Tuesday, October 15, 2019
কিশোরী জায়রার উদাহরণ

অবদমনের মাধ্যমে আসলে মানুষকে জয় করা যায় না। মানুষকে জয় করতে প্রয়োজন মুক্ত পরিবেশ, উন্নত জীবন দর্শন ও আচরণ। মানব সমাজে প্রলোভন এবং বিভ্রান্তির পরিবেশও আছে। তবে যে মানুষ আপন বিবেককে, বিশ্বাসকে সম্মান করে; সে আখেরে মানুষই থেকে যায়। কোনো কিছুই তাকে জয় করতে পারে না। ঝলমলে এই জাহেলী সভ্যতায়ও তেমন উদাহরণ লক্ষ্য করা যায়। এ প্রসঙ্গে কিশোরী বলিউড অভিনেত্রী জায়রা ওয়াসিমের কথা উল্লেখ করা যায়। ঈমান অটুট রাখতে গত ৩০ জুন হঠাৎ করেই বলিউডের সিনেমায় অভিনয় ছেড়ে দেয়ার কথা ঘোষণা করলেন জায়রা। বিবিসি পরিবেশিত প্রতিবেদনটি ০১ জুলাই ঢাকার বিভিন্ন দৈনিকে গুরুত্বের সাথে প্রকাশিত হয়েছে।
আমির খান অভিনীত ‘দঙ্গল’ ও ‘সিক্রেট সুপারস্টার’ ছবিতে অভিনয় করে আলোচিত হয়ে ওঠেন কাশ্মীরে জন্ম নেয়া ভারতীয় অভিনেত্রী জায়রা। খুব অল্প সময়েই তুমুল জনপ্রিয়তা অর্জন করেন তিনি। তবে ঘোষণায় তিনি বলেন, নিজস্ব এই পেশার ফলে ধর্ম ও বিশ্বাসের সাথে তার যে সম্পর্ক সেটা নষ্ট হচ্ছিল এবং এ কারণে তিনি মোটেও পরিতৃপ্ত ছিলেন না। জায়রা ফেসবুকে দেয়া এক পোস্টে অভিনয় ছেড়ে দেয়ার কথা জানালে সেটি সাথে সাথেই সোসাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়ে পড়ে। জাতীয় পুরস্কার বিজয়ী এই অভিনেত্রী তাতে লিখেছেন, ‘আমি হয়তো এখানে (বলিউড) পুরোপুরি ঠিক আছি। কিন্তু আমি এখানকার মানুষ নই।’ জায়রা ওয়াসিম আরো লিখেছেন, বলিউড আমাকে দুই হাত ভরে দিয়েছে। ভালোবাসা, সমর্থন, জীবন-যাপনের পদ্ধতি-সবকিছু। কিন্তু আমি যেভাবে কাজ করেছি, তাতে আমার ধর্মীয় বিশ্বাস ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, ইসলামের সাথে আমার সম্পর্ক হুমকির মুখে পড়েছে। আল্লাহর সাথে আমার দূরত্ব বেড়েছে। আমার মানসিক শান্তি নষ্ট হয়েছে। আমি আমার জীবন থেকে বরকত হারিয়েছি।
জায়রা শেষে যে কথাগুলো লিখেছেন, তাতে উপলব্ধি করা যায় প্রতিকূল পরিস্থিতিতে এবং সামাজিক চাপের মুখেও মানুষের ঈমান নিজেকে সঠিক পথে চলতে সাহায্য করতে পারে। তিনি লিখেছেন, আমি ভুলতে বসেছিলাম, পৃথিবীতে আমাদের পাঠানোর উদ্দেশ্য। আর শেষ বাক্যে জায়রা জানিয়েছেন, মনের শান্তি ও ঈমানের বিনিময়ে এসব সফলতা, তারকাখ্যাতি, কর্তৃত্ব, সম্পদ কিছুই চান না তিনি। ১৮ বছর বয়সে জায়রা যে উপলব্ধির কথা প্রকাশ করলেন, বর্তমান সময়ে পরিণত বয়সের জ্ঞানী ও ক্ষমতাবান মুসলমানদের মধ্যে তেমন উপলব্ধি কতটা আছে? এমন প্রশ্নে আত্মসমালোচনা করলে মন্দ হয় না।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
তেলের মজুতে ভাগ্য ফিরবে উগান্ডার জনগণের?

দ্য ইকোনমিস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উগান্ডার পশ্চিমাঞ্চলের লেক আলবার্টসংলগ্ন এলাকায় প্রায় ৬০০ কোটি ব্যারেল তেল মজুত রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের ধারণা, এর মধ্যে প্রায় ১৫০ কোটি ব্যারেল তেল উত্তোলনযোগ্য। কিন্তু এই তেল উত্তোলনের জন্য দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে উগান্ডাকে। গবেষকদের আশঙ্কা, এই ‘সম্পদরূপী অভিশাপ’ অর্থনীতিকে চাপে ফেলে, রাজনীতিকে দুর্নীতিগ্রস্ত করে ও যুদ্ধকে উসকে দেয়। এমনকি গবেষকেরা এমনটাও বলছেন, তেল উত্তোলন শুরুর আগেই এই ‘অভিশাপ’ সক্রিয় হয়ে উঠতে পারে।
উগান্ডায় তেলের সন্ধান পাওয়ার কাছাকাছি সময়ে ঘানা ও মোজাম্বিকে তেল-গ্যাসের বিশাল মজুতের সন্ধান মিলেছিল। কোথায় সেই তেল ও গ্যাস উত্তোলন করে দেশ দুটি নিজেদের অর্থনৈতিক অবস্থার উন্নতি ঘটাবে তা না, বরং উভয় দেশই অর্থনৈতিক সংকটে নিমজ্জিত হয়েছে। গবেষকেরা তাই এখন থেকেই উগান্ডাকে শিক্ষা নেওয়ার কথা বলছেন।
মূলত, উগান্ডাকে ধৈর্য ধরতে বলছেন গবেষকেরা। দ্রুত তেল উত্তোলনের আশায় বিপুল অঙ্কের অর্থ ঋণ করেছিল ঘানা। পরিকল্পনা ছিল, একবার তেল উত্তোলন শুরু হলেই সব ঋণ শোধ করে দেবে তারা। কিন্তু তেল উত্তোলন শুরুর ছয় বছর পরেও বিশাল ঋণের বোঝা থেকে মুক্ত হতে পারেনি ঘানা। এমনকি ঋণ শোধের জন্য ২০১৫ সালে আইএমএফের শরণাপন্নও হতে হয়েছে দেশটিকে। একইভাবে দ্রুত গ্যাস উত্তোলনের জন্য বন্ড বিক্রি থেকে শুরু করে প্রচুর ঋণ করেছে মোজাম্বিকও, কিন্তু লাভের বদলে উল্টো তারা ঋণের বোঝা বহন করে চলেছে। দেশটির সাবেক অর্থমন্ত্রী এখন দক্ষিণ আফ্রিকায় কারাবাস করছেন।
উগান্ডা
অবস্থান: আফ্রিকা মহাদেশের পূর্বাঞ্চল
রাজধানী: কাম্পালা
জনসংখ্যা: ৩ কোটি ৫৬ লাখ
মুদ্রা: উগান্ডান শিলিং
আয়তন: ২ লাখ ৪১ হাজার ৩৮ বর্গকিলোমিটার
ভাষা: ইংরেজি, সোয়াহিলি
গড় আয়ু: পুরুষ (৫৪ বছর), নারী (৫৫ বছর)
সূত্র: বিবিসি
গবেষকেরা বলছেন, অবাস্তব উচ্চাকাঙ্ক্ষা থেকেই ঋণ গ্রহণের এই মহোৎসব শুরু হয়। ২০১৭ সালে জেমস কাস্ট ও ডেভিড মিলহালি নামের দুজন গবেষক একটি গবেষণা করেছিলেন। তাঁরা ১৯৮৮ থেকে ২০১০ সালের মধ্যে বিশ্বজুড়ে আবিষ্কৃত হওয়া ২৩৬ টি তেলের খনির বিষয়ে এই গবেষণা করেছেন। তেলের সন্ধান পাওয়ার আগে আইএমএফ দেশগুলোর অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি সম্পর্কে যে ভবিষ্যদ্বাণী করেছিল, তেলের খনি আবিষ্কৃত হওয়ার পর সেই পূর্বাভাস কতটা মিলেছে সেটি মিলিয়ে দেখাই ছিল তাঁদের উদ্দেশ্য। গবেষণার ফলাফল বলছে, তেলের খনি আবিষ্কৃত হওয়ার পর প্রতিবছর দেশগুলোর প্রবৃদ্ধি গড়ে শূন্য দশমিক ৮ শতাংশ করে কমেছে। আর যেসব দেশের অর্থনৈতিক কাঠামো একটু দুর্বল, সেসব দেশে প্রবৃদ্ধি ১ দশমিক ৪ শতাংশ পর্যন্তও কমতে দেখা গেছে।
তবে বাকি দেশগুলোর তুলনায় উগান্ডার একটি সুবিধাও দেখতে পাচ্ছেন কেউ কেউ। ১৯৮৬ সাল থেকে দেশটির প্রেসিডেন্ট ইয়োওয়েরি মুসেভেনি বেশ শক্তভাবেই ক্ষমতা নিজের কাছে কুক্ষিগত করে রেখেছেন। উগান্ডার বিশ্লেষক অ্যাঞ্জেলো ইজামা ও ম্যানচেস্টার বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক স্যাম হিকি বলছেন, এই তেলের খনি নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা করার সুযোগ পাবেন মুসেভেনি, যে সুযোগ ঘানার মতো তুলনামূলক গণতন্ত্রপন্থী দেশগুলো পায়নি। ক্ষমতার মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই খনি থেকে তেল উত্তোলনে ব্যস্ত হয়ে পড়েছিলেন সেসব দেশগুলোর রাষ্ট্রপ্রধানেরা। উগান্ডার তাই তেল নিয়ে বহির্বিশ্বের দেশগুলোর সঙ্গে লাভজনক ও দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি করার সুযোগ বাকিদের তুলনায় বেশি।
কিন্তু প্রশ্ন এখন এটিই, উগান্ডা কি তত দিন এই তেল সম্পদের জন্য ধৈর্য ধরতে পারবে? উগান্ডার জনগণ যতটা ধারণা করেন, আদতে তার চেয়ে অনেক কম তেল মজুত রয়েছে দেশটিতে। দেশের সব মানুষের মধ্যে সমানভাবে এই তেল ভাগ করে দিলে প্রত্যেকের ভাগে বছরে মাত্র দুই ব্যারেল করে তেল পড়বে। তিন দশকের মধ্যে এই তেল শেষ হয়ে যাবে। যেখানে অ্যাঙ্গোলার মজুত হিসাবে প্রতি নাগরিক পাবেন ৩৯ ব্যারেলের কাছাকাছি। বিশ্লেষকেরা তাই শঙ্কিত, উগান্ডার এই তেলসম্পদ কি দেশটির অর্থনীতির জন্য আশীর্বাদ হিসেবে ধরা দেবে? নাকি ঘানা ও মোজাম্বিকের মতোই ঋণের ভারে জর্জরিত হবে তারা?
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
আবরারের ছবিতে ভিজেছে হাজারো চোখ by মরিয়ম চম্পা

