Tuesday, October 29, 2024
গাজায় মিসরের যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান নেতানিয়াহুর
সোমবার (২৮ অক্টোবর) ইসরায়েলি সম্প্রচারমাধ্যম চ্যানেল-১২ এর প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে।
প্রতিবেদন থেকে আরও জানা যায়, ইসরায়েলি মন্ত্রিসভার অধিকাংশ সদস্য ও দেশটির নিরাপত্তাবাহিনী এ প্রস্তাবের পক্ষে মত দিলে, নেতানিয়াহুর সিদ্ধান্ত পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলেছে।
এর আগে রোববার (২৭ অক্টোবর) মিসরের প্রেসিডেন্ট এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, গাজায় দুদিনের এই যুদ্ধবিরতির মূল লক্ষ্য হলো একটি স্থায়ী যুদ্ধবিরতি বাস্তবায়নের জন্য পথ তৈরি করা। প্রস্তাবে বলা হয়, হামাস চারজন ইসরায়েলি বন্দিকে মুক্তির বিনিময়ে কিছু ফিলিস্তিনি বন্দিকে মুক্ত করবে এবং এরপর ১০ দিনের মধ্যে আলোচনা করে স্থায়ী যুদ্ধবিরতি প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
তবে, ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু এই প্রস্তাবের প্রত্যাখ্যান করে তিনি বলেন, ‘আলোচনা কেবল গাজায় হামলা চলাকালেই অনুষ্ঠিত হবে, অন্যকোনো পরিস্থিতিতে নয়।’ তার এই সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে, বিশেষ করে যখন গাজার সাধারণ মানুষ ভয়ংকর মানবিক সংকটের মুখোমুখি।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, বেশিরভাগ ইসরায়েলি মন্ত্রী এবং নিরাপত্তাবাহিনী এই যুদ্ধবিরতি প্রস্তাবের পক্ষে ছিলেন। যদিও নেতানিয়াহুর একক সিদ্ধান্তের কারণে মিসরের এই উদ্যোগের বাস্তবায়ন সম্ভব হয়নি।
এদিকে গাজার বর্তমান পরিস্থিতি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। ইসরায়েলের ধারণা অনুযায়ী, গাজায় হামাসের হাতে প্রায় ১০১ জন ইসরায়েলি বন্দি রয়েছে। তবে আশঙ্কা করা হচ্ছে, বিমান হামলার কারণে বন্দিদের মধ্যে কয়েকজন হয়তো ইতোমধ্যে মারা গেছেন।
এ ছাড়া গাজার জনগণের জন্য এই সংকটময় পরিস্থিতিতে শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য মিসরের উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ছিল। কিন্তু নেতানিয়াহুর নাকচ করার সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক মহলে কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে নস্যাৎ করেছে। এ সিদ্ধান্ত গাজার মানুষের জীবনে আরও ভয়াবহতা নিয়ে আসবে বলে আশংকা করা হচ্ছে।

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
গাজায় এক টুকরো রুটির জন্য হাহাকার : ক্ষুধার যন্ত্রণায় শিশুরা, অসহায় বাবা-মা
গাজার বাসিন্দাদের জন্য এক বেলার খাবার সংগ্রহ করতে দীর্ঘ অপেক্ষা করতে হচ্ছে। যুদ্ধের কারণে ত্রাণ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় অসহায় জীবন কাটাচ্ছেন তারা। আশ্রয় শিবিরগুলোতে এক টুকরো রুটির জন্য হাহাকার চলছে এবং পরিবারগুলো প্রতিদিন ক্ষুধার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করছে।
স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা এখন বেহাল। চিকিৎসার অভাবে অসুস্থ এবং আহতরা মারাত্মক দুর্ভোগে আছেন। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, খাদ্য এবং সাহায্যের জন্য গুদামগুলোতে মজুত নেই, যা সামান্য ত্রাণ আসে, তা দ্রুত ফুরিয়ে যায়।
হামাসের উপস্থিতির অজুহাতে হাসপাতালগুলোতে নিয়মিত হামলা ও তল্লাশি চলছে। স্বাস্থ্যকর্মী ও স্বেচ্ছাসেবীরা আক্রান্ত হচ্ছেন এবং ইসরায়েলের বোমা হামলায় গাজা শহর মৃত্যুর মুখে।
মিশরের রাফাহ সীমান্ত দিয়ে কিছু সহায়তা প্রবাহিত হলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। জাতিসংঘ জানিয়েছে, গাজার মানবিক সংকট মোকাবিলার জন্য প্রতিদিন প্রায় ১০০টি ত্রাণবাহী ট্রাকের প্রয়োজন।
গাজার বাসিন্দা এমাদ আবুয়াসি উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছেন, “অন্যের থেকে খাবারের জন্য মারামারি শুরু হতে পারে।” গাজায় শিশুদের পরিস্থিতি ভয়াবহ; তারা শুধু ক্ষুধার যন্ত্রণায় ভুগছে না, বরং যুদ্ধের আতঙ্কেও রয়েছে।
এই সংকটময় মুহূর্তে আন্তর্জাতিক সমাজের দ্রুত পদক্ষেপ প্রয়োজন, যাতে গাজার মানুষের খাদ্য, স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায়। মানবতার কাছে আজকের এই সংকট একটি গুরুতর পরীক্ষা।
সূত্র: আল জাজিরা
![]() |
| একটি ক্ষুধার্ত শিশুর চাহনিতে পুরো বিশ্বের মানবতা। ছবি : রয়টার্স |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
যেভাবে প্রায় ১৭০০ কোটি ডলার লোপাট করেছে হাসিনার সহযোগী ধনকুবেররা
গণমাধ্যমটির সঙ্গে একটি সাক্ষাৎকারে গভর্নর আহসান এইচ মনসুর দাবি করেন যে, ব্যাংকিং খাতে হাসিনা প্রশাসনের ধনকুবেরদের দুর্নীতির ক্ষেত্রে সাহায্য করেছেন ডিরেক্টর জেনারেল অব ফোর্সেস ইন্টেলিজেন্সের (ডিজিএফআই) নেতৃস্থানীয় কয়েকজন সদস্য।
বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের অনুমান, নতুন শেয়ারহোল্ডারদের ঋণ দেয়া এবং আমদানি চালান স্ফীত করার মতো পদ্ধতির মাধ্যমে ব্যাংকগুলো থেকে অর্থ পাচার করা হয়েছে। এর মাধ্যমে ২ লাখ কোটি টাকা বা ১৬ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলার বাংলাদেশ থেকে লোপাট করেছে অভিযুক্তরা। যেকোনো আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে এটি সবচেয়ে বড় এবং উল্লেখযোগ্য একটি ব্যাংক ডাকাতি বলে মন্তব্য করেছেন মনসুর। তিনি বলেন, রাষ্ট্রীয় সহায়তায় পৃথিবীর কোথাও এ পরিমাণ অর্থ পাচারের নজির নেই। আর গোয়েন্দা কর্মকর্তারা সাবেক ব্যাংক কর্মকর্তাদের চাপ প্রয়োগ না করলে এটা ঘটতে পারতো না।
বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর এক্ষেত্রে মোহাম্মদ সাইফুল আলমের (এস আলম) নাম উল্লেখ করেছেন। এস আলম গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান এই সাইফুল আলম। তার সহযোগীরা ডিজিএফআই-এর সহায়তায় ব্যাংকগুলোর নিয়ন্ত্রণ নেয়ার পরে ব্যাংকিং খাত থেকে কমপক্ষে ১০০০ কোটি ডলার (১০ বিলিয়ন) হাতিয়ে নিয়েছে। অবশ্য সাইফুল আলমের পক্ষে আইনি সংস্থা কুইন ইমানুয়েল উরকুহার্ট এবং সুলিভানের দেয়া একটি বিবৃতিতে এস আলম গ্রুপ বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের অভিযোগ অস্বীকার করে তা ভিত্তিহীন বলে অভিহিত করেছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, ‘বাংলাদেশে এস আলম গ্রুপ এবং অন্য বেশ কয়েকটি বিশিষ্ট ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অন্তর্বর্তী সরকারের সমন্বিত প্রচারণা যথাযথ প্রক্রিয়ার মৌলিক নীতিগুলোকে অবজ্ঞা করেছে। যা ইতিমধ্যেই বিনিয়োগকারীদের আস্থাকে নাড়া দিয়েছে এবং আইনশৃঙ্খলার অবনতিতে অবদান রেখেছে। এস আলম গ্রুপের রেকর্ড এবং অবদানের পরিপ্রেক্ষিতে, আমরা গভর্নরের অভিযোগকে আশ্চর্যজনক এবং অযৌক্তিক বলে মনে করি।’
ফিন্যান্সিয়াল টাইমস জানিয়েছে, এ বিষয়ে তারা বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনীর মিডিয়া উইং আন্তঃসেবা জনসংযোগ পরিদপ্তরে যোগাযোগ করেও কোনো মন্তব্য পায়নি। এ ছাড়া এ বিষয়ে মন্তব্যের জন্য ডিজিএফআই-এর সঙ্গেও যোগাযোগ করতে পারেনি গণমাধ্যমটি।

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ ৫ ইস্যু
৬০ বছর বয়সী কমালা প্রথমবারের মতো বাড়ির ক্রেতাদের সহায়তা দেয়া, শিশুদের জন্য ট্যাক্স ক্রেডিট এবং ক্ষুদ্র ব্যবসায় সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। অভিবাসন ইস্যুতে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন ডনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, নির্বাচিত হলে ডকুমেন্টবিহীন অবৈধভাবে অবস্থানকারী লাখ লাখ অভিবাসীকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বের করে দেবেন। সাবেক এই প্রেসিডেন্ট ২০১৬ সালে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো সীমান্তে দেয়াল নির্মাণ করবেন। এবার তিনি অভিযোগ করেছেন অভিবাসীরা যুক্তরাষ্ট্রের রক্তে বিষ মিশিয়ে দিচ্ছেন। ওদিকে ডেমোক্রেট কমালা হ্যারিস অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। যেসব মানুষ অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করবে তাদের করুণ পরিণতির হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি। প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের অভিবাসন নীতিকে কঠোর করার পরিকল্পনাকে তিনি সমর্থন করেছেন। এক্ষেত্রে সীমান্তে যেসব প্রতিবন্ধকতা বসানো হয়েছে সেসব নজরদারি করার কথা বলেছেন। ২০২২ সালে যুক্তরাষ্ট্রে রোয়ে ভার্সাস ওয়েড নীতিকে উল্টে দিয়ে গর্ভপাতের অধিকারকে কেন্দ্রীয়ভাবে প্রত্যাহার করা হয়। এর ফলে কিছু রাজ্যে গর্ভপাত পুরোপুরি নিষিদ্ধ হয়। এরপর কিছু ভোটারের কাছে প্রজননের এই অধিকারটি বড় ইস্যু হয়ে আছে।
১৯৭৩ সালের ওই নীতি যারা বাতিল করেছেন সুপ্রিম কোর্টের সেইসব বিচারপতিকে নিয়ে গর্ব করেন ট্রাম্প। কারণ, তাদেরকে তিনি নিয়োগ দিয়েছিলেন। তিনি আরও ইঙ্গিত দিয়েছেন, যদি নির্বাচিত হন তাহলে গর্ভপাতে ব্যবহৃত ওষুধ হাতের নাগালে পাওয়ার অধিকারে বিধিনিষেধ দেবেন। উল্লেখ্য, ৭৮ বছর বয়সী ট্রাম্প গত বছর লেখিকা ই. জ্যাঁ ক্যারোলকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগে অভিযুক্ত হন। তা সত্ত্বেও তিনি নারীদের মহৎ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। অন্যদিকে ডেমোক্রেট কমালা হ্যারিস প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন নির্বাচিত হলে পুরো যুক্তরাষ্ট্রে গর্ভপাতের অধিকার পুনর্বহাল করে ফেডারেল আইন করবেন। তার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু এটি। যুক্তরাষ্ট্রের সাংবিধানিক সংশোধনীর পক্ষে কিনা সে সিদ্ধান্ত দেবেন ১০টি রাজ্যের ভোটার। এটা তাদের রাজ্যগুলোতে গর্ভপাতের অধিকারের বিষয়টি নির্ধারণ করবে। ওদিকে মধ্যপ্রাচ্যে এবং ইউক্রেনে ভয়াবহ যুদ্ধ চলছে। ট্রাম্প প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, নির্বাচিত হলে দ্রুততার সঙ্গে উভয় যুদ্ধেরই সমাধান করবেন। তবে কীভাবে করবেন সে বিষয়ে ব্যাখ্যা দেননি। ২০২২ সালে রাশিয়া আগ্রাসন চালায় ইউক্রেনে। তারপর থেকে কিয়েভকে যে বিপুল পরিমাণ অর্থ দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র তার নিন্দা জানান ট্রাম্প। অন্যদিকে নির্বাচিত হলে ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন কমালা হ্যারিস। তবে ইসরাইলকে অব্যাহতভাবে সমর্থন দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন ট্রাম্প ও কমালা দু’জনেই। তার মধ্যে ফিলিস্তিনিদের দুর্ভোগের বিষয়টিতে বেশি মনোযোগ আকর্ষণ করেছেন ভাইস প্রেসিডেন্ট কমালা হ্যারিস। চীনের পর বিশ্বে দ্বিতীয় বৃহৎ গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমনকারী যুক্তরাষ্ট্র। কিন্তু এই বিষয়ে এই দুই প্রার্থীর কেউই কোনো বিস্তৃত প্ল্যাটফরম নিয়ে কথা বলেননি। বিজ্ঞানভিত্তিক তথ্যপ্রমাণ থাকা সত্ত্বেও জলবায়ু পরিবর্তনকে ভুয়া বলে ট্রাম্প এর নিন্দা জানিয়ে আসছেন দীর্ঘদিন ধরে। তিনি এক্ষেত্রে নবায়নযোগ্য জ্বালানি এবং ইলেকট্রিক যানবাহনের ক্ষেত্রে দেয়া ভর্তুকি কমানোর পরিকল্পনা করেছেন। তিনি প্যারিস জলবায়ু চুক্তি থেকে আরও একবার যুক্তরাষ্ট্রকে প্রত্যাহার করার প্রতিজ্ঞা করেছেন। এর আগে নির্বাচিত হয়েই তিনি এই কাজটি করেছিলেন। তবে বাইডেন প্রশাসন ক্ষমতায় এসে এই চুক্তিকে যুক্তরাষ্ট্রকে আবার যুক্ত করেছে। অন্যদিকে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের মুদ্রাস্ফীতি কমিয়ে আনা বিষয়ক আইনকে অনুমোদন করেছেন কমালা হ্যারিস। এর ফলে পরিবেশবান্ধব জ্বালানিতে বিনিয়োগ বৃদ্ধি পেয়েছে।

