Monday, August 25, 2025

মানবদেহে বিশ্বের প্রথম মাংসখেকো মাছি শনাক্ত

যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো এক মানবদেহে পাওয়া গেছে মাংসখেকো পরজীবী মাছি, যা ইংরেজিতে ‘নিউ ওয়ার্ল্ড স্ক্রুওয়ার্ম’ নামে পরিচিত। আক্রান্ত ব্যক্তি সেন্ট্রাল আমেরিকার দেশ এল সালভাদর ভ্রমণ শেষে যুক্তরাষ্ট্রের মেরিল্যান্ডে ফেরেন এবং এরপরই তার দেহে পরজীবীটি শনাক্ত হয়।

মার্কিন স্বাস্থ্য বিভাগের বরাতে এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে বার্তাসংস্থা রয়টার্স।

যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন (সিডিসি) ৪ আগস্ট সংক্রমণটির কথা নিশ্চিত করে। তবে গোপনীয়তার কারণে ওই রোগীর পরিচয় বা বিস্তারিত জানানো হয়নি।

এর আগে দেশটির গবাদিপশু শিল্পের একটি সূত্র জানিয়েছিল, আক্রান্ত ব্যক্তি আসলে গুয়াতেমালা থেকে ফিরেছিলেন। যদিও সরকারি ঘোষণায় সে তথ্য ভিন্ন।

স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, মার্কিন জনস্বাস্থ্যের জন্য এ ঝুঁকি খুবই কম। এখন পর্যন্ত দেশটিতে কোনো প্রাণীর মধ্যে এ সংক্রমণ পাওয়া যায়নি। তবে সংক্রমণের খবর সামনে আসতেই আতঙ্কে কাঁপছে যুক্তরাষ্ট্রের বিশাল গবাদিপশু ও গরুর মাংস শিল্প।

মধ্য আমেরিকা থেকে শুরু করে মেক্সিকোর দক্ষিণাংশ পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়া স্ক্রুওয়ার্ম উত্তর দিকে এগোচ্ছে, আর সেই হুমকি মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্রও দ্রুত পদক্ষেপ নিচ্ছে।

এই পরজীবী মূলত মাছির মাধ্যমে ছড়িয়ে থাকে। মার্কিন কৃষিমন্ত্রী ব্রুক রোলিন্স সম্প্রতি টেক্সাস সফরে ঘোষণা দেন, সেখানে নতুন একটি জীবাণুমুক্ত মাছি উৎপাদন কেন্দ্র গড়ে তোলা হবে। কৃষি দপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, কেবল টেক্সাসেই যদি প্রাদুর্ভাব ছড়ায় তবে গবাদিপশুর মৃত্যু, শ্রম ব্যয় ও ওষুধ খরচ মিলে অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হবে প্রায় ১৮০ কোটি ডলার।

বিফ অ্যালায়েন্স নামের একটি শিল্প সংগঠনের এক নির্বাহী ই-মেইলে বিভিন্ন খামারি ও ব্যবসায়ীদের সতর্ক করে লিখেছেন, মেরিল্যান্ডে এক মানুষের শরীরে পরজীবী পাওয়া গেছে। তবে গোপনীয়তার কারণে ওই রোগীর পরিচয় বা বিস্তারিত জানানো হয়নি।

স্ক্রুওয়ার্ম আসলে কী?

এটি মাছির মাধ্যমে ছড়ানো এক ধরনের পরজীবী। স্ত্রী মাছি উষ্ণ রক্তের প্রাণীর ক্ষতস্থানে ডিম পাড়ে। সেখান থেকে শত শত লার্ভা ফুটে ধারালো মুখ দিয়ে জীবন্ত প্রাণীর মাংস খেতে থাকে। চিকিৎসা না করলে আক্রান্ত প্রাণী বা মানুষ মৃত্যু ঝুঁকিতে পড়ে। নামটি এসেছে ওই লার্ভার খাওয়ার ভঙ্গি থেকে, যেন কাঠে পেরেক ঢুকছে স্ক্রু ঘোরানোর মতো।

মানুষের শরীরের এই সংক্রমণ বিরল হলেও বিপজ্জনক। চিকিৎসা মানে শত শত লার্ভা হাতে করে সরানো, ক্ষত জীবাণুমুক্ত করা। দ্রুত চিকিৎসা পেলে বাঁচা সম্ভব, তবে প্রক্রিয়াটি কষ্টকর।

অন্যদিকে, সাত দশকের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে গরুর পাল সবচেয়ে কমে যাওয়ায় গরুর মাংসের দাম এরই মধ্যে রেকর্ড ছুঁয়েছে। এর মধ্যে মানবদেহে স্ক্রু-ওয়ার্ম শনাক্ত হওয়ার খবর গোপন রাখার চেষ্টা ও শিল্পের উৎকণ্ঠা ট্রাম্প প্রশাসনের জন্যও রাজনৈতিক চাপ হয়ে দাঁড়াতে পারে।

ষাটের দশকে ব্যাপক হারে জীবাণুমুক্ত পুরুষ মাছি ছেড়ে যুক্তরাষ্ট্র থেকে স্ক্রু-ওয়ার্ম নির্মূল করা হয়েছিল। তারা স্ত্রী মাছির সঙ্গে মিলিত হলেও ডিম ফুটত না। এখনো সেই একই কৌশল আবার সামনে আনতে হচ্ছে।

ছবি : সংগৃহীত

ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের ধারণা তোলাটা নাটক ছাড়া কিছু নয় by মানাল এ জামাল

গাজায় ইসরায়েলের চলমান গণহত্যা ও পশ্চিম তীরে ক্রমবর্ধমান মানবাধিকার লঙ্ঘনের প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক মহল আবারও ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার উদ্যোগে জোর দিয়েছে। জুলাইয়ের শেষে নিউইয়র্কে ফ্রান্স ও সৌদি আরবের যৌথ উদ্যোগে এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক হয়। সেখানে ১০০টির বেশি দেশের প্রতিনিধিরা অংশ নেন এবং এ বিষয়ে গতি সৃষ্টির চেষ্টা করেন।

এর পর থেকে কানাডা, অস্ট্রেলিয়া ও কয়েকটি আরব দেশ এ দাবিকে সমর্থন করেছে। যুক্তরাজ্যও বলেছে, যদি ইসরায়েল যুদ্ধবিরতিতে রাজি না হয়, তবে তারা ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেবে। এ উদ্যোগকে অনেকেই গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক পদক্ষেপ হিসেবে স্বাগত জানালেও বাস্তবে প্রায় ২২ লাখ মানুষ যখন ইসরায়েলের পরিকল্পিত অনাহারের মুখোমুখি, তখন ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের ধারণা তোলাটা আসলে নিছক রাজনৈতিক নাটক ছাড়া আর কিছু নয়।

আন্তর্জাতিক মহল যে ধরনের ‘ফিলিস্তিন রাষ্ট্র’ নিয়ে কথা বলছে, তা গাজার গণহত্যা থামাবে না। তা সত্যিকার অর্থে স্বাধীন-সার্বভৌম কোনো রাষ্ট্রও এনে দেবে না। এ মুহূর্তে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের প্রশ্ন আবার তোলা আসলে একটাই উদ্দেশ্য পূরণ করছে, সেটি হলো গাজায় হত্যাযজ্ঞ চালানো আর পশ্চিম তীরে চলমান দমননীতির জন্য ইসরায়েলকে বৈধতা ও কূটনৈতিক সুরক্ষা দেওয়া।

বিশ্বে এখন অনেক দেশ ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দিলেও সেটি বাস্তবে কোনো পরিবর্তন আনতে পারছে না। জাতিসংঘের ১৯৩টি সদস্যরাষ্ট্রের মধ্যে ২০২৫ সালের মার্চ পর্যন্ত ১৪৭টি দেশ ফিলিস্তিনকে আনুষ্ঠানিকভাবে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে, যা সংখ্যায় উল্লেখযোগ্য। কিন্তু স্বীকৃতি থাকা সত্ত্বেও আন্তর্জাতিক মহল গাজায় ইসরায়েলের অবরোধ, গণহত্যা ও পরিকল্পিতভাবে মানুষকে অনাহারে রাখার নীতি থামাতে পারছে না। অনেক ক্ষেত্রে মনে হয়, তারা হয় এই নীতি থামানোর সক্ষমতা রাখে না অথবা থামানোর ইচ্ছাই নেই। যে শক্তি দিয়ে ইসরায়েলকে বাধ্য করতে হবে প্রকৃত অর্থে সমঝোতায় আসার জন্য, সেই রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক ইচ্ছাশক্তি নেই বিশ্বের ক্ষমতাধর দেশগুলোর। আর সেই শক্তিই দরকার ছিল একটি সত্যিকারের স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গড়ার জন্য।

বাস্তবতা হলো বহুদিন আগেই ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের সুযোগ হারিয়ে গেছে। কয়েক দশক ধরে ইসরায়েল ধারাবাহিকভাবে এমন পদক্ষেপ নিয়েছে, যা ফিলিস্তিনকে স্বাধীন রাষ্ট্র বানানোর পথ প্রায় বন্ধ করে দিয়েছে। এটি ছিল দীর্ঘমেয়াদি কৌশল—বসতি স্থাপন, ভূমি দখল, অবকাঠামো নিয়ন্ত্রণ, প্রশাসনিক ক্ষমতা সীমিত করা, অর্থনৈতিকভাবে ফিলিস্তিনকে নির্ভরশীল করে রাখা এবং আইনের কাঠামো এমনভাবে সাজানো, যাতে ফিলিস্তিনি জনগণের সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠার সুযোগ না থাকে।

আজকে যে ‘ফিলিস্তিন রাষ্ট্র’ নিয়ে আলোচনা হচ্ছে, সেটি ভূগোলের দিক থেকে খণ্ডিত—পশ্চিম তীরের টুকরা টুকরা এলাকা এবং সম্ভবত গাজাকে বাদ দিয়ে কিছু অংশ মিলে রাষ্ট্রের নাম দেওয়া হবে। এর প্রশাসনিক ক্ষমতা কার্যত থাকবে না। কারণ, গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলো ইসরায়েলের হাতে। অর্থনৈতিকভাবে এটি ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে থাকবে। কারণ, রাজস্ব, বাণিজ্যপথ ও সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ—সবকিছু ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। আইনের ক্ষেত্রেও এ প্রস্তাবিত রাষ্ট্রটি সমান অধিকার ভোগ করবে না। কারণ, দখল করা অঞ্চলে ইসরায়েলি ও ফিলিস্তিনিদের জন্য ভিন্ন আইন কার্যকর থাকে।

শুরুতেই দেখা যায়, যে ভূখণ্ড নিয়ে আলোচনা হচ্ছে, তা বিচ্ছিন্ন অংশে ভাঙা। ওই ভূখণ্ড একে অপরের সঙ্গে সংযুক্ত নয়। আর সব মিলিয়ে পশ্চিম তীরের মাত্র ৪০ শতাংশজুড়ে ফিলিস্তিনিদের অধিকারে থাকতে পারে। আর সম্ভবত গাজা সম্পূর্ণ বাদই পড়বে। প্রশ্ন হলো, আন্তর্জাতিক মহল কি ইসরায়েলকে পশ্চিম তীরের অবশিষ্ট ৬০ শতাংশ (অর্থাৎ এরিয়া সি, যেখানে পুরোপুরি ইসরায়েলের সামরিক ও প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ আছে) ছেড়ে দিতে বাধ্য করবে? তারা কি ইসরায়েলকে গাজা উপত্যকার নিয়ন্ত্রণ ছাড়তে চাপ দেবে?

