Sunday, December 1, 2024

গাছে ঝুলছে মেয়েদের স্কুল ইউনিফর্ম, নেপথ্যে কী?

গাছের ডালে ঝুলছে আটটি স্কুল ইউনিফর্ম, প্রতিটি নীল রঙের, যা মূলত ছোট বয়সী মেয়েরা পরেন। এমন দৃশ্য দেখে গ্রামবাসীরা স্তম্ভিত, আর নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। কী কারণে গাছে ঝোলানো হয়েছে এসব ইউনিফর্ম?

এটি এমন এক ঘটনা, যা কোনো সাধারণ ঘটনা হিসেবে দেখা যাচ্ছে না। ইউনিফর্মগুলো এমন এক স্থানে ঝোলানো হয়েছে, যেখানে সাধারণত কেউ এগুলো রেখে যায় না। চা বাগানের মাঝের গাছগুলোতে ঝোলানো এসব ইউনিফর্ম এক অদ্ভুত বার্তা দিচ্ছে, কিন্তু কী বার্তা—তা জানা সম্ভব হয়নি।

শনিবার (৩০ নভেম্বর) সকালে ঘটে যাওয়া এই অদ্ভুত ঘটনা স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ব্যাপক শঙ্কা ও উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। ঘটনাটি ঘটেছে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের শিলিগুড়ি শহরের মাটিগাড়া নামক এক গ্রামে।

ঘটনা শুরু হয় প্রাতঃভ্রমণকারী এক বাসিন্দার চোখে পড়ার মাধ্যমে। তিনি দেখেন, গাছের ডালে ঝুলছে নীল রঙের মেয়েদের স্কুল ইউনিফর্ম। প্রথমে বিষয়টি স্বাভাবিক মনে হলেও, এরপর গাছের আশপাশে আরও ইউনিফর্ম ঝুলতে দেখা যায় এবং এটি আরেকটু গভীর রহস্য তৈরি করে।

স্থানীয়দের মধ্যে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এ ঘটনা এবং সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ ও গ্রাম পঞ্চায়েতকে অবহিত করা হয়। গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান দীপালি ঘোষ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। তার অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।

স্থানীয় প্রশাসন এবং পুলিশ ঘটনার গুরুত্ব বুঝে এরই মধ্যে বিষয়টি নিয়ে তৎপরতার সঙ্গে তদন্ত শুরু করেছে। শিলিগুড়ি পুলিশ কমিশনারেটের ডিসি (পশ্চিম) বিশ্বচাঁদ ঠাকুর জানান, আমরা শহরের সব থানায় খোঁজ পাঠিয়েছি, যাতে নিশ্চিত হওয়া যায় কোনো নাবালিকা নিখোঁজ হয়েছে কি না। তবে শহরের দুটি হাইস্কুল এবং একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এর আগে কোনো চুরির ঘটনা ঘটেনি। ফলে এগুলোর চুরি হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা কম।

পুলিশের তদন্তে এখনো কোনো ফলপ্রসূ ক্লু পাওয়া যায়নি। তবে গাছে ঝোলানো ইউনিফর্মগুলো যে একটি বার্তা দিচ্ছে, সে বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই। কে বা কারা এসব ইউনিফর্ম গাছে ঝুলিয়ে রেখেছে, তা এখনো পরিষ্কার নয়।

এদিকে এ ঘটনা নিয়ে এলাকাবাসী বিভিন্ন ধরনের ধারণা পোষণ করছেন। কেউ মনে করছেন, এটি হয়তো কোনো মানসিক চাপ বা সমাজের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশের চেষ্টা। আবার কেউ মনে করছেন, এটি একটি মনস্তাত্ত্বিক গেম বা ভীতি সৃষ্টির উদ্দেশ্যে করা হতে পারে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে এক ধরণের আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। তবে, এটা স্পষ্ট যে, কেউ বা কিছু একটা জানিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে কিন্তু তা কী, তা এখনও বোঝা যায়নি।

বিডিও দপ্তরের কর্মকর্তা রবিন সরকার জানিয়েছেন, গাছে ঝোলানো ইউনিফর্মগুলো সম্ভবত প্রথম থেকে ষষ্ঠ শ্রেণির মেয়েদের পোশাক, তবে এটি কাদের, তা এখনো জানা যায়নি। তাদের ধারণা, রাতের অন্ধকারে কেউ এগুলো গাছে ঝুলিয়ে রেখে গেছে।

কে করছে এই কাজ?

এলাকার লোকজন মনে করছেন, হয়তো রাতে অজ্ঞাত কেউ এই কাজ করেছে। এমনকি অনেকের মতে, এটি কোনো প্রকার সামাজিক বা রাজনৈতিক বার্তা হতে পারে, যদিও তা এখনো অনুমানেই সীমাবদ্ধ। পুলিশ ও প্রশাসন পুরো বিষয়টি গভীরভাবে তদন্ত করছে।

তবে এই ঘটনা একটি বড় প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। গাছে ঝোলানো ইউনিফর্মগুলোর মাধ্যমে কী কোনও গোপন বার্তা দেওয়া হচ্ছে? নাকি এটি শুধুই একটি পাগলাপনা? পুলিশ এবং প্রশাসন শেষ পর্যন্ত এই রহস্য উন্মোচনে সফল হবে কি না, তা সময়ই বলবে। 

গাছে ঝুলছে মেয়েদের স্কুল ইউনিফর্ম, নেপথ্যে কী?
গাছে ঝুলছে মেয়েদের স্কুল ইউনিফর্ম, নেপথ্যে কী?

৪০০ বছরের ইতিহাসে এরকম সাজা দেওয়ার রেকর্ড নেই : শিশির মনির

২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবরসহ ১৯ আসামিকে খালাস দিয়েছেন আদালত।

রোববার (১ ডিসেম্বর) বেলা ১১টার দিকে বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামান ও বিচারপতি সৈয়দ এনায়েত হোসেনের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় দেন।

এই রায়ের পর প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন তিন আসামির আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির। তিনি বলেছেন, দ্বিতীয়বার স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে ফৌজদারি মামলায় কোনো আসামিকে সাজা দেওয়ার বিধান নেই। কিন্তু এ মামলায় এমনটি করা হয়েছে। যা ভারতীয় উপমহাদেশের ইতিহাসে নজিরবিহীন। বিগত ৪০০ বছরের ইতিহাসের এরকম কোনো নজির নেই। আমরা সেটি আদালতে তুলে ধরেছি। আদালত আমাদের এ বিষয়টি আমলে নিয়েছে। আমলে নিয়ে সব আসামিকে খালাস দিয়েছেন।

এর আগে প্রতিক্রিয়া জানান লুৎফুজ্জামান বাবরের স্ত্রী তাহমিনা জামান। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন অপেক্ষার পর অবশেষে ন্যায় বিচার পেয়েছি। এ কারণে মহান আল্লাহতায়ালার প্রতি শুকরিয়া জানাই, আলহামদুলিল্লাহ।

বাবরের স্ত্রী বলেন, ন্যায়বিচার পাওয়ার আশায় এতদিন অপেক্ষা করা যে কী কষ্ট, তা একমাত্র ভুক্তভোগীরাই বলতে পারবে। আদালত আমাদের ন্যায় বিচার দিয়েছেন।

রায়ের পর্যবেক্ষণে হাইকোর্ট বলেন, সাক্ষীরা ঘটনার বর্ণনা করেছেন, কিন্তু কে গ্রেনেড নিক্ষেপ করেছেন তা কোনো সাক্ষী বলেননি। এ ছাড়া ২১ আগস্টে কে গ্রেনেড সরবরাহ করেছে তা চার্জশিটে উল্লেখ করেননি কোনো তদন্ত কর্মকর্তা।

এদিন বেলা ১১টার দিকে ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার রায় পড়া শুরু হয়। বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামান ও বিচারপতি সৈয়দ এনায়েত হোসেনের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা শুরু করেন।

গত ৩১ অক্টোবর শুনানি শুরু হয়েছিল। আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. জসিম সরকার। আসামিপক্ষে ছিলেন আইনজীবী এস এম শাহজাহান ও শিশির মনির। এর আগে চার দিন আপিলের ওপর শুনানি শেষে রায়ের জন্য আজকের দিন ধার্য করা হয়।

এ ঘটনার মামলায় ২০১৮ সালের ১০ অক্টোবর বিচারিক আদালত সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর, বিএনপি নেতা আবদুস সালাম পিন্টুসহ ১৯ জনের মৃত্যুদণ্ড দেন। একই সঙ্গে বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান (বর্তমানে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান) তারেক রহমানসহ ১৯ জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয় অন্য ১১ আসামিকে। পরে ওই বছরের ২৭ নভেম্বর মামলার বিচারিক আদালতের রায় প্রয়োজনীয় নথিসহ হাইকোর্টের ডেথ রেফারেন্স শাখায় পৌঁছে। পাশাপাশি কারাবন্দি আসামিরা আপিল করেন।

২০২২ সালের ডিসেম্বরে এ মামলার আপিল শুনানি বিচারপতি সহিদুল করিমের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চে শুরু হয়। এর মধ্যে ওই বেঞ্চ পুনর্গঠন হয়। এ কারণে নতুন বেঞ্চে আবার শুনানি শুরু হয়েছে।

বিচারিক আদালতের রায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন লুৎফুজ্জামান বাবর, আবদুস সালাম পিন্টু, তার ভাই মাওলানা তাজউদ্দিন, হুজির সাবেক আমির ও ইসলামিক ডেমোক্রেটিক পার্টির আহ্বায়ক মাওলানা শেখ আবদুস সালাম (কারাগারে মারা যান), কাশ্মীরি জঙ্গি আব্দুল মাজেদ ভাট, আবদুল মালেক ওরফে গোলাম মোস্তফা, মাওলানা শওকত ওসমান, মহিবুল্লাহ ওরফে মফিজুর রহমান, মাওলানা আবু সাঈদ ওরফে ডা. জাফর, আবুল কালাম আজাদ ওরফে বুলবুল, মো. জাহাঙ্গীর আলম, হাফেজ মাওলানা আবু তাহের, হোসাইন আহমেদ তামিম, মঈন উদ্দিন শেখ ওরফে মুফতি মঈন, মো. রফিকুল ইসলাম, মো. উজ্জ্বল, এনএসআইর সাবেক মহাপরিচালক মেজর জেনারেল (অব.) রেজ্জাকুল হায়দার চৌধুরী, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবদুর রহিম (কারাগারে মারা যান), হানিফ পরিবহনের মালিক বিএনপি নেতা মোহাম্মদ হানিফ।

পরিকল্পনা ও অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে হত্যা করার অভিযোগে দণ্ডবিধির ৩০২/১২০খ/৩৪ ধারায় দোষী সাব্যস্ত করে তাদের মৃত্যু না হওয়া পর্যন্ত ফাঁসিতে ঝুলিয়ে রাখার নির্দেশ দেওয়ার পাশাপাশি প্রত্যেককে ১ লাখ টাকা করে জরিমানা করেন আদালত।

যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন তারেক রহমান, খালেদা জিয়ার সাবেক রাজনৈতিক উপদেষ্টা হারিছ চৌধুরী, বিএনপি নেতা কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ, হুজি সদস্য হাফেজ মাওলানা ইয়াহিয়া, শাহাদাৎ উল্লাহ ওরফে জুয়েল, মাওলানা আবদুর রউফ (কারাগারে মারা যান), মাওলানা সাব্বির আহমেদ, আরিফ হাসান ওরফে সুমন, আবু বকর ওরফে হাফেজ সেলিম মাওলাদার, মো. আরিফুল ইসলাম, মহিবুল মুত্তাকিন ওরফে মুত্তাকিন, আনিসুল মুরছালিন ওরফে মুরছালিন, মো. খলিল ওরফে খলিলুর রহমান, জাহাঙ্গীর আলম বদর, মো. ইকবাল ওরফে ইকবাল হোসেন, লিটন ওরফে মাওলানা লিটন, মুফতি শফিকুর রহমান, মুফতি আব্দুল হাই, রাতুল আহমেদ ওরফে রাতুল বাবু।

তাদের দণ্ডবিধির ৩০২/১২০খ/৩৪ ধারায় দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়ার পাশাপাশি প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা, অনাদায়ে আরও এক বছর সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

এ ছাড়া পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজি) মো. আশরাফুল হুদা ও শহুদুল হক, বিএনপি চেয়ারপারসন ও তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার ভাগনে লেফটেন্যান্ট কমান্ডার (অব.) সাইফুল ইসলাম ডিউক, লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) সাইফুল ইসলাম জোয়ার্দ্দার, ডিজিএফআইর মেজর জেনারেল (অব.) এটিএম আমিন, ডিএমপির সাবেক উপকমিশনার (দক্ষিণ) খান সাঈদ হাসান, আরেক সাবেক উপকমিশনার (পূর্ব) ওবায়দুর রহমান খান, সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক খোদা বক্স চৌধুরী, সিআইডির সাবেক বিশেষ সুপার মো. রুহুল আমিন, সাবেক এএসপি আবদুর রশিদ, সাবেক এএসপি মুন্সি আতিকুর রহমানকে দুই বছর করে কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ছয় মাস করে সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

আরেকটি ধারায় খোদা বক্স চৌধুরী, রুহুল আমিন, আবদুর রশিদ ও মুন্সি আতিকুর রহমানকে তিন বছর করে কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ছয় মাস করে কারাদণ্ড দেন আদালত।

প্রসঙ্গত, ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউতে আওয়ামী লীগের সমাবেশে ভয়াবহ গ্রেনেড হামলাটি চালানো হয়। অল্পের জন্য ওই হামলা থেকে প্রাণে বেঁচে যান আওয়ামী লীগ সভাপতি ও তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেত্রী শেখ হাসিনা।

তবে হামলায় আওয়ামী লীগের মহিলাবিষয়ক সম্পাদক, সাবেক রাষ্ট্রপতি (প্রয়াত) জিল্লুর রহমানের স্ত্রী আইভী রহমানসহ ২৪ জন নিহত হন। আহত হন দলের তিন শতাধিক নেতাকর্মী। ঘটনার পরদিন মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) ফারুক আহমেদ বাদী হয়ে মামলা করেন।

তদন্ত শেষে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় ২০০৮ সালের ১১ জুন দেওয়া অভিযোগপত্রে বিএনপি নেতা আবদুস সালাম পিন্টু, তার ভাই মাওলানা তাজউদ্দিন ও হুজি নেতা মুফতি আব্দুল হান্নানসহ ২২ জনকে আসামি করা হয়।

২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের পর অধিকতর তদন্তের নির্দেশ দেন আদালত। দুই বছর তদন্তের পর ২০১১ সালের ৩ জুলাই ৩০ জনকে আসামি করে সম্পূরক অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। এর ফলে এ মামলায় মোট আসামির সংখ্যা হয় ৫২।

মোট ৫২ আসামির মধ্যে আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ ও মুফতি হান্নান এবং তার সহযোগী শাহেদুল ইসলাম বিপুলের মৃত্যুদণ্ড অন্য মামলায় কার্যকর হয়। তিনজনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়ায় এ মামলার আসামির সংখ্যা দাঁড়ায় ৪৯ জনে।

৪৯ জন আসামির মধ্যে রায় দেওয়ার সময় ৩১ জন কারাগারে ছিলেন। পলাতক ছিলেন বাকি ১৮ জন। তারা হলেন— তারেক রহমান, হারিছ চৌধুরী, কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ, এটিএম আমিন, সাইফুল ইসলাম জোয়ার্দার, খান সাঈদ হাসান, ওবায়দুর রহমান, মুফতি শফিকুর রহমান, মুফতি আবদুল হাই, রাতুল বাবু, মোহাম্মদ হানিফ, আবদুল মালেক, শওকত ওসমান, মাওলানা তাজউদ্দিন, ইকবাল হোসেন, মাওলানা আবু বকর, খলিলুর রহমান ও জাহাঙ্গীর আলম।

ছবি : সংগৃহীত

গাজায় ত্রাণের জন্য দাঁড়িয়ে থাকাদের ওপর বিমান হামলা, নিহত ১০০

ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলের বর্বর হামলা চলছেই। এবার, ত্রাণের জন্য অপেক্ষমাণ ক্ষুধার্ত ফিলিস্তিনিদের ওপর বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলি সেনারা। মার্কিন দাতব্য সংস্থার চার স্বেচ্ছাসেবীসহ একদিনে অন্তত ১০০ জন নিহত হয়েছেন। খবর আলজাজিরা।

রোববার (১ ডিসেম্বর) গাজার উত্তরাঞ্চলীয় জাবালিয়া শরণার্থী শিবিরে ভয়াবহ বিমান হামলা চালায় ইসরায়েলি বাহিনী, এতে কমপক্ষে ৪০ ফিলিস্তিনি নিহত হন।

এর আগে, গাজার দক্ষিণাঞ্চলীয় খান ইউনিসে ইসরায়েলি বিমান হামলায় খাদ্য সহায়তার জন্য অপেক্ষমান অন্তত ১২ ফিলিস্তিনি এবং ওয়ার্ল্ড সেন্ট্রাল কিচেন ও সেভ দ্য চিলড্রেন-এর চারজন কর্মী নিহত হন।

ফিলিস্তিনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ইসরায়েলের বাধায় গাজার অর্ধেকের বেশি জনগণের কাছে খাদ্য সামগ্রী পৌঁছাচ্ছে না। চরম সংকটে রয়েছে উপত্যকার প্রায় সব অঞ্চল। শিশুদের মধ্যে রোগ-বালাই বাড়ছে এবং এই পরিস্থিতি চলতে থাকলে দুর্ভিক্ষের ভয়াবহতা আরও বাড়বে।

এদিকে, ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাস ইসরায়েলের বিরুদ্ধে উত্তর গাজায় নিষিদ্ধ থার্মোব্যারিক বোমা ব্যবহারের অভিযোগ এনেছে। এই বোমাগুলোতে প্রচণ্ড তাপ এবং চাপ তৈরি হয়, যা মানুষের শরীর মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত করে এবং কাছাকাছি অবস্থান করা কোনো কিছু ধ্বংস করে ফেলে।

