Thursday, November 2, 2017

টিভি সমালোচনা- এত বিজ্ঞাপন! এত অস্বাভাবিক গল্প!

২১ অক্টোবর রাত ১১টায় শাহরিয়ার নাজিম জয়ের উপস্থাপনায় এটিএন বাংলায় প্রচারিত হলো সেলিব্রেটি শো ‘সেন্স অব হিউমার’। এদিন অতিথি ছিলেন এ সময়ের জনপ্রিয় ও প্রতিশ্রুতিশীল চিত্রনায়ক আরিফিন শুভ।
আমরা আগেও বলেছি, এ অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ উপস্থাপক জয়ের হিউমার সেন্স। তাঁর তির্যক প্রশ্ন ও শীতল অভিব্যক্তি ভেদ করা অনুষ্ঠানটি উপস্থিত অতিথিদের জন্য হয় দুঃসাধ্য, আর দর্শকের জন্য হয় উপভোগ্য। এদিনও ঠিক তেমনটিই হয়েছে। প্রথমেই একটি হিন্দু মেয়েকে বিয়ে করা নিয়ে ব্যক্তিগত প্রশ্নে থমকে যান শুভ। তারপর একে একে শাকিব খানের সঙ্গে তাঁর তুলনা, তাঁকে নিয়ে বাজারে যে সব রটনা, ঘটনা, গুজব আছে, তা ধারাবাহিক প্রশ্নের মাধ্যমে খোলাসা করার চেষ্টা করেন উপস্থাপক। এরপর তাঁর ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কেও অনেকটাই জানা যায় এ অনুষ্ঠানে। এসব কথোপকথনের পাশাপাশি বিভিন্ন সিনেমায় আরিফিন শুভ অভিনীত কিছু দৃশ্য, গান, দর্শকদের জন্য ছিল অন্যতম আকর্ষণ। তারপরও বেশ কিছু বিষয়ে দর্শকের কৌতূহল অমীমাংসিত থেকে গেছে, যেমন : তাঁর স্ত্রীর পরিচয়, স্ত্রীকে নিয়ে তাঁর কোনো পরিকল্পনা আছে কি না ইত্যাদি।
আরেকটি বিষয় বেশ বেমানান হয়েছে অনুষ্ঠানের জন্য, তা হলো অভিনেত্রী বাঁধনের ব্যক্তিগত জীবনের সমস্যা ও সংকট সেলিব্রেটি শোর মতো এমন একটি অনুষ্ঠানে টেনে আনা। তাঁর বিবাহবিচ্ছেদ, সন্তানের অধিকার নিয়ে আদালতে মামলা, এসব যতই মানবিক হোক না কেন, এ অনুষ্ঠানের জন্য মোটেই মানানসই হয়নি। আর এর ফলে বাঁধনের যে খুব একটা লাভ হয়েছে, তা-ও মনে হয়নি। কারণ, বিষয়টি এখন সম্পূর্ণ আদালতের এখতিয়ারভুক্ত।
অতএব আমরা বলব, এ অনুষ্ঠানে এ প্রসঙ্গের অবতারণা পেশাদারির অবমাননা।
১৯ অক্টোবর সন্ধ্যা ৭টা ৪০ মিনিটে মো. মেহেদী হাসানের পরিচালনায় মাছরাঙা টিভিতে প্রচারিত হলো টেলিছবি একরাতের গল্প। গল্পটি শুরু হয়েছে, পথের মধ্যে একটি চায়ের দোকানে তিন বন্ধু চা খেতে বসে, সেখানে চা খেতে আসে দুটি মেয়ে। দূর থেকেই শুরু হয় তাদের মধ্যে হাসাহাসি, তেলাপোকা নিয়ে ফাজলামি। তারপর একটি বাস এলে তারা সবাই সে বাসে রওনা দেয় ঢাকার উদ্দেশে। বাসের মধ্যে শুরু হয় আরেক পর্ব হাসাহাসি, রসিকতা। এভাবে রাত হয়। বাস নষ্ট হয়। বাসের সুপারভাইজার ঘোষণা করেন, সকালের আগে বাস ঠিক হবে না। সবাই বেরিয়ে পড়ে কোথায় রাত কাটাবে, সে আশায়। তিন বন্ধু আশ্রয় নেয় এমন এক বাসায়, যেখানে সদস্য শুধু দুই বোন। এখানে আবার শুরু হয় ভূতের পর্ব। দুই বোন দুই বন্ধুকে সম্মোহিত করে, সারা রাত খেলা করে, রক্ত চুষে খায়। তারপর সকালে দেখা যায়, ওই দুই বোনসহ সবাই মিলে বাসে রওনা হয়েছে ঢাকার উদ্দেশে।
পুরো ছবিটি দেখার পর মনে প্রশ্ন জাগছিল, এটা কোনো ছবি, নাকি যা ইচ্ছে তা করার প্রামাণ্যচিত্র। কোনো গল্প নেই, ঘটনার কোনো ধারাবাহিকতা নেই। চায়ের দোকানে রসিকতা দিয়ে শুরু, তারপর বাস পর্ব, ভূত পর্ব, টেলিছবির নামে এসব হচ্ছেটা কী! মনে হচ্ছে, নির্মাতা কী নির্মাণ করছেন বুঝতে পারছেন না। অভিনেতা-অভিনেত্রী কোথায় কী অভিনয় করছেন, বুঝতে পারছেন না। চ্যানেল কর্তৃপক্ষ কী প্রচার করছে, তা-ও বুঝতে পারছে না। কারও মধ্যে কোনো পেশাদারি নেই, কোনো দায়বদ্ধতা নেই। যে দর্শকের জন্য অনুষ্ঠান এবং যে দর্শক টিভি চ্যানেলগুলোর অস্তিত্ব, সেই দর্শকই এঁদের কাছে উপেক্ষিত ও গুরুত্বহীন। বড়ই দুঃখজনক।
২১ অক্টোবর আরটিভিতে রাত ৮টা ১০ মিনিটে ফরিদ উদ্দিন আহমেদের চিত্রনাট্য ও উপস্থাপনায় প্রচারিত হলো নাটক মেঘ ও ক্যামেলিয়ার গল্প। এতে অভিনয় করেছেন প্রভা, গাজী রাকায়েত, নাঈম প্রমুখ।
প্রভা একজন খ্যাতিমান চিত্রনায়িকা। সে চিত্রনাট্যকার গাজী রাকায়েতকে ডেকে একটি চিত্রনাট্য তৈরির অনুরোধ জানায় এবং তাঁকে শোনায় তাঁর জীবনের গল্প। ফ্ল্যাশব্যাকে দেখানো এই গল্পটিই হলো নাটকের গল্প। নাঈমের সাধনা, সে নায়ক হবে। সেই সাধনা যখন বাস্তবায়ন হতে যায়, তখনই সামান্য ভুল ধারণার কারণে নায়িকা প্রভা তাঁকে প্রত্যাখ্যান করে বের করে দেয়। ভেঙে যায় নাঈমের স্বপ্ন। এরপর ক্রোধান্ধ নাঈম প্রভাকে অপহরণ করে আটকে রাখে। জানায় তার ক্রোধের কথা। স্বপ্ন ভঙ্গের কথা। তারপর প্রভা একসময় প্রেমের অভিনয় করে, সুযোগ বুঝে নাঈমকে আঘাত করে পালিয়ে যায় ও তাকে ধরিয়ে দেয়। এরপর দেখা যায় নাঈম বদ্ধ উন্মাদ হয়ে ঘুরে বেড়ায় পথে পথে। এরপর প্রভা সত্যিকার প্রেমের টানে তাকে খুঁজে পায় এবং তাকে স্বপ্ন দেখায় ছবি বানানোর। যে ছবিতে নায়ক-নায়িকা হবে তাঁরা দুজন।
গল্পটি অনেক ক্ষেত্রেই অস্বাভাবিক ও অসংগতিপূর্ণ হলেও নির্মাণটি ছিল পরিচ্ছন্ন। ফ্ল্যাশব্যাকে গল্প শোনানোর কাহিনি নিয়ে নাটক-সিনেমা অনেক হয়েছে। সে দিক থেকে বিষয়টি গতানুগতিকই। এ ছাড়া প্রভাকে যেভাবে অপহরণ করা দেখানো হয়েছে, তা খুবই আনাড়ি ও অবাস্তব। আবার উন্মাদ হওয়ার পর নাঈমের আচরণ এবং বাচালতাও হয়েছে হাস্যকর। এরপর আবার প্রভার সঙ্গে দেখা হওয়ার পর হঠাৎ তার আচরণ স্বাভাবিক হয়ে ওঠাটাও মনে হয়েছে অস্বাভাবিক। এসব ক্ষেত্রে নির্মাতার আরও সতর্কতা প্রয়োজন ছিল।
একটি বিষয় বড়ই বেদনাদায়ক, আর তা হলো, বিভিন্ন চ্যানেল কর্তৃপক্ষের বেপরোয়া মানসিকতা। তারা যখন-তখন অনুষ্ঠান বন্ধ করে বিজ্ঞাপন তো দেয়ই, কোনো কোনো চ্যানেল অনুষ্ঠান বন্ধ করে খবর, শিরোনাম, বিশেষ ঘোষণা—সবই প্রচার করে। এমনকি মাঝে আরেকটি অনুষ্ঠানও প্রচার করে বসে। এর ফলে দর্শক যে কতটা বিরক্ত হয়, আর অনুষ্ঠান যে কতটা বিকলাঙ্গ হয়, তা বোঝার মতো বিবেক বা মন কোনোটিই যেন নেই। যে দর্শক তাঁদের অবলম্বন, সেই দর্শককে তাঁরা মনে করে অবোধ ও অপরিপক্ব। আর যে অনুষ্ঠান তাঁদের প্রাণ, সেই অনুষ্ঠান প্রচারেই তাঁরা করে অবহেলা। কবে যে এ মানসিকতা থেকে আমরা পরিত্রাণ পাব, তা ভবিতব্যই জানেন।

