Sunday, November 28, 2010

কৃষি আলোচনা- 'বরেন্দ্রভূমির কৃষকের বীজবিদ্রোহ' by পাভেল পার্থ

বারও বাংলাদেশে করপোরেট বীজ-প্রতারণার ঘটনা ঘটেছে। করপোরেট সিনজেন্টা কোম্পানির হাইব্রিড টমেটো বীজ চাষ করে ক্ষতিগ্রস্ত ও প্রতারিত রাজশাহীর কৃষকেরা সিনজেন্টার বিরুদ্ধে সংগঠিত করছেন জন-আন্দোলন। বরেন্দ্রভূমির কৃষকদের অভিনন্দন, যাঁরা সিনজেন্টার মতো এক ডাকসাইটে করপোরেটের বিরুদ্ধে বীজের ন্যায্য হিস্যা আদায়ে রুখে দাঁড়িয়েছেন। ২০০০ সালের ১৩ নভেম্বর নোভার্টিস ও এসট্রা জেনেকা মিলে তৈরি করে সিনজেন্টা। এর আগে ১৯৯৯ সালে সুইডিশ কোম্পানি এসট্রা এবি ও ব্রিটিশ কোম্পানি জেনেকা মিলে তৈরি হয়েছিল এসট্রা জেনেকা।

খবর- ৩০ নভেম্বরের হরতালের আগেই মারমুখী পুলিশ

রতালের আগেই মারমুখী হয়ে উঠেছে পুলিশ। শুক্রবার রাত থেকেই রাজধানীসহ সারা দেশে শুরু হয়েছে ধরপাকড়। গ্রেপ্তার করা হয়েছে বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের শতাধিক নেতা-কর্মীকে। বরিশাল ও ঈশ্বরদীতে বিএনপির নেতা-কর্মীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষে ২০ জন আহত হন। যোগাযোগ করা হলে স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকু প্রথম আলোকে বলেন, ধরপাকড় একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। কিন্তু দুই দিন পরে হরতাল থাকায় যাঁদের নামে মামলা ও পরোয়ানা আছে, তাঁদেরই গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। (এই খবর'টি দৈনিক প্রথম আলোর)

খবর- চট্টগ্রামে ভাঙ্গা ভাঙ্গির রাজনীতি

ট্টগ্রামে প্রধান দুই দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপির সাংগঠনিক রাজনীতিতে আকস্মিক মেরুকরণ হয়েছে। স্থানীয় সূত্রগুলো জানায়, কয়েক সপ্তাহ আগেও চট্টগ্রাম মহানগরে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের পাঁচটি ধারা সক্রিয় ছিল। আর বিএনপি ছিল তিনটি ধারায় বিভক্ত। কিন্তু এখন আওয়ামী লীগের তিনটি পক্ষ ভাগ হয়ে দুটি পক্ষে মিশে গেছে। আর বিএনপির তিনটি পক্ষও দুটিতে পরিণত হয়েছে। (রাজনীতি চট্টগ্রামে দুই দলের মহানগরের নেতারা সক্রিয়। পাঁচ ভাগের আ.লীগ, তিন ভাগের বিএনপিতে এখন দুটি করে পক্ষ)

ফিচার খবর - নৈরাজ্য-বিশৃঙ্খলা’র বিরুদ্ধে রাজপথে আনসার-ভিডিপি!

সারা দেশে আনসার-ভিডিপির উদ্যোগে তিন দিনের ‘শান্তি র‌্যালি’ শুরু হয়েছে। অশান্তি, নৈরাজ্য ও বিশৃঙ্খলার বিরুদ্ধে এ ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে আয়োজকেরা জানিয়েছেন। তবে কোনো কোনো র‌্যালিতে হরতালবিরোধী স্লোগান দেওয়া হয় বলে এই আয়োজন নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। আজ ও আগামীকালও এ ধরনের র‌্যালি হওয়ার কথা রয়েছে। কোথাও কোথাও ওই বাহিনীর পদস্থ কর্মকর্তা ছাড়াও র‌্যালিতে জেলা প্রশাসকেরাও যোগ দেন।

যুক্তি তর্ক গল্পালোচনা- 'প্রটোকল কার' : গরিবের ঘোড়ারোগ' by দেবব্রত চক্রবর্তী বিষ্ণু

'রিবের ঘোড়ারোগ'_কথাটা এ দেশের গ্রামবাংলায় বহুল প্রচলিত। কিন্তু রাষ্ট্রব্যবস্থায়ও এর প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে! যাঁরা রাষ্ট্র পরিচালনা করেন, তাঁরা অহরহই বলেন, এই দরিদ্র দেশের চেহারা পাল্টাতে হলে সবাইকে দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে কাজ করতে হবে, নিজেরা ত্যাগ করে হলেও মানুষের পাশে দাঁড়াতে হবে অঙ্গীকারবদ্ধ হয়ে। বিরোধী শিবিরে যাঁরা থাকেন, তাঁরাও এমন কথাই বলেন। পাশাপাশি এ-ও বলেন, তাঁরা ক্ষমতায় গেলে জনস্বার্থবিরোধী সব কিছু হটিয়ে দেবেন।

রাজনৈতিক আলোচনা- 'বিদ্যমান ব্যবস্থার বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছিলেন ডা. মিলন' by সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী

ব্বইয়ের অভ্যুত্থানের শহীদ ডা. মিলন। কিন্তু সেটা দূর থেকে চেনা। ভেতরের মানুষটি কে ছিলেন, কেমন ছিলেন, কতটা জীবন্ত ছিলেন_সেটা বাইরের লোকের জানার কথা নয়। কে ছিলেন এই প্রাণবন্ত নবীন চিকিৎসক, রাজপথে যিনি প্রাণ দিলেন? বন্ধুরা বলছেন, তিনি আসলে ছিলেন একজন শিল্পী, সব কিছুকে যিনি সুন্দর করে তুলতে চাইতেন। ডায়েরি লিখেছেন, কবিতা লিখেছেন, ছবি এঁকেছেন, অভ্যাস ছিল প্রবন্ধ লেখার। ভালোবাসতেন বই পড়তে, সব রকমের বই। কবিতা আবৃত্তি করতেন। উৎসাহ ছিল খেলাধুলায় : ক্রিকেট, ফুটবল, ভলিবল_সব খেলতেন। মেডিক্যাল কলেজে ক্রীড়া সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছিলেন এবং ক্রীড়া সংগঠক হিসেবে অত্যন্ত ঈর্ষণীয় যোগ্যতার পরিচয় দিয়েছেন।

রাজনৈতিক আলোচনা- 'প্রয়োজন সরকার ও বিরোধী দলের সহাবস্থান' by ড. তারেক শামসুর রেহমান

ঠাৎ করেই রাজনীতি উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। রাজনীতি নতুন করে আবার কোন পথে যায় সে নিয়েও বিস্তর সংশয় রয়েছে। বাড়ি থেকে উচ্ছেদের পর বেগম জিয়া কাঁদলেন এবং কাঁদালেন সবাইকে। জিয়া পরিবারের নামে বরাদ্দকৃত সেনানিবাসের বাড়িটি নিয়ে যে ঘটনা ঘটল তাতে দুটি বড় দলের মধ্যে বিরোধ আরো বাড়লেও তা একটি মূল প্রশ্নের কোনো জবাব দেয় না। আর তা হচ্ছে গণতন্ত্রে সহনশীলতা ও পারস্পরিক যে আস্থার কথা বলা হয়, দীর্ঘ ৩৯ বছর পার হওয়ার পরও সেই আস্থার ঘাটতি রয়েছে দেশে। বেগম জিয়াকে সেনানিবাসের বাড়ি থেকে উচ্ছেদের ঘটনায় সারা দেশে হরতাল পালিত হয়েছে। মঙ্গলবার আবার ডাকা হয়েছে হরতাল অন্য ইস্যুতে।