অপরদিকে গাজার যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব নিয়ে হামাসের একটি প্রতিনিধি দল মিশরের কায়রোতে পৌঁছেছে। তাদের মতে, যুদ্ধবিরতির সময় ২০ থেকে ৩০ দিন হতে পারে এবং এই সময়ে ইসরায়েল ও হামাস জিম্মি বিনিময় করতে পারে।

ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের অক্টোবর থেকে চলমান এই হামলায় ৪৪ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন এবং এক লাখ ৫ হাজারের বেশি মানুষ আহত হয়েছেন। গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনো ১০ হাজারেরও বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন।

জাতিসংঘের যুদ্ধবিরতির আহ্বান উপেক্ষা করে ইসরায়েল গাজায় হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। ইসরায়েলের হামলায় গাজার হাসপাতাল, স্কুল, শরণার্থী শিবির, মসজিদ ও গির্জাসহ প্রায় ৬০ শতাংশ অবকাঠামো পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে।

জাতিসংঘ জানিয়েছে, গাজার ৮৫ শতাংশ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়ে খাদ্য, পানি ও ওষুধের সংকটে দিন কাটাচ্ছেন।

ইসরায়েলের হামলায় গাজার হাসপাতাল, স্কুল, শরণার্থী শিবির, মসজিদ ও গির্জাসহ প্রায় ৬০ শতাংশ অবকাঠামো পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে। ছবি : সংগৃহীত
ইসরায়েলের হামলায় গাজার হাসপাতাল, স্কুল, শরণার্থী শিবির, মসজিদ ও গির্জাসহ প্রায় ৬০ শতাংশ অবকাঠামো পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে। ছবি : সংগৃহীত


আলেপ্পো পরিস্থিতির জন্য আসাদ সরকারকে দুষছে যুক্তরাষ্ট্র

সিরিয়ার দ্বিতীয় বৃহৎ নগরী আলেপ্পোতে আবার সেনা মোতায়েন করা হয়েছে। সিরিয়ার সেনাবাহিনী বলছে, হায়াত তাহরির আল-শাম বিদ্রোহীদের হামলায় গতকাল শনিবার বেশ কয়েকজন সেনা নিহত হয়েছেন। তাই বাধ্য হয়ে সেখানে তাঁরা নতুন সেনা মোতায়েন করেছেন।

সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে গতকাল শনিবার এ তথ্য জানানো হয়।

এদিকে রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় সংকট সমাধানে সিরিয়া সরকারের অনীহা,  রাশিয়া ও ইরানের সঙ্গে তাদের ঘনিষ্ঠতার ফলে এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলেছেন হোয়াইট হাউসের জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিলের (এনএসসি) মুখপাত্র শন সাভে। উত্তর পশ্চিম সিরিয়ায় আসাদ সরকারের পতনও এর অন্তর্ভুক্ত বলেন তিনি।

গত বুধবার থেকে হায়াত তাহরির আল-শামের (এইচটিএস) নেতৃত্বে সিরিয়ার বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলো আকস্মিক হামলা শুরু করে। প্রায় এক দশক পর তারা সরকার নিয়ন্ত্রিত ছোট শহরগুলোর দখল নিতে থাকে এবং  আলেপ্পোয় পৌঁছে যায়। আলেপ্পোর বেশির ভাগ বিদ্রোহীদের দখলে চলে গেছে।

২০১৬ সালে বিদ্রোহীদের কাছ থেকে উত্তরাঞ্চলীয় এই নগরের পুনর্দখল নিয়েছিল প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদের বাহিনী এবং তাঁর মিত্র রাশিয়া, ইরান ও আঞ্চলিক শিয়া বিদ্রোহীরা।

গত কয়েক বছরের মধ্যে প্রেসিডেন্ট আসাদকে এত বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হয়নি। আসাদের পক্ষে তাঁর মিত্র রাশিয়া বিদ্রোহীদের ওপর বিমান হামলা চালিয়েছে।

এইচটিএস একসময় নুসরা ফ্রন্ট নামে পরিচিত ছিল। যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, তুরস্ক এবং আরও কয়েকটি দেশ নুসরা ফ্রন্টকে সন্ত্রাসী গোষ্ঠী হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে। গত ৪৮ ঘণ্টার বেশি সময় ধরে যুক্তরাষ্ট্র আলেপ্পোর পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে বলে জানিয়েছে হোয়াইট হাউসের জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিল (এনএসসি)।  

একটি রাজনৈতিক প্রক্রিয়া (সংকটের সমাধানে) সিরিয়া সরকারের অনীহা এবং রাশিয়া ও ইরানের সঙ্গে তাদের ঘনিষ্ঠতার ফলে এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলেছেন এনএসসির মুখপাত্র শন সাভেট। তিনি বলেন,  সেটাই এখন প্রকাশ্যে আসছে, উত্তর পশ্চিম সিরিয়ায় আসাদ সরকারের পতনও এর অন্তর্ভুক্ত। এখন ‘নিষিদ্ধ ঘোষিত একটি সন্ত্রাসী সংগঠনের’ নেতৃত্বে যে হামলা হচ্ছে, তাতে যুক্তরাষ্ট্রের কিছু করার নেই বলেও বলেছেন সাভেট। তিনি ‘উত্তেজনা প্রশমন... এবং জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিলের প্রস্তাব ২২৫৪–এর অধীন গুরুত্বের সঙ্গে বিশ্বাসযোগ্য রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার সংকট সমাধানের তাগাদাও’ দিয়েছেন। ওই প্রস্তাবে একটি যুদ্ধবিরতি এবং রাজনৈতিক উত্তরণের কথা বলা আছে।

সিরিয়ায় ২০১১ সাল থেকে গৃহযুদ্ধ চলছে। আনুষ্ঠানিকভাবে সেই গৃহযুদ্ধ এখনো শেষ হয়নি। তবে কয়েক বছর আগেই দেশটির বেশির ভাগ অংশে সংঘর্ষ থেমে গিয়েছিল। মিত্র ইরান ও রাশিয়ায় সহায়তায় আসাদ বাহিনী সিরিয়ার বেশির ভাগ অংশ এবং সব বড় বড় নগরের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছিল।

২০১৬ সাল থেকে আলেপ্পো সিরিয়ার সরকারি বাহিনীর দখলে। বিদ্রোহীরা পুনরায় আলেপ্পোর নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর সেখান থেকে আলী জুমা নামে একজন বিদ্রোহী বলেন, ‘আমি আলেপ্পোর সন্তান, আট বছর আগে ২০১৬ সালে বাস্তুচ্যুত হয়েছিলাম। আমরা মাত্রই ফিরে এসেছি। এটা অসাধারণ এক অনুভূতি।’ আলী জুমার এই বক্তব্য টেলিভিশনে সম্প্রচার করা হয়েছে।

সিরিয়ার সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকেও আলেপ্পোর বেশির ভাগ অংশে বিদ্রোহীদের প্রবেশের কথা স্বীকার করে নেওয়া হয়েছে। সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে পাল্টা হামলা চালানোর কথাও বলা হয়েছে।

শনিবার আলেপ্পোতে তোলা কয়েকটি ছবি প্রকাশ পেয়েছে। ছবিতে দেখা যাচ্ছে, লোকজন প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের প্রয়াত ভাই বাসিল আল-আসাদের উল্টে ফেলা মূর্তির সামনে ছবি তোলার জন্য পোজ দিচ্ছে। বিদ্রোহীদের ট্রাকে করে শহরময় ঘুরে বেড়ানোর ছবিও প্রকাশ পেয়েছে। আলেপ্পোর ঐতিহাসিক একটি দুর্গের সামনে দাঁড়িয়ে এক ব্যক্তিকে সিরিয়ার বিরোধী দলের পতাকা ওড়াতে দেখা গেছে।

সিরিয়ার সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বিদ্রোহীরা বিভিন্ন দিক থেকে ব্যাপক হামলা চালিয়েছে। হামলা প্রতিহত করতে নতুন সেনা মোতায়েন করতে হচ্ছে বলে জানিয়েছে তারা। বিদ্রোহীরা আলেপ্পো বিমানবন্দরের দখল নেওয়ার দাবি করেছে।

সিরিয়ান অবজারভেটরি ফর হিউম্যান রাইটস এর বরাত দিয়ে এএফপির খবরে বলা হয়েছে, সর্বশেষ এই লড়াইয়ে অন্তত ৩২৭ জন নিহত হয়েছেন। নিহত ব্যক্তিদের বেশির ভাগই বিদ্রোহী। তবে ৪৪ জন বেসামরিক নাগরিকও রয়েছেন।

যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংস্থাটি আরও বলেছে, ‘হায়াত তাহরির আল-শাম (এইচটিএস) এবং মিত্ররা (আলেপ্পো) নগরের বেশির ভাগ অংশ, সরকারি কেন্দ্র এবং কারাগারের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে। তাদের খুব বেশি প্রতিরোধের মুখে পড়তে হয়নি।’

বিদ্রোহীদের হামলার মুখে সরকারি বাহিনী আলেপ্পো বিমানবন্দর থেকে সরে গেছে বলেও জানিয়েছে সিরিয়ান অবজারভেটরি ফর হিউম্যান রাইটস। সংস্থাটি থেকে বলা হয়েছে, ‘আলেপ্পো বিমানবন্দরের দখল নেওয়ার পাশাপাশি বিদ্রোহী বাহিনী বিনা বাধায় কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি শহরের দখল নিয়েছে। বিদ্রোহীদের আক্রমণের মুখে সিরিয়ার সেনাবাহিনী দেশটির চতুর্থ বৃহৎ নগর হামা থেকে সরে গেছে।’

আলেপ্পোর ঐতিহাসিক একটি দুর্গের কাছে দাঁড়িয়ে এক ব্যক্তি সিরিয়ার বিরোধী দলের পতাকা ওড়াচ্ছেন
আলেপ্পোর ঐতিহাসিক একটি দুর্গের কাছে দাঁড়িয়ে এক ব্যক্তি সিরিয়ার বিরোধী দলের পতাকা ওড়াচ্ছেন ফাইল ছবি: রয়টার্স

ইসরায়েলি জিম্মির নতুন ভিডিও প্রকাশ করেছে হামাস

ফিলিস্তিনের গাজায় জিম্মি থাকা এক আমেরিকান-ইসরায়েলির একটি ভিডিও প্রকাশ করেছে হামাসের সশস্ত্র শাখা।

গতকাল শনিবার নতুন এই ভিডিওটি প্রকাশ করা হয়। ভিডিওটি ঠিক কবে ধারণ করা হয়েছে, তা যাচাই করা যায়নি।

ভিডিওতে যে জিম্মিকে দেখানো হয়েছে, তাঁর নাম ইদান আলেকজান্ডার। গত বছরের ৭ অক্টোবর তিনিসহ অন্যদের জিম্মি করে গাজায় নিয়ে যাওয়া হয়।

আলেকজান্ডাকে এই ভিডিওতে নবনির্বাচিত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে উদ্দেশ্য করে ইংরেজিতে কথা বলতে দেখা যায়। অন্যদিকে তিনি ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে উদ্দেশ্য করে হিব্রুতে কথা বলেন।

গাজায় থাকা জিম্মিদের মুক্তির জন্য সরকারের ওপর চাপ তৈরির জন্য ইসরায়েলিদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন আলেকজান্ডা।

আলেকজান্ডারের মা ইয়ায়েল আলেকজান্ডার গতকাল সন্ধ্যায় তেল আবিবে জিম্মিদের মুক্তির দাবিতে অনুষ্ঠিত একটি সমাবেশে বক্তৃতা দেন। তিনি বলেন, ভিডিওটি তাঁকে বিচলিত করেছে। ভিডিওটি দেখে বোঝা যায়, তাঁর সন্তানসহ অন্য জিম্মিদের অবস্থা কতটা ভয়াবহ। বোঝা যায়, তাঁরা কতটা কান্না করছেন। তাঁরা এখনো রক্ষা পাওয়ার আশা করছেন।

এই মা জানান, তিনি নেতানিয়াহুর সঙ্গে কথা বলেছেন। তিনি নেতানিয়াহুকে বলেছেন, তাঁকে অবশ্যই তাঁর প্রতিশ্রুতি রাখতে হবে। জিম্মিদের মুক্ত করতে হবে। তাঁর সন্তানসহ সব জিম্মিকে ফিরিয়ে আনতে হবে।

নেতানিয়াহুর কার্যালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, প্রধানমন্ত্রী অঙ্গীকার করেছেন, জিম্মিদের ফিরিয়ে আনতে ইসরায়েল সব ধরনের পদক্ষেপ নিতে বদ্ধপরিকর। ভিডিওটি প্রকাশ করার ঘটনাকে ‘নিষ্ঠুর মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ’ বলে মন্তব্য করেছেন নেতানিয়াহু।

অন্যদিকে হোয়াইট হাউসের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের মুখপাত্র শন সাভেট ভিডিওটিকে ‘সন্ত্রাসের নিষ্ঠুর অনুস্মারক’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি এক বিবৃতিতে বলেন, হামাস যদি জিম্মিদের মুক্তি দিতে রাজি হয়, তাহলে গাজা যুদ্ধ কালই বন্ধ হবে। গাজাবাসীদের দুর্ভোগ শেষ হবে।

গত বছরের ৭ অক্টোবর দক্ষিণ ইসরায়েলে হামলা চালায় ফিলিস্তিনি স্বাধীনতাকামী সশস্ত্র সংগঠন হামাস। ইসরায়েলের সরকারি পরিসংখ্যান অনুসারে, এই হামলায় ১ হাজার ২০৭ জন নিহত হন। ২৫১ জনকে জিম্মি করে গাজায় নিয়ে যায় হামাস। এখন গাজায় জিম্মির সংখ্যা ৯৭। এর মধ্যে ৩৪ জনের মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়েছে। তবে তাঁদের লাশ গাজায় রয়েছে।

গত বছরের ৭ অক্টোবর থেকেই গাজায় নির্বিচারে হামলা শুরু করে ইসরায়েল। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পরিসংখ্যান অনুসারে, ইসরায়েলের চলমান হামলায় ৪৪ হাজার ৩৮২ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।

গাজায় জিম্মি থাকা ইসরায়েলিদের মুক্তির দাবিতে বিক্ষোভ। তেল আবিব, ইসরায়েল, ৩০ নভেম্বর
গাজায় জিম্মি থাকা ইসরায়েলিদের মুক্তির দাবিতে বিক্ষোভ। তেল আবিব, ইসরায়েল, ৩০ নভেম্বর। ছবি: এএফপি

বেলজিয়ামে যৌনকর্মীদের জন্য নতুন আইন, বিশ্বে এই প্রথম

‘আমি যখন নয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা, তখনো আমাকে কাজ করতে হয়েছে। সন্তান জন্ম দেওয়ার এক সপ্তাহ আগেও গ্রাহকের সঙ্গে আমাকে শারীরিক সম্পর্ক করতে হয়েছে।’

বেলজিয়ামের যৌনকর্মী সোফিয়া এভাবেই নিজের জীবনসংগ্রামের কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, তাঁর কাজ ‘সত্যই খুব কঠিন’।

সোফিয়ার পাঁচটি সন্তান রয়েছে। অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে এ নারীর পঞ্চম সন্তানের জন্ম হয়। সেবার চিকিৎসক তাঁকে ছয় সপ্তাহের জন্য সম্পূর্ণ বিশ্রামে (বেড রেস্ট) থাকার পরামর্শ দিয়েছিলেন। কিন্তু তিনি সে সুযোগ পাননি। তাঁকে দ্রুত কাজে ফিরতে হয়েছিল। তিনি বলেন, ‘কাজ বন্ধ রাখা আমার পক্ষে সম্ভব হতো না। কারণ, আমার অর্থের প্রয়োজন।’

সোফিয়া মাতৃত্বকালীন ছুটি এবং সে সময়ে নিয়োগকর্তার কাছ থেকে ভাতা পেলে তাঁর জীবন অনেকটা সহজ হয়ে যেত।

সম্প্রতি বেলজিয়ামে নতুন একটি আইন পাস হয়েছে। ওই আইনে সোফিয়াও এখন মাতৃত্বকালীন ছুটির দাবিদার হতে পারবেন।

বিশ্বে এই প্রথম এই ধরনের কোনো আইন চালু হয়েছে। নতুন আইনে, যৌনকর্মীরাও আনুষ্ঠানিক নিয়োগ চুক্তি, স্বাস্থ্যবিমা, অবসরভাতা, মাতৃত্বকালীন ছুটি এবং অসুস্থতার জন্য ছুটির আবেদন করার যোগ্য হবেন। সর্বোপরি, এ কাজকে অন্য যেকোনো চাকরির মতো গণ্য করা হবে।

সোফিয়া বলেন, ‘এটা আমাদের জন্য মানুষ হিসেবে নিজেদের অস্তিত্বের জানান দেওয়ার সুযোগ।’

সারা বিশ্বে কয়েক লাখ যৌনকর্মী রয়েছেন। ২০২২ সালে বেলজিয়ামে যৌন পেশাকে বৈধতা দেওয়া হয়। জার্মানি, গ্রিস, নেদারল্যান্ডস, তুরস্কসহ আরও কয়েকটি দেশে যৌনবৃত্তি এখন বৈধ। কিন্তু পেশাজীবী হিসেবে যৌনকর্মীদের অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং তাঁদের চুক্তির আওতায় আনার ঘটনা বেলজিয়ামেই প্রথম।

এ বিষয়ে হিউম্যান রাইটস ওয়াচের গবেষক এরিন কিলব্রিডে বলেন, ‘এটা আমূল পরিবর্তন এবং এটা বিশ্বে এখন পর্যন্ত আমার দেখা সেরা পদক্ষেপ। প্রতিটি দেশকে আমাদের এ লক্ষ্য অর্জনে রাজি করাতে হবে।’

তবে অনেকে এ আইনের সমালোচনা করেছেন। তাঁরা বলছেন, এ ব্যবসার কারণে মানবপাচার, শোষণ ও নিপীড়নের যেসব ঘটনা ঘটে, সেগুলো নতুন আইন দিয়ে প্রতিহত করা যাবে না।

