Sunday, June 2, 2013

অসম্পূর্ণ শীতল যুদ্ধ ও আজকের বাংলাদেশ by কাজী জেসিন

সাম্প্রতিক সময়ে ধর্ম যেন আমাদের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে এসেছে। বিবিধ টকশোতে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ইস্যুর পাশাপাশি আলোচনার বিষয় এখন ধর্ম তাদের ভাষায়, ‘ধর্মভিত্তিক রাজনীতি’, ‘রাষ্ট্র ও ধর্মের পৃথককরণ’, নারী অধিকার ও ধর্মের পশ্চাৎপদতা ইত্যাদি।

সংলাপ নিয়ে রশি টানাটানি by কাজী সোহাগ

আর কত লাশ পড়লে, আর কত ধ্বংসজ্ঞ চললে, আর কত রক্ত ঝরলে বোধোদয় হবে আমাদের রাজনীতিবিদদের? ওই মাঠের খেলোয়াড়দের? আগে কোনটি-দেশের স্বার্থ নাকি মারামরি, হানাহানি, অনমনীয় অবস্থান? প্রশ্নের শেষ নেই। স্বস্থির কোন সম্ভাবনাও নেই।

ব্যস্ত মহেশ ভাট কন্যা আলিয়া

গত বছরে মুক্তি পাওয়া করন জোহর পরিচালিত ছবি ‘স্টুডেন্ট অব দ্যা ইয়ার’-এ অভিনয় দিয়ে বলিউডে যাত্রা শুরু হয় মহেশ ভাট কন্যা আলিয়ার। নজরকাড়া ফিগার আর দারুন অভিনয় দিয়ে প্রথম ছবিতেই বাজিমাত করেন বলিউড ছবির উঠতি এই নায়িকা।

ঢাকা সিটি নির্বাচনের জটিলতা দূর সুলতানগঞ্জকে ৫৭ নম্বর ওয়ার্ডে অন্তর্ভুক্ত করে গেজেট

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সম্প্রসারিত এলাকা সুলতানগঞ্জ ইউনিয়নকে ৫৭ নম্বর ওয়ার্ডের অন্তর্ভুক্ত ঘোষণা করে আজ রোববার স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে গেজেট প্রকাশ করা হয়েছে।

এশিয়া অঞ্চলে সামরিক কৌশল পুনর্বিন্যাস করছে যুক্তরাষ্ট্র

এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে কৌশলগত সামরিক শক্তি পুনর্বিন্যাসের পদক্ষেপকে জোরদার করছে যুক্তরাষ্ট্র। এর অংশ হিসেবে মার্কিন সামরিক বাহিনী এ অঞ্চলে আরও বিমানশক্তি, স্থলসেনা এবং উচ্চপ্রযুক্তির যুদ্ধাস্ত্র মোতায়েন করবে। মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী চাক হেগেল এসব কথা জানিয়েছেন। হেগেল গতকাল শনিবার সিঙ্গাপুরে নিরাপত্তা-সংক্রান্ত একটি বার্ষিক আন্তর্জাতিক সম্মেলনে অংশ নেন। ‘সাংগ্রি-লা সিকিউরিটি ডায়ালগ’ নামের ওই সম্মেলনে দেওয়া বক্তব্যে তিনি সাইবার হামলার জন্য চীনকে অভিযুক্ত করেন। অন্যদিকে সম্মেলনে অংশ নেওয়া বিভিন্ন দেশের প্রতিরক্ষামন্ত্রীরা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, এশিয়ার দেশগুলোকে এ অঞ্চলকে অস্থিতিশীল করা রুখতে হবে। সম্মেলনে আঞ্চলিক নিরাপত্তার বিষয়ে নিজের দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেন মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগনের প্রধান হেগেল। তিনি তাঁর বক্তব্যে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র ও সহযোগী দেশগুলোকে এ বিষয়ে আশ্বস্ত করে বলেন, দেশের অভ্যন্তরে বাজেট ঘাটতি সত্ত্বেও যুক্তরাষ্ট্র এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে তার কৌশলগত প্রাধান্য অব্যাহত রাখতে পরিপূর্ণভাবে সক্ষম। হেগেল বলেন, ‘আমাদের পুনর্বিন্যাসের প্রতিশ্রুতি টিকবে না এমনটি ভাবা অদূরদর্শী হবে।’ এ যুক্তির পক্ষে তিনি বলেন, চরম বাজেট ঘাটতি সত্ত্বেও যুক্তরাষ্ট্র এখনো বিশ্বের মোট সামরিক ব্যয়ের ৪০ শতাংশের প্রতিনিধিত্ব করে থাকে। হেগেল এ অঞ্চলের নিরাপত্তা-সংক্রান্ত বেশ কিছু সমস্যাসংকুল বিষয়ের কথা উল্লেখ করেন। এর মধ্যে রয়েছে, উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক অস্ত্র ও ক্ষেপণাস্ত্র উন্নয়নের প্রচেষ্টা, চীনের চারপাশের সাগরগুলোতে অবস্থিত দ্বীপ ও জলসীমার দাবি নিয়ে উত্তেজনা এবং মহাকাশ ও সাইবার জগতে অনভিপ্রেত কর্মকাণ্ড। যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের কম্পিউটার পদ্ধতিতে সাইবার হামলার জন্য আগে থেকেই চীনের সরকার ও সামরিক বাহিনীর বিরুদ্ধে অভিযোগের তির ছোড়া হচ্ছে। তবে এর আগে সরাসরি চীনকে দোষারোপ না করে আকার-ইঙ্গিতে তা বোঝানো হচ্ছিল। কিন্তু হেগেল অনেকটা সরাসরি চীনের দিকে আঙুল তুলেছেন। সাইবার হামলাকে যুক্তরাষ্ট্র ও অন্যান্য দেশের জন্য ভয়ংকর বিপদ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এসব হামলার মধ্যে বেশ কিছুর সঙ্গে চীনা সরকার ও সেনাবাহিনীর সম্পৃক্ততা রয়েছে বলে দেখা যাচ্ছে। চলতি সপ্তাহের শুরুর দিকে মার্কিন গণমাধ্যম পেন্টাগনের একটি ফাঁস হওয়া প্রতিবেদন প্রকাশ করে যাতে দেখা যায়, চীনা হ্যাকাররা যুক্তরাষ্ট্রের গোপন অস্ত্র কর্মসূচিতে অনুপ্রবেশ করেছে। সাইবার হামলা নিয়ে প্রায়ই উভয় দেশ একে অপরকে অভিযুক্ত করে থাকে। অবশ্য সাইবার হামলার ঘটনায় চীনকে তিরস্কার করলেও এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ওয়াশিংটন ও বেইজিংয়ের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার সম্পর্ক থাকা দরকার বলেও উল্লেখ করেছেন হেগেল। সম্মেলনে অংশ নেওয়া ইন্দোনেশিয়া, যুক্তরাজ্য ও জাপানসহ বিভিন্ন দেশের প্রতিরক্ষামন্ত্রীদের সবার কণ্ঠেই ছিল অনেকটা একই সুর। তাঁরা বলেছেন, সামরিক খাতে ক্রমবর্ধমান ব্যয় বৃদ্ধির মাধ্যমে এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা রুখতে হবে। চীন, ভারত, দক্ষিণ কোরিয়া, জাপানসহ এ অঞ্চলের বেশ কিছু দেশ শক্তিশালী অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সুযোগ নিয়ে সামরিক খাতে ব্যয় বাড়িয়ে চলেছে। এটাকে নিয়ন্ত্রণে না আনা গেলে তার বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা দেবে। এএফপি, রয়টার্স ও বিবিসি

