Saturday, August 8, 2015
মহাজাগতিক কেয়ামত কখন, কিভাবে? -দ্য বিগ কোয়েশ্চন by নাজমুল আহসান
এ প্রশ্নের উত্তরে বিজ্ঞান বেশ অসহায়। আমরা এখনও জানি না, আদৌ মহাবিশ্বের কি সংজ্ঞায়িত কোনো পরিসমাপ্তি ঘটবে; নাকি এটি ধীরে ধীরে লেজ গুটাবে তথা ছোট হয়ে আসবে! আমরা এখন পর্যন্ত পদার্থবিদ্যার যে জ্ঞান ধারণ করি, তাতে এতটুকু বুঝতে পারি, মহাবৈশ্বিক ধ্বংসের সম্ভাবনা কয়েকটি। বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের ইতির রহস্য উদ্ঘাটনে প্রথম সূত্র পাওয়া যায় তাপগতিবিদ্যায়। পদার্থবিজ্ঞানে তাপগতিবিদ্যা হচ্ছে রাস্তার সে ভয়ালদর্শন যাজকের মতো, যে কিনা হাতে ধরে আছে সতর্কবাণী-সংবলিত এক প্ল্যাকার্ড: ‘তাপমৃত্যু’ ধেয়ে আসছে! মহাবিশ্বের ‘তাপমৃত্যু’ নিছক কোন জ্বলন্ত নরক নয়। এটি হলো তাপমাত্রার পার্থক্যের মৃত্যু। বিষয়টি শুনতে মোটেই তেমন ভয় লাগছে না, আমি জানি। শুনতে অনেক সাধারণ মনে হলে কী হবে! জ্বলেপুড়ে অঙ্গার হয়ে যাওয়ার মতো সাধারণ কোন মৃত্যুর চেয়ে অনেক বেশি ভয়ঙ্কর এই ‘তাপমৃত্যু’।
১৯২৯ সালের দিকে আমেরিকান জ্যোতির্বিদ এডউইন হাবল বেশ শক্ত প্রমাণ পান যে, মহাবিশ্ব সমপ্রসারিত হচ্ছে। এবার আইনস্টাইন অবস্থান পরিবর্তন করেন। এর আগে তিনি বলতেন, মহাবিশ্ব স্থির। কিন্তু হাবলের প্রমাণের পর নিজের পুরোনো অবস্থানকে তিনি আখ্যায়িত করেন ‘ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় ভুল’ হিসেবে। মহাবিশ্ব যদি সমপ্রসারিত হয়, এর অর্থ এটি একসময় এখনকার চেয়ে আকারে ছোট ছিল। এ উপলব্ধি থেকেই উৎপন্ন হয় বিশ্ববিখ্যাত ‘বিগ ব্যাং থিওরি’র। এ তত্ত্ব মোতাবেক খুব ক্ষুদ্র কিছু থেকে মহাবিশ্বের যাত্রা শুরু। একসময় একটি বিস্ফোরণ তথা ‘বিগ ব্যাং’ ঘটে মহাবিশ্বে। এরপর থেকেই খুব দ্রুত এটি সমপ্রসারিত হতে শুরু করে। বিগ ব্যাং-এর ছাপ এখনও আমরা দেখতে পাই! মহাজাগতিক ক্ষুদ্রতরঙ্গ পটভূমি বিকিরণে, রেডিও তরঙ্গের একটি ধ্রুব প্রবাহ আকাশের প্রতিটা দিক থেকে আসতে থাকে। এর ফলে মহাবিশ্বের ধ্বংস ঝুলে যায় একটি মাত্র প্রশ্নের ওপর: মহাবিশ্ব কি সমপ্রসারিত হতেই থাকবে? এবং কতটা দ্রুততার সঙ্গে এটি সম্প্রসারণ অব্যাহত রাখবে? উত্তর খোঁজার চেষ্টা করা যাক।
ওপরের প্রশ্নগুলোর উত্তর নির্ভর করে কী পরিমাণ ‘উপাদান’ (যেমন, পদার্থ, আলো) মহাবিশ্বে আছে তার ওপর। বেশি উপাদান থাকার অর্থ হলো, বেশি মহাকর্ষ। আর মহাকর্ষ সমপ্রসারণকে শ্লথ করে। যতক্ষণ পর্যন্ত উপাদানের পরিমাণ একটি ‘সংকটময় সীমা’র ঊর্ধ্বে না যাবে, ততক্ষণ পর্যন্ত মহাবিশ্ব কেবল সমপ্রসারিতই হতে থাকবে। একপর্যায়ে ‘তাপমৃত্যু’ তথা বরফেই ইতি ঘটবে মহাবিশ্বের। কিন্তু যদি খুব বেশি উপাদান না থাকে, মহাবিশ্বের সমপ্রসারণ ধীরে ধীরে শ্লথ হবে, একপর্যায়ে থেমে যাবে। এক সময় মহাবিশ্ব আকারে ছোট হতে শুরু করবে। ধীরে ধীরে ছোট থেকে ছোট হতে শুরু করবে সবকিছু, উত্তপ্ত ও ঘণ হতে থাকবে। সঙ্কুচিত হতে হতে অবিশ্বাস্য রকম সঙ্কোচনে বিলীন হয়ে যাবে সবকিছু। একে বলা যেতে পারে ‘বিগ ব্যাং’-এর বিপরীত কিছু। আর একেই বলা হচ্ছে বিগ ক্রাঞ্চ- সঙ্কুচিত হতে হতে বিলীন হওয়া। বিংশ শতাব্দীর বেশিরভাগ সময়জুড়ে জ্যোতির্বিদরা নিশ্চিত ছিলেন না যে, এ সম্ভাবনাগুলোর ঠিক কোনটি ঘটতে পারে। বিগ ফ্রিজ নাকি বিগ ক্রাঞ্চ? সব বরফায়িত হবে, নাকি সঙ্কুচিত হয়ে আগুণে ধ্বংস হবে? জ্যোতির্বিদরা এ প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে মহাজাগতিক একটি গণনা পরিচালনার চেষ্টা করেন। আমাদের মহাবিশ্বে ঠিক কত বেশি ‘উপাদান’ রয়েছে, তা বের করার চেষ্টা করা হয়। এর ফলে বোঝা যাবে, উপাদান কম থাকায়, মহাবিশ্ব বরফায়িত হবে; নাকি উপাদান একটি ‘সীমা’ অতিক্রম করেও বাড়তে থাকায়, মহাবিশ্ব সঙ্কুচিত হয়ে বিলীন হবে। অবাক করা বিষয় হলো, গণনায় দেখা যায়, মহাবিশ্বে এত বেশি উপাদান যে, সেসবের পরিমাণ ‘সংকটময় সীমা’র কাছাকাছি রয়েছে। সে হিসেবে আমাদের ভাগ্য দুলছে অনিশ্চয়তার মধ্যে। আমাদের মহাবিশ্ব কি তবে শিগগিরই সঙ্কুচিত হতে শুরু করবে? বিংশ শতাব্দীর শেষের দিকে এমন অনিশ্চয়তাময় প্রশ্নের উত্তর মেলে।
১৯৯৮ সালে জ্যোতির্বিদদের দুটি প্রতিযোগী দল বিস্ময়কর এক ঘোষণা দেয়। সেটি হলো: মহাবিশ্বের সমপ্রসারণের হার বৃদ্ধি পাচ্ছে। সাধারণ কোনো পদার্থ বা শক্তি তথা উপাদান মহাবিশ্বের এমন আচরণের জন্য দায়ী হতে পারে না। মৌলিকভাবে নতুন ধরনের কোনো শক্তির প্রথম প্রমাণ পাওয়া যায় সেবার। এ নতুন ধরনের শক্তির নাম দেয়া হয় ডার্ক এনার্জি (অন্ধকার শক্তি)। অর্থাৎ, ‘উপাদান’ নয়, ডার্ক এনার্জিই হবে মহাবিশ্বের ভাগ্যনিয়ন্তা। মহাজগতে অন্য কোন কিছুর আচরণের সঙ্গেই এ অন্ধকার শক্তির আচরণের কোন মিল নেই। কিন্তু এই ডার্ক এনার্জি কী জিনিস, সেটা এখনও আমাদের কাছে অধরা। কিন্তু একটি আশ্চর্য্যজনক তথ্য হচ্ছে, মহাবিশ্বের মোট শক্তির প্রায় ৭০ শতাংশই ডার্ক এনার্জি! এবং এ হার ক্রমেই বাড়ছে।
ডার্ক এনার্জির অস্তিত্ব থাকার অর্থ হলো, যেসব উপাদানের বেশি বা কম থাকা নিয়ে আমরা এতক্ষণ উদ্বিগ্ন ছিলাম, তা আসলে ভিত্তিহীন। অর্থাৎ, উপাদানের পরিমাণ মহাবিশ্বের চূড়ান্ত পরিণতিতে কোনো ভূমিকাই রাখবে না। বরং, ডার্ক এনার্জিই পুরো মহাবিশ্বের ভাগ্যকে নিয়ন্ত্রণ করছে। এই অন্ধকার শক্তির কারণেই সবসময় বৃদ্ধি পাচ্ছে মহাবিশ্বের সমপ্রসারণ। এর ফলে বিগ ক্রাঞ্চ তথা সঙ্কুচিত হতে হতে মহাবিশ্বের ধ্বংস হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা খুবই কমে যায়। আবার এর মানে এই নয় যে, বিগ ক্রাঞ্চ যেহেতু হওয়ার সম্ভাবনা নেই, সেহেতু মহাবিশ্বের পতন হবে বরফায়িত তথা বিগ ফ্রিজের মাধ্যমেই! বরং এর অর্থ হলো, মহাবিশ্ব ধ্বংস হওয়ার আরও সম্ভাব্য কারণও আবিষ্কৃত হয়েছে। নতুন সম্ভাব্য কারণগুলোর একটির রহস্য নিহিত রয়েছে মহাজাগতিক অধ্যয়নে নয়, বরং অতিপারমাণবিক কণার মধ্যে। এটি মহাবিশ্ব ধ্বংস হওয়ার সবচেয়ে অদ্ভুতুড়ে একটি সম্ভাব্য কারণ।
কোয়ান্টাম পদার্থবিদ্যা মোতাবেক, সম্পূর্ণ খালি ভ্যাকুয়াম তথা শূন্যস্থানেও, খুবই সামান্য হলেও, কিছু না কিছু শক্তির অস্তিত্ব থাকেই। কিন্তু আবার এক ধরনের শূন্যস্থান বা ভ্যাকুয়াম আছে, যেখানে আরেকটু কম শক্তি বিদ্যমান। আপনি যদি পুরানো ভ্যাকুয়ামকে নতুন কম শক্তি সম্পন্ন ভ্যাকুয়ামের সংস্পর্শে আনেন, তাহলে পুরনো ভ্যাকুয়ামও নতুন ভ্যাকুয়ামে রূপান্তরিত হয়ে যাবে। যদি এটি সত্যি হয়ে থাকে, তাহলে পুরো মহাবিশ্ব হচ্ছে, ভয়াবহ ঠাণ্ডা ওই পানির গ্লাসের মতো। এখানে যদি কম-শক্তিসমপন্ন ভ্যাকুয়ামের বুদবুদের আবির্ভাব ঘটে, তাহলে গ্লাসের পানি তথা পুরো মহাবিশ্বের পুরো ভ্যাকুয়ামকে এই নতুন ভ্যাকুয়াম (পড়ুন আইস-নাইন) নিজের মতো বানিয়ে ফেলবে। সৌভাগ্যজনকভাবে আমরা এখনও ওই ধরনের কোনো বুদবুদের দেখা পাইনি। আবার দুর্ভাগ্য হলো, কোয়ান্টাম পদার্থবিদ্যা বলছে, যদি কম শক্তিসমপন্ন ভ্যাকুয়ামের অস্তিত্ব থেকে থাকে, তাহলে ওই ভ্যাকুয়ামের বুদবুদ মহাবিশ্বের কোথাও না কোথাও অবশ্যই আছে। যদি সত্যিই তা হয়, তাহলে আইস-নাইনের মতো নতুন ওই ভ্যাকুয়াম মহাবিশ্বের পুরনো ভ্যাকুয়ামকে নিজেতে রূপান্তরিত করে ফেলবে। এই বুদবুদ আলোর গতিতে পুরনো ভ্যাকুয়ামকে নিজেতে রূপান্তর করবে। সুতরাং, আমরা কখনই বুঝতে পারবো না যে কিছু একটা ঘটছে। ওই বুদবুদের ভেতর যা থাকবে, তা হবে আমাদের কল্পনার চেয়েও ভিন্নতর। এবং এটি আমাদের সহায়ক হবে না, নিশ্চিত থাকুন। ইলেক্ট্রন বা কোয়ার্কের মতো মৌলিক কণাগুলোর বৈশিষ্ট্য সমপূর্ণ ভিন্ন হয়ে নতুন করে রচিত হবে রসায়নের সূত্রগুলো। এমনকি এর ফলে নতুন অণু গঠন বন্ধ হয়ে যেতে পারে। এ পরিবর্তনের ফলে, মানুষ ও গ্রহগুলো তো বটেই, সব নক্ষত্রগুলোই নিজে নিজে ধ্বংস হয়ে যাবে। এ পরিবর্তনকেই বলা হচ্ছে ‘বিগ চেঞ্জ’। এ তো গেল তিনটি সম্ভাবনার কথা। বাকি আছে আরেকটি। এবং আগেরটির মতো এ সম্ভাবনার মূলেও আছে ডার্ক এনার্জি। তবে এ সম্ভাবনাটি প্রায় অসম্ভব ও দূরবর্তী। আবার একে উড়িয়েও দেয়া যায় না। ডার্ক এনার্জিকে আমরা যতটা শক্তিশালী ভাবছি, এটি বাস্তবে তার চেয়েও শক্তিশালী হতে পারে। বিগ চেঞ্জ, বিগ ফ্রিজ বা বিগ ক্রাঞ্চ - কিছুর প্রয়োজন নেই। এমনও হতে পারে, ডার্ক এনার্জি নিজেই মহাবিশ্বের ধ্বংসের কারণ হতে পারে।
ডার্ক এনার্জির একটি অদ্ভুত স্বভাব রয়েছে। মহাবিশ্ব যত সমপ্রসারিত হয়, ডার্ক এনার্জির ঘনত্ব কিন্তু ধ্রুব রয়ে যায়। অর্থাৎ ঘনত্বের কোনো নড়চড় হয় না। মহাবিশ্বের আয়তন যতই বৃদ্ধি পাক, ডার্ক এনার্জিও সে অনুপাতে বৃদ্ধি পায়। এটা অস্বাভাবিক বটে, কিন্তু পদার্থবিদ্যার কোনো সূত্র এতে লঙ্ঘিত হয় না। কিন্তু পরিস্থিতি আরও বেখাপ্পা হতে পারে। এতদিন মহাবিশ্ব সমপ্রসারণের সঙ্গে আনুপাতিক হারে ডার্ক এনার্জি বৃদ্ধি পেলেও, যদি এমন হয় যে, ডার্ক এনার্জির ঘনত্ব আরও বেশি করে বাড়ে, তাহলে কী ঘটবে? আরও সহজ করে বলি। মহাবিশ্ব যত দ্রুত সমপ্রসারিত হয়, তার চেয়েও দ্রুত যদি ডার্ক এনার্জির পরিমাণ বৃদ্ধি পেতে শুরু করে, তাহলে কী ঘটবে? নিউ হ্যাম্পশায়ারের ডার্টমাউথ কলেজের রবার্ট কাল্ডওয়েল এ ধারণাকে সামনে এনেছেন। তিনি গোটা ব্যাপারকে বর্ণনা করছেন, ‘ফ্যান্টম ডার্ক এনার্জি’ হিসেবে। এর ফলে মহাবিশ্বকে আরও কিম্ভূতকিমাকার পরিণতিই বরণ করতে হতে পারে। এখন সত্যিই যদি নতুন এই ফ্যান্টম ডার্ক এনার্জির অস্তিত্ব থেকে থাকে, তাহলে আমাদের পরিণতি হবে স্টার ওয়ার্স চলচ্চিত্রে দেখানো পথেই। সময় যত যাবে, ফ্যান্টম ডার্ক এনার্জির ঘনত্ব তত বৃদ্ধি পেতে থাকবে। এক পর্যায়ে এটিই পৃথিবীকে টুকরো টুকরো করে ফেলবে। ২০০৩ সালের একটি গবেষণায় কাল্ডওয়েল ও তার সহকর্মীরা এমন এক পরিস্থিতির বর্ণনা দিয়েছেন, যাকে তারা বলছেন ‘মহাজাগতিক কেয়ামত’। কোনো নির্দিষ্ট জিনিসের চেয়ে যখন ফ্যান্টম ডার্ক এনার্জি আরও বেশি ঘন হবে, ওই জিনসটি স্রেফ ছিন্নভিন্ন হয়ে যাবে। ফ্যান্টম ডার্ক এনার্জি প্রথমে আমাদের ছায়াপথকে (মিল্কিওয়ে) বিদীর্ণ করে ফেলবে। ফলে আমাদের সৌরজগত হবে অবারিত। ধীরে ধীরে ধ্বংস হবে সূর্য থেকে শুরু করে আমাদের গ্রহ। কয়েক মিনিটের মধ্যে পৃথিবী বিস্ফোরিত হবে। প্রতিটি অণু নিজে নিজে ধ্বংস হতে শুরু করবে। এক সেকেন্ডেরও ভগ্নাংশের মধ্যে পুরো মহাবিশ্ব নিজেই ছিন্নভিন্ন হয়ে যাবে। এ ছিন্নভিন্ন হয়ে যাওয়াকেই কাল্ডওয়েল আখ্যায়িত করেছেন ‘বিগ রিপ’ হিসেবে।
