Showing posts with label যৌন নির্যাতন. Show all posts
Showing posts with label যৌন নির্যাতন. Show all posts

Tuesday, August 18, 2026

নগ্ন ছবি তুলে ব্ল্যাকমেল! স্বামীর বিরুদ্ধে সেলিনার যত অভিযোগ

প্রকাশ ২৭ নভেম্বর ২০২৫ঃ বলিউড অভিনেত্রী ও সাবেক মিস ইন্ডিয়া সেলিনা জেটলি স্বামী পিটার হাগের বিরুদ্ধে নির্যাতনের অভিযোগ এনে মামলা করেছেন। ভারতীয় গণমাধ্যমে স্বামীর বিরুদ্ধে সেলিনার ভয়াবহ যৌন নির্যাতনের অভিযোগ উঠে এসেছে। মামলায় ক্ষতিপূরণ হিসেবে তিনি ৫০ কোটি রুপি দাবি করেছেন।

২০১০ সালে অস্ট্রিয়ার উদ্যোক্তা ও হোটেলিয়ার পিটার হাগের সঙ্গে বিয়ে করা সেলিনার এই সম্পর্কের গল্প প্রকাশ্যে আসার পরই চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। তাঁদের তিন সন্তান—যমজ ছেলে উইনস্টন ও বিরাজ (২০১২ সালে জন্ম) ও আর্থার (২০১৭)। এ ছাড়া এক যমজ ছেলে শমশের হৃদ্‌রোগে মারা গেছে। মামলায় সেলিনা উল্লেখ করেছেন, পিটার অনেকবারই তাঁকে সন্তানদের সামনে অপমানিত করেছেন।

মধুচন্দ্রিমা থেকে শুরু
সেলিনা অভিযোগ করেছেন, তাঁদের দাম্পত্য জীবনে অব্যাহত মানসিক চাপ ছিল। স্বামীর রাগী স্বভাব ও কথিত মদ্যপান সম্পর্ককে কঠিন করে তুলেছিল। তিনি আরও দাবি করেছেন, পিটার প্রায়ই তাঁকে আর্থিকভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে চেয়েছিলেন এবং তাঁর ভঙ্গুর অবস্থার সুযোগ নিয়ে ব্যক্তিগতভাবে শোষণ করেছেন।

দাম্পত্য জীবনের প্রথম দিনগুলোও সরাসরি নিরাপত্তাহীনতা দিয়ে শুরু হয়। মধুচন্দ্রিমায় তাঁরা গিয়েছিলেন ইতালিতে, তখন সেলিনা স্বাস্থ্যের সমস্যার কথা উল্লেখ করলে পিটার রেগে যান, চিৎকার করেন এবং একটি গ্লাস দেয়ালে ছুড়ে ফেলেন। সন্তান জন্মের পরও পরিস্থিতি বদলায়নি। জোড়া সন্তান জন্মানোর কয়েক সপ্তাহ পরে যখন তিনি স্বামীকে পিতৃত্বকালীন ছুটির জন্য অনুরোধ করেন, তখন পিটার রেগে গিয়ে তাঁকে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

যৌন নির্যাতনের অভিযোগ
স্বামীর বিরুদ্ধে যৌন নির্যাতনের অভিযোগও করেছেন সেলিনা। অভিনেত্রী দাবি করেছেন, তিনি স্বামীর যৌন হুমকির শিকার হয়েছেন। এমনকি একপর্যায়ে তাঁকে ধর্ষণের হুমকি দেওয়া হয়েছে। সেলিনার আরও অভিযোগ, পিটার প্রায়ই তাঁকে অন্য পুরুষদের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপনের জন্য চাপ দিতেন, যাতে তাঁর কর্মজীবনে সুবিধা পাওয়া যায়। পাশাপাশি কিছু অস্বাভাবিক যৌন সম্পর্কের জন্যও চাপ প্রয়োগ করা হতো।

সেলিনা আরও অভিযোগ করেছেন, পিটার তাঁকে নগ্ন ছবি তুলতে বাধ্য করেছিলেন এবং সেই ছবির মাধ্যমে ব্ল্যাকমেল করতেন। এ ছাড়া সন্তানদের সামনে প্রায়ই কটু ভাষা ব্যবহার করতেন, যা সেলিনার মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর গুরুতর প্রভাব ফেলেছে।

এখনো চুপ পিটার
সেলিনার করা সব অভিযোগই আদালতে বিচারাধীন। এ বিষয়ে পিটার হাগের পক্ষ থেকে এখনো কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

হিন্দুস্তান টাইমস অবলম্বনে

সেলিনা জেটলি। অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে
সেলিনা জেটলি। অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে

Wednesday, July 15, 2026

যৌন নিপীড়ন মামলায় ৫৬ লাখ ডলারের বেশি ক্ষতিপূরণ দিলেন ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যৌন নিপীড়ন ও মানহানির মামলায় লেখিকা ই. জিন ক্যারলকে ৫৬ লাখ ২০ হাজার ডলারের বেশি ক্ষতিপূরণ পরিশোধ করেছেন। ক্যারলের আইনজীবীরা মঙ্গলবার এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। খবর বিবিসির।

ক্যারলের আইনজীবী রবার্টা ক্যাপলান জানান, আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী ট্রাম্প ক্ষতিপূরণের অর্থ পরিশোধ করেছেন। এতে ৫০ লাখ ডলারের মূল ক্ষতিপূরণের পাশাপাশি আপিল চলাকালে জমা হওয়া সুদের অর্থও রয়েছে।

ক্যারল অভিযোগ করেছিলেন, ১৯৯০-এর দশকের মাঝামাঝি সময়ে নিউইয়র্কের ম্যানহাটনে বার্গডর্ফ গুডম্যান ডিপার্টমেন্ট স্টোরের পোশাক পরিবর্তনের কক্ষে ট্রাম্প তাকে যৌন নিপীড়ন করেন।

পরে ২০২২ সালে ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ওই অভিযোগ অস্বীকার করেন। ক্যারলের দাবি ছিল, ওই পোস্টের মাধ্যমে তার মানহানি করা হয়েছে।

২০২৩ সালে নিউইয়র্কের একটি জুরি ট্রাম্পকে যৌন নিপীড়ন ও মানহানির দায়ে ক্যারলকে ৫০ লাখ ডলার ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দেয়। ট্রাম্প রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করলেও গত বছর ফেডারেল আপিল আদালত সেই রায় বহাল রাখে। এরপর গত মাসে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্টও মামলাটি পুনর্বিবেচনায় নিতে অস্বীকৃতি জানায়।

এর পর বিচারকের নির্দেশে ট্রাম্প ক্ষতিপূরণের অর্থ পরিশোধ করেন।

অন্যদিকে ট্রাম্প বরাবরই অভিযোগগুলো অস্বীকার করে আসছেন। তার আইনজীবীরা মামলাটিকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছেন।

এদিকে ২০২৪ সালে আরেকটি মানহানি মামলায় ট্রাম্পের বিরুদ্ধে প্রায় ৮ কোটি ৪০ লাখ ডলার ক্ষতিপূরণের যে রায় হয়েছিল, সেটির বিরুদ্ধেও তিনি এখনো আইনি লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন। 

লেখিকা ই. জিন ক্যারল। ছবি: সংগৃহীত
লেখিকা ই. জিন ক্যারল। ছবি: সংগৃহীত

Monday, June 15, 2026

কেনিয়ায় কারা এই ‘ম্যাডাম’, কীভাবে শিশুদের বিপদগামী করেন তাঁরা

আফ্রিকার দেশ কেনিয়ায় শিশুদের যৌনবৃত্তিতে জড়াচ্ছেন কিছু নারী। সেখানে এসব নারীকে ‘ম্যাডাম’ নামে ডাকা হয়ে থাকে। তাঁরা মাত্র ১৩ বছর বয়সী শিশুদের পর্যন্ত যৌনকর্মে জড়াতে বাধ্য করছেন। বিবিসি আফ্রিকা আই–এর এক অনুসন্ধানে এমন চিত্র উঠে এসেছে।

কেনিয়ার রিফট ভ্যালির ট্রানজিট শহর মাই মাহিউতে দিনরাত ট্রাক ও লরি চলাচল করে। পণ্য ও মানুষ নিয়ে এসব যানবাহন দেশের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে, এমনকি উগান্ডা, রুয়ান্ডা, দক্ষিণ সুদান ও কঙ্গো গণপ্রজাতন্ত্রের মতো অন্য দেশ পর্যন্ত যায়।

শহরটির অবস্থান নাইরোবি থেকে মাত্র ৫০ কিলোমিটার (৩১ মাইল) দূরে। এই গুরুত্বপূর্ণ শহরটি আগে থেকেই যৌন ব্যবসার জায়গা হিসেবে পরিচিত ছিল। কিন্তু এখন এটি শিশুদের যৌন নিপীড়নের জায়গাও হয়ে উঠেছে।

চলতি বছরের শুরুতে বিবিসি আফ্রিকা আইয়ের দুজন নারী অনুসন্ধানী প্রতিবেদক যৌনকর্মী সেজে ওই শহরের যৌন ব্যবসা চক্রের ভেতরে ঢুকে পড়েন। ওই দুই অনুসন্ধানী সাংবাদিক এমন ভাব করছিলেন, যেন কীভাবে ‘ম্যাডাম’ হওয়া যায়, তা তাঁরা শিখতে চান।

ওই দুই সাংবাদিক গোপনে কিছু ভিডিও ধারণ করেছেন। ভিডিওতে অন্য দুজন নারীকে কথা বলতে শোনা যায়। তাঁরা বলছিলেন, এটা যে বেআইনি কাজ, তা তাঁরা জানেন। এরপর ওই দুই নারী বিবিসির সাংবাদিকদের সঙ্গে যৌন পেশায় জড়িত কয়েকজন অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়ের পরিচয় করিয়ে দেন।

বিবিসি ওই ভিডিও এবং তাদের পাওয়া সব তথ্য গত মার্চে কেনিয়ার পুলিশকে দেয়। বিবিসির ধারণা, এরপর ‘ম্যাডামরা’ তাঁদের জায়গা বদলে ফেলেছেন। পুলিশ বলেছে, যেসব নারী ও মেয়েদের ভিডিওতে দেখা গেছে, তাঁদের খুঁজে পাওয়া যায়নি। এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি।

কেনিয়ায় দোষী সাব্যস্ত হওয়ার ঘটনা খুবই বিরল। মামলায় জিততে হলে পুলিশের ও সংশ্লিষ্ট শিশুর সাক্ষ্য দরকার হয়। কিন্তু বেশির ভাগ সময় শিশুরা আদালতে সাক্ষ্য দিতে ভয় পায়।

বিবিসির রাতের আঁধারে গোপনে ধারণ করা ঝাপসা ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, এক নারী নিজেকে ‘নিয়ামবুরা’ নামে পরিচয় দিয়েছেন। তিনি হেসে হেসে বলছেন, ‘তারা তো এখনো বাচ্চা। তাই একটু মিষ্টি দিলেই সহজে কাবু করে ফেলা যায়।’

নিয়ামবুরা নামের ওই নারী বলেন, ‘মাই মাহিউতে যৌনবৃত্তি যেন নগদ ফসলের মতো। ট্রাকচালকেরাই এর মূল চালিকাশক্তি। আমরা সেখান থেকেই মুনাফা করি। মাই মাহিউতে এটা এখন একেবারে স্বাভাবিক ব্যাপার হয়ে গেছে।’

নিয়ামবুরা বলেন, তাঁর কাছে মাত্র ১৩ বছর বয়সী একটি মেয়ে আসে। সে ছয় মাস ধরে যৌন পেশায় কাজ করছে।

নিয়ামবুরা আরও বলেন, ‘অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েদের নিয়ে কাজ করাটা খুব ঝুঁকিপূর্ণ। আপনি তাদের শহরে খোলাখুলি আনতে পারেন না। আমি শুধু গভীর রাতে, চুপিসারে তাদের বাইরে নিয়ে আসি।’

কেনিয়ার জাতীয় আইনে প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তিদের নিজেদের সম্মতিতে যৌনকর্মে লিপ্ত হওয়াকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয় না। তবে অনেক পৌরসভায় স্থানীয় আইন অনুযায়ী এটি নিষিদ্ধ করা হয়েছে। মাই মাহিউ শহরটি নাকুরু কাউন্টির অন্তর্ভুক্ত। সেখানে এটা নিষিদ্ধ নয়।

তবে কেনিয়ার দণ্ডবিধি অনুযায়ী, যৌনবৃত্তি থেকে উপার্জিত অর্থ দিয়ে জীবন যাপন করাটা বেআইনি। হোক তিনি যৌনকর্মী নিজে বা কোনো দালাল। ১৮ বছরের কমবয়সী কোনো শিশুকে যৌন বাণিজ্যের উদ্দেশ্যে বিক্রি বা পাচার করার অপরাধে ১০ বছর থেকে শুরু করে আমৃত্যু কারাদণ্ড হতে পারে।

আরেকটি সাক্ষাতে নিয়ামবুরা গোপনে অনুসন্ধানকারী সাংবাদিককে একটি বাড়িতে নিয়ে যান। সেখানে তিনজন কিশোরী একটি সোফায় বসে ছিল। আরেকজন বসে ছিল একটি কাঠের চেয়ারে। এরপর নিয়ামবুরা ঘর থেকে বের হয়ে যান। আর এতে অনুসন্ধানকারী একা একা মেয়েদের সঙ্গে কথা বলার সুযোগ পান।

মেয়েরা জানায়, তাদের দিনে একাধিকবার যৌন নিপীড়নের শিকার হতে হয়।

একজন মেয়ে বলে,‘ অনেক সময় এক দিনেই অনেক লোকের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক করতে হয়। খদ্দেররা এমন সব কাজ করতে বাধ্য করেন, যা কল্পনাও করা যায় না।’

কেনিয়ায় কতজন শিশুকে জোর করে যৌন ব্যবসায় যুক্ত করা হয়েছে, সে বিষয়ে কোনো হালনাগাদ পরিসংখ্যান নেই। তবে ২০১২ সালে কেনিয়ার মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের এক প্রতিবেদন বলা হয়েছিল, প্রায় ৩০ হাজার শিশু তখন যৌনকাজে জড়িত ছিল।

কেনিয়ার তৎকালীন সরকার এবং বর্তমানে বিলুপ্ত বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ‘ইরাডিকেট চাইল্ড প্রস্টিটিউশন ইন কেনিয়া’র দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে প্রতিবেদনটি করা হয়েছিল।
২০২২ সালে গ্লোবাল ফান্ড টু অ্যান্ড মডার্ন স্লেভারি নামের এনজিও প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়, কিলিফি ও কোয়ালে কাউন্টিতে প্রায় ২ হাজার ৫০০ শিশুকে জোর করে যৌনকর্মে যুক্ত করা হয়েছে।

বিবিসির আরেক অনুসন্ধানী সাংবাদিক যৌনপল্লির অন্য এক নারীর সঙ্গে একাধিকবার সাক্ষাৎ করেন। ওই নারী নিজের নাম চেপ্টু বলে উল্লেখ করেন।

বিবিসির সাংবাদিককে চেপ্টু বলেন, তিনি কমবয়সী মেয়েদের বিক্রি করে জীবিকা উপার্জন করেন এবং আরামদায়ক জীবন যাপন করতে পারেন। বেআইনি হওয়ায় এ ধরনের ব্যবসা খুব গোপনে করতে হয়।

চেপ্টু আরও বলেন, ‘যদি কেউ ছোট মেয়ের চাহিদা জানান, আমি তাঁদের কাছে অর্থ চাই। আমাদের নিয়মিত কিছু খদ্দেরও আছেন, যাঁরা বারবার তাদের জন্য ফিরে আসেন।’

চেপ্টু গোপন অনুসন্ধানী সাংবাদিককে একটি ক্লাবে নিয়ে যান। সেখানে তাঁর অধীন কাজ করা চারজন মেয়ে ছিল। তাদের মধ্যে সবচেয়ে ছোটটির বয়স ১৩ বছর। বাকিরা বলেছে, তাদের বয়স ১৫।

কমবয়সী মেয়েদের থেকে কত আয় হয়, সে বিষয়ে খোলাখুলি কথা বলেন চেপ্টু। তিনি বলেন, মেয়েরা প্রতি ৩ হাজার কেনিয়ান শিলিং (প্রায় ২৩ ডলার বা ১৭ পাউন্ড) আয় করলে, তাতে তার নিজের ভাগের পরিমাণ হয় ২ হাজার ৫০০ শিলিং (প্রায় ১৯ ডলার বা ১৪ পাউন্ড)।

আরেক সাক্ষাতে মাই মাহিউ শহরের একটি বাড়িতে চেপ্টু অনুসন্ধানকারী সাংবাদিককে দুই অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়ের সঙ্গে একা রেখে চলে যান। ওই মেয়েদের একজন বলে, সে গড়ে প্রতিদিন পাঁচজন পুরুষের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক করতে বাধ্য হয়।

কেনিয়ার যৌনবৃত্তি এক জটিল ও অন্ধকার জগৎ। সেখানে প্রাপ্তবয়স্ক নারী-পুরুষ উভয়ই শিশুদের যৌনবৃত্তিতে নিয়ে আসার সঙ্গে জড়িত।

মাই মাহিউ শহরে ঠিক কতজন শিশুকে জোর করে এই কাজে ব্যবহার করা হয়েছে, তা জানা যায়নি। তবে প্রায় ৫০ হাজার মানুষের এই ছোট্ট শহরে তাদের খুঁজে পাওয়া খুব সহজ।

‘বেবি গার্ল’ নামে পরিচিত এক সাবেক যৌনকর্মী এখন মাই মাহিউ শহরে যৌন নির্যাতন থেকে পালিয়ে আসা মেয়েদের আশ্রয় ও সহায়তা দেন। বর্তমানে ৬১ বছর বয়সী এ নারী ৪০ বছর যৌনকাজে জড়িত ছিলেন। তাঁর বয়স যখন ২০-এর কোটায়, তখন তিনি পারিবারিক সহিংসতাকে কেন্দ্র করে স্বামীর ঘর থেকে পালিয়ে এসে পথে বসেন। তাঁর সঙ্গে তিন সন্তান ছিল এবং তিনি অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন। পরে তিনি যৌন ব্যবসায় জড়িয়ে পড়েন।