সিরিয়ার সঙ্গে রাশিয়ার চুক্তির নিন্দা জানালেন কেরি

সিরিয়ার কাছে ক্ষেপণাস্ত্র বিক্রির অঙ্গীকার করায় রাশিয়ার নিন্দা করেছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি। একই সঙ্গে সিরিয়ায় সংঘাত বন্ধে রাশিয়ার সদিচ্ছা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। এদিকে তুরস্কে আট দিনের আলোচনায়ও সিরীয় প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের বিরোধীদের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ অনেক বিষয়ে মতৈক্য হয়নি। কোনো কোনো ক্ষেত্রে মতানৈক্য বেড়েছে বলেও মনে করা হচ্ছে। ওয়াশিংটনে জন কেরি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, সিরিয়াকে রাশিয়ার এস-৩০০ ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহ করা কোনোভাবেই ওয়াশিংটন-মস্কোর আসন্ন শান্তি সম্মেলনের উদ্যোগকে ‘সহায়তা করবে না’। তিনি আরও বলেন, রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহে ওই অঞ্চলে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নষ্ট হবে এবং ইসরায়েলের নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে পড়বে। কেরি বলেন, ‘আপনি যখন শান্তির জন্য উদ্যোগ নিচ্ছেন বা শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে চাইছেন, তখন এস-৩০০ ক্ষেপণাস্ত্র কখনোই আপনাকে কোনো সহায়তা দেবে না।’ তিনি আরও বলেন, রাশিয়ার এই অবস্থান সিরিয়ায় দুই বছরের বেশি সময় ধরে চলা সহিংসতা বন্ধে তাদের অঙ্গীকারকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। ওয়াশিংটন সফররত জার্মানির পররাষ্ট্রমন্ত্রী গুইডো ওয়েস্টারভেলেও বিষয়টি বিবেচনায় রাশিয়াকে আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ‘আমি রাশিয়াকে বলব, আসন্ন শান্তি সম্মেলনকে অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দেবেন না।’ এদিকে তুরস্কের ইস্তাম্বুলে আট দিন ধরে আলোচনা করার পরও সহিংসতা বন্ধে আসন্ন আন্তর্জাতিক শান্তি সম্মেলনে যোগ দেওয়ার ব্যাপারে সুস্পষ্ট কোনো ঘোষণা দিতে পারেননি বাশারবিরোধীরা। প্রধান বিরোধী জোট ন্যাশনাল কোয়ালিশনে কারা স্থান পাবে—সেই বিতর্কের মধ্যেই আটকে আছে আলোচনা। ন্যাশনাল কোয়ালিশনের প্রধান জর্জ সাবরা গত শুক্রবার জানান, কোয়ালিশনে নতুন ৫১টি পক্ষ যোগ দিয়েছে। সব মিলিয়ে এই জোটে এখন ১১৪টি পক্ষ রয়েছে। লেবাননে হামলা: সিরিয়া থেকে গতকাল শনিবার লেবাননের ওপর রকেট হামলা চালানো হয়েছে। লেবাননের নিরাপত্তা সূত্রে জানা গেছে, সিরিয়া থেকে ছয়টি রকেট এসে পড়ে রায়াক বিমানবন্দরের কাছে। তবে এতে কেউ হতাহত হয়নি। সম্প্রতি সিরিয়া থেকে লেবাননে হামলার ঘটনা বেড়ে গেছে। লেবাননের কট্টরপন্থী গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ সিরিয়ায় বাশার আল-আসাদের পক্ষে লড়ার কারণে এসব হামলার ঘটনা ঘটছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। প্রতিবেশী সিরিয়ায় সহিংসতা অব্যাহত থাকায় এবং এর আঁচ লেবাননেও লাগায় নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে দেশটি আসন্ন পার্লামেন্ট নির্বাচন স্থগিত করেছে। চলতি মাসে এই নির্বাচন হওয়ার কথা ছিল। সিরিয়ায় ব্রিটিশ নাগরিক নিহত: সিরিয়ায় যুক্তরাজ্যের এক নাগরিক নিহত হয়েছেন। শুক্রবার ব্রিটিশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিষয়টি নিশ্চিত করে। তবে এ ব্যাপারে বিস্তারিত কিছু জানাতে পারেনি। গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, নিহত ব্যক্তির নাম আলী আল মানাসফি (২২)। তিনি লন্ডনে বাস করতেন। যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংগঠন দ্য সিরিয়ান অবজারভেটরি ফর হিউম্যান রাইটস গত বৃহস্পতিবার দাবি করে, সিরিয়ায় তিনজন পশ্চিমা নাগরিক নিহত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের একজন নারীও রয়েছেন। এএফপি ও রয়টার্স।