(বিবিসি অবলম্বনে)
কাল্ডওয়েলের নিজের স্বীকারোক্তি মতে, ‘বিগ রিপ’ হবে খুবই ভয়ঙ্কর। তবে ফ্যান্টম ডার্ক এনার্জি মহাবিশ্ব সম্বন্ধে আমাদের কিছু মৌলিক ধারণার (যেমন, আলোর চেয়েও দ্রুতগতিতে শক্তি ছুটতে পারে না) বিরোধী। মহাবিশ্ব সমপ্রসারণের ব্যাপারে আমাদের নিজস্ব ধারণা ও কণার পরীক্ষার ভিত্তিতে, এটা আরও বেশি সম্ভাব্য যে, আমাদের মহাবিশ্বের ধ্বংস বরফায়িত তথা ‘বিগ ফ্রিজে’র মাধ্যমেই হবে। এরপর হতে পারে বিগ চেঞ্জ ও সর্বশেষ বিগ ক্রাঞ্চ (সংকোচন)। এটি নিঃসন্দেহে ভবিষ্যতের বেদনাবিধূর চিত্র। ঠাণ্ডা শূন্যতা, এরপর ভ্যাকুয়ামের ক্ষয় এবং সর্বশেষ অস্তিত্বহীনতায় ছিটিয়ে পড়া।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
‘জীবনের ২০ বছরই কেটেছে কারাগারে’ by কাজী সুমন
দশম শ্রেণীতে পড়াকালে ছাত্রলীগের সেন্ট্রাল কমিটির সদস্য হন শাহ মোয়াজ্জেম। ১৯৫৪ সালে মেট্রিক পাস করে ভর্তি হন ঢাকা কলেজে। ওই বছরই ঢাকা কলেজের ছাত্র সংসদের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। ৫৬ সালে আইএ পাস করে ভর্তি হন জগন্নাথ কলেজে। ১৯৫৮ সালে জগন্নাথ কলেজ হতে ডিগ্রি পাসের পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমএ এবং এলএলবি পাস করেন। কলেজে পড়াকালীন ছাত্রলীগের সভাপতি আবদুল মুবিন তালুকদার তাকে নিয়ে যান নওয়াবপুর রোডে তখনকার আওয়ামী লীগের অফিসে। সেখানেই পরিচয় করিয়ে দেন বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে। এরপর তাকে গোপালগঞ্জে ছাত্রলীগের জেলা সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে পাঠানো হয়। ওই সম্মেলনে রাখা তার বক্তব্য প্রশংসিত হয়। বঙ্গবন্ধু তাকে ডেকে এনে পুরস্কৃত করেন। এরপরই বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়। পরপর দুইবার ছাত্রলীগের সভাপতি নির্বাচিত হন। মুক্তিযুদ্ধেরও অন্যতম সংগঠক ছিলেন তিনি। যুদ্ধ চলাকালীন ভারতীয় পার্লামেন্টে তার আড়াই ঘণ্টার তুমুল বক্তৃতায় কেঁপে ওঠে আইয়ুব খানের মসনদ। এরপরই জ্বালিয়ে দেয়া হয় তার মুন্সিগঞ্জের শ্রীনগর থানার দোগাছির পৈতৃক বাড়ি।
তবে কারাগারের পাশাপাশি মসনদের সঙ্গেও সখ্য ছিল শাহ মোয়াজ্জেমের। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সরকারের আমলে চিফ হুইপ, মোশতাক সরকারের মন্ত্রিসভার একাধিক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করেন। হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের মন্ত্রিসভার উপ-প্রধানমন্ত্রী ও খাদ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৭২ সালে স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম চিফ হুইপ নিযুক্ত হন শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন। ১৯৭৩ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি ফের এমপি হয়ে চিফ হুইপ হন। ১৯৭৫ সালে খোন্দকার মোশতাকের মন্ত্রিসভায় যোগ দেন। ১৯৭৬ সালে নতুন রাজনৈতিক দল ডেমোক্রেটিক লীগ প্রতিষ্ঠা করেন এবং সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন তিনি। ১৯৭৬ সালে প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান সরকারের আমলে গ্রেপ্তার হন এবং জেল থেকে বের হওয়ার পর পুনরায় ১৯৭৭ সালে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। ১৯৮৩ সালে প্রতিষ্ঠিত জনদলের তিনি অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা এবং দলের ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। ১৯৮৪ সালে তিনি মন্ত্রিসভার সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৮৬ সালে জনদল জাতীয় পার্টিতে রূপান্তরিত হলে তিনি অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা ভাইস চেয়ারম্যান ও প্রেসিডিয়ামের সদস্য নির্বাচিত হন। একই বৎসর তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৮৭ সালে তিনি জাতীয় পার্টির মহাসচিব নির্বাচিত হন। সে বছরই তিনি সরকারের উপ-প্রধান মন্ত্রী নিযুক্ত হন। ১৯৮৮ সালে তিনি পুনরায় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন এবং উপ-প্রধানমন্ত্রী ও সংসদের উপনেতা নির্বাচিত হন। ১৯৯১ সালের রংপুর পীরগঞ্জ থেকে উপ-নির্বাচনে বিপুল ভোটের ব্যবধানে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ২০০৬ সালে জাতীয় পার্টি থেকে পদত্যাগ করে যোগ দেন বিএনপিতে। বর্তমানে দলটির ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। বয়সের ভারে অনেকটা ন্যুব্জ এই নেতাও মামলার শিকার হয়েছেন দেড় ডজন। জীবনের পড়ন্ত বেলায় বিএনপিতেই থাকতে চান তিনি। দলটির বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে প্রবীণ এই রাজনীতিক বলেন, রাজনীতিতে উত্থান-পতন আছেই। আমি বিএনপিতে কোন ক্রাইসিস দেখি না। সরকারের এত অত্যাচার-নির্যাতনের পরও বিএনপি টিকে আছে। সরকারের উদ্দেশে সাবেক এই আওয়ামী লীগ নেতা বলেন, এত উন্নয়ন করলে দেশে একটি সুষ্ঠু নির্বাচন দেন। জনগণ যাকে ভোট দেবে সেই ক্ষমতায় যাবে। জেলহত্যা মামলার বিষয়ে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের ৬২ জন নেতা সাক্ষ্য দিয়েছেন। কেউ আমার বিরুদ্ধে একটি কথাও বলেননি। আর্মিদের বন্দুকের নলের মুখে আমি মোশতাকের মন্ত্রিসভায় যোগ দিয়েছিলাম। দেশের অনেক জনহিতকর কাজও করেছেন শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন। ঢাকা-মাওয়া বিশ্বরোডের তিনিই উদ্যোক্তা এবং রূপকার। তার এলাকার ৬টি কলেজ ও বেশ কয়েকটি স্কুল, মসজিদ, মন্দির, মাদরাসা, স্টেডিয়াম, হেলিপ্যাড, অসংখ্য রাস্তাঘাট, ব্রিজ কালভার্ট এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান সংস্কার এবং প্রতিষ্ঠা করেছেন। লেখালেখির জগতেও তার বিচরণ রয়েছে। জেল জীবনের প্রথম স্মৃতিকথা নিয়ে লেখেন ‘নিত্য কারাগার’। এছাড়া ‘বলেছি বলছি বলবো’, ‘ছাব্বিশ সেল’ ও ‘জেল হত্যা মামলা’, উপন্যাস ‘বিচলনে’ পাঠক মহলে বেশ প্রশংসিত হয়েছে।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
কেন মুসলিম তরুণরা চরমপন্হার দিকে ঝুঁকছে? by মীর সালমান শামিল
এবার আমার মূল আলোচনায় আসি।
কেন মুসলিম তরুণদের একটি অংশ চরমপন্হার দিকে ঝুঁকছে?
পূর্বে একটি থিওরি দেওয়া হত যে যারা চরমপন্হার দিকে ঝুঁকছে তারা নির্যাতনের শিকার। তাদের মধ্যে রয়েছে চরম দারিদ্রতা। কর্মসংস্থান নেই। নেই শিক্ষা। এজন্য তারা চরমপন্হার দিকে ঝুঁকছে। কথাটি অবশ্যই সত্য। এটা দিয়ে জেএমবি, হুজি, ভারতের গুজরাট বা কাশ্মীর এর ঘটনাগুলো বিশ্লেষণ করা যায়। কিন্তু ISIL বা হিজবুত তাহরির এর মত সংগঠন এর ব্যাপারে কি ঘটছে। আমাদের দেশে হিজবুত তাহরির যে সকল সদস্য ধরা পড়েছে তাদের মধ্যে উচ্চবিত্ত পরিবারের প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়া সন্তানও রয়েছে। ISIL এ ৯০ টিরও বেশি দেশের সদস্য রয়েছে যারা সরাসরি রণাঙ্গনে যুদ্ধ করছে। এদের মধ্যে রয়েছে ইউরোপ-অ্যামেরিকার উচ্চশিক্ষিত এবং ধনী তরুণেরাও।
একটি লক্ষ্য করার মত বিষয় বলতে গেলে সউদি আরব, মিশর বা আমাদের বাংলাদেশেরও সকল ইসলামি বিশেষজ্ঞ চরমপন্হার বিপক্ষে। তারা বলছেন ইসলাম শান্তির ধর্ম। ইসলামের নানা দিক নিয়ে অনেক গবেষণা করেছেন। এগুলো বর্ণনা করে বইও লিখেছেন প্রচুর। এছাড়া মূল ধারার সব ইসলামি দলই চরমপন্থার বিপক্ষে। তারপরও এদের বাদ দিয়ে কেন তরুণ সমাজের একটা অংশ ইসলাম সম্পর্কে ওসামা বিন লাদেনের ব্যাখ্যাকেই বেশি গ্রহণ করছেন। যিনি কিনা পেশায় একজন চার্টার্ড অ্যাকাউনটেন্ড ছিলেন।
আমাদের বেশির ভাগ ইসলামি বিশেষজ্ঞগণই তাদের বিপথগামী, তাকফিরি, খারেজী নানা সর্বনামে ডেকেই নিজেদের কাজ শেষ মনে করে বেশ আত্মতুষ্ট মনে হয়। ইসলামি দলগুলো পশ্চিমা কন্সপিরাসি থিওরি দিয়েই খালাস। পশ্চিমারা তাদের দমিয়ে রাখতেই এসব দলের জন্ম দিচ্ছে, এটা তাদের খুব সুন্দর একটি বিশ্লেষণ। আর সরকারগুলো এদের নিয়ে কঠিন ঝামেলা পোহাতে হচ্ছে। গোয়েন্দাদের দিন রাত গলদঘর্ম হতে হচ্ছে এদের ধরতে। তাদের ধরে চরম শাস্তিও দেওয়া হচ্ছে। এত কিছুর পরও সমস্যার কোন সমাধান হচ্ছে না। ইসলামি বিশেষজ্ঞগনদের নানাঅভিধা, ইসলামি দল গুলোর পশ্চিমা কন্সপিরাসি থিওরি, বা সরকারগুলোর জেল এর ভয় সবকিছুকে কাঁচ কলা দেখিয়ে একের পর এক নতুন নতুন চরমপন্থি দলের জন্ম হচ্ছে। এতে মুসলিম তরুণরাও যোগ দিচ্ছে।
কিন্তু কেন?
