Wednesday, March 15, 2017

ভারতের রাষ্ট্রপতি হচ্ছেন আদভানি!

কংগ্রেসের দেখানো পথেই ভারতের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি ঠিক করতে চলেছে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। ২০১২ সালে দলের প্রবীণ নেতা প্রণব মুখার্জিকে রাষ্ট্রপতির আসনে বসিয়েছিল কংগ্রেস। এবার সেই পথে হেঁটেই বিজেপির লৌহপুরুষ হিসেবে পরিচিতি লালকৃষ্ণ আদভানিকে রাষ্ট্রপতি করার কথা ভাবছে বিজেপি। মঙ্গলবার এই খবর প্রকাশ করেছে জি নিউজ।
সেই প্রতিবেদন অনুসারে রাষ্ট্রপতি পদের জন্য লাল কৃষ্ণ আদভানির নাম প্রস্তাব করেছেন স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। আদভানিকে রাষ্ট্রপতি করলে তাকে গুরু দক্ষিণা দেয়া হবে বলে মন্তব্য করেছেন মোদি। সম্প্রতি গুজরাতের সোমনাথে এক দলীয় বৈঠকে এই আলোচনা হয়েছে বলে দাবি করেছে জি নিউজ। সেই বৈঠকে নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে অমিত শাহ, কেশুভাই প্যাটেলসহ উপস্থিত ছিলেন স্বয়ং লাল কৃষ্ণ আদভানি। যদিও রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের বিষয়ে বিজেপির কোনো নেতা প্রকাশ্যে কিছু বলেননি। চলতি বছরের জুলাই মাসে হবে ভারতের রাষ্ট্রপতি নির্বাচন।

ট্রাম্পের আয়কর নথি ফাঁস

একজন ব্যক্তি কতটা অর্থ-বিত্তের মালিক তার একটি ধারণা পাওয়া যায় সে ব্যক্তি কত টাকা আয়কর দিয়েছেন সেটি দেখলে। অবশ্য কর ফাঁকি দিলে সেটি ভিন্ন কথা। পৃথিবীর সব দেশেই যার আয় বেশি তাকে আয়করও দিতে হয় বেশি। তবে আয়করের বিস্তারিত বিবরণী গোপন রাখতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন অনেকে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও সে কাজটিই করেছেন। কিন্তু আমেরিকার একটি টেলিভিশন নেটওয়ার্ক ট্রাম্পের আয়কর নথি ফাঁস করে দিয়েছে। তবে সে আয়কর নথি বেশ পুরনো। টেলিভিশনের রিপোর্টে বলা হয়েছে, ট্রাম্প ২০০৫ সালে ৩৮ মিলিয়ন ডলার আয়কর দিয়েছেন। সে বছর তিনি তার আয়কর বিবরণীতে আয়ের পরিমাণ দেখিয়েছেন ১৫০ মিলিয়ন ডলারের বেশি। নথিতে দেখা যাচ্ছে, ট্রাম্প যে পরিমাণ আয়কর দিয়েছেন সেটি তার মোট উপার্জনের ২৪ শতাংশ। সাধারণত আমেরিকানরা গড়ে যে পরিমাণ আয়কর দেন এটি তার চেয়ে বেশি। তবে আমেরিকার উচ্চ আয়ের লোকজন গড়ে ২৭.৪ শতাংশ আয়কর দেন। কিন্তু ট্রাম্পের দেয়া আয়কর সেটির তুলনায় কম। মার্কিন একটি টিভি নেটওয়ার্ক এমএসএনবিসি ট্রাম্পের আয়কর বিবরণী থেকে দুই পাতা ফাঁস করেছে। এর ফলে বেশ স্বাভাবিকভাবেই ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে মার্কিন প্রেসিডেন্টের দফতর হোয়াইট হাউজ। কারণ নির্বাচনী প্রচারণার সময় ট্রাম্প তার আয়কর বিবরণী প্রকাশ করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিলেন। মার্কিন নির্বাচনে যারা প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হয়, তারা সবসময় তাদের আয়কর বিবরণী প্রকাশ করেন। ১৯৭৬ সাল থেকে প্রেসিডেন্ট পদ-প্রার্থিরা এ রীতি পালন করছেন।
যদিও আইন অনুযায়ী আয়কর প্রকাশের কোন বাধ্যবাধকতা নেই। এটা সে দেশের রীতি। কিন্তু ট্রাম্প সে রীতি ভঙ্গ করেছিলেন। সংবাদদাতারা জানাচ্ছেন, ট্রাম্পের আয়কর নথির দুই পাতা ফাঁস হবার বিষয়টি বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ ট্রাম্পের আয় সম্পর্কে এতদিন খুব কমই জানা গেছে। আয়কর নথি ফাঁস হওয়ার ফলে সম্পদের বিবরণ প্রকাশের জন্য ট্রাম্পের উপর চাপ বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আমেরিকার আইন অনুযায়ী কোন ব্যক্তির ফেডারেল আয়কর বিবরণী ফাঁস করা একটি অপরাধ। কিন্তু যে টেলিভিশন নেটওয়ার্ক এ কাজ করেছে তারা বলছে জনস্বার্থে তারা এটি প্রকাশ করেছে। যে সাংবাদিক এ কাজ করেছেন তিনি বলেছেন, তিনি একটি অজ্ঞাত সূত্র থেকে খামে ভরা ট্রাম্পের দুই পাতার আয়কর বিবরণী পেয়েছেন। হোয়াইট হাউজ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, টেলিভিশন চ্যানেলটি নিজেদের খবরের প্রতি মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে বেপরোয়া হয়ে গেছে। ননিজেদের খবরের কাটতি বাড়াতে টেলিভিশন চ্যানেলটি আইনের তোয়াক্কা করছেন না বলেও হোয়াইট হাউজ মন্তব্য করেছে। সেজন্য তারা এক দশক পুরনো আয়কর বিবরণীর দুই পাতা প্রকাশ করেছে বলে উল্লেখ করে হোয়াইট হাউজ।
সূত্র : বিবিসি

মেক্সিকোতে গণকবরে আড়াই শ' মাথার খুলি

মেক্সিকোর পূর্বাঞ্চলে ভেরাক্রুজ রাজ্যে একটি গণকবরে আড়াইশ'র বেশি মাথার খুলি পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে দেশটির সরকারী আইনজীবী। মাদক ব্যবসা ও চোরাচালানের জের ধরেই এই বিরাট গণকবর গড়ে উঠেছে বলেও তিনি মনে করছেন। মাদক চোরাকারবারি গোষ্ঠীগুলো এই এলাকাটিকে মৃতদেহ ফেলার নিরাপদ ভাগাড় হিসেবে ব্যাবহার করতো বলেও ভাবা হচ্ছে। ভেরাক্রুজ রাজ্যে গণকবরের সন্ধান মেলার পর বেরিয়ে আসছে এই সংক্রান্ত আরো নানান লোমহর্ষক তথ্য। তবে গণকবরটি সন্ধান ঠিক কখন পাওয়া গেছে তা এখনো জানানো হয়নি। দেশটির সরকারী কৌঁসুলি জর্জ উইঙ্কলার জানিয়েছেন, ভেরাক্রুজের স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সাথে যোগসাজশেই মৃতদেহগুলো এখানে ফেলে রাখা হতো বলে তিনি মনে করছেন। তাই এখানে আরো অনেক মৃতদেহ পাওয়ার সম্ভাবনাকেও তিনি উড়িয়ে দিচ্ছেন না। একটি টিভি নেটওয়ার্কে সাক্ষাতকার দেয়ার সময় উইঙ্কলার জানিয়েছেন,
বহু বছর ধরেই এই এলাকাটিকে মাদক চোরাচালানকারীরা মৃতদেহ ফেলার ভাগাড় হিসেবে ব্যাবহার করছিলো। যদি এই এলাকায় আরো নিবিড়ভাবে তল্লাশি চালানো হয়, তাহলে মেক্সিকোর সবচেয়ে বড় গণকবরটি হয়তো এখানেই পাওয়া যেতে পারে বলেও তিনি মন্তব্য করেছেন। ওই অঞ্চলে মাদক চোরাকারবারি গ্যাংগুলোর মধ্যে সহিংসতা একটি বড় সমস্যা। গণকবর পাওয়ার পর অভিযোগের আঙুল উঠেছে ভেরাক্রুজের পলাতক গভর্নর হাভিয়ার দুয়ার্তের দিকে। বহুদিন ধরে ভেরাক্রুজে মানুষ নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা ঘটছে। কিন্তু গভর্নর হিসেবে এই বিষয়ে দুয়ার্তে কোনো ব্যবস্থা নেননি বলে অভিযোগ রয়েছে। সূত্র : বিবিসি

