Friday, August 6, 2010

ইরানের কবজায় এস-৩০০ ক্ষেপণাস্ত্র

ইরানের একটি বার্তা সংস্থা বলেছে, তেহরান ভূমি থেকে আকাশে নিক্ষেপণযোগ্য চারটি এস-৩০০ ক্ষেপণাস্ত্র সংগ্রহ করেছে। সত্যি হলে এটি ইরানের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা লক্ষণীয়ভাবে বাড়াবে বলে মনে করা হচ্ছে।
এস-৩০০ ৯০ হাজার ফুট উঁচুতে থাকা বিমান, ক্রুজ ও ব্যালাস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত করে ফেলে দিতে সক্ষম। এর পাল্লা ৯০ মাইল।
রাশিয়ার সঙ্গে চুক্তি থাকলেও ইরানের ওপর সাম্প্রতিক নিষেধাজ্ঞার কারণে দেশটি ওই ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহ করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিল।
ফার্স নিউজ এজেন্সি নামে একটি বার্তা সংস্থা ইরানের এ ক্ষেপণাস্ত্র পাওয়ার দাবি করেছে। প্রতিষ্ঠানটি ইসলামি প্রজাতন্ত্রটির সবচেয়ে প্রভাবশালী বাহিনী রেভল্যুশনারি গার্ডের সঙ্গে যুক্ত।
ফার্স বলছে, চারটির মধ্যে দুটি ক্ষেপণাস্ত্র এসেছে বেলারুশ থেকে। বাকি দুটি এসেছে কোনো অজ্ঞাত উৎস থেকে।
রাশিয়া ইরানকে এস-৩০০ ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহ করতে ২০০৭ সালে চুক্তিবদ্ধ হলেও সম্প্রতি তারা তা সরবরাহ করতে অস্বীকার করে। এ কারণে ইরান বিকল্প উৎস থেকে ওই অস্ত্র সংগ্রহ করে বলে ধারণা করা হচ্ছে। গত জুনে রাশিয়া ঘোষণা করে ইরানের ওপর জাতিসংঘের নতুন অবরোধের কারণে তাদের পক্ষে ওই অস্ত্র তেহরানকে দেওয়া সম্ভব হবে না। তবে ইরান বলেছে, চুক্তিতে সই করার কারণে আইনত রাশিয়া তাদের কাছে ক্ষেপণাস্ত্রটি বিক্রি করতে বাধ্য।
তেহরানের হাতে এ অস্ত্র গেলে মধ্যপ্রাচ্যের সামরিক ভারসাম্য ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলে ইসরায়েল আশঙ্কা প্রকাশ করেছে।
গতকাল বুধবার ফার্স নিউজ জানায়, অন্য দেশ থেকে আনা ক্ষেপণাস্ত্রগুলো দেখে ইরান এখন নিজেরাই তা বানানোর চেষ্টা করতে পারে। এ খবরের প্রতিক্রিয়া হিসেবে ইরান সরকার এখনো কোনো বক্তব্য দেয়নি।

কেনিয়ায় নতুন সংবিধান নিয়ে গণভোট

কেনিয়ায় গতকাল বুধবার নতুন সংবিধান নিয়ে গণভোট হয়েছে। দেশটিতে রাজনৈতিক সংস্কারের লক্ষ্যে গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপের অংশ এই নতুন সংবিধান প্রণয়ন।
নতুন সংবিধানে প্রেসিডেন্টের ক্ষমতা কমানো হয়েছে। এ ছাড়া ভূমিবিরোধ নিষ্পত্তির জন্য একটি কমিশন গঠনের বিধানও রয়েছে। ভূমিবিরোধ নিয়ে কেনিয়ায় অতীতে অনেক সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে।
২০০৭ সালের ডিসেম্বরে বিতর্কিত নির্বাচনের পর সৃষ্ট ভয়াবহ সহিংসতা বন্ধের লক্ষ্যে যে চুক্তি হয়েছিল এরই অংশ এ গণভোট। ওই সহিংসতায় এক হাজারের বেশি লোক নিহত হয়েছিল।
দেশটির প্রেসিডেন্ট মাওয়ি কিবাকি এবং প্রধানমন্ত্রী রাইলা ওদিঙ্গা দুজনই গণভোটে ‘হাঁ’-এর পক্ষে। জনমত জরিপ অনুযায়ী গণভোটের রায় নতুন সংবিধানের পক্ষে যাবে।
প্রেসিডেন্ট কিবাকি নাগরিকদের সবাইকে শান্তিপূর্ণভাবে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘দেশের সব অংশে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।’
স্থানীয় সময় সকাল ছয়টায় ভোট গ্রহণ শুরু হয়। ভোট কেন্দ্রগুলোতে ভোটারদের দীর্ঘ লাইন লক্ষ করা যায়।

