Wednesday, May 24, 2017

হামলাকারী সালমান আবেদিকে আগেই চিনতো বৃটিশ পুলিশ

ম্যানচেস্টার হামলাকারী লিবিয়ান বংশোদ্ভূত বৃটিশ নাগরিক সালমান আবেদি। আইসিসের পক্ষে সদস্য সংগ্রহকারী হিসেবে বৃটিশ পুলিশের কাছে পরিচিত ছিল সে। সোমবার দিবাগত রাতে অ্যারিনা কনসার্ট হলে ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলা চালানোর আগে সে অনেকটা সময় কাটিয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধকবলিত এলাকায়। সেখানে সে সন্ত্রাসী প্রশিক্ষণ পেয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। হামলা চালানোর মাত্র কয়েকদিন আগে সে লিবিয়ায় তিন সপ্তাহের একটি ট্যুর দিয়ে এসেছিল। তার একটি ছবি প্রকাশ করেছে অনলাইন দ্য সান। এ সব খবর দিয়েছে লন্ডনের অনলাইন দ্য ডেইলি মেইল। এতে বলা হয়েছে, সালমান আবেদির বয়স ২২ বছর। সোমবার রাতে সে ম্যানচেস্টারে হামলা চালানো আগেই তাকে চিনতো নিরাপত্তা সার্ভিসগুলো। আইসিসের পক্ষে সদস্য সংগ্রহকারীদের সঙ্গে তার ছিল যোগসূত্র। এসব বিষয় তদন্ত করছে পুলিশ। প্রতিবেশীরাও তাকে চিনতো। কারণ, সব সময় তার মুখে থাকতো ঘৃণাভরা একটি ভাবধারা। অন্যরা বলেন, সে ছিল ফুটবলের পাগল। তার ভালবাসা ছিল ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের প্রতি। হামলার পর মঙ্গলবার ম্যানচেস্টারে তার বাড়িতে তল্লাশি চালিয়েছে পুলিশ। বাড়িটি ম্যানচেস্টারের দক্ষিণে ফালোফিল্ডে লাল ইটের তৈরি। তল্লাশি চালানোর সময় রাসায়নিক বিশেষজ্ঞদের দেখা গেছে ওই বাড়ির বাইরে অবস্থান নিতে। তাদের আশঙ্কা সালমান আবেদি বাড়িতে কোন তেজস্ক্রিয় রাসায়নিক পদার্থ রেখে দিতে পারে। সেখান থেকে কোন বিস্ফোরণ ঘটতে পারে। বাড়িটি তল্লাশিকালে পুলিশ আটক করেছে সালমান আবেদির ভাই ইসমাইলকে (২৩)। হামলার সঙ্গে তিনি কোনভাবে জড়িত কিনা তা জানার জন্য পুলিশ তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে। জানা গেছে, সোমবার রাতে হামলা চালানোর আগে সালমান আবেদি লন্ডন থেকে ট্রেনে করে পৌঁছেছে ম্যানচেস্টারে। এখন সংশয় দেখা দিচ্ছে সে এই হামলা চালাতে অন্য কারো সহায়তা নিয়ে থাকতে পারে। এমন কারো সহায়তা নিয়েছে যার প্রতি কোন সন্দেহ বা কোন কালো তালিকায় নেই নাম। এসব বিষয়ও খতিয়ে দেখছে পুলিশ। ওদিকে অনলাইন দ্য মিরর লিখেছে, আইসিসের পক্ষে একসময় সদস্য সংগ্রহ করতেন রাফায়েল হস্টি। ২০১৬ সালে ড্রোন হামলায় সিরিয়ায় নিহত হন তিনি। তিনি আবু কাকা আল বৃটানি নামেও পরিচিত ছিলেন। তার সঙ্গে বন্ধুত্ব ছিল সালমান আবেদির। তারা ছিলেন পারিবারিক বন্ধু। আশঙ্কা করা হয়, সালমানকে উগ্রপন্থি হতে সহায়তা করেছেন হস্টি। মঙ্গলবারই পুলিশ ম্যানচেস্টার অ্যারিনা থেকে উদ্ধার করা সিসিটিভিতে সালমানকে দেখতে পেয়েছে। এ সময় তার সঙ্গে কিছু একটা দেখতে পাওয়া গেছে। পুলিশের সন্দেহ এটাই বাসায় তৈরি বোমা। আরো জানা যাচ্ছে, তার পিতা বিমানবন্দরের নিরাপত্তা বিষয়ক কর্মকর্তা। তিনি লিবিয়ায় যুদ্ধ করতে বৃটেন ছেড়ে গেছেন। তার মাও লিবিয়া চলে গেছেন। তবে যাওয়ার আগে তিনি ছেলের উগ্রপন্থি হয়ে উঠার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন। উল্লেখ্য, ১৯৯৪ সালে ম্যানচেস্টারে জন্ম সালমান আবেদির। পিতামাতার চার সন্তানের মধ্যে সে ছিল তৃতীয়। তার পিতামাতা ছিলেন লিবিয়ার শরণার্থী। লিবিয়ার সাবেক নেতা মুয়াম্মার গাদ্দাফির শাসনকালে তারা পালিয়ে বৃটেন চলে যান। ২০১১ সালে গাদ্দাফিকে ক্ষমতাচ্যুত করার যে চেষ্টা হয়েছিল সেই চেষ্টায় অংশ নিতে সালমানের পিতা বৃটেন ছেড়ে লিবিয়া যান বলেও শোনা যাচ্ছে। সালমানের পিতা রমাদান আবেদি। স্ত্রী সামিয়া তাব্বাল (৫০) কে নিয়ে তিনি লন্ডনে পাড়ি দিয়েছিলেন। সেখান থেকে ম্যানচেস্টারের ফালোফিল্ডে। সেখানেই তারা বসতি গড়েন। প্রতিবেশীরা বলেন, সালমান ফুটবলপাগল থাকলেও ২০১১ সালে সব কিছু পাল্টে যায়। হঠাৎ করেই তার পিতা চাকরি ছেড়ে দেন। ছুটে যান লিবিয়ায় যুদ্ধ করতে। কিন্তু পরিবারকে রেখে যান একেবারে শূন্য হাতে। উল্লেখ্য, মঙ্গলবার পুলিশ সেই বাড়িটি ঘেরাও করে সেখান থেকে সালমানের ভাই ইসমাইলকে আটক করেছে। রাতভর তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। তিনি নিজে একজন আইটি ম্যানেজার। জানুয়ারি পর্যন্ত তিনি ওল্ডহ্যামে পার্ক কেক বেকারিস-এ কাজ করতেন। স্থানীয় ডিডসবারি মসজিদে এক সময় ঘন ঘন যাতায়াত করতেন সালমান আবেদি। সেখানকার অনেকের সঙ্গেই ছিল ঘনিষ্ঠতা। কিন্তু ওই মসজিদের ইমাম মোহাম্মদ সাঈদ বলেছেন, হটাৎ করে ২০১৫ সালে মসজিদে যাওয়া বন্ধ করে দেয় সালমান। আইএস বিরোধী মন্তব্য করলেই তাতে সে আপত্তি জানাতে থাকে। তবে মাঝে মধ্যে সে মসজিদে যেতো। এর পর মসজিদে যাওয়া একেবারেই কমিয়ে দিতে থাকে সে। সালমান পড়াশোনা করেছে ম্যানচেস্টারের বেশকিছু স্কুলে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো  ম্যানচেস্টার ক্লেয়ারমন্ট প্রাইমারি স্কুল, বার্নেজ একাডেমি, উইলিয়াম হালমে, স্ট্রেটফোর্ড গ্রামার স্কুল। তার সঙ্গে স্কুলে আসা-যাওয়া করতো লিয়ন হল। সে বলেছে, গত বছর সর্বশেষ সালমানের সঙ্গে দেখা হয়েছে। তার মুখে ঘন দাড়ি।

বৃটেনের রাজপথে ৩০০০ জঙ্গি

বৃটেনের রাজপথে ৩০০০ জঙ্গি। তাদেরকে নজরদারি করতে গোয়েন্দা ও সন্ত্রাস বিরোধী পুলিশকে হিমশিম খেতে হচ্ছে। আইএসের পক্ষে যুদ্ধে যোগ দিতে এ যাবত প্রায় সাড়ে আটশ’ বৃটিশ নাগরিক বিদেশে, বিশেষ করে ইরাক ও সিরিয়ায় পাড়ি দিয়েছে। একজন সন্দেহভাজন উগ্রপন্থিকে ২৪ ঘন্টা নজরদারিতে রাখতে ৩০ জন পুলিশ সদস্য প্রয়োজন। বিভিন্ন সূত্রের উদ্ধৃতি দিয়ে এ খবর দিয়েছে অনলাইন দ্য ডেইলি মেইল। এতে বলা হয়েছে, এসব উগ্রপন্থি বা জিহাদির মধ্যে বেশির ভাগ নারী ও পুরুষের বয়স ২০ কোটায়। খবরে বলা হয়েছে, এরই মধ্যে বৃটিশ পাসপোর্টধারী অনেক উগ্রপন্থি বৃটেনে ফেরা শুরু করেছে। এতে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে তারা নতুন করে হামলা চালাতে পারে। বিদেশে পাড়ি জমানো শতাধিক উগ্রপন্থি জিহাদি নিহত হয়েছে। অর্ধেকের মতো ফিরেছে বৃটেনে। তাদের রয়েছে যুদ্ধক্ষেত্রে লড়াই করার বাস্তব ও প্রশিক্ষিত অভিজ্ঞতা। তারা জানে কিভাবে বিস্ফোরক ও আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করতে হয়। গত চার বছরে বৃটিশ নিরাপত্তা বিভাগগুলো কমপক্ষে ১৩টি পূর্ব পরিকল্পিত হামলার চেষ্টা নস্যাৎ করে দিয়েছে। এ তথ্য দিয়েছেন মেট্রোপলিটন পুলিশের ভারপ্রাপ্ত ডেপুটি কমিশনার মার্ক রাউলি। তার এ স্বীকারোক্তিতে বেরিয়ে এসেছে বৃটেন উগ্রপন্থিদের কতটা হুমকির মুখে রয়েছে। এমন অবস্থায় তাদের ওপর নজরদারি করা খুব কঠিন হয়ে পড়েছে। তারা বিভিন্ন পরিবহন, শপিং সেন্টারকে বেছে নিয়েছে। বিশেষ করে একা একা ছুরি বা গাড়ি ব্যবহার করে হামলাকে উদ্বুদ্ধ করছে। আরো শিহরণ সৃষ্টিকারী তথ্য পাওয়া গেছে। তাতে বলা হচ্ছে, সিরিয়ায় আইএসের পক্ষে যুদ্ধ করে এমন সন্ত্রাসীরা তাদের স্ত্রী ও সন্তানকে দেশে ফিরে বৃটেনে বড় ধরনের হামলা চালানোর জন্য ব্রেনওয়াশ করেছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের গোয়েন্দা পুলিশি সংস্থা ইউরোপোল বলেছে, এক্ষেত্রে অনেকেটাই ভয়াবহ হুমকি দেখা দিয়েছে। কারণ, দেশে ফেরা ওইসব জঙ্গিরা তীব্র সহিংসতা ঘটাতে পারে। ২০১৬ থেকে ২০১৭ সালের মধ্যে বৃটেনে সন্ত্রাস সম্পর্কিত ঘটনায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে ৩৮০ জনকে। আগের ১২ মাসে এ সংখ্যা ছিল ৩০৭। অর্থাৎ এক্ষেত্রে সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে শতকরা ২৫ ভাগ। মার্চে ওয়েস্টমিনস্টার ব্রিজে পথচারী চারজনের ওপর গাড়ি উঠিয়ে দিয়ে তাদেরকে হত্যা করে খালিদ মাসুদ। এরপরই সন্ত্রাস বিরোধী পুলিশ গ্রেপ্তার অভিযান জোরদার করে। স্কটল্যান্ড ইয়ার্ডের মতে, গত তিন বছরে সন্ত্রাস বিষয়ক অভিযোগে অভিযুক্ত হয়েছে ৩৮৬ জন।

দুতার্তের প্রশংসায় ট্রাম্প

ফিলিপাইনে মাদক বিরোধী ব্যাপক অভিযান অব্যাহত রাখায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দেশটির প্রেসিডেন্ট রদ্রিগো দুতার্তের অনেক প্রশংসা করেন। দেশটিতে মাদক সংক্রান্ত সংঘাতে হাজার হাজার লোক নিহত হয়। মঙ্গলবার সংবাদমাধ্যমের খবরে একথা বলা হয়। খবর এএফপি’র। গত ২৯ এপ্রিল টেলিফোনে আলাপকালে ট্রাম্প মাদক নির্মূলে অবিশ্বাস্য রকমের কাজ করে যাওয়ায় দুতার্তেকে অভিনন্দন জানান। ওই ফোনালাপে উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক ও ব্যালাস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের ওপর বেশি গুরুত্ব দেয়া হয়। এসময় ট্রাম্প দুতার্তেকে একজন ভাল মানুষ উল্লেখ করে তাকে তার সুবিধা মতো যেকোন সময়ে হোয়াইট হাউস সফরে আন্তরিক আমন্ত্রণও জানান।
উল্লেখ্য, আগামী নভেম্বরে ফিলিপাইনে এ দু’নেতার বৈঠক করার কথা রয়েছে। ট্রাম্প বলেন, ‘বিশ্বের অনেক দেশেই মাদক সমস্যা রয়েছে। আমাদের দেশেও এই সমস্যা রয়েছে। কিন্তু দেশ থেকে মাদক নির্মূলে আপনি যে বিশাল কাজ করছেন আমি কেবল তাই বলতে চাইছি।’ ওয়াশিংটন পোস্টে প্রকাশিত খবরে এসব কথা বলা হয়। ট্রাম্পের কথার জবাবে মাদকের ব্যাপারে দুতার্তে বলেন, ‘এটি আমাদের দেশকে শেষ করে দিচ্ছে। তাই ফিলিপিনো জাতির জন্য আমি কিছু করে যেতে চাই।’ উল্লেখ্য, গত জুনের শেষ নাগাদ দুতার্তে দেশের দায়িত্ব নিয়ে তিনি দ্রুত মাদকবিরোধী অভিযান শুরু করেন। পুলিশ জানায়, এসময়ের পর থেকে মাদক সংক্রান্ত বিভিন্ন অভিযানে প্রায় ২ হাজার ৭শ’ লোক প্রাণ হারায়।

রোহিঙ্গা মুসলমানদের বাদ দিয়ে মিয়ানমারে শান্তি সম্মেলন

মিয়ানমারের বিভিন্ন অঞ্চলে গত পাঁচ দশক ধরে যে গৃহযুদ্ধের মতো পরিস্থিতি চলছে, সে অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসার জন্য আলোচনা শুরু হয়েছে। মিয়ানমারের বিভিন্ন জাতি-গোষ্ঠীর শত-শত প্রতিনিধি সরকার ও সেনাবাহিনীর সাথে আলোচনার জন্য রাজধানী নেপিডোতে জড়ো হয়েছেন। বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, এ সম্মেলনে রোহিঙ্গা মুসলমানদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গা মুসলমানদের মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর হত্যা, ধর্ষণ, অগ্নিসংযোগ এবং নির্যাতনের কারণে হাজার-হাজার রোহিঙ্গা মুসলমান তাদের বাড়ি-ঘর থেকে পালিয়ে বাংলাদেশে এসে আশ্রয় নিয়েছে। কিন্তু বুধবার থেকে শুরু হওয়া শান্তি সম্মেলনে তাদের ডাকা হয়নি এবং সে বিষয়টি নিয়ে কোনো আলোচনাও হবে না। এ সম্মেলনে যেসব বিদ্রোহী গোষ্ঠী যোগ দিয়েছে তাদের মধ্যে অন্যতম হলো - কাচিন ইন্ডিপেন্ডেন্স আর্মি, মিয়ানমার ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক অ্যালায়েন্স আর্মি এবং আরাকান আর্মি। মিয়ানমারের নেত্রী অং সান সু চি প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন দেশজুড়ে শান্তি প্রতিষ্ঠা করা তার প্রধান লক্ষ্য হবে। কিন্তু তার দল ক্ষমতাসীন হবার পরে উল্টো সহিংসতা বেড়েছে। বিভিন্ন ক্ষুদ্র জাতি-গোষ্ঠী মিয়ানমারে অধিকতর স্বায়ত্তশাসন চায় এবং দেশের প্রাকৃতিক সম্পদের উপর তাদের অশিংদারিত্ব পেতে আগ্রহী। কিন্তু মিয়ানমারের সেনাবাহিনী বরাবরই সেটি উপেক্ষা করেছে। মিয়ানমারের সবচেয়ে সক্রিয় বিদ্রোহী গ্রুপ নর্দার্ন অ্যালায়েন্স শেষ পর্যন্ত এ আলোচনায় যোগ দিয়েছে।
ধারণা করা শেষ মুহূর্তে চীনের হস্তক্ষেপের কারণে এ বিদ্রোহী গোষ্ঠী সম্মেলনে আসতে রাজী হয়েছে। সম্মেলনে মিজ সু চি বলেন, ক্ষমতায় আসার পর তারা শান্তি প্রতিষ্ঠার যে উদ্যোগ নিয়েছিলেন সেটির ফলাফল এখন দৃশ্যমান হয়েছে। দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে ক্ষুদ্র জাতি-গোষ্ঠীর মধ্যকার সংঘাতের কারণে অর্থনৈতিক উন্নয়ন হচ্ছে না। সেসব অঞ্চলের মানুষ দারিদ্রের মধ্যে বসবাস করছে। ক্ষুদ্র জাতি-গোষ্ঠীর মানুষজন বলছেন, মিজ সু চি তাদের কথা মনোযোগ দিয়ে শুনছেন না। বরং তিনি সেনাবাহিনীর সাথে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছেন। মিজ সু চি চেষ্টা করছেন যাতে এসব জাতি-গোষ্ঠীর সাথে সরকার একটি শান্তি চুক্তি করতে পারে। কিন্তু এ সম্মেলনে সেটি হবার কোনো আশা নেই। তবে মিয়ানমারের স্বাধীনতার লাভের পর বিভিন্ন জাতি-গোষ্ঠীর সাথে আলোচনা শুরুর বিষয়টিকে অনেক বিশ্লেষক ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। ১৯৮০’র দশক থেকে মিয়ানমারের উত্তর-পূর্ব অঞ্চলে সহিংসতা চরম আকার ধারণ করেছে। সেনাবাহিনীর সাথে বিদ্রোহী গ্রুপগুলোর সংঘাতের কারণে হাজার-হাজার মানুষ তাদের বাড়ি ঘর ছেড়ে পালিয়েছে। অনেকে সীমান্তের অপর পাশে চীনে গিয়ে আশ্রয় নিয়েছে। অনেক বিশ্লেষক বলছেন, যতক্ষণ পর্যন্ত একটি শান্তি চুক্তিতে পৌঁছানো সম্ভব হবে না, ততক্ষণ পর্যন্ত এ ধরনের সম্মেলনকে সফল বলা যায় না। সূত্র: বিবিসি

ভারতীয় ঘাঁটি গুঁড়িয়ে দিল পাকিস্তান

ভারতীয় সেনাবাহিনী দাবি করেছে, নওসেরা সেক্টর থেকে গুঁড়িয়ে দেয়া হয়েছে একের পর এক পাকিস্তানি সেনা ঘাঁটি। সীমান্ত লাগোয়া পাকিস্তান সেনা ছাউনির ওপর হামলার সেই ভিডিও প্রকাশো করেছে ভারতীয় সেনাবাহিনী। ২৪ সেকেন্ডের ওই ভিডিওতে একের পর এক পাকিস্তান সেনা ঘাঁটি গুঁড়িয়ে যেতে দেখা যাচ্ছে। কিন্তু, ভারতের ওই দাবি নস্যাত করে দিল পাকিস্তান। পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর মেজর জেনারেল আসিফ গফুর জানিয়েছেন, নওসেরা সেক্টর থেকে গুলিবর্ষণ করে যে পাকিস্তান পোস্ট ধ্বংসের দাবি ভারতীয় সেনা করছে, সেটা মিথ্যে।
শুধু তাই নয়, সন্ত্রাসী অনুপ্রবেশ রুখতে ভারতীয় সেনাকে সাহায্য পাকিস্তানি সেনাই করছে বলেও দাবি করেছেন তিনি। পাশাপাশি পাকিস্তানি সেনার ওপর আক্রমণ করতে ভারতীয় সেনাবাহিনী সীমান্ত লাগোয়া স্থানীয়দের নিশানা করছে। এতে প্রাণ যাচ্ছে সাধারণ মানুষের। শুধু তাই নয়, ভারতীয় সেনা যে ভিডিও প্রকাশ করেছে পাকিস্তান সেনা ঘাঁটি গুঁড়িয়ে দেয়ার, সেই ভিডিওকে নিজেদের বলেও দাবি করেছে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী। শুধু তাই নয়, পাকিস্তানি সেনা বাহিনীর ভিডিও এডিট করেই ভারতীয় সেনা সেটাকে নিজেদের বলে চালাচ্ছে। এমন দাবি করেছে পাকিস্তান।

মিন্দানাও দ্বীপে ৬০ দিনের সামরিক আইন জারি

ফিলিপাইনের দক্ষিণাঞ্চলীয় মিন্দানাও দ্বীপে ৬০ দিনের জন্য সামরিক আইন জারি করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট রদ্রিগো দুতার্তে। উগ্রবাদী গোষ্ঠী আইএসের সঙ্গে সেনাবাহিনীর সংঘর্ষের পর কঠোর এ সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করা হয়। ফিলিপাইনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ওই সংঘর্ষে নিরাপত্তা বাহিনীর তিন সদস্য নিহত হয়েছে। মিন্দানাও দ্বীপের বেশ কয়েকটি মুসলিম গেরিলা সংগঠন কয়েক দশক করে দ্বীপটির জন্য আরো বেশি স্বায়ত্বশাসনের দাবিতে আন্দোলন করে আসছে। প্রেসিডেন্ট দুতার্তে রাশিয়া সফরে থাকা অবস্থায় মিন্দানাওয়ে সামরিক আইন জারির ঘোষণা দেন। এ আইন জারির ফলে এখন সেনাবাহিনী ওই দ্বীপে সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে দমন অভিযান চালাতে এবং যেকোনো ব্যক্তিকে ওয়ারেন্ট ছাড়া গ্রেফতার করে অনির্দিষ্টকালের জন্য আটক রাখতে পারবে। মস্কোয় রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে সাক্ষাতে দুতার্তে তার দেশে তৎপর আইএসসহ অন্যান্য উগ্রবাদী গোষ্ঠীকে দমনের কাজে আরো বেশি অত্যাধুনিক অস্ত্র প্রয়োজন বলে উল্লেখ করেন। দুই লাখ জনসংখ্যা অধ্যুষিত মিন্দানাও দ্বীপের একটি উগ্রবাদী গোষ্ঠী সম্প্রতি আইএসের প্রতি আনুগত্য ঘোষণা করে। এর জের ধরে মঙ্গলবার ওই গোষ্ঠীর নেতাকে আটক করার জন্য ফিলিপাইনের সেনাবাহিনী দ্বীপটির মারাওয়ি শহরে হানা দিলে দু’পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বেঁধে যায়। ফিলিপাইনের প্রতিরক্ষা সচিব দেলফিন লরেঞ্জানা বলেছেন, উগ্রবাদী গোষ্ঠীটির নাম ‘মাউতে’। এই গোষ্ঠীর সদস্যরা একটি হাসপাতাল ও একটি কারাগার দখল করেছে বলেও জানান তিনি। দেলফিন বলেন, উগ্রবাদীরা একটি গির্জাসহ আরো কিছু ভবনে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে। ফিলিপাইনের সংবিধান অনুযায়ী, কোনো হামলা বা বিদ্রোহ দমনের জন্য প্রেসিডেন্ট নির্বাহী আদেশে ৬০ দিনের জন্য সামরিক আইন জারি করতে পারেন। তবে পার্লামেন্ট ইচ্ছা করলে ৪৮ ঘন্টার মধ্যে তা বাতিল এবং সুপ্রিম কোর্ট ওই আদেশের বৈধতা খতিয়ে দেখতে পারে।

