Friday, October 4, 2019

পশ্চিমবঙ্গে জাতীয় নাগরিক পঞ্জী যৌথভাবে মোকাবিলা করতে চায় হিন্দু-মুসলিমরা

আসামের আদলে পশ্চিমবঙ্গেও জাতীয় নাগরিক পঞ্জী তৈরি হবে কী না, তা নিয়ে অনেকের মধ্যেই একটা আশঙ্কা কাজ করছে।
যদিও বিজেপি সভাপতি এবং ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ কদিন আগেই কলকাতায় আবারও বলেছেন যে হিন্দুদের কোনও ভয় নেই - তাদের একজনকেও দেশ থেকে বার করা হবে না। তাদের নাগরিকত্ব দিয়ে তবেই এন আর সি হবে ওই রাজ্যে, এটাও বলছেন মি. শাহ সহ দলের নেতারা।
তবুও হিন্দুদের মধ্যেই তথাকথিত নিম্নবর্গীয় যারা - সেই দলিত, নমশূদ্র এবং মতুয়াদের একটা বড় অংশ বিজেপি নেতৃত্বের সেই আশায় ভরসা করতে পারছেন না।
তারা এখন মুসলিম সংগঠনগুলির সঙ্গে একযোগে পশ্চিমবঙ্গে সম্ভাব্য এন আর সি প্রক্রিয়ার মোকাবিলা করতে চাইছেন।
বৃহস্পতিবার মতুয়া, দলিত, নমশূদ্র এবং কয়েকটি মুসলমান সংগঠন এন আর সি হলে কীভাবে তার মোকাবিলা করা হবে, তা নিয়ে আলোচনায় বসেছিলেন।
সেখানে একটি যৌথ মঞ্চ গড়া হয়েছে - যাতে হিন্দু-দলিত-মুসলমান সব সম্প্রদায়ের মানুষই রয়েছেন।
যৌথ মঞ্চের একজন আহ্বায়ক সারা বাংলা সংখ্যালঘু যুব ফেডারেশনের সভাপতি মুহম্মদ কামরুজ্জামান।
তিনি বলছিলেন, "একদিকে হিন্দু ভাইরা আতঙ্কে আছেন আসামের অবস্থা দেখে যেখানে লাখ লাখ হিন্দুর নাম এনআরসিতে নেই। তাদের আবার নাগরিকত্ব দিয়ে দেওয়ার স্বপ্ন দেখানো হচ্ছে। অনেকেই সেই আশ্বাসে আর ভরসা করতে পারছেন না।''
''আবার মুসলমানরাও আতঙ্কে আছেন একারণে, যে ভূমিপুত্র হওয়া সত্ত্বেও শুধুমাত্র নথিপত্রে নাম বা পরিচয়ের কোনও সামান্য ভুলের জন্য হয়তো তাদেরও ডিটেনশানে পাঠিয়ে দেবে। সমস্যাটা দুই ধর্মের মানুষেরই। সেজন্যই দুই ধর্মের মানুষই একযোগে মোকাবিলা করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হল আজ।"
যৌথ মঞ্চের আরেক আহ্বায়ক, সারা ভারত মতুয়া মহা সংঘের সহসভাপতি সুকৃতি রঞ্জন বিশ্বাস বিবিসি বাংলাকে বলছিলেন, "আমরা আর ওই খুড়োর কলের ভরসায় থাকতে রাজী নই। নাগরিকত্ব বিল এনে পূর্ব পাকিস্তান বা বাংলাদেশ থেকে চলে আসা হিন্দুদের প্রথমে শরণার্থী তারপরে নাগরিকত্বের আবেদন জানানোর অধিকার দেওয়ার কথায় আর ভরসা করা যাচ্ছে না।''
''বিজেপি সরকারই তো ২০০৩ সালে ওদেশ থেকে আসা মানুষদের - যাদের বেশীরভাগটাই হিন্দু - তাদের অনুপ্রবেশকারী তকমা দিয়ে দিয়েছে। এখন নাগরিকত্ব আইনে সংশোধন এনে আমাদের শুধু অনুপ্রবেশকারী তকমা তুলে দিয়ে শরণার্থী বলার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।"
মি. বিশ্বাস আরও বলছিলেন, "নাগরিকত্ব বিল এনে যা করার কথা বলা হচ্ছে, তাতে প্রমাণ করতে হবে যে একজন বাংলাদেশ থেকে এসেছেন, আর দ্বিতীয়ত সেদেশে ধর্মীয় নিপীড়নের কারণে অথবা নিপীড়ন হতে পারে এই আশঙ্কায় এসেছেন - সেটাও প্রমাণ করতে হবে। এই দুটো শর্ত কি কারও পক্ষে পূরণ করা সম্ভব?"
তবে বিজেপির উদ্বাস্তু সেলের অন্যতম নেতা মোহিত রায় বলছিলেন, "এটা একটা সম্পূর্ণ ভুল প্রচার চালানো হচ্ছে। প্রস্তাবিত আইনের কোথাও কোনও প্রমাণের ব্যাপারই নেই।''
''দ্বিতীয়ত, নাগরিকত্ব পাওয়ার জন্য আবেদন তো করতেই হবে এটাও বলা আছে যে ২০১৪ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত যারা ভারতে এসেছেন এরকম হিন্দু-বৌদ্ধ-খৃষ্টান-জৈন-পার্শি এরকম মানুষকে নাগরিকত্ব দেওয়া হবে! তাই আবেদন করলেই নিশ্চিত ভাবে নাগরিকত্ব পাওয়া যাবে কী যাবে না তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে মানুষকে বিভ্রান্ত করা ছাড়া আর কিছু না।"
মি রায়ের এটাও প্রশ্ন, যে হিন্দুদের আশ্বস্ত করা সত্ত্বেও যদি কারও কোনও বিরোধিতা থাকে, বক্তব্য বা আশঙ্কা থাকে, সেট তারা তুলতেই পারেন, কিন্তু তার জন্য মুসলিম সংগঠনগুলোর সঙ্গে হাত মেলাতে হবে কেন, সেটা বুঝে ওঠা যাচ্ছে না।
বৃহস্পতিবার মতুয়া, দলিত, নমশূদ্র এবং কয়েকটি মুসলমান সংগঠন এন আর সি হলে কীভাবে তার মোকাবিলা করা হবে, তা নিয়ে আলোচনায় বসেছিলেন

ব্যাংকেই খালেদের ৩১ কোটি টাকা: সুবিধাভোগীর তালিকায় ভিআইপিরা by মোহাম্মদ ওমর ফারুক

ক্যাসিনো ডন যুবলীগ নেতা খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়ার ৯টি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা আছে অন্তত ৩১ কোটি টাকা। এর মধ্যে তিনটি বিদেশি ব্যাংকও রয়েছে। খালেদ মাহমুদ জিজ্ঞাসাবাদের জন্য র‌্যাবের হাতে রয়েছেন। এর আগে পুলিশ তাকে সাত দিনের রিমান্ড নেয়। ওই রিমান্ড শেষে অধিকতর তদন্তের জন্য র‌্যাব ১০ দিনের রিমান্ডে নেয় খালেদকে। তদন্ত সূত্র জানায়, জিজ্ঞাসাবাদে খালেদ তার অবৈধ আয়ের উৎস, কোথায় অর্থ রাখা আছে এবং কারা এই অর্থের ভাগ পেতো তা জানিয়েছেন। খালেদ জানিয়েছেন, তার অর্থের ভাগ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিও পেতেন। তাদের মধ্য রাজনীতিক ও আইন শৃঙখলা বাহিনীর কর্মকর্তাও রয়েছেন।
তদন্ত সূত্র জানায় খালেদ স্বীকার করেছেন, মুক্তিযোদ্ধা চিত্তবিনোদন ক্লাব থেকে তার মাসে ৩ লাখ টাকা আয় হতো। ইযংম্যান্স ক্লাবে ক্যাসিনো চালিয়ে মাসিক ৪০ লাখ টাকা আয় করতেন। এছাড়া শাহজানপুর রেলওয়ে গেইট সংলগ্ন মাছের বাজার থেকে মাসিক আয় হতো ৬০ হাজার টাকা। শাহজানপুর এলাকার লেগুনা থেকে মাসে আসতো ৩০ হাজার টাকা। ফুটপাত থেকে চাঁদা আসতো ২০ হাজার টাকা। এছাড়া তার আরও আয়ের উৎস আছে যার বিস্তারিত তথ্য নেয়া হচ্ছে। সূত্র জানায়, খালেদ জানিয়েছেন, তার ব্যাংকে অন্তত ৩১ কোটি টাকা জমা আছে। এর মধ্যে স্ট্যান্ডার্ট চাটার্ড ব্যাংকে ৬ থেকে সাড়ে ৬ কোটি টাকা, ব্র্যাক ব্যাংকে আড়াই কোটি টাকা। এনসিসি ব্যাংকে এফডিআর আছে ১৯ কোটি টাকা (নিজ নামে)। ব্র্যাক ব্যাংকে ৫০ লাখ টাকা আছে তার স্ত্রী সুমাইয়া আক্তারের নামে। এছাড়া অর্পণ প্রোপার্টিজ এর নামে এনসিসি ব্যাংকে ১৫ লাখ টাকা, একই নামে ব্র্যাক ব্যাংক আছে আরও ১৫ লাখ টাকা।
এছাড়া মালয়েশিয়ার আরএইচবি ব্যাংকে আছে ৬৮ লাখ টাকা, সিঙ্গাপুরের ইউওবি ব্যাংকে আছে দেড় কোটি টাকা, থাইল্যান্ডের একটি ব্যাংকে আছে এক লাখ থাই বাথ। তদন্ত সূত্র বলছে, খালেদ যে অবৈধ অর্থ আয় করতেন তার অংশ বেশ কয়েকজন রাজনৈতিক নেতা ও আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কতিপয় কর্মকর্তাদের দিতেন। জিজ্ঞাসাবাদে খালেদ দাবি করেন, ২০১৫ সালে তিনি স্বেচ্ছাসেবক লীগের শীর্ষ নেতাকে ৫০ লাখ টাকা দেন। এছাড়া পূর্বাচলের একটি প্রকল্পের জন্য আওয়ামী লীগের একজন গুরুত্বপূর্ণ নেতাকে দেন চার থেকে পাঁচ কোটি টাকা। ঢাকা মহানগর যুবলীগ দক্ষিণের সভাপতি ইসমাইস হোসেন চৌধুরী সম্রাটকে দেন ৫০ লাখ টাকা। এছাড়া যুবলীগের কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক কাজী আনিসুর রহমানকে দেন ৪০ লাখ টাকা।
আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির একজন গুরুত্বপূর্ণ নেতা ও নূরুল হুদা নামের আরেকজনকে দেন দুই কোটি টাকা। ২০১৭ সালে খালেদ যুবলীগ সভাপতিকে দুই দফায় ২০ লাখ টাকা দেন বলে জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছেন। এছাড়া ঢাকা মহানগর পুলিশের দুই জন এডিসিকে খালেদ নিয়মিত বিভিন্ন অংকের অর্থ দিতেন বলে জানিয়েছেন। সূত্র জানায়, খালেদ জানিয়েছে, তার অপরাধ সম্রাজ্যে অনেকে সহযোগী হিসেবে কাজ করে। এর মধ্যে আছে, গোরানের কাউন্সিলর আনিস ও তার সহযোগী রুবেল, ৯নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর এ, কে মুমিনুল হক সাইদ এবং তার সহযোগী হাসান উদ্দিন, আরামবাগ ক্লাবের প্রহরী জামাল এবং কাজিন সুমন। এছাড়া গোরানের রাউফুল আলম শুভও তার অপরাধ কাণ্ডে জড়িত ছিল। তার কাছে ৪/৫টি বিদেশি পিস্তল আছে বলে খালেদ তথ্য দিয়েছে। এছাড়া ১১ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর রিজভী, মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের এনামুল হক আরমান, রানা মোল্লা, কাইল্লা আমিনুল, অঙ্কর এবং উজ্জল মোর্শেদ, ক্যাসিনো বকুল, ল্যাংড়া জাকির ও ড্রাইভার জিসান তার সহযোগী বলে জানিয়েছেন খালেদ।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা র‌্যাব-৩ এর এএসপি বেলায়েত হোসেন বলেন, আগামী সোমবার খালেদের রিমান্ড শেষ হবে। এর আগে কিছু বলা সম্ভব না। রিমান্ড শেষে আমরা এ বিষয়ে জানাতে পারবো। গত ১৮ ই সেপ্টেম্বর র‌্যাবের হাতে গ্রেপ্তার হন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়া। তার বিরুদ্ধে অভিযোগের শেষ নেই। মতিঝিল-ফকিরাপুল ক্লাবপাড়ায় ক্যাসিনো থেকে শুরু করে কমপক্ষে সাতটি সরকারি ভবনে ঠিকাদারি নিয়ন্ত্রণ ও সরকারি জমি দখলের মতো নানা অভিযোগ তার বিরুদ্ধে। ২০১২ সালের পর মহানগর যুবলীগ দক্ষিণের সভাপতি ইসমাইল হোসেন চৌধুরী সম্রাটের ছত্রচ্ছায়ায় মতিঝিল ও আশপাশের এলাকার অপরাধ জগতের নিয়ন্ত্রণ আসে তার হাতে। অভিযোগ থেকে জানা যায়, রাজধানীর মতিঝিল, ফকিরাপুল এলাকায় কমপক্ষে ১৭টি ক্লাব নিয়ন্ত্রণ করতেন এই যুবলীগ নেতা। এর মধ্যে ১৬টি ক্লাব নিজের লোকজন দিয়ে আর ফকিরাপুল ইয়াং ম্যানস নামের ক্লাবটি সরাসরি তিনি পরিচালনা করতেন।

