Wednesday, September 26, 2018

ডেটিং-এ গিয়ে ধর্ষণের শিকার

বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক কোণায় এই পাহাড়সম যন্ত্রণাকে আটকে রাখার পর সে প্রসঙ্গে মুখ খুললেন আমেরিকান মডেল পদ্মলক্ষ্মী। সালমন রুশদির প্রাক্তন স্ত্রী পদ্মলক্ষ্মী জানান, মাত্র ৭ বছর বয়সেই যৌন হেনস্থার শিকার হতে হয় তাঁকে। সেটাও আবার সৎ বাবার কাছ থেকে। মায়ের অবর্তমানে সৎ বাবা তাঁর শরীরের যে কোনো জায়গায় স্পর্শ করতেন নোংরাভাবে। একদিন মাকে সেই কথা জানাতেই, তাঁকে ভারতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। প্রায় এক বছর ভারতে তিনি তাঁর দাদু, ঠাকুমার সঙ্গে থাকতেন এই কারণে। মায়ের এমন ব্যবহারে মন খারাপ হলেও, পরবর্তীতে বুঝতে পেরেছিলেন এইসব বিষয়ে মুখ খুলে কিংবা প্রতিবাদ করে কিছুই হবে না। ঘটনার সত্যতা কেউ কখনও খতিয়ে দেখেন না।
শৈশবের এমন ঘৃণিত ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটে যখন তারা লস এঞ্জেলসের শহরতলী থাকতেন। সেসময় ২৩ বছর বয়সী এক যুবকের সঙ্গে সম্পর্কে জড়ান তিনি। ফলে ওই যুবকের সঙ্গে ডেটিং যাওয়াও শুরু করেন। তবে ডেটিং শুরু করার কয়েকদিনের মধ্যেই কোনও এক নববর্ষের বিকেলে তাকে ধর্ষণ করেন ওই যুবক। বছরের শুরুর দিনেই ভালবাসার মানুষের হাতে ধর্ষিত হতে হয় বলে অভিযোগ করেন এই জনপ্রিয় মডেল।
‘ভার্জিন’ অবস্থায় তাঁকে যেভাবে যৌন হেনস্থার স্বীকার এবং ধর্ষিত হতে হয়, সে কথা মনে করলে এখনও শিউরে ওঠেন পদ্মালক্ষ্মী। তবে ভবিষ্যত প্রজন্মকে যাতে এইসব ভয়াবহ অভিজ্ঞতার মুখোমুখি না হতে হয়, সেই প্রার্থনাই করেন এই জনপ্রিয় টিভি ব্যক্তিত্ব।

মার্কিন নিষেধাজ্ঞা এড়াতে ইরান ও ইইউ’র নয়া ‘ব্যবস্থা’

মার্কিন নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে ইরানের সঙ্গে স্বাভাবিক বাণিজ্য অব্যাহত রাখার জন্য অভিনব এক ‘ব্যবস্থা’ চালু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। নতুন এ ব্যবস্থার মাধ্যমে ইরানের ওপর আরোপ করা যুক্তরাষ্ট্রের একতরফা নিষেধাজ্ঞা কৌশলে এড়িয়ে যাওয়া সম্ভব বলে দাবি ইইউ’র। সোমবার নিউ ইয়র্কে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন ইইউ’র বৈদেশিক নীতি বিষয়ক প্রধান ফেডেরিকা মোঘোরিনি।
আল জাজিরার খবরে বলা হয়েছে, জাতিসংঘ সাধারণ অধিবেশনের সাইডলাইনে সোমবার বৃটেন, ফ্রান্স, জার্মানি, রাশিয়া, চীন ও ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সঙ্গে বৈঠকে বসেন ইইউ’র বৈদেশিক নীতি বিষয়ক প্রধান। রুদ্ধদ্বার এ বৈঠকে ইরান চুক্তির অংশীদার দেশগুলো যুক্তরাষ্ট্রকে পাশ কাটিয়ে কিভাবে ইরানের সঙ্গে বৈধ বাণিজ্যিক সম্পর্ক টিকিয়ে রাখা যায় সে বিষয়ে আলোচনা করেন। দীর্ঘ আলোচনা শেষে তারা একটি সমঝোতায় পৌঁছান। পরে ফেডেরিকা মোঘেরিনি সাংবাদিকদের বলেন, ইরানের সঙ্গে তেল ও অন্য বাণিজ্যিক চুক্তিগুলো অব্যাহত রাখার জন্য ইইউ অর্থ পরিশোধের নতুন মাধ্যম (পেমেন্ট চ্যানেল) ব্যবহার করবে। তিনি বলেন, ‘এর মানে হলো, ইইউ’র সদস্য দেশগুলো এমন একটি ব্যবস্থা চালু করবে যার মাধ্যমে ইরানের সঙ্গে বৈধভাবে আর্থিক লেনদেন করা সম্ভব হবে। ফলে ইউরোপীয় কোম্পানিগুলো ইরানের সঙ্গে বাণিজ্য চালিয়ে যেতে পারবে। পাশাপাশি বিশ্বের অন্য দেশগুলোও এ ব্যবস্থার সুযোগ নিতে পারবে।’
পরে ইইউ, চীন ও রাশিয়া একটি যৌথ বিবৃতি প্রকাশ করে। এতে যুক্তরাষ্ট্রকে বাইরে রেখে অন্য অংশীদার দেশগুলো ইরান চুক্তির প্রতি তাদের দায়বদ্ধতা পুনর্ব্যক্ত করে। তারা পারস্পরিক আস্থার ভিত্তিতে কার্যকরভাবে ইরান পারমাণবিক চুক্তি পূর্ণ বাস্তবায়নের অঙ্গীকার করেন। বৈঠকে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা এড়ানোর জন্য অংশীদার দেশগুলোর মধ্যে ‘বিশেষ মাধ্যম’ (স্পেশ্যাল পারপাস ভেহিকল) চালু করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। এ বিষয়ে ফেডেরিকা মোঘেরিনি বলেন, নতুন ব্যবস্থা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করার জন্য সব পক্ষের বিশেষজ্ঞরা দ্রুতই বৈঠকে বসবেন।
বিশ্লেষকরা বলছেন, নতুন এ পদ্ধতি অনেকটা মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করবে। আল জাজিরার নিউ ইয়র্ক প্রতিনিধি বলেন, ইতালিয়ান কোনো কোম্পানি যদি ইরানের থেকে তেল কিনতে চায়, নতুন প্রবর্তিত ব্যবস্থা উভয়পক্ষের মধ্যে লেনদেন করার জন্য মধ্যস্থতাকারীর কাজ করবে। আর অর্থ হস্তান্তরের ক্ষেত্রে কোনো বাণিজ্যিক বা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সংশ্লিষ্টতা থাকবে না। ফলে ইরানের সঙ্গে লেনদেন করার দায়ে কোনো ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কবলে পড়তে হবে না। অস্ট্রেলিয়ার আন্তর্জাতিক নীতি বিষয়ক গবেষক রজার শেনাহান বলেন, ইউরোপিয়ানরা ইরান চুক্তি বহাল রাখতে চায়।  সোমবারের সিদ্ধান্তে তাদের সে মানসিকতারই প্রতিফলন ঘটে। তারা চুক্তি রক্ষার শেষ সুযোগ হিসেবে এ পদক্ষেপ নিয়েছে বলে মনে করেন তিনি।
প্রসঙ্গত, ২০১৫ সালে ইরানের সঙ্গে ছয় বিশ্বশক্তির একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। ওবামা প্রশাসনের উদ্যোগে স্বাক্ষরিত এ চুক্তি ইরান চুক্তি নামে পরিচিত পায়। এতে পারমাণবিক কর্মসূচি সীমিত করার শর্তে ইরানের ওপর থেকে সব ধরনের নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়া হয়। কিন্তু এ বছরের ৮ই মে প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প একতরফাভাবে যুক্তরাষ্ট্রকে ওই চুক্তি থেকে সরিয়ে নেন। তার দাবি, চুক্তির শর্ত যথাযথভাবে মেনে চলছে না ইরান। এই অভিযোগে তিনি নতুন করে ইরানের ওপর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেন। চুক্তির প্রভাবশালী অংশীদার যুক্তরাষ্ট্র বেরিয়ে যাওয়ার ফলে ইরান চুক্তি হুমকির মুখে পড়ে। তবে, রাশিয়া ও চীনসহ ইউরোপীয় অংশীদাররা যুক্তরাষ্ট্রকে ছাড়াই চুক্তি এগিয়ে নেয়ার সিদ্ধান্ত নেন। কিন্তু ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করায় দেশটির সঙ্গে ইউরোপীয় দেশগুলোর বাণিজ্য বেশ কঠিন হয়ে পড়ে। ইরানের সঙ্গে ইউরোপীয় কোম্পানিগুলোর স্বাক্ষরিত বিলিয়ন ডলারের একাধিক চুক্তির ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কা দেখা দেয়। এমন পরিস্থিতিতে ইরান ইইউ’কে জানিয়ে দেয় যে, আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা ব্যতীত পারমাণবিক চুক্তি এগিয়ে নেয়া সম্ভব না। এ নিয়ে কয়েক মাস ধরেই ইইউ ও ইরানের মধ্যে দর কষাকষি চলছে। দফায় দফায় আলোচনা শেষে সোমবার অবশেষে চুক্তির অংশীদাররা একটি সমঝোতায় পৌঁছতে সক্ষম হলেন।

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন সমালোচকদের কণ্ঠরোধ করবে -হিউম্যান রাইটস ওয়াচের বিবৃতি

