Tuesday, September 6, 2011

দর্শকদের জন্য...

নিরাপত্তা বলয়ে ঘিরে ফেলা হয়েছে বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামকে। আর্জেন্টিনা-নাইজেরিয়া দলের আজকের অনুশীলন ও আগামীকালের ম্যাচ দেখার জন্য দর্শকদের স্বাভাবিক কারণেই অনেক নিয়মকানুন, বাধানিষেধ মেনে চলতে হবে। সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টায় শুরু অনুশীলনের জন্য স্টেডিয়াম খুলে দেওয়া হবে বেলা তিনটায়।
অনুশীলন দেখতে আজ পূর্ব গ্যালারিতে ঢুকতে হবে ৫, ৬ ও ৮ নম্বর প্রবেশপথ দিয়ে এবং পশ্চিম গ্যালারিতে ১২, ১৩, ১৮ ও ১৯ নম্বর দিয়ে। ২ ও ৩ নম্বর প্রবেশপথ ভিআইপি দর্শকদের জন্য। স্কুলের ছাত্রছাত্রীদের জন্য বরাদ্দ আন্তর্জাতিক গ্যালারি। নিজ নিজ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিচয়পত্র দেখিয়ে তাদের ঢুকতে হবে ১০ ও ১১ নম্বর প্রবেশপথ দিয়ে। জাল টিকিটধারীরা সাবধান! প্রতিটি প্রবেশপথেই থাকবে ম্যাগনেটিক ইঙ্ক কার্ড রিডার।
ব্যক্তিগত যানবাহন নিয়ে স্টেডিয়ামে আসা নিষিদ্ধ। নির্ধারিত জায়গায় গাড়ি পার্কিং করতে হবে। কোনো পানীয় বোতল পর্যন্ত সঙ্গে নেওয়া যাবে না। দর্শকদের জন্য পূর্ব ও পশ্চিম গ্যালারিতে থাকবে আটটি ফুড কর্নার। নির্ধারিত মূল্যে সেখান থেকে পানি ও স্ন্যাকস কিনে খাওয়া যাবে।
কাল সংবাদ সম্মেলনে তথ্যগুলো জানান বাফুফের সহসভাপতি বাদল রায়। আইনশৃঙ্খলা উপকমিটির পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষা কমিটির সদস্যসচিব অতিরিক্ত মহা-উপপুলিশ পরিদর্শক শেখ মোহাম্মদ মারুফ হাসান।

আজ-কাল দুই দিনই বৃষ্টি

এত আয়োজন, এত প্রস্তুতি। শেষ পর্যন্ত ঠিকঠাকভাবে হবে তো মেসিদের ম্যাচ? আর্জেন্টিনা-নাইজেরিয়া আগামীকালের প্রীতি ম্যাচ নিয়ে আশঙ্কাটা জাগাচ্ছে আবহাওয়া রিপোর্ট। বিবিসি, ইয়াহু! এমনকি বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের ওয়েবসাইটও বলছে, আজ এবং আগামীকাল দুই দিনই ঢাকায় বৃষ্টির আশঙ্কা আছে।
বিবিসির আবহাওয়ার পূর্বাভাস—আজ ভারী বর্ষণ হতে পারে ঢাকায়। কাল হতে পারে বজ্রসহ বৃষ্টি! ইয়াহু!র আবহাওয়ার পূর্বাভাসও তাই। আর বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের ওয়েবসাইট অনুযায়ী আজ ও আগামীকাল দুই দিনই ১ থেকে ১০ মিলিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টি হতে পারে ঢাকায়।

এল ক্লাসিকোর ফাটল নেই!

