Saturday, December 27, 2025

শিঘ্রই গাজায় ‘শান্তি পরিষদ’ ও ‘সরকারের’ ঘোষণা দিতে পারেন ট্রাম্প

গাজা যুদ্ধবিরতি প্রক্রিয়ার প্রথম ধাপ পেরিয়ে দ্বিতীয় ধাপে যেতে চায় যুক্তরাষ্ট্র। তবে এ নিয়ে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর আপত্তির কারণে হোয়াইট হাউস ও তেল আবিবের মধ্যে টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছে ইসরাইলি গণমাধ্যম।

ইসরাইলের চ্যানেল ১২-এর খবরে বলা হয়েছে, হোয়াইট হাউস আগামী জানুয়ারির শুরুতেই গাজায় দৈনন্দিন প্রশাসন পরিচালনার জন্য একটি ফিলিস্তিনি টেকনোক্রেট সরকার গঠনের ঘোষণা দিতে চায়। এটি গাজায় যুদ্ধের অবসান ঘটাতে প্রণীত পরিকল্পনার দ্বিতীয় ধাপের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র একটি বহুজাতিক ‘শান্তি পরিষদ’ গঠনের পরিকল্পনাও করছে, যা ওই টেকনেক্রেট সরকারের কার্যক্রম তদারক করবে। পাশাপাশি গাজায় নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনার জন্য একটি আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনী মোতায়েনের বিষয়েও আলোচনা চলছে বলে জানিয়েছে চ্যানেল ১২।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প আগামী ১৯ জানুয়ারি দাভোসে অনুষ্ঠিত বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামে এই শান্তি পরিষদের ঘোষণা দিতে পারেন। এমনকি পরিষদের নেতৃত্ব নিজেই দেওয়ার ইঙ্গিতও দিয়েছেন তিনি।

চ্যানেল ১২-এর বরাতে এক জ্যেষ্ঠ হোয়াইট হাউস কর্মকর্তার উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র হামাস ও অন্যান্য ফিলিস্তিনি সশস্ত্র গোষ্ঠীর ধাপে ধাপে নিরস্ত্রীকরণ শুরু করতে চায়, যা তত্ত্বাবধান করবে নতুন টেকনোক্রেট সরকার।

তবে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে নভেম্বরে গৃহীত যুদ্ধবিরতি কাঠামোর অংশ হলেও হামাসের নিরস্ত্রীকরণ বিষয়টি এখনো সবচেয়ে বড় বিতর্কের জায়গা। হামাস পুরোপুরি নিরস্ত্রীকরণে সম্মত হয়নি। চলতি মাসের শুরুতে সংগঠনটির জ্যেষ্ঠ নেতা খালেদ মাশাল বলেন, তারা অস্ত্র ব্যবহারে সাময়িক ‘স্থগিতাদেশ’ বিবেচনা করতে পারে, তবে সম্পূর্ণ নিরস্ত্রীকরণে রাজি নয়।

ইসরাইলের চ্যানেল ১৩ জানায়, ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ সম্প্রতি ইসরাইলি কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে যুদ্ধবিরতি এগিয়ে নেওয়া এবং নতুন শান্তি পরিষদ গঠনের মার্কিন পরিকল্পনা তুলে ধরেন।

তবে চ্যানেল ১২-এর আরেক প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু এসব পরিকল্পনার বিরোধিতা করছেন, বিশেষ করে হামাস নিরস্ত্রীকরণ নিয়ে তিনি সন্দিহান। সোমবার ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকের কথা থাকলেও এ বিষয়ে দুই পক্ষের মধ্যে মতপার্থক্য স্পষ্ট।

এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে এমন এক সময়ে, যখন ইসরাইল যুদ্ধবিরতির একাধিক শর্ত লঙ্ঘন করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। অক্টোবরে কার্যকর হওয়া ১১ সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির মধ্যেও ইসরাইল প্রায় প্রতিদিন গাজায় হামলা চালিয়েছে। ফিলিস্তিনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এ সময় অন্তত ৪০৬ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে বহু বেসামরিক মানুষ রয়েছেন।

এছাড়া যুদ্ধবিরতির আওতায় যে মানবিক সহায়তা দেওয়ার কথা ছিল, সেটিও পুরোপুরি প্রবেশ করতে দেয়নি তেলআবিব। মাংস, দুগ্ধজাত খাদ্য ও শাকসবজির মতো প্রয়োজনীয় পণ্যের প্রবেশে এখনও কড়াকড়ি রয়েছে। মঙ্গলবার ইসরাইলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরাইল কাটজ বলেন, ইসরাইলি বাহিনী কখনোই গাজা ছেড়ে যাবে না। যা যুদ্ধবিরতি পরিকল্পনায় থাকা পূর্ণ প্রত্যাহারের শর্তের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

চ্যানেল ১২-এর প্রতিবেদনে বলা হয়, যুদ্ধবিরতি বাস্তবায়নে ইসরাইলের বিলম্ব ও অনীহায় যুক্তরাষ্ট্র ক্রমেই হতাশ হয়ে পড়ছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, দীর্ঘদিন ধরেই মনে হচ্ছে, ইসরাইল গাজা চুক্তি নিয়ে দ্বিধায় ভুগছে। বাস্তবায়ন এমনিতেই কঠিন, তার ওপর কখনো কখনো ইসরাইল এটিকে আরও কঠিন করে তোলে।

মধ্যপ্রাচ্য প্রকল্পের মার্কিন প্রধান ও সাবেক ইসরাইলি সরকারি উপদেষ্টা ড্যানিয়েল লেভি আল জাজিরাকে বলেন, বাইরের প্রবল চাপ ছাড়া ইসরাইল যুদ্ধবিরতির মূল শর্তগুলো মানবে না। তার ভাষায়, ইসরাইলের গাজা থেকে পুরোপুরি সরে যাওয়ার কোনো ইচ্ছা নেই। তারা এমন কোনো আন্তর্জাতিক বাহিনীও চায় না, যা তাদের ফিলিস্তিনিদের হত্যা করার স্বাধীনতা সীমিত করতে পারে। গাজায় বৈধ ফিলিস্তিনি শাসন প্রতিষ্ঠার প্রতিও তাদের অনীহা স্পষ্ট। জোর না করলে ইসরাইল এসব মানবে না।

https://mzamin.com/uploads/news/main/195920_Kaium-7.webp

ইন্ডিয়া, ভারত বা হিন্দুস্তান নয়; তোমার নাম এখন লিঞ্চিস্তান: মেহবুবার মেয়ে ইলতিজা

ভারতের জম্মু–কাশ্মীর রাজ্যের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মেহবুবা মুফতির মেয়ে ইলতিজা মুফতি গত শুক্রবার ভারতকে ‘লিঞ্চিস্তান’ বা ‘গণপিটুনির দেশ’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি দাবি করেছেন, দেশে অসহিষ্ণুতা বাড়ছে এবং যাঁরা বাংলাদেশে গণপিটুনির সমালোচনা করছেন, তাঁরা নিজ দেশে এমন ঘটনা ঘটলে চুপ থাকছেন।