বেলজিয়ামে ভাসমান যৌনকর্মীদের সহায়তায় কাজ করে বেসরকারি সংস্থা ‘ইসালা’। সংস্থাটিতে স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে কাজ করেন জুলিয়া ক্রুমি রে। তিনি বলেন, ‘এটা বিপজ্জনক। কারণ, এটি এমন একটি পেশাকে স্বাভাবিকের মর্যাদা দিচ্ছে, যে পেশার মূলে সর্বদাই ছিল নৃশংসতা।’

কোভিড–১৯ মহামারির সময় সরকার থেকে প্রয়োজনীয় সহায়তা না পাওয়ার কারণে বেলজিয়ামে ২০২২ সালে কয়েক মাস ধরে যৌনকর্মীরা বিক্ষোভ করেছিলেন। বিক্ষোভকারী যৌনকর্মীদের অন্যতম একজন ছিলেন ভিক্টোরিয়া। তিনি ১২ বছর যৌনকর্মীর কাজ করেছেন। বর্তমানে তিনি বেলজিয়ামের ইউনিয়ন অব সেক্স ওয়ার্কার্সের প্রেসিডেন্ট। ভিক্টোরিয়ার কাছে এটা ব্যক্তিগত লড়াই। তিনি মনে করেন, যৌনবৃত্তির মাধ্যমে তাঁরা সমাজের সেবা করে যাচ্ছেন।

কিন্তু ২০২২ সালের আগে বেলজিয়ামে যৌনবৃত্তি অবৈধ থাকায় তাঁকে অনেক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হয়েছিল। তাঁকে অনিরাপদ পরিবেশে কাজ করতে হয়েছিল। গ্রাহকদের সামনে তাঁর কথা বলার সুযোগ ছিল না। এজেন্সি থেকে তাঁর আয়ের বেশির ভাগটা নিয়ে নেওয়া হতো।

এমনকি একজন গ্রাহক তাঁকে ধর্ষণ করেছিলেন বলেও অভিযোগ করেন ভিক্টোরিয়া। তিনি সেই অভিযোগ নিয়ে পুলিশের কাছে গিয়েছিলেন। সেখানে একজন নারী পুলিশ কর্মকর্তা তাঁর সঙ্গে ‘রূঢ় আচরণ’ করেছিলেন বলেও দাবি করেন এই নারী।

ভিক্টোরিয়া বলেন, ‘ওই পুলিশ সদস্য আমাকে বলেছিলেন, যৌনকর্মী ধর্ষণের শিকার হতে পারেন না। তাঁর আচরণে আমার মনে হয়েছিল, আমিই দোষী। কারণ, আমি এই কাজ করি।’

বেলজিয়ামের নতুন আইন তাঁদের জীবন আরও উন্নত করবে বলেই বিশ্বাস ভিক্টোরিয়ার।

ভিক্টোরিয়া বলেন, ‘যদি কোনো আইন না থাকে এবং আপনার কাজ অবৈধ বলে গণ্য হয়, তবে আপনাকে সাহায্য করার কোনো প্রক্রিয়া থাকে না। এই আইন মানুষের হাতে আমাদের নিরাপদ রাখার ব্যবস্থা তুলে দিয়েছে।’

বেলজিয়ামে নতুন আইনে যৌনকর্মী ও গ্রাহকদের মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করাকেও বৈধতা দেওয়া হয়েছে। তবে তাদের কঠোর নিয়ম মেনে কাজ করতে হবে। যদি কেউ গুরুতর অপরাধে দোষীসাব্যস্ত হন, তবে তাঁকে আর যৌনকর্মীদের মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করার অনুমতি দেওয়া হবে না।

 প্রতীকী ছবি

২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার রায় দেখে, নির্দেশনা নিয়ে আপিলের বিষয়ে সিদ্ধান্ত: অ্যাটর্নি জেনারেল

২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় হাইকোর্টের রায়ের কারণ দেখে ও নির্দেশনা নিয়ে তারপর আপিলের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা বলেছেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান।

হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করা হবে কি না, জানতে চাইলে মুঠোফোনে অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান প্রথম আলোকে বলেন, ‘রায়ের কারণ দেখে ও নির্দেশনা নিয়ে তারপরে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। আপিল করা উচিত বলে মনে করি।’

মামলায় সম্পূরক অভিযোগপত্রের ভিত্তিতে বিচারিক আদালতের বিচার অবৈধ ও বাতিল ঘোষণা করে আজ রোববার রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট। বিচারিক আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে ডেথ রেফারেন্স নাকচ করে ও আসামিদের আপিল মঞ্জুর করে এ রায় দেওয়া হয়। ফলে এ মামলায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান, সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবরসহ দণ্ডিত সব আসামি খালাস পেলেন। বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামান ও বিচারপতি সৈয়দ এনায়েত হোসেনের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ আজ এ রায় দেন।

হাইকোর্টের একই বেঞ্চ গত ২১ নভেম্বর আসামিদের ডেথ রেফারেন্স ও আপিলের ওপর শুনানি গ্রহণ শেষ করেন। সেদিন আদালত মামলা দুটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ (সিএভি) রাখেন। আজ রায় ঘোষণা করা হলো।

রাজধানীর বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় করা মামলায় (হত্যা ও বিস্ফোরক মামলা) ২০১৮ সালের ১০ অক্টোবর ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-১ রায় দেন। রায়ে সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর ও সাবেক শিক্ষা উপমন্ত্রী আবদুস সালাম পিন্টুসহ ১৯ জনের মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ ১৯ জনকে দেওয়া হয় যাবজ্জীবন কারাদণ্ড। এ ছাড়া ১১ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দেন বিচারিক আদালত।

রায়ের পর ২০১৮ সালে বিচারিক আদালতের রায়সহ মামলা দুটির নথিপত্র হাইকোর্টে এসে পৌঁছায়। এটি সংশ্লিষ্ট শাখায় ডেথ রেফারেন্স মামলা হিসেবে নথিভুক্ত হয়। আইনজীবীরা বলেন, কোনো ফৌজদারি মামলায় বিচারিক আদালতের রায়ে কোনো আসামির মৃত্যুদণ্ড হলে তা কার্যকরে হাইকোর্টের অনুমোদন লাগে। এটি ডেথ রেফারেন্স মামলা হিসেবে পরিচিত। পাশাপাশি দণ্ডাদেশের রায়ের বিরুদ্ধে আসামিদের জেল আপিল, নিয়মিত আপিল ও বিবিধ আবেদন করার সুযোগ রয়েছে। ডেথ রেফারেন্স, এসব আপিল ও আবেদনের ওপর সাধারণত একসঙ্গে শুনানি হয়ে থাকে।

২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার মামলা ডেথ রেফারেন্স, আসামিদের আপিল ও জেল আপিলের ওপর হাইকোর্টে গত ৩১ অক্টোবর শুনানি শুরু হয়।

২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার ঘটনায় মতিঝিল থানায় হত্যা ও বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে দুটি মামলা হয়। ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলা ও হত্যাযজ্ঞের ঘটনার তদন্তকে ভিন্ন খাতে নিতে তৎকালীন বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার নানা তৎপরতা চালায় বলে অভিযোগ ওঠে। ২০০৭ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকার এ-সংক্রান্ত মামলা দুটি (হত্যা ও বিস্ফোরক) নতুনভাবে তদন্ত শুরু করে। ২০০৮ সালে ২২ জনকে আসামি করে অভিযোগপত্র দেয় পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। এতে বলা হয়, শেখ হাসিনাকে হত্যা করে আওয়ামী লীগকে নেতৃত্বশূন্য করতে ওই হামলা চালিয়েছিল জঙ্গিরা। পরে আওয়ামী লীগ সরকার আমলে মামলার অধিকতর তদন্ত হয়। এরপর তারেক রহমানসহ ৩০ জনকে আসামি করে সম্পূরক অভিযোগপত্র দেওয়া হয়।

অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান
অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান ছবি: সংগৃহীত

'ডনাল্ড ট্রাম্প এখন নিরাপদ নয়', সতর্ক করলেন পুতিন

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন মার্কিন প্রেসিডেন্ট-নির্বাচিত ডনাল্ড ট্রাম্পকে একজন অভিজ্ঞ এবং বুদ্ধিমান রাজনীতিবিদ হিসেবে প্রশংসা করেছেন। সেইসঙ্গে তিনি সতর্ক করে বলেছেন যে, ট্রাম্প এখনো নিরাপদ নন। জুলাই মাসে পেনসিলভেনিয়ায় ডনাল্ড ট্রাম্পকে হত্যার চেষ্টা করা হয়। সেপ্টেম্বরে একটি পৃথক ঘটনায়, ফ্লোরিডার গল্ফ কোর্সে এক ব্যক্তি রাইফেল নিয়ে ডনাল্ড ট্রাম্পকে হত্যার চেষ্টা করেন। এক শীর্ষ বৈঠকের পর কাজাখস্তানে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় পুতিন বলেন, মার্কিন নির্বাচনী প্রচারণা দেখে তিনি হতবাক হয়ে গেছেন। পুতিনের মতে, “ট্রাম্পকে রুখতে বর্বরের মতো পদক্ষেপ করা হয়েছে। এমনকী একাধিকবার তাকে প্রাণে মেরে ফেলার চেষ্টা পর্যন্ত হয়েছে। আমার মতে, ট্রাম্প এখন মোটেই নিরাপদ নন। দুর্ভাগ্যক্রমে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে বিভিন্ন ঘটনা ঘটেছে। আমি মনে করি তিনি (ট্রাম্প) বুদ্ধিমান এবং আমি আশা করি তিনি সতর্ক থাকবেন'।

পুতিন যিনি নিজে ব্যাপকভাবে সুরক্ষিত, বলেছেন যে মার্কিন নির্বাচনী প্রচারণার সময় রাজনৈতিক বিরোধীদের দ্বারা ট্রাম্পের পরিবার এবং সন্তানদের কীভাবে সমালোচনা করা হয়েছিল তাতে তিনি আরও বেশি হতবাক হয়েছিলেন। রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট পুতিন নিজে সবসময় কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে থাকেন। যুক্তরাষ্ট্রে নির্বাচনী প্রচারের সময় ট্রাম্পের পরিবারের সদস্য ও সন্তানদের নিয়ে রাজনৈতিক বিরোধীদের সমালোচনা দেখে পুতিন আরও বেশি বিস্মিত হয়েছেন বলেও জানিয়েছেন। তিনি এমন আচরণকে ‘বিদ্রোহীমূলক’ আখ্যা দেন এবং বলেন, রাশিয়ায় ‘দস্যুরাও’ এ ধরনের পদ্ধতি অবলম্বন করে না। ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে বাইডেন প্রশাসনের পদক্ষেপের সমালোচনা করে পুতিন বলেন, পশ্চিমা অস্ত্র দিয়ে রাশিয়ার গভীরে হামলা চালানোর জন্য ইউক্রেনকে অনুমতি দিয়ে যুদ্ধের তীব্রতা বাড়ানোরই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। দুবছরেরও বেশি সময় ধরে চলতে থাকা রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাব দিতে গিয়ে পুতিন বলেন,  যুদ্ধ থামাতে ট্রাম্প হয়তো কোনও উপায় বের করবেন। যুদ্ধ বন্ধ করতে আমেরিকার সঙ্গে বৈঠক করতেও রাজি পুতিন।

সূত্র : এনডিটিভি

mzamin


সিরিয়ায় বিদ্রোহীদের প্রবল প্রতিরোধের মুখে আলেপ্পো থেকে সেনা প্রত্যাহারের ঘোষণা

সিরিয়ার আলেপ্পো শহরে বিদ্রোহীদের প্রবল প্রতিরোধের মুখে সেখান থেকে সাময়িকভাবে সরকারি বাহিনী প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদ। তবে তাদের লক্ষ্য করে পাল্টা হামলার হুঁশিয়ারি দিয়েছে সিরিয়ার সেনাবাহিনী। ইতিমধ্যেই আলেপ্পোর বৃহত্তর অংশ দখলে নিয়েছে বিদ্রোহীরা। এ খবর দিয়েছে অনলাইন বিবিসি। এতে বলা হয়, সিরিয়ার বিদ্রোহী এবং সেনাবাহিনীর মধ্যকার সাম্প্রতিক লড়াই গৃহযুদ্ধের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ঘটনা হিসেবে বিবেচ্য হচ্ছে। যুক্তরাজ্যভিত্তিক সিরিয়ার পর্যবেক্ষক সংস্থা অবজারভেটরি ফর হিউম্যান রাইটস (এসওএইচআর) জানিয়েছে, গত সপ্তাহের বুধবার থেকে শুরু হওয়া সংঘাতে ২০ বেসামরিকসহ কমপক্ষে তিন শতাধিক লোক নিহত হয়েছেন। শনিবার এক বক্তৃতায় ব্রিদ্রোহী এবং তাদের মদতদাতাদের তৎপরতার বিরুদ্ধে (সিরিয়ার) স্থিতিশীলতা এবং আঞ্চলিক অখণ্ডতা রক্ষা করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট আসাদ। তিনি বলেন, ‘সন্ত্রাসী হামলা’ যতই তীব্র হোক মিত্রদের সহায়তায় তা পরাজিত এবং নির্মূল করতে সক্ষমতা হারায়নি সিরিয়া। দেশটিতে বিদ্রোহী বাহিনীর সঙ্গে সেনাবাহিনীর গৃহযুদ্ধ শুরু হয়েছে ২০১১ সালে। গত এক যুগের বেশি সময়ে এই গৃহযুদ্ধে দেশটির অর্ধ মিলিয়ন মানুষ নিহত হয়েছেন। এমন পরিস্থিতিতে ২০২০ সালে বিদ্রোহীদের সঙ্গে একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তি করে আসাদ সরকার। এরপর থেকে দেশটিতে সংঘাত কিছুটা কমে আসে। তবে সম্প্রতি বিদ্রোহীদের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর ইদলিব এবং এর আশপাশের প্রদেশের বেশির ভাগ অঞ্চল দখলে নেয়ায় উত্তেজনা পুনরায় তীব্র হয়ে উঠেছে। আলেপ্পো শহরের মাত্র ৫৫ কিলোমিটার অদূরে অবস্থিত ইদলিব। ২০১৬ সালে সরকারি বাহিনীর হাতে পতন হওয়ার আগ পর্যন্ত বিদ্রোহীদের একটি শক্তিশালী ঘাঁটি ছিল ইদলিব। যেটি সম্প্রতি পুনর্দখলে নিয়েছে বিদ্রোহীরা।
mzamin

বাংলাদেশ নিয়ে ভারতে বাড়াবাড়ি হচ্ছে : পশ্চিমবঙ্গের মন্ত্রী

অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের ওপর কথিত হামলার অভিযোগ নিয়ে সরব ভারতের ক্ষমতাসীন বিজেপি সরকার। একই সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক অপপ্রচার চলাচ্ছে দেশটির গণমাধ্যমগুলো। এ ঘটনায় বাংলাদেশের পতাকা অবমাননা থেকে শুরু করে প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূসের কুশপুত্তলিকা দাহের ঘটনাও ঘটেছে পশ্চিমবঙ্গের কলকাতায়।

এবার এ বিষয়ে মুখ খুলেছেন ভারতের পশ্চিমবঙ্গের জনশিক্ষা প্রসার ও গ্রন্থাগার দপ্তরের মন্ত্রী সিদ্দিকুল্লাহ চৌধুরী।

শুক্রবার (২৯ নভেম্বর) এক সভায় তিনি গণমাধ্যমকে বলেন, ‘বাংলাদেশ ইস্যু নিয়ে ভারতে বাড়াবাড়ি হচ্ছে। এসব ইস্যু বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘মাদ্রাসার ছেলেরা মন্দির পাহারা দিয়ে পূজা করার সুযোগ করে দিয়েছে। এগুলো দেখতে পান না? পাল্টা হামলা যারা করছে, তারা অস্থির মস্তিষ্কের। বাংলাদেশে কোথায় কী ঘটেছে, প্রকৃতপক্ষ কতটা...অত্যাচার হলে নিশ্চিতভাবে তার নিন্দা করতে হবে। তবে সেটা বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়।’

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে বিভিন্ন প্রশাসনিক পদে বসে রয়েছেন হিন্দুরা। থানার বড় বাবু, বিচারপতি, এসপি, ডিএমপিতে কত হিন্দু। এগুলো দেখা যায় না?’

