Sunday, April 24, 2011

নারায়ণগঞ্জ হাইস্কুলের ১২৫ বছর উদ্যাপন

১৮৮৫ সালে সরকারি উদ্যোগে নারায়ণগঞ্জ শহরে সর্বপ্রথম ইংরেজি শিক্ষার প্রতিষ্ঠান নারায়ণগঞ্জ হাইস্কুল প্রতিষ্ঠিত হয়। সে সময় স্কুলটি বর্তমান আদর্শ বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের কাছাকাছি ছিল। ১৮৮৬ সালের মার্চ মাস থেকে নারায়ণগঞ্জ হাইস্কুলের দায়িত্বভার পৌর কমিশনারদের ওপর ন্যস্ত হয়। ১৮৮৮ সালে স্কুলটি পরিচালনার জন্য দুজন কমিশনার, চারজন শিক্ষানুরাগী ও মুনসেফকে নিয়ে একটি এডুকেশন কমিটি গঠন করা হয়। ১৯০৫ সালে নারায়ণগঞ্জ পৌরসভার নিজস্ব ভূমি বর্তমান স্থানে স্কুলটি স্থানান্তরিত করা হয়। শুরুতে এ স্কুলের প্রধান শিক্ষক ছিলেন মহিম গাঙ্গুলী।
১৮৮৫ সালে নারায়ণগঞ্জ হাইস্কুলই ছিল এই অঞ্চলের একমাত্র এনট্রান্স স্কুল। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে এ স্কুল থেকে প্রথম এনট্রান্স পরীক্ষায় প্রথম স্থান অধিকার করেন শচীভূষণ দত্ত। পরবর্তীকালে সুধীর চন্দ্র মজুমদার, করুণা কেতন সেন, সুনীল গুহ, সুভাষ ভট্টাচার্য এনট্রান্স পরীক্ষায় মেধাতালিকায় কৃতিত্বের স্বাক্ষর রেখে ভারতবর্ষে স্কুলটির সুনাম গড়ে তোলেন। পরবর্তী সময়ে করুণা কেতন সেন পশ্চিমবঙ্গ সরকারের মুখ্য সচিবের দায়িত্ব পালন করেছেন।
বিভিন্ন সময়ে এ স্কুলে এসেছেন বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, নেতাজি সুভাষ বসু, শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হক, মুহম্মদ শহীদুল্লাহ, মুহম্মদ কুদরাত-এ-খুদা, জ্যোতি বসুসহ অনেকে। এ স্কুলের সঙ্গে জড়িয়ে আছে নারায়ণগঞ্জের দীর্ঘ ইতিহাস। এ স্কুলের কৃতী ও খ্যাতিমান ছাত্রদের তালিকায় রয়েছেন চিত্রশিল্পী মুস্তাফা মনোয়ার, বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রথম গভর্নর নূরুল ইসলাম, বাংলাদেশ সরকারের সাবেক মুখ্য সচিব কামাল সিদ্দিকী, বর্তমান সরকারের প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা জে. (অব.) তারেক সিদ্দিকী, বঙ্গবন্ধুর কন্যা শেখ রেহানার স্বামী শফিক সিদ্দিকী, বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর বর্তমান প্রধান এয়ার মার্শাল শাহ এম জিয়াউর রহমান, সাবেক সচিব ও পিএসসির সদস্য নুরুন্নবীসহ অনেকেই।
সাহিত্য-সংস্কৃতি ও ক্রীড়ার ক্ষেত্রে এ স্কুলের যথেষ্ট সুনাম ছিল। দেশে ও দেশের বাইরে এ স্কুলের ছাত্ররা ক্রীড়া ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা এখন পর্যন্ত পালন করে আসছে। আশির দশকে এ স্কুলের খুদে ছাত্ররা কয়েকবার পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন স্থানে খেলতে গিয়ে কৃতিত্বের স্বাক্ষর রেখেছে। পশ্চিমবঙ্গের তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী জ্যোতি বসু নারায়ণগঞ্জ হাইস্কুলের ফুটবল দলের ভূয়সী প্রশংসা করেছিলেন। তখন কলকাতা ও ভারতের বিভিন্ন রাজ্যের বাংলা ও ইংরেজি সংবাদপত্রে স্কুলের ফুটবল দলটি নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করে। পরে নব্বই দশকেও এ স্কুলের ফুটবল, হকি, ক্রিকেট ও দাবা খেলোয়াড়েরা আন্তস্কুল প্রতিযোগিতায় জাতীয়ভাবে হ্যাটট্রিক চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করেছিল। পরবর্তী সময়ও এ ধারাবাহিকতা অক্ষুণ্ন থেকেছে।
আজ এ স্কুলটি ১২৫ বছর অতিক্রম করেছে। ১২৫ বছর মহাকালের হিসেবে ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র হলেও জীবনপ্রবাহে এর পরিসীমা নিতান্তই কম নয়। চারটি প্রজন্ম এ সময়ে এই স্কুল থেকে শিক্ষা গ্রহণ করে ছড়িয়ে পড়েছে দেশ ও দেশের বাইরে।
২২ ও ২৩ এপ্রিল ২০১১ আমাদের প্রিয় স্কুলটির ১২৫ বছর পূর্তি অনুষ্ঠান। শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ উৎসবটি উদ্বোধন করবেন। সমাপনী দিনে থাকছেন কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী। এ অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যে দেশ ও দেশের বাইরের অনেকেই নাম নিবন্ধন করেছেন। ইতিমধ্যে এ উৎসবে যোগ দেওয়ার জন্য দেশের বাইরে থেকেও অনেকে দেশে চলে এসেছেন। কয়েক প্রজন্মের সাবেক ছাত্রদের প্রীতি সম্মিলন ও মিলনমেলা ঘটবে স্কুল প্রাঙ্গণে। এ উৎসব-অনুষ্ঠান আজকের ছাত্রদের মধ্যে আরও প্রাণসঞ্চার করবে। এ অনুষ্ঠানের দ্যুতি ছড়িয়ে পড়বে সারা দেশে—এটাই আমাদের সবার প্রত্যাশা।
রফিউর রাব্বি

ব্যালট বিপ্লবে বাম দুর্গে ফাটল আসন্ন! by মিজানুর রহমান খান

‘অনেক হয়েছে, আর নয়।’ একটি শিশুর কণ্ঠে টিভি বিজ্ঞাপন ধ্বনিত হচ্ছে। ৩৫ বছর ধরে চলছে বাম শাসন। এই শাসনের অবসানের আকুল আহ্বান তৃণমূলের প্রচারণায়। কেরালায়ও বামেরা সরকার গঠন করে। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গের মতো একটানা নয়। বামেরা সেখানে বিরোধী দলেও বসে। সিপিএমবিরোধীরা বলছেন, ‘আমরা পশ্চিমবঙ্গে গণতন্ত্র আনতে চাই।’
বামফ্রন্টের লাল দুর্গে এবার চিড় ধরবে কি না, সেটাই এই মুহূর্তের কোটি টাকা দামের প্রশ্ন। এর উত্তর জানতে অপেক্ষা করতে হবে ১৩ মে পর্যন্ত। এই অপেক্ষা অনেক রাজ্যবাসীর কাছে শ্বাসরুদ্ধকর।
বাংলা দৈনিক স্টেটসম্যান-এর সম্পাদক মানস ঘোষ মনে করেন, ‘শুধু এক কারণেই পরিবর্তন আসা অনিবার্য। সিপিএম নির্যাতনের পদ্ধতি হিসেবে নারী ধর্ষণের পথ বেছে নিয়েছে। কি হিন্দু, কি মুসলিম, মায়ের জাতকে তারা অপমান করেছে। তাই মায়েরাই এবার বদলা নেবে।’ তাঁর কথায়, ‘বামদের যদি নীরব ব্যালট বিপ্লবের মাধ্যমে সরানো সম্ভব হয়, সেটা হবে বিশ্ব ইতিহাসের একটা বিরল ঘটনা।’ রাজ্যে নারীরা সুরক্ষিত নন, সে কথা বুধবার রাজ্যে এসে সোনিয়া গান্ধীও বললেন। জ্যেষ্ঠ বাম নেতা বিধানসভার বিদায়ী স্পিকার হাসিম আবদুল হালিম অবশ্য প্রথম আলোকে জানালেন, সিপিএমের বিজয় সম্পর্কে তিনি প্রচণ্ড আশাবাদী। ৭৭ বছর বয়স্ক এই নেতা দলের পক্ষে নির্বাচনী প্রচারণায় ব্যস্ত। রাজ্যের সাবেক অর্থমন্ত্রী ও বিশিষ্ট লেখক অশোক মিত্রের অকপট স্বীকারোক্তি, ‘একটা হামবড়া ভাব এসে গেছে। একটা জমিদারিসুলভ মনোভাব ওপর থেকে নিচ পর্যন্ত দেখছি।’ এই প্রবীণ নেতা অনেক দিন ধরে সক্রিয় রাজনীতি থেকে দূরে। তিনি আরও বললেন, বামফ্রন্টের বিচ্যুতির কারণেই মানুষ দূরে সরে গেছে। তবে তাঁর শেষ কথা, নির্বাচনে বামফ্রন্টই জিতবে।
সন্দেহ নেই যে ৩৫ বছরের মধ্যে এবারই সবচেয়ে বেশি চাপের মুখে রয়েছে বামফ্রন্ট। তাঁরাও স্বীকার করেন, এটা কঠিন লড়াই। একই সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের অগ্নিকন্যা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য উভয়ের দাবি, পরবর্তী সরকারের নেতৃত্ব দেবেন তাঁরাই। ইতিমধ্যে মিডিয়ার একাংশ মমতাকে ভাবী মুখ্যমন্ত্রী বলা শুরু করে দিয়েছে। পরিবর্তনের জ্বরে আক্রান্ত কলকাতা। সবার চোখ মহাকরণে। টিভি তর্কে বামফ্রন্ট ও তৃণমূলই মুখোমুখি। ছয় ধাপে রাজ্য বিধানসভার নির্বাচন হচ্ছে। নেতা-নেত্রীরা নির্বাচনী প্রচারণায় প্রতিদিনই চষে ফেলছেন রাজ্য। প্রথম ধাপে ১৮ এপ্রিল ভোট হলো উত্তরবঙ্গে। ভোট পড়েছে ৮৪ শতাংশের বেশি। আগেও এখানে ভোটের হার ৭৫ থেকে ৮০ শতাংশের মধ্যেই ছিল। এটুকুই এ পর্যন্ত নির্দিষ্ট। এর তাৎপর্য কী হতে পারে, তার সবটাই অনুমাননির্ভর। এ নিয়ে দুই রকম ব্যাখ্যা। বাড়তি ভোট মানে সিপিএমের ভরাডুবি। এ পর্যন্ত পরিচালিত জনমত সমীক্ষায় এগিয়ে তৃণমূল। বুদ্ধদেব মিডিয়ার পক্ষপাতিত্বে ক্ষুব্ধ। বিমান বসু বলেন, কোনো সমীক্ষায় কাজ হবে না। ক্ষমতায় ফিরছে বামেরাই। প্রথম দিনের ভোটের পর উভয় পক্ষই জনগণকে অভিনন্দন জানায়। তবে অভিযোগের সুর তৃণমূলেরই ছিল। সিপিএমের পক্ষে সরকারি কর্মকর্তারা ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন বলে তাদের অভিযোগ। তবে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে কারও অভিযোগ নেই। নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু হয়েছে। ২০ এপ্রিল রাত সাড়ে ১০টায় মুর্শিদাবাদের সীমান্তবর্তী ডোমকলে বোমা বানাতে গিয়ে তিনজনের মৃত্যু ঘটেছে। অপর একটি এলাকায় দুজন বিরোধীদলীয় কর্মীকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। অভিযোগের তীর সিপিএমের দিকে।
নির্বাচনী প্রচারণায় অর্থনীতি, কালো টাকা, দুর্নীতি ও সন্ত্রাসের দিকটিই বড় হয়ে উঠছে। জিনিসপত্রের অগ্নিমূল্যের জন্য বামফ্রন্ট দুষছে কেন্দ্রকেই। কালো টাকা নিয়ে কয়েক দিন ধরে কাজিয়া চলছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় হেলিকপ্টারে চেপে জনসভায় ভাষণ দিয়ে ফেরেন কালীঘাটে। তাঁর ভাষণ মানুষকে টানছে। মমতা অনলবর্ষী। অন্যদিকে সিপিএমের জনসভাগুলোতেও মানুষের স্রোত বইছে। বিরোধী দলের ঘাঁটি বেহালায় বুধবার মুখ্যমন্ত্রীর জনসভায় মানুষের ভিড় ছিল লক্ষণীয়। বেহালার চৌরাস্তায় বুধবার দেখা হয় বুদ্ধদেব ও মমতার। আচরণ শেখ হাসিনা-খালেদা জিয়ার মতোই।
পাপের টাকা: ‘পাপের টাকা’ শব্দটি উভয় শিবিরে ব্যবহূত হচ্ছে। কালো টাকা নিয়ে ধুন্ধুমার বিতর্ক। মমতার বাক্যবাণ, ‘কমরেড, কত জমি, কটা গাড়ি, কটা শপিং মল? আমার মুখ খোলাবেন না। পাপ মুখ্যমন্ত্রীকে দেখলে লজ্জায় মুখ লুকায়। এখন চোরের মায়ের বড় গলা। বুধবার নতুন উত্তেজনা উসকে দিলেন কংগ্রেস সভানেত্রী সোনিয়া গান্ধী। মুর্শিদাবাদের সালারে তিনি বলেন, ‘এ রাজ্যে নকশাল-অধ্যুষিত এলাকায় হাজার হাজার, কোটি কোটি রুপি ঢেলেছে কেন্দ্রীয় সরকার। সেই টাকা গেল কোথায়? রাজ্যের এই হাল কেন?’ সোনিয়া আরও বলেন, ‘আমি দুঃখের সঙ্গে বলছি। গত ৩৪ বছরে পশ্চিমবঙ্গের কাঁধে দায়ের বোঝা চেপেছে দুই লাখ কোটি রুপি। পশ্চিমবঙ্গ এখন দেউলিয়া হয়ে পড়েছে।’ মমতার প্রতিটি কথা যেভাবে খণ্ডন করা হয়, সেভাবে কিন্তু সোনিয়ার সমালোচনার জবাব দেননি বাম নেতারা।
প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং রাজ্যে আসছেন। বামফ্রন্ট বলছে, তিনি এলে কোনো ফায়দা মিলবে না। মমতা বলেন, এর আগে লোকসভা নির্বাচনের সময় তিনি এসেছিলেন। তৃণমূল জিতেছে। এবারও তা-ই হবে। তাঁর আসা মানে তাঁকে এ রাজ্যকে টাকা দিতে হবে। মমতা মাঝেমধ্যে এমন উক্তি করছেন যে তিনি ইতিমধ্যে ক্ষমতায়। তবে দুই তরফের চাপানউতোরে একদিকে মমতা, অন্যদিকে গৌতম দেব। দেব সিপিএম সরকারের আবাসনমন্ত্রী। সেয়ানে সেয়ানে লড়াই। নিউজ টাইম চ্যানেলে তাঁদের সংলাপ চলে এ রকম:
গৌতম দেব: কালো টাকার হিসাব চাই। প্রত্যেক প্রার্থীকে ২৫ লাখ টাকা দেওয়া হলো। তারা ৩৩ কোটি টাকা বিলালো। কোথা থেকে এল? তৃণমূল চাঁদা নিয়ে কুপন দেয়। গৌতম বুধবার এক সভায় চাঁদা তোলার কুপনের রসিদ দেখান। তাঁর দাবি, মুড়ির দিকটা নেই। তিনি নির্বাচন কমিশনে এর তদন্ত চাইছেন। কুপন পোড়ানো নিয়ে তাঁর সঙ্গে গলা মেলান জ্যেষ্ঠ নেতা বিমান বসু, বুদ্ধদেবও। বিমান বুধবার প্রেসক্লাবে মিট দ্য প্রেসে বলেন, একজন বাদে তৃণমূলের সব প্রার্থীকে প্রায় ২১ লাখ করে টাকা দেওয়া হয়েছে। ৩৪ কোটি কালো টাকার হিসাব চাইতে হবে কমিশনকে।
মমতার উত্তর: আমাদের কুপন আমরা পুড়িয়েছি। বেশ করেছি।
গৌতম দেব: বললেই হলো। এ জন্য জেলে যেতে হবে। টিভিতে এত বাহারি বিজ্ঞাপন। দুটো হেলিকপ্টার চলছে। টাকা আসে কোথা থেকে?
মমতা উড়িয়ে দেন, আমাদের তহবিলে পাঁচ কোটি টাকা নেই, এই দলের কী আছে? এর পরই তাঁর নিজস্ব ভঙ্গিমায় কটাক্ষ, সিপিএম, তুমি চালাকি কোরো না। মানহানির মামলা করব। তুমি মিথ্যাবাদী। কুৎসা রটনাকারী। যত খুশি মামলা ঠুকুন। তাতে আমাদের কিছু যায়-আসে না। সিপিএম তুমি তৈরি হও। হাওয়া বদলাচ্ছে। তৃণমূল চাইলে মুম্বাই থেকে চেন্নাই, সারা পৃথিবী থেকে টাকা নিতে পারত। কিন্তু তা আমরা নিইনি।
গৌতম দেব বলেন, কারা টাকা দিতে চাইল নাম প্রকাশ করতে হবে। এরা টাকা দিতে চায় কেন। খারাপ লোকের সঙ্গে যোগাযোগ হয় কী করে?
মমতার উক্তি: কোটি কোটি টাকা কোথা থেকে আসে, সেটা শুনতে চাই? শপিং মল কোথা থেকে আসে? তাঁর দাবি, বামফ্রন্টের নেতারা গত ৩৫ বছরে আঙুল ফুলে কলাগাছ হয়েছেন। বুধবার রায়দীঘির ঢোলায় তৃণমূলের প্রার্থী দেবশ্রী রায়কে সঙ্গে নিয়ে মমতা জনসভায় বলেন, বুদ্ধের সরকারটাই চলে কালো টাকায়।
বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য এর আগে বলেন, ‘আমি কোনো দিন অপরাধীর কাছ থেকে টাকা নিইনি। আমি কোনো দিন কালো টাকা ছুঁয়ে দেখিনি।’ প্রবীণ নেতা শ্যামল চক্রবর্তী গতকাল বলেন, মমতা মিথ্যার রানি। বুদ্ধদেব বলেন, তৃণমূলের কালো টাকার সব প্রমাণপত্র নির্বাচন কমিশনে দেওয়া হয়েছে। কংগ্রেসের সাংসদ অধীর চৌধুরী বলেন, এখন সিপিএম কালো টাকা নিয়ে কথা বলছে কেন। তাদের অপসারণের পর তাদের সম্পদের বিষয়ে তদন্ত করা হবে।
মুম্বাই হাইকোর্টের সাবেক প্রধান বিচারপতি চিত্ততোষ মুখোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন ইলেকশন ওয়াচ ভোট পর্যবেক্ষণ করছে। এ সংস্থার রাজ্য সংযোজক বিপ্লব হালিম গতকাল প্রথম আলোকে বলেন, ‘কালো টাকার দূষণমুক্ত কেউ নয়। রাজ্যবাসীর মনে সে কারণে গোটা নির্বাচনী ব্যবস্থা সম্পর্কেই একটা আস্থাহীনতা দেখা দিয়েছে।’
নির্বাচনী ইশতেহার: পশ্চিমবঙ্গ নির্বাচনী রাজনীতিতে কেন্দ্রের কাছে দায়দেনা, সরকারি কর্মচারী, বিশেষ করে শিক্ষকদের বেতন-ভাতায় অনিশ্চয়তা, দুর্নীতি, শিল্প বিনিয়োগে মন্দা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উল্লেখযোগ্য। তৃণমূল তাদের সরকারের প্রথম ১০০ দিন এবং পরবর্তী ১০০০ দিনের অগ্রাধিকার ঘোষণা করেছে নির্বাচনী ইশতেহারে। পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান অবস্থা কেমন তার একটা হিসাব দিয়েছে তারা। সর্বভারতীয় শিল্পায়ন যখন ২২ থেকে ২৫ ভাগ, ওডিশা ও গুজরাট যখন এই হার বজায় রাখছে, তখন পশ্চিমবঙ্গ নিম্নমুখী। ১৯৭৫-৭৬ সালে ছিল ২৭ ভাগ, ২০০৭-০৮ সালে ১৮.০৬ ভাগ এবং ২০০৮-০৯ সালে ১৮.০৪ ভাগ। তৃণমূলের জনপ্রিয় স্লোগান, ‘বদল চাই, বদলা চাই না’।
বামফ্রন্টের ইশতেহারে বলা হয়েছে, কেন্দ্রের জনবিরোধী নীতি ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে বিকল্প দেবে তারা। মাধ্যমিক পরীক্ষায় দুই লাখের বেশি ছেলে মুসলিম। প্রায় ৬০০ মাদ্রাসা করেছে বাম সরকার। কৃষিজমির ৮৪ ভাগ এখন পাঁচ একরের কম জমির মালিকদের হাতে। সমগ্র ভারতে খাদ্য উৎপাদন কমেছে। পশ্চিমবঙ্গে বেড়েছে। গত পাঁচ বছরে রাজ্যে ৩৫ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ হয়েছে। তাদের তিন প্রধান লক্ষ্য: দারিদ্র্যসীমার নিচের মানুষের উন্নয়ন, ক্রয়ক্ষমতা, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য—এই তিন মাপকাঠিতে মানব উন্নয়ন সূচক নির্ধারণ এবং দরিদ্রতম ৪০ লাখ মানুষের উন্নয়ন।
বাংলাদেশ প্রসঙ্গ: মমতার ইশতেহারে বাংলাদেশ এসেছে ভারতের অন্যতম পূর্বাঞ্চলীয় কুটুম হিসেবে। তিনি পশ্চিমবঙ্গকে এই অঞ্চলের পরিবহন করিডর হিসেবে গড়ে তুলতে চান। শোনা গেল, তিনি জয়ী হওয়ার অল্প সময়ের ব্যবধানে বাংলাদেশ সফরে যেতে পারেন। বামফ্রন্টের ইশতেহারে বাংলাদেশ প্রসঙ্গ এসেছে এভাবে: পশ্চিমবঙ্গের উদ্বাস্তু পুনর্বাসন এবং ১৯৭১ সালের পর যাঁরা বাংলাদেশ থেকে পশ্চিমবঙ্গসহ দেশের অন্যান্য রাজ্যে চলে আসতে বাধ্য হয়েছেন, তাঁদের সম্পর্কে কেন্দ্রকে যথাযথ ভূমিকা পালনের দাবিতে ব্যাপক জনমত সৃষ্টি করা হবে। বামফ্রন্ট তাদের ভাষায়, তৃণমূল কংগ্রেস-মাওবাদী-কংগ্রেস ইত্যাদির নীতিহীন সুবিধাবাদী মহাজোটকে পরাস্ত করে।
বামফ্রন্ট কমিটির চেয়ারম্যান বিমান বসু গতকাল কলকাতা প্রেসক্লাবে বলেন, বামফ্রন্ট সরকারকে হটাতে একটি মার্কিন নীলনকশা রয়েছে। সে কারণেই তৃণমূলের সঙ্গে জোট বেঁধেছে কংগ্রেস। তাঁর অভিযোগ, কলকাতার মার্কিন কনস্যুলেট কয় দিন আগে সংখ্যালঘুদের সঙ্গে বৈঠক করেছে। সিআইএ মদদ দিচ্ছে। বামফ্রন্ট অবশ্য তাদের নির্বাচনী ইশতেহারের দ্বিতীয় বাক্যেই বলেছে, মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ তাদের সংকটের বোঝা ভারতীয় জনগণের ওপর চাপিয়ে দিচ্ছে। এটা প্রতিহত করতে হবে।
কলকাতা, ২১ এপ্রিল ২০১১
মিজানুর রহমান খান: সাংবাদিক।
mrkhanbd@gmail.com

