Sunday, November 10, 2019
বাবরি মসজিদ রায়: একেই কি বিচার বলে? by সৈয়দা হামিদ
![]() |
| প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈই |
রায় অনুযায়ী ভারতীয় ইতিহাসের সম্ভবত সবচেয়ে বিতর্কিত ২.৭৭ একর জমি ৩ মাসের মধ্যেই বুঝে পাবে সরকারের তৈরি করে দেওয়া একটি ট্রাস্ট। অয্যোধ্যায় অন্য কোথাও ৫ একর পাবে মুসলিমরা। এটাই কি বিচার? আমি নিজেকে জিজ্ঞেস করলাম।
সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে দেখলাম, আদালত বাবরি মসজিদ ভাঙ্গাকে অবৈধ বলে বর্ণনা দিয়েছেন। সম্মানিত বিচারকদের কাছে আমার ছোট একটি প্রশ্ন: যদি মসজিদ ভাঙ্গা অবৈধ হয়ে থাকে, তাহলে ২.৭৭ একর জমি কেন সেই পক্ষকেই উপহার দেওয়া হলো যারা এই অবৈধ কাজের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিল? এই প্রশ্নের পর আরও কিছু চিন্তা মাথায় আসলো।
এই মামলায় হিন্দু পক্ষ ছিল দু’টি। একটি নির্মোহি আখাড়া ও রাম লালা ভিরাজমান।
এরপর রাম জন্মভূমি ন্যাস নামে আরেক পক্ষ অন্তর্ভুক্ত হলো। এই তৃতীয় পক্ষই এখন বিজয়ী হলো। এটি এখন ট্রাস্টে আধিপত্য ফলাবে? কিংবা ভারত ও বিশ্বজুড়ে এই মন্দির প্রতিষ্ঠার জন্য আদায় করা বিপুল অর্থও কি তারা পাবে?
ভারতের প্রত্নত্ব বিভাগের প্রধান প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল যে, মসজিদের নিচে কোনো মন্দির ছিল না। এই প্রতিবেদনের শেষে একটি অংশ ছিল যেখানে কেউ স্বাক্ষর করেনি। এতে বলা হয়, মাটির নিচে যে কাঠামো পাওয়া গেছে, তা ইসলামি ঘরানার নয়। আদালত কি তাহলে স্বাক্ষরিত প্রতিবেদনের বদলে অস্বাক্ষরিত অংশবিশেষকে আমলে নিয়েছে?
এই রায় কীভাবে প্রতিভাত হবে তা কি ভেবে দেখা হয়েছে? এমনটা কি মনে হচ্ছে না যে, সংখ্যাগুরুকে তুষ্ট করতে সংখ্যাগুরুর ধ্যানধারণার প্রভাবে একটি সংখ্যাগুরুকেন্দ্রিক রায় দেওয়া হলো? এর মাধ্যমে কি একটি নজির সৃষ্টি হয়ে গেলো না? আমাদের ইতিহাস প্রাচীন। কালে কালে পুরোনো শহরের ধ্বংসাবশেষের ওপর নির্মিত হয়েছে নতুন নতুন শহর। এক দিল্লি শহরই ৭ বার ধ্বংস হয়েছে, আবার গড়ে উঠেছে। কাশী? মাথুরা? আরও কত হাজার হাজার ধর্মীয় স্থাপনা আছে এই ভাংচুরের তালিকায়?
এই রায় থেকে কি মুসলমানদের স্বস্তি পাওয়া উচিৎ? নাকি উল্টোটা? এমনটা কি বলা যায় না যে, আদালত যে কাজকে অবৈধ বলে বর্ণনা করেছে, সেই অবৈধ কাজ যারা করেছে তারাই যা চেয়েছে তা পেল?
মাওলানা আবুল কালাম আজাদকে উদ্ধৃত করে বলতে হয়, যা হওয়ার ছিল, তা হয়ে গেছে। এখন মুসলিম হিসেবে নিজেকে আমি আল্লামা ইকবালের ভাষায় প্রশ্ন করতে চাই: আমাদের এখন কী করা উচিৎ? আমাদের এখন কী করা উচিৎ নয়?
দেশজুড়ে নজিরবিহীন নিরাপত্তা আনা হয়েছে। অনেকটা যেন এমন যে, মুসলিমরা দেশের প্রত্যেক গলি আর মহল্লা থেকে বিক্ষোভ নিয়ে বের হবে। কিংবা হিন্দুরা সব জায়গা থেকে আনন্দ মিছিল নিয়ে বের হবে। এমনটা হওয়ার কথা নয়। ঘটা উচিতও নয়। আমি হিন্দুদের কথা বলতে পারি না, তবে মুসলিমদের কথা বলতে পারি। আমি আমার সহ-ধর্মাবলম্বীদের উদ্দেশ্যে বলতে চাই যে, আমাদের কোনো ক্ষমতা নেই, কোনো এজেন্সি নেই, বিক্ষোভের কোনো জায়গা অবশিষ্ট নেই। যারা এই ক্ষমতাকেন্দ্রের প্রতিবাদ করতে চায় তাদের জন্য সমস্ত কিছু মিইয়ে যাচ্ছে হাওয়ায়। আমি চাই না রাজপথে নির্দোষদের প্রাণহানি হোক, রক্ত ঝরুক। কারণ, হতদরিদ্রদেরই ক্ষমতাধররা ব্যবহার করে সহিংসতা আর বিভাজনের জন্য।
মুসলিমদের জন্য এখন কেবল একটিই রক্ষাকবচ আছে, যা তারা পেয়েছে পবিত্র কোরআন ও নবী (স.)-এর কাছ থেকে। তাদের উচিৎ স্পষ্ট, দ্বিধাহীন কিন্তু ভদ্রভাবে অয্যোধ্যায় ৫ একর জমির প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করা। এরপর ক্ষমতার লোকদের বলা উচিৎ: ‘আপনারা যেহেতু ঐক্যমতের ভিত্তিতে এই রায় দিয়েছেন যে, মসজিদ ভাঙ্গা ও মূর্তি রাখার কাজ অবৈধ ছিল, সুতরাং আমাদের বিকল্প একখ- জমি দেবেন না। আমরা এই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করি। আপনাদের রায়ের আলোকে আমাদের শুধু একটি নিশ্চয়তা দিন যে, এমনটা আর কখনই হবে না।’
(সৈয়দা হামিদ একজন লেখিকা ও মুসলিম ওমেনস ফোরামের প্রেসিডেন্ট। তার এই নিবন্ধ ভারতের হিন্দুস্তান টাইমস থেকে নেওয়া হয়েছে।)
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
প্রথমে গুন্ডামি করে মসজিদটা ভাঙা হল, তারপর আদালত বলল ওখানে মন্দির হবে! by অশোককুমার গঙ্গোপাধ্যায়

চারশো-পাঁচশো বছর ধরে একটা মসজিদ একটা জায়গায় দাঁড়িয়ে ছিল। সেই মসজিদকে আজ থেকে ২৭ বছর আগে ভেঙে দেয়া হল বর্বরদের মতো আক্রমণ চালিয়ে। আর আজ দেশের সর্বোচ্চ আদালত বলল, ওখানে এ বার মন্দির হবে।
সাংবিধানিক নৈতিকতা বলে তো একটা বিষয় রয়েছে! এমন কোনও কাজ করা উচিত নয়, যাতে দেশের সংবিধানের উপর থেকে কারও ভরসা উঠে যায়। আজ অযোধ্যার ক্ষেত্রে যে রায় হল, সেই রায়কে হাতিয়ার করে ভবিষ্যতে এই রকম কাণ্ড আরও ঘটানো হবে না, সে নিশ্চয়তা কেউ দিতে পারবেন? শুধু অযোধ্যায় নয়, মথুরা এবং কাশীতেও একই ঘটনা ঘটবে এ কথা আগেই বলা হত। যাঁরা গুন্ডামি করে বাবরি মসজিদ ভেঙে ছিলেন, তারাই বলতেন।
এখন আবার সেই কথা বলা শুরু হচ্ছে। যদি সত্যিই মথুরা বা কাশীতে কোনও অঘটন ঘটানো হয় এবং তার পরে মামলা-মোকদ্দমা শুরু হয়, তা হলে কী হবে? সেখানেও তো এই রায়কেই তুলে ধরে দাবি করা হবে যে, মন্দিরের পক্ষেই রায় দিতে হবে বা বিশ্বাসের পক্ষেই রায় দিতে হবে।
অযোধ্যা মামলা এর আগেও সুপ্রিম কোর্টে উঠেছে। তখনই আদালত স্বীকার করে নিয়েছিল যে, বিতর্কিত জমিতে মসজিদ ছিল। যেখানে বছরের পর বছর ধরে নামাজ পড়া হচ্ছে, সেই স্থানকে মসজিদ হিসেবে মান্যতা দেয়া উচিত, এ কথা আদালত মেনে নিয়েছিল। তা হলে আজ এই নির্দেশ এল কীভাবে? যেখানে একটা মসজিদ ছিল বলে সুপ্রিম কোর্ট নিজেই মেনেছে, সেখানে আজ মন্দির বানানোর নির্দেশ সেই সুপ্রিম কোর্টই দিচ্ছে কোন যুক্তিতে?