বাংলাদেশে নতুন ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন কণ্ঠরোধ করবে সমালোচকদের। এমন মন্তব্য করে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার বিষয়ক সংগঠন হিউম্যান রাইটস ওয়াচ একটি বিবৃতি দিয়েছে। তাতে বলা হয়েছে, দেশের সাংবাদিকদের জোরালো বিরোধিতা সত্ত্বেও গত সপ্তাহে বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ পাস করেছে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন। দেশে মুক্ত মত প্রকাশের ওপর এটি একটি বড় আঘাত। ব্যাপক সমালোচিত তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনের (আইসিটি) পরিবর্তে সেখানে বসানো হয়েছে এই আইন। এতে রয়েছে আগের ওই আইনের সবচেয়ে সমস্যাযুক্ত বেশির ভাগ বিধান এবং এতে রয়েছে শান্তিপূর্ণ মত প্রকাশকে ক্রিমিনালাইজ করার অধিক পরিমাণে বিধান। হিউম্যান রাইটস ওয়াচের এশিয়া বিষয়ক পরিচালক ব্রাড এডামস বলেছেন, নতুন ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন হলো নির্যাতনের একটি অস্ত্র এবং বাংলাদেশ মুক্ত মত প্রকাশের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক যেসব আইন মানতে বাধ্য তার সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। এতে কমপক্ষে ৫টি বিধান আছে, যা দিয়ে কথা বলা বা মত প্রকাশকে ক্রিমিনালাইজ করা হয়েছে। এর মাধ্যমে এই আইনটি সমালোচকদের কণ্ঠকে দমন করার জন্য ব্যাপক অর্থে একটি লাইসেন্স।
এই আইনের বেশ কিছু ধারায় মুক্ত মত প্রকাশের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক মানদণ্ডকে লঙ্ঘন করা হয়েছে। এই আইনের ২১ নম্বর সেকশনে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের বিরুদ্ধে অথবা স্বাধীনতা যুদ্ধ ও জাতির জনকের মর্যাদার বিরুদ্ধে কোনো প্রপাগান্ডা বা প্রচারণা ছড়িয়ে দিলে ১৪ বছর পর্যন্ত জেলের বিধান রাখা হয়েছে। জাতিসংঘের একটি নিরপেক্ষ বিশেষজ্ঞ পরিষদ হলো ইউনাইটেড নেশনস হিউম্যান রাইটস কমিটি। এরা ইন্টারন্যাশনাল কোভ্যানেন্ট অন সিভিল অ্যান্ড পলিটিক্যাল রাইটস (আইসিসিপিআর)-এর বিভিন্ন চুক্তি মেনে চলা হচ্ছে কিনা তা নজরদারি করে। এর একটি অংশ বাংলাদেশও। ইউনাইটেড নেশনস হিউম্যান রাইটস কমিটি স্পষ্টভাবে আইনে উল্লেখ করেছে যে, একটি দেশ মত প্রকাশের স্বাধীনতা ও ভাব প্রকাশের স্বাধীনতাকে সম্মান করতে বাধ্য। তাই ঐতিহাসিক কোনো ঘটনা নিয়ে মতামত প্রকাশকে শাস্তিযোগ্য করা অসঙ্গত।
২৫(ক) সেকশনে ‘আগ্রাসী ও ভীতিকর’ (অ্যাগ্রেসিভ অর ফ্রাইটেনিং) তথ্য প্রকাশ করার অপরাধে তিন বছর পর্যন্ত জেলের বিধান রাখা হয়েছে। এই শব্দ দুটি সম্পর্কে আইনে বিস্তারিত বর্ণনা করা হয় নি। মত প্রকাশকে সীমাবদ্ধতার যে আইন, সেখানে এটা পরিষ্কার করে বলা উচিত- কোন জাতীয় মত আইন লঙ্ঘন করবে। আইনের এই অস্পষ্ট টার্মের ব্যবহার প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি লঙ্ঘন করেছে। এই অস্পষ্টতার সঙ্গে কড়া বড় ধরনের শাস্তির বিধান একসঙ্গে সেলফ সেন্সরশিপ আরোপ বৃদ্ধি করবে।
সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করে অথবা অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করে অথবা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে অথবা বিঘ্ন সৃষ্টি করে অথবা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির বিঘ্ন ঘটায় এমন তথ্য পোস্ট করার কারণে ১০ বছর পর্যন্ত জেলের বিধান রয়েছে ৩১ নম্বর সেকশনে। তবে সুস্পষ্টভাবে এতে বলা নেই যে, কোন জাতীয় বক্তব্য বা মত আইন লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচিত হবে। ফলে এই ধারা ব্যবহার করে সরকার যে মত বা বক্তব্যকে পছন্দ করবে না, তাদের বিরুদ্ধে বিচারের সুযোগ পাবে। উপরন্তু সরকারের যেকোনো সমালোচনা অসন্তোষের জন্ম দিতে পারে এবং জনগণের প্রতিবাদের সম্ভাব্যতা থাকে। আইনশৃঙ্খলার ব্যাঘাত ঘটায় শুধু এমন যুক্তির ভিত্তিতে কোনো সমালোচনাকারীকে শাস্তি দেয়া সরকারের উচিত হবে না।
যেসব বক্তব্য বা বিবৃতি বিভিন্ন শ্রেণি ও সম্প্রদায়ের মধ্যে বিদ্বেষ, ঘৃণা অথবা ক্ষোভ সৃষ্টি করে তা রাখা হয়েছে ৩১ নম্বর সেকশনে। যখন আন্তঃসম্প্রদায়ের মধ্যে উত্তেজনা প্রতিরোধ করা গুরুত্বপূর্ণ, তখন তা করতে হয় সে উপায়ে যেখানে মত প্রকাশকে যতটা সম্ভব কম বিধিনিষেধের মধ্যে ফেলা হয়। জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক বিশেষজ্ঞরা বলেছেন যে, যেখানে মত প্রকাশের স্বাধীনতা ও স্বাধীনভাবে সভা সমাবেশের মতো মানবাধিকার ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে সেখানে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির নামে জনগণের মধ্যে বিতর্ককে বিধিনিষেধ দিয়ে সীমাবদ্ধ করা যেতে পারে না। তাই এই আইনে ‘হেট স্পিস’ বা ঘৃণাপ্রসূত বক্তব্যের যে বর্ণনা দেয়া হয়েছে তাতে খেয়ালখুশিমতো এবং আইনকে নিষ্পেষণমূলকভাবে প্রয়োগের পথ উন্মুক্ত হয়ে গেছে। আর তাতে জাতি এবং ধর্মীয় ইস্যুতে আলোচনায় এক অগ্রহণযোগ্য শীতলতা সৃষ্টি করেছে।
আইসিটি আইনের নিষ্পেষণমূলক ধারা ৫৭-এর মতোই এই আইনের ২৯ নম্বর সেকশন। এখানে অনলাইনে মানহানিকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয়েছে। আইসিটি ধারার মতো নয়, ২৯ নম্বর সেকশনে ওই সব ব্যক্তির ক্ষেত্রে মানহানির অভিযোগ সীমাবদ্ধ করা হয়েছে যারা দণ্ডবিধির ক্রিমিনাল মানহানির পর্যায়ে পড়েন। মানহানিকে একটি সিভিল বিষয় হিসেবে দেখা উচিত। একে জেল দিয়ে শাস্তিযোগ্য ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে দেখা উচিত নয়।
ধর্মীয় মূল্যবোধ বা অনুভূতিকে ক্ষতিগ্রস্ত করে এমন বক্তব্যের জন্য ৫ বছর পর্যন্ত শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে ২৮ নম্বর সেকশনে। এখানেই আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ করতে ব্যর্থ হয়েছে। মত প্রকাশের ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ, যে মত অন্যের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করে এবং এজন্য ফৌজদারি শাস্তির বিধান রাখা হয় তার পক্ষে সাফাই গাওয়া যায় না।
নতুন আইনে আইন প্রয়োগকারী কর্তৃপক্ষকে ব্যাপক ক্ষমতা দেয়া হয়েছে। এর বলে তারা অনলাইনের তথ্য প্রচারকে বন্ধ করতে পারবে অথবা তা প্রত্যাহার করার ক্ষমতা রাখে। তারা ওয়ারেন্টবিহীন তল্লাশি করতে পারবে এবং জিনিসপত্র জব্দ করতে পারবে।
বাংলাদেশের সাংবাদিকরা এ আইনের ৩২ নম্বর সেকশনের বিরোধিতা করে আসছেন। এ আইনে সরকার ব্যবহৃত কোনো কম্পিউটার অথবা অন্য কোনো ডিজিটাল ডিভাইসের গোপনীয় তথ্য (ক্লাসিফায়েড ইনফরমেশন) সংগ্রহ করা, হাতবদল করা বা সংরক্ষণ করার জন্য ১৪ বছর পর্যন্ত শাস্তির ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এটা করা হলে কর্মকর্তারা অন্যায়ভাবে এর ব্যবহার করবেন।

ডাস্টবিনের ময়লাও খেয়েছি by মরিয়ম চম্পা

এটা শুধু একদল নারীর স্বপ্ন ভঙ্গের গল্প নয়। বরং তাদের নিয়তি আর জীবন তছনছ হওয়ার গল্প। অসহ্য আর দুঃসহ যন্ত্রণা নিয়ে ফিরছে ওরা। বিমানবন্দরে নেমেই ভেঙে পড়ছে কান্নায়। কেউবা লজ্জায় মুখ ঢাকছে। কেউবা করছে আত্মহত্যার চেষ্টা। বিদেশ ফেরত নারীদের জীবনের অবর্ণনীয় পরিস্থিতি নিয়ে অনুসন্ধান করেছেন মানবজমিনের স্টাফ রিপোর্টার মরিয়ম চম্পা
আরিফা বেগম। বাবা-মায়ের একমাত্র সন্তান। বাউণ্ডুলে বাবা বরাবরই সংসারের প্রতি ছিলেন উদাসীন। তাই মা মেয়েটাকে পাত্রস্থ করে একটু নিশ্চিত হতে চেয়েছিলেন। বছর দশেক আগে বিয়ে হয় আরিফার। তাদের সংসারে ফুটফুটে এক কন্যা। পরিবারের বিপর্যয় কাটাতে আরিফা বিদেশ যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। কিন্তু এক বিপর্যয় কাটাতে গিয়ে তার জীবনে নেমে আসে আরো বড় দুর্যোগ। লেবাননে বাসাবাড়িতে চাকরি দেয়ার কথা বলে তাকে সিরিয়ায় পাচার করে দেয়া হয়।
আরিফা মানবজমিনকে বলেন, ভালো নেই। খুব অসুস্থ আমি। বর্তমানে স্বামী ও মেয়েকে নিয়ে ঢাকায় ভাড়া বাসায় আছি। সিরিয়ায় টানা ৭ মাস নির্যাতনের শিকার হয়ে একটি কিডনি ড্যামেজ হয়ে গেছে। লিভারেও ইনফেকশন দেখা দিয়েছে। ২০১৫ সালে দেশে ফিরে দীর্ঘদিন হাসপাতালে ভর্তি ছিলাম। এমন কোনো অত্যাচার নেই যে, তারা করেনি। একটি অফিসে আমাকে আটকে রাখা হয়েছিল। ওদের কথা না শুনলে প্রচণ্ড মারতো। আলাদা রুমে নিয়ে মারধর করতো।
বৈদ্যুতিক শক দিতো। সিগারেটের ছেঁকা দিতো। এক হাতে প্যান্টের বেল্ট অন্যহাতে চাবুক দিয়ে পেটাতো। পায়ের ও মাথার তালুতে মারতো। না খাইয়ে রাখতো। বাথরুমে আটকে রাখতো। ১ পায়ে দাঁড় করিয়ে রাখতো। ক্ষুধার জ্বালায় বাথরুমের পানি খেয়েছি। ডাস্টবিনের ময়লাও খেয়েছি। অফিসে প্রায় ১৬ থেকে ১৭ জন ছেলে মানুষ ছিল। প্রত্যেকটা দিন, প্রত্যেকটা মুহূর্তে ওরা আমাকে শারীরিক নির্যাতন করেছে। তারা একজন করে আসতো।
ওদের শরীর ইয়া মোটা। ইয়া উঁচু। ওরা ধরলেই মনে হতো জীবনটা শেষ। ওদের নির্যাতনের চিহ্ন এখনো শরীরে রয়ে গেছে। আমি গরিব ঘরের মেয়ে। লেখাপড়া খুব একটা করতে পারিনি। দেখতে খুব সুন্দর হইছিলাম তো এজন্য ভাগ্যে আমার এই দশা। আমার স্বামী আজও এটা জানে না। সে জানে আমাকে শুধু মারধর করা হয়েছিল। আমি এখন কোনো কাজ করতে পারি না। বাচ্চাটা নিয়ে খেয়ে না খেয়ে দিন কাটছে। ঠিকমতো ওষুধ কিনতে পারি না। মাসে ৭ থেকে ৮ হাজার টাকার ওষুধ খেতে হয়। একবেলা খেলে আরেক বেলা না খেয়ে থাকতে হয়। মানুষের কাছে হাত পাততে লজ্জা হয়।
মা বেঁচে থাকাকালীন বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়ে সাহায্য চেয়ে দিতেন। বাংলাদেশের ১৬ কোটি মানুষ যদি ১ টাকা করেও সাহায্য করে তাহলে হয়তো আমাকে না খেয়ে মরতে হবে না। তার পরেও বাংলাদেশি বোনদের উদ্দেশে বলবো আপনারা নিজের দেশে ভিক্ষা করে খেলেও ভিনদেশ তথা বিদেশে যাইয়েন না।
ভোলার দৌলতখানের মেয়ে রেনু বেগম (ছদ্মনাম)। দীর্ঘ কয়েক মাস নির্যাতনের শিকার হয়ে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন। রেনু মানবজমিনকে বলেন, ভালো নেই। শরীরটা খুব অসুস্থ। ভাত পানি খেতে পারি না। মাথা ঘুরে পড়ে যাই। ডাক্তার বলেছে, খুব বেশি মারধর করায় আপনার শরীর অনেক ক্লান্ত। আপনাকে বেশ কিছুদিন বিশ্রামে থাকতে হবে। রেনু বলেন, আমার সঙ্গে ওরা যা করেছে ওসব তো বলার মতো নয়। বাড়িঘরে দেওর- ভাসুর আছে।
সব তো আর খুলে বলা যায় না। শর্টকাটে বুইঝা লন। একটা পুরুষ মানুষের সঙ্গে একজন মহিলা কি কখনো পেরে ওঠে। সেটাই এখন বুইঝা লন। কি আর কমু। হেরা আমার ওপর অনেক অত্যাচার করেছে। মালিকের পোলার কথা না শুনলে অনেক মারধর করতো। আর কোনো নারী যেন ওই দেশে না যায়।