পরীক্ষার্থী এবং অভিভাবকদের অনেকে হয়েছেন আবেগ আপ্লুত।
আবরারের কথা বলতে গিয়ে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন এক পরীক্ষার্থীর মা। তিনি বলেন, আমার মেয়ে মানিকগঞ্জের সরকারি দেবেন্দ্র কলেজ থেকে পাশ করেছে। তাকে পরীক্ষা দিতে নিয়ে এসেছি। ওর সঙ্গে আবরারের বিষয়ে খুব একটা আলোচনা করিনি। ঘটনার পরে সবাইতো আমরা ওর জন্য কেঁদেছি। এখন মনে হয় ও যেন আমাদের সবার নিজেদেরই ‘আবরার’। এখন সে আমাদেরই। আমি ওর মা হলে বলতাম, আবরারকে যেভাবে মারা হয়েছে ওদেরকে যেন ঠিক একইভাবেই মারা হয়। তাহলে ওরা বুঝবে যে আবরার কতটুকু কষ্ট পেয়ে মরেছে। ওই মূহুর্তে ওর কত কষ্ট হয়েছে। অন্যভাবে মরলেতো ওরা আবরারের মৃত্যুর কষ্ট বুঝবে না। এটা নিয়ে এতো আলোচনা সমালোচনার কিছু নেই। আবরারের আরেক মা হিসেবে আমি বলবো, আবরারের মত করেই খুনিদের মারা হোক। আবরারও নেই। কাজেই ওরাও থাকবে না। আবরারের তো কোনো দোষ ছিল না। ও কোনো দোষ না করে যেহেতু নেই। তাহলে দোষ করে ওরা কেনো থাকবে। ওদের বেঁচে থাকার কোনো অধিকার নেই। ওরা বেঁচে থেকে আবার কোনো নিরপরাধ মানুষকে থেকে থেকে মারবে। এটা তো হয় না। এক পরীক্ষার্থী কান্না করে বলেন, আবরার হত্যার ঘটনায় আমি অনেক কেঁদেছি। এখানে এসে আমি আর মা দেয়ালের গ্রাফিতি দেখে কেঁদেছি। আজ হয়তো সে বেঁচে থাকলে পরিবেশটা অন্যরকম হতো। আমরা চাই, আবরারের নামে একটি হল তৈরি করা হোক। যেটার নাম থাকবে ‘শহীদ আবরার হল’। মা-বাবা আমাকে কোনো মোবাইল ফোন দেখতে দেয়নি। মোবাইল সবসময় তাদের কাছে রেখেছে। এগুলো দেখে মন মানসিকতা খারাপ হয়ে গেলে হয়তো পরীক্ষা খারাপ হতে পারে।
একজন পরীক্ষার্থী সঙ্গে আসা তার বোন বলেন, আমি গাজিপুরে জয়দেবপুর গভ. গার্লস হাইস্কুলে পড়ি। ভবিষ্যতে এখানে পড়তে চাই। তাই ক্যাম্পাস ঘুরে দেখতে এসেছি। ক্যাম্পাস ভালো লেগেছে। আবরার ভাইয়াকে যেভাবে মারা হলো এবং তাকে যারা মেরেছে তাদের সর্বোচ্চ শাস্তি হওয়া উচিৎ দ্রুততম সময়ের মধ্যে। পরীক্ষা দিতে আসা এক পরীক্ষার্থীর অভিভাবক বলেন, আমরা স্বীকার করি আর না করি বুয়েট প্রশাসন তো আসলেই খারাপ। একটি ভালো শিক্ষার্থীকে শুধুমাত্র পড়া দিয়ে আটকালে হবে না। পাশাপাশি তাকে অনেক কিছু শিখাতে হবে। বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়ায় তাকে নিয়ে যে সকল মন্তব্য করা হচ্ছে ভিসি তো আসলেই তাই। একজন পরীক্ষার্থীর ব্যাংকার বাবা বলেন, আমার ছেলে পরীক্ষা দিতে এসেছে। সে যদি চান্স পায় তাহলে এখানেই ভর্তি করাবো। আমার বিশ্বাস যে এর একটি সঠিক বিচার হবে। সঠিক বিচার হলে ছাত্ররা এখানে নিরাপদে পড়ালেখা করতে পারবে। বাংলাদেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান যেখানে রাজনীতি নেই এমন প্রতিষ্ঠানের মধ্যে বুয়েট ছিল অন্যতম। এখানে নেই কোনো সেশন জট। শিক্ষার্থীরা তাদের পড়ালেখা শেষ করে চার বছরের মধ্যে কৃতিত্বের সঙ্গে ভালো ফলাফল করে বের হয়ে যাচ্ছে। বাকী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান যেখানে অপরাজনীতি রয়েছে সেখানে সবসময় একটি টেনশন কাজ করে শিক্ষার্থী এবং অভিভাবকদের মধ্যে। আমার মনে হয়, সারা বাংলাদেশে সবগুলো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে সব ধরনের রাজনীতি বন্ধ করে দেয়া উচিৎ। এখন ছাত্র রাজনীতি মানে ক্যাম্পাসের হলে বসে মদ, গাজা খাচ্ছে। জুয়া খেলছে। নানা ধরনের অঘটন ঘটাচ্ছে। শিক্ষার্থীদের উপর টর্চার করছে। পড়ালেখার পরিবেশ নষ্ট করছে। বাংলাদেশের সেরা মেধাবী ছাত্রগুলো বুয়েটে পড়ে। সেই বুয়েটে আমরা জীবন্ত ছেলেকে পড়তে দিচ্ছি আর তার মৃত লাশ এখান থেকে নিতে হচ্ছে। উত্তরা রাজউক কলেজের শিক্ষার্থী এবং বুয়েটের পরীক্ষার্থী বলেন, আবরার হত্যাকাণ্ডে খুনিদের গ্রেপ্তার করার পর মনে হয়েছে, এখন মনে হয় এখানে (বুয়েটে) পড়া যাবে। নিরাপদে পড়তে পারবো। এর আগের পরিবেশ সম্পর্কে ভালো জানা ছিল না। তবে আবরার হত্যাকাণ্ডের কারণে এক ধরনের ভীতি তৈরি হয়েছিল। আমরা চাই আবরার হত্যাকারিদের উপযুক্ত শাস্তি হোক। আদমজী ক্যান্টনমেন্ট কলেজ থেকে পাস করা একজন শিক্ষার্থী বলেন, আবরার ভাই যে হলে থাকতেন সেই শেরে বাংলা হল দেখতে গিয়েছিলাম। অনেক খারাপ লেগেছে। কান্না পেয়েছে। আইটি ফার্মে কর্মরত এক নারী অভিভাবক বলেন, আমার ছোট বোন মিরপুর হারম্যান মেইনার কলেজ থেকে পাস করেছে। আবরার হত্যাকাণ্ডের পর আমরা ওর পরীক্ষা নিয়ে দুঃশ্চিন্তায় ছিলাম। বুয়েটের মতো যায়গায় শিক্ষার্থীরা রাজনীতিতে যুক্ত হয়ে এমন ঘটনা ঘটাতে পারে সেটা জানা ছিল না।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
যে কারণে হুয়াওয়েকে নিয়ে উদ্বিগ্ন পশ্চিমা বিশ্ব

