Sunday, June 28, 2026

এ বছরই দেশে ফিরব: এনডিটিভিকে শেখ হাসিনা

বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রায় দুই বছর ধরে দেশের বাইরে অবস্থান করছেন। চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের পরবর্তী সময়ে তার বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের রায় হয়েছে এবং তার দল আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

গত মঙ্গলবার (২৩ জুন) দেশজুড়ে নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও আওয়ামী লীগ তাদের ৭৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন করে। এ সময় কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে কার্যক্রম নিষিদ্ধ দলটির বহু নেতা-কর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়।

এ পরিস্থিতিতে ভারতীয় গণমাধ্যম এনডিটিভিকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে ভারতে নির্বাসিত শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘আমি এ বছরই দেশে ফিরব।’ তার ভাষায়, আওয়ামী লীগ কেবল একটি রাজনৈতিক দল নয়, এটি একটি ‘শক্তি’। তিনি আরও বলেন, সংখ্যালঘুদের ওপর যেকোনো হামলা বাংলাদেশের স্বাধীনতার চেতনার ওপর আঘাত।

প্রশ্ন: আপনি একাধিকবার ইঙ্গিত দিয়েছেন এবং আপনার সমর্থকেরাও আশাবাদী যে, আপনি শিগগিরই বাংলাদেশে ফিরবেন। এমনকি দলের কয়েকজন নেতা বলেছেন, আপনি এ বছরের মধ্যেই বাংলাদেশে ফিরতে পারেন। কিন্তু আপনার বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের রায় রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে এটি কতটা বাস্তবসম্মত?

শেখ হাসিনা: আমার দেশে ফেরা ব্যক্তিগত উচ্চাকাঙ্ক্ষার কোন বিষয় নয়। এটি বাংলাদেশের মানুষের রাজনৈতিক অধিকার, গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা, আইনের শাসন এবং আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা পুনরুদ্ধারের সঙ্গে সম্পর্কিত। আমি ক্ষমতার জন্য রাজনীতি করি না। আমি রাজনীতি করি বাংলাদেশের মানুষের কল্যাণের জন্য এবং জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ে তোলার জন্য।

আমার বিরুদ্ধে যে রায় দেওয়া হয়েছে, তা ন্যায়বিচার নয়। এটি একটি অবৈধ, অসাংবিধানিক ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রক্রিয়ার অংশ। আওয়ামী লীগকে নেতৃত্বশূন্য করার জন্য বাংলাদেশের বিচারব্যবস্থাকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। অতীতেও এ ধরনের চেষ্টা হয়েছে। তখনও তারা ব্যর্থ হয়েছে, এবারও ব্যর্থ হবে।

আমি মৃত্যুকে ভয় পাই না। ১৯৭৫ সালে আমি আমার বাবা-মা, ভাই এবং পরিবারের প্রায় সবাইকে হারিয়েছি। ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার মাধ্যমে আমাকে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছিল। আমার বিরুদ্ধে অসংখ্য ষড়যন্ত্র হয়েছে। কিন্তু সব ষড়যন্ত্র ভেদ করে আমি বাংলাদেশের মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছি। বাংলাদেশের জনগণের ভোটে আমি পাঁচবার প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হয়েছি এবং দেশের নজিরবিহীন উন্নয়নে কাজ করেছি।

আমার জীবনের প্রায় পুরোটা জুড়েই রয়েছে বাংলাদেশের মানুষ, আওয়ামী লীগ, গণতান্ত্রিক আন্দোলন এবং দেশের উন্নয়ন। তাই আমি স্পষ্ট করে বলতে চাই। সব বাধা ও ষড়যন্ত্র অতিক্রম করে আমি এ বছরই আমার দেশে ফিরব।

প্রশ্ন: অনেকের মতে, আওয়ামী লীগ আবার জনসমর্থন ফিরে পাচ্ছে। এই সমর্থনকে রাজনৈতিক সাফল্যে রূপ দেওয়ার মতো সাংগঠনিক শক্তি কি বর্তমানে আওয়ামী লীগের রয়েছে?

শেখ হাসিনা
: বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ কোন কাগুজে সংগঠন নয়। এটি বাংলার মাটি, বাংলার মানুষ, বাংলার ইতিহাস এবং বাঙালি জাতির পরিচয়ের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত একটি রাজনৈতিক শক্তি। ৭৭ বছরের পথচলায় আওয়ামী লীগ বহুবার হামলার শিকার হয়েছে, বহুবার রক্ত দিয়েছে, বহুবার নিষিদ্ধ হয়েছে। কিন্তু প্রতিবারই জনগণের শক্তিতে আবার ঘুরে দাঁড়িয়েছে।

আওয়ামী লীগের প্রত্যাবর্তন অন্য কারও ব্যর্থতা বা দুর্বলতার ওপর নির্ভর করে না। জনগণকে সঙ্গে নিয়েই আওয়ামী লীগ নিজের পথ তৈরি করে। জনগণের সমর্থন সবসময় আমাদের সঙ্গে ছিল। সেই শক্তি নিয়েই সরকারে থেকে আমরা মানুষের উন্নয়নে নিরলস কাজ করেছি।

বাংলাদেশবিরোধী শক্তি জনগণের একটি অংশকে বিভ্রান্ত করে পরিকল্পিত ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে আওয়ামী লীগকে রাষ্ট্রক্ষমতা থেকে সরিয়েছে। কিন্তু সব চেষ্টা করেও তারা মানুষের হৃদয় থেকে আওয়ামী লীগকে মুছে ফেলতে পারেনি।

ড. ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অবৈধ, অসাংবিধানিক ও দখলদার অন্তর্বর্তী সরকারের পর এখন সাজানো নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত বিএনপি সরকারের অধীনে মানুষ বাস্তবতা নিজের চোখে দেখছে। দেশে গণতন্ত্র নেই, আইনের শাসন নেই, নিরাপত্তা নেই। অর্থনীতি দুর্বল হয়েছে। সংখ্যালঘুরা হামলার শিকার হচ্ছে। উগ্রবাদ ছড়িয়ে পড়ছে। আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা অকল্পনীয় রাষ্ট্রীয় নির্যাতনের মুখোমুখি হচ্ছেন।

মানুষ তুলনা করতে জানে। তারা বোঝে, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকলে দেশে স্থিতিশীলতা, উন্নয়ন এবং মানুষের জানমালের নিরাপত্তা থাকে।

সাংগঠনিক শক্তির প্রশ্নে বলতে চাই, বাংলাদেশের রাজনীতির অলিগলি আওয়ামী লীগ হাতের তালুর মতো চেনে। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বেই এই দল বাংলাদেশের জন্ম হয়েছে। দেশের প্রতিটি গণতান্ত্রিক আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়েছে আওয়ামী লীগ। জনগণের সমর্থন ও আকাঙ্ক্ষাকে রাজনৈতিক বাস্তবতায় রূপ দেওয়ার সক্ষমতা আওয়ামী লীগের রক্তে মিশে আছে।

আগুনে যেমন সোনা আরও খাঁটি হয়, তেমনি শাসকের নিপীড়ন ও নির্যাতন আওয়ামী লীগকে প্রতিদিন আরও শক্তিশালী করছে।

দলের ৭৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে নেতা-কর্মী ও সমর্থকদের প্রতি আমার বার্তা খুবই সহজ। ঐক্যবদ্ধ থাকুন এবং মানুষের পাশে দাঁড়ান। প্রতিটি গ্রাম, মহল্লা, ওয়ার্ড ও ইউনিয়নে মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক আরও গভীর করুন। নির্যাতিত মানুষের পাশে দাঁড়ান। সংখ্যালঘু, নারী, শিশু, শ্রমজীবী, দরিদ্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তা ও মর্যাদার প্রশ্নে আপস করবেন না।

আওয়ামী লীগের রাজনীতি প্রতিশোধের রাজনীতি নয়। এটি অধিকার, নিরাপত্তা, মর্যাদা ও উন্নয়নের রাজনীতি। আওয়ামী লীগ মানুষের সঙ্গে ছিল, আছে এবং থাকবে। জনগণের শক্তিতেই আওয়ামী লীগ আবারও ঘুরে দাঁড়াবে।

প্রশ্ন: আওয়ামী লীগের ওপর নিষেধাজ্ঞা বহাল রয়েছে এবং দলের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে হাজারো মামলা হয়েছে বলে খবর রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে অদূর ভবিষ্যতে দলটির রাজনৈতিক পুনরুত্থান কতটা সম্ভব?

