Wednesday, April 14, 2010

পুলিশের ধর্ম ও অতি উৎসাহী পুলিশ by এ জেড এম আবদুলআলী

এ দেশের পুলিশ-দারোগাদের ধর্ম সম্পর্কে আমাদের অনেক কিছুই জানা আছে। হাতে গোনা কয়েকজন বাদে তাঁদের অনেকের বিরুদ্ধেই দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। তাঁরা দুর্জনকে পালন ও শিষ্টজনকে দমন করে থাকেন। এটাই তাঁদের ধর্ম। এর ব্যতিক্রম খুব বেশি একটা দেখা যায় না। বিসিএস পরীক্ষা দিয়ে যারা সরাসরি পুলিশ ক্যাডারে যোগ দেন তাঁরা এর কিছুটা ব্যতিক্রম। তবে, নিচের থেকে পদোন্নতি পাওয়া কর্মকর্তাদের সংস্পর্শে এসে এঁদের মধ্যে কিছু কর্মকর্তার অধঃপতনের খবরও আমাদের কানে মাঝে মাঝে আসে।
দিন কয়েক আগে খবরের কাগজে আমরা এক দারোগার অন্য রকমের ধর্মের কথা জানতে পেরেছি। তিনি মনে হচ্ছে, আক্ষরিক অর্থে ইসলাম ধর্মের একজন বড় খাদেম। ঘটনাটি এ রকম: রংপুরের একজন এএসপি এক সন্ধ্যায় সেখানে পার্ক চিড়িয়াখানা প্রভৃতি স্থানে হানা দিয়ে জনা বিশেক তরুণ-তরুণীকে গ্রেপ্তার করেন। গ্রেপ্তারকৃতদের অপরাধ, সেখানে মেয়েরা বোরকা না পরে উপস্থিত হয়েছিল আর সেই বোরকা না-পরা মেয়েদের সঙ্গে গল্প করছিল কয়েকজন ছেলে। এই অতি উৎসাহী দারোগার কথা পড়তে পড়তে ভাবছিলাম, উনি আসল কাজটি করেন কি না? অর্থাৎ চোর-ডাকাতের গ্রেপ্তারে কতটা উৎসাহী? যে উৎসাহ নিয়ে তিনি বোরকা না-পরা মেয়েদের পেছনে লাগেন, চোর-ডাকাতদের গ্রেপ্তারে তাঁর সে রকম উৎসাহ আছে কি?
দেশে হুজি, জেএমবি এবং প্রচ্ছন্ন তালেবানদের সবারই নজর হচ্ছে কীভাবে মেয়েদের শায়েস্তা করা যায়। এর ওপর আবার দারোগা সাহেবদেরও যদি একটা অতিরিক্ত ডিউটি হয় মেয়েদের বোরকা বা ঘোমটা পরানো তাহলে বেচারিদের অবস্থা কী হয় তা ভেবে দেখতে বলি পাঠকদের। ইতিপূর্বে আমরা দেখেছি, যখনই মার্শাল ল হয় তখনই রাস্তায় ছেলেদের বড় চুল কেটে দেওয়া এবং মেয়েদের মাথায় ঘোমটা দিতে বা বোরকা পরতে বাধ্য করার চেষ্টা শুরু হয়। তাদের চোখে ইসলাম মানেই হচ্ছে যত রকমভাবে সম্ভব মেয়েদের নিয়ন্ত্রণ করা। মেয়েদের এটা করতে হবে, মেয়েরা ওটা করতে পারবে না—এসব দেখাটাই যেন সে সময় সেনা, পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীর অনেকের একটা বড় কর্তব্য হয়ে দাঁড়ায়। বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশে এ রকমটি হবে তা আমরা কোনো দিন কল্পনা করতে পারিনি। অবশ্য এ কথাও ঠিক যে ১৯৭৫ সালের পনেরই আগস্টের পর যে বাংলাদেশ আমরা দেখছি তা একাত্তরে যে বাংলাদেশের জন্য এ দেশের আপামর জনতা লড়েছিল তার থেকে বেশ কিছুটা আলাদা। অধ্যাপক রেহমান সোবহান তাঁর জীবনের পঁচাত্তর বছর পূর্তিতে এক সাক্ষাৎকারে এ কথা যথার্থই বলেছেন।
তবে সব কথার শেষ কথা, যেভাবেই হোক নারীকে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। পাড়ার বখাটে তরুণ থেকে শুরু করে বাড়িতে স্বামী-শ্বশুর সবারই কাজ হচ্ছে মেয়েদের শায়েস্তা করা। একশ্রেণীর মৌলবি সাহেব সর্বদা বলে থাকেন যে মেয়েদের বেশির ভাগই মৃত্যুর পরে দোজখে স্থান পাবে। অতএব এ পৃথিবীতেই যাতে তাদের নরকযন্ত্রণা ভোগ করাটা অভ্যাস করতে হয় সেটা প্রত্যেকেরই দেখা উচিত। রংপুর শহরের পুলিশের এএসপিও সেই কাজটিকে তাঁর দায়িত্ব হিসেবে ধরে নিয়েছেন। দুঃখের বিষয়, তাঁর এই মহত্ কাজে বাদ সেধেছেন কিছু সাংবাদিক। দারোগা সাহেবের এই কর্মকাণ্ড খবরের কাগজে ছেপে দিয়ে এই সাংবাদিকেরা তাঁকে ইসলামের আদর্শ খাদেম হতে বাধা সৃষ্টি করেছেন। খবরটি দেখে ঢাকাতে কয়েকজন আইনজীবী হাইকোর্টে ওই দারোগার বিরুদ্ধে মামলা করে দেওয়াতে হাইকোর্ট থেকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে ওই কর্মকর্তাটিকে রংপুর থেকে প্রত্যাহার করতে। দারোগা সাহেবকে বলা হয়েছে, এপ্রিল মাসে একদিন হাইকোর্টের সামনে হাজির হতে।
সৌদি আরব, ইরান প্রভৃতি দেশে ধর্মের পুলিশ রয়েছে। তাদের কাজ হচ্ছে কেউ কোনো রকম কিছু করলে, তা যদি তাদের চোখে ইসলামবিরোধী মনে হয়, তবে তাকে বা তাদের শায়েস্তা করা। মনে হচ্ছে, এবার বাংলাদেশেও সে রকম কিছু পুলিশ-দারোগা এসে গেল। বলাবাহুল্য, তাদের নজর সব সময় নারীদের দিকেই থাকবে। এমনিতেই দেশে, বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলে, ফতোয়ার অত্যাচারে নারীদের জীবন অতিষ্ঠ হয়ে ওঠার উপক্রম, তার ওপর যদি রংপুরের এএসপি সাহেবের মতো কিছু পুলিশ শহরের দিকে নজর দেয় তাহলে দেশটি নারীদের জন্য নরক হয়ে ওঠার সম্ভাবনা রয়েছে। অতএব এখনই সাবধানতা অবলম্বন করা প্রয়োজন। আশা করি, আমাদের উচ্চ আদালত ওই দারোগা সাহেবকে উপযুক্ত শাস্তি দেবেন।
কাগজে দেখলাম, দিল্লিতে এক সভায় বক্তৃতা দিতে এসে একজন লেখক বলেছেন, বাংলাদেশ সরকারের উচিত হবে যথাযোগ্য নিরাপত্তা দিয়ে তসলিমা নাসরিনকে দেশে ফিরিয়ে নেওয়া। জানি না, বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট কারও নজরে এই খবরটি পড়েছে কি না। কে জানে হয়তো দেশের মানুষ ভাবছেন, এমনিতেই নানা সমস্যা, তার ওপর আবার তসলিমাকে নিয়ে ঝামেলা কে করবে? তথাকথিত ধর্মনিরপেক্ষ দেশে যদি এই অবস্থা হয় ইসলামিক রিপাবলিকগুলোতে কী হয় তা চিন্তা করতেই কষ্ট হয়।
ব্রাহ্মণবাড়িয়াতে আহমদিয়াদের বার্ষিক সম্মেলনে স্থানীয় খতমে নবুয়ত দল বাধা সৃষ্টি করাতে বেচারা আহমদিয়ারা পুলিশের শরণাপন্ন হয়েছিলেন। পুলিশ উল্টো আহমদিয়াদের সাতটি শর্তে তাদের বার্ষিক সম্মেলন করতে দিয়েছে। শর্তগুলো দেখলেই বোঝা যাবে সেগুলোর বেশির ভাগই মানবাধিকারবিরোধী। যাই হোক, সম্মেলনের দিন ওই সব শর্ত মেনে সম্মেলন করার চেষ্টা করলেও পুলিশের এক দারোগা গিয়ে তাঁদের শাসিয়েছে। তাদের অভ্যন্তরীণ মাইক বন্ধ করতে বাধ্য করেছে। তারা একটু ক্ষীণ আপত্তি করাতে দারোগা সাহেব বলেছেন, হয় তাঁর হুকুম মানবেন, না হয় তার ফলাফল ভোগ করবেন। ফলাফল, মানে হচ্ছে, ওই সব খতমে নবুয়তওয়ালাকে লেলিয়ে দেওয়া। এই শান্তিপ্রিয় মানুষগুলো আজ প্রায় এক শ বছর ধরে তাঁদের ধর্ম পালন করে আসছেন। এত দিন তাঁদের কোনো রকম অসুবিধা হয়নি। কিন্তু হঠাৎ করে বঙ্গবন্ধু হত্যার পর থেকে তারা প্রবল শক্তিশালী হয়ে উঠেছে। শান্তিপ্রিয় আহমদিয়াদের শায়েস্তা করা তাদের একটি বড় কর্তব্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। ইতিপূর্বে আহমদিয়াদের সমর্থনে লন্ডনের হাউস অব লর্ডসের সদস্য লর্ড এভবেরি দুবার ঢাকায় ঘুরে গেছেন। তিনি আহমদিয়াদের বক্সীবাজারের প্রধান কার্যালয়ে গিয়েছেন। তা ছাড়া বাংলাদেশে নিযুক্ত কয়েকজন বিদেশি রাষ্ট্রদূতও আহমদিয়াদের সমর্থনে এগিয়ে এসেছেন। কিন্তু এত সব সত্ত্বেও আহমদিয়াদের ওপর আক্রমণ ঠেকানো যাচ্ছে না। এর প্রধান কারণ হচ্ছে এই যে বাংলাদেশের পুলিশ বিভাগে কিছু সদস্য সৌদি আরব ও ইরানের মতো ধর্মের পুলিশ হয়ে উঠেছে। এই উৎসাহী দারোগাদের ঠেকাতে না পারলে আহমদিয়াদের নিস্তার নেই। নিস্তার পাবে না এ দেশের নারীসমাজও।
প্রবাসে বসবাসরত আমার দুই বন্ধু গত নির্বাচনের পর ঢাকাতে ঘুরে গিয়ে বলেছেন, নির্বাচনে জামায়াতীরা পরাজিত হলেও দেশে যেভাবে ধর্মীয় চরমপন্থীদের অব্যাহত তৎপরতা দেখা যাচ্ছে তাতে শঙ্কিত না হয়ে উপায় নেই। ওই দারোগাকে না হয় আপাতত কিছুদিনের জন্য বিরত রাখা গেল কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, ধর্মের নামে উগ্রতার হাত থেকে কে বাঁচাবেন আমাদের নারীসমাজকে, কে রক্ষা করবেন আমাদের দেশের নিরীহ ধর্মপ্রাণ আহমদিয়াদের।
এ জেড এম আবদুল আলী: অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা।