ভারতীয় পুরাতাত্ত্বিক সর্বেক্ষণ (এএসআই) জানিয়েছিল, ওই মসজিদের তলায় একটি প্রাচীনতর কাঠামোর সন্ধান পাওয়া গিয়েছে। কিন্তু সেই প্রাচীনতর কাঠামো যে মন্দিরই ছিল, এমন কোনও প্রমাণ তো মেলেনি। সুপ্রিম কোর্ট নিজেও মেনে নিয়েছে যে, পুরাতাত্ত্বিক সর্বেক্ষণের রিপোর্টে কোনও ভাবেই প্রমাণ হচ্ছে না যে, একটা মন্দিরকে ভেঙে ওখানে মসজিদ তৈরি করা হয়েছিল।
তা হলে কিসের ভিত্তিতে আজ মন্দির তৈরির নির্দেশ? বিশ্বাসের ভিত্তিতে। দেশের সর্বোচ্চ আদালত বলল, অনেক হিন্দুর বিশ্বাস যে, ওখানে রামের জন্ম হয়েছিল। বিশ্বাস বা আস্থার মর্যাদা রাখতে ওই বিতর্কিত জমি রামলালা বিরাজমানের নামে দিয়ে দেয়া হল। এটা কি আদৌ যুক্তিযুক্ত হল? রামচন্দ্র আদৌ ছিলেন কি না, কোথায় জন্মেছিলেন, সে সবের কোনও প্রামাণ্য নথি কি রয়েছে? নেই। রাম শুধু মহাকাব্যে রয়েছেন। সেই সূত্রে অনেক মানুষের মনে একটা বিশ্বাসও রয়েছে। কিন্তু সেই বিশ্বাসের বলে একটা মসজিদের জমি মন্দিরের নামে হয়ে যেতে পারে না। কালকে যদি আমি বলি, আপনার বাড়ির নীচে আমার একটা বাড়ি রয়েছে, এটা আমার বিশ্বাস, তা হলে কি আপনার বাড়িটা ভেঙে জমিটা আমাকে দিয়ে দেয়া হবে?
ইতিহাসের পুননির্মাণ করা তো আদালতের কাজ নয়। আদালত সিদ্ধান্তে পৌঁছায় অকাট্য প্রমাণ এবং প্রামাণ্য নথিপত্রের ভিত্তিতে। বাবরি মসজিদ যেখানে ছিল, সেই জমিতে মন্দির তৈরির নির্দেশ সুপ্রিম কোর্ট কোন অকাট্য প্রমাণ ও প্রামাণ্য নথির ভিত্তিতে দিল, সেটা বুঝতে আমার অসুবিধা হয়েছে। বাবরি মসজিদ যে ওখানে ছিল, পাঁচ শতাব্দী ধরে ছিল, সে আমরা সবাই জানি। বাবরি মসজিদ যে গুন্ডামি করে ভেঙে দেয়া হল, সেটাও আমরা দেখেছি। এমনকি সুপ্রিম কোর্ট এ দিনের রায়েও মেনে নিয়েছে যে, অন্যায়ভাবে মসজিদটা ভেঙে দেয়া হয়েছিল। কিন্তু ১৫২৮ সালের আগে ওখানে রাম মন্দির ছিল কি না, আমরা কেউ কি নিশ্চিতভাবে জানি? রাম মন্দির ভেঙেই বাবরি মসজিদ তৈরি করা হয়েছিল, এমন কোনও অকাট্য প্রমাণ কি কেউ দাখিল করতে পেরেছিলেন? পারেননি। তা সত্ত্বেও যে নির্দেশটা শীর্ষ আদালত থেকে এল, তা নিয়ে প্রশ্ন থাকা স্বাভাবিক নয় কি?
সূত্র: আনন্দবাজার পত্রিকা
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
এবার বাবরি মসজিদ ভাঙার রায়ের অপেক্ষা

অবশ্য অযোধ্যা মামলার রায়ে সপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈয়ের নেতৃত্বাধীন ৫ সদস্যের বেঞ্চ ১৯৯২ সালে বাবরি মসজিদ ভাঙা আইনবিরুদ্ধ কাজ ছিল বলে মন্তব্য করেছেন। আদালতের মতে, যে অন্যায় হয়েছে তার প্রতিকার করা উচিত। একই সঙ্গে ১৯৪৯ সালে ২২ ও ২৩ ডিসেম্বরের মধ্যবর্তী রাতে বাবরি মসজিদে হিন্দু দেবদেবীর মূর্তি রাখার প্রবল সমালোচনা করেছে আদালত। রায়ে বলা হয়েছে, তখন মুসলিমদের আইন মেনে সেখান থেকে সরানো হয়নি। বরং তাদের প্রার্থনা জানানোর স্থান থেকে বঞ্চিত করা হয়েছিল। এর পরে ফৌজদারি দন্ডবিধির ১৪৫ ধারা মেনে আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়। বিচারপতিদের বক্তব্য, এর পরে মামলা চলাকালীনই রীতিমতো হিসেব কষে মসজিদ ধ্বংস করা হয়। ৪৫০ বছরেরও বেশি আগে তৈরি মসজিদ থেকে বঞ্চিত হন মুসলিমরা।
তাদের মতে, সুপ্রিম কোর্টকে দেওয়া আশ্বাস সত্ত্বেও ১৯৯২ সালের ৬ ডিসেম্বর মসজিদ ধ্বংস করা হয়। এটা আইন ভাঙার বড় নজির।
বাবরি মসজিদ ভাঙা নিয়ে মামলা চলছে লখনউয়ের সিবিআই আদালতে। ২৭ বছর ধরে চলছে মামলা, ঢিলেতালে। আদালতে বিচার যাতে দ্রুততার সঙ্গে করা হয় সেজন্য শনিবার সুপ্রিম কোর্ট সময় বেঁধে দিয়েছেন। রায়ে বলা হয়েছে, জানুয়ারির মধ্যে শুনানি শেষ করে এপ্রিলের মধ্যে রায় দিতে হবে। রায়দানের জন্য সিবিআই আদালতের বিচারক সুরেন্দ্রকুমার যাদবের অবসরও পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে। তবে অভিযুক্ত এবং সাক্ষীদের মধ্যে অনেকেই মৃত। ফলে অযোধ্যা জমি বিরোধ নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের রায়ের কোনও প্রভাব বাবরি মসজিদ ধ্বংসের মামলায় পডবে কিনা, তা নিয়ে এখন নানা মহলে চলছে জল্পনা।
১৯৮৪ সালে নতুন উদ্যমে রামমন্দির আন্দোলন শুরু করেছিল বিশ্ব হিন্দু পরিষদ। দু-বছর পর, আদালতের নির্দেশে তালা খুলে যাওয়ায়, তুঙ্গে উঠেছিল মন্দিরের দাবি। ১৯৮৯ সালে প্রধানমন্ত্রী রাজীব গান্ধী আমলেই বিতর্কিত জমির কাছেই রাম মন্দিরের শিলান্যাস করেছিল বিশ্ব হিন্দু পরিষদ। পরের বছর অযোধ্যায় মন্দিরের দাবিতে ভারত জুড়ে রথযাত্রায় বেরিয়েছিলেন লালকৃষ্ণ আডবাণী। ১৯৯০ সালের ২৫শে সেপ্টেম্বর সোমনাথ থেকে অযোধ্যা, যাত্রা শুরু করেছিলেন তিনি। যাত্রা চলাকালীন সারা দেশে দেড়শোর বেশি হিংসার ঘটনায় পাঁচশোর বেশি মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছিল। ঐ বছরের ৩০শে অক্টোবর কর সেবকরা জোর করে বাবরি মসজিদে ঢুকতে গেলে গুলি চালিয়েছিল মুলায়ম সিং যাদবের পুলিশ। ২০ জন কর-সেবকের মৃত্যু হয়েছিল। ১৯৯১ সালের জুনে উত্তর প্রদেশে বসেছিলেন বিজেপি নেতা কল্যাণ সিং। দিল্লিতে ছিল কংগ্রেসের সরকার। রাম মন্দিরের জন্য জমি অধিগ্রহণও করেছিল কল্যাণ সিং সরকার। ১৯৯২ সালের ৩০ অক্টোবর ভিএইচপি ঘোষণা, ৬ই ডিসেম্বর কর-সেবার ঘোষণা দিয়েছিল। নির্ধারিত দিনে বেলা ১০টার মধ্যেই প্রায় ২ লাখ কর-সেবক বাবরি মসজিদ চত্বরে জড়ো হয়েছিল। পৌঁছে গিয়েছিলেন লালকৃষ্ণ আডবাণী, মুরলী মনোহর যোশী, উমা ভারতী, অশোক সিঙ্ঘল এবং বিনয় কাটিয়ার-সহ অন্য বিজেপি নেতারা। দুপুর ১২টা নাগাদ বাবরি মসজিদের ভিতর ঢুকে পড়েন। কর-সেবকরা মসজিদ ভাঙা শুরু করেছিল। সুপ্রিম কোর্টে প্রতিশ্রুতি দিলেও সেদিন কর-সেবকদের নিয়ন্ত্রণে যথোপযুক্ত ব্যবস্থা নেননি উত্তরপ্রদেশের কল্যাণ সিং সরকার। ৮০ কোম্পানি আধা-সেনা পাঠিয়ে দায় সেরেছিলেন তৎ্কালীন প্রধানমন্ত্রী নরসিমা রাও। পরে তদন্তের জন্য ১৬ ডিসেম্বর লিবেরহান কমিশন গঠন করেছিল কেন্দ্রীয় সরকার। ১৭ বছর পর ২০০৯ সালের ৩০ জুন মনমোহন সিং সরকারের কাছে কমিশন রিপোর্ট জমা দিয়েছিল। সেই রিপোর্টে বলা হয়েছিল, সবটাই ছিল ষড়যন্ত্র। সব জানতেন আডবাণী-জোশী-কল্যাণরা। যদিও পরে আডবাণী দাবি করেন, সেদিন তারা চেষ্টা করেও কর-সেবকদের মসজিদে ঢোকা আটকাতে পারেননি। এরপরেই বাবরি মসজিদ ধ্বংসে আডবাণী-জোশীদের বিরুদ্ধ লখনউয়ের সিবিআই আদালতে মামলা শুরু হয়েছে। এখনও চলছে সেই মামলা।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