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ইসরাইলি অবরোধের কারণে অনাহারের কবলে উত্তর গাজায় ফিলিস্তিনিরা
মাহমুদ আলসাক্কা, যিনি অক্সফামের খাদ্য নিরাপত্তা এবং গাজায় জীবিকা নির্বাহের নেতৃত্ব দিয়েছেন, সতর্ক করেছেন যে কিছু ফিলিস্তিনি উত্তর গাজায় ক্ষুধায় ‘অনাহারে মরছে’ এবং আগামী দিনে আরও বেশি লোক মারা যাবে। তিনি বলেন, ‘এলাকার বেশিরভাগ ফিলিস্তিনিরা সহায়তা সরবরাহের উপর নির্ভর করে। কিন্তু কয়েক দিন ধরে তারা কোনও সরবরাহ পাচ্ছে না।’ ত্রাণ সংস্থাগুলো বলছে, গাজার জনসংখ্যার প্রায় ৯৬ শতাংশই উচ্চ মাত্রার খাদ্য সংকটের সম্মুখীন। ইউনিসেফের মতে, ১০টির মধ্যে নয়টি শিশুর বৃদ্ধি ও বিকাশের জন্য প্রয়োজনীয় পুষ্টির অভাব রয়েছে। যুদ্ধের এক বছরে অন্তত ৩৭টি শিশু অপুষ্টি বা পানির অভাবে মারা গেছে। জাতিসংঘ বলেছে যে, যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ইসরাইল উত্তর গাজায় খাদ্য সহায়তার ৮৩ শতাংশ প্রবেশে বাধা দিয়েছে। বছরের শেষ নাগাদ পাঁচ বছরের কম বয়সী প্রায় ৫০,০০০ শিশুর অপুষ্টির জন্য জরুরি চিকিৎসা প্রয়োজন। রবিবার জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস অবিলম্বে যুদ্ধবিরতি, জিম্মিদের মুক্তি এবং আন্তর্জাতিক আইনের অধীনে অপরাধের জন্য জবাবদিহিতার আহ্বান জানিয়েছেন।
তিনি এক্স-এ বলেছেন, উত্তর গাজায় ইসরাইলের সামরিক অভিযানের ফলে সৃষ্ট ধ্বংসযজ্ঞ ও বঞ্চনা সেখানকার ফিলিস্তিনি জনগোষ্ঠীর জীবনযাত্রাকে অসহনীয় করে তুলছে। আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের তোয়াক্কা না করে এই সংঘাত অব্যাহত রয়েছে। অক্সফাম সতর্কবার্তাটি এসেছে যখন ইসরাইলি বাহিনী রবিবার উত্তর গাজার আশেপাশে বোমাবর্ষণ করেছে এবং মানবিক কর্মকর্তারা ইসরাইলি বাহিনীর চলমান স্থল হামলার বিষয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছে, সেখানে জোরপূর্বক কয়েক হাজার বাসিন্দাকে এলাকা থেকে বাস্তুচ্যুত করা হয়েছে। শনিবার বিত লাহিয়ায় ইসরাইলি সেনাবাহিনীর স্ট্রিপের উত্তরে পাঁচটি ভবনকে লক্ষ্যবস্তু করার পর অন্তত ৩৫ জন নিহত হয়েছেন। বেত লাহিয়ায় পৃথক হামলায় আরও ১০ জন নিহত হয়েছেন। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, উত্তর গাজার জাবালিয়া, বেইট হানুন এবং বেইট লাহিয়া শহরে ইসরাইলের হামলায় এ পর্যন্ত প্রায় ৮০০ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। আল জাজিরার হানি মাহমুদ, মধ্য গাজার দেইর এল-বালাহ থেকে রিপোর্ট করছেন, অন্তত ৩৫ জন নিখোঁজ রয়েছেন অথবা ধ্বংসস্তূপের নীচে থাকার আশঙ্কা করা হচ্ছে। এর পাশাপাশি রবিবার সকালে জাবালিয়ায় একটি বাসায় ইসরাইলি বিমান হামলায় বেশ কয়েকজন নিহত এবং অন্যান্য আহত হয়েছে বলে জানিয়েছেন ফিলিস্তিনি চিকিৎসকরা। ইসরাইলি সৈন্যরা মানুষকে উচ্ছেদ কেন্দ্র থেকে বের হতে বাধ্য করেছে এবং আগুন ধরিয়ে দিচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে জাতিসংঘের বিশেষ প্রতিবেদক ফ্রান্সেসকা আলবানিজ সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম এক্স-এ বলেছেন যে, গাজার সমগ্র জনসংখ্যা মৃত্যুর ঝুঁকিতে রয়েছে। ইন্টারন্যাশনাল কমিটি অফ রেড ক্রস বলেছে যে, ইসরাইলিদের গাজার মানুষকে সরে যেতে বলার আদেশ এবং উত্তরে প্রয়োজনীয় সরবরাহের প্রবেশের উপর নিষেধাজ্ঞা বেসামরিক জনগণকে ভয়াবহ পরিস্থিতিতে ফেলেছে। অনেক বেসামরিক লোক বর্তমানে চলাফেরা করতে অক্ষম। যুদ্ধের কারণে তারা আটকা পড়েছে এবং এখন প্রাথমিক চিকিৎসা সেবাও সেখানে উপলব্ধ নয়। ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা বলেছেন, যে অবরোধ উত্তর গাজার স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থাকে পঙ্গু করে দিয়েছে এবং বোমা বিধ্বস্ত স্থানে চিকিৎসক দল পৌঁছাতে পারছে না। ইসরাইল বলেছে যে, তাদের বাহিনী এক বছরেরও বেশি সময় ধরে উত্তর গাজায় যুদ্ধ করছে। তারা হামাস যোদ্ধাদের নির্মূল করতে বদ্ধপরিকর। ইসরাইলি সামরিক বাহিনী দাবি করেছে যে, তারা গত ২৪ ঘণ্টায় জাবালিয়া এলাকায় ৪০ জনেরও বেশি হামাস যোদ্ধাদের হত্যা করেছে। পাশাপাশি তাদের অবকাঠামো ভেঙে দিয়েছে এবং বড় পরিমাণ সামরিক সরঞ্জাম খুঁজে পেয়েছে। গাজায় বসবাসকারী ফিলিস্তিনি সাংবাদিক মনসুর শওমান বলেন, ইসরাইল ফিলিস্তিনিদের উপত্যকার উত্তরাঞ্চল ছেড়ে চলে যেতে বাধ্য করেছে , সেখানে তারা নিজেরা বসতি স্থাপন করতে চায়। শওমান আল জাজিরাকে বলেছেন, এই এলাকাটি তিন সপ্তাহ ধরে ইসরাইলিদের খুব ভারী ভূমি আক্রমণের শিকার। তারা গাজা উপত্যকার উত্তরে ফিলিস্তিনিদের উপস্থিতি নির্মূল করার চেষ্টা করছে … এবং তাদেরকে আরও দক্ষিণে ঠেলে দিচ্ছে, যাতে ইসরাইলিদের জন্য একটি বাফার জোন তৈরি করা যায় এবং তারপর সেখানে বসতি তৈরি করা যায়।
সূত্র : আলজাজিরা

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
রাষ্ট্রপতির শপথে প্রধান বিচারপতির অনিবার্যতা by শহীদুল্লাহ ফরায়জী
কিন্তু বাংলাদেশে এর ব্যত্যয় দেখা যাচ্ছে। আমাদের দেশের রাষ্ট্রপতিকে শপথ বাক্য পাঠ করান জাতীয় সংসদের স্পিকার। রাষ্ট্রের প্রধানের শপথ গ্রহণের ক্ষেত্রে বিচার বিভাগকে উপেক্ষা করা প্রকারান্তরে রাষ্ট্রের তিন বিভাগের মধ্যে ভারসাম্য বিনষ্ট করা। এতে সংবিধানের গভীর দার্শনিক ভিত্তি থেকে রাষ্ট্র বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। সেই দার্শনিক ভিত্তি হচ্ছে- রাষ্ট্রপতি সংসদ কর্তৃক নির্বাচিত হয়ে প্রধান বিচারপতির নিকট শপথ গ্রহণ করে রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন, এটাই হচ্ছে প্রজাতন্ত্রের অবিচ্ছেদ্য সাংবিধানিক নির্দেশনা।
রাষ্ট্রপতি রাষ্ট্রের অভিভাবক এবং তিনি সংবিধানের অভিভাবকের কাছে শপথ বাক্য পাঠ করেন। তাই রাষ্ট্রপতির শপথ পাঠে প্রধান বিচারপতি অনিবার্য। যেহেতু রাষ্ট্রপ্রধান রূপে রাষ্ট্রপতি রাষ্ট্রের অন্য সকল ব্যক্তির ঊর্ধ্বে স্থান লাভ করেন সেহেতু তাঁর শপথ রাষ্ট্রের অধীনস্থ তিন বিভাগের কোনো প্রধানের নিকট নয়, তিনি শপথ পাঠ করবেন বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতির নিকট। এই অন্তর্নিহিত দর্শনের জন্যই প্রধান বিচারপতিকে ‘বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতি’ হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে। রাষ্ট্রপতির প্রধান বিচারপতির নিকট শপথ বাক্য পাঠ করার এই বাধ্যবাধকতা এবং মহিমান্বিত সাংবিধানিক মর্যাদা প্রজাতন্ত্রের কেউ বিনষ্ট করতে পারেন না, কিন্তু আওয়ামী লীগ সরকার তা করেছে।
সংবিধানের চতুর্থ ও পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে এই আইন বলবৎ করা হয়েছে, যা প্রজাতন্ত্রের বৈশিষ্ট্যের সাথে চরমভাবে সাংঘর্ষিক। এটা আইন ও বিচারবিভাগের প্রতি ছিলো আওয়ামী সরকারের অসম্ভব বিদ্বেষমূলক আচরণ প্রকাশের নজির— যা সাংবিধানিক ন্যায্যতাকে মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন করেছে।
এর দর্শনগত দিক হচ্ছে, রাষ্ট্রপতি শপথ নেবেন তাঁর কাছে— যিনি জনগণের অধিকার, গণতন্ত্র এবং সংবিধান সুরক্ষার ঘোষিত ও অনবদ্য দায়িত্বে অতন্দ্র ভূমিকায়, সেই প্রধান বিচারপতির নিকট। প্রধান বিচারপতির এই মর্যাদা এবং সম্মানের মুকুট বিচারবিভাগের মর্যাদাকে উচ্চকিত করে।
আইনবিভাগ এবং নির্বাহী বিভাগের ক্ষমতার বাড়াবাড়িকে সংবিধানের আলোকে নিয়ন্ত্রণ করে স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রকে রক্ষা করতে পারে কেবল বিচারবিভাগ। প্রজাতন্ত্রে বিচারবিভাগের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকাকে নিশ্চিত করার জন্যই সুপ্রিম কোর্টকে সংবিধানের অভিভাবক হিসেবে স্বীকৃতি দেয়া হয়েছে এবং প্রধান বিচারপতিকে ‘বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতি’ হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে। সংবিধানবহির্ভূত যেকোনো বিধানকে অবৈধ ঘোষণা করার ক্ষমতা সুপ্রিম কোর্টের উপর ন্যাস্ত করা হয়েছে। বিচারবিভাগের এই ক্ষমতাকেই সংবিধানের অভিভাবকত্বে উন্নীত করেছে। সুপ্রিম কোর্টের এখতিয়ার, ক্ষমতার ধরন এবং ব্যাপ্তি—যেকোনো দেশের সর্বোচ্চ আদালতের সমকক্ষ। রাষ্ট্রপতির শপথ পরিচালনা করবেন বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতি— এটি মৌলিক এখতিয়ার।
রাষ্ট্রপতির শপথে যেহেতু উচ্চারিত হয়— ‘আমি বাংলাদেশের প্রতি অকৃত্রিম বিশ্বাস ও আনুগত্য পোষণ করিব, সংবিধানের রক্ষণ, সমর্থন ও নিরাপত্তাবিধান করিব’ সেহেতু বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতির নিকট শপথ বাক্য পাঠ করবেন, এর চেয়ে মর্যাদাপূর্ণ কোনো বিকল্প হতে পারে না। প্রধান বিচারপতির এই মর্যাদা প্রজাতন্ত্রের বৈশিষ্ট্যের সাথে সম্পর্কিত। এটাই গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থায় চিরকালীন ও বিশ্বজনীন নীতি।
বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি শপথ নিয়েছেন রাষ্ট্রের একটি স্তম্ভ তথা জাতীয় সংসদের স্পিকারের নিকট, যিনি শপথ গ্রহণকারীর সংবিধান রক্ষণ, সমর্থন ও নিরাপত্তাবিধানে কোনো ভূমিকা রাখতে পারেন না। এই বিধান কোনোভাবেই প্রজাতন্ত্রের বৈশিষ্ট্যের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় এবং এমনকি মর্যাদাপূর্ণও নয়। এটা অগ্রহণযোগ্য। এতে বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতির প্রতি ন্যায়বিচার নিশ্চিত হয়নি বরং বিঘ্নিত হয়েছে!
