Tuesday, February 23, 2010

ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থী ঘোষণা

অক্টোবরে অনুষ্ঠেয় প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের জন্য প্রার্থী ঘোষণা করেছে ব্রাজিলের ক্ষমতাসীন ওয়ার্কার্স পার্টি। প্রেসিডেন্টের চিফ অব স্টাফ দিলমা রোসেফকে প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করেন ক্ষমতাসীন দলটির বর্তমান প্রেসিডেন্ট লুই ইনাসিও লুলা ডি সিলভা। আইনি বাধ্যবাধকতার কারণে লুলা তৃতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে লড়তে পারবেন না।
প্রার্থী হিসেবে মনোনীত হওয়ার পর অর্থনীতিবিদ দিলমা প্রতিশ্রুতি দেন, নির্বাচিত হলে তিনি দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে কাজ করবেন। স্থানীয় সংবাদকর্মীরা জানিয়েছেন, রক্ষণশীল দলের প্রার্থীর তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখে পড়বেন দিলমা।
দিলমা রোসেফ বলেন, ‘আমি কৃতজ্ঞচিত্তে এই দায়িত্ব গ্রহণ করছি। সাহসিকতা ও একাগ্রচিত্তে এই দায়িত্ব পালন করতে চাই। আর এ জন্য দল ও দলের সবচেয়ে সম্মানিত সদস্য প্রেসিডেন্ট লুলার সমর্থন পাচ্ছি আমি।’
নির্বাচনী আইন অনুযায়ী, দিলমাকে ৩ এপ্রিলের মধ্যে তাঁর বর্তমান দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়াতে হবে। দিলমা জানিয়েছেন, তিনি একটি জোট সরকার গঠন করতে চান এবং বর্তমান সরকারের জোটে থাকা ১১টি দলের সঙ্গে কাজ করতে চান।

মস্তিষ্কের ক্ষমতা বাড়ায় দিবানিদ্রা

যুক্তরাষ্ট্রের বিজ্ঞানীরা দাবি করেছেন, একটুখানি দিবানিদ্রা শুধু ক্লান্তি কাটায় না, বরং মস্তিষ্কের নতুন তথ্য গ্রহণের ক্ষমতা বাড়িয়ে তোলে। গবেষণায় দেখা গেছে, অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে যাঁরা দিনে ৯০ মিনিট ঘুমিয়েছিলেন, যাচাই পরীক্ষায় তাঁরা নির্ঘুমদের চেয়ে ভালো ফল করেছেন। গতকাল রোববার ক্যালিফোর্নিয়ার একটি সম্মেলনে এ গবেষণার ফল প্রকাশ করা হয়।
ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া, বার্কলেতে পরিচালিত এ গবেষণায় দেখা গেছে, মস্তিষ্কের স্বল্প মেয়াদের স্মৃতিগুলো প্রক্রিয়াজাত করতে ঘুম প্রয়োজন। এতে করে নতুন তথ্য গ্রহণের জন্য জায়গা তৈরি হয়।
গবেষণায় ৩৯ জন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ অংশ নেন। সকালে তাঁদের একটি কঠিন পাঠ শিখতে দেওয়া হয়। এঁদের মধ্যে অর্ধেককে দিবানিদ্রার সুযোগ দেওয়া হয়। শেষ পর্যন্ত দেখা যায়, যাঁরা দিনে ঘুমিয়েছিলেন, তাঁরা অন্যদের চেয়ে ভালো শিখেছেন।
গবেষক দলের প্রধান ম্যাথু ওয়াকার বলেন, ‘বিষয়টি অনেকটা এ রকম, প্রয়োজনীয় ঘুম না হওয়ায় ব্যক্তির মস্তিষ্কের স্মৃতিভান্ডার ভর্তি হয়ে যায়। ফলে নতুন তথ্য ঢোকার জায়গা থাকে না। ঘুম মস্তিষ্ককে তথ্যগুলো প্রক্রিয়াজাত করে নতুন তথ্য নেওয়ার জন্য প্রস্তুত করে তোলে।’
তবে যুক্তরাজ্যের সারে স্লিপ রিসার্চ সেন্টারের পরিচালক অধ্যাপক ড্রেক-জান জিক বলেন, ‘এখনও পরিষ্কার প্রমাণ পাওয়া যায়নি যে দিবানিদ্রা দেহের জন্য বিশেষ কোনো সুবিধা দেয়।’ তিনি আরও উল্লেখ করেন, এই পরীক্ষাটি গবেষণাগারে চালানো হয়েছে। বাস্তব দুনিয়ায় এত নিশ্চিত ফল নাও পাওয়া যেতে পারে।

তেলেঙ্গানা রাজ্যের দাবিতে আরও এক শিক্ষার্থীর আত্মাহুতি

পৃথক তেলেঙ্গানা রাজ্যের দাবিতে গায়ে আগুন দেওয়া সেই ছাত্রটি গতকাল রোববার ভোরে মারা গেছেন। ভারতের অন্ধ্র প্রদেশের হায়দরাবাদে ওসমানিয়া বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে গত শনিবার ছাত্র-পুলিশের সংঘর্ষের একপর্যায়ে গায়ে আগুন দিয়েছিলেন শ্রীপুরম ইয়াদিয়া নামের ওই শিক্ষার্থী। তিনি নিউ নোবেল জুনিয়র কলেজের দ্বাদশ শ্রেণীর ছাত্র ছিলেন। এক চিরকুটে তিনি লিখে গেছেন, ‘ছোটবেলায় মা-বাবাকে হারিয়েছি। সেই থেকে দারিদ্র্যের সঙ্গে লড়ছি। স্বপ্ন ছিল তেলেঙ্গানা আলাদা রাজ্য হবে। সেই স্বপ্নে বাদ সাধা হলো। তাই আত্মাহুতি দিলাম। তেলেঙ্গানা আলাদা রাজ্য না হওয়া পর্যন্ত আমার মতো আরও অনেকেই এই পথ অনুসরণ করবে।’
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গত শনিবার বিধানসভা ঘেরাওয়ের ডাক দিয়েছিল ‘তেলেঙ্গানা স্টুডেন্টস জয়েন্ট অ্যাকশন কমিটি’ ও ‘ওসমানিয়া ইউনিভার্সিটি স্টুডেন্টস জয়েন্ট অ্যাকশন কমিটি’। এই দুটি ছাত্র সংগঠনের দাবি ছিল, পৃথক রাজ্যের দাবিতে তেলেঙ্গানা অঞ্চলের কংগ্রেস ও তেলেগু দেশম বিধায়কদের ইস্তফা দিতে হবে।
একই দিন বিধানসভায় বাজেট অধিবেশন শুরু হয়। ছাত্রদের ঠেকাতে কড়া পুলিশি প্রহরার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল। ওসমানিয়া ক্যাম্পাস থেকে বিধানসভা পর্যন্ত নয় কিলোমিটার রাস্তায় ছিল ১০০টিরও বেশি তল্লাশি-চৌকি। শহরে মোতায়েন করা হয়েছিল পুলিশ ও আধাসেনা মিলিয়ে ৩০ হাজারেরও বেশি নিরাপত্তাকর্মী। ছাত্র সমাবেশ আগেই বেআইনি ঘোষণা করে পুলিশ।
পুলিশের ঘোষণা উপেক্ষা করেই ওসমানিয়া ক্যাম্পাস থেকে শনিবার সকালে কয়েক শ ছাত্রের একটি মিছিল বের হয়। মিছিলটি বিদ্যানগরের শিবরাম রোডে আটকে দেয় পুলিশ। এতে ছাত্র-পুলিশ ধস্তাধস্তি শুরু হয়। একপর্যায়ে ছাত্ররা রাস্তায় বসে পড়ে। এ সময় অন্তত ৫০ ছাত্রকে আটক করা হয়। বিধানসভার কাছের নিজাম কলেজ হোস্টেলের ব্যারিকেড ভেঙে এগোতে যাওয়া আরও একটি মিছিলে বাধা দেয় পুলিশ। সেখানেও ছাত্র-পুলিশ ধাওয়া পাল্টা-ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। পুলিশ সেখান থেকে অন্তত দেড় শ ছাত্রকে আটক করে। লকড়ি কাপুল এলাকায় আরেকটি মিছিল থেকে শতাধিক ছাত্রকে আটক করে পুলিশ।
বেলা একটার দিকে বিধানসভার অধিবেশন মুলতবি ঘোষণা করলে পরিবেশ খানিকটা শান্ত হয়।
বেলা দুইটার দিকে ওসমানিয়া ক্যাম্পাসে রঙ্গা রেড্ডির বাসিন্দা দ্বাদশ শ্রেণীর ছাত্র শ্রীপুরম ইয়াদিয়া নিজের গায়ে আগুন লাগিয়ে ক্যাম্পাসের আর্টস কলেজের দিকে দৌড় দেন। আগুন নিভিয়ে শ্রীপুরমকে নিকটস্থ অ্যাপোলো ডিআরডিও হাসপাতালে পাঠায় পুলিশ।
ওই হাসপাতালেই গতকাল সকালে মারা যান তিনি। তেলেঙ্গানা পৃথক রাজ্যের দাবিতে এর আগে ১৯ জানুয়ারি আরেক ছাত্র আত্মাহুতি দেয়।
তেলেঙ্গানাপন্থী ছাত্র সংগঠনের নেতা-কর্মীরা গতকাল শ্রীপুরম ইয়াদিয়ার নগরম গ্রামের বাড়িতে তাঁর শেষকৃত্যানুষ্ঠানে যান। ওসমানিয়া ক্যাম্পাসে গতকাল রোববার সারা দিন চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছিল।
ওসমানিয়া বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আজ সোমবার ও কাল অনুষ্ঠেয় স্নাতকোত্তর পরীক্ষা স্থগিত করেছে।

পুনের বোমা হামলায় আহত দুজনের মৃত্যু

ভারতের পুনেতে বোমা হামলায় আহত দুই ছাত্র গতকাল রোববার মারা গেছে। এ নিয়ে এই বোমা হামলায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৫ জনে পৌঁছেছে। ছাত্রদের একজনের নাম বিকাশ তুলসিয়ানি, অন্যজন রাজীব আগারওয়াল। ১৩ ফেব্রুয়ারি পুনে শহরের জার্মান বেকারিতে একটি বোমা বিস্ফোরণে গুরুতর আহত হয়েছিলেন তাঁরা।
পুনের পুলিশ নিয়ন্ত্রণকক্ষের একজন কর্মকর্তা জানান, নয়াদিল্লির ছেলে বিকাশ পুনের একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছাত্র ছিলেন। আর কলকাতার রাজীব পুনের সিমবায়োসিস ল কলেজের ছাত্র ছিলেন। রাজীব ভোরে মারা গেছেন। বিকাশের মৃত্যু হয় বেলা পৌনে ১২টার দিকে। রাজীবের বাবা পুনেতে রয়েছেন। আনুষ্ঠানিকতা শেষে মৃতদেহ তাঁকে হস্তান্তর করা হবে।
বোমা হামলায় আহতদের আরও পাঁচজনের অবস্থা এখনো আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন চিকিত্সকেরা। তাঁদের শহরের বিভিন্ন হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে রাখা হয়েছে। আরও ৩৩ জন চিকিত্সাধীন।
পুনেতে বোমা হামলায় চারজন বিদেশি নাগরিকেরও মৃত্যু হয়েছে। ২০০৮ সালের মুম্বাই হামলার পর ভারতে এটাই সবচেয়ে বড় সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা।