শেখ হাসিনা: আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক পুনরুত্থান কোনো সরকারের দয়ার ওপর নির্ভর করে না। এটি জনগণের ওপর নির্ভর করে।

অবৈধ নিষেধাজ্ঞার মাধ্যমে তারা হয়তো আওয়ামী লীগকে একটি সাজানো নির্বাচন থেকে দূরে রেখেছে। দলের কার্যালয় বন্ধ করেছে। রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড সাময়িকভাবে দমন করেছে। কিন্তু মানুষের হৃদয় থেকে আওয়ামী লীগকে মুছে ফেলতে পারেনি। সে কারণেই আওয়ামী লীগ ইতোমধ্যে আবার ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করেছে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সব নির্যাতন-নিপীড়নের মধ্যেও দেশের বিভিন্ন জেলা, উপজেলা, ইউনিয়ন ও এলাকায় প্রতিদিন আওয়ামী লীগের সমর্থনে মিছিল হচ্ছে। শুধু নেতা-কর্মীরাই নয়, সাধারণ মানুষও স্বতঃস্ফূর্তভাবে এসব কর্মসূচিতে যোগ দিচ্ছেন। মায়েরা তাদের সন্তানদের সাহস জোগাচ্ছেন। এগুলোই আওয়ামী লীগের পুনর্জাগরণের লক্ষণ।

বর্তমান সরকারের আচরণই প্রমাণ করে, তারা আওয়ামী লীগের শক্তিকে ভয় পায়। সে কারণেই প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচি ঠেকাতে সেনাবাহিনী, বিজিবি ও পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এটি তাদের দুর্বলতার প্রমাণ।

আওয়ামী লীগকে শক্তি প্রয়োগ করে দমন করা যাবে না। যে দল জনগণের জাগরণ সৃষ্টি করতে পারে, তাকে ভয়-ভীতি দেখিয়ে থামানো যায় না। ইতিহাস বলে, আওয়ামী লীগ কখনো শাসকের রক্তচক্ষুকে ভয় পায়নি। বরং সেই রক্তচক্ষুকে অগ্রাহ্য করেই বিজয়ের পতাকা উড়িয়েছে।

বাংলাদেশে সুষ্ঠু গণতান্ত্রিক পরিবেশ ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে আওয়ামী লীগের ওপর অবৈধ নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করতে হবে। মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করতে হবে। রাজনৈতিক বন্দিদের মুক্তি দিতে হবে। শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে।

কিন্তু যারা এখন ক্ষমতা দখল করে আছে, তারা যদি এই ন্যূনতম গণতান্ত্রিক পথও বন্ধ রাখে, তাহলে মানুষের জমে থাকা ক্ষোভ, বেদনা ও গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষাই আওয়ামী লীগের জন্য নতুন পথ তৈরি করবে।

প্রশ্ন: আপনি বলেছেন, ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর বাংলাদেশ তার বৈশিষ্ট্য হারিয়েছে এবং পাকিস্তানের মতো একটি মডেলের দিকে এগিয়ে গেছে। এই পরিবর্তন বলতে আপনি ঠিক কী বোঝাতে চেয়েছেন?

শেখ হাসিনা: আমি কখনোই কোনো দেশের সঙ্গে স্বাভাবিক কূটনৈতিক সম্পর্কের বিরোধিতা করিনি। জনগণের কল্যাণের স্বার্থে বাংলাদেশ সবার সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখবে। আমাদের পররাষ্ট্রনীতি সবসময়ই পরিষ্কার ছিল, ‘সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব, কারও সঙ্গে বৈরিতা নয়।’ তবে সেই সম্পর্ক অবশ্যই রাষ্ট্রের মৌলিক নীতি এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে অক্ষুণ্ন রেখে বজায় রাখতে হবে।

বাংলাদেশের জন্ম হয়েছে সামরিক শাসন, বৈষম্য, নিপীড়ন, সাম্প্রদায়িকতা এবং গণতন্ত্র অস্বীকারের বিরুদ্ধে সংগ্রামের মধ্য দিয়ে। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে আমরা যে রাষ্ট্র গড়ে তুলেছিলাম, তার ভিত্তি ছিল জাতীয়তাবাদ, গণতন্ত্র, সামাজিক ন্যায়বিচার এবং ধর্মনিরপেক্ষতা। সেই ভিত্তিকে দুর্বল করা মানেই বাংলাদেশের মৌলিক পরিচয়ের ওপর আঘাত হানা।

৫ আগস্টের পর আমরা মুক্তিযুদ্ধের চেতনার ওপর সর্বাত্মক আক্রমণ দেখেছি। মুক্তিযোদ্ধাদের জুতার মালা পরিয়ে অপমান করা হয়েছে। সারা দেশে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিস্তম্ভ ভাঙচুর করা হয়েছে। ‘জয় বাংলা’ স্লোগানকে অপরাধ হিসেবে দেখানো হয়েছে। জাতির পিতার বাসভবনে বারবার হামলা চালানো হয়েছে। সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর আক্রমণ হয়েছে। মন্দির ভাঙচুর করা হয়েছে। সুফি দরগা ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। সন্ত্রাসবিরোধী কার্যক্রম দুর্বল করে উগ্রবাদ বিস্তারের সুযোগ তৈরি করা হয়েছে। এক কথায়, বাংলাদেশকে একটি ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত করার সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় আমরা একটি স্থিতিশীল, আত্মবিশ্বাসী এবং উন্নয়নশীল বাংলাদেশ গড়ে তুলেছিলাম। ২০২৩ সালে বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি ছিল ৭ দশমিক ২৫ শতাংশ এবং মাথাপিছু আয় পৌঁছেছিল ২ হাজার ৭৯৩ মার্কিন ডলারে। ২৯ ধাপ এগিয়ে বাংলাদেশ বিশ্বের ৩৫তম বৃহৎ অর্থনীতিতে পরিণত হয়েছিল। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৩৬ গুণ বৃদ্ধি পেয়েছিল। জিডিপির তুলনায় বিনিয়োগের হার দাঁড়িয়েছিল ৩২ দশমিক ০৫ শতাংশ। প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ পাঁচ গুণ বেড়ে ৩ দশমিক ৪৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছেছিল।

আমরা দারিদ্র্যের হার কমিয়ে ১৮ দশমিক ৭ শতাংশ এবং চরম দারিদ্র্যের হার ৫ দশমিক ৬ শতাংশে নামিয়ে এনেছিলাম। খাদ্যশস্য উৎপাদন চার গুণ বৃদ্ধি পেয়েছিল। শিশুমৃত্যুর হার চার গুণ কমেছিল। বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা আট গুণ বেড়েছিল এবং শতভাগ মানুষ বিদ্যুৎ সুবিধার আওতায় এসেছিল। সাক্ষরতার হার বেড়ে হয়েছিল ৭৮ দশমিক ৫ শতাংশ। কর্মক্ষেত্রে নারীর অংশগ্রহণ বেড়ে দাঁড়িয়েছিল ৪৩ দশমিক ৪৪ শতাংশে। মানুষের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে আমরা ১৪ হাজার ৯৮৪টি কমিউনিটি ক্লিনিক প্রতিষ্ঠা করেছি।

আমরা ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারগুলোকে মর্যাদার সঙ্গে পুনর্বাসন করেছি। প্রায় ৪২ লাখ ৮০ হাজার ১১৫ জনকে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে দুই শতক জমিসহ বাড়ির মালিকানা দিয়েছি। পদ্মা সেতু, মেট্রোরেল, কর্ণফুলী টানেল, এক্সপ্রেসওয়ে, ডিজিটাল বাংলাদেশ এবং বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের মতো মেগা প্রকল্পের মাধ্যমে বাংলাদেশকে উন্নয়নের বৈশ্বিক রোল মডেলে পরিণত করেছি। আমরা প্রমাণ করেছি, সুযোগ, শান্তিপূর্ণ পরিবেশ এবং সৎ নেতৃত্ব পেলে বাঙালি জাতি নিজ শক্তিতেই মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারে।