পাকিস্তানী সেনা চৌকিতে হামলার দাবি ভারতের

কাশ্মিরে ভারত-পাকিস্তান নিয়ন্ত্রণ রেখার পাশে পাকিস্তানী সেনাবাহিনীর চৌকিতে বোমা হামলা করা হয়েছে বলে ভারতের সেনাবাহিনী বলছে। ভারতীয় সেনাবাহিনীর একজন মুখপাত্র অশোক নারুলা সোমবার জানিয়েছেন, পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর সহায়তায় উগ্রবাদীরা যাতে ভারত-শাসিত কাশ্মীরে প্রবেশ করতে না পারে সেজন্য এ পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। তিনি বলেন, এ ধরনের পদক্ষেপ কাশ্মিরের স্থানীয় তরুণদের অস্ত্র হাতে তুলে নিতে নিরুৎসাহিত করবে। এতে করে তাদের সংখ্যা কমবে বলে মনে করে ভারতীয় সেনাবাহিনী। কিন্তু পাকিস্তানের সেনাবাহিনী ভারতীয় হামলার কথা অস্বীকার করছে। তাদের কোনো সেনা চৌকি ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি বলে জানাচ্ছে পাকিস্তানের সেনাবাহিনী। অন্যদিকে ভারতের সেনাবাহিনী কবে হামলা চালিয়েছে সে বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো দিন-তারিখ উল্লেখ করছেন না কর্মকর্তারা। তারা শুধু বলছেন ‘খুব সম্প্রতি’ এ হামলা চালানো হয়েছে। ভারতীয় সেনাবাহিনীর এক ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, কাশ্মিরের নিয়ন্ত্রণ রেখার পাশে নওশেরা সেক্টরে পাকিস্তানের এক সেনা চৌকি ধ্বংসের চিত্র দেখা যাচ্ছে।
কিন্তু সে ভিডিওটি নিরপেক্ষভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। তবে ভারতীয়দের এ দাবী উড়িয়ে দিচ্ছে পাকিস্তান। পাকিস্তান সেনাবাহিনীর একজন মুখপাত্র মেজর জেনারেল আসিফ ঘফুর বলেন, ‘নিয়ন্ত্রণ রেখার পাশে নওশেরা সেক্টরে পাকিস্তানের সেনা চৌকি ধ্বংস করার যে দাবী ভারত করছে সেটি মিথ্যা। ’সম্প্রতি কাশ্মিরসহ বিভিন্ন ইস্যুতে দু’দেশের মধ্যকার সম্পর্ক যখন  অবনতি হয়েছে তখন পাকিস্তানের সেনা চৌকিতে হামলার কথা বলছে ভারত। ভারত-নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে গত কয়েক মাস ধরেই সহিংসতা বেড়েছে। ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে সহিংসতা ‘উস্কে দেবার’ জন্য পাকিস্তানকে দায়ী করছে ভারত। যদিও পাকিস্তান বরাবরই এ ধরনের অভিযোগ অস্বীকার করছে। গত এপ্রিল মাসে ভারত নিয়ন্ত্রিত জম্মু-কাশ্মিরের ফারুক আহমেদ ডার নামের এক যুবককে জীপ গাড়ির সামনে বেঁধে সারাদিন রাস্তায় ঘুরিয়েছিলেন সেনা কর্মকর্তা মেজর গগই। সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, ভোটের দিন স্থানীয় যুবকরা যাতে সেনা জিপের দিকে পাথর ছুঁড়তে না পারে, সেজন্যই মি. ডারকে জিপের সামনে বসিয়ে রাখা হয়েছিল। কয়েকদিন আগে সে সেনা কর্মকর্তাকে একটি প্রশংসাপত্র দিয়েছেন ভারতের সেনাপ্রধান জেনারেল বিপিন রাওয়াত। সংবাদ সংস্থা পিটিআই বলছে, ওই সেনা অফিসারকে ‘কাউন্টার-ইন্সারজেন্সি’ অপারেশনগুলোতে তার ধারাবাহিক অবদানের জন্যই ওই পুরস্কার দেওয়া হয়েছে। সূত্র: বিবিসি

ব্রিটেনে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি, নামছে সেনাবাহিনী

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী টেরিজা মে সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, সোমবারের হামলার পর ব্রিটেনে আরো সন্ত্রাসী হামলার আশঙ্কা রয়েছে। ফলে, দেশটিতে সন্ত্রাসী হামলার হুমকি সংক্রান্ত সতর্কতার মাত্রা বাড়িয়ে সর্বোচ্চ পর্যায়ে, অর্থাৎ 'ক্রিটিক্যাল' বা 'সংকটপূর্ণ' বলে ঘোষণা করা হয়েছে। মিসেস মে বলছেন, শঙ্কার মূল কারণ, সন্দেহভাজন হামলাকারী সালমান আবেদি একাই হামলা চালিয়েছে, না এর পেছনে আরো মানুষ সক্রিয় রয়েছে, সে বিষয়ে এখনো পর্যন্ত নিশ্চিত হওয়া যায়নি। সেই সঙ্গে নিরাপত্তা জোরদার করতে দেশটির গুরুত্বপূর্ণ সব স্থাপনায় নেয়া হয়েছে সেনা মোতায়েনের সিদ্ধান্ত। নিরাপত্তার ক্ষেত্রে সশস্ত্র পুলিশকে সহযোগিতা করতে 'অপারেশন টেম্পেরার' নামে সেনা বাহিনীর ইউনিট নামানো হচ্ছে বলে জানানো হয়েছে। এদিকে, সোমবারের কনসার্টে যে ব্যক্তি আত্মঘাতী হামলা করেছিল ইতোমধ্যেই তার পরিচয় প্রকাশ করা হয়েছে।
বলা হচ্ছে, সন্দেহভাজন হামলাকারী সালমান আবেদী। লিবীয় বংশোদ্ভূত ২২ বছর বয়সী এই মুসলিম তরুণ ম্যানচেস্টার শহরেই জন্মেছেন ও বেড়ে উঠেছেন। নিরাপত্তা বাহিনী বলছে, সালমান আবেদী এই হামলার মাত্র কয়েকদিন আগেই বিদেশ থেকে দেশে ফিরেছিলেন। বহু বছর ব্রিটেনে বসবাসের পর তার পরিবার লিবিয়ায় ফিরে গেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। এর আগে ইসলামিক স্টেট গ্রুপ দাবি করেছে, তাদের একজন সমর্থক এই হামলা চালিয়েছে। সোমবারে ম্যানচেস্টার শহরে একটি কনসার্টে আত্মঘাতী হামলায় এখন পর্যন্ত নিহতের সংখ্যা ২২ জন আর আহত হয়েছে মোট ৫৯ জন। সূত্র : বিবিসি

সামরিক বাহিনী শক্তিশালী করার সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্রের

সামরিক দিক থেকে আরও শক্তিশালী হচ্ছে রাশিয়া। একের পর এক অত্যাধুনিক সমরাস্ত্র তৈরি করে সাড়া ফেলে দিয়েছে রাশিয়া। এই পরিস্থিতিতে এবার নিজেদের সামরিক বাহিনীকে জোরদার করার সিধান্ত নিল আমেরিকা। স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইন্সটিটিউট বা এসআরপিআরআই’এর এক হিসাবে বলা হয়েছে আমেরিকা প্রতিরক্ষা ব্যয় ১.৭ শতাংশ বাড়িয়ে দিয়েছে। গত পাঁচ বছরে এই প্রথম প্রতিরক্ষা খাতে এই পরিমাণ ব্যয় বাড়াল আমেরিকা। একই হিসাবে বলা হয়েছে, পশ্চিমাঞ্চলীয়, মধ্যাঞ্চলীয় এবং পূর্বাঞ্চলীয় ইউরোপও প্রতিরক্ষা খাতে আরও অধিক হারে অর্থ ব্যয় করছে। ইউরোপে মার্কিন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মোতায়েন, বাল্টিক এবং পোল্যান্ডে ন্যাটোর উপস্থিতি জোরদারসহ এ সামরিক জোটের আগ্রাসী সামরিক নীতির কারণে অর্থব্যয় বেড়েছে। সামরিক ও প্রযুক্তিগতভাবে রাশিয়ার বিরুদ্ধে আধিপত্য বজায় রাখাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক ব্যয়ের পথ বেঁছে নেওয়া হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আওতায় এই ব্যয় আরো বাড়বে বলে ইতিমধ্যে জানিয়েছেন সামরিক পর্যবেক্ষকরা। এরই মধ্যে মার্কিন নৌবাহিনীর জাহাজ সংখ্যা বাড়িয়ে সাড়ে তিন শ’ করা হবে বলে ঘোষণা করেছেন ট্রাম্প। এছাড়া, ইউরোপীয় দেশগুলোকে তাদের জিডিপি’র দুই শতাংশ প্রতিরক্ষা খাতে ব্যয়ের আহ্বান জানিয়েছেন ট্রাম্প।

ভ্যাট অব্যাহতির সীমা বাড়ছে

ভ্যাট অব্যাহতি সীমা বাড়ানো হচ্ছে। বর্তমানে ভ্যাট অব্যাহতির সীমা রয়েছে ৩০ লাখ টাকা। এটিকে বাড়িয়ে ৩৬ লাখ টাকা করা হচ্ছে। একই সাথে বাড়ানো জচ্ছে বার্ষিক টার্নওভারের সীমাও। এই সীমা প্রায় দ্বিগুণ বাড়ানো হচ্ছে। বর্তমানে টার্নওভারের সীমা রয়েছে ৮০ লাখ টাকা। তা বাড়িয়ে এক কোটি ৫০ লাখ টাকা করা হচ্ছে। আগামী ২০১৭-১৮ অর্থবছরের বাজেটে ‘মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক আইন’২০১২ সংশোধনীতে এই প্রস্তাবগুলো রাখা হবে। এই সংশোধনীতে সব ক্ষেত্রে উৎসে ভ্যাট কর্তনের হার ৫ শতাংশ নির্ধারণ করা হচ্ছে। অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত আগামী ১ জুন জাতীয় সংসদে বাজেট উত্থাপনকালে এই প্রস্তাবগুলো রাখবেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) সূত্রে জানা গেছে। সূত্র জানায়, অর্থমন্ত্রীর রাজনৈতিক নির্দেশনার আলোকে ভ্যাটের এই পরিবর্তনগুলো আনা হচ্ছে। এর আগে ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইর বাজেট প্রস্তাবনায় সব সরবরাহের (উৎপাদন, ব্যবসা,
সেবাপ্রদান) ক্ষেত্রে ৩০ লাখ টাকার পরিবর্তে ৩৬ লাখ টাকা টার্নওভার পর্যন্ত অব্যাহতি প্রদান করার সুপারিশ করা হয়েছে। ুদ্র, গ্রামীণ উদ্যোগ, কুটির শিল্প ইত্যাদি প্রান্তিক খাতের বিকাশে এবং ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী বা দোকানদারদের হিসাব সংরণের সমতার সীমাবদ্ধতা বিবেচনা করে ওই সীমা অবিলম্বে ৩৬ লাখ টাকা নির্ধারণ করার প্রস্তাব করা হয়। জানা গেছে, ২০১২ সালের ভ্যাট আইনের ৪৭ নম্বর আইনের ৪৬ এর উপ-ধারা(৩) এর সংশোধন করা হচ্ছে। এ বিষয়ে এনবিআরের প্রস্তাবে বলা হয়েছে, ‘বর্তমান আইনে তামাক ও অ্যালকোহলযুক্ত পণ্যের ক্ষেত্রে রেয়াত গ্রহণের সুযোগ বারিত করা হয়েছে। সমগ্র আইনের এ একটি স্থানে ভ্যাট চেইনকে ব্যাহত করা হয়েছে। ভ্যাট ব্যবস্থার মূল বৈশিষ্ট্য হলো এর রেয়াত ব্যবস্থা। ফলে কোনো স্থানেই তা ব্যাহত করা উচিত নয়। একটি খাতে তা ব্যাহত করা হলে তার উদাহরণ দিয়ে অন্য খাতেও ব্যাহত করার প্রবণতা তৈরি হতে পারে। আন্তর্জাতিক রীতির সাথে সামঞ্জস্য রেখে এসব ক্ষেত্রেও রেয়াত গ্রহণের সুযোগ প্রদানের জন্য আইনের ৪৬ এর উপ-ধারা(৩) এর দফা(ঙ) বিলুপ্ত করা যেতে পারে।
উৎসে ভ্যাট কর্তনের হার ৫% করা হচ্ছে : এনবিআরের প্রস্তাবে বলা হয়েছে, ‘আইনের ধারা-৪৯ এ উৎসে কর্তনকারী সত্তা কর্তৃক সরবরাহ মূল্যের কর-ভগ্নাংশের ‘অনধিক এক তৃতীয়াংশ’ উৎসে কর্তনের বিধান রাখা হয়েছে। এর ফলে ভিন্ন ভিন্ন হারে উৎসে ভ্যাট কর্তনের ক্ষেত্র সৃষ্টি হয়েছে যা প্রশাসনিক জটিলতা তৈরি করবে। এ কারণে উৎসে কর কর্তনের বিষয়টি অধিকতর সহজ ও সব ক্ষেত্রে সমতা বিধানের জন্য এবং সব ক্ষেত্রে উৎসে ভ্যাট কর্তনের হার ৫% নির্ধারণের জন্য ধারা ৪৯ এর উপ-ধারা(১) সংশোধন করা যেতে পারে।
ভ্যাট কর্মকর্তাদের ক্ষমতা বাড়ানো হচ্ছে : আইনের সংশোধনীতে মূসক কর্মকর্তাদের ক্ষমতা বৃৃদ্ধি করা হচ্ছে বলে জানা গেছে। বিদ্যমান আইনে মূসক কর্মকর্তার প্রবেশ ও তল্লাশির ক্ষমতায় বলা হয়েছে এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে ধারা-৭৮ এ বর্ণিত মূসক কর্তৃপক্ষে অনুমোদনক্রমে নির্ধারিত পদ্ধতি কমিশনার বা মহাপরিচালকের কাছ থেকে ক্ষমতাপ্রাপ্ত সহকারী কমিশনার বা সহকারী পরিচালক পদমর্যাদার নিচে নন এমন যেকোনো মূসক কর্মকর্তা বেশ কিছু ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারবেন। তারা জরিমানা ও অর্থদণ্ড আরোপ করতে পারবেন।

শিক্ষক শ্যামল কান্তির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা

কান ধরে উঠ-বস করানো নারায়ণগঞ্জের শিক্ষক শ্যামল কান্তি ভক্তের বিরুদ্ধে এক ঘুষের মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে আদালত। পুলিশের দেয়া অভিযোগপত্র আমলে নিয়ে নারাণগঞ্জের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট অশোক কুমার দত্ত বুধবার এই আদেশ দেন বলে পাবলিক প্রসিকিউটর ওয়াজেদ আলী খোকন জানান। নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলার কল্যাণদীতে পিয়ার সাত্তার লতিফ উচ্চ বিদ্যালয়ের ইংরেজির শিক্ষক মোর্শেদা বেগম এই মামলার বাদী। আর আসামি শ্যামল কান্তি ভক্ত ওই স্কুলের প্রধান শিক্ষক। মোর্শেদা বেগমের অভিযোগ, চাকরি এমপিওভুক্ত করে দেওয়ার কথা বলে ২০১৪ সালে তার কছে থেকে এক লাখ ৩৫ হাজার টাকা ঘুষ নিয়েও শ্যামল কান্তি তা করে দেননি। টাকা ফেরত চাইলে তা দিতেও অস্বীকার করেছেন শ্যামল কান্তি।

হাওরের বিপর্যয় নিয়ে গণমাধ্যমগুলো সঠিক তথ্য দেয়নি : পানিসম্পদমন্ত্রী

হাওরের বিপর্যয় নিয়ে দেশের গণমাধ্যমগুলো সঠিক তথ্য দেয়নি বলে অভিযোগ করেছেন পানিসম্পদমন্ত্রী আনিসুল ইসলাম মাহমুদ। এছাড়া এ নিয়ে পানি বিশেষজ্ঞরাও সত্য কথা বলেননি বলেও তিনি মন্তব্য করেন। আজ বুধবার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে নদীভাঙন পূর্বাভাসবিষয়ক এক গবেষণা প্রতিবেদনের ফলাফল উপস্থাপন অনুষ্ঠানে মন্ত্রী এসব কথা বলেন। মন্ত্রী বলেন, হাওরে বন্যা হয়েছে অতিবৃষ্টির কারণে। ভারতের চেরাপুঞ্জিতে স্মরণকালের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বৃষ্টি হয়েছে। হাওরের বাঁধের উচ্চতা সাড়ে ছয় মিটার। পানি বয়ে গেছে সাত মিটার ওপর দিয়ে। ফলে অসময়ের এই বৃষ্টির কারণেই ফসলহানি হয়েছে। তবে তাঁরা শুধু পানি উন্নয়ন বোর্ডের দুর্নীতি নিয়ে কথা বলেছেন।

স্থায়ী জামিন পেলেন মেয়র সাক্কু

জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জন ও তথ্য গোপনের মামলায় স্থায়ী জামিন পেয়েছেন কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের মেয়র মনিরুল হক সাক্কু। আজ বুধবার ঢাকা মহানগর জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ মো: কামরুল হোসেন মোল্লা এই জামিন দেন। এ মামলায় আজ সাক্কু জামিন স্থায়ী করার আবেদন করলে বিচারক তা মঞ্জুর করে মামলাটি বিচারের জন্য ঢাকার ৮ নম্বর বিশেষ জজ আদালতে বদলির আদেশ ও আগামী ১২ জুন অভিযোগ গঠনের তারিখ নির্ধারণ করেন। গত ১৮ এপ্রিল মামলার অভিযোগপত্র আমলে নিয়ে সাক্কুর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন আদালত। এরপর ৯ মে আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন নেন সাক্কু। আজ পর্যন্ত সে জামিনের মেয়াদ ছিল। মামলার নথি সূত্রে জানা যায়, ২০০৮ সালের ৭ জানুয়ারি রাজধানীর রমনা থানায় সাক্কুর বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এ মামলা করে। পরে ২০১৬ সালের নভেম্বরে সাক্কুকে অভিযুক্ত করে ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিমের (সিএমএম) আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে পুলিশ। গত ৩০ মার্চ কুমিল্লা সিটির কর্পোরেশনের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থীকে পরাজিত করে টানা দ্বিতীয়বার মেয়র নির্বাচিত হন বিএনপির প্রার্থী মনিরুল হক সাক্কু।

সমাবেশের অনুমতি পায়নি বিএনপি : কাল প্রতিবাদ সভা

রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে পূর্বঘোষিত সমাবেশের অনুমতি পায়নি বিএনপি। বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার কার্যালয়ে পুলিশি তল্লাশির প্রতিবাদে আজ বুধবার এ সমাবেশ হবার কথা ছিল।  দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আজ দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সমাবেশের অনুমতি না দেয়ায় নিন্দা জানিয়ে নতুন কর্মসূচী ঘোষণা করেন। তিনি জানান সমাবেশের অনুমতি না দেয়ার প্রতিবাদে কাল বৃহস্পতিবার সারা দেশের জেলা উপজেলা ও ঢাকা মহানগরের প্রতিটি থানায় প্রতিবাদ সভা করবে বিএনপি।

শাহজালালে স্বর্ণসহ মালয়েশিয়া থেকে আসা যাত্রী আটক

হযরত শাহজালাল (রহ.) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে মালয়েশিয়া থেকে আসা এক যাত্রীর কাছ থেকে প্রায় ৬৫ লাখ টাকা মূল্যের এক কেজি ৩০০ গ্রাম সোনা উদ্ধার করেছে বিমানবন্দর শুল্ক গোয়েন্দা বিভাগ। তার নাম আমিনুল ইসলাম। গতকাল মঙ্গলবার রাতে মালয়েশিয়া থেকে তিনি ঢাকায় আসেন। তার বাড়ী মুন্সীগঞ্জে।  রাতে বিমানবন্দর শুল্ক গোয়েন্দা বিভাগ তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে এ তথ্য জানিয়েছে। এতে বলা হয়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আমিনুলকে চ্যালেঞ্জ করে শুল্ক গোয়েন্দা কর্মকর্তারা। পরে তাঁর মাথার পরচুলার ভিতর থেকে এসব সোনা উদ্ধার করা হয়। এ কায়দায় সোনা পাচারের ঘটনা এটাই প্রথম।

দেশে ফিরেছেন প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাঁর চারদিনের সৌদি আরব সফর শেষে গতকাল মঙ্গলবার রাতে দেশে ফিরেছেন। রাত দেড়টার দিকে প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর সফর সঙ্গীদের নিয়ে বাংলাদেশ বিমানের ফ্লাইটটি হযরত শাহজালাল (রহ.) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে বলে বার্তা সংস্থা ইউএনবি জানিয়েছে। ফ্লাইটি ওই দিন বিকেলে কিং আবদুল আজিজ ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট থেকে ঢাকার উদ্দেশে যাত্রা করে। সৌদি আরবে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত গোলাম মসিহ, জেদ্দায় বাংলাদেশের কনস্যাল জেনারেল এফ এম বোরহান উদ্দিন ও সৌদি সরকারের প্রতিনিধিরা বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রীকে বিদায় জানান। সৌদি বাদশাহ সালমান বিন আবদুল আজিজ আল সউদের আমন্ত্রণে আরব ইসলামিক-আমেরিকান (এআইএ) সম্মেলনে যোগ দিতে চারদিনের সরকারি সফরে গত ২০ মে প্রধানমন্ত্রী রিয়াদের উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করেন।
সফরকালে শেখ হাসিনা মক্কার হারেম শরিফে (কাবা) পবিত্র ওমরাহ পালন করেন এবং মদিনা শরিফে মহানবী হজরত মুহম্মদ (সা.)-এর রওজা মোবারক জিয়ারত করেন। ‘জয় আমাদেরই হবে’ এই স্লোগান নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং সম্মেলনে ৫৬ আরব ও মুসলিম দেশের নেতারা সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলা ও জঙ্গিদের অর্থায়ন প্রতিরোধে পথ খুঁজে বের করার বিষয়ে আলোচনা করেন। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তাঁর লিখিত বক্তৃতায় বিশ্ব নেতাদের কাছে জঙ্গিবাদী ও সন্ত্রাসীদের কাছে অস্ত্র জোগান দেওয়া বন্ধ করার আহ্বান জানান। সম্মেলনে শেখ হাসিনা জঙ্গিবাদ দমনে বেশ কয়েকটি প্রস্তাব পেশ করেছেন।

চান্দিনায় কাভার্ডভ্যান চাপায় ২ জন নিহত

কুমিল্লার চান্দিনায় কাভার্ডভ্যান চাপায় বৃদ্ধসহ ২জন নিহত হয়েছে। আজ বুধবার ভোরে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের চান্দিনার খাদঘর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন- কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার দরানীপাড়া গ্রামের মৃত সেকান্দার আলীর ছেলে কবির হোসেন (৫০) ও একই গ্রামের আকবর আলী (৮০)। প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, বুধবার ভোরে কবির হোসেন ও আকবর আলী বাড়ি থেকে এসে কোথাও যাওয়ার উদ্দেশে রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে ছিলেন।
এসময় কুমিল্লামুখী একটি কাভার্ডভ্যান নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে তাদেরকে চাপা দিয়ে রাস্তার পাশে খাদে পড়ে যায়। এসময় ঘটনাস্থলেই কবির ও আকবর আলী নিহত হন। হাইওয়ে পুলিশ ইলিয়টগঞ্জ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই মনিরুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, দুর্ঘটনার পরপর নিহতের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। গাড়ির চালক ও হেলপার পালিয়ে যায়।

মিরসরাইয়ে পুলিশের গাড়ির ধাক্কায় আহত শিশুর চিকিৎসা দায়িত্ব কে নেবে?