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত সপ্তাহে 'বিদেশি শত্রুদের' কাছ থেকে তার দেশের কম্পিউটার নেটওয়ার্ক রক্ষায় জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে জরুরী অবস্থা ঘোষণা করেছিলেন। বিশ্লেষকরা মনে করেন, এই পদক্ষেপের আসল টার্গেট ছিল আসলে চীনা কোম্পানি হুয়াওয়ে।
হুয়াওয়ে সবচেয়ে বেশি পরিচিত তার স্মার্টফোনের কারণে। কিন্তু তারা আরও বহু রকম কমিউনিকেশন ইকুইপমেন্ট তৈরি করে।
যদি হুয়াওয়ে যুক্তরাষ্ট্রে তাদের যন্ত্রপাতি বিক্রি করতে নাও পারে, তারপরও বিশ্বজুড়ে কমিউউনিকেশন নেটওয়ার্কের ৪০ হতে ৬০ শতাংশই নিয়ন্ত্রণ করবে হুয়াওয়ে।
কী কারণে হুয়াওয়েকে নিয়ে এতটা চিন্তিত বিভিন্ন দেশ?
এর পেছনে আছে খুবই জটিল কিছু অভিযোগ। এর মধ্যে গুপ্তচরবৃত্তি থেকে শুরু করে চুরি যাওয়া রোবট, হীরের প্রলেপ দেয়া গ্লাসস্ক্রিন থেকে ইরানের সঙ্গে গোপন চুক্তি- অনেক কিছুই আছে।
ফাইভ-জি: সুপারফার্স্ট কিন্তু নিরাপদ নয়?
মোবাইল টেলিফোনের ক্ষেত্রে পরবর্তী বিপ্লব হিসেবে ধরা হয় ফাইভ-জি নেটওয়ার্ককে। হুয়াওয়ে এই ফাইভ-জি নেটওয়ার্ক বসানোর জন্য অনেক দেশের সঙ্গেই আলোচনা চালাচ্ছে। এই নতুন নেটওয়ার্ক এত দ্রুতগতির হবে যে এটি ব্যবহার করা হবে বহু নতুন কাজে। যেমন চালকবিহীন গাড়ি চালানোর কাজে।
এখন হুয়াওয়ে যদি কোনো দেশের ফাইভ-জি নেটওয়ার্ক নিয়ন্ত্রণ করে, চীন ঐ দেশের ওপর গুপ্তচরবৃত্তি চালাতে পারবে বলে দাবি করছে তাদের প্রতিদ্বন্দ্বী দেশগুলো। তারা চাইলে এই ফাইভ-জি নেটওয়ার্কে আদান-প্রদান করা বার্তা পড়তে পারবে, চাইলে নেটওয়ার্ক বন্ধ করে দিতে পারবে বা সেখানে ব্যাপক প্রতিবন্ধকতা তৈরি করতে পারবে।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশের আগেই অবশ্য যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে পশ্চিমা দেশগুলো হুয়াওয়ের সঙ্গে ব্যবসা না করার জন্য একটা চাপ সৃষ্টি করেছিল। এই দেশগুলোর মধ্যে আছে 'ফাইভ আই'স' বলে পরিচিত একটি গ্রুপ। যুক্তরাষ্ট্র ছাড়া গ্রুপের বাকী চারটি দেশ হচ্ছে যুক্তরাজ্য, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া এবং নিউজিল্যান্ড। এই পাঁচটি দেশের মধ্যে গোয়েন্দা তথ্য বিনিময়ের জন্য খুবই ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা আছে। এর বেশিরভাগটাই করা হয় ইলেকট্রনিক উপায়ে।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে এই পাঁচ দেশের কোনো দেশ যদি হুয়াওয়ের নেটওয়ার্ক তাদের গুরুত্বপূর্ণ কোনো ইনফরমেশন সিস্টেমে বসায়, তাহলে সেই দেশের সঙ্গে তারা আর কোনো গুরুত্বপূর্ণ তথ্য শেয়ার করতে পারবেন না।
হুয়াওয়ে অবশ্য বারবার জোর দিয়ে বলেছে, তারা কখনোই চীন সরকারের হয়ে গুপ্তচরবৃত্তি করবে না। কিন্তু সমালোচকরা একটি চীনা আইনের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করছেন যার কারণে কোনো কোম্পানির পক্ষে গোয়েন্দা তথ্য চেয়ে চীনা সরকারের অনুরোধ উপেক্ষা করা প্রায় অসম্ভব হবে।
হুয়াওয়ে আরও বলছে, যদি তাদের যুক্তরাষ্ট্রে নিষিদ্ধ করা হয় সেটি মার্কিন ভোক্তাদের স্বার্থ ক্ষুণ্ণ করবে। কারণ এর ফলে যুক্তরাষ্ট্রকে হুয়াওয়ের বিকল্প হিসেবে তার চেয়ে অনুন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করতে হবে এবং ফাইভ-জি প্রযুক্তিতে যুক্তরাষ্ট্র পিছিয়ে পড়বে।
যুক্তরাষ্ট্র যে এ ধরণের 'প্রযুক্তি গুপ্তচরবৃত্তির' ভয় করছে, তার কারণ হয়তো তারা নিজেরাই এরকম কাজ করেছে বছরের পর বছর। এনএসএ'র সাবেক কন্ট্রাক্টর এডওয়ার্ড স্নোডেন তার ফাঁস করা তথ্যে দেখিয়েছেন কীভাবে মার্কিন নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থাগুলো বড় বড় মার্কিন প্রযুক্তি কোম্পানির নেটওয়ার্ক হ্যাক করে তথ্য চুরি করতো। এর মধ্যে গুগল এবং ইয়াহুর মতো কোম্পানি পর্যন্ত আছে।
কাজেই প্রতিদ্বন্দ্বী একটি দেশের কোম্পানিকে সন্দেহ করার যথেষ্ট কারণ যুক্তরাষ্ট্রের আছে।
রোবট এবং অস্ত্র কেলেংকারি
অতিদ্রুত গতির ওয়্যারলেস নেটওয়ার্কের উদাহরণ দিয়ে জিনিসটা বোঝানো হয়তো কঠিন। কিন্তু হুয়াওয়েকে ঘিরে অন্য কেলেংকারিটি বোঝা অতটা কঠিন নয়। তাদের এক প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে একটি রোবটের হাত চুরির অভিযোগ আনা হয়। তবে এই প্রকৌশলী অভিযোগ করছেন, এটি চুরি ছিল না, দুর্ঘটনাবশত ব্যাপারটি ঘটেছে।
তিনি টি-মোবাইলের ডিজাইন ল্যাবে গিয়েছিলেন। সেখানে একটি রোবটের হাত ব্যবহার করে স্মার্টফোনের স্ক্রীন পরীক্ষা করা হয়। এই যন্ত্রটি দুর্ঘটনাবশত তার ব্যাগের মধ্যে পড়ে যায়। যখন তিনি ল্যাব থেকে বেরিয়ে আসছিলেন, তখন বিষয়টি খেয়াল করেননি।
জার্মান কোম্পানি টি-মোবাইলের সঙ্গে তখন হুয়াওয়ের পার্টনারশীপ ছিল। টি-মোবাইল এই কথা বিশ্বাস করেনি। এরপর দুই কোম্পানির মধ্যে সম্পর্ক ভেঙ্গে যায়।
নতুন কিছু ইমেল ফাঁস হওয়ার পর এই কেলেংকারি নিয়ে আবার কথাবার্তা শুরু হয়েছে। এসব ইমেলে ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে এই প্রকৌশলী হয়তো চীনে তার উর্ধ্বতন কোনো কর্মকর্তার নির্দেশে এই কাজ করেছিলেন।
যুক্তরাষ্ট্রের অনুরোধে গত বছর যে কানাডায় হুয়াওয়ের চীফ ফিনান্সিয়াল অফিসার মেং ওয়ানজুকে গ্রেফতার করা হয়, তার একটি কারণ এটি।
ইরানের সঙ্গে গোপন আঁতাত?
মিজ মেং ওয়ানজু তাকে কানাডা থেকে যুক্তরাষ্ট্রের হাতে তুলে দেয়ার বিরুদ্ধে আইনি লড়াই চালাচ্ছেন। গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগ তিনি অস্বীকার করেছেন। ইরানের সঙ্গে কোনো গোপন আঁতাতের কথাও তিনি উড়িয়ে দিচ্ছেন।
তার বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয়েছিল যে তেহরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা কীভাবে ফাঁকি দেয়া যায়, সেরকম এক ষড়যন্ত্রের সঙ্গে তিনিও যোগ দিয়েছিলেন স্কাইকম নামের একটি কোম্পানির মাধ্যমে।
ইরানের সঙ্গে তার ব্যবসায়িক লেনদেনের অনেক কিছুর ব্যাপারে তিনি ব্যাংকগুলোকে এবং মার্কিন কর্তৃপক্ষের কাছে মিথ্যে কথা বলেছেন বলেও অভিযোগ আছে।
মিজ মেং হচ্ছেন হুয়াওয়ের প্রতিষ্ঠাতার কন্যা। যদি তাকে বিচারের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানো হয় এবং তিনি দোষী সাব্যস্ত হন, তাহলে ৩০ বছর পর্যন্ত সাজা হতে পারে তার।
স্মার্টফোনের ভাঙ্গা স্ক্রীন এবং অঙ্গীকার খেলাপ
ব্লুমবার্গের দেয়া তথ্য অনুসারে, হুয়াওয়ের বিরুদ্ধে আরও কিছু অভিযোগ তদন্ত করছে যুক্তরাষ্ট্রের এফবিআই। এর একটি হচ্ছে তারা পরীক্ষা করে দেখার নামে ধার নেয়া একটি স্মার্টফোনের স্ক্রিনের নমুনা যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে পাচার করে দিয়েছিল।
মোবাইল ফোনের স্ক্রিন খুব সহজেই ভেঙ্গে যায়। কাজেই এমন একটি স্ক্রিন যদি তৈরি করা যায়, যেটি কোনভাবেই ভাঙ্গবে না, সেটি যেকোন প্রযুক্তি কোম্পানির জন্যই একটি বিরাট আশীর্বাদ হয়ে উঠতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রে আখান সেমিকন্ডাক্টার নামের একটি কোম্পানি এরকম একটি কাঁচ তৈরি করে হুয়াওয়েকে দেয়ার প্রস্তাব দেয়। এটি নিয়ে তাদের মধ্যে আলোচনা চলছিল। তারা হীরের প্রলেপ দেয়া যে কাঁচের স্ক্রিনটি হুয়াওয়েকে দেয়, সেটি যখন কয়েক মাস পর ফেরত আসে, দেখা গেল সেটি ভাঙ্গা। ব্লুমবার্গের ভাষ্য অনুযায়ী, এটি যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল।
এফবিআই এটি তদন্ত করছে। যুক্তরাষ্ট্রের আইনে এভাবে এটি দেশের বাইরে নেয়া অবৈধ ছিল। হীরের প্রলেপ দেয়া কোনো জিনিস এভাবে যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে নেয়া যায় না, কারণ এ ধরনের জিনিস লেজার অস্ত্রে ব্যবহার করা যায়।
চীনা কোম্পানি হুয়াওয়ে এই অভিযোগও অস্বীকার করছে।
এখানেই গল্পের শেষ নয়
কিন্তু এসব কেলেংকারি, গুগলের সর্বশেষ সিদ্ধান্ত এবং প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশ সত্ত্বেও বিশ্বের প্রযুক্তি জগতে হুয়াওয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ কোম্পানি হিসেবে রয়েই যাবে।
আফ্রিকা এবং এশিয়ার অনেক দেশেই হুয়াওয়ের প্রযুক্তির দাম ইউরোপ এবং আমেরিকার প্রযুক্তির চেয়ে কম। কাজেই এসব দেশে হুয়াওয়ের ব্যবসা বাড়তেই থাকবে।
এমনকি যুক্তরাজ্যে, যারা কীনা যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ মিত্র, এখনো তীব্র বিতর্ক চলছে হুয়াওয়েকে ফাইভ-জি নেটওয়ার্ক তৈরি করতে দেয়া উচিত কীনা। সম্প্রতি ব্রিটিশ প্রতিরক্ষামন্ত্রীকে বরখাস্ত করা হয়েছিল চীনা প্রযুক্তি ব্যবহার নিয়ে এই বিতর্কে।
হুয়াওয়েকে ব্যবসা করতে দেয়া হবে কি হবে না, সেই সিদ্ধান্ত এখনো পর্যালোচনা করা হচ্ছে। হুয়াওয়েকে ঘিরে আর সব কিছুর মতো, এক্ষেত্রেও কী হবে, তা এখনো অনিশ্চিত। সূত্র : বিবিসি।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
অর্থনীতিতে বাঙালিসহ নোবেল পেলেন ৩ জন

ভারতীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, ১৯৬১ সালে মুম্বইয়ে জন্ম অভিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়ের। তার প্রাথমিক পড়াশোনা সেখানেই। ১৯৮১ সালে প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেন। সে বছরই স্নাতকোত্তর পড়তে চলে যান কলকাতার জহরলাল নেহেরু বিশ্ববিদ্যালয়ে। এরপর পিএইচডি করেন হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। সেখানে তার গবেষণার বিষয় ছিল ‘ইনফরমেশন ইকোনমিক্স।’
নোবেলজয়ীদের মধ্যে অভিজিৎ ও ডাফলো ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজিতে অধ্যাপক হিসেবে কাজ করছেন। অন্যদিকে ক্রেমার হলেন, হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটির অর্থনীতি বিভাগের ‘ডেভেলপিং সোসাইটিজ’-এর গেটস প্রফেসর। অর্থনীতিতে নোবেল প্রদানকারী কমিটি পুরস্কার ঘোষণা নিয়ে জানায়, এই বছরের অর্থনীতিতে নোবেল পুরস্কারপ্রাপ্তদের গবেষণা উন্নয়ন বিষয়ক অর্থনীতিকে পুরোপুরি পাল্টে দিয়েছে। বিশ্বজুড়ে চরম দুর্নীতি মোকাবিলার নীতিমালায় নিশ্চিতভাবেই প্রভাব ফেলেছে তাদের কাজ।
যে কারণে নোবেল পেয়েছেন তারা মানবজাতির সবচেয়ে জরুরি সমস্যাগুলোর একটি হচ্ছে দরিদ্রতা। ন্যূনতম প্রয়োজনীয় চাহিদা পূরণ ছাড়াই জীবনযাপন করছে বহু মানুষ। অর্থাভাবে প্রতি বছর অন্তত ৫০ লাখ পাঁচ বছরের চেয়ে কমবয়সী শিশু যথাযথ চিকিৎসা না পেয়ে মারা যায়। পুরো পৃথিবীর অর্ধেক শিশু এখনো মৌলিক সাক্ষরতা ও হিসাবের জ্ঞান অর্জন ছাড়াই স্কুল থেকে ঝরে যায়। চলতি বছরের অর্থনীতিতে নোবেলজয়ীরা এমন একটি পদ্ধতি প্রবর্তন করেছেন, যার মাধ্যমে সবচেয়ে কার্যকরভাবে বৈশ্বিক দরিদ্রতা দূর করা যাবে। তারা দরিদ্রতার মোকাবিলার সমস্যাটিকে ছোট ছোট ভাগে ভাগ করে সেগুলো সহজেই মোকাবিলা করার প্রতি জোর দিয়েছে। উদাহরণস্বরূপ- শিশুদের শিক্ষাগত অর্জন বাড়ানো বা শিশুদের স্বাস্থ্যসেবা বাড়ানোর সবচেয়ে কার্যকরী নিয়ামক কোনটি। তারা প্রমাণ করে দেখিয়েছেন যে, কোনো সমস্যা নিয়ে ছোট ছোট ও নির্দিষ্ট প্রশ্নের উত্তর বেশির ভাগ সময় ওই সমস্যায় আক্রান্তদের ওপর পরীক্ষা চালানোর মাধ্যমে পাওয়া যায়।
১৯৯০ সালে মাইকেল ক্রেমার ও তার সহকর্মীরা এই পদ্ধতির গুরুত্ব প্রমাণ করেন। পশ্চিম কেনিয়ায় বেশ কয়েকটি স্কুলের সামগ্রিক ফলাফল উন্নতির মাধ্যমে এর কার্যকারিতা প্রমাণ করেন। পরবর্তীতে অভিজিৎ ও ডাফলো একই ধরনের পরীক্ষা অন্যান্য দেশে, অন্যান্য সমস্যা মোকাবিলায় ব্যবহার করেন। বেশির ভাগ পরীক্ষায় ক্রেমার তাদের সহযোগিতা করেন। বর্তমানে উন্নয়ন অর্থনীতির জগৎজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে তাদের এই পরীক্ষামূলক সমাধান বের করার পদক্ষেপ।
প্রসঙ্গত, নোবেল পুরস্কারের প্রবর্তক আলফ্রেড নোবেল তার উইলে এই পুরস্কার নিয়ে কিছু লিখে যাননি। তবে ১৯৬৮ সালে সুইডিশ কেন্দ্রীয় ব্যাংক সেভেরেজিন্স রিক্সব্যাংক তাদের ৩০০ বছর পূর্তিতে নোবেল ফাউন্ডেশনকে বিশাল অঙ্কের অর্থ দান করে। তাদের দেয়া ওই অর্থ ব্যবহার করে নোবেলের সম্মানার্থে ১৯৬৯ সাল থেকে অর্থনীতিতে পুরস্কার প্রদান শুরু হয়। পুরস্কারটির আনুষ্ঠানিক নাম হচ্ছে ‘দ্য সেভেরিজেস রিক্সব্যাংক প্রাইন ইন মেমোরি অব আলফ্রেড নোবেল’।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
অলৌকিক!