বাড়ির সামনের অংশে একটি আলো ঝলমলে ঘরে কাঠের টেবিলে বসে এই নারী বিবিসির সাংবাদিককে চারজন তরুণীর সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন। এই চারজনকে শৈশবে মাই মাহিউ শহরের কিছু ‘ম্যাডাম’ জোর করে যৌনবৃত্তির পথে ঠেলে দিয়েছিলেন।

প্রত্যেক তরুণীই বলেছেন, হয় তাঁদের মা-বাবার বিচ্ছেদ হয়ে গিয়েছিল অথবা মা-বাবা বেঁচে ছিলেন না, নয়তো বাড়িতে তাঁদের নির্যাতনের শিকার হতে হতো। তাঁরা নিজেদের বাড়ি থেকে পালিয়ে নিরাপত্তা পাওয়ার আশায় মাই মাহিউতে এসেছিলেন। কিন্তু সেখানে আবারও নিপীড়নের শিকার হন তাঁরা।

মিশেল নামের এক তরুণী বলেন, ১২ বছর বয়সে তিনি মা–বাবাকে এইচআইভির কারণে হারিয়েছিলেন। তারপর বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয়। রাস্তায় এক লোকের সঙ্গে দেখা হয়। ওই লোক তাঁকে থাকার জায়গা দেন। কিন্তু তাঁর ওপর যৌন নিপীড়ন শুরু করেন।

দুই বছর পর মাই মাহিউর এক ‘ম্যাডাম’ তাঁর কাছে এসে তাঁকে যৌনকর্মে যুক্ত হতে বাধ্য করেন।

লিলিয়ান নামের ১৯ বছর বয়সী আরেক তরুণী বলেন, ছোটবেলাতেই তিনি মা–বাবাকে হারিয়েছেন। তিনি তাঁর চাচার কাছে ছিলেন। ওই চাচা তাঁকে গোসলের সময় গোপনে ভিডিও করেন এবং সেই ভিডিও বন্ধুদের কাছে বিক্রি করেন। এভাবে পরে তিনি ধর্ষণের শিকার হন।

ঘটনার সময় লিলিয়ানের বয়স ১২ বছর ছিল। তিনি তখন পালিয়ে যান। এরপর আবার এক ট্রাকচালকের হাতে ধর্ষণের শিকার হন। ওই ট্রাকচালকই তাঁকে মাই মাহিউতে নিয়ে গিয়েছিলেন। পরে এক নারী তাঁকে সেখানে যৌনকর্মের সঙ্গে যুক্ত করেন।

এই তরুণীরা এখন ‘বেবি গার্ল’-এর আশ্রয়ে আছেন। তাঁদের দুজন এখন ফটোগ্রাফি স্টুডিওতে আর দুজন সৌন্দর্য চর্চাকেন্দ্রে কাজ করছেন।

তাঁরা সমাজে সচেতনতা বাড়ানোর কাজে ‘বেবি গার্লকে’ সহযোগিতা করেন।

লিলিয়ান ফটোগ্রাফি শেখা এবং অতীতের নির্যাতনের ক্ষত থেকে সেরে ওঠার ওপর মনোনিবেশ করেছেন।

লিলিয়ান বলেন, ‘আমি আর ভয় পাই না। কারণ, “বেবি গার্ল” আমার পাশে আছেন। তিনি আমাদের অতীতকে ভুলে যেতে সাহায্য করছেন।’

কেনিয়ার রিফট ভ্যালির ট্রানজিট শহর মাই মাহিউ যৌন ব্যবসার এলাকা হিসেবে পরিচিত
কেনিয়ার রিফট ভ্যালির ট্রানজিট শহর মাই মাহিউ যৌন ব্যবসার এলাকা হিসেবে পরিচিত। ছবি: বিবিসির এক্স অ্যাকাউন্ট থেকে

Friday, June 12, 2026

ফিলিস্তিনি বন্দীদের ওপর কুকুর লেলিয়েও বর্বরতা চালিয়েছে ইসরায়েলিরা

আল–জাজিরাঃ সম্প্রতি আল-জাজিরা ‘বডিজ অব এভিডেন্স: ইসরায়েলস ডার্কেস্ট ওয়েপন’ নামে একটি অনুসন্ধানী তথ্যচিত্র প্রকাশ করেছে। তথ্যচিত্রে ইসরায়েলি কারাগারগুলোয় ফিলিস্তিনি বন্দীদের ওপর পদ্ধতিগত ও অমানবিক নির্যাতনের চিত্র উঠে এসেছে। বিভিন্ন মেয়াদে কারাবন্দী ছিলেন—এমন কয়েকজন ফিলিস্তিনি সেখানে সাক্ষ্য দিয়েছেন। তাঁদের প্রায় সবার নির্যাতনের বর্ণনায় বারবার কুকুরের প্রসঙ্গ উঠে এসেছে। তথ্যচিত্রটির ভিত্তিতে আল-জাজিরা একটি সংবাদ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। প্রতিবেদনটির কিছুটা সংক্ষিপ্ত বাংলা অনুবাদ প্রকাশ করা হলো।

গাজায় ইসরায়েলের জাতিগত নিধন নিজের চোখে দেখেছেন মোহাম্মদ জাকি আল-বাকরি। একসময় তিনি গাজার দক্ষিণাঞ্চলের সবচেয়ে বড় শহর খান ইউনিসে বসবাস করতেন। তিনি প্রায় ২০ মাস ইসরায়েলি কারাগারে বন্দী ছিলেন। এ সময়ে তাঁকে ইসরায়েলের পাঁচটি কারাগারে স্থানান্তর করা হয়েছিল।

আল-জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আল-বাকরি বলেন, ‘তারা আমাদের কাপড় খুলে নগ্ন করে ফেলেছিল। আমাদের হাতকড়া পরানো ছিল...আমাদের হাত পেছনে বাঁধা ছিল, পা বাঁধা ছিল এবং আমাদের চোখও বেঁধে রাখা হয়েছিল।’

এরপর আল-বাকরি বর্বর ইসরায়েলি সেনারা তাঁর সঙ্গে করা ভয়াবহ সহিংসতার সেই অভিযোগগুলো করেন, যেগুলো ভাষায় বর্ণনা করা প্রায় অসম্ভব। আল-জাজিরা সেসব বর্ণনার হুবহু প্রকাশ করতে পারেনি।

আল-বাকরি বলেন, ‘কাপড় খুলে নেওয়ার পর আমাকে ধর্ষণ করা হয়েছিল একটি বড় কুকুর দিয়ে।’

সাক্ষাৎকারের অন্য এক অংশে বাকরি আরও বলেন, ‘আমরা সাতজন ওই কুকুরের দ্বারা যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছিলাম।’

এ ধরনের যৌন নির্যাতনের শিকার হওয়ার অভিযোগ কেবল তিনি একাই করেননি। আরও অনেকের কাছ থেকে এমন অভিযোগ এসেছে।

আল-জাজিরার ডকুমেন্টারি (তথ্যচিত্র) দল মাসের পর মাস অনুসন্ধান চালিয়ে ইসরায়েলি কারাগারে বন্দী ছিলেন—এমন ফিলিস্তিনিদের কাছ থেকে এমন সব বর্ণনা সংগ্রহ করেছে, যেখানে কুকুরকে শুধু ভয় দেখানোর উপায় হিসেবে নয়; বরং যৌন হেনস্তার মাধ্যমে অপমান করার প্রক্রিয়ার একটি অংশ হিসেবেও ব্যবহার করা হয়েছে।

সেখানে বন্দীদের বিবস্ত্র করা হতো, চোখ বেঁধে দেওয়া হতো, হাতকড়া পরানো হতো, উপুড় হয়ে শুয়ে থাকতে বাধ্য করা হতো, মারধর করা হতো, হুমকি দেওয়া হতো, ভিডিও ধারণ করা হতো এবং তাদের ওপর হামলা চালানো হতো।

আল-জাজিরার নির্মিত অনুসন্ধানী তথ্যচিত্র ‘বডিজ অব এভিডেন্স: ইসরায়েলস ডার্কেস্ট উইপেন’-এ ইসরায়েলে বন্দী গাজার ফিলিস্তিনি এবং অধিকৃত পশ্চিম তীরে বসবাস করা ফিলিস্তিনিদের ওপর ইহুদি বসতি স্থাপনকারীদের নিপীড়নের চিত্র উঠে এসেছে।

ইসরায়েলি কারাগারে বন্দী গাজার আরেক ফিলিস্তিনি তাঁর নাম প্রকাশ করেননি। তথ্যচিত্র তাঁকে ছদ্মনামে ডাকা হয়। তিনি বলেন, তাঁকে ইসরায়েলের আটটি আটক কেন্দ্রে স্থানান্তর করা হয়েছিলেন।

ওই গাজার বাসিন্দা বর্ণনা করেন, ইসরায়েলের কুখ্যাত সদে তেইমান কারাগারে আটক থাকাকালে একইভাবে পরিকল্পিত পদ্ধতিতে বন্দীদের ওপর কুকুর লেলিয়ে দেওয়া হতো।

গাজার আরেক ফিলিস্তিনিও বন্দী অবস্থায় কুকুরের হামলার শিকার হওয়ার বর্ণনা দিয়েছেন।

যৌন নিপীড়নে কুকুর ব্যবহারের বিষয়টি ছাড়াও আরেক সাবেক বন্দী ও অধিকারকর্মী শিরিন (ছদ্মনাম) বারবার বিবস্ত্র করা এবং অপমানজনকভাবে দেহতল্লাশি করার কথা বলেছেন।

অধিকৃত পশ্চিম তীরের জেনিনের বাসিন্দা আদনান হাসানও কিশোর বয়সে বন্দী ছিলেন। তিনি বলেন, তাঁকে গ্রেপ্তারের পর পাঁচ মাস আটকে রাখা হয়েছিল।

জেরুজালেমের বাসিন্দা মায়স আবু ঘোশ কুখ্যাত সদে তেইমান কারাগারে বন্দী ছিলেন। তিনি কারাগারটিকে এমন একটি স্থান হিসেবে বর্ণনা করেন, যেখানে অপমান নিত্যদিনের ঘটনা।

তাঁদের এসব সাক্ষ্যে এ ধরনের ঘটনা একটি কারাগারে, একজন কারারক্ষী দ্বারা বা একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে ওঠে আসেনি; বরং তাঁরা এটিকে বন্দী নিপীড়নের একটি পদ্ধতিগত প্রক্রিয়া হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

নগ্ন করা, মারধর, ভিডিও ধারণ

ফিলিস্তিনের সরকারি সূত্রগুলোর হিসাব অনুযায়ী, ১৯৬৭ সাল থেকে ইসরায়েল ৭ লাখ ৫০ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনিকে আটক করেছে। জাতিসংঘের দেওয়া একটি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ১৯৬৭ থেকে ২০০৬ সালের মধ্যে ৮ লাখেরও বেশি ফিলিস্তিনি কারাবন্দী হয়েছিলেন।

ফিলিস্তিনিদের জন্য কারাবন্দী থাকা কোনো বিচ্ছিন্ন অভিজ্ঞতা নয়; বরং এটি এক প্রজন্ম থেকে আরেক প্রজন্মে ক্রমাগতভাবে চলা এক অভিজ্ঞতা। একজন ফিলিস্তিনি নিজের বাড়িতে, কোনো তল্লাশিচৌকিতে, হাসপাতালের ভেতরে, আশ্রয়কেন্দ্রে বা কোনো সামরিক অভিযানের সময় গ্রেপ্তার হতে পারেন।

এরপর সেই ফিলিস্তিনিকে সেনা, গোয়েন্দা কর্মকর্তা, সামরিক আটক কেন্দ্র, পুলিশি হেফাজত, সামরিক আদালত এবং ইসরায়েল প্রিজন সার্ভিস পরিচালিত কারাগারগুলোর এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় স্থানান্তর করা হতে পারে।

এ ক্ষেত্রে শুধু স্থাপনাগুলোর নাম বদলায়—সদে তেইমান, ওফের, নেগেভ, আশকেলন, জিজ্ঞাসাবাদ কেন্দ্র, চেকপয়েন্ট ও সামরিক শিবির।

কিন্তু তাদের অভিজ্ঞতার বিবরণগুলো বারবার একই থাকে, ফিরে ফিরে আসে। একটি নাম হয়ে যায় একটি সংখ্যা—কাপড় খুলে নেওয়া হয়। চোখ বাঁধা হয়। হাত-পা বেঁধে ফেলা হয়। ঠিকমতো খাবার দেওয়া হয় না, ঘুমাতে দেওয়া হয় না। কুকুর আনা হয়। বন্দীদের ধর্ষণের হুমকি দেওয়া হয়। অনেককে ধর্ষণ করা হয়।

কেউ কেউ বলেন, নির্যাতনের সময় তাঁদের ভিডিও করা হয়েছে। অনেকেই বলেন, তাঁদের এসব অভিযোগ কোথাও পৌঁছায় না।

আল-বাকরির বেলায়ও কুকুর শুধু ঘটনার সময় উপস্থিত ছিল, বিষয়টা এমন নয়। তিনি বলেন, ‘এটি হামলারই অংশ ছিল। তারা আমাদের দিকে কুকুর নিয়ে আসে, তারপর লাথি মারতে শুরু করে। তারা আমাদের পেছন থেকে কুকুর দিয়ে আক্রমণ করত…তারা পাগলের মতো কুকুর দিয়ে আমাদের ওপর হামলা চালাত।’

এই ফিলিস্তিনি তাঁর ওপর নির্যাতনের যে বর্ণনা দিয়েছেন, আল-জাজিরার পক্ষে তার বিস্তারিত প্রকাশ করা সম্ভব হয়নি।

কিন্তু তাঁর সাক্ষ্যে একটি ধারা স্পষ্ট—নগ্নতা, বেঁধে রাখা, যৌন সহিংসতা এবং অপমানজনক আচরণের বর্ণনায় বারবার কুকুরের উপস্থিতির কথা উঠে আসা।

আল-বাকরি বলেন, ‘আমরা অক্ষম, আমাদের কিছুই করার ক্ষমতা নেই। তারা হাসছে। আর অবশ্যই তারা আমাদের ভিডিও করেছে।’

দ্বিতীয় আরেক ফিলিস্তিনি জব (ছদ্মনাম)। তিনি বলেন, সেনাদের মুখ থেকে নির্দেশ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে কুকুরগুলো আক্রমণ শুরু করে। তাঁর কাছে সেগুলোকে কুকুর নয়, মানুষ মনে হয়েছে।

জব বলেন, ‘তারা কুকুরগুলোকে ছেড়ে দেয়। এড়ানোর কোনো উপায় নেই, কুকুর আসবেই। সেগুলো হয় ধর্ষণ করবে, অথবা সেগুলোর মুখে থাকা লোহার দণ্ড দিয়ে আপনার মাথায় আঘাত করবে। সেগুলোকে যে নির্দেশ দেওয়া হবে, সেগুলো ঠিক সেটাই করবে।’

রাষ্ট্রের ভেতরের গোপন বাস্তবতা

সাম্প্রতিক সময়ে ইসরায়েলের কারাগারে ফিলিস্তিনি বন্দীদের ওপর যৌন নির্যাতনের বিষয়ে নতুন প্রতিবেদন প্রকাশের পর আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।

এসব প্রতিবেদনের পর ইসরায়েলি কর্মকর্তারা এবং তাঁদের সমর্থক কিছু গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব অভিযোগগুলো অস্বীকার করে এগুলোকে ‘ব্লাড লাইবল’ বা ঐতিহাসিকভাবে মিথ্যা অপবাদ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন, বিশেষ করে কুকুর ব্যবহারের মাধ্যমে যৌন নির্যাতনের অভিযোগকে।

কিন্তু ফিলিস্তিনিদের ও বন্দী নির্যাতন নথিভুক্ত করা সংগঠনগুলোর মতে, এসব অভিযোগ হঠাৎ করে একদিনে তৈরি হয়নি।

অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে মানবাধিকার বিষয়ে জাতিসংঘের বিশেষ প্রতিবেদক ফ্রান্সেসকা আলবানিজ তথ্যচিত্রে দেওয়া সক্ষাৎকারে বলেন, ফিলিস্তিনিরা দীর্ঘদিন ধরে ‘কুকুর ব্যবহার করে হামলা চালানো, নির্যাতন করা এবং এমনকি যৌন নির্যাতন করার মতো পরিস্থিতির শিকার হয়ে আসছেন।

আলবানিজ আরও বলেন, ‘এগুলো এমন বাস্তবতা, যা সবাই জানে।’

আলবানিজ বন্দীদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে নির্যাতনের একটি বিস্তৃত ধারা বর্ণনা করেন। নির্যাতনের নমুনা বর্ণনা করতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘রক্তাক্ত হওয়া পর্যন্ত হাত-পা বেঁধে রাখা, মারধর, টেনেহিঁচড়ে নেওয়া, অনাহার, ঠান্ডায় রেখে দেওয়া, চিকিৎসা না দেওয়া, কুকুর দিয়ে আক্রমণ, একাকী কারাবাস, যৌন নির্যাতন, জোর করে পোশাক খুলে ফেলা এবং পরিবারের সদস্যদের ধর্ষণ ও হত্যার হুমকি দেওয়া হয়।’

ফিলিস্তিনি নারী অধিকার সংস্থা উইমেনস সেন্টার ফর লিগ্যাল এইড অ্যান্ড কাউন্সেলিংয়ের (ডব্লিউসিএলএসি) অ্যাডভোকেসি পার্টনার খরাইম বলেন, যৌন হেনস্তা ও হুমকি দেওয়া হয় মানুষকে চুপ করিয়ে রাখতে। সামাজিক কলঙ্কের কারণে পুরুষ ও ছেলেরা অনেক সময় এ নিয়ে কথা বলেন না। নারীরা সামাজিক শাস্তির ভয়ে থাকেন, আর শিশুরা এমন লজ্জা বহন করে, যা প্রকাশ করার মতো ভাষাই তাদের নেই।