পুরুষের দুশ্চিন্তার রকমফের

তবে এই নিবন্ধে শুধু পুরুষের দুশ্চিন্তা নিয়েই আলোচনা হয়েছে। পুরুষের দুশ্চিন্তা নিয়ে এক গবেষণায় বলা হয়েছে, পুরুষের দুশ্চিন্তার রকমফের আছে। এ সমস্যা একেক পুরুষের ক্ষেত্রে একেক রকমভাবে দেখা দেয়। যখন কেউ দুশ্চিন্তা নিয়ে ভাবেন, তখন মাত্রাতিরিক্ত খারাপ অবস্থার একটি চিত্র তাঁর সামনে ভেসে ওঠে এবং আতঙ্কাবস্থা এড়ানোর চেষ্টা আরও বেশি ভোগায়। মনোবিজ্ঞানীদের মধ্যে দিনে দিনে এই ধারণা বদ্ধমূল হচ্ছে যে এ ক্ষেত্রে পুরুষেরা মাথাব্যথা, ঘুমের ব্যাঘাত, পেশিব্যথাসহ অন্যান্য ব্যথার অভিযোগ বেশি করেন। তাঁরা দুশ্চিন্তা থেকে বাঁচতে ওষুধ ও অ্যালকোহলে ঝুঁকে পড়েন। অনেক পুরুষের অ্যালকোহল গ্রহণের প্রবণতার পেছনে রয়েছে দুশ্চিন্তা রোগ। অনেক ক্ষেত্রে রাগ এবং ক্রোধ আকারে এই দুশ্চিন্তার প্রকাশ ঘটে।
যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ–পূর্বাঞ্চলের রাজ্য কেনটাকির লুইসভিলে শহরের ক্লিনিক্যাল মনোবিজ্ঞানী কেভিন চ্যাপম্যানের ভাষায়, দুশ্চিন্তাগ্রস্ত পুরুষের তুলনায় আক্রমণাত্মক আচরণের পুরুষ এই সমাজে বেশি গ্রহণযোগ্য।
গবেষণায় বলা হয়েছে, প্রতি পাঁচজন পুরুষের একজন জীবনে দুশ্চিন্তা রোগে আক্রান্ত হন। নারীর ক্ষেত্রে এ সংখ্যা তিনজনে একজন।
তবে উদ্বেগের বিষয় হচ্ছে, গবেষণাগুলোতে দুশ্চিন্তার সঙ্গে আত্মহত্যার বিষয়টিও জড়িত হয়ে পড়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটি এবং হার্ভার্ড মেডিকেল স্কুলের ২০১০ সালের এক গবেষণায় বলা হয়েছে, হতাশার মতো মানসিক অসুস্থতা আত্মহত্যার ভাবনাকে জাগিয়ে তোলে। তবে বিষয়টি এমন নয় যে দুশ্চিন্তাগ্রস্ত ব্যক্তিমাত্রই আত্মহত্যার দিকে ঝোঁকেন। দুশ্চিন্তা রোগের চেয়ে বরং আচরণগত সমস্যা ও নির্যাতনের শিকার ব্যক্তিদের মধ্যে আত্মহত্যায় ঝুঁকে পড়ার প্রবণতা বেশি।
যুক্তরাষ্ট্রের রোগ নিয়ন্ত্রণ ও সুরক্ষা কেন্দ্রের তথ্যে অনুসারে, দেশটিতে আত্মহত্যার হার বাড়ছে। নারীর তুলনায় পুরুষের আত্মহত্যার হার তিন গুণ বেশি।
হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটির মনোবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক এবং এ গবেষণার গবেষক ম্যাথিউ কে নক বলেন, যে ধরনের মানুষেরা আতঙ্কগ্রস্ত হন এবং যাঁরা পরিস্থিতিকে অসহনীয় মনে করে পালাতে চান, তাঁদের মধ্যে আত্মহত্যার ভাবনাগুলো বারুদের মতো জ্বলে উঠতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের উত্তর–পূর্বাঞ্চলের রাজ্য ম্যাসাচুসেটসের ওয়ারসেস্টার শহরের ক্লার্ক ইউনিভার্সিটির মনোবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক এবং পুরুষের ভালো থাকা নিয়ে গবেষণা গ্রুপের পরিচালক মাইকেল আদ্দিস বলেন, মানসিক অসুস্থতার বিষয়ে পুরুষদের খুব কমই চিকিৎসা নিতে দেখা যায়। ছোট বেলা থেকে তাঁদের সামাজিকভাবে একটি ধারণা দেওয়া হয় যে নিজের আবেগসংক্রান্ত দুরবস্থা প্রকাশ করা দুর্বলতা। এ ব্যাপারে অপরের সাহায্য চাওয়াকেও দুর্বলতা হিসেবে দেখা হয়।
দুশ্চিন্তা মানুষের অন্যান্য আবেগের মতোই একটি অবস্থা। তবে এটা তখনই রোগের পর্যায়ে পড়ে, যখন তা মাত্রা ছাড়িয়ে যায় এবং অব্যাহতভাবে চলতে থেকে ব্যক্তির স্বাভাবিক জীবন, কাজ ও সম্পর্ককে বাধাগ্রস্ত করে। দুশ্চিন্তা রোগ আর হতাশা অনেক সময় একসঙ্গে আসে। এ ধরনের ব্যক্তিদের অবশ্যই আচরণগত থেরাপি নেওয়া প্রয়োজন। এ ধরনের থেরাপি দুশ্চিন্তা উদ্রেক করে এমন চিন্তাভাবনা থেকে দূরে থাকা শেখায়।
নিবন্ধটিতে দুশ্চিন্তা রোগে আক্রান্ত বেশ কয়েকজনের উদাহরণ তুলে ধরা হয়। এর মধ্যে অ্যারন ক্যালিফোর্নিয়া (৩১) নামের এক যুবকের কথা বলা হয়েছে। অ্যারন তাঁর ১৯ বছর বয়সের তরুণ জীবনের কথা উল্লেখ করে বলেন, পরীক্ষার আগে আগে তাঁর বেশ দুশ্চিন্তা হতো। ব্যাপারটি এমন দাঁড়িয়েছিল যে বন্ধুবান্ধবের সঙ্গে মিশতেন না। এক সময় তিনি অনুভব করলেন, দুশ্চিন্তা তাঁর জীবনকে ‘ধ্বংস করে ফেলছে’। তিনি কলেজ থেকে ছিটকে পড়েন। চাকরিও ছেড়েছেন। কারণ, কী না কী ভুল হয়ে যায়, এ নিয়ে তাঁর দুশ্চিন্তার অন্ত ছিল না। এরপরও অন্যরা তাঁকে নিয়ে কী ভাবে এই চিন্তা থেকে তিনি চিকিৎসকের দ্বারস্থ হতেও নিরুৎসাহিত হতেন।
তবে দুশ্চিন্তার দাওয়াই নিতে পুরুষেরা একেবারেই যে চিকিৎসকের দ্বারস্থ হন না, তা কিন্তু নয়। কর্মস্থলে সংকটে পড়লে বা সঙ্গীর চাপে পড়ে অনেকেই মনোবিজ্ঞানীদের কাছে হাজির হন। তবে জোরজবরদস্তি করে চিকিৎসকের কাছে পাঠানোর বিষয়টি ঠিক নয় বলে মনে করেন মনোবিজ্ঞানীরা। নিউইয়র্কের ফোর্ডহাম ইউনিভার্সিটির মনোবিজ্ঞান বিষয়ের অধ্যাপক ডিন ম্যাককে বলেন, এতে ফল উল্টো হয়। ব্যক্তিত্বের দ্বন্দ্ব দেখা দেয়, চিকিৎসা নিতে অনীহা আরও বাড়ে। বরং দুশ্চিন্তাগ্রস্ত ব্যক্তিকে চিকিৎসকের কাছে যেতে উৎসাহিত করার সবচেয়ে ভালো পন্থা হচ্ছে তাঁকে বোঝানো যে দুশ্চিন্তা তাঁর জীবনের সুন্দর সময়গুলো কীভাবে নষ্ট করছে, কীভাবে গুণগত জীবনকে দুর্ভোগে ফেলছে। দুশ্চিন্তাকে দূরে ঠেলতে পারলে কীভাবে প্রিয়জনের সঙ্গে সুন্দর মুহূর্তগুলোকে কাছে টানা যায়, জীবন আরও উপভোগ করা যায়।