জেলা পরিষদের গাড়ি

সংবিধানে শক্তিশালী স্থানীয় সরকার সংস্থার কথা বলা হলেও স্বাধীনতার ৪০ বছর পরও কোনো পর্যায়ে তা বাস্তবায়িত না হওয়া দুর্ভাগ্যজনক। ক্ষমতাসীনেরা বরাবর স্থানীয় সরকার সংস্থাগুলোকে সক্রিয় করার চেয়ে দলীয় স্বার্থে ব্যবহারে সচেষ্ট হয়েছে। জনগণের প্রত্যাশা ছিল, দিনবদলের কথা বলে ক্ষমতায় আসা আওয়ামী লীগ তথা মহাজোট সরকারের আমলে পরিস্থিতির উন্নতি হবে। কিন্তু তার কোনো লক্ষণ নেই। দীর্ঘদিন পর বহুল আলোচিত উপজেলা পরিষদ নির্বাচন হলেও চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যানদের ঠুঁটো জগন্নাথ করে রাখা হয়েছে। যদিও তাঁদের দামি গাড়ি ও আলিশান অফিস দেওয়া হয়েছে। এখন আবার প্রস্তাবিত জেলা পরিষদ এবং গাড়ি ও অফিসের জন্য স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় ২০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে বলে পত্রিকায় প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। এ ছাড়া জেলা পরিষদের নির্বাচন না হওয়া পর্যন্ত অন্তর্বর্তী প্রশাসক নিয়োগসংক্রান্ত একটি প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে। কোনো স্থানীয় সরকার সংস্থায় এ ধরনের প্রশাসক নিয়োগ গণতন্ত্র ও সংবিধানের পরিপন্থী। সংবিধানে নির্বাচিত স্থানীয় সরকার সংস্থার কথা বলা হয়েছে। আর জেলা পরিষদ গঠনের আগেই প্রশাসক/চেয়ারম্যানদের জন্য গাড়ি কেনাও যুক্তিযুক্ত নয়।
সরকারের কাছে স্থানীয় সরকারের সংজ্ঞা কী? তারা কি মনে করে, গাড়ি, অফিস ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সুযোগ-সুবিধা দিলেই স্থানীয় সরকার জোরদার হবে? না হলে জেলা পরিষদ গঠনের আগেই এর চেয়ারম্যানের অফিস সাজানো এবং তাঁদের গাড়ির জন্য ২০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হবে কেন? অজুহাত হিসেবে দেখানো হয়েছে, উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের পরও অনেক উপজেলা চেয়ারম্যান গাড়ি পাননি। তাঁরা তো দায়িত্ব ও ক্ষমতাও বুঝে পাননি। সেসব নিয়ে সরকারের কোনো মাথাব্যথা নেই। মনে হচ্ছে, সরকার জেলা-উপজেলা পরিষদের গাড়ি কেনার ব্যাপারে যতটা উদ্গ্রীব, ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণে ততটাই অনাগ্রহী।
জেলা পরিষদ সক্রিয় হোক, এর কার্যক্রম বাড়ুক—সেটি সবার প্রত্যাশা। তবে সেই জেলা পরিষদ হতে হবে নির্বাচিত। মনোনীত বা নিযুক্ত কোনো কর্মকর্তার দ্বারা স্থানীয় সরকার সংস্থা পরিচালিত হতে পারে না। যেখানে নির্বাচিত প্রতিনিধিরাই জনগণের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতি পালন করেন না, সেখানে অনির্বাচিত ব্যক্তিরা কী করবেন, তা সহজেই অনুমান করা যায়। সরকারকে আগে মনস্থির করতে হবে, স্থানীয় সরকারের সংস্থাগুলো সক্রিয় ও কার্যকর হোক, তা তারা চায় কি না? চাইলে সংস্থাগুলোর আইন ও কার্যবিধিও সেভাবে তৈরি করতে হবে। জনগণের করের পয়সায় এ ধরনের নামকাওয়াস্তে স্থানীয় সরকার সংস্থা কাম্য নয়। অতীতে অনির্বাচিত ও সামরিক সরকার স্থানীয় সরকারের সংস্থাগুলোকে ক্ষমতার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেছে। বিপুল ভোটে ক্ষমতায় আসা মহাজোট সরকারও যদি সেই সামরিক স্বৈরাচারের পথে হাঁটে, তা হবে দুর্ভাগ্যজনক। অতএব, নির্বাচনের মাধ্যমেই জেলা পরিষদ গঠনের উদ্যোগ নিতে হবে, অন্য কোনো উপায়ে নয়। ঘোড়ার আগে গাড়ি জুড়ে দেওয়ারও কোনো মানে নেই।