ভারতের ওডিশা রাজ্যে জুয়েল শেখ নামের ১৯ বছর বয়সী এক বাঙালি মুসলিম অভিবাসী শ্রমিককে ‘বাংলাদেশি’ অপবাদ দিয়ে পিটিয়ে হত্যার খবরের একটি লেখা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) পোস্ট করে ইলতিজা লিখেছেন, ‘ইন্ডিয়া, ভারত বা হিন্দুস্তান নয়; তোমার নাম এখন লিঞ্চিস্তান (গণপিটুনির দেশ)।’
ইলতিজার মা ও পিপলস ডেমোক্রেটিক পার্টির (পিডিপি) প্রধান মেহবুবা মুফতিও দেশের বিচারব্যবস্থার কঠোর সমালোচনা করে অভিযোগ করেছেন, বিচার বিভাগ পুরোপুরি রাজনৈতিক হয়ে পড়েছে।

জম্মু ও কাশ্মীর এবং লাদাখ হাইকোর্টের সাম্প্রতিক একটি সিদ্ধান্তের প্রতিক্রিয়ায় গতকাল শুক্রবার মেহবুবা এক সংবাদ সম্মেলন করেন। ওই রায়ে আদালত তাঁকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে আদালতকে ব্যবহারের দায়ে অভিযুক্ত করেছিলেন। সংবাদ সম্মেলনে মেয়ের মন্তব্যের বিষয়েও তাঁর কাছে জানতে চাওয়া হয়।

মেহবুবা বলেন, ‘আমরা বলে আসছি, দেশে অসহিষ্ণুতা বেড়েছে। গণপিটুনি হচ্ছে। বাংলাদেশে যা ঘটছে তা আমাদের ব্যথিত করে। কিন্তু যাঁরা সেটির সমালোচনা করছেন, তাঁরা যখন নিজেদের চোখের সামনে এমন গণপিটুনি দেখেন, তখন মুখ বন্ধ রাখেন।’

পিডিপি প্রধান আরও বলেন, গত ৭২ ঘণ্টায় হিমাচল, উত্তরাখন্ড ও হরিয়ানায় কাশ্মীরি শাল বিক্রেতাদের ওপর হামলার তিনটি ঘটনা ঘটেছে। ভিডিওতে দেখা গেছে, উগ্র ডানপন্থী কর্মীরা তাঁদের নির্দিষ্ট স্লোগান দিতে বাধ্য করছে এবং তাঁরা অস্বীকার করলে মারধর করছে।

কাশ্মীরি বন্দীদের অন্যান্য রাজ্যের কারাগার থেকে জম্মু-কাশ্মীরে ফিরিয়ে আনার জন্য করা তাঁর একটি আবেদন (পিআইএল) সম্প্রতি হাইকোর্ট খারিজ করে দেন। আদালতের রায়ে বলা হয়েছিল, মেহবুবা বিচার বিভাগকে ‘পক্ষপাতমূলক’ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করছেন।

জবাবে মেহবুবা বলেন, ‘আমার চরিত্র নিয়ে কটাক্ষ করা বিচার বিভাগের কাজ নয়। একজন রাজনীতিবিদ হিসেবে যেকোনো প্রশ্ন তোলার অধিকার আমার রয়েছে।’

একটি ডিভিশন বেঞ্চের বিচারপতি অরুণ পাল্লি এবং বিচারপতি রজনীশ ওসওয়াল সম্প্রতি জানান, তাঁর আবেদনটি ভিত্তিহীন এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। আদালত তাঁকে অভিযুক্ত করে বলেন, মেহবুবা একটি নির্দিষ্ট জনগোষ্ঠীর কাছে নিজেকে ন্যায়বিচারের কান্ডারি হিসেবে প্রমাণের জন্য এবং রাজনৈতিক ফায়দা নিতে এই আবেদন করেছেন।

জম্ম–কাশ্মীরের সাবেক এই মুখ্যমন্ত্রী আদালতের রায়কে ‘দুর্ভাগ্যজনক এবং বিস্ময়কর’ বলে উল্লেখ করেন। তিনি প্রশ্ন তোলেন, যদি সাধারণ যে কেউ জনস্বার্থে পিটিশন (পিআইএল) করতে পারেন, তবে একজন রাজনীতিবিদ কেন পারবেন না?

মেহবুবা মুফতি আরও বলেন, ‘হাইকোর্ট ভুলে যাচ্ছেন, রাজনীতিবিদেরা মাটির মানুষের সঙ্গে যুক্ত। একজন রাজনীতিবিদ হিসেবে আমি জানি সাধারণ দরিদ্র মানুষ কী ধরনের কষ্টের মুখে পড়েন। তাঁরা এমনকি বাইরের কারাগারে থাকা তাঁদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করতেও যেতে পারেন না। তাঁরা তাঁদের মামলা লড়বেন কীভাবে?’

মেহবুবা মুফতির মেয়ে ইলতিজা মুফতি
মেহবুবা মুফতির মেয়ে ইলতিজা মুফতি। ছবি: তাঁর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট থেকে নেওয়া

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২: বাপের পথেই হাঁটছেন বেটি by মাহবুব খান বাবুল

বর্তমান সময়ে নানা কারণে আলোচিত এক আসনের নাম ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল-আশুগঞ্জ-বিজয়নগরের একাংশ)। আর সেখানে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হচ্ছেন বিএনপি’র সাবেক মহিলা এমপি, কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সহ-আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ও গুরুত্বপূর্ণ টকশো ব্যক্তিত্ব ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা। কারণ বিএনপি’র অন্যতম শরিক জমিয়তে ওলামা ইসলামের প্রার্থীকে আসনটি ছেড়ে দেয়ার পরও সেখানে শক্তিশালী স্বতন্ত্র প্রার্থী হচ্ছেন তিনি। দলের সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়ার ঘোষণাকে উপেক্ষা করে স্বতন্ত্র প্রার্থী হচ্ছেন। সঙ্গে রয়েছেন ওয়ার্ড ও ইউনিয়নের বিভিন্ন কমিটির নেতৃবৃন্দ। গত শুক্রবার সন্ধ্যায় গ্রামের বাড়ি বিজয়নগর উপজেলা বুধন্তি ইউনিয়নের ইসলামপুর গ্রামে দাদা, দাদিসহ স্বজনদের কবর জিয়ারতের মাধ্যমে সংসদ নির্বাচনের কার্যক্রম শুরু করেছেন। সবশেষে প্রয়াত পিতা অলি আহাদের পথেই হাঁটতে শুরু করেছেন রুমিন ফারহানা। তার পিতাও ১৯৭৩ খ্রিস্টাব্দে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে সংসদ নির্বাচন করেছিলেন।

রুমিন ফারহানার পিতা ভাষাসৈনিক অলি আহাদ। ১৯৭৩ খ্রিস্টাব্দে প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে ‘গাভী’ প্রতীকে নির্বাচন করেছিলেন। তিনি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন প্রয়াত আওয়ামী লীগ নেতা তাহের উদ্দিন ঠাকুরের  সঙ্গে। রুমিন ফারহানার দাবি, ওই নির্বাচনে অলি আহাদ প্রায় ৪০ হাজার ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছিলেন। আর তাহের উদ্দিন ঠাকুর পেয়েছিলেন ২৮ হাজার ভোট। কিন্তু শেখ মুজিবুর রহমান তথা আওয়ামী লীগ তখন ওই ফলাফলকে ছিনিয়ে নিয়েছিল। কৌশলে শেখ মুজিব তখন ফলাফলটা স্থানীয়ভাবে ঘোষণা না দিয়ে ঢাকায় নিয়ে গিয়েছিলেন। পরের দিন ঢাকা থেকে ফলাফল উল্টিয়ে তাহের উদ্দিনকে ৪০ হাজার ভোট দেখিয়ে জয়ী ঘোষণা করা হয়। আর ২৮ হাজার ভোট দেখিয়ে অলি আহাদকে নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ঘোষণা করা হয়। ভাষাসৈনিক অলি আহাদের স্বপ্নকে গভীর ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে কবর দেয়া হয়েছিল। পিতার সেই দুঃখ ব্যথা ও বেদনার ইতিহাস পরবর্তী সময়ে রুমিন ফারহানা জানেন।