ধূমপানে নিষেধাজ্ঞা

রাশিয়ায় ধূমপানের ওপর এক ‘উচ্চাভিলাষী’ নিষেধাজ্ঞা গতকাল শনিবার থেকে কার্যকর করা হয়েছে। ধূমপায়ী ব্যক্তির সংখ্যা অর্ধেকে কমিয়ে আনা এবং জনস্বাস্থ্যের উন্নতির লক্ষ্যে এ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। তবে এই ব্যবস্থা পুরোপুরি কার্যকর হওয়া নিয়ে রয়ে গেছে সন্দেহ। এই ব্যবস্থার আওতায় প্রথম পর্যায়ে বাস, ট্রাম, অন্যান্য গণপরিবহন, রেলওয়ে স্টেশন, বিমানবন্দর, লিফট, বাসস্টেশন, মেট্রো ও রেলস্টেশনের নিকটবর্তী স্থান, প্রশাসনিক ভবন ও শিক্ষা-স্বাস্থ্যসংশ্লিষ্ট স্থাপনা ধূমপানের আওতামুক্ত থাকবে। আগামী বছর ১ জুন থেকে ক্রমে ক্রমে জাহাজ, দূরপাল্লার ট্রেন, ট্রেনের প্ল্যাটফর্ম, হোটেল, ক্যাফে ও রেস্তোরাঁকে এ নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনা হবে। সিগারেটের বিজ্ঞাপন ও বিক্রি নিয়ন্ত্রণেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এএফপি।

মন্তব্য নাকচ

জাপানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী গতকাল শনিবার ওসাকার স্পষ্টভাষী মেয়রের বিতর্কিত মন্তব্য নাকচ করে দিয়েছেন। মেয়র তোরু হাশিমোতো বলেছিলেন, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধকালে নারীদের যৌন সম্পর্কে লিপ্ত হতে বাধ্য করার ঘটনা ছিল একটি সামরিক প্রয়োজন। সিঙ্গাপুরে এশীয় নিরাপত্তাবিষয়ক এক সম্মেলনে মন্ত্রী ইতসুনোরি ওনোদেরা বলেন, প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবের প্রশাসন কখনোই এ রকম মন্তব্যের দায় গ্রহণ করতে কিংবা ইতিহাসের ওই কালো অধ্যায়ের স্বীকৃতি দিতে পারে না। গত মাসে হাশিমোতো ওই মন্তব্য করে দেশে-বিদেশে সমালোচনার ঝড় তোলেন। এএফপি।

আবার দখল

আদিবাসী ইন্ডিয়ান গোষ্ঠীর লোকেরা গত শুক্রবার দক্ষিণ ব্রাজিলের বিতর্কিত এক গ্রামীণ সম্পত্তি আবার দখল করেছে। সেই সঙ্গে তারা সেখানকার পশুর খামারে আগুন ধরিয়ে দেয়। তেরেনা ইন্ডিয়ানরা ভূমির মালিকানা নিয়ে ক্রমবর্ধমান দ্বন্দ্বের জেরে উৎখাত হওয়ার এক দিন পর এ ঘটনা ঘটল। গত বৃহস্পতিবার দাঙ্গা পুলিশ বিরোধপূর্ণ স্থানটি থেকে তাদের উচ্ছেদ করতে গেলে এক ইন্ডিয়ান গুলিতে প্রাণ হারায়। রিকার্ডো বাচা নামের সাবেক এক কংগ্রেসম্যানের মালিকানাধীন ওই খামার থেকে বৃহস্পতিবার প্রায় ২০০ আদিবাসীকে উচ্ছেদ করে পুলিশ। রয়টার্স