এ দায়িত্বহীনতার জবাব কী -ঢাবিতে পরীক্ষার ফল জট

পরীক্ষার ফল প্রকাশের দাবিতে ঢাকাবিশ্ববিদ্যালয়ের দুটি বিভাগের শিক্ষার্থীদের মিছিল ও ভাঙচুর করার ঘটনা দুঃখজনক হলেও এর জন্য তাঁদের দায়ী করা কঠিন। পত্রিকার প্রতিবেদন অনুযায়ী, আইন বিভাগের পরীক্ষার ফল আট মাস ও দর্শন বিভাগের সাড়ে চার মাস ধরে ঝুলে আছে। এ ব্যাপারে তাঁরা বিভাগীয় চেয়ারম্যান ও শিক্ষকদের কাছে একাধিকবার ধরনা দিয়েও কোনো প্রতিকার পাননি। ফল প্রকাশের দাবিতে শেষ পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে নামতে হয়েছে। এর জবাব কী?
শিক্ষকদের বলা হয় জাতির বিবেক। তাঁরাই দেশ ও জাতিকে সঠিক পথ দেখাবেন। এখন দেখা যাচ্ছে, দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠের শিক্ষকেরাও চরম দায়িত্বহীনতার পরিচয় দিয়েছেন।
যেখানে তিন মাসের মধ্যে পরীক্ষার ফল প্রকাশ করার বাধ্যবাধকতা আছে, সেখানে আট মাস ঝুলিয়ে রাখার কী যুক্তি থাকতে পারে? সময়মতো ফল প্রকাশ না হওয়ায় অনেক শিক্ষার্থী চলতি বছরের বিসিএস পরীক্ষায়ও অংশ নিতে পারছেন না। এ কারণে তাঁরা আরও ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। জবাবে কোনো কোনো শিক্ষক পরীক্ষার ফল প্রকাশে আরও বিলম্ব হবে বলে হুমকিও দিয়েছেন। এটি অগ্রহণযোগ্য। একটি অন্যায়কে ঢাকতে তাঁরা আরও অন্যায়ের আশ্রয় নিয়েছেন।
পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে যে কেবল পরীক্ষার ফল প্রকাশেই বিলম্ব হয় তা নয়, ভর্তি থেকে চূড়ান্ত—সব পরীক্ষার ক্ষেত্রেও একই ঘটনা ঘটছে। না হলে ২০০৪-০৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের অনেক আগেই পাস করে বেরিয়ে যাওয়ার কথা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পরীক্ষার ফল নিয়েও নানা কেলেঙ্কারি হয়েছে। অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার পরও অনেক ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এভাবে কোনো বিশ্ববিদ্যালয় চলতে পারে না। শিক্ষকেরা যদি ঠিকমতো ক্লাস না নেন, পরীক্ষা না নেন, ফল প্রকাশ না করেন তাহলে তাঁদের সেখানে থাকারই বা দরকার কী? অনেক শিক্ষক ক্যাম্পাস-বহির্ভূত কাজে ব্যস্ত থাকেন, বাইরের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে পরামর্শক হিসেবে কাজ করে থাকেন। কিন্তু তাঁরা শিক্ষার্থীদের বঞ্চিত করতে পারেন না।
আইন ও দর্শন বিভাগের পরীক্ষার ফল প্রকাশে কেন বিলম্ব হলো, সে ব্যাপারে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। যাঁরা এর জন্য দায়ী তাঁদের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে। কতিপয় শিক্ষকের খামখেয়ালি ও দায়িত্বহীনতার জন্য শত শত শিক্ষার্থীর শিক্ষাজীবন অনিশ্চিত হবে, তা চলতে পারে না। অবিলম্বে আইন ও দর্শন বিভাগের পরীক্ষার ফল প্রকাশে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য উপাচার্যের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।

কাচজিনস্কির শেষকৃত্য শনিবার

পোলান্ডের নিহত প্রেসিডেন্ট লেস কাচজিনস্কির শেষকৃত্য অনুষ্ঠিত হতে পারে আগামী শনিবার। গতকাল সোমবার দেশটির একটি পত্রিকা এ কথা জানায়। গত শনিবার রাশিয়ায় এক বিমান দুর্ঘটনায় স্ত্রী ও কয়েকজন শীর্ষ সহযোগীসহ কাচজিনস্কি প্রাণ হারান।
শীর্ষস্থানীয় পোলিশ দৈনিক গাজেটা ওয়াইবোরসজার ওয়েবসাইটে বলা হয়, আগামী শনিবার কাচজিনস্কির রাষ্ট্রীয় শেষকৃত্যানুষ্ঠান করার আশা করছে সরকার। পোলিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সিকোরস্কিকে উদ্ধৃত করে পত্রিকাটি জানায়, রুশ প্রেসিডেন্ট দিমিত্রি মেদভেদেভ শেষকৃত্যানুষ্ঠানে যোগ দিতে পারেন।
সাবেক প্রেসিডেন্টের সহযোগী এলজবিয়েটা জাকুবিয়াক বলেন, কাচজিনস্কির শেষকৃত্যানুষ্ঠান চলতে পারে দুই দিন। তিনি বলেন, ‘তবে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। সব মৃতদেহ পোল্যান্ডে পৌঁছার জন্য আমরা অপেক্ষা করছি।’
বর্তমান প্রেসিডেন্টের সহযোগী জাসেক সাসিন পোল্যান্ডের বার্তা সংস্থা পিএপিকে বলেন, শেষকৃত্যের পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনার জন্য প্রেসিডেন্ট কার্যালয়ের ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের কর্মকর্তারা বৈঠকে মিলিত হবেন।

আমাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা করা হলে রক্তস্রোত বয়ে যাবে: বাকিয়েভ

কিরগিজস্তানের প্রেসিডেন্ট কুরমানবেক বাকিয়েভ দেশটির আন্তর্বর্তী সরকারকে সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, তাঁকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা করা হলে রক্তের স্রোত বয়ে যাবে। তবে অন্তর্বর্তী সরকার বলেছে, বাকিয়েভকে অবশ্যই পদত্যাগ করতে হবে, তা না হলে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হবে।
বিরোধীদের বিক্ষোভের মুখে পালিয়ে যাওয়ার পর গতকাল সোমবার প্রথম জনসমক্ষে আসেন বাকিয়েভ। দেশের দক্ষিণাঞ্চলে নিজের গ্রাম তিয়েতে হাজার হাজার সমর্থকের উদ্দেশে ভাষণ দেন তিনি। এ সময় তিনি বিরোধীদের কঠোর সমালোচনা করেন এবং ক্ষমতা থেকে সরে দাঁড়াবেন না বলে স্পষ্ট জানিয়ে দেন।
ভাষণের পর বাকিয়েভ সাংবাদিকদের বলেন, ‘তাদের (অন্তর্বর্তী সরকার) আমাকে গ্রেপ্তার করতে দিন, আমাকে হত্যা করতে দিন। আমি মনে করি, তাঁরা যদি সে চেষ্টা করে, তাহলে রক্তের স্রোত বয়ে যাবে।’
রাজধানীর বিশকেকে নিজের কার্যালয়ের বাইরে বিক্ষোভকারীদের ওপর সেনাবাহিনীর গুলি এবং সরকারবিরোধী বিক্ষোভের পর গত মঙ্গলবার নিজের শক্ত ঘাঁটি দেশের দক্ষিণাঞ্চলে চলে যান বাকিয়েভ।
গতকাল নিজের গ্রামে সমাবেশে বক্তৃতায় বাকিয়েভ জানান, তিনি এখনো দেশের বৈধ প্রেসিডেন্ট। তবে রাজধানী ছেড়ে চলে যাওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আত্মগোপনে যাওয়ার কিছু কারণ ছিল। আপনারা জানেন, জোর করে ক্ষমতা দখল করা হয়েছে। আর সেটা শুরু হয় তালাস (উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর) থেকে এবং সবকিছুর জন্য আমাকেই দায়ী করা হচ্ছিল।’
বাকিয়েভ আরও বলেন, ‘আমিই প্রেসিডেন্ট। এ পদ থেকে আমাকে সরানোর ক্ষমতা বা অধিকার কারও নেই। এটা বিপ্লব নয়, জোর করে ক্ষমতা দখল।’
সম্ভাব্য আরও সহিংসতা ও রক্তক্ষয় এড়াতে শান্তিরক্ষী পাঠানোর জন্য জাতিসংঘের প্রতি আবারও আহ্বান জানান বাকিয়েভ।
তবে সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী রোজা ওতুনবায়েভের নেতৃত্বে গঠিত অন্তর্বর্তী সরকার জানিয়েছে, বাকিয়েভকে অবশ্যই পদত্যাগ করতে হবে। এ ছাড়া তাঁর বিরুদ্ধে গৃহযুদ্ধের উসকানি দেওয়ার অভিযোগ করেছে নতুন সরকার।
অন্তর্বর্তী সরকারের উপপ্রধান আলমাজবেক আতামবায়েভ বিশকেকে সাংবাদিকদের জানান, বাকিয়েভকে গ্রেপ্তার করার প্রস্তুতি নিচ্ছে সরকার। তবে তিনি স্থানীয় জনগণকে মানববর্ম হিসেবে ব্যবহার করছেন। এ জন্য রক্তপাত এড়াতে বিশেষ অভিযানের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। তবে অভিযানের বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাতে অস্বীকার করেন আতামবায়েভ।

সু চির হূদ্যন্ত্রের পরীক্ষা

হূদ্যন্ত্র পরীক্ষার জন্য মিয়ানমারের গণতন্ত্রপন্থী নেত্রী অং সান সু চিকে গত রোববার রাতে সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল। গতকাল সোমবার একজন সরকারি কর্মকর্তা এ কথা জানান।
হাসপাতালের কর্মীরা জানান, তাঁরা অং সান সু চিকে হেঁটে হাসপাতালে ঢুকতে ও বের হতে দেখেছেন। তবে তাঁর শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত কিছুই জানা যায়নি।
শান্তিতে নোবেল জয়ী ৬৪ বছর বয়সী সু চির হূদ্যন্ত্রে কোনো সমস্যা ছিল বলে এর আগে জানা ছিল না। কোন পরিস্থিতিতে দৃশ্যত অনির্ধারিত স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য তাঁকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে তাও পরিষ্কার নয়।
একজন সরকারি কর্মকর্তা জানান, গত রোববার রাত প্রায় নয়টার দিকে সু চিকে তাঁর লেক-পাড়ের বাড়ি থেকে ইয়াঙ্গুন জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। এর প্রায় ২০ মিনিট পর তাঁকে বাড়িতে ফেরত পাঠানো হয়।
ওই কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে সাংবাদিকের সঙ্গে কথা বলেছেন। কারণ গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলার জন্য তিনি দায়িত্বপ্রাপ্ত নন।
অং সান সু চির ওজন মাত্র ৪৫ কিলোগ্রাম। বেশ কয়েক বছর ধরেই তাঁর শারীরিক অবস্থা নাজুক। গত বছর পানিশূন্যতা ও নিম্ন রক্তচাপে ভুগছিলেন তিনি।
তাঁর ব্যক্তিগত চিকিৎসক তিন মায়ো উইন নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য ১ এপ্রিল তাঁর সঙ্গে দেখা করেছিলেন। আলট্রাসাউন্ড পরীক্ষার জন্য গত বৃহস্পতিবার আরও দুজন চিকিৎসককে সঙ্গে নিয়ে সু চির সঙ্গে আবারও সাক্ষাত্ করেন তিনি।
সু চির আইনজীবী ও দলীয় মুখপাত্র নিয়ান উইন বলেন, তিনি সু চির স্বাস্থ্যের অবস্থা সম্পর্কে জানেন না।

মিসরে ২ হাজার ৩০০ বছরের পুরোনো মমি আবিষ্কার

মিসরের প্রত্নতাত্ত্বিকেরা রাজধানী কায়রো থেকে ৩০০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্ব বাহারিয়া ওয়েসিস এলাকা থেকে দুই হাজার তিনশ বছরের পুরোনো একটি রোমান মমি আবিষ্কার করেছেন। মিসরের এন্টিকস্ কাউন্সিল গতকাল সোমবার এ কথা জানিয়েছে।
কাউন্সিলের প্রধান জাহি হাওয়াস বলেছেন, তাঁরা গ্রিসীয়-রোমান যুগের পাথরের শবাধারে রাখা মাত্র তিন ফুট লম্বা একটি মমিকৃত দেহ পেয়েছেন। মমিটিতে প্রাচীন রোমান আমলের নারীদের পোশাক পরানো। তাঁরা নিশ্চিত হয়েছেন, এটি অল্প বয়স্ক কোনো কিশোরী অথবা খর্বাকৃতি কোনো নারীর মমি।
মমি ছাড়াও সেখানে পৌরাণিক আকাশের দেবতা হোরাসের চার পুত্রের চিত্রখোদিত একটি সোনার পাতও পাওয়া গেছে।
কাউন্সিল থেকে বলা হয়েছে, একটি যুব কেন্দ্রের ভবন নির্মাণের জন্য মাটি খুঁড়তে গিয়ে ওই মমি ও প্রত্নসম্পদগুলো পাওয়া যায়।