শেখ হাসিনার দিল্লি সফরে কি তিস্তার জট খুলবে? by শুভজ্যোতি ঘোষ

তিস্তার উৎপত্তি ভারতের সিকিমে
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বৃহস্পতিবার থেকে ভারতে তার চারদিনের রাষ্ট্রীয় সফর শুরু করেছেন।
আড়াই বছর বাদে তাঁর এই দিল্লি সফরে তিস্তা চুক্তির প্রশ্নে কোনও অগ্রগতি হয় কি না সে দিকে অনেকেরই সাগ্রহ নজর থাকছে।
ভারত ও বাংলাদেশের সরকারি কর্মকর্তারা বিবিসিকে আভাস দিয়েছেন, তিস্তা নিয়ে আলাদাভাবে এখনই কোনও চুক্তি না-হলেও ৫৪টি অভিন্ন নদীর পানিবন্টন তথা বেসিন ম্যানেজমেন্ট নিয়ে দুদেশের মধ্যে একটি সমঝোতা হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল।
২০১১তে ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের ঢাকা সফরেই তিস্তা চুক্তি সই হওয়ার কথা ছিল
ধারণা করা হচ্ছে, আগামী দিনে হয়তো এই সমঝোতাই তিস্তা চুক্তির ভিত গড়ে দিতে পারে।
কিন্তু এই মুহূর্তে তিস্তা চুক্তি সম্পাদনের ক্ষেত্রে কূটনৈতিক, রাজনৈতিক ও ভৌগোলিক পরিবেশ ঠিক কতটা অনুকূল?
দিল্লিতে ও সেই সঙ্গে তিস্তা অববাহিকায় সরেজমিনে গিয়ে তা নিয়েই খোঁজখবর করেছিলাম নানা মহলে।
সিকিমের পাওহুনরি হিমবাহে উৎপত্তির পর প্রায় দুশো মাইল পথ বেয়ে তিস্তা নদী ব্রহ্মপুত্রে গিয়ে মিশেছে বাংলাদেশের ভেতর।
এই নদীর জল ভাগাভাগি নিয়ে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে বহু বছরের যে জটিলতা, তা কাটিয়ে ওঠার লক্ষ্যে সম্প্রতি কিন্তু দিল্লিতে বেশ তৎপরতা চোখে পড়ছে।
সিকিম থেকে পশ্চিমবঙ্গে ঢুকছে তিস্তা
বিবেকানন্দ ইন্টারন্যাশনাল ফাউন্ডেশনের সিনিয়র ফেলো শ্রীরাধা দত্ত বলছিলেন, "বাংলাদেশের একটা বহুদিনের দাবি ছিল ৫৪টা অভিন্ন নদী নিয়েই একটা সর্বাত্মক চুক্তি করা হোক।"
"আমার ধারণা এবার সেই ব্যাপারে ভারত নীতিগতভাবে রাজি হয়ে যাবে।"
"যাতে কি না ওই সব নদীগুলোকে কভার করে সেগুলোর বেসিন ম্যানেজমেন্ট নিয়ে একটা সমঝোতা সম্ভব হয়।"
"আলাদা করে প্রতিটা নদী নিয়ে হয়তো এখনই কিছু হবে না, তবে তিস্তা-সহ সবগুলো নদীর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে এমন একটা ফ্রেমওয়ার্ক বা কাঠামো কিন্তু হতে পারে বলেই আমরা শুনতে পাচ্ছি", জানাচ্ছেন ড: দত্ত।
প্রধানমন্ত্রী মোদীর সঙ্গে বৈঠক সেরে বেরিয়ে আসছেন মমতা ব্যানার্জি। ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৯
এদিকে কিছুদিন আগেই দিল্লিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির মধ্যে একান্ত বৈঠক হয়েছে।
আড়াই বছর বাদে এই প্রথম দুজনের মুখোমুখি দেখা হল, আর সেখানে তিস্তা চুক্তির প্রশ্নে মমতা ব্যানার্জি সুর কিছুটা নরম করেছেন বলেই ভারতের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে লেখা হয়েছে।
পাশাপাশি ভারতে তিস্তার আর একটি 'স্টেকহোল্ডার' রাজ্য সিকিমের নতুন মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গেও সম্প্রতি বৈঠক করেছেন বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত সৈয়দ মোয়াজ্জেম আলি।
সিকিমের রাজধানী গ্যাংটকে সে বৈঠক হয়েছে সপ্তাহদুয়েক আগেই।
হাই কমিশনার মি. আলি বিবিসি বাংলাকে বলছিলেন, "অগাস্ট মাসেই ভারতের জলসম্পদ সচিব ঢাকায় গিয়েছিলেন।"
দিল্লিতে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত সৈয়দ মোয়াজ্জেম আলি
"তখনই কিন্তু আমরা আলোচনা করেছি, শুধু তিস্তা নয়, ৫৪টা নদীকে নিয়েই আসলে আমাদের এখন কিছু একটা করা দরকার।"
"এই সবগুলো নদীতেই পলিমাটি জমেছে, নাব্যতা কমছে - পাশাপাশি বন্যা আর খরা দুরকম সমস্যাতেই আমাদের ভুগতে হচ্ছে।"
"ফলে আমরা এখন এই নদী অববাহিকাগুলোর যৌথ ব্যবস্থাপনার ভাবনা নিয়েই এগোতে চাচ্ছি।
"খরার মাসগুলোতে তিস্তার জল আমরা কীভাবে ভাগাভাগি করতে পারি, সেটা সেই বৃহত্তর পরিকল্পনারই একটা অংশ", জানাচ্ছেন মি. আলি।
তবে ভারত যদি আজকের তারিখে তিস্তা নিয়ে আলাদা চুক্তি করতে রাজি থাকে, বাংলাদেশ তার জন্য বহু বছর ধরেই সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে - সে কথাও জানাতে ভোলেননি রাষ্ট্রদূত।
শ্রীরাধা দত্ত
ভারতীয় থিঙ্কট্যাঙ্ক অবজার্ভার রিসার্চ ফাউন্ডেশনের বাংলাদেশ বিশ্লেষক জয়িতা ভট্টাচার্য আবার বলছিলেন, "আসলে তিস্তার মতো একটা সংবেদনশীল বিষয় নিয়ে কোনও 'ইউফোরিয়া' বা আকাশচুম্বী প্রত্যাশা তৈরি হোক এটা ভারত বা বাংলাদেশ কেউই চায় না।"
"কিন্তু তিস্তা নিয়ে 'হাইপ' এড়িয়ে যেতে চাইলেও জলসম্পদের মতো গুরুত্বপূর্ণ একটা ইস্যু অ্যাড্রেস করার ব্যাপারে দুপক্ষই যত্নবান।"
"কাজেই তিস্তা চুক্তি নিয়ে আশাবাদী হওয়ারও যথেষ্ট কারণ আছে।"
"এমন কী গত মাসেই ঢাকা সফরে গিয়ে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করও বলে এসেছেন তিস্তার ইস্যুটা তারা দেখছেন", মনে করিয়ে দিচ্ছেন মিস ভট্টাচার্য।
এতদিন তিস্তা চুক্তির বিপক্ষে পশ্চিমব্ঙ্গ সরকার যুক্তি দিয়ে এসেছে শুষ্ক মরশুমে নদীতে জলই নেই - তাই ভাগাভাগি করেও লাভ নেই।
কথা বলছিলাম তিস্তাপাড়ের বাসিন্দা কৃষ্ণপদ মন্ডলের সাথে
আর বাংলাদেশের বক্তব্য ছিল, পানি যতটুকুই থাকুক - তার 'আধাআধি ভাগ করতে অসুবিধা কোথায়?'
তবে তিস্তার সেই আগের তেজ যে নেই, স্থানীয় বাসিন্দারাও তা মানেন।
তিস্তাপাড়ের মিলনপল্লী গ্রামের বাসিন্দা কৃষ্ণপদ মন্ডল যেমন বলছিলেন, "আগে বর্ষার সময় তিস্তার যে গর্জন শুনেছি, সেই বিকট আওয়াজে বাড়িতে ভয়ে সিঁটিয়ে যেতাম!"
"আর আজ তো তার ছিটেফোঁটাও নেই। ড্যাম দিয়ে, নদী ভরাট করে তিস্তাটাকেই শুকিয়ে ফেলেছে।"
"আগে তিস্তাপাড়ের লোক বলতে নিজের গর্ব হত। আর এখন তো এটা একটা মরা খালের চেয়ে বেশি কিছু নয়!" গভীর দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলেন তিনি।
এই জল কমে যাওয়ার একটা প্রধান কারণ ভারতের অংশে তিস্তার বুকে একের পর এক বাঁধ আর ব্যারাজ, টানেল এবং লিঙ্ক ক্যানাল।
তিস্তার ধার ঘেঁষে স্থানীয় যুবকদের সঙ্গে চলতে চলতে
তিস্তার উজানে কালিঝোরাতে গিয়ে দেখে এসেছিলাম, কীভাবে নদীর বুকে বাঁধ দিয়ে আর জলবিদ্যুৎ প্রকল্প বসিয়ে তিস্তার প্রবাহকে কাজে লাগানো হচ্ছে।
সিকিম বা পশ্চিমবঙ্গ সরকার অবশ্য দাবি করে থাকে, এগুলো 'রান অব দ্য রিভার' প্রোজেক্ট।
অর্থাৎ নদীর জল কাজে লাগিয়ে তা আবার নদীতেই পুরোটা ফিরিয়ে দেওয়া হয়, তিস্তার কোনও ক্ষতি হয় না।
তবে অনেক বিশেষজ্ঞই এই দাবির সঙ্গে একমত নন, তারা মনে করেন এই সব প্রকল্প আসলে তিস্তার জলপ্রবাহে বিরাট ক্ষতিকর প্রভাব ফেলছে।
শিলিগুড়িতে সেন্টার ফর হিমালয়ান স্টাডিজের অধ্যাপক মৈত্রেয়ী চৌধুরী যেমন দৃষ্টান্ত দিয়ে বলছিলেন, "পাহাড়ের দিকে এগোলে তিস্তাবাজার নামে একটা জায়গা পড়ে, তার একটু ওপরেই একটা ড্যাম তৈরি হয়েছে।"
ড: সুবীর সরকার
"তাতে কী হয়েছে, তিস্তার স্বাভাবিক প্রবাহটাই সেখানে শুকিয়ে গেছে। জলটা ওখানে একেবারে স্থির!"
"অনেকে ওখানে গিয়ে আমাকে তো জিজ্ঞেস করে, এটা কি একটা লেক না কি?"
"আসলে তিস্তা এত প্রাণবন্ত ও উচ্ছ্বল একটা নদী ছিল, নদীর পাশ দিয়ে চলার সময় যে কলতানটা শুনতে পেতাম - সেই লাইফলাইনটাই যেন শুকিয়ে গেছে", আক্ষেপের সুরে বলেন ড: চৌধুরী।
তবে তা সত্ত্বেও বাংলাদেশের সঙ্গে তিস্তার জল ভাগাভাগিতে কিন্তু কোনও আপত্তি নেই পশ্চিমবঙ্গের এই প্রজন্মের যুবকদের।
জলপাইগুড়ির গাজলডোবাতে তিস্তা ব্যারাজের পাশ দিয়ে হাঁটতে হাঁটতে কথা হচ্ছিল এমনই কয়েকজনের সঙ্গে।
সুকান্ত সেন বলছিলেন, "আমাদের যেমন জলের প্রয়োজন আছে, তেমনি ওদেরও (বাংলাদেশ) তো প্রয়োজন আছে।"
"সেখানে দুই দেশের সংশ্লিষ্ট বিভাগ বসে একটা ফর্মুলা ঠিক করে নিলেই তো হয়।"
তার বন্ধু চিরদীপ পাশ থেকে যোগ করেন, "জল তো প্রকৃতির দান।"
"প্রকৃতির সেই সম্পদ নিয়ে কোনও দেশেরই খবরদারি কাঙ্ক্ষিত নয় - এটা তো অন্তত ন্যায্যতার ভিত্তিতে ভাগ করা দরকার!"
গাজলডোবাতে তিস্তা মহানন্দা লিঙ্ক ক্যানাল
তিস্তায় পুরো তিস্তা অববাহিকা জুড়ে গাছ কেটে ফেলা আর ব্যাপক নগরায়নেই সমস্যা আসলে আরও জটিল হয়েছে।
উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল বিভাগের প্রধান সুবীর সরকার বলছিলেন, "এই ডিফরেস্টেশেনের কারণেই বৃষ্টির জল মাটি সঞ্চয় করতে পারছে না।"
"কারণ স্লোপ বা ঢালটাই তো ফাঁকা হয়ে গেছে, ওখানে কোনও গাছপালাই নেই।"
"তাই বৃষ্টি হলেই গোটা জলটা তিস্তায় নেমে আসছে - আর বর্ষাকালে বন্যা বা বন্যার মতো পরিস্থিতি সৃষ্টি করে গোটা জলটাই বয়ে চলে যাচ্ছে।"
"ওদিকে বাকি সারা বছর নদীতে আর কোনও জল থাকছে না।"
"ফলে যে কন্টিনিউয়াস ফ্লো শুখা মৌশুমে বা লিন সিজনেও নদীকে সতেজ রাখে, সেটা কিন্তু একেবারেই শুকিয়ে যাচ্ছে", বলছিলেন হাইড্রোলজির বিশেষজ্ঞ ড: সরকার।
অধ্যাপক মৈত্রেয়ী চৌধুরী
তবে তিস্তায় জলপ্রবাহ যে কমেছে, তার পেছনে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের ভূমিকাও কিছু কম নয়।
এই পশ্চিমবঙ্গের গাজলডোবাতেই খাল কেটে ('তিস্তা মহানন্দা লিঙ্ক ক্যানাল') সম্বৎসর তিস্তার অন্তত দশ শতাংশ জল নিয়ে ফেলা হচ্ছে মহানন্দী নদীতে।
আর সেটা করা হচ্ছে পুরোপুরি পশ্চিমবঙ্গ সরকারের সিদ্ধান্তেই।
তবে ভারত ও বাংলাদেশ যদি সত্যিই এবারে ৫৪টি অভিন্ন নদীর পানিসম্পদের ব্যবস্থাপনা নিয়ে কোনও সমঝোতায় পৌঁছতে পারে, তা ঢাকার জন্য একটা ইতিবাচক বার্তা বয়ে আনতে পারে।
কারণ সেক্ষেত্রে তিস্তার প্রবাহ নিয়ে ভারতীয় রাজ্যগুলো তাদের মর্জিমাফিক কিছু করতে পারবে না, একটা আন্তর্জাতিক ফ্রেমওয়ার্ক তাদের মেনে চলতে হবে।
তিস্তার ভাঁটির দেশ বাংলাদেশের জন্য ভরসার কথা সেখানেই।
কালিঝোরায় তিস্তার বুকে ড্যাম ও জলবিদ্যুৎ প্রকল্প

রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ভেতরে এক কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগ সেনাবাহিনীর সদস্যদের বিরুদ্ধে by ফারহানা পারভীন

টেকনাফে একটা রোহিঙ্গা ক্যাম্প
কক্সবাজারের একটি রোহিঙ্গা আশ্রয় শিবিরে বাংলাদেশের সেনাবাহিনীর সদস্যদের বিরুদ্ধে একজন রোহিঙ্গা কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগ ওঠার পর আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ দপ্তর বা আইএসপিআর জানাচ্ছে, তারা বিষয়টি তদন্ত করে দেখাবার জন্য একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে।
রোহিঙ্গাদের পরিচালিত একটি ওয়েবসাইট 'রোহিঙ্গা ভিশন ডট কম'-এ প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে ধর্ষণের এই অভিযোগ সম্পর্কে জানা যায়।
প্রতিবেদনটিতে ধর্ষণের ঘটনাটি ঘটার সময় উল্লেখ করা হয়েছে গত ২৯শে সেপ্টেম্বর রবিবার, সন্ধ্যে সাড়ে সাতটা।
এতে বলা হয়, দুইজন কিশোরী তাদের ঘরের মধ্যে খেলা করছিল । সেই সময় বাংলাদেশের সেনাবাহিনীর দুইজন সদস্য এদের একজনকে রান্নাঘরে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করে।
সেনাসদস্যরা স্থান ত্যাগ করার পরে প্রতিবেশীরা কিশোরীটিকে নিয়ে স্থানীয় স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে যায়।
পরে তাকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হয়।
আইএসপিআর-এর পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আব্দুল্লাহ ইবনে জায়েদ বিবিসিকে বলেন, "অতি সম্প্রতি বেশ কয়েকটি বিদেশি অনলাইন পোর্টালে আমরা দেখতে পেলাম ১২ বছরের একটা রোহিঙ্গা মেয়ে সেনাসদস্য কর্তৃক ধর্ষণের শিকার হয়েছে"।
"ঐ সময় যৌথবাহিনীর যে নিয়মিত টহল হয় সেই টহল ঐখানে দিচ্ছিল। যাইহোক, বিদেশি অনলাইন ভিত্তিক পোর্টালে এই অভিযোগটা আসার পরে আমরা সে বিষয়টা বিবেচনায় নিয়ে একটা উচ্চ পর্যায়ের বিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠন করেছি"।
টেকনাফের নয়াপাড়া ক্যাম্পের একাধিক রোহিঙ্গা নেতার সঙ্গে বিবিসির কথা হয়। তারা জানান, তারাও ২৯শে সেপ্টেম্বরের এই ঘটনাটি সম্পর্কে অবগত আছেন। সেনাসদস্যদের জড়িত থাকার কথাও তারা উল্লেখ করেন।
একজন রোহিঙ্গা নেতা বলছিলেন, ঐ ঘটনার পর 'ভিকটিমের পরিবার' এখন আর কোন কথা বলতে চাচ্ছে না।
কক্সবাজারের একজন স্বাস্থ্য কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ৩০ শে সেপ্টেম্বর সদর হাসপাতালে একজন 'রেপ ভিকটিমকে' চিকিৎসা দেয়া হয়। তিনি দুইদিন ঐ হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন।
তবে কক্সবাজার সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মহিউদ্দিনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি এই ব্যাপারে কোন মন্তব্য করতে চাননি।
আইএসপিআর এর পরিচালক লে .কর্নেল জায়েদ অভিযুক্ত সেনাসদস্যদের ব্যাপারে বলছেন, "যদি দোষী প্রমাণিত হয়, সেই দোষের মাত্রা অনুযায়ী দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে"।
তদন্ত কমিটি সম্পর্কে তিনি বলেন, "সেনাবাহিনী উপযুক্ত ব্যক্তিবর্গকে দিয়ে এই কমিটি গঠন করেছে, যারা এই বিষয়টির গুরুত্ব অনুধাবন করে, এটা যে স্পর্শকাতর একটা ব্যাপার সেটা উপলব্ধি করে সেই রকমভাবে তদন্ত করতে পারেন এবং তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারেন"।
এদিকে, টেকনাফ থানার ওসি প্রদীপ কুমার দাশ বিবিসিকে জানান এই অভিযোগের কথা লোকমুখে শুনতে পেয়ে তিনি পুলিশ সদস্য পাঠিয়েছিলেন। তবে ভিকটিমের পরিবার বা প্রতিবেশী এমন কাওকে পাওয়া যায়নি।
ওসি প্রদীপ কুমার দাশ বলেন, "যদি আমাদের কাছে কেউ অভিযোগ না করে তাহলে তো আমরা ব্যবস্থা নিতে পারিনা। তবে আমরা এমন একটা গুঞ্জন শুনে লোক পাঠিয়েছিলাম কিন্তু কাউকে পাওয়া যায়নি"।
কক্সবাজারে শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মাহবুব আলম তালুকদার অবশ্য বলেন, "এই ধরণের তথ্য সত্য না"।
এদিকে কক্সবাজারে জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর বলছে, "এই প্রতিবেদন সম্পর্কে তারা অবগত আছে"।
তারা আরো বলছে, এই ধরণের ঘটনায় ব্যক্তিকে চিকিৎসা, মানসিক এবং শারীরিক সাহায্য পেতে পারে।
সংস্থাটি বলছে, "ব্যক্তির গোপনীয়তা রক্ষার অধিকার বজায় রাখা এবং চলমান তদন্তে আমরা ব্যক্তির বিস্তারিত জানাতে পারি না"।
২০১৭ সালের অগাস্টের শেষ দিকে মিয়ানমার থেকে রোহিঙ্গারা বাংলাদেশে আসা শুরু করে।
তাদের অনেকেই বাংলাদেশে এসে মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর হাতে নির্যাতিত হওয়ার নানা অভিযোগ করেছিলেন।
এদের অনেকেই গণধর্ষণ ও যৌন নিপীড়ণের অভিযোগও করেছিলেন।
বর্তমানে কক্সবাজারের বিভিন্ন ক্যাম্পে ১১ লক্ষের মত রোহিঙ্গা রয়েছে। তাদের নিরাপত্তার জন্য পুলিশ, বিজিবি এবং সেনাবাহিনী কাজ করছে। সেখানে বেশ কিছু দেশি ,বিদেশি আন্তর্জাতিক সংস্থা কাজ করছে রোহিঙ্গাদের সহায়তা করার জন্য।