ঝাড়খন্ডে চার বিধায়কের দুর্নীতির তথ্য ফাঁস

ভারতের আইনসভার উচ্চকক্ষ রাজ্যসভার নির্বাচন নিয়ে ঝাড়খন্ড রাজ্যের চার বিধায়কের দুর্নীতির তথ্য ফাঁস হয়েছে। ভারতীয় টেলিভিশন চ্যানেল আইবিএন-সিএনএন ও কোবরা পোস্ট এ তথ্য ফাঁস করেছে।
এই সংবাদমাধ্যমের সাংবাদিকেরা দালাল সেজে রাজ্যসভার নির্বাচনের জন্য ঝাড়খন্ডের বিধায়কদের ভোট কিনতে গিয়েছিলেন। ঝাড়খন্ডের রাজধানী রাঁচির একটি হোটেলে উপস্থিত হন ঝাড়খন্ডের কংগ্রেস বিধায়ক রাজেশ রঞ্জন, শাওন লাকড়া ও যোগেন্দ্র সাহু। সেখানে ঠিক হয়, কংগ্রেসের অন্তত ১০ জন বিধায়ক এবার রাজ্যসভা নির্বাচনে কংগ্রেস প্রার্থীর বিরুদ্ধে ভোট দেবেন। এ জন্য প্রত্যেকে পাবেন ৫০ লাখ করে রুপি। দলের নেতা রাজেশ রঞ্জনের জন্য অবশ্য এক কোটি রুপি দাবি করা হয়। বিনিময়ে এই তিন বিধায়ক কংগ্রেসের ১০ জন বিধায়কের ভোট জোগাড় করবেন।
সাংবাদিকেরা একই প্রস্তাব নিয়ে হাজির হন বিজেপির বিধায়ক উমাশংকর আকেলার কাছে। কাজের বিনিময়ে তিনি মোটা অঙ্কের অর্থের পাশাপাশি একটি গাড়ি দাবি করেন। এই বিধায়কদের সঙ্গে আলাপ এবং এর ছবি গোপন ক্যামেরায় ধারণ করা হয়। এর পর তা গত সোমবার টেলিভিশনে প্রচার করা হয়। তা দেখে খেপে যান কংগ্রেস ও বিজেপির নেতারা। তোলপাড় শুরু হয় দিল্লি ও ঝাড়খন্ডের রাজনীতিতে।
এদিকে ঝাড়খন্ডের দায়িত্বপ্রাপ্ত কংগ্রেসের কেন্দ্রীয় নেতা কেশব রাও ওই তিন বিধায়ককে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছেন। বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতা ও ঝাড়খন্ডের সাংসদ যশোবন্ত সিং এসব বিধায়কের বিরুদ্ধে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
সিপিএম ঝাড়খন্ডের বিধানসভা ভেঙে অবিলম্বে নতুন করে নির্বাচন করার দাবি জানিয়েছে। একই সঙ্গে তারা ঘটনার তদন্ত দাবি করেছে। ভারতের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার এস ওয়াই কুরেশি ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।

ঢাকা-সৈয়দপুর পথে পুনরায় বিমান চলাচল শুরু হচ্ছে

ঢাকা-সৈয়দপুর পথে পুনরায় বাংলাদেশ বিমান উড়তে শুরু করবে। এই পথে শিগগির বিমান যোগাযোগ চালুর ব্যাপারে এখন প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
স্থানীয় সাংসদ এ এ মারুফ সাকলান প্রথম আলোকে জানান, সংসদে গত বাজেট অধিবেশনে তিনি সৈয়দপুর-ঢাকা পথে বিমান যোগাযোগ চালুর বিষয়টি তুলে ধরেন।
পরবর্তীতে বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটনমন্ত্রী জি এম কাদের তাঁর মন্ত্রণালয়কে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেন।
এ ব্যাপারে সৈয়দপুর বিমানবন্দরের ব্যবস্থাপক শহীদুল আলম চৌধুরী প্রথম আলোর সঙ্গে আলাপকালে যেকোনো সময়ই এই পথে বাংলাদেশ বিমানের উড্ডয়ন শুরু হতে পারে বলে আভাস দেন।
অব্যাহত লোকসানের কথা বলে বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে ২০০৭ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি এই পথে বাংলাদেশ বিমানের চলাচল বন্ধ করা হয়।
সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মহল থেকে প্রথম আলোকে জানানো হয়েছে, ভৌগোলিক গুরুত্বের কারণে সৈয়দপুর-ঢাকা পথে নিয়মিত বিমান যোগাযোগ থাকা উচিত।
তাঁরা যুক্তি দেখান, এ অঞ্চলে উত্তরা রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা (ইপিজেড), বড়পুকুরিয়া কয়লাখনি, বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ প্রকল্প, মধ্যপাড়া কঠিন শিলা প্রকল্প, দেশের বৃহত্তম রেলওয়ে কারখানা (সৈয়দপুর), বেশ কিছু চা-বাগান (পঞ্চগড়) এবং ২২টি সংসদীয় আসন থাকায় মন্ত্রী-সাংসদ, দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারী ও বিশেষজ্ঞ, উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা এবং পর্যটকদের আসা-যাওয়ার সুবিধার্থে বিমান যোগাযোগ চালু করা জরুরি হয়ে পড়েছে।
উল্লেখ্য, সৈয়দপুর-ঢাকা পথে বাংলাদেশ বিমানের চলাচল বন্ধ হওয়ার পর বেসরকারি বিমান সংস্থা রয়েল বেঙ্গল ও ইউনাইটেড এয়ার ২০০৮ সালে এখানে নিয়মিত ফ্লাইট চালু করে। কিন্তু এক বছরের মাথায় তারাও এই কার্যক্রম গুটিয়ে নেয়।
মধ্যপাড়া কঠিন শিলা প্রকল্পের উপমহাব্যবস্থাপক এস মোস্তফা জানান, এই অঞ্চলে এখন বিনিয়োগের পরিবেশ সৃষ্টি হওয়ায় উদ্যোক্তাদের আকৃষ্ট করতে অবিলম্বে বিমান চালানো প্রয়োজন।