পাকিস্তানে নিজের বই প্রকাশ করবেন যশবন্ত সিং

পাকিস্তানের জাতির জনক মোহাম্মদ আলি জিন্নাহকে নিয়ে লেখা নিজের বই প্রকাশ করতে পাকিস্তান যাচ্ছেন ভারতের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী যশবন্ত সিং।
জানা গেছে, জিন্নাহ, ইন্ডিয়া-পার্টিশন-ইনডিপেনডেনস নামের বইটি আনুষ্ঠানিকভাবে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে প্রকাশ হবে। ইসলামাবাদ ক্লাবে কাল ১৪ এপ্রিল বইটি প্রকাশ হওয়ার পর করাচি শহরেও বইটি প্রকাশ করবেন যশবন্ত সিং। পাকিস্তান ও ভারতের মধ্যে সম্পর্ক যতই তিক্ত হোক না কেন, দুই দেশের বইপ্রেমীদের ওপর তার কোনো প্রভাব নেই।

তৃতীয় বিয়ে করছেন ভারতের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শশী থারুর

আবার বিয়ে করছেন ভারতের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শশী থারুর (৫৪)। এটি হবে তার তৃতীয় বিয়ে। পাত্রীর নাম সুনন্দা। বাড়ি কাশ্মীরে। তিনি একজন প্রসাধনশিল্পী। থাকেন দুবাইয়ে। সেখানে একটি স্পা চালান তিনি। সুনন্দার সঙ্গে শশী থারুর প্রথম দেখা একটি সামাজিক অনুষ্ঠানে। প্রথম দেখাতেই দুজনের প্রেম। এবার এই দুজন সাতপাঁকে বাঁধতে চলেছেন।
শশী থারুর প্রথম বিয়ে করেছিলেন বাঙালি নারী তিলোত্তমা মুখোপাধ্যায়কে। কলকাতায় পড়াশোনার সময় শশীর সঙ্গে তিলোত্তমার সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এরপর বিয়ে। শিক্ষাবিদ তিলোত্তমার সঙ্গে সেই বিয়ে বেশি দিন স্থায়ী হয়নি।
এরপর শশী থারুর জাতিসংঘে উচ্চপদে কাজ করার সময় কানাডীয় তরুণী ক্রিস্টা জাইলসের সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়। তারপর প্রণয় থেকে পরিণয়। ক্রিস্টা তখন জাতিসংঘের নিরস্ত্রীকরণ-সম্পর্কিত একটি গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করতেন। এখনো শশীর সঙ্গে রয়েছেন ক্রিস্টা। তবে সম্পর্কে ফাটল ধরেছে। শশী চাইছেন ক্রিস্টার সঙ্গে বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটাতে। সেই প্রক্রিয়াই চলছে। এই বিয়ে বিচ্ছেদের পর শশী থারুর বিয়ে করবেন সুনন্দাকে।

পাওনা দাবি করে জ্যাকসনের বিরুদ্ধে মামলা

রয়াত পপসম্রাট মাইকেল জ্যাকসনের কাছ থেকে চার কোটি ৪০ লাখ ডলার পাওনা দাবি করে তাঁর সাবেক প্রচারণা কর্মীর দায়ের করা একটি মামলার খবর পাওয়া গেছে। সাবেক প্রচারণাকর্মী ও ব্যবস্থাপক রেমনি বেইন পপসম্রাটের মৃত্যুর কিছু দিন আগে ওই মামলা করেছিলেন।
টিএমজেড ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তথ্য থেকে জানা যায়, ২০০৮ সালে জ্যাকসনের সঙ্গে কাজ করা ছেড়ে দেন বেইন। পপসম্রাটের সাবেক এই প্রচারণাকর্মী দাবি করেন, ওই বছরে জ্যাকসনের কাছ থেকে তিনি কোনো পাওনা পাননি। গত বছরের ২৫ জুন জ্যাকসন মারা যাওয়ার কয়েক দিন আগে এ ব্যাপারে মামলা করেন বেইন।
এর আগে জ্যাকসনের কাছে পাওনা দাবি করে মামলা করেন তাঁর ত্বকের চিকিৎসক আরনল্ড ক্লেইন এবং গণমাধ্যম ও যোগাযোগ পরামর্শক ভ্যান এফ আলেকজান্ডার।

৮৪ কেজি ওজনের গুরু গ্রন্থসাহেব

মালয়েশিয়ার যশবন্ত সিং খোসা চতুর্থবারের মতো নিজের হাতে শিখদের ধর্মীয় পুস্তক গুরু গ্রন্থসাহেব লিখেছেন। এটিই হবে পৃথিবীর সবচেয়ে বড় এবং ভারী গুরু গ্রন্থ সাহেব। হাতে লেখা নতুন গুরু গ্রন্থসাহেব-এর ওজন ৮৪ কেজি। ৯১ দশমিক ৪৪ সেন্টিমিটার লম্বা এবং ৬৬ দশমিক ০৪ সেন্টিমিটার চওড়া বইটিতে পৃষ্ঠা সংখ্যা এক হাজার ৪৩০।
২০০৪ সালে খোসার হাতে লেখা দ্বিতীয় গুরু গ্রন্থসাহেব মালয়েশিয়ায় সবচেয়ে বড় ও ভারী বইয়ের রেকর্ড গড়েছিল। ওই বইটির ওজন ছিল ৪৫ কেজি। আকারে ৭৬ দশমিক ২ সেন্টিমিটার লম্বা ও প্রস্থে ৪৮ দশমিক ২৬ সেন্টিমিটার। চতুর্থটি লিখে নিজের আগের রেকর্ড ভাঙলেন ৭৩ বছর বয়সী খোসা।
খোসা বলেন, ভালোবাসা থেকেই এত পরিশ্রম। নতুন বইটি খুললে লম্বা হবে ১৮২ দশমিক ৯ সেন্টিমিটার। প্রতিদিন ১৪ ঘণ্টা করে ১৪ মাসে তিনি এটি লিখেছেন। নতুন বইটি যুক্তরাষ্ট্রের একটি শিখমন্দিরে দান করে দিয়েছেন বলে জানান খোসা।
খোসার লেখা দ্বিতীয় গুরু গ্রন্থসাহেব আছে অমৃতসরের একটি মন্দিরে। তৃতীয় বইটির আকার-আকৃতিও দ্বিতীয় বইটির মতো। ২০০৭ সালে সেটি তিনি দান করেন কানাডার একটি মন্দিরে। আর হাতে লেখা প্রথম বইটি ১৯৯৮ সালে দিয়ে দেন লন্ডনের একটি শিখমন্দিরে। চারটি বই-ই ঐতিহ্যবাহী গুরমুখি লিপিতে লেখা।
বর্তমানে গুরু গ্রন্থসাহেব-এর বেশির ভাগ কপিই প্রিন্ট করা।
খোসা বলেন, ‘বইগুলো খ্যাতি লাভের জন্য আমি লিখিনি। কেউ কেউ আমাকে ৭০ লাখ রুপি পর্যন্ত দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিল, কিন্তু আমি রাজি হইনি।

ভারতীয় কোম্পানির সঙ্গে পাসপোর্ট ছাপার চুক্তি বাতিল করছে নেপাল

পাসপোর্ট ছাপার জন্য ভারতের রাষ্ট্রায়ত্ত কোম্পানির সঙ্গে করা চুক্তি বাতিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নেপালের সরকার। গতকাল সোমবার নেপালের প্রধানমন্ত্রীর মুখপাত্র বিষ্ণু রিজাল এ কথা বলেন। এর আগে এ চুক্তি করার জন্য বিরোধীদের তীব্র সামালোচনার মুখে পড়েছিল সরকার। বিরোধী দলগুলো অভিযোগ করে আসছিল, নয়াদিল্লির চাপের কারণে এ চুক্তি করেছে নেপাল সরকার।
বিষ্ণু রিজাল বলেন, সরকার পার্লামেন্টারি কমিটির পরামর্শ গ্রহণ এবং পাসপোর্ট ছাপানোর জন্য উন্মুক্ত দরপত্র আহ্বানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর আগে মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর যোগাযোগমন্ত্রী ও সরকারের মুখপাত্র শংকর পোখারেল বলেন, ইন্ডিয়ান সিকিউরিটি প্রেস থেকে পাসপোর্ট ছাপানোর সিদ্ধান্ত বাতিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।
নেপালের সুপ্রিম কোর্ট এ চুক্তি স্থগিত এবং চুক্তি করার কারণ ব্যাখ্যা করতে প্রধানমন্ত্রী মাধব কুমার নেপাল ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুজাতা কৈরালার প্রতি সমন জারি করার চার দিন পর এই সিদ্ধান্ত নিল সরকার। সম্প্রতি যন্ত্রে পাঠযোগ্য পাসপোর্ট ছাপানোর জন্য দ্বিপক্ষীয় আলোচনার ভিত্তিতে ভারতীয় পক্ষের সঙ্গে চুক্তি করে নেপাল

তিব্বতে আরেকটি বিমানবন্দর তৈরি করছে চীন

তিব্বতে আরেকটি বেসামরিক বিমানবন্দর তৈরি করছে চীন। হিমালয় পর্বতমালার মাউন্ট এভারেস্টের কাছাকাছি এই বিমানবন্দরটির নাম দেওয়া হয়েছে ‘শান্তি বিমানবন্দর’। আগামী অক্টোবর মাসে এটি চালু হবে বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
তিব্বতের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর সিগাজে নির্মাণ করা হচ্ছে বিমানবন্দরটি। ওই শহরে প্রাচীন অনেকগুলো মন্দির আছে। এ ছাড়া এভারেস্টও এখান থেকে কাছে। নতুন বিমানবন্দর নির্মাণের ফলে ওই এলাকায় পর্যটকদের যাওয়া-আসায় সুবিধা হবে।
চীনের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের তিব্বত শাখার প্রধান জু বো জানিয়েছেন, বিমানবন্দরটির নির্মাণকাজ শুরু হয় গত বছরের এপ্রিল থেকে এবং শেষ হবে আগামী সেপ্টেম্বর মাসে। অক্টোবর থেকে এটি সচল হবে। নির্মাণে খরচ হচ্ছে সাত কোটি ১০ লাখ মার্কিন ডলার। ২০২০ সাল নাগাদ এ বিমানবন্দর দিয়ে বছরে দুই লাখ ৩০ হাজার যাত্রী এবং দুই হাজার ৫৮০টি বিমান ওঠানামা করতে পারবে।
তবে এই বিমানবন্দর নির্মাণের পেছনে শুধু যে পর্যটনের উদ্দেশ্য আছে তা নয়। এর মাধ্যমে তিব্বতের ওপর চীনের নিয়ন্ত্রণ জোরদার হবে এবং খুব সহজে তারা ভারতীয় সীমান্তে পৌঁছে যেতে পারবে।
শান্তি বিমানবন্দর হবে চীনের পঞ্চম বেসামরিক বিমানবন্দর। বাকি চারটি আছে লাসা, কামদো, নিয়াংচি এবং এনগারিতে।