৫ আগস্টের পর বাংলাদেশের উন্নয়নের ধারা ধ্বংস করা হয়েছে। দেশে জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করা হয়েছে। সেই পরিস্থিতি থেকে একমাত্র আওয়ামী লীগই দেশকে মুক্ত করতে পারে। জনগণ তা বুঝতে পেরেছে। অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হলে আওয়ামী লীগই বিজয়ী হবে। ইউনূস এবং বাংলাদেশবিরোধী রাজনৈতিক শক্তিগুলোও এটি খুব ভালোভাবে জানে। এ কারণেই অবৈধ অন্তর্বর্তী সরকার পরিকল্পিতভাবে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করেছে, দলটিকে নির্বাচনী প্রক্রিয়ার বাইরে রেখেছে এবং দেশের গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক ধারাকে ধ্বংস করেছে। ৫ আগস্টের পর বাংলাদেশে একটি ব্যর্থ রাষ্ট্রের মডেল প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

প্রশ্ন: এমন একটি খবর প্রকাশিত হয়েছে যে, আওয়ামী লীগের ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং আপনার জন্য ন্যায্য বিচার নিশ্চিত করার বিষয়ে বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে আপনার পর্দার আড়ালে আলোচনা হয়েছে। এসব দাবির কোনো সত্যতা আছে কি?

শেখ হাসিনা: জনগণকে বিভ্রান্ত করার জন্য ষড়যন্ত্রকারীরা প্রায়ই ইচ্ছাকৃতভাবে এ ধরনের প্রচারণা চালায়। এ বিষয়ে আমার অবস্থান অত্যন্ত স্পষ্ট। বাংলাদেশের গণতন্ত্র, আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক অধিকার, জনগণের ভোটাধিকার এবং ন্যায়বিচার এসব কোনো গোপন দরকষাকষির বিষয় নয়। এগুলো দেশের মানুষের সাংবিধানিক অধিকার।

আওয়ামী লীগের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা কোনো দয়া বা অনুগ্রহ নয়, এটি একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের ন্যূনতম শর্ত। একইভাবে ন্যায়বিচারও কোনো দান বা করুণা নয়, এটি মানুষের মৌলিক অধিকার। কোনো নাগরিক, রাজনৈতিক নেতা বা রাজনৈতিক দলের বিরুদ্ধে মামলা থাকলে তা অবশ্যই স্বাধীন, নিরপেক্ষ ও আইনসম্মত বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পরিচালিত হতে হবে। রাজনৈতিক নির্দেশনায় পরিচালিত ট্রাইব্যুনাল, সাজানো মামলা, ভয়ভীতি দেখিয়ে আদায় করা সাক্ষ্য কিংবা বিচার বিভাগের ওপর চাপ সৃষ্টি করে কখনো ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা যায় না।

আমি সবসময় রাজনৈতিক সমাধানের পক্ষে। তবে সেই সমাধান হতে হবে প্রকাশ্য, নীতিনিষ্ঠ এবং জনগণের আকাঙ্ক্ষার ভিত্তিতে। গোপন সমঝোতার ভিত্তিতে নয়। আওয়ামী লীগ কারও রাজনৈতিক দয়া বা অনুগ্রহ চায় না। আওয়ামী লীগ সংবিধানপ্রদত্ত অধিকার, জনগণের সমর্থন এবং মানুষের শক্তির ভিত্তিতেই রাজনীতি করবে।

প্রশ্ন: সম্প্রতি মন্দির ও হিন্দু সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সদস্যদের ওপর হামলার ঘটনা, পাশাপাশি কিছু ইসলামপন্থী গোষ্ঠীর বিক্ষোভ ও হুমকির খবর প্রকাশিত হয়েছে। এসব ঘটনাকে আপনি কীভাবে দেখছেন?

শেখ হাসিনা: বিষয়টি অত্যন্ত বেদনাদায়ক এবং গভীরভাবে উদ্বেগজনক। দুঃখজনক হলেও এটি বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নয়। বাংলাদেশে যখনই মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি দুর্বল হয়েছে, যখনই সাম্প্রদায়িক শক্তি রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করেছে বা রাষ্ট্র পরিচালনায় প্রভাব বিস্তার করেছে, তখনই সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর ভয়াবহ নির্যাতন নেমে এসেছে। তাদের বাড়িঘর, উপাসনালয়, ব্যবসা, জীবন ও মর্যাদা সবই হুমকির মুখে পড়েছে।

৫ আগস্টের পর থেকে হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান, আদিবাসী, আহমদিয়া সম্প্রদায় এবং সুফি সংশ্লিষ্ট কেউই নিরাপদ নন। মন্দির ভাঙচুর করা হয়েছে। প্রতিমা ভেঙে ফেলা হয়েছে। বাড়িঘরে লুটপাট হয়েছে। চাঁদাবাজি, নারীর প্রতি সহিংসতা এবং ধর্মীয় অনুষ্ঠান পালনে বাধা অব্যাহত রয়েছে।

সংখ্যালঘু অধিকার নিয়ে কথা বলার কারণে চিন্ময় কৃষ্ণ দাস এখনও একটি মিথ্যা মামলায় কারাগারে রয়েছেন। এটিই প্রমাণ করে, সরকার পরিবর্তন হলেও বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের ভাগ্যের কোনো পরিবর্তন হয়নি।

আমি স্পষ্ট করে বলতে চাই, সংখ্যালঘুরা কোনো ভোটব্যাংক নয়, তারা বাংলাদেশের সমমর্যাদাসম্পন্ন নাগরিক। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান সব ধর্ম ও সম্প্রদায়ের মানুষ ধর্ম, বর্ণ ও পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে যুদ্ধ করেছিলেন। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এমন একটি অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখেছিলেন, যেখানে সব ধর্মের মানুষ সমান অধিকার নিয়ে বসবাস করবে। সেই বাংলাদেশকে সাম্প্রদায়িক আগ্রাসন ও উগ্রবাদের জিম্মি হতে দেওয়া যায় না।

যারা সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা চালায়, মন্দির ভাঙচুর করে কিংবা ধর্মের নামে মানুষকে হুমকি দেয়, তারা শুধু একটি সম্প্রদায়ের শত্রু নয়। তারা বাংলাদেশের স্বাধীনতার চেতনার শত্রু। যখন কোনো নাগরিক তার ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে ভয়ে থাকে, তখন রাষ্ট্র ব্যর্থ হয়। আজ অনেক সংখ্যালঘু পরিবার সেই ভয়ের মধ্যেই দিন কাটাচ্ছে। নিরাপত্তার দাবিতে তাদের রাস্তায় নামতে হচ্ছে। এটি স্বাধীন বাংলাদেশের জন্য লজ্জাজনক।

সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। মন্দির ও উপাসনালয়ে হামলার ঘটনায় জড়িতদের বিচারের আওতায় আনতে হবে। সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠীর হুমকির বিরুদ্ধে রাষ্ট্রকে কঠোর অবস্থান নিতে হবে। যারা শান্তিপূর্ণভাবে সংখ্যালঘুদের অধিকারের পক্ষে কথা বলেন, তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা বা হয়রানি করা চলবে না বরং তাদের কথা শুনতে হবে। ধর্মীয় স্বাধীনতা, সমঅধিকার এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের মৌলিক দায়িত্ব। এই দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতা শুধু বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ সমস্যা নয়, এটি দক্ষিণ এশিয়ার স্থিতিশীলতা ও মানবিক মূল্যবোধের জন্যও উদ্বেগের বিষয়।

প্রশ্ন: আপনি বর্তমানে ভারতে অবস্থান করছেন। ব্যক্তিগতভাবে এই সময়টা আপনি কীভাবে কাটাচ্ছেন? আপনার মেয়ের সঙ্গে নিয়মিত দেখা হচ্ছে, নাকি নির্বাসিত জীবন বেশ সীমাবদ্ধ হয়ে গেছে?