রাজধানীতে গাড়ির ধাক্কায় নিহত

রাজধানীর মুগদা হাসপাতালের সামনে বেপরোয়া গতির গাড়ির ধাক্কায় মাজেদুল ইসলাম (৪০) নামে এক মাছ ব্যবসায়ীর মৃত্যু হয়েছে। বুধবার ভোর ৬টার দিকে মুগদা হাসপাতালের সামনের রাস্তায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
মাজেদুল ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নবীনগর উপজেলার বাদ্রা গ্রামের মৃত বজলুল হকের ছেলে। তিনি পরিবারকে নিয়ে মুগদা এশিয়ান স্কুলের সামনের একটি বাসায় ভাড়া থাকেন।

সানির জামিন শুনানি আজ

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) আইনের মামলায় ক্রিকেটার আরাফাত সানির জামিন শুনানি আজ বুধবার অনুষ্ঠিত হবে। সে উপলক্ষে তাঁকে আজ আদালতে নেয়া হবে।
মঙ্গলবার সানির আইনজীবী জানান, ঢাকার মহানগর দায়রা জজ আদালত থেকে সানি নারী নির্যাতনের মামলায় এক মাসের জামিন পেয়েছেন। আজ জামিন পেলে তাঁর মুক্তিতে বাধা থাকবে না।

বগুড়ায় বাস খাদে, নিহত ১

বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলার গাড়ীদহ-জামাদারপুকুর আঞ্চলিক সড়কে কনেযাত্রী বহনকারী বাস খাদে পড়ে ফনি রায় (৪৫) নামে একজনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন কমপক্ষে ১০ জন। মঙ্গলবার দিবাগত রাত ১০টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। ফনি রায়ের বাড়ি নন্দীগ্রাম উপজেলার পণ্ডিতপুকুরের ছোট কঞ্চি গ্রামে। তার পিতা মৃত মুকুন্দ। রাত সাড়ে ১১টার দিকে শেরপুর ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের স্টেশন অফিসার সোহেল রানা জানান,
সিরাজগঞ্জের কাজীপুর উপজেলার মেঘাই গ্রামে ছেলে পক্ষের বাড়িতে নিমন্ত্রণ খাওয়া শেষে নন্দীগ্রাম উপজেলার পণ্ডিতপুকুর গ্রামে বাসযোগে ফিরছিলেন। পথিমধ্যে চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেললে বাসটি সড়কের পাশে খাদে পড়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই ১ জন নিহত হন। আহত হন ১০ জন। আহত ৭ জনকে উদ্ধার করে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (শজিমেক) ভর্তি করা হয়েছে।

ঝিনাইদহে আ.লীগের দুই পক্ষের সংঘর্ষে নিহত ১

ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলায় আওয়ামী লীগের দুই পক্ষের সংঘর্ষে একজনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন আরও চারজন। মঙ্গলবার রাত ১২টার দিকে মনোহরপুর গ্রামের এ সংঘর্ষের ঘটনায় পুলিশ তিনজনকে আটক করেছে।
নিহত বিপুল মণ্ডল (২২) মনোহরপুর গ্রামের ফজলুর রহমানের ছেলে। কালীগঞ্জ থানার ওসি জানান, পুকুরিয়া গ্রামের আওয়ামী লীগ নেতা লিটন হোসেন ও মনোহরপুর গ্রামের আওয়ামী লীগ নেতা ইসরাইল হোসেনের মধ্যে এলকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিরোধ ছিল। বিরোধের জেরে দুই পক্ষ সংঘর্ষে জড়ালে একজনের মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় আরও চারজন আহত হলে তাদের স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয় বলে তিনি জানান।

দিনাজপুরে জোড়া খুনে আটক ১

দিনাজপুরের বোচাগঞ্জে কথিত পীরসহ দুজন খুন হওয়ার ঘটনায় কুড়িগ্রাম থেকে এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার রাতে ওই ব্যক্তিকে আটক করা হয় বলে জানায় দিনাজপুরের পুলিশ। আটক হওয়া ব্যক্তির নাম ইসাহাক আলী।
তাঁর বাড়ি কুড়িগ্রামের পাথরডুবি এলাকায়। বোচাগঞ্জের দৌলা গ্রামে গত সোমবার রাতে ‘কাদরিয়া মোহাম্মদী দরবার শরীফে’ ঢুকে ফরহাদ হোসেন চৌধুরী (৬০) ও তাঁর মুরিদ রূপালী বেগমকে (১৮) হত্যা করে দুর্বৃত্তরা।

