Monday, July 17, 2017

চীনে বন্যায় ১৮ জনের মৃত্যু, নিখোঁজ ১৮

চীনের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় নগরী জিলিনে বন্যায় ১৮ জন প্রাণ হারিয়েছেন। নিখোঁজ রয়েছেন আরো ১৮ জন। সোমবার স্থানীয় কর্তৃপক্ষ একথা জানিয়েছে। জিলিন প্রদেশের মধ্য ও পূর্বাঞ্চলীয় অংশে বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার ভারী বর্ষণ হয়েছে। এতে প্রদেশের অধিকাংশ অংশই পানিতে তলিয়ে গেছে। নগরীর বন্যা নিয়ন্ত্রণ ও খরা ত্রাণ কার্যালয় জানায়, জিলিন নগরীতে ভয়াবহ বন্যা হয়েছে। এতে এক লাখ ১০ হাজারের বেশি লোক বাড়িঘর ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নিয়েছে। ধ্বংসস্তুপ অপসারণ, সেতু মেরামত ও বাসাবাড়িতে পুনরায় বিদ্যুৎ ও টেলিফোন সংযোগ করতে নগরীতে ৩২ হাজার ৩৬০টি শক্তিশালী তল্লাশি ও উদ্ধারকারী দলকে মোতায়েন করা হয়েছে।

মস্কো বিমানবন্দরে ৩০টি ফ্লাইট বিলম্ব

রাশিয়ার রাজধানী মস্কোর বিমানবন্দরে মোট ৩০টি ফ্লাইট বিলম্বিত ও আরো চারটি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। অনলাইন ডিসপ্লে বোর্ডে এ তথ্য জানানো হয়। মস্কো সময় ০:০৫টায় মস্কো দোমোদাদোভো বিমানবন্দরে মোট ৩০টি ফ্লাইট বিলম্বিত এবং চারটি ফ্লাইট বাতিল করা হয়। তবে ভিনুকোভো বিমানবন্দরে ফ্লাইট সিডিউল পরিবর্তনের ব্যাপারে কোন উপাত্ত পাওয়া যায়নি। রাশিয়ার আবহাওয়া কেন্দ্র জানায়, ১৭ জুলাই সোমবার মস্কোর আবহাওয়া আংশিক মেঘলা থাকবে এবং থেমে থেমে বৃষ্টিপাত হবে। সার্বিক তাপমাত্রা ১৯ থেকে ২১ ডিগ্রি সেলসিয়াস বিরাজ করবে বলে আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়।

সমুদ্রের গভীরে রাশি রাশি 'গুপ্তধন'

সমুদ্রের তলায় সন্ধান মিলল 'গুপ্তধনের'। জিওলজিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়ার গবেষকরা ভারতীয় পানিসীমার মধ্যেই সমুদ্রের তলায় খোঁজ পেলেন কয়েক লাখ টন দুর্মূল্য ধাতু ও খনিজ পদার্থের এই আবিষ্কার অত্যন্ত উল্লেখযোগ্য বলে মনে করছেন গবেষকরা। এই বিপুল পরিমাণ সামুদ্রিক সম্পদের সন্ধান প্রথম পাওয়া গিয়েছিল মেঙ্গালুরু. চেন্নাই, মান্নার বেসিন, আন্দামান-নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ এবং লাক্ষাদ্বীপ-সংলগ্ন সমুদ্রের গভীরে। ২০১৪ সালের শুরুর দিকেই সন্ধান পাওয়া এই প্রাকৃতিক সম্পদের মধ্যে ছিল লাইম মাড, ফসফেট ও ক্যালকেরাস সমৃদ্ধ পদার্থ, হাইড্রোকার্বন, মেটালিফেরাস ডিপোজিট এবং মাইক্রোনডিউলস। বিজ্ঞানীদের মতে আরো গভীর সমু্দ্রে তল্লাশি চালালে আরও প্রাকৃতিক সম্পদ মিলতেই পারে। তিন বছরের অনুসন্ধানের পর জিওলজিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়া ১৮১,০২৫ বর্গ কিলোমিটার এলাকাকে হাই-রেজোলিউশন সমুদ্র খাত হিসেবে চিহ্নিত করেছে। ভারতীয় ইকনমিক জোনের মধ্যেই ১০,০০০ মিলিয়ন লাইম মাড পাওয়া যাবে বলে জানিয়েছেন। সমুদ্রের গভীরে এই অনুসন্ধান চালাচ্ছে বৈজ্ঞানিক গবেষণার জন্য বিশেষভাবে নির্মিত তিনটি জাহাজ। এরা হলো- সমুদ্র রত্নাকর, সমুদ্র কৌস্তভ এবং সমুদ্র সৌদিকমা। নিকট ভবিষ্যতে আরো উল্লেখযোগ্য আবিষ্কারের বিষয়ে বিজ্ঞানীরা আশাবাদী বলে জানিয়েছেন জিএসআই-এর সুপারিনটেন্ডেন্ট জিওলজিস্ট আশিস নাথ।

উ. কোরিয়ার সাথে আলোচনার প্রস্তাব দ.কোরিয়ার

দক্ষিণ কোরিয়া উত্তর কোরিয়াকে আলোচনার প্রস্তাব দিয়েছে। আন্ত:কোরীয় সীমান্ত বরাবর সামরিক উত্তেজনা হ্রাস এবং উভয় দেশের মধ্যে পারিবারিক পুনর্মিলনের কাজ পুনরায় শুরু করতে সামরিক ও রেডক্রস বিষয়ে দক্ষিণ কোরিয়া উত্তর কোরিয়ার সাথে আলোচনার প্রস্তাব দিয়েছে। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে সহকারি প্রতিরক্ষা মন্ত্রী সুহ চো-সুক বলেন, দক্ষিণ কোরিয়া অস্ত্রবিরতি কার্যকর থাকা পানমুনজম গ্রামের তনগিলগকে শুক্রবার উভয় দেশের মধ্যে সামরিক কর্তৃপক্ষ পর্যায়ে বৈঠকের জন্যে উত্তর কোরিয়াকে প্রস্তাব দেয়। মন্ত্রী বলেন, আলোচনার লক্ষ্য বিভক্ত দুই কোরিয়ার মধ্যে যেকোন ধরনের উস্কানিমূলক কর্মকাণ্ড বন্ধ এবং কোরীয় যুদ্ধের কারণে বিভক্ত হয়ে পড়া পরিবারের সদস্যদের মধ্যে পুনর্মিলনের ব্যবস্থা করা।

কাশ্মির সীমান্তে ভারতের হামলায় ৪ পাক সেনা নিহত

কাশ্মির সীমান্তের নিয়ন্ত্রণ রেখা বরাবর ভারতীয় সেনাবাহিনীর হামলায় পাকিস্তানের চার সেনা নিহত হয়েছেন। পাকিস্তানি সামরিক বাহিনী এ কথা জানিয়েছে। তবে ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এ ব্যাপারে কিছু জানে না বলে জানিয়েছে। রোববার এক বিবৃতিতে পাকিস্তানের সেনা বাহিনী জানায়, নিয়ন্ত্রণ রেখার কাছ দিয়ে সেনা বহনকারী একটি গাড়ি যাওয়ার সময় তাতে ভারতীয় সেনারা হামলা চালায়। এতে গাড়িটি পাশের নদীতে পড়ে যায় এবং চার সেনা নিহত হন। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, পাকিস্তানি সেনাবাহিনী নিলাম নদী থেকে এক সেনার লাশ উদ্ধার করেছে এবং বাকি তিন সেনার লাশ খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে। এদিকে, ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের লে. কর্নেল রাজেশ কালিয়া বলেছেন, এ ঘটনা সম্পর্কে তারা কিছুই জানেন না। গত কয়েক মাস ধরে সীমান্তের নিয়ন্ত্রণ রেখা বরাবর ভারত ও পাকিস্তানি সেনারা পরস্পরের বিরুদ্ধে মাঝেমধ্যে গোলাগুলি চালাচ্ছে। দুই পক্ষই ২০০৩ সালের যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের জন্য একে অপরকে দায়ী করছে।

শীতলক্ষ্যায় ট্রলার ডুবি : নারীসহ একাধিক নিখোঁজ

কাপাসিয়ার সিংহশ্রী এলাকায় শীতলক্ষ্যা নদীতে যাত্রীবাহী ট্রলারডুবির ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় এক নারীসহ কয়েকজন নিখোঁজ রয়েছেন বলে স্থানীয় লোকজন জানিয়েছে। গতকাল রোববার রাত ১০টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর খবর পেয়ে রাতেই উদ্ধারকাজ শুরু করে গাজীপুর ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের কর্মীরা। রাতভর অভিযান চালিয়ে কাউকে উদ্ধার করা যায়নি। গাজীপুর ফায়ার সার্ভিসের উপসহকারী পরিচালক আকতারুজ্জামান জানান, রাতভর অভিযান চালিয়ে কাউকে উদ্ধার করা যায়নি। সকালে আবার উদ্ধারকাজ শুরু হয়েছে। স্থানীয়দের বরাত দিয়ে কাপাসিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু বকর সিদ্দিক জানান, রোববার রাতে শ্রীপুর উপজেলার বরমী বাজার এলাকার শীতলক্ষ্যা নদীর ঘাট থেকে ২০-২৫ জন পোশাকশ্রমিককে নিয়ে ইঞ্জিনচালিত একটি ট্রলার কাপাসিয়ার সিংহশ্রী বাজার খেয়াঘাটে যাচ্ছিল। পথে বালুবাহী একটি নৌকার সঙ্গে ধাক্কা খেয়ে ট্রলারটি মাঝ নদীতে ডুবে যায়। এ সময় বেশির ভাগ যাত্রী সাঁতরে এবং স্থানীয়দের সহায়তায় তীরে উঠে আসে। তবে এখনো এক নারীসহ কয়েকজন নিখোঁজ রয়েছে। ওসি আরো জানান, সিংহশ্রী ক্যাম্পের পুলিশ বালুবাহী ওই নৌকা ও সেটির মাঝিকে আটক করেছে।

রাঙ্গামাটি-খাগড়াছড়ি সড়কে হালকা যান চলাচল শুরু

পাহাড় ধ্বসের ১ মাস ৩ দিন পর রাঙ্গামাটি-মহালছড়ি-খাগড়াছড়ি সড়ক হালকা যানবাহনের জন্য খুলে দেয়া হয়েছে। রবিবার সন্ধ্যায় সড়কটিতে যানবাহন চলাচল শুরু হয়। দীর্ঘ এক মাসেরও বেশী সময় পর রাঙ্গামাটি সড়ক বিভাগএই সড়ক হালকা যানবাহন চলাচলের জন্য খুলে দেয়ায় মানুষের মাঝে স্বস্থি ফিরে এসেছে। ১৩ জুন একটানা ভারী বর্ষণ ও প্রচন্ড বজ্রপাতের কারণে রাঙ্গামাটি শহরে ঘটে যায় স্মরণ কালের ভয়াবহ পাহাড় ধ্বস। ভয়াবহ পাহাড় ধ্বসের ফলে রাঙ্গামাটি-মহালছড়ি-খাগড়াছড়ি সড়কের খামার পাড়া ও কুতুকছড়ির মোনতলা এলাকার ৬ কিলোমিটার এবং ৮ কিলোমিটার অংশে রাস্তার দুটি অংশে বিশাল এলাকা ধ্বসে গিয়ে সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। দীর্ঘদিন পর এই রাস্তার সংযোগ করায় এলাকার জনগনর মাঝে স্বস্থি ফিরে এসেছে। গত একমাস রাস্তা বিচ্ছিন্ন থাকায় রাঙ্গামাটির সাথে সরাসরি সড়ক যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায় খাগড়াছড়ি, নানিয়ারচর, বাঘাইছড়ি, লংগদু ও কুতুকছড়ি এলাকাবাসীর। দীর্ঘ একমাস চেষ্টা চালিয়ে সড়ক বিভাগের কর্মীরা মাটি ভরাট করে সড়কটি পূন সংযোগ স্থাপন করে। রবিবার বিকালে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ কেন্দ্রীয় সদস্য ও সাবেক পার্বত্য প্রতিমন্ত্রী দীপংকর তালুকদার,এই রাস্তার হালকা যানবাহনের জন্য খুলে দেন। রাঙ্গামাটি-খাগড়াছড়ি সড়ক হালকা যানবাহন চলাচলের জন্য খুলে দিতে গিয়ে আওয়ামীলীগের কেন্দ্রীয় সদস্য ও সাবেক পার্বত্য প্রতিমন্ত্রী দীপংকর তালুকদার বলেন,প্রাকৃতিক দুর্যোগে বির্পযস্ত রাঙ্গামাটি সরকারের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হয়ে আসছে। দীর্ঘ ১৫ দিনেরও বেশী রাস্তার মাটি পরিস্কার করে রাস্তার ভাঙ্গন অংশে সংস্কার কাজ শুরু করে রাঙ্গামাটি সড়ক ও জনপথ বিভাগ। রাঙ্গামাটি সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ এমদাদ হোসেন জানান এ সড়কে আপাতত হালকা যান চণাচণ করতে পারবে। পরবর্তীতে এ সড়কে ভারী যান চলাচলের ব্যবস্থা করা হবে বলে তিনি জানান। দীর্ঘ ১ মাস পর হালকা যানবাহনের জন্য খুলে দেয়ায় রাঙ্গামাটি খাগড়াছড়ি কয়েক লাখ মানুষের কষ্ট কিছু লাঘব হয়েছে। মৌসুমী পণ্য পরিবহন সহ অন্যান্য পরিবহনে আর্থিক ক্ষতি থেকে মুক্তি পাবে মানুষ এমন প্রত্যাশা স্থানীয় অধিবাসীদের।

চিকুনগুনিয়া জটিল রোগীদের মৃত্যুঝুঁকি বৃদ্ধি করে

চিকুনগুনিয়া জটিল রোগীদের মৃত্যুঝুঁকি বৃদ্ধি করে। এসব রোগীরা দীর্ঘ দিন রোগে ভোগেন বলে এদের মধ্যে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম থাকে। নতুন করে আরেকটি রোগে আক্রান্ত হলে তার মধ্যে অবশিষ্ট রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও হ্রাস পায়। ফলে এসব রোগীর মৃত্যঝুঁকিও বাড়ে। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, চিকুনগুনিয়া আক্রান্তদের দেহে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম বা বেশি থাকার কারণে কেউ দ্রুত সেরে উঠেন আবার কারো সেরে উঠতে দীর্ঘ সময় লাগে। চিকুনগুনিয়ার প্রতিক্রিয়া কারো দেহে দীর্ঘ দিন থাকে আবার কেউ ১০ বা ১২ দিন পরই সেরে ওঠে। মেডিসিনের বিশিষ্ট চিকিৎসক স্বাস্থ্য অধিদফতরের সাবেক মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা: এম এ ফয়েজ জানিয়েছেন, চিকুনগুনিয়া ভাইরাসে আক্রান্ত হলে গিটে ব্যথা হয়, মাংসপেশীতে প্রচণ্ড ব্যথা হয়। জ্বর সেরে গেলে এ ব্যথা আরো কিছুদিন থাকে এবং কারো দীর্ঘ দিন থাকে। রোগীর দেহে রোগ প্রতিরোধ কতটুকু আছে এর ওপর নির্ভর করে রোগী কত আগে সুস্থ হয়ে যাবেন অথবা হয়তো তিনি কয়েক দিন বেশি ভুগতে পারেন। তিনি জানান, জটিল রোগে আক্রান্তদের দেহে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম থাকে বলে তারা খুব দ্রুত আরো অসুস্থ হয়ে পড়েন। এমনকি তাদের মৃত্যুও হতে পারে। ট্রপিক্যাল মেডিসিন বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক এম এ ফয়েজ জানান, অনেক সময় আক্রান্তরা দীর্ঘদিন ধরে ভুগতে পারেন। গিটে ব্যথা থাকতে পারে। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকেরা বলছেন, ভরা বর্ষার এ সময়টাতে নানা জটিল রোগে ভুগছেন অথবা বার্ধক্যজনিত রোগে ভুগছেন এমন রোগীদের সাবধানে থাকতে বলা হয়েছে। দিনের বেলা ঘুমানোর সময় রোগে আক্রান্তদের অবশ্যই মশারি টানিয়ে ঘুমাতে হবে যাতে তারা চিকুনগুনিয়া আক্রান্ত না হয়। এ দিকে বেসরকারি ডায়গনস্টিক সেন্টারে চিকুনগুনিয়া টেস্ট করা নিয়ে বিভ্রান্তি রয়েই গেছে। স্বাস্থ্য অধিদফতর বলছে, জাতীয় রোগ তত্ব রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান (আইইডিসিআর) ছাড়া অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানে নিশ্চিত চিকুনগুনিয়া টেস্ট হওয়া সম্ভব নয়। চিকুনগুনিয়া সম্পর্কিত নিউলেটারে আইইডিসিআর একটি নির্দেশ জারি করেছে। আইইডিসিআর নির্দেশে বলেছে, ‘বিভিন্ন বেসরকারী ডায়গনস্টিক সেন্টারে চিকুনগুনিয়া পরীক্ষা করছে বলে দাবি করা হচ্ছে। এসব পরীক্ষার ফল পজিটিভ হলে পরীক্ষার গুণগত মান নিশ্চিত করা এবং রোগীর তথ্য নিবন্ধনের জন্য সংশ্লিষ্ট সব বেসরকারি ডায়গনস্টিক সেন্টারকে পজিটিভ হয়েছে এমন রক্তের নমুনা, রোগী নাম, বয়স, লিঙ্গ, ঠিকানা ও মোবাইলফোন নাম্বারসহ পরীক্ষার রিপোর্টের অনুলিপি জাতীয় রোগ তত্ব রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানে প্রেরণের জন্য পরামর্শ দেয়া হলো।’ এদিকে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়রও চিকুনগুনিয়ার প্রকোপ ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে বলে স্বীকার করছেন। তিনি ঢাকা শহরে কী পরিমাণ চিকুনগুনিয়ার রোগী আছে এর নির্ণয় করবেন বলে মিডিয়ার সাথে সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন। তিনি বলেন, চিকুনগুনিয়া রোগে আক্রান্তদের সংখ্যা সম্বন্ধে আমাদের কাছে সঠিক কোনো পরিসংখ্যান নেই। তাই ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে কী পরিমাণ মানুষ চিকুনগুনিয়ায় আক্রান্ত সে বিষয়ে পরিষ্কার ধারণা থাকা দরকার। এ জন্য আমাদের প্রত্যেক আঞ্চলিক কর্মকর্তা ও কাউন্সিলরকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে এলাকাগুলোয় জরিপ শুরু করতে। আমরা আশা করছি খুব শিগগির এ বিষয়ে একটা ফল পাব।