পশ্চিমবঙ্গের এই মন্ত্রী বলেন, ‘এখানে যখন বাবরি মসজিদের বিষয়ে বাংলাদেশ মুখ খুলেছিল, তখন মোদিজি বলেছিলেন, এটা আমাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়। ইউনূস সাহেবও ভালো উত্তর দিয়েছেন, এটা আমাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘সন্ন্যাসী যদি অপরাধ করে সে অপরাধী, ইমাম অপরাধ করলে সে-ও অপরাধী। ভালো সন্ন্যাসী হলে সে কি অপরাধ করবে? সিদ্দিকুল্লাহ চৌধুরী ৪০ বছর ধরে কাজ করছে, সবার সামনে বলছি, কটা থানায় কেস দেখেছেন? অপরাধ অপরাধই।’

সিদ্দিকুল্লাহ চৌধুরী। ছবি : সংগৃহীত
সিদ্দিকুল্লাহ চৌধুরী। ছবি : সংগৃহীত



পাগলা মসজিদের দানবাক্সে রেকর্ড আট কোটি টাকা

কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক পাগলা মসজিদের দান সিন্দুকে এবার রেকর্ড ৮ কোটি ২১ লাখ ৩৪ হাজার ৩০৪ টাকা পাওয়া গেছে। শনিবার মসজিদের ১০টি দানসিন্দুক ও একটি ট্রাঙ্ক খুলে বস্তার হিসাবে রেকর্ড ২৯ বস্তা টাকা পাওয়া যায়। দান হিসেবে পাওয়া বস্তার এসব টাকা গণনা করে এ যাবৎকালের সর্বোচ্চ পরিমাণ এ টাকার হিসাব পাওয়া গেছে। এছাড়া পাওয়া গেছে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা ও স্বর্ণালঙ্কার। তবে এ মসজিদে দান হিসেবে পাওয়া টাকার আয়-ব্যয়ের স্বচ্ছতা নিয়ে স্থানীয়দের মাঝে নানা প্রশ্ন রয়েছে। প্রতিবার পাগলা মসজিদের দানবাক্স খোলার পর দানবাক্সে পাওয়া টাকার পরিমাণ প্রকাশ করা হয়। কিন্তু এখান থেকে পাওয়া কি পরিমাণ টাকা ব্যাংকে জমা রয়েছে কিংবা কোন কোন খাতে কি পরিমাণ টাকা ব্যয় করা হয়েছে, সেটি কখনোই প্রকাশ করা হয় না। এ নিয়ে বিভিন্ন সময়ে দাবি উঠলেও সেটি মসজিদ কর্তৃপক্ষ উপেক্ষা করে আসছেন। এবার এ নিয়ে সরব হয়েছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতৃবৃন্দ। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন কিশোরগঞ্জ জেলার সমন্বয়ক ইকরাম হোসাইন পাগলা মসজিদের টাকা সরিয়ে ফেলার মতো গুরুতর অভিযোগ করেছেন।

শনিবার পাগলা মসজিদের টাকা গণনার সময় সকালে সমন্বয়ক ইকরাম হোসাইন গণমাধ্যমকর্মীদের কাছে অভিযোগ করে বলেন, আমরা বিভিন্নভাবে জানতে পেরেছি, অতীতে যারা রাষ্ট্র ক্ষমতায় ছিল, তারা বিভিন্ন প্রজেক্টের মাধ্যমে বিভিন্ন ছলচাতুরির মাধ্যমে পাগলা মসজিদের টাকা সরিয়েছে। যারা মসজিদ প্রশাসনে রয়েছেন তারা ফুলে ফেঁপে কলাগাছ হয়েছেন। তারা কোটি কোটি টাকার মালিক হয়েছেন। তাদের আয়ের উৎস কি? কীভাবে তাদের এতো অঢেল সম্পদ হয়েছে, এসব খতিয়ে দেখা উচিত। সমন্বয়ক ইকরাম হোসাইন বলেন, বছরের পর বছর পাগলা মসজিদের দানবাক্সে কোটি কোটি টাকা আসছে। কিশোরগঞ্জসহ সারা দেশের মানুষ জানতে চাচ্ছিলো এই টাকা কোথায় রাখা হচ্ছে। এখন পর্যন্ত পাগলা মসজিদের কত কোটি টাকা রয়েছে, এই টাকা কোথায় ব্যয় হচ্ছে। দেশের মানুষ এবং কিশোরগঞ্জের আপামর ছাত্র-জনতা প্রশ্ন তুলেছিল। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখ এবং পরিতাপের বিষয়, এখন পর্যন্ত কিশোরগঞ্জের প্রশাসন যারা পাগলা মসজিদের দায়িত্বে রয়েছেন, তারা এটা ক্লিয়ার করেননি। কত টাকা আসছে, সোনা-রুপা কি আসছে, বৈদেশিক মুদ্রা কি আসছে, ওই টাকা কোথায় রাখা হচ্ছে। কাদের মাধ্যমে রাখা হচ্ছে, কোথায় ব্যয় করা হচ্ছে। পাগলা মসজিদ নিয়ে মানুষের আস্থা এবং বিশ্বাসের যে জায়গা রয়েছে, সেটি নিয়ে লুকোচুরি করা হচ্ছে। এ সময় সমন্বয়ক ইকরাম হোসাইন হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, আমি স্পষ্ট ভাষায় বলে দিতে চাই, যারা পাগলা মসজিদের দায়িত্বে রয়েছেন, তারা যদি অনতিবিলম্বে দেশবাসীর কাছে পাগলা মসজিদের অর্থের বিষয়টি স্পষ্ট না করেন, তাহলে কিশোরগঞ্জের ছাত্র-জনতাসহ এ দেশের মানুষ এই হিসাব নিবে ইনশাআল্লাহ্‌। তবে টাকা গণনা চলার সময়ে ওয়াক্‌ফ হিসাব নিরীক্ষক মো. আলাউদ্দিন জানান, ঐতিহাসিক পাগলা মসজিদটি ওয়াক্‌ফ এস্টেটের তালিকাভুক্ত। এখানে ১২ সদস্যের একটি অন্তর্বর্তী কমিটি রয়েছে।

কমিটির কাজগুলো ওয়াক্‌ফ প্রশাসন তদারকি করে। মানুষের মানতের অর্থ সুষ্ঠুভাবে রেজিস্ট্রারভুক্ত হচ্ছে কি-না, কোন খাতে খরচ হচ্ছে, সেগুলো তদারকি করা হয়। প্রতিবছর আয়-ব্যয়ের হিসাব দিতে হয়। ওয়াক্‌ফ প্রশাসন ৫ শতাংশ ওয়াক্‌ফ ট্যাক্স নিয়ে থাকে। গত অর্থবছরে পাগলা মসজিদ থেকে ১ কোটি ৫৩ লাখ ৬৭ হাজার ৫৩৭ টাকা ওয়াক্‌ফ কন্ট্রিবিউশন নেয়া হয়েছে। পাগলা মসজিদের অ্যাকাউন্টে মোট কত টাকা রয়েছে সাংবাদিকদের এ প্রশ্নে ওয়াক্‌ফ হিসাব নিরীক্ষক মো. আলাউদ্দিন বলেন, বিষয়টি আমি এখন আপনাদের বলবো না। জেলা প্রশাসক মহোদয় কিছুক্ষণ আগে আপনাদের এই প্রশ্নের উত্তর দেননি, আমিও দেবো না। এটা সরকারের সিকিউরিটির ব্যাপার। এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসক ফৌজিয়া খান মানবজমিনকে বলেন, পাগলা মসজিদে দান হিসেবে যে টাকা আসে, তার সবটাই ব্যাংকে জমা রাখা হয়। ব্যাংক থেকে টাকার যে লভ্যাংশ আসে, সেটি দিয়ে পরিচালনা ব্যয়সহ অন্যান্য কার্যক্রম করা হয়। জমা রাখা মূল টাকাতে হাত দেয়া হয় না। এটি একটি সরকারি ব্যবস্থাপনা। এ নিয়ে বিভ্রান্তির কোন সুযোগ নেই।

এদিকে শনিবার সকাল ৭টায় মসজিদটির ১০টি দানসিন্দুক এবং একটি ট্রাঙ্ক খোলার মধ্য দিয়ে টাকা গণনার কাজ শুরু করা হয়। প্রথমে টাকাগুলো লোহার সিন্দুক থেকে বস্তায় ভরা হয়। পরে মসজিদের দোতলায় নিয়ে মেঝেতে ঢালা হয়। এরপর শুরু হয় টাকা গণনার কাজ। সর্বশেষ গত ১৭ই আগস্ট টাকা গণনা করতে ৩২০ জনের প্রায় ১২ ঘণ্টা লেগেছিল। এবার টাকা গণনা আরও দ্রুত করতে আরও ৩৫ জন শিক্ষার্থী এবং রূপালী ব্যাংকের আরো ৫ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে গণনার কাজে যুক্ত করা হয়। পাগলা মসজিদ মাদ্রাসা ও আল জামিয়াতুল ইমদাদিয়ার মোট ২৮৫ জন ছাত্র এবং রূপালী ব্যাংকের ৭৫ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী মিলিয়ে মোট ৩৬০ জন টাকা গণনার কাজ করেন। সেনাবাহিনীর ১০ জন, পুলিশের ২০ জন, র‌্যাব’র ৫ জন ও আনসারের ১৫ জন সদস্য ছাড়াও মসজিদ-মাদ্রাসার ৪৫ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী তাদের সহায়তা করেন। এবার তিন মাস ১৩ দিন পর মসজিদের দানসিন্দুক খোলা হয়। এর আগে সর্বশেষ গত ১৭ই আগস্ট এ মসজিদের দানসিন্দুকগুলো খোলা হয়েছিল। তখন ২৮ বস্তা টাকা পাওয়া গিয়েছিল। পরে টাকা গণনা করে ৭ কোটি ২২ লাখ ১৩ হাজার ৪৬ টাকা পাওয়া গিয়েছিল। এছাড়া পাওয়া যায় বৈদেশিক মুদ্রা, সোনা, রুপা ও হীরার গয়না। তবে এ মসজিদের দানসিন্দুক থেকে গত ২০শে এপ্রিল বৈদেশিক মুদ্রা, সোনা, রুপা ও হীরার গহনা ছাড়া এ যাবৎকালের সর্বোচ্চ ৭ কোটি ৭৮ লাখ ৬৭ হাজার ৫৩৭ টাকা পাওয়া গিয়েছিল। এবার মসজিদের নির্দিষ্ট ৯টি দানসিন্দুক অন্তত দুই সপ্তাহ আগেই দানের টাকায় পূর্ণ হয়ে গিয়েছিল। পরে দান অব্যাহত রাখার সুবিধার্থে আরও একটি দানসিন্দুক এবং একটি ট্রাঙ্ক যুক্ত করা হয়। ফলে বস্তার হিসাবেও এবার সর্বোচ্চ ২৯ বস্তা টাকা পাওয়া যায়। সন্ধ্যা ৬টার দিকে এসব টাকা গণনার কাজ শেষ হয়।

সকাল ৭টায় কিশোরগঞ্জের জেলা প্রশাসক ফৌজিয়া খান ও মোহাম্মদ হাছান চৌধুরীর নেতৃত্বে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও দানবাক্স খোলা কমিটির আহ্বায়ক মিজাবে রহমত এর উপস্থিতিতে দান সিন্দুক খোলা হয়। এ সময় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) রুবেল মাহমুদ, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মোহাম্মদ নাহিদ হাসান খান, কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. এরশাদ মিয়া, রূপালী ব্যাংকের এজিএম রফিকুল ইসলাম, মসজিদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা শওকত উদ্দিন ভূঁইয়া এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটগণসহ মসজিদ কমিটির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
জেলা শহরের নরসুন্দা নদী তীরের ঐতিহাসিক এ মসজিদটিতে প্রতিদিনই দেশের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষ এসে দান করছেন। যারা দান করতে আসেন তারা বলে থাকেন, এখানে দান করার পরে নাকি তাদের মনের আশা পূরণ হয়েছে। আর এ কারণেই দিন দিন দানের পরিমাণ বৃদ্ধি পাচ্ছে।

কিশোরগঞ্জ শহরের ঐতিহাসিক স্থাপনার মধ্যে পাগলা মসজিদ অন্যতম একটি প্রতিষ্ঠান। শহরের পশ্চিমে হারুয়া এলাকায় নরসুন্দা নদীর তীরে মাত্র ১০ শতাংশ ভূমির ওপর এই মসজিদটি গড়ে উঠেছিল। সময়ের বিবর্তনে আজ এ মসজিদের পরিধি যেমন বেড়েছে, তেমনি বেড়েছে এর খ্যাতি ও ঐতিহাসিক মূল্যও। বর্তমানে ৩.৮৮ একর ভূমির উপর সমপ্রসারিত পাগলা মসজিদ এলাকায় মসজিদকে কেন্দ্র করে একটি অত্যাধুনিক ধর্মীয় কমপ্লেক্স প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। স্বভাবতই ঐতিহাসিক এই মসজিদকে নিয়ে জেলার ধর্ম-বর্ণ-সমপ্রদায় নির্বিশেষে সকলেই গর্ববোধ করেন।

mzamin

ফিলিপাইন: যেখানে প্রেসিডেন্টকে হত্যার হুমকি দেন ভাইস প্রেসিডেন্ট

যখন কোনো দেশের একজন ক্ষমতাসীন ভাইস প্রেসিডেন্ট বলেন যে, তিনি প্রেসিডেন্টকে হত্যার জন্য খুনি ভাড়া করেছেন এবং তার মস্তক আলাদা করার স্বপ্ন দেখছেন- তখন আপনাকে বুঝে নিতে হবে দেশটি ভয়াবহ সঙ্কটের মধ্যে আছে। সেই রকম ঘটনা ঘটছে এখন ফিলিপাইনে। সেখানে হাতে হাত ধরে চলে রাজনীতি আর মেলোড্রামা। দেশটির রাজনীতি নিয়ে এভাবেই লিখেছেন বিবিসির সাংবাদিক জোনাথন হেড। তিনি লিখেছেন- গত সপ্তাহান্তে ফেসবুকে এক পোস্টে ভাইস প্রেসিডেন্ট সারা দুতের্তে লিখেছেন, একজন ব্যক্তির সঙ্গে আলোচনা করেছি। বলেছি, আমাকে যদি হত্যা করা হয়, তাহলে বিবিএম’কে (প্রেসিডেন্ট মার্কোস), ফার্স্ট লেডি লিজা আরানেতা এবং প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার মার্টিন রোমুয়ালদেজকে হত্যা করো। এটা কোনো কৌতুক নয়। না, কোনো কৌতুক নয়। আমি বলেছি- তাদেরকে হত্যা না করা পর্যন্ত থামবে না। তারপর আমি তোমাকে বলবো- হ্যাঁ। উল্লেখ্য, গত মাসে তিনি প্রেসিডেন্ট ফার্দিনান্দ বংবং মার্কোসের সঙ্গে নিজের সম্পর্ককে বিষাক্ত উল্লেখ করে সাংবাদিকদের বলেছেন, তিনি তার (প্রেসিডেন্টের) মস্তক বিচ্ছিন্ন করার স্বপ্ন দেখেন। রাজধানী ম্যানিলায় হিরোস সেমিটারি থেকে প্রেসিডেন্টের পিতার মৃতদেহ তুলে তার ছাইভষ্ম সমুদ্রের পানিতে ভাসিয়ে দিতে চান। এসবের নেপথ্যে আছে এক সময়ের শক্তিশালী রাজনৈতিক জোট, যা প্রকাশ হয়ে পড়েছে। ২০২২ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে একজোট হয়েছিল মার্কোস ও দুতের্তে বাহিনী। তাদের মধ্যে অন্যরকম এক বোঝাপড়া হয়েছিল। দু’জনেই ছিলেন প্রেসিডেন্টদের উত্তরসূরি। সারা দুতের্তে ছিলেন তখনকার ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্ট রড্রিগো দুতের্তের মেয়ে। ফিলিপাইনের বিভিন্ন অংশে তার আছে ব্যাপক সমর্থন। দু’জনেই জনপ্রিয়।

তাদের মধ্যে ঐকমত্য হয় মারকোস প্রেসিডেন্ট হবেন। ভাইস প্রেসিডেন্ট হবেন সারা দুতের্তে। এ দুটি পদের প্রার্থী নির্বাচন হয় আলাদাভাবে। কিন্তু নির্বাচনের শেষের দিকে তারা একটি নির্বাচনী টিম গঠন করবেন। এর মূলে বলা হবে, সারা দুতের্তে তারপর আগামী ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার মূল পদে জলে আসবেন। একটি অত্যন্ত কার্যকর কৌশল হিসেবে কাজ করেছে এটা। তারা নিজেদেরকে প্রকাশ করেন দ্য ইউনিটিম হিসেবে। ভূমিধস জয় পান। দুতের্তেকে যেকেউ হয়তো বলেছেন ভাইস প্রেসিডেন্ট পদটি হলো আলঙ্করিক। এর তেমন কোনো ক্ষমতা নেই। এ জন্য সারা দুতের্তে প্রভাবশালী প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় চেয়েছিলেন নিজের কাছে। তার পরিবর্তে তাকে শিক্ষা মন্ত্রণালয় দেন প্রেসিডেন্ট মারকোস। এরপর তিনি তার রাজনৈতিক উত্তরসূরি দিক থেকে আকস্মিকভাবে সরে যান। দক্ষিণ চীন সাগরের বিরোধপূর্ণ অঞ্চলে চীনের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর নির্দেশ দিয়েছিলেন ফিলিপাইনের নৌবাহিনী ও কোস্টগার্ডদের। তার এই নীতি ছিল প্রেসিডেন্ট রড্রিগো দুতের্তের অবস্থানের বিরোধী। তিনি ওই অঞ্চলে চীনের আধিপত্যকে চ্যালেঞ্জ করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিলেন। এক পর্যায়ে রড্রিগো দুতের্তে ঘোষণা দেন যে, তিনি চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংকে ভালবাসেন। প্রেসিডেন্ট রড্রিগো দুতের্তের মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধের বিষয়েও তেমন কোনো কথা বলেননি মার্কোস। ওই লড়াইয়ে মাদকের ডিলার সন্দেহে কয়েক হাজার মানুষকে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের শিকার করেন দুতের্তে। আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) রড্রিগোর বিরুদ্ধে মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধে অভিযুক্ত করেছিল। এ জন্য আইসিসিতে যাওয়ার কথা ছিল তার। তার প্রেসিডেন্সির সময়ে ফিলিপাইনে যে পরিমাণ বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড হয়েছে তা নিয়ে ফিলিপাইনের সিনেটের সামনে শুনানিতে উপস্থিত হওয়ার কথা ছিল প্রেসিডেন্ট রড্রিগোর। এতসব ঘটনায় তিনি পাড় পেয়ে গিয়েছিলেন। কিন্তু যখন রড্রিগো দুতের্তের মেয়ে সারা কাজ পেয়ে যান এবং তাকে গোপনীয় তহবিল ব্যবহারের অনুমতি দেয়া হয়, তখন সারা দুতের্তের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করে পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ। এর সঙ্গে যোগ ছিল মারকোসের মিত্রদের। ফলে দুই পক্ষের মধুচন্দ্রিমা বিষাক্ত হয়ে উঠতে থাকে। জুলাইয়ে শিক্ষার দায়িত্ব থেকে পদত্যাগ করেন ভাইস প্রেসিডেন্ট সারা। তখন থেকেই তার বক্তব্য জ্বালাময়ী হতে শুরু করে।

তবে বিতর্কে সারা দুতের্তে নবাগত নন। ১৩ বছর আগে তিনি ডাভাও শহরের মেয়র ছিলেন। সেসময় আদালতের একজন কর্মকর্তাকে অব্যাহতভাবে ঘুষি মারতে দেখা যায় তাকে। এ দৃশ্য ক্যামেরায় ধারণ করা হয়। তার তুখোড় বক্তা পিতা যে রাজনৈতিক ক্ষেত্র থেকে উঠে এসেছেন, তিনিও তাই। তারা কঠোর ভাষায় কথা বলার জন্য সর্বজন পরিচিত। রড্রিগো দুতের্তে পোপকে নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করেছেন। এক সময় প্রেসিডেন্ট মারকোসের মিত্র থাকা সারা দুতের্তে তাকে হুমকি দিয়ে বসেন। দুতের্তের এসব মন্তব্যকে বেপরোয়া ও হতাশাজনক বলে মন্তব্য করেছেন প্রেসিডেন্ট মারকোস। প্রেসিডেন্টকে হুমকি দেয়ার কারণে শুক্রবার এ বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে ভাইস প্রেসিডেন্টকে তলব করে ফিলিপাইনস ন্যাশনাল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন। এটাকে যুক্তরাষ্ট্রের এফবিআইয়ের সমতুল্য বলে বিবেচনা করা হয়।

mzamin


মাহমুদ আব্বাস এখন কেন ক্ষমতা ছাড়তে চান?

