Saturday, December 12, 2009

বাংলাদেশের জলবায়ু-শরণার্থী -চারদিক by মনিরুল আলম

বাংলাদেশের আবহাওয়া শেষ! এতটুকু বলেই আমার ছোট বোনটা দ্রুত জানালা বন্ধ করতে যায়। সবাই মিলে বসেছি দুপুরের খাবার খেতে, ঠিক তখনই শুরু হলো বৃষ্টি। অদিনে বৃষ্টি, সারাক্ষণ ভাপসা গরম আর বন্যা-খরা তো আছেই—জলবায়ু পরিবর্তনের এসব বিরূপ প্রভাব পড়তে শুরু করেছে ইতিমধ্যে। বেশ কয়েক দিন পর পর মৃদু ভূমিকম্প হচ্ছে। বাতাস ভারী হয়ে উঠছে। ভারসাম্যহীন হয়ে উঠছে পরিবেশ। এ জন্য দায়ী উন্নত বিশ্বের শিল্পবর্জ্য, তাদের লোভ-লালসার জন্য সৃষ্ট কর্মকাণ্ড।
সাধারণ মানুষ বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণে না গিয়েও খুব সহজে বুঝতে পারছে, আবহাওয়ায় বড় ধরনের একটা পরিবর্তন হচ্ছে। সাম্প্রতিক সিডর, আইলা, বন্যা, নদীভাঙন, খরা, অতিবৃষ্টি আর পাহাড়ধসের ঘটনা আগের বছরগুলোর চেয়ে অনেক গুণ বেড়েছে—এ কথা নিঃসন্দেহে বলা যায়।
বড় ফুফু দেশের বাড়িতে থাকেন। মুঠোফোনে যোগাযোগ করে বন্যা-পরিস্থিতির কথা বলছিলেন বেশ কিছুদিন আগে। একমাত্র নাতনিকে নিয়ে ঘরে বসে আছেন। চারদিকে বন্যার পানি। সপ্তাহখানেক এই পানির মধ্যে কাটাতে হয়েছে। তার ভাষ্যমতে, আগে এ রকম হয়নি। বন্যা হতো, তবে বাড়িতে পানি উঠত না। কয়েক বছর ধরে ঘরে পানি উঠছে। মাটি ফেলে ঘরভিটি উঁচু করার পরও পানি উঠছে। এখন কী করি, সামনের দিনগুলোতেই বা কেমনে বাঁচব আমরা—উদ্বিগ্ন আমার ফুফু!
জলবায়ুর এই পরিবর্তনে সাধারণ মানুষের করণীয়টা আসলে কী? ঢাকায় বসে যাঁরা এই জলবায়ু নিয়ে চিন্তাভাবনা করছেন, তাঁরাও কি বুঝতে পারছেন, আসলে করণীয়টা কী? বা আমরা কতটুকু করতে পারছি? প্রশ্ন অনেকভাবেই করা যায়, কিন্তু এর সমাধানটা কোথায় বা কোন সময়ে? কিছু বুঝে ওঠার আগেই আমাদের ক্ষতির পাল্লা ভারী হতে শুরু করেছে।
ঘরহারা, ভিটেহারা মানুষ এখন দলে দলে শহরমুখী হতে শুরু করেছে। কিন্তু এটা কি কোনো সমাধানের পথ হতে পারে, নাকি ভালোভাবে বেঁচে থাকার কোনো উপায় এটা? বিশ্বদরবারে ইতিমধ্যে আমরা নিজ দেশে জলবায়ু-শরণার্থী হিসেবে পরিচিতি লাভ করতে শুরু করেছি।
জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে মানুষের অসহায়ত্বই ফুটে উঠেছে। ধনী দেশগুলোর সঙ্গে উন্নয়নশীল দেশগুলোর চলছে টানাপোড়েন। সমান তালে চলছে বিতর্ক, কে কতটুকু ছাড় দেবে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে আক্রান্ত দেশগুলোতে যে শরণার্থী তৈরি হবে, তা এই পৃথিবী আগে কখনো মোকাবিলা করেনি। দারিদ্র্যসীমার নিচে থাকা এই জনপদের মানুষ নিজ প্রচেষ্টায় বেঁচে থাকার জন্য ৫৬ হাজার বর্গমাইলজুড়ে ছুটে বেড়াচ্ছে। এদের সংখ্যা প্রতিবছর বাড়ছে। এর দায় আমরা কীভাবে এড়াব?
আবারও সেই দারিদ্র্য, সেই অনাহারক্লিষ্ট ক্ষুধার্ত জনপদ! হেলিকপ্টার থেকে খাদ্য ছুড়ে ফেলা কিংবা রিলিফের জন্য লম্বা সারি।
এ কথা ভাবলে শিউরে ওঠে বুক। কোপেনহেগেনের দিকে তাকিয়ে আছে এখন সারা বিশ্ব। কিন্তু শোনা যাচ্ছে, উন্নয়নশীল দেশগুলো এই সম্মেলন থেকে কিছুই পাবে না।
পৃথিবীর তাপমাত্রা বাড়তে বাড়তে কোথায় চলে যাবে? পাহাড়ের ওপর থেকে বরফ গলে গলে সমৃুদ্রকে কি পাগল করে দেবে? কার্বন নির্গমন কারা করে, কতটা করে, আর তাতে ক্ষতি হয় কার? এ প্রশ্নগুলোর উত্তর কি কারও জানা নেই? এভাবে চলতে থাকলে কিছুদিন পরই লাখ লাখ মানুষ খাওয়ার পানি পাবে না আর। তখন শুধু বাঁচার তাগিদেই শুরু হবে অভিবাসন। মানুষের সেই বিপুল প্লাবন ঠেকাবে কে? উন্নয়নশীল বিশ্বের এ যুগের শিশুরা কি জানে, তাদের জন্য কী নির্মম ইতিহাস লেখা হচ্ছে?
ছবির বৃদ্ধটি যন্ত্রযানে একাকার মহানগরের এক উড়ালসেতুর ওপর নির্বিঘ্নে ঘুমাচ্ছেন। সত্যি কি নির্বিঘ্নে ঘুমাচ্ছেন? পথে বাড়তে থাকা শকটগুলো বলে দিচ্ছে, এখানে যে পরিমাণ কার্বন মনোক্সাইডের নির্গমন হচ্ছে, তার হাজার গুণ বেশি নির্গমন হচ্ছে উন্নত বিশ্বে। তারই খড়্গ এসে কেটে নেবে উন্নয়নশীল দেশের সব সুখ। বাংলাদেশ কি শুধু কেঁদেই যাবে? ঘুরে দাঁড়াবে না আরেকবার? ঘুরেফিরে সেই প্রশ্নই আমি নিজেকে করি...

সংসদে আসে যে, ফ্রি গাড়ি চড়ে সে -জনপ্রতিনিধি by সোহরাব হাসান

আমাদের ‘মহান’ জনপ্রতিনিধিদের দায়িত্ব জনকল্যাণে আইন প্রণয়ন করা হলেও সুযোগ পেলেই যে তাঁরা আত্মস্বার্থ উদ্ধারে সচেষ্ট থাকেন, তার ভূরি ভূরি উদাহরণ আছে। যে সংসদ যত বেশি অপ্রতিনিধিত্বশীল, গণবিরোধী আইন প্রণয়নে সেই সংসদ তত বেশি সক্রিয়। জিয়াউর রহমানের বহুদলীয় গণতন্ত্রের জয়যাত্রা শুরুই হয়েছিল কুখ্যাত ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ অনুমোদনের মধ্য দিয়ে। আর গণতন্ত্রের আরেক উদ্ধারকর্তা হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ ভোটারবিহীন অষ্টম জাতীয় সংসদে দুটি বিতর্কিত আইন পাস করেছিলেন। এক. ইসলামকে রাষ্ট্রধর্ম ঘোষণা, দুই. সাংসদদের জন্য বিনা শুল্কে গাড়ি আমদানি। এর আগে সাংসদেরা এন্তার বদনাম কুড়ালেও গাড়ি-বাণিজ্য করার প্রথম সুযোগ করে দেন এরশাদই। সে সময়ে স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের দুই সিপাহশালার আওয়ামী লীগ ও বিএনপি সংসদে ছিল না। স্বভাবতই আশা করা গিয়েছিল, গণতান্ত্রিক আমলে সেই গণবিরোধী আইনটি বাতিল হয়ে যাবে। বাস্তবে তা হয়নি। বরং সরকারি ও বিরোধী দলের সাংসদেরা মিলেমিশেই শুল্কমুক্ত গাড়ি আমদানি করেছেন। জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ সব ইস্যুতে তাঁরা বিপরীতমুখী অবস্থান নিলেও বেতন-ভাতা বৃদ্ধি কিংবা শুল্কমুক্ত গাড়ি আমদানিতে পুরোপুরি ঐকমত্য। ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারির বিতর্কিত নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত সংসদ মাত্র নয় দিন স্থায়ী হওয়ায় সাংসদেরা গাড়ি-বাণিজ্য করার সুযোগ পাননি। ১৯৯৬ সালের ১২ জুন এবং ২০০১ সালের ১ অক্টোবরে অনুষ্ঠিত নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত সপ্তম ও অষ্টম সংসদও আইনটি বহাল রাখে এবং সদস্যদের গাড়ি-বাণিজ্যের প্রসার ঘটাতে থাকে।
এক পরিসংখ্যানে জানা যায়, অষ্টম জাতীয় সংসদের সদস্যরা ২৭৫টি বিলাসবহুল গাড়ি আমদানি করে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে ২৮০ কোটি টাকার রাজস্ব থেকে বঞ্চিত করেছেন। বেশির ভাগ সাংসদ ব্যবসায়ীদের কাছে প্রতিটি গাড়ি বিক্রি করে দিয়েছেন মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে।
আইনে আছে, আমদানি করা শুল্কমুক্ত গাড়ি তিন বছরের মধ্যে বিক্রি করা যাবে না। কিন্তু আইনপ্রণেতারা সে প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেননি। শুল্কমুক্ত গাড়ি আমদানির সুযোগ দেওয়া হয়েছিল জনগণের সেবার জন্য। তাঁরা জনসেবা বাদ দিয়ে ব্যক্তিসেবাকেই অগ্রাধিকার দিয়েছেন। সংবিধানের ৭৮ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, সাংসদেরা ব্যক্তিস্বার্থের ঊর্ধ্বে থাকতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। নির্বাচনের পর তাঁরা যে শপথবাক্য পাঠ করেন তাতে স্পষ্ট লেখা আছে—
‘আমি...সংসদ সদস্য, নির্বাচিত হইয়া সশ্রদ্ধচিত্তে শপথ (বা দৃঢ়ভাবে ঘোষণা) করিতেছি যে আমি যে কর্তব্যভার গ্রহণ করিতে যাইতেছি, তাহা আইন অনুযায়ী ও বিশ্বস্ততার সহিত পালন করিব; আমি বাংলাদেশের প্রতি অকৃত্রিম বিশ্বাস ও আনুগত্য পোষণ করিব; এবং সংসদ সদস্যরূপে আমার কর্তব্য পালনকে ব্যক্তিগত স্বার্থের দ্বারা প্রভাবিত হইতে দিব না।’
সাংসদদের শুল্কমুক্ত গাড়ি আমদানির সুযোগ দিয়ে পূর্ববর্তী সরকারগুলো অবৈধ গাড়ি-বাণিজ্যের প্রসার ঘটিয়েছিল। কাজটি ভালো হয়নি তা প্রধানমন্ত্রীও বুঝতে পেরেছেন। এ কারণে তিনি সরকারি গাড়ি দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছেন। এটা কতটা জরুরি সেটাও ভাবতে হবে। কিংবা সরকারি খরচে গাড়ি বিতরণ না করে সেই অর্থ কি জনগণের কল্যাণে ব্যয় করা যেত না? আমাদের সাংসদেরা নির্বাচনের আগে সম্পদের যে হিসাব বিবরণী দিয়েছেন, তাতে প্রমাণিত হয় না যে তাঁরা গরিব। বর্তমান সংসদে অধিকাংশ সদস্য ধনী ও ব্যবসায়ী। নির্বাচন কমিশনের বেঁধে দেওয়া পাঁচ লাখ টাকায় নির্বাচন করেছেন এমন একজনকেও পাওয়া যাবে না। সে ক্ষেত্রে সরকার কেন তাঁদের ফ্রি গাড়ি দেবে? অধিকাংশ সদস্যের এক বা একাধিক গাড়ি আছে। সরকার ফ্রি গাড়ি দিলে তা নির্বাচনী এলাকায় জনগণের সেবায় ব্যবহূত হবে না, ব্যবহূত হবে সাংসদদের পোষ্য ও দলীয় কর্মীদের ব্যক্তিগত কাজে। সরকারি অর্থে কেন তা হবে?
প্রথমে স্পিকার প্রস্তাব করেছিলেন, শুল্কমুক্ত কোটায় বিলাসবহুল নয়, এমন গাড়ি আমদানি করার। গত জুনে সংসদ কমিশনের সভায় প্রধানমন্ত্রী সরকারি খরচে সব সাংসদকে গাড়ি কিনে দেওয়ার প্রস্তাব করেন। অর্থ মন্ত্রণালয়সংক্রান্ত সংসদীয় কমিটি প্রগতি ইন্ডাস্ট্রির মাধ্যমে গাড়ি কেনার প্রস্তাব দেয়। গত ১৬ নভেম্বর প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে স্পিকারের কাছে পাঠানো চিঠিতে বলা হয়, সরকারি অর্থায়নে সংস্থাপন মন্ত্রণালয়ের অধীন সরকারি পরিবহন অধিদপ্তরের মাধ্যমে গাড়ি আমদানি করে সাংসদদের সরবরাহ করা হবে।
সাংসদদের জন্য কেনা এসব গাড়ি হবে জিপ আকৃতির এবং সর্বোচ্চ তিন হাজার সিসির। প্রতিটি গাড়ির দাম ধরা হয়েছে ৪০ থেকে ৪৫ লাখ টাকা (শুল্কমুক্ত)। সে ক্ষেত্রে সরকারের খরচ হবে ১৫০ কোটি টাকা এবং এসব গাড়ির শুল্ক আসবে (৫৯০ দশমিক ২৩ শতাংশ) আরও ৫৫০ কোটি টাকা। সব মিলিয়ে সরকারি খরচের পরিমাণ ৭০০ কোটি টাকা। জ্বালানি ও চালকের বেতন ধরলে আরও কয়েক কোটি টাকা।
উল্লেখ্য, অষ্টম জাতীয় সংসদে ৩০০ আসনের মধ্যে ২২০টিরও বেশি পায় বিএনপির নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট, এরশাদের জাতীয় পার্টি ১৪ এবং আওয়ামী লীগ ৫৮টি। সে ক্ষেত্রে গাড়ি-বাণিজ্যে ক্ষমতাসীন ব্যক্তিরাই বেশি লাভবান হয়েছিলেন। এবার আওয়ামী লীগের সাংসদদের সংখ্যাই ২৬৮। তাঁদের ফ্রি গাড়ি দিয়ে মনে হচ্ছে, গতবারের বঞ্চনা পুষিয়ে নেওয়া হবে।
দ্বিতীয় প্রশ্ন হলো, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় কেন ৩৪৫টি গাড়ি কেনার কথা বলে স্পিকারের কাছে চিঠি লিখল? জাতীয় সংসদে ৩৪৫ জন সদস্য আছেন ঠিকই। কিন্তু তাঁদের মধ্যে স্পিকার, ডেপুটি স্পিকার, প্রধানমন্ত্রী, বিরোধীদলীয় নেত্রী, মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, চিফ হুইপ ও সংসদীয় কমিটির চেয়ারম্যানেরা পদাধিকারবলেই গাড়ি পেয়ে থাকেন। একই ব্যক্তি সরকার বা রাষ্ট্র থেকে দ্বৈত সুবিধা নিতে পারেন না। যাঁরা মন্ত্রী বা অন্য কোনো পদে থেকে গাড়ির সুবিধা পান, তাঁরা কোন যুক্তিতে সাংসদ হিসেবে ফ্রি গাড়ি দাবি করবেন? এর আগে সরকার সাংসদদের নামে ন্যাম ফ্ল্যাট বরাদ্দ করেছিল নামমাত্র ভাড়ায়। তিন দশক ধরেই ‘উদ্বাস্তু’ সাংসদদের ‘মাথা গোঁজার ঠাঁই’ করে দেওয়ার জন্য প্লট বরাদ্দ করা হচ্ছে। তার পরও প্লট ও ফ্ল্যাটপ্রার্থীদের তালিকা ক্রমেই লম্বা হচ্ছে। আগের কথা না-হয় বাদই দিলাম, এ বছর যেসব সাংসদ উত্তরা ও পূর্বাচলে প্লট পেয়েছেন, তাঁদের কজন মাথায় হাত দিয়ে বলতে পারবেন, এই ঢাকা শহরে নিজের বা স্ত্রী-পুত্র-কন্যার নামে কোনো জমি বা ফ্ল্যাট নেই। অর্থাত্ ব্যক্তিস্বার্থে তাঁরা মিথ্যার আশ্রয় নিচ্ছেন। এ ধরনের জনপ্রতিনিধিদের কাছ থেকে জনগণ কী আশা করতে পারে?
বাংলাদেশে যখন সব সরকারই দলীয় প্রভাব-প্রতিপত্তি বাড়াতে সাংসদদের বাড়ি-গাড়ি দিচ্ছে, তখন দেখা যাক অন্যান্য দেশের হাল কী? প্রতিবেশী দেশ ভারতে সাংসদদের (লোকসভা ও রাজ্যসভা) কোনো গাড়ি দেওয়া হয় না। তবে তাঁরা সরকারি খরচে বিমানে এক্সিকিউটিভ ক্লাসে ও ট্রেনে প্রথম শ্রেণীতে ভ্রমণ করতে পারেন। অন্যদিকে অধিবেশন চলাকালে সদস্যদের চাহিদার ভিত্তিতে রাজ্যসভা ও লোকসভা সচিবালয় থেকে গাড়ি সরবরাহ করা হয় তাঁদের বাসভবন থেকে আনা-নেওয়ার জন্য। এ জন্য তাঁদের প্রতিবার পাঁচ টাকা করে দিতে হয়।
মালয়েশিয়ার সাংসদেরা সরকারি কাজে বা বৈঠকে যোগ দিতে নিজের গাড়ি ব্যবহার করলেও প্রথম শ্রেণীর ভাড়া দাবি করতে পারেন। গাড়ির জন্য ব্যাংক ঋণ পেলেও বিনা মূল্যে গাড়ি পান না।
শ্রীলঙ্কায় সাংসদদের সরকারি খরচে বাড়ি, অফিস, নিরাপত্তারক্ষী ও স্টেশনারি দেওয়া হলেও গাড়ি দেওয়া হয় না। পাকিস্তানেও সংসদীয় কমিটির চেয়ারম্যান ছাড়া অন্যরা গাড়ি পান না।
গণতন্ত্রের সূতিকাগার বলে পরিচিত ব্রিটেনে সাংসদদেরও গাড়ি দেওয়া হয় না। তাঁরা নির্দিষ্ট হারে বাড়িভাড়া পান। গত জুলাইয়ে কমন্স সভার বেশ কিছু সদস্য ভুয়া বাড়িভাড়া উত্তোলন করায় ব্যাপক হইচই হয়েছিল। যে কারণে স্পিকারকেও পদত্যাগ করতে হয়। ভারতেও দুর্নীতির দায়ে অনেক কেন্দ্রীয় ও মুখ্যমন্ত্রীকে জেল খাটতে হয়েছে। আর আমাদের দেশে দুর্নীতিবাজেরা বরাবরই ধরাছোঁয়ার ঊর্ধ্বে থাকেন। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বহুল আলোচিত দুর্নীতিবিরোধী অভিযানও বজ্র আঁটুনি ফসকা গেরোয় পরিণত হয়।
সরকারি খরচে সাংসদদের গাড়ি দেওয়াকে অনেকে মন্দের ভালো বলেছেন। এতে অন্তত সাংসদদের অবৈধ গাড়ি-বাণিজ্য বন্ধ হবে। তার পরও বলব, সব সাংসদকে ফ্রি গাড়ি দেওয়ার যুক্তি নেই। বরং যাদের গাড়ি নেই তাদের গাড়ির জন্য স্বল্প সুদে ঋণ দেওয়া যেতে পারে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রায়ই বলেন, জনগণ আমাদের কী দিয়েছে, সে চিন্তা না করে জনগণকে কী দিতে পেরেছি সেটাই ভাবতে হবে। কিন্তু সাংসদদের ফ্রি গাড়ি দেওয়ার সিদ্ধান্তে ‘জনগণকে কী দিতে পারি’ তার চেয়ে ‘জনগণ থেকে কী নিতে পেরেছি’ সেটাই বেশি গুরুত্ব পেয়েছে।
সাংসদদের প্রধান কর্তব্য আইন পাস করা, সংসদে গিয়ে জনগণের পক্ষে কথা বলা। নবম জাতীয় সংসদ শুরু হওয়ার পর প্রথম অধিবেশনে কয়েক দিন ছাড়া বিরোধী দল পুরো সময়টা গরহাজির থেকেছে। তার পরও বেতন-ভাতা নিতে রাষ্ট্রীয় অর্থে বিদেশভ্রমণ করতে অসুবিধা হয়নি। আমাদের সাংসদেরা নির্বাচনের আগে একনিষ্ঠ জনসেবক থাকেন, নির্বাচিত হওয়ার পর আত্মসেবক ও দলসেবক হয়ে যান। এই ‘দুরারোগ্য ব্যাধির’ উপশম কী?
সোহরাব হাসান: সাংবাদিক।
sohrab03@dhaka.net