শেখ হাসিনা: দীর্ঘ সময় ধরেই আমার জীবনে ব্যক্তিগত বলে আলাদা কিছু নেই। আমি আমার জীবন বাংলাদেশের মানুষের জন্য উৎসর্গ করেছি। ১৯৭৫ সালে আমি সবকিছু হারিয়েছি। তারপরও আমাকে দীর্ঘ সময় নির্বাসনে থাকতে হয়েছে। পরে দেশে ফিরে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে লড়াই করেছি। আজ আবার বাংলাদেশ একটি কঠিন সময় পার করছে। দেশের এই সংকটময় মুহূর্তে আমি সেখানে থাকতে পারছি না এটাই আমাকে গভীরভাবে কষ্ট দেয়। আমাকে সেই সুযোগ দেওয়া হয়নি।

আমার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে স্বাভাবিক যোগাযোগ রয়েছে। কিন্তু আমার মন পড়ে আছে বাংলাদেশে। যে মাটিতে আমার বাবা শায়িত, যে দেশের মাটির সঙ্গে আমার পরিবারের রক্ত মিশে আছে, যে দেশের মানুষের জন্য আমি সারাজীবন কাজ করেছি। নিজের দেশের মানুষের থেকে দূরে থাকা, নিজের মাটির গন্ধ থেকে দূরে থাকা, এবং প্রতিদিন আমার নেতা-কর্মীদের কষ্টের খবর শোনা অত্যন্ত বেদনাদায়ক।

আজ আমার ব্যক্তিগত জীবনের চেয়ে অনেক বড় বিষয় হলো বাংলাদেশের মানুষের অধিকার। দূর থেকেও আমি প্রতিদিন দেশের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করি। আমাদের নেতা-কর্মীদের খোঁজখবর নিই। নির্যাতিত পরিবারের গল্প শুনি। বাংলাদেশের গণতন্ত্র ও মানবাধিকার পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তুলে ধরার চেষ্টা করি। আমার সংগ্রাম থেমে নেই।

আমার শক্তি বাংলাদেশের মানুষ, আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মী এবং জাতির পিতার আদর্শ। বাংলাদেশে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার এবং জনগণকে ঐক্যবদ্ধ করার লক্ষ্যে আমি প্রতিদিন কাজ করে যাচ্ছি । আমি বিশ্বাস করি, বাংলাদেশের মানুষ আবার গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনবে। জনগণের শক্তিতে আওয়ামী লীগ আবারও ঘুরে দাঁড়াবে। আমি সেই সংগ্রামের সঙ্গেই আছি এবং জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত থাকব।

বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ছবি: সংগৃহীত
বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ছবি: সংগৃহীত

রামমন্দিরে দুর্নীতি ঘিরে ভারতে তোলপাড়: আটজন গ্রেপ্তার, ৮০ লাখ টাকা উদ্ধার

মুঘল স্থাপনা বাবরি মসজিদ ভেঙে গড়া হিন্দুত্ববাদীদের সাধের রামমন্দিরে এবার চুরির ঘটনা ঘটেছে। অযোধ্যার এই মন্দিরে অনুদানের টাকা তছরুপেরও অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে তুমুল রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে।

এ ঘটনায় উত্তর প্রদেশ সরকারের গঠিত বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট) ইতোমধ্যে বড়সড় গাফিলতির প্রমাণ পেয়েছে। গ্রেপ্তার করা হয়েছে নগদ ও মূল্যবান সামগ্রী গোনার দায়িত্বে থাকা আটজনকে। তাদের কাছ থেকে উদ্ধার হয়েছে ৭৯ লাখ ৮৫ হাজার টাকা। মিলেছে কিছু বিদেশি মুদ্রাও। আগামীকাল ২৯ জুন পর্যন্ত তাদের বিচার বিভাগীয় হেফাজতে পাঠানো হয়েছে।

প্রাথমিক তদন্তে অনুদান পরিচালনার ক্ষেত্রে নিয়মের চরম লঙ্ঘন ধরা পড়েছে। অনুদান গোনার সময় কর্মীদের তল্লাশি করা হয়নি। সেখানে কোনো নিরাপত্তারক্ষী মোতায়েন ছিল না। সিসিটিভি ফুটেজ ১৮০ দিনের বদলে মাত্র ৪৫ দিন সংরক্ষণ করা হয়েছিল। অনুদান বাক্সের চাবি ছিল রামশঙ্কর যাদব ওরফে তিন্নু যাদবের কাছে। তিনি ট্রাস্টের সাধারণ সম্পাদক চম্পত রাইয়ের প্রাক্তন গাড়িচালক। এটি সম্পূর্ণ নিয়মবহির্ভূত।

সূত্র জানায়, কর্মীদের পকেটবিহীন পোশাক পরার নিয়ম ছিল। কিন্তু তা মানা হয়নি। এসআইএস এজেন্সির কোনো নিরাপত্তারক্ষী ছিল না। এমনকি কোনো আচমকা তল্লাশিও চালানো হতো না। সিট জানিয়েছে, অনুদান গোনার দায়িত্বে থাকা অভিযুক্ত সুভাষ শ্রীবাস্তবকে নিয়ম ভেঙে নিয়োগ করা হয়েছিল। ট্রাস্টের অন্যতম শীর্ষ এক কর্মকর্তার সুপারিশে তার চাকরি হয়।

গত ৭ জুন সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদব প্রথম এই দুর্নীতির অভিযোগ তোলেন। তার আগে প্রাক্তন এসপি বিধায়ক পবন পাণ্ডে বড়সড় দাবি করেছিলেন। তার মতে, সাড়ে সাত থেকে ২৭ কোটি টাকা তছরুপ হয়েছে। প্রথমে শ্রীরাম জন্মভূমি তীর্থক্ষেত্র ট্রাস্টের সাধারণ সম্পাদক চম্পত রাই এই অভিযোগ উড়িয়ে দেন। তিনি বলেছিলেন, অভ্যন্তরীণ অডিটে সন্দেহজনক কিছু মেলেনি। তবে ১৩-১৪ জুন উত্তরপ্রদেশ সরকার তিন সদস্যের সিট গঠন করে। এরপর ২৫ জুন ভারতীয় ন্যায় সংহিতার একাধিক ধারায় এফআইআর দায়ের হয়। অনুকল্প মিশ্র, লবকুশ মিশ্র, অবিনাশ শুক্লা, তিন্নু যাদব, মনীশ যাদবসহ আটজনের নাম রয়েছে এই এফআইআরে। এরপর গত শুক্রবার নৈতিক দায় স্বীকার করে পদত্যাগ করেন চম্পত রাই এবং ট্রাস্টি অনিল মিশ্র।

গতকাল শনিবার মহারাষ্ট্রের ইয়াভাৎমাল-ওয়াশিম কেন্দ্রে একটি জনসভায় বিজেপির তীব্র সমালোচনা করেন শিবসেনা (উদ্ধব) প্রধান উদ্ধব ঠাকরে। তিনি বলেন, বিজেপি হিন্দুদের আবেগের সঙ্গে খেলছে। তারা হিন্দুদের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে। মন্দির লুট করার এই হিন্দুত্বকে তিনি প্রত্যাখ্যান করেন। তিনি ‘বিজেপি-মুক্ত রাম’ গড়ার ডাক দিয়েছেন। এজন্য প্রতিবাদে নেতৃত্ব দেবে তার দল। দলবদল করা সংসদ সদস্য সঞ্জয় দেশমুখের সমালোচনা করে উদ্ধব ভোটারদের কাছে ক্ষমা চান। তিনি বলেন, তার কথাতেই মানুষ ওই ‘কাকতাড়ুয়া’কে ভোট দিয়েছিলেন। কিন্তু সে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে।

তিনি একনাথ শিন্ডের গোষ্ঠীকে আক্রমণ করে ফের ‘৫০ খোকা’ বা ৫০ কোটি টাকার প্রসঙ্গ তোলেন। তিনি প্রশ্ন করেন, আগে বিধায়কদের দাম ৫০ কোটি হলে এখন সাংসদদের দাম কত? অন্যদিকে, দলের নেতা সঞ্জয় রাউত অভিযোগ করেছেন, রাম জন্মভূমি ট্রাস্টে অনুদান দিলেও তারা কোনো রসিদ পাননি।

কংগ্রেসও এই ইস্যুতে বিজেপি, আরএসএস এবং কেন্দ্রের বিরুদ্ধে আক্রমণ শানিয়েছে। প্রিয়াঙ্কা গান্ধী এই ঘটনাকে ‘লজ্জাজনক’ ও ‘দুঃখজনক’ আখ্যা দিয়েছেন। তিনি নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। তার মতে, সাধারণ মানুষ, গরিব নারী এবং শিশুদের জমানো টাকা এভাবে চুরি যাওয়াটা গোটা দেশকে স্তব্ধ করে দিয়েছে। এর পেছনে বড় চক্রান্তকারীদের হাত থাকতে পারে বলে তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন।