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ওই গর্ত খুঁড়তে গিয়ে স্থানীয়রা একটি পাত্র পান মাটির নিচে। কিন্তু তার ভিতর তারা দেখতে পান একটি মানবসন্তান। সঙ্গে সঙ্গে চোখ কপালে ওঠে সবার। তারা ওই পাত্র থেকে উদ্ধার করেন সন্তানটিকে। দেখতে পান সে তখনও শ্বাস-প্রশ্বাস নিচ্ছে। কাঁদছে। অন্য কিছু ভাবার আগে তারা দ্রুত তাকে নিয়ে ছুটে যান জেলা সদরের হাসপাতালে। এ সময় শিশুটির অবস্থা ছিল সঙ্কটজনক।
বর্তমানে ওই হাসপাতালের স্পেশাল নিউবর্ন কেয়ার ইউনিটে ফুসফুসের সংক্রমণের চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে তাকে। উদ্ধার করা এই শিশুটির ওজন মাত্র ১.১ কেজি। তাকে অক্সিজেন দিয়ে রাখা হয়েছে। চিকিৎসকরা বলেছেন, বাচ্চাটি নির্দিষ্ট সময়ের আগেই প্রসব করা হয়েছে এবং সে বেঁচে আছে এ জন্য যে, নির্ধারিত সময়ের আগে জন্ম নেয়া শিশুদের কম অক্সিজেন প্রয়োজন হয়। এমন হতে পারে যে, তাকে কয়েক ঘন্টা আগে সমাহিত করা হয়েছিল। স্থানীয় বিজেপি দলীয় বিধান সভার সদস্য রাজেশ মিশ্র ওরফে পাপ্পু ভারতোল তার সব চিকিৎসার খরচ বহন করছেন।
এ বিষয়ে সুভাষনগর পুলিশ স্টেশনের কর্মকর্তা হশ্চিন্দ্র যোশী বলেছেন, কে শিশুকন্যাটিকে জীবন্ত মাটিচাপা দিয়েছে তাকে সনাক্ত করার চেষ্টা করছি আমরা। অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া সম্পাদনের স্থানের সিসিটিভি ফুটেজ চেক করে তাকে চিহ্নিত করা হবে। এরপরই মামলা হবে।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় স্থানীয় হিতেশ কুমারের স্ত্রী বৈশালী একটি মৃত কন্যাসন্তান প্রসব করেন। পরিবারের সদস্যরা সুভাষনগরে অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া সম্পাদনের স্থানে নিয়ে যান তাকে। এক পর্যায়ে একজন শ্রমিক গর্ত খোঁড়া শুরু করেন। তখন তার কোদাল গিয়ে আঘাত করে একটি পাত্রে। এরপর ওই পাত্রটি তুলে তার ভিতর থেকে উদ্ধার করা হয় ওই শিশুকন্যাটিকে। তখনও সে জীবিত এবং কাঁদছিল। হিতেশ কুমার বলেছেন, ওর কান্না শুনে আমি ভেবেছিলাম আমার মেয়েই বুঝি প্রাণ ফিরে পেয়েছে। কিন্তু ওই কান্নার শব্দ আসছিল প্রকৃতপক্ষে ওই পাত্রের ভিতর থেকে। পাত্রটি উন্মুক্ত করে আমরা এর ভিতর একটি শিশুকন্যাকে দেখতে পাই। সঙ্গে সঙ্গে ডাকা হয় অ্যাম্বুলেন্স। খবর দিই পুলিশে। এভাবেই রক্ষা পায় ওই শিশুটির জীবন।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
বাংলাদেশে নিরাপত্তা হেফাজতে যত ধরণের নির্যাতন by শাহনাজ পারভীন
![]() |
| বাংলাদেশের পুলিশের বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অনেক অভিযোগ |
- •বন্দীদের রড, বেল্ট এবং লাঠি দিয়ে পেটানো
- •বৈদ্যুতিক শক্ দেয়া
- •ওয়াটারবোর্ডিং (মুখের ওপর পানি ঢালতে থাকা যাতে করে পানিতে ডুবে যাওয়ার মতো অভিজ্ঞতা হয়)
- •সিলিং থেকে বন্দীদের ঝুলিয়ে পেটানো
- •ইচ্ছে করে বন্দীদের গুলি করা, বিশেষ করে পায়ের নীচের অংশে। এটিকে বলা হয় 'নীক্যাপিং।' এসব ঘটনাকে পুলিশ 'ক্রসফায়ার' বলে বর্ণনা করে।
![]() |
| মীনাক্ষী গাঙ্গুলি: "বাংলাদেশে নির্যাতনের একটা সংস্কৃতি দাঁড়িয়ে গেছে" |
সরকার কী বলছে?
পুলিশ হেফাজতে দুটি নির্যাতনের ঘটনা
![]() |
| জেনেভায় জাতিসংঘের একটি কমিটির সামনে বাংলাদেশকে জবাবদিহিতা করতে হবে |
![]() |
| বাংলাদেশে পুলিশি নির্যাতনের শিকার এক তরুণ লিমন |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
‘আলহাজ্ব মো. মখলিছুর রহমান ডিগ্রী কলেজ’ প্রত্যন্ত অঞ্চলে শিক্ষার আলো ছড়াচ্ছে যে কলেজ by ইমাদ উদ দীন