কটিয়াদীতে এক মাসে পাটের দাম মণপ্রতি ৮০০-৯০০ টাকা কমেছে

কিশোরগঞ্জ জেলার অন্যতম বৃহৎ মোকাম কটিয়াদী বাজারে সোয়া মাসের ব্যবধানে পাটের দাম মণপ্রতি প্রায় ৮০০ থেকে ৯০০ টাকা কমেছে। এতে পাটচাষিরা হতাশ হয়ে পড়েছেন।
এবার কিশোরগঞ্জ জেলায় লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি পরিমাণে উৎপাদন হওয়ায় বাজারে নতুন পাটের সরবরাহ বেড়েছে। এর ওপর বাংলাদেশ পাটকল সংস্থার (বিজেএমসি) আওতায় মাত্র একটি ক্রয়কেন্দ্র খোলায় কটিয়াদী মোকামের বড় বড় ব্যবসায়ী ও বেসরকারি পাটকল পাটের দাম কমিয়ে দিয়েছে বলে মনে করেন বিভিন্ন এলাকার পাটচাষি ও ছোট ব্যাপারীরা।
কটিয়াদী বাজারে গত সোমবার সরেজমিন পরিদর্শনে প্রতি মণ (৪১ কেজি) সাদা ও মেস্তা পাট এক হাজার থেকে এক হাজার ৩০০ টাকায় এবং তুষা পাট এক হাজার ৪০০ টাকা দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে। মৌসুমের শুরুতে গত জুন মাসের শেষ দিকে প্রকারভেদে পাটের দাম ছিল দুই হাজার ১০০ থেকে দুই হাজার ২০০ টাকা।
বর্তমানে মঠখোলা, পাকুন্দিয়া, হোসেনপুর, ধুলদিয়া, করগাঁও, সরারচর, করিমগঞ্জ ও কালিয়াচাপড়া প্রভৃতি বাজারে ব্যাপক পরিমাণে পাট উঠছে। ব্যাপারীরা প্রতিদিনই এসব বাজার থেকে প্রচুর পরিমাণ পাট কিনে ভ্যান ও টম টমে করে বিক্রির জন্য এই অঞ্চলের সর্ববৃহৎ মোকাম কটিয়াদী বাজারে নিয়ে আসছেন।
কটিয়াদী বাজার পাট ব্যবসায়ী সমিতির সহসভাপতি অনাথ বন্ধু সাহা প্রথম আলোকে জানান, বেসরকারি পাটকলগুলো কম দামে পাট ক্রয় করছে। বিজেএমসির আওতায় পাট ক্রয়ে বিলম্ব হওয়ায় বাজার নিম্নমুখী হয়ে পড়েছে।
জেলা কৃষি অফিস ও ব্যবসায়ী সূত্রে জানা যায়, কটিয়াদী মোকামে প্রতিবছর গড়ে প্রায় তিন লাখ মণ পাট কেনাবেচা হয়ে থাকে।
কটিয়াদী উপজেলার চেয়ারম্যান মো. আলী আকবর প্রথম আলোকে বলেন, সরকারিভাবে এ পর্যন্ত বিজেএমসি একটি মাত্র পাট ক্রয়কেন্দ্র খোলায় চাষিরা উপযুক্ত দাম পাচ্ছেন না।
এদিকে এলাকার পুকুর, জলাশয় ও নদীগুলোতে পাট জাগ দেওয়ার মতো পানি না থাকায় কৃষকেরা পড়েছেন বিপাকে।

কিছু রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানের শেয়ার বাজারে আসবে

শিল্পমন্ত্রী দিলীপ বড়ুয়া বলেছেন, শিল্প খাতে বর্তমান সরকারের গৃহীত উদ্যোগের ফলে শিল্প মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন অধিকাংশ কলকারখানাই লাভজনক প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে জনগণের অংশগ্রহণ বাড়াতে এখন শিল্প মন্ত্রণালয়ের কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার বাজারে ছাড়ার বিষয়টিও সরকার সক্রিয়ভাবে বিবেচনা করছে।
গতকাল বুধবার চট্টগ্রাম নগরের আগ্রাবাদে ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যান্ড ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট ফাইন্যান্স কোম্পানি লিমিটেডের (আইআইডিএফসি) ব্রোকারেজ হাউস উদ্বোধন উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে দিলীপ বড়ুয়া এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান মতিউল ইসলাম বক্তব্য দেন।
দিলীপ বড়ুয়া বলেন, বাংলাদেশে বিদ্যুৎ, বন্দর, যোগাযোগ অবকাঠামোসহ সেবা খাতের উন্নয়নে সব সময় সরকারি অর্থায়নের ওপর পুরোপুরি নির্ভর করা হয়। এর ফলে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সামাজিক নিরাপত্তাসহ বিভিন্ন সামাজিক খাতে অর্থায়ন করা সরকারের পক্ষে কষ্টকর হচ্ছে।
মন্ত্রী সরকারের ওপর শতভাগ নির্ভর না করে যোগাযোগ ও অবকাঠামোসহ সেবা খাতের উন্নয়নে বেসরকারি খাতকে বিনিয়োগে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।
দিলীপ বড়ুয়া বলেন, দেশের দ্রুত ও টেকসই আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের লক্ষ্যে শক্তিশালী বেসরকারি খাত গড়ে তোলাই বর্তমান সরকারের অন্যতম লক্ষ্য।
শিল্পমন্ত্রী দিলীপ বড়ুয়া বলেন, ব্যবসা করা সরকারের কাজ নয়, ব্যবসায়ীদের ব্যবসা প্রসারে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়াই সরকারের দায়িত্ব। বর্তমান সরকার শিল্প ও ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসারে অনুঘটক ভূমিকা পালন করছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
পুঁজিবাজার শক্তিশালী করার মাধ্যমে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারি সহজেই উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় সম্পদ জোগান সম্ভব বলে তিনি জানান।

আজ সাধারণ সূচক বেড়েছে ৪৩.৯৮ পয়েন্ট

ঢাকা শেয়ারবাজারে (ডিএসই) আজ বৃহস্পতিবার সাধারণ সূচক ও লেনদেন বেড়েছে। বিকেল তিনটার সময় লেনদেন শেষ হওয়ার আগ পর্যন্ত সাধারণ মূল্যসূচক ৪৩ দশমিক ৯৮ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬৫৭৫ পয়েন্টে। আজ মোট লেনদেন হয়েছে এক হাজার ৯৮৮ কোটি টাকার, যা আগের দিনের চেয়ে আট কোটি টাকা বেশি।
আজ শেয়ারবাজারে লেনদেন হওয়া বেশির ভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম বেড়েছে। মোট ২৫৬টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে দাম বেড়েছে ১৪৫টি প্রতিষ্ঠানের, কমেছে ১০৬টি প্রতিষ্ঠানের এবং অপরিবর্তিত রয়েছে মোট পাঁচটি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম।
লেনদেনে শীর্ষে থাকা পাঁচটি প্রতিষ্ঠান হলো তিতাস গ্যাস, পিপলস লিজিং অ্যান্ড ফিন্যান্স সার্ভিসেস, সামিট পাওয়ার, ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক ও বেক্সিমকো।
দাম বৃদ্ধিতে শীর্ষে থাকা পাঁচটি প্রতিষ্ঠান হলো ইস্টার্ন ইন্স্যুরেন্স, আইসিবি ইসলামিক ব্যাংক, ইউনাইটেড ইন্স্যুরেন্স, সাফকো স্পিনিং ও রহিম টেক্সটাইল।
দাম কমে যাওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে শীর্ষ পাঁচটি হলো নর্দার্ন ইন্সু্যুরেন্স, বঙ্গজ, বিএসসি, বিওসি বাংলাদেশ ও সিনোবাংলা ইন্ডাস্ট্রিজ।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে নিরাপত্তা চেয়েছে বিজিএমইএ