সুন্দরী নারী দিয়ে ভয়ঙ্কর প্রতারণার ফাঁদ: বিবস্ত্র করে নির্যাতন, মুক্তিপণ আদায় by শুভ্র দেব

অভিনব কৌশলে প্রতারণা। সুন্দরী নারী দিয়ে তৈরি করা হয় ফাঁদ। সেই ফাঁদে পড়ে সর্বস্ব হারাতে হয় ভুক্তভোগীদের। নারীরা নিজেদের বড় ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচয় দেয়। আবার কখনো ব্যবসায়ী-শিল্পপতির মেয়ে-ভাগ্নি দাবি করে। চলাফেরাও করে দামি গাড়িতে। পোশাকে, চলনে থাকে আভিজাত্যের ছাপ। তাদের টার্গেট বিত্তশালীরা। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সখ্য গড়ে তোলে। মোবাইল ফোন নম্বর  সংগ্রহ করে যৌন উত্তেজক কথা বলে। বশে আনার জন্য নানা কৌশল অবলম্বন করে। লোভ দেখানো হয় একান্ত আপন করে পাবার। আয়োজন করা হয় ঘরোয়া পার্টির। আমন্ত্রণ জানানো হয় টার্গেট করা ব্যক্তিদের। সেখানে ইয়াবা, মদের আসর বসানো হয়। টার্গেট করা ব্যক্তিকে নেশার জালে ফেলে তারা তাদের প্রকৃত পরিচয় দেয়। মূলত তারা প্রতারক চক্র। একজন নয় একাধিক নারী-পুরুষ এসব প্রতারক চক্রে কাজ করে। নেশায় মত্ত থাকা পুরুষদের বিবস্ত্র করে ছবি তুলে।
এমনকি চক্রের নারী সদস্যরাও বিবস্ত্র অবস্থায় ভুক্তভোগীকে জড়িয়ে ধরে। বিছানায় নিয়ে আপত্তিকর অবস্থায় ভিডিও ধারণ করে। অনেক সময় গোপন ক্যামেরায় দৃশ্য ধারণ করা হয়। ধারণ করা এসব ভিডিও ও ছবি দেখিয়ে পরে ভুক্তভোগীর সঙ্গে করা হয় নানা প্রতারণা। এসব দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশ করে দেয়ার হুমকি দিয়ে হাতিয়ে নেয়া হয় বিপুল পরিমাণ অর্থ। সম্প্রতি মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ অভিযান চালিয়ে এরকম একটি প্রতারক চক্রকে গ্রেপ্তার করেছে।
গোয়েন্দা সূত্র জানিয়েছে, বেশ কয়েক মাস ধরে একটি চক্র সমাজের বিত্তশালী লোকদের টার্গেট করে প্রতারণা করছিলো। নারী দিয়ে ফাঁদ তৈরি করে অনেককে করেছে সর্বস্বান্ত। গোপনে ধারণ করা ভিডিও প্রতারক চক্রের কাছে থাকায় মান সম্মানের ভয়ে মুখ খোলে তারা কাউকে কিছু বলতে পারছিলো না। আবার অন্যদিকে দিনের পর দিন প্রতারক চক্রকে টাকা দিতে হয়েছে। একাধিক ব্যক্তির কাছ থেকে এরকম অভিযোগ আসার পর গোয়েন্দারা এ নিয়ে কাজ শুরু করে। কিন্তু কিছুতেই এই প্রতারক চক্রকে আটক করা যাচ্ছিলো না। কারণ তারা একই ঠিকানায় বেশিদিন থাকে না। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের ফাঁকি দিতে একটি বাসায় কিছু মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করে অন্যত্র চলে যায়। তাই তাদের অবস্থান শনাক্ত করা বেশ কঠিন হয়ে পড়ে। এরকম নানা অভিযোগ আসার পর গোয়েন্দা পুলিশের কয়েকটি টিম প্রতারক চক্রকে আটকের জন্য কাজ শুরু করেন।
মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ লালবাগ জোনের পরিদর্শক মো. শফিকুল ইসলাম মানবজমিনকে বলেন, চকবাজার থানার নাজিমউদ্দিন রোড এলাকার দাউদ আহম্মেদ পাভেল নামের এক বাসিন্দা গত ৬ই সেপ্টেম্বর নিখোঁজ হোন। নিখোঁজ হওয়ার পরের দিন পাভেলের মোবাইল ফোন নম্বর থেকে তার স্ত্রীর মোবাইলে ফোন দিয়ে অজ্ঞাতনামা কিছু লোক ৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। এমনকি টাকা না দিলে তাকে মেরে ফেলার হুমকিও দেয় তারা। পরে পাভেলের পরিবারের পক্ষ থেকে ৭ই সেপ্টেম্বর চকবাজার থানায় একটি জিডি করা হয়। জিডি নিয়ে থানা পুলিশের পাশাপাশি গোয়েন্দা পুলিশের লালবাগ জোনও কাজ শুরু করে। কিন্তু পাভেলের সন্ধান আর পাওয়া যায়নি। অন্যদিকে পাভেলের মোবাইল ফোন নম্বর থেকেই টাকার জন্য চাপ দিতে থাকে অপহরণকারীরা। গোয়েন্দা কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম বলেন, চক্রের সদস্যরা খুবই কৌশলী ভূমিকা পালন করে। তাদের ঠিকানা বা মোবাইল নম্বর আমাদের কাছে ছিল না। শুধু পাভেলের মোবাইল নম্বর নিয়ে আমরা কাজ শুরু করি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা যাতে তাদের ঠিকানা শনাক্ত করতে না পারে সেজন্য তারা একাধিক স্থানে মোবাইল নিয়ে ঘুরেছে। এরকম অবস্থায় চক্রের সদস্যরা পাভেলের স্ত্রীকে টাকার জন্য আরো চাপ দিতে থাকে। পাশাপাশি তাকে মেরে ফেলারও হুমকি অব্যাহত রাখে। উপায়ান্তর না পেয়ে তার স্ত্রী আমেনা আক্তার কিছু টাকা দিতে রাজি হোন। প্রতারক চক্র সরাসরি টাকা নিতে রাজি হয়নি। বিকাশের মাধ্যমে কিছু টাকা পাঠানো হয়। সেই টাকা পাঠানোর পরও প্রতারক চক্র আরো টাকা পাঠানোর দাবি করে। পরে আমেনা বেগম চকবাজার থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।
যেভাবে প্রতারক চক্র আটক হয়: গত মাসের ১৯শে আগস্ট হাউজিং প্রতিষ্ঠানের এক প্রমোশন কর্মকর্তা এরকম একটি প্রতারক চক্রের কবলে পড়েন। ওই কর্মকর্তা গোয়েন্দা পুলিশকে জানিয়েছেন, কোম্পানির বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা নিয়ে তিনি মোবাইল ফোন গ্রাহকদের মোবাইলে এসএমএস করতেন। সেখানে তার মোবাইল নম্বর উল্লেখ করা থাকতো। প্রতারক চক্রের নারী সদস্যরা সেখান থেকে তার মোবাইল নম্বর নিয়ে প্রাথমিকভাবে ক্রেতা হিসেবে আলোচনা করে। একপর্যায়ে ওই কর্মকর্তার সঙ্গে নারী প্রতারক সখ্য গড়ে তুলে। কোম্পানির সুযোগ-সুবিধা সংবলিত বিভিন্ন কাগজপত্র দেখার জন্য তাকে বাসায় আমন্ত্রণ জানায়। কোম্পানির স্বার্থেই তিনি ওই নারীর আমন্ত্রণে তার টঙ্গীর বাসায় গিয়ে উপস্থিত হোন। বাসায় গিয়ে ওই কর্মকর্তা প্রথমে শুধু একজন নারীকে দেখতে পান।
তারপর দরজা বন্ধ করার পর ভেতর থেকে বের হয়ে আসে কয়েকজন পুরুষ। একপর্যায়ে তারা তাকে মারধর শুরু করে। বিবস্ত্র করে ছবি তোলে। নিম্নাঙ্গে ইট বেঁধে নির্যাতন করে। এক নারী সদস্য বিবস্ত্র হয়ে তাকে জড়িয়ে ধরে। এরকম অবস্থায় পুরুষ সহযোগীরা ভিডিও ধারণ করে। তার কাছে থাকা সমস্ত টাকা, এটিএম কার্ড ছিনিয়ে নেয় তারা। ধারণ করা ভিডিও ছড়িয়ে দেয়ার হুমকি দিয়ে তার স্বজনদের কাছ থেকে বিকাশে আনে আরো টাকা। একপর্যায়ে তাকে ছেড়ে দেয়া হয় এবং মুখ খুললে রেখে দেয়া ভিডিও ও ছবির হুমকি দেয় তারা। পরে ওই কর্মকর্তা গোয়েন্দা পুলিশের কাছে সবকিছু খুলে বলেন।
গোয়েন্দা পুলিশ উত্তরের গুলশান জোনাল টিমের অতিরিক্ত উপ- কমিশনার গোলাম সাকলায়েন মানবজমিনকে বলেন, শুধু ওই কর্মকর্তা নন এরকম আরো বেশ কয়েকটি অভিযোগ আমাদের কাছে আসে। এরকম প্রতারক চক্রের বিরুদ্ধে টঙ্গীসহ আরো কয়েকটি থানায় মামলা ছিল। প্রতারণার শিকার হওয়া ভুক্তভোগীদের অভিযোগ পাওয়ার পর থেকে আমরা তাদের শনাক্ত করে আটকের চেষ্টা করি। কিন্তু তারা ঘন ঘন ঠিকানা পরিবর্তন করার কারণে আটক করা একটু কঠিন হয়ে পড়ে। তারপরও আমাদের নজরদারি তাদের ওপর অব্যাহত ছিল। গত ১৫ই সেপ্টেম্বর প্রযুক্তি ব্যবহার করে জানতে পারি তাদের অবস্থান দক্ষিণখান থানাধীন ফায়েদাবাদ ছাপড়া মসজিদের পার্শ্ববর্তী ১৫৮/৫৯ নম্বর বাসার ৬ তলার একটি ফ্ল্যাটে। ওইদিন বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে আমরা অভিযান চালাই। ওই বাসায় গিয়ে নক করলে ভেতর থেকে কেউ দরজা খুলছিলো না। আমরা অনেকক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকার পর হঠাৎ একটি শব্দ পাই। তখন নিচে দাঁড়িয়ে থাকা আমাদের সদস্য জানান যে, তারা ছয়তলা থেকে গ্রিল বেয়ে পালিয়ে যাচ্ছে। তখন আমরা নিচে গিয়ে দেখতে পাই দুজন পালিয়ে গেছে।
আর এক নারী উপর থেকে নামতে গিয়ে নিচে পড়ে আহত হন। এসময় উপরে থাকা আরেকজনকে আমরা গ্রেপ্তার করি। আহত ওই নারীকে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করি। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। সাকলায়েন বলেন, যে নারী নিহত হয়েছেন তার নাম রীনা (৩০)। আর যাকে গ্রেপ্তার করেছি তার নাম আরমান (৩৬)। আরমান নিহত নারী রিনাকে তার স্ত্রী হিসেবে দাবি করছেন। এই প্রতারক চক্রের বিরুদ্ধে চক বাজার থানায় মামলা থাকার কারণে তদন্ত গোয়েন্দা পুলিশের লালবাগ জোন করবে বলে জানান তিনি। তাই তাদের কাছে আসামিকে হস্তান্তর করা হয়েছে।
গ্রেপ্তার আরমানের বিরুদ্ধে চাঞ্চল্যকর তথ্য: ডিবির গুলশান জোনাল টিমের অভিযানের পর এই প্রতারক চক্রের বিরুদ্ধে করা মামলা নিয়ে কাজ করছে ডিবির লালবাগ জোনের কর্মকর্তারা। এই টিমের নেতৃত্ব দিচ্ছেন সহকারী কমিশনার আরাফাত লেলিন। আর মামলার তদন্ত করছেন পরিদর্শক মোহাম্মদ মোস্তফা আনোয়ার। তিনি মানবজমিনকে বলেন, আসামি আরমান দাবি করছে সে ওই প্রতারক চক্রের মূল হোতা। কিন্তু আমাদের কাছে আরো অভিযোগ আছে এধরনের কাজে আরো একাধিক চক্র জড়িত রয়েছে। আমরা তাদের আটকের চেষ্টা করছি। তবে আরমান তার জবানবন্দিতে চাঞ্চল্যকর নানা তথ্য দিয়েছে। সে বলেছে, একটি পোশাক কারখানায় সে কাজ করতো। তখন দুর্নীতে ধরা পড়ায় তাকে চাকরিচ্যুত হতে হয়েছে। এরপর থেকে প্রতারণার কাজে সে নিজেকে জড়িয়ে ফেলে। তাদের সহযোগী হিসেবে কাজ করে পলাশ (২৬), রাজিব (৩০), সৌরভ (২২)। আর নারীদের মধ্যে ছিল রীনা, তুলি ও নাসিমা। মূলত এই নারীদের দিয়ে পুরুষদের ফাঁদে ফেলতো তারা। তাদের ফাঁদে বাদ যায়নি রাজনৈতিক ব্যক্তি থেকে শুরু করে ব্যবসায়ী, চাকরিজীবী ও প্রবাসী। কৌশলে সখ্য বাড়িয়ে তাদের তাদের বাসায় এনে প্রতারণা করা হতো। তাদের পরিকল্পিত সবকিছু ঠিকঠাক মতো করে ভয়ভীতি দেখিয়ে ভুক্তভোগীর স্বজনদের কাছে ফোন দিয়ে আদায় করতো বিপুল পরিমাণ টাকা। গোয়েন্দা কর্মকর্তা আনোয়ার বলেন, এখন পর্যন্ত তারা অন্তত শতাধিক মানুষের সঙ্গে এরকম প্রতারণা করেছে। একই দিনে একাধিক ব্যক্তির সঙ্গে এরকম প্রতারণা করেছে বলে অভিযোগ আছে। হাতিয়ে নিয়েছে কোটি কোটি টাকা। পাভেলের কাছ থেকেও নিয়েছে ১ লাখ ১০ হাজার টাকা।
তিনি বলেন- তাদের মোবাইল থেকে একাধিক ভুক্তভোগীর ফাঁদে ফেলার একাধিক ভিডিও, ছবি উদ্ধার করা হয়েছে। এ ছাড়া তাদের স্বীকারোক্তি মতে রিয়াজ, মামুন, মাহবুব ও পলাশ নামের আরো কয়েকটি গ্রুপের সন্ধান পাওয়া গেছে। যারা একই কায়দায় প্রতারণা করে থাকে। এমনকি তাদের এক চক্রের সঙ্গে আরেক চক্রের যোগসূত্র রয়েছে। আমরা তাদের মূলহোতাকে ধরার চেষ্টা করছি।