এই প্রশ্ন নিয়ে খোঁজাখুঁজি করে যা বুঝলাম আমাদের মধ্যে যারা এর বিরোধী তাদের মতামত মোটামুটি একই। আমেরিকা থেকে বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, মধ্যপ্রাচ্য কিংবা আফ্রিকা। বেশির ভাগই ইসলামি বিশেষজ্ঞগণদের, ইসলামি দল গুলোর সুরে বলেছেন। কেউ বলেছন তাদের মধ্যে হতাশা আছে, তারা ইসলাম সম্পর্কে পরিষ্কারভাবেকিছু জানে না। তবে কয়েকজন একটু ভিন্নভাবে বিশ্লেষণ করেন UK এর একজন বলেছেন তাদের সহজেইমিস গাইড করা সম্ভব হয়েছে। USA এর একজন বলেছেন তারা সহজেই বিখ্যাত হতে চায় তাই একটু রোমানটিসাইজ হয়ে এগুলো করছে। কোনটা কতটা ঠিক আল্লাহই ভালো জানেন।
তবে ইসলামি বিশেষজ্ঞগণদের মত এবং ইসলামি দল গুলোর মন্তব্য আমার কাছে নিজের অযোগ্যতা ঢাকার একটি চমৎকার চেষ্টা বলেই মনে হয়।
ড. তারিক রামাদান এর বিশ্লেষণ সবচেয়ে যৌক্তিক মনে হয়। তার বিশ্লেষণকে সামনে রেখে আমি ব্যাপারটার এমনভাবেই ব্যাখ্যা করতে পারি। কতটা সঠিক আল্লাহই ভালো জানেন।
মুসলিম তরুণদের চরমপন্থার দিকে ঝোঁকার কারন গুলো হল
মুসলিম দেশগুলোর রাজনৈতিক অস্থিরতা
বেশির ভাগ মুসলিমদেশই সামরিক শাসন, রাজতন্ত্রবা পোশাকি গনতন্ত্র চলছে। দেশগুলোতে স্বাধীনতা নেই। নেই মত প্রকাশের সুযোগ। সরকারগুলোইসলামের বিরোধী অনেক কাজ করছে। ইসলামপন্থীরা তোপের মুখে (মধ্য প্রাচ্যের অধিকাংশদেশেই এই সমস্যায় জর্জরিত)। অনেক ক্ষেত্রে সরকার ইসলামবিরোধীদের পৃষ্ঠপোষকতা করছে।
সন্ত্রাসবাদী ইজরাইল
ফিলিস্তিনের মুসলিমদের উচ্ছেদ করে ইজরাইলপ্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। মুসলিমরা গত ৬০-৭০ বছর ধরে তাদের প্রথম কিবলা মসজিদুল আকসারকরুন অবস্থা দেখছে। প্রতি বছর যায়নবাদী ইজরাইল ফিলিস্তিনে গনহত্যা চালায় কিন্তুকোন ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। না মুসলিম দেশগুলো না জাতিসংঘ। কেউ কোন ব্যবস্থানিচ্ছে না।
নির্যাতন
সারাবিশ্বেই মুসলিমরা সবচেয়ে বেশি নির্যাতন এর স্বীকার।কাশ্মীর, গুজরাট, আরাকান, আফগান, ইরাক, চেচনিয়া, চীন সহ সারাবিশ্বেই মুসলিমদের উপর অন্যায় অত্যাচার চলছে।
ইসলামি বিশেষজ্ঞগণ
আমার মনে হয় মুসলিম তরুণদের চরমপন্থার দিকে ঝোঁকার কারন গুলোর মধ্যে সবচেয়ে বড় কারন বর্তমান আলেমদের অবস্থান। তারা একদিকেবলেন ইসলাম শান্তির ধর্ম। ইসলামে অত্যাচার নির্যাতন নিষিদ্ধ। সত্য কথা বলতে হবে।অথচ তারা উপরের বর্ণিত তিনটি ব্যাপারে বলতে গেলে একদম নিরব। মাঝে মাঝে একটু বিবৃতিদিয়েই নিজেদের হেফাজত করছেন। তারা এই সব সামরিক শাসক এবং রাজতন্ত্র এর ব্যাপারে নিরব।তাদের কোন সমালোচনা তো করেনই না উল্টো একটা বড় অংশ তাদের তোষামোদে বাস্ত।জাজিরাতুল আরব(সইদি আরব) বা মিশরের বিখ্যাত বিখ্যাত ইসলামি বিশেষজ্ঞগন এর প্রমান।তাই এদের প্রতি তরুণ সমাজের একটা বড় অংশের শ্রদ্ধা নেই। তারা ইসলামকে জানতে অন্যকাউকে খুঁজেছ এবং পেয়ে যাচ্ছে একজন ওসামা বিন লাদেন বা আয়মান আল জাওয়াহিরিকে যারামুসলিমদের উপর হওয়া সব অবিচার এর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করছেন বলে দাবি করেন। এবং এমনবৈপ্লবিক মতবাদ পেয়ে তারা সহজেই চরমপন্থার দিকে যাচ্ছে।
ইসলামি রাজনৈতিক দলগুলোর দৈন্যদশা
এটি দ্বিতীয় প্রধান কারন। উপমহাদেশবা পূর্ব এশিয়ায় এটি বড় কারন। এই অঞ্চলের ইসলামি দলগুলো ইসলাম এর নাম নিয়ে রাজনীতিশুরু করলেই শেষ পর্যন্ত ইসলামে না থেকে প্রচলিত ক্ষমতার রাজনিতির পথেই হাঁটছেন। অনেক ক্ষেত্রে ইসলামকে নিজের ইচ্ছামত ব্যাখ্যা বা ব্যবহার করছেন ক্ষমতার রাজনিতির জন্য।তাই এদের পরিত্যাগ করে চরমপন্থার দিকে যাচ্ছে তরুণদের একটা অংশ। কিছুদিন আগে সময়টিভিতে একটি প্রতিবেদনে দেখানো হয় বর্তমান এ বাংলাদেশে বিভিন্ন জঙ্গিদল এর যারাধরা পড়েছে তারা একসময় জামাত-শিবির বা অন্য ইসলামি রাজনৈতিক দল এর সদস্য ছিল। একইঅবস্থা ইন্দোনেশিয়া, পাকিস্তানে। যে সকল দেশে ইসলামি রাজনৈতিক দলগুলো সঠিক অবস্তান ধরে রেখেছে সে সবদেশে ইসলামি জঙ্গি দল কম বা নেই বললেই চলে। যেমন মিশর, তুরুস্ক, ইরান এবংতিউনেশিয়া। এসব দেশে ইসলামি দলগুলো শত প্রতিকূলতার পরও ইসলামি চরিএ ধরে রেখেছে। তিউনেশিয়াথেকে অনেকে ISIL এযোগ দিয়েছে তবে তার কারন বাশার আল আসাদ এর অপশাসন, ইজরাইল এবং ইরাক হামলা।
সর্বশেষ কন্সপিরাসি থিওরি এবং ISIL
যদিওআমি কন্সপিরাসি থিওরি দিতে পছন্দকরি না। নিজের অযোগ্যতা ঢাকার কৌশল মনে হয়। তারপরও ISIL এর নাটকীয় উত্থান। অত্যাধুনিকঅস্ত্রের ব্যবহার। তেল এর খনি দখল এবং সেই তেল কালো বাজারে বিক্রি। এমনকি অতি দ্রুতমুদ্রা প্রচলন দেখে আমার কাছে মনে হচ্ছে অবশ্যই কিছু আছে। আরও একটি মজার ব্যাপার প্রথমে অ্যামেরিকার জনগণ নতুন যুদ্ধে জরানোর পক্ষে ছিল না। ওবামা সাহেব সমর্থন পাচ্ছিলেন নাISIL এর উপর বিমান হামলা করার। ঠিক তখনই ISIL মুণ্ড কাঁটা শুরু করলো এবং অ্যামেরিকার জনমত ঘুরে গেল যুদ্ধের পক্ষে। (সর্প হইয়া দংশন কর, ওঝা হইয়া ঝার)
ড. রামাদান এক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ কথা বলেছেন,বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে পশ্চিমাদের পাশাপাশি ভারত এবং চীনও যাচ্ছে তেল ব্যবসায়। তাদের আগমন ঠেকানো অ্যামেরিকার জন্য একটি বড় ইস্যু। অর্থাৎ এভাবে বলা যায় চীন ও ভারতের আগমন বন্ধকরা, মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সেনা এর অব্যস্থানকে জায়েজ করে আরব রাজ রাজা এবং ইজারাইলএর নিরাপওা নিশ্চিত করতে এই ISIL এর জন্ম।
লেখক- শিক্ষার্থী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
রিপাবলিকানদের প্রথম বাহাস শুরু
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
কাবুলে ট্রাক বোমা বিস্ফোরণ আত্মঘাতী হামলা
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
বউ বিয়ে দিলেন স্বামী
৪ আগস্ট ফুলচাঁদ যখন বাড়ি ফেরেন, তখন স্ত্রী চন্দা বিয়ের সময় ফুলচাঁদের দেয়া স্বর্ণের গয়না, শাড়ি তাকে ফিরিয়ে দেন। সেই সঙ্গে নিজের মুখে স্বীকার করেন সুরজ নামে এক ব্যক্তির সঙ্গে তার সম্পর্কের কথা। চন্দা জানান, বিয়ের আগে থেকেই তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। তবে বাড়ির চাপে তিনি বিয়ে করতে বাধ্য হন। ফুলচাঁদ বলেন, ঘটনা শুনে প্রথমে খুব রেগে যান, ভীষণ দুঃখও পান। তবে সব সামলে নিয়ে সিদ্ধান্ত নেন স্ত্রীকে বিয়ে দেবেন প্রেমিকের সঙ্গে। সেই মতো বাবা-মায়ের সঙ্গে কথা বলে পঞ্চায়েতের সঙ্গে রীতিমতো লড়াই করে সবাইকে রাজি করিয়ে সুরজ ও চন্দার বিয়ে দিয়েছেন ফুলচাঁদ। বিয়ে দেয়ার পর ফুলচাঁদের প্রতিক্রিয়া, ‘আমি খুশি, কারণ চন্দা আমার কাছে সবটাই সত্যি কথা বলেছে এবং আমার ওপর বিশ্বাস রেখেছে।’ শুধু তাই নয়, ফুলচাঁদ ও তার পরিবার বাড়ির সাবেক বউয়ের শান্তি ও সুখী জীবন কামনায় দুপুরের খাবার ও ‘বিদায়’-এর আয়োজনও করে।
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
বিভক্তির কবলে বিশ্বাস ৮: ‘কোথায় যেন একটা চাওয়া-পাওয়ার হিসাব’ by উৎপল রায়
রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ড. আতাউর রহমান মনে করেন, অনেক কারণেই বাংলাদেশে সিভিল সোসাইটি বা সুশীলসমাজে বিভাজন তৈরি হচ্ছে। এর মধ্যে জাতীয় ঐক্যই গঠন না হওয়াই প্রধান কারণ। তিনি বলেন, যে কোন দেশের বিভাজন, বিভক্তি দূর করতে পারে জাতীয় ঐক্য। কিন্তু দুখঃজনক হলেও সত্য আমাদের মধ্যে জাতীয় ঐক্যের অভাব রয়েছে। স্বাধীনতার চার দশক পরেও এখন পর্যন্ত আমাদের মধ্যে এ বিষয়টি সঠিকভাবে গড়ে উঠেনি। যার প্রভাব পড়ছে সিভিল সোসাইটি বা সুশীল সমাজের মধ্যেও। আর আমাদের মূল সমস্যা এখানেই। এ জন্য রাজনৈতিক দলগুলোই প্রধানত দায়ী। তিনি বলেন, আমাদের দেশে বর্তমানে সিভিল সোসাইটির ভূমিকা অত্যন্ত দুর্বল। তার কারণ বাংলাদেশে যারা রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আসে তারা নিজেদের প্রয়োজনে সুশীলসমাজকে ব্যবহার করার জন্য তাদের বিভক্ত করে ফেলে। নিজেদের স্বার্থের কারণে রাষ্ট্র পেশাদার গ্রুপকে প্রভাবিত করে। আর রাষ্ট্র যদি সামাজিক শক্তিগুলোকে মতামত প্রকাশে বাধা সৃষ্টি করে তাহলে সিভিল সোসাইটি কোন ক্ষেত্রেই ভূমিকা রাখতে পারে না। আর যেখানে সামাজিক শক্তি এবং পেশাদার গ্রুপের মধ্যে বিভাজন তৈরি হয় সেখানে সিভিল সোসাইটি মাথা তুলে দাঁড়াতে পারে না। এ ছাড়া রাষ্ট্রীয় অনুগ্রহ পাওয়ার জন্যও সিভিল সোসাইটির অনেকেই অপেক্ষায় থাকেন। ফলে রাষ্ট্র ও রাজনৈতিক দলের প্রতি তাদের অনুরক্ততা বাড়ে। স্বভাবতই এভাবেও বিভাজন ও বিভক্তি তৈরি হয়।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
জরুরি হয়ে পড়েছে এক সন্তান নীতি -বিশেষ সাক্ষাৎকারে: মোহাম্মদ আলী by শিশির মোড়ল
![]() |
| মোহাম্মদ আলী |
প্রথম আলো: জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে বাংলাদেশের সাফল্য কতখানি? এখনকার প্রধান চ্যালেঞ্জগুলো কী কী?
মোহাম্মদ আলী: স্বাধীনতার পর দেশে মোট প্রজনন হার বা টোটাল ফার্টিলিটি রেট (টিএফআর) ৬-এর বেশি ছিল। টিএফআর কমে এখন ২.২-এ দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি ব্যবহারের হারও অনেক বেড়েছে। বর্তমানে ৬৬ শতাংশ দম্পতি কোনো না কোনো পদ্ধতি ব্যবহার করছে। এগুলো বড় ধরনের সাফল্য।
তবে এখন কয়েকটি বিষয়ে জোর দেওয়ার সময় এসেছে। জন্মনিয়ন্ত্রণের স্থায়ী পদ্ধতি ব্যবহারের হার এ দেশে খুব কম। ভেসেকটমি বা লাইগেশনের মতো স্থায়ী পদ্ধতির ওপর জোর দিতে হবে। এখন এক সন্তান নীতি গ্রহণ করা জরুরি হয়ে পড়েছে। এ জন্য জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতির প্রাপ্যতা নিশ্চিত হওয়া দরকার। পাশাপাশি আচরণ পরিবর্তন এবং যোগাযোগে আরও গুরুত্ব দেওয়া জরুরি।
প্রথম আলো: জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ বা পরিবার পরিকল্পনায় দেশের সাফল্যে এসএমসির অবদান কীভাবে বর্ণনা করবেন।
মোহাম্মদ আলী: জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ ও শিশুস্বাস্থ্যে বড় অবদান রেখেছে এসএমসি। সর্বশেষ বাংলাদেশ জনমিতি ও স্বাস্থ্য জরিপে (২০১৪) দেখা গেছে, জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি গ্রহণকারীদের প্রতি তিনজনের একজন এসএমসির পণ্য ব্যবহার করে। অন্য গবেষণায় দেখা গেছে, এসএমসির সেবার ফলে ৪১ বছরে ১ কোটি ৬০ লাখ অপরিকল্পিত গর্ভধারণ থেকে সুরক্ষা দিয়েছে। একই সঙ্গে ১২ লাখ শিশুর মৃত্যু ঠেকানো সম্ভব হয়েছে। এগুলো জনসংখ্যা ও স্বাস্থ্য খাতে এসএমসির বড় অবদান।
প্রথম আলো: বাজারে এসএমসির প্রধান পণ্য কী আছে? সাধারণ মানুষের কাছে এসব পণ্য কীভাবে পৌঁছায়?
মোহাম্মদ আলী: বর্তমানে এসএমসির আটটি পণ্যের ২৩টি ব্র্যান্ড বাজারে আছে। এর মধ্যে আছে জন্মনিরোধক বড়ি, কনডম, আইইউডি, ইমপ্লান্টস, ইনজেকটেবলস, ওআরএস, সেফ ডেলিভারি কিট, স্যানিটারি ন্যাপকিন, শিশুর জন্য অণুপুষ্টি-কণাসমৃদ্ধ পাউডার ও জিঙ্ক। এসব পণ্য সাধারণত ওষুধের দোকান, মুদি দোকান ও এনজিওতে বিক্রি হয়। এ ক্ষেত্রে এসএমসির স্যানিটারি ন্যাপকিনের কথা বিশেষভাবে বলা দরকার। এর নাম ‘জয়া’। নিম্নবিত্ত বা নিম্নমধ্যবিত্তের ক্রয়ক্ষমতা মাথায় রেখে এর দাম নির্ধারণ করা হয়েছে। কিন্তু এর মান বাজারের যেকোনো উচ্চমূল্যের ন্যাপকিনের মানের সমান। অল্পদিন আগে বাজারে ছাড়লেও এর পরিচিতি ও চাহিদা ব্যাপক।
প্রথম আলো: বাজারে অনেক প্রতিষ্ঠানের একই ধরনের পণ্য আছে। কিন্তু মানুষ কেন এসএমসির পণ্যের ব্যাপারে বেশি আগ্রহী?
মোহাম্মদ আলী: ১৯৭৪ সাল থেকে এসএমসি মানুষকে কম দামে মানসম্পন্ন পণ্য সরবরাহ করে আসছে। এসএমসির সব পণ্যের দাম কম, দরিদ্র শ্রেণির ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে। এই দীর্ঘ সময়ে পণ্যের মান ঠিক রাখার ফলে এসএমসি মানুষের আস্থা অর্জন করেছে। এসএমসির যেকোনো ব্র্যান্ডের প্রতি মানুষের বিশ্বাস আছে যে, তিনি ঠকবেন না। উদাহরণ হিসেবে খাওয়ার স্যালাইন বা ওআরএসের কথা বলা যায়। বাংলাদেশের যেকোনো প্রান্তের মানুষ সাধারণ ডায়রিয়া চিকিৎসায় প্রথমেই এসএমসির স্যালাইন খোঁজে। বাজারের ৮০ শতাংশ ওআরএস এসএমসির। এটা আস্থারই পরিচয়।
প্রথম আলো: এত বড় বাজার ধরা ও মানুষের আস্থা অর্জনের পেছনের কারণ কী?
মোহাম্মদ আলী: বেশ কিছু কৌশলের কারণে এসএমসি বর্তমান অবস্থায় আসতে ও মানুষের আস্থা অর্জন করতে পেরেছে। একটি বড় বিতরণ নেটওয়ার্কের মাধ্যমে সহজে মানুষের কাছে মানসম্পন্ন পণ্য পৌঁছায়। আমাদের বাজারজাতকরণ কৌশল হচ্ছে ক্রেতাকেন্দ্রিক। ঘরের কাছের ওষুধের বা মুদি দোকানে আমাদের পণ্য পাওয়া যায়। ক্রেতারা এসএমসি ও এসএমসির পণ্যকে বিশ্বাস করে।
অন্যদিকে এসএমসির কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা দেখতে চান যে এই প্রতিষ্ঠানটি দৃঢ়ভাবে টিকে আছে। কর্মচারীরা দেখতে পান, এই প্রতিষ্ঠানের মুনাফা কেউ নিয়ে যান না, নিতে পারেন না। মুনাফা প্রতিষ্ঠানেই বিনিয়োগ করা হয়। তাই প্রতিষ্ঠানের প্রতি তাঁদের কমিটমেন্ট আছে। যুক্তরাষ্ট্রের ইউএসএআইডির মতো দাতা প্রতিষ্ঠান আমাদের সহায়তা করে চলেছে এই কারণে যে, আমরা সামাজিক বিপণনের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত হতে পেরেছি। এটা এখন নিশ্চিত যে আমরা স্বয়ংসম্পূর্ণ হতে পারব। আমাদের ব্যাপারে সরকার ও পেশাজীবীরা উচ্চ ধারণা পোষণ করেন।
প্রথম আলো: ব্যবসার পাশাপাশি মানুষের জন্য আর কী করছে এসএমসি?
মোহাম্মদ আলী: ব্যবসার পাশাপাশি এসএমসির কিছু সামাজিক কাজও আছে। যেমন, রানা প্লাজা দুর্ঘটনায় নিহত ও আহত ব্যক্তিদের অনেক পরিবারকে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে। পরিকল্পনা আছে শহর ও নগরে দরিদ্র মানুষের জন্য ক্লিনিক তৈরি করা। এসব ক্লিনিকে পরিবার পরিকল্পনা সেবা ও প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা দেওয়া হবে। এ ছাড়া রাজধানীর বাসস্ট্যান্ডগুলোতে বসার জায়গা, টয়লেট ও পানি সরবরাহের ব্যবস্থা করার পরিকল্পনা আমাদের আছে।
প্রথম আলো: পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রত্যাশা পূরণ হয়নি বা সাফল্য আসেনি—এমন কিছু কি উল্লেখ করার মতো আছে?