সদে তেইমান ও নির্যাতনের রূপকাঠামো

নাকাব/নেগেভ মরুভূমিতে অবস্থিত ইসরায়েলি সামরিক আটক কেন্দ্র সদে তেইমান। কুখ্যাত এই আটক কেন্দ্রটি ৭ অক্টোবরের (২০২৩ সালে) পর ইসরায়েলের বন্দী নির্যাতনের একটি প্রতীকে পরিণত হয়েছে।

সেখানে ফিলিস্তিনি বন্দীদের চোখ বেঁধে রাখা, হাত-পা বেঁধে রাখা, চিকিৎসায় অবহেলা, নির্যাতনের অভিযোগ এবং যৌন নিপীড়নের অভিযোগ–সম্পর্কিত নানা প্রতিবেদন প্রকাশ পেয়েছে।

এর আগে সদে তেইমানে পাঁচজন ইসরায়েলি সেনার বিরুদ্ধে এক ফিলিস্তিনি বন্দীর ওপর যৌন নির্যাতনের অভিযোগ আনা হয়েছিল। ২০২৬ সালের মার্চে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ সেসব অভিযোগ প্রত্যাহার করে নেয়।

ফিলিস্তিনি বন্দীদের ইসরায়েলি বিভিন্ন ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে যেতে হতে পারে। যেমন সামরিক আটকব্যবস্থা, গোয়েন্দা সংস্থার জিজ্ঞাসাবাদ, পুলিশি হেফাজত, সামরিক আদালত ও নিয়মিত কারাগার।

ইসরায়েল প্রিজন সার্ভিস ও পুলিশ জাতীয় নিরাপত্তা মন্ত্রণালয়ের অধীনে কাজ করে। এ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে আছেন উগ্রবাদী ইহুদি ও বর্বর সব মন্তব্যের জন্য বিতর্কিত ইতামার বেন-গভির।

সদে তেইমানের মতো সামরিক আটক কেন্দ্রগুলো ইসরায়েলি সেনাবাহিনী কমান্ড কাঠামোর অধীনে পরিচালিত হয়।

শিন বেৎ ও ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা সংস্থা দেশটির প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অধীনে পরিচালিত হয়। আর বিচার মন্ত্রণালয় রাষ্ট্রীয় আইননীতি, মামলা পরিচালনা এবং সরকারের আইনি প্রতিরক্ষা তদারকি করে। এভাবে দায়িত্বগুলো ছড়িয়ে–ছিটিয়ে ভাগ করে দেওয়া হয়েছে।

একজন বন্দীকে হয়তো ইসরায়েলি সেনারা গ্রেপ্তার করেন, গোয়েন্দা কর্মকর্তারা জিজ্ঞাসাবাদ করেন, কারারক্ষীরা তাঁকে আটক রাখেন, সামরিক আদালতে হাজির করা হয় এবং নাগরিক আইনি ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে বিচার করা হয়।

সে ক্ষেত্রে যদি বন্দীর প্রতি আচরণ নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়, প্রতিটি প্রতিষ্ঠানই দায় অন্য অংশের ওপর চাপাতে পারে। যদিও এ সবকিছুই ইসরায়েলি রাষ্ট্রের আটক ব্যবস্থার অংশ।

এ কারণেই ফিলিস্তিনি মানবাধিকার কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক রাজি সুরানি বলেছেন, সমস্যা কোনো একটি কারাগারের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়।

সুরানি আরও বলেন, ‘আমাদের কাছে অপরাধের প্রমাণ আছে। আমাদের কাছে সাক্ষ্যপ্রমাণ আছে। সদে তেইমানে যা ঘটেছে, তা প্রকৃত বাস্তবতার খুব সামান্য অংশমাত্র।’

যৌন সহিংসতাকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার

বন্দী থাকা অবস্থায় যৌন সহিংসতার মধ্যে ধর্ষণ, ধর্ষণের হুমকি, জোর করে নগ্ন করা, শরীর তল্লাশি এবং যৌন হেনস্তা অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে।

আন্তর্জাতিক আইনে পরিস্থিতি ও উদ্দেশ্যের ওপর নির্ভর করে এটি যুদ্ধাপরাধ, মানবতাবিরোধী অপরাধ অথবা জাতিগত নিধন হিসেবে গণ্য হতে পারে।

তথ্যচিত্রে যাঁরা সাক্ষাৎকার দিয়েছেন, তাঁদের বর্ণনায় এ ধরনের সহিংসতার ভিন্ন ভিন্ন রূপ উঠে এসেছে। উত্তর গাজার জব (ছদ্মনাম) বলেন, তাঁকে ইসরায়েলি সেনারা দলবদ্ধভাবে ধর্ষণ করেছে এবং সেই ঘটনা ভিডিও করা হয়েছে।

জব বলেন, এমনকি একজন নারী সেনা একটি কৃত্রিম যন্ত্র ব্যবহার করে তাঁকে যৌন নির্যাতন করেন, অন্যরা তখন হাততালি দিচ্ছিলেন।

নিরাপত্তার কারণে পরিচয় গোপন রাখা এক নারী বলেন, তাঁকে বারবার জোর করে নগ্ন করা হয়েছিল। তিনি আরও বলেন, ‘তারা আমাকে একটি ঘরে নিয়ে যায়। তারা আমাকে পোশাক খুলে ফেলতে বলে।’

এরপর কীভাবে আক্রমণাত্মক ও ভয়াবহভাবে তাঁকে নির্যাতন করা হয়েছিল, তিনি তার বর্ণনা দেন। সে সব ভাষায় প্রকাশ করা সম্ভব হচ্ছে না।

আদনান ( ছদ্মনাম) নামের ১৭ বছর বয়সী ফিলিস্তিনি স্কুলছাত্র বলেছে, সে স্কুলে যাওয়ার পথে ইসরায়েলের একটি সামরিক অভিযানের মধ্যে পড়ে যায়। সেনারা তার দিকে একটি বিস্ফোরক নিক্ষেপ করে। বিস্ফোরণে তার ডান হাত মারাত্মকভাবে জখম হয়, যার কারণে তার হাতে একটা অংশ পরে কেটে ফেলতে হয়।

প্রায় এক সপ্তাহ পরে তখনো সে অসুস্থ। সেই একই সেনাবাহিনী আবার ফিরে এসে তাকে গ্রেপ্তার করে। তাকে পাঁচ মাস আটকে রাখা হয়।

সে জানায়, সে সময় তার শরীরের সংবেদনশীল অংশে মারধর করা হয়েছে এবং বারবার জোর করে নগ্ন করে তল্লাশি করা হয়েছে। তার কেটে ফেলা হাতের ক্ষত তখনো শুকায়নি।

অধিকৃত পশ্চিম তীরের আরেক বাসিন্দা মোহাম্মদ আবু কাবাশ প্রথমে কুকুরের আওয়াজ শুনতে পান। দিনটি ছিল শুক্রবার, রাত প্রায় ১টা, অধিকৃত পশ্চিম তীরের জর্ডান ভ্যালির খিরবেত হামসা আল-ফাওকাইন এলাকায় তাঁর পরিবার তখন ঘুমিয়ে ছিল।

কী হচ্ছে, সেটা দেখতে কাবাশ একটি টর্চলাইট নিয়ে বাইরে বের হন। তিনি বলেন, তিনি পাহাড়ের দিকে টর্চের আলো ফেলে অবাক হয়ে দেখেন, একদল লোক বিভিন্ন দিক থেকে পাহাড়ের পাশে হাঁটছে।

কাবাশ নিজেকে শান্ত রাখার চেষ্টা করেন। তিনি বলেন, ‘ভয় আর আতঙ্ক আমাকে পুরোপুরি গ্রাস করে ফেলেছিল, আমি নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করেছিলাম, কিন্তু পারিনি।’

কিছুক্ষণের মধ্যে অবৈধ ইহুদি বসতি স্থাপনকারীরা (সেটলাররা) তাঁর ওপর হামলা চালায়। সন্ত্রাসী ইহুদি বসতি স্থাপনাকারীদের হামলার বর্ণনা দিতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘চারজন সন্ত্রাসী আমার ওপর আক্রমণ করে। দুর্বৃত্ত অবৈধ ইহুদি বসতি স্থাপনকারী আমাকে ধরে আমার হাত বেঁধে ফেলে। আমার হাতে ছুরিকাঘাত করে এবং শরীরের বিভিন্ন অংশে মারধর করা হয়।’

তাঁর ভাই সোহাইব আবু কাবাশ বলেন, ‘অবৈধ ইহুদি বসতি স্থাপনকারীরা যখন ক্যাম্পের ভেতর দিয়ে ঘোরাঘুরি করছিল, তখনো সবাই ঘুমিয়ে ছিল। তারা এখানকার প্রতিটি ঘরে ঢুকে পড়ে, প্রতি ঘরে প্রায় ২০ জন সেটলার। একজন আমাদের হাতকড়া পরাচ্ছিল, আরেকজন আমাদের মারছিল।’

অবৈধ ইহুদি বসতি স্থাপনকারীরা ফিলিস্তিনি পরিবারগুলোর সব ভেড়া নিয়ে নেয়, শিশুদের মারধর করে, তাঁকে হাতকড়া পরায়, জোর করে নগ্ন করে এবং তাঁর যৌনাঙ্গ বেঁধে রাখে বলেও অভিযোগ করেন সোয়াইব।

সোহাইব বলেন, ‘তারা আমাকে প্রায় ১০০ মিটার টেনে নিয়ে যায় এবং আমার ওপর পানি ও মাটি ছিটিয়ে দেয়।’

সোহাইব বলেন, তিনি দেখতে পান, কয়েকজন অবৈধ বসতি স্থাপনকারী তাঁর ভাইকে ঘিরে ফেলেছে।

সোহাইব আরও বলেন, তারা অনেকেই তাঁকে আক্রমণ করে। ‘আমি ঠিক জানি না কতজন ছিল—১০ জন, ৯ জন বা ৮ জন…অনেক মানুষ। তাঁরা তাঁকে নগ্ন করে মারধর করেছিল।’

এরপর সোহাইব কিছুক্ষণ চুপ করে থাকেন। তাঁকে দেখে বোঝা যাচ্ছিল তিনি কিছু একটা বলতে চান, কিন্তু কীভাবে বলবেন তা বুঝে উঠতে পারছেন না।

সোহাইব জিজ্ঞাসা করেন, ‘আমি কি এটা বলতে পারি?..’ তারা একটি প্লাস্টিকের জিপ টাই নিয়ে এসে তাঁর লিঙ্গে বেঁধে দেয়।

পরে সোহাইব তাঁর শরীরে সেই প্লাস্টিকের জিপ টাইয়ের বাঁধনের দাগগুলো দেখান, সেগুলো এখনো স্পষ্ট।

আবু কাবাশ বলেন, ইহুদি বসতি স্থাপনকারীরা চলে যাওয়ার পর সোহাইব তাঁর কাছে আসেন।

আবু কাবাশ আরও বলেন, ‘তাঁর এমন অবস্থায় হয়েছিল, সে হাঁটতেও পারছিল না। আমি বুঝতে পারছিলাম না, আমি কী করবে। আমি খুবই বিভ্রান্ত ছিলাম। এমন পরিস্থিতিতে আমার কী করা উচিত। এটা খুবই সংবেদনশীল জায়গা, আমি কীভাবে এটা সামলাব?’

চারদিকে অন্ধকার। তিনি কাবাশ সোহাইবের স্ত্রীকে ডেকে আনেন এবং একটি ফ্লাসলাইট ধরতে বলেন। এরপর একটি ছুরি দিয়ে মোহাম্মদ ভাইয়ের শরীরে বাঁধা প্লাস্টিকের জিপগুলো কাটতে শুরু করেন। তিনি বলেন, ‘তাঁর শরীর থেকে রক্ত গড়িয়ে পড়ছিল।’

দুভাই আল-জাজিরাকে বলেন, হামলা শুধু সোহাইবের ওপরই হয়নি।

অন্য সাক্ষাৎকারে সোহাইব বলেছেন, ইহুদি বসতি স্থাপনকারীরা নারীদের ঘর থেকে বের করে দেয়, লোকজনকে একটি তাঁবুতে জড়ো করে এবং হুমকি দেয়-যদি তারা এলাকা ছেড়ে না যায়, তাহলে নারীদের ধর্ষণ করা হবে এবং শিশুদের নিয়ে যাওয়া হবে।

আল-জাজিরার সাক্ষাৎকারে মোহাম্মদ আবু কাবাশ বলেন, তাঁদের ৪০০টি ভেড়া ছিল। সব তারা নিয়ে গেছে। সেগুলো ছিল তাঁদের পরিবারের আয়ের প্রধান উৎস।

কাবাশ আরও বলেন, ‘এখন আমাদের শুধু আকাশটাই আছে। আমাদের পরিবারের ৫০ বছরের পরিশ্রম মাত্র ৪০ মিনিটে শেষ হয়ে গেছে।’

সোহাইব বলেন, তাঁরা সাহায্যের জন্য ফোন করেছিলেন, কিন্তু সেই সাহায্য অনেক দেরিতে এসেছিল।

সোহাইব বলেন, ‘আমরা পুলিশকে ফোন করেছিলাম.. তারপর সেনাবাহিনীর একটি গাড়ি আসে। কিন্তু অনেক দেরিতে, ততক্ষণে আমরা মারধরের শিকার হয়ে গেছি।’

ইসরায়েলি সেনাবাহিনী ও পুলিশ বলেছে, তারা ঘটনাটি তদন্ত করে দেখছে। এখন পর্যন্ত কাউকে শাস্তি দেওয়া হয়েছে বলে মনে হয় না।

আল-জাজিরার সঙ্গে কথা বলা কোনো ভুক্তভোগীকেই এখন পর্যন্ত কোনো ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়নি।

বরাবরের মতো ইসরায়েলের অস্বীকার

ইসরায়েল বরাবরের মতো এই পদ্ধতিগত নির্যাতনের অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

ইসরায়েলি গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবর অনুযায়ী ইসরায়েল প্রিজন সার্ভিস বলেছে, এটি একটি নিরাপত্তা সংস্থা, যারা ‘আইন অনুযায়ী’ এবং ‘কঠোর নজরদারির অধীনে’ কাজ করে। বন্দীদের ‘মৌলিক অধিকার রক্ষা করেই’ তাদের কারাবন্দী রাখা হয়।

যুক্তরাষ্ট্রে ইসরায়েলের রাষ্ট্রদূত ইয়েখিয়েল লেইতার সাম্প্রতিক যৌন নির্যাতনের অভিযোগসংক্রান্ত প্রতিবেদনের পর একই ধরনের মন্তব্য করেছেন।

লেইতার বলেন, ‘ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে বেআইনি আচরণের কোনো অভিযোগ থাকলে, তা তদন্তকারী সংস্থার কাছে জমা দিতে হবে এবং সেই অভিযোগগুলো বিস্তারিতভাবে পর্যালোচনা করা হবে। একটি গণতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থায় এটাই স্বাভাবিক।’

আল-জাজিরার অনুসন্ধানী তথ্যচিত্র ‘বডিজ অব এভিডেন্স: ইজরায়েলস ডার্কেস্ট ওয়েপন’–এর পোস্টার
আল-জাজিরার অনুসন্ধানী তথ্যচিত্র ‘বডিজ অব এভিডেন্স: ইজরায়েলস ডার্কেস্ট ওয়েপন’–এর পোস্টার। ছবি: ইনস্টাগ্রাম

Wednesday, January 28, 2026

‘বিশ্বের সবচেয়ে ভয়াবহ’ যৌন সহিংসতার শিকার সুদানের নারীরা

সুদানের যুদ্ধ ভোগাচ্ছে নারীদের, তাঁরা শিকার হচ্ছেন ‘বিশ্বের সবচেয়ে ভয়াবহ’ যৌন সহিংসতা ও অন্যান্য অপরাধের, যা ঘটছে দায়মুক্তি নিয়ে। একসময়কার মানবাধিকারকর্মী ও বর্তমানে সেনাবাহিনী-সমর্থিত সুদান সরকারের সমাজকল্যাণমন্ত্রী বার্তা সংস্থা এএফপিকে এ কথা বলেছেন।

সুদানের সেনাবাহিনী ও আধাসামরিক বাহিনী র‍্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস (আরএসএফ) ২০২৩ সালের এপ্রিল থেকে রক্তক্ষয়ী সংঘাতে লিপ্ত। এই সংঘাতে এখন পর্যন্ত হাজার হাজার মানুষ নিহত হয়েছে। বাস্তুচ্যুত হয়েছে ১ কোটি ১০ লাখ মানুষ। ব্যাপক যৌন সহিংসতা ঘটছে এই সংঘাতের মধ্যে।

সেনা-সমর্থিত সরকারের সমাজকল্যাণমন্ত্রী সুলাইমা ইশহাক আল-খলিফা বলেন, লুটপাট ও হামলার সঙ্গে নারী নির্যাতন ঘটছে অহরহ। ধর্ষণের ঘটনাগুলো প্রায়ই ‘পরিবারের সামনেই’ সংঘটিত হওয়ার খবর পাওয়া যাচ্ছে।

‘বয়সের কোনো বাছ–বিচার হচ্ছে না। ৮৫ বছর বয়সী একজন নারীও ধর্ষিত হতে পারেন, এক বছরের শিশুও ধর্ষিত হতে পারে,’ বলেন তিনি।

পেশায় মনোবিদ এই নারী পোর্ট সুদানে তাঁর বাসভবনে এএফপির সঙ্গে কথা বলেন। নারী অধিকার প্রতিষ্ঠায় দীর্ঘদিন ধরে সরব সুলাইমা ইশহাক সম্প্রতি সরকারে যুক্ত হয়েছেন।