উচ্চ আদালতের রায় ও তাহেরের রাজনীতি by মুশতাক হোসেন

২২ মার্চ, ২০১১। বাংলাদেশের উচ্চ আদালত এক ঐতিহাসিক রায়ে কর্নেল (অব.) আবু তাহেরের (বীর উত্তম) ফাঁসি ও সহ-অভিযুক্ত ব্যক্তিদের দণ্ডাদেশ অবৈধ ও বাতিল ঘোষণা করেছেন। ১৯৭৬ সালের জুন-জুলাইয়ে গোপন বিশেষ সামরিক আদালতে কর্নেল তাহের, মেজর (অব.) এম এ জলিল, আবু ইউসুফ খান বীর বিক্রম, আ স ম আবদুর রব, হাসানুল হক ইনু, শরীফ নূরুল আম্বিয়া, মেজর জিয়াউদ্দিন, আনোয়ার হোসেনসহ ৩৩ জনের বিচার করা হয়, ১৭ জনকে শাস্তি দেওয়া হয়। ১৭ জুলাই রায় দেওয়ার পর ২১ জুলাই ভোর চারটায় ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে মুক্তিযুদ্ধে ১১ নম্বর সেক্টরের অধিনায়ক, সিপাহি জনতার অভ্যুত্থানের স্থপতি আবু তাহেরকে ফাঁসি দিয়ে হত্যা করা হয়। আদালত গোটা মামলাকে বাতিল ঘোষণা করেন, তাহেরসহ অন্য সহ-অভিযুক্ত ব্যক্তিদের দেশপ্রেমিক এবং তাহেরকে শহীদ হিসেবে আখ্যায়িত করেন, সরকারকে মামলায় ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দেওয়ার ব্যবস্থা গ্রহণ করতে বলেন।
২২ মার্চ ঘোষিত এ রায়ের আগে ও পরে বেশ কিছু লেখকের লেখা বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে, যা বিশদ আলোচনার দাবি রাখে। তবে সেসব লেখা পড়ে একদিকে ভালো লেগেছে যে তাঁরা ৭ নভেম্বরের সিপাহি জনতার অভ্যুত্থান ও পূর্বাপর প্রসঙ্গের রাজনৈতিক বিভিন্ন পুরোনো প্রশ্নের নতুন করে অবতারণা করেছেন, যা নতুন প্রজন্মের কাছে পরিষ্কার হওয়া দরকার।
আসিফ নজরুল (প্রথম আলো, উপসম্পাদকীয়, ১৮-০৩-১১), ‘বিপ্লব বা মুক্তিসংগ্রাম মানেই হচ্ছে বিদ্যমান একটি ব্যবস্থার বিরুদ্ধে যুদ্ধ। সেখানে পরাজয় মানে মৃত্যু, জয় মানে সর্বোচ্চ সম্মান।’ কিন্তু সেসব দেশে হত্যাকারী শাসককে কোনো গণতন্ত্রমনা লেখক কি বিপ্লবীদের সঙ্গে এক কাতারে পাঁচ ফুটের চেয়ে উঁচু মানব হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন? মুক্তিযুদ্ধ ১৯৭১ সালে ব্যর্থ হলে বঙ্গবন্ধু ও অন্য নেতাদের পাকিস্তানি সেনাবাহিনী হত্যা করলেও কি তা পৃথিবীতে জায়েজ হতো? নাকি চরমভাবে ঘৃণিত হতো? তিনি আরও লিখেছেন, ‘এ রকম হত্যাকাণ্ডের (কখনো বিনা বিচারে, কখনো বিচারের নামে প্রহসনের মাধ্যমে) শিকার হয়েছেন চে গুয়েভারা থেকে আমাদের মাস্টারদা সূর্য সেনসহ সারা পৃথিবীর নানা বিপ্লবী।’ কথাটা সত্য। ইতিহাস কি হত্যাকারীদের হত্যার শিকার বিপ্লবীদের সঙ্গে এক কাতারে দাঁড় করিয়ে উভয়কেই পাঁচ ফুটের চেয়ে উঁচু মানব বলেছে, না তাঁদের ইতিহাসের আস্তাকুঁড়ে নিক্ষেপ করেছে? তাঁর পদ্ধতি ব্যর্থ হওয়ার পরিণতি আর কী হতে পারত? পদ্ধতি ব্যর্থ হলে বিপ্লবীরা জীবন দেয়, কিন্তু যারা জীবন নেয়, তারা ভেসে যায় গণপ্রতিরোধের মুখে, মুখ লুকায় অন্ধকার গর্তে। সূর্য সেন, চে গুয়েভারার পদ্ধতি নিয়ে নানা তর্ক-বিতর্ক এখনো আছে, কিন্তু তাঁদের হত্যাকাণ্ডের সাফাই গাওয়ার কোনো মানুষ আজ খুঁজে পাওয়া যাবে না, পাঁচ ফুটের বেশি লম্বা মানুষ হিসেবে চিহ্নিত করা তো দূরের কথা!
কর্নেল তাহের ও তাঁর রাজনৈতিক অনুসারীরা নিশ্চয়ই চূড়ান্ত লক্ষ্য হিসেবে শ্রেণীহীন সমাজব্যবস্থায় বিশ্বাসী। কিন্তু ৭ নভেম্বর সিপাহি বিপ্লবের রাজনৈতিক কর্মসূচি ও স্লোগান শ্রেণীহীন সামরিক বাহিনী বা সমাজতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠা ছিল না, ছিল গণতান্ত্রিক জাতীয় সরকার প্রতিষ্ঠা, যা গণতন্ত্রকে পুনঃপ্রতিষ্ঠিত করত এবং সমাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রামকে এগিয়ে নিত। বিপ্লবী সৈনিক সংস্থার ১২ দফায় গণবাহিনী প্রতিষ্ঠা করার দাবি, প্রতিরক্ষা বাহিনী পুনর্গঠনের মুক্তিযুদ্ধের দর্শনকেই তুলে ধরেছিল। ১২ দফায় দাসত্বমূলক ব্যাটম্যান প্রথা বাতিল, কমিশন-ননকমিশন নামে দুই রকম নিয়োগের প্রথা বাতিল করে একই নিয়মে সেনা সদস্যদের রিক্রুট করে মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে উচ্চতর পদে নিয়োগ, কর্মকর্তা ও সেনাসদস্যদের একই মেসে খাবার ব্যবস্থা, একই রেশন-ব্যবস্থার দাবি প্রভৃতি ছিল। দাবির যৌক্তিকতা অনুধাবন করে তাৎক্ষণিকভাবেই দাসত্বমূলক ব্যাটম্যান প্রথা বাতিল করা হয়েছিল। এখন প্রতিরক্ষা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কোনো কোনো অংশে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের একই রেশনিং ব্যবস্থা চালু হয়েছে।
সোহরাব হাসান (প্রথম আলো, কালের পুরাণ, ৩০-৩১ মার্চ ২০১১) কর্নেল তাহের তথা জাসদ ১৯৭৫-এর ৭ নভেম্বর সিপাহি গণ-অভ্যুত্থানের সময় বাকশালকে বাদ দিয়ে গণতান্ত্রিক জাতীয় সরকার গঠনের দাবি করা হলো কেন, সেই প্রশ্ন তুলেছেন। বাকশালকে বাদ দিয়েই সেটা করতে হতো। কারণ, বাকশালকে মেনে নিলে একদলীয় ব্যবস্থায় অন্য কোনো দলের অস্তিত্ব থাকে না। বাকশাল বিলুপ্ত হলে আওয়ামী লীগ, ন্যাপ (মোজাফ্ফর), সিপিবি পুনরুজ্জীবিত হতো (যেটা ১৯৭৬ সালে হয়েছে)। তখন জাসদ বাদেও বেশ কয়েকটি গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল ছিল। যেমন—ইউপিপি, জাগমুই, শ্রমিক কৃষক সমাজবাদী দল, ন্যাপ (ভাসানী), সাম্যবাদী দল, জাতীয় লীগ প্রভৃতি। লেখক তাদের সম্ভবত ধর্তব্যের মধ্যে আনেননি।
তিনি তাঁর লেখার শিরোনামেই প্রশ্ন তুলেছেন, ‘তাহেরের বিচার অবৈধ, খালেদ হত্যা অবৈধ হবে কেন?’। এ যেন গায়ে পড়ে ঝগড়া করার মতো। খালেদ মোশাররফ হত্যাকে কর্নেল তাহের ও তাঁর অনুসারীরা কখনো বৈধ বলেননি। খালেদ মোশাররফ, হুদা, হায়দারকে বিক্ষুব্ধ সেনারা হত্যা করেননি। তিনি গভীর রাতে শেরেবাংলা নগরের সেনাশিবিরে ঢোকার সময় সেনাসদস্যরা তাঁকে আশ্রয় দিয়েছেন। সকালেও তাঁরা কিছু বলেননি। যখন কর্মকর্তাদের সবাইকে নিয়ে খালেদ-হুদা-হায়দার নাশতার টেবিলে বসেছেন, তখন কয়েকজন সেনা কর্মকর্তার নেতৃত্বে তাঁকে প্রকাশ্য দিবালোকে হত্যা করা হয়। জিয়া সেই হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার তো দূরের কথা, পরবর্তী সময়েও কোনো জিজ্ঞাসাবাদ করেননি। কর্নেল হামিদের বইয়ে তার সুস্পষ্ট বর্ণনা আছে। এখানে কর্নেল তাহেরের বা বিপ্লবী সৈনিক সংস্থার সংশ্লিষ্টতা কোথায়?
৭ নভেম্বর সিপাহি জনতার অভ্যুত্থানের অব্যবহিত পরেই যে কয়েকজন সামরিক বাহিনীর কর্মকর্তা ও পরিবারের কিছু সদস্য নিহত হয়েছেন, তার সুষ্ঠু তদন্তেও কখনো কর্নেল তাহের ও তাঁর অনুসারীরা আপত্তি করেননি। হত্যাকাণ্ডগুলো পরিকল্পিত, না অন্য কিছু, তা অবশ্যই তদন্ত করে বের করা দরকার।
প্রকৃতপক্ষে যে অভিযোগ তোলা হয়েছিল (লিফশুলজ কর্তৃক প্রকাশিত কর্নেল তাহেরের জবানবন্দি থেকে যতটুকু অনুমান করা যায়), তার বিচার করতে হলে ১৫ আগস্ট ১৯৭৫ থেকে নভেম্বর পর্যন্ত এ দেশে রাষ্ট্রপতি হত্যা, মন্ত্রিসভার সদস্যদের হত্যা, সেনাবাহিনীর সদস্যদের হত্যাসহ সব অপরাধের বিচার করতে হয় সবার আগে। আর ষড়যন্ত্র ব্যর্থ করে দেওয়ার জন্য কর্নেল তাহেরকে বীরের মর্যাদা দিতে হয়।
জাসদের জনপরিচিত নেতাদের পরবর্তী পদস্খলন থেকে ১৯৭২-৭৫ সময়কালের বিপ্লবী রাজনীতির যৌক্তিকতা নিয়ে লেখক প্রশ্ন তুলেছেন (প্রাগুক্ত)। লেখক কর্নেল তাহের তথা জাসদ রাজনীতিকে এক হাত দেখাতে গিয়ে সেসব ব্যক্তির উদ্ধৃতি দিয়েছেন, যাঁরা জাসদের প্রতিদ্বন্দ্বী রাজনৈতিক দলের তাত্ত্বিক ও জাসদ থেকে বের হয়ে যাওয়া নেতা। জাসদের প্রতিষ্ঠাতাদের একাংশের আদর্শচ্যুতি জাসদের বিপ্লবী প্রয়াসের যৌক্তিকতাকে ভুল প্রমাণ করে না, কিংবা আজ পর্যন্ত বিপ্লব সফল না হওয়ায়ও ৭ নভেম্বরের বিপ্লবী তাৎপর্যকে ম্লান করে না।
বাংলাদেশে একমাত্র কর্নেল তাহের, তথা জাসদই বিপ্লবী রাজনীতি শুধু কেতাব আর মুখের বুলির মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখেনি, বাস্তব কাজের মধ্য দিয়ে বিপ্লবী রাজনীতি এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছে। কৌশলে ভুল থাকতে পারে কিন্তু লক্ষ্য ছিল স্থির। লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থতা থাকলেই লক্ষ্য ভুল প্রমাণিত হয় না। কর্নেল তাহের ও জাসদ শুধু বিপ্লবী বুলি কপচালে কোনো কোনো লেখক হয়তো রাগ করতেন না (ডেইলি স্টার, সম্পাদকীয় পাতা, ৩১-০৩-১১)।
ভবিষ্যৎ প্রজন্ম তাহেরের আদর্শ ধরে উঠে দাঁড়াবে। কর্নেল তাহেরের সমগ্র কর্মকাণ্ড ও বীরোচিত জীবনদান ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সমাজবিপ্লবের বাস্তব কাজ করতে নিশ্চয়ই অনুপ্রেরণা জোগাবে।
মুশতাক হোসেন: সাবেক সাধারণ সম্পাদক, ডাকসু।
mushtuq_husain@col-taher.com

ব্যবসা-বাণিজ্যে নীতি-নৈতিকতা by মুহাম্মদ আবদুল মুনিম খান

ব্যবসা-বাণিজ্য মানুষের আয়-উপার্জনের একটি অন্যতম বৈধ পেশা। ইসলাম ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষেত্রে কল্যাণ ও অকল্যাণের বিষয়গুলো নৈতিকতার আলোকে সুস্পষ্টভাবে বর্ণনা করেছে। একটি পূর্ণাঙ্গ ও স্থায়ী জীবন বিধানের ধারক-বাহক হিসেবে মুসলমান ব্যবসায়ীদের নীতি-নৈতিকতাবর্জিত হলে চলবে না। ব্যক্তিগত, পারিবারিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক কর্মময় জীবন এবং মৃত্যু-পরবর্তী জীবনের কোনোটিই এর আওতামুক্ত নয়। ব্যক্তিজীবনে একজন মুসলমান ব্যবসায়ীকে যেমন ধর্মীয় নীতি-নৈতিকতা মেনে চলতে হয়, অনুরূপভাবে কর্মজীবনেও জীবন-দর্শনের মৌলিক শিক্ষা, ন্যায়নীতি ও সামাজিক মূল্যবোধের বাইরে যাওয়ার সুযোগ নেই। ব্যবসা-বাণিজ্য সম্পর্কে পবিত্র কোরআনে মৌলিক দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, ‘হে ঈমানদারগণ! তোমরা একে অন্যের ধন-সম্পদ অন্যায়ভাবে গ্রাস করবে না, তবে তোমাদের পারস্পরিক সন্তুষ্টির ভিত্তিতে ব্যবসা করবে।’ (সূরা আন-নিসা, আয়াত-২৯)
ইসলাম ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষেত্রে যেমন কিছু মৌলিক নীতিমালা ঘোষণা করেছে, তেমনি নিষিদ্ধ কতিপয় অসৌজন্যমূলক কর্মকাণ্ড থেকে ধর্মপ্রাণ ব্যবসায়ীদের বিরত থাকতে উদাত্ত আহ্বান জানিয়েছে। ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষেত্রে অনুসরণীয় মৌলিক নীতিমালার মধ্যে অন্যতম হলো সত্যবাদিতা, বিশ্বস্ততা, সদিচ্ছা, ভ্রাতৃত্ববোধ ও ন্যায়বিচার। অপরদিকে নিষিদ্ধ ও বর্জনীয় কার্যাবলির মধ্যে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে মজুদদারি, ওজনে কম দেওয়া, মুনাফাখোরি, মিথ্যা প্রচারণা, চুক্তিভঙ্গ, সুদ আরোপ, ভেজাল মিশ্রণ, কারসাজি ও প্রতারণা প্রভৃতি। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘আল্লাহ তাআলা বেচাকেনাকে বৈধ ও সুদকে অবৈধ করেছেন।’ (সূরা আল-বাকারা, আয়াত-২৭৫)
ব্যবসা-বাণিজ্যের লক্ষ্যই মুনাফা লাভ। অভিজ্ঞ ও বুদ্ধিমান লোকদের সুবিবেচনায় যা স্বাভাবিক ও সহনীয়, তা-ই বৈধ মুনাফা। ইসলাম কখনো তা অর্জন নিষিদ্ধ করে না বা ব্যবসায়ীকে মুনাফা থেকে বঞ্চিত করে না। কেননা মুনাফা পাওয়ার অধিকার না থাকলে কেউ ব্যবসা করত না। তবে অত্যধিক ও সীমাহীন মুনাফা গ্রহণ ইসলামের দৃষ্টিতে হারাম। যেহেতু তা একধরনের শোষণ, অন্যদের ওপর বিশেষ জুুলুম; তাই আদর্শবান ব্যবসায়ীদের উচিত ন্যূনতম নৈতিক ও মানবিক মূল্যবোধ লালন করা এবং সেবামূলক মনোবৃত্তির পরিচয় দেওয়া। সর্বোচ্চ জনস্ব্বার্থের সঙ্গে জড়িত এ মহৎ পেশাটির ক্ষেত্রে ইসলাম যেমন সুসংবাদ দিয়েছে, তেমনি অনৈতিকতা ও স্ব্বেচ্ছাচারিতার জন্য কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছে। হাদিস শরিফে বলা হয়েছে, ‘ব্যবসায়ী যদি সীমাতিরিক্ত মূল্য গ্রহণ করে এ সুযোগে যে ক্রেতা পণ্যের প্রকৃত মূল্য জানে না, তাহলে এই অতিরিক্ত পরিমাণের মূল্য সুদ পর্যায়ে গণ্য হবে।’
প্রতারণার কারণে ক্রেতা-বিক্রেতার মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি হয়, মানবিক মূল্যবোধ বিনষ্ট হয়, সামাজিক বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির আশঙ্কা দেখা দেয়। এ কারণে ইসলামে ব্যবসায় ধোঁকাবাজি ও প্রতারণা না করার জন্য জোরালো নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘যদি তারা উভয়েই সততা অবলম্বন করে এবং পণ্যের দোষ-ত্রুটি প্রকাশ করে, তাহলে তাদের পারস্পরিক এ ক্রয়-বিক্রয়ে বরকত হবে। আর যদি তারা মিথ্যার আশ্রয় নেয় এবং দোষ গোপন করে, তাহলে তাদের এ ক্রয়-বিক্রয়ের বরকত শেষ হয়ে যাবে।’ (বুখারি)
ইসলামের প্রাথমিক যুগে ক্রয়-বিক্রয় ও ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষেত্রে আল্লাহর দেওয়া বিধি-বিধান পুরোপুরি মেনে চলা হতো। অথচ বর্তমানে ব্যবসাক্ষেত্রে অন্যায় ও অপরাধ প্রকট আকার ধারণ করেছে। সমাজের সর্বক্ষেত্রে অনৈতিক কর্মকাণ্ড, দুর্নীতি ও দুরাচার পিছু ছাড়ছে না। বৈধভাবে ব্যবসা-বাণিজ্যের মাধ্যমে যতটুকু ধনসম্পদ উপার্জন করা হয়, এতেই আল্লাহর অবারিত বরকত নিহিত থাকে। সৎ ব্যবসায়ীরা পরকালে আম্বিয়া, সিদ্দিকীন ও শহীদদের সঙ্গে থাকবেন। নবী করিম (সা.) ঘোষণা করেছেন, ‘যে বক্তি বৈধভাবে জীবিকা অর্জন করে, কিয়ামতের দিন তার মুখমণ্ডল পূর্ণিমার চাঁদের মতো উজ্জ্বল হয়ে উঠবে।’
সমাজে যারা অসাধু উপায়ে ব্যবসার মাধ্যমে অঢেল অর্থ উপার্জন করে, জোর-জুলুম করে অন্যকে ঠকিয়ে ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের চরম ভোগান্তির মধ্যে নিপতিত করে অবৈধ সম্পদ অর্জনের লক্ষ্যে যে ধরনের অসৎ পন্থা বেছে নেয় এবং বিপুল পরিমাণ টাকার পাহাড় গড়ে তোলে—ইসলামে এটি সম্পূর্ণ অবৈধ। এসব অসৎ ব্যবসায়ী লোকসমাজে সুনাম অর্জনের জন্য স্ব স্ব এলাকার স্কুল-কলেজ, মসজিদ-মাদ্রাসা, এতিমখানা, রাস্তাঘাট, পুল-সেতুসহ বিবিধ সামাজিক কর্মকাণ্ডে প্রচুর অর্থ দান করে বদান্যতা দেখাতে চায়, এদের প্রতি আল্লাহ ও তাঁর রাসুল (সা.)-এর ধিক্কার রয়েছে। মানুষকে ঠকিয়ে লোক দেখানো দান বা জনসেবা করা অতীব জঘন্য। কেননা অবৈধভাবে আহরিত সম্পদ অপবিত্র। নবী করিম (সা.) বলেছেন, ‘আল্লাহ পবিত্র। তিনি পবিত্র জিনিস ব্যতীত অন্য কিছু গ্রহণ করেন না।’ (মুসলিম)
ব্যবসায়ে মূল্য প্রবাহকে কেউ যেন ঊর্ধ্বমুখী করে না তোলে, সে ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে। সমাজে এমন কিছু অসৎ ব্যবসায়ী আছে, যারা অতিশয় মুনাফা লাভের জন্য ব্যবসা-বাণিজ্যে মন্দা অবস্থায় নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্য ও পণ্যদ্রব্যের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে মজুদদারি করে এবং ক্রেতা সাধারণ মানুষকে চরম দুর্দশা ও ভোগান্তির মধ্যে ফেলে অন্যায়ভাবে বিভিন্ন ধোঁকাবাজিতে দুর্নীতির দ্বারা প্রচুর অর্থ-সম্পদ লাভ করে, তাদের প্রতি আল্লাহ, রাসুলুল্লাহ (সা.) ও মানুষের অভিসম্পাত বর্ষিত হয়। এ ধরনের অস্বস্তিকর কর্মকাণ্ডকে ইসলামে কঠিন শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয়েছে। হাদিস শরিফে বর্ণিত হয়েছে যে ‘কোনো ব্যক্তি মুসলমানদের লেনদেনে হস্তক্ষেপের মাধ্যমে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির কারণ ঘটালে কিয়ামতের দিন আল্লাহ তাআলা আগুনের হাড়ের ওপর তাকে বসিয়ে শাস্তি দেবেন।’
একজন মুসলমান হয়ে অন্যায়ভাবে, জোর-জুলুম করে অসহায় নিরীহ মানুষ ঠকানো এবং সর্বস্বান্ত করার ব্যবসায়িক অসৎ মানসিকতা বর্জন করার দৃপ্ত শপথ নিতে হবে এবং সৎভাবে হালাল পথে জীবিকা অর্জনের জন্য আজীবন বৈধপথে আয় উপার্জন করতে সচেষ্ট হতে হবে। তাই আসুন, আমরা ক্রয়-বিক্রয় এবং ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষেত্রে ইসলামের নীতি-নৈতিকতা ও বিধি-বিধান মেনে চলি। ঘুষ-দুর্নীতি, মুনাফাখোরি, মজুদদারি, ধোঁকাবাজি, কারসাজিসহ অবৈধ পন্থায় অর্থ উপার্জন থেকে বিরত থাকি।
ড. মুহাম্মদ আবদুল মুনিম খান: বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, গবেষক ও কলাম লেখক।
dr.munimkhan@yahoo.com

