Wednesday, November 18, 2015
ফ্রান্সে গণগ্রেফতার : ঘরে ঘরে তল্লাশি
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
প্যারিস হামলাকারীকে আগেই হত্যার চেষ্টা করেছিল পশ্চিমা জোট
পরে ইউরোপিয়ান দেশগুলোর প্রতি বিদ্রুপ করে তাকে নিয়ে প্রতিবেদন তৈরি করে আইএসের অনলাইন ম্যাগাজিন। এমনকি সিরিয়ায় তাকে নিয়ে আইএস একটি ভিডিও বার্তা দেয়। যাতে দেখা যায়, আবাউদ একটি ট্রাক চালিয়ে ইসলামিক স্টেট বিরোধীদের মৃতদেহ নিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু কে জানত যে এই আবাউদই হবে ফ্রান্সের এমন ভয়াবহ হামলার মূল নায়ক, এমনটাই বলছিলেন পশ্চিমা জোট সদস্য। আবাউদ প্যারিসে আÍঘাতী হামলায় বা অন্য কোনো বিমান হামলায় নিহত হয়েছে কিনা এ ব্যাপারে নিশ্চিত নয় বলে জানায় এক কর্মকর্তা। তবে ফ্রান্সে হামলার মূল হোতা আবাউদের পরিকল্পনায় অন্য কোনো আইএস সদস্যদের সহায়তায় হয়েছে বলে বিশ্বাস তাদের। প্যারিস হত্যাযজ্ঞের সঙ্গে যুক্ত থাকা সালাহ আব্দেসালাম নামে আরও একজনকে শনাক্ত করেছে পুলিশ। আব্দেসালাম ফরাসী নাগরিক।
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
কাঠমান্ডুতে কাঠ কিনতে শত শত লাইন
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
অযোগ্যতাই সংলাপে বসার যোগ্যতা! by মিজানুর রহমান খান
এ প্রসঙ্গে গত বছরের বসন্তে পরিচালিত ওয়াশিংটনভিত্তিক পিউ ফাউন্ডেশনের জরিপ স্মরণে আনতে চাই। তারা বলেছে, পাকিস্তান, মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়ার চেয়ে বেশিসংখ্যক বাংলাদেশি (৬৯ ভাগ) ‘ইসলামি জঙ্গিবাদের’ উত্থানে শঙ্কিত। আবার ওই তিন দেশের তুলনায় আল-কায়েদা ও হিজবুল্লাহ বা হামাসের প্রতি সবচেয়ে বেশি বাংলাদেশি (যথাক্রমে ২৩ ও ২৮/২৯ ভাগ) সহানুভূতিশীল। এমনকি আত্মঘাতী বোমা হামলার প্রতি ওই তিনটি দেশসহ মিসর ও লেবাননের মানুষের চেয়েও সর্বাধিক বাংলাদেশি সমর্থন ব্যক্ত করেছেন। ১৪ ভাগ বাংলাদেশি উত্তরদাতা মনে করেন, আত্মঘাতী হামলার বিষয়টি নিয়মিতই গ্রহণযোগ্য। অন্যদিকে ৩৩ ভাগ মনে করেন, এই পথ মাঝেমধ্যে গ্রহণযোগ্য। এই পরিসংখ্যান অনেকের কাছেই অবিশ্বাস্য মনে হতে পারে। যাঁরা এটা নাকচ করবেন, তাঁদের যুক্তি নাকচ না করেও বলব, আমাদের সতর্ক হলে ক্ষতি কী। যখনই এ ধরনের ঘটনা দৃশ্যপটে আসে, তখন আমাদের বিশেষজ্ঞদের মধ্যে একদল স্মরণ করেন যে এসব নাশকতা আসলে পাশ্চাত্যের সৃষ্টি, তারাই দায়ী। তাদের যুক্তির জোর অনেকে হয়তো উড়িয়ে দেবেন না। কিন্তু সবচেয়ে বেশি জোর দিয়ে যা বলব তা হলো, আমাদের যা করণীয় তা আমরা করছি কি না। কারণ, আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র আমরা সব সময় নস্যাৎ কিংবা প্রতিহত করতে পারি না। যেটা পারি এবং অবশ্যই করা উচিত, সেটা হলো নিজেদের সাবধান রাখা।
জঙ্গিবাদ কখনো এ মাটিতে শিকড় গাড়তে পারবে না, ঘন ঘন এই অপরীক্ষিত আপ্তবাক্য উচ্চারণ করলেই জাতীয় নিরাপত্তাব্যবস্থা মজবুত হওয়ার কথা নয়। যাঁরা বলেন, একমাত্র নতুন সাধারণ নির্বাচন দেওয়ার মধ্যেই এর প্রতিকার, তাঁরা সঠিক নন। যাঁরা বলেন, কেবল অংশগ্রহণমূলক একটি নির্বাচন ঠেকিয়ে রাখা বা প্রলম্বিত করার কৌশল গ্রহণটাই সঠিক, তঁারাও সঠিক নন। গণতন্ত্র, রাজনীতি ও রাষ্ট্রীয় জীবনে রাজনৈতিক সমঝোতা যে সংবিধানের মতো লিখিত দলিলের চেয়ে কত বড় ও কার্যকর, বিশ্বের বুকে তার আরেকটি অবিস্মরণীয় নজির স্থাপন করতে যাচ্ছে প্রতিবেশী মিয়ানমার। দেশটির সামরিক নেতারা ও অং সান সু চির মধ্যে বোঝাপড়াটাই সবচেয়ে উজ্জ্বলতম দিক। জেনারেল ইয়াহিয়ার এলএফওর চেয়ে অনেক খারাপ এলএফওর অধীনে সু চি নির্বাচনে গেছেন। এর কারণ বঙ্গবন্ধুর মতো ব্যালটের জোরের ওপর সু চি বেশি নির্ভর করেছিলেন।
সু চি কত বেশি ভোট পেয়ে তাঁর সামরিক প্রতিপক্ষকে নাস্তানাবুদ করতে পারছেন, সেটা গণতন্ত্রের খোলস, আত্মা নয়। যদিও আমাদের সংস্কৃতি অনুযায়ী আমরা কিন্তু গণতন্ত্র কন্যার ভূমিধস বিজয়টাকে বড় করে দেখতে এবং দেখানোর কসরত করছি। আমাদের সঠিক পথ হলো জঙ্গিবাদ নতুন করে মাথাচাড়া দিয়ে ওঠার মুহূর্তে রাজনৈতিক সমঝোতার প্রয়োজনীয়তাকে স্বীকার করা। অহিংস পন্থায় ধীরেসুস্থে অগ্রসর হওয়া। প্রতিপক্ষের হিংসাশ্রয়ী কর্মসূচির উত্তর হিংসা দিয়েই দেওয়ার যে মহড়া বাংলাদেশে চলছে, তা নিরীহ ও সচেতন মানুষের রক্তক্ষরণকে তীব্র করছে। রাজনৈতিক সমঝোতার কোনো লক্ষণ বাংলাদেশে নেই। এ থেকে জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্নকে আলাদা করা যাবে না। কিন্তু রাতের অন্ধকারে চোরাগোপ্তা পথে প্রতিপক্ষকে দমন কিংবা আপস কিংবা হালুয়া–রুটি বিতরণ করে মুখ বন্ধ রাখার কিছু লক্ষণ অন্তত আমরা দুঃখ ও হতাশার সঙ্গে অনুধাবন বা অনুমান করতে পারি।
কার্যকর সংলাপ টেবিলে বসে হতেই পারে না, যদি আগেভাগে এর প্রয়োজনীয়তা ব্যক্তি, গোষ্ঠী ও দলের অভ্যন্তরে স্বীকার করা না হয়। অন্যথায় গতানুগতিকভাবে বিএনপি মনে করতে পারে আওয়ামী লীগ এমনই দল, যার সঙ্গে সংলাপ চলে না। আর আওয়ামী লীগও মনে করতে পারে, বিএনপির সঙ্গে বসা যায় না। এমনকি দুই দলের সমর্থক নাগরিক সমাজও বসতে পারে না। আমাদের মনে হয়, এটা ভাবার সময় এসেছে যে এভাবে হঠাৎ করে কোনো সংলাপ হয় না। আশা করাও হয়তো অসমীচীন। সমাজে এর একটা পরিবেশ থাকতে হয়। উভয় পক্ষ একটি সত্যি উচ্চারণ করেছে, সেটা হলো পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে। পরিবেশ গঠন ছাড়াই আমরা কী করে রাষ্ট্রীয় জীবনকে সামনে এগিয়ে নিতে পারি এবং অদূর ভবিষ্যতে এর ফলাফল কী হতে পারে? অনেক বিদগ্ধ জনের মতো সংলাপ ও সমঝোতা বলতে আমি নির্বাচন ও ক্ষমতার পালাবদলকে বুঝতে চাই না।
আইএসের নামে প্যারিসে যে নিন্দনীয় ও বিয়োগান্ত ঘটনা ঘটে গেল, সে বিষয়ে সামনের দিনগুলোতে আমাদের মসজিদ ও মাদ্রাসার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আলেম-ওলামাদের সবাই কি গঠনমূলক ধর্মীয় ব্যাখ্যা উপস্থাপন করবেন? আমরা কি মাদ্রাসাশিক্ষা যুগোপযোগী করতে যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিয়েছি? জিডিপির তুলনায় অন্যান্য সব মন্ত্রণালয়ের উন্নয়ন খরচ যে অনুপাতে বাড়ে, সে তুলনায় ধর্ম মন্ত্রণালয়ে বাড়ে না। বরং সবচেয়ে কম বাড়ে। আন্তধর্ম সংলাপ বিষয়ে একটি নতুন প্রকল্প চালু করা হয়েছিল, কিন্তু তা এক বছর পরে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এখন এটা বোঝার সময় এসেছে যে রাষ্ট্রের এই অপারগতা ও পলায়নপরতা রাজনৈতিক বোঝাপড়ার ঘাটতি থেকে বিচ্ছিন্ন নয়। কেউ ঝুঁকি নিতে নারাজ। ‘ইসলামি শক্তি’কে যে যার মতো করে ব্যবহার করতে কারও কোনো অনীহা নেই। রাজনৈতিক সমঝোতা ছাড়া মাদ্রাসাশিক্ষার সংস্কার–বিষয়ক সিদ্ধান্ত নেওয়া যাবে না। ইসলামের শান্তির বাণী যথাযথভাবে ছড়িয়ে দেওয়ার পথে যত বাধা, তা অপসারণে একটা বৃহত্তর বোঝাপড়া লাগবে। এই মুহূর্তে এটাই সবচেয়ে জরুরি। সরকার এবং বিএনপি-জামায়াত এ বিষয়ে লিখিত খসড়া রূপরেখা দিতে পারে।