মেক্সিকোতে সহিংসতায় ১৪ জনের প্রাণহানি

মেক্সিকোর উত্তরাঞ্চলে সীমান্তবর্তী চিহুয়াহুয়া রাজ্যে শুক্রবার রাতে বন্দুকধারী ব্যক্তিদের গুলিতে তিনজন নারী ও দুজন শিক্ষার্থীসহ ১৪ জন নিহত হয়েছে।
চিহুয়াহুয়ার ডেপুটি প্রসিকিউটরের দপ্তর জানায়, তাদের মধ্যে ১০ জন মেক্সিকোর অপরাধপ্রবণ সিউদাদ হুয়ারেজে নিহত হয়েছে। গত শনিবার বন্দুকধারী ব্যক্তিরা সন্তানদের নিয়ে ভ্রমণকারী এক দম্পতির গাড়িতে হামলা চালায়। হামলাকারী ব্যক্তিরা গাড়ি থেকে নামিয়ে সন্তানদের তাদের মা-বাবার কাছ থেকে ছিনিয়ে নিয়ে হত্যা করে।
সিউদাদ হুয়ারেজ এলাকায় রাস্তার পাশে পুরোনো টায়ারের নিচ থেকে এক নারীর লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।
রাতের ঘটনায় আরও সাতজন নিহত হয়েছে। তাদের মধ্যে প্রায় ২০ বছর বয়সী দুই শিক্ষার্থীও রয়েছেন।
চিহুয়াহুয়ার দক্ষিণে জিমেনেজ শহরে সেনা ও বন্দুকধারী ব্যক্তিদের মধ্যে প্রায় দুই ঘণ্টা গুলিবিনিময়ের পর সন্দেহভাজন দুই অপরাধী নিহত হয়েছে।
চিহুয়াহুয়ার কেন্দ্রস্থলে কামারগো এলাকায় এক ব্যক্তির লাশ পাওয়া গেছে এবং বেলিসারিয়াস এলাকায় নিজের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে এক নারীকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে।

ইরানের মনোভাবে রাশিয়া ক্লান্ত হলেও ধৈর্য হারায়নি

প্রায় অর্ধদশক ধরে চলা পরমাণুসংকট নিয়ে ইরান বর্তমানে যে অবস্থান বজায় রেখেছে, সে ব্যাপারে রাশিয়া হতাশ হওয়ার ইঙ্গিত দিলেও সামগ্রিকভাবে তাদের অবস্থানের বড় কোনো পরিবর্তন হয়নি। বিশ্লেষকেরা সম্প্রতি এমন দাবিই করেছেন।
পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন পশ্চিমা বিশ্বের দেশগুলোর বিপক্ষে রাশিয়াকে নিজের পক্ষের সবচেয়ে বড় ভরসা হিসেবে বিবেচনা করেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আহমাদিনেজাদ। কিন্তু গত সপ্তাহগুলোতে রাশিয়ার কর্মকর্তারা এ ইস্যুতে ইরানের অবস্থান নিয়ে হতাশা জানিয়েছেন।
কর্মকর্তারা বলেছেন, তেহরানের ওপর নতুন অবরোধ আরোপ একটি বাস্তব সমাধান হতে পারে। পরমাণু কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ উদ্দেশে পরিচালিত হচ্ছে—ইরানের এমন দাবির ব্যাপারেও সন্দেহ প্রকাশ করেছেন তাঁরা।
তবে বিশ্লেষকেরা সতর্ক করে বলেছেন, ইরানের ক্ষেত্রে রাশিয়ার বক্তব্যে অবস্থান পরিবর্তনের সুর শোনা গেলেও ইরাননীতিতে সার্বিকভাবে রাশিয়ার অবস্থানের পরিবর্তন হয়েছে বলে মনে হচ্ছে না। ইরানসংকটের ক্ষেত্রে রাশিয়ার অবস্থান গুরুত্বপূর্ণ। কারণ রাশিয়া জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্য। তেহরানের ওপর প্রভাব বিস্তারের অনেক বেশি সুযোগ রয়েছে তাদের।
মস্কোর সেন্টার ফর কনটেম্পোরারি ইরানিয়ান স্টাডিজের পরিচালক রজব সাফারভ বলেন, এটা সত্যি, গত মাসে ইরান ইস্যুতে রাশিয়ার অবস্থানের বড় ধরনের পরিবর্তন হয়েছে। তবে বক্তব্যের সুর বদলালেও সার্বিক অবস্থানের তেমন কোনো পরিবর্তন হয়নি।
রাশিয়ার মূল উদ্বেগ, এ অঞ্চলে হঠাত্ করেই যাতে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি না হয়। কারণ ইরান থেকে রাশিয়ার সীমান্ত মাত্র ১৫০ কিলোমিটার দূরে। ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর অবরোধ আরোপের জন্য রাশিয়ার সর্থন চাইতে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু গত সপ্তাহে মস্কো সফর করেন। তেহরানের প্রধান আঞ্চলিক শত্রু ইসরায়েল।
গত বছরের সেপ্টেম্বর থেকে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট দিমিত্রি মেদভেদেভ ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর অর্থনৈতিক অবরোধ আরোপের পক্ষে বক্তব্য দিয়ে আসছেন। তবে সাফারভ বলেন, এ ধরনের হুঁশিয়ারিমূলক বক্তব্য দিলেও নিরাপত্তা পরিষদে এ ধরনের প্রস্তাব আনা হলে রাশিয়া তা সমর্থন করবে না।
মস্কোর কার্নেগি সেন্টারের বিশ্লেষক আলেক্সেই মালাশেঙ্কো বলেন, নিজেদের অবস্থান সম্পর্কে ধোঁয়াশা তৈরি করে রাখার পেছনে রাশিয়ার স্বার্থ রয়েছে। আন্তর্জাতিক চাপের মুখে আহমাদিনেজাদ নতি স্বীকার করলে প্রথমে রাশিয়াকে এর কৃতিত্ব দেওয়া হবে। কিন্তু পরে তাদের ভূমিকা খাটো করে ফেলা হবে। তাই নিরাপত্তা পরিষদে রাশিয়া কখানোই ইরানের বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক অবরোধ আরোপের প্রস্তাবে ভোট দেবে না।
গ্রিসের কর্মীকে বহিষ্কার: ইরানে বিমান পরিবহন সংস্থায় কর্মরত গ্রিসের একজন কর্মীর কাজ করার ও বসবাসের অনুমতিপত্র বাতিল করেছে ইরানি কর্তৃপক্ষ। তাঁকে দেশ থেকে বহিষ্কার করার সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা জানিয়েছে পুলিশ। গতকাল ইরানের বার্তা সংস্থা ফারস নিউজ এজেন্সি এ খবর জানায়। কিশ এয়ারলাইন নামের বিমান পরিবহন সংস্থার ওই কর্মীর বিরুদ্ধে যাত্রীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করার অভিযোগ আনা হয়েছে।

পরীক্ষার মুখে ওবামার পরমাণু অস্ত্রমুক্ত বিশ্ব গড়ার অঙ্গীকার

মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার পরমাণু অস্ত্রমুক্ত বিশ্ব গড়ার অঙ্গীকার আগামী মাসে একটি পরীক্ষার মুখে পড়তে যাচ্ছে। ওবামাকে সিদ্ধান্ত জানাতে হবে, মার্কিন নিরাপত্তা কৌশলে পরমাণু অস্ত্রের প্রভাব কতখানি কমাতে যাচ্ছেন তিনি। কারণ মার্চ মাসের প্রথম সপ্তাহে মার্কিন কংগ্রেসে ওবামা প্রশাসনের পরমাণু অস্ত্রবিষয়ক পর্যালোচনা প্রতিবেদনটি উপস্থাপন করা হবে।
২০০২ সালের পর প্রথমবারের মতো এ ধরনের প্রতিবেদন কংগ্রেসে তোলা হবে। নির্ধারিত সময়ের দুই মাস পর প্রতিবেদনটি জমা দেওয়া হচ্ছে। পরমাণু অস্ত্র বাস্তবে আসলে কী কাজে লাগে তা নিয়ে অবশ্য এরই মধ্যে একটি অভ্যন্তরীণ বিতর্ক চালু হয়ে গেছে যুক্তরাষ্ট্রে।
এর আগে ওবামা অঙ্গীকার করেছিলেন, ‘স্নায়ুযুদ্ধের সময়কার চিন্তাভাবনা থেকে বেরিয়ে আসতে জাতীয় নিরাপত্তা রণকৌশলে পরমাণু অস্ত্রের ভূমিকা কমিয়ে আনব আমরা। সেই সঙ্গে অন্যদেরও একই ধরনের পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।’
তবে পরমাণু অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ আন্দোলনের পক্ষের লোকেরা পর্যালোচনা প্রতিবেদন থেকে খুব বেশি কিছু পাওয়ার আশা করার বিষয়ে সতর্ক করেছেন। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংস্থা ইউনিয়ন অব কনসার্নড সায়েন্টিস্টসের কর্মী স্টিফেন ইয়াং বলেন, ‘আমার বিশ্বাস, এবারের পর্যালোচনা প্রতিবেদনটি একটি মধ্যম মানের নথি হবে। এতে প্রেসিডেন্ট ওবামার আলোচ্যসূচির প্রতিফলন থাকলেও মার্কিন রণকৌশলে রাতারাতি কোনো পরিবর্তন আনার সুপারিশ সম্ভবত থাকছে না। তা সত্ত্বেও প্রেসিডেন্ট পরিবর্তন আনার নির্দেশ দিতে পারেন। তবে আমার ধারণা, এ ধরনের কোনো নির্দেশের প্রকাশ এবারের নথিতে নেই।’
যুক্তরাষ্ট্রের পরমাণু অস্ত্র রাখার ‘একমাত্র উদ্দেশ্য’ হচ্ছে অন্য পরমাণু অস্ত্রধর দেশগুলোকে পরমাণু অস্ত্রের ব্যবহার থেকে বিরত রাখা—এমন একটি ঘোষণা দেওয়ার জন্য সে দেশের পরমাণু অস্ত্রের ভান্ডার কমিয়ে আনার পক্ষের লোকজন ওবামার প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। কারণ যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক শক্তি অন্য যেকোনো পরিস্থিতিতে এই অস্ত্র ছাড়াই সর্বোচ্চ অবস্থানে রয়েছে।
তবে যেকোনো পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র প্রথমে পরমাণু অস্ত্র ব্যবহার করবে না—এমন কোনো ঘোষণা দেওয়ার প্রস্তাব ওবামাকে করা হয়নি। কোনো মার্কিন প্রেসিডেন্টও প্রকাশ্যে কখনো এ ধরনের কথা উচ্চারণ করেননি।
চলতি মাসে ওবামার কাছে লেখা এক চিঠিতে অস্ত্র হ্রাস প্রস্তাবের পক্ষের সমর্থকেরা বলেছেন, পরমাণু অস্ত্র হ্রাস করার দৃঢ় মনোভাব পরমাণু অস্ত্রের ভান্ডার কয়েক হাজার থেকে কয়েক শতে নামিয়ে আনতে ভূমিকা রাখবে। পাশাপাশি ন্যাটো জোটের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ইউরোপ বা এশিয়া মহাদেশে পরামাণু অস্ত্র মোতায়েন করা হবে না—পর্যালোচনা প্রতিবেদনটিকে এমন ইংগিত দেওয়ার কাজে ব্যবহার করারও আহ্বান জানান তাঁরা।
আর পরমাণু অস্ত্র হ্রাস করার ব্যাপারে এই প্রস্তাব আরও গতি পেয়েছে গত শুক্রবার বেলজিয়ামের ঘোষণার পর। বেলজিয়াম সরকার ওই দিন ঘোষণা করেছে, ইউরোপের মাটিতে মোতায়েন ২০০ পরমাণু বোমা সরিয়ে নেওয়ার ব্যাপারে জার্মানি, লুক্সেমবার্গ, নরওয়ে ও নেদারল্যান্ডসের আহ্বানের সঙ্গে রয়েছে তারা।
এ ব্যাপারে জাপানের মোনোভাবেরও পরিবর্তন হয়েছে। গত শুক্রবার জাপানের আইনসভার ২০০ সদস্য একটি চিঠিতে আহ্বান জানিয়েছেন, ‘ওবামা যেন ঘোষণা করেন, জাপানে থাকা পরমাণু অস্ত্রগুলো পুরোপুরি যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তার স্বার্থে মোতায়েন করা হয়েছে।’
ভিন্ন বাস্তবতাটি হলো, যুক্তরাষ্ট্রকে এমন একটি পরমাণু অস্ত্রভান্ডার টিকিয়ে রাখতে হবে, যার মাধ্যমে তারা ইউরোপ, উত্তর-পূর্ব এশিয়া এমনকি মধ্যপ্রাচ্যে নিরাপত্তা প্রতিশ্রুতি পূরণ করতে পারে। তা না হলে দক্ষিণ কোরিয়া বা জাপান পরমাণু অস্ত্র তৈরির চেষ্টা করতে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে বিশ্লেষকদের।
চলতি সপ্তাহে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন সরকারের তিনটি পরমাণু গবেষণাগার, ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ও প্রচলিত বাহিনীর ওপর আরও আস্থা আনার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন। এতে করে নিরাপত্তা রক্ষার ক্ষেত্রে পরমাণু অস্ত্রের ওপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে আনা সম্ভব হবে বলে জানান তিনি। তবে সবার দৃষ্টি এখন ওবামার ওপর—যুক্তরাষ্ট্রের পরমাণু অস্ত্র কমিয়ে আনার ব্যাপারে কী ধরনের ইংগিত তিনি দেন। কারণ, ইরান ও অন্যান্য পরমাণু অস্ত্রধর হয়ে ওঠা দেশগুলোর ওপর চাপ তৈরি করছে মার্কিন প্রশাসন।