সুলাইমা ইশহাক বলেন, নারীদের যৌনদাসী বানানো হচ্ছে এবং প্রতিবেশী দেশগুলোতে পাচার করা হচ্ছে। এ ছাড়া লজ্জা এড়াতে তাঁদের জোর করে বিয়েও দেওয়া হচ্ছে।

যুদ্ধরত দুই পক্ষ থেকেই নারীরা আক্রান্ত হচ্ছে বলে জানান সুলাইমা ইশহাক। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, আরএসএফ এটি ‘পরিকল্পিতভাবে’ করছে। তাঁর দাবি, আরএসএফ জাতিগত নিধনের পরিকল্পনা নিয়ে যুদ্ধের অস্ত্র হিসেবে একে ব্যবহার করছে।

তাঁর মন্ত্রণালয় ২০২৩ সালের এপ্রিল থেকে ২০২৫ সালের অক্টোবরের মধ্যে ১ হাজার ৮০০টির বেশি ধর্ষণের ঘটনা নথিভুক্ত করেছে। এই পরিসংখ্যানে পশ্চিম দারফুর ও পার্শ্ববর্তী কর্দোফান অঞ্চলে অক্টোবরের শেষভাগ থেকে নথিভুক্ত হওয়া নৃশংসতার ঘটনাগুলো অন্তর্ভুক্ত হয়নি।

সুলাইমা ইশহাক বলেন, ‘এর উদ্দেশ্য হলো... মানুষকে অপমানিত করা, তাদের ঘরবাড়ি, এলাকা ও শহর ছাড়তে বাধ্য করা। এবং একই সঙ্গে সামাজিক সম্প্রীতি... ভেঙে দেওয়া।’

‘যখন আপনি যৌন সহিংসতাকে যুদ্ধের অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করেন, তার মানে আপনি... যুদ্ধকে চিরস্থায়ী করতে চান,’ বলেন তিনি।

‘যুদ্ধাপরাধ’

হর্ন অব আফ্রিকায় নারীদের ওপর নির্যাতন পর্যবেক্ষণকারী মানবাধিকার সংস্থা এসআইএইচএ নেটওয়ার্কের এক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, যৌন সহিংসতার নথিভুক্ত হওয়া ঘটনাগুলোর তিন-চতুর্থাংশের বেশি ধর্ষণের, যার ৮৭ শতাংশের জন্য দায়ী আরএসএফ।

সুদানের দারফুরে অনারব সম্প্রদায়গুলোর ওপর পরিকল্পিত হামলা নিয়ে বারবার উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছে জাতিসংঘ। অন্যদিকে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) উভয় পক্ষের দ্বারা সংঘটিত ‘যুদ্ধাপরাধের’ আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু করেছে।

আইসিসির ডেপুটি প্রসিকিউটর নাজহাত শামীম খান জানুয়ারির মাঝামাঝিতে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদকে জানান, তদন্তকারীরা দারফুরে সেনাবাহিনীর শেষ ঘাঁটি এল-ফাশেরে একটি ‘সংগঠিত ও পরিকল্পিত অভিযানের’ প্রমাণ পেয়েছেন, যা অক্টোবরের শেষে আরএসএফ দখল করে নেয়।

তিনি বলেন, এই অভিযানের মধ্যে ছিল ‘ব্যাপক হারে’ গণধর্ষণ ও মৃত্যুদণ্ড কার্যকর, যা অপরাধীরা কখনো কখনো ‘ভিডিও ধারণ করে উদ্‌যাপন করেছে’ এবং ‘সম্পূর্ণ দায়মুক্তির বোধ থেকে’ এসব কাজ করতে উৎসাহিত হয়েছে।

২০০০-এর দশকের শুরুতে দারফুরে এক নৃশংস হত্যাযজ্ঞ চলেছিল। সম্প্রতি জানজাওয়িদ মিলিশিয়ার (যেটি পরে আরএসএফে রূপান্তরিত হয়) একজন সাবেক কমান্ডারকে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত ধর্ষণসহ একাধিক যুদ্ধাপরাধের জন্য দোষী সাব্যস্ত করেছে।

সুলাইমা ইশহাক বলেন, ‘এখন যা ঘটছে, তা আরও অনেক বেশি কুৎসিত। কারণ, এখন গণধর্ষণের ঘটনা ঘটছে এবং তা নথিভুক্তও হচ্ছে।’
এই নারী আরও বলেন, হামলাকারী আরএসএফ যোদ্ধারা ‘এসব কাজ খুব গর্বভরে করে এবং তারা এটিকে অপরাধ হিসেবে দেখে না।’

‘আপনার মনে হবে, তাদের যেন যা খুশি করার লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে,’ বলেন তিনি।
দারফুরে বেঁচে ফেরা বেশ কয়েকজন নারী বলেছেন, আরএসএফ যোদ্ধারা তাদের নিচু জাতের মানুষের তকমা দিয়ে ‘দাস’ বলে সম্বোধন করত এবং বলত, আমি যখন তোমাকে আক্রমণ করছি, যৌন নির্যাতন করছি, তখন আমি আসলে তোমাকে ‘সম্মানিত’ করছি, কারণ আমি তোমার চেয়ে বেশি শিক্ষিত বা তোমার চেয়ে বেশি বিশুদ্ধ রক্তের অধিকারী।’

‘নির্যাতন অভিযান’

খার্তুম ও দারফুরের (এল-ফাশেরসহ) নারীরা বিভিন্ন বিদেশি নাগরিকের দ্বারা ধর্ষণের শিকার হওয়ার বর্ণনা দিয়েছেন।

সুলাইমা ইশহাক বলেন, এদের মধ্যে ছিল পশ্চিম আফ্রিকার ফরাসিভাষী ভাড়াটে সেনারা, যাদের মধ্যে মালি, বুরকিনা ফাসো, নাইজেরিয়া, শাদ, কলম্বিয়া ও লিবিয়ার নাগরিকেরা ছিল, যারা আরএসএফের পক্ষে লড়াই করছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

এই নারী বলেন, নির্যাতিতদের একটি অংশকে অপহরণ করে যৌনদাসী হিসেবে আটকে রাখা হয়েছে, আবার অন্যদের সুদানের অরক্ষিত সীমান্তজুড়ে সক্রিয় পাচারকারী চক্রের মাধ্যমে বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে।

রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর ভেঙে পড়ার কারণে এসব ঘটনার বেশির ভাগই নথিভুক্ত করা কঠিন হয়ে পড়েছে। রক্ষণশীল সমাজে কলঙ্কের ভয়ের কারণেও প্রকৃত চিত্র পাওয়ার ক্ষেত্রে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

মন্ত্রীর মতে, ধর্ষণের ফলে গর্ভধারণের মতো ঘটনা ঘটলে পরিবারগুলো প্রায়ই তা চাপা দিতে নির্যাতিতকে জোর করে বিয়ে দিচ্ছে।

সুলাইমা ইশহাক বলেন, ‘আমরা একে টর্চার অপারেশন (নির্যাতন অভিযান) বলি।’ তিনি ১৮ বছরের কম বয়সী শিশু ও কিশোরীদের জোরপূর্বক বিয়েতে বাধ্য করার ঘটনাগুলোকে ‘ভয়াবহ’ বলে বর্ণনা করেন।

https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla%2F2026-01-25%2F0c6wdm2o%2FSudan-Sexual-Violence.jpg?rect=129%2C0%2C864%2C576&w=622&auto=format%2Ccompress&fmt=avif
সুদানের গেদারেফ প্রদেশের আবু আল-নাগা আশ্রয়শিবিরে ত্রাণের অপেক্ষায় বাস্তুচ্যুত নারীরা। ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫। ছবি: এএফপি

Friday, January 23, 2026

মোটেলে যৌন ব্যবসা: ভারতীয় বংশোদ্ভূত দম্পতিসহ গ্রেপ্তার ৫

ভারতের বংশোদ্ভূত এক দম্পতি ও আরও তিনজনকে যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়ায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে একটি মোটেলে যৌন ব্যবসা ও মাদক পাচার চক্র পরিচালনার অভিযোগ আনা হয়েছে। ফেডারেল ও স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অভিযানে ওই মোটেলে তল্লাশি চালানোর পর তাদের আটক করা হয়। এ খবর দিয়েছে অনলাইন এনডিটিভি। উত্তর ভার্জিনিয়ার ফেডারেল প্রসিকিউটরদের ভাষ্যমতে, ৫২ বছর বয়সী কোশা শর্মা এবং ৫৫ বছর বয়সী তরুণ শর্মা তাদের মালিকানাধীন ‘রেড কার্পেট ইন’ নামের মোটেলের তৃতীয় তলাটি মাদক বিক্রি ও পতিতাবৃত্তির কাজে ব্যবহার করতেন। আর নিচের তলাগুলোতে সাধারণ অতিথিদের রাখতেন। বেশ কয়েকটি গোপন অভিযানের পর ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (এফবিআই) ও স্থানীয় পুলিশ যৌথভাবে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করে।

আদালতের নথি অনুযায়ী, ২০২৩ সালের মে মাস থেকে কোশা শর্মা, যিনি ‘মা’ বা ‘মামা কে’ নামে পরিচিত এবং তার স্বামী তরুণ শর্মা, যিনি ‘পপ’ বা ‘পা’ নামে পরিচিত তারা কোশা এলএলসি নামের প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে মোটেলটি ইজারা নিয়ে পরিচালনা করছিলেন।

ফৌজদারি অভিযোগে বলা হয়েছে, এই দম্পতি মোটেলের ভেতর একটি যৌন ও মাদক চক্রকে অবাধে কার্যক্রম চালাতে দিয়েছিলেন এবং অবৈধ আয় থেকে নির্দিষ্ট অংশ নিজেরা নিতেন। পুলিশ জানায়, কোশা শর্মা মাদক ও যৌনকর্মী খোঁজা ব্যক্তিদের তৃতীয় তলায় পাঠাতেন এবং পুলিশ এলে তাদের সতর্ক করে দিতেন, যাতে কর্মকর্তারা কক্ষে ঢুকতে না পারেন।

এই অভিযানে আরও তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তারা হলেন ৫১ বছর বয়সী মার্গো পিয়ার্স, ৪০ বছর বয়সী জোশুয়া রেডিক এবং ৩৩ বছর বয়সী রাশার্ড স্মিথ। তারা সবাই এই অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। আদালতের নথিতে দেখা গেছে, ২০২৫ সালের মে থেকে আগস্টের মধ্যে প্রিন্স উইলিয়াম কাউন্টি পুলিশ ও এফবিআইয়ের গোপন এজেন্টরা যৌনকর্মী, দালাল ও ক্রেতা সেজে অন্তত নয়বার ওই মোটেলে গিয়েছিলেন। নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে, অন্তত আটজন নারীকে ওই মোটেলে যৌনকর্মে বাধ্য করা হতো।

স্মিথসহ কয়েকজন ব্যক্তি তাদের দিয়ে যৌনকর্ম করিয়ে প্রতি ঘটনার জন্য ৮০ থেকে ১৫০ ডলার আদায় করতেন। নারীদের মোটেল ছাড়তে দেয়া হতো না এবং তাদের শারীরিক নির্যাতনও করা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
একই সময়ে গোপন এজেন্টরা মোটেলে ১৫ বার মাদক কেনার অভিযান চালান। এর মধ্যে ১১ বার ফেন্টানিল এবং চারবার কোকেন সরবরাহ করা হয়। অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, মার্গো ওয়ালডন পিয়ার্স, যিনি মার্কো নামে পরিচিত, এই ১৫টি লেনদেনেই অবৈধ মাদক সরবরাহ করেছেন। পুলিশ জানায়, পাঁচ অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ফেন্টানিলসহ নিয়ন্ত্রিত মাদক বিতরণের ষড়যন্ত্রের অভিযোগ আনা হয়েছে। দোষী সাব্যস্ত হলে তাদের ন্যূনতম ১০ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের সাজা নির্দেশিকা ও অন্যান্য আইনগত বিষয় বিবেচনা করে ফেডারেল জেলা আদালতের বিচারক চূড়ান্ত সাজা নির্ধারণ করবেন।

mzamin

Friday, December 19, 2025

যৌন নির্যাতনের শিকার শিশুদের পরীক্ষা করতেন, এবার নিজের মেয়ের সেই পরীক্ষা করতে হলো মাকে by মানসুরা হোসাইন

মেয়ের বয়স এখনো ছয় বছরে পা দেয়নি। তার প্যান্টে রক্ত দেখে বুক কেঁপে উঠেছিল মায়ের। তিনি মনে মনে চাচ্ছিলেন, যা ভাবছেন—তা যেন সত্যি না হয়।

এই মা নিজে একজন চিকিৎসক, সার্জন। বর্তমানে বগুড়ায় কর্মরত। আগে রাজধানীর একটি হাসপাতালের ক্যাজুয়ালটি বিভাগে কাজ করার সময় ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারের (ওসিসি) অধীনে ভর্তি শিশুদের পরীক্ষা করেছেন, ক্ষতবিক্ষত যোনিপথ অস্ত্রোপচার করে ঠিক করেছেন। এবার তাঁকে নিজের মেয়ের একই পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে হলো। এরপর থানায় বসে তাঁর মেয়ে নারী পুলিশ কর্মকর্তার কাছে বলে, ‘দাদু আমাকে ব্যথা দিয়েছে।’

বগুড়া থেকে এই মা মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলছিলেন নিজের এই অভিজ্ঞতার কথা; শুনিয়েছেন তার একাকী লড়াইয়ের গল্প।

আশঙ্কা সত্যি হলো

শিশুটির দাদার বয়স প্রায় ৮০ বছর। মেয়ের বক্তব্য শোনার পর এই মা প্রথমে কিছুটা নিশ্চিত হন, মেয়ের প্যান্টে রক্ত দেখে তিনি যে আশঙ্কা করেছিলেন, তা হয়তো সত্যি।

এ ঘটনার পর মেয়ের যোনিপথ খালি চোখে পরীক্ষা করে যা দেখেছেন, তা তিনি মামলার এজাহারে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন।

তবে একদিকে নিজের মেয়ে, অন্যদিকে যাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি শ্বশুর। এ কারণে স্বামীসহ পরিবারের অন্য সদস্যরা কেউই মামলা করতে চাননি। কিন্তু মা তা মানতে পারেননি। তাই তিনি একাই থানায় গিয়ে মামলা করেন।

একার লড়াই

মেয়েকে সরকারি হাসপাতালের ওসিসিতে ভর্তি করে চিকিৎসা করিয়েছেন। এখনো একাই সব পরিস্থিতি সামাল দিচ্ছেন এই মা।

মেয়েটি অনেক ছোট হওয়ায় তার বক্তব্য নেওয়ার সময় পুলিশ মাকে কাছে থাকতে দেয়নি। ফরেনসিক পরীক্ষার রিপোর্ট এখনো পাওয়া যায়নি। আর বয়সসহ অন্যান্য বিবেচনায় আদালত থেকে জামিন পেয়েছেন অভিযুক্ত শ্বশুর।

মামলা সঠিক ধারায় হয়েছে কি না—এসব নিয়ে এই মা এখন চরম সংশয়ে ভুগছেন। এ ছাড়া পরিবার-পরিজনের বিরোধিতার পরও মেয়ের জন্য তাঁকেই ন্যায়বিচারের লড়াই একা চালিয়ে যেতে হচ্ছে।

‘আমি যত দিন বেঁচে আছি, তত দিন মেয়ের ন্যায়বিচারের জন্য লড়ে যাব’—এভাবেই বলেছেন ওই মা।

ঘটনার দিন

এই মা বলেন, তাঁর স্বামীও একজন চিকিৎসক। গত ২৮ নভেম্বর ব্যক্তিগত কাজে তিনি ঢাকায় ছিলেন। সেদিন মেয়ে তার বাবার সঙ্গে বগুড়া শহরের বাসা থেকে পাশের উপজেলায় দাদার বাড়ি বেড়াতে গিয়েছিল। রাতে বগুড়ায় ফিরে তিনি বাসার গৃহকর্মীর কাছ থেকে মেয়ের রক্তাক্ত প্যান্ট দেখতে পান।

পেশাগত অভিজ্ঞতা থেকে মেয়ের যোনিপথ পরীক্ষা করে তাঁর মনে হয়েছে, বয়স অনুযায়ী জায়গাটি অস্বাভাবিকভাবে প্রশস্ত। জায়গায় জায়গায় ছিঁড়ে যাওয়ার লক্ষণ, লালচে ভাব—সবই আঘাতের ইঙ্গিত দিচ্ছিল।

দ্বিতীয় চিকিৎসকের মতামত

এই মা যে হাসপাতালে বর্তমানে কর্মরত, সেখানকার আরেকজন সংশ্লিষ্ট নারী চিকিৎসককে বিষয়টি জানান তিনি। ওই চিকিৎসক বাসায় এসে মেয়েটিকে খালি চোখে পরীক্ষা করেন এবং প্রায় একই পর্যবেক্ষণের কথা বলেন। মেয়ের বাবার উপস্থিতিতেই এই পরীক্ষা করা হয়।

এর পরদিন মেয়েকে একটি হাসপাতালের ওসিসিতে ভর্তি করা হয়। সেখানে ২ ডিসেম্বর পর্যন্ত চিকিৎসা চলে। দায়িত্বরত চিকিৎসকদের মৌখিক বক্তব্যও শিশুটির মায়ের পর্যবেক্ষণের সঙ্গে মিলে যায়।

মামলা ও সন্দেহ

শ্বশুরের বিরুদ্ধে মামলা প্রসঙ্গে এই মা বলেন, ঘটনার পরপরই তিনি মামলা করেননি। মেয়ের বাবার কাছে বারবার জানতে চেয়েছেন কীভাবে এমন ঘটনা ঘটতে পারে? কিন্তু তাকে একবার বলা হয়, বালুতে খেলতে গিয়ে জোঁক ঢুকেছে। আবার বলা হয়, লাঠি দিয়ে খেলতে গিয়ে আঘাত পেয়েছে। এমনকি মাসিক হওয়ার কথাও বলা হয়।