ইসলামে মৌলিক মানবাধিকার -ধর্ম by মুহাম্মদ আবদুল মুনিম খান

ইসলামে মানবজাতির দৈনন্দিন জীবনযাত্রার প্রয়োজনীয় উপকরণ পাঁচটি মৌলিক অধিকার; যথা—অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা ও চিকিত্সা। এসব চাহিদা পূরণের যথার্থ ব্যবস্থা রয়েছে। ইসলামের বিধান অনুযায়ী, কোনো হতদরিদ্র ও অভাবী নাগরিক অন্নহীন, বস্ত্রহীন ও আশ্রয়হীন হয়ে পড়লে রাষ্ট্র তার দুঃখ-দুর্দশা মোচন করার জন্য সর্বপ্রকার সাহায্য-সহায়তা করবে। তাই প্রাকৃতিক দুর্যোগ-দুর্বিপাকে কেউ ক্ষুধার্ত, তৃষ্ণার্ত, পীড়িত, ক্ষতিগ্রস্ত, অভাবগ্রস্ত, বিপদগ্রস্ত বা শীতার্ত হয়ে পড়লে তাদের প্রতি অত্যন্ত সদয় হওয়া, তাদের দুঃখ-দুর্দশা মোচনে যথাসাধ্য চেষ্টা করা ধর্মপ্রাণ মানুষের অবশ্যকর্তব্য ও ঈমানি দায়িত্ব। অসুস্থ ও রুগ্ণ লোকের চিকিত্সা এবং সেবা-যত্ন করা, ক্ষুধার্তকে অন্নদান করা, বস্ত্রহীনকে বস্ত্রদান করা, নিরাশ্রয়কে আশ্রয়দান করা, বিদ্যাহীনকে বিদ্যাশিক্ষা দেওয়া, বিপথগামীকে সত্পথ প্রদর্শন করা প্রভৃতি মানবসেবা ও জনকল্যাণমূলক কাজ ইসলামের পরিভাষায় খিদমতে খালকের অন্তর্ভুক্ত। মানুষের মধ্যে সে-ই উত্তম ব্যক্তি যে মানবতার কল্যাণে নিয়োজিত। হাদিস শরিফে বর্ণিত আছে, ‘যে ব্যক্তি নিজে পেট ভরে খায় আর তার প্রতিবেশী তার পাশে ক্ষুধার্ত অবস্থায় থাকে, সে প্রকৃত ঈমানদার নয়।’ (বায়হাকি)
দেশের মৌলিক অধিকারবঞ্চিত ক্ষতিগ্রস্ত হতদরিদ্র মানুষের পরিবার চরম খাদ্যাভাবে নিপতিত। তাদের কারও দিনে একবেলাও খাদ্য-পানীয় জোটে না, কেউ কাজের সন্ধানে বাইরে ছড়িয়ে পড়লেও জীবিকার্জনের মতো তেমন কিছু পাওয়া যায় না। নিঃস্ব ও বিপন্ন এসব অসহায় ধর্মভীরু মানুষের জীবনধারণের মৌলিক অধিকার পূরণের জন্য দরকার প্রচুর পরিমাণে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যদ্রব্য, বিশুদ্ধ খাবার পানি, শীতবস্ত্র ও পরিধানের কাপড়চোপড়, আবাসস্থল, গৃহনির্মাণের উপকরণ ও আসবাবপত্র, শিক্ষার উপকরণ, চিকিত্সার সামগ্রী প্রভৃতি। অসহায় নারী ও শিশুদের চিকিত্সাসেবার জন্য অন্তত সব সময় জরুরি ঔষধপথ্য হাতের কাছে রাখা প্রয়োজন। এ জন্য রাসূলুল্লাহ (সা.) জনগণকে উদাত্ত আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, ‘তোমরা ক্ষুধার্তকে খাদ্য দাও, রুগ্ণ ব্যক্তির সেবা করো এবং বন্দীকে মুক্ত করো অথবা ঋণের দায়ে আবদ্ধ ব্যক্তিকে ঋণমুক্ত করো।’(বুখারি)
প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের মুহূর্তে অসহায় নিরন্ন মানবতার সাহায্য-সহযোগিতায় চেষ্টা করা দলমতনির্বিশেষে সব শ্রেণী-পেশার ধর্মপ্রাণ মানুষের অবশ্যকরণীয়। তাই আর্তমানবতার বিপদের সময় ক্ষতিগ্রস্ত লোকদের সেবায় ও মৌলিক মানবাধিকার রক্ষায় এগিয়ে এসে প্রত্যেক মুমিন মুসলমানের তাদের পাশে দাঁড়ানো উচিত। বিপদগ্রস্ত লোকেরা সাহায্যের অর্থ, ত্রাণসামগ্রী, খাদ্য, বস্ত্র, ঔষধ, খাবার স্যালাইন, বিশুদ্ধ পানি বা অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রে খুবই উপকৃত হয়। পক্ষান্তরে সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও যারা আল্লাহর সর্বশ্রেষ্ঠ সৃষ্টি মানুষের অভাব ও দুর্দিনে এগিয়ে আসবে না, মৌলিক মানবাধিকার রক্ষা করবে না এবং আর্তমানবতার সেবায় উদ্বুদ্ধ হবে না, আল্লাহর কাছে অবশ্যই তাদের দায়বদ্ধতা ও জবাবদিহিতা করতে হবে। অসহায় নিঃস্ব হতদরিদ্র মানুষ ইসলাম প্রদত্ত মৌলিক মানবাধিকার হারিয়ে কতটা সীমাহীন দুঃখ-কষ্টের মধ্যে পড়ে তা সহজেই অনুমেয়। ইসলামের সর্বশেষ ও সর্বশ্রেষ্ঠ বিশ্বনবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) বাণী প্রদান করেছেন, ‘তোমরা পৃথিবীর অধিবাসীদের প্রতি দয়া প্রদর্শন করো, তাহলে আকাশের অধিবাসী (‘আল্লাহ তাআলা) তোমাদের প্রতি দয়া প্রদর্শন করবেন।’(তিরমিযি)
যাঁরা অসহায়, বিপদগ্রস্ত, অভাবী, গরিব-দুঃখী এবং অন্ন, বস্ত্র, চিকিত্সা, বাসস্থানহীন মৌলিক অধিকারবঞ্চিত মানুষকে ত্রাণসাহায্য করেন, আল্লাহ তাআলা তাঁদের প্রতি অত্যন্ত সন্তুষ্ট হন। এ সম্পর্কে হাদিসে কুদসিতে বর্ণিত আছে, নবী করিম (সা.) বলেছেন, “আল্লাহ তাআলা কিয়ামতের দিন (মানুষের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে) বলবেন, ‘হে আদম সন্তান! আমি অসুস্থ ছিলাম, তুমি আমার সেবা করোনি।’ সে (মানুষ অবাক হয়ে) বলবে, ‘হে প্রভু, আপনি তো বিশ্বজগতের প্রতিপালক! কীভাবে আপনার সেবা করব?’ আল্লাহ বলবেন, ‘আমার অমুক বান্দা পীড়িত অবস্থায় কষ্ট পাচ্ছিল, তুমি তার সেবা করোনি। তুমি কি জানতে না তার সেবা করলে তুমি আমাকে তার কাছে পেতে? হে আদম সন্তান! আমি তোমার কাছে খাবার চেয়েছি, তুমি খাবার দাওনি।’ সে বলবে, ‘হে প্রভু, আপনি তো জগত্সমূহের প্রতিপালক! কীভাবে আপনাকে খাবার দিব?’ আল্লাহ বলবেন, ‘আমার অমুক বান্দা ক্ষুধার্ত হয়ে তোমার কাছে গিয়েছিল, তুমি তাকে খাদ্য দাওনি। তুমি কি জানতে না যে, তাকে খাবার দিলে তুমি তার প্রতিদান আমার কাছে পেতে? হে আদম সন্তান! আমি তোমার কাছে পান করতে চেয়েছি অথচ তুমি আমাকে পান করাওনি।’ সে বলবে, ‘হে প্রভু, আপনি তো জগত্সমূহের প্রতিপালক! কীভাবে আপনাকে পান করাব?’ আল্লাহ বলবেন, ‘আমার অমুক বান্দা তৃষ্ণার্ত হয়ে তোমার কাছে পান করতে চেয়েছে অথচ তুমি তাকে পান করাওনি। তুমি তাকে পান করালে তার প্রতিদান আমার কাছে পেতে এবং আমি সন্তুষ্ট হতাম’।” (মুসলিম)
বাস্তুহারা, সম্পদহারা, স্বজনহারা, সহায়-সম্বলহীন আর্তপীড়িত মানুষ চরম ধৈর্য ও দুঃসাহসিকতার সঙ্গে দুর্যোগ পরিস্থিতি মোকাবিলা করে নিজেদের পায়ে দাঁড়ানোর আপ্রাণ চেষ্টায় মহান সৃষ্টিকর্তার কাছে শক্তি ও সামর্থ্যের জন্য সাহায্য-সহযোগিতা প্রার্থনা করে। এসব অসহায় অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান ও চিকিত্সাহীন বিপন্ন-বিষণ্ন নিঃস্ব মানুষ দেশবাসীর কাছ থেকে একটু মানবিক সাহায্য-সহানুভূতি, সৌহার্দ্য-ভ্রাতৃত্ব এবং দয়ার্দ্র হূদয়ের প্রেম-প্রীতি ও ভালোবাসা আশা করে। চরম দারিদ্র্য ও ক্ষুধার কষ্ট ভোগ করা জনগণের অনুপাত অর্ধেকে নামিয়ে আনতে সহস্রাব্দের উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে ধর্মীয় নেতা বা ইমামদের সমাজে দারিদ্র্য দূরীকরণ ও অর্থনৈতিক মুক্তির জন্য উদ্বুদ্ধকরণের কাজে ব্যাপকভাবে সম্পৃক্ত করতে হবে। আর্তমানবতার মৌলিক মানবাধিকার রক্ষায় ক্ষুধা ও দারিদ্র্য বিমোচন, অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং বেকার সমস্যা সমাধানে জাকাতভিত্তিক ইসলামি অর্থব্যবস্থার অপরিহার্য বৈশিষ্ট্য জাকাত বণ্টনের খাতসমূহ এ লক্ষ্যেই নিবেদিত। প্রাকৃতিক দুর্যোগে নিপতিত সমাজের নিরন্ন অসহায়, হতদরিদ্র, অভাবগ্রস্ত ও ক্ষতিগ্রস্ত লোকদের আর্থিক সাহায্য প্রদানের মাধ্যমে তাদের ত্রাণ ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থায় দেশ থেকে ক্ষুধা নিবারণ ও দারিদ্র্য বিমোচনে সহায়ক হয়। বিভিন্ন ক্ষেত্রে সমাজের বিত্তবান ও ধনাঢ্য সচ্ছল ব্যক্তিদের জাকাত, দানশীলতা ও ত্যাগ-তিতিক্ষার ফলে মানুষের মৌলিক অধিকার রক্ষা করে ধীরে ধীরে পারিবারিক, সামাজিক, অর্থনৈতিক ও জাতীয় সচ্ছলতার উপায় সহজ ও সুগম হতে পারে।
বিভিন্ন এলাকার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, মক্তব, মাদ্রাসা, মসজিদ ও ধর্মীয় উপাসনালয়ে প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষাসামগ্রী বা উপকরণ যত শিগগির সম্ভব বিনামূল্যে বই-খাতা-কলম হাতে তুলে দিয়ে দেশের প্রত্যন্ত এলাকার শিশু-কিশোর-আবাল-বৃদ্ধ-বণিতার প্রতিটি সদস্যকে শিক্ষিত করে তুলতে সর্বজনীন প্রাথমিক শিক্ষা বাস্তবায়ন করা খুবই জরুরি। পবিত্র কোরআনের বাণী ‘ইক্রা’র চেতনায় ও সুন্নাহর শিক্ষার আলোকে উন্নত করতে হবে জাতিকে। নবী করিম (সা.) জ্ঞানার্জনের প্রতি সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়ে বজ্রকণ্ঠে ঘোষণা করেছেন, ‘বিদ্যা অন্বেষণ করা প্রত্যেক মুসলমান নর-নারীর ওপর ফরজ।’ (ইবনে মাজা) রাসূলুল্লাহ (সা.) আরও বলেছেন, ‘তোমরা দোলনা থেকে কবর পর্যন্ত শিক্ষা অর্জন করো।’ (তিরমিযি)
তাই সহস্রাব্দের উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে দেশের বিভিন্ন এলাকার ছেলেমেয়েরা যাতে প্রাইমারি স্কুলে পূর্ণ শিক্ষাক্রম সম্পন্ন করতে পারে তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে মৌলিক মানবাধিকার রক্ষায় অশিক্ষিত ও নিরক্ষর মানুষকে পুনর্বাসনের মাধ্যমে সর্বজনীন প্রাথমিক শিক্ষা অর্জনে উত্সাহিত করতে হবে। ইসলামই সর্বপ্রথম মানুষের সর্বজনীন অধিকার নিশ্চিত করেছে। পবিত্র কোরআন ও হাদিসের আলোকে ইসলামে মানবজাতির গণতান্ত্রিক মৌলিক অধিকারসহ জাতি-ধর্ম-বর্ণনির্বিশেষে সব ক্ষেত্রে ন্যায় ও ইনসাফভিত্তিক জীবনবিধান ও আইন-কানুন প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে মানবাধিকার সংরক্ষণের পূর্ণাঙ্গ ব্যবস্থা করা হয়েছে। যখন সমাজে ইসলামি বিধি-বিধান ও ধর্মীয় অনুশাসন পরিপূর্ণরূপে অনুশীলন করা হবে এবং সামগ্রিকভাবে তা বাস্তবায়িত হবে তখন অসহায় মানুষ আর মৌলিক মানবাধিকারবঞ্চিত থাকবে না।
ড. মুহাম্মদ আবদুল মুনিম খান: সহকারী অধ্যাপক, ইসলামিক একাডেমি, দারুল ইহসান বিশ্ববিদ্যালয়।
dr.munimkhan@yahoo.com

যশোর টাউন হল ময়দানে নির্মিত হোক স্বাধীনতার স্মারকস্তম্ভ -কপোতাক্ষ-মধুমতীর তীর থেকে by আমিরুল আলম খান

ছাব্বিশে মার্চ থেকে ষোলোই ডিসেম্বর। মুক্তিযুদ্ধের নয় মাস। এই নয় মাসে বাঙালি তার অভূতপূর্ব বীরত্ব প্রদর্শন করে, অসম এক যুদ্ধে অবিস্মরণীয় বিজয় অর্জন করে। এ জন্য তাদের স্বীকার করতে হয় অপরিমেয় ত্যাগ। মানুষের রক্ত আর সম্পদ মিলেমিশে একাকার হয়ে গেছে, লুণ্ঠিত হয়েছে নারীর সম্ভ্রম। অবাক পৃথিবী প্রত্যক্ষ করে বীর বাঙালির গৌরবময় প্রতিরোধ সংগ্রাম, একটি নতুন জাতির অভ্যুদয়। বিশ্বের তাবত্ ছোট-বড়, এমনকি দুই পরাশক্তি কোনো না কোনোভাবে, পক্ষে অথবা বিপক্ষে, অবস্থান নিয়েছে বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধের। কেউ মুক্তিযুদ্ধকে অনিবার্য বিজয়ের দিকে এগিয়ে নিতে সাহায্যের হাত বাড়িয়েছে, কেউ তাকে ব্যর্থ করে দিতে অপতত্পরতা চালিয়েছে। এভাবেই ষোলোই ডিসেম্বর এক অনিবার্য বিজয়ের মধ্য দিয়ে শেষ হয় আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধ।
মুক্তিযুদ্ধে যশোর ছিল ৮ নম্বর সেক্টরে। সেক্টর কামান্ডার ছিলেন মেজর মঞ্জুর। তাঁর অধীনে ছিলেন ক্যাপ্টেন আবু ওসমান চৌধুরী ও ক্যাপ্টেন নাজমুল হুদা। এই সেক্টরের লক্ষ্য ছিল যশোর ক্যান্টনমেন্টসহ পুরো যশোর-কুষ্টিয়াকে শত্রুমুক্ত করা। কলকাতার নিকটবর্তী যশোর ক্যান্টনমেন্ট ছিল পাকিস্তানের অন্যতম দুর্ভেদ্য দুর্গ। যশোর ক্যান্টনমেন্টের গুরুত্ব বোঝা যায় এই সেনা স্থাপনার পতনের পর ৭ ডিসেম্বরই—গভর্নর আবদুল মালেক পূর্বাঞ্চলের সেনাধ্যক্ষ নিয়াজির অভিমত উদ্ধৃত করে যে দুর্গতবার্তা প্রেরণ করেন প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়ার কাছে তা থেকে। সে বার্তায় গভর্নর মালেক জানান, ‘যশোরের বিপর্যয়ের ফলে প্রদেশের পশ্চিমাঞ্চলের পতন প্রায় আসন্ন... ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে প্রতিশ্রুত বৈদেশিক সহায়তা না পাওয়া গেলে জীবন রক্ষার জন্য বরং ক্ষমতা হস্তান্তরের ব্যাপারে আলোচনা শুরু করা বাঞ্ছনীয়।’ মার্কিন হস্তক্ষেপ কামনায় সে বার্তা রাওয়ালপিন্ডি হয়ে চলে যায় হোয়াইট হাউস পর্যন্ত। এই প্রথম পাকিস্তান কর্তৃপক্ষ ১৯৭০-এর নির্বাচনে বিজয়ী আওয়ামী লীগ তথা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরকে একমাত্র সমাধানের পথ বলে স্বীকৃতি দেয়।
১৯৭১-এর প্রতিটি দিন ছিল বাঙালির লক্ষ্য অর্জনের সংগ্রামের দিন। কোনো কোনো দিন পরম গৌরবের, কোনোটি বা হয়তো ছিল কালো তমসাবৃত। জয়-পরাজয়ের পরম্পরায় রচিত সে এক বিচিত্র শ্বাসরুদ্ধকর ইতিহাস।
মুক্তিযুদ্ধ শুরুর প্রথম পর্বেই যশোরে গড়ে তোলা প্রতিরোধ ছিল রীতিমতো অবিশ্বাস্য। ২৯ মার্চ পর্যন্ত যশোরে যে প্রতিরোধ যুদ্ধ চলে তার বিস্তারিত বয়ান পাওয়া যায় বিবিসি, ভোয়া, অস্ট্রেলীয় বেতারসহ দুনিয়ার নামকরা সব সংবাদমাধ্যম ও সংবাদপত্রের পৃষ্ঠায় পৃষ্ঠায়। ৩০ মার্চ পর্যন্ত যশোর ছিল মুক্তিপাগল প্রায়-নিরস্ত্র বাঙালিদের দখলে, ক্যান্টনমেন্ট ছিল কার্যত অবরুদ্ধ। সেনাছাউনি থেকে পাকিস্তানি সেনাদের বেরিয়ে আসার সব রাস্তায় ছিল ব্যারিকেড, প্রতিরোধ। ৩০ মার্চ রাতে ক্যান্টনমেন্টের অভ্যন্তরে বেঙ্গল রেজিমেন্টের সেনারা অস্ত্র সমর্পণের হুকুম অমান্য করে বিদ্রোহ করে। ৩০-৩১ মার্চের সেই অসম কিন্তু বীরত্বপূর্ণ লড়াইয়ে বেঙ্গল রেজিমেন্টের অকুতোভয় সেনারা দেশমাতৃকার জন্য জীবন উত্সর্গ করে স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের রাজপথ আপন রক্তে রঞ্জিত করে দেয়। সেই রক্তাক্ত পথ ধরেই অর্জিত হয় বাংলাদেশের বহু কাঙ্ক্ষিত স্বাধীনতা।
আমাদের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে বিশেষ কিছু দিন স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে। ২৬ মার্চ, ১৬ ডিসেম্বর ছাড়াও ১৭ এপ্রিল যেমন স্মরণীয়, তেমনি স্মরণীয় ৬ ডিসেম্বর, ১১ ডিসেম্বরও। ৬ ডিসেম্বর ভারত স্বীকৃতি জানায় স্বাধীন বাংলাদেশকে; আর এদিনই সন্ধ্যায় পতন ঘটে স্ট্যালিনগ্রাড বলে কথিত যশোর ক্যান্টনমেন্টের। ৭ ডিসেম্বর বিজয়-উল্লাসে নৃত্যরত হাজার হাজার মুক্তিসেনা আর মুক্তিপাগল মানুষ প্রবেশ করে প্রথম শত্রুমুক্ত জেলা যশোর শহরে। সে এক অবিস্মরণীয় মুহূর্ত। একদিকে বিজয়ের আনন্দ, অন্যদিকে স্বজন হারানোর বেদনা। আনন্দ-বেদনার সঘন মুহূর্তকে ভাষা দেবে সাধ্য কার! উপশহর, মুরগি ফার্মে গণকবরে অসংখ্য নরকঙ্কাল আবিষ্কারের মতো শোকবিধুর দৃশ্য আজও যশোরবাসীকে কান্নার সাগরে ভাসায়।
যশোর দুর্গের পতন হানাদার বাহিনীর মনোবল গুঁড়িয়ে দেয়। কিন্তু ৯ ডিসেম্বর মার্কিন প্রেসিডেন্ট রিচার্ড নিক্সন প্রশান্ত মহাসাগর থেকে সপ্তম নৌবহরকে পাকিস্তানিদের সাহায্যে বঙ্গোপসাগরের উদ্দেশে রওনা হওয়ার নির্দেশ দিলে পরিস্থিতি জটিল হয়ে ওঠে। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের জরুরি সভা চলছে, নিরাপত্তা পরিষদে যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব সোভিয়েত ভেটোয় নাকচ হয়েছে বটে, কিন্তু মার্কিন নেতৃত্বে আন্তর্জাতিক কূটকৌশল তখনো অব্যাহত।
মেজর জলিলের নেতৃত্বে নবম সেক্টরের বাহিনী সাতক্ষীরা শত্রুমুক্ত করে খুলনার দিকে ধাবিত হচ্ছে। কিন্তু তখনো শত্রুসেনা যশোর শহরের উপকণ্ঠ রামনগরে অবস্থান নিয়ে আছে। এ ছাড়া পাকিস্তানি সেনাদের অবস্থান সিঙ্গিয়া, নোয়াপাড়া, ফুলতলায় ও শিরোমনিতে। শক্ত অবস্থান নিয়ে তারা মুক্তিবাহিনীর অগ্রযাত্রাকে বাধাগ্রস্ত করে রেখেছে। যশোর শহর তখনো পাকিস্তানি সেনাদের কামানের গোলার আওতায়। সুতরাং যশোর শহর তখনো সম্পূর্ণ নিরাপদ নয়।
এমনই এক পরিস্থিতির মধ্যে ১১ ডিসেম্বর বাংলাদেশের প্রথম শত্রুসেনামুক্ত জেলা শহর যশোরের প্রাণকেন্দ্র টাউন হল ময়দানে এক বিজয় সভা করে বাংলাদেশ সরকার। সে সভায় যোগদান করেন প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদ, ফণীভূষণ মজুমদারসহ অন্য শীর্ষস্থানীয় নেতারা। মাত্র মাইল কয়েক দূরে তখনো শত্রুর অবস্থান, কিন্তু বাংলাদেশ সরকারের অকুতোভয় প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদসহ মন্ত্রীরা সব শঙ্কা-ভয় উপেক্ষা করে শামিল হন বিজয়ী দেশবাসীর সঙ্গে তাদের বীরত্বকে অভিবাদন জানাতে, স্বাধীনতার সমুজ্জ্বল মুহূর্তকে দেশবাসীর সঙ্গে ভাগ করে নিতে।
টাউন হল ময়দানে উত্ফুল্ল জনতার মিছিল। মুক্তিসেনাদের এক হাতে রাইফেল, অন্য হাতে বাংলাদেশের মানচিত্রখচিত লাল-সবুজ-সোনালি স্বাধীন দেশের পতাকা। এক চক্ষু বেয়ে বিজয়ের আনন্দাশ্রু, অন্য চক্ষু বেয়ে নেমে আসছে স্বজন হারানোর বেদনায় বুকভাঙা কান্নার অবিশ্রান্ত অশ্রুধারা। হাজার হাজার মানুষের কণ্ঠে ধ্বনিত-প্রতিধ্বনিত হচ্ছে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান। দেশি-বিদেশি সাংবাদিক গোটা টাউন হলজুড়ে এই অবিস্মরণীয় মুহূর্তকে ধারণ করেন। রাতেই বিশ্বব্যাপী সেই সংবাদ প্রচারিত হয় দুনিয়ার সেরা সব সংবাদমাধ্যমে।
এই সভায় দুটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেন প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদ। জেলা প্রশাসন চালু ও ধর্মভিত্তিক রাজনীতি নিষিদ্ধ করার ঘোষণা দেন তিনি। যশোরে প্রতিষ্ঠিত হয় স্বাধীন বাংলাদেশে প্রথম জেলা প্রশাসন। বাংলাদেশ সরকারের প্রথম জেলা প্রশাসক হিসেবে ওয়ালিউল ইসলাম যশোর জেলার দায়িত্ব লাভ করেন। নিষিদ্ধ ঘোষিত হয় জামায়াতে ইসলামী ও নেজামে ইসলামীর মতো ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দল। এই দুটি দল ও মুসলিম লীগসহ অন্য কিছু দক্ষিণপন্থী রাজনৈতিক দল শুধু বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের বিরোধিতা করেনি, নয় মাস ধরে তারা বাঙালিদের ওপর অমানবিক নির্যাতন চালিয়েছে। খুন, ধর্ষণ, লুণ্ঠন, অগ্নিসংযোগের মতো অমার্জনীয় অপরাধ করে তারা। মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধের জন্য সেই নরপশুদের শাস্তির দাবিতে প্রকম্পিত হয় টাউন হল ময়দান।
আজও যশোরবাসীর কাছে ৬ ও ১১ ডিসেম্বর বিশেষ তাত্পর্যমণ্ডিত, বিশেষ গৌরবের দিন। যশোরবাসী তাই এ দুটি দিবস উদ্যাপন করে হূদয়ের সব শ্রদ্ধার নির্যাস ঢেলে দিয়ে। শ্রদ্ধা জানায় শহীদদের আত্মার প্রতি, প্রণত হয় বীর মুক্তিযোদ্ধাদের অবদানের প্রতি।
কিন্তু একটি আকাঙ্ক্ষা আজও পূরণ হয়নি যশোরবাসীর। যে টাউন হল ময়দানে বাংলাদেশ সরকার প্রথম জনসভা করেছিল, যেখানে বক্তৃতা করেছিলেন তাজউদ্দীন আহমদ, ফণীভূষণ মজুমদার ও স্থানীয় নেতারা—টাউন হলের সেই স্থানটিতে আজও কোনো স্মারকস্তম্ভ নির্মিত হয়নি। আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধের এই বিশেষ তাত্পর্যপূর্ণ স্থানটি আগামী প্রজন্মের কাছে স্মরণীয়, সম্মানীয় করে তোলার জন্য এখনই সময় তেমন উদ্যোগ নেওয়ার।
আমিরুল আলম খান: শিক্ষাবিদ।
amirulkhan570@gmail.com

