Wednesday, June 8, 2011

সাহিত্যালোচনা- গ্রামকে শহরে এনেছি by আল মাহমুদ

মার যত দূর মনে পড়ে, আমাদের বাড়িতে একজন গৃহশিক্ষক ছিলেন। তিনিই প্রথম আমাকে পাঠ্যবইয়ের বাইরে বইয়ের যে একটা জগৎ আছে, সেটা জানিয়ে দেন। আমি তাঁর হাত থেকে ঠাকুরমার ঝুলি বইটা নিয়ে পড়ি। খুব ভালো লাগে। আমি বুঝলাম, পাঠ্যবইয়ের বাইরে অনেক বই আছে। এসব বইয়ের টানেই আমি পাঠ্যবইয়ের বাইরে চলে আসি। একটা সময় মনে হলো, আই অ্যাম এ পোয়েট। কবি হব আমি। ঠাকুরমার ঝুলি পড়া হয়েছে গল্প হিসেবে। আমার আনন্দের বিষয় ছিল কবিতা। কবিতা পড়তে পড়তে হঠাৎ মনে হলো, আই উইশ টু বি এ পোয়েট। আমি ইচ্ছে হলে কবি হতে পারি। এ ধারণা থেকে লিখতে শুরু করলাম।

গল্প- জলঝড় by বুলবুল চৌধুরী

মুখ সাপটানো স্বভাবের জোরে ফালান কৈবর্ত মাছ বেচায় গাহাকের গাঁটের কড়ি ভালোই আদায় করতে পারে সেই তুলনায় কার্তিক কৈবর্তের স্বর অনুচ্চই বলা যায়। তাই হাটবাজারে দৌড়ে যাওয়ার তাবৎ দায়িত্ব তার দিকেই বর্তায়। অবস্থাগতিকে জাল দেখা আর রান্নাবান্নার কাজ অনেকটা আগ বাড়ানো হাতেই সেরে নেয় কার্তিক। গতকাল দুপুরে প্রায় আধা খাড়ি মাছ নিয়ে ডিঙি ভাসিয়ে ফালান গিয়েছিল ছাদনার হাটে। সন্ধ্যায় ডেরায় ফিরে সে কুপির আলোয় বসে মাছ বিক্রি বাবদ পাওয়া তিন শ বিরাশি টাকা পরপর তিনবার গুনল। তা লক্ষ করে কার্তিক প্রশ্ন তুলেছিল, ফালানদা,

একাত্তরের অপ্রকাশিত দিনপঞ্জি by অধ্যাপক শামসুল হুদা

৯৭১-এর মুক্তিযুদ্ধের সময়ে দেশের মধ্যে অবরুদ্ধ জীবন কেমন ভয়াল, বিভীষিকাপূর্ণ ছিল, সেই নারকীয় আতঙ্কের ভুবনের কথা বলতে গিয়ে কবি শামসুর রাহমান এক আলাপচারিতায় জানিয়েছিলেন, ‘১৯৭১ সালের এপ্রিল মাসে—পয়লা এপ্রিলে গণহত্যা শুরু হলে ওই দিনই ঢাকা ছেড়ে চলে যাই আমাদের গ্রামের বাড়ি—পাড়াতলীতে। তো ওখানে গিয়ে এপ্রিলের ৮-৯ তারিখের দিকে বোধ হয়—এক দুপুরে—একসঙ্গে ঘণ্টা দেড়েকের ব্যবধানে দুটি কবিতা লিখি—একটি হলো “স্বাধীনতা তুমি”, আর একটি হলো “তোমাকে পাওয়ার জন্য হে স্বাধীনতা”। সারা দিন নয়াবাজার পুড়েছে দাউ দাউ করে—আগুন জ্বলেছে, ওটা দেখেছি।...