মোহাম্মদ আলী: ছয় মাসের বেশি বয়সী শিশুদের জন্য তৈরি করা মনি-মিক্সের (অণুপুষ্টি-কণাসমৃদ্ধ গুঁড়া খাবার) ক্ষেত্রে প্রত্যাশা পূরণ হয়নি। যেভাবে মানুষের সাড়া পাব বলে আমরা ভেবেছিলাম সেভাবে সাড়া পাইনি।
প্রথম আলো: এসএমসি ৪১ বছর পার করেছে। ভবিষ্যতের এসএমসির চেহারা আমরা কেমন দেখতে পাব?
মোহাম্মদ আলী: সামাজিক বিপণনের নীতি ও চর্চার মাধ্যমে ভবিষ্যতে এসএমসি সামাজিক ব্যবসায় বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠানে পরিণত হতে চায়। মূল উদ্দেশ্য নারী, শিশু ও পরিবারের স্বাস্থ্য ও কল্যাণে অবদান রাখা। ইতিমধ্যে ব্যবসা বৃদ্ধির বড় পরিকল্পনা করা হয়েছে। এসএমসি এন্টারপ্রাইজ লিমিটেড করা হয়েছে। এটা লাভজনক প্রতিষ্ঠান। এর মাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের পণ্য উৎপাদন বাড়ানো হচ্ছে। একটি মানসম্পন্ন ওষুধ কারখানা করার সব প্রস্তুতি শেষ হয়েছে।
অন্যদিকে এসএমসি হোল্ডিংয়ের মাধ্যমে আগের সেবা অব্যাহত রাখার পাশাপাশি সেবার পরিধি বাড়ানো হবে। এসএমসি এন্টারপ্রাইজের মুনাফা হোল্ডিংয়ে বিনিয়োগ করা হবে। ২০২০ সালের মধ্যে এসএমসির পণ্য উৎপাদনক্ষমতা অনেক বাড়বে, একই সঙ্গে সেবার পরিধিও অনেক বিস্তৃত হবে।
প্রথম আলো: আপনাকে ধন্যবাদ।
মোহাম্মদ আলী: ধন্যবাদ।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
রাজনীতি এখন মরা নদীর নাম by পীর হাবিবুর রহমান
সেই কালের ছাত্র রাজনীতি আর্দশের পথ হাঁটার কারণেই জাতীয় রাজনীতি হয়ে উঠেছিল গৌরবময়। গত তিনদশক ধরে আর্দশহীন ছাত্ররাজনীতি দিনে দিনে চাঁদাবাজি, সিট বাণিজ্য, ভর্তি বাণিজ্য, টেন্ডারবাজি, দখল বাজির বিত্তবৈভবের লোভের পথ হেঁটে অতীতের ঐতিহ্যকে করেছে কলঙ্কিত। আর এখান থেকে জাতীয় রাজনীতিতে নেতাকর্মীর অভিষেক ঘটছে না। অনেকেই রাজনীতিজীবী হয়ে উঠছেন। একসময় মানুষের কল্যাণের জন্য ছিল রাজনীতি। সেই রাজনীতিতে টাকার খেলা ও সন্ত্রাস আর দুর্নীতির ঠাঁই ছিল না। একালের রাজনীতি রাতারাতি বিত্ত বৈভব বানিয়ে ক্ষমতার আধিপত্য রাখার লোভের পথ নিয়েছে বলে মানুষেরও শ্রদ্ধার জায়গা সরে যাচ্ছে। অথচ আমাদের আর্দশবান রাজনৈতিক নেতাকর্মীর আত্মদানের মধ্য দিয়ে লেখা হয়েছে ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনের রক্তাক্ত ইতিহাস। আমাদের রাজনীতির অতীত ঐতিহ্য কতটা বর্ণময় ও ত্যাগের সেটি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের সমাপ্ত আত্মজীবনী পাঠ করলেই পাওয়া যায়। আমাদের অতীত রাজনীতির ইতিহাস '৫২-এর ভাষা আন্দোলনের পথ ধরে দীর্ঘ সংগ্রামের রক্তভেজা পথ হাঁটা উত্তাল সংগ্রামের। লাখো লাখো শহীদের রক্তগঙ্গা আর রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের আর্দশের পথে অবিচল চলা জাতির জীবনে শ্রেষ্ঠ অর্জন এনে দিয়েছে। সেটি হচ্ছে ফাঁসির মঞ্চকে আলিঙ্গন করা বাঙ্গালী জাতির মহা নায়ক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের নেতৃত্বে স্বাধীনতা সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের অভূদয়। আমাদের গণতন্ত্রের সংগ্রাম পৃথিবীর ইতিহাসে যুগে যুগে বীরত্বের মাইলফলক গাঁথা। আমাদের সেইসব রাজনৈতিক নেতাকর্মীরা হাঁসতে হাঁসতে কারাগারে দুঃসহ্য যন্ত্রণা ভোগ করতেন। দেশের মানুষ ও মাটির সঙ্গে অঙ্গীকার রক্ষার মাধ্যমে সততার ইতিহাসই রচনা করতেন নাম ছায়ায় ছায়ায় প্রজন্মকে ত্যাগের মহিমায় পথ হাঁটতে শেখাতেন। নিজেরা যেমন শ্রদ্ধা কুড়াতেন, মানুষের আস্থা অর্জনের মাধ্যমে পথ চলতেন তেমনি তাদের অনুসারিদেরও সেভাবে তৈরি করতেন। জাতির জনক বঙ্গবন্ধুই নন, গণতন্ত্রের মানসপুত্র হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী, মাজলুম জননেতা মাওলানা ভাসানী, কৃষকের বন্ধু শেরেবাংলা একে ফজলুল হক রাজনীতি করতে গিয়ে দেশ প্রেমের বর্ণাঢ্য ইতিহাস রচনা করে গেছেন। মানুষের জন্য সারাটি জীবন কল্যাণের বার্তা নিয়ে ছুটেছেন। বিত্ত বৈভব আর বেসাত সম্পদের পাহাড় গড়ে যাননি। যারা তাদের দেখেনি, যারা তাদের র্স্পশ করেনি; তারাও শ্রদ্ধা, কৃতজ্ঞতায় এখনও অবনত মস্তকে স্মরণ করেন। একালের রাজনৈতিক নেতাকর্মীরা তাদের আর্দশের উত্তরাধিকারিত্ব বহন করেন না। একালের রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের সিংহভাগ নিজেদের ক্ষমতা, ভোগ-বিলাস, অর্থবিত্ত বানাবার পথটি দেখেন। তাই রাজনীতি হারিয়েছে তার গৌরবের মুকুট। রাজনৈতিকদলগুলোতে দেখা দিয়েছে চরম বন্ধাত্ব। আর্দশবান তরুণ প্রজন্ম রাজনীতি বিমুখ হয়ে উঠছে। তরুণ প্রজন্মের ভেতরে পরিবর্তনের প্রসব বেদনা চলছে। একালের ভোগবিলাসে মত্ত বেপোরোয়া রাজনৈতিক নেতাকর্মীরা এই প্রজন্মের হৃদয়ের ভাষাও বুঝতে পারছেন না। রাজনীতিতে মেধাবী ও সৃজনশীল আর্দশবান সন্তানদের অভিষেক ঘটছে না বলে রক্তসঞ্চালন হচ্ছে না। উপর থেকে যাদের চাপিয়ে দেয়া হচ্ছে তারা তৃণমূলে গিয়ে অসুস্থ রাজনীতির দুর্বৃত্তায়ন সিন্ডিকেটের মুকুটহীন সম্রাট ভাবছে। রাজনীতির দীর্ঘ চর্চা অনুশীলনের ওরিয়েন্টেশন না থাকায় বিভেদ, তিক্ততা বাড়ছে। পর্যবেক্ষকরা মনে করেন, এই চলমান বন্ধা অসুস্থ রাজনীতির চর্চা অব্যাহত থাকলে অদূর ভবিষ্যতে মৌলবাদের উত্থান ঘটার আশঙ্কা রয়েছে। রাজনীতিকে আর্দশ নির্ভর ত্যাগের পথেই ঢেলে সাজাবার সময় কড়া নাড়ছে।
ডাকসুসহ সকল বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজ ছাত্র সংসদ নির্বাচন নিয়মিত করা না গেলে, তৃণমূল জুড়ে দলীয়ভাবে গণতন্ত্রের চর্চা চালু না হলে রাজনীতি মরা নদীর মতোই অকার্যকর হয়ে পড়বে। নদী খননের মতো রাজনীতির মরা নদীতে নাব্যতা ফিরিয়ে আনতে হলে তারুণ্যের জন্য রাজনীতির আর্দশের দুয়ার খুলে দিতে হবে। সংবিধান আইন অনুযায়ী গণতান্ত্রিক চেতনায় রাষ্ট্র পরিচালনার পাশাপাশি দুর্নীতি, সন্ত্রাসের লাগাম টেনে ধরেই ছাত্র রাজনীতিকে সেই গৌরবময় ঐতিহ্যের উত্তরাধিকারীত্বে শক্তিশালী করতে হবে। আর সেজন্য শতফুল ফুটতে দিতে হবে। মেধাবী সৃজনশীল জনপ্রিয় রাজনৈতিক কর্মী তৈরির জন্য ছাত্র সমাজের ন্যায্য অধিকার ফিরিয়ে দেয়া সময়ের দাবি। অর্থাৎ ডাকসুসহ সকল বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজ ছাত্র সংসদ নির্বাচন জরুরি। এই নির্বাচনের মাধ্যমেই টেন্ডারবাজ, চাঁদাবাজদের বিদায়ের মাধ্যমে আর্দশের পতাকাবাহী ছাত্রনেতাদের অভিষেক ঘটবে। এদের আগমনেই জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে আসবে গুনগত পরিবর্তন। রাজনীতি ফিরে পাবে জোয়ার।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
মানবসভ্যতার অগ্রযাত্রা by শহিদুল ইসলাম
গণতান্ত্রিক সমাজও অপরিবর্তনীয় কোনো সমাজ-কাঠামো নয়। আজকের গণতান্ত্রিক সমাজ এক সময় তার গণতান্ত্রিক চরিত্র হারায়। তেমনি আজকের প্রগতিশীল শিক্ষাও এক সময় তার প্রগতিশীল চরিত্র হারায়। তখন শিক্ষা অতীতের পৌনঃপুনিকতায় পর্যবসিত হয। পুরনো দর্শন, পুরনো আচার-আচরণ আঁকড়ে ধরে। শিক্ষা তখন নতুন জ্ঞান সৃষ্টিতে অক্ষম হয়ে পড়ে। শিক্ষিত শ্রেণী অর্থাৎ শিক্ষক শ্রেণীও তার প্রগতিশীল চরিত্র হারিয়ে গতানুগতিকায় গা ছেড়ে দেয়। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে শিক্ষা পলায়ন করে। পুরনো চিন্তার ভারে ন্যুব্জ শিক্ষক নতুন জ্ঞানের আবির্ভাবকে যেন ভয় করে। মেলবন্ধন ঘটে যায় পরিবর্তনবিরোধী শাসক শ্রেণীর সঙ্গে শিক্ষকদের। এ প্রসঙ্গে পাওলো ফ্রেইরির পেডাগগি অব দি অপপ্রেসড্ (Pedagogy of the Oppressed) বইটি পড়তে বলব। প্লেটো (৪২৮-২৭ খ্রিঃ পূঃ-৩৪৭ খ্রিঃপূঃ) থেকে পাওলো ফ্রেইরির শিক্ষার দর্শনের ধারাবাহিকতা প্রমাণ করে যে সমাজ বদলের ইতিহাসের সঙ্গে শিক্ষা বদলের ইতিহাস অঙ্গাঙ্গিভাবে সম্পর্কিত। শিক্ষার জন্য যেমন একটি গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থার প্রয়োজন তেমনি একটি সুষ্ঠু গণতান্ত্রিক সমাজ গড়ে তোলায় শিক্ষারও একটি বিশেষ ভূমিকা আছে।
মানবসভ্যতার অগ্রযাত্রাদুই, শিক্ষার এ প্রগতিশীল ভূমিকার জন্য অভিজ্ঞতার মূল্যায়ন ও পুনর্মূল্যায়নের এক অবিচ্ছিন্ন ধারা গড়ে তোলা জরুরি। তার ফলে ব্যক্তির ব্যাখ্যা করার ক্ষমতা বৃদ্ধি পায় এবং বিভিন্ন পদ্ধতি অনুসরণ করে তার বিষয়ে তিনি ক্রমেই পারদর্শী হয়ে ওঠেন। মানুষে মানুষে বিভেদ ও বুদ্ধিবৃত্তিক স্বাধীনতার অভাব মানবসভ্যতার অগ্রযাত্রার জন্য প্রধান বাধাই নয় শুধু এই বিভেদ ও স্বাধীনতাহীনতা একদিন হয়তো মানবজাতিকে ধ্বংস করে দিতে পারে। বৈজ্ঞানিক-প্রাযুক্তিক বিপ্লব যে দ্রুতগতিতে সমাজের রূপান্তর ঘটাচ্ছে এবং মানুষের দীর্র্ঘদিনের বিশ্বাস-অবিশ্বাস, চিন্তাচেতনাকে দ্রুততর গতিতে পরিবর্তিত করছে, তা যেমন একদিকে সম্ভাবনাময়, একই সঙ্গে তা ভয়ঙ্করও বটে। বিশেষ করে বর্তমান বিশ্বে যখন মানুষে মানুষে বৈষম্যের পাহাড় ক্রমবৃদ্ধিমান, শ্রেণী মেরুকরণ আকাশচুম্বী এবং কথা বলা ও বুদ্ধিবৃত্তিক স্বাধীনতা সাংঘাতিকভাবে খর্বিত তখন সচেতন মানুষ মানব সভ্যতার ভবিষ্যত নিয়ে দুশ্চিন্তাগ্রস্ত হয়ে পড়েছেন। বিশ শতকের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিক বিপ্লবের সুফল যদি মানুষের ঘরে ঘরে পৌঁছে দেয়া যেত, তাহলে মানুষে মানুষে বৈষম্যের দেয়ালটা ভেঙ্গে পড়ত, দু’বেলা দুমুঠো খাবারের জন্য কাউকে ভিক্ষাবৃত্তি করতে হতো না, কিংবা মেয়েদের দেহব্যবসায় নামতে হতো না, প্রতিটি মানুষের জন্য একটি করে ছোট বাড়ির ব্যবস্থা করা যেত; প্রতিটি বিদ্যালয়গামী শিশুকে স্কুলে পাঠানো সম্ভব হতো; প্রত্যন্ত অঞ্চলের সঠিক খবরটি দ্রুততম সময়ে প্রতিটি মানুষের কাছে পৌঁছে দেয়া যেত। কিন্তু ঘটেছে ঠিক এর উল্টোটি। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অভাবনীয় উন্নয়ন শ্রেণীবিভাজনকে আকাশচুম্বী করে তুলেছে এবং শাসক শ্রেণী উন্নত যোগাযোগ মাধ্যমগুলোকে নিজেদের করায়ত্ত করে ফেলেছে। অবাধ যোগাযোগ ব্যবস্থার ওপর তাদের কড়া নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছে। ফলে রাজনৈতিক কাঠামো হিসেবে গণতন্ত্র আজ ভেঙে পড়েছে, অর্থনৈতিকভাবে গণতন্ত্র আজ মানুষের মুক্তি নিশ্চিত করার ক্ষমতা হারিয়েছে; ফলে গণতন্ত্র আজ তার ‘গণ’ চরিত্র হারিয়েছে। পৃথিবীর তথাকথিত গণতান্ত্রিক দেশগুলোতে ‘সংসদ ভবন’ আজ শাসক শ্রেণীর ডিবেটিং ক্লাবে পরিণত হয়েছে।