প্রতিমন্ত্রীর বাসায় সৌরবিদ্যুৎ - উৎসাহজনক বার্তাটি কি সবার কাছে যাচ্ছে?

কোপেনহেগেনে যখন জাতিসংঘ জলবায়ু সম্মেলন শুরু হলো, ঠিক তখন ঢাকায় বন ও পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী হাছান মাহমুদ তাঁর সরকারি বাসভবনে সৌরবিদ্যুৎ-ব্যবস্থা চালু করে তাত্পর্যপূর্ণ উদাহরণ স্থাপন করলেন। প্রতীকী হলেও এর মূল্য অনেক। দুই কিলোওয়াটের এই সৌরবিদ্যুৎ প্যানেলে বাসার জরুরি কাজগুলো নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করা যাবে। প্রতিদিন দুই ঘণ্টা করে এই বিদ্যুত্ ব্যবহার করলে দুই টন কার্বন নিঃসরণ কমবে। সারা দেশে সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার বৃদ্ধির ব্যবস্থা হলে নিঃসন্দেহে তা কার্বন নির্গমন কমিয়ে আনার ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখবে।
তবে শর্ত দুটি। প্রথমত, আমাদের মতো উন্নয়নশীল দেশে সৌরবিদ্যুৎ প্যানেলের দাম সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে নামিয়ে আনতে না পারলে সুফল পাওয়া যাবে না। একটি দুই কিলোওয়াট প্যানেলের দাম প্রায় চার লাখ টাকা। এটা সাধারণের নাগালের বাইরে। তাও দূরবর্তী গ্রাম ও বিচ্ছিন্ন চরাঞ্চলে সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার বাড়ছে। তবে তা এখনো কেবল অবস্থাপন্ন গৃহস্থদের ঘরেই শোভা পায়। এটি সাধারণের নাগালের মধ্যে নিয়ে আসতে পারলে দুটি লাভ। শুধু যে কার্বন নিঃসরণ হ্রাস পাবে তা-ই নয়, তেল-গ্যাস পুড়িয়ে বিদ্যুৎ উত্পাদন বৃদ্ধির চাপও কমিয়ে আনা যাবে।
আমাদের দেশে সৌরচুল্লি ব্যবহারেরও বিরাট সুযোগ রয়েছে। প্রায় তিন দশক আগেই আমাদের বিজ্ঞানাগারে সৌরচুল্লি উন্নয়নের গবেষণা চলেছে। একটি চকচকে ধাতব পদার্থের ডিশে প্রতিফলিত সূর্যের আলো কেন্দ্রীভূত করে অনায়াসে ভাত-তরকারি রান্না ও চা বানানো যেতে পারে। দামে সস্তা কিন্তু কাজে দামি এই চুল্লির ব্যাপক প্রচলনের যে সুযোগ রয়েছে, তার সদ্ব্যবহার করা উচিত।
প্রশ্ন হলো, প্রতিমন্ত্রী সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারের যে উদাহরণ স্থাপন করলেন, তার অন্তর্নিহিত বার্তাটি কি সবাই ঠিকমতো বুঝে নিচ্ছেন? একই দিন প্রথম আলোয় প্রকাশিত খবরে দেখা যাচ্ছে, কক্সবাজারের চকরিয়ায় সংরক্ষিত বনের মধ্যে আওয়ামী লীগ নেতার ইটভাটা চলছে। এর মানে, বন উজাড় ও পরিবেশ ধ্বংস, কার্বন নিঃসরণ বাড়ানো। কাঠ না পুড়িয়ে গ্যাস বা কয়লা পুড়িয়েও ইটভাটা চালানো যায়। এতে ক্ষতি কিছুটা কম হবে। কিন্তু কে শোনে কার কথা। একদিকে প্রতিমন্ত্রী কার্বন নিঃসরণ কমাবেন, আরেক দিকে বন উজাড় করে ও কাঠ পুড়িয়ে অন্যরা কার্বন নিঃসরণ বাড়াবেন, এ দুটি তো একসঙ্গে চলতে পারে না। সরকারকে এদিকে নজর দিতে হবে।

অকার্যকর উপজেলা পরিষদ -সংবিধান অনুযায়ী জনপ্রতিনিধিদের হাতে ক্ষমতা দিন

সব ভালো যার শেষ ভালো তার। উপজেলা পরিষদগুলোর ব্যাপারে শেষ তো দূরের কথা, গোড়াতেই গোলমাল দেখা দিয়েছে। ১১ মাস আগে নির্বাচন হয়ে গেলেও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যানরা এখনো দায়িত্বভার পাননি। প্রশাসনে তাঁদের ভূমিকা ও ক্ষমতার আওতা নির্ধারণ নিয়ে প্রশাসনিক জটিলতা সৃষ্টি হয়ে আছে। উপজেলা পরিষদ আইন, ২০০৯ মোতাবেক সাংসদ, আমলাতন্ত্র তথা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের মাঝখানে পড়ে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যানরা কার্যত কাগুজে বাঘে পরিণত হয়েছেন। নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি হওয়া সত্ত্বেও জনগণের সেবা ও উন্নয়নকাজ পরিচালনার প্রশাসনিক ক্ষমতা থেকে তাঁদের বঞ্চিত রাখা হয়েছে বলে নির্বাচিত ৪৮২টি উপজেলার চেয়ারম্যান অভিযোগ তুলেছেন। সম্প্রতি ঢাকায় অনুষ্ঠিত উপজেলা চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যানদের সমাবেশে প্রধানমন্ত্রীর কাছে তাঁরা ১০ দফা দাবিও উত্থাপন করেছেন।
বাংলাদেশের সংবিধানে সব পর্যায়ে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের শাসন নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে। তৃণমূল পর্যায়ে গণতন্ত্র কায়েমের প্রধান শর্তও এটি। যত দিন স্থানীয় সরকার তথা উপজেলা, থানা ও ইউনিয়ন পরিষদগুলোর নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি— চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান ও কাউন্সিলরদের যাবতীয় প্রশাসনিক ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের সংবিধান-নির্ধারিত কর্তৃত্ব না দেওয়া হচ্ছে, তত দিন সর্বস্তরে গণতন্ত্রের প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি রচিত হয়েছে বলে দাবি করা যায় না। কিন্তু উপজেলা পরিষদ আইন, ২০০৯-এর ১৯, ২০, ২২ ও ২৫ ধারার বলে তাঁদের সেই কর্তৃত্ব খর্বিত হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট চেয়ারম্যান ও বিশেষজ্ঞরা মনে করেন। এসব ধারার বলে নির্বাচিত চেয়ারম্যানদের একদিকে যেমন সাংসদদের অধীন করা হয়েছে, অন্যদিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা থেকে শুরু করে উচ্চতর প্রশাসনের কাছে তাঁদের সাংবিধানিক ক্ষমতাকে রাখা হয়েছে জিম্মি করে। এ ধরনের ব্যবস্থা স্থানীয় সরকারের সংজ্ঞা ও কার্যকারিতার সম্পূর্ণ বিরোধী।
এমনকি আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহারেও বলা হয়েছিল, ‘জেলা ও উপজেলার স্থানীয় সরকারকে স্বনির্ভর ও স্বশাসিত প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলা হবে।’ কিন্তু বাস্তবে হয়েছে উল্টো। উপজেলা পরিষদ আইনের খসড়ার মধ্যে সাংসদদের চাপে চেয়ারম্যানদের ক্ষমতা খর্ব করার বিধান তাই গণতন্ত্রের বিকাশে প্রতিবন্ধক হিসেবেই চিহ্নিত হবে। গ্রামীণ উন্নয়ন, অবকাঠামো নির্মাণ, টেস্ট রিলিফ কার্যক্রমসহ নানাবিধ জনমুখী কর্মসূচি জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমেই বাস্তবায়িত হওয়া উচিত। তা না করে, সাংসদ ও আমলা, এমনকি থানার পুলিশ কর্মকর্তাদেরও তাঁদের ওপর ক্ষমতায়িত করার অর্থ হলো স্থানীয় সরকারকে অঙ্কুরেই
অথর্ব করে রাখা।

ফিলিপাইনের দক্ষিণাঞ্চলে আরও ২০০ লোককে হত্যা করা হয়েছে -মানবাধিকার সংস্থার অভিযোগ



ফিলিপাইনের দক্ষিণাঞ্চলের মাগুইনদানাও প্রদেশে একটি মুসলিম গোষ্ঠী সেখানে অন্তত আরও ২০০ লোককে হত্যা করেছে। দেশটির মানবাধিকার সংস্থা গতকাল বুধবার এ কথা জানিয়েছে। সর্বশেষ গত ২৩ নভেম্বর গোষ্ঠীটির হাতে ৫৭ ব্যক্তি নিহত হয়। প্রাদেশিক গভর্নর আনদাল আম্পাতুয়ান ও তাঁর নিজস্ব মিলিশিয়া বাহিনী এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। পুলিশ এ হত্যাকাণ্ডের জন্য দায়ী ১৬১ জনকে শনাক্ত করেছে। বিবিসি ও পিটিআই।
মানবাধিকার সংস্থাটির প্রধান লিলা ডি লিমা গতকাল বুধবার বলেন, ‘আমাদের হিসাবে ওই গোষ্ঠীটির হাতে কমপক্ষে ২০০ লোক নিহত হয়েছে। নিহত ব্যক্তিদের লাশ মাগুইনদানাওয়ের বিভিন্ন এলাকাজুড়ে গণকবর দেওয়া হয়েছে।’
গত ২৩ নভেম্বর যে ৫৭ জনকে হত্যা করা হয়, তাঁদের মধ্যে ৩২ জনই ছিলেন সাংবাদিক। এই গণহত্যার জন্য গভর্নর আম্পাতুয়ানের ছেলে আম্পাতুয়ান জুনিয়রকে প্রধান সন্দেহভাজন হোতা বলে অভিযুক্ত করা হচ্ছে।
লিলা ডি লিমা বলেন, আম্পাতুয়ান বাহিনীর খুনোখুনির সাক্ষীদের অনেকে এখন মুখ খুলতে শুরু করেছেন। ২৩ নভেম্বরের গণহত্যার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে আম্পাতুয়ান ও তাঁর বাহিনীর নেতারা গ্রেপ্তার হওয়ার পর তাঁদের হাতে বিভিন্ন হত্যাকাণ্ডের ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীরা নানা তথ্য দিচ্ছেন। ডি লিমা আরও বলেন, আম্পাতুয়ান বাহিনীর খুনোখুনি ঘটনার সাক্ষীদের মধ্যে পাঁচজন পুলিশ কর্মকর্তাও রয়েছেন। সেসব পুলিশ কর্মকর্তাও এখন হত্যাকারীদের বিরুদ্ধে সাক্ষী দেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন।
২০০১ সালে প্রেসিডেন্ট গ্লোরিয়া অ্যারোইয়োর নেতৃত্বাধীন জোট ক্ষমতায় আসে। তখন থেকেই প্রেসিডেন্টের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে কাজ করে আসছেন গভর্নর আম্পাতুয়ান। পুলিশ ও সেনাবাহিনী নভেম্বরের গণহত্যার জন্য আম্পাতুয়ানের ছেলে স্থানীয় মেয়র আম্পাতুয়ান জুনিয়র ও তাঁর বাহিনীকে অভিযুক্ত করেছে। এ ঘটনায় আম্পাতুয়ান জুনিয়রের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যে ২৫টি অভিযোগ আনা হয়েছে। ফিলিপিনো সরকার মাগুইনদানাও প্রদেশ ও দক্ষিণাঞ্চলের সহিংসপূর্ণ অন্য অংশে ক্ষমতাসীন নেতাদের নিজস্ব সেনাবাহিনী রাখার অনুমোদন দিয়েছে।

নাইজেরিয়ায় বিচার বহির্ভূত শত শত হত্যাকাণ্ড ঘটছে -অ্যামনেস্টির প্রতিবেদন

আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল বলেছে, নাইজেরিয়ায় প্রতিবছর পুলিশের হাতে শত শত বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ঘটছে। যারা ঘুষ দিতে পারছে, তারাই কেবল সাজা বা নির্যাতন থেকে রেহাই পাচ্ছে। এ ছাড়া দেশটিতে মানুষের গায়েব হয়ে যাওয়ার ঘটনাও বাড়ছে। পুলিশের হাতে আটক ব্যক্তিদের আত্মীয়স্বজনসহ আইনজীবী, বিচারক ও স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের সাক্ষাত্কারের ভিত্তিতে তৈরি এক প্রতিবেদনে এ কথা বলা হয়েছে। গতকাল বুধবার অ্যামনেস্টি এ প্রতিবেদন প্রকাশ করে। খবর এএফপির।
পুলিশের তথ্যের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০০৩ ও ২০০৮ সালের মধ্যে নাইজেরিয়ায় মোট তিন হাজার ১৪ জন ‘সশস্ত্র দুর্বৃত্ত’ নিহত হয়েছে। তবে এ পরিসংখ্যানকে অসম্পূর্ণ হিসেবে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
এদিকে বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে দেশটির জাতীয় পুলিশ সংস্থা। পুলিশ বলছে, তাদের প্রশিক্ষণের মান খুব খারাপ। এ ছাড়া অপরাধীরা প্রায় ক্ষেত্রে পুলিশের চেয়ে অস্ত্রশস্ত্রের দিক থেকে বেশি এগিয়ে থাকে।
পুলিশের মুখপাত্র এমানুয়েল ওজুকোউ বলেন, নাইজেরিয়ার পুলিশকে ধ্বংস করার উদ্দেশে ওই প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে। আমাদের রেকর্ডকে মুছে ফেলতে ও আকাঙ্ক্ষাকে কবর দিতেই এই চেষ্টা। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল এভাবে বিশ্বের অধিকাংশ দেশের পুলিশের ওপর কালিমা লেপন করেছে বলে ওই পুলিশ কর্মকর্তা দাবি করেন।

দুর্নীতির মামলায় ফের ফেঁসে যেতে পারেন জারদারি -চ্যালেঞ্জের মুখে ‘সাধারণক্ষমা’র বৈধতা

প্রয়াত স্ত্রী বেনজির ভুট্টোর রাজনৈতিক প্রভাব কাজে লাগিয়ে পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলি জারদারি শত শত কোটি ডলার হাতিয়ে নিয়েছিলেন বলে জানিয়েছে সে দেশের দুর্নীতি দমনবিরোধী কর্তৃপক্ষ। গত মঙ্গলবার ন্যাশনাল অ্যাকাউন্টেবিলিটি ব্যুরো (এনএবি) সে দেশের সুপ্রিম কোর্টে এ সংক্রান্ত দলিল জমা দেয়। এর ফলে ‘সাধারণক্ষমা’য় দুর্নীতির অভিযোগ থেকে রেহাই পেলেও ফের ফেঁসে যেতে পারেন জারদারি।
এনএবির এসব দলিল থেকে জানা যায়, নব্বইয়ের দশকে বেনজির ভুট্টো দেশটির প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালনের সময় রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে জারদারি অন্তত দেড় শ কোটি ডলার হাতিয়ে নেন। দেশটির সাবেক সেনাশাসক পারভেজ মোশাররফ দুই বছর আগে ন্যাশনাল রিকনসিলিয়েশন অর্ডিনেন্স (এনআরও) জারি করে ‘সাধারণ ক্ষমা’ ঘোষণা করেন। জারদারি তখন তাঁর বিরুদ্ধে আনা দুর্নীতির অভিযোগ থেকে রক্ষা পান। পাকিস্তানের পার্লামেন্টের অনুমোদন না পাওয়ায় গত ২৮ নভেম্বর এনআরওর মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়েছে।
পারভেজ মোশাররফের ঘোষিত ‘সাধারণ ক্ষমার’ বৈধতাবিরোধী একটি মামলার শুনানি গতকাল সে দেশের সুপ্রিম কোর্টে শুরু হয়েছে। পাকিস্তানের প্রধান বিচারপতি ইফতেখার চৌধুরীর নেতৃত্বে ১৭ জন বিচারকের একটি বেঞ্চের কাছে এনএবি গত মঙ্গলবার জারদারির দুর্নীতিসংক্রান্ত সংশ্লিষ্ট দলিল উপস্থাপন করে। সুপ্রিম কোর্টকে এনএবি জানায়, জারদারি নব্বইয়ের দশকে তাঁর স্ত্রী বেনজির ভুট্টোর রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে জাহাজ কোম্পানি, স্বর্ণ আমদানি ও ট্রাক্টর কেনার সরকারি প্রকল্প থেকে শত শত কোটি ডলার আত্মসাত্ করেন।
বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, পারভেজ মোশাররফের ওই ক্ষমা ঘোষণা অবৈধ প্রমাণিত হলে প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারির শাসনের বৈধতাও হুমকির মুখে পড়বে। দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে এমন কোনো ব্যক্তি দেশটির প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে পারেন কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠবে।
জারদারি তাঁর বিরুদ্ধে আনা এসব অভিযোগ মিথ্যা, বানোয়াট ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত আখ্যা দিয়ে প্রত্যাখ্যান করেছেন।

