Monday, June 20, 2011

রপ্তানি আয় দুই হাজার কোটি ডলার ছাড়াল

দেশের বার্ষিক পণ্য রপ্তানি আয় প্রথমবারের মতো দুই হাজার কোটি ডলার অতিক্রম করেছে। চলতি ২০১০-১১ অর্থবছরের ১১ মাসে (জুলাই-মে) পণ্য রপ্তানির আয় দাঁড়িয়েছে দুই হাজার ৫৩ কোটি ৮৩ লাখ ডলার।
১১ মাসের এই রপ্তানি আয় গত ২০০৯-১০ অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে ৪১ দশমিক ৬১ শতাংশ বেশি। শুধু তা-ই নয়, এটি গত অর্থবছরের বার্ষিক মোট রপ্তানি আয়ের এক হাজার ৬২০ কোটি ৪৬ লাখ ডলারের চেয়েও প্রায় ২৭ শতাংশ বেশি।
সর্বোপরি চলতি অর্থবছরের বার্ষিক লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও অনেক বেশি। চলতি অর্থবছরে রপ্তানি আয়ের বার্ষিক লক্ষ্যমাত্রা ধার্য করা হয়েছিল সাড়ে ১৮ হাজার কোটি ডলার।
রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) হালনাগাদ পরিসংখ্যান থেকে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।
এতে দেখা যায়, চলতি অর্থবছরের মে মাসে রপ্তানি আয় দাঁড়িয়েছে ২২৯ কোটি ৫১ লাখ ডলার, যা গত বছরের মে মাসের তুলনায় ৪৭ দশমিক ৭০ শতাংশ বেশি। আর এ বছর এপ্রিল মাসে পণ্য রপ্তানি থেকে আয় হয়েছিল ২০৩ কোটি ৬১ লাখ ডলার।
ইপিবির পরিসংখ্যান পর্যালোচনায় দেখা যায়, আলোচ্য সময়কালে নিট পোশাক রপ্তানি থেকে আয় হয়েছে ৮৪৪ কোটি ৪৬ লাখ ডলার, যা কিনা গত অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে ৪৬ দশমিক ৭৬ শতাংশ বেশি।
আর একই সময়ে ওভেন পোশাক রপ্তানি থেকে আয় হয়েছে ৭৫১ কোটি ৪৭ লাখ ডলার, যা কিনা আগের বছরের একই সময়ের চেয়ে ৩৯ দশমিক ৫০ শতাংশ বেশি।
এই সময়কালে হোম টেক্সটাইল রপ্তানি আয় আগের বছরের একই সময়ের চেয়ে প্রায় দ্বিগুণ হয়ে গেছে। হোম টেক্সটাইল রপ্তানি আয়ের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৭১ কোটি ৬৩ লাখ ডলার।
পাট ও পাটজাত পণ্যের সামগ্রিক রপ্তানি আয় এই সময়কালে বেড়েছে ৪২ শতাংশ। মোট রপ্তানি দাঁড়িয়েছে ১০৩ কোটি ডলার। এর মধ্যে কাঁচা পাট রপ্তানি থেকে আয় হয়েছে ৩৩ কোটি ১৬ লাখ ডলার, পাট-সুতা রপ্তানি থেকে আয় হয়েছে ৪৬ কোটি ৩৫ লাখ ডলার এবং চটের থলে ও ছালা রপ্তানি থেকে আয় হয়েছে ১৮ কোটি ৮৮ লাখ ডলার।
চলতি অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসে চামড়া রপ্তানি থেকে ২৭ কোটি ডলার, চামড়াজাত পণ্য থেকে পাঁচ কোটি ডলার, তুলা ও তুলাজাত পণ্য রপ্তানি থেকে আয় হয়েছে ১২ কোটি ৩৪ লাখ ডলার। এ ছাড়া প্লাস্টিক পণ্য রপ্তানি থেকে আয় হয়েছে ছয় কোটি ২৭ লাখ ডলার আর রাবার রপ্তানি থেকে আয় হয়েছে প্রায় দুই কোটি ডলার।

ডিএসইর দৈনিক গড় লেনদেন কমেছে ১৫০ কোটি টাকা

সপ্তাহ শেষে দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) প্রতিদিনকার গড় লেনদেন নেমে এসেছে প্রায় ৫৫০ কোটি টাকায়। আগের সপ্তাহেও এর পরিমাণ ছিল ৭০০ কোটি টাকার ওপর। সেই হিসাবে এক সপ্তাহের ব্যবধানে দৈনিক গড় লেনদেন কমেছে ১৫০ কোটি টাকা।
এ ছাড়া এক সপ্তাহের ব্যবধানে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর শেয়ারের মূল্য আয়ের অনুপাত (পিই রেশিও) কমেছে প্রায় ৬ শতাংশ। গেল সপ্তাহ শেষে ডিএসইর তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর গড় পিই কমে দাঁড়িয়েছে ১৬। এর আগের সপ্তাহে যা ছিল প্রায় ১৭।
বাজার পর্যালোচনা করে গেল সপ্তাহটিকে ২০১১-১২ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট-পরবর্তী বিনিযোগকারীদের ‘প্রতিক্রিয়ার সপ্তাহ’ বলে মত দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফাইন্যান্স বিভাগের শিক্ষক সালাহউদ্দিন আহমেদ খান প্রথম আলোকে বলেন, ‘বাজেট সামনে রেখে একদল বিনিয়োগকারী বাজারে নতুনভাবে বিনিয়োগের প্রস্তুতি নিয়েছিল। তাঁদের ধারণা ছিল, বাজেটে পুঁজিবাজারের জন্য সরকার কিছু প্রণোদনা ঘোষণা করবে। কিন্তু বাস্তবে দেখা গেল, বাজেটে সে রকম কিছুই নেই। বরং স্টক এক্সচেঞ্জের সদস্যদের লেনদেনের ওপর উৎসে আয়করের হার বাড়ানো হয়েছে। যার দায়ভার শেষ পর্যন্ত বিনিয়োগকারীদের ওপর গিয়েই বর্তাবে। এ কারণে আগ্রহী বিনিয়োগকারীরা তাঁদের অবস্থান থেকে সরে যায়। ফলে বাজেট কেন্দ্র করে বাজার ঘুরে দাঁড়ানোর যে সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল, সেটি কাজে লাগেনি।’
সালাহউদ্দিন আহমেদ খান আরও বলেন, বর্তমান বাজারে শেয়ারের দাম যে পর্যায়ে রয়েছে সেটি বিনিয়োগের জন্য খুবই আকর্ষণীয়। কিন্তু দাম আকর্ষণীয় পর্যায়ে থাকলেই তো শুধু হবে না, এর প্রতি বিনিয়োগকারীদের আস্থা ও আগ্রহ তৈরি করতে হবে। এ কাজটি করতে হবে নিয়ন্ত্রক সংস্থাসহ বাজারের সঙ্গে জড়িত সব পক্ষের সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে।
ডিএসইতে গত সপ্তাহের পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে চার দিনই দরপতন ঘটেছে। কমেছে লেনদেন হওয়া অধিকাংশ শেয়ারের দাম। সপ্তাহজুড়ে হাতবদল হওয়া ২৬৯ কোম্পানির মধ্যে ২৪৪টিরই দাম কমেছে। বেড়েছে কেবল ১৯টির আর অপরিবর্তিত ছিল একটি কোম্পানির শেয়ারের দাম।
আগের সপ্তাহটিতেও ডিএসইতে ২৬৯টি কোম্পানির শেয়ার লেনদেন হয়েছিল। তার মধ্যে ১৪৯টিরই দাম বাড়ে, কমেছে ১১১টির আর অপরিবর্তিত ছিল চারটির দাম।
গত সপ্তাহের শুরুতে ডিএসইর সাধারণ মূল্যসূচক ছিল পাঁচ হাজার ৯৯০ পয়েন্ট। প্রথম কার্যদিবসেই সাধারণ সূচক কমে প্রায় ৩১৩ পয়েন্ট। পরদিনই সেটি ২২৮ পয়েন্ট বাড়ে। এরপর টানা তিন কার্যদিবসে সেটি কিছু কিছু করে কমেছে। যার ফলে সপ্তাহ শেষে ডিএসইর সাধারণ সূচক কমে দাঁড়িয়েছে পাঁচ হাজার ৭৭৬ পয়েন্টে, যা আগের সপ্তাহের চেয়ে প্রায় ২১৪ পয়েন্ট কম।
গত পাঁচ কার্যদিবসে ডিএসইতে মোট দুই হাজার ৭৩২ কোটি টাকার লেনদেন হয়। এর আগের সপ্তাহে যার পরিমাণ ছিল তিন হাজার ৫৪৭ কোটি টাকা। সেই হিসাবে মোট লেনদেন কমেছে ২৩ শতাংশ বা ৮১৫ কোটি টাকা। গত সপ্তাহে ডিএসইতে প্রতিদিনকার গড় লেনদেন নেমে এসেছে ৫৪৬ কোটি টাকায়, আগের সপ্তাহে যার পরিমাণ ছিল ৭০৯ কোটি টাকা।