কিন্তু পৃথিবীর সকল মানুষ দারিদ্র্য থেকে মুক্তি চায়; উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থার মাধ্যমে পৃথিবীর কোথায় কি ঘটছে মানুষ তা জানতে চায়; মানুষ আজ প্রতিটি শিশুকে স্কুলে পাঠাতে চায়; প্রতিটি মানুষের মাথার ওপর একটি ছাদের ব্যবস্থা করতে চায়; প্রতিটি মানুষ ঘরে ঘরে উন্নত চিকিৎসা ব্যবস্থা পৌঁছে দিতে চায়; প্রতিটি শিক্ষিত ব্যক্তি তার বুদ্ধিবৃত্তিক স্বাধীনতা দাবি করে ; উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও গবেষণাগুলোতে মানুষ স্বাধীনভাবে পাঠগ্রহণ ও পাঠদান এবং গবেষণার কাজে মনোনিবেশ করতে চায়। মানুষ একদিকে যেমন সন্ত্রাসবাদ, ধর্মান্ধতা ও স্বৈরতন্ত্র, বর্ণবাদ, চণ্ডবাদ (fascism) ঘৃণা করে অপর পক্ষে তারা একটি ন্যায়ভিত্তিক সমাজ কাঠামো ও বুদ্ধির স্বাধীনতা দাবি করে। বুদ্ধিবৃত্তিক স্বাধীনতা অর্থ মত প্রকাশের স্বাধীনতা। মানব সমাজের অগ্রযাত্রার জন্য একটি অপরিহার্য শর্ত। এর অর্থ মত পোষণ ও তা প্রকাশ করা, তথ্য পাওয়া এবং তা প্রচার করা, মুক্ত চিন্তার অবাধ চলাচল; নির্ভয়ে তর্কে লিপ্ত হওয়া এবং সরকারি ও আমলাতান্ত্রিক বাধা-বিপত্তির বিরুদ্ধে বুদ্ধিজীবীরা নির্ভয়ে সত্যের সন্ধান করতে পারবেন এবং সে সত্য নির্ভয়ে প্রচার করতে পারবেন, তার গ্যারান্টি চায়। স্বাধীনতাই কেবল রাজনীতি, অর্থনীতি ও সংস্কৃতিসহ জীবন ও সমাজের যাবতীয় বিষয়ে মানুষকে উপযুক্ত করে তোলে। চিন্তার স্বাধীনতাই কেবল একজন ভালো রাজনীতিবিদ, অর্থনীতিবিদ, শিক্ষক, চিত্র ও সংগীত পরিচালক, সাংবাদিক, আইনজীবীর জন্ম দিতে পারে। চিন্তা যখন বিভিন্ন ধর্মের কারাগারে বন্দি ছিল, তখন কোনো জ্ঞান-বিজ্ঞান চর্চা সম্ভব হয়নি। চিন্তার অবাধ স্বাধীনতা প্রথম যুগে গ্রিক-রোমান সভ্যতার জন্ম দিয়েছিল। বর্তমানে পশ্চিমা সভ্যতার জন্মের শুরু ইতালির রেনেসাঁ থেকে। ধর্ম-সংস্কার আন্দোলন ও শিল্প বিপ্লবের মাধ্যমে সেখানে ধর্মীয় কারাগারের প্রাচীর ভেঙে পড়ে এবং চিন্তার স্বাধীনতা পুনর্প্রতিষ্ঠা পায়। চিন্তা ও আলোচনা-সমালোচনার অবাধ স্বাধীনতা পশ্চিমা সভ্যতার উত্থানের একটি প্রধান শর্ত ছিল।
কিন্তু ‘গণতান্ত্রিক’ বলে দাবিদার উন্নত দেশগুলোতেও চিন্তার স্বাধীনতা আজ হুমকির সম্মুখে পড়েছে। সতেরো ও আঠারো শতকের ইংল্যান্ডের ক্যামব্রিজ ও অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো পৃথিবীর বিশ্ববিদ্যালয়গুলো আজ প্রতিক্রিয়ার দুর্গে পরিণত হয়েছে। গবেষণাগারগুলোতে বিশেষ উদ্দেশ্য সামনে রেখে গবেষণা পরিচালিত হচ্ছে। শিক্ষা-গবেষণায় আজ স্বাধীনতা নেই। সমাজ ও মানুষ সংক্রান্ত গবেষণা তো বটেই, প্রকৃতির গবেষণাও আজ শাসক শ্রেণীর নিয়ন্ত্রিত। গবেষণায় আজ রাষ্ট্রের তেমন ভূমিকা নেই।
তাই রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে শিক্ষা ও গবেষণায় সামান্য অর্থ বরাদ্দ করা হয়। তার দায়িত্ব আজ কতিপয় বড় কর্পোরেট ও বহুজাতিক কোম্পানির নিয়ন্ত্রণে চলে গেছে। প্রথমত, শাসক শ্রেণী; দ্বিতীয়, মুক্ত চিন্তার শত্রু; কুসংস্কারাচ্ছন্ন ও ধর্মান্ধ গণমানুষের সাংস্কৃতিক চেতনা; তৃতীয়, অর্থনীতি ও সংস্কৃতি সম্বন্ধে উদাসীন আত্মকেন্দ্রিক ভাবাদর্শ এবং একটি ক্ষুদ্র আমলাতান্ত্রিক বন্ধনে আবদ্ধ জীবাশ্মভূত কুসংস্কার এবং ভাবাদর্শিক সেন্সরশিপ, যা আমলাতন্ত্রের শক্তিশালী হাতিয়ার। এরাই আজ মানবজাতির মিত্র নয়।
লেখক : শিক্ষাবিদ ও দার্শনিক
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
বহুত্ববাদই কাশ্মীরের জন্য সর্বোত্তম পন্থা by কুলদীপ নায়ার
তখন যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল তার পবিত্রতা ছিল, ভিন্ন চিন্তার মানুষ তা ভঙ্গ করতে পারেন না। এমনকি কাশ্মীর তার স্বায়ত্তশাসনের সঙ্গে কোনো আপস করবে না, সেটা পরিষ্কার করার জন্য তারা নিজেদের রাজ্যের জন্য আলাদা সংবিধানও প্রণয়ন করেছিল। এখন সেই স্বায়ত্তশাসনকে দুর্বল করা মানে জম্মু ও কাশ্মীরের জনগণ নয়াদিল্লির ওপর যে আস্থা স্থাপন করেছিল, তার সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করা। কোনো পরিবর্তন করতে গেলে সেটা তাদেরই করতে হবে। রাজ্যটি ভারতীয় ইউনিয়নে যোগ দিয়েছিল। এখন ভারতীয় ইউনিয়ন কাশ্মীর-বিষয়ক তার ক্ষমতায় পরিবর্তন আনতে চাইলে রাজ্যের মানুষের সম্মতি ছাড়া তারা সেটা করতে পারে না।
১৯৬৫ সালের পাক-ভারত যুদ্ধের ৫০ বছর পূর্তি হয়ে গেছে। এখন পর্যন্ত এ যুদ্ধের দায় তৎকালীন পাকিস্তানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী জুলফিকার আলী ভুট্টোর ওপর বর্তানো হয়। এটা সঠিক। কারণ, তৎকালীন পাকিস্তানি প্রেসিডেন্ট জেনারেল মোহাম্মদ আইয়ুব খান এক সাক্ষাৎকারে স্বীকার করেছিলেন, তিনি শান্তি বিঘ্নিত করতে চাননি | আর এই অবস্থানের জন্য তাঁকে অস্বস্তিকর পরিস্থিতিতে পড়তে হলেও তিনি নিজের অবস্থান বজায় রাখতে বদ্ধপরিকর ছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাঁকে যুদ্ধে যেতে হয়।
ভুট্টোকে এ ব্যাপারে আমি জিজ্ঞেস করলে তিনি নিজের ভূমিকার কথা অস্বীকার করেননি। আত্মরক্ষায় তাঁর বক্তব্য হচ্ছে, তিনি ভেবেছিলেন, ভারতকে পরাজিত করতে সেটাই ছিল পাকিস্তানের জন্য সবচেয়ে মোক্ষম সময়। তিনি বলেছিলেন, ভারতের তখন হাতে গোনা কয়েকটি মাত্র অর্ডন্যান্স ফ্যাক্টরি ছিল, আর ‘মার্কিন সামরিক সহায়তার কারণে আমরা তখন এ ক্ষেত্রে ভারতের চেয়ে এগিয়ে ছিলাম।’
পাকিস্তানের অবস্থান আরও দৃঢ় করেছিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহিনীর কর্মকর্তা লে. কর্নেল বারনার্ড ই অ্যান্ডারসন। তিনি টাইমকে লেখা এক চিঠিতে ১৯৬৫ সালের অক্টোবরে বলেছিলেন, ‘এপ্রিলে আমি পাকিস্তান থেকে ফিরে আসি। আমরা সবাই জানতাম, সামনে এক যুদ্ধ হতে যাচ্ছে: পাকিস্তানিরা গ্রাউন্ড ইকুইপমেন্টগুলো যুদ্ধের ধূসর রঙে সাজাচ্ছিল, যদিও এগুলোর মূল রং ছিল হলুদ। আর তারা তাদের বিমানের জন্য সংরক্ষণ দেয়াল বানাচ্ছিল।’
১৯৬৫ সালে সেই যুদ্ধে পাকিস্তান আক্রমণ শুরু করে শত শত মুজাহিদকে কাশ্মীরে ঢুকিয়ে দিয়ে। ভারতীয় গণমাধ্যমে এই অনুপ্রবেশের খবর প্রথম ছাপা হয় ১৯৬৫ সালের ৯ আগস্ট। একই দিনে এই খবরও আসে যে পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আইয়ুব খান সে দেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার কেওয়াল সিংয়ের পরিচয়পত্র গ্রহণ করেছেন। আর সে অনুষ্ঠানে তিনি এও বলেন, ভারতের সঙ্গে সহযোগিতার সম্পর্ক আরও জোরদার করতে পাকিস্তান ভারতের প্রতিটি পদক্ষেপের প্রতিক্রিয়ায় একই পদক্ষেপ নেবে। কাশ্মীরে সেই অনুপ্রবেশের ঘটনাকে জায়েজ করতে তিনি এও বলেন, কাশ্মীরে অনুপ্রবেশ আর ভারতের অনুপ্রবেশ একই ব্যাপার নয়। স্থানীয় কাশ্মীরিরা অনুপ্রবেশকারীদের সহায়তা না করায় পাকিস্তান যে ‘বিদ্রোহ’ সৃষ্টি করতে চেয়েছিল, সেটা তারা করতে পারেনি। ফলে রেগেমেগে ভুট্টো অত্যন্ত ঘৃণার সঙ্গে তাদের শ্রমিক বলে ভর্ৎসনা করেছিলেন।
আমি যখন ভুট্টোর সাক্ষাৎকার নিয়েছিলাম, তখন তিনি বলেছিলেন, ‘একসময় সামরিক সহায়তা পাওয়ার কারণে বড় আক্রমণ করা ও অস্ত্রভান্ডারের সাপেক্ষে আমরা ভারতীয়দের চেয়ে এগিয়ে ছিলাম। ১৯৬৫ সাল পর্যন্ত সে অবস্থা বজায় ছিল। আর এখন কাশ্মীর সমস্যার সমাধান না হওয়ায় আমাদের দোষ দেওয়া হচ্ছে। আমাদের দুই দেশের মধ্যকার বিরোধ মেটানোর ক্ষেত্রে এটা জরুরি, আর সেটা শান্তিপূর্ণভাবে সমাধান না হওয়ায় আমাদের দোষারোপ করা হচ্ছে।
‘ফলে দেশাত্মবোধের প্রজ্ঞা থেকে এটা বলা ভালো, আসুন সমস্যা মিটিয়ে ফেলি, মতৈক্যে আসি, মীমাংসা করি। এটা খুব দুর্ভাগ্যজনক ব্যাপার। সে কারণে যেহেতু ১৯৬৫ সাল পর্যন্ত আমরা ভারতের চেয়ে এগিয়ে ছিলাম, সেহেতু ভেবেছিলাম, এই কথা বলে তা নৈতিকভাবে জায়েজ করা যাবে। আর ভারত আত্মনিয়ন্ত্রণে অঙ্গীকারবদ্ধ ছিল, সেই পরিস্থিতি ছিল, তাই তেমন ভাবনা আমাদের মাথায় এসেছিল। কিন্তু এখন আর সেই পরিস্থিতি নেই। আমি জানি, সেই পরিস্থিতি নেই। অন্য কারও চেয়ে আমি ভালো জানি, সেই পরিস্থিতি নেই, আর ভবিষ্যতে কোনো দিন তা আর আসবেও না।’
১৯৬৫ সালের এই যুদ্ধই ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে বিভেদের দেয়াল তুলে দেয়। তার আগ পর্যন্ত দেশ দুটির মধ্যে দূরত্ব ছিল, কিন্তু বৈরিতা ছিল না। আটারি-ওয়াগা সীমান্তে বড় যুদ্ধফটক নির্মাণ করা হয়। এর ফলে ভিসাব্যবস্থা আরও কঠিন করা হয়, এমনকি সীমান্তে যে সীমিত পরিসরে অনানুষ্ঠানিক বাণিজ্য হতো, সেটাও বন্ধ হয়ে যায়।
যারা ভারতীয় সংবিধানের ৩৭০ নম্বর অনুচ্ছেদ বাতিল করতে আন্দোলন করছে, তারা বুঝতে পারছে না, এর ফলে কাশ্মীরের ভারতে যুক্ত হওয়ার প্রশ্নটি আবার নতুন করে উঠবে। জম্মু ও কাশ্মীরের গণপরিষদ এই বিশেষ মর্যাদার ভিত্তিতেই এটি অনুমোদন করেছিল। কোনো সংশোধনী আনতে হলে সেটা রাজ্যের গণপরিষদকেই আনতে হবে। রাজ্যসভা বা লোকসভা—কেউই গণপরিষদের ক্ষমতা জবরদখল করতে পারে না। এখন নয়াদিল্লি কি আরেকটি গণপরিষদ গঠন করে রাজ্যটির মর্যাদাকে ঝুঁকির মুখে ফেলতে আগ্রহী, যেটা আবার অবৈধও বটে?