গিনির জান্তাপ্রধানকে হত্যার চেষ্টার অভিযোগে ৬০ জন গ্রেপ্তার

গিনির সামরিক জান্তাপ্রধান ক্যাপ্টেন মুসা দাদিস কামারাকে গুলি করে হত্যার ষড়যন্ত্রে জড়িত থাকার অভিযোগে ইতিমধ্যে ৬০ জনের বেশি ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে মূল হামলাকারী প্রেসিডেনশিয়াল গার্ডের প্রধান লে. কর্নেল আবু বকর সিদ্দিকি দিয়াকাইত ওরফে তুমবাকে এখনো গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। জান্তা সরকারের মুখপাত্র ইদ্রিসা শেরিফ গতকাল বুধবার এসব তথ্য দেন।
স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে, সে দেশের রাজধানী কোনাক্রিতে সেনারা সাধারণ মানুষকে ধরে নিয়ে গিয়ে নির্যাতন করছে। ইতিমধ্যে অনেককে হত্যা করা হয়েছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলো কামারার পদত্যাগ দাবি করেছে।
গত বৃহস্পতিবার প্রেসিডেন্ট কামারা রাজধানী কোনাক্রির কুন্দরা সেনাশিবিরে অবস্থান করছিলেন। সেখানে প্রেসিডেনশিয়াল গার্ডের প্রধান তাঁকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়েন। কামারার মাথায় গুলি বেঁধে। বর্তমানে তিনি মরক্কোতে চিকিত্সাধীন রয়েছেন। অস্ত্রোপচারের পর তাঁর অবস্থা এখন অনেকটা ভালো।
চিকিত্সকেরা বলেছেন, তাঁর শারীরিক অবস্থা নিয়ে আর উদ্বেগের কিছু নেই। ভাইস প্রেসিডেন্ট সেকুবা কোনাটে অস্থায়ীভাবে দেশের দায়িত্ব নিয়েছেন।
গত বছর রক্তপাতহীন একটি সামরিক অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে কামারা ক্ষমতায় আসেন।

ভারতের তথ্যপ্রযুক্তি শিল্প জঙ্গিদের লক্ষ্যবস্তু

ভারতের বহু কোটি ডলারের সফটওয়্যার শিল্প জঙ্গি গোষ্ঠীগুলোর হামলার লক্ষ্যবস্তু। গতকাল বুধবার ভারতের স্বরাষ্ট্র সচিব এ কথা বলেছেন।
স্বরাষ্ট্র সচিব গোপাল পিল্লেই বলেন, ‘বিশ্বে সফটওয়্যার শিল্পে আমরা শীর্ষস্থানীয় পর্যায়ে রয়েছি।’ রাজধানী নয়াদিল্লিতে ‘ভারতের অবকাঠামো ও অর্থনীতির প্রতি সন্ত্রাসবাদের চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক এক সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন। খবর এএফপির।
ভারতীয় স্বরাষ্ট্র সচিব বলেন, হুমকির তালিকার ওপরের দিকে রয়েছে সফটওয়্যার শিল্প। ভারতের সবগুলো কোম্পানিই এখন বিষয়টি উপলব্ধি করতে পারছে। নিরাপত্তার জন্য কোম্পানিগুলো নিজস্ব ব্যবস্থা নিচ্ছে। তিনি আরও বলেন, নিরাপত্তার চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোকে সাহায্য করছে সরকার।
জুলাই মাসের শেষ দিক থেকে দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর বেঙ্গালুরুতে ভারতের অন্যতম বড় তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ইনফোসিসের সদর দপ্তর পাহারা দিচ্ছে কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা বাহিনীর ১০১ জন সদস্য। খবরে বলা হচ্ছে, নিরাপত্তা সহায়তার জন্য বছরে পাঁচ লাখ ৫০ হাজার ডলার দিতে রাজি হয়েছে গোষ্ঠীটি।
ভারতের তথ্যপ্রযুক্তির কেন্দ্রস্থল বেঙ্গালুরু ও হায়দরাবাদে অতীতে বেশ কয়েকবার বোমা হামলা চালানো হয়েছিল। গত জুলাইয়ে বেঙ্গালুরুতে সাতটি বিস্ফোরণে কমপক্ষে দুজন নিহত হয়। আহত হয় আরও অন্তত সাতজন। ২০০৭ সালে হায়দরাবাদে সন্ত্রাসী হামলায় নিহত হয় ৪৩ জন।

সু চির সঙ্গে জান্তা সরকারের মন্ত্রীর বৈঠক

মিয়ানমারের গণতন্ত্রপন্থী নেত্রী অং সান সু চির সঙ্গে বৈঠক করেছেন জান্তা সরকারের লিয়াঁজো (দুই পক্ষের সংযোগ রক্ষাকারী) কর্মকর্তা। গতকাল বুধবার একটি রাষ্ট্রীয় অতিথিশালায় ওই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকের স্থায়িত্ব ছিল ৪৫ মিনিট। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন কর্মকর্তা বার্তা সংস্থা এএফপিকে এ কথা জানান।
অং সান সু চি এবং শ্রমমন্ত্রী অং চির মধ্যকার ওই বৈঠকে কী আলোচনা হয়েছে, সে সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু জানাননি ওই কর্মকর্তা।
অক্টোবরের শুরু থেকে এ নিয়ে তিনবার বৈঠক করলেন সু চি এবং অং চি। গত সপ্তাহে অং সান সু চির চলমান গৃহবন্দিত্বের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত আপিল শুনতে সুপ্রিম কোর্ট রাজি হওয়ার পর এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হলো।
২০ বছরের মধ্যে ১৪ বছরই সু চিকে গৃহবন্দী করে রেখেছে সামরিক জান্তা। ১৯৯০ সালে অনুষ্ঠিত মিয়ানমারের সর্বশেষ গণতান্ত্রিক নির্বাচনে সু চির দলের বিপুল বিজয় মেনে নিতে অস্বীকৃতি জানায় জান্তা সরকার।
গত নভেম্বরে জান্তাপ্রধান থান শুয়ের কাছে একটি চিঠি লেখেন অং সান সু চি। তিনি চিঠিতে মিয়ানমারের ওপর থেকে পশ্চিমা বিশ্বের অবরোধ তুলে নিতে সহযোগিতা এবং থান শুয়ের সঙ্গে সরাসরি আলোচনার প্রস্তাব দেন। ওই চিঠির পর সর্বশেষ এই বৈঠককে দুই পক্ষের মধ্যে পুনঃসম্পর্ক স্থাপনের চিহ্ন হিসেবে দেখা হচ্ছে।
অক্টোবরের শুরুতে পাঁচ দিনের মধ্যে দুবার অং সান সু চির সঙ্গে বৈঠক করেন শ্রমমন্ত্রী অং চি। নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী কার্ট ক্যাম্পবেলের সঙ্গে বৈঠকের পর সু চিকে সংবাদমাধ্যমের সামনে হাজির হওয়ার বিরল সুযোগ দেয় জান্তা সরকার। এএফপি।
সু চি অসত্: রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম
অং সান সু চিকে ‘অসত্’ আখ্যা দিয়েছে মিয়ানমারের রাষ্ট্রীয়গণমাধ্যম।
রাষ্ট্রপরিচালিত তিনটি পত্রিকায় গতকাল প্রকাশিত মন্তব্য প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সামরিক নেতাদের সঙ্গে সু চির বৈঠকের প্রস্তাব এবং পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার জন্য চাপ দেওয়ার ব্যাপারে তিনি আন্তরিক এবং সত্ নন। গৃহবন্দী সু চি সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত করার চেষ্টা করেছিলেন এবং তাঁর আচরণ অত্যন্ত প্রশ্নসাপেক্ষ।
২৫ সেপ্টেম্বরে আরও একটি চিঠিতে সু চি মিয়ানমারের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা উঠিয়ে নেওয়ার স্বার্থে জান্তা নেতা এবং পশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গে বৈঠক করার ইচ্ছা প্রকাশ করেন।
কিন্তু ভারত ও চীনের সঙ্গে মিয়ানমারের জান্তা সরকারের বাণিজ্যের কারণে সু চির এই প্রচেষ্টা কাজে আসেনি বলে মন্তব্য করেছেন সমালোচকেরা।
মিয়ানমারের নিউ লাইট পত্রিকা এক মন্তব্যে বলেছে, ‘তার সব চিঠি অসততারই বহিঃপ্রকাশ। এর উদ্দেশ্য ক্ষমতাসীন সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করা, সব দোষ সরকারের ঘাড়ে দেওয়া।’

অস্ট্রেলিয়ায় দাবানল

অস্ট্রেলিয়ার দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় রাজ্য নিউ সাউথ ওয়েলসের ১২০টিরও বেশি স্থানে গতকাল বৃহস্পতিবার দাবানলের সৃষ্টি হয়েছে। এ কারণে বেশ কয়েকটি শহরে জরুরি সতর্কতা জারি করা হয়েছে। প্রায় দুই হাজার অগ্নিনির্বাপণকর্মী দাবানল নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। বুন্দারা ও বারবারা শহরের বাসিন্দাদের শহর ছেড়ে যাওয়ার প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে অগ্নিনির্বাপণ কর্তৃপক্ষ।

‘ওসামাকে হত্যা ছাড়া আল-কায়েদাকে পরাস্ত করা যাবে না’

আফগানিস্তানে শীর্ষ মার্কিন কমান্ডার জেনারেল স্ট্যানলি ম্যাকক্রিস্টালের ধারণা ওসামা বিন লাদেনকে হত্যা কিংবা গ্রেপ্তার না করা পর্যন্ত আল-কায়েদাকে পরাজিত করা যাবে না। আফগানিস্তান বিষয়ে সিনেটের এক শুনানিতে তিনি এ কথা বলেন।
সিনেটরদের প্রশ্নের জবাবে ম্যাকক্রিস্টাল বলেন, ‘ওসামা বিন লাদেনকে যত দিন পর্যন্ত না গ্রেপ্তার কিংবা হত্যা করা যাবে, তত দিন পর্যন্ত আমরা আল-কায়েদাকে চূড়ান্তভাবে পরাজিত করতে পারব বলে মনে হয় না।’
সিনেটের আর্মড সার্ভিসেস কমিটিতে তিনি বলেন, ওসামা বিন লাদেন এ মুহূর্তে এমন একটি চরিত্র, যার বেঁচে থাকা বিশ্বজুড়ে আল-কায়েদাকে সাহস জুগিয়ে যাচ্ছে।
তবে বিন লাদেনের মৃত্যু কিংবা গ্রেপ্তার আল-কায়েদা নেটওয়ার্ককে একেবারেই ভেঙে দেবে না বলেও হুঁশিয়ার করে দিয়েছেন জেনারেল ম্যাকক্রিস্টাল।
শুনানিতে আফগানিস্তানে মার্কিন রাষ্ট্রদূত কার্ল আইকেনবেরি বলেন, ‘এটা এখনো মার্কিন জনগণের কাছে গুরুত্বপূর্ণ যে একদিন ওসামা বিন লাদেনকে হত্যা করা হবে কিংবা গ্রেপ্তার করে ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের হত্যাকাণ্ডের দায়দায়িত্বের জন্য বিচারের মুখোমুখি করা হবে। বস্তুত এটা বিশ্ববাসীর কাছেও গুরুত্বপূর্ণ।’
সিনেটর জর্জ লেমিউক্সের এক প্রশ্নের জবাবে জেনারেল ম্যাকক্রিস্টাল বলেন, ‘ওসামা বিন লাদেন যদি আফগানিস্তানে যান, তাহলে আমাদের সব বাহিনীর জন্য তাকে হত্যা বা গ্রেপ্তার করা অগ্রাধিকারে পরিণত হবে।’
মার্কিন কর্মকর্তাদের ধারণা, আল-কায়েদা প্রধান ওসামা বিন লাদেন আফগানিস্তান ও পাকিস্তান-সীমান্তবর্তী দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় লুকিয়ে রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জেমস জোনস সিএনএনকে দেওয়া এক সাক্ষাত্কারে বলেছেন, সর্বশেষ গোয়েন্দা প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে যে ওসামা বিন লাদেন উত্তর ওয়াজিরিস্তানের কোথাও লুকিয়ে আছে। তিনি কখনো সীমান্তের পাকিস্তানি অংশে অবস্থান করেন, কখনো বা আফগান অংশে থাকেন।
যদিও মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী রবার্ট গেটস বলেছেন, বিন লাদেন কোথায় আছেন ওয়াশিংটন সেটা জানে না। তাঁর অবস্থান সম্পর্কে কয়েক বছর ধরে বিশ্বাসযোগ্য কোনো তথ্য নেই তাঁদের কাছে।
গত মাসে যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটের বৈদেশিক সম্পর্কবিষয়ক কমিটির এক প্রতিবেদনে ২০০১ সালের শেষ দিকে আফগানিস্তানের তোরাবোরা গুহা থেকে পালিয়ে যাওয়া লাদেনের পিছু ধাওয়া করতে বাস্তবসম্মত প্রচেষ্টার অভাবের জন্য তত্কালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশের প্রশাসন ও সামরিক কমান্ডারদের দোষারোপ করা হয়।

যুক্তরাষ্ট্র-চীন বিতর্ক

জলবায়ুর পরিবর্তন মোকাবিলায় দরিদ্র দেশগুলোর জন্য তহবিল গঠন নিয়ে কোপেনহেগেনের জলবায়ু সম্মেলনে মার্কিন ও চীনা প্রতিনিধিদের মধ্যে উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় হয়েছে।
সম্মেলনে চীনের দূত ইউ কুইংটাই বলেন, আজকের গ্রিনহাউস গ্যাস সমস্যার জন্য উন্নত দেশগুলো দায়ী। তাই গরিব দেশগুলোকে তাদের সহায়তা করতে হবে, যাতে তারা কার্বন ডাই-অক্সাইড নিঃসরণ হ্রাসের প্রযুক্তি হাতে পায়। গত বুধবার তিনি এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, উন্নয়নশীল দেশগুলোকে আর্থিক সহায়তা দেওয়া ধনী দেশগুলোর জন্য দাতব্য বা জনহিতকর কোনো কাজ নয়, বরং এটা ধনী দেশগুলোর জন্য আইনগত বাধ্যবাধকতা।
তবে সম্মেলনে যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান আলোচক টড স্টার্ন চীনের সমালোচনা নাকচ করে দিয়ে বলেন, ‘বায়ুমণ্ডলে কার্বন নিঃসরণে আমাদের ভূমিকা আমরা অবশ্যই স্বীকার করে নিচ্ছি। কিন্তু অপরাধবোধ কিংবা ক্ষতিপূরণের ধারণা আমি স্পষ্টভাবে নাকচ করে দিচ্ছি।’ উল্টো তিনি কার্বন নিঃসরণ কমানোর প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের জন্য চীনের প্রতি আহ্বান জানান।

নারায়ণগঞ্জে পূবালী ব্যাংকের শাখা চালু

নারায়ণগঞ্জের কুতুবাইলের শিবু মার্কেটে সম্প্রতি পূবালী ব্যাংক লিমিটেডের ৩৭৬তম শাখা উদ্বোধন করা হয়েছে।
ব্যাংকের পরিচালক মনির উদ্দিন আহমদ প্রধান অতিথি হিসেবে শাখাটির উদ্বোধন করেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হেলাল আহমদ চৌধুরী।
অনুষ্ঠানে পূবালী ব্যাংকের সাধারণ সেবা ও উন্নয়ন বিভাগের মহাব্যবস্থাপক শফিউল আলম খান চৌধুরী, নারায়ণগঞ্জ অঞ্চলের উপ-মহাব্যবস্থাপক সৈয়দ আজিজুল হক এবং এলাকার বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

অঙ্গীকার ভঙ্গ করায় দক্ষিণ কোরিয়াকে তালেবানের হুঁশিয়ারি

আফগানিস্তানে সৈন্য না পাঠানোর ব্যাপারে অঙ্গীকার ভঙ্গ করার জন্য দক্ষিণ কোরিয়ার বিরুদ্ধে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছে তালেবান। তারা বলেছে, আফগানিস্তানে দক্ষিণ কোরীয় সৈন্যদের ভয়াবহ পরিণতি হবে। সিউল আগামী জুলাই মাসে আফগানিস্তানে ৩৫০ জন সৈন্য পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
উলেখ্য, দুই বছর আগে তালেবান ১৯ জন কোরীয় জিম্মিকে মুক্তি দিয়েছিল। জিম্মিদের মুক্তি দেওয়ার বিনিময়ে দুই বছর দক্ষিণ কোরিয়া তারা ২১০ জনের সামরিক প্রকৌশলী ও চিকিত্সকদের দলটিকে প্রত্যাহার করে নিয়েছিল।
সাংবাদিকদের কাছে ই-মেইলের মাধ্যমে পাঠানো বিবৃতিতে তালেবানরা বলেছে, ‘তারা আফগানিস্তান থেকে তাদের সৈন্যদের প্রত্যাহার এবং ভবিষ্যতে দেশটিতে তাদের সৈন্য আবার কখনো না পাঠানোর অঙ্গীকার করেছিল।’
এতে আরও বলা হয়, সিউল যদি কোনোভাবে আফগানিস্তানে সৈন্য পাঠায় এবং তাদের অঙ্গীকার ভঙ্গ করে, তাহলে তাদের এ পদক্ষেপের পরিণতির জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে।’

পঞ্চগড় চেম্বারের মেয়াদ উত্তীর্ণ কমিটির কার্যক্রমে আদালতের নিষেধাজ্ঞা

পঞ্চগড় চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি ও দুই সহসভাপতির কার্যক্রমের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন আদালত। চেম্বারের সদস্য হারুন উর রশিদ বাবুর এক আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে যুগ্ম জেলা জজ এ কে এম এনামুল করিম সম্প্রতি এ নিষেধাজ্ঞা জারি করেন।
মামলার আরজিতে বাদী বলেন, পঞ্চগড় চেম্বারের কার্যনির্বাহী কমিটি দুই বছরের জন্য নির্বাচিত হলেও এর মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের পরিচালক (বাণিজ্য সংগঠন) কার্যনির্বাহী কমিটির মেয়াদ ৪৫ দিন বাড়ান। সেই মেয়াদও গত ১২ জুন শেষ হয়। তা সত্ত্বেও মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটির সভাপতি ইকবাল কায়সার মিন্টু, জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি মো. শরীফ হোসেন ও সহসভাপতি আবদুল হান্নান শেখ সংঘবিধি লঙ্ঘন করে চেম্বারের কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। বিভিন্ন সভা-সমিতিতে তাঁরা এ চেম্বারের পরিচয় দিচ্ছেন। এ ছাড়া গত ৯ অক্টোবর চেম্বারের কার্যনির্বাহী কমিটির সভা ডাকা হয়। সংগঠনের সংঘবিধি অনুযায়ী তাঁদের কার্যক্রম পরিচালনা ও পরিচয় দেওয়া অবৈধ।
চেম্বারের সদস্য হারুন উর রশিদ গত ২৫ নভেম্বর মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটির বিরুদ্ধে যুগ্ম জেলা জজ আদালতে একটি মামলা দিয়ে সভাপতি, জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি ও সহসভাপতির চেম্বারের কার্যক্রম পরিচালনা ও পরিচয় প্রদানের ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রার্থনা করেন।
বাদীপক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন অ্যাডভোকেট ইসমাইল হোসেন সরকার।

জলবায়ু পরিবর্তন ইস্যুতে ওবামার সমালোচনা করলেন কাস্ত্রো

কিউবার নেতা ফিদেল কাস্ত্রো মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার জলবায়ুনীতির সমালোচনা করেছেন। তিনি অভিযোগ করেছেন, যারা জলবায়ুর পরিবর্তন নিয়ে আলোচনার বিরোধিতা করছে, তাদের বিরুদ্ধে সোচ্চার নন ওবামা।
ওবামার নোবেল শান্তি পুরস্কার গ্রহণ করারও সমালোচনা করেন তিনি। কাস্ত্রো বলেন, ওবামা কেন ওই পুরস্কার গ্রহণ করছেন, যেখানে তিনি আফগানিস্তানে আরও ৩০ হাজার সেনা পাঠিয়ে ওই যুদ্ধকে চূড়ান্ত অবস্থায় নিয়ে যাচ্ছেন? ওবামার ওই পুরস্কার গ্রহণকে হতাশাজনক বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
গত বুধবার সরকারি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক সম্পাদকীয়তে কাস্ত্রো লিখেছেন, ‘ওবামা অজ্ঞ নন। আল গোরের মতো তিনিও কঠিন বিপদের কথা জানেন, যা প্রত্যেকের জন্য হুমকি সৃষ্টি করছে। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের বিদ্যমান অন্ধ ও দায়িত্বহীন শাসনব্যবস্থার মুখে আসলে দ্বিধাগ্রস্ত ও দুর্বল।’
কার্বন নিঃসরণ হ্রাস এবং জলবায়ুর পরিবর্তন মোকাবিলায় কোপেনহেগেনে সম্মেলন চলাকালে কাস্ত্রো এ মন্তব্য করলেন।
কাস্ত্রো দরিদ্রদের ওপর জলবায়ুর পরিবর্তনসংশ্লিষ্ট ব্যয় চাপিয়ে দেওয়ার জন্য ধনী দেশগুলোর বিরুদ্ধেও অভিযোগ করেন। কাস্ত্রো লিখেছেন, ধারণা করা হচ্ছে যে কোপেনহেগেনে তাঁরা চুক্তিতে পৌঁছার জন্য অন্তত কিছু সময় পাওয়ার ব্যাপারে সফল হবেন। আর এটা কার্যত সমস্যার সমাধান খোঁজার ক্ষেত্রে সহায়ক হতে পারে। তাঁরা এটুকু অর্জন করতে পারলেও শীর্ষ সম্মেলনের একটি অগ্রগতি বলে ধরে নেওয়া যাবে।
৮৩ বছর বয়সী সাবেক প্রেসিডেন্ট কাস্ত্রো এখনো কিউবান কমিউনিস্ট পার্টির নেতৃত্বে রয়েছেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে ওবামার নির্বাচিত হওয়ার পর তাঁর প্রশংসা করেছিলেন কাস্ত্রো।