লন্ডনে অবস্থানরত খালেদা জিয়া বাংলাদেশে ‘ক্রান্তিকাল’ চলছে দাবি করে ‘দেশ ও জাতির স্বার্থে’ সংকট উত্তরণে সরকার ‘কর্তৃত্ববাদী মনোভাব’ থেকে সরে এসে ‘জাতীয় সংলাপ’ সূচনার পরিবেশ তৈরি করবে বলে এক বিবৃতিতে উল্লেখ করেছেন। এর অর্থ তিনি কেবলই নির্বাচন চান? সেতুমন্ত্রী সংলাপ-সেতুর নীতিগত ভিত পরোক্ষভাবে হলেও স্বীকার করেছেন। বলেছেন, ‘জাতীয় সংলাপ করতে হলে পরিবেশ দরকার। সেই পরিবেশ কারা নষ্ট করছে?’ এ পর্যন্ত যুক্তিসংগত। কিন্তু এরপরের অংশ গোলমেলে, মেঠো রাজনীতির ভাষা। সেতুমন্ত্রী বলেছেন, ‘তারা লেখক, প্রকাশক, বিদেশি নাগরিক ও পুলিশের ওপর হামলা করছে। তারা রাজনীতিকদের, লেখকদের টার্গেট করেছে। এই পরিবেশ কি সংলাপের পরিবেশ?’ প্রধানমন্ত্রী কিন্তু যোগ্যতার যে শর্ত দিয়েছেন তা সেতুমন্ত্রীর চেয়ে ভিন্ন। প্রধানমন্ত্রী শর্ত সাপেক্ষে প্রস্তাব দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ‘কোনো খুনির সঙ্গে সংলাপে বসার ইচ্ছা নেই। তবে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারে সমর্থন দিলে সংলাপের বিষয়টি তিনি ভেবে দেখবেন।’
তাহলে প্রশ্ন উঠবে, একদিন যখন এই বিচারপর্ব শেষ হবে, এর প্রতি সমর্থন দেওয়া না দেওয়া প্রসঙ্গ হারাবে, সেদিন কি সংলাপ হবে? এর উত্তর হ্যাঁ ধরে নিতে পারলে আশ্বস্ত হতাম। সংলাপ মানে নতুন নির্বাচন, আর নির্বাচন মানেই বিরোধী দলের সম্পূর্ণ জয়, এই অনুমানও সংলাপ হওয়ার পথে অন্তরায়। সংলাপ না করেই ৫ জানুয়ারির নির্বাচন করা গেছে। এ রকম আরও একটি নির্বাচন করার চেষ্টা হলে তা প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণকে আরও শিথিল করে দিতে পারে। আর তখন তা আরও বেশি অবনতিশীলভাবে জঙ্গিবাদকে উসকে দিতে পারে। এখন জঙ্গিবাদকেই মনে হচ্ছে সাংবিধানিক শাসনের পথে বড় হুমকি হয়ে উঠছে।
উদীচী, রমনা বটমূল, ২১ আগস্ট ও ৬৪ জেলায় যখন বোমা ফাটানোর ঘটনা ঘটে, তখন যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের বিষয়টি ছিল না। হোসেনি দালানে হামলার ঘটনা গোষ্ঠীগত সহিংসতা (সেক্টেরিয়ান ভায়োলেন্স) সৃষ্টিরই ইঙ্গিতবহ। শ্রেণি হিসেবে এর আগে বিচারক হত্যার পর এবার পুলিশ হত্যা ও পুলিশের ওপর হামলার ঘটনা দেখছি। এখন সরকার যদি সত্যি সন্দেহ করে যে এসবই বিএনপির কাজ, কৌশলগত, তাহলে কিন্তু বিএনপির সঙ্গে এই ইস্যুতে সংলাপে বসার আহ্বান নাকচ করার যুক্তি থাকে না। বরং উল্টোটা হওয়ার কথা, সরকার সংলাপে বসতে চাইছে, ‘জঙ্গি’ বিএনপি নাকচ করছে। উভয়ে উভয়ের প্রতি উচ্চারিত সংজ্ঞায় যোগ্যতা-অযোগ্যতা আমরা খণ্ডন করতে যাব না। কিন্তু এমন একটি প্রশ্ন তো তোলাই যেতে পারে; সরকার যে কারণে বিএনপিকে সংলাপে বসার জন্য ‘অযোগ্য’ বলে মনে করছে, সেই অযোগ্যতাই আসলে তাদের সঙ্গে সংলাপে বসার যোগ্যতা।
মিজানুর রহমান খান: সাংবাদিক৷
mrkhanbd@gmail.com
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
বৈরুতের জন্য দুই ফোঁটা by মশিউল আলম
![]() |
| বৈরুতে বোমা হামলায় নিহত ব্যক্তিদের শোকার্ত স্বজন |
এতে কোনো ভুল নেই; শোক ও সমবেদনা প্রকাশে আমরা কখনো কার্পণ্য করি না। কিন্তু ফ্রান্সের এবং বৃহত্তর অর্থে ইউরোপের মানুষের এই অতি মর্মান্তিক দুর্যোগের খবর আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমকে এবং তাদের সূত্রে আমাদের সংবাদমাধ্যমকেও এমনভাবে গ্রাস করেছে যে প্রায় একই সময়ে পৃথিবীর আরেকটি প্রান্তে ঘটে যাওয়া একই রকমের মর্মান্তিক ঘটনার খবর প্রায় অলক্ষে্য থেকে গেছে। বৈরুতের কান্নার ধ্বনি অন্ততপক্ষে বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যমে প্রতিধ্বনিত হয়নি বা হলেও অত্যন্ত ক্ষীণভাবে হয়েছে।
আমরা কজন জানি যে প্যারিসের গুলি ও বোমার শব্দে পৃথিবী প্রকম্পিত হওয়ার ২৭ ঘণ্টা আগে ভূমধ্যসাগরের ঠিক ওপারেরই ছোট্ট দেশ লেবাননের রাজধানী বৈরুতের একটি মহল্লায় পরপর দুই দফা বোমা বিস্ফোরণে ছিন্নভিন্ন হয়ে গেছে কয়েক ডজন মানুষের দেহ? হ্যাঁ, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বৈরুতের বুর্জ আল-বারাজনেহ্ নামের এক মহল্লায় লোকজন যখন মাগরিবের নামাজ শেষ করে মসজিদ থেকে বেরিয়ে আসছিল, তখন মসজিদটার পাশেই জনাকীর্ণ রাস্তায় একটা বেকারির সামনে ঘটে প্রথম বোমা বিস্ফোরণ। তার কয়েক মিনিট পরেই প্রায় ৫০ মিটার দূরে বিস্ফোরিত হয় দ্বিতীয় বোমাটি। ১৪ বছরের এক কিশোরসহ প্রায় ৪০ জনের দেহ ছিন্নভিন্ন হয়ে যায়। রাস্তায় পড়ে থাকে বিভিন্ন বয়সী মানুষের বিচ্ছিন্ন হাত, পা, মাথা, মুণ্ডুহীন ধড়, নাড়িভুঁড়ি, মাংসের স্তূপ। রক্তে ভিজে যায় রাস্তা ও ফুটপাত।
বৈরুতে সেই সন্ধ্যায় ওই দুটি আত্মঘাতী বোমা হামলায় মোট ৪৩ জনের মৃত্যু ও ২৩৯ জনের আহত হওয়ার মর্মান্তিক দুঃসংবাদ আমাদের জানানোর ফুরসত পায়নি এ দেশের সংবাদমাধ্যম। বৈরুত তো প্যারিস নয়, লেবানন তো ইউরোপ নয়, যে ইউরোপ আমাদের সাবেক প্রভু, আমাদের মনোজগৎ এখনো যার উপনিবেশ।
তবে এ কথাও সত্য যে খবরটি আমরা পেয়েছি ইউরোপ-আমেরিকার সংবাদমাধ্যম থেকেই। স্বল্প পরিসরে হলেও খবরটি তারা পরিবেশন করেছে। আমি ব্রিটেনের দৈনিক গার্ডিয়ান ও দ্য ইনডিপেনডেন্ট, আমেরিকার নিউইয়র্ক টাইমস ও রাশিয়ার ইজভেস্তিয়া পত্রিকার অনলাইন সংস্করণ থেকে তথ্যগুলো সংগ্রহ করে এখানে তুলে ধরলাম। এসব পত্রিকার খবরে বলা হয়েছে, প্যারিসে হামলার মতো বৈরুতের ওই জোড়া বোমা হামলার দায়িত্বও স্বীকার করেছে ইসলামি জঙ্গিবাদী সংগঠন ইসলামিক স্টেট (আইএস)। ইন্টারনেটে দেওয়া বিবৃতিতে সংগঠনটি বলেছে, তারা বৈরুতের ওই মহল্লায় হামলা চালিয়েছে শিয়া মুসলমানদের হত্যা করার উদ্দেশ্যে। বৈরুতের স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলো জানতে পেরেছে, সেখানে আত্মঘাতী হামলাকারী আইএস যোদ্ধা ছিল তিনজন। তাদের দুজন ফিলিস্তিনি, একজন সিরীয়। হামলার জন্য তারা বুর্জ আল-বারাজনেহ্ মহল্লাটি বেছে নিয়েছিল এ জন্য যে সেটা শিয়া-অধ্যুষিত এবং সেখানকার লোকজন হিজবুল্লাহর সমর্থক। এখানে উল্লেখ করা যেতে পারে, লেবাননের হিজবুল্লাহ সিরিয়ার বাশার আল-আসাদ সরকারের সমর্থক, আর সুন্নি মুসলমানদের সংগঠন আইএস বাশার সরকারকে উৎখাত করে গোটা সিরিয়ায় খিলাফত প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছে।