গভীর সমুদ্রের ১২ নম্বর ব্লক দরপত্র ছাড়াই ইজারা

দরপত্র ছাড়াই ইজারা দেয়া হলো গভীর সমুদ্রের ১২ নম্বর গ্যাসব্লক। গতকাল এই ব্লকে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানের জন্য দক্ষিণ কোরিয়াভিত্তিক কোম্পানি দাইয়ুর সাথে চুক্তি স্বাক্ষর করেছে পেট্রোবাংলা ও জ্বালানি বিভাগ। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি দ্রুত সরবরাহ বৃদ্ধি আইন (বিশেষ আইন) ২০১০ অনুযায়ী এ চুক্তি করা হয়েছে বলে জ্বালানি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে। এ চুক্তির ফলে চলতি অর্থবছরের মধ্যে ৩ হাজার ৫৬০ বর্গকিলোমিটার আয়তনের এই গ্যাসব্লকের ভূতাত্ত্বিক জরিপ শুরু করা যাবে এবং ২০১৯ সালের প্রথম নাগাদ জরিপের ফলাফলের ওপর ভিত্তি করে এ ব্লকে তেল, গ্যাসের প্রাপ্যতা সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যাবে বলে জ্বালানি মন্ত্রণালয় আশাবাদ ব্যক্ত করেছে। চুক্তিতে গ্যাস বিদেশে রফতানির সুযোগ রাখা হয়েছে। অনুষ্ঠানে পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান আবুল মনসুর মো: ফয়জুল্লাহ জানান, এই ব্লকে গ্যাস পাওয়া গেলে দাইয়ু তার অংশের গ্যাস প্রথমে পেট্রোবাংলার কাছে বিক্রির প্রস্তাব দেবে। পেট্রোবাংলা রাজি না হলে তারা দেশের মধ্যে তৃতীয় পক্ষের কাছে বিক্রির চেষ্টা করবে, না পারলে গ্যাস তরল করে এলএনজি আকারে বিদেশে রফতানি করতে পারবে। জানা গেছে, গভীর সমুদ্রের ১২ নম্বর ব্লকের পাশেই মিয়ানমারের একটি গ্যাসব্লক থেকে গ্যাস উত্তোলন করছে দাইয়ু। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মিয়ানমার ও বাংলাদেশ উভয়ের সমুদ্রতলের ভূতাত্ত্বিক গঠন প্রায় একই রকম।
ফলে বাংলাদেশের সমুদ্র ব্লকটিতেও বিশাল গ্যাস-ভাণ্ডার রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আর এটা হলে গভীর সমুদ্রে গ্যাস উত্তোলনে বড় ধরনের সাফল্য আসতে পারে। জ্বালানি মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, ভারত ও মিয়ানমারের সঙ্গে সমুদ্রসীমা নিয়ে বিরোধ মেটার পর সাগরে জোরালো অনুসন্ধান কার্যক্রম শুরুর কথা থাকলেও আদতে তা হয়নি। মিয়ানমারের সঙ্গে সমুদ্রসীমা বিরোধ মেটে ২০১২ সালে এবং ভারতের সঙ্গে ২০১৪ সালে। বঙ্গোপসাগরে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানে প্রতিবেশী মিয়ানমার ও ভারত অনেক দূর এগিয়েছে। মিয়ানমারের সমুদ্রসীমায় ইতোমধ্যে চারটি গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কার হয়েছে। বঙ্গোপসাগরের ভারতীয় অংশেও বড় ধরনের গ্যাসের মজুদ রয়েছে বলে জানিয়েছে সেখানে অনুসন্ধানরত বহুজাতিক তেল-গ্যাস কোম্পানিগুলো। একই ভূ-কাঠামোর অন্তর্গত হলেও বাংলাদেশ তার সমুদ্রসীমায় তেল-গ্যাস অনুসন্ধানে এখনো উল্লেখযোগ্য কোনো কার্যক্রম শুরু করতে পারেনি। সাগরের ২৬টি ব্লকের মধ্যে শুধু অগভীর সমুদ্রের দুইটি ব্লকে একটি ভারতীয় কোম্পানি তাদের প্রাথমিক কার্যক্রম শুরু করেছে। এ চুক্তির ফলে দীর্ঘ দিন পরে হলেও সাগরে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানের একটি সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার পেট্রো সেন্টারে এই চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে জ্বালানি সচিব নাজিম উদ্দিন বলেন, সমুদ্রে তেল-গ্যাসের তথ্য-উপাত্ত জানতে প্রস্তাবিত মাল্টি কায়েন্ট সার্ভে শুরু হতে সময় ক্ষেপণ হয়েছে এটা ঠিক; তবে এখন বিষয়টি চূড়ান্তপর্যায়ে আছে। শিগগিরই একটি বিদেশী কোম্পানিকে এ জন্য নিয়োগ দেয়া হতে পারে। পাশাপাশি বাংলাদেশ নিজেও একটি অনুসন্ধান জাহাজ সংগ্রহের প্রক্রিয়া চালাচ্ছে।
অপর এক প্রশ্নের উত্তরে জ্বালানি উপদেষ্টা বলেন, স্থলভাগে বাংলাদেশ নিজেই তেল-গ্যাস অনুসন্ধান কার্যক্রম চালাবে, সে সক্ষমতা বাপেক্সের আছে। বিদেশী কোম্পানিকে আমন্ত্রণ জানানোর প্রয়োজন নেই। বঙ্গোপসাগরের গভীর সমুদ্রাঞ্চলে ব্লক-১২, ১৬ ও ২১ থেকে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানের জন্য গত বছরের ৫ ফেব্রুয়ারি বিশেষ আইনের আওতায় বিভিন্ন আন্তর্জাতিক কোম্পানির কাছ থেকে পেট্রোবাংলা আগ্রহপত্র (ইওআই) আহ্বান করে। নরওয়েভিত্তিক বহুজাতিক কোম্পানি স্টেট অয়েল, সিঙ্গাপুরভিত্তিক ক্রিস এনার্জি ও দক্ষিণ কোরিয়াভিত্তিক দাইয়ু এ তিনটি ব্লকে অনুসন্ধান করতে আগ্রহ প্রকাশ করেছিল। এরপর পেট্রোবাংলা তাদেরকে প্রস্তাব জমা দিতে বলে। প্রথমে স্টেট অয়েল কয়েক দফা যোগাযোগের পর প্রস্তাব জমা দেয়ার জন্য সময় চায়। পরে তারা আগ্রহপত্র জমা দেয়। কিন্তু গ্যাসব্লক থেকে উৎপাদিত গ্যাসের মূল্য নিয়ে বনিবনা না হওয়ায় পিছু হটে স্টেট অয়েল। এরপর দাইয়ু আগ্রহপত্র জমা দেয়। পেট্রোবাংলা ও দাইয়ু আলোচনায় একমত হওয়ায় গত ৯ অক্টোবর দাইয়ুর সাথে অনুস্বাক্ষর অনুমোদন করে মন্ত্রণালয়। গত ৭ ডিসেম্বর দাইয়ুর সাথে অনুস্বাক্ষর করে পেট্রোবাংলা। গতকাল করা হয় চূড়ান্ত চুক্তি । প্রথমে দাইয়ুর সাথে আলোচনা হয়, মডেল পিএসসি অনুযায়ী দাইয়ু প্রথম তিন বছর গ্যাসব্লকের এক হাজার ৮০০ লাইন কিলোমিটার দ্বিমাত্রিক জরিপ এবং পরের দুই বছরে এক হাজার বর্গকিলোমিটার ত্রিমাত্রিক জরিপ করবে। কিন্তু আলোচনায় প্রথম তিন বছরের পরিবর্তে দুই বছরে এক হাজার ৮০০ লাইন কিলোমিটার দ্বিমাত্রিক জরিপ, তৃতীয় বছরে এক হাজার বর্গকিলোমিটার ত্রিমাত্রিক জরিপ এবং চতুর্থ ও পঞ্চম বছরে একটি অনুসন্ধান কূপ খননের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়। পেট্রোবাংলা আশা করছে,
এ চুক্তির ফলে চলতি অর্থবছরের মধ্যে ভূমাত্রিক জরিপ শুরু করা যাবে এবং ২০১৯ সালের প্রথম নাগাদ জরিপের ফলাফলের ওপর ভিত্তি করে এ ব্লকে তেল, গ্যাসের প্রাপ্যতা সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যাবে। চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে দাইয়ুর প্রেসিডেন্ট ও সিইও ইয়ান সান কিম একই ধরনের আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, দাইয়ু মিয়ানমারে কাজের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশেও অনুসন্ধান কার্যক্রম চালাবে। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর জ্বালানি উপদেষ্টা ড. তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী বলেন, দাইয়ু যেহেতু পাশের ব্লকেই কাজ করছে, তাই তারা চাইলে ওই অংশের তথ্য-উপাত্ত পেট্রেবাংলার সঙ্গে শেয়ার করতে পারে। এতে অনুসন্ধান কার্যক্রমে সাফল্যের সম্ভাবনা বাড়বে। অনুষ্ঠানে জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বলেন, অনেক দিন পর হলেও সমুদ্রে গ্যাস অনুসন্ধানের চুক্তি করা সম্ভব হলো। তিনি বলেন, আমাদের পোশাক শিল্প বছরে ৫০ বিলিয়ন ডলার আয় করছে, তাদের গ্যাস লাগবে। ১০০টি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল হচ্ছে, তাদেরও গ্যাস লাগবে। এ জন্য সমুদ্রে অনুসন্ধানের পাশাপাশি স্থলভাগে আগামী চার বছরে ১০৮টি কূপ খননের পরিকল্পনা হাতে নেয়া হয়েছে। স্বল্পমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে এলএনজি আমদানির উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন, বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি তাজুল ইসলাম এবং বাংলাদেশে দক্ষিণ কোরিয়ার রাষ্ট্রদূত অন সেওং।

কর্মস্থলে হিজাব পরা নিষিদ্ধ করা যাবে -ইউরোপিয়ান কোর্ট অব জাস্টিসের রায়

চাকরিদাতারা কর্মচারীদের জন্য হিজাব পরা নিষিদ্ধ করতে পারবেন। এমন রায় দিয়েছে ইউরোপের শীর্ষ আদালত ইউরোপিয়ান কোর্ট অব জাস্টিস। আদালত বলেছে, প্রতিষ্ঠানের সব কর্মচারির জন্য ধর্মীয় পোশাক পরা নিষিদ্ধ হলে তা বৈষম্যমুলক হবে না। এ খবর দিয়েছে অনলাইন বিবিসি। এতে বলা হয়, ইউরোপের শীর্ষ আদালত রায় দিয়েছে চাকরিদাতারা তাদের কর্মচারীদের হিজাবসহ ‘যে কোনরকম রাজনৈতিক, দার্শনিক অথবা ধর্মীয় পরিচয় লোকের সামনে দৃশ্যত তুলে ধরে এমন পোশাক বা প্রতীক’ পরা নিষিদ্ধ করতে পারবে। তবে ইউরোপের বিচার আদালত (ইউরোপীয়ান কোর্ট অব জাস্টিস) তার রায়ে বলেছে সব কর্মচারির ‘সাজপোশাক নিরপেক্ষ’ রাখার নিজস্ব নীতির উপর ভিত্তি করে কর্মদাতা প্রতিষ্ঠানকে এই সিদ্ধান্ত নিতে হবে। এটা কোনো একজন ভোক্তার ব্যক্তিগত ইচ্ছার ভিত্তিতে করা যাবে না বলে আদালত বলছে। বিবিসি আরও বলেছে, কর্মস্থলে হিজাব পরার ব্যাপারে এটি এই আদালতের প্রথম রায়। বেলজিয়ামে জি ফোর এস কোম্পানির এক রিসেপসনিস্টকে হিজাব পরার কারণে চাকরি থেকে বরখাস্ত করার এক মামলায় ইউরোপীয় বিচার আদালত এই রায় দিল। বেলজিয়ামের আদালত আইনী ব্যাখ্যার জন্য ইউরোপের সর্বোচ্চ আদালতে এই মামলা হস্তান্তর করেছিল। সামিরা আচবিতা তিন বছর ওই প্রতিষ্ঠানে চাকর করার পর যখন কর্মস্থলে হিজাব পরতে শুরু করেন, তখন তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়। তিনি দাবি করেন ধর্মীয় কারণে তার প্রতি বৈষম্য করা হয়েছে। কিন্তু তার চাকরিদাতা প্রতিষ্ঠান তাদের কর্মক্ষেত্রের নিয়মবিধি সংস্কার করে কাজের জায়গায় ‘যে কোনরকম রাজনৈতিক, দার্শনিক অথবা ধর্মীয় পরিচয় বহনকারী পোশাক বা প্রতীক দৃশ্যত তুলে ধরা এবং/অথবা এধরনের বিশ্বাসের প্রদর্শন নিষিদ্ধ করে দিয়েছিল’ বলে ব্যাখ্যা দিয়েছে আদালত। আদালত বলেছে তাদের নতুন নিয়মবিধিতে ‘সাজপোশাকে এ ধরনের বিশ্বাসের প্রদর্শন কোনো একটি ধর্ম বা বিশ্বাসের ক্ষেত্রে যেহেতু প্রযোজ্য নয়’ তাই এটা বৈষম্যমূলক বলে বিবেচিত হবে না। তারা বলছে ‘একটি প্রতিষ্ঠান যদি সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ের সেবাগ্রহণকারীদের কাছে তাদের নিরপেক্ষ ভাবমূর্তি তুলে ধরতে চায় তাহলে সেটা বৈধ'’- তবে জাতীয় পর্যায়ের আদালতকে এটা নিশ্চিতভাবে দেখতে হবে যে ওই প্রতিষ্ঠানের নীতি সব কর্মচারীর জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য হচ্ছে কীনা। এই মামলার ক্ষেত্রে বেলজিয়ামের আদালতকে এটাও নিশ্চিতভাবে প্রমাণ করতে হবে যে মিস আচবিতাকে সেবাগ্রহণকারীদের সামনে আসতে হয় না এমন কোন কাজে বদলি করা সম্ভব ছিল কীনা।