বাড়ছে হৃদরোগ, আক্রান্ত হচ্ছে যুবকরাও by ফরিদ উদ্দিন আহমেদ

দেশে হৃদরোগে আক্রান্তের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। বয়স্কদের পাশাপাশি যুবকরাও হৃদরোগে আক্রান্ত হচ্ছে। একটা সময় ছিল যখন বয়স্করাই শুধু হৃদরোগে আক্রান্ত হতেন। এখন সময় বদলেছে। পরিবর্তন হয়েছে খাদ্যাভ্যাস ও জীবন চিত্র। তাই বয়স্কদের পাশাপাশি অনেক যুবক হৃদরোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা বলছেন, মানুষের জীবনযাত্রার পরিবর্তন, জাঙ্কফুড খাওয়া, চর্বিযুক্ত খাদ্য গ্রহণ, মাদকদ্রব্য গ্রহণ, এলকোহল পান, তামাক গ্রহণ, ভৌগোলিক অবস্থান ও করনারি সরু থাকার কারণে বাংলাদেশের মানুষের হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেশি। এদিকে রোগটি সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে প্রতি বছরই সারা বিশ্বে ২৯শে সেপ্টেম্বর পালিত হয় বিশ্ব হৃদরোগ দিবস। এবারের প্রতিপাদ্য বিষয় হচ্ছে ‘আমার হার্ট, তোমার হার্ট।’ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্ডিওলজি বিভাগের অধ্যাপক ডা. এসএম মোস্তফা জামান মানবজমিনকে বলেন, বিশ্বে সবচেয়ে বেশি লোক মারা যায় হৃদরোগে আক্রান্ত (৩১ শতাংশ) হয়ে। আগামী ২০৩০ সাল নাগাদ ২৩ মিলিয়ন লোক হৃদরোগে মারা যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এর মধ্যে বেশি মারা যাবে নিম্নআয়ের দেশগুলোতে। ভৌগোলিক অবস্থান, চর্বিযুক্ত খাবার বেশি গ্রহণ, তামাক ব্যবহার ও জীবনযাত্রা পরিবর্তনের কারণে আমাদের দেশের মানুষ এ রোগে বেশি আক্রান্ত হয়। বাতজ্বরের কারণেও অনেকে হৃদরোগে আক্রান্ত হন। এ ছাড়া উচ্চতাজনিত কারণে করনারি সরু থাকে, যা তাড়াতাড়ি বন্ধ হয়ে যায়।
কারো করনারির ৭০ শতাংশ ব্লক হলে বুকে ব্যথা, চাপ অনুভব করা ও দম বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়। তিনি বলেন, কারো যদি ১০০ শতাংশ ব্লক হয়ে যায়, তখনই হার্ট অ্যাটাক হয়। একটা সময় ছিল যখন বয়স্ক (৬০ থেকে ৭০ বছর) লোকদের হার্ট অ্যাটাক হতো। ইদানীংকালে ২৫ থেকে ৩০ বছর বয়সীদেরও হার্ট অ্যাটাক হচ্ছে। অল্প বয়সী ছেলেমেয়েদের কেন এটি হচ্ছে তা নিয়ে গবেষণা করা দরকার। এই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক বলেন, শিশুদের আক্রান্ত হওয়ার পেছনে মূল কারণ জাঙ্কফুড গ্রহণ ও খেলাধুলা না করা। খেলার জায়গার অভাবে শিশুরা ঘরে বসে টিভি দেখছে। এতে তাদের স্থূলতা বাড়ছে। আর স্থূলতা বাড়ায় তারা হৃদরোগে আক্রান্তের ঝুঁকিতে পড়ছে। তাই হৃদরোগ কমাতে হলে চর্বিযুক্ত খাবার পরিহার, তামাক বর্জন, কায়িক পরিশ্রম করা, ডায়াবেটিস ও উচ্চরক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ রাখা দরকার। হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ আরো বলেন, হার্ট অ্যাটাক একটি মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থা, যেখানে জীবন ও মৃত্যু খুব কাছাকাছি চলে আসে। এটি সাধারণত বয়স্কদের রোগ। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে দেখা গেছে, ৬০ থেকে ৭০ বছর বয়সী মানুষের এটি হয়ে থাকে। আমাদের এদেশে ৫০ থেকে ৬০ বছর বয়সীদের হার্ট অ্যাটাক হয়ে থাকে। বিশ্বের অন্যান্য দেশ থেকে আমাদের দেশে ১০ বছর আগেই হার্ট অ্যাটাক হয়। এখন ৪০ থেকে ৫০ বছর বয়সী, এমনকি ২৫ থেকে ৩০ বছর বয়সীরাও হার্ট অ্যাটাকে আক্রান্ত হচ্ছে। যার অন্যতম কারণ হলো- স্বাস্থ্যসম্মত খাবার না খাওয়া, ধূমপান ও তামাক জাতীয় দ্রব্য সেবন, নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম না করা ও অ্যালকোহল পান করা।
এদিকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০১৫ সালে বাংলাদেশে আট লাখ ৮৬ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ৫৯ শতাংশ মানুষ মারা গেছে হার্ট, কিডনি, ডায়াবেটিসসহ বিভিন্ন অসংক্রামক ব্যাধিতে। অর্থাৎ প্রতি বছর অসংক্রামক ব্যাধিতে মৃত্যু হয় পাঁচ লাখ ২২ হাজার ৭৪০ বাংলাদেশির। যার মধ্যে হৃদরোগে মারা যায় ৮৮ হাজার ৮৬৫ জন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ২০১৭ সালের হেলথ বুলেটিনে বলা হয়েছে, রাজধানীর জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল (এনআইসিভিডি) প্রতি বছরই হৃদরোগ আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। প্রতিষ্ঠানটির বহির্বিভাগে ২০১৬ সালে দুই লাখ ২৬ হাজার ১৩৮ রোগী চিকিৎসা নিয়েছেন এবং ৬৪ হাজার ৯০৬ জন ভর্তি হয়েছেন। আর ২০১৫ সালে বহির্বিভাগে দিয়ে দুই লাখ ২২ হাজার ১৮৬ রোগী চিকিৎসা নিয়েছেন এবং ৬৩ হাজার ৩৯০ জন ভর্তি হয়েছেন হাসপাতালটি। এর আগের বছর ২০১৪ সালে দুই লাখ ৫৫৩ জন আউটডোরে এবং ৪৯ হাজার ২৮৩ রোগী ভর্তি হয়েছেন। তার আগের বছর এক লাখ ৭২ হাজার ২৬৯ রোগী আউটডোরে এবং ৪৩ হাজার ৩৪১ জন ভর্তি হয়েছেন। পরিসংখ্যান বলছে, প্রতি বছরই হৃদরোগীর সংখ্যা বাড়ছে। দেশে অন্যান্য সরকারি ও বেসরকারি যেসব হাসপাতাল রয়েছে, সেখানকার হিসাবেও হৃদরোগে আক্রান্ত চিকিৎসা গ্রহণকারী লোকের সংখ্যা বাড়ছে।
এক প্রবন্ধে ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশনের চিকিৎসক সোহেল রেজা চৌধুরী লেখেন, বাংলাদেশে মোট মৃত্যুর ৫২ শতাংশেরও বেশি ঘটছে অসংক্রামক ব্যাধি থেকে। অসংক্রামক ব্যাধিগুলোর মধ্যে আবার শীর্ষে রয়েছে হৃদরোগ। হৃদরোগকে খাদ্যবাহিত রোগ বলা হয়। টিভি ও রেডিওতে ফাস্টফুড জাতীয় খাবারের বিজ্ঞাপন প্রচার নিয়ন্ত্রণ করা এবং স্থানীয়ভাবে ফলমূল ও শাকসবজি উৎপাদনে সহযোগিতা করায় নীতিনির্ধারকদের উদ্যোগ নেয়া দরকার বলে তিনি মন্তব্য করেন। এ ছাড়া তামাক ও তামাকজাত দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন কঠোরভাবে বাস্তবায়ন ও হৃদরোগের চিকিৎসা সহজলভ্য ও সুলভ করার আহ্বান জানান তিনি।

হার্ট অ্যাটাকের লক্ষণ বোঝা যায় একমাস আগেই!