সাক্ষাৎকার- মনে পড়ে বন্ধুদের by রশীদ করীম

ড্রয়িংরুমের টেলিভিশনে ফুল ভলিউমে বেজে চলেছে, ‘তোমায় নতুন করে পাব বলে’। এত জোরে বাজছে গানটা যে আর কোনো শব্দ, কোলাহল সব চাপা পড়ে গেছে। সেই ১৯৯২ সালে পক্ষাঘাত রোগে আক্রান্ত হয়ে ঘরবন্দী হওয়ার পর, বলা যায়, একমাত্র রবীন্দ্রসংগীত শুনেই তাঁর সময় কাটে! আমাকে দেখামাত্রই চোখ-মুখে সেই একই বাৎসল্যের হাসি, বুদ্ধিদীপ্তির ছটা—প্রায় এক দশক আগে যা দেখেছিলাম। খুব একটা বদলাননি, বাংলাদেশের আধুনিক উপন্যাস ধারার এক প্রধান কথাকার রশীদ করীম, যাঁর উত্তম পুরুষ উপন্যাসের প্রকাশনা এ বছর ৫০ বছরে পড়ল। মূলত সে কারণেই তাঁর মুখোমুখি হওয়া। অন্যান্য উল্লেখযোগ্য উপন্যাসের মধ্যে প্রসন্ন পাষাণ, আমার যত গ্লানি, প্রেম একটি লাল গোলাপ, সাধারণ লোকের কাহিনী প্রভৃতি অন্যতম ।

ওয়াসলের হার দেখলেন ম্যারাডোনা

চুক্তি হয়ে গেছে। আল ওয়াসলের কোচ হিসেবে ডিয়েগো ম্যারাডোনা আনুষ্ঠানিকভাবে কাজ শুরু করবেন আরও কিছুদিন পরে। কারণ নতুন মৌসুম শুরু হতেই দেরি আছে। তবে কাজ শুরুর আগেই একটা ধাক্কা খেলেন আর্জেন্টাইন কিংবদন্তি। পরশু আমিরাতের লিগে ম্যাচ ছিল আল ওয়াসলের। আল শারজার বিপক্ষে ওই ম্যাচে জিতলেই বেঁচে থাকত ওয়াসলের এএফসি চ্যাম্পিয়নস লিগে খেলার আশা।
নতুন কোচ ম্যারাডোনা বড় আশা নিয়েই ম্যাচটি দেখতে গিয়েছিলেন মাঠে। মাঠে যাওয়ার আগেই অবশ্য এক গোল খেয়ে বসে ওয়াসল, শেষে তো পরাজয়ই দেখতে হয়েছে তাঁকে। নিজেদের মাঠে আল ওয়াসল ২-১ গোলে হেরে গেছে আল শারজার কাছে। এই হারেই নিশ্চিত হয়ে গেছে, আগামী মৌসুমে এএফসি চ্যাম্পিয়নস লিগে খেলতে পারবে না ওয়াসল।

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে রোডম্যাপ প্রয়োজন by এম তামিম

