোন হামলা চালানোর খবর পাওয়া যায়, সেগুলো ইরাকে থাকা ইরানিরাই করেন, ইরাকের সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো নয়।

আন্দ্রেয়াস ক্রেইগ বলেন, ‘বর্তমানে ইয়েমেন অথবা লেবাননের চেয়ে ইরাক থেকে ইসরায়েলে হামলা করাটা সহজ। (ইসরায়েলে) হামলা চালানোর জন্য ইরাককে আপনি ব্যবহার করেত পারেন। তবে এর জন্য সেখানে অবকাঠামো গড়ে তুলতে হবে।’

গত মাসে সবচেয়ে বড় পরিসরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাতে দেখা গেছে হুতিদের। হুতিদের সেসব ক্ষেপণাস্ত্র তেল আবিব ও ইসরায়েলের মধ্যাঞ্চল পর্যন্ত গিয়েছিল। একই সঙ্গে ইসরায়েলের জাফাতে একটি সামরিক স্থাপনাতেও হামলা চালিয়েছে হুতিরা।

হুতিদের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তাদের ছোড়া হাইপারসনিক (শব্দের চেয়েও ৫ থেকে ১০ গুণ গতিতে ছুটতে সক্ষম) ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করতে পারেনি ইসরায়েলের প্রতিরক্ষাব্যবস্থা। দুই হাজার কিলোমিটার দূর থেকে ছোড়া এসব ক্ষেপণাস্ত্র মাত্র ১১ মিনিটে ইসরায়েলের মধ্যাঞ্চলে পৌঁছায় এবং বেন গুরিয়ন বিমানবন্দর থেকে ১১ কিলোমিটার দূরে আঘাত হানলে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।

হুতির গণমাধ্যম শাখার ভাইস চেয়ারম্যান নাসরেদ্দিন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে বলেছেন, তাঁদের ছোড়া অন্তত ২০টি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করতে ব্যর্থ হয়েছে ইসরায়েলের ক্ষেপণাস্ত্র–ব্যবস্থা। এদিকে ইসরায়েল দাবি করেছে, ক্ষেপণাস্ত্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, কিন্তু পাল্টা হিসেবে ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্রের মাধ্যমে তা ধ্বংস করা যায়নি। এদিকে একজন ইসরায়েলি কর্মকর্তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এতে ৯ জন সামান্য আহত হয়েছেন।

লোহিত সাগরে সরবরাহব্যবস্থায় ব্যাঘাত

আন্দ্রেয়াস ক্রেইগ বলেন, হুতিদের তৎপরতায় এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় প্রত্যক্ষ প্রভাব পড়ার ঘটনা হলো বাব এল–মান্দেব প্রণালিতে জাহাজ চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়া। কেননা, ইসরায়েল লক্ষ্য করে তাদের ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করা হয়েছে।

তুরস্কের আঙ্কারা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের সহকারী অধ্যাপক বেতুল দোগান আল–জাজিরাকে বলেন, পণ্যবাহী জাহাজে হামলা ও জাহাজ ছিনতাইয়ের ঘটনায় গাজায় ইসরায়েলের হামলার মধ্যে তেমন কোনো প্রভাব ফেলতে পারেনি। কিন্তু তারা একটা অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি করতে পেরেছে।

অধ্যাপক বেতুল দোগান বলেন, ‘তারা (হুতিরা) ইসরায়েলকে নিরাপত্তাহীনতায় ফেলতে পেরেছে। আমার মতে, এটাই তাদের চূড়ান্ত লক্ষ্য এবং এই মুহূর্তে এটাই তাদের সাফল্য। আমরা জানি, ইরান নিজেই ক্ষেপণাস্ত্র হামলা করতে পারে। কিন্তু তারা হুতিদের ব্যবহার করছে। এটা হলো, নিজস্ব সক্ষমতার বাইরেও তাদের বাড়তি একটি সক্ষমতা।’

গাজায় নির্বিচার হামলা ও ফিলিস্তিনিদের প্রতি সংহতি জানিয়ে বিক্ষোভ সমাবেশে অস্ত্র হাতে হুতি বিদ্রোহীরা। সানা, ইয়েমেন
গাজায় নির্বিচার হামলা ও ফিলিস্তিনিদের প্রতি সংহতি জানিয়ে বিক্ষোভ সমাবেশে অস্ত্র হাতে হুতি বিদ্রোহীরা। সানা, ইয়েমেন। ফাইল ছবি: রয়টার্স

পুরনো বন্ধুকে স্বাগত জানিয়ে উচ্ছ্বসিত ইউনূস: ১৮ হাজার কর্মীর মালয়েশিয়ার দরজা খুললো

বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছেছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম। গতকাল ঢাকায় দুই নেতার একান্ত বৈঠক ও দুই দেশের কর্মকর্তাদের দ্বিপক্ষীয় বৈঠক শেষে হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে যৌথ এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এমনটাই জানান তারা। ব্রিফিংয়ে মালয়েশিয়ান প্রধানমন্ত্রী টিকিট জটিলতায় দেশটিতে যেতে না পারা ১৮ হাজার শ্রমিককে দেশটিতে নিতে তার সরকার সহায়তা দেবে বলে জানান। বলেন, প্রথম ধাপে ৭ হাজারের বেশি শ্রমিক নেয়া হবে। পর্যায়ক্রমে সকল শর্তপূরণ সাপেক্ষে বাকিদেরও নেয়া হবে। এর আগে দুপুর ২টার দিকে সাড়ে ৪ ঘণ্টার সংক্ষিপ্ত সফরে বাংলাদেশে আসেন আনোয়ার ইব্রাহিম। তার সঙ্গে তার মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, সংসদ সদস্য এবং ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে ৫৮ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল ছিলেন। ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আনোয়ার ইব্রাহিমকে স্বাগত জানান বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস। এ সময় বিমানবন্দরে মালয়েশিয়ান প্রধানমন্ত্রীকে গার্ড অব অনার প্রদান করেন সশস্ত্রবাহিনীর সদস্যরা। পরে দুই নেতা সেখানে একান্ত বৈঠক করেন। এ সময় প্রফেসর ইউনূস পুরনো বন্ধুকে বাংলাদেশে স্বাগত জানাতে পেরে খুবই খুশি বলে জানান। বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টা ছাত্রদের নেতৃত্বাধীন বিপ্লব, ছাত্র-জনতার আত্মত্যাগ এবং তাদের ওপর বিগত সরকারের চালানো নৃশংসতার বিস্তারিত তুলে ধরেন। এ সময় ড. ইউনূস মালয়েশিয়ার বিশ্ববিদ্যালয় ও সেখানকার নেতাদের সঙ্গে তার দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের কথা স্মরণ করেন।

একান্ত বৈঠক শেষে দুই বন্ধু একই গাড়িতে করে হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে যান। সেখানে ক্রিস্টাল বলরুমে দুই দেশের প্রতিনিধিদের নিয়ে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেন তারা। বৈঠক শেষে দুই নেতা যৌথ প্রেস বিফ্রিং করেন। এ সময় প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যকার সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে চাই। দুই দেশই সম্পর্ক এগিয়ে নিতে সম্মত হয়েছি। অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক, রোহিঙ্গা ইস্যুতে আলোচনা হয়েছে। তাছাড়া বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, শিক্ষা, প্রযুক্তি সংক্রান্ত বিষয়, মানবসম্পদ উন্নয়ন, জনশক্তি রপ্তানি, যোগাযোগ, অবকাঠামো উন্নয়ন, প্রতিরক্ষা সহযোগিতাসহ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট নানা বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। কর্মসংস্থান তৈরি, ভিসা সহজীকরণের বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। তিনি বলেন, প্রতিদিন চারশ’ থেকে পাঁচশ’ রোহিঙ্গা প্রবেশ করছে, এটা উদ্বেগের বিষয়। তবে এটির সমাধান আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের হাতে। এ সংকটে কেবল বাংলাদেশই নয়, মালয়েশিয়াও ভুক্তভোগী। এটি নিরসনে একসঙ্গে কাজ করছি। ড. ইউনূস বলেন, আমরা ২০২৫ সালে আসিয়ানের আসন্ন সভাপতি পদে মালয়েশিয়াকে অভিনন্দন জানাই। আমরা আসিয়ানের সেক্টরাল ডায়ালগ পার্টনার হিসেবে বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্তির বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেছি। আমরা আঞ্চলিক ফোরামে বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্তির জন্য মালয়েশিয়ার সক্রিয় ভূমিকার অপেক্ষায় রয়েছি। দুই দেশের বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের কথা স্মরণ করে মালয়েশিয়াকে বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের বন্ধু উল্লেখ করে তিনি বলেন, আনোয়ার ইব্রাহিমের সফর বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

দুই মাস আগে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর কোনো দেশের প্রধানমন্ত্রীর এটি হচ্ছে প্রথম বাংলাদেশ সফর। এই সফর অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রতি মালয়েশিয়ার সমর্থনের স্বীকৃতি। এ সময় অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রতি মালয়েশিয়ার সমর্থনের কথা উল্লেখ করে দেশটির প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম বলেন, মানুষের মর্যাদা রক্ষায় ড. ইউনূসের ভূমিকা আমরা জানি। তাকে ব্যক্তিগতভাবে আমি চিনি। তাই তার ওপর ভরসা রাখছি। বাংলাদেশের বন্ধু হিসেবে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রতি সমর্থন থাকবে। ড. ইউনূস বাংলাদেশের নাগরিকদের প্রত্যাশা পূরণ করতে পারবেন বলে আমি আশা করি। এ সময় টিকিট জটিলতায় মালয়েশিয়ায় যেতে না পারা শ্রমিকদের সুখবর দেন প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম। বলেন, দুই দেশের অর্থনীতিতে প্রবাসী বাংলাদেশিদের যথেষ্ট অবদান রয়েছে। যখন আপনারা আমাদের কাছে আহ্বান জানিয়েছেন, সাত হাজার বা তার বেশিদের বিষয় বিবেচনার জন্য, যারা নিবন্ধন করেও রাজনৈতিক অবস্থা, এখানকার অভ্যুত্থানের কারণে যাওয়ার সুযোগ হারিয়েছে, আমি তাৎক্ষণিকভাবে সেটা বিবেচনা করেছি। এ সময় প্রধান উপদেষ্টা সংখ্যাটি ১৮ হাজার হবে স্মরণ করিয়ে দিলে আনোয়ার ইব্রাহিম বলেন, হ্যাঁ, ১৮ হাজার। কিন্তু প্রথম ধাপে সব সন্তোষজনক হলে বাকিদেরও ক্রমান্বয়ে নেয়া হবে।

তিনি বলেন, ওই ১৮ হাজার শ্রমিক সব ধরনের প্রক্রিয়া অবলম্বন করেছে এবং এটা তাদের দোষ নয়। সুতরাং প্রয়োজনীয় সমন্বয় ও পরিবর্তন করা আমাদের দায়িত্ব। বাংলাদেশের শ্রমিকদের সুরক্ষার বিষয়ে আমরা কাজ করছি। আনোয়ার ইব্রাহিম বলেন, আমাদের দেশে আরও জনশক্তি প্রয়োজন, তবে উভয় দেশের মধ্যে শ্রম অভিবাসন প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা থাকতে হবে। বাংলাদেশের সঙ্গে সেমি কন্ডাক্টর, ডেটা সেন্টার, এআই, নিউ টেকনোলজির বিষয়ে যৌথভাবে কাজ করার বিষয়ে সম্মত হয়েছি। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমরা পুরো ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা করেছি এবং আমরা খুবই স্বচ্ছ একটি প্রক্রিয়ার মধ্যদিয়ে গিয়েছি। তিনি আরও বলেন, কোম্পানিগুলোর মধ্যে প্রতিযোগিতা আমাদের উদ্বেগের বিষয় নয়। আমাদের মাথাব্যথা হলো এটা নিশ্চিত করা যে আমরা যে সিদ্ধান্ত নিয়েছি, সেটা যেন ঠিকমতো মানা হয়। আমাদের শ্রমিক দরকার কিন্তু বাংলাদেশ বা অন্য যে দেশেরই হোক না কেন তাদের প্রতি যেন আধুনিক দাসের মতো আচরণ করা না হয়। আমি এটি অতীতের মতো প্রকাশ্যে বলেছি। মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী বলেন, সব দেশের কর্মীদের ক্ষেত্রে একই নিয়ম। তার মানে হচ্ছে, প্রক্রিয়াটা স্বচ্ছ হতে হবে এবং তথাকথিত ‘সিলেক্টেড’ লোকদেরও কঠোরভাবে নীতি মানতে হবে। বিফ্রিংয়ে মালেশিয়ার সরকারপ্রধান বলেন, শ্রমিকদের আবাসনের ব্যবস্থা এবং কাজের ক্ষেত্রে কোনো ব্যত্যয় কেউ ঘটালে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। আমরা তাদের বাদ দিয়ে দেয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছি এবং বাদও দিয়েছি। উল্লেখ করেন, অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে গেলে যে সমালোচনা হয় সেটা উচিত নয়। তিনি বলেন, অনুগ্রহ করে নিশ্চিত থাকুন যে, আমি নিজেও এই বাজে সিস্টেম এবং নির্যাতনের সিস্টেমের ভুক্তভোগী। সুতরাং এটাকে চলতে দেয়ার কিংবা কোনোভাবে উপেক্ষা করার সরকার আমরা নই। এ সময় অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস শ্রমিক ইস্যুতে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণার জন্য বাংলাদেশিদের পক্ষ থেকে তার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। বাংলাদেশে সেসব মালয়েশিয়ান প্রতিষ্ঠান কাজ করছে, তাদের সুবিধা দেয়ার আহ্বান জানান আনোয়ার ইব্রাহিম।

