Saturday, August 22, 2026

দক্ষিণ লেবাননে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালাল ইসরাইল বাহিনী

আল-জাজিরাঃ দক্ষিণ লেবাননের বিভিন্ন এলাকায় ইসরাইলি বাহিনীর গোলাবর্ষণ ও ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের খবর পাওয়া গেছে। শনিবার ভোরে দেশটির কয়েকটি শহর ও গ্রামের ওপর ভারী গোলাবর্ষণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে লেবাননের জাতীয় বার্তা সংস্থা (এনএনএ)।

এনএনএর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শনিবার ভোরে আল-মানসুরি শহর, বাইত আল-সাইয়াদের আশপাশের এলাকা এবং মাজদাল জৌনের উপকণ্ঠে ইসরাইলি বাহিনী ভারী কামানের গোলা নিক্ষেপ করে।

রাতভর ওই তিন শহর ও গ্রামের বিভিন্ন স্থানে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালানো হয়েছে বলেও জানিয়েছে এনএনএ।

সংস্থাটির ভাষ্য, এসব এলাকায় ‘কোনো বাড়িই অক্ষত থাকেনি’।

এ ছাড়া হাদ্দাথা, বেইত ইয়াহুন ও আইতা আল-জাবাল এলাকায়ও একই ধরনের ধ্বংসযজ্ঞের খবর পাওয়া গেছে। পাশাপাশি কাছাকাছি উপত্যকাগুলোর দিকে মেশিনগানের গুলিও ছোড়া হয়েছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

দক্ষিণ লেবাননের আলি আল-তাহির উচ্চভূমির আশপাশেও ইসরাইলি বাহিনী বিমান হামলা চালিয়েছে বলে জানিয়েছেন একজন সংবাদদাতা।

এদিকে দক্ষিণ লেবাননের পশ্চিম ও মধ্যাঞ্চলের বিভিন্ন শহর ও গ্রামের আকাশে ইসরাইলি ড্রোনের অবিরাম উড্ডয়নের খবরও পাওয়া গেছে।

ইসরাইলি বাহিনীর এসব হামলা ও ধ্বংসযজ্ঞে হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির বিস্তারিত তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।

দক্ষিণ লেবাননে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালাল ইসরাইল বাহিনী
ফাইল ছবি

নবজাতকের চোখে পুঁজ কেন হয়, কেন পানি পড়ে by ডা. গোলাম রাব্বানী

নবজাতকের চোখ থেকে নানা কারণে পানি বা পুঁজ পড়তে পারে। এ ধরনের সমস্যায় দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন, যাতে পরিস্থিতি জটিল আকার ধারণ না করে। এমন দুটি রোগ সম্পর্কে জেনে নেওয়া যাক, যা এমন পরিস্থিতির জন্য দায়ী।

আমাদের চোখে একটা বিশেষ নালি থাকে। এর নাম নেত্রনালি বা ন্যাসোলেক্রিমাল ডাক্ট। এই নালি দিয়ে চোখের পানি নাকের ভেতর দিয়ে নেমে যায় স্বাভাবিক নিয়মে। তবে কারও কারও ক্ষেত্রে জন্মের সময় এই নালিপথ পুরোপুরি খোলা থাকে না। একে বলা হয় কনজেনিটাল ন্যাসোলেক্রিমাল ডাক্ট অবস্ট্রাকশন।

উপসর্গ

* চোখে বারবার পানি আসা

* চোখের কোনায় ঘন ঘন পুঁজ বা সাদা স্রাব জমা হওয়া

* চোখের পাপড়ি বারবার ভিজে যাওয়া

* চোখ লাল হয়ে যাওয়ার সমস্যাও দেখা দিতে পারে

করণীয়

জন্মের সময় নেত্রনালির নিচের অংশে পাতলা পর্দা রয়ে গেলে এ ধরনের উপসর্গ দেখা দিতে পারে। এই সমস্যা সাধারণত এক বছরের মধ্যে নিজে থেকেই সেরে যায়।

তবে চিকিৎসা হিসেবে চোখের ভেতরের কোনায় (যেখানে নাকের পাশ দিয়ে পানি বের হয়) চিকিৎসকের পরামর্শমতো আঙুল দিয়ে হালকা চাপ দিয়ে মালিশ করতে হয়।

মালিশের দিক হয় ওপর থেকে নিচে। রোজ ৮-১০ বার ম্যাসাজ করতে হয়। তবে তা করতে হয় খুব সাবধানে। নইলে নালির ভেতরের পর্দা ফেটে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে।

এ ছাড়া ভেজা, পরিষ্কার, নরম কাপড় বা জীবাণুমুক্ত তুলা দিয়ে চোখ পরিষ্কার করতে হয়। চোখ লাল হলে বা সংক্রমণের অন্য উপসর্গ থাকলে চিকিৎসক অ্যান্টিবায়োটিক ড্রপ দিতে পারেন।

এক বছর পরও যদি না সারে, সে ক্ষেত্রে চিকিৎসক প্রযুক্তির সহায়তায় নেত্রনালি ছিদ্র করার ব্যবস্থা করতে পারেন। তাতেও না সারলে অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হতে পারে।

জন্মের পর চোখ ওঠা

চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় একে বলা হয় নিওন্যাটাল কনজাংটিভাইটিস (অফথ্যালমিয়া নিওন্যাটোরাম)। শিশুর জন্মের ২৮ দিনের মধ্যে চোখ লাল হওয়া, চোখ থেকে পুঁজ বা স্রাব বের হওয়ার মতো সমস্যা দেখা দিলে ধরে নেওয়া হয় এ রোগ হয়েছে। বিভিন্ন ব্যাকটেরিয়া এবং ভাইরাসের সংক্রমণের কারণে এ রোগ হয়ে থাকে।

উপসর্গ

* চোখ লাল হওয়া

* চোখ ফুলে যাওয়া

* প্রচুর পানি ও ময়লা আসা

* গুরুতর ক্ষেত্রে কর্নিয়া ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় তাতে দাগ পড়ে যায়, যাতে শিশু অন্ধও হয়ে যেতে পারে

করণীয়

* এটি জরুরি অবস্থা, অবহেলা করা যাবে না।

* যত দ্রুত সম্ভব চক্ষুবিশেষজ্ঞ/শিশুরোগ বিশেষজ্ঞের কাছে নিতে হবে।

* চোখ সব সময় পরিষ্কার রাখতে হবে (চিকিৎসকের পরামর্শমতো ওষুধ দিতে হ বে এবং ফুটানো ঠান্ডা করা পানি বা জীবাণুমুক্ত স্যালাইন দিয়ে মুছে দিতে হবে)।

নবজাতকের চোখ থেকে নানা কারণে পানি বা পুঁজ পড়তে পারে
নবজাতকের চোখ থেকে নানা কারণে পানি বা পুঁজ পড়তে পারে। ছবি: প্রথম আলো

দুই বছরের সম্পর্কে ভয়ংকর নির্যাতনের শিকার, প্রতিদিনই কাঁদতেন এই অভিনেত্রী

দক্ষিণ ভারতীয় অভিনেত্রী অনুপমা পরমেশ্বরন জানিয়েছেন, একটি সম্পর্কে টানা দুই বছর মানসিক ও শারীরিকভাবে ভেঙে পড়ার অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে গেছেন তিনি। সম্প্রতি ইনস্টাগ্রামে দেওয়া একটি পোস্টের মাধ্যমে জীবনের সেই অধ্যায় থেকে বেরিয়ে আসার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন অভিনেত্রী। এক সাক্ষাৎকারে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানিয়েছেন তিনি।

অনুপমা ‘আই অ্যাম উইথ ধন্য ভার্মা’ অনুষ্ঠানে নিজের অভিজ্ঞতা নিয়ে কথা বলেছেন। কার সঙ্গে সম্পর্কে ছিলেন, তাঁর নাম অবশ্য প্রকাশ করেননি। তবে অনুপমার ভাষ্য, ওই সম্পর্কে থাকাকালে তিনি নিজেকে ক্রমেই হারিয়ে ফেলছিলেন। পরে নিজেকে ফিরে পাওয়ার পথেই হাঁটেন।

অনুপমার ভাষ্য অনুযায়ী, সম্পর্কটিতে কখনো স্থিরতা ছিল না। কখনো বিচ্ছেদের কথা বলা হতো, আবার দুই দিন পরই সব ঠিক করে ফেলার চেষ্টা চলত। এই চরম ওঠানামার প্রভাব পড়ে তাঁর শরীর ও মনে।

তিনি জানান, সম্পর্কে থাকার সময় তাঁর প্যানিক অ্যাটাক, উদ্বেগ, ব্ল্যাকআউট, ওজন কমে যাওয়া এবং বমির মতো সমস্যা দেখা দিয়েছিল। এমনকি তাঁর ডান চোখ অনবরত কাঁপতে শুরু করায় শুটিং পর্যন্ত বন্ধ রাখতে হয়েছিল।

‘কোনো কোনো কথোপকথনের পর আমি বমি করে ফেলতাম, কিছুই খেতে পারতাম না। অনেক ওজন কমে গিয়েছিল। প্রতি রাতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা কাঁদতাম। এরপর সকালে উঠে শুটিংয়ে যেতে হতো’—এমন অভিজ্ঞতার কথাই জানিয়েছেন তিনি।
শুধু তা-ই নয়, অনুপমার চোখের অশ্রুগ্রন্থিও ফুলে গিয়েছিল। পরে অস্ত্রোপচার করাতে হয় তাঁকে।

‘কেন বেরিয়ে আসতে পারিনি?’
এই প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে অনুপমা বলেন, বাইরে থেকে বিষয়টি যতটা সহজ মনে হয়, বাস্তবে ততটা নয়। তাঁর কাছে পুরো সম্পর্কটিকে মনে হয়েছিল মাকড়সার জালের মতো।

তাঁর ভাষায়,পরিস্থিতির জন্য তাঁকেই দায়ী করার প্রবণতা—সবকিছু যেন একটি নির্দিষ্ট ছকের মতো চলছিল। একপর্যায়ে তিনি ওই ব্যক্তিকে স্পষ্ট করে জানান, তাঁর মানসিক শান্তি নষ্ট হচ্ছে এবং এভাবে আর সম্পর্ক চালিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়।
এরপর ধীরে ধীরে তিনি ওই ব্যক্তির কথার অসংগতি ও মিথ্যাগুলো বুঝতে শুরু করেন। প্রশ্ন করতে থাকেন, মুখোমুখি হন। অনুপমার দাবি, তখন উল্টো তাঁকেই সমস্যার কারণ হিসেবে দেখানোর চেষ্টা করা হয়।

‘শেষ ১০ সেকেন্ডে মুখোশ খুলে যেতে দেখেছি’
অনুপমা জানান, একপর্যায়ে এমন একটি ঘটনা ঘটে, যার পর সম্পর্কটির পুরো বাস্তবতা তাঁর সামনে স্পষ্ট হয়ে যায়। দুই পরিবারের সদস্যরাও বিষয়টির সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন। এরপর সম্পর্কের এত দিনকার ‘বুদ্‌বুদ’ যেন এক মুহূর্তে ফেটে যায়।
অনুপমা আরও বলেন, ওই ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলার জন্য শেষ পর্যন্ত তাঁকে হুমকি দিতে হয়েছিল। কারণ, তাঁর দাবি, ওই ব্যক্তি নিজের কোনো কাজের দায় স্বীকার করতেন না।

অনুপমার শেষ সাক্ষাতের কথা বলতে গিয়ে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন। তিনি বলেন, শেষ ১০ সেকেন্ডে ওই ব্যক্তির দিকে তাকিয়ে তাঁর মনে হয়েছিল, মুখোশটি খুলে যাচ্ছে এবং তিনি যেন ‘একজন দানবকে’ দেখতে পাচ্ছেন।

সম্পর্কের গুঞ্জন কেন ধ্রুব বিক্রমকে ঘিরে
২০২৫ সালের শুরুর দিকে অনুপমা ও ধ্রুব বিক্রমকে ঘিরে প্রেমের গুঞ্জন ছড়িয়েছিল। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁদের চুম্বনের একটি অযাচাইকৃত ভিডিও ছবি ছড়িয়ে পড়ে। ভক্তদের একাংশ দাবি করেছিলেন, ছবিটি নাকি তাঁদের দুজনের যৌথ স্পটিফাই প্লেলিস্টের প্রোফাইল ছবি ছিল।
তবে অনুপমা তাঁর সাম্প্রতিক বক্তব্যে কারও নাম বলেননি।

হিন্দুস্তান টাইমস অবলম্বনে

অনুপমা পরমেশ্বরন। অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে
অনুপমা পরমেশ্বরন। অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে

ইয়েমেন নিয়ে যেভাবে খেলছে যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েল by শাদি ইব্রাহিম

বহু বছর ধরে ইয়েমেনের যুদ্ধ এমন এক সংঘাতে রূপ নিয়েছে, যা আসলে কোনো বিজয়ীর খোঁজ করছে না। এটি এখন এক ক্ষয়িষ্ণু লড়াইয়ে পরিণত হয়েছে, যেখানে প্রতিটি পক্ষই চায় তার প্রতিদ্বন্দ্বীকে দুর্বল করতে—তবে এমন কোনো জয় নয়, যা পুরো অঞ্চল সামলে উঠতে পারবে না।

বিষয়টি ১৯৯৯ সালে মার্কিন কৌশলবিদ এডওয়ার্ড লুটওয়াকের ‘গিভ ওয়ার আ চান্স’ শীর্ষক নিবন্ধে তোলা সেই তত্ত্বের কথা মনে করিয়ে দেয়, যা ২০১৩ সালে সিরিয়া সংকটের সময় প্রয়োগ করা হয়েছিল—সব যুদ্ধের সমাপ্তি মানেই শান্তি নয়, আবার সব বিজয়েও কাঙ্ক্ষিত ফল আসে না।

কখনো কখনো কৌশলগত স্বার্থ লুকিয়ে থাকে কাউকে জিততে না দেওয়ার মধ্যে, যাতে একটি ভারসাম্য বজায় থাকে এবং কেউ প্রতিপক্ষকে একেবারে চূর্ণ করতে না পারে। সিরিয়া প্রসঙ্গে লুটওয়াক যুক্তি দিয়েছিলেন, সরকারি বাহিনীর জয় মানে ইরানের শক্তিশালী হওয়া, আর তার পতন মানে ‘নিয়ন্ত্রণহীন জিহাদিদের’ উত্থান। মার্কিন ও ইসরায়েলি দৃষ্টিকোণ থেকে সে সময় তাই সংঘাতকে অনির্দিষ্টকালের জন্য অচল অবস্থায় রাখাই ছিল সবচেয়ে অনুকূল পথ।

এক দশকের বেশি সময় পর ইয়েমেন যেন সেই তত্ত্বেরই এক বাস্তব মহড়া দিচ্ছে; যদিও তা আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করা হয় না। ইয়েমেনের সংঘাত প্রথাগত যুদ্ধ হিসেবে থমকে গেলেও জমিনে এর মীমাংসা হয়নি।

২০১৫ সালের মার্চে হুতিরা সানা দখল করার পর সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের হস্তক্ষেপের মূল লক্ষ্য ছিল আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারকে পুনর্বাসিত করা। কিন্তু এই যুদ্ধ ইয়েমেনকে না ফিরিয়ে নিতে পেরেছে আগের জায়গায়, না পৌঁছাতে পেরেছে কোনো চূড়ান্ত উপসংহারে।

হুতিরা কখনোই পুরো দেশ দখল করতে পারেনি, আবার জোট বাহিনীও তাদের সানা থেকে সরাতে পারেনি।

২০২২ সালের মধ্যে যুদ্ধের ফ্রন্টলাইনগুলো স্থবির হয়ে পড়ে এবং একটি যুদ্ধবিরতি শুরু হয়। তবে দেশের উত্তর-পশ্চিমের বড় অংশ এখনো হুতিদের নিয়ন্ত্রণে। এটি কিন্তু শান্তি নয়, এটি আসলে সংঘাতকে কেবল থামিয়ে রাখা।

শূন্যতা পূরণের সমীকরণ

হুতিদের পূর্ণাঙ্গ বিজয়ের অর্থ হলো সৌদি আরবের এক হাজার কিলোমিটারের বেশি দীর্ঘ সীমান্তে ইরানঘেঁষা এক সশস্ত্র শক্তির স্থায়ী অবস্থান।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের জন্য এর অর্থ বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথ বাব আল-মানদেবের ওপর চরম ঝুঁকি। তা ছাড়া হুতি-নিয়ন্ত্রিত ইয়েমেন হতে পারে অঞ্চলের মধ্যে ইরানের এক শক্তিশালী সামরিক ঘাঁটি।

অন্যদিকে হুতিদের একেবারে নির্মূল করাও বেশ কঠিন। তারা কেবল ইরানের প্রক্সি বা ছায়া শক্তি নয়। ইয়েমেনের সামাজিক, রাজনৈতিক ও উপজাতীয় কাঠামোর সঙ্গে তারা গভীরভাবে যুক্ত।

আসল জটিল প্রশ্ন হলো, হুতিদের পতন হলে সেই রাজনৈতিক ও সামরিক শূন্যতা পূরণ করবে কে? ইয়েমেন কখনোই একক রাজনৈতিক সত্তা ছিল না। এখানে স্বীকৃত সরকার, নানা উপজাতীয় গোষ্ঠী এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত–সমর্থিত দক্ষিণাঞ্চলীয় বিচ্ছিন্নতাবাদীরা সক্রিয়।

এই অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব ২০২৫ সালের শেষের দিকে ও ২০২৬ সালের শুরুতে প্রকাশ্য রূপ নেয়, যখন এডেন ও পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশে প্রসারিত হতে যাওয়া দক্ষিণ অন্তর্বর্তীকালীন পরিষদের (এসটিসি) বিরুদ্ধে সৌদি আরব সামরিক পদক্ষেপ নেয় এবং এর পেছনে আমিরাতের ভূমিকা নিয়ে অসন্তোষ জানায়। পাশাপাশি মুসলিম ব্রাদারহুড-ঘেঁষা ‘ইসলাহ’ পার্টিকে দমন করার বিষয়ে রিয়াদ ও আবুধাবির মূল্যায়নেও স্পষ্ট পার্থক্য রয়েছে।

এখানে প্রতিটি পক্ষের হিসাব আলাদা। হুতি ও ইরান; ইয়েমেন সরকার, সৌদি আরব ও স্থানীয় জোট; আরব আমিরাত; যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল—এমনকি আল-কায়েদা, সবার কাছেই ইয়েমেনের ভবিষ্যৎ ও বন্ধু-শত্রুর সংজ্ঞা ভিন্ন।  

২০১৫ সাল থেকে মার্কিন নীতিতে যে দোলাচল দেখা গেছে, তা এই ফ্রেমওয়ার্ক দিয়েই ব্যাখ্যা করা যায়। ওয়াশিংটন কখনো সৌদি আরবকে অস্ত্র দিয়েছে, আবার কখনো সমর্থন গুটিয়ে নিয়েছে; কখনো আবার ইরানের সঙ্গে সম্পর্কের বরফ গলাতে চেয়েছে। এতে ওয়াশিংটনের প্রতি রিয়াদের আস্থা নড়ে যায়, এমনকি তাদের গ্রিস থেকেও প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র ধার করতে হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের এই নীতি সৌদি বিজয় নিশ্চিত করার চেয়ে ক্ষমতার ভারসাম্য নিয়ন্ত্রণের চেষ্টাকেই স্পষ্ট করে।

২০২৫ সালের মার্চ থেকে মে মাসের মধ্যে লোহিত সাগরে জাহাজে হামলার জবাবে যুক্তরাষ্ট্র হুতিদের ওপর হামলা জোরদার করে, আবার ওমানের মধ্যস্থতায় হুতিরা মার্কিন জাহাজে হামলা বন্ধের প্রতিশ্রুতি দিলে তারাও সেই আক্রমণ থামিয়ে দেয়। এখানে লক্ষ্য হুতি শাসন বা যুদ্ধের অবসান ঘটানো ছিল না; কেবল সংঘাতের একটি নির্দিষ্ট আচরণকে নিয়ন্ত্রণ করাই ছিল মূল উদ্দেশ্য।

