Sunday, August 13, 2017

যুক্তরাষ্ট্রে প্রচণ্ড দাঙ্গা, জরুরি অবস্থা জারি

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়ার শার্লোটসভিল শহরে চরম ডানপন্থী শ্বেতাঙ্গ জাতীয়তাবাদী আর বর্ণবাদ বিরোধীদের মধ্যে ব্যাপক সহিসংতার ঘটনায় অন্তত একজন নিহত হয়েছে। পরিস্থিতি সামলাতে টিয়ারগ্যাস নিক্ষেপ করেছেন পুলিশ। অনেককে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং রাজ্যে জরুরী অবস্থা জারি করা হয়েছে। স্থানীয় সময় শুক্রবার সকালের দিকে কনফেডারেম পতাকা, বর্ম আর হেলমেট পড়ে একটি মিছিল বের করে চরম ডানপন্থী শ্বেতাঙ্গ জাতীয়তাবাদীরা। গৃহযুদ্ধের সময়কার জেনারেল রবার্ট ই লি-র একটি ভাস্কর্য সরিয়ে নেয়ার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে ওই মিছিলের আয়োজন করে ডানপন্থীরা। ১৮৬১-৬৫ সালের গৃহযুদ্ধে দাসত্ব প্রথার পক্ষে লড়াইকারী কনফেডারেট বাহিনী পরিচালনা করেন জেনারেল লি। বর্ণবাদবিরোধী সংগঠনগুলোও এ সময় আলাদা মিছিল বের করে। একপর্যায়ে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বেধে যায়। শহরে অনেক রাস্তায় সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে। জানা গেছে, বিরোধী কর্মীদের একটি সমাবেশের উপর চলন্ত গাড়ি তুলে দেয়া হলে একজন নিহত আর বেশ কয়েকজন আহত হয়েছে। পরিস্থিতি সামলাতে টিয়ারগ্যাস নিক্ষেপ করেছে পুলিশ।
এসব সমাবেশের জন্য কোন অনুমতি নেয়া হয়নি বলে পুলিশ জানিয়েছে এবং বেশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, দুই পক্ষই একে অপরের উপর বোতল, পাথর ছুড়ে মারে। এমনকি তারা পিপার স্প্রেও ব্যবহার করে। এর আগে শুক্রবার রাতেও মশাল মিছিল বের করেছিল শ্বেতাঙ্গ জাতীয়তাবাদীরা। যদিও শহরে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে, কিন্তু এখনো অনেক স্থানে বিছিন্নভাবে সহিংসতার খবর পাওয়া যাচ্ছে। এই সহিংসতার নিন্দা জানিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একটি টুইটার বার্তায় বলেছেন, আমাদের সবার ঐক্যবদ্ধভাবে সব ধরণের বিদ্বেষের বিরুদ্ধে দাঁড়ানো উচিত। আমেরিকায় এ রকম সহিংসতার কোন জায়গা নেই। শার্লোটসভিল একটি উদারপন্থী শহর হিসাবেই পরিচিত। যুক্তরাষ্ট্রের গত প্রেসিডেন্সিয়াল নির্বাচনে এই শহরের ৮৬ শতাংশ ভোট পেয়েছিলেন হিলারি ক্লিনটন। তবে এখানকার কাউন্সিল কর্তৃপক্ষ জেনারেল লি-র ভাস্কর্য সরিয়ে নেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়ার পর, শহরটি শ্বেতাঙ্গ জাতীয়তাবাদীদের লক্ষ্য হয়ে ওঠে।

নওয়াজের স্ত্রীর মনোনয়নপত্র চ্যালেঞ্জ

আদালতের নির্দেশে পদচ্যুত পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরীফের শূন্য আসনে উপনির্বাচনের জন্য তার স্ত্রী কুলসুম নওয়াজ শরীফ যে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন নির্বাচন কমিশন বা ইসিতে তা চ্যালেঞ্জ করা হয়েছে। অ্যাডভোকেট সরফরাজ নামে এক আইনজীবী কুলসুমের মনোনয়নের বিরুদ্ধে ইসিতে এ পিটিশন দায়ের করেন। কুলসুম নওয়াজ লাহোর-১২০ আসন থেকে উপ-নির্বাচনে অংশ নেয়ার জন্য এরইমধ্যে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। এর বিরুদ্ধে পিটিশনে অ্যাডভোকেট সরফরাজ বলেছেন, পাকিস্তানের সুপ্রিমকোর্ট নওয়াজ শরীফকে অসততার জন্য প্রধানমন্ত্রী হিসেবে অযোগ্য ঘোষণা করেছে। সেই ব্যক্তির নামে নির্বাচন কমিশনে মুসলিম লীগ (নওয়াজ) দলের রেজিস্ট্রেশন করা রয়েছে। কিন্তু আদালত যাকে অযোগ্য ঘোষণা করায় তার নামে রেজিস্ট্রেশন করা কোনো দল নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারে না। এ প্রেক্ষাপটে কুলসুম নওয়াজের মনোনয়ন বাতিল করতে হবে। অ্যাডভোকেট সরফরাজের দাবি- সুপ্রিম কোর্টের রায় অনুসারে নির্বাচনে ‘নওয়াজ শরীফ’ নামটি ব্যবহার করা যাবে না। গত নির্বাচনের সময় মনোনয়নপত্রে নওয়াজ শরীফ তার সম্পদের পূর্ণ তথ্য দেননি -এমন অভিযোগে কথিত পানামা পেপার্স মামলায় দেশটির সুপ্রিম কোর্ট সম্প্রতি নওয়াজ শরীফকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে অযোগ্য ঘোষণা করেছে। তবে নওয়াজ শরীফ বলছেন, সম্পদের জন্য নয় বরং অন্য কারণে তাকে অযোগ্য ঘোষণা করা হয়েছে কিন্তু এখনই তিনি তা ফাঁস করতে চান না।

হিমাচলে ভূমিধসের কবলে ২ বাস, ৫০ জন নিহতের আশঙ্কা

ভারতে প্রবল ভূমিধসে ভেসে গেছে দুটি যাত্রী বোঝাই বাস। দেশটির হিমাচল প্রদেশের মাণ্ডি জেলার এই দুর্ঘটনায় অন্তত ৫০ জনের মৃত্যুর আশঙ্কা করা হচ্ছে। রোববার গভীর রাতে মাণ্ডির কোটরূপী এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে। এই ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছেন হিমাচল প্রদেশের পরিবহণ মন্ত্রী জিএস বালি। সূত্রের খবর, দুর্ঘটনাগ্রস্ত দুটি বাসের মধ্যে একটি মানালি থেকে চাম্বা যাচ্ছিল। অন্য বাসটি মানালি থেকে জম্মুর কাটরা যাচ্ছিল। রাত দুটো নাগাদ এই দুর্ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে রাতেই ঘটনাস্থলে পৌঁছায় মাণ্ডি জেলা প্রশাসনের বিপর্যয় মোকাবিলা দল। জাতীয় সড়কের ২৫০ মিটার এলাকা জুড়ে তখন ছড়িয়ে দুর্ঘটনাগ্রস্ত বাসদুটির ধ্বংসাবশেষ। উদ্ধারকাজের জন্য ডেকে পাঠানো হয় সেনাবাহিনী ও জাতীয় দুর্যোগে মোকাবেলা বাহিনীর (এনডিআরএফ) সদস্যদের। ভূমিধস, পাহাড়ের গা থেকে গড়িয়ে আসা বোল্ডারের কারণে পথ দুর্ঘটনা মাঝেমধ্যেই ঘটে থাকে হিমাচল প্রদেশে। বিশেষ করে চণ্ডীগড়-মানালি জাতীয় সড়কে পাণ্ডো থেকে আউট এই রাস্তাটা খুবই বিপজ্জ্বনক। সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া

ধরা পড়ছে ঝাঁকে ঝাঁকে; সংরক্ষণের অভাবে বিপর্যয়

কুয়াকাটা সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরে প্রচুর ইলিশ ধরা পড়লেও জেলেরা স্বাচ্ছন্দ্যে ইলিশ আহরণ করতে পারছেন না। ভয়াবহ বিদ্যুৎবিভ্রাটে মাছ সংরক্ষণে সমস্যা হচ্ছে। ইলিশের মান নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। একবার মাছ শিকার করে তীরে আসলে বরফের জন্য তিন দিন পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হচ্ছে। উপরন্তু তিন গুণ দামে বরফের ক্যান (সম্পূর্ণ ভরাট নয়) কিনতে বাধ্য হচ্ছেন তারা। বরফ উৎপাদনে ধস নেমেছে। চাহিদার এক দশমাংশ বরফও উৎপাদন হচ্ছে না। ফলে দক্ষিণাঞ্চলের অন্যতম ইলিশের মোকাম আলীপুর-মহিপুরে ভরা মওসুমে ইলিশ ব্যবসায়ে বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। বরফের অপেক্ষায় শিববাড়ীয়া নদীর দু’পাড় আলীপুর ও মহিপুরে শতশত ট্রলার ভিড়িয়ে রাখা হয়েছে। সাগর তেমন উত্তাল নয়। মাছ শিকারের পরিবেশ অনুকূলে রয়েছে। নেই জলদস্যুদের তাণ্ডব। তারপরও শুধুমাত্র বিদ্যুৎবিভ্রাটে বরফ উৎপাদনে ধস নামায় এমন সঙ্কটে পড়েছেন জেলে ও এ পেশাসংশ্লিষ্ট হাজার হাজার ব্যবসায়ী। স্থানীয় জাহাঙ্গীর মাঝি জানান, সাগরে প্রচুর ইলিশ ধরা পড়ছে। জাল নিয়ে সাগরে গেলেই ট্রলার বোঝাই করে ইলিশ নিয়ে ঘাটে ফেরা যায়। শুধু বরফের অভাবে শতশত ট্রলার ঘাটে নোঙর করে আছে। একই দশা ইলিশের পাইকারী ব্যবসায়ী গোপালগঞ্জের সুধারাম বাবুর। প্রতি বছর তিনি মহিপুর ও আলীপুর থেকে ইলিশ কেনেন। বরফ সঙ্কটে ভরা মওসুমে এবার নাজেহাল অবস্থা। বিদ্যুতের লোডশেডিং না কমলে এ বছরের মতো ব্যবসা গুটিয়ে চলে যাওয়ার আশঙ্কায় রয়েছেন তিনি।
তার মতো শতাধিক পাইকার এমন সমস্যায় পড়েছেন। মহিপুর আড়তমালিক আবদুল জলিল হাওলাদার জানান, অন্য জেলা থেকে দিনে কমপক্ষে ৫০ ট্রাক বরফ এনে ব্যবসা টিকিয়ে রাখতে হচ্ছে। এক ক্যান বরফ যেখানে এক থেকে দেড় শ’ টাকায় কেনার কথা, সেখানে এখন ট্রাক ভাড়াসহ খরচ পড়ছে প্রতি ক্যানে প্রায় পাঁচ শ’ টাকা। মজনু গাজী জানান, অন্তত দুই হাজার ট্রলার বরফের অভাবে সাগরে মাছ শিকারে যেতে পারেনি। সোমবার কথা হয় ব্যবসায়ী ও আড়তমালিকদের সাথে। সকলের অভিযোগ, বিদ্যুৎ এসে আবার কয়েক মিনিটের মধ্যে চলে যায়। বরফকল মালিকেরা চরম বিপাকে পড়েছেন। জেলেরা জানান, বর্তমানে ৫০০-৭০০ গ্রাম সাইজের অসংখ্য ইলিশ সাগরে ধরা পড়ছে। বরফ সঙ্কটে সংরক্ষণের অভাবে তারা ৩৫ হাজার টাকা মণের ইলিশ ২১-২২ হাজার টাকায় বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন। মহিপুর আড়তমালিক সমিতির সভাপতি ফজলু গাজী জানান, গত এক মাসে বিদ্যুৎ সমস্যার কারণে ঠিকমতো বরফ উৎপাদন না হওয়ায় প্রত্যেকটি মাছ ধরার ট্রলারে অন্তত ১০ লাখ টাকার লোকসান হয়েছে। আড়তদারদের অন্তত ২০০ কোটি টাকা লোকসান হয়েছে। এসব টাকা দাদনে নেয়া। তাই এখন সবাই বিপাকে পড়েছেন। আমেনা আইস প্লান্টের মালিক আনোয়ার হোসেন খান বলেন, ২৪ ঘণ্টার দুই ঘন্টাও বিদ্যুৎ পাওয়া যায় না। বলতে গেলে বিদ্যুতের অভাবে বরফ উৎপাদন বন্ধের উপক্রম হয়েছে। কলাপাড়া কোস্টগার্ডের কন্টিনজেন্ট সূত্র জানায়, সাগরে তাদের টহল অব্যাহত রয়েছে। তবে অন্য বছরের চেয়ে জলদস্যুদের আক্রমণ অনেক কম লক্ষ্য করা গেছে। পটুয়াখালী জেলা মৎস্য কর্মকর্তা ডা: হাসনাত আবদুল্লাহ জানান, জলবায়ু পরিবর্তন ও সাগরের মধ্যে চর জাগায় বৈশ্বিক উষ্ণতার কারণে আগের চেয়ে এখন ইলিশ মাছ একটু কমে গেছে। কিন্তু প্রজনন মওসুমে ইলিশ ধরা বন্ধ থাকায় এখন ভরা মওসুমে জেলেদের জালে প্রচুর ইলিশ ধরা পড়ছে।

তিস্তায় রেড এলার্ট

গত ৪ দিনের ভারী বর্ষন আর উজানের ঢলে তিস্তা নদী ফুলে ফেপে উঠেছে। সময়ের সাথে সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে পানি। তিস্তার পানি শনিবার রাত ১০ টার দিকে বিপদসীমার ৪০ সেমি উপর দিয়ে প্রবাহিত হচেছ। ভারতীয় একাধিক গনমাধ্যম ও বিভিন্ন সুত্রে পাওয়া খবরে জানা যায়, ভারতের গজলডোবা ব্যারেজের ৫৪ টি স্লুইচগেট খুলে দেওয়া হয়েছে। সুত্রমতে, গজলডোবায় পানির চাপ বৃদ্ধি পেলে তারা সবকটি স্লুইচগেট খুলে দেয়। গজলডোবা ব্যারেজর উজানে ভারতের দো-মোহিনী পয়েন্টে গত কয়েকদিন ধরে অবিরাম বর্ষন হচ্ছিল। সেই সাথে পাহাড়ী ঢল। পানির চাপ সামলাতে গজলডোর সবকটি গেট খুলে দিয়েছে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ। গজলডোবার গেট খুলে দেয়ার কারনে তিস্তার বাংলাদেশ অংশে হুহু করে বাড়ছে পানি। উজান হতে ঢল বাংলাদেশের তিস্তা নদীতে ধেয়ে আসছে। ভারী বর্ষন আর উজানের ঢলে কারনে তিস্তা ভয়াবহ রূপ ধারন করেছে। শনিবার রাত ১০টায় নীলফামারীর ডিমলার ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তা নদীর পানি বিপদসীমার (৫২ দশমিক ৪০) ৪০ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা সতর্কীকরন পূর্বাভাস কেন্দ্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। এদিকে রাত সাড়ে ৯টায় ভারত তাদের অংশের তিস্তা নদীতে রেড এলার্ট জারি করেছে। বাংলাদেশের তিস্তা ব্যারাজের উজানের ভারত তিস্তা নদীর অসংরক্ষিত এলাকায় ও ভারতের দো-মোহনী থেকে বাংলাদেশ কালিগঞ্জ জিরো পয়েন্ট পর্যন্ত নদীর অসংরক্ষিত এলাকায় জারি হয়েছে হলুদ সংকেত। এদিকে উজান হতে ভয়াবহ ঢল আসছে খবরে তিস্তা অববাহিকায় ছড়িয়ে পড়েছে চরম আতংক। অপরদিকে ভারতের গজলডোবার গেট খুলে দেয়ার খবরে বাংলাদেশে তিস্তা অববাহিকায় সর্তকতা জারি করেছে ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ড। বাংলাদেশের তিস্তা ব্যারাজ এলাকার ফ্লাড বাইপাস হুমকির মুখে পড়েছে। যে কোন সময় এটি বিধ্বস্থ হতে পারে। সেখানে অবস্থান করছেন ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোস্তাফিজার রহমান। তিনি জানান তিস্তায় ভয়াবহ পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। পানি বৃদ্ধির কারনে নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার তিস্তা অববাহিকার গ্রাম ও চর এলাকায় মাইকিং ও ঢোল শহরত করে মানুজনকে নিরাপদে সরিয়ে নেয়ার কাজ শুরু হয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত ডিমলা খালিশাচাঁপানী ইউনিয়নের বাঁইশপুকুরের একটি সাইট বাধ বিধ্বস্থ হয়েছে। একই ইউনিয়নের ছোটখাতা ও বানপাড়া গ্রামের ঘর-বাড়ির টিনের চালের উপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে বলে এলাকাবাসী জানিয়েছে। নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার পূর্বছাতনাই, টেপাখড়িবাড়ি, খালিশাচাঁপানী, খগাখড়িবাড়ি ইউনিয়নের জনপ্রতিনিধিরা জানান, ডিমলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকতার নির্দেশে মানুষজনকে নিরাপদে সরিয়ে নেয়া হচ্ছে। পূর্বছাতনাই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুল লতিফ বলেন, নদীর পানি হু-হু করে শুধু বাড়ছে আর বাড়ছে। মানুষজনকে নিরাপদে সরিয়ে নেয়া হচ্ছে। ডিমলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেজাউল করিম জানান, উজানের ঢলের খবরে তিস্তা অববাহিকার উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়নের নদী বেষ্টিত গ্রাম ও চরের পরিবারগুলোকে নিরপদে সরে যেতে বলা হয়েছে। ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোস্তাফিজার রহমান জানান, ভারতের দো-মোহনী পয়েন্টে তিস্তা নদীর পানি বিপদসীমার উপর দিয়ে ধেয়ে আসছে বাংলাদেশে। তাই সর্তকতা জারি করা হয়েছে। সেই সাথে তিস্তা ব্যারাজের ৪৪ টি স্লুইচ গেট খুলে রেখে সর্তকদৃস্টি রাখা হয়েছে।