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের মিরসরাই সদর ইউনিয়নের জামালের দোকান এলাকায় সোমবার (২২ মে) সন্ধ্যায় একটি সিএনজি-অটোরিক্সাকে সিগন্যাল দেয় মহাসড়কে দায়িত্বরত জোরারগঞ্জ চৌধুরীহাট হাইওয়ে পুলিশের টহল দল। এসময় সিএনজি চালক গাড়ী না থামিয়ে দ্রুত গতিতে চলে যাওয়ার চেষ্টা করলে সিএনজি-অটোরিক্সাটিকে পেছনের দিক থেকে ধাক্কা দেয় হাইওয়ে পুলিশের গাড়ি। এতে সড়কের পাশে দঁাঁড়িয়ে থাকা উত্তর তালবাড়ীয়া এলাকার নাদের ইসালামের ছেলে মোঃ শরীফ (১৩) কে ঘটনাস্থলে চাপা দেয় সিএনজি-অটোরিক্সা গাড়িটি। পরবর্তীতে উপস্থিত এলাকাবাসী শরীফকে সিএনজির ভেতর থেকে উদ্ধার করে মিরসরাই সদরের মাতৃকা হাসপাতালে এনে ভর্তি করায়। অটোরিক্সা চালক এসময় পালিয়ে যায়। মাতৃকা হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক অধ্যাপক ডা. জামশেদ আলম বলেন, শরীফের শরীরের কোমরের নীচ থেকে হাঁটু পর্যন্ত অংশের মাংশ অনেকটা ঝরে গেছে। তার শরীরে প্রায় ৪২ টি সেলাই করা হয়েছে। তার অবস্থা এখনো আশংঙ্কাজনক। এসময় আহত হয় সিএনজির ভেতরে থাকা যুবলীগ নেতা নজরুল ইসলাম, নাজিম উদ্দিন সহ আরো ৩জন হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন বলে তিনি জানান। শরীফের ভাই সিএনজি চালক আইয়ুব নবী ইসলাম (প্রকাশ-মিয়া) বলেন, আমার ভাই ছিলো একদম সহজ সরল। সোমবার বিকেলে সে বন্ধুদের সাথে জামালের দোকান এলাকায় ঘুরতে গিয়েছিলো। এসময় পুলিশের গাড়ির ধাক্কায় একটি সিএনজি-অটোরিক্সা আমার ভাইয়ের উপর তুলে দেয়। এতে এলাকাবাসী ঘটনাস্থল থেকে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে আসে। তিনি আরো বলেন, শরীফ এর আগে যাত্রীবাহী মিশুককারে চালকের সহকারী হিসেবে কাজ করতো। গত চার মাস আগে মহাসড়কের নিজামপুর এলাকায় ঢাকাগামী দূরপাল্লার যাত্রীবাহী একটি বাস তাদের গাড়িকে চাপা দেয়। এতে শরীফের বাম হাত ভেঙ্গে যায় এবং পা ও শরীরের বিভিন্ন অংশে কেটে যায়। ওই সময় শরীফ চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে প্রায় সাড়ে তিন মাস চিকিৎসাধীন ছিলো। আমার বাবা বৃদ্ধ হওয়ায় এখন বাড়িতে থাকে। আমি একমাত্র পরিবারের উপার্জনক্ষম ব্যক্তি।
ওই সময় অনেক টাকা ব্যায় করে তাকে চিকিৎসা করেছি। এখন আবারো সে দুর্ঘটনার শিকার হলো। এবার তাকে বাঁচানোটা কষ্টকর হয়ে পড়েছে। কে দিবে তার চিকিৎসার খরচ। ভাইয়ের সাথে আজ দু’দিন হাসপাতালে পড়ে আছি। গাড়িও চালাতে পারিনি। কথাগুলো বলতে বলতে কেঁদে উঠে আইয়ুব নবী। মঙ্গলবার (২৩ মে) দুপুরে মাতৃকা হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, হাসপাতালের বেডে ঘুমাচ্ছে শরীফ। পাশে ছেলের শরীরের উপর হাত বুলিয়ে অঝোরে কাঁদছেন মা আনোয়ারা বেগম। শরীফ অনেকটা নিথর ভাবে শুয়ে আছে বেডে। সোমবার রাত থেকে মঙ্গলবার পর্যন্ত কিছুই খাইনি শরীফ। এতে শরীফের শারিরীক অবস্থা আরো সংকটাপন্ন হয়ে পড়েছে। শরীফের মা আনোয়ারা বেগম বলেন, ‘আমার ছেলের কি হবে এখন। কীভাবে সে হাটবে। কে দিবে তার চিকিৎসার ব্যায়। কি অপরাধ ছিলো তার। আল্লা কেন আমাদের এতো বিপদ দেয়? তিনি আরো বলেন, শরীফের নিচের অংশের মাংশপেশী অনেকটা খসে পড়েছে। শরীফ রাত থেকে কিছু খেতে পারছেনা। তার শরীর থেকে এখনো রক্ত ঝরছে। ডাক্তার অনেকগুলো সেলাই দিয়েছে। এছাড়াও শরীফের পুরষাঙ্গও অনেকটা থেতলে গেছে। আল্লাহ চাইলে ছেলেকে বাঁচানো যাবে। জোরারগঞ্জ হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ (এসআই) শফিকুল ইসলাম বলেন, দুর্ঘটনার বিষয়টি আমি শুনেছি। ওই সময় জামালের দোকান অংশে ফাঁড়ির এসআই শাফায়েত দায়িত্ব পালন করছিলেন। এসময় তিনি এ বিষয়ে শাফায়েতের সাথে কথা বলতে বলে ফোনের সংযোগ বিছিন্ন করে দেন। জোরারগঞ্জ হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির উপ-পরিদর্শক (এসআই) শাফায়েতের ব্যবহৃত মুঠোফোনে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় সাড়ে ৬টায় একাধিকবার কল দিয়েও সংযোগ স্থাপন করা সম্ভব হয়নি।
প্রসঙ্গত : ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে সিএনজি-অটোরিক্সা চলাচল নিষিদ্ধ হলেও অনেক সময় সিএনজি নেওয়ার জন্য গাড়িগুলো মহাসড়কে আসলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দায়িত্বরত সদস্যরা চাঁদা নেওয়ার জন্য চালকদের উপর প্রায় বিভিন্ন ভাবে নির্যাতন করে আসছে।

চান্দিনা উত্তর জেলা বিএনপি’র কর্মী সম্মেলন পুলিশী বাধায় পন্ড

নিজ বাসায় কুমিল্লা উত্তর জেলা বিএনপি’র কর্মী সভার আয়োজন করেন কুমিল্লা উত্তর জেলা বিএনপি সভাপতি মো. খোরশেদ আলম। বুধবার সকালে ওই কর্মী সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে কেন্দ্রিয় বিএনপি সহ-সভাপতি আব্দুল আউয়াল মিন্টু উপস্থিত থাকার কথা ছিল। সকাল থেকে সভায় যোগ দিতে আসেন বিএনপি’র কেন্দ্রিয় পর্যায় থেকে শুরু করে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের নেতা-কর্মীবৃন্দ। সকাল ৯টায় ওই সম্মেলন স্থল থেকে মাত্র ৫০গজ দূরত্বে পথসভা শুরু করে ছাত্রলীগ। এর আগে সকাল পৌঁনে ৮টায় সভাস্থল থেকে ৫শ গজ দূরত্বে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা। সকাল সাড়ে ৯টায় কর্মী সভা স্থলে এসে সভার অনুমতি না থাকায় বন্ধ করার নির্দেশ দেন চান্দিনা থানা পুলিশ। সভায় বন্ধে সভাস্থলে আসেন চান্দিনা উপজেলা নির্বাহী অফিসার এসএম জাকারিয়া, সহকারি পুলিশ সুপার (সার্কেল) মহিদুল ইসলাম,
চান্দিনা থানার অফিসার ইন-চার্জ সহ চান্দিনা থানা পুলিশ। অবশেষে প্রশাসনের বাধায় সভা বন্ধ করতে বাধ্য হন কুমিল্লা উত্তর জেলা বিএনপি। কুমিল্লা উত্তর জেলা বিএনপি সভাপতি মো. খোরশেদ আলম জানান, পূর্ব নির্ধারিত তারিখ অনুসারে আমি আমার নিজ বাসায় এবং সীমানা প্রাচীরের মধ্যেই সভার আয়োজন করি। সকাল থেকে ঢাকা থেকে কেন্দ্রিয় নেতৃবৃন্দসহ জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা আসতে শুরু করে। এমন সময় আমাদের সভা পন্ড করার লক্ষ্যে ছাত্রলীগের ছেলেদের দিয়ে রাস্তার সামনে পথসভার আয়োজন করে। আর পুলিশ অনুমতির অযুহাতে আমাদের সভা বন্ধ করে দেয়। এব্যাপারে চান্দিনা থানার অফিসার ইন-চার্জ (ওসি) নাছির উদ্দিন মৃধা জানান, যেখানে কেন্দ্রিয় বিএনপি’র নেতৃবৃন্দ আসবে এবং তাদেরকে নিয়ে সভার আয়োজন করার পূর্বে কোন অনুমতি চেয়ে আবেদন করেনি তারা। জেলা প্রশাসন ও থানা পুলিশের কোন অনুমতি না থাকায় এবং পাশাপাশি দুইটি দলের সভা আহবানে নিরাপত্তার স্বার্থে উভয় সভা বন্ধ করা হয়েছে।

চান্দিনায় মিষ্টির প্যাকেট থেকে ককটেল বিষ্ফোরণে শিশু আহত

কুমিল্লার চান্দিনায় মিষ্টির প্যাকেট থেকে ককটেল বিস্ফোরণে জিহাদ (৯)নামে এক শিশু আহত হয়েছে। বুধবার (২৪ মে) সকালে উপজেলা সদরের চান্দিনা ডা. ফিরোজা পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের পিছনে এ ঘটনা ঘটে। আহত জিহাদ ওই এলাকার বাবুল হোসেন এর ছেলে। সে চান্দিনা আদর্শ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণীর ছাত্র। প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, বিদ্যালয়ের পিছনে খুকি আচার্য্যরে বাসার সামনের নিচু দেওয়ালের উপর একটি মিষ্টির বাক্স দেখে শিশু জিহাদ মিষ্টির প্যাকেটটি হাতে নিয়ে প্যাকেটটি খুলে। এসময় প্যাকেটের ভিতরে লাল ট্যাপে মোড়ানো ৪টি বল আকৃতি দেখে একটি হাতে নিলে সাথে সাথে ককটেলটির বিষ্ফোরণ ঘটে। এতে মারাত্মক আহত হয় শিশু জিহাদ। তাকে প্রথমে চান্দিনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ও পরে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
তার হাতে ও পেটে মারাত্মক আঘাত প্রাপ্ত হয় বলে জানান চিকিৎসক। এ ঘটনার পরপর পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে আরও ৩টি তাজা ককটেল উদ্ধার করে। চান্দিনা থানার অফিসার ইন-চার্জ (ওসি) নাছির উদ্দিন মৃধা বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, অবিষ্ফোরিত ককটেল উদ্ধার করা হয়েছে এবং ঘটনাটি তদন্ত করা হচ্ছে। এদিকে বুধবার সকালে ঘটনাস্থল থেকে মাত্র ৫শ গজ দূরত্বে কুমিল্লা উত্তর জেলা বিএনপি’র কর্মী সভা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। সম্মেলন স্থলের মাত্র ৫০গজ দূরত্বে পথসভা ডাকে আওয়ামী ছাত্রলীগ। ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনাসহ নিরাপত্তার স্বার্থে উভয় সভা বন্ধ করে প্রশাসন। সম্মেলনের সাথে ককটেল বিষ্ফোরণের কোন রাজনৈতিক সম্পর্ক আছে কি-না তাও খতিয়ে দেখা হবে বলে জানান ওসি।

ত্রিশালে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত ১

ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলায় পুলিশের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে একজন নিহত হয়েছে। আটক হয়েছেন আরও পাঁচজন। নিহত আশরাফুল ইসলাম (২৮) ও আটক পাঁচজন ডাকাত বলে পুলিশের ভাষ্য। আশরাফুল ত্রিশালের বাঘাইছড়ি গ্রামের শামসুল হকের ছেলে। জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ওসি ইমারত হোসেন গাজী জানান, মঙ্গলবার মধ্যরাতে উপজেলার কাঁঠালবাজারের পাশে বাঘাইছড়ি গ্রামে গোলাগুলির এ ঘটনা ঘটে। তিনি বলেন, ডাকাতির প্রস্তুতি চলছে বলে খবর পেয়ে গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল অভিযান চালায়।এ সময় ডাকাত ও পুলিশের মধ্যে পাল্টাপাল্টি গুলিবিনিময় হয়। পরে গুলিবিদ্ধ আশরাফুলসহ ছয় ডাকাতকে আটক করে পুলিশ। আশরাফুলকে চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

ঘিরে রাখা ‘উগ্রবাদী আস্তানায়’ অভিযান শেষ

চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর উপজেলার চাঁনপুর শিমুলতলা বালুগ্রাম এলাকায় উগ্রবাদী আস্তানা সন্দেহে ঘিরে রাখা তিনটি বাড়িতে অভিয়ান শেষ হয়েছে। র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব) জানিয়েছে আজ বুধবার ভোর থেকে ঘিরে রাখা বাড়িগুলোতে শুরু হওয়া অভিযান বেলা সোয়া ১১টায় শেষ হয়েছে। এ অভিযানে অস্ত্র, বিস্ফোরক, গুলিসহ তিনজনকে আটক করা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। আটক তিন ব্যক্তি হলেন গোমস্তাপুর উপজেলার গোমস্তাপুর ইউনিয়নের বালুগ্রাম শিমুলতলা গ্রামের মফিজুল ইসলামের ছেলে আবদুস শুকুর (৩৩), চকপুস্তম এলাকার টুনু মোড়লের ছেলে সাইফুল আলম (৪৩) ও বালুগ্রাম রাজারামপুর মহল্লার মৃত আবদুল কুদ্দুসের ছেলে জাহাঙ্গীর আলম (৪৩)। এর আগে গতকাল মঙ্গলবার রাতে ওই উপজেলা থেকে অস্ত্র, বিস্ফোরকসহ তিন ব্যক্তিকে আটক করা হয়। তাঁদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী তিনটি বাড়ি ঘেরাও করে র‍্যাব। আটক ব্যক্তিদের নাম তখন জানানো হয়নি।

জয় দিয়ে শেষ চান মাশরাফি

ত্রিদেশীয় সিরিজের শেষ ম্যাচে আজ বুধবার নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে মাঠে নামবে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। ব্ল্যাক ক্যাপসদের বিপক্ষে জয় দিয়েই আয়ারল্যান্ড সফরের ইতি টানতে চান বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের ওয়ানডে অধিনায়ক মাশরাফি মুর্তজা। ইতোমধ্যে টানা তিন ম্যাচ জিতে কিউইরা সিরিজের শিরোপা নিজেদের করে নিলেও শেষ ম্যাচ থেকে প্রাপ্তির অনেক কিছু আছে বাংলাদেশের। জিতলেই নিশ্চিত হয়ে যাবে প্রথমবারের মতো র‍্যাংকিংয়ের ষষ্ঠ স্থান। সেই সাথে অএঙ্কটাই নিশ্চিত হয়ে যাবে ২০১৯ বিশ্বকাপের মূল পর্বে সরাসরি অংশগ্রহণের সম্ভাবনা। তবে এসকল কিছু নিয়েই ভাবছেন না মাশরাফি। দেশসেরা পেসার নড়াইল এক্সপ্রেস র‍্যাংকিংয়ের ভাবনা মাথায় না আনলেও চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে নিউজিল্যান্ডকে মোকাবেলা করার আগে নিজেদের আত্মবিশ্বাস বাড়াতে ম্যাচটিতে কিউই বধ করতে চান।
‘প্রত্যেকটা ম্যাচই গুরুত্বপূর্ণ। চ্যাম্পিয়নস ট্রফির আগে শেষ ম্যাচ জিততে পারলে ভালো লাগবে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো আত্মবিশ্বাস নিয়ে চ্যাম্পিয়নস ট্রফি শুরু করা।’ কিউই বধের জন্য ব্যাটসম্যানদের চেয়ে বোলারদের দিকে বেশি মনোযোগ দিচ্ছেন মাশরাফি। ব্যাটসম্যানদের জন্য কাজটা সহজ করে দিতে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে বোলারদের দিকে নজর দেওয়ার কারণ হিসেবে তিনি বলেন, ‘শ্রীলঙ্কা সফর থেকেই বোলারদের মধ্যে কিছুটা ধারাবাহিকতার অভাব দেখা যাচ্ছে। এটা অবশ্য স্বাভাবিক। কারণ উইকেটের ওপর অনেক কিছু নির্ভর করে। বেশিরভাগ ম্যাচেই কিন্তু আমরা ভালো বোলিং করেছি। আমার মনে হয় বোলাররা আগের ম্যাচের মতো খেলতে পারলে ব্যাটসম্যানদের জন্য কাজটা অনেক সহজ হয়ে যাবে।’ অন্যদিকে, ত্রিদেশীয় সিরিজের শেষ ম্যাচের একাদশে কোন পরিবর্তন আসবে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে পরিষ্কার কিছু জানাননি তিনি। তবে ইঙ্গিত দিয়ে রাখলেন সম্ভাব্য সেরা দলটি নিয়েই মাঠে নামার।

বিশ্বকাপে জয়ের ফরমুলা আইপিএলে!

আরো আগ থেকে ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ (আইপিএল) টুয়েন্টি টুয়েন্টি ক্রিকেট থাকলে ২০০৩ বিশ্বকাপ ভারতই জিততো বলে মনে করেন দেশটির সাবেক মাস্টার ব্লাস্টার ব্যাটসম্যান শচিন টেন্ডুলকার। নিজের বায়োপিক ‘সচিন, আ বিলিয়ন ড্রিমস’-এর প্রচার অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের এমন কথা বলেন টেন্ডুলকার। তিনি বলেন, ‘আইপিএল টি-২০ ক্রিকেটের এমন রমরমা অবস্থা আগে থাকলে ২০০৩ বিশ্বকাপের ফাইনালে ৩৫৯ রানের বিশাল টার্গেট পেরিয়ে যেতে পারতো ভারত। ফলে আরও আগেই বিশ্বকাপ জয়ের স্বাদ পেতো টিম ইন্ডিয়া।’ ২০০৮ সাল থেকে শুরু হয় আইপিএলের টি-২০ দামামা। এরপর থেকে আগ্রাসী মানসিকতা ধারণ করেন ব্যাটসম্যানরা। সেই প্রভাব গিয়ে পড়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে। তাই এখন হরহামেশাই ওয়ানডেতে ৩৫০’র বেশি রান করছে দলগুলো এবং পরে তা সহজে পেরিয়েও যাচ্ছে প্রতিপক্ষ।
ওয়ানডের মত টি-২০ এবং টেস্টেও প্রভাব পড়েছে আইপিএলের মানসিকতা। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাটসম্যানদের এমন আগ্রাসী মনোভাবে ১৪-১৫ বছর আগে থাকলে ভারত আরও আগে বিশ্বকাপ জিততে পারতো বলে মনে করেন টেন্ডুলকার। ২০০৩ সালের বিশ্বকাপের ফাইনালে অস্ট্রেলিয়ার ছুঁড়ে দেয়া ৩৫৯ রানের টার্গেট সহজেই স্পর্শ করে ফেলতো ভারত বলে জানান তিনি, ‘এখনকার মতো আইপিএল ও টি টোয়েন্টি ক্রিকেট খেলে আমাদের ব্যাটসম্যানরা যদি তখনও এত আক্রমণাত্মক ও আগ্রাসী ব্যাটিংয়ে অভ্যস্ত হতে পারতো, তাহলে হয়তো সে দিন ৩৫৯ রানের টার্গেটটা আমরা অতিক্রম করতে পারতাম। এখন আবার যদি সেই ম্যাচ খেলার সুযোগ পেতাম আমরা, তা হলে ব্যাটিংয়ের ধরনটাই অন্য রকমের হতো। পিটিয়ে হয়তো বড় টার্গেটা স্পর্শ করে ফেলতাম। এখনকার ব্যাটসম্যানরা যেমন বলে বলে রান তোলে এবং বড় টার্গেট কিভাবে স্পর্শ করতে সেই ফর্মুলাও তারা জানে।’ এখনকার ক্রিকেটে ওয়ানডেতে সাড়ে তিনশো রান খুব সাধারণ ব্যাপার হয়ে গিয়েছে বলে মনে করেন আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের সর্বোচ্চ সেঞ্চুরির মালিক টেন্ডুলকার। তিনি বলেন, ‘অনেকবারই তো ৩২৫-৩৪০ রানের বেশি করেছি আমরা। বিশ্বের অন্যান্য দলগুলোও তা করছে সহজে।
কারণ, আইপিএল ও টি-২০ ক্রিকেটের কারনে ফরম্যাট-নিয়ম সব এখন বদলে গেছে। খেলোয়াড়দের মানসিকতাও এখন অনেক বদলে গিয়েছে, যা আমরা ২০০৩ সালে পাইনি। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট এসে যাওয়ায় ব্যাটসম্যানদের মধ্যে আগ্রাসী মনোভাব চলে এসেছে।’ নিজের বায়োপিক ‘সচিন, আ বিলিয়ন ড্রিমস’-এর বিশেষ বিশেষ অংশ পুত্র অর্জুন ও কন্যা সারাকে দেখান টেন্ডুলকার। অর্জুন-সারার এই বায়োপিক বেশ পছন্দ হয়েছে বলে জানালেন টেন্ডুলকার, ‘পুরো বিশ্বের কাছে আমি ক্রিকেটার হলেও ওদের কাছে আমি ওদের বাবা। তাই ওরা এই ছবি দেখে কী বলে, তা জানা প্রয়োজন ছিলো। যখন জানলাম অর্জুন-সারার ছবিটা ভালো লেগেছে, তখন বুঝলাম জেমস (আর্সকিন) খুব ভালো কাজ করেছে।’ পুত্র ও কন্যাকে দেখানোর পর এ বার এই ছবি তার ক্রিকেট-গুরু রমাকান্ত আচরেকরও দেখাবেন টেন্ডুলকার, ‘আজই ছবিটা দেখবেন স্যার। তাকে বাদ দিয়ে তো আমার জীবনে কোনো কিছুই সম্ভব নয়।’ সূত্র : বাসস