আরও জনশক্তি রপ্তানিতে মালয়েশিয়ার সহায়তা চাইলেন প্রেসিডেন্ট: এদিকে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক শেষে আনোয়ার ইব্রাহিম বঙ্গভবনে প্রেসিডেন্ট মো. সাহাবুদ্দিনের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। এ সময় প্রেসিডেন্ট বাংলাদেশ থেকে মালয়েশিয়াতে যাতে আরও জনশক্তি যেতে পারে সে ব্যাপারে মালয়েশিয়ার সরকারের সহযোগিতা চেয়েছেন। এ ছাড়াও তিনি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ‘অর্থনীতি সংস্কার’ কর্মসূচিতেও মালয়েশিয়া সরকারের সহযোগিতারও অনুরোধ জানান। প্রেসিডেন্টের প্রেস সচিব মো. জয়নাল আবেদীন সাংবাদিকদের জানান, সাক্ষাৎকালে তারা দ্বিপক্ষীয় স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়, বিশেষ করে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, অর্থনৈতিক, কারিগরি সহযোগিতা, রোহিঙ্গা ইস্যু ও শ্রমবাজারসহ বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে মতবিনিময় করেন। প্রেসিডেন্ট বলেন, মালয়েশিয়া বাংলাদেশের জনশক্তি রপ্তানির দ্বিতীয় বৃহত্তম গন্তব্যস্থল। বাংলাদেশের জনশক্তি মালয়েশিয়ার ও বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তিনি বলেন, বিগত ৫৩ বছরে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, কৃষি, মানবসম্পদ যোগাযোগ, সংস্কৃতি, পর্যটন ও শিক্ষাসহ বিভিন্ন খাতে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে সহযোগিতা ও অংশীদারিত্ব বৃদ্ধি পাচ্ছে। প্রেসিডেন্টের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় আনোয়ার ইব্রাহিম ঢাকা ছাড়েন। বিমানবন্দরে বন্ধুকে বিদায় জানান প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

mzamin

এবার হিজবুল্লাহর সম্ভাব্য প্রধানকে লক্ষ্য করে হামলার দাবি ইসরাইলের

বৃহস্পতিবার রাতে বৈরুতে যে হামলা হয়েছিল তা হিজবুল্লাহর শীর্ষ নেতা হাশেম সাফিউদ্দিনকে লক্ষ্য করে পরিচালনা করা হয়েছিল বলে দাবি করেছে ইসরাইলের প্রতিরক্ষা বাহিনী। সাফিউদ্দিন হিজবুল্লাহর সাবেক প্রধান হাসান নাসরাল্লাহর চাচাতো ভাই এবং সংগঠনটির পরবর্তী সম্ভাব্য প্রধান। তবে ওই হামলায় হাশেম সাফিউদ্দিন আহত বা নিহত হয়েছেন কি না সে সম্পর্কে কিছু উল্লেখ করা হয়নি। ইসরাইলি কর্মকর্তারা নিউইয়র্ক টাইমসকে বলেছেন যে, সাফিউদ্দিন দাহেহের একটি বাঙ্কারে হিজবুল্লাহর একটি বৈঠকে যোগ দিয়েছিলেন। ওই বাঙ্কারটির অবস্থান হাসান নাসরাল্লাহর নিহত হওয়ার স্থানের আশপাশেই বলে দাবি করেছে ইসরাইল। এ খবর দিয়েছে অনলাইন বিবিসি।

এতে বলা হয়, ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের লেবানন বিষয়ক সিনিয়র বিশ্লেষক ডেভিড উড বলেছেন, ইসরাইল বারবার বৈরুতের ওই অঞ্চলে হামলা চালানোর পরও সেখানে হিজবুল্লাহর উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক বিশাল ঝুঁকিপূর্ণ। যদিও সংগঠনটির কাছে এই মুহূর্তে বিকল্প উপায় নেই। উড বলেছেন, এ বিষয়টি ব্যাখ্যা করার জন্য আপনাকে হিজবুল্লাহর ওপর পেজার হামলার দিকে ফিরে তাকাতে হবে। হিজবুল্লাহর মধ্যে ইসরাইলি গোয়েন্দা বাহিনীর এজেন্ট আছে কি না সে সন্দেহ একেবারে উড়িয়ে দেয়া যায়না। এই মুহূর্তে হিজবুল্লাহ নেতাদের মুখোমুখি বৈঠক করা ছাড়া কোনো উপায় নেই, সেক্ষেত্রে তারা দাহেহ ছাড়া আর কোথায় যেতে পারে?
দাহেহে হিজবুল্লাহর ভূগর্ভস্থ বাঙ্কার রয়েছে বলে জানা যায়। কিন্তু এই বাঙ্কারগুলি এমন এক সময়ে স্থাপন করা হয়েছিল যখন হিজবুল্লাহ বিশ্বাস করেছিল যে ইসরাইলের নজর থেকে তাদের নেতৃবৃন্দ নিরাপদ রয়েছে। তবে এখন তাদের এই ধারণা দূর হয়েছে বলে মনে করেন উড। সাফিউদ্দীনকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে আনুষ্ঠানিকভাবে এমন কোনো খবর পাওয়া যায়নি। এই মুহূর্তে একজন নেতাকে রক্ষা করাই নয়, হিজবুল্লাহর সকল নেতাকে রক্ষা করাই সংগঠনটির জন্য বেশ গুরুত্বপূর্ণ। তবে এই সময়টি হিজবুল্লাহর জন্য বেশ চ্যালেঞ্জিং বলে মনে করেন ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের লেবানন বিষয়ক ওই বিশ্লেষক।

উল্লেখ্য, সাফিউদ্দিন লেবাননের টায়ার শহরের কাছে দের কানুন এন-নাহর গ্রামে ১৯৬৪ সালে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি হাসান নাসরাল্লাহর সঙ্গে ইরাকের নাজাফ ও ইরানের কম শহরে শিয়াদের প্রধান দুটি শিক্ষাকেন্দ্রে প্রযুক্তি বিষয়ে পড়াশোনা করেছেন। হিজবুল্লাহর যাত্রার শুরুর দিকেই তারা একসঙ্গে সংগঠনটিতে যোগ দেন। ইরানের সঙ্গে সাফিউদ্দিনের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক আছে। তিনি ইরানের আলোচিত সেনাপ্রধান নিহত কাশেম সুলাইমানির মেয়ের জামাই। কাশেম ২০২০ সালে মার্কিন বিমান হামলায় নিহত হন।

mzamin

ধরাছোঁয়ার বাইরে একরামপুত্র সাবাব by মারুফ কিবরিয়া

জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতা হত্যা মামলায় নোয়াখালী-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য একরামুল করিম চৌধুরী গ্রেপ্তার হয়েছেন। ইতিমধ্যে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। কিন্তু ছয় বছর আগে ঢাকায় একটি আলোচিত সড়ক দুর্ঘটনায় প্রত্যক্ষভাবে জড়িত থাকার অভিযোগ থাকলেও একরামপুত্র সাবাব চৌধুরী এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে। সে মামলায় আসামি করা হয়নি তাকে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বাবা একরামুল করিম চৌধুরী  আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী এমপি হওয়ায় মামলায় আসামি করা হয়নি তাকে। শুধু তাই নয়, ২০২০ সালে  চট্টগ্রামেও বেপরোয়া গাড়ি চালানোয় সাবাবকে থানা পর্যন্ত যেতে হয়। সে সময় পুলিশেরই একটি গাড়িকে ধাক্কা দেয় সুবর্ণচর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যানের গাড়ি।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ২০১৮ সালের ১৯শে জুন মহাখালী ফ্লাইওভারে বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালানোর সময় সেলিম নামের এক চালক ঘটনাস্থলে মারা যান। সেই ঘটনায় কাফরুল থানায় মামলা হয়। কিন্তু মামলায় রহস্যজনকভাবে সাবাবকে আসামি করেনি পুলিশ। সম্প্রতি অনুসন্ধানে জানা গেছে, ওই মামলাটির চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেয়া হয়েছে আদালতে। কাফরুল থানা পুলিশের এক কর্মকর্তা মানবজমিনকে বলেন, মামলাটির চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেয়া হয়েছে।

পুলিশের এক কর্মকর্তা জানান, এই মামলা তদন্তকালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় ছিল। একরামুল করিম চৌধুরীর সঙ্গে আরেক প্রভাবশালী  সাবেক এমপি হাজী সেলিম পরিবারের আত্মীয়তা। এ ছাড়া একরাম চৌধুরীও প্রভাব বিস্তার করেছেন। সবমিলিয়ে সড়ক দুর্ঘটনার মামলায় সাবাবের বিরুদ্ধে অভিযোগ এনে তাকে বিচারের মুখোমুখি করার সুযোগ ছিল না।
ওই ঘটনার পর গণমাধ্যমের খবরে উল্লেখ করা হয়, রাজধানীর মহাখালী উড়ালসড়কে গাড়িচাপা দিয়ে এক ব্যক্তিকে হত্যার ঘটনায় দায়ী গাড়িটিকে চিহ্নিত করেছে পুলিশ। গাড়িটির নম্বর ঢাকা মেট্রো-১৩-৭৬৫৫। আর বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটিতে (বিআরটিএ) খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গাড়িটির মালিক কামরুন্নাহার শিউলি। তিনি নোয়াখালী-৪ আসনের সংসদ সদস্য একরামুল করিম চৌধুরীর স্ত্রী ও নোয়াখালীর কবিরহাট উপজেলার চেয়ারম্যান। তবে ওই দুর্ঘটনার পর গাড়িটি দ্রুত এসে সংসদ ভবনের উল্টো দিকের ন্যাম ফ্ল্যাটে যখন ঢোকে, তখন সেটিকে অনুসরণ করেন এক মোটরসাইকেল আরোহী ও আরেকজন প্রাইভেটকার আরোহী। তারা জানিয়েছেন, গাড়িটি ওই ভবনে ঢোকার পর একজন তরুণ গাড়ি থেকে নামেন। ভবনটির আনসার ও প্রহরীরা জানিয়েছেন, ওই তরুণের নাম সাবাব চৌধুরী। তিনি কামরুন্নাহার শিউলি ও সংসদ সদস্য একরামুল করিম চৌধুরীর একমাত্র ছেলে। গাড়িটি সাবাবই চালাচ্ছিলেন।

বাবার ক্ষমতার জোরে সুবর্ণচরের জনপ্রতিনিধি সাবাব তার বাবা একরামুল করিম চৌধুরীর ক্ষমতার জোরেই নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলা চেয়ারম্যান পদে নির্বাচিত হন। অভিযোগ রয়েছে, সেই ভোটেও কারচুপির মাধ্যমে প্রতিপক্ষকে হারানো হয়েছে। এ ছাড়া গত মে মাসে হয়ে যাওয়া উপজেলা পরিষদের নির্বাচনে ছেলেকে ভোট না দিলে এলাকায় উন্নয়ন বন্ধ করে দেয়ার হুমকি দিয়েছিলেন একরামুল করিম চৌধুরী। পরে জোর করে সেই নির্বাচনে জয়ী হয়েই পরাজিত প্রার্থীর ওপর হামলার অভিযোগ উঠে সাবাবের বিরুদ্ধে।