প্রধান সড়কের দু’পাশই ছায়াবৃক্ষের রাজত্ব। এমন অপরূপ রূপ মাধুর্য্যে মৌলভীবাজার জেলার সদর উপজেলার নাজিরাবাদ ইউনিয়নের ইউসুফনগর (রাতগাঁও) শমসেরগঞ্জ এলাকা জানান দেয় আবহমান গ্রাম বাংলার মনকাড়া রূপ সৌন্দর্য। এদেশের গ্রামীণ জনপদের মতো ওই এলাকাও কৃষিজীবী আর খেটে খাওয়া মানুষ প্রতিদিনই জীবন যুদ্ধে লড়ে। মাঠে মাটির সঙ্গে লড়ে সোনা ফলায়। এমনই শ্রমে-ঘামে চলে জীবন সংসার। অভাব-অনটন আর টানাপোড়েন ওদের পিছু ছাড়ে না। কিন্তু সময়ের সঙ্গে বদলাচ্ছে ওদের আশপাশ। পরিবর্তন আসছে সর্বত্রই। তাই ওই স্রোতে গা না ভাসালেই পিছিয়ে পড়া। ওরা তা বুঝে। কিন্তু আর্থিক দৈন্যদশায় সে সাধ্য কি আর তাদের আছে। সাধ থাকলেও যে সাধ্য নেই। কৃষি ও শ্রমজীবী গ্রামীণ ওই জনপদের মানুষগুলো তাদের সন্তানদের ভবিষ্যৎ আর জীবন- জীবিকা নিয়ে ভাবে। এই ভাবনার শেষ নেই। শুধু বংশ পরম্পরায় পৈত্রিক পেশার উত্তরসূরি হলেই কি হবে। এই প্রশ্ন ঘুরপাক খায়। কিন্তু মিলে না তার সদুত্তর। এই তথ্য প্রযুক্তির যুগে জ্ঞান- বিজ্ঞানেও পারদর্শী হওয়া চাই। সে জন্য হতে হবে শিক্ষিত। ছেলে সন্তানদের স্কুল-কলেজে পাঠাতে হবে। সু-শিক্ষায় শিক্ষিত করতে হবে। আগামীর চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ওদের সে রকম করে তৈরিও করতে হবে। দক্ষ ও যোগ্য হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। তারা পড়ালেখায় উচ্চ শিক্ষা না নিলেও সন্তানদের এমন প্রয়োজনীয়তা খুব ভালো করে বুঝেন।
অনুধাবনও করেন। কিন্তু মফস্বলের এই গ্রাম ওই গ্রাম। তাদের এলাকার কোনো গ্রামেই নেই উচ্চ শিক্ষা অর্জনের কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। যা আছে তা শহরে। কিন্তু শহরের ওই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাতায়াত আর পড়ালেখার খরচ কুলিয়ে ওদের গন্তব্যে পৌঁছানোর সাধ্য কোথায়? সারা দিন মাঠেঘাটে কাজ করে দু’বেলা দু’মুঠো ভাতের নিশ্চয়তা যাদের নেই তাদের সন্তান শহরে গিয়ে উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত হবে তা যেন দুঃস্বপ্ন। নিজ এলাকায় উচ্চ শিক্ষা গ্রহণের জন্য কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান না থাকায় সন্তানদের উচ্চ শিক্ষা অর্জন নিয়ে এই দুঃখ গাঁথুনি যেন তাদের চলিষ্ণু রেওয়াজ। মাধ্যমিকের গণ্ডি পাড়ি দেয়ার সঙ্গে সঙ্গেই শিক্ষা জীবনের ইতি টানতে হয় ওই মফস্বল এলাকার হতদরিদ্র অধিকাংশ মেধাবী শিক্ষার্থীদের। আর উচ্চ শিক্ষা না থাকায় চাকরিতেও অংশ নিতে পারেন না তারা। তাই তাদের ভাগ্যের চাকাও সচল হয় না। এমনটিই যেন তাদের নিয়তি। জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভিশন-২০২১ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে নিজ এলাকায় নিজস্ব অর্থায়নে এই অবস্থার পরিবর্তন করতে আগ্রহী হন ওই এলাকারই সু-সন্তান ব্রিটিশ কাউন্সিলর একাধিকবারের সিআইপি যুক্তরাজ্যে বহু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা, জনদরদি শিক্ষানুরাগী এম.এ. রহিম সি.আই.পি। তিনি নিজ এলাকার স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে এ নিয়ে আলোচনা করেন। এলাকার সন্তানদের উচ্চ শিক্ষা অর্জনের সুযোগ করে দিতে উদ্যোগী হন।
অভিভাবকদের সঙ্গে ঝরে পড়া শিক্ষার্থীরাও তার এমন প্রশংসনীয় মহতী উদ্যোগকে স্বাগত জানায়। এম. এ. রহিম সি.আই.পির ঐকান্তিক ইচ্ছা আর স্থানীয় মানুষের প্রয়োজন ও আগ্রহকে বিবেচনায় নিয়ে নিজস্ব অর্থায়নে কলেজ প্রতিষ্ঠা করেন। ২০১০ সালে ইউসুফনগর (রাতগাঁও) শমসেরগঞ্জ এলাকায় তাঁর মরহুম পিতার নামে প্রতিষ্ঠা করেন আলহাজ্ব মো. মখলিছুর রহমান ডিগ্রী কলেজ। এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি প্রতিষ্ঠিত হওয়াতে উচ্চ শিক্ষা গ্রহণের সুযোগ হয় ওই এলাকাসহ আশপাশ এলাকার হতদরিদ্র পরিবারের শিক্ষার্থীদের। ২০১০ সাল থেকে উৎসবমুখর পরিবেশে চলে পাঠদান কার্যক্রম। প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে কলেজটি জেলা তথা সিলেট বিভাগের মধ্যে একটি অন্যতম ভালো ফলাফলের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হিসেবে ছড়িয়ে পড়া খ্যাতি ও ঐতিহ্য ধরে রাখতে সক্ষম হচ্ছে। তাদের এমন (৮৫ শতাংশের উপরে ফলাফলে) অভিভূত এ জেলার অভিভাবক ও সচেতন সমাজ। প্রতিষ্ঠার পর থেকে কলেজটি তার স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য নিয়ে এগিয়ে চলছে। শিক্ষার্থীদের বিনা বেতনে পড়ালেখার সু-ব্যবস্থা, রয়েছেন অভিজ্ঞ শিক্ষকমণ্ডলী। যাতায়াতের জন্য দু’টি ফ্রি কলেজ বাস। শিক্ষার্থীদের ফ্রি চিকিৎসা ও আনুষঙ্গিক নানা সুযোগ-সুবিধা। সু-প্রশস্ত কম্পিউটার ল্যাব, বিশাল ক্যাম্পাস, পরিচ্ছন্ন ক্লাসরুম আর খেলাধুলার সু-ব্যবস্থা। রাজনীতিমুক্ত ও ধূমপানমুক্ত নির্মল পরিবেশে চমৎকার ক্যাম্পাস শুরু থেকেই দৃষ্টি কাড়ছে সকলের। কলেজের সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা ও স্থানীয় জনগণ কলেজ প্রতিষ্ঠার পর থেকেই তারা যারপর নাই আনন্দিত। কারণ কলেজটি ওই এলাকার অন্ধকার দূর করে আলোর বার্তা নিয়ে এসেছে। এখন দিন যত যাচ্ছে কলেজটি তার আলো ততই ছড়াচ্ছে। গতকাল কলেজটিতে সরজমিন গেলে এমন দৃশ্যই চোখে পড়ে।
কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর আব্দুর রাজ্জাক ও গ্রামবাসীরা গর্বের সঙ্গে মানবজমিনকে বলেন এম.এ. রহিম সি.আই.পি ও তার ভাই মো. মুজিবুর রহমান মুজিব দিন-রাত অক্লান্ত পরিশ্রম করে কলেজটিকে এ পর্যন্ত নিয়ে এসেছেন। নিজস্ব অর্থায়নে এত বিশাল ব্যয় বহন করছেন নিজ এলাকায় শিক্ষার আলো ছড়াতে। শুধু এই কলেজ নয়, নিজ এলাকাকে শিক্ষার আলোয় আলোকিত করতে তারা প্রতিষ্ঠা করেছেন আরো একাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। কলেজের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও গ্রামবাসীর সরকারের কাছে জোর দাবি কলেজটি এমপিভুক্ত করার। বর্তমানে আলহাজ্ব মো. মখলিছুর রহমান ডিগ্রি কলেজের শিক্ষার্থী সংখ্যা প্রায় ৬ শতাধিক। আর শিক্ষক সংখ্যা ২৫ জন। কলেজের প্রতিষ্ঠাতা বিশিষ্ট শিল্পপতি, সাবেক ব্রিটিশ কাউন্সিলর, যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি, শিক্ষানুরাগী এম. এ. রহিম বলেন- ইউসুফনগর গ্রামসহ আশপাশের গ্রামগুলোকে আমরা শতভাগ শিক্ষিত একটি মডেল গ্রাম ও এলাকা হিসেবে তৈরি করতে চাই। জননেত্রী শেখ হাসিনার ডিজিটাল বাংলাদেশ গঠনের জন্য এটা আমাদের প্রাথমিক পদক্ষেপ। মৌলভীবাজার, শ্রীমঙ্গল ও নবীগঞ্জ উপজেলার প্রায় ৭টি ইউনিয়নের সুবিধাবঞ্চিত শিক্ষার্থীরা বিনা বেতনে এখানে অধ্যয়ন করে উচ্চ শিক্ষিত হচ্ছেন। কলেজটি এগিয়ে নিতে তিনি শিক্ষাবান্ধব এ সরকারসহ সকলের সহযোগিতা চান।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
কেন কিছু মানুষ স্বপ্ন ভুলে যায়?
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির খবরে বলা হয়েছে, যখন আমরা ঘুমাই, তখন আমাদের মস্তিষ্ক চারটি ভিন্ন ভিন্ন ধরনের মানসিক অবস্থার মধ্য দিয়ে যায়। চূড়ান্ত পর্যায়টির নাম হলো র্যাপিড আই মুভমেন্ট বা আরইএম। এই পর্যায়ে ঘুমের সময় একজন ব্যক্তির চোখের পাতা দ্রুত কাঁপতে থাকে। এ সময় হৃদপিণ্ডের গতি ধীর হয় আসে এবং মানুষের শরীর আটোনিয়া নামের একটি অবস্থায় চলে যায়। এ সময় মানবদেহ নিষ্ক্রিয় অবস্থায় চলে যায় এবং বিভিন্ন অঙ্গপ্রত্যঙ্গ নাড়াচাড়া করা যায় না।
ঠিক এই পরিস্থিতিতে স্বপ্ন দেখার ক্ষেত্রে মানব মস্তিষ্কের দুটি রাসায়নিক পদার্থ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এগুলো হলো—এসিটোকোলিন ও নোরাপিনাফ্রিন। এসিটোকোলিনের উৎপাদন যত বাড়ে, মস্তিষ্কের কর্মতৎপরতা তত বেড়ে যায়। স্বপ্নের বিষয়বস্তু একজনের কাছে কতটা স্পষ্ট হবে, সেটি নিয়ন্ত্রণ করে এসিটোকোলিন। আবার নোরাপিনাফ্রিন সতর্কতা ও মানসিক চাপের মাত্রা নির্ধারণ করে। এসিটোকোলিনের উৎপাদন যত বাড়ে, নোরাপিনাফ্রিনের পরিমাণ কমতে থাকে। নোরাপিনাফ্রিনের পরিমাণ কমতে থাকলে আমাদের স্বপ্নগুলো মনে রাখার সক্ষমতাও কমতে থাকে।
যখন আমরা হুট করে ঘুমিয়ে পড়ি বা অ্যালার্মের শব্দে লাফ দিয়ে ঘুম থেকে উঠি, তখন এই দুই রাসায়নিকের পরিমাণ সামান্য পরিমাণে বেড়ে যায়। এর ফলে মস্তিষ্কের স্বপ্ন মনে রাখার সম্ভাবনা আরও কমে যায়। আবার অনেক সময় আমাদের মস্তিষ্ক সেই সব স্বপ্নই মনে রাখে না, যেগুলো যথেষ্ট উত্তেজনাকর নয়।
হার্ভার্ড মেডিকেল স্কুলের স্লিপ রিসার্চার রবার্ট স্টিকগোল্ড বিবিসিকে বলেন, ‘যখন আমরা প্রথমবার ঘুম থেকে উঠি, তখন স্বপ্নগুলো অত্যন্ত ভঙ্গুর অবস্থায় থাকে। এই পরিস্থিতি কেন সৃষ্টি হয়, তার সঠিক ব্যাখ্যা এখনো জানা যায়নি। যদি কেউ লাফ দিয়ে ঘুম থেকে উঠে দিনের কাজ শুরু করে দেন, তবে তার পক্ষে স্বপ্ন মনে রাখা সম্ভব হবে না। ছুটির দিনের প্রশান্তির ঘুমই স্বপ্ন মনে রাখার উৎকৃষ্ট উপায়।’
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
বাংলাদেশে মতপ্রকাশের স্বাধীনতার অপরাধকরণ নিয়ে উদ্বেগ