বাংলাদেশের সামনে আজ বিশ্বকাপের সমীকরণ

ত্রিদেশীয় সিরিজের প্রথম ম্যাচ ভেস্তে যাওয়ার পর নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচের হার র‍্যাংকিংয়ে বাংলাদেশের অবনমনের শঙ্কা জাগালেও আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষের জয় আপাতত সেই শঙ্কা দূর করেছে। পাশাপাশি শেষ ম্যাচ জিতে র‍্যাংকিংয়ের শীর্ষ ছয়ে প্রথমবারের মতো আরোহণ করার সুবর্ণ সুযোগও তৈরি হয়েছে। বর্তমানে ৯১ রেটিং পয়েন্ট নিয়ে ওয়ানডে র‍্যাংকিংয়ের ষষ্ঠ স্থানে অবস্থান বাংলাদেশের। ত্রিদেশীয় সিরিজের শেষ ম্যাচে জয় পেলে যা বেড়ে দাঁড়াবে ৯৩ রেটিং পয়েন্টে। সেক্ষেত্রে বর্তমান র‍্যাংকিংয়ের ষষ্ঠ স্থান দখল করে রাখা শ্রীলঙ্কার সমান পয়েন্ট হয়ে বাংলাদেশের। তবে ভগ্নাংশ ব্যবধানে এগিয়ে থাকার সুবাদে লঙ্কানদের ছাপিয়ে যাবে মাশরাফি বাহিনী।
কিউই বধ করলে একই সাথে ২০১৯ বিশ্বকাপে সরাসরি অংশগ্রহণের সম্ভাবনাও অনেকটাই নিশ্চিত হয়ে যাবে টাইগারদের। ব্ল্যাক ক্যাপসদের বিপক্ষের জয় র‍্যাংকিংয়ের আটে থাকা পাকিস্তানের সাথে রেটিং পয়েন্ট ব্যবধান পাঁচ পয়েন্টে নিয়ে আসবে বাংলাদেশকে। আর ওয়েস্ট ইন্ডিজের সাথে তা বেড়ে দাঁড়াবে ১৪ পয়েন্টে। যার ফলে আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে নিজেদের সবকয়টি ম্যাচ হেরে গেলেও ২০১৯ বিশ্বকাপে সরাসরি অংশগ্রহণের পথে অন্যদের চেয়ে এগিয়ে থাকবে মাশরাফি-সাকিবরা। বিপরীতে, নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে কোনো কারণে শেষ ম্যাচে পরাজিত হলে দুই রেটিং পয়েন্ট কমবে বাংলাদেশের। সেক্ষেত্রে র‍্যাংকিংয়ের আটে থাকা পাকিস্তানের সাথে ব্যবধান কমে আসবে ১ পয়েন্টে! তবে হেরে গেলেও ওয়েস্ট ইন্ডিজের চেয়ে বেশ এগিয়ে থাকবে বাংলাদেশ।

ট্রাম্পের ‘আরব ন্যাটো’ হবে ভয়ানক ভুল

মধ্যপ্রাচ্যে সভ্যতার ইতিহাস অনেকের কাছে অজানা নয়। লেখনরীতি, প্রাচীন শহর, কৃষি, জ্যোতিষ শাস্ত্র এবং গ্রন্থাগার- প্রথমে এখানেই তৈরি হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের এসব ইতিহাসের সঙ্গে নতুন খবর হল যে, যুক্তরাষ্ট্র সেখানে ‘আরব ন্যাটো’ গঠনের পরিকল্পনা করছে। স্নায়ু যুদ্ধের প্রথম দিকে ১৯৫০ সালে যুক্তরাষ্ট্র ‘বাগদাদ প্যাক্ট’ নামে একই ধরনের একটি জোট গঠনের কাজে ব্যতিব্যস্ত ছিল। এটি সেন্ট্রাল ট্রিইটি অর্গানাইজেশন (সেনটো) বা মিডল ইস্ট ট্রিইটি অর্গানাইজেশন (মেটো) নামে পরিচিত। এ জোট তৈরির উদ্দেশ্য ছিল সোভিয়েত ইউনিয়ন এবং মিসরের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জামাল আবদেল নাসেরের বিরুদ্ধে এ অঞ্চলের কয়েকটি দেশকে একত্রিত করা। ট্রাম্পের প্রস্তাবিত জোট প্রতিষ্ঠার অর্থ শুধু আরব দেশগুলোকে একত্রিত করা নয়, বরং ইরানকে প্রতিহত করতে দেশের সুন্নি গোষ্ঠীকে ঐক্যবদ্ধ করা। এ ধরনের জোট গঠনের পরিকল্পনার অর্থ হল উপসাগরীয় অঞ্চলে উগ্র সুন্নি রাজতন্ত্রের জয়গান। অস্ত্র বিক্রেতাদের কাছে এর মানে হল,
শত শত কোটি ডলারের উন্নতমানের অস্ত্র প্রযুক্তি বিক্রি, যদিও এসব দেশের হাতে যেসব অস্ত্র রয়েছে সেগুলোই তারা ব্যবহার করার যোগ্য নয়। অন্যদিকে রয়েছে ইসরাইল, যারা ইরান জুজুর ভয় দেখিয়ে ফিলিস্তিনে বর্বরতা থেকে বিশ্ববাসীর দৃষ্টি সরিয়ে রাখতে চায়। উপসাগরীয় অঞ্চলের অধিকাংশ স্বৈরশাসকই সুন্নি। কিন্তু পূর্ব আরবের অনেকেই সুন্নি নয়। যেমন ইরাক, লেবানন, বাহরাইনের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষই সুন্নি নয়। আবার ইয়েমেন, সিরিয়া, সৌদি আরব, কুয়েত এবং অন্যান্য উপসাগরীয় দেশে রয়েছে বিপুলসংখ্যক শিয়া মুসলিম। ঐক্যবদ্ধ সুন্নি জোট গঠিত হলে এসব দেশের কোটি লোকের কাছে- যারা সুন্নি নয়, কি বার্তা যাবে? আরব বিশ্বের পশ্চিমাংশের দেশ মিসর থেকে মরক্কো- কোথাও শিয়াদের তেমন প্রভাব নেই। আলোচনার বিষয় এটা যে, আরব বিশ্বে ইয়েমেনের মতো গরিব দেশের যুদ্ধে সৌদি আরবকে সমর্থন দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র কি স্বার্থ হাসিল করছে? যুক্তরাষ্ট্র কি তাহলে মধ্যপ্রাচ্যে তাদের শত্রুর সংখ্যা বাড়ানোর প্রত্যাশা করছে? অধিকাংশ মার্কিনি সৌদি আরব ও ইসরাইলের পক্ষাবলম্বন করে আর ইরানকে যুক্তরাষ্ট্রের অপরিবর্তনীয় ও বেপরোয়া শত্রু বলেই মনে করে। এটা উল্লেখ্য যে, ১৯৭৯ সালে ইরানের ইসলামী বিপ্লবের আগে সুন্নি-শিয়া দ্বন্দ্ব একটা গৌণ বিষয় ছিল। সুন্নিরা শিয়াদের বিবাহ করত। অন্যান্য সংঘাত সেখানে অধিক গুরুত্বপূর্ণ ছিল। এটা সত্য যে,
ইরান ও তার প্রতিবেশী দেশগুলোর মধ্যে ছিল তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা। ১৯৭৯ সালের পর থেকে ইসলামিক প্রজাতন্ত্রে সাম্প্রদায়িকতার প্রভাব বৃদ্ধির পর সংঘাতের দানা বাঁধতে শুরু করে। এক্ষেত্রে সৌদি আরব অসহনীয় সাম্প্রদায়িকতাকে গ্রহণ করে পাল্টা আক্রমণাত্মক অবস্থানে নেতৃত্ব দিতে শুরু করে। এছাড়া এটি ইসলামিক স্টেটের সন্ত্রাসবাদ উত্থানের পথে বড় অবদান রাখে। এরই ধারাবাহিকতায় শিয়াদের কাফির, মুশরিক ও সুন্নি মতাদর্শ থেকে তারা বিতাড়িত বলে প্রচারণা চালাতে শুরু করে সুন্নিরা। এমনকি তাদেরকে অমুসলিম আখ্যা দেয়া হয়। তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে সুন্নিরা। অনেক বিশ্লেষক মনে করছেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এ অঞ্চলে সফরের মাধ্যমে সেখানে সুন্নি-শিয়া দ্বন্দ্বের ধারা-প্রকৃতি বোঝার চেষ্টা করবেন, যাতে ‘আরব ন্যাটো’ গঠনের ক্ষেত্র তৈরিতে সহজ হয়। এ সফরের মাধ্যমে ইরানের প্রতি শত্রুতা এবং শত শত কোটি ডলারের অস্ত্র বিক্রির বিষয়টি নিয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বিমোহিত হতে পারে। তবে আমেরিকান জনগণ এবং তাদের নির্বাচিত প্রতিনিধিরা বিষয়টির প্রতি মনোযোগ না দিলে যুক্তরাষ্ট্র এশিয়ায় আরেকটি স্থলযুদ্ধে জড়িয়ে পড়তে পারে। দ্য গার্ডিয়ান

হাতকড়া পরিয়ে আদালতে নেয়া হল পার্ককে

দুর্নীতির অভিযোগে দক্ষিণ কোরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট পার্ক জিউন হাইয়ের বিচার শুরু হয়েছে। মঙ্গলবার হাতকড়া পরিয়ে একটি প্রিজন ভ্যানে করে তাকে রাজধানী সিউলের সেন্ট্রাল ডিস্ট্রিক্ট আদালতে হাজির করা হয়। মার্চ মাসে গ্রেফতার হওয়ার পর থেকে এই প্রথম প্রকাশ্যে এলেন তিনি। খবর বিবিসি ও আলজাজিরার তার বিরুদ্ধে ঘুষগ্রহণ, সরকারি গোপন বিষয় ফাঁস এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের মোট ১৮টি অভিযোগ আনা হয়েছে। অপরাধ প্রমাণিত হলে তার যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হতে পারে। পার্ক জিউন হাইয়ের আইনজীবী ইয়ো ইয়েং-হা আদালতের শুনানিতে বলেন, সাবেক প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে দক্ষিণ কোরিয়ার বড় বড় কোম্পানিগুলোকে চাঁদা দিতে বাধ্য করার অভিযোগ আনা হয়েছে। এর কোনো যৌক্তিক কারণ নেই। কেন না, তিনি এ অর্থ নিজের জন্য ব্যবহার করতে পারতেন না। এ সময় বিচারক পার্ক জিউন হাইকে তার অভিযোগের বিষয়ে জিজ্ঞেস করেন। তিনি বলেন, ‘আমার আইনজীবী যা বলেছেন,
আমার অবস্থান সেটাই।’ পার্ক জিউন হাইয়ের বিরুদ্ধে বান্ধবী চই সুন সিলের সঙ্গে যোগসাজশের ভিত্তিতে ঘুষগ্রহণ ও চাঁদা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে। কৌঁসুলিরা বলছেন, চই সুন সিলের নিয়ন্ত্রণাধীন প্রতিষ্ঠানের জন্য পার্ক জিউন হাই দক্ষিণ কোরিয়ার বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে চাঁদা আদায় করেছেন। এছাড়া তার বিরুদ্ধে চইয়ের কাছে সরকারি গোপনীয় তথ্য ফাঁসেরও অভিযোগ রয়েছে। অর্থ আত্মসাৎ ও বিশ্বাস ভঙ্গের অভিযোগে দক্ষিণ কোরিয়ার শীর্ষস্থানীয় লোটে গ্রুপের চেয়ারম্যান শিন দং বিনের বিচার চলছে। সরকারি কৌঁসুলিরা তার বিরুদ্ধে পার্কের প্রশাসনকে ঘুষ দেয়ার আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করেছেন। একই অভিযোগে এরই মধ্যে বিচারের মুখোমুখি হয়েছেন দক্ষিণ কোরিয়ার বৃহত্তম কোম্পানি স্যামসাং গ্রুপের ভবিষ্যৎ কর্ণধার লি জায়ে ইয়ং। তার বিরুদ্ধে পার্ক জিউন হাই ও তার বান্ধবী চই সুন সিলকে ঘুষের প্রস্তাব অথবা প্রতিশ্রুতি দেয়ার অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, চই সুন সিল তার নিয়ন্ত্রণাধীন মির ও কে-স্পোর্টস ফাউন্ডেশনের জন্য স্যামসাং গ্রুপ, লোটে গ্রুপসহ দক্ষিণ কোরিয়ার বিভিন্ন কোম্পানি থেকে প্রায় ৭ কোটি ডলার (৭ হাজার ৭৪০ কোটি ওন) চাঁদা আদায় করেছেন। অভিশংসনের পর গত মার্চে গ্রেফতার হন তিনি। তবে কোরীয় প্রেসিডেন্টদের মধ্যে তিনিই প্রথম হাতকড়া পরেননি। তার পূর্বসূরি রোহ তায়ে উ ও চুন দু হুয়ানকেও গ্রেফতার করা হয়েছিল।

ফের প্রত্যাখ্যাত ট্রাম্প!

ট্রাম্প-মেলানিয়ার সম্পর্কটা যেন ঠিকঠাক যাচ্ছে না। তা না হলে ফার্স্ট লেডি হিসেবে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে প্রথম সফরেই তাদের নিয়ে এত কথা হবে কেন? সোমবার প্রথম ঘটনা ঘটলো ইসরায়েলে। সেখানকার বিমানবন্দরের এ ঘটনা অনলাইন ও অফলাইনে বেশ ভালো ঝড় তোলে। দেশটিতে পৌঁছে উড়োজাহাজ থেকে নামার পর বিমানবন্দরের লালগালিচা দিয়ে হাঁটছিলেন দুজনে। এর মধ্যেই ট্রাম্প মেলানিয়ার দিকে হাত বাড়িয়ে দেন। তবে মেলানিয়া তা না ধরে হালকা চাপড় দিয়ে ট্রাম্পের হাত সরিয়ে দেন। এ ঘটনা নিয়ে আলোচনা-সমালোচনার মধ্যেই দ্বিতীয়বার একই ধরনের ঘটনা ঘটল। মঙ্গলবার ট্রাম্প ও মেলানিয়া ইতালির রোমের বিমানবন্দরে নামার সময় আবারো একই ধরনের ঘটনা। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বাড়িয়ে দেয়া হাত প্রত্যাখ্যান করে ফার্স্ট লেডি তার চুল ঠিকঠাক করে নেন। এই দুই ঘটনায় নিন্দুকেরা অবশ্য বলছে ট্রাম্প-মেলানিয়ার সম্পর্কে ফাটল ধরেছে। আবার অনেকেই বলেছেন হয়তো তাদের মধ্যে কোনো অভিমান চলছে।

শত শত মানুষের সামনে দুই সমকামীকে বেত্রাঘাত

ইন্দোনেশিয়ায় শত শত মানুষের সামনে দুজন সমকামীকে শাস্তি হিসেবে ৮৩ বার করে বেত্রাঘাত করা হয়েছে। সাদা জামা পড়া দুজন ব্যক্তি একটি স্টেজের উপর দাঁড়ানোর পর হাতে বেত নিয়ে মুখ ঢাকা এক ব্যক্তি এসে তাদের বেত্রাঘাত করে। যে দুজন সমকামী পুরুষকে শাস্তি দেয়া হয়েছে তাদের একজনের বয়স ২০ বছর এবং অপরজনের বয়স ২৩ বছর। গত মার্চ মাসে এ দুজনকে সমকামিতার দায়ে আটক করা হয়। মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ ইন্দোনেশিয়ায় সমকামিতা অবৈধ নয়। তবে দেশটির আচেহ প্রদেশে ইসলামি শরিয়া আইন থাকার কারণে সেখানে সমকামিতার জন্য সাজার বিধান রয়েছে। প্রথমবারের মতো সেখানে শরিয়া আইনের আওতায় সমকামীদের বেত্রাঘাত করা হলো। আচেহ প্রদেশের রাজধানী বান্দা আচেহ'র একটি মসজিদে বাইরে বেত্রাঘাতের এ শাস্তি কার্যকর হয়। যখন এ শাস্তি কার্যকর করা হচ্ছিল তখন শত শত মানুষ দাঁড়িয়ে ছিল। সমকামীদের বেত্রাঘাত করার সময় তারা উল্লাস প্রকাশ করে। এ সময় অনেকে তাদের মোবাইল ফোনে বেত্রাঘাতের ভিডিও এবং ছবি তোলে। তবে শাস্তি কার্যকরের আগে আয়োজকদের একজন সাধারণ মানুষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছিলেন যাতে তারা সমকামীদের উপর আক্রমণ না করে। তিনি বলেছিলেন, 'তারাও তো মানুষ'। শাস্তি হিসেবে প্রত্যেক সমকামীকে ৮৫ বার করে বেত্রাঘাত করার সিদ্ধান্ত হয়েছিল। কিন্তু যেহেতু তারা দুইমাস আটক ছিল সেজন্য দু'বার বেত্রাঘাত কমিয়ে সেটিতে ৮৩ বার বেত্রাঘাত নির্ধারণ করা হয়। সমকামীদের বেত্রাঘাতে অনেকে উল্লাস প্রকাশ করে। ২০১৪ সালে ইন্দোনেশিয়ার আচেহ প্রদেশে সমকামিতার বিপক্ষে কঠোর আইন করা হয়। এর আগে মদ্যপান এবং জুয়া খেলার জন্য বেত্রাঘাতের মাধ্যমে শাস্তি দেয়া হতো। সূত্র: বিবিসি বাংলা।

ব্রিটেনে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি

ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী তেরেসা মে সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, সোমবারের হামলার পর ব্রিটেনে আরও সন্ত্রাসী হামলার আশঙ্কা রয়েছে। ফলে, দেশটিতে সন্ত্রাসী হামলার হুমকি সংক্রান্ত সতর্কতার মাত্রা বাড়িয়ে সর্বোচ্চ পর্যায়ে, অর্থাৎ 'ক্রিটিক্যাল' বা 'সংকটপূর্ণ' বলে ঘোষণা করা হয়েছে। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বলেন, শঙ্কার মূল কারণ, সন্দেহভাজন হামলাকারী সালমান আবেদি একাই হামলা চালিয়েছে, না এর পেছনে আরও মানুষ সক্রিয় রয়েছে, সে বিষয়ে এখনো পর্যন্ত নিশ্চিত হওয়া যায়নি। সেই সঙ্গে নিরাপত্তা জোরদার করতে দেশটির গুরুত্বপূর্ণ সব স্থাপনায় সেনা মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। নিরাপত্তার ক্ষেত্রে সশস্ত্র পুলিশকে সহযোগিতা করতে 'অপারেশন টেম্পেরার' নামে সেনা বাহিনীর ইউনিট নামানো হচ্ছে বলে জানানো হয়েছে। এদিকে, সোমবারের কনসার্টে যে ব্যক্তি আত্মঘাতী হামলা করেছিল ইতোমধ্যেই তার পরিচয় প্রকাশ করা হয়েছে। বলা হচ্ছে, সন্দেহভাজন হামলাকারী সালমান আবেদী। লিবীয় বংশোদ্ভূত ২২ বছর বয়সী এই তরুণ ম্যানচেস্টার শহরেই জন্মেছেন ও বেড়ে উঠেছেন। নিরাপত্তা বাহিনী বলছে, সালমান আবেদি এই হামলার মাত্র কয়েকদিন আগেই বিদেশ থেকে দেশে ফিরেছিলেন। বহু বছর ব্রিটেনে বসবাসের পর তার পরিবার লিবিয়ায় ফিরে গেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। এর আগে ইসলামিক স্টেট গ্রুপ দাবি করেছে, তাদের একজন সমর্থক এই হামলা চালিয়েছে। সোমবারে ম্যানচেস্টার শহরে একটি কনসার্টে আত্মঘাতী হামলায় এখন পর্যন্ত নিহতের সংখ্যা ২২ জন আর আহত হয়েছে মোট ৫৯জন। সূত্র: বিবিসি বাংলা।

মধ্যপ্রাচ্যে শান্তির জন্য ‘সবকিছু’ করবেন ট্রাম্প

ইসরাইল সফররত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, শান্তি প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে ইসরাইলি ও ফিলিস্তিনিদের সহায়তায় ‘সবকিছু করবেন’ তিনি। এ সময় সন্ত্রাসবাদ মোকাবেলায় ফিলিস্তিনি নেতার প্রতিশ্রুতিতেও সন্তোষ প্রকাশ করেন তিনি। ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসের সঙ্গে এক বৈঠকে তিনি এ কথা বলেন। ইসরাইল সফরের শেষ দিনে মঙ্গলবার বেথলেহেমে বৈঠকে বসেন এই দুই নেতা। একই দিন জেরুজালেম সফর করেন ট্রাম্প। বিবিসি জানায়, ট্রাম্পের ইসরাইল সফরকে কেন্দ্র করে ব্যাপক বিক্ষোভ করেছেন ফিলিস্তিনিরা। ট্রাম্পকে ইসরাইলপন্থী বিবেচনা করে গাজা ও পশ্চিম তীরে বিক্ষোভ দেখান তারা। ট্রাম্প বলেছেন, ইসরাইলি ও ফিলিস্তিনিদের মধ্যে একটি শান্তি চুক্তি অর্জনে আমি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আর এ লক্ষ্য অর্জনে উভয়পক্ষকে সহায়তা করতে আগ্রহী। একটি দীর্ঘস্থায়ী শান্তির জন্য এ দুই দেশের নেতাদের সঙ্গে কাজ করতে চাই। তিনি বলেন, প্রেসিডেন্ট আব্বাস তাকে নিশ্চিত করেছেন, এ লক্ষ্যে বিশ্বাসের সঙ্গে কাজ করতে প্রস্তুত তিনি। প্রেসিডেন্ট আব্বাস বলেছেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ‘মহৎ ও সম্ভাব্য এ মিশন’কে স্বাগত জানান তিনি এবং শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ট্রাম্পের অংশীদার হতে প্রস্তুত তিনি। সর্বশেষ গত ৩ মে ওয়াশিংটন সফর করেন মাহমুদ আব্বাস। এ সময় হোয়াইট হাউসে বৈঠকে বসেন এই দুই নেতা। ওই বৈঠকেও মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠা বিশেষ করে ইসরাইল ও ফিলিস্তিনের মধ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠার বিভিন্ন দিক নিয়ে কথা বলেন তারা। গত তিন বছরেরও বেশি সময় ধরে ইসরাইল ও ফিলিস্তিনের মধ্যে সরাসরি কোনো আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়নি।
হামাসের নিন্দা : ফিলিস্তিনের ইসলামী প্রতিরোধ আন্দোলন হামাস বলেছে, ইহুদিবাদী ইসরাইলের পক্ষে কথা বলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ফিলিস্তিনের মুক্তি আন্দোলনকে আরও জোরদার করছেন। এর ফলে সংগঠন হিসেবে হামাস আরও শক্তিশালী হবে বলেও মন্তব্য করেছে হামাস কর্তৃপক্ষ। রোববার সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে আরব ও মুসলিম নেতাদের উপস্থিতিতে ট্রাম্প হামাসকে সন্ত্রাসবাদী সংগঠন বলে অভিহিত করেছেন এবং একে উগ্র সন্ত্রাসীগোষ্ঠী আইএসের সঙ্গে তুলনা করেছেন। পাশাপাশি তিনি হামাসের ‘ইসলামী সন্ত্রাসের’ বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার জন্য মুসলিম নেতাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। হামাস মুখপাত্র ফাউজি বারহুম সোমবার এক বিবৃতিতে ট্রাম্পের এ বক্তব্যের জবাব দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ‘হামাসকে সন্ত্রাসবাদী সংগঠন বলে ট্রাম্প যে মন্তব্য করেছেন আমরা তা প্রত্যাখ্যান করছি।’ হামাস নেতা মুশরি আল-মাসরিও ট্রাম্পের উস্কানিমূলক বক্তব্যের নিন্দা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট এ ধরনের বক্তব্য দিয়ে নিজেকে দখলদার ইহুদিবাদী ইসরাইলের কাতারে নিয়ে গেছেন।