হার্ট অ্যাটাকের ঘটনা এখন অল্প বয়সী নারী পুরুষের মধ্যেও দেখা যাচ্ছে। অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন এর একটি বিশেষ কারণ বলছেন ডাক্তাররা। কথা হলো কয়েক মাস আগেই কি আপনি হার্ট অ্যাটাকের আভাস পেতে পারেন? বেশিরভাগ মানুষ মনে করেন হার্ট অ্যাটাকের লক্ষণ কয়েক ঘন্টা বা মিনিট আগে বোঝা যায়। তবে উন্নত বিশ্বের চিকিৎসকরা বলছেন, কয়েক মাস আগে থেকেই আপনি হার্ট অ্যাটাকের আভাস পেতে পারেন। চীনের কার্ডিওলজিস্ট জি জিয়ানজু জানিয়েছেন একজন রোগী কয়েক মাস এমনকি তার চেয়েও বেশি সময় আগে হার্ট অ্যাটাকের লক্ষণ বুঝতে সমর্থ হতে পারেন। জেনে নিন লক্ষণগুলো কী কী।
  •     বুকে ব্যথা
  •     শরীর ভারি মনে হওয়া বা অস্বস্তিবোধ হওয়া
  •     হৃদস্পন্দন অনিয়মিত হওয়া
  •     ঘাম হওয়া
  •     শ্বাস নিতে কষ্ট হওয়া
  •     চোখে ঝাপসা দেখা
নারীদের ক্ষেত্রে আরো কিছু লক্ষণ দেখা দিতে পারে-
  •     ক্লান্তিবোধ
  •     অস্বস্তিবোধ
  •     অহেতুক খারাপ লাগা
  •     পিঠ ও অ্যাবডোমিনালে ব্যথা
  •     স্ট্যামিনা কমে যাওয়া।
কখন ডাক্তারের কাছে যাবেন
নিয়মিত ডাক্তারের শরনাপন্ন হলে আপনি শারীরিক ও মানসিক দিক থেকে চাঙ্গা থাকবেন। ডাক্তার আপনার সমস্যা বুঝতে পারবেন সহজে। উপরের সমস্যাগুলো যদি দিন দিন বেড়েই চলে, তাহলে ডাক্তারের সঙ্গে শিগগিরই দেখা করা উচিৎ আপনার। সব সময় কাজের মধ্যে থাকা ও স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়ার মাধ্যমে হার্ট অ্যাটাক প্রতিরোধ করা যায়, তেমনটাই বলেন ডাক্তাররা।
মনে রাখবেন
উপরের লক্ষণগুলো যেকোনো সময়ে যে কারোরই দেখা দিতে পারে। তবে এর মানেই হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকিতে আছেন আপনি, তা ঠিক নয়। যেসব নারী-পুরুষের ওজন বেশি, আগে যাদের হৃদরোগের ইতিহাস আছে, উচ্চ রক্তচাপ আছে, কোলেস্টেরলের পরিমাণ যাদের শরীরে বেশি, তাদের ক্ষেত্রে এসব লক্ষণ ঝুঁকির কারণ হয়। তাই আপনার যদি এসব সমস্যার একটিও থেকে থাকে, তাহলে সব সময় ডাক্তারের পরামর্শেই চলা উচিত।
তথ্যসূত্র: ইনস্টিকস ডট কম

সবার জন্য উন্মুক্ত মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার: জয়েন্ট ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠক

অবশেষে সব এজেন্সির জন্য উন্মুক্ত হলো মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার। গতকাল মালয়েশিয়ায় অনুষ্ঠিত জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপের বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এতে করে এখন থেকে লাইসেন্সধারী প্রায় ১২শ’ এজেন্সিই দেশটিতে কর্মী পাঠাতে পারবে। মালয়েশিয়ার পুত্রজায়ায় স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ৯টায় অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষে ১১ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন মালয়েশিয়াস্থ বাংলাদেশ হাইকমিশনের হাইকমিশনার মো. শহিদুল ইসলাম। এ ছাড়া বেলা আড়াইটার দিকে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী নুরুল ইসলাম বিএসসি’র নেতৃত্বে ৫ সদস্যবিশিষ্ট একটি প্রতিনিধিদল মালয়েশিয়ার হিউম্যান রিসোর্স মন্ত্রী মি. কুলাসেগারানের সঙ্গে আরেকটি বৈঠক করেন। বৈঠকে মালয়েশিয়ায় কর্মী প্রেরণসহ নানা বিষয়ে আলোচনা হয়। এদিকে জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপের এই সিদ্ধান্তে সন্তোষ প্রকাশ করেছে বিদেশে কর্মী প্রেরণকারী এজেন্সিদের সংগঠন বায়রা। সংগঠনটির মহাসচিব শামীম আহমেদ চৌধুরী নোমান বলেন, এটি তাদের দীর্ঘদিনের দাবি ছিল। এই সিদ্ধান্তের ফলে দেশটিতে কর্মী প্রেরণ বাড়বে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।
জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপের বৈঠক শেষে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রীর একান্ত সচিব এক প্রেস বিজ্ঞপ্তি জানান, সভায় বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ ও যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। এরমধ্যে জি টু জি প্লাস পদ্ধতিতে বাংলাদেশি বৈধ সকল রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে বাংলাদেশি কর্মীদের মালয়েশিয়ায় প্রেরণের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। অপরদিকে কলিং ভিসায় কর্মী নিয়োগের বিষয়েও ইতিবাচক সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এ প্রক্রিয়ায় অপেক্ষমাণ মালয়েশিয়া গমনেচ্ছু কর্মীদের পথ উন্মুক্ত থাকবে। এ ছাড়াও মালয়েশিয়ায় অবস্থানরত অনিয়মিত কর্মীদের নিয়মিতকরণের বিষয়ে মালয়েশিয়া সরকারের ইতিবাচক মনোভাব রয়েছে বলেও জানানো হয়। বর্তমানে প্রতিনিধিদলটি মালয়েশিয়ায় অবস্থান করছে। জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপের বৈঠকে অন্যান্যের মধ্যে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে আরো উপস্থিত ছিলেন জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর মহাপরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) মো. সেলিম রেজা, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (কর্মসংস্থান) আহমেদ মুনিরুছ সালেহীন, মন্ত্রীর একান্ত সচিব (যুগ্ম সচিব) মো. আবুল হাছানাত হুমায়ুন কবীর, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক মো. দেলোয়ার হোসেন, উপ-সচিব মোহাম্মদ শাহীন, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পরিচালক মো. মোশাররফ হোসেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা সেবা বিভাগের উপ-সচিব সানজিদা শারমিন এবং মালয়েশিয়াস্থ বাংলাদেশ হাইকমিশনের কাউন্সেলর (শ্রম) মো সায়েদুল ইসলাম (অতিরিক্ত সচিব)।
উল্লেখ্য, নানা অভিযোগ তুলে ২০০৯ সালে বাংলাদেশ থেকে কর্মী নেয়া বন্ধ করে দেয় মালয়েশিয়া। দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকার পর ২০১৩ সালে সরকারি পর্যায়ে (জিটুজি) পদ্ধতিতে বাংলাদেশ থেকে জনশক্তি নেয়া শুরু করে মালয়েশিয়া। ২০১৬ সালে সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ের সমন্বয়ে ‘জিটুজি প্লাস’ পদ্ধতিতে বাংলাদেশ থেকে কর্মী নেয়ার সমঝোতা হয়। পাঁচ বছর মেয়াদি এই সমঝোতা চুক্তির আওতায় দশটি জনশক্তি রপ্তানিকারক এজেন্সিকে লোক পাঠাতে অনুমোদন জানানো হয়। কিন্তু শুরু থেকেই এই সিন্ডিকেটের বিরোধিতা করে আসছিল বায়রা।
এদিকে মালয়েশিয়ার নতুন সরকার অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগে এই ১০ এজেন্সির সিন্ডিকেটের মাধ্যমে বাংলাদেশ থেকে কর্মী নিতে অস্বীকৃতি জানায়। দেশটির সংবাদমাধ্যম স্টার অনলাইনে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশ থেকে মালয়েশিয়ায় লোক পাঠাতে মাথাপিছু দুই হাজার রিঙ্গিত খরচ হবে, কিন্তু এজেন্টরা বাংলাদেশি শ্রমিকদের কাছ থেকে ২০ হাজার রিঙ্গিত আদায় করেন। প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, ১০টি এজেন্সি সমন্বয়ে গড়ে ওঠা সিন্ডিকেট অতিরিক্ত অর্থ আদায় করছে। এ সিন্ডিকেট গত দুই বছরে ২০০ কোটি রিঙ্গিত হাতিয়ে নিয়েছে।
এই অবস্থায় গত ১৪ই আগস্ট মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী মাহাথির মোহাম্মদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক বিশেষ কমিটির বৈঠকে কর্মী নিয়োগের বিশেষ পদ্ধতি এসপিপিএ থেকে বাংলাদেশকে বাদ দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এ সিদ্ধান্তের বিষয়ে মালয়েশিয়া ২১শে আগস্ট বাংলাদেশ সরকারকে একটি চিঠি দেয়। চিঠিতে ১লা সেপ্টেম্বরের পর থেকে ১০ এজেন্সির সিন্ডিকেটের মাধ্যমে কর্মী নিয়োগ দেবে না বলে জানিয়ে দেয় মালয়েশিয়া। শুধু তাই নয়, আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন কোনো প্রক্রিয়ায় অভিবাসীকর্মী নিয়োগের পরিকল্পনার কথাও জানায়নি ওই সময়।
এর প্রেক্ষিতে গত ২৮শে আগস্ট আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী নুরুল ইসলাম বিএসসি সাংবাদিকদের বলেন, মালয়েশিয়ার শ্রম বাজার নিয়ে যে অবস্থা তৈরি হয়েছে তার প্রকৃত অবস্থা জানতে বাংলাদেশি দূতাবাসের মাধ্যমে তাদের একটি ‘ভারবাল নোট’ বা চিঠি দেয়া হয়েছে। সিন্ডিকেটের ১০ এজেন্সিকে শোকজ করার কথাও জানান মন্ত্রী।

অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন চায় সরকার: বৃটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক

আগামী সাধারণ নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠুভাবে অনুষ্ঠিত হবে এবং সব রাজনৈতিক দল এতে অংশ নেবে বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্র ও কমনওয়েলথ বিষয়ক মন্ত্রী জেরেমি হান্ট সোমবার সকালে জাতিসংঘ সদর দপ্তরের দ্বিপক্ষীয় বৈঠক কক্ষে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎকালে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন। বৈঠকের পরে পররাষ্ট্র সচিব শহিদুল হক সাংবাদিকদের ব্রিফিং করেন। জেরেমি হান্ট বলেন, বাংলাদেশে অবাধ, সুষ্ঠু এবং অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন প্রত্যাশা করছে যুক্তরাজ্য। জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরাও চাই আগামী নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু হবে এবং সব রাজনৈতিক দল এই নির্বাচনে অংশ নেবে। বৈঠকে রোহিঙ্গা প্রসঙ্গে আলোচনাকালে বৃটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী জোরপূর্বক বাস্তচ্যুত রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া সম্পর্কে জানতে চাইলে শেখ হাসিনা বলেন, এই সমস্যার সমাধানে বাংলাদেশ মিয়ানমারের সঙ্গে একটি চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। মিয়ানমার তাদের নাগরিকদের বাংলাদেশ থেকে ফিরিয়ে নিতে সম্মত হয়েছে। তবে, তারা চুক্তি অনুযায়ী কাজ করছে না।
শেখ হাসিনা বলেন, যদি আমরা উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি করতে পারি এবং তাদের দেশে ফেরার জন্য নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে পারি, তাহলে রোহিঙ্গারা তাদের দেশে ফিরবে। তবে তেমনটি ঘটছে না। এ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী রোহিঙ্গাদের ভাসানচর নামে একটি দ্বীপে স্থানান্তরে সবার সহযোগিতা কামনা করেন। জেরেমি হান্ট অচিরেই বাংলাদেশ সফরে তার আগ্রহের কথা ব্যক্ত করেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রী এএইচ মাহমুদ আলী এবং প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব মো. নজিবুর রহমান এ সময় উপস্থিত ছিলেন। এর আগে প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী মিশন আয়োজিত গ্লোবাল কল টু অ্যাকশন অন ওয়ার্ল্ড ড্রাগ প্রোবলেম বিষয়ক উচ্চ পর্যায়ের এক বৈঠকে অংশ নেন। অন্যান্য বিশ্ব নেতাদের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড জে. ট্রাম্প অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে প্রধানমন্ত্রীর তিন দফা
শরণার্থী বিষয়ক বৈশ্বিক প্রভাব শীর্ষক এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে যোগদান করে রোহিঙ্গা সংকট চিরতরে সমাধানের লক্ষ্যে বৈষম্যমূলক আইনের বিলোপ, নীতিমালা এবং রোহিঙ্গাদের প্রতি নিষ্ঠুরতা বন্ধসহ তিন দফা সুপারিশ উপস্থাপন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিন দফা সুপারিশ উপস্থাপন করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ স্বল্প সময়ের মধ্যে ১১ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থীকে বাসস্থান, খাদ্য ও চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করেছে। তিনি বলেন, রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে জোরপূর্বক তাদের ঘর-বাড়ি থেকে বাস্তুচ্যুত করা হয়েছে। অথচ তারা সেখানে কয়েকশ’ বছর ধরে বসবাস করে আসছে। প্রথম সুপারিশে প্রধানসন্ত্রী বলেন, মিয়ানমারকে অবশ্যই বৈষম্যমূলক আইন ও নীতি বিলোপ এবং রোহিঙ্গাদের প্রতি নিষ্ঠুরতা বন্ধ ও তাদের সে দেশ থেকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত করার প্রকৃত কারণ খুঁজে বের করতে হবে। দ্বিতীয় সুপারিশে তিনি বলেন, মিয়ানমারকে অবশ্যই সব রোহিঙ্গার নাগরিকত্ব প্রদানের সঠিক উপায়, নিরাপত্তা নিশ্চিত ও আস্থার পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে। প্রয়োজনে বেসামরিক নাগরিকদের রক্ষায় মিয়ানমারের ভেতরে ‘সেফ জোন’ তৈরি করতে হবে। তৃতীয় সুপারিশে শেখ হাসিনা বলেন, মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে নৈরাজ্য রোধে অপরাধীদের জবাবদিহি, বিচার, বিশেষ করে জাতিসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিলের ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং মিশনের সুপারিশমালার আলোকে বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করাতে হবে।
জাতিসংঘ মহাসচিব এন্তোনিও গুতেরেজের উপস্থিতিতে জাতিসংঘের সদর দপ্তরে জাতিসংঘের উদ্বাস্তু বিষয়ক হাইকমিশনার ‘শরণার্থী বিষয়ক বৈশ্বিক প্রভাবের উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক: এ মডেল ফর গ্রেটার সলিডারিটি অ্যান্ড কো-অপারেশন’ শীর্ষক এ বৈঠকের আয়োজন করে। শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমরা তাদের মৌলিক চাহিদা পূরণ করে যাচ্ছি, যা আমাদের জন্য মারাত্মক চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আমরা তাদের জন্য ৬ হাজার একরের বেশি জমি বরাদ্দ দিয়েছি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, রোহিঙ্গাদের জন্য মানবিক ও অন্যান্য সম্পদ, সমাজ, পরিবেশ ও অর্থনীতি আন্তর্জাতিক অংশীদার, বিশেষ করে জাতিসংঘের সংস্থাগুলো সাহায্য দিয়ে আসছে। তিনি বলেন, রোহিঙ্গা সংকট মিয়ানমার সরকারই তৈরি করেছে এবং মিয়ানমারকে এর সমাধান খুঁজে বের করতে হবে। তিনি বলেন, দায়িত্বশীল সরকার হিসেবে আমরা মিয়ানমার থেকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেয়ার জন্য আমরা আমাদের সীমান্ত খুলে দিয়েছি। এটা করে আমরা শুধু তাদের জীবন রক্ষা করিনি বরং আমরা আমাদের সীমান্ত সুরক্ষিত করে পুরো অঞ্চলে স্থিতিশীলতা বজায় রেখেছি। শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশ রোহিঙ্গাদের নিরাপদে ও নিরাপত্তা এবং মর্যাদার সঙ্গে নিজ দেশে স্থায়ীভাবে ফেরত নেয়া দেখতে চায়। তিনি বলেন, রোহিঙ্গাদের ফেরত না নেয়া পর্যন্ত আমরা তাদের মৌলিক চাহিদা পূরণের চেষ্টা করে যাচ্ছি। আমরা ভাষানচর নামক একটি দ্বীপের ব্যাপক উন্নয়ন করে রোহিঙ্গাদের সেখানে স্থানান্তর করবো, যাতে তারা ওই দ্বীপে উন্নত জীবনযাপন ও সুযোগ-সুবিধা ভোগ করতে পারে। রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় বাংলাদেশকে সহযোগিতা করতে আন্তর্জাতিক সমপ্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘কম্প্যাক্ট অন রিফিউজি’ এমন সময় গ্রহণ করা হলো যখন সারা বিশ্ব মারাত্মক শরণার্থী সংকট মোকাবিলা করছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, যেসব দেশ শরণার্থীদের বোঝা কাঁধে নেয় বিশ্বের উচিত তাদের এ অবদানকে স্বীকৃতি দেয়া এবং বিশ্ব নেতৃবৃন্দকে অবশ্যই রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও প্রতিশ্রুতি দিতে হবে। শেখ হাসিনা বলেন, শরণার্থী সংকট সমাধানে রোহিঙ্গাদের নিরাপদ ও স্থায়ীভাবে ফেরত নেয়া খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

তিন দফা, এক কাতারে বিরোধী আইনজীবীরা

গণতন্ত্র ও আইনের শাসন পুনঃপ্রতিষ্ঠা, নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে আগামী জাতীয় নির্বাচন এবং বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াসহ দলটির সকল নেতাকর্মীর কারামুক্তি- এই তিন দফা সামনে রেখে ‘জাতীয় আইনজীবী ঐক্যপরিষদ’ গঠন হতে যাচ্ছে। তিন দফা দাবিতে অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহে মহাসমাবেশ করবে জাতীয় আইনজীবী ঐক্যপরিষদ। আগামী দু’একদিনের মধ্যে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসবে বলে জানান আইনজীবীরা। গতকাল সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি ভবনের সম্মেলন কক্ষে সরকারবিরোধী আইনজীবীদের ঐক্যপ্রক্রিয়া নিয়ে এক সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন।
বিকাল ৩টা থেকে প্রায় সোয়া এক ঘণ্টাব্যাপী এই বৈঠকে আইনজীবীরা তিন দফা দাবি উপস্থাপন ও মহাসমাবেশের বিষয়ে আলোচনা করেন। সভায় উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার জমিরউদ্দিন সরকার, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন, সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ব্যারিস্টার মইনুল হোসেন, সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল এ জে মোহাম্মদ আলী, গণফোরামের নির্বাহী সভাপতি অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট তৈমূর আলম খন্দকার, অ্যাডভোকেট নিতাই রায় চৌধুরী, বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও সুপ্রিম কোর্ট বারের সম্পাদক ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন, বিএনপিপন্থি আইনজীবী নেতা অ্যাডভোকেট জগলুল হায়দার আফ্রিক, ব্যারিস্টার কায়সার কামাল, অ্যাডভোকেট আবেদ রাজা, অ্যাডভোকেট রফিকুল ইসলাম তালুকদার রাজা, ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল, ব্যারিস্টার একেএম এহসানুর রহমান প্রমুখ।
সভায় আইনজীবীরা বলেন, দেশে গণতন্ত্র ও আইনের শাসন নেই। বিচার বিভাগের স্বাধীনতা আজ ভূলুণ্ঠিত। এসব দাবিতে ‘জাতীয় ঐক্য’ গঠন করা হয়েছে, সেই ঐক্যকে আরো শক্তিশালী করার লক্ষ্যে আইনজীবীদের ঐক্যের কোনো বিকল্প নেই। আইনজীবীরা বলেন, কারাবন্দি বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তিসহ বিভিন্ন দাবি আদায়ের জন্যই আজকে সকল আইনজীবী ঐক্যবদ্ধ হয়েছেন। তারা বলেন, সিনিয়র আইনজীবীদের কমিটি ছাড়াও আরেকটি কমিটি থাকবে। আন্দোলনকে লক্ষ্যে পৌঁছে দেয়ার জন্য উভয় কমিটি একসঙ্গে কাজ করবে। আইনজীবীরা জানান, শিগগিরই একটি আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হবে এবং আহ্বায়ক হিসেবে সুপ্রিম কোর্টের তিনজন সিনিয়র আইনজীবীর নাম প্রস্তাব করা হয়েছে। তারা হলেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, ব্যারিস্টার মইনুল হোসেন ও অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন। একই সঙ্গে অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহে জাতীয় আইনজীবী ঐক্যপ্রক্রিয়ার উদ্যোগে একটি সমাবেশের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। সমাবেশের তারিখ জ্যেষ্ঠ আইনজীবীরা নির্ধারণ করবেন বলে জানা গেছে। বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, সভায় ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ আইনজীবীদের জাতীয় ঐক্য নিয়ে একটি নাম দেয়ার প্রস্তাব করেন। একই সঙ্গে অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহে সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে আইনজীবীদের মহাসমাবেশ করার পক্ষে মত দেন। এ ছাড়া প্রতিটি বিভাগে আইনজীবীদের কমিটি গঠনের সুপারিশ করেন মওদুদ আহমদ।
সভাশেষে ব্যারিস্টার মইনুল হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, রাজনীতিবিদদের পাশাপাশি দেশের সকল আইনজীবীদের মধ্যেও জাতীয় ঐক্যের প্রয়োজন রয়েছে। এ বিষয়ে শক্তিশালী একটি ঐক্যপ্রক্রিয়ার কাজ চলছে। আমরা চাই দেশে আইনের শাসন ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা হোক। অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন বলেন, তিনদফা দাবিতে আইনজীবীরা একমত হয়েছেন। আগামী দু’একদিনের মধ্যে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসবে এবং জনসভার বিষয়ে তারিখ নির্ধারণ করা হবে। ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন বলেন, যেসব দাবি আদায় করতে গিয়ে খালেদা জিয়া আজ কারাগারে ঠিক একই ইস্যুতে সকল আইনজীবীরা আজ ঐক্যবদ্ধ হয়েছেন। তিনি বলেন, যেসব দাবিতে রাজনৈতিক দলের জাতীয় ঐক্য গঠন করা হয়েছে সেই ঐক্যকে আরো শক্তিশালী করতে হবে। সেই লক্ষ্যে আইনজীবীদের ঐক্যের বিকল্প নেই।