সপ্তাহের শুরুতে পুঁজিবাজারে দরপতন

গত সপ্তাহের শেষ তিন দিনের ন্যায় আজ রোববার সপ্তাহের প্রথম দিন পুঁজিবাজারে দরপতন হয়েছে। আজ দুই স্টক এক্সচেঞ্জে বেশির ভাগ শেয়ারের দাম কমায় কমেছে সাধারণ সূচক। একই সঙ্গে কমেছে লেনদেনও। এ নিয়ে টানা চার দিন দরপতন অব্যাহত রয়েছে পুঁজিবাজারে।
ডিএসই সূত্রে জানা যায়, আজ দিনের শুরুতে সূচকের নিম্নমুখী প্রবণতার মধ্য দিয়ে লেনদেন শুরু হয়। লেনদেনের প্রথম ১০ মিনিটে ডিএসইর সাধারণ মূল্যসূচক ২০ পয়েন্ট কমে যায়। ২০ মিনিটের মাথায় সূচক কিছুটা ঘুরে দাঁড়িয়ে আগের দিনের চেয়ে ৬ পয়েন্ট বাড়ে। এর পর থেকে সূচক নিম্নমুখী হতে শুরু করে, যা সারা দিনই অব্যাহত থাকে। দিন শেষে ডিএসইর সাধারণ মূল্যসূচক ৮৯.৪৫ পয়েন্ট কমে ৫৬৮৬.৭২ পয়েন্টে দাঁড়ায়।
ডিএসইতে হাতবদল হওয়া ২৫৩টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে বেড়েছে মাত্র ২৫টির, কমেছে ২২০টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে আটটি প্রতিষ্ঠানের দাম। স্টক এক্সচেঞ্জটিতে আজ ৩৫৪ কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে, যা গত বৃহস্পতিবারের চেয়ে ১৩১ কোটি টাকা কম।
ডিএসইতে আজ লেনদেনে শীর্ষে থাকা ১০টি প্রতিষ্ঠানের তালিকায় রয়েছে এনবিএল, ইউসিবিএল, লঙ্কা-বাংলা ফাইন্যান্স, বেক্সিমকো, এমআই সিমেন্ট, সিটি ব্যাংক, ইউনাইটেড এয়ারওয়েজ, ওয়ান ব্যাংক, বিএসআরএম স্টিল ও আফতাব অটো।
চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সার্বিক মূল্যসূচক আজ ২১০ পয়েন্ট কমে ১৫৮২৩.৩৪ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। সিএসইতে হাতবদল হওয়া ১৮৫টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে বেড়েছে ১৫টির, কমেছে ১৬৩টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে সাতটি প্রতিষ্ঠানের দাম। স্টক এক্সচেঞ্জটিতে আজ ৫৯ কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে, যা আগের দিনের চেয়ে তিন কোটি টাকা কম।

ভারতের রাষ্ট্রপতি নিজ সম্পদের পরিমাণ ঘোষণা করবেন

ভারতের রাষ্ট্রপতি প্রতিভা পাতিল শিগগিরই তাঁর সহায়সম্পদের পরিমাণ ঘোষণা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। আইনি কোনো বাধ্যবাধকতা না থাকলেও এই প্রথমবারের মতো দেশটির কোনো রাষ্ট্রপতি প্রকাশ্যে নিজ সম্পদ ঘোষণা করতে যাচ্ছেন।
রাষ্ট্রপতি ভবনের মুখপাত্র অর্চনা দত্ত গতকাল শনিবার বলেন, ‘ভারতের রাষ্ট্রপতিকে কোনো সরকারি কর্তৃপক্ষের কাছে নিজ সম্পদের পরিমাণ ঘোষণা করতে হয় না। তবু রাষ্ট্রপতি পাতিল তা ঘোষণা করবেন।’
তবে রাষ্ট্রপতির পরিবারের সদস্যরাও সম্পদের পরিমাণ ঘোষণা করবেন কি না, এ ব্যাপারে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানান মুখপাত্র। এ ব্যাপারে তিনি বলেন, তিনি শুধু রাষ্ট্রপতির পক্ষে কথা বলার জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত।
কখন সম্পদের পরিমাণ ঘোষণা করা হবে—জানতে চাইলে মুখপাত্র অর্চনা বলেন, ‘শিগগিরই।’

নিউজিল্যান্ডে উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভূমিকম্প বিষয়ে কোর্স চালু হচ্ছে

সাম্প্রতিক সময়ে কয়েক দফা শক্তিশালী ভূমিকম্পের শিকার নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চ নগরের ক্যান্টারবেরি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভূমিকম্প বিষয়ে একটি কোর্স চালু করা হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আশা করছে, নিজেদের বাস্তব অভিজ্ঞতার সঙ্গে পাঠ্যবিষয়ের কার্যকর সমন্বয় করতে পারবেন কোর্সটি গ্রহণ করা শিক্ষার্থীরা।
কোর্সটির নাম দেওয়া হয়েছে ‘ক্রাইস্টচার্চের পুনর্গঠন: বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের শিক্ষাক্রমে সম্প্রদায়ভিত্তিক উদ্যোগের একটি উপস্থাপনা’। এ বছরই আরও পরের দিকে পাঁচ শর মতো শিক্ষার্থীর জন্য কোর্সটি উন্মুক্ত করা হবে। কোর্স সমন্বয়ক বিলি ও’স্টিন পুনর্বাসন কার্যক্রমে অংশ নেওয়া ছাত্রদের হাজার হাজার টন কাদা সরানোর প্রতি ইঙ্গিত করে বলেন, ‘এটি কেবল কোদাল দিয়ে কাদা সরানো নয়, রাস্তাঘাট চলাচলের উপযোগী করে তোলাই শেষ কাজ নয়; এসব শিক্ষার্থীর জ্ঞান ও সৃজনশীলতা কাজে লাগানোর আরও ভালো উপায় আছে। যাঁরা এসব বাধাবিপত্তি ঠেলে লেখাপড়া চালিয়ে যেতে এবং ক্রাইস্টচার্চের পুনর্গঠনে সেই শিক্ষা কাজে লাগাতে চান, তাঁদের জন্যই এ কোর্স।’

ভারতের সবচেয়ে বয়স্ক বন্দীকে মুক্তি দেওয়া হলো

ভারতের কারা কর্তৃপক্ষ দেশটির সবচেয়ে বয়স্ক বন্দী ব্রজবিহারী পাঁড়েকে (১০৮) মুক্তি দিয়েছে। কারা কর্মকর্তারা গতকাল শনিবার এ কথা জানান। মানবিক কারণে তাঁকে মুক্তি দেওয়া হয়।
উত্তর প্রদেশের একটি আদালত গত শুক্রবার তাঁকে মুক্তির আদেশ দেন। ব্রজবিহারী রাজ্যের রাজধানী লক্ষেৗ থেকে ৩০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত গোরখপুর কারাগারে বন্দী ছিলেন। কারা পরিদর্শক এস কে শর্মা বলেন, ‘কারাগারে ১০৮ বছর বয়সী একজন বন্দীকে দেখভাল করাটা কঠিন হয়ে পড়েছিল। তাই আমরা আদালতের কাছে তাঁকে মুক্তি দেওয়ার আবেদন জানাই। মানবিক দিক বিবেচনা করে আদালত তা মঞ্জুর করেন।

ফুকুশিমা পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে পানি শোধনের কাজ বন্ধ