নিজেদের দেশে এক বছরের ওপরে নৃশংসভাবে গণহত্যা চালাচ্ছে ইসরাইল। কমপক্ষে ৪৪ হাজার নিরীহ মানুষকে হত্যা করেছে। কয়েক লাখ মানুষ অনাহারে। লাখের ওপরে আহত। রক্তে সয়লাব শুকনো মাটি। কংক্রিটের স্তূপে চাপা পড়েছে মানুষ, তাদের জীবন, জীবিকা। অথচ সেই দেশে এখন প্রেসিডেন্ট আছেন। এই ভয়াবহ যুদ্ধে তার মুখে তেমন কোনো কথা শোনা যায়নি। আন্তর্জাতিক দুনিয়া তার দেশ নিয়ে সোচ্চার হলেও তিনি দৃশ্যত নাকে সর্ষের তেল দিয়ে ঘুমিয়েছেন। যেন তার কিছুই এসে যায় না। আঁচড়টা তো আর তার গায়ে লাগছে না। তিনি ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস। শেষ পর্যন্তু ভগ্নস্বাস্থ্যের দোহাই দিয়ে তিনি ক্ষমতা ছাড়তে পারেন বলে রিপোর্ট প্রকাশ করেছে অনলাইন আল-জাজিরা। এতে বলা হয়েছে, ভগ্নস্বাস্থ্যের জন্য যদি তিনি পদে অব্যাহতভাবে দায়িত্ব চালাতে অপারগ হন তাহলে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রেসিডেন্ট কে হবেন তাও তিনি ঠিক করে রেখেছেন। এমন হলে অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্টের দায়িত্বে তিনি মনোনীত করেছেন রাওহি ফাতু’কে। মাহমুদ আব্বাসের সময়ে তার দেশে, বিশেষ করে গাজা, পশ্চিমতীরে ইসরাইল যে নৃশংসতা চালাচ্ছে এবং তার যে গভীর অচেতন ভাব- তাতে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েছেন আব্বাস। তার বয়স এখন ৮৯ বছর। নেতৃত্ব দিচ্ছেন প্যালেস্টাইন লিবারেশন অর্গানাইজেশনের (পিএলও)। শান্তিতে নোবেল পুরস্কার বিজয়ী সাবেক প্রেসিডেন্ট ইয়াসির আরাফাতের মৃত্যুর পর ২০০৫ সালে তিনি ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। তারপর আর কোনো নির্বাচন দেননি। সেই থেকে তিনিই ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট। এটা নিয়েও ব্যাপক সমালোচনা আছে। তিনি কেন এখন উত্তরসূরি মনোনীত করছেন এবং তা কীভাবে হবে তা নিয়েও রয়েছে প্রশ্ন। উল্লেখ্য, ১৯৯৩ সালের অসলো চুক্তির অধীনে ফিলিস্তিনে অন্তর্বর্তী সরকার গঠন করা হয়। তখন ওই চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছিলেন তখনকার ফিলিস্তিনি নেতা ইয়াসির আরাফাত ও ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী আইজ্যাক রবিন। গাজায়, পশ্চিমতীরে এবং পূর্ব জেরুজালেমে দখলীকৃত অংশে বসবাসকারী ফিলিস্তিনিদের জন্য শিক্ষা, নিরাপত্তা, পানির সুবিধা ও বিদ্যুতের মতো মৌলিক চাহিদাগুলো পূরণ করার দায়িত্ব পায় ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ। অসলো চুক্তিতে পশ্চিমতীরকে তিনটি ভাগে ভাগ করে দেয়া হয়। তা হলো- এরিয়া-এ, বি এবং সি। এর মধ্যে এরিয়া-এ’তে ফিলিস্তিনকে নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ দেয়া হয়। এরিয়া-বি’তে প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ দেয়া হয়। কিন্তু এসব নিয়ম লঙ্ঘন করে দখলীকৃত পুরো পশ্চিমতীরে নিয়মিত সহিংস ঘেরাও দিতে থাকে ইসরাইলিরা। সমালোচকরা বলেন, এ সময়ে ইসরাইলি দখলদারদের পক্ষে নিরাপদ হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হয় ফিলিস্তিন কর্তৃপক্ষ।

যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনপুষ্ট অসলো চুক্তির অধীনে ১৯৯৯ সালের মধ্যে গাজা ও পশ্চিমতীরকে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের মধ্যে আনার কথা বলা হয়েছিল। এর রাজধানী করার কথা ছিল পূর্ব জেরুজালেমকে। কিন্তু চুক্তিটি স্বাক্ষরের ঠিক এক বছরের মধ্যে পশ্চিমতীরে বেআইনি বসতি নির্মাণ শুরু করে ইসরাইল। ইসরাইলের উগ্র ডানপস্থি এক জাতীয়তাবাদী হত্যা করে আইজ্যাক রবিনকে। এতে দখল করে নেয়া ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড ইসরাইল যে আর ফিরিয়ে দেবে সেই আশা ম্লান হয়ে যায়। ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় ব্যর্থতা সত্ত্বেও ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট হিসেবে অব্যাহতভাবে অনির্দিষ্ট সময়ের জন্য নেতৃত্বে থেকে যান মাহমুদ আব্বাস, যদিও তার মেয়াদ টেকনিক্যালি শেষ হয়ে যায় ২০০৯ সালে। ২০০৬ সালের নির্বাচনে ফিলিস্তিনে বিজয়ী হয় যোদ্ধাগোষ্ঠী হামাস। তাদেরকে স্বীকৃতি দেয়নি ইসরাইল। তারা বিজয়ী হওয়ার ফলে ইসরাইলকে স্বীকৃতি দিতে বাধ্য করার জন্য পশ্চিমা দাতারা তাদের তহবিল ফ্রিজ করে ফেলে। তবে ফিলিস্তিনকে যতদিন রাষ্ট্রের স্বীকৃতি না দেবে, ততদিন ইসরাইলকে স্বীকৃতি দিতে অস্বীকৃতি জানায় ফিলিস্তিন। এর ফলে হামাস ও তার প্রতিদ্বন্দ্বী দল ফাতাহ’র মধ্যে ক্ষমতা ভাগাভাগির উদ্যোগ নেয়া হয়। ফাতাহর নেতৃত্বে আছেন মাহমুদ আব্বাস। ক্ষমতা ভাগাভাগির উদ্যোগ নেয়া হলেও দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ চলতে থাকে। গাজা থেকে ফাতাহকে বের করে দেয় হামাস। তখন থেকে দখল হয়ে যাওয়া পশ্চিমতীরে ফিলিস্তিনকে প্রতিনিধিত্ব করছে ফাতাহ। কিন্তু তারা ইসরাইলের আগ্রাসন থামাতে ব্যর্থ হচ্ছে। হারাচ্ছে জনপ্রিয়তা। বিশ্লেষকরা বলেন, সেই থেকে পার্লামেন্ট এবং প্রেসিডেন্ট নির্বাচন এড়িয়ে চলছেন মাহমুদ আব্বাস। কারণ, তার আশঙ্কা নির্বাচন দিলে হামাসের কাছে হারতে হবে। হারলেই তার প্রেসিডেন্ট পদ চলে যাবে। তা সত্ত্বেও ফিলিস্তিনিরা আশা করেন ২০২১ সালের মে মাসে তারা ভোট দেবেন। কিন্তু সেই ভোটও স্থগিত করেন আব্বাস। এর জন্য তিনি ইসরাইলের কাঁধে দোষ চাপান। বলেন, দখলীকৃত পূর্ব জেরুজালেমে ভোটের অনুমতি দেয়নি ইসরাইল।

ওদিকে মাত্র কয়েকদিনে তিনি তার উত্তরসূরি মনোনীত করেছেন। তিনি হলেন- প্যালেস্টাইনিয়ান লেজিসলেটিভ কাউন্সিলের সাবেক স্পিকার, প্যালেস্টাইনিয়ান ন্যাশনাল কাউন্সিলের বর্তমান স্পিকার এবং ফাতাহ’র সেন্ট্রাল কমিটির সদস্য রাওহি ফাতু। যদি আব্বাস প্রেসিডেন্ট পদে দায়িত্ব পালন না করেন, তাহলে নতুন নির্বাচন না হওয়া পর্যন্ত ৯০ দিনের জন্য প্রেসিডেন্টের ক্ষমতা পাবেন রাওহি ফাতু। ইয়াসির আরাফাত ২০০৪ সালে মারা যাওয়ার পর তিনি এ দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি ক্ষমতালোভী নন। ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের (আইসিজি) ফিলিস্তিনের রাজনীতি বিষয়ক বিশেষজ্ঞ তাহানি মুস্তাফা বলেন, যদি নতুন একজন নেতা নির্বাচিত হন তাহলে তিনি এ পদ থেকে সরে যাবেন। তার কোনো রাজনৈতিক উচ্চাভিলাষ নেই। তিনি ক্ষমতার শিখা হস্তান্তর করবেন।
কিন্তু মাহমুদ আব্বাস কেন এখন ক্ষমতা ছাড়তে চাইছেন? রিপোর্টে বলা হয়েছে এর কারণ, যুক্তরাষ্ট্র ও উপসাগরীয় দেশগুলো থেকে চাপ।  সেপ্টেম্বরে বেশ কিছু আরব ও ইউরোপিয়ান দেশের সঙ্গে মিত্রতা করে সৌদি আরব বলে তারা ফিলিস্তিন-ইসরাইল যুদ্ধ বন্ধে দ্বিরাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের জন্য চাপ দিচ্ছে। সেপ্টেম্বরের শেষের দিকে অর্থশূন্য ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষকে ৬ কোটি ডলার অর্থ দেয়ার প্রতিশ্রুতি দেয় রিয়াদ। আইসিজি’র মুস্তাফা বলেন, এই অর্থের মধ্যে চূড়ান্ত দফার এক কোটি ডলার হস্তান্তরের জন্য সৌদি আরব শর্ত দিয়েছে। তা হলো মাহমুদ আব্বাসকে তার উত্তরসূরি বাছাই করতে হবে। ওদিকে এখনও ফাতাহর প্রধান মাহমুদ আব্বাস। তিনি এরই মধ্যে দলের কেন্দ্রীয় কমিটির উপ- চেয়ারম্যান মাহমুদ আল আলুলকে তার পরে দলের জন্য বাছাই করেছেন বলে শোনা যায়। আরও বড় কথা হলো- এখনও পিএলও’র প্রধান হিসেবে এর নেতৃত্ব দেন মাহমুদ আব্বাস। ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের চেয়ে অধিক শক্তিধর পিএলও।

mzamin


স্বপ্ন দেখি একজন মানুষও হামদর্দের সেবা থেকে বাদ পড়বে না -মানবজমিনকে ড. ইউছুফ হারুন ভূঁইয়া

দেশের চিকিৎসা খাতে যুগান্তকারী ভূমিকা পালন করে আসছে হামদর্দ ল্যাবরেটরিজ (ওয়াক্‌ফ) বাংলাদেশ। আয়ুবের্দিক ও ইউনানী চিকিৎসার প্রতিকৃত এই প্রতিষ্ঠানের নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন ড. হাকীম মো. ইউছুফ হারুন ভূঁইয়া। তিনি প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও চিফ মোতাওয়াল্লির দায়িত্ব পালন করছেন। তার নেতৃত্বে হামদর্দ এগিয়ে যাচ্ছে নানামুখী সেবা কার্যক্রম নিয়ে। ১৯৭২ সালে হামদর্দে যুক্ত হওয়ার পর থেকে এই প্রতিষ্ঠানের নিজের জীবনের সবকিছু উজার করে দিয়েছেন। নিজের শ্রম আর চেষ্টায় হামদর্দকে গড়ে তুলেছেন মানবসেবার এক অন্যন্য প্রতিষ্ঠান হিসেবে। হামদর্দের কার্যক্রম, নিজের পরিকল্পনা, স্বপ্ন নিয়ে সম্প্রতি কথা বলেছেন মানবজমিন-এর সঙ্গে। বলেছেন, তিনি স্বপ্ন দেখেন হামদর্দকে এমন জায়গায় নিয়ে যেতে চান যাতে দেশের একটি মানুষও এর সেবার বাইরে না থাকে। নিচে তার সাক্ষাৎকারের বিস্তারিত তুলে ধরা হলো-

মানবজমিন: বড় হয়ে কী হওয়ার স্বপ্ন দেখেছিলেন?
ইউছুফ হারুন ভূঁইয়া: আমি জন্মেছিলাম লক্ষ্মীপুরের ছায়াঢাকা মায়াঢাকা দক্ষিণ মাগুরী নামের এক প্রাকৃতিক সৌন্দর্যঘেরা গ্রামে। আমার পিতা মরহুম ছায়েদ উল্লাহ ভূঁইয়ার জীবনযাপন, আদর্শ আমাকে দারুণভাবে অনুপ্রাণিত করেছিল। পরম শ্রদ্ধেয় মা মরহুমা রওশন জাহান বেগম আমাদের সব ভাই-বোনের প্রতি ছিলেন যত্নবান ও আন্তরিক। শৈশবে আমার একটাই স্বপ্ন ছিল যে, আমি মানুষের মতো মানুষ হবো, মানুষের কল্যাণ করবো। মানুষের উপকার করার মধ্যদিয়ে আমি সৃষ্টিকর্তার একজন কৃতজ্ঞ বান্দা হতে চেয়েছি সবসময়।

মানবজমিন: পুলিশ সার্ভিসের চাকরি ছেড়ে ইউনানী-আয়ুর্বেদিক চিকিৎসা জগতে কেন প্রবেশ করলেন?
ইউছুফ হারুন ভূঁইয়া: আসলে আমার পুলিশ অফিসার হওয়ার কোনো স্বপ্ন ছিল না। ১৯৭১ সালে যখন মুক্তিযুদ্ধ শুরু হয়, তখন সুযোগ এলো পুলিশে চাকরি করার। তখন মনে হলো, পুলিশে থাকলে তো মুক্তিযোদ্ধাদের সহযোগিতা করা যাবে, বাংলাদেশের স্বাধীনতার পক্ষে কৌশলগত অবস্থান নিয়ে কাজ করা যাবে। সেই চিন্তা থেকেই আমি থেকে গেলাম। আমি ছিলাম তেজগাঁও থানার দায়িত্বপ্রাপ্ত অফিসার। ঢাকার এই অঞ্চলটিতে মুক্তিযোদ্ধাদের রক্ষা করা, সহযোগিতা করা, তথ্য দেয়ার মতো স্পর্শকাতর কাজ ও উপকার আমার মাধ্যমে হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধের পরে আমার মনে হয়েছে, এই পেশায় থাকা আমার জন্য ঠিক হবে না। আমাকে আরও বড় মানবসেবার কাজ করতে হবে। সেই ভাবনা থেকেই হামদর্দে সম্পৃক্ত হওয়া। শুরু থেকেই আমার মধ্যে বিশ্বাস ছিল যে, হামদর্দকে আমি সফলভাবে এগিয়ে নিতে পারবো।

মানবজমিন: আপনার এই দীর্ঘ যাত্রায় কোনো প্রতিবন্ধকতা মোকাবিলা করতে হয়েছে?
ইউছুফ হারুন ভূঁইয়া: সবচেয়ে বড় প্রতিবন্ধকতা ছিল, হামদর্দবিরোধী ষড়যন্ত্র। প্রকাশ্য ও গোপন ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে অসংখ্যবার হামদর্দকে দখল করার চেষ্টা করা হয়েছে। পদে পদে বাধা সৃষ্টি করা হয়েছে। মাত্র ৫০ হাজার টাকা পুঁজি এবং ছয় গুণ দায়দেনা নিয়ে আমরা শুরু করেছিলাম। ষড়যন্ত্রকারীরা চেয়েছিল যে, হামদর্দ যেন আদমজী, বাওয়ানী শিল্প প্রতিষ্ঠানের মতো ধ্বংস হয়ে যায়, যাতে অবশিষ্ট যা কিছু থাকবে তাই তারা লুটেপুটে খেতে পারে, দখল করতে পারে। 

মানবজমিন: বাংলাদেশে ইউনানী, আয়ুর্বেদিক চিকিৎসার ভবিষ্যৎ কতোটা উজ্জ্বল?
ইউছুফ হারুন ভূঁইয়া: দিন যত যাচ্ছে ইউনানী আয়ুর্বেদিক ও হারবাল চিকিৎসার প্রয়োজনীয়তা বাড়ছে। আমাদের এ খাতের ভবিষ্যৎ খুবই উজ্জ্বল। এই চিকিৎসাব্যবস্থা এখন সবার কাছে পরম আকাঙ্ক্ষিত। ঘরে ঘরে এ ধরনের চিকিৎসার জন্য মুখিয়ে থাকেন মানুষ। শিল্প হিসেবেও এটি জাতীয় অর্থনীতিতে আশার আলো দেখাচ্ছে। আন্তর্জাতিকভাবে এখন হারবাল চিকিৎসাব্যবস্থার কাছে ফিরছে কোটি কোটি মানুষ। বিশেষ করে কোভিড পরবর্তী সময়ে এর প্রয়োজনীয়তা আরও বেড়েছে। এই খাত স্বীকৃতি লাভ করেছে বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার। পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ামুক্ত ওষুধ হিসেবে এখন ভেষজ চিকিৎসার প্রতি ঝুঁকছে বিশ্বের অগণিত মানুষ। সেই বিপুল আলোড়নের ছোঁয়া লেগেছে বাংলাদেশেও। এখন শুধু সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার পালা। 