গত কয়েক দিনে পোশাক খাতে সর্বনিম্ন মজুরি বোর্ড নিয়ে সৃষ্ট অস্থিরতায় নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন ব্যবসায়ীরা। আজ বৃহস্পতিবার বিজিএমইএর সভাপতি সালাম মুর্শিদীর নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাহারা খাতুনের সঙ্গে দেখা করে তাদের নিরাপত্তা দেওয়ার জন্য অনুরোধ জানিয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এ ব্যাপারে তাদেরকে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।
বৈঠক শেষে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, ‘ব্যবসায়ীরা তাঁদের নিরাপত্তা দেওয়াসহ আসন্ন রমজান মাসে যেন কোনো রকমের অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি না হয়, সে ব্যাপারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহায়তা চেয়েছেন। আমরা বলেছি তাদের প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হবে।’
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আশুলিয়ায় যেভাবে পুলিশকে হেনস্থা করা হয়েছে তা কোনোভাবেই কাম্য নয়। ভবিষ্যতে কেউ যেন এভাবে আইনশৃঙ্খলা নিজের হাতে তুলে না নেয়, সে ব্যাপারে সতর্ক থাকার নির্দেশ দেন। পোশাক শিল্পের মাধ্যমে দেশের ৮০ শতাংশ বৈদেশিক মুদ্রা অর্জিত হয়। তাই এই খাতের স্বার্থ রক্ষায় সবার সর্বোচ্চ চেষ্টা থাকা উচিত।
বিজিএমইএ সভাপতি সাংবাদিকদের বলেন, ‘পুরো পরিস্থিতি স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসতে শুরু করেছে। তবে রমজান মাসেও যেন পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকে, সে কারণেই আমরা সরকারের সহযোগিতা চেয়েছি।’

বিশ্বকাপে থাকছে না ‘হটস্পট’

আবির্ভাবেই খেলোয়াড়দের রীতিমতো ভক্ত বানিয়ে ফেলেছে ‘হটস্পট’ প্রযুক্তি। খোদ শচীন টেন্ডুলকারই কদিন আগে বলেছেন, ক্রিকেটে আসতে থাকা নতুন নতুন প্রযুক্তির মধ্যে ‘হট স্পট’কেই তাঁর কাছে সবচেয়ে বিশ্বাসযোগ্য মনে হয়েছে।
সবাই হয়তো আশা করছিলেন, ব্যাটে বল লেগেছে কি না, এটা নির্ধারণের জন্য প্রযুক্তিটা আগামী বিশ্বকাপেও ব্যবহার করা হবে। কিন্তু আশার গুড়ে বালি। বিশ্বকাপে ‘আম্পায়ার ডিসিশন রিভিউ সিস্টেম’ (ইউডিআরএস) বহাল থাকলেও প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতার কারণে ‘হট স্পট’ ক্যামেরা ব্যবহার করার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে।
‘হট স্পট’ প্রযুক্তির জনপ্রিয়তার কারণ এর নির্ভুল দৃশ্য ধারণের ক্ষমতা। মাঠের দুই বিপরীত প্রান্তে বসানো দুটি ক্যামেরা ‘ইনফ্রা-রেড’ প্রযুক্তির ছবি ধারণ করে। এই ছবি নিশ্চিত করে দেয় বল ব্যাটসম্যানের পায়ে, হাতে, নাকি ব্যাটে লেগেছে।
যেমন প্রযুক্তির দক্ষতা আছে, তেমনই তার ব্যয়। দুই ক্যামেরা ব্যবহার করলে প্রতিদিন হটস্পট প্রযুক্তির খরচ দাঁড়ায় ৬ হাজার মার্কিন ডলার। আর চার ক্যামেরা ব্যবহার করলে খরচ ১০ হাজার ডলার।
আইসিসিকে এই প্রযুক্তি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান বিবিজি স্পোর্টসের মালিক ওয়ারেন ব্রেনান বলছেন, বিশ্বকাপে এই প্রযুক্তি ব্যবহারে প্রবল ব্যয়ের চেয়েও বড় প্রতিবন্ধকতা হয়ে দাঁড়িয়েছে ক্যামেরার স্বল্পতা। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটির হাতে সব মিলিয়ে ক্যামেরা আছে চারটি। প্রতি ম্যাচে ‘হটস্পট’ প্রযুক্তি ব্যবহার করতে অন্ততপক্ষে দুটি ক্যামেরা লাগে। তিন দেশে এই বিশ্বকাপের সব ম্যাচ এই প্রযুক্তির আওতায় আনতে গেলে আট থেকে দশটি ক্যামেরা দরকার।
কিন্তু চাইলেই ক্যামেরার সংখ্যা বাড়ানো সম্ভব নয়। সারা বিশ্বে হাতে গোনা যে কয়টি মাত্র প্রতিষ্ঠান অতি উচ্চপ্রযুক্তির এই ক্যামেরা তৈরি করে, তারা কেউই ছয় মাসের কম সময়ে ক্যামেরা বানিয়ে দিতে পারবে না। বানালেও সমস্যার সমাধান হবে না।
এই ক্যামেরাকে খুবই সংবেদনশীল সামরিক উপকরণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এমন ক্যামেরা যাতে সন্ত্রাসবাদীদের হাতে চলে না যায়, সে নিয়ে সতর্কতার অভাব নেই। ফলে এ ধরনের ক্যামেরা কিনতে গেলে আন্তর্জাতিকভাবে অনেক নিরাপত্তাপ্রক্রিয়া পার হয়ে আসতে হয়।
ব্রেনান তাই বলেই দিলেন, ‘২০১১ বিশ্বকাপে পঞ্চাশেরও বেশি ম্যাচের সবগুলোতে এই প্রযুক্তি ব্যবহারের কোনো সম্ভাবনাই নেই।’ তবে হ্যাঁ, ব্রেনানের প্রস্তাব যদি আইসিসি মেনে নেয়, তাহলে কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে ফাইনাল পর্যন্ত প্রযুক্তিটি দেখা যেতে পারে। ব্রেনান প্রস্তাব করেছেন, কোয়ার্টার ও সেমিফাইনাল ম্যাচে দুটি করে এবং ফাইনালে চারটি করে ক্যামেরা সরবরাহ করতে পারবেন তাঁরা।
কিন্তু আইসিসি এই প্রস্তাবে ‘হ্যাঁ-না’ কিছুই বলেনি। সে না বলুক। ‘হটস্পট’ না থাকা মানে কিন্তু রিভিউ সিস্টেমের অনুপস্থিতি নয়। আইসিসির শর্ত অনুযায়ী হক আই, সুপার-স্লো মোশন ক্যামেরা ও পরিষ্কার শব্দ ধারণে সক্ষম স্টাম্প মাইক্রোফোন থাকলেই ইউডিআরএস চালানো সম্ভব।