এক মাসেই অধিদপ্তরের সাংগঠনিক কাঠামো -ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের প্রথম বৈঠক

আগামী এক মাসের মধ্যে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সাংগঠনিক কাঠামো তৈরি করা হবে।
জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের প্রথম বৈঠক শেষে গতকাল বুধবার পরিষদের চেয়ারম্যান ও বাণিজ্যমন্ত্রী ফারুক খান সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান। এ বিষয়ে নীতিমালা ও প্রবিধানমালা তৈরি করতে নয় সদস্যের একটি উপকমিটিও গঠন করা হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মুস্তাফা মহিউদ্দিন, অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবুল হোসেন মিঞা, বিএসটিআইয়ের মহাপরিচালক এ কে ফজলুল আহাদ, ওষুধ শিল্প সমিতির সভাপতি সালমান এফ রহমান, এফবিসিসিআইয়ের পরিচালক মীর নিজামউদ্দিন আহমেদ ও সাবেক সভাপতি মীর নাসির হোসেন, কনজ্যুমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) মহাসচিব কাজী ফারুক আহমেদ, সুপার মার্কেট মালিক সমিতির সভাপতি নিয়াজ রহিম, বিজিএমইএর পরিচালক নাহিদ হাসান, তেজগাঁওয়ের মনু মিয়া হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক কে এম হাসান, আওয়ামী লীগের শ্রম সম্পাদক হাবিবুর রহমান সিরাজ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
বাণিজ্যমন্ত্রী জানান, বর্তমানে সচিবালয়ে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের অস্থায়ী প্রধান কার্যালয় থাকলেও শিগগিরই তা এর বাইরে ঢাকার কারওয়ানবাজারের ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) ভবনে স্থানান্তর করা হবে। এর পরপরই গঠন করা হবে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের জেলা কমিটিগুলো।
ফারুক খান বলেন, জনবল নিয়োগের পরই ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের কার্যক্রম পুরোদমে শুরু করা হবে এবং এটি হবে প্রকৃত অর্থেই আধুনিক সুবিধাসংবলিত একটি ডিজিটাল কার্যালয়। তিনি জানান, এ অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের ল্যাপটপ ও মোবাইল ফোন দেওয়া হবে। এর ফলে জনগণ যেকোনো সময় লিখিত, এসএমএস, ফ্যাক্স ও ই-মেইলের মাধ্যমে অভিযোগ জানাতে পারবেন। এর ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
বাণিজ্যমন্ত্রী ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন ২০০৯-এর ৩৭-৫৬ নম্বর ধারা অনুযায়ী অপরাধের শাস্তি হিসেবে এক বছর থেকে তিন বছর কারাদণ্ড, ৫০ হাজার টাকা থেকে দুই লাখ টাকা জরিমানা অথবা উভয় প্রকার দণ্ড অথবা কোনো কোনো ক্ষেত্রে মালামাল বাজেয়াপ্ত করারও ঘোষণা দেন।
গত ২৪ নভেম্বর বাণিজ্যমন্ত্রী ফারুক খানকে চেয়ারম্যান করে সরকার ২৯ সদস্যের জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ গঠন করে। এতে মন্ত্রী ছাড়াও ১৩ জন সরকারি কর্মকর্তা ও ১৫ জন বেসরকারি খাতের প্রতিনিধি রয়েছেন।

সালাহি দম্পতিকে তলব করবে কংগ্রেস কমিটি

হোয়াইট হাউসের রাষ্ট্রীয় ভোজসভায় অনাহূত প্রবেশকারী দম্পতিকে তলব করবে কংগ্রেসের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি কমিটি। আমন্ত্রণপত্র ছাড়াই তাঁরা কীভাবে ভোজসভায় ঢুকেছিলেন, সে সম্পর্কে তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। খবর এপির।
গত বুধবার কংগ্রেসের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি কমিটির আইনপ্রণেতারা তারেক ও মিশেল সালাহি দম্পতিকে তলব করার পক্ষে ভোট দেন। তবে ওই দম্পতি বলেছেন, ওই প্রশ্নোত্তর পর্ব প্রত্যাখ্যান করার জন্য তাঁরা পঞ্চম সংশোধনীতে দেওয়া অধিকারের সাহায্য নেবেন।
সালাহি দম্পতিকে শুনানিতে হাজির হওয়ার জন্য তলব করার সিদ্ধান্ত নিলেও হোয়াইট হাউসের সোশ্যাল সেক্রেটারি ডেসাইরি রজার্সকে তলব করার প্রস্তাব গ্রহণ করেনি কমিটি। রজার্সকে তলব করার প্রস্তাব দিয়েছিলেন কমিটির এক রিপাবলিকান সদস্য।
রিপাবলিকান সদস্য পিটার কিং বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি, সেদিন সন্ধ্যায় কী হয়েছিল, তার পুরো চিত্র পেতে হলে ডেসাইরি রজার্সকে এখানে ডাকতে হবে।’ কিন্তু কমিটির চেয়ারম্যান বেনি থম্পসন রজার্সকে তলব করতে অনীহা প্রকাশ করেন।
গোয়েন্দা বিভাগ ও হোয়াইট হাউসের সোশ্যাল অফিস যৌথভাবে গত ২৪ নভেম্বর ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের সম্মানে আয়োজিত রাষ্ট্রীয় ভোজসভার নিরাপত্তা পরিকল্পনা প্রণয়ন করে।
গত মঙ্গলবার আইনজীবীর মাধ্যমে সালাহি দম্পতি বলেন, রাষ্ট্রীয় ভোজসভার ঘটনা সম্পর্কে অপরিণত সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে কংগ্রেসের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি কমিটি।
সালাহি দম্পতি জাতীয় টেলিভিশনের অনুষ্ঠানে বলেন, ভোজসভার জন্য তাঁরা আমন্ত্রণপত্র পেয়েছিলেন। কিন্তু দাবির পক্ষে তাঁরা ই-মেইলের যে কপি উপস্থাপন করেছেন, সেখানে দেখা গেছে, অনুষ্ঠানে যাওয়ার জন্য সেখানে কোনো আমন্ত্রণ ছিল না। সালাহি দম্পতি বলেছেন, গোয়েন্দা বিভাগের ফৌজদারি তদন্তে তাঁরা সহযোগিতা করছেন।

ইরানে মানবাধিকার লঙ্ঘন চরমে -অ্যামনেস্টির প্রতিবেদন

ইরানে গত ২০ বছরের মধ্যে মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা চরমে পৌঁছেছে। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল গতকাল বৃহস্পতিবার এক প্রতিবেদনে একথা জানিয়েছে।
প্রতিবেদনে নির্যাতন, ধর্ষণ ও নির্বিচারে হত্যার অভিযোগ করা হয়েছে। ইরানে জুনে অনুষ্ঠিত প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের পর প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়।
মানবাধিকার তদন্তে সহায়তা করতে ইরানে জাতিসংঘ মানবাধিকার বিশেষজ্ঞদের প্রবেশের অনুমতি দেওয়ার জন্য দেশটির সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিকে আহ্বান জানিয়েছে অ্যামনেস্টি। কারণ, সরকারি তদন্তে সত্য যাচাইয়ের চেয়ে মানবাধিকার অপব্যবহারের ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা থাকার আশঙ্কা আছে বলে অ্যামনেস্টি মন্তব্য করেছে।
এর আগে মানবাধিকার নিয়ে সমালোচনা নাকচ করে দিয়েছে ইরান।
এক বিবৃতিতে অ্যামনেস্টি মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকা কর্মসূচির উপপরিচালক হাসিবা হাজ শাহরাউ বলেন, ‘সহিংসতা চালানো মিলিশিয়া এবং কর্মকর্তাদের হিসাবে আনতে হবে এবং বিচার ছাড়া কাউকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া যাবে না।’
প্রতিবেদনে বিশেষ করে নির্বাচনের আগে, নির্বাচনের সময় এবং নির্বাচনের পরে বাসিজ মিলিশিয়া ও রেভল্যুশনারি গার্ডরা বিক্ষোভ দমন করতে গিয়ে যে নিপীড়ন চালিয়েছে তা তুলে ধরা হয়েছে।
ইরানে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে মাহমুদ আহমাদিনেজাদ পুনর্নির্বাচিত হলে বিরোধীরা ভোট কারচুপির অভিযোগ এনে ব্যাপক বিক্ষোভ করে। ফলে দেশটিতে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি হয়। বিক্ষোভ দমাতে সরকার ব্যাপকভাবে ধরপাকড় শুরু করে।
অ্যামনেস্টির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিক্ষোভ থেকে আটক অনেককেই দেশত্যাগে বাধ্য করা হচ্ছে।
এতে আরও বলা হয়েছে, সাবেক এক বন্দী জানিয়েছে, তাকে ৫৮ দিন কারিজাক বন্দীশালায় বন্দী করে রাখা হয়। ৪৩ দিন পর তাকে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করার অনুমতি দেওয়া হয়।

কাঁচা পাট রপ্তানি বন্ধের নির্দেশে ক্ষোভ

কাঁচা পাট রপ্তানি নিষিদ্ধ করায় ব্যবসায়ী ও শ্রমিকেরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তাঁরা অনতিবিলম্বে এই সরকারি নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করার দাবি জানিয়েছেন। তাঁরা বলছেন, এ নিষেধাজ্ঞার ফলে রপ্তানির অপেক্ষায় থাকা প্রায় কয়েক শ কোটি টাকার লাখ লাখ বেল কাঁচা পাট নিয়ে ব্যবসায়ীরা বিপদে পড়বেন।
সরকার গত সোমবার এক নির্দেশে কাঁচা পাট রপ্তানির ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে।
প্রথম আলোর নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, গত মঙ্গলবার নারায়ণগঞ্জের চাষাঢ়া বালুরমাঠ এলাকায় অবস্থিত বাংলাদেশ জুট অ্যাসোসিয়েশন মিলনায়তনে এক প্রতিবাদ সভায় পাট ব্যবসায়ীরা দাবি করেন, হঠাত্ করে পাট রপ্তানি বন্ধ করা হলে রপ্তানিকারকেরা ক্ষতির মুখে পড়বেন। দেশ বঞ্চিত হবে হাজার কোটি টাকার বৈদেশিক মুদ্রা। বেকার হয়ে পড়বেন পাটশিল্পের সঙ্গে সম্পৃক্ত লাখ লাখ শ্রমিক ও লোকজন।
বাংলাদেশ জুট অ্যাসোসিয়েশনের পরিচালক তারিক হাসানের সভাপতিত্বে সভায় পাট ব্যবসায়ী আরজু রহমান ভূঁইয়াসহ স্থানীয় বিপুলসংখ্যক পাট শ্রমিক, রপ্তানিকারক, ব্যবসায়ী, আড়তদার উপস্থিত ছিলেন।
সভায় পাট ব্যবসায়ী শহীদুল্লাহর নেতৃত্বে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। এ কমিটি আজ বৃহস্পতিবার স্থানীয় জেলা প্রশাসকসহ প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট দপ্তরে স্মারকলিপি দেবে।
প্রথম আলোর খুলনা প্রতিনিধি জানান, বাংলাদেশ জুট অ্যাসোসিয়েশনের উদ্যোগে মঙ্গলবার সকালে দৌলতপুরে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করা হয়েছে।
বাংলাদেশ জুট অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান শেখ ফারুক হোসেন মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, ‘মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে আমাদের সঙ্গে কোনো ধরনের যোগাযোগ বা আলোচনা না করে এ ধরনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করায় পাট ব্যবসায়ীরা চরম বিপদে পড়েছেন।’
ব্যবসায়ীরা জানান, বাংলাদেশে প্রতিবছর ৬০ লাখ বেল পাট উত্পাদিত হয়। এর মধ্যে সরকারি ২১টি মিলসহ অন্যান্য মিলে কাঁচা পাটের প্রয়োজন ৩২ লাখ বেল। বাকি পাট ব্যবসায়ীরা বিদেশে রপ্তানি করে প্রতিবছর দেড় হাজার কোটি টাকারও বেশি বৈদেশিক মুদ্রা আয় করেন।
ব্যবসায়ীরা আরও জানান, মংলা বন্দরে দুটি জাহাজে ব্রাজিল ও পাকিস্তানে রপ্তানির জন্য পাট তোলা হচ্ছিল। চট্টগ্রাম ও বেনাপোল বন্দর দিয়ে রপ্তানির জন্য ৮০০ কোটি টাকার নয় লাখ বেল পাট রপ্তানির জন্য প্রস্তুত রয়েছে।
খুলনা পাট ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. শামীম আহমেদ পাট ব্যবসার সঙ্গে জড়িতদের সঙ্গে আলোচনা না করে রপ্তানি বন্ধের একতরফা সিদ্ধান্ত অগ্রহণযোগ্য বলেছেন।
রপ্তানি বন্ধের সরকারি আদেশ প্রত্যাহারের দাবিতে বেলা সাড়ে ১১টা থেকে সাড়ে ১২টা পর্যন্ত বাংলাদেশ জুট অ্যাসোসিয়েশন ও শ্রমিক ইউনিয়ন যৌথভাবে দৌলতপুরে প্রতিবাদ সভা শেষে বিক্ষোভ মিছিল করে।

পাকিস্তানে গ্রেপ্তার পাঁচ বিদেশি সম্পর্কে তদন্ত করছে এফবিআই

পাকিস্তানের পাঞ্জাবের পূর্বাঞ্চলীয় সারঘোদা জেলায় গ্রেপ্তার পাঁচজন বিদেশি নাগরিকের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেছে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআই। গতকাল বৃহস্পতিবার এফবিআই কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এ পাঁচজন গত মাসে যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্য থেকে নিখোঁজ হওয়া পাঁচ মার্কিন নাগরিক কি না তা নিশ্চিত করতে তদন্ত চলছে। এদিকে গতকাল তাদের জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে পাকিস্তানি গোয়েন্দারা।
সারঘোদা জেলার পুলিশপ্রধান উসমান আনোয়ার জানান, গত বুধবার নিষিদ্ধঘোষিত জঙ্গি সংগঠন জয়েশ-ই-মোহাম্মদের এক সদস্যের বাড়ি থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে কমপক্ষে দুজন পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক। বাকি তিনজনের মধ্যে একজন মিসরীয়, একজন ইথিওপীয় ও একজন ইরিত্রীয়। আল-কায়েদার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে এদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। উসমান আনোয়ার আরও জানান, খালিদ চৌধুরী নামের একজন মার্কিন নাগরিককেও গ্রেপ্তার করেছেন তাঁরা। খালিদ জয়েশ-ই-মোহাম্মদের স্থানীয় নেতা।
সারঘোদার আরেকজন ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তা হাসিব শাহ গ্রেপ্তারের ঘটনা এবং গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের জাতীয়তা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, ওই ছয়জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে দুই সদস্যের একটি এফবিআই দল সারঘোদা পৌঁছেছে।
এফবিআইয়ের মুখপাত্র ক্যাথেরিন শোয়েট জানান, তাঁরা ওই গ্রেপ্তারের ঘটনা সম্পর্কে অবহিত আছেন। নিখোঁজ মার্কিন নাগরিকদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গেও তাঁদের যোগাযোগ আছে। তিনি আরও বলেন, ‘গ্রেপ্তার করা ব্যক্তিদের পরিচয় সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়ার জন্য পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আমরা কাজ করছি। পাশাপাশি তারা সেখানে কী করছিল, তাও জানার চেষ্টা চলছে।’ মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র ইয়ান কেলি বলেন, ‘যাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে তারা মার্কিন নাগরিক হলে আমরা তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের বিষয়ে জানতে আগ্রহী।’ এদিকে ইসলামাবাদে মার্কিন দূতাবাস গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের জাতীয়তা নিশ্চিত করেনি।
এদিকে বুধবার ওয়াশিংটনভিত্তিক কাউন্সিল অন আমেরিকান ইসলামিক রিলেশন (সিএআইআর) সংস্থার নির্বাহী পরিচালক নাহিদ আওয়াদ জানান, গ্রেপ্তার হওয়া মার্কিন নাগরিকদের পরিবারের সদস্যরা তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। তারা একটি ভিডিও টেপও সঙ্গে এনেছিল। এতে দেখা গেছে, ভিডিও বার্তার মাধ্যমে পাঁচজন মার্কিন নাগরিক বিদায়ী বক্তব্য দিয়েছে। তবে ওই নাগরিকদের পরিচয় জানাননি তিনি।
জঙ্গি প্রশিক্ষণের ঘাঁটি পাকিস্তানে: জঙ্গি সন্দেহে মার্কিন নাগরিকদের গ্রেপ্তারের ঘটনায় উদ্বেগ জানিয়ে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন বলেন, পাকিস্তানের আফগানিস্তান সীমান্তসংলগ্ন এলাকাতেই মূলত জঙ্গিদের নির্দেশনা ও প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। বুধবার মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের কার্যালয়ে হিলারি সাংবাদিকদের বলেন, ‘জঙ্গি দমনের বিষয়ে আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে চাই আমরা।’

ব্যাপক সাড়া পেয়ে শেষ হলো এসএমই অর্থায়ন মেলা

ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পে সহজে অর্থায়নের মাধ্যমে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের লক্ষ্য নিয়ে ঢাকায় আয়োজিত দুই দিনব্যাপী ‘এসএমই ফিন্যান্সিং ফেয়ার ২০০৯’ মেলাটি গতকাল বুধবার শেষ হয়েছে। জমজমাট এ মেলায় এসএমই খাতের উদ্যোক্তাসহ নারী উদ্যোক্তাদের পচণ্ড ভিড় হয়েছিল।
‘এসএমইতে অর্থায়ন নগর গ্রামে উন্নয়ন’ স্লোগান নিয়ে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) এবং এসএমই ফাউন্ডেশন যৌথভাবে এ অর্থায়ন মেলার আয়োজন করে।
রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে আয়োজিত এ মেলায় দেশের ২৪টি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানসহ ২৬টি প্রতিষ্ঠান অংশ নিয়েছে। গত মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।
মেলায় অংশগ্রহণকারী ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অন্য মেলার তুলনায় অনেক বেশি এসএমই খাতের উদ্যোক্তা এসেছিল। তবে এবার উল্লেখযোগ্যসংখ্যক নারী উদ্যোক্তাও মেলা থেকে বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করেছেন।
তা ছাড়া এবারের মেলায় একই সঙ্গে দেশের বড় বাণিজ্যিক ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান অংশ নেওয়ায় উদ্যোক্তারা সহজেই যাচাই-বাছাই করার সুযোগ পেয়েছেন।
পুরান ঢাকার হালকা প্রকৌশল শিল্পমালিক মো. রবিউল ইসলাম বলেন, ‘মেলায় এসে জানতে পারলাম বিনা জামানতে ঋণ পাওয়া যায়। তা ছাড়া কত সহজ উপায়ে ঋণ পাওয়া যায় তা ব্যাংকগুলোর পক্ষ থেকে বোঝানো হয়েছে।’ তিনি জানান যে সবার কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ করেছেন, যাদের সুবিধাগুলো ভালো বলে মনে হবে, তাদের সঙ্গে পরে যোগাযোগ করবেন।
মেলার অন্যতম আয়োজক ডিসিসিআইয়ের সভাপতি জাফর ওসমান প্রথম আলোকে জানান, দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে অনেক সম্ভাবনাময় এসএমই উদ্যোক্তা থাকলেও অর্থসংস্থান ও উন্নত প্রযুক্তির অভাবে তারা নতুন নতুন পণ্য উত্পাদনে এগিয়ে আসতে পারছে না। এ মেলার মধ্য দিয়ে এসএমই খাতের উদ্যোক্তা ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সেতুবন্ধ তৈরি হবে।
জাফর ওসমান মনে করেন, এতে নতুন উদ্যোগ নেওয়ার ব্যাপারে তাদের ভীতি ও সংশয় দূর হবে। একই সঙ্গে উদ্যোক্তাদের ঋণ পাওয়াও সহজ হবে।
ঢাকা চেম্বারের সভাপতি আরও বলেন, এসএমই খাতের উন্নয়ন ছাড়া কর্মসংস্থান বাড়ানো সম্ভব নয়।
ইস্টার্ন ব্যাংকের এসএমই ব্যাংকিং বিভাগের অ্যাসোসিয়েট রিলেশনশিপ ম্যানেজার নুসরাত নাহার বলেন, ‘মেলায় বিপুলসংখ্যক নারী উদ্যোক্তা এসেছিলেন। তবে মেলার স্টল থেকে কেবল তথ্য বিনিময় করা হয়েছে। কোনো উদ্যোক্তা প্রকল্প নিয়ে ব্যাংকের এসএমই শাখায় গেলে যাচাই-বাছাই শেষে বিনা জামানতে ২৫ লাখ পর্যন্ত ঋণ দেওয়া হবে।’
ব্র্যাক ব্যাংকের এসএমই ব্যাংকিং বিভাগের বিজনেস এক্সিকিউটিভ মো. আলী হাসান বলেন, ‘মেলায় কোনো ঋণ দেওয়া হয়নি। শুধু তথ্যের আদান-প্রদান হয়েছে। মেলায় অংশগ্রহণের উদ্দেশ্য সফল হয়েছে।’
শাহ্জালাল ইসলামী ব্যাংকের সিনিয়র এক্সিকিউটিভ অফিসার এম এ কাইয়ুম বলেন, ‘মেলায় বিপুলসংখ্যক ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তা এবং নারী উদ্যোক্তা এসেছিলেন।’

গরিবদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে অর্থনৈতিক সংস্কারের আহ্বান -বালি ডেমোক্রেসি ফোরামের উদ্বোধন

বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দা-পরবর্তী সময়ে গরিব ও দুর্বলদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে অর্থনৈতিক পুনর্গঠন ও সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট সুসিলো বামবাং ইয়োধোইয়োনো। গতকাল বৃহস্পতিবার ইন্দোনেশিয়ার একটি পর্যটন এলাকা বালিদ্বীপে আয়োজিত ‘বালি ডেমোক্রেসি ফোরাম’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এই আহ্বান জানান। এশিয়ায় গণতন্ত্র ও উন্নয়নের মধ্যে সমন্বয় ঘটানোর লক্ষ্য নিয়ে এই মঞ্চের আয়োজন করা হয়েছে। জাপান, ইউরোপ, যুক্তরাষ্ট্রসহ ২০টির বেশি দেশের প্রতিনিধিরা দুই দিনের এই সম্মেলনে অংশ নিচ্ছেন। গত বছর থেকে চালু হওয়া সম্মেলনটির দ্বিতীয় আসর এটি। খবর এএফপির।
ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট বলেন, অর্থনৈতিক মন্দার কবল থেকে ধীরে ধীরে বেরিয়ে আসতে শুরু করেছে বিশ্ব। সমাজের পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অর্থনীতিবিদদের অর্থনৈতিক কাঠামো পুনর্গঠন করা উচিত। অর্থনীতিকে এমনভাবে ঢেলে সাজানো উচিত, যাতে গরিব ও দুর্বলরা উপকৃত হয়। তিনি বলেন, গণতন্ত্র ও উন্নয়নের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে জনগণের সমৃদ্ধি নিশ্চিত করা। ভারত, ইন্দোনেশিয়া ও জাপানে গণতন্ত্র ভালোভাবে বিকশিত হলেও চীন, মিয়ানমার ও উত্তর কোরিয়ায় সমস্যা রয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। সম্মেলনে জাপানের প্রধানমন্ত্রী ইয়োকিয়ো হাতোইয়ামাও অংশ নেন।
পরে এক দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট ও জাপানের প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘ জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক সম্মেলনে মধ্যস্থতাকারীদের প্রতি কার্বন নিঃসরণ হ্রাসের ব্যাপারে একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর আহ্বান জানান। ইন্দোনেশিয়া ২০২০ সাল নাগাদ কার্বন নিঃসরণের পরিমাণ ২০০৫ সালের তুলনায় ২৬ শতাংশ কমানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

মুম্বাই হামলায় নিজেকে নির্দোষ দাবি করলেন লস্কর জঙ্গি হেডলি

লস্কর-ই-তাইয়েবার সদস্য মার্কিন নাগরিক ডেভিড হেডলি শিকাগোর আদালতে নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছেন। ভারতের বাণিজ্যিক রাজধানী মুম্বাইয়ে সন্ত্রাসী হামলার পরিকল্পনায় সহযোগিতা এবং একটি ডেনিশ পত্রিকার কার্যালয়ে হামলার ষড়যন্ত্রসহ তাঁর বিরুদ্ধে ১২টি অভিযোগ আনা হয়েছে। ডেনিশ পত্রিকায় নবী হজরত মোহাম্মদ (সা.)-এর কার্টুন প্রকাশিত হয়েছিল। খবর এনডিটিভি ও এএফপির।
গত বুধবার পায়ে বেড়ি পরা ডেভিড কোলম্যান হেডলিকে (৪৯) শিকাগোর জনাকীর্ণ আদালত কক্ষে হাজির করা হয়। কমলা রঙের জাম্পস্যুট পরা হেডলিকে তখন শান্ত ও আত্মবিশ্বাসী দেখাচ্ছিল।
হেডলির আইনজীবী জন থেইস বলেন, তিনি দোষী নন। দোষী প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত কাউকে নির্দোষ বলে ধরে নিতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্র বলেছে, হেডলি তদন্তকারীদের সঙ্গে সহযোগিতা করছেন। এর আগেও এই কৌশলের আশ্রয় নিয়ে সুবিধা পেয়েছিলেন তিনি। ১৯৯৮ সালে পাকিস্তান থেকে যুক্তরাষ্ট্রে হেরোইন পাচারের ষড়যন্ত্রের দায়ে দোষী সাব্যস্ত হয়েছিলেন হেডলি। খবরে জানা যায়, কর্তৃপক্ষকে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করার পর হেডলিকে মাত্র ১৫ মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। অথচ তাঁর সহ-বিবাদীকে দেওয়া হয়েছিল ১০ বছরের কারাদণ্ড।
ভারতীয় কর্তৃপক্ষ হেডলিকে জিজ্ঞাসাবাদের কোনো সুযোগ পাবে কি না—এ প্রশ্নের জবাবে তাঁর আইনজীবী জন থেইস বলেন, ‘বিষয়টি আমাদের দেখতে হবে। এ সম্পর্কে আমি কোনো ধারণা করতে পারছি না। যদি ভারতীয় কর্তৃপক্ষ অনুরোধ জানায়, তখন আমরা এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেব।’
এখন পর্যন্ত ভারতীয় কর্তৃপক্ষ হেডলি কিংবা তাঁর সহযোগী ষড়যন্ত্রকারী তাওয়াহার রানার সঙ্গে কথা বলার সুযোগ পায়নি। এই বিলম্বের জন্য আমলাতান্ত্রিক ও দাপ্তরিক প্রতিবন্ধকতাকে দায়ী করেছেন মার্কিন কর্মকর্তারা।

এসইসির সামনে প্রতীক অনশন বিনিয়োগকারীদের

মিউচুয়াল ফান্ডসংক্রান্ত মামলার রায়ের বিরুদ্ধে আপিল না করা ও ঋণসুবিধা চালুর দাবিতে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (এসইসি) কার্যালয়ে গিয়ে প্রতীকী অনশন কর্মসূচি পালন করেছেন বিনিয়োগকারীরা।
ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারী ফোরামের ব্যানারে গতকাল বৃহস্পতিবার তাঁরা রাজধানীর দিলকুশায় জীবন বীমা টাওয়ারের ১৬ তলায় এসইসির চেয়ারম্যানের কার্যালয়ের প্রবেশপথে এ কর্মসূচি পালন করেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুপুর ১২টার দিকে প্রায় ৩০-৪০ জন ব্যানার-ফেস্টুন নিয়ে এসইসিতে জমায়েত হয়ে শান্তিপূর্ণভাবে তাঁদের কর্মসূচি পালন করতে থাকেন। একপর্যায়ে এসইসির চেয়ারম্যান জিয়াউল হক খোন্দকার বিনিয়োগকারীদের ডেকে তাঁদের দাবি সম্পর্কে জানতে চান।
ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের পক্ষে আবুল বাশার, জয়নুল আবেদিন ও রিজভী আহমেদ চেয়ারম্যানের কাছে তাঁদের দাবির পক্ষে বিভিন্ন যুক্তি তুলে ধরেন।
পরে বিনিয়োগকারীরা সাংবাদিকদের বলেন, এসইসি তাঁদের দাবি-দাওয়াগুলো বিবেচনার আশ্বাস দিয়েছে।

কেন্দ্রীয় চুক্তি থেকে বাদ পড়ছেন শোয়েব

পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) কেন্দ্রীয় চুক্তি থেকে বাদ পড়তে যাচ্ছেন শোয়েব আখতার। এ বছর শেষে চলতি চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর শোয়েবের সঙ্গে কেন্দ্রীয় চুক্তি নবায়ন করা হবে না বলে জানিয়েছে পিসিবি। কারণটাও জানিয়েছেন পিসিবি চেয়ারম্যান ইজাজ বাট, যাঁরা জাতীয় দলে এবং ঘরোয়া ক্রিকেটে খেলছেন তাঁদেরই কেন্দ্রীয় চুক্তিতে রাখা হয়। ‘দুর্ভাগ্য দুটির একটিতেও কিছুদিন ধরে নেই সে। তাই আগামী মাস থেকে বোর্ড থেকে সে আর বেতন পাবে না’—বলেছেন তিনি। পিসিবির কেন্দ্রীয় চুক্তির ‘এ’ শ্রেণীভুক্ত শোয়েব চুক্তির আওতায় মাসিক আড়াই লাখ পাকিস্তানি রুপি বেতন পেতেন।
দুই মাস আগে ইংল্যান্ডে হাঁটুতে অস্ত্রোপচার করে আসার পর মাঠের বাইরে থাকা শোয়েব খবর হয়েছেন ভিন্ন কারণে। পিসিবির চিকিত্সকদের সঙ্গে পরামর্শ না করেই চর্বি কমানোর জন্য সম্প্রতি অস্ত্রোপচার করিয়ে বোর্ডের বিরাগভাজন হয়েছেন।

তিন দিনব্যাপী নিট যন্ত্রপাতি প্রদর্শনী শুরু

ঢাকায় তিন দিনব্যাপী নিট পোশাক ও বস্ত্র খাতের আন্তর্জাতিক প্রদর্শনী ‘দ্বিতীয় নিট+টেক্স বাংলাদেশ’ শুরু হয়েছে। বাংলাদেশ নিট পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিকেএমইএ) এবং অনুষ্ঠান আয়োজনকারী প্রতিষ্ঠান সেমস এ প্রদর্শনীর যৌথ আয়োজক।
বাণিজ্যমন্ত্রী মুহাম্মদ ফারুক খান গতকাল বৃহস্পতিবার বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে এ প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন।
সেমসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মেহেরুন এন ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি আনিসুল হক এবং বিকেএমইএর সভাপতি ফজলুল হক।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বিশ্বমন্দা কাটতে শুরু করেছে। তাই বিশ্বব্যাপী পোশাকের বাড়তি চাহিদা মেটাতে ব্যবসায়ীদের প্রস্তুত থাকতে হবে।
এবারের প্রদর্শনীতে ১৫টি দেশের ৭৫টি স্টল অংশ নিয়েছে। প্রদর্শনীটি প্রতিদিন সকাল ১০টা ৩০ মিনিট থেকে সন্ধ্যা সাতটা ৩০ মিনিট পর্যন্ত চলবে। আগামীকাল শনিবার প্রদর্শনীর শেষ দিন।

কোচের ব্যাপারে দেখেশুনে এগোচ্ছে বাফুফে

সার্বিয়ান কোচ জোরান দরদেভিচ ৮ দিন ধরে ঢাকায় আছেন। তবে তাঁকে বাংলাদেশ ফুটবল দলের কোচ নিয়োগ দেওয়ার ব্যাপারে এখনো সিদ্ধান্ত নেয়নি বাফুফে।
নিয়োগ দেওয়া হবে কি না নিশ্চিত নয়। বাফুফে দরদেভিচকে বাজিয়ে দেখছে। দরদেভিচও বাংলাদেশের ফুটবল দেখছেন। দুই দুইয়ে চার হলে তবেই মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘদিন কোচিং করানো এই সার্বিয়ানকে নিয়োগ দেওয়া হবে। অন্যথায় আরও কোচের সাক্ষাত্কার পর্ব চলবে।
ব্রাজিলীয় কোচ এডসন সিলভা ডিডোকে বরখাস্ত করার পর বাফুফে সভাপতি কাজী সালাউদ্দিন বলেছিলেন, বায়োডাটা দেখে আর কোচ নেওয়া হবে না। কোচের সাক্ষাত্কার নেওয়ার পর পছন্দ হলে নিয়োগ। সেই সূত্রে দরদেভিচের ঢাকায় আসা, যিনি গত মৌসুমে প্রথম বিদেশি কোচ হিসেবে ভারতের আই লিগ জিতিয়েছেন গোয়ার চার্চিল ব্রাদার্সকে।
প্রতিদিনই বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামের ভিআইপি বক্সে সাফ ফুটবলের ম্যাচ দেখছেন দরদেভিচ। এই কদিনের অভিজ্ঞতা জানালেন তারই এক ফাঁকে, ‘এই কদিনে মনে হয়েছে বাংলাদেশ একটা ফুটবলপ্রেমী দেশ। জাতীয় দলের খেলায় দেখছি, প্রতিভার অভাব নেই। তবে কোনো ফুটবল একাডেমি নেই এ দেশে, যেটা খুব দরকার। ক্লাবগুলোর প্রয়োজনীয় অবকাঠামোও নেই। আবাহনী-মোহামেডান দুই ক্লাবে গিয়ে দেখেছি আবাহনীর তবু নিজস্ব একটা মাঠ আছে, মোহামেডানের তো সেটাও নেই।’
সব জেনে-বুঝে দায়িত্ব নেবেন? বললেন, ‘এএফসি সভাপতি মোহাম্মদ বিন হাম্মাম আমাকে এখানে পাঠিয়েছেন। এই সুযোগে সাফ ফুটবল দেখছি। আমার ইচ্ছা আছে এ দেশে কাজ করার। সেই সুযোগ পাওয়াটা নির্ভর করছে বাফুফের ওপর।’
বাফুফের কি পছন্দ হয়েছে জোরান দরদেভিচকে? বাফুফে সভাপতি সরাসরি কিছু বলতে চান না, ‘জোরানের সঙ্গে কথাবার্তা প্রতিদিনই চলছে। আরও চলবে। তিনি ভালো কোচ সন্দেহ নেই, তবে হুট করে সিদ্ধান্ত নেব না। সব চুলচেরা বিশ্লেষণ করব, যাতে আর বিপদে না পড়ি। আরও কয়েকজন বড় মাপের কোচের খবর আছে। অপেক্ষা করুন।’
একটি সূত্র জানিয়েছে, অস্ট্রেলিয়াপ্রবাসী এক বাংলাদেশির সহযোগিতায় অস্ট্রেলিয়া জাতীয় দলের সাবেক কোচ ফ্র্যাঙ্ক ফারিনার সঙ্গেও যোগাযোগ হয়েছে সালাউদ্দিনের। ওই কোচের সঙ্গে ১৪ ডিসেম্বর টেলিকনফারেন্সের ব্যবস্থাও নাকি করে ফেলেছেন। তবে এ ব্যাপারে সালাউদ্দিন গোপনীয়তা রাখতে চান বলেই হয়তো বললেন, ‘নো কমেন্ট।’
এদিকে তাঁর দল সাফ ফুটবল থেকে বিদায় নিলেও পাকিস্তান কোচ জর্জ কোটান ঢাকায় থেকে যাচ্ছেন ফাইনাল পর্যন্ত। আগামী ফেব্রুয়ারিতে পাকিস্তানের সঙ্গে তাঁর এক বছরের চুক্তি শেষ, রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে চুক্তি নবায়ন না করে দেশে ফিরে যাবেন তিনি। যে কারণে কানাঘুষা শোনা যাচ্ছে, বাংলাদেশের সাবেক এই কোচ কি আবার বাংলাদেশ দলের দায়িত্ব নিচ্ছেন কি না। সালাউদ্দিন তেমন সম্ভাবনা উড়িয়েই দিয়েছেন, ‘কোটান অতীত নাম। তাঁর কোনো সম্ভাবনাই নেই।’ কোটান নিজেও বললেন, ‘ব্যক্তিগতভাবে আমি আগ্রহী নই। শুনেছি তারা (বাফুফে) সার্বিয়ান কোচ নিচ্ছে। ওই কোচের সঙ্গে কথা বলে মনে হয়েছে, তিনিই হতে পারেন বাংলাদেশের নতুন কোচ।’

রহিমআফরোজের সৌর প্যানেল কারখানায় অর্থায়ন করছে ইবিএল

ইস্টার্ন ব্যাংক লিমিটেড (ইবিএল) দেশের প্রথম পিভি (ফটো ভোল্টেক) সৌর প্যানেল সংযোজন কারখানা স্থাপনে রহিমআফরোজ গ্রুপের অঙ্গপ্রতিষ্ঠান রহিমআফরোজ রিনিউয়েবল এনার্জি লিমিটেডকে (আরআরইএল) ঋণ দেবে।
এ উপলক্ষে গতকাল বৃহস্পতিবার ঢাকায় উভয় প্রতিষ্ঠানের মধ্যে একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।
ইবিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আলী রেজা ইফতেখার এবং আরআরইএলের চেয়ারম্যান নিয়াজ রহিম নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর আতিউর রহমান।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন রহিমআফরোজ গ্রুপের চেয়ারম্যান আফরোজ রহিম, ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফিরোজ রহিম, ইস্টার্ন ব্যাংকের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক মামুন মাহমুদ শাহ, ফখরুল আলম, করপোরেট বিভাগের আঞ্চলিক প্রধান সৈয়দ রফিকুল হুদা প্রমুখ।
বছরে ১২ মেগাওয়াট উত্পাদন ক্ষমতাসম্পন্ন পিভি সৌর প্যানেল সংযোজনে সক্ষম এ প্লান্ট স্থাপনে খরচ পড়বে ২৯ কোটি টাকা।

আবার পাকিস্তান দলে ওয়াকার

খেলোয়াড়ি জীবনের মতো এবার কোচ হিসেবে দলে ফেরার অভিজ্ঞতাও হয়ে গেল ওয়াকার ইউনিসের। আবার পাকিস্তান দলের কোচ হয়েছেন সাবেক এই ফাস্ট বোলার। এবার অবশ্য বাড়তি দায়িত্ব নিয়েই ফিরছেন। অস্ট্রেলিয়া সফরে বোলিংয়ের সঙ্গে পাকিস্তানের ফিল্ডিং কোচের ভূমিকায়ও থাকবেন ওয়াকার।
নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ডানেডিনে হেরে যাওয়া প্রথম টেস্টে প্রায় হাফ ডজন ক্যাচ ফেলেছে পাকিস্তানি ফিল্ডাররা। দ্বিতীয় টেস্টে জিতেছে ঠিক, তবে সেখানেও অনেক ক্যাচ পড়েছে। এ কারণেই ওয়াকারকে এই বাড়তি দায়িত্ব নেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)। ওয়াকারও রাজি হয়ে গেছেন। অস্ট্রেলিয়া সফরে পাকিস্তান তিনটি টেস্ট, পাঁচটি ওয়ানডে এবং একটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলবে।
এর আগেও পাকিস্তানের বোলিং কোচের দায়িত্ব পালন করেছেন ৮৭ টেস্টে ৩৭৩ ও ২৬২ ওয়ানডেতে ৪১৬ উইকেট পাওয়া ওয়াকার। তবে পিসিবি ও অধিনায়ক ইনজামাম-উল হকের সঙ্গে বনিবনা না হওয়ায় দায়িত্ব ছেড়ে দেন তিনি।

এফবিসিসিআইয়ের নির্বাচন এবার পিছিয়ে যাচ্ছে

দেশের ব্যবসায়ী ও শিল্পপতিদের শীর্ষ সংগঠন বাংলাদেশ শিল্প ও বণিক সমিতি ফেডারেশনের (এফবিসিসিআই) নির্বাচন নির্ধারিত সময়ে হচ্ছে না। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের নির্দেশেই এফবিসিসিআইয়ের এ নির্বাচন পেছানো হচ্ছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বর্তমান পরিচালনা পর্ষদের মেয়াদ আগামী ২৪ মার্চ, ২০১০ শেষ হয়ে যাবে। এফবিসিসিআইয়ের সংঘবিধি অনুযায়ী মেয়াদ শেষ হওয়ার ১৫ দিন আগে ২০১০-১২ মেয়াদের নির্বাচন সম্পন্ন করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে।
এ ছাড়া ৯ ডিসেম্বর অর্থাত্ গত বুধবারের মধ্যে নির্বাচন বোর্ড ও আপিল বোর্ড গঠনের বাধ্যবাধকতা ছিল। কিন্তু নির্ধারিত সময়ে নির্বাচন বোর্ড ও আপিল বোর্ড গঠন করা হয়নি।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, এফবিসিসিআইয়ের সংঘবিধিতে নির্বাচনসংক্রান্ত কয়েকটি সংশোধনী ও বাণিজ্য সংগঠন বিধিমালা ১৯৯৪-এ কিছু সংস্কার আনার জন্য এফবিসিসিআই থেকে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। এর মধ্যে বেশ কয়েকটি প্রস্তাব বিবেচনায় রয়েছে। এ কারণে চলতি মাসের প্রথম দিকেই বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এফবিসিসিআইয়ের আসন্ন নির্বাচনসংক্রান্ত কার্যক্রম গ্রহণ না করার জন্য বলা হয়েছে।
অন্যদিকে এফবিসিসিআইয়ের পরিচালনা পর্ষদের একটি নিয়মিত বৈঠক আগামীকাল শনিবার অনুষ্ঠিত হবে। সভার আলোচ্যসূচিতে নির্বাচনসংক্রান্ত বিষয় উল্লেখ রয়েছে বলে এফবিসিসিআই সূত্রে জানা গেছে।

মূল্য-আয় অনুপাত নির্ণয়ে বিনিয়োগকারীরা বিভ্রান্ত -এসইসির প্রাথমিক নির্দেশনায় অস্পষ্টতা