বিএনপি ও আ’লীগ প্রার্থীরা সরব

আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে হাওর এলাকা সুনামগঞ্জ-১ (জামালগঞ্জ-ধর্মপাশা-তাহিরপুর ও মধ্যনগর) আসনে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থীরা তৎপর রয়েছেন। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ থেকে এখন পর্যন্ত পাঁচজন এবং বিএনপি থেকে ছয়জন প্রার্থী নির্বাচনী মাঠে কাজ করছেন। রাজনৈতিক কর্মসূচি ছাড়া বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করে নিজেদের প্রার্থিতা জানান দিচ্ছেন ভোটারদের। দলীয় মনোনয়ন পেতে সম্ভাব্য প্রার্থীরা কেন্দ্রীয় নেতাদের সাথে ব্যাপক লবিং ও দৌড়ঝাঁপ করছেন। কে পাবেন আওয়ামী লীগ-বিএনপির মনোনয়ন নামের সোনার হরিণ এ নিয়ে আলোচনার শেষ নেই। দু’দলের এসব প্রার্থীর মধ্যে রয়েছেনÑ সুনামগঞ্জ-১ আসনের বর্তমান এমপি আওয়ামী লীগের ইঞ্জিনিয়ার মোয়াজ্জেম হোসেন রতন, সাবেক এমপি সৈয়দ রফিকুল হক সোহেল, সুনামগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক রেজাউল করিম শামীম, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সাবেক যুগ্ম সচিব বিনয় ভূষণ তালুকদার, সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের যুব ও ক্রীড়াবিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট রনজিৎ সরকার, জামালগঞ্জের সাবেক মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান শামীমা শাহরিয়ার।
অন্য দিকে বিএনপির প্রার্থীদের মধ্যে নির্বাচনী প্রচারণায় রয়েছেন- সাবেক এমপি সুনামগঞ্জ জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি নজির হোসেন, সাবেক ড্যাব সভাপতি গেল নির্বাচনের প্রার্থী ডা: রফিক চৌধুরী, তাহিরপুর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও জেলা বিএনপির সাংগঠানিক সম্পাদক কামরুজ্জামান কামরুল, তাহিরপুর উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান ও জেলা বিএনপির সহসভাপতি মো: আনিসুল হক, যুক্তরাজ্য প্রবাসী ব্যারিস্টার হামিদুল হক আফিন্দি লিটন এবং ধর্মপাশার উপজেলা চেয়ারম্যান মো: মোতালিব খান। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ এই আসনটি ধরে রাখার জন্য দুইবারের এমপি ইঞ্জিনিয়ার মোয়াজ্জেম হোসেন রতন, দলীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকদের নিয়ে হাওরের গ্রামে গ্রামে ঘুরে উন্নয়ন কাজ করে সভা-সমাবেশ ও গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন। জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক রেজাউল করিম শামীম তৃণমূল নেতাকর্মী ও সমর্থকদের নিয়ে প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন জোরেশোরে। অপর দিকে এই আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চাইবেন সাবেক এমপি সৈয়দ রফিকুল হক সোহেল। তিনিও প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সাবেক যুগ্ম সচিব বিনয় ভূষণ তালুকদার দলীয় কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে প্রচার চালিয়ে নির্বাচনী মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন। সুনামগঞ্জ-১ আসনে সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের যুব ও ক্রীড়াবিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট রনজিৎ সরকার মনোনয়নপ্রত্যাশী হিসেবে তৃতীয়বারের মতো সমর্থক ও দলীয় নেতাকর্মী নিয়ে মাঠে কাজ করে যাচ্ছেন দীর্ঘ দিন থেকে।
ইঞ্জিনিয়ার মোয়াজ্জেম হোসেন রতন বলেছেন, আমি দুইবার নির্বাচিত হওয়ার পর সুনামগঞ্জ-১ আসনে যে উন্নয়ন হয়েছে অতীতে এমন উন্নয়ন কেউ কখনো করেনি। আমি নির্বাচিত হয়ে এ অঞ্চলের মানুষের ভাগ্যোন্নয়নে যোগাযোগ, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, বাসস্থান, চিকিৎসা, বিদ্যুতায়ন, মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মান, দরিদ্র ভূমিহীনদের ভূমিদানসহ সব ক্ষেত্রেই সুদূরপ্রসারী উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করেছি। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এলাকার উন্নয়ন আরো ত্বরান্বিত করতে নৌকা প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করব। সবাইকে নৌকার পক্ষে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি। রেজাউল করিম শামীম বলেন, আমি ছাত্রজীবন থেকেই বঙ্গবন্ধুর আদর্শের সৈনিক হিসেবে ছাত্রলীগের রাজনীতি করে আসছি, স্মরণকালের অকাল বন্যায় সৃষ্ট দুর্যোগে হাওরাঞ্চলের মানুষের পাশে বারবার গিয়ে সাহস জুগিয়েছি। শেখ হাসিনা যদি আমাকে মনোনয়ন দেন তাহলে আমি নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত আছি। নির্বাচনী এলাকায় যথেষ্ট জনপ্রিয়তা আমার রয়েছে। তৃণমূল নেতাকর্মী ও ভোটারেরা আমাকে নৌকার প্রার্থী দেখতে চান। বিনয় ভূষণ তালুকদার বলেন, সামাজিক উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ করে আওয়ামী লীগ সরকারের সফলতা, উন্নয়ন কর্মকাণ্ড ও সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিগুলোর বিষয়ে জনগণকে অবহিতকরণসহ শেখ হাসিনার ভিশন ২০২১-’৪১ বাস্তবায়নে কার্যকর অংশগ্রহণের লক্ষ্যে জনগণকে উদ্বুদ্ধ করে আসছি। রনজিৎ সরকার বলেন, আমি এলাকার ছেলে এলাকায় আমার ব্যাপক জনপ্রিয়তা রয়েছে। সবার সাথে যোগাযোগ হচ্ছে, সবাই আমাকে গ্রহণ করছে। তৃণমূলের মতামত নিলে আমি দলীয় মনোনয়ন পেতে তৃতীয়বারের মতো কাজ করছি। এবার নির্বাচনে নৌকা মার্কা নিয়ে অংশ গ্রহণ করব, আশা করি প্রধান মন্ত্রী এবার আমাকে নিরাশ করবে না। অন্য দিকে, বিএনপির নেতাকর্মী ও সমর্থকেরা সুনামগঞ্জ-১ আসনটি উদ্ধারে পছন্দের প্রার্থীদের নিয়ে মরিয়া হয়ে প্রচারণায় নেমেছেন। বিএনপির সাবেক এমপি নজির হোসেন বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার সাথে কথা বলেছি, উনার নির্দেশেই দলের স্বার্থে এলাকায় গণসংযোগ করছি। সবার সাথে যোগাযোগ করছি দল চাঙ্গা করতে, তৃণমূল নেতাকর্মী ও সমর্থকেরা আমাকেই প্রার্থী হিসেবে দেখতে চান। অতীতে আমার উন্নয়ন কাজের কারণে এই এলাকায় আমার ব্যাপক জনপ্রিয়তা রয়েছে। সব সময় তৃণমূলে উৎসাহজনক সাড়া পাচ্ছি। তিনি মনে করেন ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করলে এই আসনে বিজয় সুনিশ্চিত। নজির হোসেন বলেন, বেগম খালেদা জিয়া যাকে মনোনয়ন দেবেন তার পক্ষে কাজ করলে এই আসনটিতে আমরা নিশ্চিত বিজয়ী হবো। ডা: রফিক চৌধুরী বলেন, আমি ধানের শীষ নিয়ে এই এলাকায় নির্বাচন করেছি, আমাকে কৌশলে অল্পের জন্য পরাজিত করা হয়েছে। আমার বিশ্বাস বেগম খালেদা জিয়া এবার আমাকেই বিএনপির প্রার্থী করবেন। সুষ্ঠু নির্বাচন হলে আমিই পাস করব।
কামরুজ্জামান কামরুল বলেন, তাহিরপুর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার পর তৃণমূল নেতাকর্মী ও সমর্থকদের চাপে সংসদ নির্বাচন করার জন্য মাঠে প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছি। হাওরের মানুষের নানা আন্দোলন-সংগ্রামে আমি সোচ্চার। নির্বাচনে মনোনয়নের প্রত্যাশায় আমি দলীয় নেতাকর্মী নিয়ে সাধারণ মানুষের সাথে ব্যাপকভাবে গণসংযোগ করে যাচ্ছি। অপর প্রার্থী জেলা বিএনপির সহসভাপতি ও তাহিরপুর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আনিসুল হক বলেন, গত বছর আমি মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলাম, দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে মাঠ সরব রেখেছি। ইতোমধ্যে আমি দলীয় চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার সাথে দেখা করে নির্বাচন করার সুযোগ চেয়েছি। বিএনপি চেয়ারপারসনের নির্দেশে ক্ষতিগ্রস্ত হাওরাঞ্চলের মানুষের মধ্যে গণসংযোগ করে যাচ্ছি। সাধ্যমতো হাওরবাসীর পাশে থাকার চেষ্টা করে যাচ্ছি। সেই সাথে আগামী সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে, সুনামগঞ্জ-১ আসনে সব আন্দোলন-সংগ্রামে ত্যাগী নেতাকর্মীদের সাথে নিয়ে কাজ করছি। আশা করি কেন্দ্রীয় নেতারা আমাকে মূল্যায়ন করবেন। ধর্মপাশা উপজেলা চেয়ারম্যান বিএনপি নেতা আ: মোতালিব খান বলেন, আমি সব সময় সাধারণ মানুষের সুখে-দুঃখে পাশে আছি, আর সবসময় থাকব। প্রতিটি উপজেলার প্রত্যন্ত এলাকায় গিয়ে গণসংযোগ করছি। আমিও দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশা করি। আশা করি আমার জনসমর্থন মূল্যায়ন করবেন কেন্দ্রীয় নেতারা।

চাল সঙ্কটের নেপথ্যে

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) ২০১৭ সালের ১ জানুয়ারির সবশেষ হিসাব অনুযায়ী দেশের বর্তমান জনসংখ্যা ১৬ কোটি ১৭ লাখ ৫০ হাজার। ২০১২ সালে ছিল ১৫ কোটি ২৭ লাখ। ২০১৬ সালের ১ জুলাইয়ে এটি বেড়ে দাঁড়ায় ১৬ কোটি ৮ লাখে। ২০০১ সালের আদমশুমারি অনুযায়ী ওই সময় দেশের মোট জনসংখ্যা ছিল ১২ কোটি ৯০ লাখ। এর আগের আদমশুমারিতে ১৯৯১ সালে ছিল ১১ কোটি ২০ লাখ। সরকারি হিসাব মতে ১০ বছরে জনসংখ্যা বেড়েছে মাত্র ১ কোটি ৩১ লাখ ৯ হাজার। অথচ ২০১১ সালের ২০ অক্টোবর ‘বিশ্ব জনসংখ্যা পরিস্থিতি প্রতিবেদন ২০১০’ প্রকাশ করে জাতিসঙ্ঘ জনসংখ্যা তহবিল। সেখানে বলা হয়, বাংলাদেশের জনসংখ্যা ১৬ কোটি ৪৪ লাখ ২৫ হাজার। অথচ তারও এক বছর পরে বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক পরিচালিত ২০১১ সালের আদমশুমারি ও গৃহগণনা রিপোর্টে বলা হয়, দেশের মোট জনসংখ্যা ১৪ কোটি ২৩ লাখ ১৯ হাজার। বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশের চাল সঙ্কটের মূলে এমন গোলমেলে আদমশুমারি। ২০১০ সালের জুলাই মাসে আমেরিকার সেন্ট্রাল ইনটেলিজেন্স এজেন্সির (সিআইএ) ওয়ার্ল্ড ফ্যাক্ট বুকে বাংলাদেশের জনসংখ্যা উল্লেখ করা হয়েছে ১৫ কোটি ৬০ লাখ ৫০ হাজার ৮৮৩ জন। এর আগে ২০০৮ সালে বিশ্বব্যাংকের পরিসংখ্যানে বাংলাদেশের জনসংখ্যা দেখানো হয়েছে ১৬ কোটি। আবার ২০০৭ সালে সিআইএ ওয়ার্ল্ড ফ্যাক্ট বুকে বাংলাদেশের জনসংখ্যা দেখানো হয়েছে ১৫ কোটি। একই বছর জাতিসঙ্ঘ এই সংখ্যা দেখায় ১৫ কোটি ৯০ লাখ। ২০০৫ সালে বাংলাদেশের জনসংখ্যা সম্পর্কে ইন্টারন্যাশনাল পপুলেশন রেফারেন্স ব্যুরো এবং আমেরিকার স্টেট ডিপার্টমেন্টের পৃথক পরিসংখ্যানে ছিল ১৪ কোটি ৪০ লাখ। অন্য দিকে জাতিসঙ্ঘের অর্থনৈতিক ও সামাজিক সম্পর্ক বিভাগের পরিসংখ্যানে ছিল ১৪ কোটি ২০ লাখ। ইউএনএফপিএ ২০০৩ সালে বাংলাদেশের এই জনসংখ্যা দেখিয়েছিল ১৫ কোটি। অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জনসংখ্যার সঠিক সংখ্যা পরিসংখ্যানে উঠে না আসায় দেশের চালের চাহিদা নির্ধারণও সঠিকভাবে হচ্ছে না। একইভাবে চালের উৎপাদন এবং চাহিদা নির্ধারণের ক্ষেত্রেও রয়েছে গোলমাল। ফলস্বরূপ প্রায় প্রতি বছরই চালকেন্দ্রিক নানা সঙ্কটের সৃষ্টি হচ্ছে। উপযুক্ত দাম না পেয়ে এক বছর কৃষক হতাশ হচ্ছেন, অন্য বছর অধিক দামে চাল কিনতে গিয়ে পকেট কাটছে ক্রেতার। চাহিদা ও উৎপাদনের সঠিক তথ্য না থাকায় কখনো আমদানি শুল্ক বাড়াতে হচ্ছে, কখনো প্রত্যাহার করতে হচ্ছে।
আবার কখনো প্রণোদনা হিসেবে দিতে হচ্ছে বিনা বিনিয়োগে আমদানি ঋণপত্র খোলার সুযোগ। এর সবই অর্থনীতির জন্য ক্ষতিকর বলে দাবি অর্থনীতিবিদদের। এ জন্যে সবার আগে সঠিক আদমশুমারি এবং পর্যায়ক্রমে সব নিত্যপণ্যের চাহিদা, উৎপাদন এবং আমদানি-রফতানির সম্ভাব্য পরিমাণ নির্ধারণ করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তারা। অনুসন্ধানে জানা যায়, চাল সঙ্কটের অন্যতম কারণ ক্ষতি নির্ধারণে গোলমেলে অবস্থাও। সরকারি হিসাবে চলতি বছর ধানে ব্লাস্ট রোগ এবং হাওরে আগাম বন্যায় চালের উৎপাদন ১২ লাখ মেট্রিক টন কম হয়েছে। অথচ বেসরকারি হিসাবে উৎপাদন ঘাটতির পরিমাণ প্রায় ৪০ লাখ মেট্রিক টন। বিগত বছরগুলোয় বিদেশ থেকে বেসরকারি পর্যায়ে গড়ে চাল আমদানি করা হতো ১৫ লাখ টন করে। অথচ গত এক বছরে আমদানি হয়েছে মাত্র এক লাখ ২৮ হাজার টন। সরকারি গুদামে চালের মজুদ তলানিতে নেমে এসেছে। সারা বছর যেখানে গড়ে ১০ লাখ টন খাদ্য মজুদ থাকার কথা সেখানে আছে মাত্র ১ লাখ ৯১ হাজার টন। আমদানি শুল্ক প্রত্যাহার বা কমিয়ে আনার বিষয়টি দুই মাস ধরে এনবিআর এবং খাদ্য মন্ত্রণালয়ের রশি টানাটানির মধ্যেই সীমাবদ্ধ রয়ে গেছে। জাতিসঙ্ঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) মতে, বাংলাদেশের বেসরকারি খাতের ব্যবসায়ীদের হাতেও পর্যাপ্ত চালের মজুদ নেই। স্বাভাবিকের চেয়ে ১০ লাখ টন চাল কম নিয়ে ২০১৭ সাল শুরু করেছেন তারা। ফলস্বরূপ গত এক বছরে ৩০ টাকার মোটা চালের দাম বেড়ে হয়েছে ৪৫ থেকে ৫০ টাকা। ৪২ টাকা থেকে বাড়তে বাড়তে ৬০ টাকায় ঠেকেছে সরু চালের দাম। এমতাবস্থায় আগামী দিনগুলোতে চালের দাম আরো বাড়তে পারে এবং গরিব মানুষের ‘ভাতে মরা’র অবস্থার সৃষ্টি হবে বলে আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা। অনুসন্ধান বলছে, চাল সঙ্কটের অন্যতম প্রধান কারণ সঠিক সময়ে সঠিক কাজটি না করা। চরম ঘাটতির সময়েও সরকারের রহস্যজনক নীরবতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে সর্বত্র। খাদ্য মন্ত্রণালয়ের দৈনিক খাদ্যশস্য পরিস্থিতি প্রতিবেদন অনুযায়ী, এপ্রিল মাসের শেষের দিকে কিংবা মে মাসের প্রথম দিকে আন্তর্জাতিক বাজার ে থকে চাল কেনা হলে তার দাম পড়ত বর্তমানের চেয়ে কেজিতে প্রয় ৮ টাকা কম। এতে বলা হয়, ভারত থেকে ৫ শতাংশ ভাঙা সেদ্ধ চাল আমদানি করলে তখন দেশের বাজারে প্রতি কেজির সম্ভাব্য মূল্য দাঁড়াত ৩২ টাকার কিছু বেশি। পাকিস্তান থেকে আনলে তা কেজিপ্রতি প্রায় ৩৫ টাকা পড়ত। অন্য দিকে থাইল্যান্ড থেকে আতপ চাল আমদানি করলে প্রতি কেজি পড়ত ৩২ টাকা ৪৪ পয়সা ও ভিয়েতনাম থেকে আনলে পড়ত ৩৩ টাকা ৬৪ পয়সা। অথচ দেশে তখনো মোটা চাল বিক্রি হচ্ছিল ৪৩ থেকে ৪৫ টাকা কেজিদরে।
কিন্তু গত দুই মাসে আন্তর্জাতিক বাজারে চালের দাম অনেক বেড়ে গেছে। ফলে ১৮ শতাংশ শুল্ক কমানোর ফলে কেজিপ্রতি দাম যেখানে ছয় টাকা কমে আসার কথা সেখানে চাল আমদানি করতে হচ্ছে আরো বাড়তি দামে। অভিযোগ রয়েছে, চাল সঙ্কট নিয়ে দেশবাসীর মধ্যে চরম ক্ষোভ বিরাজ করলেও এখনো সঠিক সিদ্ধান্ত নেয়ার জন্য প্রয়োজনীয় কঠোরতা আরোপ করতে পারছে না সরকার। ঘাটতি মেটাতে এ বছর ১৫ লাখ মেট্রিক টন চাল কেনার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। থাইল্যান্ড ও ভিয়েতনাম থেকে সরকার থেকে সরকার (জিটুজি) পদ্ধতিতে এ চাল কিনতে চান খাদ্য মন্ত্রণালয়ের সাথে সংশ্লিষ্টরা। এ জন্য টনপ্রতি ৪৭০ ডলার দাম অনুমোদন করেছে ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি। অথচ এরই মধ্যে প্রতি টন চাল ৪০৬ দশমিক ৪৮ ডলার দরে সরবরাহ করার জন্য সরকারের কাছে প্রস্তাব পাঠিয়েছে সিঙ্গাপুরভিত্তিক মেসার্স অ্যাগ্রোক্রপ ইন্টারন্যাশনাল নামে একটি প্রতিষ্ঠান। সংশ্লিষ্টদের দাবি, চলতি অর্থবছরে আন্তর্জাতিক বাজার থেকে ১৫ লাখ টন চাল কেনার যে উদ্যোগ সরকার নিয়েছে তাতে কম করে হলেও ৭৮৪ কোটি ৫০ লাখ টাকা ক্ষতি হবে। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের সাথে আলোচনায় বসে দরকষাকষি করা হলে এ দর আরো নিচে নেমে আসবে। অর্থাৎ প্রকৃত অর্থে সরকারের আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ আরো বেশি। সঙ্কট নিরসনে সঠিক পরিসংখ্যান খুব বেশি প্রয়োজন মন্তব্য করে গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) গবেষণা পরিচালক ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম নয়া দিগন্তকে বলেন, জনসংখ্যা সম্পর্কে সঠিত তথ্য না থাকায় আমাদের দেশে ভোগ্যপণ্যের চাহিদা নিরূপণও সবসময় সঠিক হয় না। উৎপাদনের যে পরিসংখ্যান আমরা পাই সেটিও গৎবাঁধা। আবার বিভিন্ন কারণে উৎপাদনের যে ক্ষতি হয় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের গাফিলতি কিংবা অনাগ্রহের কারণে সে তথ্যটিও সঠিকভাবে আসে না। ফলে চাহিদা, উৎপাদন, ঘাটতি, উদ্বৃত্ত কোনো কিছুই আগে ভাগে অনুমান করা সম্ভব হয় না। সঠিত তথ্য-উপাত্ত পাওয়া গেলে এবং সে অনুযায়ী পরিকল্পনা গ্রহণ করা সম্ভব হলে কৃষকও মার খেতেন না আবার ক্রেতাকেও বাড়তি দামে নিত্যপণ্য কিনতে হতো না বলে মন্তব্য করেন তিনি।

সরকারি চাকরির প্রতি কেন আগ্রহ বাড়ছে তরুণদের?