এ ধরনের ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে চিকিৎসারও রকমফের আছে। একেকজন একেক চিকিৎসায় স্বচ্ছন্দ বোধ করেন। কাউকে কাউকে কর্মস্থলের দুশ্চিন্তার বিষয়টিকে আলোকপাত করে বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করা হয়। কেউ কেউ তাঁদের দুশ্চিন্তা, হতাশা, আবেগ নিয়ে কথা বলতে ভালোবাসেন। তাঁদের ক্ষেত্রে আচরণসংক্রান্ত থেরাপি কার্যকর হয়।
জন বর্ডারস নামের ৫৪ বছর বয়সী এক আইনজীবী স্ত্রীর চাপে পড়ে কয়েক বছর আগে মনোবিজ্ঞানীর দ্বারস্থ হন। তিনি খুব আতঙ্কে ভুগতেন। বিশেষ করে রাস্তায় গাড়ি চালানোর ক্ষেত্রে তাঁর ভয়াবহ আতঙ্ক ছিল। তিনি বলেন, ‘আমার মনের ভেতর কী চলত তা বুঝতাম না। আমার হৃৎপিণ্ড ধকধক করত। মনে হতো আমি রাস্তা ছেড়ে অন্যদিকে চলে যাব।’ তাঁর সমস্যার কথা জেনে চিকিৎসক তাঁকে নিয়ে হাইওয়েতে গাড়ি চালাতে নিয়ে গিয়েছিলেন এবং তাঁর উদ্বেগের লক্ষণগুলো আরও ভালোভাবে বোঝার জন্য কফি পান করিয়েছিলেন। এতে তিনি বেশ উপকৃত হয়েছিলেন বলে জানান বর্ডারস।
যে দুশ্চিন্তার কারণে পড়াশোনা ও চাকরি থেকে ছিটকে পড়েছিলেন অ্যারন ক্যালিফোর্নিয়া, দেরিতে হলেও শেষ পর্যন্ত তিনিও মনোবিজ্ঞানীর কাছে গিয়েছিলেন। থেরাপি ও ওষুধ নেওয়ার পর সুস্থ হয়ে তিনি আবার কলেজে ভর্তি হন। শিক্ষাবিষয়ক মনোবিজ্ঞানে মাস্টার্স ডিগ্রি নেন। সহকর্মী ও বন্ধুদের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়ন করেন। তিনি বলেন, ‘কারও সঙ্গে কথা বলতে পারার সক্ষমতাও দুশ্চিন্তা কমায় এবং এতে নিজেকে একা মনে হয় না।’
>>>সূত্র: ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
অযোধ্যার সেই জমিতে হবে রামমন্দির: ভারতীয় সুপ্রিম কোর্টের রায় মসজিদের জন্য বিকল্প জায়গা
![]() |
| প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈ |
সুপ্রিম কোর্ট তাদের রায়ে বিতর্কিত স্থানেই রামমন্দির নির্মাণের কথা বলেছেন। এজন্য কেন্দ্রীয় সরকারকে মন্দির নির্মাণের জন্য তিন মাসের মধ্যে ট্রাস্ট গঠন করতে বলেছেন। সেইসঙ্গে শর্ত সাপেক্ষে বিতর্কিত ২.৭৭ একর জমি হিন্দুদের হাতে দেয়ার কথা বলেছেন সুপ্রিম কোর্ট। তবে সুপ্রিম কোর্ট রায়ে জানিয়েছেন, মুসলমানদেরর বঞ্চিত করা হচ্ছে না।
তাদের অযোধ্যারই গুরুত্বপূর্ণ স্থানে মসজিদ নির্মাণের জন্য বিকল্প ৫ একর জায়গা বরাদ্দ করা হবে। সুন্নি ওয়াক্ফ বোর্ডের আইনজীবী জাফরিয়াব জিলানি বলেছেন, আমরা সুপ্রিম কোর্টের রায়কে সম্মান করছি। তবে এই রায়ে আমরা খুশি নই। তবে কাউকে কোনো প্রতিবাদ-প্রতিরোধের রাস্তায় না যাওয়ার আর্জিও জানিয়েছেন জাফরাইব।
অন্যদিকে হিন্দু মহাসভার আইনজীবী বরুণ কুমার সিংহ বলেছেন, এটা ঐতিহাসিক রায়। এই রায়ের মধ্যদিয়ে সুপ্রিম কোর্ট বৈচিত্র্যের মধ্যে ঐক্যের বার্তা দিয়েছে। রায়ে সাংবিধানিক বেঞ্চের বিচারকরা বলেছেন, জমির মালিকানার পক্ষে কোনো প্রমাণ দেখাতে পারেনি সুন্নি ওয়াক্ফ বোর্ড। আদালতের পর্যবেক্ষণ, মসজিদটি ফাঁকা জায়গায় তৈরি হয়নি। এর নিচে কোনো স্থাপনা ছিল। যে কাঠামো ভেঙে বাবরি মসজিদ তৈরি হয়েছিল তা মসজিদ ছিল না। তা যে মন্দির ছিল তাও নির্দিষ্টভাবে বলা যায় না। অর্কিওলজিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়া এ ব্যাপারে স্পষ্টভাবে কিছু জানায় নি। আদালতের আরো পর্যবেক্ষণ, রাম যে অযোধ্যায় জন্মেছিলেন হিন্দুদের এই বিশ্বাসের ওপর প্রশ্ন তোলা যায় না। ১৮৫৬-৫৭ সালের মধ্যে যে নথি মিলেছে, হিন্দুদের সেখানে পুজো করতে কোনো বাধাদান করা হয়নি। তবে বিচারপতিরা সর্বসম্মতিক্রমে সুন্নি ওয়াক্ফ বোর্ড এবং নির্মোহী আখড়ার দাবি খারিজ করে দিয়েছেন। সেইসঙ্গে আদালত ১৯৯২ সালে মসজিদ ভাঙা যে আইনবিরুদ্ধ হয়েছে সেকথাও স্পষ্ট করে জানিয়েছেন।
ভারতের স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ১০টায় রায় পড়া শুরু করেছিলেন রঞ্জন গগৈ । শুক্রবার সন্ধ্যাতেই চার বিচারপতির সঙ্গে মামলা নিয়ে আলোচনা করেছিলেন প্রধান বিচারপতি। তার পরই শনিবার আদালতের ছুটির দিন থাকা সত্ত্বেও মামলার রায় ঘোষণার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছিল। মামলাকে ঘিরে যাতে কোনো রকম অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি না হয়, সে কারণে উত্তরপ্রদেশ প্রশাসনের শীর্ষ আধিকারিকদের সঙ্গেও আইনশৃঙ্খলার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেছিলেন প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈ। বর্তমান প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈ আগামী ১৭ই নভেম্বর অবসর নেবেন। তার আগেই তিনি এই রায় দেবেন বলে আগেই জানা গিয়েছিল। গত ৬ই আগস্ট থেকে প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈয়ের নেতৃত্বাধীন পাঁচ বিচারপতির সাংবিধানিক বেঞ্চে এই মামলার টানা ৪০ দিন শুনানি হয়েছে। শুনানির পর রায় সংরক্ষিত রেখেছিলেন প্রধান বিচারপতি।
প্রায় পাঁচ শ’ বছর ধরে চলছিল এই বিতর্ক। মুঘল শাসন শেষ হয়ে ভারতে বৃটিশ রাজ প্রতিষ্ঠার পরই আইনি লড়াই শুরু হয়েছিল ফৈজাবাদের আদালতে। তারপর প্রায় ১৩৪ বছর কেটে গেছে। শনিবার সুপ্রিম কোর্টের রায়ে সেই বিতর্কের অবসান ঘটলো না নতুন বিতর্ক তৈরি হলো তা বলার সময় অবশ্য এখনও আসেনি।