বিদ্যুৎ ও জ্বালানির ক্ষেত্রে কোনো প্রকল্পই স্বল্প মেয়াদে করা সম্ভব নয়। এখানে সবই দীর্ঘমেয়াদি। তাই অন্য যেকোনো খাতের চেয়ে বিদ্যুৎ ও জ্বালানির বাজেট বেশ ব্যতিক্রমধর্মী। অবকাঠামোগত অন্য অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যায়, স্বল্প সময়েই একটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করা সম্ভব। যেমন ধরা যাক, একটি সেতু তৈরি হবে। এখন সেতু তৈরির জন্য আমাদের কী কী লাগবে? পাথর, সিমেন্ট, রড ইত্যাদি। অর্থাৎ, সবকিছুই চাইলে আমরা পেয়ে যাব, হাতের নাগালে। কিন্তু বিদ্যুৎ বা জ্বালানির উৎপাদনের ক্ষেত্রে বিষয়টি এমন নয়। ধরুন, একটি বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন করা হবে। এখন এ কাজের জন্য যা যা লাগবে, চাইলেই তার সবকিছু হাতের নাগালে পাওয়া যাবে না। আর বিদুৎকেন্দ্র নির্মাণ বা উৎপাদন যেহেতু অনেক ব্যয়বহুল একটি বিষয়, তাই এ ক্ষেত্রে প্রকল্পের জন্য অর্থের সংস্থান করাটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। দ্বিতীয়ত, বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য লাগবে প্রয়োজনীয় প্রাথমিক জ্বালানি, সেটারও নিশ্চয়তা থাকতে হবে বা তার ব্যবস্থা করতে হবে। পুরো প্রক্রিয়াটি যেহেতু দীর্ঘমেয়াদি, তাই বিদ্যুৎ ও জ্বালানির বাজেটের ক্ষেত্রেও এই বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া জরুরি। কোনো রকম পরিকল্পনাহীন বাজেট দিয়ে আর যা-ই হোক, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের কার্যকর উন্নয়ন সম্ভব নয়। আগের বাজেটগুলোর মতো এবারও এর ব্যতিক্রম হবে বলে মনে হচ্ছে না।
বাজেটের আগে অবশ্যই পরিকল্পনা জরুরি। বিদ্যুৎ ও জ্বালানির ক্ষেত্রে স্বল্পমেয়াদি হলেও কমপক্ষে পাঁচ বছরের কর্মপরিকল্পনা প্রয়োজন। আর দীর্ঘমেয়াদি হলে সর্বোচ্চ ১০ বছর। আপনি কী ধরনের বিদ্যুৎ উৎপাদন করবেন, বিদ্যুৎ উৎপাদনের অর্থ আসবে কোত্থেকে কিংবা প্রাথমিক জ্বালানিটাই বা কী হবে—এ বিষয়গুলো অবশ্যই আগে ভেবে রাখতে হবে।
এবারের বাজেটে আগামী চার বছরের বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে। এবং তারই ভিত্তিতে ঘোষণা করা হচ্ছে এবারের বিদ্যুৎ-জ্বালানির বাজেট। পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী ২০১৫ সালের মধ্যে তেল ও গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হবে দুই হাজার ২২০ মেগাওয়াট, কয়লাভিত্তিক প্রায় দুই হাজার ৬০০ মেগাওয়াট, চার হাজার মেগাওয়াট গ্যাসভিত্তিক এবং সৌরশক্তিভিত্তিক এক হাজার মেগাওয়াট। পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে, কিন্তু বড় প্রশ্ন হলো—এই উৎপাদনের জন্য জ্বালানি আসবে কোত্থেকে? এখানেই বড় দুর্বলতা। ধরা যাক গ্যাসের কথা। যদি তা আমদানি করা হয়, তবে বিশাল পরিমাণ অর্থের প্রয়োজন। এ ব্যাপারে বিদ্যুৎ বিভাগ যে পরিকল্পনা দিয়েছে, তার কোনো রকম বাস্তবতা খুঁজে পাওয়া কঠিন।