বৈরুতে নিহত হয়েছে ৪৩ জন, আর প্যারিসে ১৩২ জন। কিন্তু সংখ্যার বিচার প্রধান বিবেচ্য বিষয় হওয়া উচিত নয়। নিউইয়র্ক টাইমস-এর সংবাদদাতা অ্যান বারানার্ড গত রোববার বৈরুত থেকে লিখেছেন, সেখানকার মানুষ প্যারিসে নিহত ব্যক্তিদের প্রতি সহমর্মিতা প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে মনোবেদনার কথাও জানিয়েছেন। কারণ, বৈরুতের শোক প্যারিসের শোকের মতো গুরুত্ব পায়নি। তাঁদের বিবেচনায়, প্যারিসের হত্যাযজ্ঞ আমেরিকার টুইন টাওয়ারের হত্যাযজ্ঞের মতো গুরুত্ব পেয়েছে। কিন্তু বৈরুতের হত্যাযজ্ঞ যেন পৃথিবীর নজরেই পড়েনি। ‘বৈরুত, অলসো দ্য সাইট অব ডেডলি অ্যাটাকস, ফিলস ফরগটেন’ শিরোনামের প্রতিবেদনে নিউইয়র্ক টাইমস-এর বৈরুত প্রতিনিধি লিখেছেন, ফ্রান্সের জাতীয় পতাকায় উদ্ভাসিত করে তোলা হয়েছে স্মারকস্তম্ভগুলো; ‘অভিন্ন মূল্যবোধ’ সুরক্ষার তাগিদ উচ্চারিত হয়েছে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রপ্রধানদের বক্তব্যে; ফেসবুক কর্তৃপক্ষ সাবস্ক্রাইবারদের প্রোফাইল পিকচারে ফ্রান্সের তিনরঙা জাতীয় পতাকার প্রলেপ লাগানোর ‘ওয়ান-ক্লিক’ সার্ভিস চালু করেছে, কিন্তু লেবাননের জাতীয় পতাকার জন্য এমন সার্ভিস চালু করেনি। লেবাননের লোকজনের ফেসবুকে দেওয়া কিছু মন্তব্য-প্রতিক্রিয়ার কথাও উল্লেখ করেছেন তিনি। যেমন, এলি ফারেস নামে এক চিকিৎসক লিখেছেন, ‘আমার স্বজনেরা যখন মারা গেল, তখন কোনো দেশ তাদের পতাকায় সেই চিহ্ন তুলে ধরার দরকার বোধ করল না। আমার স্বজনেরা যখন মারা গেল, তখন পৃথিবী তাদের জন্য শোক করল না। আন্তর্জাতিক সংবাদ পরিক্রমায় তাদের মৃত্যু তো নিছকই অপ্রাসঙ্গিক টুকরো খবর, এমনই সাধারণ ঘটনা, যা পৃথিবীর ওই অংশে হরহামেশাই ঘটছে।’ লেবাননের অনেক মানুষ খেদের সুরে তাঁকে বলেছেন, ‘আরবদের জীবনের দাম তো সামান্য।’
বাংলাদেশের অনেক ফেসবুকার নিজ নিজ প্রোফাইল পিকচারে ফরাসি পতাকার স্বচ্ছ ছাপ লাগিয়ে সৌহার্দ্য প্রকাশ করেছেন। আবার কেউ কেউ সচেতনভাবেই তা করেননি; তাঁদের মধ্যে এমন মানুষও আছেন, যাঁরা মনে করেন প্যারিসে যে হত্যাযজ্ঞ ঘটেছে, সেটা ফ্রান্স তথা পাশ্চাত্য শাসক শক্তিগুলোর ওপর মুসলমানদের তরফ থেকে আইএসের প্রতিশোধ। এই দৃষ্টিভঙ্গির সব মানুষ যে আইএসের ভাবাদর্শ ও যুদ্ধকৌশল সমর্থন করেন, তা হয়তো নয়। কিন্তু তাঁরা ইরাক-লিবিয়া-সিরিয়ায় যুদ্ধ ও ধ্বংসযজ্ঞের পেছনে পাশ্চাত্য শক্তিগুলোর অশুভ ভূমিকার পাল্টা আঘাতের প্রত্যাশা করেন। আইএসের হাত দিয়ে যদি তা ঘটে থাকে, তবে মন্দ কী? আবার এমন অনেকেও আছেন, যাঁরা মনে করেন, আরব বিশ্বে প্রতিনিয়ত যে হাজার হাজার মুসলমান নৃশংসভাবে মারা যাচ্ছে, তাদের জন্য তো পৃথিবী কাঁদছে না, তাহলে প্যারিসে এই কজন অমুসলমানের জন্য এত আহাজারি করার কী আছে? তবে, সম্ভবত এই দৃষ্টিভঙ্গির মানুষের সংখ্যা খুব বেশি নয়। জাতি-ধর্ম-বর্ণনির্বিশেষে নিরীহ সাধারণ মানুষের হত্যাযজ্ঞে এদের অধিকাংশ মানুষই শোকার্ত হয়। প্যারিসের ক্ষেত্রেও তার ব্যতিক্রম ঘটেনি।
তবে সারা পৃথিবীর সংবাদমাধ্যমের আচরণে বিশুদ্ধ মানবিক সংবেদনশীলতার অভাব মাঝেমধ্যেই ফুটে ওঠে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে সেটা হয়তো জাত্যভিমানপ্রসূত, লক্ষ্যাভিমুখী রাজনৈতিক কৌশল ও বাজার-চাহিদার প্রাসঙ্গিকতার হিসাবনিকাশ দ্বারা পরিচালিত হয়। আমাদের দেশে তা হয়তো একটু অন্য রকমের; এখানে সাংবাদিকতায় পেশাদারত্বের ঘাটতির পাশাপাশি ঔপনিবেশিক মানসিকতার রেশও ক্রিয়াশীল বলে মনে হয়। এ দেশে একজন ইতালীয় বা একজন জাপানি নাগরিকের খুন হওয়ার খবর কেন এবং কীভাবে এদেশীয় মানুষের প্রাত্যহিক খুনখারাবির সমস্ত ঘটনাকে ম্লান করে দিতে পারে, তা বোঝা খুব কঠিন নয়।
প্যারিসের জন্য কান্নার শব্দে বৈরুতের কান্না শোনা যায়নি। দেরিতে হলেও আসুন, বৈরুতের জন্যও দুই ফোঁটা অশ্রু ফেলি।
মশিউল আলম: সাংবাদিক।
mashiul.alam@gmail.com
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
দুর্বল আইএসের বদলি কৌশল প্যারিস হামলা by আলী রীয়াজ
![]() |
| গত কয়েক মাসে আইএস ক্রমাগতভাবে দুর্বল হয়ে পড়ছিল |
একই রকমের আবেগ ও শোকের তাড়নায়, এর চেয়ে অনেক বেশি আন্তর্জাতিক সমর্থনপুষ্ট হয়ে এবং জাতিসংঘের পরোক্ষ কিন্তু অস্পষ্ট নয়, এমন সম্মতি নিয়েই যুক্তরাষ্ট্র ২০০১ সালে আফগানিস্তানে যুদ্ধের সূচনা করেছিল। কিন্তু তা সত্ত্বেও সেই যুদ্ধ এবং পরবর্তী সময়ে ২০০৩ সালে ইরাকে সামরিক অভিযান প্রমাণ করে যে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, সুনির্দিষ্ট রাজনৈতিক লক্ষ্যে এবং সামরিক কৌশলের বিবেচনায় যাকে বলা হয় ‘এক্সিট প্ল্যান’, সেগুলো ছাড়া সূচিত যুদ্ধের পরিণতি কেবল যে প্রাণঘাতী ও রক্তক্ষয়ীই হয় তা নয়, তা আরও বেশি অস্থিতিশীলতা এবং সহিংসতার সূত্রপাত ঘটাতে পারে। অনেকেই বলতে পারেন ওই অঞ্চলে বিশেষ করে সিরিয়া, ইরাক ও ইয়েমেনে যে পরিস্থিতি, তার আর কত অবনতি ঘটবে, আর কত সহিংসতা বৃদ্ধি পাবে? তদুপরি কেউ কেউ এই বক্তব্যের মধ্যে আইএসের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা না নেওয়ার ইঙ্গিত দেখতে পাবেন। ফলে সুস্পষ্ট করে বলে নেওয়া দরকার যে আইএসের মতো একটি অমানবিক শক্তিকে সম্পূর্ণভাবে পরাস্ত করা, তাদের নিয়ন্ত্রণে থাকা ভূমি পুনরুদ্ধার করা, তাদের হাতে যারা কার্যত জিম্মি হয়ে আছে, সেই মানুষদের মুক্ত করা, আইএসের হাতে অর্থের যেসব উৎস আছে, সেগুলোকে উদ্ধার বা ধ্বংস করার লক্ষ্যে যেকোনো ধরনের কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণের বিষয়ে আমার মনে কোনো সংশয় নেই, তার আর কোনো বিকল্পও আছে বলে আমি মনে করি না। আমি যেসব পদক্ষেপের কথা বলছি, তার মধ্যে সামরিক অভিযানও রয়েছে। তারপরেও আমার প্রশ্ন হচ্ছে যে ফ্রান্সের এই প্রতিক্রিয়া আসলে আইএসেরই প্রত্যাশিত প্রতিক্রিয়া কি না।
২০০১ সালে আল-কায়েদা যেভাবে যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা দেশগুলোকে তাদের কাঙ্ক্ষিত ভূমিকা পালনের পথে টেনে নিয়ে দুনিয়াজুড়ে এক ‘অনন্ত যুদ্ধের’ পরিস্থিতি তৈরি করতে সক্ষম হয়েছে, এখন আইএস ফ্রান্সের হাত ধরে আবার পশ্চিমা বিশ্বসমেত সারা দুনিয়াকে বাকি পথটুকু নিয়ে যেতে চলেছে কি না, সেটা সবারই ভাবা দরকার। যাঁরা এই যুদ্ধকে কেবল ফ্রান্স ও পশ্চিমাদের সঙ্গে আইএসের লড়াই ভাবেন এবং তা থেকে পশ্চিমাদের অবশ্যম্ভাবী ক্ষতি বলে তাঁদের লাভ মনে করেন, তাঁদের কাছেও আমার আবেদন—ভেবে দেখুন। কেননা, বিস্মৃত হওয়ার উপায় নেই যে আল-কায়েদার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমাদের লড়াইয়ের বিরূপ ফল সবচেয়ে বেশি কাদের বইতে হয়েছে এবং হচ্ছে। কাদের প্রাণনাশ হয়েছে বেশি, নিরাপত্তার নামে কারা তাদের অনেক কষ্টে অর্জিত নাগরিক অধিকার হারিয়েছে, পৃথিবীজুড়ে রাষ্ট্রগুলো কীভাবে নিপীড়নের শক্তি সঞ্চয় করেছে, কী করে আমরা সবাই একধরনের নজরদারির মধ্যে জীবনযাপনে বাধ্য হচ্ছি এবং কী অজুহাত দেখিয়ে মুসলিম সংখ্যাগুরু দেশগুলোতে কর্তৃত্ববাদী শাসকেরা তাদের স্বৈরাচারী শাসনকে বৈধতা দিয়েছে।
আমার কথাগুলো ব্যাখ্যা করার জন্য তিনটি প্রশ্ন সাহায্য করবে। প্রথমত, আইএস কেন এখন ইরাক-সিরিয়ার বাইরে (যেমন তুরস্ক, বৈরুত, মিসর থেকে উড্ডয়নরত রাশিয়ার বিমান, প্যারিস) হামলা চালাচ্ছে? দ্বিতীয়ত, আইএসের এই হামলা ও হত্যাকাণ্ডের ফলে বিভিন্ন দেশের নিজ দেশে ও বাইরে কোন প্রতিক্রিয়াকে আমরা স্বাভাবিক বলে ধরে নেব? তৃতীয়ত, আইএসকে পরাজিত করার উপায় কী?