ট্রান্সওশানের বিরুদ্ধে ক্ষতিপূরণ মামলা করেছে বিপি

মেক্সিকো উপসাগরে তেলক্ষেত্রে বিস্ফোরণের ঘটনায় তেল রিগের পরিচালনা প্রতিষ্ঠান ট্রান্সওশানের বিরুদ্ধে চার হাজার কোটি ডলার ক্ষতিপূরণের মামলা করেছে ব্রিটিশ পেট্রোলিয়াম (বিপি)। দুর্ঘটনার এক বছর পর বিপি এই মামলা করল।
গত বুধবার নিউ অরলিন্সের কেন্দ্রীয় আদালতে দায়ের করা এই মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, ট্রান্সওশানের নিরাপত্তা-ব্যবস্থার ব্যর্থতার কারণে ওই দুর্ঘটনা ঘটে। একই সঙ্গে রিগ থেকে তেল ছড়িয়ে পড়া প্রতিরোধ করতে যে যন্ত্র ছিল, তা কাজ করেনি অভিযোগ করে ওই যন্ত্রের নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মামলা করেছে বিপি। ওই যন্ত্র অর্থাৎ ব্লোআউট প্রিভেন্টর (বিপি) ছিল ক্যামেরন ইন্টারন্যাশনালের তৈরি।
ট্রান্সওশানের পরিচালনাধীন ডিপওয়াটার হরিজন রিগে বিস্ফোরণ ঘটে গত বছরের ২০ এপ্রিল। এরপর মেক্সিকো উপসাগরে ছড়িয়ে পড়ে প্রচুর পরিমাণ তেল।

ছয়টি দেশে বার্ড ফ্লু নির্মূলে ১০ বছর লাগবে

বিশ্বের ছয়টি দেশ থেকে প্রাণঘাতী বার্ড ফ্লু ভাইরাস এইচ৫এন১ নির্মূল করতে কমপক্ষে ১০ বছর সময় লাগবে। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা গতকাল বৃহস্পতিবার এ তথ্য জানায়। ২০০৩ সাল থেকে এ পর্যন্ত সারা বিশ্বে ৩২০ জন মানুষ এ রোগে প্রাণ হারায়।
খাদ্য ও কৃষি সংস্থা এক প্রতিবেদনে জানায়, ২০০৬ সালে বার্ড ফ্লু মারাত্মক আকার ধারণ করে এবং বিশ্বের ৬০টি দেশে ছড়িয়ে পড়ে। অধিকাংশ দেশ থেকে ইতিমধ্যেই বার্ড ফ্লু দূর করা সম্ভব হয়েছে। তবে, বাংলাদেশ, চীন, মিসর, ভারত, ইন্দোনেশিয়া ও ভিয়েতনামে এ রোগ বিস্তার লাভ করেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, দেশগুলোতে এ রোগ বিস্তারের একটি বড় কারণ হলো, রোগটি সম্পর্কে আতঙ্ক থাকলেও তা নিয়ন্ত্রণ বা নির্মূল করার জন্য সুনির্দিষ্ট কোনো পরিকল্পনা নেই।

শয়তানের প্রভাব থেকে মুক্ত রাখতে ভেড়া বলি!

কিরগিজস্তানের পার্লামেন্টে গতকাল বৃহস্পতিবার সাতটি ভেড়া বলি দেওয়া হয়েছে। দেশটির প্রথা অনুযায়ী পার্লামেন্ট কক্ষকে ‘শয়তানের প্রভাব’ থেকে মুক্ত রাখতে এই বলি দেওয়া হয়। গত বছরের জাতিগত সহিংসতা ও শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে আইনপ্রণেতারাই এ সিদ্ধান্ত নেন।
পার্লামেন্টের তথ্য বিভাগ জানিয়েছে, রাজধানী বিশকেকে অবস্থিত ঝোগোরকু কেনেশ পার্লামেন্ট ভবনের দেয়ালঘেঁষে ভেড়াগুলো বলি দেওয়া হয়। দেশটির জনসংযোগ বিভাগের একজন কর্মকর্তা জানান, আইন পরিষদের প্রতিনিধিরা দুরাত্মা বিতাড়িত করার আশায় বলির সিদ্ধান্ত নেন।
গত বছরের এপ্রিলে প্রেসিডেন্ট কুরমানবেক বাকিয়েভের বিরুদ্ধে রক্তক্ষয়ী অভ্যুত্থানের পর দেশটিতে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে। জুনের দিকে এ সহিংসতা জাতিগত দাঙ্গার রূপ নেয়। এ অবস্থায় শাসনক্ষমতা ছেড়ে দেশ ত্যাগ করতে বাধ্য হন বাকিয়েভ।
আইনপ্রণেতা ওসমোনভ জানান, ভেড়া বলির মধ্য দিয়ে গত বছরের সহিংস ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধ হবে এবং দেশে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় থাকবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

রানি এলিজাবেথের জন্মদিন উদ্যাপন

যুক্তরাজ্যের রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথের ৮৫তম জন্মদিন ছিল গতকাল বৃহস্পতিবার। দিবসটি উপলক্ষে রানি লন্ডনের ওয়েস্টমিনস্টার অ্যাবে পরিদর্শন করেন। তাঁর এ জন্মদিন ইস্টার সানডের আগের বৃহস্পতিবারে হওয়ায় রানি ব্রিটিশ ঐতিহ্য অনুযায়ী সেখানে ৮৫ জন বয়স্ক নারী ও ৮৫ জন বয়স্ক পুরুষকে রৌপ্যমুদ্রা দান করেন। গত ১০ বছরে এবারই প্রথম তিনি ওয়েস্টমিনস্টার অ্যাবেতে এ ধরনের অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হলো।
প্রিন্স উইলিয়াম ও কেট মিডলটনের বিয়ের ঠিক এক সপ্তাহ আগে ওয়েস্টমিনস্টার অ্যাবেতে এ আয়োজনকে অনেকে বিয়ের আগাম মহড়া হিসেবে দেখছেন। সেখানেই আগামী ২৯ এপ্রিল ধুমধাম করে উইলিয়াম ও কেটের বিয়ের অনুষ্ঠান হবে।
রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথ ১৯২৬ সালের ২১ এপ্রিল ১৭ ব্রাটন স্ট্রিটে জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৪৭ সালে ঐতিহাসিক গির্জায় প্রিন্স ফিলিপকে বিয়ে করেন তিনি। আগামী জুনে ফিলিপ ৯০ বছরে পা দেবেন।
রানির দুটি জন্মদিন পালন করা হয়। এর একটি তাঁর প্রকৃত জন্মদিন ২১ এপ্রিল, অন্যটি সরকারিভাবে পালন করা হয় জুনে। দুটি জন্মদিনই ঘটা করে পালন করা হয়।
জন্মদিন পালনের আগের দিন রানি ও তাঁর স্বামী প্রিন্স ফিলিপ কেটের মা-বাবার সঙ্গে দেখা করেন। তাঁরা অন্তত আধা ঘণ্টা একসঙ্গে কাটান। রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথ তাঁর লন্ডনের উইন্ডসর প্রাসাদে কেটের ক্যারল ও বাবা মাইকেল মিডলটনকে মধ্যাহ্নভোজে আমন্ত্রণ জানান।

ভারতের চেয়ে পাকিস্তানের মানুষ সুখী

ভারতের চেয়ে পাকিস্তানের মানুষ বেশি সুখী। সুখী দেশের তালিকায় ভারত ৭১তম আর পাকিস্তান ৪০তম অবস্থানে রয়েছে। এই তালিকায় ডেনমার্কের অবস্থান সবার ওপরে। ২০১০ সালজুড়ে ১২৪টি দেশের ওপর জরিপ পরিচালনা করে গবেষণাপ্রতিষ্ঠান গ্যালাপ এই তালিকা তৈরি করেছে। গত বুধবার এই তালিকা প্রকাশ করা হয়।
জরিপে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ভারতের ১৭ শতাংশ মানুষ নিজেদের ‘সুখী’ বলে মনে করে। ৬৪ শতাংশ মানুষ মনে করে, তারা সংগ্রাম করছে আর ১৯ শতাংশ দুর্ভোগে আছে বলে মনে করে।
৩২ শতাংশ সুখী মানুষ নিয়ে পাকিস্তান তালিকার ৪০তম স্থানে অবস্থান করছে। এ ছাড়া ১৩ শতাংশ সুখী মানুষ নিয়ে বাংলাদেশ ৮৯তম এবং ১২ শতাংশ সুখী মানুষ নিয়ে চীন ৯২তম অবস্থানে রয়েছে।
২০১০ সালে গ্যালাপের পক্ষ থেকে ১৫ বছরের বেশি বয়সী এক হাজার মানুষের সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়।
জরিপে দেখা গেছে, বিশ্বের সবচেয়ে সুখী মানুষের বাস ডেনমার্কে। দেশটির অধিবাসীদের ৭২ শতাংশ মানুষ নিজেদের অবস্থানে খুশি। এর পরপরই যৌথভাবে দ্বিতীয় অবস্থানে আছে সুইডেন ও কানাডা। দেশ দুটির ৬৯ শতাংশ মানুষ সুখী। ৫৯ শতাংশ সুখী মানুষের দেশ যুক্তরাষ্ট্র।

বামফ্রন্ট ও তৃণমূলের পাল্টাপাল্টি অভিযোগ

পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে দুই প্রতিদ্বন্দ্বী বামফ্রন্ট ও তৃণমূল কংগ্রেস পরস্পরের বিরুদ্ধে কালো টাকা ব্যবহারের অভিযোগ তুলেছে। বামফ্রন্টের প্রধান শরিক সিপিএম প্রথমে তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে কালো টাকা ব্যবহারের অভিযোগ আনে। পরে পাল্টা অভিযোগ তোলে মমতার তৃণমূল।
কলকাতা প্রেসক্লাবে ১৬ এপ্রিল মিট দ্য প্রেস অনুষ্ঠানে সিপিএমের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য গৌতম দেব বলেন, নির্বাচনের জন্য তৃণমূল তাদের মনোনীত ২২৬ জন প্রার্থীকে নগদ ১৫ লাখ টাকা করে দিয়েছে। তৃণমূলের সর্বভারতীয় সম্পাদক মুকুল রায়ের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে এই টাকা দেওয়া হয়। প্রার্থীরা জনগণের কাছ থেকে চাঁদা তুলে নির্বাচনে খরচ করছে, এটা বোঝানোর জন্য ওই টাকার সঙ্গে রশিদ দেওয়া হয়। কিন্তু রশিদের যে অংশ চাঁদাদাতার কাছে থাকার কথা, তা পুড়িয়ে ফেলা হয়।
গৌতম দেব বলেন, তৃণমূল প্রায় ৩০ কোটি টাকা খরচ করে বিভিন্ন টিভি চ্যানেলে বিজ্ঞাপন দিচ্ছে। দলনেত্রী মমতা নির্বাচনী সভা করছেন হেলিকপ্টারে করে। তিনি প্রশ্ন তোলেন—এত টাকা কোথা থেকে এল?
এসব অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে মমতা ক্ষোভের সঙ্গে একটি জনসভায় বলেন, ‘হ্যাঁ, চাঁদার কুপন পুড়িয়েছি। তাতে ওদের কী? ওদের (সিপিএম) টাকা কি গঙ্গাজলে ধোয়া?’ তিনি বলেন, ওরা পার্টি অফিসের নামে রাজ্যজুড়ে হাজার হাজার অট্টালিকা তৈরি করেছে। মানুষের কাছ থেকে লুট করা টাকা আর কালো টাকাতেই সিপিএম দলটা চলে।’
এদিকে বামফ্রন্টের চেয়ারম্যান বিমান বসু গত বুধবার বিকেলে কলকাতা প্রেসক্লাবে মিট দ্য প্রেস অনুষ্ঠানে বলেন, পশ্চিমবঙ্গের শাসনক্ষমতা থেকে বামফ্রন্টকে হটানোর জন্য যুক্তরাষ্ট্রের চাপে কংগ্রেস নেতৃত্ব তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে জোট করেছে।
ছত্রধরকে মাওবাদীদের সমর্থন: পশ্চিমবঙ্গের মাওবাদী-অধ্যুষিত জঙ্গলমহলের ঝাড়গ্রাম আসনে প্রার্থী হয়েছেন মাওবাদীদের ছত্রছায়ায় গঠিত পুলিশি সন্ত্রাসবিরোধী জনগণের কমিটির নেতা ছত্রধর মাহাতো। ‘সন্ত্রাস, দুর্নীতি ও সাম্রাজ্যবাদী আগ্রাসন বিরোধী মঞ্চ’ নামের একটি গণসংগঠনের পক্ষ থেকে তিনি ঝাড়গ্রাম আসনে লড়ছেন। ছত্রধর মাহাতোকে এবার আনুষ্ঠানিকভাবে সমর্থন জানিয়েছে মাওবাদীরা।
মাওবাদী নেতা বিক্রম এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ছত্রধরকে সমর্থনের পাশাপাশি জঙ্গলমহলে সিপিএম ও কংগ্রেসকে নির্বাচনী প্রচারণা করতে দেওয়া হবে না বলে হুমকি দেন। তবে তৃণমূল কংগ্রেসকে বাধা দেওয়া হবে না বলে উল্লেখ করেন তিনি।