সম্প্রতি নোয়াখালীতে সরজমিন ঘুরে জানা যায়, একরামপুত্র সাবাব বিদেশে পড়াশোনা করেছেন। কিন্তু দেশে বাবা একরাম ও মা শিউলির সঙ্গে অপরাজনীতিতে নাম লেখান। বাবা-মায়ের ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে নিজেও বিভিন্ন অনিয়মের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন। একাধিক সূত্রে জানা গেছে, নোয়াখালীতে একরাম পরিবারের নামে যেসব চাঁদা উঠতো তার বেশির ভাগই পাচার করা হয় বিদেশে। ভিয়েতনামে একরামের নিজস্ব ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। ওই প্রতিষ্ঠান দেখভাল করেন তারই ছেলে সাবাব চৌধুরী। বাবার অনিয়মের মাধ্যমে অর্জিত টাকা ভিয়েতনামে ব্যবসায় বিনিয়োগ করেন তিনি। এসব বিষয়ে জানতে চাইলে সাবাবের মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

mzamin

চিকিৎসার নামে প্রতারণা, কোটিপতি কবীর by নূর ইসলাম

মরণব্যাধি ক্যান্সারসহ বিভিন্ন প্রকার যৌন সংক্রান্ত রোগের চিকিৎসার নামে ডিজিটাল প্ল্যাটফরমে প্রতারণা করে মিলিটারি কবীর এখন কোটিপতি। মানুষ ঠকানোর অর্থে তিনি যশোর সদর উপজেলার চুড়ামনকাটি ইউনিয়নের খিতিবদিয়া গ্রামে গড়ে তুলেছেন রাজপ্রাসাদ। জমি ক্রয় করে গড়ে তুলেছেন একটি ছয়তলা ও একটি চারতলা বিশিষ্ট আলিশান বাড়ি। ছাতিয়ানতলার মল্লিকপাড়ায় রয়েছে তার আরও একটি চারতলা বাড়ি। এ ছাড়া বিভিন্ন এলাকায় কিনেছেন প্রায় শতাধিক বিঘা ধানি  জমি।

স্থানীয়রা জানান, ‘গত ১০ বছরে আওয়ামী লীগ দুঃশাসনের সময় গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায় বাড়ি হওয়ায় মিলিটারি কবীরের বিরুদ্ধে ভয়ে কেউ মুখ খুলতে সাহস পাননি। প্রতারিতরা সকলেই মুখবুজে তার প্রতারণা সহ্য করেছেন।’ গোপালগঞ্জের দাপট দেখিয়ে প্রতারক মিলিটারি কবীর এখন জিরো থেকে হিরো। বিগত দিনে তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) সহ বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ দেয়া হলেও তিনি ছিলেন ধরাছোঁয়ার বাইরে। অনুসন্ধানে জানা গেছে, মিলিটারি কবির ওরফে খন্দকার কবীর হোসেনের পৈতৃক বাড়ি গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ার নারিকেলবাড়িয়ায়। তার পিতার নাম ওসমান আলী খন্দকার ও মাতার নাম রিজিয়া খাতুন। তিনি সেনাবাহিনীর নন কমিশনে চাকরি করতেন। চাকরি জীবনের শেষ দিকে তিনি পোস্টিং নিয়ে যশোর সেনানীবাসে কর্মরত ছিলেন। এখান থেকেই তিনি অবসরে যান। সে সময় সেনানীবাসের বাসা ছেড়ে তিনি পরিবার-পরিজন নিয়ে পাশেই ছাতিয়ানতলা গ্রামে অধ্যাপক মশিউল আজমের বাড়িতে ভাড়ায় বসবাস শুরু করেন। কবীর ভাড়া বাড়ির ছাদে গড়ে তোলেন একটি সুন্দর ছাদবাগান। ১ বছর পর তিনি ছাতিয়ানতলা মল্লিকপাড়ায় মাসুদ পারভেজের ভাড়াবাড়িতে চলে যান। সেখানে তিনি ননী ফল নার্সারি করেন। এরপর থেকে পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। ননী ফল নার্সারিকে পুঁজি করে শুরু হয় খন্দকার কবীরের মানুষ ঠকানোর ব্যবসা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ননী ফল নার্সারির আড়ালে চিকিৎসার নামে প্রতারণার ফাঁদ পাতেন খন্দকার কবীর হোসেন। দীর্ঘদিন ধরে সাধারণ মানুষের দুর্বলতাকে পুঁজি করে যৌন ও ক্যান্সার চিকিৎসার নামে অপচিকিৎসা শুরু করেন। যা নিয়ে সে সময় স্থানীয় একাধিক পত্রপত্রিকায় খবর প্রকাশিত হলে ২০২২ সালের ১৭ই মে জেলা প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগ প্রতারক কবীরের ডেরায় অভিযান চালায়। এ সময় আপাদমস্তক প্রতারক কবীরের মুখোশ উন্মোচিত হয়। তৎকালীন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সৌম্য চৌধুরী ও সিভিল সার্জন ডা. বিপ্লব কান্তি বিশ্বাসের নেতৃত্বে পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ আদালত ক্যান্সার ও যৌন চিকিৎসায় প্রতারণা ও অবৈধভাবে ভুয়া ওষুধ তৈরির দায়ে খন্দকার কবীর হোসেনকে ৩ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও  এক লাখ টাকা জরিমানা করেন। নামের পরে মিলিটারি শব্দ যোগ করায় কবীরকে বিশেষভাবে সতর্কও করা হয়।

অভিযোগ রয়েছে, প্রতারক কবীর জেল থেকে জামিনে বেরিয়ে এসেই সোশ্যাল মিডিয়ায় অ্যাকাউন্ট খুলে ডিজিটাল প্ল্যাটফরমে চিকিৎসার নামে প্রতারণা ব্যবসা জোরদার করেন। একাধিক ফেসবুক পেজ খুলে দেশব্যাপী নেটওয়ার্ক তৈরি করে সাধারণ মানুষকে বোকা বানিয়ে (চিকিৎসা ও ওষুধ পাঠানোর নামে) মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেয় কবীর চক্র। ৯০ বছরের বৃদ্ধকে যৌন রোগের ওষুধ খাওয়ায়ে ১৭ বছরের যুবক বানানোর ঘোষণা দিয়েও তিনি প্রতারণা করেন। এসব অভিযোগে ২০২২ সালের ১৭ই অক্টোবর কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশ খন্দকার কবীর হোসেনের ডেরায় অভিযান চালায়। এ সময় কবীর হোসেন পালিয়ে রক্ষা পেলেও তার চার সহযোগীকে আটক করে পুলিশ। পরে এসআই মোহাম্মদ মহিউদ্দিন বাদী হয়ে কবীর ও তার ৪ সহযোগীর নামে মামলা করেন। কিছু দিন গা ঢাকা দিয়ে থাকার পর তিনি ফের প্রতারণার ব্যবসা শুরু করেন। এদিকে ২০২৩ সালের ১৪ই জানুয়ারি রাতে খন্দকার কবীর ফের আটক হন। কুষ্টিয়া সদর থানা পুলিশ একটি প্রতারণা মামলায় নিজ বাড়ি থেকে তাকে আটক করে। পুলিশ জানায়, কুষ্টিয়ার সরকারি একটি দপ্তরে অফিস সহকারী পদে কর্মরত তানজিল নামে এক ব্যক্তি খন্দকার কবীর হোসেনের ফাঁদে পড়ে ১ লাখ টাকা ব্যয়ে চিকিৎসা নিয়ে প্রতারিত হন। ২০২৩ সালের ১লা জানুয়ারি তানজিল হোসেন কুষ্টিয়া সদর থানায় খন্দকার কবীর হোসেনের নামে মামলা করে। যার নম্বর -২৩/২৩।

স্থানীয়রা জানান, এতকিছুর পরও থেমে নেই কবীরের প্রতারণা। ডিজিটাল প্ল্যাটফরমের মাধ্যমে তিনি চিকিৎসা প্রতারণা দেশে ও বিদেশে  ছড়িয়ে দিয়েছেন। ব্যবসা জমজমাট করতে খোলা হয়েছে একাধিক ফেসবুক পেজ। যোগাযোগের জন্য পেজে দেয়া হয়েছে একাধিক মোবাইল নম্বর। প্রতারণায় কৌশল অবলম্বন করে প্রতারক কবীর কুরিয়ারে ওষুধ দেয়ার নামে মানুষের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন। পরে অনেকের ওষুধ পাঠানো হচ্ছে না বলেও অভিযোগ রয়েছে। সূত্র জানায়, বিগত দিনে এমন প্রতারণার শিকার হয়েছেন লক্ষ্মীপুরের কমলনগর থানার চরকাদিয়া গ্রামের মোহাম্মদ শাহজাহানের ছেলে সোহেল (৩৫)। কুরিয়ার সার্ভিসে ওষুধ পাঠানোর নামে কবীর তার কাছ থেকে হাতিয়ে নিয়েছেন সাড়ে ৯ হাজার টাকা। এ ঘটনায় প্রতারিত সোহেল লক্ষ্মীপুর থানায় একটি জিডি করেছিলেন। সূত্রটি আরও জানায়, খন্দকার কবীর সোশ্যাল মিডিয়া ও বিভিন্ন ইউটিউবারদের ম্যানেজ করে চিকিৎসা প্রচারণা চালিয়ে থাকেন। এসব প্রচারণা বিশ্বাস করে অর্থ খোয়াচ্ছেন বহু মানুষ। তার মূল টার্গেট হচ্ছে যৌন দুর্বল মানুষ ও ক্যান্সারে আক্রান্ত মানুষ। তার খপ্পরে অনেকে সর্বস্বান্ত হলেও আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ বনে গেছেন কবীর।

এলাকাবাসীর তথ্য মতে, প্রতারণা করে মহাটাউট কবীর এখন কোটিপতি। যশোরে ৩টি আলিশান বাড়ি নির্মাণ করেছেন। এরমধ্যে ছাতিয়ানতলা মল্লিকপাড়ায় চারতলা বাড়ি, খিতিবদিয়া গ্রামে দু’টির একটি ছয়তলা ও অপরটি চারতলা। যার একটি খিতিবদিয়া পুকুর মোড় ও অপরটি কলাবাগান রোডে অবস্থিত। জমি কিনে তিনি এসব আলিশান বাড়ি নির্মাণ করেছেন। এ ছাড়াও ছাতিয়ানতলা মল্লিকপাড়া, খিতিবদিয়া, শানতলাসহ বিভিন্নস্থানে নামে-বেনামে প্রায় শতাধিক বিঘা জমি কিনেছেন। বরিশাল ও গোপালগঞ্জে কবীরের আরও দু’টি আলিশান বাড়ি আছে বলে জানান ছাতিয়ানতলা গ্রামের জাকির হোসেন। ছাতিয়ানতলা গ্রামের মিঠু চাকলাদার জানান, ২০২২ সালে তার শাশুড়ির ক্যান্সার নিরাময়ে ১০০ ভাগ গ্যারান্টি দিয়ে ওষুধ দেন খন্দকার কবীর। চিকিৎসা বাবদ নেয়া হয় ৭০ হাজার টাকা। বলা হয় এই ওষুধ খেলে কেমোথেরাপি ছাড়াই ক্যান্সার ভালো হয়ে যাবে। কিন্তু ওষুধ খাওয়ানোর কিছু দিন পর তার শাশুড়ি মারা যান। মিঠু চাকলাদার আরও জানান, তার মতো অনেকের সঙ্গে প্রতারণা করে হাতিয়ে নেয়া টাকায় খন্দকার কবীর কোটিপতি বনে গেছেন। কবীরের প্রতারণা থেকে রেহাই পাননি প্রতিবেশী আব্দুর রাজ্জাক। তার মায়ের ক্যান্সার চিকিৎসার নামে হাতিয়ে নেয়া হয়েছে মোটা অঙ্কের টাকা। যদিও কাজের কাজ কিছুই হয়নি। অনেকেই জানান, খন্দকার কবীরের বাড়ি গোপালগঞ্জে হওয়ার কারণে তিনি দাপট দেখিয়ে চলাফেরা করতেন। এলাকার একটি প্রভাবশালী চক্রকেও তিনি ম্যানেজ করেছিলেন। ফলে প্রতারিত অনেক মানুষ তার ডেরায় গিয়ে প্রতিবাদ করার সাহস পেতেন না। প্রতিবাদ করলেই নানাভাবে হয়রানি করা হতো। গোপালগঞ্জের প্রভাবে বিভিন্ন মহলকে ম্যানেজ করে খন্দকার কবীর অনেকটা ফ্রি-স্টাইলে প্রতারণা করেছেন। বছরের পর বছর সাধারণ মানুষকে ঠকিয়ে হয়েছেন অধিক ধন সম্পদের মালিক। তার অবৈধ সম্পদের খোঁজ নেয়ার জন্য দুদকের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগীরা।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে খন্দকার কবীর ক্ষিপ্ত হয়ে জানান, চুরি-ডাকাতি করে এই ধন সম্পদের মালিক হয়েছি। কি করবেন আপনি? লিখে আমার বিরুদ্ধে কিছু করতে পারবেন না। যান যা পারেন লেখেন। আমি সাংবাদিকদের ভয় পাই না। সাংবাদিকদের মতো তো আর আমি  চাঁদাবাজি করছি না। যশোরের সিভিল সার্জন ডা. মাহমুদুল হাসান জানান, চিকিৎসার নামে প্রতারণার অভিযোগে খন্দকার কবীরের ডিজিটাল প্ল্যাটফরমে চিকিৎসা প্রতারণার বিষয়টি জানতাম না। এ ধরনের প্রতারণা অবশ্যই দুঃখজনক। তার প্রতারণা বন্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। চিকিৎসার নামে মানুষকে ঠকিয়ে প্রতারণা করার সুযোগ দেয়া হবে না। জেলা প্রশাসক আজাহারুল ইসলাম জানান, যৌন ও ক্যান্সার চিকিৎসার নামে খন্দকার কবীরের প্রতারণার ফাঁদের বিষয়টি তিনি জানতেন না। তিনি এই জেলায় নবাগত। এই বিষয়ে বিস্তারিত খোঁজ নেয়ার পরই তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। প্রতারণা করে কোটিপতি বনে যাওয়ার বিষয়টিও খতিয়ে দেখা হবে বলে জানান জেলা প্রশাসক।