জাপানের ফুকুশিমায় দাইচি পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে গতকাল শনিবার দূষিত পানি পরিশোধনের কাজ বন্ধ করে দিয়েছে কেন্দ্রটির পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান টোকিও ইলেকট্রিক পাওয়ার কোম্পানি (টেপকো)। তেজস্ক্রিয়ার মাত্রা দ্রুত বেড়ে যাওয়ার কারণে পরিশোধনের কাজ শুরু করার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তা বন্ধ করে দেওয়া হয়।
গত ১১ মার্চের ভূমিকম্প ও সুনামির আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত দাইচি পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের চুল্লিগুলোকে ঠান্ডা করার জন্য প্রায় এক লাখ ১০ হাজার টন পানি ঢালা হয়।
পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রটিতে যে পরিমাণ দূষিত পানি জমা হয়েছে, তা দিয়ে ৪০টি সুইমিং পুল ভরে দেওয়া সম্ভব। বিদ্যুৎকেন্দ্রটির দূষিত পানি সাগরে উপচে পড়ার ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।
ভূমিকম্প ও সুনামি আঘাত হানার পর বিদ্যুৎকেন্দ্রটির তিনটি চুল্লিতে গলনের ঘটনা ঘটে ও তেজস্ক্রিয়ার নিঃসরণ ঘটে।
১৯৮৬ সালে ইউক্রেনের চেরনোবিল দুর্ঘটনার পর এটাই হলো বিশ্বের সবচেয়ে ভয়াবহ পারমাণবিক দুর্ঘটনা।
টেপকোর একজন মুখপাত্র বলেন, তেজস্ক্রিয়ার মাত্রা দ্রুত বেড়ে যাওয়ার কারণ খুঁজে বের করার চেষ্টা করছেন প্রকৌশলীরা।

পাকিস্তানে বিচারবহির্ভূত হত্যার তদন্ত শেষ

পাকিস্তানের সীমান্তরক্ষী বাহিনী রেঞ্জারস সদস্যদের গুলিতে নিহত কিশোর সরফরাজ শাহের হত্যা মামলার তদন্ত শেষ হয়েছে। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সুলতান খাজা গত শুক্রবার এ কথা জানিয়েছেন বলে দ্য নেশন পত্রিকার অনলাইনে জানানো হয়েছে।
সুলতান খাজা জানিয়েছেন, তাঁদের তদন্তকাজ শেষ। আদালত আসামি ছয় রেঞ্জারস সদস্য ও এক বেসামরিক ব্যক্তিকে জেলে পাঠিয়েছেন।
সরকারি আইনজীবী আরশাদ ইকবাল চিমা বলেছেন, ‘মামলাটি চাঞ্চল্যকর হয়ে উঠেছে। তদন্ত কর্মকর্তা চূড়ান্ত অভিযোগপত্র জমা দিয়েছেন।’ চলতি মাসের শুরুর দিকে পাকিস্তানের করাচি শহরের বেনজির ভুট্টো পার্কে রেঞ্জারস সদস্যদের গুলিতে নিহত হয় কিশোর সরফরাজ শাহ।

পৃথক কালো তালিকায় তালেবান ও আল-কায়েদা

জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ তাদের নিষেধাজ্ঞার আওতাভুক্ত কালো তালিকা দুই ভাগ করে জঙ্গি সংগঠন তালেবানকে আল-কায়েদা থেকে আলাদা করেছে। তালেবানকে আফগানিস্তানে শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে আলোচনা-প্রক্রিয়ায় যোগ দিতে উৎসাহিত করতেই তা করা হয়েছে।
নিরাপত্তা পরিষদ গত শুক্রবার সর্বসম্মতিক্রমে দুটি প্রস্তাব পাস করেছে। এ প্রস্তাব দুটিতে বলা হয়েছে, যেসব ব্যক্তি, দল বা সংগঠনের সঙ্গে আল-কায়েদার যোগসূত্র রয়েছে, শুধু তাদের নামই আল-কায়েদার নিষেধাজ্ঞা তালিকায় রাখা হবে। অন্যটিতে তালেবানের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের নাম থাকবে। এখন পর্যন্ত নিরাপত্তা পরিষদের একটি নিষেধাজ্ঞা আরোপ কমিটিই আল-কায়েদা ও তালেবানের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করছে।
নিরাপত্তা পরিষদ মনে করছে, নিজেদের লক্ষ্যে এই দুটি সংগঠন আলাদা। আল-কায়েদা বিশ্বজুড়ে ‘জিহাদ’ করতে চায়। আর তালেবানের কার্যক্রম মূলত আফগানিস্তানে সীমাবদ্ধ।
নিরাপত্তা পরিষদ জানায়, নতুন এ সিদ্ধান্তের মাধ্যমে তালেবানের কাছে একটি স্পষ্ট বার্তা পাঠানো হলো। বার্তাটি হচ্ছে, তাদের রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় যোগ দেওয়ার সময় এসেছে। জাতিসংঘে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত সুসান রাইস এক বিবৃতিতে বলেন, ‘তালেবানের প্রতি বার্তা হলো, যাঁরা আল-কায়েদার সঙ্গে সম্পর্কছেদ করবে, সহিংসতা ছেড়ে দেবে এবং আফগানিস্তানের সংবিধান মানবে, তাঁদের জন্য ভিন্ন ভবিষ্যৎ অপেক্ষা করছে।

পারমাণবিক বোমা ফেললেও লিবিয়া ছাড়ব না: গাদ্দাফি

আবারও লিবিয়া না ছাড়ার অঙ্গীকার করেছেন দেশটির নেতা মুয়াম্মার গাদ্দাফি। এমনকি সামরিক জোট ন্যাটো পারমাণবিক বোমা ব্যবহার করলেও তিনি লিবিয়া ছাড়বেন না বলে ঘোষণা দিয়েছেন।
এদিকে নিউইয়র্ক টাইমস-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, লিবিয়া অভিযানের ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্রের জ্যেষ্ঠ দুজন সরকারি আইনজীবীর মত নাকচ করে দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা।
লিবিয়ার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে গত শুক্রবার গাদ্দাফির ভাষণ সরাসরি সম্প্রচার করা হয়। ত্রিপোলির গ্রিন স্কয়ারে হাজার হাজার সমর্থকের উদ্দেশে ওই ভাষণে গাদ্দাফি বলেন, ‘ন্যাটো অবশ্যই পরাজিত হবে। দেশের কোনো কিছুতে পরিবর্তন না আনার ব্যাপারে আমরা অঙ্গীকারবদ্ধ। যা করব, নিজেদের ইচ্ছাতেই করব... আমরা আছি, থাকব। যুদ্ধ চালিয়ে যাব। ন্যাটো পারমাণবিক বোমা ব্যবহার করলেও আমি লিবিয়া ছাড়ব না।’ সরকারি সেনাদের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাওয়া বিদ্রোহীদের ‘বিশ্বাসঘাতক’ ও ‘কাপুরুষ’ বলে আখ্যা দেন তিনি। গাদ্দাফির এই ভাষণ গ্রিন স্কয়ারে লাউডস্পিকারের মাধ্যমে শোনানো হয়।
গাদ্দাফির এই ভাষণের কয়েক ঘণ্টা আগে কয়েকটি শক্তিশালী বিস্ফোরণে ত্রিপোলি প্রকম্পিত হয়ে ওঠে। এ সময় ন্যাটোর যুদ্ধবিমান ত্রিপোলির আকাশে উড়তে দেখা যায়। বার্তা সংস্থা এএফপির সাংবাদিক জানান, গতকাল ত্রিপোলির বিভিন্ন স্থানে পাঁচটি ভয়াবহ বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে।
গাদ্দাফির অনুগত সেনাদের রকেট হামলায় মিসরাতায় অন্তত ১০ জন নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে ৪০ জন। বিদ্রোহীদের মুখপাত্র আহমেদ হাসান এসব তথ্য জানান। তিনি দাবি করেন, হতাহত ব্যক্তিরা সবাই বেসামরিক নাগরিক। হাসান অভিযোগ করেন, গাদ্দাফির সেনারা প্রায় প্রতিদিনই মিসরাতায় বোমা হামলা চালাচ্ছে।
নিউইয়র্ক টাইমস-এর প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রেসিডেন্ট ওবামা লিবিয়া অভিযান প্রসঙ্গে মার্কিন সরকারের শীর্ষ দুই আইনজীবী জেহ জনসন ও ক্যারোলিন ক্রাসের মত নাকচ করে দিয়েছেন। এই দুই আইনজীবী যুক্তরাষ্ট্রের লিবিয়া অভিযানে জড়ানোকে ‘বৈরিতা’ বলে মত দেন।
যুক্তরাষ্ট্রের ১৯৭৩ সালের ওয়ার পাওয়ারস রেজুলেশন (ডব্লিউপিআর) অনুযায়ী ৬০ দিনের বেশি দীর্ঘ বৈরিতার ক্ষেত্রে সরকারকে অবশ্যই কংগ্রেসের অনুমোদন নিতে হবে। ৬০ দিনের মধ্যে অনুমোদন নিতে ব্যর্থ হলে পরবর্তী ৩০ দিনের মধ্যে সেনা প্রত্যাহার করে নিতে হবে।