নিয়ন্ত্রিত বিভাজন

২০২৩ সালের অক্টোবরের পর গাজা যুদ্ধের জেরে হুতিদের সম্পৃক্ততা তাদের এক আঞ্চলিক শক্তিতে পরিণত করেছে। তারা পুরো ইয়েমেন না জিতলেও বিশ্ববাণিজ্যে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারছে; অন্যদিকে সরকার পুরোপুরি পরাজিত না হলেও রাষ্ট্র পরিচালনায় ব্যর্থ।

এই বৈপরীত্য ‘বিজয়’ শব্দটিকে প্রায় অর্থহীন করে তুলেছে। ফলে ওয়াশিংটন চায় না হুতিরা একচ্ছত্র ক্ষমতার অধিকারী হোক, আবার তাদের প্রতিপক্ষদেরও অলআউট যুদ্ধে যেতে দিতে চায় না। এতে বহিরাগত শক্তিগুলোর হস্তক্ষেপের খরচ কমে যায়, যদিও ইয়েমেনের সার্বভৌমত্ব কেবল নামেই টিকে থাকে।

ওয়াশিংটন জেনেশুনে লুটওয়াকের তত্ত্ব প্রয়োগ করেছে কি না, তা বড় কথা নয়; তবে এই ফ্রেমওয়ার্ক সুদান, লিবিয়া, ইরাক ও লেবাননের ঘটনা বুঝতেও সাহায্য করে। সেখানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি নীতি সংঘাত সমাধানের চেয়ে সমাজগুলোকে বিভক্ত ও দুর্বল করে রাখার কাজই বেশি করেছে।

হুতিদের পূর্ণ বিজয় যেমন রিয়াদ সীমান্ত বিপন্ন করবে, তেমনি তাদের পুরো পতন ঘটাতে প্রয়োজন এক দীর্ঘ ও ব্যয়বহুল যুদ্ধ। আবার দেশভাগ এক সংকট মেটাতে গিয়ে জন্ম দেবে নতুন সংঘাতের।

বর্তমান অচলাবস্থায় প্রতিটি পক্ষই কিছু না কিছু সুবিধা পাচ্ছে—হুতিদের হাতে সানা, সরকারের হাতে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি, সৌদির জন্য হুতি রাষ্ট্রের প্রতিহত অবস্থা, আর ইরানের হাতে যুদ্ধের নিয়ন্ত্রক কার্ড। তবে এই ভারসাম্য অত্যন্ত ভঙ্গুর।

আঞ্চলিক সমীকরণেও এর প্রভাব দৃশ্যমান। নতুন উদীয়মান তুরস্ক-সৌদি-পাকিস্তান অক্ষ এখনো কোনো যৌথ সামরিক জোট নয়; রিয়াদের হয়ে আঙ্কারা বা ইসলামাবাদ যুদ্ধে নামবে কি না, তা অনিশ্চিত।

মার্কিন নিরাপত্তার ওপর পুরো নির্ভর না করে কম খরচে অস্ত্র পাওয়া এবং ইসরায়েল ও ইরানকে ভারসাম্যে রাখার জন্যই সম্ভবত এই দেশগুলোর দিকে রিয়াদ ঝুঁকছে।
এর মানে কি উপসাগরীয় দেশগুলো মার্কিন নিরাপত্তার প্রতি আস্থা হারাচ্ছে?

অনেকাংশে তা–ই। তবে অঞ্চলটিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব এখনো অটুট। তাহলে কি এই অক্ষ মার্কিন স্বার্থের বিরুদ্ধে যাচ্ছে? একেবারেই নয়। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল সম্ভবত এটিই চায়, যাতে অন্য শক্তিগুলো অঞ্চলটির আঞ্চলিক সংঘাত ও ঝুঁকি সামলানোর দায়িত্ব নিজের কাঁধে নেয়।

এই জোট ইসরায়েলবিরোধী—এমন কোনো স্পষ্ট প্রমাণ নেই। এটি বরং ইয়েমেনের সেই ঝুলে থাকা যুদ্ধের যুক্তিকেই তুলে ধরে—যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ড্রাইভিং সিটে না বসে আড়ালে থেকেই যুদ্ধের সীমা ঠিক করে দিতে বেশি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করে, আর অন্যরা বহন করে তার মাশুল।

* শাদি ইব্রাহিম, ইস্তাম্বুল সাবাহাত্তিন জাইম ইউনিভার্সিটির সেন্টার ফর ইসলাম অ্যান্ড গ্লোবাল অ্যাফেয়ার্সের গবেষণা সহযোগী। মিডল ইস্ট আই থেকে সংক্ষেপে অনূদিত।

বিমান হামলায় ধ্বংস হয়ে যাওয়া একটি বাড়ির সামনে বসে আছেন এক ব্যক্তি। সানা, ইয়েমেন। ৬ জুন, ২০১৮
বিমান হামলায় ধ্বংস হয়ে যাওয়া একটি বাড়ির সামনে বসে আছেন এক ব্যক্তি। সানা, ইয়েমেন। ৬ জুন, ২০১৮ ছবি: রয়টার্স।

ইরানের বড় বাণিজ্য অংশীদার কারা?

অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞায় বিচ্ছিন্ন করার হুমকি ট্রাম্পেরঃ ইরানের সঙ্গে বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক রাখা দেশগুলোর বিরুদ্ধে নজিরবিহীন অর্থনৈতিক ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইরানকে সহায়তা করা যে কোনো দেশের বিরুদ্ধে বড় ধরনের অর্থনৈতিক পরিণতি ভোগ করতে হবে বলে সতর্ক করেছেন তিনি।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, ট্রাম্পের এমন হুমকিতে ইরানের গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য অংশীদার দেশগুলোও যুক্তরাষ্ট্রের চাপের মুখে পড়তে পারে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইরানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ বাণিজ্যিক সম্পর্ক থাকা কয়েকটি দেশ হলো :

চীন

ইরানের সবচেয়ে বড় তেল ক্রেতা চীন। গত বছর ইরান থেকে গড়ে প্রতিদিন ১৩ লাখ ৮০ হাজার ব্যারেল তেল কিনেছে চীন বলে জানিয়েছে জ্বালানি বাজারবিষয়ক প্রতিষ্ঠান কেপলার। ইরানের রপ্তানি হওয়া তেলের ৮০ শতাংশের বেশি চীনে যায়।

মার্কিন নিষেধাজ্ঞা এড়াতে চীনের কিছু স্বাধীন শোধনাগার দীর্ঘদিন ধরে ইরানের তেল কিনে আসছে। এসব লেনদেনে চীনা মুদ্রা ব্যবহার ও বিভিন্ন মধ্যস্থতাকারী প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে অর্থ পরিশোধ করা হয়।

এপ্রিল মাসে ইরানের তেল কেনার অভিযোগে একটি চীনা স্বাধীন শোধনাগারের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয় যুক্তরাষ্ট্র। ইরানের তেল বাণিজ্যে সহায়তা করা চীনা ব্যাংকগুলোকেও ভবিষ্যতে নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনার হুঁশিয়ারি দিয়েছে ওয়াশিংটন।

চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র লিন জিয়ান বলেন, নিষেধাজ্ঞা ও চাপ সমস্যার সমাধান করবে না। রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক উপায়ে সংকট সমাধানে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে দায়িত্বশীল পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

সংযুক্ত আরব আমিরাত

ইরানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক অংশীদার সংযুক্ত আরব আমিরাত। ২০২৪ সালে ইরানের মোট আমদানির প্রায় ৩০ শতাংশ, যার মূল্য প্রায় ২১ বিলিয়ন ডলার, এসেছে আমিরাত থেকে। একই বছরে ইরানের রপ্তানির ১৩ শতাংশের গন্তব্যও ছিল দেশটি।

২০২৪ সালে দুই দেশের তেলবহির্ভূত বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল প্রায় ৬ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলার। এর বড় অংশই ছিল পুনঃরপ্তানি।

তবে ইরান-ইসরায়েল সংঘাতের মধ্যে তেহরানের সঙ্গে সব ধরনের আর্থিক ও অর্থনৈতিক লেনদেন সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে আমিরাত।

তুরস্ক

ইরান ও তুরস্কের মধ্যে দীর্ঘদিনের গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক সম্পর্ক রয়েছে। তুরস্ক ইরান থেকে প্রাকৃতিক গ্যাস আমদানি করে এবং ইরানে বিভিন্ন শিল্পপণ্য রপ্তানি করে।

দুই দেশের বার্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ প্রায় ৫ থেকে ৬ বিলিয়ন ডলার। এর মধ্যে তুরস্কের রপ্তানির পরিমাণ প্রায় ৩ বিলিয়ন ডলার। তুরস্কের মোট গ্যাস আমদানির প্রায় ১৩ শতাংশ আসে ইরান থেকে।

ইরাক

ইরাকও ইরানের গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য অংশীদার। ২০২৫ সালে দুই দেশের বাণিজ্যের পরিমাণ ১০ বিলিয়ন ডলারের বেশি ছিল।

ইরান থেকে খাদ্যপণ্য, ভোগ্যপণ্যসহ বিভিন্ন পণ্য আমদানি করে ইরাক। তবে ২০২৬ সালে সংঘাত শুরু হওয়ার পর সীমান্তে নিরাপত্তা ঝুঁকি, পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি ও সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্নের কারণে দুই দেশের বাণিজ্য কমেছে।

ওমান

ইরানের সঙ্গে ওমানের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে। বিভিন্ন সময় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার আলোচনায় মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকাও পালন করেছে মাসকাট।

২০২৫ সালে দুই দেশের পণ্য বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল প্রায় ১ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার। চলতি বছরের প্রথম চার মাসে বাণিজ্যের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩৪৫ মিলিয়ন ডলারে।

পাকিস্তান

ইরানের সঙ্গে বাণিজ্য বাড়িয়ে ১০ বিলিয়ন ডলারে নেওয়ার লক্ষ্যে কাজ করছে পাকিস্তান। তবে ইরানের সঙ্গে বাণিজ্য করা দেশগুলোর বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ব্যবস্থা নিলে ইসলামাবাদ চাপের মুখে পড়তে পারে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।

আগের মার্কিন নিষেধাজ্ঞার সময় দুই দেশের আনুষ্ঠানিক বাণিজ্য প্রায় বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। তবে অনানুষ্ঠানিক বাণিজ্যের মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে প্রায় ৪ বিলিয়ন ডলারের পণ্য আদান-প্রদান হয় বলে বিভিন্ন পরিসংখ্যানে উল্লেখ করা হয়েছে।

ইরান ও পাকিস্তানের মধ্যে তেল, গম, চাল, গবাদিপশু ও ওষুধের বাণিজ্য রয়েছে।

ভারত

মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে ২০২০ সাল থেকে ভারত-ইরান বাণিজ্য উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে দুই দেশের বাণিজ্য যেখানে প্রায় ১৭ বিলিয়ন ডলার ছিল, ২০১৯-২০ অর্থবছরে তা কমে প্রায় ৪ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলারে নেমে আসে।

২০২৫-২৬ অর্থবছরে দুই দেশের বাণিজ্যের পরিমাণ আরও কমে ১ দশমিক ৬৩ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়ায়। এর বড় অংশই ভারতের রপ্তানি, যার মধ্যে রয়েছে শস্য, চা, কফি ও মসলা।

ভারতীয় কর্মকর্তারা অতীতে এসব পণ্য রপ্তানিকে মানবিক প্রয়োজনের সঙ্গে যুক্ত করে নিষেধাজ্ঞার আওতামুক্ত রাখার পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন।

আর্মেনিয়া

২০২৫ সালে আর্মেনিয়ার মোট বৈদেশিক বাণিজ্যের ৩ দশমিক ৬ শতাংশ, অর্থাৎ প্রায় ৭৬৮ মিলিয়ন ডলারের বাণিজ্য ইরানের সঙ্গে হয়েছে।

চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে দুই দেশের বাণিজ্য ৩৭১ দশমিক ৪ মিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৮ দশমিক ৪ শতাংশ বেশি।

ইরান-আর্মেনিয়ার মধ্যে ‘গ্যাসের বিনিময়ে বিদ্যুৎ’ চুক্তিও রয়েছে। ইরান আর্মেনিয়ায় গ্যাস সরবরাহ করে এবং এর বিনিময়ে আর্মেনিয়া বিদ্যুৎ সরবরাহ করে।

আজারবাইজান

চলতি বছরের জানুয়ারি-জুন সময়ে ইরান ও আজারবাইজানের বাণিজ্য ৪ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়ে ৩১২ দশমিক ৬ মিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। আগের বছরের একই সময়ে এর পরিমাণ ছিল ২৯৯ দশমিক ১ মিলিয়ন ডলার।

এ সময়ে ইরান থেকে আজারবাইজানের আমদানি ১ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়ে ২৯৭ মিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে আজারবাইজানের ইরানে রপ্তানি বেড়েছে প্রায় আড়াই গুণ।

ইরানের সঙ্গে এসব দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্কের কারণে ট্রাম্প প্রশাসন নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করলে শুধু তেহরান নয়, সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর ব্যাংক, তেল ব্যবসা ও সরবরাহ ব্যবস্থাতেও এর প্রভাব পড়তে পারে।

সূত্র: রয়টার্স 

হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ। ওমানের মুসান্দাম থেকে ড্রোনের সাহায্যে ছবিটি তুলেছে রয়টার্স
হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ। ওমানের মুসান্দাম থেকে ড্রোনের সাহায্যে ছবিটি তুলেছে রয়টার্স

ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের গুলিতে ১৭ বছরের ফিলিস্তিনি নিহত

অধিকৃত পশ্চিম তীরের হেবরনের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে ইসরায়েলি বসতিস্থাপনকারীদের গুলিতে ১৭ বছর বয়সী এক ফিলিস্তিনি কিশোর নিহত হয়েছে। শুক্রবার (২১ আগস্ট) খিরবেত হামরুশ এলাকায় এ হামলার ঘটনা ঘটে। নিহত কিশোরের নাম করিম সান্দ শালালদেহ। ফিলিস্তিনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গুলিতে গুরুতর আহত হওয়ার পর তার মৃত্যু হয়। খবর আল জাজিরার।

ফিলিস্তিনি বার্তা সংস্থা ওয়াফার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সশস্ত্র ইসরায়েলি বসতিস্থাপনকারীদের বড় একটি দল খিরবেত হামরুশ এলাকায় ফিলিস্তিনিদের কয়েকটি বাড়িতে হামলা চালায়। এ সময় তারা বাসিন্দাদের লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। হামলায় একটি বাড়িতে আগুনও ধরে যায়।

হামলার সময় করিম শালালদাহের বুকে গুলি লাগে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে তার মৃত্যুর খবর জানায় ফিলিস্তিনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।

একই ঘটনায় ৭০ বছর বয়সী এক ফিলিস্তিনিও গুলিতে আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে ওয়াফা।

এদিকে হেবরনের দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় ইসরায়েলি বসতিস্থাপনকারীদের হামলায় আরও অন্তত পাঁচজন আহত হয়েছেন। হামলায় বেশ কয়েকটি যানবাহন ও সরঞ্জামে আগুন দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে ওয়াফা।

নিরাপত্তা সূত্রের বরাতে সংস্থাটি জানায়, হেবরনের দক্ষিণে দেইর শামস এলাকায় একদল সশস্ত্র বসতিস্থাপনকারী ফিলিস্তিনিদের বাড়িতে পাথর ছুড়ে হামলা চালায়। এতে পাঁচজন আহত হন। এ সময় কয়েকটি ভেড়াও নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে তাদের বিরুদ্ধে।

হামলাকারীরা ফিলিস্তিনি রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির একটি অ্যাম্বুলেন্সেও হামলা চালায় বলে জানা গেছে।

স্থানীয় অধিকারকর্মী ওসামা মাখামরা ওয়াফাকে বলেন, বসতিস্থাপনকারীদের একটি দল মাসাফের ইয়াত্তার শা‘ব আল-বাতিম এলাকায় ইব্রাহিম আল-জাবারিনের বাড়িতে ঢুকে সম্পত্তি ভাঙচুর করে। পরে ইসরায়েলি বাহিনী ওই এলাকায় প্রবেশ করে ইব্রাহিম আল-জাবারিন ও তার ছেলে জিবরিলকে গ্রেপ্তার করে।

এ ছাড়া নিরাপত্তা সূত্র জানায়, হেবরনের উত্তরে বেইত উম্মার শহরেও ইসরায়েলি সেনারা কয়েকটি বাড়িতে অভিযান চালায়। সেখান থেকে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতিস্থাপনকারীদের হামলা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই উদ্বেগ রয়েছে। ফিলিস্তিনিরা অভিযোগ করে আসছেন, এসব হামলার সময় অনেক ক্ষেত্রে ইসরায়েলি বাহিনীর উপস্থিতি বা সহায়তা থাকে।

সূত্র : আল জাজিরা 

নিহত করিম শালালদাহ। ছবি : আল কুদস ইউকে
নিহত করিম শালালদাহ। ছবি : আল কুদস ইউকে

ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করছে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো

দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমসঃ বহু বছর ধরে নিষেধাজ্ঞায় জর্জরিত ইরানের অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভরসার জায়গা ছিল সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই)। দুই দেশের মধ্যে রাজনৈতিক উত্তেজনা থাকলেও অর্থনৈতিক সম্পর্ক টিকে ছিল। তবে মঙ্গলবার ইউএই ইরানের সঙ্গে বাণিজ্য ও সব ধরনের লেনদেনে পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা আরোপের ঘোষণা দেওয়ায় সেই সম্পর্ক বড় ধরনের সংকটে পড়েছে।

বিশ্লেষকেরা বলছেন, এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হলে ইরান শুধু তাদের পণ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ বাজার হারাবে না, বিশ্ব অর্থনীতির সঙ্গে যোগাযোগের অন্যতম প্রধান পথও হারাবে।

ইউএইর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র আফরা আল হামেলি বলেছেন, ‘আঞ্চলিক উত্তেজনা বৃদ্ধির পরিপ্রেক্ষিতে’ এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

ইরানের সঙ্গে উপসাগরীয় দেশগুলোর গভীর অর্থনৈতিক সম্পর্ক এবং সেই সম্পর্কের ওপর তৈরি হওয়া চাপকে এই সিদ্ধান্ত সামনে এনেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করে। এরপর ইরান হরমুজ প্রণালি অবরোধ করে। এতে উপসাগরীয় দেশগুলোর অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি কমেছে। এসব দেশের অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি জ্বালানি রপ্তানিও বাধাগ্রস্ত হয়েছে।

ইরানের অর্থনীতির ‘ফুসফুস’

ইরান থেকে পারস্য উপসাগরের ওপারে মাত্র প্রায় ৫০ মাইল দূরে ইউএই। দেশ দুটির মধ্যে শত শত বছর ধরে বাণিজ্যিক সম্পর্ক রয়েছে। বর্তমানে ইউএইতে কয়েক লাখ ইরানি বসবাস করেন।

বিশ্লেষকদের মতে, উপসাগরীয় অঞ্চলে ইরানের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক অংশীদার ইউএই।

বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে ইরানের আমদানির প্রায় এক-তৃতীয়াংশ এসেছে ইউএই থেকে। ইলেকট্রনিক পণ্য, মূল্যবান ধাতু ও ভোগ্যপণ্যসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পণ্য ইউএইর মাধ্যমে ইরানে গেছে।

ইরানের পণ্যের অন্যতম বড় রপ্তানি গন্তব্যও ইউএই। বিশেষ করে খাদ্য ও মসলার মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সেখানে রপ্তানি করে ইরান।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বছরের পর বছর ধরে গড়ে ওঠা এই বাণিজ্যিক সম্পর্ক ইউএইকে, বিশেষ করে দেশটির সবচেয়ে বড় শহর দুবাইকে, আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা এড়াতে ইরানের জন্য গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে। দুবাই ইরানি পণ্য বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পুনঃরপ্তানির একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবেও ব্যবহৃত হয়ে আসছে।