ক্যাম্পাসে গাড়ি দুর্ঘটনা

গত বৃহস্পতিবার গাড়ি দুর্ঘটনায় এক ছাত্রের আহত হওয়াকে কেন্দ্র করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে পাইকারি গাড়ি ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের যে ঘটনা ঘটেছে, তা অত্যন্ত দুঃখজনক। দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে সাধন কুমার ঘোষ নামের মনোবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী হলে ফেরার পথে জগন্নাথ হলের কাছে গাড়ি দুর্ঘটনার শিকার হন। গাড়িতে সিটি কলেজের এক ছাত্রী চালকের কাছে প্রশিক্ষণ নিচ্ছিলেন। বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে এ ধরনের প্রশিক্ষণ চলতে পারে না। এটি আইনের স্পষ্ট লঙ্ঘন। আবার দুর্ঘটনাকে কেন্দ্র করে ক্যাম্পাসে গাড়ি ভাঙচুরের যে তাণ্ডব ঘটানো হয়েছে, তা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী বলেই তাঁরা আইনকে নিজের হাতে তুলে নিতে পারেন না। দুর্ঘটনায় যে শিক্ষার্থী গুরুতর আহত হয়েছেন, তাঁর প্রতি আমাদের অবশ্যই সহমর্মিতা আছে এবং আশা করি, চিকিৎসার মাধ্যমে তিনি দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠবেন। আইন অনুযায়ী দুর্ঘটনার জন্য দায়ী গাড়ির চালক ও প্রশিক্ষণার্থীর শাস্তি হোক, সেটা সবারই কাম্য।
যে গাড়িটি দুর্ঘটনা ঘটিয়েছে, সতীর্থরা আগেই সেটি আটক করেছেন, সেই গাড়িতে করেই আহত শিক্ষার্থীকে হাসপাতালে পৌঁছানো হয়েছে। পরে বিক্ষুব্ধ সতীর্থরা সেই গাড়িটি পুড়িয়েই ক্ষান্ত হননি, ক্যাম্পাসের আরও ২৫টি গাড়ি ভাঙচুর করেছেন। এটি সোজা কথায় সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ছাড়া কিছু নয়। দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠের শিক্ষার্থীরা যদি এ ধরনের বিশৃঙ্খলা করেন, তাহলে সাধারণ যুবকেরা কী করবে? শ্রেষ্ঠ বিদ্যাপীঠের শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে সবাই অনুকরণীয় আচরণই আশা করে।
এর আগেও গাড়ি দুর্ঘটনা, এমনকি তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন ক্যাম্পাসে ছাত্রদের তাণ্ডব লক্ষ করা গেছে। যেকোনো দুর্ঘটনা দুঃখজনক। কিন্তু একটি দুঃখজনক ঘটনার প্রতিকার নিশ্চয়ই আরও বেশি দুর্ঘটনা ঘটানো নয়। গাড়ি ভাঙচুর করলে আহত ব্যক্তি ক্ষতিপূরণ পান না কিংবা তাঁর যন্ত্রণারও উপশম হয় না। আহত সাধন আশঙ্কামুক্ত জেনেও কারা তাঁর মৃত্যুর গুজব ছড়িয়ে ক্যাম্পাসে নৈরাজ্যকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে, সেটি খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ভারী যানবাহন ক্যাম্পাসে প্রবেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। সাধারণ প্রাইভেট কারের ওপর নয়। গত বছর একটি দুর্ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ক্যাম্পাসে প্রশিক্ষণার্থীর গাড়ি প্রবেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে। তার পরও কীভাবে সেখানে দিনে-দুপুরে প্রশিক্ষণার্থী গাড়ি চালাচ্ছিলেন? প্রশিক্ষণের জন্য নির্দিষ্ট জায়গা থাকতে হবে। যেকোনো জায়গায় গাড়িচালকদের প্রশিক্ষণকাজ চলতে পারে না।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বারবার এ ধরনের দুর্ঘটনা কেন ঘটে, তাও খতিয়ে দেখতে হবে। মনে রাখতে হবে, ক্যাম্পাসটি মহানগরের মাঝখানে। অতএব, সেখানে সাধারণের গাড়ি চলাচলের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ সমীচীন নয়। নিরাপদ ক্যাম্পাস যেমন জরুরি, তেমনি সড়কে যানবাহনের নিরাপত্তাও নিশ্চিত করতে হবে।
একটি দুর্ঘটনাকে পুঁজি করে যদি আরও দশটি দুর্ঘটনা ঘটানো হয়, তাতে রাষ্ট্র ও জনগণের সম্পদই নষ্ট হয়। এটি কোনোভাবেই আইনের শাসনের সহায়ক নয়। প্রাচ্যের অক্সফোর্ড বলে খ্যাত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির শিক্ষার্থীরা আইন মেনে চলবেন এবং কোনো বিশৃঙ্খলাকে প্রশ্রয় দেবেন না আশা করি। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সমন্বিত ও সুচিন্তিত পদক্ষেপই পারে ক্যাম্পাসে সবার নিরপত্তা নিশ্চিত করতে।

এক সপ্তাহে সূচক বেড়েছে ৫৩৩ পয়েন্ট

সপ্তাহ জুড়ে চাঙাভাব দেখা গেছে ঢাকার শেয়ারবাজারে। সপ্তাহের পাঁচ কর্মদিবসের চার দিনই চাঙা ছিল শেয়ারবাজার। পাঁচ দিনের মধ্যে চার দিনই সাধারণ সূচকের ঊর্ধ্বগতি অব্যাহত থাকে। তবে এক দিন শেয়ারবাজারে সূচকের নিম্নগতি দেখা গেছে। আর্থিক লেনদেন, বেশির ভাগ শেয়ারের দাম ও বাজার মূলধন সবই বেড়েছে গত সপ্তাহে।
ডিএসই সূত্রে জানা গেছে, গত এক সপ্তাহে সাধারণ মূল্যসূচক ছয় দশমিক ৫২ শতাংশ বা প্রায় ৫৩৩ দশমিক ৭৬ পয়েন্ট বেড়েছে। সপ্তাহের শুরুতে সাধারণ মূল্যসূচক ছিল ৮১৮৭ দশমিক ৩৩ পয়েন্ট। যা সপ্তাহের লেনদেন শেষে দাঁড়ায় ৮৭২১ দশমিক শূন্য নয় পয়েন্টে। একই সময়ে আর্থিক লেনদেন গড়ে প্রতিদিন ১২ দশমিক ৬৭ শতাংশ বেড়ে প্রতিদিন দুই হাজার ৭৭৩ কোটি টাকা করে হয়েছে।
সপ্তাহের শুরুতে ডিএসইর বাজার মূলধন ছিল তিন লাখ ৪৫ হাজার ২২৭ কোটি টাকা। যা সপ্তাহ শেষে পাঁচ দশমিক ৩১ শতাংশ বেড়ে তিন লাখ ৬৩ হাজার ৫৪২ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে।
এ ছাড়া বেশির ভাগ শেয়ারেরই দাম বেড়েছে গত সপ্তাহে। এ সময় লেনদেন হওয়া মোট ২৪৯টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে দাম বেড়েছে ২১৫টির, কমেছে ৩২টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে মোট দুটি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম।
গত সপ্তাহে লেনদেনে শীর্ষে থাকা ১০টি প্রতিষ্ঠান হলো—বেক্সিমকো, এনসিসি ব্যাংক, ইউসিবিএল, পূবালী ব্যাংক, সাউথইস্ট ব্যাংক, পিপলস লিজিং অ্যান্ড ফিন্যান্স সার্ভিসেস, তিতাস গ্যাস, শাহজালাল ইসলামী ব্যাংক, এবি ব্যাংক ও এনবিএল।
সমাপনী মূল্যের ভিত্তিতে গত সপ্তাহে দাম বৃদ্ধিতে শীর্ষে থাকা ১০টি প্রতিষ্ঠান হলো—দুলামিয়া কটন, দেশ গার্মেন্টস, সিএমসি কামাল, সোনালী আঁশ, এমবি সিমেন্ট, মুন্নু সিরামিক, স্ট্যান্ডার্ড সিরামিক, সিনো বাংলা ইন্ডাস্ট্রিজ, কাশেম ড্রাইসেলস ও রহিম টেক্সটাইল।
সমাপনী মূল্যের ভিত্তিতে দাম কমে যাওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে শীর্ষ ১০টি প্রতিষ্ঠান হলো—অ্যাটলাস বাংলাদেশ, উত্তরা ফিন্যান্স, ডেসকো, আফতাব অটোমোবাইল, এইমস প্রথম মিউচুয়াল ফান্ড, সায়হাম টেক্সটাইল, কেপিসিএল, ম্যাকসনস স্পিনিং মিলস, গ্রিন ডেল্টা ইনস্যুরেন্স ও রেনাটা লিমিটেড।

ক্লোন করা গবাদি পশুর মাংস ও দুধ সম্পূর্ণ নিরাপদ

ব্রিটেনের খাদ্য বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, ক্লোন করা গবাদিপশুর মাংস ও দুধ সাধারণ গবাদিপশুর মাংস ও দুধের মতোই নিরাপদ ও স্বাস্থ্যকর। সাধারণ ও ক্লোন করা পশুর মাংস ও দুধের মধ্যে কোনো গুণগত পার্থক্য নেই। ব্রিটেনের ফুড স্ট্যান্ডার্ডস এজেন্সির (এফএসএ) বিশেষজ্ঞদের একটি প্যানেল এই ঘোষণা দিয়েছে।
গবেষণা দলের প্রধান অ্যান্ড্রু ওয়েজ বলেছেন, সাধারণ গরু-মোষ ও ক্লোন করা গরু-মোষের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই। তিনি বলেন, তাঁরা গবেষণা করে দেখেছেন, ক্লোন করা গবাদিপশুর মাংস ও দুধে কোনো ক্ষতিকর পদার্থের অস্তিত্ব পাননি। সুতরাং নিশ্চিন্তে এসব মাংস ও দুধ খাওয়া যেতে পারে।
অ্যান্ড্রু ওয়েজের এই বক্তব্যে ব্রিটেনের দোকানগুলোতে ক্লোন করা পশুর দুধ ও মাংস বিক্রি বৈধতা পাচ্ছে।