১৯৬৭ সালের পর থেকে প্রতিটি ইসরায়েলি সরকার দখল করা ফিলিস্তিন ভূখণ্ডে বসতি সম্প্রসারণ করেছে এবং সেখানে ইহুদি নাগরিকদের পাঠাতে নানা সুবিধা দিয়েছে। আর্থিক প্রণোদনা ও অবকাঠামো উন্নয়নে সহযোগিতা করে ইসরায়েল সেখানে ইহুদিদের স্থায়ীভাবে প্রতিষ্ঠা করেছে। প্রতিটি অবৈধ বসতিতে একটি বেসামরিক নিরাপত্তা ইউনিট থাকে। এই ইউনিটগুলো ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে অর্থ ও অস্ত্র পায়। এগুলো কার্যত ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর সহায়তায় চলে।

প্রশ্ন হলো, আন্তর্জাতিক মহল কি ইসরায়েলকে এই বসতিগুলো ভেঙে দিতে চাপ দেবে? অথবা এমন একটি একক আইনি ব্যবস্থা চালু করতে তারা কি ইসরায়েলকে চাপ দেবে, যেখানে খ্রিষ্টান ও মুসলিম ফিলিস্তিনি ও ইহুদি ইসরায়েলিরা একই আইনের আওতায় থাকবে?

১৯৯৫ সালের অসলো-টু অন্তর্বর্তী চুক্তি অনুযায়ী, দখল করা এলাকায় সব পানিসম্পদের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ ইসরায়েলের হাতে। এ ব্যবস্থায় পশ্চিম তীরের পাহাড়ি ভূগর্ভস্থ পানির ভান্ডার থেকে ফিলিস্তিনিরা মাত্র ২০ শতাংশ পানি ব্যবহার করতে পারেন। অথচ এ সম্পদ ইসরায়েলি ও ফিলিস্তিনি উভয়ের জন্যই বরাদ্দ।

প্রশ্ন হলো, আন্তর্জাতিক মহল কি ইসরায়েলকে ন্যায্যভাবে পানি ভাগ করে দিতে বাধ্য করবে, যাতে পশ্চিম তীরের ফিলিস্তিনি গ্রামগুলো এবং ইহুদি বসতিগুলো সমান সুযোগ পায়?

এ মুহূর্তে ইসরায়েল কার্যত দখল করা সব এলাকার বাইরের সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ করছে। প্রত্যেক ফিলিস্তিনি, এমনকি ফিলিস্তিন কর্তৃপক্ষের (পিএ) প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসও ইসরায়েলের অনুমতি ছাড়া বাইরে যেতে বা ভেতরে ঢুকতে পারেন না। এমনকি অনেক সময় নিজের এলাকার ভেতর চলাফেরার জন্যও অনুমতি লাগে।

প্রশ্ন হলো, আন্তর্জাতিক মহল কি ইসরায়েলকে সীমান্ত ও প্রবেশপথের নিয়ন্ত্রণ ছাড়তে বাধ্য করবে?

১৯৯৪ সালে ফিলিস্তিন কর্তৃপক্ষ গঠন করা হয়েছিল পশ্চিম তীর ও গাজায় ফিলিস্তিনি জনগণের প্রশাসনিক কাজ দেখার জন্য। কিন্তু বাস্তবে এটি সরকারের চেয়ে বেশি ইসরায়েলের দখলদারির একপ্রকার ঠিকাদার হিসেবেই কাজ করছে। এমনকি নির্বাচন হলে তার ফলাফল অনুমোদনের ক্ষমতাও ইসরায়েলের হাতে।

প্রশ্ন হলো, আন্তর্জাতিক মহল কি দাবি করবে যে ইসরায়েল ও তার মিত্ররা সত্যিকারের মুক্ত ও সুষ্ঠু নির্বাচন হতে দেবে এবং ফলাফল মেনে নেবে?

১৯৯৪ সালের প্যারিস প্রটোকল অনুযায়ী, ফিলিস্তিন কর্তৃপক্ষের প্রধান আয়ের উৎস—ভ্যাট বা মূল্য সংযোজন করের রাজস্ব ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে থাকে। ইসরায়েল চাইলেই এ অর্থ আটকাতে পারে। প্রশ্ন হলো, আন্তর্জাতিক মহল কি ইসরায়েলকে বাধ্য করবে যাতে একটি ফিলিস্তিন সরকার নিজের অর্থ নিজেই নিয়ন্ত্রণ করতে পারে?

এ প্রশ্নগুলো আসলে ভবিষ্যতে কোনো ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের পথে থাকা অসংখ্য ভৌগোলিক ও প্রশাসনিক বাধার সামান্য অংশ মাত্র। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, রাষ্ট্রগুলো এখনো সেই ঐতিহাসিক অবিচারগুলোর কথা তোলে না, ফিলিস্তিনিরা বহুদিন ধরে যেগুলোর শিকার হয়ে আসছেন। যেমন লাখ লাখ শরণার্থীর অধিকার, যা আজও অস্বীকার করা হচ্ছে।

ফিলিস্তিন রাষ্ট্র নিয়ে যে আলোচনা চলছে, যদি তাতে এসব সমস্যার সমাধান না থাকে, তবে তা শুধু ইসরায়েলের চলমান নৃশংসতাগুলো থেকে দৃষ্টি সরানোর চেষ্টা ছাড়া আর কিছু নয়। ইতিহাস বলে, কখনো কোনো গণহত্যা অপরাধীদের ভালো কথা ভালোভাবে বোঝানোর মাধ্যমে থামানো যায়নি। কেবল নিষেধাজ্ঞা আর অস্ত্র বিক্রিতে নিষেধাজ্ঞার মতো পদক্ষেপই ইসরায়েলকে তার অমানবিক শক্তি প্রয়োগ কমাতে বাধ্য করতে পারে।

অর্থহীন রাজনৈতিক প্রদর্শনীর বদলে বিশ্বনেতাদের সামনে তিনটি মৌলিক প্রশ্ন দাঁড় করাতে হবে—আন্তর্জাতিক আইন কি ইসরায়েলের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে? ফিলিস্তিনিদের মানবাধিকার কি রক্ষা করা হবে? আর আন্তর্জাতিক মহল কি সত্যিই যুদ্ধ-পরবর্তী বৈশ্বিক শৃঙ্খলা রক্ষা করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ?

এই তিন প্রশ্নের উত্তর কেবল ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সমস্যার সমাধানই ঠিক করবে না; বরং বিশ্বে যে নিয়মকানুন মেনে চলা আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা আছে, সেটি আসলেই বিশ্বাসযোগ্য কি না, সেটাও এই উত্তরগুলো দিয়ে বোঝা যাবে।

* মানাল এ জামাল, জেমস ম্যাডিসন ইউনিভার্সিটির রাষ্ট্রবিজ্ঞানের অধ্যাপক
- স্বত্ব: প্রজেক্ট সিন্ডিকেট, অনুবাদ: সারফুদ্দিন আহমেদ

https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla%2F2025-07-07%2Frzfz2yl4%2FZP6S3AY7UFNRHNJRZUCRQQMX%E2%80%938.avif?w=622&auto=format%2Ccompress&fmt=avif
ইসরায়েলি হামলায় ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে গাজা। ফাইল ছবি: রয়টার্স

ফিলিস্তিন ইস্যুতে যেভাবে অস্ট্রেলিয়া-ইসরায়েল সম্পর্কে চূড়ান্ত ভাঙন by কাউসার খান

আগামী সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘে ফিলিস্তিনকে একটি স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার ঘোষণা নিয়ে অস্ট্রেলিয়ার রাজনীতির হাওয়া বেশ কিছুদিন ধরেই ধীরে ধীরে উত্তপ্ত হচ্ছিল, কিন্তু গত কয়েক দিনে তা যেন দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়েছে।

ঘটনার গতিপথ কোন দিকে যাচ্ছে, তা বুঝতে কিছুটা সময় লেগেছে। তবে এখানে সিডনিতে বসে বুঝতে পারছিলাম একটি বড় পরিবর্তনের সাক্ষী হতে যাচ্ছি আমরা। ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নজিরবিহীন ব্যক্তিগত আক্রমণ এবং পাল্টা ভিসা বাতিলের পদক্ষেপে দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক এখন ইতিহাসের সর্বনিম্ন পর্যায়ে এসে ঠেকেছে।

সিডনিতে এই কূটনৈতিক দাবানলের উত্তাপ সরাসরি অনুভব করা যাচ্ছে। এটি আর শুধু সংবাদপত্রের শিরোনাম নয়, বরং এখানকার ক্যাফে, বিশ্ববিদ্যালয় এবং সাধারণ মানুষের আলোচনার প্রধান বিষয়বস্তুতে পরিণত হয়েছে। এটি শুধু একটি কূটনৈতিক অবস্থান নয়, বরং অস্ট্রেলিয়ার আত্মপরিচয় এবং বিশ্বমঞ্চে তার ভূমিকা নিয়ে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ইসরায়েল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সময় থেকেই অস্ট্রেলিয়া তার অন্যতম ঘনিষ্ঠ এবং ঐতিহাসিক মিত্র। কিন্তু এক বছর ধরে সেই সম্পর্কে ফাটল ধরছিল।

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার পর ইসরায়েল আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছ থেকে ব্যাপক সহানুভূতি পেয়েছিল। কিন্তু এরপর গাজায় তাদের সর্বাত্মক ধ্বংস অভিযান সেই সহানুভূতিকে ধীরে ধীরে ক্ষয়ে ফেলেছে। গাজার অনাহার এবং ধ্বংসের ছবি বিশ্বজুড়ে মানুষের মনে গভীর ক্ষত তৈরি করেছে, যা অস্ট্রেলিয়ার মতো একটি মানবতাবাদী দেশকে তার অবস্থান পরিবর্তনে বাধ্য করেছে। ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত সেই পরিবর্তনেরই চূড়ান্ত রূপ।

তবে এটা ঠিক, এই উত্তেজনার আগুনে ঘি ঢেলেছে অস্ট্রেলিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী টনি বার্কের সিদ্ধান্ত। ইসরায়েলি নেসেট (ইসরায়েলের জাতীয় সংসদ) সদস্য সিমচা রথম্যানের ভিসা বাতিল করা। রথম্যান, যিনি ফিলিস্তিনি শিশুদের ‘শত্রু’ বলে আখ্যা দিয়েছেন, তাঁর ভিসা বাতিল করে অস্ট্রেলিয়া একটি শক্তিশালী বার্তা দিয়েছে।

টনি বার্কের কথায়, ‘শক্তি পরিমাপ করা হয় কতজনকে আপনি মারতে পারেন বা কত শিশুকে ক্ষুধার্ত রাখতে পারেন, তা দিয়ে নয়।’ এই বক্তব্য রাজনৈতিক বিবৃতির চেয়েও বেশি একটি নৈতিক অবস্থানের প্রকাশ। অনেকেই প্রশ্ন তুলতে পারেন, একজন নির্বাচিত সংসদ সদস্যের ভিসা বাতিল করা আর কোনো সাধারণ মানুষের ভিসা বাতিল করা কি এক? অবশ্যই নয়। কিন্তু অস্ট্রেলিয়া এখানে স্পষ্ট করে দিয়েছে যে তাদের বহুসাংস্কৃতিক সমাজে বিদ্বেষমূলক বক্তব্যের কোনো স্থান নেই, তা সে যে–ই হোক না কেন। এটি অস্ট্রেলিয়ার অভ্যন্তরীণ শান্তি রক্ষার একটি নীতিগত পদক্ষেপ, কোনো দেশের বিরুদ্ধে অবস্থান নয়।

