Sunday, July 26, 2026
ইরানি হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত মার্কিন সামরিক স্থাপনা ও সরঞ্জামের তালিকা প্রকাশ
রোববার (২৬ জুলাই) ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম ইরনার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
আইআরজিসির মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হোসেইন মোহেব্বি এক বিবৃতিতে জানান, ৮ জুলাই থেকে ২২ জুলাই পর্যন্ত ১৫ দিনের অভিযানে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও স্থাপনায় হামলা চালানো হয়।
তিনি বলেন, এসব হামলায় মার্কিন বাহিনীর বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, রাডার, জ্বালানি অবকাঠামো, ড্রোন ঘাঁটি, যুদ্ধবিমান রক্ষণাবেক্ষণ কেন্দ্র এবং অন্যান্য সামরিক স্থাপনায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
আইআরজিসির প্রকাশিত তালিকা অনুযায়ী ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনা ও সরঞ্জামের মধ্যে যা যা রয়েছে-
রাডার ও আকাশ প্রতিরক্ষা খাত: ৭টি কমান্ড ও নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র, ৩টি স্যাটেলাইট যোগাযোগ ব্যবস্থা, ৬টি প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা রাডার, ৩টি আকাশ ও সমুদ্র পর্যবেক্ষণ রাডার, ৮টি আগাম সতর্কীকরণ রাডার, ৭টি আকাশ ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা রাডার, ৩টি ইপিএস রাডার ব্যবস্থা, ২টি ইপিএস-১১৭ রাডার, ৫টি দীর্ঘপাল্লার রাডার, ২টি বিমান প্রতিরক্ষা রাডার ও ১টি ট্যাকটিক্যাল রাডার কমপ্লেক্স।
সহায়তা ও রসদ খাত: ৬টি যুদ্ধবিমান ও হেলিকপ্টার রক্ষণাবেক্ষণ কেন্দ্র, ৩টি লজিস্টিক ও সহায়তা কেন্দ্র, ১২টি জ্বালানি সংরক্ষণ ট্যাংক, ১৭টি অস্ত্র, খুচরা যন্ত্রাংশ ও সামরিক সরঞ্জামের গুদাম ও ৬টি ক্ষেপণাস্ত্র সংরক্ষণাগার।
অপারেশনাল অবকাঠামো খাত: ৬টি এমকিউ-৯ ড্রোন বেস, ১টি এফ-১৫ যুদ্ধবিমান প্রস্তুতকরণ কেন্দ্র, ১টি ড্রোন বেস; যেখানে ৮টি নতুন ড্রোন ছিল, ২টি কমান্ড সেন্টার, ১টি বিমানবাহী রণতরির জ্বালানি সরবরাহ প্ল্যাটফর্ম, ১টি পি-৮ নজরদারি বিমানের বেস, ৪টি হাইমার্স ক্ষেপণাস্ত্র প্ল্যাটফর্ম, ৫টি যুদ্ধবিমানের হ্যাঙ্গার, ৪টি প্যাট্রিয়ট বিমান প্রতিরক্ষা কমপ্লেক্স, ৬টি ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ প্ল্যাটফর্ম, ১টি জ্বালানি পাম্পিং স্টেশন, ২টি সিগন্যাল যোগাযোগ কেন্দ্র, ১টি গোয়েন্দা তথ্যকেন্দ্র, অ্যামাজনের ১টি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও তথ্য প্রক্রিয়াকরণ কেন্দ্র, দূরনিয়ন্ত্রিত নৌযান সংরক্ষণের ১টি ডিপো, ১টি জ্বালানি জেটি, ৪টি যুদ্ধবিমানের সুরক্ষিত আশ্রয়কেন্দ্র, ৬টি বিমান উড্ডয়ন ও পার্কিং র্যাম্প।
বিমান সক্ষমতা খাত: মাটিতে থাকা ১১টি যুদ্ধবিমান ও হেলিকপ্টার ধ্বংস বা ক্ষতিগ্রস্ত, ১৭টি নজরদারি ও অভিযান, পরিচালনাকারী ড্রোন, যার মধ্যে ৮টি ছিল একেবারে নতুন, আশ্রয়কেন্দ্রের ভেতরে থাকা ১টি এফ-১৫ যুদ্ধবিমান, ১টি পি-৮ নজরদারি বিমান, ১টি সি-১৭ সামরিক পরিবহন বিমান, ৮টি আকাশে জ্বালানি সরবরাহকারী বিমান, ৪টি ভারী হেলিকপ্টার ও গুদামে থাকা ৬টি ক্ষেপণাস্ত্র।
আইআরজিসির দাবি, এসব হামলার ফলে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন বাহিনীর আকাশ প্রতিরক্ষা সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে দুর্বল হয়েছে এবং প্যাট্রিয়ট প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার কার্যকারিতা কমে যাওয়ায় ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন সহজেই নির্ধারিত লক্ষ্যবস্তুতে পৌঁছাতে সক্ষম হয়েছে। তবে আইআরজিসির এই দাবির বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
![]() |
| ইরানের হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত মার্কিন সামরিক ঘাঁটির স্যাটেলাইট চিত্র। পুরোনো ছবি |
About: Kutubi Cox
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ইরানের ‘খাইবার শেকান’ ক্ষেপণাস্ত্রেই কুপোকাত যুক্তরাষ্ট্র
সাম্প্রতিক সংঘাতে মার্কিন ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে ইরান নিয়মিত এই ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করছে। মার্কিন কর্মকর্তাদের মতে, প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বিভ্রান্ত করতে ইরান একইসঙ্গে বিভিন্ন গতিপথ, গতি ও কৌশলে ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোনের সমন্বিত হামলা চালাচ্ছে।
যদিও যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, অধিকাংশ খাইবার শেকান ক্ষেপণাস্ত্র মাঝপথেই প্রতিহত করা হয়েছে, তবু কয়েকটি প্রতিরক্ষাব্যূহ ভেদ করে নির্ধারিত লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম হয়েছে।
সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, আগের অনেক ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণের আগে দীর্ঘ সময় ধরে জ্বালানি ভরার প্রয়োজন হতো। কিন্তু খাইবার শেকান কঠিন জ্বালানিচালিত হওয়ায় আগে থেকেই প্রস্তুত রাখা যায়। ফলে এটি দ্রুত ট্রাক বা মোবাইল লঞ্চার থেকে উৎক্ষেপণ করা সম্ভব হয়। এতে ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণের আগে শত্রুপক্ষের হামলার ঝুঁকিও কমে যায়।
খাইবার শেকানের কিছু সংস্করণে এমন ওয়ারহেড ব্যবহার করা হয়েছে, যা লক্ষ্যবস্তুর দিকে ধেয়ে যাওয়ার শেষ পর্যায়ে মূল ক্ষেপণাস্ত্র থেকে আলাদা হয়ে নিজস্ব গতিপথ পরিবর্তন করতে পারে। এই কৌশল রাডার ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে ফাঁকি দেওয়ার সম্ভাবনা বাড়ায়।