mzamin

দুর্নীতির বরপুত্র আনোয়ারুজ্জামানের এপিএস শহীদ by ওয়েছ খছরু

কাগুজে-কলমে সিলেটের আওয়ামী লীগ দলীয় সাবেক মেয়র আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী ১০ মাস নগর পিতার দায়িত্ব পালন করেছেন। এই সময়ে নগর ভবনে যিনি সবচেয়ে বেশি দাপট দেখিয়েছিলেন তিনি মেয়রের এপিএস শহীদ চৌধুরী। ৫ই আগস্টের দৃশ্যপট পরিবর্তনের আগেই সাবেক মেয়র আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী শহীদকে নগর ভবন থেকে বের করে দিয়েছিলেন। সাবেক মেয়রের ঘনিষ্ঠজনরা জানিয়েছেন, শহীদের অবাধ দুর্নীতির একের পর এক বিষয় কানে পৌঁছার পর তিনি বিরক্ত হয়ে তাকে নগর ভবন থেকে বের করে দেন। নগর ভবনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মেয়রের পদ বাতিল হওয়ার পর তার নিয়োজিত কিছু কর্মচারীর চাকরির কার্যকালও শেষ হয়ে গেছে। এর মধ্যে শহীদ চৌধুরীও একজন। আনোয়ারুজ্জামান নগর ভবনে যাদের নিয়ে চেয়ারে বসেছিলেন তাদের মধ্যে শহীদ চৌধুরী অন্যতম। লন্ডন থাকাকালেই সাবেক মেয়র আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরীর সঙ্গে সম্পর্ক শহীদের। সেই সুবাদে আনোয়ার মেয়র হওয়ার পর দলীয় নেতাদের তীব্র আপত্তির মুখে শহীদ হয়ে যান তার এপিএস। কিন্তু নগর ভবন নিয়ে শহীদের স্বপ্ন অনেক আগের। নগরে থাকা ঘনিষ্ঠজনরা জানিয়েছেন, প্রায় ৪ বছর আগে লন্ডন থেকে সিলেটে ফেরেন শহীদ চৌধুরী। তখন মেয়রের চেয়ারে বিএনপি নেতা আরিফুল হক চৌধুরী। তার সময়ই একান্ত বন্ধু নগরের বাগবাড়ি এলাকার জসিমকে নিয়ে ঠিকাদারি শুরু করেন। নানাভাবে আরিফুল হক চৌধুরীকে প্রেসার দিয়ে কাজ ভাগিয়ে নেন শহীদ। এরপর বন্ধু জসিমকে দিয়ে করান কাজ। তার এই কাজ নিয়ে কয়েকটি ওয়ার্ডের কাউন্সিলররা ক্ষুব্ধ ছিলেন। সদ্য সাবেক হওয়া এক কাউন্সিলর জানিয়েছেন, নগরের ৬, ৭ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডে অনেক কাজ শহীদ তার বন্ধু ও পরিচিত ঠিকাদারদের দিয়ে করিয়েছেন। সে কাজগুলো নিয়ে কাউন্সিলররা আপত্তি তুললেও কোনো কাজ হয়নি। এখন অনেক কাজ গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে। সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সিলেটে আসার আগে সিটি করপোরেশন থেকে সড়ক মেরামত ও নগর সাজানো বাবদ কয়েক কোটি টাকার কাজ থোক বরাদ্দ থেকে করা হয়েছিল। কিন্তু কাজের চেয়ে কয়েকগুণ বেশি টাকা তুলে শহীদ তার নিজস্ব ঠিকাদারদের দিয়ে করিয়ে নেন।

সবচেয়ে আলোচিত বিষয়টি হচ্ছে কেন শহীদকে গণ-অভ্যুত্থানের আগে নগর ভবন থেকে বের করে দিয়েছিলেন সাবেক মেয়র আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী। এ প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে জানা গেছে বহু তথ্য। নগরের কর্মকর্তা, কর্মচারীরা জানিয়েছেন, সাবেক মেয়র আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরীর অগাধ বিশ্বাসকে কাজে লাগিয়ে নগর ভবনকে লুটপাটের স্বর্গরাজ্যে পরিণত করেছিলেন শহীদ চৌধুরী। মেয়র অনুপস্থিত থাকলে শহীদ চৌধুরী সব শাখাতেই দাপট দেখাতেন। টেন্ডার বাণিজ্য, লোকবল নিয়োগসহ নানা খাতে দুর্নীতি করে মাত্র ১০ মাসে ২০ কোটি টাকার মতো লুটে নিয়েছে শহীদ। ঠিকাদারদের সঙ্গে বাণিজ্য করে ১০-১২ কোটি টাকা কামিয়েছেন তিনি। এসব দুর্নীতির খবর নানাভাবে আসতে থাকে সাবেক মেয়রের কানে। শেষবার তিনি যখন লন্ডনে ছিলেন তখনো কয়েকটি বিষয় তার কানে আসে। ওই সময় পরিবার নিয়ে আমেরিকা যাওয়ার প্রস্তুতি নেন এপিএস শহীদ। ভিসাও করিয়ে নেন তিনি। এতে আনোয়ারুজ্জামানের সন্দেহ হলে তিনি গোপনে অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখেন। এতে প্রাথমিক তথ্যও পান। সাবেক এই মেয়রের ঘনিষ্ঠজনেরা জানিয়েছেন, গণ অভ্যুত্থানের প্রায় ১০-১২ দিন আগে হঠাৎ করে তারা মেয়রের কক্ষে উচ্চ স্বরে কথাবার্তা শোনেন। তারা এগিয়ে গিয়ে দেখেন আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী তার বিশ্বস্তজন শহীদকে গালিগালাজ করছেন। একপর্যায়ে মেয়র শহীদকে নগর ভবন থেকে বের করে দেন। একইসঙ্গে নগর ভবনে না আসতে নিষেধও করেন। সেই থেকে নগর ভবন ছাড়া শহীদ। নগর ভবন থেকে বিতারিত শহীদ চৌধুরী এরপরের সময় সাবেক এই মেয়রের কাছাকাছি আসতে অনেক চেষ্টা চালালেও কাজ হয়নি। শহীদ নগর ভবনে কী দুর্নীতি করেছেন?- এ প্রশ্নের উত্তরে জানা গেছে, ১০ মাসে নগর ভবনে মাস্টাররোলে ১৭৩ জন কর্মকর্তা কর্মচারীকে নিয়োগ দেয়া হয়। এর মধ্যে কয়েকজন কর্মকর্তা নিয়োগে মেয়রের নিজের পছন্দ ছিল। এর বাইরে যাদের নিয়োগ হয়েছে অধিকাংশই করেছেন শহীদ চৌধুরী।

মোট নিয়োগপ্রাপ্তদের মধ্যে ৪৪ জনের নিয়োগের ব্যাপারে কোনো বৈধতা ছিল না। অর্থাৎ মেয়র তাদের নিয়োগ প্রক্রিয়ায় সম্মতি দেননি। অথচ তাদের তালিকা বেতন ভাতার খাতায় ছিল। এ বিষয়টি নিয়ে মেয়র তার উপর ক্ষুব্ধ হয়েছিলেন। পট পরিবর্তনের পর ওই ৪৪ জনের নিয়োগ বাতিল করে সিলেট সিটি করপোরেশন কর্তৃপক্ষ। নিয়োগ বাণিজ্য করে শহীদ ৮ থেকে ১০ কোটি টাকা কামিয়েছে বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগীরা। গতকাল বিকালে সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ইফতেখার আহমদ চৌধুরী মানবজমিনকে জানিয়েছেন, তাদের নিয়োগের বৈধতা না থাকায় বাদ দেয়া হয়েছে। পরবর্তীতে এর কাগজপত্র এপিএসের রুমে পাওয়া যায়। বাদ পড়া কর্মচারীদের অনেকেই জানিয়েছেন, তারা শহীদ চৌধুরীর কাছে ২ থেকে ৩ লাখ টাকা দিয়ে তারা চাকরিতে ঢুকেছিলেন। পরবর্তীতে চাকরি চলে যাওয়ার পর তারা শহীদ চৌধুরীর কোনো খোঁজ পাচ্ছেন না। অনেকেই ঘরের গরু বিক্রি করে এনে টাকা দিয়ে নগর ভবনে চাকরি নিয়েছিলেন বলে জানান তারা। এদিকে- নগর ভবনে চাকরি ছাড়াও ঠিকাদার সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছিল শহীদ। সব কাজে ঠিকাদারদের তাকে ১৫ থেকে ২০ শতাংশ করে কমিশন দিতে হতো। আর বন্যার পর জরুরি ভিত্তিতে সড়ক মেরামতে অন্তত দুইশ’ কোটি টাকার কাজের আগেই তিনি কমিশন নিয়ে রেখেছিলেন। এ কাজে ঘাপলার জন্য ফের ভেঙেচুরে গেছে নগরের অনেক রাস্তা। পট পরিবর্তনের পর শহীদ আত্মগোপনে। মোবাইলও বন্ধ। কেউ কেউ বলছেন, পরিবার নিয়ে আমেরিকায় পাড়ি দিয়েছেন। তবে, নগর ভবন ছাড়ার আগে শহীদ চৌধুরী সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন তার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ তোলা হচ্ছে সেগুলো মিথ্যা। তিনি কোনো নিয়োগ বাণিজ্য করেননি। ঠিকাদার সিন্ডিকেটও গড়েননি। তার বন্ধু জসিমও দুর্নীতির বিষয়টি অস্বীকার করেছিলেন।

mzamin

কার্যকর হয়নি সরকারের বেঁধে দেয়া দাম

বাজারে স্বস্তি ফেরাতে গত ১৫ই সেপ্টেম্বর খুচরা, পাইকারি ও উৎপাদক পর্যায়ে ডিম, মুরগির দাম সরকার নির্ধারণ করে দিয়েছিল। ১৯ দিন পেরোলেও বাজারে কার্যকর হয়নি সরকারের বেঁধে দেয়া দাম। আগের সেই বাড়তি দামেই বিক্রি হচ্ছে ব্রয়লার-সোনালি মুরগি। সরকারি দামের চেয়ে ১০ টাকা বেশিতে ব্রয়লার আর ২০ টাকা বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে সোনালি মুরগি। খুচরা বাজারে এক ডজন ডিমের দাম ১৭০ টাকা উঠেছে, যা গত সপ্তাহের চেয়ে ১০ টাকা বেশি। আর পাড়া-মহল্লায় ডিম বিক্রি হচ্ছে ১৭৫ থেকে ১৮০ টাকা। এতে নিম্নবিত্ত ও নিম্ন মধ্যবিত্তের নাগালের বাইরে এই কম দামের পুষ্টি। শুক্রবার রাজধানীর কয়েকটি বাজার ঘুরে এই চিত্রই দেখা গেছে।