কার্নেগি এনডাওমেন্ট ফর ইন্টারন্যাশনাল পিসের মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক বিশেষজ্ঞ অ্যান্ড্রু লেবার বলেন, ‘ইউএইকে ইরানের ফুসফুস বলা হয়েছে। এর মাধ্যমে ইরানের অর্থনীতি বৈশ্বিক অর্থনীতিতে প্রবেশের সুযোগ পায়।’

অবশ্য ইরানের সঙ্গে ইউএইর এই সম্পর্ক নিয়ে অতীতে যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা অভিযোগ ও চাপ দিয়েছেন। ইউএইর কর্মকর্তারা বলেন, তারা নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘনের ঘটনা শনাক্ত হলে ব্যবস্থা নেন। ইরানকে নিষেধাজ্ঞা এড়াতে ইউএই সহায়তা করে—এমন অভিযোগও তারা অস্বীকার করেছেন।

নিষেধাজ্ঞায় কতটা ক্ষতি হবে ইরানের

রাজনৈতিক ও নিরাপত্তাগত নানা বিষয়ে ইরান ও ইউএইর মধ্যে মতবিরোধ থাকলেও পারস্পরিক স্বার্থে দুই দেশ বছরের পর বছর বাণিজ্যিক সম্পর্ক বজায় রেখেছে।

অ্যান্ড্রু লেবারের মতে, ইউএইর নিষেধাজ্ঞা দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে ‘বড় ধরনের বিচ্ছেদ’ তৈরি করবে। তবে ইরানের অর্থনীতিতে এর প্রভাব কতটা হবে, তা নিয়ে বিশ্লেষকদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে।

আরব গালফ স্টেটস ইনস্টিটিউটের উপসাগরীয় অর্থনীতি বিশেষজ্ঞ রবার্ট মোগিয়েলনিকি বলেন, ইউএইর এই পদক্ষেপ ইরানের অর্থনীতির জন্য এমন বড় আঘাত হবে না, যা পুরো অর্থনীতিকে ভেঙে দেবে।

তার মতে, ইরান তার অর্থনীতিকে বহিরাগত ধাক্কা মোকাবিলার উপযোগী করে গড়ে তুলেছে। দেশটি ‘স্বনির্ভরতা’কে অগ্রাধিকার দেয়। তাই ইরানের অর্থনীতি ইউএইর ওপর অতটা নির্ভরশীল নয়।

তবে ওয়াশিংটনভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ফাউন্ডেশন ফর ডিফেন্স অব ডেমোক্রেসিজের মিয়াদ মালেকি ভিন্নমত পোষণ করেছেন। তার মতে, এই যুদ্ধে ইরানের বিরুদ্ধে ইউএইর নিষেধাজ্ঞা হবে ‘সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক পদক্ষেপ’। এমনকি এটি যুক্তরাষ্ট্রের আরোপ করা নিষেধাজ্ঞার চেয়েও বেশি গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।

তিনি বলেন, এ অঞ্চলে অন্যান্য নৌ অবরোধের সঙ্গে ইউএইর বাণিজ্য বন্ধের সিদ্ধান্ত যুক্ত হওয়ায় ইরানের ওপর এর প্রভাব আরো বেশি হতে পারে।

তবে ইউএই সরকার কতটা দ্রুত এবং কঠোরভাবে বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক স্থগিত করার সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।

ইরানি হামলার পর ইউএইর অবস্থান

ইরান উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্রদের ওপর হামলা চালানোর সময় সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়া দেশগুলোর একটি ইউএই। দেশটি হাজার হাজার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রতিহত করেছে।

ইউএই সরকার বাণিজ্য বন্ধের সিদ্ধান্ত ঠিক কখন নেওয়া হয়েছে বা এর পেছনে নির্দিষ্ট কী কারণ রয়েছে, তা জানায়নি।

তবে গত সপ্তাহে ইউএই অভিযোগ করে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী তাদের একটি তেলবাহী জাহাজে ইরান হামলা চালিয়েছে। এরপর ইউএইর ভূখণ্ডের দিকে ইরান ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে বলেও অভিযোগ করে দেশটি। ইরান অবশ্য এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

ইরানের হামলার মুখে ইউএই ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তাদের জোট আরো জোরদার করেছে।

এই নিষেধাজ্ঞার সিদ্ধান্তে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো ভূমিকা ছিল কি না, তা স্পষ্ট নয়। তবে ঘোষণার কয়েক ঘণ্টা আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইউএইর নেতা শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদের সঙ্গে ফোনে কথা বলেন।

অন্য উপসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক

অ্যান্ড্রু লেবার বলেন, উপসাগরের আরব অংশের বিভিন্ন বাণিজ্যিক গোষ্ঠীর সঙ্গে ইরানের দীর্ঘদিনের সম্পর্ক রয়েছে। ওমান এর একটি উদাহরণ। গত কয়েক দশকে ইরান ও ওমানের মধ্যে বাণিজ্য বেড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার সময়ও দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক বজায় ছিল।

তবে ইউএইর তুলনায় অন্যান্য উপসাগরীয় দেশের সঙ্গে ইরানের অর্থনৈতিক সম্পর্ক অনেক কম। রবার্ট মোগিয়েলনিকির মতে, এসব দেশের সঙ্গে ইরানের অর্থনৈতিক সম্পর্ক মূলত ‘সীমিত ও গুরুত্বহীন’।

তবু যুদ্ধ ও ইরানের আঞ্চলিক হামলার প্রভাব উপসাগরীয় দেশগুলোর অর্থনীতিতে পড়েছে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) কাতার, কুয়েত, বাহরাইন, ইউএই ও ওমানের অর্থনীতিতে সংকোচনের পূর্বাভাস দিয়েছে।

আইএমএফের হিসাবে, আগামী পাঁচ বছরে উপসাগরীয় অঞ্চলের মোট উৎপাদন ৭ শতাংশ পর্যন্ত কমে যেতে পারে।

ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করছে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো
ছবি: রয়টার্স

শিশু হত্যা বন্ধ হলেই আমরা ন্যায়বিচার পাব: হিন্দ রজবের মা

গাজায় পাঁচ বছর বয়সী হিন্দ রজাবকে ইসরাইলি বাহিনী হত্যার দুই বছর পর দায় স্বীকার করেছে সামরিক বাহিনী। তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী, রজবের পরিবারের গাড়িতে এবং তাকে বাঁচাতে পাঠানো প্যালেস্টাইন রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির অ্যাম্বুলেন্সের গুলি চালিয়েছে ইসরাইলি সামরিক বাহিনী।

অনেকের কাছে, এই ফৌজদারি তদন্তের ঘোষণাটি গণহত্যা যুদ্ধের অন্যতম প্রতীকী একটি মামলার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি।

হিন্দের মা, ওয়েসাম হামাদার জন্য, এতে খুব বেশি কিছু বদলায় না।

তিনি বলেন, ফিলিস্তিনি শিশুরা যখন মারা যেতেই থাকে, তখন একটি সামরিক তদন্তের মাধ্যমে ন্যায়বিচার পরিমাপ করা যায় না। হিন্দের হত্যাকাণ্ড গাজার শিশুদের দুর্ভোগের প্রতীক হয়ে উঠেছিল।

৩০ বছর বয়সী ওয়েসাম হামাদার টিআরটি ওয়ার্ল্ডকে ফোনে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘ন্যায়বিচার হলো যুদ্ধ বন্ধ হওয়া।’

২০২৪ সালের ২৯শে জানুয়ারি, ইসরাইলি সামরিক বাহিনীর নির্দেশে হিন্দ ও তার পরিবার গাজা শহর থেকে পালিয়ে যাচ্ছিল।

তদন্ত অনুযায়ী, তারা যখন গাড়ি চালিয়ে চলে যাচ্ছিল, তখন ইসরাইলি বাহিনী তাদের বহনকারী কালো কিয়া গাড়িটির ওপর গুলি চালায় এবং এতে ৩০০টিরও বেশি গুলি লাগে।

গাড়িচালক হিন্দের চাচা এবং অন্যান্য আত্মীয়রা নিহত হন। তার ১৫ বছর বয়সী চাচাতো বোন লায়ানও নিহত হওয়ার আগে প্যালেস্টাইন রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির (পিআরসিএস) ডিসপ্যাচারদের সাথে ফোনে কথা বলতে সক্ষম হয়।

একমাত্র জীবিত হিন্দ, তার আত্মীয়দের মৃতদেহের মাঝে ঘণ্টার পর ঘণ্টা গাড়ির ভেতরে আটকা পড়ে ছিল। সে সাহায্যের জন্য আকুতি জানিয়ে বারবার পিআরসিএস-কে ফোন করে।

পরে সংস্থাটি তাকে উদ্ধারের জন্য একটি অ্যাম্বুলেন্স পাঠায়, কিন্তু অবশেষে হিন্দ এবং প্যারামেডিক উভয়ের সাথেই যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।

হিন্দ রজবের চাওয়া সাহায্যের আকুতি গাজার সীমানা ছাড়িয়ে বহুদূর প্রতিধ্বনিত হয়েছে। যা তাকে শিশুদের ওপর যুদ্ধের ভয়াবহতার এক বিশ্বব্যাপী প্রতীকে পরিণত করেছে। ‘দ্য ভয়েস অফ হিন্দ রজব’ নামক একটি আন্তর্জাতিকভাবে প্রশংসিত তথ্যচিত্র নির্মাণে অনুপ্রেরণা জোগায়। এই তথ্যচিত্রটি ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসবে গ্র্যান্ড জুরি পুরস্কার জেতে এবং বাফটা ও অ্যাকাডেমি অ্যাওয়ার্ডের জন্য মনোনয়ন লাভ করে।

২০২৩ সালের অক্টোবরে গাজায় গণহত্যা যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে একাধিক যুদ্ধবিরতি চুক্তি ঘোষিত হয়েছে, ভেস্তে গেছে বা কার্যকর হতে ব্যর্থ হয়েছে। তবুও একটি বাস্তবতা অপরিবর্তিত রয়ে গেছে: ফিলিস্তিনি শিশুরা এখনো সহিংসতার প্রধান শিকার হয়ে চলেছে।

জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, ৭ অক্টোবর, ২০২৩ থেকে ৭ অক্টোবর, ২০২৫-এর মধ্যে ৬৪,০০০-এরও বেশি শিশু নিহত বা আহত হয়েছে।

১০ অক্টোবর, ২০২৫-এ একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তি কার্যকর হওয়ার পরেও সহিংসতা অব্যাহত ছিল। পরবর্তী ৩০০ দিনে গাজায় অন্তত ৩০০ শিশু নিহত হয়েছে বলে জানা গেছে।

শিশু হত্যা বন্ধ হলেই আমরা ন্যায়বিচার পাব: হিন্দ রজবের মা
হিন্দ রজবের একটি বিশাল প্রতিকৃতি তার মৃত্যুর দ্বিতীয় বার্ষিকীতে এবং তার মৃত্যু নিয়ে নির্মিত একটি চলচ্চিত্র অস্কার মনোনয়ন পাওয়ার পর, স্পেনের বার্সেলোনার বার্সেলোনেটা সৈকতে উন্মোচন করা হয়, ২৯ জানুয়ারী, ২০২৬। ছবি: সংগৃহীত।

ইরান শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে, এবার যুদ্ধ শেষ করার সময়: পেজেশকিয়ান

ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যে মাসব্যাপী চলা যুদ্ধের অবসান ঘটানোর সময় এসেছে, কারণ ওয়াশিংটনের তুলনায় তেহরান এখন শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে।

শুক্রবার চিকিৎসকদের সঙ্গে এক বৈঠকে তিনি এ মন্তব্য করেন।

ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের শুরু করা এই যুদ্ধের উভয় পক্ষই অচলাবস্থায় আটকে আছে। বর্তমানে দেশ দুটির মধ্যকার আলোচনাও স্থগিত রয়েছে।

তেহরান গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি আংশিকভাবে বন্ধ রেখেছে এবং ওয়াশিংটন ইরানের ওপর পাল্টা নৌ অবরোধ অব্যাহত রেখেছে।

পেজেশকিয়ান বলেন, ‘এখনই যুদ্ধের অবসান ঘটানো ভালো, কারণ আমরা শক্তি ও মর্যাদার অবস্থানে আছি।’

তিনি বলেন, ‘সারা বিশ্ব আমাদের বিজয়কে স্বীকার করে এবং আমেরিকা সমস্ত নিয়মকানুন লঙ্ঘন করে আমাদের স্কুল, হাসপাতাল এবং অবকাঠামোতে হামলা চালিয়েছে এবং সারা বিশ্বে ঘৃণিত।’

ওয়াশিংটন তেহরানের ওপর চাপ বাড়াতে নিষেধাজ্ঞা বাড়ানোর কথা বলার পর ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ‘অর্থনৈতিক সন্ত্রাসবাদ’ এবং ‘মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ’-এর অভিযোগ তোলে। এরপরই পেজেশকিয়ানের এই মন্তব্য আসে।

রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘এই নিষেধাজ্ঞার প্রণেতা ও প্ররোচনাকারীরা এমন জঘন্য অপরাধ করার জন্য বিচার ও শাস্তির যোগ্য।’

যুদ্ধ শুরুর প্রায় ছয় মাস পর, বৃহস্পতিবার মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট অঙ্গীকার করেছেন যে, ওয়াশিংটন তার হুমকি দেওয়া অভিযানের মাধ্যমে ইরানি শাসনব্যবস্থাকে ধ্বংস করে দেবে।

এই মন্তব্যগুলো এটা স্পষ্ট যে, মার্কিন প্রেসিডেন্টের শুরু করা অজনপ্রিয় যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ার সাথে সাথে ট্রাম্প প্রশাসন তেহরানের ওপর সামরিক চাপের পরিবর্তে অর্থনৈতিক চাপের দিকে ঝুঁকছে।

এদিকে চীনও ওয়াশিংটনের অর্থনৈতিক পরিকল্পনার সমালোচনা করে বলেছে যে, মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ও চাপ মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের সমাধান করবে না।

সূত্র: আরব নিউজ

ইরান শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে, এবার যুদ্ধ শেষ করার সময়: পেজেশকিয়ান
মাসুদ পেজেশকিয়ান

এক স্রষ্টায় বিশ্বাসীদের জন্য ‘বন্দে মাতরম’ পাঠ অস্বস্তিকর: শর্মিলা ঠাকুর

ভারতের সব ধর্মের মানুষের কথা বিবেচনা করে ‘বন্দে মাতরম’-এর প্রথম দুই স্তবকই যথেষ্ট। যারা এক স্রষ্টায় বিশ্বাস করেন, তাদের জন্য গানটির কিছু অংশ পাঠ করা কঠিন ও অস্বস্তিকর হতে পারে। এর সব স্তবক সবার ধর্মীয় বিশ্বাসের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নাও হতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন বলিউডের বর্ষীয়ান অভিনেত্রী শর্মিলা ঠাকুর। বৃহস্পতিবার সংবাদ সংস্থা আইএএনএসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন।

শর্মিলা ঠাকুর বলেন, ভারতে বিভিন্ন ধর্মের মানুষ বসবাস করেন। তাদের মধ্যে অনেকে এক ঈশ্বরে বিশ্বাসী। কিন্তু ‘বন্দে মাতরম’-এর পরবর্তী কিছু স্তবকে একাধিক হিন্দু দেবদেবীর উল্লেখ রয়েছে। যারা এক ও অদ্বিতীয় স্রষ্টায় বিশ্বাস করেন, তাদের জন্য ‘বন্দে কালী’ বা ‘বন্দে দুর্গা’র মতো বাক্য বলা অসুবিধাজনক হতে পারে। তাই দেশের সব ধর্মের মানুষকে সঙ্গে নিয়ে চলতে হলে গানটির প্রথম দুই স্তবকই ভালো এবং গ্রহণযোগ্য।
বিজ্ঞাপন

শর্মিলা ঠাকুরের মন্তব্য ভারতের জাতীয় গান ‘বন্দে মাতরম’ নিয়ে চলমান রাজনৈতিক বিতর্কে নতুন মাত্রা পেয়েছে। কংগ্রেস দলীয় অনুষ্ঠানে গানটির প্রথম দুই স্তবক গাওয়ার অবস্থানে রয়েছে। অন্যদিকে বিজেপির নেতারা এ নিয়ে কংগ্রেসের সমালোচনা করছেন। ভারতের স্বাধীনতা দিবস উদযাপনের পর জাতীয় গানটির পরিবেশন ও এর ঐতিহাসিক ব্যাখ্যা নিয়ে বিতর্ক আরও জোরালো হয়েছে।

সূত্র: জি নিউজ ও সিটি এয়ার নিউজ

এক স্রষ্টায় বিশ্বাসীদের জন্য ‘বন্দে মাতরম’ পাঠ অস্বস্তিকর: শর্মিলা ঠাকুর

ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধারে ইসলাম বিদ্বেষকে হাতিয়ার করছে ইসরাইল

আল জাজিরার নিবন্ধঃ ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বে পশ্চিমা দেশগুলোতে ইসলাম বিদ্বেষ উসকে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের ডানপন্থি রাজনীতির সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়িয়ে ইসরাইল নিজেকে ‘কট্টরপন্থি ইসলাম’-এর বিরুদ্ধে পশ্চিমা বিশ্বের রক্ষাকবচ হিসেবে তুলে ধরছে।

যুক্তরাষ্ট্রে সাম্প্রতিক সময়ে মুসলিমবিদ্বেষী বক্তব্য ও রাজনৈতিক প্রচারণা বেড়েছে। ‘শরিয়া-ফ্রি আমেরিকা ককাস’-এর মতো উদ্যোগ এবং মুসলিমদের লক্ষ্য করে বিভিন্ন রাজনৈতিক বক্তব্যের পাশাপাশি মসজিদে হামলার ঘটনাও উদ্বেগ বাড়িয়েছে। একই সঙ্গে দেশটির সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠী ও অভিবাসীদের বিরুদ্ধেও বিদ্বেষমূলক রাজনীতি জোরদার হয়েছে।

এই পরিস্থিতির পেছনে সাবেক প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশের সময়কার অবস্থানের সঙ্গে বড় ধরনের পার্থক্য রয়েছে। ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের হামলার পর বুশ একটি মসজিদে গিয়ে বলেছিলেন, ইসলাম শান্তির ধর্ম। কিন্তু বর্তমান মার্কিন ডানপন্থি রাজনীতিতে এমন অন্তর্ভুক্তিমূলক বার্তা অনেকটাই অনুপস্থিত।

ইসরাইলও এই রাজনৈতিক পরিবেশকে কাজে লাগাচ্ছে বলে মতামত নিবন্ধটিতে দাবি করা হয়। চলতি বছরের জানুয়ারিতে জেরুজালেমে ইসরাইল আয়োজিত একটি ইহুদিবিদ্বেষবিরোধী সম্মেলনে ইউরোপের বিভিন্ন কট্টর ডানপন্থি দলের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। নেতানিয়াহু সেখানে ‘র‌্যাডিক্যাল ইসলামের আগ্রাসন’-এর বিরুদ্ধে লড়াইয়ে এসব রাজনৈতিক শক্তিকে মিত্র হিসেবে দেখানোর চেষ্টা করেন।

বিশ্লেষণ অনুযায়ী, এই প্রবণতার পেছনে ট্রাম্পপন্থি রাজনীতির পাশাপাশি ইসরাইলের জনসংযোগ ও ‘হাসবারা’ প্রচারণারও ভূমিকা রয়েছে। ইসরাইলি সরকার পশ্চিমা দেশগুলোতে ইসলাম ও মুসলিম অভিবাসীদের ঘিরে ভয় তৈরি করে নিজেদের নিরাপত্তা ও অস্তিত্বের প্রশ্নকে সামনে আনতে চাইছে বলে অভিযোগ রয়েছে। কানাডাতেও ইসরাইল-সমর্থিত একটি প্রভাব বিস্তারকারী প্রচারণার মাধ্যমে মুসলিম অভিবাসীদের হুমকি হিসেবে তুলে ধরার অভিযোগ উঠেছিল।