সিনিয়র ডিভিশন ফুটবল

কালকের দুটি ম্যাচই হয়েছে ড্র। বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ মোস্তফা কামাল স্টেডিয়ামে ভিক্টোরিয়া ও যাত্রাবাড়ীর ম্যাচটি গোলশূন্য শেষ হয়েছে। একই মাঠে ওয়ান্ডারার্স ও বাড্ডা জাগরণীর ম্যাচ ছিল ১-১। ওয়ান্ডারার্সের গোলদাতা শাহাদাত, বাড্ডার জুয়েল।

গ্লুস্টারশায়ার ৩২৪/৪

কাল উইকেট না পেলেও বোলিং খারাপ করেননি সাকিব আল হাসান। ১৪ ওভারে ২ মেডেন, দিয়েছেন ৪৩ রান। উস্টারশায়ারের সাকিব উইকেট পাবেন কী—প্রথম দিন শেষে প্রতিপক্ষ গ্লুস্টারশায়ার ৩২৪ রান করতে হারিয়েছে মাত্র ৪ উইকেট।
ইংলিশ কাউন্টি ক্রিকেটে চার দিনের ম্যাচের প্রথম দিনেই করা উইলিয়াম পোর্টারফিল্ডের সেঞ্চুরির সৌজন্যে গ্লুস্টারের এই রান। আউট হওয়ার আগে খেলেছেন ১৭৫ রানের অনবদ্য এক ইনিংস। জেমস ফ্রাঙ্কলিন ৫০ ও টেলর উইকেটে আছেন ১৯ রান করে।

প্রেরণা যখন টেন্ডুলকার

পরশু ভারতকে আরেকটি গর্বের উপলক্ষ এনে দিয়েছেন। ইতিহাসের সর্বকালের সর্বোচ্চ টেস্ট ম্যাচ খেলা ক্রিকেটারটি এখন একজন ভারতীয়। এই গর্বে গর্বিত সোয়া শ কোটি মানুষের দেশ। ভারতের লোকসভা অভিনন্দিত করল শচীন টেন্ডুলকারকে। সংসদের স্পিকার মীরা কুমার কাল অধিবেশন চলার সময় ধন্যবাদ জানান এই কিংবদন্তি ব্যাটসম্যানকে, ‘আমি নিশ্চিত, এখানে উপস্থিত সবাই আমার সঙ্গে কণ্ঠ মিলিয়ে শচীন টেন্ডুলকারকে উষ্ণ অভিনন্দন জানাবেন। তাঁর এই অর্জন আমাদের তরুণ ক্রিকেটারদের জন্যও অনুপ্রেরণার।’
শুধু ভারত নয়, দেশের গণ্ডি ছাড়িয়ে টেন্ডুলকার আসলে প্রেরণার প্রতীক হয়ে উঠেছেন সবার কাছে। শ্রীলঙ্কার বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক অর্জুনা রানাতুঙ্গা যেমন জানালেন, নিজ নির্বাচনী এলাকা কালুতারায় টেন্ডুলকার এখন প্রেরণার সমার্থক, ‘টেন্ডুলকার তো শ্রীলঙ্কাতেও অনেক বড় ব্যক্তিত্ব...এই দেশেও ও একটা প্রতীক। যখন দায়বদ্ধতা আর আত্মনিবেদনের প্রসঙ্গ আসে, আমি প্রায়ই ওর উদাহরণ দিই।’
তিনবারের নির্বাচিত সাংসদ রানাতুঙ্গা জানালেন, রাজধানী কলম্বো থেকে ৩০ কিলোমিটার দূরের কালুতারার মানুষ কত ভালোবাসে টেন্ডুলকারকে, ‘শচীনের যেকোনো ব্যাপারেই আমার এলাকার মানুষ দারুণ আলোড়িত হয়। সেখানকার মানুষ ওকে সামনাসামনি দেখেনি। কিন্তু তার পরও শচীন ওদের সবার অনেক কাছের একজন।’

‘টেস্ট ক্রিকেট সেকেলে’