এদিকে গত সপ্তাহের চেয়ে আরও বেড়েছে সবজির দাম। চড়াদামে বিক্রি হচ্ছে ব্রয়লার মুরগি। আর পিয়াজের দাম সামান্য কমতে দেখা গেছে।

বিক্রেতারা বলছেন, ডিমের দাম একদম অস্থিতিশীল। দুই-তিন সপ্তাহ ধরেই ডিম কিনতে কষ্ট হচ্ছে নিম্নবিত্ত ও নিম্ন মধ্যবিত্তদের। এখন ডিমের দাম শুনে অনেক ক্রেতা ফিরে যাচ্ছেন। বাজারে খুচরায় প্রতিটি ডিম ১৫ টাকা দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে।
এদিকে কৃষি বিপণন অধিদপ্তর গত ১৫ই সেপ্টেম্বর এক আদেশে উৎপাদক পর্যায়ে প্রতিটি ডিম ১০ টাকা ৫৮ পয়সা, পাইকারিতে ১১ টাকা ও খুচরা পর্যায়ে ১১ টাকা ৮৭ পয়সা নির্ধারণ করে দেয়। সে হিসেবে ডিমের হালি খুচরা পর্যায়ে ৪৭ টাকা ৪৮ পয়সায় বিক্রি হওয়ার কথা। অথচ এখন প্রতি হালি কিনতে হচ্ছে ৫৮ থেকে ৬০ টাকায়। হালিতে ১১ থেকে ১২ টাকার বেশি গুনতে হচ্ছে গ্রাহককে।
এদিকে বাজারে ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ১৯০ থেকে ২০০ টাকায়। আর সোনালি মুরগি প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ২৮০ থেকে ২৯০ টাকায়। পাশাপাশি লেয়ার মুরগি প্রতি কেজি ৩১০ টাকা, কক কেজি ৩০০ থেকে ৩১০ টাকা। দেশি মুরগি আগের মতো ৬৫০ থেকে ৬৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। যদিও শুধু ব্রয়লার ও সোনালি মুরগির দাম নির্ধারণ করে দিয়েছিল সরকার। বাকিগুলোর দাম নির্ধারণ করে দেয়া হয়নি। খুচরা পর্যায়ে প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগির দাম ১৭৯ টাকা ৫৯ পয়সা নির্ধারণ করে দিলেও তা বাজারে প্রতি কেজি ১৯০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা নির্ধারণ করে দেয়া দামের চেয়ে ১০ টাকারও বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে বাজারে। একইভাবে সোনালি মুরগির প্রতি কেজির দাম ২৬৯ টাকা ৬৪ পয়সা নির্ধারণ করে দিলেও বাজারে বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ২৯০ টাকা, যা নির্ধারণ করে দেয়া দামের চেয়ে কেজিতে ২০ টাকারও বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে বাজারে।

ওদিকে বেশ কয়েক মাস ধরে চড়া রয়েছে আলু ও পিয়াজের দাম। বর্তমানে প্রতি কেজি আলু ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে ভারত পিয়াজ রপ্তানিতে শর্ত শিথিল ও শুল্ক কমানোর পর দেশের পিয়াজের দাম অল্প কিছুটা কমেছে। আগে যেটি ১২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হতো, সে পিয়াজ এখন ১১০ থেকে ১১৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

অন্যদিকে বাজার ঘুরে দেখা গেছে, আগের সপ্তাহের তুলনায় বেশকিছু সবজির দাম কেজিপ্রতি ১০ থেকে ২০ টাকা বেড়েছে। বিক্রেতারা বলছেন, টানা কয়েকদিন বৃষ্টির কারণে সবজির সরবরাহ কমেছে। অনেক সবজি ক্ষেতে নষ্ট হচ্ছে। এ ছাড়া এখন গ্রীষ্মের মৌসুমের সবজিগুলো সরবরাহ শেষ দিকে, আর শীত মৌসুমের আগাম সবজির সরবরাহ কম। দুই মৌসুমের মাঝামাঝি সময়ে এখন দাম বাড়ছে।

সবজি বিক্রেতা মো. আলী বলেন, গ্রীষ্মের মৌসুম শেষে, শীতের মৌসুম শুরুর আগের এই সময়টি প্রতি বছর সবজির দাম একটু বেশিই থাকে। এ ছাড়া বৈরী আবহাওয়ার কারণে সবজির সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে। পেঁপে ছাড়া বাজারে ৬০ টাকার নিচে কোনো সবজি পাওয়া যাচ্ছে না। তাও ৬০ থেকে ৭০ টাকায় শুধু পটোল মিলছে। ঢেঁড়স, ঝিঙা, চিচিঙ্গা, কচুরমুখী বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ৯০ টাকা কেজি দরে। বরবটি, কাঁকরোল, করলা, বেগুন ১০০ থেকে ১৪০ টাকা বিক্রি হতে দেখা গেছে। এ ছাড়া শীতের আগাম সবজি শিম বিক্রি হচ্ছে ২২০ থেকে ২৬০ টাকা দরে। প্রতি পিস ছোট ফুলকপি ও বাঁধাকপির দাম ৬০ থেকে ৮০ টাকা।

mzamin

‘এখন তোমরা কোথায় কোন জঙ্গলে লুকিয়ে আছো’

গণঅভ্যুত্থানে পতিত ও পালিয়ে যাওয়া সরকারের উদ্দেশ্যে জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, তোমরা এখন কোথায়, কোন জঙ্গলে লুকিয়ে আছো? কোন গর্তে তোমাদের অবস্থান? এখন বিভিন্ন জায়গায় পালাচ্ছো কেন? এটা না তোমাদের মার দেশ- না বাবার দেশ? তোমরা না দেশের মালিক ছিলা? তো মালিকগুলো কোথায় গেলা? আসো সাহস করে। যারা এই জাতির ওপরে জুলুম করেছেন, তাদের সকলের  বিচার এই জাতি দেখতে চায়। আমরা কোনো শপথবদ্ধ রাজনীতিবিদকে আদালতের বিচারক হিসেবে দেখতে চাই না। কোনো দুর্বৃত্তকে আদালতের চেয়ারে আর দেখতে চাই না। আমরা ন্যায়বিচার চাই। গতকাল সকালে গাজীপুরের ঐতিহাসিক রাজবাড়ী ময়দানে জামায়াতে ইসলামী গাজীপুর মহানগরের উদ্যোগে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে শাহাদতবরণকারী পরিবারের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেছেন।

সভায় জামায়াতের আমীর আরও বলেন, আমরা দাবি করি প্রত্যেকটা শহীদ পরিবারের থেকে কমপক্ষে একজনকে যাতে সম্মানজনক চাকরি দেয়া হয়। লড়াই করে যারা আহত হয়েছে তাদেরও যাতে সম্মানজনক চাকরি দেয়া হয়। তারা যাতে কারও করুণার পাত্র হয়ে না থাকে। জাতির দায়িত্ব এখন এই পরিবার ও ব্যক্তিদের সম্মানিত করা। আমরা দল এবং ধর্মের ভেতর থেকে কোনো বিভাজন মানি না। কোনো মেজরিটি মাইনরিটি নাই।

আমরা একটা ঐক্যবদ্ধ জাতি চাই। রাজনীতিতে কোনো ব্রাহ্মণগিরি চলবে না। রাষ্ট্রে আমরা সবাই সমান। এখন কথা হলো- যারা পালিয়ে গেলেন, লুকিয়ে গেলেন, গর্তে গেলেন, কলাপাতায় ঘুমিয়ে গেলেন তাদের কি হবে, তাদের প্রতি কোনো অবিচার হোক তা চাই না। কিন্তু যার ফাঁসি হওয়ার কথা ফাঁসি হোক। যার যাবজ্জীবন পাওনা সেটাই যেন পায়। তারাই বড় গলায় বলেছেন সবার জন্য সমান। আসেন এখন সমান আইনটা কেমন একটু দেখে যান। তারা বলেছেন স্বাধীন বিচার বিভাগ আমরা এখনো বলছি বিচার বিভাগ স্বাধীন থাকুক।

মতবিনিময় সভাটি বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মীদের সমাগমে বিশাল সমাবেশে পরিণত হয়। মহানগর জামায়াতের আমীর অধ্যাপক জামাল উদ্দিনের সভাপতিত্বে জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য অধ্যক্ষ মুহাম্মদ ইজ্জত উল্লাহ, ঢাকা অঞ্চল উত্তরাঞ্চল  টিম সদস্য আবুল হাসেম খান, মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন, জেলা আমীর ড. জাহাঙ্গীর আলম, মহানগর নায়েবে আমীর মুহাম্মদ খায়রুল হাসান, মহানগর সেক্রেটারি আবু সাইদ মোহাম্মদ ফারুক, প্রচার সম্পাদক মো. সালাহউদ্দিন আইউবী, মমতা আফজাল হোসেন প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

জামায়াতের আমীর আরও বলেন, আমরা শহীদদের কোনো দলীয় ভিত্তিতে ভাগ করতে চাই না। শহীদগণ জাতীয় সম্পদ। তাদেরকে ইজ্জতের চূড়ান্ত সীমায় রাখতে চাই, দেখতে চাই। এই শহীদ পরিবারগণের প্রতি রাষ্ট্রকে অবশ্যই নৈতিক দায়িত্ব পালন করতে হবে। শহীদ পরিবারের লোকজন আমাদের অহংকারের পাত্র সম্মানের পাত্র। সরকারের কাছে দাবি জানাবো শহীদদের যেন সঠিক স্বীকৃতি দেয়া হয়।

তিনি বলেন, বছরের পর বছর ধরে তোমরা যাদের ওপর সবচেয়ে নিকৃষ্ট আচরণ করেছো অত্যাচার নির্যাতন করেছো, তাদের একজনও এই দেশ ছেড়ে পালানোর চেষ্টা করেননি। হাসিমুখে ফাঁসি বরণ করেছেন। কিন্তু অন্যায়ের কাছে মাথা নত করেননি। যারা অন্যায় অত্যাচার করেছে আল্লাহ তাদের খোলা আকাশের নিচে জায়গা দিয়েছেন। দেশ গঠনে আমরা জামায়াতে ইসলামী আপামর জনতার সহযোগিতা চাই।

জামায়াতের আমীর বলেন, দেশের স্বার্থে আমাদের কোনো বিভাজন নেই। যত বিভাজন তা আমরা পায়ের নিচে ফেলে দিয়েছি। আর কাউকে জাতিকে ভাগ করার সুযোগ দিবো না। জাতিকে তারাই ভাগ করে যারা দেশের দুশমন। দলের ভিত্তিতে, ধর্মের ভিত্তিতে আর ভাগ করার সুযোগ দেয়া হবে না। এক্ষেত্রে আমরা আপসহীন।

তিনি বলেন, জাতির সঙ্গে গাদ্দারি করলে, তাদের সেবক হয়ে মালিক বনে গেলে কি পরিণতি হয় তা থেকে আমি, আমরা এবং জাতিকে শিক্ষা গ্রহণ করতে হবে। আমরা বিশ্বাস করি, আর কোনো স্বৈরাচার সরকার আসবে না যারা ক্ষমতায় থাকাবস্থায় জনগণকে তাদের কেনা টাকায় বুলেট ছোড়ার দুঃসাহস করবে। এমন কোনো নতুন সন্ত্রাসী সরকার দেখতে চাই না।

কোনো দুর্বৃত্তকে আদালতের চেয়ারে আর দেখতে চাই না এমন মন্তব্য করে তিনি বলেন, যারা বিচারের আমানত রক্ষা করতে পারবে তাদের বিচারক হিসেবে চাই। যারা মুখের দিকে তাকিয়ে কোনো বিচার করবে না। নীতি, নৈতিকতা ও সাক্ষীর ওপর ভিত্তি করে রায় দিবেন। বিচার বিভাগ স্বাধীন থাকতে হবে, সাক্ষী প্রমাণের ভিত্তিতে বিচার হতে হবে সঠিক।

অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে নিহতদের স্বীকৃতি দাবি করে তিনি বলেন, আমরা দলীয় ভিত্তিতে শহীদদের বিভক্তি চাই না। তারা আমাদের মর্যাদার পাত্র। পাঠ্যপুস্তক কারিকুলামে আগামীদিনের নাগরিকরা যেন জানে তাদের মুগ্ধ, সাঈদ ও রিয়ারা ছিল। এ সময় তিনি প্রত্যেক শহীদ পরিবারের সদস্যদের একজনকে সরকারি চাকরি দেয়ার দাবি করেন। সভার শুরুতে জামায়াতের আমীর শহীদ পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করেন এবং তাদের খোঁজখবর নেন।

mzamin

ক্ষেপণাস্ত্র হামলা ইসরাইলের জন্য ন্যূনতম শাস্তি -খামেনি

ইসরাইলের অভ্যন্তরে তেহরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার প্রশংসা করেছেন ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। এই হামলাকে ‘আইন সম্মত’ হামলা বলেও অভিহিত করেছেন তিনি। এ খবর দিয়েছে অনলাইন বিবিসি। খামেনি বলেছেন- ইসরাইল যে ‘আশ্চর্য অপরাধ’ করেছে তার বিরুদ্ধে ওই হামলা তেল আবিবের জন্য ‘ন্যূনতম শাস্তি’। ইসরাইলকে মধ্যপ্রাচ্যের ‘ভ্যাম্পায়ার’ এবং যুক্তরাষ্ট্রকে ‘ক্ষ্যাপা কুকুর’- বলে অভিহিত করেছেন ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় এই নেতা। বলেছেন, ইসরাইলের বিরুদ্ধে ‘শান্তি ও দৃঢ়তার’- সঙ্গে যেকোনো দায়িত্ব পালন করবে ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরান। ইসরাইলের ব্যাপারে দ্বিতীয়বার ভাববে না তেহরান- এমন হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন খামেনি।

তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লা মসজিদে শুক্রবার জুমার নামাজের খুতবায় এসব কথা বলেছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। গত পাঁচ বছরের মধ্যে তিনি প্রথমবারের মতো জুমার নামাজের খুতবা দিলেন। এর আগে ২০২০ সালে মার্কিন হামলায় বিপ্লবী গার্ডের জেনারেল কাসেম সোলেইমানীকে হত্যা করার পর খামেনি শেষবার জুমার খুতবা দিয়েছিলেন। ফার্সি ভাষায় দেয়া এই খুতবার প্রথম অংশে খামেনি পবিত্র গ্রন্থ কোরআনের নীতির ভিত্তিতে বিশ্বব্যাপী মুসলমানদের ‘ঐক্য’ গড়ার উপর জোর দেন। তিনি বলেন, ইরান, ফিলিস্তিন, লেবাননের শত্রু প্রত্যেকটি মুসলিম দেশের শত্রু। আনুষ্ঠানিকভাবে তেহরানের গ্র্যান্ড মসজিদের জুমার খুতবা খামেনির দেয়ার কথা থাকলেও জরুরি পরিস্থিতি না হলে তা থেকে তিনি বিরত থাকেন। তার পরিবর্তে সাধারণত অন্য কেউ জুমার নামাজের ইমামতি করেন।  

ইরানের স্থানীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, লেবানন এবং ফিলিস্তিনিদের সম্বোধন করে আরবি ভাষায়ও একটি বক্তব্য দেবেন আয়াতুল্লাহ খামেনি। হামাস-ইসরাইল সংঘাতের এক বছর পূর্তির তিনদিন আগে এই ভাষণ দিলেন তিনি। হিজবুল্লাহ নেতা হাসান নাসরাল্লাহ এবং ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) কমান্ডার আব্বাস নীলফরৌশানের পাশাপাশি হামাস নেতা ইসমাইল হানিয়াহ হত্যার প্রতিশোধ নিতে ইরান ইসরাইলের বিরুদ্ধে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার তিনদিন পরে এই ভাষণ দিলেন খামেনি। ২০২০ সালে বাগদাদের বিমানবন্দরের কাছে মার্কিন ড্রোন হামলায় ইরানের জেনারেল কাসেম সোলেইমানি নিহত হওয়ার পরে এবং পরবর্তীতে ইরাকে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ইরানের হামলার পর খামেনি শেষবার তার জুমার খুতবা দিয়েছিলেন। এর আগে ২০১২ সালেও এভাবে জুমার খুতবা দিয়েছিলেন আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি।

mzamin

নির্ধারিত সময়ে ভোটার তালিকা হালনাগাদে জটিলতা by মো. আল-আমিন

ভোটার তালিকা হালনাগাদ সংক্রান্ত জটিলতায় ২০২৫ সালের মধ্যে ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচন আয়োজন নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। ভোটার তালিকা হালনাগাদ কর্মসূচি হাতে নেয়ার জন্য নির্বাচন কমিশনের (ইসি)  অনুমোদনের প্রয়োজন হয়। বর্তমানে কমিশন না থাকায় ভোটার হালনাগাদ করা সম্ভব হচ্ছে না। ইসি সচিব শফিউল আজিম বলেছেন, ২০০৯ সালে ভোটার তালিকা আইন অনুযায়ী, জানুয়ারিতে ভোটার তালিকা হালনাগাদ শুরু হবে। আমাদের রুটিন আছে ২রা জানুয়ারি থেকে করা। এখন প্রতিদিনের ভোটার হালনাগাদ করছি। কমিশনের অনুমোদন ছাড়া ভোটার হালনাগাদ করা যায় না জানিয়ে তিনি বলেন, এটা কমিশনের কাজ। সুতরাং বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটার তালিকা হালনাগাদ করার সিদ্ধান্ত কমিশন নেবে। আমার লিগ্যাল অথরিটি নেই।

বর্তমানে কমিশনহীন ইসিতে আইনে নির্ধারিত রুটিন কাজগুলো করছেন ইসি সচিব শফিউল আজিম। আইন অনুযায়ী, কমিশনের অনুমোদনক্রমে প্রতিবছর দুই জানুয়ারি থেকে বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটার তালিকা হালনাগাদ কার্যক্রম পরিচালনার বিধান রয়েছে। এক্ষেত্রে তথ্য সংগ্রহের পর যাচাই-বাছাই, দাবি-আপত্তি নিষ্পত্তির পর চূড়ান্ত ভোটার তালিকা ২রা মার্চ প্রকাশের বিধান রয়েছে। এক্ষেত্রে জানুয়ারিতে বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটার তালিকা হালনাগাদ করতে হলে তার আগেই নতুন কমিশন নিয়োগ দিতে হবে। অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নিয়েই নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার বিষয়ে কমিশন গঠনের ঘোষণা দেয়। সুজন সম্পাদক ড. বদিউল আলমের নেতৃত্বাধীন নির্বাচন কমিশন সংস্কার কমিশন কার্যক্রম শুরু করেছে। নতুন কমিশন নিয়োগ দিতে এখনো তিন মাস বা তার বেশি সময় লাগতে পারে। ফলে বিদ্যমান আইনানুযায়ী এই সময়ের মধ্যে নতুন কমিশনের পক্ষে ভোটার তালিকা হালনাগাদ করা কঠিন হয়ে যাবে। ইসি’র সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, ভোটার তালিকা হালনাগাদ করতে অন্তত ৬ থেকে ৮ মাস সময় লাগে। সাধারণত বাড়ি বাড়ি গিয়ে তথ্য সংগ্রহ, যাদের তথ্য সংগ্রহ করা হয় তাদের ছবি তোলা এবং চোখের আইরিশ ও আঙ্গুলের ছাপ নেয়ার মতো কাজ শেষ করতে পর্যাপ্ত সময়ের প্রয়োজন। এক্ষেত্রে এখনই নতুন কমিশন নিয়োগ দিতে হবে। কিন্তু ইসি সংস্কার কমিশন সুপারিশ রিপোর্ট না দেয়া পর্যন্ত পরবর্তী কমিশন গঠন করা যাচ্ছে না। ফলে পিছিয়ে যেতে পারে ভোটার তালিকা হালনাগাদ করার প্রক্রিয়া। এতে ভোটার আইন সংশোধন ছাড়া ২০২৫ সালের মধ্যে নির্বাচন করতে পারবে না ইসি।

এ বিষয়ে ইসি’র একাধিক কর্মকর্তা মানবজমিনকে বলেন, সরকারের সদিচ্ছা থাকলে ২০২৫ সালেই জাতীয় নির্বাচন করার সুযোগ আছে। সেক্ষেত্রে ভোটার তালিকা আইন সংশোধনে অধ্যাদেশ জারি করতে পারেন রাষ্ট্রপতি। নতুন কমিশন দায়িত্ব নিয়ে ২০২৫ সালের জুনের মধ্যে ভোটার তালিকা হালনাগাদ করতে পারবে। সেটি পুরোপুরি নির্ভর করছে সরকারের ইচ্ছার উপর।
তবে ভোটার তালিকা হালনাগাদের বিশেষ ক্ষমতা রয়েছে নির্বাচন কমিশনের। ভোটার তালিকা আইন, ২০০৯-এর ২১ ধারায় বলা হয়েছে, ‘কোনো অনিবার্য কারণবশত কোনো নির্বাচনী এলাকায় বা, ক্ষেত্রমতো, ভোটার এলাকায় ভোটার তালিকা প্রস্তুতাকার্য সম্পন্ন করা সম্ভব না হইলে কমিশন, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, উক্ত নির্বাচনী এলাকায় বা, ক্ষেত্রমতো, ভোটার এলাকায় বিশেষ ব্যবস্থায় ভোটার তালিকা প্রণয়ন এবং নির্বাচন অনুষ্ঠানের ব্যবস্থা গ্রহণ করিতে পারিবে।’

এদিকে ভোটার তালিকা হালনাগাদ করতে প্রস্তুত নির্বাচন কমিশন সচিবালয়। ইকুইপমেন্ট ঠিকঠাক আছে কিনা দেখা হচ্ছে। কমিশন থেকে আদেশ পেলেই বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটার তালিকা হালনাগাদ কার্যক্রম শুরু করবে ইসি সচিবালয়। তবে এখনই কমিশন নিয়োগ না করা গেলে এই কার্যক্রম পিছিয়ে পরের বছরে চলে যেতে পারে। এতে জাতীয় নির্বাচনও পিছিয়ে যেতে পারে। ২০২২ সালের ভোটার তালিকা হালনাগাদ অনুযায়ী নির্বাচন কমিশনের কাছে ২০২৫ সালের ১লা জানুয়ারি পর্যন্ত ভোটারদের অ্যাডভান্স ডাটা রয়েছে। তবে ২০২৫ সালের জানুয়ারির পরের ডাটা ইসি’র কাছে নেই। সেক্ষেত্রে ভোটার হালনাগাদ না করে ২০২৫ সালের মধ্যে নির্বাচন আয়োজন করা হলে ভোটার উপযুক্ত কেউ যদি রিট করে তাহলে ভোট স্থগিত হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে।

mzamin

ডেঙ্গুতে বেশি মারা যাচ্ছে তরুণরা by ফরিদ উদ্দিন আহমেদ

সারা দেশে এডিস মশাবাহিত ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী ও মৃত্যু কমছে না। মৃতদের মধ্যে তরুণদের সংখ্যা বেশি। চলতি বছরে এ পর্যন্ত ১৭৭ জন মারা গেছেন ডেঙ্গুতে। এরমধ্যে ঢাকার দক্ষিণ সিটিতে সর্বাধিক ৯৫ জন। ডেঙ্গু আক্রান্তে পুরুষরা বেশি হলেও মৃত্যুতে নারীরা বেশি। কারণ হিসেবে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা বলছেন, ডেঙ্গুতে নারীরা আক্রান্ত হয়ে অসুস্থ হলে হাসপাতালে দেরিতে যান। ডেঙ্গুর হটস্পট নির্ধারণ করে সঠিক ব্যবস্থা নেয়ার তাগিদ দেন কীটতত্ত্ববিদরা।

এদিকে, রাজধানীর বড় বড় হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগী আসছে বেশি। চিকিৎসা দিতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন চিকিৎসকসহ স্বাস্থ্যকর্মীরা। ঢাকার হাসপাতালগুলোর কর্তব্যরত চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে যারা এখন হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন তাদের বেশির ভাগই ঢাকার বাসিন্দা। তবে ২০-২৫ শতাংশ রোগী ঢাকার বাইরে থেকেও আসছেন।

৩রা অক্টোবর স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, চলতি বছর ডেঙ্গু জ্বরে মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৭৭ জনে। মোট মৃতের মধ্যে ৫১ দশশিক ৪ শতাংশ নারী এবং ৪৮ দশমিক ৬ শতাংশ পুরুষ। এছাড়া এ বছর ডেঙ্গুতে মোট আক্রান্তের সংখ্যা ৩৪ হাজার ৪৩৮ জন। আক্রান্তের মধ্যে ৬৩ দশমিক ১ শতাংশ পুরুষ এবং ৩৬ দশমিক ৯ শতাংশ নারী  রয়েছেন। ঢাকা সিটিতে ১২০ জন মারা গেছেন। এর মধ্যে দক্ষিণ সিটিতে মারা যাওয়ার সংখ্যা সর্বাধিক ৯৫ জন। উত্তর সিটিতে  ২৫ জন। ঢাকা বিভাগে (সিটি করপোরেশন ব্যতীত) ৬ জন, বরিশাল বিভাগে ১৬ জন,  চট্টগ্রামে ২২ জন, খুলনা  বিভাগে ১০ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ১ জন মারা গেছেন।