টঙ্গিবাড়ী ও লৌহজংয়ের বিস্তীর্ণ এলাকা নদীগর্ভে বিলীন



মুন্সীগঞ্জের টঙ্গীবাড়ী ও লৌহজং উপজেলার নদী তীরবর্তী গ্রামগুলোতে পানি বৃদ্ধির সঙ্গে ¯্রােতের তীব্রতায় পদ্মার ভাঙন শুরু হয়েছে। গত কয়েকদিনের ব্যবধানে দুইটি উপজেলার অর্ধশতাধিক বসতবাড়ি, ফসলি জমি, খেলার মাঠ, স্কুল, মাদ্রাসা, মসজিদ ও দোকানপাট আকস্মিক ভাঙনে বিলীন হয়ে গেছে। মারাত্মক ভাঙনের কবলে পড়েছে পদ্মা তীরবর্তী লৌহজংয়ের মেদেনীমন্ডল, গাঁওদিয়া, কুমারভোগ ও টঙ্গীবাড়ী উপজেলার কামারখাড়া, হাসাইল-বানারি, দিঘীরপাড়, পাঁচগাঁও ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রাম। ভাঙন কবলিত এলাকার শিশু, নারী-পুরুষেরা নির্ঘূম রাত কাটাচ্ছেন ভাঙন আতঙ্কে। ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্থদের দাবী- নদী তীরবর্তী এলাকায় দ্রুত ভাঙনরোধে ব্যবস্থা নেয়া হউক। মুন্সীগঞ্জের টঙ্গীবাড়ী উপজেলার কামারখাড়া, হাসাইল-বানারি, দিঘীরপাড়, পাঁচগাঁও, লৌহজং উপজেলার গাঁওদিয়া, কুমারভোগ ও মেদিনীমন্ডল ইউনিয়নের অন্তত ২০টি গ্রামে ভাঙন আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। এরমধ্যে টঙ্গীবাড়ী উপজেলার কামারখাড়া ইউনিয়নের বড়াইল বাগবাড়ি, চৌসার, জৈনসার, দিঘীরপাড়ের মিতারা, সরিষাবন, ধানকেড়া, পূর্ব হাসাইল, লৌহজংয়ের গাঁওদিয়া ইউনিয়নের গাঁওদিয়া, শামুরবাড়ি, পদ্মারচর, কুমারভোগ ইউনয়নের শিমুলিয়া বাজার, খড়িয়া গ্রাম, মেদিনীমন্ডল ইউনিয়নের কান্দিপাড়া গ্রাম, যশলদিয়া গ্রাম, মাওয়া পুরাতন ফেরিঘাটসহ নদীর তীরবর্তী বেশ কিছু এলাকায়ও দেখা দিয়েছে পদ্মার ভাঙন। প্রতিদিনই পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় ¯্রােতের তীব্রতা বেড়ে গেছে। গত ৮ জুলাই কামারখাড়ার বাগবাড়ি এলাকা সংলগ্ন পদ্মা নদীর ¯্রােতে তলিয়ে গেছে রাজিব নামে এক যুবক। রাজিবের মরদেহের সন্ধান পায়নি স্বজনরা। ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্থরা নদী তীরবর্তী এলাকা ও আশপাশ এলাকায় স্বজনদের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছে। এছাড়া যেসব স্থাপনা পদ্মায় বিলীন হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, সেসব স্থাপনা ভেঙে অন্যত্র সরিয়ে নেয়া হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্থরা বলেছেন, টঙ্গীবাড়ী উপজেলার দিঘীরপাড়ের আওয়ামী লীগের স্থানীয় এক শীর্ষ নেতা ও তার লোকজন নদীর পাড় ঘেঁষে ড্রেজার বসিয়ে মাটি কেটে নেয়ায় ভাঙনের তীব্রতা আরো বেড়েছে। এদিকে, পদ্মার ভাঙন শুরু হওয়ায় লৌহজংয়ের গাঁওদিয়া ইউনিয়নেই বর্তমানে ভাঙনের মুখে রয়েছে জৈনপুরী পীর সাহেবের খানকা শরীফ, গাঁওদিয়া বাজারের মসজিদসহ ৩টি মসজিদ, একটি মাদ্রাসা, গাঁওদিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, গাঁওদিয়া ইউনিয়ন পরিষদ, বিখ্যাত লেখক মানিক বন্দোপাধ্যায়ের নানার বাড়ি, গাওঁদিয়া বাজারের বাকি অংশ, কমিউনিটি ক্লিনিক ও একটি খেলার মাঠ, ৪টি ক্লাব, মুন্সীগঞ্জ-২ আসনের এমপি সাগুফতা ইয়াসমিন এমিলির শামুর বাড়ি গ্রামের বসতবাড়ি, ইউনুছ খান মেমোরিয়াল হাসপাতাল, মসজিদ, হাড়িদিয়া উচ্চ বিদ্যালয়, খেলার মাঠ, কবরস্থান ও প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ বিভিন্ন স্থাপনা। এমনকি লৌহজং-বেজগাঁও- গাঁওদিয়া বেড়িবাঁধটি এখন হুমকির মুখে পড়েছে। টঙ্গীবাড়ী উপজেলার কামারখাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. মহিউদ্দিন হালদার বলেছেন, তার ইউনিয়নের পাঁচটি গ্রাম সবচেয়ে বেশি ভাঙনের মুখে রয়েছে। স্কুল, মাদ্রাসা, মসজিদ, নদীগর্ভে চলে গেছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড বেড়িবাঁধ নির্মাণের জন্য মাপ-জোপ করে গেলেও তার কার্যক্রম শুরু হয়নি।

সিলেটে ছাত্রলীগের গুলিতে ছাত্রলীগ কর্মী নিহত

সিলেটে ছাত্রলীগের গুলিতে ছাত্রলীগ কর্মী নিহত হয়েছেন। নিহত ছাত্রলীগ কর্মীর নাম খালেদ আহমদ লিটু (২৩)। লিটু ছাত্রলীগের সিলেট জেলা শাখার আপ্যায়ন বিষয় সম্পাদক পাভেল মাহমুদ গ্রুপের কর্মী বলে জানা গেছে। সোমবার দুপুরে স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা ও পাবেল গ্রুপের মধ্যে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। আহত হয়েছেন অন্তত ৫ জন। নিহতের বিষয়টি নিশ্চিত করে সিলেটের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মিডিয়া) সুজ্ঞান চাকমা জানিয়েছেন, গুলি খালেদ আহমদ লিটুর মাথায় লেগেছে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছে। জানা যায়, সকালে কলেজের প্রথম বর্ষের দুই ছাত্রের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এতে কলেজ ক্যাম্পাসে উত্তেজনা ছড়ায়। খবর পেয়ে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে। এ সময় পুলিশের পাঁচ সদস্য কলেজের প্রধান ফটকে দায়িত্বে ছিলেন। বেলা ১২টার দিকে ইংরেজি বিভাগের একটি কক্ষ থেকে গুলির শব্দ শোনে ক্যাম্পাসে থাকা পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে যুবকের রক্তাক্ত লাশ দেখতে পান। যুবকের ডান চোখের উপরে গুলির আঘাত লেগে মাথার পেছন থেকে বেরিয়ে যায়। এ সময় কক্ষে অন্য কাউকে পায়নি পুলিশ। এমনকি কক্ষে কোন ধরনের আগ্নেয়াস্ত্র পাওয়া যায়নি। নিহত যুবক লিটন আহমদ লিটু পৌরশহরের নয়াগ্রাম রোডে একটি মোবাইল দোকানের মালিক। সে পৌরসভার খাসা পন্ডিত পাড়া এলাকার খলিলুর রহমানের পুত্র। তবে কেন তিনি কি কারণে কলেজের ওই কক্ষে অবস্থান করছিলেন তা তাৎক্ষনিকভাবে জানা যায়নি। তার মৃত্যুটি চোরাগোপ্তা হামলা না ছাত্রলীগের বিবদমান গ্রুপের মধ্যে অভ্যন্তরিন কোন্দল থেকে ঘটেছে এ বিষয়ে কিছু জানাতে পারেনি পুলিশ। উদ্ভুত পরিস্থিতির কারণে কলেজের ¯œাতক প্রথম বর্ষের পরীক্ষা স্থগিত ঘোষণা করেছেন কলেজ কর্তৃপক্ষ। একই সাথে কলেজ ছুটি দেয়া হয়।

সিরিয়ার লাতাকিয়া থেকে ট্যাংক বিধ্বংসী মার্কিন ভারী ক্ষেপণাস্ত্র উদ্ধার

সিরিয়ার সরকারি বাহিনী লাতাকিয়া প্রদেশ থেকে ট্যাংক বিধ্বংসী মার্কিন ভারী ক্ষেপণাস্ত্র ভাণ্ডার উদ্ধার করেছে। মাইন অপসারণ অভিযান চালানোর সময়ে ক্ষেপণাস্ত্র ভাণ্ডারের খোঁজ পায় সরকারি বাহিনী। লাতাকিয়া গ্যারিসনের প্রকৌশল বিভাগের কমান্ডার জেনারেল রাফি মুহাম্মদ মাগদি এ তথ্য দিয়েছেন। তিনি জানান, এতে ৩০টির বেশি ট্যাংক বিধ্বংসী মার্কিন ভারী ক্ষেপণাস্ত্র ছিল। লাতাকিয়ায় সরকারি বাহিনী এ পর্যন্ত ৮০০ উচ্চ বিস্ফোরক ক্ষমতার বোমা নিষ্ক্রিয় করে দিয়েছে। জুলাই মাস থেকে ওই এলাকায় মাইন অপসারণের তৎরতার শুরুর পর ১১টি আবাসিক এলাকায় এগুলোকে নিষ্ক্রিয় করে দেয়া হয় বলে জানান তিনি। তিনি আরো বলেন, এলাকাটি এখন বাস্তুচ্যুত অধিবাসীদের ফিরে যাওয়া উপযোগী হয়েছে। মাইন অপসারণ অভিযান চালানোর সময়ে সরকারি বাহিনীর কেউ হতাহত হয়নি উল্লেখ করে তিনি আরো জানান, সিরিয়ার রুশ আমর্ড ফোর্সেস ইন্টারন্যাশনাল মাইন অ্যাকশন সেন্টার থেকে তারা এ কাজের প্রশিক্ষণ নিয়েছেন।

যুক্তরাষ্ট্রে আকস্মিক বন্যায় ৮ জনের মৃত্যু, নিখোঁজ অনেকে

যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনায় আকস্মিক বন্যায় কমপক্ষে আটজনের মৃত্যু হয়েছে এবং এখনো কয়েকজন নিখোঁজ রয়েছে। শনিবার কর্তৃপক্ষ একথা জানিয়েছে। গিলা কাউন্টি শেরিফ’স দফতরের জে. অ্যাডাম শেপার্ড জানায়, কোল্ড স্প্রিং সুইমিং হোলে আকস্মিক বন্যায় শেরিফ’স দফতর জরুরি ভিত্তিতে পদক্ষেপ নেয়। এখনো কত লোক নিখোঁজ রয়েছে সে ব্যাপারে সুনির্দিষ্ট করে কিছু উল্লেখ না করে এক বিবৃতিতে শেপার্ড বলেন, সেখানে বন্যায় আটজনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়েছে এবং নিখোঁজদের সন্ধানে উদ্ধার তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। জাতীয় আবহাওয়া সংস্থা জানায়, সোমবার সন্ধ্যা পর্যন্ত অ্যারিজোনার দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে আকস্মিক বন্যার পূর্বাভাস জারি করা হয়েছে। অ্যারিজোনা ইমার্জেন্সি ইনফরমেশন নেটওয়ার্ক জানায়, ১৯৯৬ সাল থেকে এ রাজ্যে আকস্মিক বন্যায় কমপক্ষে ৪০ জন প্রাণ হারিয়েছে।

বিচারকদের শৃঙ্খলাবিধি প্রকাশে আরো সময় পেল সরকার

নিম্ন আদালতের বিচারকদের চাকরির শৃঙ্খলা সংক্রান্ত বিধিমালা গেজেট প্রকাশে সরকারকে আরও এক সপ্তাহ সময় দিয়েছেন সুপ্রিমকোর্টের আপিল বিভাগ। সোমবার সকালে গেজেট প্রকাশে রাষ্ট্রপক্ষের সময় আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার (এসকে) সিনহার নেতৃত্বাধীন ছয় সদস্যের আপিল বিভাগের বেঞ্চ এই আদেশ দেন। রাষ্ট্রপক্ষে আজও দুই সপ্তাহের সময় আবেদন করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। পরে আরও এক সপ্তাহ সময় মঞ্জুর করেন আদালত। এর আগেও গেজেট প্রকাশে দফায় দফায় সময় পেয়েছে রাষ্ট্রপক্ষ।
নিম্ন আদালতের বিচারকদের চাকরির শৃঙ্খলাসংক্রান্ত বিধিমালা প্রণয়ন না করায় আইন মন্ত্রণালয়ের দুই সচিবকে গত বছরের ১২ ডিসেম্বর তলব করেছিলেন আপিল বিভাগ। গত বছরের ৭ নভেম্বর বিচারকদের চাকরির শৃঙ্খলাসংক্রান্ত বিধিমালা ২৪ নভেম্বরের মধ্যে গেজেট আকারে প্রণয়ন করতে সরকারকে নির্দেশ দিয়েছিলেন আপিল বিভাগ। ১৯৯৯ সালের ২ ডিসেম্বর মাসদার হোসেন মামলায় ১২ দফা নির্দেশনা দিয়ে রায় দেয়া হয়। ওই রায়ের আলোকে নিম্ন আদালতের বিচারকদের চাকরির শৃঙ্খলাসংক্রান্ত বিধিমালা প্রণয়নের নির্দেশনা ছিল।

চুয়াডাঙ্গায় প্রথমবারের মত শুরু হয়েছে মাস মিলন চাষ

দেশে প্রতি বছর ৭০ থেকে ৮০ কোটি টাকার গ্রীস্ম কালীন ফল ‘ মাস মিলন’ আমদানী করা হয়। যার পুরোটাই আসে তাইওয়ান, থাইল্যান্ড এবং ইন্ডিয়া থেকে।  গত কয়েক বছর পরীক্ষা নিরীক্ষার পর চুয়াডাঙ্গার সবজিগ্রাম খ্যাত গাড়াবাড়িয়া গ্রামে  এ চাষ প্রথম শুরু হয়েছে। এগ্রি কনসার্ন নামে একটি প্রতিষ্ঠান  ১২ বিঘা জমিতে ‘ মাস  মিলন’  আবাদে সফলতা পেয়েছে। ইতিমধ্যে বাজারজাত শুরু হয়েছে।  উচ্চ ফলনশীল নতুন এই ফল চাষ আবাদে খরচের তুলনায় অধিক লাভ হওয়ায় আগ্রহী হয়ে উঠেছে স্থানীয় কৃষকরা। মাস মিলন গ্রীস্ম কালীন ফল হলে বছরে ৩ বার চাষ করা যায়। মার্চ থেকে নভেম্বর মাস মিলন চাষের উপযোগী সময়। বীজ বপন থেকে উত্তোলন পর্যন্ত এ আবাদে সময় লাঘে  দুই মাস। ১ বিঘা জমি চাষে   ৬০ গ্রাম বীজ লাগে। এ বীজ পাতু দেওয়ার পর ১৬-১৭শ চারা জন্মায়।  এই চারাগুলো মালচিং পদ্ধতির মাধ্যমে জমিতে  লাগানো হয়। পচনের হাত থেকে রক্ষা পেতে  গাছ বড় হলে বিশেষ ব্যবস্থায় তৈরী  মাচায় তুলে দেয়া হয়। ফলগুলো মাচার নিচে ঝুলতে থাকে। কীটনাশক বিহীন এ ফল বিঘা প্রতি উৎপাদন হয় ৫৫-৬০ মন। দেখতে অনেকটা বাঙ্গী ফলের মত। বাঙ্গী ফল তেমন একটি মিষ্টি হয় না।
আর মিলন ফল বেশ মিষ্টি। চুয়াডাঙ্গা শহরতলীর গাড়াবাড়িয়া গ্রামের মাঠে গিয়ে দেখা মিলর মাস মিলনের ক্ষেত। মাচাঁয় ঝুলছে ফল। জমি থেকে ফল সংগ্রহ করে কাটুনজাত করে পাঠানো হচ্ছে ঢাকা ও চট্রগ্রামে। দ্বিতীয় দফায় চাষ করার জন্য আবারও জমি প্রস্তুতে নেমে পড়েছে প্রতিষ্টানটি। তাদের দেখাদেখি গ্রামের অন্য কৃষকরাও আগ্রহী হয়ে উঠেছে মাস মিলন চাষে। এগ্রি কনসার্নের ম্যানেজার কৃষিবিদ খাইরুল ইসলাম বলেন, তাইওয়ান, থাইল্যান্ড এবং ইন্ডিয়া থেকে মাস মিলন ফলটি আমাদানী করা হয়। গ্রীস্ম কালীন এই ফলের বাজার সাধারণত রাজধানী ঢাকা,  চট্রগ্রাম , সিলেটসহ  দেশের আর্ন্তজাতিক মানের হোটেল রেস্তোরা ও বড় বড় ফাস্ট ফুডের দোকান। এর স্থানীয় বাজার মূল্য বেশ চড়া। প্রতিটি ফলের ওজন হয় দেড় থেকে দুই কেজি। বর্তমানে  প্রতি কেজির মূল্য ১৮০-২০০ টাকা। এক বিঘা চাষে খরচ হয় ৬০-৭০ হাজার টাকা। খরচ বাদে লাভ হয় ২ থেকে আড়াই লাখ টাকা। চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা তালহা জুবাইর মাশরুর বলেন, বিদেশ থেকে আমদানীকৃত এ ফলটির দেশে ব্যপক চাহিদা রয়েছে। চুয়াডাঙ্গায় প্রথমবারের মত এ চাষটি হওয়ায় কৃষক পর্যায়ে আগ্রহ দেখা দিয়েছে। ফলটি যদি সঠিকভাবে বাজারজাত করা যায় কৃষকরা ব্যাপক লাভবান হবে। ফলে অনেকাংশে দেশীয় মুদ্রা সাশ্রয় হবে।

