Thursday, February 10, 2011

কানকুনের জলবায়ু সম্মেলন, বাংলাদেশের মমতাজ বেগম এবং আমার কিছু কথা by রুশনারা আলী

কটি ন্যায্য জলবায়ু তহবিল গঠনের বিষয়ে আশাবাদ তৈরি হয়েছে কানকুনের সদ্য সমাপ্ত জলবায়ু সম্মেলনের মাধ্যমে। এ তহবিল থেকে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত বা হুমকির মুখে পড়া দরিদ্র দেশগুলোকে সহায়তা করা হবে। যদিও এ তহবিলের অর্থ সংগ্রহ এবং রাষ্ট্রগুলোর কার্বন নিঃসরণ হ্রাসের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণের মতো অনেক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে এখনো বিস্তর অগ্রগতি প্রয়োজন।

নাপাম বোমা যা পারেনি, চ্যালেঞ্জার ও আব্রাম্‌স্‌ ট্যাংক কি তা পারবে? by আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী

ফগান যুদ্ধে তালেবানদের হাতে নাস্তানাবুদ পশ্চিমা শক্তি শেষ পর্যন্ত সেখানে সর্বাধুনিক ট্যাংক পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে। এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি, তবে লন্ডনের সানডে টাইমস ১৯ ডিসেম্বরের সংখ্যায় খবর দিয়েছে, ব্রিটিশ সামরিক কর্তৃপক্ষ আফগানিস্তানে ট্যাংক পাঠানোর বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে দেখছে। প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী লিয়াম ফক্স

গল্পসল্প- ঠাকুর ঘরে কে রে...! by আলী হাবিব

ডিসেম্বর বিজয়ের মাস। এ মাসটা রাজাকারদের নয়। এ মাসটি এলেই রাজাকাররা নিজেদের গুটিয়ে ফেলে। যেভাবে গুটিয়ে ফেলেছিল একাত্তরের ১৬ ডিসেম্বরের পর। রাজাকারদের নিয়ে অনেক প্রশ্ন। অনেক প্রশ্নের উত্তর এখনো মেলে না। যেমন, অস্ত্রের প্রশ্ন। একাত্তরে রাজাকাররা অস্ত্র ধরেছিল বাংলাদেশের বিরুদ্ধে। যুদ্ধ করেছিল। অনেকে এই বলে সমাধান দিতে চান যে সেটা ছিল রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত। কাজেই সেই সিদ্ধান্তের পক্ষে গিয়ে রাজাকাররা ভুল করেনি।

ষড়যন্ত্র নয়, ক্ষুধা ও বঞ্চনাই আন্দোলনের ইন্ধন by নাসরিন খন্দকার

দেশ কি একটা রাজনৈতিক সাংগঠনিক কাঠামো মাত্র? দেশ কি জিডিপি, প্রবৃদ্ধির হিসাব-নিকাশ মাত্র? দেশ কি একটা পতাকা? একটা প্রতীক? স্মৃতিসৌধ? না কি দেশ মানে দেশের মানুষ? দেশের পতাকায় সজ্জিত আজ বাংলাদেশ, রাস্তায় রাস্তায় পতাকা বহনকারী গাড়ি, ছাদে পতাকা, মাইকে দেশপ্রেমের গান। এটাই কি দেশপ্রেম?

ধান ভানতে শিবের গীত গাইলেন যোগাযোগমন্ত্রী by মশিউল আলম

কোনো ব্যক্তি, সংস্থা বা প্রতিষ্ঠানের কর্মকাণ্ড যদি বিপুলসংখ্যক মানুষের জীবনকে প্রভাবিত করে, তবে তা পেশাদারি সাংবাদিকতায় গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হয়। এ সম্পর্কে তথ্য-উপাত্ত, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মন্তব্য-প্রতিক্রিয়া—সমস্ত কিছুই সংবাদমূল্য বহন করে। ৫ ফেব্রুয়ারি দৈনিক প্রথম আলোর প্রথম পাতায় প্রকাশিত ‘৬১ ভাগ সড়কই নাজুক’ শিরোনামের প্রতিবেদনটি ছিল তেমনই সংবাদমূল্যবাহী একটি সাংবাদিকী রচনা। একই দিনের প্রথম আলোর ১৪ ও ১৫ পৃষ্ঠায় সারা দেশের সড়ক যোগাযোগব্যবস্থার দুর্দশা সম্পর্কে যেসব সচিত্র প্রতিবেদন ছাপা হয়েছে, সেগুলোও সমানভাবে সংবাদমূল্যবাহী এবং প্রথম পাতার প্রধান প্রতিবেদনটির পরিপূরক।
যোগাযোগমন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেন প্রথম পাতায় প্রকাশিত প্রতিবেদনটির প্রতিবাদ পাঠিয়েছেন। প্রথম আলোর সম্পাদককে সম্বোধন করে লেখা মন্ত্রীর দীর্ঘ প্রতিবাদপত্রের বক্তব্য সংবাদ আকারে গুরুত্বের সঙ্গে ছাপা হয়েছে ৭ ফেব্রুয়ারির প্রথম আলোর প্রথম পাতায়, সেই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদক ও কার্টুনিস্টের বক্তব্যও ছাপা হয়েছে। মন্ত্রীর মূল চিঠিটি অনেক দীর্ঘ, দেড় হাজার শব্দেরও বেশি। সেই চিঠিটির ভিত্তিতে পেশাদারি সাংবাদিকতার দৃষ্টিকোণ থেকে কিছু কথা বলা প্রয়োজন।
সারা পৃথিবীতেই সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ করার প্রচলন আছে। সাধারণত প্রতিবাদ করা হয় প্রকাশিত সংবাদের কোনো তথ্য-উপাত্ত ভুল, ভিত্তিহীন, মিথ্যা বা বানোয়াট হলে। প্রতিবাদকারী তথ্যপ্রমাণসহ দেখিয়ে দেন প্রকাশিত কোন তথ্য-উপাত্তগুলো ভুল বা ভিত্তিহীন। যোগাযোগমন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেন তাঁর প্রতিবাদপত্রের শুরুর দিকে লিখেছেন: ‘প্রথম আলোতে যোগাযোগ মন্ত্রণালয় সম্পর্কে একটি কার্টুন, খবর ও রাস্তার ছবি দেখে আমি হতবাক হয়েছি। বিস্মিত হয়েছি।’
কিন্তু মন্ত্রী মহোদয় তাঁর দীর্ঘ পত্রের কোথাও উল্লেখ করেননি প্রকাশিত প্রতিবেদনের কোন সংবাদ ‘ভিত্তিহীন’। ভাঙাচোরা, চলাচলের অযোগ্য রাস্তার ছবি দেখে তিনি কেন হতবাক হয়েছেন, তা বোঝা কঠিন। ছবিগুলোও কি ভিত্তিহীন? নাকি দেশের রাস্তাঘাটের দুর্দশা কখনো তাঁর নজরে পড়েনি, তাই প্রথম আলোয় প্রকাশিত ছবি দেখে তিনি হতবাক হয়ে গেছেন এই ভেবে যে তাঁর মন্ত্রণালয়ের অধীন সড়কগুলোর এহেন দুর্দশা কী করে হলো? ‘হতবাক’ বা ‘বিস্মিত’ হয়ে সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ করার চল সভ্য দুনিয়ায় আছে বলে শুনিনি, প্রতিবাদ করা হয় ভিত্তিহীন বা ভুল তথ্য প্রকাশিত হলে। কিন্তু মন্ত্রী প্রথম আলোয় প্রকাশিত কোনো তথ্যেরই ভিত্তিহীনতা চিহ্নিত করেননি।
মন্ত্রী তাঁর চিঠিতে আরও লিখেছেন, ‘...প্রথম আলোতে যোগাযোগ মন্ত্রণালয় সম্পর্কে ভিত্তিহীন কার্টুন ও সংবাদ অন্যান্য পাঠকের ন্যায় আমাকেও উদ্বিগ্ন করেছে। দেশের একটি লিড পত্রিকা কীভাবে এ ধরনের সংবাদ পরিবেশন করে—বিষয়টি আমাকে ভাবিয়ে তুলেছে।’
ওই প্রতিবেদন কোনো পাঠককে উদ্বিগ্ন করেছে কি না, তা জানা যায়নি। মন্ত্রীকে উদ্বিগ্ন করেছে এটা জানা গেল। কিন্তু তাঁর উদ্বেগের কারণ, তাঁকে ভাবিয়ে তোলার কারণ যদি এই হয় যে প্রথম আলোর মতো ‘লিড পত্রিকা’ তা প্রকাশ করেছে, তবে তাঁর উদ্বেগ ও ভাবনা অমূলক। সব দায়িত্বশীল সংবাদমাধ্যমেরই এমন জনগুরুত্বসম্পন্ন তথ্য প্রকাশ করা কর্তব্য। দেশের মোট ৯০ হাজার ২১০ কিলোমিটার পাকা সড়কের মধ্যে ৫৫ হাজার কিলোমিটার, অর্থাৎ ৬১ শতাংশই যদি নাজুক হয়ে পড়ে, যদি তিন হাজার কিলোমিটার সড়কের এমনই দুরবস্থা হয় যে সেগুলো আবার নতুন করে নির্মাণের প্রয়োজন পড়ে, তা হলে দেশজুড়ে জনজীবনে সীমাহীন দুর্ভোগ দেখা দেয়। দায়িত্বশীল সংবাদমাধ্যমের কর্তব্য সেই জনদুর্ভোগের চিত্র যতটা বিশদভাবে সম্ভব জনসমক্ষে তুলে ধরা। প্রথম আলো সেই কাজটিই করার চেষ্টা করেছে। প্রধান প্রতিবেদনটিতে যেসব তথ্য-উপাত্ত উল্লেখ করা হয়েছে, সেগুলোর উৎ স সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর (সওজ) এবং স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)। সওজ যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের অধীন, এর নেতৃত্বে আছেন মন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেন। মন্ত্রী মহোদয়ের যদি তাঁর নিজের মন্ত্রণালয়ের অধীন সড়কগুলোর দুর্দশার সম্পূর্ণ চিত্র জানা না থাকে, তবে প্রথম আলোর প্রতিবেদনটি তাঁর জন্য কিছুটা সহায়ক হতে পারে।
যোগাযোগমন্ত্রী আরও লিখেছেন, ‘...সব খারাপ রাস্তার জন্য শুধু যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের ওপর দোষ চাপানো সমীচীন নয়।’ কিন্তু তিনি হয়তো লক্ষ করেননি, প্রকাশিত প্রতিবেদনের কোথাও শুধু যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের ওপর দোষ চাপানো হয়নি। বস্তুত, দোষ চাপানোর কোনো ব্যাপারই ওই প্রতিবেদনে ছিল না। যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের অধীন সওজ, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের অধীন এলজিইডি ও ঢাকা সিটি করপোরেশনের সড়কগুলো সম্পর্কে ওই সব কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য-উপাত্তই প্রকাশ করা হয়েছে। স্বয়ং যোগাযোগমন্ত্রীর উদ্ধৃতিও প্রতিবেদনের শিরোনামের নিচেই বড় বড় হরফে ছাপা হয়েছে: ‘আমার এলাকার রাস্তাও খারাপ। আমরা পর্যাপ্ত বরাদ্দ পাইনি। তবে ছয় মাসের মধ্যে সব রাস্তা মেরামত হয়ে যাবে।’ অর্থাৎ , যোগাযোগ মন্ত্রণালয়কে দোষারোপ করা নয়, তার সীমাবদ্ধতার কথাও মন্ত্রীর বক্তব্য উদ্ধৃত করেই তুলে ধরা হয়েছে।
প্রসঙ্গক্রমে লক্ষ করা গেল, ৭ ফেব্রুয়ারি সোমবার জাতীয় সংসদে যোগাযোগমন্ত্রী সম্পর্কে সাংসদ রাশেদ খান মেননের সমালোচনামূলক বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘মন্ত্রীর সমালোচনা করবেন, এটা সাংবিধানিক অধিকার, এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু পত্রিকাগুলো যখন মিথ্যা, বানোয়াট, ভিত্তিহীন সংবাদ পরিবেশন করে, তখন এর প্রতিকার কী হবে?’ কিন্তু মাননীয় প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেননি, কোন পত্রিকা কী মিথ্যা, বানোয়াট, ভিত্তিহীন সংবাদ পরিবেশন করেছে। এতে সংবাদমাধ্যমের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর ক্ষোভের প্রকাশ ঘটেছে, কিন্তু সে ক্ষোভের ভিত্তি কী তা স্পষ্ট করা হয়নি। প্রজাতন্ত্রের সর্বোচ্চ নির্বাহী পদাধিকারী ব্যক্তির কণ্ঠে যখন সংবাদমাধ্যম সম্পর্কে এ রকম ঢালাও অভিযোগ উচ্চারিত হয়, তখন অধস্তন ক্ষমতাধরেরা সংবাদমাধ্যমের প্রতি অন্যায্যভাবে বিষোদগার করতে উৎ সাহিত হতে পারেন। তাতে সংবাদপত্রের স্বাধীনতা ও জবাবদিহিপূর্ণ গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার প্রতি সরকারের আন্তরিক অঙ্গীকার প্রশ্নবিদ্ধ হয়।
সরকারের দায়িত্বশীল কোনো কর্তৃপক্ষের কর্মকাণ্ডে ব্যর্থতা বা সীমাবদ্ধতা সম্পর্কে সঠিক তথ্য-উপাত্তনির্ভর প্রতিবেদন সংবাদমাধ্যম প্রকাশ করলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিরূপ প্রতিক্রিয়া করে। ক্ষমতাবান ব্যক্তিদের কেউ কেউ ক্রুদ্ধ হন, সংবাদমাধ্যমকে অন্যায্যভাবে দোষারোপ করার চেষ্টা করেন। এতে গণতান্ত্রিক মানসিকতার প্রতিফলন ঘটে না। যোগাযোগমন্ত্রী লক্ষ করে দেখবেন, তাঁর মন্ত্রণালয় ও স্বয়ং তাঁর কর্মসম্পাদনের সমালোচনা উচ্চারিত হচ্ছে খোদ জাতীয় সংসদেই। সরকারি দলের এক সাংসদ গত রোববার সংসদে বলেছেন, ‘যোগাযোগমন্ত্রী আশ্বাস দেন, কিন্তু তাতে কাজ হয় না।’ একটি সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি বলেছেন, ‘যোগাযোগমন্ত্রী চমৎ কার উত্তর দেন, কিন্তু কাজ শুরু হয় না।’ পরদিন রোববারও বেশ কয়েকজন সাংসদ যোগাযোগমন্ত্রীর সমালোচনা করেছেন; সংবাদমাধ্যমের প্রতি তাঁর বিষোদগারের সমালোচনা করেছেন সাংসদ রাশেদ খান মেনন, সরকারি দলের সাংসদেরা টেবিল চাপড়ে মেননের বক্তব্যের প্রতি সমর্থন প্রকাশ করেছেন।
যোগাযোগমন্ত্রী নিশ্চয়ই জানেন, সাতটি নতুন বিদ্যুৎ কেন্দ্রে উৎ পাদন শুরু হওয়ার কথা ছিল আগামী মার্চ থেকে। কিন্তু তা হতে পারছে না, কারণ ওই সব বিদ্যুৎ কেন্দ্রে জ্বালানি সরবরাহের জন্য রেললাইন স্থাপন, লোকোমোটিভ ও ওয়াগন সংগ্রহের কাজ যোগাযোগ মন্ত্রণালয় সম্পন্ন করতে পারেনি। পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ বাস্তবায়নে যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের এই ব্যর্থতার ফলে নতুন সাতটি বিদ্যুৎ কেন্দ্রে উৎ পাদন শুরু পিছিয়ে যাচ্ছে। যোগাযোগমন্ত্রী তাঁর চিঠিতে অন্যান্য মন্ত্রণালয়ের কথা তুলেছেন, কিন্তু তাঁর নিজের মন্ত্রণালয়ের ব্যর্থতার ফলে যে অন্যান্য মন্ত্রণালয়ের কাজও ব্যাহত হচ্ছে, তার জবাব কী?
প্রথম আলোর ওই প্রতিবেদনের লেখক তথ্য-উপাত্ত দিয়েছেন, যোগাযোগমন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্ট আরও কয়েকজন কর্মকর্তার বক্তব্য তুলে ধরেছেন। সংবাদপত্রে রিপোর্টিংয়ের সাধারণ সনাতনী রীতি মেনে তিনি নিজের মন্তব্য, ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ দেওয়া থেকে বিরত থেকেছেন। এখন যোগাযোগমন্ত্রীর প্রতিবাদপত্রের সুবাদে সেই প্রতিবেদনটি যদি আমরা বিশ্লেষণ করে দেখি, তাহলে মোটা দাগে একটি বিষয় স্পষ্ট হয়ে উঠবে—যোগাযোগ মন্ত্রণালয় থেকে সড়ক সংস্কারের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ চেয়ে অর্ধেক বরাদ্দ পাওয়া গেছে। এর মানে, সড়ক যোগাযোগ স্বাভাবিক রাখার জন্য সেগুলোর সংস্কার ও নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ যে একটি অত্যন্ত জরুরি বিষয়, এই খাতে পর্যাপ্ত অর্থ বরাদ্দ করা যে সরকারের অগ্রাধিকার হওয়া উচিত—মন্ত্রী এটা সরকারকে বোঝাতে ব্যর্থ হয়েছেন, অথবা সে চেষ্টা করেননি। তিনি তাঁর চিঠিতে পদ্মা সেতু ও এলিভেটেড এক্সপ্রেস ওয়ে—এই দুটি বৃহৎ বাজেটসহ আরও কতকগুলো বড় প্রকল্পের কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করেছেন; এসবের পেছনে তাঁকে হয়তো প্রচুর সময় ও শ্রম দিতে হচ্ছে। কিন্তু মানুষের জীবনযাত্রা ও ব্যবসা-বাণিজ্য স্বাভাবিক রাখার জন্য বিদ্যমান সড়কব্যবস্থার নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ কোনোভাবেই গৌণ বিষয় নয়, যা নিয়ে অবহেলা করা যায়।
প্রথম আলোয় প্রকাশিত প্রতিবেদন ও ছবিগুলো, সম্পাদকীয় নিবন্ধ, যোগাযোগমন্ত্রীর বক্তব্যের জবাবে সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদকের বক্তব্য এবং এই লেখা যদি দেশের সড়ক যোগাযোগব্যবস্থার করুণ দুর্দশা এবং সে কারণে জনজীবনে ব্যাপক দুর্ভোগ, ব্যবসা-বাণিজ্যসহ দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের ওপর নেতিবাচক প্রভাবের চিত্র তুলে ধরতে পারে এবং যোগাযোগমন্ত্রীসহ সরকারের নীতিনির্ধারক মহল বিষয়টির গুরুত্ব উপলব্ধি করে অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে প্রতিকারের উদ্যোগ নেন, তাহলে দেশবাসী, সরকার, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী—সবারই মঙ্গল হবে।
মশিউল আলম: সাংবাদিক
mashiul.alam@gmail.com