এই মা বলেন, ‘মেয়ের এ অবস্থার জন্য তার বাবার কোনো উদ্বেগ কাজ করেনি। এ কারণে আমি একা প্রথমে অজ্ঞাতনামা আসামি দিয়ে মামলা করতে থানায় যাই। সে সময় মেয়ে নারী পুলিশ কর্মকর্তার কাছে বলেছে, ওর দাদু তাকে ব্যথা দিয়েছে। এরপর ৩ ডিসেম্বর শ্বশুরকে আসামি করে মামলা করি।’

শিশুটির বাবার সঙ্গে প্রথম আলোর পক্ষ থেকে মুঠোফোনে কয়েকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি ফোন ধরেননি। তাঁকে খুদেবার্তা পাঠানো হলেও তার কোনো জবাব আসেনি।

যে ধারায় মামলা হয়েছে

বগুড়ার দুপচাঁচিয়া থানায় ২০০০ সালের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ১০ নম্বর ধারা এবং ১৮৬০ দণ্ডবিধির ৩২৪ ধারায় মামলাটি করা হয়েছে।

নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ১০ ধারায় উল্লেখ আছে, যদি কোনো ব্যক্তি অবৈধভাবে তাঁর যৌন কামনা চরিতার্থ করার জন্য তাঁর শরীরের যেকোনো অঙ্গ বা কোনো বস্তু দিয়ে কোনো নারী বা শিশুর যৌন অঙ্গ বা অন্য কোনো অঙ্গ স্পর্শ করেন বা কোনো নারীর শ্লীলতাহানি করেন, তাহলে তাঁর এই কাজ হবে যৌনপীড়ন। এ অপরাধের শাস্তি অনধিক ১০ বছর কিন্তু অন্যূন তিন বছর সশ্রম কারাদণ্ড এবং এর অতিরিক্ত অর্থদণ্ডেও দণ্ডনীয় হবেন।

অন্যদিকে ১৮৬০ সালের দণ্ডবিধির ৩২৪ ধারা বলছে, বিপজ্জনক অস্ত্র বা উপায় (যেমন ধারালো অস্ত্র) ব্যবহার করে ইচ্ছাকৃতভাবে কাউকে আঘাত করলে তিন বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড বা জরিমানা, অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হওয়ার বিধান আছে।

শিশুটির মা বলেন, ‘আমি মামলার এজাহারে সবকিছু স্পষ্ট করেই উল্লেখ করেছি। আমি একজন সার্জন। মেয়ের শারীরিক অবস্থা বুঝতে পারলেও মামলার ধারা তো বুঝি না।’

নাতনিকে ধর্ষণের অভিযোগে করা মামলায় দাদাকে গ্রেপ্তার করেছিল পুলিশ। পরে তিনি জামিন পেয়েছেন।

শিশুটির মা প্রথম আলোকে বলেন, এজাহারে ঘটনার বিস্তারিত উপাদান যথেষ্ট স্পষ্ট নয়—এই যুক্তিতে এবং আসামির বয়স বিবেচনায় জামিন আদালত আসামির জামিন মঞ্জুর করেন।

হারিয়ে যাওয়া প্রমাণ

ঘটনার দিন মেয়ের রক্তমাখা প্যান্ট প্রমাণ হিসেবে সংরক্ষণ করে রেখেছিলেন মা। সকালে উঠে দেখেন, সেটি নেই। বাসার সিসি ক্যামেরাও কাজ করছিল না।

মা বলেন, ‘বাসায় আমার স্বামী, একজন অবিবাহিত ননদ ও চারজন কাজের মানুষ ছাড়া কেউ নেই। তাহলে প্যান্টটা কে নিল? বাসার সিসিটিভি কেন কাজ করছে না, তার উত্তরও স্বামীর কাছ থেকে পাইনি। সব মিলে আমার সন্দেহটা বাড়ছেই।’

স্বামী-স্ত্রীর মনোমালিন্য

স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিভিন্ন কারণে আগে থেকেই মনোমালিন্য চলছে বলে জানান এই মা। তিনি বলেন, ‘শ্বশুরবাড়ির পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হচ্ছে, সংসার করতে চাচ্ছি না বলেই মিথ্যা অভিযোগ করেছি।’

এই মা বলেন, ‘আমি যদি সংসার না চাইতাম, তালাক দিতে পারতাম। স্বামীর বিরুদ্ধেই মিথ্যা অভিযোগ করতে পারতাম। আমি কেন আমার শ্বশুরের বিরুদ্ধে অভিযোগ করব?’

শিশুটির বর্তমান অবস্থা ও তদন্ত

ঘটনার পর শিশুটি মানসিক ট্রমায় ছিল উল্লেখ করে তার মা বলেন, ‘মেয়ে এখন অনেকটাই স্বাভাবিক। তবে এসব নিয়ে বারবার প্রশ্ন করা হলে সে বিরক্ত হচ্ছে।

মামলাটির তদন্ত করছেন দুপচাঁচিয়া থানার তদন্ত কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান সরকার। তিনি মুঠোফোন প্রথম আলোকে বলেন, ‘তদন্ত চলছে। এর বাইরে কিছু বলা সম্ভব নয়।’

শিশু ধর্ষণ
শিশু ধর্ষণ। প্রতীকী ছবি: প্রথম আলো

Tuesday, December 16, 2025

যৌন নিপীড়ক এপস্টেইনের সঙ্গে ট্রাম্পের আরও তিন নতুন ছবি প্রকাশ

কুখ্যাত যৌন নিপীড়ক প্রয়াত জেফরি এপস্টেইনের বাড়ি থেকে পাওয়া আরও ১৯টি ছবি গতকাল শুক্রবার প্রকাশ করা হয়েছে। এগুলোর মধ্যে তিনটি ছবিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে দেখা গেছে।

যৌন অপরাধে দণ্ডিত এপস্টেইন সংশ্লিষ্ট নথিপত্র প্রকাশের নির্ধারিত সময়সীমা ঘনিয়ে আসার মধ্যে হাউস ওভার সাইট কমিটির ডেমোক্র্যাট সদস্যরা নতুন এই ১৯ ছবি প্রকাশ করলেন। কমিটির এই সদস্যরা বলেন, তাঁরা এপস্টেইনের বাড়ি (স্টেট) থেকে পাওয়া ৯৫ হাজারের বেশি ছবি পর্যবেক্ষণ করছেন।

এপস্টেইনের সঙ্গে ট্রাম্পের প্রকাশিত নতুন ছবিগুলোর একটি সাদা-কালো। তাতে দেখা যায়, ট্রাম্প বেশ কয়েকজন নারীর সঙ্গে হাসিমুখে দাঁড়িয়ে আছেন। ট্রাম্পের দুই পাশে সারি করে দাঁড়িয়ে থাকা ওই নারীদের মুখ আড়াল করা।

দ্বিতীয় ছবিতে দেখা যায়, ট্রাম্প এপস্টেইনের পাশে দাঁড়িয়ে আছেন। তৃতীয় ছবিতে একজন নারীর পাশে ট্রাম্পকে বসে থাকতে দেখা যায়। ছবিটি বেশ ঝাপসা আর নারীর মুখ আড়াল করা। ছবিতে ট্রাম্পের লাল টাই গলার সঙ্গে ঢিলেঢালা অবস্থায় ঝুলে রয়েছে।

ছবিগুলো কবে ও কোথায় তোলা হয়েছে, তা স্পষ্ট নয়।

নতুন ছবির বিষয়ে গতকাল হোয়াইট হাউসে ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, সবাই এই ব্যক্তিকে চেনেন। পাম বিচের সব জায়গায় তাঁর বিচরণ ছিল। সবার সঙ্গে তাঁর ছবি আছে। বলতে গেলে, সেখানে প্রায় শত শত মানুষের সঙ্গে তাঁর ছবি আছে। তাই এটা কোনো বড় বিষয় নয়।

হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র অ্যাবিগেইল জ্যাকসন বলেন, যাঁরা এপস্টেইনের শিকার হয়েছেন, তাঁদের জন্য ডেমোক্র্যাটরা এখন পর্যন্ত যা করেছেন, এর চেয়ে অনেক বেশি করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। তিনি আরও বলেন, ‘সংবাদমাধ্যমে শুধু ডেমোক্র্যাটদের বক্তব্যের পুনরাবৃত্তি বন্ধের সময় হয়েছে। বরং ডেমোক্র্যাটদের প্রশ্ন করা শুরু করুন—এপস্টেইন দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পরও কেন তাঁর সঙ্গে তাঁরা সময় কাটাতে চাইতেন।’

কয়েক মাস ধরে এপস্টেইন কেলেঙ্কারি ট্রাম্পের জন্য রাজনৈতিক মাথাব্যথার কারণ হয়ে আছে। জটিল এ পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার একটি কারণ ট্রাম্প নিজে। তিনিই একসময় এপস্টেইনকে নিয়ে ষড়যন্ত্রতত্ত্বগুলো সমর্থকদের মধ্যে প্রচার করেছিলেন।

এখন অনেক ট্রাম্প–সমর্থক বিশ্বাস করেন, তাঁর প্রশাসনের কর্মকর্তারা এপস্টেইনের সঙ্গে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সম্পর্ক আড়াল করছেন এবং ম্যানহাটানের একটি কারাগারে তাঁর মৃত্যুকে ঘিরে প্রকৃত ঘটনা প্রকাশ করছেন না।

২০১৯ সালে কারাগারের একটি কক্ষ থেকে এপস্টেইনের ঝুলন্ত মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে বলা হয়, তিনি আত্মহত্যা করেছেন।

গত জুলাই মাসে মার্কিন বিচার বিভাগ বলেছে, এপস্টেইনের ঘটনায় কোনো তৃতীয় পক্ষ জড়িত থাকা নিয়ে তদন্ত শুরু করার মতো যথেষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

বিচার বিভাগ থেকে আরও বলা হয়, ‘ক্লায়েন্ট’–এর কোনো তালিকা কিংবা যৌনকর্মের জন্য নারীদের পাচারে জড়িত থাকতে পারেন—এমন কোনো ব্যক্তির নাম তারা খুঁজে পায়নি। এপস্টেইন কাউকে ‘ব্ল্যাকমেল’ করেছেন—এমন প্রমাণও তারা পায়নি।

গত শতকের নব্বইয়ের দশক থেকে এ শতাব্দীর প্রথম কয়েক বছর এপস্টেইনের সঙ্গে ট্রাম্পের বন্ধুত্ব ছিল। ট্রাম্প দাবি করেন, শিশু যৌন নিপীড়নের অপরাধে এপস্টেইন দোষী সাব্যস্ত হওয়ার আগেই তাঁদের ওই বন্ধুত্ব ছিন্ন হয়।

এপস্টেইনের যৌন নিপীড়ন ও যৌনকর্মী হিসেবে অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েদের পাচার করা নিয়ে তিনি কিছু জানতেন না বলেও ট্রাম্প বারবার দাবি করেন।

নতুন প্রকাশিত ছবিতে সাবেক প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন, ট্রাম্পের সাবেক সহকারী স্টিভ ব্যানন, একসময়ের শীর্ষ ধনী বিল গেটস, সাবেক অর্থমন্ত্রী ল্যারি সামার্সকেও দেখা গেছে।

এ ছাড়া কয়েক ধরনের যৌন খেলনা ও সাড়ে চার ডলারের ‘ট্রাম্প কনডম’ দেখা গেছে।

ডেমোক্র্যাটরা বলেছেন, তাঁরা যে হাজার হাজার ছবি পর্যবেক্ষণ করছেন, সেগুলোতে সম্পদশালী ও প্রভাবশালী পুরুষদের ছবিও রয়েছে, যাঁরা জেফরি এপস্টেইনের সঙ্গে সময় কাটিয়েছেন। এ ছাড়া নারীদের ও এপস্টেইনের বিভিন্ন সম্পদের ছবি রয়েছে। সামনে আরও ছবি প্রকাশ করা হবে।

নতুন প্রকাশিত এ সাদা-কালো ছবিতে ট্রাম্পকে বেশ কয়েকজন নারীর সঙ্গে হাসিমুখে ছবি তুলতে দেখা যাচ্ছে। ছবিটি ১২ ডিসেম্বর প্রকাশ করা হয়েছে
নতুন প্রকাশিত এ সাদা-কালো ছবিতে ট্রাম্পকে বেশ কয়েকজন নারীর সঙ্গে হাসিমুখে ছবি তুলতে দেখা যাচ্ছে। ছবিটি ১২ ডিসেম্বর প্রকাশ করা হয়েছে। ছবি: রয়টার্স

Wednesday, October 22, 2025

আত্মজীবনীতে তথ্য: একজন সুপরিচিত প্রধানমন্ত্রী ধর্ষণ করেছেন ভার্জিনিয়া জিফ্রেকে

ভার্জিনিয়া জিফ্রে দাবি করেছেন, তাকে একজন সুপরিচিত প্রধানমন্ত্রী নৃশংসভাবে ধর্ষণ করেছিলেন। ‘নোবডিস গার্ল’ আত্মজীবনীতে তিনি এ দাবি করেছেন। উল্লেখ্য, কুখ্যাত যৌন অপরাধী জেফ্রি এপস্টেইনের বিরুদ্ধে যৌণ অপরাধের অভিযোগ এনেছেন যে কয়েকজন নারী, তার প্রধান ভার্জিনিয়া জিফ্রে। ওদিকে জেফ্রি এপস্টেইন কানেকশনের কারণে বৃটেনে রাজপরিবার থেকে সব পদ পদবী ত্যাগ করেছেন বহুল আলোচিত প্রিন্স অ্যানড্রু। তাকে নিয়ে বৃটেনে এখন তোলপাড় চলছে।

ওদিকে আত্মজীবনীতে ভার্জিনিয়া জানিয়েছেন, এপস্টেইন ও তার চক্র তাকে ক্ষমতাবান ব্যক্তিদের কাছে পৌঁছে দিত। ভার্জিনিয়া জিফ্রে লিখেছেন, প্রধানমন্ত্রী ‘যতটা নৃশংসভাবে আমাকে ধর্ষণ করেছিলেন, কেউ আগে তার চেয়ে বেশি নৃশংসভাবে ধর্ষণ করেনি’। তিনি ভয় পেতেন যে, হয়তো তিনি ‘যৌনদাসী হয়ে মারা যেতে পারেন।’ তিনি বর্ণনা করেছেন, তাকে ঘাড়ে হাত দিয়ে চেপে ধরাও হয়েছে। মারধর করা হয়েছে। অবমাননা করা হয়েছে। ধর্ষক ওই প্রধানমন্ত্রী তার কষ্ট দেখে হাসতেন। মার্কিন সংস্করণে ওই ব্যক্তিকে ‘সুপরিচিত প্রধানমন্ত্রী’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। অন্যদিকে আত্মজীবনীর বৃটিশ সংস্করণে তাকে কেবল ‘সাবেক মন্ত্রী’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। বইটিতে প্রিন্স অ্যানড্রু সম্পর্কে অভিযোগগুলোকেও পুনর্ব্যক্ত করেছেন ভার্জিনিয়া জিফ্রে।

https://mzamin.com/uploads/news/main/185965_Abul-10.webp

Tuesday, September 16, 2025

ঢাকায় যৌন নির্যাতনে অসুস্থ ছেলেশিশুটি এখন হাসপাতালে, ১ জন গ্রেপ্তার

মাস তিনেক আগে ১২ বছরের ছেলেশিশুটি ঢাকায় আসে। রাজধানীর মোহাম্মদপুরে এক আত্মীয়ের বাসায় ওঠে। শেরে বাংলা নগর এলাকার একটি সরকারি হাসপাতালের ফটকের সামনের ফুটপাতে ফাস্ট ফুডের দোকান আছে ওই আত্মীয়ের। সেখানে সে টুকটাক কাজ শুরু করে। ২০ দিন ধরে শিশুটিকে পাশের দোকানের দুই কর্মী যৌন নির্যাতন করছেন বলে অভিযোগ ওঠে। সবশেষ গত শনিবার যৌন নির্যাতন ও মারধরে অসুস্থ হয়ে পড়ে শিশুটি। আজ সোমবার শিশুটিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। শিশুটিকে নির্যাতনের ঘটনায় এক দোকানকর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে শেরেবাংলা নগর থানা-পুলিশ।

শিশুটি নির্যাতনের শিকার হওয়ার ঘটনায় তার ওই আত্মীয় প্রথমে সমাজসেবা অধিদপ্তর পরিচালিত শিশুসহায়তা হেল্পলাইন নম্বরে (১০৯৮) কল করেন। শিশুটির পরিবার, পুলিশ ও ১০৯৮ নম্বরের তথ্য অনুসারে, শিশুটির গ্রামের বাড়ি নোয়াখালী। শিশুটি টানা নির্যাতনের শিকার হলেও শনিবার অসুস্থ হয়ে পড়ার পরই তা জানাজানি হয়। পরে জানা যায়, পাশের ডিম ও ডাবের দোকানের দুই কর্মী হাসিবুর রহমান ও রিয়াজ নিয়মিত শিশুটিকে যৌন নির্যাতন করতেন।

নির্যাতনের শিকার শিশুর ওই আত্মীয় প্রথম আলোকে বলেন, তিনি শনিবার রাতে দোকানের কেনাকাটা করতে বাজারে গিয়েছিলেন। তাঁর দোকানেও দুজন কর্মী ছিলেন। তাঁদের কাছ থেকে জানতে পারেন, তাঁর আত্মীয় ওই শিশুটিকে আঘাত করা হয়েছে চোখে। চোখ লাল হয়ে গেছে। আঘাত করার কারণ জানতে চাইলে শিশুটি জানায়, ২০-২২ দিন ধরে হাসিবুর ও রিয়াজ হাসপাতালের পেছনে বাগানে নিয়ে তাকে যৌন নির্যাতন করেন। সে বাধা দিলেও শোনেননি।

শিশুটির ওই আত্মীয় আরও বলেন, নির্যাতনে শিশুটির পুরুষাঙ্গ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। শনিবার ওই দুজন আবার তাকে বাগানে নিয়ে যেতে চাইলে সে রাজি হয়নি। এরপরই তাকে আঘাত করেন ওই দুজন। আঘাতে তার চোখ লাল হয়ে যায়। আজ সে আরও অসুস্থ হয়ে পড়লে তিনি শিশুটিকে চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যান এবং শেরেবাংলা নগর থানায় গিয়ে মামলা করেন। পরে বিকেলে শিশুটিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