তুরস্কে ব্যর্থ অভ্যুত্থানের বার্ষিকীতে শোডাউন

তুরস্কে ব্যর্থ সেনা অভ্যুত্থানের বার্ষিকীতে হাজার হাজার সমর্থকের সামনে আবেগী বক্তব্য দিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোগান। এ সময় তিনি অভ্যুত্থানকারীদের ঠেকিয়ে দেয়ায় জনতার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। স্থানীয় সময় শনিবার রাতে বসফরাস প্রণালির সংযোগ সেতুসংলগ্ন এলাকায় দেয়া জনসে াতের সামনে বক্তব্য দেন এরদোগান। খবর বিবিসির। ২০১৬ সালের ১৫ জুলাই তুরস্কে এরদোগান সরকারকে উৎখাতের জন্য সামরিক বাহিনীর একাংশ অভ্যুত্থানের চেষ্টা করে। তাদের সে চেষ্টা ব্যর্থ করে দেয় জনগণ। সেদিন মারা যায় আড়াইশ’ লোক। অভ্যুত্থানের প্রথম বার্ষিকীতে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘সেদিন রাতে মানুষের হাতে বন্দুক ছিল না। তাদের হাতে ছিল জাতীয় পতাকা। আর আজ যারা বেরিয়েছে তাদের হাতেও জাতীয় পতাকা। বন্দুকের চেয়ে পতাকা বেশি শক্তিশালী। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ছিল তাদের বিশ্বাস। আমি আমার জাতির প্রত্যেক সদস্যের কাছে কৃতজ্ঞ, যারা তাদের দেশকে রক্ষা করেছিল।’২৫০ জন মানুষ জীবন দিয়ে দেশকে রক্ষা করেছেন উল্লেখ করে এরদোগান বলেন, ‘অভ্যুত্থানকারীরা গত বছর এই রাতে সেতুটি বন্ধ করে দিয়েছিল। তারা বিশ্বকে দেখাতে চেয়েছিল যে তুরস্ক এখন তাদের নিয়ন্ত্রণে। কিন্তু লাখ লাখ মানুষ সেদিন দেশের সম্মানে রাস্তায় নেমে তাদের রুখে দেয়। তারা বিশ্বাসঘাতকদের ঘাড় মটকে দিয়েছে।’ অভ্যুত্থানকারী সেনাদের মৃত্যুদণ্ড দেয়ার পক্ষে জোর সমর্থন দিয়ে এরদোগান বলেন, তাদের গুয়ানতানামো কারাগারের বন্দিদের মতো পোশাক পরানো উচিত। তুরস্কের প্রেসিডেন্ট বলেন, তিনি এই অভ্যুত্থানকারীদের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বিনালি ইলদিরিমের সঙ্গে কথা বলেছিলেন। তিনি (বিনালি) বলেছিলেন, ‘আদালতে তোলার সময় তাদের যেন গুয়ানতানামোর বন্দিদের মতো পোশাক পরানো হয়।’ তিনি বলেন, তুরস্ক সরকার পুনরায় মৃত্যুদণ্ড চালু করার বিষয়টি নিয়ে গুরুত্বের সঙ্গে ভাবনা-চিন্তা করছে। প্রথমেই বিশ্বাসঘাতকদের মুণ্ডু কেটে ফেলা হবে বলেও এ সময় তিনি ঘোষণা করেন । ব্যর্থ এই অভ্যুত্থানে সমর্থন দেয়ার অভিযোগে দেড় লক্ষাধিক সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীকে বরখাস্ত করেছে তুরস্ক সরকার। অভ্যুত্থানচেষ্টায় সমর্থন দেয়ার অভিযোগে ৫০ হাজার জনকে গ্রেফতার করা হয়, যাকে ভিন্নমত দমনের কৌশল হিসেবে দেখছেন সমালোচকরা। বক্তব্যে ১৫ জুলাইকে ছুটির দিন হিসেবে ঘোষণা করেন এরদোগান। একই অনুষ্ঠানে দেয়া বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী ইলদিরিম ১৫ জুলাইকে ‘দ্বিতীয় মুক্তিযুদ্ধ’ হিসেবে অ্যাখ্যা দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘এক বছর আগের এই রাতটি ছিল ভয়াবহ, বিভীষিকাময়। এ রাত ছিল দীর্ঘ, একটি ঝলমলে রৌদ্রোজ্জ্বল দিনে প্রবেশের আগমুহূর্ত। সমাবেশে অংশ নেয়া জুলফিকার কাহারমান নামে একজন বলছেন, আমি জানি না সেই রাতে কেন যে আমার মৃত্যু হয়নি! এই কথা এখনও আমাকে তাড়া করে বেড়ায়। কেন আমি ট্যাঙ্কের সামনে সিনা টান করে দাঁড়াইনি? দেশের প্রয়োজনে আমি নিজেকে নির্ভয়ে উৎসর্গ করতে পারি।" এরদোগান এখনও ব্যাপক জনপ্রিয় : বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রেসিডেন্ট এরদোগান এখনও তুরস্কে বিপুলভাবে জনপ্রিয়। তার বিরুদ্ধে যত অভিযোগই সমালোচকরা করুন না কেন, দেশটির অর্ধেক মানুষ এখনও তার সমর্থক। ইস্তাম্বুল থেকে বিবিসির মার্ক লোয়েন জানান, এরদোগানের জনপ্রিয়তা আরও বেড়েছে। তবে মার্ক লোয়েন বলছেন, তুরস্কে যদিও অভ্যুত্থানকারীদের বিরুদ্ধে কিছুদিন পর্যন্ত এরদোগান সমর্থক ও বিরোধীদের মধ্যে একটা ঐক্য দেখা দিয়েছিল কিন্তু এখন দেশটিতে এই দুই শিবিরের মধ্যে বিভক্তি তীব্রতর হয়েছে। অন্যদিকে ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের সঙ্গেও তুরস্কের সম্পর্ক চিড় ধরেছে। তুরস্কে সেই অভ্যুত্থানের রাতে মামরেস শহরে বিদ্রোহী সেনাদের হাতে ধরা পড়ার হাত থেকে অল্পের জন্য বেঁচে গিয়েছিলেন এরদোগান। এর পর তার একটি ভিডিও বার্তা প্রচারিত হওয়ার পরই দ্রুত বদলে যেতে থাকে পরিস্থিতি। তবে তুরস্কে সাবেক মার্কিন রাষ্ট্রদূত জিম জেফরি বলেন, তার ধারণা অভ্যুত্থানের পেছনে ফেতুল্লা গুলেন এবং তার সমর্থকরাই ছিল কিন্তু কীভাবে তারা সামরিক বাহিনীতে অনুপ্রবেশ করেছিল তা এখনও কেউ জানে না। জেফরি বলেন, সমস্যা হচ্ছে ইইউ এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এ অভ্যুত্থানের নিন্দা করতে অনেক দেরি করেছিল। যদিও চূড়ান্ত বিচারে এটি ছিল গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সরকারের বিরুদ্ধে একটি গোষ্ঠীর অভ্যুত্থান।

নওয়াজ শরিফের ১৫ দুর্নীতির মামলা সচলের সুপারিশ

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফের বিরুদ্ধে দুর্নীতির ১৫টি মামলা পুনরায় সচল করার সুপারিশ করেছে পানামা পেপারস কেলেঙ্কারিতে গঠিত যৌথ তদন্ত কমিটি (জেআইটি)। নওয়াজ ও তার পরিবারের সদস্যের এসব দুর্নীতির কারণে পদত্যাগের চাপে রয়েছেন তিনি। এমন পরিস্থিতিতে দুর্নীতি কেলেঙ্কারির এসব মামলা পুনরায় সামনে আনার জন্য জেআইটির ঘোষণায় নতুন করে বিপাকে পড়েছেন পাক প্রধানমন্ত্রী। খবর এনডিটিভি ও ডনের। নওয়াজের বিরুদ্ধে আনা ১৫টি দুর্নীতি মামলার ৩টি নথিভুক্ত করা হয় ১৯৯৪ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত পাকিস্তান পিপলস পার্টির শাসনামলে। বাকি ১২টি মামলা করা হয় সাবেক প্রেসিডেন্ট পারভেজ মোশাররফের আমলে। ১৯৯৯ সালের অক্টোবরে সামরিক শাসনের মাধ্যমে নওয়াজ সরকারকে উৎখাত করেন পারভেজ। এছাড়া লন্ডনে নওয়াজ পরিবারের ৪টি অ্যাপার্টমেন্টের বিষয়ে ১৯৯৯ সালের ডিসেম্বরে তদন্ত শুরু করে পাকিস্তানের জাতীয় জবাবদিহিতা ব্যুরো (এনএবি)। এ বিষয়ে ২০ এপ্রিল রায়ে পাকিস্তানের সুপ্রিমকোর্ট জেআইটিকে নওয়াজের লন্ডনে অ্যাপার্টমেন্ট তৈরিতে ব্যবহৃত অর্থের উৎস তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে। জেআইটি জানায়, ‘এই ১৫টি মামলা যথাযথ তদন্ত না করা এবং সাক্ষ্য প্রদানের সুযোগ না দেয়ার অভাবে বাতিল করা হয়েছে।’ পানামাগেট তদন্ত দল এনএবিকে লন্ডনের সম্পত্তিগুলো তদন্তের জন্যও সুপারিশ করেছে। গত ১০ জুলাই নওয়াজের অর্থ কেলেঙ্কারির বিষয়ে জেআইটির দেয়া প্রতিবেদন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা শুরু করে সুপ্রিমকোর্টের ৩ বিচারকের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ। প্রতিবেদনটি পরীক্ষা করার পর বিচারিক বেঞ্চ, গত ৬০ দিনে শরিফের দলের নেতারা যেসব বক্তব্য দিয়েছে তার লিখিত কপি চেয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, এসব বক্তব্যে আদালত অবমাননাকর কোনো বিষয় রয়েছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হবে। মামলার পরবর্তী শুনানি আজ সোমবার অনুষ্ঠিত হবে।

বিশ্বজিৎ হত্যা: আপিলের রায় ৬ আগস্ট

আলোচিত বিশ্বজিৎ দাস হত্যা মামলায় আপিলের রায় ঘোষণা করা হবে আগামী ৬ আগস্ট। সোমবার বিচারপতি মো. রুহুল কুদ্দুস ও বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তীর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের ডেথরেফারেন্স ও আপিল শুনানি শেষে আদালত রায় ঘোষণার জন্য এ দিন ধার্য করেন।  এর আগে গত ১৬ মে বিশ্বজিৎ হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের ডেথরেফারেন্স ও আপিল শুনানি শুরু হয়। আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল নজিবুর রহমান। আর আসামিদের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মনসুরুল হক চৌধুরী ও আইনজীবী শাহ আলম। ২০১৩ সালের ১৮ ডিসেম্বর ঢাকার চার নম্বর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক এবিএম নিজামুল হক বিশ্বজিৎ দাস হত্যা মামলায় ৮ জনকে মৃত্যুদণ্ড ও ১৩ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন। মৃতুদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- রফিকুল ইসলাম শাকিল, মাহফুজুর রহমান নাহিদ, এমদাদুল হক এমদাদ, জি এম রাশেদুজ্জামান শাওন, সাইফুল ইসলাম, কাইয়ুম মিঞা টিপু, রাজন তালুকদার ও মীর মো. নূরে আলম লিমন। যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রাপ্তরা হলেন- এএইচএম কিবরিয়া, ইউনুস আলী, তারিক বিন জোহর তমাল, গোলাম মোস্তফা, আলাউদ্দিন, ওবায়দুর কাদের তাহসিন, ইমরান হোসেন, আজিজুর রহমান, আল-আমিন, রফিকুল ইসলাম, মনিরুল হক পাভেল, মোশাররফ হোসেন ও কামরুল হাসান। একই সঙ্গে তাদের প্রত্যেককে ২০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড দেয়া হয়। রায়ের এক সপ্তাহের মধ্যে মামলার ডেথরেফারেন্স হাইকোর্টে আসে। এরপর নিম্ন আদালতের মৃত্যুদণ্ডের বিরুদ্ধে আপিল করেন আসামিরা। আজ এ মামলার ডেথরেফারেন্স ও আপিল শুনানি শেষে রায় ঘোষণার দিন ধার্য করেন আদালত। বিশ্বজিৎ দাস হত্যা মামলায় ২০১৩ সালের ৫ মার্চ ছাত্র লীগের ২১ কর্মীর বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেন মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। এই ২১ আসামির মধ্যে ৮ জন কারাগারে এবং বাকিরা পলাতক রয়েছে। ২০১২ সালের ৯ ডিসেম্বর বিএনপির নেতৃত্বাধীন ১৮ দলের অবরোধ কর্মসূচি চলাকালে রাজধানীর পুরান ঢাকার ভিক্টোরিয়া পার্কের সামনে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা শিবির কর্মী ভেবে দর্জি বিশ্বজিৎ দাসকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করে। শাখারীবাজারে বিশ্বজিতের টেইলার্স ছিল। তিনি থাকতেন লক্ষ্মীবাজার। গ্রামের বাড়ি শরীয়তপুর।

মিথ্যা তথ্যে অঙ্গপ্রত্যঙ্গ সংযোজনে দুই বছরের জেল

মিথ্যা তথ্য দিয়ে অঙ্গপ্রত্যঙ্গ সংযোজন করলে দুই বছরের জেল অথবা ৫ লাখ টাকা জরিমানা অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। সোমবার সচিবালয়ে এমন বিধান রেখে মানবদেহে অঙ্গপ্রত্যঙ্গ সংযোজন (সংশোধন) আইন, ২০১৭ এর খসড়ার চূড়ান্ত অনুমোদন দেয় মন্ত্রিসভা। এছাড়া আইনের অন্যান্য যে কোনো বিধি লঙ্ঘন করলে ৩ বছরের কারাদণ্ড ও ১০ লাখ টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ডের বিধান রাখা হয়।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদের অতিরিক্ত সচিব আশরাফ শামীম এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, ‘অঙ্গপ্রত্যঙ্গ বলতে চোখ, কিডনি, হৃদপিণ্ডসহ অন্যান্য অঙ্গ দান করা যাবে। আইনে বলা আছে, পিতা-মাতা, ভাই-বোন, পুত্র-কন্যাসহ অন্যান্য নিকট আত্মীয় এসব অঙ্গপ্রত্যঙ্গ দান করতে পারবেন। আইনে অপরাধের শাস্তি হিসেবে বলা হয়েছে, মিথ্যা তথ্য দিয়ে কেউ যদি অঙ্গপ্রত্যঙ্গ সংযোজন করেন তাদের দুই বছরের জেল অথবা ৫ লাখ টাকা জরিমানা অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত করা হবে।’

ভারতে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট চলছে

ভারতের রাষ্ট্রপতি নির্বাচন শুরু হয়েছে। এটি দেশটির চতুর্দশ রাষ্ট্রপতি নির্বাচন। স্থানীয় সময় সকাল ১০টা থেকে ভোট গ্রহণ শুরু হয়। চলবে বিকাল ৫টা পর্যন্ত। নির্বাচনের ভোট গণনা করা হবে ২০ জুলাই। রাজধানী নয়াদিল্লির পার্লামেন্ট ভবন ও রাজ্যের বিধানসভাগুলোতে লোকসভা, রাজ্যসভা ও বিধানসভার সদস্যরা ভোট দিয়ে তাদের নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত করবেন। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন ইলেক্টোরাল কলেজের ৪ হাজার ৮৯৬ জন সদস্য। এর মধ্যে লোকসভায় ৫৪৩ জন, রাজ্যসভায় ২৩৩ জন এবং স্টেট অ্যাসেম্বলির মোট সদস্য ৪ হাজার ১২০ জন।
এবার রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী দু’জন। বিজেপি নেতৃত্বাধীন সরকারের পক্ষ থেকে প্রার্থী রামনাথ কোবিন্দ যিনি এর আগে বিহারের রাজ্যপাল ছিলেন। আর কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউপিএ’র প্রার্থী মীরা কুমার যিনি এর আগে কংগ্রেস শাসনামলে লোকসভার স্পিকার ছিলেন। দু’জনই দলিত সম্প্রদায়ের। এর আগে কে আর নারায়ণ ছিলেন ভারতের প্রথম দলিত রাষ্ট্রপতি। অন্যদিকে এর আগে বিজেপির কোনও সদস্য রাষ্ট্রপতি হিসেবে নির্বাচিত হননি। তবে সংখ্যার হিসেবে এবার বিজেপি ও তাদের শরিক দলগুলোর যা শক্তি, তাতে তারা বিরোধীদের চেয়ে অনেক এগিয়ে আছে। ফলে কোবিন্দ বেশ এগিয়ে এবং তার জয় অনেকটাই নিশ্চিত বলে ধরে নেয়া হচ্ছে। বর্তমান বাঙালি রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জির মেয়াদ শেষ হচ্ছে ২৪ জুলাই।

ইউরোপে ঘোড়ার মাংস ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে অভিযান

ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের (ইইউ) পুলিশ বাহিনী ইউরোপোল স্পেনসহ কয়েকটি দেশে অভিযান চালিয়ে ঘোড়ার মাংস বিক্রির একটি চক্রকে ভেঙে দিয়েছে। চক্রটি সারা ইউরোপে গরুর মাংসের নামে ঘোড়ার মাংস বিক্রি করে আসছিল। ইউরোপোল বলছে, এসব মাংস মানুষের খাওয়ার উপযোগী নয়। ঘোড়ার মাংস বিক্রির অভিযোগে রোববার স্পেনের পুলিশ অন্তত ৬৫ জনকে গ্রেফতার করেছে। ইউরোপের আটটি দেশে প্রায় চার বছর ধরে তদন্তের পর এ অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হল। খবর বিবিসির। ইউরোপোলের কর্মকর্তারা বলছেন, ২০১৩ সালে আয়ারল্যান্ডে প্রথমে এ বিষয়টি নজরে আসে। সেখানে ঘোড়ার মাংস দিয়ে তৈরি বিফ বার্গার বাজারে বিক্রি করা হচ্ছিল। তখনই এক ব্যবসায়ীর ক্লু পাওয়া যায়। তখন থেকেই এ তদন্তের শুরু। তদন্তকারী কর্মকর্তারা দেখেছেন যে, খুবই বৃদ্ধ এবং অসুস্থ ঘোড়াকেও বিক্রির জন্য স্পেন ও পর্তুগালে জবাই করা হচ্ছে এবং বিক্রির জন্য বেলজিয়ামে পাঠানো হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী ট্রুডোর কোলে শরণার্থী ট্রুডো

সিরীয় শরণার্থী দম্পতির সেই শিশুপুত্র ট্রুডোকে কোলে তুলে নিলেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো। সিরীয় শরণার্থী মুহাম্মদ বিলান ও আফরা বিলানকে কানাডায় আশ্রয় দেয়ার কৃতজ্ঞতা হিসেবে জাস্টিন ট্রুডোর নামে নাম রেখেছিলেন তাদের সন্তানের। শনিবার ক্যালগারি স্ট্যামপিডে দুই মাসের জাস্টিন ট্রুডো আদম বিলানকে কোলে তুলে নেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী। এ সময় শিশুটি ঘুমাচ্ছিল। সিরীয় রাজধানী দামেস্কের বাসিন্দা মুহাম্মদ বিলান ও আফরা বিলান দুই সন্তান নিয়ে কানাডায় আশ্রয় লাভ করেন। গত মে মাসে এই দম্পতির আরেকটি পুত্র সন্তানের জন্ম হলে কৃতজ্ঞতাস্বরূপ সন্তানের নাম রাখেন জাস্টিন ট্রুডো আদম বিলান। গত ফেব্রুয়ারিতে মন্ট্রিয়ল বিমানবন্দর দিয়ে কানাডায় প্রবেশ করেন বিলান দম্পতি।
তখন তাদের স্বাগত জানাতে বিমানবন্দরে থাকতে পারেননি ট্রুডো। সাধারণত বেশিরভাগ সিরীয় শরণার্থীকে ট্রুডোই গ্রহণ করেছেন। ২০১৫ সালের নভেম্বরে ট্রু–ডো কানাডার প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হওয়ার পরে থেকে চলতি বছরের জানুয়ারি পর্যন্ত ৪০ হাজার সিরীয় শরণার্থী কানাডায় পুনর্বাসিত হয়েছে, এর মধ্যে শুধু ক্যালগারিতে জায়গা পেয়েছে ১ হাজার। জানুয়ারিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ৭টি মুসলিম দেশের নাগরিকদের অভিবাসন নিষিদ্ধ ঘোষণা করলে ট্রুডো সোশ্যাল মিডিয়ায় শরণার্থীদের পুনর্বাসনের প্রতি তার সমর্থনের কথা ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, নিপীড়ন, সন্ত্রাস ও যুদ্ধ থেকে বাঁচতে যারা পালিয়ে আসছেন তাদের সহায়তায় তার সরকার অঙ্গীকারাবদ্ধ। এর আগে গত ফেব্রুয়ারিতে অন্টারিওর এক সিরীয় শরণার্থী দম্পতি ট্রুডোর নামে সন্তানের নামকরণ করেন। বিবিসি।