বাংলাদেশে দু’টি পদকে সংবিধান প্রজাতান্ত্রিক মর্যাদা দিয়েছে। পদ দু’টি হলো— ১. রাষ্ট্রপতি এবং ২. প্রধান বিচারপতি। (এই দু’জনের পদ এবং পদবির সাথে প্রজাতন্ত্রের নাম জড়িত রয়েছে) সংবিধানের ৪৮(১)-এ বলা হয়েছে— ‘বাংলাদেশের একজন রাষ্ট্রপতি থাকিবেন। যিনি আইন অনুযায়ী সংসদ সদস্যগণ কর্তৃক নির্বাচিত হইবেন। রাষ্ট্রপ্রধান রূপে রাষ্ট্রপতি রাষ্ট্রের অন্য সকল ব্যক্তির ঊর্ধ্বে স্থান লাভ করিবেন।’ সংবিধানের ৯৪ (২)-এ বলা হয়েছে— ‘প্রধান বিচারপতি যিনি ‘বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতি’ নামে অভিহিত হইবেন।’
‘বাংলাদেশের একজন রাষ্ট্রপতি’ এবং ‘বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতি’ সংবিধানে উল্লেখ করায় পদ দু’টিতে প্রজাতন্ত্রের বৈশিষ্ট্য প্রতিফলিত হয়েছে। সুতরাং এই দু’টি পদ পরস্পরের দ্বারা পরিচালিত শপথে রাষ্ট্রের প্রতি অঙ্গীকারে আবদ্ধ হবেন— এটাই প্রজাতন্ত্রের জন্য ন্যায় সঙ্গত। প্রধান বিচারপতিকে ‘বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতি’ হিসেবে অভিহিত করার মাঝে প্রজাতন্ত্রের সুমহান উদ্দেশ্য ও অভিসন্ধি রয়েছে যা অনেকেই গভীরভাবে খতিয়ে দেখেন না বা যুক্তির কষ্টিপাথরে পরীক্ষা করতে পারেন না।
রাষ্ট্রপতির শপথ প্রধান বিচারপতি কর্তৃক পরিচালিত হবে, এই আইন সারা বিশ্বব্যাপী অনুসৃত নীতি। একে লঙ্ঘন করে একদিকে বিচার বিভাগের ক্ষমতার অবনমন করা হয়েছে, অন্যদিকে বিচার বিভাগের সক্রিয়তা প্রশ্নবিদ্ধ করা হয়েছে।
‘৭২ সালের সংবিধানে প্রজাতন্ত্রের বৈশিষ্ট্য ও প্রধান বিচারপতির মর্যাদা সুরক্ষার প্রশ্নে শপথ ও ঘোষণার তৃতীয় তফসিলে বলা হয়েছিলো— ‘রাষ্ট্রপতি, স্পিকার এবং ডেপুটি স্পিকারের শপথ প্রধান বিচারপতি কর্তৃক পরিচালিত হইবে।’ এগুলো আইনবিভাগ ও শাসনবিভাগের সাথে বিচারবিভাগের ভারসাম্যপূর্ণ নীতি, যা সংবিধান প্রণয়নের সময়ই চূড়ান্তভাবে নির্ধারিত।
গণপরিষদ কর্তৃক ‘৭২ সালে গৃহীত সংবিধান আওয়ামী লীগ অতি দ্রুতই ছিন্নভিন্ন করে ফেলে এবং চেতনা ও দর্শন থেকে বিচ্যুত হয়ে সংবিধানের মৌলিক কাঠামো রাতারাতি পরিবর্তন করে নেয়। তারা একদলীয় শাসনব্যবস্থা তথা সংসদীয় ব্যবস্থার পরিবর্তে রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার ব্যবস্থা প্রবর্তন করে— চতুর্থ সংশোধনীর মাধ্যমে। চতুর্থ সংশোধনীতে কোনো কারণ উল্লেখ বা ব্যাখ্যা ছাড়াই প্রধান বিচারপতির সাংবিধানিক অনেক ক্ষমতাকে বেআইনিভাবে কেড়ে নিয়ে বিচারবিভাগকে নির্বাহীবিভাগের অধীনস্থ করার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে। চতুর্থ সংশোধনীর ১৪৮ অনুচ্ছেদের মাধ্যমে— রাষ্ট্রপতি, স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের শপথ বাক্য পাঠ করানো থেকে প্রধান বিচারপতিকে বাদ দেওয়া হয়। এটা একদলীয় শাসনব্যবস্থা প্রবর্তনের পরিকল্পনার অংশ। পরবর্তীতে চতুর্থ সংশোধনী বাতিল হলে তা পূর্বের অবস্থায় ফিরে যায়, কিন্তু পঞ্চদশ সংশোধনীতে একদলীয় শাসনব্যবস্থার অধীন— শপথ ও ঘোষণার বিষয়টি আবার পুনর্হাল করা হয়। এতে পরোক্ষভাবে সরকারের একদলীয় শাসন ব্যবস্থার প্রতি গভীর অনুরাগ ও আনুগত্য প্রকাশ পায়, যা গত প্রায় ১৬ বছরের আওয়ামী সরকারের আচরণে আমরা প্রত্যক্ষ করেছি।
স্বাধীন বাংলাদেশ-রাষ্ট্র নির্মাণ হওয়ার পর বঙ্গবন্ধু provisional constitutional order 1972-এর ভিত্তিতে আবু সাদাত মোহাম্মাদ সায়েমকে ‘প্রধান বিচারপতি’ নিয়োগ করেন। প্রধান বিচারপতি রাষ্ট্রপতি বঙ্গবন্ধুকে শপথ পাঠ করান এবং এর পরপরই বঙ্গবন্ধু রাষ্ট্রপতি পদ থেকে পদত্যাগ করেন। এরপর সাময়িক সংবিধান আদেশের ৮ নং ধারা বলে আবু সাঈদ চৌধুরীকে রাষ্ট্রপতি নিয়োগ দান করা হয়। অতঃপর প্রধান বিচারপতি রাষ্ট্রপতি আবু সাঈদ চৌধুরীকে শপথ বাক্য পাঠ করান। এটাই আমাদের ঐতিহ্য।
সামসময়িক কালের রাষ্ট্রপতির শপথ নিয়ে কয়েকটা দৃষ্টান্ত উল্লেখ করছি।
ভারতের ১৫তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নিয়েছেন দ্রৌপদী মুর্মু। সংসদের সেন্ট্রাল হলে তাঁকে শপথবাক্য পাঠ করান দেশের প্রধান বিচারপতি এন ভি রামানা (NV Ramana)।
পাকিস্তান পিপলস পার্টির (পিপিপি) কো-চেয়ারম্যান আসিফ আলি জারদারি দেশটির ১৪তম প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ গ্রহণ করেছেন। পাকিস্তানের প্রধান বিচারপতি (সিজেপি) কাজী ফয়েজ ঈসা ইসলামাবাদের আইওয়ান-ই-সদরে নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতিকে শপথ পাঠ করান।
মালদ্বীপের নতুন রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নিয়েছেন ড. মোহাম্মদ মুইজ্জু। তিনি মালদ্বীপ প্রজাতন্ত্রের অষ্টম রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব নিলেন। রিপাবলিক স্কয়ারে আয়োজিত এক বিশেষ অনুষ্ঠানে নতুন রাষ্ট্রপতি ও ভাইস প্রেসিডেন্ট হুসেইন মোহাম্মদ লতিফ শপথ নেন। শপথ পরিচালনা করেন প্রধান বিচারপতি আহমেদ মুতাসিম আদনান।
নেপালের নতুন রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নিয়েছেন নেপালি কংগ্রেসের জ্যেষ্ঠ নেতা রাম চন্দ্র পাউদেল। ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি হরি কৃষ্ণ কার্কি তাকে শপথবাক্য পাঠ করান।
ভারতীয় বংশোদ্ভূত সিঙ্গাপুরের অর্থনীতিবিদ থারমান শানমুগারত্নম (Tharman Shanmugaratnam) সিঙ্গাপুরের নতুন রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নিয়েছেন । তিনি সিঙ্গাপুরের নবম রাষ্ট্রপতি হিসাবে শপথ নিলেন। ভারতীয় বংশোদ্ভূত প্রধান বিচারপতি সুন্দরেশ মেনন ১৫৪ বছরের পুরনো ইস্তানা প্রাসাদে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে থারমানকে শপথবাক্য পাঠ করান।
জো বাইডেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ৪৬তম রাষ্ট্রপতি হিসাবে শপথ নিয়ে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। আর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান বিচারপতি জন রবার্টস তাঁর শপথ পরিচালনা করেছিলেন।
উপমহাদেশে ভারত এবং পাকিস্তানে ৭৫ বছর যাবত রাষ্ট্রপতিগণ শপথ নিচ্ছেন প্রধান বিচারপতিগণের নিকট।
কিন্তু একমাত্র ব্যতিক্রম বাংলাদেশ। বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নিয়েছেন মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন। বঙ্গভবনে নতুন রাষ্ট্রপতিকে শপথ বাক্য পাঠ করিয়েছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী। এর পূর্বে ২০তম এবং ২১তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে আব্দুল হামিদ স্পিকারের নিকট শপথ নিয়েছেন।
এটা একটি বিরল ঘটনা। প্রজাতন্ত্রের প্রধান ব্যক্তি অর্থাৎ রাষ্ট্রপতি শপথ নিবেন প্রজাতন্ত্রের প্রধান বিচারপতির নিকট এটাই আইনগত, দর্শনগত এবং নৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ। তা-ই সংবিধানের লক্ষ্য-উদ্দেশ্য ও গতিপথের সাথে সম্পৃক্ত। এ কারণেই ১৯৭২ সালের সংবিধান তা নিশ্চিত করেছিলো। সংবিধানের সৌধ এভাবেই নির্মাণ করা হয়েছে। সৌধের ভিত্তিমূলে রয়েছে প্রধান বিচারপতি বা বিচারবিভাগের অবস্থান।
কিন্তু বিগত আওয়ামী লীগ সরকার কোনো পর্যালোচনা ছাড়া, কোনো কারণ ছাড়া, মনগড়া ও খেয়াল-খুশিমতো প্রধান বিচারপতির পরিবর্তে স্পিকারের নিকট রাষ্ট্রপতির শপথ গ্রহণে পদক্ষেপ নিয়েছিলো। এই ধরনের রাষ্ট্রীয় পদের শপথ পরিচালনা থেকে প্রধান বিচারপতিকে অপসারণ করা— মারাত্মক আত্মঘাতী পদক্ষেপ।
রাষ্ট্রপতি এবং প্রতিরক্ষা কর্মবিভাগসমূহের সর্বাধিনায়ককে শপথবাক্য পাঠ করাবেন বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতি। এর মধ্য দিয়েও প্রজাতান্ত্রিকতার বৈশিষ্ট্য প্রতিফলিত হয় এবং সুরক্ষিত হয়। শাসনবিভাগের সাথে বিচারবিভাগের ভারসাম্য প্রতিষ্ঠা না হলে প্রজাতন্ত্রের চরিত্র ক্ষুণ্ন হয়। পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে বিগত ফ্যাসিবাদী সরকার সংবিধানের ক্ষমতা-কাঠামোকে ধ্বংস করার অভিপ্রায়ে বিচারবিভাগকে গুরুত্বহীন করার আয়োজন করেছিলো। রাষ্ট্রপতির শপথ পাঠ— প্রধান বিচারপতির নিকট থেকে স্থানান্তর করা এক ভয়ঙ্কর পরিকল্পনা। এতে প্রধান বিচারপতি এবং বিচারবিভাগের মর্যাদা বিপজ্জনকভাবে ক্ষুণ্ন হয়েছে। রাষ্ট্রের কর্তৃত্ববাদী চরিত্র প্রকাশিত হয়েছে; প্রজাতন্ত্রের নয়।
বিচারবিভাগ হলো রাষ্ট্রের অন্যতম স্তম্ভ, যা নাগরিকদের অধিকার ও সংবিধানের মর্যাদা রক্ষা করে। বিচারবিভাগের মর্যাদা ক্ষুণ্ন করা, খর্ব করা বা কলুষিত করার অর্থ হলো— রাষ্ট্র ধ্বংসের পথ উন্মুক্ত করা।
রাষ্ট্রপতিকে শপথ বাক্য পাঠ করানোর মাধ্যমে প্রধান বিচারপতিকে প্রজাতন্ত্র— যে ‘সম্মানসূচক মুকুট’ দিয়ে ছিলো তা বিগত ফ্যাসিস্ট সরকার ইচ্ছাকৃতভাবে কেড়ে নিয়েছে। এটা বিচারবিভাগের ক্ষমতা ও মর্যাদার উপর অন্যায়-আঘাত।
১৯৭২ সালের সংবিধানে প্রজাতন্ত্রের বৈশিষ্ট্য এবং চরিত্র যতোটুকু সুরক্ষা দেয়া হয়েছিলো, আওয়ামী লীগ অতি দ্রুত তা ছুঁড়ে ফেলে দিয়েছে। বাংলাদেশ নামক প্রজাতন্ত্রকে আওয়ামী লীগ নামক দলটি কীভাবে দেখতে চায়— তার প্রতিফলন ঘটেছে তাদের আনীত সংবিধানের চতুর্থ ও পঞ্চদশ সংশোধনীতে। রাষ্ট্রপতির শপথ স্পিকারের নিকট; এমন দেশ খুঁজে পাওয়াও দুষ্কর ।
বিশ্বের গণতান্ত্রিক দেশসমূহের সাথে সামঞ্জস্য রেখে এবং প্রজাতন্ত্রের বৈশিষ্ট্য পুনরুদ্ধারে— রাষ্ট্রপতি, স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের শপথ প্রধান বিচারপতি কর্তৃক পরিচালিত হবে, এ বিধান বাংলাদেশে আবার চালু বা পুনর্বহাল করতে হবে।
প্রজাতন্ত্রের গণতান্ত্রিক ও শাসনতান্ত্রিক ব্যবস্থা বিকাশের স্বার্থেই তা করা প্রয়োজন।
লেখক: গীতিকবি ও সংবিধান বিশ্লেষক
faraizees@gmail.com

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
গণভবন পরিদর্শন প্রধান উপদেষ্টার: জাদুঘরের কাজ দ্রুত করার নির্দেশ
পরিদর্শনকালে সঙ্গে ছিলেন উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান, নাহিদ ইসলাম এবং আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া ও প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মাহফুজ আলম। প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং জানায়, মুহাম্মদ ইউনূস উপদেষ্টাদের জাদুঘর বিষয়ক বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে পরামর্শ করে ডিসেম্বরের মধ্যে জাদুঘরের প্রস্তাব চূড়ান্ত করতে বলেছেন। গত ১৫ বছর ধরে ক্ষমতাচ্যুত স্বৈরাচারী শেখ হাসিনার বাসভবন হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছিল গণভবন, যা তার দমন-পীড়ন এবং নিষ্ঠুর শাসনের প্রতীক হয়ে ওঠে। ধ্বংসাবশেষ পরিদর্শনকালে ড. ইউনূস বলেন, এই জাদুঘরে তার অপশাসনের স্মৃতি এবং তাকে ক্ষমতা থেকে উৎখাত করার সময় মানুষ যে ক্ষোভ প্রকাশ করেছিল তা সংরক্ষিত থাকবে। ৫ই আগস্ট শেখ হাসিনা বাংলাদেশ থেকে পালিয়ে ভারত চলে যাওয়ার কয়েক মুহূর্তের মধ্যে কয়েক লাখ বিক্ষোভকারী ঝড়ের বেগে গণভবনে ঢুকে পড়েন। বিক্ষোভকারীরা গণভবনের দেয়াল ও কক্ষে গ্রাফিতি এঁকে এবং ‘খুনি হাসিনা’র মতো প্রতিবাদী নোট লিখে তাদের ক্ষোভ প্রকাশ করেন। প্রধান উপদেষ্টা বলেন, শেখ হাসিনার কুখ্যাত নিরাপত্তা সংস্থাগুলো গোপনে শত শত ভিন্নমতাবলম্বী ও বিরোধী কর্মীকে আটক রেখেছিল যে ‘আয়নাঘর’-এ, তার একটি রেপ্লিকাও গণভবনের জাদুঘরে নির্মাণ করা উচিত। আয়নাঘর দর্শকদের গোপন বন্দিদের নির্যাতনের কথা মনে করিয়ে দেবে। এ সময় তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা নাহিদ ইসলাম বলেন, ২০০৯ সাল থেকে শুরু হওয়া হাসিনা শাসনের অপকর্মগুলো জাদুঘরে যত্ন সহকারে সংরক্ষণ করা হবে। কীভাবে বিপ্লব ও বিদ্রোহের স্মারক জাদুঘর নির্মাণ করা হয়েছে তা জানতে তারা অন্যান্য দেশের বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে পরামর্শ করছেন।

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ঢাকায় মানবাধিকার অফিস খুলতে চায় জাতিসংঘ by মিজানুর রহমান