ফিলিপাইনে সেনা অভিযানে ছয় জঙ্গিনেতা নিহত

ফিলিপাইনের সেনাবাহিনী দাবি করেছে, গতকাল রোববার দক্ষিণাঞ্চলের জোলো দ্বীপে সেনা অভিযানে বিচ্ছিন্নতাবাদী ইসলামি জঙ্গি সংগঠন আবু সায়াফের শীর্ষ নেতাসহ অন্তত ছয়জন জঙ্গি নিহত হয়েছে। এএফপি।
আঞ্চলিক সন্ত্রাসবিরোধী টাস্কফোর্সের প্রধান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল রুস্তিকো গোরেরো বলেন, তাঁরা বিশ্বাস করেন গতকালের অভিযানে আবু সায়াফের অন্যতম শীর্ষ নেতা আলবাদের পারেদ নিহত হয়েছেন। পারেদ গত বছর রেডক্রস সংস্থার তিন কর্মীকে অপহরণের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন।
অন্য একটি সূত্রে দাবি করা হয়েছে, এ অভিযানে সংগঠনটির আরেক শীর্ষ নেতা উমব্রা জামদাইলের ভাইও নিহত হয়েছেন। এ অভিযানের প্রধান লক্ষ্য ছিল পারেদ ও তাঁর সহযোগীরা।
ব্রিগেডিয়ার গোরেরো বলেন, নিহত সব জঙ্গির পরিচয় জানার জন্য তাঁরা চেষ্টা করছেন। এ অভিযানে তিন সেনাসদস্য আহত হয়েছেন বলে তিনি জানান। অভিযান এখন বন্ধ আছে। তবে এলাকাটি সেনাবাহিনীর দখলে নেওয়ার সর্বাত্মক চেষ্টা চলছে।
যুক্তরাষ্ট্রের তালিকায় আবু সায়াফ গ্রুপ একটি আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসী সংগঠন। আল-কায়েদার সঙ্গে এর যোগাযোগ রয়েছে। ফিলিপাইনে বিভিন্ন ধরনের সন্ত্রাসী হামলার জন্য এ সংগঠনকে দায়ী করা হয়। এর মধ্যে ২০০৪ সালে ম্যানিলা উপসাগরে যাত্রীবাহী একটি ফেরিতে হামলা চালিয়ে শতাধিক মানুষকে তারা হত্যা করে।
ফিলিপাইনের দক্ষিণাঞ্চলের সেনা কমান্ডার লেফটেন্যান্ট জেনারেল বেনজামিন ডলরফিনো বলেন, জোলো দ্বীপটি গভীর বনে ঘেরা। স্বাভাবিকভাবে ওখানে অভিযান চালানো খুব কঠিন। ব্যাপক প্রস্ততি নিয়ে এবার অভিযান চালানো হয়েছে। তিনি সংগঠনটির শীর্ষস্থানীয় নেতাদের নিহত হওয়ার ঘটনাকে সরকারের বড় সাফল্য বলে দাবি করেছেন।
আবু সায়াফ গ্রুপের অন্যতম শীর্ষ নেতা জুমাদাইল আরাদ গ্রেপ্তার হওয়ার তিন দিন পরই গতকাল জোলো দ্বীপে এ অভিযান চালায় সেনাবাহিনী। জুমাদাইল আরাদ দ্বীপটিতে সংগঠনের অস্ত্রের প্রধান সরবরাহকারী।

শহীদ বরকতের বাড়িকে জাদুঘর করার দাবি

ভাষাসৈনিক শহীদ আবুল বরকতের জন্মভিটা মুর্শিদাবাদের বাবলা গ্রামে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে শুরু হয়েছে তিন দিনব্যাপী একুশের মেলা। মেলার উদ্বোধন হয় গত শুক্রবার। মেলার আনুষ্ঠানিক সূচনা করেন কলকাতার বাংলাদেশ উপ-হাইকমিশনে নিযুক্ত বাংলাদেশের বাণিজ্যিক সচিব মো. ওমর ফারুক। মেলার আয়োজক বরকত চর্চা কেন্দ্র। তিন দিনের একুশের অনুষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে প্রভাতফেরি, মশাল মিছিল, বরকতের স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পমাল্য অর্পণ, আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।
বাবলায় বরকত স্মৃতি সংঘও আয়োজন করেছে তিন দিনব্যাপী অনুষ্ঠানের। বরকতের স্মৃতিধন্য বাবলা প্রাথমিক বিদ্যালয় ও তালিবপুর উচ্চবিদ্যালয়েও দিনটি পালন হয়েছে নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে।
বাবলা গ্রামে এবার বরকতের বাড়িটিকে অধিগ্রহণ করে বরকত জাদুঘর গড়ার দাবি তুলেছেন স্থানীয় বরকত ভক্তরা।
ভাষা দিবসের স্মরণে শুক্রবার থেকেই কলকাতায় শুরু হয়েছে মহান ভাষা দিবস। পশ্চিমবঙ্গ, ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লি, আসাম, ত্রিপুরা, ঝাড়খণ্ডসহ গোটা ভারতেই পালিত হয়েছে দিবসটি। ওই সব রাজ্যের বিভিন্ন স্কুল-কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানসহ সরকারি পর্যায়ে দিনটি পালিত হয়েছে বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে। নয়াদিল্লির চিত্তরঞ্জন পার্কে আয়োজন করা হয়েছে মেলার। এখানে দিনটি পালিত হয়েছে বাংলাদেশ দিবস হিসেবে।
শুক্রবার বিকেলে কলকাতার একাডেমি অব ফাইন আর্টস প্রাঙ্গণে একুশের প্রথম সূচনা করে ‘ভাষা ও চেতনা সমিতি’। বিকেলে দিনটির আনুষ্ঠানিক সূচনা করেন কলকাতায় নিযুক্ত বাংলাদেশের উপ-হাইকমিশনার সৈয়দ মাসুদ মাহমুদ খোন্দকার। ২৪ ঘণ্টা ধরে চলেছে ওই অনুষ্ঠান। রাত ১২টায় এখানেই মশাল জ্বালিয়ে সূচনা হয় মহান ভাষা উত্সবের। এই অনুষ্ঠানে উদ্বোধনী সংগীত পরিবেশন করেন বাংলাদেশের বিশিষ্ট লোকসংগীতশিল্পী কিরণচন্দ্র রায়। যোগ দেন বাংলাদেশের একঝাঁক শিল্পীও।
কলকাতার শহীদ স্মৃতি উদ্যান বা কার্জন পার্কে দিনব্যাপী অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে ভাষা স্মারক সমিতি। নবজাগরণ দিনটি পালন করেছে নানা অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে।
কলকাতায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা উদ্যাপন কমিটি নানা অনুষ্ঠানের মাধ্যমে দিনটি পালন করেছে। এ উপলক্ষে যতীনদাস পার্ক থেকে মোহরকুঞ্জ পর্যন্ত একুশের পদযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়। বিকেলে অনুষ্ঠিত হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এতে যোগ দেন কলকাতার নামী-দামি সব শিল্পী। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা ভাষা সমিতিও দিনটি পালন করেছে সাড়ম্বরে। দ্বারভাঙ্গা হলে আয়োজন করা হয় আলোচনা সভার। রাজ্যের তথ্য ও সংস্কৃতি বিভাগ দিবসটিকে ঘিরে বাংলা একাডেমি মিলনায়তনে আয়োজন করে বাংলা কবিতা উত্সবের।
কলকাতার বাংলাদেশ উপ-হাইকমিশন দিনটি পালন করেছে সাড়ম্বরে। এ উপলক্ষে উপ-হাইকমিশন প্রাঙ্গণে তৈরি করা হয়েছে ঢাকার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের আদলে একটি শহীদ মিনার। এখানের কর্মসূচির মধ্যে ছিল প্রভাতফেরি, শহীদ মিনারে পুষ্পমাল্য অর্পণ, রক্তদান কর্মসূচি, আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।
এ ছাড়া উপ-হাইকমিশনে দুই দিন ধরে এক ‘আর্ট ক্যাম্পের’ আয়োজন করা হয়। ওই ক্যাম্পে কলকাতার প্রখ্যাত শিল্পীদের পাশে একসঙ্গে ছবি এঁকেছেন বাংলাদেশের প্রথিতযশা শিল্পী হাশেম খান, আবদুশ শাকুর, বীরেন্দ্র সোম, শহীদ কবীর ও রেজাউল করিম। পশ্চিমবঙ্গের খ্যাতনামা শিল্পীদের মধ্যে ছবি এঁকেছেন বিজন চৌধুরী, ওয়াসিম কাপুর, রবীন মণ্ডল, অমিতাভ সেনগুপ্ত, তপন মিত্র প্রমুখ। বাংলাদেশ ইঞ্জিনিয়ারিং স্টুডেন্টস সোসাইটি একুশ উপলক্ষে গড়িয়ার নেতাজি সুভাষ ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে দিনটি পালন করেছে নানা অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে। এখানে যোগ দিয়েছে কলকাতায় অধ্যয়নরত বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা।
লন্ডনে নানা কর্মসূচি: লন্ডন থেকে তানভীর আহমেদ জানান, সারা বিশ্বের মতো যুক্তরাজ্যেও পালিত হয়েছে মাতৃভাষা দিবস। দিবসটি উদ্যাপন উপলক্ষে পূর্ব লন্ডনের আলতাব আলী পার্কে অবস্থিত কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে একুশের প্রথম প্রহরে যুক্তরাজ্যে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার সাইদুর রহমান খান, টাওয়ার হ্যামলেটসের মেয়র আহমেদ ওমর ও কাউন্সিলররা ফুল দিয়ে শহীদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানান।
পরে প্রবাসের বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীরা ফুল দিয়ে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান।
যুক্তরাজ্যের অপর বাঙালি অধ্যুষিত এলাকা ওল্ডহ্যাম ও লুটনে অবস্থিত শহীদ মিনারেও ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানায় প্রবাসী বাঙালিরা। গতকাল সকালে বাংলাদেশ হাইকমিশন লন্ডনে বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত ও কূটনীতিকদের সমন্বয়ে মাতৃভাষা দিবসের অনুষ্ঠানমালার আয়োজন করে। বিকেলে হোয়াইট চ্যাপেলের আইডিয়া স্টোরে দিবসিটি উদ্যাপন উপলক্ষে চলচ্চিত্র প্রদর্শনী, আলোচনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন সাংবাদিক আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী।

দুবাই মিশনের ঘাতকদের সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন নেতানিয়াহু!