ভারতীয় চর কুলভূষণের প্রাণভিক্ষার আবেদন খারিজ

পাকিস্তানে মৃত্যুদণ্ড পাওয়া ভারতীয় নৌবাহিনীর সাবেক অফিসার কুলভূষণ যাদবের প্রাণভিক্ষার আবেদন খারিজ করে দিয়েছে সে দেশের সেনা আদালত। সে ক্ষেত্রে আর মাত্র একটা রাস্তাই খোলা থাকল কুলভূষণের সামনে। পাক সেনাপ্রধান জেনারেল কামার জাভেদ বাজওয়ার সিদ্ধান্ত। কুলভূষণের বিরুদ্ধে কী কী ‘সাক্ষ্যপ্রমাণ’ রয়েছে, পাক সেনাপ্রধান তা খতিয়ে দেখছেন। পাক সেনাবাহিনীর মিডিয়া শাখা আইএসপিআর এ কথা জানিয়েছে। গত মাসেই জেনারেল বাজওয়ার কাছে প্রাণভিক্ষার আর্জি জানিয়েছিলেন কুলভূষণ। ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থার হয়ে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে গত বছরের মার্চে বালুচিস্তান প্রদেশ থেকে কুলভূষণকে গ্রেফতার করা হয় বলে পাক সেনাবাহিনীর তরফে দাবি করা হলেও ভারতের তরফে জানানো হয়, কুলভূষণ ওই সময় তার ব্যবসার কাজে ছিলেন ইরানে। সেখান থেকেই অপহরণ করা হয় কুলভূষণকে।

ক্ষমতার ছয় মাসে ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা তলানিতে

প্রেসিডেন্ট হিসেবে ক্ষমতা গ্রহণের ছয় মাসের মধ্যেই ডোনাল্ড ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা রেকর্ড তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে। গত বসন্ত থেকেই তার জনপ্রিয়তায় ধস নামে। যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্সিয়াল কর্মসূচি বাস্তবায়ন, বিশেষ করে অজনপ্রিয় রিপাবলিকান স্বাস্থ্যনীতির কারণে ট্রাম্পের জনপ্রিয়তার এমন পরিস্থিতি বলে জানিয়েছে ওয়াশিংটন পোস্ট ও এবিসি নিউজের এক জরিপ। জরিপের ফলাফলে দেখা গেছে, ট্রাম্পের কাজকে সমর্থন করেন মাত্র ৩৬ শতাংশ মার্কিনি। অন্যদিকে, তার বিরোধিতা করছেন ৫৮ ভাগ মার্কিনি। গত ১০-১৩ জুলাই এ জরিপ চালানো হয়। হোয়াইট হাউসে ট্রাম্পের কর্মদক্ষতার ব্যাপারে ‘শক্ত বিরোধিতা’ প্রকাশ করেছেন সব মিলিয়ে ৪৮ শতাংশ মার্কিন নাগরিক। জরিপ বলছে, ক্ষমতার এ সময়ে এসে সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ও বিল ক্লিনটনের জনপ্রিয়তা এতটা খারাপ ছিল না। তবে জর্জ ডব্লিউ বুশের দ্বিতীয় মেয়াদে তার জনসমর্থন এমন স্থানে গিয়ে পৌঁছেছিল। শপথ নেয়ার পর ছয় মাসের মধ্যে বিশ্বের সবচেয়ে দুর্বল প্রেসিডেন্ট হিসেবে ট্রাম্পকে দেখছেন প্রায় অর্ধেক মার্কিনি (৪৮ শতাংশ)। অন্যদিকে, তার নেতৃত্বকে শক্তিশালী হিসেবে দেখছেন ২৭ ভাগ মার্কিন নাগরিক। দেশের জন্য কল্যাণ হবে এমন কোনো চুক্তির বিষয়ে জরিপে ট্রাম্পের প্রতি মার্কিনিদের আস্থার পরীক্ষা করা হয়।
জরিপে অংশ নেয়া নাগরিকরা বলছেন, তারা রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনসহ বিশ্বনেতাদের সঙ্গে ট্রাম্পের কোনো চুক্তির প্রতি আস্থা রাখেন না। এক-তৃতীয়াংশ (৩৩ ভাগ) মার্কিন নাগরিক বিশ্বাস করেন, বিশ্বনেতাদের সঙ্গে ট্রাম্পের ‘একটি বৃহৎ চুক্তি’ বা ‘বড় মূল্যের চুক্তিতে’ পৌঁছানোর প্রতি তাদের বিশ্বাস রয়েছে। ট্রাম্পের প্রতি আস্থা রাখেন না এমন মার্কিনির সংখ্যা ৪৮ ভাগ। এমনকি বিশেষভাবে ট্রাম্প ও পুতিনের ব্যাপারে মার্কিন নাগরিকদের মতামত চাওয়া হলে দেখা গেছে, প্রতি তিনজনের দু’জন ট্রাম্পের প্রতি আস্থা রাখতে পারছেন না। ২০১৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রাশিয়ার হস্তক্ষেপ এবং মস্কো ও টাম্প শিবিরের মধ্যে সম্ভাব্য আঁতাতের বিষয়েও নাগরিকদের মতামত চাওয়া হয়েছে জরিপে। দেখা গেছে, ৬০ ভাগ মার্কিনি মনে করেন, নির্বাচনের ফলাফলে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করেছিল রাশিয়া। এপ্রিলের এক জরিপে ৫৬ শতাংশ মার্কিনি এ বিষয়ে একমত ছিলেন। ৪৪ শতাংশ মার্কিনি রুশ হস্তক্ষেপের বিষয়ে সন্দেহ করেন এবং মনে করেন মস্কোর এ প্রচেষ্টা থেকে সুবিধা পেয়েছেন ট্রাম্প। প্রতি ১০ জনের ৪ জন নাগরিক বিশ্বাস করেন, নির্বাচনের ফলাফলে প্রভাব বিস্তারের জন্য রাশিয়ার প্রচেষ্টায় জেনেশুনে সহায়তা করেছিল ট্রাম্পের প্রচার শিবির।

ভারতে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আজ

ভারতের রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আজ। এটি দেশটির চতুর্দশ রাষ্ট্রপতি নির্বাচন। রাজধানী নয়াদিল্লির পার্লামেন্ট ভবন ও রাজ্যের বিধানসভাগুলোতে লোকসভা, রাজ্যসভা ও বিধানসভার সদস্যরা ভোট দিয়ে তাদের নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত করবেন। স্থানীয় সময় আজ সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত ভোট গ্রহণ চলবে। নির্বাচনের ভোট গণনা করা হবে ২০ জুলাই। এবার রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী দু’জন। বিজেপি নেতৃত্বাধীন সরকারের পক্ষ থেকে প্রার্থী রামনাথ কোবিন্দ যিনি এর আগে বিহারের রাজ্যপাল ছিলেন। আর কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউপিএ’র প্রার্থী মীরা কুমার যিনি এর আগে কংগ্রেস শাসনামলে লোকসভার স্পিকার ছিলেন। দু’জনই দলিত সম্প্রদায়ের। বর্তমান বাঙালি রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জির মেয়াদ শেষ হচ্ছে ২৪ জুলাই। নির্বাচিত রাষ্ট্রপতি শপথ নেবেন ২৫ জুলাই। সূত্র : ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস।

চোরের উপর বাটপারি!

চুরি যাওয়া সাইকেল চোরের কাছ থেকেই কৌশলে 'চুরি' করে আনলেন জেনি মর্টন হামফ্র নামে এক ব্রিটিশ তরুণী। লন্ডনের ব্রিস্টলে ঘটা এ অভিনব ঘটনা সোশ্যাল মিডিয়ায় ঝড় তুলেছে। খবর দ্য টেলিগ্রাফের। জেনির একটি আকাশি রঙের সাইকেল ছিল। সম্প্রতি বাড়ি থেকে তা চুরি হয়ে যায়। কে চুরি করেছে জেনি জানতেন না। চোর খুঁজতে তিনি ফেসবুকে সাইকেলের ছবি পোস্ট করেন। এ দিকে চোরও চুরির পর এক তৃতীয় ব্যক্তির মাধ্যমে ফেসবুকের বাই এন্ড সেল পেজে সাইকেলটির ছবি পোস্ট করে বিক্রির জন্য। আর এখানেই ঘটে টুইস্ট। সোশ্যাল মিডিয়ায় ঘোরাফেরা করতে করতে জেনির এক বন্ধুর চোখে পড়ে যায় ওই সাইকেলটি। জেনিকে বিষয়টি জানান তিনি। তারপর দু’জনে পুলিশকে বিষয়টি জানান। কিন্তু জেনির দাবি, পুলিশের কাছ থেকে কোন রকম সাহায্য পাননি তারা। চোরের থেকে সাইকেল চুরির ফন্দি আঁটেন তিনি। ক্রেতা সেজে ফেসবুকে দেয়া ঠিকানায় যোগাযোগ করেন জেনি। ওই তৃতীয় ব্যক্তির সঙ্গে দেখাও করেন। তারপর অনুরোধ করেন, কেনার আগে একবার সাইকেলটা চালিয়ে দেখার। বিক্রেতা রাজিও হয়ে যায়। আর সেই সুযোগে সাইকেল নিয়ে চম্পট দেন জেনি। সাইকেল ফিরে পেয়ে জেনি ভীষণ খুশি। খুশি হওয়ার আরও একটি কারণ হচ্ছে তৃতীয় ব্যক্তির মাধ্যমে সাইকেলটি বিক্রির আগে তা ভাল করে মেরামত করে দিয়েছিল চোর!

কাশ্মীর নিয়ে চীনের নাক গলানো ভাল লাগছেনা মেহবুবার

হঠাৎ কাশ্মীর নিয়ে নাক গলানোটা ভাল লাগছেনা ভারত-শাসিত কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী মেহবুবা মুফতির। খবর বিবিসির। তার প্রশ্ন, চীন কি তাদের দীর্ঘদিনের অবস্থান পরিবর্তন করে কাশ্মীর বিতর্কে হস্তক্ষেপ করার রাস্তা বেছে নিয়েছে? সম্প্রতি কাশ্মীর ইস্যুতে মধ্যস্থতা করারও প্রস্তাব দিয়েছে চীন, যা ভারত সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে। তবে চীন যে ক্রমেই আরও বেশি করে কাশ্মীর-বিতর্কের ভেতর ঢুকতে চাইছে সে ইঙ্গিত স্পষ্ট। আন্তর্জাতিকভাবে চীন পাকিস্তানের ঘনিষ্ঠ মিত্র বলে পরিচিত হলেও কাশ্মীর বিতর্কে তারা বরাবর একটা ভারসাম্যের নীতি নিয়েই চলেছে এবং এ সমস্যা দ্বিপাক্ষিকভাবে সমাধান করতে হবে, ভারতের এ বক্তব্যেও কখনও আপত্তি জানায়নি। কিন্তু গত সপ্তাহেই প্রথম কাশ্মীর সঙ্কটে চীন মধ্যস্থতার প্রস্তাব দেয়। এরপর শনিবার দিল্লিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের সঙ্গে বৈঠকের পর জম্মু ও কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী মেহবুবা মুফতিও চীনের বিরুদ্ধে কাশ্মীরে হস্তক্ষেপের অভিযোগ আনেন। মেহবুব মুফতি বলেন, কাশ্মীরের লড়াইতে বাইরের শক্তিও যে সামিল আছে তা সবারই জানা। আর কপাল খারাপই বলব,
চীনও এখন এখানে নাক গলাতে শুরু করেছে। বাইরের শক্তিরাই আসলে জম্মু ও কাশ্মীরের পরিবেশকে নষ্ট করছে। কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী এর বেশি কিছু ভেঙে না-বললেও কাশ্মীরে চীনের ভূমিকা নিয়ে এর পর থেকেই তুমুল আলোচনা শুরু হয়েছে। দিল্লি ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক ও চীন-ভারত সম্পর্কের বিশেষজ্ঞ শ্রীমতি চক্রবর্তীর ধারণা, কাশ্মীরের ভেতর দিয়ে যাওয়া চীন-পাকিস্তান ইকোনমিক করিডরে ভারতের তীব্র আপত্তিই সম্ভবত কাশ্মীর প্রশ্নে চীনকে নতুন করে ভাবাচ্ছে। ওই করিডর কাশ্মীরের ভেতর দিয়ে যাওয়ায় ভারত সেটাকে নিজেদের সার্বভৌমত্বের ওপর আঘাত বলে মনে করছে। হয়তো তাই চীন মনে করছে এ পরিস্থিতিতে যদি আলোচনার টেবিলে সব পক্ষকে আনা যায় তাহলে ভারতকে এটা বোঝানো যাবে যে,এ করিডর কোনও আঘাত-টাঘাত কিছু নয় বরং একটা অর্থনৈতিক পদক্ষেপ। ভারতকে এভাবে নরমে-গরমে রাখাটা যদি চীনের একটা উদ্দেশ্য হয়, তাহলে আর একটা উদ্দেশ্য মিত্র পাকিস্তানকে সাহায্য করা- বলছিলেন প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞ ব্রিগেডিয়ার বি ডি মিশ্রা। ভারতের সাবেক ওই সেনা কর্মকর্তার কথায়, মেহবুবা মুফতি ঠিক কেন ওই মন্তব্য করেছেন তা বলা মুশকিল - তবে ভারতকে বিপাকে ফেলার কোনো সুযোগই যে চীন ছাড়বে না তাতে কোনও সন্দেহ নেই। আর সেটা যদি পাকিস্তানের পক্ষে যায় তা হলে তো কথাই নেই।

সোনারগাঁও উপজেলা চেয়ারম্যানের সাময়িক বরখাস্তের আদেশ স্থগিত

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ের উপজেলা চেয়ারম্যান ও বিএনপি নেতা আজাহারুল ইসলাম মান্নানের সাময়িক বরখাস্তের আদেশ ৬ মাসের জন্য স্থগিত করেছেন হাইকোর্ট। একইসঙ্গে তাকে বরখাস্তের আদেশ কেন বেআইনি হবে না তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন আদালত। সোমবার বিচারপতি নাইমা হায়দার ও বিচারপতি আবু তাহের মো. সাইফুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন। আগামী ৪ সপ্তাহের মধ্যে স্থানীয় সরকার সচিবসহ সংশ্লিষ্টদের রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে। আদালতে আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন, সানজিদ সিদ্দিকী ও সাকিব মাহবুব। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোখলেসুর রহমান। এর আগে গত ৫ জুলাই স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় উপজেলা চেয়ারম্যান আজাহারুল ইসলাম মান্নানকে তৃতীয়বারের মতো বরখাস্ত করে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়। নাশকতার মামলায় নারায়ণগঞ্জের আদালতে ২৭ এপ্রিল উপজেলা চেয়ারম্যান আজাহারুল ইসলাম মান্নানের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করায় তাকে বরখাস্ত করা হয়। এই বরখাস্তের আদেশের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে রিট করেন তিনি। এর আগে ২০১৬ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি ও চলতি বছরের ৮ মার্চ আজাহারুল ইসলাম মান্নানকে বরখাস্ত করে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়।

সিরাজগঞ্জে বন্যার পানিতে ডুবে শিশু ও বৃদ্ধার মৃত্যু

সিরাজগঞ্জে উল্লাপাড়া ও চৌহালী উপজেলায় বন্যার পানিতে ডুবে এক বৃদ্ধা ও শিশুর মৃত্যু হয়েছে। সোমবার সকালে ও রোববার সন্ধ্যায় পানিতে ডুবে এ মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলো- উল্লাপাড়ার ডেফলবাড়ী গ্রামের মৃত আখের আলীর স্ত্রী অবিরন নেছা (৭০) ও চৌহালীর ঘোরজান ইউনিয়নের কাউছার আলীর ছেলে মুস্তাকিম (১১ মাস)। উল্লাপাড়া ফায়ার সার্ভিসের ওয়ার হাউজ ইন্সপেক্টর দিয়ানাতুল দিনার জানান, রোববার বিকালে বৃদ্ধা অবিরন নেছা বাড়ি পাশে ডেফলবাড়ীর কোলঘেসে বয়ে যাওয়া ফুলজোড় নদীতে পাট ধোয়ার কাজ করতে যায়। সন্ধ্যা হলেও সে আর বাড়ি না ফিরলে পরিবারের লোকজন তাকে খোঁজাখুঁজি শুরু করে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌছে ১ ঘন্টা চেষ্টা করেও তাকে খুঁজে পায়নি। সোমবার ভোর ৫ টার দিকে বড়হর ইউনিয়নের ফুলজোড় নদীতে ভাসমান লাশ দেখে পরিবারের লোকজন উদ্ধার করে। ধারণা করা হচ্ছে, সাঁতার না জানা এই বৃদ্ধা বন্যার পানির স্রোতে পা পিঁছলে পানিতে ডুবে মারা যায়। অপরদিকে চৌহালী উপজেলা স্বাস্থ্য সহকারী রিনা খাতুন জানান, রোববার বিকেলে চৌহালীর বালিয়াকান্দি চরের শিশু মুস্তাকিম বাড়ির পাশের বন্যার পানিতে হামাগুড়ি দিয়ে পড়ে যায়। পরে রাতে তার লাশ ভেসে উঠলে স্থানীয়রা উদ্ধার করে। এ ঘটনা জানাজানি হলে এলাকা জুড়ে শোক ছড়িয়ে পড়ে।

বগুড়ায় মারপিটে আহত কৃষকের মৃত্যু

বগুড়ার সারিয়াকান্দিতে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে মারপিটে গুরুতর আহত কৃষক আবদুল মজিদ মণ্ডলের (৬০) মৃত্যু হয়েছে। রোববার রাতে হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা শেষে বাড়ি ফেরার পর তার মৃত্যু হয়। সোমবার সকালে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে মর্গে পাঠিয়েছে। নিহত আবদুল মজিদ মণ্ডল কামালপুর ইউনিয়নের পূর্ব সুতানারা গ্রামের মৃত সুজা মণ্ডলের ছেলে। স্থানীয়রা জানান, জমি বণ্টন নিয়ে মজিদের সঙ্গে চাচা আবদুর রহিমের বিরোধ চলছিল। মিমাংসার জন্য গত ১০ জুলাই সকালে পার্শ্ববর্তী নবীর উদ্দিনের বাড়িতে শালিস বৈঠক বসে। সেখানে মজিদ পক্ষ এলেও রহিম এবং তার লোকজন যাননি। ফলে বিরোধ নিষ্পত্তি হয়নি। সেখান থেকে বাড়ি ফেরার পথে মজিদের ওপর রহিম ও তার লোকজন হামলা চালায়।
এতে তিনি গুরুতর আহত হন। অচেতন অবস্থায় তাকে প্রথমে সারিয়াকান্দি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে ধুনট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে স্থানান্তর করা হয়। রোববার বিকালে কিছুটা সুস্থ হবার পর বাড়িতে নেয়া হলে রাতে মজিদ মারা যান। কামালপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হেদাইদুল ইসলাম জানান, বিষয়টি নিয়ে বেশ কয়েকবার বৈঠক করা হলেও সুরহা হয়নি। সারিয়াকান্দি থানার ওসি সিরাজুল ইসলাম জানান, এ ঘটনায় নিহতের বড় ছেলে বেলাল হোসেন মণ্ডল থানায় সাতজনের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। সোমবার সকালে লাশ উদ্ধার করে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