২০ কিলোমিটারের মধ্যে লোকজনের প্রবেশ নিষেধ

জাপানের ফুকুশিমা দাইচি পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের চারপাশে ২০ কিলোমিটারের (১২ মাইল) মধ্যে জনসাধারণের প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। গত ১১ মার্চ সে দেশে ভূমিকম্প ও সুনামি আঘাত হানার ঘটনায় ওই বিদ্যুৎকেন্দ্রে পারমাণবিক বিপর্যয় দেখা দেয়। এতে তেজস্ক্রিয়তা ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় জনজীবনের জন্য তা ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে। এ কারণে ঘটনার প্রায় ছয় সপ্তাহ পর প্রধানমন্ত্রী নাওতো কান গতকাল বৃহস্পতিবার ওই এলাকাকে ‘নো-এন্ট্রি এরিয়া’ ঘোষণা করেছেন।
একই দিন টোকিওতে অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী জুলিয়া গিলার্ড ভূমিকম্প ও সুনামির বিপর্যয় কাটিয়ে উঠতে জাপানকে সহায়তা করার অঙ্গীকার করেন। প্রাকৃতিক ও খনিজ সম্পদ সরবরাহের মাধ্যমে এ সহায়তা দেওয়া হবে বলে তিনি আশ্বাস দেন।
গতকাল স্থানীয় সময় মধ্যরাতে জাপানের প্রধানমন্ত্রীর ডান হাত বলে পরিচিত সরকারের শীর্ষস্থানীয় মুখপাত্র ইউকিও এদানো এক সংবাদ সম্মেলনে ফুকুশিমার ব্যাপারে সরকারের ওই সিদ্ধান্তের কথা জানান। এদানো বলেন, ওই এলাকায় সাধারণ মানুষ কেবল সরকারের তত্ত্বাবধানে প্রবেশের অনুমতি পাবে। নিরাপত্তার স্বার্থে ওই এলাকায় লোকজনের প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। গত মাসে একই কারণে স্থানীয় লোকজনকে নিরাপদ স্থানে চলে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। তিনি বলেন, ‘ওই এলাকায় কেউ প্রবেশ করার চেষ্টা করলে তার বিরুদ্ধে আমরা কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেব। নির্দেশ অমান্যকারীদের জাপানি মুদ্রায় এক লাখ ইয়েন (এক হাজার ২০০ ডলার) জরিমানা হতে পারে। এমনকি পুলিশ সাময়িকভাবে তাদের আটক করতে পারবে।’
ভূমিকম্প ও সুনামি আঘাত হানার পর টোকিও ইলেকট্রিক পাওয়ার কোম্পানি (টেপকো) পরিচালিত ওই বিদ্যুৎকেন্দ্রে কয়েক দফা বিস্ফোরণ ঘটে। এতে সেখানকার শীতলীকরণ ব্যবস্থা নষ্ট হয়ে যায়। বিদ্যুৎকেন্দ্রের একটি চুল্লির নিচে থাকা তরল পদার্থের ধারকে ফাটল দেখা দেয়। ওই ফাটল দিয়ে তেজস্ত্রিয়তা ছড়িয়ে পড়তে থাকে। পানির মাধ্যমে তা নিকটবর্তী সাগরেও পৌঁছায়। বিশেষজ্ঞদের মতে, ১৯৮৬ সালে চেরনোবিলে ঘটা ভয়াবহ পারমাণবিক বিপর্যয়ের চেয়েও গুরুতর এই পরিস্থিতি। ওই এলাকা থেকে এ পর্যন্ত ৮৫ হাজার লোককে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
টেপকো জানিয়েছে, ওই বিদ্যুৎকেন্দ্রের পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আনতে নয় মাস বা এর বেশি সময় লেগে যেতে পারে।
এদানো বলেন, স্থানীয় লোকজনের জন্য আইন কিছুটা শিথিল করা হয়েছে। ওই এলাকায় প্রায় ২৭ হাজার পরিবার রয়েছে। তারা যদি বাড়িঘর থেকে অতি প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নিয়ে আসতে চায়, তাহলে প্রতি পরিবার থেকে একজনকে কেবল দুই ঘণ্টার জন্য সেখানে যাওয়ার সুযোগ দেওয়া হবে। সে ক্ষেত্রে তেজস্ক্রিয়তা প্রতিরোধক পোশাক পরতে হবে তাকে। সঙ্গে নিতে হবে তেজস্ক্রিয়তা পরিমাপ করার যন্ত্র। আর তাকে যেতে হবে সরকারের তত্ত্বাবধানে।
গতকাল ‘নো-এন্ট্রি এরিয়া’ ঘোষণা দেওয়ার আগে নাওতো কান ফুকুশিমার একটি আশ্রয়কেন্দ্র পরিদর্শন করেন।
অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী জুলিয়া গিলার্ড গত বুধবার রাতে চার দিনের সফরে টোকিও পৌঁছান। জাপানের শীর্ষ সারির ব্যবসায়ীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, জাপান পুনর্গঠিত হবে। এতে অস্ট্রেলিয়া প্রয়োজনীয় সহায়তা দেবে। তিনি বলেন, পরবর্তী কয়েক বছরে তরল প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহে জাপানের জন্য অস্ট্রেলিয়া সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

লিবিয়ার বিদ্রোহীদের রসদ সহায়তা দেবে যুক্তরাষ্ট্র

যুক্তরাষ্ট্র লিবিয়ার বিদ্রোহীদের জন্য আড়াই কোটি মার্কিন ডলারের রসদ সহায়তা পাঠাবে। লিবিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর বেনগাজিভিত্তিক ট্র্যানজিশনাল ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের কাছে এই রসদ পাঠানো হবে। বিদ্রোহীরা এই কাউন্সিল গঠন করেছে।
লিবিয়ার বিদ্রোহীরা গতকাল বৃহস্পতিবার তিউনিসিয়া সীমান্তের কাছে ওয়াজিন বর্ডার পোস্ট দখল করে নিয়েছে। লিবিয়ার রাজধানী ত্রিপোলির কাছে গাদ্দাফি বাহিনীর দুটি ক্ষেপণাস্ত্র স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে মার্কিন জেট বিমান। এতে স্থাপনা দুটি ধ্বংস হয়ে গেছে।
গত বুধবার মিসরাতায় যুদ্ধের খবর ও ছবি সংগ্রহ করতে গিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের দুই ফটোসাংবাদিক নিহত হয়েছেন। এদিকে, ন্যাটো এক বিবৃতিতে গাদ্দাফি বাহিনী বা তাদের সামরিক স্থাপনা থেকে যতটা সম্ভব দূরে থাকার জন্য লিবিয়ার বেসামরিক জনগণকে সতর্ক করে দিয়েছে। বেসামরিক জনগণের প্রাণহানি এড়াতেই এই সতর্কতা বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে। গত বুধবার রাতে ন্যাটোর হামলায় ত্রিপোলির দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে সাতজন বেসামরিক নাগরিক নিহত ও ১৮ জন আহত হয়। এরপর ন্যাটোর সদর দপ্তর থেকে এই বিবৃতি দেওয়া হলো।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন গত বুধবার জানান, বিদ্রোহীদের অস্ত্র খাতে সহযোগিতা দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়নি। রসদ ও খাবারের জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্টের বিশেষ তহবিল থেকে মানবিক সহযোগিতার অংশ হিসেবে আড়াই কোটি ডলার পাঠানো হচ্ছে। জাতিসংঘের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী লিবিয়ার বেসামরিক জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এই সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।
হিলারি জানান, প্রাথমিকভাবে চিকিৎসার সরঞ্জাম, পোশাক, তাঁবু, বেতার যোগাযোগযন্ত্র এবং খাবার সরবরাহ করা হবে। অধিকাংশ রসদ-সামগ্রী পেন্টাগনের বর্তমান মজুদ থেকে সরাসরি পাঠানো হবে।
হোয়াইট হাউস থেকে লিবিয়ার বিদ্রোহীদের সহযোগিতা-সংক্রান্ত একটি বিবরণী ইতিমধ্যে লিখিতভাবে কংগ্রেসকে জানানো হয়েছে।
পশ্চিমা দেশগুলো লিবিয়ায় বিদ্রোহীদের সরাসরি সহায়তা করছে। ন্যাটোর সামরিক পদক্ষেপের পাশাপাশি যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও ইতালি বিদ্রোহীদের কাছে তাদের সামরিক উপদেষ্টা পাঠিয়েছে। ফ্রান্স ও ইতালি ইতিমধ্যে বিদ্রোহীদের ট্র্যানজিশনাল ন্যাশনাল কাউন্সিলকে লিবিয়ার সরকার হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে।
হোয়াইট হাউস থেকে জানানো হয়, বিদ্রোহীদের সরাসরি অস্ত্র সরবরাহ বা গাদ্দাফিবিরোধী অভিযানে মার্কিন সেনা পাঠানোর বিষয়টি বিবেচনার মধ্যে রয়েছে।
বার্তা সংস্থা এএফপির একজন প্রত্যক্ষদর্শী সাংবাদিক জানান, বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে সাতটার দিকে তিউনিসিয়া সীমান্তের কাছে ওয়াজিন বর্ডার পোস্টে গাদ্দাফি বাহিনীর সঙ্গে বিদ্রোহীদের সংঘর্ষ হয়। বিদ্রোহীদের হামলার মুখে টিকতে না পেরে গাদ্দাফি বাহিনীর দেড় থেকে ২০০ সেনা তিউনিসিয়ায় পালিয়ে যায়। পরে বিদ্রোহীরা ফাঁকা গুলি ছুড়ে উল্লাস করে।
মিসরাতায় গত বুধবার গাদ্দাফি বাহিনীর সঙ্গে বিদ্রোহীদের যুদ্ধের খবর ও ছবি সংগ্রহ করতে গিয়ে মর্টার হামলায় ব্রিটিশ ফটোসাংবাদিক টিম হেটেরিংটন নিহত হয়েছেন। একই ঘটনায় ওয়াশিংটনভিত্তিক ফটো এজেন্সি গেটি ইমেজের ফটোসাংবাদিক ক্রিস হন্ড্রোস নিহত হন। কয়েকজন ফটোসাংবাদিক বিদ্রোহীদের সঙ্গে মিসরাতার কেন্দ্রস্থলের একটি সড়কে যান। সেখানে যুদ্ধের ভয়াবহতার ছবি সংগ্রহই ছিল তাঁদের উদ্দেশ্য। এ সময় মর্টার হামলায় টিম ও ক্রিস নিহত হন। আহত হন প্যানোস ফটো এজেন্সির গাই মার্টিন ও করবিস ইমেজের মাইকেল ক্রিস্টোফার ব্রাউন।
ভ্যানিটি ফেয়ার সাময়িকীর ফটোসংবাদিক টিম হেটেরিংটন ডকুমেন্টারি ফিল্ম রেস্ট্রেপোর জন্য ২০১০ সালে সানডেন্স চলচ্চিত্র উৎসবে গ্র্যান্ড জুরি পুরস্কার পান।

এমজেএল ও এমআই সিমেন্টের তালিকাভুক্তির মেয়াদ বাড়ল ১৪ দিন

পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (এসইসি) এমজেএল বাংলাদেশ লিমিটেড ও এম আই সিমেন্টের তালিকাভুক্তির মেয়াদ আরও ১৪ দিন বাড়িয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার কমিশনের ৩৮১তম বৈঠকে এ ব্যাপারে অনুমোদন দেওয়া হয়।
বৈঠক শেষে এসইসির মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক সাইফুর রহমান এক ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের জানান, প্রতিষ্ঠান দুটির কিছু অগ্রগতি পরিলক্ষিত হওয়ায় কমিশন দুটি প্রতিষ্ঠানের তালিকাভুক্তির মেয়াদ আরও ১৪ দিন বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয়।
এর আগে এমজেএলের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে প্রথমে দুই সপ্তাহ এবং পরে এক সপ্তাহ সময় বাড়ানো হয়। এ নিয়ে এমজেএলের তালিকাভুক্তির মেয়াদ তৃতীয় দফা বাড়ানো হলো।
এ ছাড়া এমআই সিমেন্টের পক্ষ থেকে ১৮ এপ্রিল তালিকাভুক্তির জন্য আরও এক মাস সময় বাড়ানোর আবেদন করা হয়েছিল।

নর্দার্ন পাওয়ার সলিউশনের বন্ডে এসইসির অনুমোদন

সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (এসইসি) নর্দার্ন পাওয়ার সলিউশনের ১৭৫ কোটি টাকা মূল্যের কনভার্টেবল বন্ডের অনুমোদন দিয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার কমিশনের নিয়মিত সভায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বৈঠক শেষে কমিশনের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক সাইফুর রহমান এক ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।
সাইফুর রহমান বলেন, পরিশোধিত মূলধন বাড়ানোর লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠানটি ১৭ লাখ ৫০ হাজার বন্ড ইস্যু করে বাজার থেকে ১৭৫ কোটি টাকা সংগ্রহ করবে। এ ক্ষেত্রে প্রতিটি ইউনিটের দাম হবে এক হাজার টাকা। বিভিন্ন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কাছে এই বন্ড ইস্যু করা হবে। এই বন্ডের মোট মেয়াদ সাড়ে চার বছর। প্রতিবছর ফান্ডটির ২৫ শতাংশ করে পরিশোধ হবে। প্রতিবছর বিনিয়োগকারীদের ১৮ শতাংশ সরল সুদ দেওয়া হবে। এ ছাড়া মেয়াদ শেষে মোট পাওনা পরিশোধের সময় আইপিওর দামে ফান্ডটির ৫০ শতাংশ সাধারণ শেয়ারে রূপান্তর হবে। তবে এ সময় আইপিও না এলে এটি নগদ অর্থে পরিশোধ করতে হবে।
এ ছাড়া এসইসির অনুমতি সাপেক্ষে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের মধ্যে বন্ডটি হাতবদল করা যাবে।

পাঁচ দিন পর দেশের পুঁজিবাজার ঊর্ধ্বমুখী

টানা পাঁচ দিন নিম্নমুখী প্রবণতার পর আজ বৃহস্পতিবার দেশের পুঁজিবাজারে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা লক্ষ করা গেছে। আজ দুই স্টক এক্সচেঞ্জে বেশির ভাগ শেয়ারের দাম বেড়েছে। ফলে বেড়েছে সাধারণ সূচকও। লেনদেন গতকালের চেয়ে কিছুটা বেড়েছে।
ডিএসই সূত্রে জানা যায়, ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতার মধ্য দিয়ে ডিএসইতে লেনদেন শুরু হয়। লেনদেনের প্রথম আধঘণ্টায় ডিএসইর সাধারণ মূল্যসূচক ৫১.২০ পয়েন্ট বেড়ে ৬১৮৩.৭৬ পয়েন্টে দাঁড়ায়। এরপর সূচক কিছুটা নিম্নমুখী হয়ে দুপুর ১২টার দিকে সূচক ১৭ পয়েন্ট কমে যায়। এরপর আবারও সূচক ওঠানামা করে। তবে বেলা পৌনে একটার পর থেকে সূচক আবারও ঊর্ধ্বমুখী হয়, যা সারা দিনই অব্যাহত থাকে। দিন শেষে ডিএসইর সাধারণ মূল্যসূচক ৬০.০৫ পয়েন্ট বেড়ে ৬১৯২.৬২ পয়েন্টে দাঁড়ায়।
এ সময়ে হাতবদল হওয়া ২৫৩টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে দাম বেড়েছে ২১২টির, কমেছে ৩৮টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে তিনটি প্রতিষ্ঠানের দাম। আজ ডিএসইতে ৪৭৬ কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে, যা গতকালের চেয়ে ১৩৫ কোটি টাকা বেশি।
লেনদেনে শীর্ষ ১০ প্রতিষ্ঠানের তালিকায় রয়েছে সালভো কেমিক্যাল, ইউনাইটেড এয়ারওয়েজ, বেক্সিমকো, মালেক স্পিনিং, আফতাব অটো, ডেসকো, বেক্সটেক্স, এসিআই, এসিআই ফরমুলেশন ও তিতাস গ্যাস।
এদিকে আজ সবচেয়ে বেশি বেড়েছে সালভো কেমিক্যালের শেয়ারের দাম। এ ছাড়া এসিআই ফরমুলেশন, দেশ গার্মেন্টস, রহিমা ফুডস, রেকিট বেনকিজার, মিরাকল ইন্ডাস্ট্রিজ, পুরবী জেনারেল ইনস্যুরেন্স, আনলিমা ইয়ার্ন, ইস্টার্ন ইনস্যুরেন্স ও অ্যাপেক্স স্পিনিং দাম বৃদ্ধি পাওয়া শীর্ষ ১০-এর তালিকায় রয়েছে।
আজ সবচেয়ে বেশি কমেছে সিটি ব্যাংকের শেয়ারের দাম। এ ছাড়া ইউনাইটেড ইনস্যুরেন্স, নর্দার্ন জুট, জেমিনি সি ফুডস, মুন্নু জুটেক্স, চতুর্থ আইসিবি, স্টাইল ক্র্যাফট, আইসিবি ইসলামিক ব্যাংক, ইস্টার্ন কেবলস ও আলহাজ টেক্সটাইল দাম কমে যাওয়া শীর্ষ ১০ এর তালিকায় রয়েছে।
অন্যদিকে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সার্বিক মূল্যসূচক ১০৩.০৯ পয়েন্ট বেড়ে ১৭৩৪৩.১৪ পয়েন্টে দাঁড়ায়। সিএসইতে লেনদেন হওয়া ১৯১টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে বেড়েছে ১৫২টির, কমেছে ২৪টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ১৫ প্রতিষ্ঠানের দাম। আজ স্টক এক্সচেঞ্জটিতে ৬২ কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে, যা গতকালের চেয়ে ১৬ কোটি টাকা কম।