যদি ধরে নিই, সরকারের পক্ষে এই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন সম্ভব, সে ক্ষেত্রে যে প্রশ্নটি বড় হয়ে দেখা দেবে তা হলো, অর্থের জোগান আসবে কোথা থেকে। এই বিষয়টি সবার আগে ঠিক করা জরুরি। হিসাব করলে দেখা যায়, যে পরিমাণ গ্যাস আমদানি করতে হবে, তার দাম পড়বে গড়ে ১৫ বিলিয়ন ডলার। আগামী চার বছরের মধ্যে এর সংস্থান আমরা কী করে করব? তাই পরিকল্পনা করার আগে সবকিছু সম্পর্কে স্বচ্ছ ধারণা থাকা চাই। পরিকল্পনা ও সামর্থ্যের সমন্বয় করতে না পারলে সবকিছুই বিফল। তাই প্রথমেই বলেছি, বিদ্যুৎ ও জ্বালানিক্ষেত্রের বাজেট একদম ব্যতিক্রমী। এখানে সঠিক পরিকল্পনা ছাড়া সুফল পাওয়া অসম্ভব।
বাজেটের আগে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের একটি নির্দিষ্ট রোডম্যাপ থাকা প্রয়োজন। পরিকল্পনা বাস্তবায়নের ভালো অনুশীলনও গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার। শুধু বিদ্যুৎ উৎপাদনই তো শেষ কথা নয়, এটার সুষ্ঠু বিতরণও অতি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। হিসাব করলে দেখা যায়, আগামী চার বছরের জন্য যে পরিমাণ বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে, তা বিতরণের জন্যও আরও ১০ বিলিয়ন ডলার প্রয়োজন। মানে মোটমাট আমাদের দরকার ২৫ বিলিয়ন ডলার!
এ ছাড়া বেসরকারি খাতকে যদি আমরা যুক্ত করতে চাই, তাহলে কী প্রয়োজন? প্রয়োজন পরিকল্পনার সঠিক বাস্তবায়নের নিশ্চয়তা। কিন্তু অতীতে যেমনটা দেখা গেছে, এবারও তেমন অনিশ্চিত বাস্তবতা সামনে। সুতরাং এ ক্ষেত্রে বিনিয়োগকারীরা কী করবেন? নিশ্চয়ই উৎসাহ দেখাবেন না! তাই বিনিয়োগকারীদের ব্যাপারেও ধারণা রাখা প্রয়োজন।
এর আগে দেখা গেছে, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি ক্ষেত্রে বরাদ্দ করা অর্থ ফেরত গেছে, অন্যান্য ক্ষেত্রেও অবশ্য এমনটা ঘটেছে। এটাও গুরুত্বের সঙ্গে নিতে হবে। ভর্তুকির বিষয়ে বললে, ভর্তুকি বেড়ে গেলে উৎপাদন-খরচ বাড়বেই। বাজেটে ভর্তুকির বড় প্রভাব আছে। এখন বাজারে ফার্নেস তেলের দাম বেড়েছে, তাই ফার্নেসভিত্তিক বিদ্যুতের দামও বেড়ে যাবে নিঃসন্দেহে।
এ বছর বার্ষিক ভর্তুকির ব্যাপারটা খুব গুরুত্বপূর্ণ। এর থেকে বের হওয়ার উপায় হলো সর্বজনীন ভর্তুকি বন্ধ করে দেওয়া। যেসব ক্ষেত্র বা যারা ভর্তুকি পাওয়ার যোগ্য, তাদেরই ভর্তুকি দিলে সমস্যা কমে যায়। সরাসরি ভর্তুকিটাও গ্রহণযোগ্য। এটা ধীরে ধীরে করতে হবে। উৎপাদনমূল্যের চেয়ে ক্রয়মূল্য বেশি হলে সমস্যা বাড়বে, এটা সবাই জানেন। ভর্তুকি কী পরিমাণ এবং কত দিন দেওয়া হবে, তা-ও ঠিক করতে হবে।
সব সময় দেখা যায়, বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনেই বেশি বাজেট বরাদ্দ রাখা হচ্ছে। কিন্তু সমস্যা তো এখানে নয়, প্রাথমিক জ্বালানির স্বল্পতাই সমস্যার কারণ। এখান থেকে সমাধান খুঁজতে চাইলে আমাদের গ্যাস অনুসন্ধান করতে হবে। কয়লা উত্তোলনের দিকে নজর দিতে হবে। মোট কথা, এখন যেটা চলছে, সেটাকে ঠ্যাক দিয়ে কাজ চালানো বলা যায়। এক কথায় উচ্চমূল্যে আমরা সময় কিনছি! স্থায়ী সমস্যা সমাধানের জন্য গ্যাস ও কয়লা অনুসন্ধান জরুরি। আর উচ্চমূল্যে যদি প্রাথমিক জ্বালানি আমদানি করতেই হয়, তার আগে আমাদের অর্থনীতির ভিত আরও শক্ত করতে হবে।
ড. এম তামিম: সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী (বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ); অধ্যাপক, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট)।