মার্কিন কর্মকর্তারা আরও জানান, ইরান এখন একই লক্ষ্যবস্তুতে খাইবার শেকানের পাশাপাশি দ্রুতগতির ড্রোন এবং তুলনামূলক পুরোনো ক্ষেপণাস্ত্রও একযোগে ব্যবহার করছে। এতে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা একসঙ্গে একাধিক ধরনের হুমকির মুখে পড়ছে।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) সাবেক প্রধান অবসরপ্রাপ্ত জেনারেল জোসেফ ভোটেল বলেন, ইরান যুদ্ধের অভিজ্ঞতা থেকে দ্রুত শিক্ষা নিচ্ছে এবং নতুন নতুন কৌশল প্রয়োগ করছে। তার মতে, ড্রোন, ক্ষেপণাস্ত্র ও রকেট প্রযুক্তিতে ইরানের দীর্ঘদিনের বিনিয়োগ এখন যুদ্ধক্ষেত্রে স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হিসাব অনুযায়ী, যুদ্ধ শুরুর আগে ইরানের হাতে প্রায় দুই হাজার মাঝারি পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ছিল, যার মধ্যে খাইবার শেকানও রয়েছে। যদিও বিশ্লেষকদের ধারণা, ভূগর্ভস্থ স্থাপনাগুলোতে এখনো নতুন ক্ষেপণাস্ত্র সংযোজনের সক্ষমতা ইরানের থাকতে পারে।
ইরানবিষয়ক গবেষক নিকোল গ্রাজিউস্কি বলেন, খাইবার শেকান ইরানের জন্য একটি কার্যকর অস্ত্র, কারণ এটি তুলনামূলক কম খরচে তৈরি করা যায়, বিভিন্ন ধরনের মোবাইল লঞ্চার থেকে ছোড়া সম্ভব এবং এর নির্ভুলতা আগের অনেক ক্ষেপণাস্ত্রের চেয়ে বেশি।
ইরান এই ক্ষেপণাস্ত্র ইসরায়েলের বিরুদ্ধেও ব্যবহার করেছে। তবে হামলার প্রকৃত ফলাফল নিয়ে দুই পক্ষের দাবি ভিন্ন। ইসরায়েল বলছে, অধিকাংশ ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করা হয়েছে। অন্যদিকে ইরানের দাবি, তারা গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ও সরকারি স্থাপনায় সফলভাবে আঘাত হেনেছে। এসব দাবির স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
খাইবার শেকানের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো এর ব্যয়। একটি ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির সুনির্দিষ্ট খরচ প্রকাশ করেনি ইরান। তবে বিশেষজ্ঞদের ধারণা, এটি প্রতিহত করতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যে ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে, তার প্রতিটির দাম প্রায় ২০ লাখ থেকে ১ কোটি ৫০ লাখ ডলার। অর্থাৎ তুলনামূলক কম খরচের ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে অনেক বেশি ব্যয়বহুল প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা চাপে ফেলার কৌশল নিয়েছে তেহরান।
স্বাধীন ক্ষেপণাস্ত্র বিশ্লেষক ফ্যাবিয়ান হিঞ্জের মতে, ইরান প্রতিটি হামলার অভিজ্ঞতা থেকে নতুন তথ্য সংগ্রহ করছে এবং সেই তথ্যের ভিত্তিতে ক্ষেপণাস্ত্রের কৌশল ও নির্ভুলতা আরও উন্নত করার চেষ্টা করছে। যুদ্ধক্ষেত্র থেকেই ইরান বুঝতে পারছে কোন কৌশলে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভেদ করার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি।
তথ্যসূত্র: ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল
![]() |
| ছবি: সংগৃহীত |
About: Kutubi Cox
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ইরানের হামলার শিকার হওয়ার পরও কেন মার্কিন উপস্থিতি আরও বাড়াচ্ছে জর্ডান সরকার
তবে জর্ডানের আকাশে নিয়মিত সাইরেন বাজতে থাকলেও দেশটি মার্কিন উপস্থিতি সীমিত করার কোনো উদ্যোগ নিচ্ছে না। বিশ্লেষকেরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরশীলতার কারণে জর্ডান সেসব সামরিক কার্যক্রম সংকুচিত করতে পারছে না।
কয়েক দশকের সম্পর্ক ও সুরক্ষার পাশাপাশি কোটি কোটি ডলারের অর্থনৈতিক ও সামরিক সহায়তার জন্য জর্ডান যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে।
প্রচুর তেল ও অন্যান্য প্রাকৃতিক সম্পদে সমৃদ্ধ পারস্য উপসাগরীয় কিছু আরব প্রতিবেশীর তুলনায় জর্ডান অনেকটা সম্পদহীন দেশ। দেশটি ব্যাপকভাবে বৈদেশিক সাহায্যের ওপর নির্ভরশীল। জর্ডানের কর্মকর্তাদের মতে, গত বছর যুক্তরাষ্ট্র দেশটিকে ১৬৫ কোটি ডলারের অর্থনৈতিক ও সামরিক সহায়তা দিয়েছে।
মার্কিন কর্মকর্তারা বলছেন, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের সময় এই অঞ্চলের অন্যান্য কিছু মার্কিন মিত্র তাদের ভূখণ্ডে সেনা ঘাঁটি তৈরি এবং ওপর দিয়ে বিমান উড্ডয়নের ক্ষেত্রে ওয়াশিংটনের ক্ষমতার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করলেও জর্ডান এমন কোনো সীমাবদ্ধতা আরোপ করার মতো অবস্থানে নেই।
যুক্তরাষ্ট্রের টেম্পল ইউনিভার্সিটির রাষ্ট্রবিজ্ঞানের অধ্যাপক এবং ‘জর্ডান: পলিটিকস ইন অ্যান অ্যাক্সিডেন্টাল ক্রুসিবল’ বইয়ের লেখক শন ইয়োম বলেছেন, ‘জর্ডান মধ্যপ্রাচ্যের দুর্বল একটি রাষ্ট্র। এটি বেশ ছোট এবং আঞ্চলিক হুমকিতে ঘেরা। আর এর কোনো ধরনের মহাশক্তিধর পৃষ্ঠপোষক বা বাইরের রক্ষকের প্রয়োজন, যুক্তরাষ্ট্র কয়েক প্রজন্ম ধরে সেই ভূমিকা পালন করে আসছে।’
ইয়োম বলেন, ১৯৫০-এর দশক থেকে জর্ডান যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে যে সহায়তা পেয়ে আসছে, তা অন্য কারও পক্ষে দেওয়া সম্ভব নয়।
গত ফেব্রুয়ারির শেষের দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে আগ্রাসন শুরুর পর, ইরান মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন মিত্রদের ওপর হামলা চালিয়ে প্রতিশোধ নেয়। যুদ্ধের প্রথম কয়েক মাসে ইরান মূলত ইসরায়েল ও উপসাগরে থাকা মার্কিন মিত্রদের লক্ষ্যবস্তু করেছিল, তবে তারা জর্ডানের দিকেও শত শত ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছিল।
উচ্চ পর্যটন মৌসুম মাত্র শুরু হওয়ার মুখে এই সংঘাত দ্রুত জর্ডানের পর্যটনশিল্পকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে, যা দেশটির রাজস্বের ১৮ শতাংশ পর্যন্ত জুগিয়ে থাকে। যদিও বেশির ভাগ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন আটকে দেওয়া হয়েছিল, তা সত্ত্বেও এয়ারলাইনসগুলোকে ফ্লাইট বাতিল করতে হচ্ছে এবং সম্ভাব্য পর্যটকেরা হোটেলের বুকিং বাতিল করছেন।
ইরানের হামলায় বিপদে জর্ডান
এখন যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধবিরতি ভেস্তে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে উভয় পক্ষই হামলা বাড়িয়েছে এবং ইরান তাদের লক্ষ্যবস্তুর পরিধি আরও বিস্তৃত করেছে। জর্ডানের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, গত রোববার জর্ডানের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা তিনটি ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করেছে। চতুর্থ ক্ষেপণাস্ত্রটি একটি জনহীন এলাকায় গিয়ে পড়েছে।