কংগ্রেস নেতা পবন খেরা প্রশ্ন তুলেছেন, আরএসএস এবং খোদ প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের নজরদারিতে থাকা এই প্রকল্পে কীভাবে এমন দুর্নীতি হলো। তার অভিযোগ, ট্রাস্ট তৈরি হয়েছিল প্রধানমন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ নৃপেন্দ্র মিশ্র ও চম্পত রাইদের নিয়ে। মহীপাল সিং নামের যে ব্যক্তি প্রথম চুরির কথা জানিয়েছিলেন, তাকে উল্টে সরিয়ে দেওয়া হয়। খেরা বলেন, ধর্মকে হাতিয়ার করে চুরি চাপা দেওয়ার চেষ্টা চলছে। যারা চুরি করেছে, তারাই আসলে হিন্দু ধর্মের অবমাননা করেছে।

প্রবীণ কংগ্রেস নেতা দিগ্বিজয় সিং এ ঘটনায় চম্পত রাই এবং অনিল মিশ্রকে গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন। তিনি বলেন, মহীপাল সিং এবং দীননাথ বর্মার মতো সাক্ষীদের বয়ান রেকর্ড করা উচিত।

তার অভিযোগ, প্রায় সাড়ে ১২ কোটি পরিবারের কাছ থেকে চাঁদা নেওয়া হলেও তার কোনো হিসাব নেই। বিজেপি, আরএসএস ও ভিএইচপি সনাতন ধর্মের ঐতিহ্য ধ্বংস করছে। এই সংগঠনগুলো মঠ ও মন্দির দখলের চেষ্টা করছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন।

কংগ্রেস নেতা গৌরব গগৈ এফআইআর দায়ের করতে দেরি হওয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তার মতে, আসল অপরাধীদের আড়াল করার চেষ্টা চলছে। জ্যোতির্মঠের শঙ্করাচার্যও জানিয়েছেন, এফআইআরে মূল অভিযুক্তদের ছাড় দেওয়া হয়েছে। তিনি বিজেপির হিন্দুত্বকে ‘নকল’ বলে কটাক্ষ করেছেন।

তবে বিরোধীদের এই আক্রমণের কড়া জবাব দিয়েছে বিজেপি। উত্তরপ্রদেশের উপমুখ্যমন্ত্রী কেশব প্রসাদ মৌর্য কংগ্রেস এবং সমাজবাদী পার্টিকে নিশানা করেছেন। তিনি অখিলেশ যাদবের দলকে ‘লাঠিয়াল গ্যাং’ বলে কটাক্ষ করেন। তার দাবি, এই দলগুলো বরাবরই রাম মন্দিরের বিরোধী। তদন্ত শেষ হওয়ার আগেই তারা মিথ্যা ও বিষ ছড়াচ্ছে।

তিনি আশ্বস্ত করে বলেন, সিট তদন্তের পর এফআইআর হয়েছে এবং গ্রেপ্তার শুরু হয়েছে। দোষীদের কাউকেই রেয়াত করা হবে না।

সরকারি সূত্রের খবর, মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ এই বিষয়ে অত্যন্ত কঠোর। সিট তাদের প্রাথমিক রিপোর্টে কড়া সুপারিশ করেছে। দোষীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সরকার জানিয়েছে।

রামমন্দিরে দুর্নীতি ঘিরে ভারতে তোলপাড়
মুঘল স্থাপনা বাবরি মসজিদ ভেঙে গড়া হিন্দুত্ববাদীদের সাধের রামমন্দির। ছবি: সংগৃহীত

গুহামানবদের চুম্বন, এবং...

মানবসভ্যতার বহু পুরোনো এক রহস্যে আলো ফেলেছে নতুন এক গবেষণা। তাতে বলা হয়েছে, মানুষ ও নিয়ান্ডারথালরা শুধু মিলনই করত না, তারা একে অপরকে চুম্বনও করত। অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় ও ফ্লোরিডা ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির গবেষকরা জানিয়েছেন, প্রায় ৫০ হাজার বছর আগে মানুষের চুম্বনের প্রমাণ পাওয়া গেছে। এ খবর দিয়ে অনলাইন ডেইলি মেইল বলছে, নিয়ান্ডারথাল হলো মানুষের ঘনিষ্ঠ পূর্বপুরুষ। তারা প্রায় ৪ লাখ থেকে ৪০ হাজার বছর আগে ইউরোপ এবং পশ্চিম এশিয়ায় বসবাস করত।

আগের গবেষণায় জানা গিয়েছিল, আধুনিক মানুষের জিনে আজও নিয়ান্ডারথালের ডিএনএ পাওয়া যায়। অর্থাৎ দুই প্রজাতির মধ্যে যৌনসম্পর্ক ঘটেছিল। তবে চুম্বনও সেই মিলনের অংশ ছিল কি না, তা এতদিন অজানাই ছিল। গবেষণার সহ-লেখক ফ্লোরিডা ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির অধ্যাপক ক্যাথরিন ট্যালবট বলেন, চুম্বন আমাদের কাছে সাধারণ ব্যাপার মনে হলেও, মানব সভ্যতার মাত্র ৪৬ শতাংশ সংস্কৃতিতে এটি নথিবদ্ধ। সমাজভেদে এর অর্থ ও প্রেক্ষাপট ভিন্ন। এটি কি আদিম আচরণ, নাকি সাংস্কৃতিক উদ্ভাবন- এটাই ছিল বড় প্রশ্ন। গরিলা, শিম্পাঞ্জি, বনোবো থেকে শুরু করে সাদা ভাল্লুক, নেকড়ে এমনকি অ্যালবাট্রস- অনেক প্রাণি চুম্বনের মতো আচরণ করে। কেউ মুখে মুখ দেয়, কেউ নাক ছোঁয়ায়, কেউ মাথা ঠেকায়- যা সামাজিক বা প্রজনন আচরণের অংশ। তবে বিবর্তনগতভাবে চুম্বন হলো এক ‘রহস্যময় আচরণ’। কারণ এতে রোগ সংক্রমণের ঝুঁকি থাকে। অথচ প্রজননে সরাসরি কোনও সুবিধা দেয় বলে মনে হয় না। গবেষকরা আধুনিক প্রাইমেটদের আচরণ নিয়ে সংগ্রহ করা বিপুল তথ্য ব্যবহার করেন- যেমন শিম্পাঞ্জি, বনোবো, ওরাংওটাং কি ধরনের চুম্বন-সদৃশ আচরণ করে। তারা চুম্বনকে সংজ্ঞায়িত করেছেন এভাবে- ‘আক্রমণাত্মক নয়, মুখে-মুখে স্পর্শ, যার মধ্যে খাবার আদান-প্রদান হয় না।’ এরপর জটিল পরিসংখ্যানভিত্তিক বাইসিয়ান মডেলিং পদ্ধতি ব্যবহার করে বিবর্তনের বিভিন্ন শাখায় চুম্বনের সম্ভাব্য উৎস নির্ণয় করা হয়। মডেলটি এক কোটি বার চালানো হয়, যাতে ফলাফল অত্যন্ত নির্ভরযোগ্য হয়। ফলাফলে দেখা যায়, চুম্বনের উৎপত্তি দুই কোটি ১৫ লাখ থেকে ১ কোটি ৬৯ লাখ বছর আগের এক পূর্বপুরুষে। এই পূর্বপুরুষ থেকে সৃষ্টি চারটি গ্রেট এপ। তারা হলো ওরাংওটাং, গরিলা, প্যান (শিম্পাঞ্জি ও বনোবো) এবং হোমো (যার একমাত্র জীবিত সদস্য আধুনিক মানুষ)।