বাংলাদেশে সরকারি চাকরির সবচেয়ে বড় পরীক্ষা বিসিএসের জন্য রেকর্ডসংখ্যক আবেদন পড়েছে। ৩৮তম বিসিএস পরীক্ষায় অংশ নেয়ার জন্য আবেদন করেছে প্রায় চার লাখ চাকুরিপ্রার্থী, যা গতবারের চেয়ে প্রায় দেড় লাখ বেশি। অথচ পদ রয়েছে মাত্র দুই হাজারটির মত। বৃহস্পতিবার আবেদন গ্রহণ শেষ হয়েছে। গত কয়েকটি বিসিএস পরীক্ষাতেই দেখা যাচ্ছে আবেদনকারীর সংখ্যা ক্রমান্বয়ে বাড়ছে। সরকারি চাকরির প্রতি আগে থেকেই অনেকের আগ্রহ থাকলেও, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আগ্রহ এতটা বাড়ার কারণ কী? ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরিতে ঢোকার জন্য প্রতিদিন ভোর থেকে সারি বেঁধে দাঁড়িয়ে থাকেন অনেকে। শুক্রবার বলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির দরজা খোলে বিকেল ৩টায়, তখনো ভিড় কম নয়। দরজায় ব্যাগ কাঁধে যারা দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করছিলেন, তাদের অনেকে দিনের বড় সময় কাটান এই লাইব্রেরিতে এবং সেটা অ্যাকাডেমিক কারণে নয়, তারা পড়াশোনা করেন বিসিএস পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য। সরকারি চাকরির জন্য এই কঠোর অনুশীলনের কারণ জানতে চাইলে বললেন সরকারি চাকরির নিরাপত্তা, বেতন এবং পারিবারিক চাপের কথা। "২০১৫ সালে বেতন কাঠামো পুনর্গঠন করায় এখন সরকারি চাকরির বেতন বেসরকারি চাকরির সমান হয়ে গেছে। এজন্য প্রতিযোগিতাও এখন বেশি।" "পরিবারের মানসিকতা হলো যে সরকারি চাকরি করতে হবে, ক্ষমতা থাকতে হবে, বিয়ে করার জন্য এই চাকরির গ্রহণযোগ্যতা বেশি," বলছিলেন কয়েকজন আবেদনকারী। সরকারি চাকরির মাধ্যমে সেবাপ্রদানের কথাও বললেন কেউ কেউ। ক্যারিয়ারের শুরুতে ভালো বেতনে বেসরকারি চাকরির সুযোগ কম, অন্যদিকে চাকরি না করে নিজ থেকে উদ্যোক্তা হওয়ার ঝুঁকি নিতে চান না অনেকে। "অনেকেই মধ্যবিত্ত বা নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবার থেকে এসেছে। উদ্যোক্তা হওয়ার জন্য যে ৪ থেকে ৫ বছরের একটি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হবে সেসময়ে আমার পরিবার কতটা সাপোর্ট দিতে পারবে সেটাও গুরুত্বপূর্ণ," বলেন অপর একজন। সরকারি চাকরির প্রতি শিক্ষার্থীদের একটি অংশের আগ্রহ সবসময়ই ছিল, তবে কয়েক বছর আগেও এতটা আগ্রহ দেখা যায়নি। অনেক শিক্ষার্থী পাশ করার পর ৪-৫ বছরও কাটিয়ে দিচ্ছেন প্রথম শ্রেণীর সরকারি চাকরির জন্য। অন্যদিকে অনেকে বেসরকারি চাকরি ছেড়েও সরকারি চাকরিতে যোগ দিচ্ছেন। চট্টগ্রাম জেলার সহকারি কমিশনার তানিয়া মুন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকতা ছেড়ে প্রশাসন ক্যাডারে যোগ দিয়েছেন বছরখানেক আগে। এর কারণ হিসেবে তিনি বলছিলেন চাকরির নিরাপত্তা, অবসরের পর পেনশন ও গ্রাচুইটি সুবিধা এবং সামাজিক গ্রহণযোগ্যতার কথা। "আমি আগে যেখানে ছিলাম সেটাও মর্যাদাপূর্ণ ছিল। কিন্তু একইসাথে মর্যাদা, বেতন কাঠামো এবং জব সিকিউরিটি সবকিছু মিলিয়েই এটা আমাকে আকর্ষণ করেছে," বলেন তানিয়া মুন। এরকম আরো অনেক উদাহরণ এখন দেখা যাচ্ছে, যারা অন্য চাকরি ছেড়ে সরকারি চাকরিতে যোগ দিচ্ছেন। অনেক উদাহরণ এখন দেখা যাচ্ছে, যারা অন্য চাকরি ছেড়ে সরকারি চাকরিতে যোগ দিচ্ছেন। অর্থনীতিবিদ এম এম আকাশ মনে করেন, এর পেছনে সরকারি চাকরিতে বেতন বাড়ানো একটি বড় কারণ। পাশাপাশি বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ কম থাকায় চাকরি তৈরি হচ্ছে না এবং উদ্যোক্তা হওয়ার ঝুঁকিও অনেকে নিচ্ছেন না। "পরিসংখ্যান ব্যুরোর সর্বশেষ হিসেবেও দেখা গেছে, উচ্চশিক্ষিত বেকারের সংখ্যা বেড়ে গেছে। বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ হচ্ছে না এবং চাকরির সুযোগ কম। ফলে সরকারেরই যতটুকু বিনিয়োগ সেজন্য সেখানে একটা ঝোঁক বেশি।" অধ্যাপক আকাশ মনে করেন, সরকারি চাকরির প্রতি এতটা আগ্রহ বেসরকারি খাতের একটি অনভিপ্রেত ব্যর্থতারও ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। বেসরকারি বিনিয়োগ না বাড়লে এই ধারা অব্যাহত থাকবে বলে তিনি মনে করছেন। সূত্র : বিবিসি

ঢাবির অনলাইন আবেদনে : অসতর্ক হলেই জরিমানা ২০০ টাকা

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের অধীনে প্রথম বর্ষ (সম্মান) শ্রেণীতে ভর্তির অনলাইন আবেদন করে জরিমানা গুণতে হচ্ছে ভর্তিচ্ছুদেরকে। সঠিক নিয়মে আবেদনপ্রক্রিয়া সম্পন্ন না করায় প্রতি ইউনিটে ২০০ টাকা করে জরিমানা দিতে হচ্ছে তাদের। এ জন্য আবেদনকারীদের অসচেতনতাকেই দায়ী করছেন সংশ্লিষ্টরা। আজ রোববার সকাল থেকে আবেদন-প্রক্রিয়ার ভুল সংশোধন করতে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আসেন শিক্ষার্থীরা। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ভর্তি অফিসের সামনে শিক্ষার্থীদের প্রচণ্ড ভিড় লক্ষ্য করা যায়। জানা যায়, ভর্তির আবেদন-প্রক্রিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে দেয়া নির্দেশিকা অনুসরণ না করায় জরিমানা গুণতে হচ্ছে ভর্তিচ্ছুদের। নিয়ম না মেনে ‘ছবি’ দেয়ার কারণে তাদের জরিমানা গুণতে হচ্ছে। এ পর্যন্ত (দুপুর সাড়ে ১২টা) তিন শতাধিক শিক্ষার্থীর ভর্তি-প্রক্রিয়ায় ভুল সংশোধনের জন্য আবেদনের করার কথা জানা যায়। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি-সংক্রান্ত ওয়েবসাইটে প্রদত্ত নির্দেশিকায় বলা হয় “সকল আবেদনকারীকে ভর্তি আবেদনের ছবির ক্ষেত্রে নিম্নলিখিত বিষয়সমূহ লক্ষ্য করার অনুরোধ করা হচ্ছে। ছবির ব্যাকগ্রাউন্ড সাদা হওয়া বাঞ্ছনীয়। চোখ-কানসহ পূর্ণ মুখমণ্ডল দৃশ্যমান হতে হবে। আবেদনকারীর ছবি দৈর্ঘ্য (লম্বায়) ৫৭৫-৬২৫ পিক্সেল এবং প্রস্থ (চওড়া) ৪২৫-৪৭৫ পিক্সেল-এর মধ্যে হতে হবে। ছবির ফাইল অবশ্যই জেপিজি (.jpeg) ফরম্যাটে থাকতে হবে। ছবিটির ফাইলের সাইজ ১০০ কেবি (kb) এর মধ্যে হতে হবে।” জানা যায়, ভর্তির আবেদনের ছবি প্রদানের ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয় প্রদত্ত নির্দেশিকা অনুসরণ না করায় তা সংশোধন করতে আসে শিক্ষার্থীরা। ভর্তি অফিস সূত্রে জানা যায়, সংশোধনের আবেদনকারী শিক্ষার্থীদের অধিকাংশই ছবিতে নীল ব্যাকগ্রাউন্ড ব্যবহার করেছেন, যদিও ‘ব্যাকগ্রাউন্ড সাদা হওয়া বাঞ্ছনীয়’ বলে নির্দেশিকায় উল্লেখ করা হয়। এছাড়াও কেউ কেউ ‘সেলফি স্টাইলে’ ছবি দিয়েছেন বলে সূত্র জানায়। যা আবেদন প্রক্রিয়ায় অযোগ্য বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।
ছবি-সংক্রান্ত বিষয়ে বিশেষ গুরুত্বের কারণ সম্পর্কে ভর্তি অফিস সূত্রে জানা যায়, ছবি নকল করার মাধ্যমে যেন কেউ ভর্তি পরীক্ষায় জালিযাতি করতে না পারে সেই জন্যই এ ব্যবস্থা। ছবি সংশোধনের জন্য সাভার থেকে আসেন আবেদনকারী জুবায়ের আহমেদ জয়। ‘খ’ ও ‘চ’ ইউনিটে তিনি আবেদন করেছেন। যুবায়ের বলেন, অসাবধানতার কারণেই আমাদের ভুল হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটের নির্দেশিকায় তা উল্লেখ থাকলেও আমরা তা অনুসরণ করিনি। তাড়াহুড়ো করে বাইরের দোকান থেকে আবেদন করায় এ ভুল হয়েছে। এদিকে কেবল ব্যাকগ্রাউন্ডের কারণে সুদূর নেত্রকোনা থেকে ছবি সংশোধনের জন্য আসেন দিলোয়ার হোসেন। তিনি আবেদন করেছেন ‘খ’ ও ‘ঘ’ ইউনিটে। তার সাথে আছে মীর আকাশ। তিনি আবেদন করেছেন ‘ক’ ও ‘ঘ’ ইউনিটে। এ সময় ব্যাকগ্রাউন্ডের কারণে ছবি পরিবর্তন এবং ২০০ টাকা জরিমানাতে ক্ষোভ প্রকাশ করেন ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীরা। এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যারয়েল ভর্তি কমিটির সমন্বয়ক অধ্যাপক ড. হাসিবুর রশীদ বলেন, আমারা বিষয়টি নিয়ে ভাবছি। বিকালে আলোচনা করা হবে।

আ’লীগ ষোড়শ সংশোধনীর রায় পরিবর্তনের জন্য চাপ সৃষ্টি করছে : ফখরুল

আওয়ামী লীগ ষোড়শ সংশোধনীর রায় পরিবর্তনের জন্য বিচারপতি ও বিচার বিভাগের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে- এমন অভিযোগ এনে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, গণতন্ত্রকে ধ্বংস করতে সরকার নতুন করে ষড়যন্ত্র শুরু করেছে। এ থেকে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। তবে এখনই সময় এই ভোটারবিহীন স্বৈরাচারী সরকারের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হয়ে প্রতিবাদ করার, মুখ খোলার। তিনি সরকারের প্রতি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, বিচার বিভাগের ওপর চাপ প্রয়োগ না করে রাজপথে আসুন। বিএনপিকে রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলা করুন। আজ রোববার দুপুরে রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের নিচতলায় এক দোয়া ও মিলাদ মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। চিকিৎসার জন্য লন্ডনে অবস্থানরত বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার রোগমুক্তি কামনায় দোয়া ও মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল। এতে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি রাজীব আহসান এবং সঞ্চালনা করেন ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আকরামুল হাসান। অন্যানের মধ্যে আরো বক্তব্য রাখেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, যুগ্ম-মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন, ঢাকা মহানগর (দক্ষিণ) যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রশিদ হাবিব, স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি শফিউল বারী বাবু, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কাদির ভূঁইয়া জুয়েল প্রমুখ। এসময় ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় নেতা নাজমুল হাসান, আলমগীর হাসান সোহান, আবু আতিক আল হাসান মিন্টু, আসাদুজ্জামান, মফিজুর রহমান আশিক সহ ছাত্রদলের হাজারো নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন। প্রধান অতিথির বক্তব্যে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সরকারের উদ্দেশে বলেন, ক্ষমতার চেয়ারে বসে এবং চারপাশে নিরাপত্তা বেষ্টনী রেখে অনেক কথা বলা যায়। ক্ষমতা ছেড়ে নেমে আসুন দেখুন দেশের জনগণ কাদের পাশে দাঁড়ায়? ষোড়শ সংশোধনী নিয়ে আওয়ামী লীগ নেতাদের সমালোচনা করে তিনি বলেন, সরকার ও আওয়ামী লীগের নেতারা প্রধান বিচারপতি এবং বিচার বিভাগ সম্পর্কে যেভাবে কথা বলছেন সেটা কোনো রাজনৈতিক ভাষা নয়। গণতান্ত্রিক ভাষাও নয়। এ ভাষা হচ্ছে সন্ত্রাস ও সহিংস। অবশ্য এই ভাষায় কথা বলা তাদের চরিত্রও বটে। গণমাধ্যমের বরাত দিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, আমরা উদ্বিগ্ন ও শঙ্কিত। গতকাল রাতে প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহার বাসায় গিয়েছিলেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। সেখানে তিনি নৈশভোজনে অংশ নিয়েছেন। এতে আমরা (বিএনপি) বিস্মিত হয়েছি। কারণ ইতোমধ্যে এরাই প্রধান বিচারপতিকে উদ্দেশ্য করে সন্ত্রাস ও সংঘাতের ভাষায় কথা বলেছে। খালেদা জিয়ার বিদেশে চিকিৎসা প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের নেতাদের বক্তব্যের জবাবে বিএনপি মহাসচিব বলেন, আওয়ামী লীগ খালেদা জিয়াকে ভয় পায়। কারণ খালেদা জিয়া কারো সাথে আপোস করেন না।

সরকার একজন মানুষ হলে তার পায়ে ধরতাম : আবুল মকসুদ

সুন্দরবনের পাশে রামপাল বিদ্যুৎ প্রকল্প বাতিলের দাবি জানিয়ে বিশিষ্ট লেখক-বুদ্ধিজীবী সৈয়দ আবুল মকসুদ বলেছেন, ‘সরকার একটি কালেকটিভ বডি বা যৌথ সরকার। সরকার যদি একজন মানুষ হতেন তাহলে সে মানুষটির পায়ে ধরতাম। বলতাম দয়া করে এ প্রকল্পে আর হাত দেবেন না। বলতাম দয়া করে এ আত্মধসের পথে আপনারা যাবেন না। কিন্তু সরকার কোনো একক মানুষ নয়, এর সাথে আরও অনেকে জড়িত। তবে আমরা যারা পরিবেশ নিয়ে কথা বলি তাদের হয়তো শক্তি কম, তবে আমরা প্রতিবাদ জানিয়েই যাব।’ আজ রোববার সেগুনবাগিচাস্থ ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে ‘সুন্দরবনের পাশে তিন শতাধিক নতুন শিল্পকারখানা স্থাপনে অনুমোদন প্রক্রিয়ার প্রতিবাদ ও বাতিলের দাবি’তে এ সংবাদ সম্মেলনে তিনি একথা বলেন। সংবাদ সম্মেলনে সুন্দরবন রক্ষা জাতীয় কমিটির আহবায়ক অ্যাডভোকেট সুলতানা কামালসহ সুন্দরবন রক্ষা জাতীয় কমিটির অন্যান্য নেতৃবৃন্দের মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের ভূতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক বদরুল ইমাম, বাপা’র সাধারণ সম্পাদক ডা: আব্দুল মতিন ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদ শরিফ জামিল উপস্থিত ছিলেন। সৈয়দ আবুল মকসুদ আরো বলেন, অনেকদিন ধরে পরিবেশবাদীদের পক্ষে আবেদন-নিবেদন করা হচ্ছে সরকার যেন সুন্দরবনের পাশে রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ থেকে সরে আসে। অনেক মিছিল-মিটিং হয়েছে সারা দেশে। তাতেও সরকারের টনক নড়েনি। তিনি বলেন, সুন্দরবনের পাশে রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ যে ক্ষতিকর হবে তা আজকে হয়ত কেউ বুঝতে পারছে না। কিন্তু এ প্রকল্পের জন্য ভবিষ্যত প্রজন্ম আমাদের ক্ষমা করবে না। তারা বলবে ঐ সময়ে এদেশে কি-ধরণের মানুষ ছিলেন? বলবে ঐ আমলের লোকেরা কি জেনে-শুনে আত্মঘাতি কাজটি করেছে? তিনি বলেন, একাত্তরে যে মুক্তিযুদ্ধ হয়েছিল তা ছিল আত্মউন্নতির জন্য। আর এখন আমরা উন্নয়নের নামে আত্মহত্যার দিকে এগুচ্ছি। অ্যাডভোকেট সুলতানা কামাল বলেন, রামপাল বিদ্যুৎ প্রকল্প বিষয়ে সরকারি পরিবেশগত সমীক্ষা ও অন্যান্য প্রতিবেদন অবিলম্বে বাতিল করতে হবে। ইউনেস্কোর নেতৃত্বে একটি আর্ন্তজাতিক, নিরপেক্ষ ও বিজ্ঞানভিত্তিক পরিবেশগত সমীক্ষা পরিচালনা করে নতুন স্থান নির্ধারণ করতে হবে।

শিবির সন্দেহে ঢাবি শিক্ষার্থীকে পিটিয়েছে ছাত্রলীগ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) শিবির সন্দেহে সাধারণ শিক্ষার্থীকে পিটিয়েছে ছাত্রলীগ। গতকাল শনিবার রাত ৮টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমান হলে এ ঘটনা ঘটে। আহত শিক্ষার্থীর নাম মনিরুল ইসলাম। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞান বিভাগের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী। হল সূত্রে জানা যায়, শনিবার রাত ৮টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছাত্রলীগকর্মী আলী হুসেনের নেতৃত্বে শিবির সন্দেহে মনিরুলকে হলের ২২৫ নম্বর কক্ষে ডেকে নিয়ে বেধড়ক মারধর করে। পরে তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। মনিরুলের কয়েকজন বন্ধু জানান, এক বছর আগে মনিরুল ফেসবুকে একটি ইসলামিক পেজ শেয়ার করেছিলেন। গতকাল শনিবার ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা সেটি দেখতে পান। এর পর শিবির সন্দেহে তাঁকে মারধর করে ছাত্রলীগ। ওই শিক্ষার্থী শিবিরের সঙ্গে যুক্ত কি না জানতে চাইলে মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমান হল শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি ইউসুফ উদ্দিন খান বলেন, ‘সে (মনিরুল) কী করে, তা আমার জানা নেই। তবে সে শিবিরের বিভিন্ন পোস্ট শেয়ার করেছিল, তাই সন্দেহ হয়েছে।’