নাৎসি যুদ্ধাপরাধীর বিরুদ্ধে নেদারল্যান্ডের গ্রেপ্তারি পরোয়ানা

একজন নাৎসি যুদ্ধাপরাধীর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে নেদারল্যান্ড। ওই নাৎসি যুদ্ধাপরাধীর নাম ক্লাস ক্যারেল ফ্যাবার (৮৮)। ছয় দশক আগে নেদারল্যান্ডের একটি কারাগার থেকে পালানোর পর থেকে তিনি জার্মানিতে বসবাস করছেন।
নেদারল্যান্ডের বিচার বিভাগের একজন মুখপাত্র জানান, ডাচ বংশোদ্ভূত ফ্যাবারকে ফিরিয়ে আনার এটা শেষ পদক্ষেপ। এর আগে ১৯৫৪ ও ২০০৪ সালে দুই দফায় ফ্যাবারকে হস্তান্তরের দাবি জানানো হয়। কিন্তু জার্মানির একটি আদালত দুবারই তা প্রত্যাখ্যান করেন। ১৯৫৭ সালে জার্মানির পৃথক একটি আদালতে ফ্যাবারের বিচার করা হয় এবং তাঁকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।
১৯৪৭ সালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ২২ জন ইহুদিকে হত্যার দায়ে একটি ডাচ আদালত ফ্যাবারকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেন। পরে সাজা কমিয়ে তাঁকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। এরপর ১৯৫২ সালে ফ্যাবার নেদারল্যান্ডের পশ্চিমাঞ্চলীয় ব্রেডা কারাগার থেকে সাবেক এসএস বাহিনীর ছয় বন্দীকে সঙ্গে নিয়ে জার্মানিতে পালিয়ে যান। অ্যাডলফ হিটলারের সুরক্ষার জন্য এসএস বাহিনী গঠন করা হয়েছিল।
ফ্যাবার ১৯৪৩ থেকে ১৯৪৪ সাল পর্যন্ত নেদারল্যান্ডের ওয়েস্টারবর্কের কনসেনট্রেশন ক্যাম্পের শবচুল্লির দেখাশোনার কাজ কাজ করতেন।

তুরস্কের তিন সামরিক কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত

তুরস্কের ক্ষমতাসীন জাস্টিস অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টির (একেপি) সরকারকে উৎখাত করার ষড়যন্ত্রের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট থাকার অভিযোগে দেশটির সামরিক বাহিনীর শীর্ষস্থানীয় তিন কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
আধুনিক তুরস্কের ইতিহাসে কোনো বেসামরিক সরকার কর্তৃক শীর্ষপর্যায়ের সামরিক কর্মকর্তাদের বরখাস্তের এমন ঘটনা এটাই প্রথম। বরখাস্ত হওয়া কর্মকর্তাদের মধ্যে দুজন জেনারেল এবং একজন অ্যাডমিরাল পদমর্যাদার।
২০০২ সালে জাস্টিস অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টি তুরস্কের ক্ষমতা নেওয়ার পরই ওই অভ্যুত্থান ঘটানোর ষড়যন্ত্র করা হয়। ঘটনায় সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগে প্রায় ২০০ জন সন্দেহভাজন সেনাসদস্যকে আগামী মাসে সামরিক আদালতে বিচারের মুখোমুখি করা হবে। ওই আদালতে বরখাস্ত হওয়া এই তিন কর্মকর্তারও বিচার করা হবে।

যুক্তরাষ্ট্র-দ. কোরিয়ার সামরিক মহড়া উপদ্বীপকে যুদ্ধের দিকে ঠেলে দেবে

উত্তর কোরিয়া হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছে, দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের আসন্ন যৌথ সামরিক মহড়া এ অঞ্চলকে যুদ্ধের মুখে ঠেলে দেবে। উত্তর কোরিয়াকে লক্ষ্য করেই এ মহড়া চালানো হবে বলে পিয়ংইয়ং অভিযোগ করেছে।
এদিকে উত্তর কোরিয়া গতকাল শুক্রবার দক্ষিণ কোরিয়ার সীমান্তের কাছে গোলা নিক্ষেপের মহড়া চালিয়েছে। এতে আতঙ্কে দক্ষিণ কোরিয়ার ইয়নপিয়ং দ্বীপের বাসিন্দারা ঘরবাড়ি ছেড়ে খোলা আকাশের নিচে আশ্রয় নিয়েছে। দক্ষিণ কোরিয়া বলেছে, তারা বিষয়টি তদন্ত করে দেখছে।
দক্ষিণ কোরিয়ার নতুন প্রতিরক্ষামন্ত্রী হিসেবে সাবেক সেনাপ্রধান কিম কোয়ান জিনের নাম ঘোষণা করা হয়েছে। কিম সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী কিম তায়ে-ইয়ংয়ের স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন। উত্তর কোরিয়ার গোলা হামলার জবাব যথাযথভাবে দিতে না পারার দায় নিয়ে কিম তায়ে-ইয়ং ঘটনার দুই দিন পর গত বৃহস্পতিবার পদত্যাগ করেন।
দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে চার দিনব্যাপী নৌ-মহড়ায় অংশ নিতে মার্কিন রণতরী ‘ইউএসএস জর্জ ওয়াশিংটন’ পীত সাগরের উদ্দেশে রওনা হয়েছে। কাল রোববার কোরীয় উপকূলের পশ্চিমাংশে এ মহড়া শুরু হওয়ার কথা।
উত্তর কোরিয়ার সরকারি বার্তা সংস্থা কেসিএনএ বলেছে, উত্তর কোরিয়াকে লক্ষ্য করে দক্ষিণ কোরিয়া-যুক্তরাষ্ট্রের বেপরোয়া সামরিক মহড়ার পরিকল্পনা এ অঞ্চলকে যুদ্ধের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
এর আগেও দক্ষিণ কোরিয়া-যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক মহড়ার সময় উত্তর কোরিয়া একই ধরনের হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে। তবে এবার এ মহড়া ঠেকাতে পিয়ংইয়ংয়ের পক্ষ থেকে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হবে কি না, সে বিষয়ে কিছু বলা হয়নি। উত্তর কোরিয়ার বড় মিত্র বলে পরিচিত চীনও আগেকার মহড়াগুলোর সমালোচনা করেছে।
যুক্তরাষ্ট্র বলেছে, দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের এ সামরিক মহড়া আত্মরক্ষামূলক। তা ছাড়া উত্তর কোরিয়ার ‘উসকানিমূলক’ গোলা ছোঁড়ার আগেই এ মহড়ার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত হয়েছে। তবে ওয়াশিংটন প্রতিরোধব্যবস্থার মাধ্যমে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় বদ্ধপরিকর।
দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের একজন মুখপাত্র জানান, গতকাল দুপুর থেকে বেলা তিনটার মধ্যে সীমান্তবর্তী এলাকায় বিস্ফোরণের শব্দ পাওয়া গেছে। তিনি বলেন, ‘আমরা ধারণা করছি, উত্তর কোরিয়া গোলা নিক্ষেপের মহড়া চালিয়েছে।’ সামরিক সূত্র জানিয়েছে, সীমান্তবর্তী এলাকায় এ মহড়ার সময় অন্তত ২০টির মতো গোলা দক্ষিণ কোরিয়ার অংশে বিস্ফোরিত হয়েছে। এ ঘটনায় ইয়নপিয়ং দ্বীপের যেসব মানুষ এখনো মূল ভূখণ্ডে যায়নি, তারা আতঙ্কে ঘর ছেড়ে খোলা আকাশের নিচে চলে এসেছে।
উত্তর কোরিয়া ফের হামলা চালালে তার কঠোর জবাব দিতে দক্ষিণ কোরিয়ার পত্রিকাগুলো সে দেশের সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে। এ ছাড়া পিয়ংইয়ংয়ের গোলা নিক্ষেপের ঘটনায় নিন্দা জানাতে ব্যর্থ হওয়ায় চীনের সমালোচনাও করা হয়েছে। সবচেয়ে বেশি বিক্রীত পত্রিকা কোসান ইলবো তাদের সম্পাদকীয়তে বলেছে, ‘দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিরক্ষাব্যবস্থা সংস্কার করার সময় হয়েছে। পিয়ংইয়ংয়ের হামলার পাল্টা জবাব দিতে ব্যর্থ হয়েছে সিউল। এর ফলে কিম জং-ইল ও তাঁর সরকার দক্ষিণ কোরিয়াকে কাকতাড়ুয়া ছাড়া আর কিছুই ভাববে না।’
ইয়নপিয়ং দ্বীপে গোলা নিক্ষেপের ঘটনায় দক্ষিণ কোরিয়ার দুজন মেরিন সেনাসহ চারজন নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে আরও অন্তত ১৫ জন। দক্ষিণ কোরিয়ার দাবি, উত্তর কোরিয়াই প্রথমে গোলা ছুড়েছে। পরে তারা এর জবাব দেয়। দুই পক্ষের ছোড়া গোলায় ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে দ্বীপটি। এটি দক্ষিণ কোরিয়ার ইনচিয়ন বন্দর থেকে ৮০ কিলোমিটার এবং উত্তর কোরিয়ার উপকূলবর্তী এলাকা থেকে ১১ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত।

প্রধানমন্ত্রী পদে এনডিএর মনোনয়ন পাচ্ছেন নিতীশ?