অন্যদিকে নেতানিয়াহুর ব্যক্তিগত আক্রমণ ছিল নজিরবিহীন। তিনি আলবানিজকে ‘দুর্বল’ এবং ‘অস্ট্রেলিয়ার ইহুদিদের ত্যাগকারী’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। তাঁর উদ্দেশ্য ছিল আলবানিজকে আন্তর্জাতিকভাবে দুর্বল এবং দেশের ভেতরে ইহুদি সম্প্রদায়ের কাছে বিশ্বাসঘাতক হিসেবে প্রমাণ করা। কিন্তু ঘটেছে ঠিক তার উল্টো। নেতানিয়াহুর এই আক্রমণ অস্ট্রেলিয়ায় একধরনের জাতীয় ঐক্য তৈরি করেছে।

অস্ট্রেলিয়ার বিরোধী দলের নেতা, যাঁরা ঐতিহ্যগতভাবে ইসরায়েলের কট্টর সমর্থক, তাঁরাও একজন বিদেশি নেতার কাছ থেকে নিজেদের প্রধানমন্ত্রীর এমন ব্যক্তিগত আক্রমণে তাঁর পাশেই দাঁড়িয়েছেন। এমনকি অস্ট্রেলিয়ার ইহুদি সম্প্রদায়ের শীর্ষ নেতারাও নেতানিয়াহুর মন্তব্যকে ‘অশোভন’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। নেতানিয়াহু ভেবেছিলেন, তিনি আলবানিজকে একঘরে করে দেবেন, কিন্তু বাস্তবে তিনি নিজেই অস্ট্রেলিয়ায় ইসরায়েলের প্রতি সমর্থনকে আরও দুর্বল করে ফেলেছেন।

বিশ্লেষক মনে করছেন, নেতানিয়াহুর এই তীব্র প্রতিক্রিয়ার পেছনে তাঁর অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক সংকট একটি বড় কারণ। ৭ অক্টোবরের গোয়েন্দা ব্যর্থতার জন্য তাঁর বিরুদ্ধে তদন্তের সম্ভাবনা রয়েছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন এবং তাঁর জোট সরকার টিকে আছে রথম্যানের মতো কট্টর ডানপন্থী রাজনীতিবিদদের সমর্থনের ওপর। এই পরিস্থিতিতে বাইরে একটি শক্তিশালী ভাবমূর্তি ধরে রাখা তাঁর রাজনৈতিক অস্তিত্বের জন্য জরুরি। তাই অস্ট্রেলিয়ার মতো একটি বন্ধুপ্রতিম দেশকে আক্রমণ করে তিনি হয়তো নিজের দেশের কট্টরপন্থীদের এই বার্তাই দিতে চাইছেন যে তিনি ইসরায়েলের স্বার্থে কারও সঙ্গে আপস করবেন না।

আবার অস্ট্রেলিয়ার এই নীতিগত পরিবর্তনের পেছনে জনমতের একটি বিশাল ভূমিকা রয়েছে। এ মাসের প্রথম দিকে সিডনির আকাশ-বাতাস কাঁপিয়ে ফিলিস্তিনের জন্য যে জনসমুদ্র দেখা গেছে, তা এককথায় অবিশ্বাস্য। ফিলিস্তিনের প্রতি সংহতি জানাতে এবং গাজায় চলমান মানবিক বিপর্যয়ের প্রতিবাদে সিডনির আইকনিক হারবার ব্রিজের ওপর দিয়ে হেঁটে গেছে এক অবিস্মরণীয় জনসমুদ্র, যা এই শহরের ইতিহাসে নজিরবিহীন। ফলে অস্ট্রেলিয়া সরকারও আগামী সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘে ফিলিস্তিনকে একটি স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দিতে আর দ্বিধায় থাকেনি।

এই পুরো বিষয় শুধু অস্ট্রেলিয়া-ইসরায়েল সম্পর্কের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এই ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্র এখন তার কিছু নিকটতম মিত্রদের কাছ থেকেও বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছে। যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, কানাডা এবং এখন অস্ট্রেলিয়ার মতো দেশগুলো যখন দ্বিরাষ্ট্র সমাধানের পক্ষে এমন জোরালো অবস্থান নিচ্ছে, তখন যুক্তরাষ্ট্র একা হয়ে পড়ছে বললে খুব একটা ভুল হবে না। বিশ্বের অন্যান্য গণতান্ত্রিক দেশের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলার এই প্রবণতা আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে একটি বড় পরিবর্তন ঘটাচ্ছে, যেখানে মধ্যম শক্তিধর দেশগুলো আর বড় শক্তিগুলোর দেখানো পথে হাঁটতে সব সময় রাজি নয়।

অস্ট্রেলিয়ার এই সিদ্ধান্ত শুধু একটি কূটনৈতিক পদক্ষেপ নয়। এটি একটি নতুন আন্তর্জাতিক বাস্তবতার প্রতিফলন, যেখানে দেশগুলো তাদের নৈতিক অবস্থান এবং পরিবর্তনশীল জনমতের ভিত্তিতে স্বাধীন নীতি গ্রহণ করছে। নেতানিয়াহুর তীব্র প্রতিক্রিয়া এবং ভিসা যুদ্ধের মতো পদক্ষেপ দেখলেই বোঝা যায় এই স্বীকৃতি কতটা গুরুত্বপূর্ণ।

একটি দুর্বল বা গুরুত্বহীন পদক্ষেপ হলে এত তীব্র প্রতিক্রিয়া আসত না। অস্ট্রেলিয়ার এই সাহসী পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা করতে পারে, যেখানে নৈতিক অবস্থান এবং মানবাধিকারের চেয়ে বড় কোনো রাজনৈতিক চাপ নেই। সময় বলে দেবে, এই সিদ্ধান্ত মধ্যপ্রাচ্যের শান্তিপ্রক্রিয়ায় শেষ পর্যন্ত কী ভূমিকা রাখে, তবে এটি যে বিশ্বমঞ্চে অস্ট্রেলিয়ার অবস্থানকে নতুন করে চিনিয়েছে, তাতে কোনো সন্দেহ নেই।

* কাউসার খান, প্রথম আলোর সিডনি প্রতিনিধি ও অভিবাসন আইনজীবী

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ

'আমি ঢাকা থেকে এসেছি, আমাকে যদি সেখানে পাঠানো হয় আমার খুব একটা সমস্যা হবে না'

বাংলায় কথা বলা কি তার জন্য নিরাপদ? একটি আলোচনাসভায় মজার ছলেই একথা বলে ওঠেন নোবেল বিজয়ী অমর্ত্য সেন। আলোচনায় উপস্থিত শহরের তরুণ দর্শকদের মনে করিয়ে দেন তিনি মূলত ঢাকার বাসিন্দা। কলকাতায় সল্টলেকের অমর্ত্য সেন গবেষণা কেন্দ্রে যুব ও সামাজিক সুযোগ-সুবিধা বিষয়ক এক   আলোচনা সভায় নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ বলেন, ‘আমি ঢাকা থেকে এসেছি এবং আমাকে যদি সেখানে পাঠানো হয় তাহলে আমার খুব একটা সমস্যা হবে না।’

তিনি ভাষাগত কুসংস্কার থেকে শুরু করে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতিসহ বিভিন্ন বিষয়ের উপর আলোকপাত করেন। সেন বলেন, ‘আমি সংবাদপত্রে পড়েছিলাম যে বাংলা বলার জন্য একজনকে বাংলাদেশে পাঠানো হয়েছিল। আমি চিন্তিত ছিলাম।’

অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকরা যখন বাংলা বলার জন্য লোকদের বাংলাদেশি হিসেবে চিহ্নিত করার বিষয় নিয়ে তাকে জিজ্ঞাসা করেন, তখন সেন কটাক্ষ করে বলেন, ‘আমি কি বাংলায় উত্তর দেব?’

তিনি বলেন, ‘বাংলা সভ্যতার নানা গুন আছে যেগুলো আমাদের মর্যাদা দিতে হবে। যেখানে তার উল্টোটা ঘটবে সেখানে বড় ভাবে প্রতিবাদ করতে হবে।’

সেনের কথায়, ‘আমি বলছি না যে, ভারতে বাঙালি সভ্যতা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। তবে বাংলা ভাষা একাদশ শতাব্দী থেকেই বিদ্যমান।’

বিহার এসআইআর
মানুষকে ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত করার বিষয়েও সতর্ক করে দেন অমর্ত্য সেন। তিনি বলেন, ‘ভারতের অনেক মানুষের কাছে এমন কোনও নথি নেই যার সাহায্যে তারা ভোটার হওয়ার দাবি করতে পারে। যদি কিছু মানুষের উপকার করার অজুহাতে এমন একটি অনুশীলন বাস্তবায়িত হয় যা আরও অনেকের ক্ষতি করবে এবং মানুষকে বঞ্চিত করবে তাহলে এটি একটি বড় ভুল হবে।’

অর্থনীতিবিদের কথায়, ‘আমি বলছি না যে, পুরাতন তালিকায় কোনও ত্রুটি নেই- ত্রুটি অবশ্যই থাকবে। কিন্তু আমি মনে করি না যে কোনও অনুশীলনকে ন্যায্যতা দেয়ার কোনও কারণ আছে যদি এটি সংশোধন করার নামে আরো সাতটি ত্রুটি সংযুক্ত করে।’

নির্বাচন কমিশন পশ্চিমবঙ্গে একই রকম Special Intensive Revision বা SIR প্রয়োগ করবে কিনা তা নিয়ে রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে জল্পনা চলছে। ইতিমধ্যেই বিহারে বিধানসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে জুন মাস থেকে এই ভোটার তালিকা সংশোধন চলছে। নথি-ভিত্তিক যাচাইকরণ প্রক্রিয়াটি রাজনৈতিক উত্তেজনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে, তৃণমূল কংগ্রেসসহ বিরোধী ইন্ডিয়া ব্লক সতর্ক করে দিয়েছে যে, এটি কাগজপত্রবিহীন প্রকৃত ভোটারদের ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত করতে পারে।

হিন্দু-মুসলিম ঐক্য
মুসলিম শাসকরা কেবল হিন্দুদের উপর অত্যাচার করতো এই আখ্যানকে প্রত্যাখ্যান করে সেন বন্ধুত্ব এবং সাংস্কৃতিক পৃষ্ঠপোষকতার উদাহরণ তুলে ধরেন। তিনি হিন্দু-মুসলিম ঐক্যের প্রয়োজনীয়তার উপর জোর দিয়ে বলেন, মুসলিম শাসকদের অধীনেই রামায়ণ ও মহাভারত সংস্কৃত থেকে বাংলায় অনুবাদ করা হয়েছিল।'

তিনি আরেকটি উদাহরণ হিসেবে দারা শিকোহের উপনিষদের ফারসি অনুবাদের কথা উল্লেখ করেন এবং সিরাজ-উদ-দৌলাকে লেখা রবার্ট ক্লাইভের একটি চিঠির কথা উল্লেখ করেন। ওই চিঠিতে ক্লাইভ সিরাজের নয়জন বন্ধুর নাম উল্লেখ করেছিলেন তাদের মধ্যে সাতজন ছিলেন হিন্দু।

সূত্র : দ্য টেলিগ্রাফ

mzamin

শত শত নারীকে ধর্ষণের পর হত্যা, আটক ব্যক্তির ভয়ঙ্কর তথ্য

দক্ষিণ ভারতের একটি ছোট মন্দির শহরকে ঘিরে সম্প্রতি ভয়াবহ তথ্য দিয়েছেন এক ব্যক্তি। পুলিশের হাতে আটক ওই ব্যক্তির দাবি, শত শত নারীকে ধর্ষণ ও হত্যার পর তাকে মৃতদেহগুলোকে গোপনে সমাধিস্থ করতে বাধ্য করা হয়। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনা ঘটেছে ভারতের কর্ণাটক রাজ্যের ধর্মস্থলে। এ নিয়ে নানা রহস্য জট পেকেছে। খবর দিয়েছে অনলাইন বিবিসি।