ইরাকজুড়ে মে মাসে সহিংসতায় নিহত ১০৪৫

ইরাকজুড়ে গত মে মাসে সহিংসতায় এক হাজার ৪৫ জন নিহত এবং দুই হাজার ৩৯৭ জন আহত হয়েছে। গতকাল শনিবার জাতিসংঘের এক প্রতিবেদনে এ কথা বলা হয়েছে। ২০০৬ ও ২০০৭ সালে ইরাকে শিয়া ও সুন্নিদের মধ্যকার সহিংসতায় হাজার হাজার প্রাণহানি হয়। এরপর হতাহতের দিক থেকে মে-ই ছিল সবচেয়ে ভয়াবহ মাস। বাগদাদে নিযুক্ত জাতিসংঘের দূত মার্টিন কবলার বলেছেন, ইরাকের রাজনৈতিক নেতৃত্বকে অবিলম্বে এই রক্তপাত বন্ধ করতে হবে। অন্যথায় আবার গৃহযুদ্ধ শুরুর আশঙ্কা রয়েছে।   বার্তা সংস্থা এএফপি বলেছে, গত মাসে ইরাকে সহিংসতায় ৬২৪ জন নিহত এবং এক হাজার ৫৫০ জন আহত হয়েছে। সংস্থাটি বিভিন্ন নিরাপত্তা বাহিনী ও মেডিকেল সূত্র থেকে ওই হতাহতের তথ্য সংগ্রহ করে। অবশ্য ইরাকের মন্ত্রণালয়গুলো বলছে, সহিংসতায় গত মাসে ৬৮১ জন নিহত এবং এক হাজার ৯৭ জন আহত হয়েছে।  এএফপি।

রবার্ট ব্রুসের অজানা চিঠিতে নতুন তথ্য

স্কটল্যান্ডের রাজা রবার্ট ব্রুসের এত দিন অজানা একটি চিঠি পাওয়া গেছে। চিঠিতে ইংল্যান্ডের সঙ্গে স্কটল্যান্ডের ঐতিহাসিক ব্যানকবার্ন যুদ্ধের প্রসঙ্গ উল্লেখ আছে। স্কটল্যান্ডের স্বাধীনতাসংগ্রাম বিষয়ে ঐতিহাসিকদের নতুন তথ্য জুগিয়েছে এ চিঠি। চিঠিটি ১৩১০ সালে ইংল্যান্ডের রাজা দ্বিতীয় এডওয়ার্ডের কাছে পাঠানো হয়। এতে স্কটল্যান্ডের বাসিন্দাদের শাস্তি না দিতে রাজা এডওয়ার্ডের প্রতি আহ্বান জানানো হয়। রবার্ট ব্রুস নিজেকে স্কটল্যান্ডের ‘ঈশ্বর প্রদত্ত’ কর্তৃপক্ষ হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি রাজা এডওয়ার্ডকে তাঁর সমকক্ষ হিসেবে সম্বোধন করেন। ১৩১৪ সালের ব্যানকবার্ন যুদ্ধে ব্রুসের স্কটিশ বাহিনীর হাতে শোচনীয়ভাবে পরাজিত হয় ইংরেজরা। চিঠিটি দৈবক্রমে খুঁজে পেয়েছেন স্কটল্যান্ডের গ্লাসগো বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কটিশ ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক ডভিট ব্রাউন। তবে মনে করা হচ্ছে, এটি আসল চিঠি নয়, বরং প্রতিলিপি। সুদীর্ঘ ওই চিঠিতে দেখা যাচ্ছে, ব্রুস এমন সময়ে শান্তি প্রতিষ্ঠার আবেদন জানিয়েছিলেন যখন ইংরেজ বাহিনী স্কটল্যান্ডের কেন্দ্রের দিকে এগিয়ে যাচ্ছিল। তবে তখন এটিও মনে হচ্ছিল যে রাজা দ্বিতীয় এডওয়ার্ড স্কটল্যান্ডের স্বাধীনতাকে স্বীকৃতি দেবেন।  ঐতিহাসিকদের মতে, রাজা দ্বিতীয় এডওয়ার্ড ও তাঁর রাজসভার পদস্থ ব্যক্তিরা তখন ক্রমেই অজনপ্রিয় হয়ে উঠছিলেন। অন্যদিকে স্কটিশ জনগণের হূদয় ও মন জয় করার মাধ্যমে রবার্ট ব্রুস ক্রমেই দেশের উত্তর সীমান্ত এলাকায় নিজের অবস্থান ফিরে পাচ্ছিলেন। অধ্যাপক ব্রাউন বলেন, এ চিঠিতে দুটি বিষয় প্রকাশ পেয়েছে। প্রথমত, ব্রুসের বলার ভঙ্গি ছিল অত্যন্ত আপসমূলক। অবশ্য তিনি এডওয়ার্ডকে এমনভাবে সম্বোধন করেছেন, যাতে মনে হয়েছে এক রাজা আরেক রাজার সঙ্গে কথা বলছেন। তিনি আরও বলেন, এখানে কোনো সন্দেহের অবকাশ নেই যে চিঠির শেষ লাইনের বক্তব্য ছিল, রাজা দ্বিতীয় এডওয়ার্ডকে এ মর্মে স্বীকৃতি দেওয়া উচিত যে রবার্ট ব্রুস স্কটিশ রাজা এবং স্কটল্যান্ড ইংল্যান্ড থেকে পৃথক। বিবিসি।