পার্লামেন্ট ভেঙে দেওয়া উচিত: সেনাপ্রধান

থাইল্যান্ডের সেনাপ্রধান জেনারেল অনুপং প্রচিন্দা সংকট নিরসনে পার্লামেন্ট ভেঙে দেওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেছেন। তাঁর এ মন্তব্যের পর প্রধানমন্ত্রী অভিজিত্ ভেজ্জাজিভা বলেছেন, লাল শার্ট পরা বিক্ষোভকারীদের টানা আন্দোলনের মুখে তাঁর সরকার এবং সেনাবাহিনী এখনো ঐক্যবদ্ধ অবস্থানে রয়েছে। তাঁদের মধ্যে কোনো বিভেদ সৃষ্টি হয়নি। গতকাল সোমবার এক টেলিভিশন ভাষণে তিনি এ কথা বলেন। বিক্ষোভকারীদের ওপর দমন-পীড়ন বন্ধ করে গণতান্ত্রিক উপায়ে সমস্যার সমাধান করতে থাইল্যান্ডের শিক্ষাবিদ ও বুদ্ধিজীবীরা সরকারের কাছে এক লিখিত আবেদন জানিয়েছেন। অন্যদিকে, বিক্ষোভকারীরা গতকাল লাশসহ কফিন নিয়ে ব্যাংককে বিক্ষোভ করেছে। খবর এএফপি ও বিবিসি অনলাইনের।
সেনাপ্রধান অনুপং প্রচিন্দা গতকাল বলেন, সরকারের অনড় অবস্থানের কারণে সেনাবাহিনীতে মতদ্বৈধতার সৃষ্টি হচ্ছে। এ কারণে পার্লামেন্ট ভেঙে দেওয়া উচিত।
এদিকে টেলিভিশনে জাতির উদ্দেশে দেওয়া এক ভাষণে প্রধানমন্ত্রী ভেজ্জাভিজা বলেন, আন্দোলনকারীদের মধ্যে ‘সন্ত্রাসীরা’ মিশে গিয়ে দেশে নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে চাইছে। তিনি বলেন, শনিবারের হতাহতের ঘটনার নেপথ্যে ‘সন্ত্রাসীদের’ হাত রয়েছে। সরকার নিরপরাধ আন্দোলনকারী ও ‘সন্ত্রাসীদের’ আলাদা করার চেষ্টা করছে।
তিনি আরও বলেন, সরকার ও সেনাবাহিনীর মধ্যে কোনো বিভেদ সৃষ্টি হয়নি। তারা এখনো ঐক্যবদ্ধ রয়েছে।
এদিকে, বিক্ষোভকারীরা গতকালও ব্যাংককের রাজপথে আন্দোলন করেছে। তারা শনিবারের ঘটনায় নিহত দুই ব্যক্তির লাশসহ কফিন ও অনেকগুলো খালি কফিন নিয়ে বিক্ষোভ করেছে।
বিক্ষোভকারীদের নেতা জতুপ্রন প্রমপ্যান বিক্ষোভমঞ্চ থেকে সমর্থকদের উদ্দেশে বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী অভিজিত্ বিক্ষোভকারীদের রক্তে হাত রঞ্জিত করেছেন। তাঁর মতো ‘খুনির’ সঙ্গে তাঁদের আর আলোচনা করার অবকাশ নেই।
তবে গতকাল নিরাপত্তা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে গতকাল নতুন কোনো সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেনি। বিক্ষোভকারীদের বন্ধ করে দেওয়া রেল ও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সড়কপথ গতকাল খুলে দেওয়া হয়েছে।
ব্যাংকক থেকে প্রকাশিত কয়েকটি সংবাদপত্র বলেছে, ক্ষমতাসীন জোট সরকারের শরিক দলের কয়েকজন নেতা প্রধানমন্ত্রী ভেজ্জাভিজাকে আগামী ছয় মাসের মধ্যে নির্বাচন দেওয়ার ঘোষণা দিতে চাপ দিচ্ছেন।
এর আগে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে বৈঠককালে প্রধানমন্ত্রী এ বছরের শেষে নির্বাচন দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছিলেন।
এদিকে, ব্যাংককের বেশ কয়েকজন শিক্ষাবিদ ও বুদ্ধিজীবী গতকাল প্রধানমন্ত্রী ও সেনাপ্রধানকে দমন-পীড়ন বন্ধ করে গণতান্ত্রিক উপায়ে সমস্যার সমাধান করতে আহ্বান জানিয়ে চিঠি দিয়েছেন। চিঠির অনুলিপি আসিয়ানভুক্তসহ অন্য বেশ কয়েকটি দেশের সরকারের কাছেও পাঠানো হয়েছে।

আয়ারল্যান্ডে এমআই৫ সদর দপ্তরের কাছে গাড়িবোমা বিস্ফোরণ

উত্তর আয়ারল্যান্ডে ব্রিটেনের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা সংস্থা এমআই৫-এর সদর দপ্তরের কাছে গত রোববার গভীর রাতে একটি গাড়িবোমা বিস্ফোরিত হয়েছে। তবে এতে কেউ নিহত বা মারাত্মক আহত হয়নি বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশের এক মুখপাত্র বলেন, প্যালেস ব্যারাকসের পেছনে একটি গাড়িতে এ বিস্ফোরণ ঘটে। এতে কেউ গুরুতর আহত হয়েছে বলে জানা যায়নি। তবে অপর এক কর্মকর্তা জানান, একজন প্রবীণ ব্যক্তিকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। বিস্ফোরণে তাঁর পা বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে।
বেলফাস্টের শহরতলিতে অবস্থিত ‘প্যালেস ব্যারাকস’ নামের ভবনটি একসময় ব্রিটিশ আর্মির ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহূত হতো। এখন এটি এমআই৫-এর উত্তর আয়ারল্যান্ড শাখার সদর দপ্তর। সংস্থার কয়েক শ কর্মকর্তা-কর্মচারী এখানে কাজ করেন।
নিরাপত্তা সংস্থাগুলো জানিয়েছে, ছিনতাই করা একটি ট্যাক্সিতে বিস্ফোরণটি ঘটে। ট্যাক্সিটি প্যালেস ব্যারাকসের পেছন দিয়ে যাচ্ছিল। বিস্ফোরণের সঙ্গে সঙ্গে চালক ট্যাক্সি থেকে লাফিয়ে পড়েন।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী আশপাশের কয়েকটি বাড়ি খালি করে দিয়েছে। বাড়িগুলোর বাসিন্দাদের স্থানীয় একটি কমিউনিটি সেন্টারে নিয়ে রাখা হয়।
প্রদেশটিতে ক্ষমতা ভাগাভাগি করে গঠিত প্রশাসন ৩৮ বছর পর গতকাল পুলিশ বাহিনী ও বিচারব্যবস্থার ওপর নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করে। এর কয়েক মিনিট পরই বেলফাস্টে বিস্ফোরণটি ঘটে।

যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে জাতিসংঘে অভিযোগ করবে ইরান

যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে জাতিসংঘে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ দায়ের করতে যাচ্ছে ইরান। সম্প্রতি ঘোষিত মার্কিন পরমাণুনীতিতে বলা হয়, যেসব দেশের কাছে পরমাণু অস্ত্র নেই, সেসব দেশের বিরুদ্ধে তা ব্যবহার করা হবে না। কিন্তু ওই সব দেশের তালিকা থেকে ইরানকে বাদ দেওয়ায় তেহরান এ অভিযোগ দায়ের করতে যাচ্ছে। গত রোববার ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ কথা জানায়।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন মুখপাত্র বলেন, প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার ইরানের বিরুদ্ধে পরমাণু অস্ত্র ব্যবহারের প্রচ্ছন্ন হুমকি ‘বিশ্ব শান্তি ও নিরাপত্তার প্রতি হুমকি।’ ইরানের আধাসরকারি বার্তা সংস্থা ফার্স এ কথা জানায়।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রমিন মেহমানপারাস্ত গত রোববার বলেন, ইরানের সংসদের ২৯০ জন সদস্যের মধ্যে ২৫০ জনই যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে অভিযোগ করার এই পদক্ষেপকে সমর্থন করবেন বলে জানিয়েছেন। এর আগে ইরানের ২৯০ আসনের পার্লামেন্টের ২২২ জন সদস্য অভিযোগ দায়েরের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।
কয়েক দিন আগে প্রেসিডেন্ট ওবামা তাঁর প্রশাসনের নতুন পরমাণুনীতি ঘোষণা করেন। ওই নীতিতে যেসব দেশের পরমাণু অস্ত্র নেই, সেসব দেশের বিরুদ্ধে পরমাণু অস্ত্র ব্যবহার না করার অঙ্গীকার করা হয়েছে।
যদিও ইরান ও উত্তর কোরিয়াকে সুনির্দিষ্টভাবে ওই প্রতিশ্রুতির বাইরে রাখা হয়েছে। কারণ ওয়াশিংটনের অভিযোগ, দেশ দুটো পরমাণু অস্ত্রের বিস্তার নিয়ন্ত্রণের ব্যাপারে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে সহযোগিতা করছে না।
যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের অভিযোগ, ইরান পরমাণু অস্ত্র তৈরির চেষ্টা করছে, কিন্তু তেহরান বরাবরই ওই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। ইরানের দাবি তাদের পরমাণু কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ ব্যবহারের জন্য।
এদিকে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন গত রোববার সংবাদবিষয়ক একটি অনুষ্ঠানে বলেছেন, পরমাণু প্রযুক্তিতে ইরানের অগ্রগতির দাবিকে গুরুত্ব দেওয়া উচিত।
গত শুক্রবার ইরানের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আহমাদিনেজাদ তৃতীয় প্রজন্মের সেন্ট্রিফিউজ উদ্বোধন করেন, যা ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচির গতি ত্বরান্বিত করার কাজে ব্যবহার করা হতে পারে।
পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য জ্বালানি তৈরি করতে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করা হয়।