আঁখির স্কুল সফর

স্কুলের ক্লাস বাদ দিয়ে কী করছে ওরা? সাদা ইউনিফর্ম পরা শিক্ষার্থীদের জটলা ঢাকার রেসিডেনসিয়াল মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজে। সকাল সকাল কী হচ্ছে ওখানে? একটা বিশাল গাছকে কেন্দ্র করে জটলা। গাছের গুঁড়িটা এমনভাবে বাঁধানো হয়েছে যে মনে হচ্ছে ওটা মঞ্চ। সেখানেই দাঁড়িয়ে আছেন চলচ্চিত্র পরিচালক মোরশেদুল ইসলাম। আছেন মুনীরা মোরশেদ মুন্নী, আঁখি ও তার বন্ধুরা ছবির মূল চরিত্রে অভিনয়কারী ইশা ও তার বন্ধুরা।
মোরশেদুল ইসলাম মাইক হাতে নিয়ে বললেন, ‘তোমরা কি দীপু নাম্বার টু সিনেমাটি দেখেছ?’
সমস্বরে প্রায় সব শিক্ষার্থীই বলে ওঠে, ‘হ্যাঁ।’
‘আমার বন্ধু রাশেদ দেখেছ?’
‘হ্যাঁ।’ পুনরাবৃত্তি করে ওরা।
‘আমি এ ছবি দুটি নির্মাণ করেছি। এবার আমি তোমাদের কাছে এসেছে আঁখি ও তার বন্ধুরা ছবিটি নিয়ে। তোমরা দেখবে তো ছবিটা?’
এবারও সমস্বরে চিৎকার, ‘হ্যাঁ, দেখব।’
এভাবেই কথা চলতে থাকে। শুকনো কথায় চিড়ে ভিজবে না, এ তো জানা কথাই। তাই চিড়ে ভেজানোর জন্য ছিল লটারি। এ এক অভিনব লটারি। পাঁচটি টিকিটে থাকবে ‘ব্যাটিং’ লেখা। যে পাঁচজন সৌভাগ্যবানের হাতে সেগুলো পৌঁছাবে, তারা কালো চশমা পরে ব্যাটিং করবে। এদের মধ্যে যারা ব্যাটে বল লাগাতে পারবে, তারাই পাবে বিনে পয়সায় আঁখি ও তার বন্ধুরা ছবিটি দেখার টিকিট। হইহই করে উঠল শিক্ষার্থীরা। হুমড়ি খেয়ে পড়ল লটারির টিকিট সংগ্রহের জন্য। তারপর হয়ে গেল মজার ক্রিকেট।
গতকাল বুধবার এ আয়োজনে উপস্থিত বাংলা কমিউনিকেশনসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আদিব রশীদ বললেন, উপস্থিত সবাই হাতে হাতে পাবে বুকমার্ক। সেই বুকমার্কে আছে কিউআর কোড। সেটা থেকে সিনেমার পোস্টার ডাউনলোড করে নেওয়া যাবে। রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজের উপাধ্যক্ষ এম নুরুন্নবীও ছবি দেখার জন্য উদ্বুদ্ধ করলেন ছাত্রদের।
লাভেলো আইসক্রিমের ব্র্যান্ড ম্যানেজার কাজী আলমাস হাসান বললেন, এই প্রচারণায় ‘আঁখি ও তার দলবল’-এর সঙ্গে তাঁরা থাকবেন। প্রত্যেকেই পাবে আইসক্রিম।
উচ্ছ্বসিত মোরশেদুল ইসলাম বললেন, সকাল ৮টায় সেন্ট যোসেফ স্কুলেও গিয়েছিলেন তাঁরা। স্কুল শুরু হওয়ার আগে অ্যাসেম্বলিতে ২ হাজার ৫০০ শিক্ষার্থীর সামনে দাঁড়িয়েছিলেন। ওরাও কথা দিয়েছে, ছবিটি দেখবে।
আঁখি ও তার বন্ধুরা এভাবেই ঢাকার বেশ কিছু স্কুলে যাবে। ছোটদের জন্য তৈরি এই ছবি দেখার জন্য ছোটদের আহ্বান জানাবে। আর হ্যাঁ, প্রতিটি স্কুলেই লাভেলো আইসক্রিমে রসনাবিলাস করতে পারবে শিক্ষার্থীরা।
ছবিটি মুক্তি পাবে ২২ ডিসেম্বর। পরীক্ষার ঝামেলা তখন মাথায় থাকবে না, তাই অনায়াসেই সিনেমা হলে হানা দিতে পারবে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা।

মাসে ৯০০ রুপিতে হীরা! -ভারতে খুচরা ক্রেতাদের জন্য নতুন বিনিয়োগ প্রকল্প

ভারতের সীমিত আয়ের সাধারণ মানুষের হীরার গয়না কেনার স্বপ্ন পূরণে নতুন একটি বিনিয়োগ কর্মসূচি বা স্কিম নিয়ে আসছে দ্য ইন্ডিয়ান কমোডিটি এক্সচেঞ্জ বা আইসিইএক্স নামের একটি সংস্থা। এ স্কিম চালু হলে মাসে ৯০০ রুপি জমা দিয়েই গ্রাহকেরা হীরা কিনতে পারবেন। অর্থ জমা দেওয়া চালিয়ে যেতে হবে মোটামুটি দুই থেকে আড়াই বছর।
আইসিইএক্সের এক বিনিয়োগ প্রকল্প ভারতের সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ বোর্ডের (এসইবিআই) অনুমোদন পেয়েছে। ভারতীয় পত্রিকা ইকোনমিক টাইমস-এর গত সোমবারের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শিগগিরই আইসিইএক্স এই বিনিয়োগ কর্মসূচি চালু করবে, যাকে আনুষ্ঠানিকভাবে সিস্টেমেটিক ইনভেস্টমেন্ট প্ল্যান বা এসআইপি বলা হচ্ছে।
হীরা কেনায় বিনিয়োগ করতে গ্রাহককে আইসিইএক্সের সদস্য একটি ব্রোকারেজ হাউসে একটি হিসাব খুলতে হবে, ঠিক যেভাবে শেয়ার ব্যবসা করতে ব্রোকারেজ হাউসে হিসাব খুলতে হয়। আইসিইএক্স গ্রাহককে বিভিন্ন আকারের হীরা বিক্রির প্রস্তাব দেবে। সেটা ৩০ সেন্ট, ৫০ সেন্ট বা ১০০ সেন্টের (১ ক্যারেট) হতে পারে। এখনকার হিসাবে একটি ৩০ সেন্টের হীরার দাম ২৭ হাজার রুপি। মাসে ৯০০ রুপি করে জমা দিলে গ্রাহক আড়াই বছরে ওই আকারের একটি হীরার মালিক হতে পারবেন।
আইসিইএক্সের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সনজিৎ প্রসাদ ইকোনমিক টাইমসকে বলেন, সাধারণভাবে বিনিয়োগকারীদের বিনিয়োগ পোর্টফোলিওতে কখনো হীরা ছিল না। বিনিয়োগকারীরা দুটি জিনিস চায়, মুনাফা ও বাজার থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সুযোগ। এ দুটি বিষয়ের ক্ষেত্রে হীরা অনুকূল পণ্য নয়। তিনি বলেন, গত পাঁচ বছরে হীরার দাম বাড়েনি। আনুষ্ঠানিক পুনরায় বিক্রির বাজার না থাকায় তারা তা বিক্রি করে বেরিয়ে যেতেও পারেনি। ডায়মন্ড ইনডেক্স এ অসুবিধা দূর করবে।
পণ্য বাজারভিত্তিক ডিভাইন সলিটেয়ার নামের একটি প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জিগনেশ মেহতা বলেন, ‘আপনি কখনোই লাভের আশায় হীরা কিনবেন না। এ বিনিয়োগ স্কিমে আপনি যোগ দেবেন ২৫তম বিবাহবার্ষিকীতে স্ত্রীকে একটি হীরার গয়না কিনে দেওয়ার জন্য।’
ইকোনমিক টাইমস বলছে, ইন্ডিয়ান কমোডিটি এক্সচেঞ্জে হীরা কেনাকাটা হবে পাইকারি দরে, যা খুচরা বাজারদরের চেয়ে প্রায় ৩০-৩৫ শতাংশ কম। খুচরা বাজারের ১ লাখ রুপির হীরা ইন্ডিয়ান কমোডিটি এক্সচেঞ্জে ৭৫ হাজারে মিলতে পারে বলে উল্লেখ করা হয়েছে ইকোনমিক টাইমস-এর প্রতিবেদনে।

দশম সিটি ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা পুরস্কার- দারিদ্র্য জয়ের পুরস্কার পেলেন ছয় ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা

একদিন তাঁরা ছিলেন হতদরিদ্র; যা এখন কথার কথা মাত্র। কারণ, শূন্য থেকে শুরু করে তাঁরা এত দিনে ‘বিন্দু থেকে সিন্ধু’ গড়ে তোলার কৃতিত্ব দেখিয়েছেন। নিজেদের দারিদ্র্যকে জয় করে সচ্ছল জীবনযাপনই শুধু নয়, বরং কর্মসংস্থান তৈরির মাধ্যমে আরও কিছু মানুষকে নিয়ে এসেছেন সুন্দর ভবিষ্যতের পথে।
সাফল্যের সোপান বেয়ে ওপরে ওঠা এ রকম ছয়জন ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা পেয়েছেন দশম সিটি ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা পুরস্কার (সিএমএ)। একই সঙ্গে ক্ষুদ্রঋণ প্রদানকারী দুটি সংস্থাকেও এই পুরস্কার দেওয়া হয়েছে।
সিটি ফাউন্ডেশনের সহায়তায় সিটিব্যাংক এনএ ও ক্রেডিট ডেভেলপমেন্ট ফোরাম (সিডিএফ) পুরস্কারটি দিয়েছে। রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে গতকাল শনিবার এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই পুরস্কার দেওয়া হয়। এতে অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এম আবদুল মান্নান প্রধান অতিথি হিসেবে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন।
আর সিটির এশিয়া প্যাসিফিক করপোরেট অ্যাফেয়ার্স ম্যানেজিং ডিরেক্টর রেজিনা সো বিজয়ীদের হাতে প্রাইজ মানি বা পুরস্কারের অর্থ এবং সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ও সিটি মাইক্রোএন্ট্রাপ্রেনিউরশিপ অ্যাওয়ার্ডস (সিএমএ) উপদেষ্টা পর্ষদের চেয়ারপারসন রোকিয়া আফজাল রহমান সনদ হস্তান্তর করেন। অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন বাংলাদেশে ভারপ্রাপ্ত সিটি কান্ট্রি অফিসার সাজেদুল ইসলাম এবং সিএমএ বাছাই কমিটির চেয়ারপারসন ও ক্রেডিট ডেভেলপমেন্ট ফোরামের (সিডিএফ) নির্বাহী পরিচালক আবদুল আওয়াল।
এবারে চুয়াডাঙ্গার শাহাপুরের মো. ওলি উল্লাহ পেয়েছেন ‘বছরের সেরা ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা’ পুরস্কার। শিক্ষানবিস শ্রমিক থেকে হয়ে ওঠেন জনতা ইঞ্জিনিয়ারিং নামে একটি প্রতিষ্ঠানের মালিক; যেটি ট্রাক্টর, পাওয়ার টিলার, লাঙলসহ বিভিন্ন কৃষি যন্ত্রপাতি তৈরি করে। এটিই তাঁর ভাগ্য বদলে দেয়। পুরস্কার ছাড়াও তিনি সাড়ে চার লাখ টাকার প্রাইজ মানি পান। তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, ‘কেউ যদি সঠিকভাবে কাজ করেন, তাহলে তিনি অবশ্যই সফল হবেন।’
একই শ্রেণিতে রানারআপ পুরস্কার হিসেবে এক লাখ টাকার প্রাইজ মানি পান বগুড়ার দেবখণ্ডের মো. নুরুল ইসলাম শেখ।
‘বছরের সেরা ক্ষুদ্র নারী উদ্যোক্তা’ পুরস্কার পেয়েছেন ঠাকুরগাঁওয়ের পশ্চিম কাদিরহাটের ফাতেমা খাতুন। তিনি মাত্র পাঁচ হাজার টাকার ক্ষুদ্রঋণ নিয়ে মেসার্স ফাতেমা এন্টারপ্রাইজ নামে একটি প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার জন্য পুরস্কার পান। প্রতিষ্ঠানটি গার্মেন্টসের ঝুট কাপড় দিয়ে মাদুর ও জায়নামাজ তৈরি করে; যা তাঁর ভাগ্য গড়ে দেয়। সাড়ে তিন লাখ টাকার প্রাইজ মানি পাওয়া ফাতেমা বলেন, ‘সাহস ও সদিচ্ছা যেকোনো নারীকে সফল করে তুলতে পারে।’
একই শ্রেণিতে গাজীপুরের মেলা দেশিপাড়ার মোমেনা আক্তার রানারআপ হন। তিনি পান এক লাখ টাকা।
‘কৃষি খাতে বছরের সেরা ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা’ পুরস্কার লাভ করেন যশোরের চাঁচড়ার প্রহ্লাদ বর্মণ। তিনি বলেন, ‘আমি প্রথম বিভাগে এসএসসি পাস করি। কিন্তু এরপর আর পড়ালেখা করতে পারিনি দারিদ্র্যের কারণে। তিনি ঘনিষ্ঠজনদের কাছ থেকে ২০০ টাকা ধার করে তিন কাঠা জমি লিজ নিয়ে শুঁটকি তৈরির ব্যবসায় নামেন। ব্যস, আর তাঁকে আর কখনো পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি। বর্তমানে নিজস্ব চার বিঘা ও লিজ নেওয়া ৫৪ বিঘা জমিজুড়ে বিস্তৃত তাঁর মৎস্য চাষ। তাঁর দেখাদেখি এলাকার আরও অন্তত ১৫ জন এই ব্যবসায়ে এসেছেন। তিনি প্রাইজ মানি পান সাড়ে তিন লাখ টাকা।
একই শ্রেণিতে চুয়াডাঙ্গার লক্ষ্মীপুরের মো. উসমান গণি রানার হিসাবে এক লাখ টাকার প্রাইজ মানি লাভ করেন।
এদিকে ‘বছরের সেরা ক্ষুদ্রঋণ প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান’ হিসেবে পুরস্কার পেয়েছে সাজিদা ফাউন্ডেশন। প্রতিষ্ঠানটি তিন লাখ টাকার প্রাইজ মানি পায়।
এ ছাড়া ‘বছরের সবচেয়ে উদ্ভাবনী ক্ষুদ্রঋণ প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান’ হিসেবে পুরস্কার লাভ করেছে সেন্টার ফর ডেভেলপমেন্ট ইনোভেশন অ্যান্ড প্র্যাকটিস (সিদিপ। এই প্রতিষ্ঠান পায় চার লাখ টাকার প্রাইজ মানি।
অনুষ্ঠানে প্রতিমন্ত্রী আবদুল মান্নান বলেন, দেশে দারিদ্র্যের হার কমে ২২-২৩ শতাংশে নেমে এসেছে; যা ছয়-সাত বছর আগেও ছিল ৪৪ শতাংশ। একই সঙ্গে হতদরিদ্রের হারও কমে ১০ শতাংশের নিচে চলে এসেছে। তিনি বলেন, ‘আমাদের আরও এগোতে হবে। এ জন্য আমাদের বেসরকারি খাত ও ব্যক্তিগত পর্যায় থেকেও সামাজিক দায়বদ্ধতার আওতায় সহযোগিতা প্রয়োজন।
এই পুরস্কারের মিডিয়া পার্টনার হয়েছে ইংরেজি দৈনিক দ্য ডেইলি স্টার ও চ্যানেল আই টিভি।
সিটিগ্রুপের জনহিতকর সংস্থা সিটি ফাউন্ডেশন ২০০৫ সালে সিটি ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা পুরস্কার প্রবর্তন করে।

প্রবাসী আয় সবচেয়ে বেশি কমছে বাংলাদেশেই

বিশ্বের প্রতিটি দেশেই প্রবাসী আয় বা রেমিট্যান্স প্রাপ্তি কমেছে। তবে দেশগুলোর মধ্যে প্রবাসী আয় সবচেয়ে বেশি কমেছে বাংলাদেশ ও ভারতে। সে তুলনায় পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কায় প্রবাসী আয় কমে যাওয়া এতটা প্রকট হয়নি।
বিশ্বব্যাংক বলছে, প্রবাসী আয় বা রেমিট্যান্স কমে যাওয়া এখন একটি বৈশ্বিক প্রবণতা। দুই বছর ধরেই এই প্রবণতা অব্যাহত রয়েছে। চলতি ২০১৭ সালেও একই প্রবণতা। যেমন ২০১৫ সালে বিশ্বব্যাপী রেমিট্যান্স কমেছিল ১ শতাংশ, ২০১৬ সালে তা ২ দশমিক ৪ শতাংশ কমে হয়েছে ৪২৯ বিলিয়ন বা ৪২ হাজার ৯০০ কোটি ডলার।
বিশ্বব্যাংক বাংলাদেশ নিয়ে তাদের ‘হালনাগাদ উন্নয়ন’ নামে সেপ্টেম্বর সংখ্যার প্রতিবেদনে প্রবাসী আয় পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করেছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী সব দেশে প্রবাসী আয় কমলেও এর গভীরতা ও ধারাবাহিকতার দিক থেকে পরিস্থিতি খারাপ বেশি বাংলাদেশ ও ভারতের। অর্থাৎ এই দেশ দুটিতে প্রবাসী আয় বেশি কমেছে এবং তা ধারাবাহিকভাবেই কমছে। বাংলাদেশ ও অন্য উন্নয়নশীল দেশগুলো সবচেয়ে বেশি প্রবাসী আয় পায় মূলত মধ্য উপসাগরীয় দেশগুলো থেকে। এসব দেশের অর্থনীতির আয়ের মূল উৎস জ্বালানি তেল। আর এই জ্বালানি তেলের দাম কমে যাওয়ার কারণেই প্রবাসী আয়ে ধাক্কা লেগেছে। তেল থেকে আয় কমে যাওয়ায় উপসাগরীয় দেশগুলো নানা ধরনের আর্থিক নীতি গ্রহণ করেছে। যেমন, অনাবাসী নাগরিকদের ওপর কর আরোপ, জ্বালানি ব্যয় বৃদ্ধি ও ভর্তুকি হ্রাস। এসব কারণে দেশগুলোতে থাকা মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে গেছে। আর এরই প্রভাব পড়েছে প্রবাসী আয় প্রবাহে।
বাংলাদেশ পরিস্থিতি
বিগত ২০১৬-১৭ অর্থবছরে প্রবাসী আয় কমেছিল সাড়ে ১৪ শতাংশ। ওই অর্থবছরে প্রবাসীরা পাঠান ১ হাজার ২৭৬ কোটি ডলার। আর তারও আগের অর্থবছরে (২০১৫-১৬) প্রবাসী আয় আসে ১ হাজার ৪৯৩ কোটি ডলার। এই অর্থবছরে প্রবাসী আয় কমেছিল আড়াই শতাংশ। সর্বশেষ ২০১৪-১৫ অর্থবছরে প্রবাসী আয়ে প্রবৃদ্ধি ছিল সাড়ে ৭ শতাংশ। যদিও চলতি ২০১৭-১৮ অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে (জুলাই-আগস্ট) অবশ্য প্রবাসী আয়ে প্রবৃদ্ধি হয়েছে প্রায় ১৬ শতাংশ। ঈদের কারণেই এমনটি হয়েছে বলে মনে করা হয়।
বাংলাদেশও প্রবাসী আয়ের জন্য উপসাগরীয় দেশগুলোর ওপর অনেক বেশি নির্ভরশীল। মোট প্রবাসী আয়ের ৬০ শতাংশই আসে এসব দেশ থেকে। একমাত্র কাতার ছাড়া বাকি সব উপসাগরীয় দেশ থেকেই প্রবাসী আয় হ্রাস পেয়েছে। বিশেষ করে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন ও কুয়েত থেকে প্রবাসী আয় আসা কমেছে সবচেয়ে বেশি।
আয় কমলেও প্রবাসে কাজ করতে যাওয়া বাংলাদেশের মানুষের সংখ্যা কমেনি, বরং বেড়েছে। বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১৬-১৭ অর্থবছরে উপসাগরীয় দেশগুলোতে বাংলাদেশি যাওয়ার সংখ্যা বেড়েছে ৫৪ শতাংশ। এ সময় ৭ লাখ ৫১ হাজার ৪১০ জন উপসাগরীয় দেশগুলোতে কাজ করতে গেছেন। এই সংখ্যা গত অর্থবছরের মোট জনশক্তি রপ্তানির ৮৪ শতাংশ। সবচেয়ে বেশি গেছে সৌদি আরব, ওমান, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত, মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুরে। এত মানুষ গেলেও বিপরীতে কত মানুষ একই সময়ে ফিরে এসেছেন, তার কোনো নির্ভরযোগ্য উপাত্ত নেই, উল্লেখ করে বিশ্বব্যাংক আরও বলছে, নতুন যাঁরা গেছেন, তাঁদের প্রতি চারজনের একজন নারী। তাঁরা অত্যন্ত কম বেতনে যাচ্ছেন। এটিও প্রবাসী আয় কমার আরেকটি কারণ।
কেন কমছে
বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে, প্রবাসী আয় কমে যাওয়ার কারণ নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকও মাঠ পর্যায়ে অনুসন্ধান চালিয়েছে। দেখা গেছে, প্রবাসী আয় পাঠানোর ক্ষেত্রে অর্থ পাঠানোর অনানুষ্ঠানিক পথ ব্যবহার করা হচ্ছে, বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্য, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে। বলে রাখা ভালো, পরিমাণের দিক থেকে সবচেয়ে বেশি প্রবাসী আয় কমেছে যুক্তরাষ্ট্র থেকে। প্রবাসী আয় পাঠানোর ক্ষেত্রে নানা ধরনের মোবাইল ব্যাংকিং পদ্ধতিরই ব্যবহার বেশি হচ্ছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সমীক্ষায়ও দেখা গেছে, ২০১৩ সালের তুলনায় ২০১৬ সালে প্রবাসী আয় পাঠানোর ক্ষেত্রে মোবাইল ব্যাংকিং ও হুন্ডির ব্যবহার অনেক বেড়েছে। এর একটি কারণ হতে পারে বিনিময় হারের পার্থক্য, দ্রুত অর্থ পাঠানোর সুবিধা ও কম খরচ।
বিশ্বব্যাংক সবশেষে বলছে, কমে গেলেও এখনো বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের অন্যতম উৎস এই প্রবাসী আয়। এই আয় মোট ঋণ ও বিদেশি বিনিয়োগের চেয়েও বেশি। তা ছাড়া, বিশেষ করে বাংলাদেশের পল্লি অঞ্চলের বিশালসংখ্যক পরিবার এই প্রবাসী আয়ের ওপর নির্ভরশীল। সুতরাং এভাবে প্রবাসী আয় কমে যাওয়া অব্যাহত থাকলে সামগ্রিক অর্থনীতিতেই এর বিরূপ প্রভাব পড়বে।