চীন সীমান্তের জন্য বিশেষ সেনা কোর করছে ভারত

চীনের সঙ্গে সীমান্তে মোতায়েনের জন্য সেনাবাহিনীর বিশেষ কোর গঠন করতে যাচ্ছে ভারত। দেশটির সেনাবাহিনী শিগগিরই এ-সংক্রান্ত প্রস্তাব মন্ত্রিসভার নিরাপত্তাবিষয়ক কমিটির (সিসিএস) অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করতে যাচ্ছে। এই কোরে ৪০ হাজার সেনা থাকবে বলে জানা গেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সেনাবাহিনীর এই উচ্চাভিলাষী প্রস্তাব সিসিএসের অনুমোদনের আগে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে। অনুমোদিত হলে এই বিশেষ কোর গঠনে ২০১২ থেকে ২০১৭ সালের মধ্যে ৬২ হাজার কোটি রুপি ব্যয় হবে। ভারতের সেনাবাহিনীর প্রথম পার্বত্য অভিযান কোর গঠনের প্রস্তাবটি কয়েক বছর ধরেই আলোচনায় ছিল। অর্থ মন্ত্রণালয় এর আগে এত বিপুল অর্থ ব্যয় নিয়ে প্রশ্ন তুলে এটি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ে ফেরত পাঠায়। কয়েক দিন আগে অর্থমন্ত্রণালয় আরও কিছু বিষয়ে ব্যাখ্যা চেয়ে পাঠায়। একটি সূত্র বলেছে, এটি অনুমোদন হওয়া এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র। সেনাবাহিনীর প্রস্তাবে বলা হয়েছে, নতুন কোরে দুটি পদাতিক ব্রিগেড ও পৃথক দুটি সাঁজোয়া ব্রিগেড থাকবে। এতে চীনের সঙ্গে সীমান্তে ক্ষমতার ভারসাম্যহীনতা কমবে বলে আশা করছে ভারত। প্রস্তাবিত এই কোরের সদর দপ্তর হবে পশ্চিমবঙ্গের পানাগড়ে। মনে করা হচ্ছে, এই কোর হলে চীনের হামলার মুখে ভারত প্রথমবারের মতো সে দেশের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল তিব্বতেও অভিযান চালাতে পারবে। চীন এরই মধ্যে ভারতসংলগ্ন সীমান্তে কমপক্ষে পাঁচটি পূর্ণাঙ্গ বিমানঘাঁটি, ব্যাপক রেলপথ, ৫৮ হাজার কিলোমিটার সড়কসহ বিভিন্ন সামরিক অবকাঠামো নির্মাণ করেছে। এর ফলে দেশটি ভারতের সঙ্গে সীমান্তের প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখায় ৩০ ডিভিশন সেনা মোতায়েন করতে পারবে। এতে ওই অঞ্চলে ভারতের চেয়ে তার সামরিকশক্তি হবে তিনগুণ বেশি। টাইমস অব ইন্ডিয়া।