তামিমকে গলায় গামছা পেঁচিয়ে হত্যা করা হয়

উল্লাপাড়ার বহুল আলোচিত শিশু তামিমকে গলায় গামছা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়। উল্লাপাড়ার চকপাঙ্গাশী গ্রামের সোলেমান হোসেনের ছেলে তামিম (৭)গত ১০ই ফেব্রুয়ারি খুন হয়। পরদিন নরসিংহপাড়া গ্রামের পাশের মাঠে একটি সরিষার গাদার ভেতর থেকে পুলিশ তার লাশ উদ্ধার করে। তামিম নরসিংহপাড়া গ্রামে তার নানা রফিকুল ইসলামের বাড়িতে বেড়াতে গিয়েছিল। এদিন সন্ধ্যায় নানা বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর তাকে আর খুঁজে পাওয়া যায়নি।
তামিম হত্যা মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা উল্লাপাড়া থানার উপ-পরিদর্শক সাচ্চু বিশ্বাস জানান, হত্যার সঙ্গে জড়িত নরসিংহপাড়া গ্রামের আব্দুল মান্নান, তার ছেলে ফিরোজউদ্দিন ও একই গ্রামের হাফিজুল ইসলামকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে। তারা সিরাজগঞ্জ জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম নজরুল ইসলামের আদালতে সোমবার ১৬৪ ধারায় দেয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে জানিয়েছে, হাফিজুল সন্ধ্যায় তামিমকে তার নানার বাড়ি থেকে ডেকে আবদুুল মান্নানের বাড়িতে নিয়ে যায়। সেখানে তাকে রাতে গলায় গামছা পেঁচিয়ে হত্যা করা হয়। হাফিজুল তামিমের গলায় গামছা পেঁচায়। এ সময় মান্নান ও তার ছেলে ফিরোজ মিলে দুই দিক থেকে গামছা টেনে তামিমকে হত্যা করে। হত্যার সময় তামিমের মুখও গামছা দিয়ে বাঁধা হয়। পরে তারা গভীর রাতে লাশ বাড়ির অদূরে সরিষার গাদার মধ্যে ঢুকিয়ে পালিয়ে যায়। জমিজমা নিয়ে পূর্ব বিরোধের জের ধরে গ্রামের জহুরুল ইসলাম ও হাসানুর রহমান হাসুর দলের মধ্যে দু’দফা সংঘর্ষে মকবুল হোসেন ও সাইফুল ইসলাম নামের দুই ব্যক্তি খুন হন। এই ঘটনায় জহুরুল ইসলামের ভাই শহিদুল ইসলাম বাদী হয়ে উল্লাপাড়া থানায় হাসানুর রহমানের দলের ৫২ জনকে আসামি করে হত্যা মামলা করেন। তামিম হত্যা মামলার বাদী তামিমের নানা রফিকুল ইসলাম স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীদের কাছে অভিযোগ করেছেন, জহুরুল ইসলাম সংঘর্ষের জের ধরে তার গ্রামের বিপক্ষ দলকে ফাঁসানোর জন্য নিজের লোকজন দিয়ে শিশু তামিমকে হত্যা করিয়েছে। এ ব্যাপারে তদন্তকারী কর্মকর্তা সাচ্চু বিশ্বাস জানান, তামিম হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে পরোক্ষভাবে আরো কয়েকজন জড়িত। তবে গ্রেপ্তারের স্বার্থে এই মুহূর্তে তাদের নাম প্রকাশ করা সম্ভব হচ্ছে না। খুব শিগগিরই তামিম হত্যার সঙ্গে জড়িত সব আসামিকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন সাচ্চু বিশ্বাস।