জাম্বিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট চিলুবা আর নেই

জাম্বিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট ফ্রেডেরিক চিলুবা মারা গেছেন। তাঁর বয়স হয়েছিল ৬৮ বছর। গতকাল শনিবার জাম্বিয়ার গণমাধ্যম এ কথা জানায়। তিনি ছিলেন জাম্বিয়ায় গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত প্রথম প্রেসিডেন্ট।
ফ্রেডেরিক চিলুবার মৃত্যুর কারণ তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তিনি দীর্ঘদিন ধরে হূদেরাগে ভুগছিলেন। অসুস্থতার কারণে এর আগে তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল।
১৯৯১ সালের বহুদলীয় নির্বাচনে কেনেথ কাউন্ডাকে পরাজিত করেন তিনি। সাবেক ট্রেড ইউনিয়নের কর্মী চিলুবা তামাসমৃদ্ধ দেশটিকে এক দশকেরও বেশি সময় ধরে নেতৃত্ব দেন।
সরকারি তহবিলের প্রায় পাঁচ লাখ ডলার তছরুপের অভিযোগ উঠেছিল চিলুবার বিরুদ্ধে। ২০০৯ সালে তাঁকে সব অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।

ওবামাকে ঘৃণা নয় পরাজিত করুন

যুক্তরাষ্ট্রের লুইজিয়ানা অঙ্গরাজ্যের রিপাবলিকান-দলীয় গভর্নর ববি জিন্দাল বলেছেন, প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামাকে ঘৃণা নয়, পরাজিত করুন। গত শুক্রবার নিউ অরলিন্সে দেওয়া এক ভাষণে ভারতীয় বংশোদ্ভূত এই গভর্নর এ কথা বলেন।
ওবামা কোথায় জন্মগ্রহণ করেছেন—এ নিয়ে বিতর্ক প্রসঙ্গে ববি জিন্দাল বলেন, ‘তিনি কোথা থেকে এসেছেন, আমি সেই প্রশ্ন তুলছি না। আমার প্রশ্ন হচ্ছে, প্রেসিডেন্ট ওবামা কোথায় যাচ্ছেন?’ তিনি বলেন, ওবামাকে ঘৃণা করা হবে বোকামি, তাঁকে পরাজিত করাটাই গুরুত্বপূর্ণ।
ওবামার নেতৃত্বের সমালোচনা করে ববি জিন্দাল বলেন, প্রেসিডেন্ট যেটিকে এই দেশের জন্য সবচেয়ে ভালো বলে মনে করছেন, প্রকৃতপক্ষে তা হচ্ছে পুরোপুরি বিপর্যয়কর।

সাঁইবাবার বৈঠকখানায় সাড়ে ১১ কোটি রুপি ও ৯৮ কেজি স্বর্ণ

ভারতের প্রয়াত আধ্যাত্মিক গুরু সাঁইবাবার ব্যক্তিগত বৈঠকখানায় নগদ ১১ কোটি ৫৬ লাখ রুপি, ৯৮ কেজি স্বর্ণ ও স্বর্ণালংকার এবং ৩০৭ কেজি রুপা পাওয়া গেছে। গত শুক্রবার শ্রীসত্য সাঁই সেন্ট্রাল ট্রাস্ট এ তথ্য জানায়।
এক বিবৃতিতে সাঁইবাবার ভ্রাতুষ্পুত্র ও ট্রাস্টের সদস্য আর জে রত্নাকর বলেন, গত বৃহস্পতিবার যজুর্বেদ মন্দিরে সাঁইবাবার ব্যক্তিগত বৈঠকখানার তালা খোলা হয়। এ সময় ট্রাস্টের সব সদস্য ও অবসরপ্রাপ্ত দুজন জ্যেষ্ঠ বিচারক উপস্থিত ছিলেন। ওই কক্ষের তালার চাবি স্টেট ব্যাংক অব ইন্ডিয়ার প্রশান্তি নিলয়াম শাখার একটি লকারে গচ্ছিত ছিল।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, এ তালা খোলার সময় উপস্থিত আয়কর বিভাগের একজন কর্মকর্তা স্বর্ণ ও রুপার মূল্য নির্ধারণ করেন। প্রাপ্ত নগদ অর্থ স্টেট ব্যাংক অব ইন্ডিয়ায় জমা দেওয়া হবে। স্বর্ণ ও রুপাও ব্যাংকে জমা রাখা হতে পারে।
ভারতের অন্ধ্র প্রদেশের অনন্তপুর জেলার পুত্তাপূর্তি শহরে নিজের আশ্রমে গত ২৮ মার্চ পরলোকগমন করেন সত্য সাঁইবাবা। প্রভাবশালী রাজনীতিকসহ ভারতের সর্বস্তরের মানুষের মধ্যে তাঁর বহু ভক্ত ছিল।

বাণিজ্যিক বিমানে ভুল করে গুলি চালিয়েছে দ. কোরীয় সেনারা

উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে বিতর্কিত সমুদ্রসীমার কাছে যাত্রীবাহী একটি বাণিজ্যিক বিমানকে উত্তর কোরিয়ার যুদ্ধবিমান মনে করে গুলি করেছেন দক্ষিণ কোরিয়ার মেরিন সেনারা। তবে এতে হতাহতের কোনো ঘটনা ঘটেনি এবং বিমানটিরও কোনো ক্ষতি হয়নি। সিউলের সামরিক সূত্রগুলো গতকাল শনিবার এ তথ্য জানিয়েছে।
দক্ষিণ কোরীয় মেরিন কোরের মুখপাত্র বলেছেন, উত্তর কোরিয়ার উপকূল থেকে এক মাইল দক্ষিণে অবস্থিত জিওদং দ্বীপের পাহারায় নিযুক্ত দুজন দক্ষিণ কোরীয় মেরিন সেনা শুক্রবার ভোর চারটার দিকে কে-টু রাইফেল থেকে গুলি চালান। প্রায় ১০ মিনিট ধরে গুলি চালানোর পর বিমানটি দক্ষিণ কোরিয়ার আসিয়ানা বিমান সংস্থার বলে শনাক্ত করা হয়। পরে এটি সিউলের ইনচিয়ন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। ওই রাইফেলের পাল্লার ৫০০ থেকে ৬০০ মিটার বাইরে থাকায় বিমানটির কোনো ক্ষতি হয়নি।
ইয়োনহাপ বার্তা সংস্থা জানায়, দক্ষিণ কোরিয়ার আসিয়ানা বিমান সংস্থার এ বিমানটি জিওদং দ্বীপের ১২ কিলোমিটার দক্ষিণে জুমুন দ্বীপের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের ওপর দিয়ে উড়ে যাচ্ছিল। সেনারা এটিকে লক্ষ্য করে ৯৯টি গুলি ছোড়েন। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র জানায়, চীনের চেংদু শহর থেকে আসা এ বিমানটিতে ক্রুসহ ১১৯ জন আরোহী ছিলেন।
আসিয়ানা বিমান সংস্থার একজন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে ইয়োনহাপ বলেছে, ‘এ ঘটনার পর বিমান বাহিনী ও বিমানবন্দর কন্ট্রোলরুমের সাহায্যে আমরা নিশ্চিত হয়েছি, বিমান চালনায় কোনো ধরনের ত্রুটি ছিল না।’
ইয়োনহাপ জানায়, বেসামরিক বিমান ও শত্রুপক্ষের বিমান চিহ্নিতকরণের কৌশল রপ্ত করতে সেনাদের আরও প্রশিক্ষণ দেওয়ার পদক্ষেপ নিচ্ছে মেরিন কোর।
উল্লেখ্য, সিউলের রক্ষণশীল সরকারের সঙ্গে সব ধরনের যোগাযোগ বন্ধ করতে যাচ্ছে পিয়ংইয়ং-উত্তর কোরিয়া গত মাসে এমন ঘোষণা দেওয়ার পর প্রতিবেশী রাষ্ট্র দুটির মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। এ ঘোষণার পর দেশ দুটির সম্পর্ক গত এক দশকের মধ্যে সবচেয়ে খারাপ অবস্থায় পৌঁছেছে।

তালেবানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের আলোচনা চলছে: কারজাই

আফগানিস্তানে এক দশক ধরে চলা যুদ্ধের অবসান ঘটিয়ে শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও অন্যান্য দেশ তালেবানের সঙ্গে আলোচনা শুরু করেছে। গতকাল শনিবার আফগান প্রেসিডেন্ট হামিদ কারজাই রাজধানী কাবুলে সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন।
তালেবান দমনে এত দিন সামরিক শক্তি প্রয়োগের কৌশল অবলম্বন করে আসছিল যুক্তরাষ্ট্র। সাম্প্রতিক সময়ে নেপথ্যে রাজনৈতিকভাবে এ সংকট মোকাবিলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের সম্পৃক্ততার কথা এই প্রথম আফগানিস্তানের সরকারি পর্যায় থেকে নিশ্চিত করা হলো।
কারজাই বলেন, তালেবানের সঙ্গে শান্তি আলোচনা শুরু হয়েছে এবং তা ভালোভাবেই এগিয়ে চলেছে। বিদেশি সেনা, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র এ সমঝোতার আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে।
কাবুলে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস এ ব্যাপারে কোনো মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানায়।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন এ বছরের শুরুর দিকে আফগান তালেবানের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, তারা যেন আল-কায়েদার সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করে এবং সংঘাতের পথ পরিহার করে সে দেশের সংবিধান মেনে নেয় ও সমাজের সঙ্গে একীভূত হয়।
তালেবানের সঙ্গে আলোচনা শুরুর সত্যতা নিশ্চিত করে পশ্চিমা কর্তৃপক্ষ জোর দিয়ে বলছে, দুই পক্ষের এ আলোচনা এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। তালেবান নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা চলছে।
কারজাই বলেন, তাঁর দেশের ইতিহাসে চলতি বছরের গুরুত্ব অপরিসীম। কারণ, এ বছর তালেবানের সঙ্গে শান্তি আলোচনা শুরু হয়েছে। এক দশক ধরে চলা সংকট রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলার প্রক্রিয়া চলছে। আফগান সেনাদের কাছে নিরাপত্তার ভার অর্পণের প্রক্রিয়াও চলছে। এ ছাড়া আগামী ডিসেম্বরে জার্মানির বনে আফগান-বিষয়ক সম্মেলনও খুবই গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন তিনি।
অস্ত্র সমর্পণ করে ও দেশের সংবিধান মেনে নিতে তালেবান নেতাদের রাজি করাতে কারজাই গত বছর জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের নিয়ে শান্তি কাউন্সিল গঠন করেন।
আফগান সরকার এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় তালেবানের সঙ্গে আলোচনায় বসতে বেশ কিছু শর্ত বেঁধে দেয়। শর্তগুলোর মধ্যে ছিল তালেবানকে আফগানিস্তানের সংবিধানের স্বীকৃতি দিতে হবে, গণতন্ত্রের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন করতে হবে এবং সংঘাতের পথ পরিহার ও আল-কায়েদার সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করতে হবে।
তবে তালেবান এসব পূর্বশর্ত প্রত্যাখ্যান করেছে।
২০০১ সালে মার্কিন অভিযানে তালেবান শাসনের পতন ঘটে। এর পর থেকে মার্কিন নেতৃত্বাধীন ন্যাটো বাহিনীর সঙ্গে তালেবান লড়াই চালিয়ে আসছে।

লাদেনের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবাদের অভিযোগ খারিজ যুক্তরাষ্ট্রের

আল-কায়েদার সাবেক প্রধান ওসামা বিন লাদেনের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবাদের সব অভিযোগ খারিজ করে দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। গত শুক্রবার দেশটির কেন্দ্রীয় আইনজীবীরা অভিযোগগুলো বাদ দেওয়ার জন্য নিউইয়র্কের ডিস্ট্রিক্ট কোর্টের বিচারকের প্রতি অনুরোধ জানান। এ সময় বিচারক লুইস কাপলান অভিযোগগুলো খারিজ করে দেন।
বিন লাদেনের বিরুদ্ধে হত্যা, বেসামরিক লোকজনের বিরুদ্ধে গণবিধ্বংসী অস্ত্রের ব্যবহারসহ ২০০টিরও বেশি অপরাধ কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ ছিল। এর মধ্যে ১৯৯৮ সালের আগস্টে কেনিয়া ও তানজানিয়ায় মার্কিন দূতাবাসে বোমা হামলার অভিযোগও ছিল। ওই হামলায় ২২৪ জনের প্রাণহানি হয়। তবে এ অভিযোগগুলোর কোনোটির সঙ্গেই ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে পরিচালিত সন্ত্রাসী হামলার সম্পর্ক নেই।
নিউইয়র্কের ডিস্ট্রিক্ট কোর্টে পেশ করা নথিপত্রে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় আইনজীবীরা উল্লেখ করেন, ডিএনএ পরীক্ষা ও চেহারা-শনাক্তকরণ প্রযুক্তির মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র বিন লাদেনের মরদেহ শনাক্ত করতে সক্ষম হয়েছে। গত মে মাসের শুরুর দিকে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদের কাছে অ্যাবোটাবাদের একটি বাড়িতে মার্কিন কমান্ডোদের অভিযানে নিহত হন বিন লাদেন।
নিহত হওয়ার পর যে প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিন লাদেনের মরদেহ শনাক্ত করা হয়, সে বিষয়ে বিস্তারিত নতুন তথ্য আদালতে দেওয়া নথিতে প্রকাশ করেছেন মার্কিন কেন্দ্রীয় আইনজীবীরা। নথির তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ অভিযানে বিন লাদেন নিহত হওয়ার পর কমান্ডোরা তাঁর ডিএনএর নমুনা সংগ্রহ করে আফগানিস্তানের মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে পাঠিয়ে দেন। সেখানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী ও কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার প্রকৌশলীরা বিন লাদেনের পরিবারের ‘কয়েকজন সদস্যের’ সংগৃহীত ডিএনএর সঙ্গে তাঁর ডিএনএ মিলিয়ে দেখেন। তাঁর মৃত্যু নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই।
সন্ত্রাসবাদ ও গুপ্তচরবৃত্তি দমনবিষয়ক মার্কিন কর্মকর্তা জর্জ টসকাস ডিস্ট্রিক্ট কোর্টে দেওয়া নথিতে লিখেছেন, বিন লাদেনকে শনাক্ত করার ডিএনএ পরীক্ষায় ভুল হওয়ার আশঙ্কা ‘১১ দশমিক ৮ কোয়াড্রিলিয়নের ১ ভাগ’।