শেয়ারের আয় অনুপাতে দাম বা পিই অনুপাত কোন তথ্যের ভিত্তিতে নির্ণয় করা হবে, সে সম্পর্কে সঠিক কোনো দিকনির্দেশনা না থাকায় বিনিয়োগকারী, স্টক এক্সচেঞ্জসহ অনেক ঋণদাতা প্রতিষ্ঠানই বিভ্রান্তির মধ্যে ছিল।
কোন কোন কোম্পানি ঋণসুবিধা পাবে আর কোনগুলো পাবে না, অনেকেই তা বুঝে উঠতে পারেনি। ফলে গতকাল বৃহস্পতিবার দিনের শুরুতে শেয়ারবাজারে লেনদেনের মধ্যে একটা অস্থিরতা লক্ষ করা গেছে।
অবশ্য দুপুরের দিকে সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (এসইসি) স্টক এক্সচেঞ্জের মাধ্যমে বিষয়টি পরিষ্কার করলে বিভ্রান্তি কিছুটা দূর হয়।
এসইসির পক্ষ থেকে গত বুধবার সংশ্লিষ্টদের জানানো হয়, যেসব কোম্পানির আয় অনুপাতে দাম বা পিই অনুপাত ৭৫ পয়েন্টের নিচে থাকবে, সেসব কোম্পানির শেয়ার কেনার জন্য বিনিয়োগকারীরা ঋণসুবিধা পাবেন না।
কিন্তু কোম্পানির কোন ইপিএস বা শেয়ারপ্রতি আয়ের ভিত্তিতে পিই অনুপাত হিসাব করা হবে, সে ব্যাপারে কোনো সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা ছিল না।
ফলে অনেকের মধ্যেই ধারণা জন্মেছিল যে সর্বশেষ নিরীক্ষিত ইপিএস অনুযায়ী পিই অনুপাত নির্ণয় করা হবে। তাই অতীত ইপিএস ভালো না হলেও সর্বশেষ ঘোষিত ত্রৈমাসিক ইপিএস ভালো, এমন অনেক কোম্পানির শেয়ারের দাম কমতে শুরু করে। কারণ, সর্বশেষ নিরীক্ষিত ইপিএস অনুযায়ী এসব কোম্পানির অনেকের পিই অনুপাত এসইসির বেঁধে দেওয়া পিই অনুপাতের চেয়ে বেশি।
এ অবস্থায় বেলা একটার দিকে এসইসি দুই স্টক এক্সচেঞ্জকে জানায়, কোম্পানির সর্বশেষ ইপিএসের ভিত্তিতে পিই অনুপাত হিসাব করা হবে। এটি নিরীক্ষিত বার্ষিক ইপিএস হতে পারে। আবার অনিরীক্ষিত ত্রৈমাসিক ইপিএসও হতে পারে। এটা নির্ভর করবে সবশেষে কোন ইপিএসটি প্রকাশ করা হয়েছে, তার ওপর।
কিন্তু এ তথ্যটি কেন লেনদেনের শুরুতে জানানো হলো না, তা নিয়ে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
এদিকে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সর্বশেষ প্রকাশিত ইপিএস অনুযায়ী কোন কোম্পানির পিই কত হবে তা নির্ণয় করতে শুরু করেছে। বাজার মূল্যের ওঠানামার সঙ্গে সঙ্গে পিই অনুপাতও ওঠানামা করে। তাই আগামী রোববার থেকে নিয়মিতভাবে কোম্পানির পিই প্রকাশ করা হবে।
উল্লেখ্য, গতকাল প্রথম আলোতে ৭৫ পয়েন্টের বেশি পিই অনুপাতের যেসব কোম্পানির নাম ছাপা হয়েছিল তা সর্বশেষ নিরীক্ষিত ইপিএসের ভিত্তিতে ডিএসই নির্ণয় করেছিল। কিন্তু নতুন নিয়মে এর মধ্যে অনেক কোম্পানিই ঋণসুবিধা পাবে।

রান নিয়ে ডাকছে উইকেট

নেপিয়ারে সিরিজের তৃতীয় ও শেষ টেস্টের আগে ফুরফুরে মেজাজে পাকিস্তান। আগামীকাল শুরু হতে যাওয়া এই টেস্ট জিতে সিরিজ জয়ে ক্রিকেটাররা অনুপ্রাণিত বলেও দাবি করলেন টিম ম্যানেজার আবদুল রাকিব, ‘মাঝে বড় একটা সময় সাফল্য ছিল না আমাদের। জয় পাওয়াটা জরুরি হয়ে পড়েছিল। এই (ওয়েলিংটনের) জয়ে তাই তাদের অনুপ্রাণিত হওয়াটাই স্বাভাবিক।’
তবে দুই টেস্টের মাঝখানে ‘অস্বাভাবিক’ খবরও পত্রিকার পাতায় এসেছে। ওয়েলিংটন টেস্টের পর দলের দুই পেসার উমর গুল ও মোহাম্মদ আমিরের মধ্যে নাকি ড্রেসিংরুমে হাতাহাতি হয়েছে। দলীয় আচরণবিধি ভঙ্গের জন্য দুই পেসারকেই দায়ী করে টিম ম্যানেজমেন্ট ২ লাখ রুপি করে জরিমানাও করেছে। টিম ম্যানেজমেন্ট অবশ্য ধামাচাপা দিতে পুরো ব্যাপারটা অস্বীকার করে দলে সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশ বজায় আছে বলে দাবি করেছে।
তা থাকলেও নেপিয়ার টেস্টের আগে পাকিস্তানের দুশ্চিন্তা একটা আছেই। ওয়েলিংটনে ১৪১ রানের বড় ব্যবধানে জিতলেও ব্যাটিং নিয়ে স্বস্তিতে নেই পাকিস্তান। একমাত্র উমর আকমল ছাড়া আর কোনো ব্যাটসম্যান সেঞ্চুরি পাননি। ব্যাটিংয়ের এই দৈন্যদশা ঘোচাতে নেপিয়ারে বাদ দেওয়া হচ্ছে শোয়েব মালিককে। সিরিজের চার ইনিংসে যাঁর স্কোর ২, ৩২, ৯ ও ৩। মালিকের জায়গাটা সম্ভবত নিতে যাচ্ছেন ফয়সাল ইকবাল।
ব্যাটিং নিয়ে দুশ্চিন্তা নিউজিল্যান্ডেরও। ওয়েলিংটনে প্রথম ইনিংসে ৯৯ রানে অলআউট হয়েই তো টেস্ট হারল তারা। যাঁর ব্যাটিং আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে হাস্যরসের উপাদান, সেই কিউই পেসার ক্রিস মার্টিন দলের ব্যাটসম্যানদের জরুরি একটা কথা মনে করিয়ে দিয়েছেন, ‘দলের বেশির ভাগ সদস্যই জানে সিরিজ ও তাদের ক্যারিয়ারের জন্য এটা একটা চ্যালেঞ্জিং সময়। তাদের রান করতে হবে।’
ব্যাটসম্যানদের জন্য আশীর্বাদ হয়েই আসছে নেপিয়ারের ম্যাকলিন মার্ক। ব্যাটসম্যানদের স্বর্গ বলেই পরিচিত এখানকার উইকেট। রান-বন্যায় গত পাঁচ টেস্টের চারটি ম্যাচই ড্র হয়েছে। ক্রিস মার্টিন তো ‘চাপে থাকা’ সতীর্থদের সেটাও মনে করিয়ে দিয়েছেন, ‘যাঁরা সেঞ্চুরি করতে চেয়েছে এবং সিরিজে এখনো তা করতে পারেনি, তাদের চাওয়া পূরণ হওয়ার দারুণ একটা সুযোগ নেপিয়ার টেস্ট।’
মার্টিনের কথা শুনে শোয়েব মালিক হয়তো দীর্ঘশ্বাসই ফেলবেন!

বেসরকারীকরণ বিষয়ে আগের অবস্থান থেকে সরলেন মন্ত্রী -জানুয়ারিতেই নতুন শিল্পনীতি চূড়ান্ত হবে

রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানগুলোকে বেসরকারি খাতে ছেড়ে দেওয়ার বিষয়ে নিজের অবস্থান থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন শিল্পমন্ত্রী।
এ বছরের এপ্রিলের শেষ দিকে শিল্পনীতি ২০০৯-এর প্রথম খসড়া নিয়ে আলোচনাকালে জানানো হয়েছিল, ‘রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানগুলোকে আর বেসরকারি খাতে ছেড়ে দেবে না সরকার। দেশের আর্থসামাজিক অবস্থা বিবেচনা করে জনস্বার্থে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে।’
কিন্তু গতকাল বৃহস্পতিবার শিল্পমন্ত্রী দিলীপ বড়ুয়া বলেন, ‘রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্পের ঢালাও বিরাষ্ট্রীয়করণ না করে ব্যবস্থাপনা পরিবর্তন ও উন্নয়ন ঘটিয়ে লাভজনক প্রতিষ্ঠানে পরিণত করার পদক্ষেপ গ্রহণ এবং বিরাষ্ট্রীয়কণের আগে নিয়োজিত শ্রমিকদের জন্য বিকল্প কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা হবে।’
নিজের অবস্থান পরিবর্তন সম্পর্কে ব্যাখ্যা দিয়ে দিলীপ বড়ুয়া বলেন, ‘আগে বলা হয়েছিল, চালু কোনো কারখানা বিরাষ্ট্রীয়করণ করা হবে না। তবে বন্ধ কারখানাগুলো চালু করার আগে আর্থিক ও কারিগরি বিষয়ে সম্ভাব্যতা যাচাই করা হবে। লাভজনক না হলে ওই বন্ধ কারখানাগুলো চালু করা হবে না। বর্তমানে চট্টগ্রাম কেমিক্যাল কমপ্লেক্স, খুলনা নিউজপ্রিন্ট মিল ও পাকশী পেপার মিল চালু করার বিষয়ে সম্ভাব্যতা যাচাই করা হচ্ছে। লাভজনক হলে এগুলো অচিরেই চালু করা হবে।’
শিল্পনীতির সংশোধিত খসড়া শিল্প মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে সংযোজন উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে শিল্পমন্ত্রী গতকাল এসব কথা বলেছেন।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, সংশোধিত খসড়া শিল্পনীতিটি মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে www.moind.gov.bd পাওয়া যাবে। কিন্তু সংশ্লিষ্ট ওয়েবসাইটটি গতকাল সন্ধ্যায় এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত কোনোভাবে খোলা সম্ভব হয়নি। ফলে সংশোধিত খসড়ায় কী কী সংযোজন বা বিয়োজন করা হয়েছে, তা বিস্তারিত জানা যায়নি।
মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত এ সংবাদ সম্মেলনে শিল্পসচিব দেওয়ান জাকির হোসাইন, অতিরিক্ত সচিব এ বি এম খোরশেদ আলম, যুগ্ম সচিব জে এন বিশ্বাস প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
শিল্পমন্ত্রী দিলীপ বড়ুয়া বলেন, বর্তমান সরকারের এক বছর পূর্তির আগেই খসড়া শিল্পনীতি ২০০৯ চূড়ান্ত করা হবে। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী খসড়া শিল্পনীতির ওপর ব্যাপক জনগোষ্ঠীর মতামত গ্রহণের সুবিধার্থে খসড়া শিল্পনীতিটি ওয়েবসাইটে প্রদর্শনের নির্দেশনা দিয়েছেন। ২৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত অতিরিক্ত সচিবের ই-মেইল addlsecy@moind.gov.bd এবং উপসচিবের (নীতি) ই-মেইল alam3653@moind.gov.bd অথবা ৯৫৬৩৫৫৩ নম্বর ফ্যাক্সে মতামত পাঠানো যাবে।
বৈদেশিক বিনিয়োগ আকর্ষণ করতে নতুন শিল্পনীতিতে নির্দিষ্ট মাত্রার বৈদেশিক মুদ্রায় বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য ক্ষেত্রবিশেষে ‘আবাসিক সুবিধা’ বা ভিসা ছাড়াই বসবাসের সুবিধা দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
জানা গেছে, খসড়া শিল্পনীতিতে অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত শিল্পের তালিকায় রাখা হয়েছে—কৃষিভিত্তিক ও কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াকরণ শিল্প, জাহাজ নির্মাণ, নবায়নযোগ্য শক্তি, পর্যটনশিল্প, মৌলিক রসায়ন ও রাসায়নিক দ্রব্য, কম্পিউটার সফটওয়্যার ও আইসিটি, উচ্চমূল্য সংযোজিত তৈরি পোশাক, ওষুধ, পলিমার উত্পাদন ও প্লাস্টিক শিল্প, পাটজাত ও চামড়াজাত পণ্য, হাসপাতাল ও ক্লিনিক, হালকা প্রকৌশল শিল্প, প্রসাধনী ও টয়লেট্রিজ, আসবাব, ডায়মন্ড কাটিং ও পলিসিং এবং হস্তশিল্প।
তবে ১৭টি শিল্পকে নিয়ন্ত্রিত খাতের তালিকায় রাখা হয়েছে। এ ছাড়া অস্ত্র ও অন্যান্য সামরিক সরঞ্জাম ও যন্ত্রপাতি, পারমাণবিক শক্তি, সিকিউরিটি প্রিন্টিং ও টাঁকশাল, বনায়ন ও সংরক্ষিত বনভূমির সীমানায় যান্ত্রিক আহরণ সংরক্ষিত শিল্প হিসেবে রাখা হয়েছে।

কারণ ‘১১ জুন’

আগের ১৮টি বিশ্বকাপে কখনোই স্বাগতিক দল বাদ পড়েনি প্রথম রাউন্ডে। এবার প্রথমবার সেই ঘটনা ঘটবে বলে অনেকের অনুমান। তবে দক্ষিণ আফ্রিকা সাহস খুঁজতে পারে দুটি বিশ্বকাপ থেকে। ১৯৯৪ বিশ্বকাপেও বলাবলি হচ্ছিল, যুক্তরাষ্ট্র দ্বিতীয় রাউন্ডে যেতেই পারবে না। ২০০২ সালের জাপান-দক্ষিণ কোরিয়াকে নিয়েও ছিল সংশয়। দুবারই নিন্দুকের মুখে ছাই দিয়েছে স্বাগতিকেরা। কোরিয়া তো গিয়েছিল সেমিফাইনাল পর্যন্ত।
এখনো মাঠে ম্যাচ গড়ায়নি। তার আগে যা বলা হবে, স্রেফ অনুমান। আর এসব অনুমাননির্ভর গালগল্পে অতীতের বিভিন্ন উদাহরণ টেনে আনা হবে। কদিন আগে যেমন জানা গেল, দক্ষিণ আফ্রিকা চ্যাম্পিয়নও হতে পারে। কারণ ১৯৬৬ বিশ্বকাপের চ্যাম্পিয়ন ইংল্যান্ড গ্রুপ পর্বে যে তিন প্রতিপক্ষের মুখোমুখি হয়েছিল, এবারকার স্বাগতিকেরাও তা-ই। এটা যদি দক্ষিণ আফ্রিকার খুশির খবর হয়, তো তাদের জন্য দুঃসংবাদ হলো, অতীত ধারা বজায় থাকলে এবার প্রথম ম্যাচে অন্তত জিততে পারবে না তারা।
কীভাবে? বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচটা ১১ জুন। প্রতিপক্ষ মেক্সিকো। এই ১১ জুন তারিখে কখনোই বিশ্বকাপে কোনো ম্যাচ হারেনি মেক্সিকানরা! ১৯৫৮ বিশ্বকাপে ড্র করেছিল ওয়েলসের সঙ্গে। ১৯৭০ বিশ্বকাপে স্বাগতিক মেক্সিকো জিতেছিল বেলজিয়ামের বিপক্ষে। ১৯৮৬ বিশ্বকাপেও ১১ জুন জয় উপহার দিয়েছিল মেক্সিকোকে, প্রতিপক্ষ ছিল ইরাক। সর্বশেষ গত বিশ্বকাপেও ১১ জুন দিনটা পয়া প্রমাণিতই হয়েছে তাদের জন্য। ইরানকে তারা হারিয়েছিল ৩-১ গোলে। মেক্সিকো নিশ্চয়ই ব্যাকুল হয়ে অপেক্ষা করছে ২০১০ সালের ১১ জুন দিনটার জন্য!

প্রথম বিভাগ ক্রিকেট

মোশাররফের অলরাউন্ড নৈপুণ্যে প্রথম বিভাগ ক্রিকেটের রেলিগেশনের প্রথম ম্যাচে বারিধারা ড্যাজলার্স (১৫৫/৬) ৪ উইকেটে হারিয়েছে লালমাটিয়া ক্লাবকে (১৫১)। বোলিংয়ে ৩ উইকেট নেওয়ার পাশাপাশি মোশাররফ ব্যাটিংয়ে করেন অপরাজিত ৫৯ রান।

ইউনুসের ওপর চটেছেন বাট

ইজাজ বাট ইউনুস খানের ওপর একটু অসন্তুষ্টই। হওয়ারই কথা। নিউজিল্যান্ড সফর থেকে সরে দাঁড়ানোর পর অস্ট্রেলিয়া সফরের দলের জন্য তাঁকে বিবেচনায় আনারও সুযোগ দিলেন না ইউনুস। পরশু নির্বাচকদের ঘোষিত অস্ট্রেলিয়া সফরের দলে ইউনুসের নাম না দেখে পিসিবি প্রধানের রাগ গিয়ে পড়ছে এই ব্যাটসম্যানের ওপর।
নিউজিল্যান্ড সফর থেকে সরে দাঁড়ানোর পর ইউনুস খানকে পিসিবি প্রধান বাট পরামর্শ দিয়েছিলেন, তিনি যেন ঘরোয়া ক্রিকেটে খেলে অস্ট্রেলিয়া সিরিজের জন্য নিজেকে প্রস্তুত রাখেন। ইউনুস সেটা না করাতেই অসন্তুষ্ট হয়েছেন বাট, ‘সে আমার পরামর্শ শোনেনি বলে খারাপই লাগছে। আমি মনে করি, সে আমাদের সেরা ব্যাটসম্যান এবং তাঁর অস্ট্রেলিয়া যাওয়া উচিত। কিন্তু সে যদি নিজেই নিজেকে সরিয়ে নেয়, নির্বাচকেরা আর কী করবেন?’ পিসিবি প্রধান জানিয়েছেন, বোর্ড ইউনুস খানের সঙ্গে বেশ কয়েকবার যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তাতে লাভ হয়নি। ‘আমরা এখন এটাও জানি না ইউনুস কোথায় আছে। কারণ সে আমাদের সঙ্গে কোনো যোগাযোগই করেনি’—বলেছেন বাট।

অস্ট্রেলিয়া-বধের স্বপ্ন দেখছেন গেইল

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে তারা সর্বশেষ জয়টি পেয়েছে ছয় বছর আগে। অপেক্ষাটি ছয়ের জায়গায় দশ বছরও হতে পারত, যদি ২০০৩ সালের অ্যান্টিগা টেস্টে দুই গায়ানিজ চন্দরপল-সারওয়ানের বীরত্বে চতুর্থ ইনিংসে রেকর্ড গড়া এক অবিশ্বাস্য জয় না পেত ওয়েস্ট ইন্ডিজ। এর পর থেকেই অস্ট্রেলিয়া-ওয়েস্ট ইন্ডিজ টেস্ট মানে অধিকাংশ সময়েই এক একপেশে লড়াই।
কিন্তু গত অ্যাডিলেড টেস্টটা ড্র করেও যেন জয়ী ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ওয়েস্ট ইন্ডিজের সামনে ম্যাচ বাঁচাতে মাথা নিচু করে লড়ছে অস্ট্রেলিয়া—এ তো ক্রিস গেইলের দলের জন্য জয়েরই সমান। এবং গত ম্যাচ থেকে পাওয়া আত্মবিশ্বাস থেকে ওয়েস্ট অধিনায়ক উঁচু গলায় বলতে পারছেন, ১৬ তারিখ থেকে শুরু হতে যাওয়া পার্থ টেস্টে জয়ের কথাই ভাবছেন তাঁরা, ‘অস্ট্রেলিয়া দলে এখনো অনেক দুর্দান্ত খেলোয়াড়। এখনো তারা দল হিসেবে খুবই শক্তিশালী। কিন্তু তার পরও আমি মনে করি, তাদের হারানো খুবই সম্ভব। অ্যাডিলেডে আমরা ওদের কোণঠাসা করে ফেলেছিলাম। এক দীর্ঘ সময় ধরে ওরা চাপের মুখে ছিল।’
গেইল অবশ্য স্বীকার করে নিলেন, তাঁর দেখা আগের অস্ট্রেলিয়ার চেয়ে এই অস্ট্রেলিয়া দুর্বল, ‘এর আগে আমি যে অসিদের বিপক্ষে খেলেছি, তাদের ব্যাটিং লাইনআপ ছিল অনেক লম্বা আর শক্তিশালী। এই অস্ট্রেলিয়ার বোলিংটাও অনভিজ্ঞ।’
সিরিজের প্রথম ম্যাচে তিন দিনে ইনিংস পরাজয় মেনে নেওয়ার পর এমন দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন! খ্যাতিমান ক্রিকেট লেখক পিটার রোবাকের কাছেও এটিকে ওয়েস্ট ইন্ডিজের জয়ের সমতুল্যই মনে হচ্ছে, ‘ড্র শেষ পর্যন্ত ড্রই। তার পরও সবকিছু বিবেচনা করলে এটা ছিল অসহায় একটা দলের দুর্দান্ত প্রচেষ্টা, যাদের শুধু মান বাঁচাতেই নয়, খেলতে হয়েছে নিজের অস্তিত্ব বাঁচাতেও।’
এক ম্যাচেই এই রূপবদলের রহস্য কী? এর আগে শোনা গিয়েছিল, গেইল নাকি তিন দিনে ম্যাচ হারার পর রুদ্ধদ্বার বৈঠক করে সতীর্থদের অনুপ্রাণিত করেছেন। খেলোয়াড়দের উজ্জীবিত করতে অবদান আছে সাবেক গ্রেট বর্তমানে দলের ম্যানেজার জোয়েল গার্নারেরও। ব্রিসবেনে তিন দিনে পরাজয়ের পর খেলোয়াড়দের নাকি কড়া ধাতানি দিয়েছিলেন সাবেক ফাস্ট বোলার। তবে তিনি ঠিক কী বলেছিলেন সেদিন—‘দলের কথা দলেই থাকুক’ বলে সেটি বলতে রাজি নন গার্নার।
তবে আরেক সাবেক গ্রেট কোর্টনি ওয়ালশের মনে কোনো সন্দেহ নেই, প্রেরণার কেন্দ্রে আছেন গেইল নিজে। গেইলের নেতৃত্বে হূতগৌরবের অনেকটাই পুনরুদ্ধারের স্বপ্নও দেখতে শুরু করেছেন ওয়ালশ।