এখনো গেল না আঁধার by আয়শা খানম

শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার চামটা গ্রামের কিশোরী হেনার মৃত্যু আবারও গোটা সমাজ, রাষ্ট্র, সরকার সবাইকে জানান দিয়ে গেল, বাংলাদেশের সমাজের ভেতরে এখনো অনেক কুসংস্কার, অনেক নারী ও মানবাধিকারবিরোধী ধারণা বিদ্যমান। ১০০ বছর আগে রোকেয়া সাখাওয়াৎ হোসেনের সময় থেকে এখন পর্যন্ত নারীর মানবসত্তার অধিকার দিতে প্রস্তুত নয় একদল মানুষ।
রোকেয়া সাখাওয়াৎ থেকে আজ এগিয়েছি অনেক। দুর্ভাগ্যের বিষয়, সমাজমানসের ভেতরে যে আলোর প্রসার, যে মনুষ্যত্বের চেতনাবোধের বিকাশ দরকার, তা এখনো সমাজ ও রাষ্ট্রের অনেক স্তরেই দেখা যায় না। অনেক অর্জন, অনেক মৌলিক অর্জনের পাশাপাশি অনেক পশ্চাৎ পদ চিন্তাচেতনা—পশ্চাৎ পদতা বিদ্যমান।
হেনার ওপর যে নির্যাতন হলো, সেই নির্যাতনকারী এ ধরনের ঘটনা এর আগেও একাধিকবার ঘটিয়েছে। প্রতিবারই তার এলাকার মানুষজন ক্ষমা করেছে নিজস্ব বিবেচনায় তাকে মৃদু তিরস্কার বা অর্থদণ্ড প্রদান করে বা হালকা শাস্তির ব্যবস্থা করেছে। কখনো তারা আইন-আদালতের কাছে যায়নি।
তাদের বিচার সব সময় নির্যাতনকারীর পক্ষে, নির্যাতনের শিকার নারী-কিশোরীর বিপক্ষে। এবারও তাই হয়েছে। ধর্ষক হিসেবে তার শাস্তি প্রথমে ২০০টি দোররা মারার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, তারপর তা কমে যায়; ১০০টি দোররা মারার সিদ্ধান্ত হয়। কিন্তু ধর্ষণের যে শিকার, তাকেও দোররা মারা হয়। ধর্ষণকারী ও ধর্ষণের শিকার দুজনকেই একই মাত্রার শাস্তি দেওয়ার এই বিধান তারা কোথায় পেল? পুরো প্রক্রিয়াটি আইন ও বিচারবহির্ভূত।
দোররা মারার ফতোয়া প্রদান আইনত দণ্ডনীয়। এই ফতোয়া তারা কীভাবে দেয়? উল্লেখ্য, বিচার প্রদানের জন্য যে পাঁচজন তারা ঠিক করল, সেখানে ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য আছেন, ইমাম আছেন!
নারীর অধিকার, নারীর সম্মান রক্ষার দায়িত্ব শুধু পুরুষের একার নয়, এ ক্ষেত্রে নারীসমাজেরও করণীয় আছে। ধর্ষক পুরুষের স্ত্রী হয়ে হেনার ধর্ষণকারীর স্ত্রী যে ভূমিকা নিলেন, তা-ও গ্রহণযোগ্য নয়।
হেনার মর্মান্তিক অকালমৃত্যু ও তার এই ঘটনায় হেনা বা তার পরিবার অপমানিত হয়নি। অপমানিত হয়েছি আমরা যারা কয়েক দশক ধরে সকল প্রকার ফতোয়া, দোররা মারা এগুলোর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ সংগ্রাম গড়ে তুলছি এবং বিশেষ করে যারা দুই বছর আগে ফতোয়া, মৌলবাদী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে রায় প্রদানের জন্য সংগ্রাম করে, রিট পিটিশন করে রায় প্রকাশ করতে সক্ষম হয়েছিলাম। অপমানিত হয়েছে সমাজসত্তা।
অপমানিত হয়েছে গোটা সমাজব্যবস্থা ও রাষ্ট্র, যেখানে সমাজ ধর্ষকের পক্ষে ওকালতি করে তার পাশে দাঁড়ায়। রাষ্ট্র ও সরকার তাদের দায়দায়িত্ব কীভাবে পালন করছে, তা পুনরায় পর্যালোচনা করে দেখবেন। মানবাধিকারকর্মী হিসেবে আমাদের আত্মপর্যালোচনা করা দরকার, কোন পদ্ধতিতে কীভাবে আমাদের প্রচার ও জনমত গঠনের কাজ করা দরকার, যাতে সমাজমানস পরিবর্তিত হয় দ্রুত নারীর মানবাধিকারের পক্ষে। গড়ে ওঠে মানবাধিকারের সংস্কৃতি।
সরকারের মন্ত্রিসভায় গুরুত্বপূর্ণ পদে নারী সদস্য থাকা যেমন জরুরি এবং অগ্রগতি ও ক্ষমতায়নের সূচক, তেমনি পাশাপাশি ব্যাপক গণনারীর জীবনের বিস্তৃত প্রসারিত পরিসর, নিরাপদ পরিসর তৈরি রাষ্ট্র-সরকার ও সমাজের জরুরি কর্তব্য। এই দায়িত্ব ও কর্তব্য অবহেলিত হয়েছে, বিভ্রান্ত পথে পরিচালিত হয়েছে হেনার ক্ষেত্রে। হেনার নিরাপদ জীবনের নিশ্চয়তা দিতে ব্যর্থ হয়েছে সমাজ ও রাষ্ট্র। এটা আমাদের সবার ব্যর্থতা। এর দায় আমাদের স্বীকার করতে হবে।
উদ্বেগজনক হলেও সত্য, ২০১০ সালে বাংলাদেশের নারী নির্যাতনের চিত্র হচ্ছে, মোট পাঁচ হাজার ৭৪০ জনের মধ্যে ধর্ষণের শিকার ৫৯৩ জন।
সুতরাং সমাজ-উন্নয়ন ও নানামুখী অগ্রসরমাণতার চিত্র ও তথ্য আশান্বিত করতে পারে না। সরকার, প্রশাসন ও নাগরিক সমাজের কাছে আমার বিনীত সুপারিশ হচ্ছে:
হাইকোর্টের রায় বাংলাদেশ টেলিভিশনে ধারাবাহিক প্রচার করা হোক। তথ্য অধিকার কমিশন, মানবাধিকার কমিশন নিজেরা এ বিষয়ে উদ্যোগী হবে এবং এগুলো প্রচারের ব্যবস্থা করবে।
এই কাজে নারী ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়, তথ্য ও সংস্কৃতি, আইন বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয় সচেতন দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করবে এবং যার যার সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকে যথেষ্ট সক্রিয় করে তুলবে।
স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় সার্কুলার দিয়ে এই রায়গুলো জানিয়ে দেবে।
ইমাম প্রশিক্ষণ পাঠ্যসূচি নতুন করে ঢেলে সাজান। ইমাম প্রশিক্ষণ কর্মসূচি গ্রামীণ-সাধারণ নারীর অধিকার রক্ষায় কতটুকু কাজে লাগছে, তার মূল্যায়ন দরকার।
হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে যারা কাজ করছে, তাদের আইন ও বিচারের অধীনে আনবে।
সালিসকারীদের যেভাবেই হোক দ্রুত আইনানুগ বিচার ও শাস্তির ব্যবস্থা করা হোক।
সমাজকে ধর্ষকের পক্ষে নয়, ধর্ষণের শিকার, নির্যাতনের শিকার ব্যক্তির পক্ষে দাঁড়াতে হবে—এই চেতনা জাতীয়ভাবে আমাদের মধ্যে সঞ্চারিত হোক, এই সামাজিক চেতনা বৃদ্ধি পাক।
সংগঠিত ঘটনার এলাকার সাংসদ, ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য, উপজেলা চেয়ারম্যান মেম্বরদের সচেতন দায়িত্বশীল ভূমিকা আরও পালন করতে হবে। এ ক্ষেত্রেও শিথিলতা লক্ষ করা যাচ্ছে এখনো।
নারী সমাজকে ধর্ষণসহ সকল প্রকার নারী নির্যাতনের বিরুদ্ধে সচেতন-সক্রিয়ভাবে দাঁড়াতে হবে।
হেনার নির্যাতনকারীদের বিচার চাই, শাস্তি চাই আমরা সবাই।
আমরা আজ বিবেকের দংশনে জর্জরিত।
জাতীয় সংসদের নারী সাংসদদের নিয়ে নারী-আন্দোলনকর্মী সংগঠকদের একটা ‘উইমেন কক্কাস’ গঠনের পরিকল্পনা ও পরামর্শ ছিল গত নির্বাচনের আগে। সেই উইমেন কক্কাস গঠন প্রয়োজন। এই কক্কাস শুধু নারীর প্রতি বিরাজমান বৈষম্য দূর করার পরিকল্পনা ও কর্মসূচি গ্রহণের কাজেই প্রয়োজন নয়, প্রয়োজন হয় এ ধরনের সময় সময় গজিয়ে ওঠা ভয়াবহ সামাজিক সমস্যা কার্যকরভাবে মোকাবিলা করার জন্য। এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব থাকবে, নারী সাংসদেরা (১৯ জন নির্বাচিত, ৪৫ জন মনোনীত—মোট ৬৪ জন) মানবাধিকার ও উন্নয়ন সংগঠনের কর্মী-সংগঠকদের নিয়ে সারা দেশের ৬৪টি জেলা ও ৪৭২টি উপজেলায় কয়েক বছর ধরে এলাকাবাসীর সঙ্গে মতবিনিময় করবেন এবং একটা প্রতিজ্ঞা বা শপথ গ্রহণ করা হবে যে, কোনোমতেই আর এই দেশে কোনো নিষ্ঠুর আচরণ নারীর প্রতি নয়, কিশোরীর প্রতি নয়, শিশুর প্রতি নয়। কোনো প্রকার ফতোয়া নয়; ফতোয়াদান, বেত্রাঘাত বা কোনো বিচারকার্য নিজের হাতে নেওয়া নয়।
পাশাপাশি নারী সমাজের আরও যথাযথভাবে সচেতন হওয়া প্রয়োজন।
আমরা আজ গভীরভাবে ব্যথিত, মর্মাহত, উদ্বিগ্ন যে আমাদের সমাজমানস এবং এর ভেতরের সত্তা এখনো সচেতন-শিক্ষিত ও যথাযথভাবে আলোকিত হয়ে উঠছে না।
আয়শা খানম: সভাপতি, বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ।