ওকলাহোমায় ফের টর্নেডো, এবার পাঁচজন নিহত

যুক্তরাষ্ট্রের ওকলাহোমা অঙ্গরাজ্যে গত শুক্রবার আবারও টর্নেডো আঘাত হেনেছে। এবারের টর্নেডোর আঘাতে মা ও শিশুসহ অন্তত পাঁচজন নিহত হয়েছে। বেশ কয়েকজন আহতও হয়েছে। আহত ব্যক্তিদের মধ্যে পাঁচজনের অবস্থা গুরুতর। মিসৌরি অঙ্গরাজ্যের ওপর দিয়েও টর্নেডো বয়ে গেছে। মিসৌরির গভর্নর অঙ্গরাজ্যে জরুরি অবস্থা জারি করেছেন। সপ্তাহ দুয়েক আগে শক্তিশালী টর্নেডোর আঘাতে ওকলাহোমা সিটির মুর শহরতলি লন্ডভন্ড হয়ে যায়। ওই ঘটনায় অন্তত ২৪ জনের প্রাণহানি হয়। দেশটির আবহাওয়াবিদেরা বলছেন, এবারের টর্নেডো আগেরটির মতো ভয়ংকর ছিল না। শুক্রবার সন্ধ্যায় মুর শহরতলির কাছেই টর্নেডো আঘাত হানে। এ সময় বহু মানুষ গাড়িতে আটকা পড়ে। যানবাহন চলাচলেও চরম বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়। অন্তত ৬০ হাজার বাড়িঘর বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়ে। ঝড়ের সঙ্গে ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে বন্যার সৃষ্টি হয়। অনেক সড়ক পানিতে তলিয়ে গেছে। কোথাও কোথাও পানির উচ্চতা ছিল চার ফুট পর্যন্ত। পুলিশের একজন মুখপাত্র জানান, টর্নেডোর আঘাতে ওকলাহোমা সিটির কাছে একটি মহাসড়কে গাড়ির মধ্যেই ওই মা ও শিশুর মৃত্যু হয়। এ সময় বেশ কয়েকটি ট্রাক উল্টে যায়। ওকলাহোমা অঙ্গরাজ্যের শীর্ষ চিকিৎসা কর্মকর্তার কার্যালয়ের মুখপাত্র অ্যামি এলিয়ট বলেন, মা ও শিশু ছাড়া ইউনিয়ন সিটিতে দুজন এবং ওকলাহোমা সিটির পশ্চিমের এল রেনোতে একজনের মৃত্যু হয়েছে। ব্যান্ডি ভ্যানালফেন নামের একজন প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, ‘টর্নেডোর সময় আমি যানজটে আটকা পড়ি। এ সময় সাইরেনের আওয়াজে ভীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। আকাশে বিদ্যুতের প্রচণ্ড ঝলকানি দেখতে পাই। আমি রাস্তার পাশ দিয়ে দ্রুত গাড়ি চালাতে থাকি। অনেকে মাঠের ওপর দিয়েই গাড়ি চালিয়ে দেন।’ ওকলাহোমা সিটির মেয়র মিক করনেট বলেন, টর্নেডোর সময় অনেক মানুষ বিভ্রান্তের মতো আচরণ করেছে। এতে ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। ওকলাহোমা যুক্তরাষ্ট্রের মধ্য-পশ্চিম অঞ্চলে অবস্থিত। এটি দেশটির এমন একটি অংশে অবস্থিত, যাকে ‘টর্নেডো গলিপথ’ বলা হয়। সেখানে প্রতিবছর এক হাজার দুই শর মতো টর্নেডো আঘাত হানে। তবে এর অধিকাংশই অপেক্ষাকৃত ছোট। বিবিসি।

মালয়েশিয়ায় আন্দোলনের মুখে নির্বাচন কমিশনে সংস্কার

বিরোধী দলের আন্দোলনের মুখে নির্বাচন কমিশনে (ইসি) সংস্কারের ঘোষণা দিয়েছেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী নাজিব রাজাক। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত সাধারণ নির্বাচনে ব্যাপক কারচুপি হয়েছে—বিরোধী জোটের এ অভিযোগের মুখে গতকাল শনিবার এ ঘোষণা দেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী নাজিব বলেন, সরকারি ও বিরোধী দলের সমন্বয়ে পার্লামেন্টের একটি স্বাধীন বিশেষ কমিটি গঠন করা হবে। ওই কমিটি ইসির কাজের ওপর নজরদারি করবে। নাজিব আরও বলেন, ‘আমি উপলব্ধি করতে পারছি জনগণের একটা অংশ আমাদের নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে আরও শক্তিশালী দেখতে চায়। জাতীয় ঐক্যের স্বার্থে আমি তাই নির্বাচনী প্রক্রিয়া সংস্কারের ঘোষণা দিচ্ছি।’ তবে কী ধরনের সংস্কার আনা হচ্ছে, এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি প্রধানমন্ত্রী রাজাক। নাজিব রাজাকের এ ঘোষণাকে মূল বিরোধী জোট সতর্কতার সঙ্গে স্বাগত জানিয়েছে। তবে ইসির পদত্যাগের দাবিতে তারা অটল রয়েছে। পাশাপাশি নির্বাচনী ফলাফল চ্যালেঞ্জ করে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছে।
গত ৫ মে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে নাজিবের নেতৃত্বাধীন জোট ন্যাশনাল ফ্রন্ট পার্লামেন্টের ২২২টির মধ্যে ১৩৩টি আসনে জয়লাভ করে। সাবেক প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের নেতৃত্বাধীন মূল বিরোধী জোট পিপলস অ্যালায়েন্স ভোটে ব্যাপক কারচুপির অভিযোগে বিক্ষোভ করে আসছে এই জোট। পিপলস অ্যালায়েন্সের অভিযোগ, ইসি ৫৬ বছর ধরে ক্ষমতাসীন ন্যাশনাল ফ্রন্ট জোটের পক্ষে কাজ করছে। এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে ইসি। বিরোধী দলের জ্যেষ্ঠ রাজনীতিবিদ লিম কিট সিয়াং বলেছেন, ইসির সংস্কারের এ ঘোষণা ইতিবাচক। জনগণের আস্থা অর্জন করতে হলে ইসির শীর্ষ কর্মকর্তাদের অবশ্যই পদত্যাগ করতে হবে। এএফপি ও রয়টার্স।