কষ্টের সেই ইতিহাস বুকে ধারণ করেই রাজনীতির মাঠে হাটিহাটি পা পা করে চলছিলেন রুমিন। চড়াই উৎরাই ও নানা প্রতিকূলতা পার করে বিএনপিতে রুমিন ফারহানা একটি অবস্থান করে নেন। নিজের মেধা যোগ্যতা ও কর্মদক্ষতা দ্বারা বিএনপি’র কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদকের পদ পান। দলের জন্য মাঠে ময়দানে রাজপথে ও টিভি টকশোতে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করতে থাকেন। সরকারের দমনপীড়ন, জুলুম-নির্যাতন সহ্য করেও দলের জন্য থামেনি তার লড়াই সংগ্রাম। পিতার ও নিজের জন্মভূমির মানুষের ম্যান্ডেট নিয়ে সংসদ সদস্য হওয়ার স্বপ্ন দেখছিলেন। স্বপ্ন দেখছিলেন এমপি নির্বাচিত হয়ে নিজের এলাকায় প্রয়াত পিতার ইচ্ছেগুলো পূরণ করার। সেই লক্ষ্যে গত দেড় যুগ আগ থেকেই তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে কাজ শুরু করেন। বাসা ভাড়া নিয়ে নির্বাচনী এলাকার মানুষের দ্বারে দ্বারে ঘুরতে থাকেন। নিয়মিতভাবে দলীয় কর্মসূচি, সভা-সেমিনার, উঠান বৈঠক ও গণসংযোগ করতে থাকেন। নির্বাচনী এলাকার নারী-পুরুষের কাছে হয়ে উঠেন প্রিয়ভাজন।

এক যুগেরও অধিক সময় চষে বেড়ানো ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসন থেকে নির্বাচনে অংশগ্রহণের ঘোষণা দিতে থাকেন। দলীয় নেতাকর্মীরাও আশাবাদী ছিলেন দল এই আসনে তাকেই মনোনীত করবেন। কিন্তু জোটের সঙ্গে আসন ভাগাভাগিতে গণেশ উল্টে গেল। শতভাগ নিশ্চিত ধানের শীষের এই আসনে জোটের প্রার্থীকে মনোনয়ন দেয়ার বিষয়টি চারিদিকে চাউর হতে লাগলো। মন ভেঙে চুপসে গেলেন স্থানীয় বিএনপি ও দলটির অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা। মন খারাপ করেননি রুমিন ফারহানা। তিনি বলতে থাকেন, জনগণের ইচ্ছার বাস্তবায়ন করতে এই আসনে আমি নির্বাচন করবোই। উনার এমন সব ইশারা ইঙ্গিতেই সমর্থকরা বুঝেছিলেন স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার দিকে এগুচ্ছেন তিনি। পরবর্তীতে কেন্দ্রীয় বিএনপি জমিয়তের মাওলানা জুনাঈদ আল হাবিবকে এই আসনে তাদের জোটের প্রার্থী ঘোষণা দেন। দলটির কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি তিনি। উনি ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার অষ্টগ্রাম ইউনিয়নের অষ্টগ্রামের বাসিন্দা। গত সোমবার তার পক্ষে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করা হয়েছে। প্রতীক খেজুরগাছ। এরপর গত বুধবার রুমিন ফারহানার পক্ষে সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও সরাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আবুবকর সরকারের কাছ থেকে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন উপজেলা যুবদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আলী হোসেন।

রুমিন ফারহানা মানবজমিনকে বলেন, গ্রামের বাড়িতে গিয়ে দাদা-দাদিসহ স্বজনদের কবর জিয়ারতের মাধ্যমে গত বৃহস্পতিবার থেকে নির্বাচনী কার্যক্রম শুরু করেছি। গত ১৭টি বছর মানুষের অধিকারের জন্য লড়াই করেছি। অনিয়ম অন্যায় অবিচার ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে সংগ্রাম করেছি। দেশের ও নির্বাচনী এলাকার মানুষের দোয়া চাই। আমার নির্বাচনী কার্যক্রম চলবে। তিনি নির্বাচনী এলাকার মানুষের উদ্দেশ্যে বলেন, ১৭ বছর কে বা কারা তাদের হয়ে সব জায়গায় কথা বলেছে। ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে ভোটের মাধ্যমে তারা সেই জবাব দিবেন। মনোনয়নে আমার প্রতি অন্যায় করা হয়েছে। দাবি ছিল আমার একটাই, সেখানে জোটের প্রার্থী দিয়েন না। কিন্তু সেই দাবি বা আকুতির স্থান তাদের কাছে হয়নি। আল্লাহর রহমতে ভোট প্রয়োগের মাধ্যমে মানুষ আমাকে অসম্মানের জবাব দেবেন। স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে আমার প্রতীক হতে পারে হাঁস।

https://mzamin.com/uploads/news/main/196028_bramonbiariya%202.webp

নাইজেরিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের ‘সন্ত্রাসবিরোধী’ হামলা

নাইজেরিয়ার সরকারের অনুরোধে দেশটির উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে ইসলামিক স্টেট (আইএস) সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। বৃহস্পতিবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প ও মার্কিন সামরিক বাহিনী এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, ওই অঞ্চলে আইএস সন্ত্রাসীরা মূলত খ্রিস্টান সম্প্রদায়কে লক্ষ্য করে সহিংস হামলা চালাচ্ছিল। এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, প্রধান সেনাপতি হিসেবে আমার নির্দেশে আজ রাতে যুক্তরাষ্ট্র উত্তর-পশ্চিম নাইজেরিয়ায় আইএস সন্ত্রাসী দুষ্কৃতকারীদের বিরুদ্ধে শক্তিশালী ও প্রাণঘাতী হামলা চালিয়েছে। তারা নিরীহ খ্রিস্টানদের লক্ষ্য করে নির্মম হত্যাযজ্ঞ চালাচ্ছিল। যা বহু বছর, এমনকি শতাব্দীর মধ্যে দেখা যায়নি।

মার্কিন সামরিক বাহিনীর আফ্রিকা কমান্ড জানিয়েছে, নাইজেরিয়ার কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে সকোতো রাজ্যে এই হামলা চালানো হয় এবং এতে একাধিক আইএস সন্ত্রসী নিহত হয়েছে।

নাইজেরিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইউসুফ মাইতামা তুগ্গার বৃটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসিকে বলেন, এই হামলা একটি যৌথ অভিযান এবং এর লক্ষ্য ছিল সন্ত্রাসীরা। এর সঙ্গে কোনো নির্দিষ্ট ধর্মের বিষয় জড়িত নয়। আইএসের নাম উল্লেখ না করে তিনি বলেন, এই অভিযান অনেক দিন ধরেই পরিকল্পিত ছিল এবং এতে নাইজেরিয়ার দেওয়া গোয়েন্দা তথ্য ব্যবহার করা হয়েছে। ভবিষ্যতে আরও হামলা হতে পারে কি নাÑ এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, তা দুই দেশের নেতৃত্বের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে।