প্রতিদিন গড়ে ১ দশমিক ৭ জন শিশু ধর্ষণের শিকার

নারী নির্যাতনের ধরন যেমন পাল্টাচ্ছে, তেমনি এর সহিংসতাও দিনদিন বাড়ছে। বিশেষত মেয়ে শিশুদের ক্ষেত্রে এর ভয়াবহতা আরো বেশি। ব্র্যাকের তথ্যানুযায়ী, ২০১৬ সালে নথিভুক্ত মোট নারী নির্যাতনের মধ্যে মেয়ে শিশু নির্যাতনের হার ২০ শতাংশ। মেয়ে শিশুদের মধ্যে ১২-১৭ বছর বয়সীরা সবচেয়ে বেশি (৬০ দশমিক ৬৩ শতাংশ) নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। ১৮ বছরের নিচে প্রতিদিন গড়ে ১ দশমিক ৭ জন শিশু ধর্ষণের শিকার। আর মেয়ে শিশু ছাড়া অন্য নারীদের ক্ষেত্রে নির্যাতনের হার ৮০ শতাংশ। আজ মঙ্গলবার (১৪ মার্চ, ২০১৭) রাজধানীর ব্র্যাক সেন্টারে আয়োজিত ‘নারী নির্যাতন প্রতিরোধে আমাদের করণীয়’Ñ শীর্ষক জাতীয় পর্যায়ের গোলটেবিল বৈঠকে ব্র্যাক পরিচালিত নারী নির্যাতনের ঘটনার তথ্য বিশ্লেষণ ও মূল উপস্থাপনায় এ চিত্র তুলে ধরেন ব্র্যাকের সামাজিক ক্ষমতায়নের কর্মসূচির (সিইপি) কর্মসূচি প্রধান ফারহানা হাফিজ। ব্র্যাক আয়োজিত এই গোলটেবিল বৈঠকে প্রধান অতিথি ছিলেন- মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মাহমুদা শারমীন বেনু। ব্র্যাকের এডভোকেসি ফর সোশ্যাল চেঞ্জের পরিচালক কেএএম মোর্শেদ-এর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেনÑ বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সভাপতি আয়েশা খানম, আইসিডিডিআরবি’র সিনিয়র গবেষক ড. রুচিরা তাবাসসুম নভেদ, ডেপুটি কমিশনার (উইমেন সাপোর্ট অ্যান্ড ইনভেস্টিগেশন ডিভিশন) ও ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারের প্রধান ফরিদা ইয়াসমীন, একাত্তর টেলিভিশনের প্রধান সম্পাদক ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোজাম্মেল হক বাবু প্রমুখ। সভাপতিত্ব করেনÑ ব্র্যাকের সামাজিক ক্ষমতায়ন, জেন্ডার জাস্টিস অ্যান্ড ডাইভারসিটি এবং সমন্বিত উন্নয়ন কর্মসূচির পরিচালক আন্না মিনজ। প্রধান অতিথির বক্তব্যে মাহমুদা শারমীন বেনু ব্র্যাকের এ ধরনের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, ‘নারী নির্যাতন’ শুধু একা নারীদের সমস্যা নয়, এটা পুরুষদেরও সমস্যা। এখানে নারী-পুরুষ সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। এ দিকটি মাথায় রেখে আমরা এখন প্রতিটি ইউনিয়নে কিশোর-কিশোরী ক্লাব গঠনের উদ্যোগ নিয়েছি। এর পাশাপাশি সরকার নারীদের আত্মনির্ভরশীল করতে ৪৯০ টি উপজেলায় স্থানীয় চাহিদার নিরিখে ১৮ ধরনের ব্যবসার ক্ষেত্রে নারীদের সহযোগিতা দিচ্ছে। আয়েশা খানম নারী নির্যাতন প্রতিরোধে বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় নারীদের আরো বেশি সোচ্চার হওয়ার তাগিদ দেন। তিনি বলেন, নারী নির্যাতন রোধে আমাদের ভালো আইন আছে ঠিকই। কিন্তু অনেক নারী আছেন  যারা এ ধরনের আইন সম্পর্কে জানেন না। এখন আমাদের আইন সম্পর্কে  জানানোর জন্য উদ্যোগ নিতে হবে। তিনি বলেন, ব্র্যাকসহ বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থা নারী নির্যাতন প্রতিরোধে বিভিন্ন সচেতনতামূলক কর্মকা-ের কারণে ‘ভালো আইন প্রণয়নে’ সাফল্য এসেছে। এখন সময় এসেছে এগুলের ফলাফল বিশ্লেষণ ও সঠিক মনিটরিং এর মাধ্যমে পরিবার, সমাজ, সুশীল সমাজ, বেসরকারি সংস্থা ও সরকারের সহযোগিতায় একটি একক প্ল্যাটফর্ম গঠন করা। এতে সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় নারী নির্যাতন প্রতিরোধ সহজ হবে।  ফরিদা ইয়াসমীন বলেন, শুধু আইন দিয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধ অসম্ভব। এখনও আমাদের সমাজে প্রতিদিন নিগৃহীত হচ্ছেন নারীরা। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারের আইন নিয়ন্ত্রণ সংস্থার পাশাপাশি প্রতিটি ব্যক্তি,পরিবার, বেসরকারি সংস্থা, সুশীল সমাজসহ সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে আসতে হবে। আন্না মিনজ নারী নির্যাতন প্রতিরোধে বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করতে দাতা সংস্থার প্রতি আরো অর্থায়নের তাগিদ দেন। তিনি বলেন, স্বাস্থ্য, শিক্ষা ক্ষেত্রে দাতাদের মিলিয়ন মিলিয়ন ডলার আর্থিক সহায়তা এলেও এই খাতে সন্তোষজনক সহায়তা পাওয়া যায় না।  গোলটেবিল বৈঠকে ২০১৬ সালের নারী নির্যাতন চিত্র এবং করণীয় বিষয়সমূহ তুলে ধরা হয়। ব্র্যাকের সামাজিক ক্ষমতায়ন কর্মসূচির ২০১৬ সালে ৫৫ টি জেলায় ও ৩৭৯ টি উপজেলায় নির্যাতনের শিকার নারীদের তথ্য ডিজিটাল পদ্ধতিতে তথ্য সংরক্ষণ করে। নথিভুক্ত তথ্যানুযায়ী দেখা যায়, মোট নির্যাতনের মধ্যে শারীরিক নির্যাতনের হার ৬৭ শতাংশ, যৌন নির্যাতনের হার ১৯ শতাংশ এবং মানসিক নির্যাতনের হার ১৪ শতাংশ। নারীদের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি ঘটেছে শারীরিক নির্যাতন এবং শিশুদের মধ্যে যৌন নির্যাতন। যৌন নির্যাতনের ক্ষেত্রে ১৮ বছরের নিচে শিশুদের মধ্যে প্রতিদিন গড়ে ১ দশমিক ৭ জন শিশু ধর্ষণের শিকার।
এতে আরো বলা হয়, নির্যাতনের শিকার নারীদের ৩৯ শতাংশ মামলা বা আইনগত পদক্ষেপ নেয়ার জন্য প্রক্রিয়াধীন ছিল, মাত্র ২৬ শতাংশ কেইস ফাইল হয়েছিল এবং ৭ শতাংশ মামলা সালিশের মাধ্যমে মীমাংসা হয় এবং ২৮ শতাংশ কেইস কোনো আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি।
অনুষ্ঠানে আরো বলা হয়, বিভিন্নভাবে নির্যাতনের শিকার হলেও প্রথাগত সামাজিক মূল্যবোধ ও পরিবারের ‘সম্মান’, পুনরায় নির্যাতনের ভয়, উপযোগী পরিবেশ না পাওয়া ইত্যাদি কারণে নারীরা তা প্রকাশ করতে চান না। শুধু গুরুতর শারীরিক ও যৌন নির্যাতন ছাড়া অন্যান্য নির্যাতনগুলো প্রকাশিত হয় না। ফলে নির্যাতনের যে চিত্র পাওয়া যায় তা বাস্তব ঘটনার চেয়ে অনেক কম।
ব্র্যাকের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গড়ে প্রতি মাসে ৬২৪টি, প্রতিদিন ২০ দশমিক ৫টি এবং প্রতিজেলায় মাসে ১১ দশমিক ৩৫টি নারী নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে। প্রায়ই এসব নির্যাতনের ঘটনা ঘটলেও পারিবারিক, সামাজিক ও মামলার দীর্ঘ সূত্রিতার কারণে অধিকাংশ নারী আইনি পদক্ষেপে যেতে চান না।
গোলটেবিল বৈঠকে বক্তাদের আলোচনা থেকে নারী নির্যাতন প্রতিরোধে যেসব চ্যালেঞ্জ উঠে আসে সেগুলো হলো: পুরুষতান্ত্রিক মানসিকতা, বিচারহীনতার সংস্কৃতি, নির্যাতন প্রতিরোধে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণে প্রশাসনিক সমন্বয়হীনতা, সরকারি- বেসরকারি সংস্থার সমন্বয়হীনতা, আইনের সঠিক প্রয়োগ না থাকা, মামলার দীর্ঘসূত্রিতা ইত্যাদি।