গবেষকদের মতে, নিয়ান্ডারথালরাও জীবদ্দশায় চুম্বনের আচরণ করত। এটি সমর্থন করছে আগের প্রমাণ- মানুষ ও নিয়ান্ডারথালের মুখের জীবাণু  আদান-প্রদান হয়েছিল, যা লালার মাধ্যমে ছাড়া সম্ভব নয়। গবেষণা বলছে- মানুষ ও নিয়ান্ডারথালের শারীরিক সান্নিধ্য শুধু মিলনেই সীমাবদ্ধ ছিল না, বরং চুম্বন, আদর, ঘনিষ্ঠ স্পর্শ- সবই ঘটত। যদিও কিছু বিশেষজ্ঞ সতর্ক করে বলেন- প্রাগৈতিহাসিক যুগে মিলন সবসময়ই হয়তো ‘সম্মতিতে’ হয়নি। প্রফেসর পল পেটিট ডেইলি মেইলকে বলেন, আমরা ধরে নিই মিলন ছিল সম্মতিপূর্ণ। কিন্তু বাস্তবতা হল- সে যুগে অনেক সময়ই হয়তো কারও কোনও বিকল্প ছিল না। যদি সম্মতিপূর্ণ হয়ে থাকে- তবে অবশ্যই চুম্বন ও আলিঙ্গন ছিল মিলনের অংশ।
চুম্বন প্রায় সব বড় এপ প্রজাতির মধ্যেই আজও দেখা যায়। অর্থাৎ এটি টিকে আছে লক্ষ লক্ষ বছর। তবে কেন এটি বিবর্তনে বজায় রইল। তার কারণ এখনো পুরোপুরি জানা যায়নি। একটি ধারণা হলো- চুম্বনের মূল ছিল পরস্পরের গায় থেকে উকুন-টিক পড়া সরানো। পরবর্তীকালে এটি যৌন উত্তেজনা ও অন্তরঙ্গতার অংশ হয়ে ওঠে।
https://mzamin.com/uploads/news/main/190205_Abul-6.webp

গাজায় তাঁবুতে হামলা চালিয়ে ঘুমন্ত শিশুদের হত্যা

গাজায় বাস্তুচ্যুত মানুষের তাঁবুতে ইসরাইলি বাহিনীর হামলায় আরো এক ফিলিস্তিনি শিশুসহ বেশ কয়েকজন নিহত হয়েছেন। গাজার কিছু অংশকে ‘নিরাপদ অঞ্চল’ ঘোষণা করে ‘যুদ্ধবিরতি’ চললেও ইসরাইল এই হামলা অব্যাহত রেখেছে।

চিকিৎসা সূত্র জানিয়েছে, শনিবার দুটি অস্থায়ী তাঁবুতে ইসরাইলি ড্রোন হামলায় দুই ভাই-বোন নিহত হয়েছেন। নিহতরা হলেন ১৫ বছর বয়সি ইসলাম মুসা এবং তার ৩০ বছর বয়সি ভাই আবদুল্লাহ মুসা।

গাজার সিভিল ডিফেন্স জানিয়েছে, খান ইউনিসের পশ্চিমে আল-মাওয়াসি এলাকার ওই হামলার স্থান থেকে সাতজন আহত ব্যক্তিকে উদ্ধার করা হয়েছে। তাদের নাসের হাসপাতাল ও রেড ক্রস হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। হাসপাতালের আঙিনায় সাদা কাফনে জড়ানো ভাই-বোনের লাশের পাশে আত্মীয়-স্বজনদের কাঁদতে দেখা গেছে।

এর আগে দক্ষিণ গাজায় ইসরাইলি বোমাবর্ষণে আহত হওয়া ১০ বছর বয়সি আরো এক ফিলিস্তিনি শিশু মারা গেছে।

নাসের হাসপাতালের একটি সূত্র আনাদোলু বার্তা সংস্থাকে জানিয়েছে, দিনকয়েক আগে আল-মাওয়াসিতে ইসরাইলি হামলায় আহত হওয়া ওয়ালিদ ইউসুফ আবু জাজার নামের ওই শিশুটি চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়।

আল-শিফা হাসপাতালের তথ্য অনুযায়ী, ইসরাইলি সামরিক বাহিনী পশ্চিম গাজা শহরে বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনিদের আশ্রয় নেওয়া আরেকটি তাঁবুতেও আঘাত হেনেছে। এতে অন্তত ১২ জন আহত হয়েছেন।

ফিলিস্তিনি রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির অ্যাম্বুলেন্স সেবা জানিয়েছে, আহতদের বেশিরভাগই নারী এবং তাদের মধ্যে দু’জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

গাজা শহর থেকে আল জাজিরার তারেক আবু আজুম জানিয়েছেন, ‘যুদ্ধবিরতি’ সত্ত্বেও ইসরাইল তাদের হামলা চালিয়ে যাচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘গত বছর যুদ্ধবিরতি হওয়ার পর থেকেই সর্বোচ্চ চাপ প্রয়োগ করা ইসরাইলি নীতির মূল ভিত্তি হয়ে দাঁড়িয়েছে।’

তিনি আরো জানান, ‘গত কয়েক ঘণ্টায় আমরা খবর পেয়েছি যে ইসরাইলি ড্রোনগুলো আল-মাওয়াসি এলাকার অস্থায়ী তাঁবুতে আঘাত হেনেছে। যুদ্ধবিরতির শর্ত অনুযায়ী এই এলাকাটিকে হাজার হাজার ফিলিস্তিনির জন্য নিরাপদ অঞ্চল হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছিল।’

আজুম বলেন, ‘আমরা ড্রোন হামলার তীব্রতা বৃদ্ধির সাক্ষী হচ্ছি এবং এখনও মাথার ওপরে ড্রোনের শব্দ শোনা যাচ্ছে।’

শিশুদের লক্ষ্য করে ইসরাইলের পরিকল্পিত হামলা

জাতিসংঘের একটি প্রতিবেদনে গাজায় শিশুদের লক্ষ্যবস্তু করার বিষয়টি নথিভুক্ত করার পর ইসরাইলের ফিলিস্তিনি শিশু হত্যার বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ২০২৩ সালের অক্টোবরে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত নিহতদের মধ্যে প্রায় ৩০ শতাংশই শিশু।

শিশুদের অধিকারকর্মী রাচেল আকুরসো (মিস রাচেল নামে পরিচিত) এই প্রতিবেদনের একজন সহ-লেখকের সাথে কথা বলেছেন। তিনি বলেন, এই হত্যাকাণ্ড থামাতে বিশ্ব ব্যর্থ হয়েছে।

শুক্রবার তিনি বলেন, ‘আমরা দেখছি আমাদের নিজেদের সন্তানদের মতো শিশুরাই একটি গণহত্যার মধ্যে টিকে থাকার চেষ্টা করছে, তবুও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি, কোনো জবাবদিহিতা নেই।’

প্রতিবেদনের সহ-লেখক এবং জাতিসংঘের কমিশনার ক্রিস সিডোটি এই প্রতিবেদনের ফলাফলকে ‘একেবারে হৃদয়বিদারক’ বলে অভিহিত করেছেন।

সিডোটি আরো বলেন, ‘রাষ্ট্রগুলোর পদক্ষেপ নেওয়ার আইনি বাধ্যবাধকতা রয়েছে। আমাদের সাড়ে তিন বছর আগেই পদক্ষেপ নেওয়া উচিত ছিল, তবে শুরু করার জন্য এখনও খুব বেশি দেরি হয়ে যায়নি।’

গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া ইসরাইলি হামলায় এ পর্যন্ত অন্তত ৭৩ হাজার ৪৩ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন এবং ১ লাখ ৭৩ হাজার ৪১৭ জন আহত হয়েছেন।

মন্ত্রণালয় আরো জানায়, গত অক্টোবরে ‘যুদ্ধবিরতি’ শুরু হওয়ার পর থেকেই ইসরাইলি বাহিনী ১ হাজার ৩১ জন ফিলিস্তিনিকে হত্যা করেছে এবং ৩ হাজার ৩০৯ জনকে আহত করেছে।

সূত্র: আল-জজিরা

গাজায় তাঁবুতে হামলা চালিয়ে ঘুমন্ত শিশুদের হত্যা
ছবি: এএফপি

হরমুজ ঘিরে ফের মুখোমুখি ইরান-যুক্তরাষ্ট্র, সংকটে যুদ্ধবিরতি

হরমুজ প্রণালীকে ঘিরে আবারো সংঘর্ষে জাড়িয়ে পড়েছে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র। শনিবার সকালে হরমুজের একটি জাহাজে অজ্ঞাত প্রজেক্টাইল আঘাত হানলে আবারো সংঘর্ষের সূত্রাপাতা ঘটে দেশ দুটির মধ্যে। পরবর্তীতে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিভিন্ন স্থাপনাকে লক্ষ্য করে হামলা চালায়।

ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিম জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালীর উপকূলবর্তী সিরিক জেলার তাহরুই গ্রামের কাছে কয়েকটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। এদিকে রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবি জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালীর কেশম দ্বীপের একটি গ্রামে কয়েকটি ক্ষেপণাস্ত্র বা প্রজেক্টাইল আঘাত হেনেছে।

এ পর্যন্ত ইরানের রাজনৈতিক বা সামরিক কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দেওয়া হয়নি।

প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, হামলার লক্ষ্যবস্তু ছিল সিরিক এবং কেশম দ্বীপ। কেশম দ্বীপে ইরানের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনা, টেলিযোগাযোগ টাওয়ার এবং নজরদারি কেন্দ্র রয়েছে।

এ ঘটনা এমন সময় ঘটল, যখন যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনী দাবি করেছে, হরমুজ প্রণালিতে একটি তেলবাহী জাহাজে অজ্ঞাত একটি প্রজেক্টাইল আঘাত হেনেছে। যুক্তরাজ্যের সমুদ্র নিরাপত্তাবিষয়ক সংস্থা ইউকেএমটিও জানায়, হামলায় জাহাজটির নিয়ন্ত্রণকক্ষ ক্ষতিগ্রস্ত হলেও নাবিকেরা সবাই নিরাপদে আছেন।

বিশ্লেষকদের মতে, ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরের পর এটি দুই পক্ষের মধ্যে দ্বিতীয় সরাসরি সামরিক সংঘর্ষের ঘটনা। ফলে সমঝোতাটির ভবিষ্যৎ কার্যকারিতা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘনের অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন সংরক্ষণাগার এবং উপকূলীয় রাডার স্থাপনায় নতুন করে হামলা চালিয়েছে।

নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, ‘যুদ্ধবিরতি চুক্তি আবারও লঙ্ঘন করায় যুক্তরাষ্ট্রের বিমান ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন সংরক্ষণাগার এবং উপকূলীয় রাডার সাইটে হামলা চালিয়েছে। মনে হচ্ছে, তারা কখনোই শিক্ষা নেবে না।”

তিনি আরও হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, এমন সময় আসতে পারে, যখন আমাদের আর সংযত থাকার সুযোগ থাকবে না। তখন আমরা সামরিকভাবে অত্যন্ত সফলভাবে শুরু করা কাজটি সম্পূর্ণ করতে বাধ্য হব।

অন্যদিকে, কানাডার পররাষ্ট্রমন্ত্রী অনিতা আনন্দ বাহরাইনে কথিত ইরানি ড্রোন হামলাকে দেশটির সার্বভৌমত্বের ‘অবৈধ লঙ্ঘন’ বলে অভিহিত করেছেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি জানান, বাহরাইনের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলে তিনি দেশটির জনগণের প্রতি কানাডার সংহতি পুনর্ব্যক্ত করেছেন।

অনিতা আনন্দ বলেন, বাহরাইনের সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে এই কথিত ইরানি ড্রোন হামলা অবৈধ লঙ্ঘনের শামিল।

তিনি আরও বলেন, এই অঞ্চলে শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে টেকসই সমাধানের আহ্বান জানিয়ে যাচ্ছে কানাডা।

হামলা চালিয়ে গেলে ইরানও কঠোর অবস্থান নেবে

তেহরান বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক হাসান আহমাদিয়ান বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি হামলা অব্যাহত রাখে, তাহলে ইরানও আরও কঠোর প্রতিক্রিয়া দেখাতে পারে। তিনি বলেন, ওয়াশিংটন নিজেই যে সমঝোতা স্মারকে (এমওইউ) স্বাক্ষর করেছে, এখন সেটির শর্ত মানতে আগ্রহী নয়।

আলজাজিরাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে আহমাদিয়ান বলেন, সমঝোতা স্মারকের পঞ্চম অনুচ্ছেদ অনুযায়ী হরমুজ প্রণালিতে নিরাপদ নৌ-চলাচলের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার অধিকার ইরানের রয়েছে। তেহরান ওই ধারার ভিত্তিতেই যেসব জাহাজ ইরানের সঙ্গে সমন্বয় না করে চলাচল করছে বলে দাবি করছে, সেগুলোর বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘চুক্তিটি ইরানকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষমতা দিয়েছে। কিন্তু এখন যুক্তরাষ্ট্র সেই সমঝোতার বাইরে ভিন্ন ধরনের ব্যবস্থা কার্যকর করতে চাইছে।’

তিনি আরও বলেন, আমি মনে করি না ইরান থেমে যাবে। বরং যুক্তরাষ্ট্র যদি উত্তেজনা আরও বাড়ায়, তাহলে ইরানও পাল্টা উত্তেজনা বৃদ্ধি করবে।

ইরানে হামলা ‘যুদ্ধক্ষমতা আইনের লঙ্ঘন: মার্কিন কংগ্রেসম্যানের

মার্কিন ডেমোক্র্যাট কংগ্রেসম্যান রো খান্না ইরানে ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন হামলার তীব্র সমালোচনা করে বলেছেন, এটি কংগ্রেসে পাস হওয়া ‘ওয়ার পাওয়ারস রেজুলেশন’ বা যুদ্ধক্ষমতা-সংক্রান্ত প্রস্তাবের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে খান্না বলেন, আমরা যে ওয়ার পাওয়ারস রেজুলেশন পাস করেছি, এই হামলাগুলো তার প্রকাশ্য লঙ্ঘন।

তিনি আরও বলেন, ট্রাম্পকে এখনই এই যুদ্ধ থামাতে হবে। অন্যথায় তাকে বাধ্য করতে আমরা আদালতের শরণাপন্ন হব।

গত মঙ্গলবার মার্কিন সিনেট একটি প্রস্তাব পাস করে, যাতে বলা হয় প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে হয় ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সামরিক অভিযান বন্ধ করতে হবে, নয়তো পরবর্তী কোনো সামরিক পদক্ষেপের আগে কংগ্রেসের অনুমোদন নিতে হবে। এর আগে জুন মাসেই একই ধরনের প্রস্তাব প্রতিনিধি পরিষদেও পাস হয়েছিল।

তেলের দাম বাড়লেই অবস্থান নরম করবেন ট্রাম্প: সাবেক মার্কিন নৌ কর্মকর্তা

মার্কিন নৌবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা হারলান উলম্যান বলেছেন, হরমুজ প্রণালিতে নতুন করে হামলার কারণে তেলের দাম বেড়ে গেলে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন সামরিক পদক্ষেপে সংযম দেখাতে বাধ্য হতে পারে।

আলজাজিরাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে উলম্যান বলেন, “আমার ধারণা, তেলের দাম দ্রুত বাড়বে। কারণ সবাই ধরে নেবে লেবানন ও ইরানের সঙ্গে হওয়া চুক্তিগুলো কার্যকর হবে না।”

তিনি বলেন, জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির চাপ ট্রাম্পকে আবারও আলোচনার পথে ফিরতে বাধ্য করতে পারে, যাতে একটি সমঝোতায় পৌঁছানো সম্ভব হয়।

উলম্যান আরও সতর্ক করে বলেন, ওয়াশিংটন ও তেহরানের পাল্টাপাল্টি হামলা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে।

তার ভাষায়, পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। তবে আমার ধারণা, তেলের দাম যদি প্রত্যাশামতো বেড়ে যায়, তাহলে সেটিই উভয় পক্ষকে কিছুটা সংযত করতে পারে। কিন্তু এই মুহূর্তে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা কঠিন।

হরমুজে জাহাজ নিয়ন্ত্রণে কঠোর হচ্ছে ইরান
ফাইল ছবি

কারাগারে বন্দির সঙ্গে প্রেম, যৌন সম্পর্ক, অতঃপর...