ইরাকের সহিংসতা বন্ধে রাজনৈতিক সমাধান জরুরি

ইরাকের অব্যাহত সহিংসতা বন্ধে রাজনৈতিক সমস্যাগুলোর সমাধান করতে হবে। শুধু নিরাপত্তা জোরদার করে রক্তক্ষয় বন্ধ করা যাবে না। ইরাক বিশেষজ্ঞ ও দেশটির কর্মকর্তারা এ কথাই বলছেন। সংশ্লিষ্টদের অভিমত, ইরাকের সরকার সহিংসতা দমনে পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছে। শুধু গত মে মাসে সহিংসতায় ৬০০ জনের বেশি নিহত হয়েছে। আর গত দুই মাসে নিহতের সংখ্যা এক হাজারের ওপর। বিশেষজ্ঞদের মতে, ইরাকের চলমান সহিংসতার অন্যতম কারণ সুন্নিদের অসন্তোষ। কথিত বৈষম্য ও অবিচারের প্রতিবাদে গত ডিসেম্বরে দেশটির সুন্নিরা বিক্ষোভ করেন। পর্যবেক্ষকেরা বলছেন, এর সমাধানে শিয়া ও সুন্নি সম্প্রদায়ের মধ্যে আলোচনা ছাড়া উপায় নেই। এ প্রসঙ্গে আন্তর্জাতিক সংকটবিষয়ক গোষ্ঠীর (ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপ) ইরাক বিশেষজ্ঞ মারিয়া ফানটাপপাই বলেন, ইরাকের সরকারকে সত্যিকারের সমাধানের ইচ্ছা প্রদর্শন করে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে আন্তরিকভাবে আলোচনা করতে হবে। কিন্তু তাঁরা একটি নিরাপত্তাসংশ্লিষ্ট বিষয় হিসেবে সহিংসতার সমাধানের চেষ্টা করছে। এতে দেশটিতে সহিংসতা আরও বাড়ছে। অন্যদিকে ইরাক বিশেষজ্ঞ একই গ্রুপের চেয়ারম্যান ঝুঁকি পরামর্শক জন ডেরেক বলেন, নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে ও গ্রেপ্তারে সহিংসতা কমছে না, বরং বাড়ছে। ভিন্নমত পোষণকারীদের সঙ্গে আরও সংশ্লিষ্ট হয়ে সংলাপের মাধ্যমেই শুধু সহিংসতার সমাধান সম্ভব। কিন্তু বাগদাদ থেকে এখন পর্যন্ত সহিংসতার সমাধানে নেওয়া পদক্ষেপগুলো হলো কিছু ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার রদবদল ও নিরাপত্তা জোরদারে কিছু অস্পষ্ট পদক্ষেপ। তবে সরকারের কিছু পদক্ষেপ প্রশংসাযোগ্য। যেমন অনেক সুন্নি বন্দীর মুক্তি ও আল-কায়েদা জঙ্গি দমনে সুন্নি নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের পারিশ্রমিক বৃদ্ধি। তবে এগুলো সহিংসতা বন্ধের জন্য কোনো বড় পদক্ষেপ নয়। উল্লেখ্য, প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে ২০০৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ইরাক অভিযানে সাদ্দাম হোসেনের পতন পর্যন্ত সুন্নিরা সংখ্যালঘু হয়েও দেশ শাসন করেছে। তাই বর্তমানে দেশটির শাসন ক্ষমতায় থাকা শিয়াদের নিয়ে সুন্নিদের মধ্যে প্রচণ্ড অসন্তোষ আছে। তাঁরা অভিযোগ করছেন, শিয়ারা তাঁদের সম্প্রদায়ের ওপর রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টি করেছে। ইরাকের সুন্নি অধ্যুষিত অঞ্চলে গত বছর ডিসেম্বরে প্রথম বিক্ষোভ হয়। কিন্তু গত এপ্রিল মাসে সুন্নি বিক্ষোভে নিরাপত্তা বাহিনীর হামলায় অনেকে হতাহত হন। এ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে সম্প্রতি উত্তেজনা আরও বেড়েছে। ইরাকের বিভিন্ন দল ও মতের রাজনীতিকদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে। সুন্নি অসন্তোষ ও স্থানীয় অঞ্চলে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টাই এসব বিরোধের কারণ। ইরাকে অবস্থানরত জাতিসংঘের দূত মার্টিন কবলার বলেন, রাজনৈতিক মতবিরোধের মীমাংসা করা সম্ভব হলে নিরাপত্তাব্যবস্থা অবশ্যই জোরদার হবে। কারণ জাতিগত সংঘাত বন্ধ হয়ে যাবে। তবে, ইরাকে এর বিপরীত অবস্থা দেখা যাচ্ছে। ইউরেসিয়া গ্রুপের মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকা অঞ্চলের পরিচালক ক্রিসপিন হাওয়েস সুন্নিদের নিয়ে ইরাক সরকারের মনোভাব প্রসঙ্গে বলেন, ইরাকের সুন্নিদের ব্যাপারে শিয়া প্রধানমন্ত্রী নুরি আল-মালিকির কোনো সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা নেই। তাঁরা বরাবরই সুন্নিদের কারিগরি ও নিরাপত্তাঘটিত সমস্যা হিসেবে নিচ্ছেন। আল-মালিকির মনোভাবে বোঝা যাচ্ছে, তিনি ইরাকে রাজনৈতিক সমাধানে নয়, বরং সুন্নি দমনে নেমেছেন। এএফপি।