কার্বন-করের সমর্থনে অস্ট্রেলিয়ায় সমাবেশ

বৈশ্বিক উষ্ণতার জন্য দায়ী কার্বন নিঃসরণের ওপর প্রস্তাবিত করারোপের প্রতি সমর্থন জানাতে গতকাল রোববার অস্ট্রেলিয়ার বিভিন্ন শহরে সমাবেশ হয়েছে। গেটআপ, গ্রিনপিস অস্ট্রেলিয়া প্যাসিফিক, ওয়ার্ল্ড ওয়াইল্ড লাইফ ফান্ড অস্ট্রেলিয়াসহ কয়েকটি পরিবেশবাদী সংগঠন এসব সমাবেশের আয়োজন করে। হাজার হাজার মানুষ সমাবেশে যোগ দেয়।
জলবায়ু পরিবর্তনের ওপর কাজ করতে সমাবেশগুলো থেকে সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো হয়। সিডনিতে সমবেত বিক্ষোভকারীরা নানা ধরনের ব্যানার বহন করে। একটি ব্যানারে লেখা ছিল, ‘কার্বনদূষণ কমানোর প্রতি হ্যাঁ বলুন।’ মেলবোর্ন, এডিলেড, পার্থ, ব্রিসবেন, হোবার্ট ও ক্যানবেরায়ও এ ধরনের সমাবেশের আয়োজন করা হয়।
কার্বন নিঃসরণের ওপর প্রস্তাবিত কর অস্ট্রেলিয়ায় উত্তপ্ত বিতর্কের বিষয়বস্তুতে পরিণত হয়েছে। রক্ষণশীল বিরোধীরা বলছে, এই কর কর্মসংস্থান কমাবে। রপ্তানিকারক ও কয়লাশিল্পকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে।
চলতি বছরের শুরুর দিকে অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী জুলিয়া গিলার্ড এই করের প্রস্তাব দেওয়ার পর তাঁর মধ্য-বাম লেবার সরকারের জনপ্রিয়তা রেকর্ড মাত্রায় কমে যায়। তবে পরিবেশবাদীরা বলছেন, জনসমর্থনের পরিবর্তন ঘটছে। কারণ, অস্ট্রেলিয়ার জনগণ জলবায়ু পরিবর্তনের ওপর কাজ দেখতে চায়।