যেখানে তিনি সামপ্রতিক ছাত্র-আন্দোলনে সম্পৃক্ত প্রতিবাদী শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন। ঢাকায় জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থা এবং কূটনৈতিক মিশনগুলোর প্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলবেন। সফরের সমাপনীতে একটি সংবাদ সম্মেলনে অংশ নিবেন। সংবাদ সম্মেলনটি উন্মুক্ত নয় বরং প্রবেশাধিকার রয়েছে এমন মিডিয়ার প্রতিনিধিরাই তাতে ঢুকতে পারবেন।
মানবাধিকার অফিসের কাজ এবং অন্যান্য প্রসঙ্গ: ১৯৯৩ সালে জেনেভায় অফিস অব দ্য ইউনাইটেড ন্যাশন্স হাই কমিশনার ফর হিউম্যান রাইটস (ওএইচসিএইচআর)-এর কার্যক্রম শুরু হয়। এখন পর্যন্ত বিশ্বের ১৭টি দেশে ওএইচসিএইচআর কান্ট্রি অফিস খুলতে পেরেছে। ব্যাংককসহ কিছু জায়গায় লিমিটেড স্কেলে তাদের রিজিওনাল অফিস রয়েছে। কান্ট্রি অফিস রয়েছে এমন দেশ হলো- বুরকিনা ফাসো, কম্বোডিয়া, চাদ, গুয়েতেমালা, গায়েনা, হন্ডুরাস, লাইবেরিয়া, মৌরিতানিয়া, মেঙিকো, নাইজার, প্যালেস্টাইন, সিরিয়া, সুদান, তিউনিসিয়া এবং ইয়েমেন। সেগুনবাগিচার পর্যালোচনায় ধরা পড়েছে কোনো না কোনো সংকটে রয়েছে এমন দেশেই ওএইচসিএইচআর কান্ট্রি অফিস খুলতে পেরেছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, গত মাসে ঢাকায় মানবাধিকার অফিস খোলার প্রস্তাব আসে। অবিশ্বাস্য দ্রততায় এ সংক্রান্ত একটি চুক্তির খসড়া পাঠায় জেনেভা। প্রস্তাবে বলা হয়, সবকিছু ঠিক থাকলে অক্টোবরে ভলকার তুর্কের সফরে খসড়া চুক্তিটি সই হতে পারে। প্রস্তাবে আরও বলা হয়, ঢাকায় জাতিসংঘের মানবাধিকার অফিস চালু হলে সেটি মানবাধিকার সমুন্নত ও বিকাশের স্বার্থে নীতি প্রণয়ন, বাস্তবায়ন এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে সহায়তা করবে। বাংলাদেশ মানবাধিকার বিষয়ক আন্তর্জাতিক যে সব সনদ অনুসমর্থন করেছে তার সঙ্গে সঙ্গতি রেখে আন্তর্জাতিক বাধ্যবাধকতা পূরণে প্রস্তাবিত দপ্তর পরামর্শ ও কারিগরি সহায়তা দেবে। আন্তঃসীমান্ত মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনার সুরাহার জন্য জাতিসংঘের প্রস্তাবিত অফিসটি বলপূর্বক গুম বিষয়ক কমিশনসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাসমূহকে কারিগরিসহ নানা রকম সহায়তা দেবে। বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের প্রক্রিয়ায় মানবাধিকারের দৃষ্টিভঙ্গিকে যুক্ত করার ওপর জোর দেবে। নীতি প্রণয়নে সহায়তার জন্য ওএইচসিএইচআর-এর পক্ষ থেকে সুনির্দিষ্ট গবেষণা পরিচালিত হতে পারে। জাতিসংঘের প্রস্তাব অনুযায়ী ঢাকায় প্রস্তাবিত ওএইচসিএইচআর অফিস পুলিশ এবং আইন সংস্কারে প্রয়োজনীয় সুপারিশ ও কারিগরি সহায়তাসহ সামগ্রিক সংস্কার প্রক্রিয়ায় সহায়তা দেবে। সরকারি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অফিস খোলার চুক্তির খসড়ায় জাতিসংঘের প্রতিনিধিদের অবাধে বিভিন্ন জায়গায় যাওয়া এবং প্রয়োজনীয় তথ্য পাওয়া নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে। অর্থাৎ ভবিষ্যতে কোনো গ্রেপ্তার, আটক এবং জেরা করার প্রক্রিয়ায় ওএইচসিএইচআর প্রতিনিধিদের অবাধে প্রবেশাধিকার দিতে হবে।
প্রস্তাবে সায় নয় যে কারণে: সেগুনবাগিচার দায়িত্বশীল প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, ওএইচসিএইচআর-এর প্রস্তাবটি আত্মঘাতী। এটি গ্রহণ করলে এবং তাদের অফিস খোলার চুক্তি সই করলে ভবিষ্যতে রাষ্ট্র হিসাবে বাংলাদেশের বড় ধরনের বিপদে পড়তে হবে। প্রথমত: এ অঞ্চলের অন্য দেশগুলো বাংলাদেশের ওপর চাপ তৈরি হতে পারে। কারণ দক্ষিণ এশিয়ার অনেক দেশেই ওএইচসিএইচআর-এর অফিস খোলার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যাত হয়েছে। কর্মকর্তারা বলছেন, বাংলাদেশে ৩৬ জুলাইয়ের অভ্যুত্থানের পর থেকে স্বার্থান্বেষী নানা গোষ্ঠী সক্রিয়। ওএইচসিএইচআর-এর প্রস্তাব এসেছে ৫ই আগস্টের এক মাসের মাথায় এবং তা পারসু হচ্ছে নানাদিক থেকে। বাংলাদেশে জাতিগত কোনো সংঘাত হয়নি যে, এখানে জাতিসংঘের মানবাধিকার অফিস খুলতে হবে- এমন মন্তব্য করে এক কর্মকর্তা বলেন, সংঘাতপ্রবণ দেশগুলোতে ওএইচসিএইচআর-এর অফিস রয়েছে। তাছাড়া ওই অফিসের বিরুদ্ধে দুনিয়ার দেশে দেশে সমকামিতার মতো সংবেদনশীল বিষয় প্রমোট করার অভিযোগ রয়েছে। সমকামিতা সব ধর্মে নিষিদ্ধ। অফিস খুলে এটি প্রমোশনের সুযোগ দিলে সরকার বাংলাদেশের সর্ব ধর্মের ধর্মভীরু মানুষের ক্ষোভের মুখে পড়বে। ফলে নেতিবাচক ধারণা সৃষ্টির এমন আশঙ্কাকে রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও কূটনৈতিক প্রেক্ষাপট থেকে দেখাটা সমীচীন বলে মনে করছে সেগুনবাগিচা। বলা হয়, জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনারের দপ্তর সব সময় দাতা সংস্থার অর্থায়নে পরিচালিত হয়। দাতা সংস্থাগুলো ওএইচসিএইচআরকে যেকোনো দেশের অভ্যন্তরীণ নীতি প্রণয়নে প্রভাব সৃষ্টির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে। ফলে একটি দেশের কোনো নীতি যখন দাতা দেশগুলোর বিপক্ষে যায়, তখন তারা মানবাধিকারকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে ওএইচসিএইচআর এর মাধ্যমে। জাতিসংঘে কাজ করছেন এমন একাধিক কূটনীতিক জানান, জাতিসংঘের মানবাধিকার অফিস কখনো কখনো এমন এজেন্ডার বিকাশে কাজ করে থাকে যেগুলো সর্বজনীন নয়। যেমন তারা সমকামীদের অধিকার প্রতিষ্ঠা, সমন্বিত যৌন শিক্ষার বিকাশে কাজ করে যা অনেক দেশের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক স্বাধীনতার পরিপন্থি। নাম প্রকাশ না করার শর্তে সাবেক একজন কূটনীতিক বলেন, কিছু স্পর্শকাতর পশ্চিমা এজেন্ডা বাস্তবায়নে জাতিসংঘের মানবাধিকার অফিস কাজ করে। অথচ চুক্তি করা বা অফিস স্থাপনের অনুমতি দেয়ার পর তাদের বিরুদ্ধে কোনো দেশই ব্যবস্থা নিতে পারে না। এটি করলে উভয় সংকট তৈরি হয়।

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
সিলেটে যৌথবাহিনীর সঙ্গে মাঠে আরিফ by ওয়েছ খছরু
৫ই আগস্টের প্রেক্ষাপট পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে নগরের হকার্স মার্কেট মাঠে থাকা হাজারো হকার আগের মতো সড়কে নেমে আসেন। নগরের ফুটপাথে বসান অস্থায়ী বাজারও। এতে নগরে বিশৃঙ্খল অবস্থা দেখা দেয়। বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনিক উদ্যোগ শুরু হয়। এতে হস্তক্ষেপ করেন পুলিশ কমিশনার মো. রেজাউল করিম। শনিবার হকারসহ সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তাদের নিয়ে বৈঠক করেন। সেখানে হকাররা কথা দিয়েছিলেন ফুটপাথ ছেড়ে হকার্স মাঠে চলে যাবেন। তাদের কথার সত্যতা পুরোপুরি মিলছে না। এখনো সড়কে রয়েছে হকারদের অবস্থান। বিকাল হলেই নগরের গুরুত্বপূর্ণ বন্দরবাজার, জিন্দাবাজার সহ কয়েকটি এলাকায় হকাররা সড়কে নেমে আসে। এতে নগরের পরিবেশে যেমনি বিশৃঙ্খলা হচ্ছে তেমনি যানজটও প্রকট হচ্ছে। বিশেষ করে বন্দরবাজার এলাকা পুরোপুরি অচল হয়ে পড়ে। হকাররা কথা না রাখায় রোববার থেকে নগরের ফুটপাথ উচ্ছেদে অভিযান শুরু করে যৌথবাহিনী। সঙ্গে ছিলেন সিলেট সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তারাও। যৌথবাহিনীর সদস্যরা মাঠে নামায় সড়কে থাকা হকাররা দিনের বেলা পিছু হটলেও সন্ধ্যার পর থেকে সড়ক দখলে নেয়। গতকাল সকাল থেকে যৌথবাহিনীর সদস্যরা ফের অভিযানে নামেন। সেই অভিযানে যোগ দেন সিলেটের সাবেক মেয়র ও বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আরিফুল হক চৌধুরী। তিনি সিলেট সিটি করপোরেশন ও যৌথবাহিনীর সহযোগী হিসেবে এসে মাঠে নামেন। এ সময় মাঠে সাবেক এই মেয়রকে দেখে কয়েকটি মার্কেটের ব্যবসায়ীরাও এগিয়ে আসেন। নগরের সিটি সুপার মার্কেট এলাকায় তারা অভিযান চালান। এ সময় দেখা যায় ওই মার্কেটের নিচতলার রাস্তা অবৈধভাবে দখল করে মালামাল রেখেছেন। পাশাপাশি দোকানের সামনের বিস্তৃত অংশও দখলে রেখে ব্যবসা করছিলেন। সাবেক মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী এ সময় ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে কথা বলেন। পরে আলোচনাক্রমে অবৈধ অংশটি সরিয়ে ফেলা হয়। অভিযানের সময় সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার (অতিরিক্ত দায়িত্ব ট্রাফিক) বিএম আশরাফউল্লাহ তাহের সাংবাদিকদের জানিয়েছেন- ‘নগর পরিষ্কার করতে যৌথবাহিনীর সঙ্গে পুলিশও কাজ করছে। আমরা চাইছি নগরীর ফুটপাথ হকারমুক্ত হোক। এ কারণে সিটি করপোরেশন, সেনাবাহিনী ও পুলিশ একসঙ্গে অভিযান চালাচ্ছে।’ তিনি বলেন- ‘সিটি করপোরেশনের মার্কেটের অবৈধ অংশ ব্যবসায়ীরাই সরিয়ে ফেলেছেন। তাদের সহযোগিতা করা হয়েছে। এদিকে নগরের এই জঞ্জাল দূর করতে পুলিশের ভূমিকা অগ্রণী বলে জানিয়েছেন সিলেট সিটি করপোরেশনের বিদ্যুৎ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রুহুল আলম।
তিনি মানবজমিনকে জানিয়েছেন- পুলিশের অ্যাকশন ঠিক থাকলে হকাররা সড়কে বসতে পারবে না। এজন্য পুলিশকে কঠোর হওয়ার আহ্বান জানান তিনি। বলেন- হকার নেতারা পুলিশ কমিশনারের সঙ্গে বৈঠকে যে কথা দিয়ে এসেছিলেন- সে কথা কিছু কিছু দৃশ্যমান হচ্ছে। কয়েকজন ফুটপাথ ছেড়ে মাঠে গেলেও এখনো সড়কে অধিকাংশ হকারই রয়ে গেছেন। সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী নূর আজিজুর রহমান জানিয়েছেন- সিলেটের জঞ্জাল দূর করতে আমরা নগরবাসীর সহযোগিতা কামনা করেছি। এতে সাড়া দিয়ে সাবেক মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী সহযোগিতা করতে এগিয়ে এসেছেন। তিনিও অভিযানে সঙ্গে ছিলেন। সঙ্গে স্থানীয় ব্যবসায়ীরাও সহযোগিতা করেছেন। এ অভিযানে সিটি করপোরেশনের এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মতিউর রহমান সহ সিটি করপোরেশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ছিলেন। তিনি বলেন- সিলেট সিটি করপোরেশনের হকার্স মার্কেট মাঠে হকারদের জন্য স্থান বরাদ্দ রয়েছে। ইতিমধ্যে হকাররা যেসব দাবি করেছিলেন সেসব দাবি পূরণ করা হয়েছে। সর্বশেষ নতুন একটি রাস্তা বের করার কাজ চলছে। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে সে কাজও শেষ হয়ে যাবে।

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
জাপানে নির্বাচনী ফলাফলে সরকার গঠনে অনিশ্চয়তা by রাহমান মনি
ইশিবার লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি) এবং তাদের জোটের সহযোগী দল কোমেইতো পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষের নির্বাচনে সম্মিলিতভাবে ২১৫টি আসন পেয়েছে। আগের বারের চেয়ে তাদের আসন সংখ্যা কমেছে। এর আগে পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষে তাদের আসন সংখ্যা ছিল ২৭৯।
নির্বাচনে প্রধান বিরোধীদল কনস্টিটিউশনাল ডেমোক্রেটিকপার্টি অব জাপান (সিডিপিজে) সবচেয়ে বেশি আসন পেয়েছে। তাদের আসন সংখ্যা বেড়ে ১৪৮ হয়েছে। আগে তাদের আসন সংখ্যা ৯৮ ছিল। জাপানকে শাসন করতে ৪৬৫ আসন বিশিষ্ট নিন্মকক্ষের যেকোনো দল বা জোটের ২৩৩টি আসনে সংখ্যাগরিষ্ঠতার প্রয়োজন।
সাংবিধানিক বিধি অনুযায়ী সরকার গঠন করতে জোট গঠনের জন্য দলগুলো হাতে ৩০ দিন সময় পাবে। এক মাসেরও আগে প্রধানমন্ত্রী হওয়া শিগেরু ইশিবা কতোদিন ক্ষমতায় টিকে থাকতে পারবেন, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। নির্বাচনে ছোট দলগুলোর অর্জনও উল্লেখযোগ্য। আলোচনায় তাদের ভূমিকাও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। হবে দর কষাকষি। যার সুযোগ নিবে ছোট ছোট দলগুলি।
নির্বাচনী ফলাফলের পর সিডিপিজের নেতা ইয়োশিহিকো নোদা বলেছেন, ক্ষমতাসীন জোটকে উৎখাত করার চেষ্টা করতে তিনি অন্য দলগুলোর সঙ্গে কাজ করবেন।
গত এক দশকের মধ্যে এটিই এলডিপি’ নেতৃত্বাধীন জোটের জন্য সবচেয়ে খারাপ ফলাফল। তহবিল জনিত কেলেঙ্কারি ও জীবনযাপন ব্যয় জনিত সংকটকে কেন্দ্র করে ভোটারদের অনেকে তাদের প্রত্যাখ্যান করেছেন বলে বিশ্লেষকদের অভিমত।
মাত্র একমাস আগে ক্ষমতাসীন জোটের অন্যতম প্রধান শরীক লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি) প্রধান হয়ে ফুমিওকিশিদার স্থলাভিষিক্ত হন শিগেরুইশিবা।