শেরেবাংলা নগর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো. মেহেদি হাসান প্রথম আলোকে বলেন, শিশুটিকে যৌন নির্যাতন করার ঘটনায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ১০ ধারায় হাসিবুর রহমান নামের একজনকে আসামি করে মামলা করা হয়। আজ দুপুরে মামলার পর আসামিকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়। আদালত থেকে আসামিকে কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০–এর ১০ ধারায় (যৌনপীড়ন ইত্যাদির দণ্ড) বলা হয়েছে, যদি কোনো ব্যক্তি যৌনকামনা চরিতার্থ করার উদ্দেশ্যে তাঁর শরীরের যেকোনো অঙ্গ বা কোনো বস্তু দিয়ে কোনো নারী বা শিশুর যৌনাঙ্গ বা অন্য কোনো অঙ্গ স্পর্শ করেন বা কোনো নারীর শ্লীলতাহানি করেন, তাহলে সেটা হবে যৌনপীড়ন। এই অপরাধে ওই ব্যক্তি সর্বনিম্ন ৩ বছর ও সর্বোচ্চ ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবেন। এর অতিরিক্ত অর্থদণ্ডেও দণ্ডিত হবেন।

চাইল্ড হেল্পলাইন ১০৯৮–এর সমন্বয়ক চৌধুরী মোহাম্মদ মোহাইমেন প্রথম আলোকে বলেন, শুধু মেয়েশিশু নয়, ছেলেশিশুরাও যৌন নির্যাতনের ভয়াবহ ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। এই শিশুরা দীর্ঘমেয়াদি ট্রমার মধ্যে পড়ে। অনেক সময় যৌন নির্যাতনের শিকার শিশুরা ভবিষ্যতে মা–বাবা হওয়ার সক্ষমতা হারিয়ে ফেলে। তাই পরিবারগুলোকে ছেলেশিশুদের দিকেও সমান নজর রাখতে হবে। তারা কোনো ধরনের নির্যাতনের কথা বললে তা গুরুত্ব দিয়ে দেখতে হবে। তিনি জানান, এই শিশু নির্যাতনের শিকার হওয়ার ঘটনায় ১০৯৮ নম্বরে সহায়তা জানিয়ে কল দেন শিশুটির ভাই। তাঁরা সঙ্গে সঙ্গে পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করিয়ে দেন এবং এ কাজে সহায়তা দিতে একজন সমাজকর্মীকে নিয়োজিত করেন।

শিশু নিপীড়ন
শিশু নিপীড়ন। প্রতীকী ছবি

Tuesday, September 9, 2025

যৌন নিপীড়ন মামলায় ট্রাম্পের ৮৩ মিলিয়ন ডলারের মানহানি রায় বহাল

প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে লেখিকা ই. জ্যাঁ ক্যারোলকে যৌন মানহানি করার দায়ে জুরি বোর্ডের দেয়া ৮৩.৩ মিলিয়ন ডলারের জরিমানার রায় সোমবার বহাল রেখেছে মার্কিন আদালত। ক্যারোলকে প্রেসিডেন্ট হওয়ার আগে ট্রাম্প যৌন নিপীড়ন করেন। এই মর্মে আদালতে মামলা হওয়ার পর ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে ট্রাম্পকে ৮৩.৩ মিলিয়ন ডলার জরিমানা করা হয়। ওই রায়ে ট্রাম্পকে ৬৫ মিলিয়ন ডলার শাস্তিমূলক ক্ষতিপূরণ, ৭.৩ মিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ এবং ক্যারোলের অনলাইন সুনাম ফিরিয়ে আনার জন্য ১১ মিলিয়ন ডলার দিতে বলা হয়েছিল। সেই রায়ই বহাল রেখেছে আদালত। এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি।

এতে আরও বলা হয়, ট্রাম্পকে নিউইয়র্কের আরেকটি ফেডারেল দেওয়ানি মামলায় ক্যারোলকে যৌন নিপীড়নের দায়েও দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে। সেই সময় ট্রাম্প তার ট্রুথ সোশ্যাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে ক্যারোল, বিচারক এবং গোটা বিচার প্রক্রিয়াকে আক্রমণ করে অপমানজনক বার্তার বন্যা বইয়ে দেন। বিচারককে তিনি তখন ‘চরম অপব্যবহারকারী ব্যক্তি’ বলে উল্লেখ করেন।

মার্কিন আপিল কোর্টের (সেকেন্ড সার্কিট) রায়ে বলা হয়, জেলা আদালত যে সিদ্ধান্তগুলো নিয়েছে তাতে কোনো ত্রুটি নেই এবং মামলার অতিমাত্রায় ভয়াবহ ও নিন্দনীয় পরিস্থিতির আলোকে জুরিদের ক্ষতিপূরণের পরিমাণ সম্পূর্ণ যৌক্তিক। মিস ক্যারোলের বর্তমান বয়স ৮১ বছর। প্রথম ২০১৯ সালে তার ওপর যৌন নিপীড়নের অভিযোগ প্রকাশ্যে আনলে ট্রাম্প তাকে মানহানি করেন বলে অভিযোগ করেন। তখন ট্রাম্প বলেন, তিনি ‘আমার যোগ্য নন।’ জুরিদের সামনে ট্রাম্পের ২০২২ সালের অক্টোবরের জবানবন্দি দেখানো হয়। সেখানে তিনি ক্যারোলের একটি ছবিকে নিজের সাবেক স্ত্রী মারলা ম্যাপলস ভেবেছিলেন। এটি তার দাবি- ক্যারোল তার ধরণের নন, এই বক্তব্যকে দুর্বল করে দেয়। ২০২৩ সালে আরেকটি ফেডারেল জুরি ট্রাম্পকে দোষী সাব্যস্ত করে ক্যারোলকে ১৯৯৬ সালে নিউইয়র্কের একটি ডিপার্টমেন্ট স্টোরের ড্রেসিংরুমে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে। এরপর ২০২২ সালে ক্যারোলকে ট্রাম্প ‘পুরোপুরি প্রতারণা’ বলে আখ্যায়িত করে আবারও মানহানি করেন।

আপিল কোর্ট সোমবার রায়ে আরও বলেছে, আমরা জেলা আদালতের সাথে একমত যে ট্রাম্পকে মানহানি করা থেকে বিরত রাখতে জুরিদের অধিকার ছিল একটি গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক শাস্তি আরোপ করায়। ট্রাম্পকে এই মামলায় উপস্থিত থাকতে বা সাক্ষ্য দিতে হয়নি। তবে তিনি এই মামলাকে ব্যবহার করেছেন গণমাধ্যমের ব্যাপক কাভারেজ তৈরির জন্য এবং নিজেকে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের শিকার বলে প্রচার করে ওই সময়ের আসন্ন নির্বাচনে হোয়াইট হাউসে ফেরার প্রচারণায় কাজে লাগিয়েছেন।

https://mzamin.com/uploads/news/main/179225_Abul-1.webp

Wednesday, June 11, 2025

শিক্ষিকার যৌনতার ক্ষুধা, অতঃপর...

আরও এক বিকৃত রুচির শিক্ষিকার সন্ধান মিলেছে। তিনি শারীরিক ক্ষুধা মেটাতে তারই এক ছাত্রকে শিকারে পরিণত করেছেন। এ ঘটনা ঘটেছে যুক্তরাষ্ট্রের ওহাইও রাজ্যের হ্যামিলটন কাউন্টিতে অবস্থিত সেন্ট জাভিয়ার হাই স্কুলে। আজ মঙ্গলবার এ মামলায় রায় দেয়ার কথা বিচারকের। এ খবর দিয়েছে অনলাইন সিনসিনাতি। অভিযোগ উঠেছে, ওই শিক্ষিকা আরও শিক্ষার্থীকে যৌনতায় উদ্দীপ্ত করেছেন।

২০২৪ সালের অক্টোবরে গুজব ছড়িয়ে পড়ে যে, ওই স্কুলের লার্নিং সেন্টারের প্রধান এমিলি নাটলি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে এই সম্পর্ক গড়ে তুলেছেন। এমিলির বয়স ৪২ বছর। তিনি বিবাহিত। সন্তান আছে। এমিলি নাটলি ওই স্কুলের একটি প্রোগ্রামের সমন্বয়ক। এই প্রোগ্রামে শিক্ষার্থীদের সমস্যা সম্পর্কে শিক্ষাদানে সহায়তা করে। ওই স্কুলের স্টাফরা এ বিষয়টি সব ক্যাথোলিক হাইস্কুলের প্রিন্সিপালের কাছে এমিলি সম্পর্কে রিপোর্ট করেন। এসব কথা বলা হয়েছে আদালতে দাখিল করা ডকুমেন্টে। এতে বলা হয়, ২০২৪ সালের ৭ই অক্টোবর ওই বালকের মা শিক্ষার্থী বিষয়ক ডিনের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তিনি বলেন, যা ঘটেছে সে সম্পর্কে পিতামাতার কাছে সব বলেছে তার টিনেজ ছেলে। পরের দিন ছিল সোমবার। এদিন ওই টিনেজ বালক স্কুল অ্যাডমিনিস্ট্রেটরের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। বলেন, এমিলি নাটলি অবাহতভাবে তাকে টেক্সট ম্যাসেজ পাঠাতেন। নিজের নগ্ন ছবি পাঠাতেন। কমপক্ষে চারবার তাদের মধ্যে সরাসরি শারীরিক সম্পর্ক হয়েছে। ওই সময় এই টিনেজারের বয়স ছিল ১৭ বছর। ২০২৩ সালের শেষের দিকে প্রথম তাদের মধ্যে শারীরিক সম্পর্ক হয়। এক পর্যায়ে এমিলি নাটলির সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করতে চায় ওই শিক্ষার্থী। কিন্তু এ কথা শুনে এমিলি আত্মহত্যা করার হুমকি দেন। বালকটি যাতে মুখ বন্ধ করে রাখে এ জন্য তাকে অর্থ দিতেন এমিলি নাটলি। আভ্যন্তরীণ তদন্তের পর ২০২৪ সালের ১১ই অক্টোবর স্কুল কর্তৃপক্ষ ঘোষণা করে যে, এমিলিকে বরখাস্ত করা হয়েছে। এর তিন সপ্তাহ পরে বেশ কিছু অভিযোগে তাকে অভিযুক্ত করা হয়। এ বছর এপ্রিলে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ স্বীকার করেন তিনি। আজ ১০ই জুন এমিলি নাটলিকে জেলে পাঠানো হবে কিনা সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেয়ার কথা হ্যামিলটন কাউন্টি কমন প্লিয়াস বিচারক জেনিফার ব্রাঞ্চ। ওহাইওর আইন অনুযায়ী এমিলি নাটলির ১০ বছরের জেল হতে পারে। তবে সেখানে জেল একেবারে বাধ্যতামূলক নয়।

ওদিকে ৯ই জুন প্রসিকিউটররা স্থানীয় বেশ কিছু মামলার রায়ের বিষয় আদালতের কাছে তুলে ধরেছেন। তাতে স্কুলে নিয়োজিত ব্যক্তিদের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে যৌন সম্পর্কের অভিযোগে জেলে পাঠানোর নজির তুলে ধরা হয়। এর মধ্যে ২০১৩ সালে ক্যালিরিয়ান হাই স্কুলের বিজ্ঞানের শিক্ষিকা জুলি হাটজেরোয়েডারকে যৌন সম্পর্ক গড়ে তোলার অভিযোগে দুই বছরের জেল দেয়া হয়। ২০১৪ সালে ডাটের হাউ স্কুলের একজন স্পেশাল শিক্ষা বিষয়ক শিক্ষক মাউকেল জনসনকে তিন বছরের জেল দেয়া হয়। বাটলার কাউন্টিতে অবস্থিত নিউ মিয়ামি হাই স্কুলের একজন শিক্ষক জাস্টিন ম্যাডেনকে ২০১৫ সালে এক শিক্ষার্থীর সঙ্গে যৌন সম্পর্ক গড়ে তোলা এবং অন্য একজনকে রগরগে ম্যাসেজ দেয়ার অভিযোগে তিন বছরের জেল দেয়া হয়েছে। এক্ষেত্রে এমিলি নাটলি মাত্র ১৭ বছর বয়সী একটি ছাত্রের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন করেছেন এবং অন্যদের উদ্বুদ্ধ করেছেন। এসব তথ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে তাকে জেল দেয়ার আবেদন করা হয়েছে। তার শিকার শিক্ষার্থী, তার পিতামাতা এবং সেন্ট জাভিয়ার হাই স্কুলের কর্মকর্তারা চান এমিলি নাটলিকে ১০ বছরের জেল দেয়া হোক।

mzamin

Thursday, May 29, 2025

শিশুদের যৌন নির্যাতনের অভিযোগে সাবেক ফরাসি চিকিৎসকের ২০ বছরের জেল

শিশুদের যৌন নির্যাতনের অভিযোগে সাবেক এক ফরাসি চিকিৎসককে ২০ বছরের জেল দিয়েছে দেশটির আদালত। অভিযুক্ত ওই চিকিৎসকের নাম জো লে স্কুয়ার্নেক (৭৪)। তার বিরুদ্ধে ১৯৮৯-২০১৪ সালের মধ্যে কয়েকশ রোগীকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ করা হয়েছে। যার মধ্যে বেশিরভাগই শিশু। মার্চে নিজের বিরুদ্ধে আনা ওইসব অভিযোগ স্বীকার করেন তিনি। এ খবর দিয়েছে অনলাইন বিবিসি। ওই চিকিৎসক বর্তমানে কারাগারে আছেন। ২০২০ সালে চার শিশুকে ধর্ষণ ও যৌন নির্যাতনের অভিযোগে তাকে ১৫ বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়। এর মধ্যে তার দুই ভাগ্নিও ছিলো। তার বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিয়েছেন কয়েকজন ভুক্তভোগী। শিশু বয়সে তারা যে নির্যাতনের শিকার হয়েছেন তা তাদের জীবনকে কীভাবে প্রভাবিত করেছে সে বিষয়ে বলেছেন তারা। মার্চে ওই চিকিৎসক ২৯৯ রোগীকে যৌন নির্যাতন করার বিষয়টি স্বীকার করেছেন। তিনি তার ডায়েরিতে হেনস্থার বিষয়ে লিখে রাখেন। সেখান থেকে তথ্য নিয়ে পুলিশ ভুক্তভোগীদের শনাক্ত করেছে। এদের অনেকের অবশ্য ধারণাই নেই তাদের সঙ্গে কী হয়েছে। কারণ রোগীদেরকে অ্যানেস্থেসিয়া দেয়ার সময় বা অস্ত্রপচারের পর তাদেরকে যৌন নির্যাতন করতেন ওই চিকিৎসক।

এদিকে গত সপ্তাহে আদালতে অনুতপ্ত হন লে স্কুয়ার্নেক । তিনি বলেছেন, আমি নিজের দিকে তাকাতে পারিনা। এটি ভেবেই লজ্জিত যে, আমি একজন শিশু নির্যাতনকারী। তিনি আরও বলেছেন, আমি কোনো সহানুভূতি চাইনা। এই মাসের শুরুতে ওই চিকিৎসক বলেছেন, দুই ভুক্তভোগীর মৃত্যুর জন্য তিনি দায়ী। শিশু বয়সে যৌন হেনস্তার শিকার হওয়ার বিষয়টি মেনে নিতে পারেননি দুইজন ভুক্তভোগী। এর পরিপ্রেক্ষিতে আত্মহত্যা করেছেন তারা। চার বছর আগে মারা গেছেন এমন একজন হলেন ম্যাথিয়াস ভিনেট। চিকিৎসকের ডায়েরিতে তার নাম আছে এ তথ্য প্রকাশ পাওয়ার পর নাতির হেনস্তা হওয়ার বিষয়টি বিবিসিকে জানান তার দাদা। পনেরো বছর ধরে শিশু নির্যাতন করেও পার পেয়ে যাওয়ার কারণে জনগণের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের জন্ম দেয়। এছাড়া ২০০৫ সালে শিশু নির্যাতনের ছবি ডাউনলোড দেয়ার বিষয়টি প্রকাশ্যে আসলেও তাকে কেন শিশুদের চিকিৎসা থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়নি এ নিয়েও তীব্র জনরোষের সৃষ্টি হয়। এদিকে এ বিষয়ে রাজনীতিবিদরা তেমন কোনো প্রতিক্রিয়া জানাননি বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীদের একটি দল। তারা বলেন, এ থেকে কোনো শিক্ষাই গ্রহণ করা হয়নি।

mzamin

Friday, November 29, 2024

অস্ট্রেলিয়ায় ৭০ শিশুকে যৌন হয়রানির অপরাধে একজনের যাবজ্জীবন

অস্ট্রেলিয়ার সাবেক এক চাইল্ড কেয়ার কর্মীর বিরুদ্ধে ৭০ শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। অভিযুক্ত এই ব্যক্তিকে ভয়াবহ একজন শিশু ধর্ষক (পেডোফিলিক ডিসঅর্ডার) হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। আদালতের নথিতে বলা হয়েছে সাজা পাওয়া ওই ব্যক্তির নাম অ্যাশলে পল গ্রিফিথ। ২০০৩ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়ার কুইন্সল্যান্ড রাজ্যের একটি চাইল্ড কেয়ারে কাজ করেছেন ৪৭ বছর বয়সী ওই ব্যক্তি। এ সময়ের মধ্যে তিনি ওই চাইল্ড কেয়ারে সংঘটিত ৩০৭টি অভিযোগের কথা স্বীকার করেছেন। তার হাতে নির্যাতিত বেশিরভাগ শিশুর বয়স এক থেকে সাত বছর। চাঞ্চল্যকর এ খবর দিয়েছে অনলাইন বিবিসি।