মেসি-মাচেরানো বনাম ডি মারিয়া-হিগুয়েইন! জাতীয় দলে তাঁরা সতীর্থ বটে, কিন্তু একই সঙ্গে এই চারজন একে অন্যের প্রতিপক্ষও। লিওনেল মেসি ও হাভিয়ের মাচেরানো খেলেন বার্সেলোনায়, অ্যাঙ্গেল ডি মারিয়া আর গঞ্জালো হিগুয়েইন রিয়াল মাদ্রিদে। দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী স্প্যানিশ ক্লাবের সম্পর্কটা কদর্য পর্যায়ে চলে গেছে। সাম্প্রতিক সময়ের ‘এল ক্লাসিকো’গুলোয় দুই দলের মধ্যে হাতাহাতি হয়েছে বেশ। স্বাভাবিকভাবেই দুই দলের খেলোয়াড়দের সম্পর্কেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। স্পেন তো খুবই উদ্বিগ্ন, জাতীয় দলের হয়ে খেলার সময় ক্লাবের এই ‘শত্রুতা’ কোনো প্রভাব ফেলে কি না। এই দুশ্চিন্তা আর্জেন্টিনারও হওয়ার কথা।
ডি মারিয়া অবশ্য আশ্বস্ত করছেন, ক্লাবের হিসাব তাঁরা ক্লাবে ফেলে আসেন, ‘আমাদের মধ্যে লিখিত একটা চুক্তি আছে, জাতীয় দলে খেলার সময় আমরা রিয়াল মাদ্রিদ বা বার্সেলোনা নিয়ে কোনো কথা বলব না।’ এ কারণেই মেসির অধিনায়কত্বেও কোনো সমস্যা দেখছেন না রিয়ালের এই উইঙ্গার, ‘লিওনেলকে অধিনায়ক বানানোটা খুবই ভালো একটা কাজ হয়েছে। যেভাবে ও খেলে, এটা ওর প্রাপ্যই ছিল।’
কিন্তু মেসি যখন বার্সার জার্সি পরেন, তখনো কি এই সমীহটা থাকে মনের মধ্যে? এবার প্রশ্নটাকে এড়িয়েই গেলেন ডি মারিয়া, ‘আগেও বলেছি, ক্লাব নয়, আমি এখন জাতীয় দলের প্রসঙ্গ নিয়েই কথা বলতে চাই।’
এল ক্লাসিকোর সাম্প্রতিক কদর্য রূপটা নিয়ে স্পেন কোচ ভিসেন্তে দেল বস্ক খোলাখুলিই বেশ কিছু মন্তব্য করেছেন। তবে দিন দুয়েক আগে চিলির বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচে পুরো স্পেন এককাট্টা হয়ে লড়েছে। এমনকি চিলির সঙ্গে হাতাহাতি শুরু হলে সেখানেও ছিল এই ‘ঐক্য’।