দুই নেত্রীর সম্পদের হিসাব by বদিউল আলম মজুমদার

জাতীয় সংসদের সপ্তম অধিবেশনের সমাপনী ভাষণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিরোধীদলীয় নেত্রী খালেদা জিয়ার সম্পদের হিসাব দাবি করে বক্তব্য দিয়েছিলেন। তিনি দাবি করেছেন, খালেদা জিয়ার ক্যান্টনমেন্টের ৪৫টি কামরা ও এক ডজন বাথরুম-সংবলিত বাড়িতে ৬৪টি এসি, ৭১টি সোফাসেট, ১৭টি ফ্রিজ, সাত হাজার ২০০ বর্গফুট কার্পেটসহ অসংখ্য মূল্যবান মালামাল ছিল, যা ২৯টি গাড়িতে করে স্থানান্তর করা হয়। তিনি আরও বলেন, অ্যালুমিনিয়াম গ্লাস, দরজার গ্রিল, কমোড, বেসিন, আয়না, চৌকাঠসহ কাঠের দরজা, পানির ট্যাংক, ইতালিয়ান পর্দা, সিঁড়ির হাতল ইত্যাদি খালেদা জিয়া নিয়ে যেতে চান। এসব সম্পদ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে দেওয়া সম্পদের হিসাবে উল্লেখ আছে কি না, তা খতিয়ে দেখার জন্য প্রধানমন্ত্রী এনবিআর ও অর্থমন্ত্রীকে আহ্বান জানান (প্রথম আলো, ৯ ডিসেম্বর ২০১০)। পরদিন বিএনপির মহাসচিব খোন্দকার দেলোয়ার হোসেন প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যকে শিষ্টাচারবহির্ভূত বলে আখ্যায়িত করেন এবং একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর পরিবারের আয় ও সম্পদের হিসাব দাবি করেন।
নাগরিক হিসেবে আমরা আশা করেছিলাম, সম্পদের হিসাব প্রদানকে রাজনৈতিক ফুটবলে পরিণত না করে শেখ হাসিনা ও খালেদা জিয়া, যাঁরা দুজন দু-দুবার প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছিলেন বা করছেন, স্বেচ্ছায় নিজের ও পরিবারের আয় ও সম্পদের হিসাব প্রকাশ করবেন। এ পদক্ষেপের মাধ্যমে তাঁদের সততা ও স্বচ্ছতা সম্পর্কে জনমনে অনেক সন্দেহের অবসান ঘটত। এ ছাড়া নির্বাচনের আগে তাঁরা নিজেরাই জাতির কাছে অঙ্গীকার করেছিলেন, নির্বাচনের পর তাঁরা সম্পদের হিসাব প্রকাশ করবেন।
স্মরণ করা যেতে পারে, ‘দিনবদলের সনদ’ শীর্ষক নির্বাচনী ইশতেহারের দুই জায়গায় আওয়ামী লীগ উচ্চপদস্থ ব্যক্তিদের সম্পদের হিসাব প্রদানের অঙ্গীকার করেছিল। দিনবদলের সনদে ‘দুর্নীতির বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা’ শীর্ষক শিরোনামে বলা হয়েছে, ‘ক্ষমতাধরদের বার্ষিক সম্পদ বিবরণ দিতে হবে।’ একই দলিলে পরবর্তী সময়ে ‘সুশাসন’ শীর্ষক শিরোনামে সুস্পষ্টভাবে বলা হয়, ‘প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রিসভার সদস্য এবং সংসদ সদস্য ও তাঁদের পরিবারের সম্পদের হিসাব ও আয়ের উৎ স প্রতিবছর জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে।’ একইভাবে বিএনপি তার ‘দেশ বাঁচাও, মানুষ বাঁচাও’ শীর্ষক নির্বাচনী ইশতেহারে শর্তহীনভাবে অঙ্গীকার করে, ‘নির্বাচনের পর শপথ গ্রহণের ৩০ দিনের মধ্যে সকল নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিকে সম্পদের বিবরণী প্রকাশ করতে হবে।’ নির্বাচনের দীর্ঘ দুই বছর পরও প্রধানমন্ত্রী ও বিরোধী দলের নেত্রী তাঁদের অঙ্গীকার রক্ষা করেননি এবং তাঁদের নিজেদের ও অন্য ক্ষমতাধরদের সম্পদের হিসাব প্রকাশ করেননি।
গত নির্বাচনের আগে সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) নিরবচ্ছিন্ন প্রচেষ্টার ফলে মনোনয়নপত্রের সঙ্গে হলফনামার মাধ্যমে সম্পদের হিসাবসহ আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রদানের এবং তা প্রকাশের বিধান নির্বাচনী আইনে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। আইনের এ বিধানের ফলে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী সব প্রার্থীকে হলফনামা দাখিল করতে হয়। আরও দাখিল করতে হয় তাঁদের আয়কর রিটার্নের কপি। আমাদের দুই নেত্রী কর্তৃক তাঁদের হলফনামা ও আয়কর রিটার্নে প্রদত্ত তথ্য, যা নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে, পাশে জনগণের অবগতির জন্য তা তুলে ধরা হলো। আমরা শুধু হলফনামা ও আয়কর রিটার্নে প্রদত্ত তথ্যই, যা ২০০৮-এর নির্বাচনের আগে নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া হয়েছে, তা তুলে ধরছি। নির্বাচন-পরবর্তী পরিবর্তনগুলো (যেমন—মামলা ও সম্পদের ক্ষেত্রে) এখানে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি (জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী অন্য প্রার্থীদের প্রদত্ত তথ্যের তূলনামূলক চিত্রের জন্য দেখুন: www.votebd.org)। জনগণকে অবহিত করা ছাড়াও এসব তথ্য প্রকাশের উদ্দেশ্য হলো তাঁদের প্রতিশ্রুতির কথা স্মরণ করিয়ে দেওয়া (নিচে ছক আকারে নির্বাচন কমিশনের দেওয়া হিসাব তুলে দেওয়া হলো)।
শেখ হাসিনা ও খালেদা জিয়ার প্রদত্ত তথ্যের মধ্যে অনেক সাদৃশ্য খুঁজে পাওয়া যায়। তাঁদের উভয়ের পেশাই রাজনীতি। তাঁদের দায়দেনা ও ঋণ নেই। তাঁরা উভয়েই কোটিপতি। শেখ হাসিনার নিট সম্পদের পরিমাণ সাড়ে তিন কোটির একটু বেশি এবং খালেদা জিয়ার প্রায় পৌনে চার কোটি। তবে এসব তথ্য অসম্পূর্ণ, কারণ অনেক সম্পদের বর্ণনা অসম্পূর্ণ এবং প্রদত্ত মূল্য অর্জনকালীন সময়ের, যার ফলে বর্তমানে কে কতটুকু সম্পদশালী, তা সঠিকভাবে নির্ণয় করা অসম্ভব। যেমন—খালেদা জিয়ার মইনুল রোডের (যে বাড়ি তাঁকে ছেড়ে দিতে হয়েছে) ও গুলশানের স্থাবর সম্পদের অর্জনকালীন মূল্য যথাক্রমে ৫ ও ১০০ টাকা প্রদর্শন করা হয়েছে। অর্থবহ তুলনার স্বার্থে তাই হলফনামার ছকটিতে পরিবর্তন আনা জরুরি। শেখ হাসিনা ও খালেদা জিয়ার প্রদত্ত তথ্যের মধ্যে অনেক বৈসাদৃশ্যও লক্ষ করা যায়। যেমন—শেখ হাসিনার আয় যেখানে প্রায় ৩০ লাখ টাকা, সেখানে খালেদা জিয়ার আয় এর অর্ধেকেরও কম, প্রায় ১৩ লাখ টাকা। শেখ হাসিনার প্রদত্ত ট্যাক্স ছয় লাখ টাকার ওপরে হলেও খালেদা জিয়ার প্রদত্ত ট্যাক্স দুই লাখ টাকার কম। তবে খালেদা জিয়ার আয়কর রিটার্নে আগের কর বছরের জন্য ৪৪,১০,৩৮৯ টাকা কর পরিশোধ খাতে ব্যয় দেখানো হয়েছে। পক্ষান্তরে, শেখ হাসিনার ক্ষেত্রে একই কর বছরের কর পরিশোধ খাতে ৬,৮৭,৪৪১ টাকা প্রদর্শন করা হয়েছে।
এটি আজ স্পষ্ট যে জাতি হিসেবে এগিয়ে যেতে হলে আমাদের রাজনীতিকে কলুষমুক্ত করতে হবে। ক্ষমতাধর ব্যক্তিদের বার্ষিক সম্পদের হিসাব প্রদান এবং জনসমক্ষে প্রকাশ এ লক্ষ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। বড় দুটি রাজনৈতিক দলই এ ব্যাপারে অঙ্গীকারবদ্ধ। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ আরও অঙ্গীকারবদ্ধ মাননীয় সংসদ সদস্যদের জন্য একটি আচরণবিধি প্রণয়ন করতে। এই অঙ্গীকারের অংশ হিসেবে সাবের হোসেন চৌধুরী গত বছর সংসদে একটি বেসরকারি বিল উত্থাপন করেছেন। বিলটি আইনে পরিণত এবং ফি বছর সম্পদের হিসাব প্রকাশ করা বাধ্যতামূলক করা হলে নাগরিকেরা জানতে পারত, কোন কোন ব্যবসা-বাণিজ্যের সঙ্গে সংসদ সদস্যরা যুক্ত, কোথায় তাঁদের স্বার্থের দ্বন্দ্ব রয়েছে এবং তাঁদের কেউ বর্তমান পুঁজিবাজার-কলঙ্কের সঙ্গে জড়িত কি না, যে বিষয়ে এখন ব্যাপক গুজব বিরাজ করছে। কিন্তু গণমাধ্যমের সূত্রে আমরা জেনেছি, সংশ্লিষ্ট সংসদীয় কমিটি বিলটি আইনে পরিণত করার বিরুদ্ধে সুপারিশ করেছে। এ সিদ্ধান্তের মাধ্যমে তাঁরা কি নিজেদের দায়বদ্ধতার ঊর্ধ্বে রাখার চেষ্টা করছেন? আশা করি, জাতির ভবিষ্যতের স্বার্থে উভয় নেত্রী এসব বিষয়ে ভাববেন এবং যথার্থ উদ্যোগ নেবেন।
ড. বদিউল আলম মজুমদার: সম্পাদক, সুজন।

নির্বাচন কমিশনে দেওয়া শেখ হাসিনা ও বেগম খালেদা জিয়ার সম্পদের হিসাব
শেখ হাসিনা
শিক্ষাগত যোগ্যতা: বিএ
পেশা/জীবিকা: রাজনীতি
আয়ের উৎ সসমূহ ও পরিমাণ (বাৎ সরিক): কৃষি খাত: ৪,৫০,০০০/-, বাড়ি/অ্যাপার্টমেন্ট/দোকান বা অন্যান্য ভাড়া: ৪,৪৮,০০০/-, শেয়ার, সঞ্চয়পত্র/ব্যাংক আমানত: ২০,৭৯,০৬৭/-
প্রার্থীর নিজের নির্ভরশীল প্রার্থী এবং প্রার্থীর ওপর নির্ভরশীলদের অস্থাবর সম্পদের বিবরণ: নগদ টাকা নিজ নামে: ১,৫০,০০০/-; স্বামীর নামে: ৬০,৬৭১/-, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জমাকৃত অর্থের পরিমাণ নিজ নামে: ৩,১৮,৮৪,৯০৪/-; স্বামীর নামে: ৩০,৭৪,৬০৩/-, বাস, ট্রাক, মোটরগাড়ি ও মোটরসাইকেল ইত্যাদির বিবরণী (পরিমাণ, অর্জনকালীন সময়ের মূল্যসহ) নিজ নামে: ৬,০০,০০০/-, স্বর্ণ ও অন্যান্য মূল্যবান ধাতু নিজ নামে: ১৩,২৫,০০০/-; স্বামীর নামে: ২,৫০০/-, আসবাবপত্র নিজ নামে: ৭,৪০,০০০/-; স্বামীর নামে: ১০,০০০/-
স্থাবর সম্পদ: কৃষি জমি নিজ নামে: ৪ একর, মূল্য: ১,৭৫,০০০/-; স্বামীর নামে: ৩ একর, মূল্য: ১৫,০০০/-, দালান/আবাসিক বা বাণিজ্যিক স্বামীর নামে: ৬৪,০৩,৯৫২/-
যৌথ মালিকানায় প্রার্থীর অংশ: যৌথ মালিকানা: পাঁচ একর কৃষি জমির ৫০%
দায়দেনাগুলোর বিবরণ ও পরিমাণ: নেই
প্রার্থীর ঋণ ও ঋণের পরিমাণ/আর্থিক প্রতিষ্ঠানের নাম: নেই
আয়কর বিবরণীতে দাখিলকৃত সম্পদ: অকৃষি সম্পত্তি: ১,৭৫,০০০/-, কৃষি সম্পত্তি: ৬,৭৮,০০০/-, মোটরযান (দুটি): ৬,০০,০০০/-, অলংকারাদি: ১৩,২৫,০০০/-, আসবাবপত্র: ৭,৪০,০০০/-, নগদ, ব্যাংক ও অন্যান্য: ৩,১৮,৮৪,৯০৪/-
নিট সম্পদ: ৩,৫৪,০২,৯০৪/-
মোট আয়: ২৯,৭৭,০৬৭/-
প্রদত্ত কর: ৬,০৬,৭৬৭/-
জীবনযাত্রার মান: যানবাহন রক্ষণাবেক্ষণ খরচ: ২০,০০০/-, আবাসিক বিদ্যুৎ বিল: ৬০,০০০/-, আবাসিক টেলিফোন বিল: ২৫,০০০/-

বেগম খালেদা জিয়া
শিক্ষাগত যোগ্যতা: স্বশিক্ষিত
পেশা/জীবিকা: রাজনীতি
আয়ের উৎ সসমূহ ও পরিমাণ (বাৎ সরিক): বাড়ি/অ্যাপার্টমেন্ট/দোকান বা অন্যান্য ভাড়া: ৫,২৩,৮০০/-, শেয়ার, সঞ্চয়পত্র/ব্যাংক আমানত: ৭,৭৩,৩৮৩/-, অন্যান্য: ১২,৯৭,১৮৩/-, নগদ টাকা: ৩৬,৫২,৮৪৫/-
প্রার্থীর নিজের নির্ভরশীল প্রার্থী এবং প্রার্থীর ওপর নির্ভরশীলদের অস্থাবর সম্পদের বিবরণ: ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জমাকৃত অর্থের পরিমাণ: ২,৭৫,৪২,২৮৫/-, বাস, ট্রাক, মোটরগাড়ি ও মোটরসাইকেল ইত্যাদির বিবরণী (পরিমাণ, অর্জনকালীন সময়ের মূল্যসহ): ৫৪,৪৫,০০০/-, ৫০ তোলা স্বর্ণ ও জহরত বিয়ের সময় উপহারপ্রাপ্ত, আসবাবপত্র: ২,৬০,০০০/-, ইলেকট্রনিক সামগ্রী: ৪,৩৫,০০০/-
স্থাবর সম্পদ: অকৃষি জমি: ১২,৩০০/-
যৌথ মালিকানায় প্রার্থীর অংশ: বাড়ি/অ্যাপার্টমেন্ট যৌথ মালিকানায় মূল্য: ১০৫/- (প্রার্থীর ১/৩ অংশ)
দায়দেনাগুলোর বিবরণ ও পরিমাণ: প্রযোজ্য নয়
প্রার্থীর ঋণ ও ঋণের পরিমাণ/আর্থিক প্রতিষ্ঠানের নাম: প্রযোজ্য নয়
আয়কর বিবরণীতে দাখিলকৃত সম্পদ: অকৃষি সম্পত্তি: ১২,৪০৫/-, বিনিয়োগ: ১,৪৫,৬০,৬৪৫.১৩/-, মোটরযান (চারটি): ৫৪,৪৫,০০০/-, অলংকারাদি, মূল্য জানা নেই (৫০ তোলা), আসবাবপত্র: ২,৬০,০০০/-, ইলেকট্রনিক সামগ্রী (সাতটি এয়ারকুলারসহ): ৪,৩৫,০০০/-, নগদ, ব্যাংক ও অন্যান্য: ৩৬,৫২,৮৪৫/-, অন্যান্য পরিসম্পদ: ১,২৯,৮১,৬৪০/৬৭ (সঞ্চয়ী হিসাবের স্থিতি)
নিট সম্পদ: ৩,৭৩,৪৭,৫৩৫.৮০/-
মোট আয়: ১২,৯৭,১৮৩/-
প্রদত্ত কর: ১,৮৬,৭৯৬/-
জীবনযাত্রার মান: যানবাহন রক্ষণাবেক্ষণ খরচ: ৮৪,০০০/-, উৎ সব ব্যয় ও অন্যান্য: ৯৬,০০০/-, ব্যক্তি ও ভরণপোষণ খরচ: ১,২০,০০০/-, উৎ সে কর্তনসহ বিগত বছরের পরিশোধিত আয়কর: ৪৪,১০,৩৪৯/-

পুলিশ কর্মকর্তাকে দিয়ে জুতা পরিষ্কার!

ব্যক্তিগত নিরাপত্তা কর্মকর্তাকে দিয়ে জনসমক্ষে নিজের জুতা পরিষ্কার করিয়ে বিতর্কের ঝড় তুলেছেন ভারতের উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী মায়াবতী। গত রোববার উত্তর প্রদেশের আউড়াইয়া জেলার আম্বেদকর গ্রামে সফর করার সময় এ ঘটনা ঘটে।
ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, হেলিকপ্টার থেকে নামার পর মায়াবতী তাঁর ডিএসপি পদমর্যাদাসম্পন্ন নিরাপত্তা কর্মকর্তা পদম সিংকে নিজের পা দেখিয়ে ইশারা করেন। এর পরই পদম সিং পকেট থেকে একটি রুমাল বের করে তাঁর জুতা মোছা শুরু করেন। এ সময় মায়াবতী তাঁকে অভ্যর্থনা জানাতে আসা জেলা কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলছিলেন। তাঁদের সামনেই কয়েক মিনিট ধরে চলে পদম সিংয়ের ‘জুতা পরিষ্কার’।
কর্মকর্তারা বলেছেন, পদম সিং ১৫ বছর ধরে মায়াবতীর নিরাপত্তা কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। কিছুদিন আগেই তাঁর চাকরির মেয়াদ শেষ হয়। কিন্তু মায়াবতী বিশেষ বিবেচনায় সে মেয়াদ এক বছর বাড়িয়ে দিয়েছেন। চাকরিজীবনে কৃতিত্ব প্রদর্শনের স্বীকৃতি হিসেবে পদম সিং রাষ্ট্রপতি পদকও লাভ করেছেন।
বিরোধী দলের নেতারা বলেছেন, এমন একজন সম্মানিত কর্মকর্তাকে দিয়ে জুতা পরিষ্কার করিয়ে মায়াবতী ‘সামন্তবাদী’ মানসিকতার পরিচয় দিয়েছেন।
সমাজবাদী পার্টির রাজ্য সভাপতি অখিলেশ যাদব বলেন, মুখ্যমন্ত্রীর এ আচরণ লজ্জাকর। নিরাপত্তা কর্মকর্তাকে দিয়ে জুতা সাফ করানোয় তাঁর চরম দাম্ভিক মানসিকতা প্রকাশ পেয়েছে।
কংগ্রেস পার্টির মুখপাত্র অখিলেশ প্রতাপ সিং বলেন, ‘সামন্তবাদীদের বিরুদ্ধে লড়াই করার নামে মায়াবতী ক্ষমতায় এসেছিলেন। কিন্তু মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর নিজের অতীত ভুলে তিনি সেই সামন্ততান্ত্রিক মনোবৃত্তিকেই বেছে নিয়েছেন।
তবে মায়াবতীর দল বহুজন সমাজ পার্টির (বিএসপি) নেতারা ঘটনাটিকে মামুলি বিষয় বলে উড়িয়ে দিয়েছেন।

ফিলিস্তিনে আগামী জুলাইয়ে স্থানীয় নির্বাচন

ফিলিস্তিনে আগামী ৯ জুলাই স্থানীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। গতকাল মঙ্গলবার দেশটির মন্ত্রিসভার এক বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ২০০৬ সালের পর দেশটিতে এটাই প্রথম নির্বাচন। ফিলিস্তিনি সরকারের একটি ঘনিষ্ঠ সূত্র এ তথ্য জানিয়েছে।
সূত্র জানায়, মন্ত্রিসভায় ৯ জুলাই স্থানীয় নির্বাচন অনুষ্ঠানের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পরে এ বিষয়ে একটি আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেওয়া হবে বলেও সূত্র জানায়। গত বছরের ১৭ জুলাই এ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। তবে হামাস নির্বাচনে অংশ না নেওয়ার ঘোষণা দিলে ওই নির্বাচন স্থগিত করা হয়।
বর্তমানে হামাস গাজা উপত্যকা শাসন করছে। হামাসের আগের সিদ্ধান্তে এখনো পরিবর্তন আসেনি। কাজেই স্থানীয় নির্বাচন পশ্চিম তীরেই সীমাবদ্ধ থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসের ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ পশ্চীম তীর শাসন করছে।
২০০৬ সালে ফিলিস্তিনে সর্বশেষ পার্লামেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এ ছাড়া ২০০৫ সালে সর্বশেষ স্থানীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।