এতে বলা হয়, শিশুদের সঙ্গে হওয়া এই অপরাধের মাত্র ও প্রকৃতিকে ‘ভয়ংকর অপরাধ’ বলে অভিহিত করেছেন বিচারক পল স্মিথ। বলেন, এই কাজ সুস্পষ্ট ‘বিশ্বাসের উল্লেখযোগ্য লঙ্ঘন’। এই মামলা ছাড়াও গ্রিফিথের বিরুদ্ধে অস্ট্রেলিয়ার অঙ্গরাজ্য নিউ সাউথ ওয়েলস এবং ইতালিতে দুই ডজনের বেশি শিশুকে নির্যাতনের অভিযোগ রয়েছে বলে জানিয়েছে বিবিসি।

ব্রিসবেনের জেলা আদালতের বিচারক স্মিথ শুক্রবার বলেছেন, একজন পেডোফিলিক ডিসঅর্ডারে আক্রান্ত অপরাধী হিসেবে গ্রিফিথের কথা শুনেছে আদালত। তার মধ্যে পুনরায় এই অপরাধ সংঘটিত করার উচ্চ প্রবণতা ছিল। এতে গ্রিফিথকে কমপক্ষে ২৭ বছরের অজামিনযোগ্য কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে।

২০২২ সালের আগস্টে গ্রিফিথকে গ্রেপ্তার করে অস্ট্রেলিয়ার ফেডারেল পুলিশ। তখন তার বিরুদ্ধে ১৬০০টির বেশি শিশুকে যৌন হয়রানির অভিযোগ ওঠে। যদিও শেষ পর্যন্ত বেশির ভাগ অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি। তার অপরাধের বেশ কিছু ছবি এবং ভিডিও সংগ্রহ করেছে তদন্তকারী পুলিশ। এই ছবি বা ভিডিও নিজেই ধারণ করে ডার্ক ওয়েবে প্রচার করতেন গ্রিফিথ। ভিডিওগুলো থেকে মুখের অবয়ব কেটে তা আপলোড করতেন তিনি। কিন্তু ভিডিওতে দেখানো বিছানার চাদর এবং আশপাশের কিছু চিত্র দেখে গ্রিফিথকে শনাক্ত করতে সক্ষম হয়েছে পুলিশের তদন্তকারী টিম। তারা নিশ্চিত হয়েছে যে, এসব ভিডিও কুইন্সল্যান্ডের চাইল্ড কেয়ারে ধারণ করা হয়েছে।

২৮টি ধর্ষণের অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন গ্রিফিথ। এছাড়া তার বিরুদ্ধে শিশুদের সঙ্গে অশোভন আচরণ ও তাদের নির্যাতনের বেশ কয়েকটি অভিযোগেও দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন তিনি। অস্ট্রেলিয়ার ওই চাইল্ড কেয়ারে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের শিশুরা অবস্থান করে। তার মধ্যে পিসা, ইটালির চার শিশুর সাথে অপ্রীতিকর আচরণ করেছেন গ্রিফিথ। এছাড়া অস্ট্রেলিয়ার বিভিন্ন রাজ্য থেকে আসা আরও ৬৫ শিশুকে যৌন হয়রানি করেন তিনি।

mzamin

Monday, November 25, 2024

ভারতে ‘যৌন ব্যবসায়’ বাধ্য করা হচ্ছে বাংলাদেশি তরুণীদের

দেহব্যবসা করাতে বাংলাদেশি ২৩ তরুণীকে নেওয়া হয়েছে ভারতে। দেশ থেকে তাদের নেওয়া হয় চাকরির কথা বলে। মাসে ৬০ হাজার রুপি বেতন দেওয়া হবে, এমন প্রলোভনে ভারতে নেওয়া হয় ওই তরুণীদের। কিন্তু সেখানে নিয়ে আটকে রাখা হয় তাদের। পরানো হয় যৌন আবেদনময়ী সব পোশাক। এরপর ছবি তুলে হোয়াটসঅ্যাপে তা পাঠিয়ে দেওয়া হয় খদ্দেরের কাছে।

হোয়াটসঅ্যাপে পাঠানো ছবি থেকে পছন্দের তরুণীকে বাছাই করেন খদ্দেররা। এরপর কথামতো বাংলাদেশি ওই তরুণীদের পাঠানো হয় আবাসিক কোনো হোটেল বা রিসোর্টে, বাধ্য করা হয় পতিতাবৃত্তিতে।

দিনের পর দিন এভাবেই জোর করে বাংলাদেশি ২৩ তরুণীকে দিয়ে দেহব্যবসা করিয়ে আসছে একটি চক্র। সম্প্রতি ভারতের ওড়িশার রাজ্যের রাজধানী ভুবনেশ্বরে চক্রটির সন্ধান পেয়েছে সেদেশের পুলিশ। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ওড়িশাটিভি রোববার এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে- এই তরুণীরা বড় ধরনের মানবপাচারের শিকার। তাদের দৈনিক ২ হাজার রুপি বেতনের কাজের লোভ দেখিয়ে ভুবনেশ্বরে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু সেখানে গিয়ে তাদের দিয়ে যৌন ব্যবসা করানো হচ্ছে।

এই যৌন ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকা দালালরা হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে খদ্দেরের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। যখন কোনো খদ্দের আগ্রহ প্রকাশ করেন তখন তাদের বাংলাদেশি তরুণীদের ছবি পাঠানো হয়। সেখান থেকে যে কোনো একজনকে বেছে নেয় তারা। এরপর আগেই অর্থ পরিশোধ করতে হয়। সর্বশেষে ওই খদ্দেরকে হোটেলের ঠিকানা দেওয়া হয় যেখানে নির্দিষ্ট তরুণী অপেক্ষা করেন।

ওড়িশাটিভি জানিয়েছে, কোটাক থেকে এক অপ্রাপ্তবয়স্ক কিশোরীকে উদ্ধারের পর পুরো বিষয়টি সামনে আসে। ওই কিশোরীকে লিংক রোডের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়। এরপর তদন্ত শুরু হয়—কীভাবে বাংলাদেশি তরুণীদের ওড়িশায় নিয়ে আসা হচ্ছে।

পুলিশের অভিযানে গ্রেপ্তার হওয়া এক যৌনকর্মী জানান, নিজের ইচ্ছার বিরুদ্ধে তিনি এই কাজ করতে বাধ্য হচ্ছেন। তিনি এখানে আটকা পড়ে গেছেন। উদ্ধারকৃত ওই যৌনকর্মী জানান, পুরো বিষয়টি পরিচালনা করে একটি সংঘবদ্ধ চক্র।

প্রতারণার শিকার এই তরুণীদের কয়েক বছর ধরে আটকে রেখেছে চক্রটি। যারা এরসঙ্গে জড়িত তাদের ধরে বিচারের মুখোমুখি করার চেষ্টা চলছে। স্থানীয় যেসব দালাল এই যৌনব্যবসায় জড়িত, তাদের খুঁজে বের করতে অভিযান শুরু করেছে স্থানীয় পুলিশ।

ভুবনেশ্বরের উপপুলিশ কমিশনার পিনাক মিশ্রা ওড়িশাটিভিকে বলেন, এ ধরনের অবৈধ কর্মকাণ্ডের ওপর নজর রাখা হচ্ছে। এসব বিষয়ে পর্যাপ্ত গোয়েন্দা তথ্য রয়েছে দাবি করে তিনি বলেন, যারা এ ধরনের অবৈধ কার্যক্রমে জড়িত, শিগগিরই তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ছবি : সংগৃহীত

Monday, November 11, 2024

এমপি-মন্ত্রীদের স্ত্রীরা ছিলেন তার শয্যাসঙ্গী

এক বা দুজন নয়, ডজন খানেক নারীর সঙ্গে যৌনকর্মে লিপ্ত হয়েছেন জাতীয় আর্থিক দুর্নীতি দমন শাখার পরিচালক। এমন চারশ’র বেশি গোপন ভিডিও ফাঁস হয়েছে অভিযুক্ত সরকারি এ কর্মকর্তার। অবাক করার মতো বিষয় হল ভিডিওতে সরকারি এই কর্মকর্তার সঙ্গে অন্তরঙ্গ অবস্থায় থাকা নারীরা সাধারণ কেউ নয়। বরং সংশ্লিষ্ট নারীরা সকলেই সরকারের উচ্চপর্যায়ের বিভিন্ন কর্মকর্তাদের স্ত্রী। তারা অভিযুক্ত ওই কর্মকর্তার অফিসেই তার সঙ্গে অন্তরঙ্গ হয়েছেন। এরই মধ্যে এসব ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

শতাধিক নারীর সঙ্গে যৌনকর্মে লিপ্ত হওয়া এই কর্মকর্তার নাম বালতাসার ইবাং এনগোঙ্গা। তিনি আফ্রিকার দেশ গিনির জাতীয় আর্থিক দুর্নীতি দমন শাখার পরিচালক। সম্পর্কের সূত্রে তিনি দেশটির প্রেসিডেন্ট তেওডোরো ওবিয়াং এনগুয়েমার ভাতিজা। এমনকি ওবিয়াংয়ের মেয়াদ শেষে এনগোঙ্গাকেই গিনির পরবর্তী প্রেসিডেন্ট হিসেবে ভাবা হচ্ছিল।

বিভিন্ন ভিডিওতে এনগোঙ্গার সঙ্গে অন্তরঙ্গ নারীদের দেখে বুঝা যায় তারা কেউ কেউ এসব মুহুর্তের ভিডিও ধারণের ব্যাপারে জানতেন। ভিডিওতে এনগোঙ্গোর সঙ্গে প্রেসিডেন্টের আত্মীয়া, বিভিন্ন মন্ত্রী ও ঊর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তার স্ত্রীদের অন্তরঙ্গ হতে দেখা যায়।

বিবিসি জানিয়েছে, এসব ভিডিওর সত্যতা যাচাই করা যায়নি। দেশটিতে স্বাধীন সাংবাদিকতার কোনো অস্তিত্ব না থাকায় এসব ভিডিও উৎস সম্পর্কে খুব বেশি ধারণা পাওয়া যায় না। তবে এনগোঙ্গার ভিডিওগুলো টেলিগ্রাম, টুইটার, টিকটকের মতো বিভিন্ন মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।

অভিযুক্ত এনগোঙ্গা জাতীয় অর্থনৈতিক তদন্ত কমিশনের প্রধান হিসেবে তার হাতে বেশ কিছু অর্থ পাচার সংক্রান্ত অভিযোগের নিষ্পত্তির দায়িত্ব ছিল। তবে যৌন ভিডিও ফাঁস হওয়ার কারণে তিনিই এখন তদন্তের আওতায় চলে এসেছেন। যদিও সরকার বলছে এগুলো তার বিরুদ্ধে গভীর কোনো ষড়যন্ত্রের অংশ। এমনকি এসব ভিডিও ছড়িয়ে পড়া আটকাতে বেশ প্রচেষ্টা চালিয়েছিল গিনি সরকার। তবে ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর এনগোঙ্গার মোবাইল ও কম্পিউটার জব্দ করে সরকার।

ভিডিও ফাঁসের পর ২৫ অক্টোবর এনগোঙ্গাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর তার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাৎ এবং কেম্যান দ্বীপপুঞ্জের গোপন অ্যাকাউন্টে জমা করার অভিযোগ আনা হয়। গ্রেপ্তারের পর এনগোঙ্গাকে রাজধানী কোনাক্রির ব্লাক বিচ জেলখানায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে সরকার বিরোধী বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতাদের আটক রেখে নির্দয় নির্যাতন চালানোর অভিযোগ করে আসছিল মানবাধিকার সংস্থাগুলো।

আলো ও অন্ধকারে নারী অবয়ব। ছবি : সংগৃহীত

Saturday, October 12, 2024

গ্রাম থেকে আসা মেয়েদের দিয়ে দেহব্যবসা, পেছনে ছাত্রলীগ নেতা?

প্রবাসী ও ধনী ছেলেদের টার্গেট করে খুলনায় ভয়ংকর প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার জাল বিছিয়েছে একটি চক্র। চক্রটি গ্রাম থেকে শহরে আসা মেয়েদের টার্গেট করে প্রথমে অল্প ভাড়ায় ফ্ল্যাটে আশ্রয় দেয়। তারপর সোশ্যাল মিডিয়ায় বিভিন্ন কনটেন্ট তৈরি করে সবার মাঝে পরিচিত করে। সর্বশেষ কৌশলে বাধ্য করে দেহ ব্যবসায়। একই সঙ্গে ওই মেয়েদের দিয়ে ব্ল্যাকমেইল করেও চলে প্রতারণা ও অর্থ আত্মসাৎ।

এসব ছাড়াও চক্রটির বিরুদ্ধে শারীরিক নির্যাতন, মাদক ব্যবসা, এমনকি নারী পাচারের ভয়ংকর অপরাধেরও অভিযোগ রয়েছে। ভুক্তভোগী এক প্রবাসীর করা অভিযোগের ভিত্তিতে অনুসন্ধানে নামে কালবেলা। অনুসন্ধানেই বের হয়ে আসে খুলনার বিভিন্ন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীদের টার্গেট করে দেহ ব্যবসা এবং মাদকের ভয়ংকর সিন্ডিকেটের তথ্য।

কাতার প্রবাসী বিলাল (২৬)। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সম্পর্ক হয় খুলনার একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী পরিচয় দেওয়া নুসরাত জাহান অর্নার সঙ্গে। নুসরাত ও তার মায়ের সঙ্গে নিয়মিত কথা হতো বিলালের। বিভিন্ন কারণ দেখিয়ে ২১ লাখ টাকা নিয়েছে মা ও মেয়ে। প্রেমের ২ বছরের মাথায় ক্যানসার আক্রান্ত বাবার চিকিৎসা করাতে দেশে ফেরেন বিলাল। কিন্তু ফেরার মাত্র একদিন পরই আসল চেহারা দেখায় নুসরাত। তার সিন্ডিকেট দিয়ে নির্মম নির্যাতন চালায় বিলালের ওপর। দেওয়া হয় মামলা।

বিলাল বুঝতে পারেন প্রেমের নামে তিনি প্রতারণার শিকার হয়েছেন। ২৬ দিন পর কারামুক্ত হন তিনি। এরপর ঘটনার বর্ণনা দিয়ে এই সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিতে পাল্টা মামলা করেছেন বিলাল। মামলায় এসআই সুকান্ত, নুসরাত জাহান অর্নাসহ চক্রের ৫ সদস্যকে আসামি করা হয়। মামলাটি তদন্ত করছে পিবিআই কর্মকর্তা ইকবাল।

বিলাল অভিযোগ করে বলেন, সাড়ে পাঁচ বছরের প্রবাস জীবন শেষে দেশে এসে ক্যানসারে আক্রান্ত পিতার চিকিৎসা করাতে চেয়েছিলাম। কিন্তু নুসরাত আর তার সিন্ডিকেট যে কত ভয়ংকর হতে পারে তা আমার ধারণার বাইরে ছিল। এসআই সুকান্ত নামে এক পুলিশের মাধ্যমে আমাকে ‘ক্যাসল সালামে’ ডেকে নেওয়া হয়। তারপর আমার মোবাইল কেড়ে নিয়ে আমাকে হাতকড়া পরিয়ে থানায় নিয়ে যায়। ওসির রুমে অন্তত ৭/৮ জন আমাকে নির্মম নির্যাতন করে। ইলেকট্রিক শক দেয়। আমাকে মারধরের ভিডিও আমার পরিবারের কাছে পাঠিয়ে ৩০ লাখ টাকা দাবি করে। কিন্তু বড় ভাই মাত্র দেড় লাখ টাকা দিতে পারেন। তবে টাকা কম দেওয়ায় আমাকে না ছেড়ে উল্টো আমার মোবাইলে কিছু অশ্লীল ভিডিও পাঠিয়ে পর্নোগ্রাফি আইনে মামলা দেয়। রিমান্ডে নিয়ে আবারও নির্যাতন করে। রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠানোর ২৬ দিনের মাথায় আমি জামিনে মুক্তি পাই।

শুধু বিলাল না, কালবেলার হাতে আসে এই চক্রটির হাতে প্রতারিত ও নির্যাতনের শিকার এমন আরও অন্তত ৬ ভুক্তভোগীর তথ্য। এদের মধ্যে ইরাক প্রবাসী, দুজন ছাত্র ও দুজন ব্যবসায়ী রয়েছেন।

এমনই এক ব্যক্তি ইরাক প্রবাসী শাকিল (ছদ্মনাম)। কালবেলাকে তিনি বলেন, ২০২৩ সালে ইরাকে থাকাকালে আমার সম্পর্ক হয় তাসমি নামে এক মেয়ের সঙ্গে। প্রেমের অভিনয় করে পড়াশোনা ও ভরণপোষণ বাবদ আমার কাছ থেকে বিভিন্ন সময়ে ৮ থেকে ৯ লাখ টাকা নেয়। এক পর্যায়ে তাসমি ও তার চক্র সম্পর্কে জেনে টাকা দেওয়া বন্ধ করে দিই আমি। কিন্তু দেশে আসার পর আমার ওপর তারা নির্যাতন চালায়। আমার বিরুদ্ধে মামলা দেয়।

অনুসন্ধানে জানা যায়, এই চক্রের দেহ ব্যবসার অংশে নেতৃত্ব দেন সোনাডাঙ্গা থানা ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ফাহিম হাসান আকাশ। অনিক নামে একজনের গাড়িতে সাতক্ষীরা থেকে নিয়মিত ফেনসিডিল ও গাঁজার চালান আনতেন বলে অভিযোগ আছে। নগরীর মজিদ স্মরণী রোডের ধাবা রেস্টুরেন্টে চলে এসব ফেনসিডিল ও গাঁজার অবৈধ বেচাকেনা।

রেস্টুরেন্টের সাবেক এক কর্মচারী কালবেলাকে বলেন, এলাকার কাউন্সিলর রাজুল ইসলাম রাজুর ডান হাত হিসেবে পরিচিত হওয়ায় রেস্টুরেন্টটি মূলত ফাহিমের নিয়ন্ত্রণে ছিল। যা ইচ্ছা তাই করত। এখানেই মাদক সেবনসহ সব ধরনের অপকর্ম করত সে।