জর্ডান সরকারকে জাতীয় নিরাপত্তা বিষয়ে পরামর্শ দেওয়া গবেষণাপ্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজের পরিচালক হাসান আলমোমানি বলেছেন, ‘প্রতিবেশীদের আঘাত করার এই ইরানি কৌশলগত তীব্রতার লক্ষ্য হলো ওই প্রতিবেশীদের ওপর চাপ সৃষ্টি করা, যার মূল উদ্দেশ্য যুক্তরাষ্ট্রের ওপর চাপ তৈরি করা।’
ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা ফারস নিউজ এজেন্সির মতে, ইরান সম্প্রতি জানিয়েছে, জর্ডানে ইউএস বিমান বাহিনীর কেন্দ্রস্থল আজরাকের মুওয়াফফাক সালতি বিমানঘাঁটির জ্বালানি ট্যাংক এবং অন্যান্য ঘাঁটির বিমান আশ্রয়কেন্দ্রগুলোকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছিল। এর আগে ইরান জানিয়েছিল, তারা মার্কিন বাহিনীর ব্যবহৃত রাডার এবং যোগাযোগব্যবস্থাকে নিশানা করেছিল।
শুক্রবার মুওয়াফফাক সালতি ঘাঁটিতে ইরানি হামলায় দুই মার্কিন সেনা নিহত এবং তৃতীয় একজন নিখোঁজ হন। সপ্তাহের শুরুতে জর্ডানে মার্কিন বাহিনীর ওপর অন্য তিনটি হামলায় ডজনখানেক মার্কিন সেনা আহত হন এবং বেশ কয়েকটি ব্ল্যাকহক হেলিকপ্টার ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
মার্কিন বাহিনী দীর্ঘদিন ধরে জর্ডানের বিমানঘাঁটিগুলো থেকে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। ইসলামিক স্টেটের বিরুদ্ধে লড়াই, সিরিয়ার গৃহযুদ্ধের সময় বিদ্রোহী যোদ্ধাদের প্রশিক্ষণ এবং ইরাকে আক্রমণের মতো মার্কিন সামরিক কার্যক্রমের ঘাঁটি ছিল এই দেশ। একটি সংসদীয় প্রতিবেদন অনুসারে, বর্তমানে দেশটিতে প্রায় চার হাজার মার্কিন সামরিক সদস্য রয়েছেন।
স্থায়ী মার্কিন উপস্থিতি নিশ্চিত করতে মুওয়াফফাক সালতি এবং অন্য ঘাঁটিগুলোকে মানানসই করে গড়ে তোলা হয়েছে। পেন্টাগনের সাবেক মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক উপদেষ্টা এবং বর্তমানে ‘ওয়াশিংটন ইনস্টিটিউট ফর নিয়ার ইস্ট পলিসির’ সিনিয়র ফেলো গ্রান্ট রামলে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের দৃষ্টিকোণ থেকে জর্ডানের অবকাঠামো যথেষ্ট শক্তিশালী। তিনি এটিকে একটি স্থলভিত্তিক বিমানবাহী রণতরীর সঙ্গে তুলনা করেছেন।
রামলে বলেন, মুওয়াফফাক সালতি তুলনামূলকভাবে দূরবর্তী স্থানে অবস্থিত, যা মার্কিন বাহিনীকে অহেতুক নজরকাড়া এড়িয়ে কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ দেয়। আর জর্ডান উপসাগরীয় দেশগুলোর চেয়ে ইরান থেকে দূরে হওয়ায় জর্ডানে থাকা মার্কিন বাহিনী ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার জবাব দেওয়ার জন্য বেশি সময় পায়।
মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপদ আশ্রয়
মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের প্রস্তুতি পর্বে এবং যুদ্ধের শুরুর দিকে, মার্কিন সামরিক বাহিনী বেশ কয়েকটি উপসাগরীয় আরব দেশ থেকে তাদের কিছু সৈন্যকে জর্ডান এবং প্রতিবেশী ইসরায়েলের তুলনামূলকভাবে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়েছিল।
আলমোমানি বলেন, ‘ইরানের যুদ্ধ প্রকাশ করে দিয়েছে, জর্ডান যুক্তরাষ্ট্রের জন্য কতটা গুরুত্বপূর্ণ।’ তিনি বলেন, চলতি বছর ওয়াশিংটন জর্ডানে সামরিক সাহায্য ৫০ কোটি ডলার বাড়িয়েছে।
জর্ডানের কর্মকর্তারা প্রায়শই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তাদের সম্পর্কের কৌশলগত গুরুত্বের ওপর জোর দিয়ে থাকেন। এপ্রিলে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে এক ফোনালাপে রাজা দ্বিতীয় আবদুল্লাহ মধ্যপ্রাচ্যে, বিশেষ করে ইরানের সঙ্গে সংঘাত কমানোর সম্ভাবনার ক্ষেত্রে ওয়াশিংটনের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার ওপর জোর দেন।
জর্ডানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা পেট্রার তথ্য অনুযায়ী, চলতি মাসের শুরুর দিকে জর্ডানের সেনাবাহিনীপ্রধান মেজর জেনারেল ইউসেফ হুনাইতি এবং মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের আন্তর্জাতিক নিরাপত্তাবিষয়ক সহকারী মন্ত্রী ড্যানিয়েল জিমারম্যান সামরিক সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণের বিষয়ে আলোচনা করেছেন।
জর্ডান সরকার প্রকাশ্যে ব্যাপক মার্কিন সামরিক উপস্থিতির বিষয়টি খুব কমই আলোচনা করে। জর্ডান ইরানে বিমান হামলা চালানোর জন্য বা ইসরায়েলের পাশাপাশি যুদ্ধ শুরুর জন্য প্রকাশ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সমালোচনা করেনি। যদিও বিশ্লেষকেরা বলছেন, সরকার শুরু থেকেই এই সংঘাতের তীব্র বিরোধী ছিল।
জর্ডানের কর্মকর্তারা তাদের ভূখণ্ডে ইরানের হামলার বারবার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন এবং গত সপ্তাহে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আইমান সাফাদি বলেছেন, জর্ডানে মার্কিন ঘাঁটি রয়েছে বলে ইরান হামলার যে অজুহাত দেখাচ্ছে, তা মিথ্যা।
অ্যাসপেন সিকিউরিটি ফোরামের এক প্যানেল আলোচনায় সাফাদি বলেন, ‘জর্ডানে কোনো মার্কিন ঘাঁটি নেই। আমাদের দীর্ঘদিনের সামরিক সহযোগিতার অংশ হিসেবে জর্ডানে মার্কিন সেনা রয়েছে। তাদের উপস্থিতি একটি প্রতিরক্ষা চুক্তির আওতায় পরিচালিত হয়, যা আমাদের সার্বভৌমত্বকে পূর্ণ সম্মান জানিয়ে থাকে।’
হামলা সত্ত্বেও জর্ডান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তাদের জোটের বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করার কথা ভাববে না বলে জানান আলমোমানি। তিনি বলেন, কোনো অবস্থাতেই জর্ডান তার কৌশলগত অংশীদারত্ব পরিবর্তন করতে পারে না।
ইয়োম বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের ওপর থেকে জর্ডানের নির্ভরশীলতা কমানোর মতো কোনো অর্থবহ দাবি সে দেশে নেই। তিনি বলেন, ‘কোনো গুরুতর রাজনৈতিক অংশীদারই এই পরামর্শ দিচ্ছে না যে জর্ডান প্রতিবছর যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে পাওয়া ১৫০ কোটি ডলারের বেশি অর্থনৈতিক ও সামরিক সহায়তার বদলে ইউরোপীয় ইউনিয়নের অর্থ বা চীনের সমর্থনের মতো কিছু নিক।’
![]() |
| জর্ডানে মার্কিন সেনা উপস্থিতি প্রতিরক্ষাচুক্তির অংশ বলে উল্লেখ করেছেন দেশটির কর্মকর্তারা। ছবি : রয়টার্স |
About: Kutubi Cox
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্র ফুরিয়ে যাওয়ার শঙ্কাতেই কি ইরানে হামলা স্থগিত করলেন ট্রাম্প
ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তারা বলছেন, ইরানে সামরিক অভিযান আবার শুরু করার ক্ষেত্রে বেশ কিছু বিষয় নিয়ে হিসাব-নিকাশ করা হচ্ছে। এর মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিবেচ্য বিষয় হলো, প্রতিরক্ষামূলক ক্ষেপণাস্ত্রের সীমিত মজুত।
ট্রাম্প ও তাঁর শীর্ষ উপদেষ্টারাও আশঙ্কা করছেন, যুদ্ধ আরও বিস্তৃত হলে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে সংঘাত ছড়িয়ে পড়তে পারে। এতে ইরানের হামলার ঝুঁকিতে থাকা গুরুত্বপূর্ণ উপসাগরীয় মিত্রদের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কের টানাপোড়েন তৈরি হতে পারে। এ ছাড়া বৈশ্বিক অর্থনীতিতে বড় ধরনের চাপ তৈরি হওয়ার পাশাপাশি জ্বালানি ও শরণার্থী সংকট আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা করছেন তাঁরা।
আলোচনার বিষয়ে অবগত দুই ব্যক্তি বলেছেন, গত শুক্রবার ট্রাম্প তাঁর শীর্ষ উপদেষ্টা ও মন্ত্রিসভার জ্যেষ্ঠ সদস্যদের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকের পরই ইরানকে ঘিরে তাঁর কৌশলে সর্বশেষ পরিবর্তন আসে।
কর্মকর্তারা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, অভ্যন্তরীণ আলোচনায় পেন্টাগনের প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্রসহ অন্যান্য প্রতিরক্ষামূলক অস্ত্রের মজুত কমে আসার বিষয়টি বেশি গুরুত্ব পেয়েছে। এক জ্যেষ্ঠ মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, শুক্রবার জর্ডানে ইরানের ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা প্রতিহত করার সময় একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র মার্কিন আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ভেদ করে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানে। এতে তিন মার্কিন সেনা নিহত হন। আহত হন আরও কয়েকজন।
কর্মকর্তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন ব্যক্তিগতভাবে একটি বিষয়ে সতর্ক করেছেন। সেটি হলো, ইরানের বিরুদ্ধে আবার বড় ধরনের সামরিক অভিযান চালানো হলে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন বাহিনীর কাছে থাকা আকাশ প্রতিরক্ষামূলক ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত দ্রুত ফুরিয়ে যাবে।
তবে প্রেসিডেন্টকে জেনারেল কেইন কী পরামর্শ দিয়েছেন, সে বিষয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন তাঁর মুখপাত্র।
হোয়াইট হাউসের যোগাযোগবিষয়ক পরিচালক স্টিভেন চিউং বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট সব সময়ই বলে আসছেন যে তিনি কূটনৈতিক সমাধানকে অগ্রাধিকার দেন। তবে ইরান যদি হরমুজ প্রণালিতে ‘‘সন্ত্রাসী’’ কর্মকাণ্ড চালিয়ে যায় বা যুক্তরাষ্ট্রের মিত্রদের ওপর হামলা অব্যাহত রাখে, তবে তিনি সব ধরনের বিকল্প উপায়ের কথা মাথায় রাখবেন।’
স্টিভেন চিউং আরও বলেন, ‘কঠোর নিষেধাজ্ঞা ও বারবার সামরিক হামলার পর ইরানের জন্য আলোচনার মাধ্যমে একটি সমঝোতায় পৌঁছানোর চেষ্টা করাটাই বুদ্ধিমত্তার কাজ হবে। না হলে কী ঘটতে পারে, তা তারা ভালোভাবেই জানে।’
প্রায় পাঁচ মাস ধরে ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের যে যুদ্ধ চলছে, সেটিকে কীভাবে এগিয়ে নেওয়া হবে এবং বিশেষ করে কীভাবে হরমুজ প্রণালি আবার খুলে দেওয়া যাবে—এ নিয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দোটানায় আছেন। গত দুই সপ্তাহে সংঘাত আবারও বেড়ে যাওয়ায় জ্বালানির দাম বাড়তে শুরু করেছে। কূটনৈতিক প্রচেষ্টাও কার্যত ভেঙে পড়েছে। সর্বশেষ যুক্তরাষ্ট্রের চালানো ব্যাপক হামলাও ইরানকে তার সামরিক অবস্থান থেকে পিছু হটাতে পারেনি।
বৈঠক সম্পর্কে অবগত দুই ব্যক্তি বলেন, ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ উপদেষ্টাদের মধ্যে প্রায় কেউই সামরিক অভিযান আরও জোরদারের পরিকল্পনাকে বিচক্ষণ সিদ্ধান্ত বলে মনে করেননি।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে কথা বলা এক জ্যেষ্ঠ মার্কিন কর্মকর্তাও এ ব্যাপারে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। ওই কর্মকর্তার মতে, এসব হামলা কাঙ্ক্ষিত ফল দিচ্ছে না, বরং এর উল্টো প্রভাব পড়ছে। এতে ইরানের অভ্যন্তরীণ ঐক্য আরও শক্তিশালী হচ্ছে। দেশটির নেতারা অভ্যন্তরীণ সমস্যা থেকে জনগণের দৃষ্টি সরিয়ে বাইরের হুমকির দিকে কেন্দ্রীভূত করার সুযোগ পাচ্ছেন।
টানা দুই সপ্তাহের সংঘাতের পর গতকাল শনিবার প্রথমবারের মতো যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সরাসরি লড়াই হঠাৎ বন্ধ হয়ে যায়। তবে পরিস্থিতি এখনো উত্তেজনাপূর্ণ। কারণ, ইয়েমেনে সৌদি-সমর্থিত বাহিনী ও ইরান-সমর্থিত হুতিদের মধ্যে নতুন করে সংঘর্ষ শুরু হয়েছে। ইরানে টানা ১৩তম রাতের মতো হামলা চালানোর পর গতকাল রাতে যুক্তরাষ্ট্র ইরানে আর নতুন কোনো হামলার ঘোষণা দেয়নি।
শুক্রবারের বৈঠকের আগে ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, প্রয়োজন হলে মার্কিন সেনাবাহিনী আরও ব্যাপক হামলা চালাতে প্রস্তুত আছে। তবে একই সঙ্গে তিনি কূটনৈতিক সমাধানের পথও খোলা রাখার কথা বলেন।
শুক্রবার বিকেলে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, ‘দেখুন, আমরা পুরোপুরি প্রস্তুত। প্রয়োজন হলে সঙ্গে সঙ্গে অভিযান শুরু করতে পারি। তবে আমরা এখনো তাদের সঙ্গে আলোচনা করছি। তাই পরিস্থিতি কোন দিকে যাবে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।’
এ মন্তব্যের কয়েক ঘণ্টা পরই ট্রাম্প তাঁর শীর্ষ উপদেষ্টা ও মন্ত্রিসভার জ্যেষ্ঠ সদস্যদের সঙ্গে বৈঠক করেন। এমন এক সময় এ বৈঠক হয়েছে, যখন ইরান-নীতি নিয়ে তিনি এক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের মুখে দাঁড়িয়ে আছেন। কারণ, দুই দেশের নাজুক যুদ্ধবিরতি ভেঙে পড়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানকে দীর্ঘমেয়াদি পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণ নিয়ে আলোচনায় ফেরানোর উদ্দেশ্যে করা সমঝোতা স্মারকও কার্যত অকার্যকর হয়ে গেছে।
চলতি সপ্তাহের শুরুতে পেন্টাগনের কয়েকজন কর্মকর্তা ও মার্কিন সামরিক কমান্ডার বলেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে আরও বড় ধরনের হামলার অনুমোদন দেওয়ার কথা ভাবছিলেন।