১৫২৮ সালে মুঘল সম্রাট বাবরের সেনাপ্রধান মীর বাকী বাবরি মসজিদ নির্মাণ করেছিলেন। ১৮৮৫ সালে মহন্ত রঘুবীর দাস বাবরি মসজিদের বাইরে একটি শামিয়ানা খাটিয়ে রামলালার মূর্তি স্থাপনের দাবি জানান। ফৈজাবাদ কোর্ট সেই আবেদন খারিজ করে দেন। এরপর ১৯৪৯ সালে মসজিদের মূল গম্বুজের নিচে রামলালার মূর্তি স্থাপন করা হয়। ১৯৫০ সালে জনৈক গোপাল সিমলা বিশারদ রামলালার মূর্তি পূজার জন্য আর্জি জানিয়ে ফৈজাবাদ জেলা কোর্টে আবেদন জানান। ১৯৫৯ সালে এলাকার অধিকার দাবি করে নির্মোহী আখড়া মামলা করে। ১৯৬১ সালে উত্তরপ্রদেশের সুন্নি ওয়াক্ফ বোর্ডও এলাকার অধিকার জানিয়ে পাল্টা আবেদন করে। তবে ১৯৮৬ সালের ১লা অক্টোবর স্থানীয় আদালত সরকারকে এক নির্দেশে হিন্দুদের পূজা করার অনুমতি দিয়ে রামলালা যেখানে রয়েছে তার গেট খুলে দিতে বলে। ১৯৮৯ সালে ভগবান শ্রী রামলালা বিরাজমানের পক্ষে তার সখা এলাহাবাদ হাইকোর্টের সাবেক বিচারপতি দেওকী নন্দন আগরওয়াল আদালতে মামলা করেন।
১৯৯০ সালের ২৫শে সেপ্টেম্বর অযোধ্যায় রামমন্দির নির্মাণের লক্ষ্যে বিজেপি নেতা লালকৃষ্ণ আদভানী গুজরাটের সোমনাথ থেকে দেশব্যাপী রথযাত্রা শুরু করেন। ১৯৯২ সালের ৬ই ডিসেম্বর বিজেপি নেতাদের নেতৃত্বে করসেবকদের একটি দল উন্মত্ততার সঙ্গে বাবরি মসজিদকে ধূলিসাৎ করে দেয়। ২০০২ সালের এপ্রিলে এলাহাবাদ হাইকোর্টে বিতর্কিত স্থানের মালিকানা সংক্রান্ত মামলার শুনানি শুরু হয়েছিল। ২০১০ সালের ৩০শে সেপ্টেম্বর এলাহাবাদ হাইকোর্ট ২:১ সংখ্যাধিক্যের রায়ে বিতর্কিত জমিকে সুন্নি ওয়াক্ফ বোর্ড, নির্মোহী আখড়া এবং রামলালার মধ্যে তিনভাগে ভাগ করার নির্দেশ দেয়। এরপরই সব পক্ষ সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করে। ২০১১সালের (৯ই মে সুপ্রিম কোর্ট অযোধ্যার ভূমি বিবাদ নিয়ে এলাহাবাদ হাইকের্টের রায়ে স্থগিতাদেশ দেয়। তবে ২০১৭ সালের ২১শে মার্চ সুপ্রিম কোর্টের তৎকালীন প্রধান বিচারপতি জে এস খেহার সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে নিয়ে কোর্টের বাইরে সমাধান খোঁজার কথা বলেন। ২০১৯ সালের ২৬শে ফেব্রুয়ারি সুপ্রিম কোর্ট মধ্যস্থতার কথা জানায়। তিন সদস্যের মথ্যস্থতাকারী কমিটি তৈরি করে দেয়। তবে কমিটি মধ্যস্থতায় ব্যর্থ হওয়ার কথা জানানোর পর ২০১৯ সালের ৬ই আগস্ট সুপ্রিম কোর্ট অযোধ্যা ভূমি বিবাদ মামলার প্রতিদিন শুনানির কথা ঘোষণা করে। ১৬ই অক্টোবর:শুনানি শেষ ঘোষণা করার পর আদালত রায় সংরক্ষিত রেখেছিল।
এদিকে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে অযোধ্যাকে দুর্গে পরিণত করা হয়েছে। গোটা উত্তরপ্রদেশে প্রায় ৪০ হাজার পুলিশকে আইনশৃঙ্খলা দেখার কাজে নিযুক্ত করা হয়েছে। জারি করা হয়েছে ১৪৪ ধারা। সব রাজ্যই বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করেছে বলে জানা গেছে। অযোধ্যা মামলার রায় নিয়ে শান্তি ও সম্প্রীতি বজায় রাখার বার্তা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। মন্ত্রীদেরও তিনি কোনোরকম বিতর্কিত মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকার কথা বলেছেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এবং এসএমএসের মাধ্যমে রায় বেরোনোর পর যাতে কোনো রকম গুজব ছড়িয়ে পড়তে না পারে সেজন্যও ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। শনিবার থেকে সোমবার পর্যন্ত বেশ কয়েকটি রাজ্যের স্কুল-কলেজ বন্ধ রাখা হয়েছে।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
অসহায় প্রাণিদের ভালোবেসেই কাটে তার দিন by নওরিন আক্তার
ফার্মেসির মালিক রফিকুল ইসলাম ও সাবিনা রহমান দম্পতি ৩৯টি বিড়াল ও ৯টি কুকুর পালেন তাদের নিজেদের বাসায়। এদের মধ্যে মানুষের নির্দয় আঘাতে কেউ হয়তো হারিয়ে ফেলেছে চলনশক্তি। কেউ আবার জন্ম থেকেই ত্রুটি নিয়ে বেড়ে উঠেছে। তাদের সবারই রয়েছে আলাদা আলাদা নাম। নাম ধরে ডাকলেই ছুটে আসে পোষা প্রাণীগুলো।
সাবিনার বাবা-মা পুষতেন বিভিন্ন প্রাণী। সেই তালিকায় ছিল বানর ও হরিণের মতো প্রাণিও। বাবা-মায়ের কাছ থেকেই প্রাণিদের ভালোবাসার প্রথম পাঠ পেয়েছিলেন সাবিনা। এরপর সেই ভালোবাসা শুধু বেড়েছেই। ২০১০ সালে যশোর থেকে চলে আসেন ঢাকার শেখেরটেকে। নিজের সংসারে আশ্রয় দিতে থাকেন অসহায় ও অবলা প্রাণিগুলোকে। সেই সংখ্যা দিনের সঙ্গে সঙ্গে শুধু বেড়েছেই। মেয়ে কিংবা মেয়ের বন্ধুরা মানুষের তাড়িয়ে দেওয়া বা রাস্তায় জন্ম নেওয়া অসহায় এসব প্রাণিকে উঠিয়ে আনে, সাবিনা তাদের আশ্রয় দেন নিঃস্বার্থভাবে। একবার টিনের চালা থেকে এক অসহায় বিড়ালছানাকে উদ্ধার করতে গিয়ে পড়ে পিঠের হাড় ভেঙে ফেলেছিলেন সাবিনা। কিন্তু কখনওই তাদের প্রতি ভালোবাসা কমেনি একবিন্দু।
প্রায় আঠারো বছর চাকরি করার পর বছর দেড়েক আগে সাবিনা চাকরি ছেড়ে দিয়েছেন। এখন পুরো সময়টুকু দেন আদরের প্রাণিগুলোর দেখভালে। পাশাপাশি ফার্মেসির কাজও সামলান। একমাত্র মেয়ে শ্রেয়সী পড়ছে চিকিৎসাশাস্ত্রে। ছুটিতে বাড়ি আসলে সে সাহায্য করে মাকে।
প্রতিটি প্রাণিকেই ভ্যাকসিন দেওয়া এবং নিউটার ও স্পে করানো বলে জানালেন সাবিনা। কুকুরগুলো সবই দেশি। বিড়ালগুলোর মধ্যে উপহার হিসেবে পাওয়া দুটি বিদেশি বিড়াল রয়েছে। এদের সবার জন্য রান্না করা, নিয়মিত গোসল করানোর কাজটি স্ত্রী নিজেই করেন বলে জানান রফিকুল ইসলাম।
এদের দেখাশোনা করতে গিয়ে আর্থিক অনটনের সঙ্গেও সমঝোতা করতে হয়ে এই পরিবারকে। এখন পর্যন্ত কারোর সহায়তা না নিলেও সাবিনা জানান ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা আরেকটু বড় তার। সবার সহযোগিতা নিয়ে এদের জন্য বাসস্থান তৈরি করতে চান তিনি। সেটা বড় পরিসরে, খোলা জায়গা নিয়ে।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
যৌনমিলনের সময় সব নারীদের কি বীর্যপাত বা ইজাকুলেশন হয়?
![]() |
| পুসিপিডিয়ার লেখক বলছেন, অধিকাংশ নারী তাদের শরীর সম্পর্কে খুব একটা জানেন না। |
'পেনিসপিডিয়া' কি হতে পারে?