বিবৃতিতে সমপ্রতি বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের ২১ বছর বয়সী শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদের হত্যাকাণ্ডের সমালোচনা করেছে তারা। বলেছে, আবরার মতপ্রকাশের দায়ে হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছে। মতামত অসহিঞ্চুতা ও সাজা থেকে দায়মুক্তির সংস্কৃতির শিকার হয়েছে। তারা লিখেন, ফেসবুকে দেয়া পোস্টের জেরে অক্টোবরের ৭ তারিখ তাকে নির্মমভাবে মেরে হত্যা করা হয়। হত্যাকারীরা আবরারের ওই পোস্টটি আক্রমণাত্মক হিসেবে বিবেচনা করেছে।
তাদের বেশিরভাগই বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সদস্য।
বিবৃতিতে বলা হয়, আমরা আগেই বলেছি, এই হত্যাকাণ্ড বাংলাদেশে বাকস্বাধীনতা, চিন্তার স্বাধীনতা, মানবাধিকার ও আইনের শাসনের ওপর হামলার স্পষ্ট উদাহরণ। ৫ই অক্টোবর ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের করা কয়েকটি সাম্প্রতিক চুক্তির সমালোচনা করে পোস্ট দিয়েছিল আবরার। পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে বেরিয়ে এসেছে যে, আবরার ফেসবুক পোস্টের কারণে তার ওপর ক্ষোভ ছিল সন্দেহভাজন নির্যাতনকারীদের। ওই পোস্টের জেরে ছাত্রলীগ কর্মীরা আবরারের মোবাইল ফোন ও ল্যাপটপ জব্দ করেছিল। এ ঘটনা হতভম্ভকর।
বিবৃতিতে আরো লেখা হয়, পূর্বে বহু ফেসবুক ব্যবহারকারী, ব্লগার, লেখক ও সাংবাদিক হত্যাকারীরা সাজা পায়নি। ড্রাকোনিয়ান আইনের আওতায় অনলাইনে ভিন্নমত ও বাংলাদেশের সরকারি কাজকর্মের সমালোচনাকে অপরাধযোগ্য করে তোলা হয়েছে। এই আইনের আওতায় অনলাইনে মতপ্রকাশের জন্য বহু সাংবাদিক, মানবাধিকারকর্মী, লেখক ও ব্লগার হত্যাকাণ্ডের ঘটনা আমরা নথিবদ্ধ করেছি। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) আইনের ৫৭ ধারার প্রতি নিন্দা জানিয়েছে সংগঠনটি। বলেছে, পরবর্তীতে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ২০১৮’র মাধ্যমে ওই ড্রাকোনিয়ান আইন চাপা দিয়ে রাখা হয়েছে। এই আইন বাকস্বাধীনতা কেড়ে নেয় ও নাগরিকদের ব্যক্তি পর্যায়ে নিজের ওপর সেন্সরশিপ প্রয়োগ করতে বাধ্য করে।
তারা বলেছে, আইসিটি আইন চালুর পরপর বহু ফেসবুক ব্যবহারকারী প্রথমে, ক্ষমতাসীন দলের নেতাদের কাছে হয়রানির শিকার হন ও পরে পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হন। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের অধীনে দায়ের করা মামলার সংখ্যাও বেড়ে চলেছে।
তারা বিবৃতিতে, বাংলাদেশ সরকারের কাছে পুনরায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন রদ করে নেয়ার দাবি জানিয়েছে। এ ছাড়া, বাছবিচারহীনভাবে এই আইনের আওতায় গ্রেপ্তার করা সকলকে মুক্ত করে দেয়ার দাবি জানিয়েছে। তারা স্বাধীনভাবে মতপ্রকাশের চর্চাকারীদের সাইবার-অপরাধ আইনের আওতায় হয়রানি করার অভিযোগ এনে নিন্দা জানিয়েছে। বলেছে, এর ফলে নাগরিকদের মধ্যে ভীতির সংস্কৃতি ও মূলধারার গণমাধ্যমে আত্ম-সেন্সরশিপ তৈরি করেছে।
বিবৃতিটিতে ফ্রিডম অব এক্সপ্রেশন নেটওয়ার্ক অব বাংলাদেশের ৯ জন ব্যক্তি স্বাক্ষর করেছেন। এদের মধ্যে রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডার্স (আরএসএফ) এর সালিম সামাদ, মানবাধিকার সংগঠন আর্টিকেল ১৯’র বাংলাদেশ কার্যালয়ের প্রধান ফারুক ফয়সাল, কমিটি টু প্রটেক্ট জার্নালিস্ট (সিপিজে) এর মইনুল ইসলাম খান, বাংলাদেশ মানবাধিকার সাংবাদিক ফোরাম (বিএমএসএফ) এর আহমদ উল্লাহ, ইন্টারন্যাশনাল ফেডারেশন অব জার্নালিস্ট (আইএফজে) এর খাইরুজ্জামান কামাল, ভয়েস এর আহমেদ স্বপন মাহমুদ, পেন ইন্টারন্যাশনাল এর বাংলাদেশ কার্যালয়ের প্রধান ড. আইরিন জামানসহ অন্যরা রয়েছেন।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
একজন মিজানুর রহমান by জিয়া চৌধুরী

তাই মিজানুর রহমান জুরাইনবাসীর কাছে এক প্রতিবাদী কণ্ঠস্বর। শুধু জুরাইনের সুখ-দুঃখ নয়, বাংলাদেশের নানা সংকট, আন্দোলন-সংগ্রামে হাজির থাকেন মিজান। নিজে একা নন, প্রতিবাদের আওয়াজ তোলেন পরিবারের সদস্যদের নিয়ে।
মিছিল, মানববন্ধন কিংবা লংমার্চের মতো নানা আয়োজনে স্ত্রী-কন্যাদের নিয়ে মানুষের কথা বলে যাচ্ছেন জুরাইনের মিজানুর রহমান। সুন্দরবন রক্ষার আন্দোলন, কোটা সংস্কার ও নিরাপদ সড়ক আন্দোলনেও সরব ছিলেন পঞ্চাশ ছুঁই ছুঁই মিজান। সুন্দরবন বাঁচাতে ২০১৭ সালে এক আন্দোলনে শিক্ষার্থীদের বাঁচাতে বুক পেতে দেন পুলিশের জল কামানের সামনে। সেবার পুলিশের লাঠিচার্জেরও শিকার হন তিনি। মাটিতে লুটিয়ে পড়া সেই ছবি ছড়িয়ে পড়ে দেশে-বিদেশে। ওই বছর যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ‘মঙ্গাবে’ নামে পরিবেশবাদী সংগঠন ফলাও করে প্রচার করে মিজানুরের অদম্য কীর্তিগাঁথা।
মঙ্গাবে’র সংবাদের পর সুইডেনের বিখ্যাত ম্যাগাজিন ‘রিপাবলিক’ তাকে জলবায়ু গেরিলা যোদ্ধা উপাধি দেয়। মিজানুর রহমানের ছবি ও পরিবেশ নিয়ে তার লড়াইয়ের গল্প ছাপা হয় বিশেষ নিবন্ধ আকারে। তবে সবকিছু ছাপিয়ে মিজানুর যেন জুরাইনেরই ছেলে, সেখানকার মানুষের সংকট-সম্ভাবনার সঙ্গী, আরেক ভরসার নাম। কয়েক বছর ধরে সেখানে বইমেলা আয়োজন, জলাবদ্ধতা নিরসন, রক্তদান কর্মসূচি কিংবা যে কোন বিপদে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর তাড়না তার। সবশেষ গত ২৩ শে এপ্রিল নিজের এলাকার পানি সমস্যা নিয়ে রাজধানীর ওয়াসা ভবনে প্রতীকী শরবত পান করানোর উদ্যোক্তাও এই মিজান। স্ত্রী শামীমা হাশেম খুকি ও তিন বছরের কন্যা মৃন্ময়ী হাসিনাকে সঙ্গে নিয়ে সেদিন ওয়াসা ভবনে যান তিনি।
সঙ্গে ছিলেন জুরাইনের আরো দুই বাসিন্দা। গতকাল সকালে জুরাইন এলাকায় কথা হয় তার সঙ্গে। সেখানকার কমিশনার রোডের মা মিষ্টান্ন ভাণ্ডার নামের একটি দোকান থেকে শুরু হয় আলাপ। নিজে ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ার সময়ে ফিরে যান মিজানুর। ৮৮ সালের ভয়াবহ বন্যার ঠিক আগে আরো নিচু ছিল জুরাইন জনপদ। মূলত বুড়িগঙ্গা তীরের ফসলের জমি ভরাট করে গড়ে তোলা হয় আবাসন। জুরাইনের মানুষজনের কপালে তখন চিন্তার ভাঁজ। দেশজুড়ে বন্যা শুরু হয়েছে। ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ-ডেমরা (ডিএনডি) বাঁধ পেরিয়ে পানি ঢুকে পড়লে সব বানের জলে ভেসে যাবে।
সে সময় প্রথম বুড়িগঙ্গা সেতু বানানোর কাজ শুরু হচ্ছিল। বন্যার পানি রুখতে সেতুর জন্য রাখা বালু থেকে বস্তা ভরে বাঁধটিকে আরো উঁচু করা হয়। মিজানুর রহমানের স্বেচ্ছাসেবী কাজের শুরু ৮৮’র বন্যার সময় থেকে। ছোট-বড় অনেকের সঙ্গে এলাকায় বস্তা জোগাড় করা, বালু ভরা, বস্তাভর্তি ঠেলাগাড়ি ঠেলে বাঁধের কাছে নিয়ে যাওয়া। এটাই ছিল মিজানুর রহমানের জীবনের প্রথম স্বেচ্ছাসেবী কাজ, যে পথে এখনো হাঁটছেন। এক যুগ আগের আরেক স্মৃতিতে ফিরে যান তিনি। রাতের বেলা বাড়ির সামনের সড়কে বন্ধুদের কয়েকজনের সঙ্গে আলাপ চলছিল তার। এমন সময় ‘ছিনতাইকারী, ছিনতাইকারী, ভাই বাঁচান, বাঁচান’ বলে চিৎকার শুনতে পান। পূর্ব জুরাইন এলাকার আশরাফ মাস্টারের স্কুলের গলির দিকে দৌড়াতে শুরু করেন তিনি। কিন্তু সেখানে গিয়ে কাউকে খুঁজে পেলেন না। এরপর রাস্তায় ছোপ ছোপ রক্তের দাগ ধরে সামনে এগোন।
একটি বাসার সামনে গিয়ে দেখেন ছিনতাইয়ের শিকার একটি ছেলে কাতরাচ্ছে। ছেলেটার হাত থেকে রক্ত ঝরছে তখনো। মোবাইল ফোন ও সঙ্গে থাকা তিন হাজার টাকা খোয়া গেছে। টাকার অভাবে হাসপাতালে না গিয়ে তিনি বাসায় চলে আসেন ছেলেটিকে নিয়ে। পরে এক বন্ধুকে সঙ্গে করে আহত ছেলেটিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। ধার করে ওষুধ আর চিকিৎসার জন্য দুই হাজার টাকা পরিশোধ করেন মিজানুর রহমান। এরপর জুরাইনের মানুষের প্রতি তার ভালোবাসার কথা ছড়িয়ে পড়ে গোটা জুরাইনে। তাইতো জুরাইনবাসীর কাছে ‘মিজান ভাই’ যেন এক ভরসার নাম।
মহল্লায় পানি নেই, তাঁর ডাক পড়ে। পাড়ায় ময়লার ভাগাড়ের দুর্গন্ধে প্রাণ যায়, মিজান ভাইয়ের কাছে চলো। কারো আত্মীয়ের জন্য রক্ত মিলছে না? কিংবা মধ্যরাতে কেউ অসুস্থ হয়ে পড়েছে, হাসপাতালে নিতে হবে। ভয় কী। মিজান ভাই আছে না? এলাকায় মাদকবিরোধী আন্দোলনে মিজানুরের অবদানও কম নয়। এ কারণে হামলা-মামলারও শিকার হতে হয়েছিল তাকে। জুরাইনের পানি সমস্যা নিয়েও সোচ্চার মিজানুর রহমান ও তার পরিবার। তিনি বলেন, শুধু আমার বাড়ির পানির সমস্যার জন্য এসব করছি না। জুরাইনের প্রতিটি মানুষের সুপেয় পানি পাবার অধিকার আছে।
আমাদেরকে কেন সে অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে আমি শুধু বার বার সেই প্রশ্নটি করার চেষ্টা করেছি। আলাপের এক ফাঁকে ২০১২ সালের একটি ভিডিও ফুটেজ দেখান তিনি। পানির সমস্যা নিরসনে সেবার নিজের দুই জমজ কন্যা প্রাপ্যতা ও পূর্ণতাকে নিয়ে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধনে দাঁড়ান মিজানুর। ওই বছর সাড়ে তিন হাজার মানুষের গণসাক্ষর ও পানির নমুনা ওয়াসাকে দিলেও এত বছরে কোন উদ্যোগ না নেয়ায় আক্ষেপ প্রকাশ করেন। নিজের পরিবার কখনো এমন কাণ্ডে বাধা দেয় না? হেসে ফেলেন তিনি। বলেন, আন্দোলনে-প্রতিবাদে পরিবারই আমার অনুপ্রেরণা। স্ত্রী ও তিন কন্যাকে নিয়ে মানুষের কথা বলার চেষ্টা করি। এ লড়াই আমার একার না, আমার পরিবারেরও। আমার কন্যাদেরও আমি এমন শিক্ষাই দিয়েছি।
এবার শোনা যাক এলাকাবাসীর কথা- গাজী আলমগীর কামাল নামে একজন বলেন, ওয়াসার এমডি তাকে পাগল বলেছেন। আমিও বলছি, জুরাইনের সুখে-দুখে আমরা সব সময় এই পাগল মিজান ভাইকেই চাই। যে পাগল মানুষের অধিকারের দাবিতে সোচ্চার থাকে। তার মতো আরো অনেক পাগল দরকার আমাদের। একটি প্রকাশনা সংস্থায় কর্মরত সাগর ইসলাম বলেন, মিজান ভাইয়ের চাওয়া খুব কম। তিনি শুধু অধিকারগুলো ঠিকঠাক বুঝে নিতে চান। এখানেই যত আপত্তি। এসব করতে গিয়ে নিজের জন্য কিছু করতে পারেননি। বাবা আব্দুস সামাদের নামে থাকা বাড়ির ভাড়া থেকে সংসার চালান। স্ত্রী শামীমা হাশেম খুকি গৃহিনী।
ঘর-সংসার সামলিয়ে স্বামীর সঙ্গেও মানুষের কাতারে দাঁড়ান। সাগর ইসলাম আরো জানান, গাড়িচালক থেকে শুরু করে নানা ধরনের কাজ করেছেন মিজান ভাই। কিন্তু তার নীতির গোঁড়ামির কারণে কোথাও স্থায়ী হতে পারেননি। ২০১০ সালের দিকে মোবাইল রিচার্জের ব্যবসাও শুরু করেন। সেসময় রিচার্জ করার জন্য প্রতি অঙ্কের বিনিময়ে অতিরিক্ত এক টাকা করে নিতেন ব্যবসায়ীরা। কিন্তু মিজান ভাই কখনো তা নেননি। উল্টো অন্য ব্যবসায়ীদের রোষানলে পড়েন। মুঠোফোন কোম্পানির এক ডিলার তার দেড় লাখ টাকা নিয়ে উধাও হয়ে গেলে সে ব্যবসায়ও ইতি টানেন মিজানুর রহমান। মিজানুর রহমানের জন্ম বেড়ে ওঠা রাজধানীর পূর্ব জুরাইনে। সাত ভাই- বোনের মধ্যে তিনি পঞ্চম। উচ্চ মাধ্যমিকের পর ইচ্ছা ছিল চারুকলায় পড়বেন। কিন্তু আর্থিক অনটনে তা আর সম্ভব হয়নি। বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্রে চলচ্চিত্র নিয়েও কোর্স করেছিলেন।
সেটাও বেশি দূর এগোয়নি। এখন বয়স পঞ্চাশের কাছাকাছি। চুল-দাঁড়িতে পাক ধরেছে। এই বয়সেও তরুণদের নিয়ে বইমেলা, রক্তদান কর্মসূচি, জলাবদ্ধতা নিরসনসহ নানা সচেতনতামূলক কাজ করে যাচ্ছেন। সক্রিয়ভাবে অংশ নিচ্ছেন পরিবেশ রক্ষার নানা আন্দোলন-সংগ্রামে। এর মধ্যে ৫০ বারের বেশি সময় রক্ত দিয়েছেন। অন্যদেরও উৎসাহিত করছেন রক্তদানে। রক্ত দিতে গিয়ে কখনো কখনো নিজের গাঁটের পয়সা খরচ করে রোগির ভাড়াটাও দিয়ে এসেছেন। এসবেই আনন্দ খুঁজে পান মিজানুর রহমান। জুরাইনবাসীর প্রিয় ‘মিজান ভাই’ হয়ে থাকতে চান আজীবন। আর সবার জন্য রেখে যেতে চান এক মানবিক পৃথিবী। সুন্দর পৃথিবী।