যুদ্ধ আরও তীব্র হতে পারে—এমন আশঙ্কায় যুক্তরাষ্ট্র সাম্প্রতিক দিনগুলোতে মধ্যপ্রাচ্যে অতিরিক্ত সেনা, অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম পাঠিয়েছে। একই সঙ্গে ইরানের এমন বেশ কয়েকটি রেলসেতুতেও হামলা চালানো হয়েছে, যেগুলো সাধারণ মানুষের পাশাপাশি সেনাবাহিনীও ব্যবহার করে। ইরানের দক্ষিণ উপকূলীয় এলাকায় অস্ত্র ও রসদ পৌঁছাতে এ সেতুগুলো ব্যবহার করে সেনাবাহিনী।
এ ছাড়া ইরানের জ্বালানি এবং পারমাণবিক স্থাপনায়ও হামলা বৃদ্ধি করার বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছিল।
গত বৃহস্পতিবার মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প তাঁর পরিকল্পনা সম্পর্কে ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। তিনি তখন বলেন, ‘আমি বড় ধরনের একটি হামলার কথা বিবেচনা করছি। এটি আগের যেকোনো হামলার চেয়ে বড় হবে। এ সিদ্ধান্ত নেওয়ার খুব কাছাকাছি আছি। আমরা পুরোপুরি প্রস্তুত।’
তবে শুক্রবার রাতের দিকে ট্রাম্প সেই বড় ধরনের হামলার পরিকল্পনা স্থগিত করেন। সামরিক উপদেষ্টাদের দেওয়া এক সতর্কবার্তা বিবেচনা করে ট্রাম্প এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে মনে করা হচ্ছে।
ওই কর্মকর্তারা ট্রাম্পকে বলেছেন, জর্ডান, কুয়েত, বাহরাইন ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে মোতায়েন থাকা মার্কিন সেনাদের সুরক্ষায় ব্যবহৃত আকাশ প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত দ্রুত কমে আসছে। গত দুই সপ্তাহে এসব ঘাঁটি ইরানের ব্যাপক হামলার মুখে পড়েছে। কর্মকর্তাদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র বড় ধরনের হামলা চালালে ইরান আরও কঠোরভাবে পাল্টা হামলা চালাতে পারে, যা মার্কিন আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থার ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি করবে।
গত এপ্রিলের শেষ দিকে নিউইয়র্ক টাইমসে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, যুদ্ধ চলাকালে পেন্টাগন ১ হাজার ২০০টির বেশি প্যাট্রিয়ট প্রতিরোধ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছে। প্রতিটি ক্ষেপণাস্ত্রের দাম ৪০ লাখ ডলারের বেশি। প্রতিরক্ষা দপ্তরের অভ্যন্তরীণ হিসাব ও কংগ্রেসের কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের এমন অস্ত্রের মজুত উদ্বেগজনকভাবে কমে গেছে।
ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনারসহ তাঁর অনেক উপদেষ্টা মনে করেন, কম ঝুঁকিপূর্ণ আরেকটি পথ রয়েছে। সেটি হলো দীর্ঘ সময় ধরে ইরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ বজায় রাখা এবং একই সঙ্গে কূটনৈতিক আলোচনা চালিয়ে যাওয়া। তবে বর্তমানে কার্যকর কোনো আলোচনা চলছে কি না বা আলোচনা হলেও তা ইরান সরকারের অভ্যন্তরীণ মতপার্থক্য কাটিয়ে কোনো সমঝোতায় পৌঁছাতে পারবে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
বিশ্লেষকদের মতে, সম্প্রতি আবার চালু করা যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধের ফলও মিশ্র। এ অবরোধের লক্ষ্য ছিল ইরানের বন্দরে প্রবেশ বা সেখান থেকে বের হওয়া জাহাজগুলোর যাত্রা বাধাগ্রস্ত করা। তবে মার্কিন কর্মকর্তারা বলেছেন, জুনের মাঝামাঝি সমঝোতা স্মারক সই হওয়ার পর ইরান আবারও কিছু তেল রপ্তানি করতে (মূলত চীনে) সক্ষম হয়েছে। সেই তেলের বড় অংশ এখনো সরবরাহের পথে আছে।
মঙ্গলবার মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট বলেন, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে চীন ইরান থেকে অপরিশোধিত তেল কেনা প্রায় ৪০ শতাংশ কমিয়ে দিয়েছে। তাঁর দাবি, এতে ইরানের তেল বিক্রির আয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে।
- অনুবাদ: ফাহমিদা আক্তার
![]() |
| শুক্রবার রাতের দিকে ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানে বড় ধরনের হামলার পরিকল্পনা স্থগিত করেন। ফাইল ছবি: এএফপি |
About: Kutubi Cox
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
সিআইএ ঘাঁটিতে ইরানের হামলা: রাশিয়া যেভাবে ‘কলকাঠি’ নাড়ল by ইদনা মোহামেদ
তবে রুবিও ও লাভরভের বৈঠকটি এমন এক সময়ে হলো, যার নেপথ্যে ঘুরপাক খাচ্ছে নতুন কিছু চাঞ্চল্যকর প্রতিবেদন। এতে ইঙ্গিত দেওয়া হচ্ছে, মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক স্থানগুলোতে ইরানের হামলা নিয়ে প্রকাশ্যে যতটুকু স্বীকার করা হচ্ছে, রাশিয়া আসলে তার চেয়ে বেশি সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে।
ইরান ও ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের শুরুর দিকেই প্রথম খবর আসে যে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএর অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালাচ্ছে তেহরান। যুদ্ধ শুরুর তিন দিনের মাথায়, ৩ মার্চ দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট এ–সংক্রান্ত বিষয়ে অভিজ্ঞ দুটি সূত্রের বরাতে জানায়, রিয়াদে মার্কিন দূতাবাসের ভেতরে থাকা একটি সিআইএ স্টেশনে হামলা চালানো হয়েছে। এরপর ৬ মার্চ মার্কিন গোয়েন্দা সূত্রের বরাতে সিএনএন জানায়, পারস্য উপসাগরে মার্কিন সেনাসদস্য ও যুদ্ধবিমানের অবস্থান শনাক্ত করতে তেহরানকে সহায়তা করছে মস্কো।
সম্প্রতি আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্স গত বুধবার এক প্রতিবেদনে জানায়, সিআইএর অবকাঠামো, বিশেষ করে সৌদি আরবের মার্কিন দূতাবাসে ইরানি ড্রোন হামলার ঘটনার পর মার্কিন গোয়েন্দারা এতে রাশিয়ার সম্ভাব্য সম্পৃক্ততা নিয়ে তদন্ত শুরু করেছেন। হামলার নির্ভুল নিশানা ও নিখুঁত কার্যকারিতা থেকে ধারণা করা হচ্ছে, এর পেছনে হয়তো রুশ সহায়তার প্রমাণ রয়েছে।
প্যারিসের সায়েন্সেস পো বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার অব ইন্টারন্যাশনাল রিসার্চের সহকারী অধ্যাপক নিকোল গ্রাজেভস্কি জানান, ইরানের এই লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণে রাশিয়ার জড়িত থাকার তথ্যটি বেশ ‘বাস্তবসম্মত’। গ্রাজেভস্কি আল–জাজিরাকে বলেন, ‘বিষয়টি অনেকটা এমনই সন্দেহ করা হচ্ছিল। কারণ, ইরান আগে যেসব হামলা চালিয়েছে, এবারের হামলাগুলো ছিল তার চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী ও আধুনিক।’