বিহারের মুখ্যমন্ত্রী পদে বিশাল ভোটের ব্যবধানে জয়লাভের পর নিতীশ কুমারের নাম বিজেপি নেতৃত্বাধীন জোট ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক অ্যালায়েন্সের (এনডিএ) সম্ভাব্য প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থীর তালিকায় উঠে এসেছে। বিজেপির দোর্দণ্ডপ্রতাপশালী নেতা ও গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকেই এত দিন এনডিএর সম্ভাব্য প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী হিসেবে ভাবা হচ্ছিল। তবে বিহারে নিতীশ কুমারের বিশাল বিজয় নয়াদিল্লিতে এনডিএর রাজনৈতিক সমীকরণ পাল্টে দিয়েছে। এখন নিতীশকে মোদির জোরালো প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে মনে করা হচ্ছে।
দুর্নীতির অভিযোগে কংগ্রেস পার্টি বর্তমানে প্রচণ্ড চাপে রয়েছে। এ সুযোগে এনডিএ ওডিশার নবীন পট্টনায়েক, অন্ধ্র প্রদেশের চন্দ্রবাবু নাইডু, হরিয়ানার ওমপ্রকাশ চৌতালা ও পশ্চিমবঙ্গের মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো সাবেক মিত্রদের আবার জোটে টানার যে চেষ্টা চালাচ্ছে, নিতীশ কুমারের বিজয় সে প্রচেষ্টাকে অনেকখানি জোরালো করে তুলেছে। এদিকে বিশ্লেষকদের মতে, ২০১৪ সালে অনুষ্ঠেয় লোকসভা নির্বাচনে বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ ধর্মকে প্রধান এজেন্ডা হিসেবে রাখছে না।
বিজেপির একটি সূত্র বলেছে, বিহারে বিজয়ের মাধ্যমে এনডিএ নিজেকে জাতীয় পর্যায়ে কংগ্রেস পার্টির সবচেয়ে শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে প্রমাণ করেছে। ২০১৪ সালের নির্বাচনের আগে বামপন্থী দলগুলো এবং বিজেপি জোট গঠন করেই কেবল ক্ষমতাসীন জোটের বিকল্প শক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে।
তবে এখন পর্যন্ত বামপন্থীরা বিজেপির সঙ্গে গাঁটছড়া বাঁধার কোনো আভাস দেয়নি। সে কারণে আপাতত বিজেপি আগামী লোকসভা নির্বাচন মাথায় রেখে রাজ্যকেন্দ্রিক শক্তিগুলোকে নিয়ে জোট গড়ার চেষ্টা চালাচ্ছে।
নরেন্দ্র মোদিকে মুসলিমবিদ্বেষী কট্টর হিন্দু জাতীয়তাবাদী হিসেবে মনে করা হয়। ফলে তাঁর নেতৃত্বাধীন এনডিএতে ধর্মনিরপেক্ষ মতাদর্শে পরিচালিত দলগুলো যুক্ত হতে চাইছে না।
নরেন্দ্র মোদির তুলনায় নিতীশ অনেক বেশি উদারপন্থী। এ কারণে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে যদি এনডিএ নিতীশকে তাদের প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে মনোনয়ন দেয়, তাহলে তাদের পক্ষে ওডিশার বিজু জনতা দল, অন্ধ্র প্রদেশের তেলেগু দেশম পার্টি এবং পশ্চিমবঙ্গের তৃণমূল কংগ্রেসের সমর্থন পাওয়া সহজ হবে বলে অনেকে মনে করেন। ধারণা করা হয়, নিতীশকে মনোনীত করলে বিজেপির মুসলিমবিরোধী ইমেজ কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে।
এসব দিক মাথায় রেখে নরেন্দ্র মোদির পরিবর্তে নিতীশ কুমারকেই শেষ পর্যন্ত এনডিএর প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করা হতে পারে বলে বিশ্লেষকেরা মনে করছেন।

ব্রাজিলে মাদকবিরোধী অভিযানে নিহত ৩০

ব্রাজিলের দ্বিতীয় বৃহত্তম নগর রিওডি জেনিরোতে মাদকবিরোধী অভিযান অব্যাহত রয়েছে। গতকাল শুক্রবার নগরের উত্তরে একটি বস্তি এলাকায় মাদকদ্রব্য পাচার চক্রের সদস্যদের সঙ্গে নিরাপত্তা বাহিনীর আরও সংঘর্ষ হয়েছে।
গত পাঁচ দিন ধরে চলা ওই সংঘর্ষে এরই মধ্যে ৩০ জন নিহত হয়েছেন। নিহত ব্যক্তিদের অধিকাংশই মাদকদ্রব্য পাচার চক্রের সদস্য। এ সংঘর্ষে দুজন সাধারণ লোকও নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা।

পাকিস্তানে হামলার চেষ্টা নস্যাৎ, দুই জঙ্গি আটক

পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে গতকালশুক্রবার আত্মঘাতী হামলা চালানোর প্রস্তুতি নেওয়ার সময় নিরাপত্তাকর্মীরা দুই জঙ্গিকে আটক করেছে। ওই দুই জঙ্গি পার্লামেন্ট ভবন এবং জনাকীর্ণ মার্কেটসংলগ্ন একটি মসজিদে হামলা চালাতে যাচ্ছিল বলে কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন।
পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রেহমান মালিক রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে বলেন, ‘আমরা পার্লামেন্ট ভবন ও একটি মসজিদে আত্মঘাতী হামলা চালানোর চেষ্টা নস্যাৎ করতে সক্ষম হয়েছি। এ ঘটনায় দুজনকে আটক করা হয়েছে।’ তিনি বলেন, আটক ব্যক্তিদের একজন উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় বান্নু শহর থেকে এসেছে। সে এফ৮-১ এলাকার একটি মসজিদে বোমা হামলা চালাতে যাচ্ছিল। ওই এলাকায় মূলত বিদেশি ও বিত্তবান পাকিস্তানিরা বসবাস করে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, দ্বিতীয় ব্যক্তির লক্ষ্যস্থল ছিল কড়া নিরাপত্তায় ঘেরা পার্লামেন্ট ও তার পার্শ্ববর্তী কয়েকটি ভবন। মালিক বলেন, আত্মঘাতী হামলা চালিয়ে ‘গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি’দের হত্যা করাই ছিল তার মূল লক্ষ্য।
ইসলামাবাদ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বনি আমিন বলেছেন, আটক ব্যক্তিদের কাছ থেকে সুইসাইড জ্যাকেট উদ্ধার করা হয়েছে। রেহমান মালিক বলেন, তাদের সহযোগীদের ধরার চেষ্টা চলছে।
২০০৭ সালে ইসলামাবাদের লাল মসজিদে সেনা অভিযান চালানোর পর তালেবানপন্থীরা রাজধানীতে আত্মঘাতী হামলার মাত্রা বাড়িয়ে দেয়। ২০০৭ সাল থেকে এ পর্যন্ত পাকিস্তানে প্রায় চার হাজার লোক এ-জাতীয় হামলায় নিহত হয়েছে।
সর্বশেষ ১১ নভেম্বর করাচির একটি পুলিশ ভবনে জঙ্গি হামলায় ১৮ জন লোক নিহত হয়। জঙ্গি হামলা বেড়ে যাওয়ায় সম্প্রতি ইসলামাবাদে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।

পরোক্ষ ধূমপানে বিশ্বে বছরে ছয় লাখ মানুষ মারা যায়

পরোক্ষ ধূমপানের প্রভাবে প্রতিবছর বিশ্বের প্রায় ছয় লাখ মানুষ প্রাণ হারায়। তাদের মধ্যে এক-তৃতীয়াংশই শিশু। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার উদ্যোগে প্রথমবারের মতো বিশ্বব্যাপী ধূমপানের পরোক্ষ প্রভাব নিয়ে পরিচালিত এক গবেষণায় এ তথ্য বেরিয়ে এসেছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বিশ্বের ১৯২টি দেশে এ গবেষণা পরিচালনা করে।
ওই গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পরোক্ষ ধূমপানে বিশ্বব্যাপী প্রতিবছর প্রায় এক লাখ ৬৫ হাজার শিশু মারা যায়।
শিশুদের জন্য পরোক্ষ ধূমপান বিপজ্জনক অভিহিত করে গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এর ফলে নিউমোনিয়া ও অ্যাজমায় আক্রান্ত হয়ে শিশুদের হঠাৎ মৃত্যুর ঝুঁকি বেড়ে যায়। হূদরোগ, ফুসফুসের ক্যানসারসহ শ্বাস-প্রশ্বাসজনিত রোগের জন্যও পরোক্ষ ধূমপান দায়ী।
গবেষণায় আরও দেখা গেছে, পরোক্ষ ধূমপান পুরুষের তুলনায় নারীর ওপর বেশি ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে। পরোক্ষ ধূমপানের কারণে বিশ্বে প্রতিবছর দুই লাখ ৮১ হাজার নারীর মৃত্যু হয়।
গবেষণায় নেতৃত্বদানকারী বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তামাকমুক্ত উদ্যোগের গবেষক আরমান্দো পেরুগা বলেছেন, এই পরিসংখ্যান আমাদের তামাকের প্রকৃত ক্ষতির দিকটি অনুধাবন করতে সাহায্য করেছে। তিনি জানান, অন্য সংক্রামক রোগে আক্রান্ত শিশুরা একই সঙ্গে যদি পরোক্ষ ধূমপানের শিকার হয়, তবে সেটি মারাত্মক ক্ষতিকর প্রভাব বিস্তার করে।
২০০৪ সালে এ সংক্রান্ত একটি গবেষণায় দেখা যায়, পরোক্ষ ধূমপানের শিকার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে ৪০ শতাংশ শিশু, ৩৩ শতাংশ অধূমপায়ী পুরুষ ও ৩৫ শতাংশ অধূমপায়ী নারী রয়েছে। তাতে দেখা যায়, ইউরোপ ও এশিয়ার সবচেয়ে বেশি লোক পরোক্ষ ধূমপানের শিকার হয়।