সৌদি ক্রাউন প্রিন্সের সমালোচনা বাড়ছে: আল জাজিরার রিপোর্ট

সবচেয়ে বড় তেলক্ষেত্রে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর সৌদি আরবের ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমানের সমালোচনা বৃদ্ধি পাচ্ছে। তার নেতৃত্ব নিয়ে ক্ষমতাসীন রাজপরিবারের কিছু সদস্য ও ব্যবসায়ী বিশেষজ্ঞরা হতাশা প্রকাশ করেছেন। বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে উদ্ধৃত করে এ খবর দিয়েছে অনলাইন আল জাজিরা। এতে বলা হয়েছে, গত মাসে সৌদি আরবের দুটি তেলক্ষেত্রে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় ইয়েমেনের হুতিরা। এতে মারাত্মক ক্ষতি হয় ওই দুটি স্থাপনার। এর ফলে বিশ্বের সবচেয়ে বড় তেল রপ্তানিকারক সৌদি আরবের তেল রপ্তানির ওপর বড় প্রভাব পড়ে। এ অবস্থায় ক্ষমতাসীন রাজপরিবারের বিভিন্ন শাখায় বিভিন্ন প্রভাবশালীর মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে ক্রাউন প্রিন্সের প্রতিরক্ষা ও নেতৃত্ব দেয়া নিয়ে। রয়টার্স বুধবার যেসব সূত্রের উদ্ধৃত করে রিপোর্ট প্রকাশ করেছে তারা নাম প্রকাশ করতে রাজি নন কেউই।
সূত্রগুলো বলেছেন, অভিজাত একটি মহলের কাছে ওই হামলায় অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।
তারা বিশ্বাস করেন, ক্রাউন প্রিন্স ক্ষমতাকে খুব বেশি শক্ত করে আঁকড়ে ধরেছেন। তাদের কেউ কেউ বলছেন, যারা মনে করেন ইরানের বিরুদ্ধে অতিমাত্রায় আগ্রাসী অবস্থান নিয়েছেন ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ, তাদের মধ্যে তার বিরুদ্ধে সমালোচনা ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে। রাজপরিবারের সঙ্গে সম্পর্ক আছে এমন একজন সৌদি অভিজাত সদস্য ওই সূত্রের একজন। তিনি বলেছেন, ক্রাউন প্রিন্সের নেতৃত্ব নিয়ে রয়েছে ব্যাপক অসন্তোষ। তার প্রশ্ন- কেন সরকার ওই হামলা আগেভাগে চিহ্নিত করতে পারলো না? এই সূত্রটি বলেছেন, অভিজাত শ্রেণির মধ্যে কেউ কেউ ক্রাউন প্রিন্সের ওপর আস্থা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। অন্য চারটি সূত্র ও একজন সিনিয়র কূটনীতিকের মুখেও একই রকম কথা শোনা গেছে।
ক্রাউন প্রিন্সের ঘনিষ্ঠদের মধ্যে একটি সূত্র বলেছেন, তেলক্ষেত্রে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার সর্বশেষ ঘটনা ক্রাউন প্রিন্সকে ব্যক্তিগতভাবে কোনো ক্ষতি করবে না। কারণ, তিনি একজন কার্যকর শাসক। আঞ্চলিক প্রাধান্য বিস্তারে ইরানকে থামানোর চেষ্টা করছেন তিনি। এটি হলো দেশপ্রেমের ইস্যু। তাই তিনি কোনো বিপদে পড়বেন না, অন্তত যতদিন তার পিতা বাদশা সালমান বেঁচে আছেন।
বিদেশী দ্বিতীয় একজন সিনিয়র কূটনীতিক বলেছেন, ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ যেহেতু একজন শক্তিশালী, অবধারিত ও গতিশীল নেতা তাই তার পিছনে ঐক্যবদ্ধ থাকবেন সাধারণ সৌদি নাগরিকরা। এ বিষয়ে সৌদি আরব সরকারের মিডিয়া অফিসের সঙ্গে যোগাযোগ করে রয়টার্স। তবে তারা এ বিষয়ে বিস্তারিত কোনো প্রশ্নের উত্তর দিতে রাজি হয় নি। ওদিকে গত রোববার যুক্তরাষ্ট্রের টেলিভিশন চ্যানেল সিবিএসে প্রিন্স মোহাম্মদের একটি সাক্ষাতকার প্রচারিত হয়। সেখানে তিনি বলেন, সৌদি আরব একটি বিশাল দেশ। এর সঙ্গে রয়েছে ব্যাপক হুমকি। এমন অবস্থায় সৌদি আরবের প্রতিরক্ষা দেয়া কঠিন কাজ। তিনি বলেছেন, এসব পুরোপুরি মোকাবিলা চ্যালেঞ্জিং। তাই তিনি ইরানকে বিরত রাখার জন্য শক্তিশালী ও সুচিন্তিত বৈশ্বিক পদক্ষেপ আহ্বান করেন। তিনি বলেন, শান্তিপূর্ণ সমাধানের মধ্যে তিনি সামরিক পদক্ষেপের পক্ষে।
আল জাজিরা আরো লিখেছে, সৌদি আরবের বর্তমান বাদশা সালমানের বয়স এখন ৮৩ বছর। তার পরেই আনুষ্ঠানিকভাবে তার স্থান দখল করবেন ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ। আর এর মধ্য দিয়ে তিনি হয়ে উঠবেন সৌদি আরবের মূল শাসক। এরই মধ্যে তিনি সৌদি আরবকে আধুনিক রাষ্ট্রে পরিণত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন। ৩৪ বছর বয়সী এই প্রিন্সের জনপ্রিয়তা যুব শ্রেণির মধ্যে খুব বেশি। রক্ষণশীল সৌদি আরবে সামাজিক অনেক বিধিনিষেধ শিথিল করার মধ্য দিয়ে তিনি প্রশংসা কুড়িয়েছেন। নারীদের অধিক অধিকার নিশ্চিত করেছেন। সৌদি আরবের তেলনির্ভর অর্থনীতিকে অন্য খাতে বিস্তৃতি করার প্রত্যয় ঘোষণা করেছেন। এ জন্য পর্যটন খাতকে সমৃদ্ধ করতে চেয়েছেন। কিন্তু মিডিয়ার ওপর রাষ্ট্রীয় যে নিয়ন্ত্রণ ও ভিন্ন মতাবলম্বীদের বিরুদ্ধে যে দমনপীড়ন তা দেশটির আভ্যন্তরীণ পর্যায়ে প্রকৃত পরিবর্তনকে কঠিন করে তুলেছে।

উইঘুর মুসলিমদের ওপর দমনপীড়ন: সমগ্র বিশ্বকে চুপ রাখতে সফল চীন

তুরস্কের প্রেসিডেন্ট এরদোগান নিজ দেশে ইসলামিক মূল্যবোধ তথা ধর্মীয় অনুভূতিকে কাজে লাগিয়ে রাজনৈতিকভাবে নিজের অবস্থানকে শক্তিশালী করেছেন। মুসলিম বিশ্বের নানা ইস্যুতেও তাকে বিভিন্ন সময় সোচ্চার দেখা গেছে। কিন্তু চীনের উইঘুরে মুসলিমদের ওপর দেশটির সরকারের কঠিন নজরদারি ও মানবাধিকার লঙ্ঘন নিয়ে তিনি একদমই চুপ। এ বছরের জুলাইতে বেইজিং সফর করেন তিনি। এ সময় তিনি চীনের সিল্ক রোডের পরিকল্পনার পক্ষে নিজের অকুণ্ঠ সমর্থন ব্যক্ত করেন। তার দেশে চীনের বিনিয়োগের প্রস্তাবও উৎসাহের সঙ্গে স্বাগত জানান।
এরদোগান যখন উইঘুরের মুসলিমদের নিয়ে কথা বলেছিলেন তার প্রায় এক যুগ পেরিয়ে গেছে। এরপর তিনি এ ইস্যু যেন বেমালুম ভুলে গেছেন। শুধু এরদোগানই নয়, সমগ্র বিশ্বই যেন শিনজিয়াং নিয়ে একদম চুপ হয়ে গেছে। সেখানে চীন বিশ্বের অন্যতম বড় বন্দিশিবির তৈরি করেছে এবং সমগ্র এলাকাকে রেখেছে কঠিন নজরদারির আওতায়। গত দুই বছর ধরে উইঘুর মুসলিমদের রাষ্ট্রের প্রতি অনুগত, ধর্মনিরপেক্ষ ও কমিউনিস্ট পার্টির সমর্থক হিসেবে গড়ে তুলতে ব্যাপক পদক্ষেপ হাতে নিয়েছে চীন।
নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চে ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলার পর পরই দেশটির প্রধানমন্ত্রী জ্যাসিন্ডা আর্ডেন বেইজিং সফর করেন। অনেকেরই ধারণা ছিলো ওই সফরে উইঘুরদের বিষয়ে চীনকে কিছুটা হলেও চাপ দেবেন তিনি। কিন্তু সফর শেষে এরকম কিছুই ঘটেনি। কারণ কারোরই অজানা নয়। নিউজিল্যান্ডের জন্য চীন একটি বড় বাজার। দেশটি চীনে ব্যাপক পরিমাণে দুধ, মাংস ও ওয়াইন বিক্রি করে থাকে। তুরস্কের ক্ষেত্রেও বিষয়টি একইরকম। গত বছর চীন শক্তি ও যোগাযোগ খাতে উন্নয়নের জন্য তুরস্ককে ৩.৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ঋণ দিয়েছে। এরদোগান যখন চীন সফরে ছিলেন তখন প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং চীনা স্বার্থ রক্ষায় তাকে বাহবা দিয়েছিলেন। চীনের কাছ থেকে প্রশংসিত হওয়া অনেক শাসকের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ।
নিজের কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক শক্তিকে কাজে লাগিয়ে চীন তার বিরুদ্ধে বিশ্বব্যাপী সমালোচনাকে দমিয়ে রেখেছে। উল্টো উইঘুরে মুসলিমদের মানবাধিকার হরণ প্রসঙ্গে চীনকে সমর্থন দিয়েছে মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকার বেশিরভাগ মুসলিম রাষ্ট্রই। এমনকি জাতিসংঘেও যাতে বিষয়টি আলোচনা হয় তার পথও আটকে দিয়েছে চীন। জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে ধর্মীয় স্বাধীনতা রক্ষা বিষয়ক আলোচনায়ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প উইঘুরদের নিয়ে কোনো শব্দ উচ্চারণ করেননি। ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্স চীনে খ্রিষ্টানদের ওপর নির্যাতনের চিত্র তুলে ধরে উইঘুরদের বিষয়ে খুব সামান্যই প্রতিবাদ জানিয়েছেন।
চীন প্রথম থেকেই দাবি করে আসছে, উইঘুরদের বিষয়ে তারা যা করছে তা ইসলামি মৌলবাদের বিরুদ্ধে একটি যুদ্ধ। দেশটি উইঘুরে ওইসব প্রতিষ্ঠানকে বোর্ডিং স্কুল হিসেবে দাবি করছে। বলছে, যেসব মানুষ ওই বন্দিশিবিরে আটক রয়েছে তারা সবাই স্বেচ্ছায়ই রয়েছে সেখানে। সমপ্রতি চীন জানিয়েছে, শিংজিয়াংয়ের সকল বন্দি শিবির বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। তবে বিশ্বব্যাপী চীনের এ দাবি নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন অনেকেই। জাতিসংঘে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রী ওয়াং ই বলেন, গত ৩ বছরে চীনে একটিও সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটেনি। এইসব শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্রগুলো উইঘুরের মুসলিমদের সন্ত্রাসবাদ থেকে দূরে রাখছে ও তাদেরকে কর্মদক্ষ হিসেবে গড়ে তুলছে।
উইঘুরে চীনের আচরণ নিয়ে যারা নিন্দা জানাচ্ছেন তাদের মধ্যে অন্যতম যুক্তরাষ্ট্রের ট্রাম্প সরকার। প্রথম থেকেই চীনের মানবাধিকার লঙ্ঘন নিয়ে সক্রিয় দেশটি। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও ইতিমধ্যে একে শতাব্দীর বড় কলঙ্ক হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। তার একজন সহকারী জন সালিভান মঙ্গলবার জাতিসংঘ অধিবেশনের সাইডলাইনে বিভিন্ন রাষ্ট্রপ্রধানদের সঙ্গে উইঘুর মুসলিমদের ওপর চীনা দমন-পীড়ন নিয়ে কথা বলেন তিনি। কিন্তু এখন পর্যন্ত প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে উইঘুর ইস্যুতে কিছু বলতে দেখা যায়নি। কোনো এক অদ্ভুত কারণে তিনিও বিষয়টি এড়িয়ে চলছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের এই সীমিত পদক্ষেপের একটি বৈশ্বিক প্রভাব রয়েছে। যদি ওয়াশিংটন উইঘুরদের ওপর দমন-পীড়ন নিয়ে কিছু না করে তাহলে অন্যান্য দেশও এই ইস্যুতে চাপ বোধ করবে না। অর্থনৈতিক কারণে বেশিরভাগ দেশই চীনের বিষয়ে সাবধানে কথা বলে। ওবামা প্রশাসনের ইস্ট এশিয়ান অ্যান্ড প্যাসিফিক অ্যাফায়ার্সের এসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি ড্যানিয়েল আর রাসেল বিষয়টি স্পষ্ট করেন। তিনি বলেন, অনেক সরকারই এখন চীনের এই ইস্যুতে সেলফ-সেন্সরিং করছে। বেইজিং তার নিজের স্বার্থের বিষয়ে অত্যন্ত সচেতন। আর তাই জাতিসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিলে চীন যখন তার দেশের মানবাধিকারের বিষয়ে প্রেজেন্টেশন দিলো তখন ১২০টিরও বেশি দেশ তাতে ইতিবাচক রিভিউ দিয়েছিল। বিশ্বের খুব কম দেশই রয়েছে যে মুখ ফসকেও কিছু বলে চীনের সঙ্গে সম্পর্ক খারাপ করার ঝুঁকি নিতে চাইবে। তাই কোনো রাষ্ট্র যখন চীনের সমালোচনা করেও তখনো দেখা যায় তারা কোনো একটি দল হয়ে করছে। এবং এই সমালোচনাটাও তারা করছে যতখানি নিরাপদ থেকে সম্ভব।
(নিউ ইয়র্ক টাইমস অবলম্বনে)