২০১৪ সালের গ্রীষ্মকালে আইএসের প্রতিষ্ঠার সময় আমরা লক্ষ করেছিলাম যে আইএস নিজেকে একটি রাষ্ট্র বলে দাবি করে এবং নিজের নিয়ন্ত্রণে জায়গা ও প্রাকৃতিক সম্পদ আনার জন্য সচেষ্ট হয়। তারপর থেকে যাঁরা আইএসের উত্থানকে ঘনিষ্ঠভাবে লক্ষ করেছেন, তাঁরা দেখেছেন যে আইএস তার নিয়ন্ত্রিত এলাকায় তাদের মতো করে একটি প্রশাসনিক কাঠামো পর্যন্ত তৈরি করে ফেলে, তারা তেলক্ষেত্রগুলো দখল করে নিয়মিত রাজস্বের একটা উপায় তৈরি করেছে, এমনকি স্থানীয়ভাবে রাজস্ব আদায়ের উপায়ও বের করেছে। গত কয়েক দশকে আমরা যেসব আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর উত্থান দেখেছি, তারা কেউই নিজেদের জন্য জায়গা তৈরি করতে চায়নি। কেননা, কোনো সুনির্দিষ্ট জায়গায় নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করার অর্থই হচ্ছে প্রতিপক্ষের আক্রমণের সহজ লক্ষ্যে পরিণত হওয়া।
সহিংস উগ্রপন্থী সেসব গোষ্ঠীই কেবল নিজেদের জন্য ভূমির সন্ধান করেছে, যাদের লক্ষ্য ব্যাপকার্থে জাতীয়তাবাদী, যাদের রাজনৈতিক এজেন্ডা একটি অঞ্চলকেন্দ্রিক এবং যারা জানে যে ওই অঞ্চলের মানুষের মধ্যে তাদের সমর্থনের ভিত্তি রয়েছে, এমনকি যদি তা সংখ্যায় অতি ক্ষুদ্রও হয়। যারা একটি আন্তর্জাতিক এজেন্ডায় বিশ্বাস করে, তারা ঘাঁটি বা অবস্থানের জন্য অন্যদের ওপরে নির্ভর করে। আল-কায়েদার ইতিহাস এ ক্ষেত্রে প্রাসঙ্গিক। ১৯৮৯ থেকে ১৯৯১ সাল পর্যন্ত তার পরিচালনাকেন্দ্র ছিল প্রধানত পেশোয়ারে; ১৯৯১ থেকে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত সুদানে, ১৯৯৬ সালের পরে আফগানিস্তানে। সুদান বা আফগানিস্তানে আল-কায়েদা চাইলে ক্ষমতা দখল করে সরকার চালাতে পারত বলেই ধারণা করা হয়; কিন্তু আল-কায়েদার নেতারা তা করেননি। আইএসের উত্থানের পটভূমিকে বিভিন্নভাবে ব্যাখ্যা করা যায় (এ বিষয়ে বিস্তারিত দেখতে পারেন আমার লেখা তিন পর্বের আলোচনা, প্রথম আলো ১৬, ১৭ ও ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৪)। এর জন্য প্রত্যক্ষভাবে যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা দেশগুলোকে দোষারোপ করা হয়ে থাকে; সেই আলোচনায় না গেলেও এ কথা অস্বীকারের উপায় নেই যে ইরাকের রাজনীতিতে সুন্নি মতানুসারীদের কোণঠাসা করা, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে স্থানীয় ট্রাইব বা গোত্রগুলোর সমর্থন লাভ এবং ইরাকি সেনাবাহিনীর ব্যর্থতার ফলে কম সময়ের মধ্যে আইএস তার ভিত্তি তৈরি করতে পেরেছিল।
এক বছরের বেশি সময় ধরে তারা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ইরান ও হিজবুল্লাহর আক্রমণ মোকাবিলা করে টিকে আছে এবং সারা পৃথিবী থেকে, বিশেষ করে ইউরোপ থেকে তরুণ-তরুণীদের আকর্ষণ করতে সক্ষম হচ্ছিল। আইএসের আদর্শের নামে বিচ্ছিন্ন-বিক্ষিপ্তভাবে কিছু অভিযান বিভিন্ন দেশে পরিচালিত হলেও কয়েক দিন ধরে সংঘটিত আক্রমণ ও হত্যাযজ্ঞের আগে আইএসের জ্ঞাতসারে, তাদের পরিকল্পনার মাধ্যমে কোনো অভিযানের ঘটনা ঘটেনি। তাহলে এখন এমন কী পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে যে আইএস কার্যত তার শত্রুদের ঘরে ডেকে আনছে? তার কারণ এই নয় যে আইএস নিজেকে শক্তিশালী মনে করছে, বরং ভালো করে লক্ষ করলে দেখা যাবে আসলে ঘটনা ঠিক তার বিপরীত।
গত কয়েক মাসে আইএস ক্রমাগতভাবে দুর্বল হয়ে পড়ছিল। আগে তারা বিদেশ থেকে যে হারে তরুণদের আকর্ষণ করছিল, তা আর করছে না। গত দুই মাসে তারা তাদের নিয়ন্ত্রণে থাকা এলাকা হারিয়েছে। যার সবচেয়ে বড় প্রমাণ হচ্ছে সম্প্রতি সিনজির শহরের পতন। সিরিয়ার রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা আইএসকে যে সুবিধা দিয়েছিল, এখন তা ক্রমেই সীমিত হয়ে আসছে—যুদ্ধে রাশিয়ার অংশগ্রহণ, ভিয়েনায় কুড়িটি দেশের সম্মেলনে একটি রাজনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনা, বাশার আল-আসাদকে আপাততভাবে হলেও ক্ষমতায় রেখে পরিস্থিতি উন্নয়নের জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের সম্মতি এবং আইএসের বর্বরোচিত আচরণের ছবি স্পষ্ট হয়ে ওঠা—এগুলো আইএসের অস্তিত্বকে ক্রমেই প্রশ্নের মুখে ফেলে দিচ্ছিল। আর সে কারণেই আইএসের নেতারা বুঝতে পেরেছেন যে তাঁদের এখন কৌশল বদলের বিকল্প নেই। সেই ক্ষেত্রে তারা তাদের অনিবার্য ধ্বংস থেকে সবচেয়ে বেশি লাভবান হতে চাইছে। একদিকে যদি তারা পশ্চিমা কোনো দেশের দৃশ্যমান হামলার কারণে সরে যেতে বাধ্য হয়, তবে তা মনে হবে তাদের কৌশলগত পশ্চাদপসরণ। তদুপরি তাদের ওপরে হামলার সময় যে ধরনের বেসামরিক ক্ষয়ক্ষতি হবে, তাকে আইএস সাংগঠনিকভাবে পুঁজি করতে না পারলেও ভবিষ্যতে তাদের মতো অন্য কোনো সংগঠন যে তাকে পুঁজি করতে পারবে, সেটা প্রায় নিশ্চিত করেই বলা যায়। প্রাসঙ্গিকভাবে স্মরণ করা দরকার যে সিরিয়ায় আল-কায়েদার শাখার মধ্য থেকেই আইএসের উত্থান ঘটেছে। ফলে আইএসের এই আক্রমণকে যাঁরা আইএসের শক্তি প্রদর্শন ভাবছেন, তাঁদের সঙ্গে আমি ভিন্নমত পোষণ করি। কিন্তু পাশাপাশি এটাও আমার অনুমান যে আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে তারা আগের যেকোনো সংগঠনের চেয়ে বেশি ভয়ংকর হবে।
আইএসের এই হামলা ও হত্যাকাণ্ডের ফলে ফ্রান্সের প্রতিক্রিয়া হচ্ছে আরও বেশি যুদ্ধে জড়িয়ে পড়া, আইএসকে ধ্বংস করার সংকল্প ঘোষণা। এগুলো স্বাভাবিক এবং সম্ভবত আইএসের প্রত্যাশিত। পাশাপাশি ইউরোপের মুসলিম জনগোষ্ঠীর দেশপ্রেম বিষয়ে প্রশ্ন তোলা হচ্ছে, মসজিদে হামলা হচ্ছে, অভিবাসী জনগোষ্ঠীকে সন্দেহের কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে দেওয়া হচ্ছে এবং সিরিয়ার যুদ্ধক্ষেত্র থেকে প্রাণে বাঁচার আশায় যে মানুষেরা এখন ইউরোপে, তাদের দেখা হচ্ছে এমনভাবে, যেন তারাই অপরাধী। ইউরোপের দক্ষিণপন্থীরা এই অবস্থা থেকে রাজনৈতিক সুবিধা নিতে তৎপর। তাদের সঙ্গে কার্যত যোগ দিয়েছে ইউরোপের কিছু উগ্র ইসলামপন্থী। তারাও চায় এই সময়ে সমাজের ভেতরে তৈরি হোক বিভক্তি। এই বিভক্তি ইউরোপের অভিবাসীদের মধ্যে, অভিবাসীদের উত্তরসূরিদের মধ্যে তৈরি করবে বিচ্ছিন্নতা, ক্ষোভ। আর আইএস বা তার মতো সংগঠন আজ হোক কাল হোক, তাকে পুঁজি করতে চাইবে, তাতে সম্পূর্ণ সফল হওয়ার দরকার হবে না, সামান্য সাফল্যই এক অনন্ত যুদ্ধের পথে ঠেলে দেবে। ‘আমরা’ আর ‘তারা’—এই ভাগে আর শেষ হবে না। আইএসের একটি ডকুমেন্টে বলা হয়েছে যে তারা চায় পৃথিবীকে সাদা-কালোতে বিভক্ত করতে, যে ‘ধূসর এলাকা’ (গ্রে জোন) আছে, তা শেষ করে দুই শিবিরে ভাগ করতে।
তাহলে আইএসকে পরাজিত করতে হলে কী করতে হবে? আইএসকে পরাজিত করার একটি অংশ হচ্ছে সামরিক। আর সেটি অবশ্যই কেবল বিমান হামলা নয়। নাটকীয় বিমান হামলা করে আইএসের নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকা মুক্ত করা যাবে না, তার জন্য স্থল অভিযানের দরকার হবে। তবে তার দায়িত্ব নিতে হবে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সরকারদের, সেখানকার নাগরিকদের। বিদেশি শক্তি—সেটি যুক্তরাষ্ট্র কিংবা ফ্রান্স কিংবা রাশিয়া যা-ই হোক—তাদের উপস্থিতি ও অংশগ্রহণের ফল হবে বিপরীত। কিন্তু তার আগে দরকার হবে রাজনৈতিক সমাধান খুঁজে বের করা। দেশ পরিচালনায় সিরিয়ার নাগরিকদের অংশগ্রহণের ব্যবস্থা করা, ইরাকের নাগরিকদের মধ্যে বিভক্তির অবসান, লিবিয়া ও ইয়েমেনের নাগরিকদের জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। এসব পদক্ষেপ রাতারাতি অর্জন করা যাবে না, কিন্তু প্রক্রিয়া শুরু করতে হবে এখনই। যা অবিলম্বে করতে হবে তা হলো, আইএসের প্রতি প্রত্যক্ষ সমর্থন ও অর্থ জোগানোর পথ বন্ধ করে দেওয়া, তাদের সঙ্গে বাণিজ্যের পথ বন্ধ করে দেওয়া। এই অঞ্চলের দেশগুলোকে সঙ্গে নিয়েই সমস্যার সমাধান করতে হবে এটা ঠিক, কিন্তু সহিংস চরমপন্থা বিস্তারে কার কী ভূমিকা, সেটা সবার জানা। এসব ভূমিকা অব্যাহত রেখে আইএসকে পরাস্ত করা যাবে না।
আলী রীয়াজ: যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয় স্টেট ইউনিভার্সিটির রাজনীতি ও সরকার বিভাগের অধ্যাপক।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
আজ আমরাও আক্রান্ত by হাসান ফেরদৌস
![]() |
| সন্ত্রাসী হামলার বিরুদ্ধে প্যারিসে ফরাসি মুসলমানদের প্রতিবাদ |
আমরা জানি, গত শুক্রবার প্যারিসের ফুটবল স্টেডিয়ামে, কনসার্ট হলে, রেস্তোরাঁয় ও ক্যাফেতে যারা নিহত হলো, তারা কেউই কোনো ধর্মযুদ্ধের সৈনিক নয়। অতি সাধারণ মানুষ, সবান্ধব ও সপরিবারে শুধু একটি বিকেল উপভোগের জন্য তারা এসেছিল। মৃত্যু তাদের জন্য অপেক্ষা করছে, এমন ভাবনা কারও বিন্দুমাত্র ছিল না।
অন্যদিকে, যারা এই হত্যাকাণ্ডের জন্য দায়ী, নিজেদের তারা ধর্মযুদ্ধের সৈনিক ভাবলেও এ কথায় কোনো ভুল নেই, তারা ধার্মিক নয়, তারা সৈনিকও নয়। নিরীহ নারী, পুরুষ ও শিশুকে হত্যার বিধান ইসলাম বা অন্য কোনো ধর্মে নেই। আর বেসামরিক নিরস্ত্র নাগরিক হত্যা সৈনিকের দায়িত্বের মধ্যে পড়ে না। যারা কয়েক শ মানুষকে হতাহত করে নিজেরা নিহত হলো, তারা ও তাদের অভিভাবক সবার একটাই পরিচয়, তারা খুনে।
ঠিক কী অর্জিত হলো এই নির্বিকার খুনের ভেতর দিয়ে?