স্তালিন কাতিন গণহত্যার নির্দেশ দিয়েছিলেন

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় রাশিয়ার পশ্চিমাঞ্চলে কাতিন অরণ্যে পোল্যান্ডের দুই হাজারেরও বেশি কর্মকর্তাকে হত্যার নির্দেশ দিয়েছিলেন সাবেক সোভিয়েত স্বৈরশাসক জোসেফ স্তালিন। গতকাল শুক্রবার রাশিয়ার পার্লামেন্টের এক ঘোষণায় এ তথ্য প্রকাশ করা হয়।
রাশিয়ার পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ দুমা সোভিয়েত আমলের গোপন দলিল প্রকাশের পক্ষে প্রস্তাব পাস করেছে। প্রস্তাবে বলা হয়েছে, ইতিহাসকে অস্বীকার করার দিন ফুরিয়েছে। সোভিয়েত প্রচারণার দিন গিয়েছে। পার্লামেন্টে কমিউনিস্ট পার্টির সদস্যরা এ প্রস্তাব পাসের বিরোধিতা করেন। তাঁদের দাবি, ওই হত্যাযজ্ঞ নাৎসি বাহিনী চালিয়েছিল।
রুশ পার্লামেন্টের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা ইন্টারফ্যাক্সের এক খবরে বলা হয়েছে, কাতিন গণহত্যার ওই সব দলিল এত দিন আর্কাইভে রাখা ছিল। সেগুলো সম্প্রতি উন্মুক্ত করা হয়েছে, যাতে ১৯৪০ সালের ওই হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত সত্য সবাই জানতে পারে। ওই গণহত্যা চালাতে স্তালিন সরাসরি নির্দেশ দিয়েছিলেন।

আলোচনা- 'উপকূলের মাটির মানুষের কান্না' by জয়নুল আবেদীন

সিডরে বিধ্বস্ত হওয়ার পর দক্ষিণ উপকূলীয় জনপদের মানুষ আইলার জলোচ্ছ্বাসে ভেসে গেছে। ভেঙে গেছে বেড়িবাঁধ। ভেসে গেছে হাজার হাজার ঘরবাড়ি ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। সুন্দরবনসংলগ্ন সাতক্ষীরার বিপন্ন মানুষ এখনো সকাল-বিকেল জোয়ারের পানিতে ভাসে আবার ভাটার টানে জেগে ওঠে। এমনিভাবে কাটে সুন্দরবনসংলগ্ন বনলাউডোন গ্রামের দুই হাজার মানুষের জীবন। বাঁধের ওপর এবং প্রাইমারি স্কুলে তারা আশ্রয় নিয়েছে। এখানে একসময় সচ্ছল গৃহস্থের ধান-চালের অভাব ছিল না।

লেখা শেখাতে শিশুদের বিয়ে!

বিয়ের অনুষ্ঠানে গেথিন ও ক্যালি
ইংল্যান্ডের উস্টার। সেখানকার ওয়ারডন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছাত্র গেথিন ফক্স। বয়স ছয় বছর। তার সহপাঠী এক ছাত্রী পাঁচ বছরের ক্যালি গিয়েরি। আর দশটা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে তাদের কোনো তফাত নেই। তারপরও গেথিন আর ক্যালি খবর হয়েছে, কারণ স্কুল কর্তৃপক্ষ তাদের দুজনকে বিয়ে দিয়ে দিয়েছে। একটি বিষয় নিয়ে কীভাবে লিখতে হয় তা ভালোভাবে শেখাতেই নাকি এই অভিনব আয়োজন!কর্তৃপক্ষের বক্তব্য হলো, বিয়ের আয়োজন করতে গিয়ে রাজ্যের কথাবার্তা চলে। অনেক পরিকল্পনা করতে হয়। কাছ থেকে সরাসরি ব্যাপারটা দেখলে শিশুরা তাদের শব্দভান্ডার বাড়াতে পারবে। আর তা লিখে প্রকাশ করতে গিয়ে তাদের লেখার হাতও পাকবে।স্কুলপড়ুয়া শিশুদের বিয়ে দেওয়ার এ ঘটনায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। এর সমালোচনা করে একদল বলছেন, এটা শিশুদের ইচড়ে পাকা করবে। এর মাধ্যমে তাদের মাথায় যৌনতাও ঢোকানো হচ্ছে। কিন্তু স্থানীয় পৌর পরিষদ স্কুল কর্তৃপক্ষের এ উদ্যোগকে ‘সৃষ্টিশীল’ আখ্যা দিয়ে এর সমর্থন করেছে।বর ও কনের বাবা-মা, আত্মীয়স্বজন, শিক্ষক ও সহপাঠীদের উপস্থিতিতে গত বৃহস্পতিবার স্থানীয় একটি গির্জায় বিয়েটা হয়। স্কুলের উপপ্রধান সারাহ অ্যালেন (২৯) জানান, এই চিন্তা এসেছে প্রথম শ্রেণীতে কর্মরত শিক্ষক-কর্মীদের মাথা থেকে। বিয়ের খরচ উঠেছে মূলত অনুদান থেকে। তিনি বলেন, বিয়ের পোশাকের নকশা, অতিথিদের স্বাগত জানানো, বিয়ের কেক, ভোজ, নবদম্পতির হানিমুন প্রভৃতি বিষয়ে আলোচনা শিশুরা বেশ উপভোগ করেছে। এর মধ্য দিয়ে বিয়ের মাহাত্ম্য বুঝতে পেরেছে তারা। কিন্তু প্রাথমিক শিক্ষাবিষয়ক সংগঠন ক্যাম্পেইন ফর দ্য রিয়েল এডুকেশনের চেয়ারম্যান নিক সিয়েটন বলেন, ‘এটা পাগলামি ছাড়া আর কিছু নয়। শিশুদের লেখার দক্ষতার উন্নতি করতে হলে ব্যাকরণ, বানান শিক্ষা দেওয়া জরুরি। সেই সঙ্গে পড়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে, বিয়ে নয়।

উয়েফার জালে মরিনহো আলোনসো রামোস

উয়েফার অনুবীক্ষণের নিচে রিয়াল মাদ্রিদ কোচ হোসে মরিনহো এবং তাঁর দুই শিষ্য জাভি আলোনসো ও সার্জিও রামোস। ইউরোপের ফুটবলের অভিভাবক সংস্থা উয়েফার ধারণা, ফুটবলের চেতনা নষ্ট করার মতো কাজ করেছেন তাঁরা। উয়েফা জানিয়েছে, এরই মধ্যে তদন্তও শুরু হয়ে গেছে।
গত মঙ্গলবার চ্যাম্পিয়নস লিগে আয়াক্সের বিপক্ষে ম্যাচে ইচ্ছা করে সময় নষ্ট করার অভিযোগে বহিষ্কৃত হয়েছেন আলোনসো ও রামোস। দুই হলুদ কার্ডের খাঁড়ায় কাটা পড়েছেন তাঁরা। মাঠেই শাস্তি পেয়েছেন, এখানেই তো সবকিছু শেষ হয়ে যাওয়ার কথা। কিন্তু এটা নিয়ে আবার তদন্ত কেন? উয়েফা যে এর মধ্যে অন্য গন্ধও খুঁজে পাচ্ছে!
আয়াক্সের বিপক্ষে একটি করে হলুদ কার্ড দেখা এই দুই খেলোয়াড় যদি গুরুত্বহীন গ্রুপ পর্বের শেষে ম্যাচে থাকতেন এবং আবার হলুদ কার্ড দেখতেন, তাহলে নকআউট পর্বের প্রথম ম্যাচটা খেলা হতো না। এটা এড়াতেই ইচ্ছা করে তাঁরা লাল কার্ড দেখেছেন বলে সন্দেহ জেগেছে। আর ব্যাপারটা কোচ মরিনহোর পরামর্শে হয়েছে বলেই ধারণা উয়েফার।
ম্যাচের শেষ মুহূর্তে একটি ফ্রি-কিক নিতে গিয়ে প্রায় আধা মিনিট সময় নষ্ট করেছেন আলোনসো। একটি ডাচ টেলিভিশনের ফুটেজে দেখা গেছে, ফ্রি-কিক নিতেও যাওয়ার আগেই আলোনসোর সঙ্গে কথা বলেছেন মরিনহো। রামোসও ম্যাচের যোগ হওয়া সময়ে প্রায় সমান সময় নষ্ট করে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখেছেন।
রামোসের বিষয়টির সঙ্গে চলে আসছে রিয়াল অধিনায়ক ও গোলরক্ষক ইকার ক্যাসিয়াস এবং রিজার্ভ গোলরক্ষক জের্জি দুদেকের নামও। কারণ এ ঘটনার আগে রামোসকে ক্যাসিয়াসের সঙ্গে কথা বলতে দেখা গেছে। আর তারও আগে কথা বলেছেন ক্যাসিয়াস ও দুদেক।
রামোস অবশ্য ইচ্ছা করে এগুলো করেননি বলে জানিয়েছেন। আর মরিনহোর কথা, এগুলো সব আষাঢ়ে গল্প, ‘ম্যাচের সময় আমি অনেক খেলোয়াড়ের সঙ্গে কথা বলেছি। শুধু রামোস ও আলোনসোর সঙ্গে নয়। এ রকম গল্প সংবাদমাধ্যমে খুব বিক্রি হয়।