মধ্যপ্রাচ্যে শান্তির জন্য ‘সবকিছু’ করবেন ট্রাম্প

ইসরাইল সফররত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, শান্তি প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে ইসরাইলি ও ফিলিস্তিনিদের সহায়তায় ‘সবকিছু করবেন’ তিনি। এ সময় সন্ত্রাসবাদ মোকাবেলায় ফিলিস্তিনি নেতার প্রতিশ্রুতিতেও সন্তোষ প্রকাশ করেন তিনি। ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসের সঙ্গে এক বৈঠকে তিনি এ কথা বলেন। ইসরাইল সফরের শেষ দিনে মঙ্গলবার বেথলেহেমে বৈঠকে বসেন এই দুই নেতা। একই দিন জেরুজালেম সফর করেন ট্রাম্প। বিবিসি জানায়, ট্রাম্পের ইসরাইল সফরকে কেন্দ্র করে ব্যাপক বিক্ষোভ করেছেন ফিলিস্তিনিরা। ট্রাম্পকে ইসরাইলপন্থী বিবেচনা করে গাজা ও পশ্চিম তীরে বিক্ষোভ দেখান তারা। ট্রাম্প বলেছেন, ইসরাইলি ও ফিলিস্তিনিদের মধ্যে একটি শান্তি চুক্তি অর্জনে আমি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আর এ লক্ষ্য অর্জনে উভয়পক্ষকে সহায়তা করতে আগ্রহী। একটি দীর্ঘস্থায়ী শান্তির জন্য এ দুই দেশের নেতাদের সঙ্গে কাজ করতে চাই। তিনি বলেন, প্রেসিডেন্ট আব্বাস তাকে নিশ্চিত করেছেন, এ লক্ষ্যে বিশ্বাসের সঙ্গে কাজ করতে প্রস্তুত তিনি। প্রেসিডেন্ট আব্বাস বলেছেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ‘মহৎ ও সম্ভাব্য এ মিশন’কে স্বাগত জানান তিনি এবং শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ট্রাম্পের অংশীদার হতে প্রস্তুত তিনি। সর্বশেষ গত ৩ মে ওয়াশিংটন সফর করেন মাহমুদ আব্বাস। এ সময় হোয়াইট হাউসে বৈঠকে বসেন এই দুই নেতা। ওই বৈঠকেও মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠা বিশেষ করে ইসরাইল ও ফিলিস্তিনের মধ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠার বিভিন্ন দিক নিয়ে কথা বলেন তারা। গত তিন বছরেরও বেশি সময় ধরে ইসরাইল ও ফিলিস্তিনের মধ্যে সরাসরি কোনো আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়নি।
হামাসের নিন্দা : ফিলিস্তিনের ইসলামী প্রতিরোধ আন্দোলন হামাস বলেছে, ইহুদিবাদী ইসরাইলের পক্ষে কথা বলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ফিলিস্তিনের মুক্তি আন্দোলনকে আরও জোরদার করছেন। এর ফলে সংগঠন হিসেবে হামাস আরও শক্তিশালী হবে বলেও মন্তব্য করেছে হামাস কর্তৃপক্ষ। রোববার সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে আরব ও মুসলিম নেতাদের উপস্থিতিতে ট্রাম্প হামাসকে সন্ত্রাসবাদী সংগঠন বলে অভিহিত করেছেন এবং একে উগ্র সন্ত্রাসীগোষ্ঠী আইএসের সঙ্গে তুলনা করেছেন। পাশাপাশি তিনি হামাসের ‘ইসলামী সন্ত্রাসের’ বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার জন্য মুসলিম নেতাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। হামাস মুখপাত্র ফাউজি বারহুম সোমবার এক বিবৃতিতে ট্রাম্পের এ বক্তব্যের জবাব দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ‘হামাসকে সন্ত্রাসবাদী সংগঠন বলে ট্রাম্প যে মন্তব্য করেছেন আমরা তা প্রত্যাখ্যান করছি।’ হামাস নেতা মুশরি আল-মাসরিও ট্রাম্পের উস্কানিমূলক বক্তব্যের নিন্দা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট এ ধরনের বক্তব্য দিয়ে নিজেকে দখলদার ইহুদিবাদী ইসরাইলের কাতারে নিয়ে গেছেন।

‘রেগে’ ট্রাম্পের হাত সরিয়ে দিলেন মেনালিয়া

ইসরাইল সফরে গিয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে হাত ধরতে দিলেন না ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্প। ইসরাইল পৌঁছে বিমান থেকে নামার পর প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু ও তার স্ত্রী সারার সঙ্গে লাল গালিচার ওপর দিয়ে হেঁটে আসতে আসতে পাশে থাকা স্ত্রীর দিকে হাত বাড়িয়ে দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। কিন্তু মেলানিয়া ট্রাম্প তার হাত না ধরে মৃদু চাপড় দিয়ে সরিয়ে দেন। খবর নিউজডটকমের। রোববারের ট্রাম্প-মেলানিয়ার বিব্রতকর এ মুহূর্ত নিয়ে সরগরম টুইটার। ভিডিওতে দেখা যায়, মেলানিয়ার এ আচরণে ট্রাম্প কিছুটা থতমত। তবে একটু পরেই সামলে নেন নিজেকে। মেলানিয়া কেন এমন করলেন? এ প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে ব্যস্ত টুইটার ব্যবহারকারীরা।
একজনের টুইট, হতে পারে ট্রাম্পের আচরণে মেলানিয়া দুঃখ পেয়েছেন। কারণ, বিমান থেকে নামার পর ফার্স্ট লেডির সঙ্গে নয়, সামনে সামনে হাঁটছিলেন ট্রাম্প। যেন স্ত্রীর কথা ভুলেই গেছেন। এমনকি গাড়ি থেকে নেমে ফার্স্ট লেডির জন্য অপেক্ষাও করেননি। তাহলে মেলানিয়া কেন তার হাত ধরবেন? গণমাধ্যমের সামনে এমন আচরণ করায় মেলানিয়ার প্রশংসাও হচ্ছে। টুইটার ব্যবহারকারীরা বলছেন, ট্রাম্পকে তিনি উচিত শিক্ষা দিয়েছেন। তার কোনো ভণ্ডামি নেই। টুইটারের কয়েকজন ব্যবহারকারী বলছেন, বিমান থেকে নামার পর ট্রাম্প ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী ও তার স্ত্রীর পাশে পাশে হাঁটছিলেন। ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া কিছুটা পেছনে ছিলেন। এতেও রাগ হতে পারে তার।

মাত্র ১২ রুপিতে বিমানযাত্রা!

মাত্র ১২ রুপিতে পৌঁছে যেতে পারবেন দেশের একপ্রান্ত থেকে অন্যপ্রান্তে। শুধু দেশ নয়, বিদেশেও যেতে পারবেন। ১২ বছর পূর্তিতে এমনই অভূতপূর্ব অফার দিচ্ছে ভারতের স্পাইসজেট এয়ারলাইন্স। দেশি-বিদেশি ফ্লাইটে অত্যন্ত কম খরচে স্পাইসজেটের বিমানে করে সফর করা যাবে। এ অফার শুরু হচ্ছে মাত্র ১২ রুপি থেকে। ট্যাক্স ও অন্যান্য সারচার্জ এর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত হবে না। খবর টাইমস অব ইন্ডিয়ার। এক বিবৃতিতে স্পাইসজেট এয়ারলাইন্স জানায়, ‘প্রত্যেক ভারতীয়দের জন্য বিমান ভ্রমণের স্বাদ ও অভিজ্ঞতা দিতে নতুন এ সেবা চালু করা হয়েছে।’ ২৩ মে থেকে ২৮ মে পর্যন্ত এ অফারের টিকিট কাটা যাবে। চলতি বছরের ২৬ জুন থেকে ২৪ মার্চ ২০১৮ সালের মধ্যে যাত্রা করার জন্যই এ অফার দিচ্ছে স্পাইসজেট।

ম্যানচেস্টারে হামলাকারী লিবীয় তরুণ

ব্রিটেনের পুলিশ ম্যানচেস্টার শহরের অ্যারেনায় সোমবার এক পপ কনসার্টে আত্মঘাতী বোমা হামলাকারীর নাম প্রকাশ করেছে। হামলাকারী ২২ বছর বয়সী সালমান আবেদির জন্ম ম্যানচেস্টারে। তবে তিনি ও তার পরিবার এসেছে লিবিয়া থেকে। খবর বিবিসির। সোমবার রাতের ওই হামলায় ২২ জন নিহত ও ৫৯ জন আহত হয়েছেন। এখন পর্যন্ত তিনজন নিহতের নাম প্রকাশ করা হয়েছে। তাদের মধ্যে সাফি রোজ রুসস নামের ৮ বছরের এক কন্যাশিশু রয়েছে। ম্যানচেস্টারের পুলিশ বলছে, সালমান আবেদি এই হামলা একা চালিয়েছে না তার আরও কোনো সহযোগী ছিল, তা অনুসন্ধানে অগ্রাধিকার পাচ্ছে। ধারণা করা হচ্ছে, সালমান আবেদি অ্যারেনার প্রেক্ষাগৃহের চত্বরে ব্রিটিশ সময় রাত সাড়ে ১০টার পর বোমা ফাটিয়ে আত্মঘাতী হন। সে সময় আমেরিকান সঙ্গীতশিল্পী আরিয়ানা গ্রান্দের কনসার্ট শেষে তার ভক্তরা হল ছেড়ে বের হচ্ছিল। নিহত আট বছরের সাফি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছাত্রী ছিল। আর নিহত জর্জিনা কলেজ ছাত্রী। আহতরা শহরের আটটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। এদের মধ্যে ১৬ বছরের কমবয়সী ১২ জন শিশু রয়েছে। বহু মানুষ এখনও নিখোঁজ। প্রধানমন্ত্রী তেরেসা মে তার বাসভবন ডাউনিং স্ট্রিট থেকে এক বিবৃতিতে বলেছেন, এই বোমা হামলা একটা 'নির্মম সন্ত্রাসী হামলা', যার লক্ষ্য ছিল 'অসহায় শিশু-কিশোর'। যুক্তরাজ্যে ২০০৫ সালের ৭ জুলাই চালানো সন্ত্রাসী হামলার পর এটাই সবচেয়ে বড় ধরনের আত্মঘাতী হামলা। ২০০৫ সালের ওই হামলায় ৫২ জন নিহত হয়েছিল।

শিক্ষক শ্যামল কান্তির বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা

ধর্মীয় অবমাননার অভিযোগ তুলে কান ধরে উঠ-বস করানোর ঘটনায় সংবাদ শিরোনাম হওয়া নারায়ণগঞ্জের শিক্ষক শ্যামল কান্তি ভক্তের বিরুদ্ধে এক ঘুষের মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছে আদালত। পুলিশের দেয়া অভিযোগপত্র আমলে নিয়ে নারাণগঞ্জের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট অশোক কুমার দত্ত বুধবার এই আদেশ দেন।

বৃহস্পতিবার সারা দেশে বিএনপির প্রতিবাদ

রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশের অনুমতি না দেয়ায় বৃহস্পতিবার দেশের সকল জেলা ও মহানগরে প্রতিবাদ সভা করবে বিএনপি। এছাড়া একই দিন ঢাকা মহানগরীতে থানায় থানায় এ কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দিয়েছে দলটি। বুধবার নয়াপল্টনে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী এ কর্মসূচি ঘোষণা করেন। গত ২০ মে খালেদা জিয়ার গুলশান কার্যালয়ে পুলিশি তল্লাশির প্রতিবাদে বুধবার রাজধানী ঢাকায় সমাবেশ করার অনুমতি চেয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমিপি) কাছে আবেদন করে দলটি। তবে ডিএমপি তার অনুমতি দেয়নি।
প্রতিবাদ সমাবেশের অনুমতি না মেলায় আজ সংবাদ সম্মেলনে রিজভী অভিযোগ করেন, গুলশান কার্যালয়ে পুলিশি তল্লাশি ও হামলা সরকার প্রধানের নির্দেশেই হয়েছে। আর তার নির্দেশেই সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশের অনুমতি মেলেনি। এসময় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবুল খায়ের ভুঁইয়া, সাংগঠনিক রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, সহ সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাড. আব্দুস সালাম আজাদ, সহ দফতর সম্পাদক তাইফুল ইসলাম টিপু প্রমুখ।

কেন্দ্র দখল জাল ভোট সংঘর্ষে আহত ৪৭

জাল ভোট, কেন্দ্র দখল, কেন্দ্র থেকে এজেন্টদের বের করে দেয়া, প্রার্থীকে মারধর, পোলিং এজেন্ট আটক ও বর্জনের মধ্য দিয়ে মঙ্গলবার সারা দেশে ৫৩টি ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। একই দিন ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয় ২৫টি জেলা পরিষদ ও একটি পৌরসভায়। এসব স্থানে ছিল সাধারণ ও বিভিন্ন পদে উপনির্বাচন। নির্বাচনে বিক্ষিপ্ত ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত ৪৭ জন। যুগান্তর প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর-
কুষ্টিয়া : মিরপুর উপজেলায় ভোট কেন্দ্র দখল নিয়ে আওয়ামী লীগ ও বিদ্রোহী প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ হয়েছে। সংঘর্ষে দুই পক্ষের অন্তত ২৫ জন আহত হয়। এদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে চিথলিয়া ইউনিয়নের বালিয়াশিসা ভোট কেন্দ্রে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় বিদ্রোহী প্রার্থী গিয়াস উদ্দিনের বাড়িসহ কয়েকটি বাড়ি ও দোকান ভাংচুর করা হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ভোট গ্রহণ শেষে গণনা চলাকালে বিভিন্ন কেন্দ্রে বিদ্রোহী প্রার্থী গিয়াস উদ্দিন এগিয়ে থাকেন। একাধিক কেন্দ্রে ১৭৬ ভোটে পিছিয়ে পড়ে আওয়ামী লীগ প্রার্থী এনামুল হক। দলীয় প্রার্থী পিছিয়ে পড়ায় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা পাশের বালিয়াশিসা ভোট কেন্দ্র দখল করে নেয়। এ কেন্দ্রে প্রায় সাড়ে চারশ’ ভোট রয়েছে। এ সময় বিদ্রোহী প্রার্থীর সমর্থকরা বাধা দিলে দুই চেয়ারম্যান প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ বেধে যায়। এ সময় উভয় পক্ষের অন্তত ২৫ জন আহত হয়। সংঘর্ষ ব্যাপক আকারে ছড়িয়ে পড়লে বিদ্রোহী প্রার্থীর সমর্থকরা পিছু হটে যায়। পরে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা গিয়াস উদ্দিনের বাড়িসহ কয়েকটি বাড়িতে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাংচুর করে। পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। চিথলিয়া ইউনিয়নে স্বতস্ত্র প্রার্থী গিয়াস উদ্দীন পিস্তল ১৩৭ ভোটে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হন। মিরপুর উপজেলার ধুবইল ও চিথলিয়া ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে। প্রকাশ্যে জোর করে ভোট দেয়ার অপরাধে ওহিদ নামের এক নৌকা প্রতীকের এজেন্টকে আটক করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার সকাল ১০টায় উপজেলার চিথলিয়া ৪ নম্বর প্রাক শিশু নিকেতন কেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে।
রামগতি (লক্ষ্মীপুর) : জাল ভোট, দলীয় প্রভাব বিস্তার, ব্যালট ব্যাপার ছিনিয়ে নেয়া, কেন্দ্র থেকে এজেন্ট বের করে দেয়া, কেন্দ্র দখলের চেষ্টা, সংঘর্ষ, ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার মধ্য দিয়ে লক্ষ্মীপুরের রামগতি উপজেলার তিন ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন শেষ হয়েছে। বিক্ষিপ্ত ঘটনায় পুলিশ, সহকারী প্রিজাইডিং অফিসারসহ অন্তত ২২ জন আহত হয়েছেন। এ সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ২৫ রাউন্ড গুলি ছোড়ে। বিভিন্ন কেন্দ্র থেকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ১০ জনকে আটক করেছে। দুপুরে ভোট চলাকালে বড়খেরী ইউনিয়নের দক্ষিণ রঘুনাথপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র ও একই ইনিয়নের হাজী মুজাপ্পর মিয়ার দরজার ভোটকেন্দ্রে সদস্য প্রার্থীদের মধ্যে পৃথক সংঘর্ষ হয়েছে। এতে সদস্য প্রার্থী মিজান, পুলিশ সদস্য সোহাগ রানা ও রুবেলসহ অন্তত ১২ জন আহত হয়েছে। এ সময় পুলিশ ১৪ রাউন্ড গুলি ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। একই ইউনিয়নের মুজাপ্পর মিয়ার বাড়ির দরজার ভোটকেন্দ্র দখলের চেষ্টায় বেলাল হোসেনের (মোরগ) মার্কা সমর্থকদের সাথে প্রতিপক্ষ সদস্য প্রার্থী জমীর আলী ও মাসুমের সমর্থদের সংঘর্ষ বাধে। এতে পুলিশের সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) ইমাম হোসেন, সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার রিয়াজ উদ্দিনসহ অন্তত ১০ জন আহত হন। এ সময় পুলিশ ১১ রাউন্ড গুলি ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়। আহতদের স্থানীয় বিভিন্ন ক্লিনিকে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে।সরেজমিন বেলা ৩টার দিকে চর আলগী ইউনিয়নে ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসাকেন্দ্রে একটি ভোট কক্ষে গিয়ে দেখা গেছে কয়েকজন সহকারী প্রিজাডিং কর্মকর্তার কাছ থেকে ব্যালট পেপার ছিনিয়ে নিয়ে নৌকা প্রতীকে সিল মারে। এ সময় সাংবাদিকরা ছবি তুলতে গেলে যুবকরা বাধা দেয়। পরে ওই কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসার রমিজ উদ্দিন তাৎক্ষণিক ৩০০ ব্যালট পেপার বাতিল করেন।
ধামরাই (ঢাকা) : ধামরাই উপজেলার সুতিপাড়া ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে। তবে জাল ভোট ও কেন্দ্র দখলের অভিযোগ এনে নির্বাচন শেষ হওয়ার কিছু সময় আগে নির্বাচন বয়কট করেছেন বিএনপির চেয়ারম্যান প্রার্থী মো. রমিজুর রহমান চৌধুরী রোমা। তবে আওয়ামী লীগ প্রার্থী মো. রেজাউল করি রাজা মিয়া এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
উজিরপুর (বরিশাল) : উজিরপুর উপজেলার শিকারপুর ইউনিয়নে বিএনপির চেয়ারম্যান প্রার্থী সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দেন। মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টায় উজিরপুর প্রেস ক্লাবে সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে কামরুজ্জামান পিকিং মীর লিখিতভাবে এ ঘোষণা দেন। অভিযোগে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ বহিরাগত সন্ত্রাসীদের নিয়ে তাণ্ডব চালিয়ে ৯টি কেন্দ্র জোর করে দখল করে ধানের শীষের সব এজেন্টকে মারধর করে বের করে দিয়ে প্রকাশ্যে নৌকা প্রতীকে সিল দেয়।
বরুড়া (কুমিল্লা) : বরুড়া উপজেলায় ভাউকসার ইউনিয়নের ছোত্তা পুকুরিয়া কেন্দ্র ও দুপুরে একই ইউনিয়নের মুগগাঁও কেন্দ্র দখল করার চেষ্টা করে নৌকা সমর্থকরা। মুগগাঁও কেন্দ্রে প্রায় ২০০ ভোট ও ছোত্তা পুকুরিয়া কেন্দ্রে ২০টি ভোট জোর করে প্রয়োগ করে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। শাকপুর ৯ নম্বর কেন্দ্র নৌকা সমর্থকরা দখলের চেষ্টা করলে ১০ মিনিট ভোটগ্রহণ বন্ধ থাকে এবং ৭ নম্বর কেন্দ্রটিও দখলের চেষ্টা করে। 
সেনবাগ (নোয়াখালী) :  সেনবাগে  অর্জুনতলা ইউনিয়নে মানিকপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে জাল ভোট দেয়া, কেন্দ্র থেকে বিএনপি প্রার্থীর এজেন্টদের বের করে দেয়া, প্রার্থীকে মারধর ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয়ার অভিযোগে ভোট বর্জন করেছেন  বিএনপির ধানের শীষের প্রার্থী শাহাদাত হোসেন খান সাধন। মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে সাংবাদিকদের সামনে ভোটকেন্দ্রে  ওই ঘোষণা দেন।

মাদক শুল্ক ও ভ্যাট আইনে রেইনট্রির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা

মাদকদ্রব্য বিক্রি বা মজুদের কোনো অনুমতি নেই বনানীর বহুল আলোচিত ‘দ্য রেইনট্রি’ হোটেল কর্তৃপক্ষের। তারপরও সেখানে মদ-ইয়াবা বিক্রি ও মজুদ করা হয়। মদ আমদানির লাইসেন্সও তাদের নেই। অবৈধভাবে শুল্ক ফাঁকি দিয়ে তারা বিদেশ থেকে মদ এনে বিক্রি করেন। এভাবে গ্রাহকদের কাছ থেকে তারা ৮ লাখ ২৭ হাজার টাকা ভ্যাট আদায় করলেও সরকারের কোষাগারে তা জমা দেননি। এ পর্যন্ত মাত্র ১০ হাজার টাকা রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দিয়েছেন। আর বাকি টাকা তারা আত্মসাৎ করেছেন। তাই হোটেল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে মাদক, শুল্ক এবং ভ্যাট আইনে ব্যবস্থা নেয়া হবে। মঙ্গলবার শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতরের মহাপরিচালক (ডিজি) ড. মইনুল খান এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান। রাজধানীর কাকরাইলের ইডিইবি ভবনে অবস্থিত শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতরে দুপরের প্রেস ব্রিফিংয়ের আয়োজন করা হয়। এর আগে সেখানে সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত রেইনন্ট্রি কর্তৃপক্ষকে জেরা করেন গোয়েন্দা অধিদফতরের কর্মকর্তারা। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে বেরিয়ে যাওয়ার সময় রেইনট্রির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) এইচএম আদনান হারুন সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেন, কেন কীভাবে কারা হোটেলে মদ এনেছিল তা হোটেল কর্তৃপক্ষের ‘জানা’ ছিল না।
ব্রিফিংয়ে মইনুল খান সাংবাদিকদের জানান, ১৪ মে শুল্ক গোয়েন্দা অভিযানে উদ্ধার ১০ বোতল বিদেশি মদকে হোটেল কর্তৃপক্ষ জুস বলে দাবি করে আসছিল। আইনি লড়াইও চালিয়েছিল। এ মদের স্যাম্পল (নমুনা) মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরে পাঠানো হয়েছিল। সেখান থেকে বলা হয়েছে, এসব পানীয়তে ১৩ দশমিক ৫ ভাগ অ্যালকোহল রয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী কোনো পানীয়তে অ্যালকোহলের উপস্থিতি ৪ দশমিক ৫ ভাগের বেশি হলে তাকে মাদকদ্রব্য হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। মঙ্গলবারের জিজ্ঞাসাবাদে তারা স্বীকার করেছে, উদ্ধার করা বোতলগুলো জুসের নয়, সেগুলো ছিল বিদেশি মদের বোতল। তবে এসব মদের বৈধ কোনো কাগজপত্র দেখাতে পারেনি তারা। তাই প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে, চোরাচালানের মাধ্যমে শুল্ক ফাঁকি দিয়ে এসব আনা হয়েছে। তবে রেইনট্রি কর্তৃপক্ষ শুল্ক গোয়েন্দাদের কাছে দাবি করেছে, এসব মদ অতিথিরা এনেছিলেন। তারা চলে যাওয়ার সময় এগুলো রেখে যান। হোটেল পরিষ্কার করার সময় এগুলো পাওয়া গেলে হোটেলটির ১০১ নম্বর কক্ষে রাখা হয়। কর্তৃপক্ষের এ দাবির পরিপ্রেক্ষিতে গোয়েন্দাদের প্রশ্ন ছিল- মদ পাওয়া যাওয়ার পর বিষয়টি মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর, সংশ্লিষ্ট থানা বা দফতরে জানানো হয়েছে কিনা। এর জবাবে হোটেল কর্তৃপক্ষ বলেছেন, এ বিষয়ে তারা কাউকে কিছু জানায়নি। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, হোটেলে মদ থাকার বিষয়টি আগে থেকে কর্তৃপক্ষ জানতেন না। এটা জনতেন হোটেলের জিএম ফ্রাংক হেনরি ফরজে এবং ম্যানেজার ইমদাদুল আমিন। পরে ওই দু’জনকে শুল্ক গোয়েন্দা কার্যালয়ে তলব করা হয়। মঙ্গলবার বিকাল ৫টার পর জিএম ফ্রাংক হেনরি ফরজে এবং ম্যানেজার ইমদাদুল আমিনসহ রেইনট্রির চার কর্মকর্তা শুল্ক গোয়েন্দা কার্যালয়ে হাজির হন।
প্রায় দুই ঘণ্টা পর সেখান থেকে বেরিয়ে যান তারা। এ বিষয়ে গোয়েন্দার ডিজি মইনুল হক জানান, তারা বিভিন্ন প্রশ্নের অসঙ্গতিপূর্ণ উত্তর দিয়েছেন। প্রেস ব্রিফিংয়ে শুল্ক অধিদফতরের মহাপরিচালক আরও জানান, রেইনট্রি কর্তৃপক্ষ শুরু থেকেই মূল ঘটনাকে ভিন্ন খাতে নেয়ার চেষ্টা করছিল। সর্বশেষ সোমবার আদালতে গিয়ে চ্যালেঞ্জ করেছিল। কিন্তু শুল্ক অধিদফতরের পাল্টা চ্যালেঞ্জের কারণে কর্তৃপক্ষ গোয়েন্দা কার্যালয়ে হাজির হতে বাধ্য হন। রেইনট্রি থেকে উদ্ধার করা মদকে ধর্ষণ মামলার গুরুত্বপূর্ণ আলামত হিসেবে উল্লেখ করে শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতরের ডিজি বলেন হোটেলে ধর্ষণের শিকার দুই তরুণী মামলার এজাহারে বলেছেন, তাদের জোর করে মদ খাওয়ানো হয়েছিল। গোয়েন্দা তদন্তে এটা প্রমাণিত যে, রেইনট্রি হোটেলে এর আগে মদ বিক্রি হয়েছে, ঘটনার সময়েও ব্যবহার হয়েছে। ইয়াবাও এখানে বিক্রি হতো। এদিকে শুল্ক গোয়েন্দাদের জিজ্ঞাসাবাদ শেষে বেরিয়ে যাওয়ার সময় রেইনট্রির এমডি এইচএম আদনান হারুন সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেন, শুল্ক গোয়েন্দা অধিদফতর তাদের কাছে যেসব তথ্য-প্রমাণ চেয়েছে তারা সেসব সরবরাহ করেছেন। তাদের দেয়া তথ্যে কর্তৃপক্ষ সন্তুষ্ট। তিনি জানান, হোটেল কর্তৃপক্ষের মদের লাইসেন্স নেই। কেন কীভাবে কারা হোটেলে মদ এনেছিল তা কর্তৃপক্ষের ‘জানা’ ছিল না।

লোডশেডিং থাকবে আরও কয়েকদিন

জ্যৈষ্ঠের দাবদাহে জনজীবন যখন হাঁসফাঁস অবস্থা, তখন বিদ্যুতের লোডশেডিং তা আরও অসহনীয় করে তুলেছে। গরমের কারণে বিদ্যুতের চাহিদা বেড়ে যাওয়ার মধ্যেই কয়েক দিন ধরে চলছে ভয়াবহ লোডশেডিং। দেশের বেশ কয়েকটি বড় বিদ্যুৎ কেন্দ্রে উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। এর মধ্যে কয়েকটি কেন্দ্র বন্ধ রাখা হয়েছে মেরামত-রক্ষণাবেক্ষণের জন্য, যাতে আসন্ন রমজানের বাড়তি চাহিদা পূরণে সমস্যা না হয়। আর দু-একটি কেন্দ্র হঠাৎ বন্ধ হয়ে গেছে কারিগরি ত্রুটিতে। কোনো কোনোটি গ্যাস সরবরাহের কারণে। সোমবার বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বলেছিলেন চার দিনের মধ্যেই বিদ্যুৎ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে। কিন্তু বড় বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো এ সময়ের মধ্যে উৎপাদনে আসার কোনো সম্ভাবনা নেই। এ অবস্থায় প্রতিমন্ত্রীর আশ্বাস বাস্তবায়নে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। মঙ্গলবার পিডিবি (বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড) জানিয়েছে, বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়াতে তারা দুটি সার কারখানায় (কাফকো ও যমুনা) গ্যাস সরবরাহ বন্ধ করে দিয়েছে। ওই গ্যাস বিভিন্ন গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রে সরবরাহ করা হচ্ছে। এতে দৈনিক ৬০০ থেকে ৭০০ মেগাওয়াট বিদ্যুতের উৎপাদন বাড়বে। মঙ্গলবার পিক আওয়ারে বিদ্যুৎ উৎপাদন হয়েছে ৮ হাজার ৯০০ মেগাওয়াট।
তবে চাহিদা ও ঘাটতির মধ্যে এখনও বড় ফারাক রয়েছে। বেসরকারি হিসাবে এ ঘাটতি ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৫০০ মেগাওয়াট। এ অবস্থায় লোডশেডিং আরও কিছুদিন অব্যাহত থাকবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করেন। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সারা দেশে প্রায় সব স্থানেই বিদ্যুৎ চাহিদার অর্ধেকও সরবরাহ নেই। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় দিনে ৪ থেকে ৫ বার বিদ্যুৎ যাচ্ছে। ঢাকার বাইরের জেলাগুলোয় দিনের অধিকাংশ সময় বিদ্যুৎহীন থাকার খবর পাওয়া যাচ্ছে। রাজশাহী, চট্টগ্রাম, সিলেট, খুলনা, বরিশাল, কুমিল্লা, রংপুর, যশোরের মতো বড় বড় শহর-নগরেও লোডশেডিং হচ্ছে ৮ থেকে ১০ ঘণ্টা করে। গ্রামাঞ্চল ও মফস্বল শহরে লোডশেডিং হচ্ছে দফায় দফায়। সঙ্গে কোথাও কোথাও রয়েছে লো-ভোল্টেজের সমস্যা। এতে একদিকে যেমন জনজীবন অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে, অন্যদিকে শিল্পকারখানার উৎপাদনে বিপর্যয় ঘটছে। বিস্তারিত ব্যুরো, স্টাফ রিপোর্টার ও প্রতিনিধিদের পাঠানো খবরে সারা দেশের চিত্র-
রাজশাহী : ২ মে থেকে দেশের উত্তরাঞ্চল অব্যাহত লোডশেডিংয়ের কবলে পড়েছে। ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের কারণে ভ্যাপসা গরমের মধ্যে জনজীবনে যেমন দুর্ভোগ নেমে এসেছে, তেমনি কলকারখানায় উৎপাদনও মারাত্মক ব্যাহত হচ্ছে। রাজশাহী নগরীর বিসিক এলাকায় অবস্থিত এজি প্লাস্টিক ইন্ডাস্ট্রিজের স্বত্বাধিকারী আব্দুল গনি জানান, লোডশেডিংয়ের কারণে কারখানার উৎপাদনে বিপর্যয় ঘটেছে। প্রতি ঘণ্টায় বিদ্যুৎ যাচ্ছে। এক ঘণ্টা থেকে ফের যাচ্ছে। কখনও দুই ঘণ্টা পর এসে এক ঘণ্টা থাকছে। এছাড়া ভোল্টেজ কম থাকায় যন্ত্রপাতিরও ক্ষতি হচ্ছে। এরই মধ্যে তার একটি মোটর পুড়ে গেছে। পুঠিয়া উপজেলার বানেশ্বর এলাকায় প্রায় ৩০০ ডালমিল রয়েছে। ঠিকমতো বিদ্যুৎ না থাকায় মিলগুলোর উৎপাদন বন্ধের পথে। পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ যে, বাধ্য হয়ে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির পক্ষ থেকে এলাকায় মাইকিং করে গ্রাহকদের সহনশীল হওয়ার জন্য আহ্বান জানানো হয়েছে।
চট্টগ্রাম : চট্টগ্রামে প্রতিদিন স্থানভেদে ৮ থেকে ১০ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুতের লোডশেডিং হচ্ছে। নগরীর চেয়ে গ্রামাঞ্চলে লোডশেডিং বেশি হচ্ছে। চট্টগ্রাম অঞ্চলে বর্তমানে বিদ্যুতের চাহিদা রয়েছে সাড়ে ৯শ’ মেগাওয়াট। এর মধ্যে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড- পিডিবি সরবরাহ করছে সাড়ে ৭শ’ থেকে ৮শ’ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ। রোজ গড়ে ১৫০ থেকে ২০০ মেগাওয়াট করে বিদ্যুতের লোডশেডিং হচ্ছে। প্রচণ্ড দাবদাহে ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে গ্রাহকদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। একদিকে গরম অন্যদিকে বিদ্যুতের লোডশেডিংয়ে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। পিডিবি সূত্র জানায়, চট্টগ্রাম অঞ্চলে সরকারি-বেসরকারি মিলে ১৩টি বিদ্যুৎ কেন্দ্র রয়েছে। এসব কেন্দ্রের বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা ১ হাজার ৪২৩ মেগাওয়াট। কিন্তু উৎপাদন হচ্ছে সাড়ে ৫০০ থেকে ৬০০ মেগাওয়াট। সরবরাহ করা বাকি ১৫০ থেকে ২শ’ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আসছে জাতীয় গ্রিড থেকে। রাউজান তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ৪২০ মেগাওয়াট ক্ষমতা সম্পন্ন ২টি ইউনিটেই গ্যাস সংকটের কারণে উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে।
খুলনা : খুলনাসহ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে দিনে গড়ে প্রায় ৪৯৩ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ ঘাটতি চলছে। প্রায় ১ মাস ধরেই চলছে এই অবস্থা। ব্যবসায়ীরা বলছেন, দিনে গড়ে প্রায় ৮ ঘণ্টা বিদ্যুৎহীন থাকা এবং দফায় দফায় লোডশেডিংয়ে মেশিনের যন্ত্রাংশ নষ্ট হচ্ছে। উৎপাদন চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
বরিশাল ও গৌরনদী : বিদ্যুৎ চাহিদার অর্ধেক মিলছে বরিশালে। বরিশালের বিদ্যুৎ সরবরাহ উপকেন্দ্র জানিয়েছে, বরিশাল নগরী, জেলার পল্লী বিদ্যুতের গ্রাহকসহ ঝালকাঠি ও নলছিটি উপজেলায় বিদ্যুতের চাহিদা পিক আওয়ারে ১২০ মেগাওয়াট, অফপিক আওয়ারে ৯০ থেকে ৯৫ মেগাওয়াট। অথচ পিক আওয়ারে ৬০ থেকে ৬৫ ও অফপিক আওয়ারে ৪৫ থেকে ৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে। এর ফলে এক থেকে দুই ঘণ্টা পর পর চলছে লোডশেডিং।
রংপুর : তীব্র গরমের পাশাপাশি অব্যাহত লোডশেডিংয়ে রংপুর বিভাগের ৮ জেলার জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। রংপুর আঞ্চলিক পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশ অফিস সূত্র জানায়, দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও, পঞ্চগড়, নীলফামারী, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা ও রংপুর জেলার বিদ্যুৎ চাহিদা ৫০০ মেগাওয়াট। এর বিপরীতে পাওয়া যাচ্ছে ৩০০ থেকে ৩৩০ মেগাওয়াট।
সিলেট : উৎপাদনের এক চতুর্থাংশ চাহিদা থাকলেও ভয়াবহ লোডশেডিংয়ের কবলে সিলেট অঞ্চলের গ্রাহকরা। সিলেট অঞ্চলে রোজ ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হয়। সরকারি-বেসরকারি ৮টি উৎপাদন কেন্দ্র এ বিদ্যুৎ উৎপাদন করে। উৎপাদিত বিদ্যুতের মাত্র ৩৯০ থেকে ৪০০ মেগাওয়াট ব্যবহৃত হয় সিলেটে। অতিরিক্ত প্রায় ৮০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হয়।
বগুড়া : ২৪ ঘণ্টার অধিকাংশ সময়ই বিদ্যুৎ পাচ্ছেন না বগুড়ার গ্রাহকরা। চাহিদার অর্ধেকও বিদ্যুৎ মিলছে না। বগুড়া বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আবদুর রশিদ জানান, কয়েকদিন আগে ঝড়ে ভৈরবে টাওয়ার পড়ে যাওয়া, কয়েকটি বিদ্যুৎ কেন্দ্র বন্ধ থাকা ও সিরাজগঞ্জ, পাবনার বেড়া এবং বড়পুকুরিয়া বিদ্যুৎ কেন্দ্রে উৎপাদন কমে যাওয়ায় সরবরাহ কমে গেছে।
কুমিল্লা : কুমিল্লায় আবাসিক ও বাণিজ্যিক গ্রাহকরা চাহিদার তুলনায় অর্ধেকও বিদ্যুৎ সরবরাহ পাচ্ছেন না। জেলার ১৭টি উপজেলায় পল্লী বিদ্যুতের প্রায় ৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ চাহিদা রয়েছে। আর কুমিল্লা মহানগরসহ আশপাশের এলাকায় পিডিবি গ্রাহকদের ১০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ চাহিদা রয়েছে।
ফরিদপুর ও বোয়ালমারী : ফরিদপুর বিদ্যুৎ বিতরণ অফিস সূত্রে জানা গেছে, জেলায় রোজ বিদ্যুতের চাহিদা রয়েছে ১৪০ মেগাওয়াট। পাওয়া যাচ্ছে ৬০ থেকে ৭০ মেগাওয়াট। ঘাটতি থাকছে ৭০ থেকে ৮০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ।
যশোর : কয়েক দিনের টানা তীব্র দাবদাহে যশোরে জনজীবন অতিষ্ঠ। এর মধ্যেই ‘মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা’র মতো বেড়েছে বিদ্যুতের লোডশেডিং। আবহাওয়া অধিদফতরের তথ্যমতে, ২২ মে যশোরে সারা দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়।
কিশোরগঞ্জ : কিশোরগঞ্জ চেম্বার অব কমার্সের পরিচালক মো. এরশাদ উল্লাহ জানান, ভিআইপি এলাকা ছাড়া বাদ বাকি এলাকায় দিনে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বড়জোর ৫-৬ ঘণ্টা পিডিবি বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে পারছে।
ময়মনসিংহ : ময়মনসিংহ বিদ্যুৎ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী জসিম উদ্দিন জানান, ময়মনসিংহে প্রতিদিন ১০৭ মেগাওয়াট বিদ্যুতের চাহিদা অনুযায়ী জাতীয় গ্রিড থেকে ১০৭ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ হয়ে থাকে। কিন্তু সঞ্চালন লাইনে ত্রুটি ও টেকনিক্যাল ফল্টের কারণে ঘন ঘন লোডশেডিং হচ্ছে।
শরীয়তপুর ও ডামুড্যা : জেলার ৬টি উপজেলায় পল্লী বিদ্যুৎ ও ওজোপাডিকোর বিদ্যুৎ লোডশেডিংয়ের কারণে পল্লী বিদ্যুতের দেড় লক্ষাধিক গ্রাহক সীমাহীন দুর্ভোগে পড়েছেন। ১৫ থেকে ২০ মিনিট পর পর বিদ্যুৎ আসা-যাওয়া করে। দিনে গড়ে ৩ ঘণ্টা বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে।
পিরোজপুর : লোডশেডিং বন্ধ, জাতীয় গ্রিডের সাব-স্টেশনসহ নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের দাবিতে মানববন্ধন করেছে এলাকাবাসী। মঙ্গলবার জলার বিদ্যুৎ গ্রাহকদের আয়োজনে শহরের গোপালকৃষ্ণ টাউন ক্লাব সড়কে মানববন্ধনে বক্তৃতা করেন শফিউল হক মিঠু, একে আজাদ, সাদউল্লাহ লিটন, খালিদ প্রমুখ।
জীবননগর : জীবননগরে এক সপ্তাহ ধরে তাপমাত্রা ৩৭ থেকে ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে ওঠানামা করছে। অসহনীয় গরমের মধ্যে পাল্লা দিয়ে চলছে লোডশেডিংও। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ৬ ঘণ্টাও বিদ্যুৎ পাচ্ছেন না গ্রাহক।

পরচুলার নিচে মিলল সোনার বার

শাহজালাল বিমানবন্দরে এক যাত্রীর মাথার নকল চুল থেকে ১৩টি সোনার বার উদ্ধার করেছে ঢাকা কাস্টম হাউজের প্রিভেনটিভ দল। মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১০টায় মালিন্দ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে মালয়েশিয়া থেকে ঢাকায় আসা মো. আমিনুল হক (৪৫) নামে ওই যাত্রীর পরচুলা থেকে সোনার বারগুলো উদ্ধার করা হয়। ঢাকা কাস্টম হাউজের সহকারী কমিশনার এইচ এম আহসান কবির গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ওই ব্যক্তির পরচুলার নিচে ১৩টি সোনার বিস্কুট পাওয়া যায়। ১ কেজি ৩০০ গ্রাম ওজনের ওই বারগুলোর বাজার মূল্য প্রায় ৬৫ লাখ টাকা।

বিদ্যুতে ব্যর্থ প্রকল্প বাতিলের সুপারিশ

প্রচণ্ড গরমে সারা দেশে বিদ্যুতের চাহিদা বেড়েছে। কিন্তু বেশ কয়েকটি বিদ্যুৎ প্রকল্প নির্ধারিত সময়ে উৎপাদনে যেতে না পারায় এ চাহিদা মেটানো সম্ভব হচ্ছে না। এ অবস্থায় সংসদীয় কমিটি নির্ধারিত সময়ে উৎপাদনে যেতে ব্যর্থ প্রকল্পগুলো বাতিলের সুপারিশ করেছে। এর আগে কমিটি ঘন ঘন লোডশেডিং নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিন দিনের মধ্যে বিদ্যুৎ সমস্যা সমাধানের জন্য নির্দেশ দিয়েছে। এ ছাড়া সংসদীয় কমিটি বিদ্যুতের উৎপাদন বাড়াতে গ্যাসের ওপর সব ধরনের ট্যাক্স ও ভ্যাট প্রত্যাহারের সুপারিশও করে। মঙ্গলবার সংসদ সচিবালয়ে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে দেশের বিদ্যুৎ পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। তাজুল ইসলামের সভাপতিত্বে বৈঠকে কমিটির সদস্য বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ, হুইপ আতিউর রহমান আতিক,
মো. আবু জাহির, এম আবদুল লতিফ ও নাসিমা ফেরদৌসী এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে বর্তমান বিদ্যুৎ সংকটকে সাময়িক সমস্যা উল্লেখ করে তা নিরসনে জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সব কর্মকর্তা-কর্মচারীকে সম্মিলিতভাবে সঠিক দায়িত্ব পালনের সুপারিশ করা হয়। বিশেষ করে আসন্ন মাহে রমজানে নিরবছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার জন্য বলা হয়। এ ছাড়া বিদ্যুৎ সমস্যার স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা আহ্বানের পরামর্শ দেয়া হয়। স্থায়ী সমাধানে সোলার প্লান্ট স্থাপনের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। আর পথ নকশা অনুযায়ী বিদ্যুৎ প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে বলা হয়। বৈঠকে ২০১৮ সালের মধ্যে দেশের সর্বত্র বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সাব-কন্ট্রাক্ট না দিয়ে ঠিকাদারদের নিজস্ব লোকের মাধ্যমে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে পল্লী বিদ্যুৎ সংযোগ দেয়ার সুপারিশ করা হয়। আর কোনোক্রমেই বিদ্যুৎ সংযোগ দেয়ার কার্যাদেশ না বাড়ানোর জন্য বলা হয়।

দেশে ফিরেছেন প্রধানমন্ত্রী

পবিত্র ওমরা পালন শেষে দেশে ফিরেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। মঙ্গলবার রাত দেড়টার দিকে তাকে বহনকারী বাংলাদেশ বিমানের ফ্লাইটটি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। এর আগে প্রধানমন্ত্রী ও তার সফর সঙ্গীদের নিয়ে ফ্লাইটটি বিকালে সৌদি আরবের কিং আবদুল আজিজ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ত্যাগ করে। সৌদি আরবে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত গোলাম মসিহ, জেদ্দায় বাংলাদেশের কনস্যাল জেনারেল এফ এম বোরহান উদ্দিন ও সৌদি সরকারের প্রতিনিধিরা বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রীকে বিদায় জানান। সৌদি বাদশাহ সালমান বিন আবদুল আজিজ আল সউদের আমন্ত্রণে আরব ইসলামিক-আমেরিকান (এআইএ) সম্মেলনে যোগ দিতে চার দিনের সরকারি সফরে গত ২০ মে প্রধানমন্ত্রী রিয়াদের উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করেন। সফরকালে শেখ হাসিনা মক্কার হারেম শরীফে (ক্বাবা) পবিত্র ওমরাহ পালন করেন এবং মদিনা শরীফে মহানবী হযরত মুহম্মদ (সা.)-এর রওজা মোবারক জিয়ারত করেন। ‘জয় আমাদেরই হবে’ এই স্লোগান নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং সম্মেলনে ৫৬ আরব ও মুসলিম দেশের নেতারা সন্ত্রাসবাদ মোকাবেলা ও জঙ্গিদের অর্থায়ন প্রতিরোধে পথ খুঁজে বের করার বিষয়ে আলোচনা করেন। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তার লিখিত বক্তৃতায় বিশ্ব নেতৃবৃন্দের কাছে জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসীদের কাছে অস্ত্রের যোগান দেয়া বন্ধ করার আহ্বান জানান। সম্মেলনে শেখ হাসিনা জঙ্গিবাদ দমনে বেশ কয়েকটি প্রস্তাব পেশ করেছেন। সূত্র: যমুনা টিভি ও বাসস