হজের অব্যবস্থাপনা তদন্তে কমিশন গঠনের নির্দেশনা চেয়ে রিট

হজের অব্যবস্থাপনা তদন্তে কমিশন গঠনের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে একটি রিট আবেদন দায়ের করা হয়েছে। সকালে সুপ্রিমকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় এ রিট আবেদনটি দায়ের করেন হিউম্যান রাইডস এন্ড পিস ফর বাংলাদেশের পক্ষে রিট আবেদনটি দায়ের করেন আইনজীবী মনজিল মোরসেদ। আজ দুপুরে বিচারপতি সৈয়দ মো. দস্তগীর হোসেন ও বিচারপতি আতাউর রহমান খানের সম্ননয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে শুনানী হওয়ার কথা রয়েছে। রিট আবেদনে, আগামী ৪৮ ঘন্টার মধ্যে সৌদি কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করে ভিসা জটিলতা দুর করতে বলা হয়েছে। অব্যবস্থাপনায় দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে। যারা এখনো হজে যেতে পারেন নাই তাদেরকে হজে যাওয়ার ব্যবস্থা করার নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে। সম্প্রতি হজে যাওয়ার ক্ষেত্রে ফ্লাইট বাতিলসহ বিভিন্ন বিভিন্ন অব্যবস্থাপনা কারণে হাজার হাজার হজ যাত্রী এখনো পবিত্র মক্কা নগরীর উদ্দেশ্যে রওয়না দিতে পারেন নাই। এ নিয়ে হাজীদের মধ্যে চরম অন্তোষ বিরাজ করছে।

আমরা মাত্র ১০ শতাংশ ফাঁসি দেই : প্রধান বিচারপতি

মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় (যুদ্ধাপরাধ) আপিল বিভাগে ১০ শতাংশ ফাঁসি হয় বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা। আজ রোববার সকালে জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এ টি এম আজহারুল ইসলাম ও জাতীয় পার্টির  নেতা সৈয়দ মোহাম্মদ কায়সারের  আপিল শুনানির তারিখ ধার্য করার সময় প্রধান বিচারপতি এ মন্তব্য করেন। শুনানি কালে প্রধান বিচারপতি বলেন, ট্রাইব্যুনালে গেলে বলা হয় সব ফাঁসি। আমরা সবগুলোয় ফাঁসি দেই না। ২০ থেকে ২৫টি অভিযোগের মধ্যে মাত্র একটি বা দুটিতে ফাঁসি দেই। বাতি অভিযোগে ফাঁসি দেয়া হয় না। আমরা মাত্র ১০ শতাংশ ফাঁসি দেই। এ সময় আসামীপক্ষের আইনজীবী এসএম শাহজাহান বলেন, একটি বা দুটি অভিযোগে ফাঁসি দিলেই তো হয়। আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম ও এটিএম আজহারের পক্ষে জয়নুল আবেদীন তুহিন উপস্থিত ছিলেন। পরে আদালত  এ টি এম আজহারুল ইসলাম ও জাতীয় পার্টির  নেতা সৈয়দ মোহাম্মদ কায়সারের  আপিল শুনানি ১০ অক্টোবর তারিখ ধার্য করেন। আদালতে এটিএম আজহারের পক্ষে অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন তুহিন এবং আর সৈয়দ কায়সারের পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট এসএম শাজাহান। অপর দিকে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটির্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল থেকে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত জামায়াত নেতা এ টি এম আজহারুল ইসলাম খালাস চেয়ে ২০১৫ সালের ২৯ জানুয়ারি আপিল করেন। আপিলে তার খালাসের পক্ষে ১১৩টি যুক্তি তুলে ধরা হয়। ২০১৪ সালের ৩০ ডিসেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিমের নেতৃত্বাধীন ট্রাইব্যুনাল তার বিরুদ্ধে মৃত্যুদন্ড ঘোষণা করে রায় দিয়েছিল। অন্যদিকে জাতীয় পার্টির (জাপা) নেতা সাবেক কৃষি প্রতিমন্ত্রী সৈয়দ মোহাম্মদ কায়সার খালাস চেয়ে ট্রাইব্যুনালের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেন। আপিলে ট্রাইব্যুনালের রায় বাতিলের পাশাপাশি তাকে বেকসুর খালাস দেয়ার আবেদন জানানো হয়। ২০১৫ সালের ১৯ জানিুয়ারি সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের সংশ্লিষ্ট শাখায়  এই আপিল করা হয়। আপিলে খালাসের আরজিতে ৫৬টি যুক্তি তুলে ধরা হয়েছে। ৫০ পৃষ্ঠার মূল আপিলের সঙ্গে প্রয়োজনীয় নথি সংযুক্ত রয়েছে। ২০১৪ সালের ২৩ ডিসেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের নেতৃত্বাধীন আদালত কায়সারকে মৃত্যুদণ্ড ঘোষণা করে রায় দেন। গণহত্যার একটি, হত্যা, নির্যাতন, অগ্নিসংযোগ ও লুণ্ঠনের ১৩টি ও ধর্ষণের দুটিসহ মোট ১৬টি অভিযোগ তার বিরুদ্ধে আনা হয়। এর মধ্যে ১৪টি ট্রাইব্যুনালের রায়ে প্রমাণিত হয়েছে। এর মধ্যে ৩, ৫, ৬, ৮, ১০, ১২ ও ১৬ নম্বর অভিযোগে তাকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়। ২০১৫ সালের ২৮ জানুয়ারি এটিএম আজহারুল ইসলাম খালাস চেয়ে আপিল করেন। খালাসের পক্ষে আপিলে যুক্তি রয়েছে প্রায় ১১৩টি। মূল আপিল আবেদনে ৯০ পৃষ্ঠার সঙ্গে মোট দুই হাজার তিন শত ৪০ পৃষ্ঠার আবেদন জমা দেয়া হয়েছে। এডভোকেট অন রেকর্ড জয়নুল আবেদীন তুহিন এই আপিল দায়ের করেন। আপিল দায়েরের পর এটিএম আজহারের আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির সাংবাদিকদের বলেছিলেন, আপিলে আমরা প্রত্যেকটি অভিযোগ চ্যালেঞ্জ করেছি। আমরা দেখিয়েছি, তিনি কোনো অপরাধের সাথে জড়িত ছিলেন না। এ মামলায় স্বাক্ষীদের পরস্পর বিরোধী বক্তব্য এটিএম আজহারুল ইসলামকে নির্দোষ প্রমান করে।

এটিএম আজহার ও কায়সারের আপিল শুনানি ১০ অক্টোবর

মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এ টি এম আজহারুল ইসলাম ও জাতীয় পার্টির (জাপা) নেতা সাবেক কৃষি প্রতিমন্ত্রী সৈয়দ মোহাম্মদ কায়সারের  আপিল শুনানির জন্য আগামী ১০ অক্টোবর তারিখ ধার্য্ করেছেন আপিল বিভাগ। একই সঙ্গে আগামী ২৪ আগস্টের মধ্যে আপিলের সার সংক্ষেপ দাখিল করতে আসামি ও রাষ্ট্রপক্ষকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। আজ রোববার প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতত্বে তিন সদস্যের আপিল বেঞ্চ এ দিন ধার্যশ করেন। বেঞ্চের অপর দুই সদস্য হলেন- বিচারপতি সৈয়দ মাহমদু হোসেন ও বিচারপতি মির্জা হোসেইন হায়দার। আদালতে এটিএম আজহারের পক্ষে অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন তুহিন এবং আর সৈয়দ কায়সারের পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট এসএম শাজাহান। অপর দিকে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটির্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল থেকে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত জামায়াত নেতা এ টি এম আজহারুল ইসলাম খালাস চেয়ে ২০১৫ সালের ২৯ জানুয়ারি আপিল করেন। আপিলে তার খালাসের পক্ষে ১১৩টি যুক্তি তুলে ধরা হয়। ২০১৪ সালের ৩০ ডিসেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিমের নেতৃত্বাধীন ট্রাইব্যুনাল তার বিরুদ্ধে মৃত্যুদন্ড ঘোষণা করে রায় দিয়েছিল। অন্যদিকে জাতীয় পার্টির (জাপা) নেতা সাবেক কৃষি প্রতিমন্ত্রী সৈয়দ মোহাম্মদ কায়সার খালাস চেয়ে ট্রাইব্যুনালের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেন। আপিলে ট্রাইব্যুনালের রায় বাতিলের পাশাপাশি তাকে বেকসুর খালাস দেয়ার আবেদন জানানো হয়। ২০১৫ সালের ১৯ জানিুয়ারি সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের সংশ্লিষ্ট শাখায়  এই আপিল করা হয়।  আপিলে খালাসের আরজিতে ৫৬টি যুক্তি তুলে ধরা হয়েছে। ৫০ পৃষ্ঠার মূল আপিলের সঙ্গে প্রয়োজনীয় নথি সংযুক্ত রয়েছে। ২০১৪ সালের ২৩ ডিসেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের নেতৃত্বাধীন আদালত কায়সারকে মৃত্যুদণ্ড ঘোষণা করে রায় দেন। গণহত্যার একটি, হত্যা, নির্যাতন, অগ্নিসংযোগ ও লুণ্ঠনের ১৩টি ও ধর্ষণের দুটিসহ মোট ১৬টি অভিযোগ তার বিরুদ্ধে আনা হয়। এর মধ্যে ১৪টি ট্রাইব্যুনালের রায়ে প্রমাণিত হয়েছে।
এর মধ্যে ৩, ৫, ৬, ৮, ১০, ১২ ও ১৬ নম্বর অভিযোগে তাকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়। ২০১৫ সালের ২৮ জানুয়ারি এটিএম আজহারুল ইসলাম খালাস চেয়ে আপিল করেন। খালাসের পক্ষে আপিলে যুক্তি রয়েছে প্রায় ১১৩টি। মূল আপিল আবেদনে ৯০ পৃষ্ঠার সঙ্গে মোট দুই হাজার তিন শত ৪০ পৃষ্ঠার আবেদন জমা দেয়া হয়েছে। এডভোকেট অন রেকর্ড জয়নুল আবেদীন তুহিন এই আপিল দায়ের করেন। আপিল দায়েরের পর এটিএম আজহারের আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির সাংবাদিকদের বলেছিলেন, আপিলে আমরা প্রত্যেকটি অভিযোগ চ্যালেঞ্জ করেছি। আমরা দেখিয়েছি, তিনি কোনো অপরাধের সাথে জড়িত ছিলেন না। এ মামলায় স্বাক্ষীদের পরস্পর বিরোধী বক্তব্য এটিএম আজহারুল ইসলামকে নির্দোষ প্রমান করে। তিনি বলেন, ২৬ নম্বর স্বাক্ষীর জবানবন্দি অনুযায়ী এটিএম আজাহারের বিরুদ্ধে আনা হত্যা, গণহত্যার অভিযোগগুলো প্রমান করতে প্রসিকিউশনের আইনজীবীরা সম্পুর্ন ব্যার্থ। প্রসিকিউশনের ৪ ও ২৫ নম্বর স্বাক্ষীর জবানবন্দি অনুযায়ী ডকুমেন্ট তৈরী করে তারা (প্রসিকিউশন) নিজেদের মতো করে মামলা সাজিয়েছে। আশা করি আপিল বিভাগে এটিএম আজহারুল ইসলাম খালাস পাবেন এবং ন্যায় বিচার পাবেন। ২০১৪ সালের ৩০ ডিসেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিমের নেতৃত্বাধীন ট্রাইব্যুনাল তার বিরুদ্ধে মৃত্যুদন্ডের রায় দিয়েছিল। এটিএম আজহারের বিরুদ্ধে হত্যা, গণহত্যা, ধর্ষণ, নির্যাতন, অগ্নিসংযোগসহ ৬টি অভিযোগ আনে প্রসিকিউশন। ট্রাইব্যুনালের দেয়া রায়ে ৫টি অভিযোগ প্রমাণিত হয়। ২, ৩ ও ৪ নম্বর অভিযোগে মৃদ্যুদন্ড দেয় ট্রাইব্যুনাল। ৫ নম্বর অভিযোগে ২৫ বছর জেল ও ৬ নম্বর অভিযোগে ৫ বছরের জেল দেয়া হয় তাকে। তার ১ নম্বর অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি বলে রায়ে বলা হয়। ২০১২ সালের ২২ আগস্ট ট্রাইব্যুনালের আদেশে রাজধানীর মগবাজারের নিজ বাসা থেকে এটিএম আজহারুল ইসলামকে গ্রেফতার করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। তখন প্রসিকিউশন তাকে গ্রেফতারের আবেদন করা হয়েছিল।
সৈয়দ মোহাম্মদ কায়সার
সাবেক কৃষি প্রতিমন্ত্রী সৈয়দ মোহাম্মদ কায়সার ট্র্রাইব্যুনালের রায়ের বিরুদ্ধে খালাস চেয়ে আপিল করেন ২০১৫ সালের ১৯ জানুয়ারি। আপিলে ট্রাইব্যুনালের রায় বাতিলের পাশাপাশি তাকে বেকসুর খালাসের আবেদন জানানো হয়। আপিলে খালাসের আর্জিতে ৫৬টি যুক্তি তুলে ধরা হয়েছে। ৫০ পৃষ্ঠার মূল আপিলের সঙ্গে প্রয়োজনীয় নথি সংযুক্ত রয়েছে। তার পক্ষে এডভোকেট অন রেকর্ড জয়নুল আবেদীন তুহিন আপিল করেন।২০১৪ সালের ২৩ ডিসেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের নেতৃত্বে তিন সদস্যের আদালত সৈয়দ মোহাম্মদ কায়সারের মৃত্যুদন্ডের রায় দেন। গণহত্যার একটি, হত্যা, নির্যাতন, অগ্নিসংযোগ ও লুণ্ঠনের ১৩টি ও ধর্ষণের দুটিসহ মোট ১৬টি অভিযোগ তার বিরুদ্ধে আনা হয়, যার মধ্যে ১৪টি ট্রাইব্যুনালের রায়ে প্রমাণিত হয়। এর মধ্যে ৩, ৫, ৬, ৮, ১০, ১২ ও ১৬ নম্বর অভিযোগে তাকে মৃত্যুদন্ড দেয় ট্রাইব্যুনাল। এছাড়া ১, ৯, ১৩ ও ১৪ নম্বর অভিযোগে আমৃত্যু কারাদন্ড ও ২ নম্বর অভিযোগে ১০ বছর, ৭ নম্বরে সাত বছর ও ১১ নম্বরে পাঁচ বছর কারাদন্ড দেয়া হয়। ৪ ও ১৫ নম্বর অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় এসব অভিযোগে কোনো সাজা দেয়া হয়নি।

নারায়ণগঞ্জে সাত খুন মামলার রায় পিছিয়ে ২২ আগষ্ট

নারায়ণগঞ্জে আলোচিত সাত খুন মামলায় আসামিদের ডেথ রেফারেন্স (মৃত্যুদণ্ড অনুমোদন) ও আপিলের রায় পিছিয়ে আগামী ২২ আগষ্ট নির্ধারণ করেছেন আদালত। আজ রোববার উচ্চ আদালতে রায় ঘোষণার কথা ছিল। সকাল সাড়ে ১০ টায় আদালত শুরুর কয়েক মিনিটের মধ্যে রায় ঘোষণা না করে পরবর্তী তারিখ জানিয়ে দেয়া হয়। এর আগে গত ২৬ জুলাই বিচারপতি ভবানী প্রসাদ সিংহ ও বিচারপতি মোস্তফা জামান ইসলামের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ রায়ের এই দিন ধার্য করেন। ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল কে এম জাহিদ সারওয়ার গতকাল জানান, আজ রোববার সকাল সাড়ে ১০টা থেকে রায় ঘোষণা শুরু হবে। ২০১৪ সালের ২৭ এপ্রিল ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোড থেকে অপহৃত হন নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলর নজরুল ইসলাম, আইনজীবী চন্দন সরকারসহ সাতজন। তিন দিন পর ৩০ এপ্রিল শীতলক্ষ্যা নদীতে একে একে ভেসে ওঠে ছয়টি লাশ, পরদিন মেলে আরেকটি লাশ। সাত খুনের ঘটনায় দুটি মামলা হয়। দুই মামলায় নারায়ণগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ গত ১৬ জানুয়ারি রায় দেন। রায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন সাবেক কাউন্সিলর ও আওয়ামী লীগের নেতা নূর হোসেন, র‍্যাব-১১-এর সাবেক অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) তারেক সাঈদ মোহাম্মদ, সাবেক দুই কোম্পানি কমান্ডার মেজর (অব.) আরিফ হোসেন, লে. কমান্ডার (চাকরিচ্যুত) এম মাসুদ রানা, হাবিলদার মো. এমদাদুল হক, এ বি মো. আরিফ হোসেন, ল্যান্স নায়েক হিরা মিয়া, ল্যান্স নায়েক বেলাল হোসেন, সিপাহি আবু তৈয়ব আলী, কনস্টেবল মো. শিহাব উদ্দিন, এসআই পূর্ণেন্দু বালা, সৈনিক আসাদুজ্জামান নুর, সৈনিক আবদুল আলিম, সৈনিক মহিউদ্দিন মুনশি, সৈনিক আল আমিন, সৈনিক তাজুল ইসলাম, সার্জেন্ট এনামুল কবির, নূর হোসেনের সহযোগী আলী মোহাম্মদ, মিজানুর রহমান, রহম আলী, আবুল বাশার, মোর্তুজা জামান, সেলিম, সানাউল্লাহ, শাহজাহান ও জামালউদ্দিন। রাষ্ট্রপক্ষ জানায়, মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে পাঁচজন পলাতক। তাঁরা হলেন সৈনিক মহিউদ্দিন মুনশি, সৈনিক আল আমিন, সৈনিক তাজুল ইসলাম, নূর হোসেনের সহকারী সানাউল্লাহ ওশাহজাহান। গত ২২ মে সাত খুন মামলায় মৃত্যুদণ্ডাদেশপ্রাপ্ত আসামিদের ডেথ রেফারেন্স ও আপিলের শুনানি শুরু হয়। সাত খুন মামলায় মৃত্যুদণ্ডাদেশপ্রাপ্ত আসামিদের মধ্যে নূর হোসেন, তারেক সাঈদ, আরিফ হোসেন, মাসুদ রানা, এমদাদুল হক (হাবিলদার), বেলাল হোসেন, আবু তৈয়ব, শিহাব উদ্দিন, এসআই সুনেন্দু বালা, পূর্ণেন্দু বালা, আসাদুজ্জামান নূর, মূর্তজা জামান চার্চিল, আলী মোহাম্মদ, মিজানুর রহমান বিপু, আবুল বাশার, রহম আলীসহ ২০ আসামি হাইকোর্টে নিয়মিত আপিল ও জেল আপিল দায়ের করেছেন। চাঞ্চল্যকর সাত খুনের মামলায় গত ১৬ জানুয়ারি সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর নূর হোসেন ও র‍্যাবের বরখাস্তকৃত তিন কর্মকর্তাসহ ২৬ জনকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দিয়ে নারায়ণগঞ্জের জেলা ও দায়রা জজ সৈয়দ এনায়েত হোসেন রায় দেয়। এ মামলার ৩৫ আসামির মধ্যে বাকি নয়জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। গত ২২ জানুয়ারি ১৬৩ পাতার পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হয়। ওই দিনই পূর্ণাঙ্গ রায়ের কপি, জুডিশিয়াল রেকর্ড, সিডিসহ বিভিন্ন নথি (ডেথ রেফারেন্স) হাইকোর্টে পৌঁছে দেন বিচারিক আদালত। প্রধান বিচারপতির নির্দেশে এ মামলার পেপারবুক প্রস্তুতে দ্রুত উদ্যোগ নেওয়া হয়। সেই পরিপ্রেক্ষিতে গত ৭ মে মামলার পেপারবুক হাইকোর্টে এসেছে। পেপারবুকটি প্রায় ছয় হাজার পৃষ্ঠার। ২০১৪ সালের ২৭ এপ্রিল বেলা দেড়টার দিকে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোড থেকে অপহৃত হন নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলর নজরুল ইসলাম, আইনজীবী চন্দন সরকারসহ সাতজন। তিন দিন পর ৩০ এপ্রিল শীতলক্ষ্যা নদীতে একে একে ভেসে ওঠে ছয়টি লাশ। পরদিন মেলে আরেকটি লাশ। নিহত অন্যরা হলেন নজরুলের বন্ধু মনিরুজ্জামান স্বপন, তাজুল ইসলাম, লিটন, গাড়িচালক জাহাঙ্গীর আলম ও চন্দন সরকারের গাড়িচালক মো. ইব্রাহীম। ঘটনার একদিন পর কাউন্সিলর নজরুলের স্ত্রী সেলিনা ইসলাম বাদী হয়ে নূর হোসেনসহ ছয়জনের নাম উল্লেখ করে ফতুল্লা মডেল থানায় মামলা করেন।