দুবাইয়ে হামাস নেতা মাহমুদ আল মাবুর হত্যা মিশনে যাওয়ার আগে গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের হিট স্কোয়াড সদস্যদের সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। মিশন শেষ করে যাতে তারা ‘ভালোয় ভালোয়’ ফিরতে পারে, সে জন্য তিনি তাদের মাথায় হাত বুলিয়ে ‘আশীর্বাদ’ও করেছিলেন। ব্রিটেনের সংবাদপত্র সানডে টাইমস এক প্রতিবেদনে এ কথা জানিয়েছে।
দুবাই পুলিশ বলেছে, ঘাতকেরা বিভিন্ন দেশ থেকে সে দেশে ঢোকার জন্য কূটনৈতিক পাসপোর্ট ব্যবহার করেছিল। ব্রিটেন, জার্মানি, আয়ারল্যান্ড ও ফ্রান্স থেকে তারা পাসপোর্ট নিয়ে সে দেশে ঢোকে। এ কারণে ওই দেশগুলোর সঙ্গে ইসরায়েলের কূটনৈতিক টানাপোড়েন শুরু হয়েছে। অবশ্য ইসরায়েল বলেছে, এটা তাদের পারস্পরিক সম্পর্ককে ক্ষতিগ্রস্ত করবে না।
অন্যদিকে ফিলিস্তিনকে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি দেওয়ার বিষয়ে ফ্রান্স ইতিবাচক ইঙ্গিত দেওয়ার পর ইসরায়েল বলেছে, শান্তিচুক্তি ছাড়াই ফিলিস্তিনকে এ ধরনের স্বীকৃতি দেওয়া হলে ওই অঞ্চলের আসল শান্তি বিঘ্নিত হবে।
সানডে টাইমস-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘কিলিং মিশনে’ যাওয়ার আগে ১১ ঘাতক নেতানিয়াহুর সঙ্গে আলোচনা করেছিল। মোসাদের প্রধান মীর দাগান জেরুজালেমে মোসাদের সদর দপ্তরে প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুকে আমন্ত্রণ জানান। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সূত্রের উদ্ধৃতি দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রধানমন্ত্রী সেখানে এসে তাদের পিঠ চাপড়ে বলেন, ‘তোমাদের প্রতি ইসরায়েলবাসীর আস্থা আছে। গুড লাক!’
দুবাইয়ে সরকারি মালিকানাধীন একটি সংবাদপত্রকে দেওয়া সাক্ষাত্কারে দুবাইয়ের পুলিশপ্রধান লেফটেন্যান্ট দাহি খালফান বলেছেন, ঘাতকেরা কূটনৈতিক পাসপোর্ট নিয়ে ঢুকেছিল। তবে এর বেশি তিনি কিছু বলতে রাজি হননি। এ খবরে ইসরায়েলের সঙ্গে পশ্চিমা দেশগুলোর কূটনৈতিক উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। ব্রিটেন, আয়ারল্যান্ড, ফ্রান্স ও জার্মানি তাদের দেশে নিযুক্ত ইসরায়েলের রাষ্ট্রদূতকে তলব করে ইতিমধ্যে কৈফিয়ত চেয়েছে। তবে ইসরায়েল বলেছে, তারা এ ধরনের মিশনে কাউকে পাঠায়নি।
গত ২০ জানুয়ারি হামাসের সশস্ত্র উইংয়ের প্রতিষ্ঠাতা মাহমুদ আল মাবুকে দুবাইয়ের একটি হোটেল কক্ষে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়।

কমলগঞ্জে পানের উত্পাদন কমেছে, বেড়ে গেছে দাম by মুজিবুর রহমান

অনাবৃষ্টি, তীব্র শীত ও ঘন কুয়াশার কারণে এবার মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জে পানের উত্পাদন ব্যাপকভাবে কমেছে। এতে পাইকারি ও খুচরা উভয় বাজারে পানের দাম বেড়ে গেছে। বিশেষ করে খুচরা পর্যায়ে বাজারভেদে এখন দুই টাকার পানের খিলি তিন থেকে চার টাকা দরে বিক্রি করছেন দোকানদারেরা।
কমলগঞ্জের শমশেরনগর বাজারের পানের আড়তদার নিধুবন সেন, রঞ্জিত্ পাল, পবিত্র চন্দ্র দে, আক্কল আলী, জামাল মিয়া ও মনোয়ার মিয়া প্রথম আলোকে জানান, একদিকে স্থানীয় পানচাষিরা এখন খুবই কম পরিমাণ পান সরবরাহ করছেন। অন্যদিকে যশোর, বরিশালসহ দেশের বিভিন্ন স্থান থেকেও আসছে কম। এ ছাড়া প্রতিবেশী দেশ ভারত থেকেও পান আমদানি বন্ধ রয়েছে। যে কারণে পানের দাম বেড়েছে।
পানচাষিদের সঙ্গে আলাপকালে জানা যায়, শীতের তীব্রতা, ঘন কুয়াশা ও দীর্ঘদিন ধরে অনাবৃষ্টির কারণে এবার সমতলে উত্পাদিত বাংলা পানের পাশাপাশি পাহাড়ি এলাকার খাসিয়া পানের উত্পাদনও কমেছে।
দোকানদারেরা জানান, এক সপ্তাহ আগেও প্রতি বিড়া (৮০টি) বাংলা পানের দাম ছিল ৫০ থেকে ৬০ টাকা। সরবরাহ কমে যাওয়ায় তা এখন ১৫০ থেকে ১৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
কমলগঞ্জের মাগুরছড়া খাসিয়া পুঞ্জির হেডম্যান ও পানচাষি জিডিসন প্রধান সুচিয়াং কর্ডর জানান, মৌসুমে যেখানে প্রতি কান্তা খাসিয়া (১৪৪টি) পান ২০ থেকে ২৫ টাকায় বিক্রি হতো, তা এখন ১২০ থেকে ১৪০ টাকা।

জয়পুরহাটে কৃষি উপকরণ সহায়তার কার্ড বিতরণ শুরু

জয়পুরহাট জেলায় মাঝারি, প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র কৃষকদের মধ্যে কৃষি উপকরণ সহায়তার কার্ড বিতরণ শুরু করা হয়েছে। এ কার্ডের মাধ্যমে কৃষকেরা সার, ডিজেল, বীজসহ সরকারি বিভিন্ন ভর্তুকি ও কৃষি উপকরণ সহায়তা পাবেন।
সদর উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে গত শনিবার আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এ কার্ড বিতরণ করা হয়। কার্যক্রমটির উদ্বোধন করেন জয়পুরহাটের সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য মাহফুজা মণ্ডল। অনুষ্ঠানে জয়পুরহাট সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) লুত্ফর রহমান সভাপতিত্ব করেন।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন জয়পুরহাট জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত উপপরিচালক মোজাম্মেল হক, সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা এস এম নূরুজ্জামান মণ্ডল, সদর উপজেলার ভাইস চেয়ারম্যান আছমা বেগম, মোহাম্মদাবাদ ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান আতাউর রহমান, কৃষক সোলায়মান আলী, আবদুল জোব্বার ও সাজাহান সিরাজ।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, জয়পুরহাট জেলার বিভিন্ন উপজেলায় মোট এক লাখ ৫৫ হাজার ৩৪৩টি কৃষক পরিবার এই কার্ড পাবে। এর মধ্যে সদরে ৫৪ হাজার ৩৭০টি, পাঁচবিবিতে ৩৮ হাজার ৮৩৬, আক্কেলপুরে ২৩ হাজার ৩০২, কালাইয়ে ২০ হাজার ১৯৫ ও ক্ষেতলালে ১৮ হাজার ৬৪০টি কার্ড।
অনুষ্ঠানে কৃষকদের উদ্দেশে বলা হয়, তাঁদের এই কৃষি উপকরণ সহায়তা কার্ড নিয়ে ব্যাংকগুলোতে দ্রুত হিসাব খুলতে হবে। কারণ তাঁদের সরকার যেসব আর্থিক সাহায্য-সহযোগিতা দেবে, তা ব্যাংক থেকেই তুলতে হবে।

নিলামে ওসিএলের শেয়ারদর নির্ধারণ-প্রক্রিয়া আজ শুরু

প্রথমবারের মতো মূল্য নির্ধারণের বুকবিল্ডিং পদ্ধতি কাজে লাগিয়ে দেশের পুঁজিবাজারে সরাসরি তালিকাভুক্ত হতে যাচ্ছে ওশান কনটেইনার্স লিমিটেড (ওসিএল)। আজ সোমবার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) অনলাইনের মাধ্যমে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণে নিলাম পদ্ধতিতে কোম্পানিটির শেয়ারের মূল্য নির্ধারণ-প্রক্রিয়া শুরু হচ্ছে।
তিন দিন ধরে চলা এ নিলামে অংশগ্রহণকারী বিভিন্ন প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের প্রস্তাবিত দামের ভারিত্ব গড় করে শেয়ারের চূড়ান্ত মূল্য নির্ধারণ হবে। তবে তালিকাভুক্তির দিন শেয়ারের মূল্যের কোনো নির্দিষ্ট সীমা থাকবে না।
এদিকে, ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) এখনো ওসিএলের সরাসরি তালিকাভুক্তির ব্যাপারে কোনো সিদ্ধান্ত দেয়নি। স্টক এক্সচেঞ্জটি এর আগে বেসরকারি খাতের কোনো কোম্পানিকে পুঁজিবাজারে সরাসরি তালিকাভুক্ত না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। এখনো সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসার কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা স্টক এক্সচেঞ্জটির পক্ষ থেকে পাওয়া যায়নি।
ওসিএলের পরিশোধিত মূলধন ২৩ কোটি ৮০ লাখ টাকা, যা ১০ টাকা অভিহিত মূূল্যের দুই কোটি ৩৮ লাখ শেয়ারে বিভক্ত। এর মধ্যে এক কোটি ১৯ লাখ শেয়ার বিক্রি করা হবে। এসব শেয়ারের বেশির ভাগেরই মালিক পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত আরেক কোম্পানি সামিট অ্যালায়েন্স পোর্ট লিমিটেড।
কোম্পানি সূত্র জানায়, বুকবিল্ডিং পদ্ধতির নিয়মানুযায়ী ওসিএলের যে পরিমাণ শেয়ার বিক্রি করা হবে, তার ১০ শতাংশ বরাদ্দ রাখা হয়েছে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের জন্য। সেই হিসাবে নিলাম-প্রক্রিয়ায় মূল্য নির্ধারণের জন্য বরাদ্দ থাকছে ১১ লাখ ৯০ হাজার শেয়ার। আর এক কোটি সাত লাখ ১০ হাজার শেয়ার সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছে বিক্রি করা হবে।
ওসিএলের প্রতিটি শেয়ারের নির্দেশক মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১২১ টাকা। বুকবিল্ডিং পদ্ধতির নিয়মানুযায়ী পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (এসইসি) অনুমোদিত তিন শ্রেণীর ন্যূনতম পাঁচটি প্রতিষ্ঠান এ মূল্য সমর্থন করেছে। প্রতিষ্ঠানগুলো হলো ন্যাশনাল হাউজিং ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট, ইস্টল্যান্ড ইন্স্যুরেন্স, কন্টিনেন্টাল ইন্স্যুরেন্স, প্ল্যাটিনাম সিকিউরিটিজ ও ন্যাশনাল সিকিউরিটিজ অ্যান্ড কনসালট্যান্টস।
চূড়ান্ত নিলামে অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে এ নির্দেশক মূল্যের ২০ শতাংশের বেশি বা কম সীমার মধ্যে থেকেই দর প্রস্তাব করতে হবে। প্রস্তাবিত এ দরের সীমা হবে সর্বনিম্ন ৯৮ থেকে সর্বোচ্চ ১৪৫ টাকা। এ সীমার মধ্যে প্রস্তাবিত বিভিন্ন দামকে ভারিত্ব গড় করা হবে। এরপর প্রস্তাবিত দামের সর্বোচ্চ ক্রমানুসারে শেয়ার বরাদ্দ করা হবে এবং যেখানে এসে নিলাম-প্রক্রিয়ার জন্য বরাদ্দকৃত সব শেয়ার শেষ হয়ে যাবে, সেটিই হবে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের জন্য প্রস্তাবিত মূল্য।
এ প্রক্রিয়ায় প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা যে শেয়ার বরাদ্দ পাবে তা তালিকাভুক্তির ১৫ দিন পর্যন্ত বিক্রি বা হস্তান্তর করা যাবে না।
এসওসিএলে ইস্যু ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে রয়েছে আইসিবি ক্যাপিটাল ম্যানেজমেন্ট লিমিটেড।