বন্ড ছাড়ার অনুমোদন পেল নর্দার্ন পাওয়ার

শেষ পর্যন্ত শর্ত সাপেক্ষে নর্দার্ন পাওয়ার সলিউশনের রূপান্তরযোগ্য বন্ড ছেড়ে অর্থ সংগ্রহের প্রস্তাব অনুমোদন করেছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (এসইসি)। গতকাল বৃহস্পতিবার সংস্থাটির এক সভায় কোম্পানিটির প্রস্তাবের বেশ কিছু অংশ পরিবর্তন করে অনুমোদন দেওয়া হয়।
এর আগে নর্দার্ন পাওয়ার ১৮ শতাংশ সুদে ৫০ শতাংশ রূপান্তরযোগ্য বন্ড ছেড়ে মূলধন ১৭৫ কোটি টাকায় উন্নীত করার অনুমোদন চেয়ে এসইসিতে প্রস্তাব জমা দিয়েছিল। এতে বলা হয়, বন্ডের ৫০ ভাগ বছরভিত্তিতে এবং সম্পূর্ণ চার বছরে সাধারণ শেয়ারে রূপান্তরিত হবে। আর রূপান্তরের সময় বন্ডের বিনিয়োগকারীরা অভিহিত মূল্যে শেয়ার পাবেন। এর আগ পর্যন্ত এ বন্ড সম্পূর্ণ হস্তান্তরযোগ্য থাকবে। এ প্রস্তাবে আরও বলা হয়, কোনো কারণে সুদ পরিশোধে ব্যর্থ হলে ১৯ শতাংশ হারে তা পরিশোধ করবে কোম্পানিটি।
কিন্তু কোম্পানির এ প্রস্তাবটি ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়ে। অভিযোগ ওঠে কোম্পানিটি বন্ডের আড়ালে শেয়ারবাজার থেকে অতিরিক্ত অর্থ তুলে নিতেই নতুন এ কৌশল বেছে নিয়েছে। এর কারণ হিসেবে বলা হয়, পুঁজিবাজারের নিয়ম অনুযায়ী কোনো কোম্পানির পরিশোধিত মূলধন ৫০ কোটি টাকা হলেই শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্তির প্রস্তাব দেওয়ার কথা। নর্দার্ন পাওয়ারের বর্তমান পরিশোধিত মূলধন ৯১ কোটি টাকা। অথচ কোম্পানিটি প্রাথমিক শেয়ারের গণপ্রস্তাবে (আইপিও) না গিয়ে বন্ড (এক ধরনের ঋণ) ছেড়ে ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছ থেকে মূলধন সংগ্রহের প্রস্তাব করেছে। আগের মতো প্রাক্-আইপিও প্লেসমেন্টে শেয়ার ছেড়ে বাজার থেকে অর্থ সংগ্রহ করার সুযোগ না থাকায় কোম্পানি এ ধরনের কৌশল বেছে নিয়েছে।
অভিযোগকারীদের মতে, এসইসির নিয়মানুযায়ী একটি নির্দিষ্ট সময়ে কোম্পানিটির প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) মাধ্যমে বাজারে শেয়ার ছাড়তে হবে। এ সময়ের মধ্যে কোম্পানির কার্যক্রম চালিয়ে লাভ দেখাতে পারলে আইপিওর সময় মোটা প্রিমিয়ামসহ (অভিহিত মূল্যের চেয়ে বেশি দরে) দাবি করা যাবে। আবার তত দিনে বন্ডের একটা বড় অংশ সাধারণ শেয়ারে রূপান্তরিত হয়ে যাবে। ফলে তালিকাভুক্তির পর তাঁরা বাজার দরে শেয়ারগুলো বিক্রি করে মোটা অঙ্কের মুনাফা তুলে নেওয়ার সুযোগ পাবেন।
জানা গেছে, এ কারণে এসইসিও কোম্পানির প্রস্তাব অনুযায়ী বন্ডের অনুমোদন দিতে উৎসাহ দেখায়নি। কিন্তু সরকারের প্রভাবশালী মহলের চাপে এসইসি কিছু শর্ত জুড়ে দিয়ে বন্ডের অনুমোদন দিয়েছে।
এসইসির নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র সাইফুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, প্রতিষ্ঠানটি ১৭ লাখ ৫০ হাজার বন্ড বাজারে ছাড়বে। এ ক্ষেত্রে প্রতিটি ইউনিটের দাম হবে এক হাজার টাকা।
সাইফুর রহমান আরও জানান, কোম্পানি কেবল ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কাছে ইস্যু করতে পারবে। ছয় মাসের গ্রেস পিরিয়ডসহ বন্ডের মোট মেয়াদ সাড়ে চার বছর করা হয়েছে। গ্রেস পিরিয়ড শেষে প্রতি তিন মাস অন্তর বন্ডধারীদের নির্ধারিত (১৮ শতাংশ) হারে সুদ দিতে হবে। এ ছাড়া প্রতিবছর মূল বিনিয়োগের ২৫ শতাংশ করে পরিশোধ করা লাগবে। মূল বিনিয়োগের অর্ধেক নগদ অর্থে এবং বাকি অর্ধেক রূপান্তরিত সাধারণ শেয়ারের মাধ্যমে পরিশোধ করতে হবে। এ ক্ষেত্রে অভিহিত মূল্যের বাজার দর (আইপিওর জন্য প্রস্তাবিত মূল্য) অনুযায়ী সাধারণ শেয়ারের মূল্য নির্ধারিত হবে। তবে এ সময় কোম্পানিটি আইপিওতে না যেতে পারলে বাকি অর্থ নগদ পরিশোধ করতে হবে।
সাইফুর রহমান জানান, এসইসির অনুমতি সাপেক্ষে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা বন্ডটি হাতবদল বা হস্তান্তর করতে পারবে।
এসইসি মনে করছে, এসব শর্তের ফলে বন্ডটি নিয়ে কারসাজির যে শঙ্কা ছিল তা হতে পারবে না।
উল্লেখ্য, নর্দার্ন পাওয়ারের উদ্যোক্তাদের মধ্যে রয়েছে রাজশাহী-৪ আসনের সরকারি দলের সাংসদ এনামুল হক, তহুরা হক ও বেক্সিমকো গ্রুপের বেক্সটেক লিমিটেড। বেক্সটেক্সকে প্রতিনিধিত্ব করছেন সালমান এফ রহমান।

আগামী অর্থবছরে দেশে মূল্যস্ফীতি বাড়বে, ভর্তুকি কমবে: অর্থমন্ত্রী

২০১১-১২ অর্থবছরে বৈদেশিক সাহায্য অনেক বেশি আসবে বলে আশাবাদের কথা জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। তিনি বলেন, অনেকেই বলছেন যে বৈদেশিক সাহায্য কমে গেছে। ব্যাপারটি মোটেও তা নয়। সাহায্য বরং বেড়ে গেছে, খরচ করা যাচ্ছে না।
এ বছরের সাহায্যের পরিমাণ ৩০০ কোটি ডলারের কথা উল্লেখ করে অর্থমন্ত্রী আরও ৯০০ কোটি ডলার ছাড়ের অপেক্ষায় (পাইপলাইন) আছে বলেও জানান।
এ ছাড়া আগামী বাজেটে বিদ্যুৎ, জ্বালানি তেল ও কৃষি খাতে ভর্তুকি কমতে পারে ইঙ্গিত দিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘প্রতিবছর ভর্তুকি দিয়ে যাওয়া অর্থনীতির জন্য ক্ষতিকর।’
চলতি অর্থবছরের বাজেটে এক লাখ ৩১ হাজার ১৭০ কোটি টাকার মধ্যে এক লাখ ২৮ হাজার বা ২৯ হাজার কোটি টাকা ব্যয় হবে। এই তথ্য উল্লেখ করে অর্থমন্ত্রী আরও জানান, আগামীতে বার্ষিক মূল্যস্ফীতির হার ৮ শতাংশের কাছাকাছি পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে।
গতকাল বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরামের (ইআরএফ) সঙ্গে অনুষ্ঠিত প্রাক্-বাজেট আলোচনায় অর্থমন্ত্রী এসব কথা জানান।
বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আতিউর রহমান, অর্থসচিব মোহাম্মদ তারেক, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সচিব মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান নাসির উদ্দিন আহমেদ, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব শফিকুর রহমান পাটোয়ারী এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
ইআরএফের সভাপতি মনোয়ার হোসেন ইআরএফের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন। সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক আবু কাওসারসহ বিভিন্ন পত্রিকা ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার অর্থনৈতিক প্রতিবেদকেরা আলোচনায় অংশ নেন।
বৈদেশিক সাহায্য প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘চলতি বছরেও যে টাকা আছে, তার পুরোটা ব্যবহার করতে পারব না। সাহায্যের তুলনায় খরচের হার এবার গতবারের চেয়ে কম হবে।’
বিদেশি সম্পদকে বিনিয়োগে নিয়ে আসার ওপর গুরুত্বারোপ করে অর্থমন্ত্রী বলেন, আগামীতে বিদেশি পয়সা অনেক ব্যবহার করতে হবে।
চলতি অর্থবছরে বার্ষিক মূল্যস্ফীতি ৭ শতাংশ এবং এর আগেরবার তা ৬ দশমিক ৫ শতাংশ ধরা হয়েছিল উল্লেখ করে অর্থমন্ত্রী বলেন, ২০১১-১২ অর্থবছরে তা কিছুটা বাড়তে পারে। তবে মূল্যস্ফীতি সত্ত্বেও অর্থনীতির সার্বিক অবস্থা ভালো। কারণ হিসেবে তিনি বিনিয়োগ, রাজস্ব আহরণ ও রপ্তানি বৃদ্ধির কথা জানান।
সভায় সাংবাদিকেরা দারিদ্র্য দূরীকরণ ও সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী বাড়ানো, ধনী-দরিদ্রের বৈষম্য হ্রাসে উদ্যোগ গ্রহণ, দামি মোবাইল সেট ও কম দামি সিগারেটে কর বাড়ানো, যানজট কমাতে সিএনজি ও গাড়ির ওপর কর বৃদ্ধি এবং শুল্কায়নে প্রাক্-জাহাজীকরণ পরিদর্শন (পিএসআই) পদ্ধতি বাতিলের পরামর্শ দেন।
সভায় সাংবাদিকেরা আরও যেসব পরামর্শ দেন তা হলো—রমজান মাসের পরিবর্তে ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশকে (টিসিবি) বছরব্যাপী সচল রাখা, বড় বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের উদ্যোগ, বাজেট বাস্তবায়ন দক্ষতা বাড়াতে বাস্তবায়ন মন্ত্রণালয় নামে নতুন মন্ত্রণালয় গঠন, এনবিআরের সাংগঠনিক কাঠামোতে পরিবর্তন আনা, স্থানীয় সরকারকে শক্তিশালী করা, আবাদি জমি কমে যাওয়া রোধে ব্যবস্থা নেওয়া, দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির দীর্ঘ পরিকল্পনা গ্রহণ, জেলা বাজেট এবং সরকারি-বেসরকারি অংশীদারি (পিপিপি) বাস্তবায়ন।
অর্থমন্ত্রী এ এম এ মুহিত বলেন, ‘বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাত নিয়ে এবার পথ-নকশা দিয়েছিলাম। আগামীবার এর অগ্রগতি প্রতিবেদন দেব।’
পিপিপি প্রসঙ্গে অনেক ক্ষেত্রে সম্ভাব্যতা যাচাই হয়নি বলে উল্লেখ করেন অর্থমন্ত্রী। নতুন মূল্য সংযোজন কর (মূসক) আইন আগামীতে হবে জানিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, মূসক আইন হবে। তবে আয়কর আইন হবে না। এটি আরও দেরি হবে।

টানা পাঁচ কার্যদিবস পর মূল্যসূচক বেড়েছে

টানা পাঁচ কার্যদিবস দরপতনের পর গতকাল বৃহস্পতিবার দেশের পুঁজিবাজারে মূল্যসূচক কিছুটা বেড়েছে। এদিন প্রধান পুঁজিবাজার ডিএসইতে লেনদেন ৫০০ কোটি টাকার নিচে নেমে গেছে। মাত্র ৪৭৬ কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে। বিগত দেড় মাসের মধ্যে এটি ছিল সর্বনিম্ন লেনদেন। তবে এদিন দুই স্টক এক্সচেঞ্জেই বেশির ভাগ শেয়ারের দাম বেড়েছে।
ডিএসই সূত্রে জানা যায়, ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতার মধ্য দিয়ে গতকাল ডিএসইতে লেনদেন শুরু হয়। লেনদেনের প্রথম আধা ঘণ্টায় ডিএসইর সাধারণ মূল্যসূচক ৫১ পয়েন্টের বেশি ৬১৮৩ দশমিক ৭৬ পয়েন্টে দাঁড়ায়। এরপর সূচক কিছুটা নিম্নমুখী হতে থাকে। একপর্যায়ে দুপুর ১২টার দিকে সূচক ১৭ পয়েন্ট কমে যায়। এরপর আবারও সূচক ওঠানামা করতে থাকে। তবে পৌনে একটার পর থেকে সূচকে আবারও ঊর্ধ্বগতি দেখা যায়। যা পরবর্তী সময়ে অব্যাহত থাকে। দিনশেষে ডিএসইর সাধারণ মূল্যসূচক ৬০ পয়েন্টের বেশি বেড়ে ৬১৯২ দশমিক ৬২ পয়েন্টে দাঁড়ায়।
ডিএসইতে ৪৭৬ কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে, যা গতকালের চেয়ে ১৩৫ কোটি টাকা কম। গতকালের লেনদেন ছিল বিগত দেড় মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন। গত ১ মার্চ লেনদেন হয়েছিল ৪৩১ কোটি টাকার শেয়ার। এদিন হাত বদল হওয়া ২৫৩টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে দাম বেড়েছিল ২১২টির, কমেছে ৩৮টির এবং অপরিবর্তিত ছিল তিনটি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম।
অন্যদিকে গতকাল চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সার্বিক মূল্যসূচক ১০৩ পয়েন্টের বেশি বেড়ে ১৭৩৪৩ পয়েন্টে দাঁড়ায়। এদিন সিএসইতে লেনদেন হওয়া ১৯১টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে বেড়েছে ১৫২টির, কমেছে ২৪টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ১৫টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম। গতকাল ৬২ কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে, যা আগের দিনের চেয়ে ১৬ কোটি টাকা কম।
গতকাল দেশের দুই পুঁজিবাজারে সালভো কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের শেয়ার প্রথম লেনদেন শুরু হয়েছে। ১০ টাকা অভিহিত মূল্যের শেয়ারটি গতকাল ঢাকায় সর্বনিম্ন ৫৬ দশমিক ১০ টাকা ও সর্বোচ্চ ৭৫ টাকায় বিক্রি হয়। সর্বশেষ লেনদেনটি হয়েছে ৭০ দশমিক ১০ টাকায়। আর সিএসইতে সর্বনিম্ন ৬২ দশমিক ৫০ টাকা ও সর্বোচ্চ ৭৫ টাকায় বিক্রি হয়। আর সর্বশেষ লেনদেনটি হয়েছে ৭০ টাকায়।
গতকাল ডিএসইতে লেনদেনে শীর্ষ ১০-এর তালিকায় ছিল সালভো কেমিক্যাল, ইউনাইটেড এয়ারওয়েজ, বেক্সিমকো, মালেক স্পিনিং, আফতাব অটো, ডেসকো, বেক্সটেক্স, এসিআই, এসিআই ফরমুলেশন ও তিতাস গ্যাস।