সংবিধান সংস্কারের প্রস্তাব দিলেন মরক্কোর বাদশাহ

নিজের ক্ষমতা সীমিত করে সংবিধান সংশোধনের প্রস্তাব দিয়েছেন মরক্কোর বাদশাহ ষষ্ঠ মোহাম্মদ। গত শুক্রবার তিনি এক স্মরণীয় ভাষণে দেশটিতে গণতান্ত্রিক পার্লামেন্টের পাশাপাশি একটি সাংবিধানিক রাজতন্ত্র গড়ে তোলার অঙ্গীকার করেন। অবশ্য গুরুত্বপূর্ণ কিছু ক্ষমতা তিনি নিজের কাছে রেখে দেওয়ার কথা নিশ্চিত করেন। এ সংস্কারের ফলে দেশটিতে সাংবিধানিক রাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বাদশাহ বলেন, আগামী ১ জুলাই ওই প্রস্তাবের ওপর গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। প্রস্তাবে বাদশাহর বেশ কিছু ক্ষমতা প্রধানমন্ত্রী ও পার্লামেন্টের কাছে দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। গত ফেব্রুয়ারিতে মরক্কোয় রাজনৈতিক সংস্কারের দাবিতে বিক্ষোভ শুরু হয়। সংস্কারপন্থীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে বাদশাহ ষষ্ঠ মোহাম্মদ এ প্রস্তাব দেন।
১৯৯৯ সালে ক্ষমতায় আরোহণ করেন আরব বিশ্বের সবচেয়ে বেশি সময় ধরে সিংহাসনে অধিষ্ঠিত রাজবংশের উত্তরাধিকারী বাদশাহ ষষ্ঠ মোহাম্মদ। কার্যত তিনি উত্তর আফ্রিকার ওই দেশটির সব ক্ষমতা দখল করে রেখেছেন। এ ছাড়া তিনি দেশটির সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা।
বাদশাহ মোহাম্মদ বলেন, ভবিষ্যতে পার্লামেন্ট নির্বাচনে জয়ী দলের শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তি সরকারের প্রধান হবেন। এর ফলে সর্বসাধারণের সরাসরি ভোটাধিকার প্রয়োগের মাধ্যমে সরকার নির্বাচিত হবে। তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রীকে পার্লামেন্ট বিলোপের ক্ষমতা দেওয়া হবে। এত দিন ধরে এ ক্ষমতাটি বাদশাহর বিশেষ অধিকারে ছিল। এ ছাড়া বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করারও প্রতিশ্রুতি দেন বাদশাহ। তিনি বলেন, এর মাধ্যমে সাংবিধানিক রাজতন্ত্রের ভিত্তি সুদৃঢ় হবে। বর্তমানে মরক্কোয় বিচারকদের নিয়োগ দেওয়ার জন্য বাদশাহকে প্রধান করে একটি কাউন্সিল রয়েছে।
জনগণের দাবির মুখে গত মার্চে বাদশাহ সংস্কারের জন্য একটি প্যানেল গঠন করেন। প্যানেলের প্রস্তাব অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রী সরকারি কর্মকর্তা ও প্রশাসকদের নিয়োগ দিতে পারবেন। আগে সেই অধিকার ছিল একমাত্র বাদশাহর। এ ছাড়া বাদশাহর অনুপস্থিতিতে তিনি রাষ্ট্রীয় নীতিমালা নিয়ে সরকারি কাউন্সিলের সঙ্গে বিতর্ক করতে পারবেন। বর্তমান সংবিধান অনুসারে কেবল বাদশাহর উপস্থিতিতেই মন্ত্রীসভা এ ধরনের সভা করতে পারে।
ওই প্রস্তাবে আরবির পাশাপাশি জনসাধারণের মধ্যে প্রচলিত বেরবের ভাষাকেও সরকারি ভাষা করার কথা বলা হয়েছে।
সংস্কার প্রস্তাবের বিরোধিতা: ফেব্রুয়ারি ২০ মুভমেন্ট নামের মরক্কোর তরুণদের একটি সংগঠনকারীরা বাদশাহ মোহাম্মদের সংবিধান সংস্কারের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন। গতকাল শনিবার তাঁরা দেশজুড়ে বিক্ষোভের ডাক দিয়েছেন। একজন আন্দোলনকারী বলেন, আজ রোববার থেকে প্রকৃত গণতান্ত্রিক সংবিধান ও সংসদীয় গণতন্ত্রের দাবিতে বিক্ষোভ আহ্বান করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, বাদশাহর প্রস্তাবে জনগণের দাবি অনুযায়ী ক্ষমতা পৃথক্করণের কথা বলা হয়নি।

১১০ বছর ধরে জ্বলছে যে বৈদ্যুতিক বাতি

যেন অনন্ত আয়ু দিয়ে তৈরি করা হয়েছে এই বৈদ্যুতিক বাতি (বাল্ব)। ১৯০১ সালে প্রথম এটি জ্বালানো হয়। এর পর থেকে জ্বলছে তো জ্বলছেই। এর মধ্যে শতবর্ষ পার হয়েছে। সঙ্গে যোগ হয়েছে আরও এক দশক। গতকাল শনিবার ছিল বাল্বটির ১১০তম বর্ষপূর্তি।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার লিভারমোর ফায়ার স্টেশনের একটি কক্ষের ছাদ থেকে নামানো তারে ঝুলছে ৬০ ওয়াটের বাল্বটি। বৈদ্যুতিক বাল্বের আবিষ্কারক টমাস আলভা এডিসনের প্রতিদ্বন্দ্বী বলে পরিচিত অ্যাডলফ শাইলেট বাল্বটি ওই অগ্নিনির্বাপণ কার্যালয়ে দান করেন।
দোকানে এ ধরনের যেসব বাল্ব পাওয়া যায়, সেগুলো সাধারণত এক হাজার ঘণ্টা জ্বলতে পারে। এই বাল্বটির এমন দীর্ঘায়ুর পেছনের কারণ কারও জানা নেই।
এই শতবর্ষী বাল্বটি নিয়ে একটি কমিটিও রয়েছে। এর প্রধান লিন ওয়েনস সাংবাদিকদের বলেন, এটি দীর্ঘদিন ধরে কীভাবে জ্বলছে, তা কারও জানা নেই। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে বিজ্ঞানীরা এসে বাল্বটি দেখে গেছেন। তাঁরা কেউ এ ব্যাপারে সুনির্দিষ্ট করে কিছু বলতে পারেননি।
বাল্বটি সম্পর্কে সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত খবর অনুযায়ী, বছরের পর বছর ধরে ব্যবহারে এর মধ্যে কিছুটা কালো ছোপ পড়েছে। বাল্বটি যে নিরবচ্ছিন্নভাবে জ্বলে আসছে তা নয়, একবার এটি সপ্তাহ খানেক বন্ধ ছিল। বাল্বটির ভক্তসংখ্যা নেহাত কম নয়। তাঁরা একটি ক্লাবও গঠন করেছেন। এর সদস্যসংখ্যা কয়েক হাজার। বাল্বটি এক নজর দেখতে হাজার হাজার মাইল পথ পাড়ি দিয়ে কৌতূহলী দর্শকের সমাগম ঘটে।

শিশুর শরীরে কৃত্রিম ফুসফুস

যুক্তরাষ্ট্রের দুই বছরের এক শিশুকে কৃত্রিম ফুসফুসের মাধ্যমে বাঁচিয়ে রাখা সম্ভব হয়েছে। এ সাফল্যের দাবি করেছেন মিসৌরি অঙ্গরাজ্যের সেন্ট লুই চিলড্রেনস হাসপাতালের চিকিৎসক ও ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষজ্ঞরা। তাঁরা বলেন, বিশ্বে এটাই কোনো শিশুর দেহে প্রথম কৃত্রিম ফুসফুস সংযোজন। এ বিষয়ক একটি নিবন্ধ দ্য জার্নাল অব থোরাসিক অ্যান্ড কার্ডিওভাসকুলার সার্জারির জুন সংখ্যায় প্রকাশিত হয়েছে।
২০১০ সালের জুলাইয়ে ওয়েন স্টার্ক নামের শিশুটিকে ওই হাসপাতালে মুমূর্ষু অবস্থায় নিয়ে আসা হয়। একে তো হূৎপিণ্ডে তার জটিল সমস্যা, তার ওপর ফুসফুসে বিপজ্জনক রক্তচাপ। চিকিৎসকদের ভাষায়, সমস্যাটি ইডিওপ্যাথিক পালমোনারি হাইপারটেনশন বলে পরিচিত।
রক্তনালি খুব বেশি সরু হয়ে যাওয়ায় ফুসফুসে রক্ত যেতে পারছিল না। চিকিৎসকেরা ধরেই নিলেন, শিশুটি বাঁচবে না। এর পরও ত্বরিত সিদ্ধান্ত নিয়ে একটা উদ্যোগ নিলেন তাঁরা। কৃত্রিম ফুসফুসের মাধ্যমে তাকে বাঁচিয়ে রাখার ব্যবস্থা নেওয়া হলো।
জার্মানির নোভালাংয়ের তৈরি ওই কৃত্রিম ফুসফুস রোগীর শরীরের বাইরে স্থাপিত একটি যন্ত্রের সাহায্যে শ্বাসপ্রশ্বাস চালায়। কৃত্রিম এই ফুসফুস সংকোচন ও প্রসারণ ছাড়াই রোগীর স্বাভাবিক হূদ্স্পন্দন ব্যবহার করে রক্ত সঞ্চালন করে। এই কৃত্রিম ফুসফুস শুধু বড়দের বেলায় ব্যবহারের জন্য অনুমোদিত। কারণ, এতে সংক্রমণ দেখা দেওয়ার খুব বেশি ঝুঁকি রয়েছে।
ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিশু বিশেষজ্ঞ আভিহু জেড. গ্যাজিট জানান, ফুসফুসে অক্সিজেন সরবরাহে ওয়েনের শরীরে প্রথমে ভেন্টিলেটর স্থাপন করা হয়েছিল। কিন্তু এতে উন্নতি না হওয়ায় অস্ত্রোপচারের ২৪ ঘণ্টা পর ওয়েনের দেহে কৃত্রিম উপায়ে শ্বাসপ্রশ্বাস চালানোর যন্ত্র (ইসিএমও) বসানো হয়। ইসিএমও বসানোর পর ওয়েনের হূদ্যন্ত্র ও ফুসফুস কাজ করতে সময় নেয়। তবে এই সময়ে রক্তক্ষরণ, রক্তচাপ, সংক্রমণ ও স্ট্রোকের মতো অনেক জটিলতা দেখা দেয়।
ইসিএমও বসানোর ১৬ দিন পর অবশেষে ওয়েনের হূদ্যন্ত্র কাজ করতে শুরু করে। কিন্তু ফুসফুস তখনো কাজ করেনি। এমনকি প্রতিস্থাপনের জন্য কোনো ফুসফুসও তখন পাওয়া যাচ্ছিল না। ওয়েনকে বাঁচাতে চিকিৎসকেরা তখন কৃত্রিম ফুসফুস স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেন।
গ্যাজিত বলেন, ‘আমরা কখনোই ভাবিনি যে নতুন ফুসফুস প্রতিস্থাপনের আগে কৃত্রিম ফুসফুস ছাড়াই ওয়েন বেঁচে থাকতে পারবে। এতে এটাই প্রমাণিত হয়েছে, ওয়েনের চিকিৎসায় আমরা যা করেছি, তা ঠিকই করেছি।’