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ঝাঁকে ঝাঁকে ফিরে এল দেড় লাখ বছর আগে বিলুপ্ত হওয়া পাখি!

বিভিন্ন নথি-পত্র বলছে, এই প্রজাতির পাখি আজ থেকে প্রায় ১ লাখ ৩৬ হাজার বছর আগেই বিলুপ্ত হয়ে গিয়েছে পৃথিবী থেকে। অ্যালডব্রা রেল প্রজাতির এই পাখির চেহারা অনেকটা মুরগি আর বক মেশানো।
সাদা লম্বাটে গলা আর গোলাকার ছোট চেহারার এই পাখিটি হাজার হাজার বছরের প্রাচীন জীবাশ্ম নিয়ে একটা সময় বিস্তর গবেষণা চলেছে। ভারত মহাসাগরের অ্যালডব্রা অ্যাটল অঞ্চলে এই পাখির জীবাশ্ম পাওয়া গিয়েছিল। তাই এই প্রজাতির নাম রাখা হয় অ্যালডব্রা রেল।
ভারত মহাসাগরের অ্যালডব্রা অ্যাটল ও তার সংলগ্ন অঞ্চলে ফের দেখা গিয়েছে অ্যালডব্রা অ্যাটল পাখিদের। শুধু তাই নয়, এই অঞ্চলগুলি অ্যালডব্রা অ্যাটল পাখিতে ভরে গিয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, হাজার হাজার বছর পর প্রাকৃতিক নিয়মেই পৃথিবীর বুকে ফিরে এসেছে এই প্রজাতির পাখি। বিবর্তনের এই ধারাকে ‘ইটারেটিভ এভেলিউশন’ বলে ব্যাখ্যা করেছেন মার্কিন বিজ্ঞানীরা।
‘জুলজিক্যাল জার্নাল অব দ্য লিনেন সোসাইটি’ নামের একটি আন্তর্জাতিক পত্রিকায় এ বিষয়ে সবিস্তারে প্রকাশিত হয়েছে। দীর্ঘ গবেষণার পর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ‘ইউনিভার্সিটি অব পোর্টস মাউথ অ্যান্ড ন্যাচরাল হিস্ট্রি মিউজিয়াম’-এর গবেষকদের দাবি, বর্তমানে ভারত মহাসাগরের অ্যালডব্রা অ্যাটল ও তার সংলগ্ন অঞ্চলে যে পাখিদের আধিক্য লক্ষ্য করেছেন সেগুলি আর প্রায় দেড় লক্ষ বছর আগে বিলুপ্ত হয়ে যাওয়া অ্যালডব্রা রেল এক এবং অভিন্ন।
মার্কিন বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ভাবে বিবর্তনের মাধ্যমে একই প্রজাতির অবলুপ্তির পরও ফিরে আসার ঘটনা বিরল হলেও প্রথম নয়। পৃথিবীর বিবর্তনের ইতিহাসে এমন ঘটনা একাধিকবার ঘটেছে। জিনিউজ।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
বাংলাদেশি রাজনৈতিক আশ্রয়প্রার্থীর সংখ্যা বাড়ছেই by মোহাম্মদ ওমর ফারুক

জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআরের হিসাবে, গত পাঁচ বছরে বিভিন্ন দেশে রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদন করেছেন, এক লাখ ৬০ হাজার ৭৩৭ বাংলাদেশি। আগের পাঁচ বছরের তুলনায় এ সংখ্যা দ্বিগুণেরও বেশি। অর্থাৎ, গত ২০১৪ সাল থেকে দিনে গড়ে ৮৮ জন করে আবেদন করছেন। ইউএনএইচসিআর সম্প্রতি এক প্রতিবেদনে বলেছে, গত বছর বাংলাদেশের ২৮ হাজার ৪৮৮ জন নাগরিক বিভিন্ন দেশে রাজনৈতিক আশ্রয়ের সুযোগ চেয়েছেন। এসব ক্ষেত্রে আবেদন যেমন বেড়েছে, তেমনি প্রত্যাখ্যানের হারও বেড়েছে বহুগুণ।
রাজনৈতিক আশ্রয়ের জন্য বাংলাদেশিদের প্রথম পছন্দ ইউরোপ।
গত পাঁচ বছরে সর্বোচ্চ ৩৪ হাজার ১১৭ বাংলাদেশি আবেদন করেন ফ্রান্সে। প্রায় সমান সংখ্যক আবেদন পড়ে ইতালিতে। রাজনৈতিক আশ্রয়ের জন্য বাংলাদেশিদের তৃতীয় পছন্দের দেশ দক্ষিণ আফ্রিকা। যেখানে গত পাঁচ বছরে আবেদন জমা পড়েছে ২৪ হাজারের বেশি। এর বাইরে যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্রেও বাড়ছে বাংলাদেশি রাজনৈতিক আশ্রয়প্রার্থীর সংখ্যা। যদিও আবেদনের বড় একটি অংশ বাতিল হচ্ছে। ২০১৮ সালে ফ্রান্সে রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদন জমা পড়েছে ৭ হাজার ৯৬৩, ইতালিতে ৪ হাজার ১৬২, গ্রিসে ২ হাজার ৪৯৮, দক্ষিণ আফ্রিকায় ২ হাজার ৪৫৪, যুক্তরাজ্যে ২ হাজার ৪৪৯টি, যুক্তরাষ্ট্রে ১ হাজার ৮৯৬টি। এ ছাড়াও জাপান, কানাডাতেও আবেদন জমা পড়েছে।
এদিকে, সবমিলিয়ে বিভিন্ন দেশে বাৎসরিক আবেদন জমা পড়েছে ২০০৯ সালে ১২ হাজার ৫২৩টি, ২০১০ সালে ১২ হাজার ৪৮৬টি, ২০১১ সালে ১৪ হাজার ৯১৯টি, ২০১২ সালে ১৬ হাজার ৩৭১টি, ২০১৩ সালে ২২ হাজার ৪৪১টি, ২০১৪ সালে ২৭ হাজার ১১৬টি, ২০১৫ সালে ২৭ হাজার ১১৬টি, ২০১৬ সালে ২৮ হাজার ৩৯৫টি, ২০১৭ সালে ৩৩ হাজার ৯০৯, ২০১৮ সালে ২৮ হাজার ৪৮৮টি। যা হিসাব করলে গত ১০ বছরে বাংলাদেশ রাজনৈতিক আশ্রয়প্রার্থীর সংখ্যা দাড়ায় ২ লাখ ২৩ হাজার ৭৬৪ জন। গত পাঁচ বছরে ইতালিতে বাংলাদেশিদের মধ্যে রাজনৈতিক আশ্রয় চেয়েছে ৩৩ হাজার ৫৫১ জন, ফ্রান্সে ৩৪ হাজার ১১৭ জন, দক্ষিণ আফ্রিকায় ৩৩ হাজর ৫৫৪ জন, যুক্তরাষ্ট্রে ৭ হাজার ৫৯৬ জন। শুধুমাত্র ২০১৮ সালে ফ্রান্সে আবেদন করেছেন ৭ হাজার ৯৬৩ জন, ইতালিতে ৪ হাজার ১৬২জন, গ্রিসে ২৪ হাজার ৫৪ জন, যুক্তরাজ্যে ২ হাজার ৪৪৯ জন ও যুক্তরাষ্ট্রে ১ হাজার ৮৯৬ জন।
জানা যায়, রাজনৈতিক আশ্রয়প্রার্থীরা আবেদন করার আগে বৈধ ও অবৈধ পন্থায় ওইসব দেশে গিয়ে হাজির হচ্ছেন। দেশগুলোতে যেহেতু নির্বাচিত গণতান্ত্রিক সরকার রয়েছে সেহেতু আদালতে নিষ্পত্তি বা সিদ্ধান্ত হওয়ার আগে কোনো বাংলাদেশিকেই সরাসরি বহিষ্কার করা হচ্ছে না। আবার কোনো কোনো দেশে বিষয়টি নিষ্পত্তি হওয়ার আগ পর্যন্ত আবেদনকারীদের ভাতা দেয়া হয়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ফ্রান্সে বসবাসরত রাজনৈতিক আশ্রয় পাওয়া একজন বাংলাদেশি। বলেন, ২০১২ সালে আমি একটি রাজনৈতিক হত্যা মামলার সাক্ষী ছিলাম। এর পর থেকে প্রতিপক্ষ আমাকে নানাভাবে হুমকি-ধমকি দিয়ে আসছিল। হত্যা করার হুমকি দিয়ে আসছিল। ফলে দেশে থাকা আমার জন্য খুব কষ্টকর ছিল। তাই আমি এখানে এসে রাজনৈতিক আশ্রয় চেয়েছিলাম। পরে পরিবারের সবাইকে নিয়ে এসেছি। যদিও এখনো আমার আবেদন গৃহীত হয়নি। জার্মানিতে রাজনৈতিক আবেদন করেছেন এমন একজন বলেন, দেশে থাকার মতো অবস্থা নেই। মামলা-হামলা চলছে। এই অবস্থায় দেশ ত্যাগ করা ছাড়া আমার সামনে বিকল্প ছিল না।
রিফিউজি অ্যান্ড মাইগ্রেটরি মুভমেন্টস রিসার্চ ইউনিট (রামরুর) প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারপারসন ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. তাসনিম সিদ্দিকী মানবজমিনকে বলেন, সারা বিশ্বে অভিবাসন প্রক্রিয়ার কোটাগুলো বন্ধ করে দিয়েছে ফলে রাজনৈতিক আশ্রয়প্রার্থীর সংখ্যাটা বাড়ছে। তাছাড়া দেশেও তো রাজনৈতিকভাবে ভুক্তভোগী আছে, তা তো মিথ্যে নয়। আরেকটি বিষয়, দেশে শিক্ষিত তরুণদের তুলনায় চাকরি নেই, সকল জায়গায় দুর্নীতির একটা মহাআখড়া। এসব কারণেও রাজনৈতিক আশ্রয়প্রার্থীর সংখ্যা বাড়ছে। ইউএনএইচসিআর যে প্রতিবেদনটি প্রকাশ করেছে এ নিয়ে আমার কোনো সন্দেহ নেই। এখন সরকারকে ভাবতে হবে, এ সংখ্যাটা কমানো যায় কিভাবে। সেক্ষেত্রে সরকারের ভূমিকা অবশ্যই প্রয়োজন।
এ প্রসঙ্গে, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন মানবজমিনকে বলেন, রাজনৈতিক আশ্রয় চাওয়ার ফলে দেশের বাইরে আমাদের ভাবমূর্তি নষ্ট হচ্ছে। তিনি বলেন, প্রথমতঃ তথ্য সত্য কিনা আমার যথেষ্ট সন্দেহ হয়। তথ্যগুলোকে যাচাইবাছাই করা প্রয়োজন। আরেকটি বিষয় মানুষ যখন দেশের বাইরে যায় তারা তখন দেখেন রাজনৈতিক আশ্রয় চাইলে সহজে থাকতে পারে সেই জন্য আসলে এই সুযোগটা গ্রহণ করেন। আমাদের দেশের বহু লোক বিদেশে থাকতে চায়। বিদেশটাকে মনে করে খুব ভালো, স্বর্গসুখ। যদিও বিদেশ গিয়ে অনেকে বড় কষ্টও করে। বিশেষ করে আমাদের বাঙালিরা এমনটা করে। ফলে দেশের বাইরে আমাদের ভাবমূর্তি খুব নষ্ট হচ্ছে।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ইরাকে পুরুষরাই কি যৌন হয়রানির প্রধান লক্ষ্য?
![]() |
| বাগদাদে আসার পর সামির জীবনে পরিবর্তন আসে |
সামির বয়স যখন ১৩ বছর
সামির বয়স যখন ১৫
সামির বয়স যখন ১৬
"আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো পাশে নেই।"
পুলিশকে কিছু জানাননি সামি
সামির বয়স এখন ২১
বিবিসির জরিপ
![]() |
| যৌন নিপীড়নের শিকার হলেও বিষয়টি সামনে আনতে চাননা ইরাকি পুরুষরা। |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
সময়ের স্লোগান ও বাংলাদেশ by শফিক রহমান