পরমাণু অস্ত্র সংগ্রহের চেষ্টা চালাচ্ছে আল-কায়েদা: ওবামা

মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসী সংগঠন আল-কায়েদা পরমাণু অস্ত্র সংগ্রহের চেষ্টায় আছে। এ অস্ত্র আল-কায়েদার হাতে গেলে, তারা তা যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ব্যবহার করতে কুণ্ঠা বোধ করবে না। তিনি বলেছেন, আল-কায়েদার মতো সন্ত্রাসী সংগঠনের হাতে পরমাণু অস্ত্র চলে গেলে তা যুক্তরাষ্ট্রের স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তার জন্য বড় ধরনের হুমকি হয়ে দাঁড়াবে। হোয়াইট হাউসে দুই দিনব্যাপী পরমাণু সম্মেলন শুরু হওয়ার এক দিন আগে গত রোববার প্রেসিডেন্ট ওবামা এ কথা বলেন। পরমাণু অস্ত্রের বিস্তার ও অপব্যবহার রোধের উপায় খুঁজতে প্রায় ৪৭টি দেশের নেতারা গতকাল সোমবার দুই দিনব্যাপী সম্মেলনে যোগ দিয়েছেন। গত ৬৫ বছরে এই প্রথমবারের মতো কোনো মার্কিন প্রেসিডেন্টের সভাপতিত্বে এ ধরনের সম্মেলন হচ্ছে। খবর এএফপি ও বিবিসি অনলাইনের।
হোয়াইট হাউসের কর্মকর্তারা বলেছেন, প্রেসিডেন্ট ওবামা আগামী চার বছরের মধ্যে বিশ্বের সব অরক্ষিত পরমাণু অস্ত্র ও এর কাঁচামাল নিয়ন্ত্রণে আনার যে প্রত্যয় ঘোষণা করেছেন, সম্মেলনে তিনি সে ব্যাপারে বিশ্বনেতাদের সহযোগিতা চাইবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
গত রোববার সম্মেলনে আসা বিশ্বনেতাদের মধ্য থেকে মুষ্টিমেয় কয়েকজনের সঙ্গে ওবামা বৈঠক করেছেন। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইউসুফ রাজা গিলানি, দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট জ্যাকব জুমা ও কাজাখস্তানের প্রেসিডেন্ট নুরসুলতান নাজারবায়েভ। হোয়াইট হাউসের ব্লেয়ার হাউসে তাঁদের সবার সঙ্গে ওবামা বৈঠক করেন।
ভারতের প্রধানমন্ত্রী মনমোহনের সঙ্গে বৈঠকের সময় মনমোহন ওবামাকে পাকিস্তানের ওপর সন্ত্রাসবাদ নিয়ন্ত্রণে আরও বেশি চাপ দেওয়ার অনুরোধ করেন। বিশেষ করে, ২০০৮ সালের মুম্বাই হামলার সঙ্গে জড়িতদের বিষয়ে পাকিস্তানকে কঠোর হওয়ার ব্যাপারে চাপ দিতে তিনি প্রেসিডেন্ট ওবামাকে অনুরোধ জানান।
গত রোববার সন্ধ্যায় পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইউসুফ রাজা গিলানির সঙ্গে বৈঠকে ওবামা বলেন, পাকিস্তান তাঁর প্রিয় দেশগুলোর একটি। কলেজজীবনে তিনি সে দেশে বেড়াতে গিয়েছিলেন। ওবামা বলেন, দক্ষিণ এশিয়ায় উগ্রপন্থীদের উত্থান ঠেকাতে যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম সহযোগী দেশ হিসেবে পাকিস্তান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। কয়েক দিন আগে পেশোয়ারে মার্কিন কনস্যুলেটে হামলার পর পাকিস্তানের নেওয়া নিরাপত্তাব্যবস্থা ও তৎপরতারও প্রশংসা করেন ওবামা।
তাঁদের সঙ্গে বৈঠক শেষে ওবামা সাংবাদিকদের বলেন, পরমাণু-সন্ত্রাস এমন এক ভয়াবহ বিষয়, যা রাতারাতি যুক্তরাষ্ট্র এমনকি সারা পৃথিবীর নিরাপত্তাব্যবস্থাকে তছনছ করে দিতে পারে।
ওবামা বলেন, যদি কখনো নিউইয়র্ক সিটি অথবা লন্ডন অথবা জোহানেসবার্গে পরমাণু বোমার বিস্ফোরণ ঘটে তাহলে অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও নিরাপত্তার দিক থেকে সারা পৃথিবীর সার্বিক ব্যবস্থাপনায় মহা বিপর্যয় নেমে আসবে।
ওবামা বলেন, ‘আমরা জানি, আল-কায়েদার মতো সন্ত্রাসী সংগঠনগুলো পরমাণু অস্ত্র হস্তগত করার চেষ্টা করছে। এটা হাতে পেয়ে গেলে তা ব্যবহার করতে তারা এতটুকুও পিছপা হবে না। কিন্তু দুঃখের বিষয়, পৃথিবীতে এখনো অনেক পরমাণুসামগ্রী নিয়ন্ত্রণহীনভাবে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে। এসব ছড়ানো-ছিটানো পরমাণুসামগ্রীকে কীভাবে নিয়ন্ত্রণাধীন করা যায়, এ সম্মেলনে তারই উপায় খোঁজা হবে।’
কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, শীতলযুদ্ধের অবসানের পর কাজাখস্তান সোভিয়েত আমলের পরমাণু অস্ত্র হস্তান্তর করলেও এখনো সে দেশ নিজেদের শীর্ষস্থানীয় ইউরেনিয়াম রপ্তানিকারক বলে দাবি করে থাকে। এ দৃষ্টিকোণ থেকে ওবামা কাজাখ প্রেসিডেন্ট নাজারবায়েভের সঙ্গে পরমাণু ইস্যুতে আলোচনা করেছেন

যুক্তরাষ্ট্র-চীন সম্পর্কে নতুন গতি এলেও অর্থনৈতিক দূরত্ব আগের মতোই

ওয়াশিংটন ও বেইজিংয়ের মধ্যে চলতে থাকা শীতল সম্পর্কে এবার উষ্ণতার ছোঁয়া লেগেছে। ওয়াশিংটনে অনুষ্ঠিত দুই দিনের পরমাণু নিরাপত্তা সম্মেলনে অংশ নিতে চীনের প্রেসিডেন্ট হু জিনতাও এখন যুক্তরাষ্ট্রে আছেন। সম্মেলনের ফাঁকে গতকাল সোমবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ও হু জিনতাও বৈঠকও করেছেন। রাজনৈতিক বিষয়ে উভয় দেশের মধ্যে সম্পর্কের বরফ গলার আভাস মিললেও অর্থনৈতিক বিষয়ে এখনো কোনো সুরাহা হয়নি।
বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র-চীন সম্পর্কের ক্ষেত্রে ওবামা-হু জিনতাওয়ের মধ্যকার এ বৈঠক একটা গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। বিগত দিনগুলোতে দুই দেশের মধ্যে যে ধরনের তিক্ততাপূর্ণ সম্পর্ক বিরাজ করছিল, এ বৈঠকের মধ্য দিয়ে সে পরিস্থিতির উত্তরণ ঘটেছে। এ বৈঠক উভয় দেশের মধ্যে সম্পর্ক উন্নয়ন ঘটাবে ও ভবিষ্যতে পারস্পরিক সহযোগিতার ক্ষেত্র তৈরি করবে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ওই বৈঠকে ইরান ও উত্তর কোরিয়ার পরমাণু কর্মসূচি, যুক্তরাষ্ট্র-চীন বাণিজ্য বিতর্ক, সামরিক সহযোগিতা ইত্যাদি বিষয় প্রাধান্য পেয়েছে এবং ভবিষ্যতে উভয় দেশ আরও বন্ধুত্বপূর্ণভাবে কীভাবে কাজ করতে পারে, তা স্থান পেয়েছে।
সাম্প্রতিক সময়ে তাইওয়ানের কাছে যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র বিক্রি, দালাই লামার সঙ্গে ওবামার বৈঠক, ডলারের বিপরীতে চীনের মুদ্রার বর্তমান বিনিময় হার বিতর্ক, চীনের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের তীব্র সমালোচনা প্রভৃতি বিষয়কে কেন্দ্র করে চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সম্পর্কের চরম অবনতি ঘটে। হোয়াইট হাউসে ওবামার আগমনের পর মনে করা হচ্ছিল, চীন-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কে নতুন মোড় নেবে। কিন্তু ওবামার বিভিন্ন পদক্ষেপ চীনকে হতাশ করেছে। সর্বশেষ চীনের মুদ্রার বিনিময় হার নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চীনের তিক্ততা বৃদ্ধি পায়। যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ, চীন কৃত্রিমভাবে তাদের মুদ্রার বিনিময় হার কমিয়ে রেখেছে। যুক্তরাষ্ট্র মুদ্রার বিনিময় হার কৃত্রিমভাবে কমিয়ে রাখার কারসাজিসংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন প্রকাশেরও ঘোষণা দেয় এবং চীনকে এ-সংক্রান্ত কালো তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করারও ইঙ্গিত দেয়।
যুক্তরাষ্ট্র-চীন সম্পর্কে এতটাই চির ধরেছিল যে ওয়াশিংটনে পরমাণু নিরাপত্তা সম্মেলনে চীনের অংশগ্রহণ নিয়ে সংশয় দেখা দেয়। তবে এপ্রিলের শুরুতেই নাটকীয়ভাবে যুক্তরাষ্ট্র-চীন সম্পর্কে উন্নতির আভাস পাওয়া যায়। ১ এপ্রিল বেইজিং ঘোষণা করে, প্রেসিডেন্ট হু জিনতাও ওয়াশিংটনের পরমাণু নিরাপত্তা সম্মেলনে অংশ নেবেন। বেইজিংয়ের ওই ঘোষণার পরই ওয়াশিংটন বলছে, তারা মুদ্রাবিনিময় হার কারসাজিসংক্রান্ত প্রতিবেদনটি কিছুটা পরে প্রকাশ করবে। যুক্তরাষ্ট্র চীনকে আশ্বস্ত করে বলেছে, ওয়াশিংটন চীনের স্বার্থের পক্ষেই আছে।
১ এপ্রিল হু জিনতাওয়ের সঙ্গে ওবামার টেলিফোন আলাপও হয়েছে। ওই আলাপে ওবামা ইরানের পরমাণু কর্মসূচির বিষয়ে তাদের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে চীনের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন। বিভিন্ন রাজনৈতিক বিষয়ে চীনের ইতিবাচক মনোভাব লক্ষ করা গেলেও মুদ্রার বিনিময় হার পুনর্মূল্যায়নের বিষয়টিতে তারা এখনো সম্মত হয়নি। তবে বিশ্লেষকেরা বলছেন, অর্থনৈতিক বিরোধগুলোও হয়তো মিটে যাবে। কেননা, এর আগে বিভিন্ন সময়ে চীন যুক্তরাষ্ট্রের পণ্যের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করার হুমকি দিলেও এ পর্যন্ত সে রকম কোনো পদক্ষেপ তারা নেয়নি। হু জিনতাও তাঁর এ সফরে তাঁদের মুদ্রার বিনিময় হার পুনর্মূল্যায়ন করা ও অন্য অমীমাংসিত অর্থনৈতিক বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করবেন।
বিশ্লেষক জে জে অনজের মতে, ‘চীনের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক একটা ওঠানামা প্রক্রিয়ার মধ্যে আছে।’ বিশ্লেষকেরা বলছেন, চীনা মুদ্রার বিনিময় হার পুনর্মূল্যায়ন এবং ইরান ও উত্তর কোরিয়ার পরমাণু বিষয়ে চীন যদি যুক্তরাষ্ট্রকে সমর্থন করে, তাহলে দুই দেশের মধ্যে একটা ভালো সম্পর্ক তৈরির পথ প্রশস্ত হবে। তবে এটা খুব একটা সহজ হবে না।
দুই দেশের সম্পর্ক উন্নয়ন-প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে হু জিনতাও এ বছরের শেষের দিকে আবার যুক্তরাষ্ট্র সফরে যেতে পারেন। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রবার্ট গেটসও এ বছর চীন সফরে যেতে পারেন। বিশ্লেষকেরা বলছেন, অন্তত এ বিষয়গুলো পর্যবেক্ষণ করে বলা যায়, উভয় দেশের মধ্যে চলমান তিক্ততা কমেছে এবং উভয় পক্ষই ভালো কিছু প্রত্যাশা করছে।

কুয়ালালামপুর দাবা

কুয়ালালামপুর দাবায় ১১তম হয়েছেন বাংলাদেশের গ্র্যান্ডমাস্টার জিয়াউর রহমান। আরেক গ্র্যান্ডমাস্টার নিয়াজ মোরশেদ হয়েছেন ১৪তম। নয় খেলায় দুজনই পেয়েছেন ৬ পয়েন্ট। কাল শেষ রাউন্ডে জিয়া ড্র করলেও হেরে গেছেন নিয়াজ। সাড়ে ৭ পয়েন্ট নিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন চীনের গ্র্যান্ডমাস্টার হো ইয়েফান।

ঢাবি আন্তহল ব্যাডমিন্টন ও টিটি

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আন্তহল ব্যাডমিন্টনে ছাত্রদের বিভাগে সূর্য সেন হল ছাত্রীদের বিভাগে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে রোকেয়া হল। আন্তহল টেবিল টেনিসে ছাত্রদের বিভাগে চ্যাম্পিয়ন শহীদুল্লাহ হল ও ছাত্রীদের চ্যাম্পিয়ন বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হল। খেলা শেষে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক।

সেমির সম্ভাবনা জিইয়ে রাখল ডেকান

তাঁর হাতে যখন বল, কে একজন গ্যালারিতে মেলে ধরলেন একটা প্ল্যাকার্ড, তাতে লেখা—সিং ইজ কিং! তেমন নামী কেউ না হলেও হরমিত সিংই শেষ পর্যন্ত ডেকান চার্জার্সের জয়ের নায়ক হয়ে উঠলেন। শেষ দুই ওভারে হাতের চার উইকেটে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর দরকার যখন ১৮ রান, তখনই হরমিত সিং ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিলেন ১৯তম ওভারের প্রথম দুই বলে দুই ব্যাটসম্যানকে আউট করে। ১৫১ রানের পুঁজি নিয়েও ডেকান চার্জার্স ১৩ রানে হারাল বেঙ্গালুরুকে (১৩৮)।
এটি ডেকানের ষষ্ঠ জয় আর বেঙ্গালুরুর ষষ্ঠ পরাজয়। এই জয়ে সেমিফাইনালের আশা জিইয়ে রইল গত আসরের চ্যাম্পিয়ন ডেকান চার্জার্সের। ওয়েবসাইট।
সংক্ষিপ্ত স্কোর: ডেকান চার্জার্স: ২০ ওভারে ১৫১/৬ (রোহিত শর্মা ৫১, মিশ্র ৪১; স্টেইন ৩/১৮)। রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু: ১৯.৪ ওভারে ১৩৮ (দ্রাবিড় ৪৯, উথাপ্পা ৩৪, ক্যালিস ২৭; রুদ্র প্রতাপ ২/২১, ওঝা ২/২২, হরমিত ২/২৪, হ্যারিস ২/৩৪)।