যে কারণে দ্রুত বিয়ে করলেন তাসকিন

বিয়েবাড়ি বলতে যা বোঝায়, সেটির কমই টের পাওয়া গেল মোহাম্মদপুরের জাকির হোসেন রোডে তাসকিন আহমেদের বাড়িতে। তবে পরিবারে নতুন এক সদস্য যে যোগ হয়েছেন, সেটি কাল বিকেলে বাড়ির দরজার চৌকাঠে পা রাখতেই বোঝা গেল। তাসকিনের বাবা আবদুর রশিদ ও মা সাবিনা ইয়াসমিনের মাঝে লক্ষ্মীমন্ত হয়ে যিনি বসে আছেন, তিনি রাবেয়া নাঈমা। যাঁর সঙ্গে পরশু রাতে গাঁটছড়া বেঁধেছেন তাসকিন।
দক্ষিণ আফ্রিকা সফর থেকে পরশু সকালে ঢাকায় এসে পৌঁছেছেন তাসকিন। বাসায় ফিরেই একটা লম্বা ঘুম। ‘ওঠ বাবা, কাজটা শেষ করে আসি’—আবদুর রশিদের ডাকে ঘুম ভাঙে বিকেলে। তারপর? তাসকিন মজা করে বলেন, বাকিটা ইতিহাস! গায়েহলুদ, আংটি বদল, বিয়ে—আকস্মিকভাবেই ঘটে গেছে সবকিছু। ঝটপট করতে হচ্ছে বলেই মোহাম্মদপুরের হোয়াইট প্যালেস কনভেনশন হলে আয়োজনটাও হয়েছে ছোট পরিসরে। জাতীয় দলের সতীর্থদের মধ্যে এসেছিলেন মাশরাফি বিন মুর্তজা ও তামিম ইকবাল। বিয়েতে মাশরাফি হয়েছেন তাসকিনের উকিল বাবা!
খবরটা শেষ পর্যন্ত নিজেদের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেনি। দ্রুত সেটি ছড়িয়ে পড়েছে চারদিকে। হুট করে কেন এই সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে, সেটির কিছু যুক্তি দিলেন আবদুর রশিদ, ‘তাসকিনকে যারা কাছ থেকে চেনে, তাদের কাছে কিন্তু বিয়েটা মোটেও অপ্রত্যাশিত নয়। আর আমরা কিন্তু বিয়ের সব আনুষ্ঠানিকতা এখনো শেষ করিনি। মাত্র কাবিন হয়েছে, যেটা সারতে চেয়েছিলাম গত আগস্টেই। কিন্তু ওর মা হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ায় তখন সেটি হয়নি। এ মাসেই আমরা ইকবাল রোডের নতুন ফ্ল্যাটে উঠব। সেখানে ওঠার আগেই চেয়েছি আয়োজনটা সেরে ফেলতে।’
সাত বছরের প্রেমের সম্পর্কের পরিণতি পেল এ বিয়েতে। কিন্তু শত তরুণীর হৃদয় যে ভেঙে গেল, সেটির কী হবে? তাসকিন কিছু বলার আগেই পাশ থেকে সলাজ হাসিতে নাঈমার রসিকতা, ‘একটা বন্ধন গড়তে হলে কিছু হৃদয় তো ভাঙবেই! নিয়তি এই বাঁধন যাঁর সঙ্গে লিখে রেখেছে, সেটিই হবে।’
দুজনের বেড়ে ওঠা একই এলাকায়। প্রথম পরিচয় সপ্তম শ্রেণিতে পড়ার সময়ে। তাসকিনই প্রথমে প্রেমে পড়েছিলেন নাঈমার। তবে শুরুতে বাংলাদেশ দলের সুদর্শন পেসার নাকি পাত্তাই পাননি নাঈমার কাছে! দুই মেরুর দুটি মানুষ কীভাবে এক বিন্দুতে মিলেছেন, হেমন্তের বিকেলে গল্পটা শোনালেন নাঈমা, ‘চারিত্রিক দিক দিয়ে দুজন দুই রকম ছিলাম। একবার ওর ছোট বোন প্রিয়ন্তির জন্মদিন বেশ ঘটা করে পালন করা হলো। জন্মদিনের অনুষ্ঠানেই আসলে আমাদের দুজনের রাস্তাটা এক হয়ে গেল। প্রেম করতে গেলে সাধারণত নানা বাধা-বিপত্তির মধ্যে যেতে হয়। আমাদের তেমন কোনো সমস্যায় পড়তে হয়নি। দুই পরিবারই সব জানত। আমরা অনেক সৌভাগ্যবান বলতে পারেন।’
জীবনের নতুন পর্বে পা রেখে তাসকিনের অনুভূতি কী, সেটি তাঁর হাসিমাখা মুখাবয়বই বলে দেয়। কিন্তু এই আনন্দক্ষণেও তাঁর ভাবনায় চলে আসে দুঃস্বপ্নের দক্ষিণ আফ্রিকা সফর, ‘আমরা যখন ভালো করি, তখন মানুষ আমাদের মাথায় তুলে নেয়। আবার খারাপ করলেই গালমন্দ করে। কিন্তু খেলাই তো জীবন নয়। জীবনের অংশ মাত্র। ব্যর্থতা ভুলে মানসিক প্রশান্তি পেতে, নিজেকে নতুন করে এগিয়ে নেওয়ার প্রেরণা খুঁজতে, জীবনটাকে নতুন করে সাজাতে এই সিদ্ধান্ত।’
আপাতত বিপিএল নিয়ে তাসকিনের ব্যস্ততা থাকায় মধুচন্দ্রিমায় যাওয়া হচ্ছে না নবদম্পতির। তবে পরিবার নিয়ে আগামী মাসে মালদ্বীপে ঘুরে আসার পরিকল্পনা আছে দুজনের।

‘ভ্যাম্পায়ার’ হত্যার অভিযোগে ১২৪ জন গ্রেপ্তার!

পূর্ব আফ্রিকার দেশ মালাবিতে কথিত ‘ভ্যাম্পায়ার’ হত্যার অভিযোগে ১২৪ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। দেশটির পুলিশ বিভাগ গতকাল শুক্রবার জানিয়েছে, ভ্যাম্পায়ার অপবাদ দিয়ে সম্প্রতি দুই ব্যক্তিকে হত্যা করা হয়। ওই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতেই শতাধিক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
গত মাস থেকে মালাবির দক্ষিণাঞ্চলে এ নিয়ে মোট নয়জন ব্যক্তিকে ভ্যাম্পায়ার অপবাদ দিয়ে হত্যা করা হলো। এ কারণে কর্তৃপক্ষকে রাত্রিকালীন বিশেষ কারফিউ জারি করতে হয়েছে।
ভ্যাম্পায়ারের এই গুজব মালাবির দক্ষিণাঞ্চলেই মূলত ছড়িয়েছে। ভুডু সংস্কৃতিতে মনে করা হয়, মানুষরূপী ভ্যাম্পায়ারেরা অন্য মানুষের রক্ত চুষে খায়। মালাবির পুলিশ বিভাগের মুখপাত্র রামসি মুসহানি বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেন, ‘এই অপবাদে একজনকে পুড়িয়ে মারা হয়েছে এবং একজনকে পাথর ছুড়ে মারা হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার এই গুজব ছড়িয়ে পড়ে।’
দেশটির বাণিজ্যিক রাজধানী ব্লান্টায়ারে এসব হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। সেখানে এ নিয়ে পুলিশের সঙ্গে স্থানীয়দের সংঘর্ষের ও সড়ক অবরোধের ঘটনাও ঘটেছে। পুলিশ প্রধান জানিয়েছেন, সমন্বিত অভিযানের মাধ্যমে ১২৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
এদিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ায় নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে জাতিসংঘ মালাবি থেকে এর খাদ্য ও কৃষি কর্মসূচিতে কাজ করা কর্মকর্তাদের সরিয়ে নিয়েছে। চলতি মাসের শুরুর দিকে দেওয়া এক প্রতিবেদনে জাতিসংঘ বলেছিল, পরিস্থিতি ‘অশান্ত’ হওয়ায় উপদ্রুত অঞ্চলগুলো পরিদর্শনে যাবে না তারা।
ধারণা করা হচ্ছে, সীমান্ত রাষ্ট্র মোজাম্বিক থেকে ভ্যাম্পায়ারের গুজব মালাবিতে ছড়িয়ে পড়েছে। মালাবিতে শিক্ষার হার খুব কম এবং ডাকিনীবিদ্যায় মানুষের প্রবল বিশ্বাস আছে। গত সপ্তাহে দেশটির প্রেসিডেন্ট পিটার মুথারিকা এসব হত্যাকাণ্ড ও ভ্যাম্পায়ারের গুজবের তদন্ত করার ঘোষণা দিয়েছেন।