পাল্টাপাল্টি সমাবেশের ডাক, হঠাৎ উত্তাপ

আওয়ামী লীগ ও বিএনপির পাল্টাপাল্টি সমাবেশকে ঘিরে রাজনীতির মাঠে হঠাৎ উত্তাপ দেখা দিয়েছে। আগামী শনিবার রাজধানীতে সমাবেশের ঘোষণা করেছে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ১৪ দল। একই দিন জনসভা করার প্রস্তুতি নিচ্ছে বিএনপি। বৃহস্পতিবার এ সমাবেশ করার ঘোষণা দেয়া হলেও গতকাল জানানো হয়েছে তা দুই দিন পিছিয়ে শনিবার করা হবে। ১৪ দল মহানগর নাট্যমঞ্চে নাগরিক সমাবেশ করার প্রস্তুতি নিলেও এ সমাবেশ ঘিরে ব্যাপক লোক সমাগম করতে চায়। গতকাল ১৪ দলের সমন্বয়ক ও আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য মোহাম্মদ নাসিম এ দিন রাজপথ ১৪ দলের দখলে রাখার ঘোষণা দেন। বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী ২৯শে সেপ্টেম্বর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে দলের জনসভা করার কথা জানান। সভার অনুমতি পাওয়ার বিষয়েও আশা প্রকাশ করেছেন তিনি। নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন এবং দলীয় চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তি দাবিতে বিএনপির সমাবেশে জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার নেতারাও অংশ নিতে পারেন।
এ দুই দাবিতে সামনে আন্দোলনে নামার কথাও বলে আসছেন দলটির নেতারা। এদিকে নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে অক্টোবর থেকে কর্মসূচিতে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়া ও যুক্তফ্রন্ট। তারা চেষ্টা করছেন এসব কর্মসূচিতে বিরোধী সব রাজনৈতিক দলকে যুক্ত করে বৃহত্তর ঐক্য ও আন্দোলন জোরদার করা। এ অবস্থায় হঠাৎ একই দিনে রাজধানীতে সভা-সমাবেশের পাল্টাপাল্টি কর্মসূচিকে ঘিরে উত্তেজনা বিরাজ করছে রাজনীতির মাঠে। ১৪ দল ও বিএনপির সূত্র বলছে, এদিন ব্যাপক শোডাউনের লক্ষ্য রয়েছে।
ঢাকা দখলে রাখার ঘোষণা ১৪ দলের: শনিবার রাজধানীতে বিরোধী রাজনৈতিক দলের সমাবেশের আগে ঢাকা দখলে রাখার ঘোষণা দিয়েছে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ক্ষমতাসীন ১৪ দলীয় জোট। গতকাল এ ঘোষণা দেন জোটের মুখপাত্র মোহাম্মদ নাসিম। রাজধানীর মহানগর নাট্যমঞ্চে ২৯শে সেপ্টেম্বর ১৪ দলীয় জোট সমাবেশ করার ঘোষণা দেয়ার পর একই দিনে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বিএনপিও সমাবেশ করার ঘোষণা দেয়ায় এ মন্তব্য করেন তিনি। সোমবার ১৪ দলের পক্ষ থেকে মোহাম্মদ নাসিম ঘোষণা দিয়েছিলেন মহানগর নাট্যমঞ্চে আগামী শনিবার (২৯শে সেপ্টেম্বর) সমাবেশ করা হবে। এই সমাবেশ উপলক্ষে গতকাল রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আয়োজিত প্রস্তুতি সভায় মোহাম্মদ নাসিম বলেন, চক্রান্তকারীরা মাঠে নামবে। আমরা দেখবো, কারা মাঠে নামবে আর কে নামবে না? এ সময় মোহাম্মদ নাসিম বলেন, আগে থেকেই ঢাকা দখলে ছিল আমাদের, ইনশাল্লাহ আগামীদিনেও ঢাকা আমাদের দখলে থাকবে। শুধু ঢাকা নয়, সারা বাংলাদেশ শেখ হাসিনার দখলে থাকবে বলে ঘোষণা দেন তিনি। জোটের নেতাকর্মীদের যেকোনো চক্রান্তের বিরুদ্ধে সজাগ থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, আপনারা এলাকায় প্রস্তুত থাকবেন, যেন ওই অপশক্তি মাঠে নামতে না পারে। ওদের মাঠে প্রতিহত করবেন, রাস্তায় প্রতিহত করবেন।
চক্রান্তকারীরা মাঠে নামবে। আমরা দেখবো কারা মাঠে নামবে আর কে নামবে না? নেতাকর্মীদের উদ্দেশে মোহাম্মদ নাসিম বলেন, আগামী একটা মাস আপনাদের কোনো কাজ নেই। ১৪ দলের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে নিয়ে পাড়া-মহল্লায় আপনারা সজাগ থাকবেন। কোনো চক্রান্ত-নৈরাজ্য হলে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে ইনশাল্লাহ আমরা প্রতিহত করব। আওয়ামী লীগ ও ১৪ দল নির্বাচনী প্রচার শুরু করেছে জানিয়ে মোহাম্মদ নাসিম বলেন, নির্বাচনের প্রচারের কাজ শুরু হয়ে গেছে। আমাদের সাধারণ সম্পাদকের নেতৃত্বে ইতিমধ্যে জেলা-উপজেলায় নির্বাচনী প্রচারের কাজ শুরু হয়েছে। ১৪ দলের শরিক দলগুলোও দেশের বিভিন্ন জায়গায় নির্বাচনের প্রচারের কাজ শুরু করে দিয়েছে। আমরা চাই, এবার প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক নির্বাচন হোক। কিন্তু যখন কোনো উত্তপ্ত রাজনীতিবিদরা, দলছুট রাজনীতিবিদরা, যাদের আদর্শের কোনো ঠিকানা নেই, দলের কোনো স্থায়ী ঠিকানা নেই, তারা গণতন্ত্রের কথা বলেন, তখন আমাদের সন্দেহ হয় যে, আবারো সেই অসৎ চক্রান্ত শুরু হয়ে গেছে। ২৯শে সেপ্টেম্বরের সমাবেশ সফল করার আহ্বান জানিয়ে ১৪ দলের সমন্বয়ক বলেন, আপনারা ১৪ দলের প্রোগ্রামে আসবেন। সেখানে আওয়ামী লীগ ও ১৪ দলের নেতারা বক্তব্য রাখবেন।
ঢাকার প্রতিটি ঘরে ঘরে এ বার্তা পৌঁছে দিতে হবে। ২৯ তারিখ ১৪ দলের সমাবেশ। আপনারা আপনাদের এমপিকে নিয়ে ঘরে ঘরে পৌঁছে যান। ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বধানী জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার সমালোচনা করে ১৪ দলের মুখপাত্র বলেন, আমরা এত দিন দেখেছি খেলার সময় খেলোয়াড় ভাড়া করা হয়। এখন দেখছি ড. কামাল হোসেনের মতো নেতারাও ভাড়ায় যাচ্ছেন। তিনি বলেন, আমাদের সঙ্গে খেলবেন খেলেন, কোনো সমস্যা নেই। তবে ভাড়াটে খেলোয়াড় দিয়ে কি কখনো জয় পাওয়া যায়? যায় না। যাদের নিজেদেরই কোনো অস্তিত্ব নেই তারা অন্য দলে গিয়ে কী অস্তিত্ব পাবে? যারা জাতীয় ঐক্যের ঘোষণা দিচ্ছে তাদের প্রতি মানুষের আস্থা নেই জানিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, আপনারা (যুক্তফ্রন্ট ও জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার নেতারা) বর্ণচোরা, আপনাদের প্রতি দেশের জনগণের আস্থা নেই। আমি বিশ্বাস করি আপনাদের কর্মীদেরও আপনাদের প্রতি আস্থা নেই। নির্বাচন বানচালের কোনো চেষ্টা সফল হবে না মন্তব্য করে মোহাম্মদ নাসিম বলেন, সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এখানে যে কোনো দল অংশগ্রহণ করতে পারে। এ বিষয়ে আমাদের কোনো প্রতিক্রিয়া দেয়ার প্রয়োজন নেই। কিন্তু দুঃখজনক এবং দুর্ভাগ্যজনক হলো, ওই সমস্ত চেনা মুখগুলো যখন গণতন্ত্রের কথা বলে মাঠে নামে তখন এদেশের মানুষের মধ্যে শঙ্কার সৃষ্টি হয়। যখনই এদেশে গণতন্ত্রের জন্য লড়াই হয়েছে, এই চেনা মুখগুলো নির্বাচনকে বিলম্বিত করার জন্য বারবার চেষ্টা করেছে। বাংলাদেশের মানুষ সব সময় গণতন্ত্রের জন্য লড়াই করেছে, সংগ্রাম করেছে। নির্ধারিত সময়ে নির্বাচন হবে। নির্বাচনে সেনা মোতায়েনের নামে সেনাবাহিনীকে উত্তেজিত করা হচ্ছে দাবি করে আওয়ামী লীগের সিনিয়র এ নেতা বলেন, আমরা দেখেছি কীভাবে সেনাবাহিনীকে ব্যবহার করে অতীতে গণতন্ত্রকে ধ্বংস করা হয়েছে। সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য বর্তমান আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যথেষ্ট।
সোহরাওয়ার্দীতে সমাবেশ ঘোষণা বিএনপির
ঢাকার জনসভা দুইদিন পিছিয়ে আগামী শনিবার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে করার সিদ্ধান্ত নিয়েছ বিএনপি। দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী গতকাল এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে এ সিদ্ধান্তের কথা জানান। রিজভী বলেন, জনসভা সাফল্যমণ্ডিত করার জন্য আমাদের দলের নেতা-কর্মী, অঙ্গসংগঠনগুলোর ইউনিট পুরোদমে কাজ করছে। আমরা আশা করছি, ২৯ সেপ্টেম্বরের জনসভাটি সাফল্যমণ্ডিত হবে। জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়া’র সমাবেশের পর রাজনীতিতে নতুন মেরুকরণের আলোচনার মধ্যে সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে বৃহস্পতিবার জনসভাটি করার ঘোষণা দিয়েছিল বিএনপি। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জনসভা করার অনুমতি পাওয়া গেছে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে রিজভী বলেন, আমরা ওইভাবে অনুমতি পাইনি। তবে আশা রাখছি অনুমতি পাব। রিজভী বলেন, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া চরম স্বাস্থ্যঝুঁঁকিতে রয়েছেন। যখন অন্যায়ভাবে সাজা দিয়ে তাকে কারাগারে নেয়া হয় তখন তিনি এত রোগাক্রান্ত ছিলেন না। কর্তৃৃপক্ষের অবহেলা, হয়রানী, অস্বাস্থ্যকর স্যাঁতসেতে বদ্ধ পরিবেশের মধ্যে তাঁকে দিনযাপন করতে হচ্ছে, যা একটি চরম নির্যাতন। কারা কর্তৃপক্ষ তাঁকে সুচিকিৎসা হতে বঞ্চিত করেছে। বিশেষায়িত হাসপাতালের সুবিধা ও ব্যক্তিগত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের মাধ্যমে নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা থেকেও বঞ্চিত করেছে। অগ্রাহ্য করা হয়েছে দল ও পরিবার থেকে বারবার ব্যক্তিগত চিকিৎসকদের সমন্বয়ে মেডিকেল বোর্ড গঠনের দাবি। রিজভী বলেন, সরকারীদলের সমর্থক ও আওয়ামী রাজনীতিতে সক্রিয় বিএসএমএমইউ’র চিকিৎসকদের দিয়ে গঠিত মেডিকেল বোর্ডও দেশনেত্রীর স্বাস্থ্য পরীক্ষা করার পরে স্ববিরোধী বক্তব্য দিয়েছেন।
একদিকে তারা বলেছেন- খালেদা জিয়ার অসুস্থতা গুরুতর নয়, আবার বলেছেন, তাঁর আর্থারাইটিসের ব্যথা, ফ্রোজেন শোল্ডার, হাত নড়াচড়া করতে পারেন না। হিপ-জয়েন্টেও ব্যথার মাত্রা প্রচন্ড। ফলে শরীর অনেক অসুস্থ, তিনি পা তুলে ঠিক মতো হাঁটতেও পারেন না। বিএসএমএমইউ অথবা বিশেষায়িত হাসপাতালে ভর্তি করতে হবে। সরকারী মেডিকেল বোর্ডের বক্তব্য অনুযায়ী খালেদা জিয়া গুরুতর রোগে অসুস্থ নন, তাহলে তারা কেন হাসপাতালে ভর্তির পরামর্শ দিলেন? এতে খালেদা জিয়ার চিকিৎসা নিয়ে যেন এক প্যারাডক্স তৈরী করা হচ্ছে। রিজভী বলেন, মেডিকেল বোর্ড তাঁকে হাসপাতালে ভর্তির পরামর্শ দিয়েছে, অথচ আদালতে তাঁর অনুপস্থিতিতে বিচারিক কার্যক্রম চলছে। খালেদা জিয়ার পক্ষে তাঁর আইনজীবী সানাউল্লাহ মিয়া মামলার কার্যক্রম মূলতবি চেয়ে আবেদন করলেও তা নামঞ্জুর করা হয়। কিন্তু অসুস্থ বন্দী সুস্থ না হওয়া পর্যন্ত তার অনুপস্থিতে বিচারিক কার্যক্রম বেআইনী। আমি দলের পক্ষ থেকে আবারও দৃঢ়কন্ঠে বলতে চাই- খালেদা জিয়ার সুচিকিৎসাসহ এই মূহুর্তে নিঃশর্ত মুক্তি দিতে হবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বক্তব্যের সমালোচনা করে রিজভী বলেন, প্রধানমন্ত্রী ক্ষমতা হারানোর ভয়ে কান্ডজ্ঞান শূন্য হয়ে পড়েছেন। তিনি তাঁর সামনে, পেছনে, ডানে-বায়ে যারা তাঁকে ঘিরে আছে তাদের দিকে তাকান না, শুধু তাঁর রাজনৈতিক প্রতিপক্ষদের কুৎসা রটাতেই ব্যস্ত থাকছেন। ক্ষমতাসীন হওয়ার পরে কিম্ভুতকিমাকার একনায়কতন্ত্র কায়েম করার জন্যই তিনি বেহুঁস হয়ে গণতন্ত্র ও নির্বাচন প্রক্রিয়া সন্ত্রাসের বেড়াজাল দিয়ে ঘিরে রাখতেই স্বৈরাচার হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর বিশ্বজোড়া নামডাক হয়েছে। তাঁর মুখে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে বিষোদগার হাস্যকর। রিজভী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর কাছে দেশবাসী জানতে চায়- বিগত দশ বছরে ব্যাংক, বীমা লুটের টাকা গেল কোথায়? শেয়ার বাজার লুটের টাকা গেল কোথায়? ব্যাংকে আমানতকৃত টাকা চেক দিয়ে মানুষ না পেয়ে ফেরত আসে কেন? বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরি করেছে কে? এখনও কেন রিজার্ভ চুরির তদন্ত রিপোর্ট প্রকাশ করা হয়নি ?
আর্থিক খাত ধ্বংস করলো কে? কানাডাতে বেগম পল্লী ও মালয়েশিয়ায় সেকেন্ড হোম তৈরী করেছে কারা? দশ বছরে বিদেশে লাখ লাখ কোটি টাকা পাচার করেছে কারা? তিনি বলেন, দেশবাসী জানতে চায়- প্রায় প্রতিদিন গড়ে ৪/৫ জন নিরীহ মানুষ বিচার বহির্ভূত হত্যাকান্ডের শিকার হচ্ছে কার নির্দেশে? ইলিয়াস আলী, চৌধুরী আলম, হুমায়ুন কবির পারভেজ, সাইফুল ইসলাম হিরু, সুমন ও জাকিরসহ বিএনপি’র অসংখ্য নেতাকর্মীকে গুম করেছে কে? কালো কাঁচঢাকা মাইক্রোবাসগুলো কাদের? উপজেলা চেয়ারম্যান নুর হোসেন বাবুকে প্রকাশ্য দিবালোকে হত্যাকারীদের কার নির্দেশে বিচার হলো না? যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলা বিএনপি সভাপতি নাজমুলকে ক্রসফায়ারে হত্যাসহ বিএনপির হাজার হাজার নেতাকর্মীকে হত্যা করেছে কে? সর্বোপরি দেশের সাবেক প্রধান বিচারপতিকে বন্দুকের নলের মুখে দেশ থেকে বিতাড়ণের নির্দেশ দিয়েছে কে? তিনি বলেন, বর্তমানে দেশজুড়ে গুম, খুন, বিচার বহির্ভূত হত্যা ও লুটপাটের যে মহৌৎসব চলছে, প্রধানমন্ত্রী তাঁর অসত্য ভাষণে তা ধামাচাপা দিতে পারবেন না।
ব্রিফিংয়ে অন্যদের মধ্যে- বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আলতাফ হোসেন চৌধুরী, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা জয়নুল আবদিন ফারুক, কেন্দ্রীয় শহীদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, হাবিবুল ইসলাম হাবিব, আবুল কালাম আজাদ সিদ্দিকী, আসাদুল করীম শাহিন, মুনির হোসেন, আবদুল বারী ড্যানি, হারুনুর রশীদ হারুন উপস্থিত ছিলেন।