মাদারীপুরে দু'পক্ষের সংঘর্ষে নিহত ১

আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে মাদারীপুরের শিবচরে দু'পক্ষের সংঘর্ষে আইয়ুব আলী (৫০) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। এসময় আহত হয়েছেন আরো ১০ জন। সোমবার সকালে উপজেলার মাদবরের চর ইউনিয়নে নাসিরের মোড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত আইয়ুব আলী সাড়ে বিশরশি গ্রামের শহর আলী মাদবরের ছেলে। এদিকে এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে সাতজনকে আটক করেছে পুলিশ। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকালে উপজেলার মাদবরের চর ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের সাড়ে বিশরশি নাজিমউদ্দিন কান্দি গ্রামের মেম্বার ইলিয়াস মাদবর ও একই এলাকার আলতাফ মাদবরের মধ্যে গত ইউপি নির্বাচন থেকেই বিরোধ চলছিল। সেই বিরোধের জের ধরে সোমবার সকালে ইলিয়াস মাদবরের সমর্থক আইয়ুব আলী বাজার করতে গেলে পথে আলতাফ মাদবরের সমর্থকদের সঙ্গে তার কথা কাটাকাটি হয়। এর এক পর্যায়ে তারা অতর্কিত হামলা চালিয়ে আইয়ব আলীকে পিটিয়ে ও পা দিয়ে পাড়ায়ে হত্যা করে বলে নিহতের পরিবারের সদস্যরা অভিযোগ করেন। এ ঘটনায় আরও কমপক্ষে ১০ জন আহত হয়েছেন। তাদের ফরিদপুর মেডিকেল ও শিবচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লক্সে ভর্তি করা হয়েছে। শিবচর উপজেলা স্বাস্থ্য কপ্লক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক মোকাদ্দেস শাহীন জানান,  বেলা ১১টার দিকে আইয়ব আলী নামের এক রোগীকে শিবচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লক্সে আনা হয়। তবে হাসপাতালে আসার আগের তার মৃত্যু হয়েছে। নিহতের মাথার পিছনে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। এ ছাড়া ৭/৮জন রোগীকে এ স্বাস্থ্য কমপ্লক্সে ভর্তি করা হয়েছে। শিবচর থানা ওসি জাকির হোসেন মোল্লা জানান, এনিয়ে এলাকায় চরম উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে আলতাফ মাদবরসহ সাতজনকে আটক করা হয়েছে।

চট্টগ্রামে শিশু গৃহকর্মীর মৃত্যু, গৃহকর্ত্রী আটক

চট্টগ্রাম নগরীতে লিমা আক্তার (১২) নামের এক শিশু গৃহকর্মীর মৃত্যুর ঘটনায় তার গৃহকর্ত্রীকে আটক করেছে পুলিশ। আটক শাহেদা আক্তার (৩২) বায়েজিদ বোস্তামী থানার ডিওএইচএস এলাকার মো. বখতেয়ারের স্ত্রী। বায়েজিদ বোস্তামী থানার ওসি মোহাম্মদ মহসিন গণমাধ্যমকে জানান, গত দুই বছর ধরে কক্সবাজারের চকরিয়া এলাকার লিমা প্রবাসী বখতেয়ারের বাসায় কাজ করছে। সকালে ছাদ থেকে লিমা পড়ে যায় দাবি করে তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান গৃহকর্ত্রী শাহেদা। চমেক হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির এএসআই মো. আলাউদ্দিন জানান, সকালে হাসপাতালে আনার পর চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। তিনি বলেন, বিষয়টি আমাদের কাছে রহস্যজনক মনে হওয়ায় গৃহকর্ত্রী শাহেদাকে আটক করে থানায় সোপর্দ করা হয়। এদিকে গৃহকর্মীর মৃত্যুর ঘটনায় গৃহকর্ত্রী শাহেদাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে বলে জানান বায়েজিদ বোস্তামী থানার ওসি।

আইএমএফের ঋণ এখন গলার কাঁটা

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) ৯৬.৪০ কোটি মার্কিন ডলার ঋণ এখন দেশের মানুষের গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে। কারণ বিনাসুদের এ ঋণ নিতে সরকারকে আইএমএফের কাছে আর্থিক খাতের বিভিন্ন ক্ষেত্রে ১৬ শর্ত বাস্তবায়নের প্রতিশ্র“তি দিতে হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দেশের মানুষ এখন সেই প্রতিশ্র“তি রক্ষার খেসারত দিচ্ছে। যেসব শর্তের দায় সরাসরি জনগণের বোঝা বাড়ায় তেমন শর্ত বাস্তবায়নেই সরকারের তোড়জোড় চলছে। আবার দু’হাতে লুটপাটের পথ বন্ধ হওয়ার শংকায় ব্যাংকিং খাতে সুশাসনসহ অনেক শর্তের বাস্তবায়ন এখনও হচ্ছে না। অন্যদিকে পুঁজিবাজারসহ আরও কিছু খাতে বাস্তবায়িত কিছু শর্ত আর্থিক খাতে অকেজো হয়ে পড়েছে। কারণ সেসব সংস্কার পরিস্থিতি বদলাতে পারেনি। এতে জনজীবনে বিরূপ প্রভাব পড়ছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, আইএমএফের এই ঋণ শর্ত দেশের শিল্পবিরোধী পদক্ষেপ ছাড়া আর কিছু নয়। বিশেষ করে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধিসহ কর অবকাশ সুবিধা কর্তন করার শর্তগুলো সরাসরি শিল্পবিরোধী নীতি। আর্থিক নীতি, মুদ্রানীতি ও বিনিময় হার, আর্থিক খাত ও বিনিয়োগ খাত সংস্কারে আইএমএফের শর্তগুলো হচ্ছে বিদ্যুৎ ও জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি, বিভিন্ন খাতে ভর্তুকি হ্রাস, কর অবকাশ সুবিধা কমানো, বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) বাস্তবায়নের সক্ষমতা বৃদ্ধি, মূল্য সংযোজন কর আইন সংশোধন ও বাস্তবায়ন, ব্যাংক কোম্পানি আইন সংশোধন, রাষ্ট্র মালিকানাধীন ব্যাংকগুলোতে সুশাসন নিশ্চিত করা, রফতানিমুখী বিনিয়োগ এবং কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, পুঁজিবাজারে ব্যাংকগুলোর বিনিয়োগ হ্রাস, নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোকে নিয়ে একটি সমন্বিত তদারক কাউন্সিল গঠন, স্টক এক্সচেঞ্জ ডিমিউচুয়ালাইজেশন, সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনকে (এসইসি) শক্তিশালী করার পদক্ষেপ, সামাজিক ও উন্নয়ন খাতে ব্যয় বৃদ্ধি, ফিন্যান্সিয়াল রিপোর্টিং কাউন্সিল গঠন, আন্তর্জাতিক একটি নিরীক্ষা ফার্ম (অডিট ফার্ম) দিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের অডিট কার্যক্রম এবং সুদহার ও বৈদেশিক মুদ্রাবিনিময় হারসহ ব্যাংক ব্যবস্থায় সরকারের হস্তক্ষেপ বন্ধ প্রভৃতি। এসব শর্ত প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ যুগান্তরকে বলেন, যে সময়ে এ ঋণটা নেয়া হয়েছে, ওই সময় বিশ্বের অনেক দেশই তাদের আর্থিক খাত নিয়ে চাপে ছিল। সবাই কিন্তু এ ঋণ নেয়নি। তিনি দাবি করেন, বিনাসুদে হলেও আইএমএফের কাছ থেকে কঠিন শর্তযুক্ত এ ঋণ নেয়াটাই সরকারের ভুল সিদ্ধান্ত ছিল। এখন ঋণ যেহেতু নিয়েছে, শর্তের বাস্তবায়ন করতে তো হবেই। সেটা করতে হলে জনজীবনে ভোগান্তি আসবেই। অন্যদিকে আইএমএফের শর্তের বিষয়টি অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত সেই ২০১২ সালেই অস্বীকার করেছেন। তিনি তখন সচিবালয়ে সাংবাদিকদের বলেছিলেন, যেসব শর্তের কথা বলা হচ্ছে, সেসব শর্ত আইএমএফের নয়। বরং আমিই দেশের ভবিষ্যৎ উন্নতির কথা ভেবে আমাদের আর্থিক খাতে বেশ কিছু সংস্কার আনার প্রস্তাব আইএমএফকে জানিয়েছিলাম। সংশ্লিষ্টরা জানান, ২০১২ সালের ১৩ এপ্রিল এক্সটেনডেট ক্রেডিট ফ্যাসিলিটি (ইসিএফ) ঋণ নেয়ার পরপরই এ দাতা সংস্থার শর্ত পূরণে তোড়জোড় শুরু করে সরকার। এসব শর্তের ধরন ও বাস্তবায়ন অগ্রগতি পর্যালোচনা ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, রাষ্ট্র ঋণ নিলেও এর ব্যয়ভার সহজেই যাতে জনগণ থেকে তুলে আনা যায়Ñ এমন শর্ত বাস্তবায়নের দিকেই সরকার বেশি মনোযোগী। এর ধারাবাহিকতায় গত দুই বছরে জ্বালানি-বিদ্যুতের স্থানীয় দাম দফায় দফায় বাড়ানো হয়। এ কারণে উদ্যোক্তার উৎপাদন ব্যয় গড়ে ৮ ভাগ বেড়েছে। পরিবহন ব্যয় ও পণ্যমূল্যও প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। কমিয়ে আনা হয় স্থানীয় শিল্পের কর অবকাশ সুবিধা। এর ফলে মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) হিসাবে শূন্য দশমিক ৫ ভাগ অর্থ বা প্রায় সাত হাজার কোটি টাকার বাড়তি বোঝা জনজীবনে যোগ হয়েছে। ক্ষেত্রবিশেষে ভর্তুকিও কমানো হয়েছে। এতে সক্ষমতা হারিয়েছে অনেক উৎপাদনমুখী খাত। এছাড়া গত কয়েক বছর ধরে রাজস্ব আয় বাড়াতে এনবিআরের (জাতীয় রাজস্ব বোর্ড) নানামুখী আগ্রাসী তৎপরতা লক্ষ্য করা গেছে। এর প্রভাব সরাসরি পড়েছে করদাতার ওপর। শর্ত পালন করতে গিয়ে সরকার গত তিন বছর ধরেই ঢাকঢোল পিটিয়ে আসছে নতুন মূল্য সংযোজন কর (মূসক) আইন কার্যকর করার জন্য। কিন্তু শেষ পর্যন্ত বাস্তবায়নের বছরে এসে দেশের প্রকৃত বাস্তবতা বুঝতে পেরে এ আইন কার্যকর থেকে দু’বছর পিছু হটে সরকার। এ পরিস্থিতিতে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত দায় স্বীকার করে সম্প্রতি সংবাদমাধ্যমে বলেছেন, এখনই ভ্যাট আইন বাস্তবায়নের দিকে যাওয়া এনবিআরের ভুল সিদ্ধান্ত ছিল। এখানে আমার (অর্থমন্ত্রী) আরও বেশি মনোযোগী হওয়া উচিত ছিল। ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এফবিসিসিআই) সভাপতি সফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন যুগান্তরকে বলেন, সরকারের কাজ হচ্ছে দেশের স্বার্থ সংরক্ষণ করা। বিদেশি প্রতিষ্ঠান আইএমএফের শর্ত পূরণ করা নয়। ভ্যাট আইন বাস্তবায়ন প্রশ্নে সরকার দেশের বৃহৎ কল্যাণ, জনগণ ও ব্যবসায়ীদের স্বার্থে সঠিক কাজটিই করেছে। তবে আইএমএফের বেশ কিছু শর্ত দেশের ভবিষ্যৎ অর্থনীতির ভিত্তি মজবুত করার জন্য সহায়ক হলেও সরকারের দায়িত্বশীলরা তাতে খুব একটা গুরুত্ব দিচ্ছেন না। কারণ সেসব জনগুরুত্বপূর্ণ শর্তের বাস্তবায়ন করতে গেলে সুবিধাভোগীদের অনৈতিক কর্মকাণ্ড কমে যাবে এবং দু’হাতে অর্থ লোপাটের পথ বন্ধ হবে। ফলে রাষ্ট্র মালিকানাধীন ব্যাংকগুলোর সুশাসন নিশ্চিত করা, বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) বাস্তবায়নের সক্ষমতা বৃদ্ধি, সুদহার ও বৈদেশিক মুদ্রাবিনিময় হারসহ ব্যাংক ব্যবস্থায় সরকারের হস্তক্ষেপ বন্ধ, নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোকে নিয়ে একটি সমন্বিত তদারক কাউন্সিল গঠন, ব্যাংক কোম্পানি আইন সংস্কার এবং বাণিজ্য উদারীকরণ ও কর্মসংস্থান বাড়ানোর মতো শর্তগুলোর বাস্তবায়ন অগ্রগতি কম। বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) গবেষণা পরিচালক ড. খোন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম যুগান্তরকে বলেন, যখন বাংলাদেশ আইএমএফের ঋণ নিয়েছিল সেই সময় আর বর্তমানের প্রেক্ষাপট এক নয়। দেশের অর্থনীতিতে অনেক পরিবর্তন এসেছে। এখন বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ ৩৩ বিলিয়ন ডলার অতিক্রম করছে। ব্যাংক ও আর্থিক খাতে দেয়া আইএমএফের কিছু শর্ত বাস্তবায়ন দেশের জন্যই সহায়ক ছিল। কিন্তু সরকার সেটি পরিপূর্ণভাবে করতে পারলে আর্থিক ভিত্তি মজবুত হতো। অন্যদিকে যেসব শর্ত ইতিমধ্যে বাস্তবায়িত হয়েছে তার কিছু নেতিবাচক প্রভাব জনজীবনে পড়ছে। এ থেকে উত্তরণে তিনি মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কিভাবে বাড়ানো যায়, দ্রুত সেদিকে নজর দেয়ার পাশাপাশি অধিক হারে কর্মসংস্থান তৈরিরও পরামর্শ দেন। একই সঙ্গে ভ্যাট আইন কার্যকরের সময় এখনও হয়নি মন্তব্য করে তিনি সরকারের পিছু হটে আসাকে সঠিক সিদ্ধান্ত বলেই মনে করেন। প্রসঙ্গত, বাংলাদেশই প্রথম দেশ যারা ইসিএফ কর্মসূচির আওতায় এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় অঙ্কের ঋণ নিয়েছে। যদিও বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভে যোগ হওয়া এ ঋণের প্রকৃত অর্থের পরিমাণ মাত্র ৯৬.৪০ কোটি মার্কিন ডলার। অর্থাৎ এক বিলিয়নেরও কম। সেটাও আবার দেয়া হয়েছে ৭টি কিস্তিতে। অথচ দেশে এখন বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ পরিস্থিতি ৩৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার অতিক্রম করছে।

পাবিপ্রবিতে ছাত্রলীগের দু’গ্রুপের সংঘর্ষে আহত ১০

হলের সিট দখলকে কেন্দ্র করে পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (পাবিপ্রবি) ছাত্রলীগের দু’গ্রুপের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা-ধাওয়া এবং সংঘর্ষে ১০ জন আহত হয়েছেন। সোমবার বেলা ১১টা থেকে এই সংঘর্ষ শুরু হয়, চলে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত। পরে ক্যাম্পাসে র‌্যাব ও পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হলের সিট দখলকে কেন্দ্র করে রোববার রাত থেকেই ছাত্রলীগের সভাপতি শান্ত ও সাধারণ সম্পাদক অলিউল্লাহ বনাম সহ-সভাপতি আরাফাত, সাগর, আতিক নাসির এবং সাংগঠনিক সম্পাদক সিরাজ ও নাসির গ্রুপের মধ্যে উত্তেজনা চলছিল। এরই জের ধরে বেলা ১১টার দিকে ক্যাম্পাসে দু’গ্রুপ মুখোমুখি হয়।
পরে ধাওয়া পাল্টা- ধাওয়া এবং সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষ চলাকালে বেশ কিছু গাছ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এসময় চেয়ার টেবিল ও কাঁচ ভাঙচুর করা হয়। এতে পুরো ক্যাম্পাসে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। সাধারণ ছাত্র-ছাত্রীরা দিকবিদিক ছুটোছুটি করতে থাকে। সংঘর্ষের সময় ইট, খোয়া, লোহার রড এবং ধারালো অস্ত্র ব্যবহার করা হয়। খবর পেয়ে বেলা ১২টার দিকে পুলিশ ও র‌্যাব বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে অবস্থান নেয়। পরে সাড়ে ১২টার দিকে তারা ভেতরে প্রবেশ করলে পরিস্থিতি শান্ত হয়। কিন্ত দু’গ্রুপের মধ্যে চাপা উত্তেজনা এখনো চলছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর আওয়াল কবির জয় জানান, পরিস্থিতি এখন শান্ত রয়েছে।