শপথ নিলেন পাকিস্তানের ঐতিহাসিক পার্লামেন্টের সদস্যরা

পাকিস্তানে নবনির্বাচিত পার্লামেন্ট সদস্যরা আনুষ্ঠানিকভাবে শপথ নিয়েছেন। গতকাল শনিবার চতুর্দশ জাতীয় পরিষদের প্রথম অধিবেশনে তাঁরা শপথ নেন। এর মধ্য দিয়ে পাকিস্তানের ৬৬ বছরের ইতিহাসে এই প্রথম কোনো নির্বাচিত সরকার মেয়াদ পূর্ণ করার পর নতুন পার্লামেন্ট সদস্যরা শপথ নিলেন। সকালে শপথ অনুষ্ঠানে যোগ দিতে নবনির্বাচিত আইনপ্রণেতারা কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে রাজধানীর ইসলামাবাদের পার্লামেন্ট ভবনে যান। জাতীয় সংগীত ও কোরআন তিলাওয়াতের মধ্য দিয়ে শপথ অনুষ্ঠান শুরু হয়। জাতীয় পরিষদের বিদায়ী স্পিকার ফাহমিদা মির্জা অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন। জাতীয় পরিষদ সচিবালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, আগামীকাল সোমবার গোপন ব্যালটের মাধ্যমে নতুন স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচিত হবেন। অন্যদিকে নির্বাচনে সবচেয়ে বেশি আসন জয়ী দল পাকিস্তান মুসলিম লিগ-নওয়াজের (পিএলএম-এন) প্রধান নওয়াজ শরিফ আগামী বুধবার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হয়ে ওই দিনই শপথ নেবেন। নতুন পার্লামেন্টে ৩৪২টি আসনের মধ্যে পিএলএম-এনের আসন ১৭৭টি। এ কারণে নওয়াজের শপথ নেওয়ার বিষয়টি প্রায় শতভাগ নিশ্চিত। পার্লামেন্ট সদস্য হিসেবে শপথ নেওয়ার জন্য গতকাল জন্মস্থান লাহোর থেকে বিমানে ইসলামাবাদে আসেন নওয়াজ শরিফ। বিমান থেকে নামার পর অপেক্ষমাণ সাংবাদিকদের তিনি বলেন, শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিকভাবে ক্ষমতা হস্তান্তরের বিষয়টি পাকিস্তানের জন্য একটি বড় অগ্রগতির বিষয়। তিনি এ জন্য জাতির প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। পার্লামেন্ট সচিবালয়ের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার পদের জন্য আজ রোববার দুপুর ১২টার মধ্যে মনোনয়নপত্র জমা দিতে হবে। গোপন ব্যালটের মাধ্যমে সোমবার এই দুই পদের নির্বাচন হবে। অন্যদিকে মঙ্গলবার বেলা দুইটার মধ্যে প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনের মনোনয়নপত্র জমা দিতে হবে। বুধবার নতুন প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হয়ে শপথ নেবেন। এদিকে গতকাল পার্লামেন্ট সদস্যদের শপথ গ্রহণের পর পিএমএল-এনের দলীয় বৈঠকে দলের পক্ষ থেকে নওয়াজ শরিফকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে মনোনয়ন দেওয়া হয়। দলের নেতা চৌধুরী নিসার আলী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নওয়াজের নাম প্রস্তাব করেন এবং সর্বসম্মতভাবে তা অনুমোদিত হয়। ওই বৈঠকে নওয়াজ বলেন, যাঁরা দায়িত্ব পালনকালে জাতীয় সম্পদ তছরুপ করেছেন, তাঁদের জবাবদিহি করতে হবে। নতুন আইনপ্রণেতাদের কাঁধে জাতির বিরাট দায়িত্ব রয়েছে বলেও মনে করিয়ে দেন তিনি। পাকিস্তানের ৬৬ বছরের ইতিহাসে দেশটিতে তিন দফায় সামরিক শাসন জারি হয়। এর মধ্যে কয়েকবার নির্বাচন হলেও নির্বাচিত সরকারের পেছনেও শক্তিশালী সামরিক বাহিনীর ছায়া সব সময় ছিল। আর এবারই প্রথমবারের মতো নির্বাচিত সরকার পুরো মেয়াদ টিকে থেকে গণতান্ত্রিকভাবে অন্য সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করল। এ অর্জনকে টেকসই গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য দেশটির সংগ্রামে এক বড় সাফল্য বলে মনে করা হচ্ছে। নির্বাচনে বিগত সরকারে থাকা পাকিস্তান পিপলস পার্টি (পিপিপি) হেরে গেলেও দলটির কো-চেয়ারম্যান আসিফ আলী জারদারি পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। আগামী সেপ্টেম্বরে তাঁর প্রেসিডেন্ট পদের মেয়াদ পূর্ণ হবে। এএফপি ও ডন।

রুলিং সত্ত্বেও সংসদে অসংসদীয় ভাষার ব্যবহার অব্যাহত: টিআইবি

জাতীয় সংসদের স্পিকারের বারবার রুলিং সত্ত্বেও অসংসদীয় ভাষার ব্যবহার অব্যাহত আছে। এ ছাড়া, প্রধান বিরোধী দলের সংসদ অধিবেশন বর্জন আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে।

বিশ্বজিৎ হত্যা মামলার বিচার শুরু

বিশ্বজিৎ দাস হত্যা মামলায় ২১ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়েছে। ঢাকার মহানগর দায়রা জজ জহুরুল হক আজ রোববার এ অভিযোগ গঠন করেন। এর মধ্য দিয়ে এ মামলার বিচার শুরু হলো।