প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেয়ার কয়েকদিন আগে এলডিপি’র নতুন নেতা শিগেরুইশিবা এই নির্বাচনের ঘোষণা দেন। কিন্তু নির্বাচনী ফলাফলে তার দলের সংসদীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারানোয় তার সিদ্ধান্ত নিজ এবং দলের জন্য বুমেরাং হয়েছে। এতে তার রাজনৈতিক ভবিষ্যতও প্রশ্নের মুখে পড়েছে। সোমবার এক বক্তৃতায় শিগেরুইশিবা বলেছেন, এলডিপি এবারের নির্বাচনে ‘কঠোর রায়’ পেয়েছে। তবে নির্বাচনের ফলাফল যাই আসুক তা মেনে নেয়ার ঘোষণাও দিয়েছেন তিনি। ২৮ অক্টোবর রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম এনএইচকে-তে প্রচারিত ভাষণে শিগেরু বলেছেন, ভোটাররা আমাদের একটি কঠোর রায় দিয়েছেন এবং আমাদের এই ফলাফল বিনীতভাবে মেনে নিতে হবে।
রোববারের নির্বাচনে ইশিবার লিবার্যাল ডেমোক্রেটিক পার্টি তাদের ইতিহাসে সবচেয়ে খারাপ ফল করেছে। ১৯৫৫ থেকে জাপানের শাসনভার বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এককভাবে এলডিপির কাছেই থেকেছে।

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
শেখ হাসিনার সহযোগীরা ১৭ বিলিয়ন ডলার সরিয়েছে
এক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয়েছে নতুন শেয়ারহোল্ডারদের জন্য ঋণ পদ্ধতি এবং আমদানি চালান স্ফীত করে দেখানোর মাধ্যম। গভর্নর আরও বলেন, যেকোনো আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে এটি হচ্ছে সবচেয়ে বড়, সবচেয়ে বড় ব্যাংক ডাকাতি। এর পেছনে রাষ্ট্রীয় মদত ছিল। গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের সহায়তা ছাড়া এটা কখনো ঘটেনি। গোয়েন্দা কর্মকর্তারা ব্যাংকগুলোর সাবেক প্রধান নির্বাহীদের মাথায় অস্ত্র না ধরলে এটা হতে পারে না। গভর্নর মানসুর আরও বলেন, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এস আলম শিল্পগোষ্ঠীর প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সাইফুল আলম ও তার সহযোগীরা ডিজিএফআই’র কিছু কর্মকর্তার সহায়তায় ব্যাংকগুলোর নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নিয়েছেন। তারপর এসব ব্যাংকিং ব্যবস্থা থেকে তারা সর্বনিম্ন ১০ বিলিয়ন ডলার পাচার করেছেন। প্রতিদিনই তাদের নামে ঋণ অনুমোদন দিয়েছেন তারা নিজেরা। সাইফুল আলমের পক্ষে আইনি প্রতিষ্ঠান কুইন ইমানুয়েল উরকুহার্ট অ্যান্ড সুলিভান এক বিবৃতিতে বলেছে, গভর্নর আহসান মানসুরের অভিযোগ অসত্য। এস আলম গ্রুপ এবং বাংলাদেশে নেতৃস্থানীয় আরও কিছু ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অন্তর্বর্তী সরকার যে সমন্বিত প্রচারণা চালাচ্ছে তাতে যথাযথ প্রক্রিয়ার মৌলিক নীতির প্রতি সামান্যতম সম্মান দেখাতে ব্যর্থ হয়েছে। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, এর ফলে এরই মধ্যে বিনিয়োগকারীদের আস্থা কমে গেছে। আইনশৃঙ্খলার অবনতিতে তা ভূমিকা রাখছে। তারা বলে, কোম্পানির রেকর্ড ও অবদানের প্রেক্ষিতে গভর্নর যে বক্তব্য দিয়েছেন তাকে আমরা বিস্ময়কর ও অযৌক্তিক বলে মনে করছি।
বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর মিডিয়া বিষয়ক অনুসন্ধানের বিষয়টি দেখাশোনা করে ইন্টার সার্ভিসেস পাবলিক রিলেশন্স ডিরেক্টরেট। তাদের কাছে ফিন্যান্সিয়াল টাইমস মন্তব্য চাইলে কোনো সাড়া দেয়নি। এ ছাড়া মন্তব্যের জন্য ডিজিএফআই’র সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেনি তারা। টাইমস আরও লিখেছে, প্রায় ১৭ কোটি মানুষের বাংলাদেশে মোট দুই দশক ক্ষমতায় ছিলেন শেখ হাসিনা। বাংলাদেশ হলো- বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহৎ গার্মেন্ট রপ্তানিকারক। তার এই শাসন ভোট জালিয়াতির অভিযোগে অভিযুক্ত, বিরোধীদের জেল ও নির্যাতনের অভিযোগে অভিযুক্ত এবং ব্যাপক পরিমাণ দুর্নীতির অভিযোগে অভিযুক্ত। আগস্টে তিনি পালিয়ে ভারতে চলে গেছেন। বর্তমানে তিনি কোথায় আছেন তা অজানা। এদিকে তিনি পালিয়ে যাওয়ার পর অন্তর্বর্তী সরকারের নেতৃত্বে এসেছেন নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূস। এরপরই শেখ হাসিনার শাসকগোষ্ঠীর সদস্য এবং তাদের সহযোগীরা যেসব সম্পদ অন্যায়ভাবে সংগ্রহ করেছেন তা ফেরত আনার প্রত্যয় এই সরকার বার বার ঘোষণা দিয়েছে।
আন্তর্জাতিক অর্থ তহবিল আইএমএফের একজন সাবেক কর্মকর্তা আহসান মানসুর। তিনি বর্তমানে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর।
গত মাসে তিনি ফিন্যান্সিয়াল টাইমসকে বলেছেন, শেখ হাসিনার মিত্রদের বিদেশি সম্পত্তির বিষয়ে তদন্তে বৃটেনের সহায়তা চেয়েছেন। অভিযোগ আছে, শেখ হাসিনার শাসনের অধীনে শীর্ষ স্থানীয় ব্যাংকগুলোর পরিচালনা পরিষদের সদস্যদের টার্গেট করা হয়েছিল। তিনি আরও বলেন, গোয়েন্দা সংস্থার লোকজন পরিচালনা পরিষদের সদস্যদেরকে তাদের বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে গিয়েছিলেন অন্য স্থানে, যেমন হোটেলে। এরপর অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে তাদের শেয়ার ‘মিস্টার এস আলম’-এর ব্যাংকের কাছে বিক্রি করতে বলা হতো। তাদেরকে পরিচালনা পরিষদ থেকে পদত্যাগ করতে বলা হতো। একটির পর আরেকটি ব্যাংকে তারা এটা করেছে।
একটি ব্যাংকের সাবেক একজন প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ফিন্যান্সিয়াল টাইমসকে বলেছেন, জোরপূর্বক তাকে তুলে নিয়ে পদত্যাগে বাধ্য করা হয়েছিল। বাংলাদেশের সবচেয়ে অন্যতম বড় ঋণদাতা ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশের সাবেক প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আবদুল মান্নান বলেন, ২০১৩ সালের তখনকার সরকারের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের পক্ষ থেকে তিনি চাপের মুখে ছিলেন। এর মধ্যে সাবেক প্রধানমন্ত্রীর অফিস থেকে যে নাম পাঠানো হবে তাদেরকে পরিচালনা পরিষদে রাখার চাপ দেয়া হয়। ব্যাংকের একজন বিদেশি পরিচালকের ব্যবহৃত হোটেল রুমে সরকারি এজেন্সির লোকজন তল্লাশি চালিয়েছিল। মান্নান আরও বলেন, ২০১৭ সালে পরিচালনা পরিষদের এক মিটিংয়ে যাওয়ার পথে তার গতিপথ পাল্টে দেয়া হয় এবং প্রতিরক্ষা বিষয়ক সিনিয়র এক কর্মকর্তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে নিয়ে যাওয়া হয়। তারপর তাকে জোরপূর্বক পদত্যাগে পুরো একটি দিন সেখানে রাখা হয়। তিনি আরও বলেন, ভুয়া স্টেশনারির কাগজে তারা ব্যাংকের কাগজপত্র প্রস্তুত করে। উল্লেখ্য, সেপ্টেম্বরে কেন্দ্রীয় ব্যাংক তাকে ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের চেয়ার নিযুক্ত করেছিল। তিনি বলেন, এরপর আমাকে একটি কাগজে পদত্যাগপত্রে স্বাক্ষর করতে হয়।
গত এক দশক ধরে ব্যাংকিং খাতে বৈচিত্র্য আনেন এস আলম। তার গ্রুপের ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে, তারা ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ এবং ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকসহ সাতটি ব্যাংকে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বিনিয়োগ করেছে।
গভর্নর মানসুর বলেছেন, শেখ হাসিনা সরকারের সময় দেউলিয়া হয়ে যাওয়া প্রায় এক ডজন ব্যাংকে অডিট সম্পন্ন করার পর চুরি করা অর্থ ফেরত আনার লক্ষ্য রয়েছে বাংলাদেশের। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক এবং অভ্যন্তরীণ আদালতে আমরা তথ্যপ্রমাণ হিসেবে এসব অডিট রিপোর্ট ব্যবহার করতে চাই। শেখ হাসিনা শাসকগোষ্ঠীর পতনের পর ব্যাংকগুলোর শেয়ার বিক্রি আটকে দেয় বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার। মানসুর বলেন, কর্তৃপক্ষ এখন ভালো মানের জাতীয় বা আন্তর্জাতিক কৌশলগত বিনিয়োগকারীদের পুনঃপুঁজির জন্য ব্যাংকের শেয়ার বিক্রির পরিকল্পনা করেছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক ব্যাংকের দুর্দশাগ্রস্ত সম্পদ পরিচালনা বা নিষ্পত্তি করার জন্য একটি সম্পদ ব্যবস্থাপনা ফার্ম স্থাপনের পরিকল্পনা করেছে। তিনি বলেন, পাচার করা এই অর্থ ফেরত আনতে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক আইনি প্রতিষ্ঠানকে ভাড়া করবে। দুবাই, সিঙ্গাপুর, বৃটেনে এবং অন্যত্র যেসব শেয়ারহোল্ডারের সম্পদ আছে তা পুনরুদ্ধারেরর চেষ্টা করছে বাংলাদেশ।

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
মোহাম্মদপুরে অভিশপ্ত কালচার
রোববার মোহাম্মদপুর থানায় গিয়ে দেখা যায়, আগের দিন রাতভর চলা যৌথবাহিনীর অভিযানে ৩৪ জনকে আটক করে নিয়ে আসা হয়েছে। তার মধ্যে নবোদয় হাউজিং এলাকার স্বামী-স্ত্রী আল আমিন ও রিয়াও রয়েছেন। রোববার সকালে আদালতে পাঠানোর জন্য ৩৩ জন পুরুষকে প্রিজনভ্যানে ওঠানো হলেও রিয়াকে নেয়া হয় আলাদা গাড়িতে। এ সময় রিয়া বলেন, নবোদয় হাউজিং এলাকায় আমাদের বাসা। স্বামীর সঙ্গে যৌথবাহিনীর সদস্যরা আমাকেও আটক করেছে। তিনি বলেন, আমি বা আমার স্বামী কিছুই করিনি। আমরা রাতে খাবার খেতে বের হয়েছিলাম। সেখান থেকেই আমাদের আটক করে নিয়ে আসা হয়। এ সময় প্রিজনভ্যানের মধ্য থেকে রিয়ার স্বামী চিল্লাইয়ে বলছিল- আমার স্ত্রী কিছু করেনি। আমাদের কাছ থেকে কিছুই পাইনি।
মোহাম্মদপুরের ছিনতাইয়ের ঘটনা নিয়ে গতকাল মোহাম্মদপুর থানায় সংবাদ সম্মেলন করেছেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের তেজগাঁও বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) রুহুল কবির খান। ডিসি বলেন, মোহাম্মদপুরে কিশোর গ্যাং একটি অভিশপ্ত কালচার। ৫ই আগস্টের আগে থেকে এ কালচার বহুদিন ধরে চলমান ছিল। তবে কিশোর গ্যাং এখন অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে। তারপরেও তাদের অস্তিত্ব ফেরাতে রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা বা রাজনৈতিক মদতদাতাদের বিরুদ্ধে যথোপযুক্ত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। মোহাম্মদপুরে পুলিশ, র?্যাব ও সেনাবাহিনী জনগণের মাঝে স্বস্তি ফিরিয়ে আনতে দিন-রাত কাজ করছে। তিনি বলেন, মোহাম্মদপুরের শের শাহ্ শুরি রোড থেকে দু’জন অস্ত্র বানানো কারিগরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের কাছ থেকে আমরা ৪০টি সামুরাই এবং বিভিন্ন ধারালো অস্ত্র উদ্ধার করেছি। এ ছাড়া বুদ্ধিজীবী কবরস্থান এলাকায় ডাকাতির প্রস্তুতিকালে ৯ জনকে গ্রেপ্তার করেছি। তাদের কাছ থেকে ডাকাতির বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে। এ ছাড়াও সম্প্রতি মোহাম্মদপুর হাউজিং লিমিটেড এলাকায় নেসলে কোম্পানির গাড়ি থামিয়ে ডাকাতির ঘটনায় জড়িত চারজনের মধ্যে দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের একজন ১৬৪ ধারায় আদালতে জবানবন্দি প্রদান করেছেন। মোহাম্মদপুর থানা এলাকায় অপরাধ প্রতিরোধে এবং মোহাম্মদপুরবাসীর শান্তি-স্বস্তি ও নিরাপত্তাবোধ বৃদ্ধি করার জন্য বিভিন্ন পেট্রোলিং, স্পেশাল অপারেশন ও ব্লক রেড দেয়া হচ্ছে। আশা করছি দ্রুতই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে চলে আসবে।
অপরদিকে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে- গত ২ দিনের বিশেষ অভিযানে বেশ কিছু চিহ্নিত সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজ গ্রেপ্তার হওয়ায় নিরাপত্তাহীনতায় থাকা মোহাম্মদপুরবাসীর মনে স্বস্তি ফিরে আসছে। সন্ত্রাস দমন এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে সেনাবাহিনীর কঠোর অবস্থান অব্যাহত থাকবে।
![]() |
| মোহাম্মদপুরে অভিযানকালে গ্রেপ্তারকৃত ছিনতাইকারী চক্র -ছবি নিজস্ব |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
তৃতীয় সংসারও টিকছে না মমতাজের by রিপন আনসারী ও আতাউর রহমান