ঢাকা ট্রাভেল মার্টের প্রধান সহযোগী হলো বাংলাদেশ বিমান

বাংলাদেশ বিমান ঢাকা ট্রাভেল মার্ট (ডিটিএম) ২০১০ শীর্ষক তিন দিনব্যাপী পর্যটন মেলার প্রধান সহযোগী ও প্রাতিষ্ঠানিক যাত্রী বহনকারী সংস্থা হয়েছে।
এ ব্যাপারে মেলার প্রধান আয়োজক ভ্রমণবিষয়ক পাক্ষিক দ্য বাংলাদেশ মনিটরের সঙ্গে একটি চুক্তি হয়েছে বাংলাদেশ বিমানের। বাংলাদেশ মনিটরের মহাব্যবস্থাপক আলমগীর হায়দার এবং বাংলাদেশ বিমানের বিপণন মহাব্যবস্থাপক শফিকুর রহমান নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে এ চুক্তিতে সই করেন।
আগামী ১১ থেকে ১৩ মার্চ ঢাকা শেরাটন হোটেলে এ পর্যটন মেলা অনুষ্ঠিত হবে। এতে ইভেন্ট ম্যানেজারের দায়িত্ব পালন করবে ট্রিউন এক্সিবিশন অ্যান্ড ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট সার্ভিসেস (টিমস)।
আগের বছরগুলোর মতো এবারের মেলায়ও সরকারি-বেসরকারি ও আন্তর্জাতিক বিমান সংস্থাসমূহ, পর্যটন সংস্থা, হোটেল ও রিসোর্টস, ট্যুর অপারেটরস, ট্রাভেল এজেন্টস এবং পর্যটনশিল্পের সঙ্গে সম্পৃক্ত প্রমোদ ও বিনোদনকেন্দ্রসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান অংশ নেবে।
শফিকুর রহমান এ মেলাকে বাংলাদেশ বিমানের নতুন লোগো ও ব্র্যান্ডিং পরিচিতির জন্য একটি অত্যন্ত কার্যকর ব্যবস্থা বলে উল্লেখ করেন।
আলমগীর হায়দার জানান, মেলায় যোগদানকারী বিদেশিদের বাংলাদেশ বিমান ভাড়ার ওপর ৫০ শতাংশ ছাড় দেবে। তিনি ২০০২ সালের মেলার সূচনালগ্ন থেকে এর প্রধানতম সহযোগী হওয়ায় বাংলাদেশ বিমানের কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

চিনির ডিও বেশি দিন ধরে রাখছেন ব্যবসায়ীরা

চিনির মূল্য নিয়ন্ত্রণে চার মাস আগে নেওয়া যৌথ সিদ্ধান্ত চিনি পরিশোধনকারী মিলমালিকেরা মানছেন না।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, শিল্প মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ শিল্প ও বণিক সমিতি ফেডারেশন (এফবিসিসিআই), চিনি ও খাদ্যশিল্প সংস্থা, আমদানিকারক ও উত্পাদকদের যৌথ সভায় বলা হয়েছিল, চিনির দর বাড়ার অন্যতম কারণ সরবরাহ আদেশ (ডিও) পদ্ধতির অপব্যবহার। সভাটি অনুষ্ঠিত হয় অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহে।
চিনির মূল্য যৌক্তিক পর্যায়ে রাখতে কয়েকটি বিষয় পরিপালন করতে হবে বলে সভায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে, মিল থেকে দেওয়া ডিওর মেয়াদ এক মাসের বেশি সময় পর্যন্ত ধরে না রাখা এবং প্রতি ডিওতে বাধ্যতামূলকভাবে চিনির মূল্য উল্লেখ করা।
কিন্তু সম্প্রতি দ্রব্যমূল্যসংক্রান্ত আন্তমন্ত্রণালয় তদারক দলের বৈঠকে এ ব্যাপারে প্রশ্ন ওঠে। কমিটির আহ্বায়ক বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মোস্তফা মহিউদ্দিনের সভাপতিত্বে এতে শিল্প মন্ত্রণালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি), বিএসটিআইসহ কমিটির অন্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
সূত্র জানায়, চিনি পরিশোধনকারী মিলমালিকেরা ডিওর কোনো তথ্য দিচ্ছেন না বলে বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। অর্থাত্ চার মাস আগে নেওয়া সিদ্ধান্ত অকার্যকর হয়ে পড়েছে। দর বাড়ানোর কৌশল হিসেবে চিনি মিলমালিক ও ব্যবসায়ীরা এ পথ বেছে নিয়েছেন।
রাজধানীর মৌলভীবাজার ও চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জে এসব ডিও কেনাবেচা হয়। একেকটি ডিও বহু হাত বদল হয়ে শেষ মুহূর্তে তা পাইকারি বাজার হয়ে খুচরা বাজার পর্যন্ত আসে। এ কারণে চিনির দর বেড়ে যায়।
বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, ডিওতে চিনির মূল্য ও তারিখ কিছুদিন উল্লেখ করা হলেও এখন আর তা করা হচ্ছে না। এ ছাড়া তদারক দলের সদস্যরা নিয়মিত বৈঠকে আসেন না বলেও বৈঠকে অভিযোগ তোলা হয়।
যোগাযোগ করলে দ্রব্যমূল্যসংক্রান্ত আন্তমন্ত্রণালয় তদারক দলের আহ্বায়ক মোস্তফা মহিউদ্দিন প্রথম আলোকে বলেন, ডিওর ব্যাপারে সিদ্ধান্ত লঙ্ঘনে শিগগিরই পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
তদারক দলকেও শক্তিশালী করা হবে। এ জন্য ট্যারিফ কমিশনের দুজন ও টিসিবির একজনকে দলে অন্তর্ভুক্ত করার কথা চিন্তা করা হচ্ছে।
চিনি পরিশোধনকারী মিলমালিক সমিতির মহাসচিব গোলাম মোস্তফা প্রথম আলোকে বলেন, শুধু রমজান মাসের জন্য এটা করা হয়েছিল। তার পরও সব মিলমালিককে বলা হয়েছে, তাঁরা যাতে বিষয়টি পরিপালন করেন।

ব্যাংক ঋণ বিতরণে কড়াকড়ি আরোপ করেছে চীন

চীন সরকার ব্যাংক ঋণ বিতরণ ও ঋণ ঝুঁকি ব্যবস্থাপনায় নতুনভাবে কড়াকড়ি আরোপ করেছে। গতকাল রোববার এ নির্দেশনা দেওয়া হয়।
এ নির্দেশনা অনুসারে, ঋণ গ্রহীতার প্রকৃত চাহিদা বিচক্ষণভাবে নির্ণয় করার পর ব্যাংককে অবশ্যই একটি কোটা বা পরিমাণ নির্ধারণ করতে হবে। এবং এর বেশি ঋণ প্রদান করা যাবে না।
বিতরণ করার পর ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা উন্নততর করতে ঋণ নিয়মিত তদারক করারও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
আর্থিক খাতে সার্বিক ঝুঁকির মাত্রা কমিয়ে আনার স্বার্থে এ কড়াকড়ি আরোপ হয়েছে বলে বিশ্লেষকেরা মনে করছেন।
ব্যক্তি ঋণ গ্রহীতাদের সুনির্দিষ্ট কিছু ঘোষণা দিতে হবে। তা না হলে, তাঁরা ঋণ পাবেন না।
শুধু তাই নয়, ব্যাংকের প্রতিনিধির সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে সাক্ষাত্ করতে হবে ঋণ গ্রহীতাকে।
চীন সরকার চলতি ২০১০ সালে ঋণ বিতরণ সাত লাখ ৫০ হাজার ইউয়ানের (এক লাখ ১০ হাজার কোটি ডলার) মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখার ব্যাপারে আগ্রহী।
সে কারণেই ব্যাংক ঋণ বিতরণে নানা ধরনের কড়াকড়ি আরোপ করা হচ্ছে।