আইএস অবশ্যই দাবি করতে পারে, সুরক্ষিত ফ্রান্সের রাজধানী ভেদ করে সুপরিকল্পিত হামলা করার দক্ষতা তারা অর্জন করেছে। মানুষ খুনে তারা পারঙ্গম, এ কথা আমরা আগে থেকেই জানি। ক্যামেরার সামনে নিরীহ জিম্মিদের গলায় ছুরি বসিয়ে সেই দক্ষতার প্রমাণ তারা অনেক আগেই দিয়েছে। কিন্তু বিনিময়ে তারা কী পেল? সারা বিশ্বের মানুষের ঘৃণা ও ধিক্কার। হ্যাঁ, সারা বিশ্বের এই সব মানুষের মধ্যে মুসলমানরাও আছে। নিরীহ মানুষের রক্তে যাদের হাত রঞ্জিত, যতই তারা জিহাদের কথা বলুক, নিঃশর্ত ঘৃণার বাইরে তাদের প্রাপ্য আর কিছুই নেই।
যেহেতু তারা ইসলামের নামে এই রক্তের হোলি খেলায় মেতে উঠেছে, এই অধর্মের বিরুদ্ধে সবচেয়ে কঠোর প্রতিবাদ আসা উচিত মুসলমানদের কাছ থেকেই। মুসলমানদের ধর্ম ও সৃষ্টিকর্তার নামে দোহাই দিয়ে যারা এই নির্মম খেলায় লিপ্ত, তাকে ঠেকানোর—তাকে প্রত্যাখ্যান করার—প্রধান দায়িত্ব মুসলমানদের।
আইএসের এই নগ্ন আক্রমণের আশু প্রতিক্রিয়া পড়বে বিভিন্ন পশ্চিম ইউরোপীয় দেশে অবস্থানরত অভিবাসী মুসলমান ও সেসব দেশে আশ্রয়প্রার্থী সিরীয়, ইরাকি ও আফগানি উদ্বাস্তুদের ওপর। আইএসের সামরিক সাফল্য ও সিরিয়ার অব্যাহত গৃহযুদ্ধের ফলে ইতিমধ্যে উদ্বাস্তু হয়েছে, এমন মানুষের সংখ্যা প্রায় এক কোটি। প্রতিবেশী জর্ডান, তুরস্ক ও লেবানন তো রয়েছেই, সমুদ্র পাড়ি দিয়ে আশ্রয়ের খোঁজে ইউরোপে এসে হাজির হয়েছে হাজার হাজার মানুষ। এদের মধ্যে দেড় লাখ মানুষ ইতিমধ্যে আশ্রয় পেয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্যদেশসমূহে। প্যারিসের সন্ত্রাসী হামলার প্রথম ও প্রধান প্রতিক্রিয়া হবে নতুন কোনো সিরীয় উদ্বাস্তুর জন্য ইউরোপের দরজা বন্ধ হয়ে আসা। বস্তুত, সেই হামলার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই পোল্যান্ড জানিয়েছে, ইউরোপীয় ইউনিয়নের বিভিন্ন দেশে সিরীয় উদ্বাস্তুদের আশ্রয়দানের যে পরিকল্পনা করা হয়েছে, সে তার প্রতি সমর্থন প্রত্যাখ্যান করছে। জার্মানি, উদ্বাস্তুদের ব্যাপারে যার ভূমিকা অত্যন্ত সাহসী, সেখান থেকে তীব্র সমালোচনা উঠেছে চ্যান্সেলর অ্যাঙ্গেলা মেরকেলের বিরুদ্ধে। ব্যাভারিয়ার প্রধানমন্ত্রী হরস্টসিহফার বলেছেন, জার্মানি যে ‘খোলা সীমান্ত’ নীতি গ্রহণ করেছে, তা বাস্তবসম্মত নয়। এমনকি উদারনৈতিক সুইডেন থেকেও শোনা গেছে উদ্বাস্তুবিরোধী বক্তব্য।
ভয়াবহ এক দুঃসময়ের মুখোমুখি আমাদের বিশ্ব। আমরা, যারা হাতির পদপিষ্ট উলুখাগড়া ভিন্ন কিছু নই, তাদের উচিত হবে একদিকে প্রবলতম ভাষায় ও ধিক্কারে আইএসকে প্রত্যাখ্যান। অন্যদিকে যেকোনো রকম যুদ্ধের বিরুদ্ধে নিজের অবস্থা পরিষ্কার করা অনুমান করি, নিরাপত্তা প্রশ্নে নতুন এক জুজুর ভয় দেখিয়ে পশ্চিম ইউরোপের বিভিন্ন দেশে একদিকে অভিবাসীবিরোধী আন্দোলন তুঙ্গে উঠবে, অন্যদিকে অতি দক্ষিণপন্থী ও ফ্যাসিবাদী দলগুলো নতুন করে রাজনৈতিকভাবে প্রাসঙ্গিক হওয়ার চেষ্টা চালাবে। ফ্রান্সের ফ্যাসিবাদী দল ন্যাশনাল ফ্রন্টের প্রধান মারিল্য পেন অনেক দিন থেকেই অভিবাসনবিরোধী অবস্থান নিয়ে রাজনৈতিক মূলধারায় জায়গা করে নিয়েছে। যুক্তরাজ্যে নাইজেল ফারাজের ইউকিপ পার্টিও দীর্ঘদিন থেকে সে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। বলা যায়, এদের কাছে আইএসের হামলা বড়দিনের আগেই বড়দিনের উপহার হিসেবে হাজির হলো।
অন্য ভয়, অভ্যন্তরীণ চাপের ফলে ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আইএস নিয়ন্ত্রণের নামে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন যুদ্ধে জড়িয়ে পড়তে পারে। ফরাসি প্রেসিডেন্ট ওলাঁদ ইতিমধ্যে ঘোষণা করেছেন, তাঁর দেশ এখন এক যুদ্ধের মুখোমুখি। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ওবামা তাঁর সেই ঘোষণার প্রতি সংহতি প্রকাশ করেছেন। এই সংহতির প্রকাশ কীভাবে হবে আমরা জানি না। তা যদি গৃহযুদ্ধে ও বহিরাগত হামলায় ক্ষতবিক্ষত এই অঞ্চলে আরও বৃহত্তর, সর্বগ্রাসী এক যুদ্ধের সূচনা করে, তার চেয়ে ভয়াবহ আর কিছু হতে পারে না।
যুক্তরাষ্ট্রে এখন এমন লোকের অভাব নেই, যারা মনে করে, শুধু ড্রোন দিয়ে নিরাপদ দূরত্ব থেকে হামলা চালিয়ে আইএসের মোকাবিলা সম্ভব নয়। এর জন্য প্রয়োজন পুরোদস্তুর সামরিক অভিযান। স্থলযুদ্ধের এই হুমকি একদম অলীক কল্পনা নয়। আমেরিকায় দীর্ঘদিন থেকেই একটি ফ্যাসিবাদী চক্র সচল, যাদের মধ্যে রয়েছে রিপাবলিকান পার্টির একটি প্রভাবশালী অংশ। তারা সম্ভব হলে এখনই আইএসের বিরুদ্ধে হামলার নামে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন যুদ্ধে জড়িয়ে পড়তে চায়। ২০১৬ সালে যাঁরা রিপাবলিকান দলের হয়ে প্রেসিডেন্ট পদে নির্বাচনের জন্য প্রচারণায় নেমেছেন, তাঁদের অধিকাংশই প্রেসিডেন্ট ওবামাকে তাঁর দুর্বল নেতৃত্বের জন্য সমালোচনা করেছেন এবং ‘আমেরিকাকে ফের বিশ্বের সেরা সামরিক শক্তি’ প্রমাণে জোর দাবি তুলেছেন। এই দলের অন্যতম প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, প্রেসিডেন্ট হলে তিনি বোমা মেরে আইএসকে উড়িয়ে দেবেন এবং ইরাকের তেলসম্পদ নিজের দখলে আনবেন। যেসব সিরীয় উদ্বাস্তু আমেরিকায় আশ্রয় পেয়েছে, তাদের নিজের দেশে ফেরত পাঠানোরও হুমকি দিয়েছেন তিনি। প্রায় একই ভাষায়, একই রকম অসহিষ্ণুতা শোনা গেছে আরও দুই প্রার্থী, টেড ক্রুজ ও মার্কো রুবিওর গলায়। যে হাজার হাজার মার্কিন নাগরিক তাদের কথা শোনার জন্য মিটিং-মিছিলে জড়ো হচ্ছে, অনুমান করি, তাদের অধিকাংশ এই যুদ্ধবাদী মনোভাব পোষণ করে।
বলাই বাহুল্য, প্যারিসের ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় ইউরোপ ও আমেরিকা যদি নতুন এক সর্বাত্মক যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে, তাতে সবচেয়ে বড় ফায়দা হবে আইএসের। তাদের টিকে থাকার পক্ষে একমাত্র যুক্তি হচ্ছে, পশ্চিম ‘আমাদের’—অর্থাৎ মুসলমানদের—বিরুদ্ধে যুদ্ধে লিপ্ত। ‘তাদের’ সে আক্রমণ ঠেকাতেই ‘আমরা’ জিহাদে নেমেছি। বস্তুত, অনেকেই বিশ্বাস করেন, আইএসের উত্থানের প্রধান কারণই হলো ইরাকে আমেরিকার আগ্রাসী যুদ্ধ। এমনকি ডেমোক্রেটিক দলের অন্যতম প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী বার্নি স্যান্ডার্স গত শনিবার ডেমোক্রেটিক বিতর্কে কোনো রাখঢাক ছাড়াই সে কথা বলেছেন। এখন, সেই মধ্যপ্রাচ্যে যদি আরেক স্থলযুদ্ধ নতুন করে, আরও ব্যাপক আকারে ছড়িয়ে পড়ে, তাহলে আইএস তার জিহাদি প্রচারণার পক্ষে অত্যন্ত সবল নতুন রসদ পেয়ে যাবে। শুধু মধ্যপ্রাচ্যেই নয়, বিশ্বের অধিকাংশ মুসলিমপ্রধান দেশেও সম্ভবত তেমন কোনো যুদ্ধের প্রতি প্রতিরোধ গড়ে উঠবে, যার অজুহাতে বিস্তৃত হবে আইএস বা এই জাতীয় মৌলবাদী আন্দোলন। যে যুদ্ধ এত দিন পর্যন্ত সীমিত ছিল মধ্যপ্রাচ্যে, তা অবশেষে আমাদের দরজায়ও এসে কড়া নাড়বে।