ইসরাইলের আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তি, বিশেষ করে গাজা যুদ্ধকে কেন্দ্র করে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর দেশটি সমালোচকদের মোকাবিলায় আরো আগ্রাসী প্রচারণার পথ বেছে নিয়েছে। এ প্রচারণায় ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের কট্টর ডানপন্থিদের সঙ্গে ইসরাইলের সম্পর্কও দৃঢ় হচ্ছে।

তবে ইসলামোফোবিয়া উসকে দিয়ে ইসরাইল পশ্চিমা জনসমর্থন পুনরুদ্ধার করতে পারবে কি না, তা নিয়ে যথেষ্ট সংশয় রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপে মুসলিমসহ বিভিন্ন সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর রাজনৈতিক অংশগ্রহণ বাড়ছে। মুসলিম প্রার্থীদের নির্বাচনী সাফল্যও দেখাচ্ছে যে ইসলামোফোবিয়ার বিরুদ্ধে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে প্রতিরোধ তৈরি হচ্ছে।

নিবন্ধের শেষ দিকে বলা হয়, ভয় ও বিদ্বেষ সাময়িকভাবে রাজনৈতিক সমর্থন বাড়াতে পারলেও তা পশ্চিমা সমাজে বিভাজন ও সহিংসতা আরো বাড়াতে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে। ইসরাইল যদি পশ্চিমা সমর্থন ধরে রাখতে চায়, তাহলে ইসলামোফোবিয়াকে উসকে দেওয়ার পরিবর্তে সমতা, শান্তি ও রাজনৈতিক সমাধানের পথে এগোনোই বেশি কার্যকর হতে পারে। পশ্চিমা দেশগুলোরও উচিত বিদেশি প্রভাব ও প্রচারণার বিষয়টি উপলব্ধি করে নিজেদের বহুত্ববাদী মূল্যবোধ রক্ষা করা।

ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধারে ইসলাম বিদ্বেষকে হাতিয়ার করছে ইসরাইল
ছবি: সংগৃহীত।

ট্রাম্পের প্রস্তাবে নেতানিয়াহুর ভেটো by সাঈদ আরিকাত

গাজা উপত্যকায় চলমান সংকট নিরসনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ১৫ দফা শান্তি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, হামাস পুরোপুরি নিরস্ত্র এবং ইসরাইলের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত তারা গাজা থেকে সেনা প্রত্যাহার করবে না। এজন্য ট্রাম্পের পরিকল্পনাও ইসরাইলের পক্ষে মেনে নেওয়া সম্ভব নয়। ট্রাম্পের যুদ্ধবিরতি রোডম্যাপ ও গাজার পুনর্গঠন প্রক্রিয়া হামাসকে সুবিধা দিতে পারে বলে নেতানিয়াহু এবং তার সরকারের কট্টরপন্থি শরিকরা মনে করে। নেতানিয়াহুর এই বক্তব্য ট্রাম্পের গাজা প্রস্তাবে সরাসরি ভেটো দেওয়ারই শামিল। এর মাধ্যমে কার্যত ইসরাইলকে নিয়ন্ত্রণে রাখার ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষমতার সীমাবদ্ধতাই স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

ট্রাম্প মনে করতেন আমেরিকার শক্তি প্রয়োগের ক্ষেত্রে মার্কিন প্রেসিডেন্টরা অতিরিক্ত সতর্কতা দেখিয়েছেন। তার মতে, মিত্র, প্রতিপক্ষ এবং আমলারা ওয়াশিংটনকে উপেক্ষা করতে শিখে গেছে, কারণ ওয়াশিংটন ভুলে গেছে কীভাবে অন্যদের বাধ্য করতে হয়। এজন্য গাজা প্রস্তাবের মাধ্যমে এর বিপরীত চিত্রই তুলে ধরার কথা ছিল, যেখানে ট্রাম্প একটি রূপরেখা চাপিয়ে দেবেন, সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো তা মেনে নেবে এবং যুক্তরাষ্ট্র নিজেকে সেই অপরিহার্য শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করবে বলে দাবি করে আসছে।

কিন্তু তার সেই রূপরেখাকে নেতানিয়াহুর দ্রুত প্রত্যাখ্যান শুধু আলোচনার একটি কৌশল ছিল না, বরং এটি ছিল মূলত একটি আগাম ভেটো। এর লক্ষ্য ছিল ট্রাম্পের উদ্যোগটি গতি পাওয়ার আগেই সেটিকে দুর্বল করা। এই বিরোধকে একজন ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী ও মার্কিন প্রেসিডেন্টের মধ্যে সাধারণ মতপার্থক্য হিসেবে দেখা যেতে পারে, কিন্তু তাতে বিষয়টির বৃহত্তর তাৎপর্য আড়ালে পড়ে যায়। হামাসকে ‘প্রকৃত অর্থে’ নিরস্ত্র না করা পর্যন্ত সেনা প্রত্যাহার করা যাবে না—নেতানিয়াহুর এই অনড় অবস্থান ট্রাম্পের প্রস্তাবের মূল ভিত্তিতেই আঘাত করেছে। একই সঙ্গে এটি এমন একটি প্রশ্ন সামনে নিয়ে আসে, যা ওয়াশিংটন কয়েক দশক ধরে এড়িয়ে চলেছে। সেই প্রশ্নটি হচ্ছে—যখন কোনো পরাশক্তি তার মিত্রকে নিজস্ব কূটনীতির শর্তাবলি নির্ধারণের সুযোগ দেয়, তখন বাস্তবে কী ঘটে?

ট্রাম্পের ১৫ দফা রূপরেখা পারস্পরিক পদক্ষেপের ওপর ভিত্তি করে তৈরি। এর আওতায় একটি অন্তর্বর্তী ব্যবস্থার অধীনে হামাস অস্ত্র সমর্পণ করবে, আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার প্রক্রিয়া ও ফিলিস্তিনি নিরাপত্তা কাঠামো গড়ে উঠতে শুরু করবে এবং নতুন ব্যবস্থা কার্যকর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ইসরাইলি বাহিনী গাজা থেকে পর্যায়ক্রমে সরে যাবে। কিন্তু নেতানিয়াহু ট্রাম্পের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে কার্যত সেই সমীকরণ বদলে দিয়েছেন। তার যুক্তি হলো, হামাসকে সম্পূর্ণ নিরস্ত্র না করা পর্যন্ত ইসরাইল কোনো অর্থবহ সেনা প্রত্যাহার করতে পারে না। কিন্তু ‘সম্পূর্ণ নিরস্ত্রীকরণ’ বলতে কী বোঝায়, তা কে নির্ধারণ করবে এবং কে তা যাচাই করবে? আর তখন কী হবে যখন ইসরাইল দাবি করবে যে, হামাস কোথাও অস্ত্র লুকিয়ে রেখেছে অথবা নতুন কোনো হুমকি দেখা দিয়েছে?

প্রতিটি প্রশ্নের উত্তর যদি ইসরাইল সরকারের হাতেই থাকে, তবে সেনা প্রত্যাহারের বিষয়টি এমন এক মানদণ্ডের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ে, যা শুধু ইসরাইলই নির্ধারণ ও পরিবর্তন করবে। এটি ট্রাম্পের প্রস্তাবের বিরুদ্ধে একটি স্থায়ী ভেটো বা বাধার সৃষ্টির হাতিয়ার হিসেবে কাজ করবে। ট্রাম্পের প্রস্তাবিত কাঠামো অনুযায়ী ইসরাইলকে আন্তর্জাতিক ও ফিলিস্তিনি অন্তর্বর্তী কাঠামোর কাছে কিছুটা নিয়ন্ত্রণ ছেড়ে দিতে হবে। অন্যদিকে, নেতানিয়াহুর অবস্থান অনুযায়ী ইসরাইল কখন তাদের সামরিক কর্তৃত্বের অবসান ঘটাবে, সেটি তারাই ঠিক করবে। হামাসের হুমকি কখন দূর হয়েছে, তা যদি ইসরাইল একাই নির্ধারণ করে, তবে উত্তরণ প্রক্রিয়া কখন শুরু হবে, তাও দেশটিই ঠিক করবে। এর ফলে নিরস্ত্রীকরণের মোড়কে গাজায় ইসরাইলের নিরাপত্তা উপস্থিতি অনির্দিষ্টকাল বজায় থাকবে।

ট্রাম্প-নেতানিয়াহুর এই মতপার্থক্য সংঘাতকে আরো তীব্র করবে। ট্রাম্প চান গাজা যুদ্ধের অবসান ঘটাতে। তিনি এমন একটি কূটনৈতিক সাফল্য চান, যা তার নিজের অর্জন হিসেবে চিহ্নিত হবে এবং প্রমাণ করবে যে, প্রচলিত কূটনীতি যেখানে ব্যর্থ, সেখানে মার্কিন শক্তি সফল হয়েছে। কিন্তু নেতানিয়াহুর হিসাব সম্পূর্ণ ভিন্ন। তার কাছে, ইসরাইলি বিজয়ের সংজ্ঞার সঙ্গে যুদ্ধ অবিচ্ছেদ্যভাবে জড়িত। এমন কোনো সমঝোতা—যার মাধ্যমে লড়াইও থামল, হামাসের হাতে কিছু সক্ষমতাও রয়ে গেল অথবা ফিলিস্তিনি ও আন্তর্জাতিক পক্ষের হাতে উল্লেখযোগ্য ক্ষমতা হস্তান্তরিত হলো, সে রকম কিছু মানবে ইসরাইল। এটিকে নেতানিয়াহুর সরকারের উগ্রপন্থি মিত্ররা যুদ্ধের মূল লক্ষ্য থেকে সরে আসা বা পরাজয় হিসেবে তুলে ধরবে।

ট্রাম্প সাফল্যের সংজ্ঞা নির্ধারণ করেন লেনদেন বা বিনিময়ভিত্তিক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে আর নেতানিয়াহু তা দেখেন সর্বোচ্চ অর্জনের দৃষ্টিকোণ থেকে। তারা মিত্র হলেও তাদের চূড়ান্ত লক্ষ্য এক নয়। ফলে এমন এক সংঘাতের সৃষ্টি হয়, যেখানে একদিকে আছেন এমন এক প্রেসিডেন্ট, যিনি সমাধান চাইছেন, অন্যদিকে এমন এক প্রধানমন্ত্রী যার রাজনৈতিক অস্তিত্ব টিকে আছে সেই সমাধানটি ঠেকিয়ে রাখার ওপর। ইসরাইলের অভ্যন্তরীণ রাজনীতির সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত স্বার্থের সংঘাত ঠিক এখানেই।

নেতানিয়াহু একটি বিষয় ভালোভাবেই বোঝেন, যা ইসরাইলের আগের সরকারগুলো প্রয়োগ করেছে। আর তা হলো ইসরাইল যদি অনড় অবস্থান নেয়, তবে যুক্তরাষ্ট্রের বেঁধে দেওয়া ‘রেড লাইন’ বা কঠোর সীমারেখা আলোচনা সাপেক্ষে নমনীয় হয়। তাদের এই কৌশলটি হলো—সময়ক্ষেপণ করা, আপত্তি জানানো, নিরাপত্তার দোহাই দেওয়া, রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টি করা এবং মার্কিন প্রেসিডেন্টের পিছু হটার জন্য অপেক্ষা করা। এভাবেই তারা যুক্তরাষ্ট্রকে তাদের অবস্থান থেকে পিছু হটতে বাধ্য করে থাকে।

যুক্তরাষ্ট্র ইসরাইলকে যুগ যুগ ধরে সামরিক, অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক সহায়তা দিয়ে আসছে। কিন্তু তারপরও ইসরাইল যুক্তরাষ্ট্রের সব কথা বা শর্ত কখনোই মেনে চলেনি। ট্রাম্পের গাজা পরিকল্পনা প্রত্যাখ্যানের মাধ্যমে তা আবার প্রমাণ হলো। সবসময়ই দেখা গেছে, সংঘাতের রাজনৈতিক মূল্য যখন বেড়ে গেছে, তখন যুক্তরাষ্ট্র শেষ পর্যন্ত ইসরাইল সরকারের কাছে নতি স্বীকার করেছে। যুক্তরাষ্ট্র এমন এক মিত্রকে অর্থায়ন করে চলেছে যে নিয়মিতভাবে মার্কিন নীতি অগ্রাহ্য করে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র এজন্য ইসরাইলের ওপর অর্থবহ চাপ সৃষ্টির পরিবর্তে শুধু গোপনে অনুরোধ করে থাকে। নেতানিয়াহু দীর্ঘদিনের এই ধারা অব্যাহত থাকার ওপরই ভরসা করছেন।

ট্রাম্প এ ধরনের রাজনৈতিক স্থবিরতা ভাঙার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। কিন্তু এটি করতে হলে শুধু নেতানিয়াহুকেই নয়, বরং দেশটির সেই অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক কাঠামোকেও চ্যালেঞ্জ জানাতে হবে, যা ইসরাইল সরকারের ওপর দীর্ঘস্থায়ী চাপ সৃষ্টি করাকে কঠিন করে রেখেছে। কথার সঙ্গে কাজের মিল রাখতে ট্রাম্প প্রশাসনের ব্যর্থতা নেতানিয়াহুকে এই বার্তাই দিচ্ছে যে, ওয়াশিংটনের ঘোষিত লক্ষ্য অমান্য করলে কোনো মাশুল গুনতে হয় না। যুক্তরাষ্ট্রের এই নিষ্ক্রিয়তা ইসরাইলের অনমনীয় মনোভাব বজায় রাখাকে বরাবরই উৎসাহিত করেছে।

এই পরিস্থিতিতে ট্রাম্পের সামনে এখন চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার পালা। ইসরাইল যদি তার গাজা পরিকল্পনা প্রত্যাখ্যান করা অব্যাহত রাখে, তবে তিনি বা তার প্রশাসন কী করবে? এর উত্তর পাওয়ার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষমতার বাস্তব প্রয়োগ প্রয়োজন। এর মধ্যে থাকতে পারে সামরিক সহায়তার সঙ্গে শর্ত জুড়ে দেওয়া, অস্ত্র সরবরাহ ধীর করা অথবা স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেওয়া যে, ইসরাইলি নীতি যখন যুক্তরাষ্ট্রের কোনো ঘোষিত লক্ষ্যকে সরাসরি বাধাগ্রস্ত করে, তখন সহায়তা আর সহজে পাওয়া যাবে না।

রাজনৈতিক এই ঝুঁকি নেওয়ার সদিচ্ছা ছাড়া মার্কিন নেতৃত্বের বুলি শুধু লোকদেখানো নাটক ছাড়া আর কিছু নয়। ‘ইসরাইলের আত্মরক্ষার অধিকার আছে’—এই বয়ান সামনে রেখে হামাসকে ধ্বংস করা ও গাজা উপত্যকা চিরদিন দখলে রাখার জন্য ইসরাইলকে যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া লাইসেন্সই বরং বহাল থাকবে। ট্রাম্প যদি ইসরাইলের পক্ষের এই বয়ানে পরিবর্তন আনতে না পারেন, তবে তা এটাই প্রমাণ করবে, ইসরাইলি নেতারা বড় কোনো শাস্তির ভয় ছাড়াই মার্কিন কূটনীতিকে বাধাগ্রস্ত করতে পারেন। মার্কিন প্রেসিডেন্টদের সবচেয়ে বড় সীমাবদ্ধতা হলো—তাদের ক্ষমতার অভাব নয়, বরং সেই ক্ষমতা প্রয়োগের রাজনৈতিক সদিচ্ছার অভাব। ক্ষমতা প্রয়োগের সদিচ্ছা ছাড়া ক্ষমতা শুধুই লোকদেখানো অভিনয়। গাজার ক্ষেত্রে ট্রাম্পের সেই অভিনয় ক্রমেই উন্মোচিত হচ্ছে।

* আলজাজিরা অবলম্বনে মোতালেব জামালী

ট্রাম্পের প্রস্তাবে নেতানিয়াহুর ভেটো
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু

ফিলিস্তিনিদের হত্যার আহ্বান বেন-গভিরের, জার্মানিতে নিন্দার ঝড়

গাজায় ফিলিস্তিনিদের হত্যার আহ্বান জানিয়ে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছেন ইসরাইলের জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভির। তার মন্তব্যের পর জার্মানিতে রাজনৈতিক অঙ্গন থেকে শুরু করে ইহুদি ও খ্রিষ্টান ধর্মীয় সংগঠনগুলোও নিন্দায় সরব হয়েছে। একই সঙ্গে বেন-গভিরের ওপর জার্মানি ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) নিষেধাজ্ঞা আরোপের দাবিও জোরালো হয়েছে।

সোমবার এক বক্তব্যে বেন-গভির বলেন, গাজায় ‘সুনির্দিষ্টভাবে লক্ষ্য করে’ হত্যাকাণ্ড চালানো উচিত। প্রতি রাতে ৩০ থেকে ৪০ জন ফিলিস্তিনিকে ‘সরিয়ে ফেলা’ উচিত। শুধু তাৎক্ষণিক হুমকি তৈরি করা সশস্ত্র ফিলিস্তিনিই নয়, গাজায় এমন মানুষও রয়েছেন, যাদের বেঁচে থাকা উচিত নয়—এমন মন্তব্যও করেন তিনি।

‘এ ধরনের বক্তব্য কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়’

বেন-গভিরের বক্তব্যের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন জার্মানির চ্যান্সেলর ফ্রিডরিশ ম্যার্ৎস। ছুটিতে থাকা সত্ত্বেও বুধবার এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, এ ধরনের বক্তব্য আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন এবং কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

ম্যার্ৎসের মুখপাত্র জানান, চ্যান্সেলর অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরাইলের বসতি সম্প্রসারণের গতি বাড়ানোর পরিকল্পনা নিয়েও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। একই সঙ্গে গাজায় ইসরাইলের নতুন করে ভূখণ্ড দখলের কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

ম্যার্ৎসের মতে, দখলদার শক্তি হিসেবে ইসরাইলকে ফিলিস্তিনিদের সঙ্গে মর্যাদাপূর্ণ আচরণ করতে হবে, তাদের সম্পত্তির সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে এবং গাজায় জনপ্রশাসন ও মানবিক সহায়তা চালু রাখতে হবে।

‘এবার সীমা অতিক্রম করেছে’

বেন-গভিরের মন্তব্যের এক দিন আগেই তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান জার্মানির অর্থমন্ত্রী ও চ্যান্সেলরের ডেপুটি লার্স ক্লিংবাইল। তিনি বলেন, জার্মান সরকার কোনোভাবেই এ ধরনের বক্তব্য মেনে নিতে পারে না।

ক্লিংবাইল জানান, বেন-গভিরকে ইউরোপীয় পর্যায়ে নিষিদ্ধ করার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে। ইসরাইল রাষ্ট্রের প্রতি জার্মানির পূর্ণ সংহতি থাকলেও এমন বক্তব্যের ক্ষেত্রে নীরব থাকার সুযোগ নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তার ভাষায়, এবার এমন একটি সীমা অতিক্রম করা হয়েছে, যা সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য।

ইউরোপীয় পার্লামেন্টে জার্মানির রক্ষণশীল ক্রিশ্চিয়ান ডেমোক্র্যাটিক ইউনিয়নের (সিডিইউ) সদস্য হিল্ডগার্ড বেন্টেলেও বেন-গভিরের ওপর নিষেধাজ্ঞার পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। তিনি বলেন, ইউরোপে কোনো ব্যক্তিকে রাজনৈতিক বা অন্য কোনো কারণে নির্মূল বা নিশ্চিহ্ন করতে চাওয়া সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য।