ইরাকজুড়ে বিক্ষোভ, নিহত কমপক্ষে ৬

সরকার বিরোধী বিক্ষোভে উত্তাল ইরাক। দেশজুড়ে এই বিক্ষোভে এরই মধ্যে কমপক্ষে ৬ জন নিহত হয়েছেন। ফলে দেশটির দক্ষিণাঞ্চলীয় কয়েকটি শহরে জারি করা হয়েছে কারফিউ। দেশজুড়ে ইন্টারনেট সংযোগ কার্যত বিচ্ছিন্ন করে রাখা হয়েছে। বেকারত্ব, দুর্নীতি ও নাজুক সরকারি সেবার বিরুদ্ধে এই প্রতিবাদ দ্বিতীয় দিন অতিবাহিত করে বুধবার। এদিন বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়। এতে দক্ষিণের নাসিরিয়া শহরে কমপক্ষে তিনজন বিক্ষোভকারী ও এক পুলিশ সদস্য নিহত হয়েছেন। বিক্ষোভে পুলিশ সরাসরি গুলি ও কাঁদানে গ্যাস ছুড়েছে বলে দাবি করেছে নজরদারি একটি গ্রুপ।
এ খবর দিয়েছে অনলাইন আল জাজিরা।
মঙ্গলবার রাজধানী বাগদাদে একজন এবং নাসিরিয়া শহরে একজন নিহত হন। আহত হয়েছেন কয়েকশত মানুষ। এক বছর বয়সী প্রধানমন্ত্রী আদেল আবদুল মাহদির সরকারের বিরুদ্ধে দেশজুড়ে এটাই সবচেয়ে বড় জনবিক্ষোভ। ইরাকি অবজার্ভেটরি ফর হিউম্যান রাইটসের পরিচালক মুস্তাফা সাদুন বলেছেন, বুধবার নাসিরিয়া শহরে সংঘর্ষে তিনজন বিক্ষোভকারী ও একজন পুলিশ সদস্য নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন কমপক্ষে ৭৮ জন। তবে মেডিকেল ও নিরাপত্তা সূত্রের উদ্ধৃতি দিয়ে নিউজ বিষয়ক এজেন্সিগুলো বলছে, মঙ্গলবার ও বুধবার মিলিয়ে নিহতের সংখ্যা ৯। তবে এই সংখ্যা নিরপেক্ষভাবে যাচাই করা যায় নি।
বুধবার নাসিরিয়া শহরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হয় পুলিশ। ফলে দিনের শেষে কর্তৃপক্ষ সেখানে মোতায়েন করে সন্ত্রাসবিরোধী সেনা। পরে নাসিরিয়া ও দক্ষিণের অন্য দুটি শহর আমারা, হিল্লা’তে কারফিউ জারি করা হয়। ইন্টারনেট বন্ধ করে দেয়ার বিষয়ে পর্যবেক্ষণকারী প্রতিষ্ঠান নেটব্লকস বলছে, রাজধানী বাগদাদ সহ দেশের বেশির ভাগ এলাকায় অনলাইনে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন ছিল। ইন্টারটে সংযোগ নামিয়ে দেয়া হয় শতকরা ৭০ ভাগেরও বেশি। সশস্ত্র সেনাবাহিনী, কয়েক ডজন দাঙ্গা পুলিশ মোতায়েন করে বুধবার সিল করে দেয়া হয় রাজধানী বাগদাদের তাহরির স্কয়ার। তবে এর আশপাশে সমবেত হয়েছিলেন বেশ কিছু বিক্ষোভকারী। মঙ্গলবার বিক্ষোভ করেছেন ইউনিভার্সিটির কয়েক হাজার বিক্ষোভকারী।
বুধবার উত্তর বাগদানের আল শাব এলাকার রাস্তায় বিক্ষোভ হয়েছে। দক্ষিণের জাফরানিয়াতেও বিক্ষোভ হয়েছে। এ সময় ফাঁকা গুলি ছুড়ে ও কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করে তাদেরকে ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা করে দাঙ্গা পুলিশ। বিক্ষোভকারী আবদাল্লাহ ওয়ালিদ বলেছেন, আমার ভাইদের সমর্থন করতে তাহরির স্কয়ারে গিয়েছি। সেখানে তারা রাস্তার ওপর গাড়ির টায়ার পোড়াচ্ছিলেন। তিনি বলেন, উন্নত সরকারি সেবা ও ভাল চাকরি চাই আমরা। আমরা বছরের পর বছর ধরে এমন দাবি জানিয়ে আসছি। কিন্তু আমাদের কথায় কোনো সাড়া দিচ্ছে না সরকার।
আল জাজিরার সাংবাদিক ইমরান খান বলছেন, র‌্যালিতে এত মানুষের সমাগম দেখে বিস্ময় প্রকাশ করেছে ইরাক সরকার। এই বিক্ষোভ আয়োজন করা হয়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করে। তিনি আরো বলেছেন, এই বিক্ষোভ যেভাবে ছড়িয়ে পড়ছে তাতে খুবই উদ্বিগ্ন সরকার। তাই তারা বিক্ষোভের স্থান থেকে সরাসরি সম্প্রচারে বিধিনিষেধ দিচ্ছে। ফেসবুক ও টুইটারের মতো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের ওপরও একই রকম ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। এ অবস্থায় পূর্বের শহর কুট-এ মিউনিসিপ্যালিটির ভিতরে প্রবেশ করার চেষ্টা করেন বিক্ষোভকারীরা। হিল্লা ও দিয়ানিয়ার রাস্তায় রাস্তায় বিক্ষোভ করেন শত শত মানুষ। কয়েক হাজার মানুষ জমায়েত হন তেলসমৃদ্ধ শহর বসরায়। তারা প্রাদেশিক প্রশাসনিক ভবনের সামনে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ করতে থাকেন। বিক্ষোভ হয়েছে সামওয়াতেও। ছোটা আকারে বিক্ষোভ হয়েছে কিরকুক, তিকরিত এবং দিয়ালা প্রদেশে।
এ অবস্থায় জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের জরুরি বৈঠক হয়েছে বুধবার। এতে সভাপতিত্ব করেছেন প্রধানমন্ত্রী আবদুল মাহদি। এই পরিষদ থেকে নিহতের ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করে বিবৃতি দেয়া হয়। প্রতিবাদ ও মত প্রকাশের স্বাধীনতার বিষয় নিশ্চিত রাখার কথা বলা হয়। তবে এতে বুধবারের বিক্ষোভের কোনো কথার উল্লেখ ছিল না। এতে বলা হয়েছে, নাগরিকদের, সরকারি এবং বেসরকারি সহায় সম্পদ রক্ষায় কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা নেবে। সব সামরিক ইউনিটকে উচ্চ সতর্ক অবস্থায় রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়।
ওদিকে বেকার গ্রাজুয়েটদের কর্মসংস্থানের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী মাহদি। একই সঙ্গে স্থানীয়দের জন্য শতকরা ৫০ ভাগ কোটা রাখার জন্য তিনি তেল বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও সরকারের অন্য সংস্থাগুলোকে নির্দেশনা দিয়েছেন। বিশ্বব্যাংকের হিসেবে, ইরাকের যুবকদের মধ্যে বেকারত্বের শতকরা হার কমপক্ষে ২০ ভাগ। তাই বাগদাদে অবস্থিত মুস্তানসিরিয়া ইউনিভার্সিটির আন্তর্জাতিক সম্পর্কের প্রফেসর আলী আল নাশমি সর্বশেষ এই বিক্ষোভকে বর্ণনা করেছেন এযাবতকালের মধ্যে সবচেয়ে গুরুতর হিসেবে। তিনি বলেন, বিক্ষোভ থেকে অনেক দাবি নিয়ে স্লোগান দেয়া হয়েছে। তারা চাকরি চায়। দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই চায়। বিদ্যুত চায়। তাদের একক কোনো স্লোগান বা একক কোনো নেতা নেই। তারা সবকিছুর দিকে দৃষ্টি দিয়েছে। তারা কোনো বিশেষ ধর্মীয় গ্রুপের বা রাজনৈতিক দলের অনুসারী নন। তাই তাদেরকে নিয়ন্ত্রণ করা বা তাদের সঙ্গে সমঝোতা করা খুব কঠিন বিষয় হয়ে দাঁড়াবে।
বুধবার দিনের শেষের দিকে শিয়া মতাবলম্বী শক্তিধর নেতা মুক্তাদির আল সদর শান্তিপূর্ণভাবে বিক্ষোভ ও ধর্মঘট করার আহ্বান জানিয়েছেন। অন্যদিকে তুরস্কের আঙ্কারায় বিশ্লেষক ইউসুফ আলাবারদা ইরাকের পরিস্থিতিকে অত্যন্ত ভঙ্গুর বলে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেছেন, ইরাক একটি যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ। একটি ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত হওয়ার খুব কাছাকাছি। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্র, ইরান ও তুরস্কের মধ্যে রয়েছে শত্রুতা। এসব কারণে ইরাকের ভিতরকার পরিস্থিতি অত্যন্ত ভঙ্গুর।

আঞ্চলিক অর্থনীতির কেন্দ্র হতে পারে বাংলাদেশ

ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ার অর্থনীতির কেন্দ্র হয়ে ওঠার বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বৃহস্পতিবার দুপুরে নয়াদিল্লির হোটেল তাজ প্যালেসের দরবার হলে ইন্ডিয়া ইকোনমিক সামিটে দেয়া বক্তব্যে শেখ হাসিনা বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন, বিনিয়োগ সম্ভাবনা, বিভিন্ন খাতের উন্নয়ন নিয়েও কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, পূর্ব এশিয়া, ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চল, পশ্চিমে চীন, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যবর্তী হওয়ায় বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক এবং ভারতের ব্যবসার অন্যতম ক্ষেত্র হতে পারে। আমরা এ অঞ্চলের অর্থনৈতিক হাব হিসেবে ভূমিকা রাখতে পারি। আমাদের নিজস্ব ১৬ কোটি জনগণ ছাড়াও প্রায় ৩০০ কোটি মানুষের একটি বিশাল বাজারের যোগাযোগের পথ হতে পারে বাংলাদেশ। সামাজিক মূল্যবোধ এবং জনগণের আস্থাই বাংলাদেশের উন্নয়নের মূল শক্তি বলে মনে করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। একইসঙ্গে আমাদের নেতৃত্বের অন্যতম শক্তি হচ্ছে উন্নয়নের প্রতি মানুষের আকাঙ্খা, তাদের লড়াকু মানসিকতা এবং আত্মবিশ্বাস। এর আগে সকাল সোয়া ৮টায় ঢাকা থেকে রওনা হয়ে ৯টা ৫০ মিনিটে দিল্লির পালাম বিমান ঘাঁটিতে পৌঁছান বাংলাদেশের সরকার প্রধান।
দুপুরে তিনি যোগ দেন ইন্ডিয়া ইকোনমিক সামিটে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, আমার বাবা জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান একটি ক্ষুধা, দারিদ্র্যমুক্ত এবং শোষণহীন সোনার বাংলার স্বপ্ন দেখেছিলেন। তার সেই লক্ষ্যই আমাদের ২০২১ সালের মধ্যে উন্নয়নশীল এবং ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত দেশ হওয়ার আত্মবিশ্বাস দিয়েছে। শেখ হাসিনা বলেন, গত বছর আমরা কোরিয়াতে ১২টি ইন্ডাস্ট্রিয়াল রোবট রপ্তানি করেছি। বাংলাদেশে তৈরি চারটি জাহাজ ভারতে আসছে। সমপ্রতি রিলায়েন্স বাংলাদেশে তৈরি বিপুল পরিমাণ রেফ্রিজারেটর কিনেছে। বাংলাদেশে ছয় লাখ আইটি ফ্রিল্যান্সারের বিশাল গোষ্ঠি রয়েছে। বাংলাদেশে বিনিয়োগের সুযোগের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, গতানুগতিক খাতের বাইরে বাংলাদেশের শিক্ষা, হালকা শিল্প, ইলেকট্রনিক্স, গাড়ি শিল্প, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতে বিদেশি, বিশেষ করে ভারতের উদ্যোক্তাদের বিনিয়োগ করার এখনই সময়। বাংলাদেশে দ্রুত নগরায়নের চিত্র তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০৩০ সালে দেশের জনসংখ্যার ৪৮ শতাংশই হবে শহুরে। যাদের অধিকাংশই হবে তরুণ, পরিশ্রমী এবং ডিজিটাল ব্যবস্থায় যুক্ত। তিনি বলেন, এরইমধ্যে বাংলাদেশের ১১ কোটি মানুষ ইন্টারনেটের আওতায় এসেছে।
২০২৫ সালের মধ্যে ৪১ শতাংশ মানুষ মোবাইল ইন্টারনেটের আওতায় আসবে। বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতির চিত্র তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, অনেক দেশের মতো আমাদেরও অনেক চ্যালেঞ্জ আছে। কিন্তু আমরা জানি কিভাবে চ্যালেঞ্জগুলোকে সুযোগে পরিণত করতে হয়। এ বছর আমরা রেকর্ড ৮ দশমিক এক শতাংশ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছি। আমরা দুই সংখ্যার কাছাকাছি রয়েছি। ২০০৯ সালের পর বাংলাদেশের অর্থনীতির আকার ১৮৮ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। আমাদের মাথাপিছু আয় দুই হাজার ডলারের কাছাকাছি। কৃষি স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের পাশাপাশি আমরা এখন ধান উৎপাদনে বিশ্বের চতুর্থ বৃহৎ দেশ, পাট উৎপাদনে দ্বিতীয়, আম উৎপাদনে চতুর্থ, সবজি উৎপাদনে পঞ্চম এবং মৎস্য উৎপাদনে চতুর্থ। বিভিন্ন শস্য ও ফলের জীবনরহস্য উন্মোচনের মাধ্যমে এ খাতে আমরা আরও এগিয়ে যাচ্ছি। শেখ হাসিনা তথ্যপ্রযুক্তি খাতে অর্জনের কথা তুলে ধরে বলেন, ডিজিটাল বাংলাদেশ হওয়ার পথে ২০০৯ সালের পর তৃণমূলের শতাভাগ মানুষের কাছে তথ্যপ্রযুক্তি সেবা পৌঁছানো হয়েছে। সাধারণ মানুষ যাতে উন্নয়নের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে পারে সে ধরনের প্রযুক্তি সেবা দেয়াই আমাদের লক্ষ্য। এরই ফল হিসেবে এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলে বাংলাদেশেই রয়েছে ইন্টারনেট ব্যবহারকারী পঞ্চম বৃহৎ জনগোষ্ঠি। আমরা দ্রুত ক্যাশবিহীন ব্যবস্থার দিকে এগিয়ে যাচ্ছি। গত বছর ই-কমার্স খাতে আমাদের লেনদেন হয়েছে ২৬ কোটি ডলারের কাছাকাছি।
দক্ষিণ এশিয়ায় এ মুহূর্তে বাংলাদেশ উদার বিনিয়োগের অন্যতম ক্ষেত্র বলে উল্লেখ করেন শেখ হাসিনা। বিদেশি বিনিয়োগের আইনি সুরক্ষা, বছরে বড় ধরনের প্রণোদনা, যন্ত্রপাতি আমদানিতে শুল্কছাড়, সহজে ব্যবসা ছাড়া, পুরো মুনাফা এবং মূলধন বিদেশে নেয়ার সুবিধা দেয়া হয় বলেও জানান তিনি। দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ বাড়াতে ১০০টি বিশেষ অর্থনৈতিক এলাকা তৈরির কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এরই মধ্যে ১২টি অর্থনৈতিক এলাকায় কার্যক্রম শুরু হয়েছে। ভারতের বিনিয়োগকারীদের জন্য রয়েছে দুইটি অর্থনৈতিক এলাকা। এছাড়া বেশ কয়েকটি হাই টেক পার্কও প্রস্তুত হয়েছে বলে জানান তিনি। প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান অনুষ্ঠানে বলেন, বাংলাদেশে বিনিয়োগের সুন্দর পরিবেশ রয়েছে। পরে প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব হাসান জাহিদ তুষার বলেন, বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের নেতারা সভায় প্রধানমন্ত্রীর অভূতপূর্ব নেতৃত্বের প্রশংসা করেছেন। বাংলাদেশে নারী শিক্ষার অগ্রগতিতে শেখ হাসিনার নেতৃত্বকে দৃষ্টান্ত হিসাবে উল্লেখ করেন তারা। ভারতীয় বিনোয়োগকারীরা বাংলাদেশে বিনিয়োগে আগ্রহী বলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে জানান।
দিল্লিতে প্রধানমন্ত্রীকে লালগালিচায় স্বাগতম: এদিকে চার দিনের সরকারি সফরে ভারতের রাজধানী দিল্লিতে প্রধানমন্ত্রী পৌঁছালে তাকে বিমানবন্দরে লাল গালিচায় স্বাগত জানানো হয়। ভারতের কেন্দ্রীয় মহিলা ও শিশুকল্যাণ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী দেবশ্রী চৌধুরী, ভারতে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার সৈয়দ মোয়াজ্জেম আলী ও বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার রিভা গাঙ্গুলী দাস এ সময় বিমানন্দরে উপস্থিত থেকে বাংলাদেশের সরকার প্রধানকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান।

কাশ্মীর সঙ্কট ভূখণ্ডগত নয়, এটি ইসলামের ওপর হিন্দু বিজয় by কপিল কোমিরেড্ডি

ভারতের একমাত্র মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ রাজ্য কাশ্মীর অস্তিত্বহীনতার পরাবাস্তব জগতে অবস্থান করছে। রাজ্যের মর্যাদা বিলুপ্ত, এর স্বায়ত্বশাসন বাতিল ও দুই অংশে খণ্ডিত করে ফেডারেল-শাসিত ভূখণ্ড করার নিয়ে রাষ্ট্রপতির ডিক্রি জারির পর থেকে ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে, সেলুলার নেটওয়ার্ক বন্ধ করা হয়েছে, এমনকি ল্যান্ডলাইনও বন্ধ রয়েছে। জনসমাবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে, নাগরিকদের কারফিউয়ের আওতায় রাখা হয়েছে। কোনো কোনো গ্রামে প্রতিটি বাড়ির বাইরে একজন করে সৈন্য মোতায়েন করা হয়েছে। দুনিয়া থেকে ৮০ লাখ লোক একে অপর থেকে বিচ্ছিন্ন রয়েছে। ফার্মেসিগুলোতে ওষুধ নেই, বাড়িগুলোতে খাবার বলতে নেই, আহত বিক্ষোভকারীরা হাসপাতালগুলোতে আটকা পড়ে আছে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি জোর দিয়ে বলেছেন যে এসবই করা হয়েছে কাশ্মীরীদের কল্যাণের জন্য। কাশ্মীরের ওপর ভারতের মুষ্ঠি খুব কমই এর চেয়ে কঠোর ছিল। অবশ্য কাশ্মীরের ওপর তার নিয়ন্ত্রণ আর কখনোই এত ভঙ্গুরও হয়নি।

মোদির আকস্মিকভাবে কাশ্মীরের ওপর নিয়ন্ত্রণ গ্রহণটি অভিন্ন হিন্দু জাতি নিয়ে তার ভিশনের কাছে মুসলিম প্রাধান্যপূর্ণ জনসংখ্যার আত্মসমর্পণ ঘটানো ছিল দীর্ঘ দিন ধরে লালিত আদর্শগত আকাঙ্ক্ষার বাস্তবায়ন। এর মাধ্যমে অবশিষ্ট ভারতের কাছেও বার্তা দেয়া হলো উপমহাদেশে যে হিন্দু স্বর্গ প্রতিষ্ঠা তিনি করতে চান, তা থেকে কেউই রেহাই পাবে না। কাশ্মীর একদিকে হুঁশিয়ারি, অন্য দিকে মাপদণ্ড। এই ভিশন থেকে বিচ্যুত যেকোনো রাজ্যকেই ‘ঐক্যের’ নামে দিল্লির প্রভাববলয়ে নিয়ে আসা হবে।

যারা বিশ্বাস করে যে এ ধরনের দিন কোনো দিন আসবে না (অর্থাৎ ভারতের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলো ও সংখ্যালঘু সুরক্ষাগুলো প্রতিরোধ করবে), তারা কখনো ভাবেনি যে মোদির মতো কেউ দেশের নেতৃত্বে আসবে।  মোদি একবার উন্মাদ লোক হিসেবে ইতিহাস থেকে অদৃশ্য হয়ে গেছেন বলেও মনে হয়েছিল। গুজরাটের নবনিযুক্ত মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে তিনি ২০০২ সালে ভারতের সাম্প্রতিক ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়াবহ সাম্প্রদায়িক রক্ষক্ষরণ ঘটিয়েছিলেন। এতে কম করে হলেও ১০০০ মুসলিম কয়েক সপ্তাহ ধরে তার রাজ্যের হিন্দুদের নাঙ্গা তরবারির নিচে প্রাণ দিয়েছেন। অনেকে অভিযোগ করে, তিনিই দাঙ্গাবাজদের মদত দিয়েছেন, কেউ বলে, তিনি চোখ বন্ধ করে ছিলেন। এই রক্তপাত মোদিকে অচ্ছ্যুতে পরিণত করেছিল। উদার ভারতীয়রা তাকে হিটলার হিসেবে অভিহিত করত, যুক্তরাষ্ট্র তাকে ভিসা দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিল, ব্রিটেন ও ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন তাকে বয়কট করেছিল।