আমাদের ভালোবাসার মানুষ

মুক্তিযুদ্ধের ২ নম্বর সেক্টরের সদর দপ্তর ছিল ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের আগরতলার সোনামুড়া মহকুমার অনুচ্চ পাহাড়ি এলাকা মেলাঘর। যত দূর মনে পড়ে, একাত্তরের আগস্ট মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহ। স্টুডেন্ট কোম্পানির আজম খান নামের এক ছেলে, এত দিন তাঁবুতে বসে যে গানের আসর বসাত, সে আনুষ্ঠানিকভাবে রাতে গান গাইবে। তার জন্য সেক্টর সদর দপ্তর থেকে যৎসামান্য আয়োজনও করা হয়েছে। তখন আমিও একজন গণযোদ্ধা, কিন্তু থাকি সুইমিং প্লাটুনে। সকালে ক্যাপ্টেন হায়দারের মুখে সংবাদটা শুনে স্টুডেন্ট কোম্পানিতে গেলাম। রোগা-পাতলা এক ছেলে গলা ছেড়ে প্রায় চিৎকার করে গান গেয়ে চলেছে। অনেক শ্রোতা, সবাই মুক্তিযুদ্ধের প্রশিক্ষণার্থী। প্রশিক্ষণের সেই দিনগুলো ছিল অত্যন্ত কঠিন। কষ্টেরই শুধু ছিল প্রাচুর্য—গায়ে-গতরের কষ্ট, খাওয়ার কষ্ট, থাকার কষ্ট, পরিধানের কষ্ট, অর্থকষ্ট, ওস্তাদদের শাস্তির কষ্ট। এর মধ্যে গান-বাজনা!
রাতে জম্পেশ অনুষ্ঠান হলো। কয়েক ঘণ্টার জন্য কষ্ট বলতে কিছুই রইল না ছেলেদের। আমার সঙ্গে কোনো কথাই হলো না আজম খানের। এক ফাঁকে সেক্টর কমান্ডার মেজর খালেদ মোশাররফ এসে ‘একটু দেখে যাওয়া’র নাম করে বেশ কিছুক্ষণ কাটিয়ে গেলেন। তাঁর সঙ্গে ছিলেন মেজর মতিন, ক্যাপ্টেন হায়দারসহ অন্যরা। আজম খান গেয়েই চলেছে—ওরে সালেকা, ওরে মালেকা...। এ ধরনের গান আমি কখনো শুনিনি। সত্যি বলতে কি, ভালোও লাগছিল না। আমি হেমন্ত, সন্ধ্যা, মান্না, ধনঞ্জয়, মানবেন্দ্র, উৎপলা, শ্যামলদের গানের ভক্ত। কিন্তু আমার একার ভালো লাগা না-লাগায় কী যায়-আসে। সবার তো ভালো লাগছে। আমি ভাবছি, যে ছেলেদের পেটে ক্ষুধা, লঙ্গরে কুড়াল দিয়ে লাকড়ি চিরতে চিরতে আর অস্ত্র প্রশিক্ষণ নিতে গিয়ে গোটা শরীরে ব্যথা, তাদের মনে এত ফুর্তি এল কোত্থেকে?
পপসংগীতের গায়ক হিসেবে তখন থেকেই আজম খানের উত্থান। সে তো ৪০ বছর আগের কথা। তারপর আর তাকে পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি। সংগীতজগতে তার অনুসারী আর অনুরাগীর সংখ্যা বেড়েই চলেছে। বেড়েছে ভক্ত আর শ্রোতার সংখ্যাও। যে ছেলেমেয়েরা এখন পপসংগীতে খ্যাতি অর্জন করেছে, তারা আজম খানকে শ্রদ্ধাভরে ডাকে ‘গুরু’। আমার শুনেই ভালো লাগে। সমাজ থেকে শ্রদ্ধা, ভক্তি যখন উঠে যাচ্ছে, তখনো গুরু-শিষ্যের সম্পর্কটা টিকে আছে সংগীতজগতে। কথায় বলে, সংগীত গুরুমুখী বিদ্যা। আমি বলি, সব বিদ্যাই গুরুমুখী। সামান্য যা পার্থক্য তা গুরু ও শিষ্যের সম্পর্কের ধরনে।
কিছুদিন আগে শুনলাম, আজম খানের মুখে ক্যানসার ধরা পড়েছে। আঁতকে উঠলাম। চোখ বেয়ে পানি গড়িয়ে পড়তে লাগল। এ ব্যাধি, চিকিৎসার ধরন এবং পরিণতি সম্পর্কে আমার ধারণা খুব পরিষ্কার। ১৯৯৩ সালের ২১ আগস্ট আমার একমাত্র ছেলে তাসিত হাস্সান সাধিত তিন বছর ছয় মাস বয়সে ক্যানসারে মারা গেছে। অসুস্থ ছেলেকে নিয়ে পৃথিবীর এ-প্রান্ত থেকে ও-প্রান্ত ছুটে বেড়িয়েছি। একদিন সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালের ৭২ বছর বয়সের অনকোলজিস্ট অধ্যাপক টেন চ্যাং লিম আমার অসহায়ত্ব দেখে কাঁধে হাত রেখে ইংরেজিতে বললেন, ‘মেজর, তুমি পুত্রবৎসল পিতা হিসেবে ছেলেকে বাঁচানোর যে চেষ্টা তোমার করার, তার চেয়ে অনেক বেশি করেছ! দেশে ফিরে যাও। আর এ-দেশ ও-দেশ কোরো না। প্লেনের উচ্চতার কারণে তোমার ছেলে তোমাদের না বললেও অক্সিজেনের অভাবে কষ্ট পাচ্ছে।’
দুঃখিত, অন্য প্রসঙ্গে চলে গিয়েছিলাম। ২৬ মে দিবাগত রাত ১২টায় চ্যানেল আইয়ে সংবাদপত্র আলোচনায় আজম খানের চরম অসুস্থতার কথা শুনলাম। শুনলাম, রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে লাইফ সাপোর্টে আছে। আমি অত্যন্ত কম জানার মানুষ। আসলে কিছু জানতেও চাই না।
ভাই আজম খান, তোমাকে কিছু বললেও তুমি আর কিছুই শুনবে না। এই লেখা এ জন্য নয় যে আমি তোমার গানের অনুরক্ত শ্রোতা। এই লেখা এ জন্য যে আমি তোমার একাত্তরের সহযোদ্ধা। তুমি যে অন্তহীন জগতে চলে গেছ, সে জগৎ থেকে একজনও ফিরে এসে বলেনি জগৎটি কেমন! দেশকে ভালোবেসেছ বলে দেশের ক্রান্তিকালে যুদ্ধে গিয়েছিলে। মানুষকে ভালোবেসেছ বলে গান গেয়ে তাদের নির্মল আনন্দ দিয়েছ। শিশু হোক আর পশু হোক আদর, স্নেহ, ঘৃণা, ভালোবাসা—এসবের মর্ম সবাই বোঝে। তোমার অসুস্থতার সংবাদে এ দেশের মানুষ তোমার জন্য চোখের পানি ফেলেছে। অন্তর থেকে দোয়া করেছে। তুমি তাদের চেনো না। টেলিভিশনের ফুটেজে তোমার কোলের ছোট্ট মেয়েটি দেখে অনুমান করলাম, হয়তো তোমার নাতনি। নানাভাই নাতি-নাতনিদের প্রাণ আর নাতি-নাতনিরা নানাভাইয়ের ভুবন। এই নাতি-নাতনিদের কাছে নানাভাইয়ের অভাব পূরণ করবে কে? শিশুদের অনুভূতি অত্যন্ত প্রখর। তাদের গোপন কষ্ট সহ্য করা যায় না। যত ভালো মানুষ চলে যাচ্ছেন, তত ভালো মানুষ তৈরি হচ্ছে না। অথবা হয়তো আরও বেশি তৈরি হচ্ছে, আমি দেখছি না। তুমি হয়তো তোমার প্রতি মানুষের হূদয় নিংড়ানো ভালোবাসার কিছু দেখে গেছ। তাদের চোখের পানি দেখার সুযোগ তোমার আর হবে না।
তুমি ধন্য হতে আসোনি, ধন্য করতে এসেছিলে।
পরম করুণাময় আল্লাহ্ তাআলা তোমাকে তাঁর ক্ষমার মাঝে, অনুকম্পার মাঝে স্থান দিন, অশ্রুসিক্ত আমি সেই দোয়াই করি।
মেজর (অব.) কামরুল হাসান ভূঁইয়া
মুক্তিযোদ্ধা; চেয়ারম্যান ও প্রধান গবেষক, সেন্টার ফর বাংলাদেশ লিবারেশন ওয়ার স্টাডিজ।
cblws1971@yahoo.com