প্রায়শ্চিত্ত চলছে রুনির

ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের সমর্থকদের কাছে ক্ষমা চেয়েছেন ওয়েইন রুনি। গত মাসে ম্যানইউর সঙ্গে চুক্তি নবায়ন নিয়ে যা কিছু ঘটেছে সেজন্যই রুনি ক্লাবের ওয়েবসাইটের মাধ্যমে সব ম্যানইউ সমর্থকের কাছে ক্ষমাপ্রার্থী। ম্যানইউতে আর নয়—পাঁচ বছরের জন্য নতুন চুক্তি করার আগে রুনি দিয়েছিলেন এমন ঘোষণা। পরে অবশ্য কোচ অ্যালেক্স ফার্গুসনের সঙ্গে কথা বলার পর সিদ্ধান্ত বদলান। পরে তাঁর সঙ্গে নতুন চুক্তি হয়েছে ম্যানইউর, বেড়েছে বেতন। কিন্তু যেভাবে এটি হয়েছে তাতে সমর্থকদের ধারণা জন্মে যায় এটা ছিল রুনির টাকা-পয়সা এবং অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা বাড়িয়ে নেওয়ার একটা ধান্ধা!রুনি জোর দিয়েই বলেছিলেন, এগুলো ভুল ধারণা। কিন্তু কে শোনে কার কথা! অ্যাঙ্কেলের চোট কাটিয়ে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের সর্বশেষ ম্যাচ দিয়ে মাঠে ফেরার দিন তাঁকে ‘দুয়ো’ শুনতে হয়েছে। এই দুয়োর জবাব রুনি গত বুধবার দিয়েছেন পেনাল্টি থেকে গোল করে চ্যাম্পিয়নস লিগে রেঞ্জার্সের বিপক্ষে দল জিতিয়ে।তবে এই গোল করার পরও রুনি তাঁর স্বভাবসুলভ ঔদ্ধত্য দেখাননি। তিনি বরং মিটিয়ে নিতে চেয়েছেন সমর্থকদের সঙ্গে ভুল বোঝাবুঝিটা। তাই তাঁর এমন ক্ষমাপ্রার্থনা, ‘আমার মনে হয়, আমি আগেই সমর্থকদের কাছে ক্ষমা চেয়েছি। কিন্তু অনেকেই বলছে তা করিনি। যদি নাই করে থাকি, তাহলে এখন আমি ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি।’ রুনির প্রতি ম্যানইউর সমর্থকদের ক্ষোভের কারণ ছিল আরেকটি। তাদের ধারণা হয়েছিল ম্যানইউ ছেড়ে রুনি ‘নগরশত্রু’ ম্যানচেস্টার সিটিতে যেতে চান। রুনি সমর্থকদের এই ধারণাটাও ভুল বলছেন। তাঁর কথা, ‘সবাই বলছিল আমি ম্যানচেস্টার সিটিতেই যাচ্ছিলাম। বিশ্বাস করুন, আমি যদি ম্যানইউ ছাড়তাম তাহলে ইংল্যান্ডের কোনো ক্লাবেই যেতাম না।’ এই ভুল ধারণা, তাঁর প্রতি সমর্থকদের মন বিষিয়ে ওঠা—সবকিছুই পেছনে ফেলতে চান রুনি। শুরু করতে চান আবার নতুন করে। সেই নতুন শুরুটা বুধবার হয়েই গেছে। এবার এটাকে বয়ে নিতে চান। আজ লিগে ওল্ড ট্রাফোর্ডে ব্ল্যাকবার্নের বিপক্ষে খেলবে ম্যানইউ। প্রায় মাস দুই পরে পাওয়া গোলের ধারাটা এ ম্যাচেও ধরে রাখতে চান। তবে কোচ ফার্গুসন এখনই এতটা আশা করেন না। রুনির পুরো ছন্দে ফেরার অপেক্ষায় তিনি, ‘ও এখনো পুরো ছন্দে ফেরেনি। নিজেকে শতভাগ ফিরে পেতে আরও কিছু ম্যাচ খেলতে হবে ওকে।’ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে আজ ম্যাচ আছে আর্সেনাল ও ম্যান সিটিরও। পয়েন্ট তালিকার তিন নম্বর দল আর্সেনাল যাচ্ছে অ্যাস্টন ভিলার মাঠে। আর চতুর্থ স্থানে থাকা ম্যান সিটি খেলবে স্টোকের সঙ্গে।

‘এল ক্লাসিকো’ এবং মরিনহো

সর্বশেষ চারটি এল ক্লাসিকোর প্রতিটিই হেরেছে রিয়াল মাদ্রিদ। এর মধ্যে আছে নিজেদের মাঠ বার্নাব্যুতে ৬-২ গোলের লজ্জাও। এল ক্লাসিকো তো একপেশে হয়ে যাচ্ছে!
এবার ছবিটা অন্যরকম হবে। আপনি নিশ্চিন্তে বাজি ধরতে পারেন। হোসে মরিনহো আছেন না!
বার্সেলোনাকে কী করে আটকাতে হয় সেটি ভালোই জানা মরিনহোর। ববি রবসন আর লুইস ফন গলের সহকারী হিসেবে কাজ করার সুবাদে বার্সার অন্দরমহলটাও হাতের তালুর মতোই চেনা। চ্যাম্পিয়নস লিগে দুই দফায় বার্সেলোনাকে নকআউট করে দিয়ে (প্রথমবার চেলসি, পরের বার ইন্টার মিলানের হয়ে) ‘স্পেশাল ওয়ান’ তা প্রমাণও করে দিয়েছেন।
আগামী সোমবার এল ক্লাসিকো। এর আগেই রিয়ালের কোচ তোপ দেগেছেন এই তথ্য স্মরণ করিয়ে, ‘অতীত অভিজ্ঞতা আছে বলেই আমি জানি বার্সেলোনার সঙ্গে কীভাবে খেলতে হয়।’ সেই রহস্য লুকিয়েও রাখেননি। ফাঁস করে দিয়েছেন, ‘ওদের নিষ্ক্রিয় করার একটাই উপায়, আপনাকে নিজের খেলার ধরনটাই প্রতিষ্ঠা করতে হবে। ওদেরকে ওদের মতো করে খেলতে দিলেই সর্বনাশ। কারণ (ওই ধরণের খেলায়) একক ও দলগতভাবে ওরাই সেরা।’
প্রতিপক্ষ কোচরা চাইলে টুকে নিতে পারেন মরিনহোর বিশদ পরামর্শ, ‘বলের দখল নেওয়ার লড়াইয়ে ওদের কাছে হেরে গেলেই সর্বনাশ। ওদের চমকে দিতে রক্ষণভাগ থেকে লম্বা লম্বা পাস খেলে ওদের সীমানায় ঝাঁপিয়ে পড়তে হবে। ধীরেসুস্থে আক্রমণ গড়ে তুলতে না পারলে বার্সা বড় সমস্যায় পড়ে।’
শুধু বার্সা নয়, মেসির পায়ে শেকল পরানোর রহস্যটাও ভালোই জানা আছে এই পর্তুগিজ কোচের। মরিনহো প্রতিপক্ষের কোচের ডাগ-আউটে থাকা অবস্থায় মেসি এখন পর্যন্ত একটি গোলও করতে পারেননি। মরিনহো আরেকটি তথ্য জানেন, পরশু ন্যু ক্যাম্পে থেকে থেকে স্লোগান উঠবে তাঁর বিরুদ্ধে, ‘সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে (গতবার ফাইনাল হয়েছিল এখানে) চ্যাম্পিয়নস লিগ জেতার স্বপ্ন ওদের পূরণ হয়নি আমার কারণে। জানি, ওরা আমাকে কখনোই ক্ষমা করবে না। আমাকে শত্রু হিসেবেই অভ্যর্থনা জানানো হবে।’
আক্রমণ-রক্ষণ মিলে প্রায় নিখুঁত একটি দলকেই সামলাতে হবে বার্সাকে, যাদের রক্ষণে মাঝেমধ্যেই খেই হারিয়ে ফেলতে দেখা যাচ্ছে এই মৌসুমে। বার্সার মাঠে তাদের হারিয়েছে হারকিউলিস, ড্র করেছে মায়োর্কা। তবে এরই মধ্যে আসল কথাটি বলেছেন মায়োর্কার কোচ মাইকেল লাউড্রপ, ‘সবাই জানে বার্সেলোনার বিপক্ষে কীভাবে খেলতে হবে। সমস্যা হলো, কাগজ-কলমে সেই হিসাব করা এক জিনিস, মাঠে খেলা অন্য জিনিস।’