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
মিসরে লুকানো সমাধিতে ৩৪টি মমি আবিষ্কার

মমির পাশাপাশি বেশকিছু নিদর্শন পেয়েছেন প্রত্নতাত্ত্বিকরা। এর মধ্যে রয়েছে পটারি, হাতে আঁকা মুখোশ ও কাঠের মূর্তি। মৃতদেহ সংরক্ষণে ব্যবহৃত দাহ্য খনিজ পদার্থের কারুকাজ করা পাত্র আর সমাধিতে লাশ বয়ে নিয়ে যাওয়া স্ট্রেচারও পাওয়া গেছে। দুটি মূর্তিতে দেখা যাচ্ছে মিসরীয় পক্ষী ঈশ্বর ‘বা’। কিছু পাত্রে আছে খাবার। হায়ারোগ্লিফিক তথ্যে আভাস মিলেছে, এই সমাধির মালিক ছিলেন ব্যবসায়ী নেতা টিজেটি।
আসওয়ানে খনন কাজ পরিচালনার জন্য ইউনিভার্সিটি অব মিলানের মিসরীয় পুরাতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক পাত্রিসিয়া পিয়াসেনতিনিকে আমন্ত্রণ জানান মিসরের পুরাতত্ত্ব মন্ত্রী খালেদ আল-ইনানি। এ কার্যক্রমে পাত্রিসিয়ার সঙ্গে ছিলেন আসওয়ান ও নুবিয়া পুরাতত্ত্ব কাউন্সিলের মহাপরিচালক আব্দুল মুনায়েম সাঈদ।
সমাধিটি বালির নিচে লুকানো ছিল। এটি খুঁজে পান প্রকৌশলী গ্যাব্রিয়েল বিতেলি। এরপর আবিষ্কৃত উপকরণগুলোর ত্রিমাত্রিক গঠন তৈরি করেন তিনি। একটি দেয়াল দিয়ে সিল মেরে রাখা দুটি পৃথক কক্ষে মমিগুলো ছিল। প্রথম কক্ষে ৩০টি ও এর পাশের কক্ষে বাকি চারটি মমি পান প্রত্নতাত্ত্বিকরা। দুটি মমি মোড়ানো ছিল একসঙ্গে। ধারণা করা হয়, এগুলো মা ও তার সন্তানের। তবে সংখ্যাটা আরও বাড়তে পারে।
মমির সুনির্দিষ্ট সংখ্যা নির্ধারণে আরও গবেষণা প্রয়োজন বলে মার্কিন সংবাদ সংস্থা সিএনএনকে জানিয়েছেন পাত্রিসিয়া। তিনি বলেন, ‘সেই সময়ে মানুষ কী খেতো ও কোন বয়সে আর কীভাবে তারা মারা গেছেন এই সমাধির মাধ্যমে সেসব বোঝা যায়। আমাদের জন্য আরও চমক অপেক্ষা করছে।’
আসওয়ানে সব মিলিয়ে ৩০০ সমাধি খুঁজে বের করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে খনন কাজ এগিয়ে নিচ্ছেন মিসর ও ইতালির প্রত্নতাত্ত্বিকরা। এর অংশ হিসেবে নতুন সমাধিটি পাওয়া গেলো। পরের কার্যক্রম পরিচালিত হবে এ বছরের নভেম্বরে।
এ মাসের শুরুতে মিসরের সোহাগ শহর থেকে চার মাইল দূরে আখমিম এলাকায় এক দম্পতির সমাধির পাশে বিভিন্ন পশু-পাখির মমি আবিষ্কৃত হয়। এর মধ্যে আছে ইঁদুর, বিড়াল, ঈগল, বাজপাখি, বুনো ছাগসহ অর্ধশত প্রাণী। গত মাসে প্রত্নতত্ত্ববিদদের অন্য একটি দল মিসরে নীল নদের কাছে প্রাচীন একটি বন্দর আবিষ্কার করে। মন্দির ও স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণে গেবেল আল-সিলসিলার খনি থেকে পাওয়া পাথর নীল নদ দিয়ে পরিবহনের জন্য ব্যবহৃত প্রধান বন্দর ছিল এটি। গত বছর পিরামিড চত্বর গিজার কাছে উন্মুক্ত করা হয় চার হাজার বছরের পুরনো একটি সমাধি।

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
eCoxs Special
BNM Archive
- ► 2026 (1426)
- ► 2025 (3281)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (128)
- ► 2020 (416)
-
▼
2019
(6282)
-
▼
October
(602)
-
▼
Oct 15
(26)
- কিশোরী জায়রার উদাহরণ
- তেলের মজুতে ভাগ্য ফিরবে উগান্ডার জনগণের?
- আবরারের ছবিতে ভিজেছে হাজারো চোখ by মরিয়ম চম্পা
- যে কারণে হুয়াওয়েকে নিয়ে উদ্বিগ্ন পশ্চিমা বিশ্ব
- অর্থনীতিতে বাঙালিসহ নোবেল পেলেন ৩ জন
- অলৌকিক!
- বাংলাদেশে নিরাপত্তা হেফাজতে যত ধরণের নির্যাতন by শ...
- ‘আলহাজ্ব মো. মখলিছুর রহমান ডিগ্রী কলেজ’ প্রত্যন্ত ...
- কেন কিছু মানুষ স্বপ্ন ভুলে যায়?
- বাংলাদেশে মতপ্রকাশের স্বাধীনতার অপরাধকরণ নিয়ে উদ্বেগ
- একজন মিজানুর রহমান by জিয়া চৌধুরী
- ঝাঁকে ঝাঁকে ফিরে এল দেড় লাখ বছর আগে বিলুপ্ত হওয়া ...
- বাংলাদেশি রাজনৈতিক আশ্রয়প্রার্থীর সংখ্যা বাড়ছেই by...
- ইরাকে পুরুষরাই কি যৌন হয়রানির প্রধান লক্ষ্য?
- সময়ের স্লোগান ও বাংলাদেশ by শফিক রহমান
- মিসরে লুকানো সমাধিতে ৩৪টি মমি আবিষ্কার
- ঝরনা-পাহাড়-নদীতে একদিন by মতিউর রহমান
- ‘ভারতে বৈষম্য কখনই এত প্রকট ছিল না’: অনুরাধা রায়
- ৪৩৫৫ কোটি রুপির দুর্নীতি!
- নরেন্দ্র মোদিরা কি পারবেন কাশ্মীর হজম করতে? by আবদ...
- এ যেন কোনো প্লাস্টিক গ্রহ!
- রাশিয়ার তিন বোন: বাবাকে হত্যা করেও যারা রাশিয়ানদ...
- বিশ্ববাজারে আমাদের দেশের শুঁটকির কদর by আবুল কাসেম...
- অপরূপা খাগড়াছড়িতে হাজারো পর্যটক by জসিম মজুমদার
- সিরিয়া সরকার ও কুর্দিরা এক হয়ে যুদ্ধ করবে তুরস্কের...
- বৃটেনে ফেঁসে গেলেন নাসরিন
-
▼
Oct 15
(26)
-
▼
October
(602)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
- ► 2015 (11541)
- ► 2014 (9799)
- ► 2013 (14877)
- ► 2012 (33842)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...