আকুতে বাংলাদেশের বাণিজ্য কমেছে ১৮%

এশিয়ান ক্লিয়ারিং ইউনিয়নের (আকু) বার্ষিক বাণিজ্য ২০০৯ সালে ব্যাপকভাবে কমে গেছে। বিশ্বমন্দার জের ধরে সদস্য দেশগুলোর পরস্পরের মধ্যে আমদানি ও রপ্তানি হ্রাস পাওয়ায় এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
বাংলাদেশসহ আটটি দেশের অলিখিত বাণিজ্য জোট হিসেবে পরিচিত আকুর বার্ষিক বাণিজ্য ২০০৮ সালের তুলনায় ২০০৯ সালে প্রায় ৩৩ শতাংশ কমে গেছে।
গত বছর আকুর মোট লেনদেন দাঁড়িয়েছে দুই হাজার ৮১৪ কোটি ডলারের কিছু বেশি, যেখানে ২০০৮ সালে এর পরিমাণ ছিল চার হাজার ১৯৩ কোটি ডলার, যা আকুর পত্তনের পর সর্বোচ্চ।
আলোচ্য সময়ে আকুতে বাংলাদেশের বাণিজ্য ২০০৮ সালের তুলনায় ১৮ শতাংশ কমে গেছে। এর মধ্যে আকুর সদস্য দেশগুলো থেকে আমদানি যতখানি কমেছে, তার চেয়ে অনেক বেশি কমেছে রপ্তানি। ফলে আকুতে বাংলাদেশের বাণিজ্য ঘাটতিও কমেছে।
ইরানের রাজধানী তেহরানে অবস্থিত আকুর সচিবালয়ের ডিসেম্বর মাসের প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।
বাংলাদেশ, ভুটান, ভারত, ইরান, মিয়ানমার, নেপাল, পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কা—এই আটটি দেশ বর্তমানে আকুর সদস্য। অবশ্য এ বছর থেকে মালদ্বীপ আকুতে যুক্ত হয়েছে।
সদস্য দেশগুলোর মধ্যে আন্তর্জাতিক লেনদেন সহজ করা ও পারস্পরিক বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর চাপ কমানোর জন্য আকু গঠন করা হয় ১৯৭৫ সালে। একে পরোক্ষভাবে একটি বাণিজ্য জোট হিসেবেও বিবেচনা করা হয়। আকুতে মার্কিন ডলারে পাশাপাশি ইউরোর মাধ্যমেও লেনদেন নিষ্পন্ন করার সুযোগ রয়েছে।
সদস্য দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো এই লেনদেনের প্রক্রিয়াটি সমন্বয় করে থাকে। আর এই লেনদেনের হিসাবটি আকুতে ঋণ গ্রহণ ও ঋণ প্রদানের আকারে সম্পন্ন হয়। যারা ঋণ গ্রহণ করে, তাদের একটি নির্দিষ্ট হারে সুদ প্রদান করতে হয়। ঋণ গ্রহণকে আমদানি ও ঋণ প্রদানকে রপ্তানির সূচক হিসেবে গণ্য করা হয়।
আকুর প্রতিবেদন থেকে দেখা যায় যে ২০০৯ সালে বাংলাদেশ আকুর সদস্য দেশগুলোয় ১৩ কোটি ৭৫ লাখ ডলারের পণ্য ও সেবা রপ্তানি করেছে, যা ২০০৮ সালে ছিল প্রায় ১৫ কোটি ডলার। ফলে রপ্তানি কমেছে আট শতাংশ।
বিপরীতে ২০০৯ সালে আকুর অন্য দেশগুলো থেকে সমন্বিতভাবে বাংলাদেশ প্রায় ৩০২ কোটি ডলারের পণ্য-সেবা আমদানি করেছে। তার আগের বছর এর পরিমাণ ছিল প্রায় ৩৭০ কোটি ডলারের ওপর। অর্থাত্ আমদানি কমেছে প্রায় সাড়ে ১৮ শতাংশ।
পরিসংখ্যান পর্যালোচনায় আরও দেখা যায় যে গত বছর আকুতে বাংলাদেশের বাণিজ্য ঘাটতি হয়েছে ২৮৮ কেটি ডলার, যা ২০০৮ সালে ছিল ৩৫৬ কোটি ডলার।
সার্বিকভাবে ২০০৮ সালের জানুয়ারি-ডিসেম্বর সময়কালে আকুতে বাংলাদেশের মোট বাণিজ্যের অর্থমূল্য দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩১৬ কোটি ৩৫ লাখ ডলার, যেখানে ২০০৮ সালে এর মূল্যমান ছিল ৩৮৬ কোটি ডলার।
অবশ্য এর মধ্যে সুদ বাবদ লেনদেনও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। কারণ, আকুর আওতায় একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য সদস্য দেশগুলোকে ঋণ প্রদান করা হয়। পরে তা নিষ্পত্তি করা হয়। যারা ঋণ নেয়, তাদের সুদ প্রদান করতে হয়।
সদস্য দেশগুলোর প্রতিটি দেশই ঋণ নেয়। আবার ঋণ প্রদানও করে। ঋণ প্রদানের চেয়ে ঋণ গ্রহণ বেশি হলে সুদ দিতে হয়। উল্টোটা হলে সুদ পাওয়া যায়।
ডিসেম্বর শেষে এসে আকুতে সবচেয়ে বেশি সুদ গুনেছে ভারত, যার পরিমাণ দুই লাখ ৭২ হাজার ৫১৫ ডলার। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে বাংলাদেশ, যাকে ৪৩ হাজার ডলার সুদ গুনতে হয়েছে। বিপরীতে সবচেয়ে বেশি সুদ যোগ হয়েছে ইরানের হিসাবে, যার পরিমাণ তিন লাখ ৫৭ হাজার ১৪৬ ডলার।
আকুর পরিসংখ্যান থেকে আরও দেখা যায় যে ২০০৯ সালে ভুটান বাদে অন্য সব সদস্য দেশের লেনদেন আকুতে কমে গেছে। আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় আকুতে ভুটানের সার্বিক লেনদেন বেড়েছে ৯ দশমিক ১৬ শতাংশ।
আকুতে গত বছর সবচেয়ে বেশি লেনদেন করেছে ভারত, যার পরিমাণ এক হাজার ২৩৪ কোটি ৩১ লাখ ডলারের কিছু বেশি। তবে এই লেনদেন ২০০৮ সালের তুলনায় প্রায় সাড়ে ৩৪ শতাংশ কম। ২০০৮ সালে আমদানি-রপ্তানি ও সুদ মিলিয়ে ভারতের বাণিজ্যমূল্য দাঁড়িয়েছে এক হাজার ৮৭৮ কোটি ডলার।
আকুতে সার্বিক লেনদেনে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে ইরান। গত বছর দেশটি আকুতে ৮৮৪ কোটি ডলারের কিছু বেশি লেনদেন করেছে, যা ২০০৮ সালে ছিল প্রায় এক হাজার ৩৬৪ কোটি ডলার। ফলে এক বছরের ব্যবধানে আকুতে ইরানের সার্বিক লেনদেন কমেছে প্রায় ৩৪ শতাংশ।

সেমিফাইনালে সেই তাজিকিস্তান

বাংলাদেশের কাছে প্রথম ম্যাচে হারা তাজিকিস্তানই উঠে গেছে সেমিফাইনালে। আগামী পরশু তুর্কমেনিস্তানের বিপক্ষে খেলবে তারা। একই দিনে ফাইনালে ওঠার জন্য লড়বে মিয়ানমার ও উত্তর কোরিয়া।
কাল গ্রুপ পর্যায়ে তুর্কমেনিস্তান ১-০ গোলে হারিয়েছে কিরগিজস্তানকে। অন্য ম্যাচে ভারতকে ৩-০ গোলে হারিয়েছে বিশ্বকাপের টিকিট পাওয়া উত্তর কোরিয়া। কিরগিজদের গোলদাতা নুরমিরাডো। কোরিয়ার রায়াং ইয়াং গি করেছেন ২টি গোল, অন্যটি চো চোলমানের।

অস্ট্রেলিয়া-জুজু নেই স্টাইরিসের

আগের দিন শেন বন্ড বলেছিলেন, অস্ট্রেলিয়া সিরিজটা হতে যাচ্ছে নিউজিল্যান্ডের জন্য বড় এক পরীক্ষা। কিন্তু কাল বন্ড-সতীর্থ স্কট স্টাইরিস বললেন, অস্ট্রেলিয়াকে ভয় পাওয়ার কিছু নেই। সানডে স্টার টাইমসকে এই অভিজ্ঞ অলরাউন্ডার বলেছেন, ‘১০ বছর আগে আমি যখন অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে খেলা শুরু করলাম, তখনই বুঝতে পেরেছিলাম, ওদের হারাতে হলে আগে আত্মবিশ্বাসটা থাকতে হবে। ছোট থেকেই আমরা অস্ট্রেলিয়ানদের টিভিতে দেখতে দেখতে ভাবি ওরা বুঝি সুপারম্যান। আসলে কিন্তু তা নয়। ওরা দারুণ সব ক্রিকেটার, কিন্তু আমরাও খারাপ নই। এই বিশ্বাসটা রাখতে হবে যে আমরা ওদের চেয়ে খারাপ নই।’
টেস্ট থেকে অবসর নেওয়া এই অলরাউন্ডার সর্বশেষ ওয়ানডে খেলেছেন পাকিস্তানের বিপক্ষে দুবাইয়ে, গত নভেম্বরে। কিন্তু তিন ম্যাচে ২৮ রান করার পর বাদ পড়েছিলেন বাংলাদেশ সিরিজে। ঘরোয়া টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে ১৩৩ স্ট্রাইক রেটে ২৭৪ রান এবং ২০টি উইকেট নিয়ে আবার ফিরেছেন। আগামী শুক্রবার টি-টোয়েন্টি দিয়ে সফর শুরু করবে অস্ট্রেলিয়া। দুটো টি-টোয়েন্টি, পাঁচটি ওয়ানডে আর দুটো টেস্ট খেলবে তারা।

টি-টোয়েন্টিতেও একই ছবি

ব্যাট হাতে বিধ্বংসী জুটি গড়লেন অস্ট্রেলিয়ার দুই উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান, বল হাতে জ্বলে উঠলেন নতুন বলের দুই বোলার, ফলাফল—আরও একটি সহজ জয় অস্ট্রেলিয়ার। চারজনের একজন শেন ওয়াটসন খেলেন তিন সংস্করণেই, বাকি তিনজনই টি-টোয়েন্টি স্পেশালিস্ট। ডেভিড ওয়ার্নার, শন টেইট ও ডার্ক ন্যানেস আরও একবার প্রমাণ করলেন, কেন টি-টোয়েন্টি এলেই ডাক পড়ে তাঁদের।
শুরুর চমক দিয়েছিলেন অবশ্য ক্রিস গেইল, নতুন বল তুলে দেন ঠেকা কাজ চালানো অফ স্পিনার দিওনারায়ণ ও বাঁহাতি স্পিনার নিকিতা মিলারের হাতে। ধাতস্থ হতে সময় নেন দুই অস্ট্রেলিয়ান ওপেনারও, প্রথম তিন ওভারে তাই রান ১৫। কিন্তু পরের চার ওভারেই ওয়ার্নার-ওয়াটসন তোলেন ৫৯! ১৯ বলে এক চার ও চার ছয়ে ৩৭ রান করা ওয়াটসনকে আউট করে ৪৭ বলে ৮৩ রানের উদ্বোধনী জুটি ভাঙেন গেইল। পরের দু ওভারেই আউট ওয়ার্নার (৩২ বলে ৪৯) ও ডেভিড হাসি (১)। তিন ওভারে তিন উইকেট হারানোর প্রভাবটা পড়ে অস্ট্রেলিয়ার রান রেটেও, ১০ ওভারে ৯৭ রান তোলা অস্ট্রেলিয়ার রান ১৭ ওভার শেষে ১৩৫। এখান থেকে ১৭৯ পর্যন্ত যেতে পারে তারা হাডিনের ১৬ বলে ৩৭ রানের ঝড়ে।
ম্যাচের পরিণতি স্পষ্ট হয়ে যায় টেইটের প্রথম ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারেই। গেইলকে বোল্ড করার পরের বলে আউট দিওনারায়ণও। ৫৩ রানে ৬ উইকেট হারানো ক্যারিবিয়ানদের বিব্রতকর অবস্থা থেকে বাঁচায় সপ্তম উইকেটে দিনেশ রামদিন ও রুনাকো মর্টনের ৭৩ রানের জুটি। প্রথম চার উইকেটের তিনটিকেই শিকার করে টানা দ্বিতীয় ম্যাচে ম্যাচ-সেরা টেইট, পাকিস্তানের বিপক্ষে আগের ম্যাচে এই গতিতারকা ৩ উইকেট পেয়েছিলেন ১৪ রানে। ৩ উইকেট পেয়েছেন নতুন বলে টেইটের সঙ্গী ন্যানেসও। শেষ টি-টোয়েন্টি ম্যাচটি আগামীকাল সিডনিতে। ওয়েবসাইট।
সংক্ষিপ্ত স্কোর: অস্ট্রেলিয়া: ২০ ওভারে ১৭৯/৮ (ওয়ার্নার ৪৯, হাডিন ৩৭*, ওয়াটসন ৩৭। গেইল ২/১৫, মিলার ২/২০, স্মিথ ২/৩৮, পোলার্ড ১/২৩, স্যামি ১/৩৬)। ওয়েস্ট ইন্ডিজ: ২০ ওভারে ১৪১/৮ (রামদিন ৪৪, মর্টন ৪০; ন্যানেস ৩/২১, টেইট ৩/৩০, জনসন ২/২৮)।