সিরিয়ায় পাচার ৩৫ নারী -লেবাননের সহযোগিতা চেয়েছে বাংলাদেশ by শামীমুল হক



লেবাননে নেয়ার কথা বলে বাংলাদেশি ৩৫ নারীকে পাচার করা হয়েছে সিরিয়ায়। তাদের দেশে ফিরিয়ে আনতে লেবাননের সহযোগিতা চেয়েছে ঢাকা। ইতিমধ্যে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় লেবাননস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসকে চিঠি দিয়েছে। আর দূতাবাস লেবাননের জেনারেল সিকিউরিটি ও শ্রম মন্ত্রণালয়কে বিস্তারিত জানিয়েছে পত্রের মাধ্যমে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এজেন্সির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ জানানো হয়েছে। চার মাস আগে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পাঠানো চিঠির উত্তর দিয়েছে লেবাননস্থ বাংলাদেশ দূতাবাস। গত ২রা মার্চ পাঠানো চিঠিতে পাচার হওয়া ৩৫ নারীর বিষয়ে বিস্তারিত তুলে ধরা হয়েছে। দূতাবাসের প্রথম সচিব সায়েম আহমেদ স্বাক্ষরিত এ চিঠির অনুলিপি দেয়া হয়েছে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব, র‌্যব-৩ পরিচালক ও জর্ডানস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসকে। চিঠিতে বলা হয়েছে, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পত্র নং-সি অ্যান্ড ডব্লিউ/কল্যাণ/জর্ডান(সিরিয়া)/৭৬/৫২৬-এর মাধ্যমে সিরিয়ায় পাচার হওয়া ৩৫ নারীকে দেশে পাঠাতে সাহায্য চাওয়া হয়। দূতাবাস বিস্তারিত জেনে লেবানন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে।  এ ব্যাপারে সিরিয়ায় পাচারকৃত বাংলাদেশি নারী কর্মীদের কয়েকজন জানান, লেবানন বা অন্য কোনো দেশে আনার নাম করে তাদের সরাসরি সিরিয়ায় নিয়ে যাওয়া হয়। তাদের পাচারের সঙ্গে বাংলাদেশি দালালচক্র সরাসরি সম্পৃক্ত। এছাড়া চিঠিতে লেবাননস্থ বাংলাদেশ দূতাবাস লিখেছে, সিরিয়ার বিষয়ে সমবর্তী দায়িত্বপ্রাপ্ত লেবাননের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত নয়। এ অবস্থায় পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বাংলাদেশ দূতাবাস আম্মানের সঙ্গে যোগাযোগ করতে মন্ত্রণালয়কে পরামর্শ দেয়া হয়। চিঠিতে জানানো হয়, ৩৫ জনের একজন কমেলা বেগম সিরিয়ায় নির্যাতিত হয়ে দেশে ফিরে গেছে। পরে ১৬৪ ধারায় আদালতে জবানবন্দিও দিয়েছে। এছাড়া বিএ০৬৮১৩৪৩ পাসপোর্টধারী আলাপী বেগমও নির্যাতিত হয়ে দেশে ফেরেন। পরে তিনিও ১৬৪ ধারায় আদালতে জবানবন্দি দেন। পাচার হওয়া নাজমা বেগমের পাসপোর্ট নাম্বার-এবি০১৩০৬৫৮। নাজমাকে সিরিয়া পাচারের সঙ্গে বাংলাদেশের বাংলাদেশ এক্সপোর্ট করপোরেশন ও লেবাননের লিস্ট এজেন্সি জড়িত। এক্ষেত্রে লেবাননের জেনারেল সিকিউরিটি ও মিনিস্ট্রি অব লেবারকে ওই এজেন্সির বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়ার জন্য চিঠি দেয়া হয়েছে। এছাড়া দূতাবাস এ বিষয়ে লেবাননের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ চালিয়ে যাচ্ছে। পাচার হওয়া আরেক নারী রহিমা বেগম। তার পাসপোর্ট নং-এজি৭৩৭৫৩০৩। চিঠিতে বলা হয়েছে, দূতাবাস থেকে রহিমা বেগমের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি জানান, তাকে লেবানন পাঠানোর কথা থাকলেও বাংলাদেশের আফজাল নামের একজন দালাল তাকে সরাসরি সিরিয়ায় পাঠান। তিনি দেশে ফেরত যেতে চান। তাকে দেশে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। মোছা. শাহনাজ আক্তার নামে আরেক নারীর লেবাননের মনি এক্সচেঞ্জের মাধ্যমে লেবাননে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তাকে সিরিয়ায় নিয়ে যাওয়া হয়। তার পাসপোর্ট নং-বিএ০০৩১৮৭৯। চিঠিতে শাহনাজের ব্যাপারে বলা হয়, লেবাননের মনি এজেন্সির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে ফোন করে দূতাবাসে আনা হয়। তাদের কাছে তাৎক্ষণিক ব্যাখ্যা চাওয়া হয়। এর উত্তরে তারা গত ডিসেম্বরের মধ্যে শাহনাজের ব্যাপারে বিস্তারিত জানাবেন বলে অবহিত করেন। কিন্তু পরবর্তীতে তারা আর দূতাবাসে যোগাযোগ করেনি। ফলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে লেবাননের মিনিস্ট্রি অব লেবারকে অনুরোধ জানানো হয়। পরে দূতাবাসের নিজস্ব সূত্রের তথ্য অনুসারে জানা যায়, সামপ্রতিককালে মনি এজেন্সি নাম পরিবর্তন করে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করছে। শুধু শাহনাজ নয়, এফ৫৮৩৭৬৩১ পাসপোর্টধারী রোকেয়া বেগম, এই৬১৬১৫৩৪ পাসপোর্টধারী আছিয়া বেগমও মনি এজেন্সির মাধ্যমে প্রতারণার শিকার হন। পাচারের কবলে পড়েন। বাংলাদেশি এজেন্সি সব জেনে-শুনেই তাদের পাঠায়। তাদের ব্যাপারেও মনি এজেন্সির একই বক্তব্য ছিল। কিন্তু পরবর্তীতে তারা আর দূতাবাসে যোগাযোগ রক্ষা করেনি। এডি৫৬৪৩৭৫৭ পাসপোর্টধারী মাহফুজার সিরিয়ায়  পাচারের সঙ্গে বাংলাদেশের বাংলাদেশ এক্সপোর্ট করপোরেশন ও লেবাননের বেস্ট সার্ভিস নামের এজেন্সি জড়িত। বেস্ট সার্ভিস এজেন্সির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে লেবাননের জেনারেল সিকিউরিটি এবং শ্রম মন্ত্রণালয়কে জানানো হয়েছে। জেনারেল সিকিউরিটি জানিয়েছে, বর্তমানে বেস্ট সার্ভিস এজেন্সির কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে দূতাবাস চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। বিএ০০০৪২৯৫ পাসপোর্টধারী আলোর বেগম বাংলাদেশি দালাল সিরাজের মাধ্যমে লেবাননে যাওয়ার কথা। কিন্তু তাকে লেবানন না পাঠিয়ে সিরিয়ায় পাঠানো হয়। আলো বেগমের সিরিয়া পাচারের সঙ্গে বাংলাদেশের হাসান এন্টারপ্রাইজ এবং লেবাননের এমরো এজেন্সি জড়িত। এ ব্যাপারে লেবাননের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে। এফ০৫৮৯৯৫১ পাসপোর্টধারী রাবেয়া বেগম, বিএ০১৪৩৫২৩ পাসপোর্টধারী জাহিনা খাতুন পাচারের সঙ্গেও হাসান এন্টারপ্রাইজ ও এমরো এজেন্সি জড়িত। বিএ০৭০০৬১৯ পাসপোর্টধারী রাশেদা বেগম সম্পর্কে বলা হয়, লেবাননের ফ্রেন্ডস এজেন্সি রাশেদাকে পাচার করে। কিন্তু ফ্রেন্ডস এজেন্সির দেয়া তথ্য অনুযায়ী রাশেদা লেবাননে আসেনি। আর লেবাননের জেনারেল সিকিউরিটির তথ্য অনুসারে রাশেদার নামে কোনো ভিসা লেবানন ইস্যু করেনি। একই ঘটনা কহিনুরের ক্ষেত্রেও। তার পাসপোর্ট নাম্বার বি০২০৯৯৯১। একই ঘটনার শিকার মোছা. ছুপিয়া বেগম। তার পাসপোর্ট নাম্বার বিএ০৭৫২৬৯৯। এ তিনজনই ফ্রেন্ডস এজেন্সির তত্ত্বাবধানে বাংলাদেশ ত্যাগ করে। বিএ০৯৪১২৪৯ পাসপোর্টধারী নুরুন্নাহারের সন্ধান পাওয়া যায়নি। লেবাননের যে বাসায় গৃহকর্মী হিসেবে যাওয়ার কথা ছিল সে বাসায় খোঁজ নিয়ে জানা যায়, নুরুন্নাহারকে যে এজেন্সি লেবাননে পাঠানোর কথা সেই এজেন্সি তাকে লেবানন পাঠায়নি। এছাড়া বিএ০৮৮২৯২৪ পাসপোর্টধারী জহুরা বেগমের কোনো তথ্য উদঘাটন সম্ভব হয়নি বলে চিঠিতে জানানো হয়। এএফ২৮৩১৬৬৯ পাসপোর্টধারী নাজমাকে বাংলাদেশি দালাল সিরাজ ও বাচ্চু সিরিয়ায় পাচার করে। ওদিকে বিএ০২৫৪৯০৯ পাসপোর্টধারী সেলিনা বেগমের কোনো তথ্যও খুঁজে পাওয়া যায়নি। এজি০০৬৫১৭৫ পাসপোর্টধারী জাহানারা বেগমকে পাচারের সঙ্গে জড়িত বাংলাদেশের আল হাসিব ও লেবাননের আল ইমতিয়াজ এজেন্সি। দূতাবাসের নিজস্ব সূত্রের তথ্য অনুযায়ী সম্প্রতি আল ইমতিয়াজ এজেন্সির নাম পরিবর্তন হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে লেবাননের শ্রম মন্ত্রণালয়ে চিঠি দেয়া হয়েছে। বিএ০৪৩১০১০ পাসপোর্টধারী ফাতেমা বেগম, এডি৫৭২৫৩৯৮ পাসপোর্টধারী আঙ্গুরা খাতুন, বিবি০১১৫৯৬৪ পাসপোর্টধারী মাকসুদা বেগম, এজি০৫৮২৫৫৫ পাসপোর্টধারী মর্জিনা, বিএ০৩৫৯৮৯৬ পাসপোর্টধারী সাজেদা বেগম, বিবি০৫৪২২৫৬ পাসপোর্টধারী জাহানারা বেগম, এই৭২৬৫৭৯২ পাসপোর্টধারী ছাবেরা বেগম, বিবি০৭৪০৬৪৮ পাসপোর্টধারী বিউটি খাতুন, এই৯৮৮৬৬৭০ পাসপোর্টধারী মিনা বেগম, বিএ০৫৬৫৩১১ পাসপোর্টধারী  ফাহিমা বেগম, এএফ১৫১৮৫৯৪ পাসপোর্টধারী মিনারা, বিবি০২৫৫৬৯৪ পাসপোর্টধারী মনি বেগম, বিএ০১০৩১৯৭ পাসপোর্টধারী ফাতেমা খাতুন এবং বিএ০৬৭৯৯১৪ পাসপোর্টধারী মোছা. হাছানা বেগমও আল হাসিব ও আল ইমতিয়াজ এজেন্সির প্রতারণার শিকার। প্রতিটি ঘটনায়ই লেবাননের জেনারেল সিকিউরিটি ও মিনিস্ট্রি অব লেবারে পত্র দেয়া হয়েছে দূতাবাসের পক্ষ থেকে। এছাড়া এএফ৪৪৩৩৮৮৭ পাসপোর্টধারী সেলিনা বেগম লেবাননের আল আমল এজেন্সির মাধ্যমে বিদেশ যায়। এ বিষয়ে জানতে তাদের দূতাবাসে তলব করা হয়। তারা জানিয়েছে, সেলিনা বেগম অনেক আগেই গৃহকর্তার অনুমতি না নিয়ে অন্যত্র চলে যায়। এ ব্যাপারে তারা লেবাননের জেনারেল সিকিউরিটিতে অভিযোগ করেছে। দূতাবাসের সংগৃহীত তথ্য অনুযায়ী, সমপ্রতি আল আমল এজেন্সির নাম পরিবর্তন হয়েছে। এ এজেন্সির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে লেবানন কর্তৃপক্ষকে চিঠি দেয়া হয়েছে।