ভয়াবহ এক দুঃসময়ের মুখোমুখি আমাদের বিশ্ব। আমরা, যারা হাতির পদপিষ্ট উলুখাগড়া ভিন্ন কিছু নই, তাদের উচিত হবে একদিকে প্রবলতম ভাষায় ও ধিক্কারে আইএসকে প্রত্যাখ্যান। অন্যদিকে যেকোনো রকম যুদ্ধের বিরুদ্ধে নিজের অবস্থা পরিষ্কার করা। আমাদের হয়তো অস্ত্র নেই, কিন্তু আছে সংখ্যার শক্তি। সে শক্তি ব্যবহারের এখনই সময়।
হাসান ফেরদৌস: নিউইয়র্ক, যুক্তরাষ্ট্রে প্রথম আলোর বিশেষ প্রতিনিধি।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
আইএসকে হারাতেই হবে by রজার কোহেন
জোটের নেতারা ইতিমধ্যে আলোচনা শুরু করেছেন, কীভাবে এই ঘটনার প্রতিক্রিয়া জানানো যায়। ওলাঁদ মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার সঙ্গে কথা বলেছেন। জার্মানিসহ অন্যান্য ন্যাটোভুক্ত দেশ সংহতি প্রকাশ করেছে, ক্ষোভ ও নিষ্ঠুরতা কখনো যৌক্তিক হলেও তা যথেষ্ট নয়।
প্যারিসে এই ১২৯ জন মানুষকে হত্যা করার পরিপ্রেক্ষিতে একমাত্র যথাযথ পদক্ষেপ হচ্ছে সামরিক আক্রমণ। বিদ্যমান হুমকির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ লক্ষ্য হচ্ছে আইএসকে ধ্বংস করে দেওয়া, সিরিয়া ও ইরাকে অবস্থিত আইএসের শক্তিশালী ঘাঁটি গুঁড়িয়ে দেওয়া। এই বর্বর সন্ত্রাসীরা সামাজিক মাধ্যমগুলোতে রক্তপাত নিয়ে উল্লাস করছে, ফলে তাদের আর ভূখণ্ড নিয়ন্ত্রণ করতে দেওয়া যাবে না, যেখানে বসে তারা হামলার পরিকল্পনা ও অর্থায়ন করতে পারে, বর্বরতা চালাতে পারে।
ওলাঁদের মনে সেই সন্দেহ নেই যে এই হামলার পরিকল্পনা ‘বিদেশের মাটিতে হয়েছে, হামলাকারীরা সংগঠিতও হয়েছে সেখানে, তবে এই হামলার সঙ্গে দেশের ভেতরের কোনো গোষ্ঠী জড়িত।’ আইএস বা তার কোনো সহযোগী সংগঠন সম্প্রতি রুশ যাত্রীবাহী বিমান ভূপাতিত করার দায় স্বীকার করেছে, যে দুর্ঘটনায় ২২৪ জন মানুষ মারা গেছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ব্রিটেন বিশ্বাস করে, এই দাবির বিশ্বাসযোগ্যতা আছে।
আইএসকে আঞ্চলিক হুমকি হিসেবে খারিজ করে দেওয়াটা ভুল হবে, তার হুমকি বৈশ্বিক প্রকৃতির। যথেষ্ট হয়েছে। একটি অশুভ গোষ্ঠীকে ভূখণ্ড নিয়ন্ত্রণ করতে দেওয়া যায় না, যেখানে তারা বংশবিস্তার করতে পারে। পোপ ফ্রান্সিস ঘোষণা দিয়েছেন, প্যারিস হামলা ‘মানুষের কাজ নয়’, এক অর্থে পোপ ঠিকই বলেছেন। কিন্তু ইতিহাস আমাদের শিক্ষা দেয়, মানুষ অপরিমেয় অশুভ কাজ করতে পারে। সামাল না দিলে সে আরও বড় হয়।
ইরাক ও সিরিয়ায় আইএসকে পরাজিত করতে হলে ন্যাটোর সেনাদের ভূমিতে আক্রমণ চালাতে হবে। ইরাক ও আফগানিস্তানে দীর্ঘ ও অনিশ্চায়ক হস্তক্ষেপের পর এই প্রশ্ন করা সংগত, সেটা ভুল হবে কি না। আবার সামরিক আক্রমণ চালানো হলে আইএসের সদস্যসংখ্যা আরও বেড়ে যাবে কি না, সেটাও ভেবে দেখতে হবে। কারণ, সামরিক আক্রমণ চালানো হলে বহু মানুষ মারা যাবে, বহু সম্পদ বিনষ্ট হবে। আর সন্ত্রাসবাদকে আসলে পুরোপুরি পরাজিত করা যাবে না।
এই হত্যাকাণ্ড এমন এক সময়ে হলো, যখন সিরিয়ার হাজার হাজার মুসলিম শরণার্থী স্রোতের মতো ইউরোপে ঢুকছে। এখন তাদের ওপর হামলে পড়া যাবে না, বরং তাদের সহায়তা করতে হবে। এমনকি তার জন্য যদি চরম সতর্কতা অবলম্বন করতে হয়, তাহলেও সেটা করতে হবে। তারাও তো আইএসের কারণেই নিজেদের ভূখণ্ড থেকে পালাচ্ছে এমন যুক্তি-তর্ক প্রলুব্ধকর, কিন্তু সেটাকে প্রতিহত করতে হবে। আইএসের বিরুদ্ধে বিমান যুদ্ধ পরিচালনা করা হলে কাজ শেষ হয়ে যাবে না। কারণ, প্যারিস হামলাটা এমন এক সময়ে হলো, যখন সিরিয়ায় ভালোভাবেই এক বোমা হামলা চলছিল, যার কোনো মাথামুণ্ডু আমরা বুঝি না। চীন ও রাশিয়ার মতো পরাশক্তিগুলো প্যারিস হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। জাতিসংঘে যদি সিরিয়া ও ইরাক থেকে আইএস হটাতে সামরিক হামলা চালানোর প্রস্তাব পেশ হয়, তাহলে তাদের সেটার বিরুদ্ধে যাওয়া উচিত হবে না। আঞ্চলিক শক্তি, বিশেষ করে সৌদি আরবও এই দানবকে শেষ করতে চায়, যদিও এদের উত্থানে তাদের ভূমিকা ছিল। আইএস যে খিলাফতের স্বপ্ন দেখে, সেই খিলাফত তাদের ধ্বংস করে দেবে।
আইএস খুব দক্ষ ও কার্যকর। এদের সুনিয়ন্ত্রিত প্রচারণাযন্ত্র রয়েছে আর মোহভঙ্গ মুসলিম যুবকদের তাড়িত করার মতো আদর্শ রয়েছে, যাদের মনে এই প্রত্যয় সৃষ্টি করা হয়েছে যে পশ্চিম বিশ্বাসঘাতক। একদিকে মধ্যযুগের সাহিত্য, অন্যদিকে প্রযুক্তিগত শক্তি—এ দুইয়ে মিলে এক সীমানাবিহীন অতি গোঁড়া সেনাবাহিনী তৈরি হয়েছে। কিন্তু আইএস সামরিক শক্তিতে অত্যন্ত বলীয়ান, পশ্চিমা গোয়েন্দা সংস্থাগুলো এখন তাদের নিয়ে বিস্তারিত গবেষণা করছে।
ওবামা প্রশাসন এত দিন বলে এসেছে যে আইএস পরাজিত হবে, কিন্তু সেটা বলাটা যথেষ্ট নয়। সামঞ্জস্যপূর্ণ পরিকল্পনা ছাড়া এই শব্দের মানে হয় না। সময়ের চাপ রয়েছে, কারণ নতুন হামলা চালানোর জন্য খুব নিপুণভাবে সময় ব্যবহার করা হয়। প্রতিটি হামলার সঙ্গে ক্ষতবিক্ষত ইউরোপীয় সমাজে ধর্মীয় ও গোষ্ঠীগত সহিংসতার আশঙ্কা বেড়ে যায়। মুসলমানদের প্রতি ঘৃণা বাড়ছে বলেই মনে হয়। যে লা বাতাক্লঁ কনসার্ট হলে হামলা হলো, সেখানে নাকি বিভিন্ন ইহুদি সংগঠন প্রতিনিয়তই বসত, ফরাসি ম্যাগাজিন লা পয়েন্ট এ তথ্য দিয়েছে।
এই হত্যাকাণ্ড এমন এক সময়ে হলো, যখন সিরিয়ার হাজার হাজার মুসলিম শরণার্থী স্রোতের মতো ইউরোপে ঢুকছে। এখন তাদের ওপর হামলে পড়া যাবে না, বরং তাদের সহায়তা করতে হবে। এমনকি তার জন্য যদি চরম সতর্কতা অবলম্বন করতে হয়, তাহলেও সেটা করতে হবে। তারাও তো আইএসের কারণেই নিজেদের ভূখণ্ড থেকে পালাচ্ছে, আবার বাশার আল-আসাদের নির্বিচার সহিংসতার কারণেও তারা দেশ ছাড়তে বাধ্য হচ্ছে। সিরিয়াতে হস্তক্ষেপ না করার ফল হিসেবে আমরা দেখছি, ইউরোপ রক্তপাতে ডুবতে বসেছে, বিপদে জেরবার হচ্ছে।
লড়াইটা দীর্ঘই হবে। ইসলাম এক আবেগের সংকটে পড়েছে, শিয়া ও সুন্নিদের (পড়ুন ইরান ও সৌদি আরব) মধ্যকার আঞ্চলিক সংঘাতে সে ক্ষতবিক্ষত হচ্ছে, পশ্চিমবিরোধী আদর্শ ও ওয়াহাবি মৌলবাদে পীড়িত হচ্ছে। এটা মহাবিপদ, যাকে ইসলামের ভেতর থেকেই মোকাবিলা করা উচিত। কোটি কোটি শান্তিপ্রিয় মুসলমানের, যারা প্যারিসের এই হামলায় অন্য যেকোনো মানুষের মতো ব্যথিত হয়েছে, এই কাজটা করতে হবে। তাদের দ্ব্যর্থহীনভাবে একত্র হয়ে কণ্ঠ ছাড়তে হবে, এই একতা বহু দিন টিকিয়ে রাখতে হবে।
সিরিয়া ও ইরাকে আইএসকে শেষ করে দিলেই জিহাদি সন্ত্রাসবাদের অবসান ঘটবে না। কিন্তু চুপচাপ বসে থাকলে তো ব্যর্থ হওয়া ছাড়া গত্যন্তর নেই। সময় এসেছে, মানবতার খাতিরে প্রত্যয় নিয়ে ইসলামিক স্টেটের মতো দুষ্টক্ষতের বিরুদ্ধে লড়তে হবে। একতার অভাব ও বিভ্রান্তির কারণে অতীতে জিহাদিদের বিরুদ্ধে লড়াই সফল হয়নি। এখন একত্র হওয়া সম্ভব, সেই সঙ্গে সম্ভব বিজয়লাভ।
নিউইয়র্ক টাইমস থেকে নেওয়া
অনুবাদ: প্রতীক বর্ধন
রজার কোহেন: নিউইয়র্ক টাইমসের বিদেশ-বিষয়ক সম্পাদক।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
জন্মদিনের অনুষ্ঠানে যেভাবে হত্যা করা হয় ১১ বন্ধুকে
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
লন্ডন কি প্যারিসের থেকে নিরাপদ?