বলছেন অধিনায়ক মেসি

ডিয়েগো ম্যারাডোনাই যেন ফিরলেন। না, সশরীরে ম্যারাডোনার প্রত্যাবর্তন হয়নি। তবে আলেজান্দ্রো সাবেলা তাঁর প্রথম ম্যাচে যে দর্শনে খেলিয়েছেন আর্জেন্টিনা দলকে, সেটা ম্যারাডোনারই দর্শন। খোদ লিওনেল মেসি নতুন কোচের সঙ্গে মিল খুঁজে পাচ্ছেন গত বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার দায়িত্ব পালন করা ম্যারাডোনার।
জাতীয় দলের অধিনায়ক হিসেবে অভিষেকের পর আর্জেন্টাইন সাংবাদিকদের মেসি বলেছেন, ‘সাবেলা মনে করে, আমি সেই পজিশনেই খেলে ভালো করব যে পজিশন আমার পছন্দ। এদিক দিয়ে দেখলে তাঁর চিন্তাভাবনা ডিয়েগোর মতোই। তিনিও মনে করেন, একজন খেলোয়াড়ের ভেতর থেকে সেরাটা বের করে আনার এটাই সেরা উপায়। খেলোয়াড়দের ওপর কিছু চাপিয়ে দেওয়ায় তিনি বিশ্বাস করেন না।’
দলকে তিনি নেতৃত্ব দিয়েছেন আগেও, গ্রিসের বিপক্ষে গত বিশ্বকাপের ম্যাচে। এবার মেসিকে পূর্ণকালীন অধিনায়কের দায়িত্বই দিয়ে দিলেন সাবেলা। বার্সেলোনার এই তারকাও জানালেন, অধিনায়কের দায়িত্বটা তিনিও চাইছিলেন মনে মনে। বয়স মাত্র ২৪ বছর হলেও ফুটবল-উন্মাদ একটা দেশের অধিনায়কের ভার নিতে তিনি প্রস্তুত। এটাকে চাপ বলেও মনে করছেন না। বরং বলেছেন, ‘প্রথম দিকে এই অনুভূতিটা বিশেষ কিছু মনে হচ্ছিল। কিন্তু মাঠে পা দেওয়ার পর এটা আর মাথায়ই থাকেনি।’
তা এই নতুন অধ্যায়ের শুরুটা কেমন দেখছেন তিনি? ‘অধিনায়ক হতে গেলে আপনার মধ্যে বেশ কিছু জিনিস থাকতে হবে। তবে সবার আগে যেটা পেতে হবে, তা হলো সতীর্থদের সম্মান। আমি আমার দলের কাছ থেকে সেটা পেয়েছি, এটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।’
হাভিয়ের মাচেরানোর হাত থেকে নেতৃত্বের হাতবদল হয়েছে। মাচেরানো তাঁর বার্সা-সতীর্থও। তবে মেসি জানালেন, নেতৃত্ব হারিয়ে মাচেরানো মোটেও অসন্তুষ্ট নন। বরং মাচেরানোই প্রথম এই দায়িত্বটা নিতে তাঁকে উৎসাহ জুগিয়েছেন, ‘আর্জেন্টিনাকে নেতৃত্ব দেওয়ার প্রস্তাব যখন এল, হাভিয়েরই আমাকে বলল দায়িত্বটা লুফে নিতে। অধিনায়কের বাহুবন্ধনী পরা বিরাট একটা ব্যাপার। দেশকে নেতৃত্ব দিতে পেরে আমি গর্বিত।’
অধিনায়ক হিসেবে নিজের চিন্তাভাবনার কথাও বেশ স্পষ্ট করে জানিয়ে দিলেন মেসি। বললেন, বারবার কোচ পাল্টানো দলের জন্য শুভ নয়, ‘বারবার কোচ পাল্টালে আমরা সাফল্য পাব না। সাবেলাকে দীর্ঘ সময়ের জন্যই রাখতে হবে আমাদের। তাঁর নির্দেশনায় এই দল অনেক উঁচুতে উঠতে পারবে।’ হুয়ান রোমান রিকেলমেকে ফেরানোর উদ্যোগ নিয়েছেন সাবেলা। এই উদ্যোগকেও স্বাগত জানিয়েছেন মেসি, ‘রিকেলমে তো খুবই ভালো খেলোয়াড়। ওর মতো খেলোয়াড় দরকার আমাদের। আমাদের খেলার ধরনের সঙ্গে ওর খেলাটা খুব মেলে। মাঝমাঠ থেকে ও আমাদের খেলাটা বানিয়ে দিতে পারবে। আক্রমণভাগের সঙ্গে মাঝমাঠের যোগসূত্র তৈরি করে দিতে পারে এমন একজন খেলোয়াড় আমাদের দরকার।’
আরেক অভিজ্ঞ খেলোয়াড় হুয়ান সেবাস্তিয়ান ভেরনও ফিরছেন। ভেরন অবশ্য খেলোয়াড় হিসেবে নয়, ফিরছেন ম্যানেজারের ভূমিকায়। এতে দলে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে মনে করেন মেসি, ‘ভেরনের সঙ্গে আমার বন্ধুর মতো সম্পর্ক। এই দলের অনেক খেলোয়াড়ের সঙ্গেও তা-ই।’
‘বার্সার মেসি’ কেন ‘আর্জেন্টিনার মেসি’ হয়ে উঠতে পারেন না, এ নিয়ে দুশ্চিন্তা আছে তাঁরও। মেসিই বললেন, ‘বার্সার হয়ে অনেক সময় এমনও হয়েছে, না চাইতেও গোল করেছি। কিন্তু আর্জেন্টিনার হয়ে খেলার সময় সেটা হয় না। তবে আমি মাথা ঠান্ডা রাখছি। গোল অবশ্যই আসবে।’
তাঁকে নিয়ে ভারতের দর্শকদের উন্মাদনায় মুগ্ধ মেসি। এবার অপেক্ষা করছেন বাংলাদেশের দর্শকদের কাছ থেকে মুগ্ধতা পেতে, মুগ্ধ করতে।