কুকুর বাঁচিয়েছে ৫২ জনের জীবন

নাম তার ফ্রিদা। জাতে ল্যাব্রাডর। কাজ করে মেক্সিকো নৌবাহিনীতে। বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগে তল্লাশি ও উদ্ধার অভিযানে অংশ নিয়ে মানুষের জীবন রক্ষা করা তার কাজ। পেশাগত কারণে সে সারা বিশ্বে সংবাদের শিরোনামও হয়েছে।
সম্প্রতি মেক্সিকোতে আঘাত হানা ভয়াবহ ভূমিকম্পে উদ্ধার অভিযানের পর ফ্রিদা এখন স্থানীয় মানুষের কাছে ‘নায়িকা’ হিসেবে পরিচিত। গত দুই সপ্তাহ আগে মেক্সিকোয় ৭ দশমিক ১ মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হানে। ভূমিকম্পে ২৫০ জন প্রায় হারায়। এরপর ফ্রিদা ও তার সঙ্গী কুকুরদের ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে জীবিত ব্যক্তিদের উদ্ধারের জন্য নিয়োজিত করে মেক্সিকো নৌবাহিনী।
ফ্রিদা প্রথম সবার নজরে আসে উদ্ধার অভিযানে গিয়ে। চোখে একটি গগলস পরা, পিঠে খাকি কাপড় জড়ানো আর চার পায়ে দুই জোড়া জুতা পরা অবস্থায় তাকে দেখা যায়। সাত বছর বয়সী এই কুকুরটি ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে একজন পুলিশ কর্মকর্তা ও আরও কয়েকজনকে উদ্ধার করে। এরপর ফ্রিদার সাহসিকতা নিয়ে মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট এনরিক পি নিয়েতো এক টুইট বার্তায় লেখেন, ‘এটি ফ্রিদা। সে নৌবাহিনীর হয়ে বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগে দেশে এবং বিদেশে ৫২ জনের জীবন বাঁচিয়েছে।’
উদ্ধার অভিযানের পর থেকে ফ্রিদাকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা চলছে। অনেকে পরামর্শ দিচ্ছেন, মেক্সিকোর ৫০০ পেসোর নোটে বিখ্যাত চিত্রকর ডিয়েগো রিভেরার ছবির জায়গায় ফ্রিদার ছবি যুক্ত করা হোক। মেক্সিকোর ‘এল হেরাল্ডো ডি মেক্সিকো’ একটি নিবন্ধ ছেপেছে, যেখানে বলা হয়েছে—ফ্রিদা উদ্ধারকারী দলে নতুন যুক্ত এক থেকে পাঁচ বছর বয়সী কুকুরদের প্রশিক্ষণও দেয়।
গার্ডিয়ান অবলম্বনে লুৎফরজামান

মাঠে গিয়ে খেলা দেখবেন সৌদি নারী

সৌদি আরবের নারীরা আগামী বছর থেকে মাঠে গিয়ে খেলা দেখতে পারবেন। তাঁদের জন্য এ ধরনের সুযোগ এটাই প্রথম।
বিবিসি অনলাইনের খবরে জানানো হয়, রিয়াদ, জেদ্দা ও দাম্মামের স্টেডিয়ামগুলোয় যেতে পারবেন সৌদি নারীরা।
সৌদি নারীদের স্বাধীনতার পথে এটি আরেক ধাপ অগ্রগতি। এর আগে দেশটিতে নারীদের গাড়ি চালানোর ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হয়।
সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান দেশটির সমাজব্যবস্থাকে আধুনিক করতে ও অর্থনীতিকে গতিশীল করতে ভূমিকা রাখছেন।
সৌদি আরবের খেলাধুলা–সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বলছে, তিন এলাকার স্টেডিয়ামগুলোয় ২০১৮ সালের শুরু থেকে সপরিবারে বসার ব্যবস্থা করার প্রস্তুতি চলছে। স্টেডিয়ামের ভেতর খাবারের দোকান ও মনিটর স্ক্রিন থাকবে।
তেলের ওপর নির্ভরশীল সৌদি আরবে সামাজিক ও অর্থনৈতিক পরিবর্তন আনার ঘোষণা দেন ৩২ বছরের যুবরাজ মোহাম্মদ। ২০৩০ সালের মধ্যে সংস্কারের লক্ষ্যে পরিকল্পনা ঘোষণা করেন তিনি।
সৌদি আরবে নারীদের কঠোর ধর্মীয় অনুশাসনের মধ্যে রাখা হয়। ভ্রমণ, কর্মক্ষেত্র বা স্বাস্থ্যগত কোনো কারণে বাইরে যেতে হলে পুরুষ অভিভাবকের লিখিত অনুমতি নিতে হয়।

২৬ কোটির বেশি শিশু স্কুলে যেতে পারে না

বিশ্বে ২৬ কোটি ৪০ লাখ শিশু-কিশোর শিক্ষার সুযোগ পায় না। এর মধ্যে ৬ থেকে ১১ বছর বয়সী ৬ কোটি ১০ লাখ শিশু প্রাথমিক শিক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত। ১২ থেকে ১৪ বছর বয়সীদের মধ্যে ৬ কোটি শিশু মাধ্যমিক শিক্ষার সুযোগ পায় না। আর উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষার সুযোগ পায় না ১৫ থেকে ১৭ বছর বয়সী ১৪ কোটি ২০ লাখ শিশু।
জাতিসংঘের শিশুবিষয়ক সংস্থা ইউনেসকোর নতুন এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এই তথ্য। ২০১০ থেকে ২০১৫ সালে ১২৮টি দেশের তথ্যের ভিত্তিতে প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে।
২০৩০ অ্যাজেন্ডা ফর সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট রিপোর্টের অংশ হিসেবে এই তথ্য সামনে আসে। ইউনেসকোর পরিসংখ্যান ইনস্টিটিউট এবং গ্লোবাল এডুকেশন মনিটরিং (জিইএম) রিপোর্ট যৌথভাবে তা প্রকাশ করে।
ইউনেসকোর মহাপরিচালক ইরিনা বোকোভা বলেন, প্রতিবেদনে উচ্চমাধ্যমিকে পড়ার বয়সী বিশ্বের ৯০ শতাংশ মানুষের তথ্য আনা হয়েছে। এতে দেখা যায়, ৪০টি দেশে চারজনে একজনের কম কিশোর-কিশোরী উচ্চমাধ্যমিক সম্পন্ন করতে পেরেছে। ৬০টি দেশে দুজনে একজেনর কম তা পেরেছে। আর উচ্চমাধ্যমিকের পড়াশোনা কমপক্ষে ৯০ শতাংশ শিশু-কিশোর সম্পন্ন করতে পারে মাত্র ১৪টি দেশে।
ইরিনা বোকোভার মতে, শিক্ষার অধিকার নিশ্চিত করার মূল দায়িত্ব সরকারের ওপর বর্তায়। কিন্তু তা বিশ্বের অর্ধেক দেশের ওপরে খাটে না। তাই শিশু-কিশোরদের শিক্ষার অধিকার নিশ্চিতকল্পে সব সরকার, এমনকি দাতাগোষ্ঠীকেও জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে। তিনি শিক্ষাগত ‘ব্যর্থতা’ মোকাবিলায় বিশ্ব সম্প্রদায়কে যৌথ উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান। ইউনেসকোর মহাপরিচালক বলেন, ‘বিশ্বে ২৬ কোটি ৪০ লাখ শিশু-কিশোর স্কুলে যায় না। এটি একটি ব্যর্থতা, যা আমাদের সবাইকে মিলেমিশে মোকাবিলা করতে হবে। কারণ শিক্ষার দায়দায়িত্ব সবার। এ ক্ষেত্রে টেকসই উন্নতি কেবল যৌথ উদ্যোগের মাধ্যমেই সম্ভব।’

মরিয়মের উচ্চাকাঙ্ক্ষায় দলে ঝাঁকুনি -ডনের বিশ্লেষণ

পানামা পেপারস কেলেঙ্কারির জেরে পাকিস্তানে নওয়াজ শরিফ প্রধানমন্ত্রীর পদ খোয়ানোর পর তাঁর দল ক্ষমতাসীন পাকিস্তান মুসলিম লিগ (পিএমএল-এন) গৃহবিবাদে এখন ভাঙনের মুখে—এ গুজব চলছে কদিন ধরেই। এরই মধ্যে গত শুক্রবার দ্য নিউইয়র্ক টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আগামী বছরের সাধারণ নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী পদে লড়াইয়ের ইঙ্গিত দিয়েছেন নওয়াজকন্যা মরিয়ম নওয়াজ।
মরিয়ম নওয়াজের এমন উচ্চাকাঙ্ক্ষায় যেন বড় রকমের এক ঝাঁকুনিই খেল পাকিস্তানের ক্ষমতাসীন দলটি। সাক্ষাৎকারের পরদিন গত শনিবার নিজের ৪৪তম জন্মদিন উদ্‌যাপন করলেন মরিয়ম। ওই সাক্ষাৎকারে তিনি প্রধানমন্ত্রীর পদে লড়াইয়ের মতো উচ্চাকাঙ্ক্ষার পেছনে ঘনিষ্ঠজন ও বন্ধুবান্ধব মহল তাঁকে নেতৃত্বের আসনে দেখতে চায় বলে উল্লেখ করেন। তবে তাঁকে কেবল প্রধানমন্ত্রী পদে লড়াই নয়; বরং তিনি দলেরও হাল ধরুন—তাঁর পরিবারের এমন সিদ্ধান্তের কথা অস্বীকার করেন মরিয়ম।
পাকিস্তানি নেতাদের বরাতে নিউইয়র্ক টাইমসের এক বক্তব্যের সঙ্গেও দ্বিমত পোষণ করেন মরিয়ম। তাতে বলা হয়, মরিয়ম, নাকি তাঁর চাচাতো ভাই হামজা শাহবাজ পিএমএল-এনের নেতৃত্ব দেবেন, তা এখনই বলাটা আগাম হয়ে যাবে।
মরিয়ম ও পিএমএল-এনের জ্যেষ্ঠ নেতারা দলটিকে একটি ‘বিভক্ত বাড়ি’তে পরিণত হওয়ার ধারণা যত অস্বীকারই করুন না কেন, দলের ভেতর থেকে অনেকে অভ্যন্তরীণ মতবিরোধের কথা স্বীকার করেন। তাঁরা বলেন, নওয়াজ শরিফের প্রধানমন্ত্রী পদ হারানোর পর থেকেই দলের মধ্যে নেতৃত্বশূন্যতা সৃষ্টি হয়েছে।
নওয়াজকন্যার সঙ্গে তাঁর চাচাতো ভাইয়ের দ্বন্দ্বের বিষয় আরও পাকাপোক্ত হয়ে বেরিয়ে আসে সম্প্রতি গণমাধ্যমের কিছু খবরে। ওই খবরে বলা হয়, সম্প্রতি এক বৈঠকে পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী ও মরিয়মের চাচা শাহবাজ শরিফের মধ্যস্থতায় তাঁদের বিরোধ প্রশমিত হয়েছে। এদিকে সাক্ষাৎকারে শাহবাজের প্রশংসা করে দেশের আগামী দিনের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার ক্ষেত্রে তাঁর সুযোগের প্রতি নিজের সমর্থন জানান মরিয়ম।
পিএমএল-এন অন্যতম নেতা ও দেশটির পার্লামেন্টের সাবেক সদস্য শাকিল আওয়ান মরিয়মের কথা সমর্থন করে দাবি করেন, দলের ভেতরে কোনো ভাঙন নেই। তবে তিনি এ-ও বলেন, নওয়াজ যদি দলের নেতৃত্ব ছাড়েন সে ক্ষেত্রে তাঁর ছোট ভাই শাহবাজই এ পদে নেতৃত্ব দেওয়ার উপযুক্ত ব্যক্তি। আওয়ান অবশ্য স্বীকার করেন, দলের ভেতর উদ্বেগ রয়েছে, তবে সেটা মূলত শরিফ পরিবারের বিরুদ্ধে চলা মামলা নিয়ে।
এদিকে মরিয়ম নওয়াজ, হামজা শাহবাজ ও শাহবাজ শরিফকে নিয়ে পিএমএল-এনের নেতৃত্ব প্রশ্নে টানাপোড়েন চলার মধ্যে দলের প্রায় সব নেতা মনে করেন, নওয়াজ শরিফকে নিয়ে শাহবাজ শরিফ এমনকি সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী চৌধুরী নিসার আলী খানের আপত্তি থাকতে পারে; কিন্তু তাঁরা সবাই নওয়াজকেই তাঁদের যোগ্য নেতা বলে দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন।
পিএমএল-এনের আরেক নেতা রানা আফজাল বলেন, মরিয়ম নওয়াজ ও হামজা শাহবাজের মধ্যে ভিন্ন ধরনের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা রয়েছে। কিন্তু দলের নেতা হিসেবে তাঁদের বিবেচনা করার সময় এখনো আসেনি।