শেষ ম্যাচটাই শেষ করল সব by মাসুদ আলম

১৯৯১ সাফ গেমসের ফাইনালে হার। ২০০৬ সাফ গেমসের সেমিফাইনালের আগেই বিদায়। ২০০৮ সাফ ফুটবলেও একই ফল। দু বছর পর সেই কলম্বো আবারও হতাশ করল বাংলাদেশকে। এবার এএফসি চ্যালেঞ্জ কাপের সেমিফাইনালে ওঠা হলো না।
প্রথম ম্যাচে তাজিকিস্তানকে ২-১ গোলে হারিয়ে দুর্দান্ত শুরু, পরের ম্যাচে ভালো খেলেও মিয়ানমারের কাছে ১-২ গোরে হার। শেষ ম্যাচে শ্রীলঙ্কাকে ৪-৫ গোলে হারিয়ে চ্যালেঞ্জ কাপের দরজাটা খোলার সুযোগ ছিল। কিন্তু উল্টো ওই ম্যাচে ০-৩ গোলে হার। শুরুর সঙ্গে শেষের এমন অমিল!
আজ সকালে বাংলাদেশ দল পৌঁছে যাচ্ছে ঢাকায়। দেশে গিয়ে হয়তো শেষ ম্যাচটাকে ভুলে যেতে চাইবে তারা, কিন্তু এই পরাজয় ভোলার মতো নয়!
কাল সকালে বাংলাদেশ দলের হোটেলে গিয়ে জানা গেল, অমর একুশে ফেব্রুয়ারি পালন উপলক্ষে গোটা দলকে নিয়ে যাওয়া হয়েছে কলম্বোয় বাংলাদেশ হাইকমিশনে। সেখানে আয়োজিত অনুষ্ঠানে গানও গেয়েছেন বাংলাদেশ দলের সহ-অধিনায়ক ডিফেন্ডার ওয়ালি ফয়সাল, যার ভুলে শ্রীলঙ্কার কাছে বাংলাদেশ খেয়েছে প্রথম গোলটা।
পরাজয় সব সময়ই বেদনার। খেলোয়াড়দের মুখের হাসি কেড়ে নেয়। এর সঙ্গে বাংলাদেশের ফুটবলাররা এমনই অভ্যস্ত হয়ে পড়েছেন যে ‘এ আর নতুন কী’ বলেই মনে হয় তাঁদের কাছে। তবে এই সফরটটাকে তারা সেভাবে না দেখে বরং এটাই বলছেন, শেষ ম্যাচ একটা দুর্ঘটনা। এটা হতেই পারে। ক্লান্তির কারণেই ম্যাচটা বাজে গেছে!
আমিনুল লাল কার্ড দেখার পর পোস্ট আগলেছেন যিনি, সেই গোলরক্ষক বিপ্লব সবকিছু পেছনে রেখে সফরটাকে ইতিবাচক হিসেবেই দেখতে চান, ‘অনেক প্রাপ্তি আছে এই সফরে। শেষ ম্যাচটা খারাপ হয়ে গেছে বলে গোটা সফরের অর্জনটাকে তো খাটো করে দেখা যায় না। আমাদের ফুটবল ভালোর দিকে যাচ্ছে। আমরা ভালো ফুটবল খেলেছি প্রথম দুই ম্যাচে।’
‘ভালো ফুটবল’ মানে ‘প্রেসিং ফুটবল’। প্রতিপক্ষের সীমানায় তাদের খেলতে না দেওয়ার এই কৌশলকেই সফরের বড় অর্জন মনে করেন ভারপ্রাপ্ত কোচ সাইফুল বারী, ‘আগে এভাবে প্রেসিং ফুটবল খেলত না বাংলাদেশ। এবার খেলেছে এবং খেলায় অনেক উন্নতি হয়েছে। শেষ ম্যাচটা বাদ দিয়ে আর সবই ঠিক ছিল এখানে।’
বাফুফে সভাপতি কাজী সালাউদ্দিন শ্রীলঙ্কা ম্যাচের আগ পর্যন্ত খুশিই ছিলেন, ‘দল ভালো খেলছে।’ কিন্তু শেষ ম্যাচটা তাঁকে এমনই হতাশ করেছে যে শেষ দিকে মাঠ থেকেই চলে যান। কাল দুপুরে হোটেল কক্ষে বসে বললেন, ‘বিশ্রী ফুটবল খেলেছে দল।’
‘বিশ্রী ফুটবল’ খেলার কারণটাও বলে দিলেন বাফুফে সভাপতি, ‘ম্যাচের আগে গরমের মধ্যে ৪০-৪৫ মিনিট ওয়ার্মআপ করাটা ঠিক হয়নি। ওখানেই দলের শক্তি শেষ।’
তবে এক খেলোয়াড় জানালেন, জোরান জর্জেভিচ এভাবেই অনুশীলন করাতেন। তাঁর কোনো কিছুই বদলানো হয়নি। এমনকি স্ট্রাইকার নাসিরউদ্দিনকে জর্জেভিচ স্টপার হিসেবে খেলাতে চেয়েছেন, ভারপ্রাপ্ত কোচও সেটাই করলেন!
কর্মকর্তা শওকত আলী খানের মন্তব্য, ‘খেলোয়াড়েরা দায়বদ্ধ ছিল না।’ ম্যানেজার হাসানুজ্জামান খান তো কথাই বললেন না। অতি শোকে ঘুমিয়েই কাটিয়েছেন। হতাশ বাদল রায়ের আত্মপক্ষ সমর্থন, ‘আগে তো এটুকুও খেলতে পারত না!’
পরশুর ওই হারের পর শ্রীলঙ্কান ফুটবলের অধীশ্বর মনিলাল ফার্নান্ডো বাংলাদেশ দলের কর্মকর্তাদের কাছে বলেছেন, শ্রীলঙ্কার এমন জয়ে তারাও অবাক। বাংলাদেশ বেশি চাপ নিয়ে ফেলেছে এবং সে কারণেই এভাবে হেরে যেতে হলো। কথাটা ভুল নয়, বাংলাদেশ আসলেই চাপ নিয়ে ফেলেছিল বেশি। তার ওপর ছিল অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাস, ‘শ্রীলঙ্কা তো দাঁড়াতেই পারবে না আমাদের সামনে!’
এত কিছুর পরও বাংলাদেশ শিবির থেকে বলা হলো, শ্রীলঙ্কা কোনো দলই না! নিজেদের খেলাটা খেলতে পারলে ওদের বড় ব্যবধানেই হারানো যেত। কাল সারা দিন বাংলাদেশ দলে এসব কথাবার্তাই আলোচিত হলো বেশি।
সালাউদ্দিন এক ফাঁকে দুঃখ প্রকাশ করলেন, ‘এই ম্যাচটা ছিল বাংলাদেশের ফুটবল ইতিহাসে অন্যতম বড় একটা ম্যাচ। আর তাতে কি না দল খেলল ছন্নছাড়া ফুটবল।’ তাঁর ধারণা, সেমিফাইনালে উঠলে কোনো টুর্নামেন্ট বাংলাদেশ আয়োজন করতে চাইলে এএফসি ‘না’ করত না। এখন কোন মুখে বড় টুর্নামেন্ট চাইবেন!
এসবই হেরে যাওয়া গল্পের পাণ্ডুলিপি। যা মুছে ফেলে সামনে এগোনোর কথা বলেছেন ভারপ্রাপ্ত কোচ। আগামী অক্টোবরে বিশ্বকাপ বাছাইপর্ব। তার আগে এপ্রিল মাসেই ২০১২ এএফসি চ্যালেঞ্জ কাপের বাছাইপর্ব হতে পারে। এখন বাংলাদেশ দল নিয়ে নতুন কী পরিকল্পনা, সেই প্রশ্নটি ঘুরেফিরে চলে আসছেই।
সালাউদ্দিন জানালেন, দক্ষিণ আফ্রিকার সাবেক ব্রিটিশ কোচের সঙ্গে তাঁর প্রাথমিক কথা হয়েছে। আগামীতে এটা নিয়ে এগোতে পারেন। জোরান জর্জেভিচ ফিরে আসার আকুতি জানালেও তাঁর অধ্যায় শেষ। তবে চ্যালেঞ্জ কাপের বাছাইপর্বে খেলতে হলে কোচ তো এখনই দরকার। সালাউদ্দিন এ বিষয়ে স্পষ্ট কিছু বললেন না। শ্রীলঙ্কার কাছে হারের পর তিনি একটু হলেও উত্সাহ হারিয়ে ফেলেছেন!

মরিনহোর চেয়েও ভালো..

এমনিতে দুজনের কোনো তুলনাই চলে না। হোসে মরিনহো নামটি যতটা পরিচিত, ততটাই অপরিচিত ওয়াল্টার মাজ্জারি। অতীত সাফল্য, রেকর্ডের কথা না হয় বাদই দেওয়া গেল, এই মৌসুমেও এখনো পর্যন্ত দুজনের পারফরম্যান্সে অনেক ব্যবধান। দুইয়ে থাকা দলের চেয়ে ৮ পয়েন্ট এগিয়ে শীর্ষে মরিনহোর ইন্টার, মাজ্জারির নাপোলি সেখানে চারে। কিন্তু মাজ্জারির দাবি, কোচ হিসেবে মরিনহোর চেয়েও অনেক ভালো তিনি। নিজের দাবির সপক্ষে যুক্তিও আছে ভদ্রলোকের, ‘দু দলের খেলোয়াড়দের তুলনা করুন, এমন ফুটবলারদের নিয়েও আমরা চারে, আমার সাফল্যই তো বেশি।’ স্পেশাল ওয়ানের ওপরে তাহলে ভেরি ভেরি স্পেশাল ওয়ানও আছেন!

পাকিস্তানকে ভিভিআইপি নিরাপত্তা

প্রতিবেশী ভারতের সঙ্গে সম্পর্কটা এখনো তেতো হয়েই আছে। তার পরও এ মাসের শেষে ভারতে শুরু হতে যাওয়া হকি বিশ্বকাপে দল পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে পাকিস্তান। হকি বিশ্বকাপের সবচেয়ে সফল দল, চারবারের চ্যাম্পিয়ন দেশটি আজ ভারতের উদ্দেশে রওনা দেবে। ‘শান্তির বারতা’ নিয়েই পাকিস্তানের হকি দল ভারতে যাবে বলে জানিয়েছেন পাকিস্তান হকি ফেডারেশনের (পিএইচএফ) কর্মকর্তারা।
২৮ ফেব্রুয়ারি ভারতে দ্বিতীয়বারের মতো বসতে যাচ্ছে হকি বিশ্বকাপের আসর। সর্বশেষ ১৯৮২ বিশ্বকাপটা হয়েছিল ভারতে। সেবার পাকিস্তানই চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল। দ্বাদশ বিশ্বকাপের এই আসরে অংশ নিচ্ছে ১২টি দল। তাতে পাকিস্তান খেলবে কি না, এ নিয়ে একটা সংশয় ছিল। ভারতের নিরাপত্তা পরিস্থিতি খতিয়ে দেখার পর দিল্লির পাকিস্তান হাইকমিশন দিয়েছে সবুজ সংকেত। এর পরই পাকিস্তান আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়ে দিয়েছে, বিশ্বকাপে খেলতে যাবে তারা।
পিএইচএফের সচিব আসিফ বাজওয়া জানিয়েছেন, ‘ভারত আশ্বস্ত করেছে, আমাদের দলকে ভিভিআইপি নিরাপত্তা দেওয়া হবে, যেটি সাধারণত দেওয়া হয় কোনো দেশের সফররত রাষ্ট্রপ্রধানকে। দিল্লি পুলিশের প্রধান নিজে ব্যক্তিগতভাবে আমাদের আশ্বস্ত করেছেন।’