নিকোল গ্রাজেভস্কি বলেন, ‘রাশিয়ার মতো ইরানের কাছে মহাকাশভিত্তিক উচ্চ সক্ষমতা নেই। রাশিয়ার তুলনায় সাধারণ নজরদারির জন্য প্রয়োজনীয় সামরিক মানের স্যাটেলাইটও ইরানের পর্যাপ্ত নেই...তাই মনে হচ্ছে, তারা রাশিয়ানদের সঙ্গেই হয়তো কোনো চুক্তি করেছে।’
তবে নিকোল গ্রাজেভস্কি আরও জানান, মধ্যপ্রাচ্যে কোনো লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণের ক্ষেত্রে নিজস্ব কিছু হিউম্যান ইন্টেলিজেন্স (সোর্স বা গোয়েন্দা নেটওয়ার্ক) রয়েছে ইরানের, যা প্রায়ই অনেকে এড়িয়ে যান।
ইরানকে রাশিয়ার সহায়তা
যুদ্ধ আর পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়ে মস্কো ও তেহরান তাদের সামরিক সম্পর্ক আরও গভীর করেছে। অনেক বিশ্লেষক দাবি করেন, দুই দেশের এই সম্পর্ক কোনো স্থায়ী জোট নয়, বরং পশ্চিমের বিরুদ্ধে টিকে থাকার এক সাময়িক সুবিধাভিত্তিক সমঝোতা। তবে এতে দ্বিমত পোষণ করেন গ্রাজেভস্কি।
নিকোল গ্রাজেভস্কি বলেন, ‘দুই দেশই নিজেদের বৈশ্বিক রাজনীতিতে একই ধরনের হুমকির মুখে আছে বলে মনে করে। আর ইউক্রেন যুদ্ধের পর থেকে তাদের সহযোগিতা সত্যি বেশ জোরালো হয়েছে, যা সম্প্রতি আরও বেড়েছে। তারা এখন একে অপরের ওপর অনেক বেশি নির্ভরশীল।’
২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসনের পর তেহরান মস্কোকে শাহেদ ড্রোন ও ফাতেহ-১১০ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের মতো গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র সরবরাহ করায় দুটি দেশ সামরিকভাবে আরও কাছাকাছি আসে।
গত বছর দুই পক্ষ ২০ বছর মেয়াদি একটি ‘সমন্বিত কৌশলগত অংশীদারত্ব চুক্তি’ স্বাক্ষর করে, যার মাধ্যমে প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়ানোর প্রতিশ্রুতির কথা বলা হয়েছিল।
তবে সেই সময় রুশ উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রে রুদেনকো স্টেট দুমায় দেওয়া বক্তব্যে বলেছিলেন, এই চুক্তির অর্থ এই নয় যে ‘ইরানের সঙ্গে কোনো সামরিক জোট বা পারস্পরিক সামরিক সহায়তা গড়ে উঠেছে।’ দ্য মস্কো টাইমস এ তথ্য প্রচার করে।
এ ছাড়া রাশিয়ার বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে, তারা ‘কোমেটা-এম’ অ্যান্টি-জ্যামিং নেভিগেশন সিস্টেম সরবরাহ করে ইরানের তৈরি শাহেদ-১৩৬ ড্রোনের নির্ভুল নিশানা বাড়াতে সহায়তা করছে।
গত মার্চ মাসের খবরের বরাতে জানা যায়, সাইপ্রাসে ব্রিটিশ রয়্যাল এয়ার ফোর্সের (আরএএফ) একটি ঘাঁটিতে ইরানের ব্যর্থ হামলার পর ধ্বংসস্তূপ থেকে উদ্ধার করা শাহেদ-১৩৬ ড্রোনে একটি রুশ জ্যামিং-প্রতিরোধী প্রযুক্তি পাওয়া গেছে।
যদিও দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল–এর এই ‘কোমেটা-এম’–সংক্রান্ত রিপোর্টটিকে সম্পূর্ণ ভুয়া খবর বা ‘ফেক নিউজ’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে রাশিয়া।
তা সত্ত্বেও গ্রাজেভস্কি ব্যাখ্যা করে বলেন, ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের এই যুদ্ধ একদিক থেকে মস্কোর জন্যই সুবিধাজনক। কারণ, এটি ইউক্রেন যুদ্ধ থেকে বৈশ্বিক মনোযোগ ঘুরিয়ে দেয় এবং বিশ্বমঞ্চে যুক্তরাষ্ট্রের শক্তি দুর্বল করার ক্ষমতা রাখে।
গ্রাজেভস্কি বলেন, ‘আমার মনে হয়, রাশিয়ানরা এটিকে বৈশ্বিক ব্যবস্থার এক বৃহত্তর লড়াই হিসেবে দেখছে। আর তারা মনে করে, এই ঘটনাই শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের পতনের দিকে নিয়ে যেতে পারে।’
‘অবশ্যই তারা চায় না ইরান পুরোপুরি ধসে পড়ুক। তাই তারা সব সময় একটা সূক্ষ্ম ভারসাম্য রক্ষা করার চেষ্টা করে—ইরান একদিকে একাই যুক্তরাষ্ট্রের মুখোমুখি হোক, আবার একই সাথে তাদের ইতিহাসের এই কঠিন সময়ে টিকে থাকার মতো যথেষ্ট সহায়তাও যেন তারা পায়।’
সাম্প্রতিক হামলা
সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলা আরও তীব্র হয়েছে। ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের হামলা টানা ১২তম রাতের মতো অব্যাহত ছিল। গত বৃহস্পতিবার সকালে ইরাক সীমান্তবর্তী শালামচে ক্রসিংয়ে এক হামলায় অন্তত দুজন নিহত হয়। এর জবাবে গত কয়েক দিনে জর্ডানসহ পারস্য উপসাগরীয় একাধিক দেশে হামলা চালিয়েছে ইরান।
তবে গ্রাজেভস্কির মতে, রাশিয়ার কোনো গোয়েন্দা সহায়তার চেয়ে বরং ইরানের নিজস্ব কৌশল ও সমরাস্ত্রই যুদ্ধের গতিপথে বেশি প্রভাব ফেলছে।
গ্রাজেভস্কি বলেন, ‘রাশিয়ার সম্পৃক্ততা কিন্তু ইরানিদের জন্য একমাত্র মূল চালিকা শক্তি বা মোড় ঘুরিয়ে দেওয়া বিষয় নয়। ইরানের এই সক্ষমতা আগেই ছিল। তারা ইতিমধ্যেই বিশাল ড্রেন ও ক্ষেপণাস্ত্র বাহিনী গড়ে তুলেছে। যা ঘটেছে তা হলো রাশিয়ার সহায়তা ইরানকে সামান্য বাড়তি সুবিধা দিয়েছে ও শক্তিশালী করেছে।’
* ইদনা মোহামেদ, আল–জাজিরার লন্ডনভিত্তিক সাংবাদিক
- আলজাজিরা থেকে নেওয়া। ইংরেজি থেকে অনুবাদ
![]() |
| ভ্লাদিমির পুতিন এবং মোজতবা খামেনি। ফাইল ছবি |
About: Kutubi Cox
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
মার্কিন গোলাবারুদ ও ক্ষেপণাস্ত্রের মজুতে টান, ইরান যুদ্ধ নিয়ে ভ্যান্স ও কেইনের উদ্বেগ
বৈঠকে মার্কিন সামরিক বাহিনীর জন্য প্রয়োজনীয় গোলাবারুদ ও ক্ষেপণাস্ত্রের ঘাটতি বা মজুত ফুরিয়ে যাওয়ার বিষয়ে বিশেষভাবে ট্রাম্পের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন জেনারেল কেইন। এই বৈঠকের পরপরই টানা প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে চলা হামলা আপাতত স্থগিত করে যুক্তরাষ্ট্র। এ খবর দিয়েছে অনলাইন সিএনএন।
কেইন জানান, প্রেসিডেন্টের নির্দেশিত যেকোনো পদক্ষেপ মার্কিন সামরিক বাহিনী সফলভাবে বাস্তবায়ন করতে সক্ষম। তবে এই সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে এবং হামলা বাড়ালে তার নেতিবাচক প্রভাব পড়বে সামগ্রিক সামরিক সক্ষমতার ওপর। মজুত কমে যাওয়া এবং যুদ্ধ নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার এই উদ্বেগের পরই শুক্রবার রাতে ইরানে নতুন করে কোনো হামলা চালানো হয়নি।