গত অক্টোবরের শেষ দিকে ট্রাম্প দাবি করেন, নাইজেরিয়ায় খ্রিস্টান সম্প্রদায় অস্তিত্বগত হুমকির মুখে রয়েছে এবং সহিংসতা ঠেকাতে ব্যর্থ হলে যুক্তরাষ্ট্র সামরিকভাবে হস্তক্ষেপ করতে পারে বলে সতর্ক করেন। এর আগে রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, নভেম্বরের শেষ দিক থেকে যুক্তরাষ্ট্র নাইজেরিয়ার বিস্তীর্ণ এলাকায় গোয়েন্দা নজরদারি বিমান উড়িয়েছে।

নাইজেরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক্সে জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান নিরাপত্তা সহযোগিতার অংশ হিসেবেই এই হামলা চালানো হয়েছে, যেখানে গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় ও কৌশলগত সমন্বয় রয়েছে। পেন্টাগনের প্রকাশিত একটি ভিডিওতে দেখা যায়, একটি যুদ্ধজাহাজ থেকে অন্তত একটি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হচ্ছে। মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তরের এক কর্মকর্তা জানান, পরিচিত আইএস ঘাঁটিতে থাকা একাধিক সন্ত্রাসীকে লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয়। মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ এক্স বার্তায় নাইজেরিয়া সরকারকে সহযোগিতার জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে লেখেন, আরও আসছে।

নাইজেরিয়া সরকার বরাবরই বলে আসছে, সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো মুসলিম ও খ্রিস্টানÑ উভয় সম্প্রদায়কেই লক্ষ্য করে হামলা চালায়। যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে কেবল খ্রিস্টান নিপীড়নের ওপর জোর দেওয়া দেশটির জটিল নিরাপত্তা পরিস্থিতির পূর্ণ চিত্র তুলে ধরে না। তবে সন্ত্রাসবিরোধী সক্ষমতা জোরদারে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কাজ করতে সম্মত হয়েছে নাইজেরিয়া। দেশটির জনসংখ্যার একটি বড় অংশ উত্তরাঞ্চলে বসবাসরত মুসলিম এবং দক্ষিণাঞ্চলে খ্রিস্টান অধ্যুষিত।

এদিকে বৃহস্পতিবার নাইজেরিয়ার উত্তর-পূর্বাঞ্চলে একটি মসজিদে আত্মঘাতী হামলায় অন্তত পাঁচজন নিহত ও ৩৫ জন আহত হন বলে পুলিশ জানিয়েছে। ওই অঞ্চলটিও দীর্ঘদিন ধরে ইসলামপন্থী বিদ্রোহীদের সহিংসতায় জর্জরিত।

ক্রিসমাস উপলক্ষে দেওয়া এক বার্তায় নাইজেরিয়ার প্রেসিডেন্ট বোলা টিনুবু ধর্মীয় সম্প্রীতির আহ্বান জানান। তিনি বলেন, বিশেষ করে ভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে শান্তি বজায় রাখা জরুরি। তিনি আরও বলেন, নাইজেরিয়ায় ধর্মীয় স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে এবং খ্রিস্টান, মুসলিমসহ সব নাগরিককে সহিংসতা থেকে রক্ষা করতে আমি সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাব। উল্লেখ্য, ক্রিসমাসের দিন ফ্লোরিডার মার-আ-লাগো ক্লাবে অবস্থানকালে ট্রাম্প এই হামলা নিয়ে বক্তব্য দেন। একই সময়ে গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র সিরিয়াতেও আইএসের একাধিক লক্ষ্যবস্তুতে বড় পরিসরের হামলা চালায়।

mzamin

অরুণাচলকে নিজ ভূখণ্ডের সঙ্গে যুক্ত করতে কাজ করছে চীন: পেন্টাগন

দীর্ঘমেয়াদি জাতীয় পুনরুজ্জীবন কৌশলের অংশ হিসেবে ভারতের অরুণাচল প্রদেশকে নিজেদের সঙ্গে যুক্ত করার কার্যক্রমকে গুরুত্বের সঙ্গে চিহ্নিত করেছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন। মার্কিন কংগ্রেসে জমা দেওয়া সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে অরুণাচলকে চীনের তথাকথিত ‘মূল স্বার্থে’র অন্তর্ভুক্ত হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। যেখানে তাইওয়ান ও গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক বিরোধপূর্ণ অঞ্চলগুলোর নামও রয়েছে। একই সঙ্গে প্রতিবেদনে চীন ও পাকিস্তানের ক্রমবর্ধমান সামরিক ও কৌশলগত ঘনিষ্ঠতার বিষয়টিও তুলে ধরা হয়েছে। এ খবর দিয়েছে টাইমস অব ইন্ডিয়া।

পেন্টাগনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চীনের নেতৃত্ব তাদের মূল স্বার্থের পরিধি সম্প্রসারণ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে তাইওয়ান, দক্ষিণ চীন সাগরে সার্বভৌমত্ব ও সামুদ্রে আধিপত্য বিস্তার, সেনকাকু দ্বীপপুঞ্জ এবং ভারতের অরুণাচল প্রদেশ। এসব লক্ষ্য অর্জনে ২০৪৯ সাল সময়সীমা হিসেবে নির্ধারণ করে কাজ করছে চীন। এই পদক্ষেপকে নিজেদের পুনরুজ্জীবন অর্জনের কেন্দ্রীয় উপাদান হিসেবে বিবেচনা করছে বেইজিং।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, চীনা কর্মকর্তারা বিতর্কিত অঞ্চলগুলোকে একীভূত করাকে জাতীয় পুনরুজ্জীবনের একটি স্বাভাবিক প্রয়োজন হিসেবে বর্ণনা করেছে। এই দৃষ্টিভঙ্গিতে পুনরুজ্জীবিত চীন বৈশ্বিক অঙ্গনে আরও প্রভাবশালী হবে এবং এমন সামরিক শক্তির অর্জন করবে যার মাধ্যমে তারা যুদ্ধে লড়াই করে জিততে সক্ষম হবে। একই সঙ্গে সার্বভৌমত্ব, নিরাপত্তা ও উন্নয়ন স্বার্থ দৃঢ়ভাবে রক্ষা করবে।