লাদেনকে নিয়ে ৫ লাখ নথি প্রকাশ করল সিআইএ

২০১১ সালের ২ মে দিবাগত রাতে পাকিস্তানের অ্যাবোটাবাদে অভিযান চালিয়ে আল-কায়েদা নেতা ওসামা বিন লাদেনকে হত্যার পর জব্দকৃত ৪ লাখ ৭০ হাজার নথি প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা (সিআইএ)।
এ নিয়ে চতুর্থবারের মতো সিআইএ বিন লাদেনের আস্তানায় অভিযান-সংক্রান্ত নথি প্রকাশ করল।
সিআইএর পরিচালক মাইক পম্পিও বলেন, সন্ত্রাসী সংগঠনগুলোর পরিকল্পনা ও কর্মকাণ্ড সম্পর্কে যুক্তরাষ্ট্রের জনসাধারণকে আরও বেশি জানার সুযোগ করে দিতে এসব নথি প্রকাশ করা হচ্ছে।
লাদেনের প্রকাশিত নথিগুলোর মধ্যে ভিডিও, অডিও ফাইল, তাঁর চিঠিপত্র, আরবিতে লেখা শত শত দলিল-দস্তাবেজ রয়েছে। একটি ভিডিও ক্লিপে দেখা গেছে, বিয়ের সময় লাদেনের ছেলে হামজাকে। অনুষ্ঠানটি সম্ভাব্য স্থান ইরান বলে ধারণা করা হয়। বিয়ের অনুষ্ঠানে লাদেনকে দেখা যায়নি। তবে একজনকে বলতে শোনা যায়, বরের বাবা প্রিন্স অব মুজাহিদি এই বিয়েতে খুবই খুশি এবং এই খুশি তিনি সব মুজাহিদির মধ্যে ছড়িয়ে দিতে চান। এর আগে হামজার ছোটবেলার ছবি প্রকাশিত হয়।
গতকাল বুধবার প্রকাশিত নথিগুলো ন্যাশনাল ইন্টেলিজেন্স ডিরেক্টরের কার্যালয় থেকে প্রকাশিত সর্বশেষ অংশ। এই নথিগুলো থেকে জানা যায়, আল-কায়েদা কীভাবে আরব বসন্তকে কাজে লাগাতে চেয়েছে এবং গণমাধ্যমে ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করতে সংগঠনটি কী করেছে।
এর আগে ২০১৫ সালের মে মাসে, ২০১৬ সালের মার্চে ও চলতি বছরের জানুয়ারিতে কিছু নথি প্রকাশ করা হয়। তবে জাতীয় নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে বেশ কিছু নথি গোপন রাখার কথা জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের এই গোয়েন্দা সংস্থা।
সৌদি আরবে জন্ম নেওয়া ওসামা বিন লাদেন আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসী সংগঠন আল-কায়েদার প্রতিষ্ঠাতা। বিশেষ করে ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে টুইন টাওয়ারে সন্ত্রাসী হামলার পর বিশ্বজুড়ে ব্যাপক পরিচিতি পান তিনি। ২০১১ সালে অ্যাবোটাবাদ শহরে মার্কিন কমান্ডোদের হামলায় ওসামা বিন লাদেন নিহত হন। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে মার্কিন কমান্ডোরা হেলিকপ্টারযোগে লাদেনের বাসভবনে হামলা চালায়। পাকিস্তান সেনাবাহিনীর পাকিস্তান মিলিটারি একাডেমির পাশে লাদেনের এই গোপন আস্তানা ২০০৫ সালে নির্মাণ করা হয়। এখানে লাদেন তাঁর কনিষ্ঠ স্ত্রী এবং পুত্রসহ বাস করতেন। ওই অভিযান চালিয়ে বিপুলসংখ্যক নথি, ছবি ও কম্পিউটার ফাইল উদ্ধার করা হয়।

ইংলাকের সব পাসপোর্ট বাতিল করেছে থাইল্যান্ড

থাইল্যান্ডের ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী ইংলাক সিনাওয়াত্রার সব পাসপোর্ট বাতিল করা হয়েছে। তিনি গত মাসে কারাদণ্ডাদেশ এড়াতে দেশ ছেড়ে পালান। ইলাংকের দাবি, তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
থাইল্যান্ডের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র সোমবার রাতে বলেছেন, থাইল্যান্ডের দূতাবাসগুলো বিদেশি সরকারগুলোকে জানিয়েছে যে ইংলাক আর থাইল্যান্ডের পাসপোর্টধারী নন। ইংলাকের দুটি ব্যক্তিগত ও দুটি কূটনৈতিক পাসপোর্ট ছিল। উল্লেখ্য, থাইল্যান্ডে ভিসা পাওয়ার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে কয়েক সপ্তাহ লেগে যায়। তাই যাঁরা ঘন ঘন বিদেশ সফর করেন, তাঁদের একাধিক পাসপোর্ট থাকে—তথ্য সংশ্লিষ্ট পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের।
প্রসঙ্গত, ক্ষমতায় থাকাকালে চালে ভর্তুকির একটি প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগে ইংলাক সিনাওয়াত্রার বিরুদ্ধে করা একটি মামলার রায় ঘোষণার আগে তিনি দেশ ছেড়ে পালান। পরে সেপ্টেম্বরে আদালত তাঁকে পাঁচ বছরের সাজা দেয়। থাই পুলিশ ইংলাকের বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করতে চায়। কিন্তু এখন পর্যন্ত পুলিশের আন্তর্জাতিক সংস্থাটি এমন কোনো পরোয়ানা জারি করেনি।
এদিকে থাইল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডন প্রামুদউইনাই গতকাল মঙ্গলবার বলেন, যুক্তরাজ্য পলাতক ইংলাক সিনাওয়াত্রাকে রাজনৈতিক আশ্রয় দেবে না। যুক্তরাজ্য সরকার এ বিষয়টি তাদের নিশ্চিত করেছে।

মৃত্যুর এক বছর পর রাজার শেষকৃত্য

মৃত্যুর এক বছর পর আজ বৃহস্পতিবার থাইল্যান্ডের প্রয়াত রাজা ভুমিবল আদুলিয়াদেজের শেষকৃত্য হয়েছে। এ উপলক্ষে গত বুধবার থেকে পাঁচ দিনব্যাপী অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার আয়োজন শুরু করে দেশটি।
এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রিয় রাজাকে শেষ বিদায় জানাতে আজ প্রায় তিন লাখ মানুষ কালো পোশাকে রাজধানী ব্যাংককে জড়ো হয়। রঙিন এক শোভাযাত্রায় রাজার শবাধারটি নিয়ে যাওয়া হয় অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার স্থানে। এদিন সূর্যোদয়ের সময় রাজা ভুমিবলের ছেলে থাইল্যান্ডের নতুন রাজা মহা ভাজিরালংকর্ন রীতি অনুযায়ী স্নান সেরে বৌদ্ধ ভিক্ষুদের সঙ্গে যোগ দেন। এর মাধ্যমে শুরু হয় প্রয়াত রাজার শেষ বিদায়ের চূড়ান্ত আনুষ্ঠানিকতা।
রাজা ভুমিবলের সাত দশকের শাসনামলে তিনি নিজেকে জনগণের মনে স্থিতিশীলতার স্তম্ভ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেছেন। তাঁর এই জাঁকজমকপূর্ণ শেষ বিদায়ের আয়োজনের জন্য থাই সরকার ৯ কোটি মার্কিন ডলার খরচ করেছে। আজ স্থানীয় সময় রাত ১০টায় মূল আনুষ্ঠানিকতা হয়। এ সময় রাজপরিবারের সদস্যরা, থাইল্যান্ডের সেনাপতিরা, সরকারের গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তারা ছাড়া বিদেশি প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন।
১৯৫০ সালে সিংহাসনে আরোহণ করেন রাজা ভুমিবল। গত বছরের অক্টোবর মাসে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত সিংহাসনে আসীন ছিলেন থাইল্যান্ডের ‘জাতির পিতা’ হিসেবে পরিচিত এই রাজা।