এতে বলা হয়, কর্ণাটকের ধর্মস্থলে অবস্থিত শ্রী মঞ্জুনাথ স্বামী মন্দির। শতাব্দী প্রাচীন এই মন্দিরটিতে প্রতিদিন হাজার হাজার ভক্তের সমাগম হয়। পবিত্র এই স্থানটির সঙ্গে বহু মানুষের ধর্মীয় অনুভূতি এবং জীবনের গভীর সম্পর্ক জড়িত। সেই ধর্মস্থলের সাবেক এক পরিচ্ছন্নতাকর্মী গত জুলাই মাসে পুলিশের কাছে একটি অভিযোগ দায়ের করেন। তিনি দাবি করেন, ১৯৯৫ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত মন্দিরে কাজ করার সময় তাকে শত শত নারী ও তরুণীর মৃতদেহ গোপনে পুঁতে ফেলার জন্য বাধ্য করা হয়। তিনি জানান, সেসব নারীররা নৃশংসভাবে ধর্ষণ ও হত্যার শিকার হয়েছিলেন।

আটক ব্যক্তির পরিচয় গোপন রেখেছে পুলিশ। জনসমক্ষে অনা-নেয়ার সময় সর্বদাই কালো পোশাক ও মাস্কে ঢেকে রাখা হয় তাকে। অভিযোগের স্বপক্ষে একটি মানুষের মাথার খুলি প্রমাণ হিসেবে উপস্থাপন করে ওই ব্যক্তি দাবি করেন এটি তিনি সদ্য কবর থেকে তুলে এনেছেন। এই অভিযোগের পর রাজ্যের রাজনীতিতে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে রাজ্য সরকার ঘটনাটি তদন্তে একটি বিশেষ তদন্ত দল গঠন করেছেন।

শনিবার বিবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে একজন এসআইটি কর্মকর্তা জানান, ওই ব্যক্তিকে মিথ্যা সাক্ষ্য দেওয়ার অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তদন্তের শুরুতে তিনি ১৩টি স্থান চিহ্নিত করেন। যেখানে তিনি মৃতদেহ কবর দিয়েছেন বলে দাবি করেছিলেন। এসব স্থান ছিল দুর্গম এবং ঘন ঝোপঝাড়ে আবৃত।

এসআইটি এই স্থানগুলোতে কয়েক সপ্তাহ ধরে খননকার্য চালায়। যদিও কিছু মানুষের দেহাবশেষ পাওয়া গেছে। তবে ফরেনসিক পরীক্ষার আগ পর্যন্ত সেগুলোর পরিচয় শনাক্ত করা যায়নি। এসআইটি কর্মকর্তার মতে, ওই ব্যক্তি যে মাথার খুলিটি প্রমাণ হিসেবে দিয়েছেন, তা তার দেখানো কোনো স্থান থেকে আনা হয়নি।

এই অভিযোগ মন্দির প্রশাসন এবং এর বংশানুক্রমিক প্রধান হেগড়ে পরিবারের ওপরও সন্দেহ তৈরি করেছে। যদিও মন্দিরের প্রধান প্রশাসক বীরেন্দ্র হেগড়ে এই অভিযোগ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। বলেছেন, মন্দির কর্তৃপক্ষ তদন্তে পূর্ণ সহায়তা করছে এবং বিচার ব্যবস্থার ওপর তাদের পূর্ণ আস্থা আছে।

এ ঘটনা নিয়ে রাজ্য বিধানসভাতেও তুমুল বিতর্ক শুরু হয়েছে। এটিকে একটি হিন্দুদের ধর্মীয় স্থানের বিরুদ্ধে ‘কলঙ্ক লেপনের অভিযান’ বলে আখ্যা দিয়েছে ক্ষমতাসীন বিজেপি। অন্যদিকে, রাজ্যের বিরোধী দল কংগ্রেসের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জি পরমেশ্বর জানান, সরকারের উদ্দেশ্য কাউকে রক্ষা করা বা হেয় করা নয়, বরং সত্য উদঘাটন করা। তিনি বলেন, যদি কিছুই না পাওয়া যায় তবে ধর্মস্থলের মর্যাদা আরও বাড়বে। আর যদি কিছু বেরিয়ে আসে তাহলে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা হবে। এই ঘটনাটি এখন এক নতুন মোড় নিয়েছে। অভিযোগকারীর গ্রেপ্তারের পর তদন্তের পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে, তা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে আগ্রহ দেখা দিয়েছে।

mzamin

দক্ষিণ ভারতে আড়াই হাজার বছরের পুরনো সভ্যতার গোপন রহস্য উন্মোচন

প্রাচীন ভারতের ইতিহাসের এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন হলো। তামিলনাড়ুর মাদুরাই কামরাজ বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা আড়াই হাজার বছর পুরোনো দুটি মাথার খুলির ডিজিটাল প্রতিচ্ছবি তৈরি করেছেন। যেগুলো তামিলনাড়ুর কিলাডি এলাকার একটি প্রাচীন সমাধিস্থল থেকে পাওয়া গেছে। গবেষকদের এই কাজ শুধু ইতিহাসের পাতায় নতুন তথ্য যোগ করছে না, বরং দক্ষিণ ভারতের প্রাচীন সভ্যতা নিয়ে প্রচলিত ধারণাকেও চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছে। এ খবর দিয়েছে অনলাইন বিবিসি।

এতে বলা হয়, বহুদিন ধরে ভারতের প্রাচীনতম নগর সভ্যতা হিসেবে সিন্ধু উপত্যকা সভ্যতাকেই ধরা হতো। যার বিস্তার ছিল মূলত উত্তর ও মধ্য ভারতে। কিন্তু কিলাডির প্রত্নতাত্ত্বিক খনন প্রমাণ করেছে যে, প্রায় একই সময়ে দক্ষিণ ভারতেও একটি উন্নত ও স্বাধীন সভ্যতা ছিল। এই সভ্যতার মানুষজন ছিল শিক্ষিত, দক্ষ কারিগর। এছাড়া আন্তঃমহাদেশীয় বাণিজ্যেও যুক্ত ছিল তারা। নতুন আবিস্কৃত সভ্যতার মানুষেরা ইটের তৈরি বাড়িতে বাস করতেন এবং মৃতদেহকে দৈনন্দিন সামগ্রীসহ মাটির পাত্রে সমাধিস্থ করতেন।

মাদুরাই কামরাজ বিশ্ববিদ্যালয়ের জেনেটিক্স বিভাগের অধ্যাপক জি কুমারাসন এবং তার দল এই খুলিগুলো নিয়ে গবেষণার জন্য লিভারপুল জন মুরস ইউনিভার্সিটির ফেস ল্যাবের বিশেষজ্ঞদের সহায়তা নেন। ফেস ল্যাবের বিশেষজ্ঞরা খুলিগুলোর ত্রিমাত্রিক (থ্রি ডি) স্ক্যান তৈরি করে তাতে পেশি, মাংস ও ত্বক যোগ করেন, যা মানুষের স্বাভাবিক শারীরবৃত্তীয় অনুপাত মেনে করা হয়েছে।
তবে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল প্রতিচ্ছবিগুলোতে রঙ যোগ করা। গবেষকরা স্থির করেন, তারা বর্তমানে তামিলনাড়ুতে বসবাসকারী মানুষের শারীরিক বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী রঙ ব্যবহার করবেন। এই ডিজিটাল প্রতিচ্ছবিগুলো প্রকাশের পর সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা ও বিতর্কের জন্ম দেয়। কারণ এটি ভারতের উত্তর ও দক্ষিণের মধ্যে বিদ্যমান পুরোনো জাতিগত ও সাংস্কৃতিক বিভাজনকে সামনে নিয়ে আসে। এতদিন ধরে প্রচলিত ধারণা ছিল যে, আর্যরা (উত্তর ভারতের আদি বাসিন্দা হিসেবে পরিচিত) এই দেশের ‘আসল নাগরিক’। কিন্তু দ্রাবিড়ীয় (দক্ষিণ ভারতের আদি বাসিন্দা) সংস্কৃতি ও ইতিহাস নিয়ে নতুন গবেষণা সেই ধারণার বিরুদ্ধে পাল্টা প্রশ্ন তুলেছে।

অধ্যাপক কুমারাসন বলেন, এই গবেষণার মাধ্যমে আমরা জানতে পেরেছি যে, আমরা যতটা ভাবি তার চেয়ে অনেক বেশি বৈচিত্র্যময় ছিল ওই সভ্যতা। আমাদের ডিএনএ-তে এর প্রমাণ রয়েছে। খুলি দুটির মুখের গঠনে প্রাচীন ভারতীয় জনগোষ্ঠীর বৈশিষ্ট্য বিদ্যমান। পাশাপাশি এতে মধ্য-প্রাচ্য ইউরেশীয় এবং অস্ট্রো-এশীয় জনগোষ্ঠীর ছাপও দেখা গেছে, যা প্রমাণ করে প্রাচীনকালে মানুষের মধ্যে বৈশ্বিক অভিবাসন ও সংমিশ্রণ ঘটেছে।

তবে কিলাডি নিয়ে গবেষণা এখানেই শেষ নয়। প্রত্নতাত্ত্বিকরা এই স্থান থেকে প্রায় ৫০টি সমাধিপাত্র খনন করেছেন এবং মানব দেহাবশেষ থেকে ডিএনএ সংগ্রহের চেষ্টা করছেন। যদিও হাড়গুলো খুবই জীর্ণ হওয়ায় ডিএনএ সংগ্রহ করা কঠিন, তবু গবেষকরা আশাবাদী। তারা মনে করেন, প্রাচীন ডিএনএ লাইব্রেরিগুলো অতীতের একটি দরজা খুলে দেয়, যা থেকে সেই সময়ের জীবনযাত্রা এবং আমাদের বর্তমানের জীবন সম্পর্কে অনেক কিছু জানা যায়।

এই গবেষণা শুধু অতীতের রহস্য উন্মোচন করছে না, বরং ভারতের বহুমুখী সংস্কৃতি ও পরিচয়ের ওপর নতুন করে আলোকপাত করছে। এটি দেখায় যে, ভারত কোনো একক সংস্কৃতি বা জাতিগোষ্ঠীর দেশ নয়, বরং বিভিন্ন সভ্যতা ও মানুষের সংমিশ্রণে গড়ে ওঠা এক সমৃদ্ধ ভূমি। কিলাডির এই আবিষ্কার তাই শুধু তামিলনাড়ুর নয় বরং সমগ্র ভারতীয় উপমহাদেশের ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে।

mzamin

অস্ট্রেলিয়ায় ফিলিস্তিনের পক্ষে লাখো মানুষের সমাবেশ

ফিলিস্তিনের সমর্থনে অস্ট্রেলিয়ায় বিশাল সমাবেশ হয়েছে। আজ রোববার অনুষ্ঠিত এ সমাবেশে লাখ লাখ মানুষ অংশ নিয়েছেন। সম্প্রতি দেশটির সরকার ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। এরপর ইসরায়েল ও অস্ট্রেলিয়ার মধ্যে সম্পর্কে কিছুটা ফাটল দেখা যায়।

সমাবেশের আয়োজক প্যালেস্টাইন অ্যাকশন গ্রুপ জানিয়েছে, অস্ট্রেলিয়াজুড়ে ৪০টির বেশি স্থানে বিক্ষোভ হয়েছে। সিডনি, ব্রিসবেন ও মেলবোর্ন অঙ্গরাজ্যের রাজধানীতে ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ করা গেছে। তাদের দাবি, সারা দেশে প্রায় ৩ লাখ ৫০ হাজার মানুষ এসব সমাবেশে যোগ দিয়েছেন। শুধু ব্রিসবেনেই অংশ নিয়েছেন প্রায় ৫০ হাজার মানুষ। তবে পুলিশের ধারণা, ব্রিসবেনে অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা ছিল ১০ হাজারের কাছাকাছি। সিডনি ও মেলবোর্নের জনসমাগমের বিষয়ে পুলিশের আনুষ্ঠানিক কোনো হিসাব পাওয়া যায়নি।