টি-টোয়েন্টির জন্য টেস্ট তার সৌন্দর্য হারাচ্ছে—ক্রিকেট নিয়ে সাবেকদের সাধারণ মূল্যায়ন এ রকমই। কিন্তু সঞ্জয় মাঞ্জরেকার সাধারণের বিপক্ষেই দাঁড়ালেন। তিনি বললেন, টেস্ট ক্রিকেটটাই একটা সেকেলে ব্যাপার হয়ে গেছে! আজকের দিনে টেস্ট নিয়ে আহাজারি না করে বরং টি-টোয়েন্টিকে গুরুত্বের সঙ্গে নেওয়া উচিত বলে মনে করছেন সাবেক এই টেস্ট ক্রিকেটার।
১৯৮৭ থেকে ১৯৯৭ পর্যন্ত ভারতের হয়ে ৩৭টি টেস্ট খেলেছেন। পাকিস্তান সফরে গিয়ে লাহোর টেস্টে ২১৮ রানের একটা ইনিংস খেলেছিলেন ১৯৮৯ সালে। টেস্ট ব্যাটসম্যান হিসেবেই সমধিক পরিচিত প্রয়াত বিজয় মাঞ্জরেকার-তনয়। আর সেই মাঞ্জরেকার বলছেন টি-টোয়েন্টিকে মোটেই খাটো করে দেখা উচিত নয়, ‘টেস্ট ক্রিকেট একটা সেকেলে ধারণা। আমাদের বাস্তববাদী হওয়া উচিত এবং টি-টোয়েন্টিকে খাটো করে দেখা বন্ধ হওয়া উচিত। পছন্দ করার অধিকারটা দর্শকের। দর্শক যদি ভারত-শ্রীলঙ্কা টেস্টের চেয়ে টি-টোয়েন্টি দেখতে বেশি পছন্দ করে, তাহলে আমাদের আরও বেশি আইপিএল ম্যাচ আয়োজন করা উচিত।’
শুধু এটুকুই নয়, টি-টোয়েন্টির মতো খেলায় মাঞ্জরেকার ক্রিকেটীয় মানেরও কোনো কমতি দেখছেন না, ‘আইপিএল সফল হয়েছে, কারণ খেলায় মান ছিল। এখানে শচীন, ওয়ার্নের মতো খেলোয়াড় খেলেছে। তাই পুরো ব্যাপারটা শুধু জোরে বল পেটানো হচ্ছে না।’

তৃতীয় দিন শেষে ৩৪ রানে এগিয়ে শ্রীলঙ্কা

বিতীয় দিনে দুই উইকেটে ১৮০ সংগ্রহ করার পর তৃতীয় দিনে ভারতের ইনিংস শেষ হয়েছে ৪৩৬ রানে। দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে দুই উইকেট হারিয়ে ৪৫ রান সংগ্রহ করেছে শ্রীলঙ্কা।তৃতীয় দিনে মাত্র ২০ রান যোগ করতেই ফিরে গেছেন আগের দিনে অপরাজিত থাকা টেন্ডুলকার ও শেবাগ। আউট হওয়ার আগে অবশ্য সেঞ্চুরিটা পূর্ণ করেছেন শেবাগ। টেন্ডুলকার আউট হয়েছেন ৪১ রানে।১৯৯ রানে ৪ উইকেট হারানোর পর পঞ্চম উইকেট জুটিতে ১০৫ রানের পার্টনারশিপ গড়ে তোলেন লক্ষণ ও রাইনা। ৫৬ রান করে মেন্ডিসের বলে জয়াবর্ধনের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফিরে যান লক্ষণ। ৬২ রান করে রাইনাও মেন্ডিসের শিকারে পরিণত হন। ভারতের ইনিংসের শেষ দিকে অভিমন্যু মিথুনের ৪৬ ও অমিত মিশ্রর ৪০ রানের সুবাদে ৪৩৬ রান সংগ্রহ করে ভারত।ব্যাট হাতে সেঞ্চুরির পর এবার বল হাতেও জ্বলে উঠেছেন শেবাগ। ৩৯ রানের মধ্যেই ফিরিয়ে দিয়েছেন দুই শ্রীলঙ্কান ওপেনারকে। দিন শেষে সাঙ্গাকারা ১২ রানে অপরাজিত আছেন।