সাবমেরিন ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার প্রস্তুতি উ. কোরিয়ার

উত্তর কোরিয়া সাবমেরিনভিত্তিক ব্যালাস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছে। স্যাটেলাইটে পাওয়া বিভিন্ন ছবির ওপর ভিত্তি করে শুক্রবার এমন তথ্য দিয়েছেন উত্তর কোরিয়ার প্রতিরক্ষা ও গোয়েন্দা সম্পর্ক বিষয়ে বিশেষজ্ঞ জোসেফ বারমুদেজ। খবর এএফপি ও এনডিটিভির। খবরে বলা হয়, বারমুদেজ স্যাটেলাইটে পাওয়া এ সংক্রান্ত ছবিগুলো পোস্ট করেছেন জন হপকিন্স ইউনিভার্সিটির ইউএস-কোরিয়া ইন্সটিটিউটের ‘৩৮ নর্থ’ ব্লগে। সেখানে দেখানো হয়েছে, উত্তর কোরিয়া সাবমেরিনচালিত ব্যাপক বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার জন্য প্রস্তুত। জোসেফ বারমুদেজ বলেন, বাণিজ্যিক স্যাটেলাইটে সম্প্রতি পাওয়া কিছু ছবি দেখে এমন আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বলা যায়, উত্তর কোরিয়া সমুদ্রভিত্তিক পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করেছে বা করছে। তিনি আরও বলেন, মায়াংডোতে নৌবাহিনীর শিপইয়ার্ড ও সাবমেরিন ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্রবিষয়ক কর্মতৎপরতা দেখা গেছে। এ থেকে বোঝা যায়, উত্তর কোরিয়া সমুদ্রে ধারাবাহিকভাবে নতুন ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার জন্য প্রস্তুত থাকতে পারে। তারা এ সংক্রান্ত প্রযুুক্তি আধুনিকায়ন করেছে। জানা যায়, উত্তর কোরিয়ার হাতে সাবমেরিনভিত্তিক ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে। এর নাম পুকগুকসং-১। এটি ২০১৬ সালে প্রথমবার সফলভাবে পরীক্ষা করা হয়। এটি জাপানের দিকে ৫০০ কিলোমিটার দূরত্বে উড়ে গিয়েছিল। তখন বলা হয়েছিল, এটি দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ডে আঘাত করা সম্ভব। বেশ কিছু দিন ধরে যুক্তরাষ্ট্র ও উত্তর কোরিয়ার সম্পর্কে তুমুল উত্তেজনা বিরাজ করছে। যুক্তরাষ্ট্র উত্তর কোরিয়ায় সামরিক অভিযানের হুমকি দেয়। পাল্টা হুমকিতে উত্তর কোরিয়া জানায়, এ মাসেই প্রশান্ত মহাসাগরে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি গুয়ামে হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে তারা। দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদ মাধ্যম জানায়, সেখানে হুয়াসং-১২ নামের চারটি দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার চিন্তা করছে উত্তর কোরিয়া। নিভৃতকামী কমিউনিস্ট দেশটির নেতা কিম জং উন যদি এ ধরণের পরিকল্পনায় অনুমোদন দেন, তাহলে জাপানের মূল ভূখণ্ডের ওপর দিয়ে ৩০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে ক্ষেপণাস্ত্রগুলো গুয়ামসংলগ্ন সমুদ্রে আছড়ে পড়বে। এতে দুই দেশের মাঝে চলমান উত্তেজনা আরও তীব্র রূপ নেবে বলে আশঙ্কা বিশেষজ্ঞদের। উল্লেখ্য, গুয়ামে মার্কিন বিমান ঘাঁটি রয়েছে। এটি যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত বোমারু বিমান ঘাঁটি। সেখানে সাবমেরিন ও কোস্টগার্ড ইউনিটও আছে। সেখানে দেশটির অনেক সেনা ও প্রায় ১ লাখ ৬৩ হাজার মানুষের বসবাস। বিবিসি ও সিএনএন।

ভারতে গো-রক্ষা নীতিতে কৃষকরা ক্ষতিতে

ভারতে হিন্দুত্ববাদী দল বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর গো-রক্ষার যে তৎপরতা শুরু হয়েছে, তার বিপদ নিয়ে এবার সতর্কবার্তা দিয়েছে দেশটির অর্থ মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয়ের আর্থিক সমীক্ষা প্রতিবেদন উদ্ধৃত করে কলকাতার আনন্দবাজার পত্রিকা বলছে, গবাদি পশু জবাইয়ে পুরোপুরি নিষেধাজ্ঞা টানা হলে সব থেকে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন কৃষকরাই। এতদিন কৃষক সংগঠনগুলো এ আশঙ্কার কথা জানিয়ে আসছিল। অর্থনীতিবিদরাও একই আশঙ্কার কথা বলছিলেন। নরেন্দ্র মোদি ক্ষমতায় আসার পর থেকেই গো-মাংস নিয়ে ‘বাড়াবাড়ি’ শুরু হয়। গরু জবাইকে কেন্দ্র করে একের পর এক পিটিয়ে হত্যার খবর আসে গণমাধ্যমে। আপত্তি উপেক্ষা করেই হাট-বাজারে গবাদি পশুই জবাইয়ের উদ্দেশ্যে কেনাবেচা করা যাবে না বলে নিয়ম জারি করে কেন্দ্রীয় সরকার। আর্থিক সমীক্ষা প্রতিবেদনের কোথাও সরাসরি গবাদি পশু জবাইয়ে নিষেধাজ্ঞা বা গো-রক্ষক বাহিনীর কথা উল্লেখ করা হয়নি। তবে বলা হয়েছে, কর্মক্ষমতা হারানোর পরে গবাদি পশুর দামের উপরেও পশুপালকদের রুটিরুজি নির্ভর করে। এমনিতেই কৃষি থেকে আয় পড়তির দিকে। কোনো ‘সামাজিক নীতি’র জেরে পশুর মাংস বেচে আয় বন্ধ হলে এবং বুড়িয়ে যাওয়া গবাদি পশুকে বসিয়ে খাওয়াতে হলে চাষী-পশুপালকদের আয় আরও কমবে।

গভর্নর হতে প্রচারণায় ১৬ বছরের কিশোর

বয়স মাত্র ১৬ বছর। এখনও স্কুলের গণ্ডি পার হয়নি। ভোটার তালিকায় নাম ওঠানোরও যোগ্য হয়নি। তবুও যুক্তরাষ্ট্রের কানসাস রাজ্যের গভর্নর হতে চায় জ্যাক বার্গসন নামের এক কিশোর। বুধবার এবিসি টেলিভিশনে ‘জিমি কিমেল লাইভ’ নামের মধ্যরাতের কমেডিনির্ভর টকশোতে হাজির হয়েছিল বার্গসন। এরপর থেকেই তার গভর্নর হওয়ার অভিলাষের খবরটা ভাইরাল হয়ে যায়। ওইদিন কানসাসের উইচিতায় নিজ শয়নকক্ষ থেকে লাইভ ভিডিওতে টকশোর উপস্থাপক কিমেলের এক প্রশ্নের জবাবে বার্গসন বলে, ‘আমার অন্যতম চাওয়া হল শিশুদের রাজনীতিতে সম্পৃক্ত করা।’ ২০১৮ সালে অনুষ্ঠেয় কানসাস গভর্নর নির্বাচনে ডেমোক্রেটিক পার্টির হয়ে লড়বেন বার্গসন। তার রানিংমেট হয়ে লেফটেন্যান্ট গভর্নর পদের জন্য লড়বে আরেক স্কুলছাত্র আলেকজান্ডার ক্লাইন। নির্বাচনে জয়ী হলে তাদের রাষ্ট্রীয় কর্মকাণ্ড চালাতে হবে স্কুলশিক্ষকদের সঙ্গে। আগামী বছর বার্গসনের বয়স হবে ১৭ বছর। অর্থাৎ ১৮ বছরের কম হওয়ায় নিজের ভোটটিও দিতে পারবে না সে। কানসাসের স্থানীয় সংবাদপত্র সিটি স্টারের খবরে বলা হয়, রাজ্যটিতে গভর্নর হওয়ার জন্য নির্ধারিত বয়সসীমা নেই। আর এ সুযোগ নিয়ে দুই কিশোর গভর্নর ও তার ডেপুটি হওয়ার লড়াইয়ে নেমেছে। যুক্তরাষ্ট্রের অন্য প্রায় সব রাজ্যেই গভর্নর হওয়ার বয়সসীমা আছে। কানসাসের পার্শ্ববর্তী মিসৌরিতে গভর্নর হতে হলে কাউকে অবশ্যই ৩০ বছর বয়সী হতে হবে।

পুরুষ হলেই বাড়তি বিল!

রেস্তোরাঁর নাম ‘হ্যান্ডসাম হার’। এখানে প্রবেশের পরই চোখে পড়বে একটি কালো বোর্ড। এটি ইটের ওপর দাঁড় করানো আছে। আর এ বোর্ডেই লেখা আছে রেস্তোরাঁর নিয়মকানুন। এতে লেখা হয়েছে, গ্রাহক নারী হলে আগে সেবা পাবেন। তবে পুরুষ হলে সেবা শুধু একটু পরে পাবেন তাই নয়, তাদের বিলও বেশি পরিশোধ করতে হবে। যা নির্ধারিত দামের চেয়ে ১৮ শতাংশ বেশি। অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্নে অবস্থিত এ রেস্তোরাঁ চলতি মাসের শুরুতে চালু হয়েছে। রেস্তোরাঁর ব্যবস্থাপক বেলে নিয়েন বলেন, অস্ট্রেলিয়ায় নারীদের চেয়ে পুরুষরা প্রায় ১৭ দশমিক ৭ শতাংশ বেশি আয় করেন। আয়ের এ ঘাটতি পূরণ করতেই পুরুষ গ্রাহকদের কাছ থেকে বেশি অর্থ নেয়া হচ্ছে। প্রতি মাসের মাত্র একটি সপ্তাহে এ নিয়ম চালু থাকে। এভাবে পাওয়া অর্থ নারীদের জন্য কাজ করে এমন দাতব্য প্রতিষ্ঠানকে দেয়া হয়। রেস্তোরাঁ মালিক অ্যালেক্স ও’ব্রায়েন ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন, কোনো কোনো গ্রাহক ১৮ শতাংশের বেশি অর্থও দেন। হ্যান্ডসাম হার পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন হওয়ায় মানুষ বেশি আসেন বলেও তিনি দাবি করেন। ওয়েবসাইট।

আপনারা কি বিপ্লবের জন্য প্রস্তুত?

পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফ তার সমর্থকদের প্রতি প্রশ্ন রেখে বলেছেন, পাকিস্তানে আরেকটা বিপ্লব দরকার। আপনরা কি বিপ্লবের জন্য প্রস্তুত আছেন- নিজের ‘বাড়িফেরা’ র‌্যালি কর্মসূচির চতুর্থ ও শেষ দিন শনিবার এক জনসমাবেশে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এ কথা বলেন। ৯ আগস্ট রাজধানী ইসলামাবাদ থেকে এ র‌্যালি কর্মসূচি শুরু হয়। ২৮ জুলাই সুপ্রিমকোর্টের রায়ে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর নতুন করে নিজের শক্তি প্রদর্শন করতে এ ‘ঘরেফেরা’ কর্মসূচির ঘোষণা দেন। ডন জানায়, নিজের জন্মস্থান লাহোরের উদ্দেশে রওনা হওয়ার আগে মুরিদেকে নামক স্থানের তিনি বক্তব্য দেন। নিজের বক্তব্যে সুপ্রিমকোর্টের রায়ের সমালোচনা করেছেন নওয়াজ। পাঞ্জাবের মুরিদকে শহরে হাজার হাজার সমর্থককে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, আপনারা হতাশ হবেন না। কোনো চিন্তা করবেন না। এটা আপনাদেরই বিজয়। তাদেরই পরাজয় হয়েছে, যারা এ জাতিকে গত ৭০ বছর ধরে জিম্মি করে রেখেছে। তিনি আরও বলেন, এ দেশের ২০ কোটি মানুষ এ দেশের প্রকৃত মালিক। মুষ্টিমেয় কয়েকজন তাদের ওপর খবরদারি করতে পারে না। আমরা এ ২০ কোটি জনগণকে এদেশের প্রকৃত মালিক বানাব। নওয়াজ শরিফ আপনাদের কাছে এসেছে। তিনি প্রশ্ন রাখেন, আপনারা কি প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত করে নওয়াজকে ইসলামাবাদ পাঠাননি? কিন্তু মাত্র কয়েকজনের মাধ্যমে তিনি বিতাড়িত হয়েছেন। এই সিদ্ধান্ত কি আপনাদের কাছে গ্রহণযোগ্য? পাকিস্তান ২০ কোটি মানুষের। নওয়াজ শরিফ যদি কোনো দুর্নীতি করতেন, তাহলে আপনারা নিজেরাই আমাকে ক্ষমতাচ্যুত করতে পারতেন। কিন্তু সে সিদ্ধান্ত আপনাদের নিতে দেয়া হয়নি। তিনি আরও বলেন, আমার বিরুদ্ধে কোনো দুর্নীতির অভিযোগ নেই। মুরিদকের জনগণ, আপনাকে বলুন, ‘সুপ্রিম কোর্টের এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবেন। এটা কি আপনাদের প্রতি অপমান নয়।’ এরপর তিনি বলেন, একটা বিপ্লব কি হওয়া উচিত নয়। আপনারা কি বিপ্লবের জন্য প্রস্তুত আছেন? এর আগে রাওয়ালপিন্ডিতে এক সমাবেশে তিনি তার সমর্থকদের প্রতি দেশের গণতন্ত্র উদ্ধারে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। নওয়াজ বলেন, নিজের শাসনের সময়সীমা শেষ হওয়ার আগেই তাকে ক্ষমতাচ্যুত হতে হয়েছে। পাকিস্তানে গত ৭০ বছর ধরেই চলে আসছে এই ইতিহাস। তার ক্ষোভ, পাক প্রধানমন্ত্রীরা কখনও নিজেদের শাসনের সময়সীমা পূরণ করে উঠতে পারেননি। প্রায় প্রত্যেক প্রধানমন্ত্রীই গড়ে দেড় বছর ক্ষমতায় থাকার সুযোগ পেয়েছেন। অনেককে জেলবন্দি হতে হয়েছে। কাউকে কাউকে তো ফাঁসিও দেয়া হয়েছে। অনেককে দ্বীপান্তরে পাঠানো হয়েছে। গণতন্ত্রকে বাঁচানোর জন্য মানুষের কাছে আর্জি জানিয়ে তিনি বলেন, প্রতিজ্ঞা করুন, নিজেদের প্রধানমন্ত্রীকে এভাবে অপমানিত হতে দেবেন না।

ভেনিজুয়েলায় সামরিক অভিযানের হুমকি ট্রাম্পের

ভেনিজুয়েলায় সামরিক অভিযানের কথা বিবেচনা করছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির চলমান পরিস্থিতিকে ‘খুবই ভয়াবহ’ বর্ণনা করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ভেনিজুয়েলার চলমান সংকট মোকাবেলায় সামরিক হামলার সম্ভাবনা উড়িয়ে দিচ্ছেন না তিনি। এদিকে উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের মুখোমুখি অবস্থান। কোরীয় উপদ্বীপ অঞ্চলে যেকোনো সময় দু’দেশের মধ্যে যুদ্ধ লেগে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ঠিক এমন সময় লাতিন আমেরিকার দেশ ভেনিজুয়েলার রাজনৈতিক সংকটে সামরিক অভিযান চালানো হতে পারে বলে হুশিয়ারি দিলেন ট্রাম্প। খবর বিবিসির। ট্রাম্প বলেছেন, ভেনিজুয়েলার মানুষ দুর্ভোগ পোহাচ্ছে। তারা মারা যাচ্ছে। এমন অবস্থায় তিনি সেখানে সামরিক অভিযানের কথা এড়িয়ে যাচ্ছেন না। তার এ বক্তব্যের কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ভেনিজুয়েলার প্রতিরক্ষা মন্ত্রী ভ্লাদিমির পাদ্রিনো। তিনি ট্রাম্পের এমন মন্তব্যকে ‘পাগলামি’ বলে অভিহিত করেছেন। ভেনিজুয়েলায় সম্প্রতি অনুষ্ঠিত হয় প্রেসিডেন্ট ও নতুন পার্লামেন্টের নির্বাচন। সেই নির্বাচনকে অগণতান্ত্রিক বলে আখ্যা দিয়ে ব্যাপক সমালোচনা হচ্ছে। বিক্ষোভ সমাবেশ হচ্ছে ভেনিজুয়েলায়। এতে এপ্রিল থেকে কমপক্ষে ১২০ জন মারা গেছেন। দৃশ্যত রাজধানী কারাকাস মাঝে মাঝেই পরিণত হচ্ছে রণক্ষেত্রে। বিরোধীদলীয় নেতাদের ধরে নিয়ে যাচ্ছে নিরাপত্তারক্ষীরা। এমন পরিস্থিতিতে প্রেসিডেন্ট মাদুরোকে ‘স্বৈরশাসক’ আখ্যায়িত করে তার বিরুদ্ধে অবরোধ দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। শুক্রবার রাতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট সাংবাদিকদের বলেছেন, ভেনিজুয়েলার জন্য আমাদের হাতে অনেক অপশন আছে। প্রয়োজন হলে সেখানে সামরিক অভিযানও চালানো হতে পারে। এদিকে হোয়াইট হাউস জানায়, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে আলাপের আহ্বান জানিয়েছেন ভেনিজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো। এর জবাবে ট্রাম্প বলেছেন, মাদুরো তার দেশে ‘গণতন্ত্র’ ফিরিয়ে আনলেই তার সঙ্গে কথা বলবেন তিনি। ওদিকে ভেনিজুয়েলার ওপর আঞ্চলিক চাপ অব্যাহত আছে। পেরুতে নিয়োজিত ভেনিজুয়েলার রাষ্ট্রদূত ডিয়েগো মোলেরোকে বহিষ্কারের নির্দেশ দিয়েছে পেরু। তাকে এ নির্দেশের ৫ দিনের মধ্যে পেরু ছাড়তে হবে। আঞ্চলিক ১১টি বড় দেশ ভেনিজুয়েলার বিতর্কিত নির্বাচনের নিন্দা জানানোর পর টুইটারে এমন নির্দেশনার কথা জানিয়েছে পেরুর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