মানবজমিন: বহির্বিশ্বে বাংলাদেশ হামদর্দের অবস্থান কেমন বলে আপনার ধারণা?
ইউছুফ হারুন ভূঁইয়া: উপমহাদেশে হামদর্দ একটি প্রতিষ্ঠিত নাম, যার বিকল্প আজ পর্যন্ত তৈরি হয়নি। তাছাড়া সারাবিশ্বেই হামদর্দ একনামে পরিচিত, অনেক দেশে হামদর্দের আদলে ইউনানী আয়ুর্বেদিক ওষুধ শিল্প গড়ে উঠেছে।

মানবজমিন: ইউনানী-আয়ুর্বেদিক চিকিৎসা শিক্ষালাভের বিষয়ে বর্তমান প্রজন্মের উৎসাহ কেমন বলে আপনার ধারণা?
ইউছুফ হারুন ভূঁইয়া: এই খাত নিয়ে বিপুল আগ্রহ রয়েছে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে। শুধু প্রয়োজন খাতসংশ্লিষ্ট সবাইকে আন্তরিকতার সঙ্গে চেষ্টা করা। ইউনানী-আয়ুর্বেদিক ওষুধের অভূতপূর্ব সম্ভাবনা এখন সারাবিশ্বে। বাংলাদেশেও এই খাতে সূচনা হয়েছে নতুন দিগন্তের। হামদর্দ বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশ; ভারত, শ্রীলঙ্কা ও তুরস্কের স্বনামধন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে সমঝোতাপত্র স্বাক্ষর করেছে। ইতিমধ্যে হামদর্দ বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশ ক্যাম্পাসে শ্রীলঙ্কা থেকে আসা বিশেষজ্ঞ শিক্ষক পাঠদান করেছেন। ভারত সরকারও একজন ইউনানী বিশেষজ্ঞ শিক্ষাবিদকে পাঠিয়েছে হামদর্দ বিশ্ববিদ্যালয়ে। বাংলাদেশে হামদর্দ বিশ্ববিদ্যালয়ই অগ্রদূতের ভূমিকা পালন করে ইউনানী-আয়ুর্বেদিক শিক্ষাকে আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত করাচ্ছে।

মানবজমিন: আপনি বেশ কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছেন। এসব প্রতিষ্ঠানের আলাদা বৈশিষ্ট্য কী?
ইউছুফ হারুন ভূঁইয়া: ২০১২ সালে হামদর্দ বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করি। ২০১৪ সালে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) এবং বাংলাদেশ বোর্ড অব ইউনানী অ্যান্ড আয়ুর্বেদিক সিস্টেমস অব মেডিসিন বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো সর্বসম্মতিক্রমে হামদর্দ বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশের ব্যাচেলর অব ইউনানী মেডিসিন অ্যান্ড সার্জারি (বিইউএমএস) এবং ব্যাচেলর অব আয়ুর্বেদিক মেডিসিন অ্যান্ড সার্জারি (বিএএমএস) প্রোগ্রাম দু’টিকে আইনসম্মতভাবে অনুমোদন প্রদান করে। শুধু তাই নয়, প্রোগ্রাম দু’টির সিলেবাস ও কোর্স কারিকুলামও ইউজিসি কর্তৃক অনুমোদিত। পাশাপাশি উক্ত অনুষদে শিক্ষক নিয়োগ ও শিক্ষার্থী ভর্তির জন্য সুনির্দিষ্ট নীতিমালা প্রণয়ন করে তারা। ব্যতিক্রমী বিষয় হলো, বাংলাদেশে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে একমাত্র হামদর্দ বিশ্ববিদ্যালয়ই সরাসরি বিইউএমএস ও বিএএমএস প্রোগ্রাম পরিচালনা করে আসছে। বাংলাদেশে ৩টি ইউনানী ও আয়ুর্বেদিক মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের মধ্যে একটি সরকারি। রাজধানীর মিরপুরে অবস্থিত সরকারি ইউনানী ও আয়ুর্বেদিক মেডিকেল কলেজটি একটি প্রকল্পের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে, যা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি অনুষদের অধিভুক্ত। অপর দু’টি প্রতিষ্ঠান হামদর্দ পরিচালিত। লক্ষ্মীপুরে অবস্থিত রওশন জাহান ইস্টার্ন মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল, চট্টগ্রাম মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত এবং বগুড়ায় অবস্থিত হামদর্দ ইউনানী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল, রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত হিসেবে বিইউএমএস প্রোগ্রাম পরিচালনা করছে। দক্ষ এবং সৎ মানুষ তৈরির জন্যই আমরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো করেছি। আমাদের প্রতিষ্ঠিত প্রত্যেকটি প্রতিষ্ঠান আলাদা বৈশিষ্ট্যের অধিকারী। 

মানবজমিন: দেশের জাতীয় ওষুধনীতিতে ইউনানী ও আয়ুর্বেদিক ওষুধের স্বীকৃতি কীভাবে পেলো?
ইউছুফ হারুন ভূঁইয়া: ১৯৮২ সালের ঘটনা। তখন হারবাল ওষুধ রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে স্বীকৃত ছিল না। আমার স্বপ্নের কথা জানালাম জাতীয় অধ্যাপক ডা. নুরুল ইসলাম স্যারকে। এরপর বিষয়টি অবগত করলাম ওষুধ প্রশাসনের তৎকালীন পরিচালক ড. হুমায়ুন কে এম এ হাই সাহেব এবং সংশ্লিষ্টদের। এ বিষয়ে তখন আন্তরিকতা দেখালেন ইউনানী আয়ুর্বেদিক বোর্ডের চেয়ারম্যান হাকীম আজিজুল ইসলাম। সবার আন্তরিকতার কারণে জাতীয় ওষুধনীতিতে অন্তর্ভুক্ত হয় হারবাল ওষুধ। ১৯৯২ সালের দিকে এই ওষুধনীতি থেকে হারবাল খাতকে বাদ দেয়ার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। আমরা ওই মামলায় জিতে যাই, সরকার হেরে যায়। এরপর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি এই খাতকে।

মানবজমিন: কোন ধরনের চিন্তা থেকে আপনি এই ব্যতিক্রমী প্রয়াস গ্রহণ করলেন?
ইউছুফ হারুন ভূঁইয়া: ১৯৮৬ সাল পর্যন্ত একজন মোতাওয়াল্লীই নিয়ন্ত্রণ করতেন সবকিছু। কিন্তু আমরা দায়িত্ব বিভাজন করতে এবং সবার পরামর্শ নিয়ে স্বচ্ছতার সঙ্গে হামদর্দকে পরিচালনা করতে দেশের বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সমন্বয়ে ৯ সদস্যের সমন্বয়ে ট্রাস্টি বোর্ড গঠন করা হয়। সেই ধারাবাহিকতায় অব্যাহত আছে ট্রাস্টি বোর্ডের মতামত নিয়ে হামদর্দ পরিচালনার প্রত্যেকটি সিদ্ধান্ত গ্রহণের রীতি।

মানবজমিন: জীবনের দীর্ঘ সময় পেরিয়েও আপনি কর্মঠ, নিরলস, সচল ও সক্রিয়। এর রহস্য কী?
ইউছুফ হারুন ভূঁইয়া: আমি সবসময় কাজকেই প্রাধান্য দিয়েছি। হামদর্দ ছাড়া জীবনে আর অন্যকিছু ভাবিনি। আমি দৃঢ়ভাবে মনে করি, কাজ কখনো কাউকে খালি হাতে ফেরায় না।

মানবজমিন: নিকট ভবিষ্যতে কোনো বড় ধরনের কর্মকাণ্ডে হাত দিচ্ছেন কী?
ইউছুফ হারুন ভূঁইয়া: ইউনানী আয়ুর্বেদিক শিল্পকে এগিয়ে নিতে সর্বপ্রকারের আধুনিকায়নের উদ্যোগ আমরা গ্রহণ করেছি। এ জন্য ভারত ও চীনের সহযোগিতা প্রয়োজন হলে সেটি নিতেও আমরা প্রস্তুত আছি।

মানবজমিন: আপনার জীবনের সবচেয়ে বড় অর্জন কোনটি বলে মনে করেন?
ইউছুফ হারুন ভূঁইয়া: ধ্বংসপ্রাপ্ত হামদর্দকে গড়ে তোলার মাধ্যমে লাখ লাখ মানুষের পাশে দাঁড়ানোই আমার জীবনের বড় অর্জন বলে মনে করি।

মানবজমিন: নতুন প্রজন্মের জন্য আপনার কোনো পরামর্শ আছে কী?
ইউছুফ হারুন ভূঁইয়া: সততার সঙ্গে কাজ করো, বসে থেকো না, চেষ্টা করে যাও, কাজ তোমাকে কখনোই হতাশ করবে না, সাফল্যের মুখ দেখাবেই।

মানবজমিন: অবসরে কী করেন?
ইউছুফ হারুন ভূঁইয়া: আমার কোনো অবসর নেই। সবসময় হামদর্দের নানা বিষয় নিয়ে ভাবতে হয়, পরিকল্পনা করতে হয় এবং কর্মকর্তা-কর্মীদের নিয়ে কাজে ঝাঁপিয়ে পড়তে হয়। তবে হঠাৎ যদি অবসর পাই তাহলে ধর্মীয় টিভি সিরিয়াল দেখি, যার মাধ্যমে আমি নিজেকে আরও ইতিহাস সমৃদ্ধ করতে পারি।

মানবজমিন: হামদর্দকে কোন পর্যায়ে দেখতে চান?
ড. হাকীম মো. ইউছুফ হারুন ভূঁইয়া: হামদর্দ এখন বিপুলসংখ্যক মানুষকে স্বাস্থ্য ও শিক্ষাসেবা দিচ্ছে। আমার স্বপ্ন হামদর্দের সেবা থেকে বাংলাদেশের একজন মানুষও বাদ পড়বে না। মৃত্যুর আগে আমি এটা দেখে যেতে চাই।

mzamin

সামনের দৃশ্যপট কেমন হবে? by সাজেদুল হক

ড. ইউনূসের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার সবে দায়িত্ব নিয়েছে। চারদিকে তখনও বিশৃঙ্খলা। দাবির খাতা খোলা শুরু হয়েছে। এরইমধ্যে একজন খুবই গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তা সরকারকে পরামর্শ দিলেন, একটি দাবিও যেন মানা না হয়। যুক্তি ছিল, কারও দাবি মানলে গেট খুলে দেয়া হবে। তখন অন্যরাও ফর্দ নিয়ে হাজির হবেন। আদতে হয়েছেও তাই। সরকারের বয়স আজ ১১৫ দিন। এরমধ্যে সুস্থির দিন কমই কেটেছে। একের পর এক আন্দোলন, বিক্ষোভ। এক হিসাবে এ সময়ে শ’ খানেক আন্দোলন হয়েছে। সরকার অবশ্য হার্ডলাইনে যায়নি। শুরু থেকেই চেষ্টা করেছে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের। প্রশ্ন উঠেছে এর শেষ কোথায়?

কেন এই অস্থিরতা?
সরকার তখনও দায়িত্ব নেয়নি। এরইমধ্যে শাহবাগে একটি জনগোষ্ঠীর বিক্ষোভ শুরু হয়ে যায়। আন্দোলনের ট্রেন এখনো চলছে। এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের সচিবালয়ে ঢুকে পড়া ছিল ব্যাপক আলোচিত। তারা অবশ্য দাবি আদায়ে সক্ষম হয়। অনেক বিশ্লেষকই মনে করেন, এটি ছিল ভুল সিদ্ধান্ত। পরে আনসার সদস্যদের একটি গ্রুপ বিশৃঙ্খলা তৈরির চেষ্টা করে। সেটা অবশ্য শক্ত হাতে মোকাবিলা করা হয়। পোশাক খাতে শুরু হওয়া আন্দোলন এখনো থামেনি। কিছু কারখানায় বেতন বকেয়া থাকাই এ খাতে অস্থিরতা প্রধান কারণ। জুট ব্যবসার হাত বদল নিয়েও শুরুতে কিছু সংঘাত হয়েছে। ভিনদেশি উস্কানির অভিযোগও করে থাকেন কেউ কেউ। শিক্ষাঙ্গনে অস্থিরতা অবশ্য অনেককেই হতবাক করেছে। সর্বশেষ সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র চিন্ময় কৃষ্ণ দাশের গ্রেপ্তার এবং আদালত এলাকায় আইনজীবীকে হত্যার ঘটনায় বড় ধরনের সংকট তৈরির আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল। তবে ছাত্র-জনতার সম্মিলিত সতর্কতায় আপাত তা এড়ানো গেছে। এই অস্থিরতা কেন- বিশ্লেষকরা শুরু থেকেই সে প্রশ্নের উত্তর খোঁজার চেষ্টা করেছেন। এমনিতে দুনিয়ার যে কোনো দেশেই গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে অস্থির পরিস্থিতির তৈরি হয়। বাংলাদেশে ১৫ বছরের প্রবল পরাক্রমশালী শাসকের পালিয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। তিনদিন দেশ সরকারবিহীন অবস্থায় ছিল। বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির এটিও একটি কারণ। ৫ই আগস্ট সম্ভবত আধুনিক পৃথিবীর ইতিহাসে প্রথমবারের মতো পুলিশের সব সদস্য থানা ছেড়ে চলে যান। তাদের কর্মক্ষেত্রে ফেরাতেও সময় লাগে। তবে পুলিশকে এখনো শতভাগ সক্রিয় করা সম্ভব হয়নি। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে চ্যালেঞ্জ বাড়ার এটি প্রধান কারণ। প্রশাসনও পুরোমাত্রায় সরকারকে সহযোগিতা করছে না। পনেরো বছর এতো ধাপে দলীয়করণ করা হয়েছে যে, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার চাইলেও তা থেকে বের হতে পারেনি। কিছু ক্ষেত্রে কয়েকজন উপদেষ্টার দক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। তারা সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারছেন না। পরিস্থিতি ঘোলাটে করতে দেশি-বিদেশি নানা পক্ষের ইন্ধনের অভিযোগও পাওয়া যাচ্ছে। পলাতক স্বৈরাচারের অর্থও এক্ষেত্রে ভূমিকা রাখছে।

বড় প্রশ্ন
সরকার এরইমধ্যে বিভিন্নখাতে সংস্কারের জন্য কয়েকটি কমিশন গঠন করেছে। বেশির ভাগ কমিশনের ডিসেম্বরের শেষ নাগাদ রিপোর্ট দেয়ার কথা। তবে কোন কোন ক্ষেত্রে সেটি বিলম্বিত হতে পারে এমন ইঙ্গিত মিলছে। আনুষ্ঠানিকভাবে সরকারের পক্ষ থেকে যেটা বলা হয়েছে, কমিশনের রিপোর্ট পাওয়ার পর সরকার রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংলাপে বসবে। সেখানেই সংস্কারের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। কী কী সংস্কার হবে তার ওপরই নির্ভর করবে নির্বাচন কবে হবে। যদিও সরকারের পক্ষ থেকে দৃশ্যত কিছুটা বিরক্তি প্রকাশ করে এটাও বলা হয়েছে, রাজনৈতিক দলগুলো যদি বলে সংস্কার লাগবে না, এখনই নির্বাচন দিয়ে দিন। তাহলে আমরা নির্বাচন দিয়ে দেবো। সংবিধান সংস্কারও একটি প্রধান প্রশ্ন। যদিও বিএনপি’র পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এটি নির্বাচিত সরকারের কাজ। তবে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হচ্ছে, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের মেয়াদ কত দিন? নির্বাচনই বা কবে হবে। বিএনপি’র পক্ষ থেকে বারবার দাবি করা হচ্ছে, নির্বাচনী রোডম্যাপ ঘোষণা করার। সরকারের পক্ষ থেকে এখনো স্পষ্ট করে এ ব্যাপারে কিছু বলা হয়নি। একজন উপদেষ্টা একবার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে, ২০২৫ সালের মধ্যে নির্বাচন হতে পারে। পরে অবশ্য এ নিয়ে প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়। তিনি একটি ব্যাখ্যা দেন। আরেকটি প্রধান প্রশ্ন হচ্ছে, আওয়ামী লীগ কি নির্বাচনে অংশ নেয়ার সুযোগ পাবে? ছাত্র নেতৃত্বের একাংশ এবং কোনো কোনো মহল থেকে আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের দাবি উঠেছে। তবে বিএনপি বা জামায়াতের মতো প্রধান দলগুলো এ ব্যাপারে সায় দেয়নি। সরকারও রাজনৈতিক দলগুলোর অবস্থান মেনে নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে।