ফুকুশিমা বিদ্যুৎকেন্দ্রের তেজস্ক্রিয় পানি ধরে রাখতে ৩৭০টি ট্যাংক

জাপানের ফুকুশিমায় পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের তেজস্ক্রিয় পানি ট্যাংকে ভরে ফেলার জন্য কয়েক শ পানির ট্যাংক পাঠানো হচ্ছে। ওই কেন্দ্রের পরিচালনা প্রতিষ্ঠান গতকাল রোববার এ কথা জানিয়েছে।
টোকিও ইলেকট্রিক পাওয়ার কোম্পানির (টেপকো) মুখপাত্র আই তানাকা জানান, ৩৭০টি ট্যাংক পাঠানো হবে। এসব ট্যাংক ৪০ হাজার টনের বেশি তেজস্ক্রিয় পানি ধারণ করতে পারবে।
আই তানাকা বলেন, গত শনিবার রাতে দুটি ট্যাংক পাঠানো হয়েছে। দু-এক দিনের মধ্যেই ট্যাংক দুটি ওই কেন্দ্রে পৌঁছে যাবে। এভাবে আগস্টের মাঝামাঝি নাগাদ সব কটি ট্যাংক সেখানে পৌঁছে যাবে।
গত ১১ মার্চ ভয়াবহ ভূমিকম্প ও এর পরবর্তী সুনামিতে ফুকুশিমার দাইচি পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের চারটি কেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়। চুল্লিগুলোর শীতলীকরণ ব্যবস্থা নষ্ট হয়ে যায়। এতে চুল্লি গরম হয়ে উঠতে থাকে। একপর্যায়ে বিস্ফোরণ ঘটে। চুল্লি ঠান্ডা করতে বাইরে থেকে ঢালা হয় হাজার হাজার টন পানি। ফুয়েল রডের সংস্পর্শে ওই সব পানি তেজস্ক্রিয় হয়ে পড়ে।
তানাকা জানান, পানি তেজস্ক্রিয়া মুক্ত করার একটি ব্যবস্থা দাঁড় করাতে কাজ করছেন কেন্দ্রের কর্মীরা।