কিন্তু মোদি ভারতের হিন্দুদের মধ্যে তার আবেদন সম্প্রসারিত ও সংহত করেছিলেন। ক্ষমতায় ঊর্ধ্বে ওঠার জন্য তিনি তিনটি শক্তিশালী হাতিয়ার ব্যবহার করেছিলেন। প্রথমটি ছিল ধর্ষকাম। তার অধীনে হিন্দুরা রক্তপিপাসুতে পরিণত হয়। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, পুলিশ হেফাজতে এক মুসলিমকে হত্যার পর তিনি ২০০৭ সালে এক সমাবেশে স্বপ্নাচ্ছন্নভাবে বলেছিলেন, যদি কারো বাড়িতে একে-৫৭ পাওয়া যায়, তবে কি তাকে আমি হত্যা করব না। জনতা জবাব দিয়েছিল, তাকে হত্যা করো।

দ্বিতীয়টি ছিল অন্যদের কষ্ট দিয়ে আনন্দ লাভ করা। অসহায় সংখ্যালঘুদের নির্যাতন করে নিদারুণ উল্লাসে মত্ত হন তিনি। ২০০২ সালে এক সমাবেশে তিনি সম্প্রতি গুজরাট দাঙ্গায় বাস্তুচ্যুত মুসলিমদের ভাগ্য নিয়ে কৌতুক করেছিলেন: ‘আমরা কী করতে পারি? তাদের জন্য ত্রাণশিবির খুলব? শিশু উৎপাদন কেন্দ্র খুলব আমরা? তার শ্রোতারা উল্লাসে ফেটে পড়েছিল। তিনি বলেছিলেন, যারা আশঙ্কাজনক হারে জনসংখ্যা বাড়াচ্ছে, তাদেরকে একটি শিক্ষা দিতে চাই। তিনি এর মাধ্যমে হিন্দুদের নিজেদের পরিস্থিতির শিকার হিসেবে উপলব্ধি করার দিকে চালিত করেন। তিনি পার্লামেন্টে বলেন, ভারতকে এক হাজারের বেশি বছর দাস বানিয়ে রাখা হয়েছিল।

তার প্রধানমন্ত্রিত্বে গোঁড়ামি জোরালো রূপ নিয়েছে। মুসলিমদের পিটিয়ে হত্যা করা হচ্ছে। তাদেরকে জিহাদি আর হিন্দু রমনীদের ধর্মান্তরকারী হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছে। গত সপ্তাহে এক মুসলিম ব্যক্তিকে পিটিয়ে মারা আট লোককে মোদির মন্ত্রিসভার এক সদস্য ফুল দিয়ে বরণ করে নিয়েছেন। এই দুনিয়ায় কাশ্মীর কখনো স্বায়ত্বশাসিত থাকতে পারে না, সংখ্যাগরিষ্ঠকে খুশি করার জন্য এখানে সহিংসতার মাধ্যমে আকাঙ্ক্ষাগুলো চাপিয়ে দেয়ার স্থান এটি।

চলতি বছর মোদির পুনঃনির্বাচন তার সমর্থকদের আরো সাহসী করে তুলেছে। আর তিনি এই সমর্থকদের দক্ষতার সাথেই উস্কে দিতে পেরেছেন। প্রধানমন্ত্রী খুব কমই সংখ্যালঘুদের খুন হওয়ার কথা স্বীকার করেন। আর এর নিন্দা করা আরো বিরল ঘটনা।

মোদির রাজনৈতিক সচেতনতা ঘটেছে উগ্রডানপন্থী প্যারামিলিটারি গ্রুপ আরএসএসের প্রশিক্ষণ ক্যাম্পগুলোতে। এসব ক্যাম্পে শেখানো হয় মুসলিমরা হলো ভিলেন, তারা বিভিন্ন সময়ে লুটপাট করেছে। আরএসএসের শিক্ষা মোদির মনে এমনভাবেই গেঁথে গিয়েছিল যে তিনি এই সংগঠনকেই পরিবার হিসেবে গ্রহণ করে নেন। তিনি এমনকি তার স্ত্রী ও মাকেও পরিত্যাগ করেন।

কাশ্মীর দখল করার মাধ্যমে মোদি হিন্দু জাতীয়তাবাদের সন্ন্যাসীদের তৃপ্ত করেছেন, নিজেকে ‌‘নয়া ভারতের’ পিতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। তাদের ইচ্ছার তালিকায় কাশ্মীর সবসময়ই ছিল শীর্ষে। এছাড়া আছে অযোধ্যায় একটি মন্দির নির্মাণ। আর তাদের চূড়ান্ত লক্ষ্য হলো ভারতকে হিন্দু রাষ্ট্র হিসেবে ঘোষণা করে সংবিধান নতুন করে রচনা করা।

কিন্তু দুনিয়ার বুকে সবচেয়ে বৈচিত্র্যময় সমাজে এ ধরনের সংখ্যাগরিষ্ঠের শাসনে টিকে থাকতে পারবে? ১৯৫১ সালে বিপুলভাবে জনপ্রিয় সমাজবাদী নেতা (তিনিই ভারতে কাশ্মীরকে অন্তর্ভুক্ত করতে পথিকৃতের ভূমিকা পালন করেছিলেন) শেখ আবদুল্লাহ প্রথমবারের মতো নির্বাচিত পরিষদে উদ্বোধনী বক্তৃতায় কাশ্মীরীদের এই সিদ্ধান্তের কারণ ব্যাখ্যা করেছিলেন। তিনি বরেছিলেন ভারতের সেক্যুলার গণতন্ত্রের ভিত্তি হলো ন্যায়বিচার, স্বাধীনতা ও সাম্য। কাশ্মীরের মুসলিমদের নিরাপত্তা নিয়ে দুশ্চিন্তার বিষয়টি তিনি নাকচ করে দেন। তিনি ধর্মভিত্তিক রাষ্ট্রকে মধ্যযুগীয় চিন্তা হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি আধা ধর্মতাত্ত্বিক রাষ্ট্র পাকিস্তানের নিন্দা করে বলেন, এটি একটি সামন্ততান্ত্রিক দেশ। তিনি পাকিস্তানের নিন্দা করেন এই কারণে যে সেক্যুলারবাদ নিয়ে কোনো ছাড় নেই। তিনি যে কারণে পাকিস্তানের নিন্দা করেছিলেন, সেটিই এখন ভারতের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য।

কাশ্মীরের বিচ্ছিন্নতাবাদীরা একসময় ভারতকে হিন্দু রাষ্ট্র হিসেবে অভিহিত করত। তখন বলা হতো, ভারতীয় রাষ্ট্রে কাশ্মীরীদের ধর্ম অপ্রাসঙ্গিক বিষয়। কিন্তু এখন বিচ্ছিন্নতাবাদীরা যুক্তি দিয়ে তাদের দাবিটি সামনে আনতে পারবে। মোদি নিজে ধর্মীয় জাতীয়তাবাদী হওয়ায় তিনি এখন আর অন্তর্ভুক্তিমূলক জাতীয়তাবাদের কথা বলতে পারবেন না। ভারত যখন তার সেক্যুলার মর্যাদা ত্যাগ করবে, তখন সে কাশ্মীরকে ধরে রাখার যুক্তি হারাবে। বর্তমানে যে শান্ত অবস্থা বিরাজ করছে, তা আসলে বিস্ফোরণের অপেক্ষায় থাকা গভীর ক্রোধ গোপন করে রাখছে। কাশ্মীরকে একীভূত করার যে যুক্তি মোদি উপস্থাপন করছে, তা যদি পরিবর্তন করা না হয়, তবে তাই ভারতের ঐক্যের সমাপ্তির সূচনা করবে।

পাকিস্তানে তালেবানের উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধি দল

আঞ্চলিক পরিস্থিতি, আফগানিস্তানের শান্তি প্রক্রিয়া ও পারস্পরিক স্বার্থ সংক্রান্ত অন্যান্য ইস্যুতে পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শাহ মেহমুদ কুরেশির সঙ্গে আলোচনা করেছেন আফগানিস্তানের তালেবানদের উচ্চ পর্যায়ের একটি প্রতিনিধি দল। আজ বৃহস্পতিবার সকালে ওই প্রতিনিধি দলকে রাজধানী ইসলামাবাদে স্বাগত জানান কুরেশি। পাকিস্তানের নেতাদের সঙ্গে তাদের বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে এ কথা বলা হয়েছে বলে খবর দিয়েছে অনলাইন ডন।
এই প্রতিনিধি দলটি তালেবান পলিটিক্যাল কমিশন ইন দোহা (টিপিসি) হিসেবে পরিচিত। কুরেশির সঙ্গে তাদের বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা ইন্টার সার্ভিসেস ইন্টেলিজেন্সের মহাপরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল ফায়েজ হামিদ, পররাষ্ট্র সচিব সোহেল মাহমুদ ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অন্য কর্মকর্তারা। পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মতে, পিটিসি প্রতিষ্ঠার পর এটাই তালেবান প্রতিনিধি দলের প্রথম পাকিস্তান সফর। আগেভাগে মন্ত্রণালয় থেকে বলা হয়েছিল, যুক্তরাষ্ট্র ও তালেবানদের মধ্যে অচল হয়ে পড়া শান্তি আলোচনার অগ্রগতি কতদূর তা জানতে ইসলামাবাদে পৌঁছাবেন আফগান তালেবানদের প্রতিনিধি দল।
আজ বৃহস্পতিবার তালেবানদের সঙ্গে বৈঠকে পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী কুরেশি বলেছেন, গত ৪০ বছরের বেশি সময় ধরে আফগানিস্তানের অস্থিতিশীলতার পরিণতি উভয় দেশই সমানভাবে মোকাবিলা করছে। তিনি আরো বলেন, পাকিস্তান বুঝতে পারে যে, যেকোনো সমস্যার সমাধান যুদ্ধ নয়। তাই আফগানিস্তানে শাস্তি স্থাপন করতে হলে একমাত্র সম্ভাব্য উপায় ও ইতিবাচক উপায় হতে পারে সমঝোতা।
শাহ মেহমুদ কুরেশি বলেছেন, আফগানিস্তানে শান্তি প্রতিষ্ঠায় অগ্রগতি আনতে মধ্যস্থতার ভূমিকা পালন করছে পাকিস্তান। তিনি জোর দিয়ে বলেছেন, পুরো অঞ্চলের শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য শান্তিপূর্ণ আফগানিস্তান অত্যাবশ্যক। তিনি আশা প্রকাশ করেন, সব পক্ষই আলোচনা শুরু করবে এবং আরো পশ্চাতের দিকে না গিয়ে যথাযথ শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য কাজ করবে। কুরেশি উল্লেখ করেন, আফগানিস্তানে শান্তি প্রতিষ্ঠায় পাকিস্তানের ভূমিকার প্রশংসা করে আফগান তালেবানরা। এ সময় বৈঠকে উপস্থিত সবাই দ্রুততার সঙ্গে আলোচনা শুরুর বিষয়ে একমত প্রকাশ করেন।
একদিন আগে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে দেয়া বিবৃতিতে বলা হয় পাকিস্তান সফরের জন্য তালেবান পলিটিক্যাল কমিশন ইন দোহা’র একটি প্রতিনিধি দলকে আমন্ত্রণ জানিয়েছে। এ ঘোষণার সামান্য আগে তালেবান মুখপাত্র সোহেল শাহিন জানান, তাদের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেবেন তালেবানের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা ও কাতারে তাদের রাজনৈতিক অফিসের প্রধান মোল্লা আবদুল গনি বরাদার। এই সফর যখন ঘটছে তখন খবর পাওয়া যাচ্ছে আফগান শান্তি প্রক্রিয়া বিষয়ক যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত জালমে খলিলজাদ অবস্থান করছেন পাকিস্তানে। দোহাভিত্তিক তালেবানের মুখপাত্র শাহিন বলেছেন, জালমে খলিলজাদ ও তালেবান প্রতিনিধিদের পাশাপাশি সময়ে পাকিস্তান সফর কাকতালীয়। এ সময় তার কাছে জানতে চাওয়া হয়, খলিলজাদের সঙ্গে তাদের কোনো সাক্ষাত হওয়ার সম্ভাব্যতা আছে কিনা? জবাবে শাহিন বলেন, কেন নয়? এটা নির্ভর করে মার্কিনিদের ওপর।
পাকিস্তানের সামরিক ও বেসামরিক নেতাদের সঙ্গে আফগানিস্তানের তালেবানদের সঙ্গে শান্তি আলোচনা নিয়ে কথা বলতে মঙ্গলবার ইসলামাবাদে পৌঁছেছেন খলিলজাদ। তবে যুক্তরাষ্ট্রের একজন কর্মকর্তা বলেছেন, ওই শান্তি প্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনা করতে ইসলামাবাদে যাননি খলিলজাদ।