২০২২ সালের গ্রীষ্মের এক দিন। ডরসেটের এইচএমপি দ্য ভার্ন কারাগারের ডে-রুমে দাঁড়িয়ে ছিলেন ২৬ বছরের কারা কর্মকর্তা শেরি-অ্যান অস্টিন-স্যাডিংটন। সেখানেই তাকে একটি সিদ্ধান্ত নিতে হয়। একজন বন্দি ব্র্যাডলি ট্রেঙ্গ্রোভ তাকে একটি ম্যাগাজিন দিল। এর ভেতরে লুকানো ছিল তার অবৈধ মোবাইল ফোনের নম্বর। শেরি অ্যান বলেন, আমি ভাবছিলাম রিপোর্ট করব? নাকি করব না? মনে কোনওভাবেই ছিল না যে আমি তাকে মেসেজ করব।

কিন্তু তিনি কাগজটি ফেলে দেননি। রেখে দেন। আর সেখান থেকেই শুরু হয় একদফা ভুল সিদ্ধান্ত। সেই ভুল তাকে প্রাসাদসম ভবিষ্যৎ থেকে টেনে নিয়ে যায় এক বন্দির সঙ্গে যৌন সম্পর্কে। শেষ পর্যন্ত তাকেও পরিণত করে একজন দণ্ডিত অপরাধীতে। শেরি-অ্যান বলেন এটি এমন একটি সিদ্ধান্ত, যার জন্য তিনি সারাজীবন অনুতপ্ত থাকবেন। আর তার গল্পটি তুলে ধরে যে, বৃটেনের কারা ব্যবস্থার কোথায় কোথায় ভয়াবহ দুর্বলতা আছে, কীভাবে কর্মীদের নিয়োগ ও তদারকিতে বড়সড় ফাঁক থেকে যাচ্ছে।
২০১৯ থেকে ২০২৪। এই পাঁচ বছরে কমপক্ষে ৬৪ জন কারা কর্মকর্তাকে বন্দিদের সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কে জড়ানোর কারণে বরখাস্তের সুপারিশ করা হয়। প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি। কারণ অনেকে বরখাস্ত হওয়ার আগেই পদত্যাগ করেন। অনেকে অন্য দপ্তরের কর্মী, আর অনেকে ধরা-ই পড়েন না। সমস্যাটি কেবল কিছু ব্যক্তিগত ভুল সিদ্ধান্ত নয়। এটি একটি ব্যবস্থাগত সংকট। বিশেষ করে নারী কারা কর্মকর্তাদের ক্ষেত্রে, যারা বিপজ্জনক পুরুষ বন্দিদের সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ছেন। গত এক বছরেই কমপক্ষে দশজন নারী এই অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হন। কারও ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। কেউ কাপবোর্ডে আটক অবস্থায় ধরা পড়েছেন। কেউ আবার উচ্চপ্রোফাইল বন্দির সঙ্গে সম্পর্কের কারণে দীর্ঘ সাজা পেয়েছেন।
এই ভিড়ে শেরি-অ্যানের গল্পটি আলাদা। তিনি জানতেন, ট্রেঙ্গ্রোভ একজন দণ্ডিত যৌন অপরাধী। ২০২৩ সালের মে মাসে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। কারণ তিনি চেষ্টা করছিলেন বন্দির কাছে ক্যালপল সিরিঞ্জ পৌঁছে দিতে, যাতে ট্রেঙ্গ্রোভ তার শুক্রাণু দিয়ে তাকে কৃত্রিমভাবে গর্ভধারণ করাতে পারে। আর ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে সম্পর্ক শেষ হওয়ার নয় মাস পরে হঠাৎই শেরি-অ্যান স্পাইনাল স্ট্রোকে প্যারালাইজড হয়ে পড়েন। বুকের নিচ থেকে সারা জীবন চলাফেরায় অক্ষম হয়ে পড়েন। তাই তার দুই বছরের সাজা স্থগিত করা হয়।

শেরি অ্যানের বয়স এখন ২৯ বছর। তিনি বলেন, আমি জানি আমি জেলে যাইনি। কিন্তু আমি সারা জীবনের জন্য এই শরীরের ভেতরেই বন্দি। তিনি অসহায় ছিলেন। ছোটবেলায় এক কন্যাসন্তানের মা হন ১৬ বছর বয়সে। পরে কাজ, প্রশিক্ষণ, সম্পর্ক- সব মিলিয়ে জীবনে নানা টানাপোড়েন। ২০১৯-এ তিনি কারা কর্মকর্তা হন। দ্য ভার্ন কারাগারটি মূলত যৌন অপরাধীদের প্রতিষ্ঠান। এখানে বন্দিরা বয়সে বড়, আচরণে শান্ত। কিন্তু ভেতরে অত্যন্ত চালাক ও প্রভাবশালী। ট্রেঙ্গ্রোভ তাকে চুপিসারে কাছে টানতে শুরু করে। একদিন একটি ম্যাগাজিন চেয়ে, আরেকদিন সামান্য প্রশংসা করে। তারপর বাড়তে থাকে মেসেজ, অতি ব্যক্তিগত মন্তব্য, মিথ্যে গল্প, আবেগী নাটক, পরিবার-পরিজনের নামে বিশ্বাস অর্জন। শেরি-অ্যান বলেন- মনে হচ্ছিল আমি যেন নতুন একটি পরিবার পেয়ে গেছি।

কিন্তু আসলেই তিনি যাচাই করে দেখেননি যে কে এই ট্রেঙ্গ্রোভ। তিনি ছিলেন- এক কিশোরীকে বারবার ধর্ষণের অপরাধে ১৩ বছরের সাজাপ্রাপ্ত একজন অত্যন্ত বিপজ্জনক ব্যক্তি। শেরি-অ্যানের ভাষায়- আমি ভাবতাম আমি যথেষ্ট নই। তাই যিনি আমাকে ভালোবাসবে বলছে, তাকে সব দিয়ে দিতে হবে। সম্পর্কটি বাড়তে থাকে। কয়েকবার যৌন সম্পর্ক হয়। এরপর তিনি গর্ভবতী হন।
কয়েক সপ্তাহ পর গর্ভপাত। আর ট্রেঙ্গ্রোভের রাগ, আবেশ, নিয়ন্ত্রণ আরও বাড়ে। কারাগার থেকে বেরোলেই তাকে ফোন ধরতে হতো। ঘুমাতে যাওয়ার অনুমতিও সে দিত।

এদিকে তার বার্তালাপ ধরা পড়ে। ট্রেঙ্গ্রোভকে অন্য কারাগারে পাঠানো হয়। শেরি-অ্যান পদত্যাগ করেন। কিন্তু সম্পর্ক তখনও শেষ হয়নি। ট্রেঙ্গ্রোভ তাকে নাম পরিবর্তন করতে বাধ্য করে, যাতে নতুন কারাগারে দেখা করতে পারে। এক পর্যায়ে সে তাকে বলে- ক্যালপল সিরিঞ্জ এনে দাও।
যা নিয়ে আসার চেষ্টা করতেই তিনি গ্রেপ্তার হন। এত কিছুর পরও প্রেম, হুমকি, আবেগী চাপ- সব মিলিয়ে সম্পর্কটা আরও দুই সপ্তাহ টিকে থাকে। এরপর পুলিশ তাকে ট্রেঙ্গ্রোভের প্রকৃত অপরাধের বিবরণ দেখালে, সব সম্পর্ক ভেঙে পড়ে। ২০২৪ সালে তিনি ট্রেঙ্গ্রোভের পাঠানো রক্তমাখা ১০ পাতার চিঠিও পান। সেখানে ওই বন্দি লিখেছে, আমি তোমাকে ছাড়া বাঁচব না।

কারা কর্তৃপক্ষ দীর্ঘদিন ধরে গুরুতর জনবল সংকটে। অল্প প্রশিক্ষণে তরুণী নারীদের অত্যন্ত বিপজ্জনক পুরুষ বন্দিদের তত্ত্বাবধানে পাঠানো হচ্ছে। কোথাও দায়িত্বজ্ঞানহীন ব্যবস্থাপনা, কোথাও তদারকির ঘাটতি- সব মিলিয়ে প্রহরীদের নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে। শেরি-অ্যান বলেন, অনেকে কাজ খুঁজে না পেয়ে এই চাকরিতে আসেন। কর্তৃপক্ষ এত কম স্টাফ নিয়ে চলে যে তাদের কাছে থাকা কর্মকর্তাদের দিকেও সঠিকভাবে নজর দেয়া হয় না।

mzamin