বাসের চাকার নিচে ট্রফি

সিবেলিস চত্বরে গোটা রিয়াল দলকে নিয়ে হাজির হয়েছিল ছাদখোলা বাস। সেই বাসের ওপর থেকে ইকার ক্যাসিয়াস, ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো দুই হাতে উঁচিয়ে ধরেন স্প্যানিশ কাপের ট্রফিটা। আর লাখ লাখ রিয়াল মাদ্রিদ সমর্থক হুল্লোড় তুলছিল—চ্যাম্পিয়ন, চ্যাম্পিয়ন!
একেক করে ট্রফিটা উঁচিয়ে ধরছিলেন রিয়াল খেলোয়াড়েরা। চিৎকারটাও ভেসে আসছিল বারবার। হঠাৎ করে চ্যাম্পিয়ন, চ্যাম্পিয়ন ধ্বনি উঠে তা মিলিয়ে গেল। সার্জিও রামোস ট্রফিটা উঁচিয়ে ধরেছিলেন, কিন্তু পড়ে যায় তা হাত ফসকে। এত সাধের ট্রফি বাসের চাকার নিচে চলে গেলে কি আর কথা বেরোয় মুখ থেকে!
মুহূর্তের জন্য নীরবতা নেমে আসে সিবেলিস চত্বরে। নিরাপত্তাকর্মীরা অবশ্য পড়ে যাওয়া ট্রফিটা সঙ্গে সঙ্গেই তুলে ফেলেন। তবে এরপর আর সেটা সমর্থকদের সামনে তুলে ধরেননি কোনো খেলোয়াড়। অনেকেই ধরে নিয়েছে, বাসের চাকার নিচে পড়ে চূর্ণই হয়ে গেছে রিয়ালের সাধের ট্রফি। তবে রামোস পরে জানিয়েছেন ১৫ কেজি ওজনের ট্রফিটা অক্ষতই আছে, ‘কাপটা পড়ে গিয়েছিল। তবে কিছু হয়নি, সব ঠিক আছে।

আজ শুরু জাতীয় ভলিবল

পল্টন ভলিবল স্টেডিয়ামে আজ শুরু ওয়ালটন জাতীয় ভলিবল। পুরুষ বিভাগে ১০টি ও মহিলা বিভাগে ৮টি দল খেলবে এবারের প্রতিযোগিতায়। ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন সেনাবাহিনী খেলবে সরাসরি। বাকি দলগুলো এসেছে দেশের পাঁচটি অঞ্চল থেকে বাছাইপর্ব পেরিয়ে। টুর্নামেন্টের মিডিয়া পার্টনার এটিএন বাংলা ।
কাল সংবাদ সম্মেলনে এসব জানানোর সময় ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক আশিকুর রহমান মিকুর সঙ্গে ছিলেন ফেডারেশন টুর্নামেন্ট কমিটির চেয়ারম্যান মনিরুল হক ও পৃষ্ঠপোষক ওয়ালটনের উপপরিচালক এফ এম ইকবাল বিন আনোয়ার।

অস্ট্রেলিয়ায় যাচ্ছেন মাশরাফি

অস্ট্রেলিয়া সিরিজে মাঠে ফিরে খুব খারাপ বল করেননি—দুই ম্যাচে নিয়েছেন ৫ উইকেট। তবে পেসার মাশরাফি বিন মুর্তজা যে এখনো পুরোপুরি ফিট নন, সেটাও বোঝা গেছে এই সিরিজে। এ মাসের শেষ দিকে বা আগামী মাসের প্রথম সপ্তাহে তাই আবারও অস্ট্রেলিয়ায় যাচ্ছেন জাতীয় দলের এই পেসার। উদ্দেশ্য ডান হাঁটুতে তৃতীয়বারের মতো অস্ত্রোপচার।
অস্ট্রেলিয়া সিরিজের আগে মাশরাফি বোর্ডকে জানান, তিনি অস্ত্রোপচার করাতে অস্ট্রেলিয়ায় যেতে চান। বোর্ডও গত সভাতেই অনুমোদন করেছে অস্ত্রোপচারের বাজেট। জানা গেছে, যাওয়া-আসা-থাকা এবং দৈনিক ভাতার বাইরে শুধু অস্ত্রোপচারের জন্যই বোর্ডের খরচ পড়বে প্রায় সাত হাজার অস্ট্রেলিয়ান ডলার। বিসিবি অস্ত্রোপচারের জন্য মাশরাফিকে অস্ট্রেলিয়ায় পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেললেও মেলবোর্ন অর্থোপেডিক সেন্টারের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ডেভিড ইয়াংয়ের সঙ্গে কথা বলে অস্ট্রেলিয়া যাওয়ার দিন-তারিখ ঠিক করার কথা মাশরাফিরই। ডেভিড ইয়াংয়ের সঙ্গে এখনো কথা না হলেও কাল তিনি জানিয়েছেন, ‘দু-এক দিনের মধ্যেই আমি ডাক্তারের সঙ্গে কথা বলে অপারেশনের তারিখ জেনে নেব। এ মাসের শেষের দিকে বা আগামী মাসের প্রথম সপ্তাহে হয়তো অস্ট্রেলিয়ায় যাব।’
মাশরাফির ডান হাঁটুতে এর আগেও দুবার অস্ত্রোপচার করা হয়েছে, বাম হাঁটুতে হয়েছে চারবার। এ নিয়ে সপ্তমবারের মতো হাঁটুর অস্ত্রোপচার করাবেন জাতীয় দলের এই পেসার।

উইকেটের দিকে তাকিয়ে দুই একাডেমি

প্রথম চার দিনের ম্যাচটা তারা জিতেছে ইনিংস ও ৫৮ রানের ব্যবধানে। আজ মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে দ্বিতীয় চার দিনের ম্যাচের আগে তবু দক্ষিণ আফ্রিকা একাডেমি দলের অধিনায়ক জশোয়া রিচার্ডস পা দুটো মাটিতেই রাখছেন। নতুন ম্যাচে পুরোনো সাফল্য মনে রাখতে চাচ্ছেন না উইকেটকিপার ব্যাটসম্যান।
জিপি-বিসিবি একাডেমি দলের প্রতি রিচার্ডসের এই শ্রদ্ধা তারা স্বাগতিক বলেই, ‘নিজেদের কন্ডিশন সম্পর্কে অনেক বেশি ভালো জানে তারা। প্রথম ম্যাচের সাফল্য আমাদের অনুপ্রাণিত করলেও নতুন ম্যাচের আগে আমরা তাদের প্রাপ্য সম্মানটুকু দিতে চাই।’ প্রতিপক্ষের প্রতি একই রকম শ্রদ্ধা দেখাচ্ছেন কোচ বার্নি মোহাম্মদও, ‘জানতাম, এই সফরটা আমাদের জন্য সহজ হবে না। বাংলাদেশের দলটাতে প্রতিভাবান খেলোয়াড়ের অভাব নেই। তবে শেষ পর্যন্ত ব্যাপারটা মনস্তাত্ত্বিকই...সবকিছু নির্ভর করে দক্ষতাকে কে কীভাবে কাজে লাগাতে পারল।’
দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে এই সিরিজ দিয়েই জিপি-বিসিবি একাডেমির প্রধান কোচ হিসেবে অভিষেক হলো রস টার্নারের। প্রথম ম্যাচটা বাজেভাবে হেরে যাওয়ার পর টার্নারের আশা মিরপুরের ম্যাচে উইকেটের সাহায্য পাবে তাঁর দল, ‘আমার কাছে মনে হচ্ছে, এটা ব্যাটিং উইকেট। বোলারদের উইকেট আদায় করে নিতে হবে, কষ্ট করতে হবে। আর ব্যাটসম্যানদের উচিত হবে একটু থিতু হয়েই খেলার নিয়ন্ত্রণটা নিয়ে নেওয়া। মিরপুরের উইকেট আমাদের সাহায্য করবে বলেই মনে হচ্ছে। তবে দীর্ঘ পরিসরের ক্রিকেটে আপনাকে ধৈর্য ধরতে হবে, সুশৃঙ্খল ক্রিকেট খেলতে হবে।’
জিপি-বিসিবি একাডেমির অধিনায়ক মোহাম্মদ মিঠুনও তাকিয়ে উইকেটের দিকে। ফতুল্লার উইকেটে খেলাটা তাঁদের জন্য নাকি ভালো অভিজ্ঞতা ছিল না, ‘ফতুল্লার উইকেট আমাদের সাহায্য করেনি। ওটা কিছুটা বাউন্সি ছিল, তাদের ফাস্ট বোলাররা সেটা কাজে লাগিয়েছে।’
সিরিজে দুটি চার দিনের ম্যাচ ছাড়াও দুই দল খেলবে তিনটি একদিনের ম্যাচ ও দুটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ। ২৮ এপ্রিল থেকে শুরু একদিনের ম্যাচগুলো হবে চট্টগ্রামে। টি-টোয়েন্টি ম্যাচ দুটি মিরপুরে।

গেইলের উপায় ছিল না

টাকার মোহে অন্ধ! জাতীয় দলের পরবর্তী সিরিজ থেকে নিজেকে সরিয়ে আইপিএলে যোগ দেওয়ার পর ক্রিস গেইলের ব্যাপারে অনেকেই এমন কথা বলেছেন। তবে গেইলের কাছ থেকে পাওয়া যাচ্ছে ভিন্ন এক ছবি। ওয়েস্ট ইন্ডিজের তারকা ব্যাটসম্যান বলেছেন, কোনো উপায় না পেয়েই নাকি আইপিএলে যোগ দিয়েছেন। কারণ, বোর্ড স্রেফ তাঁকে উপেক্ষাই করে গেছে বিশ্বকাপের পর থেকে। বিশ্বকাপে যে চোট পেয়েছিলেন, সেটার চিকিৎসা-ব্যয় পুরোটা তাঁকেই বহন করতে হয়েছে। লন্ডনে চিকিৎসাও করিয়েছেন নিজস্ব ব্যবস্থায়। এমনকি পরে পুনর্বাসন-প্রক্রিয়ায় কোনো সাহায্য করেনি বোর্ড। এএফপি।
জ্যামাইকান রেডিও কেএলএএস স্পোর্টসকে দীর্ঘ এক ঘণ্টার আবেগময় সাক্ষাৎকার দিয়েছেন। সেখানেই গেইল বলেছেন, ‘বারবাডোজে অনুশীলনের জন্য কয়েকজন খেলোয়াড়কে নির্বাচন করা হলো। আমাকে কেউ ডাকলই না। কেউ আমার সঙ্গে কথা পর্যন্ত বলল না। আমিও তাই সেটা নিয়ে আর মাথা ঘামালাম না। অনুশীলন চালিয়ে গেলাম নিজের মতো করে। টি-টোয়েন্টি, ওয়ানডে দল ঘোষিত হলো। বিস্ময়ের সঙ্গে দেখলাম, বড় হরফে মোটা করে শিরোনাম দেওয়া: গেইল, সারওয়ান, চন্দরপল বাদ।’
গেইল মনে করেন, ব্রিজটাউনের হাই পারফরম্যান্স সেন্টারে তাঁকে ডেকে ফিটনেস পরীক্ষাটা নিতে পারত ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেট বোর্ড (ডব্লুআইসিবি)। এরপর ফিটনেস দেখে সিদ্ধান্ত নিতে পারত তাঁকে খেলানো যাবে কি না। ‘ডব্লুআইসিবির একজনের সঙ্গেই কেবল আমার যোগাযোগ হয়েছে, সেটা দলের ফিজিও সি জে ক্লার্ক। তাও আবার আমি তাঁকে এসএমএস পাঠানোর পর। সেই বার্তায় আমি জানিয়েছিলাম আমার শরীরের অবস্থা। বলেছিলাম, আমি বেশ ভালো বোধ করছি। দৌড়াচ্ছি, জিম করছি। ও আমাকে বলল, ফিটনেস প্রোগ্রামের একটা সূচি পাঠাবে। সেটা যখন পেলাম, ততক্ষণে আইপিএলের প্রস্তাব এসে গেছে’—বলেছেন গেইল।
জাতীয় দলই সব সময় তাঁর কাছে প্রাধান্য পেয়েছে বলছেন গেইল, ‘আমার লক্ষ্য ছিল যত দ্রুত সম্ভব ফিরে আসা। আমি সব সময়ই ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে খেলতে আর প্রতিনিধিত্ব করতে চেয়েছি। এটাই আমার চূড়ান্ত লক্ষ্য ছিল। কিন্তু যেহেতু আমি চুক্তিবদ্ধ নই, আমাকে দলেও নেওয়া হলো না; ফলে এই সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হলাম। কী হচ্ছে না হচ্ছে, সে ব্যাপারে আমাকে জানানোও হয়নি। ফলে আমার ভবিষ্যৎ কী, সে সম্পর্কেও অনিশ্চিত হয়ে পড়েছিলাম।’
গেইল এও জানিয়েছেন, যেই না তিনি আইপিএলে খেলার জন্য ছাড়পত্র চাইলেন, অমনি যেন ঘুম ভাঙল বোর্ডের, ‘হুট করে সবার মধ্যে যেন প্রবল শক্তি ভর করল। সবাই আমার সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করে দিল।’ গেইলের বঞ্চনা বোধটাও অনেক দিনের, ‘অনেক সময় আমাকে অসম্মান করা হয়েছে। প্রচণ্ড চাপ নিয়েও খেলতে হয়েছে।’

আবার আশা জাগছে চেলসির

রোববার থেকেই যেন ড্রয়ের ভূত চেপেছিল ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের কাঁধে। লিভারপুল-আর্সেনাল, ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড-নিউক্যাসলের পর পরশু ড্র হলো টটেনহাম-আর্সেনাল ম্যাচটিও। তবে এই ড্র ম্যাচেও পাওয়া গেছে দুর্দান্ত ফুটবল। তিন তিনবার পিছিয়ে পড়েও শেষ পর্যন্ত সমতা ফিরিয়েছে টটেনহাম। জোড়া গোল করেছেন রাফায়েল ফন ডার ভার্ট। গোল-পাল্টা গোলে খেলা দারুণ জমেছিল হোয়াইট হার্ট লেনে।
এই ড্রয়ের ফাঁকে জয় তুলে নিয়েছে চেলসি। ফ্লোরেন্ত মালুদার জোড়া গোলে বার্মিংহাম সিটিকে ৩-১ গোলে হারিয়েছে কার্লো আনচেলত্তির দল। লিগে টানা তৃতীয় জয়, গত আট ম্যাচে অপরাজিত থাকার আত্মবিশ্বাস চেলসি কোচের কণ্ঠে পাওয়া যাচ্ছে। আনচেলত্তি বলছেন, লিগ এখনো শেষ হয়ে যায়নি। লিগের লড়াই শেষ ম্যাচ পর্যন্তই যাবে, ‘ফুটবল থেকে আমি একটা জিনিস শিখেছি। শেষ বাঁশি বাজার আগ পর্যন্ত যেকোনো কিছুই ঘটে যেতে পারে।’
পয়েন্ট টেবিল অবশ্য বলছে, শিরোপা পুনরুদ্ধার করবে ম্যানইউই। মাত্র পাঁচ ম্যাচ বাকি। ম্যানইউয়ের সঙ্গে চেলসি-আর্সেনালের ৬ পয়েন্টের ব্যবধান। তবে আনচেলত্তির ভরসা, তাঁর আক্রমণ ভাগ আবারও মৌসুম শুরুর ধার যেন ফিরে পেয়েছে। গত ম্যাচের পর এ ম্যাচেও গোল করলেন সলোমন কালু। মালুদা গোল পাচ্ছেন, দ্রগবাও। যদিও শুধু চেলসি ভালো খেললেই হবে না, ম্যানইউকেও হারতে হবে সামনের দিনগুলোতে।
চেলসি যা-ই বলুক, আর্সেনাল লিগ শিরোপার আশা ছেড়েই দিয়েছে। গাণিতিক হিসাবই বলছে, টটেনহামের আর শিরোপা জেতার কোনো সম্ভাবনাই নেই। তবে তাদের লড়াইটা এখন চ্যাম্পিয়নস লিগে জায়গা করে নেওয়ার। পরশু সেই আশায় বড় একটা ধাক্কাই খেতে বসেছিল এবার চ্যাম্পিয়নস লিগে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠে আসা টটেনহাম।
ম্যাচের শুরুর দিকে ৭ মিনিটের ব্যবধানে ৩ গোল! পঞ্চম মিনিটে আর্সেনালকে প্রথম গোল এনে দেন থিও ওয়ালকট। দুই মিনিট পরই সেই গোল শোধ করে দেন ফন ডার ভার্ট। দ্বাদশ মিনিটে আবারও আর্সেনালের এগিয়ে যাওয়া সামির নাসরির গোলে। প্রথমার্ধের শুরুর দিকের এই নাটকীয়তা ছিল প্রথমার্ধের শেষ প্রান্তেও। ৪০ মিনিটে রবিন ফন পার্সির গোল, চার মিনিটের মধ্যেই গোল শোধ করে দেন টম হাডলস্টন। ৩-২-এ এগিয়ে থেকে বিরতিতে যায় আর্সেনাল। ৭০ মিনিটে পেনাল্টি থেকে সেই গোল শোধ করে দেন ফন ডার ভার্ট।
এদিকে ইতালিয়ান কাপে এসি মিলানকে রুখে দিয়েছে পালের্মো। সেমিফাইনালের প্রথম লেগে মিলানের মাঠে এসে ২-২ গোলে ড্র করে গেছে তারা। রিয়াল-বার্সার রাডারে থাকা হাভিয়ের পাস্তোরে করেছেন একটি গোল।