রেকর্ড গড়ে শেষ করলেন বোল্ট

উসাইন বোল্টের আফসোস কমল নাকি বাড়ল? বলা মুশকিল। ১০০ মিটারের ফলস স্টার্টের দুঃখ ঘোচারই কথা, ২০০ মিটারের পর ৪–১০০ মিটার রিলেতেও সোনা জিতলেন। কাল দেগু বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপের শেষ দিনটা বোল্ট আর তাঁর জ্যামাইকান সতীর্থরা আলোকিত করেছেন রিলেতে নতুন রেকর্ড গড়ে। এর পরও বোল্টের আফসোস হওয়ার কথা, ১০০ মিটারের ফলস স্টার্টটি না হলে হয়তো বিশ্ব অ্যাথলেটিকসের আরেকটি বিরল ‘ট্রেবল’ হতো তাঁর। গত চ্যাম্পিয়নশিপেও জিতেছিলেন তিন সোনা।
কাল শেষ দিনে আরেকটি আলোচিত ঘটনা ঘটেছে। গতবার মেয়েদের ৮০০ মিটার দৌড়ে সোনা জেতার পর বহু আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দেওয়া কাস্টার সেমেনিয়াকে হারিয়ে দিয়েছেন রাশিয়ার প্রায় অখ্যাত দৌড়বিদ মারিয়া শাভিনোভা। তাঁর টাইমিং ১ মিনিট ৫৫.৮৭ সেকেন্ড। আর ১ মিনিট ৫৬.৩৫ সেকেন্ড সময় নিয়ে রুপা জিতেছেন সেমেনিয়া। অবশ্য রুপা পেয়েও খুব অখুশি নন দক্ষিণ আফ্রিকার এই দৌড়বিদ।
৪–১০০ মিটার রিলের সোনা যে জ্যামাইকা জিততে চলেছে, সেই পূর্বাভাস ছিলই। ১০০ মিটারের দুঃখ ভুলে অনায়াসে ২০০ মিটারে জিতেছেন বোল্ট, ১০০ মিটারে ইয়োহান ব্লেক। কাল জ্যামাইকার রিলে দলে আর ছিলেন নেস্তা কার্টার ও মাইকেল ফ্র্যাটার। এবার আর ফলস স্টার্টের ভয় ছিল না বোল্টের। কারণ অ্যাঙ্কর ছিলেন তিনি, মানে সবার শেষে দৌড়েছেন। দারুণ শুরু করা জ্যামাইকা দল বোল্টের ছোঁয়ায় ৩৭.০৪ সেকেন্ডে দৌড় শেষ করে। ভেঙে দেয় ২০০৮ অলিম্পিকে নিজেদেরই গড়া ৩৭.১০ সেকেন্ডের বিশ্ব রেকর্ড। বোল্ট, কার্টার আর ফ্র্যাটার আগের রেকর্ডেরও অংশীদার ছিলেন। এই ইভেন্টে জ্যামাইকার বড় প্রতিদ্বন্দ্বী যুক্তরাষ্ট্র দৌড় শেষই করতে পারেনি। ট্র্যাকে পড়ে গেছেন ডারভিস প্যাটন।
শেষটা দুর্দান্তই হলো বোল্টের। কিন্তু বলতে কি পারছেন, শেষ ভালো যার সব ভালো তার?