বয়সভিত্তিক মৃত্যুর তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২১ থেকে ২৫ বছর বয়সী সর্বোচ্চ মৃত্যু ২১ জন। এরপরে রয়েছে ২৬ থেকে ৩০ বছর বয়সী ২০ জন। এতে দেখা যায়, শূন্য  থেকে ৫ বছরের মধ্যে রয়েছে ৫ জন, ৬ থেকে ১০ বছরের মধ্যে ১১ জন, ১৬ থেকে ২০ বছরের মধ্যে ১২ জন, ৩১ থেকে ৩৫ বছরের ১৫ জন, ৩৬ থেকে ৪০ বছরের ৯ জন,  ৪১ থেকে ৪৫ বছরের মধ্যে ১৩ জন, ৪৬ থেকে ৫০ বছরের রয়েছেন ১২ জন, ৫১ থেকে ৫৫ বছরের ১২ জন, ৫৬ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে ৭ জন, ৬১ থেকে ৬৫ বছরের রয়েছেন ৯ জন, ৬৬ থেকে ৭০ বছরের মধ্যে ৭ জন, ৭১ থেকে ৭৫ বছরের মধ্যে ৭ জন, ৭৬ থেকে ৮০ বছরের রয়েছেন ৭ জন এবং ৮০ বছরের উপরে মারা গেছেন ২ জন।

সংশ্লিষ্টরা জানান, মশার প্রজনন ধ্বংস কার্যক্রম ভাটা পড়ায় পরিস্থিতি আবারও ভয়াল রূপ ধারণ করেছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাবও সে কথাই বলছে। চলতি বছরের জানুয়ারিতে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা ১ হাজার ৫৫ এবং মৃত্যুর সংখ্যা ছিল ১৪ জন। ফেব্রুয়ারিতে আক্রান্ত ৩৩৯, মৃত্যু ৩ জন। মার্চে আক্রান্ত ৩১১, মৃত্যু ৫ জন। এপ্রিলে আক্রান্ত ৫০৪, মৃত্যু ২ জন। মে মাসে আক্রান্ত ৬৪৪ জন এবং মারা গেছেন ১২ জন। জুনে আক্রান্ত ৭৯৮ এবাং মৃত্যু ৮ জন। জুলাইয়ে আক্রান্ত ২ হাজার ৬৬৯ জন, মৃত্যু ১২ জন। আগস্টে আক্রান্ত ৬ হাজার ৫২১ জন এবং মারা গেছেন ২৭ জন। চলতি সেপ্টেম্বরে চলতি বছরের রেকর্ড পরিমাণ আক্রান্ত ১৮ হাজার ৯৭ জন এবং মারা গেছেন ৮০ জন। অক্টোবরে ৪ দিনে আক্রান্ত  ৩ হাজার ৫০০ জন এবং মারা গেছেন ১৪ জন।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ডেঙ্গুর মৌসুম শুরু হয় মূলত বর্ষাকালে। আগস্ট থেকে বাড়তে থাকে এর ভয়াবহতা। কিন্তু চলতি বছর মার্চের মাঝামাঝি থেকেই দেশের বিভিন্ন জায়গায় বৃষ্টি শুরু হয়। এতে এডিস মশা তাদের প্রজননে উপযুক্ত আবহাওয়া পেয়ে গেছে বর্ষার আগেই। এখনো এর ধারাবাহিকতা অব্যাহত রয়েছে। আর এর অন্যতম কারণ হিসেবে ডেঙ্গুর প্রজননস্থল ধ্বংসে ব্যর্থতাকে দায়ী করছেন তারা। একইসঙ্গে আবহাওয়ার তারতম্যও সমানভাবে দায়ী উল্লেখ করে তারা বলছেন, এখনি এডিসের জীবাণুবাহী মশার প্রজননস্থল ধ্বংস না করতে পারলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে।

কেন ডেঙ্গু রোগী বাড়ছে জানতে চাইলে কীটতত্ত্ববিদ ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. কবিরুল বাশার মানবজমিনকে বলেন, এ বছরের শুরু থেকে এডিস মশাবাহিত ডেঙ্গু ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের আশঙ্কা করা হয়েছিল। আমি আগেই বলেছি সেপ্টেম্বরে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বাড়বে। এ সংখ্যাটি হঠাৎ করে বাড়েনি। তবে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে সিটি করপোরেশন এবং স্থানীয় প্রশাসন এখনো কার্যকরী কোনো উদ্যোগ নেয়নি। এ অবস্থায় অক্টোবরে ডেঙ্গুর ভয়াবহতা আরও বাড়তে পারে। ডেঙ্গুর সংক্রমণ বেড়ে গেলে সবচেয়ে বেশি জোর দিতে হয় উড়ন্ত মশা নিধনে। আমরা এখনো এ ধরনের কোনো উদ্যোগ দেখতে পাচ্ছি না। কবে নাগাদ ডেঙ্গু সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আসতে পারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বৃষ্টিপাতের পরিমাণ কমে এলে এক মাসের মধ্যেই সংক্রমণ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে চলে আসবে। তবে এ মুহূর্তে ডেঙ্গুর হটস্পট নির্ধারণ করে সঠিক ব্যবস্থা নেয়ার তাগিদ দেন তিনি।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ, আইইডিসিআর’র সাবেক প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ডা. মুশতাক হোসেন ডেঙ্গু প্রসঙ্গে বলেছেন, গত বছরের তুলনায় ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা এ বছর বেশি না হলেও মৃত্যুহার বেশি। এ বছর এখন পর্যন্ত একদিকে প্রচণ্ড তাপ, অন্যদিকে প্রচণ্ড বৃষ্টি। এ রকম উত্তপ্ত ও আর্দ্র আবহাওয়ায় এডিস মশার ডিম ও প্রজনন খুব দ্রুত হয়। বৃষ্টি হচ্ছে, আবার গরম পড়ছে। কাজেই একদিকে মশা নিয়ন্ত্রণ, অন্যদিকে চিকিৎসা ব্যবস্থাপনায় আমাদের জোর দিতে হবে। তিনি আরও বলেন, মশক নিধনে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো- জনগণ ও প্রতিনিধিদের সম্পৃক্ত করে তৎপরতা চালিয়ে যাওয়া। কাজেই জনগণকে সম্পৃক্ত করে পরিচ্ছন্নতা অভিযান যদি পরিচালনা করা না যায়, তাহলে ইতিমধ্যে যতটুকু অর্জন ছিল, তাও ভেস্তে যাবে।

mzamin

লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলের ২০টিরও বেশি শহরের বাসিন্দাদের সরে যেতে বললো ইসরাইল

ইসরাইলি সামরিক বাহিনী লেবাননের আরও ২০টিরও বেশি দক্ষিণ শহরের বাসিন্দাদের অবিলম্বে সরে যেতে বলেছে, ইসরাইলের সামরিক মুখপাত্র আভিচে আদ্রাই এক্স-এ একটি পোস্টে একথা লিখেছেন। লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে ইসরাইলের স্থল অভিযান ও বৈরুতসহ বিভিন্ন স্থানে হিজবুল্লাহর ঘাঁটিতে ইসরাইলি হামলা বাড়ার ফলে ইউরোপ, এশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশের নাগরিকরা দেশটি থেকে চলে যেতে শুরু করেছেন। কয়েকটি দেশ বিমানযোগে তাদের নাগরিকদের সরিয়ে নিলেও অন্যরা জাহাজ বা ফেরিতে করে দেশ ছেড়েছেন। বিমানে থাকা যাত্রীরা জানান, কীভাবে সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ক্রমবর্ধমান হামলা এবং হিজবুল্লাহর নেতৃত্বের ওপর চালানো আঘাতের ফলে শহরে বিশৃঙ্খলা ও আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। লেবাননে অবস্থারনত প্রবাসীরা দেশ ছাড়তে মরিয়া হয়ে উঠেছেন। চীন থেকে ইউরোপ পর্যন্ত বিভিন্ন দেশ তাদের নাগরিকদের উদ্ধার করতে পরিকল্পনা করছে। রাশিয়া বৃহস্পতিবার তাদের কূটনীতিকদের পরিবারকে সরিয়ে নিতে একটি বিশেষ ফ্লাইটের ব্যবস্থা করেছে। অস্ট্রেলিয়া নিজের নাগরিকদের লেবানন ছাড়ার জন্য বিমানের শতাধিক সিটের ব্যবস্থা করেছে।  হিজবুল্লাহকে লক্ষ্য করে লেবাননে আবারও বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। ইসরায়েলি বোমা হামলায় বৈরুট  বিমানবন্দরের ঠিক বাইরে ব্যাপক বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। তাদের লক্ষ্য কী ছিল সেটি এখনও স্পষ্ট না। তবে রাজধানীতে বিমানবন্দরের এই দাহিয়েহ এলাকার সীমানা হিজবুল্লাহর শক্ত ঘাঁটি।অন্যদিকে হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে চালানো আক্রমণে লেবাননের দক্ষিণে দেশটির দুই সেনা নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছে লেবাননের সেনাবাহিনী।হিজবুল্লাহ বলছে, তারা সীমান্তের দুই দিক থেকে ইসরায়েলি সেনাদের নিশানা করেছে। আক্রমণের তৃতীয় দিন বৃহস্পতিবার মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে লেবানিজ সেনাবাহিনীর সৈন্যদের ওপর এই প্রাণঘাতী হামলা চালানো হয়। এদিকে রেড ক্রস জানিয়েছে, তাদের চারজন স্বেচ্ছাসেবকও সামান্য আহত হয়েছে আর তাদের চলাচল জাতিসংঘ শান্তিরক্ষীদের সঙ্গে সমন্বয় করা হয়েছে।

সূত্র :  দা গার্ডিয়ান

হিজবুল্লাহর কমিউনিকেশন কমান্ডার নিহত, সুড়ঙ্গ ধ্বংসের দাবি ইসরাইলের

লেবাননের যোদ্ধা গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর কমিউনিকেশন কমান্ডার মুহাম্মদ রাশিদ সাকাফিকে হত্যার দাবি করেছে ইসরাইলের সামরিক বাহিনী। তাদের দাবি বৃহস্পতিবার বৈরুতে এক হামলার মাধ্যমে হিজবুল্লাহর ওই কমান্ডারকে হত্যা করা হয়েছে। এক বিবৃতিতে ইসরাইল ডিফেন্স ফোর্স বলেছে, সাকাফি ২০০০ সাল থেকে হিজবুল্লাহর সাথে ছিলেন। তিনি সংগঠনটির শীর্ষ নেতৃত্বের খুব আস্থাভাজন ছিলেন বলেও জানিয়েছে আইডিএফ। তবে ইসরাইলের এই দাবির প্রেক্ষিতে এখনও কোনো মন্তব্য করেননি হিজবুল্লাহ। অন্যদিকে লেবানন ও সিরিয়ার মধ্যবর্তী ভূগর্ভস্থ টানেলে হামলার দাবি করেছে ইসরাইলি বাহিনী। এক্সে দেয়া এক বার্তায় এ বিষয়টি নিশ্চিত করেছে তারা। বার্তায় আইডিএফ বলেছে,  ইসরাইলের বিমান বাহিনী হিজবুল্লাহর একটি টানেলে হামলা চালিয়েছে। ইসরাইলের দাবি, টানেলটি অস্ত্র সরবরাহের কাজে ব্যবহার করত হিজবুল্লাহর যোদ্ধারা। টানেলের পাশাপাশি হিজবুল্লাহর স্থাপনা এবং বেশ কিছু সামরিক সরঞ্জাম ধ্বংসের দাবিও করেছে ইসরাইল।  

mzamin

mzamin

খুনিদের বিচারের মুখোমুখি করতে হবে: সেলিম উদ্দিন

আগস্ট বিজয়োত্তর খুনিদের চিহ্নিত ও বিচার করে অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির মাধ্যমে দেশে মানবতাবিরোধী রাজনীতির অবসান ঘটনার আহ্বান জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর উত্তর জামায়াতের আমীর মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন। শুক্রবার রাজধানীর মোহাম্মদপুরে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগর উত্তরের মোহাম্মদপুর পশ্চিম থানা উদ্যোগে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনে শহীদ পরিবারের সঙ্গে মতবিনিময়ে তিনি এ আহ্বান জানান। এসময় ৪ শহীদ পরিবারের সদস্যদের খোঁজ-খবর নেন এবং আর্থিক সহায়তা প্রদান করেন মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন।