ভয় পাচ্ছে না জিম্বাবুয়ে

নিউজিল্যান্ডই পাত্তা পায়নি। চার বছর ধরে দুই দলের যে প্রতিদ্বন্দ্বিতার ইতিহাস, জিম্বাবুয়ে এবারও উড়ে যাবে। আকাশে-বাতাসে উড়ে বেড়াচ্ছে, আরেকটি হোয়াইটওয়াশ স্রেফ সময়ের ব্যাপার।
শুনে মুচকি হাসলেন হ্যামিল্টন মাসাকাদজা। কাল দুপুরে ঢাকায় পা রেখেই জিম্বাবুয়ের সহ-অধিনায়ক জানিয়ে দিলেন, হোয়াইটওয়াশ দূরে থাক, সিরিজ জেতাটাও সহজ হবে না বাংলাদেশের। যুক্তি দিয়ে বুঝিয়ে দিলেন, কিউইদের মতো সহজ শিকার তাঁরা হবেন না, ‘কিউইদের জন্য কাজটা কঠিন ছিল, কারণ বাংলাদেশের কন্ডিশন নিয়ে পরিষ্কার কোনো ধারণা ওদের ছিল না। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোয় আমরা বাংলাদেশে অনেক খেলেছি। আমরা জানি, এখানে আমাদের জন্য কী অপেক্ষা করছে। আশা করি, কিউইদের চেয়ে আমরা অনেক ভালো করব।’
মাসাকাদজার কথা কতটা ফলবে তা সময়ই বলবে। তবে তাঁর যুক্তির সঙ্গে দ্বিমত করার উপায় কিন্তু নেই। মাঝখানে শুধু একটা বছর (২০০৮) বাদ দিয়ে ২০০৪ সাল থেকে প্রতিবছরই দুই দলের সিরিজ নিয়মিত হচ্ছে। গত বছরই দুবার বাংলাদেশে এসেছে জিম্বাবুয়ে। গত বছর নিজেদের মাটিতে ১০টা ওয়ানডে খেলেছিল জিম্বাবুয়ে, আর বাংলাদেশের মাটিতে ৯টি! চাইলে বাংলাদেশকে এখন ‘সেকেন্ড হোম’ বলতেই পারেন মাসাকাদজারা।
বাংলাদেশে এই নিয়মিত আসা-যাওয়ায় তাদের যে খুব লাভ হয়েছে এমনটা বলা যাবে না। ২০০৬ সালের জুলাইয়ে হারারে ম্যাচের জয় দিয়ে সিরিজ ৩-২ করার পর বাংলাদেশের বিপক্ষে আর সিরিজ জয়ের স্বাদ পায়নি জিম্বাবুয়ে। ওই বছরই নভেম্বরে হোয়াইটওয়াশ হওয়ার পর গত চারটি সিরিজে ম্যাচ জিতেছে মাত্র একটি করে। উল্টো দিকে বাংলাদেশ নিউজিল্যান্ডকে হোয়াইটওয়াশ করার পর আশা করছে অন্য স্তরে উত্তরণের। মাসাকাদজা কিন্তু এর পরও দুই দলকে রাখছেন একই কাতারে, ‘আমার মনে হয় না, দুই দলের মধ্যে খুব বেশি পার্থক্য আছে। দুই দলের শক্তির জায়গাগুলো একই। গত কয়েকটা সিরিজ আমরা বাংলাদেশের কাছে হেরেছি। কিন্তু এর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি ম্যাচের ফলাফল আমাদের অনুকূলেও আসতে পারত। খুব কাছে গিয়ে হেরেছি আমরা। আশা করছি, এবারও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ সিরিজ হবে।’
দুই দলের শক্তির জায়গা একই বলে কি স্পিনকেই ইঙ্গিত করলেন মাসাকাদজা? বাঁহাতি দুই স্পিনার রে প্রাইস ও কিথ দাবেংওয়া, অফ স্পিনার প্রসপার উতসেয়া, লেগ স্পিনার গ্রায়েম ক্রেমারকে নিয়ে বেশ বৈচিত্র্যময় জিম্বাবুয়ের স্পিন-আক্রমণ। গত কয়েকটা সিরিজের মতো এবার তাই স্পিনে শুধু ঘায়েল হতেই আসেননি তাঁরা, একই অস্ত্রে কাবু করতে চান বাংলাদেশকেও, ‘আগেই বলেছি, আমরা জানি, বাংলাদেশে কী অপেক্ষা করছে। এক গাদা স্পিনারের মুখোমুখি হওয়ার জন্য মানসিকভাবে আমরা প্রস্তুত। আর বাংলাদেশের মতো আমাদেরও মূল শক্তি স্পিন। বেশ কয়েকজন ভালো স্পিনার আছে আমাদের। আশা করি, তারা কন্ডিশনের সুবিধা কাজে লাগাতে পারবে।’
এ মুহূর্তে উপমহাদেশে সফর যেকোনো দলের জন্যই একটা বড় পাওয়া। বিশ্বকাপের জন্য এর চেয়ে আদর্শ প্রস্তুতি আর কী হতে পারে! মাসাকাদজাও জানালেন, বিশ্বকাপের প্রস্তুতিই তাঁদের কাছে মুখ্য। তবে তাঁরা ভুলে যাচ্ছেন না এই সিরিজের কথাও। দক্ষিণ আফ্রিকায় ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি সিরিজে পাওয়া আত্মবিশ্বাস কাজে লাগাতে চান এই সিরিজে। দক্ষিণ আফ্রিকায় জয় না পেলেও দুর্দান্ত ব্যাটিং করেছেন টেলর-টাইবু-চিবাবারা। সদ্য শেষ হওয়া ঘরোয়া টি-টোয়েন্টিতেও রানে ছিলেন জাতীয় দলের ব্যাটসম্যানরা।
দক্ষিণ আফ্রিকার চেয়ে অবশ্য কন্ডিশন এখানে পুরোপুরিই ভিন্ন। তবে দক্ষিণ আফ্রিকায় রান পাওয়ার আত্মবিশ্বাস এখানে ঠিকই সঙ্গী হবে। তা ছাড়া উইকেট-কন্ডিশন তো তাদের চেনাই। বছর খানেক পরে আসায় যেটুকু অচেনা হয়েছে, সেটাও ঠিক হয়ে যাবে সিরিজ শুরুর আগের কদিনে আর ২৯ নভেম্বরের প্রস্তুতি ম্যাচে। সরাসরি না বললেও মাসাকাদজা যেন বুঝিয়ে দিলেন, ‘সাবধান, বাংলাদেশ!’

দক্ষিণ আফ্রিকা সিরিজই বেশি গুরুত্বপূর্ণ

নিউজিল্যান্ডকে সদ্যই টেস্ট সিরিজে কুপোকাত করেছে ভারত। আর কয়েক দিন পরেই একই প্রতিপক্ষের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ। কিন্তু নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজের চেয়ে আগামী মাসের দক্ষিণ আফ্রিকা সফরই বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে কোচ গ্যারি কারস্টেনের কাছে। দলের মূল ৮-১০ জন খেলোয়াড়কে নিয়ে সফর শুরু হওয়ার আগেই দক্ষিণ আফ্রিকা চলে যাচ্ছেন তিনি। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজে কোচের দায়িত্বও তিনি পালন করছেন না। তাঁর জায়গায় ভারতীয় দলের দায়িত্বে থাকবেন বোলিং কোচ এরিক সিমন্স।
ব্যাপারটি কি বাংলাদেশের কাছে আগের সিরিজেই ৪-০-তে হোয়াইটওয়াশ হওয়া নিউজিল্যান্ডকে একটু হালকা করে দেখার মতো হয়ে যাচ্ছে না? বিষয়টি নিয়ে ভেবেছে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডও। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজে হেড কোচ দলের সঙ্গে থাকবেন না—তা মেনে নেওয়া একটু কষ্টকরই ছিল ভারতীয় ক্রিকেটের কর্তা-ব্যক্তিদের। তবে কারস্টেন তাঁদের বুঝিয়েছেন টেস্ট শ্রেষ্ঠত্বের ‘শেষ দুর্গ’ জয়ের এ কঠিন মিশনে যেহেতু ভারত কোনো প্রস্তুতি ম্যাচ খেলার সুযোগ পাচ্ছে না, সেহেতু কয়েকজন মূল খেলোয়াড়কে আগেভাগেই দক্ষিণ আফ্রিকা পাঠিয়ে দেওয়া শ্রেয়। এ সময়টা তাঁরা অন্তত দক্ষিণ আফ্রিকার উইকেট ও কন্ডিশনের সঙ্গে নিজেদের মানিয়ে নিতে পারবেন। শেষ পর্যন্ত কারস্টেনের যুক্তির কাছে হার মেনে তাঁর প্রস্তাবেই রাজি হয়েছেন বিসিসিআই।
টেন্ডুলকার, দ্রাবিড়, লক্ষণ, শেবাগ, জহির খান, চেতেশ্বর পূজারা ও জয়দেব উনাডকটকে নিয়ে ৬ ডিসেম্বর দক্ষিণ আফ্রিকার উদ্দেশে রওনা দেবেন কারস্টেন। দুই দিন পর তাঁদের সঙ্গে যোগ দেবেন অধিনায়ক মহেন্দ্র সিং ধোনি, হরভজন সিং আর সুরেশ রায়না। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ শেষে ১২ ডিসেম্বর ভারতের বাকি সদস্যরা আসার আগ পর্যন্ত কেপটাউনে কারস্টেনের নিজের ক্রিকেট একাডেমিতেই অনুশীলন করবেন ধোনি ও টেন্ডুলকাররা। পরে জোহানেসবার্গে যোগ দেবেন দলের বাকি সদস্যদের সঙ্গে।

ক্যানসারের চিকিৎসা করাচ্ছেন অ্যান্ডি ফ্লাওয়ার

অ্যাশেজ সিরিজের লড়াইয়ে অস্ট্রেলিয়ায় এসে দলের সঙ্গে থেকে খেলোয়াড়দের অনুপ্রেরণা জোগানোর পরিবর্তে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হয়েছে ইংল্যান্ডের কোচ অ্যান্ডি ফ্লাওয়ারকে। অস্ট্রেলিয়ায় আসার পরপরই তাঁর ডান গালের পেশি অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় এটিকে প্রাথমিক চিকিৎসায় ক্যানসার বলে সন্দেহ করেন চিকিৎসকেরা। আর ছড়িয়ে পড়ার আগেই অস্ত্রোপচার করে এটা সরিয়ে ফেলার পরামর্শ দিয়েছিলেন তাঁরা। এমন একটা সময়ে অস্ট্রেলিয়া সফরে আসতে পেরে ভাগ্যকে ধন্যবাদ দিতে পারেন ফ্লাওয়ার। কারণ, ক্যানসার চিকিৎসার জন্য অস্ট্রেলিয়ার খ্যাতি আছে বিশ্বজুড়ে। তাই খুব বেশি দেরি না করে গতকাল ব্রিসবেন টেস্টের দ্বিতীয় দিনেই ছোট একটা অস্ত্রোপচার করে ঝামেলা চুকিয়ে ফেলেছেন ইংল্যান্ড কোচ।
তবে দলের সঙ্গে না থাকতে পারলেও অস্ত্রোপচারের পর হোটেলে ফিরে অ্যান্ডি স্ট্রাউসদের কাছ থেকে দারুণ সুখবর পেয়েছিলেন ফ্লাওয়ার। মাত্র ১৪৩ রানেই অস্ট্রেলিয়ার পাঁচ উইকেট ফেলে দিয়ে দিনটা ভালোভাবেই শেষ করেছিল তাঁর শিষ্যরা। এখন কয়েক দিন বিশ্রাম নিলেই অ্যান্ডি ফ্লাওয়ার আবার পুরোপুরি সুস্থ হয়ে উঠবেন বলে জানিয়েছেন ইংল্যান্ড ক্রিকেট বোর্ডের মুখপাত্র। দ্বিতীয় টেস্টেই আবার কোচের ভূমিকায় অ্যান্ড্রু স্ট্রাউসদের পাশে দাঁড়াতে পারবেন বলে আশা করছেন ফ্লাওয়ার।
অ্যান্ডি ফ্লাওয়ারের অনুপস্থিতিতে এ দায়িত্ব পালন করছেন ইংল্যান্ডের ফিল্ডিং কোচ রিচার্ড হালসাল।

ক্রিকেট নিয়ে ভাবছে চীনারা!