সামনের দৃশ্যপট কেমন হবে?
নানা গুজবে ভাসছে দেশ। ভারত থেকে চলছে বিরামহীন অপপ্রচার। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এসব প্রচারণার কিছু প্রভাব এরইমধ্যে দেখা যাচ্ছে। দ্রব্যমূল্য এখনও নিয়ন্ত্রণহীন। সাধারণ মানুষের কাছে এটিই প্রধান ইস্যু। সরকারের পক্ষ থেকে নানা পদক্ষেপের কথা বলা হলেও বাজারে তার তেমন কোনো প্রভাব নেই। সাম্প্রতিক ইস্যুগুলো নিয়ে সরকার এরইমধ্যে বিএনপি এবং জামায়াতের সঙ্গে আলোচনা করেছে। এসব আলোচনায় জাতীয় ঐকমত্যের কথা বলা হয়েছে। যদিও সে ঐকমত্য কেমন হবে তা স্পষ্ট নয়। বিএনপি যতো সম্ভব দ্রুত একটি নির্বাচন চায়। বর্তমানে নির্বাচন হলে দলটির বড় জয়ের সম্ভাবনাই বেশি। নির্বাচনে বিলম্ব হলে পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয় এ নিয়ে বিএনপি’র মধ্যে একধরনের শঙ্কা রয়েছে। দলটির বিবেচনায় ওয়ান-ইলেভেনের অভিজ্ঞতাও রয়েছে। বিএনপি’র পক্ষ থেকে দ্রুত নির্বাচনের জন্য সরকারের ওপর এক ধরনের চাপ তৈরি করা হচ্ছে। জামায়াত অবশ্য নির্বাচন নিয়ে তাড়াহুড়া করছে না। অন্যদিকে, ছাত্র আন্দোলনে নেতৃত্ব দেয়া নেতারা সংস্কারের ওপর জোর দিচ্ছেন। তারা নতুন কোনো রাজনৈতিক দল গঠন করেন কি-না সে আলোচনাও রয়েছে। এরমধ্যে ছাত্রদের সমর্থিত নাগরিক কমিটি বিভিন্ন অঞ্চলে কমিটি দিচ্ছে। সমন্বয়ক কমিটিও পুনর্গঠন হচ্ছে জেলায় জেলায়। তবে বাংলাদেশে এ ধরনের দল হলেও তা বড় কোনো প্রভাব রাখতে পারবে কি-না তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। অতীত অভিজ্ঞতা তাই বলে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আওয়ামী লীগ নেতাদের বিচার শুরু হলে দৃশ্যপটে বড় পরিবর্তন আসতে পারে কেউ কেউ এমনটা ইঙ্গিত দিচ্ছেন। এমন পরিস্থিতিতে আগামীদিনে আওয়ামী লীগের ভূমিকা কী হবে তাও হবে দেখার বিষয়। ভয়েস অব আমেরিকার একটি জরিপে ৫৭ ভাগ লোক আওয়ামী লীগকে রাজনীতি করতে দেয়ার পক্ষে মত দিয়েছেন। তবে বিশিষ্ট বুদ্ধিজীবী সলিমুল্লাহ খান মনে করেন আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে ফেরার সম্ভাবনা নেই। এক আলোচনায় তিনি বলেছেন, ‘আওয়ামী লীগ তার নৈতিক বৈধতা হারিয়েছে। মুসলিম লীগ যেমন বিলুপ্ত হয়ে গেছে, তেমনি আওয়ামী লীগও বিলুপ্তির পথে রয়েছে। এটা আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি।’

শেষ কথা বলে কিছু নেই
এটা প্রায়ই বলা হয়, রাজনীতিতে শেষ কথা বলে কিছু নেই। ৫ই আগস্টের অভাবনীয় অভ্যুত্থানের পরও বাংলাদেশ এক অস্থির সময় পার করছে। এটি কবে স্থির হবে সেটি বলা মুশকিল। সংশ্লিষ্ট কিছু সূত্র আভাস দিয়েছে, ২০২৫ সালের ডিসেম্বরের মধ্যেই বাংলাদেশে একটি নির্বাচন হতে পারে। যদিও এটি নানা যদি, কিন্তুর ওপর নির্ভর করে। এটা ঠিক, সক্রিয় রাজনৈতিক দলগুলো কখনও কখনও সরকারকে চাপে রাখলেও নিজ নিজ স্বার্থেই আবার তারা সরকারকে সমর্থন দেয়। তবে ছাত্র নেতৃত্ব যদি প্রভাব বিস্তার করতে পারে এমন কোনো দল গঠন করে তাহলে অঙ্ক জটিল হতে পারে। সীমান্ত পরিস্থিতির দিকেও নজর রাখছেন সবাই।

mzamin

উন্নয়ন সহযোগীদের প্রকল্পে স্থবিরতা

আকস্মিক রাজনৈতিক পট পরিবর্তন ও দেশব্যাপী চলমান অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে ভারত, চীন, জাপান ও রাশিয়াসহ বেশ কয়েকটি উন্নয়ন সহযোগী দেশের চলমান প্রকল্প বাস্তবায়নে স্থবিরতা বিরাজ করছে। কোনো কোনো প্রকল্পের কাজও বন্ধ রয়েছে। আবার কয়েকটি দেশ থেকে ঋণ ছাড়ও বন্ধ হয়ে গেছে। পাশাপাশি নানা জায়গা থেকে চাঁদাবাজির অভিযোগে এই স্থবির পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে বলে একাধিক সূত্রে জানা গেছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রকল্পগুলোতে কাজ বন্ধ থাকলে মেয়াদ ও ব্যয় বৃদ্ধি হতে পারে। এভাবে চললে প্রকল্পগুলো বাস্তবায়ন, বৈদেশিক অর্থছাড় ও প্রকল্পগুলো থেকে প্রত্যাশিত সুফল পাওয়ার ক্ষেত্রে বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে।

সূত্র জানায়, পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের সাড়ে ১৫ বছরের শাসনামলে দেশের পরিবহন ও যোগাযোগ, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি, শিক্ষা, গৃহায়ন, স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়ন, স্বাস্থ্য, কৃষি, বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তিসহ বিভিন্ন খাতে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক প্রকল্প নেয়া হয়। চলতি ২০২৪-২৫ অর্থবছর বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (এডিপি) প্রকল্পের সংখ্যা প্রায় ১ হাজার ৩৫২টি। প্রতি বছরের বাজেটেই প্রকল্পগুলোতে দিতে হয় মোটা অঙ্কের বরাদ্দ। এসব প্রকল্পে উন্নয়ন সহযোগী কয়েকটি দেশ থেকে অর্থ ছাড় বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে বেশ কিছু প্রকল্পে কাজ বন্ধ রয়েছে। যেমন; চলতি অর্থবছরের প্রথম তিন মাস জুলাই-সেপ্টেম্বরে চীনের কাছ থেকে কোনো অর্থ পায়নি বাংলাদেশ। এমনকি এই সময়ে কোনো নতুন ঋণের প্রতিশ্রুতিও দেয়নি দেশটি। সম্প্রতি অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) প্রকাশিত হালনাগাদ প্রতিবেদনে চীনের ঋণ ছাড় না হওয়ার এই তথ্য পাওয়া গেছে। তবে উন্নয়ন সহযোগী দেশগুলোর ঢাকায় নিযুক্ত রাষ্ট্রদূতরা আশ্বস্ত করেছেন, বাংলাদেশে বাস্তাবায়নাধীন প্রকল্পগুলো পরিকল্পনা অনুযায়ী চলমান থাকবে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বেশ কিছু প্রকল্প নেয়া হয়েছে যেগুলোর অর্থনৈতিক গুরুত্ব কম। এরমধ্যে কিছু নেয়া হয়েছে রাজনৈতিক বিবেচনায়। অস্বাভাবিক ব্যয়ের অভিযোগও রয়েছে। পাশাপাশি অর্থ ছাড় বন্ধ হওয়ার পাশাপাশি চাঁদাবাজির কারণে প্রকল্প বাস্তবায়ন নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে বলে মনে করেন তারা।

সূত্র মতে বগুড়া থেকে সিরাজগঞ্জ পর্যন্ত ডুয়েল গেজ রেলপথ নির্মাণ প্রকল্পের স্টিয়ারিং কমিটির সভা সম্প্রতি অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক সূত্র জানায়, প্রকল্পে প্রতিশ্রুত ঋণের টাকা দিচ্ছে না ভারত। প্রকল্প ব্যয় বৃদ্ধিতে যে বাড়তি ঋণ প্রয়োজন, সে বিষয়েও কিছু বলছে না দেশটি। ফলে অনিশ্চয়তায় পড়েছে প্রকল্পটি। সম্প্রতি রেল সচিব আবদুল বাকীর সভাপতিত্বে স্টিয়ারিং কমিটির সভা হয়। সভার নথি সূত্রে জানা গেছে, ৫ হাজার ৫৮০ কোটি টাকা ব্যয় প্রাক্কলন করে প্রকল্প অনুমোদন করা হয় ২০১৮ সালে। তখন পরিকল্পনা ছিল ২০২৩ সালের জুনে কাজ সম্পন্ন হবে। পরে মেয়াদ বৃদ্ধি করা হয় ২০২৪ সালের জুন পর্যন্ত। ফলে প্রকল্প মেয়াদ ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত বর্ধিত করা হয়েছে। ৩১শে অক্টোবর পর্যন্ত প্রকল্প অগ্রগতি মাত্র ১৬ শতাংশ। এ প্রকল্পের পরিচালক মো. মনিরুল ইসলাম ফিরোজী বলেন, কাজ বন্ধ বলা যায় না, স্থবির হয়ে গেছে। তবে চাঁদাবাজি হয়নি বলে তিনি জানান।

আরেকটি সূত্র জানায়, গত ৫ই আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর বিভিন্ন প্রকল্পে কাজ করা ভারতীয়রা দেশে ফিরে গেছে। গত ৩০শে আগস্ট নয়াদিল্লিতে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বলেন, বাংলাদেশের পরিস্থিতি স্থিতিশীল হলে অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে পরামর্শ করে চলমান প্রকল্পের কাজ শুরু হবে।

এ ছাড়া সরকার পরিবর্তনের পর ভারতীয় ঋণের অর্থে নির্মাণাধীন কুলাউড়া-শাহবাজপুর রেলপথ প্রকল্পের কাজ বন্ধ হয়ে গেলেও সপ্তাহ খানেক হলো আবার চালু হয়েছে।

এদিকে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বেশ ঘটা করে ঘোষণা দেয়া হয়েছিল দেশের ১২টি জেলায় নির্মাণ করা হবে আইটি পার্ক। এজন্য প্রকল্প বাজেট নির্ধারণ করা হয় ১ হাজার ৮৪৬ কোটি টাকা। ভারতীয় ঋণে ওই প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেয়া হয়। জানা গেছে, ২০১৭ সালের ২৫শে এপ্রিল একনেকে প্রকল্পের বাজেট অনুমোদন করা হলেও কাজ শুরু করা হয় ২০২২ সালের নভেম্বরে। কিন্তু গত ৫ই আগস্ট দেশের পট পরিবর্তনের পর পাল্টে গেছে ওই প্রকল্পের চিত্র। প্রকল্পের কাজ এগিয়ে নিতে বর্তমানে কোনো অর্থও ছাড় করছে না ভারত। এ কারণে পুরো প্রকল্পের কাজ বন্ধ রয়েছে। প্রকল্পটির পিডি একেএএম ফজলুল হক বলেন, নানা কারণে আপাতত প্রকল্পের কাজ বন্ধ রয়েছে।

ওদিকে ৬ প্রকল্পে অর্থছাড় বন্ধ রেখেছে চীনের এক্সিম ব্যাংক। চলমান ঋণ পরিশোধের নিশ্চয়তা চায় দেশটি। ডলার সংকটের কারণে বাংলাদেশ চলমান বৈদেশিক ঋণ পরিশোধ করতে পারবে কিনা, তা নিয়ে শঙ্কায় আছে চীন। প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নে দেখা দিয়েছে একরকম স্থবিরতা। শেষ সময়ে এসে মেয়াদ ও ব্যয় বৃদ্ধি হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। কিন্তু এর দায় নেবে কে? এমন প্রশ্নও উঠেছে।

এদিকে বিশেষায়িত কোম্পানির অংশীদারিত্ব নিয়ে সমাধান না হওয়ায় র‌্যাপিড পাস ও এমআরটি পাসের ক্লিয়ারিং হাউজ কার্যক্রম থেকে সরে দাঁড়িয়েছে জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা (জাইকা)। তবে চালু রয়েছে র‌্যাপিড পাস। নতুন করে ক্লিয়ারিং হাউজের কারিগরি ও অন্যান্য বিষয় নিয়ে কাজ করছে ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষ (ডিটিসিএ)। ডিটিসিএ সূত্রে এ কথা জানা গেছে। জাপানি বিশেষজ্ঞ দল চলে গেলেও র‌্যাপিড পাস নিয়ে কোনো সমস্যা হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন প্রকল্প পরিচালক মো. মামুনুর রহমান। গত ১৫ই অক্টোবর এই প্রকল্পের মেয়াদ বাড়িয়ে ২০২৫ সালের জুন পর্যন্ত করা হয়েছে। তবে বিশেষজ্ঞ দল হঠাৎ চলে যাওয়ায় হয়তো আরও দুই বছর সময় লাগবে। প্রকল্পের অগ্রগতি ৫২ শতাংশ।

ওদিকে কক্সবাজারের মাতারবাড়ি কয়লা বিদ্যুৎ প্রকল্পেও অচলাবস্থা বিরাজ করছে। প্রকল্পের ইউনিট কমিশনিংয়ের জন্য জাপানের সুমিতমো করপোরেশনের মাধ্যমে কয়লা আনা হয়। গত আগস্টে জাপানি প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে চুক্তি শেষ হয়। কয়লা সংকটে বিদ্যুৎকেন্দ্রের দুটি ইউনিটের উৎপাদন বন্ধ রয়েছে।

এদিকে বাতিল হচ্ছে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-২ প্রকল্পের কাজ। বর্তমানে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ওই প্রকল্প নিয়ে কোনো ধরনের কাজ করতে চান না বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। উল্টো রাশিয়ার সঙ্গে যে ধরনের চুক্তি হতে যাচ্ছিল তা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। বিশেষ করে স্যাটেলাইট প্রকল্পের জন্য যে সফটলোনের প্রস্তাব বাংলাদেশ করেছে তার বিপরীতে উচ্চ ইন্টারেস্ট দাবি করেছে রাশিয়া। এরমধ্যে আওয়ামী লীগ সরকারের আর্থিক অনিয়মের ঘটনা থাকতে পারে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

এদিকে রাশিয়ার অর্থায়নে নির্মিত রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের ঋণ ও সুদ পরিশোধের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের এসক্রো অ্যাকাউন্টে ৮০৯ মিলিয়ন ডলার জমা হয়েছে। এসক্রো হলো লেনদেনের অর্থ ও সম্পদ তৃতীয় পক্ষের অ্যাকাউন্টে জমা রাখা। তারপর চুক্তির সব শর্ত পূরণ হলেই তা সংশ্লিষ্ট পক্ষের কাছে পাঠানো হয়। ২০১৬ সালে রূপপুরে পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের জন্য রাশিয়ার কাছ থেকে ১৩ বিলিয়ন ডলার ঋণ নিতে রাজি হয়েছিল বাংলাদেশ। বাংলাদেশের সুদের পাশাপাশি দশ শতাংশ অগ্রিম পরিশোধের কথা থাকলেও নিষেধাজ্ঞার কারণে এক বছরেরও বেশি সময় ধরে লেনদেন স্থবির হয়ে আছে। ইতিমধ্যে প্রকল্পের প্রায় ৬৯ শতাংশ বাস্তবায়ন হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে বাস্তবায়ন, পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) সচিব আবুল কাশেম মো. মহিউদ্দিন বলেন, বেশির ভাগ প্রকল্পেই স্থবিরতা আছে। এর মূল কারণ হলো- চাহিদামতো অর্থছাড় না হওয়া।

গত ২০শে আগস্ট বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন আশ্বস্ত করেছেন, বাংলাদেশে চীনের অর্থায়নে বাস্তবায়নাধীন প্রকল্পগুলো পরিকল্পনা অনুযায়ী চলমান থাকবে। এর আগে জাপানি রাষ্ট্রদূত ইওয়ামা কিমিনোরির সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে অর্থ উপদেষ্টা জানান, দেশে জাপানি সহায়তায় চলা প্রকল্পগুলো বন্ধ হবে না। জাপান বাংলাদেশের উন্নয়নের বড় অংশীদার।

জানা গেছে, উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর স্থবির অবস্থা নিয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করেন পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. ওয়াহিদ উদ্দিন মাহমুদ। তখন বলা হয়, অনেক উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ এগোচ্ছে না। এ ছাড়া অনুমোদন পাওয়া নতুন প্রকল্পগুলোতেও বরাদ্দ মিলছে না।

সাবেক পরিকল্পনা সচিব মামুন-আল-রশিদ বলেন, উন্নয়ন সহযোগীরা অনেকেই অর্থছাড় করছে না। সরকারের উচিত দ্রুত প্রকল্পগুলোর সমাধান দেয়া। এতে নেতিবাচক পরিস্থিতির কিছুটা অবসান ঘটবে।

এদিকে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) বলছে, চলতি অর্থবছরের অর্থছাড়ে করুণ চিত্র বিরাজ করছে। গত তিন মাসে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) উন্নয়ন সহযোগীরা ছাড় করেছে ৮৪ কোটি ৬১ লাখ ডলার। কিন্তু গত অর্থবছরের তিন মাসে উন্নয়ন সহযোগীরা ছাড় করেছিল ১২৮ কোটি ১৭ লাখ ডলার। 

mzamin

৫ই আগস্ট ভারতের সঙ্গে সম্পর্কে পরিবর্তন এনেছে, এটাই বাস্তবতা

৫ই আগস্টের পর থেকে বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সম্পর্কের মাত্রা ও সমীকরণ বদলে গেছে। এ বাস্তবতা মেনে নিয়ে দুই দেশের সার্বভৌমত্ব, স্বার্থ ও মর্যাদার ভিত্তিতে এই সম্পর্ক পুনঃনির্মাণ করতে হবে। অতীতের ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের মতো জাতীয় স্বার্থের বিষয়ে জাতীয় ঐকমত্য প্রতিষ্ঠা অপরিহার্য। শনিবার রাজধানীর নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটিতে আয়োজিত এক গোলটেবিল বৈঠকে বিশেষজ্ঞরা এ কথা বলেন। সুসম্পর্কের পথে ভারতীয় গণমাধ্যমের মিথ্যাচারকে বড় বাধা আখ্যা দিয়ে বৈঠকে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন বলেন, ভারতের গণমাধ্যম যে ভূমিকা নিয়েছে, সেটি দু’টি দেশের স্বাভাবিক সম্পর্কের পথে অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে। নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির সাউথ এশিয়া ইনস্টিটিউট অব পলিসি অ্যান্ড গভর্নেন্স (এসআইপিজি) এবং রাষ্ট্রবিজ্ঞান ও সমাজবিজ্ঞান বিভাগ যৌথভাবে ‘বাংলাদেশ ভারত সম্পর্ক: প্রত্যাশা, প্রতিবন্ধকতা এবং ভবিষ্যৎ’ শীর্ষক ওই গোলটেবিল বৈঠকের আয়োজন করে। গোলটেবিল বৈঠকে প্রধান অতিথির বক্তব্যে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন বলেন, ৫ই আগস্টের আগে ভারতের সঙ্গে এক রকম সম্পর্ক ছিল। ৫ই আগস্টের পর সেটার পরিবর্তন হয়ে গেছে, এটা হলো বাস্তবতা। এ বাস্তবতার নিরিখেই ভারতের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক বিনির্মাণ করতে হবে এবং এটা অব্যাহত রাখতে হবে। আমার বিশ্বাস যে ভারত পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে এই সরকারের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক কীভাবে এগিয়ে নিতে হবে, সেটা উপলব্ধি করবে এবং করছেও সেটা। আমি প্রত্যাশা করবো, তারা সে অনুযায়ী এগোবে।’ প্রতিবন্ধকতা সম্পর্কে বলতে গিয়ে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, প্রতিবন্ধকতা তো আছে কিছুই। পূর্ববর্তী সরকার ভারতের যে বিষয়গুলোয় উদ্বেগ ছিল, সেগুলো দূর করার যথাসাধ্য চেষ্টা তারা করেছে। আমাদেরও কিছু উদ্বেগ ছিল, আছে। যদি একইসঙ্গে আমাদের উদ্বেগগুলো যথাযথভাবে দূর করা হতো, তাহলে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক নিয়ে এক ধরনের একটা দোলাচল যে আছে, সেটা কিন্তু থাকতো না। মোটা দাগে আমরা দেখতে পাই, আমাদের যেসব উদ্বেগ ছিল, ভারত সেগুলোর ব্যাপারে ব্যবস্থা নেয়নি।’