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী বিশেষ করে যারা গরিব এবং সুন্দরী তাদের টার্গেট করেন ফাহিমের কথিত স্ত্রী নুসরাত তাসমি। তাসমির বিরুদ্ধে ইরাক প্রবাসী ব্যক্তি, ব্যবসায়ী, ধনীর ছেলেদের টার্গেট করে কৌশলে ফাঁসিয়ে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার একাধিক প্রমাণ মিলেছে।

গ্রুপের অপর সদস্য নুসরাত জাহান অর্না। কাতার প্রবাসী ব্যবসায়ী, কলেজ শিক্ষার্থী, মোটরসাইকেল শোরুম মালিক এবং এক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষককে প্রতারণার ফাঁদে ফেলে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। অর্নার এসব কাজে তার মূল হাতিয়ার মা সালমা বেগম। এ ছাড়া সুমাইয়া সুলতানা রিমা নামে গ্রুপের অপর সদস্যের নামে বিভিন্ন ব্যবসায়ীদের ব্ল্যাকমেইল করে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে।

জানা যায়, ভয়ংকর এই চক্রের গড মাদার হিসেবে রয়েছে ফাতেমা আফরোজ। খুলনা অনলাইন শপিং নামে এক ফেসবুক পেজের এডমিন তিনি। মিল শ্রমিক বাবার দরিদ্র সংসারের মেয়ে ফাতেমা আফরোজ এখন একাধিক ফ্ল্যাট ও গাড়ির মালিক। খুলনা সিটি মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেক, শেখ সোহেলের বন্ধু হিসেবে পরিচিত কাজী ফয়েজ এবং একজন সাংবাদিক নেতার বন্ধু হিসেবে পরিচিত এই ফাতেমা আফরোজ।

দীর্ঘদিন ব্ল্যাকমেইল হওয়া এক নারী শিক্ষার্থী কালবেলাকে বলেন, আমার মতো গ্রাম থেকে আসা অনেকেই এই চক্রের মাধ্যমে প্রতারিত হয়েছে। নর্দান এবং নর্থওয়েস্টার্ন এই দুই বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক এবং বর্তমান কিছু শিক্ষার্থী সোনাডাঙ্গা দ্বিতীয় ফেজ আবাসিক এলাকায় একাধিক বিলাসবহুল ফ্ল্যাট ভাড়া নিয়ে এসব অবৈধ কার্যক্রম চালায়। আমি এদের বিচার চেয়ে কোথাও বিচার পাইনি। পরে আত্মহত্যা করার জন্য আমি ছাদ থেকে লাফ দিই। কিন্তু প্রাণে বেঁচে যাই। সেখান থেকে আমি খুলনার বাইরে। এখনো খুলনায় যেতে পারছি না।

অভিযোগের বিষয়ে ফাহিম হাসান আকাশ বলেন, কাতার প্রবাসী যে ছে‌লে সব জায়গায় অভিযোগ ক‌রে‌ছে তার সা‌থে অর্ণা না‌মে এক মে‌য়ের সম্পর্ক ছি‌ল। অর্ণা আমা‌দের ছোট বোন। অর্ণার সাথে কোনো ছেলেকে কথা বলতে দেখলে বা জানলে ওই কাতার প্রবাসী তাকে নিয়ে ফেসবুকে পোস্ট দিত। এভাবে অর্ণার জীবন অতিষ্ঠ করে তুলেছিল। আমরা শুনেছি যে, ওই ছেলে কাতার থেকে ফিরেছে এবং পুলিশ তাকে এসব অভিযোগে গ্রেপ্তার করেছে। তখন আমিসহ অন্তত ৫০-৬০ জন সদর থানায় তা‌কে দেখ‌তে যাই। কিন্তু আর কোনোদিন তার সাথে আমার দেখা বা কথা হয়‌নি।

তিনি বলেন, আমার স্ত্রী তাস‌মি ওই ছে‌লেটার কাছ থে‌কে কোনো টাকা নেয়নি। আমার স্ত্রী বরং ওকে বি‌ভিন্ন সময়ে টাকা পা‌ঠি‌য়ে‌ছে যার তথ‌্য আমার কা‌ছে আছে।

অভিযোগের বিষয়ে চক্রের অন‌্যতম সদস‌্য নুসরাত তাস‌মি কাল‌বেলা‌কে ব‌লেন, সাইমুম না‌মে আমার কোনো স্বামী নেই। দুই বছর আগে আমা‌দের একটা সম্পর্ক ছি‌ল। এখন তার লাইফ নি‌য়ে সে ভা‌লো আছে, আমার লাইফ নি‌য়ে আমি ভা‌লো আছি। আমাদের বিষয় সে‌টেল্ড হ‌য়ে গে‌ছে, এই বিষয় নি‌য়ে আমি আর কোনো কথা বল‌তে চাই না। অপরদিকে ফা‌তেমা আফ‌রো‌জের মোবাইল ও হোয়াটসঅ্যাপে একা‌ধিকবার কল দি‌লেও কলটি রিসিভ হয়নি। পরে অভিযোগের বিষয়ে হোয়াটসঅ্যাপে মেসেজ দেওয়া হলেও তার কোনো রিপ্লাই পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের উপকমিশনার (দক্ষিণ) মো. মনিরুজ্জামান মিঠু কালবেলাকে বলেন, ‘আমি সদ্য যোগদান করেছি। এখন পর্যন্ত এ ধরনের অভিযোগ পাইনি। অপরাধের সঙ্গে পুলিশ সদস্য বা যেই জড়িত থাকুক তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

প্রতীকী ছবি

Wednesday, September 4, 2024

ঝিনাইদহ আইএইচটি’র শতাধিক নারী শিক্ষার্থীকে যৌন নির্যাতন, পালালেন চার অভিযুক্ত

যৌন নির্যাতনের অভিযোগ ওঠায় ঝিনাইদহ ইনস্টিটিউট অব হেলথ টেকনোলজির (আই,এইচ,টি) ডেন্টাল ইন্সট্রাক্টর কার্তিক গোপাল বিশ্বাসসহ তার তিন সহযোগী পালিয়ে গেছেন। এ নিয়ে আইএইচটি’র শত শত শিক্ষার্থীর আন্দোলনের মুখে গঠিত হয় তদন্ত টিম। মঙ্গলবার একটি তদন্ত প্রতিবেদন স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। এ খবর নিশ্চিত করেছেন আইএইচটির ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ডা. রেজিনা আহম্মেদ। তিনি জানিয়েছেন, প্রতিষ্ঠানের একাধিক ছাত্রীকে যৌন নির্যাতন, মেয়েদের পর্দার বিরুদ্ধে অবস্থান ও ছাত্রলীগ দ্বারা সাধারণ ছাত্র-ছাত্রীদের মানসিক ও শারীরিক নির্যাতনের মতো গুরুতর অভিযোগ দেয় আইএইচটি’র বর্তমান ও প্রাক্তন প্রায় ৫ শতাধিক শিক্ষার্থী। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ পেয়ে তদন্ত করে দেখা যায় তাদের সব অভিযোগই সত্য। শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, ডেন্টাল ইন্সট্রাক্টর কার্তিক গোপাল বিশ্বাস ডেন্টালের ছাত্রীদের শহরের ব্যাপারীপাড়াস্থ তার চেম্বারে ডেকে এনে হাতে কলমে প্রশিক্ষণের নামে যৌন নির্যাতন চালাতেন। যৌন কর্মে লিপ্ত না হলে মৌখিক পরীক্ষায় ফেল ও লিখিত পরীক্ষায় কম মার্ক দেয়ার কথা বলে একাধিক ছাত্রীর সঙ্গে জোর করে শারীরিক সম্পর্কে লিপ্ত হতেন। তদন্ত টিম যৌন নির্যাতনের শিকার এমন শতাধিক নারী শিক্ষার্থীর বক্তব্য ও ভিডিও ফুটেজ সংগ্রহ করেছেন তদন্ত টিম। তাছাড়া কার্তিক গোপাল ক্লাসে নারী শিক্ষার্থীদের পর্দা করার বিষয়ে তুচ্ছ তাচ্ছিল্য করে মানহানিকর বক্তব্য দিতেন।

নারী শিক্ষার্থীদের অভিযোগ কার্তিকের এই অপকর্মে সহায়তা করতেন, আইএইচটির রেডিওগ্রাফার আলমডাঙ্গা উপজেলার সরফরাজ খান সোহাগ। সোহাগ আইএইচটির ক্যাম্পাসে মাদকের স্বর্গ রাজ্য গড়ে তোলেন। এতে অনেক সাধারণ শিক্ষার্থী মাদকে আসক্ত হয়ে পড়েন। এদিকে গেস্ট লেকচারারের কোনো পদ না থাকার পরও ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি চাকলাপাড়ার তারিক মোড়ের মাহমুদুল ইসলাম লিওন ক্লাস নেয়ার নামে নারী শিক্ষার্থীদের কু-প্রস্তাব দিতেন। আউট সোর্সিংয়ে কর্মরত ঝিনাইদহ শহরের হামদহ দাস পাড়ার সূর্য্য দাস লিওনের সহযোগী হিসেবে কাজ করতেন বলে তদন্ত প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। একাধিক সূত্রে জানা গেছে, কার্তিক গোপাল বিশ্বাসের দ্বৈত নাগরিক রয়েছে। ভারতের নাগরিক হওয়ায় তিনি কাউকে পরোয়া করতেন না। ফলে হাসিনা সরকারের গোটা সময় ধরে তিনি নানা অপকর্ম করে পার পেয়ে গেছেন। বর্তমানে তিনি ভারতে পালিয়ে যাওয়ায় তার বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।

উল্লেখ্য, ঝিনাইদহ আইএইচটিতে ৫টি ডিপার্টমেন্টে বর্তমানে ৩৫০ জন ছাত্রছাত্রী অধ্যয়নরত রয়েছে। প্রতিষ্ঠার পর ১২ বছরে শিক্ষা জীবন শেষ করে ৭টি ব্যাচের শিক্ষার্থীরা চলে গেছেন। ২০১২ সালে মাত্র ২৫ জন ছাত্রছাত্রী নিয়ে যাত্রা শুরু করে ঝিনাইদহ ইনস্টিটিউট অব হেলথ টেকনোলজি।

Thursday, August 8, 2024

এক চতুর্থাংশ কিশোরী সঙ্গীর যৌন সহিংসতার শিকার : ডব্লিউএইচও

প্রেমের সম্পর্কে জড়ানো কিশোরীদের প্রায় এক-চতুর্থাংশই সঙ্গীর দ্বারা শারীরিক ও যৌন সহিংসতার শিকার। নতুন এক গবেষণায় এমনই তথ্য প্রকাশ করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও)। এতে বলা হয়েছে, এই ধরনের সহিংসতা কিশোরীদের দীর্ঘস্থায়ী ক্ষতির কারণ হতে পারে।

আন্তর্জাতিক চিকিৎসা সাময়িকী দ্য ল্যানসেটে আজ মঙ্গলবার গবেষণা প্রতিবেদনটি প্রকাশিত হয়েছে। এতে কিশোরীদের বিরুদ্ধে সহিংসতা ঠেকাতে প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে ডব্লিউএইচও।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নতুন এই গবেষণায় ১৫৪টি দেশ ও অঞ্চলের ১৫ থেকে ২৪ বছর বয়সী কয়েক হাজার কিশোরীর ওপর সমীক্ষাটি চালানো হয়। গবেষণায় দেখা যায়, জরিপে অংশ নেওয়া কিশোরীদের ২৪ শতাংশই অন্তত একবার সঙ্গীর সঙ্গে অন্তরঙ্গ সম্পর্কে লিপ্ত হওয়ার সময় সহিংসতার শিকার হয়েছে।

ডব্লিউএইচওর গবেষণা প্রতিবেদনে দেখা গেছে, গত বছর এই সহিংসতার হার ছিল ১৬ শতাংশ। এক বছরে তা বেড়ে ২৪ শতাংশে পৌঁছেছে।

গবেষণা প্রতিবেদনের প্রধান লেখক ডা. লিনম্যারি সার্ডিনহা বলেন, অল্পবয়সী কিশোরীরা নিপীড়িত হচ্ছে এবং কারও সমর্থন পাচ্ছে না; এমন উদ্বেগের জায়গা থেকে গবেষণাটি পরিচালনা করা হয়েছে।

তিনি বলেন, আমি অত্যন্ত অবাক হয়েছি, কিশোরী মেয়েদের বিশাল একটি অংশ তাদের ২০তম জন্মদিনের আগেই সহিংসতার শিকার হচ্ছে। সার্ডিনহা বলেন, আমাদের যেখানে থাকার কথা ছিল, আমরা তার তুলনায় অনেক পিছিয়ে আছি।

২০০০ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে পরিচালিত সমীক্ষার ওপর ভিত্তি করে এই গবেষণা কাজটি সম্পন্ন করা হয়েছে। লিনম্যারি সার্ডিনহা বলেন, তখন থেকেই তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করা হচ্ছে এবং এখনো আমরা সেসব যাচাইবাছাই করে দেখছি। এতে কিশোরীদের সহিংসতার শিকার হওয়ার হারে সামান্য পতন হয়েছে।

সমীক্ষায় গণনা করা সহিংসতার ঘটনাগুলোর মধ্যে লাথি মারা অথবা মারধরের পাশাপাশি ধর্ষণ বা ধর্ষণের চেষ্টার মতো অযাচিত যৌনতায় লিপ্ত হতে বাধ্য করার মতো বিষয়গুলোও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

দেশ ও অঞ্চলের ভিত্তিতে ভাগ করা তথ্যে দেখা যায়, অঞ্চল ভেদে সহিংসতা ও নারী অধিকারের মতো বিষয়গুলোও এতে ভূমিকা রেখেছে। যেখানে মেয়ে ও নারীদের শিক্ষার সুযোগ সীমিত এবং অসম উত্তরাধিকার আইন রয়েছে, সেখানে সহিংসতার উচ্চমাত্রা দেখা গেছে।

ডব্লিউএইচওর বিশ্লেষণে দেখা গেছে, সহিংসতার হার সবচেয়ে বেশি ওশেনিয়া অঞ্চলে। এরপরই আফ্রিকা মহাদেশের অবস্থান। পাপুয়া নিউগিনির ৪৯ শতাংশ কিশোরী ঘনিষ্ঠ সঙ্গীর কাছ থেকে সহিংসতার শিকার হন। গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্রের ৪২ শতাংশ কিশোরী এমন সহিংসতার শিকার। সহিংস ঘটনা সবচেয়ে কম ঘটে ইউরোপে। সেখানে সহিংসতার হার ১০ শতাংশ।

ডব্লিউএইচওর যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্য এবং গবেষণা বিভাগের পরিচালক প্যাসকেল অ্যালোটে বলেন, শারীরিক ও মানসিক বিকাশের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বয়সে এ ধরনের সহিংসতা তীব্র ও দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতির কারণ হতে পারে। বিষয়টিকে অনেক বেশি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা উচিত।

Friday, June 23, 2023

স্বামী না নরপিশাচ! স্ত্রীকে ভোগ করাতো অন্য পুরুষ দিয়ে

ফরাসি এক ব্যক্তি প্রতি রাতে তার স্ত্রীর ওপর মাদক ব্যবহার করতো। এরপর অন্য পুরুষদের আমন্ত্রণ জানাতো তার স্ত্রীকে ধর্ষণে। এমনিভাবে ১০ বছর ধরে তার ওপর নরপিশাচের মতো আচরণ করেছে তার স্বামী ও ওই মানুষ নামের অমানুষগুলো। অনলাইন দ্য টেলিগ্রাফে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে হতাশাজনক এই খবর প্রকাশ করা হয়েছে। এতে বলা হয়, তদন্তে দেখা গেছে ১০ বছরে ওই নারীকে এভাবে ধর্ষণ করা হয়েছে কমপক্ষে ৯২ বার। এতে জড়িত ২৬ থেকে ৭৩ বছর বয়সী ৫১ নরপিশাচকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়েছে। পুলিশ অন্যদের খুঁজছে। ধর্ষকদের মধ্যে আছে একজন অগ্নিনির্বাপণকর্মী, একজন লরি চালক, মিউনিসিপ্যালিটির একজন কাউন্সিলর, একটি ব্যাংকের আইটিকর্মী, জেলখানার প্রহরী, হাসপাতালের একজন সেবক ও একজন সাংবাদিক।
ফরাসি ওই ব্যক্তিকে দ্য টেলিগ্রাফ ডমিনিক পি হিসেবে পরিচয় দিয়েছে। সে হতাশাবিরোধী ওষুধ লোরাজিপাম প্রয়োগ করতো তার স্ত্রীর খাবারে। এরপর তিনি গভীর ঘুমে চলে যাওয়ার পর তার ওপর চলতো নারকীয়তা। ফ্রান্সের মাজানে অবস্থিত তার বাড়িতে কথিত ওইসব ‘অতিথি’কে আমন্ত্রণ জানাতো তার স্বামী। ওই নরপিশাচরা যখন এই ঘুমন্ত নারীর শরীরের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করতো, তখন সেই দৃশ্য ভিডিওতে রেকর্ড করতো স্বামী নামের ওই জানোয়ার। রেকর্ড করে সে এসব দৃশ্য ধারণ করে রাখতো ইউএসবি ড্রাইভে। সেখানে একটি ফোল্ডার করেছিল। এর নাম দিয়েছিল ‘অ্যাবিউসেস’। তার ভিতরে জমা করে রাখতো এসব ফাইল। এখন তা পুলিশের হাতে রয়েছে। পুলিশ বলেছে, এসব ঘটনা ঘটেছে ২০১১ সাল থেকে ২০২০ সালের মধ্যে। উল্লেখ্য, ফ্রাঁসোয়া নামের ওই নারীর সঙ্গে কমপক্ষে ৫০ বছর আগে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয় ডমিনিক। এই যুগল তিনটি সন্তানের পিতামাতা।