শুরু হলো শারদীয়া দুর্গোৎসব by সুদীপ অধিকারী

নীল-সাদা আকাশ, ভোরের আবছা কুয়াশা, শ্বেতশুভ্র কাশফুলের দোলা, বাতাসে শিউলী ফুলের ঘ্রাণ। প্রকৃতির এ শোভনীয় রূপের মোহনীয় সজ্জায়ই জানান দিচ্ছে শরতের আগমনী বার্তা। সাথে নিয়ে এসেছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় উৎসব শারদীয়া দুর্গাপূজা। দুষ্টের বিনাশ ও সৃষ্টের পালন করতে বছর ঘুরে আবারও দুর্গতিনাশিনী দশভুজা ‘দেবী দুর্গা’ এসেছেন আমাদের মাঝে।
আজ পবিত্র ষষ্ঠি তিথিতে অশ্বমেথ বৃক্ষের পূজার মাধ্যমে আবাহন করা হবে দেবী দুর্গার। ঢাক-ঢোল আর কাঁসার বাদ্যে দেবীর বোধন পূজার মধ্য দিয়ে শুরু হবে দুর্গাপূজার মূল আনুষ্ঠানিকতা। সপ্তমী তিথিতে চক্ষুদানের মধ্য দিয়ে প্রাণ সঞ্চার করা হয় দেবীর মৃন্ময়ীতে। পরদিন মহা অষ্টমী তিথিতে সনাতনী নারী-পুরুষ, শিশু-কিশোর-বৃদ্ধ সকলে দেবীকে দেয়া হবে পুষ্পাঞ্জলি।
এই দিনই হবে সন্ধীপূজা। মাতৃভাবে কুমারী কন্যাকে জীবন্ত প্রতিমা কল্পনা করে জগজ্জননীর উদ্দেশে শ্রদ্ধা নিবেদন করে হবে কুমারী পূজা। শাস্ত্রমতে, এদিন পূজিত কুমারী কন্যার নামকরণ করা হয় ‘উমা’। ভক্তদের মতে, এটি একাধারে ঈশ্বরের উপাসনা, মানববন্দনা আর নারীর মর্যাদা প্রতিষ্ঠা। মূলত নারীর সম্মান, মানুষের সম্মান আর ঈশ্বর আরাধনাই কুমারী পূজার অন্তর্নিহিত শিক্ষা। নবমীতে মণ্ডপে মণ্ডপে দেবীর মহা প্রসাদ বিতরণ করা হবে। সর্বশেষ দশমী তিথিতে দর্পণ বিসর্জনের মধ্য দিয়ে বিদায় জানানো হবে দেবী দুর্গাকে। আর দেবীর এই আগমনকে ঘিরেই ব্যস্ত সময় পার করছেন রাজধানী শহর ঢাকাসহ দেশের প্রতিটি অঞ্চলের পূজা সংশ্লিষ্টরা।
রাজধানীর বনানী দুর্গা মন্দিরে গিয়ে দেখা যায়, প্রতিবারের ন্যায় এবারও প্রস্তুত করা হয়েছে মহামায়া দেবী দুর্গাসহ লক্ষ্মী, সরস্বতী, কার্তিক, গণেশসহ বিভিন্ন দেব-দেবীর প্রতিমা। বাহারি সব রঙ দিয়ে সাজানো হয়েছে এসব প্রতিমা। রঙ-বেরঙের আলোকসজ্জা আর নানা রঙের ডিজাইনের কাঠামো দিয়ে সাজানো হয়েছে পুরো পূজাঙ্গন। গুলশান-বনানী সার্বজনীন পূজা ফাউন্ডেশনের যুগপূর্তি উপলক্ষে এবার দুর্গোৎসবকে ঘিরে থাকছে বিশেষ আয়োজন। ফাউন্ডেশনের সাধারণ সম্পাদক শুধাংশু কুমার দাস জানান, প্রতিবারের ন্যায় এবারো বনানী মাঠে শারদীয় উৎসব তথা দুর্গাপূজার আয়োজন করা হয়েছে। তবে, ২০০৮ সাল থেকে আয়োজিত এই শারদীয় সমপ্রীতির ১২ বছর উপলক্ষে এবার বিশেষ আড়ম্বরের সঙ্গে আয়োজন করা হয়েছে। ৪ঠা অক্টোবর সন্ধ্যা ৬টায় চারদিনব্যাপী অনুষ্ঠান উদ্বোধন করা হবে। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন- স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী এমপি। এ ছাড়াও মন্ত্রী, কূটনীতিকসহ বিভিন্ন নেতারা উপস্থিত থাকবেন। ওইদিনই প্রেসিডেন্ট মো. আবদুল হামিদের পূজামণ্ডপ পরিদর্শনের কথা রয়েছে বলেও জানান তিনি। তিনি আরও বলেন, আগামী ৫ থেকে ৭ই অক্টোবর পর্যন্ত সন্ধ্যার পর আলোচনা অনুষ্ঠান, প্রতিদিন রাত ৯টা থেকে ১২টা পর্যন্ত মনোমুগ্ধকর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান থাকবে। থাকবে সন্ধ্যারতি, ধূনচী নাচ। উদ্বোধনী দিনে ১২ জন গুণী ব্যক্তিকে সংবর্ধনা দেয়া হবে। এরই মধ্যে দেবী দর্শনের জন্য দর্শনার্থীদের ভিড় শুরু হয়েছে।
এদিকে মিরপুর রোডস্থ কলাবাগান ক্রীড়াচক্র মাঠে অনুষ্ঠিত হচ্ছে আরো একটি দুর্গাপূজা। রাস্তার দু’পাশসহ দুর্গাপূজাকে ঘিরে রঙ-বেরঙের আলোকসজ্জায় সেজেছে পুরো কলাবাগান এলাকা। দিনের আলোয় মোহনীয় রূপ ছড়ানো পূজামণ্ডপটি রাতেও আলোকচ্ছটা ছড়াচ্ছে পুরো এলাকায়। পূজাকে ঘিরে এখানেও বিশাল প্যান্ডেল করে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানসহ আয়োজন করা হয়েছে নানা অনুষ্ঠানের। এরই মাঝে প্রতিমা দেখতে ভিড় জমাচ্ছেন উৎসুক জনতা।
খামারবাড়ী কৃষি ইনস্টিটিউটের দুর্গাপূজা মণ্ডপেও একই চিত্র। খামারবাড়ী মোড়েও আলোকসজ্জা দিয়ে তৈরি করা হয়েছে বিশাল প্রবেশদ্বার। রাস্তার দু’ধার সাজানো হয়েছে লাল-নীল বাতি দিয়ে। নারী-পুরুষ উভয় দর্শনার্থীদের জন্য রাখা হয়েছে বিশেষ ব্যবস্থা।
জাতীয় ঢাকেশ্বরী মন্দিরে প্রতিমা আবার রেখে দেয়া হয় বছরজুড়ে। তাই এখানকার প্রতিমা তৈরিতে একটু বেশিই নজর দেয়া হয়। এরই মধ্যে শেষ হয়েছে প্রতিমার রঙ-তুলির আঁচড়। ত্রিশূল, চক্র, ঢাল-তলোয়ারসহ নানা অস্ত্রে সজ্জিত করা হয়েছে দশভূজা দেবী দুর্গাকে। জমকালো সাজে সাজানো হয়েছে পুরো ঢাকেশ্বরী মন্দিরের অন্দরবাহির।
এদিকে রামকৃষ্ণ মিশন, মিরপুর কেন্দ্রীয় মন্দির, শাঁখারী বাজার, পশ্চিম ধানমন্ডির দুর্গা মন্দির, আখড়া মন্দির, ফার্মগেট, বনশ্রীসহ রাজধানীর অন্যান্য এলাকাতেও জমকালোভাবে আয়োজন করা হয়েছে দেবী দুর্গাপূজা। পঞ্জিকা মতে জানা গেছে, এবার মা আসছেন ঘোটকে বা ঘোড়ায় চেপে। দশমীর দিন তিনি কৈলাশে ফিরেও যাবেন ঘোড়ায় চেপে। অর্থাৎ এই বছরে দেবীর আগমন ও গমন ঘোটকে। শাস্ত্রজ্ঞ পণ্ডিতেরা বলছেন, দেবীর ঘোড়ায় আগমন ও গমন মর্ত্যবাসীর জন্য মোটেই শুভকর নয়।
পূজা উদযাপন পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক নির্মল চ্যাটার্জি বলেন, শারদীয় দুর্গোৎসবের প্রস্তুতি এখন শেষ পর্যায়ে। সারা দেশে ৩১ হাজার একশ’টি মণ্ডপে শারদীয় দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে রাজধানীতে ২৩৭টি মণ্ডপে পূজার প্রস্তুতি চলছে। যা আগের বছরগুলোর চেয়ে বেশি। তবে এই সংখ্যা আরো বাড়তে পারে। মহালয়ার মধ্য দিয়ে পূজার আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়েছে। প্রতিবছরের ন্যায় এবারো ঢাকেশ্বরী মন্দিরে থাকছে বর্ণাঢ্য আয়োজন। এছাড়া রাজধানী রামকৃষ্ণ মিশন ও মঠ মন্দির, বনানী মাঠ, মিরপুর কেন্দ্রীয় মন্দির, কলাবাগান মাঠ এবং সিদ্ধেশ্বরী পূজামণ্ডপসহ দেশের বিভিন্ন মন্দির ও মণ্ডপে চণ্ডীপাঠ, দেবীর আবাহনী সংগীত, ধর্মীয় আলোচনা সভা এবং ভক্তিমূলক গানের অনুষ্ঠান আয়োজন থাকবে। তিনি আরো বলেন, দেশের অন্যতম বৃহৎ ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজাকে সামনে রেখে মন্দিরের পাশাপাশি সারা দেশের নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। সারা দেশে ৫ই অক্টোবর থেকে মণ্ডপগুলোতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাড়ে তিন লাখ সদস্য নিয়োজিত থাকবেন।

পোড়া হাতে টুথপেস্ট ঘসার ফল!

আলোকিত বাংলাদেশ- ১৬ জুন, রবিবার ২০১৯: অনেকেই পোড়াক্ষতের চিকিৎসায় টুথপেস্ট ব্যবহার করে থাকেন। এটা ব্যবহারের বিষয়ে অন্যদের সতর্ক করতে লোমহর্ষক ছবি শেয়ার করেছেন একজন ডাক্তার।
গরম তেলে হাত পুড়িয়ে ফেলেন মালয়েশিয়ার এক নারী। তিনি বাড়িতেই টুথপেস্ট ব্যবহারে প্রতিকারের চেষ্টা করেন। কিন্তু এর ফলে ব্যথা তো কমেইনি বরং তার হাতটির আকার পাল্টে যায়। বেলুনের মতো ফুলে যায় হাতটি।
মালয়েশিয়ার একটি হাসপাতালরে ডাক্টার কামরুল আরিফিন সতর্ক করে দিয়ে বলেন, পুড়ে যাওয়া সংক্রান্ত সমস্যায় ঘরোয়া প্রতিকার ব্যবহার করলে সংক্রমণ ও প্রদাহের সৃষ্টি হতে পারে।
ডাক্তাররা লক্ষ্য করেছেন, পুড়ে যাওয়া ক্ষত প্রতিকারে অনেকে টুথপেস্টও ব্যবহার করে থাকেন।
ডাক্তার আরিফিন বলেন, তিনি দেখেছেন অনেকে তেল, আটা, সয়া সস, ডিম এবং মাখন অগ্নিদগ্ধের চিকিৎসায় ব্যবহার করে থাকে।
তিনি অগ্নিদগ্ধের চিকিৎসায় মানুষকে চিকিৎসা পরামর্শ অনুসরণ করার আহ্বান জানান।
এ ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শের মধ্যে রয়েছে, সম্ভব হলে পুড়ে যাওয়া স্থান থেকে পোড়া পোশাক, গহনা বা ঘড়ি অপসারণ করা। তারপর ১৫ থেকে ২০ মিনিটের জন্য তা পরিস্কার পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলে শুকানো উচিত।
তিনি আরো বলেন, পোড়া রোগীদের ফোস্কায় খুবই ঠান্ডা পানি বা বরফ দিয়ে চিকিৎসা করার চেষ্টা করা উচিত নয়।
তিনি পরামর্শ দেন, বেশি গুরুতর অগ্নিদগ্ধ লোক অথবা হাতের তালু বা সংবেদনশীল অঙ্গ পুড়ে যাওয়ার অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।
এদিকে, টুথপেস্ট জায়ান্ট কোলগেট তাদের ওয়েবসাইটে একটি পরামর্শমূলক পোস্ট দিয়েছে। পুড়ে যাওয়া ক্ষতে যারা টুথপেস্ট ব্যবহার করেন তাদের উদ্দেশে এই পোষ্ট।
তারা সতর্ক করেছে : টুথপেস্টে অ্যাব্রেসিভ এবং ডিটারজেন্ট বিদ্যমান যা আপনার দাঁত পরিষ্কার করার জন্য ভালো কাজ করে। কিন্তু পোড়াক্ষতের ব্যথা নিরাময়ে এটি ভালো নয়। সূত্র : দ্য সান

৮ চালকহীন বিমান দিয়ে যুদ্ধের গতি পুরোপুরি বদলে দিল ইয়েমেন

ইয়েমেনের সেনাবাহিনী এবং দেশটির জনপ্রিয় আনসারুল্লাহ হুথি আন্দোলন সৌদি আরবের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের সমীকরণ সফল ভাবে বদলে দিয়েছে। দেশে তৈরি ৮ চালকহীন বিমান বা ড্রোন দিয়ে যুদ্ধের এ সমীকরণ পুরোপুরি পাল্টে দিতে সক্ষম হয়েছে ইয়েমেন।

২০১৫ সালের ২৬ মার্চ একতরফাভাবে ইয়েমেনের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করেছিল সৌদি আরব। রিয়াদ ভেবেছিল দরিদ্র ইয়েমেনকে কয়েক মাসের মধ্যেই আত্মসমর্পণে বাধ্য করতে পারবে সৌদি আরব। কিন্তু চার বছরের বেশি সময়ে হতে চললেও রিয়াদের সে খোয়াব এখনও পূরণ তো হয়নি বরং ইয়েমেনের যুদ্ধের চোরাবালির গভীরে আটকে গেছে সৌদি আরব। ইয়েমেনের সেনাবাহিনী এবং হুথিদের পাল্টা প্রতিরোধের মুখে এমন দিশেহারা অবস্থায় পড়েছে রিয়াদ।

ইন্টারনেটভিত্তিক আরবি সংবাদ পোর্টাল আনসারুল্লাহর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে ক্ষেপণাস্ত্র এবং চালকহীন সামরিক বিমান বা ড্রোন তৈরির মধ্য দিয়ে যুদ্ধের মোড় এ ভাবে ঘুরে যায়। পাল্টে যায় যুদ্ধের কৌশলগত সমীকরণও।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইয়েমেনের হাতে বর্তমানে রয়েছে ১১ ধরণের ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা। এ ব্যবস্থার কোনও কোনোটি পুরোপুরি নিজস্ব প্রযুক্তির ওপর নির্ভর করে দেশিয় ভাবেই তৈরি করেছে ইয়েমেন। আর কোনও কোনও ক্ষেত্রে যুদ্ধের গতি-প্রকৃতি অনুসারে রুশ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থার উন্নয়ন ঘটিয়েছে ইয়েমেন।

এদেরই অন্যতম হলো, ১৭০০ কিলোমিটার পাড়ি দিতে সক্ষম পাখাওলা ক্ষেপণাস্ত্র কুদস-১।

প্রতিবেদনে প্রকাশ করা হয়েছে ইয়েমেনের যুদ্ধোপযোগী এবং নজরদারিতে ব্যবহারযোগ্য ৮ চালকহীন বিমান বা ড্রোনের পর্যালোচনা। এসব চালকহীন বিমানই শেষপর্যন্ত যুদ্ধের সমীকরণে পরিবর্তন এনেছে। বিশেষ করে সীমান্ত অতিক্রম করে সৌদি আরবের গভীরে হামলা চালানোর মধ্য দিয়ে এ পরিবর্তন আনা হয়েছে।

এর মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য হামলা হয়েছিল চলতি মাসের ১৪ তারিখে। এ হামলায় ইয়েমেনের যুদ্ধোপযোগী ১০ চালকহীন বিমান অংশ নেয়। সৌদি আবকাইক এবং খুরাইস তেল স্থাপনার ওপর চালানো এ হামলার মধ্য দিয়ে রিয়াদের তেল উৎপাদন দৈনিক ৫৭ লাখ ব্যারেল হ্রাস পায়। এতে সৌদি আরবের অপরিশোধিত তেল এবং গ্যাস উৎপাদন প্রায় ৫০ শতাংশ কমে যায়। ফলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম বেড়ে যায় বেশ উল্লেখযোগ্য ভাবেই। 

আনসারুল্লায় যে ৮ চালকহীন বিমানের কারিগরি পর্যালোচনা প্রকাশ করা হয়েছে সে গুলো হলো:
নজরদারির কাজে ব্যবহৃত চালকহীন এ বিমান হুদ হুদ
হুদ হুদ
নজরদারির কাজে ব্যবহৃত চালকহীন এ বিমানে ছবি তোলার অত্যাধুনিক প্রযুক্তি রয়েছে। আকারে ছোট হওয়ায় শত্রু একে সহজে রাডার দিয়ে শনাক্ত করতে পারে না। এ ছাড়া, এর ইঞ্জিনের শব্দও তুলনামূলক ভাবে কম হওয়ায় ভূমি থেকে তা প্রায় শোনাই যায় না। এমনকি লেসারসজ্জিত রকেট দিয়েও একে লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করা শত্রুর জন্য প্রায় ভাগ্যের ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। আকাশে একাধারে ৯০ মিনিট উড়তে সক্ষম হুদহুদের পাল্লা ৩০ কিলোমিটার।
লেজার সজ্জিত চালকহীন বিমান রাকিব  দিয়ে শত্রুর অবস্থান সরাসরি নির্ণয় করা যায়
রাকিব
রাকিব নামের নজরদারির কাজে ব্যবহৃত লেজার সজ্জিত চালকহীন বিমান দিয়ে শত্রুর অবস্থান সরাসরি নির্ণয় করা যায়। এতে ছবি তোলার কয়েকধরণের প্রযুক্তির পাশাপাশি অবলোহিত আলোকচিত্র ধারণ প্রযুক্তিও রয়েছে। ফলে অন্ধকারেও কোনও বস্তুকে শনাক্ত করতে এ আলোকচিত্র প্রযুক্তি প্রয়োগ করা যায়। সাধারণ ভাবে মানুষের চোখ ৪০০ থেকে ৭০০ ন্যানোমিটার তরঙ্গ দৈর্ঘ্য অর্থাৎ বেগুনি থেকে লাল রং পর্যন্ত দেখতে পায়। এর বেশি বা কম তরঙ্গ দৈর্ঘ্য হলে মানুষের চোখ আর তা দেখতে পায় না। টানা ৯০ মিনিট উড়তে সক্ষম রাকিবের পাল্লা ১৫ কিলোমিটার। পদাতিক বাহিনী সহজেই এটি বহন করতে পারে।
নজরদারির উপযোগী চালকহীন বিমান রাসেদ দিয়ে শত্রুর লক্ষ্যবস্তু নির্ণয় করা এবং যুদ্ধক্ষেত্রের ওপর নজর রাখা যায়
রাসেদ
নজরদারির উপযোগী চালকহীন বিমান রাসেদ দিয়ে শত্রুর লক্ষ্যবস্তু নির্ণয় করা এবং যুদ্ধক্ষেত্রের ওপর নজর রাখা যায়। অত্যাধুনিক ছবি তোলার এবং মানচিত্র তৈরির প্রযুক্তিতে সজ্জিত এটি।

সামাদ-১
সামাদ-১ হলো নজরদারির উপযোগী চালকহীন বিমান। ৫০০ কিলোমিটার পাল্লার সামাদ -১ লক্ষ্যবস্তুর ওপর নজর রাখতে এবং সংগৃহীত তথ্য সরাসরি যুদ্ধ পরিচালনায় জড়িত কক্ষে পাঠিয়ে দিতে পারে।
যুদ্ধ করতে সক্ষম কাসেফ-১ বহন করতে পারে ৩০ কিলোগ্রাম বোমা
কাসেফ-১
যুদ্ধ করতে সক্ষম কাসেফ-১ বহন করতে পারে ৩০ কিলোগ্রাম বোমা। শত্রুর অবস্থান নির্ণয় এবং হামলার চৌকস ব্যবস্থা সজ্জিত এ চালকহীন  বিমানের বহনকৃত বোমার ধরণও যুদ্ধ-অভিযানের প্রকৃত অনুযায়ী বদলে দেয়া যায়।
কাসেফ-কে২ হলো যুদ্ধ করতে সক্ষম চালকহীন বিমান
কাসেফ-কে২
কাসেফ-কে২ হলো যুদ্ধ করতে সক্ষম চালকহীন বিমান। জানুয়ারি মাসে এর উন্মোচন করেছিল ইয়েমেন। উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বিস্ফোরক বহনে সক্ষমতার পাশাপাশি এটি লক্ষ্যবস্তুর মাত্র ১০ মিটার ওপরে বিস্ফোরিত হতে পারে। ফলে বিস্তৃত এলাকা জুড়ে এটি গোলার টুকরার মতো ছড়িয়ে পড়ে।