ক্রিকেট ব্যাটভর্তি পিকআপ উল্টে নিহত ১

ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের ভালুকা উপজেলায় ক্রিকেট ব্যাটভর্তি পিকআপভ্যান উল্টে একজন নিহত হয়েছেন। এসময় চালকসহ আরও পাঁচজন আহত হয়েছেন। বুধবার ভোরে বাগড়াপাড়া শেখ জহুর উদ্দিন সিএনজি ফিলিং পাম্পের পাশে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত দেলোয়ার হোসেন ঢাকা যাত্রাবাড়ী কুতুবখালী এলাকার আব্দুল মতিনের ছেলে। তিনি ক্রিকেট ব্যাটের ব্যবসা করেন। স্থানীয়রা জানান, ঢাকা যাত্রাবাড়ী থেকে ছেড়ে আসা  পিকআপটি ক্রিকেট ব্যাট বোঝাই করে ত্রিশালের নজরুল জয়ন্তী মেলায় যাওয়ার পথে চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তায় উল্টে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই দেলোয়ার হোসেন নিহত হন। এসময় আহত হয়েছেন স্বপন (৪০) আনোয়ার(৩০) সিরাজুল ইসলামসহ (৫৫) পাঁচজন। ভরাডোরা হাইওয়ে পুলিশের আইসি এসআই জহিরুল ইসলাম উজ্জল জানান, চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেললে এ দুর্ঘটনা ঘটে। আহতদের উদ্ধার করে ভালুকা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। নিহতদের মৃতদেহ একই হাসপাতাল মর্গে রাখা হয়েছে।

'জঙ্গি আস্তানা' সন্দেহে চার বাড়িতে অভিযান, অস্ত্রসহ আটক ৪

চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুরের তিনটি ও নাচোল উপজেলার একটি বাড়িতে 'জঙ্গি আস্তানা' সন্দেহে অভিযান চালিয়েছে র‌্যাব। মঙ্গলবার গভীর রাত থেকে বুধবার বেলা ১১টা পর্যন্ত  সন্দেহজনক ওই চার স্থানে অভিযান চালানো হয়। র‌্যাবের এই অভিযানে চারজনকে আটক এবং অস্ত্র ও বিস্ফোরক জব্ধ করার দাবি করা হয়। আটকরা হলেন- শুকুরুদ্দিন ওরফে সুকুদ্দি, সাইফুল, জাহাঙ্গীর ও আবদুল মজিদ। এর মধ্যে শুকুরুদ্দিন ওরফে সুকুদ্দি, সাইফুল ও জাহাঙ্গীরকে মঙ্গলবার রাতে আটক করা হয়। তাদের সবার বাড়ি গোমস্তাপুরে। র‌্যাব- ৫ এর অধিনায়ক লে. কর্নেল মাহবুব আলম এসব তথ্য জানান। র‌্যাবের ভাষ্য, আটকের সময় তাদের কাছে থাকা তিন কেজি গান পাউডার, একটি বিদেশি পিস্তল, চার রাউন্ড গুলি ও একটি ম্যাগজিন জব্দ করা হয়। এরপর তাদের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে রাতেই গোমস্তাপুর উপজেলার চানপাড়া, চকপোস্তুম ও বালুগ্রাম গ্রামের তিনটি বাড়ি ঘিরে অবস্থান নেয় র‌্যাবের বিপুল পরিমাণ সদস্য। পরে বুধবার সকাল ৮টায় চানপাড়া গ্রামের আবদুল মজিদের বাড়িতে 'জঙ্গি আস্তানা' সন্দেহে প্রথমে অভিযান চালায় র‌্যাব। ওই বাড়ি থেকে কোনো জঙ্গি সদস্য আটক বা কোনো অস্ত্র-বিস্ফোরক মেলেনি। তবে বাড়ির মালিক আবদুল মজিদকে সন্দেহভাজন হিসেবে (৪২) আটক করা হয়। মজিদ ওই বাড়ির তৌবরুল হকের ছেলে। একইভাবে সকাল ১০টায় চকপোস্তুম গ্রামের ইজাবুল হকের বাড়িতে অভিযান শেষে সেখানেও কিছু মেলেনি বলে জানায় র‌্যাব। বাড়িটিতে অভিযানের সময় ইজাবুল ছিলেন না।
তার স্ত্রী ও দুই সন্তান বাড়িতে অবস্থান করেন। এরপর সাড়ে ১০টার দিকে বালুগ্রাম গ্রামের শুকুরুদ্দিন ওরফে সুকুদ্দির বাড়িতে অভিযান চালায় র‌্যাব। সেখানে অভিযান চালিয়ে ২টি পিস্তল, ৯ রাউন্ড গুলি, ১টি ওয়ান শুটার গান, ১টি খেলনা পিস্তল ও তিনটি ম্যাগাজিন উদ্ধারের কথা জানিয়েছে র‌্যাব। সুকুদ্দিকে মঙ্গলবার রাতেই আটকের কথা র‌্যাবের পক্ষ থেকে বলা হয়। তখন সাইফুল ও জাহাঙ্গীরকেও আটক করা হয়েছিল। তাদের আটকের পরই এই অভিযানে নামে র‌্যাব। এদিকে বালুগ্রাম গ্রামের মানুষ জানায়, তারা সুকুদ্দিকে একজন কৃষক হিসেবেই চেনে। এর চেয়ে বেশি তার বিষয়ে এলাকাবাসী কিছু জানে না। অপরদিকে বুধবার সকাল ৮টায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে নাচোল উপজেলার আলিছাপুর গ্রামের আফজালের বাড়িতে 'জঙ্গি আস্তানা' সন্দেহে অভিযান চালায় র‌্যাব। তবে অভিযান শেষে সেখানে কোনো 'জঙ্গি আস্তানা' রয়েছে এমন কোনো আলামত মেলেনি বলে র‌্যাবের পক্ষ থেকে জানানো হয়। চাঁপাইনবাবগঞ্জ র‌্যাব-৫-এর কোম্পানি কমান্ডার এ কে এম এনামুল করিম বুধবার ভোরে সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন, ঘিরে রাখা বাড়িগুলোতে 'জঙ্গি সদস্যরা' থাকতে পারে। এছাড়া ওই বাড়িগুলোতে বিপুল পরিমান বিস্ফোরকও রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বিএনপির সভাস্থলের কাছে ককটেল বিস্ফোরণে শিশু আহত

কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলায় বিএনপির সভাস্থলের অদূরে ককটেল বিস্ফোরণে জিহাদ হোসেন (৯) নামের এক শিশু আহত হয়েছে। এসময় ঘটনাস্থল থেকে তিনটি তাজা ককটেল উদ্ধার করেছে পুলিশ। বুধবার সকাল ৯টার দিকে চান্দিনা ডা. ফিরোজা পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে এ ঘটনা ঘটে। এই বিদ্যালয়েই কুমিল্লা (উত্তর) জেলা বিএনপির প্রতিনিধি সভা হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ঘটনার পর পুলিশের বাধার কারণে সভায় অংশ নিতে আসা কেন্দ্রীয় ও জেলা নেতৃবৃন্দ ঘটনাস্থল ত্যাগ করেছেন বলে দলীয় সূত্র দাবি করেছে। আহত শিশু জিহাদ উপজেলা সদরের বাবুল মিয়ার ছেলে। তাকে উদ্ধার করে চান্দিনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে কুমেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। দলীয় সূত্রে জানা যায়, কুমিল্লা (উত্তর) জেলা বিএনপির প্রতিনিধি সভা করতে দলের পক্ষ থেকে চান্দিনা উপজেলা সদরের কয়েকটি ভেন্যুর জন্য আবেদন করা হলেও অনুমতি মিলেনি। সর্বশেষ কুমিল্লা (উত্তর) জেলা বিএনপির সভাপতি খোরশেদ আলমের বাড়িতে বুধবার ওই প্রতিনিধি সভার আয়োজন করা হয়। সকাল ৯টার দিকে খোরশেদ আলমের বাড়ির অদূরে চান্দিনা ডা. ফিরোজা পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে একটি মিষ্টির কার্টুনে রাখা ককটেল বিস্ফোরণ হলে জিহাদ হোসেন (৮) নামের এক শিশু আহত হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আরও ৩টি তাজা ককটেল উদ্ধার করেছে।
এসময় সভাস্থল এবং আশপাশের এলাকায় আতংক ছড়িয়ে পড়ে। বিএনপির ওই প্রতিনিধি সভায় বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা আবদুল আউয়াল মিন্টুসহ একাধিক কেন্দ্রীয় ও জেলা নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখার কথা ছিল। এ বিষয়ে মুঠো ফোনে কুমিল্লা (উত্তর) জেলা বিএনপির সভাপতি খোরশেদ আলম জানান, উপজেলা সদরের কোনো স্থানে সভা করতে না পেরে আমার বাড়িতে সব আয়োজন শেষ করার পর আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরাই ককটেল নাটক সাজিয়ে পুলিশের সহায়তায় সভা পণ্ড করার কাজে লিপ্ত হয়। এছাড়াও সভাস্থলে আসার পথে পথে ছাত্রলীগ কর্মীরা বিএনপির নেতাকর্মীদের বিভিন্ন স্থানে বাধা ও ব্যানার ছিনিয়ে নিয়েছে। চান্দিনা থানার ওসি নাসির উদ্দিন মৃধা জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার স্বার্থে আজকের প্রতিনিধি সভার কার্যক্রম বন্ধ রাখতে বিএনপির নেতৃবৃন্দকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। চান্দিনা উপজেলা সদরে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

চান্দিনায় কাভার্ডভ্যানচাপায় ২ পথচারী নিহত

কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলায় কাভার্ডভ্যানচাপায় দুই পথচারী নিহত হয়েছেন। এসময় আহত হয়েছেন আরও একজন। বুধবার ভোর সাড়ে ৬টার দিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে উপজেলার তীরচর নামক এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন- মুরাদনগর উপজেলার ধরনিপাড়া গ্রামের ছেকেন্দার আলীর ছেলে করির হোসেন (৫০) ও একই এলাকার বাসিন্দা আকবর আলী (৮০)। আহত মমতাজ মিয়াকে (৪৮) কমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
ইলিয়টগঞ্জ ফাঁড়ির এসআই মনির হোসেন জানান, ভোরে কাভার্ডভ্যানটি কুমিল্লায় যাচ্ছিল। পথে তীরচর নামক এলাকায় কাভার্ডভ্যানটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কে দাঁড়িয়ে থাকা তিন পথচারীকে চাপা দিয়ে খাদে পড়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই দুইজনের মৃত্যু হয়। এসময় একজন আহত হন। আহত ব্যক্তিকে উদ্ধার করে গৌরীপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হলে দায়িত্বরত চিকিৎসক তাকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করেন। নিহতদের মৃতদেহ উদ্ধারে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে বলে জানান এই পুলিশ কর্মকর্তা।

চানপাড়ার পর চকপোস্তুমেও কিছু মেলেনি

চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর উপজেলার তিনটি গ্রামে 'জঙ্গি আস্তানা' সন্দেহে তিন বাড়ি ঘিরে অবস্থান নেয়া দুই বাড়ির অভিযান সম্পন্ন করেছে র‌্যাব। র‌্যাবের অভিযানে চানপাড়া গ্রামের পর চকপোস্তুম গ্রামের ইজাবুল হকের বাড়িতেও কিছু মেলেনি। বুধবার সকাল ৮টায় চানপাড়া গ্রামের আবদুল মজিদের বাড়িতে 'জঙ্গি আস্তানা' সন্দেহে প্রথমে অভিযান চালায় র‌্যাব। অভিযানের পর র‌্যাব জানায় ওই বাড়িটি থেকে জঙ্গি সদস্য বা কোনো অস্ত্র-বিস্ফোরক মেলেনি। তবে বাড়ির মালিক আবদুল মজিদকে সন্দেহভাজান হিসেবে (৪২) আটক করেছে র‌্যাব। মজিদ ওই বাড়ির তৌবরুল হকের ছেলে। একই ভাবে সকাল ১০টায় চকপোস্তুম গ্রামের ইজাবুল হকের বাড়িতে অভিযান শেষে সেখানেও কিছু মেলেনি বলে জানায় র‌্যাব। র‌্যাব- ৫ এর অধিনায়ক লে. কর্নেল মাহবুব আলম জানান, চানপাড়া গ্রামের বাড়িতে অভিযানে বাড়ির মালিক আবদুল মজিদকে সন্দেহভাজন হিসেবে আটক করা হয়েছে। তবে বাড়িটি থেকে কোনো জঙ্গি সদস্য বা অস্ত্র-বিস্ফোরক মেলেনি বলে জানান র‌্যাবের এই কর্মকর্তা। আর চকপোস্তুম গ্রামের ইজাবুলের হকের বাড়ির অভিযানও ছিল নিষ্ফল। সেখানেও কিছু মেলেনি। অভিযানের সময় মালিক ইজাবুল হক বাড়িতে ছিলেন না। তার স্ত্রী ও দুই সন্তান বাড়িতে ছিল।
এখান থেকে র‌্যাব কাউকে আটক করেনি। মঙ্গলবার গভীর রাত থেকে গোমস্তাপুর উপজেলার  চানপাড়া, চকপোস্তুম ও বালুগ্রাম গ্রামের তিনটি বাড়ি ঘিরে অবস্থান নেয় র‌্যাবের বিপুল পরিমাণ সদস্য। এরপর প্রথমে সকাল ৮টায় চানপাড়া গ্রামের মজিদের বাড়ি ও সকাল ১০টায় চকপোস্তুম ইজাবুল হকের বাড়িতে অভিযান সম্পন্ন করে র‌্যাব। তবে এখনো গোমস্তুপুর উপজেলার বালুগ্রাম গ্রামের পুকুরের বাড়ি ঘিরে রেখেছে র‌্যাব। র‌্যাবের ভাষ্য, মঙ্গলবার রাতে জঙ্গিবিরোধী অভিযানে সন্দেহভাজন তিনজনকে আটক করা হয়। এসময় তাদের কাছ থেকে তিন কেজি গান পাউডার, একটি বিদেশি পিস্তল, চার রাউন্ড গুলি ও একটি ম্যাগজিন জব্দ করা হয়। ওই তিনজনের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে গোমস্তাপুর উপজেলার তিনটি গ্রামের তিনটি বাড়ি ঘিরে অবস্থান নেয় র‌্যাব। আটকরা হলো- সুকুদ্দি, সাইফুল ও জাহাঙ্গীর। তাদের বাড়ি গোমস্তাপুর। চাঁপাইনবাবগঞ্জ র‌্যাব-৫-এর কোম্পানি কমান্ডার এ কে এম এনামুল করিম বুধবার ভোরে জানিয়েছিলেন, ঘিরে রাখা বাড়িগুলোতে 'জঙ্গি সদস্যরা' থাকতে পারে। এছাড়া ওই বাড়িগুলোতে বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরকও রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ময়মনসিংহে 'বন্দুকযুদ্ধে' যুবক নিহত

ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলায় ডিবি পুলিশের সঙ্গে কথিত 'বন্দুকযুদ্ধে' আশরাফুল আলম ওরফে ঢোল (৩০) নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন। বুধবার ভোর রাতে উপজেলার কাঁঠাল এলাকায় এ বন্দুকযুদ্ধ হয়। পুলিশের দাবি, নিহত যুবক ডাকাত দলের সদস্য ও ত্রিশালের শীর্ষ সন্ত্রাসী। তার নামে গফরগাঁও ভালুকা ও ত্রিশাল থানায় ডাকতি, ধর্ষণ ও অস্ত্র মামলা রয়েছে। নিহত আশরাফুল আলমের বাড়ি গফরগাঁও উপজেলার পৌরশহরের রাগাইটটি গ্রামে।
ময়মনসিংহ ডিবি পুলিশের ওসি ইমারত হোসেন গাজী জানান, ত্রিশালের কাঠাল এলাকায় একদল ডাকাত ডাকাতির প্রস্তুতি নিচ্ছে এমন খবরে সেখানে অভিযানে যায় পুলিশ। এসময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে গুলি ছোড়ে আশরাফুলের সহযোগীরা। পুলিশও পাল্টা গুলি ছুড়লে আশরাফুল আলম ওরফে শন্তু নিহত হয়। এসময় ঘটনাস্থল থেকে পাঁচ ডাকাতকে আটক করা হয়েছে জানিয়ে ডিবির পরিদর্শক বলেন, 'বন্দুকযুদ্ধে পুলিশের দুই সদস্য আহত হয়েছেন। তাদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

'জঙ্গি আস্তানা' সন্দেহে নাচোলেও বাড়ি ঘিরে রেখেছে র‌্যাব

চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোল উপজেলার আলিছাপুর গ্রামের একটি বাড়িও 'জঙ্গি আস্তানা' সন্দেহে ঘিরে রেখেছে র‌্যাব। বুধবার সকাল ৮টায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আলিছাপুর গ্রামের আফজালের বাড়ি ঘিরে অবস্থান নেয় র‌্যাব। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন র‌্যাব- ৫ এর অধিনায়ক লে. কর্নেল মাহবুব আলম। তিনি জানান, অবস্থা পর্যবেক্ষণ করে বাড়িটিতে অভিযান চালানো হবে। এর আগে মঙ্গলবার রাতে গোমস্তাপুর উপজেলার চানপাড়া, চকপোস্তুম ও বালুগ্রাম গ্রামের তিনটি বাড়িকে 'জঙ্গি আস্তানা' সন্দেহে ঘিরে রাখে র‌্যাব। পরে বুধবার সকালে চানাপাড়া গ্রামের আবদুল মজিদের বাড়িটিতে অভিযান চালানো হয়। অভিযান শেষে ওই বাড়িতে কোনো জঙ্গি সদস্য বা অস্ত্র-বিস্ফোরক মেলেনি বলে র‌্যাবের পক্ষ থেকে জানানো হয়। বাড়িটির মালিক আবদুল মজিদকে সন্দেহভাজন হিসেবে আটক করা হয়েছে। তবে এখনো গোমস্তাপুর উপজেলার বালুগ্রাম গ্রামের  পুকুরের বাড়ি ও চকপোস্তুম ইজাবুল হকের বাড়ি ঘিরে রেখেছে র‌্যাব।

চানপাড়ায় কিছু মেলেনি, এখনো দুটি বাড়ি ঘিরে র‌্যাব

চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর উপজেলার তিনটি গ্রামে 'জঙ্গি আস্তানা' সন্দেহে তিন বাড়ি ঘিরে অবস্থান নেয়া এক বাড়ির অভিযান সম্পন্ন করেছে র‌্যাব। বুধবার সকাল ৮টায় চানপাড়া গ্রামের আবদুল মজিদের বাড়িতে 'জঙ্গি আস্তানা' সন্দেহে অভিযান চালায় র‌্যাব। অভিযানে ঘিরে রাখা ওই বাড়িটি থেকে জঙ্গি সদস্য বা কোনো অস্ত্র-বিস্ফোরকও মেলেনি। তবে বাড়ির মালিক আবদুল মজিদকে (৪২) আটক করেছে র‌্যাব। মজিদ ওই বাড়ির তৌবরুল হকের ছেলে। র‌্যাব- ৫ এর অধিনায়ক লে. কর্নেল মাহবুব আলম জানান, তাকে সন্দেহভাজন হিসেবে আটক করা হয়েছে। তবে বাড়িটি থেকে কোনো জঙ্গি সদস্য বা অস্ত্র-বিস্ফোরক মেলেনি বলে জানান র‌্যাবের এই কর্মকর্তা। মঙ্গলবার গভীর রাত থেকে গোমস্তাপুর উপজেলার  চানপাড়া, চকপোস্তুম ও বালুগ্রাম গ্রামের তিনটি বাড়ি ঘিরে অবস্থান নেয় র‌্যাবের বিপুল পরিমাণ সদস্য।
সকাল ৮টায় চানপাড়া গ্রামের মজিদের বাড়ির অভিযান সম্পন্ন হলেও এখনো বালূগ্রামের পুকুরের বাড়ি ও চকপোস্তুম ইজাবুল হকের বাড়ি ঘিরে রেখেছে র‌্যাব। র‌্যাবের ভাষ্য, মঙ্গলবার রাতে জঙ্গিবিরোধী অভিযানে সন্দেহভাজন তিনজনকে আটক করা হয়। এসময় তাদের কাছ থেকে তিন কেজি গান পাউডার, একটি বিদেশি পিস্তল, চার রাউন্ড গুলি ও একটি ম্যাগজিন জব্দ করা হয়। ওই তিনজনের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে গোমস্তাপুর উপজেলার তিনটি গ্রামের তিনটি বাড়ি ঘিরে অবস্থান নেয় র‌্যাব। আটকরা হলো- সুকুদ্দি, সাইফুল ও জাহাঙ্গীর। তাদের বাড়ি গোমস্তাপুর। চাঁপাইনবাবগঞ্জ র‌্যাব-৫-এর কোম্পানি কমান্ডার এ কে এম এনামুল করিম বুধবার ভোরে জানিয়েছিলেন, ঘিরে রাখা বাড়িগুলোতে 'জঙ্গি সদস্যরা' থাকতে পারে। এছাড়া ওই বাড়িগুলোতে বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরকও রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে চানাপাড়া গ্রামের মজিদের বাড়িতে অভিযান শেষে র‌্যাব জানায়, সেখানে অস্ত্র-বিস্ফোরক মেলেনি। বাড়ির মালিক আবদুল মজিদকে সন্দেহভাজন হিসেবে আটক করা হয়েছে।

চাঁপাইয়ে 'জঙ্গি আস্তানা' সন্দেহে তিনটি বাড়ি ঘিরে রেখেছে র‌্যাব

চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর উপজেলার তিনটি গ্রামে 'জঙ্গি আস্তানা’ সন্দেহে তিন বাড়ি ঘিরে রেখেছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন- (র‌্যাব)। মঙ্গলবার গভীর রাত থেকে গোমস্তাপুর উপজেলার  চানপাড়া, চকপোস্তুম ও বালুগ্রাম গ্রামের তিনটি বাড়ি ঘিরে অবস্থান নেয় র‌্যাবের বিপুল পরিমাণ সদস্য। র‌্যাবের ভাষ্য, এদিন রাতে জঙ্গিবিরোধী অভিযানে সন্দেহভাজন তিনজনকে আটক করা হয়। এসময় তাদের কাছ থেকে তিন কেজি গান পাউডার, একটি বিদেশি পিস্তল, চার রাউন্ড গুলি ও একটি ম্যাগজিন জব্দ করা হয়। ওই তিনজনের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে গোমস্তাপুর উপজেলার তিনটি গ্রামের তিনটি বাড়ি ঘিরে অবস্থান নেয় র‌্যাব। আটকরা হলো- সুকুদ্দি, সাইফুল ও জাহাঙ্গীর। তাদের বাড়ি গোমস্তাপুর বলে জানায় র‌্যাব। চাঁপাইনবাবগঞ্জ র‌্যাব-৫-এর কোম্পানি কমান্ডার এ কে এম এনামুল করিম জানান, ঘিরে রাখা বাড়িগুলোতে জঙ্গিরা থাকতে থাকতে পারে। এছাড়া ওই বাড়িগুলোতে বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরকও রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বোমা ডিজপোজাল টিম ঘটনাস্থলে আসার পর পরবর্তী পদক্ষেপ নেয়ার কথা জানান র‌্যাবের এই কর্মকর্তা। উল্লেখ্য, এর আগে গত ২৬ এপ্রিল ভোর থেকে ২৭ এপ্রিল সন্ধ্যা পর্যন্ত চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার মোবারকপুর ইউনিয়নের শিবনগর এলাকার একটি বাড়ির 'জঙ্গি আস্তানায়' ঈগল হান্ট অভিযান চালায় আইনশৃংখলা বাহিনী। ওই অভিযানে ভাড়াটিয়া আবুসহ চার জঙ্গি নিহত হয়।  অভিযানে জঙ্গি আবুর স্ত্রী সুমাইয়া ও চার বছরের মেয়ে সাজিদা খাতুনকে উদ্ধার করা হয়।