ইসরাইলে অস্ত্র রপ্তানি বন্ধের দাবি

জার্মানির বিরোধী দল গ্রিন পার্টিও বেন-গভিরের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছে। দলটির নেত্রী ফ্রান্সিসকা ব্রান্টনার জার্মান সরকারকে বেন-গভিরের জার্মানিতে প্রবেশ নিষিদ্ধ করার আহ্বান জানিয়েছেন। একই ধরনের নিষেধাজ্ঞা ইউরোপীয় পর্যায়েও আরোপের উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানান তিনি।

ব্রান্টনার বলেন, বেন-গভিরের উগ্র বক্তব্য নতুন নয়। ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে সহিংসতা উসকে দেওয়ার মতো বক্তব্যের কারণে এবার তিনি নতুন করে আলোচনায় এলেও অতীতেও এমন বক্তব্য দিয়েছেন। ফলে যেসব দেশ ইতিমধ্যে তার ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে, জার্মানিরও তাদের অনুসরণ করা উচিত।

জার্মানির লেফট পার্টিও বেন-গভিরের বক্তব্যে ক্ষোভ জানিয়েছে। দলটির নেতা লেয়া রাইজনার ইসরাইলি মন্ত্রীর পাশাপাশি ইসরাইল সরকারের বিরুদ্ধেও কঠোর পদক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে ইসরাইলে সব ধরনের অস্ত্র রপ্তানি বন্ধের দাবি তুলেছেন তিনি।

ইহুদি ও খ্রিষ্টান সংগঠনগুলোরও নিন্দা

বেন-গভিরের বক্তব্যের নিন্দা জানিয়েছে জার্মানির ইহুদিদের কেন্দ্রীয় পরিষদ। সংগঠনটির সভাপতি ইয়োসেফ শুস্টার বলেন, এই বক্তব্য ইহুদি মূল্যবোধের সম্পূর্ণ পরিপন্থি এবং এর ফলে ইসরাইলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে।

বেন-গভিরের আচরণকে ‘অত্যন্ত লজ্জাজনক ও দায়িত্বজ্ঞানহীন’ আখ্যা দিয়ে শুস্টার বলেন, এ ঘটনা উগ্র ডানপন্থি শক্তিগুলোর বিপজ্জনক রূপও তুলে ধরেছে।

জার্মানির প্রোটেস্ট্যান্ট চার্চ কাউন্সিলের চেয়ারপার্সন কার্স্টেন ফেয়াহ্রসও মন্তব্যটির তীব্র সমালোচনা করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি বেন-গভিরের বক্তব্যকে ‘মানবতার ওপর আঘাত’ হিসেবে উল্লেখ করেন। তার মতে, প্রত্যেক মানুষের মর্যাদা রয়েছে—এই বিশ্বাস সব ধর্মের মানুষের মধ্যে থাকা প্রয়োজন। মানুষের এই মর্যাদা কেউ দিতে পারে না, আবার কেড়ে নিতেও পারে না।

যেসব দেশে নিষিদ্ধ বেন-গভির

অস্ট্রেলিয়া, ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য, কানাডা, নিউজিল্যান্ড, নরওয়ে ও নেদারল্যান্ডসসহ বেশ কয়েকটি দেশ ইতিমধ্যে বেন-গভিরের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। এর ফলে এসব দেশে তার প্রবেশে বাধা রয়েছে।

জার্মানির বুন্ডেস্টাগে রক্ষণশীল সংসদীয় দলের পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক মুখপাত্র ইয়ুর্গেন হার্ড্টও ইইউকে বেন-গভিরের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের আহ্বান জানিয়েছেন। তার মতে, মানবিক মর্যাদা ও মানবাধিকারের সর্বজনীন স্বীকৃতির বার্তা দিতে ইউরোপীয় ইউনিয়নের এমন পদক্ষেপ নেওয়া উচিত। হার্ড্ট একই সঙ্গে ইসরাইলের মন্ত্রিসভা থেকেও বেন-গভিরকে বাদ দেওয়ার পক্ষে মত দিয়েছেন।

বেন-গভিরের সর্বশেষ মন্তব্যের পর জার্মানিতে যে রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে, তাতে ইসরাইলি মন্ত্রীর বিরুদ্ধে ইউরোপীয় পর্যায়ে নিষেধাজ্ঞার দাবি নতুন করে জোরালো হয়ে উঠেছে।

সূত্র: ডয়চে ভেলে

ফিলিস্তিনিদের হত্যার আহ্বান বেন-গভিরের, জার্মানিতে নিন্দার ঝড়
ইসরাইলের জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভির।

ইরানকে কাবু করতে ট্রাম্পের ‘অ্যানাকোন্ডা কৌশল’

আল–জাজিরা, বিশ্লেষণঃ যুদ্ধক্ষেত্রে কৌশল বদলে এখন অর্থনীতিকে হাতিয়ার করেছে ওয়াশিংটন ও তেহরান। মধ্যপ্রাচ্যে সরাসরি সামরিক সংঘাত কিছুটা থমকে গেলেও শুরু হয়েছে এক অভূতপূর্ব অর্থনৈতিক ও মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে কূটনৈতিক টেবিলে নতি স্বীকারে বাধ্য করতে এক কঠোর ‘অ্যানাকোন্ডা কৌশল’ নিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের মূল লক্ষ্য হচ্ছে—কোনো জাতীয় পরিকাঠামো ধ্বংস না করে, অর্থনৈতিকভাবে শ্বাসরোধ করে তেহরানের শাসনব্যবস্থাকে কোণঠাসা করা।

এই কৌশলের সবচেয়ে প্রধান ও মূল হাতিয়ার হলো নৌ-অবরোধ। মার্কিন নৌবাহিনী কেবল হরমুজ প্রণালিতেই সীমাবদ্ধ নেই; বরং ভারত মহাসাগরেও অবস্থান নিয়ে ইরানের জ্বালানি তেল চোরাচালানের ‘শ্যাডো ফ্লিট’ বা গোপন জাহাজের বহর জব্দ করছে।

চীন ও ভারতে সস্তায় তেল পাঠানো আটকানোর পাশাপাশি ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির কাঁচামাল আমদানি বন্ধ করে দিয়েছে ওয়াশিংটন। ফলে ইরানের তেলখনি ও খারগ দ্বীপের ট্যাংকারগুলো ধারণক্ষমতার শীর্ষে পৌঁছে যাওয়ায় দেশটির খনি থেকে অপরিশোধিত তেল উত্তোলন পুরোপুরি বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে, যা তাদের অর্থনীতিকে দীর্ঘমেয়াদি ধসের মুখে ঠেলে দিচ্ছে।

নৌ-অবরোধের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র ডিজিটাল অর্থনীতির ওপর আঘাত হেনেছে। সম্প্রতি মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) ব্যবহৃত লাখ লাখ ডলার সমমূল্যের ক্রিপ্টোকারেন্সি অ্যাকাউন্ট জব্দ করেছে। পাশাপাশি যেসব ছোট ছোট চীনা শোধনাগার ইরানের কাছ থেকে গোপনে তেল কিনছিল, সেগুলোর ওপরও মার্কিন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।

মার্কিন নীতিনির্ধারকদের মতে, অবকাঠামোতে হামলা চালালে সাধারণ ইরানিরা বর্তমান সরকারের পক্ষে জাতীয়তাবাদী শক্তিতে ঐক্যবদ্ধ হতে পারে। কিন্তু এই অর্থনৈতিক অবরোধ অব্যাহত রাখলে যুদ্ধ–পরবর্তী সময়ে সাধারণ জনগণের তীব্র গণবিক্ষোভের মুখে তেহরানের আয়াতুল্লাহ সরকার বা আইআরজিসির অস্তিত্বই হুমকির মুখে পড়বে।

তবে ইরানও বসে নেই। তেহরান মূলত সময়ের সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করছে। হরমুজ প্রণালিতে সংকট বজায় রেখে জ্বালানির বিশ্ববাজারে যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, তার ফায়দা তুলতে চায় তারা। তেহরানের বাজি হলো, বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি এবং যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি ও আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনে ট্রাম্পের ওপর চাপ বৃদ্ধি পেলে ওয়াশিংটনই নতি স্বীকার করতে বাধ্য হবে।

তবে ইসরায়েলি গোয়েন্দা ও সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, শুধু অর্থনৈতিক অবরোধ দিয়ে তেহরানের কট্টরপন্থী শাসনব্যবস্থাকে কাবু করা কঠিন। তাঁরা মনে করছেন, শেষ পর্যন্ত মূল অবকাঠামোতে কঠোর সামরিক আঘাত ছাড়া ইরানকে তার পারমাণবিক কর্মসূচি থেকে পুরোপুরি সরিয়ে আনা সম্ভব না–ও হতে পারে।

তেহরানের সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজের বিশ্লেষক আলী আকবর দারে ইনি বলেছেন, এ পর্যন্ত যে যুদ্ধে ডোনাল্ড ট্রাম্প জিততে ব্যর্থ হয়েছেন, তা শেষ করতে তিনি ‘অ্যানাকোন্ডা কৌশল’ ব্যবহার করছেন।

দারে ইনি আল–জাজিরাকে বলেন, সামরিক হামলা চালানোর আগে শত্রুকে অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিকভাবে দমবন্ধ করে দেওয়াই এই কৌশলের লক্ষ্য। অ্যানাকোন্ডা যেভাবে শিকারকে পেঁচিয়ে ধরে তার শ্বাসরোধ করে হত্যা করে, ঠিক তেমনি যুক্তরাষ্ট্রও এই কৌশল অনুসরণ করছে। কারণ, গত পাঁচ মাসে তারা যা করেছে, তা ব্যর্থ হয়েছে।

তবে দারে ইনি যুক্তি দেন, ইরান অতীতেও নিষেধাজ্ঞা সহ্য করতে পেরেছে এবং ভবিষ্যতেও তা করবে। তিনি বলেন, ট্রাম্প এমন এক যুদ্ধে আটকে গেছেন, যেখানে তিনি জিততেও পারছেন না, আবার বেরিয়ে আসতেও পারছেন না।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ফাইল ছবি : এএফপি

পশ্চিম তীরে ইসরায়েলের নতুন বসতির কারণে ‘কবর’ হতে পারে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের আকাঙ্ক্ষার

সিএনএনঃ ফিলিস্তিনের অধিকৃত পশ্চিম তীরে আন্তর্জাতিকভাবে নিন্দিত একটি বসতি স্থাপন পরিকল্পনা আনুষ্ঠানিকভাবে এগিয়ে নিয়েছে ইসরায়েল। এ পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে পশ্চিম তীর বিভক্ত হয়ে যেতে পারে। এতে দ্বিরাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের সম্ভাবনার ‘কবর’ রচিত হতে পারে।

ইসরায়েলের আবাসন মন্ত্রণালয় জেরুজালেমের কাছে ‘ই–ওয়ান’ এলাকায় ১ হাজার ২০০টির বেশি আবাসন ইউনিট নির্মাণের জন্য দরপত্র আহ্বান করেছে। এর মাধ্যমে পূর্ব জেরুজালেম থেকে পশ্চিম তীর পর্যন্ত ইহুদি বসতিগুলোর একটি ধারাবাহিক ব্লক গড়ে তোলার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।

এই বসতি পশ্চিম তীরকে উত্তর ও দক্ষিণ অংশে বিভক্ত করবে। এতে স্বাধীন ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা অসম্ভব হয়ে পড়বে। একই সঙ্গে পূর্ব জেরুজালেমও পশ্চিম তীরের বাকি অংশ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে। অথচ পূর্ব জেরুজালেমকে সম্ভাব্য ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রের রাজধানী বিবেচনা করা হয়।

ইসরায়েলে আগামী অক্টোবরের শেষে জাতীয় নির্বাচন হওয়ার কথা রয়েছে। এর এক সপ্তাহ আগে নতুন আবাসন নির্মাণের দরপত্র জমা দেওয়ার সময়সীমা শেষ হবে।

ইসরায়েলি বসতি পর্যবেক্ষণকারী সংগঠন পিস নাউ গত মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘এটি শেষ মুহূর্তের একটি পদক্ষেপ। (নেতানিয়াহু) সরকারের মেয়াদের শেষ সময়ে দীর্ঘদিন ধরে ইসরায়েলে সংঘাত ও রক্তপাত চলমান রাখার নীতি হিসেবে এটি করা হচ্ছে।’

বছরের পর বছর আন্তর্জাতিক সমালোচনা ও চাপের কারণে ইসরায়েল ইচ্ছাকৃতভাবে জেরুজালেমের কাছে ই–ওয়ান এলাকায় কোনো পরিকল্পনা বা নির্মাণকাজ এগোয়নি। তবে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন বর্তমান ইসরায়েল সরকার পশ্চিম তীরে বসতি স্থাপনের অনুমোদন দ্রুত এগিয়ে নিয়েছে।

কিছু পশ্চিমা দেশ বসতি স্থাপন আন্দোলনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। গত মে মাসে কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, জার্মানিসহ কয়েকটি পশ্চিমা দেশ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন কোম্পানিকে পশ্চিম তীর ও ই–ওয়ান এলাকায় বসতি নির্মাণে অংশ না নেওয়ার বিষয়ে সতর্ক করে দিয়েছে। তারা এ ক্ষেত্রে ‘আইনি ও সুনামগত ঝুঁকির’ কথা উল্লেখ করেছে।

গতকাল বৃহস্পতিবার এক যৌথ বিবৃতিতে ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি, যুক্তরাজ্য, নরওয়ে ও নেদারল্যান্ডসের নেতারা একই সতর্কতা পুনর্ব্যক্ত করেন। তাঁরা বলেন, ‘পশ্চিম তীরে এখন গুরুতর অস্থিতিশীল পরিস্থিতি চলছে। বেসামরিক মানুষের ওপর বসতি স্থাপনকারীদের নজিরবিহীন সহিংসতা ও ফিলিস্তিনি অর্থনীতির ওপর কঠোর বিধিনিষেধের মধ্যে এ সিদ্ধান্ত আরও উদ্বেগজনক।’

ইসরায়েল গত বছর ই–ওয়ান পরিকল্পনাটির চূড়ান্ত অনুমোদন দেয়। দেশটির কট্টর ডানপন্থী অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোট্রিচ তখন বলেছিলেন, ‘স্লোগান দিয়ে নয়, পদক্ষেপের মাধ্যমে ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রের বিষয়টি আলোচনার টেবিল থেকে মুছে দেওয়া হচ্ছে।’

ই–ওয়ান পরিকল্পনা এগিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্তকে ‘অগ্রহণযোগ্য ও ধ্বংসাত্মক পদক্ষেপ’ বলে মন্তব্য করেছেন যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এড মিলিব্যান্ড। এর জবাবে নিষেধাজ্ঞাসহ অন্যান্য পদক্ষেপ নেওয়ার হুমকি দিয়ে তিনি এক বিবৃতিতে বলেন, ‘দ্বিরাষ্ট্রভিত্তিক সমাধান ধ্বংস করা হচ্ছে। যুক্তরাজ্য তা মেনে নেবে না।’

এর জবাবে ইসরায়েলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিদিয়ন সার গতকাল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লিখেছেন, ‘ইহুদি জনগণ তাদের ঐতিহাসিক ছোট্ট মাতৃভূমির কোথায় বসবাস করতে পারবে, সে বিষয়ে যুক্তরাজ্যের উপদেশ দেওয়া হাস্যকর।’

অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলের সব বসতিকে আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী অবৈধ বলে মনে করে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ও জাতিসংঘের অধিকাংশ সদস্য। এ ধরনের মনোভাব সত্ত্বেও গত কয়েক বছরে অবৈধ ইহুদি বসতি স্থাপনকারীরা অনুমোদনহীন কয়েক ডজন বসতি গড়ে তুলেছেন। পরে এসব বসতির জন্য ইসরায়েল সরকারের অনুমোদনও আদায় করেছেন তাঁরা।

জাতিসংঘে নিয়োজিত ফিলিস্তিনের রাষ্ট্রদূত রিয়াদ মনসুর বলেন, ই–ওয়ান এলাকায় নির্মাণকাজ এগিয়ে নেওয়ার ইসরায়েলের সিদ্ধান্ত ‘অত্যন্ত বিপজ্জনক, দায়িত্বজ্ঞানহীন ও হুমকিস্বরূপ’। সিএনএনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি জোর দিয়ে বলেন, ‘এটি অবশ্যই বন্ধ করতে হবে।’

এদিকে মিসরও ইসরায়েলের দরপত্রের তীব্র সমালোচনা করেছে। একই সঙ্গে পরিকল্পনাটি বন্ধে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে দেশটি।

এক বিবৃতিতে মিসর বলেছে, ‘অবৈধভাবে বসতি সম্প্রসারণ এবং অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডের আইনগত মর্যাদা ও জনমিতিক (জনসংখ্যার গঠন) কাঠামো পরিবর্তনের মাধ্যমে বাস্তবতা চাপিয়ে দেওয়ার প্রচেষ্টা আমরা সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাখ্যান করছি। এসব পদক্ষেপ দ্বিরাষ্ট্রভিত্তিক সমাধান বাস্তবায়নের সম্ভাবনাকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।’

ইসরায়েলের দখলে থাকা পশ্চিম তীরের খান আল-আহমার বেদুইন গ্রামের দৃশ্য। গ্রামটি ভেঙে ফেলার পরিকল্পনা রয়েছে ইসরায়েলের। ২৩ জানুয়ারি ২০২৩
ইসরায়েলের দখলে থাকা পশ্চিম তীরের খান আল-আহমার বেদুইন গ্রামের দৃশ্য। গ্রামটি ভেঙে ফেলার পরিকল্পনা রয়েছে ইসরায়েলের। ২৩ জানুয়ারি ২০২৩ ফাইল ছবি: রয়টার্স

ট্রাম্প প্রশাসনের পোস্টে নিজের গান, ক্ষুব্ধ গায়িকা

নিজের গান রাজনৈতিক প্রচারে ব্যবহার করায় আবারও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মার্কিন সংগীতশিল্পী আরিয়ানা গ্রান্দে। এবার তাঁর ২০২৪ সালের জনপ্রিয় গান ‘উই কান্ট বি ফ্রেন্ডস (ওয়েট ফর ইয়োর লাভ)’ ব্যবহার করা হয়েছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমর্থকদের পরিচালিত একটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টে। বিষয়টি ভালোভাবে নেননি গ্রান্দে।

বৃহস্পতিবার ‘টিম ট্রাম্প’–এর টিকটক অ্যাকাউন্টে একটি ভিডিও প্রকাশ করা হয়। ভিডিওতে ট্রাম্পকে একটি মঞ্চের দিকে হেঁটে যেতে দেখা যায়। ভিডিওটির ক্যাপশনে লেখা হয়, ‘এটা বিতর্কিত হওয়ার কথা নয়!’ সঙ্গে ব্যবহার করা হয় ট্রাম্প, আরিয়ানা গ্রান্দে ও ‘মাগা’–সংক্রান্ত হ্যাশট্যাগ।

পোস্টটিতে গ্রান্দের গান ব্যবহার করা হয়েছে দেখে তিনি সরাসরি মন্তব্যের ঘরে নিজের ক্ষোভ প্রকাশ করেন। লেখেন, ‘আমার গান আর কখনো ব্যবহার করবেন না। আর আপনাদের সত্য মিথ্যা।’

দুই মাসে দ্বিতীয়বার
ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে গ্রান্দের এমন বিরোধ এবারই প্রথম নয়। মাত্র দুই মাসের মধ্যে দ্বিতীয়বার তাঁর গান রাজনৈতিক পোস্টে ব্যবহৃত হলো, আর প্রতিবারই তিনি এর প্রতিবাদ জানিয়েছেন।

জুনে হোয়াইট হাউস গ্রান্দের আরেকটি গান ‘বাই’–এর একটি সংস্করণ ব্যবহার করেছিল টিকটক ভিডিওতে। সেই ভিডিওতে ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট বা আইস–এর কর্মকর্তাদের কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করে হাতকড়া পরাতে দেখা যায়।