যুগান্তর শাহজাদপুর প্রতিনিধিকে হত্যার চেষ্টা

বাঘাবাড়ী তেল ডিপো থেকে তেল চুরির ঘটনা ওপেন-সিক্রেট। বিষয়টি ওই অঞ্চলের মানুষের মুখে মুখে। আর তেল চুরির সংবাদ পরিবেশন করায় হামলার শিকার হয়েছেন যুগান্তর ও বিজয় টিভির শাহজাদপুর প্রতিনিধি মো. মুমীদুজ্জামান জাহান। শ্রমিক নামধারী একটি চক্র এই তেল চুরির সঙ্গে জড়িত। তারাই রোববার দুপুরে খোদ বাঘাবাড়ী অয়েল ডিপো অফিসে মুমীদুজ্জামানকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করে, হত্যার অপচেষ্টা চালায়। গুরুতর আহত জাহান বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। মুমীদ পেশাগত দায়িত্ব পালনে বাঘাবাড়ী তেল ডিপোতে যান। ওতপেতে থাকা তেলচোরের দল তাকে দেখে অতর্কিত হামলা চালায়। প্রাণ রক্ষার্থে তিনি দৌড়ে যমুনা অয়েল ডিপো অফিস কক্ষে ঢুকে পড়েন। সন্ত্রাসীরা সেখানে ঢুকেই তাকে বেধড়ক মারধর করে। গুরুতর আহত মুমীদ বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। শনিবার ‘বাঘাবাড়ী নৌবন্দর, ছয় লাখ লিটার অবৈধ ডিজেল কালোবাজারে বিক্রি’ শিরোনামে যুগান্তরের শেষ পৃষ্ঠায় খবর প্রকাশিত হয়। এর ‘ফলো আপ’ করতে রোববার দুপুর ১২টার দিকে মুমীদুজ্জামানসহ ৩ সাংবাদিক বাংলাদেশ পেট্রোরিয়াম কর্পোরেশনের (বিপিসি) বাঘাবাড়ী অয়েল ডিপোতে যান। অপর সাংবাদিকরা হলেন, কালের কণ্ঠের আতাউর রহমান পিন্টু ও সকালের খবরের আবদুল কুদ্দুস। নিরাপত্তা কর্মীদের সামনেই ডিপোর ভেতরে ট্যাংকলরি থেকে তেল চুরির ঘটনা তাদের দৃষ্টিগোচর হয়। শ্রমিক নামধারী একটি সংঘবদ্ধ চক্র এটা করছিল। মুমীদুজ্জামান এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধারণ করেন। এতে দুর্বৃত্তরা ক্ষিপ্ত হয়ে তার ওপর চড়াও হয়। তিনি দ্রুত যমুনা অয়েল ডিপো অফিসে ঢুকে আত্মরক্ষা করেন। এ সময় যমুনা অয়েল ডিপোর ম্যানেজার অফিসে না থাকায় মোবাইলে তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি তার অফিসে সাংবাদিকদের অপেক্ষা করতে বলেন। সাংবাদিকরা তখন সেখানে অপেক্ষা না করে বাঘাবাড়ী পোর্ট অফিসারের সাক্ষাৎকার গ্রহণ করতে চলে যান। দুপুর ২টার দিকে সেখান থেকে ফিরে আবারও তারা যমুনা অয়েল ডিপোতে যান। সেখানে ডিপোর নিরাপত্তাকর্মীরা তাদের ভেতরে ঢুকতে বাধা দেয়। বাধা পেরিয়ে ভেতরে যাওয়ার সময় ওই তেল দুর্বৃত্তরা মুমীদুজ্জামানের ওপর হামলা চালায়। তিনি প্রাণ বাঁচাতে দৌড়ে যমুনা অয়েল ডিপোর অফিস সহকারীর কক্ষে ঢুকে পড়েন। সন্ত্রাসীরা সেখানেই তার ওপর হামলা চালায়। তার মোবাইল ফোন ও ক্যামেরা ছিনিয়ে নেয়ার চেষ্টা করে। প্যান্টের পকেট থেকে টাকা ছিনিয়ে নেয়। এ সময় অফিস ও আশপাশের লোকজন এবং তার সহকর্মীরা তাকে উদ্ধার করে যমুনা অয়েল ডিপোর ম্যানেজার আবদুল মজিদের কক্ষে নিয়ে যান। শাহজাদপুর থানার ওসি খাজা গোলাম কিবরিয়াকে ফোনে ঘটনাটি জানিয়ে সাহায্য চাওয়া হলে বেশ কিছুক্ষণ পর এসআই কমল দেবনাথ একদল পুলিশ নিয়ে সেখান থেকে জাহানকে উদ্ধার করে বাড়ি পৌঁছে দেন। পরে গুরুতর আহত জাহানকে শাহজাদপুরের পোতাজিয়ার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়। বিষয়টি তাৎক্ষণিক বাঘাবাড়ীর উত্তরবঙ্গ ট্যাংকলরির সভাপতি শাহজাহান সিরাজকে জানানো হয়। সিরাজ এ ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করে বিষয়টি নিয়ে নিউজ ও মামলা না করার অনুরোধ জানান। এ ছাড়া দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দেন। এ ঘটনায় শাহজাদপুরে কর্মরত সাংবাদিকরা ক্ষোভে ফেটে পড়েন এবং এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান। এ ছাড়া তারা অবিলম্বে দোষীদের গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত শাহজাদপুর থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছিল। জানা যায়, সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার বাঘাবাড়ী নৌবন্দরের একটি ঘাট দিয়ে অবৈধভাবে ৬ লাখ লিটার ডিজেল উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন স্থানে পাচার করে কালোবাজারে বিক্রি করা হয়। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক তোলপাড় শুরু হয়। প্রতি লিটার ডিজেল ৬২ টাকা ৮১ পয়সা হিসেবে এর বাজারমূল্য ৩ কোটি ৭৬ লাখ ৮৬ হাজার টাকা বলে জানা যায়।

প্রয়োজনীয় খাদ্য মজুদ আছে : প্রধানমন্ত্রী

দেশে আরেকটি বন্যার ‘পদধ্বনি’ শোনা যাচ্ছে মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, এ জন্য প্রয়োজনীয় খাদ্য মজুদ রয়েছে। রোববার ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে ১৪২১ ও ১৪২২ বঙ্গাব্দের ‘বঙ্গবন্ধু জাতীয় কৃষি পুরস্কার’ বিতরণ অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমরা আরেকটা বন্যার পদধ্বনি শুনতে পাচ্ছি। আমাদের ভৌগোলিক অবস্থানটা এমন জায়গায়, প্রতিনিয়তই এ ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলা করে বাঁচতে হয়।’ টানা দুই সপ্তাহের ভারিবর্ষণ ও উজানের ঢলে ইতিমধ্যে দেশের ১৩ জেলার অন্তত ৫২ উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। এসব এলাকায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন প্রায় ৭ লাখ মানুষ। সারা দেশে সরকারি, বেসরকারি, মিল মালিক, কৃষক পর্যায় মিলিয়ে ছয় লাখ টন খাদ্য মজুদ রয়েছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘তারপরও সংকট এড়াতে খাদ্য আমদানি করা হচ্ছে। আমরা অতিরিক্ত খাদ্য আমদানি করে মজুদ ঠিক রাখছি যাতে আমাদের দেশের মানুষ কোনোভাবেই কষ্ট না পায়। বিভিন্ন দেশ থেকে আমরা নগদ টাকায় খাদ্য নিয়ে আসছি। পাশাপাশি খাদ্য আমদানির পর যে কর ছিল সেটাও কমিয়ে এনেছি।’ শেখ হাসিনা বলেন, তার সরকার উৎপাদন বৃদ্ধি করে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতের চেষ্টা করে যাচ্ছে। ১৯৯৬ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত আওয়ামী লীগের শাসনামলে খাদ্য উদ্বৃত্ত ছিল জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০০৯ সালে যখন তার দল আবার ক্ষমতায় আসে তখন দেশে খাদ্যের ঘাটতি ছিল। ২০০১-০৬ মেয়াদে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সময়ে খাদ্য উৎপাদন না বাড়াকে এর কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী জানান, ২০০৫-০৬ অর্থবছরে যেখানে খাদ্য উৎপাদনের পরিমাণ ২ কোটি ৮০ লাখ টন ছিল, ২০১৫-১৬ অর্থবছরে তা বেড়ে ৩ কোটি ৮৮ লাখ টন হয়।
আর এ বছর খাদ্য উৎপাদনের পরিমাণ ৪ কোটি টনের কাছাকাছি। শেখ হাসিনা বলেন, খাদ্য উৎপাদন বাড়ানোর জন্য সরকার সার, বীজ, কৃষি উপকরণসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে। এ ছাড়া গবেষণায় অর্থ বরাদ্দ বাড়িয়ে নতুন নতুন জাতের ফসল উদ্ভাবন এবং দুই ফসলি জমিকে চার ফসলিতে উন্নীত করাসহ বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। দেশে দুধ, মাছ, মাংস ও ফলের উৎপাদন বৃদ্ধি পাওয়ার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের মাটি এত উর্বর যে, কোনো একটা কিছুর উদ্যোগ নিলেই কিন্তু সেটা উৎপাদন করতে পারি। স্ট্রবেরি, ড্রাগন ফল, আঙুর, মাশরুম থেকে শুরু করে বিভিন্ন কিছু আমরা উৎপাদন করছি।’ মাঠপর্যায়ের কৃষিকাজ নিয়ে ছেলেমেয়েদের সম্যক ধারণা দিতে অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানান সরকারপ্রধান। তিনি বলেন, ‘ধান কাটা বা ধান লাগানোর মৌসুমে অবশ্যই শিক্ষার্থীদের গ্রামে সেই ধানক্ষেতের পাশে নিয়ে যাওয়া উচিত...। ছোটবেলা থেকেই তাদের বোঝানো উচিত, এই বাংলাদেশটা কীভাবে চলছে, খাদ্য কীভাবে আসছে।’ কৃষি খাতে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে এবার ১০ শ্রেণীতে পাঁচটি স্বর্ণ, নয়টি রৌপ্য এবং ১৮টি ব্রোঞ্জপদক দেয়া হয় বঙ্গবন্ধু জাতীয় কৃষি পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে। কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন পরিবেশ ও বনমন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু। কৃষি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মইনুদ্দিন আবদুল্লাহ অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন।

ভালোবেসে প্রাণ গেল কিশোরের

স্বপ্ন ছিল ভালোবাসার মানুষকে নিয়ে ঘর বাঁধার। তাই প্রেমিকাকে নিয়ে পালিয়েছিল কিশোর মহব্বত শিকদার (১৫)। কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে রাতে স্থানীয় যুবকদের হাতে ধরা পড়ে যায়। তাদের উদ্ধারের খরচ মেটানোর জন্য বসানো হয় সালিশ বৈঠক। সেখানে দু’ পরিবারকে অর্থদণ্ড করা হয়। জরিমানার টাকা দিয়ে রাতেই বাড়ি ফেরে প্রেমিকা। কিন্তু টাকা পরিশোধ করতে না পারায় মহব্বতকে ধরে নিয়ে যায় কয়েক যুবক। পরে ভোররাতে বাড়ির পাশের গাছে ঝুলন্ত লাশ পাওয়া যায়। স্থানীয়রা জানায়, নিহত মহব্বত শিকদার পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার উত্তর কাজীকান্দা গ্রামের বাদশা শিকদারের ছেলে। সে মৌডুবি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ৮ম শ্রেণীর ছাত্র। তার সঙ্গে সম্পর্ক হয় স্কুলের ৭ম শ্রেণীতে পড়–য়া এক ছাত্রীর। তাকে নিয়ে ঘর বাঁধার আশায় শুক্রবার গভীর রাতে বাড়ি থেকে পালায় মহব্বত। শনিবার রাত ৯টার দিকে পার্শ্ববর্তী তক্তাবুনিয়া গ্রাম থেকে তাদেরকে উদ্ধার হয়। রাতেই দু’জনকে নিয়ে সালিশ বৈঠক বসে দক্ষিণ কাজিকান্দা গ্রামের রাসেল হাওলাদারের বাড়িতে। সালিশে ছিলেন আওয়ামী লীগ নেতা জোবায়ের হাওলাদার, জুয়েল হাওলাদার, সানাউল কারিসহ ৮-১০ জন। সালিশে বলা হয়, দু’জনকে উদ্ধারে স্থানীয় যুবকরা বাইক (মোটরসাইকেল) নিয়ে ঘুরেছেন। তারা বাইকের তেল পুড়েছেন, নিজের টাকা খরচ করে তাদের খুঁজেছেন। তাদেরকে দুই পরিবারের পক্ষ থেকে খরচ দিতে হবে। সে অনুযায়ী ছেলের পরিবারকে ৫০ হাজার এবং মেয়ের পরিবার পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
টাকা দিয়ে কিশোরী রাতেই তার পরিবারের সঙ্গে ঘরে ফেরে। মহব্বতের দাদি আঞ্জুমানারা বেগম বলেন, জরিমানা না দিয়ে তিনি বহু অনুনয়বিনয় করে নাতিকে রাত ১২টার দিকে সালিশ থেকে ছাড়িয়ে নিয়ে আসেন। পরে রাত ৩টার দিকে ১০-১২ যুবক তার ঘরে ঢোকে। একপর্যায়ে তার মুখ চেপে নাতিকে অপহরণ করে নিয়ে যায়। ঘটনার পর তিনি চিৎকার দিলে স্থানীয়রা ছুটে আসে। অনেক খোঁজাখুঁজির পর ভোরে মহব্বতের লাশ পাওয়া যায় বাড়ির পাশের গাছের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায়। আঞ্জুমানার দাবি, তার নাতিকে হত্যা করা হয়েছে। মহব্বতের বাবা জানান, তিনি এ ঘটনায় মামলা করবেন। এদিকে সালিশদাররা জানান, ভালোবেসে কিশোর-কিশোরী ঘর ছেড়ে পালিয়েছিল। দুই পরিবার তাদের উদ্ধারে স্থানীয়দের সহযোগিতা চেয়েছিল। সে অনুযায়ী স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে পরিবারের জিম্মায় দিয়েছে। গাইয়াপাড়ার ব্যবসায়ী হাসান বাইক ভাড়া বাবদ ৫ হাজার টাকা দাবি করেছিল। মেয়ের পরিবার সে টাকা সালিশ বৈঠক শেষে দিয়েছে। তবে ছেলের পরিবারকে কোনো জরিমানা করা হয়নি। ওসি সামছুল আরেফীন বলেন, এক স্কুলছাত্রের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলে মৃত্যুর রহস্য জানা যাবে।

বিয়েতে রাজি না হওয়ায় খুন!

নিষিদ্ধ পেশায় ছিল আনিকা আক্তার (১৮)। আনিকার সঙ্গে বছরখানেক আগে পরিচয় হয় রমজানের (২২)। সবকিছু জেনেই আনিকার সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে জড়ায় রমজান। তাকে বিয়ে করবে বলে আশ্বাস দেয়। রমজানের আশ্বাসে পেশা পরিবর্তন করে সংসার করার স্বপ্ন দেখা শুরু করে আনিকা। সম্প্রতি কামরাঙ্গীরচরের একটি ফ্ল্যাটে আনিকার সঙ্গে রাত কাটাতে যায় রমজান। সেখানে তাকে বিয়ের জন্য চাপ দেয় আনিকা। কিন্তু তাৎক্ষণিকভাবে বিয়ে করতে রাজি হয়নি রমজান। বিষয়টি নিয়ে দু’জনের মধ্যে সেই রাতেই তুমুল ঝগড়া হয়। এর কয়েকদিন পর কেরানীগঞ্জ থেকে রমজানের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ঘটনা অনুসন্ধানে পুলিশ জানতে পারে, কলগার্ল আনিকাকে বিয়ে করতে রাজি না হওয়ায় রমজানকে হত্যা করা হয়েছে। এ হত্যার সঙ্গে আনিকা, সাথী, জাহিদুল ও জাফরসহ বেশ কয়েকজন জড়িত। তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা লালবাগ বিভাগের অতিরিক্ত উপকমিশনার নাজির আহমেদ খান যুগান্তরকে বলেন, ২৮ এপ্রিল থেকে নিখোঁজ ছিল রমজান। ১৩ মে এ ঘটনায় কামরাঙ্গীরচর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন রমজানের বাবা আয়নাল। পরে ১৬ জুন অপহরণের মামলা হয়। লাশ উদ্ধারের পর নিহতের বাবা বাদী হয়ে কেরানীগঞ্জ থানায় হত্যা মামলা করেন। এডিসি নাজির আহমেদ বলেন, ঘটনা তদন্তে নেমে তথ্যপ্রযুক্তির সাহায্যে দেখা যায়, ঘটনার দিন রাত ১২টার পর বেশ কয়েকবার রমজান ও আনিকার মধ্যে ফোনালাপ হয়েছে। ওই রাতে আনিকার রুম থেকে রমজানের লাশ সাথী, জাহিদুল, জাফর, রাশেদ ও আরমান একটি নোহা গাড়িতে করে বসিলা ব্রিজ এলাকায় ফেলে দেয়। এ ঘটনায় সাথী, রাশেদ ও আরমান আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছে। আদালতে দেয়া জবানবন্দি ও মামলার তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, রমজান কামরাঙ্গীরচরে উজ্জ্বল নামের এক ব্যক্তির ফার্নিচারের দোকানে কাজ করত। ঘটনার দিন রাতে রমজান তার বন্ধু সাগর ও মনিরকে নিয়ে মদপান করে। এরপর ইয়াবা সেবন করে। ইয়াবা সেবনের একপর্যায়ে আনিকাকে ফোন দিয়ে কামরাঙ্গীরচরের একটি ফ্ল্যাটে যায় রমজান। ওই ফ্ল্যাটটি ভাড়া নিয়েছিল সাথী নামের আরেক কলগার্ল। সেখানে সাথীর তত্ত্বাবধানে ৪-৫ জন মেয়ে অসামাজিক কার্যকলাপ চালাত। সাথী ছিল তাদের সর্দার। ঘটনার দিন রাতে সাথী ওই বাসায় ছিল। সাথীর দেয়া জবানবন্দি ও জিজ্ঞাসাবাদের বরাত দিয়ে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তারা জানান, রাত ১২টার পর ওই বাসায় যায় রমজান। সাথী তাদের এক রুমে রেখে পাশের রুমে ঘুমাচ্ছিল। রাতে একবার ওই রুম থেকে চিৎকার শুনতে পায় সাথী। সকালে আনিকা সাথীকে ডেকে তার রুমে নিয়ে যায়। গিয়ে সাথী দেখে আনিকার ওড়না গলায় পেঁচিয়ে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলছে রমজান। ঘটনাটি থানা পুলিশকে না জানিয়ে সাথী তার ভাই জাহিদুলকে জানায়। জাহিদুল একটি নোহা গাড়ির ব্যবস্থা করে। সাথী তার বন্ধু আরমান ও রাশেদকেও খবর দেয়। তারা বাসায় এসে ওড়না কেটে লাশ নিচে নামিয়ে আনে। লাশটি দড়ি দিয়ে বেঁধে প্যাকেট করে গাড়িতে তোলে। পরে রাশেদ, আরমান, সাথী ও গাড়ির চালক জাফর মিলে লাশটি বসিলা ব্রিজ পার হয়ে একটি জঙ্গলে ফেলে দেয়। সাথী, আরমান ও রাশেদ তাদের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে বলে, তারা রমজানকে আনিকার রুম থেকে ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার করে ফেলে দেয়। পুলিশ জানায়, আনিকার বয়স কম হলেও খুব চালাক মেয়ে।
এ হত্যার ঘটনা সে মুখে স্বীকার করেনি। গ্রেফতারের পর তাকে কাশিমপুর কারাগারে শিশু সেলে রাখা হয়েছে। তাকে পুনরায় পুলিশ হেফাজতে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। তদন্ত কর্মকর্তা কামরাঙ্গীরচর থানার এসআই মো. ফরিদ যুগান্তরকে বলেন, মামলার তদন্ত ও আসামিদের জবানবন্দিতে এটা নিশ্চিত হওয়া গেছে যে, এটি হত্যাকাণ্ড। আনিকাকে গ্রেফতারের সময় আমাদের কাছে তেমন তথ্য ছিল না। এখন এ ঘটনায় তিনজন আদালতে জবানবন্দি দিয়েছে। রমজানকে হত্যা করা হয়েছে, এমন অনেক তথ্য আমাদের কাছে রয়েছে। তাই আনিকাকে পুলিশ হেফাজতে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালতে আবেদন করা হয়েছে। আদালত জিজ্ঞাসাবাদের জন্য একদিনের সময় মঞ্জুর করেছেন। থানা সূত্রে জানা যায়, রমজানের বাবা আয়নাল খাঁর গ্রামের বাড়ি শরীয়তপুর জেলার জবশাহ থানার বুজেশ্বর গ্রামে। আর আনিকার মা রেহেনা। তিনি ইডেন কলেজে বুয়ার কাজ করেন। এ ঘটনার পর কলেজ কর্তৃপক্ষ রেহেনাকে চাকরিচ্যুত করেছে বলে জানায় পুলিশ। মামলার বাদী আয়নাল খাঁ যুগান্তরকে বলেন, ঘটনার এক সপ্তাহ আগে আনিকা বিয়ের জন্য তার বাসায় আমার ছেলে আটক করে। পরে তার কয়েকজন বন্ধু আশ্বাস দিয়ে তাকে ছাড়িয়ে নিয়ে আসে। বিষয়টি আমরা জানতাম না। আমরা জানলে এ ঘটনা ঘটত না। তিনি বলেন, ঘটনার দিন আমার ছেলেকে ডেকে বাসায় নিয়ে যায় আনিকা। ছেলেকে বিয়ের জন্য চাপ দেয়। বিয়ে করতে রাজি না হওয়ায় আনিকা ও তার কয়েকজন বন্ধু মিলে আমার ছেলেকে হত্যা করেছে। আমি জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।