বিশ্বকাপ নিয়ে সংশয় নেই

বিভিন্ন খেলায় সন্ত্রাসী সংগঠনের হামলার হুমকিতে এমনিতেই কিছু দিন ধরে আলোচনায় ভারতের নিরাপত্তা ইস্যু। ক্রিকেট বিশ্বকাপের বাকি নেই এক বছরও, আর প্রধান আয়োজক ভারতেই কি না নিরাপত্তা সমস্যা! এর মধ্যেই গতকাল ক্রিকেট নিউজিল্যান্ডের প্রধান নির্বাহী জাস্টিন ভন দুম করে বলে বসলেন, ‘বিকল্প ভেন্যু হিসেবে প্রস্তুত আছে অস্ট্রেলিয়া-নিউজিল্যান্ড।’ দুইয়ে দুইয়ে চার মিলিয়ে এর মাধ্যমে কি এই সংকেতটাই দেওয়া হলো, উপমহাদেশে বিশ্বকাপ আয়োজন অনিশ্চিত?
না, উপমহাদেশে বিশ্বকাপ আয়োজন নিয়ে অনিশ্চয়তা নেই একটুও। ভনের বক্তব্য আসলে চলমান প্রক্রিয়ারই অংশ। আইসিসির সবগুলো ইভেন্টেই এখন মূল ভেন্যুর পাশাপাশি বিকল্প ভেন্যু প্রস্তুত রাখা হয়। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সিনিয়র সহসভাপতি এবং ২০১১ বিশ্বকাপ কেন্দ্রীয় আয়োজক কমিটির আহবায়ক মাহবুবুল আনামও বললেন এমনটাই, ‘উপমহাদেশে বিশ্বকাপ আয়োজনে কোনো সমস্যা নেই। আইসিসি কর্মকর্তারা বরং নিরাপত্তাব্যবস্থাসহ সমস্ত অগ্রগতিতে সন্তুষ্টই। ভন নতুন কিছু বলেননি। সব বৈশ্বিক ইভেন্টেই এখন মূল আয়োজকের সঙ্গে সঙ্গে বিকল্প আয়োজক ঠিক করে রাখে আইসিসি। গত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপেই যেমন ইংল্যান্ডের বিকল্প হিসেবে রাখা হয়েছিল শ্রীলঙ্কাকে।’
ঝামেলাটা পাকিয়েছে ব্রিগেড ৩১৩। গত ১৩ ফেব্রুয়ারি পুনেতে এই সন্ত্রাসী সংগঠনের হামলায় মারা গেছে ১৫ জন। এ বছরই ভারতে হকি বিশ্বকাপ, আইপিএল, কমনওয়েলথ গেমসেও হামলা চালানোর হুমকি দিয়েছে সংগঠনটি। আইপিএল দলগুলোর অস্ট্রেলীয় ক্রিকেটারদের আবার হুমকি দিয়েছিল শিবসেনা। সব মিলিয়ে ভারতের নিরাপত্তাব্যবস্থার দিকে দৃষ্টি এখন পুরো ক্রীড়াবিশ্বের। জয়পুরেই গতকালের ওয়ানডে ম্যাচের নিরাপত্তাব্যবস্থার দিকে নাকি কড়া নজর ছিল আইসিসির। তবে কোনো ইভেন্টেই বাতিল হয়নি বা ভেন্যু সরিয়ে নেওয়া হয়নি। তার মানে ভারতের নিরাপত্তাব্যবস্থাও সন্তোষজনকই।
বিকল্প ভেন্যুর কথা বলেছেন, কিন্তু বাংলাদেশ, ভারত ও শ্রীলঙ্কায় অনুষ্ঠেয় বিশ্বকাপ নিয়ে খুব একটা সংশয় নেই স্বয়ং ভনেরই। নিউজিল্যান্ডের স্টাফ পত্রিকাকে বিকল্প ভেন্যুর কথা বলার সময় এটাও বলেছেন, ভারতে না আসার কথা ভাবতেই পারছেন না তাঁরা, ‘এশিয়া হলো ক্রিকেটের হূদস্পন্দন। আর ভারতে খেলতে না আসার কথা তো চিন্তাই করা যায় না। তবে স্বাগতিক দেশের নিরাপত্তা পরিকল্পনাটা খুব গুরুত্বপূর্ণ। নিরাপত্তাব্যবস্থা ভালো হলে আমরা এমনকি ইরাকেও যেতে পারি।’

জার্মান কোচকে রাখার সামর্থ্য নেই হকির

দক্ষিণ এশীয় গেমস শেষ করেই জার্মানি গেছেন বাংলাদেশ হকি দলের কোচ গেরহার্ড পিটার। আগামীকাল ঢাকায় ফেরার কথা তাঁর। ফিরলেও চাকরি নিয়ে সংশয়েই পড়তে হবে এসএ গেমসে ব্রোঞ্জ জেতানো এই জার্মানকে। তাঁর সঙ্গে হকি ফেডারেশনের এক বছরের চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়েছে এ মাসেই। তাঁর সঙ্গে নতুন করে চুক্তি হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম।
হকি ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক খোন্দকার জামিলউদ্দিন জানালেন, ‘কোচ ও তার সহকারী প্রতি মাসে ১০ হাজার ডলার দাবি করছে। বাংলাদেশি টাকায় যেটি দাঁড়ায় প্রায় সাত লাখ টাকা। এখন এত টাকা দেওয়া আমাদের পক্ষে কষ্টকর। তাকে রাখব কি না সেটা নিয়ে তাই ভাবতে হচ্ছে আমাদের।’ তবে কোচের বেতনের জন্য স্পনসর জোগাড় করা যায় কি না সেটাও ভেবে দেখছেন তিনি, ‘আমি কোচের কাছে আগামী মাসের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত সময় চেয়েছি। এর মধ্যে যদি কোনো স্পনসর জোগাড় করতে পারি তাহলে হয়তো উনাকে রেখেও দিতে পারি। ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের সঙ্গে কথাবার্তা কিছু দূর এগিয়েছেও। কিন্তু সেটাও পুরো নিশ্চিত নয় এখনো।’
আগামী মে মাসে ঢাকায় হবে এশিয়ান গেমসের বাছাইপর্ব। এর আগে বেশ কয়েকটি আমন্ত্রণমূলক ম্যাচ খেলার সম্ভাবনা আছে বাংলাদেশের। কিন্তু কোচ সমস্যায় প্রস্তুতিটা ভালো নাও হতে পারে। কোচ সমস্যার সঙ্গে অ্যাস্ট্রো টার্ফ নিয়েও চিন্তিত জামিলউদ্দিন, ‘আমাদের মাত্র একটা অ্যাস্ট্রো টার্ফ। দ্রুত লিগ শুরু করতে হবে, এরপর যুব হকিসহ আরও টুর্নামেন্ট চালানোর কথা ভাবছি। কিন্তু একটা মাত্র টার্ফে সেটা সম্ভব নয়। শ্রীলঙ্কার মতো দেশেও পাঁচ-ছয়টা অ্যাস্ট্রো টার্ফ। এসব অবকাঠামোগত সুবিধার ব্যাপারে সরকারের আরও নজর দেওয়া উচিত। তা না হলে সারা বছর মাঠে খেলা রাখা কষ্টকর হয়ে পড়ে। ঘাসের মাঠে খেলে এসে চাইলেই খেলোয়াড়েরা অ্যাস্ট্রো টার্ফে নিজেদের মানিয়ে নিতে পারবে না।’ লিগ শুরু হয়নি বলে চিন্তিত খেলোয়াড়েরা। কিন্তু কবে নাগাদ সেটি শুরু হতে পারে? খুব শিগগিরই হকি লিগ শুরু হবে বলে আশ্বস্ত করলেন জামিলউদ্দিন। একই কথা বললেন লিগ কমিটির চেয়ারম্যান আনভির আদিল খানও, ‘আগামীকাল (আজ) আমাদের লিগ কমিটির সভা। সেখানেই সিদ্ধান্ত হবে। আশা করছি মার্চের প্রথম সপ্তাহ থেকেই এটি শুরু হতে পারে।’

প্র্যাকটিস ম্যাচের দলে রকিবুল-নাঈম

ওয়ানডে সিরিজের আগে বিসিবি একাদশের বিপক্ষে ফতুল্লা স্টেডিয়ামে দুটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলবে ইংল্যান্ড দল। আগামীকাল অনুষ্ঠেয় প্রথম ম্যাচের জন্য এর মধ্যেই শাহরিয়ার নাফীসকে অধিনায়ক করে দল ঘোষণা করা হয়েছে। কাল এই দলে নতুন করে যোগ করা হলো নিউজিল্যান্ড ফেরত দুই ক্রিকেটার রকিবুল হাসান ও নাঈম ইসলামকে। আর শারীরিক অসুস্থতার কারণে দল থেকে নিজেকে সরিয়ে নিয়েছেন অলক কাপালি।

মাশরাফির সুসংবাদ ও দুঃসংবাদ

মেলবোর্ন থেকে সুখবর নিয়েই ফিরেছেন মাশরাফি বিন মুর্তজা। ডাক্তার ডেভিড ইয়াং ছাড়পত্র দিয়েছেন বাংলাদেশের এই পেসারকে, ‘এখন চাইলে খেলতে পার।’ তবে দেশে ফেরার পর এই সুসংবাদে পড়ছে বিষাদের ছায়া। জাতীয় দলের দরজাটা যে আপাতত বন্ধই দেখাচ্ছে তাঁর জন্য!
পরশু রাতে ঢাকায় ফেরা মাশরাফি কাল এই প্রতিবেদককে জানিয়েছেন, অস্ট্রেলিয়ার বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক তাঁকে এবার মাঠে নামার পরামর্শ দিয়েছেন। মেলবোর্নে করানো এমআরআই রিপোর্ট ঝুঁকিমুক্ত ঘোষণা করেছে তাঁকে। ‘ডাক্তার বলেছেন, “আর কত রিহ্যাব করবে? এবার খেলা শুরু করে দাও।” হাঁটুতে ছোট একটা সমস্যা এখনো আছে। খেললেই সেটার মাত্রা বোঝা যাবে, নয়তো নয়। কাজেই আমি এখন খেলারই সিদ্ধান্ত নিয়েছি’—বলেছেন মাশরাফি।
ডাক্তার অনুমতি দিয়েছেন, নিজেও খেলতে চান; তার পরও আসন্ন ইংল্যান্ড সিরিজে মাশরাফির খেলা না খেলা নির্ভর করছে নির্বাচক কমিটির সিদ্ধান্তের ওপর। মাশরাফিকে দলে রাখার ব্যাপারে প্রধান নির্বাচক রফিকুল আলম দল ঘোষণার আগে কিছু বলতে না চাইলেও যতদূর জানা গেছে, ইংল্যান্ড সিরিজের বাংলাদেশ দলে মাশরাফি নেই। খেলা বা অনুশীলন, ইনজুরি আর অসুস্থতার কারণে অনেক দিন ধরে কোনোটার মধ্যেই নেই তিনি। মাশরাফি খেলার জন্য কতটা ফিট, সে প্রশ্ন তাই আসেই। তা ছাড়া নিউজিল্যান্ড সফরে অন্য পেসারদের পারফরম্যান্স খারাপ নয়। এ পরিস্থিতিতে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজে মাশরাফিকে দলে না রাখারই চিন্তা করছেন নির্বাচকেরা। আর টেস্টে? দীর্ঘ পরিসরের ক্রিকেটে এত তাড়াতাড়ি নেমে যাওয়ার ঝুঁকিটা যে মাশরাফিই নিতে চান না!