মোবারকবিরোধী বিক্ষোভ গড়াল তৃতীয় সপ্তাহে

প্রেসিডেন্ট হোসনি মোবারকের পদত্যাগের দাবিতে মিসরে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ গতকাল মঙ্গলবার দ্বিতীয় সপ্তাহ পেরিয়ে তৃতীয় সপ্তাহে গড়িয়েছে। গতকালও রাজধানী কায়রোর তাহরির স্কয়ার ছিল হাজারো বিক্ষোভকারীর দখলে। মোবারকের ৩০ বছরের শাসনের অবসান না হওয়া পর্যন্ত তারা ঘরে ফিরে যাবে না বলে ঘোষণা দিয়েছে। তাঁরা নতুন করে দেশব্যাপী আন্দোলনের ডাক দিয়েছে।
বিরোধীদের শান্ত করার চেষ্টা মোবারক অব্যাহত রেখেছেন। দেশটির ভাইস প্রেসিডেন্ট ওমর সুলেইমান গতকাল এক সংক্ষিপ্ত টেলিভিশন ভাষণে জানিয়েছেন, আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে সংবিধান সংশোধনের বিষয়টি পর্যালোচনায় প্রেসিডেন্ট একটি কমিটি গঠনের নির্দেশ দিয়েছেন। এ ছাড়া উদ্ভূত পরিস্থিতিতে দলের গৃহীত সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে দ্বিতীয় আরেকটি কমিটি গঠনেও প্রধানমন্ত্রীকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বিক্ষোভ প্রশমনের কৌশল হিসেবে মোবারক সরকারি চাকরিজীবীদের ১৫ শতাংশ বেতন বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন। এপ্রিল থেকে এ বেতন কার্যকর হবে। এ ছাড়া অবসরভাতা বাড়ানোরও ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। এ জন্য বাজেট ধরা হয়েছে ৯৪ কোটি মার্কিন ডলার।
এসব সিদ্ধান্ত ছাড়াও মোবারক সহিংসতার ঘটনা তদন্তে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছেন। বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে সরকারি দলের সমর্থকদের সংঘর্ষের ঘটনায় নিরপেক্ষ তদন্তেরও প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি। ২৫ জানুয়ারি থেকে শুরু হওয়া সরকারবিরোধী এই বিক্ষোভে এ পর্যন্ত অন্তত ৩০০ জন লোক নিহত হয়েছে।
বিক্ষোভের মুখে ঢেলে সাজানো মন্ত্রিপরিষদের সঙ্গে প্রথমবারের মতো সোমবার বৈঠক করেছেন মোবারক। বৈঠকে চলমান বিক্ষোভের মধ্যেই অর্থনীতির চাকা কীভাবে সচল রাখা যায়, তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
সংকট নিরসনের পাশাপাশি গণতান্ত্রিক উপায়ে ক্ষমতার পটপরিবর্তন নিয়ে নিষিদ্ধঘোষিত শক্তিশালী সংগঠন মুসলিম ব্রাদার হুডসহ কয়েকটি বিরোধী দলের সঙ্গে আলোচনা শুরু করেছেন সুলেইমান।
অব্যাহত বিক্ষোভের মুখে ক্ষমতা থেকে সরে না দাঁড়িয়ে মোবারক উল্টো ঘোষণা দিয়েছেন, সেপ্টেম্বরের নির্বাচন পর্যন্ত তিনি ক্ষমতায় থাকবেন। তবে ওই নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন না বলে তিনি অঙ্গীকার করেছেন। বিরোধীরা বলেছে, বিদ্যমান সংবিধানের আওতায় কোনো নির্বাচনই বৈধ হবে না। তাই সবার আগে সংবিধান পরিবর্তন করতে হবে।
বিরোধীরা এখনই মোবারকের পদত্যাগ চেয়ে ওমর সুলেইমানকে প্রেসিডেন্ট হিসেবে ক্ষমতা গ্রহণের দাবি জানিয়েছে। তবে সুলেইমান এ দাবি নাকচ করে দিয়ে বলেছেন, তিনি মোবারককে সরিয়ে ক্ষমতা গ্রহণ করবেন না।
সরকারবিরোধী আন্দোলনের দুই সপ্তাহ উদ্যাপনে তাহরির স্কয়ারে অবস্থান নেওয়া বিক্ষোভকারীরা নতুন করে দেশব্যাপী আন্দোলনের ডাক দিয়েছে। বিক্ষোভে অংশ নিতে শারজাহ থেকে ছুটে এসেছেন চিকিৎ সক ইসাম শিবানা। তিনি তাহরির স্কয়ারে স্থাপিত অস্থায়ী ক্লিনিকে অসুস্থ ও আহত বিক্ষোভকারীদের সেবায় কাজ করছেন। ৩৪ বয়স্ক এই চিকিৎ সক বলেন, ‘গতকাল ষাটোর্ধ্ব এক ব্যক্তি এসে আমাকে বলেছেন, “আমরা কাপুরুষ। এত বছর ধরে আমরা যে কাজটি করতে পারিনি, আজ তুমি সেই কাজটিই করছ”।’

গাঁজা চাষের পরামর্শ চেয়ে পুলিশে ফোন

বিপদে পড়ে সহায়তা চেয়ে নয় কিংবা কোনো অপরাধের তথ্য দিতেও নয়, গাঁজা চাষের ব্যাপারে পরামর্শ চেয়ে পুলিশকে ফোন দিলেন এক যুবক। পুলিশ ওই ফোনের সূত্র ধরে যুবকের বাড়ি গিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করল। যুক্তরাষ্ট্রের কানেটিকাট অঙ্গরাজ্যের ফারমিংটন শহরে এ ঘটনা ঘটে। নিউইয়র্ক ডেইলি নিউজ-এর এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনটিতে উল্লেখ করা হয়, ওই যুবকের নাম রবার্ট মাইকেলসন (২১)। তিনি পুলিশের সহায়তা চেয়ে ৯১১ নম্বরে ফোন করেন। এরপর পুলিশকে জানান, তিনি কিছু গাঁজা চাষ করছেন এবং বিস্ময়ের সঙ্গে লক্ষ করছেন, গাঁজার একেকটা চারা লাগাতে কত ঝামেলাই না সহ্য করতে হচ্ছে তাঁকে। সমস্যার অন্ত নেই।
গাঁজা চাষ অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের মধ্যে পড়ে কি না, পুলিশ তা জানতে চাইলে মাইকেলসন বলেন, হবে হয়তো। এরপর পুলিশ তাঁর বাড়ি হানা দিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করে এবং কিছু মাদকদ্রব্য ও কয়েকটা পাত্র জব্দ করে।
জিজ্ঞাসাবাদে মাইকেলসন জানান, অনলাইনের মাধ্যমে যোগাযোগ করে তিনি গাঁজার বীজ সংগ্রহ করেন। পরে অবশ্য জামিনে মুক্তি পান তিনি।

পশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গে আলোচনা চায় এনএলডি

মিয়ানমারের ওপর অব্যাহত অবরোধে সম্ভাব্য পরিবর্তন আনার বিষয়ে পশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গে আলোচনা করতে চায় সে দেশের গণতন্ত্রপন্থী নেত্রী অং সান সু চির দল ন্যাশনাল লীগ ফর ডেমোক্রেসি (এনএলডি)। গতকাল মঙ্গলবার এনএলডির এক বিবৃতিতে এ আহ্বান জানানো হয়।
বিবৃতিতে বলা হয়, রাজনৈতিক নেতা-কর্মীদের ওপর জান্তা সরকারের সব ধরনের নির্যাতন বন্ধ করতে হবে। সে দেশের কারাগারে বন্দী সব রাজনৈতিক নেতা-কর্মীকে মুক্তি দিতে হবে। এতে আরও বলা হয়, গণতন্ত্রের পথে উত্তরণ ও মানবাধিকার পরিস্থিতির উন্নয়নকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিতে চায় এনএলডি।
এসব দিক বিবেচনা করেই মিয়ানমারের ওপর কখন, কীভাবে ও কী পরিস্থিতিতে অবরোধ আরোপে সম্ভাব্য পরিবর্তন আনা যায়; এ ব্যাপারে একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, কানাডা ও অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে আলোচনায় বসতে চায় এনএলডি। মিয়ানমারে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা, মানবাধিকার পরিস্থিতির উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক পরিবেশ স্বাভাবিক রাখার স্বার্থে দলটি এ ধরনের উদ্যোগ নিচ্ছে।
এ বিবৃতি দেওয়ার মাত্র একদিন আগে এনএলডির ভাইস চেয়ারম্যান তিন উ বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেন, ‘তাঁদের দল মিয়ানমারের ওপর পশ্চিমা অবরোধ অব্যাহত রাখার পক্ষে।’ তিনি বলেন, ‘আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখেছি। পশ্চিমা অবরোধ জান্তা সরকারের নেতা ও তাঁদের ব্যবসায়ী সহযোগীদের ওপর প্রভাব ফেলেছে। অবরোধ বেশির ভাগ নাগরিককে কোনো সমস্যায় ফেলে না।’
১৯৯০ সালের নির্বাচনে এনএলডি নিরঙ্কুশ জয়লাভ করলেও দলটির হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করেনি জান্তা। দীর্ঘদিন গৃহবন্দী রাখার পর ১৩ নভেম্বর সু চিকে মুক্তি দেওয়া হয়। মুক্তির পাওয়ার পর সু চি ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, পশ্চিমা অবরোধ প্রত্যাহারের জন্য সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সঙ্গে কথা বলে সুপারিশ করবেন তিনি।
একদল বিশ্লেষকের দাবি, এ ধরনের অবরোধ জান্তা নেতাদের সম্পদ বা তাঁদের বিলাসবহুল জীবনে কোনো প্রভাব ফেলছে না। বরং সাধারণ নাগরিকেরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। পশ্চিমা অবরোধের মুখে জান্তা সরকার চীন, ভারত, থাইল্যান্ড ও দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে ঘনিষ্ট সম্পর্ক গড়ে তুলছে।
তবে পশ্চিমা অবরোধের মুখে মিয়ানমারে রত্নসামগ্রী, বিশেষ করে তেল, গ্যাস ও কাঠের বিপুল মজুদ থাকা সত্ত্বেও এগুলোর রপ্তানি মুখ থুবড়ে পড়ে আছে। এ ছাড়া সে দেশের পর্যটন খাতও বিপর্যস্ত। যদিও এসব খাতে এশিয়ার বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করার চেষ্টা করছে জান্তা।

ইন্দোনেশিয়ায় পুলিশের সঙ্গে উগ্রপন্থী মুসলিমদের সংঘর্ষ, গির্জায় আগুন

ইন্দোনেশিয়ার জাভা দ্বীপে গতকাল মঙ্গলবার উগ্রপন্থী মুসলিমরা খ্রিষ্টানদের দুটি গির্জা জ্বালিয়ে দিয়েছে। এ ছাড়া আদালতের বাইরে বিক্ষোভ চলাকালে পুলিশের সঙ্গে তাদের সংঘর্ষ হয়। ইসলামের বিরুদ্ধে কটাক্ষপূর্ণ প্রচারপত্র বিতরণের অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত এক খ্রিষ্টান নাগরিকের কারাদণ্ডের রায়ে ক্ষুব্ধ হয়ে তারা গির্জা দুটিতে আগুন ধরিয়ে দেয়। তারা অ্যান্টনিয়স বাওয়েনগান নামের ওই খ্রিষ্টান নাগরিকের মৃত্যুদণ্ডের দাবি জানিয়েছে।
পুলিশের এক কর্মকর্তা জানান, জাভার একটি আদালত ইসলামের বিরুদ্ধে কটাক্ষপূর্ণ প্রচারপত্র বিতরণের দায়ে অ্যান্টনিয়স বাওয়েনগানের পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেন।
গতকাল অ্যান্টনিয়সের বিচার চলাকালীন আদালতের বাইরে প্রায় দেড় হাজার উগ্রপন্থী মুসলিম চিৎ কার করে তাঁর মৃত্যুদণ্ডের দাবি জানায়। এ সময় পুলিশের সঙ্গে তাদের সংঘর্ষ বেধে যায়। একপর্যায়ে বিক্ষোভকারীরা পুলিশের একটি গাড়ি ও স্থানীয় দুটি গির্জায় অগ্নিসংযোগ করে।

রাশিয়ায় হামলার নির্দেশ দেন চেচেন বিদ্রোহী নেতা দকু উমারভ

গত মাসে রাশিয়ার ব্যস্ততম বিমানবন্দরে হামলার নির্দেশ দিয়েছিলেন চেচনিয়াভিত্তিক বিদ্রোহী গোষ্ঠীর প্রধান দকু উমারভ। গত সোমবার একটি ইসলামি ওয়েবসাইটে (www.kavkazcenter.com) প্রকাশিত একটি ভিডিওচিত্রে উমারভ হামলার দায় স্বীকার করেছেন।
গত ২৪ জানুয়ারি মস্কোর দোমোদেদোভে বিমানবন্দরে ওই হামলায় ৩৬ জন নিহত হয়। আহত হয় দেড় শতাধিক মানুষ।
উত্তর ককেশাসের স্বায়ত্তশাসনের দাবিতে এ রকম হামলা চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়ে উমারভ বলেন, তিনি আল্লাহর নামে কাজ করছেন। উত্তর ককেশাসকে স্বাধীন ইসলামি রাজ্যে পরিণত করাই তাঁর এ হামলার মূল লক্ষ্য। উত্তর ককেশাসে রাশিয়ার হামলার প্রতিশোধ নিতেই ওই হামলা করা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, বিদেশিদের হত্যার লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের অভ্যর্থনা কক্ষে ওই হামলা চালানো হয়।
সম্প্রতি উত্তর ককেশাসে জঙ্গি নির্মূলে রাশিয়ার নেওয়া পদক্ষেপের সমালোচনা করে আসছে মানবাধিকার সংগঠনগুলো। বিশেষ অভিযানের নামে রাশিয়া ওই এলাকায় জঙ্গিদের সঙ্গে সাধারণ নাগরিকদের ওপরও অমানবিক নির্যাতন চালায় বলে অভিযোগ করেছে সংগঠনগুলো।

ইরাকে গোপন কারাগারে ভয়াবহ বন্দী নির্যাতন

ইরাকে কয়েকটি গোপন কারাগারে বন্দীদের ওপর নিয়মিত নানাভাবে অমানবিক নির্যাতন চালানো হয়। নারী ও শিশুদেরও রেহাই দেওয়া হয় না। নির্যাতনের শিকার হয়ে অনেক বন্দী মারা গেছে। লন্ডনভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। প্রতিবেদনটি গতকাল মঙ্গলবার প্রকাশ করা হয়েছে।
‘ব্রোকেন বডিস, ব্রোকেন মাইন্ডস’ শিরোনামের ওই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ইরাকের বিভিন্ন কারাগারে নারী ও শিশুসহ অন্তত ৩০ হাজার বন্দী রয়েছে। তাদের মধ্যে অনেককে বন্দী রাখা হয়েছে গোপন কারাগারে। সে দেশের স্বরাষ্ট্র ও প্রতিরক্ষামন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে ওই সব গোপন কারাগার পরিচালিত হয়। সেখানে বন্দীদের কাছ থেকে কথা বের করতে নির্যাতন চালানো হয়।
এর আগে ইরাকে গোপন বন্দিশিবির থাকার ব্যাপারে প্রায় একই ধরনের তথ্য প্রকাশ করে নিউইয়র্কভিত্তিক হিউম্যান রাইটস ওয়াচ ও লস অ্যাঞ্জেলস টাইমস।
ইরাকের প্রধানমন্ত্রী নুরি আল-মালিকি গত শনিবার এএফপিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎ কারে এসব তথ্য ভিত্তিহীন দাবি করে বলেন, তাঁর দেশে এ ধরনের গোপন কোনো বন্দিশালা নেই।
মানবাধিকার সংগঠন অ্যামনেস্টির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরাকের কেন্দ্রীয় ফৌজদারি আদালত প্রায়ই বন্দীদের ‘স্বীকারোক্তিমূলক’ জবানবন্দির ওপর ভিত্তি করে সাজা দেন। অথচ ওই সব জবানবন্দি নেওয়া হয় জোরজবরদস্তি করে, নির্যাতন চালিয়ে।
বছরের পর বছর ধরে অ্যামনেস্টির সংগ্রহ করা তথ্য থেকে জানা গেছে, ওই সব গোপন কারাগারে নারী বন্দীদের ধর্ষণ কিংবা ধর্ষণের হুমকি দেওয়া হয়। এ ছাড়া বন্দীদের চাবুক মারা, বৈদ্যুতিক শক দেওয়া, ড্রিল মেশিন দিয়ে শরীরে ছিদ্র করা, নখ তুলে নেওয়া, পিটিয়ে হাত-পা ভেঙে দেওয়ার মতো ভয়াবহ নির্যাতন নিয়মিত চালানো হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০০৪ সাল থেকে ইরাকের বিভিন্ন কারাগারে শিশু ও নারী নির্বিচারে এ ধরনের শারীরিক নির্যাতনের প্রমাণ মিলেছে। নির্যাতনের শিকার হয়ে বেশ কয়েকজন বন্দীর মৃত্যু হয়েছে।
নিরাপত্তাবাহিনীর হাতে ২০০৯ সালে ৫০৯টি নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে বলে ইরাকের মানবাধিকারবিষয়ক মন্ত্রণালয় নথিভুক্ত করেছে। অ্যামনেস্টির দাবি, মন্ত্রণালয় গড় হিসেবে ওই চিত্র তুলে ধরেছে। প্রকৃতপক্ষে নির্যাতনের ঘটনা আরও অনেক বেশি।
অ্যামনেস্টির প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০০৯ সালের শুরু থেকে ২০১০ সালের জুলাই মাসের মধ্যে মার্কিন সেনারা লাখো বন্দীকে ইরাকি কর্তৃপক্ষের হাতে তুলে দেয়।