মহিলা ক্লাব কাপ ক্রিকেট

মেয়েদের ক্লাব কাপ ক্রিকেটে জয় দিয়ে শুরু হয়েছে মোহামেডানের। গুলশান ইয়ুথ ক্লাব মাঠে কাল উদ্বোধনী ম্যাচে তারা ৬ উইকেটে হারিয়েছে বিকেএসপিকে।
মোহামেডানের বোলারদের দাপটে ৩২.৩ ওভারে ৭৪ রানেই অলআউট বিকেএসপি। ওপেনার রোজিনা আক্তার করেছেন সর্বোচ্চ ১৮ রান। মোহামেডানের শুকতারা ও রুমানা নিয়েছেন ২টি করে উইকেট। ইতি, তাজিয়া, সালমা ও পাপিয়া পেয়েছেন ১টি করে। জবাবে ২২.৫ ওভারে ৪ উইকেট হারিয়ে এই রান টপকে যায় মোহামেডান। বোলিংয়ে সফল রোমানা ব্যাট হাতে করেছেন সর্বোচ্চ অপরাজিত ৩১ রান।
গুলশান ইয়ুথ ক্লাব ও ধানমন্ডি ক্রিকেট স্টেডিয়ামে দুই গ্রুপে খেলছে ৮টি দল। ‘এ’ গ্রুপে মোহামেডান, ওয়ান্ডারার্স, ইন্দিরা রোড ও বিকেএসপি। ‘বি’ গ্রুপে আবাহনী, আনসার ও ভিডিপি, কলাবাগান ও আজাদ স্পোর্টিং। ফাইনাল আগামী ২৫ এপ্রিল।

ফিজিও হেনরির ফ্ল্যাটে আগুন

ঘণ্টাখানেকের জন্য শপিংয়ে গিয়েছিলেন বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের ফিজিও মাইকেল হেনরি। শপিং শেষে ফ্ল্যাটে ফিরে দরজা খুলতেই দেখলেন ভয়াবহ দৃশ্য। ঘরের মধ্যে ধোঁয়ার কুণ্ডলী। গনগনে তাপে এক পা ভেতরে ঢোকাও মুশকিল। একটু ধাতস্থ হতেই দেখলেন আগুনে পুড়ে সব ছাই। টেলিভিশন, রেফ্রিজারেটর, এয়ারকন্ডিশনার থেকে শুরু করে নিত্যব্যবহার্য জিনিসপত্র—পুড়ে গেছে সবই!
পরশু দুপুরে ভয়াবহ এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে হেনরির গুলশানের ফ্ল্যাটে। এয়ারকন্ডিশনারের প্লাগ পয়েন্ট পুড়ে গিয়েই আগুনের উৎপত্তি বলে অনুমান হেনরির। হেনরির ভাষ্য, পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ ছিল যে, আগুন নেভানোর জন্য ফায়ার ব্রিগেডকে পর্যন্ত ডাকতে হয়েছে, ‘ফায়ার ব্রিগেড এসে আগুন নিভিয়েছে। সবকিছু পুড়ে গেছে আমার। টেলিভিশন-ল্যাপটপ থেকে শুরু করে জামা-কাপড়ও। ঘরের দেয়াল কালো হয়ে গেছে, ফ্লোরের টাইলস পর্যন্ত ফেটে গেছে।’ কাল বিসিবি অফিসে অগ্নিকাণ্ডের বর্ণনা দিতে দিতে গায়ের টি-শার্টটা দেখিয়ে হেনরি বললেন, ‘এই যে টি-শার্টটা দেখছেন, এটাও জেমির (কোচ জেমি সিডন্স)। আমি এখন ওর ফ্ল্যাটেই আশ্রয় নিয়েছি।’
একই অ্যাপার্টমেন্টে সিডন্স থাকেন হেনরির ঠিক ওপরের ফ্ল্যাটে। অগ্নিকাণ্ডের তিনিও সাক্ষী, ‘আমি তখন বাচ্চার দেখভাল করছিলাম। হঠাৎ হেনরির ফোন। আগুন দেখে আমাকেই প্রথম ফোনটা করে ও। বলে, ঘরে আগুন লেগেছে। আগুনের উত্তাপ এতটাই বেশি ছিল যে, আমার ফ্লোরও গরম হয়ে উঠেছিল।’
আগুনে ঠিক কত টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে সেটা সঠিক বলতে পারলেন না হেনরি। কারণটা সহজ, জামা-কাপড় ছাড়া আর যেসব নিত্যব্যবহার্য জিনিস পুড়েছে, তার সবই যে বিসিবির সম্পত্তি! চুক্তি অনুযায়ীই বিদেশি কোচিং স্টাফরা প্রয়োজনীয় সব জিনিসে সজ্জিত ফ্ল্যাট পেয়ে থাকেন বিসিবির কাছ থেকে।

উডসের বিবর্ণ ফেরা

টানটান নিরাপত্তা আর মহা উত্তেজনা নিয়ে শুরু হয়েছিল ২০১০ মাস্টার্স টুর্নামেন্ট বা ইউএস মাস্টার্স। কিন্তু বড়ই নীরবে, নিভৃতে শেষ হয়ে গেল আসরটা।
উত্তেজনা বলুন আর বিশেষ নিরাপত্তা; সবকিছুর কারণ ছিল যে টাইগার উডসের প্রত্যাবর্তন। বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের কেলেঙ্কারিতে টানা পাঁচ মাসেরও বেশি গলফ কোর্সের বাইরে থাকা উডস ফিরলেন এই টুর্নামেন্ট দিয়ে।
কিন্তু ওই ফেরা পর্যন্তই। ১৫তম পেশাদার মেজর চ্যাম্পিয়নশিপটা জিততে পারেননি। শেষ দিনে দুর্দান্ত খেলে নিজের চতুর্থ মেজর চ্যাম্পিয়নশিপ জিতে নিলেন উডসের স্বদেশি ফিল মাইকেলসন। মাইকেলসনের এটি তৃতীয় ইউএস মাস্টার্স শিরোপাও বটে।
ইউএস মাস্টার্স শিরোপাজয়ীকে এক বছরের জন্য বিশেষ একটি সবুজ জ্যাকেট দেওয়া হয়। ক্যারিয়ারে চারবার এই জ্যাকেট পেয়েছেন উডস। এবার পঞ্চমবারের মতো জ্যাকেটটি গায়ে জড়াতে কোর্সে নেমেছিলেন উডস। কিন্তু দক্ষিণ কোরিয়ার কে জে চোইয়ের সঙ্গে যৌথভাবে চতুর্থ স্থান নিয়ে সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছে উডসকে।
উডসের নিজেরই মনে হচ্ছে খুবই খারাপ খেলেছেন এই টুর্নামেন্টে, ‘আমি টুর্নামেন্টটা জিততে চেয়েছিলাম। শুধু জিততেই এই টুর্নামেন্টে অংশ নিয়েছিলাম। সেটা পারিনি। ভালোভাবে বল মারতে পারিনি এবং অনেক ভুল করেছি।’

আসছে দক্ষিণ আফ্রিকা ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ ‘এ’ দল

বাংলাদেশ ‘এ’ দলের জন্য ব্যস্ত সূচিই অপেক্ষা করছে সামনে। বাংলাদেশে আসছে দক্ষিণ আফ্রিকা ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ ‘এ’ দল।
দক্ষিণ আফ্রিকা ‘এ’ দল আসছে ২০ এপ্রিল। ২২ ও ২৮ এপ্রিল থেকে মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ ‘এ’ দলের বিপক্ষে দুটি চার দিনের ম্যাচ খেলবে তারা। এর পর ৪ মে থেকে একই মাঠে শুরু হবে বাংলাদেশ, দক্ষিণ আফ্রিকা ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ ‘এ’ দলের মধ্যে তিন জাতি সিরিজ। ডাবল লিগ পদ্ধতির এই সিরিজ শেষে ১৬ ও ২২ মে থেকে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ‘এ’ দলের বিপক্ষে দুটি চার দিনের ম্যাচ খেলবে বাংলাদেশ ‘এ’ দল। প্রথম ম্যাচটি হবে বগুড়ায়, পরেরটি বিকেএসপিতে। ওয়েস্ট ইন্ডিজের দলটি ঢাকায় আসবে ২ মে।

ইন্টারকে সরিয়ে শীর্ষে রোমা

স্কুডেট্টোটাকে একরকম নিজেদের সম্পত্তিই বানিয়ে ফেলেছে ইন্টার মিলান। ইতালিয়ান সিরি ‘আ’তে গত চারবারের চ্যাম্পিয়নরা এবারও বীরদর্পেই এগিয়ে যাচ্ছিল শিরোপার দিকে। কিন্তু গত পরশু ছয় মাস পর পয়েন্ট তালিকার শীর্ষস্থান থেকে ইন্টারকে ছিটকে ফেলল এএস রোমা। আটালান্টার বিপক্ষে ২-১ গোলে জিতে শীর্ষে এখন রোমের দলটিই, সর্বশেষ স্কুডেট্টো জয়ের স্মৃতি রোমন্থন করতে যাদের ফিরে যেতে হয় নয় বছর পেছনে। ৩৩ ম্যাচে রোমার পয়েন্ট ৬৮, ইন্টারের ৬৭।
আগের দিন ইন্টার ফিওরেন্টিনা থেকে ড্র করে ফেরার পরই জাগে সম্ভাবনাটা। রোমা সেটিকে বাস্তবে রূপ দিতে পেরেছে মির্কো ভুচিনিচ ও মার্কো কাসেত্তির কল্যাণে। ২৭ মিনিটের মধ্যে তাদের দেওয়া দুটি গোলে এগিয়ে গিয়েছিল রোমা। ৫৩ মিনিটে টিরিবোচ্চি একটা গোল অবশ্য শোধ দেন। ম্যাচ বাকি মাত্র ৫টি করে, রোমার কোচ ক্লদিও রানিয়েরি তাই শিরোপার সুবাস পেতে শুরু করেছেন, ‘এত দিন স্কুডেট্টো জয়টা অনেক কিছুর ওপর নির্ভর করছিল। এখন এটা আমাদের হাতেই।’
হাতের কাজটা করতে পারেনি লিওনার্দো-রোনালদিনহোর দল। নিজেদের মাঠে কাতানিয়ার বিপক্ষে ২-২ গোলে ড্র করে শিরোপা লড়াইয়ে পেছনে পড়ে গেছে এসি মিলান। ৩৩ ম্যাচে ৬৪ পয়েন্ট নিয়ে মিলান তৃতীয় স্থানেই থাকল। এর পরও লিওনার্দোর খুশিই হওয়ার কথা। প্রথমার্ধেই দুই গোলে পিছিয়ে পড়ার পরও বরিয়েল্লোর জোড়া গোলে ড্র নিয়ে মাঠ ছাড়তে পারাও তো কম কথা নয়।