টেন্ডুলকারই দ্রাবিড়ের প্রেরণাসুধা

শুধু উঠতি ক্রিকেটারদেরই নন, শচীন টেন্ডুলকার বুড়োদেরও প্রেরণা হয়ে উঠেছেন। কিছুদিন আগে রিকি পন্টিং, জ্যাক ক্যালিসরা বলেছিলেন, টেন্ডুলকারের কাছ থেকে প্রেরণা খুঁজে তাঁরা এগিয়ে যেতে চান সামনের দিনগুলোয়। এবার ঠিক একই কথা একটু ঘুরিয়ে বললেন টেন্ডুলকার-সতীর্থ রাহুল দ্রাবিড়ও।
‘ও তো আসলে কিংবদন্তি। গত ২-৩ বছরে বিস্ময়কর ব্যাটিং করছে, সম্ভবত ওর জীবনের সেরা ব্যাটিং’—বুড়ো বয়সেও এসে যে নতুন করে নিজেকে আবিষ্কার করা যায়, টেন্ডুলকারের কাছ থেকেই সেটা শিখলেন দ্রাবিড়। টেস্ট দলে যোগ দিতে মাত্রই জ্যামাইকায় পৌঁছেছেন। সেখানেই প্রথম অনুশীলন করে পরশু সাংবাদিকদের কাছে খুলে দিলেন শচীন-বন্দনার জানালা, ‘আমি যখন দলে এলাম, তত দিনে ও সাত বছরের মতো খেলে ফেলেছে। ওয়েস্ট ইন্ডিজে (১৯৯৭ সালে) ওর নেতৃত্বে খেলেছিও। ও আমার জন্য ছিল অন্তহীন অনুপ্রেরণা। এখনো সেই প্রেরণার জায়গাটি বদলায়নি।’
দ্রাবিড় নিজেও একজন কিংবদন্তি। টেস্ট ক্রিকেটের সর্বকালের সর্বোচ্চ রানসংগ্রাহকের তালিকায় তিনে। ১২ হাজার ৬৩ রান করা দ্রাবিড়ের সামনে সুযোগ এসেছে এই সফরেই দুইয়ে উঠে গিয়ে, ঠিক টেন্ডুলকারের পেছনে জায়গা করে নেওয়ার। এ জন্য ৩০১ রান করতে হবে তাঁকে। দুইয়ে থাকা পন্টিংয়ের রান ১২৩৬৩। কিন্তু এখনো বিনয়ী দ্রাবিড়। এখনো বিনম্র স্বরে কথা বলেন। এখনো প্রতিটি টেস্টের জন্য ঘাম ঝরানো প্রস্তুতিই নেন।
ঠিকই ১৫০টি টেস্ট খেলা ‘দ্য ওয়াল’ বলছেন, ‘সাত মাস হলো টেস্ট ক্রিকেটের বাইরে আছি। কিন্তু জানতাম, সামনে টানা সাতটি ম্যাচ খেলতে হবে (ওয়েস্ট ইন্ডিজে তিনটি টেস্ট খেলার পর পরই ইংল্যান্ড সফরে চারটি টেস্ট)। আমি তাই নিজের প্রস্তুতিটা নিয়েই রেখেছিলাম। তবে যত প্রস্তুতিই নিন না কেন, একটু চাপ তো থাকবেই। একটু নার্ভাস লাগবে। অস্বস্তিকর অনুভূতি হবে। এগুলো কখনোই পাল্টায় না, আগের মতোই থাকে। শুরুর দিকে রান পেয়ে গেলে ভালো। ফর্মটা টেনে নিয়ে যাওয়াটাই আসল।’
৩৮ বছর বয়সী দ্রাবিড় যতই টেন্ডুলকারের কাছ থেকে অমৃতধারার সন্ধান পান, এও জানেন, চিরকাল খেলে যেতে পারবেন না। তবে সাবেক অধিনায়ক পরিবর্তনটা সাদরেই বরণ করতে প্রস্তুত, ‘পরের এক-দুই বছর তরুণ ব্যাটসম্যানদের এগিয়ে আসতে হবে। আমি, সৌরভ আর লক্ষ্মণ যেমন এসেছিলাম। যত দ্রুত সম্ভব এই তরুণদের আসতে হবে এবং আমাদের মতোই ১৫ বছরের লম্বা ক্যারিয়ার বানিয়ে নিতে হবে। তা হলেই দলটার স্বাস্থ্য ভালো থাকবে।

ধোনি চিন্তিত পেসারদের নিয়ে

লম্বা একটা সময় বিশ্রামে থাকার পর ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজে অনেকটা নির্ভারই থাকার কথা ছিল মহেন্দ্র সিং ধোনির। কিন্তু তিন ম্যাচের এই সিরিজ শুরুর আগেই দুশ্চিন্তা ভর করেছে ভারতীয় অধিনায়কের ওপর। দলের নিয়মিত বেশ কয়েকজন পেসার ইনজুরির কবলে পড়ায় কিছুটা চিন্তায়ই পড়ে গেছেন তিনি।
টেস্ট সিরিজের জন্য ঘোষিত দলে নাম ছিল ভারতীয় পেস আক্রমণের অন্যতম প্রধান দুই বোলার জহির খান ও শ্রীশান্তের। কিন্তু ইনজুরির কারণে তাঁরা মাঠে নামতে পারবেন কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়। আরেক পেসার মুনাফ প্যাটেলও ভুগছেন ডান কনুইয়ের ইনজুরি সমস্যায়। সব মিলিয়ে দলের বোলিং আক্রমণ নিয়ে বেশ সমস্যায়ই পড়েছেন ধোনি। গতকাল এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেছেন, ‘তাঁদের পুরোপুরি ফিট থাকাটা খুব জরুরি ছিল। টেস্টে তো শুধু চার-পাঁচ বা ১০ ওভার বল করার ব্যাপার নয়। পেসার বা স্পিনার, যে-ই হোক না কেন, একটা টেস্টে তাঁদেরকে দিনে ২৫ ওভার পর্যন্তও বল করতে হতে পারে। আমরা আমাদের সেরা বোলারদের নিয়েই মাঠে নামতে চাইব, এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু এ জন্য তাদেরকে অন্তত ৮০ ভাগ ফিট থাকতে হবে।’ বদলি বোলার অভিমন্যু মিথুন এখনো ভিসা সমস্যার কারণে ওয়েস্ট ইন্ডিজে পৌঁছাতে পারেননি।
গত শুক্রবার ধোনির দুশ্চিন্তা আরও বাড়িয়ে দিয়েছেন ওপেনার মুরলি বিজয়। প্রাকটিসের সময় চোট পেয়েছেন ডান হাতের তর্জনিতে। তবে এত কিছুর পরও টেস্ট সিরিজে ভালো কিছু করার আশা ছাড়ছেন না ভারতের বিশ্বকাপজয়ী দলের অধিনায়ক। বলেছেন, ‘আমরা ছোট ছোট কাজগুলো খুব নির্ভুলভাবে করার দিকেই বেশি জোর দিচ্ছি। কে বিদেশের মাটিতে কতটি ম্যাচ খেলেছে, এটা গুরুত্বপূর্ণ নয়। আমরা সবাই যদি মূল দায়িত্বগুলো ঠিকভাবে পালন করতে পারি, তাহলেই ভালো কিছু করতে পারব বলে আশা করছি।

উস্টারশায়ারের সাকিব-সৌভাগ্য!