ক্ষমতায় গেলে সরকারে রাখবে না জামায়াতকে

আগামীতে ক্ষমতায় গেলে সরকার গঠনে গুরুত্বপূর্ণ চমক দেবে বিএনপি। রাজনীতিতে নতুন ধারা সৃষ্টির লক্ষ্যে যুদ্ধাপরাধী দল হিসেবে চিহ্নিত জামায়াতে ইসলামীকে ওই সরকারের অংশ করবে না দলটি। এ ব্যাপারে নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বিএনপির হাইকমান্ড। এরই মধ্যে বন্ধুপ্রতিম প্রভাবশালী দেশের কূটনীতিকসহ সংশ্লিষ্টদের কাছে জামায়াত নিয়ে দলের এমন অবস্থান স্পষ্ট করা হয়েছে। তবে কৌশলগত কারণে এ মুহূর্তে তা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করছে না দলটি। দলের নীতিনির্ধারণী সূত্রে জানা গেছে, বিএনপি নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট সরকারে জামায়াতের দুইজন বিতর্কিত নেতাকে মন্ত্রী করায় দেশের ভেতর-বাইরে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছিল দলটি। পরে বিরোধী দলে যাওয়ার পরও জামায়াতকে নিয়েই জোট অব্যাহত রাখে বিএনপি। এমন পরিস্থিতিতে জামায়াতের সঙ্গ ত্যাগ করতে অদ্যাবধি নানা মহলের চাপ অব্যাহত রয়েছে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে আপাতত জোট থেকে জামায়াতকে বের করা না হলেও ক্ষমতায় গেলে তাদের সরকারের অংশীদার না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দলটি। সূত্র আরও জানায়, বিএনপি একটি নতুন ইমেজ (ভাবমূর্তি) গড়তে চাইছে। বর্তমান বাস্তবতায় চলমান রাজনৈতিক বিভাজন দূর করে জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করতে বড় ধরনের ছাড় দিতে প্রস্তুত দলটি। ঘোষিত ভিশন-২০৩০-এ বাংলাদেশের রাজনীতি, সমাজ, সংস্কৃতি নিয়ে বিএনপির ভিন্ন চিন্তাধারার ইঙ্গিত দিয়েছেন চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। সবাইকে নিয়ে এক ‘রেইনবো নেশন’ বা রংধনু জাতি গড়ার কথা বলেছেন তিনি। তার এমন বক্তব্য নিয়ে সুশীল সমাজ, রাজনৈতিক সচেতন মহলে চলছে নানা বিশ্লেষণ।
এ প্রসঙ্গে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর যুগান্তরকে বলেন, আগামীতে ক্ষমতায় গেলে জামায়াত সরকারে থাকবে কিনা, সেই প্রশ্ন আসছে কেন। দলটির সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক আন্দোলনকেন্দ্রিক। এর সঙ্গে আগামীতে রাষ্ট্র পরিচালনার কোনো সম্পর্ক নেই। এ নিয়ে নানা মহল বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে। দলের চেয়ারপারসন ২০৩০ পর্যন্ত বিএনপির ভিশন তুলে ধরেছেন। সেই ভিশনের সঙ্গে জোট বা জামায়াত আসার প্রয়োজন আছে বলে আমরা মনে করি না। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ২০ দলের ঘোষণাপত্রে স্পষ্ট বলা আছে, ‘আওয়ামী লীগ সরকারের একনায়কতান্ত্রিক ও স্বৈরাচার-ফ্যাসিবাদী কর্মকাণ্ডকে পরাজিত করে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠায় একটি আন্দোলন সৃষ্টির লক্ষ্যে ২০ দল গঠন করা হয়।’ সেটা কিন্তু বলবৎ আছে। বিএনপি মনে করে, নতুন ধারা সৃষ্টির ক্ষেত্রে বড় বাধা জোটের শরিক জামায়াত। তাই দলের কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নে এখন থেকেই জামায়াতকে নিয়ে ভাবতে হচ্ছে। রাজনৈতিক কৌশলের অংশ হিসেবে আগামী নির্বাচন পর্যন্ত জামায়াতকে জোট থেকে সরিয়ে দেয়ার কোনো চিন্তাভাবনা এ মুহূর্তে দলটির নেই। আবার নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দলটির সঙ্গে নতুন করে গভীর সম্পর্ক করারও চিন্তাভাবনা নেই তাদের। ‘আছে ভালো, চলে গেলে আরও ভালো’- জামায়াতের ক্ষেত্রে এমন নীতি অনুসরণ করছে দলটি। তবে আগামী নির্বাচন পর্যন্ত জোটগতভাবেই থাকবে তারা। জামায়াতকে নিয়ে ক্ষমতাসীনরা যাতে কোনো কৌশল নিতে না পারে, সে ব্যাপারেও পুরোপুরি সতর্ক বিএনপি। সূত্র জানায়, বিএনপির হাইকমান্ডের এমন মনোভাব বুঝতে পেরে জামায়াতও তাদের করণীয় চূড়ান্ত করছে। নানা ইস্যুতে দূরত্ব সৃষ্টি বা তাদের অবমূল্যায়ন করা হলেও আপাতত নীরব থাকার কৌশল নিয়েছে দলটি। তবে আগামী নির্বাচন পর্যন্ত বিএনপির সঙ্গেই থাকবে। জামায়াতের একজন নীতিনির্ধারক নাম প্রকাশ না করার শর্তে যুগান্তরকে জানান, তাদের নিয়ে বিএনপির হাইকমান্ডের ভাবনা সম্পর্কে তারা অবগত আছেন। কিন্তু দলের ভবিষ্যৎ চিন্তা করে আপাতত সব মানিয়ে নেয়া হবে। বিএনপির সঙ্গে কোনো দ্বন্দ্বে বা জোট ভেঙে যাওয়ার মতো পরিস্থিতি তারা সৃষ্টি করবে না।
ওই নেতা আরও বলেন, জোটগতভাবে নির্বাচন করতে চায় তারা। ওই নির্বাচনে জোট ক্ষমতায় আসার পর অনেক কিছুই হতে পারে। তাই এ মুহূর্তে তাদের লক্ষ্য বিএনপির সঙ্গে থেকে নির্বাচনী বৈতরণী পার হওয়া এবং ক্ষমতায় আসা। সরকারে তাদের অংশীদার করবে কিনা, তা নিয়ে আপাতত ভাবছেন না তারা। এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে রাজনৈতিক বিশ্লেষক অধ্যাপক ড. তারেক শামসুর রেহমান যুগান্তরকে বলেন, বিএনপির সঙ্গে জামায়াতের বর্তমানে সখ্য আছে, কী নেই তা স্পষ্ট নয়। দলটির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া এ বিষয়টি একটি ধোঁয়াশার মধ্যে রেখেছেন। তবে আমার বিশ্বাস, জামায়াতকে তারা সঙ্গী করে রাখবে। কারণ জামায়াতের একটি নির্দিষ্ট ভোটব্যাংক রয়েছে। প্রথমত, নির্বাচনী বৈতরণী পার করতে জামায়াতের এ ভোটব্যাংককে কাজে লাগাতে চাইবেন খালেদা জিয়া। তবে বিএনপি যদি সরকার গঠন করে, সেখানে হয়তো সরাসরি জামায়াত বা ওই দলটির কোনো চিহ্নিত নেতাকে সরকারের অংশীদার করবেন না খালেদা জিয়া। জানতে চাইলে সুজন সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার যুগান্তরকে বলেন, গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে আমাদের জাতীয় ঐক্যের বিকল্প নেই। আমাদের শাসন ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনা প্রয়োজন। এজন্য রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক পরিবর্তনের পাশাপাশি বৃহত্তর ঐক্য প্রয়োজন। তিনি বলেন, কিন্তু বাস্তবতা হলো দেশের রাজনীতিতে নীতি-নৈতিকতা বলে কিছু নেই। ক্ষমতায় যেতে যার সঙ্গে আঁতাতের প্রয়োজন তাই করছে। এ ধারা থেকে বের হতে হবে। আগামীতে ক্ষমতায় গেলে শুধু জামায়াত নয়, হেফাজতসহ ধর্মাশ্রয়ীদের কোনো দলই রাখবে না বলে প্রত্যাশা করেন ড. বদিউল।

দুই স্তরের ভ্যাট কাঠামো

নতুন ভ্যাট আইনের বাস্তবায়ন নিয়ে ব্যবসায়ীদের আতঙ্ক কাটছে না। অর্থমন্ত্রীর বক্তব্যেও ভ্যাটহার নিয়ে বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়েছে। রোববারও অর্থমন্ত্রী বলেছেন, ভ্যাটের হার একটিই হবে। তবে এ হার কমবে। মঙ্গলবার বাণিজ্যমন্ত্রীও বলেছেন, ভ্যাটহার ১৫ শতাংশের নিচে থাকছে। কিন্তু দায়িত্বশীল সূত্রে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী এনবিআর আগের অবস্থান থেকে সরে এসেছে। ২০১৭-১৮ অর্থবছরের বাজেটে একক ভ্যাটহার থাকছে না। সর্বোচ্চ ভ্যাটহার ১৫ শতাংশই রেখে কিছু গুরুত্বপূর্ণ খাতে হ্রাসকৃত হার কার্যকর করার সম্ভাবনা বেশি। এভাবে দুই স্তরের ভ্যাট কাঠামো ঠিক করে আইনে প্রয়োজনীয় সংশোধনী আনার প্রস্তুতি নিচ্ছে এনবিআর। তবে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের পরই ভ্যাটহার চূড়ান্ত হবে জানিয়ে এনবিআরের একজন সদস্য জানান, আমরা বিকল্প ব্যবস্থাও রেখেছি। তবে দুই স্তরে ভ্যাট কার্যকরের প্রস্তুতি রয়েছে। হার কমিয়ে তা একক রাখা হলে রাজস্ব আদায় ব্যাহত হবে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, নির্বাচনের আগে জনঅসন্তোষ এড়াতে নতুন ভ্যাট আইন সংশোধন ছাড়া অন্য কোনো উপায় নেই। ১ জুলাই থেকে ভ্যাট আইন কার্যকর হলে নিত্যপণ্য মূল্যসহ কোন খাতে কি প্রভাব পড়বে, মূল্যস্ফীতিসহ দেশীয় শিল্প ক্ষতিগ্রস্ত হবে কিনা বা এর কোনো বিরূপ প্রভাব পড়বে কিনা তা যাছাইয়ে এনবিআর মাঠ পর্যায়ে কোনো জরিপের উদ্যোগ নেয়নি। অর্থ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল সূত্র স্বীকার করেছে,
নতুন আইনে সব ক্ষেত্রে ১৫ শতাংশ হারে ভ্যাট আদায় করার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে কিনা সে বিষয়ে এনবিআর কোনো জরিপ বা গবেষণা করেনি। এটা না করে কার্যকর হলে তা জনরোষ সৃষ্টি করবে। আর এ সুযোগে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ মাঠ গরম করার ইস্যু পাবে। এ জন্য পণ্য মূল্য এবং স্থানীয় শিল্পে বিরূপ প্রভাব পড়বে এমন কোনো সিদ্ধান্ত না নিতে প্রধানমন্ত্রীর কড়া নির্দেশ আছে। সংশিষ্ট সূত্রমতে, ১৯৯১ সাল থেকে সর্বস্তরে সহনীয় হওয়ায় সর্বোচ্চ ভ্যাটহার পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছেন সরকারের নীতিনির্ধারকরা। এনবিআরের প্রস্তাব ছিল একক ভ্যাট হার ১৫ শতাংশের স্থলে ১৩ শতাংশ করা। এ প্রস্তাবে সম্মতি দেন অর্থমন্ত্রী। কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে প্রথম বৈঠকে এ বিষয়ে দ্বিমত থাকায় কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে প্রধানমন্ত্রী দেশে ফিরলে ২৫ বা ২৬ মে এনবিআরের সঙ্গে বৈঠকটি হতে পারে। অর্থমন্ত্রী ও বাণিজ্যমন্ত্রীর উপস্থিতিতে এ বৈঠকেই বিতর্কিত ভ্যাট হার, ব্যক্তিশ্রেণীর করমুক্ত আয়সীমা, কর্পোরেট ট্যাক্স কমানো, সঞ্চয়পত্রের সুদ কমানো, সিগারেট ও বিড়ি শিল্পের মূল্যস্তর ও সম্পূরক শুল্ক হার, আবাসনখাতে অপ্রদর্শিত অর্থ প্রদর্শনের সুযোগ সম্প্রসারিত করাসহ বেশকিছু জটিল বিষয়ের নিষ্পত্তি হবে। এ বৈঠকের জন্য এনবিআর ভ্যাটহার নিয়ে নতুন একটি প্রস্তাব দিতে যাচ্ছে। অর্থ মন্ত্রণালয় এবং এনবিআরের দায়িত্বশীল সূত্রে এ সম্পর্কিত কিছু তথ্য যুগান্তরের হাতে এসেছে। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী ১৫ শতাংশের একক ভ্যাট হারই কার্যকর থাকছে। তবে উৎপাদন ও সেবা খাতে যেসব ব্যবসায়ী রেয়াত নেয়ার সামর্থ্য রাখেন না তাদের জন্য থাকছে বিশেষ হ্রাসকৃত হার। এতে ক্ষুব্ধ ও মাঝারি ব্যবসায়ীরা উপকৃত হবেন। এ ছাড়া সরকারের রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের আলোকে ভ্যাট অব্যাহতির বিদ্যমান সীমা ৩০ লাখ থেকে বৃদ্ধি করে ৩৬ লাখ টাকা নির্ধারণ করা হচ্ছে। এ জন্য আইনের ধারা ২-এর দফা (৪৮) সংশোধন করা হচ্ছে।
একইভাবে টার্নওভারের বিদ্যমান সীমা প্রায় ৮৮ শতাংশ বাড়ানো হচ্ছে। ব্যবসায়ীদের খুশি করতে টার্নওভার ৮০ লাখ থেকে বাড়িয়ে ১ কোটি ৫০ লাখ টাকা করা হচ্ছে। এ জন্য নতুন ভ্যাট ও সম্পূরক শুল্ক আইনের ধারা ২-এর দফা (৫৭) সংশোধন করার প্রস্তাব করা হবে। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী প্রস্তাবিত বাজেটে ১২৭টি পণ্য ও সেবাখাতে ভ্যাট অব্যাহতি সুবিধা থাকছে। নতুন ভ্যাট আইনে এ ধরনের অব্যাহতির কোনো সুযোগ নেই। এ জন্য আইনে প্রয়োজনীয় সংশোধনী এনে নিত্যপণ্য ও সেবা খাতে ভ্যাট অব্যাহতি সুবিধা সম্প্রসারণ করা হচ্ছে। পাশাপাশি বেশ কিছু খাতের জন্য বিদ্যমান আইনে থাকা সংকুচিত ভিত্তিমূল্যের আদলে হ্রাসকৃত হারে ভ্যাট থাকার প্রস্তাব করা হচ্ছে। এনবিআরের প্রস্তাব অনুযায়ী আড়াই কেজি পর্যন্ত প্যাকেটজাত বিভিন্ন নিত্যপণ্যে ভ্যাট অব্যাহতি সুবিধা থাকছে। অর্থাৎ একসঙ্গে আড়াই কেজির বেশি এসব পণ্য না কিনলে ভ্যাট দিতে হবে না। এ তালিকায় আছে মাংস, সব ধরনের সবজি, ফল, তরল দুধ, ডিম, পেঁয়াজ, রসুন, গম, আটা ইত্যাদি। এ ছাড়া আদা, জিরা, লবঙ্গ, ধনিয়া, দারুচিনি, এলাচসহ অন্যান্য মসলায় আমদানি ও সরবরাহ পর্যায়েও ভ্যাট থাকছে না। পাশাপাশি পাটজাত পণ্য এবং কৃষি খাতে ব্যবহৃত প্রায় সব ধরনের বীজ, সেচ ও কীটনাশক, ফুল ও ফুলের তোড়াসহ কিছু পণ্যে ভ্যাট অব্যাহতি থাকছে। ফাস্ট ট্র্যাকভুক্ত সরকারের ১০ প্রকল্প, হাইটেক পার্ক, অর্থনৈতিক অঞ্চল এবং সরকারি- বেসরকারি অংশীদারি বা পিপিপিতে বিনিয়োগকারীদের জন্য নানা ক্ষেত্রে ভ্যাট অব্যাহতি সুবিধা থাকছে। সূত্রমতে, সিগারেট, মোবাইল ফোন, তেল ও গ্যাস, গাড়ি, সিমেন্ট, ব্যাংকসহ বড় কয়েকটি খাতে সর্বোচ্চ ১৫ শতাংশ ভ্যাট কার্যকর রাখা হচ্ছে। এনবিআর হিসাব করে দেখিয়েছে মোট ভ্যাটের প্রায় ৮১ শতাংশই আসে এসব খাত থেকে। তারা বিদ্যমান ভ্যাটহার নিয়ে কোনো আপত্তিও করেনি। এসব খাতে এই হার সহনীয় হয়ে গেছে।
এ অবস্থায় ক্ষুদ্ধ কয়েকটি খাতের ব্যবসায়ীদের দাবিতে ভ্যাটহার কমানোর মতো ঝুঁকি নিলে রাজস্ব আদায়ে বড় ধরনের বিরূপ প্রভাব পড়বে- যা সরকারের অভ্যন্তরীণ সম্পদ আহরণের লক্ষ্যকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে। সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, নতুন ভ্যাট আইনের মূল উদ্দেশ্যই হচ্ছে ভ্যাটের একক হার। অথচ কিছু খাতে ১৫ শতাংশ আর কিছু খাতে ১২ শতাংশ করা হলে কার্যত বহুস্তর ভ্যাটই থাকছে। তাতে ভ্যাট অনলাইন প্রকল্প বাস্তবায়নে জটিলতা তৈরি হতে পারে। কারণ অনলাইনের সফটওয়্যার একক হারের জন্য তৈরি। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী প্রস্তাবিত বাজেটে ভ্যাট আইন বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে গত এবং চলতি অর্থবছরে অনেক পণ্য ও খাতে ১৫ শতাংশ হারে ভ্যাট নির্ধারণ আছে। এনবিআরের প্রস্তাবে আগামী অর্থবছরে ভ্যাটের এ হার বহাল থাকছে। এর বাইরে সীমিত কিছু পণ্যে নতুনভাবে ১৫ শতাংশ হারে ভ্যাট নির্ধারণ করা হচ্ছে। পাশাপাশি কিছু খাত ও পণ্যকে ভ্যাটের আওতামুক্ত রাখা হচ্ছে। এর অধিকাংশই সেবা খাতে। এতে ভোক্তা পর্যায়ে দর বাড়ার যে আশঙ্কা ছিল তা দূর হবে। এ ছাড়া কিছু পণ্য ও খাত থেকে হ্রাসকৃত হারে ভ্যাট আদায়ের প্রস্তাব করা হয়েছে। বর্তমানে যেসব খাতে সংকুচিত ভিত্তিমূল্য কার্যকর আছে সে সব খাতে নির্দিষ্ট ভ্যাটহার নির্ধারণ করে দেয়া হবে। এদিকে এনবিআরের বিভিন্ন কর্মকর্তা সংবাদ মাধ্যমে দাবি করছেন, নতুন ভ্যাট আইনে সর্বত্র ১৫ শতাংশ ভ্যাট কার্যকর হলেও তার দায় ভোক্তাদের ওপর পড়বে না। রেয়াতের মাধ্যমে সমন্বয় করা হবে। কিন্তু সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এনবিআর এখনও বিভ্রান্তি ছড়ানোর অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। গত আড়াই বছর অনড় অবস্থানে থেকে এনবিআরের নীতিনির্ধারকরা অহেতুক জটিলতা ও বিতর্কের সুযোগ তৈরি করেছেন। আইএমএফের ফরমুলায় দেশের স্বার্থবিরোধী একটি আত্মঘাতী আইন জনগণের ওপর চাপিয়ে দিতে চেয়েছেন। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, ভ্যাট ইনক্লুসিভ হওয়ার কারণে ভ্যাটের আপাতন কমে ১৩ শতাংশ হবে। এনবিআরের এমন বক্তব্য ডাহা মিথ্যা। নতুন আইনে ভ্যাটের হার ১৫ শতাংশ অপরিবর্তিত থাকবে। ১৫ শতাংশ ভ্যাট ধার্য হলেও বিদ্যুতের দাম বাড়বে না। এটিও ঠিক নয়। বর্তমানে বিদ্যুৎ বিলের ওপর গ্রাহকের কাছ থেকে ৫ শতাংশ হারে ভ্যাট আদায় করা হয়। এটা ১৫ শতাংশ হলে অবশ্যই বিদ্যুতের দাম কমপক্ষে ১০ শতাংশ বাড়বে। এছাড়া নির্মাণ খাতে বর্তমানে ৬ শতাংশ ভ্যাট রয়েছে। এটি ১৫ শতাংশ হলে পদ্মা সেতুসহ সরকারের সবগুলো বড় প্রকল্প খাতে ১০ থেকে ১৫ শতাংশ পর্যন্ত ব্যয় বাড়বে। এছাড়া ইটের ওপর বর্তমানে প্রতি হাজারে ২২০০ টাকা ধরে এক সিজনে মাত্র তিন লাখ টাকা ভাটাপ্রতি আদায় করা হয়। নতুন আইন কার্যকর হলে ভাটাপ্রতি কমপক্ষে ২০ লাখ টাকা আদায়যোগ্য হবে- যা নির্মাণ কাজের ব্যয় বহুগুণে বাড়াবে। এছাড়া বর্তমানে প্রতি টন রডে ভ্যাটের পরিমাণ মাত্র ৫০০ টাকা, নতুন আইন কার্যকর হলে এর পরিমাণ বেড়ে হবে সাড়ে ৭ হাজার টাকা। এর ফলে বিকাশমান রিয়াল এস্টেট সেক্টর এক প্রকার বসে যাবে। সুপার শপের কেনাকাটায় ৪ শতাংশ থেকে ১৫ শতাংশ ভ্যাট ধার্য করায় এখানে কেনাকাটা করলেই বাড়তি ভ্যাট দিতে হবে ক্রেতাকে। এতে মানুষ খোলাবাজার থেকেই পণ্য কিনতে আগ্রহী হবে। সুপারশপের মতো অত্যাধুনিক একটি উদীয়মান শিল্প এতে মুখ থুবড়ে পড়বে।