বাকযুদ্ধ ও উসকানি বন্ধ করুন

উত্তর কোরিয়া-যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধাবস্থার মধ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। শনিবারের এ ফোনালাপে জিনপিং উত্তর কোরিয়াকে ঘিরে উসকানি বন্ধ করতে ট্রাম্পের প্রতি আহ্বান জানান। ট্রাম্পকে জিনপিং বলেন, সব পক্ষকেই কথার যুদ্ধ ও এমন কর্মকাণ্ড বর্জন করতে হবে, যা কোরীয় উপদ্বীপে এরই মধ্যে যে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে তা আরও খারাপের দিকে নিয়ে যেতে পারে। জিনপিংয়ের বরাত দিয়ে চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানায়, ‘জিনপিং বলেছেন, সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে এখন অবশ্যই সংযমনীতি গ্রহণ করতে হবে।’ পিয়ংইয়ংয়ের প্রতি ট্রাম্প তার হুশিয়ারির মাত্রা আরও বাড়ানোর কয়েক ঘণ্টা পরই এক ফোনালাপে জিনপিং এসব কথা বলেন। যুক্তরাষ্ট্র-নিয়ন্ত্রিত প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপ গুয়ামে কোনোকিছু হলে ও যুক্তরাষ্ট্রের ওপর কোনো হামলা চালানো হলে উত্তর কোরিয়া ‘বড় ধরনের সমস্যায়’ পড়বে এবং দেশটির সরকার ‘সত্যিই অনুতাপ’ করবে বলে হুশিয়ার দেন ট্রাম্প। ফোনালাপের পর হোয়াইট হাউস এক বিবৃতিতে বলেছে, উত্তর কোরিয়াকে উসকানিমূলক আচরণ অবশ্যই বন্ধ করতে এ ব্যাপারে এ দুই নেতা একমত হয়েছেন। একইসঙ্গে কোরীয় উপদ্বীপকে পরমাণু নিরস্ত্রীকরণে তারা উভয়েই প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হয়েছেন বলে দাবি করেছে হোয়াইট হাউস। তবে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, জিনপিং ট্রাম্পকে ‘কথার যুদ্ধ’ বন্ধ করে রাজনৈতিক সমাধান খোঁজার আহ্বান জানিয়েছে। উত্তর কোরিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা ও পরমাণু কর্মসূচি থামানোর দেশটিকে চাপের মধ্যে রাখতে চীনের প্রতি চাপ দিয়ে যাচ্ছে। তবে উত্তর কোরিয়ার সবচেয়ে বড় অর্থনৈতিক ও বাণিজ্য অংশীদার এবং সাহায্যের উৎস হচ্ছে চীন। চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম গ্লোবাল টাইমস গত বৃহস্পতিবার এক প্রতিবেদনে জানায়, যুক্তরাষ্ট্র যদি প্রথমে উত্তর কোরিয়ার ওপর সামরিক পদক্ষেপ নেয়, তাহলে চীন তা প্রতিহত করবে। অন্যদিকে উত্তর কোরিয়া প্রথমে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর হামলা করলে চীন তার দায় নেবে না। আলজাজিরা জানিয়েছে, অরাজকতা ও শরণার্থী সমস্যা আশঙ্কায় উত্তর কোরিয়ায় সরকার পরিবর্তন এড়াতে চায় চীন।
এদিকে উত্তর কোরিয়ার ওপর আরও বড় ধরনের নিষেধাজ্ঞা আরোপের হুমকি দিয়েছেন ট্রাম্প। আরও নিষেধাজ্ঞা আরোপের সম্ভাবনার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘সেগুলো আগের মতোই কঠোর হবে।’ এদিকে উত্তর কোরিয়া মধ্য আগস্টেই গুয়ামের দ্বীপের কাছে চারটি মাঝারিপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের যে পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে তাতে দ্বীপটির বাসিন্দারা আতঙ্কের মধ্যে রয়েছে। গুয়ামের অধিবাসীরা বলেছে, উত্তর কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট কিম জং উন টাইফুনের চেয়েও ‘মারাত্মক’। পিয়ংইয়ং দ্বীপটিতে হামলার যে দিন-তারিখ ঘোষণা করেছে, সে ব্যাপারে দিনগোনা শুরু করেছে অধিবাসীরা। এদিকে দ্বীপটির ক্যাথলিক চার্চের আর্চবিশপ দ্বীপের শান্তির জন্য সব পুরোহিত ও ভক্তদের আজ রোববার প্রার্থনা ও প্রার্থনা-পরবর্তী এক র‌্যালিতে অংশগ্রহণের জন্য আহ্বান জানিয়েছেন। তবে নিউ জার্সি রাজ্যের বেডমিনিস্টারে নিজের গল্ফ রিসোর্টে এক সংবাদ সম্মেলনে ‘গুয়াম অত্যন্ত নিরাপদ থাকবে’ প্রতিশ্রুতি দিয়ে দেশবাসীকে তার ওপর আস্থা রাখার অনুরোধও জানান তিনি। গুয়ামের গভর্নরও বলেছেন, গুয়াম যেকোনো হামলা থেকে সুরক্ষিত। এদিকে জাপানও গুয়ামে উত্তর কোরিয়ার সম্ভাব্য হামলা ঠেকাতে তাদের ভূখণ্ডে পেট্রোট ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েন করছে বলে দেশটির গণমাধ্যম জানিয়েছে। উত্তর কোরিয়া সংকট নিরসনে চীন-রাশিয়ার এক যৌথ পরিকল্পনা পেশ করেছেন রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ। উত্তর কোরিয়া-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধ লেগে যাওয়ার আশঙ্কা ‘খুব বেশি’ বলে মন্তব্য করে তিনি বলেছেন, ‘ওয়াশিংটন ও পিয়ংইয়ংয়ের হুমকি-পাল্টা হুমকিতে আমরা খুব উদ্বিগ্ন।’ জার্মান চ্যান্সেলর অ্যাঞ্জেলা মার্কেল বলেছেন, ‘সামরিক কোনো সমাধান নেই। হুমকির বিরুদ্ধে পাল্টা হুমকি দেয়া ভুল।’

ভার্জিনিয়ায় বর্ণবাদী দাঙ্গা, নিহত ৩

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে শ্বেতাঙ্গ উগ্রপন্থীদের সঙ্গে ফ্যাসিবাদ বিরোধীদের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। সংঘর্ষকালে ফ্যাসিবাদ বিরোধীদের মিছিলে একটি গাড়ি চালিয়ে দেয়ার ঘটনায় অন্তত তিন জন নিহত এবং ৩৫ জন আহত হয়। স্থানীয় সময় শনিবার ভার্জিনিয়ার শার্লোসভিল শহরে এ ঘটনা ঘটে। দাঙার ঘটনায় ভার্জিনিয়ার গভর্নর রাজ্যটিতে জরুরি অবস্থা জারির ঘোষণা দিয়েছেন। জানা গেছে, দাসপ্রথার পক্ষে লড়েছিলেন লি নামের এমন এক কনফেডারেটপন্থী জেনারেলের মূর্তি অপসারণের প্রতিবাদে শুক্রবার রাতে ভার্জিনিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে মশাল মিছিল বের করে উগ্র শ্বেতাঙ্গ জাতীয়তাবাদীরা। এরপর শনিবার শ্বেতাঙ্গ জাতীয়তাবাদী, নয়া নাৎসীবাদী ও কুখ্যাত বর্ণবাদী গোষ্ঠী কু ক্লুক্স ক্লানের সদস্যরা বিশ্ববিদ্যালয় শহর শার্লোটসভিলে বড় ধরনের শোডাউনের ঘোষণা দেয়। তাদের ভাষ্যমতে এদিনের মিছিলে কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে বড় জমায়েত হাজির করার পরিকল্পনা ছিল তাদের। এদিকে একই দিন বর্ণবাদবিরোধীদের বিরুদ্ধে বড় আকারে বিক্ষোভ করার ঘোষণা দিয়ে মাঠে নামে উগ্র শ্বেতাঙ্গ জাতীয়তাবাদ ও ফ্যাসিবাদ বিরোধীরা। উভয়ের পক্ষের পাল্টাপাল্টি কর্মসূচিকে শনিবার সকাল থেকেই শান্ত শহর শার্লোসভিলের পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। সকালে উগ্র শ্বেতাঙ্গ জাতীয়তাবাদীরা শহরটির একটি পার্কে জমায়েত হয়। অন্যদিকে কাছাকাছি একটি সড়কে কয়েকশ' পাল্টা বিক্ষোভকারীও জড়ো হয়। এক পর্যায়ে উভয়পক্ষে ধস্তাধস্তি ও পানির বোতল ছোড়াছুড়ির মধ্যে দিয়ে সংঘর্ষ শুরু হয়ে যায়।
তখন পুলিশ উভয় পক্ষকে সরিয়ে দিয়ে পার্কটি খালি করে ফেলে। সংঘর্ষে আটজন আহত হয়। সংঘর্ষকালে হাতেনাতে একজনকে পাকড়াও করে পুলিশ। সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত উভয় পক্ষে রেষারেষি চলাকালেই বেলা ১১টায় ভার্জিনিয়ার গভর্নর রাজ্যটিতে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেন। এক পর্যায়ে বর্ণবাদ ও ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে বিক্ষোভকারীদের জমায়েতে একটি গাড়ি উঠিয়ে দেয়ার ঘটনায় বেশ কয়েকজন আহত হওয়ার ঘটনা ঘটে। ভার্জিনিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারের মুখপাত্র অ্যাংগেলা টেইলর জানান, বিকালের দিকে ২০ জন আহত ব্যক্তিকে হাসপাতালটি নেয়া হয়। এর মধ্যে একজন মারা যায়। পরে শার্লোসভিল শহরের ম্যানেজার মরিস জোনস এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, সংঘর্ষের ঘটনায় তিনজন নিহত হয়েছেন। এরমধ্যে একজন গাড়ি উঠিয়ে দেয়ার ঘটনায় নিহত হয়েছে বলে জানান তিনি। নিহত ব্যক্তি একজন ৩২ বছর বয়সী নারী। তিনি রাস্তা পার হওয়ার সময় গাড়ি চাপা পড়নে বলে জানান শার্লোসভিল পুলিশের প্রধান থমাস। তিনি বলেন, যে গাড়িটি বিক্ষোভকারীদের ওপর উঠিয়ে দেয়া হয়েছে তার চালককে আটক করে নিরাপত্তা হাজতে রাখা হয়েছে। এদিকে তাৎক্ষণিকভাবে নিহত বাকি দুজনের ব্যাপারে বিস্তারিত কিছু জানায়নি পুলিশ ও শহরটির কর্তৃপক্ষ। তবে থমাস জানান, শনিবার বিকাল নাগাদ মোট ৩৫ জন আহত ব্যক্তি চিকিৎসা নিয়েছেন। তবে তারা তেমন একটা জীবনের ঝুঁকিতে নেই বলে জানান তিনি। সূত্র: এএফপি ও ওয়াশিংটন পোস্ট

পাকিস্তানে সামরিক ট্রাকে বোমা হামলা, আট সেনাসহ নিহত ১৫

পাকিস্তানের বেলুচিস্তান প্রদেশের রাজধানী কোয়েটায় একটি সামরিক ট্রাককে লক্ষ্য করে শক্তিশালী বোমা বিস্ফোরণের ঘটনায় আট সেনা সদস্যসহ অন্তত ১৫ জন নিহত হয়েছে। এছাড়া অন্তত ৩২ জন আহত হয়েছে, যাদের অনেকের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন বেলুচিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সরফরাজ বুগতি। শনিবার রাতে কোয়েটার পিশিন জেলার একটি বাসস্ট্যান্ডে বোমা বিস্ফোরণের ঘটনাটি ঘটে। বিস্ফোরণের পরপরই ওই এলাকায় আগুনের লেলিহান শিখা দেখা যায় বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান। আগামী ১৪ আগস্ট পাকিস্তানিরা দেশটির স্বাধীনতা অর্জনের ৭০তম বার্ষিকী উদযাপন করবে। এর ঠিক দুদিন আগে এ হামলার ঘটনা ঘটলো। পাকিস্তানের দৈনিক দ্য এক্সপ্রেস ট্রিবিউন জানায়, কোয়েটার যে এলাকায় বিস্ফোরণটি ঘটেছে সেটি একটি হাই সিকিউরিটি এলাকা, যা সব সময় কড়া নিরাপত্তা চাদরে ঢাকা থাকে। ওই এলাকায় সীমান্তরক্ষায় নিয়োজিত আধা সামরিক বাহিনীর 'ফ্রন্টিয়ার কনস্টাবুলারি' সদর দফতর, বেলুচিস্তানের প্রাদেশিক পরিষদ, মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবন, গভর্নর হাউজ ও বেলুচিস্তান হাইকোর্টসহ গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ভবনগুলো অবস্থিত। সেখানে একটি সামরিক ট্রাককে লক্ষ্য করে বোমাটি ছোড়া হয় বলে জানান প্রাদেশিক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সরফরাজ বুগতি। তবে ট্রাকটিকে লক্ষ্য করে আত্মঘাতী, না রিমোট কন্ট্রোল বোমার বিস্ফোরণ ঘটানো হয়েছে তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি বলে মন্তব্য করেন তিনি। আশেপাশের ভবনগুলোর প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিস্ফোরণের প্রচণ্ড শব্দে তাদের ঘরের দরজা-জানালা কেঁপে ওঠে। এ ঘটনার পরপরই পুলিশ ও নিরাপত্তাবাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলটি ঘিরে ফেলে।
এ সময় সেখানে থাকা বিভিন্ন যানবাহনে আগুন জ্বলতে দেখা যায় বলে বলে জানান প্রত্যক্ষদর্শীরা। একজন প্রত্যক্ষদর্শী পাকিস্তানের সামা টিভিকে বলেন, আমি অটো রিকশায় করে বাড়ি যাওয়ার সময় বিস্ফোরণের শব্দ শুনতে পাই। দৌঁড়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে আমি সেখানে আহত জওয়ানাদের পড়ে থাকতে দেখি। তিনি বলেন, আক্রান্তদের অনেকের শরীর এমনভাবে পুড়ে গেছে যে তাদের চেনার উপায় নেই। পুলিশ জানায়, বিস্ফোরণের ধরণ সম্পর্কে এখনও তারা নিশ্চিত হতে পারেননি। এ জন্য ঘটনাস্থলে বোমা নিস্ক্রিয়করণ ইউনিটকে ডাকা হয়েছে। উদ্ধার কর্মীরা জানায়, বিস্ফোরণস্থল থেকে নিহত ও আহতদের উদ্ধার করে কোয়েটা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে আহতদের চিকিৎসা দেয়ার জন্য জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে বলে জানান হাসপাতালের মুখপাত্র ডা. ওয়াসিম বাগ। তিনি জানান, ১১টি লাশ ও ৩০জন আহত ব্যক্তিকে হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। এদিকে মাইক্রোব্লগ টুইটারে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ বিভাগের পরিচালক মেজর জেনারেল আসিফ গফুর জানান, কোয়েটায় হামলার ঘটনায় নিন্দা জানিয়েছেন সেনাপ্রধান জেনারেল কামার জাভেদ বাজওয়া  একে 'সন্ত্রাসবাদী হামলা' আখ্যা দিয়ে সেনাপ্রধান বলেন, পাকিস্তানের আসন্ন স্বাধীনতা দিবসের উৎসবকে নস্যাৎ করতেই কোয়েটায় এ হামলা চালানো হয়েছে। তবে কোনো বাধাই পাকিস্তানিদের দৃঢ়তাকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারবে না বলে প্রত্যয় ব্যক্ত করেন জেনারেল বাজওয়া।

সৌদি বাদশাহকে শিরিন এবাদিসহ ১০ নোবেলজয়ীর খোলা চিঠি

১৪ জন শিয়ার মৃত্যুদণ্ড রোধ করার আহ্বান জানিয়ে সৌদি আরবের কাছে এক খোলা চিঠি লিখেছেন ইরানের শিরিন এবাদিসহ ১০ নোবেল বিজয়ী। সৌদি আরবের শিয়া অধ্যুষিত পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশ কাটিফে এক শিয়া বিদ্রোহের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে তাদের বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ড সিদ্ধান্ত দেন আদালত। শীঘ্রই তাদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। মৃত্যুদণ্ড বাতিলের আহ্বান জানিয়ে সৌদি বাদশাহ সালমানের কাছে লেখা খোলা চিঠিতে যারা সাক্ষর করেছেন তাদের মধ্যে আছেন আর্চবিশপ ডেসমন্ড টুটু, ইরানের মানবাধিকার কর্মী শিরিন এবাদি এবং পূর্ব তিমুরের সাবেক প্রেসিডেন্ট জোসে রামোস হোর্তা উল্লেখযোগ্য। চিঠিতে তারা বাদশাহ সালমানের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন সাজাপ্রাপ্তদের প্রতি অনুকম্পা প্রদর্শনের জন্য। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল এবং হিউম্যান রাইটস ওয়াচ অভিযোগ করছে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ওই ১৪ জনের কাছ থেকে সৌদি কর্তৃপক্ষ জোর করে স্বীকারোক্তি আদায় করে এবং তাদের কোনো রকমের ন্যায্য বিচার পাওয়ার সুযোগ দেয়া হয়নি। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ১৪ জনের একজন হচ্ছে মুজতাবা আল সোয়েইকা। ১৮ বছর বয়সী মুজতাবা যখন ২০১২ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্টার্ন মিশিগান বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার জন্য রওনা হচ্ছিলেন, তখন তাকে রিয়াদ বিমানবন্দর থেকে গ্রেফতার করা হয়। তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের একটি হচ্ছে ফেসবুকে একটি গ্রুপ খুলে বিক্ষোভের ছবি শেয়ার করা। আরেকজন আলী আল নিমর এর বিরুদ্ধে অভিযোগ নানা হয়েছে ব্ল্যাকবারিতে একই রকম গ্রুপ খুলে বিক্ষোভের ছবি দিয়ে লোকজনকে বিক্ষোভে যোগ দিতে আমন্ত্রণ জানানো। সৌদি আরবের সুপ্রিমকোর্ট গত জুলাইতে এই ১৪ জনের মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখে। তবে সৌদি বাদশাহ বা যুবরাজ এই মৃত্যুদণ্ড অনুমোদন করলেই কেবল তা কার্যকর করা হবে। ১৪ জনের সবাই কাটিফ প্রদেশে বিক্ষোভের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন বলে অভিযোগ আনা হয়। সৌদি আরবের এই প্রদেশটিতে দীর্ঘদিন ধরে শিয়াদের মধ্যে অসন্তোষ এবং বিক্ষোভ চলছে। ২০১১ সালে এই প্রদেশের আওয়ামিয়া শহরে আরব বসন্তের বিক্ষোভ শুরু হয়েছিল। এতে নেতৃত্ব দেয়া শিয়া নেতা নিমর আল নিমরের মৃত্যুদণ্ড গত বছর কার্যকর করা হয়। তার বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবাদের অভিযোগ আনা হয়েছিল।

‘বাচ্চারা দম বন্ধ হয়ে মারা যাচ্ছে’