যেভাবে বদলে গেল চেলসি

ঠিক যেন ৬৯-এর উল্টে যাওয়া। ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড আর চেলসির ভাগ্যের চাকাটা ঠিক এভাবেই ঘুরে গেল। তিন সপ্তাহ আগে মনে হচ্ছিল ম্যানইউ সবই পেতে চলেছে, আর চেলসি যাচ্ছে সব হারাতে। আর এখন ঠিক উল্টো। চ্যাম্পিয়নস লিগের শিরোপা-স্বপ্ন তো শেষ হয়েছেই, লিগেও ম্যানইউর দুর্দিন। ওদিকে উজ্জ্বল হয়ে উঠেছে চেলসির ‘ডাবল’ জয়ের আশা।
ইন্টার মিলানের কাছে হেরে চ্যাম্পিয়নস লিগের দ্বিতীয় রাউন্ড থেকেই বিদায় নিয়েছে চেলসি। পরের সপ্তাহে ব্ল্যাকবার্নের সঙ্গে ১-১ গোলের ড্র তাদের পেছনে ঠেলে দিয়েছিল প্রিমিয়ার লিগের শিরোপা লড়াই থেকেও। ম্যানইউ তখন এগিয়ে চলছিল দুর্দান্ত গতিতে। দারুণ খেলে উঠেছিল চ্যাম্পিয়নস লিগের শেষ আটে।
ম্যানইউর ভাগ্যের চাকা উল্টো ঘুরতে শুরু করে এর পর থেকেই। চ্যাম্পিয়নস লিগের কোয়ার্টার ফাইনালের প্রথম লেগে বায়ার্নের কাছে হেরে যাওয়ার পর দ্বিতীয় লেগে জয় পেয়েও লাভ হয়নি। প্রতিপক্ষের মাঠে বেশি গোল করার সুবাদে সেমিফাইনালে উঠে গেছে বায়ার্ন। এই দুই ম্যাচের মাঝে প্রিমিয়ার লিগে চেলসির কাছে নিজেদের মাঠে হেরেছে অ্যালেক্স ফার্গুসনের দল। আর পরশু গোলশূন্য ড্র করল সেই ব্ল্যাকবার্নের সঙ্গে, যারা ড্র উপহার দিয়েছিল চেলসিকেও।
কেন হঠাৎ এমন মেঘে ঢেকে গেল ম্যানইউয়ের আকাশ? কোচ অ্যালেক্স ফার্গুসন দায় চাপাচ্ছেন দুর্ভাগ্যের কাঁধে! ‘আমরা আসলে দুর্ভাগ্যের শিকার। চোট-আঘাতই আমাদের পেছনে ঠেলে দিয়েছে’—বলেছেন তিনি। বায়ার্নের বিপক্ষে ম্যাচে আবার চোট পেয়েছেন দলের সেরা খেলোয়াড় ওয়েইন রুনি। আর পরশু ব্ল্যাকবার্নের বিপক্ষে আহত হয়ে বাইরে ছিটকে পড়েছে রিও ফার্ডিনান্ড, জন ও’শেয়া ও রায়ান গিগসকে। সব মিলিয়ে ফার্গুসনও হতাশাটা গোপন করতে পারছেন না, ‘শিরোপাটা দূরে সরে যাচ্ছে আমাদের কাছ থেকে। এসব ম্যাচে (ব্ল্যাকবার্নের বিপক্ষে ম্যাচ) ভালো ফল না পেলে তো শিরোপা দূরে সরে যাবেই।’
ম্যানইউ-চেলসি দুদলেরই আর চারটি করে ম্যাচ বাকি। এ সময়ে এসে কার্যত ৪ পয়েন্ট পিছিয়ে পড়লে শিরোপার আশা ছেড়েই দিতে হবে! ৩৪ ম্যাচে ম্যানইউর পয়েন্ট ৭৩। এক ম্যাচ কম খেলে চেলসির ৭৪। আজ নিজেদের মাঠে বোল্টনের বিপক্ষে জিতলেই পয়েন্টের ব্যবধান হয়ে যাবে ৪।
ম্যানইউর বিবর্ণ হয়ে পড়ার একটা ব্যাখ্যা তো দিলেন ফার্গুসন, কিন্তু চেলসির হঠাৎ এই রং বদলের রহস্য কী? অধিনায়ক জন টেরির কথা অনুযায়ী একটি ‘সংকটকালীন সভা’ই বদলে দিয়েছে চেলসিকে। ব্ল্যাকবার্নের বিপক্ষে ড্রয়ের পর কোচ কার্লো আনচেলত্তি তাঁর কোচিং সহযোগী এবং খেলোয়াড়দের নিয়ে বসেছিলেন ঘুরে দাঁড়ানোর উপায় খুঁজতে। ওই সভাটিকেই এখন ধন্যবাদ দিচ্ছেন টেরি, ‘খুব বেশি নয়, অল্প সময়ের জন্যই আমরা একসঙ্গে বসেছিলাম। কিন্তু সেই থেকেই আমরা ভালো খেলছি আর প্রচুর গোলও করছি।’
ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে লড়াই আছে আরও একটি—চতুর্থ হয়ে চ্যাম্পিয়নস লিগে নাম লেখানো। পরশু ফুলহামের সঙ্গে গোলশূন্য ড্র করায় এ লড়াই থেকে অনেকটাই ছিটকে পড়েছে লিভারপুল। ওনুওহা ও আদেবায়োরের জোড়া গোলের সঙ্গে কার্লোস তেভেজের গোল মিলিয়ে বার্মিংহামকে ৫-১ ব্যবধানে হারিয়ে চার নম্বরে এখন ম্যানচেস্টার সিটি (৩৩ ম্যাচে ৬২)। এ লড়াইয়ে ম্যান সিটির নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী টটেনহাম (৩২ ম্যাচে ৫৮)। ৩৪ ম্যাচে ৫৬ পয়েন্ট নিয়ে সামনে অন্তহীন অন্ধকারই দেখছে বেনিতেজের দল

‘মেসিকে থামাতে মেশিনগান লাগবে’

মুখের ধার আর পায়ের দক্ষতার জন্য তাঁর ডাকনাম হয়ে গিয়েছিল ‘দ্য ড্যাগার’। ১৯৯৪ বিশ্বকাপে বুলগেরিয়ার হয়ে তাঁর পারফরম্যান্স দেখে ইতালির কোচ আরিগো সাচ্চি বলেছিলেন, তাঁকে থামাতে বন্দুক লাগবে।
বার্সেলোনার ‘ড্রিম টিমের’ সদস্য সেই রিস্টো স্টইচকভ মেসির প্রশংসা করতে টেনে আনলেন সেই স্মৃতি, ‘একসময় লোকে বলত, আমাকে থামাতে পিস্তল লাগবে। ওকে (মেসিকে) থামাতে তো দেখছি মেশিনগান লাগবে!’
১৯৯৪ বিশ্বকাপে বুলগেরিয়াকে সেমিফাইনালে তোলায় বড় ভূমিকা ছিল তাঁর। ক্রুইফের বার্সেলোনায় রোমারিওর সঙ্গে গড়েছিলেন দুর্দান্ত এক স্ট্রাইকিং জুটি। তবে লোকে স্টইচকভকে বেশি মনে রেখেছে তাঁর সোজাসাপটা কথার জন্য। বার্সেলোনায় থাকতেই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী রিয়াল সম্পর্কে সব সময়ই মনের কথা খুলে বলেছেন। যার বেশির ভাগই যে প্রীতিকর ছিল না বলা বাহুল্য।
সর্বশেষ এল ক্লাসিকোয় বার্সেলোনার জয়ে আবার মুখ খুলে গেছে স্টইচকভের, ‘এই খেলা নিয়ে আর কী মন্তব্য করব? একদল গাধার মতো বলে লাথি মারল, আরেক দল ফুটবল খেলল। টাকা দিয়ে ফুটবল হয় না। রিয়ালের কয়েক শ মিলিয়ন ডলারেও একটা গোল হলো না।’
স্টইচকভ যাদের, বিশেষত যার প্রশংসায় এত কথা বলছেন, সেই লিওনেল মেসি কিন্তু যথারীতি বিনয়ী। তিনি বরং বলছেন, বার্সা ২-০ গোলে জিতলেও খেলাটা ‘ক্লোজ’ ছিল। বার্সা জিতেছে সুযোগ কাজে লাগাতে পেরেছে বলে।
স্টইচকভের মতো কথাবার্তা তো বলছেনই না। বরং মেসি সবাইকে মনে করিয়ে দিয়েছেন, লিগ শিরোপা এখনো অনেক দূরের পথ, ‘এতে (রিয়ালের বিপক্ষে জয়ে) আমরা কি লিগ জিতে গেছি? এখনো অনেক খেলা বাকি। এখনো কয়েকটা কঠিন অ্যাওয়ে ম্যাচ বাকি আছে। তবে এটা ঠিক, এই জয়ে আমরা খুব বড় এবং গুরুত্বপূর্ণ একটা ধাপ এগিয়ে গেলাম।’
বার্সেলোনাকে শুধু লিগ নিয়ে ভাবলে চলছে না। সামনেই চ্যাম্পিয়নস লিগ সেমিফাইনাল। ইন্টার মিলানের বাধা পেরোতে পারলে বার্সা আবার ফিরে আসবে বার্নাব্যুতে, চ্যাম্পিয়নস লিগ ফাইনাল খেলার জন্য। যতই সন্ন্যাসীসুলভ নিরাসক্ত ভাব দেখান না কেন, টানা দ্বিতীয় চ্যাম্পিয়নস লিগ ফাইনালের জন্য মুখিয়ে আছেন মেসিও, ‘আমাদের অবশ্যই ধীরে এবং ধাপে ধাপে এগোতে হবে। কারণ এখনো সাতটা লিগ ম্যাচ বাকি। হ্যাঁ, চ্যাম্পিয়নস লিগে আবার এখানে ফেরার সম্ভাবনা আছে। আর তা হলে অসাধারণই হবে।’

এমসিসির প্রথম

এই প্রথম কোনো আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার স্পনসর করতে যাচ্ছে ক্রিকেটের আদি সংস্থা মেরিলিবোন ক্রিকেট ক্লাব (এমসিসি)। নিরপেক্ষ ভেন্যু ইংল্যান্ডে অনুষ্ঠেয় অস্ট্রেলিয়া ও পাকিস্তানের মধ্যকার টি-টোয়েন্টি আর টেস্ট সিরিজের স্পনসর হচ্ছে এমসিসি। মূল উদ্দেশ্য ক্রিকেটের চেতনাকে তুলে ধরার আহ্বান জানানো।

বড় জয়েই ফাইনালে মোহামেডান

বিদেশি খেলোয়াড় ছাড়াই মাঠে নামল মোহামেডান। সেমিফাইনালের জন্য সোনালী ব্যাংক উড়িয়ে আনল দুই পাকিস্তানি খেলোয়াড় ওয়াসিফ সিদ্দিক ও ওসামাকে। কিন্তু তার পরও একতরফা একটা ম্যাচই হলো। কাল ঢাকা ব্যাংক ক্লাব হকির সেমিফাইনালে মোহামেডানের কাছে ৮-১ গোলে উড়ে গেল সোনালী ব্যাংক।
২টি করে গোল করেছেন মামুনুর রহমান (চয়ন) ও রাহুল রায়। রাসেল মাহমুদ (জিমি), কামরুজ্জামান (রানা), সাব্বির হোসেন (রানা) ও খোন্দকার হানিফের গোল ১টি করে। সোনালী ব্যাংকের একমাত্র গোলটি রিমনের। ১৬ এপ্রিল ফাইনালে আজ আবাহনী ও ঊষার মধ্যকার দ্বিতীয় সেমিফাইনালে জয়ী দলের মুখোমুখি হবে মোহামেডান।
শক্তির বিচারে মোহামেডান সোনালী ব্যাংকের চেয়ে অনেক এগিয়ে। কিন্তু জয়টা এত মসৃণ হবে সেটা হয়তো মোহামেডান সমর্থকদের অনেকেই ভাবেনি। ম্যাচ শেষে সোনালী ব্যাংকের অধিনায়ক আশিকুজ্জামানও বললেন একই কথা, ‘এত বড় ব্যবধানে হারব ভাবিনি। তবে হকিতে এমন হতেই পারে।’
পুরো ম্যাচেই ছিল মোহামেডানের আধিপত্য। রাসেল মাহমুদ গোল করেছেন একটি, কিন্তু করিয়েছেন আরও চারটি। সোনালী ব্যাংকের পাকিস্তানি খেলোয়াড় ওয়াসিফের কাছ থেকে দৃষ্টিনন্দন স্টিকওয়ার্কই আশা করেছিল মেরেকেটে শ-তিনেক দর্শক। কিন্তু গত দক্ষিণ এশীয় গেমসে পাকিস্তানের হয়ে সর্বোচ্চ ১১ গোল করা এই স্ট্রাইকার কাল পুরো ব্যর্থ। এমনকি পেনাল্টি কর্নার থেকে বল থামাতে পর্যন্ত পারেননি এই স্ট্রাইকার। ম্যাচ শেষে অবশ্য তিনি হারের জন্য দুষলেন সতীর্থদের, ‘অন্য খেলোয়াড়দের কাছ থেকে সেভাবে সমর্থন পাইনি আমি।’