ভারত-চীন সম্পর্ক প্রসঙ্গে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের অক্টোবর মাসে ভারতীয় নেতৃত্ব বাস্তব নিয়ন্ত্রণরেখা (এলএসি) বরাবর অবশিষ্ট সংঘাতপূর্ণ এলাকাগুলো থেকে সেনা প্রত্যাহারে চীনের সঙ্গে একটি সমঝোতার ঘোষণা দেয়। এই ঘোষণা আসে ব্রিকস সম্মেলনের ফাঁকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের বৈঠকের মাত্র দুই দিন আগে। ওই বৈঠকের পর থেকে সীমান্ত ব্যবস্থাপনা, সরাসরি বিমান চলাচল, ভিসা সহজীকরণ এবং শিক্ষাবিদ ও সাংবাদিকদের আদান-প্রদানের মতো বিষয়ে মাসিক উচ্চপর্যায়ের আলোচনার সূচনা হয়েছে। পেন্টাগনের মূল্যায়নে বলা হয়েছে, এলএসি-তে উত্তেজনা কমিয়ে চীন দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক স্থিতিশীল করতে এবং যুক্তরাষ্ট্র-ভারত সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ হওয়া ঠেকাতে চায়। তবে পারস্পরিক অবিশ্বাসের কারণে ভারত সতর্ক অবস্থানেই থাকবে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে চীন-পাকিস্তান সামরিক সহযোগিতার বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্ব পেয়েছে। চীন পাকিস্তানের সঙ্গে যৌথভাবে জেএফ-১৭ যুদ্ধবিমান উৎপাদন অব্যাহত রেখেছে এবং চীনের তৈরি জে-১০ বহুমুখী যুদ্ধবিমানের একমাত্র ক্রেতা পাকিস্তানই। এছাড়া চীন পাকিস্তানসহ বিভিন্ন দেশে সশস্ত্র ড্রোন সরবরাহ করেছে এবং ইসলামাবাদের অন্যতম প্রধান নৌ-সরঞ্জাম সরবরাহকারী হিসেবে ভূমিকা রাখছে। এর উদাহরণ হিসেবে পাকিস্তানের তিন বিলিয়ন ডলারের বিনিময়ে আটটি ইউয়ান-শ্রেণির সাবমেরিন কেনার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

পেন্টাগনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চীন ভবিষ্যতে পাকিস্তানকে পিপলস লিবারেশন আর্মি (পিএলএ)-এর জন্য সম্ভাব্য সামরিক লজিস্টিক ঘাঁটির স্থান হিসেবে বিবেচনা করতে পারে। এটি জিবুতির বাইরে চীনের বৈদেশিক সামরিক ঘাঁটি বিস্তারের বৃহত্তর কৌশলের অংশ। প্রতিবেদনে ২০২০ সালে স্বাক্ষরিত চীন-পাকিস্তান গোয়েন্দা সহযোগিতা চুক্তির কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। এই চুক্তির আওতায় পাকিস্তান ও আফগানিস্তানে সন্ত্রাসবিরোধী কার্যক্রমে সহযোগিতা বাড়ানো হয়েছে, বিশেষ করে উইঘুর গোষ্ঠীগুলোকে লক্ষ্য করে।

পেন্টাগনের মূল্যায়ন অনুযায়ী, চীনের তিনটি অ-আলোচনাযোগ্য মূল স্বার্থ রয়েছে- চীনা কমিউনিস্ট পার্টির (সিসিপি) ক্ষমতার ধারাবাহিকতা, অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং ভূখণ্ড ও সার্বভৌমত্ব সংক্রান্ত দাবি রক্ষা ও সম্প্রসারণ। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, সিসিপি এই বিষয়ে অত্যন্ত সংবেদনশীল যে তারা চীনের স্বার্থ রক্ষায় ব্যর্থ হচ্ছে। এমন সমালোচনাকে তারা নিজেদের বৈধতার জন্য হুমকি হিসেবে দেখে। ফলে অভ্যন্তরীণ ও বহিরাগত উভয় ধরনের চ্যালেঞ্জকেই দলটি কঠোরভাবে মোকাবিলা করতে চায়।

mzamin

হাদি হত্যার বিচার চেয়ে শাহবাগে গভীর রাতেও জেগে নারী-শিশুরা by তাহমিদ সাকিব

ঘড়ির কাঁটা রাত তিনটার দিকে। রাজধানীতে তাপমাত্রা দেখাচ্ছে ১৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এমন পরিস্থিতে শীত উপেক্ষা করে খোলা আকাশের নিচে বাবা আসিফুল ইসলামের কোলে বসে আছে ছোট্ট শাফিকুল ইসলাম ফারাজ। পাশে আসিফুলের স্ত্রী, তাঁর কোলে আরেক শিশু সন্তান শারিফুল ইসলাম ফায়দা। আসিফুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, তাঁরা এখানে শুধু হাদি হত্যার বিচার চাইতে এসেছেন। তীব্র শীতেও তাঁদের দুই সন্তানের কিছু হবে না বলে তাঁর বিশ্বাস। তিনি চান, তাঁর ছেলেরা বড় হয়ে হাদির মতো প্রতিবাদী হোক।

শুক্রবার দিবাগত রাতের এ দৃশ্য রাজধানীর শাহবাগ মোড়ের। শীত উপেক্ষা করে এখানে যাঁরা খোলা আকাশের নিচে বসে আছেন, তাঁরা সবাই এসেছেন শরিফ ওসমান বিন হাদির বিচারের দাবিতে। সেখানে স্লোগান হচ্ছে ‘হাদি হত্যার বিচার চাই’ বলে, চলছে কবিতা আবৃত্তি, কেউ গাইছেন হাদিকে নিয়ে গান। কেউ আবার একটু হেঁটে গিয়ে দূর থেকে জিয়ারত করে আসছেন হাদির কবর!

ওসমান হাদি হত্যার বিচারের দাবিতে শুক্রবার সারা রাত অবস্থান কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছে ইনকিলাব মঞ্চ। শুক্রবার রাতে এ ঘোষণার পর নারী, পুরুষ, শিশুসহ অনেকেই এসেছেন এখানে। তাদের একজন মমিনুল ইসলাম। এসেছেন আজিমপুর থেকে। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘বাংলার প্রেমিক হয়ে হাদি জীবন দিয়ে গেছেন। যাঁরা সত্যের পথে থাকে তাঁরা কখনো ভয় পায় না। প্রয়োজনে তিনিও হাদির মতো জীবন দিতে রাজি।’

তারেক রহমানকে সহযোগিতা করা হবে

আয়োজক পক্ষ ইনকিলাব মঞ্চের পক্ষ থেকে হাদি হত্যার বিচার দাবিতে শনিবারও শাহবাগ মোড় অবরোধের ঘোষণা দিয়ে রাখা হয়েছে। তবে এদিন সকালে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ওসমান হাদির কবর জিয়ারতে আসার সময়সূচি ঘোষণা করা রয়েছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে ইনকিলাব মঞ্চের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মুখপাত্র ও ডাকসু নেত্রী ফাতিমা তাসনিম জুমা প্রথম আলোকে বলেন, ‘তাদের সঙ্গে আমাদের কথা হয়েছে। এই ব্যাপারে সর্বাত্মক সহযোগিতা আমাদের তরফ থেকে থাকবে।’

এর আগে রাত আড়াইটার দিকে তৃণমূল এনসিপির প্রতিষ্ঠাতা আহ্বায়ক মুনতাসীর মাহমুদকে দেখা যায় জমায়েতস্থলে উপস্থিত হয়ে বক্তব্য দিতে। সেখানে তিনি বলেন, ‘প্রতিষ্ঠান ভেঙে নয়, প্রতিষ্ঠান গড়তে হবে। হাদি ভাই প্রতিষ্ঠান গড়তে চেয়েছিলেন।’ ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল জাবের বলেন, এই লড়াই চালিয়ে যেতে হবে। এর আগে তিনি ওসমান হাদির খুনিদের গ্রেপ্তার না করা পর্যন্ত সবাইকে রাজপথে থাকার আহ্বান জানান।