এর মধ্যে কাশ্মীরিদের মধ্যে ভিন্ন চিন্তার উদ্রেক হয়েছে। তারা চায় না ভারত বা পাকিস্তান কেউ তাদের ভাগ্যনিয়ন্তা হোক। তারা কোনটার উপযোগী, সেটা তারা নিজেরাই নির্ধারণ করতে চায়। মৌলবাদীরা সেখানে শক্তিশালী হলেও কাশ্মীরের জনগণ চায়, সেখানকার পণ্ডিতেরাও তাদের সংস্কৃতির অংশ হোক, যেটা কয়েক শতাব্দী ধরে চলে আসছিল।
জম্মু ও কাশ্মীরের বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী মুফতি মোহাম্মদ সাঈদ মধ্যপথ ধরেছেন। তিনি হিন্দু-অধ্যুষিত জম্মুকে রাজ্য পরিচালনায় অংশ নেওয়ার সুযোগ দিয়েছেন। কিন্তু এ প্রক্রিয়ায় তিনি মুসলমান-অধ্যুষিত কাশ্মীর ও হিন্দু-অধ্যুষিত জম্মুর মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করেছেন।
শেখ আবদুল্লাহর মতো বড় নেতা লাদাখসহ পুরো রাজ্যের সমর্থন পেতে তা করতে পারতেন। আজকের পাতিনেতারা বিভিন্ন সম্প্রদায়কে শান্ত করার সূত্র খুঁজতে পারেন, কিন্তু একসময় যে বহুত্ববাদী পরিবেশ সেখানে ছিল, সেটা ফিরিয়ে আনার ক্ষমতা তাদের নেই। কাশ্মীর উপত্যকায় মুসলিম মৌলবাদ শক্তিশালী হয়েছে, আর জম্মুতে হয়েছে হিন্দু মৌলবাদ। এর কারণ হচ্ছে, সুফি আদর্শ দূষিত হয়ে গেছে।
ভারতের প্রস্তাবে রাজি হওয়ার আগে শেখ তাঁর ঘনিষ্ঠ লোকদের পাকিস্তানে পাঠিয়ে দেশটির নাড়ি বোঝার চেষ্টা করেছিলেন। এরপর তিনি সিদ্ধান্তে আসেন, বহুত্ববাদই তাঁর দেশের জনগণের জন্য সবচেয়ে ভালো পন্থা। তিনি নাকি আবার এ কথাও বলেছিলেন, পাকিস্তানে মুসলমানরা সংখ্যায় অনেক বেশি, সে কারণে তিনি সেই দেশটিকে পছন্দ করেন না।
ইংরেজি থেকে অনুবাদ: প্রতীক বর্ধন
কুলদীপ নায়ার: ভারতের সাংবাদিক।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
মালয়েশিয়ার বাজার নিয়ে গোষ্ঠীর সঙ্গে বায়রার লড়াই by শরিফুল হাসান
জনশক্তি রপ্তানিকারকদের সংগঠন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্টারন্যাশনাল রিক্রুটিং এজেন্সিসের (বায়রা) নেতারা অভিযোগ করেছেন, ১০-১২ জনের একটি গোষ্ঠী চাইছে বাজার নিয়ন্ত্রণ করতে। কিন্তু সাধারণ ব্যবসায়ীরা চান, সবার জন্য উন্মুক্ত থাকুক।
দুই পক্ষের এই ‘লড়াইয়ে’ কর্মীদের খরচ বৃদ্ধির এবং প্রতারণার আশঙ্কা করছেন এই খাতের বিশেষজ্ঞরা। এদিকে নতুনভাবে কর্মী নেওয়ার আগে মালয়েশিয়ায় বিভিন্ন কারণে অবৈধ হয়ে পড়া প্রায় চার লাখ বাংলাদেশি বৈধতা চাইছেন।
বেসরকারিভাবে জনশক্তি রপ্তানির প্রক্রিয়া নিয়ে কথা বলতে আজ শনিবার রাতে ঢাকার উদ্দেশে কুয়ালালামপুর ছাড়বে মালয়েশিয়ার একটি প্রতিনিধিদল। দলটির নেতৃত্ব দেবেন ইমিগ্রেশন বিভাগের মহাপরিচালক মুস্তফা বিন ইব্রাহিম। তবে দলে শ্রম বা মানবসম্পদ মন্ত্রণালয়ের কেউ নেই। প্রতিনিধিদল রোববার প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয় ও বায়রা এবং ১১ আগস্ট প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করবে। জানা গেছে, এই সফরে কোনো চুক্তি হবে না।
জানতে চাইলে প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী নুরুল ইসলাম গতকাল প্রথম আলোকে বলেন, ‘অনেকে অনেক প্রস্তাব দিচ্ছেন। তবে আমি কোনো খারাপ প্রস্তাব বা খারাপ লোককে আমার আশপাশে ভিড়তে দেব না। প্রতিনিধিদল আসছে। আমিও চাই মালয়েশিয়ার বাজার চালু হোক। তবে এমনভাবে আমরা সব করব, যাতে একজন কর্মীও যেন প্রতারিত না হয়, কম খরচে গিয়ে মালয়েশিয়ায় কাজ পায়। এ ক্ষেত্রে নিয়োগকর্তাকেই খরচ বহন করতে হবে। আর রিক্রুটিং এজেন্সির ভূমিকা কী হবে, সেটাও আমরা নির্ধারণ করব।’
বাংলাদেশের জনশক্তি রপ্তানির অন্যতম বাজার মালয়েশিয়া ২০০৯ সালে কর্মী নেওয়া বন্ধ করে দেয়। ২০১২ সালের ২৬ নভেম্বর সরকারিভাবে কর্মী পাঠাতে দুই দেশ চুক্তি করে। এরপর মালয়েশিয়া পাঁচ বছরে পাঁচ লাখ লোক নেওয়ার আশ্বাস দিলে সারা দেশে সাড়ে ১৪ লাখ লোক নাম নিবন্ধন করেন। কিন্তু মালয়েশিয়া চাহিদাপত্র না পাঠানোয় গত আড়াই বছরে মাত্র আট হাজার কর্মী গেছেন। অথচ এই সময়ে মালয়েশিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রফেশনাল ভিসায় বিপুলসংখ্যক শ্রমিক নিয়েছে। সাগরপথে অবৈধভাবে গিয়েও অনেকে কাজ পেয়েছে। কিন্তু গত মে মাসে থাইল্যান্ডে এবং পরে মালয়েশিয়ায় গণকবর পাওয়ার পর বিশ্বজুড়ে এই মানব পাচার নিয়ে সমালোচনা হয়।
এমন পরিস্থিতিতে আবারও বাংলাদেশ থেকে বেসরকারিভাবে কর্মী নেওয়ার প্রস্তাব দেয় মালয়েশিয়া। ওই প্রস্তাবে সাড়া দিয়ে ২৩ জুন তৎকালীন প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেন মালয়েশিয়ায় যান। ২৪ জুন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী নাজিব রাজাক ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আহমাদ জাহিদ হামিদির সঙ্গে তাঁর বৈঠক হয়। পরে জাহিদি ১৫ লাখ কর্মী নেওয়ার ঘোষণা দেন।
এরপরই নতুন করে লোক আনার প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণে নিতে দুটি পক্ষ তৎপর হয়ে ওঠে। একটির নেতৃত্বে আছেন বাংলাদেশ থেকে যাওয়া মালয়েশীয় নাগরিক ব্যবসায়ী মোহাম্মদ আমিন বিন আবদুল নূর। বায়রার অভিযোগ, তাঁর সঙ্গে রয়েছে জনশক্তি রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান ক্যাথারসিস ইন্টারন্যাশনালসহ ১০-১২টি প্রতিষ্ঠান। এরা কয়েকবার সাবেক প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকও করে। মালয়েশিয়ার সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আজমি খালিদ, শ্রম বিভাগের সাবেক পরিচালক টেংকু ওমরসহ আরও কয়েকজন প্রভাবশালী এই পক্ষে আছেন।
বায়রা বলেছে, মোহাম্মদ আমিনের প্রতিষ্ঠান বেসটিনেট এবং মালয়েশিয়ান ফরেন ওয়ার্কার্স সেন্ট্রালাইজড ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমের (এফডব্লিউসিএমএস) বিরুদ্ধে এই বছর নেপাল ও ইন্দোনেশিয়ায় বিক্ষোভ হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি ট্রাভেল পারমিট দেওয়ার কাজ পাওয়ার পর মালয়েশিয়া থেকে একজন বাংলাদেশির দেশে ফিরতে চার গুণ বেশি খরচ হচ্ছে।
অন্যদিকে প্রক্রিয়াটি নিয়ন্ত্রণে নিতে বায়রা মালয়েশীয় নাগরিক আরেক বাংলাদেশি ব্যবসায়ী আবু হানিফকে তাঁদের বৈদেশিক প্রতিনিধি মনোনীত করে। হানিফের সঙ্গে মালয়েশিয়ার একজন মন্ত্রীসহ ঊর্ধ্বতন ব্যক্তিদের ঘনিষ্ঠতা আছে। হানিফের প্রতিষ্ঠান রিয়াল নেটে স্বরাষ্ট্র অধিদপ্তরের (কেডিএন) সাবেক মহাপরিচালক রাজা আজহার বিন আবদুল মানাফ ও একজন মন্ত্রীর কয়েকজন আত্মীয় পরিচালক হিসেবে আছেন। হানিফ ২৫ জুন বায়রার সভাপতি আবুল বাসার, মহাসচিব মনসুর আহমেদ কালাম ও জ্যেষ্ঠ সভাপতি আলী হায়দারকে নিয়ে দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেন।
জনশক্তি রপ্তানিকারকেরা বলছেন, বাংলাদেশে প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রী বদল হওয়ায় কিছুটা দুর্বল হয়ে পড়ে মোহাম্মদ আমিন পক্ষ। অন্যদিকে হামিদি মালয়েশিয়ার উপপ্রধানমন্ত্রী হওয়ায় অপর পক্ষের অবস্থান শক্ত হয়েছে। গতকাল শুক্রবার রাতে আবু হানিফের নেতৃত্বে রিয়েল নেটের পাঁচ সদস্যের প্রতিনিধি দল ঢাকায় এসেছে। দলের সদস্যরা আজ (শনিবার) দুপুরে কর্মী নিয়োগের বিষয়ে তাঁদের ওয়ার্ক ফোর্স ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড মনিটরিং সিস্টেমের প্রস্তাব মন্ত্রণালয়ে উপস্থাপন করবে। এর আগে বুধবার মোহাম্মদ আমিন, ক্যাথারসিসের মালিক রুহুল আমিনসহ কয়েকজন প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করেন।
রুহুল আমিন গতকাল প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমরা চাই কম খরচে লোকজন মালয়েশিয়া যাক। এ কারণে বেসটিনেটের এফডব্লিউসিএমএস প্রস্তাব নতুন মন্ত্রীকে বলেছি। আমরা মালয়েশিয়ার নতুন উপপ্রধানমন্ত্রীর একটি ধন্যবাদ চিঠিও তাঁকে পৌঁছে দিয়েছি। বায়রার সঙ্গে আমাদের কোনো দ্বন্দ্ব নেই। কিন্তু আমরা শুনেছি, বায়রা মালয়েশিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে ৫০ হাজার লোক পাঠানোর অনুমতি চেয়েছে। তারা কীভাবে লোক পাঠানোর অনুমতি চায়?’
তবে বায়রার সভাপতি আবুল বাসার বলেন, ‘আমরা মালয়েশিয়ার বাজার খুলতে এত দিন চেষ্টা করছি। আমরা দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করেছি। আমরা চাই, সবাই ব্যবসা করবে। কিন্তু আমিনরা সিন্ডিকেট করে ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করতে চাইছেন। আমরা তা হতে দেব না। প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রীও বলেছেন, কোনো সিন্ডিকেট হবে না।’
অভিবাসীদের নিয়ে কাজ করা সংগঠন কারাম এশিয়ার আঞ্চলিক সমন্বয়ক হারুন আল রশিদ বলেন, ‘এর আগে যতবার মালয়েশিয়া বাংলাদেশ থেকে শ্রমিক নিয়েছে, ততবারই দুই দেশের একটি চক্র দুর্নীতিতে জড়িয়েছে। এবারও প্রভাবশালী ব্যক্তিরা মাঠে নেমেছেন। লোক আনার কাজ শ্রম ও মানবসম্পদ মন্ত্রণালয়ের হলেও স্বরাষ্ট্রের আগ্রহই বেশি। বাংলাদেশের এ ব্যাপারে সতর্ক হওয়া উচিত।’
এদিকে মালয়েশিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নতুন কর্মী আনার আগে অবৈধ শ্রমিকদের ফেরত পাঠানোর ঘোষণা দেওয়ায় অবৈধ হয়ে পড়া প্রায় চার লাখ বাংলাদেশি এখন চরম আতঙ্কে আছেন। কুয়ালালামপুরে নোয়াখালীর গোলাম রাব্বানী, চাঁদপুরের শাহজালাল, নরসিংদীর জাহাঙ্গীর আলম ও মুন্সিগঞ্জের শহীদ হোসেনসহ আরও অনেকে জানান, মালয়েশিয়ার যদি সত্যিই কর্মী লাগে, তাহলে নতুন কর্মী আনার বাণিজ্য না করে চার লাখ অবৈধকে বৈধ করুক।
তবে মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশের হাইকমিশনার শহীদুল ইসলাম বলেন, ‘এ মুহূর্তে চাইলেও অবৈধদের বৈধ করার নতুন প্রস্তাব বাংলাদেশ দিতে পারে না। তবে একবারেই সব লোককে ফেরত পাঠানো হবে না। নতুনরা আসবেন, অবৈধরা ফেরত যাবেন।’ নতুন কর্মী আনার প্রক্রিয়া কী হবে, জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমরা চাই, লোকজন যেন প্রতারিত না হন।’
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
এক যুবকের চোখে শত মানুষের কান্না
![]() |
| নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার পঞ্চমীঘাট এলাকায় জমি দখলের প্রতিবাদ করায় র্যা বের সাজানো মামলায় গ্রেপ্তার সোহেল মাহমুদের মা আমেনা বেগমের আহাজারি। ছবিটি গত বুধবার সকালে তোলা l প্রথম আলো |
শেষ পর্যন্ত আজাদের প্রতিবাদ কানে তুলেছে রাষ্ট্র। গতকাল তাঁকে ডেকে নিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মুখ্য সচিব আবুল কালাম আজাদ তাঁর কথা শুনতে চেয়েছেন।
গ্রামে জমিজমার ‘তুচ্ছ সমস্যা’ নিয়ে আজাদ কেন প্রধানমন্ত্রীর দুয়ারে কড়া নাড়ার সাহস দেখিয়েছেন, তা খুঁজতে গিয়ে বেরিয়ে এসেছে গুরুতর সব অভিযোগ। উপজেলার সাদিপুর ইউনিয়নের পঞ্চমীঘাট বাজারের পাশে নানাখী মৌজায় মেট্রো গার্মেন্টস অ্যান্ড ডাইং নামের একটি কারখানা করছেন নারায়ণগঞ্জের ব্যবসায়ী অমল পোদ্দার। অভিযোগ উঠেছে, তিনি ওই কারখানার জন্য এক বছর ধরে এলাকার নিরীহ মানুষের ফসলি জমি জোর করে কিনে নিচ্ছেন। বিক্রি করতে রাজি না হলে বালু ফেলে দখল করছেন।
গ্রামবাসী অভিযোগ করেছেন, ইতিমধ্যে ২১ জন বাসিন্দার ৩৪ বিঘা জমি দখল করা হয়েছে। ৩৫ জনকে কিছু টাকা হাতে ধরিয়ে জমি নিয়ে এলাকা থেকে বিদায় করে দেওয়া হয়েছে। এখনো অনেককে জমি, বসতবাড়ি ছেড়ে চলে যাওয়ার হুমকি দেওয়া হচ্ছে।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, এ কাজে কারখানার মালিককে সহায়তা করছেন স্থানীয় আওয়ামী লীেগর অঙ্গসংগঠনের কিছু নেতা-কর্মী এবং র্যা বের কয়েকজন সদস্য। জমি বিক্রি করতে রাজি হননি এমন কয়েকটি পরিবারের সদস্যকে র্যা ব গ্রেপ্তার করে মাদক রাখা ও বিক্রির অভিযোগ এনে মামলা করেছে। স্থানীয় প্রশাসনের কাছে গিয়ে ভুক্তভোগীরা কোনো প্রতিকার পাননি। শেষ পর্যন্ত গত রোববার আজাদ নামের যুবকটি এসে দাঁড়িয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর দুয়ারে। সেটা করতে গিয়েও হয়রানির শিকার হয়েছে আজাদের পরিবার।
‘প্রধানমন্ত্রীর কাছে ন্যায়বিচার চাইতে গিয়ে উল্টো র্যা বের হাতে নির্যাতনের শিকার হলাম। সাজানো মামলায় গ্রেপ্তার করা হলো চাচাতো ভাইকে। আমরা এখন কোথায় যাব?’ চোখের পানি মুছতে মুছতে গত বুধবার প্রথম আলোর কাছে প্রশ্ন রাখলেন আজাদ।
আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘ঢাকায় প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করে বাড়ি ফেরার এক ঘণ্টা পর রোববার রাত আটটায় র্যা ব-১১-এর সদস্যরা পঞ্চমীঘাট বাজার থেকে আমার চাচাতো ভাই কলেজছাত্র সোহেল মাহমুদকে আটক করেন। তারপর তাঁকে সঙ্গে নিয়ে আমাদের বাড়িতে অভিযান চালান। তাঁরা আমাদের ও আমার চাচার ঘরের (সোহেল মাহমুদের ঘর) আসবাবপত্র তছনছ করেন। আমি প্রতিবাদ করলে আমার শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করেন। আমার মা ও চাচি এগিয়ে আসলে তাঁদেরও মারধর করেন।’ আজাদ বলেন, এরপর সোহেলকে র্যা ব-১১-এর কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। তাঁর কাছে ৩৭০টি ইয়াবা বড়ি পাওয়া গেছে এবং তিনি মাদক ব্যবসায়ী দাবি করে পরদিন র্যা ব-১১-এর উপপরিচালক (ডিডি) মাসুদুর রহমান বাদী হয়ে থানায় মামলা করেন। পরে তাঁকে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
সোহেল মাহমুদের বাবা স্থানীয় পঞ্চমীঘাট উচ্চবিদ্যালয়ের সাবেক কর্মচারী নূরুদ্দিন মিয়া বলেন, ‘আমাদের ও গ্রামবাসীর জমি জবরদখলের প্রতিবাদ করায় র্যা ব কারখানার মালিকের পক্ষ নিয়ে আমাদের ওপর নির্যাতন চালায়। আমার ছেলেকে মাদকের মিথ্যা মামলা দিয়ে গ্রেপ্তার করেছে।’
সরেজমিনে গিয়ে গ্রামের আরও দুজনের কাছ থেকে র্যা বের বিরুদ্ধে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ দুজনের বিরুদ্ধেও মাদকের মামলা দেওয়া হয়েছে। তাঁরা আরও অভিযোগ করেন, তাঁদের জমিও দখল করার চেষ্টা করছেন কারখানার মালিক।
এঁদের একজন সোনারগাঁ উপজেলা মহিলা দলের সাংগঠনিক সম্পাদক জাহানারা বেগম বলেন, ‘আমাদের প্রতিবেশী জামাল হোসেনসহ কয়েকজনের জমি দখল করে নেওয়ায় আমি প্রতিবাদ করি। গত ২৬ ডিসেম্বর র্যা ব সদস্যরা আমার বাড়িতে এসে আমাকে ও জামাল হোসেনকে গ্রেপ্তার করে র্যা ব কার্যালয়ে নিয়ে যান। পরদিন আমাদের দুজনকে মাদক ব্যবসায়ী উল্লেখ করে এবং ৪৫টি ইয়াবা বড়ি পাওয়া গেছে দাবি করে মামলা করেন। র্যা ব-১১-এর ডিএডি নজরুল ইসলাম মামলার বাদী। দীর্ঘদিন কারাগারে থেকে তারপর আমরা জামিন পাই। গ্রেপ্তারের সময় আমাদের ঘরের আসবাবপত্র তছনছ করা হয়, পরিবারের অন্য সদস্যদের মারধর করা হয়।’
সাদিপুর ইউনিয়নের সংরক্ষিত ওয়ার্ডের সদস্য রোকসানা আক্তার প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমি আওয়ামী লীগের রাজনীতি করি। কিন্তু মহিলা দলের নেত্রীসহ যাঁদের গ্রেপ্তার করে র্যা ব মাদক ব্যবসায়ী বলেছে, তাঁরা সবাই মাদকবিরোধী মানুষ। জমি দখলের প্রতিবাদ করায় সাজানো মামলায় তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে।’
সাদিপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের কোষাধ্যক্ষ আবদুর রশিদ প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমাদের দলের কিছু লোকজনকে নিয়ে র্যা বের সহযোগিতায় কারখানা কর্তৃপক্ষ গ্রামবাসীর জমি দখল করে আসছে। র্যা ব যাঁদের মাদক ব্যবসায়ী উল্লেখ করে গ্রেপ্তার করেছে, তাঁদের সবার পরিবারের জমি ওই কারখানার মালিক দখল করেছেন। প্রতিবাদ করার কারণেই গ্রেপ্তার করে মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়েছে।’
ইউপি চেয়ারম্যান আবদুর রশিদ জানান, কারখানার মালিক অমল পোদ্দার ও র্যা বের হয়রানি বন্ধের দাবি জানিয়ে তিনি গত বুধবার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর লিখিত আবেদন করেছেন।
সাদিপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি কামরুজ্জামান বলেন, এ কারখানা মালিকের জবরদখলের অত্যাচারে দলমত-নির্বিশেষে এলাকাবাসী অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে।
ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেন, কারখানার ভেতরে বালু ভরাটকাজের ঠিকাদারি করছেন নারায়ণগঞ্জের আলোচিত সাত খুন মামলার প্রধান আসামি নূর হোসেনের ছোট ভাই নুরুজ্জামান, উপজেলা যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আমিনুল ইসলাম, সাদিপুর ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক সদস্য জাকির হোসেন প্রমুখ। নুরুজ্জামান ও আমিনুল ইসলাম ঘনিষ্ঠ বন্ধু।
আমিনুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমরা কারখানার বালু ভরাট কাজের ঠিকাদারি পেয়েছি। কিন্তু জমিগুলো কেনা হয়েছে কি না, তা আমাদের জানা নেই। আমরা কোনো রকম দখলের সঙ্গে জড়িত নই।’
নুরুজ্জামান প্রথম আলোকে বলেন, ‘ওখানে মাটি ভরাট হচ্ছে, এটা জানি। তবে আমি ওই কাজের ঠিকাদার না। এর সঙ্গে কোনোভাবে যুক্তও না।’
সরেজমিন: ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কাঁচপুর সেতু পেরিয়ে সোনারগাঁয়ের দিকে অন্তত পাঁচ কিলোমিটার যাওয়ার পর মদনপুর বাসস্ট্যান্ড। সেখান থেকে বাঁয়ে আরও ছয়-সাত কিলোমিটার সরু সড়ক ধরে এগোলে নানাখী গ্রাম। সেখানে মেট্রো গার্মেন্টস অ্যান্ড ডাইং নামের কারখানার জন্য বিশাল এলাকা বালু দিয়ে ভরাট করা হচ্ছে। ভরাট হওয়া জমি দক্ষিণ ও পশ্চিমে ১০ ফুটের মতো উঁচু পাকা দেয়াল দিয়ে, পূর্ব ও উত্তরে টিনের বেড়া দিয়ে ঘেরা। জমির পূর্ব দিকে পঞ্চমীঘাট বাজার। গ্রামসংলগ্ন ব্রহ্মপুত্র নদে ড্রেজারযন্ত্র বসিয়ে সেখান থেকে অন্তত ৬০০ ফুট পূর্ব দিকে পাইপের মাধ্যমে বালু এনে জমি ভরাট করা হচ্ছে। ভরাট হওয়া জমিতে আগের বাসিন্দাদের লাগানো কিছু আমগাছ দেখা গেল।
![]() |
| আবুল কালাম আজাদ |
গ্রামের বাসিন্দারা দাবি করেন, ইতিমধ্যে ৩৫টি পরিবারের জমি নামমাত্র মূল্যে রেজিস্ট্রি করে নেওয়া হয়েছে। এঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন নানাখী গ্রামের গিয়াসউদ্দিন, মোস্তফা মিয়া, ইউনুস আলী, সালামত মিয়া, ইব্রাহিম মিয়া, ফিরোজ হোসেন, ইউনুস আলী, দৌলরদী গ্রামের মোতালেব ভূঁইয়া, সোবহান ভূঁইয়া, আবদুল বাতেন, জব্বার ভূঁইয়া, সাদত আলী প্রমুখ।
যে ২১ জনের জমি দখল করার অভিযোগ উঠেছে, তাঁরা হলেন ইতিমধ্যে আলোচিত আবুল কালাম আজাদ ও তাঁর চাচা, গ্রামের আবদুল হাকিম, বারেক মিয়া, কাশেম আলী, নুরুল ইসলাম, আবদুল খালেক, ঢাকার ব্যবসায়ী আবুল বাদশা, আসন আলী, হযরত আলী, সালামত মিয়া, নবী উল্লাহ, গিয়াস উদ্দিন, রহমান মিয়া, তাওলাদ হোসেন, দুলাল মিয়া, নুরুল ইসলাম প্রমুখ।
হাকিম আলী বলেন, ‘আমার পাঁচ বিঘা জমি বালু ফেলে দখল করা হয়েছে। চাপে পড়ে আমি দুই বিঘা জমি বিক্রি করে দিয়েছি।’
মামলা-হামলার ভয়েও অনেকে কম মূল্যে জমি বিক্রি করে দিতে বাধ্য হয়েছেন। দখলের প্রতিবাদ করায় গত দুই বছরে ১৬ জনকে পিটিয়ে আহত করা হয়েছে। আহত ব্যক্তিরা হলেন নানাখী গ্রামের হেকিম আলী, তাঁর স্ত্রী আনোয়ারা বেগম, ছেলে ইসলাম মিয়া ও তাঁর স্ত্রী রাহিমা বেগম, কৃষক ইমান আলী ও তাঁর স্ত্রী আমেনা বেগম, নুরুল ইসলাম, আবদুল হালিম, আলমগীর মিয়া, জয়নব আলী প্রমুখ। আহত হাকিম আলী অভিযোগ করে বলেন, নির্যাতনের পর মামলা করতে গেলেও পুলিশ মামলা নেয়নি।
ভুক্তভোগীরা দাবি করেন, গত ছয় মাসে একাধিকবার লিখিত ও মৌখিকভাবে বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও থানা-পুলিশকে জানানো হয়েছে। কিন্তু কোনো প্রতিকার পাওয়া যায়নি। সর্বশেষ গত শনিবার এলাকাবাসী বিক্ষোভ মিছিল করেন। পরদিন রোববার আবুল কালাম আজাদ প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন গণভবনের পাশে ‘ন্যায়বিচার চাই’ প্ল্যাকার্ড বুকে নিয়ে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করার চেষ্টা করেন।
কারখানাটির দেখভালের দায়িত্বে আছেন ব্যবসায়ী অমল পোদ্দারের ভাতিজা বাপ্পী পোদ্দার। অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা কারও জমি জোরপূর্বক দখল করিনি। বাজারমূল্য দিয়ে জমি কিনে কারখানা করছি। ইতিমধ্যে আমরা প্রায় ৪০ বিঘা জমি কিনেছি। অনেক কৃষকের জমি কেনার জন্য অগ্রিম হিসেবে বায়নার টাকা পরিশোধ করেছি।’
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ব্যবসায়ী অমল পোদ্দার গতকাল রাতে প্রথম আলোকে বলেন, ‘আজাদের বাবা আবদুল খালেকের কাছ থেকে পাঁচ লাখ টাকায় ১৫ শতাংশ জমি কিনেছি।’
কিন্তু আজাদের বাবা অভিযোগ করেন, তিনি সাড়ে ১৫ শতক জমির জন্য ২৩ লাখ ৫০ হাজার টাকায় বায়না করেন। বায়না চুক্তি করা হয় পাঁচ লাখ টাকার। এর মধ্যে তাঁকে চার লাখ টাকা দেওয়া হয়। বাকি এক লাখ টাকা আর দেননি অমল পোদ্দার। কিন্তু তাঁর সাড়ে ৩৬ শতাংশ জমি বালু ফেলে দখল করে নেওয়া হয়েছে। তাঁদের মোট ৬০ শতাংশ জমি আছে।
![]() |
| সোনারগাঁ উপজেলার নানাখী গ্রামে এই জায়গা দখল করে একটি শিল্পকারখানা গড়ে তোলা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন গ্রামের লোকজন। গত মঙ্গলবার তোলা ছবি l প্রথম আলো |
অমল পোদ্দার দাবি করেন, তিনি বা তাঁর লোক বাড়িঘর ছেড়ে যেতে কাউকে হুমকি-ধমকি দেননি। জমি ভরাটের কাজ না পেয়ে এঁরা তাঁর বিরুদ্ধে জমি দখলের অভিযোগ তুলছেন। তিনি বলেন, ‘কেউ যদি প্রমাণ করতে পারেন, আমি অন্যের জমি ভরাট করেছি, তাহলে সরকার যে শাস্তি দেবে, তা মাথা পেতে নেব।’
জমি দখলের জন্য র্যা বকে ব্যবহারের অভিযোগের বিষয়ে অমল পোদ্দার বলেন, ‘এ বিষয়ে আমি কিছু জানি না। এ বিষয়ে র্যা ব ও এর সিও (পরিচালক) ভালো বলতে পারবেন।’
র্যা ব-১১-এর পরিচালক লে. কর্নেল আনোয়ার লতিফ খান প্রথম আলোকে বলেন, ‘সোহেল নামে একজন যার কাছে ইয়াবা থাকার তথ্য ছিল, তাকে ধরতে র্যা ব অভিযান চালায়। আজাদ কী বলেছে, তা আমরা জানি না। আমার সঙ্গেও আজাদের কোনো কথা হয়নি।’
তবে সোনারগাঁ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মঞ্জুর কাদের বুধবার প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমি জানতে পেরেছি, যাকে (সোহেল) র্যা ব গ্রেপ্তার করেছে, তাদের পরিবারের জমি কারখানার মালিক দখল করেছে। মামলাটির তদন্ত হচ্ছে। তদন্তের পর জানা যাবে, সে মাদক ব্যবসায়ী কি না।’ তিনি বলেন, ‘আমি এখানে নতুন। এর আগে কারখানা কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ করা হয়েছে কি না, আমার জানা নেই।’
অমল পোদ্দার জানান, নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক আনিছুর রহমান মিঞা গত বুধবার তাঁকে ডেকে বালু ভরাট বন্ধ রাখার জন্য বলেছেন। এ কারণে ভরাটকাজ বন্ধ রয়েছে।
নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক বুধবার প্রথম আলোকে বলেছেন, বিষয়টি নিয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ অনুযায়ী র্যা ব সদস্যরা কোনো অন্যায়ে যুক্ত থাকলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সরকারের কাছে অনুরোধ করা হবে বলে জানান তিনি।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
অচল যন্ত্রপাতি নানা কারসাজি by ফরিদ উদ্দিন আহমেদ
শুধু যন্ত্রপাতিই নয়, হাসপাতালটির মেডিসিন ভবনটি বয়সের ভারে এখন অনেকটাই ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। যে কোন সময় দুর্ঘটনার আশঙ্কায় ভয়ের মধ্যে থাকতে হয় রোগীদের। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ দেড়শ’ বছরের পুরনো এ ভবনটিকে ঝুঁকিপূর্ণ ভবন হিসেবে চিহ্নিত করেছে। এ ব্যাপারে স্থাপত্য অধিদপ্তরের মাধ্যমে নতুন ভবন তৈরির নকশা তৈরির প্রক্রিয়াও চলছে বলে জানা গেছে। ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ এবং দুর্ঘটনার সম্ভাবনার কথা স্বীকার করে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এ বিষয়ে মন্ত্রণালয়কে জানানো হয়েছে। সরকার ইতিবাচক। বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন বলে হাসপাতালের দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা উল্লেখ করেন।
প্যাথলজি বিভাগের যন্ত্রপাতি কখনও সচল কখনও অচল: হাসপাতালের এক্স-রে মেশিনসহ অন্যান্য সব মেশিন ডিজিটাল হলেও সেগুলো অনেক আগের। এর মধ্যে কিছু কিছু যন্ত্রাংশ মাঝে মাঝে নষ্ট থাকে। অভিযোগ আছে, হাসপাতালের বেশির ভাগ চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসাসেবার নামে হাসপাতালের বাইরের প্যাথলজিক্যাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার এবং প্রাইভেট ক্লিনিক ও হাসপাতালগুলোয় রোগীদের রেফার করেন। অনুসন্ধানে জানা গেছে, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা ওই প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে মোটা অঙ্কের কমিশন পেয়ে থাকেন। হাসপাতালে সরকারি খরচে এমআরআই পরীক্ষা করাতে খরচ হয় আড়াই থেকে তিন হাজার টাকা। একই পরীক্ষা বেসরকারি কোন প্রতিষ্ঠানে করালে খরচ পড়ে ১০ থেকে ১২ হাজার টাকা। হাসপাতালের এমআরআই মেশিনটি বছরে পর বছর ধরে নষ্ট থাকে বলে কর্মচারীরা জানিয়েছেন। বর্তমানে সিটিস্ক্যান ও ক্যাথল্যাব মেশিনটিও বিকল। অনুসন্ধানে দেখা গেছে, ইটিটি বছরের পর বছর বন্ধ থাকে। ইকো মেশিন কখনও সচল কখনও অচল। এনজিওগ্রামের যন্ত্র বিকল হয়ে পড়ে আছে। সিটি এমআরআই, সিটিস্কেন মেশিনও নষ্ট। ফলে রোগীকে বাইরে থেকে বাড়তি টাকায় এসব টেস্ট করতে হচ্ছে।