উস্টারশায়ারের জন্য তাহলে সৌভাগ্যই বয়ে নিয়ে গেলেন সাকিব আল হাসান! ফ্রেন্ডস লাইফ টি-টোয়েন্টিতে এখন পর্যন্ত সাত ম্যাচ খেলে যে তিনটিতে জিতেছে উস্টার, তার তিনটিই সাকিব যাওয়ার পর। সর্বশেষ গত পরশু তারা ওয়ারউইকশায়ারকে হারিয়েছে ১ উইকেটে। ওয়েবসাইট।
এই সৌভাগ্য সাকিব চার দিনের ম্যাচেও বয়ে নিয়ে যেতে পারেন কি না, সেটাই এখন দেখার। কালকের আগ পর্যন্ত সাত ম্যাচ খেলে মাত্র একটিতে জয় উস্টারের। গতকাল থেকে শুরু হ্যাম্পশায়ারের বিপক্ষে ম্যাচটাই এবার কাউন্টিতে সাকিবের প্রথম চারদিনের ম্যাচ। টসে জিতে ব্যাটিংয়ে নামা উস্টার বৃষ্টিভেজা প্রথম দিনে করেছে ৪ উইকেটে ২৫০ রান। অধিনায়ক ড্যারিল মিচেল ৬০, সোলাঙ্কি অপরাজিত ৯১ ও হল্যান্ডের অ্যালেক্সেই কারভেজি করেছেন ৫৫ রান। প্রথম দিনে সাকিব ব্যাট করতেই নামেননি।
পরশু ওয়ারউইকশায়ারের বিপক্ষেও মোটামুটি উজ্জ্বলই ছিল বাংলাদেশ অধিনায়কের পারফরম্যান্স। বল হাতে ২৪ রানে ২ উইকেট, ব্যাট হাতে ১৩ বলে দুই চারে ১৬। ২ উইকেটের মধ্যে আছে ৩৪ বলে ৫৪ রান করা উইলিয়াম পোর্টারফিল্ডের উইকেটটিও। ওয়ারউইকশায়ারের ৬ উইকেটে ১৮৪ রানের জবাবে ১৯.১ ওভারে ১ উইকেটে ম্যাচ জিতে নেয় উস্টার। গ্যারেথ অ্যান্ড্রু করেছেন সর্বোচ্চ রান, ৩২ বলে অপরাজিত ৬৫।

ট্রেমলেট সত্যিই ‘বিগ বার্ড’!

মোহাম্মদ আশরাফুলের কথা কি এখনো মনে পড়ে ক্রিস ট্রেমলেটের? মনে পড়ারই কথা। একে তো ম্যাচটা ছিল তাঁর আন্তর্জাতিক অভিষেকের, তার ওপর সেই ম্যাচে কী নাটকীয় কাণ্ডটাই না হলো!
বাংলাদেশের কার্ডিফ-কাব্যের জন্য আলোচিত সেই ২০০৫ ন্যাটওয়েস্ট সিরিজে অভিষেকেই হ্যাটট্রিক প্রায় করেই ফেলেছিলেন ট্রেমলেট। পর পর দুই বলে শাহরিয়ার নাফীস ও তুষার ইমরানকে আউট করেছিলেন। আশরাফুলকে করা পরের বলটি বেলে গিয়ে আঘাতও করেছিল। কিন্তু বিস্ময়করভাবে বেল পড়েনি। হ্যাটট্রিকও হয়নি! আর মুফতে ফিরে পাওয়া ‘জীবনে’ সেদিন আশরাফুল ছিনিমিনি খেলেছিলেন ইংলিশ বোলারদের নিয়ে। ৫২ বলে করেছিলেন ৯৪।
ন্যাটওয়েস্ট সিরিজের পর দুই বছরের জন্য দলের বাইরে ছিটকে গিয়েছিলেন। ২০০৭ সালে ফিরে ৪টি ওয়ানডে, তিনটি টেস্ট আর একটি টি-টোয়েন্টি খেলে আবারও বাদ। ২০০৮ সালে ফিরে একটি মাত্র ওয়ানডে খেলে বাদ পড়লেন আবারও। একের পর এক প্রত্যাবর্তন আর বাদ পড়ার চক্রে পড়া ট্রেমলেট আকস্মিকভাবে সুযোগ পেলেন গত অস্ট্রেলিয়া সফরে।
তিন বছর চার মাস পর টেস্ট দলে ফেরা ট্রেমলেট পার্থ টেস্টেই নিলেন ৮ উইকেট। সব মিলে ১৭ উইকেট নিয়ে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে অ্যাশেজ জয়ে রাখলেন ভূমিকা। এই পারফরম্যান্স আর স্টুয়ার্ট ব্রডের চোট বিশ্বকাপের দরজাও খুলে দিল তাঁর জন্য। বিশ্বকাপটা ভালো কাটেনি। দুই ম্যাচে সুযোগ পেয়েও উইকেটশূন্য ছিলেন। কিন্তু তার পরও শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে টেস্ট সিরিজে জায়গা পেয়েছেন। কার্ডিফ আর লর্ডস টেস্টে সব মিলে ৮ উইকেট নিয়ে হয়তো অনেকেরই মনে এই প্রশ্ন তুলে দিয়েছিল, ট্রেমলেট কি তবে আবারও বাদ পড়ার চক্রে ঢুকে যাচ্ছেন!
নিজের সাবেক হোমগ্রাউন্ড রোজ বোলে প্রথম ইনিংসেই দুর্দান্ত বোলিং করে সেই প্রশ্নটা ঘুচিয়ে দিলেন। সাউদাম্পটনের এই মাঠের ১০৫তম টেস্ট ভেন্যু হিসেবে অভিষেকটা শুধু বৃষ্টির কারণেই স্মৃতির সরণিতে না নেওয়ার প্রতিজ্ঞাই যেন করেছেন সাড়ে ৬ ফুট ৮ ইঞ্চি উচ্চতার এই ফাস্ট বোলার। প্রথম দিন শ্রীলঙ্কার পড়া ৪ উইকেটের দুটোই তুলে নিয়েছিলেন। দ্বিতীয় দিনে মাত্র ২৩.২ ওভার খেলা হলো। আরও ৫ উইকেট হারাল শ্রীলঙ্কা। এর ৪টি উইকেটই নিলেন ট্রেমলেট। ৪২ রানে ৬ উইকেট নিয়ে গড়লেন নিজের নতুন ক্যারিয়ার-সেরা বোলিংয়ের রেকর্ড।
এতটাই দুর্দান্ত বোলিং করেছেন, পরশু দিন শেষে তাঁর প্রশংসায় পঞ্চমুখ ইংল্যান্ডের বোলিং কোচ ডেভিড সেকার। এই অস্ট্রেলীয় এতটাই মুগ্ধ, ট্রেমলেটকে তুলনা করলেন সাবেক ক্যারিবীয় কিংবদন্তি ‘বিগ বার্ড’ জোয়েল গার্নারের সঙ্গে, ‘জোয়েল গার্নারের অনেক বৈশিষ্ট্যই ওর মধ্যে আছে, যেমন ধরুন উচ্চতা, ভালো বাউন্স দেওয়ার ক্ষমতা। ও দারুণ করছে। এই উন্নতি ওকে ধরে রাখতে হবে বটে, কিন্তু এরই মধ্যে দেখিয়ে দিয়েছে, টেস্ট খেলার জন্য ও যোগ্য।’
নতুন বোলিং কোচ হয়ে আসার কিছুদিনের মধ্যেই সেকারের নজরে পড়েন ট্রেমলেট, ‘মনে আছে ওকে সারেতে (কাউন্টি) খেলতে দেখেছিলাম। দুটি বল দেখার পরই আমি অ্যান্ডি ফ্লাওয়ারের (ইংল্যান্ড কোচ) কাছে গিয়ে বললাম, এই ছেলেটা সত্যিকারের টেস্ট ক্রিকেটার।’ অতীতটা ভুলে গিয়ে সম্ভাবনাময় ভবিষ্যতের দিকেই ট্রেমলেটকে তাকাতে বলেছেন সেকার, ‘জানি না অতীতে কী হয়েছিল। তবে এটা জানি, ওকে যদি আমরা ধরে রাখতে পারি আর সেও যদি নিজের শরীরটা ঠিক রাখতে পারে, টেস্ট ক্রিকেটে ওর ভালো সম্ভাবনাই আছে।