সিডনিতে সমাবেশের আয়োজক জশ লিস বলেন, ‘গাজায় গণহত্যা বন্ধের দাবি জানাতে ও সরকার যেন ইসরায়েলের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয়, সে দাবি তুলতে’ অস্ট্রেলিয়ানরা রাস্তায় নেমেছেন। সমাবেশে অংশ নেওয়া অনেকের হাতে ফিলিস্তিনের পতাকা ছিল। এ সময় তাঁরা ‘ফ্রি, ফ্রি প্যালেস্টাইন’ স্লোগান দেন।

অস্ট্রেলিয়ায় ইহুদিদের সংগঠন এক্সিকিউটিভ কাউন্সিল অব অস্ট্রেলিয়ান জিউরির সহপ্রধান নির্বাহী অ্যালেক্স রাইভচিন স্কাই নিউজ টেলিভিশনকে বলেন, এসব সমাবেশ একটি অনিরাপদ পরিবেশ তৈরি করছে। এগুলো হওয়া উচিত নয়।

১১ আগস্ট অস্ট্রেলিয়া সরকার ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেওয়ার সিদ্ধান্তের কথা জানায়। এর কয়েক দিন আগে সিডনির বিখ্যাত হারবার ব্রিজে হাজার হাজার মানুষ গাজায় শান্তি প্রতিষ্ঠা ও ত্রাণ সরবরাহের দাবিতে মিছিল করেন।

ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতির সিদ্ধান্তে ইসরায়েল–অস্ট্রেলিয়া সম্পর্ক এমন টানাপোড়েনের মুখে পড়েছে, যা কয়েক দশকেও দেখা যায়নি। এ ইস্যুতে দুই দেশের শীর্ষ রাজনীতিকেরা একে অপরকে কটাক্ষ করেছেন। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রীকে ব্যক্তিগতভাবে আক্রমণ করেছেন। পশ্চিম তীরে নিযুক্ত অস্ট্রেলীয় কূটনীতিকদের ভিসা বাতিল করেছে ইসরায়েল। বিপরীতে একজন ইসরায়েলি আইনপ্রণেতাকে অস্ট্রেলিয়ায় ঢুকতে দেওয়া হয়নি।

https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla%2F2025-08-24%2Flhax2595%2FAUSTRALIA-PROTEST.JPG.JPG?rect=0%2C0%2C7628%2C5085&w=622&auto=format%2Ccompress&fmt=avif
অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্নে ফিলিস্তিনের পক্ষে বিশাল সমাবেশ হয়েছে। ২৪ আগস্ট। ছবি: এএফপি

ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন হবে বলে মনে হচ্ছে না by আরিফুল ইসলাম

জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম  বলেছেন, ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন হবে বলে মনে হচ্ছে না। জুলাই সনদের আইনি ভিত্তির মাধ্যমে আমরা নির্বাচনে (গণপরিষদ) অংশগ্রহণ করতে চাই। এর বাইরে কোনো নির্বাচন হবে বলে আমার কাছে মনে হচ্ছে না।
তিনি আরও বলেন, আমরা প্রথম থেকেই নির্বাচনের তারিখ নিয়ে কখনোই পক্ষ-বিপক্ষ করিনি। আমরা শুধু বলেছি- সংস্কারের নিশ্চয়তা এবং বিচারের নিশ্চয়তা নিয়ে যদি ডিসেম্বরেও নির্বাচন হয় সেটাতেও আমাদের আপত্তি নাই।

রোববার এনসিপি ডায়াসপোরা অ্যালায়েন্স, মালয়েশিয়ার আয়োজনে ‘২০২৪-এর গণ-অভ্যুত্থান বীরত্বগাথা ও বিপ্লব-পরবর্তী বাংলাদেশ গঠনে প্রবাসীদের ভূমিকা’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে প্রশ্নোত্তর-পর্বে মানবজমিন প্রতিনিধির প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
এ ছাড়া বিএনপি’র সঙ্গে আসন ভাগাভাগির প্রশ্নে নাহিদ ইসলাম বলেন, নির্বাচন পেছানো বা এই ধরনের কথাগুলো কেবলই গালগল্প, এগুলো মিথ্যা প্রোপাগান্ডা- এসব নিয়ে গুজব ছড়ানো হচ্ছে। নির্বাচনে অংশগ্রহণ ও সফলতার চেয়ে আমার কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে সংস্কার।

তিনি বলেন, গণ-অভ্যুত্থানের পর দেশের মানুষের কাছে আমরা যাতে বলতে পারি দেশের এই পরিবর্তনটা আমরা নিয়ে এসেছি বা জুলাইয়ের ফলে পরিবর্তনটা নিয়ে এসেছি- ফলে সংস্কারটাই আমাদের প্রধান এজেন্ডা। সংস্কারের পরেই আমরা নির্বাচন নিয়ে ভাববো।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় নাগরিক পার্টির যুগ্ম সদস্য সচিব আলাউদ্দীন মোহাম্মাদ। এনসিপি ডায়াসপোরা অ্যালায়েন্স, মালয়েশিয়ার সভাপতি মোহাম্মদ এনামুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন আলমগীর চৌধুরী আকাশ।
mzamin

ভারতে সস্তায় রুশ তেল আমদানির নেপথ্যে মুকেশ আম্বানি

আল জাজিরার রিপোর্টঃ অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ শুল্ক বসিয়ে ভারতকে শাস্তির মুখে ফেলেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। এর পেছনে রয়েছে ভারতের রুশ তেল আমদানির বিষয়টি। যা ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়াকে সহায়তা করছে বলে অভিযোগ তুলেছে যুক্তরাষ্ট্র। যদিও ওয়াশিংটন এবং নয়াদিল্লির সম্পর্কের টানাপোড়েন নতুন কিছু নয়। তবে এবার আক্রমণের মূল কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে ভারতের বেসরকারি সংস্থাগুলো। বিশেষ করে এশিয়ার শীর্ষ ধনী মুকেশ আম্বানির প্রতিষ্ঠান রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজ (আরআইএল)। রাশিয়া থেকে তেল আমদানির শীর্ষে রয়েছে আম্বানির এই প্রতিষ্ঠান।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তার সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে বলেন, যখন সবাই চাইছে ইউক্রেনে হত্যা বন্ধ হোক, তখন ভারত এবং চীন রাশিয়ার সবচেয়ে বড় জ্বালানির ক্রেতা হয়ে উঠেছে। যা সবকিছুকে খারাপ করে তুলছে। মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্টও সিএনবিসিকে জানিয়েছেন, ভারতের সবচেয়ে ধনী কিছু পরিবার এই আমদানির সবচেয়ে বড় সুবিধাভোগী। এই রিপোর্টে আল জাজিরা ভারতের রুশ তেল আমদানির পুরো চিত্রটি তুলে ধরেছে, যার কেন্দ্রে রয়েছে মুকেশ আম্বানির রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজ।

ফিনল্যান্ড-ভিত্তিক সেন্টার ফর রিসার্চ অন এনার্জি অ্যান্ড ক্লিন এয়ার (সিআরইএ) এর তথ্য অনুযায়ী, ভারতের সবচেয়ে বড় রুশ অপরিশোধিত তেল আমদানিকারক মুকেশ আম্বানির রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজ। ২০২১ সালে জামনগর রিফাইনারিতে মোট অপরিশোধিত রুশ তেল আমদানির পরিমাণ ছিল মাত্র ৩ শতাংশ। কিন্তু ইউক্রেন যুদ্ধের পর এই পরিমাণ বেড়ে গড়ে ৫০ শতাংশে পৌঁছেছে। শুধু তাই নয় ২০২৫ সালের প্রথম সাত মাসে জামনগর রিফাইনারি রাশিয়া থেকে ১৮ দশমিক ৩ মিলিয়ন টন অপরিশোধিত তেল আমদানি করেছে। যা গত বছরের তুলনায় ৬৪ শতাংশ বেশি। যার বাজারমূল্য প্রায় ৮ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলার। ইতিমধ্যেই চলতি বছর এত পরিমাণ তেল আমদানি হয়েছে যা ২০২৪ সালের মোট আমদানি থেকে মাত্র ১২ শতাংশ কম।

২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারি মাস থেকে রাশিয়ার তেলের উপর মূল্যসীমা কার্যকর হওয়ার পর থেকেই এই আমদানির পরিমাণ উল্লেখযোগ্য হারে বেড়ে যায়। যদিও মূল্যসীমার উদ্দেশ্য ছিল রাশিয়ার রাজস্ব কমানো, কিন্তু বাস্তবে এটি ভারতকে কম দামে তেল কেনার সুযোগ করে দিয়েছে। তবে মূল্যসীমার অপরিবর্তিত হার (গত তিন বছর ধরে ৬০ ডলার) এবং এর কার্যকর প্রয়োগের অভাবে এর উদ্দেশ্য সফল হয়নি। রাশিয়া একটি শ্যাডো ফ্লিট বা গোপন জাহাজ বহর তৈরি করেছে, যা আন্তর্জাতিক নজরদারি এড়িয়ে ক্রেতাদের কাছে তেল সরবরাহ করে। এর ফলে অনেক ক্ষেত্রেই ক্রেতারা মূল্যসীমার চেয়ে বেশি দামে তেল কিনছে।

রিলায়েন্সের জামনগর রিফাইনারির আমদানি ও রফতানির তথ্য বিশ্লেষণ করে চমকপ্রদ তথ্য পেয়েছে আল জাজিরা। ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে গত মাস পর্যন্ত এই রিফাইনারি বিশ্বজুড়ে ৮৫ দশমিক ৯ বিলিয়ন ডলারের পরিশোধিত তেল পণ্য রপ্তানি করেছে। এর মধ্যে প্রায় ৪২ শতাংশ (৩৬ বিলিয়ন ডলার) রপ্তানি হয়েছে সেই দেশগুলোতে, যারা রাশিয়ার উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। এর মধ্যে এক-তৃতীয়াংশ রপ্তানি হয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) ভুক্ত দেশে। যার মূল্য ১৯ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলার। আর ৬ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলারের তেল পণ্য গেছে যুক্তরাষ্ট্রে। যার মধ্যে ২ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলারের তেল প্রক্রিয়াজাত করা হয়েছে রুশ অপরিশোধিত তেল থেকে।

মূল্যসীমা কার্যকরের পর থেকে জামনগর রিফাইনারি থেকে চতুর্থ বৃহত্তম আমদানিকারক (মূল্যের দিক থেকে) যুক্তরাষ্ট্র। যেখানে শীর্ষস্থানে রয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত, অস্ট্রেলিয়া এবং সিঙ্গাপুর। তবে পরিমাণের দিক থেকে যুক্তরাষ্ট্রই সবচেয়ে বড় আমদানিকারক। যা জামনগর থেকে ৮ দশমিক ৪ মিলিয়ন টন তেল পণ্য আমদানি করেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এটা মনে করা ভুল হবে যে ভারত কেবল একটি কোম্পানির লাভের জন্য এই বিপুল পরিমাণ শুল্কের বোঝা বহন করছে। সেন্টার ফর আ নিউ আমেরিকান সিকিউরিটির সিনিয়র ফেলো র‌্যাচেল জিয়েম্বা মনে করেন, সস্তায় রুশ তেল আমদানি ভারতের চলতি হিসাবের ঘাটতি কমাতে সাহায্য করেছে এবং একই সঙ্গে ভারত জোট-নিরপেক্ষ নীতি বজায় রেখেছে। গ্লোবাল ট্রেড রিসার্চ ইনিশিয়েটিভ এর প্রতিষ্ঠাতা অজয় শ্রীবাস্তব ডনাল্ড ট্রাম্পের এই শুল্ককে একটি সম্পূর্ণ ধাপ্পাবাজি বলে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন, চীন রাশিয়ার সবচেয়ে বড় তেল আমদানিকারক হওয়া সত্ত্বেও ট্রাম্প চীনের বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছেন না। কারণ তিনি চীনকে ভয় পান। এটি মূলত অন্য রাজনৈতিক ও বাণিজ্যিক চাপের একটি কৌশল।