ঢাকা মহানগর উত্তর জামায়াতের আমীর বলেন, মূলত বৈষম্যমুক্ত সমাজ ও সকল ক্ষেত্রে জাস্টিস প্রতিষ্ঠার জন্যই ছাত্র-জনতা ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে অপ্রতিরোধ্য আন্দোলন গড়ে তুলেছিল। কিন্তু এই আন্দোলন মোটেই নির্বিঘ্নে হয়নি বরং শত-সহস্র প্রাণের বিনিময়ে এই আন্দোলন বিজয় লাভ করেছে। তাই এই আন্দোলন দমাতে গিয়ে যারা মানবতাবিরোধী অপরাধে লিপ্ত হয়েছেন তাদের জন্য অবশ্যই শূন্য সহনশীলতা দেখাতে হবে। খুনিদের আইনের আওতায় এনে বিচারের মুখোমুখি করতে হবে। এজন্য দেশে মানবিক রাজনৈতিক দল দরকার। সে শূন্যতা পূরণের জন্য জামায়াত দীর্ঘ পরিসরে কাজ করে যাচ্ছে। মানুষের মুক্তি, কল্যাণ ও উন্নতির জন্য আমরা শপথবদ্ধ। তাই জামায়াতকে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব মাত্র ৫ বছরের মধ্যেই দেশকে দুর্নীতি মুক্ত কল্যাণ রাষ্ট্রে পরিণত করা সম্ভব।

তিনি বলেন, আগস্ট বিপ্লবের শহীদরা জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান। শাহাদাত আল্লাহর ফয়সালা ও মহাসম্মানের। আমাদের সন্তানরা জালিম শাসকের উৎখাত ও জুলুমের অবসানের জন্য হাসিমুখে শাহাদাত বরণ করেছিলেন। আমাদের বীর সন্তানরা বৈষম্যমুক্ত ও ইনসাফপূর্ণ সমাজ প্রতিষ্ঠার জন্যই অকাতরে জীবন বিলিয়ে দিয়েছিলেন। স্বৈরাচার ও ফ্যাসিবাদ জাতির ঘাড়ে জগদ্দল পাথরের মত চেপে বসেছিল। রাষ্ট্রীয় বাহিনীকে দলীয় বাহিনীতে পরিণত করে পাখির মত নির্বিচারে মানুষ হত্যা করা হয়েছিল। যা বিশ্ব ইতিহাসে নজীরবিহীন। তাই দেশ ও জাতির বৃহত্তর স্বার্থেই এসব অপরাধীদের বিচারের আওতায় আনতে হবে।

মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন বলেন, শহীদরা আমাদেরকে নতুন করে স্বাধীনতা এনে দিয়েছে। তাদের জন্য তাদের পরিবারের সঙ্গে পুরো জাতিই গর্বিত। তাই রাষ্ট্রীয়ভাবে তাদের সম্মান ও মর্যাদা নিশ্চিত করতে হবে। শহীদদের স্মরণে দেশে স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যায়, মাদ্রাসা, হাসপাতাল, জনহিতকর ও দাতব্য প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করতে হবে। আহতদের সুচিকিৎসাসহ তাদের পরিবারসহ শহীদ পরিবারগুলোকে পুনর্বাসনের জন্য সম্ভব সবকিছুই করা দরকার। প্রয়োজনে আহতদের দেশের বাইরে চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে হবে। এ কাজে জামায়াত সবসময় তাদের পাশে থাকবে-ইনশাআল্লাহ।

থানা আমীর ডা. মু. শফিউর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও জোন পরিচালক জিয়াউল হাসান, মোহাম্মদপুর দক্ষিণ থানা আমীর সাখাওয়াত হোসেন, থানা নায়েবে আমীর মাহাদী হাসান, সেক্রেটারি মাসুদুজ্জামান, থানা কর্মপরিষদ সদস্য নূরে আলম সিদ্দিকী, রুহুল আমীন, আশরাফুল আলম, আবুল কালাম আজাদ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

mzamin

হাসিনা গণহত্যার মাস্টারমাইন্ড: রাশেদ খান

শেখ হাসিনাকে গণহত্যার মাস্টারমাইন্ড আখ্যা দিয়ে গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মো. রাশেদ খাঁন বলেছেন, আজকে কাউকে কাউকে আন্দোলনের মাস্টারমাইন্ড বলা হচ্ছে। কিন্তু গণঅভ্যুত্থানে একক কাউকে মাস্টারমাইন্ড বলা মানে অন্যদের অবদান অস্বীকার করা। এই আন্দোলন ছিল সার্বজনীন আন্দোলন। সকল দল মত পথের মানুষ ছিল। ছাত্র-জনতার নেতৃত্বে এই ২য় মুক্তি আমরা পেয়েছি। এটাতে আওয়ামী লীগের মত কেউ একক অর্জন মনে করলে তাদের অবস্থাও আওয়ামী লীগের মত হবে। এখন সময় এসেছে দেশকে গড়ার। কর্তৃক ও নেতৃত্বের দ্বন্দ্বে জড়িয়ে স্বাধীনতাকে কেউ নস্যাৎ করবেন না। আগামীতে জাতীয় ঐক্য ও সংহতির সরকার গঠন করে এই দেশকে এগিয়ে নিতে হবে।

শুক্রবার সন্ধ্যায় কিশোরগঞ্জের তাড়াইলে গণঅধিকার পরিষদের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত তারুণ্যের সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, ঢাকা থেকে আসতে গিয়ে রাস্তায় যে অবস্থা দেখলাম, এতে মনে হলো উন্নয়নের নামে কিশোরগঞ্জবাসীর সাথে বেইমানি করা হয়েছে। পুরো রাস্তা ভাঙাচোরা, কর্দমাক্ত। যে জেলা থেকে তিনজন রাষ্ট্রপতি হয়েছে, সেই জেলার এই হাল কেন? আপনাদের এলাকার জনপ্রতিনিধি ছিল জাতীয় পার্টির মহাসচিব মুজিবুল হক চুন্নু। সে তো জাতীয় বেইমান। সে জাতীয় পার্টিকে শেখ হাসিনার দোসর বানিয়েছে। জিএম কাদেরকে ব্লাকমেইল করে আওয়ামী লীগের অধীনে নির্বাচনে নিয়ে গিয়েছে। এই বেইমানকে আপনাদের উচিত তাড়াইলে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা। তিনি বলেন, আমরা ২০১৮ সালে কোটা সংস্কার আন্দোলন করেছি। এরপর দল গঠন করে রাষ্ট্র সংস্কারের ঘোষণা দিয়েছি। আমরা তো সেই ২০২১ সালেই বলেছি, দলীয় প্রধান রাষ্ট্রপ্রধান হতে পারবে না, ২ বারের বেশি কেউ রাষ্ট্রপ্রধান হতে পারবে না, রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে ক্ষমতার ভারসাম্য আনতে হবে। এই রাষ্ট্র সংস্কারের বাণী পৌঁছে দিতেই আমরা তাড়াইলে এসেছি।

তাড়াইল উপজেলা গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি জহিরুল হকের সভাপতিত্বে তারুণ্যের সমাবেশে বিশেষ অতিথি ছিলেন গণঅধিকার পরিষদের উচ্চতর পরিষদ সদস্য ও গণমাধ্যম সমন্বয়ক আবু হানিফ, উচ্চতর পরিষদের সদস্য কৃষিবিদ শহিদুল ইসলাম ফাহিম, বৈদেশিক শিল্প ও বাণিজ্য বিষয়ক সম্পাদক মোহাম্মদ নাসির উদ্দীন এবং সহ দপ্তর সম্পাদক মোখলেসুর রহমান উজ্জ্বল। গণঅধিকার পরিষদের তাড়াইল উপজেলার সদস্য সচিব জাকিরুল ইসলাম বাকির সঞ্চালনায় সমাবেশে অন্যদের মধ্যে জেলা ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন।

mzamin

বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রকে ক্রসফায়ারে হত্যা: সাবেক এমপি ও পুলিশের বিরুদ্ধে মামলা

চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদায় এক বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র মো. রোকনুজ্জামানকে অপহরণ ও ‘বন্দুকযুদ্ধের’ নাটক সাজিয়ে হত্যার অভিযোগে চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সহ-সভাপতি আলী আজগর টগর ও পুলিশ ইন্সপেক্টর সুকুমার বিশ্বাসসহ ১৫ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা আমলি আদালতে মামলাটি করেন নিহতের বাবা মো. আবু বক্কর ছিদ্দিক।

মামলাটি আমলে নিয়ে আদালতের বিজ্ঞ বিচারক সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. মোস্তফা কামাল পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) ঝিনাইদহ কার্যালয়ের কর্মকর্তাদের তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। মামলার আরজিতে বলা হয়েছে, রোকনুজ্জামান ২০১৯ সালে চুয়াডাঙ্গা ফার্স্ট ক্যাপিটাল ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের আইন বিভাগের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। বেআইনি, অনৈতিক কার্যকলাপ ও চাঁদাবাজির প্রতিবাদ করায় এবং ভিন্নমতের অনুসারী হওয়ায় আসামিরা দীর্ঘদিন ধরে রোকনুজ্জামানকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে আসছিলেন। আসামি আলী আজগার ভোট চুরির মাধ্যমে নির্বাচিত ভুয়া সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। আলী আজগারের নির্দেশে ২০১৯ সালের ২৯শে আগস্ট দুপুরে আসামি সজল বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র রোকনুজ্জামানকে কৌশলে মুঠোফোনে ডেকে দক্ষিণ চাঁদপুর ছটাঙ্গার মাঠে যেতে বলেন। বাবা আবু বকর ছিদ্দিককে জানিয়ে রোকনুজ্জামান আসামি সজলের সঙ্গে  ছটাঙ্গার মাঠে যান। সেখানে পৌঁছানোর পর আসামিরা অস্ত্রের মুখে তাকে অপহরণ করেন। এরপর পরিবারের পক্ষ থেকে খোঁজখবর করেও কোথাও পাওয়া যায়নি। পরদিন সকালে জানতে পারেন দামুড়হুদার জয়রামপুর কাঁঠালতলার বখতিয়ার মিয়ার বাঁশবাগানে রাত দুইটার দিকে একজনকে পুলিশ গুলি করে হত্যা করেছে। সদর হাসপাতালের মর্গে গিয়ে তার বাবা ছেলের লাশ শনাক্ত করেন। পরে ময়নাতদন্ত শেষে তার দাফন করা হয়।

মামলায় আরজিতে আরও বলা হয়েছে, পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী রোকনুজ্জামানকে হত্যার উদ্দেশ্যে কৌশলে অপহরণ করা হয়। এরপর প্রধান আসামি আলী আজগারের নির্দেশে ওসিসহ পুলিশ সদস্যরা রোকনুজ্জামানকে গুলি করে হত্যা করে। সন্তানের দাফন শেষে বাদী মো. আবু বক্কর ছিদ্দিক ৩১শে আগস্ট দামুড়হুদা মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ করলেও পুলিশ তা মামলা হিসেবে গ্রহণ করেনি। বাদী দীর্ঘদিন আত্মগোপনে থাকায় বাড়িতে ফিরে মামলা করতে দেরি হয় বলে আরজিতে উল্লেখ করেছেন। মামলার অপর আসামিরা হলেন, দামুড়হুদা মডেল থানার সাবেক ওসি সুকুমার বিশ্বাস, দামুড়হুদা মডেল থানার তৎকালীন পরিদর্শক (তদন্ত) কে এম জাহাঙ্গীর, সহকারী পরিদর্শক (এসআই) তপন কুমার নন্দী ও শেখ রফিকুল ইসলাম, কনস্টেবল দিপু গাঙ্গুলী, খালিদ মাসুদ, নজরুল ইসলাম, শফিউর রহমান ও ফিরোজ ইকবাল এবং আওয়ামী লীগ সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী দর্শনা পৌর এলাকার দক্ষিণ চাঁদপুরের মাছুম, সুমন, রাজিব ও  সজল। এ বিষয়ে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) ঝিনাইদহ কার্যালয়ের পুলিশ সুপার (অতিরিক্ত দায়িত্বে) রেশমা শারমিন পিপিএম-সেবা বলেন, আমাদের কাছে এখনো কাগজ এসে পৌঁছাইনি। তবে মামলার কপি পেলে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হবে।

mzamin