‘যখন অক্সিজেন সাপ্লাই বন্ধ হয়ে যায় তখন বাচ্চারা শ্বাস কষ্টে ভুগছিল। তারা দম নিতে পারছিল না। বাচ্চারা দম বন্ধ হয়ে মারা যাচ্ছে। তখন আমাদের কিছুই করার ছিল না।’ এভাবেই বলছিলেন রোশান নামের এক শিশুর চাচী পরমাত্মা গৌতম। রোশনের মতোই অক্সিজেনের অভাবে প্রতিদিন মরতে থাকে শিশু। দিন দিন বাড়তে থাকে শিশু মৃত্যুর সংখ্যা। মাত্র ৫ দিনে মৃত্যু হয় ৬০ শিশুর। দেশজুড়ে শুরু হয় তুমুল সমালোচনা। খবর আলজাজিরা, এএফপি ও জি নিউজ। সোমবার থেকে ভারতের মধ্যপ্রদেশে গোরাখপুরে বাবা রাঘবদাস মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (বিআরডি) অক্সিজেন সংকট দেখা দেয়। ফলে অসুস্থ শিশুদের সুস্থ হয়ে ওঠার পরিবর্তে মৃত্যুবরণ করতে হয়। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ অক্সিজেন সরবরাহকারী বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে পাওনা টাকা পরিশোধ না করায় অক্সিজেন সরবরাহ করেনি সংস্থাটি। সে কারণেই এমন ভয়াবহ ঘটনার শিকার হতে হয়েছে চিকিৎসা নিতে যাওয়া শিশু ও তাদের পরিবারকে। তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ অক্সিজেন সংকটের কথা স্বীকার করতে নারাজ। তাদের দাবি, হাসপাতালে অক্সিজেন সংকট নেই। শুক্রবার নতুন করে আরো ৩০০টি অক্সিজেন সিলিন্ডার যুক্ত করা হয়েছে। তবে অক্সিজেন সিলিন্ডার সরবরাহকারী বেসরকারি সংস্থার দাবি, সিলিন্ডার কিনে ৭০ লক্ষ টাকার মধ্যে মাত্র ৩৫ হাজার টাকা পরিশোধ করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। বাকি টাকার জন্য বারবার তাগাদা দেয়া হলেও টাকা পরিশোধ  করেনি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। টাকা চেয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে চিঠিও দেয় ওই সংস্থা। টাকা না পাওয়ায় সাপ্লাই বন্ধ করা হয়। এ নিয়ে শনিবার তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে জানিয়েছে বিআরডি কর্তৃপক্ষ। তবে অক্সিজেন সংকটের অভিযোগ তারা এখনো স্বীকার করেনি। গোরাখপুর বিভাগীয় কমিশনার অনিল কুমার বলেন, আমরা এ বিষয়ে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছি। কমিটি আজকেই একটি প্রাথমিক প্রতিবেদন দেবে। তিনি বলেন, গত ৫ দিনে হাসপাতালটিতে ৬০টি শিশু মারা গেছে। কিন্তু আমাদের কাছে অক্সিজেন সংকটের সঙ্গে এর সম্পর্ক আছে বলে মনে হচ্ছে না। স্থানীয় গণমাধ্যমে জানানো হয়, শুক্রবার সকালে নতুন করে অক্সিজেন লাগানো হয়েছে। রোগীর মৃত্যু শুরু হলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ অক্সিজেন সরবরাহকারীর উপর ক্ষীপ্ত হয় এবং দ্রুত অক্সিজেন সরবরাহ করতে বলে। উত্তর প্রদেশের চিফ মিনিস্টার ইয়োগি আদিত্যনাথের কার্যালয় থেকে এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, হাসপাতালের শিশু বিষয়ক ওয়ার্ডে ৬০টি শিশুর মৃত্যু হয়েছে। হাসপাতালে মৃত্যু হওয়া এক শিশুর বাবা মৃত্যুঞ্জয় সিং বলেন, আমার ৭ মাসের ছেলেকে হাসপাতালে ভর্তি করিয়েছিলাম। তাকেতো মেরে ফেলার জন্য ভর্তি করাইনি। তিনি বলেন, অক্সিজেন সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেলে আমি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে যাই। তখন দেখি তারা দ্রুত অক্সিজেনের বিল মেটানোর চেষ্টা করছে। তবে উত্তর প্রদেশের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা প্রশান্ত তানভির বলেন, হাসপাতালটিতে অক্সিজেন সরবরাহের পাইপ লাইনে সমস্যা সৃষ্টি হয়েছিল এটা সত্য। কিন্তু অক্সিজেন সংকটে শিশুর মৃত্যু হয়েছে এ খবর সঠিক নয়।

তিস্তার বন্যায় রেললাইনে ভাঙন, ট্রেন চলাচল বন্ধ

উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও প্রবল বৃষ্টিতে লালমনিরহাটের রেললাইনের উপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। এতে ঢাকা-লালমনিরহাট রুটে রেল যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে। রোবাবার সকালে তিস্তার ব্যারেজের বাম দিকে ফ্লাট বাইপাস ভেঙে যাওয়ায় হাতিবান্ধা উপজেলা শহরে পানি ঢুকে যায়। এতে লালমনিরহাট-বুড়িমাড়ী রেললাইনের ১০ ফিট নিচের অংশ ভেঙে পড়ে। এ ঘটনায় সকাল থেকে ঢাকা-লালমনিরহাট রুটে টেন চলাচল বন্ধ রয়েছে বলে জানান হাতীবান্ধা উপজেলা প্রকল্প কর্মকর্তা (পিআইও) ফেরদৌস আহমেদ। ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোস্তাফিজুর রহমান যুগান্তরকে জানান, ভারি বর্ষণ ও উজানের ঢলে রোববার সকাল থেকে ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তা নদীর পানি বিপদসীমার ৬৫ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। সেখানে ভারি বৃষ্টিপাত অব্যাহত রয়েছে। এছাড়া লালমনিরহাট-বুড়িমারী মহাসড়কের পারুলিয়া নামক স্থানে পাকা রাস্তার উপর দিয়ে তিস্তার পানি প্রবেশ করেছে। হাতীবান্ধা উপজেলার গড্ডিমারী ইউনিয়নের সঙ্গে খানের বাড়ি যাওয়ার একমাত্র পাকা রাস্তা ভেঙে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। এর ফলে লালমনিরহাটে ফের বন্যা দেখা দিয়েছে। তিস্তায়, ধরলায়, সানিয়াজান ও সিংঙ্গীমারী নদীর পানিও বিপদসীমার অনেক উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে লালমনিরহাট জেলার পাঁচটি উপজেলা ও দুটি পৌরসভাসহ জেলার ৪৫টি ইউনিয়নের প্রায় ২ লক্ষ মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। বন্যার পানি লালমনিরহাট-বুড়িমারী মহাসড়কের পাশাপাশি দহগ্রাম সড়কের কয়েক ফুট উপর দিয়েও প্রবাহিত হচ্ছে।এরই মধ্যে পাটগ্রাম পৌরসভার নয়টি ওয়ার্ডসহ উপজেলার তিস্তা তীরবর্তী দহগ্রাম, বাউড়া, হাতীবান্ধার সানিয়াজান, ফকিরপাড়া, গড্ডিমারী, ডাউয়াবাড়ী, সিঙ্গীমারী, পাটিকাপাড়া, সিন্দুর্না, কালীগঞ্জের ভোটমারী, আদিতমারীর মহিষখোচা, দুর্গাপুর, পলাশী, লালমনিরহাট সদর উপজেলার গোকুন্ডা, রাজপুর, মোঘলহাট কুলাঘাট ও খুনিয়াগাছ এলাকা পানির নিচে তলিয়ে গেছে।

চট্টগ্রামে ট্রেলারচাপায় অটোরিকশার ২ আরোহী নিহত

চট্টগ্রামে কন্টেইনারবাহী একটি ট্রেলার চাপায় অটোরিকশার দুই আরোহী নিহত হয়েছেন। এসময় আহত হয়েছেন দুইজন। রোববার সকাল পৌনে ১০টার দিকে বন্দরনগরীর নিমতলা মোড় থেকে ৫শ' গজ দূরে বিশ্বরোডে এ দুর্ঘটনা ঘটে। তাৎক্ষণিকভাবে হতাহতদের পরিচয় জানা যায়নি। বন্দর থানার ওসি ময়নুল ইসলাম জানান, কন্টেইনারবাহী ট্রেলার ও অটোরিকশাটি নিমতলা মোড়ের দিকে যাচ্ছিল। এসময় ট্রেলারটি উল্টে গিয়ে অটোরিকশাকে চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই দুইজন নিহত এবং দুইজন আহত হন। আহতদের চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (চমেক) পাঠানো হয়েছে। এদিকে দুর্ঘটনার পর ওই সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। সড়কের দু'পাশে বহু গাড়ি আটকে থাকতে দেখা যায়। পরে ট্রেলারটি সরিয়ে নিলে বেলা সাড়ে ১১টার পর সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয় বলে জানান ওসি।

চার ভাইসহ যুবলীগ নেতা আটক, অস্ত্র ও গুলি উদ্ধার

কক্সবাজার জেলা পরিষদ সদস্য ও পেকুয়া উপজেলা যুবলীগ সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম ও তার চার ভাইকে আটক করেছে র‌্যাব-৭। এসময় আগ্নেয়াস্ত্র ও গুলি উদ্ধার করা হয়েছে। রোববার সকাল ৬টার দিকে পেকুয়া সদর ইউনিয়নের চৌমুহনীস্থ বাড়ি থেকে তাদের আটক করা হয়। আটক চার ভাই হলেন, আলমগীর, আজমগীর, কাইয়ুম ও বাপ্পী। তারা পেকুয়া সদর ইউনিয়নের চৌমুহনী এলাকার রমিজ আহমদের ছেলে। র‌্যাব-৭ কক্সবাজার ক্যাম্পের অধিনায়ক মেজর রুহুল আমিন বলেন, আগ্নেয়াস্ত্র মজুদের গোপন খবরের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করা হয়। এসময় জাহাঙ্গীরের বাড়ির একটি কক্ষ থেকে দুটি দেশীয় তৈরি বন্দুক (এলজি), তার শয়নকক্ষ থেকে একটি একনলা (লম্বা) বন্দুক, দশ রাউন্ড তাজা গুলি ও নগদ ১৭ লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়। এদিকে তাদের গ্রেফতারের পর যুবলীগ নেতাকর্মী ও তাদের অনুসারীরা পেকুয়া চৌমুহনী ও বাজারে বিক্ষোভ মিছিল করছেন। তাদের দাবি, জাহাঙ্গীর ও তার চার ভাইকে ফাঁসানো হয়েছে।

জোটগত ভোট হলে পাল্টে যেতে পারে হিসাব

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে হবিগঞ্জ-১ (নবীগঞ্জ-বাহুবল) আসন নিয়ে স্থানীয় ভোটারদের মধ্যে আলোচনা শুরু হয়ে গেছে। দলীয় প্রার্থী ঘিরে চলছে নানা হিসাব। মনোনয়ন পেতে প্রার্থীরা তৃণমূলের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানোর পাশাপাশি কেন্দ্রের সঙ্গে লবিং-তদবিরে ব্যস্ত হয়ে উঠেছেন। প্রার্থিতা জানান দিতে নানা কৌশলে নির্বাচনী এলাকার সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে চলেছেন কোনো কোনো প্রার্থী। গতবার এ আসনে জোটগত নির্বাচন হয়। আগামী নির্বাচন একক নাকি জোটগতভাবে হবে তা নিয়েও বিশ্লেষণ চলছে। জোটগত নির্বাচন হলে সব হিসাব পাল্টে যেতে পারে। স্থানীয়ভাবে এটি একটি ফ্যাক্টর হয়ে উঠবে। গতবার আওয়ামী লীগ আসনটি জাতীয় পার্টিকে ছেড়ে দেয়। বিএনপি নির্বাচন বর্জন করায় জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক এমএ মুনিম চৌধুরী বাবু বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিজয়ী হন। আগামী নির্বাচনেও তিনি প্রার্থী হওয়ার ব্যাপারে আশাবাদী। এখন থেকেই তিনি তৎপরতা বাড়িয়ে দিয়েছেন। তবে এ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়নপ্রত্যাশী অনেকের নামই শোনা যাচ্ছে। এর মধ্যে প্রয়াত সংসদ সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী দেওয়ান ফরিদ গাজীর ছেলে দেওয়ান শাহনেওয়াজ গাজী মিলাদ, বর্তমান জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও বিএমএর সভাপতি ডা. মুশফিক হোসেন চৌধুরী, সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আমাতুল কিবরিয়া কেয়া চৌধুরী, নবীগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আলমগীর চৌধুরী, কানাডা প্রবাসী মেজর (অব.) সুরঞ্জন দাশ ও কেন্দ্রীয় যুবলীগের সদস্য আবদুল মুকিত চৌধুরীর নাম জোরেশোরে শোনা যাচ্ছে। এ ছাড়া সাবেক অর্থমন্ত্রী প্রয়াত শাহ এএমএস কিবরিয়ার ছেলে ড. রেজা কিবরিয়ার নামও আলোচনায় রয়েছে। তবে সেনা সমর্থিত ফখরুদ্দিন আহমেদের নেতৃত্বাধীন ১/১১ সরকারের সময় তার ভূমিকা নিয়ে দলের মধ্যে বিতর্ক রয়েছে। তার বাবা ও সাবেক অর্থমন্ত্রী কিবরিয়া হবিগঞ্জ সদর থেকে নির্বাচন করলেও তাদের বাড়ি নবীগঞ্জে। এ আসনে আওয়ামী লীগের মধ্যে কয়েকটি বলয় গড়ে উঠেছে। একটি ধারার নেতৃত্বে রয়েছেন বর্তমান জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এবং বিএমএর সভাপতি ডা. মুশফিক হোসেন চৌধুরী। শাহনেওয়াজ গাজী মিলাদের নেতৃত্বে সক্রিয় রয়েছে একটি গ্রুপ। সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আমাতুল কিবরিয়া কেয়া চৌধুরী এবং নবীগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আলমগীর চৌধুরীর নেতৃত্বে আলাদা বলয় কাজ করছে এলাকায়। মনোনয়নপ্রত্যাশীদের মধ্যে আলোচনার শীর্ষে রয়েছেন শাহনেওয়াজ গাজী মিলাদ। গতবার তিনিই দলীয় মনোনয়ন পেয়েছিলেন এবং কেন্দ্রীয়ভাবে জাতীয় পার্টিকে আসনটি ছেড়ে দেয়ায় তিনি মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নেন। তিনি যুগান্তরকে বলেন, ‘আমার বাবা এ এলাকা থেকে একাধিকবার এমপি নির্বাচিত হয়েছিলেন। সুখে-দুঃখে সব সময় এলাকার মানুষের পাশে আছি এবং থাকব। বাবার মৃত্যুর পর ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে নেত্রী আমাকে মনোনয়ন দিয়েছিলেন। পরে নেত্রীর নির্দেশে আমি মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নেই। আমি আশাবাদী এবার নেত্রী আমাকে মনোনয়ন দেবেন। এলাকাবাসীর প্রতি আমার বিশ্বাস রয়েছে। আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, নেত্রী যদি আমাকে দলীয় মনোনয়ন নাও দেন তারপরও আমি দলের জন্য কাজ করে যাব।’ কেয়া চৌধুরী যুগান্তরকে বলেন, ‘আমি হবিগঞ্জের জনগণের সেবায় ছিলাম, আছি এবং থাকব। জনগণের জন্য কাজ করছি বলেই এলাকার মানুষ আমাকে আগামী নির্বাচনে চাচ্ছেন। সংরক্ষিত আসনের এমপি নির্বাচিত হওয়ার দু’দিন পরই আমি এলাকায় ছুটে আসি। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া আমি এলাকা ছেড়ে কোথাও যাই না। নানা কর্মসূচি থেকে শুরু করে বিভিন্ন সভা সমাবেশে এলাকার মানুষের সঙ্গেই আছি।
ভোটারদের সুখে-দুঃখে কাজ করে যাওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। আমি জনগণের সঙ্গেই থাকতে চাই।’ একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি থেকে সাবেক সংসদ সদস্য শেখ সুজাত মিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগো বিএনপির সভাপতি শাহ মোজাম্মেল নান্টুর নাম শোনা যাচ্ছে। সুজাত ও নান্টু দু’জনই দেশের বাইরে থাকায় তাদের বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি। এদিকে নবীগঞ্জে উপজেলা বিএনপির মধ্যে বিভক্তি বছর খানেক ধরে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। গত বছর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিভক্তি দেখা দেয়। বলাবলি হচ্ছে, এ কারণেই গত ইউপি নির্বাচনে বিএনপির ভরাডুবি ঘটে। বিগত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ২০ ইউনিয়নের মধ্যে আওয়ামী লীগ একাই দখলে রাখে ১২টি। বাকিগুলোর মধ্যে বিএনপি ৩টি, জাতীয় পার্টি ১টি, স্বতন্ত্র ৪ চেয়ারম্যান প্রার্থী নির্বাচিত হন। এ ছাড়া এ আসনের দুই উপজেলায়ই আওয়ামী লীগের প্রার্থী বিজয়ী হন। ফলে কোন্দলের বিষয়টি তৃণমূল বিএনপির কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে। নবীগঞ্জে জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি অ্যাডভোকেট আলমগীর চৌধুরী ও বাহুবল উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবদুল হাই উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। ভাইস চেয়ারম্যান পদে নবীগঞ্জে জামায়াতে ইসলামীর আমীর মাওলানা আশরাফ আলী ও বাহুবলে ইসলামী ঐক্যজোট নেতা শিহাব উদ্দিন শাকিব বিজয়ী হন। তবে মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে দুটি উপজেলাতেই বিএনপি সমর্থিতরা বিজয়ী হন। এদিকে আগামী নির্বাচনে জাতীয় পার্টি থেকে একজনের নামই জোরেশোরে শোনা যাচ্ছে। তিনি হচ্ছেন বর্তমান এমপি ও জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক এমএ মুনিম চৌধুরী বাবু। জোটবদ্ধ নির্বাচন হলেও মহাজোটের প্রার্থী হিসেবে তার মনোনয়ন পাওয়ার বিষয়টি উজ্জ্বল বলে জানা গেছে। তবে জাতীয় পার্টির নেতা লন্ডন প্রবাসী আবদুল হামিদ চৌধুরীর সমর্থকরাও মাঠে সক্রিয়। তিনিও জাতীয় পার্টির মনোনয়নপ্রত্যাশী। বিভিন্ন উৎসব, অনুষ্ঠান ও বিভিন্ন দিবসে আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জাতীয় পার্টির সমর্থকরা আলাদা আলাদাভাবে তাদের প্রিয় নেতার নাম ও ছবিসংবলিত ব্যানার নিয়ে হাজির হতে দেখা যায়। ব্যানারে লেখা থাকে ‘হবিগঞ্জ-১ (নবীগঞ্জ-বাহুবল) আসনে এমপি হিসেবে অমুককে চাই’। কথা হয় বর্তমান এমপি ও জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক এমএ মুনিম চৌধুরী বাবুর সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘দলে আমি একাই প্রার্থী। এলাকায় ব্যাপক উন্নয়ন করেছি। গত ৪৩ বছরেও এমন উন্নয়ন হয়নি। সুষ্ঠু নির্বাচন হলে বিজয় আমার নিশ্চিত। সব সময় সাধারণ মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করেছি।’ হবিগঞ্জ-১ আসনটি আওয়ামী লীগের ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। ১৯৭০ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের আবদুল আজিজ চৌধুরী, ১৯৭৩ সালে আওয়ামী লীগের আবদুল মান্নান চৌধুরী ছানু মিয়া, ১৯৭৯ সালে জাসদের মাহবুবুর রব সাদী, ১৯৮৬ সালে আওয়ামী লীগের ইসমত আহমদ চৌধুরী, ১৯৮৮ সালে জাসদের অ্যাডভোকেট আবদুল মোচাব্বির চৌধুরী, ১৯৯১ সালে জাতীয় পার্টির প্রয়াত খলিলুর রহমান চৌধুরী রফি এমপি নির্বাচিত হন। ১৯৯৬ সালে নির্বাচনে এমপি হন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতা ও সাবেক মন্ত্রী প্রয়াত দেওয়ান ফরিদ গাজী। ২০০১ সালে তিনি ফের এমপি হন। ২০০৮ সালের নবম সংসদ নির্বাচনে তৃতীয়বারের মতো ফরিদ গাজী এমপি হন। এর দু’বছর পর ২০১০ সালের ১৯ নভেম্বর দেওয়ান ফরিদ গাজী মৃত্যুবরণ করেন। পরে ২০১১ সালের ২৭ জানুয়ারি উপনির্বাচনে আওয়ামী লীগের দুর্গে প্রথম হানা দেয় বিএনপি প্রার্থী হবিগঞ্জ জেলা বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি শেখ সুজাত মিয়া। তিনি আসনটি বিএনপিকে উপহার দেন। উপনির্বাচনে বিএনপির এ বিজয় সারা দেশে আলোড়ন সৃষ্টি হয়। আওয়ামী লীগ সরকারের অধীনে ওই উপনির্বাচনে জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি ডা. মুশফিক হোসেন চৌধুরী মাত্র ১২শ’ ভোটে পরাজিত হন। পরে ২০১৪ সালে মহাজোট গঠন হলে আসনটি জাতীয় পার্টিকে ছেড়ে দেয়া হয়। এবং বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় এমপি নির্বাচিত হন মুনিম চৌধুরী বাবু।