ফাইনালে চোখ মোহামেডানের

সাফল্য-খরায় ভুগতে থাকা মোহামেডান সর্বশেষ কোনো টুর্নামেন্ট জিতেছিল দুই বছর আগে—সিটিসেল সুপার কাপে। এত ওজনদার দলটি এবার বাংলাদেশ লিগে ১১ ম্যাচে জয় পেয়েছে মাত্র চারটিতে। এই মৌসুমে অখ্যাত আর তারুণ্যনির্ভর দল গড়ার মাশুলই গুনেছে লিগের প্রথম পর্বে। তবে স্বাধীনতা কাপ ফুটবলে একেবারে অন্য রকম চেহারায় সাদা-কালো দলটি। কোয়ার্টার ফাইনালে টুর্নামেন্টের ফেবারিট মুক্তিযোদ্ধাকে হারিয়ে একটা শিরোপার স্বপ্নও দেখতে শুরু করেছে। সেই স্বপ্ন পূরণের জন্য উঠতে হবে ফাইনালে। আর ফাইনালে যাওয়ার সেতুটা হলো আজকের সেমিফাইনাল, যেখানে তাদের প্রতিপক্ষ শেখ রাসেল।
টাইব্রেকারের ওই জয়ের পর আত্মবিশ্বাস বেড়েছে মোহামেডানের। আজ সেমিফাইনালে নামার আগে খেলোয়াড়দের সেটাই বললেন কোচ শফিকুল ইসলাম, ‘মুক্তিযোদ্ধাকে হারানোর পর ছেলেরা দারুণ আত্মবিশ্বাসী হয়ে উঠেছে। বাস্তবতা হলো, এই দলের কাছে প্রথমে অতটা ভালো ফল প্রত্যাশা ছিল না কারোর। কিন্তু এই টুর্নামেন্টে আমরা যেভাবে খেলছি, সেভাবে খেলেই ফাইনালে যেতে চাই।’
এই শেখ রাসেলের কাছে লিগের প্রথম পর্বে ১-০ গোলে হেরেছিল মোহামেডান। তাই প্রতিপক্ষকে বেশ সমীহই করছেন শফিকুল, ‘শেখ রাসেলকে অবহেলা করার কোনো সুযোগ নেই।’ সামান্য ইনজুরিতে রয়েছেন মোহামেডানের নাইজেরিয়ান খেলোয়াড় এমেকা। তাঁর খেলা নিয়ে রয়েছে সংশয়। তবে মোহামেডানের জন্য সুসংবাদ, তাদের আরেক নাইজেরিয়ান সানডি সিজোবা খেলার ছাড়পত্র পেয়েছেন। সাদা-কালো জার্সিতে আজই মাঠে দেখা যেতে পারে এই নতুন খেলোয়াড়কে।
লিগে মোহামেডানকে হারানোয় আত্মবিশ্বাসী শেখ রাসেলও। তবে প্রতিপক্ষ যতই হীনবল হোক, নামটা মোহামেডান বলেই তাদের খাটো করে দেখতে রাজি নন কোচ মাহমুদুল হক লিটন, ‘ফেবারিট মুক্তিযোদ্ধাকে হারিয়ে সেমিফাইনালে উঠেছে মোহামেডান। ওদের খাটো করে দেখার প্রশ্নই ওঠে না। তবে আমাদের জন্য ভালো, বিদেশিরা ছন্দে ফিরেছে। আশা করি, এই ম্যাচে ওরা ভালো খেলবে।’

দুই বছর পর রিয়ালের শিরোপা

প্রায় দুই বছরের নীরবতা ভাঙল সিবেলিস চত্বরে। দুই বছর পর রিয়াল মাদ্রিদের বিজয় উদ্যাপন মঞ্চ আবার মুখরিত হলো পরশু। ড্রামের তালে, বাঁশির সুরে কিংবা গাড়ির ভেঁপুতে মিলেমিশে একাকার হয়ে গেছে স্প্যানিশ কাপের শিরোপা জয়ের উৎসব।
সাফল্য-তৃষিত রিয়াল মাদ্রিদকে আনন্দে ভাসিয়েছেন ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। গোল করা বা গোল করানো—এ মৌসুমে দুই দিক দিয়েই লিওনেল মেসির চেয়ে পিছিয়ে থাকা রোনালদো কাল জিতলেন। নির্ধারিত সময়ে গোলশূন্য থাকা ম্যাচের খরা কাটিয়েছেন তিনি ১০৩ মিনিটে। মেসির বার্সেলোনার ট্রেবল জয়ের আশা শেষ করে দিয়েছেন দারুণ এক হেডে (১-০)।
২০০৭-০৮ মৌসুমে স্প্যানিশ লিগ জয়ের পর গত দুটি মৌসুমে রিয়াল মাদ্রিদ ছিল রিক্ত। চোখের সামনে দেখেছে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী বার্সেলোনাকে একের পর এক শিরোপা জিততে। স্প্যানিশ কাপে তো এই হাহাকার ছিল আরও বেশি। এই টুর্নামেন্টে রিয়াল মাদ্রিদের সর্বশেষ শিরোপা জয় সেই ১৯৯৩ সালে। খরা কাটাতে মরিয়া রিয়াল এ মৌসুমে কোচ হিসেবে নিয়োগ দেয় হোসে মরিনহোকে, সাফল্যের সংক্ষিপ্ত রাস্তাটা যিনি ভালোই জানেন।
রিয়ালের এই নিয়োগ বৃথা যায়নি। শোকেসে শিরোপা উঠতে শুরু করেছে। তবে যে রকম ফুটবল খেলে রিয়াল এই সাফল্য পেল, সেটা খুশি করতে পারেনি অনেককেই। অনেকে তো মরিনহোকে সমালোচনায় বিদ্ধ করছেন রিয়ালে নেতিবাচক ফুটবল দর্শন আমদানি করার জন্য।
মরিনহোর অবশ্য এতে কিছু যায়-আসে না। রিয়ালের তৃষ্ণা মেটাতে পেরেই খুশি পর্তুগিজ কোচ। ‘আমি আগেও বলেছি, শিরোপা জয়ের জন্য গ্রেট কোচ আমি, ফুটবলের জন্য নয়। আমি আমার মতো কাজ করতে পেরে খুব খুশি’—বলেছেন চারটি ভিন্ন দেশি ক্লাবের হয়ে কাপ জেতা মরিনহো।
ভ্যালেন্সিয়ার ক্যাম্প ন্যু স্টেডিয়ামে পরশুও মরিনহো বার্সেলোনাকে আটকাতে নিয়েছেন রক্ষণাত্মক কৌশল। কারভালহো, পেপে, সার্জিও রামোস ও মার্সেলোকে দিয়ে সাজানো মরিনহোর রক্ষণ ভাগ বার্সেলোনার স্বাভাবিক পাসিং ফুটবল খেলতে না দেওয়ার সংকল্পই যেন করেছিল।
রিয়ালের এই কৌশল সফলও হয়েছে। ৫৫ হাজার ধারণক্ষমতার স্টেডিয়ামটির গ্যালারিতে বার্সেলোনার গাঢ় লাল ও নীল রং প্রচুর ছিল, কিন্তু মাঠে যেন মেসি-জাভি-ইনিয়েস্তাদের খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না প্রথমার্ধে। আসলে বার্সার ছন্দময় মাঝমাঠ ও গতিময় আক্রমণ ভাগকে নিষ্ক্রিয়ই করে ফেলেছিলেন কারভালহো-রামোস-পেপেরা। প্রথমার্ধে বার্সা তো গোলে একটি শটও নিতে পারেনি।
তবে দ্বিতীয়ার্ধের গল্পটা ছিল ভিন্ন। মেসি-জাভি-ইনিয়েস্তারা বেরিয়ে এসেছেন তাঁদের ছায়া থেকে। খেলেছেন নিজেদের স্বভাবসুলভ পাসিং ফুটবল। মেসির নেতৃত্বে দুর্দান্ত কিছু আক্রমণও করেছেন তাঁরা। তবে শেষ পর্যন্ত গোলের দেখা পাওয়া হয়নি। ডেভিড ভিয়া মেসির চূড়ান্ত পাসগুলো কাজে লাগাতে পারেননি। গোলের দেখা পায়নি রিয়ালও। প্রথমার্ধে পেপের একটি হেড বার্সার ২ নম্বর গোলরক্ষক হোসে ম্যানুয়েল পিন্টোকে পরাজিত করলেও ফিরে এসেছে পোস্টে লেগে।
ম্যাচে গোলের খরা কেটেছে অতিরিক্ত ৩০ মিনিটে। আর্জেন্টাইন উইঙ্গার অ্যাঙ্গেল ডি মারিয়ার দুর্দান্ত একটি ক্রস থেকে জোরালো হেডে গোল করেন রোনালদো। এমন একটি ম্যাচে ফল-নির্ধারক গোল করতে পেরে খুব খুশি রোনালদো, ‘আমাদের জন্য এটি খুব গুরুত্বপূর্ণ শিরোপা। আমরা দুর্দান্তভাবেই এটি উদ্যাপন করব।’
সিবেলিস স্কয়ারে উদ্যাপন শুরু হয়েছে রোনালদোর হেড থেকে করা গোলের পর থেকেই। রিয়ালের সমর্থকেরা মনে হয় বুঝে ফেলেছিল এ মৌসুমে প্রথমে গোল খাওয়ার পর বার্সেলোনা কেমন যেন মিইয়ে যায়। আসলেই তাই। গোল খাওয়ার পর ১৭ মিনিট সময় পেয়েছে কাতালানরা। কিন্তু গোল শোধের তাড়না তাদের মধ্যে দেখা যায়নি। বরং তাদের খেলায় ছিল আত্মসমর্পণের ভঙ্গি।
বার্সা কোচ পেপ গার্দিওলা পরাজয় বিশ্লেষণ করতে গিয়ে হয়ে গেলেন দার্শনিক, ‘প্রথমত আমি রিয়াল মাদ্রিদকে অভিনন্দন জানাই। আর জীবন তো এ রকমই। আপনি সব সময় জিততে পারবেন না।’

সিদ্দিকুরের দুর্দান্ত শুরু

এই টুর্নামেন্ট জিতলেই আবার উঠবেন র‌্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষে। বিশ্ব র‌্যাঙ্কিংয়ের দুইয়ে থাকা লি ওয়েস্টউডের চোখ সেদিকেই। অংশ নিচ্ছেন আরও ১৪২ প্রতিযোগী। সবাইকে টপকে ইন্দোনেশিয়ান মাস্টার্স গলফের প্রথম দিনের সেরা বাংলাদেশের সিদ্দিকুর রহমান! রয়্যাল জাকার্তা গলফ ক্লাবে কাল পারের চেয়ে ৬ শট কম খেলেছেন বাংলাদেশের গলফার। ৭২ কোর্স পারের টুর্নামেন্টের প্রথম রাউন্ড শেষে পারের চেয়ে ৫ শট কম খেলে যৌথভাবে দুইয়ে ছয়জন। ওয়েস্টউড খেলেছেন পারের চেয়ে চারটি কম, যৌথভাবে আটে আছেন আরও সাতজনের সঙ্গে। টুর্নামেন্টের প্রাইজমানি সাড়ে সাত লাখ ডলার।
গত মাসে ভারতের সেইল ওপেনে মাত্র এক স্ট্রোকের জন্য শিরোপা জিততে পারেননি সিদ্দিকুর, হয়েছিলেন রানারআপ। গত সপ্তাহের মালয়েশিয়ান ওপেনে হয়েছিলেন অষ্টম। ড্রয়ের পর ওয়েস্টউডের নাম দেখে খানিকটা নার্ভাস হয়ে গিয়েছিলেন র‌্যাঙ্কিংয়ে ১৩৫ নম্বরে থাকা সিদ্দিকুর। তবে পারফরম্যান্সে সেই ছাপ ছিল না মোটেও। দিনশেষেও এশিয়ান ট্যুরে খেলা এবং শিরোপা জেতা প্রথম বাংলাদেশির কণ্ঠে ছিল আত্মবিশ্বাসের ছোঁয়া, ‘গতকাল (পরশু) ড্রয়ের পর ওয়েস্টউডের নাম দেখে খুব রোমাঞ্চিত হয়েছিলাম, বিশ্বের সেরা গলফারদের একজনের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করব! সত্যি বলতে, সকালে লড়াই শুরুর পর নিজেকে কিছুটা নড়বড়েও লাগছিল। তবে শেষ পর্যন্ত সবকিছু খুব ভালোভাবে হয়েছে। আসলে কয়েক সপ্তাহ ধরেই খুব ভালো হচ্ছে। প্রতি সপ্তাহেই আমি আরও আত্মবিশ্বাসী হয়ে উঠছি, এ জন্যই পারফরম্যান্সও ভালো হচ্ছে।

টেস্ট দলে জায়গা হতে পারে যুবরাজের

গত বছরের বাজে পারফরমেন্সের কারণে ভারতের টেস্ট দল থেকে বাদ পড়েছিলেন যুবরাজ সিং। বিশ্বকাপ দলেও জায়গা পাবেন কিনা, তা নিয়েও ছিল অনেক সংশয়। কিন্তু বিশ্বকাপে সমালোচকদের জবাবটা বেশ ভালো মতোই দিয়েছেন ভারতীয় এই অলরাউন্ডার। ব্যাটিং, বোলিং, ফিল্ডিং সব ক্ষেত্রেই নজরকাড়া পারফরমেন্স দেখিয়ে জিতে নিয়েছেন টুর্নামেন্ট সেরার পুরস্কার। এবার ভারতের টেস্ট দলেও হয়তো জায়গা পেয়ে যেতে পারেন তিনি। জুনে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরেই হয়তো ভারতের টেস্ট দলে দেখা যেতে পারে যুবরাজ সিংকে।
আগামী ১৫ মের মধ্যেই ভারতের টেস্ট দল ঘোষণা করা হতে পারে বলে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের এক সূত্রে জানা গেছে। বিসিসিআইয়ের সেই সূত্র গতকাল বৃহস্পতিবার টাইমস অব ইন্ডিয়াকে বলেছেন, ‘বিশ্বকাপের আগে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজেই ভালো পারফরমেন্সের ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যুবরাজ। আর বিশ্বকাপে তো তিনি দুর্দান্ত খেলেছেন। এখন তিনি ঢুকে যেতে পারেন ভারতের টেস্ট দলেও।’
আইপিএলের পরপরই শুরু হতে যাওয়া এই উইন্ডিজ সফরের জন্য বিশ্রাম চেয়েছেন মহেন্দ্র সিং ধোনি, শচীন টেন্ডুলকারসহ ভারতের বেশ কিছু জ্যেষ্ঠ ক্রিকেটার। সে ক্ষেত্রে অধিনায়কের দায়িত্বটা কার কাঁধে আসবে, সেটা এখনো পরিষ্কার করে কিছু জানা যায়নি।

কলকাতাকে বিধ্বস্ত করে গেইলের জবাব

প্রথম তিনটি আসরে খেলেছেন কলকাতা নাইট রাইডার্সের হয়ে। কিন্তু এবারের চতুর্থ আসরের নিলামে তাঁকে নিয়ে আগ্রহ দেখায়নি কলকাতা, আগ্রহ দেখায়নি বাকিরাও। নিলামে অবিক্রীত থেকে গেলেও ইনজুরি থাকা ডির্ক ন্যানেসের পরিবর্তে ক্রিস গেইলকে এনেছে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু। এসে নিজের প্রথম ম্যাচেই অপরাজিত সেঞ্চুরি হেঁকে কলকাতাকে বিধ্বস্ত করেই যেন মুখ ফিরিয়ে নেওয়ার জবাবটা দিয়ে দিলেন এই মারকুটে ব্যাটসম্যান!
প্রথমে ব্যাট করে ৫ উইকেটে ১৭১ রান তুলে কলকাতা। এবারের আসরে ধুকতে থাকা বেঙ্গালুরুর সঙ্গে লড়াইয়ের জন্য এ পুঁজি যথেষ্ট হলেও কলকাতাকে মাথা তুলে দাঁড়ানোর সুযোগটাও দেননি গেইল। তিলকরত্নে দিলশানকে সঙ্গে নিয়ে উদ্বোধনী জুটিতে যোগ করলেন ১২৩ রান। শেষ পর্যন্ত নিজে অপরাজিত থাকলেন ৫৫ বলে ১০ চার আর ৭ ছয়ে ১০২ রানে! ১১ বল বাকি থাকতে বেঙ্গালুরুর জয় ৯ উইকেটে।