সূত্র জানায়, সরকারি হাসপাতাল হওয়া সত্ত্বেও কর্তৃপক্ষের অব্যবস্থাপনার জন্য এসব দামি মেশিন বছর বছর ধরে অকেজো হয়ে পড়ে আছে। আর রোগীরা আধুনিক চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। হাসপাতালটিতে ক্যাথল্যাব বা এনজিওগ্রাম গত দুবছর ধরে অব্যবহৃত হয়ে পড়ে আছে। সিটি এমআরআই, সিটিস্কেন। এগুলো দামি মেশিন। কিন্তু এ মেশিনগুলো প্রায় নষ্ট। ইকো, এন্ডোসকপি, আলট্রসনোগ্রাম করা হয়। জরুরি কাজের অর্থোপেডিক যন্ত্রপাতিও ভাল নয়।
হাসপাতালে চিকিৎসাসেবার বিভিন্ন উপকরণের সরবরাহ অপ্রতুল। যদিও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাবি, ওষুধ সরবরাহ ঠিক আছে। রোগীর স্বজনদের বাইরে থেকে গুরুত্বপূর্ণ ওষুধগুলো কিনে আনতে বলা হয়। অভিযোগ আছে, হাসপাতালের বিপুল পরিমাণ ওষুধপত্র সরবরাহে কোটি টাকা বরাদ্দ থাকলেও রোগীরা তেমন ওষুধ পান না। কর্তৃপক্ষ বলছে, রোগীকে প্রথমে নিয়ম অনুযায়ী দুই থেকে তিন দিনের ওষুধ দেয়া হয়। পরবর্তীকালে ডাক্তার প্রয়োজন মনে করলে আরও ওষুধ বাড়িয়ে দেন। বিভিন্ন সরঞ্জাম গজ, ব্যান্ডেজ, স্যালাইন, ইনজেকশনসহ বিভিন্ন উপকরণ ক্রয়ে হাসপাতালের বাজেটে ১ কোটি ৯৫ লাখ টাকা এবং অতিরিক্ত আরও ৪৮ লাখ টাকা রাখা হয়েছে। তবুও সামান্যতম জখম নিয়ে কেউ হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে গেলেও একজন রোগীকে এগুলো বাইরে থেকে কিনে আনতে হয় বলে ডাক্তার ও কর্মচারীরা জানিয়েছেন।
তিনটি অ্যাম্বুলেন্সের দু’টিই নষ্ট: সরকারিভাবে হাসপাতালে তিনটি অ্যাম্বুলেন্স থাকলেও সচল রয়েছে মাত্র একটি। যা কোন রকম চলছে। এই একটি অ্যাম্বুলেন্স দিয়ে হাজার হাজার রোগীর সেবা করাটা অসম্ভব। ফলে বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্সের একটি বড় সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে হাসপাতালে। এই সিন্ডিকেট চক্র অসহায় রোগীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করেন। হাসপাতালের নির্দেশনায় হাসপাতাল চত্বরে যত্রতত্র রিকশা, ভ্যান, মোটরগাড়ি, মাইক্রো, অ্যাম্বুলেন্স পার্কি না করার কথা নির্দেশনা থাকলেও হাসপাতাল চত্বরে সবসময়ই এলোমেলোভাবে অ্যাম্বুলেন্স, রিকশা পার্কিং করতে দেখা যায়।
ঝুঁকিপূর্ণ লিফট: মিটফোর্ড হাসপাতালের কলেজ ভবন, হাসপাতাল ভবন ও কিং অ্যাডওয়ার্ড ভবনের বেশির ভাগ লিফটই পুরনো। একই লিফট দিনে কয়েকবার বিকল হয়ে যায়। বেশ কিছু লিফটে বৈদ্যুতিক পাখা নেই। ফলে এই গরমে রোগীদের হতে হয় নাজেহাল। লিফটগুলো ওপরে রয়েছে কয়েক স্তরের ময়লার আস্তরণ। বছর দেড়েক আগে লিফটে প্রায় দেড় ঘণ্টা আটকে থেকে মারা যান একজন রোগী। এ ঘটনায় কয়েকজনকে বরখাস্ত করা হলেও লিফটগুলো সংস্কার করা হয়নি। হাসপাতালে আসা রোগীদের অভিযোগ, মাঝে মাঝেই লিফটগুলো বন্ধ হয়ে যায়। আর সময়মতো লিফটম্যানকেও পাওয়া যায় না যথা স্থানে।
এ ব্যাপারে স্যার সলিমুল্লাহ মেডিক্যাল কলেজ মিটফোর্ড হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. মো. আবদুল মজিদ যন্ত্রপাতির মধ্যে দামি এমআরআই, এনজিওগ্রাম নষ্ট থাকার কথা স্বীকার করেছেন। অন্যগুলো চলছে বলে দাবি করেন তিনি। তিনি বলেন, আমাদের এখানে অনুমোদিত বেডের সংখ্যা ৬০০। তবে দেখা যায়, এখানে রোগী ভর্তি থাকে তার থেকে অনেক বেশি। তাই চিকিৎসা করতে গিয়ে ডাক্তারদের হিমশিম খেতে হয়। হাসপাতালে সরকারি অ্যাম্বুলেন্স কয়টি এমন প্রশ্নের উত্তরে ডা. আবদুল মজিদ বলেন, আমাদের এখানে সরকারি অ্যাম্বুলেন্স আছে তিনটি। এর মধ্যে দু’টিই নষ্ট। তবে, এসব অ্যাম্বুলেন্স নষ্ট হলে সারানোটাও একটু ঝামেলার কাজ। এগুলো সরকারিভাবে মহাখালী থেকে ঠিক হবে। সেখানে যদি ঠিক করা সম্ভব হয় তাহলে ঠিক করে দেয় নইলে একটা সার্টিফিকেট দেয়া হয়। পরে আমরা অন্য কোন অনুদান থাকলে তা দিয়ে কাজটা করি। কাজেই আমরা চাইলেই সব কিছু করতে পারি না।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
মানবপাচারেও বৈষম্য এবং দুর্নীতির বহিঃপ্রকাশ by আহমদ রফিক
আজকের একটি দৈনিকে (২৬ জুন) শিরোনাম ‘পাচারের শিকার হয়ে রাজনৈতিক আশ্রয়!’ ঘটনায় প্রকাশ : ‘যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসী হওয়ার স্বপ্ন দেখিয়ে বাংলাদেশ থেকে ৮২ তরুণকে পাচার করেছে আন্তর্জাতিক পাচারকারী একটি চক্র। এ জন্য জনপ্রতিনিধি ২৫ থেকে ৩০ লাখ টাকা করে প্রায় ২৪ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে চক্রটি। এর সঙ্গে জড়িত ঢাকা বিমানবন্দরের কতিপয় দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা-কর্মচারীও। এ ঘটনার রয়েছে একাধিক পার্শ্বমুখ। যেমন দেশে বিরাজমান বেকারত্ব (যদিও অর্থনৈতিক স্বচ্ছকে অগ্রগতির দাবি রয়েছে আমাদের), স্বপ্নের দেশে যাত্রার আকাক্সক্ষা, সামাজিক মূল্যবোধে ব্যাপক ধস ও দুর্নীতির মহামারী, সর্বোপরি অন্যায়-অপরাধ অনৈতিকতার বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের অভাব। এ পরিস্থিতিতে অনাচার, অন্যায়, অপরাধ মাথাচাড়া দিয়ে উঠবে এমনটাই স্বাভাবিক।
পার্শ্ব প্রসঙ্গ হিসেবে আমাদের উদ্ভট মননশীলতা ও মানবিকতা সম্বন্ধে দু’চার ছত্র বলা দরকার। যে মেধাবী সাংবাদিক এ পত্র সে পত্র করে শেষ পর্যন্ত স্বপ্নের দেশে পাড়ি জমায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আমন্ত্রণপত্র জোগাড় করে, মার্কিন ভূমিতে বিচিত্র কাজ করে (যেমন ওসিডিসি) জীবিকা নির্বাহ করতে তার সাংস্কৃতিক মর্যাদায় বাঁধবেন না তার যত অসুবিধা স্বদেশে নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করতে। কেন এ আত্মমর্যাদাহীন উদ্ভট মানসিকতা? এ ছাড়া মেধার বহির্গমন তো বাংলাদেশের বৈশিষ্ট্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। সমাজবিজ্ঞানী হয়তো বলবেন, সামাজিক পরিবেশ অর্থনৈতিক বৈষম্য ইত্যাদি এজন্য দায়ী। সমাজে বাস্তবিকই রয়েছে একরাশ বৈষম্য এবং সুস্থ ও স্বচ্ছ জীবনযাপনের অনুপযোগী পরিবেশ। এ মূল্যায়নের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ না করেও বলি, নিজ দেশে থেকে জীবনযাত্রার লড়াই চালানোটাই কি নাগরিক মর্যাদার উপযোগী নয়? অবশ্য বিশ্বায়নের যুগে ভিন্নমতই স্বাভাবিক। তবে বিশ্বায়ন করে বা কাদের সুবিধার জন্য সেটাও বিবেচনার বিষয়।
দুই
মানবপাচারেও বৈষম্য এবং দুর্নীতির বহিঃপ্রকাশআবার মূল প্রসঙ্গ, পাচার প্রসঙ্গ। বাংলাদেশের ক্ষেত্রে নর-নারী পাচারের আরেকটি বড় সূত্র ও আনুষঙ্গিক কারণ পার্শ্ববর্তী দেশ মিয়ানমারের রোহিঙ্গা নাগরিকদের ওপর উদ্দেশ্যমূলক, সম্প্রদায়বাদী রাজনৈতিক অত্যাচার, পীড়ন পরিশেষে বিতাড়ন। মিয়ানমার সরকার ও রাখাইন সমাজ এ অপরাধে প্রত্যক্ষভাবে দায়ী। সাম্প্রদায়িক সহিংসতা এমনই এক পর্যায়ে যে মুসলমান রোহিঙ্গা বৌদ্ধ রাখাইনদের তাড়নায় বাস্তুগম করে দেশ ছাড়তে বাধ্য হচ্ছে। গৌতম বুদ্ধের অনুসারীদের উপযুক্ত কাজই করছে মিয়ানমারের রাখাইন সমাজ!
অনেক আগেই বাংলাদেশ প্রতিবেশী দেশ হিসেবে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের আশ্রয় দিয়েছিল। নেহাতই মানবিক বিবেচনায়। সেই সঙ্গে যে কাজটি করা উচিত ছিল তাহলো এ বিষয়ে অর্থাৎ রোহিঙ্গাদের তাদের স্বদেশে নিরাপদ পুনর্বাসন নিশ্চিত করতে দৃঢ় কূটনৈতিক আলোচনা শুরু করা। মিয়ানমার তা না চাইলে এ বিষয়ে ফয়সালা করতে জাতিসংঘের সাহায্য নেয়া এবং প্রয়োজনে আন্তর্জাতিক আদালতের শরণাপন্ন হওয়া। বাংলাদেশ দৃঢ়তার সঙ্গে এ কাজটি করেনি। এমন কি ঘনবসতিপূর্ণ বাংলাদেশে ভিন্ন ধারার শরণার্থী সমস্যা নিয়ে রাজনৈতিক বিচক্ষণতার পরিচয় দেয়নি। বরং বিষয়টি নিয়ে হেলাফেলার পরিচয় দিয়েছে। ইতোমধ্যে এনজিওসহ নানা সূত্রে রোহিঙ্গাদের নিয়ে যে মৌলবাদী, জঙ্গিবাদী ও সম্প্রদায়বাদী প্রতিক্রিয়াশীল চক্রান্তের সূচনা তার নিরসনেও কঠিন ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। সমস্যাটিকে জিইয়ে রেখে বাড়তে দেয়া হয়েছে। এ সূত্রে শুরু হয়েছে রাখাইন রাজ্যের অনাচারী তৎপরতার কারণে বাংলাদেশে আরো রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ, আরো সামাজিক সমস্যা। মনে রাখা দরকার যে, মানবপাচারের ঘটনাও আর্থ-সামাজিক বৈষম্য ও দুর্নীতির বহিঃপ্রকাশ বই কিছু নয়।
সংবাদপত্র পাঠকের মনে থাকার কথা যে, মানবপাচারের ঘটনাবলি সংবাদপত্রে প্রকাশের সময় দেখা গেছে পাচার হওয়া দুর্গত মানুষের একটি বড় অংশ বাংলাদেশি নাগরিক এবং রোহিঙ্গা। এ ক্ষেত্রে অর্থনৈতিক দূরবস্থা সামাজিক অসহায়তা মানুষগুলোকে পাচারকারীদের চক্রান্তের শিকার করে তুলেছে। আমরা আগেই বলেছি, এসব ঘটনায় বাংলাদেশ রাষ্ট্রের ভাবমূর্তি যথেষ্ট ক্ষুণœ হয়েছে। এতদসত্ত্বেও মানবপাচারের বিষয়টি নিয়ে কোনো পক্ষের মাথাব্যথা দেখা যাচ্ছে না। আমরা আগেও বলেছি, রোহিঙ্গা ইস্যুটিকে বাংলাদেশ সরকারের অধিকতর গুরুত্বে গ্রহণ করে এর চূড়ান্ত ফয়সালার পদক্ষেপ নেয়া উচিত। এ সামাজিক ইস্যু রাজনৈতিক ইস্যুতে পরিণত হতে চলেছে। দরকার এ সম্পর্কে আন্তর্জাতিক মহলকে সচেতন করে তোলা।
সম্প্রতি এ বিষয়ে আইসিআরসির টনক নড়েছে বলে মনে হয়। একটি ভারতীয় পত্রিকার সঙ্গে সাক্ষাৎকারে উল্লিখিত সংস্থার সভাপতি মন্তব্য করেছেন যে, রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধান দরকার। তার মতে সমাজ আজ সংঘাতময়। অন্যায়, অবিচার ও বৈষম্য বাড়ছে বলে সহিংসতাও বাড়ছে। তিনি উল্লেখ করেছেন মিয়ানমারের রাখাইন অঞ্চলে আন্তঃসাম্প্রদায়িক সহিংসতার কথা, রোহিঙ্গাদের বাস্তুচ্যুত হওয়ার কথা। এ সমস্যা রাজনৈতিক। কাজেই এর সমাধান রাজনৈতিকভাবেই হওয়া দরকার। কিন্তু এ বিষয়ে মিয়ানমার সরকারের দৃষ্টিভঙ্গি মোটেই সমঝোতার নয়। কাজেই এ সমস্যার আশু সমাধানের লক্ষ্যে বাংলাদেশ সরকারের অবিলম্বে লাগাতার উদ্যোগ নেয়া উচিত। এর চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ বাংলাদেশ মানবপাচারের দুই মাত্রার দিকে নজর দেয়া। দীর্ঘস্থায়ী ব্যবস্থা হিসেবে আর্থ-সামাজিক বৈষম্য দূর করা, বেকারদের জন্য কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা নেয়া ইত্যাদি। সে সঙ্গে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা হলো মানবপাচারকারী চক্রের বিরুদ্ধে পরিকল্পিত অভিযান চালিয়ে তাদের নির্মূল করার ব্যবস্থা নেয়া। এদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা। তবে পাচারকারী চক্রের নেটওয়ার্ক যথেষ্ট বড় এবং শক্ত। তাই কাজটা কঠিন হলেও সমাজ ও রাষ্ট্রের প্রয়োজনে এ কাজটি শক্ত হাতে মোকাবিলা করার দরকার। তা না হলে এ অবস্থা ক্রমে বিপজ্জনক সামাজিক সমস্যায় পরিণত হবে।
লেখক : ভাষা সংগ্রামী, রবীন্দ্র গবেষক, কবি, প্রাবন্ধিক
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
eCoxs Special
BNM Archive
- ► 2026 (1331)
- ► 2025 (3280)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (128)
- ► 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
-
▼
2015
(11541)
-
▼
August
(765)
-
▼
Aug 08
(26)
- মহাজাগতিক কেয়ামত কখন, কিভাবে? -দ্য বিগ কোয়েশ্চন by...
- ‘জীবনের ২০ বছরই কেটেছে কারাগারে’ by কাজী সুমন
- কেন মুসলিম তরুণরা চরমপন্হার দিকে ঝুঁকছে? by মীর সা...
- রিপাবলিকানদের প্রথম বাহাস শুরু
- কাবুলে ট্রাক বোমা বিস্ফোরণ আত্মঘাতী হামলা
- বউ বিয়ে দিলেন স্বামী
- বিভক্তির কবলে বিশ্বাস ৮: ‘কোথায় যেন একটা চাওয়া-পাও...
- জরুরি হয়ে পড়েছে এক সন্তান নীতি -বিশেষ সাক্ষাৎকারে:...
- রাজনীতি এখন মরা নদীর নাম by পীর হাবিবুর রহমান
- মানবসভ্যতার অগ্রযাত্রা by শহিদুল ইসলাম
- বহুত্ববাদই কাশ্মীরের জন্য সর্বোত্তম পন্থা by কুলদ...
- মালয়েশিয়ার বাজার নিয়ে গোষ্ঠীর সঙ্গে বায়রার লড়াই ...
- এক যুবকের চোখে শত মানুষের কান্না
- অচল যন্ত্রপাতি নানা কারসাজি by ফরিদ উদ্দিন আহমেদ
- মানবপাচারেও বৈষম্য এবং দুর্নীতির বহিঃপ্রকাশ by আহম...
- এগিয়ে চলছে বাংলাদেশ by ইফতেখার আহমেদ টিপু
- সংখ্যালঘুদের সম্পত্তি দখল করছেন মন্ত্রী-সাংসদ-প্রশাসন
- ৫০ লাখ প্রবাসীর হাতে পুরোনো পাসপোর্ট by কামরুল ...
- বিশ্ববাজারে তেলের দাম কম, বিদ্যুতের উৎপাদন খরচ কমছ...
- চিহ্ন মুছে যাচ্ছে বজরার শাহী মসজিদের by নাসিরউদ্দি...
- এবার পাঠ্যবই বিদেশে ছাপা হচ্ছে না! by শরিফুজ্জামান
- বুড়িগঙ্গার তীর ভরাট করে রিকশা গ্যারেজ by অরূপ দত্ত
- সুয়েজ খাল নিয়ে রচিত হচ্ছে নতুন ইতিহাস!
- খানাখন্দ ও নির্মাণসামগ্রীতে ভরা বনানী ৪ নম্বর পানি...
- নতুন নোটবুক, ল্যাপটপ ও মাদারবোর্ড বাজারে
- ইন্টারনেট ভাগ করে নিন by মো. রাকিবুল হাসান
-
▼
Aug 08
(26)
-
▼
August
(765)
- ► 2014 (9799)
- ► 2013 (14877)
- ► 2012 (33842)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)