রাত সাড়ে তিনটার দিকে সরেজমিনে দেখা যায়, শাহবাগে তখনো কেউ কেউ আসছেন। আর যাঁরা দীর্ঘক্ষণ এখানে ছিলেন তাদের কেউ কেউ ফিরে যাচ্ছেন। এমনই একজন মোহাম্মদ আশরাফুল। তিনি জিগাতলা থেকে তাঁর স্ত্রী ও ছয় বছরের মেয়ে আসফিয়াকে নিয়ে এসেছিলেন। কয়েক ঘণ্টা থাকার পর তিনি ফিরে যাচ্ছেন বলে জানান।

https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla%2F2025-12-26%2Ffh78al03%2F%E0%A7%A7.jpeg?rect=0%2C43%2C1040%2C693&w=622&auto=format%2Ccompress&fmt=avif
শরিফ ওসমান বিন হাদির হত্যাকারীদের বিচার দাবিতে শীত উপেক্ষা করে মানুষের অবস্থান। ২৬ ডিসেম্বর দিবাগত রাত ৩টা, ২০২৫, শাহবাগ মোড়, ঢাকা। ছবি: প্রথম আলো

অবরোধ চলবে, রাতেও শাহবাগে অবস্থান, ঘোষণা ইনকিলাব মঞ্চের

শহীদ শরিফ ওসমান বিন হাদির খুনিরা গ্রেপ্তার না হওয়া পর্যন্ত শাহবাগে অবরোধ চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ইনকিলাব মঞ্চ।

আজ শুক্রবার দুপুরে শাহবাগে অবস্থান নেওয়ার পর রাতে ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের এ ঘোষণা দেন।

তিনি বলেন, ‘আমরা সারা রাত এখানে বসে থাকব। আমরা কম্বল আনতে পাঠিয়েছি। হাদি ভাই জীবিত থাকতে এই কম্বল কিনেছিলেন বস্ত্রহীনদের জন্য। কিন্তু তিনি সেই কম্বল দিয়ে যেতে পারেননি। আমাদের সুস্থ থাকতে হবে। কর্মসূচি শেষ হলে সেই কম্বল আমরা বস্ত্রহীনদের কাছে পৌঁছে দেব।’

ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব বলেন, সরকারের উপদেষ্টারা জনগণের সামনে এসে না দাঁড়ানো পর্যন্ত তাঁরা শাহবাগ ছাড়বেন না। উপদেষ্টাদের শুধু এলেই চলবে না, হত্যার পরিকল্পনাকারী, হত্যাকারী ও তাঁদের ভারতে পালাতে সহায়তাকারীরা গ্রেপ্তার না হওয়া পর্যন্ত তাঁরা রাজপথে অবস্থান চালিয়ে যাবেন।

অবরোধ থাকলেও আগামীকাল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া একটি পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারীদের আটকাবে না ইনকিলাব মঞ্চ। আল জাবের বলেন, ‘সকাল নয়টা থেকে আমরা চারপাশে অবস্থান নেব, পরীক্ষার সুযোগ করে দেব। কিন্তু অবরোধ তুলে নেব না। পরীক্ষার নামে অবরোধ তুলে নেওয়া যাবে না।’

ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক ওসমান হাদির খুনিদের গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবিতে শাহবাগে বিক্ষোভের কর্মসূচি আগেই ঘোষণা করা হয়েছিল। সে অনুযায়ী আজ জুমার নামাজের পর শাহবাগে অবস্থান নেন ইনকিলাব মঞ্চের নেতা–কর্মীরা। পরে টানা অবস্থান চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন। এতে শাহবাগের আশপাশের রাস্তায় যানজট তৈরি হয়েছে।

কর্মসূচিতে ইনকিলাব মঞ্চের নেতাদের সঙ্গে আরও মানুষও যোগ দিয়েছে। বিকেলে ইনকিলাব মঞ্চ ফেসবুকে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে বাংলাদেশের জনগণকে শহীদ ওসমান হাদি হত্যার বিচারের দাবিতে শাহবাগে এসে অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানায়।

শাহবাগে অবস্থান নিয়ে ওসমান হাদির ভাই শরিফ ওমর বিন হাদি সন্ধ্যায় বলেন, দাবি মানা না হলে তাঁরা আরও কঠোর কর্মসূচিতে যাবেন। প্রয়োজনে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের বাসভবন যমুনা ঘেরাও করার হুমকি দিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা রাজপথে নেমেছি, বিচার না হওয়া পর্যন্ত আমরা ঘরে ফিরব না। আমরা কিন্তু আরও কঠিন কর্মসূচি ঘোষণা করতে বাধ্য হব। রাষ্ট্রের পরিস্থিতি খারাপ হওয়ার আগেই বলে দিতে চাই, আমাদের বাধ্য করবেন না ক্যান্টনমেন্ট বা যমুনা ঘেরাও করতে।’

আজ সন্ধ্যায় ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল জাবের বলেন, ‘যতক্ষণ পর্যন্ত শহীদ হাদি হত্যার পেছনে যাঁরা জড়িত, এর যাঁরা পরিকল্পনাকারী, হত্যাকারী—তাঁদের সবাইকে গ্রেপ্তার না করা পর্যন্ত আমরা রাজপথ ছাড়ছি না। আমাদের আর ঘরে ফিরে যাওয়ার সুযোগ নেই। আজকে শাহবাগ অবরোধ করেছি। আগামীকালও করা হবে। সারা বাংলাদেশ থেকে জনতা আসছে।’

রাত সাড়ে তিনটার সময় সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, তখনও শাহবাগ মোড়ে অবস্থান করছিলেন মঞ্চের নেতা–কর্মীরা। তাঁদের সঙ্গে নারী ও শিশুরাও রয়েছে। তাঁরা হাদি হত্যার বিচার চেয়ে বিভিন্ন স্লোগান দিচ্ছিলেন। ‘বিচার বিচার চাই, হাদি হত্যার বিচার চাই’; ‘সুশীলতার দিন শেষ, বিচার চাই বাংলাদেশ’ ইত্যাদি স্লোগান দিচ্ছেলেন।

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের মুখ ওসমান হাদি গত বছরের আগস্টে ইনকিলাব মঞ্চ গঠন করেন ফ্যাসিবাদ ও আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে উচ্চকণ্ঠ ছিলেন। আসন্ন সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য প্রার্থী ছিলেন তিনি।

১২ ডিসেম্বর জুমার নামাজের কিছু পর রাজধানীর পুরানা পল্টনের কালভার্ট রোডে রিকশায় থাকা ওসমান হাদিকে গুলি করা হয়। তাঁকে মাথায় গুলি করার পর আততায়ীরা মোটরসাইকেল নিয়ে পালিয়ে যায়। পরে তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়। সেখানে ১৮ ডিসেম্বর তাঁর মৃত্যু হয়। ২০ ডিসেম্বর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে লাখো মানুষের অংশগ্রহণে তাঁর জানাজা হয়। এরপর তাঁকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদ-সংলগ্ন জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সমাধিস্থলের পাশে দাফন করা হয়।

ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে বেশ কয়েকজনকে পুলিশ ও র‍্যাব গ্রেপ্তার করলেও গুলিবর্ষণকারী হিসেবে চিহ্নিত ফয়সাল করিম মাসুদ এখনো অধরা। তাঁর বাবা, মা, স্ত্রীকে গ্রেপ্তার করা হলেও তিনি ভারতে পালিয়েছেন বলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সূত্র জানাচ্ছে।

https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla%2F2025-12-26%2F80mjd322%2FWhatsApp-Image-2025-12-27-at-1.11.16-AM.jpeg?rect=98%2C0%2C1085%2C723&w=622&auto=format%2Ccompress&fmt=avif
শহীদ হাদির খুনিরা গ্রেপ্তার না হওয়া পর্যন্ত শাহবাগে অবরোধ চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ইনকিলাব মঞ্চ। রাত ১টা। ছবি: মেহেদী হাসান

মিয়ানমারের নির্বাচনে ছায়া ফেলছেন সু চি

২০২১ সালের ১লা ফেব্রুয়ারির সামরিক অভ্যুত্থানের পর ক্ষমতাচ্যুত মিয়ানমারের নেত্রী অং সান সু চিকে সেনাবাহিনীর হেফাজতে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন অবস্থায় আটক রাখা হয়েছে। তবে তার অনুপস্থিতিই এখন জান্তাপরিচালিত সেইসব নির্বাচনের ওপর বড় ছায়া ফেলছে, যেগুলোকে জেনারেলরা গণতন্ত্রে ফেরার পথ বলে প্রচার করছেন। এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি। নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী সু চি একসময় বিদেশি কূটনীতিকদের প্রিয় ছিলেন। দেশে ছিল অসংখ্য আবেগী সমর্থক, আর দীর্ঘদিনের কঠোর সামরিক শাসন থেকে মিয়ানমারকে মুক্ত করার প্রতীক হিসেবে তার সুনাম গড়ে উঠেছিল। ২০২০ সালের সর্বশেষ নির্বাচনে তার অনুসারীরা ভূমিধস জয় পান। কিন্তু সেনাবাহিনী সেই ফল বাতিল করে দেয়। তার দল ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসি (এনএলডি) ভেঙে দেয়। তাকে সম্পূর্ণ নিঃসঙ্গ অবস্থায় কারাগারে পাঠায়। সু চি অন্তরালে চলে যাওয়া এবং এক দশকব্যাপী গণতান্ত্রিক পরীক্ষার ইতি টানার পর, কর্মীরা প্রথমে রাজপথে বিক্ষোভে নামে, পরে গেরিলা যোদ্ধায় পরিণত হয়ে সর্বগ্রাসী গৃহযুদ্ধে সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াই শুরু করে।

আশির কোঠায় পৌঁছানো এই নেত্রী রোববার থেকে শুরু হতে যাওয়া নির্বাচনের সময়ও বন্দি অবস্থায়ই থাকবেন। এই নির্বাচন দিয়ে জান্তা ২০২০ সালের ভোটকে মুছে দিতে চায়। রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় তার সরকারের ভূমিকার কারণে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সু চির সুনাম মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে মিয়ানমারের বহু সমর্থকের কাছে তার নাম এখনো গণতন্ত্রের প্রতিশব্দ। ব্যালটে তার অনুপস্থিতিই তাদের কাছে প্রমাণ যে এই নির্বাচন অবাধ বা সুষ্ঠু হবে না। সু চি জীবনের প্রায় দুই দশক সেনাদের অধীনে আটকাবস্থায় কাটিয়েছেন। অথচ এক বিস্ময়কর বৈপরীত্য হলো, তিনি মিয়ানমারের সশস্ত্র বাহিনীর প্রতিষ্ঠাতার কন্যা। তিনি জন্মগ্রহণ করেন ১৯৪৫ সালের ১৯ জুন দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের শেষ সপ্তাহগুলোতে জাপানি দখলদারত্বের অধীনে থাকা ইয়াঙ্গুনে। তার বাবা অং সান দেশকে স্বাধীন করার লক্ষ্যে বৃটিশ ও জাপানি উভয় উপনিবেশবাদীদের বিরুদ্ধেই লড়াই করেন। স্বাধীনতা অর্জনের কয়েক মাস আগেই ১৯৪৭ সালে তিনি নিহত হন। এরপর সু চি তার শৈশবের বড় অংশ মিয়ানমারের বাইরে কাটান। প্রথমে ভারতে, সেখানে তার মা রাষ্ট্রদূত ছিলেন। পরে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে, সেখানে তিনি তার বৃটিশ স্বামীর সঙ্গে পরিচিত হন। ১৯৬২ সালে জেনারেল নে উইন পূর্ণ ক্ষমতা দখল করে নিজের সমাজতান্ত্রিক শাসন চাপিয়ে দেন। এর ফলে একসময় এশিয়ার চালের ঝুড়ি হিসেবে পরিচিত দেশটি বিশ্বের অন্যতম দরিদ্র ও বিচ্ছিন্ন দেশে পরিণত হয়।
সু চির গণতন্ত্রের প্রতীক হয়ে ওঠা অনেকটাই ছিল আকস্মিক। ১৯৮৮ সালে তিনি মৃত্যুপথযাত্রী মাকে সেবাযত্ন করতে দেশে ফিরে আসেন। আর সেখান থেকেই তার রাজনৈতিক উত্থানের সূচনা ঘটে। 

mzamin

রাশিয়া–ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে ভূখণ্ড বিনিময়ের ইঙ্গিত পুতিনের

ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে একটি সম্ভাব্য চুক্তির আওতায় দখলকৃত কিছু ভূখণ্ড বিনিময়ে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন রাজি হতে পারেন বলে খবর প্রকাশ করেছে রুশ সংবাদপত্র কমেরসান্ত। তবে বিনিময় হিসেবে পুতিন পুরো দনবাস অঞ্চল রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণে রাখার বিষয়ে অনড় অবস্থানে রয়েছেন।

রাশিয়ার প্রথম সারির দৈনিক কমেরসান্ত-এর ক্রেমলিন সংবাদদাতা আন্দ্রেই কোলেসনিকভ জানান, ২৪ ডিসেম্বর রাতে ক্রেমলিনে এক বৈঠকে দেশের শীর্ষ ব্যবসায়ীদের কাছে এই পরিকল্পনার বিস্তারিত তুলে ধরেন পুতিন।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পুতিন ব্যবসায়ীদের আশ্বস্ত করেছেন যে রাশিয়া এখনো ‘অ্যাঙ্কোরেজ’ সম্মেলনে দেওয়া ছাড়গুলো মেনে নিতে প্রস্তুত। অর্থাৎ দনবাস রাশিয়ারই থাকবে—এই নীতিতে কোনো পরিবর্তন আসবে না। কোলেসনিকভ লিখেছেন, দনবাসের বাইরে অন্য অঞ্চলে রুশ নিয়ন্ত্রণাধীন ভূখণ্ডের আংশিক অদলবদল বা হস্তান্তরের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেননি পুতিন।