![]() |
| নিজের শরীর সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য তথ্য খুঁজতে গিয়ে পুসিপিডিয়া তৈরি করেন জো মেনডেলসন। |
![]() |
| মারিয়া কোনিজো তার আঁকা ছবির মাধ্যমে নারীদেহ সম্পর্কে ধারণা বদলে দিতে চান। |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
যুক্তরাষ্ট্র-চীন বাণিজ্যযুদ্ধে বিজয়ী হচ্ছে বাংলাদেশ? by অনু আনোয়ার

বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় আমদানিকারক দেশ হলো চীন। ২০১৭ সালের হিসাব অনুযায়ী, ১৫০০ কোটি ডলারের চীনা পণ্য আমদানি করেছে বাংলাদেশ। অন্যদিকে বাংলাদেশি পণ্যের দ্বিতীয় বৃহৎ রপ্তানিবাজার হলো যুক্তরাষ্ট্র। ২০১৭ সালের হিসাব অনুযায়ী, ৫৮০ কোটিরও বেশি ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রে। আর জার্মানি ছিল সবচেয়ে বড় রপ্তানিবাজার। সেখানে রপ্তানি হয়েছে ৬০০ কোটি ডলারের বেশি মূল্যের পণ্য।
এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের প্রধান অর্থনীতিবিদ ইয়াসুয়িকি সাওয়াদার যুক্তি, বাণিজ্যযুদ্ধের ফলে বাংলাদেশের সামনে অতিরিক্ত ৪০ কোটি ডলারের পণ্য রপ্তানির সুযোগ সৃষ্টি হবে।
বাংলাদেশে থেকে মোট যে পরিমাণ অর্থের রপ্তানি হয় তার মধ্যে শতকরা ৮০ ভাগ হলো গার্মেন্ট। বাণিজ্যযুদ্ধের ফলে এই খাতটি সবচেয়ে বেশি সুবিধা পাবে বলে মনে করা হচ্ছে। বাণিজ্যযুদ্ধ তীব্র হয়ে ওঠার সঙ্গে সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের খুচরা ক্রেতারা অধিক হারে কাজের অর্ডার দিচ্ছেন বাংলাদেশকে। চীনে প্রস্তুতকৃত পণ্যের ওপর বাড়তি শুল্কহার আরোপ করার জন্য তারা এক্ষেত্রে বেছে নিচ্ছেন বাংলাদেশকে। বাংলাদেশ ফরেন ট্রেড ইনস্টিটিউটের মতে, ২০১৮ সালের প্রথম তিন কোয়ার্টারে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের বাজার বৃদ্ধি পেয়েছে শতকরা ৬.৪৬ ভাগ।
২০১২ সালে ম্যাকিনসে’র একটি রিপোর্টে পূর্বাভাস দেয়া হয়েছে যে, চীন থেকে তৈরি পোশাক আমদানি কমে যাওয়ার প্রেক্ষিতে বাংলাদেশ হয়ে উঠবে এক্ষেত্রে একটি হটস্পট এবং ২০২০ সাল নাগাদ এর বাজার তিনগুণ হয়ে উঠবে। ২০১০ সালে এই বাজার ছিল ১৫০০ কোটি ডলারের। তা থেকে তিনগুণ বৃদ্ধি পাবে বাজার। এমনকি এই পূর্বাভাস দেয়া হয়েছিল চীনের শ্রমনির্ভর শিল্প থেকে উচ্চমূল্যের পণ্যে, হাইটেক, পুঁজিনির্ভর কারখানা খাতে। বলা হয়েছিল, এসব খাত আস্তে আস্তে অবনতির দিকে যাবে। এখন দৃশ্যত বাণিজ্য যুদ্ধ ত্বরান্বিত হয়ে ওঠার সঙ্গে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি বৃদ্ধি পাবে।
উচ্চ মাত্রার শুল্ক এড়ানোর জন্য চীন থেকে কারখানাগুলো এশিয়ার অন্যান্য স্থানে স্থানান্তরিত হচ্ছে। কম্বোডিয়া ও ভিয়েতনামের মতো প্রতিযোগীদের তুলনায় প্রতিযোগিতায় অধিক সুবিধাজনক অবস্থানে আছে বাংলাদেশ।
কম্বোডিয়ায় রয়েছে শক্তিশালী শ্রম ইউনিয়ন। এর ফলে সেখানে কারখানা স্থাপন করা অধিকতর চ্যালেঞ্জিং। পক্ষান্তরে বাংলাদেশে রয়েছে ১৬ কোটি মানুষ। আর কম্বোডিয়ার জনসংখ্যা মাত্র এক কোটি ৬০ লাখ। ফলে এত মানুষ বেশি থাকায় কম্বোডিয়ার তুলনায় বাংলাদেশ বেশি শ্রমনির্ভর শিল্পের জন্য প্রতিযোগিতার সুবিধাজনক অবস্থানে আছে। উচ্চ বেতন ও উৎপাদন খরচ বেশি পড়ার জন্য বিনিয়োগকারীদের কাছে কম আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে ভিয়েতনাম। অন্যদিকে বাংলাদেশে বর্তমানে প্রতিমাসে সর্বনিম্ন বেতন হলো ৯৫ ডলার, যা কম্বোডিয়ায় প্রতি মাসে বেতন ১৮২ ডলারের অর্ধেক। হ্যানয় এবং হো চি মিন সিটিতে প্রতি মাসে এই বেতন ১৮০ ডলার।
যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি বাড়িয়েও সুবিধা পেতে পারে বাংলাদেশ। ইউএস ফার্ম ব্যুুরোর মতে, যুক্তরাষ্ট্র থেকে আসা সয়াবিনের ওপর চীন শুল্কহার বাড়িয়েছে। ফলে এই বৃদ্ধির ফলে যুক্তরাষ্ট্র থেকে চীনে সয়াবিন রপ্তানি কমে গেছে শতকরা ৯৭ ভাগ। একই সময়ে, বাংলাদেশ আমদানি করে ২০ লাখ টন অশোধিত ভেজিটেবল অয়েল। এর মধ্যে শতকরা ৩০ ভাগ বা ৬ লাখ টন হলো সয়াবিন। এই সয়াবিনের শতকরা ৯৮ ভাগ আসে আর্জেন্টিনা, প্যারাগুয়ে ও ব্রাজিল থেকে। যদি লাতিন আমেরিকার এসব দেশ থেকে বাংলাদেশ তার সরবরাহ লাইন যুক্তরাষ্ট্রে স্থানান্তর করতে পারে, তাহলে কমমূলে ক্রেতাদের কাছে তেল সরবরাহ দেয়া সহজ হবে বাংলাদেশের জন্য। এক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদে লভ্যাংশ হারাতে হবে না।
উপরন্তু, যুক্তরাষ্ট্রের ৫১তম বৃহৎ বাণিজ্যিক অংশীদার বাংলাদেশ। এখানে উদ্বৃত্ত বাণিজ্য ৪০০ কোটি ডলার। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের শখের ঘোড়া ছুটছে বাণিজ্য উদ্বৃত্ত দেশগুলোর দিকে। যুক্তরাষ্ট্র থেকে সয়াবিন আমদানি করে বাংলাদেশ দুই দিকেই সুবিধা পেতে পারে। তা হলো, তারা সস্তায় পণ্য পাবে এবং তাতে কমে আসবে বাণিজ্য ঘাটতি। পাশাপাশি এতে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরো শক্তিশালী করতে অবদান রাখবে। উপরন্তু বাংলাদেশ ও দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য নিম্ন আয়ের দেশগুলো যুক্তরাষ্ট্রে মোট রপ্তানির ওপর শতকরা ১৫.২ ভাগ শুল্কের মুখোমুখি হচ্ছে। চীনের সঙ্গে সৃষ্ট গ্যাপ বা ফারাক সর্বনিম্ন অবস্থায় নামিয়ে আনতে যুক্তরাষ্ট্র যদি এসব দেশ থেকে আমদানি বৃদ্ধি করতে চায়, তাহলে এই অবস্থা অনেকটা শিথিল হওয়ার সম্ভাবনা আছে।
বাংলাদেশের বেশির ভাগ ইস্পাত শিল্পের বড় চাহিদা পূরণ করা হয় যুক্তরাষ্ট্র থেকে আসা স্ক্র্যাপ লোহা ও দেশের ভেতর জাহাজ ভাঙা শিল্প থেকে। ২০১৮ সালের মার্চে সব রকম ইস্পাত আমদানিতে যুক্তরাষ্ট্রে শতকরা ২৫ ভাগ শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। এর উদ্দেশ্য, অবনতিশীল ইস্পাত শিল্পকে পুনরুজ্জীবিত করার চেষ্টা। এই উচ্চ হারে শুল্ক আরোপের ফলে যুক্তরাষ্ট্রের স্ক্র্যাপ আয়রন সরবরাহকারীরা তাদের মজুত গড়ে তুলছে। পক্ষান্তরে বাংলাদেশে বহু অবকাঠামো বিষয়ক প্রকল্পে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উপাদান রডের দাম বেড়ে গেছে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে।