তিন জাতি সিরিজের সেরা মাহমুদুল

শ্রীলঙ্কায় অনুষ্ঠিত অনূর্ধ্ব-১৯ তিন জাতি সিরিজে বাংলাদেশের বিশেষ কিছু দলীয় প্রাপ্তি না থাকলেও ব্যক্তিগত অর্জন আছে। বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দলের অধিনায়ক মাহমুদুল হাসান পেয়েছেন সিরিজের সেরা খেলোয়াড়ের স্বীকৃতি।
তিন ম্যাচে ১১৬ রান করেছেন মাহমুদুল, দুই ইনিংসেই অপরাজিত থাকার সৌজন্যে গড়ও ১১৬। এর বাইরে অফ স্পিনে নিয়েছেন ২ উইকেট। সিরিজের সেরা দশ ব্যাটসম্যানের মধ্যে আছেন বাংলাদেশের মমিনুল হকও (৩ ম্যাচে ৯৩ রান করে চার নম্বরে)। বোলারদের তালিকায় চতুর্থ আবুল হাসান, ২ ম্যাচ খেলে ৯১ রানে ৬ উইকেট এই পেসারের। এর মধ্যে পাকিস্তানের বিপক্ষেই নিয়েছেন ৫০ রানে ৫ উইকেট।
গত পরশু ফাইনালে পাকিস্তান অনূর্ধ্ব-১৯ দলকে হারিয়ে সিরিজে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে স্বাগতিক শ্রীলঙ্কা অনূর্ধ্ব-১৯ দল। বাংলাদেশ দলের কাল রাতেই দেশে ফেরার কথা ছিল।

মুশফিকুরের ব্যাটে উড়ল বিমান

ম্যাচ শেষে বিমানের ক্রিকেটাররা এমনভাবে মাঠে ছুটে গেলেন, যেন লিগই জয় করে ফেলেছেন। হতে পারে জয়ের ধরনের কারণে। ২৭ ওভারে ২০২ রান, লক্ষ্যটা সহজ ছিল না। তবে কঠিন কাজটাও বিমান করেছে বেশ সহজে। আবার হতে পারে মুশফিকুর রহিমকে অভিনন্দন জানাতেও। ৬৩ বলে ৮৪ রানের দুর্দান্ত এক অপরাজিত ইনিংস খেলেছেন জাতীয় দলের উইকেটকিপার। সুপার লিগের কুয়াশাসিক্ত প্রথম দিনে সহজ জয় পেয়েছে লিগ টেবিলের শীর্ষ দুই দল আবাহনী ও মোহামেডানও।
শেষ হেমন্তের ঘন কুয়াশা কাল শুধু সারা দেশের জনজীবনই বিপর্যস্ত করেনি, কমিয়ে দিয়েছে সুপার লিগের প্রতিটি ম্যাচের দৈর্ঘ্যও। মিরপুরে ২৭ ওভারের ম্যাচে টসজয়ী কলাবাগান ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুটা করেছিল টি-টোয়েন্টি মেজাজে। ম্যাচের দ্বিতীয় ওভারেই ওপেনার রাসেল আউট হওয়ার পরও নাজমুস সাদাত ও জাহিদের ব্যাটে ১০ ওভারে উঠে যায় ৭৩ রান। ইনিংসের একমাত্র ফিফটি বাঁহাতি ওপেনার নাজমুসের (৪৯ বলে ৫৬), তবে রান পেয়েছেন প্রথম পাঁচ ব্যাটসম্যানের সবাই। ২৭ ওভারে তাই কলাবাগান তুলে ফেলে ২০১ রানের চ্যালেঞ্জিং স্কোর।
এমন রান তাড়া করে জিততে শুরুটা যেমন হওয়া উচিত, বিমানের হয়েছে ঠিক তেমনটাই। শাহাদতের করা ম্যাচের প্রথম ওভারেই আসে ১৬ রান, ৫ ওভারে ৫১। শুরুটা করেছিলেন অভিষেক মিত্র, তবে নবম ওভারের প্রথম বলে এই ওপেনার রান আউট (৩১ বলে ৪২) হওয়ার পরও থামেনি ঝড়। ১০ ওভার শেষে বিমানের স্কোর ১ উইকেটে ৯৪। এরপর জহুরুল ও তুষার ইমরান আউট হয়ে গেলে কিছুটা হলেও ম্যাচে ফিরেছিল কলাবাগান। তবে শ্রীলঙ্কান অলরাউন্ডার হাশান্থা ফার্নান্দোর সঙ্গে ৪৫ বলে ৬৩ রানের জুটি গড়ে দলকে লক্ষ্যে পৌঁছে দেন ম্যাচ-সেরা মুশফিকুর। ৩৮ বলে ৪টি চার ও এক ছক্কায় লিগে নিজের প্রথম ফিফটিতে পৌঁছানো ওপেনার পরে মেরেছেন আরও ৪টি চার ও একটি ছয়।
মুশফিকুরের মতো লিগে কাল প্রথম ফিফটি পেয়েছেন নাফিস ইকবালও। তবে জাতীয় দলের সাবেক ওপেনার কাল খেলেছেন চার নম্বরে। ফতুল্লায় ৩৪ ওভারের নির্ধারিত ম্যাচে তাঁর দল মোহামেডান সিসিএসকে হারিয়েছে ৬ উইকেটে। ১৫৫ রানের লক্ষ্যে ব্যাটিংয়ে নেমে ৩৮ রানে দুই উইকেট পড়ার পর উইকেটে এসেছিলেন নাফিস, ফিরেছেন দলের জয় সঙ্গী করে। ম্যাচ-সেরা অবশ্য তিনি নন, চার উইকেট নিয়ে পাকিস্তানি পেসার রানা নাভেদ। চারটি উইকেটই পেয়েছেন শেষ স্পেলে, শেষ দুই ওভারে তিনটি।
বিকেএসপিতে ২৭ ওভারের ম্যাচে আবাহনীর বিপক্ষে ভিক্টোরিয়া ১০৮ রানে অলআউট হয়ে যাওয়ার পরই আসলে পরিষ্কার হয়ে গিয়েছিল ম্যাচের সম্ভাব্য ফলাফল। দুই উইকেট করে নিয়েছেন আবাহনীর তিন বোলার শুভাশিষ, রাজ্জাক ও রফিক। তবে ৬ ওভারে ১১ রানে ৪ উইকেট নিয়ে ভিক্টোরিয়ার মূল হন্তারক সাকিব আল হাসান। আবাহনী অধিনায়ক পরে ব্যাট হাতে অপরাজিত ৩৪ রান করে হয়েছেন ম্যাচ-সেরা। তবে ২৯ বলে ৪২ রান করে আবাহনীকে উড়ন্ত সূচনা এনে দিয়েছিলেন ইমরুল কায়েস।

আকরামের কান্না

হুমা আকরামের চলে যাওয়ার শোক এখনো সামলে উঠতে পারেননি। আর তাই কাল তদন্ত কমিটির সামনে কান্নায় ভেঙে পড়েছিলেন ওয়াসিম আকরাম। অসুস্থ স্ত্রীর প্রতি পাকিস্তানি চিকিত্সকেরা যথেষ্ট মনোযোগী ছিলেন না, ঠিকমতো চিকিত্সা করা হয়নি—আকরামের এই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে গঠন করা হয়েছে এই তদন্ত কমিটি। ওয়েবসাইট।
‘চিকিত্সকেরা ঠিকমতো আমার স্ত্রীর যত্ন নেয়নি বলেই ও মারা গেছে। যার ফলে ওর কিডনি অকেজো হয়ে গিয়েছিল, হূিপণ্ডের জটিলতা দেখা দিয়েছিল’—কাল সাংবাদিকদের বলেছেন এই সাবেক পাকিস্তানি অধিনায়ক। সুনির্দিষ্ট কিছু বেসরকারি হাসপাতালের বিরুদ্ধে তাঁর অভিযোগ। এদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়ারও দাবি জানিয়েছেন তিনি।
তদন্ত কমিটি এরই মধ্যে পদক্ষেপ নিতে শুরু করেছে। সরকারের কাছে ১৭ জন চিকিত্সক আর স্বাস্থ্যকর্মীর লাইসেন্স বাতিলের সুপারিশ করেছে তারা।

বিশ্ব ক্লাব কাপে থাকবেন মেসি?

স্প্যানিশ লিগের চ্যাম্পিয়ন তারা। ইউরোপ-সেরাও। তবু ফিফা ক্লাব বিশ্বকাপ শুরু হলে একটা আক্ষেপ হয়তো পোড়ায় বার্সেলোনাকে—এই শিরোপাটাই নেই তাদের ট্রফিকেসে। হয়তো কি, কদিন আগে দলের তারকা স্ট্রাইকার লিওনেল মেসি তো বলেই ফেললেন—‘এই একটা শিরোপা জেতা হয়নি দলের। বার্সার বেশির ভাগ খেলোয়াড়ের কাছেও এটির স্বাদ অজানা। ...এটির দিকে আমি সাগ্রহে তাকিয়ে আছি।’
তবে সংযুক্ত আরব আমিরাতে বুধবার শুরু হওয়া এই টুর্নামেন্টে নিজেদের শুরুর আগেই একটা দুঃসংবাদ শুনতে হলো বার্সেলোনাকে। গত পরশু চ্যাম্পিয়নস লিগে ডায়নামো কিয়েভের বিপক্ষে ম্যাচে অ্যাঙ্কেলে চোট পেয়েছেন লিওনেল মেসি। শনিবার লা লিগায় এসপানিওলের বিপক্ষে খেলা অনিশ্চিত। অনিশ্চিত ক্লাব বিশ্বকাপে ১৬ তারিখে বার্সেলোনার প্রথম ম্যাচে খেলাও। বার্সেলোনা কোচ পেপ গার্দিওলা অবশ্য মেসিকে পাওয়ার আশা ছাড়ছেন না, ‘এখনো একটা সপ্তাহ বাকি। দেখা যাক, তাঁর অবস্থা কী দাঁড়ায়।’
শেষ পর্যন্ত মেসি না খেলতে পারলে সেটি হবে বার্সেলোনার জন্য বড় একটা আঘাত। মেসির জন্য তো বটেই। ২০০৬ সালে এই টুর্নামেন্টের আগে চোট পেয়ে দলের বাইরে ছিটকে পড়ায় আর্জেন্টিনায় বসে টেলিভিশনে খেলা দেখতে হয়েছে তাঁকে। টেলিভিশনেই দেখেছেন, বার্সেলোনার শিরোপা জয়ে ব্যর্থতা। সেবারের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে এবার যখন ক্লাব বিশ্বকাপ জয়ের জন্য দৃঢ়প্রতিজ্ঞ, তখনই এল মেসির ইনজুরির খবর।
ছয় মহাদেশের ক্লাব চ্যাম্পিয়নদের এই টুর্নামেন্টে স্বাগতিক হওয়ার সুবাদে আছে আয়োজক দেশের চ্যাম্পিয়ন ক্লাব আল আহলি। এক অর্থে নেইও। টুর্নামেন্টের নিয়মানুযায়ী কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নেওয়ার জন্য স্বাগতিক দলকে প্লে-অফ খেলতে হয় ওশেনিয়া চ্যাম্পিয়ন দলের সঙ্গে। গত পরশু যে ম্যাচে আরব আমিরাতের আল আহলি হেরে গেছে (০-২) নিউজিল্যান্ডের অকল্যান্ড সিটির কাছে। উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগজয়ী বার্সেলোনা ও কোপা লিবার্তাদোরেস চ্যাম্পিয়ন এস্তুদিয়ানতেস খেলবে সরাসরি সেমিফাইনালে। ১৫ ও ১৬ ডিসেম্বর দুটি সেমিফাইনাল। এর আগে বাকি দুই সেমিফাইনালিস্ট নির্ধারণের জন্য দুটি কোয়ার্টার ফাইনাল হবে আজ ও আগামীকাল। প্রথম কোয়ার্টার ফাইনালে আফ্রিকান চ্যাম্পিয়ন কঙ্গোর মাজেম্বে খেলবে এশিয়ান চ্যাম্পিয়ন দক্ষিণ কোরিয়ান ক্লাব পোহাং স্টিলার্সের বিপক্ষে। দ্বিতীয় কোয়ার্টার ফাইনালে অকল্যান্ড সিটির প্রতিপক্ষ কনক্যাকাফ চ্যাম্পিয়ন মেক্সিকোর আটলান্টে। ফাইনাল হবে ১৯ ডিসেম্বর।

সিঁদুরে মেঘে ভয়

স্পেনকে আপনি অনায়াসে ‘ফুটবলের দক্ষিণ আফ্রিকা’ হিসেবে চালিয়ে দিতে পারেন। ‘চোকার’ নামের বিদঘুটে বিশেষণটা যাদের কারণে ক্রিকেটে এত পরিচিত, ফুটবলে সেই চোকার হলো স্পেন। এই দুটি দলই প্রায় প্রতি বিশ্বকাপের আগে অন্যতম ফেবারিট হয়ে যাত্রা শুরু করে, কিন্তু শেষটা করে আশাভঙ্গের বেদনা নিয়ে। পার্থক্য কেবল, দক্ষিণ আফ্রিকা সেমিফাইনালে উঠেছে তিনবার, স্পেন মাত্র একবার। ক্রিকেটের দক্ষিণ আফ্রিকার মতোই ‘বিশ্বকাপের ফাইনাল’ কী বস্তু, সেটি চেখে দেখা হয়নি ফুটবলের স্পেনের।
দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বকাপেও স্পেন অন্যতম ফেবারিট। সত্যি বলতে কি, গত ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপ আর বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে ১০ ম্যাচেই জেতার পর বলাবলি হচ্ছে, দক্ষিণ আফ্রিকাতেই অপেক্ষার অবসান হবে ‘লা রোজা’দের। বাজিকরদের প্রথম পছন্দ তারাই। ফিফা র্যাঙ্কিংয়ের এক নম্বর দলও। কিন্তু আবার সেই ফেবারিটের তকমা স্বস্তির চেয়ে অস্বস্তিই দিচ্ছে বেশি কোচ ভিসেন্তে দেল বস্ককে।
বিশ্বকাপে এর আগে চারবার যেমন কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার কৃতিত্ব আছে, তেমনি চারবার আছে প্রথম রাউন্ডেই বাদ পড়ার নজিরও। দেল বস্ক হয়তো দলকে সাবধান করে দেওয়ার জন্যই গ্রুপ পর্ব পেরোনোর কাজটাকেই কঠিন বলে মানছেন, ‘এটা মন খারাপ করার মতো গ্রুপ নয়, খুশি হওয়ার মতোও না। চিলি আর সুইজারল্যান্ড র্যাঙ্কিংয়ের ১৭ আর ১৮ নম্বর দল। যতটুকু খোঁজখবর পেয়েছি, হন্ডুরাসও খুবই শক্তিশালী। কাজটা তাই সহজ হবে না।’
অতীত ইতিহাসই বোধহয় এতটা সাবধানী করে তুলেছে দেল বস্ককে। তার ওপর বিশ্বকাপটা এবার দক্ষিণ আফ্রিকায়। সেখানে গিয়ে আবার গ্রায়েম স্মিথ বা শন পোলকদের সঙ্গে যেন দেখা না হয়ে যায় ক্যাসিয়াস-জাভিদের। আর দেখা হলেও যেন চোকারসংক্রান্ত আলোচনা সজ্ঞানে এড়িয়ে যান তাঁরা!

শ্রীলঙ্কা-মালদ্বীপ যেন ‘যুদ্ধ’!

দুই দলের থিংক ট্যাংক সংবাদ সম্মেলনে যা বলে গেল, তাতে মালদ্বীপ-শ্রীলঙ্কা ম্যাচটাকে শুধুই সাফের ফাইনালে ওঠার লড়াই বলা যাচ্ছে না।
শ্রীলঙ্কার অধিনায়ক চাথুরা মাদুরাঙ্গা যতই বললেন, ‘না, না, এটা প্রতিশোধের ম্যাচ নয়। কোনো চাপ নিচ্ছি না আমরা। তবে আমরা চ্যালেঞ্জ নিতে তৈরি’, তার পরও সংবাদ সম্মেলনজুড়েই থাকল ‘যুদ্ধে’র আবহ। মালদ্বীপের হাঙ্গেরিয়ান কোচ ইস্তবান বেলা যখন বলেন “এই ম্যাচ আমাদের জন্য অনন্য এক ম্যাচ। এটা ‘ডার্বি’ ম্যাচ। আবেগের ম্যাচ”, তখন তো নড়েচড়ে বসতেই হয়!
ডার্বি ম্যাচ হয় একই শহরের দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীর মধ্যে। কিন্তু শ্রীলঙ্কা আর মালদ্বীপ তো দুটি দেশ! তার পরও কেন এটি ‘ডার্বি’ ম্যাচ? আসলে ভারত মহাসাগরের দুই প্রতিবেশী দেশকে এখনো অনেকে আলাদা করে দেখেন না। শ্রীলঙ্কার অধিনায়ক চাথুরা, দুই স্ট্রাইকার কাসুন জয়াসুরিয়া, ইবি চান্নাসহ আরও কয়েকজন খেলোয়াড় মালদ্বীপ লিগে খেলেন। তাঁরা মালদ্বীপ ফুটবলের আদ্যন্ত জানেন। আবার মালদ্বীপও শ্রীলঙ্কার ফুটবলের সব জানে। কলম্বো আর মালের মধ্যে ব্যবধান-রেখা টানতে চাননি বলেই ডার্বি ম্যাচ বলে মালদ্বীপ কোচের অমন বিশেষণ। শুধু কি তাই, মালদ্বীপের ফুটবল এগিয়েছে তো শ্রীলঙ্কার সাহায্য নিয়েই।
একসময় শ্রীলঙ্কার কোচরা মালদ্বীপে গিয়ে ওখানখার তরুণদের ফুটবল শেখাতেন। অর্থাত্ শ্রীলঙ্কা হচ্ছে ফুটবলে মালদ্বীপের ‘মাস্টার’। মালদ্বীপ ছাত্র হয়ে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে শ্রীলঙ্কাকে হারাচ্ছে, এটা মেনে নিতে পারছে না শ্রীলঙ্কানরা। তাদের কাছে তাই এটি ‘মর্যাদার’ ম্যাচ!
‘আজ থেকে ২০-২৫ বছর আগে আমাদের কোচরা মালদ্বীপে গিয়ে ওদের ফুটবল শিখিয়েছে। বুঝতেই পারছেন, ওদের কাছে পরাজয় মানতে পারি না আমরা’—সংবাদ সম্মেলনে না বললেও পরে দু দেশের ফুটবল সম্পর্কের ইতিহাসটা এভাবেই ব্যাখ্যা করলেন শ্রীলঙ্কান অধিনায়ক। গত বছর সাফ ফুটবলের সেমিফাইনালে এই মালদ্বীপের কাছে হারের ক্ষতটা এখনো শুকায়নি। পরিসংখ্যানে চোখ রেখে তো তাঁর আরও তেতে থাকার কথা। দু দলের ১৪টি লড়াইয়ে মালদ্বীপ এগিয়ে ৫-২ ব্যবধানে। বাকি ৭ ম্যাচ ড্র। সাফে কখনো মালদ্বীপকে হারাতে পারেনি শ্রীলঙ্কা। এই দু দলের খেলা কখনো কখনো খেলার চেতনাকেও আঘাত করে। কাঠমান্ডুতে ১৯৯৭ সাফ ফুটবলের সেমিফাইনালে মালদ্বীপের কাছে হারের প্রতিশোধ নিয়েছিল শ্রীলঙ্কা এক লঙ্কাকাণ্ড করে। মালদ্বীপের খেলোয়াড়দের তারা মারধর করেছিল কুংফু-কারাতে স্টাইলে।
আজ জিততেই হবে—শ্রীলঙ্কা শিবিরে একটাই প্রতিজ্ঞা। আজ পুরো শক্তির দল নিয়ে মাঠে নামতে পারছে বলে বেশ আত্মবিশ্বাসী দেখাচ্ছে শ্রীলঙ্কাকে। গত ম্যাচে ছয়জন খেলেননি, যাঁদের চারজনই ছিলেন ডিফেন্ডার। বড় অস্ত্র চান্না আর কাসুনকে এই ম্যাচ নিয়ে জিজ্ঞেস করলে আত্মবিশ্বাসী জবাব, ‘সে অনেক লম্বা ইতিহাস। আমরা তাদের সবই জানি। কাজেই আমরা ভালো খেললে অবশ্যই জিতব।’
শ্রীলঙ্কা যতই আশাবাদী থাকুক, তাদের জন্য চিন্তার কারণ মালদ্বীপ অধিনায়ক আশফাক আলী। দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম সেরা এই খেলোয়াড়কে ঘিরে আবর্তিত হচ্ছে মালদ্বীপের সব আশা। তবে কোচ বারবারই বলে গেলেন, ‘আমরা প্রতিপক্ষকে সম্মান জানাই। তবে রেফারিং নিয়ে আমার আপত্তি আছে। আশা করি ভালো রেফারিং হবে এ ম্যাচে।’
মালদ্বীপের এক সাংবাদিকের মুখে শোনা, শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে জয় দেখার জন্য গোটা মালদ্বীপ উদগ্রীব হয়ে আছে।