ভারতে টেলিযোগাযোগ খাতে নতুন দুর্নীতির অভিযোগ

স্যাটেলাইটভিত্তিক যোগাযোগ লাইসেন্স বরাদ্দ দেওয়ার ক্ষেত্রে নতুন করে দুর্নীতির অভিযোগের তদন্ত শুরু করেছে ভারতের কেন্দ্রীয় হিসাব নিরীক্ষকের কার্যালয়। গতকাল মঙ্গলবার সরকারি সূত্রে এ খবর জানা গেছে। দেশটির টেলিযোগাযোগ খাতে দুর্নীতি নিয়ে নতুন করে এই অভিযোগ ওঠায় ও এর তদন্ত শুরু হওয়ায় আবারও চাপে পড়েছেন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং।
মনমোহন সিংয়ের অধীনে থাকা মহাকাশবিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে ইন্টারনেট স্পেকট্রাম বরাদ্দ দেওয়ার ক্ষেত্রে সরকারের বিরুদ্ধে দুর্নীতির আশ্রয় নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ছাড়া একটি সরকারি নিয়ন্ত্রণাধীন কোম্পানিকে বিনা মূল্যে ব্রডব্যান্ড সংযোগ দেওয়ার অনুমতির ক্ষেত্রেও অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে।
এর আগে টেলিযোগাযোগ খাতের দুর্নীতি প্রমাণিত হওয়ার জেরে ভারতের টেলিযোগাযোগমন্ত্রী এ রাজাকে পদত্যাগ করতে হয়। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগের তদন্ত চলছে এবং তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ভারতীয় পার্লামেন্টের বিরোধী দল ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) নেতারা প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধেও তদন্ত দাবি করে দীর্ঘ দিন পার্লামেন্ট অচল করে রাখেন।
জানা গেছে, ২০০৫ সালে যথাযথ দরপত্র আহ্বান-প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে মোবাইল ইন্টারনেট ক্ষেত্রে স্পেকট্রাম বরাদ্দ করার অভিযোগের বিষয়ে ইন্ডিয়ান স্পেস রিসার্চ অর্গানাইজেশনের (ইসরো) বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেছে ভারতের কম্পট্রোলার অ্যান্ড অডিটর জেনারেল (সিএজি)। সিএজি সূত্রে জানা গেছে, এই দুর্নীতির কারণে সরকারের দুই লাখ কোটি রুপির (চার হাজার ৪২০ কোটি ডলার) ক্ষতি হতে পারে। ইসরোর কর্মকর্তারা তদন্তের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন, তবে এ ব্যাপারে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। গত বছর অবশ্য ভারতের টেলিযোগাযোগ দপ্তরকে ইসরো জানিয়েছিল, কোনো ধরনের অনিয়ম প্রমাণিত হলে তারা লাইসেন্স বাতিল করবে।
এ ছাড়া রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন টেলিযোগাযোগ-প্রতিষ্ঠান ভারত সঞ্চার নিগম লিমিটেডের (বিএসএনএল) বিরুদ্ধে তাদের নিয়োগ দেওয়া কোম্পানিকে বিনা মূল্যে ব্রডব্যান্ড ওয়্যারলেস অ্যাকসেস সুবিধা দেওয়ার ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। ভারতভিত্তিক পত্রিকা হিন্দুস্তান টাইমস টেলিযোগাযোগমন্ত্রীর একটি বার্তার বরাত দিয়ে এ খবর জানিয়েছে। বিএসএনএলের চেয়ারম্যান গোপাল দাস অবশ্য এই খবরের ব্যাপারে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। পত্রিকাটির খবর দেখেননি বলে তিনি দাবি করেছেন।

মোবারক বিশ্বের শীর্ষ ধনী

মিসরের প্রেসিডেন্ট হোসনি মোবারক সম্ভবত বিশ্বের সেরা ধনী। তাঁর সম্পদের পরিমাণ প্রায় সাত হাজার কোটি মার্কিন ডলার। দ্য গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস গতকাল এ কথা জানায়।
গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়, সুইস ও অন্যান্য বিদেশি ব্যাংকে মোবারকের নগদ অর্থ জমা রয়েছে। এ ছাড়া ম্যানহাটন, লন্ডন এবং বেভারলি হিলসে তাঁর অনেক জায়গাজমি ও ভবন আছে । সব মিলিয়ে তাঁর সম্পদের পরিমাণ প্রায় সাত হাজার কোটি মার্কিন ডলার।
পত্রিকাটির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, এত দিন বিশ্বের সেরা ধনী হিসেবে পরিচিত ছিলেন মেক্সিকোর ব্যবসায়ী কার্লোস স্লিম হিলু। তাঁর সম্পদের পরিমাণ পাঁচ হাজার ৩৫০ কোটি মার্কিন ডলার। মোবারক তাঁর চেয়ে অনেক এগিয়ে আছেন। এ ছাড়া মাইক্রোসফটের প্রতিষ্ঠাতা মার্কিন ধনকুবের বিল গেটসও মোবারকের অনেক পেছনে পড়ে গেছেন। বিল গেটসের সম্পদের পরিমাণ পাঁচ হাজার ৩০০ কোটি ডলার।
মোবারকের এই বিপুল পরিমাণ সম্পদের ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্রের নিউজার্সির প্রিন্সটন বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনীতি বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক আমেনি জামাল বলেন, এটা হচ্ছে নজিরবিহীন দুর্নীতি ও লুটপাটের ফসল।

কুলাইন ডিলারস রিট্রিট সম্মেলন অনুষ্ঠিত

সম্প্রতি যমুনা রিসোর্টে ‘কুলাইন ডিলারস রিট্রিট’ সম্মেলন ২০১১ অনুষ্ঠিত হয়।
প্রধান অতিথি হিসেবে সম্মেলন উদ্বোধন করেন কুলাইনের একমাত্র সোল ডিস্ট্রিবিউটর আবরণী ইন্টারন্যাশনালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কাজী মাকসুদুল মোমিন।
সম্মেলনে কোম্পানি এবং পণ্য-সম্পর্কিত তথ্য উপস্থাপন করেন সৌদি আরবের আল-জামিল এয়ারকন্ডিশনারের বিপণন ব্যবস্থাপক খালেদ হাচুচি এবং বিক্রয় ব্যবস্থাপক আহমেদ ফাতিহ মোহাম্মদ আকিল। প্রধান বক্তা ছিলেন আবরণী ইন্টারন্যাশনালের ব্যবসা উন্নয়ন ব্যবস্থাপক সাইফুল ইসলাম।

জর্ডানে আরও ১০ লাখ ডলারের পণ্য রপ্তানি করবে প্রাণ

চলতি বছর জর্ডানে আরও ১০ লাখ মার্কিন ডলারের সমমূল্যের পণ্য রপ্তানি করবে প্রাণ।
এ ব্যাপারে জর্ডানের আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান ফারায়া ট্রেডিং করপোরেশন লিমিটেড ও প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের মধ্যে সম্প্রতি একটি চুক্তি হয়েছে।
ফারায়া ট্রেডিং করপোরেশনের চেয়ারম্যান ইউসেফ এইচ আজিজুর রহমান এবং প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের পক্ষে মিজানুর রহমান এই চুক্তিতে সই করেন।
চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে প্রাণ-আরএফএলের রপ্তানি ব্যবস্থাপক গাজী এম এ পলাশ, ব্র্যান্ড ব্যবস্থাপক (রপ্তানি) আরিফুর রহমান এবং ফারায়া ট্রেডিং কপোরেশনের ওমর আলী তালেবসহ উভয় প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, বর্তমানে প্রাণ-আরএফএল গ্রুপ বিশ্বের ৭৭টি দেশে পণ্য রপ্তানি করছে। ভবিষ্যতে রপ্তানি বাণিজ্যে প্রাণ-আরএফএল আরও অগ্রসর হবে। কৃষিজাত পণ্য রপ্তানির ক্ষেত্রে অবদানের জন্য প্রাণ-আরএফএল গ্রুপ সাতবার জাতীয় পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ রপ্তানিকারক হিসেবে পুরস্কার পেয়েছে।
ইউসেফ এইচ আজিজুর রহমান বলেন, আরব দেশগুলোতে প্রাণের পণ্য খুবই জনপ্রিয়। জর্ডানেও এটি ব্যাপক পরিচিতি লাভ করছে।

বৈষম্য কমাতে শ্রমবাজারে বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে

চীন ও ভারতের উন্নয়ন-অভিজ্ঞতা থেকে দেখা যায়, এই দুই দেশের জনগোষ্ঠীর মধ্যে আয়ের অসমতা বাড়ছে। বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও দেখা যায়, উন্নয়নের পাশাপাশি আয়বৈষম্য বাড়ছে। এই বৈষম্য দূর করতে উন্নয়ন পরিকল্পনায় শ্রমবাজারকে বিশেষ গুরুত্বের সঙ্গে অন্তর্ভুক্ত করা উচিত।
গতকাল মঙ্গলবার চীন ও ভারতের অভিজ্ঞতার আলোকে বিশ্বায়ন ও বৈষম্যবিষয়ক এক সেমিনারে বক্তারা এসব কথা বলেন। বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান (বিআইডিএস) এই সেমিনারের আয়োজন করে।
বিআইডিএস মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত সেমিনারে মূল বক্তা ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এ আর খান। বিআইডিএসের মহাপরিচালক মোস্তফা কে মুজেরীর সভাপতিত্বে সেমিনারে অংশ নেন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা এ বি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম, বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিন, বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মানীয় ফেলো দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য, নির্বাহী পরিচালক মোস্তাফিজুর রহমান, পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) চেয়ারম্যান জাইদী সাত্তার, বিআইডিএসের সাবেক মহাপরিচালক কাজী সাহাবউদ্দিন, পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য শামসুল আলম প্রমুখ।
এ আর খানের মূল প্রবন্ধে বলা হয়, ভারত ও চীনের উন্নয়ন-অভিজ্ঞতায় দেখা যায়, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে দেশ দুটির মানুষের মধ্যে অসমতা বেড়েছে। তাহলে ভারত ও চীনের এ ধরনের অসমতা বিশ্বায়নের অর্থনীতিতে বিরাজমান থাকবে কি না—এ রকম প্রশ্নও রাখা হয় মূল প্রবন্ধে।
এতে আরও বলা হয়, ১৯৯১ সালে চীনে কৃষি খাতে কর্মসংস্থান ছিল ৩৯ কোটি ১০ লাখ আর শহুরে শিল্পপ্রতিষ্ঠানে এর পরিমাণ ১৪ কোটি দুই লাখ। শিল্পনির্ভর উন্নয়নের ফলে ২০০৯ সালে এসে চীনে কৃষি খাতে কর্মসংস্থান কমে দাঁড়ায় ২৯ কোটি ৭১ লাখে। আর শহুরে শিল্পপ্রতিষ্ঠানের কর্মসংস্থান বেড়ে দাঁড়ায় ২১ কোটি ৬৮ লাখে।
এ আর খান বলেন, ‘যেকোনো দেশের অসমতা কমাতে রাজনৈতিক সদিচ্ছা প্রয়োজন। আয় বাড়াতে হবে সরাসরি শ্রমবাজারের সঙ্গে জড়িতদের। প্রতিটি দেশের পল্লি অঞ্চলে অকৃষি খাতের প্রতিষ্ঠান রয়েছে আর সেখান থেকেই মূলত অসমতা বৃদ্ধির প্রক্রিয়া শুরু হয়।’ তিনি আরও জানান, উচ্চ শ্রমনির্ভর বাজারের মাধ্যমে সম্পদের সুষম বণ্টন সম্ভব।
এ বি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম বলেন, অসমতা দূর করতে প্রতিটি দেশের অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক চরিত্রের ওপর নির্ভর করে পরিকল্পনা প্রণয়ন করতে হবে। বাংলাদেশের মতো দেশে শ্রমনির্ভর অর্থনীতি হওয়া উচিত। এতে অসমতা দূর করা সম্ভব। আর অবশ্যই অর্থনৈতিক উন্নয়ন হওয়া উচিত চাহিদানির্ভর। তিনি আরও জানান, এশিয়ার সব দেশের অর্থনীতির চরিত্র এ রকম নয়।
দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য অভিমত দেন, একটি দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে বিশেষ করে অসমতা দূর করতে রাজনৈতিক নেতৃত্বের সদিচ্ছার প্রয়োজন সবচেয়ে বেশি।
কাজী সাহাবউদ্দিন জানান, উচ্চ আয়বৈষম্যের প্রথম ৩০টি দেশের একটি হলো চীন। বাংলাদেশের উন্নয়ন পরিকল্পনায় শহর ও গ্রামের বৈষম্য, আঞ্চলিক বৈষম্য—এসব বিষয়কে গুরুত্ব দিতে হবে।
মোস্তাফিজুর রহমান জানান, চীন ও ভারতের উন্নয়ন অভিজ্ঞায় দেখা যায়, ভারত উচ্চশিক্ষাকে বেশি প্রাধান্য দিয়েছে আর চীন নগরায়ণকে।
মোস্তফা কে মুজেরী বলেন, ‘জনগণের মধ্যে অসমতা বেশি বাড়লে কোনো দেশ এগিয়ে যেতে পারে না। তাই এখন দেখতে হবে, আমরা কতটা অসমতা সহ্য করব? অসমতা একটি পর্যায়ের ওপরে গেলে সেটা আর সহ্য করা যায় না।’ চীন ও ভারতের অভিজ্ঞতা বাংলাদেশে কাজে লাগানোর পরামর্শ দেন তিনি।

২২৪৬ কোটি টাকার ১১টি উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন

প্রায় দুই হাজার ২৪৬ কোটি টাকার ১১টি উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন করেছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)।
এর মধ্যে অভ্যন্তরীণ উৎ স থেকে জোগান দেওয়া হবে এক হাজার ১৫৫ কোটি টাকা। আর প্রকল্প সাহায্য হিসেবে পাওয়া যাবে এক হাজার ৯১ কোটি টাকা।
গতকাল মঙ্গলবার একনেকের চেয়ারপারসন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে সভায় এই অনুমোদন দেওয়া হয়। শেরেবাংলা নগরে পরিকল্পনা কমিশনে এনইসির সম্মেলনকক্ষে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়।
একনেকের বৈঠক শেষে অনুমোদিত প্রকল্পগুলো সম্পর্কে সাংবাদিকদের জানান পরিকল্পনামন্ত্রী এ কে খন্দকার ও পরিকল্পনাসচিব মনজুর হোসেন।
সাংবাদিকদের জানানো হয়, একনেকে অনুমোদিত এক হাজার ৫১০ কোটি টাকার কর্ণফুলী পানি সরবরাহ (১ম সংশোধিত) প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে চট্টগ্রাম শহরে প্রতিদিন বাড়তি সাড়ে ১৩ কোটি লিটার বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ করা সম্ভব হবে। চট্টগ্রাম শহর থেকে প্রায় ৩০ কিলোমিটার দূরের রাঙ্গুনিয়া থেকে কর্ণফুলী নদীর পানি এনে চট্টগ্রাম শহরে পরিশোধন করা হবে।
একনেকে অনুমোদিত অন্য প্রকল্পগুলো হলো: ৩২ কোটি টাকার গোপালগঞ্জ জেলার মধুমতী নদীর বাম তীর বরাবর ফুকরা নামক স্থানে এবং মাদারীপুর বিলরুট চ্যানেলের বাম তীর বরাবর মানিকদাহ এবং কলিগ্রামে নদীর তীর সংরক্ষণ প্রকল্প; ১২০ কোটি টাকার ঘূর্ণিঝড় উপদ্রুত এবং সিডরে আক্রান্ত উপকূলীয় এলাকায় পানি সরবরাহ ও স্যানিটেশন প্রকল্প; ১৭২ কোটি টাকার তিনটি জেলা কারাগারের অবকাঠামো নির্মাণ এবং দুইটি জেলা কারাগারের অসমাপ্ত কাজ সমাপ্তকরণ প্রকল্প; ১১৯ কোটি টাকার সব জেলায় মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবন নির্মাণ (১ম পর্যায়) প্রকল্প; ৫৭ কোটি টাকার হাটহাজারী রোডের সম্প্রসারণ ও উন্নয়ন (অলিখাঁ মসজিদ মোড় থেকে মুরাদপুর জংশন পর্যন্ত) প্রকল্প; ৪৮ কোটি টাকার সুজানগর থেকে লালনশাহ সেতু পর্যন্ত (মুজিব বাঁধের ওপর) সড়ক নির্মাণ প্রকল্প; ২৭ কোটি টাকার মির্জাপুর (গড়াই)-সখিপুর সড়ক উন্নয়ন প্রকল্প; ৪৪ কোটি টাকার কিশোরগঞ্জ-করিমগঞ্জ-চামড়াঘাট-মিঠামইন সড়ক উন্নয়ন (চামড়াঘাট-মিঠামইন অংশ) প্রকল্প; ৭৯ কোটি টাকার উজানচর-বাজিতপুর-অষ্টগ্রাম সড়ক উন্নয়ন (বাজিতপুর-অষ্টগ্রাম অংশ) প্রকল্প এবং ৩৮ কোটি টাকার সিরাজগঞ্জ-কাজীপুর-ধুনট সড়কে তিনটি পিসি গার্ডার ব্রিজ (শালুয়াভিটা, পাইকরতলি ও ঘোড়াছড়া) এবং বিদ্যমান তিনটি বেইলি ব্রিজের সুপার স্ট্রাকচার (নইলসাপাড়া, ফকিরতলা ও সোনামুখী) নির্মাণ প্রকল্প।
একনেক বৈঠকে অর্থমন্ত্রী ও একনেকের বিকল্প চেয়ারম্যান আবুল মাল আবদুল মুহিত, কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী, পানিসম্পদমন্ত্রী রমেশ চন্দ্র সেন, যোগাযোগমন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাহারা খাতুন, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলামসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