সংরক্ষিত আসনসহ টানা তিনবারের সংসদ সদস্য মমতাজ বেগমের তৃতীয় স্বামী হচ্ছেন তারই চক্ষু হাসপাতালের (মমতাজ চক্ষু হাসপাতাল) চিকিৎসক ডাক্তার চঞ্চল। সুদর্শন চেহারার অধিকারী ডাক্তার চঞ্চল যেদিন মানিকগঞ্জ মমতাজ চক্ষু হাসপাতালে চিকিৎসক হিসেবে নিয়োগ পান সে থেকেই মমতাজ বেগমের দৃষ্টিতে পড়ে যান। তখনো মমতাজ মানিকগঞ্জ পৌর মেয়র মো. রমজান আলীর স্ত্রী। মমতাজ-রমজানের ঘরে তখন ছিল দুই কন্যা সন্তান। রমজানের সঙ্গেও তখন মমতাজের দাম্পত্য কলহ চলছিল। তারই মধ্যে ডাক্তার চঞ্চলের সঙ্গে মমতাজের ভালোবাসা আদান-প্রদান চলতে থাকে। ২০০৯ সালে তারা বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। দীর্ঘ ১০ বছরের অধিক সময় বেশ সুখেই চলছিল মমতাজ-চঞ্চল দম্পতির সাংসারিক জীবন। রমজান-মমতাজের ঘরের দুই সন্তানকে নিজের সন্তানের মতোই আদর সোহাগ দিয়ে বড় করেছেন ডাক্তার চঞ্চল।
সূত্রমতে, ২০২০ সালের পর থেকেই মমতাজ- চঞ্চলের দাম্পত্য জীবনে কলহ দেখা দেয়। দুজনের মধ্যে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বনিবনা হচ্ছিল না। কোনো এক রমজান মাসে তাদের মধ্যে ঝগড়া বিবাদের সৃষ্টি হলে মমতাজের স্বামী চঞ্চলের বাসা থেকে চলে আসেন। এরপর থেকেই টানা তিন বছরেরও অধিক সময় তাদের মধ্যে যোগাযোগ সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। দূরত্ব বেড়ে যাওয়ায় মমতাজ চক্ষু হাসপাতাল ছেড়ে দেন ডাক্তার চঞ্চল। এসবের সত্যতা মানবজমিনের কাছে নিশ্চিত করেছেন ডাক্তার চঞ্চল। চঞ্চল এবং মমতাজের জীবনে ঘটে যাওয়া অনেক অজানা তথ্য উদ্ঘাটন করেছে মানবজমিন। ২০২২ সালের ২৩শে আগস্ট সিংগাইর থেকে ঢাকা যাবার পথে ডাক্তার চঞ্চলের গাড়িতে আকস্মিক হামলা চালায় মমতাজের অনুসারীরা।
ডাক্তার চঞ্চল তার পেছনের ইতিহাস টেনে মানবজমিনকে বলেন, মেডিকেল কলেজে লেখাপড়া অবস্থায় এক সহপাঠীকে বিয়ে করেছিলাম। দুজনেই লন্ডনে ছিলাম। সেখানে দেড় বছর সংসার করার পর আমাদের মধ্যে ডিভোর্স হয়ে যায়। এরপর ২০০৪ সালে আমি লন্ডন থেকে বাংলাদেশে চলে আসি। ২০০৫ সালের জুলাই মাসে মানিকগঞ্জ শহরের মমতাজ চক্ষু হাসপাতালে চিকিৎসক হিসেবে যোগদান করি। যোগদানের পরপরই মমতাজ আমাকে বিয়ের প্রস্তাব দেন। তখনো আমি মমতাজের পেছনের সব ইতিহাস খুব ভালো জানতাম না। যখন দেখলাম একটা সংসার ছেড়ে বাচ্চাদের নিয়ে মমতাজ আমার সঙ্গে সংসার করতে চায় তখন আমার মধ্যে ইমোশন কাজ করতে শুরু করে। ফাইনাল সিদ্ধান্ত নেয়ার আগে আমরা দুজন দীর্ঘদিন সময় নেই। তারিখটা এই মুহূর্তে মনে না পড়লেও ২০০৯ সালের ডিসেম্বর মাসে আমরা বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হই। আমিও ওর দু’টি শিশু সন্তানদের নিজের সন্তানের মতোই দেখতাম। ওরা আমাকে বাবা বলে ডাকতো। আমাকে সন্তান নেয়ার কথাও সে বলেছিল। কিন্তু আমি ওর দুই শিশু সন্তানের দিকে তাকিয়ে সন্তান নেয়ার সিদ্ধান্ত নিতে পারিনি। এরপর মমতাজ সংরক্ষিত আসনের সংসদ সহ আরও দুইবার এমপি হলেন। বেশ ভালো মতোই চলছিল সংসার। আমিও সারা জীবন ওর সঙ্গে সংসার করতে চেয়েছিলাম। দেশ-বিদেশে ওর গানের অনুষ্ঠানের সবখানেই আমাকে নিয়ে যেত।
এরপর নানা কারণেই সাংসারিক কলহ শুরু হতে থাকে। বছর তিনেক আগে আমাদের মধ্যে কথাকাটাকাটি হয়। সময়টা ছিল কোনো এক রমজান মাস। আমি সেদিন এক কাপড়ে ওর বাসা থেকে বের হয়ে যাই। এরপর থেকেই মমতাজের সঙ্গে আমার কোনো ধরনের যোগাযোগ নেই। এরই মাঝে অনেক কিছুই শুনেছি, সেগুলো নিয়ে আমি কাউকে বিতর্কে জড়াতে চাই না।
ডিভোর্সের বিষয়ে চঞ্চল জানান, আমরা কেউ কাউকে ডিভোর্স দেইনি। পরবর্তীতে বিয়ে নিয়ে কোনো ভাবনা আছে কিনা- এ বিষয়ে চঞ্চল বলেন, নাকে খত দিয়েছি আর বিয়ে করবো না। পেরেশান থেকে মুক্ত হয়েছি, আলহামদুলিল্লাহ এখন ভালো আছি। হাসপাতাল ও রোগীদের নিয়েই ব্যস্ত সময় কেটে যাচ্ছে।
এদিকে এলাকায় গুঞ্জন উঠেছে মমতাজ বেগমের সঙ্গে তার ব্যক্তিগত এপিএস মাহমুদুল হাসান জুয়েলের একটা বিশেষ সম্পর্ক রয়েছে। তাকে নিয়ে বিদেশ ভ্রমণ করেছেন কণ্ঠশিল্পী মমতাজ। এ বিষয়ে চঞ্চল বলেন, এ নিয়ে আমি কিছু বলতে চাই না। সেটা আপনারা সবই জানেন।
মমতাজ বেগমের পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, ১৯৯০ সালের পর রশিদ সরকার মমতাজকে বিয়ে করেন। বিয়ের পর স্বামী-স্ত্রী মিলে বিভিন্ন জায়গায় গান গেয়ে বেড়াতেন। মমতাজ ও রশিদের ঘরে রয়েছে এক বাকপ্রতিবন্ধী ছেলে। গ্রাম থেকে উঠে এসে মমতাজ যখন গানের জগতে দেশে খ্যাতি অর্জন করতে থাকেন তখন সরকারের সঙ্গে সম্পর্কের অবনতি হয়। ওই সময় মমতাজের সঙ্গে মানিকগঞ্জ পৌরসভার মেয়র মো. রমজান আলীর সম্পর্ক গড়ে ওঠায় ২০০০ সালের পরে রশিদ সরকারের সঙ্গে বিয়ে বিচ্ছেদ হয়। সেই সময় মমতাজের জীবনে দ্বিতীয় ব্যক্তি হিসেবে আবির্ভাব হন মানিকগঞ্জ পৌরসভার মেয়র মো. রমজান আলী। ২০০১ সালে রমজান ও মমতাজ বেগম বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। পৌর মেয়র রমজান আলীও বিবাহিত ছিলেন। সে ঘরেও একাধিক সন্তান রয়েছে। গত ৫ই আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর সাবেক সংসদ সদস্য ও কণ্ঠশিল্পী মমতাজ বেগম আত্মগোপনে চলে যাওয়ায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। সাবেক মেয়র মোহাম্মদ রমজান আলীও আত্মগোপনে রয়েছেন।

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে অগ্রণী ভূমিকা রেখেছিলেন যেসব প্রবাসী
শেখ হাসিনা সরকারের দুর্নীতি, দুঃশাসন, খুন, গুম ও লুটপাটের কঠোর সমালোচনা করেছিলেন তারাও। ইউরোপ, আমেরিকা, কানাডা ও অষ্ট্রেলিয়াসহ বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে অনলাইন ও গণমাধ্যমে টকশোতে অংশ নিয়ে সরকারের নানা অনিয়মের বিরুদ্ধে সোচ্চার ভূমিকা রাখেন তারা। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরব থেকেছেন এসব প্রবাসী।
এদের মধ্যে লন্ডনের সাংবাদিক রেজা আহমদ ফয়সল চৌধুরী সুয়েব, যুক্তরাষ্ট্রের এম রহমান মাসুম, আলাউর খন্দকার, কানাডার ড. তাজ হাশমী, ফ্রান্সের সাইফুর সাগর ও অস্ট্রেলিয়ার মুন্নী চৌধুরী মেধাসহ আরো অনেকেই রয়েছেন। যারা ছিলেন নিয়মিত সরব।
ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের কারণে এসব সাংবাদিকদের অনেকেই এক যুগেরও বেশি সময় ধরে দেশে আসতে পারেননি। তবে স্বৈরাচার সরকারের হুমকি-ধমকি, রোষানল তাদের দমিয়ে রাখতে পারেনি। তারা প্রতিবাদ চালিয়ে গিয়েছেন প্রতিনিয়ত।
টেলিভিশন কিংবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র গঠনমূলক সমালোচনায় দেশের সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি সরকারবিরোধী আন্দোলনে ছাত্র-জনতার অংশগ্রহণে প্রভাব ফেলেছেন।
এমনকি সরকারের নীতিনির্ধারক মহলের পরামর্শে দেশের একটি জাতীয় দৈনিকেও তাদের বিরুদ্ধে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। ২০২১ সালের ৬ অক্টোবর ফয়সল চৌধুরী, পিনাকী ভট্টাচার্য ও তাজ হাশমীকে নিয়ে ‘দেশবিরোধী ভয়ানক তিন সাইবার দুর্বৃত্ত’ শিরোনামে ওই জাতীয় দৈনিকে প্রধান সংবাদ প্রকাশিত হয়।
ওই প্রতিবেদনে ফয়সল চৌধুরীকে দেশবিরোধী দিগভ্রান্ত আখ্যায়িত করে বলা হয়, তিনি বিদেশে বসে মিথ্যাচার, উন্নয়নকে বাধাগ্রস্ত এবং দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করে দেশকে ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত করার গভীর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত।
তাকে যুদ্ধাপরাধী অপশক্তি এবং জঙ্গিবাদের পক্ষে জামায়াতে ইসলামী ও পাকিস্তানি গোয়েন্দা সংস্থার পেইড এজেন্ট বলেও বর্ণনা করা হয়।
এতে আরও বলা হয়, সরকার, প্রধানমন্ত্রী, শিল্পপতি ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে বিষোদগার ও গুজব ছড়ানোই কথিত সাংবাদিক ফয়সল চৌধুরী সুয়েবের মূল কাজ। ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী মোস্তাফা জব্বারের বিরুদ্ধে তিনি মিথ্যাচার করে চলেছেন। এছাড়া অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল, আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, সালমান এফ রহমান, জুনাইদ আহমেদ পলক, আইজিপি ড. বেনজীর আহমেদ, এস আলম গ্রুপ, এক্সিম ব্যাংকের চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম মজুমদার ও পদ্মা ব্যাংকের চেয়ারম্যান চৌধুরী নাফিস শরাফতসহ বিভিন্ন জনের বিরুদ্ধে ইচ্ছামাফিক বিষোদগার করে যাচ্ছেন এই স্বঘোষিত পণ্ডিত।
লন্ডনে বসবাস করেন রেজা আহমদ ফয়সল চৌধুরী। ঢাকার স্যাটেলাইট টিভি ‘চ্যানেল আই’র ইউরোপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ছিলেন তিনি।
বহির্বিশ্বে ফয়সল চৌধুরীই প্রথম টিভি চ্যানেলটির মাধ্যমে শেখ হাসিনা সরকারের অন্যায়-অত্যাচার, গুম-খুনের বিরুদ্ধে প্রচার শুরু করেন।
তার সঞ্চালনায় চ্যানেল আই-ইউকেতে ‘স্ট্রেইট ডায়ালগ’ শিরোনামে টকশো সম্প্রচারিত হয়। ২০১৩ থেকে টানা ২০১৮ সাল পর্যন্ত চালিয়ে যাওয়া ‘স্ট্রেইট ডায়ালগে’র কারণে আওয়ামী লীগ সরকার তার ওপর প্রচণ্ড ক্ষিপ্ত হয়। এক পর্যায়ে টকশোটি বন্ধ করতে যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগ ও বাংলাদেশ হাইকমিশন নানা তৎপরতা চালিয়ে ব্যর্থ হয়। সর্বশেষ ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বর মাসে হাসিনা সরকারের চাপে ঢাকার চ্যানেল আই কর্তৃপক্ষ লন্ডনে চ্যানেল আই এর সম্প্রচার এক দিনের নোটিশে বন্ধ করে দেয়। অভিযোগ করা হয়, লন্ডন স্টুডিওতে কেক কেটে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের জন্মদিন উদযাপন করা হয়েছে।
তব এসব করেও স্বৈরাচার সরকারের অপকর্মের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ থেমে থাকেনি। ‘চ্যানেল ইউরোপ ফেসবুক পেজ’, ‘স্ট্রেইট ডায়ালগ ইউটিউব চ্যানেল’ ও ‘আইপিটিভি চ্যানেল ইউরোপ; দিয়ে প্রতিবাদ অব্যাহত রাখেন তিনি।
এছাড়া গত বছরে ডিসেম্বরে সাবেক বৃটিশ প্রধানমন্ত্রী ঋষি সুনাকের কাছে বাংলাদেশ সরকারের দুঃশাসনের কিছু চিত্র তুলে ধরেন ফয়সল চৌধুরী।
‘ফিফটি ইয়ার্স অব বাংলাদেশ’ বইয়ের লেখক ডক্টর তাজ হাশমী বসবাস করেন কানাডায়। সেখানে বসে শেখ হাসিনা সরকারের দুঃশাসনের বিরুদ্ধে তীব্র সমালোচনা করে আলোচিত হন তিনি।
এদের মধ্যে অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট এম রহমান মাসুমও বাংলাদেশে চরম মানবাধিকার লঙ্ঘনের কঠোর সমালোচনা করেছেন। যুক্তরাষ্ট্রে বসে ২০১২ সাল থেকে ইউটিউব-ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইংরেজি ভাষায় আওয়ামী লীগ সরকারের বিরুদ্ধে অনুষ্ঠান শুরু করেন।
যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটর, কংগ্রেসম্যান, ইউরোপিয়ান মেম্বার অব পার্লামেন্ট, আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের আইনজীবী, মানবাধিকার কর্মীদের তার অনুষ্ঠানে যুক্ত করে আওয়ামী লীগ সরকারের মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়গুলো ধারাবাহিকভাবে তুলে ধরেন। সে সময় তার অনুষ্ঠান থেকে দেশের প্রকৃত অবস্থা জানতে পারত মানুষ।
মধ্যপ্রাচ্যের প্রবাসীদের দুর্দশা ও তাদের অধিকার নিয়ে কাজ শুরু করেন এম রহমান মাসুম। যিনি সরজমিন মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশ ভ্রমণ করে তাদের অবস্থা দেখেন এবং একটি প্ল্যাটফর্মে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ করার জন্য ‘রেমিট্যান্স ফাইটার্স অব বাংলাদেশ’ নামে একটি সংগঠন গঠন করেন। এটি বেশ জনপ্রিয়তা লাভ করে।
এছাড়া কানাডা থেকে ‘ফেস দ্য পিপল’ নামে টকশো করে শেখ হাসিনা সরকারের কাছে বিতর্কিত হন সাইফুর সাগর, ফ্রান্স থেকে সুসময় শরীফ ও সিডনি থেকে বনী আমীন। টকশোতে অতিথি হয়ে মালয়েশিয়া থেকে ডা. ফয়জুল হক, সাকিব আলী, ব্যারিস্টার সরওয়ার হোসেনসহ অনেকে হাসিনা সরকারের পতনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। লন্ডন থেকে আরিফ আল মাহফুজ শেখ হাসিনা সরকারের বিরুদ্ধে অনলাইনে জনমত গঠনেও ভূমিকা রাখেন।
এদিকে লন্ডন থেকে সাংবাদিক আব্দুর রব ভুট্টোও স্বৈরাচার আওয়ামী লীগ সরকারের দুঃশাসনের বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিলেন। তিনিও সরকারের বিরুদ্ধে জনমত গঠনে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখেন। যুক্তরাষ্ট্রের আরেক অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট নায়েব আলী। তিনি হাসিনা সরকারের বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিলেন।