সামাদ-২
১৩০০ কিলোমিটার পাল্লার সামাদ-২ হলো যুদ্ধ করতে সক্ষম চালকহীন বিমান। রাডারের চোখ ফাঁকি দিতে সক্ষম সামাদ-২’এ রয়েছে বেতার সংকেত অচল করে দেয়ার প্রযুক্তি। কৌশলগত অভিযানের সক্ষমতা সম্পন্ন সামাদ-২ দিয়েই ২০১৮ সালের জুনে সৌদি তেল ক্ষেত্রে হামলা করেছিল ইয়েমেন।
রাডারের চোখ ফাঁকি দিতে সক্ষম যুদ্ধ উপযোগী সামাদ-৩
সামাদ-৩
রাডারের চোখ ফাঁকি দিতে সক্ষম যুদ্ধ উপযোগী ১৭০০ কিলোমিটার পাল্লার সামাদ-২’এ রয়েছে লক্ষ্যবস্তুকে ওপর থেকে হামলা করার সক্ষমতা। অভিযানের প্রয়োজনে এটি ক্যামিকেজ বা আত্মঘাতী হামলাও করতে পারে।

দুইবারের উপজেলা চেয়ারম্যান জীবিকা নির্বাহ করছেন বাইক চালিয়ে: এ এক অন্যরকম রাজনীতিবিদ by ইব্রাহিম খলিল

হেলমেট মাথায় শহর ঘুরে বেড়ান তিনি। এ জায়গা থেকে ও জায়গা। অলি থেকে গলি সর্বত্র তার বিচরণ। তবে এ বিচরণ তার নিজের ইচ্ছায় নয়। অন্যের ইচ্ছায়। অর্থের জন্য। অথচ এ লোকটিই ছিলেন পরপর দুইবারের উপজেলা চেয়ারম্যান। জনপ্রিয় জনপ্রতিনিধি।
এই তিনিই রাজনীতিতে সততার উদাহরণ এখন সবার কাছে। তিনি আর কেউ নন। চট্টগ্রামের কক্সবাজার জেলার পেকুয়া উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান শাফায়েত আজিজ রাজু। পেকুয়া বিএনপি নেতা। শুধু তাই নয়, তার পিতা মাহামুদুল করিম চৌধুরীও ছিলেন বিএনপির টিকেটে নির্বাচিত সংসদ সদস্য। পিতা সংসদ সদস্য ও নিজে উপজেলা চেয়ারম্যান থাকলেও এখন তিনি সংসার চালাতে বেছে নিয়েছেন অ্যাপ ভিত্তিক রাইড শেয়ারকে। অথচ তারা রাজনীতি করেছেন, কিন্তু পারেননি সম্পদের পাহাড় গড়তে। তাইতো দেখা যায়, তার বাড়িতে শুধুমাত্র একটি সেমিপাকা বাড়ি। পেকুয়া উপজেলার মগনামা ইউনিয়নে তাদের বাড়ি।
এক সময় যিনি উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হিসাবে গোটা উপজেলার উন্নয়ন বাস্তবায়ন করেছেন। পিতা এমপি হওয়ার সুবাদেও উপজেলার উন্নয়নের খোঁজ রেখেছেন। এখন তার একমাত্র সম্বল একটি মোটরবাইক। বাইকটি রাইড শেয়ার প্রতিষ্ঠান সহজ ও পাঠাও অ্যাপসে নিবন্ধন করে সংসারের খরচ জোগাচ্ছেন তিনি। পেকুয়ায় রাজু চেয়ারম্যান হিসাবে ব্যাপক পরিচিত শাফায়েত আজিজ রাজুর এই রাইড শেয়ার নিয়ে গোটা কক্সবাজারে এখন আলোচনা। কিন্তু এতে রাজুর কোনও দুঃখবোধ নেই। তিনি মানবজমিনকে বলেন, বাইক নিয়ে আমি রাইড শেয়ার করছি। তাতে আমার কোনো দুঃখ নেই। বরং ঘুষ-দুর্নীতিসহ নানা অপকর্মে লিপ্ত কেউ শান্তিতে নেই। সেদিক থেকে আল্লাহ আমাকে শান্তিতে রেখেছেন- এটাই আমার সুখ। গতকাল মানবজমিন অনলাইনে রাজুকে নিয়ে রিপোর্ট হলে গোটা দেশে এ নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, মানবজমিন অনলাইনে এমন একটি প্রতিবেদন হবে এটা আমি বিশ্বাস করতে পারিনি। এ প্রতিবেদনের পর আমার শুভাকাঙ্ক্ষীরা অনেকে আমার সঙ্গে ফোনে ও ফেসবুকে যোগাযোগ করেছেন। বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটি থেকে আমার খোঁজ নেয়া হয়েছে।
বিবিসি’র সাংবাদিক আমার একটি ফটোশ্যুট করেছেন। ঢাকা ও চট্টগ্রাম থেকে বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকরা আমার সঙ্গে কথা বলেছেন। এটা আমার জন্য গর্বের। এটাই স্বস্তির। এ জন্য মানবজমিনের কাছে আমি অত্যন্ত কৃতজ্ঞ।
তিনি বলেন, সবার কাছে আমার চাওয়া, আমি যেন কোনোরকম লোভের বশবর্তী হয়ে আমার সততার অবস্থান থেকে সরে না পড়ি। এ জন্য দোয়া করবেন।
তিনি বলেন, ২০০৯ সালে আমি পেকুয়া উপজেলা পরিষদের প্রথম নির্বাচিত প্রতিষ্ঠাতা উপজেলা চেয়ারম্যান। তখন আমি বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে সাড়ে চার হাজার ভোটের ব্যবধানে আওয়ামী লীগের প্রার্থীকে হারাই।
২০১৪ সালেও শেষ মুহূর্তে এসে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী হিসেবে ২২ হাজার ভোটের ব্যবধানে জয়লাভ করি। শেষ নির্বাচনে তো মানুষ ভোটই দিতে পারেনি। তবে ওই নির্বাচনে বিএনপি অংশ না নেয়ায় আমি নির্বাচনে লড়িনি। এরপর আমি ব্যবসায় মনোযোগী হই। কিন্তু বিএনপির রাজনীতিতে সম্পৃক্ত থাকার কারণে আমি ও আমার হাজারো নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে ৫টি মিথ্যা মামলা দায়ের করা হয়। ফলে ব্যবসায় সময় দিতে না পেরে লোকসানের সম্মুখীন হই। পুঁজি হারিয়ে প্রায় ৪ মাস বেকার সময় কাটাই।
এমতাবস্থায়, শেষমেশ চট্টগ্রাম শহরে রাইডারদের দেখে মাথায় আসে আমার তো এখনো শেষ সম্বল হিসেবে একখানা মোটরসাইকেল আছে। তাই গত ১৫ দিন আগে প্রথমে পাঠাও, পরে সহজ অ্যাপসে নিবন্ধন করি। তাদের মাধ্যমে রাইড করে দিনে ৯০০ থেকে ১৫০০ টাকা পর্যন্ত আয় করছি। যা দিয়ে আমার সংসারের খরচ জোগানোর চেষ্টা করছি।
তিনি আরো বলেন, চট্টগ্রাম শহরে আমি মা-ভাই, স্ত্রী-সন্তান নিয়ে ভাড়া বাসায় থাকছি। এতে আমার অন্তত ৫০ হাজার টাকারও বেশি খরচ যাবে। এ ছাড়া ৫টি মামলায় জামিনে থাকলেও আদালতে হাজির হতে হচ্ছে। খরচ হচ্ছে সেখানেও। সুতরাং যে আয় হচ্ছে তাতে হয়তো খরচ মিটবে না। তবে আশায় আছি সবে তো শুরু, ক্রমেই আয় বাড়বে।
চট্টগ্রামের শেয়ার রাইডারদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি বলেন, ওরা আমাক বেঁচে থাকার পথ দেখিয়েছে। আমিও কাজটাকে ছোট করে দেখিনি। বরং একজন উপজেলা চেয়ারম্যান হিসেবে শেয়ার রাইডিং করছি, তা দেখে আমার মতো শত শত বেকার তরুণ শিখবে। কাজটাকে ছোট করে না দেখে বেঁচে থাকার পথ খুঁজে নেবে। এটাই আশা করছি আমি।  
রাজু চেয়ারম্যান আরো বলেন, আমার বাবা একজন বিএনপির মনোনীত সংসদ সদস্য ছিলেন। বাবাকেও দুর্নীতি ও অনিয়ম এতটুকু স্পর্শ করতে পারেনি। বাবা লবণের ব্যবসা করতেন। বাবার তৈরি সেমিপাকা ঘরই এখনো আমাদের মাথাগোঁজার একমাত্র সম্বল।
স্থানীয় লোকজনের মতে, সংসদ সদস্য হিসেবে মাহামুদুল করিম চৌধুরীর বিরুদ্ধে কোনো দুর্নাম নেই। বরং নিজের ঘরের খাবার দরিদ্রদের বিলিয়ে খাওয়াতেন তিনি। সৎজন হিসেবে তিনি বেশ পরিচিত। সেই বাবার যোগ্য উত্তরসূরি রাজু চেয়ারম্যান। ফলে দু’বার উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন তিনি। কিন্তু নিজের জন্য এতটুকু সম্পদ গড়েনি ।
 পেকুয়া উপজেলা সদরের বাসিন্দা নজির আহমদ (৪৬) বলেন, ঘুষ-দুর্নীতি, লুটপাট-দখলবাজি, মাদক-জুয়া-ক্যাসিনোসহ নানা অনিয়ম ও অপকর্মে যখন সারা দেশ ছেয়ে গেছে তখনও এরমধ্যে রাজু চেয়ারম্যান সততার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। চট্টগ্রাম শহরে মোটরসাইকেল ভাড়া চালিয়ে টাকা কামাই করতে হচ্ছে তার। এ ঘটনা পেকুয়া উপজেলাবাসীর মুখে মুখে বলে জানান তিনি।

হৃদির ছুটির সকাল by মনিরা মিতা

অলঙ্করণ- সুমাইয়া রাত্রী রিয়া
আজ শুক্রবার, স্কুল নেই। তাই আজ হৃদিকে কেউ ডাকেনি কিন্তু সকাল ৭টা বাজতে না বাজতেই ওর ঘুম ভেঙে গেল। রোজ এ সময় উঠতে হয়তো তাই অভ্যাস হয়ে গেছে। অন্যদিক হলে মা এতক্ষণে হৃদিকে স্কুল ড্রেস পরিয়ে দিতেন। পিছন পিছন ছুটতেন রুটি আর ভাঁজি নিয়ে। আজ মাও আরাম করে ঘুমোচ্ছে। হৃদির সবচেয়ে প্রিয় জায়গা বেলকনি, তাই ঘুম থেকে উঠে ফ্রেস হয়েই সে ওখানে গিয়ে দাঁড়াল। সকালের রোদে ঝলমল করছে চারপাশ। হৃদি বেলকনি তে দাঁড়াতেই দুটো কাক এসে বসল কার্নিশে। প্রতিদিন সকালে হৃদি বেলকনি এলেই ওরা হাজির হয়। হৃদি ওদের মুড়ি খেতে দেয়, ওরা মহাআনন্দে খেয়ে উড়ে যায়। আজও তার ব্যতিক্রম হলো না, ওরা হৃদির বন্ধু। হৃদি ওদের সঙ্গে গল্প করে আকাশের গল্প, পাহাড়ের গল্প, বাতাসের গল্প, আকাশও ওর খুব পছন্দ। আকাশি রঙের আকাশ আর আকাশের মেঘ বড় মেঘ, ছোট মেঘ, ফুলো মেঘ, তুলো মেঘ। ওরা অনেক মজা করে আকাশে, উড়ে বেড়ায় ঘুরে বেড়ায়।

রাতের বেলা সূয্যি মামা ঘুমাতে যায় তখন আলো থাকে না, অন্ধকার হয়ে যায় দুনিয়া, তারাদের পৃথিবী হয়ে যায় তখন আকাশ। ওরা মিটমিট করে জ্বলে আর আকাশের গায়ে লেপটে থাকে।

সাগরও খুব পছন্দ হৃদির। গতবছর বাবা-মায়ের সঙ্গে কুয়াকাটা গিয়েছিল সে। কি যে মজা করেছিল! বড় বড় ঢেউ আছড়ে পড়ছে সাগর কোলে। বাতাসের শোঁ শোঁ শব্দ। ঢেউয়ের গর্জন। অনেক সময় গোসল করেছিল সে সাগরে। হৃদি প্রতিদিন মাকে বলে ‘আম্মু আবার করে যাব কুয়াটাকা?’ আম্মু বলে তুমি বড় হও তারপর। কিন্তু হৃদিও এখন অনেক বড় হয়েছে। বৃষ্টিও খুব ভালো লাগে হৃদির। মেঘেদের যখন খুব মন খারাপ হয় তখন ওরা কালো হয়ে যায়। তারপর একসময় কেঁদে ফেলে আর ওদের কান্নাই বৃষ্টি হয়ে ভিজিয়ে দেয় গাছ, পাতা, ফুল। হৃদি এসব আনমনে ভাবছে আর কাক দুটোকে মুড়ি খেতে দিচ্ছে। হঠাৎ দেখে খুব সুন্দর একটা প্রজাপতি বেলকনির কোনে বসে পাখা দুটো মেলছে আর বন্ধ করছে। কি সুন্দর নকশা করা ওর পাখা দুটো যেন রূপকথার নকশী কাঁথা। হৃদি হাত বারিয়ে ধরতে চায় ওকে কিন্তু পারে না। হৃদির খুব ইচ্ছে করে ওকে ধরতে। হঠাৎ প্রজাপতি উড়ে দিয়ে হৃদিদের বিল্ডিংয়ের নিচের ঘাসে বসে।

হৃদির মন বলে ওখানে গেলে ঠিকই সে ধরতে পারবে প্রজাপতিটা তাই সে কাউকে কিছু না বলে ঘর ছেড়ে নিচে নেমে যায়। হৃদি সেই ঘাসের কাছে এগিয়ে গেল ওকে ধরতে, সেও ফুড়–ত করে উড়ে অন্য জায়গায় চলে গেল। হৃদিও ছোটে ওর পিছু পিছু। এভাবে অনেকক্ষণ সে দৌঁড়াতে থাকে প্রজাপতির পিছু পিছু, ছুটতে ছুটতে প্রজাপতিটা হারিয়ে ফেলে হৃদি। গাড়ির হর্নে চমকে ওঠে হৃদি। একি সে কোথায় দাঁড়িয়ে আছে! চারিদিকে তাকায় হৃদি। সব অচেনা, এ কোথায় এসে পড়েছে সে! প্রজাপতির পিছু ছুটতে ছুটতে কোথায় কোন গলিতে এসেছে হৃদি বুঝতে পারে না। এখন কিভাবে ঘরে ফিরবে সে? কোথায় পাবে আব্বু-আম্মুকে? দু’চোখ ফেটে-কান্না আসে ওর। পাগলের মতো দৌঁড় দেয়। হঠাৎ একটা গাড়ি এসে ... আহ্। জোড়ে কেঁদে ফেলে হৃদি।

কারো মমতা ভরা ডাক কানে আসে হৃদির। চোখ খুলে দেখে সে ঘরের মেঝেতে, মা-বাবা পাশে বসে আছে। মা বলছে খাট থেকে পরে গেছ মা? খুব ব্যথা পেয়েছ?