ইউসুফ-ইস্যুতে বাট যেন কূটনীতিক

১০২, ৮, ৬৩, ৯২ এবং ৪৫, ১৩, ১, ৮। কী এসব? টেস্টে সালমান বাটের গত আটটি ইনিংস। মাঝখানের ‘এবং’-কে ধরে নিতে পারেন একটা সীমানা। সীমানার ওপারের চারটি ইনিংস অধিনায়ক হওয়ার আগের। যে চার ইনিংস একটি সেঞ্চুরি, একটি ষাট এবং একটি প্রায়-সেঞ্চুরির ইনিংস ছিল তাঁর। অধিনায়ক হওয়ার পরের চারটি ইনিংসের মধ্যে সর্বোচ্চটি ৪৫ রানের। ১৬.৭৫ গড়। তবে কি পাকিস্তানের তপ্ত সিংহাসনে বসার জ্বালাটা টের পেতে শুরু করেছেন বাট?
এসব ক্ষেত্রে যা হয়, বাটও এর ব্যতিক্রম নন। ২৫ বছর বয়সী এই বাঁহাতি ওপেনার জানালেন, অধিনায়কত্ব তাঁর কাছে মোটেও চাপের নয়। ‘আমি মনে করি না আমার ব্যাটিং ফর্মে কোনো প্রভাব ফেলেছে অধিনায়কত্ব। অস্ট্রেলিয়া সিরিজের মতোই আমি এই সিরিজেও একই রকম অনুভব করছি’—বলেছেন তিনি।
ইতিহাস তো আছেই, একই সঙ্গে পরিসংখ্যানও কিন্তু বলছে, পাকিস্তানের অধিনায়ক হওয়ার যন্ত্রণা সহ্য করতে হয়। টেস্টে অধিনায়ক হিসেবে পাকিস্তানের মাত্র পাঁচ ব্যাটসম্যান এক হাজার রানের ফলক পেরিয়ে গেছেন।
পাকিস্তান অধিনায়কের আরেকটি বড় সমস্যা পুরো কর্তৃত্ব না পাওয়া। অনেক সময়ই ক্রিকেট বোর্ডের স্রেফ পুতুল হয়ে যেতে হয়। বাটও এ রকম পুতুল অধিনায়ক হবেন কি না সময়ই তা বলে দেবে। তবে শুরুর দিকেই যে আলামত পাওয়া যাচ্ছে তার কোনোটাই শুভ ইঙ্গিতবাহক নয়। মোহাম্মদ ইউসুফকে দলে ফেরানোর মতো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তটি নেওয়ার আগে বোর্ড নাকি তাঁর সঙ্গে আলোচনাই করেনি!
আকারে-ইঙ্গিতে এ নিয়ে নিজের অসন্তোষের কথাই যেন বুঝিয়ে দিলেন বাট, ‘আমি একটা জরুরি পরিস্থিতিতে দলের দায়িত্ব নিয়েছি। ইউসুফকে ডাকার সিদ্ধান্তটি আসলে পুরোপুরি নির্বাচক আর টিম ম্যানেজমেন্টের। এ নিয়ে আমার সরাসরি কোনো বক্তব্য ছিল না। তবে অধিনায়ক হিসেবে ভবিষ্যতে নিশ্চয়ই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোয় আমি আমার মত দেব।’
তবে কি ইউসুফকে দলে স্বাগত জানাচ্ছেন না তিনি! মনে যা-ই থাক, মুখে কিন্তু অন্যরকমই বক্তব্য বাটের, ‘আমি কোনো বিতর্কে জড়াতে চাই না। বাস্তবতা হলো, ইউসুফ হোক কিংবা ইউনুস, দলে সিনিয়র ক্রিকেটার ফিরলে তারা অবশ্যই ভূমিকা রাখতে পারবে। কারণ তাদের সেই অভিজ্ঞতা আছে।’ ভিসা-জটিলতা থেকে মুক্ত হয়ে ইউসুফের আজ ইংল্যান্ডে পৌঁছে যাওয়ার কথা। আগামীকাল শুরু টেস্টেই তাঁকে নামিয়ে দিতে চায় পাকিস্তান।
সিরিজের প্রথম টেস্টে বিশাল পরাজয় দিয়ে শুরু করলেও তাঁর দল শিগগিরই ঘুরে দাঁড়াবে বলেও আশাবাদী বাট, ‘মানছি, আমরা আমাদের সেরাটা খেলতে পারিনি। আমাদের সবকিছু ভালোমতো করে বিশ্লেষণ করে দেখতে হবে। আশা করি, এজবাস্টনে দ্বিতীয় টেস্ট শুরুর আগেই আমরা ভুলত্রুটিগুলো সামলে নিতে পারব।’ আগামীকাল শুরু দ্বিতীয় টেস্টের আগে তিনি দলকে অনুপ্রেরণা খোঁজার পরামর্শ দিলেন আগের সিরিজ থেকে, ‘অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে আমরা কী করেছি? লর্ডসে প্রথম টেস্টে বড় পরাজয়ের পরই তো দ্বিতীয় টেস্টে দুর্দান্তভাবে ঘুরে দাঁড়িয়ে জিতলাম।’