২০১৩ সালে শাহবাগ আন্দোলনে ভুল তথ্যের ভিত্তিতে গ্রেপ্তার হয়ে কারাবরণ করেন নূরে আলম হামিদী। তিনি বর্তমানে লন্ডন প্রবাসী। পাকিস্তানি নাগরিক ও লস্কর-ই-তৈইয়্যবার স্কোয়াড লিডার হিসেবে পত্র-পত্রিকা, টেলিভিশন এমনকি জাতীয় সংসদে নূরে আলম হামিদীকে ভুলভাবে উপস্থাপন করা হয়েছিল।
আমেরিকায় বসবাস করেন আলাউর খন্দকার। আমেরিকা বাংলা চ্যানেল (এবিসি) নামে একটি টিভিতে টকশো করে স্বৈরাচারী শেখ হাসিনা বিরোধী আন্দোলনে জোরালো ভূমিকা রাখেন তিনি।
ইয়াজউদ্দীন আহম্মেদ সরকারের সাবেক উপদেষ্টা মোখলেসুর রহমান চৌধুরী দীর্ঘদিন থেকে লন্ডনে বসবাস করছেন। তিনি পতিত হাসিনা সরকারের নানা অপকর্ম, দুঃশাসন ও নৈরাজ্যের বিরুদ্ধে সে সময় সরব ছিলেন। লন্ডন-আমেরিকার বেশ কয়েটি চ্যানেলের টকশোতে নিয়মিত অতিথি হিসেবে অংশগ্রহণ করে বাংলাদেশে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে জোরালো ভূমিকাও পালন করেন মোখলেসুর রহমান।

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
গুরুতর অসুস্থ ইরানের নোবেলজয়ী কারাবন্দি নার্গিস মোহাম্মাদি, নেয়া হচ্ছে হাসপাতালে
এতে বলা হয়, ফ্রি নার্গিস কোয়ালিশন নামের গ্রুপটি এক বিবৃতিতে বলেছে- নার্গিসের শরীরে একাধিক অসুস্থতা রয়েছে। এজন্য অবশ্যই তাকে হাসপাতালে যেতে অস্থায়ী মুক্তি (মেডিকেল ফার্লো) দিতে হবে। শুধু হাসপাতালে স্থানান্তর করলেই গত কয়েক মাসের অবহেলা এবং বঞ্চনার কারণে নার্গিসের গুরুতর যে স্বাস্থ্যহানি হয়েছে তার সমাধান হবে না বলে দাবি করা হয়েছে বিবৃতিতে।
মোহাম্মদিকে ইরানের এভিন কারাগারে বন্দি রাখা হয়েছে, যেখানে রাজনৈতিক বন্দি এবং পশ্চিমা ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিদের রাখা হয়। তিনি ইতিমধ্যে ৩০ মাসের সাজা ভোগ করছেন, যার সাথে জানুয়ারিতে আরও ১৫ মাস যুক্ত করা হয়েছিল। গত ৬ আগস্ট এভিন কারাগারের মহিলা ওয়ার্ডে অন্য রাজনৈতিক বন্দির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার প্রতিবাদে নার্গিস মোহাম্মাদিকে আরও ছয় মাসের জেল দিয়েছে ইরানের কর্তৃপক্ষ।
মোহাম্মাদি হৃদরোগে ভুগছেন, এবং সেপ্টেম্বরে জারি করা তার মেডিকেল রিপোর্ট অনুযায়ী, তার হার্টের মূল ধমনীতে আবার একটি গুরুতর জটিলতা তৈরি হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে মোহাম্মাদির নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করেছে ফ্রি নার্গিস কোয়ালিশন।

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
দ্রব্যমূল্য, আইনশৃঙ্খলা, নির্বাচন: জনমানুষের তিন চাওয়া
নিচে সাধারণের দেয়া প্রতিক্রিয়া হুবহু তুলে ধরা হলো-
রুবেল মোড়ল, চাকরিজীবী: ১৭ বছর একটা ফ্যাসিস্ট সরকার বাংলাদেশে জেঁকে বসেছিলো। তারা অর্থনীতিকে ভঙ্গুর করে রেখেছে, সীমাহীন লুটপাট করেছে। এখন সেই অর্থনৈতিক পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকার হিমশিম খাচ্ছে। আগের সরকারের রেখে যাওয়া মূল্যস্ফীতির কারণে এই সরকারের পক্ষে দ্রব্যমূল্য রাতারাতি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব না। তাদের একটা সময় দেয়া উচিত।
হারুনুর রশিদ, রিকশাচালক: আমাদের আয় কম। বাজারে গেলে ৮০ টাকার নিচে কোনো সবজি নেই। কিছু কিছু পণ্যের দাম কমছে এটি আরও কমা উচিত। যে আয় হয় সেটি দিয়ে বাঁচা যায় না। নির্বাচনী সরকার না আসা পর্যন্ত দেশের পরিস্থিতি একেবারে স্বাভাবিক হবে না। অন্তর্বর্তী সরকার মানুষের বিপদে পাশে এসে দাঁড়িয়েছে। বিভিন্ন দাবি নিয়ে দুইদিন পরপর মানুষ রাস্তাঘাট বন্ধ করে দিলে এত সমস্যা সে কীভাবে সমাধান করবে।
হুমায়ূন কবির, ব্যবসায়ী: নিত্যপ্রয়োজনীয় সব জিনিসের দাম বাড়তি। ১০০ টাকার জিনিসে ১৫ টাকা ভ্যাট যাচ্ছে। ভ্যাট কমালে দামটাও সহনীয় পর্যায়ে চলে আসতো। ৫০০ টাকার জিনিসে ৮৫ টাকা বেশি। ১০০ টাকার জিনিসে ৫ টাকা হলে ঠিক আছে কিন্তু ১৫ টাকা নিলে সেটি তো অতিরিক্ত হয়ে যায়। আমরা চাই দ্রব্যমূল্য কমে আসুক।
মুন কাদির, বেসরকারি চাকরিজীবী: অন্তর্বর্তীকালীন সরকার আসার পরে দেশে কিন্তু কয়েকটি অঞ্চল বন্যায় তলিয়ে গেছে। এই সরকারকে সময় দিতে হবে। কৃষকের দিকে সুদৃষ্টি দিতে হবে। কৃষি ব্যাংক থেকে কৃষকের ঋণ নেয়ার কথা থাকলেও কৃষকরা কিন্তু সেটি পাচ্ছে না। একটি গোষ্ঠী সেটি নিয়ে নিজেদের পকেট ভারি করেছে। ১৬ বছর ধরে একদল ক্ষমতায় থেকে কিছু করতে পারেনি সেখানে দু’দিনে কীভাবে সম্ভব।
জুলহাস, টেইলার্স ব্যবসায়ী: বিগত আওয়ামী সরকার দেশের যে পরিমাণ ক্ষতি করে গেছে বর্তমানে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার তো এ ক্ষতির সমাধান দ্রুত করতে পারবে না, তাকে তো সময় দিতে হবে। নতুন স্থায়ী সরকার যেই আসুক তাকে আগে জনগণের কথা ভাবতে হবে, তারা কি চায় এটা বুঝতে হবে। এই সরকারের কড়া হাতে সবদিকে নজরদারি বাড়ানো উচিত, অপরাধ দমাতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীরও কঠোর হওয়া উচিত। বর্তমানে পরিস্থিতি কিছুটা অস্বাভাবিক।
জুবায়দুল, রিকশাচালক: সব জিনিসের দাম বেশি। আমরা দেশ স্বাধীন করেছি। আমরা গরিব, আমরা তো চাই সবাই ভালো থাকুক, সব জিনিসের দাম কমুক। আমাদের গরিবের এতটুকু চাওয়া।
পাটোয়ারী খান, ব্যবসায়ী: নতুন সরকারকে সিন্ডিকেটের দিকে নজর দিতে হবে। মানুষ মানুষকে মারছে। এদেশে জনগণের কোনো দাম নেই।
আরিফুল হক, শিক্ষক-বুয়েট: কিছু পণ্যের দাম গত ২ সপ্তাহের তুলনায় কিছুটা কম লাগছে। কিন্তু এখনো পত্রিকা কিংবা ফেসবুকে যেরকম দেখি তেমনটা কমেনি। আসলে বড় দু’টো বন্যা গেল। এই সময়টায় সবজির ক্রাইসিস হয়। গতকাল ৩০ পিস ডিম ৩৭৫ টাকায় কিনলাম, যেটা প্রায় ৪৩০ টাকা হয়ে গেছিল। সবগুলো বিবেচনায় দামটা বেড়ে গেছিল, এখন মনে হচ্ছে ধীরে ধীরে কিছুটা স্থিতিশীল হচ্ছে। সিন্ডিকেটের সঙ্গে আমাদের নিজেদেরও সমস্যা রয়েছে। যেটার দাম বেড়ে যায় ওইটা আমরা বয়কট না করে আরও বেশি করে কিনে মজুত করি। সরকারকে এই সিন্ডিকেটটা ভেঙে দিতে হবে।
আবু সাঈদ, গাড়িচালক: সাধারণ মানুষের কোনোরকমে খেয়ে পরে বেঁচে থাকার ব্যবস্থা করতে হবে, ভালো কিছু খাওয়ার কোনো উপায় নাই। ১০০ টাকার নিচে কোনো তরকারি নেই। সবজির বদলে শুঁটকি কিনেছি। মানুষ স্বস্তিতে থাকলে অপরাধও কমে যাবে।
জিয়াউর রহমান, ব্যবসায়ী: বাজার নিয়ন্ত্রণে এই সরকার কঠোরও হতে পারছে না। এজন্য দ্রুত একটি জাতীয় নির্বাচন হওয়া উচিত। দেড় বছরের মধ্যে নির্বাচন হলে ভালো হবে। নির্বাচিত সরকারের পক্ষে সিন্ডিকেটের ওপর যেভাবে কঠোর হওয়া যায়, অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষে সেটি সম্ভব না।
মো. রাজু, শিক্ষক-ঢাবি: গত কয়েক মাসের তুলনায় দ্রব্যমূল্য একটু বেশি। সবজির বাজারও চড়া। সিন্ডিকেট তো সবসময় থাকে। তবে চাহিদা তো অনেক বেশি, যোগানের উৎসগুলো আমাদের বাড়াতে হবে। আমার মনে হয়, এই সরকারের খাদ্যদ্রব্যের ওপরে নজর দেয়া উচিত। অন্য বিষয়গুলো মানুষ কম গুরুত্ব দেয়।
সামিউল আলম শাওন, মেডিকেল শিক্ষার্থী: বাজারে সব ধরনের পণ্যের দাম অনেক বেশি। বিশেষ করে আমাদের মতো মধ্যবিত্ত মানুষের জন্য বাজার করাটা অনেকটা কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে। আমরা এখন ৫০০ টাকা নিয়ে বাজারের জন্য বের হলে দুইবারের খাবার যোগাড় করতে পারি। যারা ৫ থেকে ৬ সদস্যের পরিবার, ঢাকা শহরে যিনি ২০ হাজার টাকা বেতনের চাকরি করেন তাদের চলাটা আরও বেশি কষ্টসাধ্য। সরকার যেন এটা নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আনে- এটাই আমাদের চাওয়া।
লুৎফর রহমান, ড্রাইভার: বাজারে এখন কাঁচামরিচ ও সবজির দাম গেল সপ্তাহের তুলনায় কিছুটা কমেছে। আমাদের মতো সাধারণ মানুষের জন্য চলাটা খুবই কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে।
নূর উদ্দিন, অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা: দাম নাকি কমছে, তারপরও ৮০ টাকা কেজিতে তরকারি বিক্রি হচ্ছে। আমরা অবসর নিয়েছি, কোনো ধরনের আয় নাই। আগে যা ভাতা পেতাম, তাই পাচ্ছি। যে বন্যা হয়েছে এতে বাজারে একটু প্রভাব পড়বেই। আমার মনে হয়, সারা দুনিয়ায় এতো দামে কোথাও চিনি নাই। আটার দাম এতো হওয়ার কোনো কারণ দেখি না। বাংলাদেশের যে ৫টা বড় কোম্পানি আছে, তারাই শুধু সিন্ডিকেট করে রেখেছে। তাদের বিরুদ্ধে কথা বলার কেউ নেই।
নাহিদা আক্তার, সরকারি কর্মকর্তা: মধ্যবিত্তদের ক্রয়সীমার মধ্যে প্রতিটি জিনিসের মূল্য তালিকা করা প্রয়োজন। এখন কোনো কিছু ক্রয়সীমার মধ্যে নাই। শাক-সবজির বাজারেও তেমন কোনো পরিবর্তন নাই। দোকানদার বলে- বন্যার জন্য দামের ঊর্ধ্বগতি। এটা কি বন্যা নাকি সিন্ডিকেট সেটা তো ক্রেতাদের জানার কথা না। আমরা চাই, প্রত্যেকটা জিনিসের যেন সুষ্ঠু বণ্টন ও বাজার তদারকি করা হয়।
আব্দুল খালেক, বেসরকারি চাকরিজীবী: আগের তুলনায় দাম এখন একটু কম। মহল্লার তুলনায় কাওরান বাজারে দাম কিছুটা কম পাওয়া যায়। এখান থেকে মহল্লায় সবজি ঢুকলে দাম দ্বিগুণ হয়ে যায়।
ইব্রাহিম আহমেদ তালহা, ঠিকাদার: আগে দাম যেটা ছিল তার তুলনায় এখন কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আসছে। পিয়াজের দাম চড়া, আলুর দাম আগের মতোই আছে। আমাদের ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেট বন্ধ করতে হবে। আগে যে সিস্টেমে দেশ চলতো, সেটা এখনো চলে। শুধু মানুষ পরিবর্তন হয়েছে। আগে চাঁদাবাজি হতো, এখনো হচ্ছে। শুধু হাতটা পরিবর্তন হয়েছে।
মো. রহমত উল্ল্যাহ, চাকরিজীবী: বাজারে সবকিছুর দাম ধরাছোঁয়ার বাইরে চলে যাচ্ছে। ডিমের দামটা কিছুটা কমলেও পিয়াজ, আলুর দামে কোনো কমতি নেই। আমরা সাধারণ মানুষ খেয়ে বেঁচে চলতে পারলেই হয়। সরকার যদি নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্য একটু সীমার মধ্যে রাখতো তাহলে আমরা বলতে পারতাম এই সরকার সফল।
আতাউর রহমান, বেসরকারি চাকরিজীবী: মাসে সর্বসাকুল্যে ২৫ হাজার টাকা বেতন পাই। বেতনের টাকায় সংসার চালানো কঠিন হয়ে যাচ্ছে। আগেই জিনিসপত্রের দাম বাড়তি ছিল। এখন আরও বাড়ছে। এমন পরিস্থিতিতে আমাদের টিকে থাকতেই কষ্ট হচ্ছে।
ইয়াসিন আহমেদ, শিক্ষার্থী: সরকার বলে বাজার মনিটরিং করছে। কিন্তু এর কোনো ধরনের প্রভাব বাজারে দেখছি না। আরও কঠোর হতে হবে। তবে মানুষ আস্থা পাবে।
আবু তাহের, চাকরিজীবী: দামটা গত সপ্তাহের তুলনায় কম, তবে আশানুরূপ কমেনি। বন্যার পানি কমেছে, এখন যদি উৎপাদন ঠিকভাবে হয় তাহলে সামনের সপ্তাহ থেকে দামটা আরও কমার সম্ভাবনা আছে। আমাদের সাধারণ মানুষের চলতে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে।
বিজয় কৃষ্ণ মণ্ডল, অবসরপ্রাপ্ত চাকরিজীবী: আমার কাছে দামটা আজকে একটু কম মনে হলো। দেশের অর্থনীতির এমন বেহাল অবস্থায় আমাদেরও কষ্ট করে দিন কাটছে। সামনে ভালো হবে- এই আশায় আছি।
শামসুল আলম, অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক: আমি চাই অন্তর্বর্তী সরকার দুই বছর থাকুক। এই সময়ের মধ্যে আইন-কানুন সংস্কার করতে হবে। আর বাজার নিয়ন্ত্রণে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে।
রেশমা খাতুন, গৃহিণী: সরকার ডিমের দাম নির্ধারণ করে দিলেও সেই দামে এখনো বিক্রি হচ্ছে না। অন্তর্বর্তী সরকারও সিন্ডিকেট ভাঙতে পারছে না। তবে আমরা অন্তর্বর্তী সরকারকে এখনো সময় দিতে চাই। কারণ আমরা সব সরকারকেই তো দেখেছি। কোনো সরকারই জনগণের জন্য কাজ করে না। তবে দুই বছরের মধ্যে একটি সুষ্ঠু জাতীয় নির্বাচন হওয়া উচিত।
নিশান আলী, বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী: ব্যবসায়ীদের প্রতি সরকার কঠোর হতে পারছেন না। বাজার নিয়ন্ত্রণে সরকারের কঠোর ভূমিকা দেখতে চায় মানুষ। যেই সরকার দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে আনতে পারবে আমরা তাদেরকে দেখতে চাই।