কারাগারে একদিনের একটি অনুভূতি by রিজভী আহমেদ

অনুভূতির রয়েছে বিপরীতধর্মী সত্তা, যেমন-সুখানুভূতি, দুঃখানুভূতি, ভালোমন্দের অনুভূতি, আনন্দ- বেদনার অনুভূতি। অনুভূতিকে কোয়ালিফাই  করার জন্য তার পূর্বে একটা বিশেষণ ব্যবহার করতে হয়। বন্দিশালার বাইরে বিশ্বসংসারের মতো কারাসংসারের আনন্দ-বেদনা অনুভূতি কারাবন্দিদের মধ্যেও জাগ্রত হয়। হাসি-কান্না, মনোমালিন্য, পরশ্রীকাতরতা, সহমর্মিতা সব মিলিয়েই মানব অনুভূতি কারা-সংসারে আসন পেতে বসে। কিন্তু যদি কোনো একজন বন্দির চাপাকান্নার গুমরানি অন্য একজন বন্দি অনুভব করতে পারে তাহলে তার হৃদয়ও অন্তহীন বেদনায় আচ্ছন্ন হয়ে যাবে। ২০১৬ সালের আগস্টে  গ্রেপ্তার হওয়ার পর দুই মাসের মধ্যে একদিনের একটি দুঃসহ ঘটনা আজও আমার মনকে পীড়িত ও বেদনার্ত করে, যে দিনটি ছিল কোরবানির ঈদের দিন।
অসংখ্য কয়েদি-হাজতির অপরাধ সংঘটন এবং অপরাধ সংঘটন না করেও শাস্তি হিসেবে কারাভোগের বিচিত্র গল্পও শুনেছি। সেখানে ডাকাতিসহ অন্যান্য অপরাধের অপরাধীদের পূর্ব-পরিকল্পনাসহ বাস্তবায়নের লোমহর্ষক এবং একইসঙ্গে চিত্তাকর্ষক গল্পও শুনেছি। বিভিন্ন মামলায় সাজাপ্রাপ্ত আসামির কাছ থেকে শোনা নানা ডাইভারসিফাইড অপরাধের বর্ণনা আমার এই লেখার মূল প্রতিপাদ্য নয়, বরং শিক্ষার আলোবঞ্চিত আর্থিক দুর্দশায় পীড়িত মানুষ তাদের অসহায়ত্বের কারণে কী ভয়াবহ মর্মপীড়ায় ভোগে, কোরবানির ঈদের দিন সেটির একটি দুঃসহ স্মৃতি আজও আমি ভুলতে পারি না।
রাজনৈতিক কারণে নিরবচ্ছিন্নভাবে না হলেও বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রজীবন থেকে শুরু করে এখন পর্যন্ত অনেকবার কারাগারে বন্দি জীবনযাপন করার দুর্ভাগ্যজনক সৌভাগ্য হয়েছে সেই আশির দশক থেকেই। এ কারণে লৌহ কপাটের ভেতরের অঙ্গনের সমাজ-সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচিতি লাভ করি নিবিড়ভাবে। সেই ঔপনিবেশিক আমল থেকে বয়ে আসা কারাগারে ব্যবহৃত কিছু পরিভাষার সঙ্গে পরিচয় হয়। যে পরিভাষাগুলো বিবর্তনের ধারায় খুব অল্প সংখ্যকেরই বর্তমানে পরিবর্তন হয়েছে। যেমন কেস-টেবিল, জেলার বা সুপার-ফাইল, চৌকা, মিয়া সাহেব, ফালতু, দফা, লক-আপ, ঘণ্টি ইত্যাদি। দফা বলতে এক একটি স্বতন্ত্র বিভাগ বোঝায়, যেমন- ধোপা দফা বলতে কাপড় ধোয়া ও ইস্ত্রি করা বোঝায়, চুল দফা বলতে নাপিত-এর চুল-দাড়ি কাটা বোঝায়। এভাবে নানা ধরনের দফা আছে। যেখানে বিভিন্ন দফার দায়িত্বে নিয়োজিত থাকে বন্দিরাই। বন্দিরাই কাজ করে বন্দিদের জন্য। যেখানে রান্নাবান্নার আয়োজন চলে সেটিকে বলে ‘চৌকা’। হালে দু’একটি পরিভাষার নাম পরিবর্তিত হয়েছে, যেমন-ফালতুর স্থলে সেবক, মিয়া সাহেবের স্থলে কারারক্ষী ব্যবহার করা হচ্ছে।
যেসব বন্দি জেলবিধি মোতাবেক শ্রেণিপ্রাপ্ত হন তারা কারাগারে অভিজাত শ্রেণি হিসেবে গণ্য হন। এই শ্রেণিপ্রাপ্তদের ‘ডিভিশন প্রিজনার’ বলা হয়। এই শ্রেণিপ্রাপ্ত বন্দিরা যে ভবনে থাকেন তাকে ‘ডিভিশন সেল’ বলা হয়।
গত ২০১৫ সালের জানুয়ারিতে আইনশৃৃঙ্খলা বাহিনী কর্তৃক আটক হওয়ার পর প্রায় সারা বছর কারাবন্দি থেকে ৮ই ডিসেম্বর মুক্তি লাভ করি। কারামুক্তির পর মনে হয়েছে সহসা আবার আমার গ্রেপ্তার হওয়ার সম্ভাবনা নেই। কারণ এবার প্রায় এক বছর আমাকে কারাগারে আটকে রাখা হয়। কিন্তু একটি অজ্ঞাত মামলায় আমার নাম জড়িয়ে দিয়ে আট মাস পর ২০১৬ সালের আগস্টে পুনরায় আমাকে গ্রেপ্তার করা হয়। আমার বুঝতে কষ্ট হলো না যে, সরকারের তীব্র সমালোচনা করাটাই আমার জন্য কাল হয়েছে। লম্বা সময় কারাপ্রাচীরের বাইরে থাকা আর হলো না। যাই হোক দশ দিন ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার (কেরানীগঞ্জ)-এ সূর্যমুখী ভবনের একটি নির্জন সেলে অবস্থান করার পরে আমাকে কাশিমপুর-২ কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠিয়ে দেয়া হয়। সেখানে আমার থাকার স্থান নির্ধারিত হয় সাধারণ কয়েদিদের জন্য বরাদ্দকৃত ভবন কর্ণফুলি’র একটি সেলে। দু’দিন পর অর্থাৎ কারাগারে প্রবেশ করার ১২ দিনের মাথায় আমার ডিভিশনের কাগজ আসে এবং পাশেই ডিভিশনপ্রাপ্ত বন্দিদের জন্য বরাদ্দকৃত ভবন সুরমা’তে আমাকে স্থানান্তরিত করা হয়। সুরমায় আমাকে সহযোগিতা করার জন্য সেবক দেয়া হয় মুকুল নামের একটি ছেলেকে।