ইউরোপীয় ইউনিয়ন ২০২৫ সালের জানুয়ারি মাস থেকে রুশ তেল থেকে প্রক্রিয়াজাত পরিশোধিত পেট্রোলিয়াম আমদানির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করদে যাচ্ছে, যা একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন। এটি কার্যকর হলে জামনগর রিফাইনারির রফতানি কৌশল পুনর্বিবেচনা করতে হতে পারে, কারণ তাদের জেট ফুয়েল রপ্তানির অর্ধেকের বেশি ইউরোপে যায়। তবে রিলায়েন্স ডিসেম্বরে রোসনেফট এর সঙ্গে ১০ বছরের চুক্তি স্বাক্ষর করেছে, যা এই নিষেধাজ্ঞার পরে কীভাবে কার্যকর হয়, তা দেখার বিষয়।

mzamin

সরকারি চাকরি যেন আলাদীনের চেরাগ by শরিফ রুবেল

তিনি একজন দ্বিতীয় শ্রেণির কর্মকর্তা। চাকরি করেন গাজীপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষে। চড়েন ব্যক্তিগত গাড়িতে। হাতে লাখ টাকার ঘড়ি। ড্রাইভার, কাজের লোক, আয়া-বুয়া সবই আছে। ছেলে মেয়েদেরও নামি স্কুলে পড়ান। আছে ফ্ল্যাট কেনার শখ। সুযোগ পেলেই এখানে সেখানে ফ্ল্যাট ও জমির শেয়ার কেনেন। ফাইল আটকিয়ে ভবনের মালিকানা শেয়ারও লিখে নেন। বিনিয়োগ করেছেন আবাসন প্রকল্পেও। তিনি গাজীপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (গাউক) ইমারত পরিদর্শক মুরাদ আলী। যিনি ১০ বছরের চাকরিজীবনে অঢেল সম্পদের মালিক হয়েছেন। সরকারি চাকরি নয়, যেন আলাদিনের চেরাগ হাতে পেয়েছেন। গাজীপুর চোরাস্তা এলাকায় করেছেন ৪টি বাড়ি। শহরে রয়েছে আরও ৭টি ফ্ল্যাট। পরিবারের সদস্যদের নামেও জমি কিনেছেন বিভিন্ন স্থানে। তবে চাকরি ছাড়া বৈধ আয়ের অন্য কোনো উৎস নেই মুরাদ আলীর। গত কয়েকদিনে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে মুরাদ আলীর জ্ঞাত আয়বহির্ভূত বিপুল পরিমাণ সম্পদের তথ্য পাওয়া গেছে। অর্জিত অধিকাংশ বাড়ি, ফ্ল্যাট ও জমি তিনি স্ত্রী রোকসানা পারভীন, বাবা আশরাফুল আলম খান, বোন মাহমুদা আক্তার ও বন্ধু আনিসুর রহমানের নামে কিনেছেন। তবে পার্টনারশিপে কিছু জমি তিনি নিজের নামে কিনে সেখানে ভবন করেছেন। অনুসন্ধানে জানা গেছে, ভবন নির্মাণে নকশা অনুমোদনে প্রতিটি ফাইলে ‘এম’ চিহ্ন লিখে দেন মুরাদ। এম চিহ্ন ছাড়া কোনো ফাইলই অনুমোদন হয় না। এই বিশেষ চিহ্ন মানে তিনি এই ফাইল ডিল করেছেন এবং উৎকোচ নিয়েছেন।

মুরাদের নামে বেনামে যত সম্পদ: মানবজমিন অনুসন্ধানে গাজীপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের ইমারত পরিদর্শক মো. মুরাদ আলীর সদরের বিভিন্ন এলাকায় ফ্ল্যাট, কমার্শিয়াল স্পেস, প্লট, বাড়ি ও জমি পাওয়া গেছে। পার্টনারশিপে জমি কিনে ভবন করে ফ্ল্যাট ভাগাভাগি করেছেন মুরাদ। এরমধ্যে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের ১৮নং ওয়ার্ডের চৌরাস্তা নলজানি গ্রেটওয়াল সিটি কাঁচাবাজারের অপর পাশে নির্মাণাধীন ১০ তলা ভবনে দু’টি ফ্ল্যাট পাওয়া গেছে। যা মুরাদ আলীর বোন ও স্ত্রীর নামে রয়েছে। এই ভবনের নকশা অনুমোদনে মুরাদ আলীর সহায়তা রয়েছে। এর পাশেই নলজানি ৭ নম্বর রোডের সি-ব্লকে গণসেবা স্বাস্থ্যকেন্দ্রের অপরপাশে নির্মাণাধীন দু’টি ১০ তলা ভবনের দু’টি ফ্লোর রয়েছে মুরাদ আলীর। এই দু’টি ভবনের গাউকের ছাড়পত্র আটকে দিয়ে ফ্ল্যাট মালিকদের সঙ্গে নিজে যুক্ত হন মুরাদ আলী। পরে শেয়ারে তিনি এই বিল্ডিং নির্মাণ করছেন। মুরাদ আলীর সবচেয়ে উচ্চ মূল্যের সম্পদ রয়েছে গাজীপুর সিটির চৌরাস্তা ১৭ নম্বর ওয়ার্ডের পালের মাঠ শহীদ বরকত সরণি রোডে। এখানে তার স্ত্রী রোকসানা পারভিন, বাবা আশরাফুল আলম খান ও বন্ধু আনিসুর রহমানের নামে তিনটি শেয়ার রয়েছে। ১০ জনের পার্টনারশিপে পাশাপাশি ৩টি আলিশান বাণিজ্যিক ভবন নির্মাণ করছেন মুরাদ আলী। ভবনের নাম সানরাইজ টাওয়ার। প্রতিটি ১০তলা করে ভবনের নির্মাণকাজ চলমান আছে। ইতিমধ্যে ৩ নম্বর ভবনের নিচতলা একটি ওষুধ কোম্পানির কাছে ভাড়া দেয়া হয়েছে।

সানরাইজ টাওয়ারের ঠিক উল্টোপাশে পার্টনারশিপে ২৯ শতাংশ জমি কিনেছেন। জমিটি তার বোনের নামে কেনা হয়। যার বাজারমূল্য ৪ কোটি টাকা। যার দলিল নং-৬৯৫/২৫। এই জমিতে একটি কাপড়ের গোডাউন রয়েছে। সম্প্রতি মুরাদ আলী নিজের বসবাসের জন্য একটি বিলাসবহুল বাড়ি নির্মাণ করেছেন। বাড়িটি গাজীপুর ডুয়েটের অপরপাশে পশ্চিম ভূরুলিয়া সাত্তার সরণি (রাঙ্গামাটি নীড়) রোডের শেষ মাথায়। এটি ৫ তলাবিশিষ্ট ভবন। এর পাশেই একটি ৭ তলা ভবনে ২৫০০ স্কয়ার ফিটের একটি ফ্ল্যাট আছে তার। ভবনটি মিতালি ভবন নামে পরিচিত। এটি সিটি করপোরেশনের ২৫নং ওয়ার্ডে অবস্থিত। এই ভবনের অনুমোদনেও জালিয়াতি করেন মুরাদ আলী। গাজীপুর শিমুলতলী এলাকায় মুরাদ আলীর ২০০০ স্কয়ার ফিটের একটি ফ্ল্যাট রয়েছে। এটি ওই এলাকার চক্ষু হাসপাতাল রোডসংলগ্ন সেলিম ভিলা রোডের সেলিম ভিলার পাশে। যার হাউজ নং ৪৭৭/১, সাউথ চত্বর গাজীপুর। ভবনের নাম বন্ধন ভিউ। ফ্ল্যাট নং-৩ সি। এই ভবনের রাজউকের ছাড়পত্র আটকে দিয়ে তিনি এই ফ্ল্যাট লিখে নেন। বর্তমানে তিনি ফ্ল্যাটটি বিক্রির চেষ্টা করছেন। এ ছাড়া উত্তরা হাউজ বিল্ডিং ও খিলক্ষেত নিকুঞ্জ এলাকায় মুরাদ আলীর স্ত্রী রোকসানা পারভীনের নামে ৩টি ফ্ল্যাট রয়েছে। মুরাদ আলীর গাজীপুর চাপুলিয়া মৌজায় ১০ বিঘা জমি রয়েছে। ২০১৮ সাল থেকে ২৩ সালের মাঝামাঝি সময়ে তিনি এসব জমি কেনেন। এ ছাড়া মুরাদ আলী ও কয়েকজন পার্টনারশিপে কেনা নামে দু’টি দলিল পাওয়া গেছে। এরমধ্যে দলিল নং-৪১৬৫/১৫। জমি ৬.৬০ শতাংশ। আরেকটি দলিল নং-৬০৩২/১৫। জমি ৩.৩০ শতাংশ। এ ছাড়া পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার শ্রীরামপুর গ্রামেও বাবা ও ভাইদের নামে জমি কিনেছেন মুরাদ। মুরাদ আলী ব্যক্তিগত গাড়িতে চড়ে অফিসে আসেন। গাড়ি নম্বর ঢাকা মেট্রো-গ- ১৩-০৮১৩।


স্ত্রীর নামে কোটি টাকার ডেভেলপার কোম্পানি: মুরাদ আলীর স্ত্রী রোকসানা পারভীনের একটি ডেভেলপার কোম্পানি রয়েছে। পনেরো ইঞ্জিনার্স হোল্ডিং লিমিটেড নামের এই কোম্পানির মাধ্যমে ভবন নির্মাণ করলেই অটো রাজউকের অনুমোদন মেলে। এই কাজে সহায়তা করেন ইমারত পরিদর্শক মুরাদ আলী। এই কোম্পানি দিয়ে গাজীপুর সিটি করপোরেশন এলাকায় অনেক ভবন নির্মাণ ঠিকাদারি কাজ নিয়ন্ত্রণ করছেন মুরাদ আলী।

ঘুষ নিয়ে যত ফাইল পাস:
গাজীপুর সিটি এলাকায় বাড়ি মালিকদের আতঙ্কের নাম ইমারত পরিদর্শক মুরাদ আলী। কোনো ভবনের প্লান পাস করতে গেলেই মুরাদ আলীর ইশারা থাকতে হয়। গাউকের বেশির ভাগ ফাইলের পেছনে এম চিহ্ন দেয়া থাকে। জয়দেবপুর মৌজায় ড্যাপের নকশায় চিহ্নিত জলাশয়ে ১৩ তলা ভবন নির্মাণের অনুমতি দিয়ে তেলেসমাতি কাণ্ড করেছেন মুরাদ আলী। গত বছর ২৬শে নভেম্বর গাউক  থেকে এই ফাইল অনুমোদন হয়। সংশ্লিষ্ট নথিপত্রের তথ্য ঘেঁটে দেখা যায়, ভূমি ছাড়পত্রটি গাজীপুর সদর উপজেলার জয়দেবপুর মৌজার সিএস-৮৭৫ (অংশ), আরএস-২৪৫৩ (অংশ) খন্দকার নাজিমউদ্দিন গং অনুমোদন পান। যার স্মারক নং-১৫০৫.২৪.১৬৮১। বরুদা এলাকায় ৩৬ শতাংশ জমিতে এই ভূমি ছাড়পত্র প্রদান করা হয়। ডিটেইল্ড এরিয়া প্ল্যান (২০২২-২০৩৫) বিশেষ প্রকল্পের আওতায় আবাসিক এলাকা দেখিয়ে এই ছাড়পত্র প্রদান করা হয়।