বাফুফের সেই ‘১০ দিন’ তত্ত্ব

দেশের ফুটবল উন্নয়ন নিয়ে কথার ফুলঝুরি ছোটে, অনেক পরিকল্পনা নিয়ে টিভি টকশোতে হাজির হন ফুটবল কর্তারা। কিন্তু নতুন মৌসুম দরজায় কড়া নাড়লেও বাফুফের বর্ষপঞ্জিই জানা গেল না এখনো!
বাফুফের জরুরি কমিটির সভা হলো কাল। এ সভার আধঘণ্টা আগে সভাপতি কাজী সালাউদ্দিন নিশ্চয়তার সুরেই বলেছিলেন, ‘আজই সব ফাইনাল হয়ে যাবে। সেই প্রস্তুতি নিয়েই আমি এসেছি। ঢাকার জুনিয়র ডিভিশনগুলোকে এক লিগ করার প্রস্তাব অনেক আগেই দিয়েছিলাম, সেটির ব্যাপারে আজ প্রয়োজনে রুলিং দেব।’ কিন্তু কোথায় কী! আবার সেই একই কথা—‘১০ দিনের মধ্যে সব পরিকল্পনা জানানো হবে (বাফুফের জরুরি কমিটি পরিকল্পনা প্রণয়ন করবে)!
এই ‘১০ দিনের মধ্যে সব জানানো হবে’ বাক্যটা বছরের শুরু থেকেই শোনা যাচ্ছে। কিন্তু সেই ১০ দিন আর ফুরোয় না। ওদিকে জুনে বাংলাদেশ লিগ শেষ হওয়ার পর জুলাই মাস গেল। এখন যাচ্ছে আগস্ট। তার পরও বাফুফে বর্ষপঞ্জির খবর নেই। ওটা যেন ‘আকাশের চাঁদ’।
এখন গোটা ফুটবল অঙ্গনেই নানা প্রশ্ন—সুপার কাপ কি হবে? বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে সংস্কারকাজ চলতে থাকায় বাংলাদেশ লিগ এবার কোথায় হবে? এই লিগের দ্বিতীয় স্তর চালু করার বাস্তবতা কর্তারা আদৌ বুঝবেন? ঢাকার জুনিয়র ডিভিশনগুলোর ভবিষ্যৎ কী?
কালকের ওই জরুরি সভার পর সালাউদ্দিন বললেন, ‘১০ দিনের মধ্যে সব দিয়ে দেব। ২০ আগস্টের মধ্যে অবশ্যই সব হয়ে যাবে।’ এত দিনেও না হওয়ার কারণটা বললেন এভাবে, ‘মুখে বলে দিলেই তো হবে না। এর সঙ্গে পৃষ্ঠপোষণার ব্যাপারটা জড়িত আছে। ওটাও তো দেখতে হবে।’ সুপার কাপ হবে কি না—জানতে চাইলে বাফুফে সভাপতি হ্যাঁ-সূচক উত্তরই দিয়েছেন, ‘সব হবে। কোনোটি বাদ যাবে না। কিন্তু কখন হবে, কীভাবে হবে, এটা নিয়ে কিছুই বলতে রাজি হলেন না।’
বাফুফের জরুরি সভার আগে দাবি ওঠে দলবদল পেছানোর জন্য। ৭টি ক্লাবের প্রতিনিধির স্বাক্ষর করা একটা চিঠি নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা আসেন বাফুফে ভবনে। ক্লাবগুলো হলো ব্রাদার্স, আরামবাগ, রহমতগঞ্জ, ফরাশগঞ্জ, চট্টগ্রাম মোহামেডান ও চট্টগ্রাম আবাহনী। এই দলের অন্যতম নেতা ব্রাদার্সের আমের খান বললেন, ‘বাফুফে কী করতে চায়, সেটাই তো আমরা জানি না। অব্যবস্থাপনার এই লিগ শুরু করে ১০ মাসে শেষ করলে তো হবে না!’
৭ ক্লাবের ১২ দাবি—দলবদলের আগে বর্ষপঞ্জি ঘোষণা, ক্লাবের সঙ্গে আলোচনা করে নভেম্বরে দলবদল শুরু করা, বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে পেশাদার লিগের খেলা আয়োজন নিশ্চিত করা, দলবদল শেষে প্রস্তুতির জন্য ৬ সপ্তাহ সময় দেওয়া, বিদেশি খেলোয়াড় কোটা বৃদ্ধি এবং খেলার আগের দিন পর্যন্ত নাম নিবন্ধনের সুযোগ, জুনিয়র ডিভিশন থেকে নেওয়া খেলোয়াড়দের ক্ষেত্রে বাইন্ডিংস প্রথা না রাখা, ক্লাবগুলোকে দেওয়া বাফুফের আর্থিক অনুদান লিগের আগেই দিয়ে দেওয়া, ঢাকার বাইরের দলকে বাফুফের পক্ষ থেকে ঢাকায় থাকার ব্যবস্থা করা, ঢাকার বাইরে ভেন্যুর অব্যবস্থাপনা দূর করা, মাঠ খেলার উপযোগী করা, খেলোয়াড়দের আচরণবিধি ও বাইলজ বাংলায় লেখা, বর্তমান বাংলাদেশ লিগ কমিটি বিলুপ্ত করে সব ক্লাবের প্রতিনিধি নিয়ে নতুন কমিটি গঠন করা।
১ থেকে ১৫ সেপ্টেম্বর দলবদল হওয়ার কথা। কিন্তু কোন টুর্নামেন্ট দিয়ে মৌসুম শুরু হবে, জানে না তা কেউ! এই অবস্থায় ক্লাবগুলো বিভ্রান্ত। রহমতগঞ্জের কর্মকর্তা সালাউদ্দিন কালা বাফুফে ভবনে বললেন, ‘বাফুফের গোছানো কোনো ও সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনাই দেখছি না!’ ওদিকে সালাউদ্দিনের কথা, ‘দলবদল পেছানোর প্রশ্নই আসে না। কেউ না খেললে বিদায় নেবে।’
বিশ্বকাপ শেষে যখন দেশে দেশে ঘরোয়া লিগ মাঠে নামছে, বাংলাদেশে তখন চলছে কথার খেলা আর কালক্ষেপণ!

পরিবর্তন দেখছেন টেন্ডুলকার

ব্যাটিং-বোলিং করেননি। ধরেননি ক্যাচও। তবু কাল
ছিল টেন্ডুলকারের ইতিহাস গড়ার দিন
বিশ বছর—দুই দশক। দুনিয়ার মানচিত্রেই এই সময়ে ওলটপালট হয়ে গেছে অনেক। স্নায়ুযুদ্ধ শেষ হয়ে এককেন্দ্রিক হয়ে গেছে বিশ্ব। বিশ্বজুড়ে লাখো লাখো বদলের মতো এই সময়ে বদলে গেছে ক্রিকেটও।
আম্পায়ারদের ওপর খবরদারি করার জন্য তৃতীয় আম্পায়ার আবির্ভূত হয়েছেন, পাওয়ার প্লে চালু হয়েছে, সুপার-সাব পদ্ধতি এসে আবার চলেও গেছে, রেফারেল পদ্ধতি আসছে। আর এসব পরিবর্তনের চলমান সাক্ষী হয়ে এখনো মাঠে টিকে আছেন শচীন টেন্ডুলকার।
তবে এসব পরিবর্তন নয়, বিশ বছরেরও বেশি সময়ের ক্রিকেট-জীবনে সবচেয়ে বেশি নজর কেড়েছে তাঁর ব্যাটসম্যানদেরও আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠা। যে টেস্ট ক্রিকেটে একসময় রান উঠত গরুর গাড়ির গতিতে; সেখানেই অস্ট্রেলিয়া, ভারত, শ্রীলঙ্কা এখন বুলেট-ট্রেনের গতিতে রান তোলে।
টেন্ডুলকারের মনে হয়, টেস্টে ব্যাটসম্যানদের মধ্যে এই পরিবর্তনটা এনে দিয়েছে সীমিত ওভারের ক্রিকেট, বিশেষ করে, টি-টোয়েন্টি খেলা, ‘২০ বছরে অনেক পরিবর্তনই দেখেছি। ওয়ানডে ক্রিকেটে অনেক পরিবর্তন এসেছে। সঙ্গে টি-টোয়েন্টির আবির্ভাবই সম্ভবত টেস্ট ক্রিকেটকে আক্রমণাত্মক করে ফেলেছে। আমার মনে হয়, এখন ব্যাটসম্যানরা অনেক বেশি সুযোগ নিতে চায়। ওয়ানডে আর টি-টোয়েন্টি খেলতে গিয়ে এরা আরও উদ্ভাবনী হয়ে উঠেছে।’
টেন্ডুলকার নিজেও কি তা-ই হয়ে ওঠেননি? ওয়েবসাইট।