রাখাইনে সু চির প্রথম পা

মিয়ানমারের উত্তরাঞ্চলে সহিংসতাপূর্ণ রাখাইন রাজ্যে প্রথমবারের মতো গেলেন দেশটির স্টেট কাউন্সেলর অং সান সু চি। সরকারি সূত্র বলছে, অঘোষিত সফরে আজ বৃহস্পতিবার সেখানে যান তিনি।
গত ২৫ আগস্ট সেনা অভিযানের পর থেকে সহিংসতার কারণে প্রাণ বাঁচাতে রাখাইন থেকে পালাচ্ছে মুসলিম রোহিঙ্গারা। তাদের রক্ষায় নোবেল শান্তি পুরস্কারজয়ী সু চি ভূমিকা না রাখার জন্য আন্তর্জাতিক সমালোচনার মুখে পড়েছেন।
মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর অভিযানে হত্যা, ধর্ষণ, লুটতরাজ থেকে বাঁচতে ছয় লাখের বেশি রোহিঙ্গা পালিয়ে বাংলাদেশে ঢুকেছে।
জাতিসংঘ এ ঘটনাকে জাতিগত নির্মূল অভিযান হিসেবে চিহ্নিত করেছে। রোহিঙ্গাদের নিরাপত্তা দিতে ও তাদের নিজ দেশে ফেরাতে আন্তর্জাতিক চাপের মুখে মিয়ানমার।
মিয়ানমার সরকারের মুখপাত্র জো হাতে এএফপিকে বলেন, স্টেট কাউন্সেলর সু চি মিয়ানমারের সহিংসতাপূর্ণ সিতি, মংডু ও বুথিডংয়ে যাবেন।
তবে সু চি মিয়ানমারের সেনাদের জ্বালিয়ে–পুড়িয়ে দেওয়া রোহিঙ্গা–অধ্যুষিত গ্রামগুলো পরিদর্শন করবেন কি না, তা স্পষ্ট হয়নি। এমনও হতে পারে, সু চি আতঙ্কে থাকা রোহিঙ্গা–অধ্যুষিত গ্রামগুলোতে যাবেন।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মত, ক্ষমতাধর সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে না যাওয়ার ভয়েই সু চি রোহিঙ্গা ইস্যুতে কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছেন না।
বাংলাদেশে শরণার্থীশিবিরগুলোতে বাস করছে রোহিঙ্গারা। বিপুল শরণার্থীর চাপ নিতে হচ্ছে বাংলাদেশ সরকারকে। রোহিঙ্গাদের নিরাপদে ফিরিয়ে নেওয়ার জন্য উদ্যোগ নিতে মিয়ানমারকে জানিয়েছে বাংলাদেশ।

চার নেতা হত্যার প্রতিবাদ না করা ভুল ছিল: অর্থমন্ত্রী

চার নেতা ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদ করতে না পারা একটি ভুল ছিল উল্লেখ করে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেছেন, ‘সে সময় আমরা একটি ভুল করেছি। সেই সামরিক চক্রের বিরুদ্ধে আমরা রুখে দাঁড়াইনি। যারা সে সময়ে চক্রান্ত করেছিল, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়া ছিল আমাদের আরেকটি ভুল।’
আজ বুধবার রাজধানীর কাকরাইলে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে শহীদ এম মনসুর আলী স্মৃতি পরিষদ আয়োজিত জেল হত্যা দিবসের আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে আবুল মাল আবদুল মুহিত এ মন্তব্য করেন।
আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেন, জেল হত্যার মতো জঘন্য হত্যাকাণ্ড পৃথিবীতে খুব কম হয়েছে। এমনই দুর্ভাগা দেশ, যেখানে জেলখানার মতো জায়গায় নিরাপত্তা লঙ্ঘন করে জাতীয় নেতাদের হত্যা করা হয়। তিনি বলেন, এমন কোনো ঘটনার প্রতিবাদ তাৎক্ষণিক করতে হবে। বর্তমান সংবিধানে বলা আছে, কেউ যদি এমন ধরনের কাজ করে, তবে তার শাস্তি হবে মৃত্যুদণ্ড। এমন দুঃসাহসীরা (অ্যাডভেঞ্চারিস্ট) যাতে কোনো দিন এমন সুযোগ গ্রহণ করতে না পারে এবং দেশটাকে পেছনে টানতে না পারে, সে জন্য এখন থেকে সতর্ক থাকতে হবে।
আলোচনা সভায় বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেন, মুক্তিযুদ্ধের সময় দেশের প্রায় এক কোটি মানুষ শরণার্থী হয়েছিল। যার কারণে ঘরহারা মানুষের দুঃখ বোঝেন প্রধানমন্ত্রী। এ কারণে মিয়ানমারের ‘১০ লাখের’ বেশি মানুষ এ দেশে আশ্রয় পেয়েছে। অথচ বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া কক্সবাজার গিয়ে সরকারের বিরুদ্ধে যেসব সমালোচনা করেছেন, তা ছোট মনের পরিচয়।
দেশের ওপর পাকিস্তানের চক্রান্ত অব্যাহত রয়েছে উল্লেখ করে তোফায়েল আহমেদ বলেন, গতকাল পাকিস্তানের হাইকমিশন জিয়াউর রহমানকে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষক বলে দাবি করা একটি ভিডিও প্রচার করল। বিএনপি এভাবে বারবার নিজেদের পাকিস্তানের বন্ধু হিসেবে প্রমাণ দিয়েছে। গতকালের ঘটনা তারই প্রমাণ। এসব ষড়যন্ত্র করে কোনো লাভ হবে না।
অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে শহীদ ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলীর ছেলে এবং স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেন, ‘আমার জীবনের সবচেয়ে বড় কষ্ট, শেষবারের মতো আমি আমার বাবার মুখ দেখতে পারিনি। এই কষ্ট আমার আজীবনের জন্য থাকবে। সে সময় বাবার নির্দেশে গা ঢাকা দিয়ে ছিলাম। ওরা আমাকে পেলে মেরে ফেলত।’ তিনি আরও বলেন, চার নেতা বেঁচে থাকলে এই দেশ আরও বেশি এগিয়ে যেতে পারত। তাঁদের মধ্যে কখনো কোনো লোভ ছিল না। তাঁরা সব সময় দেশের জন্য কাজ করে গেছেন।
ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহে আলম মুরাদের সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য দেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন, পরিবেশ ও বনমন্ত্রী আনোয়ার হোসেন, দৈনিক সমকাল-এর সম্পাদক গোলাম সারওয়ার, দৈনিক যুগান্তর-এর ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সাইফুল আলম প্রমুখ।

বিকল্প তৃতীয় শক্তির উত্থান শিগগিরই

সাবেক রাষ্ট্রপতি এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী বলেছেন, বর্তমান সরকার ও জনগণের সম্পর্ককে কই মাছ ভাজার সময় ‘ফুটন্ত কড়াই থেকে লাফ দিয়ে জ্বলন্ত চুলার মধ্যে ঢুকে যাওয়া’র সঙ্গে তুলনা করেছেন। তিনি বলেন, বর্তমানে মানুষ অস্থির হয়ে গেছে। কড়াই থেকে মানুষ আর চুলার মধ্যে পড়তে চায় না।
বদরুদ্দোজা চৌধুরী বলেন, ‘আমরা নির্বাচন করব, তার জন্য পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে। নির্বাচনে সেনাবাহিনী চাই। এই বাহিনীর সদস্যরা আমাদের দেশেরই লোক। সেনাবাহিনীর সদস্যদের শান্তি রক্ষার জন্য সারা বিশ্বে পাঠাতে পারেন আর আমাদের শান্তির জন্য নিয়োগ দিতে পারবেন না? কিন্তু সরকার ভয় পায়। শান্তিতে নির্বাচন হলে তো ভোট পাবে না।’
আজ বুধবার জাতীয় প্রেসক্লাবে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জেএসডি) প্রতিষ্ঠার ৪৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে সাবেক রাষ্ট্রপতি এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, মানুষ প্রথম ও দ্বিতীয় জোটের অত্যাচারে অতিষ্ঠ। মানুষ তৃতীয় শক্তি না, প্রধান রাজনৈতিক শক্তির উত্থান দেখতে চায়। তিনি সম্মিলিত নেতৃত্বে এ ধরনের রাজনৈতিক শক্তির উত্থানে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।
আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে জেএসডির সভাপতি আ স ম আবদুর রব নিরপেক্ষ নির্বাচনের দাবি জানিয়ে বলেন, ‘আবার ভোটারবিহীন নির্বাচন করতে চাইলে শেখ হাসিনা শুনে রাখুন, আপনি তা সামাল দিতে পারবেন না। দেশে যুদ্ধ শুরু হবে। লড়াই শুরু হবে।’
বর্তমান সংসদকে অবৈধ সংসদ হিসেবে উল্লেখ করে আবদুর রব নির্বাচনে সেনাবাহিনী নিয়োগের দাবি জানিয়ে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগেই সংসদ বাতিলের দাবি জানান। তিনি বলেন, সাবেক রাষ্ট্রপতি এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরীর নেতৃত্বে শিগগিরই ‘বিকল্প তৃতীয় রাজনৈতিক শক্তি’ আত্মপ্রকাশ করতে যাচ্ছে।
আলোচনায় কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি আবদুল কাদের সিদ্দিকী বলেন, সরকারি ও বিরোধী দলের বাইরে বিকল্প রাজনৈতিক শক্তির প্রয়োজন। এ জন্য জাতীয় ঐক্যের প্রয়োজন।
নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না বর্তমান ক্ষমতাসীন দলের পায়ের নিচে মাটি নেই এবং আবার ক্ষমতা দখল করতে চাইলে তা হবে ‘গুড়েবালি’ বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ‘বিকল্প রাজনৈতিক শক্তির প্রশ্নে অনেকেই প্রশ্ন তুলে বলেন, পারবেন শেখ হাসিনার সঙ্গে? আমরা আইয়ুব খানের কথাও শুনতাম। আইয়ুব খানের গদি ভেঙে খান খান হয়ে গেছে। এরশাদকেও পদত্যাগ করতে বাধ্য করা হয়েছে।’
আলোচনায় জেএসডির সাধারণ সম্পাদক আবদুল মালেক রতন আওয়ামী লীগ ও বিএনপির কথা উল্লেখ করে বলেন, এই দুই শক্তি দিয়ে দেশে সুষ্ঠু নির্বাচন হচ্ছে না। বর্তমান ক্ষমতাসীন দলের পরিবর্তে আরেক জোট ক্ষমতায় গেলেও সমস্যার সমাধান হবে না। এর বাইরে যারা আছে, তাদের নিয়ে বিকল্প জোট গঠন করতে হবে।
গণফোরামের নির্বাহী সভাপতি সুব্রত চৌধুরীসহ অন্য আলোচকেরা বর্তমান সরকারকে অবৈধ সরকার হিসেবে আখ্যায়িত করে বলেন, দেশের জনগণ সরকারের প্রতি আস্থা রাখতে পারছে না। দেশে ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