তাহলে এতক্ষণ কি স্বপ্ন দেখছিল হৃদি? উহ্... স্বপ্নের শেষটা কি ভয়ঙ্করই না ছিল। না, স্বপ্নেও হৃদি কখনো একা ঘরের বাহিরে যাবে না।

জলবায়ু পরিবর্তন বাংলাদেশে অভিবাসন সংকট বাড়িয়ে তুলছে যেভাবে by সুসানাহ স্যাভেজ

বাংলাদেশ যখন আরেকটি ঘূর্ণিঝড়ের ধকল কাটিয়ে উঠছে, তখন দেশটিতে অভ্যন্তরীণভাবে অভিবাসন  সংকট (ইন্টারন্যাল মাইগ্রেশন ক্রাইসিস) আরো ঘণীভূত হচ্ছে। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বিশ্বে সবচেয়ে বিপন্ন অবস্থায় যেসব দেশ আছে তার অন্যতম এটি।
গত মে মাসের শুরুতে ঘূর্ণিঝড় ফণী আঘাত হানে ভারতের পূর্বাঞ্চলে। গতিপথ পরিবর্তন করে তা বাংলাদেশের দিকে এগিয়ে আসার আগে কমপক্ষে ৪২ জন নিহত হয়েছেন। বাংলাদেশে এতে প্রায় ১৭ জন নিহত হয়েছেন। আগের ঘূর্ণিঝড়গুলোর তুলনায় এই ক্ষয়ক্ষতি অনেকটা কম।
ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর ক্লাইমেট চেঞ্জ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের পরিচালক ড. সলিমুল হক বলেন, ঘূর্ণিঝড়টি উত্তর-পূর্বমুখী হয়ে বাংলাদেশের ভেতর দিয়ে অতিক্রম করে। এ সময় তা শক্তি হারিয়েছিল। ফলে সৌভাগ্য ও বাংলাদেশের পূর্বপ্রস্তুতিকে ধন্যবাদ দিতে হয়। তিনি বলেন, আমি বলবো অন্য যেকোনো জায়গার তুলনায় উন্নত অবস্থায় রয়েছি আমরা। আমরা জীবন রক্ষায় খুবই দক্ষ। কিন্তু আমরা যেটা থামাতে পারি না, তাহলো ক্ষয়ক্ষতি। এটা এড়ানো যায় না। জীবিকা হারানো ও অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুত হওয়ায় ক্ষতিকর প্রভাব বিপুল। 
সারাদেশে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ১৩ হাজার বাড়িঘর। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় অংশের চাঁদপুরে কমপক্ষে ১০০ মানুষ আশ্রয়হীন হয়েছেন। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী এনামুর রহমানের মতে, সবচেয়ে যারা বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন তার মধ্যে রয়েছেন কৃষক। প্রায় ৬৩ হাজার হেক্টর জমি বন্যাকবলিত হয়েছে। ১৮০০ হেক্টর জমির শস্য নষ্ট হয়েছে।
কিছু কিছু ক্ষতি কাটিয়ে নেয়া যেতে পারে। কিন্তু বাকিগুলোর রয়েছে দীর্ঘমেয়াদি পরিণতি। কোনো কোনো ক্ষেত্রে তার স্থায়িত্ব প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে। ২০০৭ সালের ঘূর্ণিঝড় সিডর দেশের দক্ষিণাঞ্চলীয় উপকূলকে তছনছ করে দেয়। এতে মারা যান প্রায় ১৫০০০ মানুষ। হাজার হাজার পরিবার হয় গৃহহীন। যারা বেঁচে গিয়েছেন তাদের সামনে রাজধানী ঢাকা ও অন্যান্য শহরের উদ্দেশ্যে বাড়ি ত্যাগ করা ছাড়া আর কোনো বিকল্প ছিল না।
১০ বছরেরও বেশি সময় পরে, সেই বাড়িছাড়ার ধারা এখনও শেষ হয়ে যায়নি। বরিশাল থেকে ১০০ কিলোমিটার দূরের তালতলী উপজেলায় বসবাসকারী ২৫ বছর বয়সী শাহজালাল মিয়ারকে ২০১৭ সালে বাধ্য হয়ে গ্রাম ছাড়তে হয়েছে। এর আগে তিনি ছিলেন একজন কৃষিশ্রমিক। শাহজালাল বলেন, আমার হাতে কোনো কাজ ছিল না। মাত্র তিন মাস কাজ করতে পারতাম। বছরের বাকি ৯ মাস আমার হাতে কোনোই কাজ থাকতো না।
শাহজালাল ও তার পরিবারের আছে ছোট্ট একখণ্ড জমি। সেখানে তারা ধান চাষ করতেন। কিন্তু ঘূর্ণিঝড় সিডর শুধু বাড়িঘর আর ফসলের ক্ষতি করেনি, একই সঙ্গে লবণাক্ত পানি প্রবেশ করেছে কৃষিজমিতে। এতে তাদের কৃষিজমি লবণে সয়লাব হয়ে যায়।
এমনকি আজও, সেই জমিতে এতটাই লবণ যে, স্থানীয় কৃষকরা তাতে ধান বা অন্য শস্য চাষ করতে পারছেন না। টিউবওয়েলের মাধ্যমে ভূগর্ভ থেকে টেনে তোলা পানি এবং নদীর পানিতে রয়েছে উচ্চ মাত্রার লবণাক্ততা। 
শাহজালাল বলেন, পানিতে প্রচুর পরিমাণে লবণ। এর ফলে জমিতে কিছু উৎপাদন করা বাস্তবেই খুব অসম্ভব। যদি মিষ্টি পানি হতো তাহলে জমিতে আমার ফসল চাষ করা সম্ভব হতো। অন্যান্য কৃষিকাজ সম্ভব হতো। কিন্তু এত বেশি লবণ থাকায় কৃষকরা বছরে মাত্র একবার ফসল তুলতে পারেন ঘরে। আগে তারা বছরে দুবার বা তিনবারও ফসল ঘরে তুলতেন।
শাহজালাল সম্পদশালী পরিবারগুলোর জন্য দিনমজুর হিসেবে কাজ করতেন। কিন্তু তাতে জীবিকা নির্বাহ করতে না পেরে শাহজালাল ও তার স্ত্রী গ্রাম ত্যাগ করা ছাড়া আর কোনো বিকল্প খুঁজে পাননি।
তাদের এই কাহিনী খুব বেশি অভিন্ন বা কমন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রিফিউজি অ্যান্ড মাইগ্রেটরি মুভমেন্টস রিসার্স ইউনিটের (আরএমএমআরইউ) জলবায়ু পরিবর্তন সংক্রান্ত ইস্যুগুলোর কারণে লাখ লাখ বাংলাদেশি তাদের গ্রামের বাড়ি ত্যাগ করে শহরমুখী হতে বাধ্য হচ্ছে। এই সংখ্যা ক্রমশ বাড়ছে। ড. হকের অনুমান, আগামী এক দশকের মধ্যে এক কোটির বেশি বাংলাদেশি তাদের জীবিকা হারাবেন।
প্রাকৃতিক অনেক দুর্যোগের মধ্যে ঘূর্ণিঝড় অন্যতম। এর ফলে অভ্যন্তরীণভাবে মানুষ বাস্তুচ্যুত হন। এ ছাড়া বাংলাদেশে রয়েছে উচ্চ মাত্রায় নদী ও উপকূলীয় অঞ্চলে ভাঙন, বন্যা, আবার কোনো কোনো ক্ষেত্রে রয়েছে তীব্র খরা ও পানির সংকট।
জাতিসংঘের ইন্টারন্যাল ডিসপ্লেসমেন্ট মনিটরিং সেন্টার থেকে প্রকাশিত অভ্যন্তরীণ বাস্তুচ্যুত বিষয়ক এক রিপোর্ট অনুযায়ী, বিশ্বে বাংলাদেশ হলো বন্যার কারণে তৃতীয় বৃহৎ বাস্তুচ্যুত দেশের ঝুঁকিতে। জেনেভা ভিত্তিক আইডিএমসির পরিচালক আলেকজান্দ্রা বিলাল বলেন, বাস্তুচ্যুত হওয়া এসব মানুষের সংখ্যায় সবাইকে আনা যায়নি। কারণ, ধীরগতিতে অনেক বিপর্যয় ঘটছে, যার ওপর নজরদারি করা খুব কঠিন। তিনি আরো বলেন, আমি যখন বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলে সফর করেছি, তখন প্রত্যক্ষ করেছি উপকূলে কি ভয়াবহ ভাঙন চলছে। তা দেখে হতাশ হয়েছি। ভোলায় আক্ষরিক অর্থেই জমিগুলো চলে যাচ্ছে পানির নিচে।
বাস্তুচ্যুতদের বেশির ভাগই গিয়ে ওঠেন রাজধানী ঢাকায়। এখানে বেশির ভাগই অবস্থান করেন বস্তি এলাকায়। ভোলা জেলা থেকে গত কয়েক দশকে এত বেশি মানুষ ঢাকায় স্থানান্তর হয়েছেন যে, ঢাকায় একটি বস্তির নামকরণই হয়ে গেছে ‘ভোলা’। তবে সবাই যে রাজধানীতে যাচ্ছেন এমন না। রাজধানীর পরিবর্তে শাহজালাল বেছে নিয়েছেন বরিশালকে। এটি তার গ্রাম থেকে কম দূরত্বের বড় শহর। তিনি বলেন, আমার গ্রামের বহু মানুষ কাজের জন্য বরিশাল এসেছেন। আমার স্ত্রী বা সন্তানদের রেখে ঢাকা অথবা চট্টগ্রামে যেতে চাই না। এখানে তাদেরকে নিয়ে বসবাস করছি।
শহরে জীবন সবসময় সহজ নয়। শাহজালালের স্ত্রী নাদিরা বেগম প্রথম যখন অন্তঃসত্ত্বা হন তখনকার কথা বলছিলেন তিনি। নাদিরা বলেন, বরিশালে আমরা প্রথমে যে বস্তিতে উঠেছিলাম তা ছিল নোংরা। সেখানে পরিষ্কার পানি ও টয়লেট ছিল না। আমরা দেখেছি সেখানে কীভাবে অন্য শিশুরা বেড়ে উঠছে। কি নোংরা সেই বস্তি। তাই আমরা চাইনি আমাদের সন্তান সেই পরিবেশে বড় হয়ে উঠুক।
শাহজালাল দম্পতির মেয়ে হালিফার বয়স এখন ৫ মাস। তার জন্মের আগেই এই দম্পতি চলে যান নামারচর বস্তিতে। এই বস্তিটি একটি নদীর পাড়ে। ফলে টাটকা বাতাস পাওয়া যায়। নাদিরার মতে, সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো তারা এখন টয়লেট ও পানির সুবিধা পান। তারা যে ঘরে বসবাস করেন তা থেকে মাত্র কয়েক মিটার দূরে চকচকে পরিষ্কার টয়লেটের একটি ব্লক। এটি স্থাপন করেছে একটি দাতব্য সংস্থা ওয়াটার স্যানিটেশন ফর দ্য আরবান পুওর। এই ব্লকে রয়েছে পানি ধরে রাখার ট্যাংক ও পাম্প। ফলে অন্য বস্তিগুলোর মতো না হয়ে, এখানকার ল্যাট্রিনগুলো পরিষ্কার রাখা খুব সহজ। আটটি পরিবার সেখানে দুটি টয়লেট ও একটি বেসিন ব্যবহার করে। এর বড় ধরনের প্রভাব রয়েছে। নাদিরা বলেন, আমরা আগে যেখানে বসবাস করতাম তার চেয়ে এখানে জীবন অনেক উন্নত।
বাংলাদেশে বস্তিবাসীদের তুলনায় তারা খুবই সৌভাগ্যবান। বেশির ভাগ বস্তি শুধু যে অধিকসংখ্যক মানুষে গাদাগাদি শুধু তাই নয়, পুরো একটি পরিবার বসবাস করে একটি রুমে। তারা সিটি করপোরেশন, মিউনিসিপ্যালিটির সেবা ঠিক মতো পায় না। এসব প্রতিষ্ঠান তাদেরকে পানি সরবরাহ দিতে অথবা বর্জ্য অপসারণের মতো সেবা দিতে আইনগতভাবে বাধ্য নয়। এমন অবস্থায় বসবাসকারী বস্তিবাসীরা এমনিতেই অসুস্থতায় ভোগে। বিশেষ করে পানিবাহিত রোগে বেশি ভোগেন তারা।
ওয়াটার স্যানিটেশন ফর দ্য আরবান পুওর-এর বাংলাদেশ কান্ট্রি প্রোগ্রাম ম্যানেজার আবদুস শাহিন বলেছেন, নাজুক পয়ঃনিষ্কাশন এসব পরিবার ও ব্যক্তিবিশেষের জীবনে করুণ পরিণতি বয়ে আনে। তিনি বলেন, যদি একজন রিকশাচালক অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং তিনি এক বা দুই দিন কাজে যেতে না পারেন, তাহলে এতে তাদের বড় একটি ক্ষতি হয়। যদি একজন গার্মেন্ট শ্রমিক সাতদিন অনুপস্থিত থাকেন তাহলে তার কর্তৃপক্ষ তার পরিবর্তে অন্যলোক নিয়ে নেবে। ওই শ্রমিক কাজ হারাবেন।
বাংলাদেশের চারটি শহরে, এশিয়ার অন্যান্য শহরে এবং আফ্রিকায় কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছে ওয়াটার স্যানিটেশন ফর দ্য আরবান পুওর। তাদের মতো বেসরকারি সংগঠনগুলো পয়ঃনিষ্কাশনের বিষয়ে যে গ্যাপ আছে তা পূরণ করার জন্য কঠোর পরিশ্রম করছে, যদিও এ সমস্যাটি অনেক বড়। আবদুস শাহিন বলেন, অধিক থেকে অধিক মানুষ গ্রাম ছেড়ে শহরে আসছে। এর নেপথ্যের কারণ হলো জলবায়ুর পরিবর্তনে তারা বেশি ক্ষতিগ্রস্ত। আমার আশঙ্কা, এ জন্য বস্তি পরিস্থিতি খারাপ থেকে আরো খারাপের দিকে যাবে।
জলবায়ু পরিবর্তনে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর অন্যতম বাংলাদেশ। তাই শুধু অভ্যন্তরীণ অভিবাসন সংকট শুধু তারাই মোকাবিলা করছে একা এমন নয়।
গ্লোবাল রিপোর্ট অন ইন্টারনাল ডিসপ্লেসমেন্টের মতে, ২০১৮ সালে অভ্যন্তরীণ এমন নতুন উদ্বাস্তুর সংখ্যা ছিল ২ কোটি ৮০ লাখ। এ যাবৎকালের মধ্যে এটিই সর্বোচ্চ রেকর্ড। এর মধ্যে এক কোটি ৭২ লাখ মানুষ ঝড়, বন্যা ও ঘূর্ণিঝড়ের মতো বিপর্যয়ের কারণে বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। বাকি এক কোটি ৮ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন যুদ্ধ ও সহিংসতার কারণে। অভ্যন্তরীণভাবে এভাবে সারাবিশ্বে ক্রমবর্ধমান হারে যেসব মানুষ বাস্তুচ্যুত হচ্ছেন তাদের শেষ আশ্রয় হয় শহর এলাকা। এ কথা বলেছেন আইডিএমসির পরিচালক মিসেস বিলাক। তিনি বলেন, যেকোনো শহরে যদি দলে দলে বাস্তুচ্যুত মানুষ এসে আশ্রয় নিতে থাকে তাহলে তাতে অপরিহার্যভাবে স্থানীয় সরকারের ওপর চাপ পড়ে। তাদেরকে আশ্রয় দেয়া এবং তাদেরকে সমাজে মানিয়ে নেয়াটা নির্ভর করে সম্পদের ওপর। এমন সংকট বেশি যেখানে দেশগুলো গরিব। তাদের সামনে চ্যালেঞ্জটা সবচেয়ে বেশি।
গ্রাম থেকে শহরে অভিবাসন ত্বরান্বিত করার জন্য শুধু জলবায়ু সম্পর্কিত বিপর্যয়ই একমাত্র কারণ নয়, এতে শহরের ওপরও চাপ পড়ছে। বিশ্বে শহরে বসবাসকারী মানুষের সংখ্যা ক্রমশ বাড়ছে। বিপর্যয়ের কারণে তাই শহরগুলো ক্রমশ ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ছে মানুষ বাস্তুহারা হওয়ার কারণে।
এ বছর বাস্তুচ্যুত মানুষের শহরমুখী প্রবণতা নিয়ে একটি রিপোর্ট করেছে জাতিসংঘ। তাতে দেখা গেছে, বন্যার কারণে প্রতি বছর সারা বিশ্বে ঝুঁকির মুখে রয়েছে এক কোটি ৭০ লাখ মানুষ। এর মধ্যে শতকরা ৮০ ভাগের বেশি বসবাস করেন শহর অথবা আধা শহর এলাকায়। দক্ষিণ এশিয়ায় দ্রুততার সঙ্গে ঘটছে নগরায়ন। তাই এখানে এই ঝুঁকি শতকরা ৯০ ভাগ।
মিসেস বিলাক বলেন, বস্তিতে বসবাসকারী মানুষ, যারা বাস্তুচ্যুত হবেন বলে মনে করা হচ্ছে। তারা বাস্তুচ্যুত হবে নিরাপত্তাহীন অবকাঠামো, আবাসনে প্রয়োজনীয় জিনিসগুলোর সেটিং, সম্পদের অভাব, অসুস্থতায় বিপন্ন হওয়া ও উৎখাতের মতো ঘটনায়। মিসেস বিলাক বলেন, অবশ্যই এদের অনেকেই তাদের শহরের এসব আবাসন থেকে সরে যেতে বাধ্য হবেন। এটা হলো দ্বিতীয় পর্যায়ের বাস্তুচ্যুতি।
গ্রামে যারা রয়ে যাবেন, তাদের কাছে পরিস্থিতি ফুলের বিছানা নয়। শাহজালালের গ্রামে যাওয়ার রাস্তা মাঠের ভিতর দিয়ে গিয়েছে মাইলের পর মাইল। সেখানে চারদিকে সব কিছু ফাঁকা।
শাহজালাল বলেন, এই ক্ষেতগুলোতে ধান চাষ হতো। আমি যখন ছোট্ট ছিলাম তখন দেখেছি সারা মাঠে কৃষক। এখন আপনি দেখবেন এখানে কেউ নেই।
অদ্ভুতভাবে গ্রামও নীরব। শাহজালালের পরিবারের পুরনো প্রজন্মের কেউ কেউ রয়েছেন গ্রামে। তার মধ্যে আছেন তার পিতা, মামা ও চাচা। তাদের মতে, ঘূর্ণিঝড় সিডরের পর সেখানে বসবাসকারীদের শতকরা ৭০ ভাগ মানুষ গ্রাম ছেড়ে চলে গিয়েছে। শাহজালালের চাচা বলেন, যুবকরা সবাই গ্রাম ছেড়ে গেছে কাজ খুঁজে পেতে। কেউ কেউ তাদের স্ত্রী ও সন্তানদের সঙ্গে নিয়ে যায়। আবার কখনো তাদেরকে বাড়িতে রেখে যায়।
তবে ব্যতিক্রম শাহজালালের ভাই মোহাম্মদ সাইদুলের ক্ষেত্রে। তিনি তিন ভাইয়ের মধ্যে সবার বড়। তার বয়স ২৭ বছর। তিনি চট্টগ্রামে গিয়েছিলেন কাজের জন্য। কিন্তু সেখান থেকে ফিরে এসেছেন। এখন তিনি ও তার পরিবার চিংড়ি ও অন্য মাছের চাষ করেন। কিন্তু ধান চাষের চেয়ে মাছ চাষে অনেক কম লাভ বলে জানান তিনি। সাইদুল বলেন, আমরা বেঁচে থাকার জন্য লড়াই করি। কিন্তু আমি বাড়ি ছেড়ে যেতে চাই না। কারণ, এই বাড়ি আমার।
(লন্ডনের অনলাইন দ্য টেলিগ্রাফ পত্রিকায় প্রকাশিত লেখার অনুবাদ)