প্রস্তাবিত জমির পশ্চিম পাশে ২০ ফুট প্রশস্ত রাস্তা দেখানো হয়েছে। যাতে এ-৫ ক্যাটাগরিতে ১০ তলা বা তদূর্ধ্ব সুউচ্চ ভবন নির্মাণের অনুমতি নেয়া যায়। অথচ জমিটি চিহ্নিত জলাশয় এলাকা। এ ছাড়া ঘুষের মাধ্যমে মুরাদ আলী ফাইল পাস করেছেন তার কয়েকটি নথি মানবজমিনের হাতে এসেছে। এরমধ্যে ছাড়পত্রের নথি নং-১৪৩৫/২৪ একটি। ফাইলটি লুৎফর রহমানের নামে জমা হয়। মৌজা আড়াইশ’ প্রসাদ। নথি ইস্যু হয় মো. আব্দুস সোবাহান গং নামে। মৌজা আরিচপুর।  আব্দুস সোবাহানের নামে যে নকশা অনুমোদন হয় তার নথি নং-১৫৯/২৫। এই ২টি ফাইলেই ছাড়পত্র জালিয়াতি করা হয়। এ ছাড়া জয়দেবপুরে একটি নকশা অনুমোদনে ভবনের সামনের ১০ ফিট রাস্তাকে ২০ ফিট দেখিয়ে ১১ তলার অনুমোদন  নেয়া হয়। কাজী শায়লা শারমিন গং নথি নং ৬২/২৫। এটি ১১ তলা বিল্ডিং প্লান  দেয়ার জন্য ২০ ফিট রাস্তা প্রয়োজন। কিন্তু মুরাদ টাকার বিনিময়ে ১০ ফিট রাস্তা থাকা এলাকাকে বিশেষ প্রকল্প এলাকা দেখিয়ে ছাড়পত্র দিয়ে দেন। এ ছাড়া আইরিশ ফ্যাশন লিমিটেডের সকল ভবন গাউকের অনুমোদন ছাড়াই করা। বর্তমানে মুরাদ তাদের ছাড়পত্র দিয়ে দিচ্ছে। ভূমি ছাড়পত্র ব্যবহার, ত্রুটিপূর্ণ জমিতে বিশেষ প্রকল্প দেখিয়ে ছাড়পত্র অনুমোদন করা হয়। এটারও ভূমি ব্যবহার ছাড়পত্র ও বিশেষ প্রকল্প ছাড়পত্র হয়েছে। গত কয়েক বছরে গাউক থেকে ৭ তলার অনুমোদন নিয়ে ৯ তলা এবং ১০ তলার অনুমোদন নিয়ে ১১ থেকে ১২ তলা ভবন নির্মাণ করেছে ভবন মালিকরা। মুুরাদ আলী রাজউকের নথি ধরে ধরে এসব ভবন মালিকদের নকশা বহির্ভূত ভবন নির্মাণের অভিযোগে নোটিশ পাঠান। কাউকে কাউকে মোবাইল ফোনে ভবন গুঁড়িয়ে দেয়ার অভিযানের হুমকি দেন। পরে কৌশলে ওই মালিকদের সঙ্গে সমঝোতা করে বিপুল পরিমাণ টাকা হাতিয়ে নেন মুরাদ। এমন অসংখ্য অভিযোগের কপি মানবজমিনের হাতে রয়েছে।

যা বলেছেন মুরাদ আলী: জানতে চেয়ে ইমারত পরির্দশক মুরাদ আলীকে ফোন করা হলে তিনি মানবজমিনকে বলেন, প্রথমত আমি ফোনে কথা বলতে চাই না। আমার সঙ্গে কথা বলতে হলে গাজীপুর আসতে হবে। আর আমার এবং আমার পরিবারের সদস্যদের নামে যত সম্পদ রয়েছে সব বৈধ। অল্প বেতনে কীভাবে প্রায় ৫০ কোটি টাকার সম্পদ করলেন এই প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সব আমার ট্যাক্স ফাইলে উল্লেখ করা আছে। ট্যাক্স ফাইলে কোনো সম্পদের তথ্য নেই। এই তথ্য জানানো হলে তিনি ফোন কেটে দেন। এরপর একাধিকবার চেষ্টা করেও তাকে ফোনে পাওয়া যায়নি।

mzamin

সন্ধিক্ষণে দক্ষিণ এশিয়া: কোন পথে ভারত-পাকিস্তান by আসিম সাজ্জাদ আখতার

প্রায় আট দশক আগে ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনের অবসান ঘটে। এর মধ্য দিয়ে ভারত ও পাকিস্তান নামে দুটি স্বাধীন রাষ্ট্রের জন্ম হয়। ইতিহাসের সেই মুহূর্তে দক্ষিণ এশিয়ার মানুষের সামনে নতুন সুযোগ খুলে গিয়েছিল।  ভেবেছিলাম, হয়তো আমরা নিজেদের ভাগ্য নতুনভাবে গড়তে পারব। কিন্তু সেই আশার অনেকটাই ভেস্তে গেছে; বরং দুই রাষ্ট্রের সম্পর্কের মূল সুর হয়ে উঠেছে সন্দেহ, শত্রুতা আর যুদ্ধের হুমকি।

আজ আমরা যখন প্রায় ৮০ বছরের সেই ইতিহাসের দিকে ফিরে তাকাই, তখন দেখতে পাই, ভারত-পাকিস্তান সম্পর্কের জট শুধু বেড়েছেই। এর সঙ্গে নতুন নতুন ঝামেলা যোগ হয়েছে। জাতীয়তাবাদী রাজনীতি, ধর্মীয় উগ্রতা এবং সামরিকতাবাদ উভয় রাষ্ট্রের ভেতরে শক্তভাবে শিকড় গেড়েছে।

তরুণ প্রজন্ম, যাদের হাতে ভবিষ্যৎ, তারাও এই ঘৃণার রাজনীতির প্রভাবে বড় হচ্ছে। তারা পারস্পরিক ইতিহাস, যৌথ ঐতিহ্য বা ঔপনিবেশিক শাসনের অভিজ্ঞতা নিয়ে ভাবতে চায় না। যুদ্ধের জয়-পরাজয়ের উত্তেজনা তাদের কাছে বেশি আকর্ষণীয়। এ এক ভয়াবহ বাস্তবতা। তাহলে দক্ষিণ এশিয়ার এই বৃহত্তম ও জনবহুল অঞ্চলের ভবিষ্যৎ কী হতে পারে? বিশ্লেষকেরা অন্তত তিনটি সম্ভাব্য চিত্র তুলে ধরেন।

প্রথম এবং সবচেয়ে সম্ভাব্য দৃশ্যপট হলো বর্তমানের ধারাবাহিকতা। ভারতে হিন্দুত্ববাদী রাজনীতি আরও গভীরভাবে সমাজে প্রভাব ফেলবে। বিজেপি, আরএসএস, বিশ্ব হিন্দু পরিষদের মতো সংগঠনগুলো কেবল রাজনৈতিক অঙ্গনেই নয়, রাষ্ট্রযন্ত্র ও সাংস্কৃতিক পরিসরেও আধিপত্য বিস্তার করবে।

পাকিস্তানে সামরিক প্রভাব বা ‘খাকিরাজ’ আরও শক্ত হবে। মূলধারার রাজনৈতিক দলগুলো কার্যত সেনাশক্তির ছায়াতলে কাজ করবে। একই সঙ্গে ধর্মীয় ডানপন্থী শক্তি সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রভাব বাড়াবে। এই প্রক্রিয়ায় দুই রাষ্ট্রই তাদের নাগরিকদের নিরাপত্তা, সন্ত্রাসবিরোধী লড়াই কিংবা জাতীয় ঐক্যের নামে আরও বেশি ক্ষমতা নিজেদের হাতে কুক্ষিগত করবে। ফলাফল হবে, ঘৃণার রাজনীতি স্থায়ীভাবে প্রতিষ্ঠা।

দ্বিতীয় সম্ভাবনা কিছুটা আশার আলো দেখায়। ভারতে হয়তো কংগ্রেস বা তাদের সহযোগীরা আবারও ক্ষমতায় আসতে পারে এবং সংখ্যাগরিষ্ঠতাবাদের কিছু প্রভাব ঠেকানোর চেষ্টা করতে পারে। পাকিস্তানেও রাজনৈতিক দলগুলো সেনাশাসনের বিরুদ্ধে ঐক্য গড়তে পারে, যা অন্তত কিছু সময়ের জন্য শ্বাস নেওয়ার সুযোগ করে দেবে। কিন্তু এ আশাও সীমিত। কারণ, এই মধ্যপন্থী বা উদারপন্থী শক্তিগুলো অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে নতুন কোনো দৃষ্টিভঙ্গি দিতে পারে না। তারা একই উন্নয়ন মডেলের সঙ্গে যুক্ত, যা কিনা ভোগবাদ, পরিবেশবিধ্বংস আর বৈষম্যকে আরও বাড়ায়। ফলে তাদের নেতৃত্বও দীর্ঘ মেয়াদে টেকসই হয়ে উঠতে পারে না। একসময় আবারও উগ্র জাতীয়তাবাদী ও সামরিকতাবাদী শক্তিই নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে।

তৃতীয় সম্ভাবনা সবচেয়ে কম বাস্তবসম্মত হলেও সবচেয়ে জরুরি। সেটি হলো সাধারণ মানুষের ঐক্যের ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠা প্রগতিশীল রাজনীতি। দক্ষিণ এশিয়ার শ্রমজীবী মানুষ, নারী, প্রান্তিক জনগোষ্ঠী এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের স্বার্থে যদি নতুন ধরনের রাজনৈতিক জোট গড়ে ওঠে, তবে স্থায়ী শান্তি ও সহযোগিতার পথ খোলা যেতে পারে। এর জন্য দরকার একটি বিকল্প অর্থনৈতিক দর্শন, যেখানে অগ্রাধিকার পাবে জনগণের মৌলিক চাহিদা, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও কর্মসংস্থান। বহুজাতিক কোম্পানি, ধনী ব্যবসায়ী বা সামরিক প্রতিষ্ঠানের মুনাফা নয়, জনগণের কল্যাণই হবে মূল লক্ষ্য।

এই বিকল্প ভবিষ্যতের আরেকটি অপরিহার্য শর্ত হলো পরিবেশ পুনর্গঠন। উপমহাদেশের পাহাড়, সমভূমি, নদী-নালা ও উপকূলীয় অঞ্চল দ্রুত ধ্বংস হচ্ছে। এই ধ্বংস কেবল প্রাকৃতিক বিপর্যয় নয়, রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতারও জন্ম দিচ্ছে। পরিবেশের এই সংকট সমাধান ছাড়া টেকসই উন্নয়ন ও স্থায়ী শান্তি সম্ভব নয়।

তাই পরিবেশই হতে পারে নতুন রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দু। তবে এই ভবিষ্যৎ বাস্তবায়নের জন্য প্রগতিশীল শক্তিগুলোকে নতুন করে নিজেদের পুনর্গঠন করতে হবে। ভারতে হিন্দিভাষী অঞ্চলের আধিপত্য ভাঙতে হবে। কাশ্মীরি, নাগা, আদিবাসী ও দক্ষিণ ভারতের জনগণকে যথাযথ মর্যাদা দিতে হবে।