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
মুজাহিদের রিভিউ আবেদনের রায় বুধবার সাড়ে ১১টায়
মঙ্গলবার মুজাহিদের পক্ষে সকাল ৯টা থেকে ১১টা পর্যন্ত রিভিউ শুনানি করেন তার প্রধান আইনজীবী অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন। আধা ঘণ্টা বিরতির পর রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। এরপর আদালত বুধবার রায়ের দিন ধার্য করেন।
শুনানিতে খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, মুক্তিযুদ্ধের সময় সংগঠিত মানবতাবিরোধী অপরাধের কোন অভিযোগ মুজাহিদের বিরুদ্ধে ছিল না। যখন তাকে কোর্টে আনা হয়েছে তখন তার বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়েছে। আমরা বলছি যেসব ঘটনার অভিযোগ আনা হয়েছে সেসব ঘটনা ঘটেছে। কিন্তু ওইসব ঘটনার সাথে মুজাহিদ সাহেব জড়িত ছিলেন না। বড় বড় পাকিস্তানী আর্মি অফিসারের সামনে তখন মুজাহিদের মতো অল্পবয়সী একজন ছেলের দাঁড়ানোর মতো সাহস বা ক্ষমতা ছিল না। তাদের কাছে যাওয়া তো অসম্ভব ব্যাপার। আমার বয়স হয়েছে, আমরা দেখেছি তখন কি হয়েছে। তিনি বলেন, যে অভিযোগে মুজাহিদকে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করা হয়েছে ওই অভিযোগে তাকে কোন সাজা দেয়া যায় না।
এসময় প্রধান বিচারপতি বলেন, আসামীর বক্তব্যের বিষয়ে পত্রিকার রিপোর্ট আছে। তিনি যুদ্ধাপরাধের বিচারে জার্মানির উদহারণ তুলে ধরে বলেন, এভিডেন্সেই বিচার হয়েছে। এরপর প্রধান বিচারপতি মামলার দ্বিতীয় সাক্ষী জহির উদ্দিন জালালের সাক্ষের কিছু অংশ পাঠ করেন।
শুনানিতে খন্দকার মাহবুব হোসেন আরো বলেন, মুজাহিদকে যে অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে তা সঠিক নয়। বুদ্ধিজীবী হত্যার ব্যাপারে রাষ্ট্রীয়ভাবে ৪২টি মামলা হয়েছে, তাতে কোথাও তার নাম আসেনি। তাছাড়া তদন্ত কর্মকর্তাও বলেছেন- রাজাকার, আলবদর বা আলশামসের সাথে মুজাহিদ জড়িত থাকার কোনো তথ্য-প্রমাণ পাননি।
শুনানিতে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেন, আসামীর বিষয়ে ’৭১ সালের ১৪, ১৫ ও ১৬ ডিসেম্বরের রিপোর্ট রয়েছে। তিনি বলেন, বুদ্ধিজীবীদের হত্যা এখনো চলছে। এখনো বুদ্ধিজীবীদের হুমকি দেয়া হচ্ছে।
আদালতে আলী আহসান মোহাম্মাদ মুজাহিদের পক্ষে আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন ছাড়াও অ্যাডভোকেট এসএম শাহজাহান ও অ্যাডভোকেট মো: শিশির মনির উপস্থিত ছিলেন।
অপরদিকে রাষ্ট্রপক্ষে উপস্থিত ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। আদালতে শুনানি শেষে সুপ্রিম কোর্ট বার সভাপতির কক্ষে এক ব্রিফিংয়ে খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, রিভিউ তে বলেছি, যে অভিযোগে মুজাহিদকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়েছে সেখানে যে সাক্ষ্য প্রমান আছে তার ভিত্তিতে তাকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া বেআইনী হয়েছে। মাননীয় আদালত এটা আইনগতভাবে পুনর্বিবেচনা করবেন। আমরা বলেছি, অন্য আসামীর বিরুদ্ধে হত্যা, অগ্নি সংযোগের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ছিল। কিন্তু মুজাহিদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ নেই।
খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, রিভিউ’র শুনানিতে আমরা নতুন তিনটি যুক্তি উপস্থাপন করে মুজাহিদের খালাস চেয়েছি। তিনি বলেন, অন্য আসামীদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আনা হয়েছিল কিন্তু মুজাহিদের বিরুদ্ধে সুর্দিষ্ট অভিযোগ নেই। বুদ্ধিজীবী হত্যার বিষয়ে ৪২ টি মামলা হয়েছে। যেখানে মুজাহিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়নি।
তিনি বলেন, জেনারেল নিয়াজীর সাক্ষাৎকার নিয়ে অধ্যাপক মুনতাসির মামুনের সম্পাদিত বইয়ে বলা হয়েছে- আলবদর সরাসরি পাকিস্তান সেনাবাহিনীর কমান্ডে ছিল। সেখানে সাধারণ নাগরিকের অন্তর্ভূক্ত ছিল না। জেনারেল নিয়াজী পাকিস্তানী বাহিনীকে নিয়ন্ত্রণ করতো। তিনি বলেন, আপিল বিভাগ আমাদের বক্তব্য শুনেছেন। কাল রিভিউ’র রায়ের দিন ধার্য করা হয়েছে। আমরা প্রত্যাশা করছি এতে মুজাহিদ খালাস পাবেন।
অন্যদিকে অ্যাটর্নী জেনারেল মাহবুবে আলম বলেন, আমাদের প্রত্যাশা রিভিউ’র রায়েও আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদের মৃত্যুদণ্ড বহাল থাকবে। আপিল বিভাগ সঠিকভাবে মুজাহিদের মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখে রায় দিয়েছেন। তার ক্ষেত্রে রিভিউ বিবেচনা করা যায় না। তিনি বলেন, আসামী পক্ষের রিভিউ’র যুক্তি ছিল মুজাহিদ কোনো লোককে হত্যা করেছে এর কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ নেই। আসামীপক্ষ মৃত্যুদন্ডের পরিবর্তে যাবজ্জীবন কারাদন্ডের আবেদন করেছেন তার আইনজীবী। এ বিষয়ে আমি বলেছি, ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে হত্যা করতে হবে এমন কোনো কথা নেই। মুজাহিদের বক্তব্য বিবৃতি থেকে বা তার অনুসারী অপরাধ করলে এটাও তার উপর বর্তাবে বলে তিনি উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, মুজাহিদকে মৃত্যুদণ্ড থেকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রদান করলে আমরা হতাশ হব। আজ আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদের রিভিউ আবেদনের শুনানি শেষে অ্যাটর্নি জেনারেল তার নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে এ কথা বলেন। অ্যাটর্নী জেনারেল আরো বলেন, মানবতাবিরোধী অপরাধে সরাসরি অংশ নিতে হবে, এ আইনে এমনটি নেই।
এর আগে গত ২ নভেম্বর আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ ও সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর রিভিউ আবেদন শুনানির জন্য ১৭ নভেম্বর দিন ধার্য করেন আপিল বিভাগ।
গত ১৪ অক্টোবর আপিল বিভাগের সংশি¬ষ্ট শাখায় মুজাহিদের পক্ষে রিভিউ আবেদনটি দায়ের করেন তার আইনজীবী অ্যাডভোকেট শিশির মনির। ৩৮ পৃষ্ঠার রিভিউ আবেদনে ৩২টি গ্রাউন্ডে আপিল বিভাগের রায় পুনর্বিবেচনা করে মুজাহিদকে অভিযোগ থেকে অব্যাহতি ও মৃত্যুদণ্ড থেকে খালাস চাওয়া হয়।
রিভিউ আবেদনে অধ্যাপক মুনতাসির মামুন সম্পাদিত ‘দি ভ্যাঙ্কুইশড জেনারেলস’ বই নতুন দালিলিক সাক্ষ্য হিসেবে দাখিল করা হয়। এতে পাকিস্তানী জেনারেল রাও ফরমান আলী এবং জেনারেল এ, এ, কে, নিয়াজি স্বীকার করেছেন যে, আলবদর বাহিনী সরাসরি আর্মির কমান্ডে এবং কন্ট্রোলে পরিচালিত হতো। মুজাহিদ একজন ছাত্রনেতা হয়ে কিভাবে এই বাহিনীর কমান্ডার হলেন?