তামিমের শট আবারও খুঁজে পেল নাফিসকে

এ নিয়ে দ্বিতীয়বার ঘটল এমন। বছর তিনেক আগে মিরপুরের ইনডোরে প্র্যাকটিসের সময় তামিম ইকবালের শটে চোখের পাশে আঘাত পেয়ে অস্ত্রোপচারের টেবিলে যেতে হয়েছিল বড় ভাই নাফিস ইকবালকে। এবার ঘটনা অস্ত্রোপচারের টেবিল পর্যন্ত না গড়ালেও তামিমের শটে আবারও আহত হয়েছেন নাফিস।
এবারের ঘটনা ম্যাচে। কাল সকালে মিরপুরে এনসিএল টি-টোয়েন্টির ম্যাচে সুলতানস অব চিটাগংয়ের অলক কাপালির বলে জোরে ড্রাইভ করেছিলেন তামিম। বলটা সোজা গিয়ে আঘাত করে নন-স্ট্রাইকার নাফিসের ঠিক কপালে। ভাগ্য ভালো, হেলমেট পরা ছিলেন নাফিস। তার পরও আঘাত পাওয়ার পর থেকে অস্বস্তি বোধ করায় জাতীয় দলের ফিজিও মাইকেল হেনরির পরামর্শে হাসপাতালে গিয়ে সিটি স্ক্যান করান তিনি। স্ক্যান রিপোর্টে কোনো সমস্যা ধরা না পড়লেও চিকিৎসকেরা তাঁকে কমপক্ষে ২৪ ঘণ্টা কিছু লক্ষণের ব্যাপারে খেয়াল রাখতে বলেছেন। ‘ডাক্তার বলেছেন, এসব ক্ষেত্রে অনেক সময় পরেও রক্তক্ষরণ হয়। আমাকে তাই ২৪ ঘণ্টা পর্যবেক্ষণে থাকতে বলা হয়েছে’—বলেছেন নাফিস। বমি ভাব, শ্বাসকষ্ট বা চোখের দৃষ্টি ঝাপসা হয়ে এলে নাফিসকে সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসকের কাছে যেতে বলা হয়েছে।
কাল রাত পর্যন্ত অবশ্য এই তিন লক্ষণের কোনোটাই অনুভব করেননি নাফিস। তার পরও আজ কিংস অব খুলনার বিপক্ষে তাই নাফিসের না খেলার সম্ভাবনাই বেশি।

বিশাল জয়েও দুশ্চিন্তা ব্যাটিং

চারদিকে সবুজের সমারোহ। টিলা কেটে ছবির মতো ফুলে ফুলে সাজানো সব। এই নন্দনকাননের পরিবেশটাই মুগ্ধ করে দেবে আপনাকে। ক্রিকেটে মন বসানোই দায়।
নাঈম ইসলাম, ফয়সাল হোসেনদের আর দোষ কী! প্রথমজন ২ বল, পরের জন মাত্র এক বল খেলেছেন। এই দুজনসহ বাংলাদেশ দলের আরও কয়েকজনের ব্যাটিং দেখে মনে হলো এখানকার সৌন্দর্যে ভালোই মজেছেন। উইকেটে গেলেন আর এলেন, প্রতিপক্ষ ফিল্ডারকে ক্যাচ অনুশীলন করিয়ে।
প্রতিপক্ষ মালয়েশিয়া বলে রক্ষা! নইলে এশিয়ান গেমসে প্রথম ঢোকা ক্রিকেটে মেয়েদের ক্রিকেটে রুপা এলেও, ছেলেদের ক্রিকেটে ব্রোঞ্জও মিলত না। এসব অলক্ষুনে কথার এখন আর অবশ্য কোনো মানে হয় না। নিজেরা ৭ উইকেটে ১৫০ রান করার পর মালয়েশিয়াকে শেষ ওভারে ৮০ রানে অলআউট করেছে। টি-টোয়েন্টিতে ৭০ রানের বিশাল জয়—তবু বড় হয়ে উঠছে বাংলাদেশ দলের ব্যাটিংই।
আগামীকাল সেমিফাইনালে বাংলাদেশের সম্ভাব্য প্রতিপক্ষ শ্রীলঙ্কা। ফাইনালে উঠলে সম্ভাব্য পাকিস্তান। সোনা জেতার পথটা কঠিনই। কাল শুরুটা ভালো করার পরও মাঝপথে খেই হারিয়ে ফেলা বাংলাদেশের ব্যাটিং নিয়ে চিন্তিত দেখাল কোচ সারোয়ার ইমরানকে, ‘সামনের ম্যাচের জন্য চিন্তার কারণ হয়ে থাকল এই ব্যাটিং।’
গুয়াংজু স্টেডিয়ামটা এখানকার সবচেয়ে বড় বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে। কাল সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের হাজার দুয়েক ছাত্রছাত্রী স্টেডিয়ামে হাজির। এই জনতার কোনো পক্ষপাত নেই, রান হলেই উল্লাস। আউট হলেও তাই। আর প্রতি রানের পর পরই মাইকে তা বলে দেওয়া হয়। একজন চীনা ভাষায়, অন্যজন চীনা ইংরেজিতে। বাংলাদেশ নামটা তাদের কাছে বাংলাদেশ নয়, ‘বানজালাদেশ’। কখনো কখনো গ্যালারির এক কোনা হয়ে উঠল মিরপুরের গ্যালারি! স্থানীয় শ খানেক বাংলাদেশি পতাকা নিয়ে হইচই করে খেলা দেখল।
এই জনতাকে নাজিম-মিঠুন উদ্বোধনী জুটি ভালোই আনন্দ দিল। ৫.১ ওভারে ৪৭ রান করে তাঁরা বিচ্ছিন্ন। এরপরই মড়ক, বাংলাদেশ ১১ ওভারে ৮২/৫! মিঠুন ৩৫ বলে সর্বোচ্চ ৩৯, নাজিম ১৪ বলে ২০। বল হাতে ৫ রানে ৩ উইকেট নেওয়ার আগে আশরাফুল পরিস্থিতির দাবি মেনে ৩০ বলে করেছেন ২৯—একেবারেই টি-টোয়েন্টির আমেজহীন ব্যাটিং। ১১তম ওভারে তো তিন উইকেট নেই! ফয়সাল, নাঈম, মিঠুন আউট। বুঝুন কী অবস্থা!
মালয়েশিয়ার ব্যাটিং ঢাকা-গুয়াংজু হেঁটে রওনা দেওয়ার মতো ব্যাপার ছিল। এদের বেশির ভাগেরই ফিটনেস নেই। অনেকের শরীরেই মেদ জমেছে। দেখলে ক্রিকেটার মনে হবে না। আবার কুস্তিগির বললে একটু বেশিই বলা হয়ে যায়, তবে টি-টোয়েন্টির মতো গতিময় ক্রিকেটে মালয়েশিয়ানরা তাল মেলানোর উপযুক্ত নয় বলেই রায় দেওয়া যায়। এক ওভারে তিনটিসহ মোট ৪টি উইকেট নিয়ে ব্যতিক্রম একজন—মোহাম্মদ ইউসফ।
ম্যাচ শেষে মিক্সড জোনে দুই দলের ৮-১০ জন খেলোয়াড় এক লাইনে দাঁড়িয়ে কথা বলতে এলেন। সবার চেয়ে বেশি ভিড় আশরাফুলের সামনে। বাংলাদেশ অধিনায়ক বলে গেলেন, ‘উইকেটটা আমরা বুঝিনি। একটু স্লো। এই উইকেটে আমরা ড্রাইভ খেলতে গেছি বেশি। এটা ঠিক হয়নি। এ জন্যই উইকেট বিলাতে হয়েছে। অনুশীলন উইকেটও ভালো ছিল না।’
ম্যাচের পর ছবি তোলা নিয়ে বাংলাদেশ কন্টিনজেন্টের কর্মকর্তাদের মধ্যে বিশাল তোড়জোড়। যে যেভাবে পেরেছেন ছবি তুলেছেন। সবার যেন বিদেশে আসা ছবি তোলার জন্যই! ব্যাটিংয়ের চিন্তা নিয়ে আশরাফুলদেরও সেই আবদার মিটিয়ে যেতে হয় একের পর এক!

অপেক্ষা অভিষেকেরও

থুলানি এনকোবো ৩৬টি বিশ্বকাপ ম্যাচ দেখার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। বলতে পারেন, এ আর এমন কি! ঘরে বসে এর চেয়ে বেশি ম্যাচ তো অনেকেই দেখবেন। এনকোবো খবর হয়েছেন, কারণ তিনি মাঠে গিয়ে ৩৮টি ম্যাচ দেখে ‘গিনেস বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে’ নাম লেখাতে চাচ্ছেন। গতকাল ৩৮টি ম্যাচের টিকিট হাতে পাওয়ার পরই শুরু হয়ে গেছে ‘এনকোবো-২০১০’ নামে পরিচিতি পেয়ে যাওয়া এই দক্ষিণ আফ্রিকানের বিশ্বকাপ প্রস্তুতি।
শুধু এনকোবোর কথা বলা কেন? গত পরশু তো আসলে বিশ্বজুড়েই বিশ্বকাপের চূড়ান্ত প্রস্তুতি শুরু হয়ে গেল। একে একে হাতে পাওয়া গেল ৩২ দলের প্রাথমিক তালিকা। কথাটা একটু ভুল হলো। এর মধ্যে ব্রাজিলসহ কয়েকটা দল তাদের ২৩ সদস্যের মূল বিশ্বকাপ দলই ঘোষণা করে দিয়েছে। কে আর অত অপেক্ষা করে!
এই দল ঘোষণার মধ্যে চাইলে বেশ ভালো কিছু মজার উপাদান খুঁজতে পারেন। এখন পর্যন্ত যে কজন খেলোয়াড়ের নাম ঘোষণা করা হয়েছে, তার মধ্যে ৫৮ জন খেলোয়াড়েরই আন্তর্জাতিক অভিষেক হয়নি। এর মধ্যে কেউ যদি বিশ্বকাপ মাঠেই অভিষেকের সুযোগ পেয়ে যান তো বেশ হয়!
অভিষেক হয়নি, এমন সবচেয়ে বেশি খেলোয়াড় আছে স্লোভেনিয়া ও ক্যামেরুন দলে—৭ জন করে। এরপর গ্রিসের ৬ জন এবং ফ্রান্স ও স্পেনের ৫ জন করে। আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিল দলেও একজন করে এমন খেলোয়াড় আছেন!
তাহলে এবার বিশ্বকাপে কি নবিশদের ছড়াছড়ি হতে যাচ্ছে? মোটেই না। অভিজ্ঞরাও আছেন। কমপক্ষে শত ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞ খেলোয়াড় আছেন ১৫ জন। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ১৩৩ ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞ ক্যামেরুনের রিগোবার্ট সং ও হন্ডুরাসের আমাদো গুয়েভারা। ফাবিও ক্যানাভারো ১৩২ ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতা নিয়ে আছেন দ্বিতীয় স্থানে।
তাহলে নবীন-প্রবীণের লড়াই দেখতে প্রস্তুত হোন। বরং এনকোবোকে ছাড়িয়ে যেতে পারেন কি না দেখুন।