এদিকে বুধবার ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেন, গত সপ্তাহে মায়ামিতে অনুষ্ঠিত আলোচনায় ২০ দফার একটি শান্তি পরিকল্পনা চূড়ান্ত করার পথে ইউক্রেন ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদল অনেকটাই এগিয়েছে। তবে জেলেনস্কি স্পষ্ট করেছেন যে ইউক্রেনের নিয়ন্ত্রণে থাকা দনবাসের অবশিষ্ট অংশ রাশিয়ার হাতে ছেড়ে দেওয়ার বিষয়ে এখনো কোনো ঐকমত্য হয়নি। এ ছাড়া বর্তমানে রুশ সেনাদের দখলে থাকা জাপোরিঝঝিয়া পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের ভবিষ্যৎ নিয়েও বিতর্ক রয়ে গেছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ–পরবর্তী ইউরোপের এই রক্তক্ষয়ী সংঘাত বন্ধের যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, তা বাস্তবায়নে তাঁর বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং জামাতা জ্যারেড কুশনার রাশিয়া, ইউক্রেন ও ইউরোপীয় শক্তিগুলোর সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন। গত আগস্টে আলাস্কার অ্যাঙ্কোরেজে পুতিন ও ট্রাম্পের শীর্ষ বৈঠকে কী কী বিষয়ে ‘বোঝাপড়া’ হয়েছিল, তার পূর্ণাঙ্গ বিবরণ এখনো প্রকাশ করা হয়নি।

রাশিয়ার দাবি ও বর্তমান অবস্থান

রাশিয়ার হিসাব অনুযায়ী, তারা বর্তমানে ২০১৪ সালে সংযুক্ত করা ক্রিমিয়া ছাড়াও দনবাসের ৯০ শতাংশ এবং জাপোরিঝঝিয়া ও খেরসন অঞ্চলের ৭৫ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ করছে। পুতিন এর আগে শর্ত দিয়েছিলেন যে শান্তিচুক্তির জন্য ইউক্রেনকে দনবাস, খেরসন ও জাপোরিঝঝিয়া থেকে পুরোপুরি সেনা সরিয়ে নিতে হবে এবং ন্যাটোতে যোগদানের আশা ত্যাগ করতে হবে।

কমেরসান্ত আরও জানিয়েছে, ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠকে ইউরোপের বৃহত্তম পারমাণবিক স্থাপনা জাপোরিঝঝিয়া নিয়ে পুতিন কথা বলেছেন। তিনি জানান, এই বিদ্যুৎকেন্দ্র রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ ব্যবস্থাপনায় পরিচালনার বিষয়টি আলোচনায় রয়েছে। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্র এই কেন্দ্রের কাছে ক্রিপ্টো মাইনিং বা ডিজিটাল মুদ্রা উৎপাদনে আগ্রহ দেখিয়েছে এবং কেন্দ্রটি থেকে উৎপাদিত বিদ্যুতের একটি অংশ ইউক্রেনকেও সরবরাহ করার পরিকল্পনা রয়েছে।

রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন
রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। ফাইল ছবি: এএফপি

লিবীয় সেনাপ্রধান নিহত হওয়ার ঘটনায় তদন্ত জোরদার করেছে তুরস্ক ও লিবিয়া

তুরস্কের রাজধানী আঙ্কারার কাছে উড়োজাহাজ বিধ্বস্ত হয়ে লিবিয়ার সেনাপ্রধানসহ আটজন নিহত হওয়ার ঘটনায় লিবিয়া ও তুরস্কের কর্মকর্তারা যৌথভাবে তদন্ত জোরদার করেছেন। একই সঙ্গে মৃতদেহগুলো দেশে ফেরানোর জন্য প্রয়োজনীয় ফরেনসিক কাজ এবং প্রস্তুতি চলছে।

লিবিয়ার অপরাধ তদন্ত বিভাগের প্রধান মেজর জেনারেল মাহমুদ আশুর গতকাল বৃহস্পতিবার আঙ্কারায় প্রধান সরকারি কৌঁসুলির কার্যালয়ে একটি প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন। যৌথ তদন্তের অংশ হিসেবে এ সফর করেন তাঁরা।

গত মঙ্গলবার লিবিয়ার সেনাপ্রধান মুহাম্মদ আলী আহমেদ আল-হাদ্দাদকে বহনকারী একটি ব্যক্তিগত উড়োজাহাজ আঙ্কারার এসেনবোগা বিমানবন্দর থেকে ওড়ার কিছুক্ষণের মধ্যে সেটিতে বৈদ্যুতিক ত্রুটি দেখা দেয়।

তুরস্কের যোগাযোগবিষয়ক প্রধান বুরহানেত্তিন দুরান বলেন, উড়োজাহাজটি উড়তে শুরু করার ১৬ মিনিটের মাথায় জরুরি অবতরণের অনুরোধ জানায়।

নিয়ন্ত্রণকক্ষে দায়িত্বরত ব্যক্তিরা উড়োজাহাজটিকে আবার আঙ্কারার দিকে ফিরে যাওয়ার নির্দেশনা দেন। তবে উড়োজাহাজটি নামতে শুরু করার তিন মিনিটের মাথায় সেটি রাডার থেকে হারিয়ে যায়। পরে আঙ্কারার হায়মানা অঞ্চলের কেসিককাভাক গ্রামে উড়োজাহাজের ধ্বংসাবশেষ পাওয়া যায়। ওই ঘটনায় উড়োজাহাজের তিনজন ক্রুসহ মোট আটজন নিহত হয়েছেন।

তুরস্কের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জরুরি অভিযান শুরুর পর উদ্ধারকারী দলগুলো ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। দুর্ঘটনার কারণ খুঁজে বের করতে বিভিন্ন কর্তৃপক্ষ তদন্তে যুক্ত হয়।

লিবিয়ার মিসরাতা থেকে আল-জাজিরার প্রতিবেদক মালিক ত্রাইনা বলেন, আল-হাদ্দাদের মৃতদেহ দেশে ফেরানোর প্রস্তুতি চলছে। তবে ঠিক কবে তা করা হবে, এটি সুনির্দিষ্ট করে জানা যায়নি।

গতকাল বৃহস্পতিবার ত্রাইনা বলেন, ‘আজ সকালে আমরা যোগাযোগবিষয়ক মন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেছিলাম। তখন বলা হয়েছিল, কাল জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। তবে এখন সে সিদ্ধান্ত বদলে যাচ্ছে। এখন তাঁরা সরকারি কর্মকর্তাদের কাছ থেকে ফোনকল পাচ্ছেন। বলা হচ্ছে, শনিবার পর্যন্ত জানাজা স্থগিত হতে পারে।’

ত্রাইনা আরও বলেন, দুর্ঘটনার তীব্রতার কারণে উদ্ধারপ্রক্রিয়ায় দীর্ঘ সময় লাগছে। ধ্বংসাবশেষ বিস্তৃত এলাকাজুড়ে ছড়িয়ে গেছে এবং ডিএনএ পরীক্ষা করা প্রয়োজন।

ত্রাইনা বলেন, ‘এ প্রক্রিয়া যত দ্রুত সম্ভব শেষ করার জন্য প্রচুর চাপ রয়েছে। তা সম্ভব হবে কি না দেখতে হবে।’

আঙ্কারা থেকে ৭৪ কিলোমিটার দূরে হায়মানা অঞ্চলের কেসিককাভাক গ্রামের প্রায় ২ কিলোমিটার দক্ষিণে উড়োজাহাজ বিধ্বস্ত হওয়ার পর কাজ করছেন উদ্ধারকর্মীরা। ২৪ ডিসেম্বর ২০২৫
আঙ্কারা থেকে ৭৪ কিলোমিটার দূরে হায়মানা অঞ্চলের কেসিককাভাক গ্রামের প্রায় ২ কিলোমিটার দক্ষিণে উড়োজাহাজ বিধ্বস্ত হওয়ার পর কাজ করছেন উদ্ধারকর্মীরা। ২৪ ডিসেম্বর ২০২৫ ছবি: এএফপি