গুলিবিদ্ধ ডিবির এসিসহ তিনজন শঙ্কামুক্ত

অস্ত্র উদ্ধারে গিয়ে সন্ত্রাসীদের গুলিতে আহত  হওয়া ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের সহকারী কমিশনার (এসি) রাহুল পাটোয়ারিসহ অন্যরা এখন শঙ্কামুক্ত। রোববার ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল সূত্র বিষয়টি জানিয়েছে। গুলিবিদ্ধ পুলিশের সোর্স বিল্লাল ওরফে মৃদুল ও পথচারী সেলিম নামের এক যুবক চিকিৎসা নিয়ে চলে গেছেন। তবে ঢামেক হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন রাহুল পাটোয়ারি। শনিবার রাত ৮টা ৪০ মিনিটের দিকে রাজধানীর শ্যামপুর থানার পোস্তগোলা এলাকায় অস্ত্র উদ্ধারে গিয়ে সন্ত্রাসীদের গুলিতে আহত  হন তারা। গুরুতর আহত অবস্থায় তাদের উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ঢামেক সূত্রে জানা গেছে, রাহুল পাটোয়ারির বাম পাঁজরের নিচের অংশে, সোর্স বিল্লালের পায়ে ও পথচারী সেলিমের পিঠে গুলি লেগেছে। অপারেশন করে তাদের গুলি বের করা হয়েছে। রাহুল পাটোয়ারি এখন অনেকটা আশঙ্কামুক্ত বলে জানা গেছে। গোয়েন্দা পুলিশ সূত্র জানায়, মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (পশ্চিম) একটি দল ক্রেতা সেজে অস্ত্র উদ্ধারে গিয়েছিল। ডিবির টিম ঘটনাস্থলে যাওয়ামাত্রই সন্ত্রাসীরা টের পেয়ে গুলি ছোড়ে। সন্ত্রাসীদের গুলিতে ডিবির এসিসহ তিনজন গুলিবিদ্ধ হন। এ ঘটনার পর রাজধানীজুড়ে ব্লক রেইড শুরু করেছে পুলিশ ও গোয়েন্দা দল। অস্ত্র ব্যবসায়ী ও সন্ত্রাসীদের গ্রেফতারে পুরো ঢাকায় সাঁড়াশি অভিযান শুরু করেছে পুলিশ। ভুক্তভোগী সেলিমের শ্বশুর বাবুল জানান, সেলিম প্রাইভেটকার চালক। গাড়ি গ্যারেজে রেখে বাসায় ফেরার পথে পিঠে গুলি লেগেছে। গুলিবিদ্ধ অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে প্রথমে মিটফোর্ড হাসপাতাল, পরে ঢামেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ঢামেকে চিকিৎসাধীন গুলিবিদ্ধ সেলিম জানান, রাতে ঘটনাস্থলের পাশে দাঁড়িয়ে তিনি চা খাচ্ছিলেন। এ সময় পেছন থেকে গুলি এসে তার পিঠে লাগে।

হজ অব্যবস্থাপনা তদন্তে হাইকোর্টে রিট

হজের অব্যবস্থাপনা তদন্তে হাইকোর্টে রিট দায়ের করা হয়েছে। রিটে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে হজযাত্রীদের ভিসা জটিলতা দূর করণে সৌদি সরকারের সঙ্গে পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয়কে যোগাযোগের জন্য নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে। এছাড়া রিটে একটি তদন্ত কমিশন গঠনেরও নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে। রিট আবেদনে যারা হজে যেতে পারেননি তাদের বিশেষ বিমানে হজে পাঠানোর নির্দেশনাও চাওয়া হয়েছে। হজের অব্যবস্থাপনা নিয়ে বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত রিপোর্টের প্রেক্ষিতে রোববার সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদ এই রিট আবেদনটি করেন। বিচারপতি সৈয়দ মো. দস্তগীর হোসেন ও বিচারপতি মো. আতাউর রহমান খানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট ডিভিশন বেঞ্চে বেলা ২টায় শুনানির কথা রয়েছে। এ বছর সরকারি ও বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় মোট হজযাত্রীর সংখ্যা ১ লাখ ২৭ হাজার ১৯৮ জন। হজযাত্রীদের সৌদি আরবে যাত্রার প্রথম ফ্লাইট পৌঁছে ২৪ জুলাই। শেষ ফ্লাইট ২৮ আগস্ট। ফিরতি ফ্লাইট শুরু হবে ৬ সেপ্টেম্বর ও শেষ ফিরতি ফ্লাইট ৫ অক্টোবর। এ বছর চাঁদ দেখা সাপেক্ষে হজ অনুষ্ঠিত হবে ১ সেপ্টেম্বর। তবে, ভিসা জটিলতার কারণে এ বছর বিশাল সংখ্যক বাংলাদেশি হাজির হজ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে বলে সূত্র জানায়। অবশ্য হজ অফিসের অভিযোগ, ভিসা জটিলতা নয় বিমান সংকটের কারণে হজ ফ্লাইট বাতিল হচ্ছে।

আপিল ও ডেথ রেফারেন্সের রায় পেছাল

নারায়ণগঞ্জের আলোচিত সাত খুন মামলার ডেথ রেফারেন্স ও আসামিদের আপিলের রায় পিছিয়ে ২২ আগস্ট ধার্য করেছেন আদালত। রোববার বিচারপতি ভবানী প্রসাদসিংহ ও বিচারপতি মোস্তফা জামান ইসলামের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট ডিভিশন বেঞ্চ রায় ঘোষণার জন্য নতুন ওই দিন ধার্য করেন। আজ আলোচিত এই মামলার ডেথ রেফারেন্স ও আসামিদের আপিলের রায় ঘোষণার দিন ধার্য ছিল। গত ১৬ জানুয়ারি চাঞ্চল্যকর সাত খুনের দুই মামলার রায়ে নূর হোসেন ও র‌্যাবের বরখাস্তকৃত তিন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ ২৬ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেন নারায়ণগঞ্জের জেলা ও দায়রা জজ সৈয়দ এনায়েত হোসেনের আদালত। ৩৫ জন আসামির মধ্যে বাকি ৯ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। এরপর হাইকোর্টের ডেথ রেফারেন্স শাখা মামলার সব নথি বিজি প্রেসে পাঠায়। এরপরই বিজি প্রেস পেপারবুক প্রস্তুত করে ৭ মে হাইকোর্টে পাঠায়। প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে ২২ মে থেকে আপিল ও ডেথ রেফারেন্সের শুনানি শুরু হয়। ৩৩ কার্যদিবসের শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষে অংশ নেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম, ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এমএ মান্নান্ন মোহন ও জাহিদ সরওয়ার কাজল এবং সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল বশির আহমেদ। আসামিপক্ষে ছিলেন আইনজীবী মনসুরুল হক চৌধুরী,
এসএম শাহজাহান প্রমুখ। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ২৬ জনের মধ্যে গ্রেফতার ও আত্মসমর্পণ করে কারাগারে থাকা ২০ জন নিয়মিত ও জেল আপিল করেছেন। ২০১৪ সালের ২৭ এপ্রিল ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডের ফতুল্লার লামাপাড়া এলাকা থেকে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলামসহ ৭ জনকে অপহরণের তিন দিন পর তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ওই ঘটনায় নিহত হন নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের ২নং ওয়ার্ডের তৎকালীন কাউন্সিলর ও প্যানেল মেয়র-২ নজরুল ইসলাম, তার বন্ধু মনিরুজ্জামান স্বপন, তাজুল ইসলাম, লিটন, নজরুলের গাড়িচালক জাহাঙ্গীর আলম, আইনজীবী চন্দন কুমার সরকার ও তার গাড়িচালক ইব্রাহিম। সাত খুনের ঘটনায় প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলাম ও তার ৪ সহকর্মী হত্যার ঘটনায় তার স্ত্রী সেলিনা ইসলাম বিউটি বাদী হয়ে ফতুল্লা থানায় একটি এবং সিনিয়র আইনজীবী চন্দন সরকার ও তার গাড়িচালক ইব্রাহিম হত্যার ঘটনায় জামাতা বিজয় কুমার পাল বাদী হয়ে একই থানায় আরেকটি মামলা করেন। দুটি মামলার বিচারিক কার্যক্রম একসঙ্গে শেষ করে রায় দেন বিচারিক আদালত।

আজহারুল-কায়সারের আপিল শুনানি ১০ অক্টোবর

একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলায় জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এটিএম আজহারুল ইসলাম ও জাতীয় পার্টির সাবেক প্রতিমন্ত্রী সৈয়দ মোহাম্মদ কায়সারের আপিল শুনানির দিন ১০ অক্টোবর ধার্য করেছেন আপিল বিভাগ। একই সঙ্গে এই দুই আসামির আপিলের সার সংক্ষেপ ২৪ আগস্টের মধ্যে দাখিল করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। রোববার সকালে প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বাধীন তিন বিচারপতির আপিল বেঞ্চ এ আদেশ দেন। আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। এটিএম আজহারের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী এস এম শাহজাহান। জামায়াত নেতা আজহারুলের আপিল ২নং ক্রমিকে ও জাতীয় পার্টির নেতা কায়সারের আপিল ৩নং ক্রমিকে ছিল। ট্রাইব্যুনালের দেয়া মৃত্যুদণ্ডের রায়ের বিরুদ্ধে ২০১৫ সালের ২৮ জানুয়ারি আপিল দায়ের করেন এটিএম আজহারুল ইসলাম। সুপ্রিমকোর্টের আপিল বিভাগের সংশ্লিষ্ট শাখায় তার আইনজীবীরা এ আপিল দায়ের করেন। আপিল আবেদনে এটিএম আজহারুল ইসলামের খালাস চাওয়া হয়েছে। মোট আপিল ৯০ পৃষ্ঠার এবং আপিলে খালাসের পক্ষে ১১৩টি যুক্তি তুলে ধরা হয়। এর আগে ২০১৪ সালের ৩০ ডিসেম্বর রংপুর অঞ্চলের আলবদর কমান্ডার এটিএম আজহারুল ইসলামকে ফাঁসির আদেশ দিয়ে রায় দেন ট্রাইব্যুনাল।
একাত্তরে গণহত্যা, হত্যা ও ধর্ষণের মতো মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে তাকে এ সাজা দেন বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিমের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ১। সৈয়দ মোহাম্মদ কায়সার : মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় জাতীয় পার্টির (জাপা) নেতা সাবেক কৃষি প্রতিমন্ত্রী সৈয়দ মোহাম্মদ কায়সার খালাস চেয়ে ট্রাইব্যুনালের রায়ের বিরুদ্ধে ২০১৫ সালের ১৯ জানুয়ারি সুপ্রিমকোর্টের আপিল বিভাগের সংশ্লিষ্ট শাখায় আপিল করা হয়। আপিলে ট্রাইব্যুনালের রায় বাতিলের পাশাপাশি তাকে বেকসুর খালাস দেয়ার আবেদন জানানো হয়। সৈয়দ মোহাম্মদ কায়সারের পক্ষে অ্যাডভোকেট অন রেকর্ড জয়নুল আবেদীন তুহিন আপিল করেছেন। এ মামলার শুনানি করেন অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন। আপিলে খালাসের আর্জিতে ৫৬টি যুক্তি তুলে ধরা হয়েছে। ৫০ পৃষ্ঠার মূল আপিলের সঙ্গে প্রয়োজনীয় নথি সংযুক্ত রয়েছে। ২০১৪ সালের ২৩ ডিসেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের নেতৃত্বাধীন আদালত কায়সারকে মৃত্যুদণ্ড ঘোষণা করে রায় দেন।

আপিল ও ডেথ রেফারেন্সের রায় আজ

নারায়ণগঞ্জের আলোচিত সাত খুন মামলার ডেথ রেফারেন্স ও আসামিদের আপিলের রায় ঘোষণা করা হবে আজ। বিচারপতি ভবানী প্রসাদসিংহ ও বিচারপতি মোস্তফা জামান ইসলামের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট ডিভিশন বেঞ্চে আজকের কার্যতালিকায় ডেথ রেফারেন্স ও আপিল মামলাটি এক নম্বরে রাখা হয়েছে। ২৬ জুলাই সাত খুনের দুই মামলায় ডেথ রেফারেন্স ও আপিলের শুনানি শেষে ১৩ আগস্ট রায়ের দিন ধার্য করেন আদালত। ১৬ জানুয়ারি চাঞ্চল্যকর সাত খুনের দুই মামলার রায়ে নূর হোসেন ও র‌্যাবের বরখাস্তকৃত তিন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ ২৬ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেন নারায়ণগঞ্জের জেলা ও দায়রা জজ সৈয়দ এনায়েত হোসেনের আদালত। ৩৫ জন আসামির মধ্যে বাকি ৯ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। এরপর হাইকোর্টের ডেথ রেফারেন্স শাখা মামলার সব নথি বিজি প্রেসে পাঠায়। এরপরই বিজি প্রেস পেপারবুক প্রস্তুত করে ৭ মে হাইকোর্টে পাঠায়। প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে ২২ মে থেকে আপিল ও ডেথ রেফারেন্সের শুনানি শুরু হয়। ৩৩ কার্যদিবসের শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষে অংশ নেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম, ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এমএ মান্নান্ন মোহন ও জাহিদ সরওয়ার কাজল এবং সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল বশির আহমেদ। আসামিপক্ষে ছিলেন আইনজীবী মনসুরুল হক চৌধুরী, এসএম শাহজাহান প্রমুখ। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ২৬ জনের মধ্যে গ্রেফতার ও আত্মসমর্পণ করে কারাগারে থাকা ২০ জন নিয়মিত ও জেল আপিল করেছেন। ২০১৪ সালের ২৭ এপ্রিল ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডের ফতুল্লার লামাপাড়া এলাকা থেকে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলামসহ ৭ জনকে অপহরণের তিন দিন পর তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ওই ঘটনায় নিহত হন নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের ২নং ওয়ার্ডের তৎকালীন কাউন্সিলর ও প্যানেল মেয়র-২ নজরুল ইসলাম, তার বন্ধু মনিরুজ্জামান স্বপন, তাজুল ইসলাম, লিটন, নজরুলের গাড়িচালক জাহাঙ্গীর আলম, আইনজীবী চন্দন কুমার সরকার ও তার গাড়িচালক ইব্রাহিম। সাত খুনের ঘটনায় প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলাম ও তার ৪ সহকর্মী হত্যার ঘটনায় তার স্ত্রী সেলিনা ইসলাম বিউটি বাদী হয়ে ফতুল্লা থানায় একটি এবং সিনিয়র আইনজীবী চন্দন সরকার ও তার গাড়িচালক ইব্রাহিম হত্যার ঘটনায় জামাতা বিজয় কুমার পাল বাদী হয়ে একই থানায় আরেকটি মামলা করেন। দুটি মামলার বিচারিক কার্যক্রম একসঙ্গে শেষ করে রায় দেন বিচারিক আদালত।

ডিবির সহকারী কমিশনারসহ গুলিবিদ্ধ ৩

রাজধানীর শ্যামপুর থানার পোস্তগোলা এলাকায় অস্ত্র উদ্ধারে গিয়ে সন্ত্রাসীদের গুলিতে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের সহকারী কমিশনার (এসি) রাহুল পাটোয়ারি, পুলিশের সোর্স বিল্লাল ওরফে মৃদুল ও পথচারী সেলিম নামের এক যুবক গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। শনিবার রাত ৮টা ৪০ মিনিটের দিকে এ ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাদের উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। গোয়েন্দা পুলিশ সূত্র জানায়, মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (পশ্চিম) একটি দল ক্রেতা সেজে অস্ত্র উদ্ধারে গিয়েছিল। ডিবির টিম ঘটনাস্থলে যাওয়ামাত্রই সন্ত্রাসীরা টের পেয়ে গুলি ছোড়ে। সন্ত্রাসীদের গুলিতে ডিবির এসিসহ তিনজন গুলিবিদ্ধ হন। আহত রাহুল পাটোয়ারিকে দেখতে রাত সাড়ে ১০টার দিকে ঢামেক হাসপাতালে যান ডিএমপি কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া। হাসপাতাল থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সময় তিনি সাংবাদিকদের বলেন, সন্ত্রাসীরা বিক্রি করা অস্ত্র হাতবদল করতে ঘটনাস্থলে অবস্থান করছে- এমন সংবাদের ভিত্তিতে সেখানে অভিযানে যায় ডিবি পুলিশের দল। ডিবি কর্মকর্তারা একজন অস্ত্র ব্যবসায়ীকে জাপটে ধরে ফেলে। এ সময় অন্য অস্ত্র ব্যবসায়ীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। এতে গুলিবিদ্ধ হয় সহকারী কমিশনার রাহুল পাটোয়ারি।   এদিকে, এ ঘটনার পর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের যুগ্ম কমিশনার আবদুল বাতেন, ডিএমপির যুগ্ম কমিশনার কৃষ্ণপদ রায়সহ পুলিশ ও র‌্যাবের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। ঘটনাস্থল থেকে ৭ পয়েন্ট ৬৫ বোরের তিনটি গুলির খোসা উদ্ধার করা হয়েছে। ঢামেক সূত্রে জানা গেছে, রাহুল পাটোয়ারির বাম পাঁজরের নিচের অংশে, সোর্স বিল্লালের পায়ে ও পথচারী সেলিমের পিঠে গুলি লেগেছে। অপারেশন করে তাদের গুলি বের করা হয়েছে। রাহুল পাটোয়ারি এখন অনেকটা আশঙ্কামুক্ত বলে জানা গেছে। এ ঘটনার পর রাজধানীজুড়ে ব্লক রেইড শুরু করেছে পুলিশ ও গোয়েন্দা দল। অস্ত্র ব্যবসায়ী ও সন্ত্রাসীদের গ্রেফতারে পুরো ঢাকায় সাঁড়াশি অভিযান শুরু করেছে পুলিশ। স্থানীয়দের বরাত দিয়ে ওয়ারী বিভাগের উপ-কমিশনার ফরিদ উদ্দিন যুগান্তরকে বলেন, ঘটনাস্থলে বেশ কয়েক রাউন্ড গুলির শব্দ শোনা গেছে। তিনি বলেন, শুনেছি ডিবির একটি টিম অস্ত্র উদ্ধারে এসেছিল। তাদের ওপর সন্ত্রাসীরা হামলা চালিয়েছে।
তবে আহতদের মুখে না শুনে ঘটনা সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু বলা যাচ্ছে না। ভুক্তভোগী সেলিমের শ্বশুর বাবুল জানান, সেলিম প্রাইভেটকার চালক। গাড়ি গ্যারেজে রেখে বাসায় ফেরার পথে পিঠে গুলি লেগেছে। গুলিবিদ্ধ অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে প্রথমে মিটফোর্ড হাসপাতাল, পরে ঢামেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ঢামেকে চিকিৎসাধীন গুলিবিদ্ধ সেলিম জানান, রাতে ঘটনাস্থলের পাশে দাঁড়িয়ে তিনি চা খাচ্ছিলেন। এ সময় পেছন থেকে গুলি এসে তার পিঠে লাগে। ঘটনাস্থলে গিয়ে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, রাত আনুমানিক সাড়ে ৮টার দিকে একটি মোটরসাইকেলে তিনজন পোস্তগোলার নগর স্বাস্থ্যকেন্দ্রের সামনে আসে। তাদের মধ্যে একজন ডিবির এসি। তার সঙ্গে অস্ত্র ছিল। আগ থেকেই তিনজন অবস্থান করছিল সেখানে। মোটরসাইকেল আসার ১০ মিনিট পর হঠাৎ পরপর তিনটি গুলির শব্দ শোনা যায়। ওই তিন যুবক গুলি করে দৌঁড়ে পালিয়ে যায়। এ সময় ডিবির এসি এসে আমাদের বলে আমার গুলি লেগেছে। পরে তাকে মোটরসাইকেলে করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। তিন যুবকের হাতেই অস্ত্র ছিল বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। পরে রাত সাড়ে ১২টার দিকে পুলিশ ও র‌্যাবের গাড়ি ঘটনাস্থলে যায়। সিআইডির ক্রাইম সিন ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে আলামত সংগ্রহ করে।