সেবারও গ্রান্দে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছিলেন। তিনি লিখেছিলেন, ‘এই বর্বর, অমানবিক ও জঘন্য কর্মকাণ্ডের সঙ্গে আমার গান কখনোই ব্যবহার করবেন না।’ এরপর তাঁর দলের উদ্যোগে ওই পোস্ট থেকে গানটির অডিও সরিয়ে দেওয়া হয়।
তবে এবার ‘উই কান্ট বি ফ্রেন্ডস’কে ঘিরে তৈরি পোস্ট থেকে এখনো গানটি সরানো হয়নি।

শিল্পীদের সঙ্গে ট্রাম্প প্রশাসনের টানাপোড়েন
গ্রান্দে একা নন। ট্রাম্প প্রশাসন ও হোয়াইট হাউসের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টে শিল্পীদের গান ব্যবহার নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে একাধিকবার বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

টেইলর সুইফট ও ব্যাড বানির গানও ট্রাম্প-সংশ্লিষ্ট পোস্ট থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে সংগীতশিল্পী নোয়া কাহান জুলাইয়ের শেষ দিকে আরও স্পষ্ট ভাষায় আপত্তি জানান। হোয়াইট হাউস তাঁর ‘আমেরিকান কারস’ গানটি ইনস্টাগ্রাম পোস্টে ব্যবহার করার পর কাহান লিখেছিলেন, তাঁর গান ট্রাম্প বা তাঁর প্রশাসনের সমর্থনে ব্যবহারের কোনো অনুমতি তিনি কখনোই দেবেন না।

এ ধরনের ঘটনায় মূল প্রশ্ন হয়ে উঠেছে শিল্পীর গান রাজনৈতিক বার্তা প্রচারে ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল কি না। গ্রান্দের সাম্প্রতিক মন্তব্যও সেই বিতর্ককে আবার সামনে নিয়ে এসেছে।

গ্রান্দের অবস্থান বরাবরই স্পষ্ট
আরিয়ানা গ্রান্দে এর আগেও বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক ইস্যুতে নিজের অবস্থান প্রকাশ করেছেন। এবারও তিনি দীর্ঘ বক্তব্য না দিয়ে মাত্র কয়েকটি বাক্যেই নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেছেন—তাঁর গান যেন ট্রাম্প প্রশাসনের রাজনৈতিক বক্তব্যের সঙ্গে যুক্ত না করা হয়।

বিশেষ করে ‘উই কান্ট বি ফ্রেন্ডস’ গানটি মূলত সম্পর্ক, বিচ্ছেদ ও আবেগের জটিলতা নিয়ে লেখা। সেই গানকে সম্পূর্ণ ভিন্ন রাজনৈতিক বক্তব্যের পটভূমিতে ব্যবহার করায় গ্রান্দের আপত্তি আরও স্পষ্ট হয়েছে।
এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে হোয়াইট হাউসের সঙ্গে যোগাযোগ করে ভ্যারাইটি, তবে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

আরিয়ানা গ্রান্দে। রয়টার্স
আরিয়ানা গ্রান্দে। রয়টার্স

ডায়াবেটিস রোগীর কাঁধে ব্যথার কারণ ও প্রতিকার by এম ইয়াছিন আলী

বয়স ৪০ পার হলে হাড়ের ক্ষয় শুরু হয়। এ সময় অস্থিসন্ধির (জয়েন্ট) অভ্যন্তরীণ সাইনোভিয়াল ফ্লুইড কমে যেতে থাকে। এ কারণে যেকোনো অস্থিসন্ধির সমস্যা দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে ডায়াবেটিস থাকলে কাঁধের সন্ধিতে ব্যথা দেখা দেয় বেশি।

ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তিরা অন্যদের তুলনায় বেশি কাঁধের ব্যথায় ভোগেন। এর কারণ, অ্যাডহেসিভ ক্যাপসুলাইটিস বা ফ্রোজেন শোল্ডার। ডায়াবেটিস অনিয়ন্ত্রিত থাকলে এটি বেশি হয়।

এর ফলে ব্যথার পাশাপাশি কাঁধের সংযোগস্থল শক্ত হয়ে পড়ে। পর্যায়ক্রমে রোগী হাত ওপরে ওঠাতে পারেন না, পিঠের দিকে নিতে পারেন না, পোশাকও পরতে পারেন না। এমনকি চিরুনি দিয়ে চুল আঁচড়াতেও কষ্ট হয়।

কারণ কী

আগেই বলা হয়েছে, রক্তে অনিয়ন্ত্রিত শর্করা ফ্রোজেন শোল্ডারের অন্যতম কারণ। এ ছাড়া হাত দিয়ে ভারী কিছু ওঠাতে গিয়ে আগে কখনো ব্যথা পেয়েছিলেন, কিন্তু গুরুত্ব দেননি; তা থেকেও ব্যথা হতে পারে। এ ছাড়া স্ট্রোকের (মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ) পরও এমন সমস্যা হতে পারে।

সার্ভিক্যাল স্পন্ডিলোসিস রোগে ঘাড় ও বাহুর ব্যথার কারণে রোগী হাতের নড়াচড়া কমিয়ে দেন। এতে ক্রমেই কাঁধের সংযোগস্থল শক্ত হয়ে যেতে পারে। চালক হঠাৎ কষে ব্রেক করলে গাড়ির যাত্রীরা নিজেদের রক্ষার জন্য হাতল বা কোনো কিছু শক্ত করে ধরে ফেলেন বা ধরার চেষ্টা করেন। এতে অনেকে ব্যথা পেয়ে থাকেন, যা পরে কাঁধব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

প্রতিকার কী

কাঁধে খুব ব্যথা না হলে ব্যথানাশক ওষুধ পরিহার করা ভালো। তবে মাংসপেশি স্বাভাবিক (রিলাক্স) করতে মাসল রিলাক্সেন্ট–জাতীয় ওষুধের প্রয়োজন পড়ে। পাশাপাশি প্রয়োজন সঠিক ও সময়োপযোগী ফিজিওথেরাপি। এ রোগের চিকিৎসায় কিছু ইলেকট্রো থেরাপিউটিক এজেন্ট খুব উপকারী।

রোগীকে প্রতিদিন কিছু ব্যায়াম করতে হয়। অবশ্যই রক্তের শর্করা নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে। ফ্রোজেন শোল্ডার ধীরে ধীরে সারে। পুরো সারতে কয়েক মাস, এমনকি বছরও লেগে যেতে পারে। ধৈর্য ধরে ফিজিওথেরাপি বিশেষজ্ঞের পরামর্শ অনুযায়ী ব্যায়াম চালিয়ে যেতে হবে।

* এম ইয়াছিন আলী, চেয়ারম্যান ও চিফ কনসালট্যান্ট, ঢাকা সিটি ফিজিওথেরাপি হাসপাতাল

ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তিরা অন্যদের তুলনায় বেশি কাঁধের ব্যথায় ভোগেন
ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তিরা অন্যদের তুলনায় বেশি কাঁধের ব্যথায় ভোগেন। ছবি: পেক্সেলস

Friday, August 21, 2026

সুন্দরী প্রতিযোগিতা থেকে প্রাপ্তবয়স্কদের প্ল্যাটফরমে পিয়া বিপাশা

লাক্স চ্যানেল আই সুপারস্টার দিয়ে মিডিয়ায় যাত্রা শুরু পিয়া বিপাশার। যদিও সেরা দশে গিয়ে প্রতিযোগিতা থেকে সরে দাঁড়ান তিনি। শুরু করেন মডেলিং। মিউজিক ভিডিওতেও কাজ করেছেন। পাশাপাশি নাটকে অভিনয় শুরু করেন। ‘রুদ্র দ্য গ্যাংস্টার’ নামের একটি সিনেমায়ও কাজ করেন।

তবে হঠাৎ করেই ছয় বছর আগে দেশ ছেড়ে যুক্তরাষ্ট্রে চলে যান পিয়া বিপাশা। তার আগে অবশ্য স্বামীর সঙ্গে বিচ্ছেদ হয় তার। একমাত্র মেয়েকে নিয়ে নিউ ইয়র্কে বসবাস শুরু করেন। এরপর যুক্তরাষ্ট্রের এক নাগরিকের সঙ্গে তার প্রেম তৈরি হয়। তারপর তারা বিয়ে করেন। তবে পিয়া বিপাশার গল্প যেন নাটকের মতোই নাটকীয়। নিউ ইয়র্কে বিপাশা বিভিন্ন ব্র্যান্ডের মডেল হিসেবে কাজ করেন। ব্যাপক খোলামেলা রূপে ফটোশুটে অংশ নেন। সেই ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দিয়ে তুমুল সমালোচনায় পড়েন। কারণ দেশের পিয়া বিপাশার বিদেশে গিয়ে এতটা বদল মেনে নিতে পারেননি নেটিজেনরা। এদিকে, মডেলিং শুরুর পর নিউ ইয়র্কে একটি প্রাপ্তবয়স্কদের প্ল্যাটফরমে নিজেকে যুক্ত করেন পিয়া। সেখানে বেশ কিছু কনটেন্টে অংশ নেন তিনি। বিপরীতে পান বড় অঙ্কের সম্মানী। যদিও তীব্র সমালোচনায় পড়ে যান সে সময়। নেটিজেনদের আক্রমণের শিকার হন। অনেকে পিয়া বিপাশাকে পর্নোতারকা আখ্যা দেন।

যদিও সেই সমালোচনা মেনে নিয়েছেন তিনি। এখন মডেলিং ও বিভিন্ন ব্র্যান্ডের প্রচারণা নিয়ে ব্যস্ত পিয়া বিপাশা। গত ছয় বছরে নিউ ইয়র্কে নিজের সব স্বপ্নই পূরণ করেছেন এই আলোচিত মডেল। তিনি জানান, এখন আর কোনো স্বপ্ন নেই তার। গত ছয় বছরে সবই অর্জন করেছেন। অর্থ, সুন্দর জীবন, ভালো স্বামীÑ সবই তার হয়েছে। এভাবেই জীবনটা উপভোগ করে যেতে চান বলে জানালেন পিয়া বিপাশা।

সুন্দরী প্রতিযোগিতা থেকে প্রাপ্তবয়স্কদের প্ল্যাটফরমে পিয়া বিপাশা

ইসরাইলি সেনারাই গুলি করেই হত্যা করেছিলো হিন্দ রজবকে, বাঁচাতে আসা অ্যাম্বুলেন্সেও করা হয় হামলা

গাজায় ২০২৪ সালে পাঁচ বছর বয়সী ফিলিস্তিনি শিশু হিন্দ রজব ও তার পরিবারের ছয় সদস্যকে বহনকারী গাড়িতে সেনাদের গুলি চালানোর কথা অবশেষে স্বীকার করেছে ইসরাইলি সেনাবাহিনী। বুধবার এক বিবৃতিতে তারা জানিয়েছে, এ ঘটনায় মিলিটারি পুলিশের মাধ্যমে একটি ফৌজদারি তদন্ত শুরুর নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এ খবর দিয়েছে গার্ডিয়ান।

২০২৪ সালের ২৯ জানুয়ারি গাজা সিটিতে ইসরাইলি আক্রমণ থেকে বাঁচতে পালিয়ে যাওয়ার সময় শিশু হিন্দের পরিবারের গাড়িটি হামলার মুখে পড়ে। গাড়ির ভেতর আটকা পড়ে ফিলিস্তিনি রেড ক্রিসেন্টের সাথে টানা তিন ঘণ্টা ফোনে বাঁচার আকুতি জানিয়েছিল অবুঝ শিশু হিন্দ। তাকে উদ্ধারে যাওয়া একটি অ্যাম্বুলেন্সেও হামলা চালানো হয়, যাতে দুজন স্বাস্থ্যকর্মী নিহত হন।

এতদিন ওই এলাকায় সেনা উপস্থিতির কথা অস্বীকার করে আসলেও স্বাধীন তদন্তে ইসরাইলি ট্যাংকের সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ মেলে। দীর্ঘ আড়াই বছর পর বুধবার ইসরাইলি বাহিনী স্বীকার করে যে, তাদের সেনারাই গাড়ি ও অ্যাম্বুলেন্স লক্ষ্য করে গুলি চালিয়েছিল। হিন্দ রজবের ঘটনা ছাড়াও দক্ষিণ গাজার রাফায় ২০২৫ সালের মার্চে ১৫ জন স্বাস্থ্যকর্মী ও ত্রাণকর্মীকে হত্যার ঘটনায় ফৌজদারি তদন্তের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

হামলার পর বুলডোজার দিয়ে মরদেহ ও গাড়ি গণকবরে মাটিচাপা দিয়েছিল সেনারা। তবে ২০২৪ সালের এপ্রিলে ওয়ার্ল্ড সেন্ট্রাল কিচেনের গাড়িবহরে বিমান হামলায় বিদেশি ত্রাণকর্মী নিহতের ঘটনায় কারও বিরুদ্ধে ফৌজদারি ব্যবস্থা না নেয়ার সিদ্ধান্ত জানিয়েছে ইসরাইল। মানবাধিকার সংস্থাগুলোর অভিযোগ, ফিলিস্তিনিদের হত্যার ঘটনায় ইসরাইলি বাহিনীর এমন তদন্ত ঘোষণার নজির থাকলেও দোষীদের শেষ পর্যন্ত শাস্তির আওতায় আনা হয় না বললেই চলে।

ইসরাইলি সেনারাই গুলি করেই হত্যা করেছিলো হিন্দ রজবকে, বাঁচাতে আসা অ্যাম্বুলেন্সেও করা হয় হামলা

ইরানকে কোনঠাসা করার ট্রাম্পের পরিকল্পনা আটকে দিতে পারে চীন ও রাশিয়া

ইরানকে আর্থিক সুবিধা বা সহযোগিতা দিলে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়ার হুমকি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। দেশটিকে অর্থনৈতিকভাবে বিচ্ছিন্ন করতে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। তেহরানের বিরুদ্ধে একটি অর্থনৈতিক অভিযানের ডাক দিয়ে তিনি এই কঠোর পদক্ষেপের ঘোষণা দেন। ট্রাম্প নিজের বৈদেশিক নীতি বাস্তবায়নে মার্কিন অর্থনৈতিক শক্তিকে ব্যবহারের এই নতুন চেষ্টা শুরু করেছেন। এ খবর দিয়েছে আল জাজিরা।

তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, ইরানের দুটি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক অংশীদার চীন ও রাশিয়ার ওপর যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব খাটানোর সুযোগ অত্যন্ত সীমিত। রাশিয়া ইতিমধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাপক নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকায় তারা মার্কিন নেতৃত্বাধীন অর্থনৈতিক কাঠামোর বাইরে থেকেই তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করে। অন্যদিকে চীন বারবার প্রমাণ করেছে যে, নিজেদের অর্থনৈতিক স্বার্থ নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে তারা মার্কিন নিষেধাজ্ঞাকে উপেক্ষা করতে বিন্দুমাত্র দ্বিধা করে না। কাতারের জর্জটাউন ইউনিভার্সিটির সহকারী অধ্যাপক পল মাসগ্রেভ জানান, ট্রাম্পের পক্ষে এই চাপ প্রয়োগের অভিযান কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা অত্যন্ত কঠিন হবে। তিনি বলেন, ট্রাম্প এককভাবে এমন একটি সমন্বিত নিষেধাজ্ঞা চাপিয়ে দেয়ার চেষ্টা করছেন, যার জন্য ঐতিহাসিকভাবে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী পাঁচ সদস্যসহ চীন ও রাশিয়ার যৌথ বহুপাক্ষিক সমন্বয়ের প্রয়োজন হয়।
ট্রুথ সোশ্যালে দেয়া এক পোস্টে ট্রাম্প দাবি করেন, ইরানের বিরুদ্ধে তার এই অর্থনৈতিক পদক্ষেপ হবে যেকোনো দেশের বিরুদ্ধে পরিচালিত ইতিহাসের সবচেয়ে ধ্বংসাত্মক অভিযান।

তিনি জানান, তেল চোরাচালান, মুদ্রা বিনিময়, নগদ অর্থ স্থানান্তর, মুদ্রা রুপান্তর, ভুয়া কোম্পানি ও জাহাজের নিবন্ধনের মাধ্যমে যেসব দেশ ইরানকে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা এড়াতে সহায়তা করবে, তাদের ভয়াবহ অর্থনৈতিক পরিণতি ভোগ করতে হবে। এর আগে একই দিনে তেহরানের ওপর অনির্দিষ্টকালের বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করে সংযুক্ত আরব আমিরাত। ব্রান্ডেইস ইউনিভার্সিটির মধ্যপ্রাচ্য অর্থনীতি বিষয়ক অধ্যাপক নাদের হাবিবি জানান, সংযুক্ত আরব আমিরাতকে বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা দিতে যুক্তরাষ্ট্র জোরালোভাবে প্ররোচিত করেছে এবং ওয়াশিংটন এখন ইরানের বৃহত্তম বাণিজ্যিক অংশীদার চীনের ওপরও একই ধরনের চাপ সৃষ্টির চেষ্টা করতে পারে।

তবে চীন ও ইরানের বাণিজ্য সম্পর্কে বিঘ্ন ঘটানোর মার্কিন পরিকল্পনা বড় ধরনের বাধার মুখে পড়তে পারে। ২০২৫ সালে ইরানের রপ্তানি করা তেলের ৮০ শতাংশই কিনেছে চীন। এই তেল প্রক্রিয়াকরণ করা চীনের বেশিরভাগ শোধনাগার স্বাধীন এবং মার্কিন আর্থিক ব্যবস্থার ওপর তারা নির্ভরশীল নয়। এছাড়া ইরানি লেনদেন নিষ্পত্তির অভিযোগে চীনের প্রধান ব্যাংকগুলোর ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হলে তা দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে বড় ধাক্কা দিতে পারে। চ্যাথাম হাউসের জ্যেষ্ঠ গবেষক ইউ জিয়ে জানান, ট্রাম্পের এই হুমকি ইরানের সাথে চীনের বর্তমান বাণিজ্যিক সম্পর্কে কোনো পরিবর্তন আনবে না। তিনি উল্লেখ করেন, বেইজিং যেমন ওয়াশিংটনের সাথে একটি সাময়িক যুদ্ধবিরতি বা স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে চায়, ট্রাম্পও চীনের সাথে সম্পর্ক স্থিতিশীল রাখতে আগ্রহী। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র লিন জিয়ান জানান, নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপ কোনো সমস্যার সমাধান করবে না। কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক পথেই এই সংকট সমাধানের আহ্বান জানান তিনি। আগামী মাসে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সম্ভাব্য ওয়াশিংটন সফরের আগে যুক্তরাষ্ট্রও বেইজিংয়ের সাথে সম্পর্কের অবনতি চাইছে না।

অন্যদিকে রাশিয়ার সাথে ইরানের সমান্তরাল কৌশলগত সম্পর্ক ওয়াশিংটনের জন্য ভিন্ন একটি চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। মস্কো ও তেহরান বহু বছর ধরেই পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞাকে পাশ কাটিয়ে বাণিজ্যিক ও সামরিক বন্ধন গড়ে তুলেছে। ২০২৫ সালের জানুয়ারি মাসে দুই দেশ একটি ২০ বছর মেয়াদী অংশীদারিত্ব চুক্তি স্বাক্ষর করে, যার ফলে ২০২৫ সালের প্রথম ১১ মাসেই তাদের বাণিজ্য বেড়ে ৪৮০ কোটি ডলারে পৌঁছেছে। এমনকি কাস্পিয়ান সাগর দিয়ে রাশিয়া ইরানকে ড্রোনের যন্ত্রাংশ, গোলাবারুদ ও টিএনটি সরবরাহ করেছে বলে তথ্য পাওয়া গেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের এই নতুন নিষেধাজ্ঞার তীব্র নিন্দা জানিয়ে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি একে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যর্থ নীতির ধারাবাহিকতা বলে অভিহিত করেছেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তিনি লেখেন, যুক্তরাষ্ট্রের এই অর্থনৈতিক সন্ত্রাসবাদ বৈশ্বিক অর্থনীতি ও সার্বভৌমত্বকে চরম হুমকির মুখে ফেলছে। এদিকে ব্রিকস জোটের সদস্য হিসেবে ইরান বিকল্প অর্থনৈতিক পথের সন্ধান করছে। ইরানের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর আবদোলনাসের হেম্মতি জানিয়েছেন, পশ্চিমা বাজারের বাইরে অর্থায়নের সুযোগ তৈরি করতে ইরান ব্রিকস নিউ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকে যোগ দেয়ার পরিকল্পনা করছে এবং জোটের দেশগুলোর নিজস্ব মুদ্রায় দ্বিপাক্ষিক লেনদেন বৃদ্ধির উদ্যোগ নিচ্ছে।