আইসিসি মিনি বিশ্বকাপ

ধানমন্ডি ক্রিকেট স্টেডিয়ামে কাল আইসিসি মিনি বিশ্বকাপ ক্রিকেটে ইনসিডিন বাংলাদেশ (৭২) ১৪ রানে সেন্ট যোসেফ উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়কে (৫৮), সিটি করপোরেশন আদর্শ হাইস্কুল (৪৪/৩) ৭ উইকেটে মণিপুর হাইস্কুলকে (৪৩), ইউরোপিয়ান স্ট্যান্ডার্ড স্কুল (৭৭/২) ৮ উইকেটে ফরিদাবাদ হাইস্কুলকে (৭৫) ও সুপার বোল পদ্ধতিতে রেসিডেন্সিয়াল মডেল হাইস্কুল (৭৪) হারিয়েছে রহমতউল্লাহ মডেল হাইস্কুলকে (৭৪)।

মাহবুব-সালেহার শিরোপা পুনরুদ্ধার

জাতীয় টিটির শিরোপা ফিরে পেলেন মাহবুব বিল্লাহ ও সালেহা আক্তার। মাহবুব তিন বছর পর, সালেহা দুই বছর। কাল চট্টগ্রামে শেষ হওয়া এবি ব্যাংক ৩১তম জাতীয় টেবিল টেনিসের পুরুষ এককে গতবারের চ্যাম্পিয়ন মানস চৌধুরীকে ৩-২ সেটে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন মাহবুব। মহিলা এককের ফাইনালে সালেহা হারিয়েছেন সোমা সুলতানাকে। দুজনই বাংলাদেশ আনসারের খেলোয়াড়। প্রতিযোগিতার চ্যাম্পিয়ন দলও আনসার। মিশ্র দ্বৈততে চ্যাম্পিয়ন মানস-সোমা, পুরুষ দ্বৈতে মানস-হেমলেট।

এখানেও মেসি বনাম রোনালদো

দ্বৈরথটা কয়েক বছর ধরেই চলছে। কিছুদিন ধরে আসলে আলোচনায় এসেছে বেশি করে। লিওনেল মেসি আর ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো এবার যে টক্কর দিয়ে চলেছেন একে অন্যকে। দ্বৈরথটা তাই নতুন নেই। তার পরও নতুন! আজ যে প্রথমবারের মতো মাঠে মুখোমুখি হচ্ছেন এই সময়ের সেরা দুই ফুটবল-তারকা।
না, ক্লাবের হয়ে অনেকবারই খেলেছেন একে অন্যের বিপক্ষে। কিন্তু জাতীয় দলের জার্সি গায়ে কখনোই খেলা হয়নি। হবে কী করে? আর্জেন্টিনা-পর্তুগাল যে প্রায় ৪০ বছরের মধ্যে প্রথম মুখোমুখি হচ্ছে কোনো আন্তর্জাতিক ম্যাচে। একগাদা প্রীতি ম্যাচের ভিড়ে পর্তুগাল-আর্জেন্টিনা ম্যাচটাই নজর কাড়ছে আলাদা করে। বাংলাদেশ সময় রাত দুইটায় সুইজারল্যান্ডে মুখোমুখি হবে এই দুদল।
একই সময় ফ্রান্সে স্বাগতিকদের মুখোমুখি ব্রাজিল। বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন স্পেন মুখোমুখি হবে কলম্বিয়ার। মুখোমুখি হবে দুই সাবেক চ্যাম্পিয়ন জার্মানি-ইতালি। ডেনমার্কের বিপক্ষে খেলবে ইংল্যান্ড, হল্যান্ডের প্রতিপক্ষ অস্ট্রিয়া।
তবে সূচি ঠিক হওয়ার পর থেকেই আর্জেন্টিনা-পর্তুগাল ম্যাচ নিয়ে আলোচনা। গত চার দশকে দুই দলের মুখোমুখি না হওয়ার ব্যাপারটা তো আছেই, তার ওপর এটি আবার দুই মহা তারকার লড়াই। এই প্রজন্মের সেরা দুই প্রতিভা সম্ভবত নিজেদের ক্যারিয়ারের সেরা ফর্মেও আছেন। স্প্যানিশ লিগে দুজনে করেছেন ২৪টি করে গোল। সব মিলে মৌসুমে ৩৩ ম্যাচে মেসির গোল ৪০টি, রোনালদোর ৩৫ ম্যাচে ৩৪। আরেকটি মিল—দুজনই ক্লাবের তুলনায় জাতীয় দলে তুলনামূলক অনুজ্জ্বল!
মেসি-রোনালদোর ম্যাচ—কিছুদিন ধরে পত্রপত্রিকার এই সুর কিন্তু মোটেও ভালো লাগেনি পাওলো বেন্টোর। পর্তুগাল কোচ সুযোগ পেয়ে জানিয়ে দিলেন, ‘আমার যতদূর মনে হয়, এটা পর্তুগাল বনাম আর্জেন্টিনা ম্যাচ, ব্যক্তিগত দ্বৈরথ নয়। রোনালদো-মেসিও এটিকে তাদের ব্যক্তিগত লড়াই হিসেবে দেখে বলে আমার মনে হয় না।’
দুই দলের সর্বশেষ লড়াইয়ে হেরেছিল আর্জেন্টিনা। পর্তুগালের কাছ থেকে ব্রাজিলের স্বাধীনতা প্রাপ্তির ১৫০তম বার্ষিকী উপলক্ষে ১৯৭২ সালে আয়োজিত ম্যাচে আর্জেন্টিনাকে ৩-১ গোলে হারিয়েছিল পর্তুগাল।
ব্রাজিল-ফ্রান্স ম্যাচটি আবার সেই স্টাডে ডি ফ্রান্সে। স্বাভাবিকভাবেই ফিরে আসছে ১৯৯৮ বিশ্বকাপের স্মৃতি। এ মাঠেই সেবার ব্রাজিলকে ৩-০ গোলে হারিয়ে শিরোপা জিতেছিলেন জিদানরা।

কুয়েত-বাংলাদেশ ম্যাচ ঢাকায়

বাংলাদেশ-কুয়েত প্রাক-অলিম্পিকের ফিরতি ম্যাচটা ৯ মার্চ ঢাকাতেই হচ্ছে। ২৩ ফেব্রুয়ারি কুয়েতে প্রথম ম্যাচ খেলার পর ফিরতি ম্যাচটা ২৮ ফেব্রুয়ারি কুয়েতেই খেলার আগ্রহ প্রকাশ করে কুয়েত ফুটবল ফেডারেশনকে অনুরোধ করেছিল বাফুফে। কিন্তু কুয়েত রাজি থাকলেও তাতে সাড়া দেয়নি ফিফা। এর ফলে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২৩ ফুটবল দলের এই দুটি ম্যাচ খেলার স্বার্থে বাংলাদেশ লিগের তিন সপ্তাহের বিরতিটা আরও লম্বা হতে পারে। ১৪ ফেব্রুয়ারি থেকে ৩ মার্চ পর্যন্ত লিগ স্থগিত রাখার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে আগেই।

বিশ্বকাপ শেষ হাসি-হরিজের

গত পরশুই মাইক হাসি বলেছিলেন, পুরোপুরি ফিট হয়ে উঠবেন বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়ার তৃতীয় ম্যাচের আগে। নাথান হরিজ দাবি করছিলেন, ফিট হয়ে যাবেন টুর্নামেন্ট শুরুর আগেই। তবে ওই দিনই টিম নিলসেন কিন্তু বলেছিলেন বিশ্বকাপের শুরু থেকেই চান ১৫ জন ফিট ক্রিকেটার। পূরণ হলো অস্ট্রেলীয় কোচের চাওয়া। আর তাই শেষ হয়ে গেল হাসির দ্বিতীয় ও হরিজের প্রথম বিশ্বকাপ খেলার স্বপ্ন।
এই দুজনের দুর্ভাগ্যই আবার সৌভাগ্য হয়ে এসেছে ক্যালাম ফার্গুসন ও জেসন ক্রেজার জন্য। বিশ্বকাপ তো বহুদূর, কদিন আগে অস্ট্রেলিয়ার ওয়ানডে দলেও ছিলেন না দুজনের কেউ। ২০০৮ সালের ডিসেম্বরে দুটি টেস্ট খেলার পর প্রায় হারিয়ে যাওয়া ক্রেজার ওয়ানডে অভিষেকই তো হলো দুদিন আগে, ইংল্যান্ডের বিপক্ষে শেষ ওয়ানডেতে। ভাগ্য আজ দুজনকেই নিয়ে যাচ্ছে প্রথম বিশ্বকাপে।
এই সৌভাগ্য হতে পারত শন মার্শ ও জেভিয়ার ডোহার্টিরও। হাসি ও হরিজের রিপ্লেসমেন্ট হিসেবে প্রথম পছন্দ ছিলেন তাঁরাই। কিন্তু বড় অসময়ে চোট সঙ্গী হয়েছে তাঁদেরও। হাসির মতোই হ্যামস্ট্রিং চোটে ভুগছেন বাঁহাতি মার্শ, আরেক বাঁহাতি ডোহার্টির চোট কাঁধে। অস্ট্রেলিয়ার নির্বাচকেরা তাই বাধ্য হয়েছেন তৃতীয় পছন্দের দুজনকে দলে নিতে।
হাসি-হরিজকে বাদ দেওয়ার পেছনে কোচের যুক্তির প্রতিধ্বনিই শোনা গেল প্রধান নির্বাচক অ্যান্ড্রু হিলডিচের কণ্ঠে, ‘জাতীয় নির্বাচক কমিটির মনে হয়েছে, বিশ্বকাপ অভিযান সফল করতে হলে সবচেয়ে জরুরি প্রথম ম্যাচের আগেই স্কোয়াডের সবার পুরো ফিট থাকা।’
এই দলের সবাই কিন্তু ফিট নন। আঙুলে অস্ত্রোপচারের পর এখনো পুনর্বাসন-প্রক্রিয়া চলছে অধিনায়ক রিকি পন্টিংয়ের, ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজে চোট পেয়েছেন স্টিভেন স্মিথ ও ব্র্যাড হাডিনও। তবে ফিজিও অ্যালেক্স কন্টুরি নিশ্চিত করেছেন, সময়মতোই পুরোপুরি ফিট হয়ে উঠবেন এই তিনজন।
বিশ্বকাপের ঠিক আগে এমন বড় ধাক্কা অবশ্য অস্ট্রেলিয়ার জন্য নতুন কিছু নয়। ২০০৩ বিশ্বকাপে ডোপ টেস্টে পজিটিভ হয়ে অস্ট্রেলিয়ার প্রথম ম্যাচের আগের দিন দেশে ফেরত যেতে হয়েছিল শেন ওয়ার্নকে, টুর্নামেন্টের মাঝে চোট পেয়ে ছিটকে গিয়েছিলেন দারুণ ফর্মে থাকা জেসন গিলেস্পি। ২০০৭ বিশ্বকাপ থেকে ব্রেট লিকে ছিটকে দিয়েছিল চোট। কিন্তু বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়ার পারফরম্যান্সে এর প্রভাব খুব একটা দেখা যায়নি। তবে বর্তমান বাস্তবতায় হাসিকে হারানো অস্ট্রেলিয়ার জন্য নিশ্চিতভাবেই বড় এক আঘাত।
প্রাভিনের বদলে শ্রীশান্ত: খবরটা ছড়িয়ে পড়েছিল আগের দিনই, কাল এল আনুষ্ঠানিক ঘোষণা। কনুইয়ের চোটে বিশ্বকাপ শেষ হয়ে গেছে প্রাভিন কুমারের। প্রত্যাশা মতোই তাঁর জায়গা নিয়েছেন শ্রীশান্ত। কেরালার ২৮ বছর বয়সী পেসার ছিলেন গত বিশ্বকাপের দলেও, কিন্তু ম্যাচ খেলা হয়নি। ৫১ ওয়ানডেতে ৭৫ উইকেট পেলেও রান দিয়েছেন ওভারপ্রতি ছয়ের বেশি। তবে সর্বশেষ দুই ওয়ানডেতে নিয়েছেন সাত উইকেট। বিশ্বকাপ দলে প্রথমে ঠাঁই না পেয়ে হতাশ শ্রীশান্ত বলেছিলেন, তাঁর সামনে পরের দুটো বিশ্বকাপ খেলার সুযোগ তো আছে। তবে এত দিন অপেক্ষা করতে হলো না কেরালার এই পেসারকে।

ইডেনের জন্য সুখবর

বিশ্বকাপের ম্যাচ শেষ পর্যন্ত পাচ্ছে ইডেন উদ্যান। প্রস্তুতি শেষ না হওয়ার কারণ দেখিয়ে বাতিল করা হয়েছিল ইডেনের ভারত-ইংল্যান্ড ম্যাচ, বাকি তিনটি ম্যাচও ‘কেড়ে’ নেওয়ার একটা প্রক্রিয়া চলছিল। শেষ পর্যন্ত সেই রাস্তা থেকে সরে যাওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে আইসিসি। ইডেনে বাকি তিন ম্যাচ হওয়ার সবুজ সংকেত দিয়ে আইসিসির প্রধান নির্বাহী হারুন লরগাত কাল সাংবাদিকদের বলেছেন, ‘ইডেন গার্ডেনের কাজের অগ্রগতি নিয়ে আইসিসি সন্তুষ্ট, এই গতি অব্যাহত থাকলে বাকি তিনটি ম্যাচ হতে পারে সেখানে।

মরগানের বিশ্বকাপ শেষ

কথা ছিল আজ সভায় বসে সিদ্ধান্ত নেবেন ইংল্যান্ডের নির্বাচকেরা। কিন্তু ব্যাপারটা এতটাই নিশ্চিত ছিল যে অ্যান্ডি ফ্লাওয়ার জানিয়ে দিলেন এক দিন আগেই। অস্ট্রেলিয়া থেকে দেশে ফিরে কাল বিমানবন্দরেই ইংল্যান্ড কোচ জানিয়ে দিলেন, বিশ্বকাপ খেলা হচ্ছে না এউইন মরগানের। বাঁহাতি ব্যাটসম্যানের জায়গা নেবেন রবি বোপারা। অস্ট্রেলিয়া সিরিজের ওয়ানডে দলে ছিলেন না ৫৪ ওয়ানডে খেলা বোপারা।
অস্ট্রেলিয়া সিরিজে ৬ ম্যাচ খেলেও খুব একটা ভালো করতে পারেননি মরগান। অবশ্য অফ ফর্মে ছিলেন এমনও বলা যাবে না, ৪ ম্যাচে পেরিয়েছেন ২০ রান। কিন্তু বড় ইনিংস খেলতে পারেননি। তবে এই সিরিজের আগে সর্বশেষ ম্যাচটিতেই ছিল পাকিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচ-জয়ী সেঞ্চুরি।
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজের চতুর্থ ম্যাচে বাঁ হাতের মধ্যমায় চোট পান মরগান। পাত্তা না দিয়ে খেলে যান আরও দুই ম্যাচ। সর্বনাশটা হয়েছে এতেই। গত সোমবার দেশে ফিরেই গিয়েছিলেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের কাছে। স্ক্যানে ধরা পড়ে আঙুলে বেশ বড়সড় চিড়, অস্ত্রোপচার না করালেই নয়। আর অস্ত্রোপচার করা মানেই ছয় সপ্তাহ মাঠের বাইরে। গত বিশ্বকাপে আয়ারল্যান্ডের হয়ে খেলা ব্যাটসম্যানের তাই খেলা হচ্ছে না দ্বিতীয় বিশ্বকাপ।