এই বিষয়ে হোয়াইট হাউসের যোগাযোগ পরিচালক স্টিভেন চেউং এক বিবৃতিতে জানান, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সবসময়ই কূটনৈতিক সমাধানকে অগ্রাধিকার দেন। তবে ইরান যদি হরমুজ প্রণালি বা মার্কিন মিত্রদের ওপর সন্ত্রাসী তৎপরতা অব্যাহত রাখে, তবে তার কাছে সামরিক সব বিকল্পই খোলা রয়েছে। তিনি আরও বলেন, টানা ১৩ দিনের বিধ্বংসী আক্রমণ এবং কঠোর অর্থনৈতিক অবরোধের পর ইরানের উচিত আলোচনার টেবিলে এসে সমঝোতায় পৌঁছানো। শুক্রবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ট্রাম্প জানান, ইরানের সাথে মার্কিন কর্মকর্তারা সক্রিয়ভাবে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন।
তিনি বলেন, ইরান ধীরে ধীরে আলোচনার বিষয়ে আরও আন্তরিক হচ্ছে। তবে আলোচনা ব্যর্থ হলে হামলা আরও জোরদার করা কিংবা আগের মতো চালিয়ে যাওয়ার ক্ষমতাও তাদের রয়েছে। সূত্রের খবর, সামরিক হামলার ক্ষেত্র বাড়ানো নিয়ে মার্কিন প্রশাসনের ভেতরে এখনো নানামুখী পর্যালোচনা চলছে। অন্যদিকে, উপসাগরীয় দেশগুলো যুক্তরাষ্ট্রকে চরম পদক্ষেপ নেওয়া থেকে বিরত থাকার এবং সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছে। স্থলভাগে সেনা না পাঠিয়ে কেবল আকাশপথে হামলা চালিয়ে কাক্সিক্ষত ফলাফল পাওয়া যাবে কি না তা নিয়ে ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ মহলেও নানা প্রশ্ন ও দ্বিধা রয়েছে। স্থল অভিযান পরিচালনা করলে তা আরো বিপর্যয় ডেকে আনার সম্ভাবনাও রয়েছে।

About: Mids
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
অরুন্ধতী রায় অভিনয় করতেন, পেয়েছেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারও by তপতী বর্মন
গত শতকের আশির দশকের কথা। ভারতের স্বনামধন্য চলচ্চিত্র নির্মাতা ও পরিবেশবিদ প্রদীপ কৃষেণ একটি চিত্রনাট্য লেখা প্রতিযোগিতায় প্রথম পুরস্কার পান। এর আয়োজক ছিল ভারতের জাতীয় চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশন (এনএফডিসি)। তারা প্রদীপকে সেই চিত্রনাট্য নিয়ে সিনেমা বানাতে উৎসাহ দেন।
প্রদীপ কৃষেণ মোটামুটি কে কোন চরিত্রে অভিনয় করবেন, সেটা ঠিক করে ফেলেন। তবে মূল নারী চরিত্রের জন্য কাউকে মনে ধরছিল না।
একদিন তিনি তাঁর স্ত্রীর অফিসে গিয়ে কোঁকড়া চুলের, হালকা-পাতলা গড়ন আর চোখে গভীর কী যেন আছে; এমন এক তরুণীকে দেখতে পান। দেখেই তাঁর মনে হয়, তিনি-ই সেই নারী, যাকে তিনি সিনেমার জন্য মনে মনে খুঁজছিলেন।
এই তরুণী হলেন অরুন্ধতী রায়। তিনি তখন দিল্লির স্কুল অব প্ল্যানিং অ্যান্ড আর্কিটেকচার থেকে পাস করে স্থপতি হিসেবে কাজে যোগ দিয়েছেন। স্ত্রীর মাধ্যমে প্রদীপ সেই তরুণীকে ডাকেন। তিনি কী চান, সেটা জানান।
তবে অভিনয় করার ব্যাপারে একদমই রাজি ছিলেন না অরুন্ধতী রায়। তিনি প্রদীপকে বলেছিলেন, অভিনয়ের অ-ও তিনি জানেন না, তা ছাড়া তাঁর হিন্দি ভীষণ খারাপ। প্রদীপ দমে যাওয়ার পাত্র নন। অরুন্ধতীকে আশ্বস্ত করে বললেন, ওই চরিত্রের নাম শৈলা আর তাঁর কোনো সংলাপ নেই। গল্পটি সংক্ষেপে অরুন্ধতীকে শোনালেন। চিত্রনাট্যটি হাতে ধরিয়ে দিলেন। বাড়ি গিয়ে ভালোভাবে ভেবে দেখতে অনুরোধ করলেন।
অভিনয়ের প্রস্তাবটি নিয়ে এক বন্ধুর সঙ্গে কথা বললেন অরুন্ধতী রায়। সেই বন্ধু তাঁকে রাজি হয়ে যেতে বললেন। তিনিও ‘দেখি না কী হয়’ মনে করে রাজি হয়ে গেলেন। এভাবেই ১৯৮৪ সালে ‘ম্যাসি সাহেব’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে অভিনয়জগতে পা রাখেন অরুন্ধতী রায়। ছবিটি ব্যবসায়িক সাফল্য না পেলেও সমালোচকদের মন জয় করেছিল।
ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসবে আমন্ত্রণ পেয়েছিল। সিনেমার নায়ক ও পরিচালক উভয়েই দেশ-বিদেশে নানা পুরস্কার পেয়েছিলেন।
প্রদীপের বন্ধুরা মিলে প্রযোজনা সংস্থা করেন। তখন অরুন্ধতী রায়কে তাঁদের সঙ্গে কাজের প্রস্তাব দেওয়া হয়। তিনি গল্পের খসড়া তৈরি করতে শুরু করেন।
২৬ পর্বের একটি ধারাবাহিকের চিত্রনাট্য লিখেন তিনি। নাম—‘বারগদ’। খুব উৎসাহ নিয়ে শুটিং শুরু করেন, তবে টাকার অভাবে মাঝপথে সব থেমে যায়। সেই ধারাবাহিক আর কখনো আলোর মুখ দেখেনি।
এরপর অরুন্ধতী রায় ‘ইন হুইচ অ্যানি গিভস ইট দোস ওয়ানস’ নামের (১৯৮৯) একটি সিনেমার চিত্রনাট্য লিখেন। সেখানে তিনি অ্যানি নামের চরিত্রে অভিনয় করেন। সেটার সঙ্গে অবশ্য তাঁর নিজের জীবনের মিল ছিল। অ্যানি স্থাপত্যবিদ্যার একজন, কিন্তু সেটা ছেড়ে তিনি লেখালেখির জগতে ঢুকে পড়েন।
এই সিনেমার জন্য সেরা চিত্রনাট্য বিভাগে অরুন্ধতী রায় সেবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পান। এ ছাড়া অন্য ভাষার (ভারতের সংবিধানে উল্লিখিত ভাষা ছাড়া) সেরা চলচ্চিত্রের পুরস্কারও পেয়েছিল এটি, যা অরুন্ধতী রায়ের কাছে ‘প্রিয়তম পুরস্কার’। আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবেরও সুনাম কুড়িয়েছিল ‘ইন হুইচ অ্যানি গিভস ইট দোস ওয়ানস’।
অরুন্ধতী রায় জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানের একটি বর্ণনাও দিয়েছেন তাঁর বইয়ে। সেখানে তিনি লিখেছেন, অনুষ্ঠানটি ছিল গুরুগম্ভীর ও জাঁকজমকপূর্ণ।
মূলধারার চলচ্চিত্র জগতের অভিনেতা, অভিনেত্রী, পরিচালকসহ সবাই চমকপ্রদ পোশাকে হাজির। রাষ্ট্রপতি আর ভেঙ্কটারামন পুরস্কার তুলে দিচ্ছিলেন। যখন অরুন্ধতীর ডাক এল, তিনি মঞ্চে যাচ্ছেন পুরস্কার নেওয়ার জন্য; তখন এক আমলা তাঁর পোশাক দেখে খুব বিরক্ত হয়েছিলেন। বলেছিলেন, পোশাকবিধি করতে হবে। কারণ, তিনি প্রতিদিনের সাধারণ পোশাক পরে অনুষ্ঠানে গিয়েছিলেন।
অরুন্ধতী রায়ের জন্ম ১৯৬১ সালে, ভারতের শিলংয়ে। শৈশব কাটিয়েছেন কেরালায়। স্থাপত্যবিদ্যায় পড়ালেখা করেছেন। তবে লেখালেখিতেই তাঁর মন ও খ্যাতি। ১৯৯৭ সালে প্রকাশিত প্রথম উপন্যাস ‘দ্য গড অব স্মল থিংস’-এর জন্য বুকার পুরস্কার পান। সাহিত্যের বাইরে তিনি যুক্ত আছেন রাজনৈতিক ও মানবাধিকার আন্দোলনে। কাশ্মীর, নর্মদা আন্দোলন, যুদ্ধবিরোধী রাজনীতি—এসব বিষয়ে তাঁর প্রবন্ধ আন্তর্জাতিক পরিসরে আলোচিত।
প্রদীপ ও অরুন্ধতী মিলে আরেকটি সিনেমা বানানোর উদ্যোগ নেন। নাম—‘ইলেকট্রিক মুন’ (১৯৯২)। এই সিনেমার জন্য ব্রিটিশ টিভি চ্যানেল ‘চ্যানেল ফোর’ তাদের টাকা দিয়েছিল।