বিশ্বে যে পরিমাণ জাহাজ ভাঙা হয়েছে ২০১৭ সালে বাংলাদেশ তার মধ্যে শতকরা ২৫ ভাগ ভেঙেছে। ক্রমবর্ধমান উন্নয়ন প্রকল্পের আলোকে, বাংলাদেশ জাহাজ ভাঙা শিল্পের উন্নয়নে একটি শিল্পনীতি গ্রহণ করতে পারে এবং আশা করতে পারে দেশের ভেতর থেকেই সস্তায় বৃহৎ আকারে ইস্পাতের কাঁচামাল পেতে পারে, যা এরই মধ্যে দেশের ইস্পাত চাহিদার অর্ধেকের বেশি সরবরাহ দিয়ে যাচ্ছে।
বাণিজ্যযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে, চীনের মুদ্রা ইয়েনের দর পতনের আশঙ্কায় চীনের নীতিনির্ধারকরা পুঁজির প্রবাহকে কঠোর করার পথ খুঁজছেন যদিও, তথাপি বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রকল্পে ক্রমবর্ধমান হারে যুক্ত হচ্ছে চীন। এর অর্থ, সীমাবদ্ধতা বা কড়াকড়ি কার্যকর হবে না। অধিকন্তু, যেমনটা পূর্বাভাস করা হয়েছিল তার চেয়ে চীন থেকে অনেক বেশি সরাসরি বিনিয়োগ পেয়েছে বাংলাদেশ। এর মধ্যে রয়েছে কারখানা স্থানান্তর, বিশেষ করে ক্রমবর্ধমান রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চলে তা ঘটছে।
এ ছাড়া বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভের (বিআরআই) একটি সদস্য বাংলাদেশ। তাই বাণিজ্যযুদ্ধের ফলে চীন যেসব খাতে আক্রান্ত বা ক্ষতিগ্রস্ত হবে, সেই সব ক্ষেত্রে বাংলাদেশে বিনিয়োগ বৃদ্ধি করা চীনের কাছে অধিক অর্থপূর্ণ। বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে ২৭টি বিনিয়োগ ও ঋণ সংক্রান্ত চুক্তির মধ্য দিয়ে বেইজিংয়ের সমর্থন প্রকাশ করা হয়েছে। এর পরিমাণ ২৪০০ কোটি ডলার। চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং যখন ২০১৬ সালে বাংলাদেশ সফর করেন তখন এ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। তার ওই সফরের পর চীন থেকে বাংলাদেশে নেট সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগের ক্ষেত্র অবমুক্ত হয়। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ৬ কোটি ৮৫ লাখ ডলার থেকে তা বেড়ে ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ৫০ কোটি ৬০ লাখ ডলার দাঁড়ায়।
এই সবকিছু এক সূত্রে মিলিয়ে, দৃশ্যত যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে একটি বাণিজ্য যুদ্ধ বাংলাদেশের সামনে সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দিয়েছে। তবে এই সুবিধা বাংলাদেশ ঘরে তুলতে পারবে কিনা তা নির্ভর করবে কতগুলো ফ্যাক্টরের ওপর। এগুলো হলো- বাংলাদেশ অবনতিশীল অবকাঠামো নিয়ে লড়াই। এখানে রয়েছে আইনের শাসনের দুর্বল অবস্থা এবং দুর্বল বাণিজ্যিক পরিবেশ। চীনের কাছ থেকে অতিমাত্রায় ও বেপরোয়াভাবে ঋণ নেয়ার কারণে বাংলাদেশ সরকারকে সতর্ক করেছেন অনেক পর্যবেক্ষক। তারা আশঙ্কা করেছেন, এতে অন্য দেশগুলোর মতো বাংলাদেশও দীর্ঘ মেয়াদে ঋণের ফাঁদে আটকা পড়তে পারে।
তাই এমন অবস্থার প্রেক্ষিতে আসন্ন নতুন সুবিধাকে লুফে নিতে অনুকূল নীতি বিষয়ে বাংলাদেশের কাজ করা অত্যন্ত জরুরি এবং তার মধ্য দিয়ে অধিক বিদেশি বিনিয়োগের পরিবেশ দিতে হবে। এক্ষেত্রে এড়িয়ে চলতে হবে অনিচ্ছাকৃত ঝুঁকি ও পরিণতি।
(লেখক: ইস্ট-ওয়েস্ট সেন্টারের অ্যাফিলিয়েট স্কলার এবং যুক্তরাষ্ট্রের হাওয়াইয়ে প্যাসিফিক ফোরাম ইয়াং লিডারস প্রোগ্রামের একজন ফেলো। তার এ লেখাটি প্রকাশিত হয়েছে অনলাইন দ্য ডিপ্লোম্যাট ম্যাগাজিনে)
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
এরকম ভয়াবহ অতীত ভুলে কী স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারবেন সিনটয়া ব্রাউন? by সাইকা তাসনিম

২০০৪ সালের আমেরিকার টেনেসীর একটি চাঞ্চল্যকর ঘটনা ছিল সিনটয়া ব্রাউনের কেস, যেটি নিয়ে পক্ষে-বিপক্ষে জোর তর্ক-বিতর্ক চলছে এখনো। ১৬ বছর বয়সী সিনটয়া ব্রাউন ঘুমন্ত অবস্থায় মাথার পেছন থেকে গুলি করেন জনি এলেন নামের এক ব্যক্তিকে, আত্মরক্ষার উদ্দেশ্যে। উল্লেখ্য যে সিনটয়া ব্রাউনকে জনি শারীরিক উপভোগের উদ্দেশ্যে ভাড়া করে তার বাসায় নিয়ে গিয়েছিল।
১৯৮৮ সালে জন্ম নেওয়া সিনটয়া ব্রাউনের কোন পিতৃপরিচয় পাওয়া যায়নি। সিনটয়ার মা জর্জিয়া হতাশায় সিনটয়াকে নিয়ে প্রেগন্যান্ট থাকার সময়ে প্রচন্ড পরিমান মদ খেতেন ও এলকোহোলিক হয়ে যান। পরবর্তীতে তার প্রভাব সিনটয়ার উপরে পড়ে। জন্মথেকেই সিনটয়া Fetal Alcohol Syndrome নামের মানসিক রোগে আক্রান্ত ছিলেন যার কারণে তার ব্রেইন ক্ষতিগ্রস্থ ছিল।
এছাড়াও সিনটয়ার আচার আচরণ ও ব্যবহারেও অসাম্যঞ্জস্যতা ছিল অন্যান্য যেকোন শিশুর তুলনায়। স্কুলেও অন্যান্য বাচ্চাদের চেয়ে পিছিয়ে ছিলেন। জর্জিয়া একটি মামলায় শাস্তিপ্রাপ্ত হয়ে জেলে যাওয়ার কারণে সিনটয়া ১৮ মাস বয়স থেকে তার পালক পরিবারে থাকতে শুরু করেন। সেখানেও দুর্ভাগ্য সিনটয়ার পিছু ছাড়েনি। পালক বাবার দ্বারা তিনি এবিউজের স্বীকার হন।
![]() |
| ১৬ বছর বয়সে ট্রায়ালে সিনটয়া ব্রাউন |
গ্লারিয়োন নিজে একজন মাদকাসক্ত ছিল ও একই সাথে কোকেইন বিক্রি করত। গ্লারিয়োন সিনটয়াকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করত। এই সময়েই সে সিনটয়াকে কোকেইনে আসক্ত করে ফেলে। গ্লারিয়োন সিনটয়াকে পতিতাবৃত্তিতে নামতে বাধ্য করে। শুধু তাই নয়,সে নিজেও তার উপর নানা ধরনের জোর খাটাতো। পতিতাবৃত্তি করে কামানো প্রতিটি টাকা সিনটয়াকে গ্লারিয়োনের হাতে তুলে দিতে হত।
২০০৪ সালে আগস্টের ৪ তারিখেও গ্লারিয়োন সিনটয়াকে বাধ্য করে বাইরে গিয়ে টাকা উপার্জন করে নিয়ে আসতে। আর সিনটয়াকেও সেই জন্য বের হতে হয়। টেনেসির রেড লাইট ডিস্ট্রিক্ট এরিয়ার সনিক ফুডকোর্টের সামনে গিয়ে দাঁড়ালে ৪৪ বছর বয়সী জন এলেনের সাথে তার কথা হয়। এলেন তার কাছে টাকার অংক জানতে চাইলে সিনটয়া তার কাছে ২০০ ডলার চায়। পরবর্তীতে তা ১৫০ ডলারে দফারফা হয়। সিনটয়া তাকে হোটেলে যেতে বললেও এলেন নিজের বাড়িতেই তাকে নিয়ে যায়।

এলেনের বাড়িতে যাওয়ার পথে কথায় কথায় এলেন তাকে জানায় যে তিনি একসময় আর্মিতে শার্পশুটার হিসেবে কাজ করতেন। এলেনের বাড়িতে গেলে সিনটয়া সেখানে খাবার খেয়ে নিজের গোসলও সেরে নেয়। গোসল থেকে বের হয়ে সিনটয়া এলেনের ব্যবহারে কিছুটা অস্বাভাবিকতা লক্ষ করেন। এলেন তাকে নিজের বন্দুকের কালেকশন দেখায়। এলেন সিনটয়ার সাথে ঘনিষ্ঠ হতে চাইলে সিনটয়া তাকে ঘুমিয়ে পড়তে বলে নিজেও শুয়ে পড়ে।