সবার আগে কানাডা

বিশ্বকাপের উত্তাপ লাগতে শুরু করেছে অনেক আগে থেকেই। তবে সত্যিকার অর্থে বাংলাদেশে বিশ্বকাপ শুরু হচ্ছে আজ। প্রথম দল হিসেবে আজ সন্ধ্যায় ঢাকায় আসছে কানাডা। কানাডাকে দিয়ে বিশ্বকাপ শুরু হবে মাঠের বাংলাদেশেরও। ১২ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রামে নিজেদের প্রথম প্রস্তুতি ম্যাচে বাংলাদেশ খেলবে তাদের বিপক্ষে।
কানাডার বিশ্বকাপ অবশ্য শুরু হয়েছে ৬ ফেব্রুয়ারি। দুবাইয়ে বিশ্বকাপের প্রস্তুতি ম্যাচে বাংলাদেশের গ্রুপের দল হল্যান্ডকে ৪ উইকেটে হারিয়েছে তারা। বিশ্বকাপে বাংলাদেশে কানাডার কোনো ম্যাচ নেই, তবে দুটো প্রস্তুতি ম্যাচই খেলছে তারা বাংলাদেশে। ১৬ ফেব্রুয়ারি ফতুল্লার প্রস্তুতি ম্যাচে তাদের প্রতিপক্ষ ইংল্যান্ড।
বড় দলগুলোর মধ্যে প্রথম আসবে পাকিস্তান। নিউজিল্যান্ডে লম্বা সফর শেষে গত পরশুই দেশে ফিরেছে শহীদ আফ্রিদির দল। কালই আবার চলে আসছে বাংলাদেশে। বিশ্বকাপে পাকিস্তানেরও কোনো ম্যাচ নেই বাংলাদেশে। কিন্তু কানাডার মতো তাদেরও প্রস্তুতি ম্যাচ দুটো বাংলাদেশে। ১৫ ফেব্রুয়ারি মিরপুরের দিবারাত্রির ম্যাচে বাংলাদেশের বিপক্ষে খেলবে পাকিস্তান। দ্বিতীয় প্রস্তুতি ম্যাচ বিশ্বকাপ উদ্বোধনের পরদিন, ফতুল্লায় ইংল্যান্ডের বিপক্ষে।
১৮ ফেব্রুয়ারির ওই ম্যাচের আগেই অবশ্য কানাডার বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচ খেলে ফেলবে ইংলিশরা। বাংলাদেশে আসছে তারা ১৩ ফেব্রুয়ারি। তবে অস্ট্রেলিয়ায় প্রায় চার মাসের দীর্ঘ সফর শেষে মাত্রই দেশে ফেরা দলটির সবাই আসছে না প্রস্তুতি ম্যাচ খেলতে। বিশ্বকাপে ইংলিশদের প্রথম ম্যাচ ২২ ফেব্রুয়ারি, হল্যান্ডের বিপক্ষে নাগপুরে। চট্টগ্রামে বাংলাদেশের বিপক্ষে ম্যাচ খেলতে আবার এখানে আসবে তারা ৭ মার্চ।
বিশ্বকাপে বাংলাদেশের প্রথম দুই ম্যাচের প্রতিপক্ষ আসবে একই দিন, একই সঙ্গে। ১৭ জানুয়ারি একটি ভাড়া করা বিমানে ঢাকায় আসছে ভারত ও আয়ারল্যান্ড দল। দুটি ম্যাচই ‘প্রতিশোধের’, তবে একটিতে বাংলাদেশের লক্ষ্য প্রতিপক্ষের প্রতিশোধস্পৃহা গুঁড়িয়ে দেওয়া, আরেকটিতে প্রতিশোধ নেওয়া। কদিন আগে বীরেন্দর শেবাগ সরাসরিই বলেছেন, গত বিশ্বকাপে বাংলাদেশের কাছে হারের বদলা নিতে চায় ভারত। ওই বিশ্বকাপেই বাংলাদেশের স্বপ্নযাত্রায় একমাত্র কালির ছোপ আয়ারল্যান্ডের কাছে পরাজয়।
মার্চের প্রথম দিন বিকেলে প্রায় আট বছরেরও বেশি সময় পর বাংলাদেশে আসছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। সেই ২০০২ সালের শেষ দিকে বাংলাদেশে এসেছিল প্রথম দুবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা। এরপর বাংলাদেশ দুবার ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফর করেছে, মুখোমুখি হয়েছে ইংল্যান্ড-দক্ষিণ আফ্রিকা-ভারতে। কিন্তু বাংলাদেশে আর ওয়েস্ট ইন্ডিজের আসা হয়ে ওঠেনি। ১০ মার্চ বিকেলে প্রথমবারের মতো বাংলাদেশে আসছে হল্যান্ড। ১৪ মার্চ বাংলাদেশের বিপক্ষে ডাচদের ম্যাচ চট্টগ্রামে। বাংলাদেশের শেষ ম্যাচের প্রতিপক্ষ দক্ষিণ আফ্রিকা আসবে ১৬ মার্চ সন্ধ্যায়।
এরপর দুটো কোয়ার্টার ফাইনাল। ওই দুই ম্যাচের চারটি দলই কি আসবে বাইরে থেকে? আতিথেয়তায় বাঙালির কার্পণ্য নেই কখনোই। তবে এবার অন্তত বাংলাদেশের সবার চাওয়া থাকবে চারটি নয়, আসুক তিনটি দল। বাকি দলটি যে হতে চায় বাংলাদেশই!

ঢাকায় খেলবেন মেসি-তেভেজরা

শিরোনামটা চমকে ওঠার মতো। কিন্তু দুইয়ে দুইয়ে চার মিলে গেলে এটা সম্ভব। আর্জেন্টিনা ফুটবল দল কলকাতায় এলে ঢাকায় নয় কেন? আশার খবর, বিখ্যাত নীল-সাদা জার্সি পরে ঢাকার মাঠে দেখা দিতে পারেন মেসি-তেভেজ-হিগুয়েন-মাচেরানোরা।
কলকাতার দৈনিক আনন্দবাজার-এ গতকাল খবর বেরিয়েছে, ‘শেষ পর্যন্ত সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী ২ সেপ্টেম্বর কলকাতায় আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচ খেলবে আর্জেন্টিনা।’ প্রতিবেদনের ভাষ্য অনুযায়ী, ‘কলকাতায় ম্যাচ খেলে মেসি-তেভেজরা ৬ তারিখ (৬ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশে ম্যাচ খেলতে যাবেন।’ ঢাকায় আসার ব্যাপারটা সরাসরি লিখে দেওয়ার মানে, শেষ পর্যন্ত সফরটা হোক না হোক, ভেতরে ভেতরে আর্জেন্টিনা ফুটবল দলকে এ দেশে আনার একটা প্রক্রিয়া ঠিকই চলছে।
বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি কাজী সালাউদ্দিন ব্যাপারটা উড়িয়ে দেননি, ‘হ্যাঁ, আর্জেন্টিনাকে ঢাকায় আনার একটা কথাবার্তা হচ্ছে।’ সম্পূরক প্রশ্নে একটু নিরাপদ দূরত্বে থাকলেন সালাউদ্দিন, ‘এখনই চূড়ান্ত কিছু বলা যাবে না। সফরের সম্ভাবনা ৫০-৫০।’
বাফুফের সভাপতি দুটি বিষয়ের ওপর জোর দিচ্ছেন বেশি, ‘প্রথমত আর্জেন্টিনার মতো দলকে এখানে আনতে অনেক টাকা লাগবে। পাশাপাশি ওদের এখানে আসার মতো সময় থাকবে কি না? আমাদের এখানে স্পনসরের সঙ্গে কথা বলছে সফর আয়োজকেরা। আপাতত এর বেশি বলা সম্ভব নয়।’
আনন্দবাজার-এর খবর, আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি হুলিও গ্রন্দোনাসহ ৪৫ জনের বিশাল দল কলকাতা সফরে যাবে। পুরো আর্জেন্টিনা দল খেলতে এলে ১০০টি দেশে ওই প্রীতি ম্যাচে টিভি-স্বত্ব বিক্রি হওয়ার কথা। পুরো দলকে আনতে ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ৩০ কোটি টাকা লাগবে। উদ্যোক্তাদের আশা, টিভি-স্বত্ব বিক্রি থেকে অনেক টাকা পাওয়া যাবে।
আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচ খেলার জন্য ফিফা যে দিনগুলো বরাদ্দ করে থাকে, তার মধ্যে আছে ২ সেপ্টেম্বর। আর্জেন্টিনা ফুটবল ফেডারেশন এই দিনটিতে কলকাতায় খেলতে রাজি। ম্যারাডোনাকে যে ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট কলকাতায় এনেছিল, আর্জেন্টিনা দলকে তারাই আনছে। শেষ পর্যন্ত আর্জেন্টিনা কলকাতায় এলে অন্য কোনো নামী দলের সঙ্গেই প্রীতি ম্যাচটি খেলবে। স্পেন অথবা পর্তুগাল আছে আয়োজকদের মাথায়। মেসি-রোনালদো, নাকি মেসি-ইনিয়েস্তা দ্বৈরথ—উত্তর পেতে অপেক্ষা আরও কয়েক দিন।
একসময় কলকাতায় এসেছিলেন পেলের মতো কিংবদন্তি। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ম্যারাডোনা-রোমারিও-লোথার ম্যাথাউস-রুমেনিগেরা ঘুরে গেছেন সেখানে। অলিভার কান, রজার মিলাদের পা-ও পড়েছে পশ্চিম বাংলার রাজধানীতে। কলকাতা সফরের ফাঁকে এঁদের ঢাকায় আনা একেবারে অসম্ভব ছিল না। কিন্তু অন্য অনেক সমীকরণের সঙ্গে উদ্যোগেরও অভাব ছিল ঢাকায়।
এবার আর্জেন্টিনা দলকে আনার ব্যাপারে সালাউদ্দিন আশার কথা শোনাতে চান, ‘আমরা মনেপ্রাণে চাই সফরটা হোক। এর জন্য করণীয় সবই আমরা করব।

ব-তে ব্যাট ব-তে বই

তামিম ইকবাল আর হ্যারি পটার—দুজনের মধ্যে মিল কোথায়? মিল, দুজনের আছে জাদুর ছড়ি। তামিমের ব্যাটটাকে জাদুর ছড়ি ভেবে নিতে কষ্ট হওয়ার কথা নয় কারোরই।
হুট করে গোল চশমাঅলা ছেলেটার সঙ্গে তামিমের তুলনা আসছে কেন? কারণ, তামিম যে বুঁদ হয়ে আছেন হ্যারি পটারে। আন্তর্জাতিক বেসরকারি সংস্থা ‘রুম টু রিড’ এর সঙ্গে হাতে হাত মিলিয়েছে আইসিসি। ২০১১ বিশ্বকাপে শিক্ষার প্রসার আর বই পড়া নিয়েও প্রচারণা চলবে। সংগঠনটির সঙ্গে আইসিসির যাত্রা শুরুর ঘোষণার দিন জানানো হয়েছে, এবার বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া ১৪ দলের ১৪ ক্রিকেটারের বাছাই করা ১৪টি বইয়ের নাম। তামিম পছন্দের বই হিসেবে বেছে নিয়েছেন হ্যারি পটার সিরিজের একটি বই।
‘বইটা পড়ার সময় আমি আসলে নিজেকে হ্যারি পটারই ভাবতে শুরু করেছিলাম। এটাই তো লেখকের শক্তি। মনে হচ্ছিল, আমি যেকোনো কিছু করতে পারি’—ভালো লাগার বইটির ব্যাপারে এভাবেই জানিয়েছেন বাংলাদেশের এই ওপেনার।
হ্যারি পটারের মতো শুধু ফ্যান্টাসি নয়; ক্রিকেটারদের প্রিয় বইয়ের তালিকায় উঠে এসেছে জর্জ ওরওয়েল, স্টিফেন কিংয়ের মতো লেখকদের উপন্যাস। ক্রিকেটারদের আত্মজীবনীও বেছে নিয়েছেন একজন। পাকিস্তান অধিনায়ক শহীদ আফ্রিদি পছন্দের বই হিসেবে উল্লেখ করেছেন ধর্মীয় গ্রন্থের। আছে কালো মানুষের মুক্তির দূত নেলসন ম্যান্ডেলার লেখা লং ওয়াক টু ফ্রিডমও। শ্রীলঙ্কার প্রতিভাবান অলরাউন্ডার অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুসের পছন্দের বইয়ের নাম ট্যালেন্ট ইজ নেভার এনাফ।
১৪ জনের আলাদা আলাদা পছন্দ হওয়াই স্বাভাবিক। তবে দুজনের পছন্দ মিলে গেছে। শেন ওয়াটসন আর বিরাট কোহলি দুজনই বলেছেন সাবেক টেনিস তারকা আন্দ্রে আগাসির সাড়া জাগানো আত্মজীবনী ওপেন-এর কথা।

নতুন শুরুর আশায় পাকিস্তান

স্পট ফিক্সিং কেলেঙ্কারিতে নিষিদ্ধ তিন ক্রিকেটার। এ নিয়ে তোলপাড় ক্রিকেট বিশ্ব। কিন্তু এ নিয়ে মাথা ঘামাতে নারাজ শহীদ আফ্রিদি। নিউজিল্যান্ড সফরের তরতাজা সাফল্যে আত্মবিশ্বাসী পাকিস্তানের ওয়ানডে অধিনায়ক বলেছেন, তাঁদের দৃষ্টি শুধুই মাঠের ক্রিকেটে। বিতর্কে জর্জরিত দলটি টেস্ট ও ওয়ানডে সিরিজ জিতেছে নিউজিল্যান্ডে। আফ্রিদির আশা, দীর্ঘদিন পর পাওয়া এই সাফল্যেই শুরু হবে পাকিস্তান ক্রিকেটের নতুন পথচলা।
শুধু সিরিজ জয়ই নয়, আফ্রিদিকে এমন আশা দেখাচ্ছে নিউজিল্যান্ড সিরিজের আরেকটি প্রাপ্তিও। বেশির ভাগ সময়ই পাকিস্তানের জয়ে অবদান থাকে ব্যক্তিগত নৈপুণ্যের। তবে গত পরশু দেশে ফিরে আফ্রিদি জানালেন, এই সিরিজটা ছিল অন্য রকম, ‘একজন-দুজন নয়, এই সিরিজ জয়ে অবদান আছে প্রায় সব খেলোয়াড়েরই। এটাই আমাদের বিশ্বকাপে ভালো করার আত্মবিশ্বাস জোগাচ্ছে। একজন বা দুজন ক্রিকেটারের ওপর নির্ভর করে খুব বেশি ম্যাচ জেতার আশা করা যায় না। সবাইকেই কোনো না কোনোভাবে অবদান রাখতেই হবে। নিউজিল্যান্ডের সাফল্যে দল মানসিকভাবে শক্তিশালী হয়েছে, ভালো করার ক্ষুধাও বেড়েছে।’
অধিনায়কের মতো তিন ক্রিকেটারের নিষিদ্ধ হওয়ার ঘটনাকে ভুলে যেতে চাইছেন ওয়াকার ইউনুসও। লাহোরে পাকিস্তান কোচ বলেছেন, সময় এখন বিতর্ককে দূরে সরিয়ে রাখার। সাবেক ফাস্ট বোলারের দাবি, দোহার স্পট ফিক্সিংয়ের শুনানি নিউজিল্যান্ডে খেলোয়াড়দের প্রভাবিত করেনি। তিন ক্রিকেটারের দীর্ঘমেয়াদি শাস্তি নিয়ে কোনো মন্তব্য করেননি, তবে ওয়াকার খুশি পুরো ব্যাপারটার একটা সুরাহা হওয়ায়, ‘গুরুত্বপূর্ণ হলো, ব্যাপারটা এখানেই শেষ এবং আমরা আবার শুরু করতে পারি নতুন করে। নানা বিতর্ক পাকিস্তান ক্রিকেটকে অনেক ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। আমি খুশি, এসব আপাতত শেষ। ইংল্যান্ড সফরের স্পট ফিক্সিং কেলেঙ্কারির সময় কোচ ছিলেন ওয়াকারই।
নিউজিল্যান্ড সফরের সাফল্যে বিশ্বকাপে পাকিস্তানের সম্ভাবনা নিয়ে নতুন করে ভাবতে পারছেন ওয়াকারও। বিশেষ করে, ওয়ানডে সিরিজের জয়টাকে বিশ্বকাপের জন্য বড় অনুপ্রেরণা হিসেবে মানছেন ২০০৩ বিশ্বকাপে পাকিস্তানের অধিনায়ক, ‘আমি নিশ্চিত, নিউজিল্যান্ডে ওয়ানডে সিরিজ জয় বিশ্বকাপে আমাদের আত্মবিশ্বাসী করে তুলবে। সম্প্রতি দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজ, এরপর নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের পর সিরিজ জয় নিশ্চিতভাবেই বিশ্বকাপে আমাদের বাড়তি প্রেরণা জোগাবে।’
অতীতকে ভুলে সামনে এগিয়ে যেতে চান ম্যানেজার ইন্তিখাব আলমও, কিছুদিন আগেও যিনি ছিলেন দলের কোচ, ‘পাকিস্তান ক্রিকেটের মঙ্গলের স্বার্থেই এখন আমাদের সামনে এগিয়ে যেতে হবে।’
২৩ ফেব্রুয়ারি শ্রীলঙ্কার হাম্বানটোটায় কেনিয়ার বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে শুরু হচ্ছে পাকিস্তানের বিশ্বকাপ অভিযান। তবে এর আগে দুটো প্রস্তুতি ম্যাচ খেলবে তারা বাংলাদেশে। মিরপুরে ১৫ ফেব্রুয়ারির ম্যাচে প্রতিপক্ষ বাংলাদেশ, ১৮ ফেব্রুয়ারি ফতুল্লায় ম্যাচ ইংল্যান্ডের বিপক্ষে।