মুকুল মঙ্গাকবলিত বৃহত্তর রংপুর বিভাগের লালমনিরহাট জেলার হতদরিদ্র পরিবারের সন্তান। আমার কক্ষে পরিচর্যার জন্য যাবতীয় কাজ সে সম্পাদন করতো। সেবক হিসেবে যাবতীয় কর্ম সম্পাদন করার পর আমার জন্য বরাদ্দ খবরের কাগজটি আমার পড়ার পর সে আমারই কক্ষের মেঝেতে বিছানো তার বিছানায় নিয়ে গিয়ে পড়তো। সে যে কিছুটা লেখাপড়া জানে সেটি আমি উপলব্ধি করতে পারলাম, যখন দেখলাম-সে খবরের কাগজে রাজনীতি ও খেলার খবরগুলো মনোযোগ দিয়ে পড়ার পর আমাকে ঐসব বিষয়ে নানা কথা জিজ্ঞাসা করছে। আমার কক্ষটি ছিল দৈর্ঘ্য-প্রস্থে বেশ বিস্তৃত। সেবক মুকুল ছিল সরল এবং বোকা স্বভাবের। কী জন্য তার কারাবাসের শাস্তি হয়েছে সে বিষয়ে বিশদ কিছু জানতাম না। তবে তার কথার ফাঁকে ফাঁকে বুঝতে পারতাম যে, বিবাহজনিত কোনো মামলায় তার শাস্তি হয়েছে। মুকুলের জমানো সকল টাকা তার স্ত্রী হাতিয়ে নিয়ে অন্য একজন লোকের সঙ্গে বিদেশে চম্পট দিয়েছে। এক্ষেত্রে কিভাবে তাকে ফাঁসিয়েছে সে বিষয়ে আমি কিছু জানতে পারিনি। তার নির্বুদ্ধিতার কারণেই মামলায় ফেঁসে গিয়েছে বলে আমার মনে হয়েছে। অসহায় গরিব মানুষের একটি বিপদে অসংখ্য বিপদ এসে যোগ দেয় এবং তখন সে ভাগ্যের দাসে পরিণত হয়, কোনো অবলম্বনই তখন সে খুঁজে পায় না, ফলে অতল খাদে পতনই হয় তার নিয়তি।
বহু কষ্ট করে হতদরিদ্র মুকুল কয়েক হাজার টাকা জোগাড় করে একজন উকিলকে দিয়েছিল মামলা পরিচালনার জন্য। কিন্তু উকিল সাহেব সকল টাকা পকেটস্থ করে মুকুলের সঙ্গে আর যোগাযোগ করেনি। তবে উকিল সাহেবদের কারো কারো এসমস্ত কাহিনী অশ্রুতপূর্ব নয়। এতো কিছুর পরও মুকুল কষ্টে-ক্লিষ্টে বেঁচে আছে কিন্তু মুষড়ে পড়েনি। ‘সে ভালোবাসে জীবনকে, মূল্য দেয় জীবনকে, জেলখানাতেই যেন লোকে জীবনকে আরো বেশি করে ভালোবাসে’।
গতবার সেপ্টেম্বর মাসের মাঝামাঝিতে কোরবানির ঈদের আগমন ঘটে। কারাগারেও বন্দিদের মাঝে ঈদের আনন্দময় প্রকাশ ঘটে নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে। নিয়মানুযায়ী কারাকর্তৃপক্ষ ঈদের দিন বন্দিদের পরিবারের রান্না করা খাবার ভেতরে প্রবেশের অনুমতি দিয়ে থাকেন। আমাদের মতো বন্দিদের পরিবার থেকে ঈদের দিন বিশেষ রান্না করা খাবার আসে, কিন্তু মুকুলদের মতো বন্দিদের জন্য কেউ কিছু নিয়ে আসে না।
মুকুলের দরিদ্র পিতা-মাতা সুদূর লালমনিরহাটের প্রত্যন্ত অঞ্চলে বসবাস করে। আনন্দে উৎফুল্ল হয়ে ঈদের চারদিন আগে মুকুল আমাকে জানায় যে, বাড়ি থেকে খবর এসেছে যে, তার বাবা-মা ঈদের দিন তার সঙ্গে দেখা করতে আসবে। তার কোনো কারাসঙ্গী তাকে এই খবরটি দিয়েছে। মুকুল বাবা-মা’র সঙ্গে দেখা পাওয়ার আকুলতায় অস্থির হয়ে থাকতো ঈদের দিনের অপেক্ষায়। ঈদের দিনের সকালে দেখি তার চোখে-মুখে আনন্দের ঝিলিক। প্রায় চার বছর পর বাবা-মা তার সঙ্গে দেখা করতে আসছে। ঢাকা কিংবা গাজীপুরে তার কেউ নেই। আগের দিন ঢাকায় এসে তার বাবা-মা কোথায় এসে উঠবে সেটিও সে জানে না। তাই উদ্বেগ, উৎকন্ঠা আর আনন্দে ঈদের দিনের আগের কয়েকটি দিন তার কেটেছে তীব্র প্রতীক্ষায়। ঈদের দিন সকাল ১১টার দিকে আমার স্ত্রী এবং পরিবারের কয়েকজন আমার জন্য ঈদের খাবার নিয়ে এসে কারাকার্যালয়ে দেখা করে চলে যায়। আমি আমার কক্ষে ফিরে এসে সেবক মুকুলের জন্য অপেক্ষা করতে থাকি, ঈদের খাবারগুলো অন্যান্য সহবন্দিদের মধ্যে বিতরণ করার জন্য।
ঈদের সকালে দশটার পর থেকেই মুকুলের আর পাত্তা নেই। ভাবলাম বাবা-মা’র সঙ্গে দেখা হওয়ার আবেগে সে হয়তো কারাগারের প্রধান ফটকের আশেপাশে ঘোরাফিরা করছে, কারাকর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে কখন তার ডাক আসে বাবা-মা’র সঙ্গে দেখা করার জন্য। অনেকক্ষণ অপেক্ষা করার পর বেলা ৩টার দিকে বিষণ্ন ও মলিন মুখে মুকুল আমার কক্ষে এসে হাজির। তাকে দেখেই মনে হলো হয়তো তার বাবা-মা আসতে পারেনি। আমি ঘটনা কী জিজ্ঞাসা করতেই সে হাউমাউ করে কেঁদে উঠলো। সে কান্না যেন আর থামতে চায় না। সে একটু ধাতস্থ হলে আমি বিষয়টি জানতে চাইলে সে যে যা বলেছে তা আজও ভুলতে পারিনি। বাবা-মা’র সঙ্গে ঠিকই দেখা হয়েছে মুকুলের। যেহেতু ঈদের দিন সেহেতু মুকুলের বাবা-মা ছেলেকে কারাগারে দেখতে আসার সময় পথিমধ্যে মুকুলের জন্য সামান্য কিছু খাবার কিনেছিল, কিন্তু সেদিন আবহাওয়া ছিল ভীষণ উতপ্ত ও আর্দ্র্য। অনেকক্ষণ অপেক্ষা করে যখন তার বাবা-মা মুকুলের সঙ্গে দেখা পেতে সক্ষম হয় তখন খাবারগুলো নষ্ট হয়ে গেছে। এই পচা খাবারগুলো নিয়ে বাবা-মা যখন মুকুলের সামনে হাজির হয় তখন তাদের হৃদয় ফেটে চোখ দিয়ে অঝোরে অশ্রু ঝরতে থাকে। দীর্ঘদিন পর ছেলের সঙ্গে বাবা-মা’র দেখা হওয়ার পর টাটকা খাবার ছেলের মুখে তুলে দিতে না পারার ব্যর্থতায় যে তীব্র বেদনা মুকুল লক্ষ্য করেছে সেই কষ্ট সে সামাল দিতে পারেনি। ঈদের দিনে মর্মস্পর্শী এই নিদারুণ কষ্টে মুকুলের সকল আনন্দ বিষণ্ন বেদনায় গুমরে উঠতে থাকে।