কে এম হক ফয়সাল, আইনজীবী: এই দেশে গণতন্ত্রের জন্য ১৯৫৪ সাল থেকে সব সময় আমাদের লড়তে হয়েছে। চাপিয়ে দেয়া কিংবা অনির্বাচিত শাসনের জন্য লড়াই হয়নি। জনগণের শাসনের জন্য লড়াই করেছি। এখনো আমরা চাই নির্বাচিত সরকার। এজন্য এই সরকারের উচিত যতদ্রুত সম্ভব নির্বাচন দিয়ে নির্বাচিত সরকারের হাতে ক্ষমতা দেয়া। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণেও কঠোর হওয়া উচিত। ফৌজদারি অপরাধ করলে তাকে আইনের আওতায় আনা উচিত। সে যেই দল কিংবা মতের হোক। এ ছাড়া এখন রাস্তায় কোনো শৃঙ্খলা নেই। রাস্তায় যানবাহনের শৃঙ্খলা ফেরাতে হবে। রাস্তায় যানজট নিরসন করতে হবে।
রাজু মিয়া, সিএনজি চালক: আইনশৃঙ্খলা আগের মতো নেই। ট্রাফিক বিভাগ কাজ করছে না। সড়কে যানজট লেগে থাকে। জিনিসপত্রের দাম অনেক বেশি। প্রতিদিন আমরা যা আয় করি বাজার করার পর আর কোনো টাকা থাকে না। এই সরকারের উচিত যারা নির্বাচনে অংশ নিবে তাদের সঙ্গে আলোচনা করে সময় মতো একটা নির্বাচন দেয়ার। তাহলে ভালো হয়। যদি ঐকমত্য করে দ্রুত নির্বাচন দেয় তাহলে ভালো হয়।
সৈয়দ মুনজেল মোরশেদ আল মাসুম, ব্যবসায়ী: এই সরকার চাপের মধ্যে চলছে। দেশ-বিদেশের চাপ আছে। আগের সরকারের সমর্থকদের চাপ আছে। আগের সরকার দেশ অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে। এরমধ্যে বর্তমান সরকার আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে না। দ্রবমূল্যের ঊর্ধ্বগতি আছে। এই সরকারের নির্দিষ্ট লক্ষ্য খোলাসা করে কাজ করা উচিত। সব সংস্কারের পর নির্বাচন করা ভালো।
মো. ফেরদৌস হাসান ইউসুফ, চাকরিজীবী: বাংলাদেশে এতদিন আমরা ভোট দিতে পারিনি। ভোটের কোনো অধিকার ছিল না। এখন আমরা চাই ভোট দিতে। আবার দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি এখন নিয়ন্ত্রণে নেই। সাধারণ জনগণের মূল চাওয়া যাতে দ্রব্যমূল্য হাতের নাগালে থাকে।
মো. সালাম, সবজি বিক্রেতা: এখন বাজার পরিস্থিতি ভালো না। সবকিছুর দাম বেশি। এতে আমাদের বিক্রিও কমে গেছে। যার দরকার ছিল এক কেজি সে নেয় একপোয়া। ক্রেতারা বলে, এখন দাম বেশি। আগের সরকার থাকতে সবজির দাম আরও কম ছিল। বর্তমানে আগের চেয়ে বেড়েছে। কিন্তু সবজির দামে তো সরকারের কোনো হাত নেই। এটা যত সরবরাহ বেশি থাকবে ততই দাম কমবে। শীতের সবজি আসছে। বাজারের সবজির দাম কমে যাবে অল্প কিছুদিনের মধ্যে।
কামাল পাশা, ব্যবসায়ী: এই সরকারের ভালো-মন্দ বুঝতে হলে তাদের সময় দিতে হবে। তারা চাইলেও রাতারাতি কিছু করতে পারবে না।
আব্দুস সালাম, রিকশাচালক: বর্তমানে জিনিসপত্রের যে দাম তাতে বাজার করা কঠিন। রাস্তায় অবৈধ ব্যাটারি রিকশা চলছে। ট্রাফিক ঠিকমতো কাজ করে না। গাড়ি ধরে না। ধরলেও ছেড়ে দেয়। বিশ্বরোডের মধ্যে ব্যাটারি গাড়ি চলছে। তাদের জন্য ভাড়া কম পাওয়া যায়। আমাদের আয়ও কমে গেছে।

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
প্রত্যেকটি হত্যার বিচার চান জামায়াতের আমীর
শফিকুর রহমান বলেন, কে পালায়, চোর পালায়, ডাকাত পালায়, লুটেরা, গুমকারী এবং ধর্ষক পালায়। কোনো ভাল মানুষ পালায় না। বিচারের রায় তো তারাই পালিয়ে গিয়েছেন। এখন বিচারিক প্রক্রিয়া শুরু করতে হবে। এই অন্তর্বর্তীকালীন সরকার হয়তো বিচার শেষ করতে পারবে না। কিন্তু শুরুটা করতে হবে। এই বিচারের প্রক্রিয়া শুরু করতে হবে ২০০৬ সালের ২৮শে অক্টোবর থেকে। যেদিন লগি-বৈঠার তাণ্ডবে দেশ, রাজনীতি, সমাজ তার পথ হারিয়েছিল। মানবতার মৃত্যু হয়েছিল। ২০০৬ সালের ২৮শে অক্টোবর থেকে শুরু করে ২০২৪ সালের ৫ই আগস্ট পর্যন্ত যাদের হত্যা করা হয়েছে, প্রত্যেকটি হত্যার বিচার করতে হবে।
তিনি বলেন, আপাতত দৃশ্যত স্বৈরাচারী শেখ হাসিনাসহ ফ্যাসিস্টের দোসরা তাদের কর্মের উপহার পেয়েছেন গত ৫ই আগস্ট। তিনি দেশ থেকে পালিয়ে গেছেন। তার সঙ্গী সাথিরা পালানোর চেষ্টা করেছেন। কেউ চুরি করে পালিয়েছেন, কেউবা ধরা পড়েছেন। যারা পালিয়েছেন বা ধরা পড়েছেন মানুষ হিসেবে তাদের এরচেয়ে মৃত্যুই ছিল শ্রেয়। কারণ কোনো রাজনীতিবিদের জন্য পালানো মানায় না। রাজনীতি করবেন রাজকীয় মন নিয়ে, রাজনীতি করবেন পুরো জাতির জন্য। যদি সেটাই করেন তাহলে পালাতে হবে কেন?
জামায়াতের আমীর বলেন, বাংলাদেশকে যারা গড়তে চান তাদেরকে জনআকাঙ্খাকে সম্মান ও অন্তরে ধারণ করে রাজনীতি করার আহ্বান জানিয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ফ্যাসিবাদ বিরোধী জনগণ কি চায় সেটা বুঝতে হবে রাজনীতি করতে হবে। সেটা পারলে আরা পাবো জনগণের দোআ সহযোগিতা। আবার যদি আমরাও ভুল করি তাহলে যে জনগণ ফুসে উঠতে পেরেছিল চব্বিশে তারা আবার যেকোনো সময় ফুসে উঠতে পারে। সুতরাং সাবধান হতে হবে। জাতীয় জীবনে কোনো সংকট আমরা চাই না। মৌলিক স্বার্থে জাতিকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বলেন, এতো কষ্ট করলাম, মিছিল-মিটিং করলাম, জেল খাটলাম। একটাই চেয়েছি, শেখ হাসিনাবিহীন বাংলাদেশ। দীর্ঘ লড়াইয়ে আমরা আজ হাসিনাবিহীন বাংলাদেশ পেয়েছি। এখন আমরা আওয়ামী লীগবিহীন বাংলাদেশ করতে চাই। তিনি বলেন, জামায়াতের সঙ্গে আমার মিষ্টি-মধুর সম্পর্ক অনেকদিন আগে থেকে। ২০০১ সালে জামায়াত নেতৃবৃন্দ আমার জন্য কাজ করেছিলেন, আলাদা টিম করে সহযোগিতা করেছেন। তারা প্রতিরাতে দেখা করে যেতেন। ১৭ বার জেলে গেছি আওয়ামী লীগের আমলে। হাসি-কান্নার মধ্য দিয়ে আমাদের দিনগুলো কেটে গেছে। তখনকার কষ্টগুলো এখন ভালোলাগার গল্প। সেই কষ্টের বিনিময়েই হয়তো আমরা গত ৫ই আগস্ট ফসল ঘরে তুলে নিয়েছি। কিছু পাই বা না পাই, শান্তি একটা আছে- তাহল দেশে হাসিনা নাই।
জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ২০০৬ সালের ২৮শে অক্টোবরসহ নানা সময়ে সব ধরণের খুন হত্যাসহ সকল অপরাধের নির্দেশদাতা হচ্ছেন শেখ হাসিনা। ইতিহাস, বক্তব্য, অডিও-ভিডিও প্রমাণ করে লগি-বৈঠা নিয়ে ২৮শে অক্টোবরে আসার জন্য নির্দেশ দিয়েছিলেন তিনি। আমরা মামলা করেছিলাম। ক্ষমতায় গিয়ে হাসিনা সেই মামলা প্রত্যাহারে নির্দেশ দিয়েছিলেন। সুতরাং ২৮শে অক্টোবরের হত্যাকাণ্ডের মূল মাস্টারমাইন্ড শেখ হাসিনা। তাই সেই মামলা আবার পুনরুজ্জীবন করতে হবে। তাকে বিচারের আওতায় এনে উপযুক্ত শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
দক্ষিণ আমীর মো. নূরুল ইসলাম বুলবুলের সভাপতিত্বে সভায় জামায়াতের নায়েবে আমীর অধ্যাপক মুজিবুর রহমান, ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য সাইফুল আলম খান মিলন প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-২ প্রকল্প বাতিল হচ্ছে by কাজী সোহাগ
এক প্রশ্নে স্যাটেলাইটটি বঙ্গবন্ধুর নামে হবে কিনা সে বিষয়ে এখনো সিদ্ধান্ত হয়নি বলে তিনি জানান। মহাকাশে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-২ উৎক্ষেপণের জন্য রুশ ফেডারেশনের গ্লাভকসমসের সঙ্গে সহযোগিতা স্মারক স্বাক্ষর করা হয় ২০২২ সালের ২রা ফেব্রুয়ারি। মহাকাশ বিষয়ক রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান গ্লাভকসমসের সঙ্গে স্যাটেলাইট তৈরি ও উৎক্ষেপণ বিষয়ে সহযোগিতা স্মারক স্বাক্ষরের মধ?্য দিয়ে আর্থ অবজারভেটরি ক্যাটাগরির ওই স্যাটেলাইটটির নির্মাণের অভিযাত্রা শুরু হয়। ওইসময় ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার এর উপস্থিতিতে ঢাকায় বাংলাদেশ স্যাটেলাইট কোম্পানি লিমিটেড এর প্রধান কার্যালয়ে সহযোগিতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। তৎকালীন বিএসসিএল’র চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ড. শাহজাহান মাহমুদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের ওই সময়ের সচিব মো. খলিলুর রহমান, বাংলাদেশে রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত আলেক্সান্ডার ভিকেনতেভিচ মান্তিতস্কি এবং অনলাইনে রাশিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত কামরুল আহসান ও গ্লাভকসমস-এর মহাপরিচালক দিমিত্রি লস্কুতব উপস্থিত ছিলেন। ওই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় টেলিযোগাযোগমন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-২ রাশিয়া সরকারের সহযোগিতায় নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। ২০১৮ সালের নির্বাচনী ইশতেহারে প্রদত্ত প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে সরকার বদ্ধপরিকর উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ২০১৮ সালের নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নের ধারাবাহিকতায় ২০২১ সালের ১২ই ডিসেম্বর বাংলাদেশ ফাইভ-জি যুগে প্রবেশ করেছে। আমরা তৃতীয় সাবমেরিন ক?্যাবল সংযোগ স্থাপনে ইতিমধ্যে কনসোর্টিয়ামের সঙ্গে চুক্তিস্বাক্ষর করেছি যা বাস্তবায়নের কাজ শুরু হয়েছে। আমাদের তৃতীয় অঙ্গীকার বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-২ নির্মাণ করা। এই সহযোগিতা স্মারক স্বাক্ষরের মধ্য দিয়ে তার অভিযাত্রা আলোর মুখ দেখে। প্রসঙ্গত পর্যবেক্ষণমূলক স্যাটেলাইট ছিল বঙ্গবন্ধু-২। এর আনুমানিক ব্যয় ধরা হয়েছিল ৪ হাজার কোটি টাকা। রাশিয়া ও ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে ওই প্রকল্পের কাজ আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বিলম্ব হয়। এটি ২০২৩ সালে উৎক্ষেপণ করার কথা ছিল। সংশ্লিষ্টরা জানান, বঙ্গবন্ধু-২ স্যাটেলাইটের অভিযানের সময়কাল নির্ধারণ করা ছিল ১৮ বছরের মতো। এটি হতো একটি পৃথিবী অবজারভেটরি স্যাটেলাইট। এটি ভূ-পৃষ্ঠ থেকে উপরে ৩০০ থেকে ৪০০ কিলোমিটারের মধ্যে অবস্থান করতো। ফলে দ্বিতীয় স্যাটেলাইটের জন্য অরবিটাল স্লট প্রয়োজন ছিল না।
বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ উৎক্ষেপণ হয় ২০১৮ সালে। টিভি চ্যানেলগুলোর সেবা নিশ্চিত করাই এ স্যাটেলাইটের প্রধান কাজ। এর সাহায্যে চালু করা হয় ডিশ টিভি’র ডিরেক্ট টু হোম সার্ভিস-ডিটিএইচ। এছাড়াও যেসব জায়গায় অপটিক ক্যাবল বা সাবমেরিন ক্যাবল পৌঁছায় না সেসব জায়গায় এই স্যাটেলাইটের সাহায্যে দেয়া হচ্ছে ইন্টারনেট সংযোগ। এটি তৈরিতে খরচ হয়েছে ২ হাজার ৭৬৫ কোটি টাকা। যার মধ্যে এক হাজার ৩১৫ কোটি টাকা দিয়েছে বাংলাদেশ সরকার আর বাকিটা বিদেশি অর্থায়ন।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
eCoxs Special
BNM Archive
- ► 2026 (1398)
- ► 2025 (3281)
-
▼
2024
(2551)
-
▼
October
(563)
-
▼
Oct 29
(18)
- গাজায় মিসরের যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান নেতা...
- গাজায় এক টুকরো রুটির জন্য হাহাকার : ক্ষুধার যন্ত্র...
- যেভাবে প্রায় ১৭০০ কোটি ডলার লোপাট করেছে হাসিনার সহ...
- যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ ৫ ইস্যু
- ইসরাইলি অবরোধের কারণে অনাহারের কবলে উত্তর গাজায় ফ...
- রাষ্ট্রপতির শপথে প্রধান বিচারপতির অনিবার্যতা by শহ...
- গণভবন পরিদর্শন প্রধান উপদেষ্টার: জাদুঘরের কাজ দ্রু...
- ঢাকায় মানবাধিকার অফিস খুলতে চায় জাতিসংঘ by মিজানুর...
- সিলেটে যৌথবাহিনীর সঙ্গে মাঠে আরিফ by ওয়েছ খছরু
- জাপানে নির্বাচনী ফলাফলে সরকার গঠনে অনিশ্চয়তা by রা...
- শেখ হাসিনার সহযোগীরা ১৭ বিলিয়ন ডলার সরিয়েছে
- মোহাম্মদপুরে অভিশপ্ত কালচার
- তৃতীয় সংসারও টিকছে না মমতাজের by রিপন আনসারী ও আতা...
- স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে অগ্রণী ভূমিকা রেখেছিলেন য...
- গুরুতর অসুস্থ ইরানের নোবেলজয়ী কারাবন্দি নার্গিস মো...
- দ্রব্যমূল্য, আইনশৃঙ্খলা, নির্বাচন: জনমানুষের তিন চ...
- প্রত্যেকটি হত্যার বিচার চান জামায়াতের আমীর
- বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-২ প্রকল্প বাতিল হচ্ছে by কাজী...
-
▼
Oct 29
(18)
-
▼
October
(563)
- ► 2021 (128)
- ► 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
- ► 2015 (11541)
- ► 2014 (9799)
- ► 2013 (14877)
- ► 2012 (33842)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...