লন্ডনে পৌঁছেছেন খালেদা জিয়া

যুক্তরাজ্যের লন্ডনে পৌঁছেছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। রোববার স্থানীয় সময় ৭টা ২০ মিনিটে (বাংলাদেশে দুপুর ১২টা ২০ মিনিট) তাকে বহনকারী এমিরেটস এয়ারলাইন্সের বিমানটি হিথরো বিমানবন্দরে পৌঁছে। বিমানবন্দরে তাকে অভ্যর্থনা জানান তার ছেলে বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান এবং তার স্ত্রী জোবাইদা রহমান। চেয়ারপারসনের মিডিয়া উইংয়ের সদস্য শায়রুল কবির খান ও শামসুদ্দিন দিদার যুগান্তরকে এ তথ্য জানান। এর আগে শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় এমিরেটস এয়ারলাইন্সের ইকে ৫৮৭ ফ্লাইটে হযরত শাহজালাল (রহ.) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে লন্ডনের উদ্দেশে রওনা হন খালেদা জিয়া। তার সঙ্গে ছিলেন বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য তাবিথ আওয়াল, খালেদা জিয়ার একান্ত সচিব আবদুস সাত্তার ও গৃহকর্মী ফাতেমা বেগম। সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে যাত্রা বিরতি শেষে রাত ১০টা ৩৫ মিনিটে বিমানটি লন্ডনের উদ্দেশে ছেড়ে যায়। চোখ ও পায়ের চিকিৎসা করাতে লন্ডনে গেছেন খালেদা জিয়া। বাংলাদেশ ও লন্ডন বিএনপি সূত্রে জানা গেছে, হিথরো বিমানবন্দরে তারেক রহমান ছাড়াও যুক্তরাজ্য শাখা বিএনপির সিনিয়র নেতারা অপেক্ষা করছিলেন। বিমানবন্দরে ছেলেকে (তারেক) দেখেই বুকে জড়িয়ে ধরেন এবং কান্নায় ভেঙে পড়েন খালেদা জিয়া। একপর্যায়ে জোবাইদাকেও কাছে টেনে নেন তিনি। এ সময় সেখানে আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। পরে আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে খালেদা জিয়াকে নিজ গাড়িতে করে কিংসটন এলাকার বাসায় নিয়ে যান তারেক রহমান। সামনের আসনে মাকে বসিয়ে তারেক নিজেই গাড়ি চালান। বাসায় যাওয়ার আগে টার্মিনালে প্রবাসী নেতাকর্মীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন বিএনপি চেয়ারপারসন।
চেয়ারপারসনের লন্ডন সফরকে কেন্দ্র করে স্থানীয় সময় ভোর থেকেই নেতাকর্মীরা হিথরো বিমানবন্দরে জড়ো হতে থাকেন। যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন রাজ্য ছাড়াও ইউরোপের কয়েকটি দেশ থেকে নেতাকর্মীরা সেখানে উপস্থিত হন। বিমানবন্দরে রাস্তার দুই পাশে তারা লাইন ধরে দাঁড়িয়ে চেয়ারপারসনকে অভিনন্দন জানান। গাড়ির ভেতর থেকে হাত তুলে অভিনন্দনের জবাব দেন খালেদা জিয়া। বিএনপির আন্তর্জাতিকবিষয়ক সম্পাদক মহিদুর রহমান, ব্যারিস্টার আবদুস সালাম, যুক্তরাজ্য শাখা বিএনপির সভাপতি এমএ মালেক, সাধারণ সম্পাদক কয়সর এম আহমেদ, যুক্তরাজ্য বিএনপি নেতা মজিবুর রহমান, আবদুল হামিদ চৌধুরী, শহিদুল ইসলাম মামুন, মিজবাউজ্জামান সোহেল, নাসিম আহমেদ চৌধুরী, খসরুজ্জামান খসরু প্রমুখ বিমানবন্দরে ছিলেন। লন্ডনের একটি সূত্র জানায়, বিমানবন্দর থেকে বাসায় যাওয়ার পর আবারও আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। ছোট ছেলে প্রয়াত আরাফাত রহমান কোকোর স্ত্রী শামিলা রহমান সিঁথি, তার দুই মেয়ে জাহিয়া রহমান ও জাফিয়া রহমান দীর্ঘদিন পর খালেদা জিয়াকে কাছে পেয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন। নিজেকে সামলে রাখতে পারেননি তারেক রহমান, জোবাইদা রহমান এবং তাদের মেয়ে জাইমা রহমানও। এ সময় খালেদা জিয়াও আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। নাতনিদের বুকে জড়িয়ে আদর করেন। খালেদা জিয়ার সফরকে কেন্দ্র করে বিএনপির সিনিয়র নেতারাও লন্ডনে যেতে শুরু করেছেন। এরই মধ্যে স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল আউয়াল মিন্টু লন্ডনে অবস্থান করছেন। ২০১৫ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর চিকিৎসার জন্য লন্ডনে গিয়েছিলেন বিএনপি চেয়ারপারসন। সেখানে বড় ছেলে তারেক রহমানসহ তার পরিবার এবং প্রয়াত ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকোর স্ত্রী ও মেয়েদের নিয়ে ঈদ উদযাপন করেন তিনি। এর আগে ২০১১ সালে যুক্তরাষ্ট্র ঘুরে দেশে ফেরার পথে বড় ছেলে তারেক রহমানকে দেখতে লন্ডনে গিয়েছিলেন খালেদা জিয়া।

ভিয়েতনামের চালের দ্বিতীয় চালান চট্টগ্রামে

ভিয়েতনাম থেকে আমদানি করা চালের দ্বিতীয় চালান চট্টগ্রাম বন্দরে এসে পৌঁছেছে। সোমবার সকালে ২৭ হাজার মেট্রিক টন চাল নিয়ে ভিয়েতনাম থেকে আসা জাহাজটি ‘এমভি প্যাক্স’ বন্দরের বহির্নোঙরে পৌঁছায় বলে জানান খাদ্য অধিদপ্তরের চলাচল ও সংরক্ষণ নিয়ন্ত্রক মো. জহিরুল ইসলাম। তিনি জানান, এর আগে বৃহস্পতিবার ২০ হাজার টন চাল নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরে আসে জাহাজ ‘ভিসাই ভিসিপি-জিরো ফাইভ’। আগামী ২২ জুলাই ভিয়েতনাম থেকে আরও একটি চালান দেশে আসবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
চালের দাম বৃদ্ধি এবং মজুদ কমে আসার প্রেক্ষিতে সরকার ভিয়েতনাম থেকে মোট আড়াই লাখ টন চাল আমদানির সিদ্ধান্ত নিয়েছে। দরপত্র ছাড়াই সরকারিভাবে এই চাল কেনার চুক্তি হয়। প্রতি মেট্রিক টন ৪৭০ মার্কিন ডলার দরে ৫০ হাজার মেট্রিক টন সিদ্ধ চাল কিনতে খরচ পড়ছে ১৯৫ কোটি ৫ লাখ টাকা। এছাড়া ৪৩০ মার্কিন ডলার দরে দুই লাখ মেট্রিক টন আতপ চাল আমদানিতে ৭১৩ কোটি ৮০ লাখ টাকা খরচ হচ্ছে। ফসলহানির কারণে বাজারে সরবরাহের ঘাটতি দেখা দেয়ায় চলতি বোরো মৌসুম শেষে চালের দাম ব্যাপকভাবে বেড়ে যায়। বিশেষ করে নিম্ন আয়ের মানুষের খাদ্য মোটা চালের দাম বাড়ে সবচেয়ে বেশি। গতবারের চেয়ে প্রায় ৩২ শতাংশ বেড়ে চালের দাম ৪৭ টাকা কেজি পর্যন্ত উঠে যায়। এই অবস্থায় গত ১৪ জুন ভিয়েতনাম থেকে সরকার পর্যায়ে চাল আনার সিদ্ধান্ত নেয় সরকার।

বাংলাদেশ ও শ্রীলংকার নতুন সম্পর্ক সম্ভাবনার দিগন্ত স্পষ্ট হয়েছে

বাংলাদেশে তিন দিনের রাষ্ট্রীয় সফর শেষে শনিবার ফিরে গেছেন শ্রীলংকার প্রেসিডেন্ট মাইথ্রিপালা সিরিসেনা। তার সফরকে ঘিরে বেশ আগ্রহ-উদ্দীপনা দেখা গেছে ঢাকায়। বিশেষ করে বিভিন্ন মিডিয়ার ইতিবাচক ও সরব খবর প্রকাশের পাশাপাশি সরকারি পর্যায়ে এ সফরকে বেশ গুরুত্ব দিতে দেখা গেছে। আমাদের রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ খোদ বিমানবন্দরে উপস্থিত হয়ে শ্রীলংকার প্রেসিডেন্টকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। এছাড়া প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে সরকারের উচ্চ পর্যায়ের মন্ত্রী-কর্মকর্তারা তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। বাণিজ্য-বিনিয়োগ বিষয়ক সেমিনারে উপস্থিত হয়েছেন সিরিসেনা। দ্বি-পাক্ষিক স্বার্থ ছাড়াও তার সফরে বন্ধুসুলভ যে কূটনৈতিক সৌজন্য দেখান হয়েছে তাকে আমি ইতিবাচকই বলব। কারণ শ্রীলংকা কেবল আমাদের নিকট প্রতিবেশীই নয়, এ অঞ্চলের পারস্পরিক যোগাযোগের যে সংগঠন সার্ক রয়েছে, তারও গুরুত্বপূর্ণ সদস্য দেশটি। সিরিসেনার এ সফরে ১৪টি চুক্তি ও সমঝোতা (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়েছে। এর মধ্যে সাসটেনটিভ বিবেচনায় সরকারি কর্মকর্তাদের বিনা ভিসায় শ্রীলংকা সফরের বিষয়টি ইতিবাচক শুভেচ্ছার নিদর্শন ধরে নেয়া যায়। এতে কাজের ক্ষেত্রে সহজে ও দ্রুততম সময়ে দ্বীপ দেশটিতে আমাদের কর্মকর্তারা আসা-যাওয়া করতে পারবেন। একই সুযোগ পাবেন শ্রীলংকার কর্মকর্তারাও। বিষয়টি পারস্পরিক সম্পর্কের গতি সঞ্চার করবে। এছাড়া ১৩টি এমওইউর মধ্যে শিক্ষা, বাণিজ্য ও প্রযুক্তিগত বিষয়গুলো নিয়ে বিস্তারিত না বললেও শ্রীলংকার প্রেসিডেন্টের সফরের মধ্য দিয়ে দুই দেশের সম্পর্ক কেবল রাজনৈতিক ক্ষেত্রে নয়, অন্যান্য ক্ষেত্রেও আরও শক্তিশালী হয়েছে। পারস্পরিক সমঝোতা-সম্পর্ককে টেকসই রূপ দেয়ার ক্ষেত্রে এটা ইতিবাচকই বার্তা বয়ে এনেছে। যার মধ্যে দুই-তিনটি বিষয় দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও গভীর করবে। উপকূলীয় জাহাজ চলাচল চুক্তি এখনই স্বাক্ষরিত না হলেও বিষয়টিতে যথেষ্ট অগ্রগতি হয়েছে। শ্রীলংকা চীনের সহায়তায় কলম্বো বন্দরের উন্নয়নের কাজ করছে। একে সিঙ্গাপুরের বিকল্প ট্রানজিট বন্দর হিসেবে আমরা ব্যবহার করার সুযোগ পাব। যদি কলম্বো বন্দর যথেষ্ট আধুনিক ও আর্থিকভাবে আকর্ষণীয় হয়, তবে আমদানি-রফতানির ক্ষেত্রে এটিকে বিকল্প হিসেবে ব্যবহারের নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে আমাদের জন্য । আরেকটা বিষয়, এ সফরে ভবিষ্যৎ অমিত সম্ভাবনার দ্বার নিয়ে হাজির হয়েছে আমাদের সামনে। সেটা হল এফটিএ বা মুক্তবাণিজ্য চুক্তির বিষয়টি। এখনই স্বাক্ষরিত না হলেও এ বছরের মধ্যেই এটি স্বাক্ষরিত হওয়ার বিষয়ে দুই দেশ একমত হয়েছে। বিভিন্ন দেশের সঙ্গে মুক্তবাণিজ্য চুক্তির ব্যাপারে বাংলাদেশ আশাবাদী হলেও এবং আলোচনা চালিয়ে গেলেও এখনও কোনো দেশের সঙ্গে এমন চুক্তি হয়নি। এক্ষেত্রে শ্রীলংকাই আমাদের আগ্রহী করছে। এতে দুই কারণে বাংলাদেশের অর্জনের সুযোগ তৈরি হয়েছে। এক. এখনও কারো সঙ্গে এমন চুক্তি আমাদের হয়নি। শ্রীলংকাই হতে যাচ্ছে এফটিএ বা মুক্তবাণিজ্যের চুক্তি স্বাক্ষরের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের প্রথম সঙ্গী। এর মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক ও মুক্তবাণিজ্যের নতুন কাঠামো আমাদের তৈরি হবে। দুই. শ্রীলংকা ভারতের সঙ্গে ১২ বছরের বেশি সময় ধরে মুক্তবাণিজ্য নিয়ে কাজ করছে। শ্রীলংকার সঙ্গে চুক্তির মধ্য দিয়ে এর সুবিধা-অসুবিধা আমরা বুঝতে পারব, যা আমাদের জন্য ইতিবাচক হবে। ভারতের সঙ্গে এ ধরনের চুক্তি ও বাণিজ্যের ক্ষেত্রে কী সুবিধা, কী অসুবিধা তা-ও আমরা জানতে পারব। ফলে নেপাল-ভুটানসহ অন্য আগ্রহী দেশগুলোর সঙ্গে ভবিষ্যতে এ ধরনের চুক্তির সম্ভাবনার দ্বার খুলে যাবে। এটি আমাদের দ্বিপাক্ষিক ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। একটি কথা, এক দশক ধরে আলোচনা চললেও এখনও আমরা কোনো পদক্ষেপ নেইনি মুক্তবাণিজ্যের। কিন্তু নতুন বিশ্বে নতুন কাঠামো আসবে, সেটা আমাদের ভাবতে হবে। মুক্তবাণিজ্যের সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো শিখতে হবে। শ্রীলংকার প্রেসিডেন্টের সফরের মধ্য দিয়ে কেবল চুক্তি নয়, আগামী দিনের বিশ্ববাণিজ্য কাঠামোতে যে পরিবর্তন আসবে সেটার সঙ্গে খাপ খাওয়াতে আমরা সাহস পাব ও অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ পাব। তৃতীয় বিষয়টি বাণিজ্যিক নয়, পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক। আমরা জানি স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতি পরিচালনা করে শ্রীলংকা। সাম্প্রতিক সময়ে ভারত এবং একই সঙ্গে চীনের সঙ্গেও রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও বিভিন্ন ক্ষেত্রে সম্পর্ক বজায় রেখে চলছে কলম্বো। এটা তারা কীভাবে করছে তা আমাদের জানা দরকার। কারণ আমরা এমন একটা জায়গায় আছি যেখানে ভারতের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক ও যোগাযোগ আছে। একই সঙ্গে আরেক পরাশক্তি চীনের সঙ্গে যোগাযোগ-নিরাপত্তা ইস্যুগুলোকে কাজে লাগানোর প্রয়োজন আছে। ভৌগোলিকভাবে বাংলাদেশ দুই দেশের (ভারত-চীন) উপস্থিতি কাজে লাগাতে পারে, যা শ্রীলংকার অভিজ্ঞতা থেকে আমরা শিখতে পারব। বাংলাদেশ-শ্রীলংকা পরস্পর এখান থেকে উপকৃত হতে পারে। ট্যুরিজম বা পর্যটনে শ্রীলংকা ভালো অবস্থানে রয়েছে। বাংলাদেশ ভারত ও চীনের পর্যটকদের টানতে পারে। কারণ দেশ দুটির সঙ্গে আমাদের জনগণ, রাষ্ট্রীয় ও রাজনৈতিক পর্যায়ে যোগাযোগ রয়েছে। এ সফরে আলোচনা না হলেও আমাদের পর্যটন খাতকে আকর্ষণীয় করে তুলতে হলে শ্রীলংকার অভিজ্ঞতা কাজে লাগানো যেতে পারে। সামগ্রিক বিবেচনায় বাংলাদেশ-শ্রীলংকার বিরাজমান সম্পর্ককে কাজে লাগাতে হলে দেশের অর্থনৈতিক, কূটনৈতিক সুযোগ ও সম্পর্ককে ভালোভাবে ব্যবহার করতে হবে। এভাবে অনেক ইতিবাচক সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হবে।
হুমায়ন কবীর : সাবেক কূটনীতিক

মেডিকেল ডিভাইস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি গুলিবিদ্ধ

দুর্বৃত্তদের ছোড়া গুলিতে গুরুতর আহত হয়েছেন বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আনোয়ার হোসেন (৫৫)। তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। সোমবার সকাল ৯টার দিকে রাজধানীর মগবাজার দিলু রোড এলাকায় গুলিবিদ্ধ হন তিনি। ঢামেক পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ উপপরিদর্শ (এসআই) বাচ্চু মিয়া বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। চিকিৎসকদের বরাত দিয়ে তিনি জানান, আহত আনোয়ার হোসেন ডান পাজরে গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। এসআই বাচ্চু মিয়া আনোয়ার হোসেনের স্বজনদের বরাত দিয়ে আরও জানান, সকালে ব্যক্তিগত গাড়ি নিয়ে বের হন তিনি। এ সময় মগবাজারের দিলু রোড এলাকায় দুর্বৃত্তরা তাকে লক্ষ্য করে তিন রাউন্ড গুলি ছোড়েন। তবে কে বা কারা এবং কেন আনোয়ার হোসেনকে গুলি করেছে তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ঢামেক পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ জানান, সংশ্লিষ্ট এলাকার থানাকে এ বিষয়ে অবহিত করা হয়েছে।