কথায় আছে, চীনারা একবার যা ধরে, তার নাকি শেষ দেখে ছাড়ে। ক্রিকেটের ক্ষেত্রেও কি তাই ঘটতে যাচ্ছে? ২০০ কোটি মানুষের দেশ চীনে ২০০ জন বিশ্বমানের ক্রিকেটার তৈরি করা যাবে না—ব্যাপারটি একদমই বিশ্বাস করেন না চীনের ক্রিকেট কর্তারা। গুয়াংজুতে এশিয়ান গেমসের ক্রিকেটে খেলাটির ব্যাপারে চীনাদের আগ্রহ টের পেয়েছে ক্রিকেট বিশ্ব। গুয়াংজুর ক্রিকেট মাঠে চীনা তরুণ-তরুণীদের সপ্রতিভ উপস্থিতি তারই সাক্ষ্য দেয়।
এবারের এশিয়ান গেমসে প্রথমবারের মতো অন্তর্ভুক্ত হয়েছে ক্রিকেট। বিশ্বের ক্রিকেট খেলুড়ে শীর্ষ ১০টি দেশের চারটিই এশিয়ার হওয়ায় এশিয়ান গেমসের পদকের লড়াইয়ে অন্য কোনো দেশের পাত্তাই পাওয়ার কথা নয়, তবে পুরো ব্যাপারটিকেই চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছে বিশ্বের সবচেয়ে দ্রুত বর্ধনশীল অর্থনীতির দেশ চীন। তাদের ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি লিই রংগিউর কথাই তা প্রমাণ করে।
ক্রিকেটের মেয়েদের বিভাগে জাপানের সঙ্গে ব্রোঞ্জের লড়াই করে হেরে গেছে চীনের মেয়েরা। তবে আগামী এশিয়ান গেমসে ক্রিকেটে চীন যেন শীর্ষ দেশগুলোকে চ্যালেঞ্জ জানাতে পারে, তার জন্য প্রস্তুতি এখন থেকেই শুরু করে দিতে চান লিউ। তিনি বলেন, চীনের তরুণদের মধ্যে ক্রিকেটকে জনপ্রিয় করে তোলার জন্য এখন থেকে নানা ধরনের কর্মসূচি হাতে নেওয়া হবে। লিউ বলেন, একেবারে তৃণমূল পর্যায় থেকে ক্রিকেটারদের তৈরি করা হবে। আগামী ১০ থেকে ১৫ বছরের মধ্যে ক্রিকেটে একটা অবস্থান তৈরি করে নেবে চীন।
একেবারে অজানা-অচেনা এ খেলার ম্যাচ রিপোর্ট ইত্যাদি করতে গিয়ে পদে পদে হোঁচট খাওয়া চীনা সাংবাদিকদের জন্যও প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করবে দেশটির ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন। এবারের এশিয়ান গেমসের ক্রিকেট নিয়ে চীনা পত্রিকায় প্রতিবেদন লিখতে গিয়ে বেশির ভাগ সাংবাদিকই রানের জায়গায় লিখেছেন পয়েন্ট।
কোনো খেলায় সাফল্য পেতে হলে যে তাকে দেশব্যাপী ছড়িয়ে দিতে হয় এবং তরুণ প্রতিভার অন্বেষণ করতে হয়, তা খুব ভালো করেই জানে চীনারা। এশিয়ান গেমসে ১৯৭টি সোনার পদক তারই প্রমাণ। লিউও মনে করেন, ক্রিকেটে সাফল্য পেতে হলে একে শক্ত ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত করতে হবে। ক্রিকেট খেলার মূল শারীরিক বিজ্ঞানও ধরতে পেরেছে চীনারা। লিউ এ ব্যাপারে বলেন, ক্রিকেট খেলাটা এশীয় জনগোষ্ঠীর জীবনাচারের সঙ্গে সম্পূর্ণ মিলে যাওয়া একটি খেলা। কারণ, এই খেলায় খুব বেশি শারীরিক শক্তির প্রয়োজন হয় না।
সব মিলিয়ে চীন ক্রিকেট নিয়ে যে যথেষ্ট সিরিয়াস, তা বুঝতে খুব বড় বিশেষজ্ঞ হতে হয় না। আর কোনো অচেনা খেলা সিরিয়াসলি নিয়ে চীন যে অনেক দূর যেতে পারে, তার সবচেয়ে বড় প্রমাণ হকি। আজ থেকে ২০ বছর আগে চীনের হকি কোথায় ছিল আর আজ কোথায় আছে, তা তো ক্রীড়ামোদী মাত্রই জানেন। অতএব, এশিয়ার ক্রিকেট শক্তি ভারত, পাকিস্তান, বাংলাদেশ আর শ্রীলঙ্কার বোধ হয় নড়েচড়ে বসার সময় এসেছে।

আগামী দিনের লক্ষ্য নির্ধারণে দ্বিতীয় শীর্ষ সম্মেলন

তুন পন্থায় দারিদ্র্য দূরীকরণের কৌশল হিসেবে সামাজিক ব্যবসার ভাবনার শুরু। আর এ ভাবনাকে বাস্তবে রূপ দিতে এগিয়ে এসেছে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান। (সামাজিক ব্যবসার দ্বিতীয় শীর্ষ সম্মেলনে বক্তৃতা করছেন মুহাম্মদ ইউনূস। গত ৪ ও ৫ নভেম্বর শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয় জার্মানির উলফসবুর্গের অটোস্টাডটে)। এসব ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের সক্রিয় সহায়তায় সামাজিক ব্যবসার ধারণাটি আজ বাস্তবে রূপ নিয়েছে। এর কতটা অর্জিত হলো, আগামীর সম্ভাবনা কী—এসব বিষয়ে আলোচনার জন্য গত বছর জার্মানিতে অনুষ্ঠিত হয় বৈশ্বিক গ্রামীণ বৈঠক। এরই ধারাবাহিকতায় অটোস্টাডটের পৃষ্ঠপোষকতায় প্রতিবছর অনুষ্ঠিত হচ্ছে সামাজিক ব্যবসার শীর্ষ সম্মেলন। ওই বৈঠকের মাধ্যমে তথ্য আদান-প্রদানের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা সামাজিক ব্যবসা সম্পর্কে তাঁদের দৃষ্টিভঙ্গি ভাগাভাগি করার সুযোগ পাচ্ছেন।

দারিদ্র্যমুক্ত পৃথিবী গড়ার স্বপ্নের নতুন পথ

দারিদ্র্য দূর করতে হলে মৌলিক চাহিদাগুলো পূরণ করতে হবে। সামাজিক ব্যবসার মাধ্যমে পৃথিবীর সব সামাজিক ও অর্থনৈতিক সমস্যার সমাধান করা যাবে। স্বাস্থ্যসেবা, তথ্যপ্রযুক্তি, শিক্ষা, নবায়নযোগ্য জ্বালানিসহ সব ক্ষেত্রে সামাজিক উদ্যোগে ব্যবসা করা সম্ভব। ২০০৬ সালের ডিসেম্বরে নরওয়ের অসলোতে নোবেল শান্তি পুরস্কার হাতে নিয়ে ওই মন্তব্য করেছিলেন অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। সেই প্রথম বিশ্ববাসী শুনল সামাজিক ব্যবসার বিষয়টি। সেই থেকেই বিশ্বজুড়ে দারিদ্র্য বিমোচনে ক্ষুদ্রঋণের পর সামাজিক ব্যবসা নিয়ে আলোচনার শুরু।

প্রকৃতি- বাংলাদেশের ঝুঁকি বাড়ছে কমেনি কার্বন নিঃসরণ by ইফতেখার মাহমুদ

আটকে আছে বিশ্বের তাপমাত্রা বৃদ্ধি সীমিত রাখার উদ্যোগও। কোপেনহেগেন মতৈক্য অনুযায়ী, কোনো শিল্পোন্নত দেশই তাপমাত্রা ও কার্বন নিঃসরণ কমানোর অঙ্গীকার পালন করেনি। এদিকে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বাংলাদেশসহ বিশ্বের স্বল্পোন্নত দেশগুলোতে ক্ষয়ক্ষতির তালিকা দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হচ্ছে। ২৩ নভেম্বর জাতিসংঘের পরিবেশ কর্মসূচি (ইউএনইপি) কোপেনহেগেন মতৈক্যের এক বছরের অগ্রগতি নিয়ে একটি সমীক্ষা প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। সেখানে তারা বলছে, বর্তমানে যেভাবে বিশ্ব চলছে, তা আশঙ্কাজনক।