পাঁচ লাখ শটগানের কার্টিজ প্রাণঘাতী, ধ্বংসের নির্দেশ by দীন ইসলাম

হরতাল, অবরোধ বা যেকোনো সন্ত্রাসী কার্যকলাপ নিয়ন্ত্রণে আমদানিকৃত পাঁচ লাখ শটগানের কার্টিজকে (লিড বল) মানুষের জন্য প্রাণঘাতী হিসেবে চিহ্নিত  করেছে পুলিশ সদর দপ্তর। এ জন্য শটগানের কার্টিজগুলোকে ধ্বংস করে স্পেসিফিকেশন (বিনির্দেশ) অনুযায়ী লিড বল সাপ্লাই দিতে সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান এনএল এন্টারপ্রাইজকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। সম্প্রতি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট শাখা থেকে সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানকে এ নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, পুলিশের অপারেশনাল কাজে ব্যবহার করতে ২০১৪- ২০১৫ অর্থবছরে স্পেন থেকে পাঁচ লাখ পিস ১২ বোর শটগানের কার্টিজ (লিড বল) আমদানির জন্য মেসার্স এনএল এন্টারপ্রাইজকে কার্যাদেশ দেয়া হয়। আন্তর্জাতিক দরপত্রের সময় সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান উল্লেখ করে তারা স্পেনের মেক্সাম আউটডোর থেকে এসব লিড বল আমদানি করে পুলিশ অধিদপ্তরে সরবরাহ করবে। এ জন্য কার্যাদেশ পাওয়ার পর পুলিশ সদর দপ্তরের সঙ্গে চুক্তি করে সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান।
পুলিশ সদর দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, আন্তর্জাতিক দরপত্র হওয়ার কারণে কাস্টমস ডিউটি, সিডি, ভ্যাট ও অন্যান্য শুল্কসহ দুই কোটি ৭৩ লাখ ৮১ হাজার ৭২৮ টাকা পরিশোধ করে পাঁচ লাখ পিস ১২ বোর শটগানের কার্টিজ (লিড বল) ছাড় করানো হয়। এরপর কার্টিজগুলোর ফিল্ড টেস্টের সময় দেখা যায়, দরপত্রের স্পেসিফিকেশন অনুযায়ী প্রতিটি শটগানের কার্টিজে (লিড বল) ৪৫৩টি বল থাকার কথা রয়েছে। এ ছাড়া বলগুলো কত মাপের হবে ওই বিষয়টিও বলা ছিল।
কিন্তু ফিল্ড টেস্টে পর্যবেক্ষণ করে দেখা যায়, ৩২২, ৩১৩, ২৭৫ বা ২৮১টি বল রয়েছে। অর্থাৎ শটগানের কার্টিজ (লিড বল)-এ বলের পরিমাণের বিষয়টি স্পেসিফিকেশন অনুযায়ী নেই। গত আগস্টের শেষ দিকে পুলিশ সদর দপ্তর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো এক চিঠিতে জানায়, পাঁচ লাখ পিস ১২ বোর শটগানের কার্টিজ (লিড বল) স্পেসিফিকেশনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তাই সরবরাহকৃত মালামাল দ্রুত অপসারণ করতে হবে। পাশাপাশি অতি অল্প সময়ের মধ্যে সমপরিমাণ শটগানের কার্টিজ (লিড বল) সরবরাহ করতে হবে। এ বিষয়ে সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে পত্রালাপ হয়েছে। তারা মালামাল বদলে দিতে রাজি হয়েছে।
এদিকে গত ১১ই সেপ্টেম্বর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সংশ্লিষ্ট শাখা থেকে জারি করা এক আদেশে বলা হয়, মেসার্স এনএল এন্টারপ্রাইজের মালামাল একই চুক্তিপত্র ও একই এলসি’র বিপরীতে রিপ্লেস করা হবে। বাতিলকৃত মালামাল বাংলাদেশে ধ্বংস করতে হবে। তাই পাঁচ লাখ পিস ১২ বোর শটগানের কার্টিজ (লিড বল) হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর বা চট্টগ্রাম সমুদ্র বন্দর থেকে খালাসের সময় যাতে কোনো ধরনের শুল্ক দিতে না হয় বা অন্য কোনো সমস্যার সৃষ্টি না হয় সেজন্য অনাপত্তি দেয়া হলো। ওই অনাপত্তির ভিত্তিতে সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান আমদানির প্রক্রিয়া শুরু করেছে বলে জানা গেছে।

রংপুর জেলা পরিষদে আওয়ামী লীগ নেত্রীদের হাতাহাতি

রংপুর জেলা পরিষদে মহিলা আওয়ামী লীগ নেত্রীদের দু’পক্ষের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। এডিপি বরাদ্দের ভাগাভাগি নিয়ে এ ঘটনা ঘটে সোমবার বিকালে। জেলা পরিষদ সদস্য পারভীন আক্তার তার পক্ষের সদস্যদের নিয়ে জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান অ্যাড. ছাফিয়া খানমের কক্ষে তালা ঝুলিয়ে দেয়। এরপরই ছুটে আসে এ্যাড. ছাফিয়া খানমের সমর্থকরা। ফলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠে। দেখা দেয় ব্যাপক হট্টগোল। দু’পক্ষের সমর্থকদের মাঝে ছড়িয়ে পড়ে উত্তেজনা। খবর পেয়ে জেলা পরিষদে ছুটে আসেন ব্যাপক দাঙ্গা পুলিশসহ আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতারা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে চেয়ারম্যান কক্ষে তালা খুলে দিয়ে দু’পক্ষকে নিয়ে সমঝোতার এক রুদ্ধদ্বার বৈঠকে বসে আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ। দুপুর ১টা থেকে এ বৈঠক চলে সন্ধ্যা পর্যন্ত। এ সময় উপস্থিত ছিলেন, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. রেজাউল করিম রাজু, মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি সাফিয়ার রহমান, সহ-সভাপতি কাওসার আহমেদ শরিফ, যুগ্ম সম্পাদক রশানুল কাওসার সংগ্রাম, শহিদুল ইসলাম হীরাসহ অন্যরা।
অভিযোগ উঠেছে, ২০১৬-১৭ অর্থ বছরের একটি প্রকল্পের সংশোধনী আনার বিষয়ে কথা বলতে বিকেল ৫টার দিকে চেয়ারম্যানের কক্ষে যান সংরক্ষিত ১নং ওয়ার্ডের নারী সদস্য পারভীন আক্তার। এ সময় তিনি চিৎকার করে অশালীন কথাবার্তা বলেন। ফলে মহিলা লীগের সভাপতি জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান তাকে শান্ত হয়ে কথা বলতে বললে সে আরও উত্তেজিত হয়ে উঠে। এক পর্যায়ে টেবিলের আসবাবপত্র ছুড়ে ফেলতে চেষ্টা করলে অ্যাড. ছাফিয়া তাকে লাঞ্ছিত করেন। এ নিয়ে সোমবার রাতেই পারভীন আক্তার কোতোয়ালি থানায় লিখিত অভিযোগ করেন।
জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অ্যাড. ছাফিয়া খানম বলেন, পারভীন আক্তার জেলা পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হয়ে শুরু থেকেই অশালীন আচারণসহ বেয়াদবি করে আসছে। পারভীন বয়সে আমার অনেক ছোট। তাকে শাসন করার আমার অধিকার আছে। সেই অধিকার নিয়েই তাকে শান্ত হতে বললেও সে আরও উত্তেজিত হয়ে পড়ে। এতে আমি তাকে শাসন করেছি মাত্র। কোতোয়ালি থানার এসআই ফেরদৌস আহম্মেদ জানান, অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে জেলা পরিষদে ব্যাপক দাঙ্গা পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।