‘মাদার মেরি কামস টু মি’ বইয়ে অরুন্ধতী রায় লিখেছেন, তিনি এই চিত্রনাট্য মাথা দিয়ে লিখেছেন, মন দিয়ে নয়। ভালোবাসার মতো কিছু এটাতে তিনি পাননি। অনেকটা টাকার প্রয়োজনে যুক্ত থাকার মতো ব্যাপার ছিল।
‘বিদেশি সিনেমা’ হিসেবে শুটিং করতে গিয়ে নানা দপ্তরের, কর্মকর্তাদের এত বাধাবিপত্তির মুখে পড়তে হয়েছিল যে অরুন্ধতী রায় খুব বিরক্ত হন। ছন্দে ফিরতে তিনি নিজের জন্য লিখতে শুরু করেন। অবাক হয়ে লক্ষ করলেন, লিখতে তাঁর খুব ভালো লাগছে। সিদ্ধান্ত নিলেন, সিনেমাজগতে আর না। তিনি শুধু লিখবেন, যা ইচ্ছা হবে তা-ই লিখবেন।
একদিন বেড়াতে এসে অরুন্ধতী রায়ের লেখার খাতা পড়ে মুগ্ধ হলেন সাপ্তাহিক পত্রিকা ‘সানডে’র সম্পাদক। তিনি সেই লেখা নিয়ে নিজের কাগজে ছাপালেন। এভাবেই ১৯৯২ সালে প্রথম কোনো কাগজে তাঁর লেখা প্রকাশিত হলো। ওই বছরই তিনি ‘দ্য গড অব স্মল থিংস’ উপন্যাস লিখতে শুরু করেন। ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত লিখেছেন, সম্পাদনা করেছেন।
পরের বছর ১৯৯৭ সালে এটি প্রকাশিত হলে হইচই পড়ে যায়। অরুন্ধতী রায় এই বইয়ের জন্য বুকার পুরস্কার পান। লেখালেখির পাশাপাশি ক্রমশ অধিকারকর্মী হিসেবে নানা কাজে জড়িয়ে পড়তে থাকেন তিনি।
তাঁর জীবন থেকে সিনেমাজগৎ একেবারেই হারিয়ে যায়। আসলে কী তাই! বরং উল্টো করে বলা চলে, সিনেমার জগতে গিয়ে তিনি বুঝতে পারেন, স্থপতি নন, অভিনেত্রী নন কিংবা চিত্রনাট্যকারও নন; তিনি শুধু লেখক হতে চেয়েছেন।
![]() |
| অরুন্ধতী রায়। ছবি: প্রথম আলো |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
বারান্দা ও বাগানের টবে বিটরুট ফলাবেন যেভাবে by এম এ হান্নান
উপযুক্ত টব নির্বাচন
১০-১২ ইঞ্চি গভীরতার টব বেছে নিন, এতে বিটরুটের শিকড় দ্রুত ছড়াবে আর যথেষ্ট বড় হওয়ার সুযোগও পাবে। একেকটি বিটরুট ২০০–৫০০ গ্রাম পর্যন্ত হতে পারে। টবে অতিরিক্ত পানি জমে শিকড়ে পচন ধরতে পারে, তাই টবের নিচে পানিনিষ্কাশনের জন্য ছিদ্র থাকতে হবে। মাটির টব বা জিও ব্যাগ বিটরুট চাষের জন্য ভালো।
উর্বর বেলে দোঁআশ মাটি ব্যবহার করুন
বিটরুটগাছ জৈব পদার্থসমৃদ্ধ উর্বর বেলে দোঁআশ মাটিতে ভালো হয়। বেলে দোঁআশ মাটি, গোবর সার বা ভার্মি কম্পোস্ট বা কেঁচো কম্পোস্ট সার এবং কোকোপিট মিশিয়ে টবের মাটি প্রস্তুত করুন। পরে প্রতি সপ্তাহে অল্প করে কম্পোস্ট সার যোগ করলেই বিটরুট তার বেড়ে ওঠার জন্য প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান পেয়ে যাবে।
সঠিকভাবে বীজ বপন করুন
বিটরুটের বীজ প্রায় ১ ইঞ্চি গভীরে এবং ৩-৪ ইঞ্চি দূরে দূরে বপন করুন। ১০-১২ ইঞ্চি ব্যাসের টবে সর্বোচ্চ চারটি গাছ রাখতে পারেন। শুরুতে পাশাপাশি দুটি করে একই টবে মোট ৮টি গর্ত করুন। গর্তের গভীরতা হতে হবে ২-৩ সেন্টিমিটার।
বীজ অঙ্কুরোদ্গম হতে যা সাধারণত ৫–১০ দিন সময় নেয়। এ সময় মাটির আর্দ্রতা ঠিক রাখতে মাঝেমধ্যে পানি স্প্রে করে টবের মাটি ভিজিয়ে দিন।
চারা গজানোর ২০-২৫ দিন পর, পাশাপাশি থাকা দুটি চারার মধ্যে সবচেয়ে সুস্থ–সবল চারাটি রেখে অন্যটি তুলে ফেলুন। এভাবে জন্মানো ৮টি গাছ থেকে একটি টবের জন্য ৪টি চারা রাখুন। সুস্থ–সবল এই চারা থেকে ভালো ফলন আশা করা যায়।
বীজ থেকে চারা করা কষ্টসাধ্য মনে হলে নিকটবর্তী নার্সারি থেকে চারা এনেও সরাসরি রোপণ করতে পারেন। এ ক্ষেত্রে চারা রোপণের পর প্রথম ১০ দিন ছায়াযুক্ত স্থানে রাখুন। চারার বৃদ্ধি খেয়াল করে রোদে দিন।
সূর্যালোকের প্রাপ্যতা
বিটরুটের বাল্ব বা কন্দ গঠনের জন্য প্রতিদিন চার-ছয় ঘণ্টা রোদের প্রয়োজন। সকালের মিষ্টি রোদ আমাদের মতো গাছের জন্যও ভালো। যদি খেয়াল করেন দুপুর রোদের তীব্রতায় গাছের পাতা নেতিয়ে পড়ছে বা শুকিয়ে যাচ্ছে, তখন ওপরে কাপড় বা তেমন কিছু দিয়ে ছায়ার ব্যবস্থা করতে পারেন।
নিয়মিত পানি দিন সাবধানে
সামঞ্জস্যপূর্ণ আর্দ্রতা ধরে রাখা খুব গুরুত্বপূর্ণ। অতিরিক্ত পানি দিলে বিটরুটের কন্দে ফাটল ধরতে পারে, ছত্রাকের সংক্রমণে পচন ধরতে পারে। তাহলে উপায়? উপায় হলো মাটির ওপরের অংশ শুকিয়ে এলে তবেই পানি দেওয়া।
বাগানের শুকনা পাতা দিয়ে মাটির ওপরের অংশ ঢেকে দিতে পারেন। এভাবে মালচিং করলে মাটি দ্রুত শুকিয়ে যাওয়ার হাত থেকে রক্ষা পাবে।
ফসল তোলার সঠিক সময়ে
জাতের ওপর নির্ভর করে বিটরুট তোলার সময়। জাতভেদে বীজ বপন থেকে শুরু করে বিটরুট তোলা পর্যন্ত ৭০-১০০ দিন সময় লাগতে পারে। এ ছাড়া বিটরুটের বৃদ্ধি আপনি নিজেই দেখতে পাবেন। কতটা বড় হওয়া পর্যন্ত টবের মাটিতে রাখবেন, সে–ও আপনার ওপর নির্ভর করে।
সাধারণত কন্দের আকার টেনিস বল বা গলফ বলের সমান হলে নিখুঁত আকার ধরে নেওয়া যায়। বিটরুট খুব বড় হলে তা শক্ত আর আঁশযুক্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। সবে তোলা বিটরুটগুলো বাজার থেকে কেনা বিটরুটের তুলনায় তরতাজা হয়, স্বাদ হয় মিষ্টি ও রসালো।
![]() |
| ফুলের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে রঙিন বিটরুট চাষ করতে পারেন আপনার ছাদ কিংবা বারান্দা–বাগানে। ছবি: দ্য রয়্যাল হর্টিকালচারাল সোসাইটি |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
BNM Special
BNM Archive
-
▼
2026
(1595)
-
▼
July
(256)
-
▼
Jul 26
(8)
- ইরানি হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত মার্কিন সামরিক স্থাপনা ও...
- ইরানের ‘খাইবার শেকান’ ক্ষেপণাস্ত্রেই কুপোকাত যুক্ত...
- ইরানের হামলার শিকার হওয়ার পরও কেন মার্কিন উপস্থিতি...
- প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্র ফুরিয়ে যাওয়ার শঙ্কাতেই কি ...
- সিআইএ ঘাঁটিতে ইরানের হামলা: রাশিয়া যেভাবে ‘কলকাঠি’...
- মার্কিন গোলাবারুদ ও ক্ষেপণাস্ত্রের মজুতে টান, ইরান...
- অরুন্ধতী রায় অভিনয় করতেন, পেয়েছেন জাতীয় চলচ্চিত্র ...
- বারান্দা ও বাগানের টবে বিটরুট ফলাবেন যেভাবে by এম ...
-
▼
Jul 26
(8)
-
▼
July
(256)
- ► 2025 (3281)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (128)
- ► 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
- ► 2015 (11541)
- ► 2014 (9799)
- ► 2013 (14877)
- ► 2012 (33842)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...