ইরানকে কোনঠাসা করার ট্রাম্পের পরিকল্পনা আটকে দিতে পারে চীন ও রাশিয়া

দুই দশক পর অধিকৃত পশ্চিম তীরের কাদিম বসতিতে ফিরল ইসরাইলি বসতিস্থাপনকারীরা

২০০৫ সালে খালি করে দেয়ার প্রায় দুই দশক পর অধিকৃত পশ্চিম তীরের কাদিম বসতিতে আবারও ফিরে এসেছে নতুন প্রজন্মের ইসরাইলি বসতিস্থাপনকারীরা। ইসরাইলের বর্তমান সরকারের মদদে তেল আবিব থেকে ত্রিশটি পরিবার সামরিক পাহারায় এই বসতিতে প্রবেশ করে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে দেশটির চরম ডানপন্থী অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোটরিচ একে তাদের ঐতিহাসিক প্রত্যাবর্তন বলে দাবি করেন। এ খবর দিয়েছে অনলাইন বিবিসি।

কাদিম সংলগ্ন এলাকার ফিলিস্তিনি বাসিন্দারা জানান, বসতিস্থাপনকারীদের এই প্রত্যাবর্তনে তারা চরম আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন। ইতোমধ্যে ফিলিস্তিনিদের বেশ কিছু দোকানপাট ও গাছপালা বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেয়া হয়েছে। এমেক দোতান নামের অপর একটি নতুন বসতির পাশের ফিলিস্তিনি বাসিন্দা সামের জাবের জানান, অস্ত্রধারী বসতিস্থাপনকারীরা গভীর রাতে তাদের ঘরে আলো ফেলে ভয়ভীতি দেখাচ্ছে এবং ছবি তুলছে। এ নিয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নীরবতার সমালোচনা করে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

২০০৫ সালে প্রত্যাহার পরিকল্পনার আওতায় কাদিমসহ চারটি বসতি খালি করার পর সেখানে ইসরাইলিদের প্রবেশের ওপর যে নিষেধাজ্ঞা ছিল, বর্তমান সরকার তা বাতিল করেছে। ২০২২ সালের শেষদিক থেকে পশ্চিম তীরজুড়ে শতাধিক নতুন বসতির অনুমোদন দেয়া হয়েছে। এছাড়া জেনিন শরণার্থী শিবিরের পাশে ১৯৯৩ সালের অসলো চুক্তির পর প্রথমবারের মতো ফিলিস্তিনি জমিতে নতুন সামরিক ফাঁড়িও তৈরি করছে ইসরাইলি সেনাবাহিনী। জেনিনের গভর্নর সতর্ক করে জানিয়েছেন, এই দখলদারিত্বের মাধ্যমে ফিলিস্তিনি শহরগুলোকে বিভক্ত করার পাঁয়তারা চলছে।

দুই দশক পর অধিকৃত পশ্চিম তীরের কাদিম বসতিতে ফিরল ইসরাইলি বসতিস্থাপনকারীরা

ইরানের অর্থনীতি পঙ্গু করতে ট্রাম্পের নতুন পরিকল্পনা: কতটা অবিচল থাকবেন তিনি?

সিএনএনের বিশ্লেষণঃ চরম অর্থনৈতিক অভিযানের হুমকি দিয়ে ইরানের বিরুদ্ধে নতুন যুদ্ধকৌশল ঘোষণা করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। তবে রাজনৈতিক চাপ ও ব্যয় বাড়তে থাকলে তিনি এই সিদ্ধান্তে শেষ পর্যন্ত অবিচল থাকবেন নাকি পিছিয়ে যাবেন, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। বুধবার ট্রুথ সোশ্যালে দেয়া এক পোস্টে ট্রাম্প যেকোনো দেশের বিরুদ্ধে এযাবৎকালের সবচেয়ে কঠোর অর্থনৈতিক ব্যবস্থা নেয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। তবে এমন অঙ্গীকার এবারই প্রথম নয়। এর আগেও ট্রাম্প নানান কঠোর পদক্ষেপের কথা বলেছিলেন, যাতে তিনি শেষ পর্যন্ত অবিচল থাকেননি। তাই এবারের সিদ্ধান্ত তিনি কতদিন ধরে রাখেন সেটিই দেখার বিষয়।

বোমাবর্ষণ করে ইরানকে আত্মসমর্পণে বাধ্য করতে কিংবা সমঝোতা স্মারকের মাধ্যমে তাদের সাথে পারমাণবিক আলোচনায় বসতে ব্যর্থ হওয়ার পর ট্রাম্পের এই নতুন কৌশলকে নিজেদের মুখ রক্ষার একটি চেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে। ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে রাজনৈতিক মিত্রদের জানানো হয়েছে যে, ইরানের সাথে সব ধরনের আলোচনা বন্ধ করা হয়েছে। একই সঙ্গে দেশটি যাতে সম্পূর্ণ নতি স্বীকার করে, সেজন্য একটি দীর্ঘমেয়াদী অর্থনৈতিক যুদ্ধের পথ বেছে নেয়া হয়েছে। এক বিবৃতিতে ট্রাম্প জানান, যেসব আর্থিক প্রতিষ্ঠান, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, বিমানবন্দর বা সরকারি সংস্থা ইরানকে যেকোনো ধরণের সুবিধা দেবে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে। একই সাথে তেল চোরাচালান, অর্থ স্থানান্তর, ভুয়া কোম্পানি ও জাহাজের নিবন্ধনের মতো সমস্ত পথ অবিলম্বে বন্ধ করার তাগিদ দেন তিনি।

ইসরাইল ডিফেন্স ইন্টেলিজেন্সের গবেষণা ও বিশ্লেষণ বিভাগের প্রাক্তন ইরান বিষয়ক প্রধান ড্যানিয়েল সিট্রিনোভিচ জানান, তীব্র অর্থনৈতিক চাপের মধ্যেও ইরান ভেঙে পড়বে এমনটি ভাবা হবে চরম ভুল। আন্তর্জাতিক বাজারের ওপর চাপ সৃষ্টি করার যে কৌশল তেহরান নিয়েছে, তা পরিবর্তনের কোনো লক্ষণ নেই এবং অর্থনৈতিক ক্ষতি সত্ত্বেও শেষ পর্যন্ত ইরানের মূল রাজনৈতিক অবস্থানের কোনো পরিবর্তন আসবে না।

বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের এই পরিকল্পনা কার্যকর করতে হলে দীর্ঘমেয়াদী কৌশলগত ধৈর্যের প্রয়োজন হবে। এছাড়া ইরানের ইসলামিক রেভ্যুলেশনারি গার্ড করপসের (আইআরজিসি) রাজস্ব এবং আঞ্চলিক প্রক্সি নেটওয়ার্ক বন্ধ করতে ইউরোপ, এশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যের মিত্রদের সমন্বয়ে একটি বড় কূটনৈতিক পদক্ষেপ দরকার। হাডসন ইনস্টিটিউটের জ্যেষ্ঠ ফেলো লুদোভিক হুড মনে করেন, অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্টের উচিত ইরানের তেলের বড় ক্রেতা চীনের ওপর অর্থনৈতিক চাপ বাড়ানো। তবে আগামী সেপ্টেম্বরে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সম্ভাব্য যুক্তরাষ্ট্র সফরের আগে ওয়াশিংটন এমন কোনো পদক্ষেপ নেবে কিনা, তা নিয়ে বড় সংশয় রয়েছে।

এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনের মাত্র দুই মাস আগে ইরানেরও পাল্টা জবাব দেয়ার রাজনৈতিক সুযোগ রয়েছে। হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজে নতুন ড্রোন বা ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মাধ্যমে বিশ্ববাজারে তেলের দাম বাড়িয়ে মার্কিন ভোটারদের ওপর সরাসরি চাপ সৃষ্টি করার চেষ্টা করতে পারে তেহরান। ডেমোক্রেট প্রতিনিধি জেমস ওয়াকিনশ এই বিষয়ে বলেন, তিনি এমন কোনো অর্থনৈতিক ক্ষয়িষ্ণু যুদ্ধে আগ্রহী নন, যেখানে মার্কিন জনগণকে গ্যাস স্টেশন ও মুদি দোকানে এর চূড়ান্ত মূল্য দিতে হয়। ফলে ট্রাম্পের এই নতুন অর্থনৈতিক যুদ্ধ শেষ পর্যন্ত কার্যকর কোনো সমাধান আনবে, নাকি রাজনৈতিক চাপে তিনি পিছু হটবেন, তা এখনও একটি বড় প্রশ্ন।

ইরানের অর্থনীতি পঙ্গু করতে ট্রাম্পের নতুন পরিকল্পনা: কতটা অবিচল থাকবেন তিনি?

শত ক্যানসার যোদ্ধা এক হলেন যুদ্ধজয়ের শক্তি নিয়ে by রাফিয়া আলম

প্রকাশ ২৭ নভেম্বর ২০২৫ঃ একদল প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ রংতুলি নিয়ে বসে ছবি আঁকছেন। তাঁরা পেশাদার শিল্পী নন। এটি কোনো সাজানো দৃশ্যও নয়। নিজের জীবনযুদ্ধের গল্পের উদ্‌যাপনেই সেদিন এমনভাবে এক হয়েছিলেন তাঁরা। ব্রেস্ট ক্যানসার সারভাইভারস মিট ২০২৫-এর সেই আয়োজন হয়েছিল রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতাল লিমিটেডের মিলনায়তনে।

ক্যানসার শব্দটার মধ্যেই লুকিয়ে আছে আতঙ্ক। নিজের কিংবা প্রিয়জনের ক্যানসার হলে তা মেনে নেওয়াই দুরূহ এক ব্যাপার হয়ে দাঁড়ায়। তবে সেই সত্যকে মেনে নিয়ে ক্যানসারের বিরুদ্ধে লড়াই করে জয়ীও হন বহু মানুষ। তেমনই ১০০ যোদ্ধা সেই সকালে হাজির হয়েছিলেন স্কয়ার হাসপাতাল লিমিটেডের মিলনায়তনে। নিবন্ধন পর্ব শেষে তাঁরা যোগ দিয়েছিলেন মূল অনুষ্ঠানে।

সূচনায় নতুন উদ্যোগের ঘোষণা

অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন হাসপাতালটির চিফ অপারেটিং অফিসার মো. এসাম ইবনে ইউসুফ সিদ্দিক। সূচনা বক্তব্যে তিনি জানান, ক্যানসারজয়ী একজন ব্যক্তির (ক্যানসার সারভাইভার) প্রতিবছর নিয়মিত যেসব পরীক্ষা-নিরীক্ষা করানোর প্রয়োজন হয়। আজীবন বিশেষ মূল্যে সেসব করানোর সুযোগ থাকবে স্কয়ার হাসপাতালে। সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকেই তাঁদের এ উদ্যোগ।

বাস্তব যখন ভীষণ কঠিন

সূচনা পর্বের পর শুরু হয় প্যানেল ডিসকাশন। স্কয়ার হাসপাতাল লিমিটেডের ক্যানসার বিশেষজ্ঞ ও শল্যচিকিৎসকেরা অংশ নেন এ আলোচনা পর্বে। ক্যানসারে আক্রান্ত ব্যক্তিরা যে শারীরিক ও মানসিক সংকটের মধ্য দিয়ে যান, সে সম্পর্কে আলোচনা করেন তাঁরা।

সুস্থ হয়ে ওঠা ব্যক্তিদের সামাজিক পরিসরে ক্যানসারের বিরুদ্ধে যুদ্ধজয়ের রোল মডেল হওয়ার আহ্বান জানানো হয়। বলা হয়, তাঁরাই হয়ে উঠতে পারেন বহু মানুষের বেঁচে থাকার অনুপ্রেরণা।

এ আয়োজনে নিজের জীবনের গল্প সবার সঙ্গে ভাগ করে নেন ক্যানসারজয়ী প্রণতি রানী দাস। ২০২০ সালে যখন করোনা অতিমারির কারণে কোনো হাসপাতালে সরাসরি চিকিৎসক দেখানোর সুযোগ পাচ্ছিলেন না, তখন স্কয়ার হাসপাতালেই সেই সেবা পেয়েছিলেন বলে জানালেন।

প্রণতি বললেন, ‘স্কয়ার হাসপাতালে বিশ্বমানের সেবা পেয়েছি। ক্যানসার ধরা পড়ার পরও মনোবল হারাইনি। বিশ্বাস ছিল, আমি হারব না। কেমোথেরাপি, রেডিওথেরাপি নিয়েও অফিস করেছি। আমার স্বামীও আমার চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে একটা মিনিট দেরি করেননি।’

ক্যানসারে আক্রান্ত মায়ের জন্য ১০ বছর ধরে লড়ছেন সামিয়া হাসান। তাঁর মতে, ক্যানসারে আক্রান্ত একজন রোগীর স্বজনের কখনো ছুটি হয় না। এই স্বজনদের লড়াই চলে প্রতিনিয়ত। ১০ বছরের এ পথচলায় স্কয়ার হাসপাতাল তাঁর ‘দ্বিতীয় বাড়ি’ হয়ে উঠেছে বলেই জানান তিনি।

ভিন্নধর্মী আয়োজন

যোগব্যায়াম, চিত্রকর্ম আর সুরের মাধ্যমে সুস্থতার চর্চার আয়োজন ছিল অনুষ্ঠানের বাকি অংশে। যোগব্যায়াম ও মিউজিক থেরাপির দায়িত্বে ছিলেন যোগব্যায়াম প্রশিক্ষক কুশল রায় ও তাঁর সহকারীরা। তাঁর নির্দেশনায় যোগব্যায়ামে অংশ নেন ক্যানসারজয়ীরা। তাঁর সহকারীরা সঠিকভাবে যোগব্যায়ামের ভঙ্গিগুলো শিখতে সাহায্য করছিলেন তাঁদের।

সবাই মিলে সুস্থতার এ উদ্যোগে অংশ নেওয়া বেশ ভিন্নধর্মী বিষয়ই বটে। চিত্রশিল্পী মেগান এডওয়ার্ডের তত্ত্বাবধানে ‘গারডেন অব হিলিং’ থিমে ছবি আঁকছিলেন ক্যানসারজয়ীরা। তাঁদের প্রতি মেগান এডওয়ার্ডের নির্দেশনা ছিল, নিজের জীবনের বিজয়ের কঠিন গল্পটাকে একটা বাগান হিসেবে ফুটিয়ে তোলার। নিজেকে একটা বীজ হিসেবে কল্পনা করতে বলেছিলেন তিনি। সেই থিম নিয়েই নিজেদের মনের ভাব ক্যানভাসে ফুটিয়ে তুলছিলেন এই লড়াকু মানুষেরা।

ব্রেস্ট ক্যানসার সারভাইভারস মিট ২০২৫-এ যোগব্যায়ামে অংশ নেন ক্যানসারজয়ীরা
ব্রেস্ট ক্যানসার সারভাইভারস মিট ২০২৫-এ যোগব্যায়ামে অংশ নেন ক্যানসারজয়ীরা। ছবি: স্কয়ার হাসপাতাল লিমিটেডের সৌজন্যে

বাঙালিকন্যাকে বিগ বসে আনতে মোটা অঙ্কের প্রস্তাব

আবারও পর্দায় ফিরছে জনপ্রিয় রিয়েলিটি শো ‘বিগ বস’। ৬ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হওয়ার কথা ‘বিগ বস’-এর ২০তম সিজন। বরাবরের মতো এবারও সঞ্চালনায় থাকবেন বলিউড ভাইজান সালমান খান। নতুন পর্বের প্রতিযোগীদের তালিকা নিয়ে এরই মধ্যে শুরু হয়েছে নানা জল্পনা। কারা থাকছেন এবার বিগ বসের ঘরে? সেই সম্ভাব্য তালিকায় এবার নাম উঠেছে ‘নাগিন’ খ্যাত অভিনেত্রী বাঙালিকন্যা মৌনী রায়ের। টাইমস অব ইন্ডিয়ার এক প্রতিবেদনে এমন দাবি করা হয়েছে।

বিবিটকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ‘বিগ বস ২০’-এ অংশ নেওয়ার জন্য মৌনী রায়ের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন অনুষ্ঠানের নির্মাতারা। তাকে দেওয়া হয়েছে মোটা অঙ্কের পারিশ্রমিকের প্রস্তাব। এই লোভনীয় প্রস্তাবে মৌনী সম্মতি দিয়েছেন কি না, সে বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি।

এদিকে মৌনীর সম্ভাব্য অংশগ্রহণের খবর ছড়িয়ে পড়তেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয়েছে আলোচনা। কেউ কেউ মনে করছেন, মৌনীর মতো বড় তারকার ‘বিগ বস’-এ এলে অনুষ্ঠানটির আকর্ষণ আরও বাড়িয়ে দেবে।

মৌনী ছাড়াও সম্ভাব্য প্রতিযোগীদের তালিকায় মাহি ভিজ, গীতা বসরা, সুনীল পাল ও শোয়িক চক্রবর্তীর নাম শোনা যাচ্ছে। এ ছাড়া এলনাজ নোরৌজি ও মেরি কমের সঙ্গেও নির্মাতারা যোগাযোগ করেছেন বলে খবর।

এদিকে সম্প্রতি বিগ বসের নতুন সিজনের প্রোমো প্রকাশ করা হয়েছে। সেখানে ‘এক্সট্রা জীবন দান’ এবং সালমান খানের নিজস্ব ভঙ্গিতে ‘তথাস্তু’ শব্দটি ব্যবহার করে নতুন মৌসুমের বিশেষ চমকের ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।

‘বিগ বস ২০’ বিষয়ে সালমান খান জানিয়েছেন, এবার শুধু খেলা নয়, খেলার ধরনও বদলাবে। ‘জীবন দান’ শুনতে যতটা সহজ মনে হচ্ছে, বিষয়টি ততটা সরল নয় বলেও ইঙ্গিত দিয়েছেন ‘টাইগার’ খ্যাত এই অভিনেতা।

কীভাবে আসন্ন ‘বিগ বস ২০’-এ জীবন দানের এই নতুন নিয়ম কাজ করবে, তা জানা যাবে অনুষ্ঠান শুরু হলে।

বাঙালিকন্যা মৌনী রায়। ছবি: সংগৃহীত
বাঙালিকন্যা মৌনী রায়। ছবি: সংগৃহীত

সবচেয়ে বেশি ট্রল হওয়া মানুষ আমিই: রিয়া চক্রবর্তী

অভিনেতা সুশান্ত সিং রাজপুতের আকস্মিক প্রয়াণের পর চরম অর্থনৈতিক, আইনি ও মানসিক বিপর্যয়ের মুখোমুখি হতে হয় বলিউড অভিনেত্রী রিয়া চক্রবর্তী এবং তার পরিবারকে। আইনি লড়াই শেষে সম্প্রতি সিবিআই সুশান্তের মৃত্যু মামলায় চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করে তাকে সব অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দিয়েছে। দীর্ঘ সময় পার করে জনপ্রিয় ইউটিউব ব্লগে হাজির হয়ে জীবনের সেই চরম অন্ধকার অধ্যায় নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন। এসময় রিয়া তার ভেতরে থাকা ক্ষোভ উগড়ে দিলেন।