বর্তমান টানাপড়েন সত্ত্বেও দুই দেশের সম্পর্কের ব্যাপারে আশাবাদ ব্যক্ত করে তৌহিদ হোসেন বলেন, ‘সম্পর্ক তো একদিনের এক বছরের বা এক যুগের নয়, বেশি সময়ের ব্যাপার। সম্পর্ক সবসময় একরকম যাবে, এমনও কথা নেই। আমরা আশাবাদী হতে চাইবো যে আমরা একটা ভালো সম্পর্ক প্রতিষ্ঠা করতে পারবো, যাতে দুই পক্ষের স্বার্থ সংরক্ষিত হয়। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যে দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক এমন হবে, যাতে উভয় দেশের স্বার্থ সংরক্ষিত হয়, যাতে একদিকে না যায়।’ দুই দেশের সম্পর্ক এগিয়ে নেয়ার ক্ষেত্রে পানিবণ্টনে অনিষ্পন্ন বিষয় ও সীমান্ত হত্যার প্রসঙ্গ টানেন তৌহিদ হোসেন। তিনি বলেন, ‘সীমান্ত হত্যার বিষয়টি সবসময় খুব শক্তভাবে বলেছি। এমনকি সামনাসামনি যখন ভারতীয়দের সঙ্গে আলাপ হয়েছে, তখন তাদের বলেছি যে এটা কোনো অবস্থাতেই গ্রহণযোগ্য নয়। এটা (বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত) পৃথিবীর একমাত্র সীমান্ত, যেখানে দুই দেশ যুদ্ধরত নয়। অথচ যেখানে মানুষকে গুলি করে মারা হয়। পৃথিবীতে আর কোথাও এটা নেই। কাজেই ভারতকে অবশ্যই এই জিনিস দেখতে হবে। এটা একটা শক্ত প্রতিবন্ধকতা। আসলে এভাবে মানুষকে গুলি করে মারার কোনো প্রয়োজন নেই। অপরাধ তো হয়ই। পৃথিবীর সব সীমান্তে অপরাধ হয়। অপরাধ হয় বলে গুলি করে মারতে হবে, এর তো কোনো প্রয়োজন নেই। অপরাধের জন্য কাউকে গুলি করে মারলে তিনটা কাজ একসঙ্গে করে ফেলা হচ্ছে। তাকে অভিযুক্ত করা, বিচার করা এবং শাস্তি বিধান করা। যদি কোনো ব্যক্তি অপরাধ করেই থাকে, তাকে আইনের কাছে সোপর্দ করে বিচার করা হোক।’ দুই দেশের সম্পর্কের সাম্প্রতিক তিক্ততার জন্য ভারতের গণমাধ্যমের ভূমিকার সমালোচনা করে তৌহিদ হোসেন বলেন, ‘ভারতের মিডিয়া হঠাৎ করে একেবারে যেন ভয়ংকরভাবে লেগে পড়লো আমাদের বিরুদ্ধে। আমি এটা স্পষ্টভাবে এবং খোলাখুলিভাবে বলেছি, বিভিন্ন বিবৃতিতে সেটা উল্লেখ করেছি। ভারতের মিডিয়া যে ভূমিকা নিয়েছে, সেটা কোনো অবস্থাতেই দুটি দেশের মধ্যে স্বাভাবিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার জন্য সহায়ক নয়। তারা কেন এটা করছে, তারা ভালো বলতে পারবে।’ তিনি বলেন, এখানে তার মনে হয় এ দেশের গণমাধ্যমের ভূমিকা নেয়ার প্রয়োজন আছে। ভারতের গণমাধ্যমে যে মিথ্যাচার হচ্ছে, সেগুলোকে তুলে নিয়ে আসা ফ্যাক্ট চেকের টুলের মাধ্যমে।

পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, ‘পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে যখন একটা বিবৃতি প্রচার করা হয়, সেটা কিন্তু প্রথম পৃষ্ঠায় আসা উচিত, ভেতরের পাতায় নয়। আমি বলছি, এটা আমরা পরামর্শ দিচ্ছি। আমি বলতে পারি না যে এটা প্রথম পৃষ্ঠায় যেতে হবে। এটা অবধারিতভাবে আপনাদের সিদ্ধান্ত। আমি মনে করি, মানুষ চাইবে এটা আসলে প্রমিনেন্টলি ডিসপ্লে করা হোক। যখন আমরা কোন বিষয়ে প্রতিক্রিয়া দিচ্ছি।’

আলোচনায় বিএনপি’র ভাইস চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান রিপন বলেন, চিন্ময় দাসকে গ্রেপ্তার করে বর্তমান সরকার সঠিক কাজটাই করেছে। ধর্মভিত্তিকভাবে এই ইস্যুটা দেখার সুযোগ নেই। যে আইন অমান্য করবে, তাকে বিচারের আওতায় আনা মৌলিক কাজ।
এবি পার্টির যুগ্ম সদস্য সচিব আসাদুজ্জামান ফুয়াদ বলেন, প্রতিবেশী রাষ্ট্র তো কখনো বন্ধু হতে পারে না। ভারত বাংলাদেশের বন্ধু রাষ্ট্র হয় কী করে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ভারতীয় দালালদের দেয়াল ভেঙে পড়েছে। যেকোনো সংকট মোকাবিলায় বাংলাদেশের জনগণের পাঁচ বছর থেকে সামরিক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা দরকার বলেও মনে করেন তিনি। নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক আবদুল হান্নান চৌধুরীর সভাপতিত্বে গোলটেবিল বৈঠকে আরও বক্তব্য দেন সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের সাবেক প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান, সাবেক কূটনীতিক সাকিব আলী, মানারাত ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আবদুর রব, এসআইপিজি’র পরিচালক অধ্যাপক শেখ তৌফিক এম হক। সঞ্চালনায় ছিলেন রাষ্ট্রবিজ্ঞান ও সমাজবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক এম জসিম উদ্দিন।

mzamin

শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগেই সাবেক এমপি শাহীনের ৫০ কোটি টাকার বাণিজ্য! by নূর ইসলাম

কেশবপুরে শুধু শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগেই ৫০ কোটি টাকা ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে সাবেক এমপি শাহীন চাকলাদারের বিরুদ্ধে। ক্ষমতার অপব্যবহার করে সাড়ে তিন বছরে কেশবপুর উপজেলার ৭৫টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ২৫৭ জন শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগ দিয়ে অর্ধশত কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন সাবেক এমপি ও যশোর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহীন চাকলাদার।

গত ৫ই আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর একে একে বেরিয়ে আসে শাহীন চাকলাদারের নিয়োগ বাণিজ্যের ভয়ঙ্কর কাহিনী। তার এই নিয়োগ বাণিজ্যে সহযোগিতা করতেন এপিএস আলমগীর সিদ্দিক টিটো, কেশবপুর পৌরসভার সাবেক মেয়র রফিকুল ইসলাম মোড়ল, উপজেলা আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক মফিজুর রহমান ও তৎকালীন কেশবপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার এমএম আরাফাত হোসেন।

শাহীন চাকলাদার ক্ষমতার দাপট দেখিছে গত সাড়ে ৩ বছরে উপজেলার এমপিওভুক্ত ৭৫টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শূন্য এবং সৃষ্টপদে ২৫৭জন শিক্ষক ও কর্মচারী নিয়োগ দেন। এসময় প্রতিষ্ঠান প্রধানদের জিম্মি করে, প্রার্থীপ্রতি ১২ লাখ থেকে ২৫ লাখ টাকা পর্যন্ত হাতিয়ে নিলেও তিনি প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নে কোনো টাকা দেননি। সমুদয় টাকা তিনি পকেটস্থ করেন। অধিকাংশ অর্থ তার এপিএস আলমগীর সিদ্দিক  টিটো, সাবেক পৌর মেয়র রফিকুল ইসলাম মোড়ল এবং উপজেলা আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক মফিজুর রহমান মফিজের মাধ্যমে নিয়েছেন বলে একাধিক সূত্র জানায়।

কথিত আছে, ঘুষের টাকা হাতে গুনে মিলাতে সমস্যা হওয়ায় এমপির এপিএস টিটো টাকা গোনার মেশিন কিনে আলোচনায় আসেন। কেশবপুরের হিজলডাঙ্গা শহীদ ফ্লাইট লে. মাসুদ মেমোরিয়াল ডিগ্রি কলেজের  ১৬ জন শিক্ষকের কাছ থেকে ৬৪ লাখ ১৫ হাজার টাকা নেয়ার বিষয়ে এপিএস টিটোর বিরুদ্ধে কেশবপুর থানায় শিক্ষকরা অভিযোগ করলেও থানার ওসি এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত অভিযোগটি এজাহার হিসেবে গ্রহণ করেননি।

২০২০ সালে সাবেক জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ইসমাত আরা সাদেক এমপির মৃত্যুর পর কেশবপুরের সংসদীয় আসনটি শূন্য হয়। এর পর উপনির্বাচনে যশোর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহীন চাকলাদার কেশবপুরের এমপি নির্বাচিত হন।

কেশবপুর উপজেলায় বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, মাদ্রাসা ও কলেজসহ মোট ১৩৮টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। এরমধ্যে মাধ্যমিক-নিম্নমাধ্যমিক বিদ্যালয় ৭২টি, দাখিল-ফাজিল মাদ্রাসা ৫৬টি এবং কলেজ রয়েছে আটটি। এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৭৫টি বিদ্যালয়ে সৃষ্ট ও শূন্যপদে অধ্যক্ষ, প্রধান শিক্ষক, সহকারী প্রধান শিক্ষকসহ তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী মিলে মোট ২৫৭ জন নিয়োগ দেন শাহীন চাকলাদার। এসময় ক্ষমতার অপব্যবহার করে প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটির সদস্যদের  জিম্মি করে আবেদনকারীদের মধ্যে যোগ্য প্রার্থীদের বাদ দিয়ে তার পছন্দের প্রার্থীদের চুক্তির মাধ্যমে নিয়োগ দেয়া হয়।

তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীর মধ্যে রয়েছে আয়া, নৈশপ্রহরী, অফিস সহায়ক, কম্পিউটার ল্যাব অপারেটর এবং পরিচ্ছন্নতা কর্মী। এসময় প্রতি প্রার্থীর কাছ থেকে ১২ লাখ টাকা থেকে ১৫ লাখ টাকা পর্যন্ত নেয়া হয়েছে। এ ছাড়া অধ্যক্ষ, প্রধান শিক্ষক ও সহকারী প্রধান শিক্ষক নিয়োগে ২০ লাখ টাকা থেকে ২৫ লাখ টাকা পর্যন্ত নেয়া হয়েছে বলে একাধিক প্রার্থী এই প্রতিবেদকে জানান।
নিয়োগের টাকা বুঝে নেয়া হয়:  সূত্র বলছে, নিয়োগ বাণিজ্যের টাকা শাহীন চাকলাদার সিংহভাগ নিতেন এবং বাকি টাকা তার এপিএস টিটো, মফিজুর রহমান ও সাবেক মেয়র রফিকুল ইসলাম মোড়ল ও তৎকালীন কেশবপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার এমএম আরাফাত হোসেনের মধ্যে ভাগাভাগি হতো। নিয়োগ বাণিজ্যের বিষয়টি ওই সময় কেশবপুরে ওপেন-সিক্রেট  থাকলেও ভয়ে কেউ প্রকাশ্যে মুখ খুলতে সাহস পাননি। অপরদিকে উপজেলার ৩৭টি প্রতিষ্ঠানে শূন্যপদ থাকলেও বিভিন্ন জটিলতায় সে সময় নিয়োগ দেয়া সম্ভব হয়নি বলে জানান উপজেলা শিক্ষা অফিসার জিল্লুর রশীদ।

গত ৫ই আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর সাবেক এমপি শাহীন চাকলাদার, আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক মফিজুর রহমান মফিজ, সাবেক পৌর মেয়র রফিকুল ইসলাম মোড়ল এলাকা ছেড়ে গা ঢাকা দিয়েছেন।
এদিকে, সাবেক এমপি’র এপিএস টিটোকে যৌথ বাহিনী আটক করলেও থানা পুলিশ তার বিরুদ্ধে কোনো মামলা না দিয়ে ৫৪ ধারায় আদালতে প্রেরণ করায় পরের দিনই আদালত থেকে জামিন নিয়ে বাড়ি ফিরেছেন। টিটো যৌথ বাহিনীর হাতে আটক হওয়ার আগে একটি প্রতিষ্ঠানের ১৮ শিক্ষকের কাছ থেকে ৬৪ লাখ ১৫ হাজার টাকা ঘুষ নেয়ার অভিযোগ ওঠে। তার বিরুদ্ধে গত ৩০শে আগস্ট কেশবপুর থানায় একটি অভিযোগ করা হলেও থানার তৎকালীন ওসি তার বিরুদ্ধে মামলা না নিয়ে তাকে ৫৪ ধারায় আদালতে প্রেরণ করেন।

মধ্যকুল আলিম মাদ্রাসার অধ্যক্ষ কফিল উদ্দীন বলেন, তার প্রতিষ্ঠানে দুইজন কর্মচারী নিয়োগের জন্য অন্য খরচ বাদে সাবেক চাকলাদারের এপিএস টিটো তার কাছ থেকে ১০ লাখ ১৫ হাজার টাকা নিয়েছিল।

ইমান নগর এমজিবি দাখিল মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত সুপার শরিফুল ইসলাম বলেন, তার প্রতিষ্ঠানে দুইজন কর্মচারী নিয়োগে এমপির এপিএস টিটো ৩০ লাখ টাকা নিয়েছেন। হাসানপুর দাখিল মাদ্রাসার সুপার আব্দুর রউফ বলেন, তার প্রতিষ্ঠানে কর্মচারী নিয়োগে অর্থ লেনদেনের প্রতিবাদ করায় ৪ মাস এমপি ও তার লোকজন তাকে মাদ্রাসায় ঢুকতে দেয়নি। তিনি এসময় পালিয়ে ছিলেন।
হিজলডাঙ্গা শহীদ ফ্লাইট লে. মাসুদ মেমোরিয়াল কলেজের প্রতিষ্ঠাতা সাবেক অধ্যক্ষ মশিয়ুর রহমান বলেন, তার প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ১৯জন শিক্ষকের কৃষি ডিপ্লোমার বেতন ছাড় করিয়ে দেয়ার কথা বলে তার মাধ্যমে সাবেক এমপি শাহীন চাকলাদারের এপিএস আলমগীর সিদ্দিকী টিটো ৬৪ লাখ ১৫ হাজার টাকা নেন। ২০২২ সালে চুয়াডাঙ্গা কৃষ্ণনগর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে তিনজনকে পিয়ন পদে নিয়োগ দেয়া হয়। এ ছাড়া কেশবপুর পাইলট মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ে দুইজন, বায়সা শ্রীরামপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে চারজন, এবিজিকে ফাজিল মাদ্রাসায় সহকারী অধ্যক্ষসহ তিনজন, ভাণ্ডারখোলা দাখিল মাদ্রাসায় ২ জন, বারুইহাটি পাত্রপাড়া বালিকা দাখিল মাদ্রাসায় ২ জন, বেগমপুর ইসলামিয়া বালিকা দাখিল মাদ্রাসায় সহ-সুপারসহ ২জন, কেশবপুর দারুল উলুম মহিলা ফাজিল মাদ্রাসায় দুইজন, কেশবপুর বাহারুল উলুম কামিল মাদ্রাসায় তিনজন, হাজী আব্দুল মোতালেব মহিলা কলেজে দুইজন, এসএসজি বরণডালী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে চারজন, ত্রিমোহিনী মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ে তিনজন, ত্রিমোহিনী দা. ইসলাম ফাজিল মাদ্রাসায় একজন, চাঁদড়া দাখিল মাদ্রাসায় দুইজন, এসএসজি বরণডালী দাখিল মাদ্রাসায় দুইজন, কপোতাক্ষ সম্মিলনী ডিগ্রি কলেজে চারজনসহ মোট ৭৫টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ২৫৭জনকে নিয়োগ দিয়ে এমপি শাহীন চাকলাদার আয় করেন  প্রায় ৫০ কোটি টাকা।

নিয়োগ বাণিজ্যের বিষয়ে জানতে চাইলে কেশবপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার এএসএম জিল্লুর রশীদ বলেন, শাহীন চাকলাদার এমপি থাকাকালে কেশবপুরে কতোজন শিক্ষক নিয়োগ দেয়া হয়েছে তার সঠিক কোনো পরিসংখ্যান আমার কাছে নেই। কারণ আমি কেশবপুর আসার আগেও নিয়োগ হয়েছে। মাঝখানে আমি ছিলাম না। তারপর আমি আসার পরও নিয়োগ হয়েছে। তার ক্ষমতায় তিনিই নিয়োগ দিয়েছেন এবং লেনদেন যা হয়েছে তিনিই করেছেন। আমি শুধু দাখিল ও মাধ্যমিক স্তরের নিয়োগ কমিটির একজন সদস্য ছিলাম মাত্র।

mzamin