মাশরাফি-সিডন্স মুখোমুখি

ফিটনেস নিয়ে কথা বলবেন ফিজিও। কোচ কেন আগ বাড়িয়ে বললেন, মাশরাফি আনফিট! মাশরাফি বিন মুর্তজার প্রশ্নটা এখানেই। আর এই প্রশ্ন নিয়েই কাল মুখোমুখি হয়ে গেলেন জাতীয় দলের এই পেসার ও কোচ জেমি সিডন্স। মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামের ইনডোরে এ নিয়ে দুজনের মধ্যে তর্কযুদ্ধ হয়েছে তুমুল।
সূত্র জানিয়েছে, ফিটনেস নিয়ে পরশু পত্রিকায় ছাপা হওয়া সিডন্সের বক্তব্য নিয়ে সেদিনই মাশরাফি কথা বলেছেন ফিজিও মাইকেল হেনরির সঙ্গে। হেনরি মাশরাফিকে বলেছেন, তিনি এখন অনেকটাই ফিট। কোচের এ ধরনের মন্তব্য করার কথা নয়। পরে সিডন্সের সঙ্গেও এ নিয়ে কথা হয়েছে হেনরির এবং সেই কথার সূত্র ধরে পরশু রাতে সিডন্স প্রথমে ফোন এবং পরে এসএমএস পাঠিয়েছেন মাশরাফিকে। নিজের অবস্থান পরিষ্কার করে এসএমএসে সিডন্স বলেছেন, তিনি এখন ১৫ জনের দল নিয়ে ভাবলেও মাশরাফি ফিট হলে তার বিশ্বকাপ খেলার সুযোগ থাকবে। এসএমএসে কোচ এ-ও বলেছেন, ‘...আমি তোমার শত্রু নই।’
কাল অনুশীলনে এসে কোচ ব্যাপারটা আরও পরিষ্কার করতে চাইলেন। ইনডোরের দরজা থেকে মাশরাফিকে টেনে নিয়ে গেলেন ভেতরে। দুজনের মধ্যে যুক্তি-পাল্টা যুক্তি চলল প্রায় মিনিট বিশেক। কথা বলার সময় দূর থেকে দুজনকেই মনে হয়েছে যাঁর যাঁর বক্তব্যে অটল। সিডন্সের কথা মাশরাফি শুনলেও মানতে পারছিলেন না। মাশরাফির কথাও সিডন্স শুনছেন, হাত নেড়ে নেড়ে দিয়েছেন পাল্টা যুক্তি। আলোচনার পরিবেশ আর যা-ই হোক সৌহার্দ্যপূর্ণ ছিল না।
সূত্র জানিয়েছে, কথোপকথনে সিডন্স এমনও দাবি করেছেন, মাশরাফিকে ১৫ জনের দল থেকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্তটা নির্বাচকদের। মাশরাফি দলে থাকুক, এটা তিনি শেষ পর্যন্ত চেয়েছেন। কোচের আরও দাবি, দল ঘোষণার আগে ফিটনেস নিয়ে মাশরাফির সঙ্গে সরাসরি কথা বলার পরামর্শ দিয়েছিলেন তিনি নির্বাচকদের। নির্বাচকেরা সেটা করেননি।
বিশ্বকাপ খেলা নিয়ে কোচকে তেমন কিছুই বলেননি মাশরাফি। তবে অভিযোগ তুলেছেন প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের। মাশরাফিকে ৭ তারিখের মধ্যে ফিটনেস প্রমাণ করতে বলা হয়েছিল। ৫ ফেব্রুয়ারি প্রিমিয়ার লিগের ম্যাচে পুরো ১০ ওভার বোলিং ও ৫০ ওভার ফিল্ডিং করে মাশরাফি সেটা প্রমাণও করেছেন। অথচ এর পরদিনই কিনা কোচ বললেন, তিনি এখনো ফিট নন! মাশরাফি কোচের কাছে জানতে চেয়েছেন, আনফিট হলে তাঁকে অনুশীলনে রাখা হচ্ছে কেন? কেন অস্ত্রোপচারের জন্য অস্ট্রেলিয়ায় পাঠানো হচ্ছে না? কোচের ব্যাখ্যা, কেউ ইনজুরিতে পড়লে তার বিশ্বকাপ খেলার সুযোগ আছে। কিন্তু এ কথায় আস্থা নেই মাশরাফির। সিডন্সকে বরং বলেছেন, ফিটনেস বা পারফরম্যান্স প্রমাণের ব্যাপারে কোচ কোনো চ্যালেঞ্জ জানাতে চাইলে তিনি সেটা নিতে প্রস্তুত আছেন।
কোচের সঙ্গে তর্কযুদ্ধ নিয়ে বিস্তারিত না জানালেও মাশরাফি বলেছেন, ‘আমি কোচকে বলেছি ফিটনেস নিয়ে উনি যে কথা বলেছেন, সেটা ঠিক হয়নি। এ নিয়ে কথা বলবে ফিজিও। তখন কোচও তাঁর বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিয়েছেন।’ আজ দলের সঙ্গে চট্টগ্রামে না গেলেও ঢাকায় পুনর্বাসন চলবে তাঁর। স্ট্যান্ডবাই ক্রিকেটার হিসেবে নিজেকে পুরোপুরি ফিট করতে চান মাশরাফি, ‘আমি নিজেও এখন আর বিশ্বকাপ খেলার আশা করি না। তবে চেষ্টা করছি পুরো ফিট হতে। কেউ যদি ইনজুরিতে পড়ে, বিসিবি যদি মনে করে আমাকে দলে নেবে, আমি যেন তৈরি থাকি।’
তাঁর ‘১৫ জনের দলের বাইরে কাউকে নিয়ে ভাবছি না’ মন্তব্যে মাশরাফি কেন চটলেন, সেটা অবশ্য বুঝতে পারছেন না সিডন্স। কাল অনুশীলন শেষে প্রকাশ করেছেন সেই বিস্ময়ই, ‘এই কথায় ও (মাশরাফি) কেন কিছু মনে করবে? আমাকে এখন দলে থাকা ১৫ খেলোয়াড়ের প্রতিই মনোযোগী হতে হবে। এর বাইরে কারও দিকে খেয়াল রাখা আমার কাজ নয়। এটা ফিজিও আর বোলিং কোচের কাজ।’ তবে ১৫ জনের দলের কেউ চোট পেলে মাশরাফির জন্য দরজাটা খোলাই রাখছেন কোচ, ‘মাশরাফি, রাজীব, অলক, সৈয়দ রাসেল—কারও দিকেই এখন আমি নজর দিতে পারব না। তবে মাশরাফিকে আমি দলে চাই। ফিট হলে সে আমাদের এক নম্বর বোলার। এখন তো তাকে অনেকটাই ফিট মনে হচ্ছে।’
সেটাই যদি হবে, মাশরাফিকে দলে না রাখাটা কি ভুলই হলো! সিডন্স কথাটা পুরোপুরি অস্বীকার করলেন না। বরং একটু যেন আফসোসই ঝরালেন কণ্ঠে, ‘জানতাম এই সময়ের মধ্যে ও ফিট হতে পারে। হয়তো একটা ভুলই করে ফেলেছি আমরা। এ নিয়ে বিতর্ক হতে পারে। এক সপ্তাহ আগেও হয়তো আমি তাকে দলে নিতাম না, তবে আজ যে (গতকাল) পাঁচ-ছয় ওভার বোলিং করল, সেটা দেখলে হয়তো নিতাম।’
সকালে ইনডোরের তর্কযুদ্ধের পর বিকেলে মিরপুর স্টেডিয়ামের বাইরে ‘মাশরাফিকে বিশ্বকাপের দলে চাই’ ব্যানারে মিছিল হলো। বিশ্বকাপে না থেকেও ভালোভাবেই আছেন মাশরাফি।

বিশ্বকাপে প্রভাব ফেলবে না অস্ট্রেলিয়ার ওয়ানডে হার: স্ট্রাউস

অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ২৪ বছর পর অ্যাশেজ জিতে নিজেদের অন্য উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছিল অ্যান্ড্রু স্ট্রাউসের ইংল্যান্ড দল। কেউ কেউ এবারের বিশ্বকাপ ক্রিকেটের অন্যতম ফেবারিটের তকমা তাঁদের শরীরেই লাগিয়ে দিয়েছিল। কিন্তু, অ্যাশেজ সিরিজের পরপরই অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সাত ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে ৬-১ ব্যবধানে হেরে নিজেদের সামর্থ্যে বিরাট এক প্রশ্নবিদ্ধ চিহ্নই এঁকে দিয়েছে দলটি। এ ব্যর্থতার অজুহাত হিসেবে ‘ক্লান্তি’কে দুষলেও বিশ্বকাপে যে এর একটা প্রভাব থাকবে, তা মানছে অনেকেই।
অধিনায়ক স্ট্রাউস অবশ্য অস্ট্রেলিয়ার ওয়ানডে সিরিজের ব্যর্থতা বিশ্বকাপে প্রভাব ফেলবে না বলেই মনে করেন। তিনি বলেন, অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজে ইনজুরির কারণে শীর্ষস্থানীয় ইংলিশ বোলাররা অনেকেই খেলতে পারেননি। বিষয়টি অস্ট্রেলিয়ায় ওয়ানডে সিরিজে ব্যর্থতার প্রধানতম কারণ হিসেবে কাজ করেছে। বিশ্বকাপে গ্রায়েম সোয়ান, টিম ব্রেসনান, স্টুয়ার্ট ব্রড ও আজমল শেহজাদ ইনজুরি কাটিয়ে ফিরলে এ দলটিই অন্য রকম হয়ে যাবে বলেই বিশ্বাস স্ট্রাউসের।
অস্ট্রেলিয়া থেকে দেশে ফিরে লন্ডনে সংবাদ মাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে স্ট্রাউস বলেন, ‘গত এক বছরে বোলিং শক্তিই আমাদের জয়গুলোর নিয়ামক ছিল। আমাদের বোলিং লাইনআপ খুবই শক্তিশালী এবং বোলাররা সবাই জানে মাঠে তাঁদের ভূমিকা কোন পরিস্থিতিতে কোন ধরনের হবে।’
তবে, শীর্ষস্থানীয় বোলারদের ইনজুরি স্ট্রাউসকে ভাবাচ্ছে। সবচেয়ে বেশি ভাবাচ্ছে বিশ্বকাপের সময় ইনজুরি থেকে ফিরে তাঁদের ছন্দ ফিরে পাওয়া। ‘বোলাররা বিশ্বকাপের সময়ই ইনজুরিমুক্ত হবে এ কথা বলতে পারি। কিন্তু সমস্যাটা হচ্ছে, ইনজুরি থেকে ফিরে তাঁরা আবার আগের ছন্দে ফিরতে পারবে কিনা-সেটি।’ স্ট্রাউসের ভাবনা।

বিশ্বকাপকে ‘অন্য রকম’ একটি প্রতিযোগিতা বলেই মানছেন স্ট্রাউস। তিনি বলেন, ‘এ প্রতিযোগিতার মেজাজই আলাদা। এখানে বিশ্বের সব শীর্ষস্থানীয় খেলোয়াড়েরা খেলে থাকেন। তাঁরা নিজের দেশকে সম্মানিত করতে দারুণ উদগ্রীব থাকেন।’
স্ট্রাউস আশা করেন, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার সুখস্মৃতি ওয়ানডে বিশ্বকাপেও ইংল্যান্ডের জন্য উজ্জীবনী শক্তি হিসেবে কাজ করবে।
ইংল্যান্ড বিশ্বকাপ ক্রিকেটে এখন পর্যন্ত তিনবার ফাইনালে খেলেও একবারও চ্যাম্পিয়ন হতে পারেনি। এবারের বিশ্বকাপে অংশ নিতে স্ট্রাউসের ইংল্যান্ড আগামী শনিবার বাংলাদেশের উদ্দেশ্যে যাত্রা করবে।
এদিকে অস্ট্রেলিয়া থেকে দেশে ফিরে বিশ্বকাপের উদ্দেশে যাত্রা করার আগে ইংল্যান্ড দল মাত্র চার দিন নিজেদের পারিবারিক পরিবেশে কাটানোর সুযোগ পাবে। এ ব্যাপারটিতে একটু বিরক্তিই প্রকাশ করেছেন ইংল্যান্ড দলের কোচ অ্যান্ডি ফ্লাওয়ার।

আশা-নিরাশার দোলায় ‘আনপ্রেডিক্টেবল’ পাকিস্তান

স্পট ফিক্সিং কেলেঙ্কারিতে দোষীয় সাব্যস্ত হয়ে ক্রিকেট থেকে বিভিন্ন মেয়াদে বহিষ্কৃত হয়েছেন সালমান বাট, মোহাম্মদ আসিফ ও মোহাম্মদ আমির। এ তিন খেলোয়াড়ের অনুপস্থিতি বিশ্বকাপে পাকিস্তান দলকে যে অনেকটাই দুর্বল করে দেবে, তা বলার জন্য বিশেষ কোনো বিশেষজ্ঞ হতে হয় না। এ তিনজনই ছিলেন পাকিস্তান ক্রিকেট দলের অপরিহার্য সৈনিক। একাদশ নির্বাচনে তিনজনই ছিলেন নির্বাচকদের ‘স্বয়ংক্রিয় পছন্দ’।
কেবল স্পট ফিক্সিং কেলেঙ্কারিই নয়, বিশ্বকাপ দল ঘোষণা ও পরে অধিনায়ক নির্বাচন নিয়ে পিসিবির সময়ক্ষেপণ পাকিস্তান দলের বিশ্বকাপ প্রস্তুতিকে করেছে দারুণভাবে ব্যাহত। প্রথমে স্পট ফিক্সিংয়ের সন্দেহের তালিকায় থাকা উইকেটরক্ষক কামরান আকমল, শোয়েব মালিক ও দানিশ কানেরিয়াকে দলে নেওয়া হবে কি না, তা নিয়ে চলেছে বিস্তর টানাপড়েন। শেষ পর্যন্ত নির্বাচকেরা কামরান আকমলকে দলে নিলেও শোয়েব ও কানেরিয়া বাদই পড়েছেন বিশ্বকাপের চূড়ান্ত দল থেকে। এরপর, অধিনায়ক কাকে করা হবে—আফ্রিদি নাকি মিসবাহকে সেটা নিয়ে পিসিবির সময়ক্ষেপণ পাকিস্তানের বিশ্বকাপ প্রস্তুতি থেকে কেড়ে নিয়েছে মূল্যবান কিছু সময়। একেবারে অগোছালো অবস্থায় থাকলেও সম্প্রতি নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে নিরঙ্কুশ ব্যবধানে সিরিজ জয়, পাকিস্তান দলের আত্মবিশ্বাসের পারদ অনেকটাই ওপরে তুলে দিয়েছে।
পাকিস্তানের সাবেক অধিনায়ক ও ক্রিকেট কিংবদন্তি ইমরান খান অবশ্য বিশ্বকাপে পাকিস্তান দলের সম্ভাবনা নিয়ে আগ বাড়িয়ে কিছু বলতে চান না। তিনি এ ব্যাপারে কিছুদিন অপেক্ষা করারই পক্ষপাতি। তিনি বোলিং লাইনআপে আসিফ ও আমিরের অনুপস্থিতিকে আলাদা দৃষ্টিতেই দেখছেন। বলেছেন, ‘আসিফ ও আমিরের অনুপস্থিতি পাকিস্তানের বোলিং আক্রমণকে অনেকটাই দুর্বল করে দেবে।’ এবারের বিশ্বকাপে ভালো কিছু করতে হলে পাকিস্তান দলকে যে ১৯৯২ সালের বিশ্বকাপের মতো বিশেষ কিছু করে দেখাতে হবে, তা তিনি মনে করে দিয়েছে সবাকেই।
এত কিছুর পরেও পাকিস্তান দলের ওপর থেকে বিশ্বাস সরে যায়নি ইমরান খানের। তিনি পাকিস্তান দলকে একটি ‘আনপ্রেডিক্টেবল’ দল হিসেবে বর্ণনা করে বলেন, ‘এ দলটির পক্ষে অসাধারণ কিছু করে ফেলা একেবারেই অসম্ভব কিছু নয়।’
ইমরান খান বিশ্বকাপ দলের অধিনায়ক নির্বাচনে পিসিবির কালক্ষেপণের তীব্র সমালোচনা করে বলেন, ‘আমি জানি না, অধিনায়ক নির্বাচন করতে পিসিবি এত সময় নিল কেন।’ তিনি অধিনায়ক আফ্রিদি সম্পর্কে বলেন, ‘দলের অধিনায়কত্বে আফ্রিদির কোনো বিকল্প নেই। সেই পারে একজন খেলোয়াড় ও অধিনায়ক হিসেবে পুরো দলকে একসূত্রে গেঁথে রাখতে।’
আরেক সাবেক ক্রিকেটার ইকবাল কাশিম একটু রসিকতা করেই বলেছেন, ‘পাকিস্তান এমনই একটি দল, যারা বিশ্বকাপে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দিয়ে সব হিসাব উল্টে দিতে পারে, আবার বাজে খেলে দর্শক-সমর্থকদের ৪৪০ ভোল্টের বৈদ্যুতিক শকও দিতে পারে।’
ওয়াসিম আকরামের মতে, পাকিস্তান দলের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দুই খেলোয়াড় হচ্ছে আফ্রিদি ও আবদুল রাজ্জাক। তিনি আরও বলেন, ‘দলের বাকি খেলোয়াড়দের কাছে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা পেলে এ দুজনই নিজেদের পারফরম্যান্স দিয়ে পুরো দলের চেহারা পাল্টে দিতে পারে।’
তবে দলের অধিনায়ক শহীদ আফ্রিদি জানিয়েছেন, এ মুহূর্তে তাঁদের মাথায় বিশ্বকাপ ছাড়া আর অন্য কোনো চিন্তা নেই। তাঁরা বিশ্বকাপের প্রতি পুরোমাত্রায় মনোযোগী রয়েছেন। আফ্রিদি বলেন, ‘পাকিস্তান একটি ব্যালেন্সড দল। এই দলের খেলোয়াড়েরা নিজেদের মান অনুযায়ী খেলতে পারলে যেকোনো কিছু ঘটানো সম্ভব।’