পাকিস্তানে বালুচ, পাখতুন, গিলগিট-বালতিস্তানি, কাশ্মীরি, সিন্ধি ও সারায়েকি জনগণের জাতীয় প্রশ্নকে গুরুত্ব দিতে হবে। পাশাপাশি পাঞ্জাব ও অন্যান্য শহুরে অঞ্চলে শ্রেণিভিত্তিক রাজনীতি জোরদার করতে হবে।

সবশেষে, দক্ষিণ এশিয়ায় একটি আঞ্চলিক চেতনা গড়ে তোলার বিকল্প নেই। লাদাখ, বালতিস্তান, দুই কাশ্মীর, সিন্ধ, রাজস্থান, দুই পাঞ্জাব, দুই পাশের পাখতুন অঞ্চল কিংবা বালুচ ও নাগাদের স্বার্থকে যদি একসঙ্গে দেখা হয়, তবে একটি যৌথ মানবিক ভবিষ্যৎ গড়ে তোলা সম্ভব। কেবল এভাবেই সাম্রাজ্যবাদ, উগ্র জাতীয়তাবাদ আর আগ্রাসনকে ইতিহাসের আবর্জনার স্তূপে পাঠানো যাবে।

আজ দক্ষিণ এশিয়ার সামনে প্রশ্ন একটাই, আমরা কি ঘৃণার রাজনীতিকে স্থায়ী করতে চাই, নাকি সাধারণ মানুষের ঐক্য আর শান্তিকে সামনে নিয়ে আসব? সময়ের দাবি হলো দ্বিতীয় পথটি বেছে নেওয়া। কারণ, যুদ্ধ নয়, সহযোগিতা ও বোঝাপড়ার মাধ্যমেই প্রায় ২০০ কোটি মানুষের এই অঞ্চল টেকসই ভবিষ্যতের পথে এগোতে পারবে।

* আসিম সাজ্জাদ আখতার, ইসলামাবাদের কায়েদে আজম ইউনিভার্সিটির শিক্ষক
- দ্য ডন থেকে নেওয়া, অনুবাদ: সারফুদ্দিন আহমেদ

ভারত–পাকিস্তান সাম্প্রতিক সংঘাতের কারণে নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে হয় কাশ্মীরিদের
ভারত–পাকিস্তান সাম্প্রতিক সংঘাতের কারণে নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে হয় কাশ্মীরিদের। ছবি: এএফপি

বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত শিশু কাইরান কাজী মাস্কের স্পেসএক্স ছেড়ে এবার কোন চ্যালেঞ্জ নিতে যাচ্ছে

টাইমস অব ইন্ডিয়াঃ মাত্র ১৪ বছর বয়সে ইলন মাস্কের কোম্পানি স্পেসএক্সের স্টারলিংক প্রকল্পে যোগ দিয়ে হইচই ফেলে দিয়েছিল বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত কিশোর কাইরান কাজী। দুই বছর সেখানে কাজ করার পর এবার স্টারলিংক ছেড়ে সে আর্থিক প্রতিষ্ঠান সিটাডেল সিকিউরিটিজে কোয়ান্ট ডেভেলপার হিসেবে নিজের দক্ষতা দেখাতে চলেছে।

কাইরান কাজীর বয়স এখন ১৬ বছর। ১৪ বছর বয়সে সান্তা ক্লারা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক পাস করার পর সে স্পেসএক্সে যোগ দিয়েছিল। কাইরান বিশ্বের সবচেয়ে কম বয়সী প্রকৌশলীদের একজন।

এই কিশোর প্রকৌশলী এবার কোয়ান্টিটেটিভ ফাইন্যান্সে তার অনন্য প্রতিভা এবং সমস্যা সমাধানের দক্ষতা দেখাতে চলেছেন। পেশা জগতে বয়সভিত্তিক পক্ষপাতের সঙ্গে সম্পর্কিত চ্যালেঞ্জগুলো কাটিয়ে ওঠাই হচ্ছে তার উদ্দেশ্য।

কাইরান কাজীর অসাধারণ যাত্রা শুরু হয় মাত্র ১৪ বছর বয়সে সান্তা ক্লারা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক হয়ে। সে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির ১৭০ বছরের ইতিহাসে সর্বকনিষ্ঠ স্নাতক হওয়ার গৌরব অর্জন করেছেন। এটি তার ব্যতিক্রমী বুদ্ধিমত্তা, একাগ্রতা ও চাপের মধ্যে সফল হওয়ার ক্ষমতা প্রমাণ করেছে।

কাইরান কাজীর শৈশব

কাইরান কাজীর বাবা মুস্তাহিদ কাজী কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার এবং মা জুলিয়া কাজী ওয়াল স্ট্রিটে কাজ করা একজন আর্থিক পেশাজীবী। অর্থাৎ কাইরানের জন্ম এমন একটি পরিবারে, যেখানে প্রযুক্তিগত দক্ষতা ও আর্থিক কৌশল মিলেমিশে একাকার হয়ে গেছে।

এ ছাড়া একজন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মার্কিন হিসেবে বেড়ে ওঠার কারণে কাইরান কাজী সাংস্কৃতিক দৃষ্টিভঙ্গি ও শিক্ষাগত প্রত্যাশার একটি অনন্য মিশ্রণের সঙ্গে শৈশবেই পরিচিত হয়।

এসবের প্রভাবে ছোটবেলা থেকেই গণিত, কম্পিউটার বিজ্ঞান এবং প্রযুক্তির প্রতি কৌতূহলী হয়ে ওঠে ছোট্ট কাইরান, যা তার অসাধারণ অর্জনের ভিত্তি তৈরি করে দেয়।

কাইরান কাজীর শিক্ষাজীবন অন্য সব শিশুর মতো ছিল না। সে তার সহপাঠীদের চেয়ে অনেক আগে কলেজে লেখাপড়া শুরু করে এবং মাত্র ১১ বছর বয়সে লাস পোসিটাস কলেজ থেকে গণিতে অ্যাসোসিয়েট অব সায়েন্স ডিগ্রি অর্জন করে।

২০২৩ সালে সান্তা ক্লারা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কম্পিউটার সায়েন্সে ব্যাচেলর অব সায়েন্স ডিগ্রি অর্জন করে ইতিহাস সৃষ্টি করে কাইরান কাজী। প্রতিষ্ঠানটির ১৭০ বছরের ইতিহাসে সে–ই হচ্ছে সর্বকনিষ্ঠ স্নাতক।

শুধু শিক্ষাগত অর্জনের ক্ষেত্রেই নয়; বরং সেখানে সে নেতৃত্বের গুণাবলিও প্রদর্শন করেছে। ২০২১ থেকে ২০২৩ পর্যন্ত সে অ্যাসোসিয়েটেড স্টুডেন্ট গভর্নমেন্টের সিনেটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছে। সে ক্যাম্পাসে নানা উদ্যোগে অংশ নিয়েছে এবং ছাত্র–নেতৃত্বাধীন প্রকল্পগুলোর প্রচার করেছে।

স্পেসএক্সে যোগদান ও বিদায়

মাত্র ১৪ বছর বয়সে সাহসী এক পদক্ষেপ নেয় কাইরান কাজী। একজন প্রকৌশলী হিসেবে যোগ দেয় মার্কিন ধনকুবের ইলন মাস্কের স্পেসএক্সের স্টারলিংকে।

স্টারলিংক প্রকল্পে তার কাজের মধ্যে ছিল জটিল প্রকৌশলগত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা এবং স্যাটেলাইট প্রযুক্তির মাধ্যমে সংস্থাটির বৈশ্বিক ইন্টারনেট সংযোগ প্রদানের লক্ষ্য পূরণে অবদান রাখা।

স্পেসএক্সে কাইরান কাজীর ভূমিকা তাকে প্রযুক্তি খাতে অন্যতম কম বয়সী প্রকৌশলী রূপে বিশ্বব্যাপী পরিচিতি ও স্বীকৃতি এনে দিয়েছে এবং দেখিয়েছে যে বয়স কম হলেও উদ্ভাবনের সর্বোচ্চ স্তরের কাজ করার কতটা ক্ষমতা সে রাখে।

২০২৫ সালে কাইরান কাজী তার মনোযোগ মহাকাশ প্রকৌশল থেকে আর্থিক প্রযুক্তি খাতে স্থানান্তর করার সিদ্ধান্ত নেয়। সে নিউইয়র্ক নগরভিত্তিক একটি শীর্ষ কোয়ান্টিটেটিভ ট্রেডিং প্রতিষ্ঠান সিটাডেল সিকিউরিটিজে কোয়ান্ট ডেভেলপার হিসেবে যোগ দেয়।

এখানে সে প্রকৌশল ও পরিমাণগত সমস্যা সমাধানের সংযোগস্থলে কাজ করবে এবং ট্রেডার এবং প্রকৌশলীদের সঙ্গে সহযোগিতা করে বৈশ্বিক ট্রেডিং ব্যবস্থা উন্নত করার জন্য কাজ করবে।

বয়সভিত্তিক পক্ষপাত মোকাবিলা এবং বড় অর্জনের পথে কাইরান কাজীর যাত্রা

অসাধারণ দক্ষতা থাকা সত্ত্বেও কাইরান কাজীকে বয়সের কারণে গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হয়েছে। ২০২৩ সালে প্রখ্যাত ফ্যাশন ও লাইফস্টাইল ম্যাগাজিন ‘ভোগ’–এর সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে কাইরান বলেছিল, সে পুরোনো ধ্যানধারণার প্রাপ্তবয়স্কতাবাদ এবং এ ধরনের নিয়োগ সংস্থা থেকে বারবার প্রত্যাখ্যাত হয়েছে। তারা প্রতিভার চেয়ে বয়সকে বেশি গুরুত্ব দিত।

কাইরানের জীবনবৃত্তান্তে তার নানা অর্জনের কথা লেখা থাকত। এর পরও অনেক নিয়োগকর্তা তার বয়সকে তার যোগ্যতার সঙ্গে গুলিয়ে ফেলতেন।

কাইরান কাজীর পেশাগত খাতে যাত্রা একটি বিস্তৃত সমস্যা তুলে ধরেছে। সেটা হলো, বয়স বা অভিজ্ঞতার প্রচলিত প্রত্যাশার চেয়ে দক্ষতা ও সম্ভাবনাকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া কতটা জরুরি।

কাইরান কাজী শুধু একজন প্রতিভাবান শিশু নয়, সে একজন পথপ্রদর্শকও। সে দেখিয়েছে, ছোটবেলা থেকেই অভিজ্ঞতা, কৌতূহল ও দৃঢ়সংকল্পের মাধ্যমে কী কী অর্জন করা যেতে পারে।

১৪ বছর বয়সে কলেজ থেকে স্নাতক পাস করা থেকে শুরু করে স্পেসএক্সে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা এবং এখন সিটাডেল সিকিউরিটিজে কোয়ান্টিটেটিভ ফাইন্যান্সে পদার্পণ করা—তার যাত্রা বিশ্বজুড়ে কমবয়সী উদ্ভাবকদের জন্য অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করবে।

কাইরান কাজী প্রমাণ করেছে, প্রতিভা এবং অধ্যবসায়ের সংমিশ্রণ কীভাবে প্রচলিত নিয়মকে চ্যালেঞ্জ করতে পারে এবং উচ্চ প্রতিযোগিতামূলক ক্ষেত্রে তরুণ পেশাজীবীদের জন্য সম্ভাবনার ধারণা নতুনভাবে সংজ্ঞায়িত করতে পারে।

https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla%2F2025-08-23%2Fkd0mnt8z%2FKairan-Quazi.avif?rect=0%2C0%2C404%2C269&w=622&auto=format%2Ccompress&fmt=avif
কাইরান কাজী। ছবি: ইনস্টাগ্রাম থেকে নেওয়া