স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে আবেগঘন কণ্ঠে তিনি জানান, ২০২০ সালে মাদক সংক্রান্ত মামলায় রিয়া ও তার ভাই শৌভিককে গ্রেপ্তারের পর তাদের জীবন সম্পূর্ণ ওলটপালট হয়ে যায়। জেল থেকে জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর চারপাশের মানুষ এবং গোটা সমাজ তাদের এমনভাবে বয়কট করেছিল যে, স্বাভাবিক জীবনে ফেরাই কঠিন হয়ে উঠেছিল। দুর্বিষহ হয়ে উঠেছিল জীবন।

সামাজিক ট্রলিংয়ে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ার সময়ের কথা স্মরণ করে রিয়া আরও বলেন, ‘দেশের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ট্রল হওয়া মানুষ সম্ভবত আমিই। আপনারা সবাই জানেন এর পেছনে কী কারণ রয়েছে। তবে একটা বিষয় পরিষ্কার, আমি সহজে কাউকে বিশ্বাস বা প্রভাব বিস্তার করতে দিই না।’

তবে সব ঝড়ঝাপ্টা ও সমাজের তীব্র সমালোচনা পেরিয়ে ভাই-বোন মিলে নিজেদের ক্যারিয়ার নতুন করে শুরু করার সিদ্ধান্ত নেন। বিনোদন জগৎ এবং করপোরেট জীবনের দরজা বন্ধ দেখে তারা নিজেদের উদ্যোগেই জীবনের ‘চ্যাপ্টার টু’ বা দ্বিতীয় অধ্যায় নামে একটি যৌথ চ্যাট শো শুরু করেন।

কারাগারের অন্ধকার প্রকোষ্ঠ থেকে মুক্ত হয়ে নতুন করে জীবন গুছিয়ে তোলার পথটি রিয়া ও শৌভিকের জন্য মোটেই মসৃণ ছিল না। এ বিষয়ে রিয়া বলেন, এত কষ্টের পর পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হওয়ায় এখন আবার নতুন করে কোনো দুর্যোগের ভয় কাজ করে।

সমাজের কটূক্তি জয় করে নিজের পায়ে দাঁড়ানো যে কতটা কঠিন, বিনোদন জগতের এই খবরের আড়ালে থাকা সত্যিটি তা আরও একবার প্রকাশ্যে এনে দিল।

সূত্র: পিটিসি পাঞ্জাব 

রিয়া চক্রবর্তী। ছবি: সংগৃহীত
রিয়া চক্রবর্তী। ছবি: সংগৃহীত

আমার এখনো বিয়ে হয়নি: পূজা চেরি

বিয়ে ও ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে ‘ভিত্তিহীন ও বিভ্রান্তিকর’ সংবাদ প্রকাশের অভিযোগ তুলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন চিত্রনায়িকা পূজা চেরি। তিনি জানিয়েছেন, তার বিয়ে এখনো হয়নি। বিয়ে সম্পন্ন হলে নিজেই তা প্রকাশ্যে সবাইকে জানাবেন বলেও জানিয়েছেন এই অভিনেত্রী।

সম্প্রতি নিজের ব্যক্তিগত জীবন ও বিয়ে নিয়ে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত খবরের প্রতিক্রিয়ায় মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) গভীর রাতে এক ফেসবুক পোস্টে এ কথা বলেন পূজা চেরি।

বিবৃতিতে পূজা বলেন, ‘গত কিছুদিন ধরে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে আমার বিয়ে এবং ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে একের পর এক ভিত্তিহীন ও বিভ্রান্তিকর সংবাদ প্রকাশ করা হচ্ছে। কখনো অমুক পেশার কারও সঙ্গে, কখনো অন্য কারও সঙ্গে নাম জড়িয়ে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে নিউজ তৈরি করা হচ্ছে, যা অত্যন্ত বিব্রতকর এবং দুঃখজনক।’

পূজা জানান, তিনি আগেই একটি সাক্ষাৎকারে স্পষ্ট করে বলেছিলেন যে তিনি এনগেজড এবং পারিবারিকভাবে তার বিয়ে ঠিক করা হয়েছে। বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হলে তিনি নিজেই আনন্দের সঙ্গে বিষয়টি প্রকাশ্যে জানাবেন বলেও জানিয়েছিলেন।

তিনি বলেন, ‘আমি আগেই একটি সাক্ষাৎকারে স্পষ্ট করে বলেছিলাম—আমি এনগেজড এবং পারিবারিকভাবেই আমার বিয়ে ঠিক করা হয়েছে।’

বর্তমানে নিজেকে কিছুটা সময় দেওয়ার পাশাপাশি নতুন কাজের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানান পূজা। এ কারণেই তাকে ক্যামেরার সামনে তুলনামূলকভাবে কম দেখা যাচ্ছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

তবে তথ্য যাচাই না করে বারবার তাকে জড়িয়ে অসত্য সংবাদ প্রকাশের উদ্দেশ্য নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন এই অভিনেত্রী। তার ভাষায়, ‘বারবার বলতে চাই, আমার এখনও বিয়ে হয়নি। যখন হবে, আপনারাই প্রথম জানতে পারবেন।’

নিজের ব্যক্তিগত স্বাধীনতা ও সুনাম রক্ষার অধিকার রয়েছে উল্লেখ করে পূজা বলেন, ‘সবাইকে স্মরণে করিয়ে দিতে চাই, অনুমতি ছাড়া কারো ব্যক্তিস্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করা এবং কোনো নাগরিককে নিয়ে ভিত্তিহীন বা মিথ্যা তথ্য প্রচার করা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ।’

এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সংবিধানের ৩১ ও ৪৩ অনুচ্ছেদের কথা উল্লেখ করেন তিনি। একই সঙ্গে সাইবার নিরাপত্তা আইন, ২০২৩-এর ২৫ ধারার কথাও উল্লেখ করে ডিজিটাল মাধ্যমে কোনো ব্যক্তিকে নিয়ে মিথ্যা, অপমানজনক বা বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচারের বিষয়ে সতর্ক করেন।

পূজা বলেন, তিনি সবসময় দর্শকদের ভালোবাসা এবং গণমাধ্যমের সহযোগিতাকে সম্মান করে এসেছেন। তবে তার নীরবতাকে ভিত্তিহীন সংবাদ প্রকাশের সুযোগ হিসেবে ব্যবহার করা হলে নিজের আইনি অধিকার রক্ষায় পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হবেন।

গণমাধ্যমকর্মীদের বস্তুনিষ্ঠ তথ্য পরিবেশনের আহ্বান জানিয়ে পূজা চেরি অসত্য সংবাদ প্রকাশ থেকে বিরত থাকার অনুরোধ জানান। 

পূজা চেরি। ছবি : ফেসবুক আইডি থেকে নেওয়া
পূজা চেরি। ছবি : ফেসবুক আইডি থেকে নেওয়া

ত্রাণকর্মী হত্যার তদন্ত বন্ধ, ইসরায়েলি রাষ্ট্রদূতকে তলব পোল্যান্ডের

গাজায় ওয়ার্ল্ড সেন্ট্রাল কিচেনের ত্রাণবাহী গাড়িবহরে হামলায় সাত বিদেশি ত্রাণকর্মী নিহত হওয়ার ঘটনায় ইসরায়েলের তদন্ত বন্ধের সিদ্ধান্তে ক্ষোভ জানিয়েছে পোল্যান্ড। এ ঘটনায় দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ওয়ারশতে নিযুক্ত ইসরায়েলি রাষ্ট্রদূতকে তলব করেছে। শুক্রবার আলজাজিরার প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

প্রতিবেদনে পোল্যান্ডের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতি উদ্ধৃত করা হয়। তাতে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের ১ এপ্রিল গাজায় ওয়ার্ল্ড সেন্ট্রাল কিচেনের ত্রাণবাহী গাড়িবহরে ইসরায়েলি হামলায় নিহত সাতজনের মধ্যে পোলিশ নাগরিক দামিয়ান সোবলও ছিলেন। ওই হামলার তদন্ত বন্ধের ইসরায়েলি সিদ্ধান্তে গভীর হতাশা প্রকাশ করেছে ওয়ারশ।

বিবৃতিতে হামলার ঘটনায় এখন পর্যন্ত নেওয়া পদক্ষেপের নিন্দা ও প্রত্যাখ্যান করে হামলার কারণ ও পরিস্থিতি সম্পর্কে পূর্ণাঙ্গ ব্যাখ্যা দাবি করেছে পোল্যান্ড।

মন্ত্রণালয় জানায়, সোবলের নিজ শহর প্রজেমিশলের আঞ্চলিক প্রসিকিউটর কার্যালয়ও ঘটনাটি তদন্ত করছে। পোল্যান্ড আশা করছে, দেশটির তদন্তকারীদের চাওয়া সব ধরনের ব্যাখ্যা ও প্রমাণ ইসরায়েল সরবরাহ করবে।

পোলিশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আরও বলেছে, ত্রাণকর্মীদের নিহত হওয়ার প্রকৃত পরিস্থিতি সম্পূর্ণভাবে পরিষ্কার করতে হবে। একই সঙ্গে হামলার জন্য দায়ীদের আইনি ও নৈতিক জবাবদিহি এড়িয়ে যাওয়ার কোনো প্রচেষ্টা তারা মেনে নেবে না।

২০২৪ সালের ওই হামলায় ওয়ার্ল্ড সেন্ট্রাল কিচেনের সাত কর্মী নিহত হন। ঘটনাটি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দেয় এবং গাজায় মানবিক সহায়তা কার্যক্রমের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়।

সূত্র: আলজাজিরা 

২০২৪ সালের এপ্রিলে গাজায় ওয়ার্ল্ড সেন্ট্রাল কিচেনের যে সাত সাহায্যকর্মী নিহত হন তাদের মধ্যে একজন পোলিশ নাগরিক ছিলেন। ছবি: এএফপি
২০২৪ সালের এপ্রিলে গাজায় ওয়ার্ল্ড সেন্ট্রাল কিচেনের যে সাত সাহায্যকর্মী নিহত হন তাদের মধ্যে একজন পোলিশ নাগরিক ছিলেন। ছবি: এএফপি

স্বৈরাচারের পরিণতি বড়ই নির্মম by জালাল উদ্দিন ওমর

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট বাংলাদেশের ক্ষমতা থেকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং ৮ ডিসেম্বর সিরিয়ার ক্ষমতা থেকে প্রেসিডেন্ট বাসার আল আসাদ পালিয়েছেন। এ রকম ঘটনা বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন দেশে ঘটেছে। ২০২২ সালে শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট গোতাবায়া রাজাপক্ষ এবং ২০২১ সালে আফগানিস্তানের প্রেসিডেন্ট আশরাফ গানি পালিয়ে যান। ২০১১ সালে তিউনিশিয়ার প্রেসিডেন্ট বেনআলি পালিয়ে যান এবং মিসরের প্রেসিডেন্ট হোসনি মোবারক ক্ষমতাচ্যুত হন। ২০১২ সালে ইয়েমেনের প্রেসিডেন্ট আলি আবদুল্লাহ সালেহ, ১৯৭৯ সালে ইরানের রেজা শাহ পাহলভি এবং ১৯৮৬ সালে ফিলিপাইনের ফার্ডিনান্ড মার্কোস পালিয়ে যান। জনতার আন্দোলনে এরা ক্ষমতাচ্যুত হয়। এদের সবারই পরিণতি অত্যন্ত নির্মম, অপমানজনক এবং শোচনীয়। এদের কেউ কেউ গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় জনগণের ভোটে ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হলেও পরে জালিম এবং স্বৈরশাসকে পরিণত হয়েছেন। ভোটাধিকার হরণ করে এবং জনগণের ওপর জুলুম নির্যাতন চালিয়ে এরা আজীবন ক্ষমতায় থাকতে চেয়েছেন। কিন্তু কারোই শেষ রক্ষা হয়নি। জুলুম নির্যাতন এবং দমননীতি চালিয়ে ক্ষমতাকে কিছুদিনের জন্য দীর্ঘায়িত করা সম্ভব হলেও, শেষে জনতার প্রতিবাদ-প্রতিরোধে চরম অপমানের সঙ্গে বিদায় নিয়েছেন। কারণ স্বৈরাচারের পরিণতি কখনো ভালো হয় না। এটি ইতিহাসের অনিবার্য সত্য এবং নির্মম বাস্তবতা।

পৃথিবীতে আমরা সবাই ক্ষণিকের অতিথি। নির্দিষ্ট সময় পর মৃত্যুকে আলিঙ্গন করে পৃথিবী ছেড়ে চিরদিনের জন্য চলে যায়। অর্থ, বিত্ত, আভিজাত্য, ক্ষমতা এবং প্রভাব প্রতিপত্তি কোনোটাই মানুষের সঙ্গে যায় না। খালি হাতেই পৃথিবীতে মানুষের আগমন এবং খালি হাতেই বিদায়। একজন ভিখারি এবং প্রেসিডেন্টের বিদায় ও একই রকম। তবু কিছু মানুষ এই চিরন্তন সত্যকে ভুলে যায়। পৃথিবীতে প্রভাব-পতিপ্রত্তি এবং ক্ষমতার মোহে অন্ধ হয়ে যায়। এরা সত্যকে হত্যা করে, আইনকে মানে না এবং অন্যের অধিকার হরণ করে। নিজের স্বার্থকে হাসিল করতে মানুষের ওপর জুলুম করে। তারা মনে করে, ক্ষমতা চিরস্থায়ী এবং কখনো পতন হবে না। দম্ভ এবং অহংকারে মানুষকে অবজ্ঞা ও তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করে, যা ইচ্ছা তাই করে এবং শক্তির জোরে মানুষকে দমিয়ে রাখে। কিন্তু এর মাধ্যমে তিনি যে নিজেকে ধ্বংসের পথে নিয়ে যাচ্ছে, তা বুঝতে চায় না। অবশেষে একদিন ধ্বংসের সময় এসে যায় এবং ধ্বংস হয়ে যায়। সব হারানোর পর তিনি ভুল বুঝতে পারেন। কিন্তু তখন শোধরানোর সময় থাকে না। ধ্বংসই হয় তার জীবনের অনিবার্য পরিণতি, যা তাকে ভোগ করতেই হয়।

সৃষ্টির সূচনা থেকেই মানুষের মধ্যে সত্য-মিথ্যা লড়াই বিদ্যমান। কিছু মানুষ ন্যায় ও সত্যকে বর্জন করে অন্যায় এবং মিথ্যার পথে চলে। কিছু মানুষ অন্যায় ও মিথ্যাকে বর্জন করে ন্যায় ও সত্যের পথে চলে। ন্যায় ও সত্যপন্থিদের সঙ্গে অন্যায় ও মিথ্যাপান্থিদের দ্বন্দ্ব সংঘাত চলে। অন্যায় ও মিথ্যার অনুসারীরা প্রভাব-প্রতিপত্তি ও ক্ষমতাকে টিকিয়ে রাখতে সবসময় ন্যায় ও সত্যের অনুসারীদের ওপর জুলুম নির্যাতন চালায়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ন্যায় ও সত্যপন্থিদের বিজয় হয় এবং অন্যায় ও মিথ্যার অনুসারীদের পরাজয় হয়। অন্যায়ও মিথ্যার অনুসারীদের জীবনে নেমে আসে চরম বিপর্যয়, অপমান এবং লাঞ্ছনা। ইতিহাসের এই নিয়ম বহতা নদীর মতোই বয়ে চলছে। ফেরাউন সবসময় হজরত মুসা (আ.) ও তার অনুসারীদের ওপর, নমরুদ সবসময় হজরত ইবরাহিম (আ.) ও তার অনুসারীদের ওপর এবং আবু জেহেল ও আবু লাহাবরা সবসময় হজরত মুহাম্মদ (সা.) এবং তার অনুসারীদের ওপর জুলুম-নির্যাতন করেছে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ফেরাউন, নমরুদ, আবু জেহেল এবং আবু লাহাবদের করুণ পরিণতি হয়েছে। ইতিহাসে অভিশপ্ত এবং ঘৃণিত হয়েছে। যুগে যুগে সব স্বৈরাচারেরই করুণ পরিণতি এবং সবাই ইতিহাসের আস্তাকুঁড়ে নিক্ষিপ্ত হয়েছে। এরা মানুষের ভালোবাসা এবং সম্মান অর্জন করতে পারেনি বরং ঘৃণা এবং অসম্মানই অর্জন করেছে।

কিছু মানুষ সবসময় বিজয়ী হতে চায়। বিজয়ী হতে আইনলঙ্ঘন করে এবং সত্যকে হত্যা করে। কিন্তু সব বিজয় বিজয় নয় এবং সব পরাজয় পরাজয় নয়। কিছু বিজয় আসলে পরাজয় এবং কিছু পরাজয় আসলে বিজয়। সত্য ও ন্যায়ের পথে চলে পরাজিত হলেও তা আসলে বিজয় এবং মিথ্যা ও অন্যায়ের পথে চলে বিজয়ী হলেও তা আসলে পরাজয়। কারবালায় ইয়াজিদ এবং পলাশীতে মীরজাফর বিজয়ী হলেও, তারা আসলে পরাজিতই হয়েছে। এজন্য বিশ্বজুড়ে ইয়াজিদ এবং মীরজাফর অতি ঘৃণিত এবং বাবা-মায়েরা সন্তানের নাম ইয়াজিদ এবং মীরজাফর রাখে না। কিন্তু ইমাম হোসেন (রা.) এবং সিরাজউদ্দৌলা সেদিন পরাজিত এবং মৃত্যুবরণ করলেও, দুজনেই বিশ্বজুড়ে অতি সম্মানিত । ইতিহাসের বাস্তবতা থেকে সবারই শিক্ষা নিতে হবে।

প্রকৃতির প্রতিশোধ বলে একটা কথা আছে। মানুষের ওপর জুলুম, নির্যাতন, অবিচার এবং তাদের অধিকার হরণ করলে এর পরিণতি ভোগ করতেই হবে। যেভাবেই হোক জীবনের কোনো না কোনো পর্যায়ে এর প্রায়শ্চিত্ত করতেই হবে। মানুষের ওপর জুলুম নির্যাতন করে পার পাওয়ার সুযোগ নেই। এটি পৃথিবীর অতীত ইতিহাসের প্রমাণিত সত্য এবং আগামী দিনের অনিবার্য বাস্তবতা। জুলুম এবং অবিচার শুধু দেশের রাষ্ট্রপ্রধানরা এবং সমাজের ক্ষমতাবান ব্যক্তিরাই করে তা নয়। সবাই কিন্তু নিজ নিজ অবস্থানে ক্ষমতাবান। কারো ক্ষমতা ছোট এবং কারো ক্ষমতা বড়। সবাইকে নিজস্ব পরিমণ্ডলে অধীনস্থ মানুষগুলোর প্রতি সদয় আচরণ করতে হবে। জনগণের শাসক না হয়ে সেবক এবং জনগণকে শোষণ না করে সাহায্য করতে হবে। জনগণ না চাইলে ক্ষমতা ছেড়ে দিতে হবে। কিন্তু ভোটাধিকার হরণ করে, বলপ্রয়োগ করে ক্ষমতা আঁকড়ে ধরে স্বৈরাচার হয়ে মানুষের অধিকার হরণ করা যাবে না। প্রত্যেকেই নিজ অবস্থান থেকে মানুষের প্রতি ন্যায়বিচার করলে বং কারো প্রতি জুলুম না করলে ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ, রাষ্ট্র এবং বিশ্বÑসর্বত্রই শান্তি বিরাজ করবে। জালিম এবং স্বৈরাচার হয়ে মানুষের প্রতি অবিচার করলে পরিণতি নিশ্চিতভাবেই নির্মম ও করুণ হবে। এ দ্রুব সত্যটি সবারই বোঝা দরকার।

* লেখক : জালাল উদ্দিন ওমর, প্রকৌশলী, ইমেইল : omar_ctg123@yahoo.com 

স্বৈরাচারের পরিণতি বড়ই নির্মম
এআই দ্বারা নির্মিত প্রতীকী ছবি।