গেজেট প্রকাশে আবার এক সপ্তাহ সময় পেল রাষ্ট্রপক্ষ

নিম্ন আদালতের বিচারকদের চাকরি শৃঙ্খলাসংক্রান্ত বিধিমালা গেজেট আকারে প্রকাশে রাষ্ট্রপক্ষকে আবার এক সপ্তাহ সময় দিয়েছেন আপিল বিভাগ। সোমবার রাষ্ট্রপক্ষের করা সময় আবেদনের শুনানি নিয়ে প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ এ আদেশ দেন। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। এর আগে গতকাল রোববার বিচারকদের চাকরির শৃঙ্খলাসংক্রান্ত বিধিমালা গেজেট আকারে প্রকাশ করার জন্য সরকারকে দেয়া ২ সপ্তাহ সময় শেষ হয়। এদিনে সকালে এ সংক্রান্ত বিষয়ে আদেশের বিষয়ে ‘আজ নয় কাল’ বলে উঠে যান প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা। এসময় তার সঙ্গে আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চের বিচারপতিরাও নিজ কামরায় ফিরে যান। তখন এ বিষয়ে সোমবার শুনানি হবে বলে সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মুরাদ রেজা। আজ অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বিচারকদের চাকরি শৃঙ্খলাসংক্রান্ত বিধিমালা গেজেট আকারে প্রকাশের জন্য আরও দুই সপ্তাহ সময় চেয়ে আপিল বিভাগে আবেদন করেন। আবেদনের উপর শুনানি শেষে এক সপ্তাহ সময় মঞ্জুর করেন সর্বোচ্চ আদালত। নিম্ন আদালতের বিচারকদের চাকরির শৃঙ্খলাসংক্রান্ত বিধিমালা প্রকাশ না করায় আইন মন্ত্রণালয়ের দুই সচিবকে গত বছরের ১২ ডিসেম্বর তলব করেছিলেন আপিল বিভাগ। গত বছরের ৭ নভেম্বর বিচারকদের চাকরির শৃঙ্খলাসংক্রান্ত বিধিমালা ২৪ নভেম্বরের মধ্যে গেজেট আকারে প্রকাশ করতে সরকারকে নির্দেশ দিয়েছিলেন আপিল বিভাগ। এরপর থেকে বিচারকদের চাকরির শৃঙ্খলাসংক্রান্ত বিধিমালা গেজেট আকারে প্রকাশ করতে এ পর্যন্ত কয়েক দফা সময় নিলো রাষ্ট্রপক্ষ। ১৯৯৯ সালের ২ ডিসেম্বর মাসদার হোসেন মামলায় ১২ দফা নির্দেশনা দিয়ে রায় দেয়া হয়। ওই রায়ের আলোকে নিম্ন আদালতের বিচারকদের চাকরির শৃঙ্খলাসংক্রান্ত বিধিমালা প্রকাশের নির্দেশনা দেয়া হয়েছিল।

৭০ জঙ্গি-সহযোগী নিয়ে মাহফুজ সক্রিয় হন ভারতে

২০ জন প্রশিক্ষিত জঙ্গি ও ৫০ সহযোগী নিয়ে পশ্চিমবঙ্গে নব্য জেএমবির কার্যক্রম শুরু করেছিলেন হলি আর্টিজান হামলার অন্যতম পরিকল্পনাকারী সোহেল মাহফুজ ওরফে হাতকাটা সোহেল। জিজ্ঞাসাবাদে জেএমবির সর্বকনিষ্ঠ শূরা সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী সোহেল এসব কথা অবলীলায় স্বীকার করেছেন। তবে হাতকাটার পর সংগঠনে তার গুরুত্ব কমে যাওয়ার বিষয়টিও বলেছেন সোহেল মাহফুজ। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে ধরা পড়ার ভয়ে ২০০৪ সালে পশ্চিমবঙ্গের শীর্ষ জঙ্গি বিল্লালের হাত ধরে তিনি ভারতে পাড়ি জমান। সেখানে দীর্ঘ সময় ধরে তৎপর ছিলেন তিনি। কিন্তু তাকে পশ্চিমবঙ্গের আমীর না করে দায়িত্ব দেয়া হয় সবুজ নামের আরেকজনকে। এতে তিনি কিছুটা হতাশ হন এবং ২০১৫ সালে দেশে ফিরে নাম লেখান নব্য জেএমবিতে। জিজ্ঞাসাবাদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিটের সদস্যদের (সিটিটিসি) সঙ্গে আলাপে এসব তথ্য পাওয়া যায়। স্পেশাল টাস্কফোর্স অব কলকাতা পুলিশও (এসটিএফ) তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে। বর্ধমান হামলাসহ ভারতে জঙ্গি তৎপরতায় তার সম্পৃক্ততা নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করছেন এসটিএফ সদস্যরা। তিন সদস্যের এ ভারতীয় গোয়েন্দা টিমটি শনিবার ও রোববার কয়েক ঘণ্টা ধরে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে। তারা শুধু বাংলাদেশি জঙ্গিদের ভারত কানেকশন নয়, সোহেল মাহফুজ কিভাবে, কার হাত ধরে, কেন জঙ্গিবাদে জড়ালেন- এসব বিষয়ে বিস্তারিত জানার চেষ্টা করছেন। আজ সোমবার ভারতের আরও একটি টিমের বাংলাদেশে আসার কথা জানিয়েছে পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদে উপস্থিত সিটিটিসির একাধিক কর্মকর্তা যুগান্তরকে বলেন, সোহেল নিজ থেকে কোনো তথ্য আমাদের দিচ্ছেন না।
আমরা জানতে চাইলেই কেবল তিনি উত্তর দিচ্ছেন। এসটিএফের জিজ্ঞাসাবাদে সোহেল মাহফুজ জানিয়েছেন, তিনি জেএমবির সর্বকনিষ্ঠ শূরা সদস্য ছিলেন। ২০০৮ সাল থেকেই তার সঙ্গে পরিবারের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। বাংলা ভাই যখন রাজশাহী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জে জঙ্গি কার্যক্রম শুরু করেন, তখনই মাহফুজ জেএমবিতে সক্রিয় হয়ে উঠেন। বাংলা ভাইকে মোটরসাইকেলের পেছনে বসিয়ে তিনি ঘোরাফেরা করতেন। তাকে নিয়ে বহু অপারেশনেও যান বাংলা ভাই। সংগঠনের অনেক কিছুই মাহফুজের জানা। ২০০৪ সালেই ভারতে জেএমবির শাখা গড়ে তোলার বিষয়টি মাথায় আসে তৎকালীন শীর্ষ জঙ্গি শায়খ আবদুর রহমানের। জঙ্গি মাহফুজ বলেছেন, ২০০৪ সালের প্রথমদিকে ভারতের মুর্শিদাবাদ থেকে বিল্লাল নামের এক সদস্য বাংলাদেশে আসেন। শীর্ষ নেতাদের সিদ্ধান্তে বিল্লালের সঙ্গে মাহফুজকে ভারতে পাঠানো হয়। সিটিটিসির এক অতিরিক্তি উপ-কমিশনার যুগান্তরকে বলেন, রিমান্ডে সিটিটিসির পাশাপাশি এসটিএফের সদস্যরাও তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন। জিজ্ঞাসাবাদে বর্ধমান হামলা ও পশ্চিমবঙ্গে নব্য জেএমবির নেটওয়ার্ক নিয়ে অনেক তথ্য দিয়েছেন মাহফুজ। তিনি বলেন, তাকে নুতন করে রিমান্ডে আনা হবে। পুলিশ সদর দফতরের এআইজি মিডিয়া সোহেলী ফেরদৌসি যুগান্তরকে বলেন, জঙ্গি সোহেল মাহফুজকে জিজ্ঞাসাবাদে ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা এনআইয়ের একটি টিমেরও সোমবার বাংলাদেশে আসার কথা রয়েছে।

শেখ হাসিনার কুশপুত্তলিকা পোড়ানোয় মমতার ক্ষোভ

সম্প্রতি কলকাতায় বিশ্ব হিন্দু পরিষদ বিক্ষোভ করে শেখ হাসিনার কুশপুত্তলিকা পুড়িয়েছে বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে আনন্দবাজার পত্রিকা। কুশপুত্তলিকা পোড়ানোর ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজকে শনিবার চিঠি দিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। তিনি বলেন, বিশ্ব হিন্দু পরিষদ যেভাবে সেদিন বিক্ষোভ করে, তা ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ককে মোটেই মজবুত করবে না। কেন্দ্র যদি সত্যিই ঢাকাকে পাশে পেতে চায়, তা হলে সংঘ পরিবারের এহেন জঙ্গিপনা বন্ধ করার ব্যবস্থা করুক। চিঠিতে তিনি বিশ্ব হিন্দু পরিষদের আচরণ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। ১ জুলাই কলকাতার পার্ক সার্কাসে বাংলাদেশ উপ-দূতাবাসের সামনে বিক্ষোভ দেখাতে গিয়েছিল বিশ্ব হিন্দু পরিষদকর্মীরা। বাংলাদেশের সংখ্যালঘুদের ওপর আক্রমণের বিহিত চেয়েই সেদিন বিক্ষোভ হয় বলে পরিষদ দাবি করেছে। তাদের বক্তব্য, শেখ হাসিনা ভারতবাসীর পছন্দের নেত্রী। কিন্তু যেভাবে তার আমলেও বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রান্তে সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা হচ্ছে তা নিন্দনীয়।
বাংলাদেশ সরকার যাতে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে সেই দাবিতেই বিক্ষোভ হয়েছিল। বিশ্ব হিন্দু পরিষদের মুখপাত্র সৌরীশ মুখোপাধ্যায় জানান, এ বিক্ষোভে ঢাকার সঙ্গে সম্পর্ক খারাপ হবে বলে তারা মনে করেন না। আনন্দবাজারের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, মমতা প্রশাসন অবশ্য মনে করে, কোনো বন্ধু দেশের প্রধানমন্ত্রীর কুশপুত্তলিকা পোড়ানো মোটেই ভালো কাজ নয়। যখন একদিকে চীন এবং অন্যদিকে পাকিস্তান ভারতকে বিব্রত করছে, তখন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে এমন আচরণ মানা যায় না। অতীতে অবশ্য তিস্তার জল বণ্টনের প্রশ্নে পশ্চিমবঙ্গে স্বার্থকেই প্রাধান্য দিয়েছেন মমতা। তিনি বাংলাদেশকে জল দিতে রাজি হননি। যদিও মমতা বরাবরই জানিয়েছেন, হাসিনার সঙ্গে ব্যক্তিগত সম্পর্ক তার কোনো দিনই খারাপ নয়। পাশাপাশি রাজ্যের স্বার্থও তিনি ক্ষুণœ হতে দেবেন না। সেই কারণেই বিদেশমন্ত্রীকে চিঠি লিখে বিশ্ব হিন্দু পরিষদের বিরুদ্ধে অভিযোগ জানিয়েছেন মমতা ব্যানার্জি।

পানি কমছে ছড়িয়ে পড়ছে রোগবালাই

দেশের উত্তর ও মধ্যাঞ্চলের কয়েকটি জেলায় বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে। তবে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের দুর্ভোগ এখনও কমেনি। তাদের ঘরে খাবার নেই। হাতে নেই কাজ। বিশুদ্ধ পানির সংকট। তার ওপর পানি কমার সঙ্গে সঙ্গে দেখা দিয়েছে নানা রোগবালাই। সরাকারি-বেসরকারিভাবে ত্রাণ দেয়া হলেও তা পর্যাপ্ত নয়। অনেকের বাড়িঘর এখনও পানির নিচে। বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধে খোলা আকাশের নিচে দিন কাটছে তাদের। রোববার জামালপুরের ইসলামপুরে বন্যার পানিতে ডুবে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। দেওয়ানগঞ্জে ওয়াপদা বাঁধ ভেঙে কয়েকটি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। মাদারীপুরে অস্বাভাবিকভাবে বাড়ছে পদ্মার পানি। গাইবান্ধায় ত্রাণমন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বলেছেন, দুর্যোগ মোকাবেলায় বন্যার্তদের জন্য পর্যাপ্ত ত্রাণসামগ্রী মজুদ রয়েছে। যুগান্তর ব্যুরো ও প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর-
বড়লেখা (মৌলভীবাজার) : হাকালুকি হাওরপাড়ের বড়লেখায় বন্যা পরিস্থিতির ফের অবনতি হয়েছে। উপজেলার সুজানগর ও তালিমপুর ইউনিয়নে ডায়রিয়া, নিউমোনিয়া ও চর্মরোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। তিন দিনে প্রায় ৪৫০ জন ডায়রিয়া, নিউমোনিয়া ও চর্মরোগী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র, ইউনিয়ন পরিবারকল্যাণ কেন্দ্র ও কমিউনিটি ক্লিনিকে চিকিৎসা নিয়েছেন। বন্যা দুর্গতদের জন্য মেডিকেল টিম গঠন ছাড়া জরুরি চিকিৎসাসেবায় এখনও বিশেষ কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। চিকিৎসক সংকট নিরসনে অন্য উপজেলা থেকে ডেপুটেশনে ডাক্তার নিয়োগের দাবি করছেন ভুক্তভোগীরা।
জামালাপুর, দেওয়ানগঞ্জ ও ইসলামপুর : ইসলামপুরে রোববার কিংজাল্লা গ্রামের হাসান আলীর ছেলে সপ্তম শ্রেণীর ছাত্র আরাফাত (১৩) পানিতে পড়ে মারা গেছে। এদিকে নদীর পানি কমলেও দেওয়ানগঞ্জের বানভাসি মানুষের মাঝে দুর্ভোগ দেখা দিয়েছে। তাদের হাতে-পায়ে ঘা, চুলকানিসহ নানা রোগ দেখা দিয়েছে। রোববার দুপুরে চুকাইবাড়ী ইউনিয়নের বীর হলকা উচ্চ বিদ্যালয় ঘুরে দেখা যায়, ২৫টি পরিবার আশ্রয় নিয়েছে। মধ্য বয়সী নারী মোমেনা কাবেদাসহ বেশ কয়েকজন জানান, বানের পানি কমতে থাকায় পানি পচে গন্ধ হয়ে গেছে। তাদের হাত-পায়ে ঘা হয়েশরীর চুলকায় মাথাব্যথার কারণে ঘুম হয় না। এদিকে শনিবার মধ্যরাতে চরকালিকাপুর গোবিন্দনগর ওয়াপদা বাঁধ ভেঙে কয়েকটি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে।
সিলেট ও জকিগঞ্জ : জকিগঞ্জ উপজেলা ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমান জানান, বন্যায় উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের ৭৮টি গ্রামের প্রায় ১০ হাজার মানুষ দুর্ভোগের মধ্যে রয়েছেন। ১৩টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। নষ্ট হয়েছে ৮৭ হেক্টর আমন জমির বীজ। রোববার খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা খন্দকার আবদুল মোক্তাদিরের পক্ষ থেকে খাদিমগর ইউনিয়নের টুকেরগাঁও গনকিরটুক সাতগাছি গ্রামের দুর্গত মানুষের মাঝে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করা হয়। এ সময় বক্তব্য রাখেন সদর উপজেলার সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান আবুল কাশেম, খাদিমনগর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ইলিয়াছ আলী মেম্বার প্রমুখ।
শিবচর (মাদারীপুর) : পদ্মা নদীর মাদারীপুর অংশে অস্বাভাবিকভাবে পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। এতে জেলার শিবচর উপজেলার প্রত্যন্ত চরাঞ্চলের ৪ ইউনিয়নের কয়েক হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। অনেকের ঘরেই পানি ঢুকে পড়েছে। পানির তোড়ে ও তীব্র সে াতে চরাঞ্চলের কাঁঠালবাড়ি ও চরজানাজাত ইউনিয়নের অর্ধশতাধিক ঘরবাড়ি নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ভাঙন ঝুঁকিতে রয়েছে বেশ কয়েকটি বিদ্যালয়, মাদ্রাসা, মসজিদসহ কয়েক হাজার পরিবার। নদীভাঙন মারাত্মক আকার ধারণ করায় আক্রান্তরা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।
সিরাজগঞ্জ : চৌহালী উপজেলার যমুনার দুর্গম চরে ১৩’শ বানভাসির মাঝে ত্রাণের চাল বিতরণ করা হয়েছে। রোববার সদিয়া চাঁদপুর ইউনিয়নের বোয়ালকান্দি, বারবয়লা, মহেশপুর, মাঝগ্রাম, বেতিলচর, চাঁদপুর ও চৌহালী চরের ৮০০ পানিবন্দি এবং স্থল ইউনিয়নের স্থলচর, মিস্ত্রিগাতী ও চালুহাড়াচরের ৫০০ বন্যার্তের মাঝে ১০ কেজি করে চাল বিতরণ করা হয়। এ সময় উপজেলা চেয়ারম্যান মেজর (অব.) আবদুল্লাহ আল মামুন, নির্বাহী কর্মকর্তা সাদেকুর রহমান, স্থল ইউপি চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
গাইবান্ধা : ত্রাণমন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বলেছেন, দুর্যোগ মোকাবেলায় সরকারের সব ধরনের প্রস্তুতি রয়েছে। বন্যার্তদের জন্য পর্যাপ্ত ত্রাণসামগ্রী মজুদ রয়েছে। সুতরাং ত্রাণ বিতরণে কোনো ধরনের অনিয়ম বরদাস্ত করা হবে না। রোববার জেলার বন্যাদুর্গত এলাকা পরিদর্শন ও ত্রাণ তৎপরতা পর্যবেক্ষণ করতে এসে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির বিশেষ সভায় তিনি এসব কথা বলেন। সভা শেষে মন্ত্রী ফুলছড়ি উপজেলার বিভিন্ন বন্যাকবলিত এলাকা পরিদর্শন করেন। তিনি উড়িয়া ইউনিয়নের কাবিলপুরে ত্রাণ বিতরণের আগে এক সমাবেশে বক্তব্য রাখেন।
মাদারগঞ্জ (জামালপুর) : মাদারগঞ্জে বন্যা পরিস্থিতির সামান্য উন্নতি হয়েছে। তবে এখনও পৌর সভাসহ ৭ ইউনিয়নের অন্তত ২০ হাজার মানুষ পানিবন্দি। কৃষি অফিস সূত্র জানায়, বন্যায় ৩৫০ হেক্টর জমির পাট, ১৫ হেক্টর বীজতলা, ৭৪ হেক্টর আউস ও ৭৪ হেক্টর সবজি তলিয়ে গেছে। বন্ধ রয়েছে শতাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান।

খুলনায় 'বন্দুকযুদ্ধে' ২ যুবক নিহত

খুলনার সদর উপজেলায় পুলিশের সঙ্গে 'বন্দুকযুদ্ধে' বাবু ওরফে গুড্ডু বাবু (৩৫) ও এমডি আল মাহমুদ (২৪) নামে দুই যুবক নিহত হয়েছেন। পুলিশের দাবি, নিহত দুই যুবক সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত। তাদের বিরুদ্ধে হত্যাসহ একাধিক মামলা রয়েছে। রোববার মধ্যরাতে মহানগরীর রেলওয়ে এলাকায় প্রভাতী স্কুলের পাশে কবরস্থান সড়কে এ 'বন্দুকযুদ্ধের' ঘটনা ঘটে। এদিকে ঘটনাস্থল থেকে একটি পাইপগান, তিন রাউন্ড গলি  একটি ছোড়া, দুইটি রাম-দাসহ দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে।
খুলনা মহানগর পুলিশের মুখপাত্র এডিসি মনিরা সুলতানা জানান, রাতে ওই এলাকায় অস্ত্র হাতে কয়েকজন সন্ত্রাসী অবস্থান করছে এমন তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ সেখানে অভিযানে যায়। এসময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে সন্ত্রাসীরা তাদের লক্ষ্য করে গুলি ছুঁড়ে। এসময় পুলিশও পাল্টা গুলি চালায়। পরে অন্য সন্ত্রাসীরা পালিয়ে গেলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বাবু ও মাহমুদকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে দায়িত্বরত চিকিৎসকা তাদের মৃত ঘোষণা করেন। এডিসি মনিরা সুলতানা বলেন, নিহতদের বিভিন্ন থানায় বিরুদ্ধে হত্যাসহ একাধিক মামলা রয়েছে। লাশ  উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতাল মর্গে রাখা হয়েছে।