কিছুক্ষন পর সিনটয়া খেয়াল করে যে এলেন হাত বাড়িয়ে কিছু একটা নিতে চাচ্ছে কিংবা কিছু করতে চাচ্ছে। তখনই সিনটয়া ভয় পেয়ে যায়। সিনটয়ার মাঝে ধারণা ঢুকে হয়ত এলেন তাকে মেরে ফেলতে চায় কিংবা নির্যাতন করবে। আর সেই ভয় থেকে সিনটয়া তার পার্স ব্যাগ থেকে ছোট পিস্তল বের করে যেটা তাকে গ্লারিয়োন দিয়েছিল সঙ্গে রাখার জন্য। আর সেই পিস্তল দিয়েই সে গুলি করে বসে। গুলি করার সাথে সাথেই এলেন মারা যায়। সিনটয়া সেখান থেকে পালিয়ে যায় কিন্তু অর্ধেক পথ গিয়ে তার মনে হয় যে খালি হাতে গ্লারিয়োনের কাছে গেলে, সে তাকে আবার নির্যাতন করবে। তাই আবার সে এলেনের বাসায় যায়। হাতের সামনে এলেনের ওয়ালেট সহ যা কিছু পায়, তা নিয়েই এলেনের ট্রাক চালিয়ে সে পালিয়ে চলে আসে। এলেনের ট্রাক ওয়ালমার্টে পার্ক করে সিনটয়া নিজেই পুলিশের কাছে তার কথা জানায়।
![]() |
| জনি মিশেল এলেন |
বিভিন্ন সাইকিয়াট্রিস্টদের পরীক্ষার পরে জানা যায় যে অন্যান্য সবার সিনটয়ার মানসিক অবস্থা সবার মত এক নয়। বরং ২৩-২৪ বছর বয়সে সিনটয়ার মানসিক অবস্থা একটা ১০-১৪ বছর বয়সী বাচ্চার মত। ২০১৫ সালে সিনটয়া লিপসকম্ব ইউনিভার্সিটি থেকে তার এসোসিয়েট ডিগ্রি অর্জন করেন। সিনটয়ার এডভোকেটদের মতে জেলে থাকা অবস্থায় সিনটয়া নিজের মাঝে অনেক পরিবর্তন এনেছেন। অন্য সবার মত তিনি এখন স্বাভাবিক জীবন যাপন করতে চান।
সম্প্রতি ২০১৮ সালের ডিসেম্বরে সিনটয়ার কেস আবার সবার সামনে উঠে আসে। বিভিন্ন এ-লিস্ট সেলিব্রেটিরা সিনটয়ার ক্লেমেন্সির জন্য আবেদন করে। তার মধ্যে সংগীতশিল্পী রিহানা, রিয়েলিটি সেলিব্রেটি কিম কারদেশিয়ান, অভিনেত্রী এ্যাশলে জুড অন্যতম। শুধু সেলিব্রেটি নয় বরং বিভিন্ন কংগ্রেসম্যান ও টেনেসির আইনজীবিরা সিনটয়ার জন্য আবেদন করেন।
অবশেষে সিনটয়ার ক্লেমেন্সির এই আবেদন টেনেসি সরকার মঞ্জুর করে। এই বছরের আগস্টের ৭ তারিখ ১৫ বছরের কয়েদীজীবন শেষে সিনটয়া আবার নতুন করে স্বাভাবিকভাবে সবার মত করে জীবন শুরু করতে পারবে সেই আশা আর শুভকামনাই আমরা করতে পারি।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
সাগরপৃষ্ঠের উচ্চতা ‘ভয়ংকর পরিণাম’ আনতে পারে

ধারণা করা হয়েছিল, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা ২১০০ সাল নাগাদ সর্বোচ্চ এক মিটারের কম বাড়তে পারে। তবে বিশেষজ্ঞদের মতামতের ওপর ভিত্তি করে করা নতুন গবেষণা বলছে, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা এর দ্বিগুণ হতে পারে। এতে লাখ লাখ মানুষ আশ্রয়হীন হয়ে পড়তে পারে।
ইন্টারগভর্নমেন্টাল প্যানেল অন ক্লাইমেট চেঞ্জ (আইপিসিসি) ২০১৩ সালে পঞ্চম মূল্য নিরূপক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। সেখানে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বেড়ে যাওয়া ছিল অন্যতম ইস্যু। আইপিসিসির প্রতিবেদন বলছে, ক্রমবর্ধমান উষ্ণতার কারণে ২১০০ সালের মধ্যে বিশ্বে পানির স্তর ৫২ থেকে ৯৮ সেন্টিমিটার পর্যন্ত বাড়তে পারে। তুষারবিজ্ঞানীরাও বিষয়টি নিয়ে উদ্বিগ্ন।
বিষয়টি নিয়ে স্পষ্ট ধারণা পাওয়ার চেষ্টা করছেন গবেষকেরা। গ্রিনল্যান্ড এবং পশ্চিম ও পূর্ব অ্যান্টার্কটিকায় কী ঘটছে, তা বুঝতে চাইছেন তাঁরা। গবেষকদের দৃষ্টিভঙ্গি অনুসারে, যদি বর্তমানের মতোই তাপ নিঃসরণ চলতে থাকে, তাহলে ২১০০ সালে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা ৬২ থেকে ২৩৮ সেন্টিমিটার পর্যন্ত বাড়তে পারে। এতে উষ্ণতা বাড়বে পাঁচ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত। বিশ্ব উষ্ণতা বাড়ার ক্ষেত্রে চরম খারাপ অবস্থা এটি।
![]() |
| গ্রিনল্যান্ডের পশ্চিমে বরফের স্তর। রয়েছে বিশাল হিমবাহ। সাগরে ভাসছে ছোট একটি নৌকা। ছবি: বিবিসির সৌজন্যে |
নতুন জরিপ অনুসারে, তাপমাত্রা ২ সেলসিয়াস ডিগ্রি বাড়লে গ্রিনল্যান্ডের বরফের স্তর সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বাড়ার ক্ষেত্রে বড় প্রভাব ফেলবে। যদি তাপমাত্রা এর চেয়ে বেশি বাড়ে, তাহলে অ্যান্টার্কটিকার বরফের স্তর আরও বেশি প্রভাব ফেলবে।
অধ্যাপক বামবার বলেন, বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, পশ্চিম অ্যান্টার্কটিকা ও পূর্ব অ্যান্টার্কটিকায় বড় বদল আসবে। বিশ্বের ১৭ লাখ বর্গকিলোমিটার ভূমি হারিয়ে যেতে পারে। আকারে এটা লিবিয়ার প্রায় সমান। বিশ্বে খাদ্য উৎপাদন করে—এমন অনেক ভূমি হারিয়ে যেতে পারে। বাংলাদেশের বড় এলাকায় মানুষের বাস করা কঠিন হয়ে পড়বে। বড় বড় শহর যেমন লন্ডন, নিউইয়র্ক ও সাংহাই হুমকির মুখে পড়বে।
অধ্যাপক বামবার বলেন, এ অবস্থায় ১০ লাখ শরণার্থী ইউরোপে চলে আসতে পারেন।
বামবার বলছেন, সামনের বছরগুলোয় তাপমাত্রা নিঃসরণ রোধে বড় ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হলে এই পরিস্থিতি এড়ানো সম্ভব। ন্যাশনাল একাডেমি অব সায়েন্সের জার্নালে এই গবেষণা প্রকাশিত হয়েছে।
![]() |
| পশ্চিম অ্যান্টার্কটিকায় বরফের স্তর। ছবি: বিবিসির সৌজন্যে |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
eCoxs Special
BNM Archive
- ► 2026 (1426)
- ► 2025 (3281)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (128)
- ► 2020 (416)
-
▼
2019
(6282)
-
▼
November
(177)
-
▼
Nov 10
(10)
- বাবরি মসজিদ রায়: একেই কি বিচার বলে? by সৈয়দা হামিদ
- প্রথমে গুন্ডামি করে মসজিদটা ভাঙা হল, তারপর আদালত ব...
- এবার বাবরি মসজিদ ভাঙার রায়ের অপেক্ষা
- পুরুষের দুশ্চিন্তার রকমফের
- অযোধ্যার সেই জমিতে হবে রামমন্দির: ভারতীয় সুপ্রিম ক...
- অসহায় প্রাণিদের ভালোবেসেই কাটে তার দিন by নওরিন আক...
- যৌনমিলনের সময় সব নারীদের কি বীর্যপাত বা ইজাকুলেশন...
- যুক্তরাষ্ট্র-চীন বাণিজ্যযুদ্ধে বিজয়ী হচ্ছে বাংলাদে...
- এরকম ভয়াবহ অতীত ভুলে কী স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারব...
- সাগরপৃষ্ঠের উচ্চতা ‘ভয়ংকর পরিণাম’ আনতে পারে
-
▼
Nov 10
(10)
-
▼
November
(177)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
- ► 2015 (11541)
- ► 2014 (9799)
- ► 2013 (14877)
- ► 2012 (33842)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...