রিভিউ আবেদনে উল্লেখ করা হয়, বুদ্ধিজীবি হত্যার অভিযোগের সমর্থনে রাষ্ট্রপক্ষ দুইজন সাক্ষী হাজির করে। যথা রুস্তম আলী মোল্লা ও জহির উদ্দিন জালাল। ১৯৭১ সালে রুস্তম আলী মোল্লার বয়স ছিল ১৪ বছর এবং জহির উদ্দিন জালালের বয়স ছিল ১৩ বছর। রুস্তম আলী মোল্লা নিজেকে এই ঘটনার একমাত্র প্রত্যক্ষদর্শী সাক্ষী হিসেবে দাবী করলেও তার সাক্ষ্যে পরস্পর বিরোধী বক্তব্য বিদ্যমান। আর জহিরউদ্দিন জালাল একজন শোনা সাক্ষী।
রুস্তম আলী মোল্লা জনাব মুজাহিদকে আর্মি অফিসারের সাথে ষড়যন্ত্র এবং পরিকল্পনা করতে দেখেনি। সে দাবী করেছে যে, স্বাধীনতা যুদ্ধ শুরু হওয়ার ৩/৪ মাস পর মুজাহিদকে ফিজিক্যাল ট্রেনিং ইনস্টিটিউটের গেইটে দেখেছে। সে স্বীকার করেছে যে, জনাব মুজাহিদকে পূর্ব থেকে চিনতো না। গেইটে প্রহরারত ব্যক্তিরা বলাবলি করছিল যে, জনাব গোলাম আযম, নিজামী ও মুজাহিদ কলেজে এসেছেন এবং তখন সে মুজাহিদ সাহেবকে চিনতে পারে। রুস্তম আলী মোল্লার সাক্ষ্যে এটি প্রতীয়মান হয় যে, সে পূর্ব থেকে এই তিনজনের কাউকেই চিনতো না। কেউ তাকে সুনির্দিষ্টভাবে মুজাহিদ সাহেবকে চিনিয়েও দেয়নি। তাহলে প্রশ্ন জাগে, পূর্ব থেকে না চেনা স্বত্বেও কিভাবে সে নিজেই কলেজের গেইটে মুজাহিদ সাহেবকে চিহ্নিত করল? তর্কের খাতিরে রুস্তম আলী মোল্লার কথা সত্য বলে ধরে নিলেও এর দ্বারা কি আদৌ এটি প্রমাণিত হয় যে, তিনি আর্মি অফিসারের সাথে বুদ্ধিজীবী হত্যাকান্ডের ষড়যন্ত্র ও পরিকল্পনা করেছেন?
জহির উদ্দিন জালাল তার সাক্ষ্যে বলেছেন যে, নিজামী, মুজাহিদরা ফিজিক্যাল ট্রেনিং ইনস্টিটিউটে আসতেন-এই খবরগুলো রুস্তম আলী মোল্লা কেরানীগঞ্জে তাকে জানিয়েছে। তদন্তকারী কর্মকর্তা জেরায় স্বীকার করেছেন রুস্তম আলী মোল্লা তদন্তকালে তার কাছে বলেনি যে, বিচ্ছু জালাল নামে কারো সঙ্গে তার পূর্ব পরিচয় ছিল। সুতরাং জালালের দাবী অসত্য প্রমানিত।
রুস্তম আলী মোল্লার পিতা মোঃ রহম আলী মোল্লা ১৯৭১ সালে ফিজিক্যাল ট্রেনিং কলেজের প্রহরী হিসাবে কর্মরত ছিলেন। তদন্তকারী কর্মকর্তা জেরায় স্বীকার করেছেন যে, তিনি আজও জীবিত আছেন। কিন্তু রাষ্ট্রপক্ষ এই মামলায় তাকে সাক্ষী হিসাবে ট্রাইব্যুনালে হাজির করেনি। ফিজিক্যাল ট্রেনিং কলেজের তদানিন্তন অধ্যক্ষ মুহিবুল্লাহ খান মজলিস এবং তার ছেলে বর্তমান অধ্যক্ষ তারেক ইকবাল খান মজলিসকেও (যিনি ১৯৭১ সালে অষ্টম শ্রেনীর ছাত্র ছিলেন) সাক্ষী হিসাবে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়নি।
রিভিউতে অন্যাতম যুক্তি হিসেবে দেখানো হয়, বুদ্ধিজীবী হত্যাকান্ড নিয়ে ১৯৭২ সালে দালাল আইনে ৪২ টি মামলা দায়ের করা হয়েছিল। এর একটিতেও জনাব মুজাহিদকে আসামী করা হয়নি। রাষ্ট্রপক্ষ এই মামলাগুলোর নথি আদালতে উপস্থাপন করেনি। অথচ ৪২ বছর পর কিভাবে এই হত্যাকান্ডের সকল দায়-দায়িত্ব তার উপর চাপানো হয়েছে?
২৯ ডিসেম্বর ১৯৭১ তারিখে বুদ্ধিজীবী হত্যাকান্ডের তদন্তের জন্য জহির রায়হানকে আহবায়ক করে ৭ সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠিত হয়েছিল। প্রথিতযশা সিনিয়র আইনজীবী ব্যারিস্টার আমির-উল-ইসলাম এবং ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ এই কমিটির সদস্য ছিলেন। রাষ্ট্রপক্ষ এই কমিটি কর্তৃক প্রস্তুতকৃত তদন্ত রিপোর্ট ট্রাইব্যুনালে জমা দেয়নি এবং তদন্তকালে তাঁদের কারো সাথে আলোচনাও করেনি। কেন রাষ্ট্রপক্ষ এই তদন্ত রিপোর্ট জাতির সামনে প্রকাশ করেনি? আন্দাজ ও অনুমানের উপর ভিত্তি করে ১৯৭১ সালে নিহত সকল বুদ্ধিজীবী হত্যার ষড়যন্ত্র ও পরিকল্পনার জন্য মুজাহিদকে দায়ী করা হয়েছে।
গত ৩০ সেপ্টেম্বর আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদের আপিলের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। এরপর ১ অক্টোবর আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদের বিরুদ্ধে মৃত্যু পরোয়ানা জারি করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল এবং তা কারা কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।
গত ১৬ জুন ট্রাইব্যুনালের রায়ের বিরুদ্ধে আলী আহসান মুজাহিদের আপিল আবেদনের সংক্ষিপ্ত রায় দেন আপিল বিভাগ। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের দেওয়া মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখে প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে চার বিচারপতির আপিল বিভাগের বেঞ্চ আলী আহসান মুজাহিদের রায় প্রদান করেন।
১৯৭১ সালে মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের লক্ষ্যে গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ ২০১৩ সালের ১৭ জুলাই আলী আহসান মুজাহিদের বিরুদ্ধে মৃত্যুদন্ডের রায় দেয়।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ভারতীয় শিখ হয়ে গেলো প্যারিস হামলাকারী
স্পেনের খবরের কাগজ লা-রাজন ওই ছবি প্রকাশ করে তার ক্যাপশনে লিখেছে- ‘প্যারিসে হামলাকারীদের একজন’।
আর তাদের প্রতিবেদনে লেখা হয়, “হামলাকারীদের মধ্যে একজন সিরিয়ান শরণার্থীদের সঙ্গে গ্রিসে প্রবেশ করে। প্যারিসে হামলাকারী অজ্ঞাতনামা ওই সন্ত্রাসীদের বয়স ছিল ১৫ থেকে ১৮ এর মধ্যে। তারা তিনটি দলে ভাগ হয়ে হামলা চালায়।”
পরে জানা যায়, কানাডা প্রবাসী এক ভারতীয় শিখের ছবি ফটোশপে ফেলে গায়ে চড়িয়ে দেওয়া হয়েছে আত্মঘাতী হামলার ভেস্ট। তার হাতের কোরআনও এসেছে একই কায়দায়।
জালিয়াতির বিষয়টি ধরা পড়ায় লা-রাজন রোববার ক্ষমা চেয়েছে বলে এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে জানানো হয়।
এনডিটিভি লিখেছে, ছবির ওই ব্যক্তির নাম ভিরেন্দর জুব্বাল। কানাডায় তিনি কাজ করছেন ফ্রিল্যান্স সাংবাদিক হিসেবে। জালিয়াতি করা ছবিটি অনলাইনে ছড়িয়ে পড়তে শুরু করলে নিজের টুইটার অ্যাকাউন্টে আসল ছবিটি পোস্ট করেন জুব্বাল। ওই ছবিতে জুব্বালকে একটি আইপ্যাড হাতে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। ফটোশপে সম্পাদনা করে ওই আইপ্যাডের জায়গায় কোরআন শরিফ আর জুব্বালের গায়ে ভেস্ট বসিয়ে দেওয়া হয়েছিল।
অব্শ্য দুই ছবিতেই জুব্বালের মাথায় দেখা যায় পরিচিত সেই পাগড়ি, যা শিখরা ব্যবহার করে।
তিনি টুইটে লিখেছেন, গত শুক্রবার রাতে প্যারিস হামলায় ১২৯ জন নিহত এবং সাড়ে তিনশ আহতের ঘটনার সঙ্গে তার যে কোনো যোগাযোগ নেই, এর প্রমাণ দিতেই ওই ছবি পোস্ট করেছেন তিনি।
“আমার বিশ্বাস, সবাই বুঝতে পারবে আমার সঙ্গে কী হয়েছে। ফটোশপ করা এক ছবির কারণে আমিও ভাইরাল হয়ে গেছি, যেখানে আমাকে সন্ত্রাসী বলা হয়েছে।”
কারা কোন উদ্দেশ্যে এই জালিয়াতি করেছেন, তা জানা যায়নি। তবে যুক্তরাজ্যের গার্ডিয়ান লিখেছে, ইন্টারনেটে ভিডিও গেইমিং কমিউনিটির এক বিতর্কের মধ্যে সমালোচনামূলক মন্তব্য করায় জুব্বালকে হেনস্থার শিকার হতে হয়েছে।
জুব্বাল টুইটে লিখেছেন, “আমি পাগড়িওয়ালা শিখ, থাকি কানাডায়। জীবনে কখনো প্যারিস যাইনি, অথচ মানুষ আমার সেলফি সম্পাদনা ও ফটোশপ করে এমন অবস্থায় নিয়ে গেছে যেন আমিই হামলার জন্য দায়ী।”
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
eCoxs Special
BNM Archive
- ► 2026 (1330)
- ► 2025 (3280)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (128)
- ► 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
-
▼
2015
(11541)
-
▼
November
(600)
-
▼
Nov 18
(12)
- ফ্রান্সে গণগ্রেফতার : ঘরে ঘরে তল্লাশি
- প্যারিস হামলাকারীকে আগেই হত্যার চেষ্টা করেছিল পশ্চ...
- কাঠমান্ডুতে কাঠ কিনতে শত শত লাইন
- অযোগ্যতাই সংলাপে বসার যোগ্যতা! by মিজানুর রহমান খান
- বৈরুতের জন্য দুই ফোঁটা by মশিউল আলম
- দুর্বল আইএসের বদলি কৌশল প্যারিস হামলা by আলী রীয়াজ
- আজ আমরাও আক্রান্ত by হাসান ফেরদৌস
- আইএসকে হারাতেই হবে by রজার কোহেন
- জন্মদিনের অনুষ্ঠানে যেভাবে হত্যা করা হয় ১১ বন্ধুকে
- লন্ডন কি প্যারিসের থেকে নিরাপদ?
- মুজাহিদের রিভিউ আবেদনের রায় বুধবার সাড়ে ১১টায়
- ভারতীয় শিখ হয়ে গেলো প্যারিস হামলাকারী
-
▼
Nov 18
(12)
-
▼
November
(600)
- ► 2014 (9799)
- ► 2013 (14877)
- ► 2012 (33842)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...