বিশ্বে ৩০তম ক্ষমতাধর নারী শেখ হাসিনা

বিশ্বের ক্ষমতাধর ১০০ নারীর তালিকায় ৩০তম অবস্থানে আছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সাময়িকী ফোর্বস এ তালিকা করেছে। এই সাময়িকীর গত বছরের করা তালিকায় তিনি ছিলেন ৩৬তম অবস্থানে।
গতকাল বুধবার নতুন এই তালিকা প্রকাশ করেছে ফোর্বস। এতে ক্ষমতাধর ১০০ নারীর তালিকা দেওয়ার পাশাপাশি বিশ্বের রাজনীতিতে সবচেয়ে ক্ষমতাধর ২১ জনের নাম স্থান পেয়েছে।
এবার শেখ হাসিনাকে ‘লেডি অব ঢাকা’ আখ্যায়িত করে ফোর্বস-এ বলা হয়েছে, শেখ হাসিনা মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের সহায়তার অঙ্গীকার করেছেন এবং তাদের জন্য ২০০০ একর জমি বরাদ্দ দিয়েছেন। যা মিয়ানমারের স্টেট কাউন্সেলর অং সান সু চির অবস্থানের পরিষ্কার বিপরীত।
গত বছর তালিকায় ২৬ নম্বর অবস্থানে থাকা সু চি এবার ৩৩তম। ক্ষমতাধর ১০০ নারীর প্রথম পাঁচজন হলেন যথাক্রমে জার্মানির চ্যান্সেলর আঙ্গেলা ম্যার্কেল, যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে, যুক্তরাষ্ট্রের মেলিন্ডা গেটস, সেরিল স্যান্ডবার্গ ও মেরি ব্যারা।

সমঝোতার পথ খোলা রাখতে চাই: ফখরুল

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, এই মুহূর্তে বিএনপি কোনো কঠোর (অ্যাগ্রেসিভ) কর্মসূচি দিতে চায় না। বিএনপি আশা করে সরকারের শুভ বুদ্ধির উদয় হবে এবং তারা একটি সমঝোতার রাস্তায় আসবে। সমঝোতার রাস্তা বিএনপি খোলা রাখতে চায়।
আজ বুধবার রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এ মন্তব্য করেন। তিনি বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে হামলার প্রতিবাদে দুই দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন। কর্মসূচির মধ্যে আছে কাল সারা দেশে ও শনিবার মহানগরে বিক্ষোভ।
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমরা কোনো সংঘাতে জড়াতে চাই না। সংঘাতে জড়াতে চাই না বলেই কিন্তু আমরা সমস্ত পথে আমাদের নেতা-কর্মীরা অত্যন্ত শান্তিপূর্ণ ছিল এবং কোথাও কোনো সমস্যা তৈরি করেনি। আওয়ামী লীগের লোকেরাই সন্ত্রাস করেছে। যারা সরকারি দল করছে তারাই সন্ত্রাস করেছে।’ তিনি বলেন, ‘এসব কারণেই আমরা এসব কর্মসূচি নিয়েছি। আমরা নিন্দা জানাতে চাই, প্রতিবাদ জানাতে চাই।’
সাংবাদিকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা এবং পুলিশকে ধন্যবাদ জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘সাংবাদিক ভাই-বোনদের আমরা আন্তরিকভাবে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাতে চাই। তাঁরা অনেক কষ্ট করে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে হলেও সংবাদ সংগ্রহ করেছেন। তাঁরা প্রতিটি কর্মসূচি কাভার করেছেন। আমরা এখানে অবশ্যই স্বীকার করব, পুলিশ যথাসাধ্য চেষ্টা করেছে যেন খালেদা জিয়া নিরাপদে যেতে পারেন। কিন্তু আওয়ামী লীগের নেতৃত্বের নীতির কারণে ফেনীতে হামলার শিকার হতে হয়েছে।’
গাড়িবহরে হামলা বাংলাদেশের মানুষের অধিকার ফিরিয়ে আনার ‘সংগ্রামের’ ওপর হামলা উল্লেখ করে ফখরুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা মনে করি এটা মানবতার বিরুদ্ধে হামলা। যে কারণে এটা গণতন্ত্রের বিরুদ্ধেও হামলা। সে জন্য সরকারকে আবারও আহ্বান জানাচ্ছি যে, সংঘাতের রাস্তা ছেড়ে দিয়ে আপনারা সমঝোতার রাস্তায় ফিরে আসুন। একটি আলাপ-আলোচনার মধ্য দিয়ে আগামী নির্বাচন কীভাবে সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ হতে পারে এবং কীভাবে সকলের কাছে গ্রহণযোগ্য হতে পারে সেই পথ খুঁজে বের করার জন্য সংলাপের ব্যবস্থা করা। না হলে সময় পেরিয়ে পেলে তখন আর সম্ভব হবে না, তখন দায় আপনাদেরই বহন করতে হবে।’
বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর সঞ্চালনায় সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, মঈন খান, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান, আহমেদ আজম খান, বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবদুস সালাম প্রমুখ।

‘বিএনপির সঙ্গে সংলাপের সুযোগ নেই’

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, বিএনপি সমঝোতার পথ নিজেরাই বন্ধ করে দিয়েছে। তাদের সঙ্গে এখন সমঝোতা বা সংলাপের কোনো সুযোগ নেই।
আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে ‘নির্বাচন কমিশনে আওয়ামী লীগের ১১ দফা প্রস্তাবনা, জনগণেরই প্রস্তাবনা’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ওবায়দুল কাদের এ মন্তব্য করেন। আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা উপকমিটি সেমিনারের আয়োজন করে।
গতকাল বুধবার বিএনপির মহাসচিব ফখরুল ইসলাম আলমগীর এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি সমঝোতার পথ খোলা রাখতে চায় বলে মন্তব্য করেন। এই বক্তব্যের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘সমঝোতার দরজা তো আপনারা সেই দিনই বন্ধ করে দিয়েছেন, যেদিন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বাসায় তাঁর ছেলের মৃত্যুর খবর শুনে গিয়েছিলেন। সেদিন তিনি দরজা বন্ধ করে ঘরের ভেতর ছিলেন।’ তিনি বলেন, বিএনপি নির্বাচনে আসুক, এটা আওয়ামী লীগ চায়। কিন্তু তার জন্য কোনো সংলাপ, সমঝোতার প্রয়োজন নেই।
বিএনপি কী বলতে চায়, তা স্পষ্ট নয় উল্লেখ করে ওবায়দুল কাদের বলেন, নির্বাচন কমিশনে সংলাপে অংশ নিয়ে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছিলেন যে তাঁরা আশাবাদী। কিন্তু কয়েক দিন যেতে না যেতেই তাঁরা বলছেন যে এটা সাজানো সংলাপ। আসলে তাঁরা কী চান, তাঁরা নিজেরা জানেন না।
সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আমরা নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন চাই, অন্য কিছু চাই না। নির্বাচন কমিশনের কোনো দলের পক্ষ নেওয়ার দরকার নেই, আমরা চাই নির্বাচন কমিশন নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করুক। কোনো দলের পক্ষে বক্তব্য দিয়ে প্রশ্নের সম্মুখীন হোক, তা আমরা চাই না। কিন্তু বিএনপি এমন একটা নির্বাচন কমিশন চায়, যেন বিএনপি যেনতেনভাবে ক্ষমতায় আসতে পারে।’ তিনি বলেন, বিএনপির রাজনীতি পরেরবারের নির্বাচনের জন্য, পরবর্তী প্রজন্মের জন্য নয়। কিন্তু আওয়ামী লীগ পরবর্তী প্রজন্মের জন্য রাজনীতি করে।
খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে হামলার বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘এটা যে একটি সাজানো নাটক, তা এখন স্পষ্ট হয়ে গেছে। তাঁরা চেয়েছিলেন যেন একটি সংবাদ হয়। সাংবাদিকদের ওপর হামলা করলে সংবাদটা বড় পরিসরে হয়। পরিকল্পিতভাবে দুটি গাড়ি উল্টো পথে রাখা হয়েছিল এবং সেই গাড়িগুলোই জ্বালানো হয়। এটা ছিল মূলত ফেনীর সাজানো ঘটনা এবং সংঘাতের উসকানি।’
কোনো সংবাদপত্রের নাম উল্লেখ না করে ওবায়দুল কাদের অভিযোগ করেন, দু-একটি পত্রিকা ঠিক করেছে, তারা জোর করে বিএনপিকে ক্ষমতায় আনবে। সে জন্য তারা উঠেপড়ে লেগেছে, মিথ্যা সংবাদ পরিবেশন করছে। তিনি সাংবাদিকদের বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনের আহ্বান জানান।
আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা উপকমিটির চেয়ারম্যান এইচ টি ইমামের সভাপতিত্বে সূচনা বক্তব্য দেন প্রচার ও প্রকাশনা উপকমিটির সদস্যসচিব হাছান মাহমুদ।
সূচনা বক্তব্যে হাছান মাহমুদ বলেন, দেশের সেনাবাহিনী আর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে কেউ কেউ এক করে ফেলছেন। এটা ঠিক না। কারণ, সেনাবাহিনী প্রতিরক্ষার কাজ করে আর পুলিশসহ অন্যান্য বাহিনী আইনশৃঙ্খলা রক্ষার কাজ করে। সুতরাং এসব গুলিয়ে ফেললে হবে না। দেশের সেনাবাহিনীকে দিয়ে পুলিশ-আনসারের কাজ করানো হবে—তাদের জন্য তা অসম্মানজনক। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ যে প্রস্তাব দিয়েছে, তা অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের জন্য। বিএনপি এমন নির্বাচন কমিশন চায়, যা তাদের বিজয় নিশ্চিত করবে।
সেমিনারে আরও বক্তব্য দেন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি সৈয়দ আমিরুল ইসলাম, মেজর জেনারেল (অব.) আবদুর রশীদ, অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি মমতাজউদ্দিন আহমেদ, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবদুল মান্নান, ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি মঞ্জুরুল আহসান বুলবুল প্রমুখ।
অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন দলের উপপ্রচার সম্পাদক আমিনুল ইসলাম। এ ছাড়া আরও উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য রিয়াজুল কবীর কাওছার, উপকমিটির সদস্য কাশেম হুমায়ুনসহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, সাংবাদিকসহ আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা।